✧═══════════•❁❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ১০০. বৈষ্ণব চূড়ামণি কৃষ্ণচন্দ্র সিংহ 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori100.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 ১০১ হইতে ১১০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori101to110.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০১)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌳মহাপ্রভু তখন অদ্বৈত মহিমা ব্যক্ত করে নানাস্তুতি বর্ষণ করতে লাগলেন যা শ্রীচৈতন্য ভাগবতে পাওয়া যায় =*
*🌷ইন্দ্র আজ্ঞাকারী এ তোমার কোন শক্তি।*
*🌷ভাগ্য সে ইন্দ্রের যে তোমারে করে ভক্তি।।*
*🌷কৃষ্ণ না করেন যাঁর সঙ্কল্প অন্যথা।*
*🌷যে করিতে পারে কৃষ্ণ সাক্ষাৎ সর্বথা।।*
*🌷কৃষ্ণচন্দ্র যাঁর বাক্য করেন পালন।*
*🌷কি অদ্ভুত তাঁরে এই ঝড় বরিষণ।।*
*🌷যম কাল মৃত্যু যাঁর আজ্ঞা শিরে ধরে।*
*🌷নারদাদি বাঞ্জে যোগেশ্বর মুনিশ্বরে।।*
*🌷যে তোমা স্মরণে সর্ব বন্ধ বিমোচন।*
*🌷কি বিচিত্র তাঁর এই ঝড় বরিষণ।।*
*🌷তোমা জানে হেন জন কে আছে সংসারে।*
*🌷তুমি কৃপা করিলে যে ভক্তিফল ধরে।।*
*🌻মহাপ্রভুর শ্রীমুখে নিজের সম্বন্ধে এইসব স্তুতিবাক্য শুনে অদ্বৈতাচার্য্য মরমে মরে গেলেন এবং মহাপ্রভুর ভক্তবাৎসল্য গুণ স্মরণ করে বিহ্বলভাবে কাঁদতে কাঁদতে তাঁর চরণকমলে ভূলুন্ঠিত হয়ে পড়লেন।*
*🍀দেখা যায় যে ভক্তবৎসল শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র ভক্তের সুখের জন্য,ভক্তের প্রীতির জন্য অসাধ্য সাধন করেন।এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ গোবর্ধনে অকস্মাৎ ঝড় বৃষ্টির প্রাদুর্ভাব,কারণ তা না হলে তো ভগবান নিজ হাতে লালাবাবুকে প্রসাদ খাওয়াতে পারবেন না। অদ্বৈতাচার্য্যের এই প্রসঙ্গটিও তার অনুরূপ একটি ঘটনা। কিন্তু এতসব জেনে ও পড়েও আমরা যে তিমিরে সেই তিমিরেই। ভগবানের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস বা নির্ভরশীলতা স্থাপন করতে পারি না, এটিই পরিতাপের বিষয়।*
*☘এই প্রসঙ্গে এক সাধক ভক্ত প্রাণের আবেগে যেভাবে ভক্তের মনোভাব একটি পয়ারের মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন তা আশাকরি শ্রোতাগণের ভাল লাগবে।*
*🌷কে দিয়েছে ঠাকুর তোমায় ভক্ত সখা নাম।*
*🌷পাষাণ হতে পাষাণ তুমি ওগো নিঠুর শ্যাম।।*
*🌷যে তোমারে কেঁদে ডাকে আরও কাঁদাও তাকে।*
*🌷পাষাণ পূজা সার হয় তার কাঁদন অবিরাম।*
*🌷কে দিয়েছে ঠাকুর তোমায় ভক্ত সখা নাম?*
*🌷তোমার লাগি ধূপের মতন সইছে যারা দুঃখ দহন।*
*🌷এবার তাদের দেখা দিয়ে পুরাও মনস্কাম।*
*🌷কে দিয়েছে ঠাকুর তোমায় ভক্ত সখা নাম?*
*🌷যে তোমারে চায় তাহারে সর্বহারা করো।*
*🌷তার ধনে প্রাণে আগুন জ্বেলে প্রেমের প্রদীপ ধরো।।*
*🌷ওগো দয়াল ওগো নিঠুর ওগো প্রাণারাম।*
*🌷ভক্ত হৃদে তোমার বাঁশি বাজে অবিরাম।।*
*🌷যেরূপে এই বিশ্বভূবন সেজে আছে নিত্য নূতন।*
*🌷সেই মোহন রূপে দেখা দিয়ে পুরাও মনস্কাম।।*
*🌷কে দিয়েছে ঠাকুর তোমায় ভক্ত সখা নাম??????*
*🌹লালাবাবুর জীবনই বলুন বা সাধক ভক্ত মহাজনগণের জীবনই বলুন, যা পাঠ করলে দেখা যায় এইভাবে নিষ্ঠা আনুগত্য এবং চরম আত্মত্যাগের ফলেই ভগবান ভক্তের ডাকে ঠিক সাড়া দেন। সুতরাং বৃন্দাবনে লালাবাবুর উপর যেভাবে তাঁর "কৃষ্ণচন্দ্রমা" বিগ্রহ কৃপা করেছিলেন গোবর্ধনে আসিবার পরও তিনি সেরকম কৃষ্ণকৃপা হতে বঞ্চিত হননি।যার চরম নিদর্শন হচ্ছে গিরিধারী কর্তৃক নিজহাতে প্রসাদ এনেছেন।ভগবানের হাতে আনা প্রসাদ পেয়ে লালাবাবু তখন পেয়েছেন এক নবজীবনের আস্বাদ এবং তদানীন্তন বৃন্দাবন সমাজে তিনিই সিদ্ধপুরুষ এবং সাধকভক্ত বলে সর্বজন স্বীকৃত ছিলেন।এই লালাবাবুর জীবনের আর একটি অত্যাশ্চর্য্য ঘটনা হচ্ছে গুরুকরণ এবং দীক্ষামন্ত্র গ্রহণ।*
*🌺তিনি যখন গোবর্ধনে ছিলেন তখন পরিক্রমাকালে তাঁর এক মহাত্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় যিনি হচ্ছেন মথুরার কৃষ্ণদাস বাবাজী। সাধকভক্ত হিসাবে তিনি ছিলেন সকলের কাছে পরম সম্মানীয়, তেমনি আবার ভক্তমাল গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ করে তিনি বৈষ্ণব জগতে অমূল্য সম্পদ দান করে গিয়েছেন।লালাবাবু সাধন ভজনের মাধ্যমে ভক্তি জগতে যে কতদূর অগ্রসর হয়েছেন,তার পরিচয় আগেই পাওয়া গেছে কিন্তু তথাপি তিনি ছিলেন অদীক্ষিত এবং সেইজন্য সিদ্ধ মহাত্মা কৃষ্ণদাস বাবাজীর নিকট দীক্ষার মনোবাসনা ব্যক্ত করলেন।এর দ্বারা স্পষ্টই প্রমাণিত হবে যে বৈষ্ণব জগতে বা ভক্তি জগতে গুরু করণের উপযোগিতা বা প্রয়োজনীয়তা কি? কারণ লালাবাবু সাধনার এত উচ্চস্তরে উঠলেও তখনও পর্য্যন্ত তিনি দীক্ষিত হননি।তখন কৃষ্ণদাস বাবাজী বললেন এখন দীক্ষা দিব না, তবে দীক্ষা আমি দিব কিন্তু আরও কিছু কঠোর সাধন ভজন করতে হবে এবং মনের মধ্যে বিষয়ী জীবনের সূক্ষ্ম কুসংস্কার যদি কিছু অতি গোপন ভাবে থাকে তাকে চিরতরে নির্বাসন দিতে হবে।আরও বললেন, যে তাঁর বিচারে যখন সময় উপস্থিত হবে তখন তিনি স্বয়ং এসে দীক্ষামন্ত্র দান করবেন। লালাবাবুর মন হতাশায় প্লাবিত বা ডুবে গেল, তখন তিনি কঠোরতর সাধন ভজনের মধ্যে নিজেকে নিমগ্ন করলেন।🌹এই প্রসঙ্গে কবিশেখর কালিদাস রায় বিরচিত লালাবাবুর দীক্ষা নামক যে কবিতাটি তিনি রচনা করেছিলেন, তা হতে কিঞ্চিৎ উদ্ধৃতি দিবার বাসনা মনে জেগেছে যার পূর্ণ প্রকাশ "ভক্তের প্রার্থনা " গ্রন্থের নব্বই পৃষ্ঠায় পাওয়া যাবে "🌹।*
*🌻কৃষ্ণদাস বাবাজীর সঙ্গে লালাবাবুর প্রথম দর্শন কালে লালাবাবু কি করলেন?*
*সাধু চরণে ধরি,কন লালা কৃপা করি,*
*এ অধমে দিন তরী,তরণের মন্ত্র।*
*সাধু কন স্নেহভরে,এবে ফিরি যাও ঘরে,*
*এখনো আসেনি তব দীক্ষার লগ্ন।।*
*নিজে যাব এলে দিন,বর নাকো উদাসীন,*
*এত কহি আঁখি মুদি পুনঃ জপে মগ্ন।।*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori101to110.html
*(১০২)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌷লালাবাবু যান ফিরে,বুক ভাসে আঁখি নীরে,*
*🌷ভাবেন হায়রে তবে,যশই কিনেছি ভবে।*
*🌷পারের কড়ির থালা, একেবারে শূন্য,*
*🌷যার ধন সেই পায়,লোকে মোর গুণ গায়।*
*🌷তাই শুনি নিশিদিনই-- ভাবি তাই সত্য।*
*🌷ব্রজনাথ করে দান,জাগে মোর অভিমান,*
*ভব রোগটির এ যে দারুণ কপথ্য।।*
*তখন লালাবাবু কঠোর বৈরাগ্য অবলম্বন করলেন এবং তা দর্শনে ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে সকল ব্রজবাসীগণের মধ্যে অভূতপূর্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিল,যথা=*
*পথে পথে ব্রজধামে,জয় রাধা শ্যাম নামে,*
*মাধুকরী করি সদা ফিরেন আনন্দে।।*
