শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 ষষ্ঠ ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 পঞ্চম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 ষষ্ঠ ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 ষষ্ঠ ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫১)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
            *🙏ভাব----বিচার*
           ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🙏শ্রীমন্মহাপ্রভুর মহালীলাতে ব‍্যভিচারী ভাব পরিলক্ষিত হয়,যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*করি এত বিলাপন,প্রভু শচীর নন্দন,*
        *উঘারিয়া হৃদয়ের শোক।*
*দৈন‍্য নির্বেদ বিষাদে,হৃদয়ের অবসাদে,*
        *পুনরপি পড়ে এক শ্লোক।।*
*যে কালে দেখে জগন্নাথ,শ্রীরাম সুভদ্রাসাথ,*
  *তবে জানে আইলাম কুরুক্ষেত্র।*
*সফল হইল জীবন,দেখিনু পদ্মলোচন,*
       *জুড়াইল তনু মন নেত্র।।*
*গরুড়ের সন্নিধানে,রহি করে দরশনে,*
    *সে আনন্দের কি কহিব বলে।*
*গরুড় স্তম্ভের তলে,আছে এক নিম্নখালে,*
       *সে খাল ভরিল অশ্রু জলে।।*
      *তাহা হইতে ঘরে আসি,মাটির উপরে বসি,*
      *নখে করে পৃথিবী লিখন।*
*হাহা কাঁহা বৃন্দাবন,কাঁহা গোপেন্দ্র নন্দন,*
       *কাঁহা সেই বংশীবদন।।*
*কাঁহা সে ত্রিভঙ্গঠাম,কাঁহা সেই বেণুগান,*
       *কাঁহা সেই যমুনাপুলিন।*
*কাঁহা রাসবিলাস,কাঁহা নৃত্যগীত হাস,*
       *কাঁহা প্রভু মদনমোহন।।*
*উঠিল নানা ভাব আবেগ,মনে হইলে উদ্বেগ,*
      *ক্ষণমাত্র নারে লোভাইতে।*
*প্রবল বিরহানলে,ধৈর্য‍্য হল টলমলে,*
     *নানা শ্লোক লাগিলা পড়িতে।।*
*🌻মহাপ্রভু এই বলিয়া শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতের উদ্বেগ ভাবসূচক একটি পদ‍্য পাঠ করলেন।সেটির পদ‍্যানুবাদ শ্রীচরিতামৃতে এইরকম লেখা হয়েছে।*
*তোমার দর্শন বিনে,অধন‍্য হই রাত্রিদিনে,*
        *এই কাল না যায় কাটান।*
*তুমি অনাথের বন্ধু,অপার করুণাসিন্ধু,*
      *কৃপা করি দেহ দরশন।।*
*উঠিল ভাব চপল,মন হইল চঞ্চল,*
     *ভাবের গতি বুঝন না যায়।*
*অদর্শনে পুড়ে মন,কেমনে পাব দরশন,*
      *কৃষ্ণ ঠাঁই পুছেন উপায়।।*
*🌺তারপর উদ্বেগসূচক আরও একটি শ্লোক পাঠ করলেন।তার অনুবাদ এই ঃ----*
*তোমার মাধুরী বল,তাহাতে মোর চাপল,*
       *এই দুই তুমি আমি জানি।*
*কাহা কঁরো কাহা যাঙ,কাহা গেলে তোমা পাঙ,*
      *তাহা মোরে কহতো আপনি।।*
*🙏এইভাবে মহাপ্রভুর হৃদয়ে নানান ভাব এক-কালে উপস্থিত হল। পাঠক,বর্ষার আকাশে যখন মেঘমালার উদয় হয়,আর মেঘের উপর মেঘ,তার উপর মেঘ, তার উপরে মেঘ,আবার তার উপরেও মেঘ, এইরকম মেঘে মেঘে আকাশ পট ঘনীভূত হয়ে উঠে,সে দৃশ্য অবশ্যই দেখেছেন, আবার এক মেঘ নিচে দিয়ে আসছে,আর এক মেঘ উপর দিয়ে চলে যাচ্ছে,মেঘে মেঘে ঘর্ষণ হচ্ছে,আর অমনি গগন কাঁপিয়ে,ভূতধাত্রী ধরিত্রী ও ভূধর কাঁপিয়ে ভীষণ বজ্রনাদ হচ্ছে।আবার অনন্ত অপরিসীম সেই বিশ্ববিপ্লবী মেঘ হতে যখন মুষলধারে জলের ধারাপাতে সমগ্র জগৎ পরিপ্লুত হয়, এবং গ্রাম নগর পাহাড় পর্বত ডুবিয়ে যখন সেটির বন‍্যাধারা প্রবাহিত হয়,তাও হয়ত কিছু কিছু প্রত‍্যক্ষ করেছেন।ঝটিকাবেগে স্থির সমুদ্র তরঙ্গে তরঙ্গে কি বিশাল উচ্ছাসপূর্ণ ভাব ধারণ করে তাও কেউ কেউ হয়ত দেখেছেন। মহাপ্রভুর মহাভাবের তরঙ্গলীলার কথাও একবার শুনুন।তাঁর হৃদয় আকাশ অপেক্ষাও অসীম, অনন্ত,উদার ও মহৎ এবং সমুদ্র অপেক্ষাও সুবিশাল ও সুগম্ভীর। সমুদ্রের তরঙ্গ লহরীর সীমা আছে,কবির লেখনিতে তার সুবর্ণনাও আছে। কিন্তু শ্রীরাধাভাবে বিক্ষুব্ধ মহাপ্রভুর হৃদয় উচ্ছাস প্রকৃতই বর্ণনার বিষয় নয়।*
*কিন্তু কিঞ্চিৎ আভাস শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পাওয়া যায়।সেটির একটা কথা এই=*
*নানা ভাবের প্রাবল‍্য,হৈল সন্ধি শাবল‍্য,*
        *ভাবে ভাবে হৈল মহারণ।*
*ঔৎসুক‍্য চাপল‍্য দৈন‍্য,রোষা মর্ষাদি সৈন‍্য,*
       *প্রমোন্মাদ সবার কারণ।।*
*মত্ত গজ ভাবগণ,প্রভুর দেহ ইক্ষুবন,*
        *গজ যুদ্ধে বনের দলন।*
*প্রভুর হৈল দিব‍্যোন্মাদ,তনু মনের অবসাদ,*
        *ভাবাবেশ করে সম্বোধন।।*
*🌻শ্রীচৈতধ‍্যচরিতামৃত পাঠ করলে এই যে নির্বেদ বিষাদ দৈন‍্য ঔৎসুক‍্য চাপল‍্য রোষ ও অমর্ষ প্রভৃতি ব‍্যভিচারী ভাবের এই সব নাম শুনতে পাওয়া যায়,রসশাস্ত্র অনুসারে এই সব শব্দের প্রকৃত অর্থ জ্ঞান না হলে শ্রীগৌর-লীলার কোন কথার মর্মই বুঝা যেতে পারে না।আগে অষ্ট সাত্ত্বিক ভাবের কথা বলেছি।এই অষ্টসাত্ত্বিক ভাব শ্রীগৌরলীলায় ভগবান স্বয়ং প্রকটন করে দেখিয়েছেন, যথা=*
*স্তম্ভ কম্প স্বেদ, বৈবর্ণ‍্য অশ্রু স্বরভেদ,*
        *দেহ হৈল পুলকে ব‍্যাপিত।*
*হাসে কান্দে নাচে গায়,উঠি ইতি উতি ধায়,*
       *ক্ষণে ভূমে পড়িয়া মূর্ছিত।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*গুরু নানা ভাবগণ,শিষ‍্য প্রভুর তনুমন,*
       *নানা রীতে সতত নাচায়।*
*নির্বেদ বিষাদ দৈন‍্য,চাপল‍্য হর্ষ ধৈর্য‍্যমন‍্য,*
     *এই নৃত্যে প্রভুর কাল যায়।।*
*চন্ডীদাস বিদ‍্যাপতি,রায়ের নাটক গীতি,*
       *কর্ণামৃত শ্রীগীতগোবিন্দ।*
*স্বরূপ রামানন্দ সনে,মহাপ্রভু রাত্রিদানে,*
     *গায় শুনে পরম আনন্দ।।*
*🌻রসশাস্ত্রের উক্তি এই সব শব্দের পরিভাষা না জানলে বৈষ্ণব সাহিত‍্যে প্রবেশ করা তো দূরের কথা,সেটির অধ‍্যয়ন করাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। অবশিষ্ট ব‍্যভিচারী ভাবের পরিভাষার অর্থ নিচে দেওয়া হল।এটি শ্রীভক্তিরসামৃতসিন্ধু সম্মত।*
*🌺ব‍্যভিচারী ভাবের অবশিষ্ট ভাবগুলির কথা বলা যাচ্ছে।এর আগে নির্বেদ বিষাদ ও দৈন‍্যের কথা বলা হয়েছে। এখন গ্লানি প্রভৃতির অন‍্যান‍্য ভাবের কথা বলছি।*
*গ্লানি=শ্রম ও মনঃ-পীড়াদির অন‍্য দেহের বলপ্রদ ও পুষ্টিকর পদার্থের ক্ষয়ে যে দুর্বলতা জন্মে তারই নাম গ্লানি।এতে কম্প,অঙ্গের জড়তা,বৈবর্ণ‍্য,কৃশতা এবং নয়নের চঞ্চলতাদি জন্মে।*
*শ্রম=পথশ্রম ও নৃত্যাদিজনিত শ্রম বলে অভিহিত।*
*মদ=জ্ঞান-নাশক আহ্লাদের নাম মদ। মদ দুই প্রকার,মধুপানজনিত ও কন্দর্পবিকারাতিশয়জনিত। এতে গতি,অঙ্গ ও কথার স্খলন নেত্রঘুর্ণাও রক্তিমাদি হয়ে থাকে।*
*গর্ব্ব=সৌভাগ‍্য,রূপতারুণ‍্য,গুণ, সর্বোত্তম-আশ্রয় ও ইষ্টলাভাদি দ্বারা অন‍্যের অবজ্ঞাকে গর্ব বলে।এই গর্বে সোল্লুন্ঠন,লীলা বশতঃ উত্তর না দেওয়া,নিজাঙ্গ দর্শন,নিজের মনের ইচ্ছা গোপন করা এ অন‍্যের কথা না শোনা ইত্যাদি ঘটিয়ে থাকে।*
*শঙ্কা=স্বীয় চৌর্য‍্যাপবাদ,অপরাধ এবং পরের ক্রুরত্বাদি হতে যে নিজের অনিষ্ট দর্শন,তারই নাম শঙ্কা।এই শঙ্কায় মুখশোষ বা মুখ শুকিয়ে যাওয়া,বৈবর্ণ‍্য দিক নিরীক্ষণ এবং লুকায়িত হওয়া প্রভৃতি ব‍্যাপার ঘটে।*
*ত্রাস=বিদ‍্যুৎ,ভয়ানক প্রাণী এবং প্রখর শব্দ হতে হৃদয়ে যে ক্ষোভ জন্মে তার নাম ত্রাস।এই ত্রাসে পাশের বস্তুর আশ্রয়,রোমাঞ্চ কম্প স্তম্ভ এবং ভ্রমাদি হয়ে থাকে।*
*আবেগ=যা চিত্তে সম্ভ্রম অর্থ‍্যাৎ ভয়াদিজনিত ত্বরকারী হয় তার নাম আবেগ।এই আবেগে প্রিয়,অপ্রিয়,অগ্নি,বায়ু,বর্ষা,উৎপাত,গজ এবং শত্রু হতে উৎপন্ন হয়ে আট প্রকার হয়।প্রিয়োত্থ আবেগ সতে পুলক,প্রিয়-ভাষণ,চাপল‍্য এবং অভ‍্যুত্থানাদি দেখা যায়।অপ্রিয়োত্থ আবেগ হতে ভূমিপতন,চিৎকার,শব্দ ও ভ্রমাদি জন্মে।অগ্নিজনিত আবেগে ব‍্যতিব‍্যস্ত গতি কম্প ও নয়নমুদ্রন ও অশ্রু প্রভৃতি হয়ে থাকে।বায়ুজনিত আবেগে অঙ্গ আবরণ,তাড়াতাড়ি চলা,ও চক্ষু মার্জনাদি ঘটে।বৃষ্টিজনিত আবেগে ধাবন,ছাতা গ্রহণ, ও অঙ্গসঙ্কোচনাদি হয়। উৎপাতজনিত আবেগ হতে মুখ বেবর্ণ‍্য বিস্ময় ও উৎকম্পনাদি জন্মে।গজজনিত আবেগ হতে পলায়ন উৎকম্পন ও পেছনে বারংবার দেখা এই সব হয়।শত্রুজনিত আবেগ হতে বর্ম শস্ত্রাদি গ্রহণ ও গৃহ হতে অপসরণ ঘটে।*
           *ক্রমাগত*
🍁☘🌿🍀🌻🌺🌷🌹📿❤🔥☘🌲
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 ষষ্ঠ ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫২)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
           *🌹ভাব-----বিচার🌹*
           🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*(১১)উন্মাদ=অতিশয় আনন্দ আপদ ও নিরুৎসাহাদিজনিত হৃদয়ের ভ্রমকে উন্মাদ বলে।*
*(১২)অপস্মার=দুঃখ-উৎপন্ন,ধাতু বৈষম‍্যাদিজনিত চিত্তের যে ভয় তার নাম অপস্মার।এতে ভূমিপতন,ধারণ,আস্ফোটন (মনের ভিতর সংঘর্ষ),ভ্রম,কম্প,ফেণস্রাব,বহুক্ষেপণ ও জোড়ে কথা বলা।*
*(১৩)ব‍্যাধি=অতিশয় দোষ ও বিচ্ছেদাদি দ্বারা যে জ্বরাদি উৎপন্ন হয় তাকে ব‍্যাধি বলে কিন্তু এখানে তদুৎপন্ন ভাবকেই ব‍্যাধি বলা যায়। এই ব‍্যাধিতে স্তম্ভ অঙ্গ-শিথিলতা, শ্বাস, উত্তাপ, এবং গ্লানি প্রভৃতি ঘটে।*
*(১৪)মোহ=হর্ষ,বিচ্ছেদ-ভয় এবং বিষাদাদি হতে জন্ম মনের বোধশূন‍্যতার নাম মোহ।এই মোহে কখন মাটিতে পড়ে যান,ইন্দ্রিয়গুলি অবশ হয়ে যায়,মন এদিকওদিক ভ্রমণ করতে চাই ও নিশ্চেষ্টাদি জন্মে।*
*(১৫)মৃত‍্যু=বিষাদ,ব‍্যাধি,ত্রাস, প্রহার এবং গ্লানি প্রভৃতি দ্বারা যে প্রাণত‍্যাগ ঘটে,তার নাম মৃত‍্যু।এতে অস্পষ্ট কথা,দেহ-বৈবর্ণ,অপস্মার ও হিক্কাদি হয়ে থাকে।*
*(১৬)আলস‍্য=তৃপ্তি ও শ্রমাদি কারণ সমর্থ সত্ত্বেও কাজ করতে অনীহার নাম আলস‍্য।এতে অঙ্গ মোটন,মানে গা-মোড়া,জৃম্ভা(মুখ হা করে বসে থাকা )কাজের প্রতি অনিচ্ছা,চোখ বন্ধ করে থাকা,শোয়া,বসে থাকা,নিদ্রা প্রভৃতি হয়ে থাকে।*
*(১৭)জাড‍্য=ইষ্ট ও অনিষ্টের শ্রবণ দর্শন এবং বিরহাদিজনিত বিচার শূন‍্যতার নাম জাড‍্য।এটি মোহের পূর্বাবস্থা ও পরাবস্থা।এই জাড‍্যে অনিমেষ নয়ন,তুষ্ণীম্ভাব(মৌনালবম্বনভাব) ও বিস্মরণ প্রভৃতি ঘটে।*
*(১৮)পীড়া=নবসঙ্গম,অকাজ,স্তব ও অবজ্ঞাদি দ্বারা যে অধৃষ্টতা উৎপন্ন হয় তার নাম পীড়া।এতে মৌন,চিন্তা,মুখাচ্ছাদন, ভূমিলিখন এবং অধোমুখতা প্রভৃতি জন্মে।*
*(১৯)অবহিত্থা=কোন কৃত্রিম ভাব দ্বারা গোপনীয় ভাবের অনুভাব সম্বরণ করাকে অবহিত্থা কহে।এতে ভাব প্রকাশক অঙ্গাদির গোপন,অন‍্যদিকে দৃষ্টিপাত,বৃথা চেষ্টা ও বাগ্ ভঙ্গি ঘটে।প্রাচীনদের মতে অনুভাবের সঙ্গোপক ভাবকে অবহিত্থা বলে।*
*(২০)স্মৃতি=সাদৃশ বস্তু দর্শন অথবা দৃঢ় অভ‍্যাসজনিত পূর্বানুভূত অর্থের যে প্রতীতি (জ্ঞান)তারই নাম স্মৃতি।এই স্মৃতিতে শিরঃকম্প এবং ভ্রুক্ষেপাদি জন্মে।*
*(২১)উহ=বিমর্ষ অর্থ‍্যাৎ হেতু পরামর্শ এবং সংশয়াদি জন্য যে তর্ক উপস্থিত হয় তাকে "উহ" কহে।এই উহতে ভ্রুক্ষেপ এবং শির ও অঙ্গুলি চালনাদি হয়ে থাকে।*
*(২২)চিন্তা=অভিলষিত বিয়ষের অপ্রাপ্তি,(যা বাসনা করেছিলাম তা না পাওয়া )ও প্রাপ্তির কারণ(পরে পাওয়ার কারণ) ভাবনার নাম চিন্তা। এতে নিশ্বাস,অধোবদন,ভূমিবিদারণ, নিদ্রাশূন‍্যতা,বিলাপ,উত্তাপ,কৃশতা,বাষ্প ও দৈন‍্য প্রভৃতি হয়ে থাকে।*
*(২৩)মতি=শাস্ত্রাদির বিচার উৎপন্ন অর্থ নির্দ্ধারণকে মতি বলা হয়।এতে সংশয় ও ভ্রমের ছেদনহেতু কর্তব‍্য করণ,শিষ‍্যদেরকে উপদেশ দেওয়া ও তর্কবিতর্ক প্রভৃতি হয়ে থাকে।*
*(২৪)ধৃতি=জ্ঞান,দুঃখাভাব ও উত্তম বস্তু প্রাপ্তির অর্থ‍্যাৎ ভগবৎ-প্রেমে মনের পৃর্ণতার নামই ধৃতি।এতে অপ্রাপ্ত ও অতীত নষ্ট বিষয়ের জন্য দুঃখ হয় না।*
*(২৫)হর্ষ=অভীষ্ট দর্শন ও লাভাদিজনিত চিত্তের প্রসন্নতার নাম হর্ষ।এতে রোমাঞ্চ,ঘাম,অশ্রু, মুখ-প্রফুল্লতা,ত্বরা(দ্রুত গমন করা), উন্মাদ,জড়তা এবং মোহ প্রভৃতি জন্মে।*
*(২৬)উগ্রতা=অপরাধ ও দুরুক্তাদি (কটুক্তি বা গালি)জনিত ক্রোধকে উগ্রতা কহে।এতে বধ,বন্ধ,শিরঃকম্প, ভর্ৎসনা ও তাড়নাদি হয়ে থাকে।*
*(২৭)অমর্ষ=তিরস্কার ও অপমানাদি জন্য অসহিষ্ণুতার নাম অমর্ষ।এতে ঘাম,শিরঃকম্পন,বিবর্ণতা,চিন্তা,উপায়ান্বেষণ,আক্রোশ,বিমুখতা ও তাড়না প্রভৃতি হয়ে থাকে।*
*(২৮)অসূয়া=সৌভাগ‍্য ও গুণাদি দ্বারা পরের উন্নতি বিষয়ক দ্বেষই অসূয়া।এতে ঈর্ষা,অনাদর,আক্ষেপ, ভাল সব গুণের দোষারোপ,অপবাদ, বাঁকা দৃষ্টি ও ভ্রুকুটিলাদি জন্মে।*
*(২৯)চাপল‍্য=রাগ ও দ্বেষাদির জন্য চিত্তের লঘুতার নাম চপলতা।এতে অবিচার,নিষ্ঠুর বাক‍্য, ও স্বচ্ছন্দাচারিতাদি ঘটে।*
*(৩০)নিদ্রা=আলস‍্য স্বভাব ও শ্রমাদির দ্বারা চিত্তের যে মীলন অর্থ‍্যাৎ বাহ‍্যবৃত্তির যে অভাব তার নাম নিদ্রা।এতে অঙ্গভঙ্গ,জৃম্ভা,জড়তা প্রভৃতি হয়ে থাকে।*
*(৩১)তৃপ্তি=নানা প্রকার চিন্তা ও নানা বিষয়ক অনুভব স্বরূপ নিদ্রার নাম তৃপ্তি অর্থ‍্যাৎ স্বপ্ন। এতে ইন্দ্রিয়ের অবসন্নতা,নিশ্বাস ও চক্ষুর নিমীলন আদি হয়ে থাকে।*
*(৩২)বোধ=অবিদ‍্যা মোহ ও নিদ্রাদি ধ্বংস জন্য যে প্রবুদ্ধতা অর্থ‍্যাৎ জ্ঞানের আবির্ভাব তার নাম বোধ।*
*(৩৩)উৎসুকতা=অভীষ্ট বস্তুর দর্শন স্পৃহা ও প্রাপ্তি স্পৃহার কালবিলম্বের অসহিষ্ণুতার নাম উৎসুকতা।এতে মুখ শুকোয়,ত্বরা,চিন্তা,দীর্ঘ নিশ্বাস ও স্থিরতাদি হয়ে থাকে।*
*🌻এই তেত্রিশ প্রকার ব‍্যভাচারী ভাব কথিত হল।উত্তম মধ‍্যম ও কনিষ্ঠ ভেদে উক্ত ভাব সকলকে যথাস্থানে বর্ণন করা কর্তব‍্য।মাৎসর্য‍্য,উদ্বেগ, দম্ভ,ঈর্ষা,বিবেক,নির্ণয়-বিক্লবতা,ক্ষমা, কৌতুক,উৎকন্ঠা, বিনয়, সংশয় ও ধৃষ্টতা প্রভৃতি যে সব অতিরিক্ত ভাব আছে তার সমস্তগুলিকেও আগের ভাব সবের অন্তবর্তী জানতে হবে।এ কারণে সেগুলির আলাদা উদাহরণ করা হল না।অসূয়াতে মাৎসর্য‍্য অন্তর্ভুত আছে।কারণ পরশ্রীতে দ্বেষ করার নাম মাৎসর্য‍্য ও অসূয়া এই দুইয়ে পরস্পর ভেদ নাই।অন‍্য বিদ‍্যুতাদি জন্য সহসা যে ভয় হয় তার নাম ত্রাস এবং ঐ ত্রাসে অসহিষ্ণুতার নাম উদ্বেগ। অতএব ত্রাসের মধ্যেই উদ্বেগ অন্তর্ভূত হয়েছে। আবার গোপনের নাম অবহিত্থা এবং নিজ উত্তমতা প্রকাশের নাম দম্ভ,এই উভয়ই কপটময়, সুতরাং অবহিত্থাতে দম্ভ অন্তর্ভূত হয়ে রয়েছে।পরের অপরাধ অসহনের নাম অমর্ষ,পরের উৎকর্ষ অসহনের নাম ঈর্ষা এই উভয়ই অসহ‍্য স্বরূপ, সুতরাং অমর্ষে ঈর্ষা অন্তর্ভূত হয়েছে। অর্থ নির্দ্ধারণের নাম বিবেক, সুতরাং নির্ণয়তে বিবেক অন্তর্ভূত হয়ে রয়েছে।*
*অপর হতে নিজেকে নিকৃষ্ট জ্ঞানের নাম দৈন‍্য এবং অনুসৎসাহের নাম ক্লৈব‍্য, সুতরাং দৈন‍্যে ক্লৈব‍্য অন্তর্ভূত আছে।মনের চাঞ্চল‍্যের নাম ধৃতি এবং সহিষ্ণুতার নাম ক্ষমা, সুতরাং ধৃতির অন্তর্ভূত ক্ষমা রয়েছে। কালযাপনে অসমর্থতার নাম ঔৎসুক‍্য এবং আশ্চর্য‍্য দর্শনের নাম কৌতুক বা কুতুক।কোন সময়ে কুঢ়কও ঔৎসুক‍্যের কারণ হয়,এ জন্য ঔৎসুক‍্যে কুতুক অন্তর্ভূত আছে। ঔৎসুখ‍্যের সূক্ষ্ম-অবস্থায় নাম উৎকন্ঠা, সুতরাং ঔৎসুক‍্যে উৎকণ্ঠাও অন্তর্ভূত আছে।লজ্জাতে বিনয়ের আবশ্যকতা, এ কারণ লজ্জাতে বিনয় অন্তর্ভূত আছে।সংশয় তর্কের অন্তর্ভূত।ধৃষ্টতার পরেই চপলতা হয়ে থাকে, সুতরাং চপলতায় ধৃষ্টতা অন্তর্ভূত আছে।উক্ত সঞ্চারী ভাব সবের মধ্যে যে গুলি ভাব অন্তর্ভূত আছে তাদের মধ্যে কেউ কারও সম্বন্ধে পরস্পর ভাব ও অনুভাব হয়ে থাকে।নির্বেদ অসূয়ার যেরকম বিভাবতা হয়, পুনরায় অসূয়াতে ও নির্বেদের অনুভাবতা যুক্ত হয়ে থাকে।অন‍্য ঔৎসুক‍্যে চিন্তায় অনুভাবতা এবং নিদ্রায় ঐরকম চিন্তায় বিভাবত্ত্ব হয়,এইভাবে অন‍্যান‍্য ভাবেরও জানতে হবে।এই সব সাত্ত্বিক,তথা নানাপ্রকার ক্রিয়ার পরস্পর কার্য‍্য কারণ ভাব প্রায় লোক ব‍্যবহার অনুসারেই জানা যায়। নিন্দায় বৈবর্ণ‍্য ও অমর্ষ এই দুয়ের বিভাবত্ব, আবার অসূয়াতে ঐ নিন্দার বিভাবতা কথিত হয়।সংমোহ ও প্রলয়ের প্রতি প্রহারের বিভাবত্ব এবং উগ্রের প্রতি ঐ প্রহারের অনুভাবতা, এইরকম অন‍্যান‍্য ভাবকেও জানতে হবে।ত্রাস, নিন্দা,শ্রম, আলস‍্য, মধুপান জন্য মত্ততা ও অজ্ঞানতা প্রভৃতি সঞ্চারী ভাবের কোন জায়গায় রতি অনুভাবতা অর্থ‍্যাৎ রতির কাজ হবে।ঐ ত্রাসাদি ছয়টির সঙ্গে রতির সাক্ষাৎ সম্বন্ধ নাই কিন্তু ওরা পরম্পরায় লীলার অনুগামী হয়। বিতর্ক,মতি,নির্বেদ,ধৃতি,স্মৃতি,হর্ষ, অজ্ঞানতা,দীনত্ব,সুসুপ্তি ইত্যাদি ভাব সকলের কোন স্থানে রতি বিভাবত্ত্ব হয়ে থাকে।এই প্রকরণ মনস্তত্ত্বের অতি সূক্ষ্ম তথ‍্যপূর্ণ।শ্রীভক্তিরসামৃতসিন্ধুর অনুবাদ মাত্র এখানে গ্রহণ করা হল।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 ষষ্ঠ ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৩)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
           *🌺ভাব---বিচার🌺*
             *🍀ভাবালঙ্কার🍀*
            ^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀সমুদ্র-তরঙ্গের অন্ত বা শেষ আছে, কিন্তু রসময়ী ব্রজগোপীগণের রসসমুদ্রতরঙ্গের সংখ্যা করা অসম্ভব।শ্রীস্বরূপদামোদর বলেছেন যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷অষ্ট সাত্ত্বিক হর্ষাদি ব‍্যভিচারী আর।*
*🌷সহজ প্রেম বিংশতি ভাব অলঙ্কার।।*
*🌷কিলকিঞ্চিত,কুট্টমিত,বিলাস,ললিত।*
*🌷বিব্বোক,মোট্টায়িত,আর মৌগ্ধচকিত।।* 
*🌷এত ভাব ভূষায় শ্রীরাধার অঙ্গ*।
*🌷দেখিয়া উথলে কৃষ্ণের সুখাব্ধি-তরঙ্গ।।*
*🌷কিলকিঞ্চিতাদি ভাবের শুন বিবরণ।*
*🌷যে ভাব ভূষায় রাধা হরে কৃষ্ণের মন।।*
*🌻ইতিপূর্বে অষ্ট সাত্ত্বিক ও হর্ষাদি তেত্রিশ প্রকার ব‍্যভিচারী ভাবের বিবরণ যৎকিঞ্চিৎ বর্ণনা করেছি।এক্ষণে কিলকিঞ্চিতাদি বিংশতি (২০) ভাব কথা সংক্ষেপে আলোচনা করব।কিলকিঞ্চিতাদি কুড়িটি ভাব নায়িকার ভাবালঙ্কার।যা দ্বারা শোভা অতি বৃদ্ধি করে,তার নাম অলঙ্কার। ভাবোদ্গম ছাড়া নায়িকাদেহের প্রকৃত শোভা অসম্ভব।একটি কাঠের পুতুলকে রত্নমন্ডিত হলেও ভাবুকের চোখে তা সুন্দর বলে বোধ হয় না, সে অলঙ্কার, অলঙ্কার বোধ হয় না।নায়িকার প্রকৃত অলঙ্কার,হীরা,মণি,মুক্তা বা সোনা, রূপার অলঙ্কার না, ভাব-ভূষণই তাঁর প্রকৃত অলঙ্কার।সাহিত‍্য-দর্পণকারের মতে এই অলঙ্ককারের সংখ্যা কুড়িটি। শ্রীচরিতামৃত গ্রন্থেও আমরা এই বিংশতি প্রকার অলঙ্কারের উল্লেখ দেখতে পাই। কিন্তু এই গ্রন্থে কুড়ি প্রকার অলঙ্কারের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সাহিত‍্যদর্পণ ও শ্রীউজ্জ্বল নীলমনি হতে এই কুড়িটি ভাবের কিঞ্চিৎ আলোচনা করছি। শ্রীউজ্জ্বলনীলমণির "অনুভাব প্রকরণে" কুড়িটি অলঙ্কারের আলোচনা করা হয়েছে।অনুভাব তিন প্রকার=অলঙ্কার,উদ্ভাস্বর (নীবি ও উত্তরীয় ভ্রংশনাদি সাত)এবং বাচিক (আলাপাদি দ্বাদশ) এখানে অলঙ্কারের সংখ্যা গণনায় সাহিত‍্যদর্পণ ও শ্রীউজ্জ্বলনীলমণির শ্লোক বিন‍্যাস প্রায় একই রকম, সুতরাং আমরা শ্রীউজ্জ্বল নীলমণির শ্লোকই এখানে উদ্ধৃত করছি,যথা=*
*🌷যৌবনে সত্ত্বজা স্তাসামলঙ্কারস্তু বিংশতিঃ।*
*🌷উদয়ন্ত‍্যদ্ভুতাং কান্তে সর্বথাভিনিবেশতঃ।।*
*🌷ভাবো হাবশ্চ হেলাচ প্রোক্তাস্তত্র স্ত্রয়োঙ্গজাঃ।*
*🌷শোভা কান্তিশ্চ দীপ্তিশ্চ মাধুর্য‍্যঞ্চ প্রগলভতা।।*
*🌷ঔদার্য‍্যং ধৈর্য‍্যমিত‍্যেতে সপ্তৈবস‍্যুরযত্নজা।*
*🌷লীলা বিলাসোবিচ্ছিত্তি বিভ্রমঃ কিলকিঞ্চিতম্।।*
*🌷মোট্টায়িতং কুট্টমিতং বিব্বোকো ললিতংতথা।*
*🌷বিকৃতঞ্চেতি বিজ্ঞেয়া দশ তাসাং স্বভাবজাঃ।।*
*🌹যৌবন অবস্থায় কামিনীগণের সত্ত্বগুণজনিত অলঙ্কার কুড়িটি। কিন্তু কান্তের প্রতি সর্ব প্রকার অভিনিবেশহেতু (অভ‍্যন্তরে প্রবেশের জন্য,আহা তার অলঙ্কারে আমার মন চুরি হয়ে গেল ))ঐ সব অলঙ্কার সময়ে সময়ে প্রকাশ পেয়ে থাকে।*
*উক্ত নায়িকাদের যৌবন অবস্থায় কান্তের বা শ্রীকৃষ্ণের প্রতি সব রকম অভিনিবেশ জন্য (তাঁর অন্তরে প্রবেশ করার জন্য )যে সব সত্ত্বগুণজনিত অলঙ্কার উদিত হয়,তাদের সংখ্যা কুড়িটি।তারমধ‍্যে ভাব,হাব,হেলা এই তিনটি অঙ্গজ। আর শোভা,দীপ্তি, মাধুর্য‍্য,প্রগলতা,ঔদার্য‍্য ও ধৈর্য‍্য এই সাতটি অযত্নজ অর্থ‍্যাৎ শোভার জন্য বেশাদি প্রযত্নের অভাবে স্বতঃই প্রকাশ পেয়ে থাকে।অন‍্য লীলাবিলাস,বিচ্ছিত্তি,বিভ্রম,কিলকিঞ্চিত,মোট্টায়িত,কুট্টমিত,বিব্বোক,ললিত ও বিকৃত এই দশটি স্বভাবজ, অর্থ‍্য‍াৎ নায়িকাদের স্বভাবতই ঘটে থাকে।এখন এইগুলির প্রত‍্যেকের আলোচনা করা হবে।*
*(১)ভাব=প্রাদুভাবং ব্রজত‍্যেব রত‍্যাখ‍্য ভাব উজ্জ্বলে।*
*নির্ব্বিকারাত্মকে চিত্তে ভাবঃ প্রথম বিক্রিয়া।।*
*🌻উজ্জ্বল রসে নির্বিকার (বিকারহীন) চিত্তে রতি নামক স্থায়ী ভাবের প্রাদুর্ভাব হলে যে প্রথম বিক্রিয়া হয় তারই নাম ভাব। এ সম্বন্ধে আরও একটি প্রাচীন প্রমাণ বচন আছে, তা এই=*
*🌷চিত্তস‍্যাবিকৃতিঃ সত্ত্বং বিকৃতেঃ কারণে সতি।*
*🌷তত্র‍্যাদ‍্যা বিক্রিয়া ভাবো বীজস‍্যাদি বিকারবৎ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ বিকারের করণ সত্ত্বে যে অবিকৃতি তারই নাম ভাব।বীজের আদি বিকৃতি যেমন অঙ্কুর,তেমনই সত্ত্বের আদি বিকৃতির নাম ভাব।*
*(২) হাব=*
*🌷গ্রীবারেচক-সংযুক্তো ভ্রুণেত্রাদিবিকাশকৃৎ।*
*🌷ভাবাদিবৎ প্রকাশো যঃ স হাব ইতি কথ‍্যতে।।*
*🌻এটি গলাবাঁকা করে,ভ্রু-নেত্রাদি প্রকাশক এবং ভাব হতে সামান্য প্রকাশক সেটিই হাব।*
*(৩)হেলা=*
*🌷হাব এব ভবেদ্ধেলা ব‍্যক্তঃ শৃঙ্গার সূচকঃ।*
*🌻হাব স্পষ্ট ভাবে শৃঙ্গার সূচক হলে তাকে হেলা বলা যায়।*
*(৪)শোভা=*
*🌷সা শোভারূপ ভোগাদৈ র্যৎ স‍্যাদঙ্গবিভূষণম্।*
*🌻রূপ ও ভোগাদির দ্বারা অঙ্গের বিভূষণের নাম শোভা।*
*(৫)কান্তি=*
*🌷শৌভেব কান্তিরাখ‍্যাতমন্মথাপ‍্যায়নোজ্জ্বলা।*
*🌻শোভা মন্মথের-বৃদ্ধি নিবন্ধন (কারণ)উজ্জ্বলা হলে সেটিকে কান্তি বলে।*
*(৭)দীপ্তি*
*🌷কান্তিরেব বয়োভোগ দেশকাল গুণাদিভিঃ।*
*🌷উদ্দীপিতাতিবিস্তারং প্রাপ্তাচেদ্দীপ্তিরুচ‍্যতে।।*
*🌻বয়স,ভোগ,দেশ,কাল, ও গুণাদি দ্বারা যে কান্তি অত‍্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে তারই নাম দীপ্তি।*
*(৭)মাধুর্য‍্য*
*🌷মাধুর্য‍্যং নাম চেষ্টানাং সর্বাবস্থাসু চারুতা।*
*🌻সর্ব অবস্থায় চেষ্টা সমূহের চারুতাকেই মাধুর্য‍্য বলে।*
*চারু= সুন্দরং রুচিরং চারু সুষমং সাধু শোভনম্।কান্তাং মনোরমং রুচ‍্যং মনোজ্ঞং মঞ্জু মঞ্জলম্। (অমরকোষ)*
*চারু=সকলের দৃষ্টি পথ বা মনের মধ্যে গমন করে বা অতীব সুন্দর।*
*🌹কবরীর চারু শোভা।*
*🌹যোগীগণের মনোলোভা।।*
*(৮)প্রগলভতা=*
*🌷নিঃশঙ্কত্বং প্রয়োগেষু বুধৈরুক্তা প্রগলভতা।*
*🌻প্রয়োগ বিষয়ে (কার্য‍্যের ভারার্পণ) নিঃশঙ্কতার নাম প্রগলভতা।*
*(৯)ঔদার্য‍্য=*
*🌷ঔদার্য‍্যং বিনয়ং প্রাহুঃ সর্বাবস্থাগতং বুধাঃ।*
*🌻সর্ব অবস্থায় থাকা বিনয়কে ঔদার্য‍্য বলে।*
*(১০)ধৈর্য‍্য=*
*🌷স্থিরা চিত্তোন্নতি র্যাতু তদ্ধৈর্য‍্যমিতি কীর্ত্ত‍্যতে।*
*🌻স্থির চিত্ত-উন্নতির নামই ধৈর্য‍্য।*
*(১১)লীলা=*
*🌷ক্রিয়ানুকরণং লীলা রম‍্যৈ র্বেশক্রিয়াদিভিঃ।*
*🌻রমণীয় বেশ ও ক্রিয়াদি দ্বারা যে ক্রিয়ার অনুকরণ,তার নাম লীলা।*
*(১২)বিলাস=*
*🌷গতিস্থানাসনাদীনাং মুখনেত্রাদি কর্মাণাং।*
*🌷তৎকালীকন্তু বৈশিষ্ট্যং বিলাসং প্রিয়াসঙ্গজম্।।*
*🌻গতিস্থান,আসন,মুখ-চোখের কর্মগুলির প্রিয়সঙ্গমজনিত তাৎকালিক বৈশিষ্ট্যের নাম বিলাস।*
❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 ষষ্ঠ ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৪)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
              *🌹ভাবালঙ্কার🌹*
             ☘🍁🌳📿🌻🌷
*(১৩)বিচ্ছিত্তি=*
*🌷আকল্পকল্পনাল্পাপি বিচ্ছিত্তি কান্তিপোষকৃৎ।*
*🌻বেশ-রচনা অল্প হয়েও যদি দেহ-কান্তির পুষ্টি সাধন করে,(অর্থ‍্যাৎ সামান্য সাজ-সজ্জা করেও যদি অঙ্গের চরম সৌন্দর্য্যতা দেখায়)তার নাম বিচ্ছিত্তি। কেউ কেউ বলেন প্রিয় ব‍্যক্তি অপরাধ করলে ঈর্ষা ও অবজ্ঞান্বিতা উত্তমা স্ত্রীলোকের সখী প্রযত্নেই যেন অলঙ্কার সবের ধারণ হয়, এমত স্থলে সেটি বিচ্ছিত্তি নামে অভিহিত হয়ে থাকে।যথা=*
*🌷সখী যত্নাদিরধৃতির্মন্ডলানাং প্রিয়াগসি।*
*🌷নের্ষাবজ্ঞা বরস্ত্রীভির্ব্বিচ্ছিত্তিরিতিকেচন।।*
*(১৪)বিভ্রম=*
*🌷বল্লভ প্রাপ্তি বেলায়াং মদনাবেশ সম্ভ্রমাৎ।*
*🌷বিভ্রমোহার মাল‍্যাদি ভূষাস্থান বিপর্য‍্যয়ঃ।।*
*🌻বল্লভকে পাওয়ার সময় প্রবল মদনাবেশ বশতঃ হার-মালাদির অযথা জায়গায় পড়ে থাকার নামই বিভ্রম। অপিচ(আরও)কেউ কেউ বলেন কৌটিল‍্যের (কুটিলতার)আতিশয‍্য প্রযুক্ত সেবা কান্তের প্রতি অভিনন্দন না করার নাম বিভ্রম।যথা*
*🌷অধীনস‍্যাপি সেবায়াং কান্তস‍্যানভিনন্দনম্।*
*🌷বিভ্রমো বামতোদ্রেকাৎ স‍্যাদিত‍্যাখ‍্যাতি কশ্চন্।।*
*🌻কিলকিঞ্চিৎ ভাবটি অতি সুন্দর।এইজন‍্য এ সম্বন্ধে একটু সবিস্তার আলোচনা করা যাচ্ছে।চরিতামৃতে লিখিত আছে =*
*🌷রাধা দেখি কৃষ্ণে যদি ছুঁইতে করে মন।*
*🌷দান ঘাটি পথে যবে বর্জেন গমন।।*
*🌷যবে আসি মানা করে পুষ্প উঠাইতে।*
*🌷সখী আগে চাহে যদি গায় হাত দিতে।।*
*🌷এই সব স্থানে কিলকিঞ্চিত উদ্গম।*
*🌷প্রথমে হর্ষ সঞ্চারী মূল কারণ।।*
*🌺শ্রীউজ্জ্বল নীলমণিতে এর প্রমাণ বচন এই=*
*🌷গর্ববিলাস রুদিতস্মিতাসূয়া ভয় ক্রুধাং।*
*🌷শঙ্করীকরণং হর্ষাদুচ‍্যতে কিলকিঞ্চিতম্।।*
*🌻গর্ব্ব,অভিলাষ,রোদন,হাস‍্য, অসূয়া,ভয় ও ক্রোধ এই সাতটি ভাব যদি হর্ষহেতু (আনন্দকারণে)এককালীন প্রকটিত হয় তবে সেটিকে কিলকিঞ্চিত বলে। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পায়=*
*🌷আর সাত ভাব আসি সহজে মিলয়।*
*🌷অষ্ট ভাব সম্মিলনে মহাভাব হয়।।*
*🌷গর্ব্ব অভিলাষ ভয় শুষ্ক রুদিত*।
*🌷ক্রোধ অসূয়া সহ আর মন্দ স্মিত।।*
*🌷নানাস্বাদু অষ্ট ভাব একত্র মিলন।*
*🌷যাহার আস্বাদে তৃপ্ত হয় কৃষ্ণ মন।।* 
*🌷দধিখন্ড ঘৃত মধু মরিচ কর্পূর।*
*🌷এলাচি মিলনে যৈছে রসাল মধুর।।*
*🌷এই ভাব যুক্ত দেখি রাধাস‍্য নয়ন।*
*🌷সঙ্গম হইতে সুখ পায় কোটি গুণ।।*
*🌻শ্রীউজ্জ্বল নীলমণি হতে একটি দৃষ্টান্ত উদ্ধৃত করা যাচ্ছে,যথা=*
*🌷মযাজাতোল্লাসং প্রিয় সহচরি লোচন-পথে।*
*🌷বনান‍্যস্তে রাধা কুচমুকুলয়োঃ পাণিকমলে।।*
*🌷উদঞ্চ ভ্রুভেদং সপুলকমবষ্টম্ভিবলিতম্।*
*🌷স্মরাম‍্যন্তস্তস‍্যাঃ স্মিতরুদিত কান্তদ‍্যুতিমুখম্।।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণ সুবলকে বললেন=*
*শুন প্রাণ সখে, একদা নিকঞ্জে,*
   *সখীগণ সহ শ্রীরাধা আমার।*
*দেহ আবরণ, করি উন্মোচন,*
     *আছিলা বসিয়া কি কহিব আর।।*
*মনের উল্লাসে, আবেগের বশে,*
   *দিনু অকস্মাৎ তার বক্ষে কর।*
*প্রেয়সী অমনি, পুলকে আকুলা,*
     *হইয়া ভ্রুভঙ্গ করিল সত্বর।।*
*ফিরাইল মুখ, হইল নীরব,*
      *বসিল ঘুরিয়া অমনি তখন।*
*হাসি হাসি মুখে, সহসা কি ভাবে,*
 *মিশে গেল যেন অধীর রোদন।।*
*সে যে কি সুন্দর, ভাবের লহরী,*
   *বিদ‍্যুতের মত ভাবের স্ফুরণ।*
*এখনও মনে, পড়িছে সে মুখ,*
     *এখনও মনে পড়িছে নয়ন।।* 
*🌺এই উদাহরণে ভ্রুভঙ্গ হেতু অসূয়া আর ক্রোধ, পুলকে অভিলাষ, তির্য‍্যকভাবে বা বাঁকাভাবে স্তব্ধ হওয়ায় গর্ব,ঈষ‍্ৎ পরাবৃত্ত (মুখ ফিরিয়ে )ভয়, এবং হাস‍্য ও রোদন এই সাতটি এককালে প্রকটন হল অথচ হর্ষই এর মূল।এটিই কিলকিঞ্চিত।*
*☘কেবল অঙ্গ স্পর্শ করার জন্য যে কিলকিঞ্চিত হয়, তা নয় বর্ত্মরোধেও (পথ রোধেও) কিলকিঞ্চিত ভাবের উদয় হয়ে থাকে। এটির যে দৃষ্টান্তটি শ্রীউজ্জ্বল নীলমণিতে ধৃত হয়েছে, চরিতামৃতেও সেই উদাহরণটি উদ্ধৃত করা হয়েছে =*
*🌷অন্তঃস্মেরতয়োজ্জ্বলা জলকণব‍্যাকীর্ণ পক্ষ্মাঙ্কুরা,*
*🌷কিঞ্চিৎ পাটলিতাঞ্চলা রসিকতোৎসিক্তা পুরঃকুঞ্চতী।*
*🌷রুদ্ধায়া পথি মাধবেন মধুর ব‍্যাভুগ্নতারোত্তরা,*
*🌷রাধায়াঃ কিলকিঞ্চিত স্তবকিনী দৃষ্টিঃ শ্রিয়ঃবঃ ক্রিয়াং।।*
                *(দানকেলিকৌমুদী)*
*🌻অর্থ‍্যাৎ একদিন শ্রীকৃষ্ণ দানঘাটে ব্রজবধূগণের আসার অপেক্ষা করছিলেন।এমন সময়ে ঐ পথ দিয়ে শ্রীরাধা দধির ভান্ড নিয়ে যাচ্ছিলেন।শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে দেখে পথ আগুলিয়ে দাঁড়িয়ে বললেন, হ‍্যাদে তুমি দধি বিক্রয় করার জন্য যাচ্ছ,এর শুল্ক বা কর দিবে না?এইকথা বলেই পথের দুইদিকে দুই-পা দিয়ে পথরোধ করে দাঁড়ালেন।তখন শ্রীরাধার অন্তর-হাসিতে নয়ন উজলিয়ে উঠিল, কিন্তু চোখের পক্ষ্ম (চোখের পাতার লোমগুলি)অশ্রুজলে ভিজে গেল, চোখের দুই প্রান্তে লাল রেখা দেখা দিল,রসিকতায় নয়ন সিক্ত বা ভিজে গেল,নয়নের অগ্রভাগ কুঞ্চিত ও কুটিল হল এবং চোখের তারা উপরের দিকে উঠিল। শ্রীরাধার এই কিলকিঞ্চিত স্তবকবিশিষ্ট দৃষ্টি তোমাদের মঙ্গল বিধান করুন।এই পদ‍্যটি দানকেলিকৌমুদী নাটকের নান্দী শ্লোক।*
             *ক্রমাগত*
😁🤣😁🤣😁🤣😁🤣😁🤣😁🤣😁
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 ষষ্ঠ ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৫)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
             *🤣ভাবালঙ্কার🤣*
           *******************
*🍀এর তাৎপর্য‍্য এই যে "অন্তঃস্মের" শব্দে অন্তর-হাস‍্য বা ভিতরে হাসি, জলকণায় রোদন,পাটলবর্ণ (শ্বেতরক্তিমা)দ্বারা ক্রোধ,রসিকত উৎসিক্ততা দ্বারা অভিলাষ,কুঞ্চিত চিহ্ন দ্বারা ভয়,উত্তার(পার হওয়া) ও কুটিল নয়ন দ্বারা গর্ব ও অসূয়া এই সাতভাব সূচিত হয়েছে।কবি এখানে এক দৃষ্টিতেই সাতটি ভাবের সঙ্কীকরণ দ্বারা কিলকিঞ্চিত স্তবক দৃষ্টির অতি দুর্লভ ও সুন্দর উদাহরণ করে রেখেছেন।*
*ফলে প্রাণের ভাষাগুলি চোখেই প্রকাশ পেয়ে থাকে। এই জন্য পাশ্চাত‍্য দার্শনিকরা বলে থাকে Eye is the miror of our mind. অর্থ‍্যাৎ চোখই মনের আয়না বা দর্পণ।মনে যে সব ভাব খেলা করে,চোখে সেই সব ভাবই প্রতিবিম্বিত হয়।*
*শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী মহাশয় শ্রীগোবিন্দলীলামৃত গ্রন্থেও কিলকিঞ্চিতের একটি দৃষ্টান্ত আছে।তাহাও শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে উদ্ধৃত হয়েছে,তদ্ যথা=*
*বাষ্পব‍্যাকুলিতারুণাঞ্চল চলন্নেত্রং রসোল্লাসিতম্,*
*হেল্লোল্লাসচলাধরং কুটিলিতং ভ্রুযুগ্মমুদ‍্যৎস্মিতম্।*
*কান্তায়াঃ কিলকিঞ্চিতাঞ্চিতমসৌ বীক্ষ‍্যাননং সঙ্গমা,*
*দানন্দং তমবাপ কোটি গুণিতং যোহভূন্নগীর্গোচরঃ।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধার পথ রোধ করলেন,তাতে শ্রীমতী রাধারাণীর নয়ন রোদনে বাষ্প (অশ্রু)ব‍্যাকুলিত হল,ক্রোধে চোখের প্রান্ত অরুণিত (লালভাব)হল,ভয়ে চঞ্চল হল,গর্বে রসোল্লাসে (বর্তমান পরিস্থিতিতে যে ঘটনা ঘটছে,সেই রসের উল্লাসে) প্রফুল্ল হয়ে উঠিল,অভিলাষে হেলার উদয়ে অধর চঞ্চল হল,অসূয়ায় ভ্রুকুটি দেখা দিল, অথচ তাতে মৃদুহাস‍্যও মিশিয়ে পড়ল।*

*শ্রীমতীর এই কিলকিঞ্চিত ভাবযুক্ত বদন দেখে শ্রীকৃষ্ণ যে আনন্দ লাভ করেছিলেন তা অবর্ণনীয় এবং সঙ্গম-সুখ হতে কোটি কোটি গুণে বেশী।*
*(১৬)মোট্টায়িত=*
*🌷কান্ত স্মরণ-বার্ত্তাদৌ হৃদি তদ্ভাবভাবতঃ।*
*🌷প্রাকট্টমবিলাসস‍্য মোট্টায়িতমুদীর্য‍্যতে।।*
*🌻কান্তের স্মরণবার্তাদি শুনে তদ্বিষয়কস্থায়ী ভাবের ভাবনা কারণ হৃদয়ে অভিলাষের প্রাকট্ট‍্যের নাম মোট্টায়িত।*
*(১৭)কুট্টমিত*
*🌷স্তনধরাদিগ্রহণে হৃৎপ্রীতাবপিসম্ভ্রমাৎ।*
*🌷বহিঃ ক্রোধো ব‍্যথিতবৎ প্রোক্তং কুট্টমিত বুধৈঃ।।*
*🌻স্তনাধরাদি গ্রহণে হৃদয়ের প্রীতি হলেও বাহির যদি ক্রোধের প্রকাশ হয়,সেটিকে কুট্টমিত বলে।এটির একটি দৃষ্টান্ত, শ্লোকটি শ্রীউজ্জ্বলনীলমণিতে দ্রষ্টব‍্য। সম্বোগর পর পুনঃ সম্বোগে রত শ্রীকৃষ্ণকে শ্রীমতী বলছেন=*
*🌷কি কর কি কর,শ‍্যাম নটবর,*
*🌷ওহে অঘহর, এ কিগো রঙ্গ ;*
*🌷চঞ্চল উদ্ধত, তোমার ও কর*
*🌷খুলিছে কবরী,কেন নিরন্তর।।*
*🌷যা হয়েছে বেশ,কেন পুন রসাবেশ,*
*🌷ক্ষীণ তটিনীতে,উঠে কি তরঙ্গ*।
*🌷ওহে নিরদয়, কঠিন হৃদয়।*
*🌷ছি ছি একি শ‍্যাম,একি রসোদয়।।*
*🌷পড়ি পদতলে, ক্ষম দাসী বলে*।
*🌷ঘুমভারে দেখ, বিবশ অঙ্গ।।*
*(১৮)বিব্বোক=*
*🌷ইষ্টেহপি গর্বমানাভ‍্যাং বির্ব্বোকস‍্যাদনাদরাঃ।*
*🌻গবা ও মান জন্য কান্তর দেওয়া বস্তুর প্রতি অনাদরের নাম বিব্বোক।*
*(১৯)ললিত=*
*🌷বিন‍্যাসভঙ্গি রঙ্গানাং ভ্রূবিলাস মনোহরা।*
*🌷সুকুমারা ভবেদ্ যত্র ললিতং তদুদীরিতম্।।*
*🌻যাতে অঙ্গ সকলের বিন‍্যাসভঙ্গি, সৌকুমার্য‍্য ও ভ্রূবিক্ষেপের মনোহারিত্ব প্রকাশ পায় তারই নাম ললিত।*
*(২০)বিকৃত=*
*🌷হ্রীমানের্ষাদিভিযত্রলোচ‍্যতে স্ববিবক্ষিতম্।*
*🌷ব‍্যজতে চেষ্টয়ৈবেদং বিকৃতং তদ্বিদুর্ব্বধাঃ।।*
*🌻লজ্জা ঈর্ষা ইত্যাদি দ্বারা যে স্থানে কথিত অর্থ প্রকাশ পায় না তাকে বিকৃত বলে।ভাবালঙ্কার অনন্ত,রসতরঙ্গ অশেষ,লেখকের চিত্তবৃত্তি সঙ্কীর্ণ ও মলিন। সুতরাং এ সম্বন্ধে এবার এই পর্যন্তই নিবেদিত হল।*
🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜🦜

*(৫৫)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
            *শ্রীস্বরূপ ও শ্রীবাস*
             🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🍀শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত পাঠে জানা যায় শ্রীস্বরূপদামোদরের মুখে শ্রীমন্মহাপ্রভু কিলকিঞ্চিত ভাব-ভূষণের কথা শুনে অত‍্যন্ত আনন্দলাভ করলেন এবং প্রেমভরে শ্রীস্বরূপকে আলিঙ্গন করে অন‍্যান‍্য ভাব ভূষণের বিষয় জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন। তদ্ যথা=*
*🌷এত শুনি প্রভু হৈলা আনন্দিত মন।*
*🌷সুখাবিষ্ট হঞা স্বরূপে কৈলা আলিঙ্গন।।*
*🍀তার পর মহাপ্রভু শ্রীস্বরূপের কাছে বিলাসাদি ভাবভূষার লক্ষণ জিজ্ঞাসা করলেন,যথা=*
*🌷বিলাসাদি ভাবভূষার কহত লক্ষণ।*
*🌷যেইভাবে রাধা হরে গোবিন্দের মন।।*
*🌷তবে ত স্বরূপ গোসাঞী কহিতে লাগিলা।*
*🌷শুনি প্রভুর ভক্তগণ মহাসুখ পাইলা।।*
*🌻প্রকৃতপক্ষে ভক্তগণের শ্রুতিসুখ ও শিক্ষা লাভের জন্যই ভক্তবৎসল জগতজীবন চিরসুন্দর স্বর্ণবিনিন্দিত অঙ্গকান্তি শ্রীগৌরসুন্দর তাঁর দ্বিতীয়-স্বরূপ শ্রীস্বরূপদামোদর দ্বারা এই সব তত্ত্ব প্রকটিত করেন।বিলাস ভূষণাদির লক্ষণ আগেই লেখা হয়েছে। সুতরাং শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে যে কয়েকটি লক্ষণ লিখিত হয়েছে এখানে পুনশ্চ সেই সব পয়ারের উল্লেখ করা গেল না।ফলে এই সব বিষয়ের বর্ণনা করা বা সংখ্যা করা প্রকৃতই অসম্ভব ব‍্যাপার।স্বরূপদামোদরের মুখে রথযাত্রার সময়ে শ্রীমন্মহাপ্রভুর ইচ্ছায় ভক্তগণ এই রসতত্ত্ব শুনে কৃতার্থ হলেন শ্রীস্বরূপ শ্রীব্রজসুন্দরীদের ভাববৈভবের কথা বলে অবশেষে বললেন=*
*🌷এইমত আর সব ভাব বিভূষণ।*
*🌷যাহাতে ভূষিত রাধা হরে কৃষ্ণ-মন।।*
*🌷অনন্ত কৃষ্ণের লীলা না যায় বর্ণন।*
*🌷আপনি বর্ণিতে নারে সহস্রবদন।।*
*🌻শ্রীস্বরূপের কথা শুনে শ্রীবাস পন্ডিত একটু হাসিলেন,হেসে বললেন শ্রীপাদ, আপনার ব্রজগোপীদের সম্পদের কথা তো শুনলাম, কিন্তু এ সবের সঙ্গে আমার লক্ষ্মীর সম্পদের তুলনা হতে পারে না।শ্রীবৃন্দাবনের সম্পদ--কুসুম-কানন,কিশলয়,গিরিধাতু,ময়ূরপাখা আর গুঞ্জাফল। কিন্তু কি আশ্চর্য‍্য এই রাজপুরীর এত বৈভব-বৈচিত্র‍্য ছাড়াও শ্রীকৃষ্ণ সেই তরুলতা,ফলফুলময় শ্রীবৃন্দাবনে গেলেন কেন? যথা চৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷শ্রীবাস হাসিয়া কহে শুন দামোদর।*
*🌷আমার লক্ষ্মীর দেখ সম্পদ বিস্তর।।*
*🌷বৃন্দাবনের সম্পদ কেবল পুষ্প কিশলয়।*
*🌷গিরিধাতু শিখিপুচ্ছ গুঞ্জাফলময়।।*
*🌷বৃন্দাবন দেখিবারে গেলা জগন্নাথ।*
*🌷শুনি লক্ষ্মীদেবীর মনে হলো অসোয়াথ।।*
*🌷এত সম্পত্তি ছাড়ি কেন গেলা বৃন্দাবন।*
*🌷তারে হাস‍্য করিতে লক্ষ্মী করিলা সাজন।।*
*🌷তোমার ঠাকুর দেখ এ সম্পত্তি ছাড়ি।*
*🌷পত্র ফল ফুললোভে গেলা পুষ্প বাড়ী।।*
*🌻ফলে,রসিকশেখর শ্রীকৃষ্ণ প্রেমিক ভক্তের পত্র,ফল, ফুলে যেমন সন্তুষ্ট হন আর কিছুতেই তাঁকে সন্তুষ্ট করা যায় না।অনন্ত ঐশ্বর্য‍্যশালী শ্রীকৃষ্ণের মধুর ভাব লতাপাতা ফুল ফল ও শিখিপুচ্ছতেই সুপ্রকটিত হয়ে থাকে।বিশেষ করে শ্রীভগদদ্গীতাতে তাঁর শ্রীমুখের আজ্ঞায় এই যে =*
*🌷পত্রং পুষ্পং ফলং তোয় যো যে ভক্ত‍্যা প্রযচ্ছতি তদহং ভক্ত‍্যোপহৃত মশ্নামি প্রযতাত্মনঃ।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ পুরো সংযত ভাবে ভক্ত ভক্তিপূর্বক আমাকে যে পত্র পুষ্প ফল জল প্রদান করে,আমি সাদরে সেই সব গ্রহণ করি।*
*🌳শ্রীবৃন্দাবনেই অনন্ত মাধুর্য‍্যলীলা প্রকটিত। কিন্তু দ্বারকা-লক্ষ্মীর মনে তাতে বড় দুঃখের উদয় হয়।এত বৈভব,এত সম্পদ ত‍্যাগ করে শ্রীকৃষ্ণ গো-রাখাল-সেব‍্য তৃণ-লতাপূর্ণ বৃন্দাবনের অভিমুখে ধাবিত হন কেন?দ্বারকা-লক্ষ্মীগণ শ্রীকৃষ্ণের এই বৃন্দাবন ভালোবাসা সইতে পারেন না।কাজেই তাঁদের ক্রোধ হয়।শ্রীবাস বললেন "শ্রীপাদ গোপললনাদের ঐশ্বর্য‍্য কোথায়? ঐশ্বর্য‍্য থাকলেই না অহঙ্কার হয়?তাঁদেরই আদৌ ঐশ্বর্য‍্য নাই,অহঙ্কার আসবে কোথা থেকে? লক্ষ্মীর অহঙ্কার হবারই কথা।কেননা, তিনি ঐশ্বর্য‍্যশালানী। আমার রমাদেবীর অহঙ্কার দেখুন, এই বলে শ্রীবাস বলছেন, যথা শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রোদয় নাটকে দশম অঙ্কে=*
*🌷অস‍্যাঃ পশ‍্যত ভো মদস‍্য মহিমা দাসীকুলেনেশ্বরী।*
*🌷পর্ব্বোৎসেকমদোদ্ধুরেণ যদমী বধ্বা কটীরোধসি।।*
*🌷মুখ‍্যাএব জগৎপতেঃ পরিজনাঃ প্রত‍্যেক মাকর্ষতা।*
*🌷পাত‍্যন্তে স্ব নিজেশ্বরী পদপুরঃ প্রাপষ‍্য চৌরা ইব।।*
*🌻ভৃত‍্যোপরাধে স্বামিনো দন্ড ইত‍্যেব শ্রুতম।*
*🌻ইদন্তু তদ্বিপরীতমেবত‍্যহো অত‍্যদ্দুত।*
