꧁ ৩৪. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠ লীলা ꧂
👇👇👇🙏👇👇👇
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সকল কিছু লিখনী👇👇🙏👇👇📚 *PDF গ্রন্থ* 📚
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🌻🌻গোষ্ঠ লীলা গৌরচন্দ্রিকা🌻🌻*
*ভাবাবেশে গোরাচাঁদ বিভোর হইয়া।*
*ক্ষণে ক্ষণে ডাকে ভাঞা শ্রীদাম বলিয়া।।*
*ক্ষণে ডাকে সুবলেরে ক্ষণে বসুদাম।*
*ক্ষণে ডাকে ভাই মোর দাদা বলরাম।।*
*ধবলী শাঙলি বলি করত ফুকার।*
*পূরল পুলকে অঙ্গ বহে প্রেমধার।*
*কালিন্দী যমুনা বলি প্রেমজলে ভাসে।*
*পূরব পড়ল মনে কহে বংশী দাসে।।*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*শ্রীদাম সুদাম দাম,স্থোককৃষ্ণ অংশুমান,*
*সুবলাদি যতেক রাখাল।*
*রঙ্গিয়া পাগড়ী মাথে,রাঙ্গা লাঠি কারুহাতে,*
*সঙ্গে লৈয়া গোধনের পাল।।*
*সবে গেল নন্দের দুয়ারে।*
*কেহ নাচে কেহ গায়,কেহ শিঙ্গা বেণু বায়,*
*আবা আবা ধ্বনি কেহ করে।।*
*শ্রীদাম কহয়ে যাইয়া,হেদেরে কানাই ভাঞা,*
*বসিয়া আছহ নিজ সুখে।*
*রাজ সুতের একি ধারা,মোরা যেন দাসের পারা,*
*তোর ধেনু মাঠে কেবা রাখে।।*
*তুমি রইলা ঘরে বসি,ধেনু রইল উপবাসী,*
*দেখ দেখ কত হৈল বেলা।*
*বঙ্কবিহারী পহুঁ,জননীর কোরে রহুঁ,*
*বাৎসল্য রসেতে হৈয়া ভোলা।।*********************************
*🌻🌻পরের পদ🌻🌻*
*হইল অধিক বেলা,এখন করিছ খেলা,*
*উঠ ভাই ঝাট চল গোঠে।*
*শুবল সুদাম দাম,সাজি দাদা বলরাম,*
*সবে চলে যাবটের বাটে।।*
*শুন শুন ভাইরে কানাই।*
*কি জানিরে কি কারণে,মোরমন তোমাবিনে,*
*চলে না যে পদ আধ ধাই।।*
*আজু তুমি চল সঙ্গে,কেলি কৌতুক রঙ্গে,*
*ছাঞাতে বসাইয়া থোব তোরে।
*চাঁদমুখ নিরখিব,মোরা ধেনু ফিরাইব,*
*শ্রম জ্বালা সব যাবে দূরে।।*
*কানাই বোলেরে ভাই,আমিত উহাই চাই,*
*কিন্তু একভয় আছে মনে।*
*যাদবেন্দ্র দাসে কয়,মা যদি বিদায় দেয়,*
*তবে সে যাইতে পারি বনে।।*
&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&
*🌻🌻তৃতীয় পদ🌻🌻*
*রাণী কহে শ্রীদামেরে,গোপাল গোঠে দিবনারে,*
*তোরা সবে লয়ে যারে পাল।*
*কুস্বপন দেখিনু রাতে,হরি নাই বলায়ের সাথে,*
*কালিদহে ডুবেছে গোপাল।।*
*স্বপন কাহিনী কহুঁ তোয়।*
*মো গেনু কালিন্দীকূলে,চূড়াবাঁশী ভাসে জলে,*
*শ্যামতনু জলেতে মিশায়।।*
*না দেখি গোপালের মুখ,বিদরিয়া যায় বুক,*
*স্বপ্নভঙ্গ হইল হেন কালে।*
*উঠি বসি কতবার,সব লাগে আঁধিয়ার,*
*বয়ান ভাসিল অশ্রুজলে।।*
*করি গো দোহন কাজ,ঘরে এলে ব্রজরাজ,*
*সকলি কহিব তার পাশে।*
*সব ধেনু বেচাইব,না হয় ব্রজে মাঙ্গিখাব,*
*শুনি রাম দামোদর হাসে।।*
*বঙ্কবিহারী ভণে,শমন দমন যারনামে,*
*মৃত্যুঞ্জয় হইল ভিখারি।*
*সে হরি তোমার ঘরে,মা তুমি না চেন তাঁরে,*
*তুয়া প্রেমের যাই বলিহারী।।*
এক ভক্ত ব্যাধের বা শবরের কথা শোনো।
#####################
একদিন নারদমুনি ত্রিবেণী-স্নানে প্রয়াগে গমন কালে বনপথে দেখলেন যে,একটি মৃগ বা হরিণ মাটিতে পড়ে আছে। বাণবিদ্ধ ও পা ভাঙ্গা অবস্থায়, ধড়ফড় করছে।তা দেখে দেবর্ষির অন্তরে ভীষণ দুঃখ হল, এবং অদূরে একটি বৃক্ষের উপরে এক ব্যাধকে দেখলেন, ব্যাধ বৃক্ষের উপরে বাণ জুড়ে বসে আছে কেন? মৃগ শিকার করবে বলিয়া।
*শ্যামবর্ণ রক্তনেত্র মহাভয়ঙ্কর।
ধনুর্বাণ হস্তে যেন যম দন্ডধর।।
* সেই ব্যাধের বিকট চেহারা।
এবারে নারদমুনি যেখানে মৃগটি পড়েছিল সেখানে গেলেন।মুনিকে দেখিয়া অন্যান্য মৃগ সকল পলায়ন করল, তাতে ব্যাধের ভীষণ রাগ হল এবং গালি দিতে যাবে এমন সময় মুনিকে দেখিয়া আর গালি বের হল না। ব্যাধ গাছ থেকে নেমে জিজ্ঞাসা করল এই পথে কেন? তখন মুনি বললেন আমি পথ ভুলে এই পথ দিয়া চলতে লেগে এই দৃশ্য দেখলাম।
*নারদ কহে পথ ভুলি আইলাম পুছিতে।
মনে এক সংশয় হয় তাহা খন্ডাইতে।।
* পথের মধ্যে যে শূকর,মৃগ দেখলাম সেগুলি নিশ্চয় তোমার? আবার বললেন,
নারদ কহে যদি জীবে মার যদি বাণ।
অর্ধমারা কর কেন না লও পরাণ।।
** তখন ব্যাধ বলল, আমি আমার বাবার শিক্ষায় শিক্ষিত, আমার বাবাও এইরকম ভাবে অর্ধমরা করে রাখত, এবং আনন্দ পেত। আমিও তেমনি আনন্দ পাই। মুনি তখন বললেন,এইভাবে আর জীবকে আধমরা করে কষ্ট দিও না।
*ব্যাধ কহে কিবা কহ,কহ আমারে।
অর্ধ মারিলে কিবা হয়,তা কহ মোরে।।
নারদ কহে অর্ধ মারিলে জীব পায় ব্যথা।
জীবে দুঃখ দিছ,তোমার হইবে অবস্থা।।
অর্থ্যাৎ= তুমি যেমন ভাবে জীবকে কষ্ট দিচ্ছ,তোমারও ঐ অবস্থা হবে। আর এইভাবে জীব হত্যা কোরো না, কারণ তুমি জীবকে মারলে তাতে অল্পপাপ হবে কিন্তু যন্ত্রণা দিলে মহাপাপ হবে। ব্যাধ বলল আমি ছোটবেলা থেকেই এইরকম অভ্যস্ত কি করব বলুন? তখন মুনি বললেন,
এক কাজ কর? এই কাজ করলে তোমার সমস্ত পাপ দূরীভূত হবে। ব্যাধ বলল বলুন?
নারদ কহে যদি ধর আমার বচন।
তবে সে করতে পারি তোমার মোচন।।
ব্যাধ কহে যেই কহ সেইত করিব।
নারদ কহে ধনুক ভাঙ্গ তবে সে কহিব
** তখন ব্যাধ বলল ধনুক ভাঙ্গলে বাঁচব কেমন করে? এই আমার জীবিকা। মুনি বললেন আমি তোমায় প্রতিদিন অন্ন দিব, জীবিকার জন্য চিন্তা করতে হবে না। ( এবার প্রশ্ন হচ্ছে-- কোন রোগ হলে প্রথম কাজ হল জর থেকে রোগের আঘাত না করলে পুনরায় ফিরে আসবে তাইনা?
তাই ব্যাধের রোগ জীব হত্যা করা আর জীবকে যন্ত্রণা দেওয়া, এই জীবহত্যা ও যন্ত্রণা থেকে বের করতে পারলে পাপ-মহাপাপ হতে রক্ষে পাবে তাইনা?) তাই মুনি ধনুক ভাঙ্গতে বলেছিলেন। এবারে ব্যাধ নারদমুনির চরণে পড়ে বলল আপনি যা বলবেন আমি তাহাই করব।মুনি বললেন ঘরে যাও,তোমার যত ধন আছে সকল ব্রাহ্মণগণকে দিয়ে দাও, আর এক এক বস্ত্র পড়ে তোমরা দুজন বাহির হও। নদীতীরে একটি কুটির নির্মাণ করে একটি তুলসী বেদী রেখে,তার সামনে নিরন্তর কৃষ্ণনাম কর। তোমাদের জন্য আমি প্রত্যহ অন্ন পাঠিয়ে দিব, সেবা করবে। এবারে নারদমুনি আহত মৃগদের সুস্থ করে বনে প্রেরণ করে স্বস্থানে চলে গেলেন। নাম করতে করতে ব্যাধের মনে আমূল পরিবর্তন এলো।
*নারদের উপদেশ সকল করিল।
গ্রামে ধ্বনি হৈল ব্যাধ বৈষ্ণব হইল।।
গ্রামের লোক সব অন্ন আনিতে লাগিল।
অন্ন আনি সবে তাঁর আগেতে ধরিল।।
একদিনে অন্ন আনে দশ বিশ জনে।
দিনে তত লয় যত খায় দুইজনে।।
** অপরদিকে একদিন নারদমুনি পর্বত নামক ঋষিকে বললেন,আমার এক শিষ্য আছে চলুন দেখে আসবেন
*তবে দুই ঋষি আইলা সেই ব্যাধস্থানে।
দূর হৈতে ব্যাধ পাইল গুরুর দর্শনে।।
# গুরুকে দেখিয়া ব্যাধ গুরু চরণে প্রণাম করতে যাবেন, পথে পিঁপড়ের দল দেখতে পেয়ে যেতে পারছে না, কারণ যদি আমার পদাঘাতে পিপীলিকা মারা যায় তবে চরম পাপ হবে? গুরুদেব যখন কুটিরে এলেন, একটি বস্ত্র দিয়ে জায়গাটি ঝারিয়া পিঁপড়ে সরাইয়া দন্ডবৎ প্রণাম করিলেন ব্যাধভক্ত।
*নারদ কহে!ব্যাধ- এই না হয় আশ্চর্য হরিভক্ত্যে হিংসাশূন্য হয় সাধুবর্য।।
অর্থ্যাৎ হরি ভক্তির দ্বারা হিংসা শূন্য হয়ে সাধুগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হন।
ভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থে পাই,১|২|১২৮
******&&************************
এতে ন হ্যদ্ভুতা ব্যাধ!তবাহিংসাদয়ো গুণাঃ হরিভক্তৌ প্রবৃত্তা যে ন তে স্যুঃ পরতাপিনঃ।।
অন্বয়=ব্যাধ=(হে ব্যাধ), তব এতে= (তোমার এই সকল), অহিংসাদয়ঃ গুণাঃ=(অহিংসাদি গুণসকল), ন হি অদ্ভুতা=(আশ্চর্য্য নহে), যতঃ=(যেহেতু), যে হরিভক্তৌ প্রবৃত্তাঃ=(যাঁহারা হরিভক্তিতে রত হয়েছেন) তে পরতাপিনঃ ন স্যুঃ =( তাঁহারা পরপীড়ক হন না।)
অর্থ্যাৎ= শ্রীনারদ শিষ্য ব্যাধকে বললেন, হে ব্যাধ! তোমার এই অহিংসাদি গুণগুলি কিছুই আশ্চর্যের নয়। কারণ,যাঁরা শ্রীহরিতে ভক্তিমান হয়েছেন,তাঁরা কখনো অন্যকে দুঃখ দিতে পারেন না অর্থ্যাৎ পরপীড়ক হন না।
*তারপর সেই ব্যাধ শ্রীনারদমুনি ও পর্বতমুনিকে অঙ্গনে আনিলেন, কুশাসনে বসতে দিলেন,জল এনে দোঁহার পদ প্রক্ষালন করলেন, সেই পাদোদক অর্থাৎ চরণামৃত দুইজনে পান করলেন। এইসকল দৃশ্য দেখে পর্বতমুনি নারদমুনিকে বললেন----
দেখিয়া ব্যাধের প্রেম পর্বত মহামুনি।
নারদেরে কহে তুমি হও পরশমুনি।।
এই প্রেমভক্তিতে ভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থে পাওয়া যায় ----------
অহো!ধন্যোহসি দেবর্ষে কৃপয়া যস্য তৎক্ষণাৎ।
নীচোহপ্যুৎপুলকো লেভে লুব্ধকো রতিমচ্যুতে।।
অন্বয়= অহো দেবর্ষে ( হে দেবর্ষি!)
ধন্যঃ অসি=(আপনি ধন্য) যস্য কৃপয়া=(যাঁর কৃপায়) তৎক্ষণাৎ নীচঃ
লুব্ধকঃ অপি=(তৎক্ষণাৎ কৃপা প্রাপ্তি মাত্রেই নীচজাতি ব্যাধও)উৎপুলক= (পুলকিত হয়ে)অচ্যুতে রতিং লেভে=( শ্রীকৃষ্ণে ভক্তিলাভ করেছে)
অর্থ্যাৎ= হে দেবর্ষি!আপনি ধন্য,যেহেতু আপনার কৃপায় অতি নীচজাতি ব্যাধও কৃপা পাওয়া মাত্রেই পুলকিত হয়ে কৃষ্ণপ্রেমভক্তি লাভ করেছে।
*এবারে নারদমুনি বৈষ্ণবব্যাধকে জিজ্ঞাসা করলেন,তোমার ঠিক মত অন্ন আসছে তো? বৈষ্ণবব্যাধ বললে,
*এত অন্ন না পাঠাও কিছু কার্য্য নাই।
সবে দুজনার যোগ্য ভক্ষ্য মাত্র চাই।।
নারদ কহে-ঐছে রহ তুমি ভাগ্যবান।
এত বলি দুই জন হৈল অন্তর্ধান।।
এখানেই রইল জয় নিতাই।
*🌻গোষ্ঠ লীলা এখানেই রহিল🌻*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 👇👇👇
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





