শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/sahityo3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩১) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
          *কীর্তনের----রস*
         ********************
*🌹কীর্তনের এক-একটি পালা বা পর্যায় একটি খন্ডকাব‍্য। অর্থ‍্যাৎ শ্রীকৃষ্ণের কোনও একটি লীলা কয়েকটি মহাজন-পদাবলীর সাহায্যে জীবন্তভাবে চিত্রিত করায় কীর্তনের উদ্দেশ্য।আগে অবশ‍্য এইসব বিষয় নিয়ে উল্লিখিত হয়েছে।কিন্তু কিভাবে পালাগান নিষ্পন্ন হয়,তা বলা হয়নি এবার বলব।সাধারণতঃ কীর্তনগায়ক বিভিন্ন পদকর্তার ভিন্ন ভিন্ন পদ বেছে তাহাই পালার আকারে সাজিয়ে নেন।বস্তুতঃ যাত্রার পালা যেমন নির্দিষ্ট গান ও কথোপকথনের মধ‍্য দিয়ে নির্বাহিত হয়,কীর্তনের পালা সেরকম নয়।মনে করুন অনুরাগের এক পালা কীর্তনগান হবে ; গায়ক ইচ্ছামত একটি "তদুচিত" গৌরচন্দ্রিকা বেছে নিলেন=*
*কি খণে দেখিলাম গোরা,নবীন কামেরি কোঁড়া,*
    *সেই হইতে রইতে নারি ঘরে।*
*(ইত‍্যাদি ইত‍্যাদি=লক্ষ্মীকান্ত দাস)*
*🍀তার পর তিনি গায়তে পারেন=*
*বেলি অবসানকালে,একা গিয়েছিলাম জলে। ইত্যাদি।*
                *(বসু রামানন্দ)*
*অথবা=*
*চিকণ কালিয়া রূপ মরমে লেগেছে গো,*
       *ধরণে না যায় মোর হিয়া।*
                   *(জ্ঞানদাস)*
*অথবা=*
*রূপে ভরল দিঠি,সোঙরি পরশ মিঠি,*
      *পুলক না তেজই অঙ্গ।*
                     *(গোবিন্দ দাস)*
*🌻অতএব বুঝা যাচ্ছে যে,গায়ক মহাজন-পদাবলী হতে বিভিন্ন পদকর্তার পদ নিয়ে নিজের ইচ্ছামত সাজিয়ে থাকেন।এইরকম সাজাতে গিয়ে কিন্তু পৌর্বাপর্য (আগে ও পরের যে সম্বন্ধ) রক্ষা করা একান্ত আবশ্যক। বিভিন্ন পদকর্তার পদ এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে রসটি ক্রমেই পরিণতির দিকে অগ্রসর হয়।*
*🙌এই লীলাকীর্তন রসকীর্তন নামে অভিহিত হয়। আগেই বলেছি,রস অর্থে যা আস্বাদন করা যায় অর্থ‍্যাৎ যা চিন্তা করলে বা শুনিলে হৃদয় আনন্দে আপ্লুত হয়,তার নাম রস।আনন্দময় ভগবানের লীলাৎ আনন্দের সৃষ্টি করে, এই জন্যই লীলাকীর্তনের অপর নাম রসকীর্তন।বলা বাহুল‍্য এ দিক দিয়েও রসকীর্তনে শৃঙ্গার রসই প্রধান স্থান অধিকার করে।কারণ প্রেম বা শৃঙ্গার রসেই আনন্দ পরাকাষ্ঠা বা চরম প্রাপ্ত হয়।কীর্তনে ৬৪ রস আছে।প্রথমতঃ অলঙ্কারশাস্ত্রে শৃঙ্গাররস দুই ভাগে বিভক্ত হয়,যথা বিপ্রলম্ভ ও সম্ভোগ।অতিশয় অনুরক্ত যুবক-যুবতীর অসমাগম নিমিত্ত রতি যখন উৎকৃষ্টতা প্রাপ্ত হয়,অভীষ্টসিদ্ধি করতে পারে না, তখন সেই ভাবকে "বিপ্রলম্ভ" বলে।প্রেমিক-প্রেমিকার পরস্পর মিলনে যে উল্লাসময় ভাব হৃদয়ে আবির্ভূত হয় তার নাম "সম্ভোগ"।বিপ্রলম্ভ আবার চার প্রকার, যথা=পূর্বরাগ,মান,প্রেমবৈচিত্র‍্য ও প্রবাস। এঁদের প্রত‍্যেকটি আফার আট ভাগে বিভক্ত।যথা=পূর্বরাগের অন্তর্গত আটটি রস=সাক্ষাৎ দর্শন,চিত্রপটে দর্শন,স্বপ্নে দর্শন,(তিনটি দর্শন) বন্দী বা ভাটমুখে গুণশ্রবণ,দূতীমুখে শ্রবণ,সখীমুখে শ্রবণ,গুণিজনের গানে শ্রবণ,বংশীধ্বনি শ্রবণ (শ্রবণ পাঁচটি)। মানের অন্তর্গত আটটি রস=সখীমুখে শ্রবণ,শুকমুখে শ্রবণ,মুরলীধ্বনি শ্রবণ, প্রতিপক্ষের দেহে ভোগচিহ্ন দর্শন, প্রিয়তমের দেহে ভোগচিহ্ন দর্শন, গোত্রস্খলন,স্বপ্নে দর্শন ও অন‍্য নায়িকার সঙ্গ দর্শন। প্রেমবৈচিত্র‍্যের আটটি রস, যথা= শ্রীকৃষ্ণের প্রতি আক্ষেপ,নিজপ্রতি আক্ষেপ,সখীর প্রতি আক্ষেপ,দূতীর প্রতি আক্ষেপ,মুরলীর প্রতি আক্ষেপ, বিধাতার প্রতি আক্ষেপ,কন্দর্পের প্রতি আক্ষেপ এবং গুরুজনের প্রতি আক্ষেপ। প্রবাসের অন্তর্গত আটটি রস যথা= ভাবী (বিরহ), মথুরাগমন, দ্বারকাগমন,কালীয়দমন (অদর্শনে বিরহ), গোচারণজনিত বিরহ, নন্দমোক্ষণ লীলা,কার্য‍্যানুরোধে প্রবাস, রাসে অন্তর্ধান। বিপ্রলম্ভের মত সম্ভোগেও চারটি বিভাগ আছে,যথা= সংক্ষিপ্ত সম্ভোগ, সংকীর্ণ সম্ভোগ,সম্পন্ন সম্ভোগ ও সমৃদ্ধি মান সম্বোগ। সংক্ষিপ্ত সম্ভোগের অন্তর্গত আটটি রসের নাম=ব‍াল‍্যাবস্থায় মিলন,গোষ্ঠে মিলন,গো-দোহন,অকস্মাৎ চুম্বন, হস্তাকর্ষণ,বস্ত্রাকর্ষণ,পথরোধ, রতিভোগ। সংকীর্ণ সম্ভোগে মহারাস,জলক্রীড়া,কুঞ্জলীলা,দানলীলা,বংশীচুরি,নৌকাবিলাস,মধুপান,সূর্য‍্যপূজা,এই আটটি বিভাগ আছে। সম্পন্ন সম্ভোগের বিভাগ যথা=সুদূর দর্শন,ঝুলন,হোলি,প্রহেলিকা,পাশাখেলা,নর্তকরাস,রসালস, কপটনিদ্রা। সমৃদ্ধিমান সম্ভোগে =স্বপ্নে বিলাস,কুরুক্ষেত্রে মিলন,ভাবোল্লাস,ব্রজাগমন,বিপরীত সম্ভোগ,ভোজনকৌতূক,একত্রনিদ্রা, স্বাধীনভর্তৃকা।*
*🌺পৃর্বে যে সব লীলার উল্লেখ করা হয়েছে,তাদের মধ্যে এই চতুঃষষ্টি (৬৪) রসের অল্পাধিক বিস্তার আছে।কীর্তনগায়ককে সেইজন‍্য সাবধানতার সঙ্গে কীর্তনগান করতে হয়।কীর্তনীয়া শুধু সঙ্গীতজ্ঞ হলেই হয় না,তাঁকে পন্ডিতও হতে হয়।সব কীর্তনীয়াই যে পন্ডিত একথা বলছি না।তবে পন্ডিত হ'লে ভাল হয়।পূর্বে এরকম বহু কীর্তনগায়কের নাম শোনা যায় যাঁরা মহাপন্ডিত ছিলেন।এই সেদিনও অদ্বৈতদাস পন্ডিত বাবাজী, রায় বাহাদুর রসময় মিত্র এম.এ কীর্তনগানে প্রসিদ্ধি লাভ করে গিয়েছেন।রস-জ্ঞান না থাকলে অভিজ্ঞ শ্রোতাভক্তের কাছে গায়ককে পদে পদে লাঞ্জিত হতে হয়।রস-জ্ঞানের অভাব থাকলে রসাভাস হয় এবং রসাভাসবিশিষ্ট গানে রসিক শ্রোতাভক্তের মনস্তুষ্টি হয় না।যেখানে যে রসের পরিবেশন করতে হবে তা না করে অন‍্য রস বা বিরুদ্ধ রস পরিবেশন করলে তা শ্রুতিকটু হয়। সূক্ষ্ম রসবিচারে নিপুণতার সহিত সুর-লয়ের সঙ্গতি থাকলে তবেই কীর্তন শ্রুতিসুখকর হয়।আনন্দ সব সঙ্গীতের উপদান হলেও,কীর্তনের বৈশিষ্ট্য এই যে,গায়ক এবং শ্রেয়তাভক্ত উভয়কেই রসজ্ঞ হতে হয় অর্থ‍্যাৎ বৈষ্ণব সিদ্ধান্ত এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের মূল সূত্রের সঙ্গে সুপরিচয় থাকা আবশ‍্যক।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦜🦚🦚🦚🦚🦚🦚

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩২) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
          *বৈষ্ণব----কবিতা*
          °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🔥বৈষ্ণব কবিতা বুঝবার চেষ্টা এযুগে সব সময়ে সফল হতে পারে না।আমিও (লেখক) যে ঠিক বুঝাতে পারবো এবিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।আজকালকার দিনে প্রকৃত বৈষ্ণব কবিতার সৃষ্টি হয় না।⚪যে যুগে বৈষ্ণব কবিতার সৃষ্টি হয়েছিল সে ছিল অন‍্য একটা যুগ।বৈষ্ণব কবিতা বুঝতে হলে সে যুগের পারিপার্শ্বিক অবস্থা কেমন ছিল তা বুঝতে হবে।যেমন বতর্মানযুগে রবীন্দ্রনাথকে বুঝতে হলে তাঁর আবেষ্টনী বুঝতে হবে।নবীন সেনকে বুঝতে হলে মহাভারতকে বুঝতে হবে। Back-ground বোঝা আগে দরকার ; তা না হলে কোন বস্তুই ভাল করে বুঝা যায় না।মাইকেলকে বুঝতে হলে আমাদের বুঝা দরকার "ভার্জ্জিল, দান্তে, মিলটনকে"।বিশেষ কোন কাব‍্য বুঝতে গেলেই তার পটভূমি (Back-ground) বুঝা একান্ত প্রয়োজন।এযুগে বৈষ্ণব কবিতা বুঝবার পক্ষে অনেক বাধা আছে। কারণ আমরা সেযুগ ছাড়িয়ে অনেক দূরে এসে পড়েছি।বৈষ্ণব সাহিত‍্য আলোচনা করলে দেখা যায় বৈষ্ণব কবিগণ কেবল একই বিষয়ে কবিতা লিখেছেন।তাঁরা কেন এ লিখলেন?আর কি কোন বিষয় লিখবার ছিল না?বিদ‍্যাপতি পুরুষ-পরীক্ষা প্রভৃতি অনেক গ্রন্থ লিখেছিলেন।শ্রেষ্ঠ বৈষ্ণব কবিগণ ক্রমাগত রাধাকৃষ্ণ নিয়ে নয়ত গৌরাঙ্গলীলা নিয়ে ছোট ছোট কবিতা লিখেছেন,কেন তাঁরা এই খন্ড কবিতা লিখলেন। আরও বড় কিছু কি তাঁরা করতে পারতেন না? ভাববার বিষয় বটে।*
*🌹যাঁরা বৈষ্ণব কবিতাকে কিছু-না বলে মনে করেন,তাঁদের জন্য আমার বক্তব‍্য নয়।যাঁরা বৈষ্ণব কবিতাকে ভাল ও সুপাঠ‍্য বলে বিবেচনা করেন তাঁদের উদ্দেশ্যেই আমি দুই-চারটে কথা বলবো। অনেকে শ্রীরাধাকৃষ্ণের লীলাকে রূপক বলে মনে করেন। উপনিষদে যেমন আছে দুটি পক্ষী একবৃক্ষে বসে,একটি ফল আস্বাদন করে আর একটি নিরীক্ষণ করে, সেইরকম রাধাকৃষ্ণলীলা জীবাত্মা ও পরমাত্মার মিলন বৈ আর কিছু নয়। বৈষ্ণব কবিতা সত‍্যি কি রূপক?যদি রূপক হ'তো তা-হলে রাধাকৃষ্ণ সম্পর্কে এত কবিতা রচিত হতে পারত না।কী পরিমাণ দরদ,কী পরিমাণ আগ্রহ দিয়ে এই সব কবিতা দিনের পর দিন লিখে কবিগণ কৃতকৃতার্থ হয়েছেন।বৈষ্ণব কবিতা বুঝবার পক্ষে এই যে বাধা এটা সত‍্যিকারের বাধা।যদি বৈষ্ণব কবিতাকে রূপক বলেই মনে করি তা হলেই রবীন্দ্রনাথ বৈষ্ণব কবিতা বলতে কি বুঝেছেন,তা আমরা বুঝতে পারি। তিনি বলেছেন=*
*🌻🌻এই প্রেম-গীতি-হার🌻🌻*
*🌷গাঁথা হয় নরনারী-মিলন-মেলায়,*
*🌷কেহ দেয় তাঁরে,কেহ বঁধূর গলায়।*
*🌷দেবারে যাহা দিতে পারি,দিই তাই,*
*🌷প্রিয়জনে--প্রিয়জনে যাহা দিতে পাই।*
*🌷তাই দিই দেবতারে ; আর পাব কোথা?*
*🌷দেবতারে প্রিয় করি,প্রিয়েরে দেবতা।*
*🍀এইরকম ভাবে বৈষ্ণব কবিতার উপরের ভাবটি গ্রহণ করা যেতে পারে। বিশেষ ভিতরে যেতে পারা যায় না।ভিতরের নিগূঢ় বিষয় বুঝতে গেলে বৈষ্ণব কবিতার মানস সরোবরের অভ‍্যন্তরে প্রবেশ করা ছাড়া উপায় নাই।*
*🌺বালিগঞ্জ লেক্ এর উদাহরণে কথাটা হয়ত সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে। ভিন্ন ভিন্ন লোক ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে এখানে গিয়ে থাকেন,কেউ যান দৃশ্য দেখবার জন্য, কেউ যান স্বাস্থের উন্নতির জন্য, আর তরুণেরা কেউ কেউ সন্তরণ বা সাঁতার,আত্মহত‍্যা ইত্যাদি অনেক কারণে গিয়ে থাকেন।বৈষ্ণব কবিতার বিষয়েও ঠিক এই ভাব।ভক্ত রসিক একভাবে একে গ্রহণ করেন,সাধারণ পাঠক গ্রহণ করেন অন‍্যভাবে।ভক্তগণ কেমন ভাবে বৈষ্ণব কবিতা গ্রহণ করেন তা বুঝবার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। সাধারণ পাঠকেরা মনে করেন বৈষ্ণব কবিতার মধ্যে যখন রস আছে, শৃঙ্গার রয়েছে,তখন মন্দই বা কি?এ সময় একজনের কথা আমার মনে পড়েছে--, চ‍্যাপম‍্যান সাহেব সুরেন্দ্র নাথ কুমারের সাহায্যে VAISNAV LYRICS সংগ্রহ করেছিলেন, তার ভূমিকায় লিখেছেন=*
*"Oh Radha! I wish to have you as my wife". কবি কি উদ্দেশ্য নিয়ে লিখেছেন তা না বুঝলে বৈষ্ণব কবিতা বুঝা যায় না।*
*🌿তুলসীদাসের রামায়ণ পড়লে বুঝা যায় তাঁর রামচরিত্র বাল্মীকির রামের চেয়ে সুন্দর।বাল্মীকির রামায়ণের কঠোর রামচরিত্র তুলসীদাসের হাতে আরও সরস ও সুন্দর হয়ে উঠেছে।তুলসীদাসের রামচরিতমানস বাস্তবিকই কবিতার মানসসরোবর।রসিক মরালগণ এই সরোবরে সুখে ভ্রমণ করতে পারেন।তাঁর প্রত‍্যেকটি কবিতা প্রাণ গলিয়ে লেখা।তুলসীদাসের এই রামচরিত মানসের দ্বারা অন্ততঃ নয়কোটি লোকের আধ‍্যাত্মিক ক্ষুধা তৃপ্ত হচ্ছে।শুধু কবিতার সৌন্দর্য্য দেখে নয়, আনন্দের খোরাক তারা পায় সেখান হতে।*
*🌻বৈষ্ণব কবিতা ঠিক এইভাবে গ্রহণ করতে হবে।বৈষ্ণব কবিতাকে লীলার দিক থেকে দেখতে হবে, রূপকের দিক থেকে দেখলে চলবে না।রূপকের দিক থেকে দেখলে interpretation হবে সত‍্যি, কিন্তু কিছুই বুঝে উঠতে পারা যাবে না।*
*☘লীলা সম্পর্কে দুই-একটি কথা মনে রাখা আবশ্যক।দার্শনিক ভাবে লীলার আলোচনার প্রয়োজন নাই।বৈষ্ণব কবিতার মাধুর্য‍্যে তর্ক আপনি নিরস্ত হয়ে যায়।ধার করা বিদ‍্যা দিয়ে তা বুঝতে হয় না। কোন লিলিকে রঙ ফলাতে হয় না। কোন রঙে রঞ্জিত করে যদি বৈষ্ণব কবিতা বুঝতে হয় তবে তার কোন মূল‍্যই থাকে না। There is no need to paint the lily. বৈষ্ণব কবিতা নিজের দ্বারাই ব‍্যক্ত।এ বুঝতে শাস্ত্রের প্রয়োজন হয় না।এ বুঝতে গিয়ে অনেকে বেদান্তের মায়াবাদ টেনে আনেন।বৈষ্ণবগণ মায়াবাদকে উপেক্ষা করেছেন।লীলার অর্থ লীলা,যা আপনি মধুর। লীলা বুঝতে হলে বৈষ্ণবদের সহজ সরল তত্ত্বটি মনে রাখতে হয়।তাঁদের মত=*
*🌷শ‍্যামমেব বরং রূপম্ পুরী মাধুপুরী বরা,*
*🌷বয়ঃ কৈশোরকং ধ‍্যেয়ং।*
*🌷আদ‍্য এব পরোরসঃ।*
*🌺বৈষ্ণব কবিতায় বেদান্তের তত্ত্বও নিহিত রয়েছে -----,*
*🌷সর্ব্বং খল্বিদং ব্রহ্ম,ব্রহ্ম সত‍্যং জগন্মিথ‍্যা।*
*🌹কিন্তু তাঁরা কবির ভাষায় মাধুর্য‍্যের সঙ্গে সে কথাটি ব‍্যক্ত করেছেন=*
*যদি নয়ন মুদে থাকি, অন্তরে গোবিন্দ দেখি,*
       *নয়ন মেলিয়া দেখি শ‍্যামে।*
*☘কিন্তু এমনতর ভাববার প্রয়োজন নাই যে,বেদান্ত উপনিষদের দুরূহ তত্ত্বেরই উপর বৈষ্ণব কবিতা প্রতিষ্ঠিত।বৈষ্ণব কবিতায় কবি সরস সহজ সুকোমল ভাষায় এ সব ভাব প্রকাশ করেছেন।*
*তমেব ভান্তমনুভাতি সর্বং তস‍্য ভাসা সর্বমিদম্ বিভাতি।*
*🌺এই কথাটি বৈষ্ণব কবিতায় আছে=*
*🌷তোমারই গরবে, গরবিনী হাম,*
            *রূপসী তোমারি রূপে।*
                              *(জ্ঞান দাস)*
🦚🦚🦚🌷🌷🌷🙏🙏🙏🪷🪷🪷🪔

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৩) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
          *বৈষ্ণব------কবিতা*
           ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🙏বৈষ্ণব কবিতায় যে তত্ত্ব ব‍্যক্ত হয়েছে,তাতে সবিশেষ ভগবানের কথায় বলা হয়েছে =*
*বদন্তি যৎ তত্ত্ববিদস্তত্ত্বং যজ্ জ্ঞানমদ্বয়ম্।*
*ব্রহ্মেতি পরমাত্মেতি ভগবানিতি শব্দ‍্যতে।।*
*🔥বৈষ্ণব কবিতায় ব্রহ্মও নয় পরমাত্মাও নয় ভগবানকেই গ্রহণ করা হয়েছে।তাঁকে আমরা কি ভাবে ভাবি? অনেকে ভাবেন তাঁর রূপ-গুণের অন্ত নেই।লীলায় প্রবেশ করতে হলে এই ধারণা দরকার।*
*🌷শ‍্যামমেব বরং রূপম্, শ‍্যামরূপই শ্রেষ্ঠ।বিবাদ বাধে এই শ‍্যামরূপই শ্রেষ্ঠ নিয়ে। শ‍্যামরূপ শ্রেষ্ঠ কেন? অন‍্য রূপেরও তো ধ‍্যান করতে পারি? কিন্তু বৈষ্ণবগণ বলেন--, শ‍্যামরূপের মত রূপ নাই,যদি ধামের কথা ভাবতে হয় তবে বৃন্দাবনই সেই ধাম।যে বৃন্দাবনে প্রতি ধেনু কামধেনু,প্রতি লতা কল্পলতা,প্রতি বৃক্ষ কল্পবৃক্ষ, সেই চিন্তামণি-ধাম বৃন্দাবনই ভগবানের ধাম।কিশোর বয়সই সুন্দর, এ বয়স বড় চমৎকার।এতে কেবল তরুণিমার লাবণ‍্যময় আভাস, এতে কোন রকম পাপ বা কলুষ নেই।*
*🍀রসের মধ্যে আদিরসই শ্রেষ্ঠ বা প্রধান।শৃঙ্গার রস মধুর ও উজ্জ্বল। অন‍্য অনেক রস আছে তার মধ্যে আদিরস শ্রেষ্ঠ।আদিরস (রতি বা প্রেম) ইংরেজিতে Love।পিরীতি বা পিরীত কথাটা আমাদের মধ্যে আজকাল আর চলে না। ভালোবাসার পুরোনো নাম রতি,প্রেম, প্রীতি,ভাব। ভালোবাসা কথাটি আমাদের ভাষায় নূতন আমদানী।"ভালবাসা" দুটো কথা থেকে হয়েছে ; ভাল ও বাসা।পূর্ববঙ্গে এখনও কথাটি প্রচলিত,যেমন তিনি কেমন বাসেন? প্রেমটাও আজকাল জোড়াতাড়া দেওয়া জিনিস হয়ে দাঁড়িয়েছে।ভালবাসার মধ্যে খাঁটি প্রেম বা প্রীতি নেই।জোড়াতাড়া দেওয়া জিনিস সহজেই ভেঙ্গে যেতে পারে।তাই এই ভালোবাসা দিয়ে বৈষ্ণব-প্রেম বুঝতে পারা যায় না।ভালবাসার নিখুঁত রূপটি মহাপ্রভুর আগে ধরা পড়েনি কিন্তু মহাপ্রভুই প্রেমের মন্ত্র প্রচার করেছেন সেইজন‍্য তিনি =*
           *করুণা সিন্ধু অবতার।*
*নিজগুণে গাঁথি, নাম চিন্তামণি*
        *জগতে পরাওল হার।।*
*🙏গোবিন্দদাস এই ভাবে মহাপ্রভুর চরিত্র অঙ্কন করেছেন।এই হচ্ছে মহাপ্রভুর শ্রেষ্ঠ অবদান। তিনি ছিলেন প্রেমের জীবন্ত প্রতিমূর্তি ; এযুগে মহাপ্রভুর চরিত্র আমরা বুঝতে পারব না।তখন এমন যুগ ছিল যে যুগে দেশ মেতে উঠেছে। পাষন্ড,নাস্তিক,ভন্ড, পন্ডিত রসে মেতে উঠেছেন,সমস্ত দেশ চঞ্চল হয়ে উঠেছে।সকলেই শ্রীচৈতন‍্যকে দেখবার জন্য পাগল।এই প্রেমের কথা চারিদিকে প্রচারিত হতে লাগল।লোক সমাজকে জাগিয়ে দিল, মহাপ্রভুর জন‍্যই প্রেমের প্রচার সম্ভব হল। তিনি এই প্রেম-প্রচারের ভার গ্রহণ না করলে কেউ গ্রহণ করতো কিনা সন্দেহ।একবার যখন এই বার্তা প্রচারিত হলো তখন সকলে উঠে পড়ে লাগলেন।শ্রীরাধাকৃষ্ণ-লীলা ধ‍্যান করতে লাগলেন। মনের মধ্যে অন‍্য চিন্তা থাকে না। জানে না কি করছে, কোথায় যাচ্ছে নিজের দিকে নজর নেই।কেবল সবসময়ে কৃষ্ণকথা।*
*🌷স্মর্ত্তব‍্যো সততং বিষ্ণুরস্মর্ত্তব‍্যো ন জাতুচিৎ।*
*🌳জনসমাজ সাগ্রহে এই প্রেমের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে পড়ল।তাই বৈষ্ণব কবিতাকে বুঝতে গেলে মহাপ্রভুকে বুঝা দরকার।কি অদ্ভুত প্রেরণায় এই বৈষ্ণব সাহিত‍্য গড়ে উঠেছিল তা জানতে হলে মহাপ্রভুর পরিচয় জানা একান্ত প্রয়োজন।পদাবলীর প্রসার ও আদর হয় এই মহাপ্রভুর পর থেকেই।চন্ডীদাস-বিদ‍্যাপতির কবিতা যদি মহাপ্রভু প্রচার না করতেন তবে ঐ সব কবিতা প্রচার হতো কি-না সন্দেহ।প্রেম এমন বস্তু যে তা সকলকে তাদের অজ্ঞাতসারে চালিত করে।এর জন‍্যই আমাদের মন বৈষ্ণব কবিতার প্রতি আকৃষ্ট হয়। বৈষ্ণব কবিতা কেবল কবিতা নয়,এগুলো কীর্তনগান করবার জন্য রচিত হয়ে ছিল।তা না হলে এত ছোট হবে কেন? তাছাড়া সে সময়ে সুর-তাল-লয় বাদ‍্যযন্ত্র আবিষ্কৃত হল ; কোন সময়ে কি ভাবে গান করতে হবে সমস্ত ঠিক হয়ে গেল।অদ্ভুত ব‍্যাপার!আমার ধারণা চারিদিক থেকে চেষ্টার ফলেই এমন ব‍্যাপার দাঁড়িয়েছে।আপামর সাধারণকে বুঝাবার জন্য এসব হয়েছে।এতে তাদের সহানুভূতি সমবেদনা ছিল সন্দেহ নেই।তা না হলে মুসলমান রাজত্বেও এই Culture গড়ে উঠলো এবং টিকে থাকলো কি করে? মহাপ্রভুর যুগ বাংলার খুব উজ্জ্বল যুগ।এই সময়ে দেশে অনেক মনীষী জন্মগ্রহণ করেছিলেন।অসাধারণ পন্ডিতের তখন আবির্ভাব হয়েছিল।স্মার্ত্ত রঘুনন্দন,নৈয়ায়িক রঘুনাথ, বাসুদেব সার্বভৌম তখন উজ্জ্বল জ‍্যোতিষ্কের মত বিরাজ করছেন। স্মার্ত্ত রঘুনন্দন এমন ভাবে হিন্দুধর্মের নিয়ম কানুন বেঁধে দিলেন যে আজ পর্য‍্যন্তও সেই ধারা মেনে চলতে হয়।যখন কাজকর্ম কিছু করতে হয় তখন তাঁর স্মৃতি ছাড়া গত‍্যন্তর নেই।এক অন্ধকার যুগে যে বৈষ্ণবদের প্রেমধর্মের সৃষ্টি হয়েছিল তা নয়।এঁদের একজনও যদি কোনও যুগে জন্মগ্রহণ করতেন তবে সেই যুগ ধন‍্য হয়ে যেত।মহাপ্রভু পৃথিবীতে এমন Dynamic force নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন যার তুলনা হয় না।কেননা বাংলা দেশে সে সময় এমন একটি ভক্তির বন‍্যা বয়ে গিয়েছিল যে দেশের একপ্রান্ত থেকে অন‍্যপ্রান্ত ভেসে গেল।আমরা এখন সে যুগের কল্পনাও করতে পারি না।বৈষ্ণব কাব‍্য বুঝতে গেলে মহাপ্রভুর জীবনের প্রতি দৃষ্টিপাত করতে হয়।তিনি কেমন করে ভগবৎ প্রেমকে সাধারণের মধ্যে সহজবোধ‍্য করেছিলেন তাই বুঝতে হয়।"প্রেম কাকে বলে"? প্রেম অর্থে প্রিয়ের জন্য পরম ব‍্যাকুলতা।*
*🍀যদি ভগবানের সত্তা উপলব্ধি করতে হয় তবে এই প্রেম ছাড়া উপায় নেই।মহাপ্রভুর পূর্বে এই প্রেমের কথা কেউ এমন কোরে বলেননি। বৈষ্ণব কবিগণ মহাপ্রভুকে কি ভাবে গ্রহণ করেছেন তাই দেখতে হবে =*
*নীরদ নয়নে, নীর ঘন সিঞ্চনে,*
         *পুলক মুকুল অবলম্ব।*
*স্বেদ মকরন্দ, বিন্দু বিন্দু চুয়ত,*
         *বিকশিত ভাব-কদম্ব।।*
*কি পেখলুঁ নটবর গৌর কিশোর।*

*এইটি বুঝাতে গিয়ে ভাষার আলোচনা করবো না।এ এমন জিনিস যে অনেক কথা না বুঝালে বুঝা যাবে।মহাপ্রভুর নয়নদুটি অবিরল বারি বর্ষণ করছে।অবিরল বারিপাত হলে বৃক্ষে বৃক্ষে মুকুলের উদগম হয়, তেমনি শ্রীগৌরাঙ্গের কাঁচা সোনার মত দেহে মুকুলের (রোমাঞ্চ)উদগম হয়েছে।••••••••••••••*
*🌹অঙ্গের স্বেদজল মকরন্দের মত বিন্দু বিন্দু ঝরছে ; তাতে ভাবরূপ কদম্ব ফুল ফুটেছে।কদম্ব ফুল ফোটার মধ্যে একটা বৈশিষ্ট্য আছে।অন‍্য ফুল এমন ডগমগ-ভাবে ফোটে না।কদম্ব অর্থ এখানে "সমূহ" হতে পারে।ভাব বলতে কেউ কেউ অষ্ট-সাত্ত্বিক ভাব বলতে পারেন কিন্তু তা নয়, কেননা অষ্টসাত্ত্বিকের মধ্যে অন্ততঃ তিনটির (অশ্রু,পুলক,ঘর্ম্ম) উল্লেখ করে,আবার তার কথা বললে পুনরুক্তি দোষ হয়।*
*🌻শ্রীচৈতন‍্যদেব গৌরবর্ণ বলে তাঁকে সোনার বৃক্ষ বলা হয়েছে।সুরধূনীর তীর উজ্জ্বল করে একটি সোনার গাছ চলে বেড়াচ্ছে। কিন্তু সোনার গাছ কি কখনও চলে বেড়ায়? তাই বলছেন অভিনব,নূতন, আর কখনও এইরকম দেখা যায়নি।ভক্ত সোনার গাছ বলে' তৃপ্ত হতে পারলেন না,তাই বলেছেন সোনার কল্পবৃক্ষ চলে বেড়াচ্ছে।*
*🌳"কল্পতরু" অর্থে যা অভীষ্ট দান করে।মহাপ্রভু কি আমাদের সমস্ত অভীষ্ট পূর্ণ করেন?তা তো নয়,তিনি আমাদের পক্ষে যা পরম হিতকর তাই দান করেন যেচে যেচে,সেধে সেধে,নয়নের জলে ভেসে ভেসে।ঈশ্বরের কাছে আমরা সবই চায়,সবই বলি।তিনি কি দেন? ভগবান সে সকল দেন না তিনি বলেন=*
*🌷সেহ মূর্খ,আমি বিজ্ঞ বিষয় কেনে দিব।*
*🌷স্বচরণামৃত দিয়ে বিষয় ভুলাইব।।চৈঃচঃ।।*

*🌷কাম লাগি কৃষ্ণ ভজে,পায় কৃষ্ণ-রসে।*
*🌷কাম ছাড়ি দাস হৈতে হয় অভিলাষে।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের নাম করতে করতে নামের প্রভাবে যেমনি একটু রসের সঞ্চার হয়,তখন সে আর কিছু চায় না ; শুধু সে ভাবে আমাকে তোমার দাস করে নাও।তাই কবি বলেছেন "অভিনব হেম কল্পতরু সঞ্চরু সুরধূনী তীরে উজোর"।*
*🌹এমন অনেক পদ আছে।নবদ্বীপের সাধারণ ব্রাহ্মণ পরিবারের একটি ছেলের সম্বন্ধে বৈষ্ণবগণ যে দরদ ও মমতা দিয়ে কবিতা লিখেছেন, গান বেঁধেছেন,আজও যে গান শুনে অনেক দরদী,মরমী ভক্ত ভাবুক রসিক অশ্রু বিসর্জন করেন,তার তুলনা বিশ্বসাহিত‍্যের কোথাও পাই না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌹🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৪) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
       *শ্রীজয়দেব গোস্বামী*
      °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🙏কবি-শিরোমণি শ্রীজয়দেব গোস্বামীর কথা পুরাতন। কিন্তু পুরাতন হলেও শ্রীজয়দেব চিরনূতন।শ্রীজয়দেবের বহু আলোচনা হয়েছে,হবেও আরও বহু।তার কারণ শ্রীজয়দেব বাংলা কবিতাধারার মূল ঝরণা বা প্রস্রবণ। বাংলার এক ক্ষুদ্র পল্লী "কেন্দুবিল্ব",সেই পল্লীর কবি নিভৃতে যে গীত গেয়ে গেছেন,তা এই অষ্ট শতাব্দী ধরে বাঙ্গালীর প্রাণ মাতিয়ে রেখেছে।শ্রীজয়দেব গোস্বামী হতেই বাঙ্গালীর গীতি কবিতা।সেই কোমলকান্ত পদাবলী সুর-তান-লয়ে কীর্তনেরও বলা যায় জন্মদান করেছিলেন।বৈষ্ণব গীতি-কবিতার তুলনাও সারা বিশ্বে মিলে না, কীর্তনের মত এমন ললিত কোমল, মদিরা-তরল গানও জগতে দুর্লভ।এই জন্য সমস্ত সভ‍্য জগতে শ্রীজয়দেব গোস্বামীর সমাদর।ইংল‍্যান্ডে Sir Edwin Arnold শ্রীজয়দেবের কবিতার ঝঙ্কারে এত মুগ্ধ হয়েছিলেন যে,তিনি তাঁর ইংরেজি কবিতার সঙ্গে "মা কুরু মানিনি মানময়ে" জুড়ে দিয়েছিলেন।জার্মান,ফ্রেঞ্চ প্রভৃতি ভাষায় গীতগোবিন্দের অনুবাদ হয়েছিল। কেউ কেউ অনেক সময় গীতগোবিন্দকে অনুপ্রাস-বহুল শব্দালঙ্কার-প্রধান কাব‍্য বলে একটু উপেক্ষার চোখে দেখে থাকেন।আমরা অলঙ্কার শাস্ত্র হতে যে শিক্ষা লাভ করেছি,তার এমন সহজ প্রয়োগের সুযোগ কি পরিত‍্যাগ করতে পারি? কিন্তু এরকম নিশ্চিন্ত মনে আমরা যে সিদ্ধান্ত করি,তার মূলে যে কত বড় অবিচার আছে তা ভুলে যাই।আমরা ভুলে যাই যে,শ্রীজয়দেবের গীতগোবিন্দ একখানি গতানুগতিক ধরণের কাব‍্য নহে।কালিদাসের সমস্ত কাব‍্যসৃষ্টির মধ্যে মেঘদূত যেমন মৌলিকতায় এখনও বিশ্বের বিস্ময় উৎপাদন করে,শ্রীজয়দেবের এই গীতি কবিতা তেমনি একখানি মৌলিক কাব‍্য।এর তুলনা প্রাচীন সাহিত‍্যে বিরল।গীতিকবিতা হিসাবেও বটে, সুর-লয়যুক্ত গান হিসাবেও বটে। কালিদাসের প্রসিদ্ধ কাব‍্য বিক্রমোর্বশীতে কয়েকটি অন্ত‍্যমিল যুক্ত গান আছে ; গানগুলি প্রাকৃতে রচিত,প্রায়ই চর্চরী জাতীয়। কিন্তু শ্রীজয়দেব গোস্বামীর গীতগোবিন্দে ছন্দ ঝঙ্কারময়ী যে অনবদ‍্য গীতিকবিতা আমরা পাই,তার তুলনা কোনও দেশের সাহিত‍্যে মিলে না। আধুনিক সমালোচকের বিচারে যদি এই অতুলনীয় মাধুর্য‍্য প্রথম শ্রেণীর কাব‍্যোৎকর্ষ বলে বীবেচিত না হয়,তা হলেও স্রষ্টা হিসাবে শ্রীজয়দেবের স্থান অনতিক্রম‍্য বলে নিশ্চয়ই স্বীকৃত হবে। শ্রীজয়দেব বাংলা কবিতার আদি গুরু বললে বেশী বলা হবে না। বাংলা কবিতার ছন্দ, প্রকাশভঙ্গী,অনুপ্রাস,কোমলতা ও মাধুর্য‍্য সবই শ্রীজয়দেবের বরহস্তের অমূল‍্য দান।জয়দেব তাঁর সংস্কৃত পদাবলীতে যে সুরে সুর বেঁধে দিয়ে গিয়েছেন, বাংলা কাব‍্যলক্ষ্মীর বীণায় তা আজ পর্য‍্যন্ত অনুরণিত হচ্ছে। শ্রীজয়দেব গোস্বামীকে প্রাচীন বৈষ্ণব কবিগণ কি ভাবে অর্চনা করেছেন,তার প্রতি দৃষ্টিপাত করলে বুঝা যায় যে,বঙ্গদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে তাঁর স্থান কত উচ্চে।*
*জয় জয় জয়, দেব দয়াময়,*
        *পিরিতি রতন খনি।*
*পরম পন্ডিত, পূজ‍্যগুণগণ,*
       *মন্ডিত চতুর মণি।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*পদ্মাবতী সহ গানে বিচক্ষণ,*
          *আনে কি উপমা সাজে।*
*পশু পক্ষ ঝুরে শুনিয়া গন্ধর্ব,*
         *কিন্নর মরয়ে লাজে।।*
                     *(শ্রীনরহরি দাস)*
*🌻এই কবি দম্পতী যে গানে অদ্ভুত প্রতিভাশালী ছিলেন,তা সেক-শুভোদয়া হতেও জানা যায়। সেক শুভোদয়া সম্ভবত পঞ্চদশ শতাব্দীতে লিখিত।সেক শুভোদয়ায় একটি গল্প আছে যে বুঢ়নমিশ্র নামে এক দিগ্বিজয়ী গায়ক লক্ষ্মণ সেনের রাজসভায় এসে জয়পত্র লিখে দিতে বললেন। কিন্তু পদ্মাবতী ও জয়দেব এই দিগ্বিজয়ীকে গানে পরাস্ত করলেন।গীতগোবিন্দের "পদ্মাবতীর চরণ চারণে চক্রবর্তী" দেখে কেউ কেউ মনে করেন যে শ্রীজয়দেবের মনোহর গীতের সঙ্গে পদ্মাবতী নৃত্য করতেন।অথবা উভয়েই নৃত‍্যগীতের দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের উপাসনা করতেন।*
*🌹ভক্তমাল ও বনমালী দাসের শ্রীজয়দেব চরিত্রে জয়দেব সম্বন্ধে নানা কিম্বদন্তীও অলৌকিক কাহিনী লিপিবদ্ধ আছে।তার মধ্যে একটি প্রবাদ সর্বাপেক্ষা বেশী প্রচলিত ; শ্রীজয়দেবের গীতগোবিন্দের একটি পদ ভগবান নিজে এসে পূরণ করে দিয়েছিলেন। জয়দেব "স্মরগরল খন্ডনং মম শিরসি মন্ডনং" পর্য‍্যন্ত লিখে অবশিষ্টাংশ লিখতে কুন্ঠিত হলেন।*
*🌷কৃষ্ণচাহে পাদপদ্ম মস্তকে ধরিতে।*
*🌷কেমনে লিখিব ইহা বিস্ময় বড় চিতে।।*
*🙏কিন্তু অনাদিরআদি গোবিন্দ সে সংশয়ের অবসান করে দিলেন, নিজ পদ্মহস্তে লিখে দিলেন=*
*🌹দেহি পদ পল্লবমুদারম্।*
*☘উপরে শ্রীনরহরি দাসের যে পদটি উদ্ধৃত হয়েছে,তাতেও আছে=*
*🌷যার বিরচিত শ্রীগীতগোবিন্দ,*
          *🌷গ্রন্থ সুকৌশল তাতে।*
*🌷গোবিন্দ আনন্দে "দেহি পদপল্লব,*
          *🌷আদি বর্ণিলেন যাতে।।*
*🙏এইসব কিংবদন্তী ও প্রবাদ হতে বুঝতে পারা যায় যে,কবির হৃদয় ভক্তিভাবের উৎস ছিল এবং তাঁর সমকালে এবং পরবর্তীকালেও শীজয়দেবের ন‍্যায় ভক্ত কবি বেশী জন্মগ্রহণ করেননি।বাঙ্গালীর স্বাভাবিক ভাবালুতা ও রসপ্রবণতা শ্রীজয়দেবের কবিতার স্বচ্ছ মুকুরে প্রথম আপনার রূপ দেখল।বাস্তবিক এমন রূপ ও রসের পসরা নিয়ে এর আগে বাংলা দেশে কোনও কাব‍্য আবির্ভূত হয়নি।বাঙ্গালীর প্রতিভা সাধারণতঃ গীতিকবিতা ধর্ম।যে lyric মাধুর্য‍্য গ্রীক সাহিত‍্যে পাওয়া যায়,জার্মান কবি হায়েনের মধ্যে যে রসটি ফুটে উঠেছিল,ইংরেজ কবি শেলির মধ্যে যে রসের আভাস মাঝে মাঝে পাওয়া যায়,তারই মধ্যে বাঙ্গালীর কাব‍্য প্রতিভার বিলাস দেখতে পাওয়া যায়।শ্রীজয়দেবই সেই যাদুকর শিল্পী যিনি রূপে-রসে মজিয়ে তাঁর অনুপম চিত্র অঙ্কন করেছিলেন।*
*🌺কাব‍্যে যত প্রকার রস আছে,তার মধ্যে শৃঙ্গার রসই মুখ‍্য।বিশ্বের সমস্ত কাব‍্যকবিতার মধ্যে এই শৃঙ্গাররস ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে।সার্বজনীন প্রীতির আস্পদ বলেই শৃঙ্গার রসের নাম মধুররস।*
*কিন্তু শ্রীজয়দেব গোস্বামী এই মধুররসকে যে ভাবে পরিবেশন করেছিলেন,তাঁর আগে অন‍্য কেউই সেইরকম পারেননি।বস্তুতঃ ভগবানকে মূর্তিমান শৃঙ্গার রস রূপে কল্পিত করে তিনি যে ভক্তিভাব ও সাহিত‍্যরসের মধ্যে এক স্বর্ণশৃঙ্খল নির্মাণ করলেন,তা সম্পূর্ণ একেবারেই নূতন ব‍্যাপার।মনে রাখতে হবে যে,শ্রীজয়দেবের কাব‍্য ধর্মগ্রন্থ নহে, অর্থ‍্যাৎ মনুসংহিতাও নয়,ভগবদ্ গীতাও নয়। গীতগোবিন্দ কাব‍্য, কাব‍্যরসই ইহার প্রধান সম্পদ।অথচ তার মধ‍্য দিয়ে একটি স্বচ্ছন্দ অন্তঃসলিল প্রবাহরূপে ভক্তিভাবের ফল্গু ধারা তিনি কেমন করে বহাইলেন, তা চিরদিন ভাবুকমনের বিস্ময়ের বস্তু হয়ে থাকবে। তিনি যে "মঙ্গলমুজ্জল গীতি" গেয়ে গিয়েছেন, সেই উজ্জ্বল রসই বৈষ্ণব কাব‍্য,বৈষ্ণব দর্শন ও বৈষ্ণব ধর্মেরসার কথা হয়ে রয়েছে। কারও কারও মতে জয়দেবের কাব‍্যে এই আদিরসাধিক‍্য শ্লীলতারসীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই সমালোচনা নিছক রুচির উপর নির্ভর করছে! কাব‍্যের নিয়ামক পরিবর্তন শীল রুচি নহে,খেয়াল নহে,অলঙ্কার শাস্ত্রের ধরাবাঁধা নিয়ম। কাজেই কাব‍্যের রসসৃষ্টির প্রয়োজনে,অলঙ্কার শাস্ত্রের শাসনে শ্রীজয়দেব যে চিত্রকাব‍্য রচনা করেছেন,তা সাময়িক রুচির দ্বারা বিচার্য নহে।হিন্দু সাম্রাজ‍্যের অস্তগমন কালে শেষ অক্ষম নরপতির রাজসভার রুচি যদি বতর্মান বিংশ শতাব্দীর রুচির দ্বারা সমর্থিত না-ও হয় তা হলেও শ্রীজয়দেবের অনন‍্য সাধারণ সৃজনী প্রতিভার বিলাস ক্ষুণ্ন হতে পারে না।*
*🌳গীতগোবিন্দ আদিরস প্রধান হলেও জয়দেব যে সহজিয়া সম্প্রদায় ভুক্ত ছিলেন না,তা বুঝা যায় তাঁর নিজের উক্তি হতেই। তিনি বলেছেন যে,*
*🌷যদি হরি-স্মরণে সরসং মনো,*
*🌷বিলাস-কলাসু কুতূহলম্।*
*🌷মধুর কোমল কান্ত পদাবলীং,*
*🌷শৃণু তদা জয়দেব-সরস্বতীম্।।*
                  *(গীতগোবিন্দ ১ম সর্গ)*
*🌹সুতরাং শ্রীজয়দেব যে আদিরসের জন্যই আদিরস সৃষ্টি করেন নাই,তা স্বীকার করতেই হবে। তিনি গ্রন্থশেষেও এই কথা বলে উপসংহার করছেন=*
*যদ্ গান্ধর্বকলাসু কৌশলমনুধ‍্যানঞ্চ যদ্বৈষ্ণবং,*
*যচ্ছৃঙ্গারবিবেকতত্ত্বমপি যৎকাব‍্যেষু লীলায়িতম্।*
*তৎসর্বং জয়দেবপন্ডিত কবে ; কৃষ্ণৈকতানাত্মনঃ,*
*সানন্দা ঃ পরিশোধয়ন্তু সুধিয়ঃ শ্রীগীতগোবিন্দতঃ।।*
*🙏হে সুধী সজ্জনগণ!যদি সঙ্গীত শাস্ত্রোক্তগীতরাগতালাদিতে কৌশল,সর্বব‍্যাপী বিষ্ণুর অনুধ‍্যান,কাব‍্যকথায় লীলায়িত শৃঙ্গার তত্ত্ব সম্বন্ধে জ্ঞান লাভের বাসনা থাকে,তবে কবি জয়দেব পন্ডিতের এই শ্রীগীতগোবিন্দ হতে আনন্দ সহকারে তা লাভ করে আশঙ্কাপঙ্ক হতে বিমুক্ত হন( পরিশোধয়ন্তু) কারণ জয়দেবের আত্মা শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে একতান, অর্থ‍্যাৎ শ্রীকৃষ্ণই তাঁর একমাত্র ধ‍্যানজ্ঞান।*
*🌺সহজিয়া সম্প্রদায় অনেকটা বৈষ্ণব ভাবধারা অনুসরণ করে বটে, তাঁদের ভজন প্রণালী কিছু ভিন্ন প্রকার।বৈষ্ণবগণ যেমন লীলাকে সর্বপ্রকার কামগন্ধ বিবর্জিত ভাবে গ্রহণ করবার প্রয়াসী, সহজিয়ারা তা নয়।তাঁদের সহজ সিদ্ধি বা সহজানন্দ যৌনপ্রবৃত্তির একান্তবর্জন-নিষ্ঠ নহে। শ্রীজয়দেবের মত যে এঁদের অনুকূল ছিল না,তা বুঝা যায় শ্রীচৈতন‍্যদেবের অনুরাগ হতে।শ্রীচৈতন‍‍্যদেব যে শ্রীজয়দেবের কাব‍্যের অনুরাগী ছিলেন,তার যথেষ্ট প্রমাণ আছে।শ্রীচৈতন‍্যের প্রিয় পার্ষদ আজীবন ব্রহ্মচারী,সুপন্ডিত,রসজ্ঞ ও ভক্ত স্বরূপদামোদর জয়দেবের পদাবলী গান করে শ্রীচৈতন‍্যদেবকে তাঁর দিব‍্যোন্মাদ দশায় আনন্দ দান করতেন।এই জন্য অন‍্যান‍্য বৈষ্ণব মহাজনগণের অগ্রণী রূপে শ্রীজয়দেব এখনও বঙ্গেদেশে পূজিত হয়ে থাকেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৫) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
       *🙏🙏চন্ডীদাস🙏🙏*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀বাংলার অন‍্যতম শ্রেষ্ঠ কবি চন্ডীদাস কে ছিলেন, কোথায় তাঁর জন্ম, কবে তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন, এ সম্বন্ধে কিছুই নিশ্চিতরূপে জানা যায় না।কিংবদন্তীর অভাব নেই, কিন্তু তার উপর নির্ভর করে কোনোও কথা বলা নিরাপদ নয়।বীরভূমে কিংবদন্তী আছে চন্ডীদাস কীর্ণাহারের কাছে নান্নুর গ্রামে বাস করতেন,এখন সে জায়গা ভগ্নস্তূপে চিহ্নিত হচ্ছে।তার কাছে পুরাণো বাশুলী মন্দিরও ভগ্নস্তূপে পরিণত।চন্ডীদাস এই বাশুলী বা বিশালাক্ষ্মীর সেবক ছিলেন। আবার বাঁকুড়ায় এক কিংবদন্তী আছে যে,চন্ডীদাস ছাতনার কাছে যে নান্নুর আছে,তারই অধিবাসী ছিলেন।সেখানেও বাশুলীর মন্দির আছে। পুরাণো যে মন্দিরটি ছিল,সেটি ভেঙ্গে যাওয়াতে তারই কাছে একটি নূতন মন্দির নির্মিত হয়েছে।রামী রজকিনীর বাড়ী নান্নুরেও আছে,ছাতনায়ও আছে। ছাতনায় এখনও রামী ধুবনীর পাট আছে যেখানে সে কাপড় কাচতো।কয়েক বছর আগে বাঁকুড়া থেকে চন্ডীদাস-রচিত কিছু লেখা বেড়িয়েছে, তাতে বাঁকুড়ার দাবীই সমর্থন করে।কাজেই ব‍্যাপারটি শক্ত হয়ে উঠেছে।আমি ছাতনায় গিয়েছি ; নান্নুরেও গিয়েছি।ছাতনা বাঁকুড়ার শহর থেকে ১২ মাইল দূরে।এখনও সেখানে ধোবা পাড়া আছে।অনেক ধোবা সেখানে বাস করে।চন্ডীদাসের বংশধরেরাও এখানে বতর্মান।চন্ডীদাস অবশ‍্য বিয়ে করেননি। কিন্তু তাঁর নাকি এক ভাই ছিলেন,তাঁরই বংশের ধারা এখনও চলছে।এই বংশধরগণের মধ্যে একজন আমাকে বললেন যে,চন্ডীদাস প্রথমে ছিলেন বীরভূমে, তারপর তিনি বাঁকুড়ায় চলে আসেন।অবশ‍্য এটা অসম্ভব নয়, দূরত্ব ৫০ মাইল মাত্র।এমন হতে পারে যে,চন্ডীদাস প্রথম জীবনে বীরভূমের নান্নুরে বাস করে,শেষজীবন কাটিয়েছিলেন বাঁকুড়ায় এবং সেখানে বাশুলীর মন্দির,শাঁখা পুকুর প্রভৃতি বীরভূমে যেমন ছিল,সে সব ছাতনায় হুবহু এনে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু আমার মনে হয় চন্ডীদাস দুইজন ছিলেন, একজন ছাতনার, আর অপরজন বীরভূম নান্নুরে।এঁদের মধ্যে শেষোক্তই প্রাচীনতর এবং ইনিই সম্ভবতঃ আমাদের শ্রেষ্ঠ কবি চন্ডীদাস। কিন্তু এ শুধু অনুমান,তার চেয়ে বেশী কিছু বলা যায় না।*
*🍀চন্ডীদাসের কবিতার প্রধান গুণ তার সরলতা,যাকে আলঙ্কারিক অর্থে বলেন প্রসাদ গুণ।একজন কবি যেমন চন্ডীদাসের সম্বন্ধে বলেছেন, "সরল তরল রচনা প্রাঞ্জল প্রসাদ গুণেতে ভরা"।তাঁর ভাষায় আড়ম্বর নেই,অলঙ্কারের বালাই নেই। সহজ সরল ভাষায় তিনি প্রাণের কথা বলেছেন। সেই প্রাচীন যুগে যখন বাংলা কবিতার কোনো আদর্শ ছিল না বললেই হয় তখন তিনি এমন স্বচ্ছ সরল প্রাণস্পর্শী ভাষায় কেমন করে কবিতা লিখতে পারলেন।এ ভাবলে আমরা বিস্মিত না হয়ে পারি না কিন্তু তার কারণ এই যে,সে সময়ে করে ততো কবিতা লেখা হত না, যত না হ'ত গানের জন্য।গীতের ভাষা সরল না হলে লোকের কাছে আদরণীয় হয় না।চন্ডীদাসের কবিতা একে গীত-ধর্মী, তাতে আবার তার বিষয়বস্তু হচ্ছে প্রেম।প্রেমগীতি সরল না হলে তা মর্মে প্রবেশ করে না।এই জন্যই চন্ডীদাসের কবিতার ভাষা সরল, ভাব তরল এবং ছন্দ মিষ্ট।এই দেখাদেখি অনেক কবি সহজ অনাড়ম্বর ভাষায় কবিতা রচনা করেছেন, কিন্তু চন্ডীদাসের নিরাভরণা  (আভরণহীনা) ভাষায় যে সৌন্দর্য্য-মাধুর্য‍্য বিকশিত হয়েছে,অন‍্য কেউ তা আনতে পারেননি।চন্ডীদাস অল্পকথায় যে চিত্র ফুটিয়েছেন,তা সত‍্যই মর্ম স্পর্শ করে, এখানেই চন্ডীদাসের অনন‍্য সাধারণ প্রতিভা স্বীকার করতে হবে।*
*🌷এ ঘোর যামিনী মেঘের ঘটা,*
                    *কেমনে আইল বাটে*।
*🌷আঙ্গিনার কোণে বঁধুয়া তিতিছে,*
                *দেখিয়া পরাণ ফাটে।।*
*🌺এই কথাগুলি বলামাত্র একখানি করোণ কোমল চিত্র চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কিন্তু এই যে জলে ভেজা, অশ্রুসজল চিত্র এটি আকস্মিক নয়।পাছে কেউ আকস্মিক বলে উপেক্ষা করে,এই জন্য চন্ডীদাস তাঁর নায়িকার মুখ দিয়ে বলালেন=*
*🌷আপনার দুখ সুখ করি মানে,*
                   *আমার দুখেতে দুখী।*
*🌷চন্ডীদাস কহে কানুর পিরীতি,*
                  *শুনিতে জগত সুখী।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ প্রেমের সার্বজনীন এবং সার্বজনীন অনুভূতি দিয়ে রচিত এই চিত্র।সকল প্রেমিক প্রেমিকার পক্ষেই কথাগুলি প্রযোজ‍্য।*
*🌷আমি যাই যাই বলি বলে তিন বোল।*
*🌷কত না চুম্বন দেই কত দেই কোল।।*
*🌷করে কর ধরি পিয়া শপতি দেই মোরে।*
*🌷পুন দরশন লাগি কত চেষ্টা করে।।*
*🌹হৃদয়ের কাকুতি এর চেয়ে সহজ সরল কথায় প্রকাশ করা যায় কিনা সন্দেহ। চন্ডীদাস যখন বলেন=*
*🌷পরাণ বঁধুরে স্বপনে দেখিনু,*
                   *বসিয়া শিয়র পাশে।*
*🌷নাসার বেশর পরশ করিয়া,*
                   *ঈষত মধুর হাসে।।*
*🌷পিয়ল বরণ বসন খানিতে,*
                 *মু'খানি আমার মুছে।*
*🌷শিথান হইতে মাথাটি বাহুতে,*
               *রাখিয়া শুতল কাছে।।*
*🌹প্রেমিকার এই স্বপ্ন-দর্শন চিত্রটি এত মধুর যে বৈষ্ণব কাব‍্যেও এর তুলনা খুঁজে পাওয়া যায় না। জ্ঞানদাসের প্রসিদ্ধ পদটি চন্ডীদাসের অনুকরণে রচিত বটে, কিন্তু তিনিও এতখানি দরদ দিয়ে লিখতে পারেননি।*
*🌷রজনী শাঙন ঘন ঘন দেয়া গরজন,*
         *রিমি ঝিমি শবদে বরিষে।*
*🌷পালঙ্কে শয়ান রঙ্গে বিগলিত চীর অঙ্গে,*
         *নিন্দ যাই মনের হরিষে।।*
*🔷এই চিত্রও অতুলনীয় কিন্তু এ ধনীর দুলালীর চিত্র।চন্ডীদাসের সেই পল্লীবালার সুখ-দুঃখ বেদনার চিত্র এ নয়। "শিথান হইতে মাথাটি বাহুতে রাখিয়া শুতল কাছে"। এমন আন্তরিকতা জ্ঞানদাসের কবিতায় ফোটে না।চন্ডীদাসের চিত্রটি বড় সরস,বড় কোমল অনুভূতির স্পর্শে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। তারপরে স্বপ্ন যখন ভেঙ্গে গেল,তখন রাধার অবস্থার যে চিত্র চন্ডীদাস দিয়েছেন, সে অতি অপূর্ব।*
*🌷কপোত পাখীরে চকিতে বাঁটুল,*
                *বাজিলে যেমন হয়।*
*🌷চন্ডীদাস কহে এমন হইলে,*
                 *আর কি পরাণ রয়।।*
*🌳নিবিড় মিলনে বিভোর কপোত-দম্পতির একটিকে হঠাৎ বাঁটুল মারলে সে যেমন যন্ত্রণায় ছটফট করে,স্বপ্ন-ভঙ্গে রাধার দশাও তেমনি হয়েছিল।বাঁটুল অর্থে ধনুক হতে যে গোলাকার সীসা বা লৌহখন্ড সজোরে নিক্ষিপ্ত(বা ছাড়া) হয়। পল্লীসুলভ এই উপমাটিতে চিত্র অপূর্ব সজীবতা লাভ করেছে।*
*🍀চন্ডীদাসের শ্রীরাধার চিত্রে প্রেমের এই যে ঐকান্তিকতা ফুটে উঠেছে,তা-ই পরবর্তী কবিদের মনে প্রেমের উচ্চ আদর্শ মুদ্রিত করে দিয়েছে।চন্ডীদাস বলেছেন,এমন প্রেমে বিচ্ছেদ হলে আর কি পরাণ রয়?তাই আমরা দেখি তাঁর অনেক পরে শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী বলেছেন=*
*অকৈতব কৃষ্ণপ্রেম,যেন জাম্বুনদ হেম,*
       *সেই প্রেম নৃলোকে না হয়।*
*যদি তার হয় যোগ,না হয় তার বিয়োগ,*
       *বিয়োগ হৈলে কেহ না জীয়য়।।*
                  *(শ্রীচৈঃচঃ মধ‍্য ২পরিঃ)*
*🌹অর্থ‍্যাৎ এ প্রেম স্বর্গীয়, এমন প্রেম যদি ভাগ‍্যগুণে কারও হয়, তবে সে প্রেম বিচ্ছেদ সহে না।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🪷🦚🦚🦚🦚🦚🦚

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৬) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
     *🙏🙏চন্ডীদাস🙏🙏*
    🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*🍀চন্ডীদাস স্পষ্টই বলেছেন=*
*🌷পিরীতি লাগিয়ে পরাণ ছাড়িলে,*
                *পিরীতি মিলয়ে তথা।*
*🌹চন্ডীদাস সারা জীবন এই পিরীতের মহিমাই গান করেছেন।প্রেমকে এমন বড় করে আর কোনও দেশের কোনও কবি দেখাননি।তাই বাংলার নরনারী যুগ যুগ ধরে, চন্ডীদাসের পায়ে মাথা বিকিয়ে দিয়েছে। "না জানে পিরীতি যারা নহি পায় তাপ", যারা পিরীতের মর্ম জানে তাদের কোনও দুঃখ পেতেও হয় না। (দুখ নহিলে প্রেমে সুখ কি)?*
*পিরীতি বলিয়া , এ তিন আখর,*
          *ভুবনে আনিল কে।*
*মধুর বলিয়া, ছানিয়া খাইনু*
          *তিতায় তিতিল দে।।*
*🍀নিখিল মধুরতার খনি এই প্রেমের সঙ্গে সন্দেহ,শঙ্কা,বিরহের পরম ব‍্যথা গাঁথা রয়েছে।এই কথায় চন্ডীদাস সবজায়গায় বলতে চেয়েছেন।এই অফুরন্ত ব‍্যথাবেদনা প্রেমকে এক পরম রহস‍্য জড়িত করে তুলেছে। সাধারণতঃ প্রেমকে Sex instinct বলে যাঁরা মনে করেন,তাঁরা কখনও চিন্তা করেন না যে নিখিল মানব মনের এই সুকুমার বৃত্তিটির মধ্যে দুঃখই সবচেয়ে বড় জায়গা অধিকার করে রয়েছে।প্রেমের সার্থক বিকাশ সেইখানে,যেখানে মানুষ স্বেচ্ছায় দুঃখকে বরণ করে নেয় জীবনের চিরসাথীরূপে।কামনা বাসনা,স্বার্থ-চিন্তা যে প্রেমকে বিচলিত করে তোলে,সে প্রেমাভাস মাত্র, প্রেম নয়।বৈষ্ণবগণ তাকে বলেছেন "কাম"।চন্ডীদাসের প্রেম আদর্শ সৃষ্টি করেছে।তাই চন্ডীদাস শুধু বাংলার কবি নন,তিনি বিশ্বের কবি।সমস্ত দেশে সর্বকালে তাঁর এই আদর্শ মহনীয় হয়ে রয়েছে।একবার একজন ফরাসী মহিলা এদেশে বেড়াতে এসে চন্ডীদাসের কাব‍্যের পরিচয় পান।তিনি এতই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে কতকগুলো কবিতা সংগ্রহ করে "ফরাসী ভাষায় " তার অনুবাদ করে বই ছাপিয়েছিলেন।সে গ্রন্থের নাম "Amours de Radha et Krishna. এখানে একটি কথা বলে রাখা দরকার। যাঁরা মনে করেন যে এ ভাষা পাঁচশ বছরের পুরাতন হতেই পারে না,তাঁরা সাধারণতঃ ইংরেজি ভাষার Chaucer এর সঙ্গে Tennyson এর ভাষার তুলনা করে,একথা বলেন।ইংরেজি ভাষার যে পার্থক্য দেখা যায়,তাঁরা মনে করেন যে এদেশের ভাষায়ও ঠিক সেই রকম পার্থক্য নিশ্চয়ই থাকবে! কিন্তু আমাদের দেশের কাব‍্য সাহিত‍্য আলোচনা করলে দেখা যায় যে কিছু কিছু পরিবর্তন ঘটে থাকলেও মোটামুটি কবিতার ভাষা সেই প্রাচীন যুগ থেকে অনেকটা একই রকম চলে আসছে।কৃত্তিবাসের কথা ছেড়ে দি,মালাধর বসুর ভাষা,বাসুদেব ঘোষের ভাষা,লোচন দাসের ভাষা এসব আলোচনা করলে দেখা যাবে যে আমাদের ভাষার কাঠামো বেশী বদলায়নি।আমি কেবল সংশয়টির আভাস মাত্র দিয়ে আমার মত ব‍্যক্ত করলাম ; যাঁরা এ বিষয় আরো ভাল করে জানতে চান,তাঁরা প্রাচীন সাহিত‍্য আলোচনা করে দেখবেন।*
