✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১১. মানব জীবনে হরিভজন 🙇 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (দ্বিতীয় খন্ড)*
*মানব জীবনে হরিভজন*
*🍀এই দুর্লভ মনুষ্যজনমে মুহূর্তকালও অতীব মূল্যবান।সেজন্য শাস্ত্র বলেন--
*🌷জীবিতং বিষ্ণুভক্তস্য বরং পঞ্চদিনানি বৈ।*
*🌷ন ত কল্প সহস্রানি ভক্তিহীনস্য কেশবে।।*
*🌻অর্থ্যাৎ যেজনা শ্রীবিষ্ণুকে ভজন করেন তাঁর পাঁচদিনের পরমায়ুও ধন্য কিন্তু কেশবে ভক্তিহীন জনের হাজার কল্প জীবন ধারণও বৃথা। আবার বিষ্ণুপুরাণ বলেছেন--*
*🌷সা হানিঃ তৎ মহচ্ছিদ্রম্ স চ বিভ্রমঃ।*
*🌷যন্মূহুর্ত্তং ক্ষণং বাপি বাসুদেবং ন চিন্তয়েৎ।।*
*🌻অর্থ্যাৎ সেটিই হানি,সেটিই মহাছিদ্র, সেটিই মোহ,সেটিই বিভ্রম যে মুহূর্ত কিম্বা ক্ষণকালে ভগবান বাসুদেবকে চিন্তা করা হয় না।*
*🌸সেহেতু প্রাজ্ঞ বা জ্ঞানী ব্যক্তিগণ মুহূর্তকালও শ্রীকৃষ্ণভজন ছাড়া ব্যয় করেন না, কারণ তখন ভজনের প্রভাবে তাঁদের চিত্ত দর্পণের মালিন্য (মনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা ময়লা বা মনের আয়নায় লেগে থাকা ময়লা)সব অবলুপ্ত হয় এবং তাঁরা সদা-সর্বদা সর্ববস্তুতে সর্বজীবে ভগবদ্ সান্নিধ্য উপলব্ধি করেন।কলিযুগের জীবের অর্দ্ধেক পরমায়ু বৃথা নিদ্রায় অতিবাহিত হয়, অবশিষ্ট অর্দ্ধেক আয়ু বাল্যকালে ও পৌগন্ডে অজ্ঞানতায়, কৈশরে বিদ্যাশিক্ষার চেষ্টায়,যৌবনে পত্নীসঙ্গ এবং কামবিলাসের মত্ততায়,বার্ধ্যক্যে জ্বরা ব্যাধি গ্রস্থতায় অতিবাহিত হয়।অতএব দীর্ঘ সুত্রতাবশে শ্রীকৃষ্ণভজন বৃদ্ধকালের জন্য স্থগিত রাখার অর্থ নরকের দ্বার সুগম করা।সেজন্য পরমায়ু যখন আমাদের অজানা রহস্যে আবৃত বা ঢাকা,কতদিন বাঁচব তাইই যখন জানিনা তখন ভবিষ্যতের জন্য কি সাধনভজন তুলে রাখা উচিত?তাই মনে করি বাল্যকাল হতেই শ্রীকৃষ্ণভজনে সকলের রত হওয়া উচিৎ, কারণ মৃত্যু যে কখন হাতছানি দিবে তা আমাদের সকলেরই অজানা।সেজন্য ভক্তমাল বলেন-----*
*🌷স্পর্শমণি পাইয়া কি কহে কোন জন।*
*🌷আজি নাসি কালি লব থাকুক এখন।।*
*🌷 যে মূর্খ কহে কৃষ্ণ পশ্চাতে ভজিব।*
*🌷এখনি কি হইল,কত দিবস বাঁচিব।।*
*🌷যাতে হেন ধন ভাই যখনই পাইব।*
*🌷তখনই লইয়া হৃদ্ মাঝারে রাখিব।।*
*🌷 পরাণ চিরিয়া তার সারাংশ যথায়।*
*🌷তাঁরে সমাদর করি রাখহ তথায়।।*
*🌻মানব দেহের যত প্রকার অবস্থা সম্ভব সব অবস্থাতেই হরিভক্তির সুযোগ আসতে পারে।যথা গর্ভাবস্থায় দেবর্ষি নারদ ভক্ত প্রহ্লাদকে হরিকথা স্মরণ করিয়েছিলেন, এতে গর্ভাবস্থাতেই হরিভক্তির সুযোগ দেখা যায়।বাল্যকালে ধ্রুবের মধ্যে হরিভক্তির চরমভক্তি দেখা গিয়েছিল।যৌবনে মহারাজ অম্বরীষের মধ্যে এবং মরণকালে অজামিলের মধ্যেও হরিভক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। (অজামিল চরমভাবে বিপথগামী ছিলেন, তাঁর অনেক পুত্রের মধ্যে এক পুত্রের নাম নারায়ণ রেখেছিলেন, পুত্রকে নারায়ণ নারায়ণ বলে ডাকতে ডাকতে কখন যে তাঁর হৃদয় মাঝে ভক্তির সঞ্চার হয়েছিল, তা বোধহয় তিনিও অনুভব করতে পারেননি, কিন্তু তাঁর অনেক পুত্রের মধ্যে কেবলমাত্র নারায়ণকেই মৃত্যকালে ডেকেছিলেন, বাকী সমস্ত কাহিনী আপনারা নিশ্চয়ই জানেন)।সেজন্য আদর্শ মানবগণ শ্রীল শুকদেব গোস্বামীকৃত এই শ্লোকটি তাঁদের জীবনে কন্ঠহার করে রেখেছেন, যথা---*
*🌷গতাগতেন শ্রান্তোহস্মি দীর্ঘ-সংসার-বর্ত্তেষু,*
*🌷পুনঃ ন আগন্তুম ইচ্ছামি ত্রাহি মাং মধুসূদনঃ।*
*🌷বহবোহি ময়া দৃষ্টা যোনিদ্বারঃ পৃথক পৃথক,*
*🌷গর্ভবাসো মহাদুঃখাৎ ত্রাহি মাং মধুসূদনঃ।।*
*🌻অর্থ্যাৎ হে মধুসূদন! এই সংসারের দীর্ঘপথে পুনঃ পুনঃ গতাগতিতে আমি অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। আমি আর আগমন করতে চাই না, অতএব তুমি আমায় রক্ষা কর।আমি পৃথক পৃথক বহু যোনিদ্বার দর্শন করেছি।হে মধুসূদন!হে হরি! তুমি আমায় গর্ভবাসের মহাদুঃখ হতে ত্রাণ কর।*
*🌲এই ত্রাণ পেতে হলে করুণাময় শ্রীহরির দেওয়া দেহ মন প্রাণ দিয়ে তাঁরই সেবা করা জীবের একান্ত কর্তব্য।দেহ রক্ষা করা বা না করা তাঁর কাজ।মানুষের সে কাজে নজর দিলে আর তা ভগবানের কাজে হাত দেওয়া সম্ভব হবে।তাঁর জিনিস নিজের ভোগে নিযুক্ত করে নিলে বিশ্বাসঘাতকতার কাজ করা হবে।নিজেল করে নিলেও তো তা আমি রক্ষা করতে পারি না,কেবল লাঞ্জিতই হই।এই দেবদুর্লভ দেহ দ্বারা কেবল তাঁর সেবা করলেই মিথ্যা কর্তৃত্বাভিমান দূরীভূত হয়ে নিত্য-কৃষ্ণদাস স্বরূপ স্ফূর্তি পাওয়া যাবে।*
*🍀অন্যান্য যুগের তুলনায় কলিযুগের অন্নগত মানুষের পরমায়ু সীমিত হলেও এই কলিযুগেই সর্বযুগের সার,কল্যাণপ্রদ এবং সর্বোত্তম, শ্রীমন্মহাপ্রভু আপামর জনসাধারণকে হরিনামের মাধ্যমে ভজনের বড় সহজ উপায় উদ্ভাবন করে দিয়েছেন এবং আমার নিতাইচাঁদ নামের সঙ্গে প্রেম যুক্ত করে আপামর জনসাধারণকে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে প্রেমের বাঁধনে আবদ্ধ করে গিয়েছেন,যা সত্যযুগ,ত্রেতাযুগ ও দ্বাপরযুগেও ছিল না।অন্যান্য যুগে যাগ-যোগ,ধ্যান,তপস্যা প্রভৃতি অতীব কষ্ট সাধন গুলি অনুষ্ঠান করে যে ফল লাভ হত, কলিযুগে শুধুমাত্র হরিনাম সঙ্কীর্তন করে তার থেকেও অনেক বেশী ফল লাভ হয়ে থাকে।এই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নামাচার্য্য হরিদাস ঠাকুর,গোস্বামীগণ,প্রকাশানন্দ সরস্বতী প্রভৃতি মহাপ্রভুর বহু পরিকরগণ বিভিন্ন শাস্ত্রাদি রচনা করে এক নবযুগের সন্ধান দিয়েছেন।আজ হতে প্রায় ৫৩৭ বৎসর পূর্বে।সাম্প্রতিকালে পরমকরুণ,পরমদয়াল শ্রীমদ্ রাধারমণ চরণদাস বাবাজী মহারাজ শ্রীমন্মহাপ্রভু এবং নিত্যানন্দ প্রভুর ভাবধারাকে পুনরুজ্জীবিত করে এক নতূন সম্প্রদায়ের সৃষ্টি করে গিয়েছেন, যাঁদের ভজনের পদাবলী হচ্ছে--"*
*🌷ভজ নিতাই গৌর রাধেশ্যাম,*
*🌷জপ হরে কৃষ্ণ হরে নাম।*
*🙏এই রাধারমণ সম্প্রদায়ের দিকপাল হচ্ছেন শ্রীপাদ রামদাস বাবাজী মহারাজ যিনি হচ্ছেন আমাদের পরম গুরুদেব এবং তাঁরই আদর্শে আমাদের চলতে হবে।*
*🙌বরাহনগর পাটবাড়ীর আসল নাম=*
*🍀রঘুনাথ ভাগবদ্ আচার্য্যের পাঠবাড়ী অর্থ্যাৎ এই জায়গা জঙ্গলের মধ্যে গঙ্গাতীরে একটি কুটিরে বাস করে সাধনভজন করতেন রঘুনাথ গোস্বামী নামক এক মহাবৈষ্ণব, যিনি আবার ছিলেন পঞ্চতত্ত্বের শ্রীগদাধর পন্ডিতের শিষ্য এবং ভাগবতপাঠে সুদক্ষ।তাঁরই শ্রীমুখে ভাগবত পাঠ শুনে শ্রীমন্মহাপ্রভু তাঁকে ভাগবত আচার্য্য উপাধি দান করেছিলেন। সেজন্য ইহাকে পাঠবাড়ী বলা ঠিক উচিৎ না বরং বলতে হবে রঘুনাথ ভাগবত আচার্য্যের পাটবাড়ী।কারণ যে কোন বৈষ্ণব মহাত্ম্যর সাধনস্থলটিকে তাঁর পাটবাড়ী বলা হয়।*
*🙏জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরিবল🙏🙏🙏*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১২. গুরুসেবার অবিশ্বাস্য কাহিনী 🙇 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (দ্বিতীয় খন্ড)*
*গুরুসেবার অবিশ্বাস্য কাহিনী*
*🍀আচার্য্য রামানুজ স্বামীর নাম আপনারা সকলে নিশ্চয়ই শুনেছেন, কারণ তিনি ছিলেন দক্ষিণ ভারতের এক মহাবৈষ্ণব। তাঁর ভক্তিময় জীবনে অনেক অলৌকিক কাহিনী আছে তারমধ্যে তাঁরই এক শিষ্যের গুরুভক্তির প্রসঙ্গটি এখানে বর্ণিত হবে।*