*ব্রজবাসীগণ তায়,কেঁদে পিছু পিছু ধায়,*
*লাখপতি ভিখ মাঁগে অপরূপ দৃশ্য।*
*সারা ব্রজ মন্ডলে,রস আলোড়নে চলে,*
*সাথে সাথে ভিড় করে যত দীন নিঃস্ব।।*
*ভান্ডার খালি করে,আনে থালি ডালি ভরে,*
*দিতে রাজ ভিখারিরে গৃহীগণ ব্যস্ত।*
*ভিখারি না লয় কিছু,বদন করিয়া নিচু,*
*মুষ্টি ভিক্ষা তরে পাতে এক হস্ত।।*
*🌻এইভাবে কিছুদিন অতিবাহিত হবার পর তিনি পুনরায় দ্বিতীয়বার তাঁর কাছে গমন করলে কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজ কহিলেন "লালা আর দেরী নাই "।*
*সেই শুভলগ্ন-শুভক্ষণ আগ প্রায়, কিঞ্চিৎ ধৈর্য্য ধরো।হতাশায় লালাবাবুর বুক ভরে যায় এ ভাবতে থাকেন কোথায় কি ভুল হয়েছে,কোথায়কোন অপরাধ প্রচ্ছন্ন ভাবে বিরাজ করছে কিছুতেই তো তা স্থির করতে পারছি না।লালাবাবুর অবস্থা তখন=*
*সারা পথ লালা চলে,তিতাইয়া আঁখি জলে,*
*নয়নে নাহিক নিদ্ রুচে-নাকো অন্ন।*
*☘হঠাৎ তখন শেঠবাড়ীর পাশ দিয়ে যাবার সময় তাঁর মনে প্রচণ্ড ভাবান্তর হল এবং ভাবতে লাগিল যে বৃন্দাবনের সর্বত্রই তো তিনি মাধুকরী ভিক্ষা করেছেন কিন্তু এই শেঠবাড়ীতে তো কখনও ভিক্ষা চাইতে যাইনি, কারণ তাঁদের সঙ্গে চিরকাল ব্রত দান খয়রাতের মাধ্যমে আড়াআড়ি প্রতিযোগিতা চলেছে।এটি তো অভিমানের পরিচয় এবং বৈষ্ণব জনোচিত নয়। সুতরাং তিনি শেঠদের বাড়ীতে মাধুকরী ভিক্ষায় যাবার মনস্থ করলেন। কবির ভাষায় আপনারা শুনুন কারণ এই বর্ণনা অতীব হৃদয়গ্রাহী।*
*শেঠদের বাড়ীটার,পাশ দিয়ে যেতে তাঁর,*
*জাগিল সহসা চিতে নব চৈতন্য*।
*সহসা ভাবেন থামি,কি ধন পেলাম আমি,*
*কে করিল কশাঘাত হৃদয় তরঙ্গে।।*
*এই শেঠদের বাড়ী,রেষা রেষি আড়াআড়ি,*
*চলিয়াছে কতদিন ইহাদের সঙ্গে*।
*এ ব্রজের দ্বার দ্বার,গেছি আমি কতবার,*
*পারি নাই এ দুয়ারে মাগিতে ভিক্ষা•••।।*
*🍀এইরকম সঙ্কল্প করে লালাবাবু মান-অভিমান সব বিসর্জন দিয়ে শেঠেদের তোরণ দ্বারে উপস্থিত হলেন। শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী এই প্রসঙ্গে বলেছেন=*
*🌷ফলবন্ত বৃক্ষ আর গুণবন্ত জন।*
*🌷নম্রতা যে তাহার স্বভাব অনুক্ষণ।।*
*🌳লালাবাবু এই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শেঠেদের বাড়ীর সামনে গমন করে "শ্রীরাধা-গোবিন্দ" বলে মাধুকরী ভিক্ষা চাইলেন। কবির ভাষায় আস্বাদন করুন।*
*এত ভাবি একেবারে,শেঠের তোরণ দ্বারে,*
*হাঁকিলেন লালাবাবু শ্রীরাধাগোবিন্দ।*
*শেঠেদের ঘরে ঘরে,সে ধ্বনির সাড়া পড়ে,*
*ছুটে আসে পরিবার পরিজন বৃন্দ।।*
*কাঁদির প্রহরী দ্বারী,কেঁদে উঠে ভান্ডারী,*
*দেওয়ান কাঁদিয়া চুমে পদধূলি পঙ্কে।*
*শেঠজী ছুটিয়া আসে,বাঁধে তারে বাহু পাশে,*
*নারীগণ ফুঁপিয়া কাঁদে ফুকারীয়া শঙ্খে।।*
*ভেদি রোদনের রোল,হরি বোল হরি বোল,*
*টলমল সারা বাড়ী প্রেমের তরঙ্গে।*
*লেঠ কয় জুড়ি পাণি,আজ পরাজয় মানি,*
*ইহলোকে পরলোকে জিতে গেল বৈরী*
*ঝুলিখানি তব কাঁধে,ভরা জয় সংবাদে,*
*সোনা দিয়ে পরাজয় করিয়াছি তৈরী*
*শেঠ হাঁকে বার বার,সারা শেঠ ভান্ডার,*
*সাথে দাও বন্ধুর তবে পাবো তুষ্টি।*
*লালাবাবু কন ভাই,এ জঠরে ঠাঁই নাই,*
*ভিক্ষা দাও মোরে শুধু এক মুষ্টি।।*
*🌻এটি দ্বারা এই শিক্ষাই পাই যে সাংসারিক জীবনে যদি কারও সঙ্গে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয় তার জন্য মানসিক অশান্তি ভোগ না করে তার কাছে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে গমন করলে মান যায় না,বরং জাগতিক বিচারে তিনিই শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করবেন। এইভাবে আমরা বহু সমস্যার সমাধান করতে পারি।এই শেঠ পরিবার লালাবাবুকে এত হিংসা করতেন, তাঁরা আজ লালাবাবুর উদারতায় মুগ্ধ হয়ে চিরতরে তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করলেন। শেঠজী বলেছিলেন=*
*শেঠ কয় জুড়ি পাণি,আজ পরাজয় মানি,*
*ইহলোকে পরলোকে জিতে গেল বৈরী।*
🔴🔴🔴🔴🔴🔴🔴🔴🔴🔴🔴🔴
*কেহ বা উদ্ধব প্রতি,কহে হ'য়ে ম্লান অতি,*
*কি কারণে মথুরায় আছেন শ্রীহরি।*
*পিতা মাতা গোপীগণে,তাঁর আছে কি স্মরণে,*
*কন কি ব্রজের কথা কহ সত্য করি।।*
*গোপীগণ প্রাণ ধন,কোথা প্রভু জনার্দন,*
*আবার হেরিব কবে সে চারু বদন।*
*যমুনা পুলিনে বসি,বাজাত মোহন বাঁশী,*
*হরি নিত সেই সুরে আমাদের মন।।*
*কহে উদ্ধব তখন,ধন্য সব গোপীগণ,*
*বাসুদেব ভিন্ন কিছু নাহি অন্য জ্ঞান।*
*যেবা তাঁর ধ্যানে রত,হয় তাঁর শ্রেষ্ঠ ব্রত,*
*অতি শীঘ্র সেইজন হরি কৃপা পান।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori101to110.html
*(১০৩)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু*
*শ্রীপুন্ডরীক বিদ্যানিধি প্রসঙ্গ*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀সিদ্ধ কৃষ্ণদাস বাবাজী তাঁর ঐশী শক্তির মাধ্যমে সবই মানসে জানতে পারলেন, তিনি শুধু এই দিনটির জন্যই প্রতীক্ষা করছিলেন যে কবে লালা অভিমান শূন্য হয়ে শেঠেদের বাড়ীতে মাধুকরী ভিক্ষা করতে যাবে।*
*🪷মাধুকরী শব্দের অর্থ এই যে, মধুকর বা মৌমাছি প্রতি ফুল হতে মধু সংগ্রহ করে মৌচাক তৈরী করে,তারা মনে মনে নিবেদন করে যে,হে ভগবান! আমাদের কর্মদোষে এই জীবন পেয়েছি,এতে তোমার প্রতি আমাদের কোন অভিযোগ নেই, তবে যে মধু সংগ্রহ করে মৌচাক তৈরী হচ্ছে,তা যেন তোমার সেবায় লাগে। এই মধুকর থেকে মাধুকরী, প্রকৃত মাধুকরী শব্দের অর্থ হচ্ছে "পাঁচ বাড়ী হতে ভিক্ষা করে, শ্রীরাধাগোবিন্দের সেবা দিয়ে প্রসাদ পাওয়া।🌹*
*🌻যাইহোক, যে মুহূর্তে তা সঙ্ঘটিত হল তখনই তিনি নিজ প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী লালাবাবুর ভজন কুটীরে এসে উপস্থিত হলেন।কারণ তিনি বরাবরই বলেছেন যে লালা সময় হলে আমি নিজেই তোমার কাছে যাব, তোমায় আমার কাছে আসতে হবে না।এইসব সিদ্ধ মহাপুরুষের চরিত্র বিশ্লেষণ করা দুঃসাধ্য ব্যাপার। কারণ লালাবাবুর মত একজন ধনী ত্যাগী মহাত্মা দীক্ষাপ্রার্থী হলেও তিনি তাতে রাজী হননি, কারণ তিনি চান যে তিনি যাঁকে দীক্ষামন্ত্র দিবেন সে আধার হবে উপযুক্ত পাত্র এবং লালাবাবুও সাধ্য সাধন জগতে এত উৎকর্ষতা লাভ সত্ত্বেও নিজের কোথায় যে দোষ তা অনুসন্ধানের জন্য ব্যগ্র এবং অবশেষে তিনি যখন অভিমান শূন্য হলেন তখনই শ্রীকৃষ্ণদাস বাবাজী তাঁকে আত্মসাৎ করলেন।এইভাবে কোটিপতি জমিদার কৃষ্ণচন্দ্র সিংহ সিদ্ধ মহাপুরুষ কৃষ্ণদাস বাবাজীর শ্রীচরণতলে নিজেকে বিলিয়ে দিলেন। বৈষ্ণব জগতে দীক্ষার বহু প্রসঙ্গ আছে তারমধ্যে নরোত্তম ঠাকুরের দীক্ষাই সর্বোত্তম বলে গণ্য হয় এবং যেভাবে তিনি শ্রীলোকনাথের হৃদয় মন প্রাণ জয় করতে পেরেছিলেন তা অবিশ্বাস্য রূপে সত্য। কিন্তু লালাবাবুর দীক্ষাও সেদিক দিয়ে বিচার করলে কোন অংশে কম নয়।ভক্তি জগতের এইসব ঘটনায় যাঁরা আগ্রহী তাঁরা কৃপা করে "কবিশেখর কালিদাস রায় রচিত" লালাবাবুর দীক্ষা কবিতাটি পাঠ করবেন এবং ইহা "ভক্তের প্রার্থনা" গ্রন্থে পাবেন।*
