✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔙 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 চতুর্থ ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup4.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪১)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
*🙏শ্রীশ্রীরাধাতত্ত্ব🙏*
🙏🙏🙏
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*শ্রীস্বরূপ দামোদর শ্রীমন্মহাপ্রভুর কাছে শ্রীবৃন্দাবনেশ্বরী শ্রীমতী রাধা ঠাকুরাণীর সম্বন্ধে যা বলেছিলেন, শ্রীচৈতন্যচরিতমৃতকার কেবল তারই দিঙ নির্দেশ করে লিখেছেন=*
*🌷গোপীগণ মধ্যে শ্রেষ্ঠা রাধা ঠাকুরাণী।*
*🌷নির্ম্মল উজ্জ্বল রস প্রেমরত্ন খনি।।*
*🌷বয়সে মধ্যমা তেঁহো স্বভাবেতে সমা।*
*🌷গাঢ় প্রেম ভাবে তেঁহ নিরন্তর বামা।।*
*🌷বাম্য স্বভাবে মান উঠে নিরন্তর*।
*🌷তার বাম্যে উঠে কৃষ্ণের আনন্দ সাগর।।*
*🌺শ্রীউজ্জ্বল নীলমণি গ্রন্থে শ্রীরাধা প্রকরণে পাওয়া যায়=*
*🌷তত্রাপি সর্বথা শ্রেষ্ঠে রাধাচন্দ্রাবলীত্যুভে।*
*🌷যুথয়োস্তু যয়োঃ সন্তি কোটি সংখ্যা মৃগীদৃশঃ।।*
*🌷তয়োরপ্যুভয়োর্মধ্যে রাধিকা সর্বথাধিক।*
*🌷মহাভাবস্বরূপেয়ং গুণৈরতি বরীয়সী।।*
*🌻শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতের আদি লীলার চতুর্থ পরিচ্ছেদে এর বিস্তৃত ব্যাখ্যা আছে। তদ্ যথা=*
*🌷রাধিকা হয়েন কৃষ্ণের প্রণয়-বিকার।*
*🌷স্বরূপ শক্তি হ্লাদিনী নাম যাঁহার।।*
*🌷হ্লাদিনী করায় কৃষ্ণে আনন্দ স্বাদন।*
*🌷হ্লাদিনী দ্বারায় করে ভক্তের পোষণ।।*
*🌹এই হ্লাদিনী শক্তিটি কি, তা বুঝতে হলে প্রথমে এবিষয় নিয়ে স্থূল বিষয়ের আলোচনা করা কর্তব্য।সে আলোচনার প্রক্রিয়া দার্শনিক ভিত্তিমূলক। তথাহি শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে=*
*🌷সচ্চিদানন্দ পূর্ণ কৃষ্ণের স্বরূপ*।
*🌷একই স্বরূপ শক্তি তাঁর ধরে তিনরূপ।।*
*🌷আনন্দাংশে হ্লাদিনী,সদংশে সন্ধিনী।*
*🌷চিদংশে সংবিৎ যারে জ্ঞান করি মানি।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণ সচ্চিদানন্দময়। তাঁতে তিনটি নিত্যশক্তি অধিষ্ঠিত, হ্লাদিনী, সন্ধিনী ও সংবিৎ।*
*🌷সন্ধিনীর সার অংশ শুদ্ধ সত্ত্ব নাম।*
*🌷ভগবানের সত্ত্বা হয় যাহাতে বিশ্রাম।।*
*🌷কৃষ্ণে ভগবত্তা জ্ঞান সংবিতের সার।*
*🌷ব্রহ্ম জ্ঞানাদিক সব তার পরিবার।।*
*🌺এখানে শ্রীমৎ শঙ্করাচার্য্যের শুকনো জ্ঞানরাজ্যের আরম্ভ ও শেষ। সমগ্র সংবিৎরাজ্য সন্দর্শন ও শাঙ্করিক জ্ঞানের আয়ত্ত না। কেননা ব্রহ্মজ্ঞানের পরেই ভগবত্তত্ত্বজ্ঞানে প্রবেশ অধিকার জন্মে।ভগবত্তত্ত্বও সংবিতের অন্তর্গত।তার অনেক পরে শ্রীরাধাতত্ত্ব।🌹(শ্রীরাধাতত্ত্ব কি স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীরাধাতত্ত্ব জানবার জন্য শ্রীগৌরাঙ্গ হয়ে অবতীর্ণ হলেন)।*
*🌷হ্লাদিনীর সার প্রেম,প্রেমসার ভাব।*
*🌷ভাবের পরম কাষ্ঠা নাম মহাভাব।।*
*🌷মহাভাব স্বরূপা শ্রীরাধা ঠাকুরাণী।*
*🌷সর্ব্ব গুণ খনি কৃষ্ণকান্তা শিরোমণি।।*
*🌷কৃষ্ণপ্রেম ভাবিত যার চিত্তেন্দ্রিয় কায়।*
*🌷কৃষ্ণ নিজ শক্তি রাধা ক্রীড়ার সহায়।।*
*🌷কৃষ্ণেরে করায় যৈছে রস-আস্বাদন।*
*🌷ক্রীড়ার স্বভাব যৈছে শুন বিবরণ।।*
*পূজ্যপাদ শ্রীকবিরাজ গোস্বামী মহাশয়ের সেই উক্তির সংক্ষিপ্ত মর্ম বলার চেষ্টা করছি।কৃষ্ণবল্লভা তিন প্রকার--,লক্ষ্মী,মহিষী ও ব্রজাঙ্গনা। শ্রীরাধিকা হতেই এই সব কৃষ্ণবল্লভাগণের বিস্তার হয়ে থাকে।যেমন শ্রীকৃষ্ণ অসংখ্য অবতারের অবতারী, শ্রীরাধিকাও তেমনি অনন্ত কৃষ্ণকান্তাগণের বীজরূপিণী। লক্ষ্মীগণ ইঁনার অংশ বিভূতি, মহিষীগণ বৈভব-বিলাস-স্বরূপিণী, আর ব্রজদেবীগণ কায়ব্যূহরূপা, অর্থ্যাৎ শ্রীকৃষ্ণের নিজ অঙ্গ হতেই ব্রজেগোপীদের আবির্ভাব।*
*🌻বৃহৎ গৌতমীয় তন্ত্র বলেন=*
*🌷দেবী কৃষ্ণময়ী প্রোক্তা রাধিকা পরদেবতা।*
*🌷সর্ব্বলক্ষ্মীময়ী সর্ব্বকান্তিসম্মোহিনী পরা।।*
*🌻শ্রীমদ্মাগবতে শ্রীরাধার নাম নাই। কিন্তু নিম্ন লিখিত শ্লোকে তাঁর আভাস আছে। যথা=*
*🌷অনয়া রাধিতোনূনং ভগবান্ হরিরীশ্বরঃ।*
*🌷যন্নো বিহায় গোবিন্দঃ প্রীতোয়ামনয়দ্রহঃ।।*
*🌹ঋক্ পরিশিষ্টেও শ্রীমতী রাধিকার নামোল্লেখ আছে=*
*🌷রাধয়া মাধবোদেব মাধবোনৈব রাধিকা।*
*🌻পদ্মপুরাণ বলেন=*
*🌷যথা রাধা প্রিয়া বিষ্ণো স্তস্যাঃ কুন্ডংপ্রিয়ং তথা।*
*🌷সর্ব্বগোপীষু সৈবেকাবিষ্ণোরত্যন্তবল্লভা।।*
*🌳শ্রুতি,স্মৃতি পুরাণে সর্ব্বত্রই শ্রীরাধার শ্রেষ্ঠত্ব পরিকীর্তিত হয়েছে। শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত বলেন=*
*🌷জগৎ মোহন কৃষ্ণ তাঁহার মোহিনী।*
*🌷অতএব সমস্তের পরা ঠাকুরাণী।।*
*🌷রাধা পূর্ণ শক্তি,কৃষ্ণ পূর্ণ শক্তিমান।*
*🌷দুই বস্তুতে ভেদ নাহি শাস্ত্র পরমাণ।।*
*🌷রাধাকৃষ্ণ ঐছে সদা একই স্বরূপ।*
*🌷লীলারস আস্বাদিতে ধরে দুই রূপ।।*
*🌹শ্রীরাধাতত্ত্ব প্রকটন করাই, গৌড়ীয় বৈষ্ণব দার্শনিকতার বহু বিশেষত্বের মধ্যে এক প্রধানতম বিশেষত্ব।শ্রীরায় রামানন্দের সঙ্গে শ্রীমন্মহাপ্রভুর এই বিষয়ে সুদীর্ঘ কথোপকথন হয়েছিল।শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থের মধ্য-লীলার অষ্টম পরিচ্ছেদে তার আভাস লেখা হয়েছে।ব্রজলীলার নিগূঢ় মর্ম ব্রহ্মাদির জ্ঞানেরও দুর্লভ, মানুষে আর কি বুঝবে? তথাপি এই মর্ত্ত্যবাসী পাপ-তাপ-দগ্ধ মানুষের উপকারের জন্য ভগবানের পার্ষদগণ সেই অদ্ভুত লীলার যে কিঞ্চিৎ আভাস লিপিবদ্ধ করে গিয়েছেন, তার আলোচনা করলেও আমাদের এই পাপী-তাপী হৃদয়ে চিন্ময় তত্ত্বের আভাস কিছু পরিমাণে প্রতিফলিত হয়।বৈষ্ণব দর্শনের একটি প্রধান বিষয়, শ্রীমতী রাধিকাতত্ত্ব।শ্রীকৃষ্ণ আহ্লাদিনীর স্বরূপ সম্বন্ধে কিছুমাত্র না জানলে সাধ্যসাধন তত্ত্বের কোন কথায় বুঝা যায় না।এই জন্য ভক্তগণের হিতে জন্য শ্রীমন্মহাপ্রভু কোন কোন সময়ে এই প্রসঙ্গের উত্থাপন করেছেন। ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণেও শ্রীরাধাতত্ত্ব লেখা হয়েছে।যথা শ্রীকৃষ্ণ জন্মখন্ডে এয়োদশ অধ্যায়ে=*
*🌷কৃষ্ণসার্দ্ধাঙ্গ সম্ভূতা নাথস্য সাদৃশী সতী।*
*🌷গোলোকবাসিনীসেয়মত্র কৃষ্ণাজ্ঞেয়াধুনা।।*
*🌷শ্রীকৃষ্ণতেজসোহর্দ্ধেন সাচ মূর্তিমতী সতী।*
*🌷একা মূর্তি দ্বিধাভূতা ভেদো বেদে নিরূপিতঃ।।*
*🌷ইয়ং স্ত্রী,স পুমান্, কিম্বা সা বা কান্তা,পুমানয়ং।*
*🌷দ্বেরূপে তেজসা তুল্যে রূপেনচ গুণেনচ।*
*🌷পরাক্রমেণ বুদ্ধ্যা বা জ্ঞানেন সম্পদাপিচ।।*
*🌹অর্থ্যাৎ এই সতী শ্রীকৃষ্ণের অর্দ্ধাঙ্গ-সম্ভূতা। সুতরাং তিনি তৎস্বরূপা।রাধাকৃষ্ণ মূর্তিভেদে দ্বিবিধ নতুবা উভয়েই এক।শ্রীকৃষ্ণ পুরুষ ও শ্রীমতী রাধারাণী প্রকৃতি, বেদে কেবল এই ভেদ নিরূপিত হয়েছে মাত্র।ফলে মূলতত্ত্বে স্ত্রী-পুরুষ ভেদ নাই। তেজ,রূপ,বুদ্ধি,গুণ,জ্ঞান ও পরাক্রমে উভয়ই তুল্য।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🐚🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪২)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
*🦚শ্রীশ্রীরাধাতত্ত্ব🦚*
•••••••••••••••••••••••
*🌳এই জায়গায় শ্রীপাদ রূপগোস্বামীর শ্লোকের কথা স্মরণ হয়ে থাকে =*
*🌷রাধা কৃষ্ণপ্রণয়বিকৃতি র্হ্লাদিনী শক্তিরস্মা।*
*🌷দেকাত্মানাবপি ভূবিপুরা দেহ ভেদংগতৌ তৌ।।*
*🌷চৈতন্যাখ্যং প্রকট মধুনা তদ্দ্বয়ং চৈক্যমাপ্তং।*
*রাধাভাব দ্যুতিঃ সুবলিতং নৌমি কৃষ্ণস্বরূপং।।*
*🍀এই জায়গায় আমরা শ্রীবিষ্ণুপুরাণ,ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ ও শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত হতে একই মূল মহাতত্ত্বের সংবাদ পাচ্ছি।*
*🌷কৃষ্ণের অনন্ত শক্তি তাতে তিন প্রধান।*
*🌷চিচ্ছক্তি,মায়া-শক্তি,জীব শক্তি নাম।।*
*🌷অন্তরঙ্গা বহিরঙ্গা তটস্থা কহি যারে।*
*🌷অন্তরঙ্গা স্বরূপ শক্তি সবার উপরে।।*
*(শ্রীচৈঃচঃ মধ্যঃ৮ম পরিঃ)*
*🌳এইকথা সপ্রমাণ করার জন্য পূজ্যপাদ গ্রন্থকার শ্রীবিষ্ণুপুরাণ হতে বচন উদ্ধৃত করেছেন,যথা=*
*🌷বিষ্ণুশক্তিঃ পরা প্রোক্তা ক্ষেত্রজ্ঞাখ্যা তাথপরা।*
*🌷অবিদ্যা কর্ম্মসংজ্ঞান্যা তৃতীয়াশক্তিরিষ্যতে।।*
*🌹তার পরেই লিখছেন=*
*🌷সচ্চিদানন্দময় কৃষ্ণের স্বরূপ।*
*🌷অতএব স্বরূপ শক্তি হয় তিন রূপ।।*
*🌷আনন্দাংশে হ্লাদিনী সদংশে সন্ধিনী।*
*🌷চিদংশে সম্বিৎ যারে জ্ঞান করি মানি।।*
*🌻আবার তারপরেই শ্রীবিষ্ণুপুরাণের আর একটি শ্লোক উদ্ধৃত হয়েছে,যথা=*
*🌷হ্লাদিনী সন্ধিনী সংবিৎ ত্বয্যেকা সর্ব্বসংশ্রয়ে।*
*🌷হ্লাদতাপকারী মিশ্রা ত্বয়ি নো গুণবর্জ্জিতে।।*
*🌲এর অনুবাদ করে পূজ্যপাদ গ্রন্থকার লিখেছেন=*
*🌷কৃষ্ণকে আহ্লাদে,তাতে নাম আহ্লাদিনী।*
*🌷সেই শক্তি দ্বারে সুখ আস্বাদে আপনি।।*
*🌷সুখরূপ কৃষ্ণ করে সুখ আস্বাদন।*