*🍀শ্রীবাস শ্রীস্বরূপকে বলছেন,শ্রীপাদ!লক্ষ্মীর অহঙ্কার গৌরব একবার দেখুন,ইঁনার দাসীরাও অহঙ্কারে প্রমত্ত হয়েও সাক্ষাৎ জগৎপতি জগন্নাথের প্রধান প্রধান পরিজনদের প্রত‍্যেককে চোরের মত কোমরে দড়ি বেঁধে নিজেশ্বরীর (লক্ষ্মীর) পদপ্রান্তে এনে ফেলে ছিলেন।ভৃত‍্যের অপরাধ স্বামীর দন্ডের কথা শুনেছি। কিন্তু এ যে তার বিপরীত দেখছি।এতে বড়ই আশ্চর্য‍্য বোধ হচ্ছে। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে এ সম্বন্ধে পয়ার এরকম=*
*🌷"এই করি কহে" কাহায় বিদগ্ধ শিরোমণি।*
*🌷লক্ষ্মীর অগ্রেতে নিজ প্রভু দেহ আনি।।*
*🌷এত বলি লক্ষ্মীর সব দাসীগণ*।
*🌷কটি বস্ত্র বান্ধি আনে প্রভুর পরিজন।।*
*🌷লক্ষ্মীর চরণে আনি করায় প্রণতি।*
*🌷ধনদন্ড লয় আর করায় বিনতি।।*
*🌷রথের উপরে করে দন্ডের তাড়ন।*
*🌷চোর প্রায় করে জগন্নাথের সেবকগণ।।*
*🌷সব ভৃত‍্যগণ কহে করি জোড় হাত।*
*🌷কালি আনি দিব তোমার আগে জগন্নাথ।।*
*🌷তবে লক্ষ্মী শান্ত হয়ে যান নিজ ঘর।*
*🌷আমার লক্ষ্মীর সম্পদ বাক‍্য অগোচর।।*
*🌷দুগ্ধ আউটি দধিমথে তোমার গোপীগণে।*
*🌷আমার ঠাকুরাণী বৈসে রত্ন সিংহাসনে।।*
*🌻এই কথাগুলি শুনে স্বরূপদামোদর একটু হাসলেন, হেসে উপহাস করে বললেন,পন্ডিত! তোমার লক্ষ্মীর বৈদগ্ধ‍্য দেখ, এই অচেতন রথের কি অপরাধ? কিন্তু ভৃত‍্যগণ এই রথটিকেও তাড়না করেছেন।অর্থ‍্যাৎ রথের উপর লাঠি মেরে আঘাত করেছেন।অপরন্তু "শ্রীভগবান সান্ত্বনা করে বললেন আমি তোমার  কাছেই যাচ্ছি" এই কথা শুনেই বা বিচিত্র দীর্ঘ কোপের(চরমভাবে রেগে ছিলেন ) কি রকমে শান্তি হল?ফলে তোমার লক্ষ্মীদেবীর ক্রোধ প্রকৃতই অদ্ভুত!এরকম অত‍্যাশ্চার্য‍্য অদ্ভুত ক্রোধ জগতে আর কোথাও কখনও দেখা যায়নি।*
*☘যথা শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রোদয় নাটকে=*
*🌷অচেতনস‍্যাস‍্য রথস‍্য কোবা,*
*🌷মস্তু কথং তাড‍্যতে এষ ভৃত‍্যৈঃ*।
*🌷যাস‍্যাম‍্যদূরেহহমিতীশ্বরেণ,*
*🌷প্রোক্তে কথং বাহশমি দীর্ঘকোপঃ।।*
*🌻এইকথা শুনে শ্রীবাস বললেন শ্রীপাদ! ঈশ্বরীর এইরকমই রীতি। শ্রীবাস ও শ্রীস্বরূপের রসময়ী কথা শুনে সর্বমীমাংসক চূড়ামণি,সর্বজ্ঞ, পরমবিদগ্ধ মহাপ্রভু বললেন, শ্রীবাস তুমি নারদ, সুতরাং শ্রীভগবানের দ্বারকা-বিলাস তোমার অতীব প্রিয়। আর শ্রীস্বরূপ ব্রজের রসে সুরসিক।কেন না ইনি শ্রীব্রজলীলার ললিতা সখী।*
             *ক্রমাগত*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🪷🪷🪷🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 ষষ্ঠ ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৬)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
           *শ্রীস্বরূপ ও শ্রীবাস*
            ############
*🍀শ্রীব্রজপুরীর আনন্দ-বৈদগ্ধ‍্যই উঁনার অতি আদরের পদার্থ।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের পয়ার এইরকম=*
*🌷নারদ প্রকৃতি শ্রীবাস করে পরিহাস।*
*🌷শুনি হাসে মহাপ্রভুর যত নিজ দাস।।*
*🌷প্রভু কহে শ্রীবাস তোমার নারদ স্বভাব।*
*🌷ঐশ্বর্য‍্যভাব তোমার ঈশ্বর প্রভাব।।*
*🌷দামোদর স্বরূপ ইহা শুদ্ধ ব্রজবাসী।*
*🌷ঐশ্বর্য‍্যে না জানে ইহো শুদ্ধপ্রেমে ভাসি।।*
*🌻রসময় গৌরসুন্দর রসকন্দল এক কথাতেই মীমাংসা করে দিলেন।শ্রীবাস কৃতার্থ হলেন।রসময় স্বরূপ সহজে ছাড়বার পাত্র নহেন।তিনি স্বয়ং যে রসে ডুবে আছেন, স্বয়ং যে রসের ভান্ডার এবং স্বয়ং যে রসের স্বরূপ, ঐশ্বর্য‍্যপ্রভাবকে সেই রসে নিমজ্জিত করাই তাঁর কাজ। সুতরাং শ্রীস্বরূপ শ্রীবৃন্দাবন-সম্পদের প্রভাব বর্ণনা করতে লাগলেন,যথা চৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷স্বরূপ কহে শ্রীবাস!শুন সাবধানে।*
*🌷বৃন্দাবন সম্পদ বুঝি নাহি পড়ে মনে।।*
*🌷বৃন্দাবনে সাহজিক যে সম্পদ সিন্ধু।*
*🌷দ্বারকা বৈকুন্ঠ সম্পদ তার এক বিন্দু।।*
*🌻স্বরূপদামোদর এই বলে শ্রীবাসকে ব্রহ্ম-সংহিতার এক বচন পাঠ করে শুনালেন,যথা=*
*🌷শ্রিয়ঃ কান্তাঃ কান্তঃ পরমপুরুষঃ কল্পতরবো।*
*🌷দ্রুমা ভূমিশ্চিন্তামণিগণময়ী তোয়মমৃতম্।।*
*🌷কথাগানং নাট‍্যং গমনমপি বংশীপ্রিয় সখি।*
*🌷চিদানন্দ জ‍্যোতিঃ পরমপি তদাস্বাদ‍্যমপিচ।।*
*🌻শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে এটির এইরকম পদ‍্যানুবাদ আছে,যথা=*
*🌷পরম পুরুষোত্তম স্বয়ং ভগবান।*
*🌷কৃষ্ণ যাহা ধনী তাহা বৃন্দাবন ধাম।।*
*🌷চিন্তা মণিময় ভূমি চিন্তামণি ভবন।*
*🌷 চিন্তামণিগণ দাসী চরণ-ভূষণ।।*
*🌷কল্পবৃক্ষলতা যাহা সাহজিক বন।*
*🌷পুষ্পফল বিনা কেহ না মাগে অন‍্য ধন।।*
*🌷অনন্ত কাম ধেনু যাহা ফিরে বনে বনে।*
*🌷দুগ্ধ মাত্র দেন কেহ না মাগে অন‍্য ধনে।।*
*🌷সহজে লোকের কথা যাহা দিব‍্য গীত।*
*🌷 সহজে মন করে নৃত্য পরতীত।।*
*🌷সর্বত্র জল যাহা অমৃত সমান।*
*🌷চিদানন্দ জ‍্যোতিঃ স্বাদ‍্য যাহা মূর্তিমান।।*
*🌷লক্ষ্মী যিনি গুণ যাঁহা লক্ষ্মীর সমাজ।*
*🌷কৃষ্ণবংশী করে যাঁহা প্রিয় সখি কাজ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ শ্রীবৃন্দাবনে ব্রজসুন্দরীগণই পরমালক্ষ্মী এবং তাঁদের শ্রীকৃষ্ণই পরমপুরুষ, বৃক্ষ সবই--কল্পবৃক্ষ ; ভূমিই-- চিন্তামণিগণময়ী ; জলই-- অমৃত ; কথাই--গান ; গমনই--নাট‍্য, বংশীই-- প্রিয় সখী, এবং চিদানন্দরূপ বস্তুই-- জ‍্যোতিঃ স্বরূপ।*
*🌹শ্রীবিল্বমঙ্গলও বলেন=*
*🌷চিন্তামণিশ্চরণ ভূষণমঙ্গনানাম্,*
*🌷শৃঙ্গার পুষ্পতরব স্তরবঃ সুরাণাম্,*
*🌷বৃন্দাবনে ব্রজধনং ননু কামধেনু---*
*🌷বৃন্দানি চেতি সুখসিন্ধু রহো বিভূতিঃ।*
*🌻অহো!শ্রীবৃন্দাবনের কি সুখসিন্ধুময় বিভূতি! এখানে অঙ্গনাগণের চরণভূষণই=চিন্তামণি, বেশ বিন‍্যাসের সামগ্রী সাধক তরুগণই কল্পতরু এবং ধনুগণই কামধেনু।*
*🌹এই সব কথা বলতে বলতে রসস্বরূপ স্বরূপের রসসিন্ধু উথলিয়ে উঠিল।শ্রীবাস তখন সে রসমাধুর্য‍্য-সিন্ধুর উত্তাল তরঙ্গে ভাসতে লাগলেন।তিনি সেই তরঙ্গে নাচতে লাগলেন,কক্ষতালি বাজিয়ে অট্টহাসির তুমুল রবে সবাইকেই পাগল করে তুললেন।স্বয়ং মহাপ্রভুও আবেশে শ্রীরাধার বিশুদ্ধ রসতত্ত্ব শুনে আনন্দে অধীর হয়ে নৃত্য আরম্ভ করলেন।মহাপ্রভুর মন বুঝে স্বরূপ গান ধরলেন, গৌরহরি তখন ভাবে বিভোর হয়ে "বোল বোল" বলে স্বরূপের সেই সুধামাখা গান শুনবার জন্য কান পেতে রইলেন।স্বরূপ তখন ব্রজরসের গান ধরলেন,আর অমনি মহাপ্রভু মধুরভাবে নৃত্য করতে লাগলেন।স্বরূপের গানে আর মহাপ্রভুর নৃত‍্যে মূর্তিমান ব্রজরস উথলিয়ে উঠিল।সে গানের ও নৃত্যের প্রেমপ্রবাহে চারিদিক ভেসে গেল, যথা চৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷শুনি প্রেমাবেশে নৃত্য করেন শ্রীবাস।*
*🌷কক্ষ তালি বাজায়ে করে অট্ট অট্ট হাস।।*
*🌷রাধার শুদ্ধরস প্রভু আবেশে শুনিল।*
*🌷সেই রসাবেশে প্রভু নৃত্য আরম্ভিল।।*
*🌷রসাবেশে প্রভুর নৃত্য স্বরূপের গান।*
*🌷"বোল বোল" বলি প্রভু পাতে নিজ কান।।*
*🌷ব্রজরস গীত শুনি প্রেম উথলিল।*
*🌷পুরুষো‍ত্তম গ্রাম প্রভু প্রেমে ভাসাইল।।*
*🌻প্রিয়ভক্ত পাঠক,এই চিত্রটি একবার মানসনয়নে অবলোকন করুন,স্বরূপদামোদর কীর্তন করছেন আর মহাপ্রভু নাচছেন!কি গাইছেন--না ব্রজরসের গীত। ব্রজরস কি,তা ভাষায় ব‍্যক্ত হবে না,ব্রজগোপীদের ভাব-ভূষণাদি সবই চিদানন্দময়--তাঁদের ভাবে বিভাবিত হয়ে তাঁদের রসের গীত স্বরূপদামোদর গাইছেন--আর ভক্তবৎসল গৌরহরি নাচছেন, এ নৃত্য তান্ডব নৃত্য না, এ নৃত্য মধুর নৃত্য,ব্রজরসের ও ব্রজভাবের নৃত্য।লক্ষ্মী-বিজয় হয়ে গেল, লক্ষ্মীদেবী মন্দিরে গেলেন কিন্তু ভাবসিন্ধু গোরাচাঁদের নৃত্য ভাঙ্গিল না। বেলা তিন প্রহর অতিবাহিত হল,তবুও মহাপ্রভুর নৃত্য থামল না। চারদিকে চার সম্প্রদায়ে গান ধরেছিলেন,তাঁরা শ্রান্ত হলেন কিন্তু মহাপ্রভুর শ্রান্তি নাই, ক্রমেই প্রেমাবেশ বেড়ে উঠিল, স্বরূপের রসময় সঙ্গীত মহাপ্রভুর হৃদয়ে প্রবেশ করে তাঁকে রাধাভাবে বিভাবিত করে তুলিল।গৌরহরি শ্রীরাধার ভাবে আবিষ্ট হয়ে শ্রীরাধা মূতি ধারণ করে নাচতে লাগলেন।শ্রীনিত‍্যানন্দকে দেখে মহাপ্রভু মাথায় কাপড় টেনে দিলেন।কেন না,নিত‍্যানন্দ সাক্ষাৎ বলরাম,আর মহাপ্রভু এখন শ্রীরাধা ভাবে আবিষ্ট। কিন্তু তবুও মহাপ্রভুর আবেশময় নৃত্য থামল না। নিত‍্যানন্দ দূরে সরে দাঁড়ালেন, যথা চৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷চারি সম্প্রদায় গান করি শ্রান্ত হৈল।*
*🌷মহাপ্রভুর প্রেমাবেশ দ্বিগুণ বাড়িল।।*
*🌷রাধা প্রেমাবেশে প্রভু হৈল সেই মূর্তি।*
*🌷নিত‍্যানন্দ দূরে দেখি করেন প্রণতি।।*
*🌷নিত‍্যানন্দ জানি প্রভুর ভাবাবেশ।*
*🌷নিকটে না আইসে কিছু রহে দূরদেশ।।*
*🌻কিন্তু এ দিকে বেলা অবসান প্রায়,মহাপ্রভুর বাহ‍্য জ্ঞান নাই। তাঁর আবেশ ভাঙ্গিল না, সুতরাং কীর্তন থামছে না, নিত‍্যানন্দ মহাপ্রভুকে এ অবস্থায় ধরে তাঁর আবেশ ভঙ্গ করে থাকেন, কিন্তু মহাপ্রভু এখন রাধার ভাবাবেশে আবিষ্ট,নিত‍্যানন্দ এ অবস্থায় তাঁকে স্পর্শ করতে পারেন না, সুতরাং তিনি দূরে সরে রইলেন।স্বরূপদামোদর দেখলেন এখন কোন উপায়ে কীর্তন বন্ধ করা দরকার। তিনি নানা প্রকার ইঙ্গিত করে মহাপ্রভুর দৃষ্টি ভক্তগণের দিকে আকৃষ্ট করলেন সহসা মহাপ্রভুর বাহ‍্য জ্ঞান হল, তিনি তখন ভক্তগণকে শ্রান্ত দেখে নৃত্য ত‍্যাগ করলেন এবং সবাইকে নিয়ে পুষ্পোদ‍্যানে বিশ্রাম করতে গমন করলেন। সেখানে বেশ কিছু সময় বিশ্রামের পর অপরাহ্নে সভক্ত শ্রীমন্মহাপ্রভুর দুপুরের স্নান সমাপন হল।ভক্তগণ সহ মহাপ্রভু মহাপ্রসাদ গ্রহণ করলেন।এইভাবে লক্ষ্মীবিজয়ে মহাপ্রভু মহামহোৎসব করে ভক্তগণকে ব্রজরস বিতরণ করেছিলেন। এই উপলক্ষ্যে শ্রীস্বরূপের মুখে ভক্তগণ সামনে রসময় রসিকশেখর ব্রজের যে আনন্দলীলা রসের চিদানন্দ তত্ত্ব প্রকটন করেছিলেন,তাঁর কাছে ব্রহ্মানন্দ অতি তুচ্ছ।আমরা এই প্রসঙ্গে মহাজনগণের লিখিত রস-তত্ত্বের দুই একটি বর্ণ মাত্র উচ্চারণ করে এতদিন আত্ম দেহ মন ও রসনা পবিত্র করার প্রয়াস পেয়েছিলাম মাত্র। কিন্তু কোন কথায় ব‍্যক্ত করতে পারিনি, সে সাধ‍্য বা সে সাহসও আমাদের নেই। ব্রজের রস-তত্ত্ব অসীম ও অনন্ত।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 ষষ্ঠ ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৭)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
  *স্বরূপের দয়া ও ছোট হরিদাস*
   ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻শ্রীব্রজরসের প্রসঙ্গে শ্রীস্বরূপের মুখে ভক্তগণকে রসসিদ্ধান্তের তত্ত্বগুলি শ্রবণ করান।আগে বলেছি-- সব রসসিদ্ধান্তের বিবৃতি একে তো মানুষের ভাষাতেই পরিস্ফূটভাবে প্রকাশ করে অসম্ভব,তার পরে আমার মত মলিন জীবের পক্ষে আদৌ সেটি ধারণার বিষয় না।বিবৃতি তো দূরের কথা,গুণময় দেহধারী এবং দৈহিক ক্রিয়াবিকারাদি নিত‍্যদাসের পক্ষে চিদানন্দ ব্রজরসের উপলব্ধি অসম্ভব ব‍্যাপার।তবে যে এই সব বিষয়ের নাম করা হয়,জীবের উচ্চতম ভজন প্রণালীর স্মৃতিজীবন করাই তার একমাত্র উদ্দেশ্য।*
*🍀যাইহোক, এখন আমাদের প্রাণের স্বরূপদামোদরের সম্বন্ধে অপরাপর কথার কিছু কিছু বলা যাচ্ছে। 🌹পূর্ববঙ্গীয় কোন ব্রাহ্মণ শ্রীমন্মহাপ্রভুর সম্বন্ধে একটি নাটক লিখে আনেন।শ্রীস্বরূপ সেটি পাঠ করে সেটিতে সিদ্ধান্ত বিরোধ ও রসাভাস দোষ দেখতে পান এবং এইজন‍্য ব্রাহ্মণকে কিছু কৃপাবাগ্ দন্ড প্রদান করেন, (সৎ উপদেশ) এটি আমরা আগেই বলেছি।সেই প্রসঙ্গে এওও বলেছি রসময় স্বরূপের প্রাণে কঠোরতার লেশমাত্রও ছিল না। সাধারণ বৈষ্ণবের হৃদয়েই কঠোরতার লেশমাত্র দেখা যায় না,মধুরতার খনি, প্রেমমূর্তি স্বরূপের হৃদয় তো অমৃতরসের উৎস। তিনি ব্রাহ্মণ লেখক মহোদয়ের প্রতি কৃপা প্রকাশের জন্যই এবং তাঁর সবিশেষ মঙ্গলের জন্যই প্রথমে একটি প্রকৃত কথা বলে ভক্তিসিদ্ধান্তের দিকে তাঁর চিত্ত আকৃষ্ট করে দিয়েছিলেন।শ্রীস্বরূপের হৃদয়ে সবসময়ই দয়া ও মাধুর্য‍্যের প্রবল স্রোত প্রবাহিত হত, তিনি জীবের কষ্ট দেখলে ব‍্যাকুল হতেন।শ্রীস্বরূপের "দয়ার" একটি কাহিনী প্রসঙ্গক্রমে এখানে উল্লেখ করা যাচ্ছে।*
*🍀শ্রীভগবান আচার্য‍্য মধ্যে মধ্যে শ্রীমন্মহাপ্রভুকে দ্বিপ্রহরে নিমন্ত্রণ করে আহার করাতেন।একদিন তিনি মহাপ্রভুর কীর্তনীয় ছোট হরিদাসকে শিখি মাহিতির বোনের কাছে মহাপ্রভুর ভোগের জন্য সুগন্ধি তন্ডুল আনতে আদেশ করেন। শিখিমাহিতির ভগ্নীর বিবরণ শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে এইরকম লিখিত আছে =*
*🌷মাহিতীর ভগ্নী সেই নাম মাবধী দাসী।*
*🌷বৃদ্ধা তপস্বিনী আর পরমা বৈষ্ণবী।।*
*🌷প্রভু লেখা করে যারে রাধিকার গণ।*
*🌷জগতের মধ্যে পাত্র সাড়ে তিন জন।।*
*🌷স্বরূপ গোসাঞী আর রায় রামানন্দ।*
*🌷শিখিমাহাতী তিন,তাঁর ভগ্নী অর্দ্ধ জন।।*
*🌻শিখি মাহাতীর ভগ্নী বৃদ্ধা,তপস্বিনী ও পরম বৈষ্ণবী।মহাপ্রভু স্বয়ং মাধবীকে শ্রীরাধিকার গণ বলে নির্দেশ করেন। হরিদাস এই মাধবী দাসীর নিকট হতে সুগন্ধি তন্ডুল এনে শ্রীভগবান আচার্য‍্য মহাশয়কে দিয়েছিলেন।শ্রীমনমহাপ্রভু সেই তন্ডুলের অন্ন দেখে তুষ্ট হয়ে বললেন,আচার্য‍্য!এমন সুন্দর চাল কোথায় পেলে?আচার্য‍্য বললেন-- শিখি মাহিতীর ভগ্নী মাধবীর কাছ হতে তন্ডুল আনা হয়েছে।অন্তর্য‍্যামী মহাপ্রভু বললেন "কে এনে দিল"? সরল চিত্ত শ্রীভগবান আচার্য‍্য, মহাপ্রভুর এইরকম প্রশ্নের গূঢ় অভিসন্ধির বিন্দুমাত্রও মর্ম বুঝতে না পেরে সরলভাবে বললেন,"ছোট হরিদাস"।মহাপ্রভু আর কিছুমাত্র না বলে অন্নের প্রশংসা করতে করতে ভোজন করলেন।ভোজনান্তে বাসায় এসে গোবিন্দকে বললেন=*
*🌷আজ হৈতে আমার এই আজ্ঞা পালিবা।*
*🌷ছোট হরিদাসে ইহা আসিতে না দিবা।।*
*ছোট হরিদাস গোবিন্দের মুখে মহাপ্রভুর আজ্ঞা শুনে বজ্রাহতের মত হলেন।কি কারণে গৌরহরি এইরকম কঠোর আদেশ করলেন, শ্রীচৈতন‍্যদেবের একান্ত ভক্ত ছোট হরিদাস তা বুঝতে পারলেন না।কোনও ভক্ত এর কারণ জানলেন না।কিন্তুছোট হরিদাসের প্রতি এই কঠোর আজ্ঞা প্রচারিত হওয়ায় সকলেই অবাক হলেন।স্বরূপ শুনলেন,ছোট হরিদাস মহাপ্রভুর আজ্ঞা শুনে তিনদিন অনাহারে অনিদ্রায় থেকে কেবল হা গৌরাঙ্গ হা গৌরাঙ্গ বলতে বলতে অশ্রুপাত করছেন।ছোট হরিদাসের এই আর্তির কথা শুনে দয়াময় স্বরূপদামোদরের হৃদয় ব‍্যাকুল হয়ে উঠিল। তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না, তৎক্ষণাৎ মহাপ্রভুর কাছে উপস্থিত হলেন। উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন "ছোট হরিদাসের দ্বার-মানা হ'ল কেন?"তার অপরাধ কি?আজ তিনদিন হল এই আজ্ঞা শুনে সে উপবাসী আছে।মহাপ্রভুর দর্শন বিনা যেজন জল গ্রহণ রেন না,তার প্রতি এরকম আদেশ হল কেন?*
*🍀শ্রীস্বরূপের কথা শুনামাত্রই মহাপ্রভু অমনি উত্তর করলেন "হরিদাস বৈরাগী,বৈরাগী হয়ে যে প্রকৃতি সম্ভাষণ করে আমি তার মুখ দেখি না,যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷প্রভু কহে বৈরাগী করে প্রকৃতি সম্ভাষণ।*
*🌷দেখিতে না পারি আমি তাহার বদন।।*
*🌷দুর্ব্বার ইন্দ্রিয় করে বিষয় গ্রহণ।*
*🌷দারু প্রকৃতি হরে মুনি জনের মন।।*
*🌷ক্ষুদ্র জীব মর্কট বৈরাগ‍্য করিয়া।*
*🌷ইন্দ্রিয় চরাঞা বুলে প্রকৃতি সম্ভাষিয়া।।*
*🌻মহাপ্রভু এই কথা বলে বিরক্ত ভাবে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলেন,তাঁর অভিন্ন-আত্মা স্বরূপ তাঁর এই ভাব দেখে আর প্রশ্ন করতে সাহসী হলেন না।ছোট হরিদাস কখন কোন প্রকৃতির (নারীর) কাছে গিয়ে তাঁর সঙ্গে আলাপ সম্ভাষণ করেছেন, তা কেউই জানেন না, ইতঃপূর্বে এরকম কেউ কখনও শোনেননি। সুতরাং সকলেই বিস্মিত ও চমৎকৃত হলেন।কেউ কেউ মনে করলেন শ্রীভগবান আচার্য‍্যের ঘরে মহাপ্রভু যে সুগন্ধি তন্ডুলের সম্বন্ধে এত প্রশ্ন করেছিলেন এবং মাধবী দেবীর নিকট হতে সুগন্ধি তন্ডুল কে আনিল, এইকথা জিজ্ঞাসা করেছিলেন ছোট হরিদাসের বর্জন বোধহয় তারই ফল। কেননা ছোট হরিদাসই মাধবীদেবীর কাছ হতে তন্ডুল চেয়ে এনেছিলেন। কিন্তু এতে শ্রীচৈতন‍্যের এত ক্রোধ হওয়ার কারণ কি? সম্ভবত হরিদাসের অন‍্য কোন দোষও থাকতে পারে। কেউ কেউ মনে করলেন বৈরাগ‍্য শিক্ষা দেবার জন্যই বুঝি মহাপ্রভু হরিদাসের প্রতি এরকম গুরুতর কঠোর আদেশ প্রচার করে অন‍্য সকলের শিক্ষা প্রদান করলেন। কেন না জগতে মানুষের যত রিপু আছে,কামুকত্ব অপেক্ষা প্রবলতম রিপু মানুষের আর নাই। সুতরাং সংসারত‍্যাগী ভগবৎ-নিষ্ঠ বৈষ্ণবগণ যাতে ইন্দ্রিয়-প্রলোভনীয় বস্তু অপেক্ষা দূরে বাস করেন এটিই চৈতন‍্যদেবের অভিপ্রায়। সুতরাং কোন একটি সূত্র ধরে তিনি সাধক বৈষ্ণদেরকে সবিশেষ সাবধান করে দিলেন।*
*🍀ফলে এই বিষয় নিয়ে কয়েক দিন মহাপ্রভুর ভক্তগণের মধ্যে সবিশেষ আলোচনা চলতে লাগল। কিন্তু সমুদ্র-গম্ভীর মহাপ্রভুর প্রকৃত উদ্দেশ্য কেউই বুঝতে পারলেন না।মহাপ্রভুর ভাব দেখে একথা কেউ সহসা তাঁর কাছে আবার উপস্থিত করতেও সাহসী হলেন না। কিন্তু হরিদাসের আর্তি দেখে ভক্তগণের হৃদয় ফেটে যেতে লাগল। সুতরাং তাঁরা অগত‍্যা একদিন পুনরায় শ্রীচৈতন‍্যের কাছে এই কথা তুললেন।তাঁরা বললেন প্রভো! হরিদাসের অপরাধ অতি অল্প, ভবিষ্যতে এমন অপরাধ আর হবে না।হরিদাস তোমার চরণাশ্রিত এবার তাকে ক্ষমা কর।তার যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে।আমাদের সকলের অনুরোধে এবার হরিদাসকে ক্ষমা করতেই হবে।*
*🌹কিন্তু গম্ভীর হৃদয়,স্থিরপ্রতিজ্ঞ মহাপ্রভু ভক্তগণের এই অনুরোধ রক্ষা করতে স্বীকৃত হলেন না।তিনি বললেন,আমার মন আমার বশে নাই, আমি ক্ষমা করতে ইচ্ছা করলেও মনে হয়, হরিদাস ক্ষমার যোগ্য না।তোমরা বৃথা কথা বারে বারে আর বলিও না, আমি প্রকৃতি সম্ভাষী বৈরাগীর মুখ দর্শন করব না।এর পরেও কোন কোন ভক্ত মহাপ্রভুকে অনুরোধ করতে রত হলেন। কিন্তু গৌরহরি এতে বিরক্ত হয়ে বললেন, তোমরা আবার এই অসঙ্গত অনুরোধ করলে আর আমাকে এখানে দেখতে পাবে না। যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
                *ক্রমাগত*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 ষষ্ঠ ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৮)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
              *ছোট----হরিদাস*
               ^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌷প্রভু কহে মোর বশ নহে মোর মন।*
*🌷প্রকৃতি-সম্ভাষী বৈরাগী না করে দর্শন।।*
*🌷নিজ কার্য‍্যে যাও সবে ছাড় বৃথা কথা।*
*🌷পুনঃ কহ যদি আমা না দেখিবে হেথা।।*
*🌻এইকথা শুনে সকলেই কানে হাত দিয়ে নিজ নিজ স্থানে চলে গেলেন, সকলেই বুঝলেন হরিদাষের কপাল ভেঙ্গেছে, এ ভাঙ্গা কপাল বুঝি আর জোড়া লাগবে না।এইভাবে কয়েকদিন চলে গেল।এদিকে ছোট হরিদাস আহার নিদ্রা ত‍্যাগ করলেন, দিনরাত্রি কেবল "হা গৌরাঙ্গ শ্রীগৌরাঙ্গ" নাম নিয়ে অশ্রুপাত করতে লাগলেন, শ্রীগৌরাঙ্গের শ্রীমুখশশী দেখতে না পেয়ে জীবন ধারণ করা তাঁর পক্ষে ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ল।পরম দয়াল বৈষ্ণবগণ হরিদাসের আর্তি দেখে আর স্থির থাকতে পারলেন না।তাঁরা মহাপ্রভুর মনের ভাব বুঝেছেন, শ্রীচৈতন‍্যদেব হরিদাসকে আর গ্রহণ করবেন না, হরিদাসের অপরাধের যে আর ক্ষমা নাই তা তাঁরা বুঝেছেন, হরিদাসের কথা তুলতেই মহাপ্রভু যেরকম বিরক্তির ভাব প্রকাশ করেন তাও তাঁরা প্রত‍্যক্ষই দেখেছেন।এরকম অবস্থায় মহাপ্রভুর কাছে এইকথা পুনর্বার উপস্থিত করতে কেউই সাহসী হলেন না। কিন্তু হরিদাসের আর্তি নির্বেদ,বিষাদ ও দৈন‍্য দেখে কেউ স্থির থাকতে পারলেন না। সুতরাং তাঁরা সকলে যুক্তি করে শ্রীনাদ পরমানন্দপুরীর কাছে উপস্থিত হলেন এবং মহাপ্রভু যাতে হরিদাসের প্রতি প্রসন্ন হন এজন‍্য তাঁকে বিশেষরূপে অনুরোধ করার জন্য শ্রীপরমানন্দপুরীকে বললেন।পুরীগোঁসাই বৈষ্ণবগণের অনুরোধে সম্মত হয়ে একক মহাপ্রভুর নিকট গমন করলেন।শ্রীপাদ পরমানন্দপুরীকে মহাপ্রভু মান‍্য করেন।তাঁকে দেখে তিনি গাত্রোত্থান করলেন, আগমনের কারণ জিজ্ঞাসা করলেন।পুরীগোঁসাই বললেন, বৈষ্ণবগণের মুখে শুনলাম ছোট হরিদাসের সামান্য অপরাধে তুমি তাঁকে ত‍্যাগ করেছ, তুমি নাকি তাঁর মুখ দেখবে না। তাকে ক্ষমা কর,এটি সকল বৈষ্ণবেরই ভিক্ষা।তুমি তার প্রতি প্রসন্ন হও,আমারও এই অনুরোধ।*
*মহাপ্রভু কখনও পরমানন্দপুরীর বাক‍্য লঙ্ঘন করেননি। কিন্তু ছোট হরিদাসের কথা উত্থাপন হওয়া মাত্রই মহাপ্রভু অসন্তুষ্ট ভাবে বললেন,পুরীগোঁই,আপনি এই সব বৈষ্ণব নিয়ে এখানে থাকুন, আমি গোবিন্দকে নিয়ে আলালনাথে যাই। কিছুতেই আমি ছোট হরিদাসের মুখ দেখব না।এই বলে শ্রীচৈতন‍্যদেব পুরীগোঁসাইকে প্রণাম করে দাঁড়ালেন, বৈষ্ণবগণের অনুরোধে তিনি প্রকৃতই এক মহা কুকার্য‍্য করে ফেলেছেন। তখন তিনি অতি ব‍্যস্তে মহাপ্রভুর কাছে গিয়ে বললেন,থাক, এ অনুরোধ আর করব না, তুমি ঘরে ফির,তোমার যা মনে লয় তাইই কর, তুমি ঈশ্বর, তোমার লীলা আমরা কি বুঝব, আর তোমার বিধানের উপর আমাদের কথায় বা কি.? তুমি যা কর, সকলের হিতের জন্যই কর। তোমার কথার উপরে আমকথা বলা বাহুল‍্য।যাই হোক,আর এমন অন‍্যায় অনুরোধ করব না।এখন ঘরে চল।মহাপ্রভু ফিরলেন।এইবার ভক্তগণের সব আশাই ফুরাল।তাঁরা বুঝলেন আর কোন ভাবেই হরিদাসের প্রতি মহাপ্রভুকে প্রসন্ন করা যাবে না। সুতরাং এখন হরিদাসকে প্রবোধ দেওয়া ও সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া আর দ্বিতীয় উপায় রইল না।*
*আমরা আগেই বলেছি দয়ার দুগ্ধধারায় স্বরূপের হৃদয় পরিপূর্ণ। স্বরূপ তখন হরিদাসের কাছে গিয়ে তাঁকে সান্ত্বনা করতে সচেষ্ট হলেন। স্বরূপ বললেন,হরিদাস!জান তো আমরা সবাই তোমার হিতৈষী।তোমার জন্য মহাপ্রভুকে যতদূর বলবার তা বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি তো কারও অধীন নন, তিনি স্বতন্ত্র ঈশ্বর। এখন তিনি কারও কথা শুনছেন না, কিন্তু সময়ে অবশ‍্য তাঁর দয়া হবে,তখন তিনি তোমার প্রতি সুপ্রসন্ন হবেন।তুমি এমন ভাবে পড়ে থাকলে আর কি হবে। চল স্নান ভোজন কর,দেহ রক্ষা কর, অবশ্যই কোন সময়ে মহাপ্রভুর কৃপা হবে।*
*হরিদাস স্বরূপদামোদরের কথা এড়াতে পারলেন না। উঠলেন,স্নান করলেন, আহার করলেন, কিন্তু শ্রীগৌরাঙ্গের শ্রীমুখচন্দ্র না দেখে হরিদাস কিছুতেই স্থির থাকতে পারেন না।কুলটা গৃহবধূ যেমন প্রণয়ীজনের মুখটি দেখবার জন্য নানা জায়গায় দাঁড়ায়,নানা চেষ্টা করে, হরিদাসও দূর হতে মহাপ্রভুর বদন-শশী দেখবার জন্য সেইরকম চেষ্টা করতে আরম্ভ করলেন।মহাপ্রভু জগন্নাথ দর্শন করার জন্য যখন যাতায়াত করতেন,হরিদাস সেই সময়ে দূরে দূরে দাঁড়ায়ে উকিঝুকি দিয়ে সতৃষ্ণ ভাবে শ্রীগৌরাঙ্গের শ্রীমুখখানি নিরীক্ষণ করতেন, আর অমনি তার দেহ আনন্দে অবশ হয়ে পড়ত, নয়নজলে বক্ষ প্লাবিত হত,চক্ষু মুছে ফিরে চাইতে আর শ্রীগৌরাঙ্গরূপ দেখতে পেতেন না।হরিদাস কাঁদতে কাঁদতে বাসায় ফিরতেন, আর কেঁদে কেঁদে দিন-রাত্রি কাটাতেন।*
                 *ক্রমাগত*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 ষষ্ঠ ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫৯)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
               *ছোট--হরিদাস*
                /\/\/\/\/\/\/\
*🍀হরিদাপ এইভাবে নীলাচলে এক বৎসরকাল অতিবাহিত করলেন, কিন্তু এই এক বৎসরের মধ্যেও তাঁর ভাগ‍্য সুপ্রসন্ন হল না। তিনি দুঃসহ গৌরবিরহ আর সহ‍্য করতে না পেরে একদিন শেষ রাত্রিতে মনে মনে শেষ চিন্তা স্থির করলেন। উদ্দেশ্যেই মহাপ্রভুর শ্রীচরণে প্রণাম করলেন।আর কাউকে কোন কথা না বলে শেষ রাত্রিতেই প্রয়াগ অভিমুখে যাত্রা করলেন।দিনরাত চলতে চলতে হরিদাস অল্প সময়েই প্রয়াগে উপস্থিত হলেন।তিনি আগেই স্থির করেছিলেন শ্রীগৌরাঙ্গ উপেক্ষিত দেহ আর রাখবেন না।একদিন তিনি প্রয়াগে ত্রিবেণী-সঙ্গম স্থলে গিয়ে শ্রীগৌরাঙ্গ প্রাপ্তিসঙ্কল্প করে শ্রীগৌরাঙ্গ-পদযুগল ভাবতে ভাবতে ত্রিবেণীর প্রসন্ন সলিলে গুণময় দেহ বিসর্জন করলেন।মহাপ্রভু ছোট হরিদাসের যে দেহ উপেক্ষা করেছিলেন,হরিদাস অবলীলাক্রমে সে দেহ পরিত‍্যাগ করে দিব‍্য দেহ ধারণ করে তাঁর প্রাণের আরাধ‍্য দেবের নিকট উপস্থিত হলেন।মহাপ্রভু এবার তাঁর প্রিয় ভৃত‍্যকে অভয় দিলেন।হরিদাস দিব‍্য গন্ধর্ব দেহ লাভ করেছিলেন,সে দেহ জনসাধারণের চর্মচক্ষুর অদৃশ্য। তিনি রাত্রিতে গান করে মহাপ্রভুকে শুনাতেন, কিন্তু তা অন‍্যের শ্রুতিগোচর হত না।*
*🍀একদিন রসিক-লিরোমণি মহাপ্রভু ভক্তগণকে জিজ্ঞাসা করলেন "হরিদাস কোথা,তাকে একবার এখানে ডাক দেখি"।একজন বললেন,প্রভো!হরিদাস আপনার বিরহে এক বৎসরকাল দুঃখ কষ্টে এখানে ছিল।এক বৎসর পরে একদিন শেষ রাত্রিতে সে কোথায় চলে গিয়েছে তা কেউই বলতে পারে না।এতে রসিক-শিরোমণি একটু হাসলেন।মহাপ্রভুর এ হাসি দেখে সকলে অবাক হলেন।এক বৎসরের মধ্যে হরিদাসের কথা শ্রীচৈতন‍্যদেব একটি বারও জিজ্ঞাসা করেননি। আজ নিজ শ্রীমুখে হরিদাসের বার্তা জিজ্ঞাসা করলেন।এতে বুঝা গেল হরিদাসের কথা বুঝি মহাপ্রভুর মনে পড়েছে।তাঁর প্রতি গৌরহরি বুঝি প্রসন্ন হয়েছেন। কিন্তু যখন হরিদাসের সন্ধানের কথা কেউ বলতে পারল না,তখন গৌরহরির দুঃখ প্রকাশ করা উচিত ছিল। অথচ তিনি তা না করে একটু হাসলেন,এতেই সকলে অবাক হলেন।*
*🍀একদিন ভক্তগণ সমুদ্র-স্নানে যাচ্ছিলেন।ইঁনাদের মধ্যে স্বরূপদামোদর,জগদানন্দ,গোবিন্দ, মুকুন্দ,দামোদর পন্ডিত,শঙ্কর ও কাশীশ্বরের নামই বিশেষ উল্লেখ যোগ্য। সহসা ইঁনারা আকাশ-পথে গান শুনতে পেলেন।সে গান ও কন্ঠস্বর তাঁদের পরিচিত বলে বোধ হল,-- কে গায় আই!কেউ বললেন কৈ মানুষ কোথায়,স্বরটি যেন আকাশ হতে আসছে।অন‍্য একজন বললেন স্বরটি অতি পরিচিত, যেন ঠিক ছোট হরিদাসের কন্ঠস্বর।গোবিন্দ এর পরে ঠিক সিদ্ধান্ত করে ফেললেন যে,এ স্বর ছোট হরিদাসেরই। তাতে কিছুমাত্র সন্দেহ নাই।দুঃসহ শ্রীগৌরাঙ্গ-বিরহে হরিদাস সম্ভবত বিষপানে আত্মহত‍্যা করে ব্রহ্মরাক্ষস হয়ে থাকবে। যদিও আমরা সেটির আকার দেখছি না কিন্তু হরিদাসের কন্ঠের স্বর শুনতে পাচ্ছি। গোবিন্দের কথায় বাধা দিয়ে সিদ্ধান্ত-শিরোমণি স্বরূপদামোদর বললেন, গোবিন্দ তোমার এ অনুমান নিতান্তই মিথ‍্যা।যে আজন্ম কৃষ্ণকীর্তন করেছে,মহাপ্রভুর সেবা করেছে,যে গৌরহরির একান্ত কৃপাপাত্র,আর এই শ্রীক্ষেত্রে যার মৃত‍্যু তার কি কখনও দুর্গতি হয়।এসবই মহাপ্রভুর ভঙ্গী ; এ খেলা ধীরে ধীরে বুঝতে পারবে। যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷আজন্ম কৃষ্ণকীর্তন,প্রভুর সেবন।*
*🌷প্রভু কৃপাপাত্র,আর ক্ষেত্রেতে মরণ।।*
*🌷দুর্গতি না হয় তার,সদ্গতি যে হয়।*
*🌷মহাপ্রভুর ভঙ্গী পাছে জানিবে নিশ্চয়।।*
*🌻শ্রীস্বরূপের এই সিদ্ধান্তে সকলে অবাক হলেন এবং মহাপ্রভুর ভঙ্গী জানবার জন্য প্রতীক্ষা করতে লাগলেন।ইতিমধ‍্যে প্রয়াগ হতে এক বৈষ্ণব নবদ্বীপে উপস্থিত হলেন। হরিদাস যখন শ্রীগৌরাঙ্গ প্রাপ্তি কামনা করে ত্রিবেণীতে দেহ ত‍্যাগ করেন এই বৈষ্ণব তা প্রত‍্যক্ষ করেছিলেন।ইনি নবদ্বীপে এসে হরিদাসের এই অলৌকিক দেহত‍্যাগের কথা শ্রীবাসের কাছে বলেন।শ্রীবাসাদি সকলেই শুনে অবাক হলেন।বর্ষান্তরে শিবানন্দ সেন ও শ্রীবাস প্রভৃতি গৌড়ীয় ভক্তগণ শ্রীমহাপ্রভুর শ্রীচরণ দর্শন করতেন।সেবারও সকলে শ্রীক্ষেত্রে আসিলেন।শ্রীবাসের মনে কেবল এক কথা,যেই তিনি মহাপ্রভুর শ্রীচরণ দর্শন পাবেন, আর অমনি ছোট হরিদাসের কথা জিজ্ঞাসা করবেন।গৌর।রির চরণ-দর্শন-প্রাপ্তি মাত্রই শ্রীবাস সামান্য ব‍্যগ্র ভাবে জিজ্ঞাসা করলেন প্রভো!ছোট হরিদাস কোথায়?প্রতিভাবান শ্রীচৈতন‍্য অমনি উত্তর করলেন, "স্বকর্ম-ফলভুক্ পুমান্" অর্থ‍্যাৎ লোক স্বকর্ম ফলভোগ করে। শ্রীবাস তখন প্রয়াগের বৈষ্ণবের মুখে হরিদাসের দেহ-ত‍্যাগের যে কথা শুনেছিলেন মহাপ্রভুকে সব কথা খুলে বললেন।বলবার সময়ে মনে করেছিলেন মহাপ্রভু বুঝি এই কঠিন নিগ্রহের জন্য অনুতপ্ত হবেন। কিন্তু শ্রীচৈতন‍্যের হৃদয়ে ভাব অলৌকিক। তাঁর হৃদয় বজ্র হতেও সুকঠিন, আবার কুসুম হতেও সুকোমল। মহাপ্রভু হেসে বললেন "ঠিক হয়েছে। বৈরাগী হয়ে প্রকৃতি দর্শন করলে তাঁর এইরকম প্রায়শ্চিত্তই হয়ে থাকে "।*
*🍀ত্রিবেণীতে শ্রীগৌরাঙ্গ প্রাপ্তির কামনায় হরিদাসের দেহ-ত‍্যাগের কথা শ্রীস্বরূপ শ্রীবাসের মুখে শুনে ভক্তদেরকে সম্বোধন করে বললেন "আকাশে যে গান শুনেছিলে তা মনে আছে কি?ভক্ত কখনও প্রভু ছেড়ে থাকতে পারে না। মহাপ্রভুও নিজ ভক্তকে দীর্ঘকাল দূরে রাখতে পারেন না।হরিদাস দিব‍্যদেহে মহাপ্রভুর পার্শ্বে এসেছে।এতে ভক্তগণের মধ্যে এক আনন্দের রোল উঠিল। এই বিরহ-বিধুর হরিদাসের মহাপ্রভু মিলনে কৃপাময় স্বরূপদামোদরের আর আনন্দের সীমা রইল না। এই এক লীলায় মহাপ্রভু অনেক শিক্ষা প্রকটন করলেন, যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷আপন কারুণ‍্য,লোকে বৈরাগ‍্য শিক্ষণ।*
*🌷স্বভক্তের গাঢ় অনুরাগ প্রকটী করণ।।*
*🌷তীর্থের মহিমা,নিজ ভক্ত আত্মসাত।*
*🌷এক লীলায় করে প্রভু কার্য‍্য পাঁচসাত।।*
*🌷মধুর চৈতন‍্য লীলা সমুদ্র গম্ভীর।*
*🌷লোকে নাহি বুঝে,বুঝে ভক্ত ধীর।।*
*🌻দয়াময় স্বরূপদামোদর তাই বলেছিলেন,বিষপানে হরিদাসের অপমৃত‍্যু হয়েছে,এরকম মনে করিও না,সেইরকম কৃপাপাত্রের পক্ষে সেটি অসম্ভব।তবে অচিরেই মহাপ্রভুর ভঙ্গী জানতে পারবে।ফলে শ্রীগৌরাঙ্গলীলা রসজ্ঞ শ্রীস্বরূপদামোদরের কথার গূঢ় মর্ম ভক্তগণ অচিরেই বুঝতে পারলেন।এই লীলা অতি অদ্ভুত। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত বলেন=*
*🌷বিশ্বাস করিয়া শুন চৈতন‍্যচরিত।*
*🌷তর্ক না করিয় তর্কে হয় বিপরীত।।*
*🌹ফলে এই চিন্ময়ী লীলা জনসাধারণের সাধারণ জ্ঞানের দুরবগাহ (যা সহজে বোধগম্য হয় না )।পরন্তু প্রকৃত শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের সঙ্গে এই লীলা শুনিলে শুদ্ধ ভক্তি লাভ ও জীবের অশেষ কল‍্যাণ সাধিত হয়।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 ষষ্ঠ ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬০)🙌শ্রীস্বরূপ-দামোদর🙌*
        *শ্রীস্বরূপ ও বিদ‍্যানিধি*
        ▪▪▪▪▪▪▪
*🍀শ্রীস্বরূপের চরিত্র বর্ণন করতে হলে তাঁর বন্ধুর চরিত্রও অবশ‍্য বর্ণনীয়।সমপ্রকৃতিক না হলে বন্ধুত্ব হয় না।কারও প্রকৃতি সম্বন্ধে জানতে হলে তাঁর বিশিষ্ট বন্ধুর চরিত্রের অনুসন্ধানে অনেক বিষয় জানা যেতে পারে।শ্রীস্বরূপের পূর্বাশ্রমের বন্ধুর নাম শ্রীপুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি। যথা শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে ১১শ অধ‍্যায়ে=*
*🌷পূর্বাশ্রমে পুরুষোত্তমাচার্য‍্য নাম।*
*🌷প্রিয় সখা পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি নাম।।*
    ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷দামোদর স্বরূপ তাহান পূর্বসখা।*
*🌷চৈতন‍্যের অগ্রে দুই জনে হৈল দেখা।।*
    ☆ ☆ ☆ ☆*🌷
*🌷নীলাচলে রহিয়া দেখেন জগন্নাথ।*
*🌷দামোদর স্বরূপের বড় প্রিয় পাত্র।।*
*🌷দুই জনে জগন্নাথ দেখে এক সঙ্গে।*
*🌷অন‍্যোন‍্যে থাকেন কৃষ্ণ রস কথা রঙ্গে।।*
*🍀আহা, কি সুন্দর বন্ধুত্ব!বহুদিন পরে শ্রীক্ষেত্রে দুই বন্ধুর দেখা হল।বিদ‍্যানিধি প্রেমনিধি নামেও অভিহিত হয়েছেন।রসনিধি ও প্রেমনিধির আজ সম্মিলন হল। সামনে শ্রীগৌরচন্দ্র ও নীলাচলচন্দ্র। চন্দ্র-দর্শনে আজ দুই সাগর উদ্বেলিত হয়ে উঠিল।একের তরঙ্গে অন‍্যের তরঙ্গ বেড়ে উঠিল।দুই জনে একত্র মহাপ্রভু দর্শন করেন,দুইজনে একত্র শ্রীশ্রীজগন্নাথ দর্শন করেন এবং কৃষ্ণকথা রসরঙ্গে দিন-রাত্রি অতিবাহিত করেন।জীবের ভাগ‍্যে এরকম বন্ধু-সহবাস প্রকৃতই দুর্লভ।এ সুখ বৈকুন্ঠ সুখ হতেও বুঝি অধিকতর বাঞ্জনীয়।শ্রীস্বরূপ ও শ্রীবিদ‍্যানিধির বন্ধুত্ব চিন্ময়জগতের এক মহা আকর্ষণ।শ্রীস্বরূপ যখন গৃহস্থাশ্রমে ছিলেন তখন হতেই শ্রীবিদ‍্যানিধির সঙ্গে তাঁর বন্ধুতা।শ্রীস্বরূপের জন্মভূমি কোথায়,তার নির্ণয় করা সম্ভবপর নহে।শ্রীবিদ‍্যানিধির সঙ্গে প্রথমে কোন জায়গায় বন্ধুত্ব হয় তাও জানবার হেতু নাই।শ্রীস্বরূপ চট্টগ্রাম হতে এসেছিলেন কিনা,প্রচলিত বৈষ্ণব ইতিহাসে তার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। কিন্তু শ্রীপুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি মহোদয়ের নিবাস যে চট্টগ্রামে ছিল,তার নিঃসন্দেহ প্রমাণ আছে। শ্রীচৈতন‍্যভাগবত স্পষ্টতঃই বলছেন=*
*🌷 এবে শুন বিদ‍্যানিধির আগমন।*
*🌷পুন্ডরীক নাম শ্রীকৃষ্ণের প্রিয়তম।।*
*🌷প্রাচ‍্যভূমি চাটিগ্রাম ধন‍্য করিবারে।*
*🌷তথা তানে অবতীর্ণ করিলা ঈশ্বরে।।*
*🍀শ্রীবিদ‍্যানিধি সময়ে সময়ে নবদ্বীপেও থাকতেন।নবদ্বীপেও তাঁর বাড়ী ছিল।শ্রীবিদ‍্যানিধির নৈষ্ঠিকী ভক্তি ও শতদগ্ধ-স্বর্ণ-সমুজ্জ্বল অকৈতব কৃষ্ণপ্রেম বিষয়-সম্ভোগের ছদ‍্য আবরণে লুকিয়ে থাকত,লোকে তা জানতে বা বুঝতে পারত না।শ্রীশ্রীমহাপ্রভু ভক্তগণ সামনে বিদ‍্যানিধির যে পরিচয় প্রদান করেন তাতে তিনি বলেন=*
*🌷চাটিগ্রামে আছেন এথায়ও বাসা আছে।*
*🌷আসিবেন সম্প্রতি দেখিবা কিছু পাছে।।*
*🌷তানে ঝাট কেহই চিনিবারে না পারিবা।*
*🌷দেখিলে বিষয়ী জ্ঞান মাত্র সে করিবা।।*
*🍀ফলে শ্রীবিদ‍্যানিধি প্রেমভক্তির মহানিধি হয়েও বিষয়ীর মত বিচরণ করতেন। ভোগবিলাস ও বিষয়ভোগের বাহ‍্য আবরণ ভেদ করে লোকে তাঁর প্রকৃত তত্ত্ব বুঝতে পারত না।এমন কি স্বয়ং শ্রীগদাধরও প্রথমে তাঁকে চিনতে পারেননি।এটিও অসম্ভব নয় যে সময়েই তাঁর সঙ্গে স্বরূপের (পুরুষোত্তমাচার্য‍্যের) বন্ধুতা ঘটেছিল।*
*🍀শ্রীস্বরূপদামোদর শ্রীমন্মহাপ্রভুর দ্বিতীয় স্বরূপ।শ্রীস্বরূপ ও শ্রীমন্মহাপ্রভুর অভিন্ন হৃদয়, সুতরাং যিনি স্বরূপের বন্ধু তিনি মহাপ্রভুর বন্ধু এটি স্বতঃসিদ্ধ। স্বয়ং মহাপ্রভুর বিরহ-কষ্ট তাঁর ভক্তগণের পক্ষে যেমন অসহ‍্য, আবার অন‍্য পক্ষে প্রিয়তম ভক্তের বিরহও মহাপ্রভুর পক্ষে তেমনি দুঃসহ।এটিই লীলাময়ের লীলামাধুর্য‍্য।এটিই লীলারহস‍্য।শ্রীবিদ‍্যানিধি মহাপ্রভুর কত প্রিয়বন্ধু, তা আমরা নিজ কল্পনায় কিছু বলব না। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত বলেন=*
*🌷পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি বড়শাখা জানি।*
*🌷যাঁর নাম লৈয়া প্রভু কান্দিলা আপনি।।*
*🌻এই ক্রন্দন কাহিনী অতি বিচিত্র।মহাপ্রভু একদিন নৃত্য করে বসিলেন, আর সহসা শ্রীবিদ‍্যানিধির কথা মনে হল। শ্রীপুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি তখন চট্টগ্রামে। ভাবের মহাসাগর শ্রীগৌরাঙ্গের হৃদয় যেম গম্ভীর আবার সময়ে সময়ে প্রায় তেমনই চঞ্চল।সমুদ্র স্বভাবতই অতি স্থির, আবার বায়ু-সন্তাড়নে সেই স্থির জলধিতে যখন তরঙ্গের পর তরঙ্গ উঠতে আরম্ভ হয়,তখন সে সমুদ্রের ভাব আবার সম্পূর্ণই বিপরীত। শ্রীগৌরাঙ্গের গুণগানে নাচছিলেন,নাচতে নাচতে বসে পড়লেন, নৃত্যতরঙ্গে তরঙ্গায়িত শ্রীগৌরসাগর যেন স্থির ও শান্ত হয়ে পড়লেন। কিন্তু এ স্থিরতা ও শান্তভাব অতি অল্পক্ষণেই অন‍্যভাবে পরিণত হল।শ্রীগৌরাঙ্গের মুখকমল ম্লাল হল, তিনি ঘন ঘন দীর্ঘ নিশ্বাস ছাড়তে লাগলেন।বিরহিণী যেমন নিজ প্রিয়জনের বিরহে তাকে স্মরণ করে করে দীর্ঘশ্বাস ত‍্যাগ করে, তিনি সেইরকম দীর্ঘশ্বাস ফেলতে লাগলেন।নাচতে নাচতে শ্রীগৌরের আজ এমন হল কেন?তখন তিনি হৃদয়ের বেগ আর চেপে রাখতে পারলেন না, তিনি আবেগবিহ্বলা কোমলহৃদয়া রমণীর মত চিৎকার করে বিনিয়ে বিনিয়ে কাঁদতে আরম্ভ করলেন, "পুন্ডরীক রে, আর মোর বাপরে, আমার প্রাণের বান্ধব রে, তোমার আবার কবে দেখব রে---আরে আমার বাপরে ---, শ্রীগৌর সহসা এইরকম বিনিয়ে বিনিয়ে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলেন।*
*🍀শ্রীবিদ‍্যানিধির জন্য ধীর,গম্ভীর, অদ্বিতীয় পান্ডিত‍্যপ্রতিভাশালী শ্রীনিমাই পন্ডিত কেঁদে এমন আকুল হলেন কেন? লোকের কি আর বন্ধু-বিরহ হয় না?জগতে তো এমন করে আর কাউকেও এরকম কারণে কাঁদতে দেখা যায় না।মহাপ্রভু আমার প্রেমময়। প্রিয়জনের বিরহে প্রেমিক হৃদয়ে যে আবেগের উদয় হয়,তা চেপে রাখা অসম্ভব।শ্রীগৌরহরির হৃদয় প্রেমের সাগর।বিরহ-বাত‍্যায় সে সাগরে যে তরঙ্গ লহরী প্রবাহিত হয়, প্রেমের গোস্পদ-খাতে তা প্রত‍্যক্ষ হবার না।শ্রীবিদ‍্যানিধি স্বরূপ দামোদরের বন্ধু, স্বরূপ দামোদর মহাপ্রভুর দ্বিতীয় স্বরূপ, সুতরাং শ্রীবিদ‍্যানিধি মহাপ্রভুর অতি প্রিয় ভক্তবন্ধু। কিন্তু শ্রীপুরুষোত্তমাচার্য‍্য (স্বরূপ) মহাপ্রভুর সঙ্গে যখন সুন্দরভাবে পরিচিত হন নাই, শ্রীবিদ‍্যানিধির সঙ্গে পুরুষোত্তমের বন্ধুত্ব আছে কিনা,জগতে যখন এটিও অপ্রকাশিত, তখনও শুদ্ধভক্ত মহাপ্রেমিক শ্রীবিদ‍্যানিধিকে মহাপ্রভু অতি প্রিয় ভক্তবন্ধু বলেই মনে করতেন।মহাপ্রভুর প্রিয়বন্ধু এই বিদ‍্যানিধির সঙ্গেই স্বরূপের অকৃত্রিম বন্ধুত্ব ঘটেছিল ; স্বরূপদামোদর যে মহাপ্রভুর প্রকৃতই দ্বিতীয় স্বরূপ এ ঘটনাটিও তার বিশিষ্ট প্রমাণ।*
                   *ক্রমাগত*
❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 সপ্তম ভাগ  🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/swarup7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds