✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita4.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩১)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীগৌরাঙ্গের স্তব স্তুতি*
**********************
*🌷জিনিয়া কন্দর্পকোটি লাবণ্য সুন্দর।*
*🌷জ্যোতির্ময় কনকসুন্দর কলেবর।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
☆
*🌷অদ্বৈতেরে আজ্ঞা কৈলা প্রভু বিশ্বম্ভর।*
*🌷"আরে নাড়া! আমার কীর্তনে নৃত্য কর"।।*
*(শ্রীচৈঃ ভাঃ মঃ ৬|৭৫-১৩৯)*
*🍀শ্রীচৈতন্যদেবের বাক্যে ও শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের স্তবে শ্রীমন্মহাপ্রভু যে সর্ব-অবতারের অবতরী ও সর্বাংশী, তাঁতে সকল স্তবই সম্ভব এই অচিন্ত্য-ভেদাভেদ-সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে পরিস্ফুট হয়েছে।*
*🍀শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য মহাপ্রভুর প্রেমময় আদেশ ও প্রেম লাভ করে নানা ভাব ভঙ্গীতে প্রেমের বিকার প্রদর্শন করতে লাগলেন।এটি জাগতিক তৌর্য্যত্রিকরূপ (তৌর্য্য+ত্রি+ক= তিন, গীত,বাদ্য ও নৃত্য )কামোন্মত্ততার নৃত্য নয়।অপ্রাকৃত প্রেমের বিকার-- সর্বভাব প্রকাশিত হতে লাগল, কিন্তু শেষে তাঁর স্থায়ীভাব রতি যে দাস্য তাতে স্থিতি হতে লাগল। কিন্তু তাঁর নৃত্যে অপ্রাকৃত প্রেমবিলাস বৈচিত্রের নানারকম অবস্থা ও ভাব স্বরূপশক্তির আবেশে প্রকটিত হতে লাগল।শেষে শ্রীনিত্যানন্দ-স্বরূপের কাছে গিয়ে তাঁর শ্রীনিত্যনন্দ প্রভুসহ অভিন্নভাব ও রসের ঐক্যতা সম্পাদন করলেন। শ্রীনিত্যানন্দ ও শ্রীঅদ্বৈতের বিচার ভেদজনিত পরস্পরের উক্তি শুনে যাঁরা তাঁদের মধ্যে ভেদ কল্পনা করেন, চিন্তার অতীত বস্তু-সম্বন্ধে তাঁদের সেইরকম ধারণা করা কর্তব্য নয়। ভগবানের বিচিত্র লীলা সকলের বোধগম্য নয়, সেটি চিন্তার অতীত রাজ্যে অবস্থিত।*
*🍀যেরকম অনন্তদেব ভগবানে প্রীতিবিশিষ্ট এবং রুদ্রদেব যেরকম ভগবৎসেবা নিরত,এই দুয়ের ভগবৎপ্রীতি যেরকম অসামান্যা,সেইরকম শ্রীনিত্যানন্দ ও শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যদেবের সেবা-বিষয়ে অলৌকিক ভালবাসা বা প্রীতি।শ্রীচৈতন্যের প্রীতি বিধানের জন্য উভয়েই নিজ নিজ প্রাকট্য সাধন করেছেন।শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুকে,কখন প্রভু বলেন,কখনও মাতালিয়া বলেন,কখনও কোঁদল (ঝগড়া)করেন,কখনও বা গালাগালি করেন।শ্রীকৃষ্ণলীলা পোষণ করার জন্য একই বস্তু দুই ঠাঁই প্রকটিত হয়েছেন।যাঁরা শ্রীনিত্যানন্দ ও শ্রীঅদ্বৈতের মধ্যে পরস্পরের স্ব-স্ব ভাবোচিত কথা বুঝতে পেরে তাকে "কলহ" জ্ঞান করেন, তাঁদের একজনের পক্ষ গ্রহণ করে অন্য পক্ষের দোষ দেখেন, এবং এইরকম বিচারে একের বন্দনা অপরের নিন্দা করতে যান,তাঁদের সর্বনাশ উপস্থিত হয়।*
*🍀মহাপ্রভুর আদেশে আচার্য্যের নৃত্য বন্ধ হল।তখন মহাপ্রভু নিজ গলার মালা আচার্য্যকে দিয়ে বর প্রার্থনা করতে লাগলেন।আচার্য্য বললেন--,আমার মনের যা বাসনা তা আমি সবই পেয়েছি, সর্ব অবতার-সহ অবতারীর অপ্রাকৃত-স্বরূপ দর্শন ও তোমার প্রেমনটে নৃত্য করলাম,আর আমার চরমপাবার কিছু বাকী নাই। গৌরসুন্দর বললেন--, তোমার জন্য আমার এই অবতার।এই অবতারে আমি প্রত্যেকের ঘরে কৃষ্ণকথা- কীর্তন প্রচার করব।যাতে পৃথিবীর সব লোক আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হয়ে আমার যশোগানে নাচ করবে। ব্রহ্মা-হর-নারদাদি যে প্রেমের জন্য তপস্যা করে থাকেন, সেই ভক্তি আপামরে দান করে জীবের বা লোকের উপকার করব।*
*🌻তখন অদ্বৈত বললেন--, সেই প্রেম যারা অযোগ্য বলে বিবেচিত ; স্ত্রী,শূদ্র ও মূর্খাদি ভগবৎসেবায় অনধিকারীকেও বিতরণ করতে হবে? বিদ্যা,ধন,কুল,তপস্যা মদে মত্ত অহঙ্কারী,মৎসর ব্যক্তি তোমার ভক্তির স্বরূপ ও ভক্তের মহিমা জানতে না পেরে সেই ভাগ্যহীন ব্যক্তিগণ ভগবদ্ভক্তকে ও তাঁদের পরম-উচ্চ-লাভরূপা ভক্তিতে বাধা দেয়। সেইসব পাপিষ্ঠ জগতের সব শ্রেণীর মধ্যে ভক্ত দর্শন করে এবং অলৌকিক ভক্তি দেখে মৎসরতাবশে জ্বলে পুড়ে মরুক।(মৎসর=পরশ্রীকাতরতা বা পরের প্রতি হিংসাকারী)আর যাঁরা লোক নিন্দিত,অবজ্ঞাপুষ্ট চন্ডালাদি নামধারণ করে আনন্দের সঙ্গে প্রেমভক্তির পরিচয় প্রদান করেন,তাঁদের প্রবল নৃত্য দেখে মৎসর্য্যপর দাম্ভিক-সম্প্রদায় অন্তর্দাহে পুড়ে মরুক। আমি ইহা দেখে আনন্দিত হই।সার্বজীব বান্ধব,সমদর্শি,মহাবিষ্ণুর অবতারের মাৎসর্য্য-দম্ভের ও মদমত্ততার ভীষণ নিন্দা ও অবজ্ঞাসূচক জীব কল্যাণময় প্রার্থনা-- সর্বাঙ্গসুহৃদ্, অহৈতুক কৃপাময় ভগবান শ্রীগৌরসুন্দর অনুমোদন করলেন।*
*🍀এর সত্যতা জগতের লোকনিন্দিত-সমাজের নিচুশ্রেণীর ব্যক্তিগণ সাক্ষ্য প্রদান করবে।আজও লৌকিক বিচারে অনভিজ্ঞ মূর্খগণ ভগবদ্ভক্তি-প্রভাবে পন্ডিতগণকে সব বিষয়েই পরাজিত করতে সমর্থ।কুকর্মবশে নীচ জাতিতে জন্ম হয়ে শ্রীচৈতন্য-কৃপায় তাঁদের যেরকম সববিষয়ে শ্রেষ্ঠতা লাভ হয়, সেটিই ভগবদনুগ্রহের নিদর্শন।শ্রীচৈতন্যদেবের গুণগান করতে চন্ডাল-প্রমুখ সব মূর্খ-নীচ-সম্প্রদায় মহাপ্রভুর গুণগ্রাহী হয়ে নৃত্য করেন। কিন্তু ভট্ট,মিশ্র, চক্রবর্তী প্রভৃতি পন্ডিত অভিমানীগণ শ্রীচৈতন্য নিন্দাই বুঝে রেখেছেন।সেবা-বিমুখ ব্যক্তিগণ শাস্ত্রগুলি পড়ে নিজ নিজ মূর্খরতা প্রদর্শন করে অন্তরে বিদ্যা-গর্বে গর্বিত হলে কারও কারও বিদ্যালাভ জনিত বুদ্ধি-বৃত্তি নষ্ট হয়।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌹🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita4.html
*(৩২)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীচৈতন্যের প্রকাশ দর্শন*
*************************
*🍀শব্দগানকারিণী শুদ্ধাসরস্বতী জগতের ভাব-সমূহের প্রসূতি। তিনি শ্রীচৈতন্য-অদ্বৈতের কথোপকথন সব অবগত আছেন।সেই জগদীশ্বরী বাণী সেবোন্মুখ জনগণের জিহ্বায় বতর্মানা থেকে শ্রীচৈতন্যদেবের মহিমা কীর্তন করেন। শ্রীচৈতন্যদেবের স্বরূপ ও কৃপা উপলব্ধি করে ও তাঁর ইচ্ছায় শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য তাঁর নিজেশ্বরীর সঙ্গে আনন্দিত হয়ে সেখানে কিছুদিন বাস করলেন।সেই হতে মহাপ্রভুর সর্বলীলায় আচার্য্যের সেবার কথা উল্লিখিত হয়েছে।অভিষেক,সাতপ্রহরিয়া-ভাব,ভক্তদ্রব্যগ্রহণ ইত্যাদি সব লীলাতেই আচার্য্য সেবা বতর্মান। শ্রীচৈতন্যমঙ্গলে বর্ণিত আছে =*
*🌷নিজজন বুঝাবারে করে যত কার্য্য।*
*🌷সংহতি করিয়া আদি অদ্বৈত-আচার্য্য।।*
*🌷যতেক ভকত সব সংহতি করিয়া।*
*🌷দেবালয়ে যায় প্রভু আনন্দিত হইয়া।।*
*🌷নেত-ধটি পরিধান--কান্ধেতে কোদাল।*
*🌷করে সমার্জনী করি সভার মিশাল।।*
*🌷সঙ্গের যতেক জন ধরে সেই বেশ।*
*🌷হাতে ঝাঁটা কান্ধে কোদাল উভ বান্ধে কেশ।।*
*🌷দেবালয়-মার্জনা করিতে যায় প্রভু।*
*🌷হেন অদভূত কথা নাহি শুনি কভু।।*
*🌷কৃষ্ণের হড্ডিপ হৈয়া বুলে দ্বারে দ্বারে।*
*🌷সকল বৈষ্ণব মেলি,সর্মাজনা করে।।*
*🌷এই মতে লোক শিক্ষা করায়ে ঠাকুর।*
*🌷ভজহ সকল লোক, যে হও চতুর।।*
