✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২১) বৈষ্ণব রস-সাহিত্য*
*শ্রীচৈতন্যের বিদ্যাবিলাস*
*শ্রীগৌরাঙ্গ ও লীলাসংকীর্তন*
****************************
*🌹মহাপ্রভু দাক্ষিণাত্যে যেখানে যেখানে গিয়েছেন সেখানে " সকলের বুলি বুঝে শচীর দুলাল"। গোবিন্দ নিজে সে সকল "কাঁই মাঁই " বুঝতে পারতেন না বলে এবং তাঁর বিদ্যা বেশী ছিল না বলে তিনি শাস্ত্র-বিচারের বিশদ বিবরণ দিতে পারেন নাই। কিন্তু তিনি যে সব বিবরণ দিয়েছেন, তা হতেই শ্রীচৈতন্যের পান্ডিত্যের যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি দাক্ষিণাত্যেদেশে গমনের পূর্বে নারায়ণগড়ে এক ধনীর সঙ্গে তর্কে তাঁকে পরাস্ত করেন।তিনি বটেশ্বরে তীর্থরাম নামক ধনীকে তত্ত্বজ্ঞান শিক্ষা দিয়েছিলেন।এইরকম নাগর নগরে এক দুরাত্মা ব্রাহ্মণকে ধন্য করেছিলেন।ত্রিপাত্র নগরে প্রসিদ্ধ শৈবপন্ডিত ভর্গদেবকে তিনি হরিনাম লওয়াইয়াছিলেন।বেঙ্কট নগরে এক পন্ডিত ছিলেন,বেদান্তে তাঁর সমকক্ষ কেউ ছিলেন না।মহাপ্রভুর সঙ্গে বিচার করতে আসলেন।গৌরহরি বললেন, আমি হেরে গেলাম,বিচার প্রয়োজন কি? কিপন্ডিত নাছোড়বান্দা!তখন বিচার হ'ল।*
*🌷অদ্বৈতবাদের কথা স্বামী যত কয়।*
*🌷দ্বৈতাদ্বৈতবাদ তুলি চৈতন্য বুঝায়।।*
*🌷অবশেষে ঘোরতর বিচার বাধিল।*
*🌷ক্রমে ক্রমে দন্ডিস্বামী হার মেনে নিল।।*
*🌺ত্রিবঙ্কু দেশে ব্রহ্মবাদী এসে তর্ক করতে লাগল।শ্রীচৈতন্যদেব তাকে বেদ বেদান্তের কথা শাস্ত্রের প্রমাণ বলে বুঝালেন।গুর্জরী নগরে অর্জুন নামে এক পন্ডিত ছিলেন।গৌরচন্দ্র তাঁকে "বেদান্তের সূক্ষ্ম কথা" খুলে "তন্ন তন্ন করে" বুঝালেন।সহ্যকুলাচল ত্যাগ করে উত্তরে গিয়ে পূর্ণনগরে গৌরহরি উপনীত হলেন,তখন সেখানে বহু পন্ডিত তর্ক করতে আসিল। "অসংখ্য পন্ডিত আসে বিচার করতে"।এইরকম ভাবে যেখানেই শ্রীচৈতন্যদেব গিয়েছেন সেখানেই শাস্ত্রের বিচার করে নিজমত স্থাপন করতে হয়েছিল। এর দ্বারা মনে হয় না কি যে সেইকালে যখন ভারতবর্ষে পান্ডিত্যের প্রতিভা অব্যাহত ছিল,যেকালে সার্বভৌম, বিদ্যাবাচস্পতি,রঘুনাথ শিরোমণি, রঘুনন্দন,প্রকাশানন্দ সরস্বতী প্রভৃতি পন্ডিতের আবির্ভাব হয়েছিল,সেইকালে শ্রীচৈতন্যদেব শুধু ভক্তির প্রাবল্যে না,নিজের অসাধারণ বিদ্যা-প্রভাবে দক্ষিণদেশ ও নীলাচলে নিজের গৌরব সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।*
*🌻শ্রীগৌরাঙ্গ ও লীলাকীর্তন🌻*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*🍀শ্রীগৌরাঙ্গ ১৪৮৬ খৃষ্টাব্দে নবদ্বীপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।সে এক ফাল্গুনের সন্ধ্যায়। পূর্ণিমার রজনী।সেদিন আবার চন্দ্রগ্রহণ।হাজার হাজার লোক গ্রহণ-স্নান করবার জন্য নবদ্বীপের ঘাটে ঘাটে আসছেন।সকলেই হরিবোল হরিবোল বলছেন।ভক্তগণ হরিসংকীর্তন করতে করতে স্নানে আসছেন।*
*🌷হরিবোল হরিবোল সবে এই শুনি।*
*🌷সকল ব্রহ্মান্ডে ব্যাপিলেক হরিধ্বনি।।*
*🌹আর একদিন যখন কৃষ্ণচন্দ্র আবির্ভূত হয়েছিলেন,সেদিনও আমরা প্রকৃতির সঙ্গে এইরকম এক বিশেষ সামঞ্জস্য দেখি।ভাদ্র মাসের কৃষ্ণাষ্টমী।কারাগৃহ অন্ধকার। কিন্তু সহসা দিঙ্মন্ডল প্রসন্ন হয়ে উঠিল,ঋক গ্রহ নক্ষত্র প্রশান্ত ভাব ধারণ করল,নদীসকল নির্মল জলে পূর্ণ হল,সরোবরে পদ্মফুল ফুটিল, বনরাজি ফুলে ফুলে শ্রীসমন্বিত হল,পক্ষীকুল কলধ্বনি করতে লাগিল।সাগ্নিক ব্রাহ্মণগণের নির্বাণোন্মুখ বহ্নি দীপ্ত হয়ে জ্বলিল, সমুদ্রের জল-কল্লোলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে জলধরগণ গুরু গুরু ডাকতে লাগল।এমনি এক ঘোর অন্ধকার রাত্রিতে ভগবান কৃষ্ণচন্দ্র আবির্ভূত হলেন।কৃষ্ণের আবির্ভাবের প্রয়োজন পৃথিবীর ভার-হরণ।পাপের ভারই দুর্বহ। পৃথিবীর যখন পাপের মাত্রা পরিপূর্ণ হয়ে উঠে তখন ভগবান আবির্ভূত হন, এটিই সমস্ত শাস্ত্রের ও পুরাণের তাৎপর্য্য।কৃষ্ণ অবতারের প্রয়োজন পাপের উচ্ছেদ-সাধন, শত্রু সংহারের দ্বারা,যুদ্ধ বিগ্রহের দ্বারা।শ্রীগৌরহরির অবতারও পাপের উচ্ছেদ-সাধন নিমিত্ত, কিন্তু সংহারের দ্বারা নয়, ভক্তির দ্বারা, নাম-প্রেমের দ্বারা।তিনি হরিনাম প্রচার করবার জন্য আবির্ভূত হয়েছিলেন, কাজেই হরিধ্বনির মধ্যে তাঁর জন্ম।পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঙ্গে অবতার প্রয়োজনের অপূর্ব সামঞ্জস্য। নবদ্বীপে চন্দ্র-গ্রহণের সময় সজ্জন দুর্জন সকলেই হরিবোল বলে গঙ্গায় ডুব দিচ্ছেন বটে। কিন্তু এর দ্বারা সে সময়কার অবস্থা প্রতীয়মান হয় না।লোকের মধ্যে ভক্তির অভাব ছিল, দেশে তখন মুসলমানদের রাজত্ব স্থাপিত হয়েছে।হিন্দুধর্মের প্রতি লোকের আস্থা কমে গিয়েছে।বাশুলী, বিষহরি যোগীপাল ভোগীপাল প্রভৃতি দেবতার পূজা অর্চনা হচ্ছে।পূজায় তান্ত্রিক আচারেরই প্রাচুর্য্য।বৌদ্ধধর্মের প্রভাব সমাজের বিভিন্ন স্তরে সংক্রামিত হয়ে নানা বীভৎস আচার অনুষ্ঠান ও বিশ্বাসের সৃষ্টি করেছে।পাষন্ডী ভন্ড ও নাস্তিকের অত্যাচারে ভক্তগণ সন্ত্রাসিত।পূজা অর্চনায় লোকে ধন-পুত্রই কামনা করে,কীর্তন শুনলেই উপহাস করে।ভগবৎ নামের কোনই প্রসঙ্গ নাই।এমনই কলিতিমিরাকুল যুগে ভগবান শ্রীগৌরহরি আবির্ভূত হলেন। নিরুপায়ের উপায় ভগবান সর্বকালেই। কিন্তু এবারে এক নূতন উপায় উদভাবিত হল,যা কোনও অবতারে কখনও হয়নি।সে ধূতন উপায় হরিনাম সংকীর্তনের দ্বারা জীবের উদ্ধার।যদিও বা প্রত্যেক অবতারে ভগবান যুগধর্ম স্থাপন করেন।*
*🌷কলি যুগের যুগধর্ম নাম সংকীতন।*
*🌷এতদর্থে অবতীর্ণ শ্রীশচীনন্দন।।*
*🌻মুরারি গুপ্ত বলেছেন যে,শ্রীচৈতন্য অবতারের মুখ্য প্রয়োজন কীর্তন প্রচার।*
*🌹কীর্তনং কারয়ামাস স্বয়ং চক্রে মুদান্বিতঃ।*
*🌻শ্রীগৌরহরি গয়া হতে ফিরে এই নাম-কীর্তনের পদ্ধতি দেখালেন।*
*🌷হরিকীর্তনমাদিশৎ স্মরণ্ পুরুষার্থায় হরেরতিপ্রিয়ম্।*
*🌷স গয়াসু পিতৃক্রিয়াং চরণ্ হরিপাদাঙ্কিতভূমিষুস্বয়ম্।।*
*(মুরারিগুপ্তের করচা ১মপ্র,১ম সর্গ)*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২২) বৈষ্ণব রস-সাহিত্য*
*শ্রীগৌরাঙ্গ ও লীলাকীর্তন*
***************************
*🍀নিমাই পন্ডিত আর অধ্যাপনা করতে পারলেন না।*
*🌷গয়া হৈতে যাবত আসিয়াছেন ঘরে।*
*🌷তদবধি কৃষ্ণ ব্যাখ্যা,আন নাহি স্ফুরে।।*
*🌷যে প্রভু আছিল ভোলা মহাবিদ্যারসে।*
*🌷এবে কৃষ্ণ বিনা আর কিছু নাহি বাসে।।*
*🌷সর্বদা বলেন কৃষ্ণ পুলকিত অঙ্গ।*
*🌷ক্ষণে হাসে হুঙ্কার ক্ষণে বহু রঙ্গ।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷শিষ্য বলে পন্ডিত উচিত ব্যাখ্যা কর।*
*🌷প্রভু বলে সর্বক্ষণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ স্মর।।*
*🌻তখন মহাপ্রভু বললেন=*
*🌷তোমা সবা স্থানে মোর এই পরিহার।*
*🌷আজি হৈতে আর পাঠ নাহিক আমার।।*
*🌻তোমাদের যেখানে ইচ্ছা হয় গিয়ে পড়তে পার, আমার দ্বারা আর হবে না।*
*🌷কৃষ্ণ বিনা আর বাক্য না স্ফূরে আমার।*
*🌹পড়াই ও পড়তে বসলেই আমি দেখি=*
*🌷কৃষ্ণবর্ণ এক শিশু মুরলী বাজায়।*
*🌻শিষ্যেরাও অধ্যাপকের উপযুক্ত ; তাঁরা বললেন আমরা আর পড়াশোনা করব না।*
*এত বলি,*
*🌷পুস্তকে দিলেন সব শিষ্যগণ ডোর।*
*🌺তখন কৃষ্ণভাবে বিভাবিত গৌরহরি বললেন,তবে তোমরা কৃষ্ণনাম কর।*
*🌷কৃষ্ণ নামে পূর্ণ হউক সবার বদন।*
*🌻পড়ুয়ারা বললেন আমরা তো সংকীর্তন করতে জানি না, আমাদেরকে শিখিয়ে দিন।তখন মহাপ্রভু করতালি দিয়ে "দিশা" দেখিয়ে দিলেন।*
*🌲হরি হরয়ে নমঃ কৃষ্ণ যাদবায় নমঃ।*
*🌲গোপাল গোবিন্দ রাম শ্রীমধুসূদন।।*
*🌳ছাত্র এবং অধ্যাপক মিলে এই নামকীর্তন আরম্ভ করলেন।তখন নবদ্বীপের সব লোক ধেয়ে আসিল।সকলে বলাবলি করতে লাগল=*
*🌷এবে সংকীর্তন হৈল নদীয়া নগরে।*
