✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 প্রথম ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 দ্বিতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 তৃতীয় ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৭৬. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৭৬)গৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন*
*কুমার হট্টে------শ্রীবাস মন্দিরে*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌻অদ্বৈত আচার্য্যের ভবন হতে শ্রীমন্মহাপ্রভু আসিলেন কুমারহট্টে শ্রীবাস মন্দিরে।সেই সময় শ্রীবাস কৃষ্ণধ্যানানন্দে মগ্ন ছিলেন।আচম্বিতে সম্মুখে পেলেন ধ্যানের ধন।সংবাদ পেয়ে সব ভক্তগণ শ্রীবাস মন্দিরে আসিলেন।আচার্য্য পুরন্দর,শিবানন্দ সেন,বাসুদেব দত্ত আরো কতভক্ত আসিলেন,বাসুদেব মহাপ্রভুর শ্রীচরণ ধরে উচ্চৈঃস্বরে কাঁদতে লাগলেন।*
*🍀আপনে শ্রীগৌর চন্দ্র বলে বার বার।*
*🍀এ শরীর বাসুদেব দত্তের আমার।।*
*🌻এইকথা শুনে সকল বৈষ্ণবগণ জয়ধ্বনি করতে লাগলেন।*
*🌻একদিন মহাপ্রভু গৌরচন্দ্র শ্রীবাসকে বললেন,শ্রীবাস তুমি তো কোথাও যাও না।কেমন করে তোমার সংসার চালাও? তোমার পরিবারও ছোট নয়।সকলে নির্বাহ কি করে হয়?শ্রীবাস বললেন যার অদৃষ্টে যা থাকে তাই-ই হবে।মহাপ্রভু বললেন, তাহলে তুমি সন্ন্যাসী হও। তখন শ্রীবাস কহিলেন, না,তাও পারব না। মহাপ্রভু বললেন,সন্ন্যাসী কেন হবে না? ভিক্ষা করতেও কারো দুয়ারে যাবে না, পরিবার পোষণ কি করে করবে? আমি কিছুই বুঝতে পারি না। তখন শ্রীবাস হাতে তিনটা তালি দিয়ে বললেন,*
*🍀এক দুই তিন এই কহিলুঁ ভানিয়া।*
*🌻মহাপ্রভু জানতে চাইলেন, এক দুই তিনের অর্থ কি? শ্রীবাস বললেন, একদিন দুইদিন তিনদিন উপবাস দিব তারপর গিয়ে গঙ্গায় ডুবে মরব। শ্রীবাসের এইকথা শুনে গৌরসুন্দর হুঙ্কার করে উঠলেন, কি বললি, তোর অন্নের দুঃখে উপোস হবে!*
*🍀যদি কদাচিৎ বা লক্ষ্মীও ভিক্ষা করে।*
*🍀 তথাপিহ দারিদ্র নহিব তোর ঘরে।।*
*🍀যে যে জনে চিন্তে মোরে অনন্য হইয়া।*
*🍀তার ভক্ষ্য দেই মুঞি মাথায় বহিয়া।।*
*🌻শ্রীমন্মহাপ্রভুর বাণী শূনে সকল ভক্তগণ আনন্দ ধ্বনি করতে লাগলেন। অতঃপর শ্রীবাস মন্দিরে কিছুদিন বাস করে গৌরহরি পানিহাটি রাঘব পন্ডিতের মন্দিরে গমন করলেন।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৭৭. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৭৭)গৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন*
*শ্রীরাঘব পন্ডিত ভবনে মহাপ্রভু*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻করুণাময় গৌরাঙ্গসুন্দর রাঘব ভবনে এসে উপস্থিত হলেন। অপ্রত্যাশিত ভাবে আরাধ্যবস্তু পেয়ে রাঘবের চিত্তে অপরিসীম আনন্দের উদ্রেক হল।অল্পক্ষণের মধ্যে ভক্তগণ জানতে পারলেন যে শ্রীরাঘব পন্ডিত গৃহে চিরসুন্দর গৌরসুন্দর এসেছেন, গদাধর দাস,পরমেশ্বর দাস,পুরন্দর পন্ডিত, রঘুনাথ বৈদ্য সকল প্রিয়ভক্তগণ ছুটে আসিলেন।তখন তাঁদের মনে যে কি আনন্দের উদ্রেক হল তা বর্ণনাতীত।*
*রাঘব ভবনে থাকতেই একদিন মহাপ্রভু রাঘবকে ডেকে নিভৃতে নিতাইচাঁদের তত্ত্বটি নিজ শ্রীমুখে প্রকাশ করলেন।*
*🍀রাঘব তোমারে আমি নিজ গোপ্য কই।*
*🍀আমার দ্বিতীয় নাই নিত্যানন্দ বই।।*
*🍀এই নিত্যানন্দ যেই করায়েন আমারে।*
*🍀সে-ই করি এই আমি বলিল তোমারে।।*
*🙏জয় জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যদেবের জয়🙏*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৭৮. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৭৮)গৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন*
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🙏বরাহনগরে ভাগবতাচার্য্য🙏*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🌻শ্রীরাঘব ভবন হতে গৌরহরি আসিলেন বরাহ-নগরে।মহাভাগ্যবন্ত এক ব্রাহ্মণ গৃহে অবস্থান করলেন। সেই ব্রাহ্মণ শ্রীমদ্ভাগবতের পন্ডিত। শ্রীমন্মহাপ্রভুকে গৃহে পেয়ে তাঁকে ভাগবত শুনাতে আরম্ভ করলেন।তাঁর ভক্তি-রসময় পাঠ শুনে মহাপ্রভু আনন্দে আবিষ্ট(বিহ্বল) হলেন। "বোল বোল" বলে মহাপ্রভু আরও শুনতেইচ্ছা প্রকাশ করলেন।ভাগবতাচার্য্যও উল্লাসে পাঠ করতে লাগলেন।ভক্তির মহিমাত্মক শ্লোক শুনে গৌরহরি পুনঃপুনঃ ভূমিতে গড়াগড়ি দিতে লাগলেন।এই প্রকার রাত্রি তিন প্রহর পর্যন্ত ভক্তি শ্লোক পাঠ হল।পরে বাহ্যজ্ঞান লাভ করে মহাপ্রভু বললেন=*
*এতেক তোমার নাম ভাগবতাচার্য্য*।
*ইহা বই আর কোন না করিহ কার্য্য।।*
*🌻এই ভাবে গঙ্গাতীর তীরে ভক্ত গৃহে বিহার করে শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু নীলাচলে চলে আসিলেন।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৭৯. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৭৯)🙏গৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন🙏*
*🌻🌻বনপথে শ্রীব্রজগমন🌻🌻*
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🌻শ্রীবৃন্দাবন যাবার জন্য মহাপ্রভুর অন্তরে প্রবল উৎকণ্ঠা।সঙ্কল্প করলেন এবার তিনি ব্রজে একাই যাবেন।ভক্তগণের একান্ত অনুরোধে বলভদ্র ভট্টাচার্য্যকে সঙ্গে নিলেন।তিনি জলপাত্র ও বহির্বাস বহন করবেন ও ভিক্ষা করে সেবার ব্যবস্থা করবেন। মহাপ্রভুর ভয় একবার ব্রজের পথে চললে, নিতাইচাঁদ চতুরতা করে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলেন।তাই শেষ রাত্রে কাউকে কিছু না বলে বলভদ্রকে সঙ্গে নিয়ে ব্রজযাত্রা করলেন।পথ ছেড়ে উপপথে চললেন, কটক ডানদিকে রেখে বনে প্রবেশ করলেন।*
*🌿নির্জন বনে গৌরহরি চলেছেন "কৃষ্ণ কৃষ্ণ" গাইতে গাইতে।হাতি,বাঘ, বড়ই আশ্চর্য্য ব্যাপার তারা পথ ছেড়ে সরে দাঁড়াল।একটি দুটি নয়, পালে পালে বাঘ, পালে পালে শূকর,গন্ডার-- তাদের মধ্য দিয়ে মহা আবেশে মহাপ্রভু চলেছেন।এমনি মহাপ্রভুর প্রতাপ,তারা সকলে পাশ কেটে পথ ছেড়ে দিচ্ছে।(যে হিংস্র পশু মনুষ্য দেখলে আক্রমণ করে, আজ পরম ঈশ্বর মহাপ্রভুকে দেখে হয়ত তারা বুঝতে পেরেছে আমাদের পারকর্তা আমাদের সামনে এসেছেন, তিনি আমাদের উদ্ধার করবেন।)এর সাক্ষাৎ সাক্ষী বলভদ্র ভট্টাচার্য্য।*
*🌹একটা বাঘ শুয়ে আছে।পথে চলতে চলতে মহাপ্রভুর শ্রীচরণ লাগল বাঘের গায়ে।মহাপ্রভু বোলে উঠলেন "কৃষ্ণ কৃষ্ণ"।চরম আশ্চর্য্য তৎক্ষণাৎ বাঘ উঠে কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে নাচতে লাগল।সর্বজীব নাথ মহাপ্রভু আমার নদীতে স্নান করছেন।একদল হাতি সেখানে জলপান করতে আসিল।"কৃষ্ণ কহ" বলে শ্রীগৌরাঙ্গ সুন্দর জল ছিটিয়ে দিলেন।সেই জলবিন্দুর এক কণাও যার গায়ে লাগল সেই সঙ্গে সঙ্গে কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে নাচতে লাগল।কেউ মাটিতে পড়ে গেল কেউ চিৎকার করল।*
*🙏জয় জয় শ্রীচৈতন্যদেবের জয়🙏*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৮০. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮০)🙏গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন🙏*
*🌿বনপথে শ্রীব্রজগমন🌿*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀উচ্চৈঃস্বরে কীর্তন করতে করতে শ্রীগৌরহরি চলেছেন।মহাপ্রভুর কন্ঠস্বর ময়ূরের কন্ঠস্বর মনে করে মৃগীগণ ছুটে আসছে।তখন পাঁচ সাতটি বাঘ আসিল।কি অসম্ভব দৃশ্য! বাঘ আর হরিণ একই পরিবারের সদস্য মনে করে মহাপ্রভুর সঙ্গে চলেছে। আমার শচীদুলালের মুখে "কৃষ্ণ কৃষ্ণ" মধুর উচ্চারণ শুনে বাঘ, হাতী নাচতে লাগল, অদ্ভুত কাঁদতেও লাগল একত্র হয়ে!স্বভাব বৈরিতা (শত্রুতা) ভুলে গেল।আর ময়ূরগুলি মহাপ্রভুর সঙ্গে সঙ্গে "কৃষ্ণ কৃষ্ণ"বলে নাচতে নাচতে চলেছে।মোহনীয়া গৌরসুন্দর হরিবোল হরিবোল বলে উচ্চ ধ্বনি দিয়েছেন তখন ধ্বনির মাধুর্য্যে বৃক্ষ লতাগুলি সঞ্জীবিত হয়ে উঠিল।ঝাড়িখন্ডের স্থাবর জঙ্গম সকলেই প্রেমে উন্মত্ত হয়ে গেল।এই যে অপরূপ দৃশ্য ইহা স্বর্গীয় দৃশ্য, গোলেকের দেখা যাই বলা যায় কোনটাতেই বলা যাবে না, কারণ কোন স্বর্গে বা গোলোকে এবং বৈকুন্ঠে এই দৃশ্য পূর্বে কোনদিন দেখা যায়নি আর দেখাও যাবে না। একমাত্র মর্ত্যভূমিতেই সম্ভব। সেই মর্ত্যের এই ঝাড়িখন্ডের পথেই এই অপরূপ দৃশ্য একদিন প্রকট হয়েছিল।সেদিন রাধাভাব মন্ডিত তনু ঝাড়িখন্ডের বনকে ব্রজবন মনে করে কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে ঝাড়িখন্ডের বনপথ দিয়ে ব্রজের পথে নেচে নেচে চলেছেন।সমগ্র বিশ্ব প্রকৃতি তাঁর সঙ্গে সঙ্গে নেচে চলেছে। এই দৃশ্য যে দেখল সেই সেই ধন্য হল। তাঁদের চরণরেণুর স্পর্শে ধরণীর ধূলো ধন্য হল।*
*🌼মহাপ্রভু ঝরনার উষ্ণ জলে তিনবার স্নান করেন। ভট্টাচার্যের পাককরা অন্ন আহার করেন,ফল মূল শাক-পাতা।বলভদ্র সন্ধ্যায় আগুনের তাপে শ্রীদেহ উষ্ণ করেন।শুকনো কাঠের অভাব নেই।মাঝে মাঝে বলেন "অহো বনপথে ব্রজযাবার কি অপরিসীম আনন্দ -- দুঃখের লেশমাত্রও নেই।বলেন,সনাতনের মুখে কৃষ্ণ আমায় শিক্ষা দিয়েছেন।তাই এই বনপথে এত আনন্দে চলা। মহাপ্রভু ভাবের মধ্যে থেকে বলভদ্রকে আলিঙ্গন করে বলেন, তোমার প্রসাদে এত আনন্দ পেলাম, বলভদ্র দৈন্যে জড়সড় হয়ে বলেন, মহাপ্রভু আপনি এ অধম কাককে গরুড় করিয়েছেন।মোর হাতে ভিক্ষা নিয়ে কৃতার্থ করেছেন প্রভু, আপনি স্বতন্ত্র ঈশ্বর আপনি স্বয়ং ভগবান, আমি সামান্য ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আপনার সেবক।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৮১. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮১)শ্রীগৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
*🍀কাশীধাম-প্রয়াগধাম-মধুপুরী🍀*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻এইভাবে বনপথে চলতে চলতে মহাপ্রভু কাশীধামে পৌঁছলেন। মণিকর্ণিকার ঘাটে তপন মিশ্রের সঙ্গে দেখা হল,তারপর বৈদ্য চন্দ্র শেখরের সঙ্গে।মহাপ্রভু চন্দ্রশেখরের গৃহে থাকেন আর তপন মিশ্রের গৃহে ভিক্ষা।অতঃপর কাশী হতে প্রয়াগে এসে ত্রিবেণীতে স্নান করলেন।মাধব দর্শন করলেন।প্রেমের আবেগে যমুনায় ঝাঁপিয়ে পড়লেন,প্রয়াগে তিন দিন বাস করে মথুরায় আসিলেন। শ্রীকৃষ্ণ জন্ম স্থানে কেশব দেখে প্রণত হলেন।মহাপ্রভুর প্রেমাবেশ দেখে সকল লোকের চিত্তে চমৎকার লাগল।এক ব্রাহ্মণ এসে গৌরহরিকে দর্শন করে আবেশে নৃত্য করতে লাগলেন।শ্রীগৌরাঙ্গ ব্রাহ্মণকে গোপনে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন "তুমি এই প্রেমধন কোথায় পেয়েছ? ব্রাহ্মণ নিজেকে মাধবেন্দ্র পুরীর শিষ্য বলে পরিচয় দিলেন।এইকথা শুনেই মহাপ্রভু তাঁর চরণে প্রণাম করলেন।একদিন তাঁর গৃহে ভিক্ষা গ্রহণ করলেন। মধুপুরীর লক্ষ লক্ষ লোক মহাপ্রভুকে দর্শন করতে আসিলেন।গৌরহরি যমুনার চব্বিশ ঘাটে স্নান করলেন। স্বয়ম্ভূ বিশ্রাম দীর্ঘ বিষ্ণু, ভূতেশ্বর,গোকর্ণ প্রভৃতি তীর্থস্থান দর্শন করলেন।সেই ব্রাহ্মণকে সঙ্গে নিয়ে মহাপ্রভু মধুবন,তালবন,কুমুদবন,বহুলাবন প্রভৃতি দ্বাদশ বন দর্শন করলেন।পথে গাভীর দল দেখে মহাপ্রভু প্রেমানন্দে দন্ডায়মান হন।গাভীগণ এসে গৌরহরির অঙ্গ লেহন করতে থাকে।প্রভু গাভীদের অঙ্গে হাত বোলান।তাঁরা মহাপ্রভুর সঙ্গে সঙ্গে হেঁটে চলে।রাখাল বহু কষ্ট করে ধেনুর দল ঘরে নিয়ে যাই।*
