শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীশ্রীচৈতন্য চরিতামৃত হইতে কিছু শিক্ষা 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/08/pdf-httpsmrinmoynandy_20.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    ꧁ শ্রীশ্রীচৈতন্য চরিতামৃত হইতে কিছু শিক্ষা ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শিক্ষাগুরুকে ত জানি কৃষ্ণের স্বরূপ।  
অন্তর্য্যামী ভক্ত শ্রেষ্ঠ এই দুই রূপ। 
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত , আদিলীলা )


জীবে সাক্ষাৎ নাহি তাতে গুরু চৈতন্যর ।
শিক্ষাগুরু হয় কৃষ্ণ মহান্ত -স্বরূপ।।
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত , আদিলীলা )



ঈশ্বর স্বরূপ ভক্ত তাঁর অধিষ্ঠান।
ভক্তের হৃদয়ে কৃষ্ণের সতত বিশ্রাম।।
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত , আদিলীলা )


নন্দসুত বলি যাঁরে ভাগবতে গাই। 
সেই কৃষ্ণ অবতীর্ণ চৈতন্য গোসাঞি।।
প্রকাশ- বিশেষে তেঁহো ধরে তিন নাম।
ব্রহ্ম পরমাত্মা আর পূর্ণ ভগবান্।।
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত , আদিলীলা )

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    ꧁ শ্রীশ্রীচৈতন্য চরিতামৃত হইতে কিছু শিক্ষা ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

সত্য ত্রেতা দ্বাপর কলি চারিযুগ জানি।
সেই চারিযুগ দিব্য এক যুগ মানি।।
একাত্তর চতুর্য্যুগে এক মন্বন্তর।
চৌদ্দ মন্বন্তর ব্রহ্মার দিবস- ভিতর।।
বৈবস্বত নাম এই সপ্তম মন্বন্তর।
সাতাইশ চতুর্যুগে গেল তাহার অন্তর।।
অষ্টাবিংশ  চতুর্যুগে দ্বাপরের শেষে।
ব্রজের সহিতে হয় কৃষ্ণের প্রকাশে।।
দাস্য সখ্য বাৎসল্য শৃঙ্গার চারি রস।
চারিভাবে ভক্ত যত কৃষ্ণ তার বশ।।
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত , আদিলীলা, তৃতীয় পরিচ্ছেদ )



এত ভাবি কলিকালে প্রথম সন্ধ্যায়।
অবতীর্ন হৈলা কৃষ্ণ আপান নদীয়ায়।।
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত , আদিলীলা, তৃতীয় পরিচ্ছেদ )



সঙ্কীর্ত্তন- প্রবর্ত্তক শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য
সঙ্কীর্ত্তন- যজ্ঞে তাঁরে ভজে সেই ধন্য।।
সেই ত সুমেধা আর কুবুদ্ধি সংসার।
সর্ব্বযজ্ঞ হৈতে কৃষ্ণনামযজ্ঞ সার।।
কোটি অশ্বমেধ এক কৃষ্ণনাম সম।
যেই কহে সে পাষণ্ডী দণ্ডে তারে যম।।
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত , আদিলীলা, তৃতীয় পরিচ্ছেদ )



নাম বিনু কলিকালে ধর্ম্ম নাহি আর।
কলিকালে কৈছে হবে কৃষ্ণ অবতার 
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত , আদিলীলা, তৃতীয় পরিচ্ছেদ )


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    ꧁ শ্রীশ্রীচৈতন্য চরিতামৃত হইতে কিছু শিক্ষা ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


আমাকেত যে যে ভক্ত ভজে যেই ভাবে।
তারে সে সে ভাবে ভজি এ মোর স্বভাবে।।
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত , আদিলীলা, চতুর্থ পরিচ্ছেদ )



সেই রাধার ভাব লঞা চৈত্যন্যাবতার।
যুগধর্ম্ম নাম প্রেম কৈল পরচার।।
সেই ভাবে নিজ বাঞ্চা করিল পূরণ।
অবতারের এই বাঞ্চা মূল যে কারণ।।
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য গোসাঞি ব্রজেন্দ্রকুমার।
রসময় মূর্ত্তি কৃষ্ণ সাক্ষাৎ শৃঙ্গার।।
সেই রস আস্বাদিতে কৈল অবতার।
আনুসঙ্গে কৈল সব রসের প্রচার।।
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত , আদিলীলা, চতুর্থ পরিচ্ছেদ )


 
আত্মেন্দ্রিয় প্রীতি-বাঞ্ছা- -তারে বলি, 'কাম' ।
কৃষ্ণেন্দ্রিয়প্রীতি-ইচ্ছা ধরে 'প্রেম' নাম ।।
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত , আদিলীলা, চতুর্থ পরিচ্ছেদ )
অনুবাদঃ- নিজের ইন্দ্রিয়-তৃপ্তির বাসনাকে বলা হয় কাম, আর শ্রীকৃষ্ণের ইন্দ্রিয়ের প্রীতি সাধনের ইচ্ছাকে বলা হয় প্রেম ।


কৃষ্ণবর্ণং ত্বিষাকৃষ্ণং সাঙ্গোপাঙ্গাস্ত্রপার্ষদম্।
যজ্ঞৈঃ সঙ্কীর্ত্তনপ্রায়ৈর্যজন্তি হি সুমেধসঃ।।    
তত্রৈব (১১|৫|২৯) 


একলে ঈশ্বর কৃষ্ণ, আর সব ভৃত্য ।
যারে যৈছে নাচায়, সে তৈছে করে নৃত্য ।।
(চৈঃ চঃ আদি ৫/১৪২)
অনুবাদঃ- একমাত্র শ্রীকৃষ্ণই হচ্ছেন পরম ঈশ্বর এবং অন্য সকলেই তাঁর সেবক। তিনি যেভাবে নির্দেশ দেন, তাঁরা সেভাবেই নৃত্য করেন ।

কলিকালে নামরূপে কৃষ্ণ-অবতার ।
নাম হৈতে হয় সর্বজগতৎ-নিস্তার ।।
(চৈঃ চঃ আদি ১৭/২২)
অনুবাদঃ- এই কলিযুগে ভগবানের দিব্যনাম 'হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র' হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের অবতার। কেবলমাত্র এই দিব্যনাম গ্রহণ করার ফলে, যে কোন মানুষ সরাসরিভাবে ভগবানের সঙ্গ লাভ করতে পারেন। যিনি তা করেন, তিনি অবশ্যই উদ্ধার লাভ করেন। এই নামের প্রভাবেই কেবল সমস্ত জগৎ নিস্তার পেতে পারে।

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    ꧁ শ্রীশ্রীচৈতন্য চরিতামৃত হইতে কিছু শিক্ষা ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

'সাধুসঙ্গ', 'সাধুসঙ্গ' - সর্বশাস্ত্রে কয় ।
লবমাত্র সাধুসঙ্গে সর্বসিদ্ধি হয় ।।
(চৈঃ চঃ মধ্য ২২/৫৪)
অনুবাদঃ- সমস্ত শাস্ত্রের সিদ্ধান্ত হচ্ছে যে, শুদ্ধ ভক্তের সঙ্গ যদি মুহূর্তের জন্যও লাভ করা যায়, তা হলেই সর্বসিদ্ধি লাভ হয়।


কৃষ্ণভক্ত- নিষ্কাম, অতএব 'শান্ত' ।
ভুক্তি-মুক্তি-সিদ্ধি-কামী-- সকলি 'অশান্ত' ।।
(চৈঃ চঃ মধ্য ১৯/১৪৯)
অনুবাদঃ- কৃষ্ণভক্ত নিষ্কাম বলেই শান্ত। সকাম কর্মীরা জড় ভোগ কামনা করেন, জ্ঞানীরা মুক্তি কামনা করেন, আর যোগীরা জড়-জাগতিক সিদ্ধি কামনা করেন। তাই এরা সকলেই কামার্ত ও অশান্ত।


যাঁর চিত্তে কৃষ্ণপ্রেমা করয়ে উদয়।
তাঁর বাক্য, ক্রিয়া, মুদ্রা বিজ্ঞেহ না বুঝয় ।।
চৈঃ চঃ মধ্য ২৩/৩৯)
অনুবাদঃ- যাঁর চিত্তে কৃষ্ণপ্রেমের উদয় হয়, তাঁর কথাবার্তা, কার্যকলাপ এবং আচার-আচরণ বিজ্ঞেরাও বুঝতে পারেন না।