*🌷ভক্তগণ সুখ দিতে হ্লাদিনী কারণ।।*
*🌷হ্লাদিনীর সার অংশ,তার প্রেম নাম।*
*🌷আনন্দ চিন্ময় রস যাহার আখ্যান।।*
*🌷প্রেমের পরম রস,মহাভাব জানি।*
*🌷সেই মহাভাব রূপা রাধা ঠাকুরাণী।।*
*🌷প্রেমের স্বরূপ দেহ প্রেম বিভাবিত।*
*🌷কৃষ্ণের প্রেয়সী শ্রেষ্ঠা জগতে বিদিত।।*
*(শ্রীচৈঃচঃমধ্যলীলা ৮ম পরিঃ)*
*🌺এই পরম তত্ত্ব,শ্রীরামানন্দ রায় দ্বারাও শ্রীমন্মহাপ্রভু জগতে প্রকপিত করেছিলেন।ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে শ্রীরাধা নামের যে ব্যুৎপত্তি আছে, তাও ভক্তজনের একান্ত আস্বাদ্য, তদ্ যথা=*
*🌷রেফোহি কোটি জন্মাদ্যং কর্ম্মভোগং শুভাশুভং।*
*🌷আকারো গর্ভবাসঞ্চ মৃত্যুঞ্চ রোগমুৎসৃজেৎ।।*
*🌷ধকার আয়ূর্বৃদ্ধিঞ্চ আকারো ভববন্ধনং।*
*🌷শ্রবণ স্মরণোক্তিভ্যঃ প্রণশ্যন্তি ন সংশয়ঃ।।*
*☘অর্থ্যাৎ রাধা নামের আদ্য অকার রকার উচ্চারণে জীবের কোটি জন্মার্জিত পাপ এবং শুভাশুভ কর্মভোগ বিনষ্ট হয়।আকার উচ্চারণে জীব গর্ভযাতনা মৃত্যু এবং রোগ হতে বিমুক্ত হয়ে থাকে।আর ধকার উচ্চারণে জীব আয়ূষ্মান হয় এবং আকার উচ্চারণে লোক ভববন্ধন হতে মুক্তি পায়।এই রাধা নাম কীর্তনে শ্রবণে ও স্মরণে জীবের পাপতাপাদি সমস্তই বিধ্বস্ত হয়ে যায় সন্দেহ নাই। আরও একটি ব্যুৎপত্তি এই জায়গায় লেখা হয়েছে, সেটি এটি অপেক্ষা উচ্চতম=*
*🌷রেফোহি নিশ্চলাং ভক্তিং দাস্যং কৃষ্ণপদাম্বুজে।*
*🌷সর্ব্বেপ্সিতং সদানন্দং সর্ব্বসিদ্ধৈকমীশ্বরং।।*
*🌷ধকার সহবাসঞ্চ তত্তুল্য কালমেব চ।*
*🌷দদাতি সাষ্টি সারূপ্যং তত্ত্বজ্ঞানং হরেঃ সমং।।*
*🌷আকার স্তেজসা রাশিং দান শক্তিং হরৌ যথা।*
*🌷যোগশক্তিং যোগমতিং সর্বকালহরিস্মৃতিং।।*
*🍁অর্থ্যাৎ জীব রাধা নামের রকার উচ্চারণে শ্রীকৃষ্ণের চরণকমলে নিশ্চলা ভক্তি ও দাস্য লাভ করে সেই সর্ববাঞ্জিত সদানন্দময় সর্বসিদ্ধিদাতা পরমপুরুষের প্রীতি পেয়ে থাকে এবং ধকার উচ্চারণে তত্তুল্য কাল তৎসহ সেই হরির সহবাস ও সাষ্টি প্রভৃতি লাভ করে।আর আকার উচ্চারণে জীবের তেজোরাশি বৃদ্ধি পায় এবং হরিতে দানশক্তি যোগশক্তি যোগমতি ও সবসময়ই হরিস্মৃতি হয়।*
*🔵ব্রহ্মবৈবর্ত্তের সপ্তদশ অধ্যায়ে শ্রীরাধার ষোড়শ নামে "রাধা" নামে আরও একটি ব্যুৎপত্তি দেখা যায়। প্রথমে ষোড়শ নামের কথায় বলছি।*
*🌷রাধা রাসেশ্বরী রাসবাসিনী রসিকেশ্বরী।*
*🌷কৃষ্ণ-প্রাণাধিকা কৃষ্ণপ্রিয়া কৃষ্ণস্বরূপিণী।।*
*🌷কৃষ্ণ-বামাংশসম্ভূতা পরমানন্দরূপিণী।*
*🌷কৃষ্ণা বৃন্দাবনী বৃন্দা বৃন্দাবন বিনোদিনী।।*
*🌷চন্দ্রাবতী চন্দ্রকান্তা শতচন্দ্রনিভাননা।*
*🌷নামান্যেতানি সারাণি তেষামত্যন্তরেপিচ।।*
*🌷রাধেত্যেবঞ্চ সংসিদ্ধা রাকারোদানবাচকঃ।*
*🌷স্বয়ং নির্ব্বাণদাত্রীচ সা রাধা পরকীর্তিতা।।*
*🌻রাধা নামের ব্যুৎপত্তির অর্থই এখানে বলা যাচ্ছে।রা-কার দান বাচক আর ধা পরমানন্দ।যিনি পরমনন্দ প্রদান করেন তিনিই শ্রীরাধা।এর অপর নাম পরমানন্দরূপিণী। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে পায়=*
*🌷শ্রুতিভিঃ কীর্তিতা তেন পরমানন্দরূপিণী।*
*🌺এখন সহজেই বুঝা যাচ্ছে যে=*
*🌷হ্লাদিনীর সার অংশ তার প্রেম নাম।*
*🌷আনন্দ চিন্ময় রস প্রেমের আখ্যান।।*
*🌷প্রেমের পরম সার মহাভাব জানি*
*🌷সেই মহাভাবস্বরূপা রাধাঠাকুরাণী।।*
*🌲এ স্থলে ব্রহ্মসংহিতার প্রমাণেও রাধা-তত্ত্বের কিঞ্চিৎ মর্ম অবগত হওয়া যায়।যথা=*
*🌷আনন্দ চিন্ময়রস প্রতিভাবিতাভিঃ,*
*🌷স্তাভির্য এব নিজরূপ তয়াকলাভিঃ।*
*🌷গোলোক এব নিবসত্যখিলাত্মভূতো,*
*🌷গোবিন্দ মাদি পুরুষং তমহং ভজামি।।*
*🌻শ্রীরাধাতত্ত্বই প্রকৃতই আনন্দের খনি।এ তত্ত্ব অসীম ও অনন্ত আনন্দ পারাবার।*
*🌺সাধ্যতত্ত্বের পরিজ্ঞানের জন্য শ্রীরাধাতত্ত্বের আলোচনা সাধক ভক্তের পক্ষে একান্ত প্রয়োজনীয়। শ্রীরামরায়ের মুখেও শ্রীমন্মহাপ্রভু এই তত্ত্ব বিশেষভাবেই প্রকটিত করেছিলেন।শ্রী রায় মহাশয় বলেছিলেন, যথা শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে=*
*🌷সেই মহাভাব হয় চিন্তামণি সার।*
*🌷কৃষ্ণ বাঞ্জা পূর্ণ করে এই কার্য্য তার।।*
*🌷মহাভাব চিন্তামণি রাধার স্বরূপ।*
*🌷ললিতাদি সখী তার কায়-ব্যূহরূপ।।*
*🌻যাঁর দ্বারা সর্ব মনোবাসনা পূরণ হয়,তারই নাম চিন্তামণি।মহাভাবস্বরূপিণী শ্রীরাধা শ্রীকৃষ্ণের পক্ষে সর্বোত্তম চিন্তামণি বিশেষ।যিনি নিখিল বিশ্বব্রহ্মান্ডের একমাত্র অধীশ্বর,যাঁর ইচ্ছামাত্র কোটি কোটি ব্রহ্মান্ডের সৃষ্টি ও লয় হয়ে থাকে,তাঁর আবার সভীষ্টই(নিজের কামনা বাসনাই) বা কি,এবং বাসনা পূরণের জন্য চিন্তামণিরই বা প্রয়োজন কি? হ্যাঁ, প্রয়োজন আছে।লীলারস বিশিষ্ট রসিকশেখর শ্রীকৃষ্ণের অভিলাষ ও আকাঙ্ক্ষা আছে।পার্থিব কোন ভাব ও ভাষায় সে অভিলাষ বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করা যেতে পারে না।তবুও কৃপাময় ভক্তগণ সেই মহাভাবের আভাস কিছু পরিমাণে মানবীয় ভাষায় ব্যক্ত করতে চেষ্টা করছি মাত্র।*
*ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৩)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
*🙏শ্রীশ্রীরাধাতত্ত্ব🙏*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌳তবুও কৃপাময় ভক্তগণ সেই মহাভাবের আভাস সামান্য পরিমাণে মানুষের ভাষায় ব্যক্ত করতে চেষ্টা করছি মাত্র।এক্ষেত্রে তাইই আমাদের সম্বল। যথা শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে=*
*🌷কৃষ্ণের বিচার এক আছয়ে অন্তরে।*
*🌷পূর্ণানন্দ পূর্ণরসরূপ কহে মোরে।।*
*🌷আমা হইতে আনন্দিত হয় ত্রিভুবন।*
*🌷আমাকে আনন্দ দিবে ঐছে কোনজন।।*
*🌷আমা হৈতে হয় যার শত শত গুণ।*
*🌷সেইজন আহ্লাদিতে পারে মোর মন।।*
*🌷আমা হৈতে গুণী বড় জগতে অসম্ভব।*
*🌷একলি রাধাতে তাহা করি অনুভব।।*
*কোটি কাম জিনি রূপ যদ্যপি আমার।*
*🌷অসোর্দ্ধ মাধুর্য্য সহ নাহি যার*।।
*🌷মোর রূপে আপ্যায়িত করে ত্রিভুবন।*
*🌷রাধার দর্শনে মোর জুড়ায় নয়ন।।*
*🌷মোর স্বর বংশী গীতে আকর্ষে ত্রিভুবন।*
*🌷রাধার বচনে হরে আমার শ্রবণ।।*
*🌷যদ্যপি আমার গন্ধে জগৎ সুগন্ধ।*
*🌷মোর চিত্ত ঘ্রাণে হরে রাধা-অঙ্গ-গন্ধ।।*
*🌷যদ্যপি আমার রসে জগৎ সরস।*
*🌷রাধার অধর রসে আমা করে বশ।।*
*🌷যদ্যপি আমার স্পর্শ কোটীন্দু শীতল।*
*🌷রাধিকার স্পর্শে আমা করয়ে শীতল।।*
*🌷এইমত জগতের সুখে আমি হেতু।*
*🌷রাধিকার রূপ গুণ আমার জীবাতু।।*
*🌻শ্রীমতী মহাভাব-স্বরূপিণী। শ্রীরাধার প্রেম-মাধুর্য্যশ্রীকৃষ্ণ অপেক্ষা শত কোটি গুণে বেশী।সেই জন্য শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন=*
*🌷অন্যোন্য সঙ্গমে আমি যত সুখ পাই।*
*🌷তাহা হ'তে রাধা সুখ শত অধিকাই।।*
*🌷তাতে জানি মোতে আছে কোন একরস।*
*🌷আমার মোহিনী রাধা তারে করে বশ।।*
*🌷আমা হৈতে রাধা পায় যে জাতীয় সুখ।*
*🌷তাহা আস্বাদিতে আমি সদাই উন্মুখ।।*
*🌷নানা যত্ন করি আমি নারি আস্বাদিতে।*
*🌷সে সুখ-মাধুর্য্য ঘ্রাণে লোভ বাড়ে চিতে।।*
*🌷রস আস্বাদিতে আমি কৈলু অবতার।*
*🌷প্রেমরস আস্বাদিল বিবিধ প্রকার।।*
*🌷রাগমার্গে ভক্তভক্তি করে যে প্রকারে।*
*তাহা শিখাইল লীলা আচরণ দ্বারে।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণ নানান প্রকার রস আস্বাদন করলেন,তবুও তাঁর আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি(বিরতি) হল না।শ্রীকৃষ্ণ মনে করলেন, "শ্রীরাধিকা যে প্রেম দ্বারা আমার অদ্ভুত মধুরিমা আস্বাদন করেন, তার মহিমা কি প্রকার, এবং শ্রীরাধার আস্বাদ্য আমার মাধুর্য্যই বা কি প্রকার, এবং আমার মাধুর্য্য আস্বাদন করে শ্রীরাধার যে সুখ হয় তাহাই বা কিরকম, শ্রীব্রজলীলায় এত রস আস্বাদন করা সত্ত্বেও আমার এ তিন প্রকার বাঞ্জা অপূর্ণ রয়ে গেল।" তাই তিনি বলেছেন=*
*🌷এই তিন বাঞ্জা মোর নহিল পূরণ।*
*🌷বিজাতীয় ভাবে নহে তাহা আস্বাদন।।*
*🌷রাদিকার ভাব কান্তি অঙ্গীকার বিনে।*
*🌷সেই তিন সুখ কভু নহে আস্বাদনে।।*
*🌷রাধা ভাব অঙ্গিকরি ধরি তার বর্ণ।*
*🌷তিন সুখ আস্বাদিতে হব অবতীর্ণ।।*
*🌹সুতরাং মহাভাবস্বরূপিণী _______ শ্রীকৃষ্ণ,মহাভাব স্বরূপিণী শ্রীশ্রীমতী রাধিকার ভাব-কান্তি পরিগ্রহ করলেন এবং স্বরূপে প্রকাশ পেয়ে শ্রীরাধাপ্রেম মাধুর্য্য আস্বাদন করলেন।এই স্বরূপ-তত্ত্বই শ্রীগৌরাঙ্গ, সুতরাং শ্রীগৌরাঙ্গলীলাই সর্ববাঞ্জা পরিপূরণের লীলা।এই স্থানেই লীলাসুখের শেষ পরিণতি, এটিই লীলার পরাকাষ্ঠা।এই জন্যই পদকর্তা বলেন=*
*🌷সর্ব অবতার সার গোরা অবতার।*
*যাইহোক,যাঁর ভাব আশ্রয় ছাড়া শ্রীকৃষ্ণের পূর্বোক্ত তিনপ্রকার বাঞ্জা পূরণের আর উপায়ান্তর নাই, তিনিই শ্রীকৃষ্ণের পক্ষে মহাভাব চিন্তামণি সারস্বরূপিণী।*
*রূপে গুণে শ্রীরাধা বিশ্বব্রহ্মান্ডে অতুলনীয়া।তাঁর শ্রীঅঙ্গ শ্রীকৃষ্ণস্নেহে মার্জিত। তাঁরগুণে সেই শ্রীঅঙ্গ অতীব সুগন্ধে পরিপূর্ণ ও সমুজ্জ্বল বা অনন্ত উজ্জ্বল।আর সেই দেহ কারুণ্যামৃত ধারায়,তারুণ্যামৃত ধারায় এবং লাবণ্যামৃত ধারায় পরিস্নাত।গন্ধদ্রব্য সমন্বিত তেল হলুদ মেখে স্নান করলে যেমন অঙ্গের শ্রীবৃদ্ধি হয়, এবং অঙ্গ সদ্গন্ধযুক্ত হয়,মহাভাব মূর্তি সচ্চিদানন্দময়ী শ্রীমতীর শ্রীমূর্তি উজ্জ্বলতা সাধনের উপকরণগুলিও অপ্রাকৃত ও ভাবময়।কারুণ্যামৃত,তারণামৃত ও লাবণ্যামৃত ধারা ভাবরাজ্যের স্নানীয় জল।লাবণ্যামৃত স্নাত শ্রীরাধার অঙ্গকান্তি হতে সততই ইন্দ্রিয়াতীত আলোকসম্ভব লাবণ্য ক্ষরিত হয়।এই জন্য শ্রীকবিরাজ গোস্বামী কলম দিয়েছেন=*
*🌷রাধাপ্রতি কৃষ্ণস্নেহ সুগন্ধি উদ্বর্ত্তন।*
*🌷তাহে সুগন্ধি দেহ উজ্জ্বল বরণ।।*
*🌷কারুণ্যামৃত ধারায় স্নান প্রথম*।
*🌷তারুণ্যামৃত ধারায় স্নান মধ্যম*।।
*🌷লাবণ্যামৃত ধারায় তদুপরি স্নান।*
*🌷নিজ লজ্জা শ্যাম পট্টশাটী পরিধান।।*
*🌻মহাভাবময়ী শ্রীরাধিকার শ্রীঅঙ্গ উজ্জ্বলতা সাধন ও অলঙ্কারাদি সমস্ত অপ্রাকৃত।অপ্রাকৃতাদেহা,চিদানন্দময়ী শ্রীমতী রাধিকার অপ্রাকৃত অঙ্গ আভরণের কথা শ্রীরামানন্দ রায় মহাশয় যেরকম বলেছেন,শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে তার এইরকম বর্ণনা আছে।*
*🌷কৃষ্ণ অনুরাগ রক্ত দ্বিতীয় বসন।*
*🌷প্রণয়মান কঞ্চুলিকায় বক্ষ আচ্ছাদন।।*
*🌷সৌন্দর্য্য কুঙ্কুম,সখী প্রণয় চন্দন।*
*🌷স্মিতকান্তি কর্পূর,তিন অঙ্গে বিলেপন।।*
*🌷কৃষ্ণের উজ্জ্বলরস মৃগমদ ভর*।
*🌷সেই মৃগমদে বিচিত্র কলেবর*।।
*🌹প্রথম বসন--লজ্জা, আর দ্বিতীয় বসন--কৃষ্ণানুরাগ। লজ্জা--শ্যামপট্টশাটীর সহিত, এবং কৃষ্ণানুরাগ--রক্তবসনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।মহাভাব স্বরূপিণীর বসন ভূষণ সবই ভাবময়।প্রাকৃত জড়বস্তুর সঙ্গে তাঁর কোনও সম্বন্ধ নাই।আমার মত প্রাকৃত জ্ঞানবিশিষ্ট লোকের ধারণার জন্যই তাঁর অপ্রাকৃত দেহের ও অপ্রাকৃত বসনভূষণের অপ্রাকৃত ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।পশ্চিমাঞ্চলে মহিলাগণ দুই বসন পরিধান করেন,ঘাঘড়া ও ওড়না। গৌরাঙ্গী সুন্দরীগণ নীলবর্ণ ঘাঘড়া এবং লোহিত বা লাল ওড়না ব্যবহার করে থাকেন। সচ্চিদানন্দময়ী শ্রীবৃন্দাবনেশ্বরীরও এ স্থলে দুই বসনের উল্লেখ করা হয়েছে, লজ্জা ও কৃষ্ণানুরাগ।লজ্জা হচ্ছে ঘাঘরা, কৃষ্ণানুরাগ হচ্ছে ওড়না।কৃষ্ণানুরাগের বর্ণ লাল।বিজ্ঞানবিদরা জানেন লালবর্ণের স্পন্দন (Vibration) অন্যান্য বর্ণ অপেক্ষা অনেক বেশী।ফলে কৃষ্ণানুরাগর মত শক্তিশালী পদার্থ জগতে আর দ্বিতীয় নাই।*
*🍀প্রণয়মানকে বক্ষাচ্ছাদনের কঞ্চুলিকারূপে বর্ণনা করা হয়েছে।প্রণয়মান কাকে বলে পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।মানে আবরণী শক্তি আছে।কোন কোন মান সহজে উন্মোচিত হয় না, কিন্তু কঞ্চুলিকার মত প্রণয়মান দৃঢ়াবরণী হলেও সহজেই সেটিকে উন্মোচিত করা যায়। সৌন্দর্য্য,--কুঙ্কুমের সহিত, সখি প্রণয়-- চন্দনের সহিত এবং স্মিতকান্তি--কর্পূরের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।শ্রীকৃষ্ণের উজ্জ্বল রসে শ্রীমতীর অঙ্গ মৃগমদে চিত্রিতের মত শোভিত। অতঃপরে=*
*🌷প্রচ্ছন্নমান বাম্য ধর্ম্মিল্য-বিলাস।*
*🌷ধীরাধীরত্বগুণ অঙ্গে পট-বাস*।।
*🌷রাগ ও তাম্বুলরাগে অধর উজ্জ্বল।*
*🌷প্রেম কোটিল্য নেত্রযুগলে কজ্জ্বল।।*
*🌻প্রচ্ছন্নমান ও বাম্য এটিই কবরী বিন্যাসের দুই গুচ্ছ। এখন সাধারণত এক বেণীতে চুল বাধা হয়। কিন্তু পশ্চিমাঞ্চলে দুই বেণীতে চুল বাধার রীতি প্রচলিত ছিল।সেটিরই এক বেণী প্রচ্ছন্নমান এবং অন্য বেণী বাম্যরূপে পরিকীর্তিত হয়েছে।এরকম তুলনা কেন করা হল?ভক্ত ভাবুক পাঠকগণই তার অনুধ্যান করে বুঝবেন।*
*ক্রমাগত*
🌺🍁🥀🌲🌳🌹🍀🌷🌻💐🌼🌿☘
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৪)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
*🦚শ্রীশ্রীরাধাতত্ত্ব🦚*
*🌻🌻ভাব-বিচার🌻🌻*
❤❤❤❤❤❤
*🌹শ্রীরাধিকার প্রেম,--অধিরূঢ় মহাভাব বা ক্রমশই উচ্চে চড়াকেই অধিরূঢ় বলা হয়।এ জগতে এই মহাভাবের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না।এটি গোলোকের ধন।মানুষের অসম্পূর্ণ ও পরিক্ষীণ ভাষায় এই মহাভাবের বিন্দুমাত্রও প্রকাশ করা যেতে পারে না।শ্রীচরিতামৃতে লেখা আছে =*
*🌷কৃষ্ণ-নাম-গুণ-যশ-অবতংস কাণে।*
*🌷কৃষ্ণ-নাম-গুণ-যশ-প্রবাহ বচনে।।*
*🌷কৃষ্ণের বিশুদ্ধ প্রেম-রত্নের আকর।*
*🌷অনুপম গুণগণ-পূর্ণ কলেবর*।।
*🌷যাহার সৌভাগ্য গুণ বাঞ্জে সত্যভামা।*
*🌷যাঁর ঠাঁই কলাবিলাস শিখে ব্রজরামা।।*
*🌷যাঁর সৌন্দর্য্যাদিগুণ বাঞ্জে লক্ষ্মী-পার্বতী।*
*🌷যাঁর পতিব্রতা ধর্মবাঞ্জে অরুন্ধতী।।*
*🌷যাঁর সদ্ গুণের কৃষ্ণ না পান পার।*
*🌷তাঁর গুণ গণিবে কেমনে জীবছার।।*
*🍀এটি শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর একান্ত ভক্ত ও প্রিয়তম পার্ষদ শ্রীরায় রামানন্দ মহাশয়ের উক্তি।যেখানে সাক্ষাৎ শ্রীকৃষ্ণ শ্রোতা এবং সাক্ষাৎ বিশাখা সখি শ্রীমতী গুণগণগায়িকা, সেখানেও যখন শ্রীরাধাতত্ত্ব বর্ণনের সীমা হয় না,তখন আমার মত অভাজনের পক্ষে এ দুঃসাহস কেন? ভক্তজন সমাজে এটির একটা সামান্য কারণ নিবেদন করা যাচ্ছে।মহাভাব স্বরূপিণী শ্রীমতী রাধিকার একান্ত ভক্তগণের কৃপায় ভক্তসমাজে গোলোকের ভাবাভাসসূচক দুই একটি শব্দমাত্রের ব্যাখ্যা শুনেই আমার মত জড়পরমাণুতেও যখন কখনও কখনও বিদ্যুৎ স্ফুরণের মত ভক্তিবিন্দুর স্ফূরণাভাসবৎ বোধগম্য হয়,তখন অবশ্যই বুঝতে হবে জীবগণের হিতের জন্য শ্রীস্বরূপদামোদরের মুখে শ্রীমন্মহাপ্রভু যে শ্রীরাধাতত্ত্ব প্রকটিত করেছিলেন, তার আলোচনা করা জীবের মহাকর্তব্যকর্ম।বৈষ্ণব রসগ্রন্থাদিতে শ্রীরাধাতত্ত্ব সম্বন্ধে খুবই সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম বিষয় লেখা হয়েছে। 🙏শ্রীশ্রীরাধারস সুধানিধি গ্রন্থে বিশদ বিবরণ রয়েছে। সত্যই যদি কেউ শ্রীরাধাতত্ত্ব সম্বন্ধে কিঞ্চিৎ জানবার বাসনা মনের মধ্যে উদয় হয় তবে অবশ্যই অধ্যয়ন করবেন।🌹শ্রীমন্মহাপ্রভুর একান্ত কৃপা ছাড়া এইসব বিষয়ে প্রবেশ করা যায় না।কেবল আলোচনায় হতে পারে।*
*❤❤❤ভাব-বিচার❤❤❤*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌻এইভাবে শ্রীস্বরূপদামোদর মহাপ্রভুর কাছে শ্রীরাধা-তত্ত্বের সূচনা করলেন।শুনে গৌরহরির আর আনন্দের সীমা রইল না।তখন তিনি আনন্দে অধীর হয়ে বললেন,স্বরূপ! আমার তৃপ্তি হচ্ছে না,তুমি আরও বলো। যথা শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে=*
*🌷এত শুনি বাড়ে প্রভুর আনন্দসাগর।*
*🌷কহ কহ কহে প্রভু,বলে দামোদর।।*
*🌹দামোদর বলতে লাগলেন=*
*🌷অধিরূঢ় মহাভাব রাধিকার প্রেম।*
*🌷বিশুদ্ধ নির্মল যৈছে দশবান হেম।।*
*🌷কৃষ্ণের দর্শন যদি পায় আচম্বিতে।*
*🌷নানা ভাব বিভূষণে হয় বিভূষিতে।।*
*🔷শ্রীরাধিকার প্রেম অতি বিশুদ্ধ।সোনাকে বহুবার আগুনে পোড়ালে যেমন তাতে মিশিত সব ধাতু ও অন্য পদার্থ পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং ঐ সোনা যেমন অতি বিশুদ্ধ ও অতি উজ্জ্বল হয়, শ্রীরাধিকার প্রেমও তেমনি অকৈতব ও পরিশুদ্ধ।এই প্রেমের অপর নাম অধিরূঢ় মহাভাব।*
*🔴অধিরূঢ় মহাভাব কাকে বলে তা বুঝতে হলে ভাব,মহাভাব,রূঢ় ও অধিরূঢ় এই চারটি কথা পরিস্কার ভাবে বুঝতে হবে।শ্রীউজ্জ্বল নীলমণি গ্রন্থে এই বিষয়ে উল্লেখ আছে।এই গ্রন্থটিকে আমরা শ্রীকৃষ্ণপ্রেমের অতি দর্শনশাস্ত্র নামে অভিহিত করি।ইংরেজি ভাষায় (Psychology of Divine Love) এইরকম অনুবাদ করলেও শ্রীউজ্জ্বল নীলমণির প্রকৃত আলোচ্য বিষয়বোধক অনুবাদ হয় না।*
*🌺বৈষ্ণব-রসশাস্ত্রের পরিভাষাগুলি না বুঝলে শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত পাঠ করে সেটির মর্ম বুঝা সত্যই অসম্ভব।শ্রীস্বরূপদামোদর শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর আদেশে গোপীপ্রেমের যে চিদানন্দরস তত্ত্বের কথা প্রকাশ করেছেন শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে সেটির যৎকিঞ্চিৎ প্রকাশিত হয়েছে।শ্রীচৈতন্যলীলার সমস্ত রসের ভান্ডারী শ্রীস্বরূপদামোদর। এই স্বরূপদামোদরের কাছে মহাপ্রভু বৈরাগ্যের প্রকট মূর্তি তরুণ যুবক ভক্তিময় শ্রীরঘুনাথ দাস গোস্বামী মহাশয়কে সমর্পণ করেছিলেন।দয়াময় গুরু শ্রীস্বরূপ তাঁর প্রিয়শিষ্য রঘুনাথ দাস গোস্বামীকে শ্রীগৌরাঙ্গলীলার রসতত্ত্বের গূঢ় গভীর অর্থ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী এই পরমারাধ্য দাস গোস্বামীর নিকট শ্রীগৌরলীলার রসতত্ত্ব শুনে গ্রন্থ-শিরোমণি শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে তার কিছু কিছু বর্ণনা করেছেন,যথা শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতের মধ্যলীলার দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ=*
*চৈতন্য লীলা রত্ন-সার, স্বরূপের ভান্ডার,*
*তিঁহ থুইল রঘুনাথের কন্ঠে।*
*তাহা কিছু যে শুনিল,তাহা ইহা বিস্তারিল,*
*ভক্তগণে দিল এই ভেটে।।*
*🍀সর্বভাব-মহাসাগর শ্রীমন্মহাপ্রভুর হৃদয়ে সব ভাবের তরঙ্গই অহনিশি উত্থিত হত।শ্রীস্বরূপ তা আস্বাদন করতেন, সুতরাং শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রীস্বরূপের হৃদয়কে সেই মহালীলার ভান্ডার বলে অভিহিত করেছেন।মহাপ্রভু সর্বভাবের আশ্রয়।যথা চৈতন্যচরিতামৃতে=*
*লীলা শুক মর্ত্ত্যজন,তাঁর হয় ভাবোদ্গম,*
*ঈশ্বরে সে,কি ইহা বিস্ময়।*
*তাতে মুখ্য রসাশ্রয়, হইয়াছেন মহাশয়,*
*তাতে হয় সর্ব ভাবোদয়।।*
*পূর্বে ব্রজবিলাসে,যেই তিন অভিলাষে,*
*যত্নেহ আস্বাদ নহিল।*
*শ্রীরাধার ভাব-সার,আপনে করি অঙ্গীকার,*
*সেই তিন বস্তু আস্বাদিল।।*
*আপনে করি আস্বাদনে,শিখাইল ভক্তগণে,*
*প্রেম-চিন্তামণির প্রভুধনী।*
*নাহি জানে স্থানাস্থান,যারে তারে কৈল দান,*
*মহাপ্রভু দাতা শিরোমণি।।*
*এই গুপ্ত ভাবসিন্ধু,ব্রহ্মা না পায় এক বিন্দু,*
*হেন ধন বিলাইল সংসারে।*
*কহিবার কথা নহে,কহিলে কেহ না বুঝয়ে,*
*ঐছে চিত্র চৈতন্যের রঙ্গ।*
*সেই সে বুঝিতে পারে,চৈতন্যের কৃপা যারে,*
*হয় যদি তার দাসানুদাস সঙ্গ।।*
*ক্রমাগত*
*🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৫)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
*❤ভাব--বিচার❤*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀পরিস্কারভাবেই বুঝা যাচ্ছে লীলার কিঞ্চিৎ মর্ম এখানে প্রকাশ করা হয়েছে।এই লীলায় শ্রীরাধিকার ভাবে বিভাবিত হয়ে ভক্তবৎসল শিরোমণি মহাপ্রভু নিজ পূর্ব লীলা মাধুরী আস্বাদন করেন। সুতরাং শ্রীরাধার যে সব ব্রজের ভাব হয়েছিল, শ্রীচৈতন্যদেব চৈতন্যলীলায় স্বীয় রস আস্বাদন ও ভক্তগণের শিক্ষার জন্য নিজে সেই সব ভাব অঙ্গীকার করেন।শ্রীগৌরাঙ্গলীলা পাঠ করতে হলে ভাবের পরিভাষা পরিজ্ঞান নিতান্ত প্রয়োজনীয়। সুতরাং এস্থলে তাঁর সম্বন্ধে একটু আলোচনা করা প্রয়োজন।*
*🌹রসশাস্ত্রে দুই প্রকার "ভাবের" উল্লেখ আছে, পূর্বভাব ও উত্তরভাব।নির্বিকার চিত্তে প্রথম বিক্রিয়ার নাম ভাব।এটি পূর্বভাব।আমাদের বতর্মান আলোচ্য মহাভাবের সঙ্গে এটির সাক্ষাৎ সম্বন্ধ নাই।মহাভাবের সঙ্গে যে ভাবের সাক্ষাৎ সম্বন্ধ তার লক্ষণ এই=*
*🌷অনুরাগঃ স্বসংবেদ্যদশাং প্রাপ্য প্রকাশিতঃ।*
*🌷যাবদশ্রয়বৃত্তিশ্চেদ্ভাব ইত্যভিধীয়তে।।*
*❤অনুরাগ যদি যাবদশ্রয়বৃত্তি (যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের মধ্যে আশ্রয় ) হয়ে নিজের দ্বারা সম্বেদন যোগ্যদশা প্রাপ্ত হয়,তবে তাকে "ভাব"বলে।এটির বিশেষ ব্যাখ্যা প্রয়োজন।তারজন্য রাগ ও অনুরাগ কাকে বলে তার উল্লেখ করা একান্ত প্রয়োজনীয়।*
*🌷দুঃখমপ্যধিকং চিত্তে সুখত্বেনৈব ব্যজ্যতে।*
*🌷যতস্তু প্রণয়োৎকর্ষ সরাগ ইতি কীর্ত্যতে।।*
*🌻অর্থ্যাৎ প্রণয়ের বা ভালোবাসার উৎকর্ষ হেতু যে স্থলে চিত্ত মধ্যে অতিশয় দুঃখও সুখত্বরূপে অনুভূত হয় তার নাম রাগ। আর =*
*🌷সদানুভূতি মপি যঃ কুর্য্যান্নবনবংপ্রিয়।*
*🌷রাগো ভবন্নবনবং সোহনুরাগ ইতীর্য্যতে।।*
*🌺অর্থ্যাৎ যে রাগ নতূন নতূন হয়ে অনুভূত প্রিয়জনকে সর্বদা নবীন নবীন বা নতূন নতূন বোধ করায়,পন্ডিতগণ তাকে অনুরাগ বলেন।*
*🌳রাগ ও অনুরাগ কাকে বলে তা বুঝা গেল। এখন ভাবের সঙ্গে এই অনুরাগের সম্বন্ধ কি,তা প্রকাশ করা যাচ্ছে।ভাব অনুরাগেরই একটা উন্নত অবস্থা।অনুরাগের প্রকর্ষ-বিশেষই (আকর্ষণ-বিশেষই)ভাব নামে খ্যাত। ভাবের যে লক্ষণের উল্লেখ করা হয়েছে,তা পাঠ করে জানা যায় অনুরাগ "যাবদাশ্রয়বৃত্তি" ও স্বসংবেদ্যদশা(পুরোপুরিভাবে নিজের মধ্যে সেই দশা) প্রাপ্ত হলেই ভাব নামে কথিত হয়ে থাকে।তাহলে এখন বুঝতে হবে "যাদবাশ্রয়-বৃত্তিত্ব"ও "স্বসংবেদ্যদশাপ্রাপ্তি" এই দুই কথার অর্থ কি?*
*🌺পূজ্যপাদ শ্রীল শ্রীজীবগোস্বামী পূর্বোক্ত ভাব-লক্ষণ-সূচক শ্লোকের টীকায় লিখেছেন=*
*🌷"যাবতীরাগস্যেয়ত্তা সম্ভবতি তাবতীং তামাপন্না বৃত্তির্ব্বর্ত্তং যস্যেতি গম্যতে।🔵অর্থ্যাৎ রাগের পরিসীমা প্রাপ্তিই রাগের "যাবদাশ্রয়ত্ব"। সুতরাং যাবদাশ্রয়-বৃত্তি অর্থে এককথায় পরকাষ্ঠাপ্রাপ্ত।এই অবস্থা প্রাপ্ত হলেই রাগ স্বসংবেদ্যদশা প্রাপ্ত হয়।যে দশায় রাগ নিজের প্রভাবেই স্বয়ং আস্বাদের বিষয়স্বরূপ হয়ে থাকে,তখন তাকে স্বসম্বেদ্যদশা প্রাপ্ত বলে।এটিই ভাব ও অনুরাগের দার্শনিক তত্ত্ব।*
*🌺বর্ষার আগমনে নদীসব নিজ গৌরবে উচ্ছসিত হয়ে দুকূল ভাসিয়ে প্রবাহিত হয়,শ্রীকৃষ্ণে "ভাবের" উদয়েও তেমনি সমগ্র জগৎ আনন্দময় হয়ে উঠে,সেই ভরপুর আনন্দ প্রবাহ হৃদয় পরিপ্লুত করে বর্ষার বিশাল গঙ্গাপ্রবাহের মত দুকুল ভাসিয়ে তরঙ্গে তরঙ্গে প্রবাহিত হয়ে থাকে।ব্রজের কূলবধূগণের হৃদয় এই ভাবতরঙ্গে পরিপ্লুত হল,তাঁরা কূল ছেড়ে অকূলে ঝাঁপ দিলেন,এবং দুস্ত্যজ স্বজন আর্য্যপথ (নিজজন ও স্বামীর সংসার) পরিত্যাগ করে কৃষ্ণ-সাগরের অভিমুখে প্রধাবিত হলেন।এটিই অনুরাগের পরাকাষ্ঠা, এটিই ভাব।এই ভাবের সারই মহাভাব।(শ্রীকৃষ্ণ ছাড়া আর আন কিছুই জানেন না)। এই মহাভাব কেবল ব্রজদেবীগণেরই সম্বেদ্য, অন্যে এটি জানতে পারেন না।পট্ট-মহিষীগণের হৃদয়েও মহাভাবের উদয় হয় না।মহাভাব কাকে বলে অতি সংক্ষেপে তার কিঞ্চিৎ মর্ম লেখা হল।*
*এখন রূঢ় ও অধিরূঢ় এই দুই কথার অর্থ কি,তাইই আলোচ্য।শ্রীউজ্জ্বল নীলমণি বলেন=*
*🌷উদ্দীপ্তা সাত্ত্বিকা যত্র সরূঢ় ইতিভণ্যতে।*
*🌷নিমেষাসহতাসন্ন-জনতা-হৃদ্বিলোড়নম্।।*
*🌷কল্পক্ষণত্বং খিন্নত্বং তৎসৌখ্যোহরার্ত্তি শঙ্কয়া।*
*🌷মোহাদ্যভাবেহপ্যাত্মাদি সর্ববিস্মরণং সদা।*
*🌷ক্ষণস্য কল্প্যতেত্যাদ্যা যত্রযোগবিয়োগয়োঃ।।*
*যাতে উদ্দীপ্ত (প্রকাশিত)সাত্ত্বিকভাব সব বিদ্যমান,তাইই রূঢ়ভাব নামে অভিহিত।প্রেমের রূঢ়-অবস্থায় নিম্নলিখিত অনুভাব সব পরিলক্ষিত হয় ঃ--"রূঢ়ভাবাপন্ন প্রেমবতী নিমেষকালও প্রিয়জনের বিয়োগ সইতে পারেন না ; রূঢ়ভাবাপন্ন প্রেমবতীর প্রেমানুরাগের আর একটি মহিমা এই যে সেটি আসন্ন জনসমূহের হৃদয় বিলোড়িত করে নিজ প্রভাব বিস্তার করে।গোপীরা যখন শ্রীকৃষ্ণান্বেষণে কুরুক্ষেত্রে গমন করেছিলেন,তখন তাঁদের প্রেমানুরাগ সমুদ্রতরঙ্গের মত কুরুবংশীয়দেরকে প্লাবিত,মহারাজগণের মস্তক বিঘূর্ণিত এবং পতিব্রতা নারীগণের সতীত্ব শিথিলীকৃত এবং অন্যান্য সমস্ত জনগণের চিত্ত প্রেমে পরিপ্লুত, সত্যভামার অন্তঃকরণ আক্রান্ত এবং শ্রীকৃষ্ণের কন্ঠশ্রীসদৃশা শ্রীরুক্মিণী দেবীকে স্তিমিত (নিশ্চল বা স্থির) করে প্রবাহিত হয়েছিল।*
*🌻পাঠক,আপনি ললিতাকুঁড়ীর বাঁধ ভেঙ্গে গঙ্গাপ্রবাহ কি ভাবে দেশ ভাসিয়ে প্রবাহিত হয়,সে বিবরণ শুনেছেন ; দামোদরের বন্যার কথা শুনেছে, সমুদ্রপ্লাবনে চট্টগ্রাম অঞ্চলে জলপ্রবাহ,নিজ অধিকার বিস্তার করে, নিজ উত্তাল তরঙ্গে জননিবাসগুলিকে কি ভাবে বিলোড়িত (তোলপাড় করা)ও পরিপ্লুত করে দিয়েছিল, আপনি তাও শুনেছেন, কিন্তু রূঢ়প্রেমবতী গোপীগণের প্রেমসমুদ্রের তরঙ্গে বা ঢেউয়ে কি ভাবে আসন্ন জনতাগুলির হৃদয় বিলোড়ন (তোলপাড়)করে দেয়,সে ধারণা হৃদয়ে অনুভব করা বড় সহজ কথা নয়।পাঠক,আপনি বৎসহারা গাভীর মহাব্যাকুল মুখচ্ছবি এবং তার প্রাণের উন্মাদক ব্যাকুল হাম্বারব শুনছেন কি?এইরকম একটি গাভী বৎস খুঁজতে খুঁজতে যে দিকে ধাবিত হবে,সেই দিকের সমস্ত লোককেই সে হাম্বারবে আকুল করে তুলবে।সে ব্যাকুল রব শুনে স্থির থাকা কার সাধ্য গো? গোপীপ্রেমের অনুরাগ ঠিক এইরকম।তাঁরা কুরুক্ষেত্রে গিয়ে যখন আকুল ভাবে "হাঁ কৃষ্ণ প্রাণবল্লভ" বলে আকুলভাবে ডাকছিলেন,তখন সেই লোকেলোকারণ্যপূর্ণ জায়গার সকলের চিত্ত তোলপাড় হয়ে উঠেছিল।গোপীদের এই ভাব দেখে দ্বারকাবাসিনী কোন রমণী বলেছিলেন=*
*🌷সখ্যঃ প্রেক্ষ্য কুরূন গুরুক্ষিতিভৃতা মাঘূর্ণয়ন্তী শিরঃ।*
*🌷স্বস্থা বিশ্লথয়ন্ত্য শেষ রমণীরাপ্লাব্য সর্বং জনম্।*
*🌷গোপীনামানুরাগ-সিন্ধুলহরী সত্যান্তরং বিক্রমৈ।*
*🌷রাক্রম্য স্তিমিতাং ব্যধদপি পরাং বৈকুন্ঠ কন্ঠশ্রিয়ং।।*
*🌹অর্থ্যাৎ=*
*🌷দেখ দেখ সখীগণ অপূর্ব মাধুরী।*
*🌷গোপীদের অনুরাগ সমুদ্রলহরী।।*
*হা কৃষ্ণ হা কৃষ্ণ রব,শুনিয়া ব্যাকুল সব,*
*কুরুকুল আকুল ও রবে।*
*সমুদ্র লহর প্রায়,যথা ঐ ধ্বনি যায়,*
*ভেসে যায় প্রেমের প্রভাবে।।*
*ছোট বড় যত জন,সবার আকুল মন,*
*নারী নারে ধৈরজ ধরিতে।*
*সত্যভামা শ্রীরুক্মিণী,শ্রীকৃষ্ণের আদরিণী,*
*পরমাদ গণিলেন চিতে।।*
*🍀এরই নাম "আসন্নজনতা-হৃদবিলোড়ন"।আর একটি কথা, "কল্পক্ষণত্ব"।শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে মিলনে মহাকল্পরূপ কালসংখ্যাও নিমেষ তুল্য বোধ হয়। আবার তাঁর বিয়োগে ক্ষণকালও ইঁনাদের কল্পসম বলে অনুমিত হয়ে থাকে।শ্রীকৃষ্ণ সুখে থাকলেও গোপীদের মনে তাঁর অসুখের আশঙ্কা জন্মে,এটিও রূঢ়ভাবের একটি লক্ষণ।*
*ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৬)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
*🌹ভাব--বিচার🌹*
*****************
*🍀আরও একটি বিষয় এই যে এই ভাবে মোহাদির অভাবেও গোপীদের বিস্মৃতির উদয় হয়।সাধুসঙ্গ বিষয়ক প্রস্তাবে শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধবকে বলেছিলেন "উদ্ধব মদ্বিষয়ক প্রীতিমত্বই সাধুত্ব"। সাধুত্ব লক্ষণের পরাকাষ্ঠা (চরমসীমা) কেবল গোপীদের মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়।যথা শ্রীমদ্ভাগবতে একাদশ অধ্যায়ে=*
*🌷তানাবিদন্ময্যনুষঙ্গ বদ্ধ ধিয়ঃ সমাত্মা নমদ স্তথেদং।*
*🌷যথা সমাধৌ মুনয়োহব্ধিতোয়ে নদ্যঃ প্রবিষ্টাইব নামরূপে।।*
*🌻হে উদ্ধব!যেমন সমাধিকালে (যাতে মন সমাহিত করা যায় বা পরমাত্মার সহিত জীবাত্মার ঐক্যভাব কালে)মুনিগণ সমুদ্রে প্রবিষ্ট নদীর মত নাম রূনাদি কিছুই জানতে পারেন না, তদ্রূপ আমাতে আসক্তি বশতঃ গোপীগণ নিজ দেহ ও দূর নিকট(কাছের ও দূরের) সম্বন্ধ কিছুই জানতে পারেন না।তাঁদের চিত্ত সবসময়ই আমাতেই প্রবেশ করে থাকে।এটিই রূঢ়প্রেম।অধিরূঢ় কাকে বলে?তার সম্বন্ধে শ্রীউজ্জ্বল নীলমণি বলেন=*
*🌷রূঢ়োক্তেভ্যোহনুভাবেভ্যঃ কামপ্যাপ্তাবিশিষ্টতাং।*
*🌷যত্রানুভাবা দৃশ্যন্তে সোহধিরূঢ় নিগদ্যতে।*
*🌻অর্থ্যাৎ যাতে রূঢ়ভাবে উক্ত অনুভাব সকলের সাত্ত্বিক ভাবগুলি কোন বিশিষ্ট দশা পায়,তাকেই অধিরূঢ় ভাব বলে।এই অধিরূঢ়হতে মোদন ও মাদন দুই ভাবের উৎপত্তি হয়।এই অধিরূঢ় মহাভাবই শ্রীরাধার প্রেম।এ সম্বন্ধে শিববাক্য এই যে =*
*🌷লোকাতীতমজান্ত কোটীগমপি ত্রৈকালিকং যৎসুখং।*
*🌷দুঃখঞ্চেতি পৃথগ্ যদি স্ফুটমুভে তেগচ্ছতঃ কূটতাম্।।*
*🌷নৈবাভাসতুলাং শিবে তদপি তৎকূটদ্বয়ং রাধিকা।*
*🌷প্রেমোদ্যাৎ সুখ দুঃখ সিন্ধুভবয়ো র্বিন্দেত বিন্দোরপি।।*
*🌻অর্থ্যাৎএক দিন পার্বতী শ্রীরাধার প্রেমবিশিষ্টতার প্রভাব মহাদেবকে জিজ্ঞাসা করায় তিনি বলেন হে শিবে! কোটি কোটি ব্রহ্মান্ডগত ও বৈকুন্ঠগত ত্রিকালের সুখ ও ত্রিকালের দুঃখ যদি দুইটি আলাদা আলাদা জায়গায় রাশীকৃত করা হয়,তাহলে ঐ দুই জায়গাও শ্রীরাধিকার প্রেমোদ্ভব সুখ দুঃখের বিন্দুমাত্রও ধারণা করতে পারে না।*
*ইতপূর্বে বলা হয়েছে যে,শ্রীমতী রাধিকার প্রেমই,অধিরূঢ় মহাভাব।অধিরূঢ় মহাভাব কাকে বলে ব্যাখ্যা করেও তা পরিস্ফুট করা যায় না,এইকথা আগেই বলেছি।ফলে ব্রজের কোন ভাবই লিখে প্রকাশ করা যায় না। কিন্তু মানুষের উপাসনার উচ্চতম লক্ষ্যের দিকে দৃষ্টি আকৃষ না হলে মানুষ সাধারণত জড়ীয় ভাবেই উপাসনায় রত থাকে।অধিরূঢ় মহাভাব প্রগাঢ় চিন্ময় তত্ত্ব।এক মানুষ অন্য মানুষকে এই মহাভাবের বিষয় বুঝিয়ে দিতে কোন ভাবেই সমর্থ না।তাই পরম দয়াল রসরাজ-চূড়ামণি রসিকশেখর শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ লীলায় স্বয়ং এই মহাভাবের অভিনয় করে প্রিয়তম পার্ষদ ও একান্তী ভক্তগণকে এই মহাভাবের দিক প্রদর্শন করে দিলেন।মহাভাব-স্বরূপ শ্রীমন্মহাপ্রভুর শেষ লীলায় এই অধিরূঢ় মহাভাব অভিব্যক্ত হয়েছে।পূজ্যপাদ শ্রীকবিরাজ গোস্বামী মহাপ্রভুর অবতারের এই এক মুখ্য কারণ প্রকটন করেছেন। তিনি বলেন=*
*🌷অবতারের আর এক আছে মুখ্য বীজ।*
*🌷রসিকশেখর কৃষ্ণের সেই কার্য্য নিজ।।*
*🌷অতি গূঢ় হেতু সেই ত্রিবিধ প্রকার।*
*🌷দামোদর-স্বরূপ হইতে যাহার প্রচার।।*
*🌷স্বরূপ গোসাঞী প্রভুর অতি অন্তরঙ্গ।*
*🌷তাহাতে জানেন প্রভুর এ সব প্রসঙ্গ।।*
*🌷রাধিকার ভাব মূর্তি প্রভুর অন্তর।*
*🌷সেই ভাবে সুখ দুঃখ উঠে নিরন্তর।।*
*শেষ লীলায় শ্রীমন্মহাপ্রভু তাঁর অতি অন্তরঙ্গ শ্রীস্বরূপদামোদরকে শ্রীরাধা-প্রেমের যে মহালীলা দেখিয়ছিলেন,রথযাত্রা-দর্শন সময়েই তিনি প্রথমতঃ শ্রীস্বরূপদামোদরের হৃদয়ে সেই ব্রজভাবের স্ফূর্তি করে দিলেন।অথবা সাক্ষাৎ ললিতাস্বরূপ স্বরূপদামোদরের হৃদয়ে শ্রীরাধাতত্ত্বের স্ফূতিরই বা প্রয়োজন কি?তাঁর সরস হৃদয়ে রাসরসিকের ও রসবতী শ্রীরাধার রাসলীলা নিত্যই সপ্রকাশ।তাই স্বরূপের মুখে মহাপ্রভু রাধাতত্ত্ব প্রকটন করে ভক্তগণকে শ্রীরাধার প্রেমতত্ত্ব বুঝিয়ে দিলেন।🙏(একমাত্র শ্রীমন্মহাপ্রভুর কৃপা ছাড়া কোন ভক্তই শ্রীরাধাতত্ত্ব অনুভব করতে পারেন না)।তাতে ভক্তগণের হৃদয় সেই তত্ত্বের ধারণা করতে প্রস্তুত হলেন মাত্র, কিন্তু প্রকৃত তত্ত্বের পরিজ্ঞান তখনও জন্মিল না।ভক্তগণ শেষ লীলায় মহাপ্রভুর মহাভাব সাক্ষাৎ দর্শন করে শ্রীরাধা-প্রেমের মহিমা বুঝতে পারলেন।সমুদ্রের ঢেউও গণে গণে নির্ণয় করা যায়, কিন্তু শ্রীরাধা-প্রেম-সিন্ধুর বা সমুদ্রের ভাবতরঙ্গ-লহরীর গণনা একেবারেই অসম্ভব।তবুও কিছু ভাবের নাম উল্লেখ রসশাস্ত্রে দেখতে পাওয়া যায়। বোধহয় এই প্রাপঞ্চিক জগতের শ্রেষ্ঠ ভক্তগণের রসশাস্ত্রে লিখা উক্ত কিছু মাত্র ভাব হৃদয়ে ধারণা করারই অধিকার।*
*তাই পরম-শাস্ত্রবিদগণ উক্ত কিছুমাত্র ভাবের উল্লেখ করে গিয়েছেন। অষ্টসাত্ত্বিক ভাব। এস্থলে ভাবাদি সম্বন্ধেও কিঞ্চিৎ পর্য্যালোচনা করা যাচ্ছে। শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে শ্রীস্বরূপদামোদরের উক্তিতে লিখিত আছে=*
*🌹অষ্ট সাত্ত্বিক হর্ষাদি ব্যাভিচারী আর।*
*🌻শ্রীরায় রামানন্দ মহাশয়ও ঠিক এই কথায় বলেছিলেন=*
*🌹সুদ্দীপ্ত সাত্ত্বিক ভাব হর্ষাদি সঞ্চারী।*
*🌹এই সব ভাবভূষণ সব অঙ্গে করি।।*
*🌻শ্রীউজ্জ্বলনীলমণি গ্রন্থে সাত্ত্বিক প্রকরণ নামক প্রকরণে সাত্ত্বিকাদি ভাবের উদাহরণ আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু ভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থে দক্ষিণ বিভাগের তৃতীয় লহরীতেও সাত্ত্বিক ভাবের সবিস্তার আলোচনা লিখিত আছে।পাঠে জানা যায় স্তম্ভ, স্বেদ,রোমাঞ্চ,স্বরভঙ্গ,বেপথু, বৈবণ্য, অশ্রু ও প্রলয় এই আটটি সাত্ত্বিক ভাবের অন্তর্গত। সাত্ত্বিক ভাব কাকে বলে, তার প্রমাণ ভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থে এইরকম লেখা আছে যথা=*
*🌷কৃষ্ণসম্বিন্ধিভিঃ সাক্ষাৎ কিঞ্চিদ্বা ব্যবধানতঃ,*
*🌷ভাবৈশ্চিত্তমিহাক্রান্তং সত্ত্বমিত্যুচ্যতেবুধৈঃ।*
*🌷সত্ত্বাদস্যাৎ সমুৎপন্না যে ভাবা স্তেতু সাত্ত্বিকাঃ,*
*🌷স্নিগ্ধা দিগ্ধা স্তথা রুক্ষ্মা ইত্যমী ত্রিবিধামতাঃ।।*
*🌺অর্থ্যাৎ সাক্ষাৎ কৃষ্ণ সম্বন্ধীয় অথবা তাঁ অপেক্ষা কিঞ্চিৎ ব্যবধান বিষয়ক ভাবগুলি দ্বারা চিত্ত আকৃষ্ট হলে তাকে পন্ডিতগণ "সত্ত্ব" বলে নির্দেশ করেন।এই সত্ত্ব হতে উৎপন্ন ভাব গুলিকেই সাত্ত্বিক ভাব বলে। সাত্ত্বিক ভাব তিন প্রকার=স্নিগ্ধ,দিগ্ধ ও রুক্ষ্ম।অষ্টসাত্ত্বিক ভাবগুলি এই তিনপ্রকার লক্ষণে বিভক্ত।*
*ক্রমাগত*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌻🌹🌹🌹🌹🌹🌹
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৭)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
*🌼ভাব--বিচার🌼*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀এই অষ্ট সাত্ত্বিক ভাব ও এদের উৎপত্তির যে সব হেতু লিখিত হবে,তার সমস্তই মনস্তত্ত্বের বিশুদ্ধ সিদ্ধান্তসম্মত।যাঁরা প্রফেসার "বেন সাহেবের Mental and Moral Science অথবা Will and Emition নামক গ্রন্থ পাঠ করেছেন,তাঁরা অনায়াসেই বুঝতে পারবেন,বৈষ্ণবদের এই রসশাস্ত্রখানি কেমন বিশুদ্ধ,মনস্তত্ত্ব-বিজ্ঞানের উপর প্রতিষ্ঠিত।ইউরোপে অধুনা Psycho-Physiology নামক অধ্যাত্মশারীর বিদ্যার আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। কিন্তু এ দেশের রসশাস্ত্রে বহুকাল পূর্বে এই বিষয়ের সূক্ষ্ম তত্ত্ব সকলের সুসিদ্ধান্ত সংস্থাপিত হয়েছে।বিশেষ বিশেষ ভাবের সঙ্গে দৈহিক বিশেষ বিশেষ যন্ত্রাদির যে কি নিগূঢ় ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ আছে, আধুনিক শিক্ষিত লোকদের মধ্যে যাঁরা তার বিশেষ জ্ঞান দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক ভাবে লাভ করতে ইচ্ছুক,তাঁরা প্রফেসার বেইনের প্রাগুক্ত বা পূর্বোক্ত গ্রন্থের The instinctiv Play of feelings শীর্ষক প্রবন্ধের সাহায্যে এই সব তত্ত্ব পাঠ করতে পারেন।সাত্ত্বিক ভাবের প্রভাবে দৈহিকযন্ত্রের ক্রিয়া-বিশেষ দ্বারাই সাত্ত্বিক ভাবের প্রকাশ ও সঞ্চারাদি পরিজ্ঞাত হওয়া যায়।এই সব ভাবের প্রত্যেকটিই এক একটি মহাশক্তি।শক্তি কখনও অব্যক্তভাবে থাকতে পারে না।ভাবের অভ্যুদয়ে দেহে সেটির ক্রিয়া প্রকাশ পায়।কি ভাবে দেহে ভাব প্রকাশিত হয়,শ্রীভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থে সেটির দার্শনিক বৈজ্ঞানিকক্রম লিখিত হয়েছে। সেটি এইরকম=*
*🌷চিত্তং সত্ত্বীভবৎ প্রাণে ন্যস্যত্যাত্মানমূদ্ভটং,*
*🌷প্রাণস্তু বিক্রিয়াং গচ্ছেদ্দেহং বিক্ষোভয়ত্যলং,*
*🌷তদা স্তম্ভদয়োভাবা ভক্তদেহে ভবন্ত্যমী।*
*🌹অর্থ্যাৎ চিত্ত সত্ত্বগুণাবলম্বী হয়ে মনকে প্রাণে সমর্পণ করে,প্রাণেরও তখন বিকার জন্মে।বিক্রিয়াপ্রাপ্ত প্রাণ দেহকে আলোড়িত করে তোলে।এই কারণে ভক্ত-দেহে স্তম্ভাদি অষ্ট সাত্ত্বিক ভাবের সঞ্চার হয়। অষ্ট সাত্ত্বিক ভাবের নামগুলি কি?*
*🌷তে স্তম্ভঃ স্বেদঃ রোমাঞ্চাঃ স্বরভেদোহথঃ বেপথু বৈবণ্যমশ্রু প্রলয় ইত্যষ্টৌ সাত্ত্বিকাঃ স্মৃতাঃ।*
*❤অর্থ্যাৎ স্তম্ভ,স্বেদ বা ঘাম,রোমাঞ্চ,স্বরভঙ্গ,বেপথু,কম্প, বৈবণ্য,অশ্রু,প্রলয়(চেষ্টাশূন্যতা) এই অষ্ট সাত্ত্বিক ভাব। কি ভাবে স্তম্ভ স্বেদাদির উৎপত্তি হয় তার হেতু এইরকম বর্ণিত হয়েছে। তদ্ যথা=*
*🌷চত্বারি ক্ষ্মাদি ভূতানি প্রাণো জাত্ববলম্বেতে।*
*🌷কদাচিৎ স্বপ্রধানঃ সন্ দেহে চরতি সর্ব্বতঃ।।*
*🌷স্তম্ভং ভূমিস্থিতঃ প্রাণস্তনোত্যশ্রুজলাশ্রয়ঃ।*
*🌷তেজস্থঃ স্বেদবৈবর্ণ্যে প্রলয়ং বিয়দাশ্রিতঃ।।*
*🌷স্বস্তু এব ক্রমান্মন্দ মধ্য তীব্রত্বভেদভাক্।।*
*🌻অর্থ্যাৎ কখন কখন প্রাণ পৃথিবী জল তেজ ও আকাশ অবলম্বন করে থাকে এবং কখন কখন স্বীয় (নিজ) আশ্রয়ে দেহে বিচরণ করে।প্রাণ ভূমিস্থ হলে স্তম্ভ,জলাশ্রিত হলে অশ্রু, তেজস্থ হলে স্বেদ বা ঘাম,আকাশাশ্রিত হলে প্রলয় (মূর্চ্ছা) হয়ে থাকে।আর প্রাণ যখন বায়ুস্থিত হয় তখন মন্দত্ব,মধ্যত্ব ও তীব্রত্বানুসারে রোমাঞ্চ কম্প ও স্বরভেদ জন্মে।*
*🔷হর্ষ,ভয়,আশ্চর্য্য বিষাদ ও অমর্ষ হতে স্তম্ভের উৎপত্তি হয়।স্তম্ভ হতে বাক্যরোধ বা প্রায় কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া,নিশ্চলতা ও শূন্যত্বাদি ভাব প্রকাশ পায়।হর্ষ ভয় ও ক্রোধাদিজনিত শরীরের আর্দ্রতাই স্বেদ বা ঘাম নামে অভিহিত হয়। মনস্তত্বের আধুনিক প্রফেসর বেইনও তাইই বলেন যথা=The cutaneou PersPiration is liable to be acted on during strong feelings আশ্চর্য্য দর্শন,হর্ষ,উৎসাহ,ও ভয়াদি হতে স্বরভেদ হয়।গদগদ বাক্যকে স্বরভেদ কহে।বিত্রাস(সন্ত্রাস),ক্রোধ ও হর্ষাদি দ্বারা গায়ের যে চাঞ্চল্য হয় তাকে বেপথু বলে।বেপথু শব্দের অর্থ হল কম্প।বিষাদ ক্রোধ ও ভয়াদি হতে বর্ণের যে বিকার হয় তার নাম বৈবর্ণ্য। এতে মালিন্য ও কৃশতা জন্মে।এই বৈবর্ণ্যের অতি সূক্ষ্ম প্রকার ভেদ আছে,যথা=*
*🌷বিষাদে শ্বেতিমা প্রোক্তো ধৌসর্ষ্যং কালিমাক্বচিৎ।*
*🌷রোষেতু রক্তিমা ভীত্যা কালিকাক্বাপি শুক্লিমা।।*
*🌷রক্তিমা লক্ষ্যতে ব্যক্তো হর্ষোদ্রেকেহপি কুত্রচিৎ।*
*🌷অত্রা সর্বাত্রিকত্বেন নৈবাস্যোদাহৃতিঃকৃতা।।*
*🌳অর্থ্যাৎ বিষাদে শ্বেত ধূসর ও কোন কোন জায়গায় কালিমা প্রকাশ পায়,রোষে রক্তিমা,ভয়ে কালিমা, ও শুক্লিমা এবং অত্যন্ত হর্ষে রক্তিমা প্রকাশ পেয়ে থাকে।*
*🍀হর্ষ ক্রোধ ও বিষাদাদি দ্বারা বিনা প্রযত্নে নয়নে যে জলোদ্গম হয় তার নাম অশ্রু।প্রফেসর বেইন বলেন= Grief and excessive joy cause the liquid to be secreted and poured out. A strong sensibility lodges in the lachrymal organ-- the proof of a high cerebral cannection.*
*🌲রসশাস্ত্রবিদেরা অশ্রুর ও সূক্ষ্ম প্রকার ভেদ নিরূপিত করেছেন, যথা=*
*🌷হর্ষজেহশ্রুণি শীতত্ব মৌষ্ণ্যং রোষাদি সম্ভবে।*
*🌷সর্বত্র নয়নক্ষোভ রাগ সংমার্জ্জনাদয়ঃ।।*
*🔴অর্থ্যাৎ হর্ষজনিত অশ্রুতে শীতলত্ব এবং ক্রোধাদি জনিত অশ্রুতে উষ্ণত্ব অনুভূত হয়।কিন্তু সবরকম অশ্রুতেই নয়নচাঞ্চল্য ও রক্তিমা ও সম্মার্জনাদি দেখা যায়। সুখ দুঃখ নিবন্ধন চেষ্টা ও জ্ঞানশূন্যতার নাম প্রলয়।এই প্রলয়ে ভূমিনিপতন প্রভৃতি অনুভাব সব প্রকাশ পেয়ে থাকে।শ্রীভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থে এই সব কথার প্রমাণ কথা লেখা আছে।*
*🔵এই অষ্ট সাত্ত্বিক ভাবের গোপন করার চেষ্টাও দেখা যায়।এই ভাব সব যদি স্পষ্টভাবে প্রকাশ না পায়, অথবা তাদের গোপন সম্ভবনীয় হয় তাহলে সেটিকে ধূমায়িতা বলে।ধূমায়িতা ভাব ব্রজভাবিনীদের মধ্যে দেখা যায় না।ধূমায়িতার লক্ষণ এই যে =*
*🌷অদ্বিতীয়াঃ অমীভাবা অথবা সদ্বিতীয়কাঃ।*
*🌷ঈষদ্ব্যক্তা অপহ্নোতুং শক্যা ধূমায়িতামতাঃ।।*
*🌹ভাবার্থ দুই বা তিন ভাব এককালীন প্রকট অবস্থা প্রাপ্ত হলে সেটি যদি অতি কষ্টে গোপন করা যায় তবে সেটিকে জ্বলিত বলে, যথা=*
*🌷দ্বৌ বা ত্রয়ো বা যুগপদযান্তঃ সুপ্রকটাং দশাম্।*
*🌷শক্যাঃ কৃচ্ছেণ নিহ্নোতুং জ্বলিতা ইতি কীর্তিতাঃ।।*
*🌻পাশ্চাত্য শারীর বিজ্ঞানে Law of Inhibition বা ক্রিয়া-প্রতিরোধের যে নিয়ম আছে সেই নিয়মের মর্ম অভিজ্ঞান জন্মিলে ধূমায়িতা ও জ্বলিতার ক্রিয়াতত্ত্বের সাধারণ জ্ঞান জন্মে। কিন্তু ভাবের বেগাতিশয্যে কোনক্রমেই ভাবের বাহ্য প্রকাশ সম্বরণ করে রাখা যায় না।সেই অবস্থার বিশেষ বিশেষ নাম রসশাস্ত্রে উল্লিখিত আছে,তদ্ যথা=*
*🌷প্রৌঢ়াস্ত্রিচতুরা ব্যক্তিং পঞ্চবা যুগপদ্গতঃ।*
*🌷সম্বরিতু মশক্যাস্তে দীপ্তা ধীরৈ রুদাহৃতা।।*
*🌹অর্থ্যাৎ তিন-চার বা পাঁচটি প্রৌঢ় ভাব এককালীন উদয় হলে যদি তাদের সম্বরণ করা অসম্ভব হয় তবে সেটি দীপ্তা নামে অভিহিতা হয়ে থাকে। আবার পাঁচ-ছয় অথবা সমস্ত ভাব যদি এককালীন উদিত হয়ে প্রেমের পরমোৎকর্ষায় আরূঢ়(জন্ম) হয়, তাহলে তাকে উদ্দীপ্তা বলে।*
*ক্রমাগত*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৮)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
*🌹ভাব---বিচার🌹*
*********************
*🍀পাঁচ ছয় বা সমস্ত ভাব যদি এককালীন উদিত হয়ে প্রেমের পরম উৎকর্ষায় আরূঢ় হয়,তাহলে তাকে উদ্দীপ্তা বলে,যথা=*
*🌷একদা ব্যক্তিমাপন্নাঃ পঞ্চবা সর্বএববা।*
*🌷আরূঢ়াঃ পরমোৎকর্ষমুদ্দীপ্তা ইতি কীর্তিতাঃ।।*
*🌺আবার সাত্ত্বিক ভাব সব মহাভাবে পরম উৎকর্ষ পেয়ে থাকে।এই উদ্দীপ্ত ভাব সবই মহাভাবে সুদ্দীপ্ত নামে কথিত হয়।এই জন্য ভক্তিরসামৃতসিন্নুকার বলেন=*
*🌷উদ্দীপ্তা এব সুদ্দীপ্তা মহাভাবে ভবন্ত্যমী।*
*🌷সর্বএব পরাং কোটিং সাত্ত্বিকাযত্র বিদ্রতি।।*
*🌹এই শ্লোকটি শ্রীপাদ রূপ গোস্বামীর, আবার শ্রীউজ্জ্বল নীলমণিতেও তিনি বলেছেন=*
*🌷উদ্দীপ্তানাং ভিদা এব সূদ্দীপ্তা সন্তি কুত্রচিৎ।*
*🌷সাত্ত্বিকাঃ পরমোৎকর্ষ কোটিমত্রৈব বিদ্রতি।।*
*🌻এটিই অষ্ট সাত্ত্বিক ভাবের বিকৃতি।ভাবের প্রকৃতি ও বিকৃতি জ্ঞান ভাববিচারের প্রধান সাধন।এই সব বিষয়ের সম্যক্ জ্ঞান না থাকলে বৈষ্ণব সাহিত্যে কিছুমাত্র প্রবেশ অধিকার জন্মে না। এমন কি বৈষ্ণবের নিত্য ও অবশ্য পাঠ্য শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থটিও বোধগম্য হন না সুতরাং এই সব বিষয়ের পর্য্যালোচনা আমাদের কাছে খুবই সমীচীন(যোগ্য বা উপযুক্ত )বলে বোধ হচ্ছে।আমরা আগে অষ্ট সাত্ত্বিক ভাবের কথা বলেছি।ভক্তগণের মধ্যে কখন কখন শুদ্ধ সত্ত্বের উদ্গম না হয়েও সাত্ত্বিক ভাবের আভাস দেখা যায়। সেটির নাম সাত্ত্বিকাভাস।এই সাত্ত্বিকাভাস চার প্রকার,যথা=*
*(১)অনুরক্তির ভাবচ্ছায়ায় রত্যাভাস,*
*(২)হর্ষ বিস্ময়াদি দ্বারা চিত্ত আক্রান্ত হলে স্বত্ত্বাভাস,*
*(৩)হর্শবিস্ময়াদি যখন প্রকৃতপক্ষে অন্তরকে স্পর্শ করে না,কেবল বাহিরকে স্পর্শ করে,তখন সেটির নাম নিস্বত্ত্ব,*
*(৪)বিরোধভাব হতে যে দ্বেষের বা হিংসার উদ্ভব হয় তার নাম প্রতীপ। এই চার প্রকার সত্ত্বাভাসের দৃষ্টান্ত দেওয়া হচ্ছে।*
*(১)বারাণসী নিবাসী কোন ব্যক্তি সন্ন্যাসী সভায় হরিগুণ গান করতে করতে আনন্দিত হলেন, এবং অশ্রুজলে তাঁর গালদুইটি ভিজে গেল। এটিই রত্যাভাস।দেশ ও পাত্রের বিচারে এখানে প্রকৃত প্রেমময় শ্রীভগবানের কোনও হেতু নাই অথচ রতির এক প্রকার আভাস এখানে দেখা গেল।এটিই রত্যাভাস।সত্ত্বাভাসের লক্ষণ এই যে =*
*🌷মুদ্বিস্মায়াদেবাভাসঃ প্রোদ্যন জাত্যাশ্লথে হৃদি।*
*🌷সত্ত্বাভাস ইতি প্রোক্তঃ সত্ত্বাভাসভব স্ততঃ।।*
*🌳অর্থ্যাৎ ভাবাক্রান্ত চিত্ত স্বভাবতই শ্লথ বা ঢিলা বা শিথিল।এই ঢিলা চিত্তে হর্ষ ও বিস্ময়াদির যে আভাস প্রকাশ পায় সেটিই সত্ত্বাভাস নামে অভিহিত।প্রকৃত হর্ষ ও প্রকৃত বিস্ময়াদির শক্তি ও ক্রিয়ার সঙ্গে এই আভাসের সাদৃল্য বা মিল আছে মাত্র কিন্তু এটির শক্তি ও কাজ অতি ক্ষীণ বা খুবই সামান্য।এটির একটি দৃষ্টান্ত, কোন পুরাণ পাঠক বলেছেন=*
*🌷মুকুন্দচরিতামৃত প্রসর বর্ষিণস্তেময়া,*
*🌷কথং কথন চাতুরা মধুরিমা গুরুর্বর্ণ্যতাম্।*
*🌷মুহূর্ত্ত মতদর্থিনো বিষয়িনোহপি যস্যাননা,*
*🌷ন্নিশম্য বিজয়ং প্রভো দরতি বাষ্পধারামমী।।*
*🌻অর্থ্যাৎ হে মুকুন্দ,তুমি চরিতামৃতবর্ষী।তুমি চরিতামৃত রচনা করেছ।তোমার লীলা মাহাত্ম্যের মাধুর্য্য কি করে বর্ণনা করব?যারা একান্ত বিষয়ী,লীলারস শোনার যাদের অধিকার নাই,এমন লোকেরাও আমার মুখে তোমার লীলা শুনে অঝোর নয়নে রোদন করছে।*
*🌹তাৎপর্য্য এই যে,বিষয়ী লোকের হৃদয় বিষয়াসক্ত,যারা ধন সম্পত্তি ছাড়া অন্য কিছু বুঝে না। সুতরাং রজঃ ও তমোগুণে পূর্ণ।এমন হৃদয়ে বিশুদ্ধ সত্ত্ব-উদয়ের কোনও সম্ভাবনা নাই,তথাপি শ্রীকৃষ্ণলীলা আস্বাদনে তাদের যে নয়নজল আসে,সাত্ত্বিক লক্ষণের চিহ্ন দেখা যায়,সেটি প্রকৃত সাত্ত্বিক বিকার না,সত্ত্বাভাস মাত্র।লীলার স্বাভাবিক গুণেই এইরকম সত্ত্বাভাসের উদয় হয়ে থাকে। এখন নিঃসত্ত্বের লক্ষণ বলি,যথা=*
*🌷নিসর্গ পিচ্ছলস্বান্তে তদভ্যাস পরেহপিচ।*
*🌷সত্ত্বাভাসং বিনাপি স্যাৎ ক্বপ্যশ্রুপুলকাদয়ঃ।।*
*🌻অর্থ্যাৎ স্বভাব বশত বা অভ্যাস বশত পিচ্ছিল (ফেনাভাত খাওয়ার) হৃদয় বিশিষ্ট লোকের সত্ত্বাভাস ব্যতিরেকেও কোন কোন জায়গায় অশ্রু-পুলকাদি দেখা যায়। এর তাৎপর্য্য এই যে,যার উপর কোমল,অথচ ভিতর বা অন্তর কঠিন, এমন হৃদয় বিশিষ্ট লোককেই পিচ্ছিলহৃদয়বিশিষ্ট লোক বলে।ঢিলা হৃদয় সেরকম না।শ্লথ বা ঢিলা হৃদয়ে স্বভাবতই অন্তরে বাইরে কোমল। কিন্তু পিচ্ছিলহৃদয়বিশিষ্ট লোক সাত্ত্বিক ভাব দেখাবার জন্য এক রকম অভ্যাস করে,এই অভ্যাসের ফলে এরা অশ্রু-পুলকাদি প্রকাশ করে সাত্ত্বিক ভাবের অভিনয় করে মাত্র, বাস্তবিক এরা নিঃসত্ত্ব। কিন্তু বাইরে যার কোমলতা না থাকে অভ্যাস করেও সে সত্ত্বাভাস দেখাতে পারে না।এই জন্যই পিচ্ছিলহৃদয়বিশিষ্ট নিঃসত্ত্ব ব্যক্তির দেহেও সত্ত্বাভাসের অলীক ও কল্পিত অভিনয় দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু প্রকৃত সত্ত্বাভাস এটি অপেক্ষা অনেক গুণে শ্রেষ্ঠ। স্বভাবত যাদের মন শিথিল বা পিচ্ছল, কীর্তন-আসরে ও পাঠাদি আসরে প্রায়শঃই তাদের সত্ত্বাভাস দেখা যায়, যথা=*
*🌷প্রকৃত্যা শিথিলং যেষাং মনঃ পিচ্ছিলমেববা।*
*🌷তেস্মেব সাত্ত্বিকাভাসঃ প্রায় সংসদিজায়তে।।*
*🌻ভগবদ্-গুণ-কীর্তনাদি সময়ে কোন কোন ব্যক্তির পুলক ও নয়নে জল প্রভৃতি যে ভাবের উদয় হয়, তা সত্ত্বাভাস বা নিঃসত্ত্ব এই উভয় হেতু হতেই উৎপন্ন হতে পারে।সত্ত্বাভাস দেখানোর জন্য কেউ কেউ এমন অভ্যাসিত, যে তার সেই ভাব দেখে জনসাধারণের হৃদয়ে প্রকৃতই সেটির বিশুদ্ধ সাত্ত্বিক বিকারের বোধগম্য হয় বা বিশ্বাস হয়। কিন্তু সেইরকম বিষয়ীর হৃদয়ে সত্ত্বাভাসের এমন কি সত্ত্বাভাসের ভাবনাও হওয়া অসম্ভব।বলা বাহুল্য যে অভ্যাসবশে নিঃসত্ত্ব (ভক্তিহীন বলা যেতে পারে,জায়গা বিশেষে নিজের ভাব দেখান)ব্যক্তিও ভক্তিরসের এই সব ভাব অভিনয় করে থাকে। অন্য এক রকম আভাস আছে তার নাম প্রতীপ।শ্রীকৃষ্ণের শত্রু প্রভৃতিতে ক্রোধ ভয়াদি দ্বারা যে সাত্ত্বিকাভাস হয়,তাকে প্রতীপ বলে। প্রতীপ অপেক্ষা নিঃসত্ত্ব ভাল,নিঃসত্ত্ব অপেক্ষা সাত্ত্বিকাভাস ভাল,সাত্ত্বিকাভাস হতে রত্যাভাস ভাল।প্রকৃত ভক্তের মধ্যে আভাস নাই।বিষয়ী ব্যক্তিগণের হৃদয়েই ভাবাভাসের জন্ম হয়। সত্ত্বাভাস সম্বন্ধে আলোচনার কেবল এই মাত্র প্রয়োজন যে এত দ্বারা প্রকৃত সাত্ত্বিক বিকার,প্রকৃত প্রেমের দ্বারা যে বিকার হয়, অভ্যাসজধিত বিকার ও কাল্পনিক বিকার-অভিনয়-বিনির্ণয় করার সুবিধা ঘটে।অর্থ্যাৎ কারা অভিনয় করছে, আর কারা অভিনয় করছে না।সাত্ত্বিক বিকার ও সাত্ত্বিক আভাস সম্বন্ধে যৎসামান্য বলা হল।*
*🌳সাহিত্য দর্পণাদি গ্রন্থের এই প্রকরণের সঙ্গে ভক্তিরসামৃতসিন্ধুর এই প্রকরণের বিশেষ একটু পার্থক্য আছে।ভক্তিরস সাহিত্যদর্পণকার বলেন=*
*🌷বিকারাঃ সত্ত্বসম্ভূতাঃ সাত্ত্বিকাঃ পরিকীর্তিতাঃ।*
*🌷সত্ত্বমাত্রোদ্ভবত্বাত্তে ভিন্না অপ্যনুভাবতঃ।।*
*🌹সত্ত্বমাত্র হতে উদ্ভুত (জন্ম)সত্ত্বসম্ভূত বিকারই সাত্ত্বিক বিকার।একথা সকলেই এককথায় স্বীকার করবেন সন্দেহ নাই।দর্পণকার নিজেও সত্ত্বকে আন্তর ধর্ম বলেই উল্লেখ করেছেন। কিন্তু স্তম্ভাদি সাত্ত্বিক ভাব যে শ্রম ও পীড়া প্রভৃতি দ্বারা উৎপন্ন হয় এটিও লিখেছেন।এই যুক্তি দর্শন-বিজ্ঞান-সম্মত বলে আমাদের কাছে বোধগম্য হল না। শ্রম দ্বারা ঘামের উৎপত্তি হয়,পীড়া দ্বারা ঘামেরজন্ম হয় এটি স্বীকার্য্য। কিন্তু আন্তর ধর্মের প্রভাব বশতঃ দেহে এইসব ক্রিয়ার প্রকাশই এই সাত্ত্বিক বিকারের লক্ষ্য। রোগের দ্বারা যে স্তম্ভাদির জন্ম হয় এ প্রসঙ্গে তার উল্লেখ করা অপ্রাসঙ্গিক ও আতিদেশিক।শ্রমাদির দ্বারা যে ঘামের জন্ম হয় সেটি আন্তর (মনোগত)ধর্মসম্ভূত না,সেটি জড়ীয় শক্তির কাজমাত্র।সেটিতে মনোগত ধর্মের প্রভাব আদৌ সূচিত হয় না। সুতরাং সাহিত্যদর্পণের এই উক্তি আমাদের কাছে উপাদেয় বলে বোধ হল না।* *🌻আগামী পর্বে ব্যভিচারী ভাব লিপিবদ্ধ হবে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৯)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
*🙏ভাব----বিচার🙏*
*🍁ব্যভিচারী-ভাব🍁*
⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐
*🌺বৈষ্ণবগণের উপাস্য শ্রীভগবান্ রসিকশেখর রসরাজ। সুতরাং পরমানন্দময় রসের বিষয় না জানলে বৈষ্ণবের ধর্ম-সাহিত্য ও বৈষ্ণব দর্শনের প্রকৃত মর্মের উপলব্ধি হয় না।শ্রীমন্মহাপ্রভু শেষ লীলায় যে মহারসের অলৌকিকী লীলা প্রকটন করেন,কেবল শ্রীস্বরূপ-দামোদর ও শ্রীরায় রামানন্দ এই দুই মহা ভাগ্যবান প্রিয় পার্ষদ সে লীলার আস্বাদ পেয়েছিলেন।ইঁনারা উভয়েই সে ভাব-তরঙ্গে ভেসে গিয়েছিলেন। রসিকশেখর শ্রীভগবান দিবারাত্রি যে ভাব-সাগরে ডুবে থাকতেন,যে রসে তাঁর চিত্ত বিভোর থাকত,হয়ত জগতের জীবের পক্ষে সেইরকম উপাসনা সম্ভবপর না হলেও শ্রেষ্ঠতম আদর্শ।সেই লীলা পাঠে,সে লীলার অনুধ্যানে,সে লীলার পরিচিন্তনেও জীব কৃতার্থ হতে পারেন। কিন্তু রসশাস্ত্রের কিঞ্চিৎ মর্ম শিক্ষা না হলে সেই মহালীলাসাগরে বিন্দুমাত্রও স্পর্শ করা যায় না।আমার মত বিষয়াসক্ত জড়ীয় কণাবৎ জীবের পক্ষে সেই চিন্ময় রসতত্ত্বের সামান্যটুকু জ্ঞানলাভ করা বতর্মান অবস্থায় একান্তই অসম্ভব।জীবের ভাবে শ্রীমন্মহাপ্রভু স্বয়ং এ সম্বন্ধে যে দৈন্য-উক্তি করেছেন তা এই=*
*দূরে শুদ্ধ প্রেম বন্ধ,কপট প্রেমের গন্ধ,*
*সেহ মোর কৃষ্ণ নাহি পায়।*
*তবে যে করি ক্রন্দন,স্ব সৌভাগ্য প্রখ্যাপন,*
*করি,ইহা জানিহ নিশ্চয়।।*
*যাতে বংশীধ্বনি সুখ,না দেখি সে চাঁদমুখ,*
*যদ্যপি সে নাহি আলম্বন।*
*নিজ দেহে করি প্রীতি,কেবল কামের রীতি,*
*প্রাণ কীটের করয়ে ধারণ।।*
*কৃষ্ণপ্রেম সুনির্মল,যেন শুদ্ধ গঙ্গাজল,*
*সেই প্রেমে অমৃতের সিন্ধু।*
*নির্মল সে অনুরাগে,না লুকায় অন্য দাগে,*
*শুক্লবস্ত্রে যৈছে মসিবিন্দু।।*
*শুদ্ধ প্রেমে সুখসিন্ধু,পাই তার এক বিন্দু,*
*সেই বিন্দু জগৎ ডুবায়।*
*কহিবার যোগ্য নয়,তথাপি বাউলে কয়,*
*কহিলে বা কেবা পাতিয়ায়।।*
*🍀শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী লিখেছেন=*
*এই মত দিনে দিনে,স্বরূপ রামানন্দ সনে,*
*নিজ ভাব করেন বিদিত।*
*🌹চিদানন্দ রসময় শ্রীকৃষ্ণের চরণ লাভ যে অকপট প্রেমরস-সেবার একমাত্র ফল,সেই রসের সামান্য মর্ম পরিজ্ঞানের জন্য যত্ন করা বৈষ্ণব মাত্রেরই একান্ত কর্তব্য, এবং রসময় শ্রীগৌরাঙ্গ লীলার বিন্দুমাত্র উপলব্ধির জন্যও বৈষ্ণবদের পক্ষে এই রসশাস্ত্রের আলোচনা প্রয়োজনীয়। এর আগে সাত্ত্বিক ভাব ও তাঁর ভাবাবেশের কথা কিছু আলোচনা হয়েছে।🌹এখন ব্যভিচারী ভাবের কথা আলোচনা করব।ব্যভিচারী ভাবের আলোচনা করতে হলে,স্থায়ী ভাবের বিষয় আগে জানা কর্তব্য।কেন না,ব্যভিচারের লক্ষণ বলতে হলেই স্থায়ী-ভাবের কথা উল্লেখ করতে হয়।যথা সাহিত্য দর্পণে=*
*🌷বিশেষাদাভিমুখ্যেন চরণাৎ ব্যভিচারিণঃ।*
*🌷স্থায়িন্যুন্মগ্ন নির্ম্মগ্নাস্ত্রয় স্ত্রিয়শচ্চ তদ্ভিদাঃ।।*
*🌲কখন প্রাদুর্ভূত(প্রকাশিত),কখন বা তিরোহিত এই প্রকারে যে সব ভাব স্থায়ী ভাবের অভিমুখে বিশেষভাবে অভিমুখ হয়ে থাকে তারাই ব্যভিচারী ভাব।🔴বি+অভি+চর--ণিন্=ব্যভিচারী। অর্থ এই যে বি--বিশেষভাবে,অভি--অভিমুখে, অর্থ্যাৎ বিশেষ ভাবে স্থায়ী ভাবের অভিমুখে গতিশীলতা আছে যে সব ভাবের তারাই ব্যভিচারী ভাব। সুতরাং স্থায়ীভাব কাকে বলে, আগে জানা দরকার।সাহিত্যদর্পণকার স্থায়ী ভাবের যে লক্ষণা করেছেন তা এই=*
*🌷অবিরুদ্ধা বিরুদ্ধা বা যংতিরোধাতুমক্ষমাঃ।*
*🌷আস্বাদঙ্কুরকন্দোহসৌ ভাবো স্থায়ীতিসম্মতঃ।।*
*🌻অর্থ্যাৎ বিরুদ্ধ ভাবই হোক আর অবিরুদ্ধ ভাবই হোক,কোন প্রকার ভাবই যাকে তিরোহিত করতে পারে না সেইরকম আস্বাদাঙ্কুর কন্দস্বরূপ ভাবই স্থায়ী ভাব নামে অভিহিত। শ্রীভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থে পাওয়া যায় =*
*🌷অবিরুদ্ধান বিরুদ্ধাংশ্চ ভাবান্ যো বশতাংনয়ন।*
*🌷সুরাজেব বিরাজেত স স্থায়ীভাব উচ্যতে।।*
*🌹অর্থ্যাৎ হাসাদি অবিরুদ্ধ ভাব এবং ক্রোধাদি বিরুদ্ধ ভাব এই উভয় জাতীয় ভাব গুলিকে নিজ বশে এনে যে ভাব মহারাজের মত বিরাজ করে,তাইই স্থায়ী ভাব। শ্রীভক্তিরসামৃতসিন্ধুর স্থায়ী ভাবের যে বিশিষ্টতা আছে তা এই যে,শ্রীকৃষ্ণ-বিষয়ে রতিকেই ভক্তিরসামৃতসিন্ধু স্থায়ী ভাব বলেন। যাইহোক, স্থায়ী ভাবের আলোচনা সময়ান্তরে করা যাবে।এখন যে সব ভাব কখন আবির্ভূত কখনবা তিরোহিত হয়ে এই স্থায়ী ভাবের অভিমুখে বিশেষভাবে অভিমুখ হয় সেই সব ব্যভিচারী ভাবের কথায় আগে বলা যাচ্ছে। ভক্তিরসামৃতসিন্ধু বলেন=*
*🌷অথোচ্যন্তে ত্রয়স্ত্রিশদ্ভাবা যে ব্যভিচারিণঃ।*
*🌷বিশেষণাভিমুখ্যেন চরন্তি স্থায়িনং প্রতি।।*
*🌷বাগঙ্গ সত্ত্বসূচ্যা যে জ্ঞেয়াস্তে ব্যভিচারিণঃ।*
*🌷সঞ্চারয়ন্তি ভাবস্য গতিং সঞ্চারিণোহপিতে।।*
*🌷উন্মজ্জন্তি নিমজ্জন্তি স্থায়িন্যমৃতবারিধৌ।*
*🌷উর্ম্মিবদ্বর্দ্ধয়ন্ত্যেনং যান্তিতদ্রূপতাঞ্চতে।।*
*🌻অর্থ্যাৎ স্থায়ী ভাবের প্রতি যে সব ভাব বিশেষভাবে অভিমুখ হয়,সেই সব ভাবই ব্যভিচারী ভাব।এরা কথা,ভ্রু-নেত্রাদি অঙ্গ এবং সত্ত্বোৎপন্ন ভাব দ্বারা প্রকাশিত হয়ে থাকে।এই ব্যভিচারী ভাব সব ভাবের গতি সঞ্চার করে বলিয়া এদেরকে সঞ্চারী ভাবও বলা যায়।স্থায়ী ভাব অমৃত-মহাসাগর।সঞ্চারী বা ব্যভিচারী সব সেটির তরঙ্গ সমান।উন্মজ্জন ও নিমজ্জন (উত্থান ও পতন) ক্রমে এরা এই আনন্দ-উচ্ছাস মহাসাগরকে সততই বিক্ষোভিত ও তরঙ্গায়িত করে তোলে এবং এরাও স্থায়ী ভাবের রূপ প্রাপ্ত হয়।এই ব্যভিচারী ভাব ৩৩টি।*
*ক্রমাগত*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🪔🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫০)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
*🙌ভাব-----বিচার🙌*
*🙌ব্যভিচারী ভাব🙌*
▪▪▪▪▪▪
*🍀এই ব্যভিচারী ভাব তেত্রিশটি, যথা শ্রীভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থে=*
*নির্ব্বেদোহথ বিষাদো দৈন্যং গ্লানিশ্রমৌচমদগর্ব্বৌ,*
*শঙ্কা ত্রাসাবেগে উন্মাদাপস্মৃতি তথাব্যাধিঃ,*
*মোহো মৃতিরালস্যং জাড্যং ক্রীড়াবহিত্থা,*
*স্মৃতিরথ বিতর্ক চিন্তা মতিধৃতরো হর্ষ উৎসুকত্ত্বঞ্চ,*
*ঔগ্র্যামর্ষা সূয়শ্চপল্যঞ্চৈব নিদ্রাচ,*
*সুপ্তির্ব্বোধ ইতীমে ভাবা ব্যভিচারিণঃ সমখ্যাতাঃ।*
*🌻অর্থ্যাৎ নির্ব্বেদ,(আত্মগ্লানি)বিষাদ(মনোদুঃখ), দৈন্য (অত্যন্ত বিনম্র ভাব),গ্লানি (মলিন হওয়া ),শ্রম(পরিশ্রম),মদ(মত্ত হওয়া), গর্ব্ব(অহঙ্কার)শঙ্কা(ভীতি),ত্রাস (ভয়), আবেগ(উৎকন্ঠা),উন্মাদ (পাগল), অপস্মৃতি,ব্যাধি,মোহ,মৃত্যু,আলস্য,জাড্য(জড়),ক্রীড়া,অবহিত্থা(মনের ভাব গোপন বা আকার গোপন,স্মৃতি,বিতর্ক,চিন্তা,মতি,ধৃতি,হর্ষ,উৎসুকতা,উগ্রতা,অমর্ষ,অসূয়া(অনাদর করা )চপলতা,নিদ্রা, সুপ্তি ও জাগরণ এরাই ব্যভিচারী ভাব।*
*🍀যারা প্রচলিত ছন্দে এই ভাবগুলি কন্ঠস্থ করতে ইচ্ছা করেন তাঁরা সাহিত্যদর্পণের পদটিও অভ্যাস করতে পারেন,তদ্ যথা=*
*নির্ব্বেদাবেগ দৈন্যশ্রমমদজড়তা ঔগ্র্যমোহৌ বিবোধঃ।*
*স্বপ্নাপস্মারগর্ব্বা মরণ মলসতামর্ষ নিদ্রাবহিত্থাঃ।।*
*ঔৎসুক্যোন্মাদ শঙ্কাঃ স্মৃতিমতিসহিতা ব্যাধিসন্ত্রাসলজ্জা,*
*হর্ষাসূয়ার্বিষাদাঃ সধৃতিচপলতাগ্লানি চিন্তা বিতর্কাঃ।*
*🌻কিন্তু শ্রীউজ্জ্বলনীলমণি শ্রীব্রজগোপীদের ব্যভিচারী ভাবের বর্ণনে লিখেছেন গোপীদের ব্যভিচারী ভাবে ঔগ্র বা আলস্য নাই।টীকাকার পূজ্যপাদ শ্রীজীব গোস্বামী ঔগ্র ও আলস্য শব্দের যে ব্যাখ্যা করেছেন তার মর্ম এই--হিংসাকর চন্ডতার নাম ঔগ্র, আর শক্তি সত্ত্বেও কাজ করার অনুম্মুখতাই আলস্য।এখন নির্বেদ লক্ষণ বলা যাচ্ছে, যথা শ্রীভক্তিরসামৃতসিন্ধুৌ=*
*🌷মহার্ত্তি বিপ্রযোগের্ষা সদ্বিবেকাদি কল্পিতং।*
*🌷স্বাবমাননমেবাত্র নির্ব্বেদ ইতি কথ্যতে।।*
*🌷অশ্রু চিন্তাশ্রু বৈবর্ণ্য দৈন্য নিশ্বাসিতাদয়াঃ।*
*🌻অর্থ্যাৎ মহাদুঃখ,বিপ্রযোগ, ঈর্ষা, অকর্তব্যের করণ এবং কর্তব্যের অকরণ জন্য শোচনা এবং নিজ অপনোদন(সরিয়ে ফেলে) এই সব কারণ হতে নির্বেদ উপস্থিত হয়।এই নির্বেদ হতে চিন্তা,অশ্রু,বৈবর্ণ্য,দৈন্য ও দীর্ঘনিশ্বাসাদি হয়ে থাকে।*
*🌹মহাদুঃখ নিবন্ধন নির্বেদের একটি দৃষ্টান্ত শুনুন=শ্রীকৃষ্ণ কালিয় নাগকে দমন করবার জন্য কালিয়হ্রদে গিয়ে কদম্ববৃক্ষের উপরে উঠে ঝাঁপ দিলেন।এই সংবাদ রটে গেলে,অনিষ্ট চিন্তা করে গোপীকাকুল আকুল হয়ে যশোদার কাছে গিয়ে তাঁকে বললেন, যশোদে!আর কেন আমরা এ পাপদেহ ভার বহন করব? এসো আমরাও এই বিষময় কালিয় হ্রদে ঝাঁপ দিয়ে নিজেদের দেহ বিনাশ করি।*
*🌺বিরহে নির্বেদ=*
*মাধব মাধুর্য্য হীন,বৃন্দাবন পুষ্পহীন,*
*বিশীর্ণ নীরস বৃন্দাবন।*
*কোথারে প্রাণের ভাই,কোথা কৃষ্ণ রে কানাই,*
*দেখা দিয়ে রাখরে জীবন।।*
*ব্যাকুল বিরহ তান,গাইয়া বিরহ গান,*
*সুবল মধুপ গেল চলি।*
*কৃষ্ণহীন বৃন্দাবনে,শ্রীকৃষ্ণ বিরহী জনে,*
*জীবন কুসুম পড়ে টলি।।*
*🔴ঈর্ষা হেতু নির্বেদ= সত্যভামা বললেন, "কৃষ্ণ রুক্মিণীর প্রশংসা শুনা অপেক্ষা আমার মৃত্যুই ভাল।*
*🔵সদ্বিবেক হেতু নির্বেদ=হে ভগবন্! রাজ্য ও ধনগর্বে আমি শ্রীমদান্ধ হয়েছি। আমার জীবনে ধিক্।*
*শ্রীউজ্জ্বল নীলমণি গ্রন্থে নির্বেদের দৃষ্টান্ত পায়।টীকাকার পূজ্যপাদ শ্রীজীব গোস্বামী বলেন,নির্বেদ অর্থ স্বাবমানন,শ্রীপাদ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী মহাশয় বলেন, নির্বেদ আত্মধিক্কার।বিদগ্ধমাধব হতে মহার্ত্তিজনিত নির্বেদের একটি দৃষ্টান্ত উদ্ধৃত হচ্ছে, যথা=*
*🌻সংস্কৃত লেখা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে না,বাংলায় কিছু পয়ার আছে তা আস্বাদন করুন।*
*🌹🌹🌹সখী,*
*🌷যাহার কোমল কোল-সুখ-আশে।*
*🌷ত্যজি গুরু লাজ,বাস কুঞ্জবাসে।।*
*🌷তোরা সহচরী,পরাণ দোসরী।*
*🌷কতবা ভোগিলি সে যাতনা-বিষে।।*
*🌷ছাড়ি গৃহকর্ম,ছাড়ি সতী ধর্ম।*
*🌷কলঙ্কেতে ঝাঁপ দিনু অনায়াসে।।*
*🌷এবে সেই শ্যাম,হায় হলো বাম*।
*🌷ধিক্ পাপ প্রাণ আছে দেহবাসে।।*
*🌼বিরহে নির্বেদ,উদ্ধব সন্দেশে=*
*🌷ন ক্ষোদীয়ানপি সখি মম প্রেমগন্ধো মুকুন্দে।*
*🌷ক্রন্দন্তীং মাং নিজ সুভাগবতা খ্যাপনায়প্রতীহি।।*
*🌷খলদ্বংশী বলয়িনমনালোক্য তদ্ বক্ত্রবিম্বং।*
*🌷ধ্বস্তালম্বা যদহমহহ প্রাণকীটং বিভর্ম্মি।।*
*🌹শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে শ্রীমন্মহাপ্রভুর বদন-পঙ্কজ-নিঃস্যন্দিত পদ্যমকরন্দের আনন্দ প্রবাহটিও এই রকম যথা=*
*🌷ন প্রেমগন্ধোহস্তি দরাপি মে হরৌ।*
*🌷ক্রন্দামি সৌভাগ্যভরং প্রকাশিতুং।।*
*🌷বংশীবিলাসাননলোকনং বিনা*।
*🌷বিভর্ম্মি যৎ প্রাণপতঙ্গকান্ বৃথা।।*
*🌻উপরের উক্ত পদ্যটি মহাপ্রভুর পদ্যের পুনরাবৃত্তি মাত্র।মহাপ্রভু নিজেই বুঝি গ্রন্থকারের হৃদয়ে প্রবেশ করে তাঁর নিজ ভাব উক্ত কবির হৃদয়ে ছড়িয়ে দিয়ে ছিলেন।এটির অনুবাদ শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত হতেই প্রথমে উদ্ধৃত করেছি।পাঠকগণের বোধ সৌকর্ষের জন্য পুনরায় উল্লেখ করা যাচ্ছে, এই পদ্যটি (৪৯)পর্বে লেখা রয়েছে।পাঠ করবেন।*
*🌻ঈর্ষা,ইষ্টবস্তু অপ্রাপ্তি কারণ বিষাদ,প্রারব্দ কাজের অসিদ্ধির কারণ বিষাদ,বিপত্তি ও অপরাধ হতেও নির্বেদ জন্মে থাকে।প্রারব্ধ কাজের অসফলতার জন্য বিষাদের একটি দৃষ্টান্ত শ্রীগীতগোবিন্দের পদ্য হতে দেওয়া হল। যথা=*
*সখি, কৃষ্ণ তরে কাঁদে মম মন।*
*যদিও আমারে বাম,তবু তার গুণগ্রাম,*
*প্রাণ মোর করিছে স্মরণ।।*
*দোষ সোঙরিতে যাই,খুঁজে তাহা নাহি পাই,*
*নাহি হয় কোপ পরকাশ।*
*মোরে কৃষ্ণ পরিহরি,ভজে অন্য ব্রজনারী,*
*তবু মন যাচে তার পাশ।।*
*🌹অপরাধজনিত বিষাদের একটি দৃষ্টান্ত বিদ্যাপতি হতে উদ্ধৃত করা যাচ্ছে,যথা=*
*🌷চরণ নখরমণি রঞ্জন ছাঁদ।*
*🌷ধরণী লোটায়ে কাঁদে গোকুলচাঁদ।।*
*🌷লাগল কুদিন মম কয়লু মান।*
*🌷অব নাহি নিকষয়ে কঠিন পরাণ।।*
*🌻ব্যভিচারী ভাবের প্রত্যেকটি ভাবের উদাহরণ সহ দৃষ্টান্ত সব দেওয়া সম্ভবপর না।অতঃপরে মধ্যে মধ্যে কোন কোন ভাবের দুই একটি উদাহরণ উল্লেখ করা যাবে।*
*🙏এখন দৈন্যের সম্বন্ধে বলা যাচ্ছে। ভক্তিরসামৃতসিন্ধু বলেন=*
*🌷দুঃখ ত্রাসাপরাধাদ্যৈরনৌর্জিত্যম্বু দীনতা।*
*🌷চাটুকৃন্মন্দ্য মালিন্য চিন্তাঙ্গ জড়িমাদিকৃৎ।।*
*🌻অর্থ্যাৎ দুঃখ ত্রাস ও অপরাধাদি হতে যে দুর্বলতা জন্মে তার নাম দৈন্য।এই দৈন্য চাটু, হৃদয়ের ক্ষুণ্নতা,মলিনতা,চিন্তা এবং অঙ্গের জড়তা জন্মে।*
*ক্রমাগত*
🐚🐚🐚🐚🐚🐚🙏🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 ষষ্ঠ ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup6.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
