শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 পঞ্চম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫১)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
               *👥নগর----সংকীর্তন*
             ************************
*🍀সবার গৃহস্থের বাড়ীর বাইরে বহু প্রদীপ জ্বালানো হয়েছে ; আমেরশাখা সম্বলিত জলপূর্ণ কলস,নারিকেল,পাত্রের উপরে ধান,দূর্বা,দধি,কলা প্রভৃতি হিন্দুজাতির শুভ অনুষ্ঠানের দ্রব‍্য সব সজ্জিত রয়েছে।কীর্তনকারীগণ গৃহস্থের বাড়ীর সামনে উপস্থিত হলে,নারীগণ শঙ্খধ্বনিতে তাঁদের অভ‍্যর্থনাকরতে লাগলেন।চতুর্দিক হতে পুষ্প,খই,কড়ি প্রভৃতি ছিটাতে লাগলেন।সহস্রাধিক লোকের কন্ঠ হতে সেই পাপতাপহারী হরিনামের মধুর কীর্তন ধ্বনি উত্থিত হয়ে চারিদিক বিকম্পিত করতে লাগল।নবদ্বীপ যেন টলমল করে উঠিল।যে ভাবের প্রবল বন‍্যায় উত্তরকালে বঙ্গদেশের চারিদিক প্লাবিত করবে,আজ নবদ্বীপে তারই সূচনা হল।ধর্মেতিবৃত্তে আজ এক নূতন পরিচ্ছেদ সংযোজিত হল,বঙ্গদেশে ও ভারতে এক নবযুগের সূত্রপাত হল।*
*🌻কীর্তনের দল ক্রমে কাজীর বাড়ীর দিকে এগিয়ে চলিল।কাজী দূর হতে কীর্তনের মহাশব্দ শুনে, তত্ত্ব জানবার জন্য কয়েকজন লোক পাঠিয়ে দিলেন।তারা একে একে ফিরে এসে,সব ঘটনা বিবৃত করল, এবং নগরের সাজ সজ্জা, বহুসংখ‍্যক লোকের সমাগম প্রভৃতি বর্ণনা করে বলল, কোন রাজপুত্রের বিয়েতেও এমন সমারোহ হয় না।দেখতে দেখতে কীর্তনকারীগণের দল হরিনামের ধ্বনি করতে করতে কাজীর বাড়ীর কাছে এসে উপস্থিত হল।কাজী দূর হতে অসংখ্য মানুষের মাথা দেখে, ভয়ে ভীত হয়ে লুকিয়ে পড়লেন।এদিকে হাজার হাজার লোকে তার বাড়ী ঘিরে ফেলিল, এবং "কাজী সাহেব কোথায়" বলে চিৎকার করতে লাগল।*
*☘হাজার হাজার লোক তাঁর পুষ্পোদ‍্যানে প্রবেশ করে ফুলের গাছ গুলো উপড়াতে ও বৃক্ষের শাখা সব ভেঙ্গে ফেলতে আরম্ভ করল।ফুলে সুসজ্জিত গাছগুলি নষ্ট করতে লাগল।কেউ কেউ তাঁর ভবনের অন‍্যান‍্য দ্রব‍্য ভাঙ্গতে লাগল।কেউ বা কার কথা শুনে কেও বা নিষেধ করে।শত শত মৃদঙ্গ ও করতাল বাজছে,তারসঙ্গে হাজার হাজার কন্ঠ হতে গভীর নিনাদে নামের জয়ধ্বনি উত্থিত হচ্ছে।এই মহা কোলাহলের মধ্যে মহাপ্রভু কিছুক্ষণের জন্য কীর্তন বন্ধ করতে আদেশ করলেন।*
*🍀 সকলে নিস্তব্দ হলে,শ্রীমন্মহাপ্রভু কাজীকে ডেকে পাঠালেন। কাজী উপস্থিত হলে,মহাপ্রভু জিজ্ঞাসা করলেন,আমরা আপনার বাড়ীতে এসেছি,এসময় কি আপনার দূরে থাকা উচিৎ? মহাপ্রভু তারপর কাজীকে দুইটি অনুরোধ করলেন। প্রমথটি গো বধ করতে নিষেধ। তিনি বললেন যে,গাভী মাতা আমাদের দুগ্ধ দিয়ে আমাদের জীবন রক্ষা করে,তাকে কি বধ করতে আছে? দ্বিতীয়টি, সংকীর্তনের বিরুদ্ধে তিনি যেন আর কোন উপায় অবলম্বন না করেন।কাজী মহাপ্রভুর কথা অতি বিনম্র ভাবে শুনে, প্রথম অনুরোধটি সম্বন্ধে বললেন, "আমাদের শাস্ত্রে গো বধের ব‍্যবস্থা আছে,এবং হিন্দু শাস্ত্রানুসারে বৈদিক সময়ে গোমাংস ভক্ষণের ব‍্যবস্থাও ছিল। তখন মহাপ্রভু গোমাংস সম্বন্ধে কাজীর হিন্দু শাস্ত্রের দ্বারাই খন্ডন করে দেন।এবিষয়ে কাজী মহাপ্রভুর কথার কোন উত্তর দিতে পারলেন না।দ্বিতীয় অনুরোধটি সম্বন্ধে কাজী বললেন, তোমার দেশের হিন্দুরাই এসে তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উপস্থিত করত।( কিছু শয়তান কুলীন ব্রাহ্মণ) তারা বলত,নিমাই পন্ডিত এক নূতন ধর্মের সৃষ্টি করছে, আর এই কীর্তনের জন্য অনেক সময় লোকের ঘুমের ব‍্যাঘাত হয়ে থাকে ইত্যাদি।আমি সেইজন‍্যই কীর্তন বন্ধ করবার চেষ্টা করেছিলাম।এখন দিব‍্য বা শপথ করে বলছি, নবদ্বীপে সংকীর্তনের বিরুদ্ধে আমি কখনও হাত দেব না, আমার তরফ হতে কোন বারণ থাকবে না। এবং আমার পরিবারের কেউ এর প্রতিকূলাচরণ করবে না। উভয়ের মধ্যে প্রীতি সঞ্চার হল।হরিনামের স্রোত অবাধে চলবার পথ পরিস্কার হয়ে গেল।এখন কাজীর ভবনে লক্ষ কন্ঠ হতে জয় জয় ধ্বনি উঠিল।শত শত মৃদঙ্গ ও করতাল বাজতে লাগল। শিঙ্গার ভোঁ ভোঁ শব্দে যেন সকলের কর্ণকুহর বধির হয়ে যেতে লাগল।দেশবিজয়ী কীর্তনকারীদের দল পরিশেষে আবার মধুর স্বরে কীর্তন করতে করতে,সারি বদ্ধ হয়ে, শ্রীমন্মহাপ্রভুর ভবনে উপস্থিত হল।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫২)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*শ্রীবাসের পুত্রশোক ও অদ্বৈতের দন্ড*
**************************************
*🙏ভক্তগণের চরিত্র সাধারণ লোক অপেক্ষা বহুগুণে আলাদা।সংসারের কোন দুর্ঘটনায় যেখানে সাধারণ লোকের চিত্ত বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ে,সেখানে তাঁরা অবিকৃত চিত্তে নিজেদের জীবনের উদ্দেশ্য সাধনে তৎপর থাকেন।একদিন শ্রীবাসের ঘরে শ্রীগৌরসুন্দর নিজ ভক্তগণসহ সংকীর্তন নৃত‍্যাদিতে রত আছেন, এমন সময়, অন্তঃপুর হতে ক্রন্দনের ধ্বনি শ্রীবাসের কর্ণগোচর হ'ল।ইতঃপূর্বে শ্রীবাসের একটি পুত্র কঠিন পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে শয‍্যাশায়ী ছিল। ক্রন্দনের শব্দ শ্রীবাসের কর্ণগোচর হলে, তিনি ধীরে ধীরে গৃহদ্বার উন্মোচন করে,বাড়ীর মধ্যে প্রবেশ করলেন ; গিয়ে দেখলেন, সন্তান গতাসু হয়েছে।তিনি নানাপ্রকারে নিজের পত্নী ও অন‍্যান‍্য যাঁরা ছিলেন সংসারের অনিত‍্যতা বিষয়ে উপদেশ দিয়ে বললেন,এখন আর কাঁদিও না, এখন শোকের আবেগ মনের মধ্যে চেপে রাখ, কারণ মহাপ্রভু এখন গৃহের মধ্যে ভাবে বিভোর হয়ে নৃত্য করছেন। তোমাদের কান্নার শব্দে যদি তাঁর ভাবের ব‍্যাঘাত উপস্থিত হয়ে তাঁর নৃত্য ভঙ্গ হয়, তাহলে আমি গঙ্গার জলে ডুবে মরিব।*
*🌷কলরব শুনি যদি প্রভু বাহ‍্য পায়।*
*🌷তবে আজি গঙ্গা প্রবেশিনু সর্বথায়।।চৈঃভাঃ।।*
