✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
নবদ্বীপে শ্রীনিত্যানন্দ মিলন ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/nityananda.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀━••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁👇📖 সূচীপত্র 🙏 শ্রী গোপীশরণ দাস 📖👇꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🌹 নবদ্বীপে শ্রীনিত্যানন্দ মিলন।🌹*
এইমত বৃন্দাবনে বৈসে নিত্যানন্দ।
নবদ্বীপে প্রকাশ হৈলা গৌরচন্দ্র।।
নিরন্তর সংকীর্তন__ পরম আনন্দ।
দুঃখ পায় প্রভু না দেখিয়া নিত্যানন্দ।।
নিত্যানন্দ জানিলেন প্রভুর প্রকাশ।
যে অবধি লাগি করে বৃন্দাবনে বাস।।
জানিঞা আইলা ঝাট নবদ্বীপপুরে।
আসিয়া রহিলা নন্দন-আচার্যের ঘরে।।
নন্দন-আচার্য মহাভাগবতোত্তম।
দেখি মহাতেজোরাশি যেন সূর্য্যসম।।
মহা- অবধূত-বেশ_প্রকাণ্ড শরীর।
নিরবধি ভক্তিরসে দেখি মহা-ধীর।।
অহর্নিশ বদনে বোলয়ে কৃষ্ণনাম।
ত্রিভুবনে অদ্বিতীয় চৈতন্যের ধাম।।
নিজানন্দে ক্ষনে ক্ষনে করয়ে হুঙ্কার।
মহা-মত্ত যেন বলরাম অবতার।।
মহাতেজোময় শরীর অবধূত সন্ন্যাসী নিত্যানন্দ কে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে নন্দনাচার্য নিজগৃহে রাখলেন। নিত্যানন্দ বললেন- আমি এখানে থাকবো এ কথা যেন কাউকে বলো না। এভাবে গোপনে আচার্যের ঘরে রইলেন নিত্যানন্দ।
প্রাতঃকৃত্য সমাপনান্তে বিশ্বম্ভর সকলের কাছে বলছেন- আজ আমি এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলাম।
ভক্তগণ জিজ্ঞাসা করেন- প্রভু! কি স্বপ্ন দেখলেন?
মহাপ্রভু বলছেন-
তালধ্বজ এক রথ- সংসারের সার।
আসিয়া রহিলা রথ- আমার দুয়ার।।
তার পাছে দেখি এক প্রকাণ্ড শরীর।
মহা এক স্তম্ভ কান্ধে গতি নহে স্থির।।
বেত্র-বান্ধা এক কানা-কুম্ভ বাম-হাতে।
নীলবস্ত্র-পরিধান,নীল বস্ত্রমাথে।।
বাম শ্রুতি মূলে এক কুণ্ডল বিচিত্র।
হলধর হেন তার বুঝিয়ে চরিত্র।।
এই বাড়ি নিমাই পণ্ডিতের হয়ে হয়ে।
দশবার বিশবার এই কথা কয়।।
মহা-অবধূত বেশ পরম প্রচন্ড।
আর কভু নাহি দেখি এমন উদ্দণ্ড।।
দেখিয়া সম্ভ্রম বড় পাইলাঙ আমি।
জিজ্ঞাসিল আমি, কোন মহাজন' তুমি?
হাসিয়া আমারে বোলে "এই ভাই হয়ে।
তোমার আমার কাল হবে পরিচয়ে।।"
হরিষ বাঢ়িল শুনি তাহার বচন।
আপনারে বাসোঁ মুঞি যেন সেই সম।।
কহিতে প্রভুর বাহ্য সব গেল দূর।
হলধর ভাবে প্রভু গর্জয়ে প্রচুর।।
" মধু আন, মধু আন" বলি প্রভু ডাকে।
হুঙ্কার শুনিতে যেন দুই কর্ণ ফাটে।।
শ্রীবাসপন্ডিত বোলে শুনহ গোসাঞি।
যে মদিরা চাহ তুমি, সে তোমার ঠাঁই।।
তুমি যারে বিলাও,সে-ই সে তারে পায়।
কম্পিত সকল গণ দূরে রহি চায়।।
মহাপ্রভুর ভাব শান্ত হলে বললেন-" শ্রীবাস হরিদাস!তোমরা দুজনে গিয়ে দেখ তো সেই মহাপুরুষ কোথায় আছেন?
