শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীমদ্ভাগবত কথন* (প্রথম) ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
               ꧁ *শ্রীমদ্ভাগবত কথন* (প্রথম)꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠👇👇🙏👇👇📚PDF গ্রন্থ📚
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*একসময় সনদ,সনৎকুমার ঋষিগণ সৎসঙ্গের জন্য শ্রীবদরিকাশ্রমে এসে শ্রীনারদমুনিকে ভ্রমণ করতে দেখলেন।* *তাঁরা দেবর্ষিকে জিজ্ঞাসা করলেন,ব্রহ্মণ!আপনি দীনমুখ ও চিন্তাকাতর কেন?* *আপনি এত দ্রুতগতি কোথায় যাচ্ছেন?* *আপনি আসক্তিরহিত হয়েও নষ্টধন জনের মত এমন শূন‍্যচিত্ত কেন?* *শ্রীনারদ বললেন=* *আমি পৃথিবীকে উত্তম স্থান মনে করে ভ্রমণ করতে প্রবৃত্ত(রত) হয়েছিলাম।* *পুষ্কর,প্রয়াগ,কাশী,গোদাবরী,হরিক্ষেত্র,শ্রীরঙ্গ,সেতুবন্ধন প্রভৃতি সকল তীর্থে ইতস্ততঃ(এদিকওদিক)ভ্রমণ করে মনে সন্তোষ -শান্তিকারক - আনন্দ পেলাম না।* *অধর্মমিত্র কলি এখন পৃথিবীকে পীড়িত করছে।* *"সত‍্যং নাস্তি তপঃশৌচং দয়া দানং ন বিদ‍্যত‍ে"* *অর্থ‍্যাৎ সত‍্য,তপস‍্যা,শুচিতা,দয়া,দান এখন পৃথিবীতে নাই।* *মনুষ‍্যগণ মিথ‍্যাবাদী,উদরসর্বস্ব,মন্দমতি,মন্দভাগ‍্য।* *যোগী,জ্ঞানী,সদাচাররত লোক নেই।* *জনপদে অন্ন বিক্রি হচ্ছে।* *ব্রাহ্মণ বেদবিদ‍্যাকে বিক্রি করছে।* *কামিনীগণ শরীরকে পণ‍্যে পরিণত করেছে।* *কলির এই সকল দোষ দেখতে দেখতে শ্রীহরির লীলাস্থলীতে -- যমুনারতীরে উপস্থিত হলাম।* *সেখানে এক অত‍্যাশ্চর্য‍্য দৃশ্য দেখলাম।* *একটি তরুণী খিন্নমনে (ক্লান্তমনে) সেখানে উপবেশন(আসন গ্রহণ ) করেছে।*
*তার পার্শে দুইজন বৃদ্ধ অচেতন হয়ে দীর্ঘশ্বাস ত‍্যাগ করছে।* *শুশ্রূষারতা(সেবারতা)*, *রোদনতা,* *ঐ তরুণী বৃদ্ধদ্বয়কে চেতনা করতে করতে নিজের রক্ষকের অন্বেষণে দশদিক নিরীক্ষণ করছে।* *অনেক রমণী ব‍্যজন করতে করতে সান্ত্বনা দিচ্ছে।* *ঐ দৃশ্য দেখে আমি কৌতকবশতঃ তার কাছে গেলাম।*
*তখন ঐ বিহ্বলা(আত্মহারা)রমণী আমাকে বলল,* *"ভো ভোঃ সাধো ক্ষণংতিষ্ঠ মচ্চিন্তামপি নাশয়"।*
*হে মহাত্মণ! এক মুহূর্ত দাঁড়াও।* *আমার চিন্তা দূরীভূত কর।* *আমি তার পরিচয় জানতে চাইলে ঐ তরুণী বলল,* *"অহং ভক্তিরিতিখ‍্যাতা ইমৌ মে তনয়ৌ মতৌ।জ্ঞান বৈরাগ‍্যনামানৌ কালযোগেন জর্জরৌ।"* *আমি ভক্তি,এই দুইজন জ্ঞান ও ফৈরাগ‍্য আমার তনয়।* *কলির প্রভাবে জর্জর(জীর্ণ)হয়েছে।* *গঙ্গাদি তীর্থসমূহ আমার সেবার জন্য এসেছে।* *তথাপি আমি শান্তি পাচ্ছি না।* *দেবর্ষি আপধি আমার বৃতান্ত শ্রবণ করুন।* *দ্রাবিড় দেশে প্রকাশিত হয়ে কর্ণাটকে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েছিলাম,মহারাষ্ট্রে কোন কোন জায়গায় ও গুর্জর দেশে জীর্ণতা প্রাপ্ত হয়েছিলাম।* *ঘোর কলির প্রভাবে পাষন্ডজনের দ্বারা বিকলাঙ্গী দুর্বলা হয়ে পুত্রদ্বয়ের সঙ্গে শোচনীয় দশাপ্রাপ্ত হয়েছি।*
*এই শ্রীধাম বৃন্দাবনে এসে আমি নবীনা সুরূপা হয়েছি।* *কিন্তু আমার এই পুত্রদ্বয়ের অকারবার্ধক‍্যে* *ও চেতনাশূন‍্যতায় আমি অতিশয় দুঃখিত।* *ভক্তির কথা শুনে আমি বললাম=দেবী!*
*আমি তোমার অবস্থা বুঝতে পারছি।* *"ন বিষাদস্তূয়া কার্য‍্যো হরিস্তে শংবিধাস‍্যতি।"* *তুমি বিষন্ন হইও না,শ্রীহরি তোমার মঙ্গল করবেন।* *এই ঘোর কলিকালে সদাচার যোগমার্গ তপস‍্যা লুপ্ত হয়েছে।* *মনুষ‍্যগণ অঘাসুরের মত হয়েছে।* *অসাধু প্রসন্ন ও সাধু বিষন্ন।* *কেহই তোমাকে ও তোমার পুত্রদ্বয়কে সমাদর করছে না।* *শ্রীবৃন্দাবনধামের স্পর্শে তুমি পুনশ্চ তরুণী হয়েছ।* *"ধন‍্যং বৃন্দাবনং তেন ভক্তির্নৃত‍্যতি যত্র চ"।*
*কিন্ত গ্রাহকের অভাবে তোমার পুত্রদ্বয়ের জরা যাচ্ছে না।* *ভদ্রে!তুমি বৃথা খিন্না হইও না।* *"শ্রীকৃষ্ণচরণাম্ভোজং স্মর দুঃখং গমিষ‍্যতি।* *এইরকম বলে আমি ভক্তির মাহাত্ম কীর্তন করলাম।*
(*বাকী অংশ পরবর্তী)
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
       ꧁  *শ্রীমদ্ভাগবত কথন*  🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






৪২. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুরলী শিক্ষা লীলা 🙏 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/06/blog-post_16.html


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ৪২. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুরলী শিক্ষা লীলা 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🌻মুরলী শিক্ষা,গৌরচন্দ্রিকা🌻*
*স্মরিয়া পূরব লীলা শ্রীগৌরাঙ্গ রায়।*
*মুরলী শবদ করি বদন বাজায়।।*
*শুনিয়া মুরলী রব গদাধর আইল।*
*মুরলী শিখিব বলি বামে দাঁড়াইল।।*
*এ বোল শুনিয়া প্রভু কহে হাসি হাসি।*
*আগে শেখ নাগরালি পাছে শেখ বাঁশী।।*
*গদাধর বলে সেই কেমন প্রকার।*
*বংশী কহে নয়ন বাঁকা ত্রিভঙ্গ আকার।।*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

*🌻 প্রথম পদ🌻*
*শ‍্যাম অভিসারে চলু বিনোদিনী রাধা।*
*নীল বসনে মুখ ঝাঁপিয়াছে আধা*
*সুকুঞ্চিত কেশে রাই বান্ধিলা কবরী।*
*কুন্তলে বকুলমালা গুঞ্জরে ভ্রমরী*
*নাসায় বেশর শোভে মুকুতা হিলোল।*
*নবীন কোকিলা জিনি আধ আধ বোল।।*.
*আবেশে সখির অঙ্গে অঙ্গ হেলাইয়া।*
*পদ আধ চলে আর পড়ে মূরছিয়া।।*
*রবাব খমক বীণা সুমেল করিয়া।*
*প্রবেশিল বৃন্দাবনে জয় জয় দিয়া।।*
*নূপুরের রুণুঝুণু পড়ি গেল সাড়া।*
*নাগর উঠিয়া বলে আইল রাই পারা।।*
*বৃন্দাবনে যাইয়া রাই ইথিউতি চায়।*
*মাধবীলতার তলে দেখে শ‍্যামরায়।।*
*শ‍্যাম অঙ্গে মিলল রসের মাধুরী।*
*জ্ঞানদাস মাগে রাঙ্গা চরণ মাধুরী।।*

*🌻দ্বিতীয় পদ🌻*
*আইস আইস মোর বিনোদিনী রাধা।*
*তোমা দরশনে গেল মনসিজ বাধা।।*
*তুমি মোর সরবস নয়নের তারা।*
*তোমা বিনে দশদিক হেরি আন্ধিয়ারা।।*
*তুমি মোর জপ তপ তুমি মোর ধ‍্যান।*
*তুমি মোর তন্ত্র মন্ত্র তুমি হরিনাম।।*
*তোমার লাগিয়া বৃন্দাবন করিলাম*
*গাইতে তোমার গুণ মুরলী শিখিলাম।।*
*চৌরিশি ক্রোশ এই বৃন্দাবন সীমা*
*যতকিছু লীলা খেলা তোমার মহিমা।।*
*জানে সব ব্রজগণ জানে ব্রজাঙ্গনা।*
*সবে জানে তব মন্ত্রে আমি উপাসনা।।*
*নিজ পীতবাসে শ‍্যাম চরণধূলি ঝাড়ে।*
*ললিতা মুচকি হাসে কুন্দলতা আড়ে।।*
*শ‍্যাম কোরে মিলল রসের মঞ্জরী।*
*জ্ঞানদাস মাগে রাঙ্গা চরণ মাধুরী।।*

*🌻তৃতীয় পদ🌻*
*ঘর হতে আইলাম বাঁশী শিখিবার তরে।*
*নিজ দাসী বলি বাঁশী শিখাহ আমারে।।*
*কোন রন্ধ্রেতে শ‍্যাম গাও কোন তান।*
*কোন রন্ধ্রের গানে বহে যমুনা উজান।।*
*কোন রন্ধ্রেতে শ‍্যাম গাও কোন গীত।*
*কোন রন্ধ্রের গানে রাধার হরিলে হে চিত।।*
*কোন রন্ধ‍্রের গানেতে কদম্ব ফুল ফোটে।*
*কোন রন্ধ্রের গানেতে রাধার প্রেম লুটে।।*
*ভাল হইল আইলা রাই মুরলী শিখাব।*
*জ্ঞানদাসের মনে বড় আনন্দ হইব।।*

 *🌻চতুর্থ পদ🌻*
*মুরলী শিখিবে রাধে,শিখাব মনের সাধে,*
     *যে বা বোল বলি শুন ধনি।*
*ছাড়হ নারীর বেশ,উভ করি বান্ধ কেশ,*
      *বামে চূড়া করহ টালনি।।*
*মোছিয়া সিন্দুর ঘটা,কর রাই বিনোদ ফোঁটা,*
     *নাসার বেশর কর দূরে।*
*কাঁচলি খোলিয়া ফেল,মৃগমদে হস্ত কাল,*
     *তবে বাঁশী বাজিবে অধরে।।*
*লেহ মোর পীতধড়া,পর আঁটি কটি বেড়া,*
     *অঙ্গুলি লোলায়‍্যা শিখাইব।*
*তুয়া গুণ নাম রাই,যে রন্ধ্রে সদাই গাই,*
     *একে একে চিনাইয়া দিব।।*
*গৌর অঙ্গুলি তোর,সোনা বান্ধা বাঁশী মোর,*
       *ধর দেখি রন্ধ্র মাঝে মাঝে।*
*তিন ঠাঁই হস্ত বাঁকা,পাঁচনিতে দেহ ঠেকা,*
      *তবে সে বিনোদ বাঁশী বাজে*
*রাই কহে বনমালী,চূড়া বান্ধ উভকরি,*
      *আপনার সমান বন্ধন।*
*বাঁশী দিয়া মোর হাত,দেখাও ওহে প্রাণনাথ,*
      *যে রন্ধ্রে যে ধ্বনি কর গান।।*
*এলায়ে কবরী ছান্দ,চূড়া বান্ধে শ‍্যামচান্দ,*
      *রাই অঙ্গ করে ঝলমলে।*
*বাণী কহে জ্ঞানদাস,সীঁথার সিন্দুর পাশ,*
      *মুরলী ধরিয়া করতলে।।*

*🌻পঞ্চম পদ🌻*
*শ‍্যাম বামে করি,দাঁড়াইল সুন্দরী,*
       *ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিম হৈয়া।*
*বেণী পরিহরি,যতন করি শিরে,*
       *চূড়াটি বান্ধিল আঁটিয়া।।*
*তাহার উপরে,ময়ূর পুচ্ছ ধরি,*
      *বাম ভাগে দিল টানিয়া।*
*হাসিয়া হাসিয়া, বোলয়ে বচন,*
      *বঙ্গিম লোচনে চাহিয়া।।*

*🌻ষষ্ঠ পদ🌻*
      *মুরলী করাও উপদেশ।*
*যে রন্ধ্রে যে ধ্বনি উঠে জানহ বিশেষ।।*
*কোন রন্ধ্রে বাজে বাঁশী অতি অনুপাম।*
*কোন রন্ধ্রে রাধা বলি ডাকে আমার নাম।।*
*কোন রন্ধ্রে বাজে বাঁশী সুললিত ধ্বনি।*
*কোন রন্ধ্রে কেকা রবে নাচে ময়ূরিনী।।*
*কোন রন্ধ্রে রসালে ফুটয়ে পারিজাত।*
*কোন রন্ধ্রে কদম্ব ফুটে হে প্রাণনাথ।।*
*কোন রন্ধ্রে ষড়ঋতু হয় এককালে*
*কোন রন্ধ্রে নিধুবনে হয় ফুলফলে।।*
*কোন রন্ধ্রে কোকিল পঞ্চমস্বর গায়।*
*একে একে শিখাইয়া দেহ শ‍্যামরায়।।*
*জ্ঞানদাস শুনিয়া কহয়ে হাসি হাসি*।
*শুন রাধে মোর বোল বাজিবেক বাঁশী।।*
ব‍্যাখ‍্যা-- শ্রীকৃষ্ণ তখন একে একে সমস্ত রন্ধ্রের পরিচয় দিতে লাগলেন আর শ্রীমতি মহা উৎসাহে সেগুলি মনে গেঁথে নিতে লাগলেন। অতি যত্ন ও উল্লাসের সহিত বাঁশীটি নিজের অধরে সংলগ্ন করিয়া রাধারানী সেই জাতিকুলহরা বাঁশির রন্ধ্রে ফুঁ দিলেন। কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় বাঁশী বাজল না। শ্রীমতি রাধারানী প্রাণমন শক্তিতে ফুঁ দিয়েও সেই বাঁশি বাজাতে পারলেন না। ক্ষুব্দ হয়ে রাইধনি বললেন, এ তোমার কোন বাঁশি? কোথাকার ভাঙ্গা বাঁশিটি তুমি আমায় দিলে? এই বাঁশীতো একেবারেই বাজে না। তখন চতুরের শিরোমনি শ্রী গোবিন্দ বললেন,রাধে! একটি ভাঙ্গা বাঁশি নয়, তুমি ভালো করে দেখো তো এই বাঁশির কোন জায়গায় ভাঙ্গা আছে কি? তুমি কোথায় ভাঙ্গা দেখলে, তুমি এ বাঁশীকে এ ভাঙ্গা বললে? তবে তুমি দেখো? চতুরের শিরোমনি শ্রীগোবিন্দ যখন সেই বাঁশিতে ফুঁ দিলেন ভুবনমোহন স্বরে বাঁশি বেজে উঠল। পুনরায় শ্রীগোবিন্দ রাই ধনীকে বাঁশী দিলেন, বললেন রাধে এবার তুমি ফুঁ দাও অবশ্যই বাজবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এবারও রাধারানী বাঁশি বাজাতে পারলেন না। রাগে অভিমানে শ্রীরাধার নয়ন তখন অশ্রুসিক্ত, বললেন-- আগে বললেই পারতে নিশ্চয়ই এই বাঁশিতে কোন জাদু আছে, শুধু তোমার মুখেই এই বাঁশি বাজবে আর কারো কাছে এই বাঁশি বাজবে না, কারণ এই বাসি উন্নত নয় এটা বাজিকরের বাসি তাই তুমি একমাত্র বাজিকরতোমারও অধরেই এই বাঁশি বাজবে। রাধার অভিমানে আহত মুখশ্রী নিরীক্ষণ করিয়া শ্রীকৃষ্ণ মৃদুমন্দ হাস্যকর ছিলেন, এবারে গোবিন্দ বললেন,ও তাই তো বুঝতে পারলাম তোমার মুখে না বাজবার কারণ? রাধে! আমার এই বাসি এমনি তোমার মুখে এই বেশে বাজবেনা রাধে, তোমাকে আমার মতন ধড়াচূড়া পরিধান করিয়া ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিতে না দাঁড়ালে তো বাঁশি বাজবে না, তুমি আমার মতন বেশ পরিবর্তন করো তোমার মনের আশা পূর্ণ হবে। শ্রীমতি রাধারানী বললেন বাহ্ রে! কোথায় পাব ধড়াচূড়া? কৃষ্ণ বললেন তুমি পড়বে তবে নাও আমার ধড়াচূড়া। এইভাবে শ্রীমতি রাধারানী কৃষ্ণের বেশ ধারণ করলেন।

*🌻সপ্তম পদ🌻*
*প্রথম রন্ধ্রের গানে,ব্রহ্মার ভাঙ্গল ধ‍্যানে,*
      *দ্বিতীয়তে যমুনা উজায়।*
*তৃতীয় রন্ধ্রের কথা,শুন বৃষভানু সুতা,*
       *পবনের হত গতি হয়।।*
*চতুর্থ রন্ধ্রের গানে,ব্রজবাসীর বাজে প্রাণে,*
      *এলোথেলো পাগলিনী প্রায়।।*
*পঞ্চম রন্ধ্রের স্বরে,আপনি সে ধেনু ফিরে,*
      *তৃণমুখে উর্ধপুচ্ছে ধায়।*
*ষষ্ঠম্ রন্ধ্রের গতি,কদম্ব হয় বিকশিতি,*
       *ষড়ঋতু একত্রে বয়।।*
*সপ্তম রন্ধ্রের গানে,পাষাণ দ্রবিল গুণে,*
       *পাষাণ আপনি জলময়।।*
*অষ্টম রন্ধ্রের গান,গাই রাধে তোমার নাম,*
       *মোর বাঁশী এত গুণ ধরে।*
*বংশীবদন কয়,বংশী শিক্ষা উচিত নয়,*
       *না জানিলে শিক্ষা বলি কারে।।*

 *🌻অষ্টম পদ🌻*
*কৌতুকে মুরলী শিখে রসবতী রাধা।*
*মদন মোহন মনোমোহিনীর সাধা*
*প্রেম রঙ্গে শ‍্যাম অঙ্গে অঙ্গ হেলাইয়া।*
*মুরলী পূরয়ে রাই ত্রিভঙ্গ হইয়া।।*
*বিনা তন্ত্রে বিনা মন্ত্রে কত ফুক দেই।*
*বাজে বা না বাজে বাঁশী প্রিয়ামুখ চায়।।*
*রাধার অধরে বেণু ধরে বনমালী।*
*পাণি পঙ্কজ ধরি লোলায়ে অঙ্গুলি।।*
*কানু কোলে কলাবতী কেলির বিলাসে।*
*দুহুঁ রূপ হেরি দাস শিবানন্দ ভাষে।।*

*🌻 নবম পদ🌻*
*বৃষভানু সুতা বহু সুখে।*
*মুরলী ধরল চান্দ মুখে।।*
*দেখ পহুঁ মুরলী বাজায়।*
*যে রন্ধ্রে রাধার গুণ গায়।।*
*সে গান শিখিল বিনোদিনী।*
*বাজে বাঁশী উঠে কৃষ্ণ ধ্বনি।।*
*আনন্দে কহয়ে ধনি রাই।*
*হাসি হাসি শ‍্যাম মুখ চায়।।*
*রাই কহে সকলি শিখাবে।*.
*কিছু অবশেষ না রাখিবে।।*
*শ‍্যাম কহে প্রাণ দিয়ে যারে।*
*কি আর অবশেষ আছে তারে।।*
*এত কহি ধরি দুই কর।*
*অঙ্গুলি শিখায় ঘরে ঘর।।*
*এ রন্ধ্রে কদম্ব ফুল ফোটে।*
*এ রন্ধ্রে মধুর ধ্বনি উঠে।।*
*একে একে সকলি শিখিল।*
*আর কি শিখিবে তাহা বল।।*
*এত শুনি বিনোদিনী হাসে।*
*কি কহব যদুনাথ দাসে।।*
&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&
*রাই কহে শ‍্যাম আমি কি আর বলিব।*
*বড় মনে সাধ আছে একত্রে নাচিব।।*
*বৃন্দাবনে হিল্লোল বয়ে যায়।*
*গোবিন্দ দাস হেরি নয়ন যুড়ায়।।*
  *জয় নিতাই, বিরাম*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
               ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






৪২. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুরলী শিক্ষা লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ৪২. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুরলী শিক্ষা লীলা 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🌻মুরলী শিক্ষা,গৌরচন্দ্রিকা🌻*
*স্মরিয়া পূরব লীলা শ্রীগৌরাঙ্গ রায়।*
*মুরলী শবদ করি বদন বাজায়।।*
*শুনিয়া মুরলী রব গদাধর আইল।*
*মুরলী শিখিব বলি বামে দাঁড়াইল।।*
*এ বোল শুনিয়া প্রভু কহে হাসি হাসি।*
*আগে শেখ নাগরালি পাছে শেখ বাঁশী।।*
*গদাধর বলে সেই কেমন প্রকার।*
*বংশী কহে নয়ন বাঁকা ত্রিভঙ্গ আকার।।*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

*🌻 প্রথম পদ🌻*
*শ‍্যাম অভিসারে চলু বিনোদিনী রাধা।*
*নীল বসনে মুখ ঝাঁপিয়াছে আধা*
*সুকুঞ্চিত কেশে রাই বান্ধিলা কবরী।*
*কুন্তলে বকুলমালা গুঞ্জরে ভ্রমরী*
*নাসায় বেশর শোভে মুকুতা হিলোল।*
*নবীন কোকিলা জিনি আধ আধ বোল।।*.
*আবেশে সখির অঙ্গে অঙ্গ হেলাইয়া।*
*পদ আধ চলে আর পড়ে মূরছিয়া।।*
*রবাব খমক বীণা সুমেল করিয়া।*
*প্রবেশিল বৃন্দাবনে জয় জয় দিয়া।।*
*নূপুরের রুণুঝুণু পড়ি গেল সাড়া।*
*নাগর উঠিয়া বলে আইল রাই পারা।।*
*বৃন্দাবনে যাইয়া রাই ইথিউতি চায়।*
*মাধবীলতার তলে দেখে শ‍্যামরায়।।*
*শ‍্যাম অঙ্গে মিলল রসের মাধুরী।*
*জ্ঞানদাস মাগে রাঙ্গা চরণ মাধুরী।।*

*🌻দ্বিতীয় পদ🌻*
*আইস আইস মোর বিনোদিনী রাধা।*
*তোমা দরশনে গেল মনসিজ বাধা।।*
*তুমি মোর সরবস নয়নের তারা।*
*তোমা বিনে দশদিক হেরি আন্ধিয়ারা।।*
*তুমি মোর জপ তপ তুমি মোর ধ‍্যান।*
*তুমি মোর তন্ত্র মন্ত্র তুমি হরিনাম।।*
*তোমার লাগিয়া বৃন্দাবন করিলাম*
*গাইতে তোমার গুণ মুরলী শিখিলাম।।*
*চৌরিশি ক্রোশ এই বৃন্দাবন সীমা*
*যতকিছু লীলা খেলা তোমার মহিমা।।*
*জানে সব ব্রজগণ জানে ব্রজাঙ্গনা।*
*সবে জানে তব মন্ত্রে আমি উপাসনা।।*
*নিজ পীতবাসে শ‍্যাম চরণধূলি ঝাড়ে।*
*ললিতা মুচকি হাসে কুন্দলতা আড়ে।।*
*শ‍্যাম কোরে মিলল রসের মঞ্জরী।*
*জ্ঞানদাস মাগে রাঙ্গা চরণ মাধুরী।।*

*🌻তৃতীয় পদ🌻*
*ঘর হতে আইলাম বাঁশী শিখিবার তরে।*
*নিজ দাসী বলি বাঁশী শিখাহ আমারে।।*
*কোন রন্ধ্রেতে শ‍্যাম গাও কোন তান।*
*কোন রন্ধ্রের গানে বহে যমুনা উজান।।*
*কোন রন্ধ্রেতে শ‍্যাম গাও কোন গীত।*
*কোন রন্ধ্রের গানে রাধার হরিলে হে চিত।।*
*কোন রন্ধ‍্রের গানেতে কদম্ব ফুল ফোটে।*
*কোন রন্ধ্রের গানেতে রাধার প্রেম লুটে।।*
*ভাল হইল আইলা রাই মুরলী শিখাব।*
*জ্ঞানদাসের মনে বড় আনন্দ হইব।।*

 *🌻চতুর্থ পদ🌻*
*মুরলী শিখিবে রাধে,শিখাব মনের সাধে,*
     *যে বা বোল বলি শুন ধনি।*
*ছাড়হ নারীর বেশ,উভ করি বান্ধ কেশ,*
      *বামে চূড়া করহ টালনি।।*
*মোছিয়া সিন্দুর ঘটা,কর রাই বিনোদ ফোঁটা,*
     *নাসার বেশর কর দূরে।*
*কাঁচলি খোলিয়া ফেল,মৃগমদে হস্ত কাল,*
     *তবে বাঁশী বাজিবে অধরে।।*
*লেহ মোর পীতধড়া,পর আঁটি কটি বেড়া,*
     *অঙ্গুলি লোলায়‍্যা শিখাইব।*
*তুয়া গুণ নাম রাই,যে রন্ধ্রে সদাই গাই,*
     *একে একে চিনাইয়া দিব।।*
*গৌর অঙ্গুলি তোর,সোনা বান্ধা বাঁশী মোর,*
       *ধর দেখি রন্ধ্র মাঝে মাঝে।*
*তিন ঠাঁই হস্ত বাঁকা,পাঁচনিতে দেহ ঠেকা,*
      *তবে সে বিনোদ বাঁশী বাজে*
*রাই কহে বনমালী,চূড়া বান্ধ উভকরি,*
      *আপনার সমান বন্ধন।*
*বাঁশী দিয়া মোর হাত,দেখাও ওহে প্রাণনাথ,*
      *যে রন্ধ্রে যে ধ্বনি কর গান।।*
*এলায়ে কবরী ছান্দ,চূড়া বান্ধে শ‍্যামচান্দ,*
      *রাই অঙ্গ করে ঝলমলে।*
*বাণী কহে জ্ঞানদাস,সীঁথার সিন্দুর পাশ,*
      *মুরলী ধরিয়া করতলে।।*

*🌻পঞ্চম পদ🌻*
*শ‍্যাম বামে করি,দাঁড়াইল সুন্দরী,*
       *ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিম হৈয়া।*
*বেণী পরিহরি,যতন করি শিরে,*
       *চূড়াটি বান্ধিল আঁটিয়া।।*
*তাহার উপরে,ময়ূর পুচ্ছ ধরি,*
      *বাম ভাগে দিল টানিয়া।*
*হাসিয়া হাসিয়া, বোলয়ে বচন,*
      *বঙ্গিম লোচনে চাহিয়া।।*

*🌻ষষ্ঠ পদ🌻*
      *মুরলী করাও উপদেশ।*
*যে রন্ধ্রে যে ধ্বনি উঠে জানহ বিশেষ।।*
*কোন রন্ধ্রে বাজে বাঁশী অতি অনুপাম।*
*কোন রন্ধ্রে রাধা বলি ডাকে আমার নাম।।*
*কোন রন্ধ্রে বাজে বাঁশী সুললিত ধ্বনি।*
*কোন রন্ধ্রে কেকা রবে নাচে ময়ূরিনী।।*
*কোন রন্ধ্রে রসালে ফুটয়ে পারিজাত।*
*কোন রন্ধ্রে কদম্ব ফুটে হে প্রাণনাথ।।*
*কোন রন্ধ্রে ষড়ঋতু হয় এককালে*
*কোন রন্ধ্রে নিধুবনে হয় ফুলফলে।।*
*কোন রন্ধ্রে কোকিল পঞ্চমস্বর গায়।*
*একে একে শিখাইয়া দেহ শ‍্যামরায়।।*
*জ্ঞানদাস শুনিয়া কহয়ে হাসি হাসি*।
*শুন রাধে মোর বোল বাজিবেক বাঁশী।।*
ব‍্যাখ‍্যা-- শ্রীকৃষ্ণ তখন একে একে সমস্ত রন্ধ্রের পরিচয় দিতে লাগলেন আর শ্রীমতি মহা উৎসাহে সেগুলি মনে গেঁথে নিতে লাগলেন। অতি যত্ন ও উল্লাসের সহিত বাঁশীটি নিজের অধরে সংলগ্ন করিয়া রাধারানী সেই জাতিকুলহরা বাঁশির রন্ধ্রে ফুঁ দিলেন। কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় বাঁশী বাজল না। শ্রীমতি রাধারানী প্রাণমন শক্তিতে ফুঁ দিয়েও সেই বাঁশি বাজাতে পারলেন না। ক্ষুব্দ হয়ে রাইধনি বললেন, এ তোমার কোন বাঁশি? কোথাকার ভাঙ্গা বাঁশিটি তুমি আমায় দিলে? এই বাঁশীতো একেবারেই বাজে না। তখন চতুরের শিরোমনি শ্রী গোবিন্দ বললেন,রাধে! একটি ভাঙ্গা বাঁশি নয়, তুমি ভালো করে দেখো তো এই বাঁশির কোন জায়গায় ভাঙ্গা আছে কি? তুমি কোথায় ভাঙ্গা দেখলে, তুমি এ বাঁশীকে এ ভাঙ্গা বললে? তবে তুমি দেখো? চতুরের শিরোমনি শ্রীগোবিন্দ যখন সেই বাঁশিতে ফুঁ দিলেন ভুবনমোহন স্বরে বাঁশি বেজে উঠল। পুনরায় শ্রীগোবিন্দ রাই ধনীকে বাঁশী দিলেন, বললেন রাধে এবার তুমি ফুঁ দাও অবশ্যই বাজবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এবারও রাধারানী বাঁশি বাজাতে পারলেন না। রাগে অভিমানে শ্রীরাধার নয়ন তখন অশ্রুসিক্ত, বললেন-- আগে বললেই পারতে নিশ্চয়ই এই বাঁশিতে কোন জাদু আছে, শুধু তোমার মুখেই এই বাঁশি বাজবে আর কারো কাছে এই বাঁশি বাজবে না, কারণ এই বাসি উন্নত নয় এটা বাজিকরের বাসি তাই তুমি একমাত্র বাজিকরতোমারও অধরেই এই বাঁশি বাজবে। রাধার অভিমানে আহত মুখশ্রী নিরীক্ষণ করিয়া শ্রীকৃষ্ণ মৃদুমন্দ হাস্যকর ছিলেন, এবারে গোবিন্দ বললেন,ও তাই তো বুঝতে পারলাম তোমার মুখে না বাজবার কারণ? রাধে! আমার এই বাসি এমনি তোমার মুখে এই বেশে বাজবেনা রাধে, তোমাকে আমার মতন ধড়াচূড়া পরিধান করিয়া ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিতে না দাঁড়ালে তো বাঁশি বাজবে না, তুমি আমার মতন বেশ পরিবর্তন করো তোমার মনের আশা পূর্ণ হবে। শ্রীমতি রাধারানী বললেন বাহ্ রে! কোথায় পাব ধড়াচূড়া? কৃষ্ণ বললেন তুমি পড়বে তবে নাও আমার ধড়াচূড়া। এইভাবে শ্রীমতি রাধারানী কৃষ্ণের বেশ ধারণ করলেন।

*🌻সপ্তম পদ🌻*
*প্রথম রন্ধ্রের গানে,ব্রহ্মার ভাঙ্গল ধ‍্যানে,*
      *দ্বিতীয়তে যমুনা উজায়।*
*তৃতীয় রন্ধ্রের কথা,শুন বৃষভানু সুতা,*
       *পবনের হত গতি হয়।।*
*চতুর্থ রন্ধ্রের গানে,ব্রজবাসীর বাজে প্রাণে,*
      *এলোথেলো পাগলিনী প্রায়।।*
*পঞ্চম রন্ধ্রের স্বরে,আপনি সে ধেনু ফিরে,*
      *তৃণমুখে উর্ধপুচ্ছে ধায়।*
*ষষ্ঠম্ রন্ধ্রের গতি,কদম্ব হয় বিকশিতি,*
       *ষড়ঋতু একত্রে বয়।।*
*সপ্তম রন্ধ্রের গানে,পাষাণ দ্রবিল গুণে,*
       *পাষাণ আপনি জলময়।।*
*অষ্টম রন্ধ্রের গান,গাই রাধে তোমার নাম,*
       *মোর বাঁশী এত গুণ ধরে।*
*বংশীবদন কয়,বংশী শিক্ষা উচিত নয়,*
       *না জানিলে শিক্ষা বলি কারে।।*

 *🌻অষ্টম পদ🌻*
*কৌতুকে মুরলী শিখে রসবতী রাধা।*
*মদন মোহন মনোমোহিনীর সাধা*
*প্রেম রঙ্গে শ‍্যাম অঙ্গে অঙ্গ হেলাইয়া।*
*মুরলী পূরয়ে রাই ত্রিভঙ্গ হইয়া।।*
*বিনা তন্ত্রে বিনা মন্ত্রে কত ফুক দেই।*
*বাজে বা না বাজে বাঁশী প্রিয়ামুখ চায়।।*
*রাধার অধরে বেণু ধরে বনমালী।*
*পাণি পঙ্কজ ধরি লোলায়ে অঙ্গুলি।।*
*কানু কোলে কলাবতী কেলির বিলাসে।*
*দুহুঁ রূপ হেরি দাস শিবানন্দ ভাষে।।*

*🌻 নবম পদ🌻*
*বৃষভানু সুতা বহু সুখে।*
*মুরলী ধরল চান্দ মুখে।।*
*দেখ পহুঁ মুরলী বাজায়।*
*যে রন্ধ্রে রাধার গুণ গায়।।*
*সে গান শিখিল বিনোদিনী।*
*বাজে বাঁশী উঠে কৃষ্ণ ধ্বনি।।*
*আনন্দে কহয়ে ধনি রাই।*
*হাসি হাসি শ‍্যাম মুখ চায়।।*
*রাই কহে সকলি শিখাবে।*.
*কিছু অবশেষ না রাখিবে।।*
*শ‍্যাম কহে প্রাণ দিয়ে যারে।*
*কি আর অবশেষ আছে তারে।।*
*এত কহি ধরি দুই কর।*
*অঙ্গুলি শিখায় ঘরে ঘর।।*
*এ রন্ধ্রে কদম্ব ফুল ফোটে।*
*এ রন্ধ্রে মধুর ধ্বনি উঠে।।*
*একে একে সকলি শিখিল।*
*আর কি শিখিবে তাহা বল।।*
*এত শুনি বিনোদিনী হাসে।*
*কি কহব যদুনাথ দাসে।।*
&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&
*রাই কহে শ‍্যাম আমি কি আর বলিব।*
*বড় মনে সাধ আছে একত্রে নাচিব।।*
*বৃন্দাবনে হিল্লোল বয়ে যায়।*
*গোবিন্দ দাস হেরি নয়ন যুড়ায়।।*
  *জয় নিতাই, বিরাম*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
               ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






৪১. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ব্রহ্মমোহন লীলা 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/06/blog-post_0.html

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

  ৪১. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ব্রহ্মমোহন লীলা 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/06/blog-post_0.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠👇👇🙏👇👇📚PDF গ্রন্থ📚
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🌻ব্রহ্মমোহন লীলা, গৌরচন্দ্রিকা🌻*
*শচীর নন্দন গোরা ও চাঁদ বয়ানে*
*ধবলী শাঙলী বলি ডাকে ঘন ঘনে।।*
*না দেখয়ে সখাগণ ধেনু বৎসগণ।*
*ব্রজের ভাবে গোরা হইয়া মগন।।*
*নয়নের তারা গোরার ইতি উতি চায়।*
*তাহাদের না দেখি গোরা করে হায় হায়।।*
*ভাবিয়া অন্তরে প্রভু জানিলা সকল।*
*জ্ঞানদাস কহে সব ব্রহ্মার ছল।।*

^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻ব্রজলীলা, ব্রহ্মমোহন লীলা বা গো-হরণ ও সখাহরণ🌻*
*********************************
*এই ব্রহ্মমোহণ লীলার দুইটি কারণ পাওয়া গেছে।* *এক,ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজেই ব্রহ্মাকে মোহিত করিয়ে এইলীলা করিয়েছেন।* *দুই,তিনি* *ভক্তবৎসল,কোন ভক্ত যদি মন আর মুখ এক করে তাঁর কাছে কিছু চাহে,তা তিনি বিমুখ করেন না।* 
*ব্রহ্মা,ব্রহ্মলোক হতে শ্রীকৃষ্ণের বাল‍্যলীলার মাধুরী দর্শন করছেন,* *যে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজ সখাগণকে কাছে বসিয়ে তাঁদের সঙ্গে কতই না হাস‍্য-পরিহাস করছেন,তা দেখে ব্রহ্মা খুবই তৃপ্ত হলেন,* *বাল‍্যলীলা রসে দেহ মন ডুবিয়ে বাল‍্যলীলা মাধুর্য‍্যে একান্ত আত্মহারা হয়ে নানা কথা ভাবতে ভাবতে* *ব্রহ্মার মনে হল না জানি তাঁর বাল‍্যলীলা-রসসিন্ধুর গর্ভে না জানি আরও কত না মাধুর্য‍্য,ভক্তবাৎসল‍্য রত্ন লুকিয়ে আছে,* *ভগবান এখন সকল গোপবালকগণ নিয়ে ভোজনাদি নানাবিধ রসে ডুবে আছেন।* *এই অবসরে আমি যদি যমুনাপুলিনে অবতীর্ণ হয়ে তৃণক্ষেত্রে গো-বৎসগণকে মায়ামুগ্ধ করে অন‍্য কোন জায়গায় নিয়ে যায়,* *তাহলে এই বাল‍্যলীলারসমুগ্ধ ভগবান কেমন করে অন্বেষণ করেন এবং তাতে কি রকম তাঁর ভক্তবাৎসল‍্য গুণের প্রকাশ হয়,* *তা একবার পরীক্ষা করে দেখলে বোধহয় সর্বশিরোমণি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাল‍্যলীলারসমুগ্ধতার অপরিসীম মাধুর্য‍্য আস্বাদন করতে পারব।* *এই মনে করে ব্রহ্মা গোহরণ করেছিলেন,তারপর যখন বনবিহার করতে গিয়ে যখন গোবৎসগণকে রাখালগণ দেখতে পেলেন না,বনে বিহাররত অবস্থায়*
*ব্রহ্মা মায়ামুগ্ধ করে তাঁদেরকেও হরণ করলেন।*

*🌻দুই, যেদিন নন্দভবনে নন্দমহোৎসব হয়েছিল,সমস্ত ব্রজের গোপরমণীগণ নন্দালয়ে এসেছিলেন।* *সেইসময় নন্দনন্দন গোপালকে দেখে তাঁদের মনে হয়েছিল,গোপাল যদি আমার পুত্র হ'ত তাহলে আমি আমাদের মনের আশা পূর্ণ করতাম।* *সকালের প্রথম নবনী গোপালকে খাওয়াইতাম,* *আর জননী বাৎসল‍্যপ্রেমে স্তন পান করাইতাম।* *অন্তর্য‍্যামী ভগবান তাঁদের অন্তরের কথা জানতে পেরে এই ব্রহ্মমোহন লীলা করেছিলেন।*
********************************

*🌻ভক্তচূড়ামণিগণ মুখে শোনা এই তত্ত্ব,""গ"" দিয়ে পাঁচটি মহা মহা অপরাধ হয়।* *প্রথম "গ" গুরুনিন্দা করা বা শোনা মহা মহা অপরাধ, দুই "গ" গোবিন্দ ভজনে বাধা দেওয়া বা গোবিন্দের নাম,গুণ-রূপ লীলা না শোনা মহা মহা অপরাধ, তিন"গ" গোহরণ বা গো হত‍্যা মহা মহা অপরাধ,* *চার "গ" গীতাপাঠ না করা বা গীতাপাঠ না শোনা, পঞ্চম"গ" গঙ্গায় স্নান না করা বা গঙ্গা মাকে কোন প্রকারে অপমান করা মহা মহা অপরাধ।*

*******************************
*🌻ব্রহ্মা তৃতীয় মহা মহা অপরাধের অপরাধী হয়েছিলেন🌻* *প্রথম পদ আস্বাদন করব।🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^   
   *শুন হে বলাই দাদা।*
*আজি বন ভোজনে,কি হইল কাননে,*
       *সকল হইল বাধা।*
*এমন কে জানে,না শুনি শ্রবণে,*
       *সকল গাভী হারা।*
*এ বোল বলিতে,হেদে আচম্বিতে,*
      *যুগল নয়নে ধারা।।*
*কি বলিব কায়,যশোমতী মায়,*
       *হারাল সকল গাই।*
*মোরে কি বলিবে,এ মন্দ কহিবে,*
      *সেই যশোমতী মাই।।*
*বলিছে রাখাল,শুন হে গোপাল,*
     *আমরা কহিব গিয়া।*
*আচম্বিতে গাই,হারাল তথাই,*
     *রাখি পরবোধ দিয়া।।*
*যশোদা রাণীরে,কহিব তাহারে,*
     *কানুর নাহিক দোষ।*
*কালি খুঁজি বনে,বালক সকলে,*
     *কানুরে না কর রোষ।।*
*সকল বালকে,খুঁজি একে একে,*
      *গাভী না মিলল তাই।*
*গাভী আনি দিব, ধেনু সকল,*
      *চন্ডীদাস গুণ গাই।।*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*ব‍্যাখ‍্যা=বনের ভিতরে তৃণক্ষেত্র দেখে সকল রাখালগণ সেই তৃণক্ষেত্রে গোধন রেখে এসে বিনোদ খেলায় মাতোয়ারা হলেন,খেলা অন্তে দ্বিপ্রহরে সকলে ভোজন করতে বসলেন।* *যমুনায় সুশীতল জল পান করতে গিয়ে দেখলেন তৃণক্ষেত্রে গাভীগণ ধেনু বৎসগণ নাই,* *এসে কানাইকে বললেন সকল কথা।* *কানাই চরম দুশ্চিন্তায় পড়লেন, এর পূর্বে এমন কোন দিন এইরকম ঘটনা ঘটে নাই।* *রাখালগণ কানাইর অবস্থা দেখে বললেন,কানাই তুই কোন চিন্তা করিস না, গৃহে মা যশোমতী ও বাবা নন্দমহারাজ কিছু বললে,আমরা বলব কানাইর কোন দোষ নাই,* *আমরা প্রতিদিন যেমন ভাবে গোচারণ করি আজও তাই করছিলাম,কিন্তু আচমকা দেখলাম গাভী গণ নাই,* *আজ থাক আমরা কাল সকলে মিলে গোবৎসগণকে খুঁজে বাহির করে পুনরায় নিয়ে আসব।*অতএব কানাই তুই মনে কিছু ভাবিস না।* *মা -বাপের কথা চিন্তা করে নিজেকে কষ্ট দিসনা।*

*🌻ব্রহ্মমোহন লীলার গভীর তত্ত্ব আলোচনা করি।🌻*
*ব্রহ্মা "অম্ভোজন্মজনি"অর্থ‍্যাৎ জলজজন্মা।*কমল হতে ব্রহ্মা জন্মগ্রহণ করেছেন এ কমল,জল হতে জন্মগ্রহণ করেছেন।* *সুতরাং ব্রহ্মার জনক কমল এবং কমলের জনক জল দুইই জড়পদার্থ।*যাঁর পিতা ও পিতামহ জড়পদার্থ।* *তিনি স্বয়ং তত্ত্বজ্ঞ হলেও তাঁর বংশানুক্রমিক জড়তা কোথায় যাবে?* *যেমন কোন নির্ধনের পুত্র ধনবান হলেও তার ধনভোগ এবং ধনব‍্যয়ে যথেষ্ট পরিমাণে অজ্ঞতা দেখা যায়।* *এ দৃষ্টান্ত জগতে বিরল নয়। পক্ষান্তরে ধনবানের পুত্র গরীব হলেও তার উদারতা এবং পন্ডিতের পুত্র মূর্খ হলেও তার সুবুদ্ধির দৃষ্টান্ত জগত বিরল নয়।*
*অতএব বংশানুক্রমিক দোষগুণের হাত হতে মুক্তিলাভ করা কঠিন।* *ধনুক,বাঁশের ঝাড়ের বাঁশ হতে জন্মগ্রহণ করে নানাভাবে সুরক্ষিত এবং গুণযুক্ত হয়ে মহাবীরের হস্তগত হয়।* *তার নম্রতা গুণের কোনও অভাব নাই,কিন্তু তাই বলে সে পরপীড়কদোষ হতে মুক্তিলাভ করতে পারে না।* *কারণ তা হতে বাণ নিক্ষিপ্ত হলেই কেউ না কেউ ব‍্যথিত হয়ে থাকে।* *ব্রহ্মাও জগতের সৃষ্টিকর্তা,চারবেদের বক্তা,* *সর্বজ্ঞ,তত্ত্বজ্ঞ এবং জগৎপূজ‍্য হয়েও শ্রীকৃষ্ণের বাল‍্যলীলামাধুর্য‍্যাস্বাদন করতে গিয়া বংশানুক্রমিক জড়তার বশীভূত হয়ে কৃষ্ণপার্ষদগণকে মায়ামুগ্ধ করতে চেষ্টা করলেন, ইহাও মহা অপরাধ।*আবার বৃন্দাবনে এসে সুকোমল তৃণ সৃষ্টি করে গোবৎস‍্যগণের ভূমিখন্ড সজ্জিত করলেন,* *যাহাতে তারা লোভ সঞ্চার করে সেইদিকে এগিয়ে যায়* *আর তাদের একটি গুহায় বন্দি করে রাখি।🌻*
*********************************


*দ্বিতীয় পদ*
*গাভী সকল,বনে না পাইয়া,*
      *আকুল হইলা কানু।*
*বেণু বাঁশী পূরি,সঘনে সঘনে,*
      *তবু না মিলল ধেনু।।*
*আকুল হইল,নন্দের নন্দন,*
      *ধেনু হারাইয়া বনে।*
*আন নিহি চিতে,চাহি চারিভিতে,*
      *আন সে নাহিক মনে।।*
*কি বোল বলিব,যশোদা মায়েরে,*
      *বনে ধেনু হইল হারা।*
*এ বোল বলিতে,ফুকরি ফুকরি,*
      *নয়নে গলয়ে ধারা।।*
*হায় হায় আজি,বনের ভোজনে,*
      *বড়ই পাইল তাপ।*
*কি বোল বলিব,মুখা না নিঃস্বরে,*
       *ভোজন হইল পাপ।।*
*এমন কে জানে,নিবে গাই বনে,*
      *শাঙলী ধবলী গাই।*
*আজু আচম্বিতে *গেল কোন ভিতে,*
      *কিছু না জানিল তাই।।*
*কেমনে গৃহেতে,যাইব সাক্ষাতে,*
      *সেই নন্দঘোষ পাশ।*
*ধেনু বৎস বনে,হরে কোন জনে,*
       *কহে দ্বিজ চন্ডীদাস।।*
*ব‍্যাখ‍্যা সংক্ষেপে=শ্রীকৃষ্ণ সখাদের কথা শুনে বললেন,ওরে সখাগণ,তোরা যমুনাপুলিনে বস আমি ধেনুগণ সন্ধান করতে চললাম।* *সখাগণদের রেখে কৃষ্ণ যখন গোবৎসগণকে খুঁজতে গেলেন* *এই ফাঁকে সমস্ত সখাগণদের ব্রহ্মা হরণ করলেন।*

*পদ তৃতীয়*
*এসো ভাই সখা,দেহ মোরে দেখা,*
     *পরাণ কেমন করে।*
*কোথা আছ ভাই,খুঁজিয়া না পাই,*
       *একি পরমাদ মোরে।।*
*আর কার সনে,খেলিব যতনে,*
       *বনে ফিরাইব পাল।*
*আর না শুনিব,মধুর বচন,*
      *বেশ না করিব ভাল।।*
*কানুর বিষাদ, রোদন বেদন,*
      *শুনি পশুপাখী গণে।*
*পাষাণ গলিত,শাখি কুল যত,*
       *লম্বিত চরণ পানে।।*
*আর আর ভাই,ডাকয়ে মাধাই,*
       *উত্তর না দেহ কেনে।*
*দিয়া দরশন,রাখহ জীবন,*
       *এত নিদারুণ কেনে।।*
*কহে চন্ডীদাসে,কানুর চরণে,*
      *এক নিবেদন করি।*
*এ ব্রহ্ম গেয়ানে,দেখহ ধেয়ানে,*
      *কে হেন করিল চুরি।।*

*🌻সেই সর্বেশ্বর,সর্বারাধ‍্য,স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ,গোপবালক ও গোবৎসগণের প্রেমে আত্মহারা হয়ে নিজ প্রেমধীনতা স্বভাব পরবশ হয়ে নিজ-ভক্তবাৎসল‍্যগুণে নিয়ন্ত্রিয় হয়ে বনে বনে "হা শ্রীদাম" "সা সুবল"বলে কাঁদতে কাঁদতে ডেকে ডেকে বেড়াতে লাগলেন।* *কিন্তু এই পরিশ্রমও ব‍্যর্থ হল।*অবশেষে এইবার চিন্তামণি একেবারেই চিন্তাসিন্ধুতে নিমগ্ন হলেন।*আর পথ চলতে পারছেন না* *দেহটি যেন এলিয়ে পড়ছে,যমুনার পুলিনে বসে ভাবছেন কি করা যায়।* *হঠাৎ গগনের দিকে নজর গেল,দেখছেন গগনের আর বেশী বেলা নাই,* *আর তাঁর নাক হতে ঘন ঘন শ্বাসবায়ু প্রবাহিত হতে লাগল,* *বক্ষঃস্থল ঘন ঘন কাঁপতে লাগল।* *এবারে আর স্থির থাকতে পারলেন না,* *অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের অধিপতি নয়ন মূদিত করিয়া ধ‍্যানে বসিলেন ও এই সকল ব্রহ্মার কর্ম জানতে পারলেন।* *মনে মনে বললেন ব্রহ্মা তোর এত স্পর্ধা তুই আমার ভক্ত ও গোবৎসগণকে হরণ করেছিস,এর উপযুক্ত শাস্তি পাবি।*

*🌻পদ চতুর্থ 🌻*
*কমল নয়ন,ধেয়ান স্মরণ,মুদিয়া নয়ন দুটি।*
*ব্রহ্ম জ্ঞানেতে দেখি হৃদয়েতে,ব্রহ্মার হেন কুটি।।*
*(কুটি মানে কুটিলতা*)
*আমায় ছলিতে,আসি বনভিতে,ঐছন তার কাজ।*
*মোর তথ‍্য কিছু,জানিতে নারিয়ে,*
        *বুঝিব শকতি আজ।।*
*আমি কি বটিয়ে,জানিতে নারিয়ে,*
      *পাইয়ে মরম ব‍্যথা।*
*তেঁই শিশু বৎস,হরিয়া লইল,*
        *জানিল এ তথ‍্য কথা।।*
*ভাল ভাল বলি,জানিয়ে অন্তরে,*
        *নন্দের নন্দন কান।*
*সৃজিল রাখাল,যত ধেনু পাল,*
       *শাঙলী ধবলী গাই।*
*তা দেখি ব্রহ্মার,ভাঙ্গিল সংশয়,*
      *ভাবিতে লাগিলা তাই।।*
*ইহ দেব হরি,দেবের দেবতা,*
      *ইহাতে নাহিক আন।*
*ফাঁকর হইয়া,ধেনু বৎস লৈয়া,*
      *আইল কানুর স্থান।।*
*করপুটে করি,ধরিয়া চরণে,*
      *পড়িল ধরণী তলে।*
*কাঁদিতে কাঁদিতে,আকুল হইয়া,*
       *কাতরে কিছুই বলে।।*
*চন্ডীদাস বলে,ব্রহ্মার আরতি,*
       *বাঁধিয়া চরণ দুই।*
*বহু স্তব করে,কাঁদি উচ্চস্বরে,*
       *অঝোর নয়নে রোই।।*

*🌻ব্রহ্মা বহুবার এই ভাবে হরণ করেছিলেন।* *কৃষ্ণ নিজ দেহ হতে প্রত‍্যহ সৃষ্টি করেন,আর ব্রহ্মা হরণ করতে থাকেন।* *(🌻নন্দ মহোৎসবকালে ব্রজের রমণীগণ গোপালকে দেখে নিজ পুত্ররূপে মনে মনে আশা করেছিলেন,সেই আশা শ্রীকৃষ্ণ তাঁদের পূরণ করলেন।* *তৎসহ গোগণ আশা করেছিলেন যে,এই পুত্রকে যদি আমার বাছা রূপে পেতাম তাহলে মনোসুখে তাঁকে দুগ্ধপান করাতাম।* *এইভাবে সকলের মনের আশা পূর্ণ করলেন।)* *এই বিষয়টি একমাত্র বলরাম জানতে পেরেছিলেন যে,এই নবলক্ষ গোবৎস ও সখাগণ কৃষ্ণের দেহ হতেই উৎপত্তি হয়েছে।* *যাইহোক* *ব্রহ্মা তাঁর নিজের ভুল বুঝতে পেরে* *ভগবানের শ্রীচরণে ক্ষমা ভিক্ষা চাইতে লাগলেন।* 

*🌻বিরাম বা শেষ পদ🌻*
*কহেন কারণ,নন্দের নন্দন,*
      *তুমি কি জানহ মোরে।*
*কোটি ব্রহ্মা আছে,কিবা তার কাছে,*
      *গণনা আছয়ে তোরে।।*
*মুদহ নয়ন,দেখহ গেয়ান,*
       *দেখাব কতেক ব্রহ্মা।*
*এক সে পলকে,দেখহ টাটকে,*
       *জানহ কতেক জনা।।*
*শত মুখ দেখ,সহস্র মুখ দেখ,*
       *দশমুখ পাতে কতি।*
*এ সব দেখল, মুদিত নয়ন,*
       *কে জানে ঐছন গতি।।*
*মন বিচারিয়া,দেখল বেকত,*
        *হইল ফাঁফর মনে।*
*চরণে পড়িয়া,স্তুতি করে কত,*
        *কে তোমা মহিমা জানে।।*
*ক্ষেম অপরাধ, কর পরসাদ,*
       *শুনহ গোলোক হরি।*
*আমি না জানিয়ে,অপার অগাধ,*
       *এ রস মহিমা কেলি।।*
*চন্ডীদাসে কহে,দয়ার সাগর,*
        *ধরিয়া এ দুই বাহে।*
*উঠ উঠ বলি,কহে বনমালী,*
       *পাইয়া কিছু মোহে।।*

*🌻স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ,অসংখ‍্য গোবালক এবং গোবৎসরূপে আত্নপ্রকাশ করে "এক বৎসর "কাল পযর্ন্ত ব্রজের গো এবং গোপীগণের প্রতিক্ষণ বাৎসল‍্যপ্রেমরসাস্বাদন করলেন।* *এবং তাঁদের প্রত‍্যেকেরই যে কৃষ্ণকে পুত্ররূপে পাবার বাসনা ছিল,* *তাহাও তিনি তাঁদের গর্ভে জন্ম না নিয়েও পূরণ করলেন।* *যাইহোক,ব্রহ্মা তার অপরাধের জন্য* * *ভগবানের শ্রীচরণে ক্ষমা প্রার্থনা চাইলেন,* *বললেন,আমি আপনার কুপুত্র, কিন্তু কুপুত্র কি পুত্র নয়? আপনি আমায় ক্ষমা করুন,* *আমি আর কোনদিন অপরাধ করব না, আপনি যেমনভাবে আদেশ করবেন আভি আপনার আদেশ মত চলব।*  *ব্রহ্মা আরও বললেন,সূর্য‍্য যেমন আপনার অঙ্গচ্ছটায় উদ্ভাসিত হয়ে জগতের অন্ধকার দূর করে,* *সেইরূপ জগতে ভক্তচূড়মণিগণও আপনার চরণাশ্রয়ের বলে (শক্তিতে)* *গুরুশক্তি লাভ করে শাস্ত্র এবং সাধনোপদেশ দ্বারা মায়মুগ্ধ জীবের অজ্ঞানান্ধকার দূর করেন।* *সূর্য‍্য যেমন আপনার প্রকাশ-শক্তিতেই জগৎ-প্রকাশক,* *তা ছাড়া সূর্য‍্যের আর স্বতন্ত্র প্রকাশশক্তি নাই,সেইরূপ জগতেও যাঁরা গুরুরূপে শাস্ত্র ও সাধনোপদেশ দ্বারা ভ্রান্ত জীবের অজ্ঞান অন্ধকার দূর করেন,* *তাঁরাও আপনার শক্তিতে শক্তিমান।*
*অখন্ডমন্ডলাকারং ব‍্যাপ্তং তেন চরাচরং।*
*তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।*
*যিনি সর্বভাবে পরিপূর্ণ ও সর্বব‍্যাপী পরমানন্দ স্বরূপ ভগবানের স্বরূপ জানিয়ে দেন,তিনিই গুরু,আমি তাঁর শ্রীচরণে প্রণাম করি।* *এইভাবে ব্রহ্মার চেতনা ঘটল, ব্রহ্মার কথা শোনার পর শ্রীকৃষ্ণ একটি কথা বললেন,* *তোমার মত কোটিসহস্র* *ব্রহ্মা আমি পলকে জন্ম দিতে পারি,আবার লয় করতে পারি।* *তবে তোমার কর্মফল ভোগ করতেই হবে জেনে রেখ।*
*🌻 ব্রহ্মমোহন লীলা এখানেই রইল,🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
               ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






৪১. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ব্রহ্মমোহন লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/06/blog-post_0.html

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ ৪১. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ব্রহ্মমোহন লীলা  ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠👇👇🙏👇👇📚PDF গ্রন্থ📚
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🌻ব্রহ্মমোহন লীলা, গৌরচন্দ্রিকা🌻*
*শচীর নন্দন গোরা ও চাঁদ বয়ানে*
*ধবলী শাঙলী বলি ডাকে ঘন ঘনে।।*
*না দেখয়ে সখাগণ ধেনু বৎসগণ।*
*ব্রজের ভাবে গোরা হইয়া মগন।।*
*নয়নের তারা গোরার ইতি উতি চায়।*
*তাহাদের না দেখি গোরা করে হায় হায়।।*
*ভাবিয়া অন্তরে প্রভু জানিলা সকল।*
*জ্ঞানদাস কহে সব ব্রহ্মার ছল।।*

^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻ব্রজলীলা, ব্রহ্মমোহন লীলা বা গো-হরণ ও সখাহরণ🌻*
*********************************
*এই ব্রহ্মমোহণ লীলার দুইটি কারণ পাওয়া গেছে।* *এক,ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজেই ব্রহ্মাকে মোহিত করিয়ে এইলীলা করিয়েছেন।* *দুই,তিনি* *ভক্তবৎসল,কোন ভক্ত যদি মন আর মুখ এক করে তাঁর কাছে কিছু চাহে,তা তিনি বিমুখ করেন না।* 
*ব্রহ্মা,ব্রহ্মলোক হতে শ্রীকৃষ্ণের বাল‍্যলীলার মাধুরী দর্শন করছেন,* *যে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজ সখাগণকে কাছে বসিয়ে তাঁদের সঙ্গে কতই না হাস‍্য-পরিহাস করছেন,তা দেখে ব্রহ্মা খুবই তৃপ্ত হলেন,* *বাল‍্যলীলা রসে দেহ মন ডুবিয়ে বাল‍্যলীলা মাধুর্য‍্যে একান্ত আত্মহারা হয়ে নানা কথা ভাবতে ভাবতে* *ব্রহ্মার মনে হল না জানি তাঁর বাল‍্যলীলা-রসসিন্ধুর গর্ভে না জানি আরও কত না মাধুর্য‍্য,ভক্তবাৎসল‍্য রত্ন লুকিয়ে আছে,* *ভগবান এখন সকল গোপবালকগণ নিয়ে ভোজনাদি নানাবিধ রসে ডুবে আছেন।* *এই অবসরে আমি যদি যমুনাপুলিনে অবতীর্ণ হয়ে তৃণক্ষেত্রে গো-বৎসগণকে মায়ামুগ্ধ করে অন‍্য কোন জায়গায় নিয়ে যায়,* *তাহলে এই বাল‍্যলীলারসমুগ্ধ ভগবান কেমন করে অন্বেষণ করেন এবং তাতে কি রকম তাঁর ভক্তবাৎসল‍্য গুণের প্রকাশ হয়,* *তা একবার পরীক্ষা করে দেখলে বোধহয় সর্বশিরোমণি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাল‍্যলীলারসমুগ্ধতার অপরিসীম মাধুর্য‍্য আস্বাদন করতে পারব।* *এই মনে করে ব্রহ্মা গোহরণ করেছিলেন,তারপর যখন বনবিহার করতে গিয়ে যখন গোবৎসগণকে রাখালগণ দেখতে পেলেন না,বনে বিহাররত অবস্থায়*
*ব্রহ্মা মায়ামুগ্ধ করে তাঁদেরকেও হরণ করলেন।*

*🌻দুই, যেদিন নন্দভবনে নন্দমহোৎসব হয়েছিল,সমস্ত ব্রজের গোপরমণীগণ নন্দালয়ে এসেছিলেন।* *সেইসময় নন্দনন্দন গোপালকে দেখে তাঁদের মনে হয়েছিল,গোপাল যদি আমার পুত্র হ'ত তাহলে আমি আমাদের মনের আশা পূর্ণ করতাম।* *সকালের প্রথম নবনী গোপালকে খাওয়াইতাম,* *আর জননী বাৎসল‍্যপ্রেমে স্তন পান করাইতাম।* *অন্তর্য‍্যামী ভগবান তাঁদের অন্তরের কথা জানতে পেরে এই ব্রহ্মমোহন লীলা করেছিলেন।*
********************************

*🌻ভক্তচূড়ামণিগণ মুখে শোনা এই তত্ত্ব,""গ"" দিয়ে পাঁচটি মহা মহা অপরাধ হয়।* *প্রথম "গ" গুরুনিন্দা করা বা শোনা মহা মহা অপরাধ, দুই "গ" গোবিন্দ ভজনে বাধা দেওয়া বা গোবিন্দের নাম,গুণ-রূপ লীলা না শোনা মহা মহা অপরাধ, তিন"গ" গোহরণ বা গো হত‍্যা মহা মহা অপরাধ,* *চার "গ" গীতাপাঠ না করা বা গীতাপাঠ না শোনা, পঞ্চম"গ" গঙ্গায় স্নান না করা বা গঙ্গা মাকে কোন প্রকারে অপমান করা মহা মহা অপরাধ।*

*******************************
*🌻ব্রহ্মা তৃতীয় মহা মহা অপরাধের অপরাধী হয়েছিলেন🌻* *প্রথম পদ আস্বাদন করব।🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^   
   *শুন হে বলাই দাদা।*
*আজি বন ভোজনে,কি হইল কাননে,*
       *সকল হইল বাধা।*
*এমন কে জানে,না শুনি শ্রবণে,*
       *সকল গাভী হারা।*
*এ বোল বলিতে,হেদে আচম্বিতে,*
      *যুগল নয়নে ধারা।।*
*কি বলিব কায়,যশোমতী মায়,*
       *হারাল সকল গাই।*
*মোরে কি বলিবে,এ মন্দ কহিবে,*
      *সেই যশোমতী মাই।।*
*বলিছে রাখাল,শুন হে গোপাল,*
     *আমরা কহিব গিয়া।*
*আচম্বিতে গাই,হারাল তথাই,*
     *রাখি পরবোধ দিয়া।।*
*যশোদা রাণীরে,কহিব তাহারে,*
     *কানুর নাহিক দোষ।*
*কালি খুঁজি বনে,বালক সকলে,*
     *কানুরে না কর রোষ।।*
*সকল বালকে,খুঁজি একে একে,*
      *গাভী না মিলল তাই।*
*গাভী আনি দিব, ধেনু সকল,*
      *চন্ডীদাস গুণ গাই।।*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*ব‍্যাখ‍্যা=বনের ভিতরে তৃণক্ষেত্র দেখে সকল রাখালগণ সেই তৃণক্ষেত্রে গোধন রেখে এসে বিনোদ খেলায় মাতোয়ারা হলেন,খেলা অন্তে দ্বিপ্রহরে সকলে ভোজন করতে বসলেন।* *যমুনায় সুশীতল জল পান করতে গিয়ে দেখলেন তৃণক্ষেত্রে গাভীগণ ধেনু বৎসগণ নাই,* *এসে কানাইকে বললেন সকল কথা।* *কানাই চরম দুশ্চিন্তায় পড়লেন, এর পূর্বে এমন কোন দিন এইরকম ঘটনা ঘটে নাই।* *রাখালগণ কানাইর অবস্থা দেখে বললেন,কানাই তুই কোন চিন্তা করিস না, গৃহে মা যশোমতী ও বাবা নন্দমহারাজ কিছু বললে,আমরা বলব কানাইর কোন দোষ নাই,* *আমরা প্রতিদিন যেমন ভাবে গোচারণ করি আজও তাই করছিলাম,কিন্তু আচমকা দেখলাম গাভী গণ নাই,* *আজ থাক আমরা কাল সকলে মিলে গোবৎসগণকে খুঁজে বাহির করে পুনরায় নিয়ে আসব।*অতএব কানাই তুই মনে কিছু ভাবিস না।* *মা -বাপের কথা চিন্তা করে নিজেকে কষ্ট দিসনা।*

*🌻ব্রহ্মমোহন লীলার গভীর তত্ত্ব আলোচনা করি।🌻*
*ব্রহ্মা "অম্ভোজন্মজনি"অর্থ‍্যাৎ জলজজন্মা।*কমল হতে ব্রহ্মা জন্মগ্রহণ করেছেন এ কমল,জল হতে জন্মগ্রহণ করেছেন।* *সুতরাং ব্রহ্মার জনক কমল এবং কমলের জনক জল দুইই জড়পদার্থ।*যাঁর পিতা ও পিতামহ জড়পদার্থ।* *তিনি স্বয়ং তত্ত্বজ্ঞ হলেও তাঁর বংশানুক্রমিক জড়তা কোথায় যাবে?* *যেমন কোন নির্ধনের পুত্র ধনবান হলেও তার ধনভোগ এবং ধনব‍্যয়ে যথেষ্ট পরিমাণে অজ্ঞতা দেখা যায়।* *এ দৃষ্টান্ত জগতে বিরল নয়। পক্ষান্তরে ধনবানের পুত্র গরীব হলেও তার উদারতা এবং পন্ডিতের পুত্র মূর্খ হলেও তার সুবুদ্ধির দৃষ্টান্ত জগত বিরল নয়।*
*অতএব বংশানুক্রমিক দোষগুণের হাত হতে মুক্তিলাভ করা কঠিন।* *ধনুক,বাঁশের ঝাড়ের বাঁশ হতে জন্মগ্রহণ করে নানাভাবে সুরক্ষিত এবং গুণযুক্ত হয়ে মহাবীরের হস্তগত হয়।* *তার নম্রতা গুণের কোনও অভাব নাই,কিন্তু তাই বলে সে পরপীড়কদোষ হতে মুক্তিলাভ করতে পারে না।* *কারণ তা হতে বাণ নিক্ষিপ্ত হলেই কেউ না কেউ ব‍্যথিত হয়ে থাকে।* *ব্রহ্মাও জগতের সৃষ্টিকর্তা,চারবেদের বক্তা,* *সর্বজ্ঞ,তত্ত্বজ্ঞ এবং জগৎপূজ‍্য হয়েও শ্রীকৃষ্ণের বাল‍্যলীলামাধুর্য‍্যাস্বাদন করতে গিয়া বংশানুক্রমিক জড়তার বশীভূত হয়ে কৃষ্ণপার্ষদগণকে মায়ামুগ্ধ করতে চেষ্টা করলেন, ইহাও মহা অপরাধ।*আবার বৃন্দাবনে এসে সুকোমল তৃণ সৃষ্টি করে গোবৎস‍্যগণের ভূমিখন্ড সজ্জিত করলেন,* *যাহাতে তারা লোভ সঞ্চার করে সেইদিকে এগিয়ে যায়* *আর তাদের একটি গুহায় বন্দি করে রাখি।🌻*
*********************************


*দ্বিতীয় পদ*
*গাভী সকল,বনে না পাইয়া,*
      *আকুল হইলা কানু।*
*বেণু বাঁশী পূরি,সঘনে সঘনে,*
      *তবু না মিলল ধেনু।।*
*আকুল হইল,নন্দের নন্দন,*
      *ধেনু হারাইয়া বনে।*
*আন নিহি চিতে,চাহি চারিভিতে,*
      *আন সে নাহিক মনে।।*
*কি বোল বলিব,যশোদা মায়েরে,*
      *বনে ধেনু হইল হারা।*
*এ বোল বলিতে,ফুকরি ফুকরি,*
      *নয়নে গলয়ে ধারা।।*
*হায় হায় আজি,বনের ভোজনে,*
      *বড়ই পাইল তাপ।*
*কি বোল বলিব,মুখা না নিঃস্বরে,*
       *ভোজন হইল পাপ।।*
*এমন কে জানে,নিবে গাই বনে,*
      *শাঙলী ধবলী গাই।*
*আজু আচম্বিতে *গেল কোন ভিতে,*
      *কিছু না জানিল তাই।।*
*কেমনে গৃহেতে,যাইব সাক্ষাতে,*
      *সেই নন্দঘোষ পাশ।*
*ধেনু বৎস বনে,হরে কোন জনে,*
       *কহে দ্বিজ চন্ডীদাস।।*
*ব‍্যাখ‍্যা সংক্ষেপে=শ্রীকৃষ্ণ সখাদের কথা শুনে বললেন,ওরে সখাগণ,তোরা যমুনাপুলিনে বস আমি ধেনুগণ সন্ধান করতে চললাম।* *সখাগণদের রেখে কৃষ্ণ যখন গোবৎসগণকে খুঁজতে গেলেন* *এই ফাঁকে সমস্ত সখাগণদের ব্রহ্মা হরণ করলেন।*

*পদ তৃতীয়*
*এসো ভাই সখা,দেহ মোরে দেখা,*
     *পরাণ কেমন করে।*
*কোথা আছ ভাই,খুঁজিয়া না পাই,*
       *একি পরমাদ মোরে।।*
*আর কার সনে,খেলিব যতনে,*
       *বনে ফিরাইব পাল।*
*আর না শুনিব,মধুর বচন,*
      *বেশ না করিব ভাল।।*
*কানুর বিষাদ, রোদন বেদন,*
      *শুনি পশুপাখী গণে।*
*পাষাণ গলিত,শাখি কুল যত,*
       *লম্বিত চরণ পানে।।*
*আর আর ভাই,ডাকয়ে মাধাই,*
       *উত্তর না দেহ কেনে।*
*দিয়া দরশন,রাখহ জীবন,*
       *এত নিদারুণ কেনে।।*
*কহে চন্ডীদাসে,কানুর চরণে,*
      *এক নিবেদন করি।*
*এ ব্রহ্ম গেয়ানে,দেখহ ধেয়ানে,*
      *কে হেন করিল চুরি।।*

*🌻সেই সর্বেশ্বর,সর্বারাধ‍্য,স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ,গোপবালক ও গোবৎসগণের প্রেমে আত্মহারা হয়ে নিজ প্রেমধীনতা স্বভাব পরবশ হয়ে নিজ-ভক্তবাৎসল‍্যগুণে নিয়ন্ত্রিয় হয়ে বনে বনে "হা শ্রীদাম" "সা সুবল"বলে কাঁদতে কাঁদতে ডেকে ডেকে বেড়াতে লাগলেন।* *কিন্তু এই পরিশ্রমও ব‍্যর্থ হল।*অবশেষে এইবার চিন্তামণি একেবারেই চিন্তাসিন্ধুতে নিমগ্ন হলেন।*আর পথ চলতে পারছেন না* *দেহটি যেন এলিয়ে পড়ছে,যমুনার পুলিনে বসে ভাবছেন কি করা যায়।* *হঠাৎ গগনের দিকে নজর গেল,দেখছেন গগনের আর বেশী বেলা নাই,* *আর তাঁর নাক হতে ঘন ঘন শ্বাসবায়ু প্রবাহিত হতে লাগল,* *বক্ষঃস্থল ঘন ঘন কাঁপতে লাগল।* *এবারে আর স্থির থাকতে পারলেন না,* *অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের অধিপতি নয়ন মূদিত করিয়া ধ‍্যানে বসিলেন ও এই সকল ব্রহ্মার কর্ম জানতে পারলেন।* *মনে মনে বললেন ব্রহ্মা তোর এত স্পর্ধা তুই আমার ভক্ত ও গোবৎসগণকে হরণ করেছিস,এর উপযুক্ত শাস্তি পাবি।*

*🌻পদ চতুর্থ 🌻*
*কমল নয়ন,ধেয়ান স্মরণ,মুদিয়া নয়ন দুটি।*
*ব্রহ্ম জ্ঞানেতে দেখি হৃদয়েতে,ব্রহ্মার হেন কুটি।।*
*(কুটি মানে কুটিলতা*)
*আমায় ছলিতে,আসি বনভিতে,ঐছন তার কাজ।*
*মোর তথ‍্য কিছু,জানিতে নারিয়ে,*
        *বুঝিব শকতি আজ।।*
*আমি কি বটিয়ে,জানিতে নারিয়ে,*
      *পাইয়ে মরম ব‍্যথা।*
*তেঁই শিশু বৎস,হরিয়া লইল,*
        *জানিল এ তথ‍্য কথা।।*
*ভাল ভাল বলি,জানিয়ে অন্তরে,*
        *নন্দের নন্দন কান।*
*সৃজিল রাখাল,যত ধেনু পাল,*
       *শাঙলী ধবলী গাই।*
*তা দেখি ব্রহ্মার,ভাঙ্গিল সংশয়,*
      *ভাবিতে লাগিলা তাই।।*
*ইহ দেব হরি,দেবের দেবতা,*
      *ইহাতে নাহিক আন।*
*ফাঁকর হইয়া,ধেনু বৎস লৈয়া,*
      *আইল কানুর স্থান।।*
*করপুটে করি,ধরিয়া চরণে,*
      *পড়িল ধরণী তলে।*
*কাঁদিতে কাঁদিতে,আকুল হইয়া,*
       *কাতরে কিছুই বলে।।*
*চন্ডীদাস বলে,ব্রহ্মার আরতি,*
       *বাঁধিয়া চরণ দুই।*
*বহু স্তব করে,কাঁদি উচ্চস্বরে,*
       *অঝোর নয়নে রোই।।*

*🌻ব্রহ্মা বহুবার এই ভাবে হরণ করেছিলেন।* *কৃষ্ণ নিজ দেহ হতে প্রত‍্যহ সৃষ্টি করেন,আর ব্রহ্মা হরণ করতে থাকেন।* *(🌻নন্দ মহোৎসবকালে ব্রজের রমণীগণ গোপালকে দেখে নিজ পুত্ররূপে মনে মনে আশা করেছিলেন,সেই আশা শ্রীকৃষ্ণ তাঁদের পূরণ করলেন।* *তৎসহ গোগণ আশা করেছিলেন যে,এই পুত্রকে যদি আমার বাছা রূপে পেতাম তাহলে মনোসুখে তাঁকে দুগ্ধপান করাতাম।* *এইভাবে সকলের মনের আশা পূর্ণ করলেন।)* *এই বিষয়টি একমাত্র বলরাম জানতে পেরেছিলেন যে,এই নবলক্ষ গোবৎস ও সখাগণ কৃষ্ণের দেহ হতেই উৎপত্তি হয়েছে।* *যাইহোক* *ব্রহ্মা তাঁর নিজের ভুল বুঝতে পেরে* *ভগবানের শ্রীচরণে ক্ষমা ভিক্ষা চাইতে লাগলেন।* 

*🌻বিরাম বা শেষ পদ🌻*
*কহেন কারণ,নন্দের নন্দন,*
      *তুমি কি জানহ মোরে।*
*কোটি ব্রহ্মা আছে,কিবা তার কাছে,*
      *গণনা আছয়ে তোরে।।*
*মুদহ নয়ন,দেখহ গেয়ান,*
       *দেখাব কতেক ব্রহ্মা।*
*এক সে পলকে,দেখহ টাটকে,*
       *জানহ কতেক জনা।।*
*শত মুখ দেখ,সহস্র মুখ দেখ,*
       *দশমুখ পাতে কতি।*
*এ সব দেখল, মুদিত নয়ন,*
       *কে জানে ঐছন গতি।।*
*মন বিচারিয়া,দেখল বেকত,*
        *হইল ফাঁফর মনে।*
*চরণে পড়িয়া,স্তুতি করে কত,*
        *কে তোমা মহিমা জানে।।*
*ক্ষেম অপরাধ, কর পরসাদ,*
       *শুনহ গোলোক হরি।*
*আমি না জানিয়ে,অপার অগাধ,*
       *এ রস মহিমা কেলি।।*
*চন্ডীদাসে কহে,দয়ার সাগর,*
        *ধরিয়া এ দুই বাহে।*
*উঠ উঠ বলি,কহে বনমালী,*
       *পাইয়া কিছু মোহে।।*

*🌻স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ,অসংখ‍্য গোবালক এবং গোবৎসরূপে আত্নপ্রকাশ করে "এক বৎসর "কাল পযর্ন্ত ব্রজের গো এবং গোপীগণের প্রতিক্ষণ বাৎসল‍্যপ্রেমরসাস্বাদন করলেন।* *এবং তাঁদের প্রত‍্যেকেরই যে কৃষ্ণকে পুত্ররূপে পাবার বাসনা ছিল,* *তাহাও তিনি তাঁদের গর্ভে জন্ম না নিয়েও পূরণ করলেন।* *যাইহোক,ব্রহ্মা তার অপরাধের জন্য* * *ভগবানের শ্রীচরণে ক্ষমা প্রার্থনা চাইলেন,* *বললেন,আমি আপনার কুপুত্র, কিন্তু কুপুত্র কি পুত্র নয়? আপনি আমায় ক্ষমা করুন,* *আমি আর কোনদিন অপরাধ করব না, আপনি যেমনভাবে আদেশ করবেন আভি আপনার আদেশ মত চলব।*  *ব্রহ্মা আরও বললেন,সূর্য‍্য যেমন আপনার অঙ্গচ্ছটায় উদ্ভাসিত হয়ে জগতের অন্ধকার দূর করে,* *সেইরূপ জগতে ভক্তচূড়মণিগণও আপনার চরণাশ্রয়ের বলে (শক্তিতে)* *গুরুশক্তি লাভ করে শাস্ত্র এবং সাধনোপদেশ দ্বারা মায়মুগ্ধ জীবের অজ্ঞানান্ধকার দূর করেন।* *সূর্য‍্য যেমন আপনার প্রকাশ-শক্তিতেই জগৎ-প্রকাশক,* *তা ছাড়া সূর্য‍্যের আর স্বতন্ত্র প্রকাশশক্তি নাই,সেইরূপ জগতেও যাঁরা গুরুরূপে শাস্ত্র ও সাধনোপদেশ দ্বারা ভ্রান্ত জীবের অজ্ঞান অন্ধকার দূর করেন,* *তাঁরাও আপনার শক্তিতে শক্তিমান।*
*অখন্ডমন্ডলাকারং ব‍্যাপ্তং তেন চরাচরং।*
*তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।*
*যিনি সর্বভাবে পরিপূর্ণ ও সর্বব‍্যাপী পরমানন্দ স্বরূপ ভগবানের স্বরূপ জানিয়ে দেন,তিনিই গুরু,আমি তাঁর শ্রীচরণে প্রণাম করি।* *এইভাবে ব্রহ্মার চেতনা ঘটল, ব্রহ্মার কথা শোনার পর শ্রীকৃষ্ণ একটি কথা বললেন,* *তোমার মত কোটিসহস্র* *ব্রহ্মা আমি পলকে জন্ম দিতে পারি,আবার লয় করতে পারি।* *তবে তোমার কর্মফল ভোগ করতেই হবে জেনে রেখ।*
*🌻 ব্রহ্মমোহন লীলা এখানেই রইল,🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
               ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






adds