✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita.html
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
*(১১)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*কমলাক্ষের বিদ্যা--বিলাস*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🌻কমলাক্ষ স্বাভাবিক মেধা ও প্রতিভাগুণে অল্পদিনের মধ্যেই সাহিত্য অলঙ্কারাদি অধ্যয়ন করে চরম শিক্ষা লাভ করে দুরূহ বা কষ্টসাধ্য গ্রন্থ সব অধ্যয়ন করতে লাগলেন।অধ্যাপক মহাশয়ের আদেশে অনেক ছাত্রের অপ্যাপনায় নিযুক্ত হলেন।সেই সব ছাত্রের মধ্যে অনেকেই কমলাক্ষ অপেক্ষা বেশী বয়স্ক ছিলেন,তাঁরা কমলাক্ষের কাছে অধ্যয়ন করতে অত্যন্ত লজ্জা ও অপমান বোধ করতে লাগলেন।কেউ কেউ বা হিংসার বশে তাঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে লাগলেন। কিন্তু অধ্যাপকের অসন্তোষ ও ক্রোধ উৎপত্তির ভয়ে প্রকাশ্যে কিছুই বলতে পারলেন না।অন্তরের সেই বিদ্বেষ ভাব ক্রমে প্রকাশিত হতে লাগল।সেই ছাত্র সব একসময় রাজা দিব্যসিংহের কাছে গিয়ে কমলাক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করতে লাগলেন।রাজা "শক্তি" উপাসক, কৃষ্ণবিদ্বেষী ও বৈষ্ণবদের প্রতি বিতৃষ্ণ।ছাত্রগণ বলিল--, "কমলাক্ষ কালী মানেন না, আমাদেরকে কৃষ্ণভজন করতে ও সর্বদা কৃষ্ণনাম জপ করতে উপদেশ করেন,এজন্য তাঁর সঙ্গে আমাদের সর্বদাই বিষম তর্ক বিতর্ক ও বিবাদ হয় ; আমাদের প্রতি তিনি অত্যন্ত রুষ্ট ও অসন্তুষ্ট।যারা তাঁর কথায় কৃষ্ণনাম করে,তারাই তাঁর প্রিয়পাত্র, তাদের সঙ্গে তাঁর ভীষণ ভালোবাসা, তিনি অনেককে কৃষ্ণভজনে রত করেছেন।তারা তাঁর সঙ্গে (পাঠ বন্ধ করে )কীর্তন ও নাচ করেন।এতে আমাদের পাঠের অত্যন্ত ব্যাঘাত হয় ; অনুগ্রহ করে আপনি প্রতিবিধান করুন।"*
*🌻কমলাক্ষ রাজার পরমপ্রিয় সভাপন্ডিতের পুত্র হলেও কৃষ্ণ অনুরক্ত বলে তার প্রতি রাজার বিলক্ষণ বিরাগ ছিল।ছাত্রগণ তা জানত বলেই রাজার কাছে কমলাক্ষের দোষ কীর্তন করতে সাহসী হয়েছিলেন।রাজার রাগ হলেই কমলাক্ষকে লাঞ্জিত ও অপমানিত করবেন, তা হলেই ছাত্রদের অপমানের প্রতিশোধ হবে,দুষ্ট ছাত্রগণ এটিই মনে করেছিল।ছাত্রগণের অভিযোগ শুনে রাজার আগের ঘটনার কথা মনে পড়ে জ্বলে উঠলেন।(কেন?তাঁর পুত্রের ঘটনাকে কেন্দ্র করে) এবং গর্বিত রাজা কমলাক্ষকে ভর্ৎসনা করতে সঙ্কল্প করলেন।ভক্তমহিমা ধন,বিদ্যা ও কুলাভিমানীর কাছে দুর্বোধ্য কমলাক্ষ বয়সে বালক,রাজা তাঁকে সামান্য বালক জ্ঞান করেই তিরস্কৃত ও অপমানিত করতে সাহসী হলেন। কিন্তু কার্য্যকালে সেই বালকের সুযুক্তিপূর্ণ কথা শুনে ও তেজঃ দেখে তাঁকে(রাজাকে)কম্পিত,বিস্মিত ও স্তম্ভিত হতে হল।*
*🌺দীপান্বিতা অমাবস্যার দিন রাজার কালী মন্দিরে মহা সমারোহে উৎসব হয়।পূজা,উৎসব,গীত-বাদ্য নৃত্যাদি নানারকম আমোদ প্রমোদ হতে লাগল।তা দেখে বহু লোকের সমাগত হয়েছে।রাজা অমাত্যদের উপযুক্ত জায়গায় উপনীত হয়ে উপযুক্ত স্থানে গিয়ে বসিলেন।সেই সময় কমলাক্ষও কৌতূহল বশত সেখানে উপনীত হলেন এবং কালীকে প্রণাম না করে ধীরে ধীরে রাজসভায় প্রবেশ করে এক জায়গায় বসে পড়লেন।কালী প্রতিমাকে প্রণাম না করায় রাজা ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন--, কমলাক্ষ!তুমি সকলের প্রণম্যা জয়ন্তীদেবীকে প্রণাম করলে না?শক্তিই সকলের আদি, শক্তি হতে সকলের উৎপত্তি ; শক্তিই জীবের একমাত্র প্রণম্য ও উপাস্য দেবতা, তুমি কি এটি স্বীকার কর না?কমলাক্ষ বিনীত ভাবে বললেন, রাজন!স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণই আমার সাধ্য ও আরাধ্য ;তিনিই সকলের প্রণম্য ও একমাত্র আরাধ্য ;তাঁকে প্রণাম করলেই তাঁর অধীনস্থ সমস্ত আধিকারীক দেবদেবীকে প্রণাম করা যায়, আলাদা করে আর কাউকেও প্রণাম করবার আবশ্যক হয় না বা তারজন্য কেউই রুষ্ট হন না, বরং শ্রীকৃষ্ণকে সম্মান,পূজা ও প্রণাম না করলে অন্যান্য দেবদেবীগণ তার প্রতি রুষ্টই হন।শ্রীকৃষ্ণকে প্রণাম করলেই সকল জীবের ও দেবদেবীর আনন্দ সম্পাদনই করা হয়।অন্য কোন দেবতা কৃষ্ণভক্তের প্রণাম গ্রহণ করেন না।কৃষ্ণভক্তও কৃষ্ণ ছাড়া অন্য কাউকেও প্রণাম করেন না,পূজো করেন না বা অবজ্ঞাও করেন না।একপথ ছেড়ে অন্য পথে গেলে ঐকান্তিকী ও নিষ্ঠার অভাব হয়।যে ব্যক্তি এর অন্যথা করে,তার ধর্মজীবন লাভ বিষয়ে অনেক প্রকার বিড়ম্বনা ঘটে ; বুদ্ধিমার ব্যক্তির এক ইষ্টে নিষ্ঠাবান হওয়াই কর্তব্য। এইকথায় রাজা ক্রোধান্বিত হয়ে বললেন--,তুমি যথার্থ তত্ত্ব অবগত হওনি।ব্রহ্মের নানা রূপ, (এটি বেদের সিদ্ধান্ত )দেবদেবী ব্রহ্মের রূপবিশেষ, দেবদেবীর বিদ্বেষে মহাপাতক জন্মে।সুধীব্যক্তি,ঈদৃশ (এপ্রকার)পাপজনক কাজ কখনই করবেন না,ভক্তি সহকারে দেবতার পূজা করাই কর্তব্য। সকল দেবতাকে প্রণাম করে সম্মান দেওয়াই কর্তব্য।দেখুন, ত্রেতাযুগে সাক্ষাৎ নারায়ণ ভগবান শ্রীরামচন্দ্র সীতাদেবীর উদ্ধারের জন্য ভগবতীর আরাধনা করেছিলেন।জগন্মাতা দেবী ভগবতী,অতি দয়াবতী ; তাঁর পূজা অর্চনায় জীবের মঙ্গল হয়,তাঁর প্রতি ভক্তি,মুক্তি লাভের কারণ জ্ঞানীগণ তাঁর প্রতি কখনও বিদ্বেষ করেন না ; বরং ভক্তিই করে থাকেন।তুমি দুষ্টবুদ্ধি,ভ্রম-জ্ঞান পরিত্যাগ করে দেবীকে ভক্তি করে প্রণাম করো ; কখনও কোনও বাধাবিঘ্ন ঘটবে না, অনায়াসে সিদ্ধিলাভ করবে।এইকথা শুনে কমলাক্ষ বিনীতভাবে কহিলেন--, সিদ্ধান্ত গ্রন্থ ব্রহ্মসংহিতায় ব্রহ্মা দূর্গাদেবীর স্বরূপ বিচারে বলেন ঃ--, "সৃষ্টিস্থিতিপ্রলয় সাধনশক্তিরেকা ছায়েব যস্য ভুবনানি বিভর্ত্তিদূর্গা। ইচ্ছানুরূপমপি যস্য চ চেষ্টতে সা গোবিন্দমাদিপুরুষংতমহং ভজামি।" ভগবানের স্বরূপ শক্তি একটিই।তাঁকেই উপনিষদের পরাশক্তি বলিয়া আখ্যা দেওয়া হয়। সেই স্বরূপশক্তির ছায়াস্বরূপ প্রাপঞ্চিক জগতের সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয় সাধিকা মায়াশক্তিই ভুবন রক্ষয়িত্রী দূর্গা।সেই দূর্গাদেবী যে আদিপুরুষ গোবিন্দের ইচ্ছা বিধায়িনী, সেই মূল পুরুষ গোবিন্দকে আমি ভজন করি।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
*(১২)শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীঅদ্বৈত বিদ্যা---বিলাস*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🔥স্বারোচিষ মন্বন্তরে অর্থ্যাৎ চোদ্দ মন্বন্তরের দ্বিতীয় মন্বন্তরে চৈত্রবংশ সমুদ্ভূত রাজ্যভ্রষ্ট সুরথ রাজা স্বজন পরিত্যক্ত সমাধি নামক বৈশ্যের সময় হতে ইনার পূজার প্রথা ধরাধামে প্রচলিত হয়েছে।রাজা দেবীর আরাধনায় পুনরায় রাজ্য ফিরে রে পেলেন এবং দেবী নির্বিণ্ণ(দুঃখিত) চিত্ত বৈশ্যকে জ্ঞান-লাভ হবে বলে বর প্রদান করলেন। সৌরাশ্বিন মাসে অকালে রামচন্দ্র রাবণকে বধ করবার জন্য ব্রহ্মা দ্বারা দেবীর বোধন করিয়ে দূর্গাদেবীর পূজা করেছিলেন বলে সেই পূজার প্রথা জগতে প্রচলিত আছে, তা মহর্ষি বাল্মিকীকৃত মূল রামায়ণে কোনও জায়াগায় পাওয়া যায় না। কথকতা শুনে কবি কৃত্তিবাস যে বাংলা পয়ার ছন্দে রামায়ণ রচনা করেছিলেন তাতেই ঐ বিষয় দেখা যায়। তিনি তাঁর রামায়ণে বিষ্ণুর অবতার শ্রীরামচন্দ্রকে প্রাকৃত জীবের মত সাজিয়েছেন।ব্রহ্মা-রুদ্রাদিদেবসেবিত বিষ্ণু,বিষ্ণুমায়া তাঁর আজ্ঞাবাহিকা।দ্বিতীয়তঃ জড়মায়া স্বরূপশক্তির ছায়া।,তাঁর প্রভাব ও কাজ প্রাকৃত বিমুখ ক্ষুদ্র বদ্ধ জীবের উপর সম্ভব।অপ্রাকৃত চিন্ময়ধামে ভগবান লীলার পোষকতা কল্পে যোগমায়ারই কাজ।তটস্থাশক্তি প্রসূত অনুচিৎ বিভিন্নাংশ জীবগণ অনাদি বহির্মুখতা প্রযুক্ত স্বতন্ত্রতার অপব্যবহার ফলে যে প্রাপঞ্চিক জগতে পতিত ও কারারুদ্ধ হন,তাহাই দেবীধাম বা দূর্গাদেবীর দূর্গ।পতিত অপরাধী জীবকে কারা রক্ষয়িত্রী দূর্গাদেবী কয়েদির পোষাকের মতো দুইটি আবরণে আবৃত করে থাকেন।একটি মন-বুদ্ধি অহঙ্কারাত্মক সূক্ষ্মশরীর,লিঙ্গদেহ বা বাসনাময় কোষ,অন্যটি বাসনাময় দেহের সহায়ক স্বরূপ পাঞ্চভৌতিক স্থূলদেহ।এই দুইটি পোষাকে পরিহিত হলে জীবের শুদ্ধ চিন্ময়স্বরূপ সুপ্ত হয়ে পড়ে।তখন চিদাভাস মন-বুদ্ধি অহঙ্কারাত্মক লিঙ্গদেহে নানারকম অভিমান উপস্থিত হয়। কখনও মনুষ্য,পশুপক্ষী প্রভৃতি বলে অভিমান করেন, কখনও বা পুরুষ,নারী, রাজা, প্রজা,পিতা,পুত্র,সুখী,দুঃখী এইরকম নানাপ্রকার অভিমান উপস্থিত হয়ে থাকে।এইরকমে বিরূপজ্ঞানের বশবর্তী হয়ে মায়া অভিনিবিষ্ট জীব নিজেকে শোকে মোহে আচ্ছন্ন এবং অভাবগ্রস্ত মনে করে।তখনই ঐ কারাকত্রীর কাছে ধন,জন,পুত্র, পৌত্র, রূপবতী পত্নী, যুদ্ধে জয়লাভ ইত্যাদি কামনা করে পূজা করে থাকে।কখনও সুখ-দুঃখ বোধের হাত হতে পরিত্রাণ পাবার জন্য অচিৎ(জ্ঞানহীন) হয়ে যেতে চায়,কখনও বা জড়ীয় সুখ-দুঃখকে অকিঞ্চিকর(সামান্য) জ্ঞানে জড় ব্যতিরেক সুখলাভের আশায় ভগবানের আসন নিতে অগ্রসর হয়।দূর্গাদেবীও তাদের কামনা অনুযায়ী ধনজনাদি প্রদান করে কর্মচক্রে নিক্ষেপ করেন,কখনও বা তাদের আত্মবিনালরূপ ভগবদ্বৈমুখ্যের দন্ড প্রদান করে থাকেন। কিন্তু যাঁরা সুকৃতীবান,তাঁরা ঐ সব ভুক্তি মুক্তির বাসনাকে মহামায়ার কপট কৃপা জেনে বিষ্ণুমায়ার সৎস্বরূপের আশ্রয় গ্রহণ করেন, লিঙ্গ এবং স্থূলদেহের বন্ধন হতে উন্মুক্ত হয়ে নিত্য ভাগবতী তনু লাভ করেন ও স্বরূপদেহে চিচ্ছক্তি হ্লাদিনীর সেবায় নিযুক্ত হয়ে কৃতার্থ হয়ে থাকেন।*
*⭐স্বরূপশক্তির ছায়ারূপা দূর্গার কাজই বিমুখমোহন।। সুতরাং কর্মফলভোগী ও কর্মফলত্যাগী বহির্মুখ জনগণ কর্তৃক জগতে যে দূর্গাদেবীর আবাহন হয়, তা ভগবানের চিন্ময়ধামে বিরাজিতা চিন্ময়ী কৃষ্ণদাসী যোগমায়া দূর্গার ছায়া মাত্র। ভগবানের পীঠাবরণ পূজায় যে দূর্গা,গনেশ প্রভৃতি দেবতা আছেন,তাঁরা নিত্য বৈকুন্ঠ সেবক। তাঁরা ভগবানের স্বরূপভূতশক্তি, কিন্তু জড়জগতে পূজিত দূর্গা-গণেশাদি দেবতা মায়াশক্ত্যাত্মক। ভগবানের নিত্য বৈকুন্ঠ সেবিকা যোগমায়াই ভগবৎ সেবা প্রার্থিনী ব্রজরাজকুমারীগণ কর্তৃক পূজিতা। সেই পূজায় কেবল ভগবৎ প্রীতি কামনা। নিজের ফলভোগ বা ফলত্যাগ কামনা নাই।যে সব অতাত্ত্বিক অসারগ্রাহী ব্যক্তি ব্রজরাজকুমারীগণের কাত্যায়নী অর্চন ব্রতের দোহাই দিয়ে নিজ নিজ ভুক্তি-মুক্তি কামনামূলক ছায়াশক্তির কল্পিত মূর্তির পূজাকে সমর্থন করতে চেষ্টা করে, তারা কাত্যায়নীর চরণে, ব্রজরাজকুমারীগণের চরণে এবং শ্রীভগবানের চরণে অপরাধ করে থাকেন।ব্রজকুমারীগণ কি প্রকৃত বদ্ধ জীব?তাঁরা প্রাকৃত জড় দেশবাসী?তাঁদের দেহ কি জড় দেহ?তাঁদের কামনাত্মক বদ্ধজীবের কামনার তুল্য? কিছুতেই নয়।তাঁরা শ্রীভগবানের স্বরূপশক্তি হ্লাদিনীর কায়ব্যূহ, তাঁদের ধাম চিন্ময়,দেহ চিন্ময়,কৃষ্ণপ্রীতি কামনাই তাঁদের কামনা।*
*🍁এই জড়জগৎ চিজ্জগতের হেয় প্রতিফলন।চিদ্বিলাসের নানা বৈচিত্র্যের ছায়া এই জগতেও বর্তমান। সুতরাং অপ্রাকৃত চিদধামের প্রেমচেষ্টার সঙ্গে প্রাকৃত জগতের কামচেষ্টা এক হতে পারে না।ইহজগতে দেখা যায় প্রণয়িনী প্রেমিকের জন্য,পত্নী স্বামীসেবা লাভের জন্য ছায়াশক্তি মহামায়ার আরাধনা করে,তারদ্বারা পত্নী প্রণয়িনীর স্বামী ও প্রেমিকের প্রতি ভালবাসারই পরিচয় পাওয়া যায়। কিন্তু এই জড়জগৎ হেয়তা(ঘৃণতা বা তুচ্ছতা) ও অবরতাপূর্ণ(অশ্রেষ্ঠপূর্ণতা)।এখানে বদ্ধজীবের যত চেষ্টা কেবল নিজ ভোগের জন্য।অপ্রাকৃত জগতে সেইরকম হেয়তা ও অবরতা নাই।সেখানে সকলেরই স্বরূপে অবস্থান, সুতরাং সকলেই একমাত্র ভগবৎ প্রতিই আকাঙ্ক্ষা করে থাকেন। অতএব স্বরূপশক্তির কায়ব্যূহ ব্রজকুমারীগণের কৃষ্ণপ্রীতির চরম উৎকর্ষেরই পরিচয় পাওয়া যায়।দেহাভিমানি জীব কি ভাবে ঘরে চুরি না করে বলতে পারে যে, তাদের দূর্গা আরাধনা সেইরকম? ছায়াশক্তির কাজই বিমুখমোহন। সুতরাং তাঁর কাছে প্রার্থনা করলেও তিনি ভগবৎপ্রেম দান করতে পারে না।যার কাছে ধন নাই, তার কাছে ধন ভিক্ষা চাইলে প্রত্যাখ্যাত(অবজ্ঞাত) হতে হয়। অতএব জগতের দূর্গা-আরাধনা ছায়াশক্তির আরাধনা মাত্র।*
*🌹নারদ পঞ্চরাত্রে শ্রুতি-বিদ্যা সংবাদে দেখা যায় --,সেই পরমপুরুষ ভগবানের একটিই পরাশক্তি আছে তাহাই স্বরূপাত্মিকা দূর্গা।এই মহাবিষ্ণু স্বরূপিনী পরাশক্তির বিজ্ঞান মাত্রেই পরম পুরুষকে পাওয়া যায়।ইনি প্রেমসর্বস্ব-স্বভাবা হ্লাদিনী শক্তি।ইঁহার আশ্রয়ে আদিদেব অখিলেশ্বরকে সহজে জ্ঞাত হওয়া যায়। কিন্তু মহামায়া নামে একটি আবরিকা (আবরণ করা) শক্তি ইঁহার আছে, তা দ্বারা নিখিল জগত ও সমস্ত দেহাভিমানীগণ মুগ্ধ হচ্ছে। সুতরাং দেহাভিমানী কর্মিগণ ও যারা দেহে বদ্ধ মনে করে মুক্তিকামী, উভয়ে প্রাকৃত সম্বন্ধযুক্ত থাকায় তাদের দ্বারা পরাশক্তির আবরিকা ছায়াস্বরূপা দূর্গারই আরাধনা হয়ে থাকে।রাবণ যে রকম মায়াসীতা হরণ করে চিন্ময়ী বিষ্ণুশক্তি সীতাদেবীকে হরণ করেছি মনে করেছিলেন,তদ্রূপ জগতের বদ্ধ জীব সব ছায়াশক্তির আরাধনা করেছি মনে করলেও, তা দ্বারা প্রেমফল লাভ করতে পারে না --, অধিকন্তু (আরও)মহামায়ার দ্বারা আরও মোহিত হয়।মহামায়া এইরকম জীবকে মোহিত করে ব্যতিরেক (বিভিন্ন) ভাবে ভগবানের সেবাকার্য্যে নিযুক্তা।যে সব বহির্মুখ অপরাধী জীব সর্বকারণ পরম ঈশ্বর সচ্চিদানন্দ বিগ্রহ গোবিন্দের সেবাবিমুখ,যারা গোবিন্দভজন পরায়ণ সাধু,সদ্ গুরু বা সৎশাস্ত্রে বিশ্বাস করে না, সেইসব পাষন্ড জীবকে মহামায়া সংসার দূর্গের কর্মচক্রে পেষণ করতে করতে ভগবদুন্মুখ করবার চেষ্টা করেন। সুতরাং মহামায়ার ঐ চেষ্টা সাক্ষাৎ উন্মুখ করবার চেষ্টা নয়,ব্যতিরেক চেষ্টা মাত্র।সেইজন্য মহামায়া ভগবানের দৃষ্টিপথে থাকতে লজ্জা বোধ করেন। তাই ভাগবতে পাই (২|৫|১৩) বলেছেন= "বিলজ্জমানয়া যস্য স্থাতুমীক্ষাপথেহ মুয়া বিমোহিতা বিকত্থন্তে মমাহমিতিদুর্ধিয়ঃ "। অর্থ্যাৎ যে মায়া ভগবানের দৃষ্টিপথে থাকতে লজ্জাবোধ করেন,দুর্বুদ্ধি জীব সেই মায়া কর্তৃক বিমোহিত হয়ে আমি আমার এইরকম শ্লাঘা (প্রশংসা) করে।এখানে বিলজ্জমানা এই শব্দের দ্বারা এইরকম বোধহয় যে মায়ার জীব-সম্মোহনকার্য্য ভগবানের রুচিকর নহে ; কারণ ভগবান কৃষ্ণ সর্বদাই জীবগণকে সাধুগণের দ্বারা সাক্ষাৎ, সেবাদানে আকর্ষণ করে আনন্দ প্রদান করতে ইচ্ছুক, ইহা যদিও মায়া অবগত আছেন,তথাপি জীব সেই স্বতন্ত্রতার অপব্যবহার ফলে ভগবানের সেবা পরিত্যাগ করে দ্বিতীয় বস্তুতে অভিনিবিষ্ট হয়ে নিজের স্বরূপ বিস্মৃত হন।*
*ক্রমাগত*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
*(১৩)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*বিদ্যা-বিলাস ও শাস্ত্র যুক্তিকথন*
********************************
*🌹রাজা দিব্যসিংহকে প্রামাণ্য শাস্ত্র যুক্তি বলছেন কমলাক্ষ।*
*🌻তখন মায়া জীবের এই অনাদি বহির্মুখতা সহ্য করতে না পেরে জীবের স্বরূপে আবরণ ও অস্বরূপের আবেশরূপ কপট করে থাকেন,অর্থ্যাৎ জীবের স্বরূপ কী তা ভুলে গিয়ে, ভগবদ্ বহির্মুখতায় ভুলে যাওয়া স্বরূপ জীবকে আমি আমার বুদ্ধি,স্ত্রী-পুত্রাদি,ধন-জন, প্রদান করে আরো অস্বরূপের আবেশে বিপন্ন করে রাখেন।এইজন্য মায়া লজ্জিত হয়ে ভগবানের দৃষ্টিপথে আসতে পারেন না। কিন্তু এটি দ্বারা মায়া কর্তৃক ভগবানের প্রতি বিভিন্ন সেবা হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং এই দূর্গাধিষ্ঠাত্রী যে দূর্গাদেবী, ভগবানের দৃষ্টিপথে যেতে লজ্জা পান,তাঁর আরাধনা দ্বারা পরম পুরুষার্থ ভগবৎ প্রেম লাভ হয় না, ধর্ম-অর্থাদি অপবর্গ দ্বারা মোহিত হওয়া যায়। ভগবান মায়ার কাজে কোন হস্তক্ষেপ করেন না। কিন্তু পরম করুণাময় ভগবান জীবগণকে মায়ার কবলে পেষিত হতে দেখে মায়ার আশ্রয় করলে তাদের ভয় বিদূরিত হবে না, এটি জেনে তিনি জীবগণকে নিজের সম্মুখীন করবার জন্য শাস্ত্ররূপে উপদেশ দিয়ে থাকেন, "আমার এই ত্রিগুণময়ী দেবী মায়া দুষ্পারা, কেবল যারা একমাত্র আমারই আশ্রয় গ্রহণ করেন,তাঁরাই ঐ মায়ার হাত থেকে উদ্ধার পান"। (গীতা=৭|১৪)। এবং "সাধুগণের উত্তম সঙ্গে সাধুমুখ-বিগলিত, মায়ার বিনাশ করতে শক্তিশালী হৃদয় ও কর্ণ পরিতৃপ্তিকারী আমার কথা সেবা করতে করতে শুনিলে তাঁরা খুব তাড়াতাড়িই আমার সেবায় শ্রদ্ধা-রতি ও ভক্তির ক্রমশঃ উদয় হয়ে থাকে। অতএব যারা সাধু ও গুরুর আশ্রয়ে একমাত্র সর্বেশ্বর ভগবানে শরণাপন্ন হন, তাঁরাই চরম মঙ্গল লাভ করে কৃতার্থ হন।(ভাগবত=৩|২৫|২২)। আরও যে দেবী প্রানী-হিংসা-যজ্ঞে উল্লাসিতা,জগতের জীব তাঁর সন্তান হয়,তবে সন্তান বধে কেমন করে আনন্দ লাভ করেন?যদি বলেন "পশুবলী গ্রহণ তাঁর নির্দয়তা নয় ; বরং সম্পূর্ণ সদয়তা। কারণ বলি গ্রহণে বলীকরা পশু লাভবান হয় ; পশুত্ব মুক্ত হয়ে স্বর্গে গমন করে। যজ্ঞার্থে পশু বধে মানবেরও পাপস্পর্শ হয় না ; যজ্ঞের জন্য পশু বলি, হিংসা মধ্যে গণ্য নয়। তার উত্তরে বলছি যে,মুক্তির এমন সহজ উপায় থাকতে লোকে পিতামাতার উদ্ধার কামনায় নানারকম কষ্ট ভোগ করে, কিজন্য?কালী পূজা করে বৃদ্ধ বা মুমূর্ষু পিতা মাতাকে বলিদান করলেই তো তাঁরা মুক্ত হয়ে স্বর্গে গমন করতে পারেন? কমলাক্ষের এইসব শাস্ত্র-সিদ্ধান্ত ও সুযুক্তিপূর্ণ কথা শুনে সকলেই মুগ্ধ হয়ে চিন্তা করতে লাগলেন, এ বালক কোন সাধারণ মনুষ্য নয়।সকলেই আনন্দিত।কেবল রাজা এইসব সুসিদ্ধান্ত ও সুযুক্তিপূর্ণ কথার কোনও উত্তর দিতে না পেরে লজ্জায় মাথা নিচু করে রইলেন।সেখানে উপস্থিত ছিলেন কুবের পন্ডিত, রাজার এমত অবস্থা দেখে তাঁকে কিছু সান্ত্বনা দিবার জন্য বললেন, বাপ কমলাক্ষ! এত বিচার ও তর্কের প্রয়োজন কি? তুমি মহারাজের তুষ্টির জন্য ও আমার আদেশ পালনের জন্য দেবীকে একবার প্রণামটি কর না কেন। এতে তোমার কোনও দোষ হবে না। "সেই সে বৈষ্ণবধর্ম সবারে প্রণতি"।তখন কমলাক্ষ রাজাকে সাক্ষাৎ ভাবে শিক্ষা ও প্রণাম দিবার জন্য ও পিতার আদেশে বললেন, "আচ্ছা আমি এখনই গিয়ে দেবীকে প্রণাম করছি, দেখুন কি ফল হয় "।এই বলে কমলাক্ষ দেবীর সামনে গিয়ে প্রণাম করলেন।🙏কমলাক্ষ যে মহাবিষ্ণু ও সদাশিবের অবতার, দেবী কি করে নিজ প্রভুর প্রণাম গ্রহণ করবেন!প্রণাম করামাত্র অকস্মাৎ সেই প্রস্তরময়ী বা পাথরের মূর্তির অঙ্গ বিদীর্ণ (খন্ডিত বা ছিন্ন),হয়ে বিভিন্ন ও মহাশব্দে মাটিতে পড়ে গেলেন।সকলে এই অত্যাশ্চর্য্য অমঙ্গল ঘটনায় আশ্চর্য্যন্বিত হয়ে স্তব্ধ হল।রাজাও "কি হ'ল,কি হ'ল, সর্বনাশ ঘটিল" বলে উচ্চৈঃস্বরে রোদন করতে করতে বিবশ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন।রাজার পারিষদবর্গ রাজার অবস্থা দেখে ব্যাকুল হয়ে উঠলেন, মন্দির-প্রাঙ্গণে কোলাহল হতে লাগল।কমলাক্ষ সেখান থেকে নিজ ঘরের দিকে চলে গেলেন। কমলাক্ষ ঘরে এসে পিতার সঙ্গে পরামর্শ করলেন,এই নবগ্রামে আর এক মুহূর্তও থাকা উচিত নয়। রাজা অতি পাষন্ড,এখানে বাস করলে অনেক কষ্ট ভোগ করতে হবে।এই রাজ্য পাপে ভরে গেছে, অচিরে নানারকম বিপদ ও অমঙ্গল এই রাজ্যকে শান্তিহীন ও অসুখের আগার করবে।গঙ্গাতীরের পুণ্যভূমি শান্তিপুর আমার স্বদেশ,সেখানে আমাদেরও শান্তিস্থান। অতএব আর কালবিলম্ব না করে তাড়াতাড়ি শান্তিপুরে যাওয়া কর্তব্য।কমলাক্ষের কথা শুনে পিতা কুবের পন্ডিত ভীষণ আনন্দ পেলেন ও সম্মত হলেন এবং যত তাড়াতাড়ি হয় শান্তিপুরে যাবার উদ্যোগ করতে লাগলেন।*
*🍁দেশের সকলেই কমলাক্ষের মাহাত্ম্য ও রাজার দোষ কীর্তন করতে লাগল।রাজার পাপে দেবী চলে গেছেন, তাতে আগামীতে অমঙ্গলের আশা অবশ্যম্ভাবী, এই কথাগুলি বলতে লাগল।এইসব কথা এবং আরও মর্মান্তিক সংবাদ, "কুবের পন্ডিত, যিনি রাজার পরম হিতৈষী মন্ত্রী, তাঁকে ছেড়ে শান্তিপুর গমন করবেন", রাজার কর্ণগোচর হওয়ায় রাজা অত্যন্ত বিষন্ন হয়ে তার প্রিকার করার জন্য পাত্র-মিত্র সমভিব্যাহারে (সহচর্য্য বা সঙ্গ) কুবের আচার্য্যের গৃহে উপনীত হলেন।রাজা কুবের পন্ডিতের কাছে গিয়ে বললেন, আপনি শান্তিপুর গমনের ইচ্ছা পরিবর্তন করেন এবং এই প্রার্থনা জ্ঞাপন করে সজলনয়নে গলবস্ত্র ও কৃতাঞ্জলী হয়ে অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে রইলেন।রাজার ঐ অবস্থা দেখে কুবের আচার্য্যের হৃদয় দ্রবীভূত হল বা গলে গেল ; তিনি কিভাবে রাজার প্রার্থনায় অসম্মত হবেন, ভেবে আকুল হলেন। তাঁর মন বুঝে কমলাক্ষ বললেন, পিতঃ! আমি এখানে কিছুতেই থাকব না। বিচক্ষণ কুবের আচার্য্য রাজার সম্মান রক্ষা করার জন্য বললেন, মহারাজ!আপনি প্রজাবৎসল প্রবল প্রতাপ নরেশ্বর পরম উদার,ক্ষমাশীল,গভীর বুদ্ধি ও মহাজ্ঞানী।আমার বালক পুত্রের দোষ গ্রহণ করবেন না।আমি কমলাক্ষকে নিয়ে শান্তিপুর গমন করব বলে স্থির করেছি ; আপনি প্রসন্নচিত্তে অনুমতি করুন।শুভদায়িনী দেবীর কৃপাতে আপনি চিরকাল পরমসুখে রাজ্য ভোগ করছেন, সুন্দর একটি মন্দির নির্মাণ করে নূতন দেবী প্রতিষ্ঠা করুন।আচার্য্যের কথা শুনে রাজা বললেন, ধীমান! আপনার এই অসাধারণ সর্বগুণময় সর্বশক্তিমান পুত্রের কাছে আমি না বুঝে ও দুষ্টলোকের কথা শুনে মহা অপরাধ করেছি।কমলাক্ষকে তিরস্কার ও অপমান করেছি এবং ওঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেছি ; জানিনা সেই বিষম অপরাধে আমার কি নিদারুণ শাস্তি ভোগ করতে হবে।যে বালক,দেবী ভগবতীকে দন্ড বিধান করতে শক্তি ধরে,সেই অদ্ভুতকর্মা অসাধারণ বালকের কাছে আমি অপরাধ করেছি, আমার সর্বনাশ অবশ্যম্ভাবী। এই কথা বলে ব্যাকুল হয়ে কমলাক্ষের চরণতলে পড়ে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন, আমি মহা অপরাধী, পতিত,অজ্ঞ, দীন, বিবেক-বুদ্ধিহীন,পামর না বুঝে আপনার শ্রীচরণে অনেক অপরাধ করেছি, এক্ষণে আপনার অভয় চরণে শরণ গ্রহণ করলাম, আপনি পরম দয়াল,শরণাগতপালক,দীনবৎসল ও অভয়দাতা ; আপনি কৃপা করে আমার প্রতি দয়াবান হন, নচেৎ আমার আর কোনও মঙ্গল হবে না।আমি বুঝেছি আপনি ঈশ্বর,সবকিছুই আপনার পক্ষে সম্ভব। রাজার এইরকম স্তুতিবাদ শুনে কমলাক্ষ হেসে বললেন, "আমি কৃষ্ণদাস, ক্ষুদ্র জীব,আমাকে এইরকম অযথা স্তুতি করবেন না।আপনি ভক্ত ও ভগবানের চরণে অপরাধ করেছেন, ভক্ত ভগবানের শ্রীচরণে অপরাধীর সঙ্গে কথা বলাতেও জীবের পতন হয়, সেজন্য তাদের সঙ্গত্যাগ করাই কর্তব্য বিবেচনায় আমি আপনার রাজ্য পরিত্যাগ করে যেতে ইচ্ছে করেছি।আপনি রাজা,রাজার সঙ্গে প্রজার বিশিষ্ট সম্বন্ধ ; প্রজাকে রাজার ধর্মাধর্ম,পাপ-পুণ্যের ফলভাগী হতে হয়। বিশেষ করে আপনি কৃষ্ণনিন্দা করেছিলেন,কৃষ্ণদাসী দেবী কখনই কৃষ্ণনিন্দা সহ্য করতে পারেন না ; তিনি কৃষ্ণনিন্দা শুনে অসমর্থা হয়ে আপনার সেবনীয়া দেবী আলাদা হয়েছেন, আমি কি করব?*
*ক্রমাগত*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
*(১৪)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*অদ্বৈতাচার্য্যের বাল্যলীলা*
**************************
*🍀আমি কি করব? নৃপতি এইসব কথা শুনে দৃঢ়ভাবে কুবের কুমারের চরণ ধরে নানা কাকুতিবাক্যে স্তুতি করতে করতে বললেন আমি রাজ্য ত্যাগ করে আপনার সঙ্গে যাব, আমার রাজ্যের আর প্রয়োজন নাই, পুনরায় দেবী নির্মাণেরও ইচ্ছা নাই। এতদিন সেবা করলাম, তথাপি দেবী ছেড়ে গেলেন।আপনার দৃষ্টিপাত মাত্র পলায়ন করলেন। আমার নিঃসংশয় জেনেছি, মায়া যাঁর দাসী,আপনি সেই সর্বশক্তিমান নিখিলেশ্বর বিষ্ণু।কৃপা করে আমাকে ক্ষমা করে শ্রীচরণে স্থান দিয়ে নিজ শরণাগত সেবককে পালন করুন।কুবের তনয় বললেন--, আমি ক্ষুদ্রজীব,আমাকে ঐরকম স্তুতি করবেন নাহরাজা সে কথায় ভুললেন না।পুনরায় নানা প্রকার কাকুতি-মিনতি ক্ষমা প্রার্থনা করতে করতে কমলাক্ষের শ্রীচরণতলে পড়ে কাঁদতে লাগলেন।তখন করুণাময় কমলাক্ষ রাজার প্রতি প্রসন্ন হয়ে কহিলেন,রাজন্!আর রোদন করবেন না ; আপনি কৃষ্ণনাম করুন, শ্রীকৃষ্ণের ভজন করুন। কৃষ্ণ অনন্ত গুণধাম, পরম দয়াল,পাপীর উদ্ধার কর্তা, অগতির গতি,পতিতের বন্ধু, অপরাধীর ত্রাণকর্তা ; একান্তভাবে তাঁর শরণাপন্ন হন,তাঁর সেবা পূজা করুন। বৈষ্ণবের সেবা করুন,কৃষ্ণভক্তের সঙ্গ করুন, কায়মনোবাক্যে ভক্তের গৌরব করুন, যে মুখে কৃষ্ণ ও কৃষ্ণভক্তের নিন্দা করেছেন,সেই মুখে সবসময়ই তাঁদের মাহাত্ম্য কীর্তন করুন, অচিরে শ্রীকৃষ্ণ কৃপা করবেন। রাজা রাজপ্রাসাদে গমন করে শ্রীকৃষ্ণের মন্দির নির্মাণ ও শ্রীকৃষ্ণবিগ্রহ স্থাপন করে যথা বিধানে পূজা করুন ও শ্রীকৃষ্ণের সেবক অভিমানে রাজত্ব করুন। কিছুদিন এইভাবে সৎসঙ্গে কৃষ্ণসেবা করতে করতে অপরাধ ক্ষয়ে ভক্তিতত্ত্বে প্রবেশ করতে পারবেন।তখন পুত্রের হাতে রাজ্যভার অর্পণ ও বৈরাগ্য গ্রহণ করে শান্তিপুরে আমার কাছে চলে আসবেন।সেই সময় সমস্ত তত্ত্ব অবগত হতে পারবেন।রাজা অবনত মস্তকে তাঁর কৃপাদেশ মাথায় ধরে, পুনরায় আরও কিছুদিন সেখানে থাকবার জন্য প্রার্থনা নিবেদন করলেন।কমলাক্ষ বললেন, আমি শান্তিপুর গমনের সমস্ত ব্যবস্থা করে ফেলেছি, আর শান্তিপুর গমনের জন্য আমার মনও খুব ব্যাকুল হয়েছে ; শান্তিপুর আমার স্বদেশ অতএব আর দেরী করতে পারব না।*
*☘রাজা অগত্যা বিদায় গ্রহণ করলেন। সেইসময়ে কুবের আচার্য্য ও কমলাক্ষের বিচ্ছেদ-দুঃখ রাজার অসহনীয় হল।কমলাক্ষের চরণে অপরাধ স্খালনে সামান্য আশ্বস্ত হলেন বটে, কিন্তু তাঁদের বিরহ-দুঃখ রাজাকে বড়ই কষ্ট দিল।তখন কমলাক্ষের চরণধূলি মাথায় নিয়ে রাজা বিদায় হলেন।গ্রামের বন্ধুবর্গ কুবের পন্ডিতের শান্তিপুর গমনের সংবাদে সকলেই দুঃখিত হলেন। কয়েকজন অন্তরঙ্গ বন্ধু কুবের পন্ডিতের সঙ্গে থাকতে প্রস্তুত হলেন।কমলাক্ষ পিতা মাতা ও বন্ধুগণসহ শান্তিপুরে গমন করলেন। তখন কমলাক্ষের বয়স প্রায় এগার বৎসর অতিক্রম করেছে মাত্র।সকলকে নিয়ে শান্তিপুরের দিকে চলিলেন।*
*🌺রাজা দিব্যসিংহ কমলাক্ষের আদেশ মত একটি খুবই সুন্দর মন্দির নির্মাণ করে শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের শ্রীবিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত করে যথা বিধানে সেবা আরম্ভ করলেন।তাঁর সমস্ত স্বজনগণ কৃষ্ণভক্ত হলেন। নিষ্ঠার সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণসেবা,সাধুসঙ্গ,সাধুসেবা প্রভৃতি বৈষ্ণবাচার পালন করতে লাগলেন। বহুদাস-দাসী থাকা সত্ত্বেও রাজা ও রাণী নিজহাতে শ্রীমন্দিরমার্জন ও সেবাকার্য্যাদি সম্পন্ন করতে লাগলেন।রাজা, কমলাক্ষের কৃপায় কৃতার্থ হলেন।*
🦚🪷🌸🌷🦜🦚🪷🌸🌷🦚🪷🌸🌷🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
*(১৫)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*অদ্বৈতাচার্য্যের শাস্ত্রাধ্যয়ন*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🍀কমলাক্ষ শান্তিপুরে গিয়ে শাস্ত্র অধ্যয়ন করতে লাগলেন।অল্পদিনের মধ্যেই "ষড়-দর্শন" পাঠ সমাপ্ত করলেন।পিতার আদেশে বেদাধ্যয়ন করতে ইচ্ছুক হয়ে "ফুল্লবাড়ীতে প্রসিদ্ধ বেদ-অধ্যাপক শান্ত-আচার্য্যের কাছে গমন করে সেখানে বেদ অধ্যয়ন আরম্ভ করলেন"।শান্ত-ভট্টাচার্য্য প্রশান্ত স্বভাব,বহুশাস্ত্র বিশারদ ও মহাপন্ডিত।তাঁর কোন নিজ সন্তানাদি নেই ;গৃহে কেবল সহধর্মিনী আছেন।সহধর্মিনীও তাঁর মত শান্ত প্রকৃতি।ফুল্লবাড়ী (ফুলিয়া) গ্রামে গঙ্গার তীরের কাছে তাঁদের আলয়।উভয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে ধর্মাচরণ করে জীবন যাপন করেন। তিনি সমস্ত ছাত্রকে খুবই যত্ন ও স্নেহ সহকারে অধ্যয়ন করান এবং প্রভূত (অসামান্য) পান্ডিত্য প্রকাশ করে ভক্তিশাস্ত্রের বিচার করেন।কমলাক্ষ তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে ভক্তিভরে প্রণাম করে কৃতাঞ্জলীপুটে অর্থ্যাৎ জোড়হস্তে নিবেদন করলেন, মহাভাগ!আপনি অদ্বীতীয় অধ্যাপক ; আমি আপনার কাছে অধ্যয়ন-মানসে এসেছি ; অনুগ্রহ করে আমাকে ছাত্র হিসাবে গ্রহণ করে কৃতার্থ করুন।*
*🌻কমলাক্ষের অসাধারণ অলৌকিক ভাব, অনুপম সৌন্দর্য্য ও নানারকম সুলক্ষণ দেখে শান্তাচার্য্য অবাক হয়ে তাঁর পরিচয় জিজ্ঞাসা করলেন।কমলাক্ষ বিনীতভাবে যথাযথ পরিচয় দিলেন। অধ্যয়নের কথা জিজ্ঞাসা করাতে কমলাক্ষ বললেন, আমি সাহিত্য, অলঙ্কার ও জ্যোতিষশাস্ত্র অধ্যয়ন করে বতর্মানে ষড়-দর্শন পাঠ সমাপ্ত করেছি।এইকথা শুনে শান্তাচার্য্য আশ্চর্য্যান্বিত হয়ে কিছুক্ষণ তাঁর পরীক্ষা করলেন। কমলাক্ষ পরীক্ষায় অদ্ভুত শিক্ষার পরিচয় দিলেন। ভট্টাচার্য্য মহাশয় বহু ছাত্রের অধ্যাপনা করেছেন, কিন্তু কুবের তনয়ের মত ছাত্র তাঁর কাছে আর কখনও কেউ উপস্থিত হয়নি।তিনি যৎপরোনাস্তি (অতিশয়)প্রীতি লাভ করলেন এবং বহু প্রশংসা করে বললেন, বৎস!তুমি কি অধ্যয়ন করবে? কমলাক্ষ বললেন, আপনি যা পাঠ করতে অনুমতি করবেন,তাইই পাঠ করব। আপনার ইচ্ছায় আমার শিরোধার্য্য ; আপনার কৃপা হলেই আমার বাসনা পূর্ণ হবে, তত্ত্বজ্ঞান লাভ হবে।কমলাক্ষের এই কথায় পরম তুষ্ট হয়ে শান্তাচার্য্য ভাবলেন, কমলাক্ষের বয়স যদিও অল্প, তথাপি তিনি উন্নত জ্ঞানের অধিকারী ; তাঁকে বেদ অধ্যয়ন করাতে হবে। কমলাক্ষ বেদ পাঠ আরম্ভ করলেন। অল্পদিনের মধ্যেই তাঁর অসাধারণ বুদ্ধি, মেধা ও প্রতিভায় আচার্য্যকে চমৎকৃত ও বিমোহিত করিল। তিনি ভাবলেন, এ বালক মানুষ নয়,কোন ভাগবত অবতার হবেন।সুধীবর আচার্য্য ঐকান্তিক স্নেহে তদীয় অধ্যাপনা করতে লাগলেন।*
*🌻নিঃসন্তান শান্তাচার্য্যের পুত্রাভাব কমলাক্ষ দূর করলেন।তিনি পুত্রের মত শান্তাচার্য্যের সেবা করতে লাগলেন। আচার্য্য সর্ব বিষয়ে কমলাক্ষের বৈশিষ্ট্য দেখে তার প্রতি অধিক হতে অধিকতর স্নেহবান হতে লাগলেন।একসময় বেদান্তবাগীশ শান্তাচার্য্য ছাত্রগণ সমভিব্যাহারে (একত্রিত হয়ে ) স্নান করতে গমন করলেন।গঙ্গার কাছেই অগাধ-জল একটি বড় বিলে পদ্মবনে একটি অনেকবড় পদ্মফুল ফুটে রূপে ও গন্ধে চারিদিক আমোদিত করেছে। আচার্য্য হেসে বললেন, তোমরা কেউ পদ্মটি আনতে পারবে? সকলেই বললেন, "সর্প বহুল কন্টকাকীর্ণ অগাধ সলিলে প্রস্ফুটিত পদ্ম আনা আমাদের কারও পক্ষে সম্ভবপর নয়।" অর্থ্যাৎ সেই জায়গায় অনেক সাপের বাস এবং কাটাতে ভরা অগাধ জলে ফুটে থাকা পদ্মফুল আনা আমাদের পক্ষে অসম্ভব। কমলাক্ষ বললেন, আপনার আজ্ঞা হলে আমি অতি সহজে পদ্মফুলটি আনতে পারি।এই বলে কমলপত্রে পদবিক্ষেপ করে অনায়াসে সেই পদ্মফুল এনে শিক্ষাগুরুকে অর্পণ করলেন। ভট্টাচার্য্য মহাশয় ঘরে এসে নির্জনে কমলাক্ষকে জিজ্ঞাসা করলেন, বৎস!তুমি এই অলৌকিক কাজ কোন বিদ্যার প্রভাবে, না কোন দৈববলে করলে?আমি তোমার শিক্ষাগুরু, সত্য করে বলো? কমলাক্ষ তখন বললেন,যে ব্যক্তি শ্রীহরির অনুগত হয়,সমস্ত সিদ্ধি তার অধীন হয়ে থাকে। আচার্য্য কমলাক্ষের কথায় তৃপ্ত হলেন না--, বুঝলেন,প্রকৃত কারণটি বালক, প্রকৃত পরিচয় দিল না।*
*🍀অসাধারণ শিক্ষা-সামর্থ্যশালী, অপ্রতিম-মেধাবান ও বুদ্ধিমান্ কমলাক্ষ, অল্পদিন মধ্যে সমস্ত বেদশাস্ত্রে ব্যুৎপন্ন (শাস্ত্র জ্ঞান সম্পন্ন) হলেন।তারপর আচার্য্যের কাছে শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যয়ন করলেন।কিছুদূর অধ্যয়ন হলে,একদিন তাঁর মুখে সিদ্ধান্তসার অতিগুহ্য তত্ত্বকথা শুনে শান্তাচার্য্য বিচার করলেন, কমলাক্ষ এই কুমার বয়সে যে তত্ত্বকথা বলে,তা কখনই জীবশক্তিতে সম্ভবনীয় নয়,কমলাক্ষ নিশ্চয়ই ঈশ্বর অবতার। কিছুদিন পরে কমলাক্ষের শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ সাঙ্গ হ'ল।তিনি গুরুর নিকট বিদায় গ্রহণ প্রার্থনা করলেন।বিচ্ছেদ আশঙ্কায় গুরু চরমভাবে ব্যথিত হলেন।তিনি কমলাক্ষকে "বেদপঞ্চানন" উপাধি প্রদান করে গুরুদক্ষিণা-স্বরূপ কৃষ্ণভক্তি ভিক্ষা করলেন।কমলাক্ষ আচার্য্যপদে প্রণাম করলে,আচার্য্য তাঁকে কোলে করে জড়প্রায় স্তম্ভিত হয়ে রইলেন। তাঁর নয়ন হতে অবিরল ধারায় নয়নবারি বিগলিত হতে লাগিল। আচার্য্যাণীও সন্তানসম স্নেহভাজন ও নয়নরঞ্জন কমলাক্ষের অদর্শন জনিত দুঃখ চিন্তা করে অশ্রুজলে অভিসিক্তা হতে লাগলেন। আচার্য্যের আশ্রম ঘোরতর বিষাদের লীলাস্থান হল।কমলাক্ষ সকলকে যথাযোগ্য প্রণাম ও আলিঙ্গন ও প্রণয় মধুর কথায় সান্ত্বনা দিয়ে শান্তিপুরের দিকে গমন করলেন।তিনি নিমিষ মধ্যে সকলের দৃষ্টি অতিক্রম করলেন। তাঁর সতীর্থগণ এদিকওদিক দেখতে লাগলেন কিন্তু দেখতে পেলেন না।তিনি কোন মন্ত্র প্রভাবে কি দৈববলে অদৃশ্য হলেন। কমলাক্ষ ঘরে ফিরে এসে ব্যাকুল পিতা মাতার চরণ বন্দনা করলেন।দুই বৎসর পরে তাঁদের হৃদয়ধন নয়ননন্দন কমলাক্ষকে সন্দর্শন করে আনন্দে আত্মহারা হলেন।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🙏🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
*(১৬)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*কৈশোর--লীলা*
*তীর্থ------পর্য্যটন*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀শান্তিপুরে এসে সর্বক্ষণ পিতা মাতার সেবা ও ভাগবত চর্চাই তাঁর ব্রত হল।তাঁর সুমধুর ব্যবহারে শান্তিপুরের সকলেই তাঁর প্রতি অনুরাগী হলেন।সকলেই এককথায় তাঁর প্রশংসা করতে লাগলেন।তিনি যেন শান্তিপুরবাসীর জীবন-স্বরূপ হলেন। পন্ডিত সমাজ বলতে লাগলেন, কমলাক্ষ কখনও মনুষ্য নহেন, নিশ্চয়ই কোন দেব অবতার ; মানুষে কি কখনও এ রকম সর্ব সাধারণের অন্তর আকর্ষণ করতে পারে বা এ রকম পান্ডিত্য সম্ভবপর হতে পারে? কুবের আচার্য্য ধন্য, বহু জন্মের পুণ্য ও তপস্যার ফলে এইরকম পুত্র পেয়েছেন। নিশ্চয়ই এই পুত্র হতে দেশ উদ্ধার হবে। তখন কমলাক্ষের বয়স কত! এইই চোদ্দ বছর হবে।এই অল্প বয়সে সর্বশাস্ত্রে পারদর্শী হয়েছেন।*
*🍀একদিন কুবের পন্ডিত কমলাক্ষকে বললেন,আমার বতর্মান বয়স উননব্বই হয়েছে,হয়ত আর বেশীদিন এ জগতে থাকব না, আমরা পরলোকে গমন করলে গয়াতীর্থে শ্রীগদাধরের পাদপদ্মে পিন্ডদান করিও।এর অল্পদিন পরেই কুবের পন্ডিত বৈকুন্ঠে গমন করলেন। পিতৃভক্ত কমলাক্ষ পিতৃবিয়োগে কাতর হলে জ্ঞানবতী মা নাভিদেবী তাঁকে নানারকম সান্ত্বনা দিয়ে শান্ত করলেন।কুবের পন্ডিতের মৃতদেহ শ্মশানে এনে চিতায় দিয়ে দাহ করতে লাগলেন।ধূ ধূ শব্দে চিতা জ্বলছে, হঠাৎ নাভাদেবী সেই জ্বলন্ত চিতায় গিয়ে শুয়ে পড়লন। পতিব্রতা নাভাদেবী কুবের পন্ডিতের সঙ্গে সহমৃতা হলেন।কমলাক্ষ একেবারেই অধীর হয়ে পিতামাতার বিয়োগে কাতর হয়ে কাঁদতে লাগলেন।*
*🔵মতান্তরে ঃ---,চর্মচক্ষুর অপ্রত্যক্ষ শূন্যচর এক দিব্য পুষ্পক রথ আগমন করল ; পুণ্যবান ভক্তদম্পতি সেই রথে আরোহণ করে বৈকুন্ঠধামে গমন করলেন।তখন কমলাক্ষ উচ্চৈঃস্বরে হরিধ্বনি করতে লাগলেন।কমলাক্ষ বিবেকবলে শোক সম্বরণ করে পিতামাতার পারলৌকিক কর্ম সম্পাদন করলেন।লৌকিক আচারে কমলাক্ষ খানিক শোক প্রকাশ করে শোক-দুঃখ-ভয়াতীত মহাপুরুষ আত্মপ্রকাশ আরম্ভ করলেন।তখন তিনি পরিপূর্ণ ভাবে সংসারে একা, তিনি একেশ্বর।তখন তাঁর বয়স পনের বৎসর মাত্র।*
*👣👣👣তীর্থ-পর্য্যটন👣👣👣*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
*কিছুদিন পরে পিতার আদেশ পালন করবার জন্য গয়াতীর্থ গমন লক্ষ্য করে তীর্থকে ধন্য করবার ও জীব উদ্ধারের জন্য কমলাক্ষ তীর্থ পর্য্যটনে বাহির হলেন। একাকী পদব্রজে কৃষ্ণনাম উচ্চারণ করতে করতে প্রেমভরে চলতে লাগলেন।মুখে শ্রীকৃষ্ণনাম, ক্ষণে ক্ষণে ভাবাবেশে হুঙ্কার,দেহে কদম্ব কলিকার মত রোমাঞ্চ উদয় ইত্যাদি নানা সাত্ত্বিক ভাবসকল সেইসময়ে তাঁর শ্রীঅঙ্গে প্রকাশিত হতে লাগিল।কিছুদিন পরে তিনি শ্রীবিষ্ণুপাদতীর্থ গয়াধামে উপনীত হলেন।তাঁর ভাব-আদি দর্শনে সেখানকার ব্রাহ্মণগণ তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সমাদর করতে লাগলেন।কয়েকদিন সেখানে থাকবার পর গয়াসুর-মস্তকে স্থাপিত গদাধর-পদে পিন্ডদানাদি ও দানাদি করে ব্রাহ্মণগণের সন্তোষ বিধান করলেন।সেখান হতে নাভী গয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন।প্রেমোন্মত্তে কৃষ্ণনাম করতে করতে কিছুদিনে রেমুনায় উপস্থিত হলেন।সেখানে শ্রীগোপীনাথকে দেখে বিভোর হয়ে গেলেন।কখনও হাসছেন, কখনও কাঁদছেন, কখনও বা নৃত্য করতে করতে বাহ্যজ্ঞানশূন্য হলেন।বহুক্ষণ পরে বাহ্যজ্ঞান ফিরলে নানারকম স্তব স্তুতি করে শ্রীগোপীনাথকে প্রণাম করলেন।সেখান হতে নাভিগয়ায় গিয়ে পিন্ডাদি দান করে পুরীধাম অভিমুখে যাত্রা করলেন।*
*🌻শ্রীক্ষেত্রে উপস্থিত হয়ে শ্রীমন্দিরে প্রবেশ করে শ্রীজগন্নাথদেব,বলদেব ও সুভদ্রার শ্রীমূর্তি দর্শন করে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।কিছুক্ষণ পরে চেতন পেয়ে সাষ্টাঙ্গে দন্ডবৎ প্রণাম ও নানারকমে স্তবস্তুতি করতে লাগলেন। মূর্ছিত হবার কারণ, শ্রীজগন্নাথকে শ্রীকৃষ্ণরূপে দর্শন করে পুনঃ পুনঃ "হা কৃষ্ণ হা কৃষ্ণ " বলে পুনরায় মূর্ছিত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন।বহুক্ষণ পরে চেতনা পেয়ে হুঙ্কার করে বলে উঠলেন, "পাইনু শ্রীকৃষ্ণধন পুনঃ কোথা গেল!" তারপর উদন্ড নৃত্য,হাসি ও কান্নাকাটি করতে করতে দিনরাত্রি অতিবাহিত হল।সকাল হলে বাহ্যজ্ঞান লাভ হল।তারপর একটা বাসাবাড়ী ঠিক করে, প্রাতঃকৃত্যাদি সম্পন্ন করে সমুদ্র স্নান করে শ্রীজগন্নাথদেবের মহাপ্রসাদ সেবা করিলেন।সেখানে কিছুদিন থেকে সেখানকার সব তীর্থ প্রেমানন্দে দর্শন করেন।প্রত্যহ শ্রীজগন্নাথ দর্শন, সমুদ্র স্নান ও মহাপ্রসাদ সেবনে পরমানন্দ লাভ করলেন।*
*🌺শ্রীজগন্নাথদেবের আজ্ঞা ভিক্ষা করে কমলাক্ষ দক্ষিণের তীর্থগুলোকে ধন্য করবার জন্য যাত্রা করলেন।প্রেমানন্দে দিকবিদিক জ্ঞান নেই,সুরামত্তের মত ঢলতে ঢলতে মন্থর গতিতে যদৃচ্ছাক্রমে (নিজের মত করে) উচ্চৈঃস্বরে শ্রীকৃষ্ণনাম করতে করতে চললেন।গোদাবরী,কাবেরী,শিবকাঞ্চী, বিষ্ণুকাঞ্চী, পাপনাশন,দক্ষিণ মথুরা প্রভৃতি দক্ষিণের যত তীর্থ আছে সব জায়গায় নৃত্য-গীতাদি করে বিহ্বল হয়ে সব তীর্থ দেখলেন।বহুদিনের পরে সেতুবন্ধে উপনীত হয়ে শ্রীরামচন্দ্রের স্মৃতিতে মূর্ছিত হয়ে অনেকক্ষণ নাচ-গানাদি ও স্তব বন্দনাদি করলেন।ধনুতীর্থে গিয়ে স্নানাদি করলেন।রামেশ্বর-শিব দর্শন করে সেখানেও নৃত্য গীত স্তব ও বন্দনাদি করলেন।কয়েকদিন সেখানে থেকে রামভক্তের কাছে শ্রীরামায়ণ শুনে প্রেমানন্দে বিভোর হলেন।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
*(১৭)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*তীর্থ-----------পর্য্যটন*
**********************
*🍀রামেশ্বর হতে কমলাক্ষ দক্ষিণ কর্ণাটকে শ্রীমাধ্বাচার্য্য আশ্রমে উপনীত হলেন।সেখানে মাধ্বী সম্প্রদায়ী সাধুগণ নিরন্তর(সবসময়) ভক্তিশাস্ত্র আলোচনা করেন।তাঁদের মুখে ভক্তিযোগের ব্যাখ্যা শুনে কমলাক্ষ পরম আনন্দিত হলেন।অন্যান্য তীর্থে ভক্তিযোগের ব্যাখ্যা কোথাও শুনতে না পেয়ে বড়ই ব্যথিত হয়ে তীর্থাদি ভ্রমণ করছিলেন।এখানে এসে ভক্তিযোগের ব্যাখ্যা শুনে প্রেমানন্দে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন। সেখানে প্রেমতনুময় শ্রীল মাধবেন্দ্রপুরীপাদ বাস করছিলেন।তিনি কমলাক্ষের ভাব ও প্রেমোদয়ের লক্ষণ দেখে বুঝলেন--,ইনি মহাভাগবত বা কোনও ভাগবত অবতার হবেন,নচেৎ এ রকম প্রেম মানুষে অসম্ভব।তখন সকলে মিলে উচ্চৈঃস্বরে শ্রীকৃষ্ণনাম করতে লাগলেন। কিছুক্ষণ কৃষ্ণনাম করবার পর কমলাক্ষ হুঙ্কার করে উঠে উদ্দন্ড নৃত্য সহকারে শ্রীকৃষ্ণনাম করতে লাগলেন।তাঁর অপূর্ব প্রেমাবেশ দেখে শ্রীপাদ মাধবেন্দ্র পুরী তাঁকে কোলে করে উভয়ে পুনরায় মূর্ছিত হলেন।ভক্তগণ বহুক্ষণ উচ্চৈঃস্বরে শ্রীকৃষ্ণনাম করতে করতে উভয়ের বাহ্যজ্ঞান লাভ হল।বহুক্ষণ ইষ্টগোষ্ঠী হল।উভয়ের মিলনে যে কি অপূর্ব আনন্দ হ'ল তা বর্ণনাতীত। কিছুদিন কমলাক্ষ সেখানে বাস করে উভয়ের মধ্যে কৃষ্ণকথা আলোচনা হতে থাকল। উভয়ই বললেন জগৎ ব্যবহার রসে প্রমত্ত।অর্থ্যাৎ নিজ নিজ কর্মে ব্যস্ত, কৃষ্ণনাম, কৃষ্ণকথা তাদের মুখে শুনতে পালাম না।কৃষ্ণনাম কৃষ্ণপ্রেম কোথাও শুনা বা দেখা যায় না ; কি ভাবে এই অজ্ঞ দুর্গত জীবের উদ্ধার হবে?উভয়েই পরদুঃখে দুঃখী জীববান্ধব মহাভাগবত।উভয়ের কোমল হৃদয়ে ব্যথা অনুভব হতে লাগিল।তখন কমলাক্ষ বললেন,এই দুর্গতি কোন দেব বা মানুষের সাধ্য নাই। আমার প্রভু যদি নিজে এসে উদ্ধার করেন তবেই মঙ্গল নচেৎ আর কোন উপায় দেখছি না।কেউ কাউকেও ছাড়ছেন না, সর্বক্ষণ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ও ইষ্টগোষ্ঠীতে কয়েকদিন কাটল।একদিন সকালবেলা কমলাক্ষ শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরীকে প্রণাম করে আশ্রম হতে বিদায় নিলেন।যদিও উভয়ের বিচ্ছেদ অসহনীয় তথাপি শ্রীভগবদিচ্ছায় ভগবদ্ কাজে বিদায় নিতে হল।বিদায়কালে উভয়ে উভয়কে আলিঙ্গন করে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন প্রায়।কিছুক্ষণ পরে বাহ্যজ্ঞান লাভ করে শ্রীপাদপুরী গোস্বামীর পদধূলি মস্তকে ধারণ করে কমলাক্ষ অন্য তীর্থ পবিত্র করতে চললেন।কুবের তনয় সেখান হতে নানা তীর্থ দর্শন করতে করতে দন্ডকারণ্য এবং সেখান হতে নাসিকাদি তীর্থ দর্শন করে দ্বারকা অভিমুখে যাত্রা করলেন। শ্রীলক্ষ্মী বাসুদেবকে প্রণাম,বন্দনা ও নৃত্য-গীতাদি করলেন।সেখান থেকে প্রভাস,পুষ্করাদি,কুরুক্ষেত্র,হরিদ্বার প্রভৃতি ভ্রমণ করে বদরিকাশ্রমে নরনারায়ণ, ব্যাসদেব দর্শন করে প্রেমাবেশে অনেকক্ষণ নৃত্যকীর্তন, স্তবস্তুতি করে গোমুখী তীর্থে উপস্থিত হলেন।তথা হ'তে গন্ডকী শালগ্রাম ক্ষেত্রে গিয়ে সেখান হতে সর্ব সুলক্ষণযুক্ত এক শালগ্রাম শিলা নিয়ে মিথিলা যাত্রা করলেন।*
*মিথলায় জনকনন্দিনী সীতাদেবীর আবির্ভাব স্থান দর্শন করে সেখানকার ধূলিতে গড়াগড়ি দিয়ে প্রেমাবিষ্ট হলেন, সময়টি ১৩৭২ শকে।মিথিলায় থাকাকালীন একদিন হঠাৎ মধুময় সুললিত কৃষ্ণগুণ গান ধ্বনি শুনতে পেলেন। তিনি ব্যগ্র ভাবে স্বর লক্ষ্য করে গমন করলেন।কিছুদূর গিয়ে দেখলেন, এক ব্রাহ্মণ বটবৃক্ষতলে বসে আছেন এবং সুমধুর কৃষ্ণগুণ কীর্তন করছেন।শ্রীকৃষ্ণরূপের অপূর্ব বর্ণন শুনে, কৃষ্ণগতপ্রাণ কমলাক্ষ প্রেমাবেশে সেই ব্রাহ্মণকে গাঢ় আলিঙ্গন করে শক্তিসঞ্চার-করে প্রেমদান করলেন। পরশমণির স্পর্শে যেমন লোহা সোনাই পরিণত হয়,তদ্রূপ অদ্বৈতাচার্য্যের আলিঙ্গনে ব্রাহ্মণ প্রেমময় হয়ে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।জ্ঞান লাভ করে তাঁর অপূর্ব শক্তির পরিচয় পেয়ে কমলাক্ষের শ্রীচরণযুগল ধারণ করলেন ও তাঁকে মহাভাগবতজ্ঞানে বন্দধা করলেন। অদ্বৈতাচার্য্য বিষ্ণু স্মরণ করে ব্রাহ্মণের পরিচয় জিজ্ঞাসা করলেন।ব্রাহ্মণ বললেন, আমার নাম "বিদ্যাপতি", রাজান্ন পালিত,সাধুর আলাপের অযোগ্য, আমি ঘোর বিষয়ী। শ্রীকমলাক্ষ পুনঃ জিজ্ঞাসা করলেন,এই গীত বা কৃষ্ণকীর্তন কার রচিত?বিদ্যাপতি বললেন,আমিই বাতুলতা প্রকাশ করে এই গীত রচনা করেছি ; আপনি সারগ্রাহী (রসজ্ঞ) সাধু,তাতেই এই গানটি আপনার প্রীতিকর হয়েছে।কমলাক্ষ বললেন, এমন বর্ণন ও সুমিষ্ট স্বরালাপ আমি পূর্বে কখনও শুনি নাই।আমি সেই গানে আকৃষ্ট হয়ে এসেছি।বিদ্যাপতি বললেন--,আপনাকে কে আকৃষ্ট করতে পারে?আপনি নিজগুণে আমাকে কৃপা ও উদ্ধার করতে এসেছেন।শ্রীঅদ্বৈত বললেন,তোমার রচিত গীতামৃতে শ্রীকৃষ্ণ আকৃষ্ট হন, জীব আকৃষ্ট হবে,তাতে আর আশ্চর্য্য কি?এইরকম নানারকম কথাবার্তা হবার পর তিনি বিদ্যাপতিকে পুনরায় আলিঙ্গন করে সেখান হতে চলে গেলেন।বিদ্যাপতি বিরহে ভূমিতে পড়ে ক্রন্দন করতে লাগলেন।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
*(১৮)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*তীর্থ------------পর্য্যটন*
***********************
*🍀অনন্তর বহুদিনে অযোধ্যায় উপস্থিত হয়ে পুলকভরে শ্রীরামচন্দ্রের জন্মস্থানে প্রণাম করে রামচন্দ্রের লীলারসমাধুর্য্য স্মরণ করতে করতে উন্মত্ত হলেন এবং উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করতে লাগলেন।কিছুক্ষণ ক্রন্দনের পর "রাবণ বধ করো" বলে গর্জন করে উঠলেন এবং আবিষ্টচিত্তে শ্রীরামচন্দ্রের লীলা মাধুর্য্য চিন্তা করতে লাগলেন।বহুক্ষণ সেই ভাবে অতিবাহিত হলে পর তাঁর বাহ্য স্ফূর্তি হল।তখন সরযুনদীর জলে স্নান করে অন্যান্য শ্রীরামলীলার স্থান সব দর্শন করলেন।*
*🍀সেখান হতে নাভা-নন্দন বারাণসীতে উপনীত হলেন। সেখানে মণিকর্ণিকার ঘাটে স্নান করে প্রথমে আদিকেশব তারপরে বিন্দুমাধব দরশন করলেন।বিন্দুমাধবের সামনে অনেকক্ষণ নৃত্যকীর্তন ও পুনঃ পুনঃ প্রণাম ও কৃতাঞ্জলীপুটে স্তব করতে লাগলেন। স্তুতির মর্ম এইরকম= "হে মাধব!হে হরি! আমি তোমার অসীম দয়া দেখে মুগ্ধ হয়েছি ; তুমি ভক্তবৎসল,বাঞ্জাকল্পতরু। তোমার দিব্যমূর্তি দেখে,যাঁরা এখানে দেহত্যাগ করে, তুমি সে সমস্ত জীবকে মুক্তি প্রদান করে নিত্যধামে প্রেরণ করে থাকো। তোমার সম্যক্ তত্ত্ব, ব্রহ্মা ও শিবের অজানা, আমি সামান্য জীব, আমি তার আর কি জানি? তোমার অনন্ত মহিমা; দেব মানব কেউই তার অন্ত জানে না।বিন্দুমাধব দর্শনের পর তিনি বিশ্বেশ্বর ও অন্নপূর্ণা দেখে, পূজা করে, দুইটি বাহু তুলে নৃত্য কীর্তন করলেন।কাশীতে তিনদিন থেকে সেখানকার বহু যোগী,সন্ন্যাসী ও অযাচক সাধুর কাছে ভক্তি মাহাত্ম্য কীর্তন করতে লাগলেন।তৃতীয় দিন রাত্রে শ্রীমাধবেন্দ্রপুরীপাদের শিষ্য শ্রীবজয়পুরীপাদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হল।তাঁর পূর্বাশ্রম শ্রীহট্টের নবগ্রামে নিবাস ছিল।ইঁনার পিতা নাভাদেবীর পিতৃ-পুরোহিত ছিলেন।পূর্ব পরিচিত এবং বর্তমানে শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরীর কৃপায় প্রেম লাভ করায় উভয়ের সম্মিলন বড়ই মধুর হল।সারারাত জাগরণ করে উভয়ে কৃষ্ণকথা আলাপনে অতিবাহিত করলেন।পরদিন সকালবেলা কুবেরতনয় প্রয়াগ যাত্রা করলেন। শ্রীমদ্ বীজয়পুরী কাশীতেই রইলেন।কমলাক্ষ কিছুদিনে প্রয়াগে উপনীত হয়ে সেখানকার দর্শনীয় জায়গা সব প্রেমানন্দে দর্শন ও সেখানকার কৃত্যাদি সমাপন করলেন। সেখানে অক্ষয়বট ও ভীমের গদা দেখে প্রেমানন্দে নৃত্যকীর্তন করলেন।*
*🌻শ্রীমথুরামন্ডল দর্শন= ☆বৃন্দাবনে কথোদিন কৃষ্ণে আরাধয়। (ভক্তিরত্নাকর ১২|১৭৭৩)। তারপরে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য প্রয়াগ হতে মথুরা যাত্রা করলেন।শ্রীকৃষ্ণলীলাক্ষেত্র শ্রীমথুরামন্ডলে তাঁর অসাধারণ প্রীতি। মথুরায় উপস্থিত হয়ে সর্বক্ষণ প্রেমে মাতোয়ারা হয়ে শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান ও লীলা স্থানাদি দেখলেন।তিনি কখনও মথুরার রজে গড়াগড়ি, ক্রন্দন,আবার কখনও হাসি, কখনও বা হুঙ্কার ইত্যাদি ভাবে বিহ্বল হয়ে পুলকিত অঙ্গে অশ্রুজলে স্নান হয়ে সব লীলাস্থান সন্দর্শন করলেন। মধ্যে মধ্যে হা কৃষ্ণ!হা মথুরানাথ!হা বাসুদেব!হা নন্দনন্দন!হা যশোদা-দুলাল!বলে উচ্চৈঃস্বরে কাঁদছেন ও হুঙ্কার করতে করতে ব্রজমন্ডল পরিক্রমা করলেন।তাঁর এই প্রেমময় ভাব দেখে সকলেই তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হলেন।এইরকমে ব্রজমন্ডলের সব লীলাস্থান ক্রমে ক্রমে দেখলেন।*
*🍀ভ্রমণ করতে করতে মধুবনে উপস্থিত হলেন,তখন সেখানে এক বিদেশী ব্রাহ্মণ বাস করতেন।তিনি কিন্তু উগ্র-প্রকৃতি,পরুষভাষী বা কর্কশভাষী,পন্ডিতাভিমানী,তার্কিক, বিবাদপটু ও বৈষ্ণব বিদ্বেষী ছিলেন।একসময় সেই ব্রাহ্মণ শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের কাছে এসে বিষ্ণু-বৈষ্ণবের নিন্দা আরম্ভ করলেন।সেইকথা শুনে কমলাক্ষ ক্রোধে অধীর হয়ে বিষ্ণু-বৈষ্ণব নিন্দুকের শাস্তি দিবার জন্য চতুর্ভূজ ভৈরবমূর্তি ধারণ করে ভীষণ তর্জন-গর্জন ও হাতের আস্ফালন করে বললেন ; ওরে পাষন্ড!আজ তোর রক্ষে নেই ; আজ তোর শরীর শৃগাল-কুকুরের ভক্ষ্য হবে।তাঁর সেই ভয়ঙ্কর মূর্তি, মহারুদ্র তেজঃ, অগ্নিময় কথায় সেই ব্রাহ্মণ ভীষণ ভীত ও কম্পিত শরীরে কৃতাঞ্জলীপুটে তাঁর চরণের সামনে মাটিতে পড়ে নিজকৃত অপরাধের জন্য ক্ষমা ভিক্ষা করতে লাগল। এবং বলল,আমি খারাপ সঙ্গলাভে বহু বৈষ্ণব অপরাধ করেছি, আমার উপযুক্ত শাস্তি হওয়াই উচিৎ, আপনি কৃপা করে যথোচিত শাস্তি দিয়ে আমাকে শোধন করে অপরাধ মুক্ত করুন।এই কথাগুলি বলে অদ্বৈতাচার্য্যের অভয়চরণারবিন্দে শরণাগত হলেন।বৈষ্ণবের স্ব-ভাব ক্ষমা করা, করুণাময় কমলাক্ষ তার অনুতাপ অনুশোচনা দেখে তুষ্ট হয়ে কৃপা-করে বললেন, বিষ্ণুনিন্দা ও বৈষ্ণব অপরাধ অপেক্ষা জীবের আর বেশী সর্বনাশ পতন ও শাস্তি আর নাই। এক্ষণে জ্ঞানাভিমান,আভিজাত্য গৌরব উগ্রতা ও দম্ভাদি ত্যাগ করে অশিষ্টাচার,অসাধু-ব্যবহার হতে ক্ষান্ত হয়ে,শান্ত বিনীত,সহিষ্ণু ও মিষ্টভাষী হয়ে যে মুখে বিষ্ণু-বৈষ্ণবের নিন্দা করেছ, সবসময়ই দীনভাবে সেইমুখে বিষ্ণু-বৈষ্ণবের গুণকীর্তন ও মাহাত্ম্য কীর্তন করো।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
*(১৯)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের তীর্থ পর্য্যটন*
******************************
*🍀সেই বিদেশী উগ্র-প্রকৃতি ব্রাহ্মণকে বললেন, যাঁদের কাছে অপরাধ করেছ তাঁদের শ্রীচরণে ধরে কাকুতি-মিনতিবাক্যে করে ক্ষমা প্রার্থনা করো ও তাঁদের প্রসন্ন করতে সদাসর্বদা মুখে হরিনাম কীর্তন করো এবং সর্বদা ভক্তি-শাস্ত্র আলোচনা ও তার বিধান মত আচরণ করো।বহুদিন এইরকমে দৈন্যভাবে সকলের প্রীতিবিধান করলে তাঁরা প্রসন্ন হলে তোমার অপরাধ ক্ষয় হবে।তখন তাঁদের কৃপায় ভক্তিলাভ অধিকার হবে।হ্যাঁ, মনে রেখ, আর কখনও ভুলেও যেন বিষ্ণু-বৈষ্ণবের নিন্দাদি করিও না।এইরকম হিত উপদেশ দিয়ে অদ্বৈতাচার্য্য চলে গেলেন।তারপর হতে সেই ব্রাহ্মণের চরিত্র একেবারে পরিবর্তন হয়ে গেল।শ্রীঅদ্বৈত প্রভুর কৃপার-মাহাত্ম্য লোকে জানতে পারল।সেখান থেকে কমলাক্ষ বৃন্দাবন গমন করলেন, বৃন্দাবনে প্রবেশ মাত্র তাঁর অদ্ভূত প্রেমবিকার হল।কিছুক্ষণে বাহ্যজ্ঞান হলে পাগলের মত শ্রীকৃষ্ণকে খোঁজ করতে লাগলেন।কখনও মূর্ছা,কখনও কান্না, কখন বা হুঙ্কার করতে করতে বৃন্দাবনে ভ্রমণ করতে লাগলেন। তিনি তালবন,কুমুদবন,বহুলাবন, গোবর্দ্ধন পরিক্রমা সেখানে হরিদের দর্শন,মানস গঙ্গায় স্নান ও দানঘাট দর্শন করে কাম্যবনে গমন করলেন। কাম্যবনে বিমলাকুন্ডে স্নান ও সেখানকার বালকদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলা খেললেন।সেখান হতে বর্ষাণা,নন্দগ্রাম,জাবট, খদিরবন, রামঘাট,গোপীঘাট, অক্ষয়বট,ও চীরঘাট দেখে বিশ্রাম করবার জন্য একটি কদম্ববৃক্ষের তলে বসে পড়লেন।বেশ কয়েক ঘন্টা বিশ্রাম করে সেখান থেকে ভদ্রবন, বিল্ববন ও ভান্ডীরবন দেখে সেখানকার বেশ কিছু বালকের সঙ্গে অনেকক্ষণ পর্যন্ত খেলা করলেন।তারপরে লৌহবন, মানস-সরোবর তথা হতে "শ্রীরাধার জন্মস্থান" রাওল দর্শন করে মহাবনে যমলার্জ্জুন ভঞ্জন, পূতনার খাত,গোপকূপ দেখে ব্রহ্মান্ডঘাটে কিঞ্চিৎ মাটি ভক্ষণ করলেন।শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলার সমস্ত জায়গা দেখে মনে ভীষণ ভীষণ আনন্দ লাভ করলেন।ঐসব দেখে যমুনাতীরে গিয়ে বসিলেন।এমন সময়ে কাম্যবনবাসী "কৃষ্ণদাস" নামক কিশোর বয়স্ক ভক্তিমান ব্রাহ্মণপুত্র এসে তাঁর কাছে ভক্তিশাস্ত্র অধ্যয়নের জন্য প্রার্থনা করলেন।তার আকৃতি প্রকৃতি হাব-ভাব ও সুলক্ষণাদি দেখে তাঁর প্রার্থনায় রাজী হয়ে তাঁকে সঙ্গে রাখলেন।*
*🙏🙏শ্রীমদনগোপাল প্রকটন🙏🙏*
*🌹একসময় শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য শ্রীরাধাকৃষ্ণের লীলাস্থান দেখার পর যমুনাতীরের কাছে এক বটবৃক্ষতলে বসে তার শীতল ছায়ায় সারাদিনের পথ পরিশ্রম করা শরীর তিনি বিশ্রাম করছেন।সেই বটবৃক্ষের এত সুন্দর শোভায় আকৃষ্ট হয়ে সেরাত্রি সেখানেই যাপন করলেন।সন্ধ্যার সময় এক ব্রজবাসী কিছু আহার্য্য এনে দিলেন,তা আহার করে শয়ন করলেন।পথশ্রম যুক্ত শরীর,গাঢ়নিদ্রায় ডুবে গেলেন।রাত্রি তৃতীয় প্রহর অতীত হলে এক অপূর্ব স্বপ্ন দেখলেন, পরণে পীতাম্বর,মুরলী বদন, শিখি পুচ্ছমৌলী,নবীন নীরদ কান্তি,নবনীত কোমল কলেবর, শ্রীনন্দনন্দন শ্রীকৃষ্ণ,তাঁর কাছে এসে বলছেন,হে অদ্বৈত!তুমি আমার অঙ্গস্বরূপ, তুমি জীব উদ্ধারের জন্য জগতে আবির্ভূত হয়েছ। তুমি শ্রীকৃষ্ণনাম প্রচার ও লুপ্ততীর্থ উদ্ধার করো।মদনমোহন নামে আমার এক মণিময় মনোহর মূর্তি,যমুনার তীরে দ্বাদশাদিত্য-কুঞ্জবনের মধ্যে অল্প মাটির চাপা পড়ে আছি।যবন-ভয়ে সেবক ঐ জায়গায় লুকিয়ে রেখে পালিয়ে গেছে।সেই অবধি সেইখানে গুপ্তভাবে আছি। তুমি গ্রামের লোক নিয়ে এসে তা প্রকটিত করে অভিষেকাদি করে পুনঃ সেবার ব্যবস্থা করো।ব্রজবাসীগণ তোমায় সব বিষয়ে সাহায্য করবেন ও তাঁরা সেবার ভার নিবেন। এই কথাগলি বলে শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র অন্তর্হিত হলেন। অদ্বৈতাচার্য্যের ঘুম ভাঙ্গল। তিনি শ্রীকৃষ্ণের অদর্শনে বিলাপ করে কাঁদতে লাগলেন।কিছুক্ষণ পরে চিত্ত স্থির করে আদেশ-পালনে তৎপর হলেন। তিনি সকালবেলা স্নান করে প্রেমযোগে শ্রীকৃষ্ণনাম করতে করতে গ্রামবাসীগণকে একত্রিত করে শ্রীমদনগোপাল প্রকটনের জন্য সকলকে তাড়াতাড়ি আসতে বললেন।গ্রামবাসীগণ মহানন্দে কোদাল,কুড়ুল,প্রভৃতি জিনিস নিয়ে অদ্বৈত প্রভুর সঙ্গে দ্বাদশাদিত্য-কুঞ্জ মধ্যে গিয়ে ভীষণ জঙ্গল কেটে পরিস্কার করে অল্প মাটিরতলে সেই অপূর্ব শ্রীমূর্তি প্রকাশ করলেন।সকলে মহানন্দে হরিধ্বনি করে সেই শ্রীমূর্তির অভিষেকাদি করলেন।বটবৃক্ষতলে ব্রজবাসীগণ লতা-তৃণাদি দ্বারা একটি কুটির নির্মাণ করে সেখানে সেবা পূজার ব্যবস্থা করলেন।একজন সদাচারসম্পন্ন কৃষ্ণভক্তকে সেই মদনগোপালের সেবায় নিযুক্ত করলেন।যথারীতি সেবা পূজা চলতে লাগিল।ইতিমধ্যে কতকগুলো দুষ্টবুদ্ধি মুসলমান হিংসা করে সেই শ্রীমূর্তি ভাঙ্গবার উদ্দেশ্যে মন্দিরে গিয়ে দেখল, মন্দিরে শ্রীমূর্তি নাই।তারা হতাশ হয়ে ফিরে গেল।যথা সময়ে সেবক পূজা করতে এসে দেখেন শ্রীবিগ্রহ মন্দিরে নাই।তখন কমলাক্ষ বৃন্দাবন পরিক্রমায় গিয়েছিলেন।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
*(২০)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*অদ্বৈতাচার্য্যের তীর্থ পর্য্যটন*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*☘সেবক ভাবলেই আমার অপরাধেই শ্রীবিগ্রহ অন্তর্হিত হয়েছেন।উক্ত শ্রীবিগ্রহ যে কমলাক্ষের প্রাণস্বরূপ, তিনি এসে যে কত মর্মান্তিক দুঃখ পাবেন,তার পরিমাণ নাই।এই ভেবে সেবক আহারাদি ত্যাগ করে কেবল কাঁদতে লাগলেন।অদ্বৈতাচার্য্য ফিরে এসে উক্ত ব্যাপারে মর্মান্তিক দুঃখ পেয়ে রোদন করতে করতে দিনাতিপাত করলেন।ভাবলের শ্রীকৃষ্ণ কৃপাকরে আমাকে কৃতার্থ করতে এসেছিলেন, কিন্তু আমার অপরাধ ফলে তিনি শ্রীবিগ্রহ চলে গেলেন।সেদিন উপবাস করে সেই বটবৃক্ষতলে ঘুমিয়ে রইলেন।শ্রীমদনমোহনের বিরহে বিষণ্ণচিত্তে ঘুমিয়ে রইলেন।নিদ্রা নাই,সারারাত্রি কেবল কেঁদে কেঁদে শেষরাত্রে একটু নিদ্রাবেশ হলে স্বপ্ন দেখলেন, মদনমোহন হাসিমুখে মধুর কথায় বলছেন, অদ্বৈত!চিন্তা করিও না, আমি তোমাকে কি ত্যাগ করতে পারি! ম্নেচ্ছভয়ে গোপাল হয়ে পুষ্পের ভিতরে গুপ্তভাবে রয়েছি।সেরূপে আমি আর কাউকেও দেখা দিব না ; কেবল তোমার ভক্তি প্রেমের চোখে আমাকে দেখতে পাবে।তুমি স্নান করে এসে মন্দিরে প্রবেশ করো।তোমাকে দেখা দিয়ে পূর্বরূপ পরিগ্রহ করব।এই স্বপ্ন দেখে নিদ্রা ভঙ্গ হল।তিনি ব্যাকুল হয়ে মন্দিরে প্রবেশ করে দেখলেন পুষ্পমধ্যে অনুপম মাধুরীময় শ্রীগোপালমূরতি বিরাজিত।তাঁর দর্শনে তাঁর শ্রীঅঙ্গে অষ্টসাত্ত্বিক বিকার প্রকাশিত হল, তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।কিছুক্ষণ পরে বাহ্যজ্ঞান লাভ করে ফল ও জল ভোগ দিয়ে প্রসাদ পেয়ে শয়ন করলেন।সকালবেলা শ্রীঅদ্বৈত যমুনায় স্নান করতে গিয়ে সেই সেবককে দেখে বললেন,যাও সত্বর ঠাকুরের সেবা করো।মদনগোপাল নামে পূজা করিও।পূজারি বললেন, শ্রীবিগ্রহ তো শ্রীমন্দিরে নাই, কার পূজো করব?অদ্বৈতাচার্য্য বললেন, ভগবান কখনও সেবককে ত্যাগ করতে পারেন না ; মন্দিরে গিয়ে দেখ, ঠাকুর আছেন। পূজারি অবাক হয়ে মন্দিরে গিয়ে দেখলেন, ঠাকুর যথাস্থানে শয়ন করে আছেন।তাঁর দর্শনে ব্রাহ্মণের আনন্দ ও আশ্চর্য্য হলেন।তিনি কিছুক্ষণ জোড়হাতে দাঁড়িয়ে রইলেন, পরে ভক্তিভরে প্রণাম ও বহু স্তব স্তুতি করে শ্রীবিগ্রহকে প্রেমভরে পূজা করলেন। সেইসময় হতে শ্রীমদনমোহন বিগ্রহের শ্রীমদনগোপাল নাম হল।শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য পরমানন্দ শ্রীমদনগোপালের সেবায় নিযুক্ত রইলেন।ব্রজবাসীগণ সেবায় সহায়তা করতে লাগলেন। কিছুদিন পরে একদিন শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য স্বপ্ন দেখলেন, শ্রীমদনগোপাল আদেশ করছেন,হে অদ্বৈত!আর তোমার এখানে থাকবার প্রয়োজন নাই ; তুমি শান্তিপুরে গমন করো, সেখানে শুদ্ধভক্তি প্রচার করতে হবে। আর দেরী করিও না, ব্রজবসীগণের উপর সেবাভার অর্পণ করে তুমি তাড়াতাড়ি চলে যাও।সেই স্বপ্ন দেখে শ্রীঅদ্বৈত ব্রজবাসীগণকে শ্রীমদনগোপালের সেবাভার অর্পণ করে শ্রীবিগ্রহের এক আলেখ্য (চিত্রপট)প্রস্তুত করে পরম যত্নে তা নিয়ে শান্তিপুর অভিমুখে যাত্রা করলেন।কাম্যবনের কৃষ্ণদাস তাঁর সঙ্গে চললেন।শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের স্মৃতিস্বরূপে সেই অদ্বৈত-বট অদ্যাপি শ্রীবৃন্দাবনে বিদ্যমান ও সেখানে সেই শ্রীবিগ্রহও সেবিত হচ্ছেন। প্রবাদ আছে শ্রীমদনগোপাল মথুরায় চৌবারিক ও শ্রীঅদ্বৈতপ্রভুকে স্বপ্নযোগে সেবা আদান প্রদানের ব্যবস্থা করেন।সেই মত সেই চৌবারিকের হাতে শ্রীঅদ্বৈত সেবা সমর্পণ করেছিলেন।শ্রীঅদ্বৈত বৃন্দাবন হতে নবগ্রাম যান, সেখান হতে শান্তিপুরে গমন করেন।শান্তিপুরবাসী শ্রীঅদ্বৈতকে পেয়ে হারানিধি ফিরে পেয়ে আনন্দে বিহ্বল হয়ে সর্বক্ষণ তাঁর সঙ্গাদি করতে লাগলেন।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🪷🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