*💧এইভাবে লালাবাবু তাঁর ভক্তিময় জীবনের পরিপূর্ণ উন্মেষ সাধন করেন এবং ত্রিশ বৎসর বয়সে তিনি সর্বপ্রথম বৃন্দাবনধামে আগমন করে ৪২ বৎসর বয়সে দিব্যচিন্তামণি ধামে গমন করেন।🌹লালাবাবুর কোষ্টি যিনি প্রণয়ন করেছিলেন তিনি সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন যে তাঁর "খুরের" আঘাতে মৃত্যু হবে।🌹এজন্য লালাবাবু কখনও দাড়ি কাটতেন না। কিন্তু নিয়তির এমনই নিবন্ধন যে তিনি যখন সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেছেন এবং চারিদিকে তাঁর প্রতিষ্ঠা ছড়িয়ে পড়লে,তখন সকলেই তাঁর চরণ দর্শনের জন্য লালায়িত।এমত অবস্থায় গোয়ালিয়রের মহারাণী একবার ধাম দর্শনে আগমন করেন এবং তিনি লালাবাবুর দর্শনপ্রার্থী হন।এতে লালাবাবু খুব বিব্রত বোধ করেন এবং এই সময় ঘটনাচক্রে মহারাণীর দেহরক্ষী বাহিনীর এক ঘোড়সওয়ারের অশ্বের খুরের আঘাতে তিনি তাঁর চরণে খুব আঘাত পান, সেইসময় এই ক্ষতস্থান এমনই এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে পরিণত হয় যে এর ফলেই তাঁর জড় জগতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয় এবং তিনি দিব্যচিন্তামণি ধাম বৃন্দাবনে বাস করে দিব্যলোকে গমন করেন। সুতরাং জ্যোতিষীর বাক্য যে কি ভাবে বাস্তবে পরিণত হয়েছিল তা ভাবলেও অবাক লাগে।জ্যোতিষী বলেছিলেন ক্ষুর, লালাবাবু মনে করেছিলেন দাড়ি কাটবার ক্ষুর এবং সেজন্য তিনি দাড়ি কাটতেন না কিন্তু সে ক্ষুরের প্রকৃত অর্থ যে ঘোড়ার খুর তা বুঝতে পারেননি।*
*🔶এইভাবে তিনি যখন দুষ্ট ক্ষতে প্রারব্ধ ভোগ করছিলেন তখন তাঁর সেবকগণ মনোকষ্টে ব্যথিত হয়ে চরম কষ্টবোধ করতে লাগলেন। কিন্তু সাধক ভক্ত লালাবাবু মিষ্টি হেসে তাঁদের বলতেন যে তোমরা তো প্রভুজীর দেওয়া, এই কষ্টই দেখছ, কিন্তু আমি তো অবগাহন বা স্নান করছি এক অমৃতের খনিতে যা আমার হৃদয় মনকে দিচ্ছে এক অনাবিল আনন্দ এবং পরম শান্তি। সুতরাং তোমরা বৃথা মনোকষ্ট করিও না। ভক্তের কি বিচার,ভক্তের কি সিদ্ধান্ত, যা পাঠ বা শ্রবণ করলে হৃদয় মন জুড়িয়ে যায়।এই ভাবেই ধীরে ধীরে লালাবাবুর ভক্তিময় জীবনের যবনিকাপাত হয় এবং সারা সারা বৃন্দাবন ধাম শোক সাগরে নিমজ্জিত হয়।এইভাবে বিয়াল্লিশ বৎসর বয়সে এই মহাপুরুষের প্রয়াণ হয়।*
🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥
*ভক্তি দ্বারা সবে তাঁরে,বাঁধিয়াছে প্রেমডোরে,*
*তাঁর লাগি পতি পুত্র দিলে বিসর্জন।*
*কৃষ্ণ প'রে রাখি মন,ধন্য সব গোপীগণ,*
*তোমাদের শ্রদ্ধা প্রেমে বিমোহিত মন।।*
*কহিতেছি সত্য করি,সবারে লৈয়া হরি,*
*কুশলে আছেন তথা সহ সঙ্কর্ষণ*।
*পাঠালেন কৃষ্ণ মোরে,তোমাদের দেখিবারে,*
*তাই মোর এ সময় হেথা আগমন।।*
*উদ্ধব নিকটে তব,কুশল কি আর কব,*
*মোদের অন্তরে যে গো প্রদাহ নিয়ত।*
*কর তুমি নিরীক্ষণ,যত কুসুম কানন,*
*পুষ্পহীন,কলি তার না হয় স্ফুটিত।।*
*মধু লোভে অলিগণ,নাহি তোলে গুঞ্জরণ,*
*আর তারা নাহি করে সুখে মধুপান।*
*দেখ মাধব বিহনে,মাধবিকা শুষ্ক মনে,*
*কোকিল ললিত স্বরে নাহি করে গান।।*
🦋🦋🦋🦋🦋🦋🌷🦋🦋🦋🦋🦋🦋
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori101to110.html
*(১০৪)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*শ্রীপুন্ডরীক বিদ্যানিধি*
***********************
*🌹শ্রীপুন্ডরীক বিদ্যানিধি চট্টগ্রামের জমিদার ছিলেন।তিনি বিলাসী ও গৃহী সংসারী ছিলেন, তথাপি তাঁর মত ভক্ত পাওয়া সত্যই বিরল।তিনি কলিযুগে শ্রীরাধিকার অবতার,স্রজন্য মহাপ্রভু যখন রাধাভাবে ভাবিতা হয়ে তাঁকে "বাপ পুন্ডরীক,বাপ পুন্ডরীক" বলে ডাকতেন। এত বড় বিষয়ী হয়েও তিনি ছিলেন গদাধর পন্ডিতের দীক্ষাগুরু। এই পুন্ডরীক বিদ্যানিধি যখন নীলাচলে এলেন তখন মহাপ্রভু তাঁকে পেয়ে চরম আনন্দ লাভ করলেন।এই বিদ্যানিধির মহিমা কীর্তন প্রসঙ্গে গৌরলীলার ব্যাসাবতার শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুর মহাশয় লিখেছেন=*
*🌷আর কি কহিব প্রেম নিধির মহিমা।*
*🌷যাঁর শিষ্য গদাধর এই প্রেমসীমা।।*
*🌷যাঁর কীর্তি বাখানে অদ্বৈত শ্রীনিবাস।*
*🌷যাঁর কীর্তি বোলেন মুরারী হরিদাস।।*
*🌷হেন নাহি বৈষ্ণব যে তানে না বাখানে।*
*🌷পুন্ডরিকো সর্ব ভক্তো কায়বাক্য মনে।।*
*🌺নীলাচলে থাকা কালীন তিনি স্বরূপদামোদরের সঙ্গে একত্রে বাস করতেন এবং দুই জনেই পরম ভাগবদ্ ছিলেন।ক্রমে শ্রীজগন্নাথ দেবের ওড়ন ষষ্ঠীর সময় আগতপ্রায় হল।এই ওড়ন ষষ্ঠীর বিশেষত্ব এই যে এই উৎসবের সময় জগন্নাথদেবকে পূজারী এবং সেবকগণ মান্ডুয়া বস্ত্রে সজ্জিত করেন অর্থ্যাৎ নূতন বস্ত্র মাড় সমেত রং করে তা দ্বারা জগন্নাথ দেবের শৃঙ্গার হয়।এইরকম সেবা প্রথা দেখে পুন্ডরীক বিদ্যানিধির মনে কিঞ্চিৎ সংশয় উপস্থিত হয়,কারণ তাঁর মতে দেবতাকে কি ভাবে মাড়ীবস্ত্র দিয়ে সেবা করা সম্ভব।তিনি যেন এর কোন সদুত্তর পেলেন না তাঁর নিজ বিচারে।তখন তিনি স্বরূপ দামোদরকে জিজ্ঞাসা করলেন, "গোসাঞী,বলো দেখি এদেশের লোকেরা মাড়ুয়া বস্ত্র জগন্নাথদেবকে দেন কেন?" শাস্ত্র বিচারে এটি তো অশুদ্ধ। ধৌত না করে ইহা দ্বারা জগন্নাথদেবের কি ভাবে শৃঙ্গার হয়? প্রত্যুত্তরে দিমোদর বললেন--, বিদ্যানিধি এটি এদেশের বহুদিনের প্রচলিত দেশাচার।এখানে এতে দোষ নাই। নিশ্চয়ই ইহা জগন্নাথদেবের ইচ্ছা।এমনকি রাজাও ইহা নিষেধ করেন না। তখন বিদ্যানিধি মহাশয় বললেন, ঈশ্বরের কথা স্বতন্ত্র, এটি না হয় বুঝলাম।তাই বলে তাঁর সেবকগণের পক্ষে তো তা করা শোভনীয় নয়।রাজপাত্র,পড়িছা,পূজারী পান্ডাগণ সকলেই এই মান্ডুয়া বস্ত্র স্পর্শ করছেন, এই সেই অশুদ্ধ হাতে, হাত না ধুয়েই বা কিভাবে সেবার কাজ করছেন?এমন কি রাজাও পর্যন্ত তাঁর মস্তকে এই মান্ডুয়া বস্ত্র বেঁধেছেন এটি কিরকম হল? ঈশ্বরের পক্ষে ষকলই সম্ভব কিন্তু তাই বলে সর্বলোকে কি তাঁর আচরণ করবে?অর্থ্যাৎ সেবার এই বিধি দেখে বিদ্যানিধির মনে ভীষণ সংশয় উপস্থিত হল, তিনি যেন কিছুতেই এর সদুত্তর পাচ্ছেন না।*
*তখন স্বরূপ গোসাঞী উত্তর দিলেন=*
*🌷পরং ব্রহ্ম জগন্নাথ রূপে অবতার।*
*🌷বিধি না নিষেধ এরা না করে বিচার।।*
*🍀বিদানিধি তদুত্তরে কহিলেন=*
*🌷ভাই---শুন এক কথা।*
*পরং ব্রহ্ম জগন্নাথ বিগ্রহ সর্বথা*।।
*🌷তানে দোষ নাহি বিধি নিষেধ লঙ্ঘিলে।*
*🌷এগুলাও ব্রহ্ম হইল থাকি নীলাচলে।।*
*🌷ইহারাও ছাড়িলেক লোক ব্যবহার।*
*🌷সভেই হইল ব্রহ্ম রূপ অবতার।।*
*🌹বিদ্যানিধির কথা শুনে স্বরূপ গোঁসাই আর হাসি সম্বরণ করতে পারলেন না এবং এই ভাবে ইষ্টগোষ্ঠী করতে করতে রাত্রিকালে স্বরূপ গোঁসাইএর আবাসে নিদ্রা গেলেন।সচল জগন্নাথরূপী মহাপ্রভু রাত্রিতে বিদ্যানিধিকে নিয়ে এক অপূর্ব লীলারঙ্গ প্রকাশ করলেন, যা পাঠ করলে আপনারা মনে অপার আনন্দ লাভ করবেন এবং বিদ্যানিধির উপর জগন্নাথদেবের কৃপার বহর বুঝতে পারবেন।*
*🌷স্বপনে দেখেন বিদ্যানিধি মহাশয়।*
*🌷জগন্নাথ আসি হইলা সম্মুখে বিজয়।।*
*🌷ক্রোধ রূপে জগন্নাথে বিদ্যানিধি দেখে।*
*🌷আপনে ধরিয়া তান চড়ায়েন মুখে।।*
*🌷দুই ভাই মিলি চড় মারে দুই গালে।*
*🌷হেন দৃঢ় চড় যে অঙ্গুলি গালে ফুলে।।*
*🌷দুঃখ পাই বিদ্যানিধি কৃষ্ণ রক্ষ বোলে।*
*🌷অপরাধ ক্ষম বলি পড়ে পদতলে।।*
*🌷কোন অপরাধে মোরে মারহ গোসাঞি।*
*🌷প্রভু বোলে তোর অপরাধের অন্ত নাই।।*
*🌷মোর জাতি,মোর সেবকের জাতি নাই।*
*🌷সকল জানিয়া তুমি রহ এই ঠাঁঞি।।*
*🌷তবে কেন রহিয়াছ জাতি নাশা স্থানে।*
*🌷জাতি রাখি চল তুমি আপন ভবনে।।*
*🌷আমি যে করিয়াছি যাত্রার নির্বন্ধ।*
*🌷তাহাতেও ভাব অনাচারের সম্বন্ধ।।*
*🌷আমারে করিয়া ব্রহ্ম সেবক নিন্দিয়া।*
*🌷মান্ডুয়া কাপড় স্থানে দোষ দৃষ্টি দিয়া।।*
*🌷স্বপ্নে বিদ্যানিধি মহা ভয় পাই মনে।*
*🌷ক্রন্দন করেন শির ধরি শ্রীচরণে।।*
*🌷সর্ব অপরাধ প্রভু ক্ষম পাপিষ্ঠেরে।*
*🌷ঘাটিলু ঘাটিলু প্রভু বলিনু তোমারে।।*
*🌷যে মুখে হাসিনু প্রভু তোর সেবকেরে।*
*🌷সে মুখে শাস্তি প্রভু ভাল কৈলা মোরে।।*
*🌷ভাল দিন হইল মোর আজি সুপ্রভাত।*
*🌷মুখ কপালের ভাগ্যে বাজিল শ্রীহাত।।*
*🌷প্রভু বোলে তোরে অনুগ্রহের লাগিয়া।*
*🌷তোমারে করিনু শাস্তি সেবক দেখিয়া।।*
*🌷স্বপ্নে প্রেমনিধি প্রতি প্রেমদৃষ্টি করি।*
*🌷দেউলে আইলা দুই ভাই রাম হরি।।*
*🌻পুন্ডরীক বিদ্যানিধি শেষ রাত্রে এই স্বপ্ন দেখে জেগে গেলেন এবং অনুভব করলেন যে তাঁর দুই গাল প্রচণ্ড ভাবে ফুলে গিয়েছে। বিষম বেদনা অনুভব করছেন। কিন্তু তিনি এতে বিন্দুমাত্র দুঃখ অনুভব করলেন না কারণ তাঁর মনে আজ অপার আনন্দ যে স্বয়ং জগন্নাথ বলরাম কৃপা করে তাঁকে প্রহারের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়ে গিয়েছেন।প্রেমে এবং ভাব গদগদ হয়ে তিনি জয় জগন্নাথ বলে উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করতে লাগলেন।তাঁর দুইনয়ন দিয়ে যেন প্রেমনদী বহিতে লাগিল এবং তাঁর সর্বাঙ্গে অষ্টসাত্ত্বিক ভাবের বিকাশ হল।*
⚪🔵🌑⚪🔵🌑⚪🔵🌑⚪🔵🌑🔴
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori101to110.html
*(১০৫)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*শ্রীপুন্ডরীক বিদ্যানিধি*
**************************
*🔥প্রেমাবেশে তিনি, "হা গৌরাঙ্গ" "হা জগন্নাথ" বলে চিৎকার করে ক্রন্দন করতে লাগলেন এবং এর ফলে স্বরূপ গোসাঞীর নিদ্রাভঙ্গ হল এবং তিনি বিদ্যুৎ গতিতে তাঁর শয্যাঘরে প্রবেশ করে দেখলেন যে প্রেমানিধি তাঁর ফোলা গালে হাত বুলালেন আর অত্যন্ত আর্তির সঙ্গে হাউ হাউ করে কাঁদছেন।অর্থ্যাৎ তিনি যেন জগন্নাথদেবের শ্রীহস্তের স্পর্শ সুখ অনুভব করছেন।স্বরূপ বুধবার কিছুই বুঝতে পারলেন না। মনে করলেন যে নিশ্চয়ই কেউ রাত্রিতে বিদ্যানিধি মহাশয়কে মারধোর করে গেছে।*
*🌻বিদ্যানিধি মহাশয়কে কিছুটা সুস্থ করে তিনি আদ্যপান্ত সব ব্যাপার অবগত হলেন এবং দেখলেন যে প্রহার এত প্রচণ্ড যে জগন্নাথদেবের শ্রীহস্তের অঙ্গুরীর চিহ্ন পর্যন্ত মুখের মধ্যে বুঝা যাচ্ছে।চোখ,মুখ এমনভাবে ফুলেছে যে তাঁকে দেখলে যেন চিনতে পারা যাচ্ছে না। কিন্তু সেদিকে বিদ্যানিধির ভ্রুক্ষেপ নেই তিনি যেন নিজেকে কতবড় ভাগ্যবান মনে করতে লাগলেন। স্বরূপ দামোদর তখন বললেন=*
*🍀বিদ্যানিধি! তুমি ধন্য! প্রভুর কৃপায় তুমি আজ যে সৌভাগ্যলাভ করলে তা কোটির মধ্যে একজনের ভাগ্যেও হয় না। জগন্নাথদেবের তোমার উপর কৃপার সীমা নাই। তোমার চরণে কোটি কোটি দন্ডবৎ প্রণাম করি। শ্রীচৈতন্য ভাগবতে এই প্রসঙ্গে এইরকম রেখা রয়েছে*
*🌷আজি স্বপ্নে আসি জগন্নাথ বলরাম।*
*🌷দুই দন্ড চড়ায়েন নাহিক বিশ্রাম।।*
*🌷মোর পরিধান বস্ত্র করিলে নিন্দন।*
*🌷এই বলি গালে চড়ায়েন দুইজন।।*
*🌷গালে বাজিয়াজে আঙ্গুলের শ্রীঅঙ্গুরী।*
*🌷ভালমতে উত্তর করিতে না নারি।।*
*🌷স্বপ্ন দেখি বিদ্যানিধি জাগিয়া উঠিলা।*
*🌷গালে চড় সবে দেখি হাসিতে লাগিলা।।*
*🌷শ্রীহস্তের চড় সব ফুলিয়াছে গাল।*
*🌷দেখি প্রেমানিধি বোলে বড় ভাল ভাল।।*
*🌷গালে বাজিয়াছে সব শ্রীহস্তের অঙ্গুরী।*
*🌷ভালমতে উত্তর কহিতে না পারি।।*
*🌺সকালবেলা সারা নীলাচলে এই সংবাদ প্রচার হয়ে গেল এবং দলে দলে ভক্তগণ প্রেমানিধি বিদ্যানিধিকে দেখবার জন্য আসিতে লাগলেন।প্রেমানিধি তখন কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন ঃ-----*
*--------------বড় ভাল ভাল------*
*যেমন কৈনু অপরাধ তার শাস্তি পাইনু।*
*ভালই করিলা প্রভু অল্পে এড়াইনু।।*
*☘সর্বজ্ঞ মহাপ্রভু যেন মনে হল কিছুই জানেন না।বিদ্যানিধির এই অবস্থা দেখে তিনি তখন তাঁর ভাগ্যের মহিমা বর্ণনা করতে লাগলেন। অর্থ্যাৎ শ্বশুর মহাশয়কে পিটিয়ে ভক্ত মহিমা বর্ণনা করতে লাগলেন।পুন্ডরীক বিদ্যানিধি লজ্জায় অধোবদন হয়ে রইলেন এবং নীরবে প্রেমাশ্রু বর্ষণ করতে লাগলেন।স্বরূপ গোঁসাই তখন তাঁকে শান্ত করবার জন্য গাঢ় প্রেমালিঙ্গন দানে বললেন=*
*-----শুন শুন ভাই---*
*এমন অদ্ভুদ কান্ড দেখি শুনি নাই।।*
*স্বপ্নে আসি শাস্তি করে আপনে সাক্ষাতে।*
*আর নাহি শুনি সবে দেখিনু তোমাতে।।*
*🌹নীলাচলবাসী ভক্তবৃন্দ বিদ্যানিধির সৌভাগ্যের কথা শুনে তাঁর মহিমা কীর্তন করতে লাগলেন।স্বয়ং মহাপ্রভু যাঁকে পিতৃ সম্বোধন করেন তার ভাগ্যে এইরকম কৃপা জুটবে তাতে আর আশ্চর্য্য কি।স্বয়ং গদাধর যাঁর মন্ত্র শিষ্য তাঁর ভক্তি ও সৌভাগ্য বর্ণনাতীত।*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*শ্রীকৃষ্ণ বিহনে সবে,বিষাদে মগন এবে,*
*বিরহে করিছে তারা কতই রোদন।*
*কোথা আছ কৃষ্ণধন,দাও সবে দরশন,*
*তোমা বিনা বৃন্দাবন শ্মশান এখন।।*
*গোপীদের ব্যথা শুনি,কহে উদ্ধব তখনি,*
*ধৈর্য্য ধরি শুন সবে আমার বচন।*
*নারায়ণে তনু মন,করিয়াছ সমর্পণ,*
*তাঁর ধ্যানে অনুক্ষণ রয়েছ মগন।।*
*দুর্লভ ভকতি যাহা,লভিয়াছ সবে তাহা,*
*তপস্যায় নাহি ইহা পান মুনিগণ*।
*পতি পুত্র মিত্রে আর,করি সবে পরিহার,*
*পরম পুরুষে হৃদি করেছ অর্পণ।।*
❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori101to110.html
*)১০৬)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*পুন্ডরীক বিদ্যানিধি প্রসঙ্গ*
