*✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧*
꧁১. শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর সংক্ষিপ্ত জন্ম বর্ণনা ꧂
👇👇👇👇 👇👇🏼👇👇👇👇http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/03/blog-post.html
*✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧*
আমাদের এই পৃথিবীতে যখন সাধু জন অত্যাচারিত হন তখন দুষ্ট মানুষকে দমন করিবার জন্য পরম সচিনান্দন ভগবান সৃষ্ঠিকে রক্ষা করিবার জন্য যুগে যুগে আবির্ভূত হন।
স্বয়ং ব্রজেন্দ্র নন্দন শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য রূপে অবতীর্ণ বলে শ্রীচৈতন্য পরতত্ত্বের পরাকাষ্ঠা অর্থাৎ সর্বশ্রেষ্ঠ তত্ত্ব।
অনেকে মনে করে শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্যই ক্ষীরোদশায়ী নারায়ন রূপে অবতীর্ণ হয়েছেন কিন্তু এই সিদ্ধান্ত সঠিক নয় কারণ ক্ষীরোদশায়ী নারায়ন হলেন শ্রীকৃষ্ণের অংশাংশাংশ ।
এরপরে শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভুকে ক্ষীরোদশায়ী নারায়ন বললে তেনার মহিমা খর্ব করা হয় বলে মনে হয়।
তবে ভক্তদের এই ধারণা একেবারে মিথ্যা নয় কারণ শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান তিনি স্বয়ং অবতারী তার অবতার কালে অন্য সকল অবতার তার সঙ্গে এসে মিলিত হন।
"পুণ্য ভগবান অবতারে যেই কালে আর সব অবতার তাতে আসি মিলে।।
নারায়ন চতুব্যূ্হ মৎস্য অবতার যুগ মন্বন্তরাবতার যত আছে আর সবে আসি কৃষ্ণ অঙ্গে হয় অবতীর্ণ।।"
শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান এটাই সিদ্ধান্ত বা তত্ত্বজ্ঞান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীচৈতন্য রূপে অবতীর্ণ হয়েছেন সুতরাং শ্রী কৃষ্ণ তত্ত্ব ও শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য তত্ত্ব একই শ্রী কৃষ্ণ তত্ত্ব মহিমা জানলে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য তত্ত্ব ও মহিমা জানা যায় তাই শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহিমা প্রকাশের জন্য শ্রীকৃষ্ণের মহিমার কথা প্রচার করা হয়।
রাধাকৃষ্ণ একাত্মা দুই দেহ ধরি।
অনন্য বিলয়ে রস আস্বাদন করি।।
সেই দুই এক এবে চৈতন্য গোঁসাই।
রস আস্বাদিতে দোঁহে হৈলা একঠাঁই।।
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, আদিলীলা)
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর মধ্যেই দুই স্বরূপ একত্রে যথা রাধাকৃষ্ণের মিলিত তনু বিরাজ করেছে তাই শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর মহিমা বর্ণনা সাথে সাথে শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণের যুগল লীলা রস মহিমা বর্ণনা হয়ে যায়।
তাই শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভুর স্মরণ বিহীন শ্রীরাধাকৃষ্ণের লীলামৃত উপলব্ধি অসম্পূর্ণ।
তাই এই কলিকালে জীবের গতির কথা ভেবে শ্রী অদ্বৈত আচার্য্য(শ্রীমহাবিষ্ণু অবতার) তুলসী পত্র নিয়া গঙ্গায় নিত্য ভগবান কে আহবান করেন। পরম সচিদানান্দন ভগবান শ্রীঅদ্বৈত ঠাকুরের ডাকে আর না থাকতে পেরে শ্রীরাধারাণীর বিরহ প্রেম উপলব্ধির জন্য অন্তে কৃষ্ণ বহির রাধার স্বরুপ লইয়া শ্রীনদীয়া নগরীতে শ্রীধাম নবদ্বীপে ১৪৮৬ বঙ্গাব্দে (১৪০৭ শকাব্দ) ২৩ শে ফাল্গুন (১৮ই ফেব্রুয়ারি) দোলপূর্নিমা তিথির সন্ধ্যার পুণ্য লগ্নে চন্দ্র গ্রহন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিম বিক্ষের তলায় শচীমাতার কোল আলো করে জন্ম নিলেন পরম সচিদানন্দন ভগবান গৌড় হরি।
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভুর পিতা শ্রী জগন্নাথ মিশ্র এবং মাতা শচীদেবী ছিলেন একজন আদর্শ রমনী ।
শ্রী জগন্নাথ মিশ্রের আদি নিবাস শ্রীহট্ট জেলার( বর্তমানে বাংলাদেশ) ঢাকা দক্ষিণ নামক গ্রামে।
