✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২১)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*
*🍀যে লক্ষ্মী শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গ অর্থ্যাৎ মূর্তিবিশেষ নারায়ণে সংযুক্তা,লক্ষ্মীর স্বর্ণকমলের ন্যায় অঙ্গকান্তি, সৌগন্ধবতী ও দিব্যসুখ ভোগাস্পাদা,লোকগণ শিরোমণি এবং বৈকুন্ঠস্থিত ভূ-লীলা প্রভৃতি শক্তিগণের মধ্যে পরম প্রেমবতী,তাঁরও এই জাতীয় কৃষ্ণ প্রেমের আস্বাদন নাই,অন্য রমণীর আর কী কথা?*
*🍁শ্রীনারায়ণ ও শ্রীকৃষ্ণ স্বরূপগত অভেদ হলেও বৈদগ্ধাদিগুণে শ্রীকৃষ্ণ নারায়ণ হতে অনেক বেশি উৎকর্ষ,ইহা সর্বশাস্ত্রেই বর্ণিত আছে। এই জন্য লক্ষ্মীদেবী শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গসঙ্গের জন্য লালায়িতা। যথা শ্রীচৈতন্য চরিতামৃতে----*
*তাতে সাক্ষী সেই রামা,নারায়ণের প্রিয়তমা,*
*পতিব্রতাগণের উপাস্যা।*
*তিঁহো যে মাধুর্য্য লোভে, ছাড়ি সব কামভোগে,*
*ব্রতকরি করিল তপস্যা।।*
*🌻যদিও স্বরূপে শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান এবং শ্রীনারায়ণ তাঁর বিলাসমূর্তি তথাপি স্বরূপের কমবেশী অবশ্য স্বীকার করতে হবে। স্বয়ং ভগবৎ স্বরূপের শক্তি ও স্বয়ংরূপা তথা শ্রীশক্তি বা লক্ষ্মী ঠাকুরাণী শ্রীব্রজদেবীগণের অংশস্বরূপ।লক্ষ্মী ঠাকুরাণী শ্রীনারায়ণের বক্ষস্থলে সদা বাস করেও শ্রীব্রজদেবীগণের ন্যায় আকুল প্রেমময়ী তৃষ্ণার অধিকারিনী নন বলে আস্বাদনের চমৎকারিতা ও প্রাচুর্য্য প্রকাশ পাচ্ছেন না।পিপাসার কমবেশীতেই আস্বাদনের কমবেশী প্রকাশ পেয়ে থাকে।শ্রীনারায়ণের প্রতি লক্ষ্মী ঠাকুরাণীর প্রেম ঈশ্বরবুদ্ধি থাকাই সেটি অনুরোধময় ও সঙ্কোচপূর্ণ।শ্রীব্রজবাসীগণের ঈশ্বরবুদ্ধি না থাকায় সেটি সঙ্কোচশূন্য ও অনেক বেশী উল্লাসময়।শ্রীনারায়ণে লক্ষ্মীদেবীর তদীয়তা বুদ্ধি বা তদাধীনতা বুদ্ধি থাকায় হৃদয়ে দুর্বলতা আছে।শ্রীব্রজসুন্দরীগণের শ্রীকৃষ্ণে মদীয়তা (আমার) বুদ্ধি থাকায় হৃদয়ে সবলতা ও দার্ঢ্য (স্থিরতা)আছে।লক্ষ্মীদেবী সবসময়ই নারায়ণের অপেক্ষা করেন, শ্রীব্রজরামাগণ শ্রীকৃষ্ণের অপেক্ষা তো করেনই-না বরং শ্রীকৃষ্ণই ব্রজাঙ্গগণের অপেক্ষা করেন। দৃষ্টান্ত স্বরূপ "রাসোৎসবেহস্য-ভূজ্যদন্ড গৃহীতকন্ঠ"। অর্থ্যাৎ রাস উৎসবকালে শ্রীকৃষ্ণই গোপীগণের কন্ঠাশ্রয় করেছিলেন,ব্রজদেবীগণ শ্রীকৃষ্ণের কন্ঠ ধারণ করেননি।ব্রজগোপীগণ ভর্ত্তৃকা বা প্রভুপালক নায়িকা আবেশে অতি প্রেমময়ী তৃষ্ণায় নৃত্য গীতাদি করেছিলেন।*
*🌷রাসোৎসবঃ সংবৃতো গোপীমন্ডল মন্ডিতঃ।*
*🌷যোগেশ্বরেন কৃষ্ণেন তাসাং মধ্যে দ্বযোর্দ্ধয়োঃ।*
*🌷প্রবিষ্টেন গৃহীতানাং কন্ঠে স্বনিকটং স্ত্রিয়ঃ।।*
*🌻অর্থ্যাৎ গোপীমন্ডল শোভিত রাসোৎসব আরম্ভ হইলে ভক্তি যোগেশ্বর,কৃষ্ণ সেই গোপীগণের মধ্যে এরকমভাবে কন্ঠ ধারণ করে ছিলেন যে প্রত্যেক গোপীই দেখতে লাগলেন শ্রীকৃষ্ণ আমারই পার্শ্বে রয়েছেন, আমারই সঙ্গে বিহার করছেন।এই শ্লোকের "গৃহীতানাং কন্ঠে" প্রমাণ করছে যে শ্রীকৃষ্ণ ব্রজসুন্দরীগণের কন্ঠাশ্রয় করেছিলেন।*
*🌹শ্রীরাসলীলায় শ্রীশুকদেব গোস্বামীও কথার ভঙ্গীতে শ্রীরাধার প্রেম-উৎকর্ষতার কথা ব্যক্ত করেছিলেন।এই উৎকর্ষতার জন্যই শ্রীরাসমন্ডলী হতে শ্রীমতীকে বক্ষে ধারণ করে নটরাজ শ্রীকৃষ্ণ সমস্ত গোপীগণকে পরিত্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন।সেই মহারাস রজনীতে শতকোটি গোপীর কন্ঠ ধারণ করে যখন রাসমন্ডলীর মাঝে নৃত্যবিলাস চলছিল,তখন গোপাঙ্গনাদের প্রতি শ্রীকৃষ্ণের প্রেমাবেগের সমতা দর্শন করে এবং প্রেমের গতি সর্পগতির মত স্বভাবতঃ কুটিল ও আধল (অন্ধ) হেতু বাম্য-স্বভাবা শ্রীমতী মানবতী হয়ে শ্রীরাসমন্ডলী পরিত্যাগ করে গেলে শ্রীকৃষ্ণও সমস্ত ব্রজদেবীগণকে পরিত্যাগ করে অতি বিষাদিত মনে প্রেয়সী শিরোমণি শ্রীরাধাকে খোঁজ করতে লাগলেন।এই অভিপ্রায়ে শ্রীরায় রামানন্দ শ্রীমন্মহাপ্রভুকে বলেছেন--*
*🌷ক্রোধ করি রাস ছাড়ি গেলা মান করি।*
*🌷তাঁরে না দেখিয়া ব্যাকুল হইলা শ্রীহরি।।*
*🌷তাঁরা বিনু রাসলীলা নহে ভায়চিতে।*
*🌷মন্ডলী ছাড়িয়া গেলা রাধা অন্বেষিতে।।*
*🌷শতকোটি গোপীতে নাহি কাম নির্বাপণ।*
*🌷ইহাতে অনুমানি শ্রীরাধার গুণ।।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২২)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*
*🍀শ্রীশুকদেব গোস্বামীর শ্রীরাসের বর্ণনায় শ্রীকৃষ্ণ অন্তর্দ্ধান করেছেনএই কথায় সুস্পষ্ট।শ্রীরাধাকে সঙ্গে নিয়ে কিম্বা শ্রীরাধার অনুসন্ধানের কোন কথায় স্পষ্ট নয়।শ্রীরায় রামানন্দ শ্রীশুকদেবের বর্ণনার সাহায্য না নিয়েই রসিক কবি শ্রীজয়দেব গোস্বামীর "শ্রীশ্রীগীতগোবিন্দের" অনুসরণ করলেন।শ্রীমদ্ভাগবতে শ্রীশুকমুনি শারদীয় রাসের বর্ণনা করেছেন।শ্রীরাসের মধ্যে অন্তর্দ্ধানের আড়ালে যে মানের ব্যাপারটি তা শ্রীশুকদেব অতি সংগোপনে রেখেছেন।শ্রীজয়দেব গোস্বামীপাদ প্রধানতঃ সেটিই অবলম্বন করেছেন। শ্রীজয়দেব শ্রীরাধার মানের কারণটি যথোচিত ও স্পষ্টভাবেই ব্যক্ত করেছেন ও শ্রীরাস মন্ডলীতে প্রত্যেক গোপীর পার্শ্বেই এক কৃষ্ণ আছেন। শ্যামসুন্দরের উজ্জ্বল শ্রীঅঙ্গে নিজ প্রতিবিম্ব দর্শন করে শ্রীরাধা মনে করলেন,শ্রীকৃষ্ণ অন্য গোপী সঙ্গে নৃত্যগীত করছেন, সুতরাং তিনি মানবতী হলেন।তারপর শ্রীরাইধনি নিজের পার্শ্বে শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করলেন, এটি আগে দেখেননি।শ্রীরাধা মনে করলেন,শ্রীকৃষ্ণ অন্য গোপীর সঙ্গে নৃত্য গীতালাপ করে পরিশেষে আমার পার্শ্বে দাঁড়িয়েছেন,এই ভাবতেই দুর্জয় মানবতী হয়ে শ্রীরাসমন্ডলী ছেড়ে চলে গেলেন।এই কথা বোলে শ্রীরামরায় ভক্ত জয়দেবের তৃতীয় সর্গের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্লোকদ্বয় উচ্চারণ করে শ্রীমন্মহাপ্রভুকে বললেন যে,এই শ্লোক দুইটি পাঠ করলে-- মহা অমৃতের খনি উঠিবে, যথা----*
*🌷কংসারিরপি সংসার-বাসনাবন্ধশৃঙ্খলাম্।*
*🌷রাধামাধায় হৃদয়ে তত্যাজ ব্রজসুন্দরী।।(১)*
*🌻শ্রীমতী শ্রীরাধা কংসারি শ্রীহরিকে সংসার বাসনারূপ শৃঙ্খলে আবদ্ধ করলেন ; শ্রীকৃষ্ণও একমাত্র রাধাগত প্রাণ হয়ে তাঁকে হৃদয়ে ধারণ করে গোপাঙ্গনাগণের সঙ্গ ত্যাগ করলেন।শ্রীরাধার একটি বিশেষণ "সংসার বাসনাবন্ধ শৃঙ্খলাং"। শ্রীকৃষ্ণের আরেক নাম কংসারি-- এই শব্দটির একটি অর্থ হয় ভোগ-বাসনা, যিনি তার অরি অর্থ্যাৎ যার স্মরণে সমস্ত কামনা বাসনা দূরীভূত হয়-- সেই কৃষ্ণের যে একটা সম্যকসার (বহু প্রকারের মধ্যে অন্যতম) বাসনা আছে সেটি শ্রীশ্রীরাসলীলা,এটি কামনা-বাসনা ধ্বংসকারীর অপূর্ব বাসনা--যথা শ্রীচৈতন্য চরিতামৃতে--*
*🌷ব্রজবধূগণের সঙ্গে কৃষ্ণের রাস-বিলাস।*
*🌷সেইজন কহে শুনে করিয়া বিশ্বাস।।*
*🌷হৃদরোগ কাম তার তৎকালে হয় ক্ষয়।*
*🌷তিনগুণে ক্ষোভ নহে মহাধীর হয়।।*
*🌹ব্রজলীলার মুকুটমণি এই শ্রীরাসলীলায় শ্রীরাধা একটি শৃংখলা।শ্রীরাসোৎসবে শ্রীরাধার কৃপায় সমস্ত গোপীগণই রাধাতুল্য হয়ে স্বাধীন ভর্ত্তৃকা নায়িকারূপে শ্রীকৃষ্ণের সহিত নৃত্যবিলাস করেছিলেন।সেই শৃঙ্খলারূপিনী শ্রীরাধার অবর্তমানে সমগ্র রাসলীলা বিপর্য্যস্ত।এতেই প্রমাণ হয় যে,শ্রীরাধা সকল গোপীগণের শিরোমণি।তৃতীয় সর্গের দ্বিতীয় শ্লোকটি হ'ল ঃ-----*
*🌷ইতস্ততস্তামনুসৃত্য রাধিকামনঙ্গ বানব্রনখিন্ন মানসঃ।*
*🌷কৃতানুতাপঃ স কালিন্দীনন্দিনী তটান্ত কুঞ্জে বিষসান মাধবঃ।।*
*🌹অর্থ্যাৎ মদনবানে ব্যথিত হৃদয় মাধব বিলাপ করতে করতে ইতস্তত (এদিকওদিক)শ্রীরাধার অনুসন্ধানে রত হলেন। কিন্তু তাঁর দেখা না পেয়ে যমুনার কুলের পার্শ্বে কুঞ্জে প্রবেশ করে বসলেন,এবং বিষাদে অনুতাপ করতে লাগলেন।(শ্রীকৃষ্ণ স্বগতঃ বিষাদভাবে ব্যক্ত করলেন)।"আমি ব্রজবধূগণ পরিবৃত হয়ে যখন নৃত্য করছিলাম,তখন শ্রীরাধা তা প্রত্যক্ষ করেছেন ; আমি শ্রীমতীর কাছে অপরাধী,তাই ভীতিবশতঃ শ্রীরাধার গমনে বাধা দিতে পারিনি।অহো হরি। আমি তাকে আদর করিনি মনে করে বোধহয় রাধা ক্রোধ করে চলে গিয়েছেন।*
*🌻এখানে, একটু ভাববার বিষয় এই যে যিনি স্বয়ং ভগবান,যাঁর ভগবত্তা অন্য-নিরপেক্ষ ও স্বয়ংসিদ্ধ সেই শ্রীকৃষ্ণ বলছেন--,আমি ভীতিবশত শ্রীরাধার গমনে বাধা দিতে পারিনি। দ্বিতীয় শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমতীর অনুসন্ধানে ব্যস্ত।যিনি অনুসন্ধেয়(অনুসন্ধানযোগ্য) বস্তু,তিনি আজ অনুসন্ধানে রত।(এই স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীচরণ পাবার আশায় কতশত যোগী মুনি ঋষি হাজার হাজার বৎসর তপস্যায় রত আছেন, আর সেই বিশ্বব্রহ্মান্ডের অধিপতি শ্রীকৃষ্ণ ভক্তের সন্ধান করতে রত হয়েছেন, ভক্ত তাঁকেই বলে স্বয়ং ভগবান যাঁর সন্ধান করেন)। এই বিপরীতভাব অতীব আশ্বর্য্যজনক।আরও আশ্বর্য্য,খোঁজ করে যখন কৃতকার্য্য হলেন না, অনুতাপানলে পুড়ে যাচ্ছেন।যিনি সর্ব চিত্তাকর্ষক,সাক্ষাৎ মদনমোহন তিনিও শ্রীরাধার আকর্ষণে আকৃষ্ট,যিনি সর্বারাধ্যধন তিনিও মহাভাবময়ী শ্রীমতী রাধাঠাকুরাণীর আরাধনায় নিযুক্ত।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৩) প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*
*🌻সাধ্যধন যে শ্রীকৃষ্ণ তাঁরও শিরোমণি শ্রীরাধা--সাধ্যশিরোমণি।*
*🌷পূর্ণানন্দময় আমি চিন্ময় পূর্ণতত্ত্ব।*
*🌷রাধিকার প্রেমে আমায় করায় উন্মত্ত।।*
*🌺শ্রীকৃষ্ণ পূর্ণতত্ত্ব হয়েও শ্রীরাধার জন্য কি করেন আর কি না করেন।কোন সময়ে বুড়ি জটিলার ভয়ে শ্রীমতীর আঙ্গিনার এক কোণে বদরীবৃক্ষতলে (কুলগাছ) রাত্রি যাপন করেন ; কখনও কালিন্দীতীরে রাধাকে দেখবার জন্য বাঁশী হাতে বসে থাকেন। কোনও সময় শ্রীমতী রাইধনির অঙ্গপরশের লালসে কলাবতী গায়িকা,বেদেনী,ভিখারাণী, মালিনী ইত্যাদি ছদ্মবেশ ধারণ করেন।আবার স্বর্ণ-লতিকাকে শ্রীরাধা ভেবে বক্ষে জড়িয়ে ধরেন।গোবিন্দ লীলামৃতে বর্ণিত "শ্রীরাধার মূর্তি-তরুলতাদিতে সর্বত্র স্ফূর্তি পেয়ে নর্তকীর মত ভ্রমণ সহকারে সেই কৃষ্ণকে শ্রীমতীর পশ্চাৎ পশ্চাৎ নৃত্য করাচ্ছেন।আবার রাসনৃত্যকালে "গৃহীতানাং কন্ঠে" প্রমাণ করছে যে শ্রীকৃষ্ণই গোপীগণের কন্ঠাশ্রয় করেছিলেন।এখানে শ্রীকৃষ্ণ গোপীগণকে আকর্ষণ করতে পারেননি।গোপীগণই চুম্বকের মত শ্রীরাধার কৃপায় শ্রীকৃষ্ণকে আকর্ষণ করেছেন।পুনঃ মহারাসের উপক্রম সভাতে শ্রীব্রজাঙ্গনাগণ যমুনা পুলিনে নিজ নিজ কুচপ্রদেশে নিজ প্রাণবল্লভের শ্রীচরণারবিন্দ পেয়েছিলেন।তাঁরা সেই দুর্লভ চরণকমল অনুরোধময় কথাদ্বারা পাননি,শ্রীকৃষ্ণই উত্তমস্থান বোধে গোপীগণের বক্ষপ্রদেশে ন্যস্ত বা অর্পিত করেছিলেন।*
*🍀শ্রীরাধার কৃপাতে গোপীগণ শ্রীরাধার মত কৃষ্ণমাধুর্য্য আস্বাদন করেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ প্রায়শ বলেন--, "রাধিকার প্রেম আমায় করায় উন্মত্ত"।আবার বলেন--, "যে প্রেমে আমায় করে সর্বদা বিহ্বল"।শ্রীকৃষ্ণ উন্মত্ত বিহ্বল হয়ে যান,রাধাপ্রেমে এমন এক অনির্বচনীয় মাদকতা ও উন্মাদিনীশক্তি-মত্ততা আছে যে সেটি যাদুকরের মতন শ্রীকৃষ্ণকে বিহ্বল করে দেয়।তাই শ্রীরাধাপ্রেম শ্রীখৃষ্ণের গুরু,মহাগুরু,গুরুতম।গুরুবস্তু সবসময়ই গৌরবযুক্ত থাকবেই।শ্রীরাধা প্রেমের গুরুতম হয়েও সর্বতোভাবে গৌরব বর্জিত।কেননা দৈন্য নামক সঞ্চারীভাবের তরঙ্গ রাধাপ্রেমে নিরন্তর বা সবসময় বিদ্যমান।এই জন্য দৈন্যসাগরে নিমগ্না থেকেও তিনি মনে করেন, তিনি কৃষ্ণপ্রেমহীনা ও দীনা।যেমন-- শ্রীকৃষ্ণের বক্ষে দোদুল্যমান বনমালাকে দেখে বলেছিলেন, হে বনমালা! তোমার জন্মই সার্থক। আবার শ্রীকৃষ্ণের মধুর অধরে মুরলী দেখে তিনি বাঁশীজন্মে প্রার্থনা করেছিলেন।"শুধু আমি একাই কৃষ্ণপ্রেমহীনা হতভাগিনী।*
*🌷গোপগোয়ালিনী হাম অতি দীনা, না জানি ভজনপূজন।*
*🍀বিরহবেদন তুয়া ও দুটি চরণ পরাণে ধরিয়া নয়ন মুদে থাকি।*
*🌹শ্রীগীতগোবিন্দের প্রথম শ্লোকে দেখা যায় "রাধামাধায় হৃদয়ে" অর্থ্যাৎ রাধাকে হৃদয়ে ধারণ করে ব্রজবাসীগণকে ত্যাগ করলেন, আগেই বলা হয়েছে ক্রোধ করে মানবতী হয়ে,শ্রীরাসমন্ডলী পরিত্যাগ করে চলে গিয়েছেন। তারপর বলেছেন--, শ্রীরাধাকে হৃদয়ে ধারণ করেই রাধার খোঁজ করতে চললেন।যিনি নাই,তাঁকে আবার হৃদয়ে ধারণ করেন কিভাবে?যিনি হৃদয়ে ধৃত,অর্থ্যাৎ যিনি হৃদয়ে আছেন, তাঁকে অন্বেষণ করার প্রয়োজন হয় না। রাধামাধায় হৃদয়ে--, একথার তাৎপর্য্য এই যে,আমার ভাবকে হৃদয়ে ধারণ করে শ্রীরাসস্থলী ত্যাগ করলেন।শ্রীকৃষ্ণ রাধাবিরহে রাধাভাবময়ী হয়ে গিয়েছেন। তাই শ্রীরাধার অন্বেষণে শ্রীকৃষ্ণ রাধাভাব হৃদয়ে ধারণ করে হা রাধে!বলিয়া শ্রীবৃন্দারণ্যে ভ্রমণ করছেন কিন্তু প্রেমময়ী রাধাকে পাচ্ছেন না।একাগ্রচিত্তে কৃষ্ণ-অভিসারের তীব্রতা,চিত্তের উৎকণ্ঠা শ্রীরাধার মত আর কারও নাই।আজ রাধার খোঁজে শ্রীকৃষ্ণের অভিসার।তাই ভাবটি অঙ্গীকার করে রাধাভাবটি হৃদয়ে ধারণ করেছেন।সাধ্যশিরোমণি রাধাভাব অতি মধুর,সেইভাব যখন শ্রীকৃষ্ণ অঙ্গীকার করেন তখন আরো কত মধুরতর।সেই রাধাভাব ও বর্ণ অঙ্গীকারে যখন দেহের কান্তি ও পরিবর্তিত হয়ে অন্তর-কৃষ্ণ বহি-গৌর হয়ে যান,তখন আরো মধুরতম।শ্রীরাসলীলার পরিণতিতেই এটি সম্ভব হয়েছে।*
*🍀অচিন্ত্য ভেদাভেদত্ব বিধায় (বিধান অনুসার) শ্রীকৃষ্ণের শ্রীরাধারভাব গ্রহণ দার্শনিক দৃষ্টিতে অসম্ভব নয়।*
*এজন্য মূল শ্লোকে "প্রণয় বিকৃতি" 'রাধা' হ্লাদিনীশক্তি-এই তিনটি পদ দেওয়া হয়েছে। বতর্মান কলিযুগের প্রারম্ভে,বৈবস্বত মন্বন্তরীয় অষ্টাবিংশ চতুর্যুগীয় কলিযুগে প্রথম সন্ধ্যায় শ্রীরাধাকৃষ্ণ একত্র মিলিত হয়েছেন,অর্থ্যাৎ শ্রীরাধা শ্রীকৃষ্ণ উভয়ে পৃথক সত্তায় থেকেও অভিন্ন। এই যে "ভেদাভেদ" এটি অচিন্ত্য, অর্থ্যাৎ শ্রীগৌরকিশোরের শ্রীমূর্তিটি অচিন্ত্য ভেদাভেদের সাক্ষাৎ আবির্ভাব স্বরূপ, এই দুই তনুর মিলিত দেহই নামে শ্রীচৈতন্যদেব।ভিতরে আস্বাদনের করণ শ্রীরাধার মাদনাখ্য মহাভাবে সুবলিত অর্থ্যাৎ মোড়ান।এখানে এক অচিন্ত্য বিষয় যা ভাবতে গেলে দার্শনিকগণের মাথা একেবারেই অন্যরকম হয়ে যায় ; যেহেতু একজনের ভাব আস্বাদক, আর অন্যের ভাবটি সেই আস্বাদনের সাধন অর্থ্যাৎ আস্বাদন করবেন একজন,আর আস্বাদনের সাধন অন্যের রসনা--এটি চিন্তাতীত।একই অঙ্গে দুইটি ভিন্ন ভাব।এই দুইটি বিজাতীয় ভাবের এক আধারে স্থিতি এটিও আবার বিচিত্র।বাইরে নিজ ইন্দ্রনীলমণি সদৃশ শ্যামবর্ণও স্বর্ণবর্ণ এই দুইয়ের একত্র মিলনে এক স্বতন্ত্রবর্ণ হয়ে থাকে, কিন্তু এ জায়গায় শ্যাম শ্যামই আছেন,গৌর গৌরই আছেন।উভয়ের স্বতন্ত্র সত্ত্বা বিদ্যমান থেকেও অভিন্নতা,এটি আবার বিচিত্র।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৪)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*
*🍀শ্রীরাধার ভাব ও কান্তি উভয়ই প্রয়োজন কারণ "আমি রাধা"-- এইভাবেই বিভাবিত অবস্থায় নিজাঙ্গের প্রতি দৃষ্টিপাত করে যদি শ্যামলকান্তিটা দেখেন তবে সেটি ভাব বিরুদ্ধ হবে, মূলতঃ যিনি স্বরূপে সাক্ষাৎ শ্রীনন্দ-নন্দন শ্রীকৃষ্ণ, কান্তি গৌর, ভাবাবেশে শ্রীরাধা ও নামে শ্রীগৌরকিশোর।"শ্রীরাধা কৃষ্ণস্বরূপই শ্রীচৈতন্য এটি না বলে শ্রীকৃষ্ণস্বরূপই শ্রীচৈতন্য বলা হয়েছে কারণ,শ্রীকৃষ্ণই নিজ মাধুর্য্য আস্বাদনের জন্য লোভী হয়ে শ্রীচৈতন্য হয়েছেন ; কিন্তু শ্রীরাধা কৃষ্ণমাধুর্য্য নিরন্তর বা সবসময়ই আস্বাদন করছেন। সুতরাং শ্রীরাধার গৌর হবার কোন আবশ্যক নেইহ পরন্তু মাদনাখ্য মহাভাব স্বরূপিনী শ্রীরাধার আশ্রয় জাতীয় ভাবের আশ্রয় গ্রহণ না করলে শ্রীকৃষ্ণের বাঞ্ছাত্রয় পূর্ণ হ'ত না।এইজন্য শ্রীরাধিকা নিজের মাদনাখ্য মহাভাব ও তপ্তকাঞ্চন গৌরাঙ্গী কান্তিটা প্রদান করে শ্রীকৃষ্ণকে শ্রীগৌরাঙ্গ করেছেন।*
*🌷শ্রীনন্দ-নন্দন গোপীজন বল্লভ,*
*🌷শ্রীরাধার নায়িক নাগর শ্যাম।*
*🌷সো শচীনন্দন,নদীয়া পুরন্দর,*
🌷 *সুরনর মুনিগণ মোহনধাম।।*
*🌷জয় নিজকান্তা কান্তি কলেবর,*
*🌷 জয় নিজ প্রেয়সী ভাব বিনোদ।*
*🌷ব্রজতরুণীগণ লোচন মঙ্গল,*
*🌷 নদীয়া বধূগণ-নয়ন-আমোদ।।*
*🌻শ্রীরায় রামানন্দের মুখে রাধাকৃষ্ণ প্রেমতত্ত্ব শোনার পর শ্রীমহাপ্রভু শ্রীকৃষ্ণের বিলাসতত্ত্ব শুনতে ইচ্ছে করলেন।শ্রীরামরায় বললেন--"নিরন্তর কামক্রীড়া যাঁহার চরিত"। দিবারাতি কৃষ্ণপ্রেয়সীগণের সঙ্গে কোনও না কোন প্রেমের খেলা খেলছেন তিনি।এটিই তাঁর বিলাসমহত্ত্ব।শ্রীমন্মহাপ্রভু বললেন,রায়! যে কথা বললে এও হয়, আগে কহ আর।শ্রীরায় বললেন, প্রভো! এক প্রেম-বিলাস বিবর্ত্তের কথা বলব, কিন্তু তা শুনে তোমার সুখ হবে কি না বলতে পারি না।এই বলে স্বরচিত একটা গানের পদ গাইলেন।কিছুসময় গাইতেই, "প্রেমে প্রভু তাঁর মুখ আচ্ছাদিল"।*
*🍀সর্বত্রই শ্রীকৃষ্ণ সমগ্র জগতকে আকর্ষণ করেন বলে তাঁর কৃষ্ণ নাম সার্থক হয়েছে ; কিন্তু যখন তিনি অন্য কারও আকর্ষণে প্রলুব্ধ হন,তখনই প্রেমবিলাসবিবর্ত্ত হয় শ্রীকৃষ্ণ রাধার পূর্ণ বশীভূত হয়ে শ্রীমতী সমীপে দূতী প্রেরণ করেছেন।শ্রীরাধা কৃষ্ণ প্রেরিত দূতীর কাছে বলছেন--*
*🌷পহিলহি রাগ নয়নভঙ্গ ভেল।*
*🌷অনুদিন বাঢ়ল অবধি না গেল।।*
*🌷না সো রমণ না হাম রমণী।*
*🌷দুহুঁ মন মনোভর পেশল জানি।।*
*🌹শ্রীরাধা বললেন--, শ্রীকৃষ্ণের প্রতি আমার অনুরাগ প্রথমাবধি।ঐ অনুরাগ বক্ষে নিয়ে আমি জন্ম নিয়েছি।শ্রীকৃষ্ণের চাঁদবদন না দেখে আমি আমার নয়নদ্বয় মেলিব না, এই সংকল্প নিয়েই আমি জন্মেছি।*
*🍁বৃষভানু রাজার একটি সুন্দরী স্বর্ণবর্ণা কন্যা জন্মগ্রহণ করেছেন শুনে রাজন্যবর্গ ও কুটুম্বগণ উপঢৌকন নিয়ে সুন্দরী কন্যাকে দেখতে আসিলেন।মা যশোমতীও গোপালকে কোলে করে আগমন করলেন।মা যশোদার কোল হতে মাটিতে নেমে হামাগুড়ি দিয়ে গোপাল শ্রীরাধার স্বর্ণবর্ণা কোমল অঙ্গ স্পর্শ করলেন। স্পর্শ করিবামাত্র শ্রীরাধার সঙ্কল্প পূর্ণ ও নয়ন উন্মোচিত হল। এবং জগতে আগমন করে প্রথমেই নীলমণির প্রফুল্ল বদন দর্শন করলেন।*
*🌻শিশুকালেই তাঁদের মধ্যে, শ্রীরাধা বললেন--,শ্রীকৃষ্ণ রমণ আমি রমণী তিনি স্বামী,আমি পত্নী--এইরকম সম্বন্ধ তাঁর সঙ্গে আমার নেই।শুধু মদন দুইজনকে প্রেমের কারণে এক করে দিয়েছে।স্বামী-স্ত্রী ধর্মবোধে ভজন করে থাকেন বলে তাঁদের প্রেম সঙ্কুচিত।এই প্রেম সম্বন্ধানুগ নয়, প্রেমানুগ।শ্রীরাধিকাদি ব্রজগোপীগণ অন্যকে স্পর্শ করা তো দূরে থাকুক,দ্বিভূজমুরলীধার ছাড়া শ্রীকৃষ্ণের অন্যমূর্তিকেও স্পর্শ করতেন না।শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতেও এই সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়,যথা--*
*🌷গৌর অঙ্গ নহে মোর রাধাঙ্গ স্পর্শন।*
*🌷গোপেন্দ্র সুত বিনা তেঁহ না স্পর্শে অন্যজন।।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৫)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*
*🌻শ্রীরাধা মোহনাখ্য মহাভাবের চিত্রজল্পে (কাব্য বাক্যে)শ্রীউদ্ধব মহাশয়কে বলেছিলেন--"আর্য্যপুত্র" কি মধুপুরীতেই আছেন?শ্রীরাধা, কৃষ্ণকে আর্য্যপুত্র বলে সম্বোধন করায় গাঢ় অনুরাগের আবেশে শ্রীকৃষ্ণের বধূভাবই ব্যক্ত হয়েছে,কারণ পরবধূ উপপতিকে "আর্য্যপুত্র" বলতে পারেন না।আর্য্যপুত্র পদের নিজ পতিতেই রূঢ়বৃত্তি।যাইহোক,শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দরে রাধাকৃষ্ণ এমনভাবে মিলিত যে,তাঁরা রমণ রমণী ভাবাতীত।তাঁরা এক দেহে মিলিত হলেও ভাব দুইটি,এক দেহে দুইটি মনের লীলা খেলা চলছে।*
*🍀শ্রীরামরায় গোদাবরী তটে হঠাৎ দর্শন করলেন-- শ্রীচৈতন্যদেবের ঐ সন্ন্যাসীরূপ নাই।ইহা দর্শন করে তিনি চমকিত হয়ে গিয়েছেন,আরও বিস্ময়ের বিষয় এই যে,সেখানে সন্ন্যাসীমূর্তির পরিবর্তে মুরলীবদন নবকন্দর্প--স্বরূপ এক শ্যামল গোপ-- কিশোরকে দেখলেন। আরও আশ্চর্য্য এই যে ঐ ইন্দ্রনীলমণি সদৃশ কান্তিকে সম্মুখস্থ এক উজ্জ্বল স্বর্ণবর্ণা প্রতিমা বিদ্যুৎ প্রভার মত তার অঙ্গচ্ছটায় শ্যামল বেণুকর গোপকিশোরকে উজ্জ্বল গৌরকান্তিতে আবৃত (মোড়িয়ে)করে হেমাভ-দিব্যচ্ছবি একমূর্তি প্রকট করে দিলেন।এটিই শ্রীগৌরাঙ্গমূর্তি এটিই কলির জীব-উদ্ধারকারী মূর্তি। যথা শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে।*
*🌷পহেলি দেখিল তোমা সন্ন্যাসী স্বরূপ।*
*🌷এবে তোমা দেখি মুঞি শ্যাম গোপরূপ।।*
*🌷তোমার সম্মুখে দেখি কাঞ্চন পঞ্চালিকা।*
*🌷তার গৌরকান্তে তোমার সর্বাঙ্গ ঢাকা।।*
*🌻পঞ্চালিকা=ধাতু,কাষ্ঠ, বস্ত্রাদির পুতুল।*
*🌹
*শ্রীচৈতন্যদেব শ্রীরামরায়কে কহিলেন-- দেখছি তোমার শ্রীরাধাকৃষ্ণে প্রবল প্রেম,সেইজন্য তুমি আমার মধ্যে সেটি দেখছ।তখন রামরায় বললেন-- "আমার কাছে ভারিভূরি করিও না" ; আমার কাছে তোমার নিজস্ব-স্বরূপ আর চুরি করিও না।তোমার উপর এক, আর ভিতর আরেক। আমার মনে হয় তুমি--*
*🌷রাধিকার ভাবকান্তি করি অঙ্গীকার।*
*🌷নিজ রস আস্বাদিতে করিয়াছ অবতার।।*
*🌻তখন মহাপ্রভু স্মিতহাস্যে (মৃদু হেসে) বললেন--*
*🌷তবে হাসি প্রভু তারে দেখাইল স্বরূপ।*
*🌷রসরাজ মহাভাব দুই এক রূপ।।*
*🌻শ্রীরাধার তপ্তকাঞ্চন সমান অঙ্গ ছটাতেই আমার বর্ণ এইরকম হয়েছে। ব্রজনন্দনকৃষ্ণ ছাড়া কাউকেও আমি স্পর্শ করি না।*
*🌷গোপেন্দ্র সুতবিনা তেঁহো না স্পর্শে অন্য জন।*
*🌹চাতুর্য্যপূর্ণ ভাষায় বললেন-- আমি সেই রাধাভাব দ্যুতি সুবলিত শ্রীনন্দনন্দনকৃষ্ণ।*
*🌺শ্রীরাসরজনীতে শ্রীকৃষ্ণ রাসস্থলী হতে অন্তর্দ্ধান করলে বিরহিনী ব্রজদেবীগণ আকুলভাবে ক্রন্দন করতে করতে বলছেন--*
*🌷ধত্তে সুজাত চরণাম্বরুহং স্তনেবু।*
*🌷ভীতাঃ শনৈঃ প্রিয় দধীমহি কর্কশেষু।*
*🌷তেনাটবী মটসি তদ্ ব্যথতে নং কিং স্বিৎ,*
*🌷কুর্পাদিতি ভ্রমতি ধী সদা যুষাংনঃ।।*
*(ভাগবত--১০|৩১|১০)*
*🌻ব্রজগোপীগণ শ্রীকৃষ্ণকে বললেন-- হে প্রিয়ে তোমার যে কোমল চরণ আমরা আমাদের কঠিন স্তনোপরি ভয়ে ভয়ে ধীরে ধীরে ধারণ করি,সেই চরণ দ্বারা তুমি এখন বন ভ্রমণ করছ ; তোমার অম্ভোরুহ বা কমল সমান চরণ উপল-খন্ডাদি (ব্রজের কঠিন মাটি দ্বারা) ব্যথিত হচ্ছেন?সেইকথা ভেবে আমাদের মন অতীব বিমুগ্ধ (মোহপ্রাপ্ত বা অজ্ঞানপ্রায়) হয়ে পড়ছে।কারণ তুমি আমাদের প্রাণ। অর্থ্যাৎ গোপীগণ নিজেদের বিরহ ব্যথায় যতটা ব্যাকুলিত,তা অপেক্ষাও অনেক বেশী বিমুগ্ধ হয়ে পড়েছেন,প্রিয়তমের শ্রীচরণে কাঁকর ও ব্রজের কঠিন মাটি দ্বারা ব্যথিত হওয়ায়।গোপীগণের কুচযুগে শ্রীকৃষ্ণের চরণযুগলের স্পর্শে আত্মসুখে জ্ঞান হারা না হয়ে সুখের বিরোধী যে ভীতি,সেই ভীতিমুক্ত হৃদয়ে ধীরে ধীরে ধারণ করেছেন।এটি নিজসুখ বিসর্জন দিয়ে কৃষ্ণসুখে পর্য্যবসান।তাঁদের কায়িক,বাচিক,মানসিক প্রভৃতি যাবতীয় উদ্যম শ্রীকৃষ্ণের সুখ-বিধান জন্য।শ্রীকৃষ্ণ নিজেই রাসরজনীতে বলেছেন--,হে অবলাগণ! তোমরা কুলবধূ হয়েও অতি কঠিন ঘরের বন্ধন ছিন্ন করে,স্বজন, বান্ধব, ইহকাল,পরকাল,কর্তব্য, অকর্তব্য, সুখ-দুঃখ,ভাল-মন্দ,ধর্মাধর্ম প্রভৃতি কোন বিষয়ে বিন্দুমাত্র অপেক্ষা না করে ধন,দেহ,মনোধর্ম,জীবন ও যৌবন আমার সুখের জন্য ঢেলে দিয়েছ!"মদর্থ"।গোপীগণের ত্যাগ কৃষ্ণ ভগবান-- এই বিচারের ফলে নয়,সেটি কৃষ্ণের প্রতি বিশেষ অনুরাগের আবেশেই সর্বস্ব পরিত্যাগ।এইরকম মহিমান্বিত স্বতঃস্ফূর্ত,নিরুপাধি অনুরাগের কাছে শ্রীভগবান পরাভব মেনে ঋণী হয়ে থাকেন।ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে কলিযুগে শ্রীধাম নবদ্বীপে শ্রীগৌরাঙ্গ-মাধব রূপে অবতীর্ণ হয়ে নয়নজলে বক্ষ প্লাবিত করে কলির জীবের ঘরে ঘরে শ্রীরাধার মহিমা ও প্রেমরস সীমা প্রকাশ করে ঋণমুক্ত হতে হয়েছে।(আমরা চারটি ঋণ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছি কিন্তু) যাইহোক, তাই এই নিষ্কলঙ্ক রাধাপ্রেম সাধ্য শিরোমণি।কিভাবে শ্রীকৃষ্ণ ঋণী হলেন তা সামান্য বলি। গীতায়--*
*🌷যে যথা মাং প্রপদন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্।*
*💮যে যেভাবে আমাকে ভজনা করেন,আমিও তদ্রুপ তাকে ভজন ও প্রীতি করে থাকি। শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী বলেছেন--*
*🌷কৃষ্ণের প্রতিজ্ঞা দৃঢ় সর্বকাল আছে।*
*🌷যে যৈছে ভজে কৃষ্ণ তারে ভজে তৈছে।।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৬)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*
*🍀শ্রীকৃষ্ণের এই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্রজগোপীগণের নিরুপাধি (উপাধিহীন বা যাঁরা নাম যশ প্রতিষ্ঠা চান না,নিস্বার্থ ও নিষ্কাম )ভজনে ব্যর্থ হয়ে গিয়েছে।কারণ গোপীগণের কোন কামনাই নেই, সুতরাং শ্রীকৃষ্ণের দেবার কিছুই নেই।শ্রীব্রজদেবীগণের চিত্তে কৃষ্ণসুখ কামনা আছে,তা দিতে হলে নিজেরই সুখী হতে হয়।ঋণের জন্য প্রধানা গোপীকে সুখ দিতে গেলে আরও বেশী ঋণ হয় ; পরিশোধের সম্ভাবনা থাকে না।শ্রীরাধাদি গোপীগণের প্রেম অখন্ডিত, কৃষ্ণপ্রেম খন্ডিত, কারণ শ্রীকৃষ্ণ বহু বল্লভ।মান প্রকরণে শ্রীকৃষ্ণ চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে গিয়েছিলেন বলে মানবতী হয়ে শ্রীরাধা প্রথমে বুঝতে পারলেন যে শ্রীকৃষ্ণ বহুবল্লভ ; এর পূর্বে তিনি জানতেন না।*
*🌷মানে আমায় জানাইল সো বহু বল্লভ কান।*
*🌻যিনি তাকে উজ্জ্বলরসের ভজন করেন,তিনি তারই হয়ে যান।আর শ্রীব্রজাঙ্গনাগণ কৃষ্ণ ছাড়া আর কারও হয়ে যাননা।অতএব অখন্ডিত গোপীপ্রেমের নিকট কৃষ্ণ-ঋণী।শ্রীব্রজগোপীগণের ভজন-অনুরূপ ভজন বা প্রীতির অনুরূপ প্রীতি করতে অসমর্থ হয়ে নিজেই ঋণী হয়ে গিয়েছেন।প্রতিজ্ঞা ব্যর্থ হয়েছে,তা শ্রীকৃষ্ণ নিজ শ্রীমুখেই স্বীকার করেছেন।যথা শ্রীমদ্ভাগবতে ১০|৩২|২০*
*🌷ন পারেহহং নিরবদ্য সং যুজাং,*
*🌷 স্ব সাধু কৃত্যং বিবুধায়ুষাপি বঃ।*
*🌷যা মা ভজন্ দুর্জ্জয়-গৃহ-শৃঙ্খলাঃ,*
*🌷সংবৃশ্চ্য তদ্বঃ প্রতিযাতু সাধুনা।।*
*🌺শ্রীকৃষ্ণ বললেন, হে সুন্দরীগণ! তোমাদের সহিত আমার প্রেম সংযোগ নিরবদ্য বা নির্মল, আমি বহু পক্ষপাত কাল জীবন ধারণ করেও তোমাদের প্রতি সাধু ব্যবহার (কর্তব্য অনুষ্ঠান)করতে সমর্থ হব না, তোমরা দুশ্ছেদ্য (দুঃখে কষ্টে ছিন্ন করা যায় না ) গৃহ-শৃঙ্খল ছিন্ন করতঃ (ঘরের সমস্ত চিন্তাধারা ছিন্ন করে)আমাকে ভজনা করেছ।আমি তোমাদের ঋণ পরিশোধ করতে পারব না।*
*🛑অতএব নিজ থেকে তোমরা যদি কৃপা কর তাহলেই সম্ভব হতে পারে নচেৎ না। আমি প্রত্যুপকার করে তোমাদের ঋণ পরিশোধ করতে পারলাম না।এখন তোমাদের প্রেমই সাধু আচরণের প্রতিদান করে এই ঋণ পরিশোধ করুক।*
*🔷শ্রীব্রজাঙ্গনাগণ যখন প্রিয়তম শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করেন তখন তাঁদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও বদন মন্ডলের প্রফুল্লতা বৃদ্ধি পেয়ে রক্তিম আভামুক্ত হয়।তৎদর্শনে প্রিয়তম কৃষ্ণের পরম সুখ অনুভব হয়। "আহা"! শ্রীকৃষ্ণ আমাকে দেখে এত সুখ অনুভব করল, এই ভাবনা হতেই গোপীগণের মনোসুখ-তরঙ্গ আরও উচ্ছসিত হয়ে উঠে।এইভাবে পরস্পর পরস্পরের শোভা দেখে আনন্দ-তরঙ্গের উচ্ছাস লেগে যায়।যথা শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে--*
*🌷আমার দর্শনে কৃষ্ণ পাইল এত সুখ।*
*🌷এত সুখে গোপীর প্রফুল্ল অঙ্গ মুখ।।*
*🌷গোপীশোভা দেখি কৃষ্ণের শোভা বাড়ে যত।*
*🌷কৃষ্ণশোভা দেখি গোপীর শোভা বাড়ে তত।।*
*যদিও কৃষ্ণসেবা জনিত আনন্দ পরম পুরুষার্থ, তবুও কৃষ্ণ সেবার বাধা অশ্রু,পুলক,কম্প প্রভৃতি সাত্ত্বিক বিচারকে গোপীগণ বর্জন করেন। প্রেম সেবানন্দই ভক্তের জীবন।ইহাদ্বারা প্রমাণিত হল যে গোপীগণের স্বসুখ বাঞ্ছা একেবারেই নেই। যথা--*
*🌷নিজ প্রেমানন্দে কৃষ্ণসেবানন্দে বাধে।*
*🌷সে আনন্দের প্রতি ভক্তের হয় মহাক্রোধে।।*
*🍀গোপীগণের কৃষ্ণসুখ ছাড়া নিজসুখ বাঞ্ছা নাই,তবে যে দেহের মার্জন ভূষণ করেন,এটিও কৃষ্ণসুখের জন্য।শ্রীরাসরজনীতে বংশীধ্বনি হলে সকল গোপীগণ আত্মহারা হয়ে শ্রীরাসমন্ডলীতে ছুটেছিলেন।শ্রীশুকদেব গোস্বামীপাদ বর্ণনা করেছেন-- "লিম্পন্ত্যঃ প্রমৃজন্ত্যোহন্যা অজন্ত্যঃ কাশ্চ লোচনে"---- অর্থ্যাৎ কোন কোন গোপী নিজ দেহে চন্দনাদি লেপন করছিলেন, কেউ বা প্রসাধন দ্রব্যাদি দেহে লাগাচ্ছিলেন,কেউবা নয়নে কাজল দিচ্ছিলেন, এক নয়নে পড়ছিলেন।এতে বোঝা যায় গোপীগণ দেহের মার্জন-ভূষণ করেন বটে, কিন্তু ইহাও কৃষ্ণসুখের জন্য।কেননা তাঁদের দেহকে কৃষ্ণ পূজার উপাচার বলে সেটি শ্রীকৃষ্ণের পাদপদ্মে নিবেদন করেছিলেন।দেহটি কৃষ্ণপ্রেম বিলাসের দেহ,শ্রীকৃষ্ণের ভোগ্য দেহ,তাঁরা দেহকে সুসজ্জিত করেন শুধু শ্রীকৃষ্ণের সুখ বিধানের জন্য।তা না হলে ---*
*▪শ্রীকৃষ্ণের শিরপীড়ায় বা মাথার ভীষণ যন্ত্রণায় তো দেবর্ষি নারদ কোন জায়গায় ভক্তের পদরজ পেলেন না,শুধু ব্রজে গমন করে গোপীগণের পদরজঃ পেলেন।গোপীগণই মনে করেন কৃষ্ণপদে বিক্রীত দেহের চরণও শ্রীকৃষ্ণের,এইভাবে বিভাবিত হয়েই চরণরেণু প্রদান করলেন, শ্রীকৃষ্ণের মাথার ব্যথার উপশম হলেই গোপীগণের সুখ।দূর্জ্ঞেয় গোপীপ্রেম। শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে----*
*🌷এ দেহ কৈলুঁ আমি কৃষ্ণে সমর্পণ।*
*🌷তাঁর ধন তাঁর এই সম্ভোগ সাধন।।*
*🌷এই দেহ দর্শন স্পর্শে কৃষ্ণ সম্ভাষণ।*
*🌷এই লাগি করে দেহের মার্জন ভূষণ।।*
*🛑গোপীগণের এই স্বভাব নিত্যসিদ্ধ ও স্বাভাবিক।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের কথায় জানা যায় যে তিনি সমগ্র বিশ্বকে আনন্দ দান করেন। কিন্তু শ্রীরাধা কৃষ্ণহৃদয়ে আনন্দদানে চন্দ্রকিরণ স্বরূপা।শ্রীরাধা নিজ অসংখ্য প্রাণপুষ্পগুলি দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের গমনাগমনের পথের চরণধূলি কণার নিরোজন করে থাকেন।তিনি কৃষ্ণমানস হংসের মানস-গঙ্গাস্বরূপা, ও কৃষ্ণপ্রেম সরোবরের সন্তরণশীল (সাঁতার দেওয়া )মরালিনী সমান।শ্রীকৃষ্ণের ব্যষ্টি বা ভিন্ন ভিন্ন হৃদয়স্থ প্রেম-রসাস্বাদনের তৃষ্ণা নিবারণ করতে সুধাধারার মত শ্রীরাধাপ্রেমই রমর্থ।শ্রীরাধার মহাভাব বাসিত মধুর রতি রসের অখন্ড পারাবারে ভ্রমণরত কৃষ্ণের মনোমীন সবসময় বিলাসানন্দে ডুবে থাকে।সেই জন্য শ্রীকৃষ্ণ শ্যামসুন্দর মদন-মোহনরূপে সমস্ত জগতকে মোহিত করলেও আবার কৃষ্ণকে মোহিত করছেন আমাদের কৃষ্ণ মনোমোহিনী শ্রীরাধা।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৭)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*
*🍀মাদনাখ্য মহাভাব স্বরূপিনী শ্রীরাধার নামে এমন একটি মাদকতা আছে,যা চিন্ময় পূর্ণতত্ত্ব শ্রীকৃষ্ণকে উন্মত্ত ও বিহ্বল করে দেয়।শ্রীউজ্জ্বল নীলমণি টীকায় শ্রীজীব গোস্বামীপাদ মাদনাখ্য মহাভাবের ব্যাখ্যা এইভাবে করেছেন--,"তস্মোন্মাদনোত্র দিব্য মধুবিশেষান্মত্ততা---ইত্যর্থ ঃ--- অর্থ্যাৎ মাদন শব্দের অর্থ দিব্য বা অলৌকিক মধু বিশেষের মত মাদকতা সম্পন্ন।এই ভাবের পরিবেশনে অপ্রাকৃত মত্ততাই জেগে থাকে।অহো!মধুক্ষরা অমিয় নিছনি সেই রাধা-নামের যে কি প্রাণ-আকর্ষণের মোহিনী শক্তি আছে,যা শুনলেই কৃষ্ণের কানে যেন অমিয় প্রবাহ সিঞ্চিত হয়,মনে যেন কি এক অননুভূত ভাব-লালসা জাগিয়ে দেয় এবং এই লালসায় শ্রীকৃষ্ণের বিক্ষুব্ধ,বিলোল হৃদয় যেন কি এক মনোরম অজ্জাত বস্তুর খোঁজ করে, উৎসাহে হৃদয় নেচে উঠে,উল্লাসে ফুলে উঠে,উদ্বেগে গলে যায়।শ্রীকৃষ্ণ বুঝতে পারেন না যে কেন এই নামটি তাকে এত উন্মনা করে।রাধানামের সঙ্গে তাঁর কি এক ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ যে ভেবেও কিছু ঠিক করতে পারেন না।তবুও এই মধুক্ষরা অমিয় নিছনি বা নির্মঞ্জন নামটা শুনলেই অপূর্ব ভাবাবেশে বিভোর হয়ে আত্মসারা হয়ে যান।মা যশোমতী ও রোহিণীদেবীর কথোপকথনে যতবারই এই ভূবনমোহিনী রাধানাম শুনেছেন,ততবারই আত্মহারা হয়েছেন।শ্রীরাধার মাদনাখ্য মহাভাব শ্রীকৃষ্ণ আস্বাদন করতে অক্ষম। সুতরাং শ্রীকৃষ্ণের অনুরাগ অপেক্ষা শ্রীরাধার কৃষ্ণের প্রতি অনুরাগ অনেক বেশী, এইজন্যই উভয়ের মিলনে শ্রীকৃষ্ণের যে সুখ,তদাপেক্ষা শ্রীরাধা অনেকবেশী সুখ আস্বাদন করেন।এটি "ভরতমুনির" জানা ছিল না।*
*🌷দোঁহার যে সমরস ভরতমুনি জানে,*
*🌷আমার ব্রজের রস সেই নাহি জানে।।চৈঃচঃ*
*🌻মিলনের সুখ-অনুভূতিতে মহাভাবময়ী শ্রীরাধা রসরাজ শ্রীকৃষ্ণকে পরাভূত করেছেন।তাই মহাভাবময়ীর হৃদয়ে মহাসুখের তরঙ্গ এমনই একটা নিরুপম সুদুর্লভ বস্তু যে যার আস্বাদন লালসায় রসিকশেখরের মন উৎকণ্ঠাময়। যথা শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে--*
*🌷আমা হৈতে রাধা পায় যে জাতীয় সুখ।*
*🌷তাহা আস্বাদিতে আমি সদাই উন্মুখ।।*
*🛑শ্রীরূপ গোস্বামীপাদ শ্রীউজ্জ্বলনীলমণিতে মাদন শব্দের অর্থ এই ভাবে প্রকাশ করেছেন।যথা "সর্বভাবেদ্মমোল্লাসী মাদনোহয়ংপরাৎপরঃ"।ইহ মোদন ও মোহনাদি ভাব অপেক্ষা অধিকতম উৎকৃষ্ট, সদা শ্রীরাধাতেই এই মাদনাখ্য মহাভাব বিরাজিত।অন্যত্র ইহার উদয় হয় না। সমগ্র জগতের হর্ষপ্রদ বলে ইহা অদ্বৈত অর্থ্যাৎ দ্বিতীয় রহিত বা এক।কেবলমাত্র শ্রীরাধারাণীই এই মাদনাখ্য পরাৎপরের আশ্রয় হতে পারেন।*
*শ্রীরূপ গোস্বামীপাদ বলেছেন-- "কুতুকী রসস্তোম হ্যত্ত্বা",অর্থ্যাৎ কৌতুকী শ্রীকৃষ্ণ কোন প্রয়সীর রসের ভান্ডার হরণ করে উপভোগ করতে প্রয়াসী হয়েছেন।শ্রীরূপ গোস্বামীপাদের "কুতুকী"-- এই পদবিন্যাস নিরুপম ও ভাবগ্রাহী। ব্রজের ঘরে ঘরে গোপীগণের নবনী চুরি,গোপীদের স্নানকালে বসন চুরি করে "চোর"-চূড়ামণি হয়ে ছিলেন।এই পরিপক্ক চোর এখন দস্যুবৃত্তি গ্রহণ করে কৃষ্ণধনের শ্রেষ্ঠা ধনী শ্রীরাধার রত্নভান্ডার লুঠ করতে প্রয়াসী হয়েছেন।ঐ রত্নভান্ডারে মাদনাখ্য মহাভাব বলে একটি অমূল্য রত্ন আছে,সেটি নাকি একমাত্র শ্রীরাধিকার ভান্ডারেই আছে।সেটি হরণ বা চুরি করে অর্থ্যাৎ শ্রীরাধার মহাভাব অঙ্গীকার করে শ্রীগৌরাঙ্গরূপে আস্বাদন করবেন।*
*শ্রীকৃষ্ণরসে বিশ্বজগৎ সরস,শ্রীরাধার অধর রসে অনন্তকোটি বিশ্বজগতকে মোহিত করা শ্রীকৃষ্ণ বিহ্বল।শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গস্পর্শ কোটিন্দুশীতল শ্রীরাধার অঙ্গস্পর্শে শ্রীকৃষ্ণ কোটিচন্দ্র সুশীতল মনে করেন।লীলাবিলাসে শ্রীকৃষ্ণের শ্রান্ত কলেবর বসন্তের শীতল বাতাসের মত তিনি স্নিগ্ধা ও তরুমনপ্রাণে উল্লাসদায়িনী। তাই-ত মাদনাখ্য মহাভাবের আশ্রয় স্বরূপা শ্রীরাধার সঙ্গে লীলা বিলাসে শ্রীকৃষ্ণ অখন্ড পরমানন্দ লাভ করেন।তখন শ্রীকৃষ্ণ মনে করেন----*
*🌷আমা হৈতে বড় গুণী জগতে অসম্ভব।*
*🌷একলি রাধাতে তাহা করি অনুভব।।চৈঃচঃ।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের মৃগমদ-নীলোৎপল অঙ্গ-গন্ধ শ্রীরাধার নাসিকায় প্রবেশ করলে তিনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে সেই সুগন্ধের দিকে উড়ে পড়তে ইচ্ছে করেন।*
*🌷অনুকূল বাতে যদি পায় মোর গন্ধ।*
*🌷উড়িয়া পড়িতে চাহে প্রেমে হৈয়া অন্ধ।।*
*🌻পক্ষান্তরে,শ্রীরাইধনির অধর রস শ্রীকৃষ্ণকে বশ করে থাকে এবং সেটিতে এমনই আসক্ত হয়ে পড়েন যে,বদন দেখে বদন ভুলতে পারেন না।আবার শ্রীকৃষ্ণের চর্বিত পান আস্বাদন করলে শ্রীরাইধনি শ্রীকৃষ্ণের অধরামৃতের আস্বাদনে আনন্দ সাগরে ডুবে যান।যথা---*
*🌷তাম্বুল চর্বিত যবে করে আস্বাদনে।*
*🌷আনন্দ সমুদ্রে ডুবে কিছুই না জানে।।চৈঃচঃ।।*
*শ্রীকৃষ্ণ ব্রজের ঘরে ঘরে গোপীগণের নবনী চুরি করে,স্নানকালে গোপীগণের বসন চুরি করে,"চোর" চূড়ামণি হয়ে ছিলেন,এই পরিপক্ব চোর এখন দস্যুবৃত্তি গ্রহণ করে কৃষ্ণধনের শ্রেষ্ঠা ধনী শ্রীমতীরাইধনির রত্নভান্ডার লুঠ করতে প্রয়াসী হয়েছেন।ঐ রত্নভান্ডারে মাদনাখ্য মহাভাব বলিয়া একটি অমূল্য রত্ন আছে,সেটি নাকি অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের মধ্যে একমাত্র শ্রীরাধারাণীর ভান্ডারেই আছে।সেটি হরণ করে বা চুরি করে অর্থ্যাৎ শ্রীরাধার মহাভাব অঙ্গীকার করে শ্রীগৌরাঙ্গরূপে আস্বাদন করবেন।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৮)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*
*🛑শ্রীরাধার মধুমাখা কথা শুনলে শ্রীকৃষ্ণ অত্যন্ত আনন্দ অনুভব করেন।আর শ্রীরাধা,শ্রীকৃষ্ণের মধুর অধরে বংশীধ্বনি মাধুর্য্যকথা শুনলে, সেই বেণুগীত শুনে তিনি হারিয়ে যান, অর্থ্যাৎ মন হরণ হয়ে যায়, মন হরণ হয়ে গিয়ে নিকটস্থ তরুণ তমালকে জড়িয়ে ধরে শ্রীরাধা মনে করেন, আজ আমার জীবন ধন্য, আমি আমার প্রাণকোটি প্রিয়তমকে বক্ষে পেলাম, এই সুখে তরুণ-তমালকে বক্ষে ধরে শ্রীকৃষ্ণের আলিঙ্গন সুখ অনুভব করতে থাকেন।যথা--*
*🌷পরস্পর বেণু গীতে হরয়ে চেতন।*
*🌷মোর ভ্রমে তমালেরে করে আলিঙ্গন।।*
*🌷লীলান্তে সুখে ইহার যে অঙ্গের মাধুরী।*
*🌷তাহা দেখি সুখে আমি আপনা পাসরি।।চৈঃচঃ।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের তিনটি বাঞ্ছার প্রথমটি, শ্রীরাধার প্রণয় মহিমা কিরকম। দ্বিতীয় বাঞ্ছা--,শ্রীরাধা কর্তৃক মাদনাখ্য মহাভাবের দ্বারা আস্বাদ্য কৃষ্ণের অনন্ত মাধুর্য্য কিরকম?আর তৃতীয় বাঞ্ছা--,শ্রীকৃষ্ণের অদ্ভুত,অনন্ত মাধুরিমা অনুভব করে শ্রীরাধার কৃষ্ণ অপেক্ষা কোটিগুণ সুখ-অনুভব কিরকম!এই তিনটি লোভ পরিপূর্ণ করতে হলে শ্রীরাধার মহাভাব ও কান্তি গ্রহণ ছাড়া বিষয় জাতীয় ভাবে সম্ভবপর নয়।যদি শ্রীরাধার মাদনাখ্য মহাভাবের আশ্রয় হতে পারেন তবেই তিনটি বাঞ্ছা পূর্ণ হবে।*
*🌷এত চিন্তি রহে কৃষ্ণ পরম কৌতুকী।*
*🌷হৃদয়ে বাড়য়ে প্রেম লোভ খকধকি।।*
*🌻একজনের ভাব ও কান্তি অন্যজন দ্বারা গ্রহণ কাজটি সহজসাধ্য নয়।শ্রীশ্যাম রয়েছেন বাইরে,তাকে প্রবেশ করতে হবে অন্যের অন্তরে--এটি একটি বিচিত্র বিষয়।*
*🌷অতএব সেই ভাব অঙ্গীকার করি।*
*🌷সাধিলেন নিজ বাঞ্ছা গৌরাঙ্গ শ্রীহরি।।চৈঃচঃ।।*
*🌻শ্রীরূপ গোস্বামীপাদ একটি উপায়ের খোঁজ দিয়েছেন শ্রীউজ্জ্বল নীলমণি গ্রন্থে--, "রাধায়া ভবচশ্চ চিত্তজতুনী" ইত্যাদি শ্লোকে বর্ণনা করেছেন।শ্রীরাধাকৃষ্ণের চিত্তরূপ লাক্ষাকে (জতুকে বা আলতাকে) স্বেদজল (ঘামজল) দ্বারা দ্রবীভূত করে (গলিয়ে)উভয়ের ভেদভ্রম অপসারণ করতঃ (তুমি আমার,আমি তোমার,এরকম চিন্তা-ভাবনা দূরে সরিয়ে)শৃঙ্গারশাস্ত্র বিশারদ বিধাতা ব্রহ্মান্ডরূপ অট্টালিকা ভিতরে নবরাগ হিঙ্গুল দ্বারা স্বয়ং জগতের বিস্ময় বর্ধনার্থ অনুরঞ্জিত করেছেন।(নবরাগ নতুন করে নতুন ভাবনায় ব্রজের যে প্রেম সঞ্চার করে হিঙ্গুর বা দরদ দিয়ে নিজে জগতের কল্যান সাধনের জন্য,মানুষের মঙ্গের জন্য, যাতে মানুষ সুখে থাকতে পারে,কু-ভাবনা দূরে সরিয়ে দিয়ে ভক্তিপথের পথিক করবার জন্য )শ্রীরূপ গোস্বামীপাদ শ্রীরাধাকৃষ্ণের চিত্তকে জতু বা লাক্ষার সহিত তুলনা দিয়েছেন।শ্রীরাধাকৃষ্ণের মধ্যে যে ভিন্নতা সেটি ভুল মাত্র।শৃঙ্গার নিপুণ বিধাতা স্বেদ-নামক সাত্ত্বিক বিকার দ্বারা উভয়ের চিত্ত গলিয়ে এ ভেদভ্রম দূরীভূত করেছেন।শ্রীগোস্বামীপাদের শ্লোক হতে দুইবস্তুর ভেদ দূর করে একীভূত করার একটি সঙ্কেত জানা গেল।এই সঙ্কেতটি সুদীর্ঘ বিরহের তাপ দ্বারা চিত্তজতুনীকে গলিয়ে দুইবস্তুকে এক করে হলেও শ্রীরাধাকৃষ্ণের মিলনে ভেদ ভ্রম সর্বতোভাবে দূরে যাবে না।এক দেহে অন্যের প্রবেশ হলেও ভিন্ন থাকবেন।*
*🍀শ্রীঅক্রূর মহাশয় যখন রথে করে শ্রীকৃষ্ণ ও বলরামকে নিয়ে যাচ্ছিলেন,তখন গোপীগণ উচ্চৈঃস্বরে কেঁদে নয়নজলে প্লাবিত হতে লাগলেন।শ্রীরাইধনি অচৈতন্য হয়ে পড়লেন।*
*🌷রথের নিকটে সব চলহ এখন।*
*🌷রথচক্র মাথা পাতি ছাড়িব জীবন।।*
*🌷তার অদর্শনে সবে রব কি প্রকারে।*
*🌷না রবে এ প্রাণ সখি!সে বিচ্ছেদশরে।।*
*🌷 যেই নন্দসুত হেরি সুন্দর বদন।*
*🌷 নয়ন আনন্দ নীরে হইত মগন।।*
*🌷কিবা সে সুন্দর হাস্য,কিবা সে ঈক্ষণ।*
*🌷ক্ষণেক না হেরে তারে ব্যাকুলিত মন।।*
*শ্রীরাধা হা কৃষ্ণ! হা কৃষ্ণ! বলে কাঁদতে লাগলেন।শ্রীরাধা বিরহে কাতর হয়ে বলতেন-- "এতদিন অমৃতরস পান করিয়ে সে চলে গেল!বুকে দিবিনিশি আগুন জ্বলছে,ঘরে থাকতে পারিনা,শয্যা কাঁটাময়। শ্রীরাধার আহার নেই,নিদ্রা নেই, কোন কিছুতেই রুচি নেই,কেবল প্রাণভরা হাহাকার,বুকের পাঁজর ভেঙ্গে হৃদয় ছুটে বাইর হতে চায়, একবারও কি তাঁকে দেখতে পাবনা?অমৃত পান করলাম,সবই গরল হয়ে গেল।কৃষ্ণ নবজলধর দেখলাম,পিপাসা নিবৃত্তি হল না, আগুন জ্বলিল,জল পড়িল না নেভানোর জন্য, কি সে জ্বালা,আর সহিতে পারি না"।শ্রীকৃষ্ণের বিরহ দাবানলে মূহ্যমান শ্রীরাধা ললিতাদি সখীগণের কাছে যে সন্তাপ প্রকাশ করেছিলেন,তা ললিতমাধব গ্রন্থে বঙ্গানুবাদে এরকমভাবে বর্ণিত আছে--,▪হে সখী!পুটপাক (পুট অর্থে ঔষধ পাকের পাত্র বা ঔষধ,পুটপাক অর্থ মৃত্তিকা গোময়াদি নির্মিত পুটস্থ ঔষধপাক বা মিশ্রিত)।হতেও উত্তাপী বা খুবই কড়া, কালকূট বিষ হতেও মোহকারী,বজ্র হতেও দুঃসহ,হৃদয়ে লগ্ন শল্য হতেও অতি কটু এবং গুরুতর বিসূচিকা (ওলাউঠা বা কঠিন ব্যাধি) হতেও অতি তীব্র এই গোকুলপতির বিরহজনিত সন্তাপ বলপূর্বক আমার মর্মস্থান ভেঙ্গে চুড়মার করে দিচ্ছে।এই বিরহ সন্তাপ সহিবার আর কোন ক্ষমতা আমার নেই--এই কথাগুলি বলতে বলতে মুক্ত কন্ঠে রোদন করেছিলেন।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২৯)প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*শ্রীকৃষ্ণের তৃতীয় বাঞ্ছা*
*😭শ্রীমতী রাধিকা আরও বলছেন-- কি নিষ্ঠুর সে,এমন শঠের হাতে জীবন যৌবন সঁপে দিলাম।কুলবতীর কুলের গৌরব অকুলে ভাসিয়ে দিলাম। সতীধর্ম, আর্য্যপথ(স্বামী বা সংসার ধর্মের পথ) হেসে বিসর্জন দিলাম।কলঙ্কের কালি গায়ে মাখলাম, কেবলমাত্র প্রেমের অঙ্কুরোদ্গম হয়েছিল, তাতে ▪নাহি ভেল যুগল পলাশা, সেই প্রণয়তরুতে যুগল পাতাও হতে পারল না,সে চলে গেল। কেমন করে ইহা সহ্য করি, ঘরে ঘরে কেবলই গঞ্জনা। জীবন বিষময় হয়ে গেল।জীবনে বাঁচা হতে মরণ শতগুণে শ্রেয়।বিস খেয়ে মরব? কিন্তু সে----ই অমৃতময়ের আশা ত্যাগ করতে পারছি না।যে মুখে ও রসনায় একসময় সেই শঠের অধরামৃত পান করেছিলাম,সেই মুখে কি করে বিষ পান করব?তাঁকে ভুলে থাকতে চাই ; কিন্তু সেই শঠ নিদ্রা,জাগরণে,স্বপ্নে মুহূর্তের মধ্যে দেখা দিয়ে অন্তর্হিত হয়ে যায়।মন শাসন মানে না।তাঁর কথা ভাবব না বললেও মন শুনে না।যেদিকে যাই সেই দিকেই যেন তাঁর ভুবন ভুলানো মূর্তি দেখি।বাতাসে যেন তাঁর অঙ্গগন্ধ পাই।দিকে দিকে যেন তাঁর মধুর মুরলীধ্বনি শুনতে পাই।(সত্যিকারের প্রেম কাকে বলে তা শ্রীরাধার কথায় স্পষ্ট)।শ্রীরাধা শ্যামবিরহে উন্মাদিনী।প্রবল বিরহে শ্রীরাধার দিব্যোন্মাদ,উদ্-ঘৃণা (উদ্ মানে উপরে ঘৃণা বলতে ধিক্কার) অবস্থা।ললিতমাধবের তৃতীয় অঙ্কটির নাম "উন্মত্ত রাধিকা"।বিরহের বেদনা যত তীব্র হয়,অন্তরের প্রাপ্তিও তখন নিকটবর্তী হয়।(যিনি আকুলি ব্যাকুলি ও উৎকণ্ঠা হয়ে ভগবানকে যত ডাকবেন, ভগবান তত নিকটে আসিবেন)।একদিকে রাধার বিরহব্যথার তীব্রতা,অন্যদিকে,পরমকৌতুকী শ্রীকৃষ্ণের আশ্রয় জাতীয় সুখের জন্য ধকধকি লোভ।রসরাজ শ্রীকৃষ্ণের,মহাভাব স্বরূপিনী শ্রীরাধার চিত্তজাতুনীকে সুদীর্ঘ বিরহের তীব্র তাপে দ্রবীভূত করে বিরহসন্তপ্তা দিব্যোন্মাদিনী শ্রীরাধার মর্মের হৃদয় নিকুঞ্জে রহ-স্থানে(যা বাইরে থেকে দেখা যায় না,হৃদয়ের গোপন জায়গায়) প্রবেশ করলেন।বিরহ দশার পূর্ণতায় দশ-দশায় এই প্রবেশটি পূর্ণ হওয়ায় শ্রীশ্যামসুন্দর অর্ন্তকৃষ্ণ বহির্গৌর হলেন।*
*🌻শ্রীরায় রামানন্দ শ্রীরাধাকৃষ্ণের ভাবী মিলনটি দর্শন করেছেন নিধুবনে।ভবন বিরহের বেদনা তীব্রতম,সেটি শ্রীরায় রামানন্দকে দর্শন করিয়েছেন।তিনি দেখলেন--, শ্রীশ্যামসুন্দর আজ স্বর্ণকমলতুল্য শ্রীরাধার হৃদয় কোষের পাপড়িগুলি বিকশিত করে, পেলব কর্ণিকার স্থলে প্রবেশ করছেন।মিলন সময়ে বাম্য স্বভাবা নায়িকা সোহাগে শক্ত হয়ে যায়।তাই বিরহের তীব্যতাপে গলিয়ে মাদনাখ্য মহাভাবের কোষগুলিতে স্তরে স্তরে প্রবেশ করে রসরাজ নবরাগের হিঙ্গুলভরে শ্রীরাধার রঞ্জিত হৃদয় নিকুঞ্জ নিবাসে লুকিয়ে পড়লেন।শ্রীরায় রামানন্দ পরমানন্দের আঘাতে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।*
*🍀অপ্রাপ্তির জন্য আর্তনাদ যখন চরমপ্রাপ্তি হয়।অন্তর রাজ্যে শ্রীরাধাকৃষ্ণের মিলন তখন অত্যন্ত নিবিড় বা ঘন হয় এবং অভ্যন্তরে প্রবিষ্ট শ্রীকৃষ্ণ বাইরে হা কৃষ্ণ!হা কৃষ্ণ! হাঁ প্রাণনাথ মুরলীবদন বলে অশ্রু বর্ষণকারী রোরুদ্যমানা শুধু রাধার মূর্তিখানি--এটিই শ্রীগৌরসুন্দরের মূরতি।এই গৌরশশী যুগপৎ মিলনও বিরহের প্রতিমূর্তি।নিত্য নবনবায়নভাবে এই মিলন বিরহের জোয়ার ভাটা খেলছেন শ্রীনদীয়া বিনোদিয়ার হৃদয় অভ্যন্তরে।যথা শ্রীশ্রীচৈতন্য চন্দ্রামৃতে পাই,শ্রীপ্রবোধানন্দ সরস্বতী বলেন--*
*🌷ক্ষণং ক্ষীণঃ পীনঃ ক্ষণমহহ সাশ্রুঃ,*
*🌷ক্ষণমথ ক্ষণং স্মেরঃ শীতঃ ক্ষণমন,*
*🌷লতপ্ত ক্ষণমপি ক্ষণং ধাবন্ স্তব্ধঃ,*
*🌷ক্ষণমধিজল্পন ক্ষণমহো ক্ষণং মুকো,*
*🌷গৌরঃ স্ফুরতু মম দেহো ভগবতঃ।৭৬*
*🌻ক্ষণকাল ক্ষীণ,ক্ষণকাল পুষ্ট, ক্ষণকাল প্রেমাশ্রুপূর্ণ, কখনও হাসিবদন,কখনও শীতল, ক্ষণে আগুনের মত উত্তপ্ত, ক্ষণে ধাববান, আবার তখনই স্তম্বিত,ক্ষণে বহুভাষী, আবার তখনই মৌন,শ্রীকৃষ্ণের এইরকম গৌরদেহ আমার হৃদয়ে স্ফুরিত হোক।৭৬।*
*🍀শ্রীরসরাজ শ্রীকৃষ্ণের বর্ণ হ'ল শ্যাম বা কালো,আর মহাভাব স্বরূপিনী শ্রীরাধার বর্ণ হ'ল গৌর বা স্বর্ণবর্ণ।কিভাবে শ্যাম গৌর হয় তার কয়েকটি উপায় বা প্রক্রিয়া বর্ণিত হচ্ছে।*
*(১)নিরন্তর উভয়ের ভাবনা।ইহার মধ্যে শ্যামের গৌর হবার ভাবনাটি বেশী।শ্যামসুন্দর শ্রীরাধার আশ্রয় জাতীয় মাদনাখ্য মহাভাবের লালসায় সবসময়ই চিন্তা ভাবনা হতে শ্যামসুন্দর রাধা হয়ে গিয়েছেন।* *(বহু তত্ত্ব বা তথ্য)*।
*(২)শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণিত আছে--, "পেশস্কৃত ভ্রমর অন্য কীটকে উহার কুলায় বা বাসায় নিয়ে গেলে ঐ কীটটি পেশস্কৃত ভ্রমরের দেহ প্রাপ্ত হয়।এই ভাবনায় চন্ডীদাস বলেছেন--*
*🌷যারে যেবা ভাবি যখন মরয়ে,*
*সে জনে অবশ্য পায়।*
*🌷ত্রিভঙ্গ পোকা দেখ আন জীব মাঝে,*
*সে হয়, ভৃঙ্গের কায়।।*
*(৩)শ্রীধর স্বামীপাদ শ্রীচৈতন্য চন্দ্রামৃত গ্রন্থে এক জায়গায় টীকায় বলেছেন--, "ইন্দ্রনীলমণি যেমন চম্পক কুসুমের সঙ্গে একজায়গায় থাকলে তারই ধর্ম গ্রহণ করে, তেমনিই হ্লাদিনী সারভূতা শ্রীরাধার সঙ্গে একত্রে স্থিতি (অবস্থান বা থাকা) হেতু তার কান্তিতে ইন্দ্রনীলমণি সদৃশ বিগ্রহ শ্রীগোবিন্দ বাইরে গৌর বর্ণ হয়ে গিয়েছেন।*
*(৪)কৃষ্ণ ভৃঙ্গ সুপ্রভাতে স্বর্ণপদ্মের মধুর লোভে ফুলের উপরে বসে মধুর গুঞ্জন করতে থাকে,সূর্য্যরশ্মি তাপ বর্ষণ করলে ধীরে ধীরে স্বর্ণপদ্মের পাপড়ীগুলির ভিতরে ধীরে ধীরে পথ করে প্রবেশ করে সারাদিন মনের সাধে মধুপান করে থাকে।সন্ধ্যার প্রাক্কালে স্বর্ণপদ্ম মুদ্রিত হতে থাকলে সে বাইরে চলে আসে,তখন দেখা যায়,কৃষ্ণভৃঙ্গ সতত মধুপান ও একত্রে বাস হেতু কৃষ্ণভৃঙ্গ বর্ণ ভৃঙ্গের কায় বা বর্ণ গ্রহণ করেছে।তদ্রূপ স্বর্ণবর্ণা শ্রীরাধার মূর্তি ভাবনা হেতু শ্রীকৃষ্ণ মহাভাব স্বরূপিনীর হৃদয় নিকুঞ্জ নিবাসে প্রবেশ করে ভাব ও বর্ণ পেয়ে শ্রীগৌরাঙ্গ হয়েছেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩০)প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*মহাপ্রভু আবির্ভাবের গৌণ অন্তঃরঙ্গ কারণ।*
*🌷শ্রীঅদ্বৈত নমস্তুভ্যং কলিহত কৃপানিধে।*
*🌷গৌর প্রেম প্রদানায় শ্রীসীতাপতয়ে নমঃ।।*
*🌻আশ্রয় জাতীয় সুখ-আস্বাদনের জন্য শ্রীহরির অন্তর যখন অত্যন্ত ব্যাকুল হ'ল,তখন যুগাবতারের সময় আবির্ভাব হ'ল।তখন সন্ধানী শক্তির বৃত্তি গুরুবর্গ,পিতামাতা ও অন্যান্য পরিকরগণ শ্রীহরির আবির্ভাবের আগেই মানবকুলে জন্মগ্রহণ করলেন।শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী গোঁসাই, শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরী গোঁসাই, পিতা শ্রীজগন্নাথ মিশ্র পুরন্দর, গর্ভধারিণী শচীমাতা-ঠাকুরাণী, রাঢ়দেশে এক চাকা গ্রামে প্রভু নিত্যানন্দ অবধূত,শ্রীহট্টে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য,তিরোতে পরমানন্দপুরী গোঁসাই,বুঢ়নে ঠাকুর হরিদাস, চট্টগ্রামে শ্রীপুন্ডরীক বিদ্যানিধি ও শ্রীবাসুদেব দত্ত জন্মগ্রহণ করেন।শ্রীবাস পন্ডিত,পন্ডিত শ্রীগদাধর,শ্রীমুরারী, মুকুন্দ ও অন্যান্য বহু পার্ষদগণ ঐ সময়ে জন্মগ্রহণ করেন।সকলেই শ্রীধাম নবদ্বীপে এসে মিলিত হয়েছিলেন।*
*😭ভক্তগণের মনের ব্যথা,কলিহত জীবের হৃদয়ের বেদনা, মানুষের সীমাহীন তমঃ, দুরন্ত অবিদ্যা, পাপবাসনা,মানুষের ভগবৎ বিমুখতা, কৃষ্ণনাম ও ভক্তিশূন্য সব সংসার দেখে, শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যর প্রাণ কেঁদে উঠিল।তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন--*
*🌷করাইমু কৃষ্ণ সর্বনয়ন গোচর।*
*🌷তবে,অদ্বৈত নাম কৃষ্ণের কিঙ্কর।।*
*🌺জগতে লোকজনকে হরিভক্তিহীন দেখে নিত্য পরিমল যুক্ত তুলসী মঞ্জুরী,সুরভি ফুল ও গঙ্গাজল দ্বারা সাশ্রুনয়নে শ্রীকৃষ্ণকে আরাধনা করেন।ঐ হুঙ্কারের ধ্বনি ব্রহ্মান্ড ভেদ করে গোলোকে শ্রীকৃষ্ণকে আকর্ষণ করে।*
*🌷ভক্তের ইচ্ছায় কৃষ্ণের সর্বাবতার।*
*🌹অন্তরঙ্গ পার্ষদের আহ্বান ছাড়া তাঁর আবির্ভাব হয় না।শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য মহাবিষ্ণুর অবতার বা সদাশিব।তাঁরই কাতর প্রার্থনা ও ক্রন্দনে শ্রীকৃষ্ণের শ্রীগৌরাঙ্গ ভাবে আবির্ভাব।*
*🌷তাহার পিরীতে আইলা ত্বরিতে, উদয় নদীয়া মাঝ।*
*🍁এই জন্য এবং শ্রীঅদ্বৈত প্রভুতে অন্তরঙ্গ শক্তির বিলাস আছে বলে শ্রীগৌরাঙ্গের আবির্ভাবের গৌণ অন্তরঙ্গ কারণ বলা হয়েছে।*
*🌷যথা শয়ানে আছিলা ক্ষীর সাগর ভিতরে।*
*🌷নিদ্রাভঙ্গ হইল মোর নাড়ার হুঙ্কারে।।*
*🌷অদ্বৈত নিমিত্ত মোর এই অবতার।*
*🌷এইমত মহাপ্রভু বোলে বার বার।।*
*(চৈঃচঃ অন্ত্য)*
*🌕সেদিন ফাল্গুনী পূর্ণিমা।সকলেই সুমঙ্গল ঐ পূর্ণিমা তিথিতে মিলিত হলেন।শ্রীভগবানের ইচ্ছায়ই রাহু চন্দ্রকে গ্রাস করল।নদীয়ার সব লোকজন চন্দ্রগ্রহণ দেখে "হরিবোল, হরিবোল" ধ্বনি করতে লাগলেন।*
*🌷উঠিল মঙ্গল ধ্বনি শ্রীহরি সংকীর্তন।*
*🙌এই মঙ্গলধ্বনি ভারতের সর্বত্র ও স্বর্গে প্রতিধ্বনিত হল।স্বর্গের দেবগণ সর্বত্র পুষ্প বর্ষণ করে অনুক্ষণ জয় জয় শব্দে দুন্দুভি বাজাতে লাগলেন।হেন সময় শ্রীহরিনাম সংকীর্তনের সঙ্গে শ্রীমন্মহাপ্রভুর মর্ত্ত্যে অবতীর্ণ হলেন। যথা--*
*🌷পিতামাতা গুরুজনে আগে অবতারি।*
*🌷রাধিকার ভাব বর্ণ অঙ্গীকার করি।।*
*🌷নবদ্বীপে শচীগর্ভ শুদ্ধ দুগ্ধ সিন্ধু।*
*🌷তাহাতে প্রকট হৈলা কৃষ্ণপূর্ণ ইন্দু।।চৈঃচঃ।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/prem4.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