*🌻মহাপ্রভু উচ্চৈঃস্বরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ গান করেন, তা শুনে মৃগীর পাল আসে।মৃগমৃগী মিলে দুইজনে মহাপ্রভুর অঙ্গ লেহন করে। কোকিল, ভ্রমর মহাপ্রভুকে দেখে পঞ্চমস্বরে গান করে। ময়ূরময়ূরী পেখম তুলে নৃত্য করে।ময়ূরের কন্ঠ দেখে গৌরহরির শ্রীকৃষ্ণ স্ফূর্তি হয়।প্রেমাবেশে ধূলায় পড়ে যান।বৃন্দাবনের স্থাবর জঙ্গম প্রভুর সঙ্গে মিলে যেন কৃষ্ণ নামধ্বনি করে।মহাপ্রভু প্রত্যেকটি বৃক্ষলতা জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করেন।শুক,শারী মহাপ্রভুর হাতের উপর উড়ে এসে বসে।শুক কৃষ্ণ গুণ গায়,শারী রাধাগুণ গায়।শুনে মহাপ্রভু প্রেমে গদগদ হয়ে পড়েন।ব্রজে এসে শ্রীগৌরাঙ্গ রাত্রিদিন প্রেমের আবেশে থাকেন।স্নানাহার করেন মাত্র দেহের অভ্যাস বশত।বৃন্দাবনে এসে কপট বৃন্দাবনবিহারী গৌরহরি যে মহা আনন্দে ডুবলেন,ভাসলেন, ভাসালেন তা ভাষায় বর্ণনা করবার সামর্থ্য সহস্র বদন অনন্তেরও নাই।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৮২. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮২)শ্রীগৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
*❄❄শ্রীরাধাকুন্ড উদ্ধার❄❄*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌹শ্রীবৃন্দাবনে অরিট গ্রামে এসে মহাপ্রভু গৌরসুন্দর জনে জনের কাছে জিজ্ঞাসা করলেন---, শ্রীরাধা কুন্ড কোথায় অবস্থিত। কেউ কোন উত্তর দিতে পারল না, নিকটে দুই ধানক্ষেত।তাতে অল্প অল্প জল।ভাবনিধি গৌরহরি সেই জলে স্নান করলেন। সেখানে বসে রাধাকুন্ডের শ্যামকুন্ডের স্তব পাঠ করতে লাগলেন। ওখানকার মাটি তুলে ব্রজভাবে বিভাবিত শ্রীচৈতন্যদেব তিলক করলেন। কিছু মৃত্তিকা বহির্বাসে বেঁধে নিলেন সকলেই জানলেন এই জায়গায় শ্রীরাধাশ্যাম কুন্ডদ্বয় বিরাজিত মহাপ্রভু স্বয়ং এবং পরে রূপ-সনাতন প্রমুখ পার্ষদগণ বৃন্দাবনের বহু লুপ্ত তীর্থ উদ্ধার করলেন।শ্রীবৃন্দাবন তত্ত্ব, বৃন্দাবনীয় রসের ভজন এবং বিশিষ্ট লীলাস্থলী সকলই শ্রীমন্মহাপ্রভুর করুণায় প্রকটীভূত হয়েছেন।*
*🙏🙏🙏জয় শ্রীমন্মহাপ্রভুর জয়🙏🙏🙏*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৮৩. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮৩)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
*🌻প্রয়াগে রূপ-অনুগ্রহ🌻*
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🌿শ্রীবৃন্দাবনে থাকা কালীন দিনের পর দিন লোক সংখ্যা বাড়তেই লাগল। বলভদ্র মহাপ্রভুকে বললেন, চলুন প্রভু এখন ব্রজ ছেড়ে প্রয়াগের দিকে যাই।এখন রওনা হলে প্রয়াগে মকরস্নান পাব।পদযাত্রীর পথ ধরে যাব।মহাপ্রভু রাজী হলেন।বললেন ব্রজ দর্শন করিয়ে ঋণী করেছ।এখন যা বলবে আমি তাই শুনব।প্রয়াগ যাবার পথে মহাপ্রভু দুইজন দুদ্ধর্ষ পাঠিনকে কৃষ্ণভক্ত করলেন।তাঁদের লোকে "পাঠান বৈষ্ণব" বলেন। তাঁরা সর্বত্র মহাপ্রভুর কীর্তি ঘোষণা করে বেড়াতেন অর্থ্যাৎ মহাপ্রভুর নাম প্রচার করে বেড়াতেন। পশ্চিমদেশ প্রেমে ভাসিয়ে মহাপ্রভু প্রয়াগে আসিলেন।ত্রিবেণীতে মকরস্নান করে গৌরহরি দশদিন থাকলেন।এই সময়ে সংসার বন্ধন ছিন্ন করে রাজমন্ত্রিত্ব পদ ত্যাগ করে শ্রীরূপ গোস্বামী কনিষ্ঠ ভ্রাতা বল্লভকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়াগধামে উপস্থিত হলেন।শ্রীগৌরাঙ্গ তাদের আত্মসাৎ করলেন।ভক্তিতত্ত্বের উপদেশ দিয়ে শ্রীরূপকে শক্তি সঞ্চার করলেন।মহাপ্রভুর উদ্দেশ্য বৃন্দাবনীয় রসকেলিবার্তা লুপ্ত হয়ে গিয়েছে। তাকে পুনরায় সঞ্জীবিত করে সুষ্ঠুভাবে ভক্ত হৃদয়ে সংস্থাপিত করা।এইসব কাজের জন্য শ্রীগৌরহরি শ্রীরূপ ও শ্রীসনাতনকে অভিষিক্ত করেছিলেন।শ্রীরূপকে শক্তি সঞ্চার করে বললেন, "বৃন্দাবনে গিয়ে গ্রন্থ রচনা কর ও লুপ্ততীর্থ উদ্ধার কর।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৮৪. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮৪)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
*🍀🍀কাশীধামে গৌরহরি🍀🍀*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻প্রয়াগ ধাম হতে করুণাময় পতিতপাবন শ্রীগৌরহরি কাশীধামে আসিলেন।চন্দ্রশেখরের গৃহে এসে উঠলেন এবং বাস করলেন।একদিন সকালে মহাপ্রভু চন্দ্রশেখরকে বললেন,তোমার দরজায় একজন বৈষ্ণব আছে তাকে নিয়ে এসো।চন্দ্রশেখর গিয়ে দেখলেন কিন্তু কাউকে দেখতে পেলেন না।মহাপ্রভু বললেন,দুয়ারে কেউই কি নাই? চন্দ্রশেখর বললেন "একজন দরবেশ আছেন।গৌরহরি কহিলেন, তিনিই বৈষ্ণব,তাঁকেই চাই।*
*🌹মহাপ্রভু ডেকেছেন শুনে সনাতন আনন্দে গৃহে প্রবেশ করে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।মহাপ্রভু উঠায়ে তাঁকে বক্ষে চেপে ধরলেন।শ্রীগৌরহরির স্পর্শে সনাতন প্রেমাবিষ্ট হলেন।শ্রীগৌরাঙ্গ তাঁর নিজ পার্শে বসালেন। পিঠে হাত বুলাতে লাগলেন।সনাতন পরম দৈন্যে বলতে লাগলেন "মহাপ্রভু আমাকে স্পর্শ করিও না"।জগৎসুন্দর গৌরহরি বললেন,তোমাকে স্পর্শ করছি নিজেকে পবিত্র করতে।শ্রীকৃষ্ণ পরম করুণাময়।মহারৌরব হতে তোমাকে উদ্ধার করেছেন।তখন সনাতন বললেন, আমি শ্রীকৃষ্ণ চিনি না, তুমিই কৃপা করে আমার উদ্ধার বিধান করেছ🙏।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৮৫. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮৫)গৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন*
*🌻🌻সনাতন-----প্রশ্ন🌻🌻*
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*"কে আমি কেন আমায় জারে তাপত্রয়"*
*🌺করুণাময় গৌরহরির আদেশে সনাতন "বেশ পরিবর্তন করে ভদ্র" বেশ ধারণ করলেন।মহাপ্রভুর পাদপদ্ম পার্শে বসে সনাতন প্রশ্ন করলেন তিনটি। ১)আমি কে? ২) ত্রিতাপ জ্বালায় জর্জরিত হচ্ছি কেন? ৩)কিসে হিত হবে অর্থ্যাৎ দুঃখ নাশ হবে?*
*🍀মহাপ্রভু সনাতনের প্রশ্নের উত্তর দিলেন---,জীবের স্বরূপ কৃষ্ণের দাস। শ্রীকৃষ্ণের তিনটি শক্তির মধ্যে "তটস্থা" শক্তি জীবের স্বরূপ।তার কাজ শ্রীকৃষ্ণ সেবা, শ্রীকৃষ্ণের সুখবিধান।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে জীবের অভেদও আছে ভেদও আছে।শ্রীকৃষ্ণ অনন্ত অসীম,পূর্ণ।জীব ক্ষুদ্র কণা।শ্রীকৃষ্ণ পূর্ণানন্দঘন--জীব চিৎকণ।প্রথম প্রশ্নের উত্তর দিলেন।*
*🌺দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, শ্রীকৃষ্ণকে ভুলে আছে বলেই জীবের এত দুঃখ।দুঃখের এই একটি মাত্র কারণ সাধু কৃপায়,শাস্ত্র কৃপায়, ও গুরু কৃপায় যেমাত্র জীব কৃষ্ণ-উন্মুখী হয় তখনই তার দুঃখ দূর হতে থাকে।যাতে আমরা শ্রীকৃষ্ণকে না ভুলি,এই জন্য সর্বদা তিনি নিজেকে জানান।জীবের হৃদয়ে অন্তর্য্যামীরূপে থেকে জানান।শাস্ত্ররূপে নিজেই ব্যক্ত হয়ে জীবের স্বরূপ কি,করণীয় কি তা জানান--আবার গুরুরূপে প্রকট হয়ে শ্রীকৃষ্ণ প্রাপ্তির উপায় কি তা জানান। শাস্ত্রকৃপায় গুরুকৃপায় যেইমাত্র জীব কৃষ্ণের প্রতি উন্মুখী হয় অমনি তার দুঃখ ঘুচিতে থাকে। এইভাবে সহজ সরল কথায়,অল্প কথায় তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে মহাপ্রভু বিস্তার করে বলতে লাগলেন।*
*☘বেদশাস্ত্রে তিনটি তত্ত্বের কথা বলেছেন--সম্বন্ধ,অভিধেয় ও প্রয়োজন।সকল শাস্ত্রে কৃষ্ণই সম্বন্ধ।ভক্তি অভিধেয়(বোধক,শব্দ উচ্চারণ করলে যে বস্তুকে বুঝায়,প্রতিপাদ্য ও উদ্দিষ্ট অর্থ)তাকে পাবার উপায়।জীবের চরম প্রয়োজন প্রেম।প্রেমই পঞ্চম পুরুষার্থ,এই কৃষ্ণ ভক্তি-তত্ত্ব, প্রেম তত্ত্ব নিয়ে প্রভু সুবিস্তারে আলোচনা করলেন।সনাতন গোস্বামীকে শিক্ষা দিয়ে বিশেষভাবে শক্তি সঞ্চার করে দিলেন।তারপর "আত্মারাম" শ্লোকের বহুপ্রকার অর্থ সনাতন শুনতে চাইলে মহাপ্রভু অদ্ভুত পান্ডিত্য প্রকাশ করে এক শ্লোকের একষট্টি (৬১) প্রকার অর্থ করলেন।সনাতনকে শ্রীবৃন্দাবনে পাঠিয়ে দিলেন।গ্রন্থ-রচনা করতে ও লুপ্ততীর্থ উদ্ধার করতে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৮৬. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮৬)গৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন*
*🌻🌻🌻সন্ন্যাসী উদ্ধার🌻🌻🌻*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀বারাণসী হৈল দ্বিতীয় নদীয়া নগর।*
*🌹কাশীধাম জ্ঞান প্রধান স্থান।শঙ্কর পন্থী সন্ন্যাসীর প্রধান কেন্দ্র কাশী। তখন যত সন্ন্যাসী ছিলেন সকলের প্রধান ছিলেন প্রকাশানন্দ সরস্বতী। মহাপ্রভু যখন কাশীতে আছেন তখন কেউ কেউ এসে সরস্বতীর কাছে গৌরহরির রূপ,গুণ,মহিমার কথা বললে প্রকাশানন্দ উপহাস করে বলতেন,শুনেছি গৌড়দেশের একজন ভাবুক সন্ন্যাসী এসেছেন,কেশব ভারতীর শিষ্য।শ্রীচৈতন্য তার নাম, কতকগুলি ভাবুক নিয়ে গ্রামে গ্রামে নাচে।এমন মোহিনী বিদ্যা জানে যে দেখে সেই তাকে ঈশ্বর বলে। শুনেছি পুরীর পন্ডিত বাসুদেব ভট্টাচার্য্য সার্বভৌমও এই মহা-ইন্দ্রজালীর ফাঁদে পড়েছে।লোকটি নামে মাত্র সন্ন্যাসী, আসলে ভন্ড প্রতারক। কাশীধামে তার ভাবকালী বিকাবে না। মহাপ্রভুর প্রতি তাচ্ছিল্য করে প্রকাশানন্দ এইভাবে অবজ্ঞা করছেন। সরস্বতীর কথা শুনে পরম করুণাময় গৌরহরি হাস্য করেন আর বলেন যদি কাশীতে না বিকায় বিনামূল্যে দিয়ে যাব।*
*🌻একজন ব্রাহ্মণ এসে একদিন মহাপ্রভুর শ্রীচরণে নিবেদন করলেন-- তিধি সন্ন্যাসীদের তার বাড়ীতে নিমন্ত্রণ করেছেন, মহাপ্রভুও যদি কৃপা করে আসেন তাহলে কৃতার্থ হন। ব্রাহ্মণের কথা শুনে পরমপ্রেমময় প্রভু রাজী হলেন। মহাপ্রভু নিমন্ত্রণ গ্রহণ করে ঐ ব্রাহ্মণের গৃহে গেলেন। গিয়ে দেখলেন সন্ন্যাসীগণ বসে আছেন।তিনি তাঁদের নমস্কার করে "পা ধোয়ার জায়গায় পা ধুয়ে সেইখানেই বসে পড়লেন"।বসে শ্রীদেহে ঐশ্বর্য্য বিকাশ করলেন।শ্রীতনু হতে কোটি সূর্য্যের তেজ বহির্গত হতে লাগল। তখন প্রকাশানন্দ বললেন শ্রীপাদ ঐ অপবিত্র জায়গায় কেন বসেছ এখানে কাছে এসো।মহাপ্রভু বললেন, আমি হীন সম্প্রদায়ভুক্ত এই জন্য এখানে বসেছি।প্রকাশানন্দ তখন নিজে হাত ধরে মহাপ্রভুকে মধ্যস্থলে বসালেন। বসিয়ে বিনয়ের সঙ্গে জিজ্ঞাসা করলেন, "তোমার নাম শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য"? তুমি কেশব ভারতীর শিষ্য? তুমি আমাদের সম্প্রদায়ী সন্ন্যাসী।আমাদের সঙ্গে মেলামেশা না করে তুমি নেচে বেড়াও, গান কীর্তন এসব কর কেন? তোমার শ্রীঅঙ্গ জ্যোতিঃ দেখলে মনে হয় তুমি সাক্ষাৎ নারায়ণ কিন্তু বেদান্ত পড় না কেন?রসিকচূড়ামণি গৌরসুন্দর মধুর হাসি হেসে উত্তর দিলেন।তিনি বললেন-- গুরুদেব আমাকে মূর্খ জেনে বললেন তোমার বেদান্ত শাস্ত্র অধিকার নেই।তুমি সদাসর্বদা শ্রীকৃষ্ণনাম জপ কর।এই যুগে হরের্নামৈব কেবলম্।গুরুদেবের আদেশে আমি নাচি আর কাঁদি।এই নাচ ও কান্না আমি আমার ইচ্ছায় করি না।নামের শক্তিতে করায়।আমি পাগল হয়েছি মনে করিয়া গুরুদেবকে শুধালাম,তিনি বললেন, তোমার পঞ্চম পুরুষার্থপ্রেম লাভ হয়েছে।আমি গুরুবাক্য বিশ্বাস করে সর্বদা কৃষ্ণনাম করি।কৃষ্ণনামে যে আনন্দ সিন্ধুর আস্বাদন ব্রহ্মানন্দ তাঁর কাছে একটি জোনাকী পোকার মত।*
*ক্রমাগত*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৮৭. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮৭) গৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন*
*শঙ্কর-ভাষ্যের সমালোচনা*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀সূত্র উপনিষদের মুখ্যার্থ ছাড়িয়া।*
*🍀আচার্য্য কল্পনা করে আগ্রহ করিয়া।।*
*🍀আচার্য্য কল্পিত অর্থ পন্ডিত যে শুনে।*
*🍀মুখে হয় হয় করে হৃদয়ে না মানে।।*
*🌹সর্বশ্বর হরির মধুময় কথা শুনে সন্ন্যাসীর চিত্ত গলে গেল।তারা বললেন তুমি যা বলেছ সবই শাস্ত্রসম্মত,ঠিক কথা।কৃষ্ণপ্রেম সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ। কিন্তু তুমি সন্ন্যাসী হয়ে বেদান্ত শ্রবণ কর না কেন?পতিতপাবন গৌরহরি বললেন, বেদান্ত সূত্র ঈশ্বর বচন এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই কিন্তু তোমাদের আচার্য্য শঙ্কর অসদ্ব্যাখ্যা করেছেন শাস্ত্রের মুখ্য অর্থ বাদ দিয়ে গৌণ অর্থ কল্পনা করেছেন। ব্রহ্ম বৃহৎবস্তু,নিরাকার নহেন, তিনি চিদাকার, তিনি ও তাঁর লীলা পার্ষদগণ সবই চিদানন্দময়, আর যারা তাঁকে নিরাকার বলেন তারা ভুল পথের পথিক। ভগবানের চিন্ময় দেহকে প্রাকৃত বলে মনে করলে মহা অপরাধ হয়।*
*🌼শাস্ত্রের প্রত্যেক শব্দের অর্থ হবে মুখ্য বৃত্তিতে (অর্থ প্রকাশের ব্যাপারে শব্দের অন্তর্নিহিত শক্তি)।আচার্য্য শঙ্কর শ্রুতির অর্থ করেছেন গৌণ বৃত্তিতে।শব্দ শ্রবণ করে সহজে যে অর্থ বোধহয় তা মুখ্যবৃত্তি।প্রকৃত সহজ অর্থ পরিত্যাগ করে লক্ষণা দ্বারা কষ্টে যে অর্থের বোধ হয় তা গৌণবৃত্তি।আচার্য্য শঙ্কর বেদান্তের অর্থ মুখ্যবৃত্তিতে না করে গৌণবৃত্তিতে করেছেন।গৌণ শুনলে সর্বনাশ হয়।*
*ক্রমাগত*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৮৮. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮৮)শ্রীগৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন*
🙌 *ব্রহ্ম------তত্ত্ব*🙌
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌻ব্রহ্ম নিরাকার নহে,চিদাকার।তাঁর সকল শক্তি বিভূতি(ভগবানের ঐশ্বর্য্য বা শক্তি) সবই চিদাকার।যারা নিরাকার বলেন তারা চিদ্বিভূতি আচ্ছাদন করে তাঁকে নিরাকার বলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণই ব্রহ্ম।তাঁর স্থান,পরিকর,ধাম সবই চিন্ময়।প্রকৃত সত্ত্বের বিকার নেই।শ্রীকৃষ্ণ শ্রীদেহ চিন্ময় বিকার রহিত--অপ্রাকৃত। বেদান্তের সব সূত্রের ভাষ্য মুখ্য অর্থে হবে এবং পরিণামবাদ স্বীকার করতে হবে।কারণ ব্যাসদেবের হার্দ (স্নেহ বা প্রণয়) পরিণামবাদ।শঙ্কর তা আবরণ করে বিবর্তবাদে(মায়াবাদে) ব্যাখ্যা করেছেন।তাদের যুক্তি পরিণামবাদ স্বীকারে ব্রহ্ম পরিনামী,বিকারী নয়।এই যুক্তি বিচার সত্য নয়।ব্রহ্ম অধিকারী থেকেও সৃষ্টি করেন।চিন্তামণি রত্ন হতে রত্নের প্রকাশ। কিন্তু মূল চিন্তামণি অধিকারী থাকে প্রাকৃত বস্তুতেই যখন এই অবিচিন্ত্য শক্তি আছে তখন ব্রহ্মে থাকবে না কেন?ব্রহ্ম বিকারী না হওয়ায় সৃষ্টাদি কার্য্যের কর্তা হন।*
*🌹দেহে আত্মবুদ্ধি হল বিবর্ত। ভগবানের সৃষ্টি কাজে কোথাও বিবর্ত নাই।সবই পরিণাম।ব্রহ্ম পরিনামী হয়েও অধিকারী।এই কথাটি শঙ্করাচার্য্য বুঝতে পারেননি। অথবা বুঝেও ভগবৎ ইচ্ছার ঐ রকম কাজ করেছেন।*
*🍁চিৎকণ জীবকে ব্রহ্মের সঙ্গে অভিন্ন মনে করলে শাস্ত্রের ভুল ব্যাখ্যা হয়।সর্বশাস্ত্র জীব শক্তিকে ব্রহ্মেরই তটস্থা শক্তি বলেছেন।অংশকে পূর্ণের সঙ্গে অভিন্ন মনে করলে সে ব্যাখ্যা অশেষ দোষপূর্ণ হবে।*
*🌷কৃষ্ণেতে অনুরাগই প্রেম।এই প্রেমই পঞ্চম পুরুষার্থ। প্রেমদ্বারাই শ্রীকৃষ্ণের মাধুর্য্য রস আস্বাদিত হয়।অন্য কোন উপায়ে নহে।প্রেমে কৃষ্ণ ভক্তের বশ হন ; প্রেম হতেই কৃষ্ণ সুখ লাভ হয়।নাম-কীর্তনে সেই প্রেমের উদয় হয়।মহাপ্রভুর ব্যাখ্যা শুনে সন্ন্যাসীদের মন ফিরে গেল---- তারা আনন্দে কৃষ্ণনাম গ্রহণ করলেন।*
*"সব কাশীবাসী করে নাম সংকীর্তন।*
*প্রেমোল্লাসে কান্দে গায় করায় নর্তন।।*
*সন্ন্যাসী পন্ডিত করে ভাগবৎ বিচার।*
*বারাণসী দেশ প্রভু করিলা নিস্তার।।*
*🌺এইমত দিন-পাঁচেক থেকে কাশীবাসীদের উদ্ধার করলেন। একদিন রাত্রে উঠে একাকী মহাপ্রভু নীলাচল অভিমুখে চলিলেন। তপন মিশ্র, রঘুনাথ,মহারাষ্ট্রী ব্রাহ্মণ,চন্দ্যশেখর ও পরমানন্দ এই পাঁচজন দ্রুত দৌড়িয়ে মহাপ্রভুকে পথ ধরলেন।সকলেই মহাপ্রভুর সঙ্গে নীলাচল যেতে চাইলেন।মহাপ্রভু কাউকেও সঙ্গে নিলেন না। সনাতন গোস্বামীকে শ্রীবৃন্দাবন পাঠিয়েদিলেন।রাধাকৃষ্ণ লীলাতত্ত্ব প্রচার করবেন, গ্রন্থ লিখে আরও লুপ্ত তীর্থ উদ্ধারণ করে ব্রজের সর্বত্র বিচরণ করবেন, এই দুই কাজ করার জন্য পাঠালেন।আরও একটি কথা বলে দিলেন=*
*কাঁথা করঙ্গিয়া---- মোর কাঙ্গাল ভক্তগণ।*
*বৃন্দাবনে আইলে তার করিও পালন।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৮৯. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮৯)শ্রীগৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন*
*সুবুদ্ধি রায়ের ব্রজবাস*
*********************************
*🌻একসময় সুবুদ্ধি রায় গৌড় রাজ্যের অধিকারী ছিলেন।সৈয়দ হোসেন শাহ তার চাকুরি করত।সুবুদ্ধি রায় হোসেন শাহকে একটা দীঘি খনন করবার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।হোসেন শাহ সেই কাজে অনেক ফাঁকী দিয়েছিলেন।অসৎ আচরণের জন্য সুবুদ্ধি রায় তাকে একটা চাবুকের আঘাত করেছিলেন। হোসেন শাহ পরে ভাগ্যবশে গৌড়ের রাজা হলেন।তিনি সুবুদ্ধি রায়কে খুব মর্য্যাদা দিতেন।হোসেন শাহর স্ত্রী স্বামীর পিঠে চাবুকের দাগ দেখে ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন সুবুদ্ধি রায়ের শিরচ্ছেদ কর অথবা জাতি নাশ কর নতুবা আমি প্রাণ ত্যাগ করব।হোসেন শাহ অগত্যা "করোয়ার পানি" মুখে দিয়ে তার জাতি নাশ করে দিল। তারপর কি করবেন চিন্তা করে সুবুদ্ধি রায় কাশীতে গিয়ে পন্ডিতদের কাছে প্রায়শ্চিত্ত বিধান চাইলেন।পন্ডিতেরা বললেন, মুখে তপ্ত ঘি খেয়ে প্রাণত্যাগ কর। ভাগ্যক্রমে গৌরসুন্দর যখন কাশীধামে আসিলেন তখন সুবুদ্ধি রায় তাঁর শ্রীচরণে উপস্থিত হয়ে সব নিবেদন করলেন। মহাপ্রভু বললেন কেন তপ্ত ঘি খেয়ে প্রাণত্যাগ করবে? আমি যা বলছি তাই কর।*
*প্রভু কহে ইহাঁ হৈতে যাহ বৃন্দাবন।*
*নিরন্তন কর কৃষ্ণ নাম সংকীর্তন।।*
*এক নামাভাসে তোমার পাপদোষ যাবে।*
*আর নাম হৈতে কৃষ্ণ চরণ পাইবে।।*
*🍀সুবুদ্ধি রায় মহাপ্রভুর আজ্ঞা শিরোধার্য্য করে শ্রীবৃন্দাবন চললেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৯০. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯০)গৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন*
*🍀নীলাদ্রি প্রত্যাবর্তন🍀*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌻শ্রীশ্রীগৌরসুন্দর বলভদ্রকে সঙ্গে নিয়ে বনপথে নীলাচলে যাত্রা করলেন।আঠারনালা পৌঁছিয়া মহাপ্রভু বলভদ্রকে পাঠালেন ভক্তদের সংবাদ দিতে। আনন্দে বিহ্বল হয়ে ভক্তগণ নরেন্দ্র সরোবর পর্যন্ত এসে মহাপ্রভুর সঙ্গে মিলিত হলেন।ভক্তবৃন্দ সঙ্গে নিয়ে প্রেমিবিষ্ট হয়ে গৌরহরি শ্রীজগন্নাথদেব দর্শন করলেন।তারপর কাশী মিশ্রের ভবনে আগমন করলেন।*
*🙌গৌড়বাসীর আগমন🙌*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভু দক্ষিণদেশ বিজয় করে ফিরেছেন এই সংবাদ স্বরূপদামোদর, কালাকৃষ্ণ দাস মাধ্যমে গৌড়দেশে পাঠালেন।গৌড়দেশ বাসী দুইশ ভক্ত মহাপ্রভুর দর্শন আশায় নীলাচলে যাত্রা করলেন।কুলীন গ্রামের শিবানন্দ সেন, যারা যারা নীলাচল যেতে ইচ্ছুক সবাইকে দেখাশুনা করে নিয়ে চললেন।রাজায় রাজায় যুদ্ধে পথঘাট নিরাপদ নয়।মাঝে মাঝেই শুল্কঘাটি,সেখানে অনেক বিড়ম্বনা ছিল।এই সব পথের ব্যাপার সমাধানের দায়িত্ব শিবানন্দ স্বেচ্ছায় সানন্দে গ্রহণ করতেন। ভক্তদের সঙ্গে একটি কুকুর ছিল।সেই কুকুরটি প্রসাদ ছাড়া অন্য কিছু খাবার খেত না।একদিন শুল্কঘাটিতে শিবানন্দের অনেক দেরী হয়।কুকুরকে প্রসাদ দিতে ভৃত্য ভুলে যায়।সেইদিন কুকুর কোথায় চলে যায় কিছু বুঝা গেল না।অনেক অনুসন্ধানে তাকে পাওয়া গেল না, তারজন্য সকলের দুঃখ হয়। স্নানযাত্রার পর জগন্নাথদেবের দর্শন কয়েকদিন বন্ধ থাকে।তখন গৌরসুন্দর আলালনাথ দর্শনে যান।গৌড়দেশ থেকে ভক্তগণ এসেছেন এই সংবাদ পেয়ে মহাপ্রভু সত্বর নীলাচলে আসেন।ভক্তগণ আঠারনালা হতে কীর্তন আনন্দে কীর্তন করতে করতে চলতে থাকেন। ঐদিকে প্রতাপরুদ্র মহারাজ নিজ প্রাসাদের ছাদ হতে দর্শন করেন। সঙ্গে সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য।গোপীনাথ সবাইকে পরিচয় করে দিলেন।*
*মহাপ্রভু স্বরূপদামোদর ও গোবিন্দ দাসকে দিয়ে মালা পাঠিয়ে দেন ভক্তগণকে সম্বোধনা করতে।স্বরূপদামোদর ও গোবিন্দ দুইজনেই অদ্বৈতাচার্য্যকে মালা দিয়ে সম্বোধন জানালেন।প্রতাপরুদ্র জানতে চাইলেন এই যে সূর্য্যের মত জ্যোতির্ময় পুরুষবর যাকে দুইজনে মালা পরাল ইনি কে?গোপীনাথ বললেন ইনি অদ্বৈতাচার্য্য।ইনিই গৌর আনা ঠাকুর।গঙ্গাজল আর তুলসী দিয়ে ইনি কেঁদে কেঁদে গৌরহরিকে অবতার করিয়েছেন।ইনি শান্তিপুরেশ্বর আচার্য্যবর্য্য। স্বয়ং মহাপ্রভু ইনাকে মান্য করেন।ইনি সকলের শিরোমণি।প্রতাপরুদ্র বললেন, মানুষের দেহে এত তেজ জীবনে কখনও দেখি নাই।ইনাকে দর্শন করে ধন্য হলাম।গোপীনাথ একে একে শ্রীবাস,গদাধর,শিবানন্দ, মুরারি, বক্রেশ্বর সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিলেন।নৃত্য,কীর্তন হরিধ্বনি শুনে রাজা কহিলেন--*
*ঐছে নৃত্য ঐছে কীর্তন ঐছে হরিধ্বনি।*
*কভু নাহি দেখি ঐছে কভু নাহি শুনি।।*
*🌹গোপীনাথ বললেন, মহারাজ আপনার বাক্য সুসত্য।*
*🍀চৈতন্যের সৃষ্টি এই নাম সংকীর্তন।*
*🌻ভক্তগণ সকলে কাশী মিশ্র ভবনে প্রবেশ করে দীর্ঘ বিরহের পর মহাপ্রভুর দর্শন স্পর্শন আপ্যায়ন আলিঙ্গন লাভে কৃতকৃতার্থ হলেন। উড়িষ্যাবাসী ভক্তদের সঙ্গে গৌড়দেশ বাসী ভক্তগণেরও পরম মিলনানন্দ হল।*
🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৯১. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯১)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
*অনুগৃহীত কুকুর*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*শিবানন্দ সেন শ্রীমন্মহাপ্রভুর সঙ্গে মিলিত হলেন।মহাপ্রভু আলিঙ্গন করে পাশে বসালেন।শিবানন্দ সেন দেখলেন সেই কুকুরটি গৌরহরির পাশে বসে আছে।ভৃত্য প্রসাদ দিতে ভুল করায় যে কুকুরটি কোথায় অন্তর্ধান করেছিল-- সেই কুকুরটি। মহাপ্রভু তার সামনে নারকেল শস্য ফেলে দেন আর কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলেন।কুকুর শ্রীগৌরহরির প্রসাদী নারকেল শস্য খাই আর কৃষ্ণ বলে।তার উচ্চারণ স্পষ্ট কুকুরের ভাগ্য দেখে সকলে মুগ্ধ।শিবানন্দ কুকুরকে দন্ডবৎ করে ক্ষমা ভিক্ষা চাইলেন।তারপর হতে কুকুরটিকে কেউ দেখতে পেল না।সে সিদ্ধ দেহ পেয়ে বৈকুন্ঠে চলে গিয়েছে।*
💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧
*🌻শ্রীরূপের ভাবানুরূপ শ্লোক🌻*
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভু যখন জগন্নাথের রথাগ্রে অগণিত ভক্তসঙ্গে মধুর নর্তন কীর্তন করেন তখন শ্রীমুখের দীকে তাকিয়ে এইটি শ্লোক পড়েন। শ্লোকটি প্রকৃত রসের প্রায় অশ্লীল পর্য্যায়। শ্লোকটির অর্থ এইরকম ঃ--*
*🌹বিবাহের পর পত্নী পতিকে বলছেন-- তোমার সঙ্গে মিলনে সুখ হচ্ছে না। বিবাহের পূর্বে রেবানদীর তীরে বেতসীখুঞ্জের আড়ালে মিলনে যে সুখ হত আজ আর নেই।মহাপ্রভু কেন এইরকম শ্লোক পড়েন তা কেউই বুঝতে পারেন না।এক বৎসর রথের সময় শ্রীরূপ গোস্বামী এসেছেন।তিনি শ্লোক শুনে মহাপ্রভুর ভাবানুরূপ আর একটি শ্লোক লিখলেন।*
*প্রিয়ঃ সোহয়ং কৃষ্ণঃ সহচরি কুরুক্ষেত্র মিলিত-*
*স্তথাহং সা রাধা তদিদমুভয়োঃ সঙ্গমসুখম্।*
*তথাপ্যন্তঃ খেলন্মধুরমুরলী পঞ্চমজুষে,*
*মনো মে কলিন্দী পুলিন বিপিনায় স্পৃহয়তি।।*
*🌹শ্লোক পড়ে মহাপ্রভু আনন্দে অধীর হলেন। শ্রীপাদ রূপের পিঠে চাপড় দিয়ে বললেন, "আমার অন্তর তুই জানিলি কেমন? শ্লোকের সংক্ষেপ অর্থ কৃষ্ণদাস কবিরাজ বলেছেন=*
*এই শ্লোকের সংক্ষেপার্থ শুন ভক্তগণ।*
*জগন্নাথ দেখি যৈছে প্রভুর ভাবন।।*
*শ্রীরাধিকা কুরুক্ষেত্রে কৃষ্ণের দর্শন।*
*যদ্যপি পায়েন তবু ভাবেন ঐছন*।।
*রাজবেশ সাতী মোড়া মনুষ্য গহন*।
*কাঁহা গোপবেশ কাঁহা নির্জন বৃন্দাবন।।*
*সেই ভাব সেই কৃষ্ণ সেই বৃন্দাবন।*
*যবে পাই তবে হয় বাঞ্জিত পূরণ।।*
🙏🙏🙏🙏🙏⭐
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৯২. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯২)শ্রীগৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
*🍀শ্রীরূপের শ্লোকে গৌরতত্ত্ব🍀*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌻শ্রীপাদ রূপ গোস্বামী নাটক লিখছেন।মহাপ্রভুর নির্দশে একটি গ্রন্থকে দুইটি করে লিখছেন। বিদগ্ধমাধব ও ললিতমাধব।রসিক ভক্তগণ সঙ্গে স্বয়ং রসিকেন্দ্র চূড়ামণি গৌরসুন্দর উপবিষ্ট অর্থ্যাৎ বসে আছেন।রায় রামানন্দ বিদগ্ধ মাধবের প্রারম্ভে ইষ্টদেব বন্দনায় কি লিখেছ?শ্রীমহাপ্রভু নিকটে বসে শ্রীরূপ শ্লোক পাঠ করতে ইতস্ততঃ (কুন্ঠা বোধ) করছেন।কারণ শ্লোক মহাপ্রভুর তত্ত্ব মহিমা বর্ণিত আছে।মহাপ্রভু তা বুঝেননি।তিনি বললেন, রূপ!সঙ্কোচ কর কেন?বৈষ্ণব সমাজে গ্রন্থ শুনানো মহাভাগ্যের কথা। তথাপিসশ্রীপাদ রূপ চুপ করে থাকলে, স্বরূপ দামোদর সেই লেখা হাতে নিয়ে পাঠ করলেন---*
*অনর্পিতচরীং চিরাৎ করুণয়াবতীর্ণ কলৌ,*
*সমর্পয়তুমুন্নতোজ্জ্বলরসাং স্বভক্তিশ্রিয়ম্।*
*হরিঃ পুরটসুন্দরদ্যুতি কদম্ব সন্দীপিতঃ,*
*সদা হৃদয়কন্দরে স্ফুরতু বঃ শচীনন্দনঃ"*
*🌹শ্লোক শুনে সকল ভক্ত আনন্দে অধীর।চতুর চূড়ামণি গৌরসুন্দর মন্তব্য করলেন, "অতি স্তুতি হয়ে গেছে"।*
*🍀মহাপ্রভু সকল ভক্তদের বললেন, তোমরা সকলে রূপকে আশীর্বাদ কর যেন রসতত্ত্ব বর্ণনা করতে পারে। ভক্তগণ বললেন, "তুমি নিজেই শ্রীরূপকে অশেষ কৃপা করেছ। আমাদের আর কিছু করতে হবে না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৯৩. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯৩)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
*🌹🌹🌹প্রদ্যুম্ন মিশ্রের কথা🌹🌹🌹*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀প্রদ্যুম্ন মিশ্র নামক একজন কৃষ্ণভক্ত শ্রীগৌরহরির কাছে কৃষ্ণ কথা শুনতে চাইলেন।মহাপ্রভু বললেন, আমি কৃষ্ণকথা জানি না।রামানন্দ রায় জানেন।তার কাছে তুমি যাও। মহাপ্রভুর কথা অনুসারে প্রদ্যুম্ন রামরায়ের গৃহে গেলেন। রামরায় গৃহে ছিলেন।রামরায়ের গৃহে গিয়ে দেখলেন তাঁর সেবক আছেন।সেবককে জিজ্ঞাসা করলেন রামরায় কোথায়,তাঁর সেবক বললেন,রায় এখন কাজে ব্যস্ত আছেন। তিনি দুইটি দেবকন্যাকে নৃত্যাদি শিক্ষা দিচ্ছেন। তারা লীলাভিনয় করে শ্রীজগন্নাথদেবকে শুনাবেন।*
*⭐কিশোরী সুন্দরী মেয়েদের নাচ শিক্ষা দেন শুনে প্রদ্যুম্ন মিশ্রের মনে অশ্রদ্ধা হল। তিনি তখন ফিরে গিয়ে মহাপ্রভুকে বললেন,রাম রায়ের কার্য্যাদি শুনে আমার শ্রদ্ধা হল না তাই ফিরে এলাম।গৌরহরি বললেন তুমি আবার যাও। রামানন্দকে তুমি চিনতে পারো নি।রামানন্দ রায় একজন নির্বিকার জিতেন্দ্রিয় পুরুষ। ঐরকম দ্বিতীয় ব্যক্তি আর কেউ নাই। তার দেহ অপ্রাকৃত।একটি কাঠের মানুষ আকার পুতুলের সামনে যদি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দরীগণ বিবসন হয়ে নৃত্য করে, তাহলে কি সেই কাঠের পুতুলের কোন বিকার হয়? সেই রামানন্দ রায়।শ্রীমদ্ভাগবতের রাসলীলা আস্বাদন করতে করতে তিনি কামবিকার শূন্য হয়েছেন। তুমি আমার নাম নিয়ে আবার তার কাছে যাও।*
*🍁প্রদ্যুম্ন মিশ্র নিজের ভুল বুঝতে পেরে আবার গেলেন।রামানন্দ রায় প্রাণভরে কৃষ্ণলীলা তত্ত্বমাধুর্য্য কীর্তন করলেন বেলা তৃতীয় প্রহর পর্যন্ত।বক্তা রামরায় শ্রোতা প্রদ্যুম্ন মিশ্র। দুইজনেই প্রেমাবেশে বাহ্যস্মৃতি শূন্য হয়ে গেলেন। পরে তিনি বললেন কৃতার্থ হলাম, বলে বিদায় নিলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৯৪. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯৪)গৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন*
*🍀এক বঙ্গীয় কবির নাটক🍀*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌹বঙ্গদেশীয় এক বিপ্র শ্রীমহাপ্রভুর চরিত্রের একখানি নাটক লিখে এনেছেন।অনেক ভক্ত তা শ্রবণ করে আনন্দলাভ করেছেন।সকলের ইচ্ছা মহাপ্রভু শোনেন।মহাপ্রভু বললেন-- আগে স্বরূপ-দামোদরকে শোনাও। সে যদি বলে শ্রবণযোগ্য তাহলে আমি শুনব।*
*🍁স্বরূপদামোদরের কাছে প্রথম নান্দীশ্লোক পাঠ করলেন। শ্লোকটি সুন্দর। তার তাৎপর্য্য এই যে, সম্প্রতি নীলাচলে জগন্নাথ, গৌরসুন্দর দ্বারা আত্মতা প্রাপ্ত হয়েছেন। অর্থ্যাৎ জগন্নাথ দেহ,গৌরহরি আত্মা। তিনি এখন অজ্ঞান জীবকে জ্ঞান দান করছেন।তিনি সকলের মঙ্গল বিধান করুন।*
*🌺শ্লোকের অর্থ শুনে সকলেই প্রশংসা করলেন। কিন্তু স্বরূপদামোদর বিমনা হলেন। তিনি বললেন-- শ্লোকের ব্যাখ্যান কর। কবি বললেন--, সুন্দর শরীর জগন্নাথ আর চৈতন্য গোসাঞি শরীরী।জড় জগৎকে চেতন করাতে কৃষ্ণ চৈতন্য রূপে আবির্ভূত। তিনি মঙ্গল বিধান করুন। স্বরূপ গোঁসাই বললেন, তোমার শ্লোক দোষযুক্ত হয়েছে।দুইজন ঈশ্বরের একজনেও তোমার বিশ্বাস নাই। জগন্নাথ পূর্ণানন্দ চিৎস্বরূপ।তাঁকে জড়দেহের সঙ্গে তুলনা করেছ। আর পূর্ণ ষড়ৈশ্বর্য্য শ্রীচৈতন্য স্বয়ং ভগবান।তাঁকে তুমি চিৎকন জীবাত্মার সঙ্গে তুলনা করেছ।দুই ঈশ্বরের কাছেই তোমার অপরাধ।*
*🍀আরও এক অপরাধ করেছ।ঈশ্বরের নাহি কভু দেহ-দেহি ভেদ। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা হয়েছে তোমার শ্লোকে। একজনকে দেহ ও অপরজনকে দেহী বলায়। আবার শ্লোকের শব্দার্থও করা যায়।জগন্নাথ কৃষ্ণের আত্মা স্বরূপ।তিনি দারুব্রহ্ম রূপে বিরাজমান,তাঁরই সঙ্গে অভিন্নরূপে।তাঁর সহিত আত্মতায়,এইরূপ হয়ে কৃষ্ণ এক তত্ত্ব, দুই রূপ হয়ে লোক নিস্তারের জন্য জঙ্গম ব্রহ্মরূপে আবির্ভূত হয়েছেন। জগন্নাথ "দারুব্রহ্ম স্থাবর স্বরূপ" আর গৌরচন্দ্র জঙ্গমরূপে কৈল অবতার। এই অর্থ শ্লোক নির্দোষ হয়।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৯৫. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯৫)গৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন*
*💧রঘুনাথ দাসের প্রতি কৃপা💧*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*🍀সপ্তগ্রামের বড় জমিদার শ্রীগোবর্ধন দাসের পুত্র রঘুনাথ। গৌরসুন্দরের আবির্ভাব বার্তা, নাম গুণ গান শুনে রঘুনাথ শান্তিপুরে মহাপ্রভুর পাদপদ্মে গিয়ে পৌঁছান।প্রভু গৌরহরি তাকে বাড়ী ফিরে যেতে বলেন।একটু বেশ কঠোর ভাষাতে বলেন=*
*মর্কট বৈরাগ্য না করিহ লোক দেখাইয়া।*
*যথাযোগ্য বিষয় ভুঞ্জ অনাসক্ত হইয়া।।*
*☘মহাপ্রভুর কথায় রঘুনাথ গৃহে ফিরে গেলেন।তাঁর পিতামাতা তাকে সংসারবদ্ধ করবার জন্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেন। রঘুনাথ সংসারে মন দিলেন বটে, তা শুধু বাইরে।অন্তর তীব্র বৈরাগ্যময়। একদিন রাত্রে উঠে একাকী পলায়ন করলেন।পিতা সন্ধান করে পথ হতে ধরে গৃহ আনেন এবং সর্বদা পাহারায় রাখলেন।*
*কিছুদিন পর দয়াল নিতাইচাঁদ পাণিহাটিতে এসেছেন শুনে বাড়ীতে পিতামাতার অনুমতি নিয়ে সঙ্গে লোক লস্কর দিয়ে রঘুনাথ সেখানে প্রায় ছুটে আসিলেন। রঘুনাথ ইতিপূর্বে নিতাইচাঁদকে দর্শন করেননি। আজ প্রথম দেখলেন। গঙ্গাতটে এক বৃক্ষমৃলের উপর বসে আছেন।অঙ্গে মধ্যাহ্ন সূর্য্যের জ্যোতিঃ।চারিদিকে ভক্তবৃন্দ ঘিরে বষে আছেন।প্রভুর প্রভাব দেখে রঘুনাথ বড়ই আশ্চর্য্য হলেন। দূর হতে দন্ডবৎ করলেন।পরম কৌতুকী দয়াল নিতাইচাঁদ রঘুনাথকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে মাথায় শ্রীচরণ দিলেন।মধুর ভাষায় বললেন,"চোরা দেখা দিস না কেন?" আজ ভক্তদের চিড়া দধি খাইয়ে দে। নিতাইচাঁদের আদরে আবদারে রঘুনাথ মুগ্ধ হলেন।যেমন আদেশ করলেন তেমনই তিনি পালন করলেন।খুব ঘটা করে চিড়া দধি মহোৎসবে ভক্তদের সেবা দিলেন। অতঃপর নিত্যানন্দপ্রভু গৌরসুন্দরকে ধ্যানে আনিয়া ভোজন করালেন এবং অবশেষ প্রসাদ রঘুনাথকে দিয়ে বললেন, "শ্রীচৈতন্য প্রভু ভোজন করেছেন" তাঁর অধরামৃত পাইলে তোমার বন্ধন খন্ডন হবে।*
*🍁তখন রঘুনাথ শ্রীনিত্যানন্দের শ্রীচরণে প্রার্থনা করলেন, শ্রীগৌরের শ্রীচরণ কিভাবে পাব উপায় বলে দিন।যতবার গৃহ ছেড়ে পালিয়েছি ততবার আমায় গৃহে ফিরে আসতে হয়েছে।প্রভু তোমার কৃপা ছাড়া শ্রীগৌরহরির শ্রীচরণ পাবার অপর কোন পথ বা উপায় দেখি না। পুন রঘুনাথের মস্তকে শ্রীচরণ ধরে নিতাইচাঁদ বললেন,তোমার সমস্ত বন্ধন ছুটে গেছে।প্রাণের গৌরহরি তোমাকে অন্তরঙ্গ ভৃত্য বলে গ্রহণ করবেন।*
*ক্রমাগত*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ৯৬. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ ꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯৬)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
*👌রঘুনাথ দাসের প্রতি কৃপা👌*
*********************************
*🌻নিতাইচাঁদ বললেন, স্বরূপের হাতে সমর্পণ করবেন।ইহা অচিরেই ঘটবে।*
*🌷বাড়ীর চন্ডীমন্ডপে রঘুনাথ শয়নে আছেন।চারিদিকে কড়া পাহারা।শেষ রাত্রে যখন সবাই নিদ্রিত তখন পরিবারের পুরোহিত "ঠাকুর যদুনাথ আচার্য্যের" সঙ্গে গৃহ ছেড়ে পলায়ন করলেন।পরে পুরোহিতকে বাড়ী পাঠিয়ে একাই চললেন।পথ ছেড়ে উপপথে চললেন।একদিনে পনের ক্রোশ পথ অতিক্রম করলেন।পরদিন পূর্বমুখ ছেড়ে দক্ষিণমুখে চলিলেন। তিরিশ দিনের পথ ১২ দিনে নীলাচলে পৌঁছিলেন।পথে তিনদিন মাত্র কিছু আহার করেছিলেন। "চৈতন্য চরণ প্রান্তে মন তাই ক্ষুধা নাহি বাধে"। করুণাময় শ্রীগৌরাঙ্গ সুন্দর স্বরূপাদি ভক্তসঙ্গে বসে আছেন। ঠিক সেই সময় রঘুনাথ এসে দন্ডবৎ করলেন। মহাপ্রভু স্নেহভরা কন্ঠে বললেন, আইস, রঘুনাথ শ্রীচরণে পতিত হলেন।প্রেমের ঠাকুর গৌরহরি তাঁকে বক্ষে ধারণ করলেন।সকল ভক্তগণ সঙ্গে মিলন হল।স্বরূপকে লক্ষ্য করে গৌরহরি বললেন, এই রঘুনাথ আমি সঁপিনু তোমারে। আমার তিনজন রঘুনাথ আছে। এর পরিচয় হল "স্বরূপের রঘুনাথ "।তুমি রঘুকে পুত্র ভৃত্যরূপে গ্রহণ কর। গোবিন্দদাস মহাপ্রভুর অবশেষ পাত্র রঘুনাথকে দিল।এইমত পাঁচদিন চলিল।তারপর রঘুনাথ দশদন্ড রাত্রের পর জগন্নাথে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে সিংহদ্বারে দাঁড়িয়ে থাকেন।যে যা দিতেন তাই নিতেন।*
*"রাত্রে সিংহদ্বারে খাড়া হঞা মাগি খায়" শুনে মহাপ্রভু বললেন, "ভাল হইল,বৈরাগীর ধর্ম আচরিলা"।*
*🍀বৈরাগী করিবে সদা সম সংকীর্তন।*
*মাগিয়া যাচিয়া করে জীবন ধারণ।।*
*পরবর্তীকালে রঘুনাথ শ্রীগৌর চরণে জিজ্ঞাসা করলেন, আমার কৃত্য কি? সাধ্য-সাধন কহ, মহাপ্রভু বললেন, স্বরূপ সব তোমায় বলবে।আমি কয়েকটি মাত্র কথা তোমাকে বলি=*
*গ্রাম্য কথা না শুনিবে ; গ্রাম্য কথা না কহিবে।*
*ভাল না খাইবে আর ভাল না পরিবে।।*
*অমানী মানদ কৃষ্ণ নাম সদা লবে*।
*ব্রজে রাধাকৃষ্ণ সেবা মানসে করিবে।।*
*🌻রঘুধাথের সংবাদ পেয়ে তাঁর পিতা এক ব্রহ্মণের হাতে চারশত টাকা দিয়ে পাঠালেন। রঘুনাথ তা গ্রহণ করলেন না।সিংহদ্বার ছেড়ে ছত্রে ভিক্ষা করা শুরু করলেন। শুনে মহাপ্রভু বললেন=*
*ভাল হইল ছাড়িল সিংহদ্বার।*
*সিংহদ্বারে ভিক্ষা বৃত্তি বেশ্যার আচার।।*
*🌷কিছুদিন পর রঘুনাথ ছত্রে ভিক্ষাও ত্যাগ করলেন। পসারির যে প্রসাদান্ন বিক্রি না হয় তা তারা বাইরে ফেলে দেন।নর্দমা দিয়ে চলে যায়। পচাসড়া গন্ধে গাভীগুলো তা খায় না। রঘুনাথ তা তুলে ধুয়ে যে অন্নকটি আস্ত পান তাইই সেবা করেন।একদিন স্বরূপদামোদর রঘুনাথ নাথের হাত হতে ঐ প্রসাদান্ন চেয়ে নিলেন, বললেন আমাকে ভাগ না দিয়ে এমন অমৃত সেবা কর!মহাপ্রভু গৌরহরি শুনে একদিন একগ্রাস কেড়ে নিয়ে খেলেন, এবং বললেন "অসাধারণ প্রসাদান্ন" বস্তু সেবা কর আমাকে দাও না কেন? অতুলনীয় রঘুনাথের বৈরাগ্য দেখে মহাপ্রভুর আনন্দের সীমা নাই।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•══════════✧
🙏 ক্রমশ 🙏
✧═══════════•❁❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