*🌻এতেই এরকম বুঝা যায় যে পূর্বে এমনটি ছিল না। এর পর হতে রীতিমতো কীর্তন চলিল। কিন্তু সে কীর্তনে কী গীত হত,কি প্রণালীতে গান করা হত,তা আমরা জানবার সুযোগ পাইনি।চৈতন্যভাগবত হতে এইমাত্র জানতে পারি যে এই সংকীর্তন হতে=*
*🌷নবদ্বীপে প্রকাশ হইলা গৌরচন্দ্র।*
*🌺এখন হতে তাঁর চেষ্টা হল যাতে=*
*🌷ঘরে ঘরে নগরে নগরে অনুক্ষণ।*
*🌷সর্বদেশে হইবেক কৃষ্ণের কীর্তন।।*
*🌻এর পরে নিত্যানন্দচন্দ্র নবদ্বীপে এসে উদিত হলেন।তিনি শুনেছিলেন=*
*🌷নদীয়ায় শুনি বড় হরি সংকীর্তন।*
*🌷কেহ বলে এথায় জন্মিলা নারায়ণ।।*
*🌹এর পর হতে=*
*🌷মহামত্ত দুই প্রভু কীর্তনে বিহরে।*
*🌳নিরন্তর ভক্তগণ মধ্যে এই কীর্তনানন্দ হত।*
*🌷শ্রীবাসবিপ্রাদিগণৈঃ ক্কচিন্নবং গায়ত্যসৌ নৃত্যতি ভাবপূর্ণঃ।*
*(মুরারির করচা=১ম ১৬শ)*
*🌺রাত্রিকালে শ্রীবাসের দ্বাররুদ্ধ করে কীর্তন হত।সে কীর্তনের আসরে সকলের প্রবেশ অধিকার থাকত না।*
*🌷এই মত প্রতি নিশা করয়ে কীর্তন।*
*🌷দেখিবার শক্তি নাহি ধরে অন্যজন।।*
*🙌এই কীর্তনে গৌরসুন্দর নৃত্য করতেন।শ্রীবৃন্দাবনদাস ঠাকুর যখনই এই কীর্তন-প্রসঙ্গ তুলেছেন, তখনই তিনি এই নৃত্যের কথায় বলেছেন।*
*🌹তিনি মঙ্গলাচরণে বলেছেন যে নিত্যানন্দ ও গৌরচন্দ্র সংকীর্তনের একমাত্র জন্মদাতা। "সংকীর্তনৈক পিতরৌ" কিন্তু আমরা আগেই দেখেছি যে চন্দ্রগ্রহণের সময় শত সহস্র লোক সংকীর্তন করতে করতে গঙ্গাস্নানে গিয়েছিলেন।ইহা হতে বুঝা যায় যে, গৌরচন্দ্রের পূর্বেই একরূপ সংকীর্তন হত।*
*শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামীও বলেছেন=*
*🌷চৈতন্যের সৃষ্টি এই নাম সংকীর্তন।*
*🌳কবিরাজ গোস্বামী এটি কবিকর্ণপুরের "চৈতন্য চন্দ্রোদয়" নাটক হতে অনুবাদ করেছেন=*
*রাজা।ঈদৃশং কীর্তনকৌশলং ক্কাপি ন দৃষ্টম্।*
*সার্বভৌম।ইয়মিয়ং ভগব্বচ্চৈতন্যস্য সৃষ্টিঃ।।*
*🌺প্রতাপরুদ্র রাজা মহাপ্রভুরকীর্তন শুনে যখন বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন=*
*🌷কভু নাহি শুনি এই মধুর কীর্তন।*
*🌹তখন সার্বভৌম বললেন, মহারাজ! ঠিকই বলেছেন। এই সংকীর্তন শ্রীচৈতন্যের সৃষ্টি।এই কীর্তনে মহাপ্রভু তান্ডব নৃত্য করতেন।সে সময়ে তাঁর অষ্টসাত্ত্বিক ভাবের উদয় হত।শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী একেই চৈতন্যের কীর্তন-বিলাস বলেছেন।*
*🌷মহাপ্রেম মহানৃত্য মহাসংকীর্তন।*
*🌺এইরকম উক্তি হতেও বুঝা যায় যে চৈতন্যের এই কীর্তন এক পরম অদ্ভুত ব্যাপার ছিল। লোচনদাস এই সংকীর্তনকে সর্বধর্মসার বলেছেন।এই হরিসংকীর্তন "পঞ্চম বেদ" এবং ইহার প্রবর্তক গৌরচন্দ্র।*
*🙌জয় জয় সংকীর্তন দাতা গৌরহরি।*
*🌷অদ্বৈত আচার্য্য গোসাঞি আমারে আনিয়া।*
*🌷সংকীর্তন যজ্ঞ স্থাপে সুদৃষ্টি হইয়া।।*
*🌹অতএব দেখা যাচ্ছে যে সকলেই একবাক্যে মহাপ্রভুকে সংকীর্তনের জনক বলছেন।তাঁর অবতারের প্রয়োজনও বঙ্গীয় গোস্বামীদের মতে "সংকীর্তন-প্রকাশ"।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৩) বৈষ্ণব রস-সাহিত্য*
*শ্রীগৌরাঙ্গ ও লীলাকীর্তন*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌺শ্রীবাসাদির গৃহে দরজা বন্ধ করে রাত্রে বা দিনে কীর্তন হ'ত।অবশ্য এর উদ্দেশ্য এই যে অভক্ত কেউ এই নৃত্যবিলাসে উপস্থিত না থাকে। কিন্তু এমনও হতে পারে যে ভজনের এই নূতন পদ্ধতির হয়ত সমাদর হবে না, এই সন্দেহেও সম্ভবতঃ মনে ছিল বলে দরজা বন্ধ করা হ'ত। শ্রীবৃন্দাবন দাস একদিনকার এক ঘটনায় এটি বুঝাতে চেষ্টা করেছেন।নবদ্বীপের এক পরম সাধুপ্রকৃতি ব্রহ্মচারীর বড় সাধ হ'ল মহাপ্রভুর কীর্তন আস্বাদন করবার জন্য।তিনি শ্রীবাসকে বললেন, কিন্তু শ্রীবাস বললেন,মহাপ্রভুর আজ্ঞা না হ'লে তো তোমাকে প্রবেশ করতে দিতে পারি না,তুমি ভেতরে এলে, মহাপ্রভু যদি রাগ করেন!শেষে সেই বিপ্রের আগ্রহাতিশয্যে বাধ্য হয়ে তাঁকে সন্ধ্যার সময় নিজের বাড়ীতে লুকিয়ে রাখলেন।মহাপ্রভুর কীর্তন আরম্ভ হ'ল।তিনি মুকুন্দ মুরারি বনমালী প্রভৃতি ভক্তের সঙ্গে নৃত্য করতে আরম্ভ করলেন, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় সেইদিন আর সেই আনন্দ হল না।তখন মহাপ্রভু শ্রীবাসকে কারণ জিজ্ঞাসা করে জানলেন যে,একজন ঘরের কোণে লুকিয়ে রয়েছে।তৎক্ষণাৎ সে ব্রহ্মচারীকে বাহির করে দেওয়া হল।সে ব্রাহ্মণ অতিশয় লজ্জিত হলেন বটে, কিন্তু মনে মনে ভাবলেন,যাইহোক, ভাগ্যে তো কিছু দর্শন হল,এটিই পরম লাভ।*
*🌷অদ্ভুত দেখিনু নৃত্য অদভূত ক্রন্দন।*
*🌷অপরাধ অনুরূপ পাইনু তর্জন।।*
*🌹তিরস্কৃত হয়েও যে ব্রহ্মচারী মনে মনে অভিমান করলেন না,এটি বুঝে প্রেমের ঠাকুর গৌরসুন্দর তাঁকে ডেকে এনে কৃপা করলেন।এই কীর্তনের বর্ণনায় চৈতন্যভাগবত বলছেন=*
*🌷হরিবোল হরিবোল হরি বল ভাই।*
*🌷ইহা বই আর কিছু শুনিতে না পাই।।*
*🌺সুতরাং দেখতে পাচ্ছি যে শ্রীবাসঅঙ্গনে নামকীর্তনই হ'ত।এই কীর্তন-মঙ্গলের কথা ক্রমেই সুপ্রচারিত হয়ে পড়ল।তখন নাগরিকগণ দধি ঘৃত কদলী মালা প্রভৃতি নিয়ে মহাপ্রভুকে দেখতে আসতে লাগলেন।মহাপ্রভু তাঁদেরকে আশীর্বাদ করলেন "কৃষ্ণভক্তি হোক সবার" এবং বলে দিলেন "হরেকৃষ্ণ" নাম জপ করলে সর্বসিদ্ধি হবে।এই শ্রীনাম করতে কোনও বিধির প্রয়োজন নাই।সর্বক্ষণ এই নাম নেওয়া যেতে পারে।*
*🌷দশ পাঁচ মিলি নিজ দ্বারেতে বসিয়া।*
*🌷কীর্তন করহ সবে হাতে তালি দিয়া।।*
*🌷হরি হরয়ে নমঃ কৃষ্ণ যাদবায় নমঃ।*
*🌷গোপাল গোবিন্দ রাম শ্রীমধুসূদন।।*
*🌻মহাপ্রভু সর্বক্ষণ নাম করতেন বলে সদানন্দ নামে একজন উড়িয়া কবি তাঁকে "হরিনাম-মূর্তি" আখ্যা দিয়েছিলেন।*
*🌹পদাবলী যে সে সময়ে সুপরিচিত ছিল,তার প্রমাণ আছে।শ্রীজয়দেব গোস্বামীর কোমল-কান্ত পদাবলীর তো কথায় নাই,বাংলা পদাবলীও আস্বাদ্য ছিল।মহাপ্রভুর সমসাময়িক মুরারি গুপ্ত বলেছেন=*
*🌷ভাবানুরূপ শ্লোকেন রাসসংকীর্তনাদিন।*
*🌷শ্রীরাধাকৃষ্ণয়ো র্লীলারসবিদ্যা-নিদর্শনম্।।*
*🌻এই ভাবানুরূপ শ্লোক ও রাসসংকীর্তন বাংলা পদাবলীও হতে পারে।সে সময়ে যে বাংলা পদাবলীর মাধুর্য্য বৈষ্ণবসমাজে স্বীকৃত হত তা নানা প্রমাণ হতেও বুঝা যায়।*
*🌹কাটোয়া হতে শ্রীগৌরহরি যখন সন্ন্যাস গ্রহণের পর নিত্যানন্দ "প্রেমপূর্ণ কৌশলে" শ্রীঅদ্বৈতভবনে উপনীত হলেন,তখন অদ্বৈতাচার্য্য বিদ্যাপতির একটি পদ পরিবেশন করে আনন্দে নৃত্য করেছিলেন।*
*🌷কি কহবরে সখি আজুক আনন্দ ওর।*
*🌷চিরদিনে মাধব মন্দিরে মোর*।।
*🌺অনেকদিন পরে মাধব গৃহে ফিরেছেন,সখি! আজ আমার আনন্দের সীমা নাই। অর্থ্যাৎ ইহা অপেক্ষা আনন্দ আর হতে পারে না।এই বলেই তিনি নৃত্য,গর্জন,হুঙ্কার করতে লাগলেন।সেই দৃশ্য দেখে ও পদটি শুনে শ্রীগৌরসুন্দর ব্যাকুল হয়ে পড়লেন।তাঁর অন্তরে কৃষ্ণপ্রেম-ব্যথা জেগে উঠিল।মহাপ্রভুর এই অবস্থা দেখে মুকুন্দ "ভাবের সদৃশ পদ লাগিল গাহিতে"।মুকুন্দ অতি সুমিষ্ট গান করতেন।পদাবলীও তাঁর কন্ঠস্থ ছিল।মুকুন্দের গীতে মহাপ্রভুর ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেল।মহাপ্রভু তিনদিন উপবাসী ছিলেন।তা হলেও অদ্দৈতাচার্য্য মহাপ্রভুকে ধরে তুললেন নৃত্য করবার জন্য।মুকুন্দ তখন গান ধরলেন=*
*🌷হা হা প্রাণ প্রিয়সখি কিনা হৈল মোরে।*
*🌷কানুপ্রেম বিষে মোর তনুমন জরে।।*
*🌷দিবানিশি পোড়ে মন সোয়াথ না পাঙ।*
*🌷যথা গেলে কানু পাঙ তথা উড়ি যাঙ।।*
*🌻এই পদটি সম্ভবত চন্ডীদাসের। কিন্তু এই পদের ভণিতা নাই।পদকল্পতরুতে পদটি উদ্ধৃত হয়নি। যাইহোক এই পদটি শুনে মহাপ্রভু প্রথমে জ্ঞান হারালেন।পরে বাহ্যদশা পেয়ে উদ্দন্ড নৃত্য করতে লাগলেন।সঙ্গে অদ্বৈতাচার্য্য ও নামাচার্য্য হরিদাস নাচতে লাগলেন*।
