কন্যা নিজ প্রকট ঐতিহ্য জগতকে জানাইবার জন্যই মালীগণের কন্যারূপে মালিনী নাম ধারণ করিলেন। এভাবে মালিনী দেবী মালীগণের পরিচর্য্যায় কতককাল অতিবাহিত করিলেন। এদিকে গ্রামবাসীগণ কন্যার প্রকাশ কাহিনী কাজীর নিকটে সবিশেষ কহিলেন। তখন কাজী কন্যাসহ সিন্ধুক আনিতে লোক পাঠাইলেন। মালীগণ সংবাদ পাইয়া বিস্মিত হইলেন। তারপর দূতগণ পৌছিলে মালীগণ দূতের সঙ্গে কাজীর গৃহে উপনীত হইলেন। মালীগণ তাহাদের আনয়নের কারণ জিজ্ঞাসা করিলে কাজী বলিলেন, 'তোমরা সিন্ধুকসহ বহু সম্পদ পাইয়াছ। তাহা কোন বিচারে নিজেদের ঘরে রাখিয়াছ? তাহা সমস্ত আমাকে অর্পন কর।' মালীগণ বলিল, 'আমরা একটি সিন্ধুক পাইয়াছি। তাহা এখনই আনিয়া দিব।' কাজী বলিল, 'তাহাতে কি ধন ছিল?' তখন মালীগণ মনে মনে চিন্তা করিলেন, ‘কাজীর মনের অভিপ্রায় কি তাহা বুঝা দুঃসাধ্য; কোন দুষ্ট ব্যক্তি আসি কাজীকে বলিয়াছে। যাহা হউক প্রাণ থাকিতে আমরা কাজীর হস্তে কন্যাকে অর্পন করিব না।' এই যুক্তি সাব্যস্ত করিয়া মালীগণ বলিল, 'সিন্ধুকে একটি দিব্য কন্যারত্ন ছিল।' তখন ক্রোধে কাজী বলিল, ‘আমি সিন্ধুকসহ সেই কন্যাকে চাই।' কাজীর অভিপ্রায় বুঝিয়া মালীগণ সবিনয়ে বলিলেন, ‘আপনি যবন হইয়া দেবকন্যা বাঞ্ছা করিতেছেন? এই মহৎ অপরাধে প্রায় গ্রাম উজাড় হইবে। তৎসঙ্গে আপনিও রক্ষা পাইবেন না। তারপর মালীগণ কন্যার অপ্রাকৃত মহিমারাশির বর্ণন করিলেন। মালীগণের হিতবাক্যে কাজীর ভাবান্তর ঘটিল। তখন কাজী আপনারগণকে বলিলেন, ‘আমি না বুঝিয়া দুষ্টগণের বাক্যে মালীগণকে বহু কষ্ট দিয়াছি। আমার মহাঅপরাধ হইয়াছে। তোমরা এখনই মালীগণকে মুক্ত কর। আজ্ঞামাত্র পাত্রগণ মালীগণকে মুক্ত করিলে কাজী স্তুতিনতি সহকারে সবিনয়ে মালীগণকে বলিলেন, 'আমি হিন্দুর দেবতায় নিজ কন্যারূপে সেবা করিব। তোমরা নিঃসন্দেহে আমার গৃহে আনয়ন কর।’ কাজীর ভাবান্তর ঘটায় মালীগণ অন্তরে মহানন্দ লাভ করিলেন। তখন তাঁহারা বলিলেন, 'আমরা গিয়া দেবীকে অনুরোধ করব। যদি তিনি কৃপা-পরবশ হইয়া স্বেচ্ছায় আপনার গৃহে আসেন, তাহা হইলে অবশ্য আমরা লইয়া আসিব। মালীগণ মুক্ত হইয়া মহানন্দে গৃহে আসিলেন। তারপর দেবীর সমীপে কাজীর অভিপ্রায় ব্যক্ত করিলেন। তখন দেবী বলিলেন, “তোমরা কোন চিন্তা করিও না। আমি ঐ স্থানে অবস্থান করিয়া লীলার প্রকাশ করিব। তোমরা কাজীর সমীপে আমার আগমনবার্ত্তা কহিয়া আমার নির্দেশটি বলিবে। আমি কাজীর গোগৃহে অবস্থান করিব আর মিষ্টান্ন ভোজন করিব। কাজী সহাস্তে যেন গোগৃহ মাৰ্জ্জন করেন।' তখন মালীগণ কাজীর সমীপে উপনীত হইয়া দেবীর নির্দেশ জ্ঞাপন করিলেন। কাজী মহানন্দে স্বহস্তে গোগৃহ মার্জ্জনে প্রবৃত্ত হইলেন। কাজীর ভাবের অভিব্যক্তি দেখিয়া মালীগণ মহানন্দে দেবীকে কাজীর ভবনে আনয়ন করিতেছেন। দেবীর আগমনবাৰ্ত্তা শুনিয়া গ্রামবাসীগণ আসিয়া কাজীকে বলিলেন, ‘এতদিনে আপনার সৌভাগ্যের প্রকাশ ঘটিয়াছে। মালীগণ কন্যা লইয়া আসিতেছে। আপনি শীঘ্ৰ গিয়া দেবীকে সাদর অভ্যর্থনা জানাইয়া স্বগৃহে আনয়ন করুন।' তখন কাজী মহানন্দে পুষ্পরথ সাজাইয়া সপার্ষদে কন্যাকে আনিতে চলিলেন। পথে সাক্ষাৎ ঘটিলে কাজী সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করিযা স্তবাদি করিতে লাগিলেন। কন্যা কাজীর স্তবে সন্তুষ্ট হইয়া রথারোহণে চলিলেন। তারপর কন্যা কাজীর গৃহে উপনীত হইলে মালীগণ কন্যাকে কাজীর গোগৃহে অধিষ্ঠান করাইয়া জল দ্বারা শ্রীচরণ ধৌত করিলেন। মালীগণের নির্দেশে কাজী দূত মারফৎ পসারীগণকে ডাকাইয়া বলিলেন, “তোমরা প্রত্যহ প্রভূত মিষ্টান্ন আনিয়া দিবে। আমার গৃহে সাধুর আগমন ঘটিয়াছে, তাঁহাকে নিত্য ভোজন করাইব।' অতঃপর কাজী ও পসারীগণ মালিনী দেবীকে --প্রণামাদি করিলেন। কাজী কন্যাকে মালীগণ দ্বারা নতুন বস্ত্র পরিধান করাইয়া মিষ্টান্ন ভোজন করাইলেন। কন্যার আদেশে মালীগণ প্রসাদ গ্রহণ করিয়া সকলকে বিতরণ করিয়া দিলেন। তখন সকলে জয় জয় ধ্বনি দিতে দিতে প্রসাদ পাইয়া প্রণামাদি করিলেন। তারপর কাজী কন্যার শ্রীচরণে লুণ্ঠিত হইয়া সবিনয়ে বহুত কাকুতি সহকারে বলিলেন, ‘আমি বহু অপরাধ করিয়াছি। আপনি আমায় নিজগুণে করুণা করিয়া ক্ষমা করুন।' কন্যা বলিলেন, ‘তুমি মালীগণের সমীপে অপরাধ করিয়াছ। তাঁহারা ক্ষমা না করিলে তোমার অপরাধ স্খলন হইতে পারে না।' তখন কাজী শীঘ্র মালীগণের সমীপে গমন করিয়া সকাতরে ক্ষমা প্রার্থনা করিলেন। মালীগণ বলিলেন, ‘চরণ ছাড়, তুমি ও আমরা এখন এক। তোমার আর কোন অপরাধ নাই। এখন কন্যারত্নে দর্শন করিয়া জীবন ধন্য কর।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১২. শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ 🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
তখন কাজী মালীগণকে কন্যারত্নের সেবাকার্য্যে নিযুক্ত করিলেন। মালীগণের সংসারের ব্যয়ভার কাজী বহন করিতে লাগিল। এইভাবে শ্রীঅভিরাম গোপালের শক্তিরূপা কন্যা শ্রী মালিনী দেবী কাজীপুরে আগমন করতঃ কাজীর কন্যারূপ পরিহগ্রহ। করিয়া কাজীর গৃহে অবস্থান করিতে লাগিলেন। আর মালীগণ তাঁহার সেবক হইয়া মহানন্দে সেবা করিতে লাগিলেন। কতদিনে বিল্লোক গ্রামে কাজী সৈন্যগণের বিদায়ের কালে মালিনী দেবী কাজীপুরের নাম খানাকুল স্থাপন করেন।
- তথাহি -
“এতেক শুনিয়া কন্যা বলেন বচন।
খানাকুল হৈল নাম কাজীপুর এখন।।”
এদিকে শ্রীঅভিরাম গোপাল নিজশক্তিরূপা কন্যাকে লীলা প্রকাশের জন্য পাঠাইয়া আপনি এক অভিনব ভাবের উদ্দীপন করিলেন।
তথাহি - তত্রৈব -
“ভ্রমণ করিব সব বিগ্রহ দেখিয়া।
দেখি কেবা কোনরূপে আছেন বসিয়া।।
একে একে সবাকার করিব দর্শন।
চৈতন্যের মনোবৃত্তি বুঝিব এখন।।
দেখি কার কত শক্তি দিয়াছে চৈতন্য।
দুই কাৰ্য্য হেতু আমি হৈব অবতীর্ণ।।
ব্রজেতে শ্রীকৃষ্ণে বহু সেবন করিলা।
তখন আমাকে কৃষ্ণ আপনি কহিলা।।
তোমার সমান বন্ধু নাহি কোনজনে।
বশ যে হইনু দেখ তোমার সেবনে।।
বলরাম আদি করি যত সখাগণ।
সবার অপেক্ষা শক্তি দিলাম এখন।।
এমন পীরিতি সেই শ্রীকৃষ্ণ সহিত।
মনে না করিয়া গেলা হইয়া বিস্মিত।
বুঝিব এবে তাঁর প্রিয় হয় কেবা
কাহার প্রেমেতে বশ পাইলেন সেবা।।
সেববাশ হয়া সেই প্রেমেতে চলিলা।
অতেব আমারে তিঁহ বিস্মৃত হইলা।।
এতেক ভাবিয়া মনে করেন ভ্রমণ।
যেখানে বিগ্রহ আছে করেন দর্শন।।
দর্শন করিয়া তাঁরে বলেন হাসিয়া।
কেবা কোনরূপে আছে দেখিব কষিয়া।।”
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৩. অভিরাম ঠাকুরের শ্রীবিগ্রহ দর্শন লীলা 👏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ 🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
এইরূপ প্রেমানুরাগাবেশে ঠাকুর অভিরাম শ্রীবিগ্রহ দর্শন ও প্রণাম করিয়া ভ্রমণ করিতে লাগিলেন। অভিরাম প্রণাম করিয়া তাকাইলেন অমনি প্রতিমা বিদীর্ণ হইয়া অন্তৰ্দ্ধান করিতে লাগিল। তাহার প্রণামে সর্ব্বদেশ বিগ্রহশূন্য হইল। কেবলমাত্র শ্রীবিগ্রহগণের প্রণামের মধ্যে বিষ্ণুপুরের মদনমোহন, বগড়ীর কৃষ্ণরায়, শ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদগণেল মধ্যে শ্রীগোপালগুরু, শ্রীখন্ডের রঘুনন্দন, প্রভু নিত্যানন্দের পুত্র বীরচন্দ্র ও কন্যা গঙ্গাদেবী তাহার প্রণাম সহ্য করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন। তাঁহার প্রণামে প্রভু নিত্যানন্দের ছয় পুত্র অন্তর্দ্ধান করেন। বিষ্ণুপুরের শ্রীমদনমোহন দেবকে দ্বিতীয় প্রণামে মন্দিরের দ্বারা ঘুরাইয়া তৃতীয় প্রণামে মদনমোহনের ঘাড় বাঁকাইয়া মহিমাবর্দ্ধন করিয়াছিলেন। আর বগড়ীর কৃষ্ণরায়কে প্রণাম করিলে তাঁহার সর্ব্বাঙ্গ বহিয়া রক্তক্ষরণ হইয়াছিল । এইভাবে লীলারঙ্গে অভিরাম বৃন্দাবন হইতে গৌড়দেশ পরিভ্রমণ করিতে করিতে কেন্দুবিল্বগ্রামে জয়দেবের সহিত মিলন করিলেন । তথা হইতে বিষ্ণুপুর হইতে পথে কৃষ্ণরায়ে প্রণাম করতঃ বিক্রমপুরে উপনীত হইলেন। তথায় বসুলীদেবীর সহিত সাক্ষাত করিযা কাজীপুরে মালিনী দেবীর সহিত মিলন করিলেন।
- তথাহি -
“শুনিয়া তাঁহার বাক্য আনন্দিত হৈলা।
বিক্রমপুরেতে সেই বাসুলী রহিলা।।
বসুলীকে আশ্বাস দিয়া চলিলা তুরিতে।
কাজীপুরে হৈলা দেখা মালিনী সহিতে।।
মালিনী আসিয়া ছিলা স্নান করিবারে।
তখন গোঁসাইজীউ ডাকিলা তাহারে।।
শীঘ্রগতি আইস তুমি নদী পার হৈয়া।
ভ্রমণ করি যে আমি তোমার লাগিয়া।।”
মালিনী দেবী দাসীগণ সঙ্গে নদীতে স্নানে আসিয়াছেন। এদিকে ঠাকুর অভিরাম ভ্রমণ করিতে করিতে নদীর অপর পারে উপস্থিত। তথা হইতে মালিনী দেবীকে দেখিয়া ইঙ্গিতে আহ্বান জানাইলেন। মালিনী দেবীও দূর হইতে নিজ প্রাণনাথকে দর্শন করিয়া মিলনের জন্য ব্যাকুল হইলেন। তখন মালিনী দেবী মহাচিন্তায় পড়িলেন। কি প্রকারে গিয়া প্রাণনাথের সহিত মিলন করিবেন। সঙ্গে দাসীগণ বৰ্ত্তমান। তখন অনন্যোপায় হইয়া মালিনী দেবী দাসীগণকে বলিলেন, ‘চল আমরা সকলে সাঁতার দিয়া নদীর ওপারে যাই। আবার এপারে ফিরিয়া আসিব।' দাসীগণের বচনের মালিনী দেবী মহানন্দে একাকী অপর পারে গিয়া নিজ প্রাণনাথের সহিত মিলিত হইলেন। তারপর কথা হইতে শীঘ্র প্রাণনাথের সঙ্গে চলিলেন। এদিকে দাসীগণ ব্যাকুল হইয়া কাজীর সমীপে গমন করতঃ সমস্ত ঘটনা বলিলেন। এবং বলিলেন, একজন উদাসী আসিয়া মালিনীকে সঙ্গে লইয়া চলিয়া গিয়াছে। এই সংবাদ শ্রবণমাত্র কাজীর মস্তকে যেন বিনামেঘে বজ্রপাত ঘটিল। তিনি অতীব ব্যাকুল হইয়া ব্যাগ্রতা সহকারে সৈন্য সাজাইয়া কন্যাকে আনিতে পাঠাইলেন । সৈন্যগণ মালিনীর অন্বেষণে চলিলেন। সৈন্যগণ অন্বেষণ করিতে করিতে বিল্বোক গ্রামে উপনীত হইয়া মালিনীর সাক্ষাৎ পাইলেন। এইভাবে মালিনী দেবী খানাকুল গ্রামে আগমন
করিয়া অপ্রাকৃত লীলার প্রকাশ করতঃ খানাকুল গ্রামকে মহাতীর্থে পরিণত করিলেন।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৪. বিল্লোকগ্রামের লীলারহস্য 👏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ 🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
ঠাকুর অভিরাম খানাকুল হইতে মালিনী দেবীকে সঙ্গে লইয়া বিল্লোকগ্রামে উপনীত হইলেন।
তথাহি - শ্রীঅভিরাম লীলামৃতে - ৫য় পরিচ্ছেদেঃ------
“এখন বিল্লোক গ্রামে মালিনী লইয়া।
নদীর তটেতে দুঁহে আছেন বসিয়া।।
মুরলীর কাষ্ঠ তবে দেখেন সেখানে।
সে মৰ্ম্ম গোসাঞিজীউ জানেন সন্ধানে।।
সবার মুরলী পূর্ব্বে একত্র করিয়া ।
স্রোতেতে সকলে মিলি দিলা ভাসাইয়া।।
যমুনার স্রোত যায় দক্ষিণ বহিয়া ।
অতেব সে কাষ্ঠ হেথা আইলা ভাসিয়া।।”
ঠাকুর অভিরাম মালিনী দেবীর সঙ্গে বিল্লোক গ্রামে নদীর তীরে উপবিষ্ঠ আছেন; সেই সময় কাজীর সৈন্যগণ তথায় উপনীত হইলেন। তখন সৈন্যগণ মহাক্রোধে বলিতে লাগিলেন, ‘তুমি উদাসী হইয়া কেন এরূপ হীন কর্ম্ম আচরণ করলে, বৈরাগী বেশ ধারণ করিয়া যবণের কন্যায় অপহরণ করিলে কেন?' এদিকে গ্রামবাসী লোকজন তথায় একত্রিত হইয়া তিরস্কার সহকারে বলিতে লাগিল, 'তুমি কোথাকার উদাসী, যবনের কন্যা হরণ করিয়া এই গ্রামের অধিবাসী হইতে চাও।' তখন অভিরাম চিন্তা করিতে লাগিলেন, “কিভাবে মালিনী দেবীকে প্রকাশ করিবে।' মহিমা না দেখাইলে কেহ আমার কথায় বিশ্বাস করিবে না। তখন অভিরাম তীরে ভাসমান মুরলীর কাষ্ঠ বোঝাটি এক হস্তে উত্তোলন করিয়া কাজীর সৈন্যগণকে বলিলেন, 'তোমরা সকলে এই কাষ্ঠের বোঝাটি তুলিতে পারিলে আমার সহিত যুদ্ধ করিও।' এই অলৌকিক দৃশ্য দেখিয়া সকলে বিস্মিত হইল। যে বোঝাটি একশত জনে তুলিতে পারিবে না সেই বোঝাটি এই উদাসী অনায়াসে উত্তোলন করিলেন। তখন অভিরামের বাক্যে কাজীর সৈন্যগণ বিনয় সহকারে বলিলেন, "আমরা এই বোঝা তুলিতে পারিব না।' তখন অভিরাম মালিনী দেবীকে আজ্ঞা করিলে মালিনী দেবী এক অঙ্গুলীতে সেই কাষ্ঠের বোঝাটি তুলিয়া আনিলেন। তাহা দেখিয়া সকলেই আশ্চৰ্য্যান্বিত হইলেন।
তথাহি -
“সবাকার মনোভাব গোঁসাই জানিয়া।
মালিনীর হাতে কাষ্ঠ তখন লইয়া।।
মুরলী বাজায়ে কত করেন গর্জ্জন।
বকুলের বৃক্ষতলে করিলা আসন।।
মুরলী রাখিয়া তলে আসনে বসিলা।
হেনকালে কাজীগণ কহিতে লাগিলা।।”
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৫. কানা নদীর নামকরণ 👏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ 🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
এই অত্যাশ্চয় বৈভব দর্শন করিয়া কাজীর সৈন্যগণ বলিতে লাগিল, ‘এতদিনের এই কন্যা আমাদের ঘরে ছিল, আপনাদের মহিমা আমরা কি প্রকারে জানিব । এখন আমাদের সর্ব্ব অপরাধ ক্ষমা করিয়া আশীর্ব্বাদ প্রদান করুন।' তখন মালিনী দেবী সৈন্যগণকে বলিলেন, ‘আজ হইতে কাজীপুরের নাম খানাকুল বলিয়া খ্যাত হইবে।' তারপর কাজীর সৈন্যগণ বহুত দৈন্য স্তুতি সহকারে প্রণামাদি করিয়া স্বগৃহে চলিলেন। এদিকে অভিরাম ভাবিলেন, ‘আমি কি প্রকারে নিজ সখাগণের সহিত মিলন করিব, আর মালিনী দেবীকে কিভাবে অপ্রকট করিয়া রাখিব।' কতক্ষণে উপায় উদ্ভোবন করিয়া মালিনীকে বলিলেন, 'তুমি এখন অপ্রকট হও, আমি পুনরায় আসিয়া তোমার সহিত মিলন করিব। অভিরামের বাক্য শুনিয়া মালিনী দেবী বলিলেন, 'আমি কোথায় কিভাবে অবস্থান করিব। তখন অভিরাম বলিলেন : যথা ------
তথাহি -
“তখনে গোসাঁইজী বলেন বচন।
মুরলী ভিতরে তুমি রহ যে এখন।।
এতেক শুনিয়া তিঁহো প্রবেশ করিলা।
গোপনের তাঁহারে রাখি গোঁসাই চলিলা।।”
এইভাবে মালিনী দেবীকে গোপন রাখিয়া অভিরাম চলিলেন। তারপর নদীতে স্নান করিতে আসিলে এক লীলা ঘটিল। সেই স্থানে তখন রত্নাকর নদী প্রবাহিত। অভিরাম নদীতে স্নান করিতে গেলে নদী তাহার কৌপীন হরণ করিল। তখন অভিরাম ক্রোধে নদীকে অভিশাপ প্রদান করিলেন। তখন নদী নিজ অপরাধ স্বীকার করিয়া বহুত স্তব-স্তুতি করিলে অভিরাম প্রসন্ন হইয়া বলিতে লাগিলেনঃ
তথাহি - তত্রৈব -
“অন্ধবৎ হয়া থাক তিনশত যে বৎসর।
পরে এক চক্ষু তুমি পাবে রত্নাকর ৷ ৷
দ্বারকেশ্বর বলি নাম কেহবা কহিবে।
কানা নদী নামে তোমা সবাই ডাকিবে।।”
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৬. বাসুলী দেবী ও অভিরাম গোপাল ঠাকুর 👏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ 🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
তারপর অভিরাম নদীয়ায় আগমন করতঃ শ্রীগৌরাঙ্গেদেবের সহিত মিলন করিয়া গৌরাঙ্গদেবসহ নীলাচলে গমন করিলেন। তথা হইতে গৌরাঙ্গদেবকে নদীয়ায় পাঠাইয়া আপনি একাকী চলিলেন।
তথাহি - তত্রৈব -
“এতেক শুনিয়া সবে গমন করিলা ।
একলা গোসাঁইজী বিল্লোকে আইলা।।
মালিনী সহিত আসি করিলা মিলন।
ছুঁহেতে বসিয়া দোঁহে কথোপকথন।।”
বহুদিন পরে অভিরামকে পাইয়া গ্রামবাসীগণ আনন্দে উৎফুল্ল হইলেন। সেই দুইজন আসিয়া বলিল, 'আমরা বৃন্দাবন হইতে আসিয়াছি। আপমার আশ্রিত হইয়া এখানে অবস্থান করিব। ভিক্ষা করিব আনয়ন করতঃ আপনার সেবা করিব।' তাহা শুনিয়া অভিরাম
দুইজনকে কৃষ্ণনগরে পাঠাইলেন। তাহারা হরি-সঙ্কীর্তন সহকারে তথায় ভ্রমণ করিতে লাগিল । পাষন্ডীগণ বহুত নিন্দা আরম্ভ করিলে দুইজন আসিয়া অভিরামের সমীপে সমস্ত জানাইলেন । অভিরাম তাহাদিগকে সান্ত্বনা দিয়া বলিলেন, “চিন্তা করিও না আমি গিয়া সবাইকে দলন করিব।’তারপর অভিরাম ভ্রমণ করিতে করিতে একদিন এক রান্ডী ব্রাহ্মণীকে পথে ক্রন্দন করিতে দেখিয়া তাহার ক্রন্দনের কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। ব্রহ্মণী ব্যাকুলভাবে বলিতে লাগিলেন, ‘এই গ্রামে বাসুলী দেবী আছেন, তিনি আমার পুত্রকে ভক্ষণ করিয়াছেন। তখন অভিরাম বলিলেন, ‘তুমি আমার সঙ্গে চল, আমি তোমার পুত্রকে প্রদান করিব।' এই বলিয়া অভিরাম ব্রহ্মণীসহ দেবীর মন্দিরে আগমন করতঃ দেবীকে বলিলে দেবী বলিলেন, 'আমি এই গ্রামে বহুদিন যাবৎ স্থাপিত হইয়া সর্ব্বদা নরমাংস ভক্ষণ করি।' তখন অভিরাম বলিলেন, 'তুমি এখন ব্রহ্মণীর পুত্রকে আনিয়ে দাও; আর আজ হইতে মনুষ্য ভক্ষণ বন্ধ করিয়া মিষ্টান্ন ভক্ষণ আরম্ভ কর।' বাসলী বলিলেন, “মিষ্টান্ন খেতে আমার রুচি হয় না।' তখন অভিরাম ভাবিলেন, দেবীর বড় অহঙ্কার হইয়াছে। আজই ইহার দম্ভ বিনাশ করিব। অভিরাম দেবীকে বলিলেন, 'তুমি যে মুখে নর মাংস ভক্ষণ করিবে, তোমার সেই মুখের দন্ত খসিয়া পড়িবে।' তখন দেবী করপুটে বহু মিনতি করিলে অভিরাম বলিলেন, ‘অগ্রে ব্রাহ্মণীর পুত্র প্রদান কর। পরে তোমার বিহিত করিব, নতুবা শরীর বিনষ্ট করিব।' দেবী ভয়ে সন্ত্রস্ত হইয়া ব্রাহ্মণীর পুত্রকে আনিয়া দিলেন। অভিরাম পুত্রকে লইযা ব্রাহ্মণীর হস্তে অর্পন করিলেন। তারপর দেবী সবিনয়ে বলিলেন, ‘আপনি নিজ হস্তে পাক করিয়া এক সের চালের অন্ন আমায় খাওয়ান; আর আপনার সমীপে আমায় রাখুন।' অভিরাম বলিলেন, 'আমি কৃষ্ণনগরে অবস্থান করিলে তোমায় লইয়া যাইব।' তারপর অভিরাম তথা হইতে পুনরায় বিশ্লোক গ্রামে শ্রীমদনমোহনের সমীপে আসিলেন। কতদিনে কৃষ্ণনগরে গিয়া শ্রীপাঠ স্থাপন করিলেন। এইভাবে ঠাকুর অভিরাম বিল্লোক গ্রামে লীলা করিলেন।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৭. শ্রীপাট কৃষ্ণনগরের লীলারহস্য 👏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ 🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
ঠাকুর অভিরাম বিল্লোক গ্রাম হইতে সঙ্কীৰ্ত্তন নৃত্যাবেশে ভ্রমণ করিতে করিতে শ্রীকৃষ্ণনগরে আগমন করিয়া লীলা সূচনা করিলেন।
তথাহি -
“ষোলশাঙ্গে সেই কাষ্ঠ তুলিতে নারিলা।
সেই কাষ্ঠ লয়া তিঁহ মুরলী পূরিলা।।
মুরলীর কাষ্ঠ শীঘ্র রাখিল পুঁতিয়া।
কাষ্ঠকে বহুত স্তুতি করেন বসিয়া।।
বকুলের বৃক্ষ হয়ে থাকহ এখন।
তোমায় করিবে লোক আসিয়া পূজন।।
বৎসরে বৎসরে পুষ্প হইবে তোমার।
পুষ্প বিনা ফল কভু না হইবে আর।।
বলিতে বলিতে বৃক্ষ হইল মঞ্জরী।
মদনমোহন তবে কহেন বিচারি।।
শ্রীকৃষ্ণনগর হৈল গুপ্ত বৃন্দাবন।
বকুলের বৃক্ষ দেখি হইল স্মরণ।।
শ্রী ব্রজবল্লভ বলেন শুনিয়া তখনে।
বৃন্দাবন শোভা যেন কদম্ব কাননে।।”
তখন অভিরাম বকুল তলায় উপবেশন করিয়া নাম-সঙ্কীর্ত্তন আরম্ভ করিলেন। গ্রামবাসীগণ অত্যাশ্চর্য্য লীলা দর্শন করিযা মিষ্টান্ন আনয়ন করতঃ ভোজন করাইলেন। সে সময় গোপাল দাস এই সংবাদ শুনিয়া তথাই আগমন করতঃ অভিরামের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করিলেন। অভিরাম তাঁহার স্তুতিনতি শুনিয়া শক্তি সঞ্চার করতঃ বৃক্ষ সেবায় নিযুক্ত রহিলেন। সহসা একদিন এক ব্রহ্মচারী তথায় উপনীত হইলেন। ব্রহ্মচারী ভাবিলেন, 'তাহার প্রভাবিত এলাকায় আর একজন আসিয়া ভিত্তি স্থাপন করিয়াছে। তাই ঈর্ষাপরবশ হইয়া যোগ
প্রভাবে ব্রহ্মচারী দৃষ্টি প্রদান করতঃ অভিরামের প্রতিষ্ঠিত বৃক্ষটিকে ভস্মীভূত করিলেন। গোপাল দাস এই দৃশ্য দেখিয়া অভিরামের সমীপে গমন করতঃ সমস্ত নিবেদন করিলেন। তখন অভিরামের আদেশে গোপাল দাস অগ্নিতে শ্রীচরণামৃত প্রদান করিতেই অগ্নি নির্ব্বাপিত হলো এবং বৃক্ষও পূর্ব্ব স্বরূপ ধারণ করিল। গোপাল দাস ব্রহ্মচারীকে বলিলেন, ‘গোসাঞি বৃক্ষ রোপন করিয়াছেন, তাহা আপনি নষ্ট করিতেছেন কেন?” ব্রহ্মচারী বলিলেন, ‘তোমার গোসাইর কিরূপ প্রভাব তাহা দেখিব’, ঠিক সেই সময় ঠাকুর অভিরাম তথায় উপনীত হইলেন। অভিরামের দ্বাদশ আদিত্য সদৃশ তেজপুঞ্জ দেখিয়া ব্রহ্মচারী সবিস্ময়ে বলিলেন, ‘আপনার ঈশ্বর স্বরূপ লক্ষণ দৃষ্ট হইতেছে।' অভিরাম তাঁহার পরিচয় জানিতে চাহিলে তিনি বলিলেন, 'আমার নাম অমৃতানন্দ ব্রহ্মচারী। আমি শক্তি উপাসক, কোথাও স্থায়ীভাবে বাস না করিয়া সর্ব্বদা পরিভ্রমণ করি।' অভিরাম বলিলেন, ‘এখন দোঁহাকার শক্তি পরীক্ষা হইবে। যে শ্রেষ্ঠ হইবে তাঁহার উপাসনা অন্যকে গ্রহণ করিতে হইবে।' তারপর অভিরামের মালা ও তিলক এবং ব্রহ্মচারীর দন্ড, কমুন্ডলু অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হইল। এক সপ্তাহ পরে অগ্নি নির্ব্বাপণ হইলে দেখা গেল ব্রহ্মচারীর সকল দ্রব্য ভষ্মীভূত হইয়াছে। তখন অভিরামের অলৌকিক মহিমা দেখিয়া ব্রহ্মচারী তাঁহার শিষ্যত্ব বরণ করতঃ কৃষ্ণানন্দ অবধূত নাম ধারণ করিলেন। ব্রহ্মচারী অভিরামের শিষ্যত্ব গ্রহণ করিলে কৃষ্ণনগরবাসী ব্রহ্মচারীর শিষ্যগণ প্রতিবাদ করিল। অভিরাম তাহাদিগকে বৈষ্ণবতার মহিমা শ্রবণ করাইলেন। কিন্তু তাহাতে বিপ্রগণের মন সন্তুষ্ট হইল না । তাহারা অভিরামের অবমাননার জন্য উপায় চিন্তা করিতে লাগিলেন। শেষে সকলেই এক যুক্তিস্থির করিল যে, অভিরাম যবনের কন্যাকে গ্রহণ করিয়াছে, এই অপবাদ রটাইতে পারিলে অভিরাম আপনি কৃষ্ণনগর ছাড়িয়া পালাইবে। তাহারা গ্রামের সর্ব্বত্রই এই অপবাদ বাক্য প্রচার করিতে লাগিলেন। তখন অভিরাম ভাবিলেন, ‘আমি পাষন্ড উদ্ধারর জন্য আসিলাম, কিন্তু আমার স্থানের পাষন্ডের উদ্ভব হইল। অভিরাম কৃষ্ণনগরবাসীগণকে উদ্ধারের জন্য কৃতনিশ্চয় হইলেন। মালিনী দেবীর গুপ্ত মহিমাকে বিদিত করিয়া কৃষ্ণনগরবাসীগণকে উদ্ধারের জন্য এক মহামহোৎসবের আয়োজন করিলেন। সেই মহোৎসবে সপার্ষদ শ্রী গৌরসুন্দর উপনীত হইলেন।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ১৯. মালিনীর অপমান করে যেইজন 🙇
বৃন্দাবন প্রাপ্তি তার না হবে কখন 👏 শ্রীপাট কৃষ্ণনগরের লীলারহস্য 👏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ 🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীমন্মহাপ্রভুর আদেশে মালিনী দেবী রন্ধন কার্য্যে প্রবৃত্ত l হইলেন। রন্ধনের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি অভিরাম যোগাড় দিতেলাগিলেন। সেই সময় এক সরোবর খোদাইতে শ্রীগোপীনাথ দেব প্রকট হইলেন।
তথাহি -
“এতেক বলিয়া পুনঃ বিচারিয়া মনে।
দিব্য এক সরোবর করিলা সেইক্ষণে।।
তথি মধ্যে গোপীনাথ করিলা প্রকাশ ।
দেখিয়া মালিনী দেবী হইল উল্লাস।।”
তথাহি - শ্রী অনুরাগবল্লী -
“বাড়ীর পূর্ব্বেতে রামকুন্ড খোদাইতে।
শ্রীমূর্ত্তির ছলে কৃষ্ণ হইল সাক্ষাতে।।
শ্রীগোপীনাথ নাম পরম মোহন।
অশেষ বিশেষ রূপে করেন সেবন।।”
তথাহি - শ্রী ভক্তিরত্নাকরে -
“শ্রী বিগ্রহ সেবিতে যবে ইচ্ছা উপজিল।
স্বপ্নছলে গোপীনাথ দরশন দিল।।
এথা মোর স্থিতি কহি স্থান দেখাইল।
অভিরাম খুদি তথা বিগ্রহ পাইল।।”
এইভাবে শ্রীগোপীনাথ প্রকট হইলেন। শ্রীগোপীনাথ দেবকে রন্ধন শালে লইয়া রাখিলেন । শ্রীগৌরাঙ্গদেব স্বীয় পরিকরগণের সঙ্গে শ্রীগোপীনাথ দেবকে দর্শন করিয়া আনন্দে বিভোর হইলেন। শ্রীগোপীনাথ দেবের সহিত রাসালাপ সহকারে মালিনীদেবী রন্ধন কার্য্য করিতে লাগিলেন। শ্রীমন্মহাপ্রভু পারিষদগণকে সঙ্গে লইয়া বকুলতলায় উপবেশন করিলেন। মালিনীদেবী পাক কাৰ্যে অতীব সুনিপুণ। শ্রীগোপীনাথদেব রন্ধনশালায় অবস্থায় করিয়া দেখিতে লাগিলেন। শ্রীগৌরাঙ্গদেব পাকশালে আগমন করতঃ পাকসামগ্রী দেখিয়া বিস্মিত
হইলেন। অভিরামকে বলিলেন, ‘তুমি এত সামগ্রী কোথায় পাইলে ?' অভিরাম বলিলেন, “শ্রীগোপীনাথদেবই জোগাইয়াছেন।' তারপর রন্ধন কার্য্য সমাপন হইলে প্রভু বলিলেন, ‘অগ্রে শ্রীগোপীনাথকে নিবেদন কর, পরে আমরা তাঁহার প্রসাদ গ্রহণ করিব।’ শ্রীগোপীনাথদেবের ভোগ সমাপন হইলে প্রভুপ্রসাদ গ্রহণের জন্য নিত্যানন্দাদিকে ডাকিতে বকুলতলায় আসিলেন । প্রভু আসিয়া বলিলেন, “তোমরা বিলম্ব না করিয়া সকলে প্রসাদ গ্রহণের জন্য গমন কর।' এই কথা শুনিয়া প্ৰভু নিত্যানন্দ বলিলেন, ‘আমরা কি প্রকারে প্রসাদ গ্রহণের জন্য যাইব। মালিনী যবনের কন্যা বলিয়া বিখ্যাত তাঁহার হস্তের পাক আমরা কি প্রকারে গ্রহণ করিব।' প্রভু নিত্যানন্দের বচনে শ্রীমন্মহাপ্রভু বলিলেন
তথাহি - তত্রৈব -
“তখন চৈতন্য পুনঃ করেন বিনয় ।
অভিরাম শক্তি কন্যা জানিব নিশ্চয়।।
মালিনীর অপমান করে যেইজন।
বৃন্দাবন প্রাপ্তি তার না হবে কখন।”
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 ২০. মালিনীর মহিমা প্রকাশ 🙇 বৃন্দাবন প্রাপ্তি তার না হবে কখন 👏 শ্রীপাট কৃষ্ণনগরের লীলারহস্য 👏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ 🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
তখন প্রভু নিত্যানন্দ পবনকে ডাকিয়া বলিলেন, “তুমি বিনা মালিনীর মহিমা প্রকাশ করা অসম্ভব। যখন মালিনীদেবী প্রসাদ লইয়া পরিবেশন করিতে আসিবে তখন তুমি আপন স্বরূপ ধরিয়া তাহার মস্তকে বস্ত্র উড়াইবে, তাইতেই মালিনীর প্রকাশ ঘটিবে।' নিত্যানন্দের বাক্য পালনে পবন স্বীকার করিলেন। তারপর সকলে ভোজন করিতে চলিলেন। প্রভু সকলকে লইয়া ভোজন করিতে বসিলে মালিনীদেবী পরিবেশন করিতে আসিলেন। তখন পবনদেব উঠিয়া প্রভু নিত্যানন্দের আজ্ঞা পালন করিলেন।
তথাহি -
“শুনি পদোদক করি আছেন বসিয়া ।
মালিনী আইলা তবে প্রসাদ লইয়া ।।
সুবর্ণের থালে হস্ত হইল বন্ধন।
হেনকালে পবন উঠি করিলা গমন।।
স্বভাব আপন তবে পবন ধরিলা।
শীঘ্রগতি মস্তকের বস্ত্র খসাইলা ।।
বস্ত্র সহিত কেশ উড়ায় তখন।
হেনকালে অভিরামে বলেন বচন।।
শুনহ গোঁসাইজীউ হইনু লজ্জিত।
পবন আসিয়া দেখ কৈল বিপরীত।।
দেখি অভিরাম তবে বলেন হাসিয়া ।
দুই হস্তে বস্ত্ৰ কৈলা সম্বরণ।।
বস্ত্র সম্বরণ কর চতুর্ভুজা হইয়া ।।
দেখিয়া সবার মনে হইল বিশ্বাস ।
অভিরাম শক্তি কন্যা জানিলা নিৰ্য্যাস।।”
এইভাবে মালিনীদেবীর প্রকাশ ঘটিল। মহান্ত সকলের প্রসাদ গ্রহণ অন্তে ঠাকুর অভিরাম প্রসাদ গ্রহণ করিলেন। কিন্ত পাষন্ডীগণ পরিহাস করিয়া চলিলেন। কেহই প্রসাদ গ্রহণ করিল না। তখন মালিনীদেবী পবনকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিতে লাগিলেন।
তথাহি -
“সকলের সনে প্রসাদ না পাইল পবন।
শেষ প্রসাদ পাইবে সে শুনহ বচন।।
বৎসর বৎসর পবন আসি এই স্থানে।
স্বভাব প্রকাশি প্রসাদ পাইবে তখনে৷৷
এইত অভিশাপ আমি দিনু পবনে।
মিথ্যা না হইবে জেন আমার বচনে।।”
এইভাবে মহামহোৎসব সমাপন হইল। কিন্তু যাহাদের জন্য এই মহামহোৎসবের আয়োজন, তাহারা কেহই প্রসাদ গ্রহণ করিল না। তখন পাষন্ডীগণের উদ্ধারের জন্য ঠাকুর অভিরাম এক অভিনব উপায় উদ্ভাবন করিলেন। স্বশক্তি প্রভাবে এক অপ্রাকৃত মার্জ্জার সৃষ্টি করিয়া তাহার মাধ্যমে মহাপ্রসাদ প্রেরণ করতঃ প্রসাদের মহিমাত্বে পাষন্ডগণের চিত্তের বিভ্রান্তি দূরীভূত করিলেন। সকলে অভিরাম প্রসাদে সুনির্ম্মল প্রেমরসে নিমগ্ন হইল। তারপর ঠাকুর অভিরাম শ্রীপাট কৃষ্ণনগরে অবস্থান করিয়া আপনার লীলা-বৈচিত্র্য প্রকাশ করিতে লাগিলেন।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🙏 জয় শ্রীশ্রী গোপীনাথ 🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