*☘ভাষার কথা ছেড়ে দিলেও চন্ডীদাসের আরোও যে বৈশিষ্ট্য আছে,তা চন্ডীদাসকে আমাদের কাছে চিনিয়ে দেয়।চন্ডীদাসের শ্রীরাধার চিত্রটি এক অপূর্ব সৃষ্টি।রাধা প্রিয়তমের নাম শুনেই পাগল।একবার মাত্র নাম শুনেই তাঁর প্রাণ আকুল হয়ে উঠল।শ‍্যামের বাঁশী যখন বাজে,তখন তিনি সব কাজ ভুলে যান, আত্মহারা হয়ে পড়েন। সেই বাঁশীর সুরের আশায় তাঁর নয়ন পুনঃ পুনঃ কদম্ব কাননের দিকে ধাবিত হয়।*
*মন উচাটন,নিশ্বাস সঘন,কদম্ব কাননে চায়।*
*🌹এ কদম্ব কানন হতেই তো বাঁশীর লহরী ভেসে আসে। এই হলো শ্রীরাধার পূর্বরাগ! মিলনের পূর্বেই তাঁর মন প্রাণ তিনি নিঃশেষে প্রিয়তমের শ্রীচরণে অর্পণ করে দিয়েছেন।*
*কহে দ্বিজ চন্ডীদাসে, কুলবতী কুল নাশে,*
       *আপনার যৌবন যাচায়।*
*🍀সুতরাং সংসারের আকর্ষণ তাঁর মনকে বেঁধে রাখতে পারে না। কদম্বতলা দেখলে তাঁর প্রাণ কেঁদে ওঠে,যমুনার জল দেখলে যার বন্ধুকে মনে পড়ে,সংসারে তার কোনও আসক্তি থাকতে পারে কি? রাধার প্রেমের জন্য যৌবনে যোগিনী সাজলেন!*
*🌷পিয়ার পিরীতি লাগি যোগিনী সাজিনু।*
*🌷তবু-তো দারুণ চিতে সোয়াস্তি না পানু।।*
*☘তিনি যে মনে মনে শুধু বৈরাগ‍্য অবলম্বন করলেন, তা নয়। যোগিনীর যে বেশ,গেরুয়া বসন,তাই ধারণ করলেন!*
*বিরতি আহারে রাঙ্গাবাস পরে,*
               *যেমতি যোগিনী পারা!*
*🌹প্রেমে যে মনে বৈরাগ‍্য এনে দেয়, একথা নূতন নয়। কিন্তু পূর্বরাগে প্রেমিকাকে যোগিনী সাজাতে একমাত্র চন্ডীদাসই পেরেছিলেন।আমরা কালিদাসের কুমার-সম্ভবে উমার তপস‍্যার কথা পড়েছি, কিন্তু সেখানে প্রেমের ব‍্যাকুলতা অপেক্ষা অটল সংকল্পও সাধনার দৃঢ়তা আমাদের মনে পড়ে বেশী। "মন্ত্রের সাধন কিম্বা শরীর পতন", এই ভাবটাই সেখানে বেশী দেখা দিয়েছিল। কিন্তু কিশোরী রাধা যোগিনী সাজে প্রেমের অতি কমনীয় মূর্তিটি লাভ করেছেন।*
*🌺চন্ডীদাস কোথা হতে এই চিত্রের উপাদান পেয়েছিলেন তা আমরা জানি না,তবে এই কথা আমরা বলতে পারি যে,চন্ডীদাসের শ্রীরাধা বাংলা কাব‍্য সাহিত‍্যে যে মূর্তিটি প্রথম প্রবেশ করলেন তাতে এমন একটি পটভূমি তৈরী হলো যা চিরদিনের জন্য বাংলা কাব‍্যকে এক অফুরন্ত গম্ভীর মাধুর্য‍্যে মন্ডিত করে রেখেছে।চন্ডীদাস প্রথম থেকে যে উচ্চগ্রামে তাঁর প্রেমগীতির সুর বাঁধলেন,তা শুধু যে বাংলার বৈষ্ণব সাহিত‍্যকে ধন‍্য করেছেন,তা নয়,গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মকেও প্রেরণা যুগিয়েছে। অনেকে বলেছেন যে,চন্ডীদাস বিরহের কবি, কিন্তু আমার মনে হয় কথাটি সম্পূর্ণ সত‍্য নয়।চন্ডীদাস প্রেমের কবি। প্রেমে সুখও আছে,দুঃখও আছে।প্রধানতঃ প্রেমের চারিদিকে ঘিরে থাকা দুঃখের অশ্রুজল।বিরহের মেদুর(স্নিগ্ধ) মেঘের মধ‍্য দিয়েই প্রেমের চাঁদিনী ফুটে ওঠে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৭) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
   *🙏🙏চন্ডীদাস🙏🙏*
 ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌷এই ভয় উঠে মনে এই ভয় উঠে।*
*🌷না জানি কানুর প্রেম তিলে জনি টুটে।।*
*🌳সদাই এই ভয় হয়,এত প্রেম এত আনন্দ, পাছে এই সুখের স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়। প্রেম বড় ভঙ্গপ্রবণ,কোথাও একটু সন্দেহের আঘাত লাগলে বিম্বের ফানুসের মত মিলিয়ে যায়।তাই মিলনেও সুখ নাই।অশ্রুধারায় প্রেমের জন্ম,এই হলো চন্ডীদাসের কাব‍্যের মূল সুর ; বিরহের বাদল ধারায় প্রেম রামধনুর রঙ ফলায়, তাই তো প্রেম এত মধুর।নরনারীর মিলন মেলায় প্রেমের যে মালা গাঁথা হয়,তাই চন্ডীদাস দেবতার গলায় দেবার যোগ্য করে তুলেছেন।এইখানেই চন্ডীদাসের আইডিয়ালিজম্। এই আইডিয়ালিজম্ বা আদর্শের উচ্চভাবের জন্য চন্ডীদাসের প্রেম সর্বকালের মানবের আস্বাদ‍্য হয়েছে। দেহের সম্বন্ধের বহু উর্ধ্বে প্রেমকে স্থাপন করে, চন্ডীদাস এই যে প্রেমের এক সুমহান আদর্শ দেখিয়ে দিলেন,তাতে এর মানবিকতার উপাদান বা Human element এর অভাব নেই।চন্ডীদাসের প্রেম স্বর্গীয়, কিন্তু মানবিক সহানুভূতির প্রাচুর্য‍্যের ফলে তাঁর চিত্র প্রাণবন্ত হয়েছে।কাজেই চন্ডীদাসের সঙ্গে সকলেই অশ্রু মিশাতে পারেন।তাঁর পিরীতি সহজ সাধ‍্য নয়, কিন্তু মানুষের নাগালের বাইরেও নয়।*
*🌷পিরীতি পিরীতি সবজন কহে,*
                  *পিরীতি সহজ কথা।*
*🌷বিরিখের ফল নহেত পিরীতি,*
                 *নাহি মিলে যথা তথা।।*
     *🌻বিরিখ= বৃক্ষ বা গাছ।*
*🌺এ প্রেম মানুষের সহজাত সংস্কার বলে লব্ধ নয়,এর জন্য চাই রসের নিবিড় অনুভূতি।বিরহ থাকে থাক,জীবন যায় যাক,তবু প্রেমের সুখের মত সুখ নেই।প্রেম নহিলে জীবনে কি লাভ!*
*🌷চন্ডীদাস কহে শুনহে নাগরি,*
             *পিরীতি রসের সার।*
*🌷পিরীতি রসের রসিক নহিলে,*
             *কি ছার জীবনে তার।।*
*🌹চন্ডীদাসের ভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলার কত কবি কত কবিতা কত গান লিখে গেছেন।কবিগণ দলে দলে এই প্রেমের সঙ্গীত গান করেছেন।কোনও কোনও কবি চন্ডীদাসের অনুকরণে কবিতা লিখে ভণিতায় নিজের নাম দিতে ভুলে গেছেন,চন্ডীদাসেরই নাম জুড়ে দিয়েছেন। এইসব অনুকরণের মধ‍্যে যে ভাল কবিতা দু-চারটে নেই,একথা বলা যাবে না।ফলে হয়েছে এই যে,কোন কবিতা আসল,কোন কবিতা নকল,তা আর ঠিক করবার উপায় নেই।আমি এখানে সে জটিল সমস‍্যার বিচারে রত হতে চাই না।তবে আমি শুধু বলতে চেয়েছি যে চন্ডীদাসের কাব‍্যে এমন একটি রসের ধারা আছে যা কষ্টিপাথর রূপে আমাদের চন্ডীদাসকে চিনিয়ে দিতে পারে।সে রসধারার সঙ্গে শ্রীচৈতন‍্যদেবের প্রেম-ধর্মের অপূর্ব মিল আছে।খাঁটি চন্ডীদাসকে চিনিবার পক্ষে এতেও কিছু সহায়তা করবে,যে কবি পিরীতির জয়গান কোরে ধন‍্য হয়েছিলেন, যে কবি গোবিন্দদাসের নমস‍্য,যিনি জ্ঞানদাসের উপাস‍্য,প্রেমিক সন্ন‍্যাসী গৌরসুন্দর বাংলার সেই মরমী কবির কাব‍্যসুধা পান করতেন,এই অনুমানই অপরিহার্য হয়ে উঠে।এই চন্ডীদাসের পদাবলী শ্রীমন্মহাপ্রভু গান করতেন,শুনতেন, আর নয়নেরজলে ভাসতেন।একথা আমরা প্রাচীনদের মুখে শুনি। একদিকে মহামানব শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য,অন‍্যদিকে মানবিকতার ধ‍্যানমগ্ন কবি চন্ডীদাস।কবি শ্রীচৈতন‍্যদেবকে দেখেননি, কিন্তু তা হলেও তিনি উচ্চকন্ঠে ঘোষণা করতে পেরেছিলেন ঃ----*
*🌷শুনহে মানুষ ভাই।*
*🌷সবার উপরে মানুষ আছয়ে,*
*🌷তাহার উপরে নাই।।*
                    *অথবা*
*🌷মানুষ মানুষ, সবাই বলয়ে,*
           *মানুষ কেমন জন।*
*🌷মানুষ রতন, মানুষ জীবন,*
          *মানুষ পরাণ ধন।।*
*🌹কবি এই যে নূতন কথা বরে গেলেন,তাই ফলেছিল এই বাংলা দেশেই এক শতাব্দী পরে।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৩৮. কৃষ্ণকীর্তনের সুর ও তাল 🎵 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৮) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
*কৃষ্ণকীর্তনের সুর ও তাল*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆

*🍀কৃষ্ণ-কীর্তনের পুঁথি আবিস্কৃত হবার পরে এর সম্বন্ধে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু আমি যতদূর জানি,এর সঙ্গীত সম্বন্ধে কোনও আলোচনা এ পর্যন্ত হয়নি।এই পুথির সাঙ্গীতিক অংশে যে নূতনত্ব আছে,তা অনেকেই লক্ষ্য করে থাকবেন। আমাদের পরিচিত অন‍্য কোনও প্রাচীন বা অর্বাচীন পুথিতে রাগ রাগিনী ও তালের এরকম বিস্তৃত সমাবেশ নাই,এটি নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে। এইসব পুঙ্খানুপুঙ্খ নির্দেশ-সংবলিত সঙ্গীতের সম্বন্ধে অনুসন্ধান আবশ‍্যক।সঙ্গীতে যাঁরা বিশেষজ্ঞ, আমি এই প্রবন্ধে কয়েকটি বিষয়ে তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।*
*☘প্রথম এর অভিনবত্ব। কৃষ্ণকীর্তনের সব কবিতাই গীত ; এইসব কবিতার উপরিভাগে বিস্তারিত ভাবে সুর ও তাল দেওয়া হয়েছে।কোনও কোন গীতে শুধু সুর দেওয়া হয়েছে,তালের উল্লেখ নেই।কয়েকটি নমুনা দিলেই আমার বক্তব‍্য সুস্পষ্ট হবে ঃ------*
*🌷পাহাড়ীয়াআ রাগঃ।। ক্রীড়া।।*
*🌷গুজ্জরী রাগঃ।। কুড়ুক্কঃ।।*
*🌷কোড়ারাগঃ।। অঢ়ুক্কঃ।।*
*🌷গুজ্জরীরাগঃ।।রূপকং।।লগনী।।জয়জয়।।*
*🌷মালব রাগঃ।।প্রকীণ্ণকঃ।।চিত্রকঃ।।লগনী।।রূপকং।। দন্ডকঃ।।*
*🌷মালব রাগঃ।।বিচিত্র লগনী।। দন্ডকঃ।।*
*🌷রামগিরী রাগঃ।।প্রকীণ্ণক।।চিত্রকং।।লগনী।।একতালি।।দন্ডকঃ।।*
*🌷বিভাষ রাগঃ।।দন্ডকঃ।। একতালি।।রূপকথা।।দন্ডকঃ।।*
*🌷পাহাড়ীআ রাগঃ।।প্রকীণ্ণক।।লগনী।।দন্ডকঃ।।ক্রীড়া।।*
*🌹অনুস্বার বিসর্গ দেখে আপাততঃ বোধ হতে পারে যে,সংস্কৃত সঙ্গীত গ্রন্থ হতে এইসব নেওয়া হয়েছে। কিন্তু যতদূর দেখা যায় তাতে প্রাচীন সংস্কৃত শাস্ত্রে যেসব রাগরাগিনী বা তালের উল্লেখ আছে,কৃষ্ণকীর্তনে তার অনেক ব‍্যতিক্রম দেখা যায়। "সঙ্গীত রত্নাকর" একটি অতি প্রাচীন গ্রন্থ।খ্রীষ্টীয় এয়োদশ শতাব্দীতে এই গ্রন্থ নিঃশঙ্ক শার্ঙ্গদেব সংকলন করেন। শার্ঙ্গদেব দৌলতাবাদের যাদব বংশীয় নরপতি সিংঘনের সমকালে বতর্মান ছিলেন। সিংঘন নরপতি শকাব্দ ১১৩২ হতে ১১৬৭ (১২১০--১২৪৫ খ্রীঃঅঃ) পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন। সঙ্গীতরত্নাকর সঙ্গীত সম্বন্ধে একটি অতি প্রাচীন ও প্রামাণিক গ্রন্থ।এর টীকাকারও একজন প্রসিদ্ধ ব‍্যক্তি।খ্রীষ্টীয় পঞ্চদশ বা ষোড়শ শতকে চতুরকল্লিনাথ এর টীকা প্রণয়ন করেন।কল্লিনাথ বিজয় নগরের অভ‍্যুদয় কালে (১৪শ হতে ১৬শতক) আবির্ভূত হয়েছিলেন। আমাদের দেশে প্রাচীনকাল হতে সঙ্গীত সম্বন্ধে বহু প্রামাণিক গ্রন্থ রচিত হয়েছিল। সঙ্গীত রত্নাকর বৃহৎ সঙ্গীত রত্নাকর,সঙ্গীত পারিজাত,সঙ্গীত দামোদর, সঙ্গীত মুক্তাবলী, সঙ্গীত সার, সঙ্গীত চন্দ্রিকা প্রভৃতি।এইসব গ্রন্থে বহু রাগরাগিনীর নাম আছে এবং তাল-অধ‍্যায়ে তালের নাম আছে।সঙ্গীত রত্নাকরে একশ কুড়িটি তালের নাম আছে।মতান্তরে তালের সংখ্যা দুইশ চব্বিশ (সঙ্গীতরাগকল্প-দ্রুম)।রত্নাকরের টীকায় কল্লিনাথ "দেশী" সঙ্গীতঙ্গেরা দেশী তাল ও সুরের সন্ধান রাখতেন এবং সেগুলিকে তাঁদের গণনার মধ্যে আনতেন।তাল সম্বন্ধে ভারতীয় সঙ্গীতের এক অসাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে। অন‍্য দেশের সুর ও প্রণালী সম্বন্ধে যতই উৎকর্ষ স্বীকার করা যাক না কেন,তালের অশেষ প্রকার ভেদ ও তার লক্ষণ-নির্দেশ ভারতবর্ষের এক অনন‍্যসাধারণ বৈলক্ষণ‍্য। প্রাচীনকালেও বিভিন্ন তালের বোল সঙ্গীত শাস্ত্রে লিপিবদ্ধ হয়েছিল। (সঙ্গীত রত্নাকরের বাদ‍্যাধ‍্যায়ে মৃদঙ্গের বোল দ্রষ্টব‍্য)। কিন্তু সঙ্গীতের এইরকম বিস্তৃত বর্ণনার মধ্যেও কৃষ্ণকীর্তনে ব‍্যবহৃত সাঙ্গীতিক শব্দগুলির মধ্যে অনেকগুলির সন্ধান মিলে না।কতকগুলি হয়ত কিছু রূপান্তরিত হয়ে ব‍্যবহৃত হয়েছে। যথা---, ককূ, কহু=ককুভ ; আহের=আভীর, আভীরী বা আহীর ; রামগিরি=রামক্রী, রামকলি বা রামকেলি। ধানুষী=ধনাশ্রী। লগনী =লাউনী বা লগ্নী নামক গীত। দেশাগ =দেশাখ,দেশাখ‍্য। "দন্ডক" বলতে একটি ছন্দ বুঝায়। (পাদৈ স্বরৈর্দন্ডকেন ছন্দসা মতঃ। সঙ্গীতরত্নাকর।*
*🍀দন্ডকাশাবরীবৃত্ত দন্ডকাশাবরী যথা।*
*🍀তথা দন্ডক-কোডারে স রাগঃ কিল জায়তে।।*
       *(রাগতরঙ্গিণী ৩১০ বৎসর আগে রচিত)।*
*🌻কিন্তু গীতের প্রসঙ্গে তার অবকাশ কোথায়,তা বুঝতে পারা কঠিন।ক্রীড়া,কুড়ুক্ক প্রভৃতি অপেক্ষাকৃত অপ্রসিদ্ধ তালের উল্লেখ সঙ্গীত রত্নাকরের একশ একুশটি তালের মধ্যে পাওয়া যায়। কিন্তু প্রকীণ্ণক কি বস্তু?প্রকীর্ণক অর্থে "চামর" জানি।চৈতন‍্য মঙ্গল গানে চামরের ব‍্যবহার দেখা যায়।গায়ক মধ্যে মধ্যে চামর হাতে নিয়ে নেচে নেচে গান করেন।রামায়ণ গানেও কোথাও কোথাও এই প্রথা আছে। (সঙ্গীত রত্নাকরে রাগরাগিনীর বর্ণনায় "প্রকীর্ণক" নামে একটি অধ‍্যায় আছে।সেখানে এরকম কতকগুলি সুরের পরিচয় দেওয়া হয়েছে,যা বিষয়-বিভাগের মধ্যে ধরে পড়েনি। প্রকীর্ণত্বং চ গ্রন্থস‍্য বিষয় বিভাগেন বিনা প্রবৃত্তত্বমুচ‍্যতে।◆কিন্তু কৃষ্ণকীর্তনে সুরের বিশেষ উল্লেখ থাকায় এ অর্থ প্রযোজ‍্য নয় বলিয়া মনে করি)।*
      *আজ এ পর্য‍্যন্ত থাক, ক্রমাগত।*

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৩৯. কৃষ্ণকীর্তনের সুর ও তাল 🎵 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৯) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
*কৃষ্ণকীর্তনের সুর ও তাল*
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆

*কিন্তু অঢ়ুক্ক,জয়জয়,চিত্রক, রূপকথা,বিচিত্র বা চিত্রক লগনীর অর্থ কি? "রূপকথা" শব্দটি বেশী পুরাতন বলে জানা ছিল না। "রূপকড়া" নামে একটি অল্প পরিচিত তাল আছে বটে, কিন্তু এটিও আধুনিক।বিশেষজ্ঞরা এ সম্বন্ধে হয়ত বলতে পারবেন। আমরা জানি,রাগরাগিনী ও তাল অসংখ্য। সঙ্গীতশাস্ত্রকারেরা সঙ্গীতকে অনন্ত সমুদ্র বলেছেন=*
*🌷নাদাব্ধেস্তু পরং পারং ন জানাতি সরস্বতী।*
*🌷অদ‍্যাপি মজ্জনভয়াৎ তুম্বং বহতি বক্ষসি।।*
*🌹ভিন্ন ভিন্ন দেশে গানের বিভিন্ন গতি, এটিও সঙ্গীতকারেরা লক্ষ্য করেছেন=*
*🌷দেশে দেশে ভিন্ন নাম তদ্দেশীগানমুচ‍্যতে।*
*🌻আমার মনে হয়, কৃষ্ণকীর্তনের সঙ্গীত প্রণালী কোনও দেশীয় বা স্থানীয় রীতির পরিচয় দিচ্ছে। এই রীতির সম্বন্ধে প্রাচীন সঙ্গীতশাস্ত্র হতে বিশেষ কিছু জানা যায় না।এটি সম্ভবতঃ বেশী প্রাচীন নয়।যথা রাগ গবড়া,রাগঅরু ইত্যাদি। চর্য‍াপদে তালের উল্লেখ নাই, কিন্তু সুরের মধ্যে রামক্রী,বলাড্ডি,মালসী, ভৈরবী, পটমঞ্জরী, গুঞ্জরী বা গুজ্জরী প্রভৃতির উল্লেখ আছে।*
*🌺এর পরে জয়দেবে আমরা সঙ্গীতের যে ধারা পাচ্ছি, তাও প্রাচীন রীতির অনুগামী। গীতগোবিন্দে যে সুর ও তালের উল্লেখ আছে, তা সরল। যথা= মালব রাগ রূপক তাল, গুজ্জরী রাগ নিঃসার তাল,বসন্ত রাগ যতি তাল, কর্ণাট রাগ দেশাগ রাগ একতালী ইত্যাদি।এসব কোনও স্থানীয় বা দেশীয় রীতির অনুসরণ করেনি।আশ্চর্য‍্যের বিষয় এই যে, কৃষ্ণকীর্তন অনেক স্থলে শ্রীজয়দেবের একান্ত অনুকরণ করলেও সুর তাল সম্বন্ধে অনুকরণ করেননি।এর কারণ কি? তাও ভাববার বিষয় বটে। চৈতন‍্য-পূর্ববর্তী মালাধর বসুর শ্রীকৃষ্ণবিজয় বা গোবিন্দ বিজয় গ্রন্থে সঙ্গীতের যে প্রণালী দেখা যায়,তা কৃষ্ণকীর্তনের অনুরূপ নয়। এই পুস্তকের প্রাচীনতম পুথি দেখে কেদারনাথ দত্ত ভক্তিবিনোদ মহাশয় প্রায় ৫০ বৎসর পূর্বে যে পুস্তক ছাপিয়েছিলেন, তাতে রাগরাগিনীর যে ক্রম দেখা যায়, তা সঙ্গীতশাস্ত্রসম্মত বটে।তালের নির্দেশ নাই, কেবল সুর দেওয়া আছে ; যথা= শ্রীরাগ,সুইরাগ,রামক্রী,পটমঞ্জরী, বসন্ত,মল্লার,ধানশ্রী ইত্যাদি।এই গ্রন্থের ভূমিকায় ভক্তিবিনোদ মহাশয় বলেছেন যে,অদর্শ পুথিখানি শ্রীচৈতন‍্য-জন্মের দুই বৎসর আগে লিখিত হয়েছিল (১৪০৫ শক)।কৃষ্ণকীর্তন যদি এর ১০০ বা ১৫০ বৎসর আগে (রাখালদাস বন্দোপাধ‍্যায়) রচিত বা লিখিত হয়ে থাকে, তবে সে পদ্ধতি শ্রীকৃষ্ণবিজয়ে কেন অনুসৃতহল না, তাহাও বিবেচ‍্য। আমার মনে হয়,কৃষ্ণকীর্তন চৈতন‍্য পরবর্তী কালের কোন দেশীয় বা স্থানীয় সঙ্গীতরীতি অবলম্বন করে লিখিত হয়েছিল। এই পুথিটি বাঁকুড়া জেলায় পাওয়া গেছে। পন্ডিত বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্ বল্লভ ১৩১৮ সালে এটি আবিস্কার করেন বনবিষ্ণুপুরের কাছে। ঐ অঞ্চলের ইতিহাস আলোচনা করলে দেখা যায় যে,সপ্তদশ শতকে বিষ্ণুপুরে দেশীয় রাজাদের প্রভাবে নানা বিষয়ে উৎকর্ষ ঘটেছিল। ☆The Rajas of Mallabhum seem now (from the time of Raghunath Singh--- seventeenth century) to have entered on their palmiest days, if we may judge by the exquisite memorials left by him and his descendants-- O'Maley (District Gazetteer).*
*🍀সম্ভবতঃ বিষ্ণুপুর এই সময়ে সঙ্গীতচর্চার জন্য ও প্রসিদ্ধি লাভ করে। বীরহাম্বীর ষোড়শ শতাব্দীর শেষ ও সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে মোগল-পাঠান কলহে লিপ্ত হয়েছিল।এটি ইতিহাস হতে জানা যায়।বৈঠকী সঙ্গীতের চর্চা বঙ্গদেশের মধ্যে এই মল্লরাজগণের প্রভাবে বনবিষ্ণুপুরেই বেশী পরিমাণে হয়েছিল। সেই জন্য এখনও আমরা বিষ্ণুপুরী রীতি বলে উচ্চাঙ্গের সঙ্গীতের একটি অপেক্ষাকৃত স্বতন্ত্র প্রণালীর সন্ধান পাই।প্রচলিত হিন্দুস্থানী রীতি হতে এটি উৎকৃষ্ট বা অপকৃষ্ট, সে প্রশ্নের কোনও প্রয়োজন নাই। আমরা শুজানতে পেরেছি যে,বিষ্ণুপুরই সঙ্গীতচর্চায় একদিন বঙ্গদেশের গৌরব রক্ষা করতে সমর্থ হয়েছিল।*
*কৃষ্ণকীর্তনের সঙ্গীতেও যে সেই প্রভাবের ঢেউ পৌঁছেছিল এই অনুমানই স্বাভাবিক বলে মনে হয়।কারণ এই সময়ে অর্থ‍্যাৎ প্রায় তিনশ বা সাড়ে তিনশ বছর আগে বঙ্গের সর্বত্র সঙ্গীতচর্চার ধুম পড়ে গিয়েছিল।খ্রীষ্টীয় ষোড়শ শতাব্দীর শেষ এবং সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম পাদে কীর্তনেরও প্রসার ঘটে। এই সময়ে শ্রীনরোত্তম দাস ঠাকুর গরাণহাটী বা গড়ের হাটী কীর্তনের প্রবর্তন করেন।রাঢ়ে জ্ঞানদাস, বলরাম দাস প্রভৃতি মনোহরসাহী সুরের সৃষ্টি করেন। সুতরাং এই যুগ হতে সঙ্গীতের অনুশীলন বঙ্গদেশে প্রবল ভাবে হয়েছিল ধরা যায় এবং কৃষ্ণকীর্তনও সেই যুগে লিখিত বলে অনুমান করলে তা অসঙ্গত হয় না। কলকাতা বিশ্ববিদ‍্যালয়ের পুঁথিশালায়,অধ‍্যাপক শ্রীযুক্ত মণীন্দ্রমোহন বসু এম,এ দুইটি পুথি পেয়েছিলেন এবং তাঁর এই আবিস্কার সাহিত‍্য পরিষৎ পত্রিকায় ১৩৩৯ ও ১৩৪০ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়।এই পুথি দুইটিতে কৃষ্ণকীর্তনের কতকগুলি পদ পাওয়া যায়।এই পুথির সম্বন্ধে অধ‍্যাপক শ্রীযুক্ত সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ও শ্রীযুক্ত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় কর্তৃক লিখিত এক প্রবন্ধ (পরিষৎ-পত্রিকা,১৩৩৯)ছাড়া বিশেষ কোন আলোচনা এ পর্যন্ত হয়েছে বলে আমি জানি না।এ পুথি দুইটি আলোচনা করলে বুঝা যাবে যে, বাঁকুড়া অঞ্চলে সম্প্রদায় বিশেষের মধ্যে একটি বিশেষ সঙ্গীতরীতি প্রচলিত ছিল।বলা বাহুল‍্য ঐ পুথি দুইটিও বাঁকুড়া অঞ্চলে সংগৃহীত হয়েছিল। এই পুথি দ্বয়ের একটি ১২৩৭ সালে লিখিত, অপরটি তারও প্রায় পঞ্চাশ বৎসর আগে লেখা। প্রথমতঃ এই পুথি দুইটিই সঙ্গীত বিষয়ক। অর্থ‍্যাৎ গীতবাদ‍্য ছাড়া ইঁনাদের অন‍্য কোনও উদ্দেশ্য নাই।কোন তালের কোন গান এবং তার কতগুলি কলা ইত্যাদি এনাদের মধ্যে প্রাচীনতর পুথিতে আলোচিত হয়েছে।কৃষ্ণকীর্তনের অদ্ভুত সাঙ্গীতিক নির্দেশ এতে অনুসৃত না হলেও,যেসব তালের উল্লেখ হয়েছে তার অভিনবত্ব অস্বীকার করবার উপায় নাই। যথা= হরগৌরী, অপূর্বকলা,কুন্দশেখর বা কুন্দুশেখর, আলুটী,বিষমসন্ধি,জদ্দ বা জজ্ঞ? কাঠের বা কাচের?তাল,চুটখিলা তাল ইত্যাদি।দ্বিতীয় পুথিতে আরও সব নূতন তালের সন্ধান আছে ; দশকোশি, জহ্মতাল,অপূর্ব কলিকা, বশোতাল,জলদকান্তি ইত্যাদি। এইসব তালের বোলে দ্বিতীয় পুথিটির কলেবর পূর্ণ ; সেগুলি মণীন্দ্রবাবু ছাপান নাই। এই পুথিতেও কোন তালের কত কলা,তার পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিচয় আছে।এই কলার মধ্যে আবার লঘু,গুরু,সদগুরু,গুরুর গুরু পরম গুরু প্রভৃতি নানাবিধি বিধান আছে।*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৪০. কৃষ্ণকীর্তনের সুর ও তাল 🎵 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪০) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
   *কৃষ্ণকীর্তনের সুর ও তাল*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

*🍀একটি লক্ষ্য করবার বিষয় এই যে,কৃষ্ণকীর্তনের প্রকীণ্ণক লগনী চিত্রক প্রভৃতির নামগন্ধ এতে নেই। বরং পাহিড়া,গুজ্জরী প্রভৃতির সঙ্গে বহু পরিচিত সুরের উল্লেখ আছে, যথা= বাগেশ্রী,মঙ্গল,ভীমপলাশী (ডিম্পনাশী নহে--১৮৩ পৃষ্ঠা) মাউর, শ্রী ইত্যাদি। এই পুথি দুইটিতে সুরের সরলতা থাকলেও তালের অভিনবত্ব লক্ষ করা যায়। আগেই বলেছি যে,এই পুথিদ্বয়ের একমাত্র উদ্দেশ্য গীতবাদ‍্য।গীত অপেক্ষা বাদ‍্যই প্রধান স্থান গ্রহণ করেছে।বাদ‍্য সম্বন্ধে ভারতীয় সঙ্গীতশাস্ত্রের অনুকরণে বাদ‍্যের সংস্কৃত সংজ্ঞা দিবারও চেষ্টা হয়েছে।তা অতী দীন অনুকরণ ; না আছে ব‍্যাকরণ,না আছে কোনও অর্থসঙ্গতি।যথা দ্রুতংদ্বয়ং লঘুদ্বয়ং [••••••••] স তাল দশকুশীঞ্চ ভবেৎ। হয়ত এটি অশিক্ষিত লোকের লেখা,সে জন্যও এরকম বিকৃতি ঘটতে পারে।যাইহোক, তালগুলির উদাহরণ স্বরূপেই গানগুলি উদ্ধৃত হয়েছে। যথা=হরগৌরী তালের পদাবলী,আলুটী তালের পদাবলী, জদ্দকাঠের তালের পদাবলী ইত্যাদি। উদাহরণ ছাড়া গীতের অন‍্য কোনও মূল‍্য এই দুই পুথিতে নেই। সুতরাং তালের উদাহরণ হিসাবে নানা কবির গীত উদ্ধৃত হওয়া উচিত ছিল।এটিই সাধারণতঃ প্রত‍্যাশা করা যায় যে,গায়ক বা বাদক বিভিন্ন তালের বিভিন্ন ছন্দ দেখাবার জন্য চন্ডীদাস, গোবিন্দদাস,জ্ঞানদাস প্রভৃতি হতে পদ বেছে নিবেন। কিন্তু এক্ষেত্রে সে প্রণালী অনুকরণ করা হয়নি।একজন কবির পদই উদ্ধৃত হয়েছে এবং তিনি বড়ু (বোঁড়ু,বাঁড়ু বা বটু) চন্ডীদাস।আর কোনও কবির পদের সঙ্গে যে সংগ্রহকার পরিচিত ছিলেন, এরকম প্রমাণ একেবারেই পাওয়া যায় না।দুইটি পুথিতে অনেকগুলো পদ প্রায় সমান এবং প্রায়শঃ দানখন্ড হতেই সেইসব পদ সংগৃহীত হয়েছে।পদগুলির কবিত্ব বিশেষ কিছু থাকুক বা না থাকুক,অশ্লীল অংশে কৃষ্ণকীর্তনের অনুসারী। যথা,প্রথম পুথি (প্রাচীনতর)।*
*🌷মোরে সেহ[•••••] বড়াই করু কোন বুদ্ধি।*
*🌷শুনিঞা বা কি বলিবে স্বামী গুণনিধি।।*
*🌷অমূল‍্য রতন মানে (মাগে) ধরে মোর হাথে।*
*🌷মাগএ ষুরতি দান ☆ ☆ দেই হাথে।।*
     *(সাঃ পাঃ পত্রিকা,১৩৩৯ সাল ১৪৮ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব‍্য)*
*🌻দ্বিতীয় পুথি=*
*🌷মোর সিশুমতি বড়াই করি কোন বুদ্ধি।*
*🌷শুনিঞা বা কি বলিব স্বামী গুণনিধি।।*
*🌷য়মূল‍্য রতন মাগে ধরি মোর হাথে।*
*🌷মাগএ শুরতি দান ☆ ☆ দেই হাতে।।*
    *(ঐ ১৩৪০ সাল ৫০ পৃঃ দ্রষ্টব‍্য)*
*🙌কৃষ্ণকীর্তন=*
*🌷মোএঁ শিশুমতী বড়ায়ি করোঁ কোণ বুধী।*
*🌷শুনিআঁ বা কি বুলিবে সামী গুণনিধি।।*
*🌷অমূল রতন মানে ধরে মোর হাথে।*
*🌷মাঙ্গে সুরতি দান সান দেই মাথে।।৮৭পৃঃ*
*🍀"সান দেই মাথে" এই পাঠে কোন অর্থ হয় কি?বসন্তবাবু জোর করে অবশ‍্য একটি অর্থ করেছিলেন, মস্তক সঞ্চালন দ্বারা সঙ্কেত করিয়া, কিন্তু ঐ সময় মস্তক-সঞ্চালনরূপ সঙ্কেতের অর্থ কি হতে পারে, তা বুঝা যায় না।পদাবলীতে "সান দেও শিঙ্গায়" এরকম প্রয়োগ পাই।(সান=অবগুন্ঠন ; সান কাড়া বা দেওয়া=ঘোমটা দেওয়া। বীরভূম অঞ্চলে এই অর্থে "সান" শব্দ প্রচলিত।*
*🌹এই নব আবিস্কৃত পুথি দুইটির অনেকগুলি পদ কৃষ্ণকীর্তনে আছে।রুচি,গ্রাম‍্যতাদোষ ও অভিনবত্ব হিসাবেও পাওয়া পুথি এবং কৃষ্ণকীর্তনের মধ্যে অসাধারণ সাম‍্য দেখা যায়।ভাষার বিচার করলেও কৃষ্ণকীর্তন ও এই পুথি দুইটির মধ্যে বড় বেশী কালের ব‍্যবধান অনুমিত হয় না।অশিক্ষিত লিপিকরের খামখেয়ালীপনা কৃষ্ণকীর্তন ও এই পুথি দুইটি তুলনা করলে স্পষ্টই বুঝা যায় যথা=অমূল [কৃঃ কীঃ] য়মূল [আধুনিক পুথি] আঙ্গুল [কৃঃ কীঃ] য়ঙ্গুলি [আঃ পুঃ] বেশ‍্যাক [কৃঃ কীঃ] বেউশ‍্যাক [আঃ পুঃ]।*
*🌺এই দুইটি পুথি দেখলে এইরকম অনুমান হয় যে,বাঁকুড়া জেলায় কৃষ্ণকীর্তন-লেখকের সম্প্রদায়ে তাঁর পদগুলি গীত হত এবং নূতন নূতন তাল সহযোগে সেগুলির প্রচারের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু এই গীত যে বহুদূর বিস্তৃত হয়নি, তার প্রমাণ --*
*(১)কৃষ্ণকীর্তনের অন‍্য পুথি পাওয়া যায় না।*
*(২)আধুনিক পুথিরও অন‍্য প্রতিলিপি পাওয়া যায় না।*
*🍀এই গীতগুলির মধ্যে যে একটি সাম্প্রদায়িক ভাব আছে,তা এই নতুন আবিস্কার করা পুথি বেশ বুঝতে পারা যায়।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds