✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(০১)শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*🙏শ্রীগৌরশক্তি প্রবর ও বিষ্ণুপাদ শ্রীশ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের উচ্ছিষ্ঠভোজী, শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ কর্তৃক সঙ্কলিত,সংগৃহীত ও প্রকাশিত।🙏*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷
*"যস্য প্রসাদাদভগবৎপ্রসাদো যস্যাপ্রসাদান্নগতিঃ কুতোহপি।*
*ধ্যায়ংস্তুবংস্তুস্য যশস্ত্রিসন্ধ্যং বন্দে গুরোঃ শ্রীচরণারবিন্দম্।।*
*বন্দে তং শ্রীমদদ্বৈতাচার্য্যমদ্ভুতচেষ্টিতম্।*
*যস্য প্রসাদাদজ্ঞোহপি তৎস্বরূপং নিরূপয়েৎ।।*
*মহাবিষ্ণুর্জগৎকর্ত্তা মায়য়া যঃ সৃজত্যদঃ।*
*তস্যাবতার এবায়মদ্বৈতাচার্য্য ঈশ্বরঃ।।*
*অদ্বৈতং হরিণাদ্বৈতাদাচার্য্যং ভক্তিশং সনাৎ।*
*ভক্তাবতারমীশং তমদ্বৈতাচার্য্যমাশ্রয়ে।।"চৈঃচঃ।।*
*🙏🙏অদ্বৈততত্ত্ব🙏🙏*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚
*শক্তিমান বস্তু পাঁচটি বিভিন্নপ্রকার লীলা-পরিচয়ে পঞ্চতত্ত্বে প্রকাশিত, বস্তুতে দ্বৈতাভাব হেতু একই হলেও পঞ্চ বৈচিত্র্যময়।এই বিচিত্রতা, নিরসভাবের ব্যতিক্রমে সারস্যের উদ্দেশ্যে লীলাবৈশিষ্ট্য। "পরাস্য শক্তির্বিবিধৈব শ্রূয়তে"--, এই শ্রুতিবাক্য হতে অদ্বয়জ্ঞান-বস্তুর নানান-শক্তিভেদ নিত্যকাল অবস্থিত।*
*🙏শ্রীগৌরাঙ্গ,নিত্যানন্দ,অদ্বৈত,গদাধর ও শ্রীবাসাদি পঞ্চতত্ত্বে বস্তুতে কিছু ভেদ নাই, কিন্তু রসাস্বাদোদ্দেশে বিচিত্র লীলাময় তত্ত্বই "ভক্তরূপ", "ভক্তস্বরূপ", "ভক্তাবতার", "ভক্তশক্তি" ও "শুদ্ধভক্ত", এই পাঁচপ্রকারে নানান-ভেদবিশিষ্ট।এই পঞ্চতত্ত্বের মধ্যে "ভক্তরূপ" "ভক্তস্বরূপ" ও "ভক্তাবতারই" স্বয়ং, "প্রকাশ" ও "অংশ"-রূপে প্রভু বিষ্ণুতত্ত্ব। "ভক্তশক্তি" ও"শুদ্ধভক্ত", বিষ্ণুতত্ত্ব অন্তর্গত তদাশ্রিত অভিন্ন-শক্তিতত্ত্ব, সুতরাং বস্তু হতে অভিন্ন রস-উপকরণসমূহ রসময়বিগ্রহে সমাশ্লিষ্ট বা দুইই সমান, তারজন্য বস্তুত্বে পরস্পর ভেদযোগ্য নাই। "আরাধক" ও "আরাধ্য", উভয়ের মধ্যে একের বিশ্লেষণে বা অভাবে, রসাস্বাদন-লীলার অভাব ঘটে।*
*💧পঞ্চতত্ত্বের স্বরূপ-বর্ণনে আমরা শ্রীমন্মহাপ্রভুকেই সর্বশ্রেষ্ঠ পরতত্ত্ব এবং শ্রীনিতাচাঁদ ও অদ্বৈতপ্রভুদ্বয়কে তদধীন প্রকাশদ্বয়,সকলেই পরতত্ত্ব হলেও ইঁনারা অপর সকল তত্ত্বের আরাধ্য।চতুর্থ শুদ্ধভক্ত-তত্ত্ব ও পঞ্চম অন্তরঙ্গ ভক্ততত্ত্ব, এই উভয়েই "আরাধক-তত্ত্ব" ; "আরাধ্য" সেবক-রূপি তত্ত্বদ্বয় "আরাধক" তত্ত্বদ্বয়ের পূজ্য হলেও,সেব্য শ্রীগৌরাঙ্গের সেবন-বৃত্তিতে অবস্থিত। শ্রীমহাপ্রভু,তাঁর প্রকাশ,তাঁর পুরুষাবতারের অবতার এবং অন্তরঙ্গ-ভক্ত ও শুদ্ধভক্ত, সকলকে নিয়েই স্বয়ং প্রেম-আস্বাদনরূপ নিত্য বিহার এবং জগতে কীর্তন-প্রচাররূপ প্রেম দান করেন।*
*🙏শ্রীনিত্যানন্দ ও শ্রীঅদ্বৈতের সেবকগণ সাধারণত বাৎসল্য,সখ্য,দাস্য ও শান্ত-রসে অবস্থিত।সেই শুদ্ধ-ভক্তগণ যখন শ্রীগৌরসুন্দরের প্রতি অত্যন্ত প্রীতি বিশিষ্ট হন,তৎকালেই তাঁরা অন্তরঙ্গ-ভক্তের আশ্রয়ে মধুর রসে আশ্রিত হন।অন্তরঙ্গ ও শুদ্ধভক্তের তত্ত্বমধ্যে বিশেষত্ব এই যে,শক্তিতত্ত্ব মধুর-রসে,বাৎসল্যে,সখ্যে ও দাস্যরসে অবস্থিত।তটস্থ হয়ে তারতম্য-বিচারে ভক্তগণ অপেক্ষা শক্তিগণের শ্রেষ্ঠতা,তারজন্য মধুর-রসে নিত্য আশ্রিত ভক্তগণই শ্রীগৌরসুন্দরের অন্তরঙ্গ সেবক। (চৈঃ চঃ অনুভাষ্য সপ্তম পরিচ্ছেদে ১৬-১৭)।*
*💧শ্রীঅদ্বৈতপ্রভু=মহাবিষ্ণু।তিনি আচার্য্য। বিষ্ণুর আচরণ কতৃসত্তায় মঙ্গলময়।তাঁর মঙ্গলময়ী লীলা ও বস্তুত্বে মাঙ্গল্য দর্শন করলে জীবের মঙ্গল হয়।তিনি যাবতীয় মঙ্গলের আকর বা খনি।(কারণ তিনি পালনকর্তা)।তাঁর সেবোন্মুখ আচরণ জগতে সকলেরই মঙ্গল বিধান করেন।জগতের-জঞ্জালগণ এই শুদ্ধ, নিত্য,পূর্ণ ও মুক্ত মঙ্গল বুঝতে না পেরেই আত্মবৃত্তি "ভক্তি" হতে বিচ্যুত হয়। ভোগবুদ্ধিমূলক কর্ম অনুষ্ঠান, নির্বিশিষ্ট মুক্তিলাভ প্রভৃতি কোন অমঙ্গলের কথা চিন্ময়গুণে-গুণী শ্রীঅদ্বৈতে স্থান পায় না।তাঁকে অদ্বয়-বিষ্ণুতত্ত্ব বুঝতে না পেরে,ভক্তিহীন ও কেবলাদ্বৈতবাদিজ্ঞানে যে সকলে মায়া-মোহিত অসুর স্বভাব জীবগণ তাঁর অনুগমনের ছলনা করেছিল, নিজ মায়াদ্বারা তাদেরকে স্বার্থপরতা পোষণ করাবার ছলনায় আচার্য্যের সেই অভক্তগণকে যে দন্ডবিধান,তাও মঙ্গলাচরণ-মাত্র।বিষ্ণুতত্ত্ব অন্বয় ও ব্যতিরেকভাবে জীবের মঙ্গলই উৎপন্ন করে।অমঙ্গলকে মঙ্গলরূপে প্রতিষ্ঠিত করলে বিষ্ণুমায়ার উপাদানিক খনি বুঝতে পারা যায় না।কেউ কেউ বলেন, অদ্বৈতপ্রভুর অপর নাম "মঙ্গল" ছিলেন।তিনি নৈমিত্তিক অবতাররূপে প্রকৃতিতে উপাদান শক্তির সঞ্চার করে থাকেন। তিনি অমঙ্গলময় প্রাকৃত বস্তু নন বা তিনি অমঙ্গলময় প্রাকৃতগুণের আশ্রয় নন।তাঁর চরিত্র অনুকরণেই জীবের মঙ্গলোদয় হয়।তাঁর নাম শ্রবণ ও কীর্তন করলে জীবের সব অমঙ্গল দূর হয়।বিষ্ণুবস্তুতে কোনরকম অনুপাদেয়,খারাপ, নির্বিশেষ-ধর্ম আরোপ করতে নাই।তাঁর বাস্তব-সত্তা যা,তদ্বিষয়ে অপ্রাকৃত-জ্ঞানলাভ দ্বারাই জীবের নিঃশ্রেয়স লাভ হয়।(চৈঃচঃ অনুভাষ্য ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ)।*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita.html
*(০২)শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীঅদ্বৈত---------তত্ত্ব*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*"ব্রজে আবেশরূপত্বাদ্ব্যূহো যোহপি সদাশিবঃ।*
*স এবাদ্বৈতগোস্বামী চৈতন্যাভিন্নবিগ্রহঃ।।*
*💧ব্রজের আবরণরূপত্ব-প্রযুক্ত যে সদাশিবব্যূহ বলে প্রসিদ্ধ তিনিই অদ্বৈতগোস্বামী শ্রীচৈতন্যের অভিন্ন শরীর।*
*🌺ইনি গোপালরূপী হয়ে ব্রজে কৃষ্ণ সন্নিধানে নৃত্য করেছিলেন।শিবতন্ত্রে ভৈরব বাক্য যথা---, একদা কার্তিকমাসে দীপযাত্রা মহোৎসবে রাম ও গোপালের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণ যত্নবান হয়ে নৃত্য করছিলেন।তদ্দর্শনে আমার গুরুদেব শঙ্কর গোপ-ভাব-অভিলাষী হয়ে চক্রভ্রমণ লীলার প্রিয় শ্রীকৃষ্ণের কাছে নৃত্য করতে আরম্ভ করেছিলেন, শ্রীকৃষ্ণ প্রসাদে সদাশিবও দুই প্রকার হয়ে ছিলেন, একমূর্তি সাক্ষাৎ শিব, ও অপর মূর্তি গোপালবিগ্রহ।*
*🌹গৌর আনা ঠাকুর ভক্তাবতার শ্রীঅদ্বৈত--বিষ্ণুতত্ত্ব, যে কারণার্ণবশায়ী মহাবিষ্ণু মায়াদ্বারা এই জগৎকে সৃষ্টি করেন,যিনি জগৎকর্তা,তাঁরই অবতার শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য।শ্রীহরির সহিত অভিন্ন তত্ত্ব বলে তাঁর নাম "অদ্বৈত",কৃষ্ণভক্তি উপদেশ করেন বলে তিনি "আচার্য্য"। সেই ভক্তিশিক্ষক জগদাচার্য্যের চরণাশ্রয় ব্যতীত বা ছাড়া জীবগণের গৌর-কৃষ্ণভক্তি লাভের অন্য উপায় নাই। কারণার্ণবশায়ী পুরুষাবতার মহাবিষ্ণু "নিমিত্ত" ও "উপাদান" এই দুই মূর্তিতে বিশ্বসৃষ্টি কার্য্য করেন।তিনি নিমিত্তাংশে মায়াতে ঈক্ষণ করেন এবং উপাদান অদ্বৈত-রূপে বিশ্বের সৃষ্টিকার্য্য সম্পাদন করেন।*
*🌷শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে আদি খন্ডে ১|১২-১৩ শ্লোকে "যে মহাবিষ্ণু মায়াদ্বারা এই জগৎকে সৃষ্টি করেন, তিনি জগৎকর্তা ; অদ্বৈতাচার্য্য তাঁরই অবতার।শ্রীহরি হতে অভিন্ন বলে তাঁর নাম "অদ্বৈত"।ভক্তিশিক্ষক বলে তাঁকে "আচার্য্য" বলে, সেই ভক্তাবতার অদ্বৈতাচার্য্যকে আমি আশ্রয় করি*
*🌷আপনে পুরুষ--বিশ্বের "নিমিত্ত" কারণ।*
*🌷অদ্বৈত-রূপে "উপাদান" হন নারায়ণ।।*
*🌷নিমিত্তাংশে" করে তেঁহো মায়াতে ঈক্ষণ।*
*🌷"উপাদান" অদ্বৈত করেন ব্রাহ্মান্ড-সৃজন।।*
*(চৈঃচঃআদি--৬|১৬-১৭)*
*🌷মহিবিষ্ণুর অংশ--অদ্বৈত গুণধাম।*
*🌷ঈশ্বরে অভেদ,তেঞি "অদ্বৈত" পূর্ণ নাম।।*
*🌷পূর্বে যৈছে কৈল সর্ব-বিশ্বের সৃজন।*
*🌷অবতরি" কৈল এবে ভক্তি-প্রবর্ত্তন।।*
*🌷জীব নিস্তারিল কৃষ্ণভক্তি করি" দান।*
*🌷গীতা-ভাগবতে কৈল ভক্তির আখ্যান।।*
*(ঐ=৬|২৫-২৭)*
*🌷অদ্বৈত-আচার্য্য-গোসাঞি সাক্ষাৎ ঈশ্বর।*
*🌷প্রভু,গুরু করি' মানে,তিহো ত' কিঙ্কর।।*
*(ঐ--৫|১৪৭)*
*🌷এক "মহাপ্রভু" আর "প্রভু" দুইজন।*
*🌷দুই প্রভু সেবে মহাপ্রভুর চরণ।।ঐ ৭|১৪।।*
*🌻অদ্বৈতাচার্য্যই সদাশিব=যথা= "ভক্তাবতার আচার্য্যোহদ্বৈতো যঃ শ্রীসদাশিবঃ।(গৌঃগঃ দীঃ ১১ সংখ্যা)। অর্থ্যাৎ যিনি শ্রীসদাশিব, তিনিই ল্রীঅদ্বৈত প্রভু। এবং শ্রীচৈতন্য ভাগবতে অন্ত্য ৪|৪৭০-৪৭৩ শ্রীমন্মহাপ্রভুর উক্তি=*
*🌷প্রভু বলে,"এ সম্পত্তি মনুষ্যের নয়।*
*🌷আচার্য্য "মহেশ" হেন মোর চিত্তে লয়।।*
*🌷মনুষ্যেরা এতেক কি সম্পত্তি সম্ভবে!*
*🌷এ সম্পত্তি সকলে সম্ভবে"মহাদেবে।।*
*🌷বুঝিলাঙ--আচার্য্য মহেশ-অবতার।*
*🌷"এই মত হাসি"প্রভু বলে বার বার।।*
*🌷ছলে অদ্বৈতের তত্ত্ব মহাপ্রভু কয়।*
*🌷যে হয় সুকৃতি সে পরমানন্দে লয়।।*
*🌷গৌর-আনা-ঠাকুর*
*🌷সেই নবদ্বীপে বৈসে বৈষ্ণবাগ্রগণ্য।*
*🌷"অদ্বৈত-আচার্য্য" না, সর্ব-লোকে ধন্য।।*
*🌷জ্ঞান-ভক্তি-বৈরাগ্যের গুরু মুখ্যতর।*
*🌷কৃষ্ণভক্তি বাখানিতে যেহেন শঙ্কর।।*
*🌷ত্রিভুবনে আছে যত শাস্ত্রের প্রচার।*
*🌷সর্বত্র বাখানে, "কৃষ্ণপদ ভক্তি সার"।।*
*🌷তুলসীমঞ্জরী-সহিত গঙ্গাজলে*।
*🌷নিরবধি সেবে কৃষ্ণে মহা-কুতূহলে।।*
*🌷হুঙ্কার করয়ে কৃষ্ণ-আবেশের তেজে।*
*🌷যে ধ্বনি ব্রহ্মান্ড ভেদি"বৈকুন্ঠেতে বাজে।।*
*🌷যে-প্রেমের হুঙ্কার শুনিঞা কৃষ্ণনাথ।*
*🌷ভক্তিবশে আপনে যে হইল সাক্ষাৎ।।*
*🌷অতএব অদ্বৈত--বৈষ্ণব-অগ্রগণ্য।*
*🌷নিখিল ব্রহ্মান্ডে যাঁর ভক্তিযোগ ধন্য।।*
*🌷এই মত অদ্বৈত বৈসেন নদীয়ায়।*
*🌷ভক্তিযোগশূন্য লোক দেখি দুঃখ পায়।।*
*(শ্রীচৈঃভাঃ আঃ ২|৭৮-৮৫)*
*ক্রমাগত*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🦚🪷🪷🪷🪷🪷🪷
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita.html
*(০৩)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীঅদ্বৈত-তত্ত্ব,আদি বৈষ্ণব গ্রন্থ হতে*
*************************************
*🌷স্বভাবে অদ্বৈত--বড় কারুণ্য-হৃদয়।*
*🌷জীবের উদ্ধার চিন্তে হইয়া সদয়।।*
*🌷'মোর প্রভু আসি'যদি করে অবতার।*
*🌷তবে হয় এ-সকল জীবের উদ্ধার।।*
*🌷তবে ত' "অদ্বৈত সিংহ" আমার বড়াই।*
*🌷বৈকুন্ঠ বল্লভ যদি দেখাঙ হেথাই।।*
*🌷আনিয়া বৈকুন্ঠ নাথ সাক্ষাৎ করিয়া।*
*🌷নাচিব,গাইব সর্বজীব উদ্ধারিয়া।।*
*🌷নিরবধি এইমত সঙ্কল্প করিয়া।*
*🌷সেবেন শ্রীকৃষ্ণপদ-একচিত্ত হৈয়া।।*
*🌷অদ্বৈতের কারণে চৈতন্য-অবতার।*
*🌷সেই প্রভু কহিয়াছেন বারবার*।।
*(চৈঃভাঃ আঃ ২|৯০-৯৫)*
*🔥সৃষ্টি---রহস্য🔥*
*🌷মায়ার যে দুই বৃত্তি--"মায়া" আর "প্রধান"।*
*🌷মায়া নিমিত্ত হেতু,প্রকৃতি বিশ্বের উপাদান।।*
*🌷সেই পুরুষ মায়া-পানে করে অবধান।*
*🌷প্রকৃতি ক্ষোভিত করি'করে বীর্য্যের আধান।।*
*🌷স্বাঙ্গ-বিশেষাভাসরূপে প্রকৃতি-স্পর্শন।*
*🌷"জীব"রূপ "বীজ" তাতে কৈলা সমর্পণ।।*
*🌷তবে মহতত্ত্ব হৈতে ত্রিবিধ অহঙ্কার।*
*🌷যাহা হৈতে দেবতেন্দ্রিয়ভূতের প্রচার।।*
*🌷সর্ব তত্ত্ব মিলি' সৃজিল ব্রহ্মান্ডের গণ।*
*🌷অনন্ত ব্রহ্মান্ড,তার নাহিক গণন।।*
*🌷ইহোঁ মহৎস্রষ্ঠা পুরুষ-- "মহাবিষ্ণু" নাম।*
*🌷অনন্ত ব্রহ্মান্ড তাঁর লোমকূপে ধাম।।*
*🌷গবাক্ষে উড়িয়া যৈছে রেণু আসে যায়।*
*🌷পুরুষ-নিশ্বাস-সহ ব্রহ্নান্ড বাহিরায়।।*
*🌷পুনরপি নিশ্বাস-সহ যায় অভ্যন্তর।*
*🌷অনন্ত ঐশ্বর্য্য তাঁর,সব--মায়া-পার।।*
*(চৈঃচঃমঃ ২০|২৭১-২৮০)*
*🙏শ্রীজীব গোস্বামী পরমাত্ম সন্দর্ভের (৪৯ সংখ্যায়),অর্থ= ভগবানের বহিরঙ্গা-শক্তি মায়ার দুইটি অংশ, সেই নিমিত্তাংশ গুণরূপা মায়া ও উপাদানাংশ "দ্রব্যরূপ প্রধান " সংজ্ঞাদ্বয়ের পরস্পর ভেদ,ভাগবত একাদশ স্কন্ধে চব্বিশ অধ্যায়ে চারটি শ্লোকে বর্ণিত আছে।অন্যত্র দশমস্কন্ধে ৬৩ অধ্যায়ে (২৬)উপাদান ও নিমিত্ত, উভয় অংশের বৃত্তিভেদে বিভাগ কথিত হয়েছে --, হে ভগবান্, ক্ষোভক "কাল", নিমিত্ত "কর্ম" ফল-অভিমুখ প্রকাশ "দৈব" তৎসংস্কার "স্বভাব", এই চারটি নিমিত্তাংশ বিশিষ্ট বদ্ধজীব--, সূক্ষ্মভূত সমূহ 'দ্রব্য' প্রকৃতি 'ক্ষেত্র', সূত্র "প্রাণ",অহঙ্কার "আত্মা" এবং একাদশেন্দ্রিয় ও ক্ষিতি,জল,তেজ,মরুৎ ও ব্যোম, এই ষোল বিকার,এদের একত্রসমষ্টি দেহ।দেহ হতে বীজরূপ কর্ম,কর্ম হতে অঙ্কুররূপ দেহ এইরকম পুনঃ পুনঃ প্রবাহ, এটিই মায়া।হে প্রভো!তুমি নিষেধ-অবধিভূত তত্ত্ব,তোমাকে ভজনা করি।জীব নিমিত্তশক্ত্যংশ হলেও,উভয়াত্মক অংশবিশিষ্ট জীব উপাদানবর্গেরও অনুসরণ করেন। "নিমিত্তাংশরূপা" "মায়া"-শব্দে প্রসিদ্ধ শক্তির তিনটি বিভাগ দেখা যায়, জ্ঞান, ইচ্ছা ও ক্রিয়া রূপ।উপাদানাংশ "প্রধানের" লক্ষণ। যাতে সত্ত্ব-রজ-তমোগুণ ত্রয়ের সমাহার, তাহাই অব্যক্ত "প্রধান" এবং "প্রকৃতি" বলে কথিত।"অব্যক্ত" সংজ্ঞানির্দেশে হেতু এই যে,বিশেষরহিত অর্থ্যাৎ ত্রিগুণ-সাম্য হওয়ায় বিশেষধর্ম অপ্রকাশিত,অতএব প্রধানের অব্যাকৃত(অপরিবর্তিত) সংজ্ঞ পাওয়া গেল।"প্রধান" সংজ্ঞার হেতু--, বিশেষের মতো মায়ার স্বকার্য্যরূপ মহত্তত্ত্বাদি বিশেষ সমূহের আশ্রয়রূপ বলে তাদের অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ☆☆ নিমিত্তাংশে "মায়া" এবং উপাদানাংশে "প্রধান"।(অণুভাষ্য আদি ৫|৫৮)।*
*🌷মায়া-দ্বারে সৃজে তেঁহো ব্রহ্মান্ডের গণ।*
*🌷জড়রূপা প্রকৃতি নহে ব্রহ্মান্ড কারণ।।*
*🌷জড় হৈতে সৃষ্টি নহে ঈশ্বরশক্তি বিনে।*
*🌷তাহাতেই সঙ্কর্ষণ করে শক্তির আধানে।।*
*🌷ঈশ্বরের শক্ত্যে সৃষ্টি করয়ে প্রকৃতি।*
*🌷লৌহ যেন অগ্নশক্ত্যে পায় দাহ-শক্তি।।*
*(চৈঃচঃমঃ ২০|২৫৯-২৬১)*
*বহিরঙ্গা মায়াশক্তি জগতের উপাদানাংশে "প্রধান" ও "প্রকৃতি" নামে প্রসিদ্ধা এবং জগতের নিমিত্তাংশে "মায়া" নামে খ্যাত।জড়রূপা প্রকৃতি জগতের কারণ নয়, যেহেতু কারণার্ণবশায়ী মহাবিষ্ণুরূপে কৃষ্ণ,প্রকৃতিতে উপাদান বা দ্রব্যশক্তি প্রদান করে শক্তি সঞ্চার করেন। উদাহরণস্বরূপ= গরম লোহার উপমা ; যেরকম আগুনের স্পর্শে গরম লোহা অন্যবস্তুকে দহন ও তাপ দিতে পারে, সেইরকম লোহারূপা জড়া-প্রকৃতির দ্রব্য বা উপাদান হবার স্বতন্ত্রতা নাই।আগুনের সমান কারণোদকশায়ীর ঈক্ষণশক্তি সঞ্চারিত হলেই লোহাসমান প্রকৃতি উপাদান প্রতিমা দাহিকা বা তাপপ্রদায়িনী শক্তিবিশিষ্টা হন।*
🪔🪔🪔🪔🪔🪔🪔🪔
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita.html
*(০৪)💧অদ্বৈতচার্য্যের চরিতসুধা💧*
*🙏🙏অদ্বৈত--তত্ত্ব🙏🙏*
*********************************
*🌻উপাদান পরিচয়ে খ্যাতা প্রকৃতিকে উপাদান-কারণ মনে করে ভুলমাত্র।শ্রীকপিলদেবও বলেছেন (ভাঃ ৩|২৮|৪০) যথা= যদিও ধূম বা ধূমা,জ্বলন্তকাঠ ও বিস্ফুলিঙ্গে আগুনের উপাদান বতর্মান থাকায় আগুনের সঙ্গে একবস্তু বলে বলা হয়,তাহলেও উল্মুক (জ্বলন্তকাঠ) হতে আগুন পৃথক বস্তু ; ধূমস্থানীয় "ভূতসমূহ" বিস্ফুলিঙ্গ স্থানীয় "জীব" ও উল্মুক স্থানীয় "প্রধান", সকলেই অগ্নিস্থানীয় সর্ব-উপাদান ভগবান হতে শক্তিসমূহ লাভ করেই নিজ নিজ পৃথক পরিচয় দেয়, তাহলেও সকলের উপাদানই সেই ভগবান। জগতের উপাদান বলে যে "প্রধান"কে স্থির করা হয়, প্রধানে ভগবানের নিহিত উপাদান হতেই তাদৃশ (সেইরকম) পরিচয়।"প্রধান" ভগবান হতে স্বতন্ত্র উপাদানত্বে আলাদা হতে পারে না।উপাদান-মূলাশ্রয় কৃষ্ণকে বিস্মৃত হয়ে সাংখ্যের উপাদানত্ব প্রকৃতিতে আরোপ করা --, অজার গলদেশস্থিত স্তনাকৃতি-মাংসপিন্ডের দুগ্ধপ্রধানে অসমর্থতার মতো নিষ্ফলমাত্র।(অনুভাষ্য আঃ ৫|৫৯-৬১)।*
*🌺বৈদিক বিচারে বস্তু হতেই শক্তির যোগে বদ্ধজীবের কাছে প্রকাশিত জগৎ সৃষ্ট।অবৈদিক বিচারে দৃশ্যজগত প্রকৃতি হতে জাত।বস্তুশক্তির তিনরকম বৃত্তি-- চিৎ,অচিৎ ও উভয়ময়ী।অশ্রৌত-পন্থায় (শ্রুতিহীন পন্থায়)কেউ কেউ মনে করেন, জড়া প্রকৃতি হতে জগতের উৎপত্তি হয়েছে ; বৈদিক বিচারে সেটি স্বীকার করা হয়নি।ভগবদ্বস্তু চিন্ময়ী শক্তির সঙ্গে অভিন্ন।অচিন্ময়ী শক্তিতে চিচ্ছক্তি (চৈতন্যরূপা শক্তি) সঞ্চারিত হয়ে তাৎকালিক (সেইসময়)নশ্বর চিদভাবাভাস প্রকাশিত হয়।☆ ☆ ☆ ভগবানের অচিৎশক্তি "মায়া" নিমিত্ত ও উপাদানরূপে হরি-বিমুখ জীবের কাছে প্রতিভাত (উজ্জ্বলরূপে প্রকৃশ) হয়ে সত্যবস্তু গ্রহণে পরাঙ্মুখ করায়।জীব,স্বরূপ-জ্ঞানোদয়ে অচিচ্ছক্তির "আবরণী" ও "বিক্ষেপাত্মিকা" এই দ্বিবিধা চেষ্টা লক্ষ্য করেন।ঘটরূপ দ্রব্যের কারণ যেরকম দুইপ্রকার,তাতে নিমিত্তকারণরূপে কুম্ভকার এবং উপাদানকারণ ও উপায়রূপে মাটি ও চক্র-দন্ডাদি যেরকম স্থিরীকৃত হয়, তদ্রূপ দৃশ্যজগৎ এবং ভূতসমূহেরও নিয়ামক (নিয়মকর্তা) বস্তুবিচারে শক্তিমৎ তত্ত্বই নির্দিষ্ট।শক্তিভেদ বিচারে ত্রিগুণময়ী মায়া,গুণের দ্বারা উপাদান অংশ ভূতসমূহের পরিচালন করে।তটস্থাখ্যশক্তি জীব এই দৃশ্যজগতে হরি-বিমুখ হয়ে ভোক্তৃত্ব গ্রহণ করে।দৃশ্যজগতে বস্তুর অচিৎ প্রতীতি কৃষ্ণ বৈমুখ্যের ফলমাত্র।অচিৎ প্রতীতিতে ভোগের অর্থ্যাৎ ইন্দ্রিয়-পরায়ণতার দৃষ্টান্ত, কিন্তু সেবা উন্মুখতায় ভগবৎ প্রতীতিতে নিজ সম্বন্ধ দেখে।শ্রীকৃষ্ণই নিত্য চিজ্জগতের কারণ, তিনিই আবৃত-সত্য অচিজ্জগতের কারণ, এবং তিনিই তটস্থাখ্য জীবের মূল-কারণ ও বিধাতা।অচিৎ প্রতীতি--, ভগবানের বহিরঙ্গা-শক্তির ক্রিয়া এবং চিৎ প্রতীতি-- অন্তরঙ্গা শক্তির ক্রিয়া।(প্রতীতি=জ্ঞান বা বোধ)।চিন্ময় প্রতীতির বাণী হতে আমরা জানতে পারি যে,সকল স্বতঃকর্তৃত্ব-ধর্ম ও সর্বাকরত্ব ভগবত্তায় প্রতিষ্ঠিত।সেই বস্তু বৃহৎ,তাঁর খন্ড অংশই "জীব" শব্দবাচ্য।সেই ভগবদবস্তু বিভক্ত হয়ে খন্ডত্ব-ধর্ম প্রকাশ করেন না ; পরন্তু খন্ড প্রতীতি কখনও অখন্ড প্রতীতির সঙ্গে অভিন্ন হয় না।ব্যাপ্য-ব্যাপক-বিচারে ব্রহ্ম ও জীব সমজাতীয় হলেও ঈশ্বরবস্তু--, মায়ার প্রভু,আর বশ্যবস্তু (বশীভূত করার বস্তু )মায়ার অধীন।মায়াধীন মায়াধীশের অধীন হলে তার মায়াধীন ধর্ম থাকতে পারে না।(অনুভাষ্য আঃ ৫|৫৯-৬৬)।*
*🔶দৃশ্যজগতের আকর-নির্ণয়ে দুইপ্রকার বিচার-প্রণালী দেখা যায়।একপ্রকার মত এই যে,সচ্চিদানন্দ-বস্তু হতে জগৎ গৌণভাবে সৃষ্ট,মুখ্যভাবে সপরিকর গোলোক-বৈকুন্ঠাদির প্রকাশ।অন্য মত এই যে,অসৎ,অচিৎ ও নিরানন্দের আকর, দুর্জ্ঞেয়,অব্যক্ত ও বস্তুভাব।বেদ-প্রয়োজন--বেদের চরমফল বেদান্ত--পূর্বোক্ত মতের বক্তা, আর সাংখ্যাদি স্মৃতি বস্তুবাদের বিরোধ-উদ্দেশ্যে তার বিপরীত শেষোক্ত মত প্রকাশ করেছেন।দৃশ্যজগৎ অধিকাংশই অচিৎ প্রতীতিময়।প্রাণীগণে যে চিদাভাস ধর্ম গুণমায়া-রচিত বিশ্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট,সেরূপ চেতন ধর্মও প্রকৃতি হতে গুণকর্তৃক উৎপন্ন, এই বিচারে উপাদানকারণত্বে কেউ কেউ বেদান্তমতের সঙ্গে ভেদ স্থাপন করেন।🔥সর্বকারণকারণ আকর-বস্তুই শক্তিমৎ তত্ত্ব,শক্তিও শক্তিমৎতত্ত্বে অবস্থিত।দৃশ্যজগৎ যে রকম শক্তি হতে উদ্ভূত হয়েছে,তদ্ভিন্ন শক্তিসমূহও সেই বৃহৎ,পালক-বস্তুতে নিত্যকাল অবস্থিত।যাঁরা দৃশ্যজগতের বিষয়-সেবায় আবদ্ধ,তাঁরা জাগতিক শক্তির উপলব্ধি করে তারই শক্তিমান মাত্র বলে ভগবানকে মনে করেন।তাঁরা,একমাত্র শক্তি হতে শক্তিমৎতত্ত্ব প্রসূত হয়েছে এবং খন্ড-শক্তিমান গুলিকে প্রাকৃত-জ্ঞানে অখন্ড-শক্তিমত্তাও প্রকৃতি হতে জাত, এরকম অপসিদ্ধান্ত করেন।জাগতিক ইন্দ্রিয়জ-জ্ঞানে যে সদসৎ জ্ঞেয়রূপে নির্দিষ্ট হয়,তাকেই "আকর" বলে বিচার করতে গেলে অচিৎ হতেই চেতনের উদ্ভব,এরকম স্থিরীকৃত হয় বটে, কিন্তু প্রকৃত সত্য--, শক্তিবিশিষ্ট বাস্তব-বস্তুতেই অধিষ্ঠিত।যে বস্তু দেশ, কাল,পাত্র সৃষ্টি করে,সেই বস্তুকে মূল-কারণরূপে নির্দেশ না করে বহু বিচিত্রতাময় অসংখ্য বস্তুকে প্রথমেই গ্রহণ করে তা হতে অনুমিতি-ন্যায় অবলম্বনে একের দিকে অগ্রসর হবার পদ্ধতি "অধিরোহ-বাদ" নামে খ্যাত।*
*🙏অত্যন্ত কঠিন তত্ত্ব🙏*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita.html
*(০৫)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*🙏🙏অদ্বৈত---তত্ত্ব🙏🙏*
****************************
*🔥অবরোহ-বিচারে বস্তুই সর্বকারণকারণ,তাঁতে অনন্তশক্তি বতর্মান বলিয়া তিনি সবিশেষ তত্ত্ব।তাঁর নির্বিশেষত্ব ও অসংখ্য সবিশেষ বিচারের মধ্যে অন্যতম।অচিদ্ বস্তুর ধারণা হতে তাকে কার্য্যজ্ঞানে তৎকারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে তাদৃশ মাদকদ্রব্য সঙ্গজনিত বুদ্ধি জন্মে।প্রকৃতপক্ষে জড়া-প্রকৃতিই মূল-কারণ,এইরকম ধারণা-- বাস্তবসত্য হতে আলাদা।অনন্ত-শক্তিমান পরমেশ্বরবস্তুর ঈক্ষণশক্তি হতেই অব্যক্ত ও অচিৎশক্তি পরিণত জগৎ প্রকৃতি সর্বশক্তিমান হতে পেয়ে শক্তিলাভ করেই জীবের জড়-ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য কাল দেশান্তর্গত জগৎ নির্মাণ করেন।অনন্ত শক্তিমান বাস্তব-বস্তু জগৎ নির্মাণের শক্তিদ্বারাই বদ্ধজীবের কাছে উপলব্ধ হন।বস্তুর সঙ্গে শক্তির সম্বন্ধ বিবেকাভাব হতেই এইরকম বিচারভ্রান্তি জীবের "বীবর্ত্ত, উৎপন্ন করে।সত্যের প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ভগবদ্বিমুখ জীব ভোগযোগ্য জগতে বিচরণ করে সত্যবস্তুর সন্ধান পান না।(অনুভাষ্য আঃ ৬|১৬-১৭)*
*🌷যদ্যপি সাংখ্য মানে, 'প্রধান'-- কারণ।*
*🌷জড় হইতে কভু নহে জগৎ-সৃজন।।*
*🌷নিজ সৃষ্টিশক্তি প্রভু সঞ্চারি' প্রধানে।*
*🌷ঈশ্বরের শক্ত্যে তবে হয়ে ত' নির্মাণে।।*
*🌷অদ্বৈতরূপে করে শক্তি সঞ্চারণ।*
*🌷অতএব অদ্বৈত হয়েন মুখ্য কারণ।।*
*🌷অদ্বৈত-আচার্য্য-- কোটি ব্রহ্মান্ডের কর্ত্তা।*
*🌷আর এক এক মূর্ত্ত্যে ব্রহ্মান্ডের ভর্ত্তা।।
*🌷সেই নারায়ণের মুখ্য অঙ্গ, অদ্বৈত।*
*🌷"অঙ্গ" শব্দে অংশ করি" কহে ভাগবত।।*
*🌷ঈশ্বরের অঙ্গ, অংশ-- চিদানন্দময়।*
*🌷মায়ার সম্বন্ধ নাহি,এই শ্লোকে কয়।।ভাঃ ১০|১৪*
*🌷'অংশ' না কহিয়া,কেন কহ তাঁরে 'অঙ্গ'।*
*🌷'অংশ' হৈতে 'অঙ্গ' যাতে হয় অন্তরঙ্গ।।*
*🌷মহাবিষ্ণুর অংশ-- অদ্বৈত গুণধাম।*
*🌷ঈশ্বরে অভেদ,তেঞি 'অদ্বৈত' পূর্ণনাম।।*
*🌷পূর্ব্বে যৈছে কৈল সর্ব বিশ্বের সৃজন।*
*🌷অবতরি" কৈল এবে ভক্তি-প্রবর্ত্তন।।*
*🌷জীব নিস্তারিল কৃষ্ণভক্তি করি' দান।*
*🌷গীতা-ভাগবতে কৈল ভক্তির ব্যাখ্যান।।*
*🌷ভক্তি-উপদেশ বিনু তাঁর নাহি কার্য্য।*
*🌷অতএব নাম তাঁর হৈল "আচার্য্য"।।*
*🌷বৈষ্ণবের গুরু তেঁহো জগতের আর্য্য।*
*🌷দুই নাম-মিলনে হৈল "অদ্বৈত-আচার্য্য"।।*
*🌷কমল-নয়নের তেঁহো,যাতে 'অঙ্গ', 'অংশ'।*
*🌷"কমলাক্ষ" বলি' ধরে নাম অবতংশ।।*
*(চৈঃচঃ আদি ৬|১৮-৩০)*
*🌻শ্রীবলদেব বিদ্যাভূষণ প্রভু ব্রহ্ম সূত্র ২য় অঃ ২য় পা গোবিন্দভাষ্যে নানা যুক্তি ও প্রমাণদ্বারা কপিলের সাংখ্যমতের শোধন করেছেন।*
*🌷অদ্বৈত-আচার্য্য-- ঈশ্বরের অংশবর্য্য।*
*🌷তাঁর তত্ত্ব-নাম-গুণ,সকলি আশ্চর্য্য।।*
*🌷যাঁহার তুলসীদলে,যাঁহার হুঙ্কারে।*
*🌷স্বগণ সহিতে চৈতন্যের অবতারে।।*
*🌷যাঁর দ্বারা কৈল প্রভু কীর্তন প্রচার।*
*🌷যাঁর দ্বারা কৈল প্রভু জগৎ নিস্তার।।*
*🌷আচার্য্য গোসাঞীর গুণ-মহিমা অপার।*
*🌷জীবকীট কোথায় পাইবেক তার পার।।*
*🌷আচার্য্য গোসাঞী চৈতন্যের মুখ্য-অঙ্গ।*
*🌷আর এক অঙ্গ তাঁর প্রভু নিত্যানন্দ।।*
*(চৈঃচঃ আদি ৬|৩২-৩৬)*
*🌷মাধবেন্দ্র পুরীর ইঁহো শিষ্য, এইজ্ঞানে।*
*🌷আচার্য্য-গোসাঞিরে প্রভু গুরু করি' মানে।।*
*🌷লৌকিক-লীলাতে ধর্মমর্য্যাদা-রক্ষণ।*
*🌷স্তুতি-ভক্ত্যে করে তাঁর চরণ বন্দন।।*
*🌷চৈতন্যগোসাঞিকে আচার্য্য করে 'প্রভু'জ্ঞান।*
*🌷আপনাকে করেন তাঁর "দাস" অভিমান।।*
*🌷সেই অভিমান-সুখে আপনা পাসরে।*
*🌷'কৃষ্ণদাস' হও--জীবে উপদেশ করে।।ঐ--৩৯-৪২*
*🌷সঙ্কর্ষণ-অবতার কারণাব্ধিশায়ী।*
*🌷তাঁহার হৃদয়ে ভক্তভাব অনুযায়ী।।*
*🌷তাঁহার প্রকাশ-ভেদ,অদ্বৈত-আচার্য্য।*
*🌷কায়মনোবাক্যে তাঁর ভক্তি সদা কার্য্য।।*
*🌷বাক্যে কহে,"মুঞি চৈতন্যের অনুচর"।*
*🌷"মুঞি-তাঁর ভক্ত,মনে ভাবে নিরন্তর।।*
*🌷জল-তুলসী দিয়া করে কায়াতে সেবন।*
*🌷ভক্তি প্রচারিয়া সব তারিলা ভুবন।।ঐ ৮৯-৯২*
*🌷অদ্বৈতাচার্য্য-গোসাঞি "সাক্ষাৎ ঈশ্বর"।*
*🌷সর্বশাস্ত্রে কৃষ্ণভক্ত্যে নাহি যার সম।*
*🌷অতএব অদ্বৈত-"আচার্য্য" তাঁর নাম।।*
*🌷যাঁহার কৃপাতে ম্লেচ্ছের হয় কৃষ্ণভক্তি।*
*🌷কে কহিতে পারে তাঁর বৈষ্ণবতা-শক্তি।।*
*(চৈঃচঃঅঃ ৭|১৭-১৯)*
*🙏খুবই কঠিন তত্ত্ব, দুঃবোধ্য🙏*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita.html
*(০৬)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*জগতের সেই সময়ের অবস্থা*
****************************
*🍀শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুরের বর্ণন*
*🌷কৃষ্ণরাম ভক্তিশূন্য সকল সংসার।*
*🌷প্রথম কলিতে হৈল ভবিষ্য আচার।।*
*🌷ধর্ম কর্ম লোক সবে এই মাত্র জানে।*
*🌷মঙ্গলচন্ডীর গীতে করে জাগরণে।।*
*🌷দম্ভ করি ' বিষহরি পূজে কোন জন।*
*🌷পুত্তলি করয়ে কেহো দিয়া বহুধন।।*
*🌷ধন নষ্ট করে পুত্র কন্যার বিভায়।*
*🌷এইমত জগতের ব্যর্থ-কাল যায়।।*
*🌷যেবা ভট্টাচার্য্য,চক্রবর্ত্তী,মিশ্র সব।*
*🌷তাহারাই না জানে সব গ্রন্থ অনুভব।।*
*🌷শাস্ত্র পড়াইয়া সবে এই কর্ম করে।*
*🌷শ্রোতার সহিত যম-পাশে ডুবি' মরে।।*
*🌷না বাখানে "যুগধর্ম" কৃষ্ণের কীর্তন।*
*🌷দোষ বিনা গুণ কারো না করে কথন।।*
*🌷যেবা সব--- বিরক্ত-তপস্বী-অভিমানী।*
*🌷তাঁ' সবার মুখেই নাহিক হরিধ্বনি।।*
*🌷অতিবড় সুকৃতি সে স্নানের সময়।*
*🌷'গোবিন্দ', 'পুন্ডরীকাক্ষ' নাম উচ্চারয়।।*
*🌷গীতা ভাগবত যে যে জনেতে পড়ায়।*
*🌷ভক্তির ব্যাখ্যান নাহি তাহার জিহ্বায়।।*
*🌷এইমত বিষ্ণুমায়া মোহিত সংসার।*
*🌷দেখি' ভক্ত-সব দুঃখ ভাবেন অপার।।*
*🌷কেমনে এই জীব সব পাইবে উদ্ধার।*
*🌷বিষয় সুখেতে সব মজিল সংসার।।*
*🌷বলিলেও কেহ নাহি লয় কৃষ্ণ নাম।*
*🌷নিরবধি বিদ্যাকুল করেন ব্যাখ্যান।।*
*(চৈঃভাঃআঃ ২|৬৩-৭৫)*
*🌷সকল সংসার মত্ত ব্যবহার-রসে।*
*🌷কৃষ্ণ-পূজা,কৃষ্ণ-ভক্তি কারো নাহি বাসে।।*
*🌷বাশুলী পূজয়ে কেহ নানা উপহারে।*
*🌷মদ্য-মাংস দিয়া কেহ যক্ষ পূজা করে।।*
*🌷নিরবধি নৃত্য,গীত,বাদ্য,কোলাহল।*
*🌷না শুনে কৃষ্ণের নাম পরম-মঙ্গল।।*
*🌷কৃষ্ণ-শূন্য মঙ্গলে দেবের নাহি সুখ।*
*(চৈঃভাঃআঃ ২|৮৬-৮৯)*
*🌹এই মহা দুর্দ্দিনে সকলেই ভোগে পাগল।নিজ মঙ্গলামঙ্গল বিচারহীন হয়ে সকলেই মোহগ্রস্ত হয়ে কেবল পরহিংসায় ব্যস্ত।এ সময়ে জীবদুঃখে দুঃখী পরম দরদী বৈষ্ণবগণের হৃদয় বিদীর্ণ হতে লাগিল।একমাত্র পরম বান্ধব,যাঁদের কোমল হৃদয় জীব দুঃখে বিদীর্ণ (ক্ষতবিক্ষত) হয়,তাঁদের নিন্দায় বিমুখগণ মেতে উঠিল, (যাদের দুঃখ দুর্দশা দেখে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেন যে যেন তারা সুখ লাভ করুক, তারাই তাঁদের নামে নিন্দা মন্দ ভাবতে লাগল)।ভগবান নিন্দা, ভক্ত নিন্দা তাদের কবিত্বের কৃতিত্ব প্রকাশ করতে লাগল।*
*💧💧💧আবির্ভাব সূচনা💧💧💧*
*😭এই সময়ে ভগবানকে আকর্ষণ করে আনতে পারেন এমন একজন মহাশক্তিমানের আবির্ভাবের প্রয়োজন বোধ করে শ্রীহট্টের কাছে নবগ্রামবাসী নৃসিংহ সন্তান কুবের পন্ডিতের করুণ হৃদয়ে উদ্দীপনা জাগল।তাঁর তীব্র আরাধনার ফলে তাঁর ঘরে সেই মহাশক্তিশালী পুরুষ শ্রীকৃষ্ণকে আকর্ষণ করতে আবির্ভূত হলেন।🌻যিনি পূর্বে শিবমিত্র কুবের ছিলেন এবং কৈলাসে সাধনা করে "ভগবান শিবকে" পুত্ররূপে পাবেন এই বর পেয়েছিলেন, তিনিই কুবের পন্ডিতরূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন🌻।*
*☘কুবের পন্ডিত ছিলেন লাউড়াধিপতি মহারাজ দিব্যসিংহের সভাপন্ডিত ও মন্ত্রী। তিনি গঙ্গাবাস করবার জন্য শান্তিপুরে এসে বাস করছিলেন।সেখানে তাঁর পতিব্রতা সহধর্মিনী নাভাদেবীও তাঁর সঙ্গে বাস করছিলেন।একদিন তাঁরা কোন ভ্রষ্টাচার পাষন্ডীর মুখে ভীষণ ভীষণ বৈষ্ণব-নিন্দা শুনে এই বহির্মুখ পাপময় সংসার থেকে চলে যাবার বাসনায় প্রাণ বিসর্জনের জন্য দৃঢ় সঙ্কল্প করলেন।বিধির ইচ্ছায় কোন এক ভাগবত এসে তাঁদেরকে সান্ত্বনা দিয়ে একটি মহতী আশার কথা শোনালেন।সেইদিন রায়ে স্বপ্নে দেখলেন "কোন এক বিশাল শরীর,হেমবর্ণ,দিব্য তেজোময় পরম সুন্দর পুরুষ অন্য একজন ঐরকম লক্ষণের পুরুষের হাত ধরে পরম গম্ভীর মধুরবচনে বলছেন, "কলির পাপী অপরাধীদের উদ্ধার করবার জন্য তুমি আমাকে নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি অবতীর্ণ হও"এই বলিয়া উভয়ে একত্রিত হয়ে এক মহাতেজ তাঁর হৃদয়ে প্রবেশ করলেন এবং সেখান হতে নাভাদেবীর হৃদয়ে প্রবেশ করলেন।(ভক্তিরত্নাকর পঞ্চম তরঙ্গ)।*
*🌺নিদ্রা ভাঙ্গলে শুদ্ধসত্ত্বতনু বিপ্রবর নিতান্ত ব্যাকুল হয়ে নানারকম বিতর্ক করতে লাগলেন।ভাবলেন কোনও মহাপুরুষ বুঝি তাঁদেরকে কৃপা করতে আসছেন।অশ্রুবিগলিত নয়নে এই স্বপ্ন বৃত্তান্ত নাভাদেবীকে বললেন।নাভাদেবীও ঠিক ঐরকম স্বপ্ন বৃত্তান্ত বর্ণন করলেন।উভয়েরই একই রকম স্বপ্ন।তখন উভয়ই এক অপূর্ব আনন্দ অনুভব করতে লাগলেন।সেই সময় হতেই নাভাদেবীর গর্ভ-লক্ষণ প্রকাশ পেতে লাগিল।*
*🙏ক্রমাগত*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita.html
*(০৭)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*💧💧আবির্ভাব সূচনা💧💧*
*🌻কুবের পন্ডিত অপুত্রক ছিলেন, লাউড়াধিপতি মহারাজ দিব্যসিংহ যখন জানতে পারলেন যে কুবের পন্ডিতের সন্তান সম্ভাবনার কথা, পরম হিতৈষী সভাপন্ডিতের বিরহে ব্যাকুল হয়ে বহু অনুনয় ও বিনয় করে একটি পত্র বা চিঠি লিখে জানালেন যে তিনি যেন পত্র পাওয়া মাত্র নবগ্রামে চলে আসেন।(ভক্তিরত্নাকর পঞ্চম তরঙ্গ)।🔵অন্য গ্রন্থে বর্ণিত আছে,একসময় জীবের দুরবস্থা দখে ব্যথিত হৃদয়ে তপোব্রত কুবের আচার্য্য গঙ্গাজলে ধ্যানমগ্ন আছেন, এমত অবস্থায় তিনি বোধ করলেন, যেন কি এক দিব্য জ্যোতিঃ তাঁর হৃদয় মধ্যে প্রবেশ হল এবং কে যেন তাঁকে বললেন,"তুমি তপস্যা পূর্ণ করে পত্নীসহ দেশে গমন করো,তোমার এক অসামান্য পুত্ররত্ন লাভ হবে।তখন কুবের পন্ডিতের ধ্যান ভঙ্গ হল।তিনি ঘরে গিয়ে নাভাদেবীকে সমস্ত কথা বললেন। নাভাদেবীও বললেন, আমারও হৃদয়ে যেন কি এক অপরূপ তেজঃপুঞ্জ প্রবেশ করিল।(এটি ১৩৫৬ শকের প্রথমে)। পূজনীয় আচার্য্য পুনরায় দেশে আগমন করেছেন,এই প্রিয় সংবাদ সর্বত্র প্রচারিত হলে গ্রামবাসীগণ সকলেই আনন্দিত হয়ে তাঁকে সম্বর্দ্ধনা করলেন।কুবের আচার্য্য রাজসভায় গমন করলে রাজা, বহুদিনের পর তাঁর সন্দর্শনে (সাক্ষাৎ দর্শনে) পরম আনন্দিত হয়ে শ্রদ্ধাবনত শিরে অভিবাদন করলেন।তিনি আশীর্বাদ ও আলিঙ্গন করে তাঁর খুব নিকটের আসনে বসতে দিলেন। তখন রাজা সাগ্রহে কুশলাদি জিজ্ঞাসা করলেন।আচার্য্য কুশল বার্তা বলে, নবদ্বীপের গঙ্গাতীর-বাসের মাহাত্ম্য বর্ণন করলেন। এবং বললেন গঙ্গাতীর ছেড়ে এ অশুচি দেশে বাসের ইচ্ছা না থাকলেও কেবল দৈবাদেশে ও আপনার অনুরোধ অতিক্রম করতে না পেরে এসেছি।রাজা বললেন--, তর্ক পঞ্চানন!আপনার পবিত্র সংসর্গ আমার সুখকর ও সদা আনন্দের হেতু।আপনি--,কুশলকারী সুমন্ত্রী।আপনার অনুপস্থিতিতে, আপনার বিরহে আমি যেন সমস্ত শূন্য দেখছিলাম,রাজ্য ঐশ্বর্য্যে কিছুমাত্র সুখ পাইনি। আপনার শুভ আগমনে আমি আমি যে কি আনন্দ লাভ করেছি তা বলতে পারি না।তখন আচার্য্য বললেন, আপনার দয়া ও প্রেমঋণে আমি চির আবদ্ধ। তাই সুখময় শান্তিপুর ত্যাগ করে গর্ভবতী পত্নীসহ আসতে হয়েছে।ব্রাহ্মণীর গর্ভ বার্তা শুনে রাজা পরম আনন্দিত হলেন।উভয়ের এইরকম কথোপকথন হচ্ছে,এমত সময়ে জনৈক জ্যোইষ শাস্ত্রজ্ঞ ব্রাহ্মণ সেখানে এসে উপস্থিত হলেন।তিনি আচার্য্যকে কহিলেন, আচার্য্য!আপনি এক দেবরূপ পুত্র সন্তান পাবেন। তিনি দীর্ঘজীবী ও ধর্মশাস্ত্রবেত্তা হবেন।বিশুদ্ধ ভক্তিধর্ম-প্রচার করতে তাঁর আবির্ভাব হবে।এই কথাগুলি বলেই দেবজ্ঞ চলে গেলেন।হঠাৎ রাজার কি মনে হল, দৈবজ্ঞকে আরো কিছু জিজ্ঞাসা করবেন বলে,তৎক্ষণাৎ তাঁকে ফিরিয়ে আনবার জন্য লোক পাঠালেন, কিন্তু তাঁকে আর পাওয়া গেল না।সকলে অনুমান করলেন, বোধহয় কোন দেবতা দৈবজ্ঞরূপে এই সংবাদ দিতে এসেছিলেন। দৈবজ্ঞকথায় সকলে খুব সন্তুষ্ট হয়ে আচার্য্য নিজ ঘরে গমন করে গৃহিণীর কাছে সমস্ত কথা প্রকাশ করলেন এবং বললেন,ভগবান্ বিষ্ণুর অর্চনে সর্বার্থসিদ্ধি হয়।বিষ্ণুর অর্চনে দেবার্চন হয়।তাতেই মায়াবন্ধন খন্ডন ও সর্বার্থ সাধন হয়।*
*🌹কিছুদিন অতীত হলে একদিন শেষ রাত্রে নাভাদেবী এক অপূর্ব স্বপ্ন দেখলেন।দেখলেন,তাঁর হৃদয়ে এক অপূর্ব সুমধুর জ্যোতির্ময় মূর্তি সুমধুর স্বরে হরিনাম কীর্তন করতে করতে নৃত্য করছেন এবং মাঝে মধ্যে "হরেকৃষ্ণ" বলে গভীর হুঙ্কার করছেন। কিছুক্ষণ পরে তপননন্দন ধর্মরাজ (যমরাজ) এসে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করলেন।তারপর বহুবিধ স্তব স্তুতি করে বললেন, "আপনার দর্শনে ও কৃপায় সমস্ত পাপী ত্রাণ পাবে, এক্ষণে আমার কর্তব্য কি বর্ণন করুন"।তার উত্তরে তেজোময়বপু পুরুষপ্রবর বললেন,"ধর্মরাজ"!এই তমোধর্ম কলির প্রভাবে মায়ামোহের আধিক্যে জীব একেবারে কান্ডজ্ঞান বর্জিত ও আচারভ্রষ্ট হয়েছে।তারা স্বেচ্ছাচার করে নিদারুণ দুঃখ দাবানলে সবসময়ই পুড়ছে।তাদের দুঃসহ দুঃখ দেখে আমি অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছি।প্রতিজ্ঞা করেছি,ভবরোগ নাশক ও প্রেমপ্রদায়ক হরিনাম বিতরণে সর্বজীব উদ্ধার করব ও গোলোক হতে শ্রীভগবানকে পৃথিবীতে প্রকটিত করব।তিনি অবতীর্ণ হয়ে প্রেমবন্যায় জগৎ প্লাবিত করবেন। কিন্তু পাষাণবৎ অপরাধী পাষন্ডগণ সে প্লাবনে ভাসবে না,নিন্দুক উদ্ধার পাবে না। এইকথা শুনে ধর্মরাজ প্রণাম করে চলে গেলেন।এই স্বপ্ন বৃত্তান্ত নাভাদেবী কুবের আচার্য্যকে বললেন।তাতে আচার্য্য চরম বিস্মিত হলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌 🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita.html
*(০৮)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*অদ্বৈতাচার্য্যের আবির্ভাব*
*নামকরণ ও কৌমার লীলা*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀নাভাদেবীর গর্ভ দশমাস পূর্ণ হ'ল।সেই সময় শ্রীহট্ট দেশের প্রধান ব্রত "মকর সপ্তমী"।সেদিন সমস্ত শ্রীহট্টবাসী নৃত্য-গীত-বাদ্য ও কোলাহল সহকারে মহা আড়ম্বরে তার অনুষ্ঠান করেন।তদুপলক্ষ্যে সকলে স্নান,দান ও হরিধ্বনি সহকারে মহোৎসবে ব্যস্ত।এমন সময়ে নাভাদেবীর দিব্যকান্তি দেবোপম অপূর্ব রূপ লাবণ্যময় এক পুত্ররত্ন আবির্ভূত হলেন।কুবের আচার্য্য ভবন মহানন্দে ভরে গেল।সকলেই দিব্যকান্তি অপূর্ব পুত্র দেখে অপলক নয়নে মুগ্ধ হয়ে রইলেন।পুরবাসী এবং কুবের পন্ডিত দেখলেন সেই বালক সর্বসুলক্ষণযুক্ত, কাঞ্চনবরণ, আজানুলম্বিত সুবলিত বাহু,সুগভীর নাভি,খঞ্জন নয়ন,অরুণ চরণ প্রভৃতি মহাপুরুষ লক্ষণ সব বিদ্যমান।সকলেই বলতে লাগলেন "আহা!কত পুণ্যফলে,কত কৃষ্ণ পূজার ফলে এইরকম মহাপুরুষ লক্ষণযুক্ত পুত্র লাভ হয়।ধন্য কুবের পন্ডিত, ধন্য নাভাদেবী ও ধন্য তাঁদের সাধনা।তখন কুবের পন্ডিত সেই রাজসভায় দৈবজ্ঞের কথা মনে পড়ল এবং তিনি আত্মহারা হলেন এবং ভাবলেন এ শিশু সামান্য শিশু নহে।শিশুর শুভাশুভ নির্ণয় করার জন্য কুবের পন্ডিত বিচক্ষণ জ্যোতিষী আনয়ন করলেন।জ্যোতিষী গণনা করে বললেন,আচার্য্য! আপনার পুত্র সাধারণ পুত্র নহে,এর যেরকম গ্রহ সন্নিবেশ,এইরকম আর দেখা যায় না। এই শিশু লোক-নিস্তারের হেতু হবে। জগতের মঙ্গলের জন্য এর জন্ম হয়েছে।সব কথা শুনে আচার্য্য মহাশয় যথাসাধ্য দান ধন দিয়ে জ্যোতিষীকে বিদায় করলেন।তারপর কুবের পন্ডিত পুত্রের কল্যাণের জন্য ব্রাহ্মণ, দীন-দরিদ্রগণকে অকাতরে অন্ন-বস্ত্র, স্বর্ণ-রজত, নানান ধন রত্নাদি বিতরণ করলেন। রাজা দিব্য সিংহ প্রিয় সুহৃদের পুত্র জন্মের সংবাদে মহানন্দে দরিদ্র ও দাসদাসীদের বস্ত্রালঙ্কার ও বহু ধন দান করলেন।কুবের কুমারের আবির্ভাবে ভবিষ্যবাণী ধ্বনিত হ'ল---।*
*🌹"সপরিকর শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ও নিত্যানন্দকে পৃথিবীতে প্রকটিত করে তাঁদের সঙ্গে মিলিত হয়ে পাষন্ড-দলন ও প্রেম প্রচার করিব। জীবের দুঃখ দূর করিব,জগৎ আনন্দময় করিব,আচন্ডালে সংকীর্তন সুধা পান করাব,কাউকেও বঞ্চিত করব না। (ভক্তিরত্নাকর)।*
*🌻🌻🌻নামকরণ🌻🌻🌻*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀কুবের-তনয় সকলের আনন্দ বর্ধন করে ধীরে ধীরে বড় হতে লাগলেন।ক্রমে ছয়মাস বয়স হলে আচার্য্য মহাশয় মহাসমারোহে পুত্রের অন্নপ্রাশন ও নামকরণ ক্রিয়া সম্পন্ন করলেন।জ্যোতিষ পন্ডিত শিশুর লক্ষণ দেখে ও কোষ্ঠীগণনা করে বালকের কমলনয়ন বিষ্ণুর অংশ ও অঙ্গ জেনে ""কমলাক্ষ"" নাম রাখলেন, এবং ঈশ্বরের সঙ্গে অভেদ বলিয়া ""অদ্বৈত"" নামে বিখ্যাত হবেন জানালেন। তিনি জগতের মঙ্গল বিধান করেন বলে "মঙ্গল" নামেও পরিচিত হলেন। শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতেও----*
*🌷"মহাবিষ্ণুর অংশ" অদ্বৈত গুণধাম।*
*🌷ঈশ্বরে অভেদ,তেঞি "অদ্বৈত" পূর্ণ নাম।।৬|২৫।।*
*🌷কমল-নয়নের তেঁহো যাতে 'অঙ্গ', অংশ।*
*🌷"কমলাক্ষ" বলি' ধরে ধাম অবতংস।।৬|৩০।।*
*🌷জগৎ-মঙ্গল অদ্বৈত, মঙ্গল-গুণধাম।*
*🌷মঙ্গল চরিত্র সদা,"মঙ্গল" যাঁর নাম।।৬|১২।।*
*🌹🌹🌹কৌমারলীলা🌹🌹🌹*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*🌻তাঁর শৈশব লীলা অতি অদ্ভুত ও মধুর।তিনি যখন স্তনপানে বিমুখ হয়ে ক্রন্দন করেন,তখন তাঁর মা হরিনাম করলে শিশু শান্ত হয়ে যেতেন।ক্রমে যখন তাঁর মুখে কথা বলতে শুরু করেন, প্রথমেই "কৃষ্ণ কৃষ্ণ" শব্দ উচ্চারণ করতে লাগলেন।তিন বৎসর বয়সে তাঁর চূড়াকরণ সংস্কার হল।ইতস্ততঃ (এদিক ওদিক) বিচরণ ও খেলাধূলার সময়ে সর্বদা হরিকৃষ্ণ নাম করতেন।তাঁর খেলার সঙ্গীগণ তাঁর নাম রাখলেন "কৃষ্ণ বোলা"। তিনি শিশুকাল হতেই কুবের পন্ডিতের গৃহস্থিত তাঁর গৃহদেবতা শালগ্রামের প্রসাদ ছাড়া অন্য কিছুই ভোজন করতেন না।আবালবৃদ্ধবনিতা সকলেই তাঁকে প্রাণতুল্য পরম আদর করতেন।তাঁর অমৃতময় কথা যিনি শুনতেন তিনি বিমোহিত হতেন।এ কারণে আত্মীয় ও অনাত্মীয় সকলেরই তিনি প্রিয় পাত্র হলেন।*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita.html
*(০৯)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*অদ্বৈতাচার্য্যের বাল্যলীলা বিদ্যারম্ভ*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*🌻পাঁচ বৎসর বয়সে শ্রীঅদ্বৈতের বিদ্যারম্ভ হ'ল।একমাস মধ্যে তিনি সমস্ত বর্ণজ্ঞান লাভ করলেন, এক বৎসরের শিক্ষা তিনি একমাসেই সমাপন করলেন।তাঁর পাঠ-উন্নতির প্রশংসা শুনে কেউ "কি পড়" জিজ্ঞাসা করলে তিনি লজ্জাবশতঃ কোন উত্তর না দিয়ে মৌনভাবে থাকতেন।*
*🌻বৃদ্ধ বয়সের অপূর্ব গুণবান ও একমাত্র পুত্র বলে,অত্যন্ত স্নেহ করতেন।কুবের দম্পতি পুত্রকে কোন কাজে বাধা বা শাসন করতেন না।এই অবাধ স্বাধীনতায় কমলাক্ষের কখনও ধৃষ্টতা,যথেচ্ছচারিতা বা দুর্বিনীত-ভাবও উদিত হয়নি।কমলাক্ষকে পেয়ে নবগ্রামবাসীর শোক দুঃখ সব দূরে চলে গেছে।সকলেই তাঁর গুণকীর্তন করে তৃপ্তি পেতেন।কমলাক্ষ সর্বদাই নিজ-স্বরূপ গোপন রাখতেন।ভগবদ্ ইচ্ছায় কখন কখন কিছু কিছু প্রকাশ করতেন।*
*🌻একদিন নাভাদেবী পুত্রকে কোলে করে রাত্রে ঘুমিয়ে আছেন,রাত্রি শেষে এক স্বপ্ন দেখলেন যে, "তাঁর কোলের শিশুপুত্র চতুর্ভূজ শঙ্খ,চক্র,গদা,পদ্মধারী শরৎচন্দ্র বিনিন্দিত শুভ্র জ্যোতির্ময়, ত্রিদিবারাধ্য (গোলোকের আরাধ্য) ত্রিভুবনপতি পূর্ণ মঙ্গলস্বরূপ মহাবিষ্ণু, এবং নাভাদেবী তাঁকে স্তব স্তুতি করছেন।তাতে বালক কমলাক্ষ ঐশ্বর্য্য ভাবান্বিতা জননীকে সান্ত্বনা দিয়ে,সমস্ত তীর্থগণকে আনিয়ে সেই তীর্থের জলে জননীকে স্নান করাবেন বললেন।এই অপূর্ব স্বপ্ন দেখার পর ঘুম ভেঙ্গে গেলে নানান চিন্তায় মগ্ন হলেন।এমন সময় কমলাক্ষের ঘুম ভাঙ্গল।তিনি তখন মাকে জিজ্ঞাসা করলেন,মা!তুমি কি চিন্তা করছ বল? মা বলতে চাইলেন না,কমলাক্ষ বললেন, "তুমি না বললে আমি আর হরি-কীর্তন করে নাচব না।" নাভাদেবী তখন সেই অপূর্ব আনন্দে বঞ্চিত হবার ভয়ে স্বপ্ন বৃত্তান্ত সমস্ত খুলে বললেন এবং রোদন করতে লাগলেন।তখন কমলাক্ষ বললেন, মা!তুমি রোদন করিও না, আমি তোমার পুত্র, আমি প্রতিজ্ঞা করছি, তোমার এই পুত্র তোমার ইচ্ছা পূরণের জন্য আজ রাত্রে সব তীর্থকে নিয়ে আসব, তাতে তুমি প্রাণভরে স্নান করবে।আমার কথার অন্যথা হবে না।*
*🌻শিশু কমলাক্ষের মুখে এইরকম প্রতিজ্ঞা শুনে নাভাদেবী বিস্মিত হলেন।কমলাক্ষ জেগেই আছেন,আবার বললেন, মা!পর্বতের উপরে সব তীর্থ এসে গেছে ; তুমি চলো,তীর্থের জলে তুমি স্নান করবে। মা আশ্চর্য্যান্বিত হয়ে কৌতূহল হৃদয়ে পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে চলিলেন।পুত্র মায়ের পার্শ্বে দাঁড়িয়ে শঙ্খ-ঘন্টা বাজিয়ে উচ্চৈঃস্বরে হরিধ্বনি করতে লাগলেন।কিছুক্ষণের মধ্যে পর্বত হতে ঝর ঝর শব্দে অনর্গল জল পড়তে লাগিল।শঙ্খ-ঘন্টা ও হরিনাম করলে দেখা গেল খুব বেগে জল পড়ছে।তখন কমলাক্ষ বললেন, মা!ঐ দেখ সব তীর্থ পর্বতের উপরে চলে এসেছে, মেঘের আকারে যমুনার জল-কণা এসে তোমার সর্বাঙ্গ আচ্ছন্ন করে ফেলছে,গঙ্গার পুণ্যময় জলবিন্দু তোমাকে সিক্ত করছে,অন্যান্য সব তীর্থ তোমার মস্তকের পাশ দিয়ে রক্ত পীতাদি পুণ্যজল ঝরে পড়ছে।এখন তোমার বিশ্বাস হল?*
*🌻পুত্রের কথা শুনে, আশ্চর্য্য ভাবে দর্শন করে পরমভাগবতী নাভাদেবীর বিশ্বাস জন্মিল সত্য সত্যই সব তীর্থ এসেছে।তিনি বিস্ময় ও ভক্তিভরে তীর্থসকলকে প্রণাম করে সেই জলে স্নান করলেন।তখন থেকেই সেই জায়গা "পণাতীর্থ" নামে খ্যাত হল।নাভাদেবী বারুণীতে তীর্থস্নান করলেন বলে লোকের বিশ্বাস জন্মিল,বারুণীযোগে সেখানে স্নান করলে বহু পুণ্য সঞ্চিত হয়।ধর্মশিক্ষক অদ্বৈতাচার্য্য মাতৃভক্তি অপরিসীম,সর্বক্ষণ সর্বতোভাবে মায়ের মনোবাঞ্জা পূরণ ও প্রীতিবিধান করতে সচেতন থাকতেন।*
*🌹ব্যাকরণ অধ্যয়ন এবং সতীর্থদেরকে উপদেশ দান🌹।*
*🌻রাজা দিব্য সিংহেরও একটি পুত্র সন্তান হয়েছিল, কমলাক্ষের আবির্ভাবের পর পরেই।অতএব দিব্যসিংহের পুত্র কমলাক্ষের তুল্য বয়স্ক।যেকথা বললাম,কমলাক্ষের জন্মের অল্পদিন পরেই রাজপুত্রের জন্ম হয়।একইরকম বয়স এবং এক পল্লীতে বাস এবং কুবের আচার্য্য রাজার সভাপন্ডিত ও প্রণয়ভাজন বলিয়া,কমলাক্ষ ও রাজপুত্র বাল্যকালে সর্বদা এক জায়গায় থাকতেন এবং খেলাধূলা করতেন।এই রাজপুত্রই কমলাক্ষের প্রধান বাল্যবন্ধু ও সহচর।বিদ্যা আরম্ভের কিছুদিন পরেই উভয়ে একত্রে বিদ্যা অভ্যাস আরম্ভ করলেন।কমলাক্ষ শ্রীহট্টের চিরপ্রচলিত কলাপব্যাকরণ অধ্যয়ন করতে লাগলেন।তাঁর অসাধারণ বুদ্ধি,মেধা,প্রতিভা ও স্মৃতি শক্তি দেখে অধ্যাপক চরম আশ্চর্য্য হলেন।তিনি দেখামাত্র ব্যাকরণের সূত্রশিক্ষা,তার অর্থ কি এবং আপনি পদ সাধন করতে লাগলেন।তিনি অধ্যাপকের বহু ছাত্রের মধ্যে উৎকৃষ্ট বা উত্তম ও অত্যন্ত প্রিয়পাত্র হলেন।অধ্যাপকের অত্যন্ত স্নেহ ও আদরে অন্যান্য ছাত্রদের কাছে হিংসার পাত্র হলেন।তারা কমলাক্ষের প্রতি নানারকম বিদ্বেষ আচরণ করতে লাগলেন। কিন্তু কমলাক্ষের কে কি বলছে, কে কি মনে করছে,তার প্রতি কোন লক্ষ্য নাই।তিনি পাঠেই মনোনিবেশ করে থাকেন এবং পাঠ শেষে "জয়কৃষ্ণ" বলে গ্রন্থ বন্ধ করে নিজ ঘরে গমন করেন।পাঠের সময় অধ্যাপক মহাশয় কোন কাজ বশত অন্য জায়গাই গেলে, কমলাক্ষ সতীর্থ ছাত্রগণকে বলেন, বন্ধুগণ!শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তি করো--,শ্রীকৃষ্ণ স্মরণ করো, শ্রীকৃষ্ণনাম কীর্তন করো ; কৃষ্ণভক্তি ছাড়া সমস্তই বৃথা,কৃষ্ণভক্তি লাভ করবার জন্যই অধ্যয়ন, জ্ঞান-চর্চা বা শাস্ত্র পাঠের অন্য উদ্দেশ্য কিছুই নাই,প্রেমভক্তি লাভ করাই সেটির একমাত্র উদ্দেশ্য। শান্তশিষ্ট ও সুবুদ্ধি বন্ধুগণ তাঁর এই উপদেশ শুনে সুখী ও সন্তুষ্ট হল এবং তাঁদের মধ্যে কয়জনের মনের ময়লা পরিস্কার হয়ে,তাঁর সঙ্গে আনন্দে হরিনাম কীর্তনে মত্ত হয়ে নাচতে লাগিল।তাদের মধ্যে যারা দুষ্ট গর্বিতন ঈর্ষ্যান্বিত নির্বোধগণ তাঁর উপদেশ অগ্রাহ্য করে তর্ক-বিতর্ক করতে লাগল। নাচ-গান দুষ্টদের বিরক্তি ও ক্রোধের কারণ হল। এর ফলে তারা কমলাক্ষের বিষম শত্রু হয়ে দাঁড়াল।তিন বৎসরের মধ্যে কমলাক্ষ কলাপ ব্যাকরণ পাঠ পরিসমাপ্ত করে ফেললেন।*
*🌹একদা কমলাক্ষের জন্মতিথিতে ব্রাহ্মণ বেদ পাঠ করছেন ; নাভাদেবী তেল, হলুদ ও গন্ধ-দ্রব্য আদি স্নানের সমস্ত জিনিস নিয়ে পুত্রের অপেক্ষায় বসে আছেন, কমলাক্ষের দেখা নেই।বহু খোঁজখবর করেও তাঁর দেখা পাওয়া গেল না।সেদিন রাজপুত্র কমলাক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কালী মন্দিরে গিয়েছিলেন।রাজপুত্র মন্দিরে গিয়ে দেবীকে প্রণাম করেছিলেন,কমলাক্ষ তা করেননি।তিনি দাঁড়িয়ে মূর্তির সাজবেশ দেখছিলেন।রাজকুমার তাঁকে বলেন, কমলাক্ষ দেবীকে প্রণাম করো, না করলে তোমায় ছাড়ব না, আমার অনুরোধে প্রণাম করতেই হবে। কমলাক্ষ তার কথা না শুনলে, রাজকুমার কুপিত হয়ে ঘৃণার চোখে দেখতে লাগলেন, এবং বললেন--, "এ কৃষ্ণবোলা কোথাকার"!কৃষ্ণভক্ত হয়েছে,কালীমা মানে না, কালীমাকে প্রণাম করে না!এর এই অদ্ভুত কৃষ্ণভক্তিতে এ দেশ ছারখারে যাবে। এই তাচ্ছিল্য প্রকাশ,তীব্র ভক্তি বিরোধময় উপহাস বাক্যে কমলাক্ষের ভীষণ রাগের উদয় হল।তিনি রক্তলোচনে উচ্চকন্ঠে হুঙ্কার করে উঠামাত্র রাজপুত্র চমকিত ও মূর্ছিত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪷🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita.html
*(১০)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*🔥🔥বাল্যলীলা🔥🔥*
*************************
*🌻এ সংবাদ রাজার কাছে সত্বর পৌঁছে গেলে, রাজা খুব তাড়াতাড়ি অমাত্যদের সঙ্গে নিয়ে মন্দিরে উপস্থিত হয়ে দেখলেন,পুত্র মৃতের মত হয়ে পড়ে আছে।কারণ খোঁজ করতে গিয়ে এক বালকের মুখে সমস্ত বৃত্তান্ত শুনে রাজা কুবের পন্ডিতকে, কমলাক্ষকে আনবার জন্য অনুরোধ করলেন।কুবের পন্ডিত বললেন, "আজ কমলাক্ষের জন্মদিন, কিন্তু আমরা অনেক খোঁজখবর করেও তাকে পাচ্ছি না।কমলাক্ষ মন্দির থেকে পলায়ন করে এক বল্মীকের (উইয়ের)গুহার মধ্যে লুকিয়ে আছেন।পূর্বে তিনি সঙ্গীগণের সঙ্গে সেই গুহা খনন করে খেলা করতেন।সেই গুহায় গম্ভীরভাবে তপস্বীর মতো বসে আছেন।অনেক খোঁজখবরের পর বালকগণের কাছে ঐ জায়গার সন্ধানে বালকগণসহ কুবের পন্ডিত ও নাভাদেবী পুত্রের খোঁজে সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখলেন,কমলাক্ষ তপস্বীর মতো নিশ্চলভাবে বসে আছেন।নাভাদেবী তাঁকে কোলে করে মিষ্টিকথায় অনেক প্রবোধ দিয়ে দেবী-মন্দিরে নিয়ে গেলেন।নানা ভাবে স্নেহ আদর দিয়ে রাজপুত্রের অচৈতন্যের কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। কমলাক্ষ বললেন, মা!রাজকুমারের বড় অহঙ্কার,সে অপরাধ করেছে।আমাকে খুবই নিন্দা,অপমান ও কুকথা বলেছে,তাতে আমি রাগ করিনি। কিন্তু শ্রীবিষ্ণু বৈষ্ণবের প্রতি অপমান ও হিংসামূলক বিদ্বেষময় কথা বলাতে, আমি বিষ্ণু নিন্দা সহ্য করতে না পেরে খুব জোরে শব্দ করেছিলাম। তাতেই এই অপরাধীর এইরকম অবস্থা হয়েছে।তখন উপস্থিত সকলে বিচার করলেন যে কমলাক্ষ সাধারণ বালক নহে।এঁর অবমাননা-অপরাধ ফলে রাজকুমারের এই অবস্থা হয়েছে।কমলাক্ষের ক্রোধ সহজ নয়।রাজা ও রাণী তার প্রিয় পুত্রের এরকম অবস্থার, প্রতিকারের জন্য কমলাক্ষের চরণ ধরে কাতরভাবে স্তুতিবাক্যে প্রার্থনা করে যাতে পুত্রের মঙ্গল হয় ও সুস্থ হয়ে উঠে তা বলতে লাগলেন।উপস্থিত সকলেই রাজপুত্রের জন্য সবিনয় অনুরোধ করতে লাগলেন। নাভাদেবীও রাজকুমারের সুস্থতার জন্য কমলাক্ষের মুখে চুম্বন করে অনুরোধ করলেন।কমলাক্ষ সকলের কাতরতা ও মায়ের অনুরোধে বললেন, রাজকুমারের মুখে ভগবান, ভক্তি ও ভক্তের নিন্দায় এমত অবস্থা হয়েছে।তার মুখে শ্রীনারায়ণের চরণামৃতই প্রতিকার।তখন শ্রীনারায়ণের চরণামৃত রাজকুমারের মুখে ও মাথায় ছিটিয়ে দিলে,কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজপুত্রের সংজ্ঞা লাভ হয়ে উঠে বসিল। রাজারাণী ও সকলেই আনন্দিত হয়ে কমলাক্ষের শ্রীচরণধূলি গ্রহণ করলেন ও রাজপুত্রের মাথায় দিলেন। কমলাক্ষ বললেন--,বিষ্ণু-বৈষ্ণবের নিন্দার ফলে তার এইরকম অবস্থা হয়েছিল। তা প্রতিকারের জন্য শ্রীবিষ্ণু-বৈষ্ণবের সেবা করা কর্তব্য। রাজা রাজপ্রাসাদে গিয়ে কমলাক্ষের আদেশ পালন করলেন।কুবের পন্ডিত ও নাভাদেবী পুত্রসহ ঘরে গিয়ে কমলাক্ষের জন্মদিন পালন করলেন।*
*🌻শ্রীঅদ্বৈতের আরও কতরকম বাল্যলীলা হয়েছিল, কিন্তু আমরা বহু সন্ধান করেও প্রামাণিক গ্রন্থে কোনও বিবরণ পাওয়া যায় না। ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থে--,*
*🌷অদ্বৈতের বাল্য-লীলা অতি চমৎকার।*
*🌷দেখে ভোগ্যবন্ত তা বর্ণিতে শক্তি কার।।*
*🌻বলেই শেষ করেছেন।*
*🌹🌹পৌগন্ড লীলা, উপনয়ন🌹🌹*
*কুবের পন্ডিত কমলাক্ষের উপযুক্ত বয়সে শুভদিনে উপনয়ন সংস্কার মহা সমারোহে সম্পাদন করলেন।তাঁর অঙ্গকান্তি স্বভাবতই বিশুদ্ধ সোনার মতো অতি উজ্জ্বল ও মনোহর,আকৃতি সুগঠিত, অতিশয় সৌম্য,ভাব গম্ভীর, উপনয়নকালে ব্রহ্মচারী বেশে তিনি অপরূপ শোর্ভধারণ করলেন ; তা অতুলনীয়, অলৌকিক ও অবর্ণনীয়।যারা তাঁর বেশ ও শোভা দর্শন করলেন, তারাই মুগ্ধ হয়ে বলতে লাগলেন, কুবের পুত্র কখনই মানুষ নহে,কোন দেব অবতীর্ণ হয়েছেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