*🌻একবার আচার্য্য রামানুজ স্বামী শিষ্যগণসহ সদলবলে পরিক্রমায় বাহির হয়েছেন।পথ মধ্যে অষ্টসহস্র নামে এক গ্রাম এবং সেই গ্রামে তাঁর একজন শিষ্য ছিলেন,যিনি দীনদরিদ্র এবং এমনই গরীব যে ভিক্ষা ছাড়া অন্ন সংস্থান হত না।রামানুজ স্বামী সদলবলে তাঁরই গৃহে আতিথ্য গ্রহণ করলেন।দীনদরিদ্র সেই শিষ্যের নাম বরদাচার্য্য। তিনি যখন ভিক্ষায় বাহির হলেন, তখন তাঁর ভক্তিমতী পত্নী লক্ষ্মীদেবী যথাযথ আদর অভ্যর্থনা করে তাঁদের মর্য্যাদা দিলেন।মনে বড়ই আনন্দ যে গুরুদেব এসেছেন গরীবের কুটিরে, কিন্তু ভিক্ষান্নে যাঁদের দুজনের পেট চলে, তাঁরা কিভাবে এত লোকের সেবার ব্যবস্থা করবেন, এই চিন্তায় চরম চিন্তিত হলেন।গুরুদেব পথশ্রমে ক্লান্ত-ক্ষুধার্ত্ত।স্বামী ফিরে আসা অবধি বসে থাকা ঠিক হবে না, এই বিবেচনা করে লক্ষ্মীদেবী এক অবিশ্বাস্য সংকল্প করলেন।সকলেই জানে যে তাঁরা অতি গরীব-কপর্দকশূণ্য কিন্তু এই দৈন্যের মধ্যেও লক্ষ্মীদেবী পরমা সুন্দরী যুবতী ছিলেন।তাঁর রূপলাবণ্যে মুগ্ধ হয়ে ঐ গ্রামের বিশাল যে ধনী ব্যক্তি সে বহুবার লোক-মারফৎ তাঁর কাছে কুপ্রস্তাব এবং প্রলোভন পাঠিয়েছে, কিন্তু ভক্তিমতী লক্ষ্মীদেবী বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন।যে কোন সাধ্বী পত্নীর পক্ষে সেটি করা সম্ভবও নয়।*
*🌲লক্ষ্মীদেবী তখন ভাবলেন যে এই ধনীর দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া এই সঙ্কট হতে মুক্তির কোন উপায় তো তিনি দেখছেন না, সেজন্য গুরুসেবার জন্য নিজে দেহকে তিনি কামুক বণিকের লালসার অগ্নিতে সমর্পণ করবেন। এইরকম মনস্থ করে স্বামীর ফিরে আসা অবধি অপেক্ষা না করে সত্বর সেই বণিকের কাছে সব বৃত্তান্ত বললেন, এবং তাঁর কাছে গুরু সেবার দ্রব্য সম্ভার চাইলেন। চরিত্রহীন ধনী বণিক অপ্রত্যাশিত ভাবে এই প্রস্তাব পেয়ে আনন্দে অধীর হয়ে গেল এবং পর্য্যাপ্ত পরিমাণ সেবার দ্রব্য লক্ষ্মীদেবীর বাড়ীতেতখনই পাঠিয়ে দিলেন।লক্ষ্মীদেবী সত্যবদ্ধ রইলেন যে সেই রাত্রিতে তিনি তাঁর ঘরে আসবেন, তাঁকে তাঁর লালসার অগ্নিতে সমর্পিত করবেন।*
*☘ভাবলেও অবাক লাগ যে মানুষে কি সাধুগুরু সেবার জন্য এ কাজ করতে পারে? লক্ষ্মীদেবী নিজেকে সেই লম্পট বণিকের হাতে বিলিয়ে দিবার আগে সুস্থ মস্তিকে চিন্তা করলেন যে শ্রীগুরুদেব তো স্বয়ং ঈশ্বরস্বরূপ তাঁর সেবায় তিনি দেহাত্মবোধ রাখবেন কেন?শাস্ত্রে তিনি পাঠ করেছেন যে ইষ্টসেবার জন্য চুরি করাও অপরাধ না, কারণ শাস্ত্র বলেছেন যে ------*
*🌷মন্নিমিত্তিং কৃতং পাপ্ অপি পুণ্যায় কল্পতে।*
*🌷এবং মাম্ অনাদৃত্য তু কৃতং পুণ্যং পাপায় কল্পতে।।*
*🌻অর্থ্যাৎ ভগবান বলেছেন যে ভক্ত যদি আমার জন্য কোন পাপ করে তা পুণ্যে পরিবর্তিত হয় এবং আমাকে অনাদর করে-- অর্থ্যাৎ অবসেলা করে যদি লোক দেখান পুণ্য কাজও করে তার ফল পাপ হয়।*
*🍀এস্থলে লক্ষ্মীদেবীর এই সঙ্কল্প আত্মসুখের জন্য নয় বা পরিবর্তে ধনদৌলত পাওয়ার আশায়ও নয়, এর একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে গুরুসেবা অর্থ্যাৎ ভগবদ্ সেবা------*
*🌷 জীবের নিস্তার লাগি নন্দসুত হরি।*
*🌷ভুবনে প্রকাশ হন গুরুরূপ ধরি।।*
*🌷 মহিমায় গুরু কৃষ্ণ এক করি জান।*
*🌷গুরু আজ্ঞা হৃদে সব সত্য করি মেনো।।*
*🌻কিন্তু প্রকৃত আচরণ কয়জন করতে পারি।শ্রীগুরুদেবকে সাক্ষাৎ নারায়ণ জ্ঞানে সেবা করা কি সহজ কথা? কিন্তু লক্ষ্মীদেবী সেই আদর্শ দেখিয়েছেন, গুরুরূপী ভগবদ্ সেবার জন্য তিনি নিজ সতীত্বকেও বিসর্জন দিতে কুন্ঠা বোধ করেননি। যাইহোক, ভিক্ষা প্রত্যাগত স্বামী বরদাচার্য্য আগাগোড়া সব বৃত্তান্ত শুনলেন এবং লক্ষ্মীদেবীর এই সঙ্কল্পে অত্যন্ত প্রীত হয়ে সম্মতি দিলেন।পরম নিষ্ঠার সঙ্গে নারায়ণকে ভোগ সমর্পণ করে আচার্য্য রামানুজ স্বামী এবং তাঁর দলের সকলকে প্রাণ ভরিয়ে প্রসাদ দেওয়া হল। অতঃপর রাত্রির অন্ধকারে বিষ্ণু-নিবেদিত সেই প্রসাদ থালায় নিয়ে লক্ষ্মীদেবী চললেন সত্য রক্ষা করতে সেই বণিকের লালসার স্বীকার হতে।*
*🌹অন্তর্য্যামী গুরুদেব অলক্ষ্যে তাঁর এই শিষ্যকে রক্ষা করবার জন্য বদ্ধপরিকর। সেজন্য অদৃশ্য হাতের ক্রিয়া হতে লাগল।রাত্রির অন্ধকারে প্রসাদের থালা হাতে যখন লক্ষ্মীদেবী তাঁর বাড়িতে হাজির হলেন,তখন কোথা হতে যে কি অঘটন ঘটিলতা একমাত্র ভগবানই জানেন, কারণ ভক্ত রক্ষা করবার দায়িত্ব ভগবানের।ভক্তকে রক্ষা করা,ভক্তের যোগক্ষম বহন করার দায়িত্ব সেই ভগবানের কারণ ভক্তাপেক্ষা প্রিয় তো আর কেউ নয়।সেজন্য শাস্ত্রে বলেছেন যে -----*
*🌷বৎসের পশ্চাতে যেমন ধায় ধেনুগণ।*
*🌷তেমনি ভক্তের পাছে ধায় জনার্দন।।*
*🍁লক্ষ্মীদেবীর এই আখ্যানটি তার সত্যতাকে আরও দ্বিগুণ ভাবে প্রকট করে দিলেন, কারণ প্রসাদ হাতে যখন তিনি রাত্রির অন্ধকারে তার গৃহে প্রবেশ করলেন তখন হঠাৎ কি কারণে সেই বণিকের পাপ প্রবৃত্তি সব অন্তর্হিত হয়ে গেল এবং তিনি লক্ষ্মীদেবীর চরণে পড়ে ক্ষমা ভিক্ষা করলেন এবং বললেন যে আমি কামার্ত্ত হয়ে নরপশুতে পরিণত হয়েছি, গুরুসেবার জন্য তুমি যে অভাবনীয় আত্মত্যাগ দেখিয়েছ, তাতে আমার বন্ধ চোখ ফুটিয়ে দিয়েছ।তোমার মত সতী সাধ্বী স্ত্রীলোক আমার কাছে মাতৃ স্বরূপ সম্মানীয়া।তুমি কৃপা করে আমার জীবনকে মঙ্গলময় করে তোলো, মা তুমি আমায় ভবরোগ হতে উদ্ধার করে সেই মহাপুরুষের চরণপ্রান্তে পৌঁছিয়ে দাও।পরিশেষে সেই বণিক আচার্য্য রামানুজের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং দীনদরিদ্র এই ব্রাহ্মণ দম্পতির দারিদ্র মোচনের জন্য তাঁদের প্রচুর ধনদৌলত উপঢৌকন দিতে চাইলেন। কিন্তু বরদাচার্য্য সবিনয়ে তা প্রত্যাখ্যান করলেন এবং কৃষ্ণ-সুদামা প্রসঙ্গে ভাগবতে যা বর্ণিত আছে সেইরকম বললেন, মহাশয় আপনার আশীর্বাদে আমাদের কোন অভাব নাই।ভিক্ষান্নেই আমাদের দিন চলে যায়।ধন সম্পদ শুধু চিত্তের চাঞ্চল্যকেই বাড়িয়ে তোলে, সুতরাং আপনি কৃপা করে এ দাসকে আর এ প্রলোভন দেখাবেন না।আচার্য্য রামানুজস্বামী আদ্যপান্ত বিবরণ শুনে খুবই খুশী হলেন এবং প্রাণ ভরে ব্রাহ্মণ দম্পতিকে আশীর্বাদ করলেন।*
*🙏একেই বলে "মহৎ" কৃপা এবং এই মহৎকৃপা প্রভাবে আজন্ম পাপাচারী বণিক ক্ষণিকের এক ঘটনার মাধ্যমে জীবনকে মহিমান্বিত করতে পেরেছিলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৩. মহামন্ত্র সাধনের প্রকৃত উদ্দেশ্য 🙇 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (২য় খন্ড)*
*মহামন্ত্র সাধনের প্রকৃত উদ্দেশ্য*
*🍀সাধারণত দেখা যায় যে সাধুগুরু বৈষ্ণব মহান্তগণ ভগবদ্ উন্মুখী বা ভগবদ্ কথা শোনার জন্য আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রথমদিকে একই উপদেশ দান করেন, তা তিনি যে সম্প্রদায়েরই হন না কেন, মত ও পথ ভিন্ন হলেও এই উপদেশটি কিন্তু সর্বক্ষেত্রেই এক এবং তা হচ্ছে--,"সদা সর্বদা নাম করুন" অর্থ্যাৎ হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে। এই মহানাম সাধন করতে বলেন।*