*🌻সাতপ্রহারিয়া ভাবে শ্রীমহাপ্রভু আচার্য্যকে স্বপ্নে গীতার ব্যাখ্যা শিক্ষাদান ও উপবাস-ভঙ্গের কথা বললেন। এবং আর এক শ্লোক ব্যাখ্যা করতে বাকী আছে,তা (গীতা ১৩|১৩) এই,---"সর্ব্বতঃ পাণিপাদন্তৎ সর্ব্বতোহক্ষিশিরোমুখম্। সর্ব্বতঃ শ্রুতিমল্লোকে সর্ব্বমাবৃত্য তিষ্ঠতি।।"*
*🍀অর্থ্যাৎ যাঁর হাত,পা,চোখ,মাথা, মুখ এবং কর্ণসমূহ সর্বত্র পরিব্যাপ্ত রয়েছে,সেই পরমাত্ম বস্তু নিখিল চরাচরে সর্ব-বস্তু আচ্ছাদিত করে অবস্থিত রয়েছেন। উক্ত শ্লোকের "সর্বতঃ" স্থানে "সর্বত্র" হবে।*
*☘নির্বিশেষবাদী "সর্বতঃ" পাঠ রক্ষা করে সেটি "সর্বত্র" অর্থেই ব্যবহার করেছেন।সবিশেষবাদী ভগবত্তার স্বরূপ স্বীকার করেন।নির্বিশেষবাদী জগত-মিথ্যা-তত্ত্ববাদের পক্ষ গ্রহণ করায় ভগবৎ-স্বরূপের পাণি-পাদ-কর্ণ-চক্ষু-শিরঃ ও বদনের নিত্যত্ব স্বীকার করেন না। অচিন্ত্য ভেদাভেদ বিচারে বহির্দর্শনে যে রকম ভোগ্য রূপসমূহ দেখা যায়,তাছাড়া সেবনোপযোগী নিত্যভাবে সেব্যেন্দ্রিয় সমূহের উপলব্ধি ঘটে।মহাভাগবত সর্বত্র ভগবানের পুরুষোত্তমতা ও হৃষীকেশত্ব দর্শন করেন।তাঁরা বহির্জগতের ভোগ্য-ভাব-সমূহ দেখার পরিবর্তে পুরুষোত্তমের ভোক্তৃত্বের করণসমূহ দেখে থাকেন। বিশিষ্টাদ্বৈত বিচারক যেরকম প্রপঞ্চকে ভগবৎ স্বরূপের স্থূল শরীর বিচার করেন, অথবা কেবলাদ্বৈত-বিচারক যেরকম প্রাপঞ্চিক-দর্শনের স্বীকার-বিরোধী, অচিন্ত্য ভেদাভেদের পরম সূক্ষ্ম-দর্শনে সেরকম ধারণার আবশ্যকতা নাই। প্রেমাঞ্জনচ্ছরিত ভক্তিবিলোচন দ্বারা ভগবদ্ভক্তের কাছে সর্বত্রই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গাদিসহ নিত্যরূপ পরিদর্শনের ব্যাঘাত হয় না। সেবা-বিমুখতা জন্য যে প্রাপঞ্চিক ভোগ-দর্শন,সেটি নশ্বর জগতে সত্য হলেও শুদ্ধজীবাত্মার দর্শনে সেটিতে অনর্থের প্রতীতি নাই।জীবের অর্থই সেব্যে আশ্রিত। সুতভোগবুদ্ধির বশবর্তী হয়ে কর্মফলবাধ্য জীব যেরকম জাগতিক ভোগের আবাহন করেন,সর্বত্র সেইরকম ভোগময় দর্শন করতে হবে না, এটিই প্রভুর ইচ্ছা।কর্মবাদী তার অনর্থ থাকা কালে নশ্বর বস্তুকে "ভোগ্য" জ্ঞান করেন এবং বিরাট্ রূপকে রূপক ও কাল্পনিক মনে করেন। আবার নিভেদ-ব্রহ্মানুসন্ধিৎসু প্রাপঞ্চিক রূপের অস্তিত্ব ইন্দ্রিয়কল্পিত-জ্ঞানে প্রাপঞ্চিক অধিষ্ঠানের নশ্বর-বাস্তবতায় ঔদাসীন্য প্রকাশ করেন। শুদ্ধাদ্বৈতবাদী বহির্জগতে চিদানন্দ-দর্শনরহিত হওয়ায়, শুদ্ধজীবে আনন্দরহিত্য-স্বীকার করায় এবং জড় জগতে সচ্চিদানন্দানুভূতির সম্বন্ধ-নির্ণয়ে ভাবান্তর প্রকাশ করায় অচিন্ত্য ভেদাভেদ-বিচার তাঁর হৃদয়ঙ্গম হয় না। ভগবৎ-শক্তিমত্তায় সর্বত্র সচ্চিদানন্দ-অনুভূতি বতর্মান বলবার জন্যই "সর্বত্র পাণিপাদন্তৎ" শ্লোকের অবতারণা। (শ্রীল প্রভুপাদ)।*
*🌷অতি গুপ্ত পাঠ আমি কহিল তোমারে।*
*🌷তোমা বই পাত্র কেবা আছে কহিবারে।।*
*🌷চৈতন্যের গুপ্ত শিষ্য আচার্য্য গোসাঞি।*
*🌷চৈতন্যের সর্ব ব্যাখ্যা আচার্য্যের ঠাঞি।।*
*🌷শুনিয়া আচার্য্য প্রেমে কান্দিতে লাগিলা।*
*🌷পাইয়া মনের কথা মহানন্দে ভোলা।।*
*🌷অদ্বৈত বলয়ে, আর কি বলিব মুঞি।*
*🌷এই মোর মহত্ত্ব যে মোর নাথ তুঞি।।*
*(চৈঃভাঃমঃ ১০|১৩২-১৩৫)*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita4.html
*(৩৩)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীচৈতন্যের প্রকাশ বর্ণন*
*************************
*🍀শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের ব্যাখ্যা অচিন্ত্য-অভেদমূলক হলেও সেটিই অচিন্ত্য-ভেদাভেদাত্মক, একথা সকল উচ্চমার্গের বৈষ্ণবই বুঝতে পারেন। অর্ব্বাচীনগণ (যে বিশেষ বুদ্ধির পরিচয় দিতে পারে না)বিচার করেন যে,শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য চিন্ত্যদ্বৈত-বিরোধী দ্বৈতমত্তের উপদেশক।শ্রীঅদ্বৈতের ব্যাখ্যার তাৎপর্য্য বুঝতে না পেরে তাঁর বংশ্যব্রুবগণের বা বংশবক্তাগণের মধ্যে নূনাধিক বা কমবেশী মায়াবাদ প্রচারিত হওয়ায় সেই ভক্তি-বিরোধী বীজ বতর্মানকালেও শুদ্ধভক্তির বিরোধী ভাব পোষণ করছে।তাঁরা জানেন না যে,শ্রীচৈতন্যদেবের শিক্ষানুমোদিত ব্যাখ্যা ছাড়া শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের অন্য কোন রকম আচরণ নাই।শুদ্ধ বৈষ্ণবগণ কখনই শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের অমর্য্যাদা করেন না।তাঁরা শ্রীঅদ্বৈতকে শ্রীচৈতন্যশিক্ষায় দীক্ষিত জেনে বিষ্ণুবুদ্ধি করে থাকেন।শ্রীচৈতন্যেদেবের সকল ভক্তের কথা অনাদর করে যাঁরা কেবলমাত্র অদ্বৈতের সেবা করবার নামে ভক্তির অমর্য্যাদা করেন,তাঁরা জগতের মঙ্গল বিধান করেন না।যাঁরা শ্রীচৈতন্যদেবকে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের সেব্য বিগ্রহ জানেন তাঁরাই শ্রীঅদ্বৈত প্রভুর প্রকৃত ভক্ত।তাঁদেরই সেবা শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য গ্রহণ করেন।আর যারা অদ্বৈতের উদ্দেশ্যে সেবা করতে গিয়ে, অদ্বৈতকে, "বিষ্ণু" জ্ঞান কোরে শ্রীচৈতন্যচন্দ্রকে শ্রীবৃষভানুনন্দিনী জ্ঞান করারূপ মতবাদ পোষণ করেন, তাঁদেরকে কখনই অদ্বৈতের অনুগত সেবক বলা যায় না।কিছুদিন আগে শান্তিপুরে ঐ রকম নব-উদ্ভাবিত ঘৃণিত মতবাদের প্রচার হয়েছিল।কালনায় এই মতবাদ গ্রন্থাকারে পরিণত না হলেও তার দেশবাসীগণ কমবেশী ঐ মত পোষণ করেই নরকগামী হয়।*
*🔥অদ্বৈতাচার্য্য উপাদান-কারণ বিষ্ণুতত্ত্ব।তাঁর সেবা অক্ষয়। কিন্তু অদ্বৈত-সেব্য শ্রীগৌরসুন্দর সর্বসেব্য, এই কথা স্বীকার না করে অদ্বৈতাচার্য্যকে মহাপ্রভুর "সেব্য-বিচাররূপ অপরাধ" করতে গেলে শ্রীঅদ্বৈত-সেবার নিরর্থকতা হয়ে পড়ে।ঘৃণিত অদ্বৈত-সেবকব্রুবগণ বলে থাকেন যে, শ্রীগৌরভক্তগণ মহাপ্রভুর প্রতি ঐকান্তিকতা প্রকাশ করায় তাঁরা অদ্বৈত-সেবা-বিরোধী। শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে বর্ণিত আছে=*
*🌷চৈতন্য-মালীর কৃপাজলের সেচনে।*
*🌷সেই জলে পুষ্ট স্কন্ধ বাড়ে দিনে দিনে।।*
*🌷সেই জলে স্কন্ধে করে শাখাতে সঞ্চার।*
*🌷ফলে ফুলে বাড়ে,শাখা হইল বিস্তার।।*
*🌷প্রথমে তো আচার্য্যের একমত গণ।*
*🌷পাছে দুইমত হৈল দৈবের কারণ।।*
*🌷কেহত আচার্য্যের আজ্ঞায়,কেহত স্বতন্ত্র।*
*🌷স্বমত কল্পনা করে দৈব পরতন্ত্র।।*
*🌷আচার্য্যের মত যেই,সেই মত সার।*
*🌷তা'র আজ্ঞা লঙ্ঘি' চলে, সেই ত অসার।।*
*🌷চৌদ্দ ভুবনের গুরু, চৈতন্য-গোসাঞি।*
*🌷তাঁর গুরু--অন্য,এই কোন শাস্ত্রে নাই।।*
*🌷মালি-দত্ত জল অদ্বৈত-স্কন্ধ যোগায়।*
*🌷সেই জলে জীয়ে শাখা,ফল-ফুল হয়।।*
*🌷ইহার মধ্যে মালি-পাছে কোন শাখাগণ।*
*🌷না মানে চৈতন্য-মালী দুর্দ্দৈব কারণ।।*
*🌷সৃজাইল,জীয়াইল,তাঁরে না মানিলা।*
*🌷কৃতঘ্ন হইলা,তারে স্কন্ধ ক্রদ্ধ হইলা।।*
*🌷ক্রদ্ধ হঞা স্কন্ধ তারে জল না সঞ্চারে।*
*🌷জলাভাবে কৃশ শাখা শুখাইয়া মরে।।*
*🌷চৈতন্য-রহিত দেহ, শুষ্ককাষ্ঠ সম।*
*🌷জীবিতেই মৃত সেই,মৈলে দন্ডে যম।।*
*🌷কেবল এ গণপতি নহে এক দন্ড।*
*🌷চৈতন্য-বিমুখ যেই,সেই ত পাষন্ড।।*
*🌷কি পন্ডিত,কি তপস্বী, কিবা গৃহী যতি।*
*🌷চৈতন্য-বিমুখ যেই,তার এই গতি।।*
*🌷যে যে লৈল,শ্রীঅচ্যুতানন্দের মত।*
*🌷সেই আচার্য্যের গণ, "মহাভাগবত"।।*
*🌷সেই সেই,আচার্য্যের কৃপার ভাজন।*
*🌷অনায়াসে পাইল সেই চৈতন্য-চরণ।।*
*(চৈঃচঃআঃ ১২|৫,৭-১০,১৬, ৬৬-৭৪)*
*🍀"শ্রীচৈতন্যদেব রূপবান্ পুরুষোত্তম। শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য শ্রীচৈতন্যের ভূষণ-সদৃশ।এটি না বুঝে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যকে শ্যামসুন্দর বোধে এবং শ্রীগৌরচন্দ্রকে অদ্বৈতের আশ্রিত-জ্ঞানে যে মহাপ্রভুর নিন্দা অদ্বৈতানুগ-পরিচিত জনগণে ব্যাপ্ত হয়েছিল,তা অবশ্যই ভক্তিরাজ্য হতে অপসৃত বা দূরে চলে গেছে বা পলায়িত।যিনি যে পরিমাণে শ্রীচৈতন্যের সেবাপরায়ণ, তিনি ততই বড়।উচ্চাবচ নিরূপণে শ্রীচৈতন্য সেবানুরাগের তারতম্যই একমাত্র নিদর্শন।শ্রীঅদ্বৈত প্রভু নিত্যকাল শ্রীচৈতন্যের স্মৃতি ছাড়া অন্য কিছুই চিন্তা করেন না।এইসব আলোচনা করে যারা শ্রীচৈতন্যদেবে ভক্তিবিশিষ্ট হন না,তাদের সঙ্গে কথোপকথনে জীবের ভক্তি হতে বিচ্যুতি ঘটে, (যারা বৈষ্ণব বা বিষ্ণুর নিন্দা করে তাদের মুখ দেখা উচিৎ না, মেলামিশা করা তো বহু দূর)।*
*🍀শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যকে যিনি বৈষ্ণব শ্রেষ্ঠ জ্ঞানে সেবা করেন,তাঁকেই "বৈষ্ণব"বলা যাবে, আর যারা শ্রীঅদ্বৈতকে বিষয়জাতীয় "কৃষ্ণ" বুদ্ধি করে শ্রীগৌরসুন্দরকে আশ্রয় জাতীয় ভক্ত জ্ঞান করবেন,তারা কোনদিনই শ্রীকৃষ্ণপাদপদ্ম লাভ করতে পারবেন না।শ্রীঅদ্বৈত প্রভুর স্বরূপজ্ঞান বিপর্য্যয়হেতু তাকে শ্রীচৈতন্য শিক্ষায় শিক্ষিত না জেনে মায়াবাদাশ্রয়ে ভক্তি হতে চ্যুত হন এবং কর্ম জ্ঞানাদি অভক্তিকেই গীতার্থ বলে প্রচার করেন।শ্রীঅদ্বৈত প্রভুকেই শ্রীচৈতনদেব অন্তরঙ্গ ভক্তজ্ঞানে শিক্ষা দিয়েছিলেন, কিন্তু তার অনুগতব্রুব অধম কিঙ্করগণ মায়াবাদ-কূপে ডুবিয়ে দিয়ে এবং কৃষ্ণভক্তি সম্বন্ধের কপাট বন্ধ করে কর্মরাজ্যে সুখ-দুঃখ-ভোগ করার জন্য "স্মার্ত" করেছিলেন।অদ্যাপি "অদ্বৈত-সন্তান পরিচয়াকাঙ্ক্ষী জনগণের কর্মবাদের প্রাচুর্য্য ও মায়াবাদে আগ্রহ দেখতে পাওয়া যায়। সুতরাং তাদেরকে ভক্তিপথের আচরণশীল জানবার পরিবর্তে সেবা মন্দিরের রুদ্ধ-দ্বারের বাইরে বসবাস করতে হবে।(শ্রীপ্রভুপাদ)।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita4.html
*(৩৪)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীআচার্য্যের বিচার*
*************************
*🍀শ্রীগৌরসুন্দর বর দিতে অভিলাষ করলে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য প্রার্থনা করেছিলেন যে,পান্ডিত্য-বিমুখ, আভিজাত্যহীন,অধন ব্যক্তিদের প্রতি শ্রীচৈতন্যদেবের কৃপা বিতরিত হোক। শ্রীমন্মহাপ্রভুর আদেশে শ্রীমন্নিত্যানন্দ প্রভু ও হরিদাস ঠাকুর নাম-প্রেম প্রচারে গমন করলেন।শ্রীহরিদাস অদ্বৈত প্রভুর কাছে নিত্যানন্দের নানারকম চাঞ্চল্যের কথা জানিয়ে শেষে জগাই-মাধাইয়ের কথা উল্লেখ করে বললেন যে,নিত্যানন্দ এই দুই মদ্যপের কাছে কৃষ্ণকথা জানাতে গিয়ে তাদের ক্রোধের পাত্র হয়েছিলেন।সেই মদ্যপ দ্বয়ের হাত হতে আপনার অনুগ্রহেই আজ প্রাণধারণ করতে সমর্থ হয়েছি। শ্রীঅদ্বৈত তার উত্তরে বললেন--, শ্রীনিত্যানন্দপ্রভু সর্বক্ষণ অপ্রাকৃত হরিরস-মদিরাপানে অতি মত্ত,আর জগাই-মাধাই দুইজন সাধারণ প্রাকৃত মদ্যপান করে মাতাল ; সুতরাং তিনি উক্ত প্রাকৃত মদ্যপকে নিজ অচিন্ত্য অলৌকিক শক্তিপ্রভাবে ঈশ্বর-স্বভাবের প্রকাশ করে অপ্রাকৃত শ্রীহরিরস মদিরা পান করাইয়ে অপ্রাকৃত হরিরস মদিয়ায় মত্ত করতে তিনজন মাতালের পরস্পর সঙ্গ করাই কর্তব্য। তুমি,আমি--,ভগবন্নিষ্ঠ, দূরে থেকে তাঁর সেই অচিন্ত্য অলৌকিক শক্তির প্রভাব দর্শন করাই আমাদের কর্তব্য।আমি শ্রীনিত্যানন্দের চরিত্র ও শক্তি ভাল করে জানি।তিনি দুই-তিনদিনের মধ্যেই সেই দুই মদ্যপদ্বয়কে বৈষ্ণব গোষ্ঠীতে আনবেন।আমরা দুইজন জীবের জাতীয় অভিমান (আভিজাত্য) দোষ হরণ করে শ্রীমন্নিত্যানন্দের প্রেম-প্রচারে সহায়ক করব।শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের কথায় শ্রীনিত্যানন্দপ্রভুর কৃপাশক্তি অবগত হয়ে জগাই-মাধাই নিশ্চয়ই উদ্ধার হবেন।হরিদাস এটি খুব দৃঢ়ভাবে বুঝতে পারলেন।*
*🍀শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের প্রেমচেষ্টা সকলে বুঝে উঠতে পারে না। শ্রীঅদ্বৈত প্রভু কিছু সন্তান এবং কিছু অভক্ত শিষ্যদের বৈষ্ণবতার স্বরূপ বুঝতে না পেরে শ্রীঅদ্বৈতপ্রভুকে কেবলাদ্বৈতবাদী সাজিয়ে তাঁর পক্ষ গ্রহণ করে শ্রীগৌরসুন্দরের প্রিয়বর পাত্র শ্রীগদাধর পন্ডিত গোস্বামীকে গর্হণ (দোষারোপ, কুৎসা, নিন্দা) করেন।শ্রীঅদ্বৈতসন্তান শ্রীঅচ্যুতানন্দ শ্রীগদাধর পন্ডিত গোস্বামীর আনুগত্য স্বীকার করেছিলেন বলিয়া আচার্য্যের অবৈধ শিষ্যগণ ও অভক্ত সন্তানগণ আধ্যাত্মিক দর্শনে নিজেদের বংশগৌরব এবং মহাপ্রভু অদ্বৈতকে বিষ্ণুবোধে নিজেদেরকে "বিষ্ণুসন্তান" জ্ঞান করে শ্রীগদাধর পন্ডিতের আনুগত্যকারীগণকে আক্রমণ করেছিলেন।পাপচিত্ত হরিবিমুখ জনগণ শুদ্ধবৈষ্ণবদের মধ্যে পরস্পরের মতভেদ আছে মনে করে তাদের অপস্বার্থপর বিচারে একের পক্ষ গ্রহণ করে অন্যের ভজন অনুষ্ঠানের নিন্দা করে। কিন্তু উভয় বৈষ্ণবই ভগবৎসেবাপর ; তাঁদের মধ্যে পরস্পর বৈষম্য কল্পনা করে একজন অসতের মত সমর্থনকারী, সুতরাং শ্রেষ্ঠ এবং অপরে তাদের মঙ্গল আকাঙ্ক্ষা করে শোধন প্রার্থনা করেন বলে তাদের বিরোধী-জ্ঞানে তাঁকে নিন্দামন্দ করে বৈষ্ণবগণের পরস্পরের ভেদের সম্ভাবনা আছে, এইরকম বিচার করে নিজ সর্বনাশ সাধন করেন।*
*🍀জগাই-মাধাই উদ্ধার হলে মহাপ্রভু বললেন--, আমি জগাই-মাধাইয়ের সমস্ত পাপ নিলাম। তার প্রমাণস্বরূপ মহাপ্রভুর শ্রীঅঙ্গ কালিমা আকার প্রাপ্ত হলেন।মহাপ্রভু বললেন--, "তোমরা আমাকে কিরকম দেখছ?" শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য বললেন, তুমি সেই শ্রীগোকুলচন্দ্র "কৃষ্ণ" এটিই আমরা দেখছি।যাঁর শ্রীনাম স্মরণমাত্র মহাপাপীও পরম বিশুদ্ধ হয়ে যায়,যাঁর নামের আভাসে সর্বপাপক্ষয় শক্তি নিহিত, সেই তোমাকে কি কখনও পাপস্পর্শ করতে পারে? তোমার এই আপ্রাকৃত চিন্ময় শ্রীঅঙ্গে কি পাপ যেতে পারে?আর তুমি সেই আপ্রাকৃত চিন্ময় শ্রীঅঙ্গ আমাদেরকে কৃপাকরে দর্শন করাইয়ে কৃতার্থ করলে,এটিই চিৎপ্রত্যক্ষ-দৃষ্টিতে উপলব্ধি করছি।আচার্য্যের এই সত্য অন্তরঙ্গ অনুভবের কথা শুনে তাঁর প্রতিভা দর্শনে শ্রীমন্মহাপ্রভু হাসিলেন।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita4.html
*(৩৫)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*আচার্য্যের শ্রীনিত্যানন্দতত্ত্ব বর্ণন*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀জগাই-মাধাইকে কৃপা করে মহাপ্রভু ভাগবতগণসহ গঙ্গায় জলক্রীড়া করতে গমন করলেন।জলকেলি আরম্ভ হল। শ্রীঅদ্বৈত ও নিত্যানন্দে জলকেলি হতে লাগিল। যথা=*
*🌷অদ্বৈত-নয়নে নিত্যানন্দ কুতূহলী।*
*🌷নির্ঘাতে মারিয়া জল দিল মহাবলী।।*
*🌷দুইচক্ষু অদ্বৈত মেলিতে নাহি পারে।*
*🌷মহা-ক্রোধাবেশে প্রভু গালাগালি পাড়ে।।*
*🌷নিত্যানন্দ মদ্যপে করিল চক্ষু কাণ।*
*🌷কোথা হৈতে মদ্যপের হৈল উপস্থান।।*
*🌷শ্রীনিবাস পন্ডিতের মূলে জাতি নাই।*
*🌷কোথাকার অবধূতে আনি দিল ঠাঞি।।*
*🌷শচীর নন্দন চোরা এত কর্ম্ম করে।*
*🌷নিরবধি অবধূত-সংহতি বিহরে।।*
*🌷নিত্যানন্দ বলে,মুখে নাহি বাস লাজ।*
*🌷হারিলে আপনে-- আর কোন্দলে কি কাজ?*
*🌷গৌরচন্দ্য বলে, এইবারে নাহি জানি।*
*🌷তিনবার হইলে সে হার-জিত মানি।।*
*🌷আরবার জলযুদ্ধ অদ্বৈত নিতাই।*
*🌷কৌতূক লাগিয়া এক-দেহ দুই ঠাঞি।।*
*🌷দুইজনে জলযুদ্ধ কেহ নাহি পারে।*
*🌷একবার জিনে কেহ,আর বার হারে।।*
*🌷আরবার নিত্যানন্দ সংভ্রম পাইয়া।*
*🌷দিলেন নয়নে জল নির্ঘাত করিয়া।।*
*🌷অদ্বৈত পাইয়া দুঃখ বলে, মাতালিয়া।*
*🌷সন্ন্যাসী না হয় কভু ব্রাহ্মণ বধিয়া।।*
*🌷পশ্চিমার ঘরে ঘরে খাইয়াছে ভাত।*
*🌷কুল,জন্ম,জাতি কেহ ধা জানে কোথাত।।*
*🌷পিতা,মাতা,গুরু, নাহি জানি যে কিরূপ?*
*🌷খায়,পরে সকল,বলায় 'অবধূত'।।*
*🌷নিত্যানন্দ-প্রতি স্তব করে ব্যপদেশে।*
*🌷শুনি' নিত্যানন্দ-প্রভু গণসহ হাসে।।*
*🌷"সংহারিমু সকল,মোহার দোষ নাই।*
*🌷এত বলি ' ক্রোধে জ্বলে আচার্য্য গোসাঞি।।*
*🌷আচার্য্যের ক্রোধে হাসে ভাগবতগণ।*
*🌷ক্রোধে তত্ত্ব কহে-- যেন শুনি কুবচন।।*
*🌷হেন রস-কলহের মর্ম্ম না বুঝিয়া।।*
*🌷ভিন্ন-জ্ঞানে নিন্দে,বন্দে,সে মরে পুড়িয়া।।*
*🌷নিত্যানন্দ-গোরাচাঁদ যাঁরে কৃপা করে।*
*🌷সেই সে বৈষ্ণব-বাক্য বুঝিবারে পারে।।*
*🌷সেই কত ক্ষণে দুই মহাকুতূহলী।*
*🌷নিত্যানন্দ অদ্বৈতে হইল কোলাকুলি।।*
*🌷মহা-মত্ত দুই প্রভু গৌরচন্দ্র রসে।*
*🌷সকল গঙ্গার মাঝে নিত্যানন্দ ভাসে।।*
*(শ্রীচৈতন্য ভাঃ মঃ ১৩|৩৪২-৩৬১)*
*🍀শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য কর্তৃক শ্রীনিত্যানন্দ-তত্ত্ব ব্যাখ্যার গূঢ়-অর্থ ঃ---*
*🌺শ্রীমন্নিত্যানন্দ শ্রীহরিরস-মদে মত্ত।প্রাকৃত জাতি মদে মত্ত কর্মজড়স্মার্ত ব্যক্তিগণ শ্রীনিত্যানন্দ-তত্ত্ব বুঝতে অক্ষম। শ্রীবাস পন্ডিত শুদ্ধভক্ত-অগ্রগণ্য,তাঁর প্রাকৃত আভিজাত্য অভিমান না থাকায় তিনি নিত্যানন্দের কৃপায় তাঁর তত্ত্ব জেনে নিজগৃহে রেখে সর্বদা তাঁর সেবা করেন, এ সৌভাগ্য অন্য কারও নাই,ধন্য শ্রীবাসের সৌভাগ্য। শ্রীশচীনন্দন গৌরহরির কৃপায় এই সৌভাগ্যের হেতু।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita4.html
*(৩৬)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*আচার্য্যের নিত্যানন্দতত্ত্ব প্রকাশ*
*******************************
*শ্রীশচীনন্দন সর্বক্ষণ নিত্যানন্দের সহিত থাকেন।সর্বকালে ও সর্ব অবতারে নিত্যানন্দ সহ কখনও বিচ্ছেদ নাই। নিত্যানন্দ অভিন্ন বলদেব সেই ব্রজের বলাই ; পশ্চিমা ব্রজবাসীগণ ঘরে ঘরে কৃষ্ণ-বলরামের সেবা করেন,তাঁরাও পশ্চিমাবাসীর সেবা গ্রহণ করে থাকেন। তিনি কোন কুলের মধ্যে আবদ্ধ নহেন, তার কুল অপ্রাকৃত, প্রাকৃত লোকে কেউই তাঁর সেই কুলের পরিচয় জানে না।তিনি "অজ" তাঁর জন্মকর্মাদি ও লীলা অপ্রাকৃত, তা প্রাকৃত বিচারের অগম্য।তিনি জাতির অতীত, প্রাকৃত জাতির মধ্যে তাঁকে আনতে গেলে অপরাধ হয়।তাঁর অপ্রাকৃত নিত্য বাৎসল্যরসের উপাসক-উপাসিকা পিতামাতার তত্ত্বও কেউ জানতে পারে না। তিনি সর্বজগতের গুরুগণের মূল গুরুতত্ত্ব, তাঁর আবার গুরু কে?তবে শ্রীমন্মাধেবেন্দ্র পুরীপাদকে যে গুরুত্বে বরণ করলেন, এর গূঢ় রহস্যও অজ্ঞেয়।খাওয়া-পরার বৈধ-বিচার তাঁকে বিধিবদ্ধ করতে পারে না। তিনি বিধির অতীত বলিয়া "অবধূত"। জগতের উপাদান ও নিমিত্ত কারণের মূল কারণোদকশায়ী মহাবিষ্ণুরও অংশী--শ্রীঅদ্বৈত ও নিত্যানন্দ-তত্ত্ব বস্তুসত্তায় একই, লীলা-রসাস্বাদক রূপে কৌতূক সম্পাদন করার জন্য দুই মূর্তিতে প্রকাশিত ; উভয়েই গৌররসে মহামত্ত।উভয়ে ভেদবুদ্ধি বা গুরু-লঘুজ্ঞান নরক প্রাপক।*
*🍀একদিন শ্রীমন্মহাপ্রভু বললেন, আজ নগরে পাষন্ডীর সম্ভাষণ হয়েছে।এটি ভজনকারীর অত্যন্ত ভজন-প্রতিকূল-বিষয় তা জানাতে এবং তার প্রতিকার, কীর্তনই একমাত্র তার প্রতিকার, এটি বুঝাতে ভক্তগণকে কীর্তন করতে আজ্ঞা করে নিজে নৃত্য করতে লাগলেন।পাষন্ডীর লক্ষণ শাস্ত্রে এইরকম-- "যে ব্যক্তি অজ্ঞান মোহিত হয়ে জগন্নাথ নারায়ণকে সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞান না করে অন্যদেবতাকে শ্রেষ্ঠ বা তাঁর সমান জ্ঞান করে, সে ব্যক্তি "পাষন্ড"। যে ব্যক্তি কপাল-ভস্ম-অস্থি ধারণ করে,অবৈদিক চিহ্ন সব ধারণ করে, সেই পাষন্ডি।যে ব্যক্তি শ্রীহরির প্রিয় শঙ্খ-চক্র উর্দ্ধপুন্ড্রাদি চিহ্ন ধারণ না করে, সে পাষন্ডি।যে দ্বিজ শ্রুতিস্মৃতি বিহিত আচরণ করে না,সে দ্বিজ পাষন্ড।যে ব্যক্তি সমস্ত যজ্ঞভোক্তা বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে উক্ত আচরণ গুলি না করে সে পাষন্ড।যে ব্যক্তি অন্য দেবগণের উদ্দেশ্যেই দান ও হোমাদি করে থাকে,তাকে "পাষন্ডী" অথবা কর্মবিষয়ে স্বাধীন মতাবলম্বী জানবে। এখানে পাষন্ডী, অর্থ্যাৎ বৈষ্ণবমার্গ হতে ভ্রষ্ট।যে ব্যক্তি ব্রহ্মা-রুদ্রাদি দেবতার সঙ্গে শ্রীনারায়ণকে সমান করে দেখেন, সে ব্যক্তি নিশ্চয়ই পাষন্ডী।যে ব্যক্তি কায়মনোবাক্য কর্মসব ত্রিবিধ অবস্থার বাসুদেবকে জানে না সেই ব্যক্তি পাষন্ড। (পদ্মোত্তর ৯২-৯৩ অঃ)।যে ব্যক্তি বেদসম্মত কাজ ত্যাগ করে অন্য কর্মের আচরণ করে থাকে,নিজাচার বিহীন সেই ব্যক্তি পাষন্ড নামে কীর্তিত হয়।(পাদ্মপুরাণ ক্রিয়াযোগ ১০ অঃ)। যে ব্যক্তি ভবব্রতধর এবং যে ব্যক্তি তার সমনুব্রত তারা সচ্ছাস্ত্রপরিপন্থি (নিজের ইচ্ছামত করে বেড়ায়, শাস্ত্র আচরণ মানে না এমন) পাষন্ডি হয়,(ভাঃ ৪|২|২৮)।মায়াবশ জীব অথবা মায়িক জড়বস্তুর সঙ্গে মায়াধীশ শুদ্ধচেতনবিগ্রহ শ্রীবিষ্ণুর সঙ্গে "এক" বা সমজ্ঞানকারীই "পাষন্ডী"।*
*🌷পাষন্ডমার্গে দন্ডাত্রেয় ঋষভদেবের উপাসকগণ পাষন্ড। দেহদ্রবিণাদি-নিমিত্তক "পাষন্ড" শব্দের দ্বারা নাম-অপরাধীকে লক্ষ্য করে।(ভাঃসঃ)দেহাদি লোভার্থ যে পাষন্ড গুর্বাবজ্ঞাদি(গুরু অবজ্ঞাকারী) অপরাধ করে (ভাঃসঃ)।(ভাঃ ৪|২|২৮,৩০,৩২,৫|৬|৯ এবং ১২|২|১৩,৪৩ প্রভৃতি বহু শ্লোকে পাষন্ডীর কথা বর্ণিত হয়েছে)।আবার যে ব্যক্তি মায়াতীত ভগবত্তায়, ভগবদ্ধামে,ভগবদ্ভক্তিতে ও ভক্তে "মায়া" আছে বা অন্য মায়িক বস্তুর সাম্য আছে, এরকম ভ্রান্তমতি ব্যক্তিই পাষন্ডী।ভগবল্লীলার নিত্যত্ব উপলব্ধি না করে নিত্যভক্তিতত্ত্বকে কালদ্বারা খন্ডিত অনিত্যকর্ম মাত্র মনে করাও পাষন্ডত্ব।কর্মজড়,বহ্বীশ্বরবাদী বিষ্ণু-বৈষ্ণব-দ্বেষী পৌত্তলিকগণ পাষন্ডী।*
*🌷শ্রীবিগ্রহ যে না মানে,সেই ত' পাষন্ড।*
*🌷অস্পৃশ্য,অদৃশ্য সেই,হয় যমদন্ড্য।।*
*(শ্রীচৈঃচঃমঃ ৬|১৬৬-১৬৭)।*
*🍀উক্ত পাষন্ডীর সম্ভাষণ যে ভক্তির অত্যন্ত প্রতিকূল, তা শ্রীগৌরসুন্দর শিক্ষাদান করলেন। কিন্তু নৃত্য করতে করতে থেমে থেমে বলতে লাগলেন, আজ আমার প্রেম-অনুভব হচ্ছে না কেন? তোমাদের কারও কি কোন অপমানসূচক ব্যবহার আমা থেকে করা হয়েছে?যদি হয়ে থাকে, তবে সেই অপরাধ ক্ষমা করে আমার প্রাণ রক্ষা করো।এইকথা দ্বারা মহাপ্রভু বৈষ্ণব অপরাধের গুরুত্ব ও প্রেমার্থে ব্যাকুলতার তীব্রতা শিক্ষা দিলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌷🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita4.html
*(৩৭)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীচৈতন্যের কৃপা-বৈশিষ্ঠ*
*************************
*🍀তখন মহাপাত্র শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য বললেন,মহাপ্রভু!তোমাকে অপরাধ স্পর্শ করতে পারে না এবং পাষন্ডী সম্ভাষাও তোমার প্রেমপ্রকাশের বাধা হতে পারে না।আমি তোমার প্রেম শোষণ করেছি,কারণ আমি ও শ্রীবাস পন্ডিত প্রেমলাভ করতে পারলাম না।তিলি,মালাকার প্রভৃতির সঙ্গে প্রেমবিলাস-কথায় তুমি মত্ত থাক।শ্রীমন্নিত্যানন্দ-কৃপা পেয়ে ও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে তুমি প্রেম বিতরণ করছ।পঞ্চতত্ত্বের মধ্যে ভক্তস্বরূপের (নিতাইচাঁদ) সঙ্গে ও তাঁর অনুগত নিচুদিকে কৃপা করছ ; কিন্তু দয়াময় মহাপ্রভু!আমরা দুই তত্ত্বও তোমার সেবক।আমাদেরকে বাদ দিলে তোমার পূর্ণ কৃপার প্রকাশ হচ্ছে না ; সে কারণ আমাদেরকে ভৃত্যজ্ঞান করে কৃপা না করলে তোমার প্রেম-প্রদান ও বিতরণে দেওয়া প্রেমসম্পদ আমি শোষণ করিব ; অতএব সর্বত্র প্রেম-প্রদান-রূপ আনন্দ লাভ কি ভাবে করবে?*
*☘চৈতন্যপ্রেমে মহামত্ত আচার্য্য গোসাঞি এ কি বলেন, কি করেন!তাতে হয়ত বাহ্যস্মৃতি নাই।শ্রীকৃষ্ণও সর্বমতে ভক্তের মহিমা বাড়াতে অতি সুদক্ষ।যাঁর শুভ ইচ্ছায় ও আরাধনার ফলে শ্রীচৈতন্যাবতার, সেই ভক্ত চূড়ামণি আচার্য্য নিঃসঙ্কোচে মহাপ্রভুর কাছে নিজ আবদার জ্ঞাপন করলেন, এটি স্বাভাবিক,কারণ শাসন করেন যিনি,ভালবেসেন তিনি। ভগবান গৌরসুন্দর ও শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের প্রতি মহা কারুণ্য বিস্তার করতে এক মহা সুগূঢ় অন্তরঙ্গ ভাবময়ী লীলা প্রকট অভিলাষে এক অভিনব নাট্য বিস্তার করলেন।তিনি আচার্য্যের কথায় কোনও প্রত্যুত্তর না দিয়ে দ্বার খুলে গঙ্গার দিকে পাগলের মত ছুটলেন।নিত্যানন্দ ও ঠাকুর হরিদাস উভয়ে মহাপ্রভুর পেছন পেছন ছুটে চলেছেন।মহাপ্রভু "প্রেমশূন্য শরীর রেখে কি কাজ" বলে গঙ্গায় ঝাঁপ দিলেন।নিত্যানন্দ ও ঠাকুর হরিদাস মহাপ্রভুর কেশ ও পদ ধরে উপরে নিয়ে এলেন, মহাপ্রভু বললেন, তোমরা ধরে আমাকে উঠালে কেন?"কৃষ্ণে প্রেম-ব্যতীত জীবন ধারণ বৃথা।" এই তীব্র কৃষ্ণ-প্রেম-প্রাপ্তির উৎকণ্ঠা ও ব্যাকুলতা শিক্ষা দিতে শ্রীমন্মহাপ্রভুর গঙ্গায় ঝাঁপ দেওয়া।নিত্যানন্দ বললেন--,তুমি গঙ্গায় প্রবেশ করলে কেন?এজন্য আমার যদি কোনও অপরাধ হয়ে থাকে,তা ক্ষমা করো।যাকে তুমি সর্বতোভাবে শাস্তি দিতে পার,তাঁর আবদারময়ী কথায় নিজে গঙ্গায় প্রবেশ করতে গিয়ে সেই তাকে এবং সর্বসেবকের প্রাণ নিতে চাচ্ছ, এটি আমার ও সকলেরই পক্ষে অসহ্য তীব্রতাপ।যাঁর ধন,প্রাণ,বন্ধু সবই তুমি,তাঁকে কি এতবড় দুঃখ দিতে হয়? এই বলে প্রেমময় নিত্যানন্দ কাঁদতে লাগলেন।তাতে পরমকরুণ মহাপ্রভুর কোমলহৃদয় গলে গেল।মহাবদান্য অবতার গৌরহরি তখন বললেন--, দেখ নিত্যানন্দ! হরিদাস!আমি সদ্য সঙ্গোপনে শ্রীনন্দন আচার্য্যের ঘরে লুকিয়ে থাকব, এটি কাউকেও বলবে না,তোমরা বলবে তাঁর দেখা পাইনি।তাঁরা মহাপ্রভুর আদেশ পালন করলেন।এদিকে ভক্তগণের মস্তকে যেন বজ্রপাত হল,মহাপ্রভু গতপ্রাণ, ভক্তগণ পরম বিরহে কাঁদতে লাগলেন।গৌরাঙ্গ-চরণ-ধন-হৃদয়ে বেঁধে মহাবিরহে মগ্ন হলেন। আচার্য্য নিজেকে মহা অপরাধী জ্ঞান করে চৈতন্য বিরহে ঘরে চলে গেলেন। ভক্তগণের আহার নাই,নিদ্রা নাই, কেবল অবিরাম ক্রন্দন আর ক্রন্দন করছেন।*
*🍀মহাপ্রভু শ্রীনন্দন আচার্য্যের ঘরে যাওয়া মাত্র নন্দন আচার্য্য দন্ডবৎ প্রণত হয়ে শুকনো বসন পরিয়ে নানারকম প্রেমসেবা করতে লাগলেন।তাঁর প্রেম-সেবায় মহাপ্রভু চরম তুষ্ট হয়ে বিষ্ণুখট্টায় বসিলেন। নন্দন আচার্য্য নানারকম সেবা সৌভাগ্য লাভ করে কৃতার্থ হয়ে নানান সেবা করতে লাগলেন।মহাপ্রভুর সেবা করা কোটি কোটি জনমের সুকৃতির ফলে পাওয়া যায়।সে রাত্রি গৌরহরি তাঁর আলয়ে কৃষ্ণকথায় সারারাত্রি মহানন্দে যাপন করলেন।*
*🍀আচার্য্যের প্রতি দন্ড বিধান করে গৌরসুন্দর তাঁর প্রতি খুবই প্রসন্ন হলেন।তাঁর করুণহৃদয় একেবারে গলে গেল।তিনি নন্দন আচার্য্যকে বললেন, একা শ্রীবাসকে তাড়াতাড়ি এখানে ডেকে নিয়ে এসো।নন্দন আচার্য্য শীঘ্র গিয়ে শ্রীবাস পন্ডিতকে ডেকে আনলেন।শ্রীবাস, মহাপ্রভুকে দেখেই প্রেমে ক্রন্দন করতে লাগলেন।তখন মহাপ্রভু অদ্বৈতাচার্য্যের সংবাদ জিজ্ঞাসা করলেন।শ্রীবাস পন্ডিত বললেন, আচার্য্যের প্রাণটি বাহির হয় নাই,গতকল্য সারাদিন উপবাস করে কেবল কেঁদে কেঁদে মহাদুঃখে অতিবাহিত করেছেন। শুধু আচার্য্য নহে, তোমাগত-প্রাণ সকল ভক্তই কাল মহাদুঃখে উপবাসে যাপন করেছেন।ওহে করুণাময় পতিতপাবন গৌরহরি!কৃপা করে তাদেরকে প্রাণরক্ষা করুন।*
*☘শ্রীবাসের কথায় মহাপ্রভু আচার্য্যের প্রতি সদয় হয়ে আচার্য্যের কাছে গিয়ে দেখলেন, আচার্য্য মূর্ছিত হয়ে পড়ে আছেন। তখন মহাপ্রভু বলিলেন, আচার্য্য!উঠ, দেখ আমি বিশ্বম্ভর। আচার্য্যের মুখে কথা নেই, প্রেমযোগে লজ্জায় মহাপ্রভুর পাদপদ্ম চিন্তা করছেন। পুনঃ গৌরহরি বললেন, আচার্য্য উঠ,চিন্তা নাই নিজকার্য্য করো।তখন আচার্য্য নানারকম কাতর বাক্যে স্তুতি করে বললেন=*
*🌷প্রাণ,ধন,দেহ,মন,-- সব তুমি মোর।*
*🌷তবে মোরে দুঃখ দাও,ঠাকুরালি তোর।।*
*🌷হেন কর প্রভু মোরে দাস্যভাব দিয়া।*
*🌷চরণে রাখহ দাসী,নন্দন করিয়া।।*
*🌻আচার্য্যের প্রতি করুণহৃদয় মহাপ্রভু বললেন--,দেখ! রাজার প্রধান কর্মচারী যখন রাজার কাছে যাই, তখন দ্বারী প্রহরীগণ নিজেদের জীবিকার জন্য তার কাছে নিবেদন করে।তিনি তাদের জীবিকা প্রদান করলে তারদ্বারা তারা সপরিবারে জীবন ধারণ করে থাকে। এতদূর প্রতিপত্তি সম্পন্ন ব্যক্তিও যদি রাজার কাছে কোন অপরাধ করে বসেন,তবে রাজাদেশে ঐ দ্বারী প্রহরীগণই তাঁর প্রাণ সংহারে কুন্ঠিত হয় না।রাজাও একহাতে যোগ্যতার পুরস্কার এবং অন্যহাতে অযোগ্যতার তিরস্কার, উভয়প্রকার ধর্ম একাই রক্ষা করেন।*
*🌷এই মতে কৃষ্ণ-মহারাজ রাজেশ্বর।*
*🌷হর্ত্তা-কর্ত্তা ব্রহ্মা-শিব যাঁহার কিঙ্কর।।*
*🌷সৃষ্টি আদি করিতেও দিয়াছেন শক্তি।*
*🌷শাস্তি করিলেও কেহ না করে দ্বিরুক্তি।।*
*🌷রমা আদি,ভকদিও কৃষ্ণদন্ড পায়।*
*🌷প্রভু সেবকের দোষ ক্ষময়ে সদায়।।*
*🌷অপরাধ দেখি,কৃষ্ণ যার শাস্তি করে।*
*🌷জন্মে জন্মে দাস সেই,বলিল তোমারে।।*
*🌷উঠিয়া করহ স্নান,কর আরাধন।*
*🌷নাহিক তোমার চিন্তা,করহ ভোজন।।*
*🌷প্রভুর বচন শুনি অদ্বৈত উল্লাস।*
*🌷দাসের শুনিয়া দন্ড হৈল বড় হাস।।*
*🌷এখনে সে বলি নাথ তোর ঠাকুরালি।*
*🌷নাচেন অদ্বৈত রঙ্গে দিয়া করতালি।।*
*🌷প্রভুর আশ্বাস শুনি' আনন্দে বিহ্বল।*
*🌷পাসরিল পূর্ব যত বিরহ-সকল।।*
*🌷সকল বৈষ্ণব হৈলা পরম আনন্দ।*
*🌷তখনে হাসেন হরিদাস নিত্যানন্দ।।*
*🌷এসব পরমানন্দ-লীলা-কথা-রসে।*
*🌷কেহ কেহ বঞ্চিত হৈল দৈবদোষে।।*
*🌷চৈতন্যের প্রেমপাত্র শ্রীঅদ্বৈত-রায়।*
*🌷এ সম্পত্তি "অল্প" হেন বুঝয়ে মায়ায়।।*
*(শ্রীচৈঃ ভাঃ মঃ ১৭ অঃ)*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🍀ভক্ত ও ভগবানের লীলার মধ্যে মায়িক দোষ-গুণের প্রবেশ নেই।ভাগ্যহীন কলির জীবগণ গুণ-দোষ করে অপরাধী হয়।ভগবৎকৃপা ক্রমে ভগবদ্-দাসগণের গুণ-দোষ-উদ্ভব মায়ীক গুণ বতর্মান না থাকায় তাঁরা একায়ন (একমাত্র)পদ্ধতিক্রমে ভগবানেরই ঐকান্তিকী সেবা করে থাকেন।নিখিল সদ্ গুণনিলয় ভগবান, বৈকুন্ঠ বস্তু ; সুতরাং আবরণের দ্বারা বা বিক্ষিপ্ত হয়ে বৈকুন্ঠকে গুণদোষের অন্তর্ভুক্ত ব্যাপার বিশেষ মনে করতে হবে না।অনন্তকল্যাণ-গুণৈকবারিধি (যিনি সকলের চরম কল্যান করেন ও তিনি সমস্ত গুণের সাগর)শ্যামসুন্দর বিভু চিদানন্দঘন এবং ভক্তের আরাধ্য ও প্রিয়বস্তু।সেই প্রিয়তম বস্তুর প্রিয় হবার চেষ্টাকেই "দাস্য" বলা হয়।মাদকদ্রব্য সেবী দম্ভভরে প্রাকৃত বস্তুর ভোক্তৃত্ব-অভিমানে(ভোক্তৃত্ব=ভোজন, এখানে ভোজন বলতে আন ভোজনের কথা বলা হয়েছে,যে আজেবাজে ভোজনের সঙ্গে আজেবাজে চিন্তন করে) যে অমঙ্গল বরণ করে,সেটি ভজনীয় বস্তুর দাস্যভাবের বিপরীত। ভগবান যাঁকে নিজ সেবাধিকার প্রদান করেন,তাঁকে আর কোনদিন নির্বিশিষ্ট-বিচারপরতা গ্রাস করতে সমর্থ হয় না।*
*🌷"অল্প"করি' না মানিহ "দাস" হেন নাম।*
*🌷অল্প ভাগ্যে "দাস" নাহি করে ভগবান।।*
*🌷আগে হয় মুক্তি,তবে সর্ববন্ধ-নাশ।*
*🌷তবে সে হইতে পারে শ্রীকৃষ্ণের দাস।।*
*🌷এই ব্যাখ্যা করে ভাষ্যকারের সমাজে।*
*🌷মুক্তসব লীলাতত্ত্ব কহি' কৃষ্ণ ভজে।।*
*🌷কৃষ্ণের সেবক-সব কৃষ্ণশক্তি ধরে।*
*🌷অপরাধী হইলেও কৃষ্ণ শাস্তি করে।।*
*(চৈঃ ভাঃ মঃ ১|১০৫|১০৮)*
*🍀যাঁরা কৃষ্ণেতর নশ্বর বস্তু-বৈচিত্র্য হতে মুক্ত হয়েছেন, কৃষ্ণজ্ঞান ও কৃষ্ণসান্নিধ্য লাভ করেছেন,তাঁরা কৃষ্ণভজন হতে কোন মুহূর্তের জন্যও বিচ্যূত হন না।সর্বশক্তিমান কৃষ্ণ নিজ সেবককে সর্বোতোভাবে রক্ষা করেন।কৃষ্ণ--নিগ্রহানুগ্রহের একমাত্র অধিনায়ক।তিনি অপরাধ প্রবণ আধ্যক্ষিক চিত্তকে শাসন-দন্ডের দ্বারা তিরস্কৃত করেন। ভগবানের অনুগ্রহ-দন্ড লাভ করে জীব অপরাধ মুক্ত হন।যে সব অর্বাচীন ভক্তগণ তাদের সঙ্কীর্ণ বিচার অবলম্বন করে পরস্পরের মধ্যে বিবাদের ডাক দেয়,তাদের বৈষ্ণব-অপরাধ হওয়ায় অত্যন্ত দুর্গতি লাভ ঘটে।বৈষ্ণবের ক্রিয়া-মুদ্রা বুঝতে না পেরে কোন এক পক্ষ গ্রহণ করে না বুঝে শুনে বিচার করলে বৈষ্ণবে প্রাকৃতত্ব-দর্শনই হয়ে যায়, বৈষ্ণব-দর্শন হয় না।(অর্থ্যাৎ বৈষ্ণবের বাইরের রূপ দর্শন হয়, প্রকৃত বৈষ্ণব দর্শন হয় না, মালা,তিলক,চৈতন্য রাখলেই বৈষ্ণব হওয়া যায় না, যিনি কৃষ্ণতত্ত্ববেত্তা, একমাত্র যুগল ভজন ছাড়া আন কিছু বলেন না, শুনেন না, তিনি প্রকৃত বৈষ্ণব)।*
*🍀বেদান্তদর্শনের ভাষ্যকারগণের বিভিন্ন দৃষ্টিতে যে সব পরস্পর বিবাদ দেখা যায়,ঐ-সব বিবাদের একমাত্র সুষ্ঠ-মীমাংসক-- আমার শ্রীগৌরসুন্দর। লৌকিক বিবাদগুলিরও মীমাংসার গৌরসুন্দরই প্রভু।যিনি শ্রীচৈতন্যদেবকে "সকলের একমাত্র প্রভু", জেনে নিত্যানন্দ-অদ্বৈতের বিচার করেন,তাদের কদাচার কখনও শুদ্ধভক্ত শব্দবাচ্য হয় না। বতর্মানে তের-প্রকার অপসম্প্রদায় অথবা ততোধিক অবিবেচক-সম্প্রদায়গণ শ্রীচৈতন্যদেবের দোহাই দিয়ে বা তাঁর বিরুদ্ধাচারণ করে যেসব মতবাদ প্রচার করে,ঐগুলি দুরাচারের অন্তর্গত ও মনোধর্মজীবীর আদরণীয়। শ্রীগৌরসুন্দরে ঐকান্তিকী ভক্তি না থাকলে জীবের শুদ্ধ ভক্তির অভাবে দূরমতি ঘটে। গুরু-বৈষ্ণব বিদ্বেষী লোকগণ গুরুর কাজ করতে গিয়ে নির্বোধ শয়তানগুলিকে শিষ্য পর্য্যায়ে গ্রহণ করে নিজ প্রভুত্ব বিস্তার করে।তাতে তের-প্রকার উপসম্প্রদায় গৌরভক্তির ভান করতে করতে নিজ সর্বনাশ সাধন করছে।তাদের শিষ্য সম্প্রদায় মানব-জন্মের সার্থকতা পরিহার করে পশুযোনির বুদ্ধিগুলি সংগ্রহ করায় তাদের গুরুদেরকে ভগবান সাজিয়েছে।*
*🍀যিনি জগতের জন্ম-স্থিতি-ভঙ্গের একমাত্র অধিকারী,সেই শ্রীচৈতন্যদেবের দাস্য ছাড়া জীবাত্মার অন্য কোন গতি নাই।অন্য সব অবস্থাই অনিত্য,অজ্ঞানপুষ্ট ও নিরানন্দে পর্য্যবেসিত।যে বলদেব প্রভু অনন্ত ব্রহ্মান্ডের সর্বতোভাবে নিয়ামক সেই নিয়ন্তৃ বলদেব প্রভুও কৃষ্ণসেবা ছাড়া অন্য কোন বৃত্তিকে মুখ্যভাবে গ্রহণ করেন না।*
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভুর ও শীঅদ্বৈতাচার্য্যের উক্ত লীলা অতি গূঢ়।এটি বহিরঙ্গা মায়ার বিমুখ-মোহিনী বৃত্তির অধিকৃত অসুরগণের মোহন ও যোগমায়া আশ্রিত শুদ্ধ উন্মুখ ভক্তের তোষণময়ী লীলাবৈচিত্র্য।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita4.html
*(৩৮)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীচৈতন্যের কৃপা-বৈশিষ্ট্য*
====================
*🍀শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য মহাবিষ্ণুর অবতার, তিনি মায়াধীশ বিষ্ণুতত্ত্ব এবং তৎসহ সদাশিবের শুদ্ধভক্তির আচার প্রচারময়ী আচার্য্য।তাঁর চরিত্রে কখনও মায়াধীন বহির্মুখ জীবের ভগবদ্ বিদ্বেষময়ী,মায়া অভিনিবেশময়ী অপরাধ বা মায়িকগুণের উদ্ভব হতে পারে না।তিনি সবসময় চিচ্ছক্তির ভগবৎ-সুখ অনুসন্ধানময়ী ভাবাবেশে শ্রীকৃষ্ণের সেবাতেই মত্ত, তিনি চৈতন্য-মহাপ্রভুর প্রেমপাত্র,অতএব উক্ত লীলা গূঢ় রহস্যময়ী।ভক্ত-ভগবানের মহানন্দের সম্পূট(ভান্ডার)। মহাভাগবতগণের আনন্দপ্রদ,মধ্যম-অধিকারীর ভজনশিক্ষাপ্রদ,কনিষ্ঠ-অধিকারীর ভজন-বাধক-শিক্ষার সাবধানকারক এবং বিদ্বেষীগণের মহামোহিনী-কৌশলময়ী ব্যাপার।শ্রীগৌরসুন্দর সাক্ষাৎ সর্বেশ্বরেশ্বর, সর্বশক্তিমান,শরণাগতপালক ; সকলেরই সর্ববিপদ হতে একমাত্র উদ্ধারকর্তা।সর্বজীববান্ধব, প্রেমময় শ্রীকৃষ্ণ। তিনি ভক্তভাব অঙ্গীকারকারী।প্রেমের একমাত্র বিষয় হয়েও আশ্রয়ের পরমচমৎকারিতা প্রদর্শনের জন্য,প্রেমলাভ করাবার জন্য তীব্র উৎকণ্ঠা,ব্যাকুলতা ও আর্তির আচরণকারী প্রচারক।এটি মহাভাগবতগণের আনন্দ সীমা প্লাবক (প্লাবনকারী) মহাকৃপা বিতরণ। প্রেমপ্রার্থীর বিরহপ্রেমবর্ধনকারী ও সব থাকে বেশী কৃপা বিতরণকারী। প্রেমিক ভক্তের প্রেম-বৈচিত্রীর মহা চমৎকারময়ী চিত্রাদর্শ প্রকাশক।🌹মধ্যমাধিকারীর প্রতি ঈশ্বরের প্রেম পরাকাষ্ঠা প্রাপ্তির উৎকণ্ঠাময়ী আবেগের আদর্শ প্রদর্শক, প্রেমের পরম প্রয়োজনীয়তা জ্ঞাপক, প্রেমলাভ ছাড়া জীবন ধারণের বৃথাত্ব উপদেশক।ভক্তের প্রতি পরমমৈত্রীভাব-পোষক।প্রেম-বিরোধী অপরাধ ক্ষমা ও ক্ষালনের নিরভিমান ও দৈন্যের আদর্শ শিক্ষক।চিদনুশীলন (জ্ঞান ও আনন্দময়) ও "চিদনুশীলনকারী" ভক্তের প্রতি পরস্পর মৈত্রী, ব্যবহারের শিক্ষক।কৃপাপ্রার্থীর কাছে পরমকারণ্য প্রকাশক।অপরাধের ভয়ঙ্করী মূর্তির প্রকাশক।সর্বক্ষণ অপরাধ শোধন করার জন্য সর্বতোভাবে সাবধান করা ও মর্য্যাদালঙ্ঘনের তীব্র শাসক।মুক্তগণ ও মায়াবাদাদি সমস্ত পার্থিব চেষ্টা পরিত্যাগ করে নিত্যলীলাময় ভগবানকে নিত্যকাল যে ভজন করেন, তাহা দ্বারা ভক্তির সর্বকালীক ও সর্বোৎকর্ষতা প্রতিপাদন করেছেন।*
*🌹কনিষ্ঠাধিকারীর জন্য =ভক্ত ভগবানের লীলা আধ্যাক্ষিকের কাছে প্রায় সবকিছুই অগম্য,ভক্তির অভিধেয় -শ্রেষ্ঠতমতা জ্ঞাপক।শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য অভিন্ন কৃষ্ণ ; তিনি সকলেরই শাসক ও শোধনকারী, ভগবান ও ভক্তের শাসন মঙ্গলময়ী জেনে সর্বতোভাবে সানন্দে স্বীকার শিক্ষা ও তা শোধনের জন্য অনুশোচনা ইত্যাদি নানারকম উদ্দেশ্য সাধক।এটি ভক্ত ও ভগবানের ইচ্ছা জেনে এই পর্যন্ত ব্যক্ত হল।*
*শ্রীচন্দ্রশেখর আচার্য্যের গৃহে শ্রীমন্মহাপ্রভুর গোপীকানৃত্য বর্ণনে বর্ণিত--(চৈঃ চঃ মঃ ১৮ অধ্যায়) মহাপ্রভু বললেন=*
*🌷প্রকৃতি স্বরূপা নৃত্য হইবে আমার।*
*🌷দেখিতে যে জিতেন্দ্রিয় তা'র অধিকার।।*
*🌷সেই সে যাইব আজি বাড়ীর ভিতরে।*
*🌷যেই জন ইন্দ্রিয় ধরিতে শক্তি ধরে।।*
*🌷লক্ষ্মীবেশে অঙ্ক-নৃত্য করিব ঠাকুর।*
*🌷সকল বৈষ্ণব-রঙ্গ বাড়িল প্রচুর।।*
*🌷শেষে প্রভু কথাখানি করিলেন দঢ়।*
*🌷শুনিয়া হইল সবে বিষাদিত বড়।।*
*🌷সর্বাদ্যে ভূমিতে অঙ্ক দিলেন আচার্য্য।*
*🌷আজি নৃত্য দরশনে মোর নাহি কার্য্য।।*
*🌷আমি সে অজিতেন্দ্রিয় না যাইব তথা।*
*🌷শ্রীবাস পন্ডিত কহে,মোর এই কথা।।*
*🌷শুনিয়া ঠাকুর কহে ঈষৎ হাসিয়া।*
*🌷তোমরা না গেলে নৃত্য কা'রে লইয়া।।*
*🌷সর্বরঙ্গ-চূড়ামণি চৈতন্য গোঁসাই।*
*🌷পুনঃ আজ্ঞা করিলেন,কারো চিন্তা নাই।।*
*🌷মহাযোগেশ্বর আজি তোমরা হইবা।*
*🌷দেখিয়া আমারে কেহ মোহ না পাইবা।।*
*🌷শুনিয়া প্রভুর আজ্ঞা অদ্বৈত, শ্রীবাস।*
*🌷সবার সহিত মহা পাইল উল্লাস।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷করযোড়ে অদ্বৈত বলিলা বারবার।*
*🌷মোরে আজ্ঞা প্রভু কোন্ কাচ কাচিবার?*
*🌷প্রভু বলে,যত কাচ,সকলি তোমার।*
*🌷ইচ্ছা-অনুরূপ কাচ কাচ আপনার।।*
*সম্ভবত কাচ শব্দে লীলা বুঝিয়েছে।*
*🌷বাহ্য নাহি অদ্বৈতের,কি করিব কাচ?*
*🌷ভ্রূকুটি করিয়া বুলে শান্তিপুর নাথ।।*
*🌷সর্ব-ভাবে নাচে মহা-বিদূষক-প্রায়।*
*🌷আনন্দ-সাগর-মাঝে ভাসিয়া বেড়ায়।।ইত্যাদি।।*
*🌹শ্রীমন্মহাপ্রভু ভগবৎ সেবা উন্মুখ ভক্তগণের পূর্ণ আনন্দের আকর ভূমি। জগতের তিনপ্রকার দুঃখ বদ্ধজীবের অনুভূতির বিষয়। কিন্তু মুক্ত ভাগবতগণ কৃষ্ণানন্দে পরিপূর্ণ থেকে জাগতিক কোন দুঃখ অনুভব করেন না।সর্বত্র কৃষ্ণানন্দ দর্শনেই ভাগবতগণ পূর্ণানন্দে মত্ত ছিলেন।তাঁরা কৃষ্ণ সেবোন্মুখরতায় আবিষ্ট থাকায় জড় জগতের প্রতি দৃষ্টি প্রদান করতে পারতেন না।শ্রীঅদ্বৈত আচার্য্য সবসময় সর্বাপেক্ষা বেশী কৃষ্ণানন্দ ভাবাবিষ্ট থাকতেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita4.html
*(৩৯)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*মহাপ্রভুর দন্ডপ্রসাদ*
. ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভুর সবসময়ই কৃষ্ণের প্রীতি-সম্পাদনে উন্মত্ত ভাব প্রদর্শন করতেন এবং বহির্মুখ ভোগজগতে তাঁর কোনসময়ই দৃষ্টি পড়ত না।এইরকম লীলাভিনয় করতেন।যে সময়ে তাঁর বাইরের আপেক্ষিক দৃষ্টি আকৃষ্ট হত ; তখনই তিনি সকল বিষ্ণুভক্তের সেবাকার্য্যে ব্যস্ত হতেন এবং শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যকে গৌরব-বুদ্ধিতে সেবালীলা দেখাতেন, কিন্তু তাতে অদ্বৈতাচার্য্য সন্তুষ্ট হতেন না।শ্রীচৈতন্যদাস্যই তাঁর একমাত্র ব্রত ছিল। সুতরাং মহাপ্রভুর গুরুবুদ্ধি নিজ ভাগ্যের বিড়ম্বনা জানতেন।অর্থ্যাৎ শ্রীগৌরহরি সবসময়ই অদ্বৈতকে গুরুরূপে দর্শন করতেন। কিন্তু এটির প্রতিকারের জন্য ভাবলেন অদ্বৈত, মহাপ্রভু আমাকে সবসময় বিড়ম্বনা করেন। লোকে জনশ্রুতি আছে যে,ভগবান ভৃগুকে নির্বোধ প্রতিপাদন করাবার জন্য এবং নিজ বাৎসল্য প্রদর্শন করার জন্য ভৃগু পদচিহ্ন ধারণ করেছিলেন।মূঢ় ব্যক্তিগণের প্রতারিত হবার বেশী যোগ্যতা থাকায় তারা ভগবান অপেক্ষা ভৃগুর গৌরব বেশী বুঝে থাকে। কিন্তু শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য বৈষ্ণবাচার্য্য "মহাবিষ্ণু" বলে ভৃগুর নির্বুদ্ধিতা ধরে ফেলেছিলেন।তারজন্য তিনি বাইরে দম্ভ-ক্রোধ প্রদর্শন করে ভৃগুর মত শত শত শিষ্য তাঁর আছে এটি প্রকাশ করলেন। গৌরসুন্দর আত্মগোপন করে নিজ শ্যামসুন্দর লীলার চৌর্য্যবৃত্তি অদ্বৈত প্রভুর কাছে লুকিয়ে রাখতে পারননি।শ্রীঅদ্বৈতপ্রভু বিশেষ বুদ্ধিমান সুচতুর গৌরভক্ত হওয়ায় তিনি শ্রীচৈতন্যদেবের নিকট হতে শাস্তি লাভ করবার বাসনায় নিজে পূজ্য হবার বিচার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে ভগবানের সেবক-অভিমানের লীলা খর্ব করবার জন্য গৌর-অবতারের ভক্তিপ্রচার-বিষয়ে কৃত্রিম বা নকল বাধা প্রদর্শন উদ্দেশ্যে যোগবাশিষ্ট নামক ভক্তিবিরোধী মায়াবাদীর গ্রন্থ ব্যাখ্যা করতে লাগলেন।ছল করে শান্তিপুরে হরিদাস সহ গিয়ে উক্ত ব্যাপার আরম্ভ করলেন। তিনি ব্যাখ্যা করতে লাগলেন যে,নির্ভেদ ব্রাহ্মনুসন্ধানরূপ জ্ঞান ছাড়া বিষ্ণুভক্তি কোন শক্তি ধারণ করতে পারে না।ভক্তির প্রাণ--জ্ঞান। জ্ঞানই সর্বশক্তিধর।এইরকম নির্ভেদ জ্ঞান পরিত্যাগ করে কেউ কেউ নিজ ঘরে ধন পরিত্যাগ পূর্বক বনে,যেখানে ধন নাই,সেখানে ধনের অনুসন্ধান করতে যায়। বিষ্ণুভক্ত--, দর্পণ-সমান আদর্শ মাত্র। কিন্তু সেই আদর্শে জ্ঞানরূপ চক্ষু দ্বারা দৃষ্টিসম্পন্ন না হলে সেই দর্পণের কোন ক্রিয়া নাই।যদি চোখ না থাকে, তাহলে দর্পণ থেকে কি ফল?সব শাস্ত্রের প্রথম হতে শেষ পর্যন্ত পাঠ করে আমি শাস্ত্র-তাৎপর্য্য এটিই বুঝলাম যে,জ্ঞানেরই সর্বশ্রেষ্ঠত্ব আছে।অদ্বৈত-চরিত্রজ্ঞ হরিদাস ব্যাখ্যা শুনে হাসতে লাগলেন।যাঁরা সৌভাগ্যবান,তাঁরা ভক্ত অদ্বৈতের চরিত্র বুঝে ভগবদ্ভক্তির সর্বশ্রেষ্ঠতা হৃদয়ঙ্গম করলেন।যারা ভাগ্যহীন দুষ্কর্মপরায়ণ,তারা অদ্বৈতের উদ্দেশ্য বুঝতে না পেরে পরম অমঙ্গল লাভ করল।তারা উদ্দেশ্যের প্রতিবন্ধকতা মাত্র লাভ করল।*
*☘সর্ববাঞ্জা-কল্পতরু মহাপ্রভু অদ্বৈত-সঙ্কল্প জ্ঞাত হলেন।তিনি নিত্যানন্দ প্রভুকে নিয়ে শান্তিপুর রওনা হলেন।এদিকে আচার্য্য ভক্তিযোগ-প্রভাবে বুঝলেন, "আমার সঙ্কল্প সিদ্ধি হবে "।আমার মহাপ্রভু নিত্যানন্দপ্রভু সহ আসছেন,তখন তিনি আরো বেশী মত্ত হয়ে "জ্ঞানযোগ" ব্যাখ্যা করতে লাগলেন। শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীনিতাইচাঁদ সহ এসে দেখলেন, আচার্য্য মত্ত হয়ে ভক্তবিরোধী জ্ঞানযোগ ব্যাখ্যা করছেন।ঠাকুর হরিদাস ও শ্রীঅচ্যুতানন্দ মহাপ্রভুকে প্রণাম করলেন। আচার্য্য গৃহিণী মনে মনে নমস্কার করলেন। কিন্তু মহাপ্রভুর ক্রোধময় কোটি সূর্য্যসম তেজঃময় মূর্তি দেখে সকলেই ভীত হলেন।মহাপ্রভু ক্রোধমুখে আচার্য্যকে জিজ্ঞাসা করলেন, বল দেখি জ্ঞান ও ভক্তির মধ্যে শ্রেষ্ঠ কে?তার উত্তরে আচার্য্য বললেন--,*
*🌷সর্বকাল বড় জ্ঞান।*
*🌷যার নাহি জ্ঞান, তার ভক্তিতে কি কাম?*
*🌷জ্ঞান বড়,অদ্বৈতের শুনিয়া বচন।*
*🌷ক্রোধে বাহ্য পাসরিল শচীর নন্দন।।*
*🌷পিড়া হইতে অদ্বৈতেরে ধরিয়া আনিয়া।*
*🌷স্বহস্তে কিলায় প্রভু উঠানে পাড়িয়া।।*
*🌷অদ্বৈত-গৃহিণী পতিব্রতা জগন্মাতা।*
*🌷সর্বতত্ত্ব জানিয়াও করয়ে ব্যগ্রতা।।*
*🌷বুড়া বিপ্র,বুড়া বিপ্র,রাখ রাখ প্রাণ।*
*🌷কাহার শিক্ষায় এত কর অপমান?*
*🌷এত বুড়া বামনেরে,আর কি করিবা?*
*🌷কোন কিছু হইলে এড়াইতে না পারিবা।।*
*🌷পতিব্রতা-বাক্য শুনি নিত্যানন্দ হাসে।*
*🌷ভয় "কৃষ্ণ" সঙরয়ে প্রভু হরিদাসে।।*
*🌷ক্রোধে প্রভু পতিব্রতা-বাক্য নাহি শুনে।*
*🌷তর্জ্জে গর্জ্জে অদ্বৈতেরে সদম্ভ বচনে।।*
*🌷শুতিয়া আছিলুঁ ক্ষীরসাগরের মাঝে।*
*🌷আরে নাড়া নিদ্রা-ভঙ্গ মোর তোর কাজে।।*
*🌷ভক্তি প্রকাশিলি তুই আমারে আনিয়া।*
*🌷এবে বাখানিস জ্ঞান, ভক্তি লুকাইয়া।।*
*🌷যদি লুকাইবি ভক্তি,তোর চিত্তে আছে।*
*🌷তবে মোর প্রকাশ করিলি কোন কাজে।।*
*🌷তোমার সঙ্কল্প মুঞি না করি অন্যথা।*
*🌷তুমি মোরে বিড়ম্বনা করহ সর্বথা?*
*🌷অদ্বৈত এড়িয়া প্রভু বসিলা দুয়ারে।*
*🌷প্রকাশে আপন তত্ত্ব করিয়া হুঙ্কারে।।*
*🌹আরে আরে কংস যে মারিল, সেই মুঞি।*
*🌹আরে নাড়া সকল জানিস দেখ তুই।।*
*🌹অজ,ভব,শেষ,রমা করে মোর সেবা।*
*🌹মোর চক্রে মরিল শৃগাল বাসুদেবা।।*
*🌹মোর চক্রে বারানসী দহিল সকল।*
*🌹মোর বাণে মরিল রাবণ মহাবল।।*
*🌹মোর চক্রে কাটিল বাণের বাহুগণ।*
*🌹মোর চক্রে নরকের হইল মরণ।।*
*🌹মুঞি সে ধরিলুঁ গিরি দিয়া বাম হাত।*
*🌹মুঞি সে আনিলুঁ স্বর্গ হৈতে পারিজাত।।*
*🌹মুঞি সে ছলিলুঁ বলি,করিলুঁ প্রসাদ।*
*🌹মুঞি সে হিরণ্য মারি রাখিলুঁ প্রহ্লাদ।।*
*🌹এইমত প্রভু নিজ ঐশ্বর্য্য প্রকাশে।*
*🌹শুনিয়া অদ্বৈত প্রেম-সিন্ধু-মাঝে ভাসে।।*
*🌹শাস্তি পাই, অদ্বৈত পরমানন্দময়।*
*🌹হাতে তালি দিয়া নাচে করিয়া বিনয়।।*
*🌹যেন অপরাধ কৈলুঁ,তেন শাস্তি পাইলুঁ।*
*🌹ভালই করিলা প্রভু অল্পে এড়াইলুঁ।।*
*🌹এখন সে ঠাকুরাল বুঝিলুঁ তোমার।*
*🌹দোষ অনুরূপ শাস্তি করিলা আমার।।*
*🙏ক্রমাগত🙏*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita4.html
*(৪০) শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীচৈতন্যের দন্ডপ্রসাদ*
****************************
*শ্রীমন্মহাপ্রভু অদ্বৈতাচার্য্যকে আবেশে দন্ড ও কৃপা দান করে আবেশ ভঙ্গে শ্রীনিত্যানন্দ ও অদ্বৈতকে বললেন, আমি যদি কিছু বাল্য-চাপল্য প্রকাশ করে থাকি তবে ক্ষমা করবে।তখন মহাপ্রভুর এই কথায় সকলেই হাসিলেন।তখন মহাপ্রভু মহাসতী পতিব্রতা অদ্বৈত-গৃহিণীকে বললেন,মা!তাড়াতাড়ি করে কৃষ্ণের জন্য রন্ধন করো, আমি প্রসাদ পাবো। নিত্যানন্দ হরিদাস ও অদ্বৈতাচার্য্য সহ মহাপ্রভু তখন গঙ্গাস্নানে চললেন।তাড়াতাড়ি গঙ্গাস্নান করে এসে শ্রীকৃষ্ণ-বিগ্রহকে সাষ্টাঙ্গে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।অদ্বৈতাচার্য্যও মহাপ্রভুর পদতলে পড়লেন,আবার হরিদাস ঠাকুর অদ্বৈতাচার্য্যের পদতলে পড়লেন।শ্রীনিত্যানন্দ এই অপূর্ব দৃশ্য দেখে হাসিলেন।ইঁনারা ধর্মসেতু অর্থ্যাৎ এই তিনের প্রচারিত শিক্ষা অবলজীব অনায়াসে ভবসমুদ্র পার হতে পারে।এই তিনের শিক্ষা পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত অদ্বয়-জ্ঞান-ধর্মেরই সেতু। শ্রীমন্মহাপ্রভু,শ্রীমন্নিত্যানন্দ ও শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য একত্রে ভোজন করতে বসিলেন। ঠাকুর হরিদাস দরজায় বসে ভোজন করতে লাগলেন।মহাসতী যোগেশ্বরী অদ্বৈত-ঘরণী হরি-স্মরণ করে পরিবেশন করতে লাগলেন।ভোজন প্রায় শেষ হয়েছে,অল্প কিছু অন্ন থাকতে নিত্যানন্দপ্রভু সেই মহামহাপ্রসাদ গৃহময় ছড়িয়ে দিয়ে বাল্যভাবে হাসতে লাগলেন।আচার্য্য তখন ক্রোধাবেশে ছলোক্তিতে নিত্যানন্দপ্রভুর তত্ত্ব প্রকাশ করতে লাগলেন।*
*🌷জাতিনাশ করিলেক এই নিত্যানন্দ।*
*🌷কোথা হৈতে আসি' হৈল মদ্যপ সঙ্গ।।*
*🌷গুরু নাহি,বলয়ে "সন্ন্যাসী" করি নাম।*
*🌷জন্মিলা না জানিয়ে নিশ্চয় কোন্ গ্রাম।।*
*🌷কেহ ত' না চিনে,নাহি জানি কোন জাতি।*
*🌷ঢুলিয়া ঢুলিয়া বুলে যেন মত্ত হাতী।।*
*🌷ঘরে ঘরে পশ্চিমার খাইয়াছে ভাত।*
*🌷এখানে হইল আসি' ব্রাহ্মণের সাথ।।*
*🌷নিত্যানন্দ মদ্যপে করিলা সর্বনাশ।*
*🌷সত্য সত্য সত্য এই শুন হরিদাস।।*
*🌻এর বাস্তব অর্থ= শ্রীমন্নিত্যানন্দ কৃপাকরে কৃষ্ণপ্রেমরূপ মহামহাপ্রসাদ সর্ব সাধারণকে বিতরণ করলেন।তাঁর এই মহাকৃপার বিষয় আচার্য্য অবগত হয়ে তাঁর কৃপার মাহাত্ম্য ও তত্ত্ব জ্ঞাপন করছেন।নিত্যানন্দপ্রভু সন্ধিনী-শক্তিমত্তত্ত্ব, তিনি কৃপাকরে ভক্তির বাধা আভিজাত্যের বা অভিমানের বন্ধন উঠিয়ে ছিলেন।এটিই জাতিনাশ। তিনি সর্বক্ষণ "পরিবদতু জনো যথা তথা বা ননু মুখরো ন বয়ং বিচারয়ামঃ। হরিরস- মদিরামদাতিমত্তা ভুবি বিলুঠাম নটাম নির্বিশাম।। 🌹এই শ্লোকের উক্তি সর্বদা হরিরস মদপানে মহামত্ত হাতির মতো ঢুলে ঢুলে চলেন, এবং সর্বদা কৃষ্ণপ্রেমে মত্ত।*
*🍀অতএব তিনি শ্রীকৃষ্ণপ্রেমের মদ্যপ ; তাঁতে প্রাকৃত কোন বস্তুই প্রভাব বিস্তার করতে বা বাধা দিতে পারে না। তিনি সর্ব গুরুতত্ত্বের আকর বা খনি, তাঁর আবার গুরু কে? কিন্তু দৈন্য করে বর্ণাশ্রমধর্মের মর্য্যাদা রক্ষা করতে "সন্ন্যাসী"বলিয়া পরিচয় দেন। তিনি "অজ" ভগবান্,তাঁর জন্ম, কর্ম ও স্থান দুর্জ্ঞেয়।তাঁকে কেউই চিনতে পারেন না ; তিনি কোনজাতীয় ভগবদ্বস্তু তাহাও দুর্জ্ঞেয়।তিনি শ্রীকৃষ্ণের ব্রজলীলার সঙ্গী হয়ে শুদ্ধ ব্রজবাসীগণের প্রেমে তাঁদের সেবা গ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের ঘরে ঘরে ভোজন করেছেন ; সেখানে গোপ অভিমান।আবার কলিতে শ্রীমন্মহাপ্রভুর পার্ষদ ও সঙ্গী হয়ে ব্রাহ্মণকুলে আবির্ভূত ও লীলা বিলাসাদি করছেন। অতএব তিনি প্রকৃত কোন জাতিতে আবদ্ধ হন না বা তাঁর কৃপাপ্রাপ্ত কাউকেও আবদ্ধ রাখেন না। তিনি কৃষ্ণপ্রেম প্রদান দ্বারা প্রাকৃত জন্ম,ঐশ্বর্য্য,শ্রুত,শ্রী ইত্যাদির সর্বনাশ করে অপ্রাকৃত কৃষ্ণপ্রেম মদের, মদ্যপ হয়ে সকলকেই সেই মদ্যপ করলেন।ধন্য নিত্যানন্দ,ধন্য তাঁর সেবা,ধন্য তাঁর কৃপা,ধন্য তাঁর প্রচার,ধন্য তাঁর আচার। শুন হরিদাস, আমি ত্রিসত্য করে বলছি, কখনও ইহার অন্যথা হতে পারে না। এই বলে শ্রীঅদ্বৈতপ্রভু দিগ্ বাস হলেন, অর্থ্যাৎ তিনিও উপাদান-কারণ শ্রীমন্নিত্যানন্দ প্রভুর প্রেম-বিতরণে মায়িকবস্তুর উপাদানরূপ আবরণ ইনি উন্মুক্ত করলেন।যাতে নিত্যানন্দ প্রভু অবাধে আপামরে প্রেম বিতরণ করতে পারেন।তখন প্রেমেরঠাকুর নিত্যানন্দ "দুই আঙ্গুলি দেখায়" অর্থ্যাৎ আচার্য্য! তুমিও কম না,দুই আঙ্গুল যেমন হাতের সঙ্গে সমান ভাবে একত্র অবস্থিত,তেমনি তুমি ও আমি উভয়েই শ্রীচৈতন্যদেবের সঙ্গে সংযুক্ত ও অঙ্গুলি দুটির মতো অবস্থিত।তোমারও কৃপা-প্রদান কম নয়। তুমি মহাপ্রভুকে গোলোক থেকে ভূলোকে এনে প্রসাদ (কৃপা) করে আমাকেও দিচ্ছ।আমি তোমার দেওয়া প্রসাদই বিতরণ করছি।এই প্রেম-প্রদান কাজে উভয়েরই সমান চেষ্টা বতর্মান ; বরং তোমার ভগবদ আকর্ষণ ও প্রেমবিতরণ কাজ অনেক বেশী বলেই মনে করি।আচার্য্যের ক্রোধ মায়িক কামে বাধাপ্রাপ্তির জন্য উদ্ভব না,সেটি শুদ্ধসত্ত্বময়ী কৃষ্ণসুখানুসন্ধানময়ী ভাবের আবেশে কৃষ্ণসুখ বিধানের বিভিন্ন প্রকার মাত্র।তাঁরা প্রভু-বিগ্রহের দুই বাহু।তাঁদের প্রীতি-বই অপ্রীতি কোন সময়েই থাকতে পারে না। উভয়েই প্রেমরসে মহামত্ত।উভয়ের কলহ-প্রতীম স্তুতিবাক্য কৃষ্ণের সুখ বিধানের জন্য।এইভাবে ভোজন শেষ করে আচমন করে পরস্পর আলিঙ্গন করলেন।এইভাবে মহাপ্রভু কয়েকদিন অদ্বৈত-মন্দিরে কৃষ্ণকথায় ভক্তসঙ্গে যাপন করে নিত্যানন্দ,অদ্বৈত ও ঠাকুর হরিদাসকে নিয়ে নিজ গৃহে মায়াপুরে আসিলেন।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🙏🪷🪷🪷🪷🪷🪷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