মহাপ্রভুর আজ্ঞা পেয়ে শ্রীবাস ও হরিদাস -
সকল নদীয়া তিন প্রহর চাহিয়া।
আইলা প্রভুর স্থানে কাহোঁ না দেখিয়া।।
নিবেদিল আসি দোঁহে প্রভুর চরণে।
"উপাধিক কোথাও নহিল দরশনে।।
কি বৈষ্ণব,কি সন্ন্যাসী,কি গৃহস্থ স্থল।
পাষণ্ডীর ঘর আদি দেখিল সকল।।
চাহিলাঙ সর্ব-নবদ্বীপ যার নাম।
সবে না চাহিল প্রভু গিয়া আর গ্রাম।।
*"দোহার বচন শুনি হাসে গৌরচন্দ্র।ছলে বুঝায়েন 'বড় গূঢ় নিত্যানন্দ'।।"*
সেই তো দেখতে পাবে তারে
প্রাণ-গৌর দেখাবে যারে__ সেই তো দেখতে পাবে তারে।
বড় গুঢ় নিত্যানন্দ এই অবতারে।
চৈতন্য দেখায় যারে সে দেখিতে পারে।।
না বুঝি যে নিন্দে তান চরিত্র অগাধ।
পাইয়াও বিষ্ণুভক্তি হয় তার বাধ।।
মহাপ্রভু বললেন- এসো সবাই আমার সঙ্গে। মহাপ্রভু সোজা নন্দনাচার্যের ঘরে গিয়ে উঠলেন।
প্রাণ গৌর জানে প্রাণে প্রাণে-
নিতাই আছে কোনখানে।
বসিয়া আছয়ে এক পুরুষ-রতন।
সভে দেখিলেন যেন কোটি-সূর্য-সম।।
অলক্ষিত আবেশ- বুঝন নাহি যায়।
ধ্যান-সুখে পরিপূর্ণ, হাসয়ে সদায়।।
মহাভক্তিযোগ প্রভু বুঝিয়া তাহার।
গণ-সহ বিশ্বম্ভর হৈলা নমস্কার।।
মহাপ্রভু নমস্কার করলেন। কিন্তু কোন প্রতিক্রিয়া হলো না। কেননা তখন তিনি নিজানন্দে ডুবে আছেন।
সম্মুখে রহিলা মহাপ্রভু বিশ্বম্ভর।
চিনিলেন নিত্যানন্দ প্রাণের ঈশ্বর।।
হরিষে স্তম্ভিত হইলা নিত্যানন্দ রায়।
একদৃষ্টি হই বিশ্বম্ভর রূপ চায়।।
তখন মহাপ্রভু শ্রীবাস পণ্ডিতকে ইঙ্গিত করলেন।
শ্রীবাস পন্ডিত ভাগবত শ্লোক পাঠ করলেন - "বর্হাপীড়ং নটবরবপুঃ কর্ণয়ো কর্ণীকারং
বিভ্রদ্বাসঃ কনক কপিশং বৈজয়ন্তীঞ্চ মালাম্।
রণ্ধ্রান্ বেণোরধর সুধয়া পুরয়ন্ গোপবৃন্দৈ-
র্বৃন্দারণ্যং স্বপদরমণং প্রাবিশদ্গীতকীর্ত্তিঃ।।
অনুবাদ :- শ্রীকৃষ্ণ ময়ূরপুচ্ছ রচিত চূড়া, উভয় কর্ণে কর্ণিকার কুসুম, কনক-সদৃশ কপিশ বা পীত বর্ণের বস্ত্র এবং পঞ্চবর্ণ-পুষ্পে গ্ৰথিত বৈজয়ন্তী মালা ধারণপূর্বক বেণু-বাদন করিতে করিতে সখাগণে পরিবেষ্টিত হয়ে বৃন্দাবনে প্রবেশ করিলেন।
শুনিমাত্র নিত্যানন্দ শ্লোক-উচ্চারণ।
পড়িলা মূর্ছিত হৈয়া- নাহিক চেতন।।
আনন্দে মূর্ছিত হৈলা নিত্যানন্দ রায়।
"পঢ় পঢ়" শ্রীবাসেরে গৌরাঙ্গ শিখায়।।
শ্লোক শুনি কতক্ষণে হইলা চেতন।
তবে প্রভু লাগিলেন করিতে ক্রন্দন।।
গড়াগড়ি যায় প্রভু পৃথিবীর তলে।
কলেবর পূর্ণ হইল নয়নের জলে ।।
ধরিতে নারিলা যদি বৈষ্ণব সকলে।
বিশ্বম্ভর লইলেন আপনার কোলে।।
নিত্যানন্দে কেবা ধরে -
বিনা প্রাণ বিশ্বম্ভরে- ঐ।
বিশ্বম্ভর কোলে মাত্র গেলা নিত্যানন্দ।
সমর্পিয়া প্রাণ তানে হইলা নিষ্পন্দ।।
যার প্রাণ, তানে নিত্যানন্দ সমর্পিয়া।
আছেন প্রভুর কোলে অচেষ্ট হইয়া।।
নিত্যানন্দ কলে করি আছে বিশ্বম্ভর।
বিপরীত দেখি মনে হাসে গদাধর।।
গদাধরের মনে আনন্দ-
দেখিয়া সে বিবর্ত রঙ্গ-
বিশ্বম্ভর বোলে শুভ দিবস আমার।
দেখিলাম ভক্তিযোগ চারি বেদসার।।
সকৃৎ এ ভক্তিযোগ নয়নে দেখিলে।
তাহারেও কৃষ্ণ না ছাড়েন কোন কালে।।
বুঝিলাম ঈশ্বরের তুমি পূর্ণশক্তি।
তোমা ভজিলে সে জীব পায় কৃষ্ণ-ভক্তি।।
তুমি করো চতুর্দশ- ভুবন পবিত্র।
অচিন্ত্য, অগম্য,গূঢ় তোমার চরিত্র।।
তোমা লখিবেক হেন আছে কোনজন।
মূর্তিমন্ত তুমি কৃষ্ণপ্রেমভক্তি-ধন।।
কৃষ্ণপ্রেমভক্তির মূরতি
সত্য সত্য নিতাই তুমি- ঐ।
তিলার্দ্ধ তোমার সঙ্গ যে জনার হয়ে।
কোটি পাপ থাকিলেও তার মন্দ নহে।।
বুঝিলাঙ- কৃষ্ণ মোর করিবো উদ্ধারে।
তোমা হেন সঙ্গে আনি দিলেন আমারে।।
মহাভাগ্যে দেখিলাম তোমার চরণ।
তোমা ভজিলে সে পাই কৃষ্ণপ্রেমধন।।
আবিষ্ট হইয়া প্রভু গৌরাঙ্গ সুন্দর। নিত্যানন্দের স্তুতি করে, নাহি অবসর।।
নিত্যানন্দ-চৈতন্যের অনেক আলাপ।
সব কথা ঠারেঠোরে নাহিক প্রকাশ।।
অনেকক্ষণ পরে উভয়ের ভাব শান্তি হলে, মহাপ্রভু জিজ্ঞাসা করলেন কোথা হইতে আগমন হল?
নিত্যানন্দ বলছেন- অনেক অনেক তীর্থ দর্শন করলাম, কিন্তু কোথাও কৃষ্ণের দর্শন পেলাম না,সবাইকে জিজ্ঞাসা করলাম কৃষ্ণকে কেন দেখি না? সব সিংহাসন ঢাকা দেখছি কেন? তারা বলল কৃষ্ণ গিয়েছেন গৌড়দেশে। গয়া থেকে ফিরেছেন কিছুদিন হল।নদীয়ায় বড় হরি সংকীর্তন শুনে আসলাম।
সেখানে অনেক পতিত উদ্ধার হচ্ছে। তাই আমি-পতিত, উদ্ধারের জন্য এখানে আসলাম।
মহাপ্রভু লজ্জিত হয়ে বললেন - "আজ তোমার দর্শনে আমরা ধন্য হলাম।"
আজি কৃতকৃত্য হেন মানিল আমরা।
দেখিল যে তোমার আনন্দ বারিধারা।।
নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র দোঁহে দরশন।
ইহার শ্রবনে হয় বন্ধ বিমোচন।।
"সখী, সখা, ভাই, ছত্র,শয়ন, বাহন।
নিত্যানন্দ বই অন্য নহে কোন জন।।
নানারূপে সেবে প্রভু আপন ইচ্ছায়।
যারে দেন অধিকার সেইজন পায়।।
আদিদেব মহাযোগী ঈশ্বর-বৈষ্ণব।
মহিমার অন্ত ইহা নাহি জানে সব।।
না জানিঞা নিন্দে তার চরিত্র অগাধ।
পাইয়াও বিষ্ণুভক্তি হয় তার বাধ।।
চৈতন্যের প্রিয়-দেহ নিত্যানন্দ-রাম।
হউ মোর প্রাননাথ এই মনস্কাম।।
তাহান প্রসাদে হইল চৈতন্যেতে রতি। তাহান আজ্ঞায় লিখি চৈতন্যের স্তুতি।।
"রঘুনাথ" "যদুনাথ" যেন নাম ভেদ।
এইমত ভেদ 'নিত্যানন্দ' 'বলদেব'।।
সংসারের পার হই ভক্তির সাগরে।
যে ডুবিবে সে ভজুক নিতাই-চান্দেরে।।
যেবা গায় এই কথা হইয়া তৎপর।
গোষ্ঠী সহ বরদাতা তারে বিশ্বম্ভর।।
জগতে দুর্লভ বড় বিশ্বম্ভর নাম।
সেই প্রভু চৈতন্য সভার ধন প্রাণ।।
হেনমতে নিত্যানন্দ-সঙ্গে কুতুহলে।
কৃষ্ণ-কথা-রসে হবে হইলা বিহ্বলে।।
বহুদিন পরে এসেছেন নিতাই।
কতদিন বৃন্দাবনে থাকি__ ঐ।
হইল মধুর মিলন:
মধুর শ্রী নবদ্বীপে__ঐ প্রভু-নিতাই প্রাণ-গৌরাঙ্গের__হইল মধুর মিলন।
প্রভু-নিতাই প্রাণ-গৌরাঙ্গের__
নন্দনাচার্যের ঘরে__প্রভু-নিতাই প্রাণ-গৌরাঙ্গের__ হইল
মধুর মিলন।
________দোঁহে চিনিলেন দোঁহারে
দোঁহে দোঁহারগলা ধরে__ঐ।
সভে মহাভাগবত পরম উদার।
কৃষ্ণ-রসে মত্ত সভে করেন হুঙ্কার।।
______সবে মহাশক্তিধর
পরাণ-গৌরাঙ্গকিঙ্কর_ ঐ।
*হাসে প্রভু নিত্যানন্দ চারিদিকে দেখি।*
______নিতাই মত্ততা বেড়ে যায়
গৌর গৌরগণ হেরে-ঐ।
মাতাল দেখে মাতাল মাতে__ নিতাই মত্ততা বেড়ে যায় ।
*"বহয়ে আনন্দ-ধারা সভাকার আঁখি।।*
______ সভারি নয়নে ধারা
দেখি নিতাই চাঁদের ধারা__ ঐ
গৌর প্রেম-মদিরা পানে ভোরা__দেখি নিতাই চান্দের ধারা।
_____আঁখি-ধারা পড়ছে ঝরি
প্রেম-মদিরা পান করি__আঁখিধারা পড়ছে ঝরি।।
-দাসানুদাস গোপীশরণ দাস।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