*🍀এতে সাধারণত একটা কৌতূহল হওয়া স্বাভাবিক যে সবাই কেন এই একই উপদেশ দান করেন। এর শাস্ত্রগত তাৎপর্য্য হচ্ছে যে,প্রত্যেক জীবের মধ্যেই জীবাত্মা বা পরমাত্মা রয়েছেন, এই আত্মা পরমেশ্বরের অংশ বিশেষ। এই পরমাত্মা অথবা আত্মার পরিমাপ এত ক্ষুদ্র যার কোন স্থূল পরিমাপ করা সম্ভব না। যথা একটি চুলের হাজার অংশের এক অংশ হতেও ক্ষুদ্র বা সূক্ষ্ম। অর্থ্যাৎ এই সৃষ্টি যখন পরমেশ্বরের এবং এই কোটি কোটি জীবের মধ্যে যখন জীবাত্মা বিরাজিত তখন আপনারাই কল্পনা করে দেখুন যে এর পরিমাণ কি হতে পারে?অথচ এই আত্মাই আমাদের প্রাণ ধারণের মূল অংশ এবং এই আত্মা হচ্ছেন অবিনশ্বর, যে কথা গীতায় আছে যে ----*
*🌷বাসাংসী জীর্ণানী যথা বিহায়,*
*🌷নবানি গৃহ্নাতি নরোহপরানী,*
*🌷তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণানী,*
*🌷অন্যানি সংযাতি নবানি দেহী।*
*🌻অর্থ্যাৎ ভগবদ্ উন্মুখী জীবকে যদি সাধন ভজন পথে জীবনকে চালনা করবার বাসনা জাগে তাহলে এই আত্মার পুষ্টি দরকার।যেমন ধরুন, একটি শিশুর পুষ্টি মাতৃদুগ্ধে হয়, আবার কিছুদিন পরে অন্নজলের মাধ্যমে দেহের পুষ্টি হয় অর্থ্যাৎ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে খাদ্য তালিকা পরিবর্তনের মাধ্যমে দেহের পুষ্টি সাধিত হয়, যার অর্থ হচ্ছে,এই যে একটা খাদ্য চাই বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য।*
*🌸সেইরকম অনাদিকাল হতে জীব কৃষ্ণবহির্মুখী, জীবকে যদি ভগবদ্ উন্মুখী করতে হয় তাহলে এই আত্মার পুষ্টি দরকার।শাস্ত্র বলেছেন যে দেহের পুষ্টি খাদ্যে কিন্তু আত্মার পুষ্টি নামামৃত ভজনে। এই জন্যই শাস্ত্রে পাই, নাম-নামী অভেদ যথা----*
*🌷যেই নাম সেই কৃষ্ণ ভজ নিষ্ঠা করি।*
*🌷নামের সহিত আছেন আপনি শ্রীহরি।।*
*🌻অর্থ্যাৎ নাম সংযোগ হলেই ভগবানের সঙ্গে সংযোগ হয়। এই হিসাবে নামকে বেতারযন্ত্রের তারও বলা যেতে পারে, কারণ এই নামের মাধ্যমে পরমপুরুষ শ্রীভগবানের সান্নিধ্যে আসা যায়।*
*🛑এখন আমরা মূল প্রশ্নে ফিরে যেতে চাই।কেন সকল সাধু মাহাত্ম্যগণ শ্রীভগবানের নাম করতে বলেন। এই প্রসঙ্গে দেখুন দেবর্ষি নারদ সদা-সর্বদা বৈকুন্ঠনাথের কাছে থাকেন, সেজন্য তিনি নিশ্চিত জানেন যে কৃষ্ণ ভগবান কিসে ভীষণ সন্তুষ্ট হন।এটি এমন কি বস্তু, -- না সদাসর্বদা ভগবানের গুণকীর্তন অর্থ্যাৎ নাম,স্মরণ ও মনন। সেজন্য মানুষ তো ছার,দেবর্ষি অর্থ্যাৎ যে ঋষি দেবতাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ তিনি নারদমুনি পর্যন্ত সদাসর্বদা তাঁর বীণাযন্ত্রে হরিগুণগান করে বেড়াচ্ছেন।*
*সে কথা আগেই বলা হয়েছে, এই মানব দেহের মধ্যে যে জীবাত্মা বিরাজমান,এমনিতেই তার অস্তিত্ব অতিক্ষীণ--অতি কৃশ--অণুপরমাণু হতেও ছোট।তা আরও সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে কৃষ্ণবহির্মুখ জীবের দেহের মধ্যে।এখন এই আত্মার পুষ্টি দরকার--অর্থ্যাৎ একটি ছোট গাছকে যদি অঙ্কুরিত হবার পর হতে সার,জল,মাটি নিয়মিত ভাবে সেচন করা না হয় তাহলে তার মৃত্যু অনিবার্য্য। আর যদি প্রকৃত যত্ন নেওয়া হয় তাহলে সেই গাছের শ্রীবৃদ্ধি অনিবার্য্য।এখন এই আত্মার খাদ্য নামামৃত ভজন এবং ক্রমাগত দিবারাত্র--অভ্যাসের ফলে এই নামরূপ খাদ্য পেয়ে আত্মা ধীরে ধীরে পুষ্টিলাভ করে, কারণ এটাই আত্মার খাদ্য।*
*🍀একটি দৃষ্টান্তে বলা যায় যে,এক বিন্দু জল যদি শানের উপর ফেলা যায় তাহলে তার কোন গতি নজরে আসে না। একবিন্দু,দুইবিন্দু,তিনবিন্দু এইরকম পরপর দিলেও, যে মুহূর্তে একটু বেশী জল,যা বহু ফোঁটারসমষ্টি ছাড়া আর কিছুই নয়, যেই শানের উপর ঢেলে দিবেন তখনই জলেরধারা বহিতে শুরু হয় অর্থ্যাৎ জলের পুষ্টি বা প্রাচুর্য্য হলেই জলের স্বাভাবিক ধর্ম প্রকাশ পায়।তখন সেই ধারা নিম্নমুখী হয়,তারপর নালার দিকে প্রবাহিত হয়,তারপর ড্রেনে পড়ে, আবার তারপর খালে পড়, তারপর নদনদীর মাধ্যমে সাগরে মিলিত হয়। অর্থ্যাৎ যে মুহূর্তে পুষ্টি হল তখনই স্ব-ভাব জাগ্রত হয় এবং সে স্বভাবে-স্বধর্মে চলে। সেইরকম এই কেশ আত্মা যদি নামরূপ খাদ্য দিনরাত্রি,অহরহ পেতে থাকে,তখন ধীরে ধীরে তার পুষ্টি সাধিত হয় এবং যে মুহূর্তে পূর্ণ পুষ্টতা লাভ করে তখনই স্থভাব জাগ্রত হয় এবং সে ভগবদ্ সান্নিধ্য লাভের যোগ্য হয়। আশাকরি আপনারা নামাভাস তাৎপর্য্য কিঞ্চিৎ উপলব্ধি করতে পেরেছেন। কারণ এই সব বস্তু লিখে বুঝান খুবই কষ্টকর।*
*পরম করুণ শ্রীগুরুদেবের নিকট হতে শুনেই লেখা হল, শ্রীগুরুদেবের দান,যদিও এক হিসাবে সবই কৃপার দান।*
*🍁কৃপা কিভাবে পাওয়া যায়? অর্থ্যাৎ কৃপাকারী হলেন দাতা, আর যাকে কৃপা করেন তিনি হলেন ভিখারি।ভিখারির যেরকম চাহিদা,সেইরকম হতে হবে।ভিখারি মুখে বলছে অনেকদিন খাইনি কিন্তু সেটি যখন তার চোখে মুখে চেহারায় ফুটে উঠবে। তখনই দাতার মন গলবে এবং দাতা তখনই দান করবেন।*
*🌸আমরা সাধারণত সাধুগুরু বৈষ্ণবকে প্রণাম করে বলি, "বাবা একটু কৃপা করবেন", অনেকটা মুখের কথার মত, প্রকৃত আর্তি নিয়ে কয়জন বলি তাইনা? আবার পাইও সেরকম।প্রকৃত প্রয়োজন যখন ফুঝা যাবে, ভক্ত যখন কৃপা না পেলে অন্নজল ত্যাগ করবে, দেহত্যাগেও কুন্ঠিত হবে না, তখনই কৃপাকারীর মন গলবে। যেমনভাবে নরোত্তম দাস ঠাকুর মহাশয় গুরু কৃপা পেয়েছিলেন।*
*♻আমাদের কৃপা চাওয়া কিরকম? সব বজায় থাক এর উপর গৌরগোবিন্দ যদি আসেন মন্দ কি। কিন্তু তাতে কৃপা হয় না।দাতার মন গলে না।*
*💮আমাদের কৃপা প্রার্থনা যেন অনেকটাই মুখস্থ কথার মতন সাধুগুরু বৈষ্ণব মহান্তগণ সেটি বেশ বুঝেন মনে মনে, কিন্তু আমরা ব্যথা পাব বলে কিছু বলেন না।কৃপা ভিক্ষা যদি যথার্থ হয় এবং সেই আর্তি যদি চোখে মুখে ফুঔইয়ে তুলতে পারা যায় তাহলে মহাজনগণের কাছে যদি কৃপা সম্পদ নাও থাকে তবুও তারা ধার করেও কৃপা করেন।বাস্তব জীবনেও দেখা যায় যে আত্মীয়-স্বজন-বন্ধু-বান্ধব যদি প্রকৃত বিপদে পরে কোন স্বচ্ছল আত্মীয়ের দ্বারস্থ হন এবং তিনি যদি সত্য সত্যই তার অভাব বোধ সম্বন্ধে নিঃসন্দেহ হন, তখন তাঁর মন গলতে বাধ্য এবং তিনি তখন অনেক ক্ষেত্রে ধার করেও তাদের অভাব মোচন করেন। সুতরাং সাধুগুরু বৈষ্ণবগণ যে ধার করেও কৃপা করেন বা করতে পারেন তাহাও অসম্ভব নয়।সবই নির্ভর করে গ্রহীতার নিঃস্বতা এবং আর্তির উপর।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৪. শ্রীগুরুমুখী অমৃতবাণী ✋ বৈষ্ণব রস-সাহিত্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (২য় খন্ড)*
*শ্রীগুরুমুখী অমৃতবাণী*
*🍀শ্রীগোবিন্দ জীবকে দেখে ভাবেন "মায়ার" দেওয়া উপহারে প্রকৃত সত্য ভুলে আছিস।ধন আছে তার সদ্ব্যয় কর,সাধুসেবা কর,বিদ্যা আছে-- সে বিদ্যাকে বিনয়ে ভূষিত কর, যে কথা শাস্ত্রে বলা হয়েছে, "বিদ্যা দদাতি বিনয়ম্"।*
*জীব যতক্ষণ না অভাবগ্রস্থ হচ্ছে ততক্ষণ তো কৃপা প্রার্থনা করবেন না। ধন,জন,বিদ্যা,রূপ,যৌবন, আভিজাত্য অভিমান যাই থাকুক না কেন সব অভিমান বা গর্ব যতক্ষণ এপারে আছে, ওপারে যাবার সময় কিছুই সঙ্গে থাকে না। সেজন্য জীবদেহ থাকতে থাকতে পরলোকের পাথেয় সংগ্রহ করতেই হবে।*
*হ্যাঁ--, নৌকায় উঠবার আগেই পাথেয় সঞ্চয় করে নিতে হবে, নৌকায় উঠে পাথেয় খুঁজলে চলবে না। কর্মময় নদীকেই ভবসাগর বলা হয়। সাগরে যেমন নিরন্তর বা সবসময় কুমীর হাঙ্গরের দংশন, তেমনি জীব নিত্য কামনা বাসনার দংশনে জর্জরিত।*
*🍀ভগবান কারও গর্ব সহ্য করতে পারেন না।যে গোপীগণ শ্রীকৃষ্ণের এত প্রিয়, ভগবান তাঁদেরও গর্ব সহ্য করতে পারেননি। গোপীদের যে গর্ব, সে গর্ব হল কৃষ্ণকে পাওয়ার গর্ব।অর্থ্যাৎ ভগবদ্ সান্নিধ্য পেলেও গর্ব করা চলবে না।গর্ব হলেই শ্রীকৃষ্ণ দূরে চলে যাবেন।এই গর্ব রোগ শুধু মূর্খেরই হয়। ভাগবদ্ ধর্ম যিনি যাপন করেন তাঁরা কখনও অনর্থকভাবে গর্ব প্রকাশ করেন না।তাঁরা এ ব্যাপারে সদা জাগ্রত এবং সদা সতর্ক।*
*চোরের ভ য়ে গৃহস্থ যদি সারারাত্রি জেগে থাকেন, তাহলে যেমন চোর ঢুকতে পারে না, তেমনি প্রকৃত সাধকও সাধন রাত্রিতে জেগে থাকেন এবং তার ফলে অপরাধ রূপ চোর প্রবেশ করতে পারে না।পরিণাম, হরিভক্তি এবং হরিভক্ত এই জগৎরূপ মরুভূমির আশ্রয়,সেহেতু হরিকে, হরিকথাকে, হরিভক্তিকে সমান মর্য্যাদা দিতে হবে।হরিভক্তি,সাধনে মেলে না,অর্থ্যাৎ এটি প্রয়াস লভ্য নয়, এটি প্রসাদ লভ্য অর্থ্যাৎ কৃপা সাপেক্ষ। প্রসঙ্গত বলা যায় যে, কোন একটি বদ্ধ ঘরের জানালা সব খুলে দিলেই যে বাতাস আসবে,তার কোন স্থিরতা নাই, বাতাস যদি বহে তবেই তো আসবে। অর্থ্যাৎ বাতাস আসা করুণা।সেইরকম এই দেহ পিঞ্জরের মধ্যে যে আত্মা আবদ্ধ রয়েছে পঞ্চেন্দ্রিয় ও পঞ্চরসের যে দ্বার আমাদের দেহমন্দিরে আছে তা সদা সর্বদা ভজনের মাধ্যমে খুলে রাখতে হবে। সেজন্য শাস্ত্র বলেছেন, হৃদয়ের কপাট খোলা সাধনা এবং বাতাস আসা করুণা।*
*🌹এখন এই করুণার ধারা কোথা হতে প্রবাহিত হবে, না,গুরুবৃক্ষ হতে।যখনই শ্রীগুরুদেব বুঝবেন যে শিষ্যের চিত্তদর্পণের ময়লা অপসারিত হয়েছে,তখন "ভাগবতের গলিতং ফলং এর মত না চাইতেই পাবেন। আধ্যাত্মিক জগৎ বা সাধনভজন জগতের ধারাই এই যে প্রত্যেকেই অন্তর দিয়ে চান যে তাঁর শ্রীগুরুদেবের ভাবধারা যেন যতদূর সম্ভব তিনি সমুজ্জ্বল রাখতে পারেন এবং সেজন্য তাঁরা উপযুক্ত আধারের জন্য সদা জাগ্রত। এই আধার অর্থ্যাৎ প্রকৃত আধার পাওয়া কজনের ভাগ্যে ঘটে।*
*🌷কৃষ্ণ কৃপা জগৎময়।*
*🌷গুরু কৃপা কোন কোন ভাগ্যবান বা ভাগ্যবতীর হয়।।*
*🍀ভাগ্যবান চরণদাস বাবাজী পেয়েছিলেন, তাঁর প্রাণপ্রিয় শিষ্য রামদাসকে।ভাগ্যবান হৃদয়চৈতন্য পেয়েছিলেন শ্যামানন্দ প্রভুকে। ভাগ্যবান শ্রীনিবাস আচার্য্য পেয়েছিলেন রামচন্দ্য কবিরাজকে।বৈষ্ণব জগতে এই জাতীয় মণিকাঞ্চন সংযোগ আরও বহু আছে যা পাবেন আচার্য্য প্রভু এবং নরোত্তমদাস ঠাকুরের জীবনীর মধ্যে। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে গুরু আনুগত্য এবং গুরুরূপী গাভী হতে প্রাণ ভরে দুগ্ধ পান করেছেন বাবাজী মহারাজ, যাকে বলে আকন্ঠভোজন এবং তার ফলে নিজেও আস্বাদন করে পরমতৃপ্তি পেয়েছেন আর জীবজগত যাতে এই আস্বাদ্যবস্তু আহার করতে পারে, সেজন্য অজস্র দান করে গেছেন গ্রন্থের মাধ্যমে। তারসত্ত্বেও অহঙ্কার বা অহমিকা তাকে স্পর্শ করতে পারেনি।যাকে তিনি বলতেন লাভ-পূজা-প্রতিষ্ঠা এরা বড় শত্রু এবং সাধকের পক্ষে বড়ই ক্ষতিকর।বাবাজী মহারাজের এত উৎকর্ষতা সত্ত্বেও তার গুরু অনুগত্যের সম্যক উপলব্ধির কয়েকটি ছন্দ এখানে দেওয়া হল।*
*🌷 কীর্তনের ছন্দ আর শব্দ অলঙ্কার।*
*🌷 বৈষ্ণব দর্শন আর সাহিত্য সম্ভার।।*
*🌷করপুটে নিয়ে সব করি নিবেদন।*
*🌷শ্রীগুরু পাদপদ্মে কৈলে সমর্পণ।।*
*🌷যা কিছু গুরুর ধন নিজে নিঃস্ব রিক্ত।*
*🌷পবিত্র বৈষ্ণব শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠা বিরক্ত।।*
*🌻সত্য থা বলতে কি বাবাজী মহারাজ আমার বিচারে ষড় গোস্বামীগণের কৃপাপ্রাপ্ত সন্তান এবং প্রকৃত বৈষ্ণবতা কাকে বলে তা কলির জীবকে দেখিয়ে গিয়েছেন।আমরা সাহিত্য রবীন্দ্রনাথ,শরৎচন্দ্র, বঙ্কিমচন্দ্র ইহাদের উৎকর্ষতা দেখতে পাই কিন্তু বৈষ্ণব জগতে বিষ্ণুভক্তি বা কৃষ্ণভক্তির প্রচারের জন্য যে গ্রন্থ সম্পদ তিনি দান করে গিয়েছেন তা এই জগতের লোকে যে কবে বুঝবে বা সেই সুদিন কবে আসবে তার প্রত্যাশায় রইলাম।তবে আমাদের গর্ব এই যে বাবাজী মহারাজ আমাদের পরম গুরুদেব।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৫. জপতপ ও সাধনভজন 🙇 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৫)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (২য় খন্ড)*
*🙏জপতপ ও সাধনভজন*
*🍀সর্বপ্রথম জপ কথাটি হচ্ছে যে বস্তুর মাধ্যমে জীবাত্মার সহিত পরমাত্মার সংযোগ সাধিত হয় তাকেই "জপ"বলে। অর্থ্যাৎ নিরালায় নিজের ঠাকুর ঘরে বসে ইষ্টমূর্তির ধ্যানে যিনি নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারবেন তিনিই প্রকৃত জপ করেন।শ্রীবিগ্রহ বা প্রাণহীন পাথরের মূর্তি নয়, তার জাজ্জ্বল্য প্রমাণ শ্রীখন্ডের "রঘুনন্দন ঠাকুরের গোপীনাথ সেবা"।ভক্তাধীন ভগবান ভক্তের নিষ্ঠা এবং আর্তিতে ব্যাকুল হয়ে তাঁর কাছে ধরা দেন। যেমনটি দেখা যায় ভক্তের কাছ থেকে নাড়ু চেয়ে খাওয়া। আবার এই বড়ডাঙ্গাতেই ঠাকুর নরহরি তাঁর তিরোভাব তিথিতে স্বয়ং প্রকটভাবে আবির্ভূত হয়ে রঘুনন্দনের দেওয়া ভোগ গ্রহণ করেছিলেন।*
*শ্রীমন্মহাপ্রভুর বৈষ্ণবজগতে নামজপ নিষ্ঠার ভুরি ভুরি দৃষ্টান্ত আছে, যার সর্বশ্রেষ্ঠ কাহিনী হরিদাস ঠাকুর। তেমনি আবার বিগ্রহ সেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখা যায় শ্রীনিবাস আচার্য্য প্রভু নরোত্তম ঠাকুর, রামচন্দ্র কবিরাজ প্রভৃতি মহান্তগণের চরিত সুধায়।এই সব কাহিনী যদি কেউ জানতে আগ্রহী হন, এই অধম প্রণীত সপার্ষদ শ্রীগৌরাঙ্গ ও বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী গ্রন্থের মধ্যে প্রাপ্ত হবেন। সাধন জগতে প্রবেশ করতে হলে সর্বপ্রথম শ্রীনামকে আশ্রয় করেই তা সম্ভব।সেজন্য দেখা যায় যে মহাপ্রভু যখন পূর্ববঙ্গ ভ্রমণে গিয়েছিলেন তখন তপন মিশ্র তাঁর কাছে সাধ্যসাধনতত্ত্ব জানবার বাসনা প্রকাশ করেন, তদুত্তরে মহাপ্রভু বলেছিলেন,এখন শুধু শ্রীনাম করে যাও, পরে সাধ্যসাধন তত্ত্বের রসাস্বাদন করতে পারবে। অর্থ্যাৎ নামকে সর্বপ্রথম আশ্রয় করতেই হবে, কারণ নাম-নামী অভিন্ন।নামে একবার নিষ্ঠা জন্মালে বা রুচি হলে তখন আর আন কিছুই ভাল লাগে না।এই জন্যই একটি সহজ উদাহরণ দ্বারা এটি বুঝাবার চেষ্টা করা হবে।একজন বৈষ্ণব প্রশ্ন করেছিলেন যে, "ভক্ত বড় না ভগবান বড়"। উত্তরে শ্রোতা ভক্তটি বলেছিলেন যে ভক্তই বড়।তখন সেই বৈষ্ণবটি বলেন যে ভগবান তো অসীম অনন্ত তাঁর থেকে ভক্ত কি ভাবে বড় হবে?উত্তরে সেই ভক্তটি বলেছিলেন, "আপনি যাঁকে অসীম অনন্ত বলছেন, তাঁকে যিনি সসীম করে নিজ হৃদয়ে আবদ্ধ করে রাখেন তিনি তাঁর চেয়ে বড় হবেন কি করে "। যেমন দেখুন বালক রঘুনন্দনের কি ক্ষমতা যে তিনি পাষাণ বিগ্রহ গোপীনাথকে নাড়ু পর্যন্ত খাইয়েছিলেন।তাহলে আপনারাই বলুন যে ভক্ত বড় না ভগবান বড়। আবার ভগবানের এমনই মহিমা যে তিনি তাঁর ভক্তের কাছে ধরা দিয়ে আনন্দ লাভ করেন। ভগবান যে ভক্তাধীন তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় ভক্তপ্রবর লালাবাবুর জীবনে। জমিদার নন্দন লালাবাবু যখন বিষয় বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে শ্রীধাম বৃন্দাবনে গিয়েছিলেন, তখন তিনি প্রথম দিকে বৈষ্ণবসেবা,ভক্তসেবা, জীর্ণোদ্ধারে ইত্যাদি কাজে ব্যাপৃত হন এবং পরিশেষে বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণচন্দ্রমা বিগ্রহ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন যা অদ্যাপি বিদ্যমান। এই লালাবাবু যখন সাধনার উচ্চ শিখরে আরোহিত,তখন তাঁর সেবিত বিগ্রহ একদিন স্বপ্নচ্ছলে আবির্ভূত হয়ে বলেন,লালা!