*🍀শ্রীবাস পন্ডিতের এইকথা শুনে তাঁর পত্নী মালিনী দেবী ও অন‍্যান‍্য নারীগণও শোকাবেগ সম্বরণ করলেন।তাঁদের দ্বারা মহাপ্রভুর নৃত্যের কোন ব‍্যাঘাত হবার সম্ভাবনা নাই, দেখে,তিনি ভক্তদের সঙ্গে যোগদান করে,আগের মত প্রেমানন্দে কীর্তনাদি করতে লাগলেন। নিশাবসানে শ্রীগৌরসুন্দরের বাহ‍্যজ্ঞান হল।তিনি তারপর শ্রীবাসের পুত্র বিয়োগের কথা শুনে,জিজ্ঞাসা করলেন, কতক্ষণ?ভক্তগণ বললেন, "রাত্রি চারদন্ডের সময় "। কিন্তু পাছে আপনার ভাবের কোন ব‍্যাঘাত উপস্থিত হয়,সেজন‍্য পন্ডিত নীরবে থেকে, কীর্তনাদি করছিলেন ও পরিবারের নারীগণের কান্না বন্ধ করে রেখেছিলেন।মহাপ্রভু ভক্তবৃন্দের মুখ হতে এইসব কথা শুনে, ল্রীবাসের অপূর্ব ধৈর্য‍্য,তাঁর অসাধারণ ভগবদ্ভক্তিও তাঁর প্রতি অসাধারণ ভক্তি ও প্রীতির নিদর্শন স্মরণ করে, "গোবিন্দ গোবিন্দ "বলে উঠিলেন। আরও বললেন,এত করে আমায় যে ভালবাসে,তাকে কিভাবে পরিত‍্যাগ করে যাব!মহাপ্রভু শ্রীবাস পন্ডিতকে কিভাবে ত‍্যাগ করে যাবেন, কেন বললেন, তা তাঁরা বুঝতে না পেরে চিন্তা করতে লাগলেন।তারপর গৌরহরি ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে, শ্রীবাস পত্নী মালিনী দেবীকে বললেন, "মা পুত্রশোক নিবারণ কর, তোমার এক পুত্র পরলোক গমন করিল, কিন্তু আমি ও নিতাই তোমার দুই পুত্র, তুমি আমাদেরকে ভালবাসবে "।গৌরহরির শ্রীমুখের মধুর বাণীতে শোকদগ্ধ জননীর প্রাণ শীতল হয়ে গেল।শোকাভিভূত শ্রীবাস পরিবারের সকলেই তাঁর শ্রীচরণে প্রণিপাত করল। গৌরহরি বালকের ঔর্দ্ধদেহিক (অন্ত‍্যোষ্টি সম্বন্ধীয় বা মৃত‍্যুর পরে করণীয় অগ্নিসংস্কার কর্ম),কার্য‍্য সমাধা করবার জন্য ভক্তগণ কীর্তন করতে করতে শ্মশানে গমন করলেন।*
*🌻যখন গৌরহরি নবদ্বীপে হরিরস মদিরা বিতরণে সবাইকে মত্ত বা পাগল করছেন,সেই সময়ে, কেন ঠিক বলা যায় না--, অদ্বৈতাচার্য‍্য মহাপ্রভু-সঙ্গ পরিত‍্যাগ করে পত্নীসহ শান্তিপুরে গমন করে বাস করতে থাকেন।ভক্ত নামাচার্য‍্য হরিদাসও তখন আচার্য‍্য ভবনেই ছিলেন।একদিন গৌর-নিতাইয়ের সঙ্গে বেড়াতে বেড়াতে নিতাইকে বললেন, আচার্য‍্য শান্তিপুরে বাস করছেন, চল আমরা তাঁর বাড়ীতে যাই।নিত‍্যানন্দ তাঁর কথায় সম্মত হলে,উভয়ে শান্তিপুরে যাত্রা করলেন। শান্তিপুর যাবার পথে ললিতপুর নামক একখানি ছোট গ্রাম আছে।সেখানে গঙ্গাতীরে এক গৃহস্থ সন্ন‍্যাসীর আশ্রম।তাঁরা ললিতপুরে উপস্থিত হলেন।সন্ন‍্যাসীর আশ্রমে উভয়ে উপস্থিত হয়ে দেখলেন,গৈরিকবসন পরিধেয়,জটাজূটধারী এক সন্ন‍্যাসী সেখানে বসে আছেন।গৌর-নিতাই তাঁকে প্রণাম করলে,সন্ন‍্যাসী বললেন, "তোমরা সুন্দরী পত্নী ও ধনলাভ করে সংসারে সুখে বাস কর"।এই তোমাদের আশীর্বাদ করি। শ্রীকৃষ্ণানুগতপ্রাণ গৌরসুন্দর সন্ন‍্যাসীর আশীর্বাদে প্রীত না হয়ে বললেন, "আপনার কাছে এরকম অকিঞ্চিকর (যৎসামান‍্য,তুচ্ছ) আশীর্বাদের প্রত‍্যাশা করি না।যাতে জীবনে বিষ্ণুভক্তির সঞ্চার হয়, এইরকম আশীর্বাদ করাই আপনার মত সন্ন‍্যাসীর শোভা পায়।সন্ন‍্যাসী গৌরহরিকে অর্বাচীন মনে করে, কামিনী ও কাঞ্চন যে মানবজীবনের সুখকর বস্তু তাইই তাঁকে বুঝাতে চেষ্টা করলেন।গৌরসুন্দর তাঁর কথায় সন্তুষ্ট হলেন না।তিনি বুঝলেন,সন্ন‍্যাসী ভগবদ্ভির মধুর আস্বাদন এখনও লাভ করতে পারেননি।*
*☘কিছুক্ষণ পরে সন্ন‍্যাসীর অনুরোধে তাঁরা জলযোগ করতে বসিলে,সন্ন‍্যাসী নিত‍্যানন্দকে ইঙ্গিতে জানালেন যে,তিনি আনন্দ নিয়ে আসিলে,তাঁরা সেটি পান করবেন কি না? গোরহরি যখন শুনলেন, আনন্দ অর্থ সুরা, তখন তিনি কিছু না বলে,ভোজন দ্রব‍্য ফেলে গৃহের বাইরে হলেন,নিতাইচাঁদও তাঁর সঙ্গে বাহির হয়ে পড়লেন।এইরকম নৈতিক বল না থাকলে কি গৌরহরি ও নিতাইচাঁদ বঙ্গভূমিতে যুগান্তর আনয়ন করতে পারতেন?*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌸🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৩)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
                *অদ্বৈতাচার্য‍্যের দন্ড*
              •••••••••••••••••••••••••••••
*🍀ললিলপুরের আশ্রম পরিত‍্যাগ করে গৌর-নিতাই গন্তব‍্য স্থাধের দিকে যাত্রা করে শান্তিপুরে আচার্য‍্য-ভবনে উপনীত হলেন।গিয়ে দেখলেন, অদ্বৈতাচার্য‍্য শিষ‍্যবৃন্দ পরিবৃত হয়ে যোগবাশিষ্ঠ ব‍্যাখ‍্যা করছেন। আমার গৌরসুন্দর সেখানে গিয়েই তাঁকে প্রশ্ন করলেন, "নাড়া!জ্ঞান বড় কি ভক্তি বড়"? আচার্য‍্য বললেন, আমার মনে হয় জ্ঞানই বড়, এটিই তো চিরদিন সকলে বলে আসছে। গৌরহরি একথায় বড় ক্রদ্ধ হয়ে পড়লেন, আর ধৈর্য‍্য ধরতে না পেরে,বৃদ্ধ অদ্বৈতের পিঠে মুষ্ট‍্যাঘাত করতে লাগলেন।অদ্বৈত পত্নী সীতাদেবী ঘরের ভিতর হতে দৌড়ে এসে বললেন, কি কর বুড়ো যে মরে যাবে?আচার্য‍্য প্রহার খেয়ে আনন্দে নৃত্য করতে লাগলেন, এবং তারপরে তাঁর স্নেহের নিমাইকে কোলে কোরে বসিলেন। এই অভিনব দৃশ্য দেখে,নিতাইচাঁদ মৃদু মৃদু হাসতে লাগলেন। আচার্য‍্যের শিষ্যগণ অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছে।সীতাদেবীর নয়ন হতে প্রেমাশ্রু বহিতে লাগিল। তারপর গৌরহরি নিত‍্যানন্দসহ আচার্য‍্য ভবনে তিনদিন ছিলেন।এই তিনদিন যেন অদ্বৈতাচার্য‍্যের ভবনে মহোৎসব হয়েছিল।সকল ভক্তগণ গৌরহরিসহ যেমন সংকীর্তনে সময় অতিবাহিত করতে লাগলেন। তেমনি প্রীতি ভোজনেও সকলে তৃপ্তিলাভ করতে লাগলেন।*
*🌻🌻সন্ন‍্যাসের পূর্বাবস্থা🌻🌻*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*🍀শ্রীগৌরসুন্দর নবদ্বীপে নগর-সংকীর্তন প্রবর্তিত করলেন। কারণ নবদ্বীপে যেমন মানুষের কামনা বাসনা নিয়ে সংসার যাপন করছিলেন, ভক্তি ও প্রেম বলে প্রায় ছিল না বললেই চলে।তিনি দেখলেন,নরনারীর হৃদয়ের কলুষভাব দূর করতে,তৃষিত ও তাপিত হৃদয় শীতল করতে,শুষ্ক ও ধর্মহীন হৃদয়ের অভ‍্যন্তর হতে ভগবৎ-প্রেমের উৎস উৎসারিত করতে,দাম্ভিক হৃদয়ের অহঙ্কার চূর্ণ করে,তাদের তৃণাপেক্ষা দীন করতে ও ভক্ত-হৃদয়ের প্রেমপ্রবণতা বৃদ্ধি করতে, একমাত্র হরিনাম সংকীর্তন ছাড়া আর উচ্চতর উপায় নাই। তিনি নিজে যে নাম কীর্তনে ও ধ‍্যানে অপার ও অপার্থিব আনন্দ সম্ভোগ করতেন, সে সুধামাখা মধুর নাম কেবল,নবদ্বীপবাসীর কাছে প্রচার করে,তাঁর হৃদয় তৃপ্তি হল না, সে প্রাণপ্রদ রসস্বরূপ ভগবানের নাম,বঙ্গদেশের নরনারীর মধ্যে কীর্তন, ও দ্বারে দ্বারে বিতরণের জন্য তিনি ব‍্যাকুল হয়ে উঠলেন।*