জগন্নাথ মিশ্রের পিতা উপেন্দ্রনাথ মিশ্র এবং মাতার নাম শোভাদেবী। তেনাদের সাত পুত্র ছিলেন, সকলেই এক একজন বড়ো পণ্ডিত তার মধ্যে জগন্নাথ ছিলেন অতীব প্রিয়।
জগন্নাথ মিশ্র ছিলেন অত্যন্ত রূপবান ও অদ্বিতীয় পণ্ডিত। তিনি শাস্ত্র অধ্যয়নের নিমিত্ত নবদ্বীপে আসেন এবং কিছু বাড়িতে পূজা করিয়া জীবিকা সরবরাহ করেন।তেনার পাণ্ডিত্য ও মেধা শক্তি দেখে ত্রিকালদর্শী জ্যোতিষী নীলাম্বর চক্রবর্তী তার জ্যেষ্ঠা কন্যা শচীদেবীর সাথে বিবাহ দেন।
অতএব প্রভুর তেহ হৈল বড় ভাই।
কৃষ্ণ বলরাম দুই চৈতন্য নিতাই।।
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, আদিলীলা)
মাতা শচীদেবীর উদরে প্রথমে কন্যা আসেন আর সাথে সাথে প্রাপ্তি লাভ করেন এইভাবে আটজন কন্যাকে তিনি জন্মের পূর্বেই হারান। তাই শচীদেবী এবং জগন্নাথ মিশ্র খুবই মোন থেকে কষ্ঠ পেতে থাকেন। জগন্নাথ মিশ্র সেই বিরহ অবস্থায় ভগবান বিষ্ণুর চরন আরাধনা করতে থাকেন।
সেইসময় জগন্নাথ মিশ্রের প্রথম পুত্রের জন্ম হয়, তার নাম রাখেন বিশ্বরূপ মিশ্র।
সেইসময় বিশ্বরূপের বয়স যখন আট বছর তখন শ্রীহট্ট থেকে জগন্নাথ মিশ্রের পিতা মাতা জগন্নাথ মিশ্রকে নবদ্বীপ হইতে শ্রীহট্টে ফিরে আসবার জন্য জানান।
সেইসময় শ্রীহট্টে থাকাকালীন জগন্নাথ মিশ্রের মা শোভা দেবী হটাৎ একদিন স্বপ্ন দেখলেন যে এক জ্যোতির্ময় মহাপুরুষ তাকে বলছেন "শচীদেবীর গর্ভে একজন দিব্যগুণসম্পূর্ণ মহাপুরুষের জন্ম নেবেন , জন্ম লাভের যোগ্য স্থান হলো শ্রীধাম নবদ্বীপ।" শোভা দেবী স্বপ্ন দর্শনের সাথে সাথে জগন্নাথ মিশ্র ও শচীদেবীকে নবদ্বীপে পাঠিয়ে দেবার জন্য স্থির করলেন।
শচীদেবী পুত্র লাভের জন্য প্রায়দিন নবদ্বীপে মা পোড়ামার পূজা দিতে যেতেন। সময় আগত হতে ত্রিলোকের একমাত্র ইশ্বর ১৪০৬ শকাব্দের মাঘ মাসের শেষ দিকে শচীদেবীর গর্ভে এলেন। শ্রীশ্রী মহাপ্রভু শচীমাতার গর্ভে থাকাকালীন শচীমাতার রুপ সুন্দর হয়ে উঠতে থাকে এবং শচীমাতা বুঝতে পারন আকাশ হইতে দিব্যমূর্ত্তি লোক এসে স্তুতি বন্দনা করছেন তার গর্ভের উদ্দ্যেশে।
এইভাবে একমাস দুইমাস কাটতে কাটতে ত্রয়োদশ মাস এসে গেলো কিন্তু তখনো নবজাতকের জন্ম না হবার কারণে শচীমাতা এবং জগন্নাথ মিশ্র দুঃচিন্তায় পরে গেলেন। নীলাম্বর চক্রবর্তী গণিয়া দেখলেন এই মাসেই কোন শুভ ক্ষণে জন্ম নেবে এই নবজাতক।
অবশেষে ১৪০৭ শকাব্দের ফাল্গুন মাসে পূর্ণমাসীর সন্ধ্যাকালে নিমবৃক্ষের তলায় শচীমাতার কোলে কোল আলো করে জন্ম লাভ করেন কলিযুগ পাবন অবতার শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু, সকলের প্রাণের গৌড় হরি এবং জন্ম লাভের সাথে সাথে ত্রিভুবন *কৃষ্ণ কৃষ্ণ নাম* কীর্তন করতে থাকেন।
শ্রী মহাপ্রভুর দাদু শ্রী নীলাম্বর চক্রবর্তী তার জন্মের কুষ্ঠী এবং নবজাতকের চরন দেখিয়া তিনি বুঝতে পারেন এ নবজাতক কোন সাধারণ নবজাতক নয়। এই নবজাতকের মধ্যে বত্রিশ লক্ষণের প্রকাশ পাচ্ছে যা কোন মহাপুরুষের মধ্যে পাওয়া যায় এবং সিংহরাশি সিংহলগ্ন উচ্চ গ্রহগণ, ষড় বর্গ অষ্টবর্গ সর্ব সুলক্ষণ এই উক্তি করেন এবং নাম রাখেন শ্রী বিশ্বম্ভর মিশ্র।
শ্রী মহাপ্রভু গৌরবর্ণ হবার কারণে ওনাকে অনেকে গৌরহারি বা গৌরাঙ্গ বলিয়া ডাকতেন। কিন্তু তেনার জন্ম নিম বৃক্ষের তালায় বলে শচীমাতা ভালোবেসে নিমাই বলে ডাকতেন।।
✧════════════•❁❀❁•════════════✧
PDF 📚 🔗 👉 https://drive.google.com/file/d/10QCRhFcVkD7HO4kyQWKv_DoPL7aOCLq8/view?usp=drivesdk
✧════════════•❁❀❁•════════════✧
꧁ শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর সংক্ষিপ্ত লীলা🙏সূচীপত্র꧂
👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/06/blog-post_5.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