তোমার নিকট আমার একটি প্রার্থনা আছেন।লালাবাবু তখন বলেন প্রভু! কি আপনার বাসনা তা বলুন আমার সাধ্যের মধ্যে হলে তা অবশ্যই পূরণ করব।তখন ভক্তাধীন ভগবান বলেছিলেন, "লালা! তুমি আমার জন্য একটি মন্দির বানিয়ে দাও"।তখন লালাবাবু দৈন্য-বিনয় সহকারে বলেছিলেন যে,প্রভু আপনি এমন সময় এই বাসনা প্রকাশ করলেন যে মন্দির তৈরী করবার মত কোন টাকাপয়সা আমার কাছে নাই।তখন ভগবান বলেছিলেন, যে লালা!আমি যে মন্দিরের কথা বলছি তার জন্য তোমার কোন পয়সাকড়ি খরচ হবে না।"আমি শুধু তোমার হৃদয় মন্দিরে থাকতে চাই,সেখানে আমাকে একটু জায়গা ভিক্ষা চাই"। ভগবানের কৃপা বা মহিমার কথা আর কি বলব।সারা বিশ্বের যিনি অধিপতি,তিনি বাস্তুহারার মত ভক্তহৃদয়ে বাস করবার জন্য একটু জায়গা ভিক্ষা চাইছেন।আহা!আহা! কি অপূর্ব 😭😭😭।*
*গঙ্গার জলধারা সুদূর গঙ্গোত্রী বা গোমুখ হতে নির্গত হয়ে যেরকম নিজ থেকে সাগরের দিকে ধাবিত হয়, সেই উপলক্ষ্যে ভক্ত ভগবানকে বলেছেন, গঙ্গাধারার মত আমার হৃদয়ের সব বৃত্তিগুলি যেন নিজ থেকেই তোমার দিকে ধাবিত হয়। এটিই প্রকৃত ভক্তমনের একান্ত কামনা বাসনা।উচ্চাঙ্গের এই সব ভক্তগণ কিভাবে নামজপের মাধ্যমে ভগবদ্ কৃপা লাভ করা যায় সেই প্রসঙ্গে বলেছেন----*
*🙏একেবারেই ডুবে গিয়ে জপ করতে হয়।কোন পিছুটান রেখে জপে বসতে নেই।বাস্তবে না হলেও মনোভঙ্গিটি সেরকম করতে সচেষ্ট হতে হবে। অর্থ্যাৎ এই যে আমি বসলাম,আমার ইহ জগতে এখন আর কোন কাজকর্ম নেই,কোন আকর্ষণ আকিঞ্চন নেই একজন ছাড়া আর কারোর সঙ্গে কোন সম্বন্ধ বা সম্পর্ক নেই। বহির্জগতের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছেদ করে নিরালায় এই যে আমি বসলাম এতেই আমার শেষ নিশ্বাস যদি ত্যাগ হয়, আমার মৃত্যু ঘটে তবুও ভাল।অর্থ্যাৎ আমি ডুব দিতে চাইছি তা অতল তলে ডুবে যাবার জন্য, আর আমি ভেসে উঠতে চাই না। যদিওবা এইরকম মনোভাব আনা সহজ কথা নয়, সত্যই নিত্যকার সংসারের পটভূমিতে অবাস্তব এবং অসম্ভব বলেই মনে হবে কিন্তু তবুও এই আকুতিটুকু মনে মনে জিইয়ে রাখতে হবে।এই একগ্রতা,একতানতা,একলক্ষ্যতা ছাড়া সিদ্ধি অসম্ভব। হ্যাঁ--,যেন একেবারে হাত-পা ছেড়ে দিয়ে পর্বতের চূড়া থেকে ঝাঁপিয়ে পড়া।এই যে আমি বসলাম,না পেয়ে আর উঠছি না,এই মনোভাব আনতে হবে।(অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডে যত জীব আছে,প্রত্যেকেই অভ্যাসের দাস, যে বা যারা যেমন অভ্যেস করেছেন ঠিক সেইমত তারা চলাফেরা করছেন, যেমন একটু অপ্রিয় সত্য কথা বলি--, কেউ দুধ বিক্রি করে মদ পান করে, আবার কেউ মদ বিক্রি করে দুধ পান করে।)যাইহোক, এইরকম শক্ত মনোভাবের চিন্তা করলেই সহজেই শান্ত এবং নিবিষ্ট হয়।*
*👣প্রতিদিন জপের মধ্য দিয়ে দেহ-মন-প্রাণ অধিকতর সতেজ করে তুলতে প্রয়াসী হওয়া চাই।রোজকার জপে বসবার আগে সুতীব্র সঙ্কল্প করে বলতে হবে জপের মাধ্যমে যেন আমার মন প্রাণ স্থির বা শান্ত ও স্নিগ্ধ রসাল হয়।এইরকম দৃঢ় মনোভাব নিয়ে জপ শুরু করতে হয়,(করব,করছি, আজ নয় কাল, এখন এইরকম করার সময় আসেনি,সামনে বহু সময় পড়ে আছে ইত্যাদি )এই মনোভাব যেন না আসে। দিনের কাজের নানা ঝুট-ঝামেলায় মনপ্রাণ অশান্ত অস্থির হতেই পারে, এসবই জপের আসনে বসার পূর্বে সঙ্গে সঙ্গে যেন অন্তর্হিত হয়।সেজন্য ভজনে বসার আগে সংসার চিন্তায় বিক্ষিপ্ত প্রতিটি মানুষকে কি করতে হবে, নিজের মন,বুদ্ধি,অহঙ্কার,চিত্তকে ডেকে বলবে,তোমরা প্রায় সবসময়ই আমাকে অশান্ত করে রেখেছ,এখন তোমাদের যে প্রভু,তাঁর কাছে একটু যাচ্ছি তোমরা আমাকে কৃপা করে পথ ছেড়ে দাও।(এই মনোভাব অভ্যাস করতে থাকুন, একদিন দেখবেন ঠিকই আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছে গেছেন, অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের জীব অভ্যাসের দাস,"যার যেমন ভাব,তার তেমনি লাভ)।*
*🌸সমস্যা জীবনে প্রকৃত কতটা মিটবে বা দ্রুত মিটবে সেটি বড় কথা নয়।আসল কথা হল আমি নিজেকে বাস্তবের মুখোমুখি হতে কিভাবে তৈরী করে তুলছি। আমার লড়াই করার মনোবল বাড়ছে কি না?আপদে-বিপদে আমি স্থির থাকতে পারছি কি না। নানা মোহময় প্রতিকূল পরিবেশে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমি অনুকূল উপাদানটুকু নিঙড়ে নিতে পারছি কি না।সব কাজের মধ্যে তাঁর ইচ্ছেকে প্রকটিত হতে দেখতে পারছি কি না?দুঃখ,কষ্ট,বেদনা, যন্ত্রণার মধ্যেই চিত্তের প্রসন্নতাকে অবিঘ্নিত রাখতে পারছি কি না?এষব যদি পারিবা পারা যায় তাহলেই বুঝতে হবে জপ ঠিক মত হচ্ছে। সমস্যাটি মিটিয়ে দাও বলে আমি প্রত্যক্ষে মুখফুটে হয়ত ঠাকুরকে বলছি না, কিন্তু আমি যদি জপযোগে তাঁকে ডাকি, ভালবাসি,তাঁর সঙ্গে ভাব বিনিময় করতে পারি, তাহলে আমার গোপন ব্যথা বেদনা কি আর তাঁর কাছে গোপন থাকে, ভক্তের আর্তি দেখে তিনি কি আর স্থির থাকতে পারেন।তখন নিজ ইষ্টদেব ভক্তের মনোবাসনা পূরণ করে দেন।*
*🍀হরিকথা শ্রবণ প্রসঙ্গে নববিধা ভক্তিতে বলা হয়েছে শ্রবণ,কীর্তন,স্মরণ, বন্দন ইত্যাদি।অর্থ্যাৎ শ্রবণকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।এই যে শ্রবণের ইচ্ছা এই শ্রীকৃষ্ণের রূপ-গুণ-লীলাতে যদি মনকে ডোবাতে চান,তাহলে তা সম্ভব "মহৎসেবয়া" অর্থ্যাৎ মহতের সেবা করুন, মহতে সঙ্গ করুন, কারণ যাগ,যোগ,ধ্যান,তপস্যা করে এই পরমবস্তু পেতে যুগ যুগ চলে যায়।সেজন্য শ্রদ্ধার পুজি সম্বল করে সেই সব মহাজনের মুখ হতে হরিকথা শুনতে শুনতে হৃদয়ের রুদ্ধকপাট বা দুয়ার খুলে যাবে, কারণ তাঁরাই এই সত্যটিকে প্রকৃত উপলব্ধি করেছেন।সেজন্য যেখানে আলো জ্বলছে সেখান থেকে নিজের হৃদয়ের প্রদীপটি জ্বালিয়ে নিন, তাহলে তাঁদের সেই সাধনলব্ধ উত্তাপ থেকে অচিরেই আপনার মধ্যে সে শক্তি সঞ্চারিত হবে। অচিরেই হৃদয়ের মধ্যে হরিকথায় রুচি জন্মাবে বা জাগ্রত হবে।(অন্ধ কোনদিনই কি পথ দেখাতে পারে)?*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏👣🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৬. ভাগবতকে গলিতং ফলং বলা হয় কেন ❓
বৈষ্ণব রস-সাহিত্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৬)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (২য় খন্ড)*
*ভাগবতকে গলিতং ফলং বলা হয় কেন?*
*🌷নিগম কল্পতরোর্গলিতং ফলং শুকমুখাদমৃতদ্রব সংযুক্তম্।*
*🌷পিবত ভাগবতং রসমালয়ং মুহুরহো রসিকা ভুবি ভাবুকাঃ।।*
*🌻অর্থ্যাৎ বৃক্ষের ফলটি যখন বৃক্ষের ধর্ম-অনুযায়ী সুপক্ক হয়ে আপনা হতে বৃন্তচ্যুত হয় অর্থ্যাৎ আহরণের কোন প্রয়োজন নাই,সেই ফলের স্বাদ এবং মিষ্টত্ব সর্বোত্তম। অর্থ্যাৎ যে না চাইতে পাওয়া,ভাগবদ্ গ্রন্থ হচ্ছেন বেদ বৃক্ষের সুপক্ক ফল।ইহার উৎপত্তি দেবাদিদেব নারায়ণ হতে, তিনি কৃপা পরবশ হয়ে পরম্পরা অনুসারে তা দান করেছেন অর্থ্যাৎ না চাইতেই পরপর সকলে পেয়েছেন।ইহাকে এককথায় বলা হয় "বাসুদেব মন্ত্র" এবং চতুঃশ্লোকী।*
*এদিকে মহর্ষি বেদব্যাস হিন্দুধর্মের উপর গ্রন্থের পর গ্রন্থ রচনা করে চলেছেন, যথা বিভিন্ন পুরুণ,মহাভারত,বেদ বিভাগ,পাতঞ্জল যোগ দর্শনের টীকা ইত্যাদি নানাবিধ গ্রন্থ।এতসব গ্রন্থ রচনা করা সত্ত্বেও তাঁর মনে শান্তি নেই, কেমন যেন একটা অভাব বোধ করছেন, এইসব কারণে সরস্বতী নদীতীরে চিন্তাকুল হৃদয়ে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় বসে আছেন মহর্ষি বেদব্যাস।এমনই এক পবিত্র সময়ে দেবর্ষি নারদ সেখানে আগমন করলেন এবং কুশলবার্তা জিজ্ঞেস করলে মহর্ষি বেদব্যাস নারদকে তাঁর চিত্তের অশান্তির কথা সব বললেন, তদুত্তরে দেবর্ষি নারদ বললেন যে,বেদব্যাস! তুমি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছ তা অতীব সত্য কিন্তু ভক্তের সঙ্গে ভগবানের হৃদয়ের যে আদানপ্রদান সে কথাগুলি কোথাও তুমি বর্ণনা করোনি, সেই কারণেই তোমার হৃদয়ের পরিতৃপ্তি ঘটেনি।তোমার জ্ঞানের তুলনা মেলা ভার,বিচক্ষণ লোকেরা তোমার এইসব রচনা থেকে জীবনে চলার পথে অনেক পাথেয় সংগ্রহ করতে পারবে কিন্তু যারা সাধারণ মানুষ,যারা বিষয় জালে মোহাচ্ছন্ন, তাদের জন্য তো তুমি কিছু রচনা করনি, সেজন্য সেই মহানপুরুষ শ্রীকৃষ্ণের লীলা কাহিনী তুমি বর্ণনা কর।নররূপে জন্মগ্রহণ করে পরমপুরুষ সেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যে সব লীলা করে গেলেন, সেইসব লীলা কীর্তনের মাধ্যমে তুমি নিশ্চিত শান্তিলাভ করবে।পুরাণ,বেদ,গীতা, মহাভারত সব কিছুই তুমি রচনা করেছ শুধুমাত্র সেই পরমপুরুষের লীলা কাহিনী কিছুই বর্ণনা বা রচনা তুমি করনি।ব্যাসদেব কথাটা বুঝলেন এবং ভাবতে লাগলেন যে দেবর্ষি নারদ যা বললেন তা তো প্রকৃতই সত্য অতএব কিভাবে তা করবেন। তখন তিনি দেবর্ষি নারদের আশীর্বাদ ভিক্ষা করায় নারদ তখন তাঁকে দিলেন তাঁর "বাসুদেব মন্ত্র" এবং চতুঃশ্লোকী, যা তিনি পেয়েছিলেন কমলযোনি ব্রহ্মার নিকট হতে।মহর্ষি বেদব্যাস তখন দেবর্ষির কৃপাশক্তিতে বলীয়ান হয়ে একেবারে ধ্যানস্থ হলেন এবং মহাসমাধির মধ্য দিয়ে অপরোক্ষ ভাবে শ্রীকৃষ্ণের সমস্ত লীলা তিনি প্রত্যক্ষ করলেন।তৎপরে তাঁর সমাধি ভঙ্গ হল, তাঁর অমৃতময় লেখনী হতে গঙ্গাধারার মত প্রবাহিত হতে লাগল ভাগবতের শ্লোকগুলি।এইভাবে দেবর্ষির আশীর্বাদে মহর্ষির অপূর্ব প্রতিভা তখন ধীরে ধীরে রূপায়িত হল শ্রীমদ্ ভাগবতরূপে ১৮০০০ শ্লোকের মাধ্যমে। এইজন্য ভাগবতকে বলা হয় "নিগম কল্পতরোর্গলিতং ফলং"।*
*🍀এইজন্যই শুকদেব গোস্বামীপাদ হরিদ্বারে মহারাজ পরীক্ষিৎকে বলেছেন,আমি তোমাদের কাছে সেই বেদেরই পরমতত্ত্ব পরিবেশন করতে এসেছি এই তত্ত্বটি কিভাবে এসেছে, ধা গলিত ফলরূপে,গলিত ফল মানে সুপক্ক ফল যা হতে রসক্ষরণ হয় যা সকলে পরিতৃপ্তির সহিত আস্বাদন করেন এবং সেই বেদবৃক্ষরূপ কল্পতরুর সুপক্ক ফলটি হচ্ছেন শ্রীমদ্ভাগবত, অর্থ্যাৎ একে আহরণ করতে কোন পরিশ্রমই করতে হয় না, সুপক্ক হয়ে আপনা থেকেই পড়ে রসে ভরপুর অবস্থায়।*
*🌻শুক মুখাৎ অমৃত দ্রব সংযুক্তম্। অর্থ্যাৎ গাছের পাকা ফলটিতে যেরকম পাখীরা ঠুকরে ঠুকরে খেয়ে তার রস আস্বাদন করে, এখানেও শুকদেব গোস্বামীপাদ যেন ভাগবতের রস ঠুকরে ঠুকরে বের করে শুধু মাত্র নিজে পান করেননি, আমাদের সকলকে পান করিয়েছেন, এইজন্য ভাগবতের পরিবেশনকে শুক মুখাৎ অমৃত দ্রব্যসংযুক্তম্ বলা হয়।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৭. ভাগবতকে গলিতং ফলং বলা হয় কেন ❓ বৈষ্ণব রস-সাহিত্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৭)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (২য় খন্ড)*
*ভাগবতকে গলিতং ফলং বলা হয় কেন?*
*🍀গীতায় শ্রীকৃষ্ণ ভগবান অর্জুনকে কর্ম,ভক্তি ইত্যাদি বিষয় সম্যক জ্ঞানদানের মাধ্যমে তাঁর মোহ ভঙ্গ করেছিলেন এবং সর্বশেষে বলেছিলেন যে,দেখ অর্জুন!এতসব যদি করতে না পারো, তবে "সর্বধর্মান পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ"।অর্থ্যাৎ শ্রীকৃষ্ণ এই কথাগুলি বলেই যেন মুক্ত। সর্বতোভাবে আমার শরণ নাও।তুলনামূলক হিসাবে বলা যায়,পিতামাতা সন্তানকে বলছেন খোকা!ভাল কোরে পড়াশুনা করো যদি জীবনে উন্নতি করতে চাও। কিন্তু ছেলেকে মানুষ করতে গেলে যা প্রয়োজন সেদিকে তাঁরা নজর দিলেন না।বললেন খোকা ভাল করে পড়াশুনা করো, এখানেও সেইরকম শ্রীকৃষ্ণ শরণ নাও বলেই মুক্ত হলেন। কিন্তু ভগবানকে আপন করে পাবার যে আকাঙ্ক্ষা, নিবিড়ভাবে তাঁর সান্নিধ্যলাভের যে আকুতি ভক্তহৃদয়কে উদ্বেল করে তুলে সে তৃষ্ণার শান্তি তো শুধু আহ্বানে মিটেনা।সেজন্য ভক্তপ্রাণের সেই আকাঙ্ক্ষাকে চরিতার্থ করবার জন্য এগিয়ে এলেন শ্রীমদ্ভাগবত।এইজন্য মহাজনগণ বলেছেন গীতার যেখানে শেষ, শ্রীমদ্ভাগবতের সেখানে শুরু।এই জন্যই ভাগবতকে বলা হয় "শ্রবণমঙ্গলম্" অর্থ্যাৎ শুধু হরিকথা শুনে যাও, শুনলেই মঙ্গল হবে।*
*🍀আমরা দেখতে পাই যে মহাভারতে ঘটনাগুলি আছে তার মধ্যে নানা তত্ত্বের উপদেশ,রাজনীতির কথা আছে, ধর্মনীতির কথা আছে কিন্তু ভক্ত কেমন করে ভগবানের সঙ্গে হৃদয়ের আদান প্রদান করে সে কথাটি মহাভারতে নেই। আমরা মহাভারতে এই সব ঘটনাগুলিই পাই কিন্তু ভক্তের নয়ন দিয়ে ভগবানকে দেখা মহাভারতে পাই না।ভক্ত ভগবানের নিবিড় সম্পর্কের অজস্র দৃষ্টান্ত শুধুমাত্র শ্রীমদ্ভাগবতেই আমরা আস্বাদন করতে পারি।নারদ ও ব্যাসদেবের কথোপকথনের মধ্যে দেখা যায় যে মহাভারত রচনা করে ব্যাসদেবের তৃপ্তি বোধ হয় নি।সেজন্য ভক্তির যে পরমরস সেই রসটুকু প্রাণভরে ঢেলে দেবেন বলে রচনা করলেন শ্রীমদ্ভাগবত।ভাগবতে একদিকে যেমন রয়েছে ভগবৎ-তত্ত্ব ও ভগবৎলীলার পরিবেশন,তেমনি অন্যদিকে রয়েছে ভগবদ্ ভক্তদের নানা কাহিনী।যাঁরা মহাজন,তাঁদের জন্য রয়েছে ভগবদ্ তত্ত্বের আলোচনা এবং একমাত্র তাঁরাই সেই ভগবদতত্ত্ব ও লীলা আস্বাদনের অধিকারী।আর যাঁরা অভাজন তাঁরা ভগবদ্ ভক্তদের জীবনী কথার মধ্য দিয়ে ভগবানের রস আস্বাদন করবেন।এইসব ভক্ত চরিত্র আস্বাদনের মধ্য দিয়েই তারা একদিন ভগবানকে লাভ করে ধন্য হবেন,কারণ ভগবানকে পেতে হলে--, "ভগবানের ভক্ত যাঁরা, ভগবানের স্পর্শ যাঁরা পেয়েছেন,তাঁদের স্পর্শ পাওয়া চাই "।*
*🌹ভগবান বলেছেন------*
*ভক্ত আমার পিতা মাতা,*
*ভক্ত আমার গুরু,*
*ভক্ত আমার নাম রেখেছে*
*বাঞ্জা কল্পতরু।*
*🍀যাইহোক,এইসব মহৎজনের সেবার দ্বারা অর্থ্যাৎ মহৎ সেবায় মনের মধ্যে জাগবে বাসুদেবে কথারুচি ; এই ভাবে বাসুদেবের কথায় রুচি হলে তাঁর কথা শুনতে শুনতে সমস্ত অমঙ্গল দূরীভূত হবে। ভগবানের যত ঐশ্বর্য্যময় রূপই থাকুক না কেন সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ হল "তাঁর ভক্ত পরাধীনরূপ"।ভক্তের কাছে তিনি নিজের সত্ত্বাকে একেবারেই বিকিয়ে দিয়েছেন এবং বলেছেন এদের ঋণ আমি শোধ দিতে পারি না,পারব না।*
*🍀এই দুনিয়ায় বহু জায়গায় ভাগবত পাঠ হয়,শ্রোতারও বহু সমাগম হয়,ভাগবত শোনার জন্য। কিন্তু শুধু শুনলেই হবে না বা শুনতে হবে কি ভাবে--, "শুশ্রুষঃ শ্রদ্ধধশ্চ" অর্থ্যাৎ শ্রদ্ধাপূর্বক শুনতে হবে এবং এই শোনার ইচ্ছা যেন হৃদয়ের মধ্যে জাগ্রত হয়।বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে নিছক কৌতূহলের বসে ভাগবত পাঠ শুনতে যাই এবং ভাগবত পাঠ শোনার ফল লাভ করতে পারি না।সেজন্য ভাগবদ্ বলছেন যে সত্যিকারের শুনবার ইচ্ছা নিয়ে শ্রদ্ধা সহকারে যদি কেউ তাঁকে গ্রহণ করতে পারে তাহলে ধীরে ধীরে তার হৃদয়গ্রন্থী ভেদ হয়ে যায়,সব সংশয় ছিন্ন হয়ে যায় এবং কর্মবন্ধন শিথিল হয় যাকে বলা হয় মুক্তি।শোনার মধ্যদিয়েই এই মুক্তির পথই আমাদের দেখিয়ে দিয়েছেন।*
*এটি শুধু মুখের কথা নয়,শোনা কথা নয়,ইচ্ছার জাজ্বল্য প্রমাণ মহারাজ পরীক্ষিৎ। মহারাজ শাপগ্রস্ত, আর মাত্র সাতদিন তাঁর পরমায়ু রয়েছে,কিন্তু তার জন্য মনে কোন বিষাদ নাই, কেবল ভাবছেন জীবনের এই অবশিষ্ট সাতদিন How best to utilise । সেজন্য বিশেষ ভাগ্য জোরে পেলেন শুকদেব গোস্বামীপাদকে এবং সঙ্কল্প করলেন একমনে একপ্রাণে ক্ষুধা-তৃষ্ণা বিসর্জন করে শুধু হরিকথা শোনার মাধ্যমে জীবনকে তক্ষক দংশনের দ্বারা বিসর্জন দিবেন। সম্পূর্ণভাবে উপবাসী থেকে হরিদ্বারের ব্রহ্মকুন্ডে আসীন হলেন, মুখে একবিন্দু জল পর্যন্ত গ্রহণ করেননি।অবধারিত মৃত্যুমুখে দাঁড়িয়ে শুকদেব গোস্বামীপাদকে মহারাজ পরীক্ষিৎ বলছেন, "আসুক আমার মৃত্যু,আমায় শেষ করে দিক তক্ষক, আপনি হরিকথা বলুন হরিকথার বিরাম দিবেন না।আমি চাই অভুক্ত উপবাসী অবস্থায় দেহ মন প্রাণ শ্রীহরির চরণে নিবেদন করে হরিকথা,কৃষ্ণকথা,বিষ্ণুকথা শুনতে শুনতে যেন প্রাণটি চলে যায়।তারপরে বললেন যে,আপনার শ্রীমুখ থেকে হরিকথা শুনতে শুনতে দেহবোধই যেন আমার বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।এটিই হল ভাগবতের মহিমা একবার সেই ভাগবদ্ রসের আস্বাদ পেলে আর কোন রসই ভাল লাগবে না।হ্যাঁ--, দুই-একদিনের জন্য পান করলে চলবে না। এই যে ভাগবত রসামৃত তা পান করতে হয়ে "আলয়ম্" অর্থ্যাৎ যতদিন না লয় হয়।শোনার যে পথ,শোনার যে লালসা, শোনার যে মানসিকতা তা দেখিয়ে গেছেন মহারাজ পরীক্ষিৎ।কারণ ভাগবত শোনার সময় তাঁর দেহবোধ ছিল না।তিনি তখন মৃত্যুঞ্জয়ী বীর হিসাবে ভাগবতরস সমুদ্রে ভাসমান ছিলেন।এইভাবেই ভাগবদ্ পাঠ শুনতে হয় বা শুনতে যেতে হয়।সেজন্যই ভাগবত ডাক দিয়েছেন তোমরা শুধু শুনে যাও,শুনে যাও,শুনে যাও,হরিকথার এমনই মহিমা যে শোনার মাধ্যমে চিত্তদর্পণের ময়লা দূর হবে এবং হৃদয়ে শুদ্ধাভক্তির উদয় হবে।গঙ্গার জলধারা সুদূর গঙ্গোত্রী বা গোমুখ থেকে নিসৃত হয়ে যেমন সাগরের দিকে নিজ থেকেই প্রবাহিত হয়,এই উপলক্ষ্যে ভক্ত ভগবানকে বলছেন,গঙ্গাধারার মত আমার হৃদয়ের সমস্ত বৃত্তিগুলি যেন তোমার দিকে আপনা আপনি ধাবিত হয়।এটিই হল প্রকৃত ভক্তমনের একান্ত কামনা বাসনা।*
*ক্রমাগত*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৮. ভাগবতকে গলিতং ফলং বলা হয় কেন ❓ বৈষ্ণব রস-সাহিত্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৮)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী(২য় খন্ড)*
*ভাগবতকে গলিতং ফলং বলা হয় কেন?*
*🍀সংসারী ভক্ত এই সব কথা শুনে ভগবানকে যেন বলছেন, আমি যে সংসারী মানুষ আমাকে বৈষয়িক কথা বলতে হবে,শুনতে হবে,আমি কি করে সমস্ত মন প্রাণ তোমার শ্রীচরণে ঢেলে দিব। তদুত্তরে ভগবান বললেন---*
*🌷বাণী গুণানু কথনে শ্রবণৌ কথায়াং,*
*🌷হস্তৌ চ কর্মসু মনস্তব পাদয়ের্নঃ,*
*🌷স্মৃতাং শিরস্তব নিবাস জগৎ প্রণামে,*
*🌷দৃষ্টিঃ সতাং দর্শনেস্তুব ভবৎ তনুনাম্।*
*🌻অর্থ্যাৎ ভগবান বলছেন আমি যে তোমাকে তোমার দেহ মন্দিরে এতগুলো ইন্দ্রিয় দিয়ে জগতে পাঠালাম তার কি তুমি সদ্ব্যবহার করবে না।*
*(১)মুখে বাণী দিলাম=কথা বলার শক্তি দিলাম কিন্তু সেই বাক্য কি তুমি কখনও তাঁর গুণানুকথনে লাগিয়েছ, সে জন্য ভগবানের গুণগানে তোমার এই বাক্যেন্দ্রিয়কে ব্যাপৃত (নিযুক্ত বা নিয়োজিত)কর।*
*(২)তোমাকে দুইটি কান দিলাম=কি শোনার জন্য?অর্থ্যাৎ দুটি কান দিয়ে তাঁর কথা শোনবার জন্য,তা-কি কখনো শুনছো বা শুনেছ?*
*(৩)দুইটি হাত দিলাম=তাদের কি কখনও তাঁর কর্মে বা তাঁর সেবায় কাজে লাগিয়েছ?*
*(৪)মন দিলাম=সে মন দিয়ে তো শুধু বিষয় চিন্তা,ভোগ লালসার চিন্তা করলে তা চলবে না।সেই মনটি দিতে হবে তাঁর সকোমল পাদপদ্মে বা চরণসেবায়।*
*(৫)শির বা মস্তক দিলাম=সেটিকে কি শুধু উদ্ধত হয়ে অহঙ্কারে মাথা উচুঁ করে যাবার জন্য?না---,কখনও নয়,তাকে মহারাজ অম্বরীষের মত ভগবদ্ চরণে লুটিয়ে দেবার জন্য।*
*🌹ভক্ত তখন বলছেন তাঁকে কোথায় পাব যে প্রণাম করব?তখন ভগবদ্ বলছেন এই সমস্ত চরাচর বিশ্বের মধ্যেই তিনি বিরাজ করছেন, সেই বিভূ সৃষ্ট জগতকে প্রণাম জানাও, কারণ জগন্নিবাস জগন্নাথ সর্বত্রই সাক্ষাৎ বিরাজিত। অর্থ্যাৎ এই বিশ্বজগতে যাঁকেই তুমি সামনে দেখবে,অবনতচিত্তে তাঁকেই প্রণাম জানাও,কারণ তারা যে সব "হরেঃ শরীরম্" অর্থ্যাৎ সকলের মধ্যেই শ্রীহরির চিৎ শক্তি বিরাজ করছে।মাথার উপর ঐ যে নীলাকাশ,এই যে মৃদুমন্দ সমীরণ প্রবাহিত হচ্ছে,এই যে সুশীতল পানীয়জল,এই যে মাটির পৃথিবী সব কিছুই যে তাঁর সৃষ্টির মূর্ত্ত প্রতীক। সেজন্যই বৈষ্ণবধর্মে বলা হয়েছে ---*
*🌷ব্রাহ্মণ আচন্ডাল কুক্কুরান্ত করি।*
*🌷দন্ডবৎ করিবেক বহুমান্য করি।।*
*☘সুতরাং প্রণাম জানাবার জন্য মঠ মন্দিরে না গেলেও চলবে কারণ সারা বিশ্বটাই যে ভগবানের মূর্ত্ত প্রতীক।*
*🍁নববিধা ভক্তিতে বলা হয়েছে শ্রবণ কীর্তন স্মরণ বন্দন ইত্যাদি এবং এই জন্যই শ্রবণকে সর্ব প্রথম প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।ভাগবদ্ বলছেন তোমরা শুধু শুনে যাও, কি শুনবে? না--,ভগবদ্ হরি কথা? শ্রদ্ধার পুঁজি সম্বল করে শুধু শুনে যাও,শুনতে শুনতে হৃদয়ের রুদ্ধদুয়ার খুলে যাবে।কথাটি বড় সহজ অর্থ্যাৎ কোন পয়সাকড়ি কিছুই লাগবে না, মহৎজনের মুখ হতে নিঃসৃত হরিকথা শুনে যাও, কারণ তাঁরাই যে এই সত্যটিকে প্রকৃতভাবে উপলব্ধি করেছেন। এইভাবে শুনতে শুনতে নিজের মনে বাসুদেব কথারুচি জাগ্রত হবে।এই রুচি জন্মাবার জন্য কি করতে হবে,না--, মহৎ সেবা। অর্থ্যাৎ যেখানে আলো জ্বলছে সেখান থেকে তোমার হৃদয়ের প্রদীপটি জ্বালিয়ে নাও।মহৎ ব্যক্তিদের মধ্যে আবার যাঁর মধ্যে হরিকথা রুচির প্রগাঢ়তা রয়েছে সেখান থেকে রুচি আহরণ করো,কারণ তপস্যা করে,যাগযজ্ঞ করে,সাধনভজন করে সেই পরম বস্তু লাভ করতে অনন্তকাল লেগে যায়।কলির জীব স্বল্পায়ু।জন্মের পর জন্ম চলে যায়,সেজন্য যেখানে আগুন জ্বলছে অর্থ্যাৎ যিনি ভগবানকে উপলব্ধি করছেন তাঁর সান্নিধ্যে যদি আসতে পারো তাহলে তাঁর দ্বারাই তাঁর সেই সাধনলব্ধ উত্তাপ থেকে সেই আলো তোমার মধ্যে অচিরেই সঞ্চিত হবে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏👣🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৯. ভাগবতকে গলিতং ফলং বলা হয় কেন ❓ বৈষ্ণব রস-সাহিত্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৯)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী(২য় খন্ড)*
*ভাগবতকে গলিতং ফলং বলা হয় কেন?*
*🍀এইজন্য দেবর্ষি নারদ বলেছেন মহৎজনের কৃপা যদি লাভ করতে পার, তাহলেই এই হরিকথায় রুচি নিজে থেকেই এসে যাবে।সেজন্যই করতে হবে মহাপুরুষের অর্চনা মহাপুরুষের বন্দনা-সেবা-তাঁদের সঙ্গ এবং তাঁর দ্বারাই তোমার উপলব্ধি হবে।কি উপলব্ধি?যাঁরা তাঁদের জীবনে তাঁর কৃপা পেয়েছেন। অর্থ্যাৎ সাক্ষাৎ উপলব্ধি যেখানে হয়েছে সেখান থেকেই আগুন জ্বালিয়ে নিতে হয় বা হবে।সেজন্য নারদ তাঁর ভক্তি সূত্রে বারবর ডেকে ডেকে বলেছেন "তদেব সাধ্যতম,তদেব সাধ্যতম" অর্থ্যাৎ তুমি শুধু তাই সাধো অর্থ্যাৎ সাধন করো, মহৎজনের সঙ্গ করো। না হলে অন্ধ কি কখনও কাউকে পথ দেখাতে পারে? সেজন্য যিনি ভগবদ্ কৃপায় দিব্য চক্ষু লাভ করেছেন,তাঁদের চরণে শরণ নাও, শ্রীকৃষ্ণ ভগবান গীতার সর্বশেষে বলেছেন "মামেকং শরণং ব্রজ"। কৃষ্ণকে কোথায় পাব, না যাঁরা কৃষ্ণভজন,কৃষ্ণপূজন,কৃষ্ণসেবায় তাঁদের নিজের জীবনকে মহিমান্বিত করেছেন তাঁদের শরণাগতি কামনা করো।তাহলে তখনই তোমার মনে পরমেশ্বের রতি দেখা দিবে।*
*🍀প্রসঙ্গত বলা যায় এই যে,আমরা সকলে তীর্থদর্শনে যাই, তার প্রধান কারণ মহতের সঙ্গ লাভ।কারণ তাঁদের ভজনপ্রভাবে সেখানকার আকাশ বাতাস ভূমি জল সবই পুণ্যবান হয়ে উঠেছে।এরজন্যই সাধু দর্শনের এত মহিমা বা এত বাসনা।শুধু তীর্থে গেলাম গাড়ী ঘুরে বেড়ালাম,কেনাকাটা করলাম এতে তীর্থস্থান হয়ত দর্শন হয় কিন্তু তীর্থ দর্শন হয় না।মহৎ কৃপা না হলে আবার সাধু দর্শন হয় না, কারণ এই ভক্তি জগতটা সবই যেন কৃপার দাড়িপাল্লার উপর প্রতিষ্ঠিত।মহৎজনের অন্তরের অন্তস্থল থেকে যদি কৃপা বর্ষিত হয় তখনই সেই লোকের মনে ভক্তিবীজের মাধ্যমে অঙ্কুরোদ্গম হবে।সব জিনিসটিই প্রভূত সময় সাপেক্ষ, কারণ ভগবান যখন নিজেকে ভক্তের দাস করে রেখেছেন, তিনি কি সহজে তার দাসত্ব স্বীকার করবেন।ভক্তের কাছে ভগবান পরাধীন,নিজেকে বিকিয়ে দিয়েছেন তাঁর সেবা নিষ্ঠা দেখে, সুতরাং ভগবানের উপর কর্তৃত্ব করতে গেলে নিজেকে সেইভাবে ভগবদ্-দাসানুদাস হতে হবে।*
*🍁সেইজন্য ভক্ত বলছেন, "দৃষ্ট এব আত্মনি ঈশ্বরে", যার অর্থ আমার মধ্যে তাঁর প্রকাশ অর্থ্যাৎ তাঁকে যখন নিজের মধ্যে দেখতে পাব তখনি বুঝতে হবে মনের আয়না থেকে সব ময়লা দূরীভূত হয়েছে।*
*💮ভাগবতের অন্য বৈশিষ্ট্য হল ব্যাসদেব কর্তৃক ভাগবদ্ জনের জীবনধারা নিয়ে এক বৈচিত্রময় প্রকাশ।এখানে তিনি দেখিয়েছেন বিভিন্ন ভক্তরা কিভাবে ভগবানকে প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করেছেন, সেই উপায়গুলিও প্রকাশিত হয়েছে ভাগবতে, এবং সেগুলি তাঁদের মুখ থেকেই শোনান হয়েছে। ভগবানের আপনজনদের জীবনী,তাঁরা ভগবানকে লাভ করে যে সব স্তব স্তোত্রের মাধ্যমে ভগবানের অনন্ত মহিমা ব্যক্ত করেছেন, তা সব যেন প্রত্যক্ষভাবে উদভাষিত হয়েছে। অর্থ্যাৎ এই ভাগবতের মধ্যেই আমরা ধ্রুব,প্রহ্লাদ,বলি,বামনের উপাখ্যান আবার পাই,মহারাজ অম্বরীষের মত ভক্তের উপাখ্যান। এইগুলি সব Direct Experience এর কথা, কিভাবে তাঁরা সাধনভজনের মাধ্যমে ভগবানের স্বরূপকে চিনেছেন তা সব তাঁরা নানাবিধ স্তবস্তুতির মাধ্যমে ভগবানের মহিমা কীর্তন করেছেন। যথা=*
*🌷অসিত গিরিসমং স্যাৎ কজ্জলং সিন্ধুপাত্রে,*
*🌷সুরতরু বরশাখা লেখনী পত্রমুর্ব্বী,*
*🌷লিখতি যদি গৃহীত্বা সারদা সর্বকালং,*
*🌷তদপি তব গুণানামীশ পারং ন যাতি।*
*🌻এখানে ভগবানের মহিমা কীর্তন করে এক চমৎকার একটি শ্লোক রচনা করেছেন, যা নিম্নে দেওয়া হল।ইহার ভাবার্থ এরকম=*
*🌹সিত=সাদা, সুরতরু=স্বর্গের কল্প বৃক্ষ, অসিত=সাদা না,লেখনী=কলম, গিরি=পর্বত,উর্ব্বী=পৃথিবীর মাটি, কজ্জলং=কালী, সারদা=মা সরস্বতী, সিন্ধু=সমুদ্র, গুণীনাম=গুণকীর্তন, ঈশ=ভগবান।*
*🌻এখানে ভক্ত ভগবানের মহিমা কীর্তন প্রসঙ্গে বলছেন যে, হে ভগবান! এই পৃথিবীর সব পাহাড় পর্বত যদি কালীর পাথর হত, এবং সমুদ্র যদি মসীধার বা কালির দোয়াত হত, সেই সমুদ্ররূপী দোয়াতে যদি কালি গোলা হত, এবং স্বর্গের কল্পবৃক্ষের ডাল দিয়ে যদি কলম করা হত এবং সারা ভূমন্ডল যদি কাগজ হত এবং মা সরস্বতী যদি নিজ হাতে সেই কলম ধরে তোমার গুণকীর্তন সব লিখে যেতেন,তাহলেও হে ভগবান, তোমার গুণকীর্তন বা মহিমা লিখে শেষ করতে পারতেন না।*
🙏👣🙏👣🙏👣🙏👣🙏👣🙏👣🙏👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ২০. এ জগতে কে আপন কে পর 🍁 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২০)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী(২য় খন্ড)*
*এ জগতে কে আপন কে পর*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀এ দুনিয়ায় কে আপন কে যে পর তার কোন বাস্তব সূত্র নাই। নিজের অন্তরাত্মাকে জিজ্ঞাসা করলেই বুঝতে পারবে যে তুমি যাকে আপন ভাবছ সে-কি সত্যই তোমার আপনজন?সে কি তোমার প্রাণের প্রাণ হতে পেরেছে?যাকে ভালবাসিলে তোমার ভালবাসা প্রকৃত সার্থক হয় তাঁকে কি সে ভালবেসেছে? তোমার ঔরসে জন্মেছে বলেই কি সে তোমার আপন হয়ে গেল?ইহা কখনও মনে করিও না।সে কি ভগবানকে ভালবাসে? না,সে হরি বিরোধী?পুত্র হয়েও প্রহ্লাদ হিরণ্যকশিপুকে আপন মনে করতে পারেননি।পত্নী হয়েও মীরাবাই মনে প্রাণে রানা ভোজরাজকে আপন বলে স্বীকার করতে পারেননি। ভগবানের জন্য যার প্রাণের টান সেই তোমার খাঁটি আপনজন।তার সঙ্গে লৌকিক বা সামাজিক কোন সম্পর্ক না থাকলেও সেই প্রকৃত আপন তা সে মুচি-মেথর-হাঁড়ি-ডোম-চন্ডাল যেই হোক না কেন।*
*🍀তোমাকে ভগবদ্ উপাসনায় ব্রতী দেখলে যার মনে আনন্দ হয় সেই তোমার প্রকৃত আপনজন আর তোমার হরি বিমুখতায় যার তৃপ্তি সেই তোমার পর।এই কথাগুলি মনে রেখে মনের কষ্ঠিপাথরে যাচাই করে দেখ সে তোমার প্রকৃত আপন কি পর।*
*🍀সেজন্য এ জগতে আপন চিনে চল, আপন বুঝে চল, যে পর তার সঙ্গে মায়িক সম্বন্ধ থাকলেও নিজেকে জড়াইও না, শুধু মাত্র কর্তব্যের খাতিরে যা করা দরকার তাইই করবে।যতদিন বেঁচে থাকবে "হাতের কর কাম,মুখে কর নাম", নিমেষের জন্য ভগবদ্ চিন্তা পরিহার করবে না। প্রত্যেক নিশ্বাসে প্রত্যেক প্রশ্বাসে (চব্বিশ ঘন্টায় আমরা ৪৩২০০বার নিশ্বাস-প্রশ্বাস আদানপ্রদান করি),প্রত্যেকটি হস্তপদ সঞ্চালনে, হৃদয়ের প্রত্যেকটি স্পন্দনে, শরীরের প্রত্যেকটি আন্দোলনে অবিরাম ভগবানের মধুময় মধুমাখা নাম স্মরণ কর।তাঁর নামের সেবায় জীবনের সবচেয়ে বড় কাজ।অন্য কাজকে তার অধীন করে নাও।এই কাজই প্রধান,অন্য কাজ সব অপ্রধান।এটিই হচ্ছে মহাজন,বৈষ্ণবগণের বাক্য।প্রতিটি কাজের মধ্যে এই অনুভবটি যেন থাকে যে,তাঁরই কৃপায় বেঁচে আছি,তাঁরই কৃপায় জাগতিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ ভোগ করছি।তাঁরই কৃপায় দুটি আহার জুটছে।আহা!আহা! তিনি কত দয়াময়, সুতরাং মনুষ্য জীবনে এমন পরম বন্ধু তাঁকে ভুলে যাওয়া বা ভুলে থাকা কি ঠিক? কারণ তিনিই প্রকৃত আপনজন।"এক কথায় ভগবদ্ কথায় কথা,আর সব ব্যথা"। মানুষের জীবনটা হবে অখন্ড ভগবদ্ ভজন। শুদ্ধ আহার বা সাত্ত্বিক আহার, উষাকালে উপাসনা, শাস্ত্রপাঠ এবং ধীরে ধীরে বিষয় বৈরাগ্য।এইভাবে জীবন যাপন করলেই কে আপন কে পর তা সহজেই বুঝতে পারা যাবে।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣👣
🔜 ক্রমাগত 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
