✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ *তুমিত দয়ার সিন্ধু, অধম জনার বন্ধু* ꧂
꧁ *মোহে প্রভো! কর অবধান।* ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*তুমিত দয়ার সিন্ধু, অধম জনার বন্ধু,*
*মোহে প্রভো! কর অবধান।*
*পড়িনু অসৎ ভোলে,কাম তিমিঙ্গিলে গিলে,*
*ওহে নাথ!কর পরিত্রাণ।।*
*🙏🙏অধমের প্রতি কৃপা🙏🙏*
*শ্রীঠাকুরমহাশয় শ্রীকৃষ্ণকে "মহাশয়" অর্থ্যাৎ উদারচেতা বা কৃপালু বলে জড়ীয় বিষয়াবেশ হতে পরিত্রাণ লাভের জন্য তাঁর করুণা কামনা করেছেন।শ্রীকৃষ্ণকে "মহাশয়" বলে সম্বোধন করায় বিশ্বের অপর কোন মহাশয় বা উদারচেতার মত তাঁকে মনে হতে পারে বলে এই ত্রিপদীতে বলছেন,*
*"তুমি তো দয়ার সিন্ধু", "সিন্ধু" যেমন অসীম,অপারও দুর্বিগাহ,শ্রীকৃষ্ণের করুণাও তেমনি অনন্ত অপার। ক্ষুদ্র জীবশক্তির কথা দূরে থাকুক=ব্রহ্মা,মহেশ্বর,অনন্তদেব প্রভৃতিও যাঁর করুণাদি গুণের অন্ত পান না; জীবের পক্ষে সেই অপার করুণাসিন্ধুর একবিন্দুর স্পর্শ করা ব্যতীত আর কোন উপায় নাই।সেই করুণাসিন্ধুর কথাই আমরা কিঞ্চিৎ* *উল্লেখ করছি।জীবের প্রতি শ্রীকৃষ্ণের করুণা দুইরকম ভাবে বর্ষিত হয়,(১)মায়াময়ী (২)স্বরূপশক্তিময়ী।মায়াশক্তির দ্বার দিয়ে যে করুণার প্রকাশ হয়,তাহাই মায়াময়ী-করুণা।সেই মায়াময়ী করুণাও কোন অংশে কম নয়।শ্রীকৃষ্ণের তটস্থাশক্তি সংখ্যাতীত চিৎকণ জীব দুই প্রকার (১)নিত্যমুক্ত (২)নিত্যবদ্ধ।* *এই দুই শ্রেণীর জনসমষ্টি অনাদিকাল হতেই রয়েছে।যাঁরা নিত্য মুক্ত, তাঁরা নিত্যকাল কৃষ্ণের সেবানন্দে বিভোর রয়েছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন। নিত্যবদ্ধ জীবগণ অনাদিকাল হতেই কৃষ্ণবহির্মুখ,এই বহির্মুখতার কারণ তাঁরা শ্রীকৃষ্ণের নিত্যদাস হয়েও তাঁর সেবা ভুলে স্বতন্ত্রভাবে ভোগ আকাঙ্খায় রত আছে।* *ভগবান কৃপা করে মায়াশক্তির দ্বারা ভোগ আকাঙ্খী কৃষ্ণবহির্মুখ জীবের ভোগের ক্ষেত্র এই ব্রহ্মান্ড এবং ভোগ আয়তন দেহ-রচনা করছেন।* *যদিও ভোগাকাঙ্খা ভোগের দ্বারা নিবৃত্ত হয় না,তবু ভোগের দ্বারা নরকাদি দুঃখপ্রাপ্তির ফলে অনুতপ্ত বা নির্বেদপ্রাপ্ত হয়ে সাধু-গুরু কৃপায় জীব শ্রীকৃষ্ণচরণে উন্মুখ হয়ে থাকে এবং ভজনের ফলে প্রেমসেবা লাভ করে চিরতরে ধন্য হয়।* *শ্রীকৃষ্ণ মায়াশক্তির দ্বারা তাদের ভোগভূমি এই ব্রহ্মান্ড রচনা না করলে অনন্তকাল তাদের শীকৃষ্ণবহির্মুখ হয়েই থাকতে হতো।* *আবার এই বিশাল ব্রহ্মান্ড, এখানের জীবকুলের প্রাণ ধারণের জন্য জল,বায়ু,সূর্য্য,চন্দ্র,গ্রহ,নক্ষত্র ও বিবিধ ভোগ্য-পদার্থ্যের যিনি স্রষ্টা,মায়াশক্তির দ্বার দিয়ে তাঁর এইসব করুণা কম নয়, কিন্তু এতে জীবের সংসারবন্ধন মোচন হয় না বা নিত্য কৃষ্ণদাস জীব নিজ স্বরূপের সন্ধান লাভ করে নিত্যপ্রভু শ্রীকৃষ্ণের সেবালাভ করে ধন্য হতে পারে না বলে স্বরূপশক্তির দ্বার দিয়ে শ্রীগুরু বৈষ্ণবের কৃপা সাহায্যে জীবকুলকে তাঁর স্বরূপশক্তি হ্লাদিনী এবং সম্বিতের বৃত্তি ভক্তি প্রদান করে থাকেন এবং এই মৃন্ময় ব্রহ্মান্ডে তাঁর চিন্ময়ী লীলার অবতারণা করে নিজ নাম,গুণ,লীলারূপ ভজন উপকরণ দ্বারা জীবকুলকে প্রেমদানে এবং সাক্ষাৎ প্রেমসেবাদানে ধন্য করে থাকেন।* *তাঁর এইসব করুণা অত্যন্ত ব্যাপক,বিশাল ও অফুরন্ত বলে "দয়ার সিন্ধু"শব্দে তার সূচনা করা হয়েছে মাত্র,বস্তুত তাঁর বিশালতার কাছে কোটি কোটি সিন্ধুও তুচ্ছাতিতুচ্ছ।*
ক্রমশ
*শ্রীকৃষ্ণ অফুরন্ত করুণার সিন্ধু হলেও তাঁর স্বরূপশক্তিময়ী করুণা কখনো ধন,জন,আভিজাত্য অভিমানীর চিত্তে জায়গা পাই না,তাই ঠাকুরমহাশয় বলেছেন,"অধম জনার বন্ধু, মোহে প্রভু!কর অবধান",হে প্রভো!তুমি অধম জনার বন্ধু এবং আমিও নিতান্ত অধম, সুতরাং তোমার করুণা পাওয়ার যোগ্যই।আমার কথা একবার স্মরণ করিও।ঠাকুরমহাশয়ের এই প্রার্থনাবাক্যে সাধকের ইহাই শিক্ষনীয় যে,ভক্তিপথে থেকে শ্রীগুরু-বৈষ্ণব এবং ভগবানের করুণা লাভ হলে দেহ-দৈহিকাদির সমস্ত অভিমান ত্যাগ করে ""অধম"" হতে হবে।* *নীচ,দীন,অপকৃষ্ট,নিন্দিত,তুচ্ছ ইত্যাদি "অধম"শব্দের আভিধানিক অর্থ।ভক্ত বিশ্ব সদগুণের খনি হয়েও নিজেকে অতি হীন,দীন,অপকৃষ্ট(নীচ)বলেই মনে করেন।* *এটি সর্ব সদগুণ-খনি,ভাগবতী-ভক্তি হতেই প্রকাশ পেয়ে থাকে।তার কারণ এই যে,স্বরূপত জীবাত্মা স্বাধীন তত্ত্ব নয়,পরমাত্মার অধীন,আবার মায়িক বিশ্বে কাল,কর্ম,গুণাদি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। মহদকৃপায় জীব যখন ভক্তি পথাশ্রয় করে,তখন মহৎসঙ্গে এই রহস্যটি অবগত হয় এবং এই আত্মজ্ঞানের উন্মেষে(নয়ন খুলে গেলে) স্বীয় (নিজ)কর্তৃতাদির অভাববোধ হেতু সর্বকর্মে নিজেকে অযোগ্য ও অসমর্থ মনে করে এবং সর্বত্র ঈশ্বরের প্রবল কর্তৃত্ব অনুভব করে সর্বোভাবে তাঁর চরণে প্রপন্ন(আশ্রয়প্রার্থী)হয়,তখনি নিজেকে অধম বা অপকৃষ্ট বলে মনে হয়,ইহার নাম "দৈন্য" ইহা ভক্তগণের সাধন-সম্পদ।যা অতি তাড়াতাড়িই সাধকের প্রতি ভগবানের করুণাকে আকর্ষণ করে আনে।জাতরতি সাধকের লক্ষণে কথিত হয়েছে "সর্বোত্তম আপনাকে "হীন" করি মানে"(চৈঃচঃ)*
*ঠাকুরমহাশয় বলেছেন,হে প্রভো!অতি অধম দুর্গতজন আমার কথা একবার মনে করিও।শ্রীকৃষ্ণ যদি বলেন,'তোমার কি কথা মনে করতে হবে? তদুত্তরে বলছেন,""পড়িনু অসৎ ভোলে,কাম তিমিঙ্গিলে গিলে,ওহে নাথ! কর পরিত্রান।""*
*'হে নাথ! আমি অসৎ ভোলে ,কাম বা কামনারূপ তিমিঙ্গিল আমায় গিলে ফেলছে,তার কবল হতে তুলে আমায় তুমি রক্ষা কর।এখানে শব্দান্তরের বিন্যাস দেখে মনে হয় অসৎভোল বলতে অসৎ অর্থ্যাৎ দেহ-দৈহিকাদি নশ্বর বস্তুকে সৎ বা সত্য বলে ভোল বা ভ্রান্তিতে পড়ে যাওয়াই অসৎভোলে পড়ে যাওয়া বা পতিত হওয়া।* *এইরকম ভ্রান্তি হতেই দেহ-দৈহিকাদিকে সত্য মনে করে স্বরূপ বিভ্রান্ত মানুষ কুল বিশ্বের অর্থ-সম্পদাদিই কামনা করে থাকে এবং এতে তাদের এমনি আবেশ জন্ম হয় যে,এদের নশ্বরত্ব বা দুঃখদত্ব বিষয়ে শত শত সদউপদেশ শুনেও তা কিছুতেই ধরে রাখতে পারে না।কার্যত এই কামের সেবাতেই জীবন অতিবাহিত করে থাকে।যেমন কাম-কামনা ভোগের আধার এই দেহের স্বরূপ বিচার করলে দেখা যাবে(যোগোপনিষদ)*
*"অমেধ্যপূর্ণে কৃমিজালসঙ্কুলে স্বভাবদুর্গন্ধিবিনিন্দিতান্তরে।কলেবরে মূত্রপুরিষভাবিতে রমন্তি মূঢ়া বিরমন্তি পন্ডিতাঃ।।*
*অর্থ্যাৎ অমেধ্যপূর্ণ(অপবিত্রপূর্ণ), কৃমিজালসঙ্কুল,স্বভাবতই দুর্গন্ধযুক্ত মূত্র-পুরীষপূর্ণ এই কলেবরে মূঢ়গণই(মহামুর্খগণই) ভোগের লালসা করে থাকে,পন্ডিতগণ এই জঘণ্য দেহিসক্তি হতে বিরত হন।*
*🌻আরো কথিত আছে 🌻*
*ব্রণমুখমিব দেহং পূতিচর্মাবনদ্ধং কৃমিকুলশতপূর্ণং মূত্রবিষ্ঠানুলেপম্। বিগতবহুলরূপং সর্বভোগাদিবাসং ধ্রুবমরণনিমিত্তং কিন্তু মোহপ্রসক্ত্যা।।*
*অর্থ্যাৎ=এই দেহ ব্রণমুখ,(ক্ষতে ভরা),দুর্গন্ধ-চর্মজড়িত,শত শত কৃমিপূর্ণ,মূত্রবিষ্ঠালিপ্ত,ভিন্ন ভিন্ন বয়সে ভিন্ন রূপ প্রাপ্ত যা নিশ্চিত বিনাশপ্রাপ্ত হবে তবুও মোহ প্রসক্তিদ্বারা এই দেহ সকল-প্রকার কামনা ভোগের কারণ হয়েছে।*
*এই সকল সহজ ও অতি সত্য উপদেশগুলি শুনে বুঝেও এই দেহকেই "আমি"বলে মনে হয়েছে -- এটিই ঠাকুরমহাশয় বলছেন। সেই প্রবল কামনা যেন তিমিঙ্গলের মতো আমায় গিলে ফেলেছে।সমুদ্রের তিমিঙ্গিল যেন গ্রাস করেছে।এতে কামনার শক্তি বা ভয়াবহতা প্রদর্শিত হয়েছে।ক্ষুদ্র মানুষের নিজের ইচ্ছায় বা সামর্থে এর কবল হতে আত্মরক্ষা করবার সাধ্য নাই, তাই বলা হয়েছে =ওহে নাথ!কর পরিত্রাণ।হে প্রভো!শ্রীকৃষ্ণ!তুমিই একমাত্র মহাশক্তিশালী কামের হাত থেকে রক্ষা করতে পার,অতএব এর কবল হতে আমায় রক্ষা কর।*
*🌻বানান,ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়🌻*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
🌐
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