*☆ঁসতীশচন্দ্র রায় এই ঘটনাকে মধ্যলীলার শেষ সময়ে নিয়ে ফেলেছেন।এই মধ্যলীলার শেষ সময়ে শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীবৃন্দাবনের পথ ভুলে রাঢ়দেশে উপনীত হলে শ্রীনিতাইচাঁদ মহাপ্রভুর প্রেমপূর্ণ কৌশলে তিনি শান্তিপুরে শ্রীমৎ অদ্বৈতাচার্য্যের গৃহে সমানীত হয়েছিলেন।শ্রীপদকল্পতরু, ৫ম খন্ড ভূমিকা ৯৭।*
*🌹সন্ন্যাসের পূর্বে মহাপ্রভু কোনদিন শ্রীবাসের গৃহে, কোনদিন বিদ্যানিধির গৃহে, কোনদিন মুরারির গৃহে,কোনদিন বা আচার্য্যরত্নের গৃহে কীর্তন করতেন।(চৈঃ চন্দ্রোদয় নাটক)।এইভাবে নবদ্দীপে ক্রমে কীর্তনের প্রসার বাড়তে লাগল।খোল করতাল নিয়ে নাগরিকগণ কীর্তন করছেন,এমন সময়ে কাজী সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন।কাজীর হুকুমে সরকারি লোক তখনই খোল ভেঙ্গে দিল এবং লোকের ঘরে ঘরে অনাচার করল।*
*🌷ভাঙ্গিল মৃদঙ্গ অনাচার কৈল দ্বারে।*
*🌻এইরকম অত্যাচার যখন চলতে লাগল তখন মহাপ্রভু নগরকীর্তন বাহির করলেন। অনেকে মহাত্মা গান্ধীকে Civil Disobedience এর প্রবর্তক মনে করেন, কিন্তু এর প্রথম প্রবর্তন হয় নবদ্বীপে শ্রীচৈতন্যের দ্বারা।তিনি কাজীর হুকুম আমান্য করে কীর্তন বাহির করলেন।নবদ্বীপের প্রতি গৃহ পূর্ণকুম্ভ রম্ভা ও আমেরশাখায় শোভিত হ'ল, ঘরে ঘরে দীপমালা জ্বলিল, নগরের যত লোক সকলেই কীর্তনে যোগদান করলেন।প্রত্যেক লোকের হাতে প্রদীপ।খোল করতাল শঙ্খ নিয়ে কীর্তন বাহির হল।কাজী এই অবস্থা দেখে অন্দরমহলে লুকিয়ে গেলেন,শেষমেষ প্রতিরোধ করতে না পেরে রফা করলেন। এই নগরকীর্তনে একটি লক্ষ্য করবার বিষয় এ যে আপামর সাধারণ এতে যোগদান করেছিলেন।দ্বিতীয় লোকের মনে এটি অদ্ভুত সাহসের সঞ্চার করিল।এই সাহস গণতান্ত্রিকতার একটি ফল।অর্থ্যাৎ বহু লোকের সহযোগিতা এক অনাস্বাদিতপূর্ব শক্তির সন্ধান দিল।তৃতীয়ত আমরা দেখতে পাই যে এই কীর্তনে মহাপ্রভু একটি পদ গেয়ে নৃত্য করেছিলেন। সে গানটি এই=*
*🌷তুয়া চরণে মন লাগহুঁ রে।*
*🌷শার্ঙ্গধর তুয়া চরণে মন লাগহুঁ রে।।*
*🌺সম্ভবত এই কলিটি কোনও প্রচলিত গানের ধুয়া।এইরকম ভাবে পদাবলী গান করে সম্ভবত এর পূর্বে কীর্তন করা হত না।সেইজন্যই বলা হয়েছে =*
*🌷চৈতন্যচন্দ্রের এই আদি সংকীর্তন।*
*🌹এই কীর্তনের নাম "বেড়া-কীর্তন"। এক এক দল স্বতন্ত্র হয়ে কীর্তন করেন,এইরকম বহুদলে বিভক্ত হয়ে একসঙ্গে কীর্তনের নাম "বেড়া-বেড়া"।*
*ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৪) বৈষ্ণব রস-সাহিত্য*
*শ্রীগৌরাঙ্গ ও লীলাকীর্তন*
***************************
*☘প্রথম বারের এই বেড়া-কীর্তনে আর একটি পদ গান করা হয়েছিল।*
*🌷বিজয় হইলা হরি নন্দ ঘোষের বালা।*
*🌷হাতে মোহন বাঁশী গলে দোলে বনমালা।।*
*(শ্রীচৈঃভাঃ মধ্য)*
*এইরকম কীর্তন কেউ কখনও দেখে ও শুনে নাই।এতে শাস্ত্রের বচনের সহিতও অপূর্ব মিল হ'ল---*
*কৃষ্ণবর্ণং ত্বিষাকৃষ্ণং সাঙ্গোপাঙ্গাস্ত্রপার্ষদৈঃ।*
*সংকীর্তনপ্রায়ৈর্যজ্ঞৈ র্যজন্তি হি সুমেধসঃ।।*
*🌳শ্রীচৈতন্য অবতারের অস্ত্র সঙ্গোপাঙ্গ এবং যজ্ঞ সংকীর্তন।ভাগবতের দ্বিতীয় অধ্যায়ে কীর্তনের মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে।তারই অপূর্ব অভিব্যক্তি গৌরাঙ্গের লীলায় দেখতে পাই।*
*🍀নবদ্বীপ হতে যখন গৌরহরি নীলাচলে গেলেন,তখনও তিনি কীর্তন করতেন।গম্ভীরায় বসে রাত্রিদিন চন্ডীদাস,বিদ্যাপতি,রামানন্দরায়ের জগন্নাথবল্লভ নাটক,শ্রীজয়দেব গোস্বামীর গীতগোবিন্দ, বিল্বমঙ্গল ঠাকুরের শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত গান করতেন এবং শুনতেন।এগুলি কি ভাবে গীত হত তা আমরা জানতে পারি না,মহাপ্রভু এগুলির আস্বাদন করতেন এইমাত্র জানি।মহাপ্রভুর ভাবোল্লাসের গতি বুঝে এই সমস্ত গ্রন্থ হতে মুকুন্দ এবং স্বরূপদামোদর শ্লোক ও কবিতা আবৃত্তি করতেন বা গান করতেন এটিই বুঝা যায়।গম্ভীরার ছোট কক্ষে এইসব গ্রন্থ অবলম্বন করে যে রীতিমতো কীর্তন হ'ত,তা বলা যায় না। এই পাঁচটি গ্রন্থের মধ্যে তিনটি সংস্কৃত,একটি বাংলা, অন্যটি মৈথিল,ব্রজবুলি বা বাংলা তা স্থির করে বলা কঠিন।সেকালে শিক্ষিত সম্প্রদায়ের মধ্যে সংস্কৃতের চলনই বেশী ছিল।সেজন্য আমরা অনেক সময়ে দেখতে পাই যে,মহাপ্রভু সংস্কৃত শ্লোক পড়ে কীর্তন করছেন। কখনও কখনও উড়িয়া পদেও পরম আবেশে নৃত্য করছেন।*
*🌷জগমোহন পরিমুন্ডা যাঙ।*
*🌷মন মজিলারে চকা চন্দ্রকু চাউ।।*
*🌷উড়িয়া পদ মহাপ্রভুর মনে স্মৃতি হইল।*
*🌷স্বরূপেরে সেই পদ গাহিতে আজ্ঞা দিল।।*
*🙌হে জগন্নাথ!তোমার পদে মস্তক নত করি। আমার মন-চকোর তোমার মুখচন্দ্র দেখে উন্মত্ত হয়েছে।এই গীতে মহাপ্রভু তিন প্রহর নৃত্য করেছিলেন।*
*🌹পুরীতে জগন্নাথমন্দিরেও বেড়া-কীর্তন হয়েছিল।গৌড়ীয় ভক্তগণ সেখানে সম্মিলিত হয়েছেন।জগন্নাথ মন্দিরে সন্ধ্যাধূপ আরতি দেখে ভক্তগণ সংকীর্তন করতে রত হলেন।*
*🌷চারিদিকে চারি সম্প্রদায় করে সংকীর্তন।*
*🌷মধ্যে নৃত্য করে প্রভু শচীর নন্দন।।*
*🌷অষ্ট মৃদঙ্গ বাজে বত্রিশ করতাল।*
*🌷চারিদিকে চারি সম্প্রদায় উচ্চস্বরে গায়।*
*🌷মধ্যে তান্ডব নৃত্য করে গোরারায়।।*
*🌻যতদিন গৌড়ীয় ভক্তগণ পুরীতে ছিলেন ততদিন প্রত্যহ তিনি এইমত কীর্তন করতেন।স্বরূপদামোদরের উচ্চকন্ঠে গান করতে পারতেন।মহাপ্রভু তাতে নেচে আনন্দ পেতেন।এইরকম গুন্ডিচা মন্দিরে এবং রথযাত্রায় গৌড়ীয় ভক্তগণ নিয়ে মহাপ্রভু কীর্তন করতেন। রথযাত্রায় গৌড়ীয় কীর্তনীগণকে চার সম্প্রদায়ে বিভক্ত করা হয়েছিল।প্রত্যেক সম্প্রদায়ে দুইজন মৃদঙ্গ বাজাতেন।প্রত্যেক সম্প্রদায়ে এক একজন নৃত্য করবেন স্থির হল।*
*🌷নিত্যানন্দ অদ্বৈত হরিদাস বক্রেশ্বরে।*
*🌷চারিজনে আজ্ঞা দিল নৃত্য করিবারে।।*
*🍀ইহা ছাড়া কুলীন গ্রামের এক কীর্তনের দল,অদ্বৈত-আচার্য্যের এক কীর্তনের দল,শ্রীখন্ডের এক কীর্তনের দল নিয়ে সর্বসমেত সাত সম্প্রদায় হল এবং চৌদ্দ মাদল বাজতে লাগিল। জগন্নাথের রথের আগে চারদল দুই পার্শ্বে দুই দল এবং পেছনে একদল গান করতে করতে চললেন। পরে মহাপ্রভুর যখন নাচতে মন হ'ল, তখন সাত সম্প্রদায়কে মিলিত করলেন।স্বরূপদামোদরাদি দশজন মহাপ্রভুর সঙ্গে গাইতে লাগলেন।অন্য দল সব দূরে থেকে যোগ দিলেন।মহাপ্রভু এইবার উদ্দন্ড নৃত্য করতে লাগলেন এবং প্রথমে সংস্কৃত শ্লোক আবৃত্তি করে তার উদ্বোধন করলেন।কতক্ষণ এইভাবে নৃত্য করে গৌরহরি ভাববিশেষে অভিভূত হয়ে পড়লেন এবং তান্ডব নৃত্য পরিত্যাগ করলেন।স্বরূপ ভাবের গতি বুঝে=*
*🌷সেই ত পরাণ নাথে পাইলুঁ।*
*🌷যাহা লাগি মদন দহনে ঝুরি গেলুঁ।।*
*🌹গান ধরলেন।এ পদটি কার তা আমরা জানি না। হা হা প্রাণপ্রিয় সখি, পদটিরও কোনও সন্ধান পাওয়া যায় না। শেষোক্ত পদটির অবশিষ্ট কলি একজন বন্ধু পুরাতন কাগজের মধ্যে চন্ডীদাসের নামে পেয়েছিলেন। কিন্তু "সেই ত পরাণ নাথে পাইলুঁ" এ পর্যন্ত পাওয়া যায়। স্বরূপ গোস্বামী এই ধূয়ামাত্র গেয়েছিলেন।তাতেই আমাদের উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে দিয়েছেন। জানতে ইচ্ছে হয় পদটির শেষে কি ছিল। "সেই ত পরান নাথে পাইলুঁ" "ত" দেওয়াতে রহস্য আরও জটিল হয়েছে।একি "রেবা রোধসি বেতসীতলে চেতঃ সমুৎকন্ঠতে" এই শ্লোকের অনুবাদ? এই মধুর পদটি কাব্যপ্রকাশে উদ্ধৃত হয়েছে ; এই পদ্যের ভাব নিয়ে শ্রীপাদ রূপগোস্বামী লিখলেন= সেই আমার প্রাণ রমণকে কুরুক্ষেত্রে দেখলাম বটে, কিন্তু "মনো মে কালিন্দী-পুলিনায় স্পৃহয়তি"। আমার সাধ হচ্ছে সেই কালিন্দী পুলিনের নীপঘন ছায়ায় মিলনের জন্য,যেখানে শ্যামের মোহন বাঁশী বাজিয়ে যমুনাকে উজান বহাইত। আমার বোধ হয় স্বরূপ গোস্বামী নিজেই এই কবিতার ভাব নিয়ে ঐ বাংলা পদটি লিখেছেন।স্বরূপ দামোদর অসাধারণ পন্ডিত ছিলেন, সুকন্ঠ গায়ক ছিলেন এবং তৎকাল প্রচলিত বাংলা পদাবলীর সঙ্গেও সুপরিচিত ছিলেন।স্বরূপ গোস্বামীর ধুয়া শুনেই মহাপ্রভু আনন্দে মধুর কীর্তন করতে লাগলেন। তখন জগন্নাথের রথ চলতে লাগিল।আগে আগে শ্রীগৌরহরি কীর্তন করে চললেন।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧of