*🌲নরনারীকে ভক্তির পথে পরিচালিত করবার জন্য তাঁর বাসনা দিন দিন প্রবল হতে লাগিল। কিন্তু সন্ন‍্যাসাশ্রম গ্রহণ না করলে,তাঁর সে বাসনা কিছুতেই পূরণ হবে না।এই ভাবই ক্রমে তাঁর মনে উদিত হতে লাগিল।কথিত আছ,একদিন এমন সময়ে তিনি একটি স্বপ্ন দর্শন করেন যে,কোন সদানন্দ পুরুষ তাঁর সম্মুখীন হয়ে তাঁকে বলছেন যে,তুমি জননী ও পত্নী পরিত‍্যাগ করে সন্ন‍্যাসব্রত অবলম্বন কর।এসব মায়ার বন্ধন ছিন্ন করা যুক্তিযুক্ত কি না, গৌরহরি তাঁকে এই প্রশ্ন করিতে, স্বপ্নদ্রষ্ট সন্ন‍্যাসী গম্ভীরভাবে তাঁর জীবনের মহাব্রতের কথা তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিলেন, এবং সংসারের বন্ধন ছিন্ন করে ত্বরায় সন্ন‍্যাসধর্ম গ্রহণ করে,নরনারীর উদ্ধারের জন্য হরিগুণ-কীর্তনে রত হতে বললেন।স্বপ্ন দেখার পর মহাপ্রভুর নিদ্রা ভেঙ্গে গেল।তারপর হতে তাঁর হৃদয়ের মধ্যে যে ভাব প্রধূমিত (বিশেষভাবে জেগে ওঠা বা জ্বলে ওঠা)হচ্ছিল,তদ্ভাবাপন্ন স্বপ্ন দর্শনে সে স্পৃহা (বাসনা) তাঁর যেন অগ্নিশিখার মত প্রজ্বলিত হয়ে উঠিল।শিখাসূত্র পরিত‍্যাগ করে দন্ডধারী হয়ে নরনারীকে পরিত্রাণের পথ প্রদর্শন করবার জন্য তিনি কৃতসঙ্কল্প হলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৪) 🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
                 *সন্ন‍্যাসের পূর্বাভাস*
             *************************
*🍀এ-সময়ে আর একটি ঘটনা ঘটিল।কেশব ভারতী নামক একজন পরিব্রাজক দন্ডী,নবদ্বীপে আগমন করেন,তাঁকে দেখামাত্র গৌরহরির স্বপ্নবৃত্তান্ত স্মৃতিপথে উদিত হল ; তিনি দেখলেন, যিনি স্বপ্নযোগে তাঁর সম্মুখে প্রকাশিত হয়ে,তাঁকে সন্ন‍্যাসব্রত গ্রহণ করতে উপদেশ দিয়েছিলেন,নবাগত দন্ডী, কেশব ভারতীর অবয়বের সঙ্গে সেই স্বপ্নদ্রষ্ট ব‍্যক্তির অঙ্গের সমস্ত সাদৃশ‍্যই পরিলক্ষিত হচ্ছে।তাঁরও হাতে কমন্ডলু ছিল, কেশবভারতীর হাতেও সেই একই কমন্ডলু শোভা পাচ্ছে।স্বপ্ন সত্র হল দেখে তিনি বিস্ময়াপন্ন হয়ে পড়লেন, এবং দন্ডী কেশবভারতীকে নিজ ভবনে আতিথ‍্য গ্রহণের জন্য অনুরোধ করলেন।নবাগত সন্ন‍্যাসীও শ্রীগৌরসুন্দরের গৃহে আতিথ‍্য গ্রহণ করলেন।গৌরহরি কেশবভারতীর আগমনে, নিজের সঙ্কল্প সিদ্ধ হবার পক্ষে বিশেষ সহায়তা হল মনে করতে লাগলেন।তিনি রাত্রিতে সন্ন‍্যাসীর নিভৃত শয়নকক্ষে গমন করে,সন্ন‍্যাসব্রত গ্রহণ ও তাঁর কাছে দীক্ষিত হবার মনের বাসনা জানালেন। শ্রীগৌরাঙ্গের পান্ডিত‍্য ও তাঁর অদ্ভুত ধর্মানুরাগের কথা,দেশ দেশান্তরে প্রচারিত হয়ে পড়েছিল।কেশবভারতীও তাঁর গুণগৌরবের কথা শুনেছিলেন।তিনি এখন সেই গৌরহরির ভবনে অতিথি হয়ে এবং তাঁকে স্বচক্ষে দর্শন করে পরম আনন্দ উপভোগ করতে লাগলেন।সেই সুবিখ‍্যাত সুপন্ডিত ও ভক্তিপথাবলম্বী গৌরসুন্দর যখন তাঁর কাছে দীক্ষা গ্রহণের অভিপ্রায় জ্ঞাপন করলেন, তখন ভারতী মহাশয়, আনন্দে ও বিস্ময়ে যেন অভিভূত হয়ে পড়লেন। তিনি বললেন,"তুমি তো মনুষ‍্য নহে, সাক্ষাৎ গোলোকপতি "।পরে জিজ্ঞাসা করলেন,কবে দীক্ষার দিন স্থির করেছ? গৌরহরি বললেন,আগামী উত্তরায়ণ-সংক্রান্তির পর দিন।কেশবভারতী তাঁকে দীক্ষাদানে স্বীকৃত হয়ে আশীর্বাদ করলেন।পরদিন প্রভাতে ভারতীগোঁসাই কাটোয়ায় তাঁর আশ্রম অভিমুখে গমন করলেন।*
*🌹এই সন্ন‍্যাস গ্রহণের সংবাদ সর্বপ্রথম কিন্তু নিত‍্যানন্দকে প্রকাশ করেছিলেন।কারণ নিত‍্যানন্দ শ্রীগৌরহরির প্রধান সহচর।প্রতি যুগে যুগে তিনি ভগবানের সহায়তা করে এসেছেন।গৌরহরি নিত‍্যানন্দকে নিভৃতে সর্বাগ্রে তাঁর কাছে নিজের মনের কপাট খুলে দিলেন। অর্থ‍্যাৎ মনের কথাগুলি নিতাইচাঁদকে বললেন।তিনি বললেন, "দেখ, আমি নিজের উদ্ধারের জন্য যজ্ঞসূত্র পরিত‍্যাগ ও মস্তক মুন্ডন করে সন্ন‍্যাসী হব।ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করব। আর সকলের দ্বারে দ্বারে মধুর শ্রীহরিনাম বিতরণ করব।আমি সঙ্কল্প করেছি, গৃহ পরিত‍্যাগ করে সন্ন‍্যাসাশ্রম গ্রহণ করব।তুমি এজন‍্য দুঃখিত হইও না ; আর তুমি আমার এই বাসনার বিরুদ্ধে কোন কথা বলিও না,ধর্মপ্রবর্তকদের এই প্রধান পথ,তা তো তুমি সবই জান। নিতাইচাঁদ গৌরহরির শিখাসূত্র বর্জনের কথা শুনে প্রাণে বড় কষ্ট পেলেন। কিন্তু নিত‍্যানন্দ স্বয়ং অবধূত, তিনি জানতেন, ভগবান একবার যা সিদ্ধান্ত নিবেন,তা কারও খন্ডন করবার ক্ষমতা নাই। এবং ধর্মপ্রচারের এই প্রকৃষ্ট(উত্তম) উপায়। যাইহোক,নিত‍্যানন্দ বললেন,তুমি জগৎ উদ্ধারের জন‍্যই যদি বাহির হবে, তবে তোমার সঙ্গীদের তোমার এ সঙ্কল্পের কথা অবশ্যই বলা উচিত।তাঁরা যা বলবেন, তা শুনে তোমার যা করা উচিত তাইই করবে।গৌরহরি নিত‍্যানন্দের নিকট হতে নিজের অভিপ্রায়ানুরূপ কথা শুনে পরম আনন্দিত হয়ে তাঁকে আলিঙ্গন করলেন।নিত‍্যানন্দ কর্তব‍্যবোধে তাঁর মন্তব‍্য প্রকাশ করলেন বটে, কিন্তু গৌরহরি গৃহস্থাশ্রম পরিত‍্যাগ করলে, বৃদ্ধা শচীমায়ের কিভাবে তাঁর প্রাণসম পুত্রের মুখ দর্শন না করে জীবনধারণ করবেন, বালিকা বিষ্ণুপ্রিয়া কিভাবে স্বামীবিরহ যাতনা হৃদয়ে ভোগ করবে, এবং তাঁরাই বা কিভাবে তাঁদের হৃদয়ের পুত্তলি ও নয়নের তারাসম গৌরহরিকে না দেখে নবদ্বীপে বাস করবেন, এইসব চিন্তা তাঁর মনের মধ্যে উত্থিত হয়ে তাঁর হৃদয়কে যেন বিদীর্ণ করতে লাগল।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৫)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
                *সন্ন‍্যাসের পূর্বাবস্থা*
              ***********************
*🌻এবারে গৌরহরি তাঁর প্রাণসম ভক্তবৃন্দের কাছে নিজের মনের কথা জ্ঞাপন করতে লাগলেন, এবং তিনি মুকুন্দ দত্তের গৃহে গমন করে, তাঁকে কীর্তন গাইতে বললেন।গৌরহরি তাঁর মধুর কন্ঠে শ্রীকৃষ্ণের গুণানুকীর্তন করতে লাগলেন, মহাপ্রভু তাঁর কীর্তন শুনে পরম আনন্দ লাভ করে বললেন, মুকুন্দ! আমি শিখাসূত্র পরিত‍্যাগ করে সন্ন‍্যাসব্রত গ্রহণ করব, সঙ্কল্প করেছি।মুকুন্দ এই হৃদয় বিদারক কথা শুনে দুঃখে অভিভূত হয়ে পড়লেন।মুকুন্দ জানেন,গৌরহরি একবার যা সঙ্কল্প করবেন, তা কোনমতেই নড়চড় হবার নহে।তিনি সেজন্য অতি ব‍্যাকুল হয়ে বললেন, প্রভো!যদি একান্তই আমাদের ছেড়ে যাবে,তাহলে আর কিছুদিন আমাদের সঙ্গে থেকে কীর্তনাদি কর।গৌরসুন্দর মুকুন্দের এই মিনতি শুনে বললেন, তাইই হবে।তারপর তিনি গদাধরের কাছে গিয়ে নিজের মনের কথাগুলি প্রকাশ করলেন।গদাধর মহাপ্রভুর সন্ন‍্যাসের কথা শুনে ভীষণ ব‍্যথিত হলেন। তিনি বললেন,সংসারে থেকে কি বৈষ্ণবধর্ম সাধন করা যায় না, তুমি সংসার ত‍্যাগ করে গেলে শচীমা কিভাবে বাঁচবেন? কি আর বলব, যদি সন্ন‍্যাস ধর্মই ঠিক মনে করে থাক, তবে তুমি স্বতন্ত্র, তাইই কর। বিদ‍্যুৎবেগে গৌরহরির সন্ন‍্যাস গ্রহণের কথা তাঁর সকল ভক্তগণের মধ্যে প্রচারিত হয়ে গেল।যাঁকে একদিন না দেখলে তাঁদের চিত্ত অস্থির হয়ে উঠিত,যাঁকে মধ‍্যস্থলে রেখে, তাঁরা কীর্তনানন্দে উন্মত্ত হয়ে উঠতেন, সুখে দুঃখে বিপদে যাঁর জীবনের মধুময় আদর্শ তাঁদেরকে শান্তির পথে, ভক্তির পথে ও অটল ধর্মবিশ্বাসের পথে পরিচালিত করত, জীবনের এমন সহায় ও বন্ধুকে হারিয়ে তাঁরা কিভাবে জীবন ধারণ করবেন, এই চিন্তা করে সকলেরই হৃদয় ভারাক্রান্ত ও বিষাদে পূর্ণ হল।দিবাবসানে শ্রীবাসভবনে যখন সকল ভক্তবৃন্দ মিলিত হলেন, তখন গৌরহরির সন্ন‍্যাস যাত্রার কথা উত্থিত হল।সকলেই কেঁদে আকুল হয়ে পড়লেন।তখন গৌরহরি বললেন,সকল নরনারীর কল‍্যাণের জন্য আমি সংসার পরিত‍্যাগ করছি,এজন‍্য তোমরা দুঃখ করিও না।তোমরা সদাসর্বদাই আমার হৃদয়মাঝে থাকবে। এই বলে তিনি দুইবাহু তুলে একে একে সকলকেই আলিঙ্গন করলেন।এই বিদায়ের দিনে সকল বিষ্ণুভক্তের নয়ন হতে বারিধারা বহিতে লাগল, সকলের কন্ঠ হতে মধুর হরিধ্বনি উত্থিত হতে লাগিল।*
*গৌরহরি সন্ন‍্যাসব্রত অবলম্বন করবেন,এ বার্তা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।এ সংবাদ শচীমা যখন শুনলেনতাঁর হৃদয়ের রতন নিমাই তাঁদেরকে পরিত‍্যাগ করে চলে যাবেন, তখন তিনি ছিন্নমূল তরুর মত ভূতলে পড়ে গিয়ে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলেন।সরলা বিষ্ণুপ্রিয়ার হৃদয় এ সংবাদে যেন বিদীর্ণ হতে লাগল,তিনি অশ্রুজলে নিজের বক্ষঃস্থল সিক্ত করতে লাগলেন।শচীমা কাতর হৃদয়ে নিমাইকে জিজ্ঞাসা করলেন, "তুই নাকি সন্ন‍্যাসী হয়ে চলে যাবি?এই কথা বলতে বলতে,তাঁর কন্ঠরোধ হয়ে আসিল।নিমাই বললেন, মা!সন্ন‍্যাসব্রত গ্রহণ করে দ্বারে দ্বারে হরিনাম প্রচার করব স্থির করেছি,সেজন‍্য তুমি দুঃখিত হইও না।শচীমা কাঁদতে কাঁদতে বললেন,বাপ নিমাই!বিশ্বরূপ ছেড়ে চলে গেছে,কেবর তোর মুখ চেয়ে এখন সংসারে বাস করছি,বাপ!তুই চলে গেলে, আমি গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে ডুবে মরিব।তুই যদি সন্ন‍্যাসী হয়ে বাহির হয়ে যাস,তবে বিষ্ণুপ্রিয়াকে সঙ্গে নিয়ে যা বাপ।তাকে কে দেখবে নিমাই?এইকথা বলতে বলতে তাঁর হৃদয় যেন ছিন্নভিন্ন হতে লাগল।তিনি শোকে ও দুঃখে অভিভূত হয়ে পড়লেন, তাঁর আর মুখে বাক‍্য স্ফুরে না।নিমাই জননীর বক্ষে হাত রেখে শোআভিভূত জননীকে সান্ত্বনা প্রদান করতে লাগলেন।তিনি বললেন,মা!এ সংসারে কেউ কারও নয়,লোকে সর্বদা মায়াতে আচ্ছন্ন হয়ে বাস করছে, এই মোহ-মায়া পরিত‍্যাগ করাই কর্তব‍্য, মা!তুমি শ্রীকৃষ্ণে মন প্রাণ অর্পণকরে বাস কর,মা! মায়া পরিত‍্যাগ কর।তৎপর শচীকুমার জননীকে নিজের অবতারত্ব বিষয়ে কয়েকটি কথা বলতে লাগলেন।সন্তানের কথাতে যখন তাঁর এই বিশ্বাস হল যে,তাঁর গৌরসুন্দর মনুষ‍্য নহেন,স্বয়ং ভগবান মানবাকারে তাঁর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছে।তখন তাঁর তাপিত ও দুঃখিত জর্জরিত হৃদয়ে শান্তির শিশিরবিন্দু কিছু পরিমাণে নিপতিত হল।যেন আনন্দের রশ্মি ক্রীড়া করতে লাগিল। শ্রীগৌরহরি শ্রীকৃষ্ণের অবতার হলেও শচীদেবীর পুত্রবাৎসল‍্য চলে যেতে পারে না, নিমাই তাঁর সন্তান।নিমাইয়ের প্রবোধ বাক‍্যে ক্ষণকাল তাঁর হৃদয় সুস্থ হল বটে, কিন্তু পরক্ষণেই সন্তানের বিচ্ছেদকথা স্মরণ করে দ্বিগুণতররূপে তাঁর দুঃখানল প্রজ্বলিত হয়ে উঠিল। গৌরহরি পুনরায় নানাপ্রকারে সেই আগুনে শান্তির বারি সিঞ্চন করবার জন্য বললেন মা! তুমি যখনই আমাকে স্মরণ করবে,আমি তখনই তোমার কাছে প্রকাশিত হব।আমি যেখানে বসৃ আহার করি,তুমি সেখানে আমার জন্য অন্ন ব‍্যঞ্জন রেখে,আমাকে স্মরণ করবে। সন্তান নানান প্রকারে তাঁর দুঃখানল নিবৃত্তি করতে প্রয়াস পেলেন বটে, কিন্তু মাতৃস্নেহ কি সামান্য বস্তু? গৌরহরির প্রবোধ বাক‍্যে কি তাঁর জননীর হৃদয়ের জ্বালা নিবারিত হতে পারে?প্রতি মুহূর্তে নিমাইয়ের সন্ন‍্যাসের কথা,তাঁর স্মরণে উদিত হয়ে,ঘৃতাহুতির ন‍্যায় শোকের অনল শিখাকে অধিকতর প্রজ্বলিত করে তুলতে লাগিল।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৬)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
                *সন্ন‍্যাসের পূর্বাবস্থা*
             💧💧💧💧💧💧💧💧
*🌹পতিপরায়ণা,লক্ষ্মীস্বরূপা, বিষ্ণুপ্রিয়া প্রাণবল্লভের সন্ন‍্যাসের কথা স্মরণ করে,যেন মৃতের ন‍্যায় গৃহের মধ্যে অবস্থিতি করছেন।নয়নের জল মুছতে মুছতে তাঁর বসনাঞ্চল সিক্ত হচ্ছে।এদিকে বৃদ্ধা শচীমা শোকাভিভূতা হয়ে মাটিতে শয়ন করে আছেন, দেহে কেবল প্রাণটুকু আছে মাত্র।পুন্দর মিশ্রের গৃহে সূর্য‍্যের জ‍্যোতিঃ ও চন্দ্রের বিমল স্নিগ্ধ কিরণ যেন ফিবাদের ঘন মেঘে আবৃত হয়ে পড়েছে।তাঁর গৃহ নিরানন্দের অন্ধকারে সমাচ্ছন্ন।বিশ্বম্ভর জননীকে সান্ত্বনা দিয়ে মনে বুঝলেন, আবার প্রবোধ বাক‍্যে পত্নীর শোক দূর করবার চেষ্টা করতে হবে।*
*🍀রজনী সমাগত হল।নবদ্বীপচন্দ্র ভক্তদের সঙ্গে কীর্তনাদি করে,গৃহে ফিরে এলেন, এবং আহারাদি করে শয‍্যায় শয়ন করলেন।বিষ্ণুপ্রিয়া শয়নগৃহে প্রবেশ করে দেখলেন,প্রাণবল্লভ নিদ্রিত। তিনি সজল নয়নেতাঁর চরণসেবা করতে লাগলেন।বিষ্ণুপ্রিয়ার হস্তস্পর্শে মহাপ্রভুর নিদ্রা ভঙ্গ হল।তিনি উঠে দেখলেন,সুন্দরী সরলা বিষ্ণুপ্রিয়া তাঁর পদযুগলে নিজের সুকোমলহস্ত স্থাপন করে রয়েছেন,তাঁর মুখকমল মলিন, আর দুই নয়ন হতে অবিরল ধারে বারি নির্গত হচ্ছে।তিনি ভাবলেন, বিষ্ণুপ্রিয়ার হৃদয়ে সান্ত্বনা প্রদান করা বড় কঠিন সমস‍্যা, আর তরুণবয়স্কা যুবতী বিষ্ণুপ্রিয়াকে সংসারের অনিত‍্যতার কথা বুঝিয়ে তাঁর চিত্তকে বৈরাগ‍্য প্রণোদিত করে,স্বামীবিচ্ছেদে সুস্থির রাখতে প্রয়াস পাওয়া বৃথা চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি পত্নীকে ক্রন্দন করতে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, বিষ্ণুপ্রিয়া!তুমি কাঁদছ কেন? বিষ্ণুপ্রিয়া বললেন, তুমি না সন্ন‍্যাসী হবে?গৌরহরি বললেন, কে বলল? বিষ্ণুপ্রিয়া বললেন,লোকের মুখে শুনছি,তুমি সন্ন‍্যাসী হবে।তুমি নবদ্বীপের গৌরব,তোমার জন্য আমি ভাগ‍্যবতী, তোমার গৌরবে আমি গৌরবান্বিতা। আমার জীবনে কত আশা ছিল ; সে সকলই কি ভেঙ্গে দিবে?একটি কথা চিন্তা করে আমার মনে মনে বড়ই ব‍্যথা অনুভব হচ্ছে,তুমি সন্ন‍্যাসী হলে দ্বারে দ্বারে শ্রীনাম বিতরণ করে বেড়াবে,তোমার ঐ রাঙ্গাচরণে কত কষ্ট হবে! এইসব কথা বলতে বলতে তিনি স্বামীর কোলের উপর মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।গৌরহরি তাঁর চৈতন‍্য ফিরাবার তাঁকে কোলে নিয়ে নানারকম মিষ্ট আলাপে তাঁর প্রাণে আনন্দের সঞ্চার করতে যত্নবান হলেন।মহাপ্রভু বললেন, প্রিয়ে তুমি আর কেঁদ না, শোক পরিত‍্যাগ কর,আমি কেবল হরিনাম প্রচারের জন্য বাহির হচ্ছি। আমি তোমাকে কখনও ভুলব না। শ্রীলোচনদাস বললেন,সেদিন গৌরহরি বিষ্ণুপ্রিয়ার নিকট শঙ্খ,চক্র,গদাপদ্মধারী হয়ে প্রকাশিত হয়েছিলেন। বিষ্ণুপ্রিয়া সেরূপ দর্শনে মূর্ছিতা হয়ে পড়েন।তিনি চেতনা পেলে,গৌরহরি তাঁর কাছে স্বামীরূপে প্রকাশিত হয়ে,নানান উপদেশে তাঁর ভগ্নহৃদয়ে ধর্মবলের সঞ্চার করতে যত্নবান হন।বিষ্ণুপ্রিয়া প্রাণবল্লভকে শ্রীকৃষ্ণরূপে প্রকাশিত হতে দেখে,তাঁকে নরদেহধারী শ্রীকৃষ্ণের অবতার বলেই বিশ্বাস করেছিলেন। এবং সে বিশ্বাসে তিনি সে-সময় সামান্য পরিমাণে প্রাণে শান্তিও লাভ করেছিলেন। অন্তর্য‍্যামী গৌরহরি প্রেমভরে বললেন,শুন বিষ্ণুপ্রিয়া!তুমি ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ, তুমি কৃষ্ণানুরাগিনী হয়ে তোমার নামের সার্থকতা সম্পাদন কর। গৌরহরি দেবতা হলেও তিনি তাঁর প্রাণবল্লভ।সতী-হৃদয়ে স্বামী বিচ্ছেদের যন্ত্রণা অসহনীয়।তাই বিষ্ণুপ্রিয়া, স্বামী হৃদয়ের মহৎ বাসনা হৃদয়ঙ্গম করলেও তাঁর সংসার পরিত‍্যাগের কথা স্মরণ করে আকুল হৃদয়ে ক্রন্দন করতে লাগলেন। শ্রীগৌরহরি পুনঃ মধুর বচনে তাঁকে সান্ত্বনা করতে চেষ্টা করে বললেন, বিষ্ণুপ্রিয়া! তুমি যখনই আমাকে স্মরণ করবে,আমি তোমায় কথা দিচ্ছি নিশ্চয়বলছি,আমি তখনই তোমার কাছে উপস্থিত হব।তাই লোচনদাস চৈতন‍্য মঙ্গলে বলেছে=*
*শুন দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া,এ তোরে কহিল হিয়া,*
        *যখনে যে তুমি মনে কর।*
*আমি যথা তথা যাই,আছয়ে তোমার ঠাঁই,*
         *সত‍্য সত‍্য কহিলাম দৃঢ়।।*
*🌺প্রাণবল্লভের কথা শুনে, বিষ্ণুপ্রিয়া ভাবলেন, আমার প্রাণবল্লভ সামান্য মানব নহেন।ইনি শ্রীকৃষ্ণের অবতার,এমন স্বামীর আমি পত্নী ; ইনি নরনারীর উদ্ধারের জন্য সন্ন‍্যাসব্রত গ্রহণ করছেন, আমি আর ইনার পথের বাধা দেই কেন? আমার হৃদয় মন ভেঙ্গে গেলেও ইঁনার জীবনের মহান ব্রতের অন্তরায় হব না।এইসব চিন্তা করে তিনি নীরবে সজলনেত্রে তাঁর দেবসদৃশ প্রাণবল্লভের চরণকমলে প্রণিপাত করলেন। হৃদয়ের প্রবল শোকাবেগ সম্বরণ করে স্বামীর হৃদয়ে সন্তোষ উৎপাদনের জন্য,অবনত মস্তকে ধীর গম্ভীরভাবে বললেন,"তুমি যা ভাল মনে কর তাইই কর"।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৭) 🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
              *শ্রীমন্মহাপ্রভুর গৃহত‍্যাগ*
             *************************
*🍀এইরকম ভাবে কিছুদিন কেটে গেল।লোকের মনে গৌরহরির সন্ন‍্যাসব্রতের কথা ক্রমে কিছু ম্লান হয়ে পড়ল।শচীদেবী ও বিষ্ণুপ্রিয়া এ বিষয়ে আর কোন কথায় বলতেন না, তাঁদের মনে হয়েছিল যে,গৌরহরি বোধহয় গৃহত‍্যাগ করবেন না। ওদিকে গৌরহরিও এ বিষয়ের কোন কথার উল্লেখ করে তাঁদের মনে অশান্তি ও উদ্বেগের সঞ্চার করতেন না। তিনি নিত‍্য ভক্তবৃন্দের সঙ্গে কীর্তনাদি করে দিন কাটাতে লাগলেন। কিন্তু গৌরহরির হৃদয়ে সন্ন‍্যাসগ্রহণের যে সঙ্কল্প উদিত হয়েছে,তা কিছুতেই ম্লান হবার নয়।তাঁর হৃদয়াভ‍্যন্তরে যে অগ্নি প্রধূমিত(ধূমায়িত) হচ্ছে, তা শীঘ্রই প্রজ্বলিত হয়ে উঠবে।*
*🌷১৪৩১ শকের উত্তরায়ণ সংক্রান্তির পূর্বদিন,গৌরহরি নবভানু আকাশে উদিত হতে না হতেই,শয‍্যা পরিত‍্যাগ করে শ্রীবাসের ভবনে উপস্থিত হলেন।হরিপ্রেমানুরাগী ভক্তগণ একে একে মিলিত হতে লাগলেন। যে সুরাপানে তাঁরা অনুদিন মত্ত থাকতে ইচ্ছা করেন,হরিকীর্তনরূপ সেই সুধাপানে তাঁরা রত হলেন।শ্রীনামরসে বিভোর হয়ে তাঁরা মধ‍্যাহ্নকাল পর্যন্ত সংকীর্তনে যাপন করলেন।কীর্তন বিরাম হলে,আহারাদির জন্য সকলে স্ব স্ব গৃহে গমন করলেন।শ্রীশচীনন্দনও গৃহে ফিরে এলেন।তিনি স্নান ও আহারান্তে আপন শয়নগৃহে বিষ্ণুপ্রিয়ার সঙ্গে কিছু সময় হাস‍্য-পরিহাসে অতিবাহিত করলেন।অপরাহ্নে কিছু জলযোগ করে অনুগত বিষ্ণু-ভক্ত সহচরদের সঙ্গে প্রসন্ন-সলিলা জাহ্নবীতটে গমন করলেন।সেখানে ভক্তগণ সঙ্গে আত্মার কল‍্যাণকারী হরিপ্রসঙ্গে কিছুকাল অতিবাহিত করে,পুনরায় গৃহে আগমন করলেন।গৌরসুন্দর ঘরে এসে বসিলে,ভক্তগণ তাঁর কন্ঠে ফুলের মালা পরিয়ে দিলেন,ও তাঁর অঙ্গ চন্দনে চর্চিত করলেন।এই দিব‍্যকান্তি বিশিষ্ট যুবা পুরুষের সৌন্দর্য্য যেন আরও মনোহারী হতে লাগল।গৌরহরি প্রাণপ্রদ হরিকথা আরম্ভ করলেন।তাঁর মধুর কথামৃত সকলেই প্রাণ ভরে পান করতে লাগলেন।সেদিন তাঁর কথার মিষ্টতা যেন মধুর হতে সুমধুর বা মধুরতর হয়ে উঠেছিল।তাঁর কমনীয় কান্তির ভিতর হতে যেন এক অপূর্ব লাবণ‍্য বাহির হতে লাগল।সমবেত ভক্তেরা তাঁর অমিয়মাখা কথা প্রাণ ভরে পান করতে লাগলেন।শ্রীকৃষ্ণে জীবন সমর্পণ তাঁর জীবনের শিক্ষা ; যিনি নরনারীর দ্বারে দ্বারে হরিনাম বিতরণ করবেন,প্রাতঃসূর্য‍্য পশ্চিম গগনে উদিত হতে না হতেই যিনি পরমারাধ‍্যা, প্রাণপ্রিয়া বিষ্ণুপ্রিয়া ও তাঁর প্রাণসম গদাধর নিত‍্যানন্দ প্রভৃতিকে পরিত‍্যাগ করে কাটোয়া নগরে যাত্রা করবেন,আজ সন্ধ‍্যাকালে সেই হরিগুণ কীর্তনে রত হবার জন্য তিনি সকলকে বিশেষ রূপে অনুরোধ করলেন।গৌরসুন্দর বললেন,ভাই সকল! যদি আমার প্রতি তোমাদের কিছু ভালোবাসা থাকে তাহলে আমার এই কথা সর্বদা পালন করবে, শ্রীকৃষ্ণ জগতের সার,তাঁর চরণে সর্বদা মতি রাখবে। আর কি ভোজনে,কি শয়নে,সর্বদা তাঁর নাম কীর্তন করবে।*
*🌹এমন সময় তাঁর ভালোবাসার পাত্র শ্রীধরমহাপ্রভুর ভোজনের জন্য একটি লাউ হাতে করে আগমন করল।মহাপ্রভু তাঁর সঙ্গে দুই-একটি কথা বলে,তাঁর প্রেমের উপহারের ফলটি গ্রহণ করলেন।এমন সময় আর এক ব‍্যক্তি তাঁর জন্য দুগ্ধ নিয়ে এলো।গৌরহরি মাকে ডেকে বললেন, মা!আজ তুমি শ্রীধরের লাউ, ও গোয়ালার দুধ দিয়ে পায়েস তৈরী কর। শচীমা তৎক্ষণাৎ পাকশালায় গমন করে তাঁর প্রাণের নিমাইয়ের জন্য পায়েস তৈরী করলেন।রাত্রি বেশী হলে,একে একে সমাগত ব‍্যক্তিরা আপন আপন গৃহে গমন করতে লাগল।সেদিন নিশাবসানে যে নবদ্বীপচন্দ্র নবদ্বীপ পরিত‍্যাগ করে চলে যাবেন,তা কয়েকজন ব‍্যক্তি ছাড়া আর কেউই জানতেন না। গৌরহরি আহারাদি সমাপন করে শয়নকক্ষে প্রবেশ করলেন। চৈতন‍্য মঙ্গলের লোচনদাস বলেন,সে দিন তিনি বিষ্ণুপ্রিয়াকে মধুর আলিঙ্গনে ও প্রেমালাপে সুখী করেছিলেন।প্রাণবল্লভের আলিঙ্গনে ও প্রেমালাপে বিষ্ণুপ্রিয়া যেন অতীতের সব কথা ভুলে গিয়েছিলেন।প্রাণবল্লভের প্রেম ভালোবাসায় প্রেমসাগরে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন। যাইহোক,যিনি আর কয়েক ঘন্টার মধ্যে চিরদিনের জন্য সকল মায়ার বন্ধন ছিন্ন করে,পথের ভিখারী হবেন, তারপূর্বে তিনি যেরকম শান্ত ও প্রফুল্ল চিত্তে,জননীর সঙ্গে কথাবার্তা ও পত্নীর সঙ্গে প্রেমালাপে রত হয়েছিলেন,তা স্মরণ করলে,তাঁকে কি আর সামান্য মানব বলে মনে হয়?*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🪔🦚🦚🦚🦚🦚🦚

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৮)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
        *শ্রীমন্মহাপ্রভুর গৃহত‍্যাগ*
       ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻আজ গৌরসুন্দরের নয়নে আর নিদ্রা নাই।ওদিকে শচীমাও বাণবিদ্ধা মৃগীর মত নিমাইয়ের সন্ন‍্যাস গ্রহণের কথা মনে করে ভূতলশায়িনী হয়ে ছটফট করছেন।সরলা বিষ্ণুপ্রিয়া হয়ত বুঝতে পারেননি,যে, প্রাণবল্লভের আজকের প্রেমালিঙ্গন ও প্রেমালাপ চিরদিনের জন্য শেষ হল।তাই তিনি নিশ্চিন্ত মনে, প্রাণবল্লভের পার্শ্বে নিদ্রায় অভিভূত হয়ে পড়লেন।*
*🌳রাত্রি আর চারদন্ড আছে।গৌরহরি শয‍্যা পরিত‍্যাগ করলেন।কি এক মোহন রব তাঁর কর্ণকুহরে সর্বদা ধ্বনিত হচ্ছে।তিনি সেই ধ্বনি শুনে আর ঘরে থাকতে পারলেন না। দ্বারে দ্বারে হরিনাম বিতরণের জন্য ভগবান তাঁকে আহ্বান করছেন; তিনিই স্বয়ং বংশী বাজিয়ে নবদ্বীপচন্দ্রকে মুগ্ধ করে, সন্ন‍্যাসীর আহ্বান করছেন। গৌরহরি শয়ন কক্ষ হতে বাইরে আসিলেন,দুই-এক পা অগ্রসর হলেন, আবার একটু পিছিয়ে এসে বিষ্ণুপ্রিয়ার প্রেমপূর্ণ মুখের দিকে একবার দৃষ্টিপাত করলেন।হয়ত মহাপ্রভুর একবার মনে হল,হায়!কিভাবে এ পতিপ্রাণা বিষ্ণুপ্রিয়াকে চিরদিনের জন্য পরিত‍্যাগ করে চলে যাই?পরক্ষণেই তাঁর চৈতন‍্যোদয় হল।তিনি মত্ত মাতঙ্গের মত সে মায়ার বন্ধন ছিন্ন করে অগ্রসর হলেন। দ্বারে শচীমা ভূতলশায়িনী হয়ে রয়েছেন।পুত্র চলে যাবার সময় চিরদিনের জন্য একবার সে চাঁদবদন প্রাণ ভরে দেখে নিবেন।*

*এই তাঁর বাসনা।নিমাই মায়ের কাছে আসিলেন, এসে বললেন,মা!তুমি আমাকে পরম যতনে লালন-পালন করেছ, বিদ‍্যাশিক্ষা দিয়েছ,আমি তোমার ঋণ ইহজন্মে পরিশোধ করতে পারব না।মা!শ্রীকৃষ্ণই সংযোগ, বিয়োগের কর্তা ; মানুষ স্বাধীন নয়।মা! আমি যেখানেই থাকি,তোমার সমস্ত ভার আমার উপর। এইকথা বলে বিশ্বম্ভর জননীকে প্রদক্ষিণ করে দ্রুতপদে বাড়ীর বাহির দরজা খুলে বেড়িয়ে গেলেন।শচীমা নিমাইয়ের সঙ্গে একটিও কথা বললেন না। মায়ের শোকের গভীরতা এতই বেশী যে,তাঁর বাক‍্যস্ফূরণের সামর্থ‍্য ছিল না।তিনি স্পন্দহীনের মত পড়ে রইলেন।*
*🍀ধর্মাচার্য‍্য ও ভক্তকবি পন্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রী মহাশয়ের সুবিখ‍্যাত "চৈতন‍্যের সন্ন‍্যাস" নামক কবিতা হতে কয়েক পংক্তি এখানে দেওয়া হল।শাস্ত্রী মহাশয় নিমাই-জননীকে প্রবোধ দিয়ে বলেছেন=*
*🌷ওই গেল চলে পাগলের প্রায় ;*
*🌷জান না ত মাতা কে তাঁরে লওয়ায়!*
*🌷উন্নত আকাশে খধূপ প্রকাশে।*
*🌷আপনার বেগে সে কি সেথা যায়?*

*🌷প্রবল আগুন জ্বলেছে ভিতরে,*
*🌷আর তারে হেথা কেবা রাখে ধরে?*
*🌷তাই মহাবেগে যায় অনুরাগে,*
*🌷পাপী জগতের পরিত্রাণ তরে।*

*🌷ধরেছ জঠরে তাই বলে তারে,*
*🌷পার কি রাখিতে আপন আগারে?*
*🌷যে কাজ সাধিতে আসা অবনীতে,*
*🌷নিলেন ঈশ্বর সে কাজে তাহারে।*

*🌷নদীয়াতে ছিল তোমার নিমাই,*
*🌷আজি সে হইল পাপীদের ভাই;*
*🌷জগতের তরে সে যে প্রাণ ধরে,*
*🌷বুঝিলে না মাতা কাঁদিতেছ তাই।*
*🌹ধর্মাচার্য‍্যগণ অধিকাংশ জায়গায় নিজেদের পুত্র ও আত্মীয় স্বজন অপেক্ষা শিষ‍্যদের সাহায্য লাভ করে থাকেন। গৌরহরি যখন গৃহত‍্যাগ করবেন,তখন শিষ‍্যগণ শুনলেন, গদাধর ও হরিদাস তাঁর সঙ্গের সাথী হবার জন্য প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু গৌরহরি বারণ করে বললেন,কারও সঙ্গ আমি প্রার্থনা করি না, একমাত্র অদ্বিতীয় শ্রীকৃষ্ণই আমার সঙ্গী।সেই অখিলের একমাত্র স্বামীর প্রতি গৌরচন্দ্রের কি অটল বিশ্বাস, কি অপূর্ব প্রেম!*
*🔴যামিনী প্রভাত হ'ল।গৌরহরির ভক্তগণ এসে দেখলেন, গৌর-জননী যেন মৃতবৎ গৃহ-প্রবেশ-দ্বারে পড়ে রয়েছেন।তাঁদের জীবন-পথের জীবন ও তাঁদের পথপ্রদর্শক চলে গিয়েছেন।অভাগিনী বিষ্ণুপ্রিয়া তখনও নিদ্রিতা। নিমাইয়ের সন্ন‍্যাসযাত্রার কথা শুনে এক একটি করে লোক আগমন করতে লাগলেন।সকলেই কেঁদে আকুল।বিষ্ণুপ্রিয়ার নিদ্রা ভঙ্গ হলে তিনি বুঝতে পারলেন, তাঁর প্রাণবল্লভ তাঁকে ত‍্যাগ করেছেন।অন্তঃপুরবাসিনী লজ্জাশীলা বিষ্ণুপ্রিয়া আজ লোকলজ্জা বিসর্জন দিয়ে,কাঁদতে কাঁদতে বাইরে এলেন।ক্রমে গৌরহরির গৃহত‍্যাগ সমাচার চারদিকে প্রচারিত হয়ে গেল।এইকথা শুনে বহুলোক ব‍্যথিত হৃদয়ে আগমন করতে লাগলেন।শচীভবন লোকে পরিপূর্ণ হয়ে গেল, কান্নায় সকলে ভেঙ্গে পড়ল।আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা নয়নের জলে বক্ষঃস্থল ভাসাতে লাগলেন।যারা শ্রীচৈতন‍্যের নব-প্রচারিত ভক্তি-ধর্মের বিপক্ষে ছিলেন, আজ তারাও শোকাকুল হয়ে নয়নজলে ভাসতে লাগলেন।গৌরসুন্দরের অভাবে নবদ্বীপের সকল গৃহই যেন শোকে আচ্ছাদিত হয়ে গেল।শ্রীপাদ বৃন্দাবন দাস ঠাকুর এসময়কার বর্ণনা স্থলে,লিখেছেন, গৌরহরির শোকে কেউ কেউ অধীর হয়ে বলতে লাগলেন,গৌর বিহনে এ জীবন ধারণে আর সুখ কি?চল, গৃহ দগ্ধ করে আমরাও গৌর-পথ অপনুসরণ করি।*
*হরিপ্রেমানুরাগী গৌরসুন্দর প্রেমে গদগদ হয়ে হরিগুণ কীর্তন করতে করতে,গঙ্গা পার হয়ে কাটোয়াভিমুখে গমন করতে লাগলেন। তাই ভক্ত শিবনাথ যেন সেই দৃশ্য দর্শন করে বলছেন=*
*🌷এদিকেতে গোরা নিজ বেগে ধায়।*
*🌷কেশব ভারতী আছেন যথায়*।।
*🌷হরিগুণ গান করি পথে যান।*
*🌷প্রেমের সাগর উথলিয়া যায়।।*

*🌷প্রিয় হরিনাম, ঘুষিব বিদেশে,*
*🌷দ্বারে দ্বারে যাব ভিখারীর বেশে ;*
*🌷নিজে পায়ে ধরি ভজাইব হরি ;*
*🌷হরিনামে পাপী ঘুচাবে ক্লেশে।*

*🌷এত বলি গোরা নদে ছাড়ি যায়,*
*🌷নদে পুরী শোকে করে হায় হায়!*
*🌷কারে কি যে কর জান হে ঈশ্বর!*
*🌷দেখে শুনে কবি হত-বুদ্ধিপ্রায়*।
*🌺এদিকে গদাধর,মুকুন্দ,চন্দ্রশেখর প্রভৃতি পঞ্চজন ভক্ত,গৌরহরির তত্ত্বাবধান ও শরীর রক্ষা করবার জন্য,দ্রুতপদে তাঁর অনুসরণ করলেন।ইঁনারা পথিমধ‍্যে শ্রীগৌরসুন্দরের দর্শন লাভ করে,তাঁর সমভিব‍্যাহারী হলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৯)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
      *শ্রীকেশব ভারতীর আশ্রমে*
      ****************************
*🍀দিনবসান হয়েছে সন্ধ‍্যা এসেছে। সান্ধ‍্য-সমীরণ প্রবাহিত হচ্ছে ; পক্ষীগণ বৃক্ষোপরি আপনাপন কুলায়ে উড়ে যাচ্ছে।রাখালেরা গরুর পাল নিয়ে গৃহে ফিরে যাচ্ছে।এমন সময়ে গৌরসুন্দর সঙ্গীদের সঙ্গে কাটোয়া নগরে কেশবভারতীর আশ্রমে উপস্থিত হলেন।কেশবভারতী শিষ‍্যগণসহ শ্রীগৌরহরিকে দর্শন করে,আসন হতে উঠে তাঁদেরকে অভ‍্যর্থনা করলেন।গৌরহরি ভক্তির সহিত ভারতীর চরণে প্রণাম করে বললেন,প্রভো!অদ‍্য উত্তরায়ণ সংক্রমণ,আগামী কল‍্য আমাকে দিক্ষা দান করে সংসার-বন্ধন-মোচন করুন।ভারতী বললেন,তোমার সন্ন‍্যাসধর্ম গ্রহণের এখনও সময় হয়নি।তুমি যুবা পুরুষ,পঞ্চাশ বৎসর উত্তীর্ণ না হলে,সংসারাশ্রম পরিত‍্যাগ করা উচিত নয়।তোমার মা ও পত্নী তোমার এ কাজের কি অনুমোদন করেছেন? তুমি এখনও পুত্রমুখ দর্শন কর নাই। এ সঙ্কল্প পরিত‍্যাগ কর।কেশব ভারতীর কাছ হতে এই নিরাশার কথা শুনে,গৌরহরি ভারতীকে তাঁর পূর্ব প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ব‍্যাকুল হৃদয়ে ক্রন্দন করতে লাগলেন।গৌরহরি সংসারের সব মায়া পরিত‍্যাগ করে দ্বারে দ্বারে হরিপ্রেম বিতরণ করবার জন্য গৃহ হতে বাহির হয়েছেন।কে তাঁর গতিরোধ করবেন?তিনি হরিধ্বনি করতে করতে পাগলের মত নৃত্য করতে আরম্ভ করলেন।সুগায়ক মুকুন্দ মহাপ্রভুর নৃত্য দর্শন করে মধুর কন্ঠে কীর্তন আরম্ভ করলেন।সে মধুর গীত যেন বীণার ঝঙ্কারের মত লোকের প্রাণ বিমোহিত করতে লাগল।মুকুন্দের কীর্তনে গৌরহরির অনাসক্ত ও ভাবপ্রবণ হৃদয়ে যেন প্রেমতরঙ্গ উঠতে লাগল। তিনি শ্রীকৃষ্ণের চরণারবিন্দ লাভের জন্য ব‍্যাকুল হয়ে পড়লেন,অবিরাম নৃত্য ও হরিধ্বনিতে চারিদিক মুখরিত করে তুললেন।*
*☘সংসারে ভগবৎ-প্রেমের এইরকম অপরূপ দৃশ্য আর কেউ কখনও দেখেছেন বলে বোধ হয় না।কেশব ভারতী শ্রীগৌরাঙ্গের অপার্থিব মনোহর দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে গেলেন।তিনি মনে করলেন,আমি কাকে সন্ন‍্যাস গ্রহণে প্রতি নিবৃত্তি হতে বলছি, গৌরহরি তো মানুষ নন,ইনি তো সাক্ষাৎ ভগবান।অবশেষে তিনি নিমাইকে বললেন,আমি তোমার যরকম ভক্তি দেখলাম, সেরকম ভক্তি সাধারণ মানবে কখনও সম্ভব না। তুমি নরনারীর গুরু হয়ে অবতীর্ণ হয়েছ,আমি তোমার গুরু হবার যোগ্য নহে।তবে ধর্মজীবন লাভের জন্য গুরুকরণ যে আবশ‍্যক,এই সত‍্যটি শিক্ষা দিবার জন্য তুমি আমাকে গুরুরূপে বরণ করে দীক্ষা গ্রহণ করবে, আমার তাইই বোধ হচ্ছে।শ্রীগৌরাঙ্গ কেশব ভারতীর কথা শুনে বললেন,আমাকে এমন ভাবে দীক্ষিত করবেন যেন আমি শ্রীকৃষ্ণের চিরসেবক হয়ে দিন যাপন করতে পারি।ভক্তবৃন্দের আগমনে কেশব ভারতীর আশ্রম আজ স্বর্গপুরী হয়ে উঠিল।সমস্ত রজনী সংকীর্তনে কেটে গেল।ভারতী গৌরহরিকে লাভ করে, অপার আনন্দ লাভ করেছিলেন।দেখতে দেখতে রজনী প্রভাত হয়ে গেল।আজ দীক্ষার দিন।দিনমণি পূব আকাশে উদিত হতে না হতেই গৌরহরি চন্দ্রশেখর আচার্য‍্যকে দীক্ষার আয়োজন করতে বললেন।শচীকুমার জননী ও পত্নীকে পরিত‍্যাগ করে কেশব ভারতীর আশ্রমে আগমন করেছেন, এ বার্তা ইতঃপূর্বেই কাটোয়াতে প্রচারিত হয়ে পড়েছিল।শ্রীগৌরাঙ্গের কাটোয়া নগরীতে আগমনের সময়েই বহুসংখ‍্যক নরনারী ভারতীর আশ্রম সন্নিধানে উপস্থিত হয়েছিলেন, এবং এমন রূপবান যুবাপুরুষ, মাতা ও পত্নীকে বিষাদের অতল জলে নিক্ষেপ করে,সন্ন‍্যাসের পথ অবলম্বন করবে,ইহা ভেবে সকলেই অশ্রুবারি বর্ষণ করতে লাগলেন।*
*🌳আজ গৌরচন্দ্র সন্ন‍্যাস-ব্রত অবলম্বন করবেন। তিনি মস্তকের চাঁচর কেশ ফেলে দিবেন,গৈরিক বসন পরিধান করে,দন্ড ও কমন্ডলু গ্রহণ করবেন।এই দৃশ্য দর্শন করবার জন্য সকালবেলা হতে দলে দলে পুরুষ নারী আগমন করতে লাগলেন।গৌরহরির মত চিত্তবিমোহন যুবাপুরুষ সন্ন‍্যাসী হবেন,এইকথা মনে করে বহু সংখ্যক নরনারী কেঁদে আকুল হয়ে পড়ল।কত লোকে তাঁকে এ পথ হতে ফিরাবার জন্য করুণ বচনে বুঝাতে লাগলেন, বয়স্কা নারীগণ বলতে লাগলেন, বাবা! তোমার মা স্ত্রী তোমার বিচ্ছেদে কিভাবে জীবন ধারণ করবেন? তুমি ঘরে ফিরে যাও, নয়ত তাঁরা প্রাণে বাঁচবেন না।এইসব কথা বলতে বলতে তাদের হৃদয় যেন বিদীর্ণ হতে লাগল। তারা মনোকষ্টে কাঁদতে লাগলেন।*
😭😭😭😭😭😭🙏😭😭😭😭😭😭

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 ষষ্ঠ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/gouranga6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬০)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
         *শ্রীকেশব ভারতীর আশ্রম*
        ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌺এদিকে চন্দ্রশেখর আচার্য‍্য দীক্ষা-গ্রহণের জন্য যথাবিধি আয়োজন করতে লাগলেন। কিন্তু দীক্ষার জন্য যে সব বস্তুর প্রয়োজন, অযাচিতরূপে সেইসব দ্রব‍্য বহুল পরিমাণে আসতে লাগল। দুগ্ধ,দধি,চিনি প্রভৃতি বস্তুতে আশ্রমের গৃহ ও প্রাঙ্গণ পূর্ণ হয়ে যেতে লাগল।হাজার হাজার লোকের সমাগমে চারিদিক পূর্ণ হয়ে গেল।সকলেরই হৃদয় বিষাদে পূর্ণ ; সকলেরই অশ্রুবারিতে বক্ষঃস্থল ভিজতে লাগিল। কিন্তু গৌরসুন্দর নিজের ভাবে বিভোর ; তিনি নিজের হৃদয়-দেবতার মোহনমূর্তি নিজের হৃদয়ধামে দর্শন করে,কখন হাসছেন,কখন ক্রন্দন করছেন, ও কখন নৃত্য করতে করতে ভূতলে পড়ে যাচ্ছেন।বিশ্বম্ভরের মস্তক মুন্ডন করবার জন্য নরসুন্দর আসিলে,চারিদিক কান্না রবে পূর্ণ হয়ে গেল।এমন রূপবান যুবাপুরুষ মুন্ডিত মস্তকে দন্ড কমন্ডলু গ্রহণ করবেন, এ দৃশ্য স্মৃতিপথে উদিত হলে, কারও চক্ষু হতে বারিধারা নির্গত না হয়? নবদ্বীপচন্দ্রের সেই দৃশ্য আজ দেখতে হবে বলে সকলের প্রাণে দারুণ যন্ত্রণা উপস্থিত হয়েছে।ক্ষৌরকার শ্রীগৌরাঙ্গের মস্তক কিভাবে মুন্ডন করে দিবে, ইহা ভেবে সেও কেঁদে আকুল হল, এবং ক্ষৌরকার্য‍্যে অনিচ্ছা প্রকাশ করল।পরে গৌরহরির অনুরোধে সে যখন ক্ষুর হাতে নিয়ে ক্ষৌরকার্য‍্য করতে বসিল, তখন নয়নেরজলে তার চক্ষু অন্ধপ্রায় হয়ে আসিল।নরসুন্দরের হাত কাঁপতে লাগল। এদিকে গৌরচন্দ্রও সুস্থির হয়ে বসতে পারছেন না,কেবল "কৃষ্ণ কৃষ্ণ"বলে কখন কাঁদছেন,কখন নৃত্য করছেন, কখন বা সেই মোহনমূর্তি ধরবার জন্য ধাবিত হচ্ছেন।নাপিতও ক্ষুর হাতে নিয়ে ভাবছে, কিভাবে গৌররূপের অপরূপ সৌন্দর্য্য নষ্ট হবে ভেবে, অশ্রুবেগ সম্বরণ করতে পারছে না।অপরদিকে গৌরহরিও শ্রীকৃষ্ণ বিরহে চঞ্চল।ক্ষৌরকার্য‍্য সমাধা হওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াইল।বেশ কিছুক্ষণ এইভাবে কেটে গেল,অবশেষে দিবাবসানে গৌরহরি একটু শান্ত হয়ে জীবনের মহাব্রত সাধনের জন্য, ক্ষৌরকারের সামনে একটু স্থির হয়ে বসিলে,ক্ষৌরকার পুনরায় ক্ষুর হাতে মস্তক মুন্ডনে রত হল।নরসুন্দর তখন কেঁদে বলে উঠিল, আমি আজ যাঁর মস্তকে হাত দিচ্ছি, আমি আবার এ হাত কার পায়ে দিব,আমি আর এ কাজ করব না।গৌরহরি নাপিতের একথা শুনে বললেন,তুমি আজ হতে ক্ষৌরকার্য‍্য পরিত‍্যাগ করে শ্রীকৃষ্ণের দাস হয়ে,সদাসর্বদা সেই নাম কীর্তনে জীবন যাপন করবে।*
*😭তারপর সে যখন শচীমায়ের নয়নমণি,বিষ্ণুপ্রিয়ার প্রাণবল্পভ, রূপের আধার গৌরসুন্দরের চাঁচর কেশ মুন্ডন করতে আরম্ভ করল,তখন নরনারীর হৃদয়ভেদি ক্রন্দন ধ্বনিতে চারিদিক পূর্ণ হয়ে গেল।সেইসময় নিত‍্যানন্দ ক্রন্দন করতে করতে ভূতলে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।বিলাপ ধ্বনির মধ্যে ক্ষৌরকার্য‍্য সমাধা হয়ে গেল।গৌরহরি স্নানান্তে অরুণ বসন পরিধান করলেন।*

*অল্পসময় পরেই গৌরচন্দ্র কেশবভারতীর কাছে সন্ন‍্যাসীর বেশে দীক্ষা গ্রহণের জন্য বসিলেন,তখন তিনি ভারতীকে বললেন,"আমি স্বপ্নে একটি মন্ত্র লাভ করেছি, যদি সেই মন্ত্র আপনার কাছে ফলপ্রদ বলে বোধ হয়,তাহলে ঐ মন্ত্রেই আমাকে দীক্ষিত করবেন "। দীক্ষার্থীর ভাবী গুরু উক্ত মন্ত্র শুনতে প্রস্তুত হলে,জগৎগুরু শ্রীগৌরহরি ভারতীর কানে সেই মন্ত্র উচ্চারণ করলেন।দীক্ষার পূর্বে শ্রীগৌরসুন্দর আচার্য‍্যকে (ভারতীকে) আগেই দীক্ষিত করলেন। সেই স্বপ্নলব্ধ মন্ত্র শুনে ভারতীর হৃদয় যেন বিস্ময়ে পরিপূর্ণ হয়ে গেল।তিনি সেই মন্ত্রেই তাঁকে দীক্ষিত করতে সম্মত হলেন। চন্দ্রশেখর আচার্য‍্যরত্ন প্রভৃতি তাঁর গলদেশ পুষ্পমালায় পরিশোভিত করে,তাঁর উজ্জ্বল গৌরবরণ দেহ চন্দনে চর্চিত করে দিলেন।তাঁর এক হাতে দন্ড ও অপর হাতে কমন্ডলু শোভা পেতে লাগিল।কেশব ভারতী গৌরহরির সেই স্বপ্নলব্ধ মন্ত্র দানেই তাঁকে দীক্ষিত করলেন।গৌরভক্তগণ ঊচ্চরবে সুমঙ্গল হরিধ্বনি করে উঠিলেন।*
*🌺নবজীবন লাভের সঙ্গে নূতন নামকরণ অনেক স্থলে প্রয়োজন হয়ে থাকে।কেশবভারতী এই নবদীক্ষার্থীর এই নবীন সন্ন‍্যাসীর একটি উপযুক্ত নামকরণের চিন্তা করতে লাগলেন। ভারতী দেখলেন,যিনি তাঁর কাছে দীক্ষিত হলেন,ইনি মোহান্ধ জীব সকলের আত্মাকে জাগ্রত করে,শ্রীহরির চরণানুরাগী করবার জন্যই জন্মগ্রহণ করেছেন।এইজন‍্য এই শুভদিনে তিনি শ্রীগৌরাঙ্গের নাম রাখলেন "শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেব"।১৪৩১ শকাব্দে,মাঘমাসে পঞ্চবিংশতি বর্ষ বয়সে শ্রীগৌরহরি সংসার-বন্ধন ছিন্ন করে,বঙ্গদেশ ও ভারতভূমিতে মধুর হরিপ্রেমের স্রোত প্রবাহিত করবার জন্য সন্ন‍্যাসধর্ম গ্রহণ করলেন।*
*🌳দীক্ষকার্য‍্য সমাধা হয়ে গেল।তিনি দীক্ষাগুরুর চরণে ভক্তিভরে প্রণত হলেন,এবং এক নব বলে বলীয়ান হয়ে হরিবোল বলিয়া নৃত্য করতে লাগলেন।শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেব ভারতভূমিতে এক সুরসাল ভক্তি-ধর্মের স্রোত প্রবাহিত করবার জন্য দন্ডায়মান হলেন।এক নবযুগের সূত্রপাত করলেন।ভক্তবৃন্দ তাঁর চরণে প্রণত হলেন।কেশবভারতী এই দীক্ষাকার্য‍্যে আপনাকে উপকৃত বোধ করতে লাগলেন। গৌরহরির হৃদয়ের ভগবৎপ্রেমের মধুর ও স্নিগ্ধ হিল্লোলে তাঁর জীবনও শীতল হতে লাগল, ভক্তকে দীক্ষিত করে তাঁর চিত্তও ভক্তিরসে পূর্ণ হয়ে গেল।তিনি নবদীক্ষিতের সঙ্গে হরিগুণ কীর্তনে রত হলেন।ভারতীর আশ্রমে সমস্ত রজনী নামসংকীর্তনেই অতিবাহিত হ'ল।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙏🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds