শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

৪১. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ব্রহ্মমোহন লীলা 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/06/blog-post_0.html

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

  ৪১. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ব্রহ্মমোহন লীলা 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/06/blog-post_0.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠👇👇🙏👇👇📚PDF গ্রন্থ📚
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🌻ব্রহ্মমোহন লীলা, গৌরচন্দ্রিকা🌻*
*শচীর নন্দন গোরা ও চাঁদ বয়ানে*
*ধবলী শাঙলী বলি ডাকে ঘন ঘনে।।*
*না দেখয়ে সখাগণ ধেনু বৎসগণ।*
*ব্রজের ভাবে গোরা হইয়া মগন।।*
*নয়নের তারা গোরার ইতি উতি চায়।*
*তাহাদের না দেখি গোরা করে হায় হায়।।*
*ভাবিয়া অন্তরে প্রভু জানিলা সকল।*
*জ্ঞানদাস কহে সব ব্রহ্মার ছল।।*

^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻ব্রজলীলা, ব্রহ্মমোহন লীলা বা গো-হরণ ও সখাহরণ🌻*
*********************************
*এই ব্রহ্মমোহণ লীলার দুইটি কারণ পাওয়া গেছে।* *এক,ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজেই ব্রহ্মাকে মোহিত করিয়ে এইলীলা করিয়েছেন।* *দুই,তিনি* *ভক্তবৎসল,কোন ভক্ত যদি মন আর মুখ এক করে তাঁর কাছে কিছু চাহে,তা তিনি বিমুখ করেন না।* 
*ব্রহ্মা,ব্রহ্মলোক হতে শ্রীকৃষ্ণের বাল‍্যলীলার মাধুরী দর্শন করছেন,* *যে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজ সখাগণকে কাছে বসিয়ে তাঁদের সঙ্গে কতই না হাস‍্য-পরিহাস করছেন,তা দেখে ব্রহ্মা খুবই তৃপ্ত হলেন,* *বাল‍্যলীলা রসে দেহ মন ডুবিয়ে বাল‍্যলীলা মাধুর্য‍্যে একান্ত আত্মহারা হয়ে নানা কথা ভাবতে ভাবতে* *ব্রহ্মার মনে হল না জানি তাঁর বাল‍্যলীলা-রসসিন্ধুর গর্ভে না জানি আরও কত না মাধুর্য‍্য,ভক্তবাৎসল‍্য রত্ন লুকিয়ে আছে,* *ভগবান এখন সকল গোপবালকগণ নিয়ে ভোজনাদি নানাবিধ রসে ডুবে আছেন।* *এই অবসরে আমি যদি যমুনাপুলিনে অবতীর্ণ হয়ে তৃণক্ষেত্রে গো-বৎসগণকে মায়ামুগ্ধ করে অন‍্য কোন জায়গায় নিয়ে যায়,* *তাহলে এই বাল‍্যলীলারসমুগ্ধ ভগবান কেমন করে অন্বেষণ করেন এবং তাতে কি রকম তাঁর ভক্তবাৎসল‍্য গুণের প্রকাশ হয়,* *তা একবার পরীক্ষা করে দেখলে বোধহয় সর্বশিরোমণি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাল‍্যলীলারসমুগ্ধতার অপরিসীম মাধুর্য‍্য আস্বাদন করতে পারব।* *এই মনে করে ব্রহ্মা গোহরণ করেছিলেন,তারপর যখন বনবিহার করতে গিয়ে যখন গোবৎসগণকে রাখালগণ দেখতে পেলেন না,বনে বিহাররত অবস্থায়*
*ব্রহ্মা মায়ামুগ্ধ করে তাঁদেরকেও হরণ করলেন।*

*🌻দুই, যেদিন নন্দভবনে নন্দমহোৎসব হয়েছিল,সমস্ত ব্রজের গোপরমণীগণ নন্দালয়ে এসেছিলেন।* *সেইসময় নন্দনন্দন গোপালকে দেখে তাঁদের মনে হয়েছিল,গোপাল যদি আমার পুত্র হ'ত তাহলে আমি আমাদের মনের আশা পূর্ণ করতাম।* *সকালের প্রথম নবনী গোপালকে খাওয়াইতাম,* *আর জননী বাৎসল‍্যপ্রেমে স্তন পান করাইতাম।* *অন্তর্য‍্যামী ভগবান তাঁদের অন্তরের কথা জানতে পেরে এই ব্রহ্মমোহন লীলা করেছিলেন।*
********************************

*🌻ভক্তচূড়ামণিগণ মুখে শোনা এই তত্ত্ব,""গ"" দিয়ে পাঁচটি মহা মহা অপরাধ হয়।* *প্রথম "গ" গুরুনিন্দা করা বা শোনা মহা মহা অপরাধ, দুই "গ" গোবিন্দ ভজনে বাধা দেওয়া বা গোবিন্দের নাম,গুণ-রূপ লীলা না শোনা মহা মহা অপরাধ, তিন"গ" গোহরণ বা গো হত‍্যা মহা মহা অপরাধ,* *চার "গ" গীতাপাঠ না করা বা গীতাপাঠ না শোনা, পঞ্চম"গ" গঙ্গায় স্নান না করা বা গঙ্গা মাকে কোন প্রকারে অপমান করা মহা মহা অপরাধ।*

*******************************
*🌻ব্রহ্মা তৃতীয় মহা মহা অপরাধের অপরাধী হয়েছিলেন🌻* *প্রথম পদ আস্বাদন করব।🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^   
   *শুন হে বলাই দাদা।*
*আজি বন ভোজনে,কি হইল কাননে,*
       *সকল হইল বাধা।*
*এমন কে জানে,না শুনি শ্রবণে,*
       *সকল গাভী হারা।*
*এ বোল বলিতে,হেদে আচম্বিতে,*
      *যুগল নয়নে ধারা।।*
*কি বলিব কায়,যশোমতী মায়,*
       *হারাল সকল গাই।*
*মোরে কি বলিবে,এ মন্দ কহিবে,*
      *সেই যশোমতী মাই।।*
*বলিছে রাখাল,শুন হে গোপাল,*
     *আমরা কহিব গিয়া।*
*আচম্বিতে গাই,হারাল তথাই,*
     *রাখি পরবোধ দিয়া।।*
*যশোদা রাণীরে,কহিব তাহারে,*
     *কানুর নাহিক দোষ।*
*কালি খুঁজি বনে,বালক সকলে,*
     *কানুরে না কর রোষ।।*
*সকল বালকে,খুঁজি একে একে,*
      *গাভী না মিলল তাই।*
*গাভী আনি দিব, ধেনু সকল,*
      *চন্ডীদাস গুণ গাই।।*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*ব‍্যাখ‍্যা=বনের ভিতরে তৃণক্ষেত্র দেখে সকল রাখালগণ সেই তৃণক্ষেত্রে গোধন রেখে এসে বিনোদ খেলায় মাতোয়ারা হলেন,খেলা অন্তে দ্বিপ্রহরে সকলে ভোজন করতে বসলেন।* *যমুনায় সুশীতল জল পান করতে গিয়ে দেখলেন তৃণক্ষেত্রে গাভীগণ ধেনু বৎসগণ নাই,* *এসে কানাইকে বললেন সকল কথা।* *কানাই চরম দুশ্চিন্তায় পড়লেন, এর পূর্বে এমন কোন দিন এইরকম ঘটনা ঘটে নাই।* *রাখালগণ কানাইর অবস্থা দেখে বললেন,কানাই তুই কোন চিন্তা করিস না, গৃহে মা যশোমতী ও বাবা নন্দমহারাজ কিছু বললে,আমরা বলব কানাইর কোন দোষ নাই,* *আমরা প্রতিদিন যেমন ভাবে গোচারণ করি আজও তাই করছিলাম,কিন্তু আচমকা দেখলাম গাভী গণ নাই,* *আজ থাক আমরা কাল সকলে মিলে গোবৎসগণকে খুঁজে বাহির করে পুনরায় নিয়ে আসব।*অতএব কানাই তুই মনে কিছু ভাবিস না।* *মা -বাপের কথা চিন্তা করে নিজেকে কষ্ট দিসনা।*

*🌻ব্রহ্মমোহন লীলার গভীর তত্ত্ব আলোচনা করি।🌻*
*ব্রহ্মা "অম্ভোজন্মজনি"অর্থ‍্যাৎ জলজজন্মা।*কমল হতে ব্রহ্মা জন্মগ্রহণ করেছেন এ কমল,জল হতে জন্মগ্রহণ করেছেন।* *সুতরাং ব্রহ্মার জনক কমল এবং কমলের জনক জল দুইই জড়পদার্থ।*যাঁর পিতা ও পিতামহ জড়পদার্থ।* *তিনি স্বয়ং তত্ত্বজ্ঞ হলেও তাঁর বংশানুক্রমিক জড়তা কোথায় যাবে?* *যেমন কোন নির্ধনের পুত্র ধনবান হলেও তার ধনভোগ এবং ধনব‍্যয়ে যথেষ্ট পরিমাণে অজ্ঞতা দেখা যায়।* *এ দৃষ্টান্ত জগতে বিরল নয়। পক্ষান্তরে ধনবানের পুত্র গরীব হলেও তার উদারতা এবং পন্ডিতের পুত্র মূর্খ হলেও তার সুবুদ্ধির দৃষ্টান্ত জগত বিরল নয়।*
*অতএব বংশানুক্রমিক দোষগুণের হাত হতে মুক্তিলাভ করা কঠিন।* *ধনুক,বাঁশের ঝাড়ের বাঁশ হতে জন্মগ্রহণ করে নানাভাবে সুরক্ষিত এবং গুণযুক্ত হয়ে মহাবীরের হস্তগত হয়।* *তার নম্রতা গুণের কোনও অভাব নাই,কিন্তু তাই বলে সে পরপীড়কদোষ হতে মুক্তিলাভ করতে পারে না।* *কারণ তা হতে বাণ নিক্ষিপ্ত হলেই কেউ না কেউ ব‍্যথিত হয়ে থাকে।* *ব্রহ্মাও জগতের সৃষ্টিকর্তা,চারবেদের বক্তা,* *সর্বজ্ঞ,তত্ত্বজ্ঞ এবং জগৎপূজ‍্য হয়েও শ্রীকৃষ্ণের বাল‍্যলীলামাধুর্য‍্যাস্বাদন করতে গিয়া বংশানুক্রমিক জড়তার বশীভূত হয়ে কৃষ্ণপার্ষদগণকে মায়ামুগ্ধ করতে চেষ্টা করলেন, ইহাও মহা অপরাধ।*আবার বৃন্দাবনে এসে সুকোমল তৃণ সৃষ্টি করে গোবৎস‍্যগণের ভূমিখন্ড সজ্জিত করলেন,* *যাহাতে তারা লোভ সঞ্চার করে সেইদিকে এগিয়ে যায়* *আর তাদের একটি গুহায় বন্দি করে রাখি।🌻*
*********************************


*দ্বিতীয় পদ*
*গাভী সকল,বনে না পাইয়া,*
      *আকুল হইলা কানু।*
*বেণু বাঁশী পূরি,সঘনে সঘনে,*
      *তবু না মিলল ধেনু।।*
*আকুল হইল,নন্দের নন্দন,*
      *ধেনু হারাইয়া বনে।*
*আন নিহি চিতে,চাহি চারিভিতে,*
      *আন সে নাহিক মনে।।*
*কি বোল বলিব,যশোদা মায়েরে,*
      *বনে ধেনু হইল হারা।*
*এ বোল বলিতে,ফুকরি ফুকরি,*
      *নয়নে গলয়ে ধারা।।*
*হায় হায় আজি,বনের ভোজনে,*
      *বড়ই পাইল তাপ।*
*কি বোল বলিব,মুখা না নিঃস্বরে,*
       *ভোজন হইল পাপ।।*
*এমন কে জানে,নিবে গাই বনে,*
      *শাঙলী ধবলী গাই।*
*আজু আচম্বিতে *গেল কোন ভিতে,*
      *কিছু না জানিল তাই।।*
*কেমনে গৃহেতে,যাইব সাক্ষাতে,*
      *সেই নন্দঘোষ পাশ।*
*ধেনু বৎস বনে,হরে কোন জনে,*
       *কহে দ্বিজ চন্ডীদাস।।*
*ব‍্যাখ‍্যা সংক্ষেপে=শ্রীকৃষ্ণ সখাদের কথা শুনে বললেন,ওরে সখাগণ,তোরা যমুনাপুলিনে বস আমি ধেনুগণ সন্ধান করতে চললাম।* *সখাগণদের রেখে কৃষ্ণ যখন গোবৎসগণকে খুঁজতে গেলেন* *এই ফাঁকে সমস্ত সখাগণদের ব্রহ্মা হরণ করলেন।*

*পদ তৃতীয়*
*এসো ভাই সখা,দেহ মোরে দেখা,*
     *পরাণ কেমন করে।*
*কোথা আছ ভাই,খুঁজিয়া না পাই,*
       *একি পরমাদ মোরে।।*
*আর কার সনে,খেলিব যতনে,*
       *বনে ফিরাইব পাল।*
*আর না শুনিব,মধুর বচন,*
      *বেশ না করিব ভাল।।*
*কানুর বিষাদ, রোদন বেদন,*
      *শুনি পশুপাখী গণে।*
*পাষাণ গলিত,শাখি কুল যত,*
       *লম্বিত চরণ পানে।।*
*আর আর ভাই,ডাকয়ে মাধাই,*
       *উত্তর না দেহ কেনে।*
*দিয়া দরশন,রাখহ জীবন,*
       *এত নিদারুণ কেনে।।*
*কহে চন্ডীদাসে,কানুর চরণে,*
      *এক নিবেদন করি।*
*এ ব্রহ্ম গেয়ানে,দেখহ ধেয়ানে,*
      *কে হেন করিল চুরি।।*

*🌻সেই সর্বেশ্বর,সর্বারাধ‍্য,স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ,গোপবালক ও গোবৎসগণের প্রেমে আত্মহারা হয়ে নিজ প্রেমধীনতা স্বভাব পরবশ হয়ে নিজ-ভক্তবাৎসল‍্যগুণে নিয়ন্ত্রিয় হয়ে বনে বনে "হা শ্রীদাম" "সা সুবল"বলে কাঁদতে কাঁদতে ডেকে ডেকে বেড়াতে লাগলেন।* *কিন্তু এই পরিশ্রমও ব‍্যর্থ হল।*অবশেষে এইবার চিন্তামণি একেবারেই চিন্তাসিন্ধুতে নিমগ্ন হলেন।*আর পথ চলতে পারছেন না* *দেহটি যেন এলিয়ে পড়ছে,যমুনার পুলিনে বসে ভাবছেন কি করা যায়।* *হঠাৎ গগনের দিকে নজর গেল,দেখছেন গগনের আর বেশী বেলা নাই,* *আর তাঁর নাক হতে ঘন ঘন শ্বাসবায়ু প্রবাহিত হতে লাগল,* *বক্ষঃস্থল ঘন ঘন কাঁপতে লাগল।* *এবারে আর স্থির থাকতে পারলেন না,* *অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের অধিপতি নয়ন মূদিত করিয়া ধ‍্যানে বসিলেন ও এই সকল ব্রহ্মার কর্ম জানতে পারলেন।* *মনে মনে বললেন ব্রহ্মা তোর এত স্পর্ধা তুই আমার ভক্ত ও গোবৎসগণকে হরণ করেছিস,এর উপযুক্ত শাস্তি পাবি।*

*🌻পদ চতুর্থ 🌻*
*কমল নয়ন,ধেয়ান স্মরণ,মুদিয়া নয়ন দুটি।*
*ব্রহ্ম জ্ঞানেতে দেখি হৃদয়েতে,ব্রহ্মার হেন কুটি।।*
*(কুটি মানে কুটিলতা*)
*আমায় ছলিতে,আসি বনভিতে,ঐছন তার কাজ।*
*মোর তথ‍্য কিছু,জানিতে নারিয়ে,*
        *বুঝিব শকতি আজ।।*
*আমি কি বটিয়ে,জানিতে নারিয়ে,*
      *পাইয়ে মরম ব‍্যথা।*
*তেঁই শিশু বৎস,হরিয়া লইল,*
        *জানিল এ তথ‍্য কথা।।*
*ভাল ভাল বলি,জানিয়ে অন্তরে,*
        *নন্দের নন্দন কান।*
*সৃজিল রাখাল,যত ধেনু পাল,*
       *শাঙলী ধবলী গাই।*
*তা দেখি ব্রহ্মার,ভাঙ্গিল সংশয়,*
      *ভাবিতে লাগিলা তাই।।*
*ইহ দেব হরি,দেবের দেবতা,*
      *ইহাতে নাহিক আন।*
*ফাঁকর হইয়া,ধেনু বৎস লৈয়া,*
      *আইল কানুর স্থান।।*
*করপুটে করি,ধরিয়া চরণে,*
      *পড়িল ধরণী তলে।*
*কাঁদিতে কাঁদিতে,আকুল হইয়া,*
       *কাতরে কিছুই বলে।।*
*চন্ডীদাস বলে,ব্রহ্মার আরতি,*
       *বাঁধিয়া চরণ দুই।*
*বহু স্তব করে,কাঁদি উচ্চস্বরে,*
       *অঝোর নয়নে রোই।।*

*🌻ব্রহ্মা বহুবার এই ভাবে হরণ করেছিলেন।* *কৃষ্ণ নিজ দেহ হতে প্রত‍্যহ সৃষ্টি করেন,আর ব্রহ্মা হরণ করতে থাকেন।* *(🌻নন্দ মহোৎসবকালে ব্রজের রমণীগণ গোপালকে দেখে নিজ পুত্ররূপে মনে মনে আশা করেছিলেন,সেই আশা শ্রীকৃষ্ণ তাঁদের পূরণ করলেন।* *তৎসহ গোগণ আশা করেছিলেন যে,এই পুত্রকে যদি আমার বাছা রূপে পেতাম তাহলে মনোসুখে তাঁকে দুগ্ধপান করাতাম।* *এইভাবে সকলের মনের আশা পূর্ণ করলেন।)* *এই বিষয়টি একমাত্র বলরাম জানতে পেরেছিলেন যে,এই নবলক্ষ গোবৎস ও সখাগণ কৃষ্ণের দেহ হতেই উৎপত্তি হয়েছে।* *যাইহোক* *ব্রহ্মা তাঁর নিজের ভুল বুঝতে পেরে* *ভগবানের শ্রীচরণে ক্ষমা ভিক্ষা চাইতে লাগলেন।* 

*🌻বিরাম বা শেষ পদ🌻*
*কহেন কারণ,নন্দের নন্দন,*
      *তুমি কি জানহ মোরে।*
*কোটি ব্রহ্মা আছে,কিবা তার কাছে,*
      *গণনা আছয়ে তোরে।।*
*মুদহ নয়ন,দেখহ গেয়ান,*
       *দেখাব কতেক ব্রহ্মা।*
*এক সে পলকে,দেখহ টাটকে,*
       *জানহ কতেক জনা।।*
*শত মুখ দেখ,সহস্র মুখ দেখ,*
       *দশমুখ পাতে কতি।*
*এ সব দেখল, মুদিত নয়ন,*
       *কে জানে ঐছন গতি।।*
*মন বিচারিয়া,দেখল বেকত,*
        *হইল ফাঁফর মনে।*
*চরণে পড়িয়া,স্তুতি করে কত,*
        *কে তোমা মহিমা জানে।।*
*ক্ষেম অপরাধ, কর পরসাদ,*
       *শুনহ গোলোক হরি।*
*আমি না জানিয়ে,অপার অগাধ,*
       *এ রস মহিমা কেলি।।*
*চন্ডীদাসে কহে,দয়ার সাগর,*
        *ধরিয়া এ দুই বাহে।*
*উঠ উঠ বলি,কহে বনমালী,*
       *পাইয়া কিছু মোহে।।*

*🌻স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ,অসংখ‍্য গোবালক এবং গোবৎসরূপে আত্নপ্রকাশ করে "এক বৎসর "কাল পযর্ন্ত ব্রজের গো এবং গোপীগণের প্রতিক্ষণ বাৎসল‍্যপ্রেমরসাস্বাদন করলেন।* *এবং তাঁদের প্রত‍্যেকেরই যে কৃষ্ণকে পুত্ররূপে পাবার বাসনা ছিল,* *তাহাও তিনি তাঁদের গর্ভে জন্ম না নিয়েও পূরণ করলেন।* *যাইহোক,ব্রহ্মা তার অপরাধের জন্য* * *ভগবানের শ্রীচরণে ক্ষমা প্রার্থনা চাইলেন,* *বললেন,আমি আপনার কুপুত্র, কিন্তু কুপুত্র কি পুত্র নয়? আপনি আমায় ক্ষমা করুন,* *আমি আর কোনদিন অপরাধ করব না, আপনি যেমনভাবে আদেশ করবেন আভি আপনার আদেশ মত চলব।*  *ব্রহ্মা আরও বললেন,সূর্য‍্য যেমন আপনার অঙ্গচ্ছটায় উদ্ভাসিত হয়ে জগতের অন্ধকার দূর করে,* *সেইরূপ জগতে ভক্তচূড়মণিগণও আপনার চরণাশ্রয়ের বলে (শক্তিতে)* *গুরুশক্তি লাভ করে শাস্ত্র এবং সাধনোপদেশ দ্বারা মায়মুগ্ধ জীবের অজ্ঞানান্ধকার দূর করেন।* *সূর্য‍্য যেমন আপনার প্রকাশ-শক্তিতেই জগৎ-প্রকাশক,* *তা ছাড়া সূর্য‍্যের আর স্বতন্ত্র প্রকাশশক্তি নাই,সেইরূপ জগতেও যাঁরা গুরুরূপে শাস্ত্র ও সাধনোপদেশ দ্বারা ভ্রান্ত জীবের অজ্ঞান অন্ধকার দূর করেন,* *তাঁরাও আপনার শক্তিতে শক্তিমান।*
*অখন্ডমন্ডলাকারং ব‍্যাপ্তং তেন চরাচরং।*
*তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।*
*যিনি সর্বভাবে পরিপূর্ণ ও সর্বব‍্যাপী পরমানন্দ স্বরূপ ভগবানের স্বরূপ জানিয়ে দেন,তিনিই গুরু,আমি তাঁর শ্রীচরণে প্রণাম করি।* *এইভাবে ব্রহ্মার চেতনা ঘটল, ব্রহ্মার কথা শোনার পর শ্রীকৃষ্ণ একটি কথা বললেন,* *তোমার মত কোটিসহস্র* *ব্রহ্মা আমি পলকে জন্ম দিতে পারি,আবার লয় করতে পারি।* *তবে তোমার কর্মফল ভোগ করতেই হবে জেনে রেখ।*
*🌻 ব্রহ্মমোহন লীলা এখানেই রইল,🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
               ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






৪১. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ব্রহ্মমোহন লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/06/blog-post_0.html

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ ৪১. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ব্রহ্মমোহন লীলা  ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠👇👇🙏👇👇📚PDF গ্রন্থ📚
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🌻ব্রহ্মমোহন লীলা, গৌরচন্দ্রিকা🌻*
*শচীর নন্দন গোরা ও চাঁদ বয়ানে*
*ধবলী শাঙলী বলি ডাকে ঘন ঘনে।।*
*না দেখয়ে সখাগণ ধেনু বৎসগণ।*
*ব্রজের ভাবে গোরা হইয়া মগন।।*
*নয়নের তারা গোরার ইতি উতি চায়।*
*তাহাদের না দেখি গোরা করে হায় হায়।।*
*ভাবিয়া অন্তরে প্রভু জানিলা সকল।*
*জ্ঞানদাস কহে সব ব্রহ্মার ছল।।*

^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻ব্রজলীলা, ব্রহ্মমোহন লীলা বা গো-হরণ ও সখাহরণ🌻*
*********************************
*এই ব্রহ্মমোহণ লীলার দুইটি কারণ পাওয়া গেছে।* *এক,ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজেই ব্রহ্মাকে মোহিত করিয়ে এইলীলা করিয়েছেন।* *দুই,তিনি* *ভক্তবৎসল,কোন ভক্ত যদি মন আর মুখ এক করে তাঁর কাছে কিছু চাহে,তা তিনি বিমুখ করেন না।* 
*ব্রহ্মা,ব্রহ্মলোক হতে শ্রীকৃষ্ণের বাল‍্যলীলার মাধুরী দর্শন করছেন,* *যে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজ সখাগণকে কাছে বসিয়ে তাঁদের সঙ্গে কতই না হাস‍্য-পরিহাস করছেন,তা দেখে ব্রহ্মা খুবই তৃপ্ত হলেন,* *বাল‍্যলীলা রসে দেহ মন ডুবিয়ে বাল‍্যলীলা মাধুর্য‍্যে একান্ত আত্মহারা হয়ে নানা কথা ভাবতে ভাবতে* *ব্রহ্মার মনে হল না জানি তাঁর বাল‍্যলীলা-রসসিন্ধুর গর্ভে না জানি আরও কত না মাধুর্য‍্য,ভক্তবাৎসল‍্য রত্ন লুকিয়ে আছে,* *ভগবান এখন সকল গোপবালকগণ নিয়ে ভোজনাদি নানাবিধ রসে ডুবে আছেন।* *এই অবসরে আমি যদি যমুনাপুলিনে অবতীর্ণ হয়ে তৃণক্ষেত্রে গো-বৎসগণকে মায়ামুগ্ধ করে অন‍্য কোন জায়গায় নিয়ে যায়,* *তাহলে এই বাল‍্যলীলারসমুগ্ধ ভগবান কেমন করে অন্বেষণ করেন এবং তাতে কি রকম তাঁর ভক্তবাৎসল‍্য গুণের প্রকাশ হয়,* *তা একবার পরীক্ষা করে দেখলে বোধহয় সর্বশিরোমণি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাল‍্যলীলারসমুগ্ধতার অপরিসীম মাধুর্য‍্য আস্বাদন করতে পারব।* *এই মনে করে ব্রহ্মা গোহরণ করেছিলেন,তারপর যখন বনবিহার করতে গিয়ে যখন গোবৎসগণকে রাখালগণ দেখতে পেলেন না,বনে বিহাররত অবস্থায়*
*ব্রহ্মা মায়ামুগ্ধ করে তাঁদেরকেও হরণ করলেন।*

*🌻দুই, যেদিন নন্দভবনে নন্দমহোৎসব হয়েছিল,সমস্ত ব্রজের গোপরমণীগণ নন্দালয়ে এসেছিলেন।* *সেইসময় নন্দনন্দন গোপালকে দেখে তাঁদের মনে হয়েছিল,গোপাল যদি আমার পুত্র হ'ত তাহলে আমি আমাদের মনের আশা পূর্ণ করতাম।* *সকালের প্রথম নবনী গোপালকে খাওয়াইতাম,* *আর জননী বাৎসল‍্যপ্রেমে স্তন পান করাইতাম।* *অন্তর্য‍্যামী ভগবান তাঁদের অন্তরের কথা জানতে পেরে এই ব্রহ্মমোহন লীলা করেছিলেন।*
********************************

*🌻ভক্তচূড়ামণিগণ মুখে শোনা এই তত্ত্ব,""গ"" দিয়ে পাঁচটি মহা মহা অপরাধ হয়।* *প্রথম "গ" গুরুনিন্দা করা বা শোনা মহা মহা অপরাধ, দুই "গ" গোবিন্দ ভজনে বাধা দেওয়া বা গোবিন্দের নাম,গুণ-রূপ লীলা না শোনা মহা মহা অপরাধ, তিন"গ" গোহরণ বা গো হত‍্যা মহা মহা অপরাধ,* *চার "গ" গীতাপাঠ না করা বা গীতাপাঠ না শোনা, পঞ্চম"গ" গঙ্গায় স্নান না করা বা গঙ্গা মাকে কোন প্রকারে অপমান করা মহা মহা অপরাধ।*

*******************************
*🌻ব্রহ্মা তৃতীয় মহা মহা অপরাধের অপরাধী হয়েছিলেন🌻* *প্রথম পদ আস্বাদন করব।🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^   
   *শুন হে বলাই দাদা।*
*আজি বন ভোজনে,কি হইল কাননে,*
       *সকল হইল বাধা।*
*এমন কে জানে,না শুনি শ্রবণে,*
       *সকল গাভী হারা।*
*এ বোল বলিতে,হেদে আচম্বিতে,*
      *যুগল নয়নে ধারা।।*
*কি বলিব কায়,যশোমতী মায়,*
       *হারাল সকল গাই।*
*মোরে কি বলিবে,এ মন্দ কহিবে,*
      *সেই যশোমতী মাই।।*
*বলিছে রাখাল,শুন হে গোপাল,*
     *আমরা কহিব গিয়া।*
*আচম্বিতে গাই,হারাল তথাই,*
     *রাখি পরবোধ দিয়া।।*
*যশোদা রাণীরে,কহিব তাহারে,*
     *কানুর নাহিক দোষ।*
*কালি খুঁজি বনে,বালক সকলে,*
     *কানুরে না কর রোষ।।*
*সকল বালকে,খুঁজি একে একে,*
      *গাভী না মিলল তাই।*
*গাভী আনি দিব, ধেনু সকল,*
      *চন্ডীদাস গুণ গাই।।*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*ব‍্যাখ‍্যা=বনের ভিতরে তৃণক্ষেত্র দেখে সকল রাখালগণ সেই তৃণক্ষেত্রে গোধন রেখে এসে বিনোদ খেলায় মাতোয়ারা হলেন,খেলা অন্তে দ্বিপ্রহরে সকলে ভোজন করতে বসলেন।* *যমুনায় সুশীতল জল পান করতে গিয়ে দেখলেন তৃণক্ষেত্রে গাভীগণ ধেনু বৎসগণ নাই,* *এসে কানাইকে বললেন সকল কথা।* *কানাই চরম দুশ্চিন্তায় পড়লেন, এর পূর্বে এমন কোন দিন এইরকম ঘটনা ঘটে নাই।* *রাখালগণ কানাইর অবস্থা দেখে বললেন,কানাই তুই কোন চিন্তা করিস না, গৃহে মা যশোমতী ও বাবা নন্দমহারাজ কিছু বললে,আমরা বলব কানাইর কোন দোষ নাই,* *আমরা প্রতিদিন যেমন ভাবে গোচারণ করি আজও তাই করছিলাম,কিন্তু আচমকা দেখলাম গাভী গণ নাই,* *আজ থাক আমরা কাল সকলে মিলে গোবৎসগণকে খুঁজে বাহির করে পুনরায় নিয়ে আসব।*অতএব কানাই তুই মনে কিছু ভাবিস না।* *মা -বাপের কথা চিন্তা করে নিজেকে কষ্ট দিসনা।*

*🌻ব্রহ্মমোহন লীলার গভীর তত্ত্ব আলোচনা করি।🌻*
*ব্রহ্মা "অম্ভোজন্মজনি"অর্থ‍্যাৎ জলজজন্মা।*কমল হতে ব্রহ্মা জন্মগ্রহণ করেছেন এ কমল,জল হতে জন্মগ্রহণ করেছেন।* *সুতরাং ব্রহ্মার জনক কমল এবং কমলের জনক জল দুইই জড়পদার্থ।*যাঁর পিতা ও পিতামহ জড়পদার্থ।* *তিনি স্বয়ং তত্ত্বজ্ঞ হলেও তাঁর বংশানুক্রমিক জড়তা কোথায় যাবে?* *যেমন কোন নির্ধনের পুত্র ধনবান হলেও তার ধনভোগ এবং ধনব‍্যয়ে যথেষ্ট পরিমাণে অজ্ঞতা দেখা যায়।* *এ দৃষ্টান্ত জগতে বিরল নয়। পক্ষান্তরে ধনবানের পুত্র গরীব হলেও তার উদারতা এবং পন্ডিতের পুত্র মূর্খ হলেও তার সুবুদ্ধির দৃষ্টান্ত জগত বিরল নয়।*
*অতএব বংশানুক্রমিক দোষগুণের হাত হতে মুক্তিলাভ করা কঠিন।* *ধনুক,বাঁশের ঝাড়ের বাঁশ হতে জন্মগ্রহণ করে নানাভাবে সুরক্ষিত এবং গুণযুক্ত হয়ে মহাবীরের হস্তগত হয়।* *তার নম্রতা গুণের কোনও অভাব নাই,কিন্তু তাই বলে সে পরপীড়কদোষ হতে মুক্তিলাভ করতে পারে না।* *কারণ তা হতে বাণ নিক্ষিপ্ত হলেই কেউ না কেউ ব‍্যথিত হয়ে থাকে।* *ব্রহ্মাও জগতের সৃষ্টিকর্তা,চারবেদের বক্তা,* *সর্বজ্ঞ,তত্ত্বজ্ঞ এবং জগৎপূজ‍্য হয়েও শ্রীকৃষ্ণের বাল‍্যলীলামাধুর্য‍্যাস্বাদন করতে গিয়া বংশানুক্রমিক জড়তার বশীভূত হয়ে কৃষ্ণপার্ষদগণকে মায়ামুগ্ধ করতে চেষ্টা করলেন, ইহাও মহা অপরাধ।*আবার বৃন্দাবনে এসে সুকোমল তৃণ সৃষ্টি করে গোবৎস‍্যগণের ভূমিখন্ড সজ্জিত করলেন,* *যাহাতে তারা লোভ সঞ্চার করে সেইদিকে এগিয়ে যায়* *আর তাদের একটি গুহায় বন্দি করে রাখি।🌻*
*********************************


*দ্বিতীয় পদ*
*গাভী সকল,বনে না পাইয়া,*
      *আকুল হইলা কানু।*
*বেণু বাঁশী পূরি,সঘনে সঘনে,*
      *তবু না মিলল ধেনু।।*
*আকুল হইল,নন্দের নন্দন,*
      *ধেনু হারাইয়া বনে।*
*আন নিহি চিতে,চাহি চারিভিতে,*
      *আন সে নাহিক মনে।।*
*কি বোল বলিব,যশোদা মায়েরে,*
      *বনে ধেনু হইল হারা।*
*এ বোল বলিতে,ফুকরি ফুকরি,*
      *নয়নে গলয়ে ধারা।।*
*হায় হায় আজি,বনের ভোজনে,*
      *বড়ই পাইল তাপ।*
*কি বোল বলিব,মুখা না নিঃস্বরে,*
       *ভোজন হইল পাপ।।*
*এমন কে জানে,নিবে গাই বনে,*
      *শাঙলী ধবলী গাই।*
*আজু আচম্বিতে *গেল কোন ভিতে,*
      *কিছু না জানিল তাই।।*
*কেমনে গৃহেতে,যাইব সাক্ষাতে,*
      *সেই নন্দঘোষ পাশ।*
*ধেনু বৎস বনে,হরে কোন জনে,*
       *কহে দ্বিজ চন্ডীদাস।।*
*ব‍্যাখ‍্যা সংক্ষেপে=শ্রীকৃষ্ণ সখাদের কথা শুনে বললেন,ওরে সখাগণ,তোরা যমুনাপুলিনে বস আমি ধেনুগণ সন্ধান করতে চললাম।* *সখাগণদের রেখে কৃষ্ণ যখন গোবৎসগণকে খুঁজতে গেলেন* *এই ফাঁকে সমস্ত সখাগণদের ব্রহ্মা হরণ করলেন।*

*পদ তৃতীয়*
*এসো ভাই সখা,দেহ মোরে দেখা,*
     *পরাণ কেমন করে।*
*কোথা আছ ভাই,খুঁজিয়া না পাই,*
       *একি পরমাদ মোরে।।*
*আর কার সনে,খেলিব যতনে,*
       *বনে ফিরাইব পাল।*
*আর না শুনিব,মধুর বচন,*
      *বেশ না করিব ভাল।।*
*কানুর বিষাদ, রোদন বেদন,*
      *শুনি পশুপাখী গণে।*
*পাষাণ গলিত,শাখি কুল যত,*
       *লম্বিত চরণ পানে।।*
*আর আর ভাই,ডাকয়ে মাধাই,*
       *উত্তর না দেহ কেনে।*
*দিয়া দরশন,রাখহ জীবন,*
       *এত নিদারুণ কেনে।।*
*কহে চন্ডীদাসে,কানুর চরণে,*
      *এক নিবেদন করি।*
*এ ব্রহ্ম গেয়ানে,দেখহ ধেয়ানে,*
      *কে হেন করিল চুরি।।*

*🌻সেই সর্বেশ্বর,সর্বারাধ‍্য,স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ,গোপবালক ও গোবৎসগণের প্রেমে আত্মহারা হয়ে নিজ প্রেমধীনতা স্বভাব পরবশ হয়ে নিজ-ভক্তবাৎসল‍্যগুণে নিয়ন্ত্রিয় হয়ে বনে বনে "হা শ্রীদাম" "সা সুবল"বলে কাঁদতে কাঁদতে ডেকে ডেকে বেড়াতে লাগলেন।* *কিন্তু এই পরিশ্রমও ব‍্যর্থ হল।*অবশেষে এইবার চিন্তামণি একেবারেই চিন্তাসিন্ধুতে নিমগ্ন হলেন।*আর পথ চলতে পারছেন না* *দেহটি যেন এলিয়ে পড়ছে,যমুনার পুলিনে বসে ভাবছেন কি করা যায়।* *হঠাৎ গগনের দিকে নজর গেল,দেখছেন গগনের আর বেশী বেলা নাই,* *আর তাঁর নাক হতে ঘন ঘন শ্বাসবায়ু প্রবাহিত হতে লাগল,* *বক্ষঃস্থল ঘন ঘন কাঁপতে লাগল।* *এবারে আর স্থির থাকতে পারলেন না,* *অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের অধিপতি নয়ন মূদিত করিয়া ধ‍্যানে বসিলেন ও এই সকল ব্রহ্মার কর্ম জানতে পারলেন।* *মনে মনে বললেন ব্রহ্মা তোর এত স্পর্ধা তুই আমার ভক্ত ও গোবৎসগণকে হরণ করেছিস,এর উপযুক্ত শাস্তি পাবি।*

*🌻পদ চতুর্থ 🌻*
*কমল নয়ন,ধেয়ান স্মরণ,মুদিয়া নয়ন দুটি।*
*ব্রহ্ম জ্ঞানেতে দেখি হৃদয়েতে,ব্রহ্মার হেন কুটি।।*
*(কুটি মানে কুটিলতা*)
*আমায় ছলিতে,আসি বনভিতে,ঐছন তার কাজ।*
*মোর তথ‍্য কিছু,জানিতে নারিয়ে,*
        *বুঝিব শকতি আজ।।*
*আমি কি বটিয়ে,জানিতে নারিয়ে,*
      *পাইয়ে মরম ব‍্যথা।*
*তেঁই শিশু বৎস,হরিয়া লইল,*
        *জানিল এ তথ‍্য কথা।।*
*ভাল ভাল বলি,জানিয়ে অন্তরে,*
        *নন্দের নন্দন কান।*
*সৃজিল রাখাল,যত ধেনু পাল,*
       *শাঙলী ধবলী গাই।*
*তা দেখি ব্রহ্মার,ভাঙ্গিল সংশয়,*
      *ভাবিতে লাগিলা তাই।।*
*ইহ দেব হরি,দেবের দেবতা,*
      *ইহাতে নাহিক আন।*
*ফাঁকর হইয়া,ধেনু বৎস লৈয়া,*
      *আইল কানুর স্থান।।*
*করপুটে করি,ধরিয়া চরণে,*
      *পড়িল ধরণী তলে।*
*কাঁদিতে কাঁদিতে,আকুল হইয়া,*
       *কাতরে কিছুই বলে।।*
*চন্ডীদাস বলে,ব্রহ্মার আরতি,*
       *বাঁধিয়া চরণ দুই।*
*বহু স্তব করে,কাঁদি উচ্চস্বরে,*
       *অঝোর নয়নে রোই।।*

*🌻ব্রহ্মা বহুবার এই ভাবে হরণ করেছিলেন।* *কৃষ্ণ নিজ দেহ হতে প্রত‍্যহ সৃষ্টি করেন,আর ব্রহ্মা হরণ করতে থাকেন।* *(🌻নন্দ মহোৎসবকালে ব্রজের রমণীগণ গোপালকে দেখে নিজ পুত্ররূপে মনে মনে আশা করেছিলেন,সেই আশা শ্রীকৃষ্ণ তাঁদের পূরণ করলেন।* *তৎসহ গোগণ আশা করেছিলেন যে,এই পুত্রকে যদি আমার বাছা রূপে পেতাম তাহলে মনোসুখে তাঁকে দুগ্ধপান করাতাম।* *এইভাবে সকলের মনের আশা পূর্ণ করলেন।)* *এই বিষয়টি একমাত্র বলরাম জানতে পেরেছিলেন যে,এই নবলক্ষ গোবৎস ও সখাগণ কৃষ্ণের দেহ হতেই উৎপত্তি হয়েছে।* *যাইহোক* *ব্রহ্মা তাঁর নিজের ভুল বুঝতে পেরে* *ভগবানের শ্রীচরণে ক্ষমা ভিক্ষা চাইতে লাগলেন।* 

*🌻বিরাম বা শেষ পদ🌻*
*কহেন কারণ,নন্দের নন্দন,*
      *তুমি কি জানহ মোরে।*
*কোটি ব্রহ্মা আছে,কিবা তার কাছে,*
      *গণনা আছয়ে তোরে।।*
*মুদহ নয়ন,দেখহ গেয়ান,*
       *দেখাব কতেক ব্রহ্মা।*
*এক সে পলকে,দেখহ টাটকে,*
       *জানহ কতেক জনা।।*
*শত মুখ দেখ,সহস্র মুখ দেখ,*
       *দশমুখ পাতে কতি।*
*এ সব দেখল, মুদিত নয়ন,*
       *কে জানে ঐছন গতি।।*
*মন বিচারিয়া,দেখল বেকত,*
        *হইল ফাঁফর মনে।*
*চরণে পড়িয়া,স্তুতি করে কত,*
        *কে তোমা মহিমা জানে।।*
*ক্ষেম অপরাধ, কর পরসাদ,*
       *শুনহ গোলোক হরি।*
*আমি না জানিয়ে,অপার অগাধ,*
       *এ রস মহিমা কেলি।।*
*চন্ডীদাসে কহে,দয়ার সাগর,*
        *ধরিয়া এ দুই বাহে।*
*উঠ উঠ বলি,কহে বনমালী,*
       *পাইয়া কিছু মোহে।।*

*🌻স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ,অসংখ‍্য গোবালক এবং গোবৎসরূপে আত্নপ্রকাশ করে "এক বৎসর "কাল পযর্ন্ত ব্রজের গো এবং গোপীগণের প্রতিক্ষণ বাৎসল‍্যপ্রেমরসাস্বাদন করলেন।* *এবং তাঁদের প্রত‍্যেকেরই যে কৃষ্ণকে পুত্ররূপে পাবার বাসনা ছিল,* *তাহাও তিনি তাঁদের গর্ভে জন্ম না নিয়েও পূরণ করলেন।* *যাইহোক,ব্রহ্মা তার অপরাধের জন্য* * *ভগবানের শ্রীচরণে ক্ষমা প্রার্থনা চাইলেন,* *বললেন,আমি আপনার কুপুত্র, কিন্তু কুপুত্র কি পুত্র নয়? আপনি আমায় ক্ষমা করুন,* *আমি আর কোনদিন অপরাধ করব না, আপনি যেমনভাবে আদেশ করবেন আভি আপনার আদেশ মত চলব।*  *ব্রহ্মা আরও বললেন,সূর্য‍্য যেমন আপনার অঙ্গচ্ছটায় উদ্ভাসিত হয়ে জগতের অন্ধকার দূর করে,* *সেইরূপ জগতে ভক্তচূড়মণিগণও আপনার চরণাশ্রয়ের বলে (শক্তিতে)* *গুরুশক্তি লাভ করে শাস্ত্র এবং সাধনোপদেশ দ্বারা মায়মুগ্ধ জীবের অজ্ঞানান্ধকার দূর করেন।* *সূর্য‍্য যেমন আপনার প্রকাশ-শক্তিতেই জগৎ-প্রকাশক,* *তা ছাড়া সূর্য‍্যের আর স্বতন্ত্র প্রকাশশক্তি নাই,সেইরূপ জগতেও যাঁরা গুরুরূপে শাস্ত্র ও সাধনোপদেশ দ্বারা ভ্রান্ত জীবের অজ্ঞান অন্ধকার দূর করেন,* *তাঁরাও আপনার শক্তিতে শক্তিমান।*
*অখন্ডমন্ডলাকারং ব‍্যাপ্তং তেন চরাচরং।*
*তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।*
*যিনি সর্বভাবে পরিপূর্ণ ও সর্বব‍্যাপী পরমানন্দ স্বরূপ ভগবানের স্বরূপ জানিয়ে দেন,তিনিই গুরু,আমি তাঁর শ্রীচরণে প্রণাম করি।* *এইভাবে ব্রহ্মার চেতনা ঘটল, ব্রহ্মার কথা শোনার পর শ্রীকৃষ্ণ একটি কথা বললেন,* *তোমার মত কোটিসহস্র* *ব্রহ্মা আমি পলকে জন্ম দিতে পারি,আবার লয় করতে পারি।* *তবে তোমার কর্মফল ভোগ করতেই হবে জেনে রেখ।*
*🌻 ব্রহ্মমোহন লীলা এখানেই রইল,🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
               ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






শ্রীশ্রীজগন্নাথ-স্তোত্ৰং/অষ্টকম্ 🙏 সংগৃহীত 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/06/blog-post_14.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
               ꧁ শ্রীশ্রীজগন্নাথ-স্তোত্ৰং/অষ্টকম্ 
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
              ꧁ স্তত্রম- বন্দনা- গীত- আরতি ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
শ্ৰীজগন্নাথায় নমঃ!
কদাচিৎ কালিন্দীতট-বিপিন-সঙ্গীতক-রবো
মুদাভীরীনারী বদনকমলাস্বাদ-মধুপঃ।
রমাশম্ভুব্ৰহ্মাসুরপতিগণেশার্চ্চিতপদো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে॥১॥
ভুজে সব্যে বেণুং শিরসি শিখিপিচ্ছং কটিতট
দুকূলং নেত্ৰান্তে সহচর-কটাক্ষং বিদধতে।
সদা শ্ৰীমদ্বৃন্দাবন বসতি লীলা পরিচয়ো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে॥২॥
মহাম্ভোধেস্তীরে কনকরুচিরে নীলশিখরে
বসন্‌ প্রাসাদান্তে সহজবলভদ্ৰেণ বলিনা।
সুভদ্ৰামধ্যস্থঃ সকলসুরসেবাবসরদো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে॥৩॥
কৃপাপারাবারঃ সজলজলদশ্রেণিরুচিরো
রমাবাণী রামঃ স্ফুরদমলপদ্মেক্ষণমুখৈঃ।
সুরেন্দ্রৈরারাধ্যঃ শ্রুতিগণ শিখাগীতচরিতো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে॥৪॥
রথারূঢ়া গচ্ছন পথিমিলিত ভূদেবপটলৈঃ
স্তুতি প্ৰাদুৰ্ভাবং প্রতিপদমুপাকর্ণ্য সদয়ঃ।
দয়াসিন্ধুর্বন্ধু সকলজগতাংসিন্ধুসদয়ো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে॥৫॥
পরব্রহ্মাপীড়্যং কুবলয়দলোৎফুল্ল নয়নো
নিবাসী নীলাদ্রৌ নিহিতচরণোহনন্ত শিরসি।
রসানন্দো রাধাসরসবপুরালিঙ্গন সুখো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে॥৬॥
ন বৈ যাচে রাজ্যং ন চ কণকমাণীক্যবিভবং
ন যাচেহহং রম্যাং সকলজনকাম্যাং বরবধূম্‌।
সদা কালে কালে প্ৰমথপতিনা গীতচরিতে
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে॥৭॥
হর ত্বং সংসারং দ্রুততরমসারিং সুরপতে
হর ত্বং পাপানাং বিততিমপরাং যাদবপতে।
অহো! দীননাথং নিহিতমচলং নিশ্চিতপদং
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে॥৮॥
জগন্নাথাষ্টিকং পুণ্যং যঃ পঠেৎ প্ৰযতঃ শুচিঃ
সৰ্ব্বপাপ বিশুদ্ধাত্মা বিষ্ণুলোকং সগচ্ছতি॥৯॥
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



শ্ৰীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুকৃত জগন্নাথ-স্তোত্ৰং/অষ্টকম্ 🙏 সংগৃহীত 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/06/blog-post_14.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্ৰীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুকৃত জগন্নাথ-স্তোত্ৰং/অষ্টকম্ 
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
              ꧁ স্তত্রম- বন্দনা- গীত- আরতি ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
শ্ৰীজগন্নাথায় নমঃ!
কদাচিৎ কালিন্দীতট-বিপিন-সঙ্গীতক-রবো
মুদাভীরীনারী বদনকমলাস্বাদ-মধুপঃ।
রমাশম্ভুব্ৰহ্মাসুরপতিগণেশার্চ্চিতপদো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে॥১॥
ভুজে সব্যে বেণুং শিরসি শিখিপিচ্ছং কটিতট
দুকূলং নেত্ৰান্তে সহচর-কটাক্ষং বিদধতে।
সদা শ্ৰীমদ্বৃন্দাবন বসতি লীলা পরিচয়ো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে॥২॥
মহাম্ভোধেস্তীরে কনকরুচিরে নীলশিখরে
বসন্‌ প্রাসাদান্তে সহজবলভদ্ৰেণ বলিনা।
সুভদ্ৰামধ্যস্থঃ সকলসুরসেবাবসরদো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে॥৩॥
কৃপাপারাবারঃ সজলজলদশ্রেণিরুচিরো
রমাবাণী রামঃ স্ফুরদমলপদ্মেক্ষণমুখৈঃ।
সুরেন্দ্রৈরারাধ্যঃ শ্রুতিগণ শিখাগীতচরিতো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে॥৪॥
রথারূঢ়া গচ্ছন পথিমিলিত ভূদেবপটলৈঃ
স্তুতি প্ৰাদুৰ্ভাবং প্রতিপদমুপাকর্ণ্য সদয়ঃ।
দয়াসিন্ধুর্বন্ধু সকলজগতাংসিন্ধুসদয়ো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে॥৫॥
পরব্রহ্মাপীড়্যং কুবলয়দলোৎফুল্ল নয়নো
নিবাসী নীলাদ্রৌ নিহিতচরণোহনন্ত শিরসি।
রসানন্দো রাধাসরসবপুরালিঙ্গন সুখো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে॥৬॥
ন বৈ যাচে রাজ্যং ন চ কণকমাণীক্যবিভবং
ন যাচেহহং রম্যাং সকলজনকাম্যাং বরবধূম্‌।
সদা কালে কালে প্ৰমথপতিনা গীতচরিতে
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে॥৭॥
হর ত্বং সংসারং দ্রুততরমসারিং সুরপতে
হর ত্বং পাপানাং বিততিমপরাং যাদবপতে।
অহো! দীননাথং নিহিতমচলং নিশ্চিতপদং
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে॥৮॥
জগন্নাথাষ্টিকং পুণ্যং যঃ পঠেৎ প্ৰযতঃ শুচিঃ
সৰ্ব্বপাপ বিশুদ্ধাত্মা বিষ্ণুলোকং সগচ্ছতি॥৯॥
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ⬇️⬇️⬇️এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন⬇️⬇️⬇️
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৪০. বস্ত্রহরণ লীলা 🌷 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/06/blog-post_36.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                    ꧁ ৪০. বস্ত্রহরণ লীলা ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠👇👇🙏👇👇📚PDF গ্রন্থ📚
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
বস্ত্রহরণ লীলার গৌরচন্দ্রিকা----------
আচম্বিতে একদিন ধন‍্য রম‍্য বেলে।
নিজজন সঙ্গে ক্রীড়া করে সন্ধ‍্যাকালে
সবার অঙ্গের বস্ত্র নিলা ত কাঢ়িয়া।
আনন্দে হাসয়ে সবে বিনগ্না করিয়া।।
সব জন লজ্জায় অবশ ভেল তনু।
করে আচ্ছাদয়ে অঙ্গ,চাটু করে পুনু।।
বস্ত্র দেহ বস্ত্র দেহ ত্রিজগত রায়।
এমন করিতে প্রভু তোরে না জুয়ায়।।
এ বোল শুনিয়ে প্রভুর অধিক উল্লাস।
ক্ষণেক অন্তরে সব জনে দিল বাস।।
লীলাগতি চলে প্রভু লোকে অলক্ষিত।
লোচন দাস জানে তাঁহার ইঙ্গিত।।

*বস্ত্রহরণ লীলা,গৌরচন্দ্রিকা*
*****************************
*গোরাচাঁদের কিনা এ লীলা।*
*পূরবে গোপীকা-চীর হরে,*
*এবে সে ভাবে বিভোল হৈলা।।*
*চাহি প্রিয় পরিকর পানে।*
*ভঙ্গী করি চীর হরে সে,*
*সভার কেবা এ মরম জানে।।*
*যেন হইল সকল সেই।*
*সুখের অবধি সাধি নিজ-,*
*-কাজ সবারে বসন দেই।।*
*দেখি দাস নরহরি ভণে।*
*ভূবনের মাঝে কে না উনমত,*
*এ চারু চরিত গানে।।*

*🌻সখী উক্তি*
*যমুনা হতে উঠে এস সব সখী।*
*আপন আপন বস্ত্র চিনে লও দেখি।।*
*এক কন্ঠ জলে রাধা দাঁড়াইয়া ছিল।*
*কৃষ্ণের নিকটে প‍্যারী প্রথম চলিল।।*
*বসন লইতে যান কাঁপিতে কাঁপিতে।*
*যত সখীগণ পরে চলিল পশ্চাতে*

*🌻কৃষ্ণ উক্তি🌻*
*বিবসনা ছিলে হয়ে জলে যমুনার*
*এই হেতু অপরাধ হইল সবার।।*
*ব্রত করি মহাপাপে কেন যে ডুবিবে।*
*জল নারায়ণ হন জান না কি সবে।।*
*তাহার বিহিত যদি পার হে করিতে।*
*তবে সবে পাবে বস্ত্র কহি যে নিশ্চিতে।।*
*গোপী শুনি বলে কি করিব শ‍্যাম।*
*লোচন কহে সবে কর সূর্য‍্যের প্রণাম।।*
*********************************
 *ব্রজলীলা,* *হেমন্তকালে ব্রজের বেশকিছু গোপীগণ শ্রীকৃষ্ণকে পরম পতিরূপে পাবার অভিলাষে কাত‍্যায়নী পূজো আরম্ভ করলেন।* *ব্রজ গোপীগণ প্রাতঃকালে স্নান করে* *অতি শুদ্ধাচারে,* *হবিষ‍্য আচরণের মধ্যে প্রথম দশদিন পূজো করলেন।* *তারপর পাদ‍্য অর্ঘ‍্য,আচমনগন্ধ দিয়ে পূজো করলেন ও গৌরীর নিকট শ্রীকৃষ্ণকে* *পরম পতিরূপে বর প্রার্থনা করলেন।* *এইভাবে বিংশতি দিবস অর্থ‍্যাৎ কুড়ি দিন,* *অতিবাহিত হল।* *তারপর ষোল উপচারে একমন একপ্রাণে পূজো সমাপন করলেন।* *এইভাবে এক মাস পূর্ণ হল।* *মা কাত‍্যায়নীর নিকট বর প্রার্থনা করলেন, মা কাত‍্যায়নী গোপীগণের পূজোয় তুষ্ট হয়ে বললেন তোমাদের ব্রত ভঙ্গ করবার জন‍্য যমুনায় গিয়ে স্নান কর,* *স্নানাদি করলে তোমাদের মনোআশা পূর্ণ হবে।* *তখন সকল ব্রজের গোপীগণ যমুনায় স্নানের উদ্দেশ্যে গমন করলেন।*

*পদ এক*
*কদম্বতলায় রাখি সভে ত বসন।*
*যমুনায় জলক্রীড়া করে সর্বজন*
*সুচিত্র বিচিত্রাম্বর থুয়ে বৃক্ষতলে।*
*রাই সহ সকলে বিবস্ত্র আছে জলে।।*
*ইহ তত্ত্ব হেথা কৃষ্ণ অন্তরে জানিলা।*
*শ্রীদামাদি সকলেরে নির্জনে কহিলা।।*
*দাদা বলরাম আদি যত সখাগণ।*
*সাবধানে কর ভাই গোধন চারণ।।*
*একবার যাব আমি যমুনার তীরে।*
*জলক্রীড়া করি আমি আসি ত্বরা করে।।*
*এত বলি শ্রীকৃষ্ণ করিলা গমন।*
*সেখানেতে সখীগণ আছে বিবসন।।*
*মনে মনে গোবিন্দ কৌতূক করিয়া।*
*সকল গোপীর বস্ত্র লৈল হরিয়া।।*
*অবিলম্বে উঠিলেন বৃক্ষের উপরে*
*বৃক্ষডালে রাখিলেন সকল অম্বরে।।*
*গোবিন্দের লীলা বুঝা বড় দায়।*
*লোচন কহে কৃপা কর দয়াময়।।*
*ব‍্যাখ‍্যা* *=একদিন ব্রজগোপকুমারীগণ কোন নির্জন জায়গায় সকলে মিলিত হয়ে নিজ নিজ অন্তরের কথা বলাবলি করছেন ও নয়নজলে ভাসছেন।* *এই অবস্থা দেখে তাঁদের হিতাকাঙ্খিনী বৃন্দা,কাত‍্যায়নী ব্রত করবার জন‍্য বললেন।* *কাত‍্যায়নী তন্ত্রে পাওয়া যায় যে,* *কাত‍্যায়নমুনি সর্বাগ্রে এই শক্তিদেবীর আরাধনা করেছিলেন বলিয়া কাত‍্যায়নী নামে প্রসিদ্ধ।*
*ব্রজকুমারীগণের ব্রতকালে তাঁদের বয়স অতি অল্প,* *তার মধ্যে বহু কুমারীগণ ত্রেতাযুগের নৈমিষারণ‍্যর যে ষাটহাজার মুনি ছিলেন তাঁরাই ব্রজে জন্ম নিয়ে ব্রজের গোপী হয়েছেন।* *সেই সিদ্ধদেহের তপবলে এত অল্প বয়সেই কৃষ্ণকে পতিরূপে পাবার আশায় ব্রত করেছিলেন।* *(কার্তিকী পূর্ণিমায় গৌণচান্দ্র কার্তিকমাস শেষ,তার পরদিন হতে অগ্রহায়ণী পূর্ণিমা পর্যন্ত গৌণচান্দ্র অগ্রহায়ণ মাস)* *ঋতু ছিল হেমন্তকাল।* *ব্রত সমাপন করে যমুনায় স্নান কালে ব্রজকুমারীগণ কৃষ্ণের নাম,রূপ,গুণ লীলাকীর্তন করাই তা কৃষ্ণের শ্রবণে আসে,* *তখন কৃষ্ণ যমুনায় আসে,দেখেন এই অবস্থা।* *(বিশেষ তত্ত্ব,ভাগবতে* *পায়,শ্রীকৃষ্ণ যখন ব্রজকুমারীগণের মনোআশা পূর্ণ* *করবার জন্য চীরঘাটে* *অগ্রসর হলেন,তখন* *দাম, সুদাম, বসুদাম ও কিঙ্কিণী নামক* *চারজন গোপবালক তাঁর সঙ্গে সঙ্গেই* *যেতে আরম্ভ করল।* *এই সমস্ত গোপবালকগণ তিন,চার বৎসর বয়স্ক* *এবং স্ত্রী-পুরুষ ভেদাভেদ জ্ঞান রহিত।* *এঁরা কৃষ্ণকে বড়ই ভালোবাসে বলে সর্বদা কৃষ্ণের কাছে থাকে,* *কৃষ্ণ যখন গোচারণ করবার জন্য বনে গমন করেন,* *তখন এঁরা মাতৃকোল পরিত‍্যাগ করে* *"ভাই কানাই" "ভাই কানাই" বলতে বলতে কৃষ্ণের সঙ্গে সঙ্গে গোঠে যাই।* *এঁদের শুদ্ধ ভালবাসায় মোহিত হয়ে কৃষ্ণও কখনও এঁদের সঙ্গ ছাড়া হতেন না।* *এই চারজন কৃষ্ণের মন,বুদ্ধি,চিত্ত ও অহঙ্কার রূপ চর্তুবিধ অন্তঃকরণ সদৃশ।*

*পদ দুই*
*ক্রীড়ারসে গোপীগণ আছে মত্ত মনে।*
*বস্ত্র হরিলন কৃষ্ণ কেহ নাহি জানে।।*
*নানাভাবে জলক্রীড়া করে গোপীসব।*
*বৃক্ষ হতে কৌতুক যে দেখেন মাধব।।*
*প্রধানা গোপীকা রাধা মধ‍্যতে রাখিয়া।*
*চারিদিকে সবে জল দিতেছে সেচিয়া।।*
*নয়ন শ্রবণে জল লাগয়ে তখন।*
*কাতর হৈলা রাধা হাসে জনার্দন*
*এমতে কিছুক্ষণ জলক্রীড়া করি।*
*বসন নিরখে সবে যত সহচরী।।*
*কেহ বলে কি উপায় হইবে এক্ষণে।*
*বিবসন সকলে কূলে উঠিব কেমনে।।*
*তোমার লীলা গো কে বুঝিতে পারে।*
*লোচন কয় তোমার চরণ ধরি শিরে।।*
*ব‍্যাখ‍্যা সংক্ষেপে*
*যমুনাবক্ষ আলোকিত করে অসংখ‍্য গোপবালিকাগণ তরঙ্গে তরঙ্গে ভেসে ভেসে জলক্রীড়া করছেন।* *এবং তাঁদের কন্ঠোত্থিত* *গানের তান যমুনাবক্ষ আনন্দ মুখরিত করে তীরভূমি ও কাননভূমি পর্যন্ত প্রতিনাদিত করছে।* *শ্রীকৃষ্ণ বৃক্ষ হতে তাঁদের অনিন্দ‍্যসুন্দর অনুরাগ মাখা মূর্তি দেখে ভাবে বিভোর হয়ে গেলেন,* *এবং কখন যে তাঁরা কৃষ্ণকে দেখবেন সেই অপেক্ষায় থির হয়ে কদম্বমূলে দাঁড়িয়ে রইলেন।* *(শ্রীহরি যখন ধ‍্যানমগ্ন ধ্রুবের কাছে উপস্থিত হয়েছিলেন,তখন ধ্রুবও ধ‍্যানাবেশে তাঁর আগমন লক্ষ‍্য করতে পারেন নাই।* *শ্রীহরি তখন তাঁর অচিন্ত‍্যশক্তি প্রভাবে ধ্রুবের হৃদয় হতে ধ‍্যেয়মূর্তি অপসারণ* *করলেন এবং তাতে ধ্রুবের ধ‍্যান ভঙ্গ হল।*) *যখন গোপকুমারীগণ কৃষ্ণের প্রতি লক্ষ‍্য করলেন না,* *তখন তাঁর চারসঙ্গীদের নিয়ে হাসাহাসি করতে লাগলেন* *তখন দেখলেন তাঁদের বস্ত্র যমুনার তীরে নেই,* *সমস্ত বস্ত্র কদম্ববৃক্ষের উপর আছে।* *তখন বৃক্ষে ননীচোরাকে দেখে বললেন,* *এই ননীচোরায় আমাদের বস্ত্র চুরি করেছে।* *তখন তাঁরা বস্ত্র পাবার জন্য বারংবার অনুরোধ করলেন,* *কারণ একেই হেমন্তকাল,অগ্রহায়ণ মাস,আবার যমুনার শীতল জল।* *সকলেই শীতে যবুথবু প্রায়।*


*🌻পদ তিন🌻*
*একেতো হেমন্তকাল তাহে বেলা শেষ।*
*শীতেতে সবার অঙ্গ কাঁপিছে বিশেষ।।*
*আর শুন ব্রজেতে পূজিনু পৌণমাসী।*
*মনে এ আশা হে তোমার হব দাসী।।*

 *পদ তিন ব‍্যাখ‍্যা*
*গোপকুমারীগণ কিছুতেই লজ্জা ত‍্যাগ করে কদম্ভমূলে আসতে প্রস্তুত হলেন না,কিন্তু মনে মনে সবকিছুই তাঁর শ্রীচরণে সঁপে দিয়েছিলেন।* *তাঁরা বলেছিলেন আমরা তোমার দাসী হব,* *দাসী হয়ে তোমার সব আদেশ পালন করব।* *যদি সত‍্য সত‍্যই বাক‍্যের সত‍্যতা পালন করতে হয় তাহলে লজ্জা ত‍্যাগ করতে বাধ‍্য হবে!* *শ্রীকৃষ্ণ ;রসিকেন্দ্রচূড়ামণি বললেন,* *হে গোপীকাগণ!* *তোমরা প্রতিশ্রুতি বদ্ধ,তোমরা কবে* *আমার দাসী হবে?* *এবং কবেই বা আমার আদেশ পালন করবে?* *তা আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।* *যদি সত‍্য সত‍্যই তোমাদের কথা সত‍্য হয়,* *তোমরা যদি সত‍্যই আমার দাসী হয়ে আদেশ পালন করতে কৃতসঙ্কল্প হয়ে থাক,* *তাহলে তোমরা জল হতে উঠে বস্ত্র নিয়ে আমার কাছে এসো।* *আগমন কালে যেন তোমাদের অণুমাত্রও ক্রোধ কিম্বা অসন্তোষ ভাব প্রকাশ না পায়।* *এইকথা শোনার পর গোপকুমারীগণ*  *পরস্পর পরস্পরের দিকে দৃষ্টিপাত করে বলতে লাগলেন,* *সখি! এখন আমাদের উপায় কি হবে?* *কৃষ্ণানুরাগিনী গোপবালিকাগণ নানাবিধ চিন্তায় পড়ে গেলেন,* *যে লজ্জা রাখি না কৃষ্ণ রাখি!* *দুইয়ের মধ্যে কাকে রাখব!* *এই ভাবনা ভাবতে ভাবতে শেষে স্থির করলেন যে,* *কৃষ্ণ প্রাপ্তির আশায় লজ্জাকে চিরবিদায় করে কৃষ্ণের নিকট এলেন।*

*পদ চতুর্থ*
*দুইবাহু উর্ধ করি প্রণাম যে করিল*
*মহাপাপ হতে তাঁরা উদ্ধার পাইল*
*শুন বঁধূ আমাদের বাকী কিবা আছে।*
*কূল শীল লজ্জা লয়ে বসিয়াছ গাছে।।*
*মন প্রাণ দিয়ে তব লয়েছি শরণ।*
*তবে আর কেন শ‍্যাম না দাও বসন।।*
*কথা শুনি কৃষ্ণ মনেতে বিচারি।*
*প্রসন্ন হইয়া বস্ত্র দিলেন শ্রীহরি।।*
*প্রতি জনে জনে কৃষ্ণ দিলেন বসন।*
*সকলের প্রতি তবে বলেন বচন।।*
*আগামী কার্তিকে যবে পূর্ণমাসী হবে।*
*মহারাস স্থানে মনোবাঞ্জা পূর্ণ হবে।।*
*বস্ত্র পেয়ে গৃহে গেল যত গোপনারী।*
*সুবল আসিল তথা সঙ্গে গেল হরি।।*
*একনিষ্ঠ হয়ে যেজন ভজে রাধাগোবিন্দ।*
*দাস লোচন কহে পাই চরণারবৃন্দ।।*
*🌻ব‍্যাখ‍্যা🌻*
*কৃষ্ণানুরাগিনী গোপকুমারীগণ লজ্জাকে জলাঞ্জলী দিয়ে বিবসন অবস্থায় সূর্য‍্যদেবকে প্রণাম করলেন,* *তাঁরা মনে মনে দুটিবাহু তুলে বললেন,হে পরমপতি আমাদের যা কিছু ভালমন্দ তোমার রাঙ্গাচরণে অর্পণ করলাম,তুমি গ্রহণ কর।* *আজ হতে আমাদের অষ্টপাশ তোমার শ্রীরাঙ্গাচরণে নিবেদন করলাম।* *অষ্টপাশ কি?*
*ঘৃণা,শঙ্কা,ভয়ং,লজ্জা,জুগুপ্সা,চেতি পঞ্চমী।*
*কুলং,শীলং তথা জাতিরষ্টো পাশাঃ প্রকীর্তিতাঃ।।*
*অর্থ‍্যাৎ=ঘৃণা,শঙ্কা,ভয়,জুগুপ্সা (কুৎসা)* *কূল,শীল,ও জাতি এই অষ্টপাশ।*
*যত গোপকুমারীগণ বস্ত্র পেয়ে পরিধান করে নিজ নিজ গৃহে ফিরে গেল, তারপর গোচারণ ভূমি হতে সুবল এলো এবং তাঁর সঙ্গে কৃষ্ণও গোঠে ফিরে গেলেন।* *(রাসের কথা বলবেন।)* 
*🌻এখানেই রইল,ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
               ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






৪০. বস্ত্রহরণ লীলা 🌹 শ্রীকৃষ্ণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/06/blog-post_36.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                    ꧁ ৪০. বস্ত্রহরণ লীলা ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🏠Home Page🏠👇👇🙏👇👇📚PDF গ্রন্থ📚
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
বস্ত্রহরণ লীলার গৌরচন্দ্রিকা----------
আচম্বিতে একদিন ধন‍্য রম‍্য বেলে।
নিজজন সঙ্গে ক্রীড়া করে সন্ধ‍্যাকালে
সবার অঙ্গের বস্ত্র নিলা ত কাঢ়িয়া।
আনন্দে হাসয়ে সবে বিনগ্না করিয়া।।
সব জন লজ্জায় অবশ ভেল তনু।
করে আচ্ছাদয়ে অঙ্গ,চাটু করে পুনু।।
বস্ত্র দেহ বস্ত্র দেহ ত্রিজগত রায়।
এমন করিতে প্রভু তোরে না জুয়ায়।।
এ বোল শুনিয়ে প্রভুর অধিক উল্লাস।
ক্ষণেক অন্তরে সব জনে দিল বাস।।
লীলাগতি চলে প্রভু লোকে অলক্ষিত।
লোচন দাস জানে তাঁহার ইঙ্গিত।।

*বস্ত্রহরণ লীলা,গৌরচন্দ্রিকা*
*****************************
*গোরাচাঁদের কিনা এ লীলা।*
*পূরবে গোপীকা-চীর হরে,*
*এবে সে ভাবে বিভোল হৈলা।।*
*চাহি প্রিয় পরিকর পানে।*
*ভঙ্গী করি চীর হরে সে,*
*সভার কেবা এ মরম জানে।।*
*যেন হইল সকল সেই।*
*সুখের অবধি সাধি নিজ-,*
*-কাজ সবারে বসন দেই।।*
*দেখি দাস নরহরি ভণে।*
*ভূবনের মাঝে কে না উনমত,*
*এ চারু চরিত গানে।।*

*🌻সখী উক্তি*
*যমুনা হতে উঠে এস সব সখী।*
*আপন আপন বস্ত্র চিনে লও দেখি।।*
*এক কন্ঠ জলে রাধা দাঁড়াইয়া ছিল।*
*কৃষ্ণের নিকটে প‍্যারী প্রথম চলিল।।*
*বসন লইতে যান কাঁপিতে কাঁপিতে।*
*যত সখীগণ পরে চলিল পশ্চাতে*

*🌻কৃষ্ণ উক্তি🌻*
*বিবসনা ছিলে হয়ে জলে যমুনার*
*এই হেতু অপরাধ হইল সবার।।*
*ব্রত করি মহাপাপে কেন যে ডুবিবে।*
*জল নারায়ণ হন জান না কি সবে।।*
*তাহার বিহিত যদি পার হে করিতে।*
*তবে সবে পাবে বস্ত্র কহি যে নিশ্চিতে।।*
*গোপী শুনি বলে কি করিব শ‍্যাম।*
*লোচন কহে সবে কর সূর্য‍্যের প্রণাম।।*
*********************************
 *ব্রজলীলা,* *হেমন্তকালে ব্রজের বেশকিছু গোপীগণ শ্রীকৃষ্ণকে পরম পতিরূপে পাবার অভিলাষে কাত‍্যায়নী পূজো আরম্ভ করলেন।* *ব্রজ গোপীগণ প্রাতঃকালে স্নান করে* *অতি শুদ্ধাচারে,* *হবিষ‍্য আচরণের মধ্যে প্রথম দশদিন পূজো করলেন।* *তারপর পাদ‍্য অর্ঘ‍্য,আচমনগন্ধ দিয়ে পূজো করলেন ও গৌরীর নিকট শ্রীকৃষ্ণকে* *পরম পতিরূপে বর প্রার্থনা করলেন।* *এইভাবে বিংশতি দিবস অর্থ‍্যাৎ কুড়ি দিন,* *অতিবাহিত হল।* *তারপর ষোল উপচারে একমন একপ্রাণে পূজো সমাপন করলেন।* *এইভাবে এক মাস পূর্ণ হল।* *মা কাত‍্যায়নীর নিকট বর প্রার্থনা করলেন, মা কাত‍্যায়নী গোপীগণের পূজোয় তুষ্ট হয়ে বললেন তোমাদের ব্রত ভঙ্গ করবার জন‍্য যমুনায় গিয়ে স্নান কর,* *স্নানাদি করলে তোমাদের মনোআশা পূর্ণ হবে।* *তখন সকল ব্রজের গোপীগণ যমুনায় স্নানের উদ্দেশ্যে গমন করলেন।*

*পদ এক*
*কদম্বতলায় রাখি সভে ত বসন।*
*যমুনায় জলক্রীড়া করে সর্বজন*
*সুচিত্র বিচিত্রাম্বর থুয়ে বৃক্ষতলে।*
*রাই সহ সকলে বিবস্ত্র আছে জলে।।*
*ইহ তত্ত্ব হেথা কৃষ্ণ অন্তরে জানিলা।*
*শ্রীদামাদি সকলেরে নির্জনে কহিলা।।*
*দাদা বলরাম আদি যত সখাগণ।*
*সাবধানে কর ভাই গোধন চারণ।।*
*একবার যাব আমি যমুনার তীরে।*
*জলক্রীড়া করি আমি আসি ত্বরা করে।।*
*এত বলি শ্রীকৃষ্ণ করিলা গমন।*
*সেখানেতে সখীগণ আছে বিবসন।।*
*মনে মনে গোবিন্দ কৌতূক করিয়া।*
*সকল গোপীর বস্ত্র লৈল হরিয়া।।*
*অবিলম্বে উঠিলেন বৃক্ষের উপরে*
*বৃক্ষডালে রাখিলেন সকল অম্বরে।।*
*গোবিন্দের লীলা বুঝা বড় দায়।*
*লোচন কহে কৃপা কর দয়াময়।।*
*ব‍্যাখ‍্যা* *=একদিন ব্রজগোপকুমারীগণ কোন নির্জন জায়গায় সকলে মিলিত হয়ে নিজ নিজ অন্তরের কথা বলাবলি করছেন ও নয়নজলে ভাসছেন।* *এই অবস্থা দেখে তাঁদের হিতাকাঙ্খিনী বৃন্দা,কাত‍্যায়নী ব্রত করবার জন‍্য বললেন।* *কাত‍্যায়নী তন্ত্রে পাওয়া যায় যে,* *কাত‍্যায়নমুনি সর্বাগ্রে এই শক্তিদেবীর আরাধনা করেছিলেন বলিয়া কাত‍্যায়নী নামে প্রসিদ্ধ।*
*ব্রজকুমারীগণের ব্রতকালে তাঁদের বয়স অতি অল্প,* *তার মধ্যে বহু কুমারীগণ ত্রেতাযুগের নৈমিষারণ‍্যর যে ষাটহাজার মুনি ছিলেন তাঁরাই ব্রজে জন্ম নিয়ে ব্রজের গোপী হয়েছেন।* *সেই সিদ্ধদেহের তপবলে এত অল্প বয়সেই কৃষ্ণকে পতিরূপে পাবার আশায় ব্রত করেছিলেন।* *(কার্তিকী পূর্ণিমায় গৌণচান্দ্র কার্তিকমাস শেষ,তার পরদিন হতে অগ্রহায়ণী পূর্ণিমা পর্যন্ত গৌণচান্দ্র অগ্রহায়ণ মাস)* *ঋতু ছিল হেমন্তকাল।* *ব্রত সমাপন করে যমুনায় স্নান কালে ব্রজকুমারীগণ কৃষ্ণের নাম,রূপ,গুণ লীলাকীর্তন করাই তা কৃষ্ণের শ্রবণে আসে,* *তখন কৃষ্ণ যমুনায় আসে,দেখেন এই অবস্থা।* *(বিশেষ তত্ত্ব,ভাগবতে* *পায়,শ্রীকৃষ্ণ যখন ব্রজকুমারীগণের মনোআশা পূর্ণ* *করবার জন্য চীরঘাটে* *অগ্রসর হলেন,তখন* *দাম, সুদাম, বসুদাম ও কিঙ্কিণী নামক* *চারজন গোপবালক তাঁর সঙ্গে সঙ্গেই* *যেতে আরম্ভ করল।* *এই সমস্ত গোপবালকগণ তিন,চার বৎসর বয়স্ক* *এবং স্ত্রী-পুরুষ ভেদাভেদ জ্ঞান রহিত।* *এঁরা কৃষ্ণকে বড়ই ভালোবাসে বলে সর্বদা কৃষ্ণের কাছে থাকে,* *কৃষ্ণ যখন গোচারণ করবার জন্য বনে গমন করেন,* *তখন এঁরা মাতৃকোল পরিত‍্যাগ করে* *"ভাই কানাই" "ভাই কানাই" বলতে বলতে কৃষ্ণের সঙ্গে সঙ্গে গোঠে যাই।* *এঁদের শুদ্ধ ভালবাসায় মোহিত হয়ে কৃষ্ণও কখনও এঁদের সঙ্গ ছাড়া হতেন না।* *এই চারজন কৃষ্ণের মন,বুদ্ধি,চিত্ত ও অহঙ্কার রূপ চর্তুবিধ অন্তঃকরণ সদৃশ।*

*পদ দুই*
*ক্রীড়ারসে গোপীগণ আছে মত্ত মনে।*
*বস্ত্র হরিলন কৃষ্ণ কেহ নাহি জানে।।*
*নানাভাবে জলক্রীড়া করে গোপীসব।*
*বৃক্ষ হতে কৌতুক যে দেখেন মাধব।।*
*প্রধানা গোপীকা রাধা মধ‍্যতে রাখিয়া।*
*চারিদিকে সবে জল দিতেছে সেচিয়া।।*
*নয়ন শ্রবণে জল লাগয়ে তখন।*
*কাতর হৈলা রাধা হাসে জনার্দন*
*এমতে কিছুক্ষণ জলক্রীড়া করি।*
*বসন নিরখে সবে যত সহচরী।।*
*কেহ বলে কি উপায় হইবে এক্ষণে।*
*বিবসন সকলে কূলে উঠিব কেমনে।।*
*তোমার লীলা গো কে বুঝিতে পারে।*
*লোচন কয় তোমার চরণ ধরি শিরে।।*
*ব‍্যাখ‍্যা সংক্ষেপে*
*যমুনাবক্ষ আলোকিত করে অসংখ‍্য গোপবালিকাগণ তরঙ্গে তরঙ্গে ভেসে ভেসে জলক্রীড়া করছেন।* *এবং তাঁদের কন্ঠোত্থিত* *গানের তান যমুনাবক্ষ আনন্দ মুখরিত করে তীরভূমি ও কাননভূমি পর্যন্ত প্রতিনাদিত করছে।* *শ্রীকৃষ্ণ বৃক্ষ হতে তাঁদের অনিন্দ‍্যসুন্দর অনুরাগ মাখা মূর্তি দেখে ভাবে বিভোর হয়ে গেলেন,* *এবং কখন যে তাঁরা কৃষ্ণকে দেখবেন সেই অপেক্ষায় থির হয়ে কদম্বমূলে দাঁড়িয়ে রইলেন।* *(শ্রীহরি যখন ধ‍্যানমগ্ন ধ্রুবের কাছে উপস্থিত হয়েছিলেন,তখন ধ্রুবও ধ‍্যানাবেশে তাঁর আগমন লক্ষ‍্য করতে পারেন নাই।* *শ্রীহরি তখন তাঁর অচিন্ত‍্যশক্তি প্রভাবে ধ্রুবের হৃদয় হতে ধ‍্যেয়মূর্তি অপসারণ* *করলেন এবং তাতে ধ্রুবের ধ‍্যান ভঙ্গ হল।*) *যখন গোপকুমারীগণ কৃষ্ণের প্রতি লক্ষ‍্য করলেন না,* *তখন তাঁর চারসঙ্গীদের নিয়ে হাসাহাসি করতে লাগলেন* *তখন দেখলেন তাঁদের বস্ত্র যমুনার তীরে নেই,* *সমস্ত বস্ত্র কদম্ববৃক্ষের উপর আছে।* *তখন বৃক্ষে ননীচোরাকে দেখে বললেন,* *এই ননীচোরায় আমাদের বস্ত্র চুরি করেছে।* *তখন তাঁরা বস্ত্র পাবার জন্য বারংবার অনুরোধ করলেন,* *কারণ একেই হেমন্তকাল,অগ্রহায়ণ মাস,আবার যমুনার শীতল জল।* *সকলেই শীতে যবুথবু প্রায়।*


*🌻পদ তিন🌻*
*একেতো হেমন্তকাল তাহে বেলা শেষ।*
*শীতেতে সবার অঙ্গ কাঁপিছে বিশেষ।।*
*আর শুন ব্রজেতে পূজিনু পৌণমাসী।*
*মনে এ আশা হে তোমার হব দাসী।।*

 *পদ তিন ব‍্যাখ‍্যা*
*গোপকুমারীগণ কিছুতেই লজ্জা ত‍্যাগ করে কদম্ভমূলে আসতে প্রস্তুত হলেন না,কিন্তু মনে মনে সবকিছুই তাঁর শ্রীচরণে সঁপে দিয়েছিলেন।* *তাঁরা বলেছিলেন আমরা তোমার দাসী হব,* *দাসী হয়ে তোমার সব আদেশ পালন করব।* *যদি সত‍্য সত‍্যই বাক‍্যের সত‍্যতা পালন করতে হয় তাহলে লজ্জা ত‍্যাগ করতে বাধ‍্য হবে!* *শ্রীকৃষ্ণ ;রসিকেন্দ্রচূড়ামণি বললেন,* *হে গোপীকাগণ!* *তোমরা প্রতিশ্রুতি বদ্ধ,তোমরা কবে* *আমার দাসী হবে?* *এবং কবেই বা আমার আদেশ পালন করবে?* *তা আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।* *যদি সত‍্য সত‍্যই তোমাদের কথা সত‍্য হয়,* *তোমরা যদি সত‍্যই আমার দাসী হয়ে আদেশ পালন করতে কৃতসঙ্কল্প হয়ে থাক,* *তাহলে তোমরা জল হতে উঠে বস্ত্র নিয়ে আমার কাছে এসো।* *আগমন কালে যেন তোমাদের অণুমাত্রও ক্রোধ কিম্বা অসন্তোষ ভাব প্রকাশ না পায়।* *এইকথা শোনার পর গোপকুমারীগণ*  *পরস্পর পরস্পরের দিকে দৃষ্টিপাত করে বলতে লাগলেন,* *সখি! এখন আমাদের উপায় কি হবে?* *কৃষ্ণানুরাগিনী গোপবালিকাগণ নানাবিধ চিন্তায় পড়ে গেলেন,* *যে লজ্জা রাখি না কৃষ্ণ রাখি!* *দুইয়ের মধ্যে কাকে রাখব!* *এই ভাবনা ভাবতে ভাবতে শেষে স্থির করলেন যে,* *কৃষ্ণ প্রাপ্তির আশায় লজ্জাকে চিরবিদায় করে কৃষ্ণের নিকট এলেন।*

*পদ চতুর্থ*
*দুইবাহু উর্ধ করি প্রণাম যে করিল*
*মহাপাপ হতে তাঁরা উদ্ধার পাইল*
*শুন বঁধূ আমাদের বাকী কিবা আছে।*
*কূল শীল লজ্জা লয়ে বসিয়াছ গাছে।।*
*মন প্রাণ দিয়ে তব লয়েছি শরণ।*
*তবে আর কেন শ‍্যাম না দাও বসন।।*
*কথা শুনি কৃষ্ণ মনেতে বিচারি।*
*প্রসন্ন হইয়া বস্ত্র দিলেন শ্রীহরি।।*
*প্রতি জনে জনে কৃষ্ণ দিলেন বসন।*
*সকলের প্রতি তবে বলেন বচন।।*
*আগামী কার্তিকে যবে পূর্ণমাসী হবে।*
*মহারাস স্থানে মনোবাঞ্জা পূর্ণ হবে।।*
*বস্ত্র পেয়ে গৃহে গেল যত গোপনারী।*
*সুবল আসিল তথা সঙ্গে গেল হরি।।*
*একনিষ্ঠ হয়ে যেজন ভজে রাধাগোবিন্দ।*
*দাস লোচন কহে পাই চরণারবৃন্দ।।*
*🌻ব‍্যাখ‍্যা🌻*
*কৃষ্ণানুরাগিনী গোপকুমারীগণ লজ্জাকে জলাঞ্জলী দিয়ে বিবসন অবস্থায় সূর্য‍্যদেবকে প্রণাম করলেন,* *তাঁরা মনে মনে দুটিবাহু তুলে বললেন,হে পরমপতি আমাদের যা কিছু ভালমন্দ তোমার রাঙ্গাচরণে অর্পণ করলাম,তুমি গ্রহণ কর।* *আজ হতে আমাদের অষ্টপাশ তোমার শ্রীরাঙ্গাচরণে নিবেদন করলাম।* *অষ্টপাশ কি?*
*ঘৃণা,শঙ্কা,ভয়ং,লজ্জা,জুগুপ্সা,চেতি পঞ্চমী।*
*কুলং,শীলং তথা জাতিরষ্টো পাশাঃ প্রকীর্তিতাঃ।।*
*অর্থ‍্যাৎ=ঘৃণা,শঙ্কা,ভয়,জুগুপ্সা (কুৎসা)* *কূল,শীল,ও জাতি এই অষ্টপাশ।*
*যত গোপকুমারীগণ বস্ত্র পেয়ে পরিধান করে নিজ নিজ গৃহে ফিরে গেল, তারপর গোচারণ ভূমি হতে সুবল এলো এবং তাঁর সঙ্গে কৃষ্ণও গোঠে ফিরে গেলেন।* *(রাসের কথা বলবেন।)* 
*🌻এখানেই রইল,ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
               ꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






adds