**************************
*🌹এই পুন্ডরীক বিদ্যানিধি মহাশয়ের আর এক বিশেষত্ব ছিল যে তিনি কখনও দিনেরবেলা নবদ্বীপের গঙ্গাতীরে যেতেন না। এমনকি তিনি গঙ্গাজলে পাদস্পর্শ পর্যন্ত করলেন না।দিনে লোকে গঙ্গাজলে মুখ ধোয়,অপবিত্র বস্তু জলে ফেলে, ময়লা কাপড় চোপড় ধৌত করা, এইসব দৃশ্য বিদ্যানিধি মহাশয় স্বচক্ষে দেখতে পারতেন না, কারণ তাঁর বিচারে পতিতপাবনী সুরধূনী গঙ্গাজল অতীব পবিত্র এইসব অত্যাচারই মনে করতেন।এইসব দৃশ্য দেখে তাঁর মন দুঃখে কেঁদে উঠিত।এইজন্য তিনি গভীর রাত্রে গঙ্গাতীরে গমন করে পতিতপাবনী গঙ্গাকে প্রণাম করে পবিত্র সেইজল মস্তকে নিতেন।এর বেশী আর তিনি কিছুই করতেন না।যে গঙ্গাকে এত পবিত্র জ্ঞানে আমরা সেবা পূজার কাজে ব্যবহার করি তা বোধহয় অপবিত্র করবার অধিকার কি আমাদের আছে?তবে অপর দিকে মা গঙ্গা হচ্ছেন পতিতপাবনী,কলুষনিশিনী সুতরাং তাঁর বক্ষে অপবিত্রতা স্থান পাই না।তবে এক একজনের ভাবধারা বা ভক্তি এক এক রকম। নানান লোকের নানান মত, যত মত তত পথ।*
*🔴পূর্বোক্ত এই উপাখ্যানের মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে বোধ করি সেবকের মহিমা প্রকাশ করা, বিশেষ করে জগন্নাথ দেবের সেবকের সব মাফ।সেজন্য শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুর লিখেছেন=*
*🌷সবে না জানেন সর্ব দাসের প্রভাব।*
*🌷কৃষ্ণ সে জানেন যার যত অনুরাগ।।*
*🌷ভ্রম করায়েন কৃষ্ণ আপন দাসেরে।*
*🌷ভ্রমচ্ছেদ করে পাছে সদয় অন্তরে।*
*🌷ভ্রম করাইলা বিদ্যানিধিরে আপনে।*
*🌷ভ্রমচ্ছেদ কৃপায় করিলা এই ক্ষণে।।*
*🍀অর্থ্যাৎ জীব শিক্ষার জন্য গৌর ভগবান বিদানিধির মনে এই সংশয় সৃষ্টি করিলেন, তাঁকে কৃপাশাস্তি দান করলেন আবার তাঁর সংশয়ের বিনাশও তিনি করলেন।এর সিদ্ধান্ত এই যে শ্রীভগবান সর্ব বিধি নিষেধের অতীত।জগন্নাথদেবের সেবকগণ সব নিত্যসিদ্ধ ভগবদ্দাস।তাঁদের কার্য্যাবলীও বিধি নিষেধের অতীত।বিশেষ করে তীর্থক্ষেত্রে যে সব দেশাচার বা সেবা প্রথা প্রচলিত আছে তা নিয়ে সমালোচনা করা কারও পক্ষে শোভনীয় নয়।এতে ভগবানের প্রতি অবজ্ঞার সৃষ্টি হয়।এই বিদ্যানিধির প্রসঙ্গের ফলশ্রুতি হিসাবে চৈতন্য ভাগবতকার লিখেছেন=*
*🌷পুন্ডরীক বিদ্যানিধির চরিত্র শুনিলে।*
*🌷অবশ্য তাহার কৃষ্ণ পাদপদ্ম মিলে।।*
*🌹বস্তুত পুন্ডরীক বিদ্যানিধির প্রসঙ্গ অসম্পূর্ণ থেকে যায় যদি তাঁর দীক্ষাদান প্রসঙ্গ বর্ণনা করা না হয়। যে কথা পূর্বেই বলা হয়েছে যে তিনি চট্টগ্রামের এক বিশাল জমিদারীর মালিক ছিলেন কিন্তু গঙ্গাতীরে বাস করবার মানসে নবদ্বীপে বাস স্থানান্তরিত করেন।বাইরে তিনি প্রচণ্ড ভোগ বিলাসীর মতো জীবন যাপন করতেন কিন্তু অন্তরে তিনি ছিলেন একজন মহান কৃষ্ণভক্ত।তাঁর এই জীবন রহস্য একমাত্র জানতেন, মহাপ্রভুর একান্ত পার্ষদ মুকুন্দ দত্ত।অন্যদিকে গদাধর পন্ডিত ছিলেন বিরক্ত (আসক্তহীন) সন্ন্যাসী এবং সদাসর্বদা রাধিকা ভাবে ভাবিতা হয়ে মহাপ্রভুর সেবা করতেন।*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori101to110.html
*(১০৭)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*পুন্ডরীক বিদ্যানিধি প্রসঙ্গ*
****************************
*🌴একদিন বিদ্যানিধির মহিমা প্রকাশের জন্য মুকুন্দ গদাধরকে বললেন যে, চলো তোমাকে একজন ভক্তের কাছে আজ নিয়ে যাব। সরলচেতা গদাধর পন্ডিত এতে রাজী হলেন এবং উভয়ে একসঙ্গে পুন্ডরীক বিদ্যানিধির বাসভবনে এসে উপস্থিত হলেন।এই পুন্ডরীক বিদ্যানিধি ছিলেন ব্রজলীলায় শ্রীরাধিকার পিতা বৃষ্ণভানুর স্বরূপ এবং এজন্য স্বয়ং মহাপ্রভু তাঁকে "বাপ" পুন্ডরীক বলে সম্বোধন করতেন।বাইরে পুন্ডরীক বিদ্যানিধিকে অতিশয় বিলাসী এবং ভোগী বলে মনে হত, কারণ তাঁর সদাসর্বদা রাজবেশ,সোনার পালঙ্কে বসিতেন, সোনার গড়গড়ায় তাম্রকুট সেবন (হুকো পান করতেন),সোনার গেলাসে জলপান,দাসদাসীর পরিচর্য্যা ইত্যাদি ভাবে বিলাসবহুল জীবন তিনি কাটাতেন।এইমত অবস্থায় মুকুন্দ যখন গদাধরকে সঙ্গে নিয়ে পুন্ডরীক বাসভবনে আগমন করেন তখন বিরক্ত সন্ন্যাসী গদাধর মনে মনে ভাবলেন যে যিনি এত বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন তিনি কিভাবে একজন মহাভক্ত হতে পারেন?তাঁর মনে এক অবজ্ঞার ভাবের উদয় হল এবং ভাবতে লাগলেন কতক্ষণে তিনি এই জায়গা ত্যাগ করবেন।মুকুন্দ গদাধরের হাবভাব দেখে সবই বুঝতে পারলেন এবং গদাধরের মনের সংশয় কাটাবার জন্য হঠাৎ ভাগবতের পূতনা মোক্ষণ লীলা হতে একটি শ্লোক আবৃত্তি করলেন=*
*🌷অহো বকী যং স্তনকালকূটং।*
*🌷জিঘাংসয়াহপায়ষদ অপি সাধ্বী।।*
*🌷লেভে গতিং ধাত্র্য চিতাং ততো হন্তং।*
*🌷কং বা দয়ালু শরণং ব্রজেম।।*
*🌺অর্থ্যাৎ অহো বকী (বকাসুর ভগিনী পূতনা) যাঁকে বধ করবার জন্য নিজ স্তনযুগলে কালকূট বিষ মাখিয়ে পান করিয়েছিল কিন্তু তথাপি সেই কুবুদ্ধি পরায়ণা অসতী যাঁর কাছে হতে ধাত্রীপদ যোগ্যা গতি লাভ করেছিল,বল, বল দেখি তিনি ছাড়া এই পৃথিবীতে আমরা আর কোন দয়ালু প্রভুর শরণাগতি কামনা করব।*
*☘অকৈতব কৃষ্ণভক্তিপূর্ণ শ্রীমদ্ ভাগবদীয় এই পুণ্য শ্লোক শোনা মাত্র পুন্ডরীক বিদ্যানিধির অকস্মাৎ অপূর্ব ভাবান্তর হল।নয়নজলে তিনি ভেসে যেতে লাগলেন এবং অঝোর নয়নে কাঁদতে লাগলেন। তাঁর সর্ব অঙ্গে অষ্টসাত্ত্বিক ভাববিকার পরিলক্ষিত হল এবং ভাবাবেশে হুঙ্কার গর্জন করতে করতে সোনার পালঙ্ক হতে মাটিতে পড়ে গেলেন।আশপাশের মূল্যবান দ্রব্যাদি সব ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল এবং তিনি কৃষ্ণ প্রেমে মাতোয়ারা হয়ে হাহাকার করে কাঁদতে লাগলেন ও হা কৃষ্ণ,কোথা কৃষ্ণ বলে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদতে লাগলেন।ঐমত অবস্থায় মুকুন্দকে উদ্দেশ্য করে "আবার বলো আবার বলো" বলে চিৎকার করে আক্ষেপ করতে লাগলেন, মুকুন্দও তখন বার বার সেই শ্লোকটি পুনরাবৃত্তি করতে লাগলেন। এক অপূর্ব স্বর্গীয় দৃশ্যের অবতারণা হল এবং যার সাক্ষী ছিলেন মুকুন্দ ও গদাধর।বিদ্যানিধির এইরকম ভাবান্তর দেখে গদাধর হতবাক হয়ে গেলেন এবং অনুশোচনা এবং মর্ম বেদনায় পীড়িত হতে লাগলেন যে এইরকম একজন মহাভক্তকে দেখে কি ভাবে তাঁর মনে অবজ্ঞার সৃষ্টি হল? নিজের মনকে এবং বিচার বুদ্ধিকে তিনি মানসে ধিক্কার দিতে লাগলেন এবং অনুতাপানলে দগ্ধ হতে লাগলেন।*
*🌹পুন্ডরীক বিদ্যানিধির অবস্থা তখন খুবই শোচনীয় এবং ক্লান্ত অবসন্ন দেহে তিনি তখন ভাবাবেশে ডুকরিয়ে ডুকরিয়ে কাঁদতে লাগলেন এবং অশ্রুসজল কন্ঠে বলতে লাগলেন ==*
*🌷কৃষ্ণ রে, বাপ রে, কৃষ্ণ মোর প্রাণ।*
*🌷মোরে সে করিল কাষ্ঠ পাষাণ সমান।।*
*☘এই প্রসঙ্গে শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুর বলেছেন যে=*
*🌷তিল মাত্র ধাতু নাই সকল শরীরে।*
*🌷ডুবিলেন বিদ্যানিধি আনন্দ সাগরে।।*
*🌻প্রকৃত কৃষ্ণভক্তের স্বরূপ এবং মনোভাব প্রসঙ্গে শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস গোস্বামী মহাশয় যা বলেছেন তার সাক্ষাৎ পরিচয় পাওয়া যায় এই ঘটনার মধ্য দিয়ে, যথা=*
*🌷কৃষ্ণ নাম মহা মন্ত্রের এই তো স্বভাব।*
*🌷যেই জপে তাঁর কৃষ্ণে উপজয়ে ভাব।।*
*🌷 কৃষ্ণ নামের ফল প্রেমা সর্বশাস্ত্রে কয়।*
*🌷ভাগ্যে সেই প্রেমা তোমার হইল উদয়।।*
*🌷প্রেমার স্বভাবে করে চিত্ত তনু ক্ষোভ।*
*🌷কৃষ্ণের চরণ প্রান্তে উপজয়ে লোভ।।*
*🌷স্বেদ ঘর্ম পুলক অশ্রু গদগদ বৈবর্ণ্য।*
*🌷উন্মাদ বিষাদ ধৈর্য্য গর্ব হর্ষ দৈন্য।।*
*🌷এই ভাবে প্রেমা ভক্তগণেরে নাচায়।*
*🌷কৃষ্ণের আনন্দামৃত সাগরে ভাসায়।।*
*🌻এখানে পুন্ডরীক বিদ্যানিধির এই অবস্থার মধ্যে সবরকম ভাব লক্ষণ পরিদৃশ্য হয়।এইরকম একজন মহাভক্ত না হলে কি স্বয়ং মহাপ্রভু তাঁকে "বাপ"পুন্ডরীক সম্বোধন করতে পারেন।যাইহোক,এই ঘটনার পর গদাধর পন্ডিত আত্মগ্লানিতে পীড়িত হতে লাগলেন। নিজেকে বৈষ্ণব অপরাধে অপরাধী মনে করলেন এবং কিভাবে এর প্রতিকার করা যায় তার চিন্তা করতে লাগলেন।*
*🌹অবশেষে তিনি মহাপ্রভুর কাছে সমস্ত ঘটনা এক এক করে বললেন এবং অপরাধ স্খলনের জন্য উপদেশ ভিক্ষা করলেন।কৃপার সাগর মহাপ্রভু তখন বিধান দিলেন যে একমাত্র গুরু করণের মাধ্যমেই সমস্ত অপরাধ খন্ডন হবে।তখন পর্যন্ত গদাধর অদীক্ষিত এবং মহাপ্রভুর আদেশ অনুযায়ী পুন্ডরীক বিদ্যানিধিকে গুরুরূপে বরণ করেন।*
*☘এইরকমের গুরু করণের সাদৃশ্য পাওয়া যায় শ্রীরাধারমণ চরণ দাস বাবাজীর জীবনেও।যখন তিনি গৌরহরি দাস বাবাজীকে উপলক্ষ্য করে কিছু অপ্রীতিকর উক্তি করেছিলেন এবং পরে অনুতপ্ত হয়ে তাঁকে শিক্ষাগুরু বা সন্ন্যাসগুরু রূপে বরণ করেন যে প্রসঙ্গ আপনারা নিশ্চয়ই সকলে জানেন।এইই হল শ্রীপুন্ডরীক বিদ্যানিধির ভক্তিময় জীবনের অপূর্ব কয়েকটি প্রসঙ্গ।এই জন্যই বোধহয় শ্রীপাদ বাবাজী মহারাজ বলতেন যে "ওরে তোরা বাইরের বেশ দেখে লোককে বিচার করিস না"।*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*শ্রীকৃষ্ণের আজ্ঞা মত,কার্য্য করি সম্পাদিত,*
*তাঁহার বারতা যাহা করেছি বহন।*
*কহিবারে যেই কথা,উপনীত আমি হেথা,*
*এ সময় কব তাহা শোন গোপীগণ।।*
*যাহা কন ভগবান,কর সবে অবধান,*
*তিনি সবা আত্মারূপে অধিষ্ঠিত রন।*
*প্রভু দেব জনার্দন,আপন মায়াতে রন,*
*সর্ব মূলাধার তিনি পরম কারণ।।*
*বিশ্বে সৃজন পালন,চলে তাঁর অনুক্ষণ,*
*কভু তিনি ধ্বংস রূপ করেন প্রয়োগ।*
*ধ্যানে রাখে যেই জন,হরি তার কাছে রন,*
*গোপীগণ সাথে কভূ না হবে বিয়োগ।।*
🦜🦜🦜🦜🦜🦜🌷🦜🦜🦜🦜🦜🦜
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori101to110.html
*(১০৮)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*পরম ভাগবদ্ রায় রামানন্দ🙏*
*******************************
*🍀কৃষ্ণবেত্তা কৃষ্ণভক্ত এই মহাপুরুষের কিছু প্রসঙ্গ আস্বাদন করুন, কিন্তু আমার মনে যা হয়, বামন হয়ে চাঁদ ধরবার মত দুর্লভ আকাঙ্ক্ষা।তথাপি শ্রীগুরুবৈষ্ণব কৃপায় যথাসম্ভব ব্যক্ত করবার চেষ্টা করব।প্রায় সর্বক্ষেত্রেই মহাভাগত শ্রীপাদ কবিরাজের আশ্রয়ে তা বর্ণিত হবে কারণ তিনি যদিও শ্রীরামানন্দ রায়ের সাক্ষাৎ দর্শন পাননি, তথাপি তিনি রাধারাণী, মদনমোহন ও রঘুনাথ দাসগোস্বামীর সাহচর্য্যে বিভিন্ন লীলাপ্রসঙ্গ অবগত হতে পেরেছিলেন,কারণ দাসগোস্বামী তাঁর গুরুদেব শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরের নিকট হতে অনেক কথায় শুনেছিলেন, এবং তদুপরি "স্বরূপের কড়চা" তিনি বৃন্দাবন যাত্রা কালে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন, যার মাধ্যমে কবিরাজ গোস্বামী অনেক সঠিক তথ্য পেয়েছিলেন।কারণ অন্ত্যলীলায় মহাপ্রভুর একমাত্র সঙ্গী ছিলেন দুই মহাভাগবদ্ যথা স্বরূপ দামোদর এবং রামানন্দ রায়, তাঁরা ছিলেন ব্রজলীলার ললিতা-বিশাখার স্বরূপ।গম্ভীরার সেই নির্জন কক্ষে দিনের পর দিন,রাতের পর রাত,বৎসরের পর বৎসর যে কৃষ্ণকথা হত তাঁর সাক্ষী ছিলেন মাত্র দুই মহাভাগবদ্, তাঁদের মধ্যে স্বরূপ দামোদর যথাসম্ভব তাঁর কড়চায় লিখে রেখেছিলেন বা তাঁর প্রিয় ভক্ত দাসগোস্বামীকে সব বলেছিলেন,যাঁর দ্বারা বৃন্দাবনের রাধাকুন্ডে একত্রে বাসকালীন দাসগোস্বামী আশাতীত ভাবে সব সত্য তথ্য পরিবেশন করে এই শ্রীচরিতামৃত গ্রন্থ রচনায় সহায়ক করেছিলেন। সেজন্য চরিতামৃতের সহায়ক ব্যতীত এই মহান ভক্তের জীবন আলেখ্য কিছুই প্রকাশ করা সম্ভব নহে।*
*🙏শ্রীরামরায় কে ছিলেন?কি তাঁর বংশ পরিচয়,তাহাও শ্রীচরিতামৃতে সুন্দর ভাবে প্রকাশ করেছেন,যথা=*
*"পঞ্চপুত্র সঙ্গে নাচে রায় ভবানন্দ"।যার দ্বারা এইই বোধগম্য হয় যে তাঁর পিতার নাম ভবানন্দ রায় এবং তাঁরা পাঁচ ভাই ছিলেন। মহাপ্রভুর করুণায় কিভাবে ভবানন্দের প্রশস্তি বা প্রশংসা করেছেন,তা শ্রীচরিতামৃতে পাওয়া যায়।*
*🌷তুমি পান্ডু,পঞ্চ পান্ডব তোমার নন্দন।।*
*🌷রামানন্দ রায়,পট্ট নায়ক গোপীনাথ।*
*🌷কলানিধি,সুধানিধি,নায়ক বাণীনাথ।।*
*🌷এই পঞ্চপুত্র তোমার প্রিয়-- মোর প্রিয় পাত্র।*
*🌷রামানন্দ সহ মোর দেহ ভেদ মাত্র।।*
*🍀অর্থ্যাৎ মহাভারতের পান্ডুরাজার যেরকম পাঁচপুত্র ছিলেন সেইরকম ভবানন্দ রায়কেও মহাপ্রভু সেইই উচ্চ আসন দান করেছিলেন এবং মহাপ্রভু শ্রীমুখে বলেছিলেন যে তিনি এবং রামরায় একই স্বরূপ শুধুমাত্র দেহ ভেদ।*
*🌻রামরায় ছিলেন প্রচ্ছন্ন (গুপ্ত বা গোপন) কৃষ্ণভক্ত এবং তাঁর বিদ্যাবত্তা ও গুণের পরিচয় পেয়ে গজপতি প্রতাপরুদ্র তাঁকে দাক্ষিণাত্যে বিদ্যানগর রাজ্যের শাসন ভার অর্পণ করেছিলেন।এই শাসন কার্য্য উপলক্ষ্যে রামরায়কে মাঝে মধ্যেই রাজার কাছে আসতে হত এবং তাঁর রাজ ঐশ্বর্য্যময় জীবন ধারণ পদ্ধতি দেখে সার্বভৌম তাঁকে বরং উপহাসই করতেন, কিন্তু পরে মহাপ্রভুর কৃপায় ভক্তির পথের পথিক হওয়ায় তিনি এই মহাভাগবতের প্রকৃত স্বরূপ বুঝতে পেরে তাঁকে যথোচিত মর্য্যাদা দান করেছিলেন।যেকথা আগেই বলা হয়েছে যে প্রতিপদে আমাদের শ্রীচরিতামৃতের আশ্রয়ে চলতে হবে, সেজন্য শ্রীচরিতামৃতে সার্বভৌম বলেছেন=*
*🌷পৃথিবীতে রসিক ভক্ত নাহি তাঁর সম।।*
*🌷পান্ডিত্য আর ভক্তি রস দুঁহের তিনি সীমা।*
*🌷সম্ভাষিলে জানিবে তুমি তাঁহার মহিমা।।*
*🌷অলৌকিক বাক্য চেষ্টা তাঁর না বুঝিয়া।*
*🌷পরিহাস করিয়াছি তাঁরে আমি না জানিয়া।।*
*🌷তোমার প্রসাদে এবে জানিনু তাঁর তত্ত্ব।*
*🌷সম্ভাষিলে জানিবে তাঁর যেমন মহত্ব।।*
*🌹এখানে একটি প্রশ্ন স্বতঃই (নিজে থেকে )মনে জাগ্রত হয় যে, শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী এতবড় একজন মহাভক্তকে উপলক্ষ্য করে কথাটি কেন বললেন। বিজ্ঞজনের মতে শ্রীচৈতন্যচন্দ্রোদয় নাটকে এইরকম সংলাপের আভাষ পাওয়া যায় যেখানে সার্বভৌম রাজাকে বলছেন যে =*
*🌷মহারাজ যে খলু সহজো বৈষ্ণব ভবতি।*
*🌷পূর্ব্বং অয়ম্ অস্মাকং উপহাস পাত্রমাসীৎ।*
*🌷সংপ্রতি ভগবদুগ্রহে তৎ মহিমা পূর্ণজ্ঞাতা।।*
*🌻অর্থ্যাৎ সার্বভৌম বলছেন যে = হে মহারাজ!শ্রীরামরায় সহজ বৈষ্ণব, আমি তো আগে ইঁনার মহিমা জানতাম না,সেজন্য তিনি আগে আমার কাছে উপহাসের পাত্র ছিলেন কিন্তু বতর্মানে শ্রীভগবানের কৃপা সঞ্চারে আমরা তাঁর মহিমা জানতে পেরেছি। অর্থ্যাৎ সার্বভৌম সিদ্ধান্ত দিলেন যে শ্রীরামরায়ের মতো রসিক ভক্ত জগতে আর দ্বিতীয় নাই। সেজন্য মহাপ্রভু যখন দক্ষিণ দেশ যাত্রা মনস্থ করলেন তখন নীলাচলের সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসিল এবং অনুগত ভক্তগণের বিরহ বিগলিত অশ্রুধারায় মহাপ্রভু দ্রবীভূত হতে লাগলেন এবং এই প্রসঙ্গে সার্বভৌম পন্ডিত যা বলেছিলেন তা ভাবলেও অবাক বিস্ময়ে মন ভরে যায় এবং বুঝা যায় যে ভগবদ্ বিরহ সহ্যকরা ভক্তের কাছে কিরকম বেদনাদায়ক।*
🦜🦜🦜🦜🦜🦜🪷🦜🦜🦜🦜🦜🦜
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori101to110.html
*(১০৯)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*পরম ভাগবদ্ রামানন্দ রায়🙏*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*যাইহোক, কর্তব্যনিষ্ঠ,সঙ্কল্পদৃঢ়চেতা, গৌরভগবান জীব উদ্ধার লীলা সমাপন করবার জন্য যখন দক্ষিণদেশে যাত্রা করলেন, তখন সার্বভৌম বাসুদেব ভট্টাচার্য্য তাঁকে বলেছিলেন যে তিনি যেন অতি অবশ্যই বিদ্যানগরের রাজা রায় রামানন্দের সহিত মিলিত হন। অতঃপর মহাপ্রভু কৃষ্ণপ্রেমে পাগল হয়ে উদভ্রান্তের মতো পথ চলতে লাগলেন এবং তাঁর শ্রীমুখে অনর্গল কৃষ্ণকথার প্রবাহ বহে যাচ্ছে। যথা=*
*কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হে।*
*কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হে।।*
*কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ রক্ষ মাম্।*
*কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ পাহি মাম্।।*
*রাম রাঘব রাম রাঘব রাম রাঘব রক্ষ মাম্।*
*কৃষ্ণ কেশব কৃষ্ণ কেশব কৃষ্ণ কেশব পাহি মাম্।।*
*🙌 এমনি কৃষ্ণভাবিত মনে তিনি গোদাবরী তীরে বিদ্যানগরে এসে উপস্থিত হলেন এবং তাঁকে দেখা মাত্র হাজার হাজার নরনারী তাঁর শান্তসৌম্য বদন,কনকোজ্জ্বল জ্যোতি ও ভুবন ভোলানো রূপ লাবণ্য এবং কৃষ্ণনাম বা হরিনামে রতি দেখে তাঁর শ্রীচরণতলে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন। এই নবীন সন্ন্যাসীর সংবাদ রামরায়ের কাছে পৌঁছিলে তিনিও মহাপ্রভুর আকর্ষণে ছুটে এসে তাঁর রাতুলচরণে চিরতরে আত্মসমর্পণ করলেন।এই প্রসঙ্গে একটি প্রশ্ন সাধারণত মনে উদয় হয় যে তদানীন্তনকালে আমাদের এই ভারতবর্ষে পরিব্রাজক সাধু মহাত্মাগণের যাতায়াত খুবই প্রচলন ছিল এবং তাঁরা পরিব্রাজন কালে ভক্ত গৃহীদের বাড়ীতে আতিথ্য গ্রহণ করতেন।সেই সকল গৃহস্থীগণও যথেষ্ট মর্য্যাদার সঙ্গে তাঁদের অতিথি নারায়ণ জ্ঞানে সমাদর করতেন।এ ক্ষেত্রেও সেইরকম মহাপ্রভুর পূর্ব পরিচয় রামানন্দ রায় কিছুই জানতেন না। মহাপ্রভুও তাঁকে আগে কখনও দেখেন নাই, তথাপি এত আকর্ষণ কেন? এর আরও বৈশিষ্ট্য এই যে একজন হচ্ছেন সেইদেশের রাজা,অন্যজন হচ্ছেন ত্যাগী সন্ন্যাসী। এইরকম কত পরিব্রাজক সাধু মহাত্মগণই তো বিদ্যানগরের রাজবাড়ীতে আতিথ্য গ্রহণ করতেন এবং রামরায়ের রাজ ব্যবস্থা অনুযায়ী তাঁদের সমাদর করা হত কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন হল? রাজা রামানন্দ রায় হঠাৎ কেন এইরকম একজন অজানা অচেনা পরিব্রাজক সন্ন্যাসীর রাতুলচরণে আত্মসমর্পন করলেন!এর কারণ বিস্তৃত ভাবে এই প্রসঙ্গের অন্য অংশে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তথাপি অতি সংক্ষেপে দুই একটি কথা বলছি যে, রামরায় রাজা হলেও মহাভক্ত ছিলেন এবং নিত্য যুগলসেবা করতেন।নির্দ্ধারিত সেবা পূজার পর নিয়মিতভাবে ব্রজলীলা স্মরণ-মনন করতেন।সেদিন স্মরণ-মনন কালে তিনি ক্রমাগত শ্যামসুন্দরের মধ্যে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর আবেশ অনুভব করেছিলেন এবং ক্রমাগত এইরকম গৌরাঙ্গ রূপ দর্শনের পর অবাক বিস্ময়ে ভাবতে লাগলেন যে ইনিও তো তাঁর সেই স্মরণ-মনন কালের আরাধ্য দেবতা। সেইজন্য মহাপ্রভুকে দেখামাত্র তিনি তাঁর রাতুলচরণে চিরতরে আত্মসমর্পণ করেন।এই প্রসঙ্গে বিস্তৃত বিবরণ পরে পাওয়া যাবে, তথাপি সংক্ষেপে ইহা লিপিবদ্ধ করা না হলে পাঠকের মনের সংশয় কাটে না যদিও পরে বিশদ ভাবে ইহা আলোচিত হয়েছে।*
*☘তখন রামরায় নিজ পরিচয় প্রদান করলে মহাপ্রভু দৈন্যবিনয় কন্ঠে কহিলেন=*
*🌷সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য কহিল তোমার গুণ।*
*🌷তোমারে মিলিতে মোরে করিল যতন।।*
*🌷তোমা মিলিবারে মোর হেথা আগমন।*
*🌷ভাল হইল অনায়াসে পাইনু দরশন।।*
*🙏এইকথা শুনে তৃণাদপি সুনীচেন ভাবে রামরায় বললেন, আমার উপর সার্বভৌমের অশেষ কৃপা এবং আমার মত একজন পতিতকে উদ্ধারের জন্যই তিনি মহাপ্রভুকে আমার কাছে পাঠিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে ভাগবদ্ বলছেন=*
*🌷মহদ্বিচলনং নৃনাং গৃহীনাম দীনচেতসাৎ।*
*🌷নিঃশ্রেয়সায় ভগবন্ কল্পতে নান্যথা ক্কচিৎ।।*
*🌺অর্থ্যাৎ দীনচিত্ত গৃহীদের মঙ্গল সাধনের জন্যই সাধু মহাত্মগণ নিজ আশ্রম হতে অন্যত্র গমন করেন। নিজের প্রয়োজনে তাঁরা কখনও কোথাও গমন করেন না। এটি উল্লেখ করে রামরায় বললেন যে তাঁর মত অধম শূদ্রকে কৃপা করবার জন্যই তাঁর স্বেচ্ছায় আগমন, এতে তাঁর কোন সন্দেহ নেই। যকথা বাংলা পয়ার ছন্দে বলা আছে, যথা=*
*🌷মহান্ত স্বভাব এই তারিতে পামর।*
*🌷নিজ কার্য্য নাহি তবু তাঁর ঘর*।।
*🌻ভক্ত ভগবানের সংলাপ অতীব হৃদয়গ্রাহী এবং মহাপ্রভু তখন রামরায়কে উদ্দেশ করে বললেন যে তুমি ভাগবতোত্তম, অনেক আশা নিয়ে তোমার কাছে এসেছি, তুমি আমার কৃষ্ণ পিপাসু হৃদয়কে কৃষ্ণকথা বলে শান্তি দাও।*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*শুনি উদ্ধবের কথা,জুড়ায় তাদের ব্যথা,*
*কোন গোপী সেথা তারে কহিল তখনি।*
*অত্যাচারে সদা রত,কৃষ্ণ দ্বরা কংস হত,*
*নিশ্চিন্তে কাটায় সবে দিবস রজনী।।*
*অতি সুখের বিষয়,বাসুদেব দয়াময়,*
*আনন্দে আছেন রহি মথুরা নগরী।*
*রস শাস্ত্রে গুণমণি,সুনিপুণ মোরা জানি,*
*হইয়াছে প্রিয় তাঁর মথুরার নারী।।*
*আমরা যে গ্রাম্য নারী,না জানি ছল চাতুরী,*
*আর তার নাহি প্রীতি আমাদের প্রতি।*
*ব্রজবাসী সবাকারে,এবে কি স্মরণ করে,*
*ফিরিবে কি সেই কালা ব্রজেতে সম্প্রতি।।*
*পূর্ণিমার দিনে হরি,রাস মঞ্চে কেলি করি,*
*সে সময় হরি লন আমাদের মন।*
*কভু সে কি কথা কন,তোমা জিজ্ঞাসি এখন,*
*সে রাত্রি কি কালাচাঁদ করেন স্মরণ।।*
🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌷🌸🌸🌸🌸🌸🌸
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori101to110.html
*(১১০)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*পরম ভাগবদ্ রামানন্দ রায়*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*☘মহাপ্রভু বললেন,আমি তৃষিত চাতকের মতো তোমার কাছে এই জলধারা পান করতে এসেছি এবং দৈন্য সহকারে বললেন ====*
*🌷অন্যের কি কথা আমি মায়াবাদী সন্ন্যাসী।*
*🌷আমিই তোমার স্পর্শে কৃষ্ণপ্রেমে ভাসি।।*
*🌷এই জানি, কঠিন মোর হৃদয় শোধিতে।*
*🌷সার্বভৌম কহিলেন তোমারে মিলিতে।।*
*🍀যদি বাইরে থেকে দেখা যায় তাহলে এই দৃশ্যে উভয়েই পরস্পর বিরুদ্ধ ভাব, কারণ একজন হচ্ছেন রাজা, ঐশ্বর্য্য ভোগ বিলাসের মধ্যে তাঁকে চলতে হয়, এমনকি তিনি যখন গোদাবরী নদীতে স্নান করতে গমন করতেন তখন হাতী ঘোড়া বাদ্য বাজনা ইত্যাদির এমন সমাবেশ হত যে তা দেখলে মনে হত যে কোন ধনীপুত্র বোধহয় বিয়ে করতে যাচ্ছেন এবং ব্রাহ্মণগণ সকলে স্তব স্তুতি পাঠ করতে করতে আগে আগে চলেছেন। কারণ তিনি বিদ্যানগরের রাজা এবং সদাসর্বদা সেই রাজকীয় আচার ব্যবহার অনুযায়ী তাঁকে চলতে হত।আর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু হচ্ছেন সচল ব্রহ্ম-- কলির প্রচ্ছন্ন অবতার-- বৈরাগ্যের প্রতিচ্ছবি এবং ঐশ্বর্য ভোগ বিলাসের সম্পূর্ণ বিরোধী।এই পরস্পর বিরোধী দুইজনের প্রেমালিঙ্গন এবং অষ্টসাত্ত্বিক ভাববিকার দর্শন করে সমবেত বিদ্যানগর বাসী কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলেন।*
*🌷সূর্য্যশত সম কান্তি অরুণ বসন*।
*🌷সুবলিত প্রকান্ড দেহ কমললোচন।।*
*🌷দেখিয়া ব্রাহ্মণগণ হৈল চমৎকার।*
*🌷বৈদিক ব্রাহ্মণ সব করেন বিচার।।*
*🌷এই তো সন্ন্যাসী,তেজে ব্রহ্ম সম।*
*🌷শূদ্রে আলিঙ্গিয়া কেনে করেন ক্রন্দন।।*
*🌷এই মহারাজ মহাপন্ডিত গম্ভীর।*
*🌷সন্ন্যাসীর স্পর্শে মত্ত হইলা অস্থির।।*
*🌹এমন সময় একজন অতীব সাত্ত্বিক এবং ধার্মিক ব্রাহ্মণ সেখানে উপস্থিত হলেন এবং তিনি গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে তাঁর দীনালয়ে থাকবার জন্য অনুরোধ করলেন। কারণ সন্ন্যাসী মহাপ্রভু কখনও রাজপ্রাসাদে থেকে রাজার আতিথ্য গ্রহণ করবেন না, তিনি এটি বেশ বুঝতে পেরে ছিলেন।সন্ন্যাসী মহাপ্রভু তাতে রাজী হলেন এবং দুঃখের বিষয় এই যে ভাগ্যবান এই বিপ্রের কোন নাম প্রাচীন গ্রন্থাবলীতে পাওয়া যায় না, যাঁকে গৌর ভগবান এইরকম কৃপা করে তাঁর সেবা গ্রহণ করেছিলেন বিদ্যানগরে থাকা কালীন।এইভাবে রামরায় গৌর ভগবানের প্রেমোজ্জ্বল শান্ত স্নিগ্ধ মূর্তিকে নিজের হৃদয়াসনে প্রতিষ্ঠা করে রাজবাড়ীতে ফিরে গেলেন এবং গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু ব্রাহ্মণের ঘরে থেকে ভিক্ষাদি নির্বাহ করলেন এবং কথা হল যে,সন্ধ্যাকালে রামরায় পুনরায় আসিবেন এবং উভয়ের মধ্যে কৃষ্ণকথা প্রসঙ্গ হবে। এইভাবে দশদিন ধরে ক্রমাগত কৃষ্ণকথা প্রসঙ্গ এই দুইজনের মধ্যে হয়েছিল, যা অতীব গূঢ় এবং এইসব ইষ্টগোষ্ঠী প্রসঙ্গ সংক্ষেপে পরে দেওয়া হবে। মহাপ্রভু তখন বললেন, রামরায়!আমি সন্ন্যাসী আমার তো কোন এক জায়গায় বেশীদিন থাকতে নেই, অতএব আমাকে যেতেই হবে।তুমি আমার তৃষ্ণার্ত হৃদয়কে পরম শান্তি দিয়েছ, তুমি বিরহে ব্যাকুল হইও না, কারণ আমার সঙ্গে তোমার জন্ম জন্মান্তরের সম্বন্ধ, আমি দক্ষিণ দেশগুলি পরিভ্রমণ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পুনরায় ফিরে আসিব এবং নীলাচলে আমরা উভয়ে সুখে দিন কাটাব।তুমি অচিরেই এই বিষয় বন্ধন হতে মুক্ত হবে ইত্যাদি সব বলে যাত্রার জন্য প্রস্তুত হলেন।এই প্রসঙ্গে কিছু শ্রীচরিতামৃতের কথা আস্বাদন করুন। যথা=*
*🌷রামরায়=মোরে কৃপা করিতে প্রভুর এই আগমন।*
*🌷দিন দশ রহি শোধ মোর দুষ্ট মন।।*
*🌷তোমা বিনা অন্য নাহি জীব উদ্ধারিতে।*
*🌷তোমা বিনা অন্য নাহি কৃষ্ণ প্রেম দিতে।।*
*🌷মহাপ্রভু=প্রভু কহে আইলাম শুনি তোমার গুণ।*
*🌷কৃষ্ণকথা শুনি শুদ্ধ করাইতে মন।।*
*🌷যৈছে শুনিল,তৈছে দেখিল তোমার মহিমা।*
*🌷রাধাকৃষ্ণ প্রেমরস জ্ঞানের তুমি সীমা।।*
*🌷দশদিনের কা কথা যাবৎ আমি জীব।*
*🌷তাবৎ তোমার সঙ্গ ছাড়িতে নারিব।।*
*🌷নীলাচলে তুমি আমি রহিব একসঙ্গে।*
*🌷সুখে গোঙাইব কাল কৃষ্ণকথা রঙ্গে।।*
*🌺এইভাবে প্রায় দুই বৎসর কাল রামরায় মহাপ্রভুর বিরহে দিন কাটাতে লাগলেন এবং এখানে তাঁর দুর্দশা অনেকটা সার্বভৌমের মতো হয়েছিল যে কথা শ্রীচরিতামৃতে পাওয়া যায়, যখন মহাপ্রভু দক্ষিণ দেশ ভ্রমণে যাবার জন্য সার্বভৌমের কাছে হতে বিদায় চেয়েছিলেন, তখন সার্বভৌম বলেছিলেন=*
*🌷শুনিয়া সার্বভৌম হইর অত্যন্ত কাতর।*
*🌷চরণ ধরিয়া কহে বিষাদ অন্তর।।*
*🌷বহু জন্মের পুণ্যফলে পাইনু তোমার সঙ্গ।*
*🌷হেন সঙ্গ বিধি মোরে করিলেন ভঙ্গ।।*
*🌷শিরে বজ্র পড়ে যদি পুত্র মরি যায়।*
*🌷তাহে নাহি গণি,সহনে না যায়*।।
*🌷স্বতন্ত্র ঈশ্বর তুমি করিবে গমন*।
*🌷দিন কতক রহ হেরি তোমার চরণ।।*
*🌻এক হিসাবে সার্বভৌমই এই মিলনের ঘটক এবং তিনি নিজে বিরহ সাগরে নিমজ্জিত হলেও তাঁরই কৃপায় রামরায় প্রায় দশদিন যাবৎ এই মিলন স্বর্গসুখ ভোগ করলেন এবং মানহে কৃষ্ণ প্রেমতরঙ্গে ভাসতে লাগলেন। কারণ এই ইন্দ্রজালিক শক্তি মহাপ্রভুর ছিল। ভক্তকে শুদ্ধসত্ত্ব করবার জন্য তিনি তাঁকে প্রেমাগ্নিতে দগ্ধ করে খাঁটি সোনা করে নিতেন, পরে ভক্ত প্রেমাশ্রুনীরে ভাসিয়ে ভাসিয়ে দৈন্য বিনয়ের মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠতেন।*
*ক্রমাগত*
*পুনঃ কি আসিবে কানু,লয়ে সাথে সখা ধেনু,*
*হেরিব কি আর তাঁকে ব্রজের মাঝার।*
*সবে করি সম্বোধন,কহে গোপী আর জন,*
*বৃন্দাবনে কানু কভু না আসিবে আর।।*
*আবার ব্রজেতে আসি,সকলের সাথে মিশি,*
*পুলকিত কর সবে ওগো নারায়ণ।*
*বেদনা পাইয়া হৃদে,উচ্চরবে সবে কাঁদে,*
*তাঁদের যে কৃষ্ণগত প্রাণ সর্বক্ষণ।।*
*কৃষ্ণের বান্ধব জানি,যতেক ব্রজের রমণী,*
*উদ্ধবেরে সে সময় করিল পূজন।*
*তখন নন্দ ভবনে,গোপ গোপী সবাসনে,*
*কিছুকাল আনন্দে সে করিল যাপন।।*
*কৃষ্ণলীলা সংকীর্তন,করে উদ্ধব তখন,*
*শুনি গান গোপীগণ ধ্যানে নিমগন।*
*যত ব্রজের যুবতী,সবে কৃষ্ণে প্রেমবতী,*
*তাঁরে তারা করিয়াছে অন্তরে বন্ধন।।*
🙏🦚🪷🌷🦜🌸🙏🦚🪷🌷🦜🌸🦋🦚🪷
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ১১১ হইতে ১২০ পর্ব 🌷 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori111to120.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