*(২৫) বৈষ্ণব রস-সাহিত্য*
*শ্রীগৌরাঙ্গ ও লীলাকীর্তন*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*☘অতএব আমরা দেখছি যে মহাপ্রভুর সময়ে পদাবলীর প্রচার থাকলেও কীর্তন বলতে ইঁনাদের নৃত্য ও ভাবাবেশ বুঝাত।কবিকর্ণপুর বলেছেন=*
*🌷সান্দ্রানন্দময়ী ভবন্ননুদিনঃ দেবো নরীনৃত্যতে।*
*(চৈতন্যচন্দ্রোদয়=২য় অঙ্ক)*
*🌹আমরা কীর্তন বলতে যা বুঝি "গরাণহাটী" "মনোহরসাহী প্রভৃতির সুর, এটি অবশ্য পরবর্তীকালের সৃষ্টি।মহাপ্রভুর সময়ে কীর্তনে কিরকম সুর ছিল তা আমরা জানি না।তবে আমি দেখাতে চেষ্টা করেছি যে, এখনকার মত পালাবদ্ধ ভাবে সাজিয়ে কীর্তন করবার প্রণালীর দৃষ্টান্ত আমরা কোথাও দেখতে পাই না। প্রধানতঃ নামকীর্তনই কীর্তন নামে অভিহিত হত। লীলাকীর্তন যা ছিল,তা ভক্তগণকে নিয়ে মহাপ্রভু নবদ্বীপে ও নীলাচলে আস্বাদন করতেন। গৌর-নিত্যানন্দকে সংকীর্তনের প্রবর্তক বলা হয় তার কারণ এই, মহাপ্রভু যে প্রেমধর্ম প্রচার করলেন কীর্তনকে তার বাহন করলেন।ধর্মের সাধক (এবং প্রধান সাধক) যে কীর্তন এটি মহাপ্রভুর আগে স্বীকৃত হয়নি। তিনি এবং নিতাইচাঁদ নিজের দ্বারা দেখালেন যে সংকীর্তনের দ্বারা নরনারীর মন যত সহজে আকর্ষণ করা যায় এমন আর কিছুতেই না।ধর্ম জন-কতক ভক্তের মধ্যে,ঋষিযোগ বা সাধুসন্ন্যাসীর মধ্যে নিবদ্ধ থাকলেই হল না।সকলকে পারের খেয়ায় তুলতে না পারলে শুধু দুই একজন পার হলেই কি,আর না হলেই কি? আয়াসসাধ্য ভজন-সাধন-আরাধনার পরিবর্তে এই কীর্তনযজ্ঞ বা নামযজ্ঞ মহাপ্রভু সকলের চোখের সামনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্তসহ ধারণ করলেন।এটিই চৈতন্যচন্দ্রের অবদান কীর্তনের ইতিহাসে।*
*🙌দক্ষিণাপথে আর একজন ভাবুক এইরকমভাবে কীর্তন-মহিমা প্রচার করে গিয়েছেন, তাঁর নাম "তুকারাম"। তুকারামের অভঙ্গ বৈষ্ণবপদাবলীর মত প্রসিদ্ধ।তুকারাম একজন মারাঠী বৈষ্ণব সাধু ছিলেন।তাঁর ইষ্টমন্ত্র ছিল "রাম কৃষ্ণ হরি"।এই মন্ত্র তিনি স্বপ্নে পেয়েছিলেন। মহাপ্রভুর সঙ্গে তুকারামের অনেক বিষয়ে আশ্চর্য্য সাদৃশ্য লক্ষিত হয়।তুকারাম নামের প্রভাবে মাতোয়ারা ছিলেন।"নাম অতি মধুর"।নাম যে কত মধুর তা বর্ণনা করা যায় না।নামের মাধুর্য্য ক্রমেই বাড়ে।একবার এই নামের মাধুর্য্য যে আস্বাদন করেছেন,তার আর অন্য কিছুই ভাল লাগে না। ভগবান নিজে তাঁর নাম যে কত মধুর তা জানেন না।পদ্মফুল কি জানে যে তার সৌরভ কত মিষ্ট?শুক্তি কি তার মুক্তার মূল্য জানে?নাম করার যে মহিমা, সেই মহিমা কীর্তনের।যেখানে কীর্তন হয়,সেখানে ভগবান নিজেই সমাগত হন।কীর্তন শুনে যার কান পরিতৃপ্ত হয় না, তার কান বুঝি মুষিকের গর্তের মত।তুলনা করুন, মহাপ্রভুর উক্তি=*
*কৃষ্ণের মধুর বাণী, অমৃতের তরঙ্গিণী,*
*তার প্রবেশ নাহি যে শ্রবণে।*
*কাণাকড়ি ছিদ্র সম,জানিহ সেই শ্রবণ,*
*জন্ম তার হৈল অকারণে।।*
*🙌কীর্তন করতে হলে শরীরের সামর্থ্য থাকা চাই। সেইজন্য তুকারাম প্রার্থনা করেন, "হে ভগবান আমার শরীর যেন কখনও অসমর্থ না হয় "। জীবন একদিন পঞ্চভূতে মিশে যাবেই, তাতে ক্ষতি নাই। কিন্তু যতদিন বেঁচে থাকি,ততদিন যেন কীর্তন প্রাণভরে গাইতে পারি। কীর্তনকে তুকারাম নদীর সঙ্গে তুলনা করেছেন, এই নদী ভগবানের দিকে উর্ধ্বমুখে প্রবাহিত হয়। কখনও তিনি কীর্তনকে বলেছেন ভজনের ত্রিবেণী--ভক্ত, ভগবান ও নাম এই ত্রিধারা সম্মিলিত হয়ে কীর্তন হয়েছে।কীর্তনে যে অমৃতের ধারা বহে,তাতে জগৎ সংসার পবিত্র হয়ে যায়।🌹যিনি কীর্তন করবেন, তিনি অর্থ বা টাকা পয়সা নিবেন না, অনাহারে থাকবেন,গন্ধ-মাল্যাদি ধারণ করবেন না। এইরকমভাবে কীর্তনের মাহাত্ম্য প্রচার করে দক্ষিণাপথে তুকারাম এক অত্যুজ্জ্বল আদর্শ রেখে গিয়েছেন।প্রবাদ এই যে, ভগবান নিজে এসে তাঁকে নিজের রথে তুলে নিয়ে যান। সে যাই হোক, শ্রীচৈতন্য কীর্তনকে যে ভাবে প্রভাবিত করে গিয়েছেন, অবশ্যই তুকারাম তা পারেননি।চৈতন্যের প্রভাব এরকম যে,এক্ষণে কোনও বৈষ্ণব মহাপ্রভুর নাম আগে না করে কীর্তন করতে সম্মত হবেন না। এই যে কীর্তনের পূর্বে মহাপ্রভুর নাম করা হয়,তাকে "গৌরচন্দ্রিকা" বা সংক্ষেপে গৌরচন্দ্র বলে।কীর্তনের আসরে তাঁকে আবাহন করাই মহাপ্রভুর তদ্ ভাবোচিত পদ গান করবার রীতি আছে। যথা,শ্রীকৃষ্ণের রূপগান করবার আগে গৌরাঙ্গের রূপ, বিরহ গাইবার পূর্বে গোরাচাঁদের সংসারত্যাগ,হোলি গানের পূর্বে মহাপ্রভু কর্তৃক রাধাকৃষ্ণের হোলিলীলা স্মরণ ইত্যাদি। এ যে গৌরচন্দ্রিকা গান করবার প্রথা, এটি কত দিনের?অবশ্য মহাপ্রভুর প্রকট সময়ে নিশ্চয়ই এইরকম হত না।এমনকি শ্রীবাস প্রভৃতি পারিষদগণ যখন শ্রীচৈতন্যকে ঈশ্বর বলে আখ্যাত করে তাঁর জয়গান করতে লাগলেন, তখন গৌরহরি অত্যন্ত লজ্জিত ও ক্রদ্ধ হলেন।*
*🌷অহে অহে শ্রীনিবাস পন্ডিত উদার।*
*🌷আজ তুমি সব কি করিলা অবতার।।*
*🌷ছাড়িয়া কৃষ্ণের নাম কৃষ্ণের কীর্তন।*
*🌷কি গাইলে আমারে তা বুঝাও এখন।।*
*🌻কিন্তু কে শুনে কার কথা?লক্ষ লক্ষ লোক মহাপ্রভুর জয়গান করতে লাগলেন।শ্রীবাস বললেন, আমাদের না হয় দন্ড দিতে পার, কিন্তু =*
*🌷আব্রহ্মান্ড পূর্ণ হইল তোমার কীর্তনে।*
*🌷কত জনে দন্ড তুমি করিবা কেমনে।।*
*🌹এই হতে গৌরাঙ্গ-গীতি বিশেষভাবে প্রচারিত হতে লাগিল। কিন্তু তা হলেও ঐ সময়ে গৌরচন্দ্রিকার উল্লেখ আমরা কোথাও পাইনা। আমার বোধহয় গৌরচন্দ্রিকার সূত্রপাত শ্রীনরোত্তম দাস ঠাকুর হতে।নরোত্তম শ্রীগৌরাঙ্গের তিরোভাবের অব্যবহিত পরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি রাজপুত্র হয়েও অল্পবয়সে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। শ্রীবৃন্দাবনধামে লোকনাথ গোস্বামীর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করে তিনি নিজ জন্মভূমিতে ফিরে আসেন এবং গ্রামের প্রান্তে ভজনকুটীর নির্মাণ করে সাধন ভজন করতে থাকেন।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪔🪷🪷🪷🪷🪷🪷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৬) বৈষ্ণব রস-সাহিত্য*
*শ্রীগৌরাঙ্গ ও লীলাকীর্তন*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
*☘শ্রীনরোত্তম দাসের উদ্দেশ্যে খেতুরীতে যে মহোৎসব হয়েছিল,সে অতি অদ্ভুত ব্যাপার।খেতুরীর বর্ণনা পড়ে মনে হয়,সেখানে এইরকম বিচিত্র উৎসব এর পূর্বে বা পরে অনুষ্ঠিত হয়নি।আর হবে কি-না সন্দেহ আছে।গৌর-নিতাই,অদ্বৈত এবং তাঁদের পার্ষদগণ অনেকেই তখন নিত্যলীলায় প্রবেশ করেছিলেন।নিত্যানন্দ-পত্নী জাহ্নবীদেবী এই মহোৎষবে উপস্থিত ছিলেন এই উৎসবের হোত্রী,শ্রীনিবাস প্রধান পুরোহিত, নরোত্তম উদগাতা এবং রাজা সন্তোষ দত্তযজমান।খেতুরীতে ছয় বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা উপলক্ষ্যে এই মহোৎসব হয়।*
*🌷শ্রীগৌরাঙ্গ বল্লবীকান্ত শ্রীকৃষ্ণ ব্রজমোহন।*
*🌷শ্রীরাধারমণ রাধে রাধাকান্ত নমোহস্তুতে।।*
*🌻এই ছয় বিগ্রহের প্রথমেই আমরা শ্রীগৌরাঙ্গকে স্থাপিত দেখতে পাই।শ্রীনরোত্তম শ্রীখন্ডে গিয়ে প্রথম শ্রীগৌরাঙ্গের যুগলমূরতি দর্শন করে আসেন।শ্রীখন্ডের ঋষিকল্প শ্রীনরহরি সরকার ঠাকুর এই বিগ্রহ স্থাপন করে দিবানিশি তাঁর সামনে ভজনসাধন করতেন।খেতুরীতে যেসব বিগ্রহের প্রতিষ্ঠা হ'ল তার মধ্যে শ্রীগৌরাঙ্গ-বিগ্রহই সর্বাগ্রবর্তী।এই হতেই তখনকার মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়।এই উৎসবে অপূর্ব সংকীর্তন স্থল তৈরী হয়েছিল।সেই সংকীর্তনস্থলে শ্রীনিবাসাদি আর্য্যগণ এবং প্রসিদ্ধ গায়ক ও বাদক সমবেত হয়েছিলেন।বঙ্গের এমন কোনও বিখ্যাত গায়ক,বাদক,ভক্ত মহাজন ছিলেন না যে যিনি খেতুরীর মহোৎসবে যোগদান করেননি।শ্রীজাহ্নবাদেবী সকলের অলক্ষ্যে বসিলেন।শ্রীঅদ্বৈর্তচার্য্যের পুত্র অচ্যুতানন্দ নরোত্তমকে গান করবার জন্য ইঙ্গিত করলেন।শ্রীখন্ডের শ্রীরঘুনন্দন ঠাকুর নরোত্তমকে মালা চন্দন দিলেন।নরোত্তম সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করলেন এবং দেবীদাস অমৃতের মত ধ্বনি করে মর্দ্দলে শব্দ করলেন।গৌরাঙ্গদাস প্রভৃতি সেই সঙ্গে মৃদঙ্গ করতাল প্রভৃতি বাজাতে লাগলেন। ভক্তিরত্নাকরে এই কীর্তনের বিশদ বর্ণনা আছে।গ্রন্থকার খেতুরীর উৎসবের অনেক পরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তাহলেও প্রাচীনদের মুখে শুনে তিনি এই উৎসবের বিবরণ সংগ্রহ করে থাকবেন।নরহরি বা ঘনশ্যাম অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম দিকেই সম্ভবত জন্মগ্রহণ করেন।ইঁনার পিতা শ্রীপাদ বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর শিষ্য ছিলেন।বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ১৭০৪ খৃষ্টাব্দে বর্তমান ছিলেন এটি জানা যায়।খেতুরীর মহামহোৎসবের একশ বছর পরেও যে এর স্মৃতি উজ্জ্বলভাবেই বৈষ্ণবসমাজে ছিল সে বিষয়ে সন্দেহ করবার কারণ নাই।নরোত্তমদাস ঠাকুরের পরিবারভুক্ত নরহরি চক্রবর্তী যে নরোত্তমের লীলা সম্বন্ধে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করতে চেষ্টা করেছিলেন,তা বিশ্বাস করা যায়।ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থেও এবং নরোত্তমবিলাসে তিনি এই কীর্তনানন্দের যেরকম বর্ণনা দিয়েছেন,তাতে মনে হয় না যে তিনি শুধু কল্পনার মালা গেঁথে এটি রচনা করেছেন।তাঁর গ্রন্থ হতে আমরা জানতে পারি যে,🌹কীর্তন দুই প্রকার= নিবদ্ধ ও অনিবদ্ধ। অনিবদ্ধ কীর্তন শ্রীগোকুলদাস গান করলেন।সুর,তান,রাগিনী, মূর্চ্ছনা প্রভৃতি বিস্তার করে তিনি এই গান করেছিলেন। 🌻আর শ্রীনরোত্তম নিজে গেয়েছিলেন নিবদ্ধ কীর্তন।নরোত্তম নিজে গরাণহাটী সুরের স্রষ্টা, তিনি অসামান্য পদকর্তা।শ্রীনরোত্তম দাস ঠাকুর পালা সাজিয়ে গান করেছিলেন এবং তারপূর্বে "গৌরচন্দ্রিকা" গান করেছিলেন।*
*🌷শ্রীরাধিকাভাবে মগ্ন নদীয়ার চান্দ।*
*🌷সেই ভাবময় গীত রচনা সুছান্দ।।*
*🌷আকর্ষণ মন্ত্র কি উপমা তায় দিতে।*
*🌷হইল বিহ্বল তাহা প্রথমে গাইতে।।*
*🌷তদুপরি শ্রীরাধিকা কৃষ্ণের বিলাস।*
*🌷গাইবেন মনে এই কৈল অভিলাষ।।*
*(ভক্তিরত্নাকর ১০ম)*
*🙏এটিই গৌরচন্দ্রিকা আরম্ভ। ঠাকুর মহাশয় যে দৃষ্টান্ত দিলেন,তাইই পরবর্তী গায়ক ও পদকর্তাগণ অনুসরণ করেছেন। চৈতন্যভাগবত,চৈতন্যচরিতামৃত প্রভৃতি গ্রন্থে প্রতি অধ্যায়ের সূচনায় গৌরচন্দ্রের নাম করবার রীতি দেখা যায়। সে সময়ে বৈষ্ণবদের মধ্যে গৌরচন্দ্রকে প্রণাম না করে কোন গ্রন্থ বা নূতন কোন অধ্যায় আরম্ভ করবার প্রথা ছিল না। কিন্তু কীর্তনের গৌরচন্দ্রিকা শুধু গৌরচন্দ্রকে প্রণাম মাত্র নহে। এক্ষণে গৌরচন্দ্র বলতে আমরা যা বুঝি তা এই যে, শ্রীরাধাকৃষ্ণের কোন লীলা গান করতে হলে সেই লীলার ভাবোচিত গৌরাঙ্গবিষয়ক গান করতে হয়।এই প্রণালীর সর্বপ্রথম উল্লেখ দেখতে পাই, খেতুরীর উৎসবের বর্ণনায়।তখনও পালাক্রমে গান করবার পদ্ধতি সুপ্রচলিত হয়নি বলে বোধ হয়।কারণ ঐ খেতুরীর মহোৎসবে দেখতে পাই=*
*🌷কেহ হোলিযাত্রা পদ্য পঢ়য়ে উচ্ছায়।*
*🌷কেহ নবদ্বীপ বৃন্দাবন লীলা কেহ গায়।।*
*(নরোত্তম বিলাস)*
*🌹এটি হতে বুঝা যায় যে গান করবার প্রণালী তখনও সুনিয়মিত হয়নি।সে দিন ফাল্গুনী পূর্ণিমা।খেতুরীতে মহাপ্রভুর জন্মোৎসব গান করা হয়েছিল।আর হোলির দিন বলে কেউ কেউ উৎসাহ সহকারে (উচ্ছায়) হোলি সম্বন্ধে পদ আবৃত্তি করেছিলেন। সে যাইহোক, খেতুরীর উৎসবে শ্রীঠাকুর মহাশয় কর্তৃক যে প্রথার উদ্ভব হ'ল, তাইই পরবর্তীকালে নানা গায়ক মহাজন কর্তৃক অনুসৃত হয়ে, বতর্মান আকারে এসে পৌঁছেছে।পূর্বে অনেক মহাজন গৌরলীলা সম্বন্ধে পদ লিখেছেন।সেগুলি যথানিয়মে সন্নিবেশিত করে পালা সাজানো হতে লাগিল। খেতুরীতেই নরোত্তমদাস আরতির পরে বাসুদেব ঘোষের পদ গেয়ে গৌরচন্দ্রিকা করেছিলেন,এটি নরোত্তমবিলাসে জানা যায়।*
*🌷সখি হে,ওই দেখ গোরা কলেবরে।*
*🌹এই অনুরাগের পদটি ঠাকুর মহাশয় গান করেছিলেন। খেতুরীতে যা হল, সমস্ত বৈষ্ণব জগৎতা আনন্দের সহিত গ্রহণ করিলেন।প্রচারের দিক দিয়ে খেতুরীর মহোৎসব এক অতি প্রয়োজনীয় ঘটনা।মহাপ্রভুর প্রেমধর্ম, মহাপ্রভুর সংকীর্তন, খেতুরীর উৎসব হতেই দেশময় ছড়িয়ে পড়ল।নবদ্বীপে যে ধর্মের বীজ উপ্ত বা বপন হয়েছিল, বৃন্দাবনের গোস্বামীপাদগণ যে ধর্মের ভিত্তি সুদৃঢ়রূপে প্রতিষ্ঠিত করলেন,খেতুরীর মহোৎসবে তা আপামর সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়িল।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৭) বৈষ্ণব রস-সাহিত্য*
*কীর্তনে গৌরচন্দ্রিকা*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
*🌷রাই রূপে তার অঙ্গ ঢাকা।*
*🌷হেরিলাম গৌর বাঁকা।।*
*🍀শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর সেই "নাগর বনমালী" গোপীজনবল্লভ মদনমোহন। কিন্তু রাইরূপে তাঁর নীলকান্তমণি সদৃশ অঙ্গকান্তি ঢাকা পড়েছে।শুধু তিনি যে শ্রীরাধিকার স্বর্ণকান্তি চুরি করেছেন, তা নয়। সেই মহাভাবস্বরূপিনীর ভাবরাশিও তিনি অঙ্গীকার করে এসেছেন। কখনও তিনি প্রেমের কাঙ্গাল,আবার কখনও প্রেমের ঠাকুর,প্রেমিক শিরোমণি, কখনও শ্রীরাধা ভাবে বিভাবিত হয়ে হা-কৃষ্ণ, হা-কৃষ্ণ বলে কেঁদে আকুল, আবার কখনও "জয়রাধে শ্রীরাধে" বলে গড়াগড়ি দিচ্ছেন ; তিনি কখনও ভক্ত, কখনও ভগবান।তাই একজন আধুনিক কবি বলছেন=*
*দেবতা ভিখারী, মানব দুয়ারে,*
*দেখে যারে তোরা দেখে যা।*
*🌹বাংলার কবিতা, গানে শ্রীগৌরচন্দ্র চির মধুধারা ঢেলে দিয়েছেন।কেউ তাঁর তত্ত্ব বুঝে,কেউ তাঁর তত্ত্ব বুঝে না।কেউ তাঁকে ভগবান জ্ঞানে আরাধনা করেন,কেউ তাঁকে ভক্তশ্রেষ্ঠ বলে গণনা করেন। যিনি যেভাবে তাঁকে ভাবুন না কেন, বাংলার সাহিত্যে, বাংলার সঙ্গীতে, বাংলার ভাবধারায় মহাপ্রভু অদ্ভুত প্রভাব বিস্তার করেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন আর একটি দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যায় না =*
*যে বা নাহি বুঝে কেহ,শুনিতে শুনিতে কেহ,*
*কি অদভূত গৌরাঙ্গ-চরিত।*
*কৃষ্ণে উপজীবে প্রীতি,জানিবে রসের রীতি,*
*শুনিলে হইবে বড় হিত।।*
*🌹মহাপ্রভু সন্ন্যাসী,ত্যাগী,বিরক্ত,বৈরাগী।অথচ তিনি শুষ্ক,নীরস ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করে ব্রহ্মানন্দে নিমগ্ন রহেন নাই।যোগীর মত তিনি সর্বেন্দ্রিয় বৃত্তি রোধ করে নিবাত নিষ্কম্প প্রদীপের মত ধীর স্থির অচঞ্চল ভাবে শ্বাসরোধ করে জীবন অতিবাহিত করেননি।তিনি শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রণয়মহিমায় বিভোর হয়ে থাকতেন,নিভৃতে স্বরূপ দামোদর, রায় রামানন্দর মত ভক্তের সঙ্গে চন্ডীদাস,বিদ্যাপতি প্রভৃতির পদাবলী আস্বাদন করতেন, আর কেঁদে কেঁদে আকুল হতেন।তাঁর চোখের জলে পাষাণ গলে যেত।তাঁর এই দিব্যোন্মাদনা পূর্ণ গানে এদেশে ভাবের যমুনা একদিন উজান বহিতে আরম্ভ করেছিল।কখনও কখনও ভাবের আতিশয্যে অজ্ঞান হয়ে যেতেন। পুরুষোত্তমে জগন্নাথ-দেবের মন্দির মধ্যে গরুড়-স্তম্ভের পার্শ্বে দাঁড়িয়ে যখন তিনি শ্রীমূর্তি দেখতেন, তখন তাঁর নয়নজলে সেখানকার খাল ভরে যেত।এমন দৃশ্য এদেশের ইতিহাসে আগে বা পরে কেউ কখনও দেখেনি।*
*গরুড়ের সন্নিধানে, রহি করে দরশনে,*
*সে আনন্দের কি কহিব বলে।*
*গরুড় স্তম্ভের তলে,আছে এক নিম্নখালে,*
*সেই খাল ভরে অশ্রুজলে।।*
*🍀এটিই কীর্তনের আদর্শ।এই অনুরাগ,এই ব্যাকুলতা, এই আকুতি কীর্তনগানের,তথা বৈষ্ণবধর্মের মূল সূত্র।এইটুকু বাদ দিলে গান শুধুই অনুষ্ঠান। সফলতাহীন।প্রতিমাতে যেমন প্রাণ-প্রতিষ্ঠা করবার রীতি আছে,গানেও সেইরকম প্রাণ-প্রতিষ্ঠা হতে পারে।প্রাণহীন গানের কসরতে নিপুণতা প্রমাণিত হতে পারে, কিন্তু তাতে প্রাণের প্রেরণা পাওয়া যায় না। দেবতার পূজার আগে অধিবাসের নিয়ম আছে,সেই অধিবাসে প্রতিমার প্রাণ-প্রতিষ্ঠা কল্পে মন্ত্র পাঠ করতে হয়।এই জন্যই হিন্দুরা পুতুল পূজা করবার অপবাদ হতে আত্মরক্ষা করতে সমর্থ হন।অধিবাসে যে প্রতিমার প্রাণ-প্রতিষ্ঠা হয় নাই, ঋত্বিক এমন প্রতিমার পূজা করেন না।সেইরকম যে কীর্তনে গৌরচন্দ্রিকা গীত হয় না,এমন কীর্তন প্রকৃত ভক্তেরা শুনেন না।পূজার যেমন অধিবাস, কীর্তনের সেইরকম গৌরচন্দ্রিকা।গৌরচন্দ্রিকা অর্থে শ্রীগৌরচন্দ্র সম্বন্ধীয়।কীর্তনে যে রসের গান হবে,গৌরচন্দ্রিকায় সেই রসাশ্রিত পদ গান করতে হয়। সুতরাং গৌরচন্দ্রিকা হতেই বুঝতে পারা যায় যে গায়ক অভিসার,মান,বিরহ বা রাসলীলা গান করবেন।এইরকম পূর্বাভাস থাকে বলে গৌরচন্দ্রিকার গৌণ অর্থ হয়েছে সূচনা বা পূর্বাভাস।*
*☘গৌরচন্দ্রিকার উদ্দেশ্য সকলে বুঝতে পারেন বলে মনে হয় না।সেইজন্যই এ সম্বন্ধে বিশেষ আলোচনা হওয়া উচিত।কীর্তন-গান মহাপ্রভুর সম্পত্তি।শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দকে সংকীর্তনের একমাত্র জনক বলে উল্লেখ করা হয়।অন্য সমস্ত কারণ ছেড়ে দিলেও শুধু কৃতজ্ঞতার দিক দিয়ে গৌরচন্দ্রিকার আদর হওয়া উচিত।বাঙ্গালী অকৃতজ্ঞ নহে ; তারা অন্যের সম্পত্তি ব্যবহার করতে হলে তার নাম করতে ভুলে না।সেইজন্য কোনও পুরাণ পাঠ করতে হলে নরনারায়ণকে নমস্কার করবার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাসদেবকে নমস্কার করতে হয়। সুতরাং যে করুণাবতার কীর্তনের ভাগীরথী ধারা বঙ্গে আনয়ন করে এদেশ ধন্য করেছেন, কীর্তনের প্রারম্ভে তাঁর নাম স্মরণ করে বাঙ্গালী দু'ফোটা নয়নেরজল কেন ফেলবে না? মহাপুরুষদের কীর্তিকাহিনী স্মরণ করে তাঁদের স্মৃতির অর্চনা করবার প্রথা সমস্ত সভ্য ও উন্নত জাতির মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। সুতরাং সেদিক দিয়েও গৌরচন্দ্রিকা আমাদের পরম আদরের বস্তু হওয়া উচিত।*
*🌹কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমরা গৌরচন্দ্যিকার মূল উদ্দেশ্য ভুলে যেতে বসেছি।শ্রোতাদের কথা দূরে থাকুক, একজন সুকন্ঠ কীর্তন গায়ক আমার কাছে গৌরচন্দ্রিকার আবশ্যকতা জিজ্ঞাসা করতে এসেছিলেন।শুনেছি এখন তিনি গৌরচন্দ্রিকা গান করে থাকেন।অনেক কীর্তন গায়িকার গানে গৌরচন্দ্রিকা কোনও রকমে নমঃ নমঃ করে সেরে দেওয়া হয়।দোহারগণ মহাকলরবে গৌরচন্দ্রিকার এককলি বা দুইকলি গান করে ক্ষান্ত হয়, তখন গায়িকা ধীরে ধীরে বৃন্দাবন লীলা গাইতে আরম্ভ করেন।ঢপ কীর্তনে অনেক বিষয়েই কীর্তনের নিয়ম রক্ষিত হয় না। সুতরাং এক গৌরচন্দ্রিকা সম্বন্ধে অনুযোগ করলে কি হবে? সাধারণ শ্রোতাদেরও যে এদিকে মনোযোগ আছে,তা মনে হয় না।বর্তমান ভক্ত বলব না, শ্রোতারা একশ জনের মধ্যে কেবল পাঁচজন হয়ত কীর্তন বুঝেন, বাকী সব শুনেন, কীর্তন শুনলে পাপ দূরে যায় ইত্যাদি। যাইহোক, অনেকে গৌরচন্দ্রিকার পরে আসরে আসতে পারলেই যেন সুখী হন।একজায়গায় আমি গান করবার জন্য অনুরুদ্ধ হয়েছিলাম, কিন্তু আমার সময় কম দেখে উদ্যোক্তা বললেন আপনি একটু পরেই না হয় যাবেন, ততক্ষণ আমরা গৌরচন্দ্রিকা সম্পূর্ণ করি।আমি মনে মনে হাসলাম কিছু বললাম না, কিন্তু প্রাণপণ চেষ্টা করে ঠিক সময়ে উপস্থিত হলাম। তাতেও নিস্তার পেলাম না। বন্ধুবর নিয়মিত সময়ের আগেই ঐ অনাবশ্যক বস্তুটি আরম্ভ করে দিয়েছেন এবং প্রায় তা সাঙ্গ করে ফেলেছেন! গৌরচন্দ্রিকার সম্বন্ধে এইরকম অনাদর হওয়ার অন্যতম কারণ গায়কদের অত্যাচার।অনেক জায়গায় দেখা যায়, কীর্তনকারীরা গৌরচন্দ্রিকার নামে এমন অযথা চেঁচামেচি জুড়ে দিয়েছেন যে,শ্রোতাদের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটবার উপক্রম হয়।নিরঙ্কুশ গলাবাজি ও বিকৃত অঙ্গভঙ্গী বাদ দিলে গৌরচন্দ্রিকার কোন ক্ষতি হয় না, শ্রোতাদেরও রুচি অক্ষুন্ন থাকে।এখানে একটি কথা মনে রাখতে হবে যে,গৌরচন্দ্রিকার আগে যে "মেল" হয়, অর্থ্যাৎ গায়কদের পক্ষে সুর ভাঁজিয়া যে কন্ঠ মিলাবার ব্যবস্থা আছে,তাতে চেঁচামেচি সেরে নিলে স্বচ্ছন্দে চলতে পারে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৮)🙌বৈষ্ণব রস-সাহিত্য🙌*
*কীর্তনে গৌরচন্দ্রিকা*
••••••••••••••••••••••••••••••••
*🌹আর একটি কারণ আমার মনে হয় এই যে,বৈষ্ণব পদাবলীতে মহাপ্রভুকে যে স্থান দেওয়া হয়েছে, অনেকে হয়ত তা মন থেকে মেনে নিতে পারছে না।মহাপ্রভু স্বয়ং ভগবান,ব্রজেন্দ্রনন্দন শ্রীকৃষ্ণ, অথবা তাঁর কোনৎ অবতার, বা একজন ভক্তশ্রেষ্ঠ, এটি নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে।ব্রহ্মণ্য প্রভাবান্বিত হিন্দুসমাজ মহাপ্রভুকে ভগবান বলে স্বীকার করতে চিরদিনই কুন্ঠিত। এইখানেই বৈষ্ণব ও ব্রাহ্মণ সমাজের মধ্যে পার্থক্য।এ পার্থক্য নিয়ে আমাদের মাথা ঘামাবার দরকার নেই। কিন্তু শ্রীচৈতন্যের বৈশিষ্ট্য কারও অস্বীকার করবার উপায় নাই।এমন সন্ন্যাসী অথচ প্রেমিক জগতে আর হয় নাই, পতিত জীবের জন্য এমন করে অজস্র অশ্রু কেউ বিসর্জন করেননি।এমন সব ভুলে ভগবানকে ভালোবাসা আর কেউ শিখায় নাই, জগতের মঙ্গলের জন্য নামপ্রেম এমন করে আর যেচে যেচে বিতরণ করেন নাই।এই মহামহিমময় বৈশিষ্ট্য শ্রীগৌরাঙ্গকে জগতের মহাপুরুষগণের মধ্যে যে এক অতি উচ্চ স্থান দিয়েছে, অবতারগণের মধ্যেও যে শ্রেষ্ঠ আসনে বসিয়েছে, এটি অস্বীকার করবার উপায় নাই।তার পরে আমাদের শাস্ত্রে ভক্ত ও ভগবানে বিশেষ প্রভেদ করে নাই। শাস্ত্র বলেন=*
*🌷সাধবো হৃদয়ং মহ্যং সাধূনাং হৃদয়ত্ত্বহম্।*
*🌷মদন্যৎ তে ন জানন্তি নাহং তেভ্যো মনাগপি।।*
*🌹ভগবান বলছেন,সাধুদের হৃদয় আমাতে অর্পিত ; আমি সাধুদের হৃদয় -স্বরূপ।তাঁরা আমাকে ছাড়া অন্য জানেন না ; আমিও মুহূর্তের জন্য তাঁদেরকে ছাড়া অন্য জানি না।*
*🌻গৌরচন্দ্রিকার যে সম্যক্ আদর হয় না,তার আরও একটি কারণ এই যে,গৌরচন্দ্রিকা সাধারণের পক্ষে কিছু দুর্বোধ্য।যেহেতু কীর্তনের প্রথম গীত গৌরচন্দ্রিকা বলে সব গায়কই গৌরচন্দ্রিকায় আপন আপন কৃতিত্বের পরিচয় দিবার জন্য উৎসুক।প্রায়শঃই গৌরচন্দ্রিকা হালকা সুরে বা চপল তালে গান করা যায় না।গৌরচন্দ্রিকার পদগুলিও যেমন ভাবগর্ভ, সাধারণের পক্ষে একটু কঠিন। এর তাল এবং সুরও সেরকম গুরুগম্ভীর। কীর্তনের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিলম্বিত তালগুলি যথা যোত-সমতাল, বড়-রূপক প্রভৃতি গৌরচন্দ্রিকায় প্রযোজ্য।রাগরাগিনীর কলা-কৌশল দেখাবার পক্ষেও গৌরচন্দ্রিকা প্রশস্ত। কিন্তু পূর্বে স্বর মূর্চ্ছনাদি দেখাবার ও আলাপ করবার যে রীতি ছিল,তা এক্ষণে কচকচিতে পরিণত হবার উপক্রম হয়েছে।আগে সঙ্গীত হিসাবে কীর্তনের যে গৌরব তা বহু পরিমাণে গৌরচন্দ্রিকার উপর নির্ভর করত। সুতরাং এইদিকে আমি সঙ্গীতজ্ঞগণের মনোযোগ আকর্ষণ করতে ইচ্ছা করি। উচ্চাঙ্গের সঙ্গীত-কীর্তনই হোক আর ধ্রুপদই হোক সাধারণের তেমন উপভোগ্য হয় না।না হোক, কিন্তু তা বলে এই সঙ্গীতের প্রাধান্যটুকু অস্তমিত হতে দেওয়া কোনও ক্রমেই বাঞ্জনীয় নয়। এখনও চেষ্টা করলে যথাযোগ্য উৎসাহদানের দ্বারা এবং স্বরলিপির সাহায্যে হয়ত তা সম্ভবপর হবে না। সুতরাং যদি কোনও চেষ্টা করতে হয়, এখনই তা করা উচিত বলে মনে করি। আগেই বলেছি,যে কাব্যের দিক দিয়ে গৌরচন্দ্রিকাগুলি সাধারণতঃ অতি সুললিত ভাবগর্ভ কবিতা।এরকম ভাবসমৃদ্ধ কবিতা বাংলা ভাষায় বেশী দেখতে পাওয়া যায় না।ভাবসমৃদ্ধ কবিতাগুলি বুঝতে কিছু বিলম্ব হয়, কিন্তু বুঝতে পারলে তা হতে অপূর্ব রসের আস্বাদন লাভ করা যায়।সেগুলি যত নিংড়ানো যায়,ততই যেন মধুরাতি মধুর নির্গত হয়। একটি নমুনা=*
*কো কহ অপরূপ, প্রেম-সুধা-নিধি,*
*কোই কহত রসমেহ।*
*কোই কহত ইহ, সোই কলপতরু,*
*মঝু মনে হোয়ত সন্দেহ।।*
*পেখলুঁ গৌরচন্দ্র অনুপাম।*
*যাচত যাক, মূল নাহি ত্রিভুবনে,*
*ঐছে রতন হরিনাম।।*
*যো এক সিন্ধু, বিন্দু নাহি যাচত,*
*পরবশ জলদ-সঞ্চার।*
*মানস অবধি, রহত কলপতরু,*
*কো অছু করুণা অপার।।*
*যছু চরিতামৃত, শ্রুতি পথে সঞ্চরু,*
*হৃদয় সরোবর পূর।*
*উমড়ই নয়নে, অধম মরুভূমহি,*
*হোয়ত পুলক অঙ্কুর।।*
*নামহি যাক, সব তাপ মিটই,*
*তাহে কি চাঁদ উপাম।*
*ভণ ঘনশ্যাম, দাস নাহি হোয়ত,*
*কোটি কোটি এক ঠাম।।*
*🌻কেউ বলেন যে শ্রীগৌরহরি অপূর্ব (অপরূপ) প্রেমরূপ সুধার সমুদ্র (নিধি), কেউ বলেন তিনি রসের (প্রেম,ভক্তির) মেঘস্বরূপ, কেন না অবিরল তিনি অশ্রু বাদলের সৃষ্টি করেন। আবার কেউ বলেন যে এই পৃথিবীতে (ইহ) সেই কল্পতরুই আবির্ভূত হয়েছেন। কিন্তু আমার (মঝু)মনে সন্দেহ হয় অর্থ্যাৎ এটির কোনটিও মহাপ্রভুর যোগ্য তুলনার জায়গা বলে মনে হয় না।*
*🌹আমি দেখলাম গৌরচন্দ্র তুলনাহীন (অনুপাম)! কারণ ত্রিভুবনে যার মূল্য নাই এমন হরিনাম-রত্ন তা তিনি যেচে (যাচত) সেধে লোককে বিতরণ করেছেন।(যে রত্ন অত্যন্ত দুর্মূল্য,কেউ তা কখনও কাউকেও দান করে না। কিন্তু আমার গৌরসুন্দর ত্রিভুবনে মূল্য নাই যার এমন রত্ন নয়নজলে বুক ভাসিয়ে কাতর ভাবে সেধে সেধে সকলকে বিতরণ করেন।এঁর তুলনা কোথায়?সেইজন্যই বলছি যে গৌরচন্দ্র অনুপাম)।*
*🌳তারপর দেখ,সমুদ্রের সঙ্গে তুলনা করেছ ; কিন্তু সমুদ্রের অপ্রমেয় জলরাশি থাকতেও কখনও কাউকেও যেচে একবিন্দু দেয় না। তোমার কন্ঠ শুকনো হোক, তৃষ্ণায় ছাতি ফেটে যাক, সিন্ধু কখনও বলবে কি, ওগো! আমার কাছে অনেক জল আছে, তুমি একবিন্দু পান করে পিআসা শান্ত কর?*
*🌲মেঘের সঙ্গেও তাঁর তুলনা হয় না, কারণ মেঘ পরবশ। যদি অনুকূল পবন প্রবাহিত হয়, তবেই মেঘ জল বর্ষণ করে পৃথিবী শীতল করে ; নচেৎ না।আর শ্রীগৌরসুন্দর অবিরলধারে প্রেমাশ্রু বর্ষণ করেছেন কোন কিছুরই অপেক্ষা নাই।প্রেমবন্যায় জগৎ ভাসিয়ে দিচ্ছেন, কে কোথায় আছ পাপীতাপী,আকন্ঠ ভরে পান কর।*
*🌺কল্পতরুর কথা বলছ? কিন্তু কল্পতরুর কাছে যা অভীষ্ট (মানস) কর,সেই বাঞ্জিত ফল পর্য্যন্ত (অবধি) পাওয়া যায়, তার অতিরিক্ত কিছু পাওয়া যায় না। কিন্তু এমন (অছু) অপার করুণাময় কে আছেন,যিনি জীবের চরম ও পরম মঙ্গলকর ফল অসাধনে,অযাচিত ভাবে দান করেন!*
*🌹আবার দেখ, মেঘ যেখানে উদিত হয়,সেইখানেই বারিবর্ষণ করে কিন্তু গৌরসুন্দরের চরিতামৃত শুধু শ্রবণপথে প্রবেশ করলেই হৃদয় সরোবর পূর্ণ হয়ে যায়।কেবল তা নই। সরোবর পরিপূর্ণ হয়ে উঠে সে প্রেমবারি নয়নপথে হঠাৎ বাহির হয় এবং মরুভূমি অপেক্ষাও নিকৃষ্ট শুকনো, কঠিন পাষাণবৎ যে হৃদয়, সে হৃদয়ে পুলকরূপ অঙ্কুর সঞ্চার করে।মেঘের কি সাধ্য যে সে মরুভূমিতে অঙ্কুর জন্মাইতে পারে? বলতে পার যে তুমিও তো শ্রীগৌরাঙ্গকে চাঁদের সঙ্গে তুলনা করেছ (গৌরচন্দ্র অনুপাম)। কিন্তু না, আমি চাঁদের সঙ্গে তাঁর তুলনা করিনি, শুনতে ভাল শোনায় এই জন্য শুধু গৌর বা গৌরাঙ্গ না বলে গৌরচন্দ্র বলেছি।কেন না যাঁর নামমাত্রে সবতাপ (দেহের,মনের,আত্মার জ্বালা)বিদূরিত হয়, তাঁর সঙ্গে কি চাঁদের তুলনা?পদকর্তা ঘনশ্যাম দাস বলছেন যে কোটি কোটি চাঁদ একত্র (একুঠাম) হলেও মহাপ্রভুর তুলনা হয় না।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৯)🙌বৈষ্ণব রস-সাহিত্য🙌*
*🌹কীর্তনের রস🌹*
***********************
*🌹রস🌹 বলতে আমরা সাধারণতঃ বুঝি "আনন্দ"।জড়-জগতেররূপ,রস,শব্দ,গন্ধ, স্পর্শের মধ্যে দ্বিতীয়টি আমরা জিহ্বার দ্বারা আস্বাদন করতে পারি। এইজন্যই জিহ্বার এক নাম "রসনা"।কটু তিক্ত কষায় লবণ অম্ল মধুর এই ছয়টি রসনেন্দ্রিয়গ্রাহ্য রস।আবার যা মনের আস্বাদ্য তাও "রস" নামে পরিচিত।(কোনও বস্তু দর্শন করলে বা কোনও চিন্তা মনে উদিত হলে যে অনির্বচনীয় আনন্দ অন্তঃকরণে অনুভূত হয়,তাকেও রস বলা হয়।কাব্যপাঠে বা অভিনয় দর্শনেও এইরকম আনন্দ মনোমধ্যে উদিত হয়।সেইজন্য অলঙ্কার শাস্ত্রে "নবম" প্রকার রসের উল্লেখ আছে ; আদি, বীর,করুণ,অদ্ভূত,হাস্য,ভয়ানক, বীভৎস,রৌদ্র ও শান্ত।বাৎসল্যরস গণনা করলে রসের সংখ্যা হয় দশ।বৈষ্ণবদের মতে সাহিত্যের নয়টি রস গৌণ।মুখ্যরস পাঁচটি যথা=শান্ত,দাস্য, সখ্য,বাৎসল্য ও মধুর।) এখানেও রসের অর্থ=যা আস্বাদ্য, কিন্তু এ আস্বাদন প্রাকৃত বস্তুর না, এটি পারমার্থিক আস্বাদন।কারণ এই অনিত্য সংসারে একমাত্র আস্বাদ্য বা উপভোগের বিষয় "শ্রীকৃষ্ণ" ঃ--*
*🌷রসিকশেখর কৃষ্ণ পরমকরুণ।চৈঃচঃ।*
*🌹কীর্তনে এই রসের বিন্যাসদ্বারা শ্রীকৃষ্ণের উপভোগকেই বাস্তব রূপ দান করা হয়েছে।শান্ত,দাস্য,সখ্য,বাৎসল্য ও মধুর প্রভৃতির রসের মধ্য দিয়েই ভগবান আস্বাদ্য এটিই বৈষ্ণব সাধকদের অভিপ্রায় বা বাসনা।এই রসবিভাগ অনুসারে ভক্তও ভিন্ন ভিন্ন রসের অধিকারীরূপে বিভক্ত ; কেউ শান্ত, কেউ সখ্য,কেউ বা মধুর রসের অধিকারী।শান্তরস ভগবদ্-ভক্তজনের মনের সাধারণ স্থায়িভাব।সংসারের অনিত্যতা এবং এর চিরচঞ্চল সুখ-দুঃখরূপ ছায়াবাজির স্বরূপ যতই অন্তঃকরণে উপলব্ধি হবে,ততই মন প্রশান্ত স্থির অপ্রমত্ত হয়ে উঠবে।যতক্ষণ মনকে শান্ত করতে না পারবে, ততক্ষণ অন্য রসে প্রবেশ করতে পারবে না।এই শান্তরসের ভক্ত ছিলেন ব্রহ্মার চার মানস পুত্র, সনক, সনদ,সনাতন ও সনৎকুমার। সুতরাং এই বৈরাগ্য মিশ্রিত মনোভাব সমস্ত ভক্তচিত্তের স্বাভাবিক ভিত্তি,এইজন্য বৈষ্ণবগণ শান্তরসকে শ্রেষ্ঠ স্থান দেন না।ইঁনাদের চারটি রস প্রধান =দাস্য,সখ্য, বাৎসল্য ও মধুর বা কান্তা।*
*🌷দাস্য সখ্য বাৎসল্য শৃঙ্গার চারি রস।*
*🌷চারি ভাবে ভক্ত যত কৃষ্ণ তার বশ।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷দাস্য সখ্য বাৎসল্য আর যে শৃঙ্গার।*
*🌷চারি ভাবে চতুর্বিধ ভক্তই আধার।।*
*🌷নিজ নিজ ভাবে সবে শ্রেষ্ঠ করি মানে।*
*🌷নিজ ভাবে করে কৃষ্ণ সুখ-আস্বাদনে।।*
*(শ্রীচৈঃচঃ,আদি)*
*🌳এইসব রসের মধ্যে আবার আদি বা শৃঙ্গার অর্থ্যাৎ মধুর রসই বেশী আস্বাদ্য।সেজন্য মধুর রসের গানই কীর্তনে বেশী।*
*🌹ভগবানকে ভজনা করবার যে চার প্রকার রীতি (রস) কথিত হ'ল, তার মধ্যে মধুর রসের ভক্তই সর্বাপেক্ষা বেশী। কিন্তু আমরা যদি মনে করি যে সকলেই মধুর রসের ভক্ত,তা হলে ভুল হবে।এমন বহু লোক দেখেছি যাঁরা মধুর রসের পদাবলী শুনেন না।অর্থ্যাৎ অভিসার, কলহান্তরিতা, মাথুর প্রভৃতি পালার গান হলে তাঁরা সে জায়গা ত্যাগ করেন। এমন অনেক ভক্ত আছেন যাঁরা কেবল দাস্য,সখ্য ও বাৎসল্য রসের অধিকারী।শ্রীকৃষ্ণের প্রেমলীলা তাঁরা শোনেন না।দাস্য ও সখ্য রসের ভজন অন্যান্য ধর্মেও দেখতে পাওয়া যায়। ভগবানকেপ্রভু বা বন্ধু বলে মনে করা সকল ধর্মেই চলে। কিন্তু বৈষ্ণবদের বাৎসল্য রসের তুলনা বোধ হয় বিরল। ভগবানকে সন্তান বা পুত্র বলে স্নেহ করা,সেইভাবে তাঁর সেবা করা,সচরাচর অন্যত্র প্রায় দেখতে পাওয়া যায় না।বাৎসল্য রসে সেবক যাঁরা,তাঁরা নন্দ-যশোমতীর অভিমানে ভাবিত হয়ে শ্রীগোপালকে বা শ্রীকৃষ্ণকে প্রতিপাল্য জ্ঞানে আদর করেন।এই বাৎসল্য রসের গান গোষ্ঠলীলা,উত্তরগোষ্ঠ,মৃত্তিকা ভক্ষণ,দামবন্ধন,নবনী চুরি,উদুখল বন্ধন প্রভৃতি পালায় শুনতে পাওয়া যায়। ভগবানের প্রতি অপত্যবুদ্ধির (পুত্রজ্ঞানের বুদ্ধি) দৃষ্টান্ত অন্যত্র একান্ত বিরল। ভগবানকে পিতা বা মাতা বা বন্ধু ভাবে ভজনা করবার দৃষ্টান্ত অন্যান্য ধর্মসম্প্রদায়ের মধ্যে যথেষ্ট দেখতে পাওয়া যায়। (পতিভাবে বা প্রাণবল্লভ ভাবে ভজনা করবার পদ্ধতিও অজ্ঞাত নয়)। (St.Catherne of Theresa এবং Carmelite Nuns দের মধ্য যীশুখ্রীষ্টকে পতিভাবে উপাসনা করবার প্রণালী দেখা যায়।ইঁনারা Brides of Christ বা খ্রীষ্টের পাত্রী বলে পরিচিত।কার্মেলাইট সন্ন্যাসিনীরা এতদূরমধুর ভাববিষ্ট যে তাঁরা অন্য পুরুষের মুখ পর্য্যন্তও দেখেন না।তাঁরা যে-মঠে থাকেন সে-মঠে কোনও পুরুষের প্রবেশাধিকার নাই।যদি কখনও রাজমিস্ত্রী বা অন্য কোন মজুরদের প্রবেশ আবশ্যক হয়, তখন তাদের গলায় ঘন্টা বেঁধে দেওয়া হয় অথবা মঠ-অধিকারিণীদের পূর্বে সংবাদ দেওয়া হয় যাতে তাঁরা নির্জন জায়গায় অপেক্ষা করতে পারেন।দূর হতে মাত্র এই মঠ দেখবার সুযোগ আমার (লেখকের, খগেন্দ্র নাথ মিত্রের)হয়েছে। কিন্তু বৈষ্ণবদের বাৎসল্য রসটি অতি অপূর্ব।এই রসের এবং অন্যান্য রসের বৈশিষ্ট্য এই যে,স্বার্থের কোন সন্ধান এর মধ্যে নেই।সাংসারিক হিসাবে পুত্রের প্রতি মাতৃস্নেহের মধ্যে যতই আত্মবিস্মৃতি থাকুক,এটি একেবারে বিশুদ্ধ হতে পারে না। কিন্তু ভগবানের প্রতি নন্দ যশোদার যে পুত্রস্নেহ, সেটি জোর দিয়ে বলা যায় একান্তভাবে বিশুদ্ধ অর্থ্যাৎ কিছুমাত্র স্বার্থের সন্ধান সেই ভালোবাসায় ছিল না।যাইহোক, পুত্র আমার যেন কিছুমাত্র কষ্ট না পায়, এইরকম ভাবে ভগবৎসেবা বিশুদ্ধ বাৎসল্যরসের উপজীব্য।*
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🦚🌷🌷🌷🌷🌷🌷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩০) বৈষ্ণব রস-সাহিত্য*
*কীর্তনের রস বা আনন্দ*
*************************
*🍀রসের আভাস মাত্র বতর্মান অথচ যেখানে প্রকৃত রসের অভাব তাকে রসাভাস বলে।রসাভাস বা রসদুষ্টি বা অনুচিত রস কীর্তনে অত্যন্ত দোষাবহ।কীর্তনীয়াকে অতি সন্তর্পণের সঙ্গে এই রসাভাস-দোষ পরিহার করতে হয়।মনে করুন, কীর্তনীয়া মধুর বা আদিরসের গান করছেন,এমন সময়ে যদি তিনি পরকালের কথা উপস্থাপিত করেন,তাহলে সে গান অত্যন্ত শ্রুতিকটু হয়। দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যেতে পারে যে,যখন রূপ-গুণ-যৌবনশালিনী গোপবালাগণ যমুনাতীরে পারে যাবার জন্য অপেক্ষা করছেন,তখন যদি গায়ক নাবিকরূপী শ্রীকৃষ্ণকে দিয়ে বলান যে তিনি ভবপারের কর্ণধার, জীবকে ভবপারে নিয়ে যাবার জন্য অনাদিকাল হতে তিনি খেয়া দিচ্ছেন, তাহলে সেখানে রসাভাস-দোষ বা রসভঙ্গ হল বলতে হবে।মনে করুন,বাসরঘরে বরকে ঘিরে কুটুম্বিনীর দল আনন্দোল্লাসে মগ্না, বরকে গান গাইবার জন্য পীড়াপীড়ি করছে,তখন বর যদি গান ধরেন=*
*🌷বাঁশের দোলাতে চড়ে কে হে বটে,*
*যাচ্ছ তুমি শ্মশানঘাটে।*
*🍀তাহলে তা যেমন শ্রুতিকটু হয়,কীর্তনে রসাভাস অনেক সময়ে তেমনি রসপুষ্টির বিরোধী হয়ে পড়ে।*
*☘বৈষ্ণবশাস্ত্রে রস এক অপূর্ব সৃষ্টি।সেটির বিভাব,অনুভাব সঞ্চারিভাব আদি ক্রম অনুশীলন না করলে কীর্তন সর্বাঙ্গসুন্দর হয় না।মহাজন পদাবলী সুর-লয় সংযোগ শ্রুতিমধুররূপে পরিবেশন করলে,তাকেই উচ্চাঙ্গের কীর্তন বলে।মহাজনপদাবলী মধ্যে প্রধান রস শৃঙ্গাররস।সখ্য,বাৎসল্য ও দাস্য রসের বহু পদ থাকলেও গানের পক্ষে শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে পদাবলীর আদিরস। অর্থ্যাৎ অধিকাংশ পদাবলী প্রেমকবিতা।এই প্রেমকবিতা শ্রীরাধাকৃষ্ণ ও তাঁদের সখীবৃন্দকে কেন্দ্র করে রচিত। সুতরাং প্রত্যেকটি পদের ভিতরে একটি আধ্যাত্মিক ইঙ্গিত আছে, অর্থ্যাৎ প্রত্যেক পদের রসের প্রবাহ চলেছে সেই অনন্ত সাগর-পানে যেখানে সকল হৃদয়বৃত্তি বাঞ্জিতকে পেয়ে চরম চরিতার্থতা লাভ করে। কিন্তু কীর্তনের সর্বপ্রধার সতর্কতা আবশ্যক হয় এইখানে।রাধাকৃষ্ণের প্রেম বর্ণনায় যথাসম্ভব আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা বর্জন করে গান করতে না পারলে কাব্যের মাধুর্য্য এবং গীতের সার্থকতা উভয়ই নষ্ট হয়ে যায়। এখানেই বৈষ্ণব কবি এবং বৈষ্ণব গায়কের চরম পরীক্ষা।বৈষ্ণব-কবি পরমার্থতত্ত্ব বলবেন প্রেমের মধ্য দিয়ে,স্নেহের মধ্য দিয়ে, আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে। কিন্তু তিনি কাব্যের রসমাধুর্য্য নষ্ট করতে চান না।কাব্য হিসাবে,রস পরিবেশন হিসাবে, তাঁর কাব্য উপভোগ্য হবে, অথচ তার মধ্যে থাকবে প্রিয়তমের সান্নিধ্য লাভের উদগ্র আকাঙ্ক্ষা।এই যে সর্বপ্রকার বাধাহীন সম্পূর্ণ স্বাধীন প্রেম, শ্রীজীব গোস্বামী একে মুক্তি অপেক্ষাও সুদুর্লভ বলেছেন। এই অপ্রাকৃত প্রেমের গীত কীর্তন, অথচ কীর্তন গায়ক যদি সেকথা স্পষ্টভাষার প্রকাশ করেন,তবেই তাঁর কীর্তন ব্যর্থ হল।সহজ প্রেমকেই আখরের সাহায্যে ফুটিয়ে তুলতে হবে, কবি যে চিত্রটি এঁকেছেন,তারই সৌন্দর্য ও মাধুর্য্য কীর্তনীয়া পরিবেশন করবেন তার শিল্পকৌশলীর দ্বারা।তত্ত্ব ও লীলার সঙ্গে যে নিগূঢ় রহস্যময় সম্বন্ধ আছে,কথকতায় বা ভাগবত ব্যাখ্যায় বক্তা তা পরিস্ফুট করতে চেষ্টা করেন কিন্তু কীর্তনীয়া লীলার চমৎকারিত্ব বর্ণনা করবেন, তত্ত্বকথার দ্বারা তাকে রূপকমাত্র পরিণত করতে চেষ্টা করবেন না। একটি দৃষ্টান্ত দিলে কথাটি সহজে বুঝতে পারা যাবে।*
*সই কবা শুনাইলে শ্যামনাম।*
*কানের ভিতর দিয়া,মরমে পশিল গো,*
*আকুল করিল মোর প্রাণ।।*
*🌻এই গানে নামের মাহাত্ম্য বা প্রতাপ বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এই মধুর পদটি গান করতে গিয়ে যদি কেউ শ্যামনাম-মাহাত্ম্য প্রচার করে পরকালের পাথেয় সঞ্চয় করবার উপদেশ দেন, তবে তাঁর গান অশ্রাব্য হবে।তার কারণ ঐ গানটির কবিত্বই সর্বাগ্রে উপভোগ্য, সেটির মধ্যে যে কবিত্বপূর্ণ প্রেমতন্ময়তা আছে তাইই পরম আস্বাদ্য।তাকে ক্ষুণ্ন করবার অধিকার কীর্তনীয়ার নাই।*
*🌹রসাভাস-দোষ অতি সন্তর্পণে পরিহার করতে হয় বলেছি।তার কারণ এই যে কীর্তন গানটি যেমন রচিত হয়েছে, তেমনি গান করলেই হয় না।অন্য সঙ্গীতের সঙ্গে কীর্তনের একটি মুখ্য বৈলক্ষণ্য এই যে,এই গানে গায়ক ইচ্ছামত অলঙ্কার বা আখর যোজনা করতে পারেন।গানের অর্থ বিশদ করবার জন্য,অন্তর্নিহিত ভাবকে পরিস্ফুট করবার জন্য,রচয়িতার গূঢ় মনোভাবকে সুরের বেদনায় প্রকাশ করবার জন্য আখর দেওয়া হয়। গায়ক নিজে যা যোজনা করেন,তাইই আখর।কোনও কোনও সময় সুরের পোষকতায় আখরের স্থলে পদের অংশবিশেষের পুনরাবৃত্তিও করা হয়, অর্থ্যাৎ গায়ক নিজের কথা না জুড়ে পদকর্তার ভাষাই হুবহু ব্যবহার করেন, তাকেও আখর বলা হয়। কিন্তু আখর অর্থে প্রধানতঃ গায়কের স্বকীয় যোজনা। অনেক সময়ে এইসব আখর পূর্ববতী গায়কেরা যা রচনা করে গিয়েছেন, বতর্মান গায়ক তারই আবৃত্তি করেন।আবার অনেক সময়ে গায়ক নিজ উদভাবনী শক্তির সাহায্যে ভাবপোষক কথা সংযোজিত করেন।গায়কের কবীত্ব শক্তি ও সুরতালের নৈপূণ্য থাকলে এইসব আখর অনেক সময়ে তত্তৎ পদাবলী অপেক্ষাও শ্রুতিমধুর হয়। কিন্তু এইখানেই বিপদ! অনেক অল্পশক্তিসম্পন্ন লোক আখর যোজনার প্রলোভন সংবরণ করতে না পেরে এমন হয়ত বলে ফেলেন,যা রসপরিপোষক তো নয়ই, বরণ তার বিরোধী।সেসব জায়গায় রসিকসমাজ অত্যন্ত মর্মাহত হন।এই জন্যই আখর দিবার প্রলোভন সংযত না করলে কীর্তনগান পীড়াদায়ক হয়ে উঠতে পারে।কারণ রসিক ভক্তগণ এরকম রসাভাসদোষ সহ্য করেন না।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