'শ্রদ্ধা'-শব্দে- বিশ্বাস কহে সুদৃঢ় নিশ্চয় ।
কৃষ্ণে ভক্তি কৈলে সর্বকর্ম কৃত হয় ।।
(চৈঃ চঃ মধ্য ২২/৬২)
অনুবাদঃ- কৃষ্ণভক্তি সম্পাদিত হলে অন্য সমস্ত কর্ম আপনা থেকেই সম্পাদিত হয়ে যায়। এই সুদৃঢ় বিশ্বাসকে বলা হয় শ্রদ্ধা।


কিবা বিপ্র, কিবা ন্যাসী, শূদ্র কেনে নয় ।
যেই কৃষ্ণতত্ত্ববেত্তা, সেই 'গুরু' হয় ।।
(চৈঃ চঃ মধ্য ৮/১২৮)
অনুবাদঃ- যিনি কৃষ্ণ-তত্ত্ববেত্তা তিনিই গুরু, তা তিনি ব্রাহ্মণ হোন, কিংবা সন্ন্যাসীই হোন অথবা শূদ্রই হোন, তাতে কিছুই যায় আসে না।

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    ꧁ শ্রীশ্রীচৈতন্য চরিতামৃত হইতে কিছু শিক্ষা ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

'কে আমি', 'কেনে আমায় জারে তাপত্রয়' ।
ইহা নাহি জানি-- 'কেমনে হিত হয়' ।।
(চৈঃ চঃ মধ্য ২০/১০২)
অনুবাদঃ- আমি কে? কেন জড় জগতের তিনটি তাপ আমাকে নিরন্তর দুঃখ দেয়? আমি যদি তা না জানি, তা হলে কিভাবে আমার যথার্থ মঙ্গল সাধিত হবে?


ব্রহ্মাণ্ড ভ্রমিতে কোন ভাগ্যবান জীব ।
গুরু-কৃষ্ণ প্রসাদে পায় ভক্তিলতা-বীজ।।
(চৈঃ চঃ মধ্য ১৯/১৫১)
অনুবাদঃ- জীব তার কর্ম অনুসারে ব্রহ্মাণ্ডে ভ্রমণ করে। কখনও সে উচ্চতর লোকে উন্নীত হয় এবং কখনও নিম্নতর লোকে অধঃপতিত হয়। এভাবেই ভ্রমণরত অসংখ্য জীবের মধ্যে কদাচিৎ কোন একটি জীব তার অসীম সৌভাগ্যের ফলে, শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় সদগুরুর সান্নিধ্য লাভ করে। এভাবেই গুরু ও কৃষ্ণ, উভয়ের কৃপার প্রভাবে জীব ভক্তিলতার বীজ প্রাপ্ত হয়।


কৃষ্ণ- সূর্যসম; মায়া হয় অন্ধকার ।
যাহাঁ কৃষ্ণ, তাহাঁ নাহি মায়ার অধিকার ।।
(চৈঃ চঃ মধ্য ২২/৩১)
অনুবাদঃ- শ্রীকৃষ্ণকে সূর্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে এবং মায়াকে অন্ধকারের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। সূর্য-কিরণের প্রকাশ হলে যেমন আর সেখানে অন্ধকার থাকতে পারে না, তেমনই কেউ যদি কৃষ্ণভক্তির পন্থা অবলম্বন করেন, তখন মায়ার অন্ধকার তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে দূর হয়ে যায়।


কৃষ্ণ ভুলি' সেই জীব অনাদি- বহির্মুখ ।
অতএব মায়া তারে দেয় সংসার-দুঃখ।।
(চৈঃ চঃ মধ্য ২০/১১৭)
অনুবাদঃ- শ্রীকৃষ্ণকে ভুলে জীব অনাদিকাল ধরে জড়া প্রকৃতির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে রয়েছে। তাই মায়া তাকে এই জড় জগতে নানা প্রকার দুঃখ প্রদান করছে ।


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    ꧁ শ্রীশ্রীচৈতন্য চরিতামৃত হইতে কিছু শিক্ষা ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


জীবের 'স্বরূপ' হয়- কৃষ্ণের 'নিত্যদাস' ।
কৃষ্ণের 'তটস্থা-শক্তি,' 'ভেদাভেদ-প্রকাশ' ।।
(চৈঃ চঃ মধ্য ২০/১০৮)
অনুবাদঃ- জীব তার স্বরূপে শ্রীকৃষ্ণের নিত্যদাস। সে শ্রীকৃষ্ণের তটস্থা শক্তি, তাই সে যুগপৎ শ্রীকৃষ্ণের ভেদ ও অভেদ প্রকাশ।


তৃণাদপি সুনীচেন তরোরপি সহিষ্ণুণা।
অমানিনা নানদেন কীর্তনীয়ঃ সদা হরিঃ।। ৩।।
অনুবাদঃ- ‍যিনি তৃণাপেক্ষা আপনাকে ক্ষুদ্র জ্ঞান করেন, ‍যিনি তরুর মত সহিষ্ণু হন, নিজে মানশূন্য হয়ে অপর লোককে সম্মান প্রদান করেন, তিনিই সর্বদা হরিকীর্তনের অধিকারী।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧     
 ক্রমশ
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




শ্রীশ্রীচৈতন্য চরিতামৃত হইতে কিছু শিক্ষা 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/08/pdf-httpsmrinmoynandy_20.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    ꧁ শ্রীশ্রীচৈতন্য চরিতামৃত হইতে কিছু শিক্ষা ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শিক্ষাগুরুকে ত জানি কৃষ্ণের স্বরূপ।  
অন্তর্য্যামী ভক্ত শ্রেষ্ঠ এই দুই রূপ। 
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত , আদিলীলা )


জীবে সাক্ষাৎ নাহি তাতে গুরু চৈতন্যর ।
শিক্ষাগুরু হয় কৃষ্ণ মহান্ত -স্বরূপ।।
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত , আদিলীলা )



ঈশ্বর স্বরূপ ভক্ত তাঁর অধিষ্ঠান।
ভক্তের হৃদয়ে কৃষ্ণের সতত বিশ্রাম।।
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত , আদিলীলা )


নন্দসুত বলি যাঁরে ভাগবতে গাই। 
সেই কৃষ্ণ অবতীর্ণ চৈতন্য গোসাঞি।।
প্রকাশ- বিশেষে তেঁহো ধরে তিন নাম।
ব্রহ্ম পরমাত্মা আর পূর্ণ ভগবান্।।
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত , আদিলীলা )

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    ꧁ শ্রীশ্রীচৈতন্য চরিতামৃত হইতে কিছু শিক্ষা ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

সত্য ত্রেতা দ্বাপর কলি চারিযুগ জানি।
সেই চারিযুগ দিব্য এক যুগ মানি।।
একাত্তর চতুর্য্যুগে এক মন্বন্তর।
চৌদ্দ মন্বন্তর ব্রহ্মার দিবস- ভিতর।।
বৈবস্বত নাম এই সপ্তম মন্বন্তর।
সাতাইশ চতুর্যুগে গেল তাহার অন্তর।।
অষ্টাবিংশ  চতুর্যুগে দ্বাপরের শেষে।
ব্রজের সহিতে হয় কৃষ্ণের প্রকাশে।।
দাস্য সখ্য বাৎসল্য শৃঙ্গার চারি রস।
চারিভাবে ভক্ত যত কৃষ্ণ তার বশ।।
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত , আদিলীলা, তৃতীয় পরিচ্ছেদ )



এত ভাবি কলিকালে প্রথম সন্ধ্যায়।
অবতীর্ন হৈলা কৃষ্ণ আপান নদীয়ায়।।
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত , আদিলীলা, তৃতীয় পরিচ্ছেদ )



সঙ্কীর্ত্তন- প্রবর্ত্তক শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য
সঙ্কীর্ত্তন- যজ্ঞে তাঁরে ভজে সেই ধন্য।।
সেই ত সুমেধা আর কুবুদ্ধি সংসার।
সর্ব্বযজ্ঞ হৈতে কৃষ্ণনামযজ্ঞ সার।।
কোটি অশ্বমেধ এক কৃষ্ণনাম সম।
যেই কহে সে পাষণ্ডী দণ্ডে তারে যম।।
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত , আদিলীলা, তৃতীয় পরিচ্ছেদ )



নাম বিনু কলিকালে ধর্ম্ম নাহি আর।
কলিকালে কৈছে হবে কৃষ্ণ অবতার 
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত , আদিলীলা, তৃতীয় পরিচ্ছেদ )


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    ꧁ শ্রীশ্রীচৈতন্য চরিতামৃত হইতে কিছু শিক্ষা ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


আমাকেত যে যে ভক্ত ভজে যেই ভাবে।
তারে সে সে ভাবে ভজি এ মোর স্বভাবে।।
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত , আদিলীলা, চতুর্থ পরিচ্ছেদ )



সেই রাধার ভাব লঞা চৈত্যন্যাবতার।
যুগধর্ম্ম নাম প্রেম কৈল পরচার।।
সেই ভাবে নিজ বাঞ্চা করিল পূরণ।
অবতারের এই বাঞ্চা মূল যে কারণ।।
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য গোসাঞি ব্রজেন্দ্রকুমার।
রসময় মূর্ত্তি কৃষ্ণ সাক্ষাৎ শৃঙ্গার।।
সেই রস আস্বাদিতে কৈল অবতার।
আনুসঙ্গে কৈল সব রসের প্রচার।।
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত , আদিলীলা, চতুর্থ পরিচ্ছেদ )


 
আত্মেন্দ্রিয় প্রীতি-বাঞ্ছা- -তারে বলি, 'কাম' ।
কৃষ্ণেন্দ্রিয়প্রীতি-ইচ্ছা ধরে 'প্রেম' নাম ।।
(শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত , আদিলীলা, চতুর্থ পরিচ্ছেদ )
অনুবাদঃ- নিজের ইন্দ্রিয়-তৃপ্তির বাসনাকে বলা হয় কাম, আর শ্রীকৃষ্ণের ইন্দ্রিয়ের প্রীতি সাধনের ইচ্ছাকে বলা হয় প্রেম ।


কৃষ্ণবর্ণং ত্বিষাকৃষ্ণং সাঙ্গোপাঙ্গাস্ত্রপার্ষদম্।
যজ্ঞৈঃ সঙ্কীর্ত্তনপ্রায়ৈর্যজন্তি হি সুমেধসঃ।।    
তত্রৈব (১১|৫|২৯) 


একলে ঈশ্বর কৃষ্ণ, আর সব ভৃত্য ।
যারে যৈছে নাচায়, সে তৈছে করে নৃত্য ।।
(চৈঃ চঃ আদি ৫/১৪২)
অনুবাদঃ- একমাত্র শ্রীকৃষ্ণই হচ্ছেন পরম ঈশ্বর এবং অন্য সকলেই তাঁর সেবক। তিনি যেভাবে নির্দেশ দেন, তাঁরা সেভাবেই নৃত্য করেন ।

কলিকালে নামরূপে কৃষ্ণ-অবতার ।
নাম হৈতে হয় সর্বজগতৎ-নিস্তার ।।
(চৈঃ চঃ আদি ১৭/২২)
অনুবাদঃ- এই কলিযুগে ভগবানের দিব্যনাম 'হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র' হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের অবতার। কেবলমাত্র এই দিব্যনাম গ্রহণ করার ফলে, যে কোন মানুষ সরাসরিভাবে ভগবানের সঙ্গ লাভ করতে পারেন। যিনি তা করেন, তিনি অবশ্যই উদ্ধার লাভ করেন। এই নামের প্রভাবেই কেবল সমস্ত জগৎ নিস্তার পেতে পারে।

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    ꧁ শ্রীশ্রীচৈতন্য চরিতামৃত হইতে কিছু শিক্ষা ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

'সাধুসঙ্গ', 'সাধুসঙ্গ' - সর্বশাস্ত্রে কয় ।
লবমাত্র সাধুসঙ্গে সর্বসিদ্ধি হয় ।।
(চৈঃ চঃ মধ্য ২২/৫৪)
অনুবাদঃ- সমস্ত শাস্ত্রের সিদ্ধান্ত হচ্ছে যে, শুদ্ধ ভক্তের সঙ্গ যদি মুহূর্তের জন্যও লাভ করা যায়, তা হলেই সর্বসিদ্ধি লাভ হয়।


কৃষ্ণভক্ত- নিষ্কাম, অতএব 'শান্ত' ।
ভুক্তি-মুক্তি-সিদ্ধি-কামী-- সকলি 'অশান্ত' ।।
(চৈঃ চঃ মধ্য ১৯/১৪৯)
অনুবাদঃ- কৃষ্ণভক্ত নিষ্কাম বলেই শান্ত। সকাম কর্মীরা জড় ভোগ কামনা করেন, জ্ঞানীরা মুক্তি কামনা করেন, আর যোগীরা জড়-জাগতিক সিদ্ধি কামনা করেন। তাই এরা সকলেই কামার্ত ও অশান্ত।


যাঁর চিত্তে কৃষ্ণপ্রেমা করয়ে উদয়।
তাঁর বাক্য, ক্রিয়া, মুদ্রা বিজ্ঞেহ না বুঝয় ।।
চৈঃ চঃ মধ্য ২৩/৩৯)
অনুবাদঃ- যাঁর চিত্তে কৃষ্ণপ্রেমের উদয় হয়, তাঁর কথাবার্তা, কার্যকলাপ এবং আচার-আচরণ বিজ্ঞেরাও বুঝতে পারেন না।


'শ্রদ্ধা'-শব্দে- বিশ্বাস কহে সুদৃঢ় নিশ্চয় ।
কৃষ্ণে ভক্তি কৈলে সর্বকর্ম কৃত হয় ।।
(চৈঃ চঃ মধ্য ২২/৬২)
অনুবাদঃ- কৃষ্ণভক্তি সম্পাদিত হলে অন্য সমস্ত কর্ম আপনা থেকেই সম্পাদিত হয়ে যায়। এই সুদৃঢ় বিশ্বাসকে বলা হয় শ্রদ্ধা।


কিবা বিপ্র, কিবা ন্যাসী, শূদ্র কেনে নয় ।
যেই কৃষ্ণতত্ত্ববেত্তা, সেই 'গুরু' হয় ।।
(চৈঃ চঃ মধ্য ৮/১২৮)
অনুবাদঃ- যিনি কৃষ্ণ-তত্ত্ববেত্তা তিনিই গুরু, তা তিনি ব্রাহ্মণ হোন, কিংবা সন্ন্যাসীই হোন অথবা শূদ্রই হোন, তাতে কিছুই যায় আসে না।

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    ꧁ শ্রীশ্রীচৈতন্য চরিতামৃত হইতে কিছু শিক্ষা ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

'কে আমি', 'কেনে আমায় জারে তাপত্রয়' ।
ইহা নাহি জানি-- 'কেমনে হিত হয়' ।।
(চৈঃ চঃ মধ্য ২০/১০২)
অনুবাদঃ- আমি কে? কেন জড় জগতের তিনটি তাপ আমাকে নিরন্তর দুঃখ দেয়? আমি যদি তা না জানি, তা হলে কিভাবে আমার যথার্থ মঙ্গল সাধিত হবে?


ব্রহ্মাণ্ড ভ্রমিতে কোন ভাগ্যবান জীব ।
গুরু-কৃষ্ণ প্রসাদে পায় ভক্তিলতা-বীজ।।
(চৈঃ চঃ মধ্য ১৯/১৫১)
অনুবাদঃ- জীব তার কর্ম অনুসারে ব্রহ্মাণ্ডে ভ্রমণ করে। কখনও সে উচ্চতর লোকে উন্নীত হয় এবং কখনও নিম্নতর লোকে অধঃপতিত হয়। এভাবেই ভ্রমণরত অসংখ্য জীবের মধ্যে কদাচিৎ কোন একটি জীব তার অসীম সৌভাগ্যের ফলে, শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় সদগুরুর সান্নিধ্য লাভ করে। এভাবেই গুরু ও কৃষ্ণ, উভয়ের কৃপার প্রভাবে জীব ভক্তিলতার বীজ প্রাপ্ত হয়।


কৃষ্ণ- সূর্যসম; মায়া হয় অন্ধকার ।
যাহাঁ কৃষ্ণ, তাহাঁ নাহি মায়ার অধিকার ।।
(চৈঃ চঃ মধ্য ২২/৩১)
অনুবাদঃ- শ্রীকৃষ্ণকে সূর্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে এবং মায়াকে অন্ধকারের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। সূর্য-কিরণের প্রকাশ হলে যেমন আর সেখানে অন্ধকার থাকতে পারে না, তেমনই কেউ যদি কৃষ্ণভক্তির পন্থা অবলম্বন করেন, তখন মায়ার অন্ধকার তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে দূর হয়ে যায়।


কৃষ্ণ ভুলি' সেই জীব অনাদি- বহির্মুখ ।
অতএব মায়া তারে দেয় সংসার-দুঃখ।।
(চৈঃ চঃ মধ্য ২০/১১৭)
অনুবাদঃ- শ্রীকৃষ্ণকে ভুলে জীব অনাদিকাল ধরে জড়া প্রকৃতির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে রয়েছে। তাই মায়া তাকে এই জড় জগতে নানা প্রকার দুঃখ প্রদান করছে ।


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    ꧁ শ্রীশ্রীচৈতন্য চরিতামৃত হইতে কিছু শিক্ষা ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


জীবের 'স্বরূপ' হয়- কৃষ্ণের 'নিত্যদাস' ।
কৃষ্ণের 'তটস্থা-শক্তি,' 'ভেদাভেদ-প্রকাশ' ।।
(চৈঃ চঃ মধ্য ২০/১০৮)
অনুবাদঃ- জীব তার স্বরূপে শ্রীকৃষ্ণের নিত্যদাস। সে শ্রীকৃষ্ণের তটস্থা শক্তি, তাই সে যুগপৎ শ্রীকৃষ্ণের ভেদ ও অভেদ প্রকাশ।


তৃণাদপি সুনীচেন তরোরপি সহিষ্ণুণা।
অমানিনা নানদেন কীর্তনীয়ঃ সদা হরিঃ।। ৩।।
অনুবাদঃ- ‍যিনি তৃণাপেক্ষা আপনাকে ক্ষুদ্র জ্ঞান করেন, ‍যিনি তরুর মত সহিষ্ণু হন, নিজে মানশূন্য হয়ে অপর লোককে সম্মান প্রদান করেন, তিনিই সর্বদা হরিকীর্তনের অধিকারী।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧     
 ক্রমশ
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




*পতিত-পাবন নাম, ঘোষণা তোমার শ‍্যাম,* *উপেখিলে নাহি মোর গতি।**যদি হই অপরাধী,তথাপিহ তুমি গতি,* *সত‍্য সত‍্য যেন সতী পতি।।* ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ, নিবাস-বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা-ইংরেজ বাজার, জেলা-মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ-৭৩২১০১

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ *পতিত-পাবন নাম, ঘোষণা তোমার শ‍্যাম,* ꧂
           ꧁ *উপেখিলে নাহি মোর গতি।* 
   ꧁ *যদি হই অপরাধী, তথাপিহ তুমি গতি,* 
              *সত‍্য সত‍্য যেন সতী পতি।।* 
                        👇👇👇🙏👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সকল কিছু লিখনী👇👇🙏👇👇📚 *PDF গ্রন্থ* 📚 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔
*পতিত-পাবন নাম, ঘোষণা তোমার শ‍্যাম,*
     *উপেখিলে নাহি মোর গতি।*
*যদি হই অপরাধী,তথাপিহ তুমি গতি,*
     *সত‍্য সত‍্য যেন সতী পতি।।*
🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔
*ঠাকুর মহাশয় নিজেকে নিতান্ত পতিত অধমজন জ্ঞানে শ্রীভগবৎ-পাদপদ্মে ঐকান্তিক শরণাগতি কামনা করছেন।* *পতিত পাবন---------মোর গতি।*
*হে শ‍্যাম! তোমার পতিতপাবন নাম জগতে সর্বত্রই ঘোষিত,আমিও নিতান্ত পতিত জন ; সুতরাং আমায় উপেক্ষা করলে আমার আর গতি নাই। শ্রীকৃষ্ণকে "শ‍্যাম"নামে সম্বোধন করবার মধ্যে কিঞ্চিৎ রহস‍্য রয়েছে। "শ‍্যাম" শব্দের একটি অর্থ অভিধানে এইরকম লিখিত আছে ("শ‍্যায়তে গচ্ছতি মনোহস্মিন্নিতি শ‍্যামঃ")অর্থ‍্যাৎ যাতে মন গমন করে তার নাম "শ‍্যাম"।* *কিন্তু শ‍্যামের প্রতি স্বাভাবিক ভাবে তো সকলের মন গমন করে না।ধন,জনাদি,মান,প্রতিপত্তি প্রভৃতি দেহ দৈহিকাদির সুখ-স্বাচ্ছন্দ‍্য বিষয়েই প্রায় সকলের মন গমন করে থাকে।* *যদি স্বাভাবিক ভাবে সকলের মন শ‍্যামের (শ্রীকৃষ্ণের) দিকে গমন করত,তবে আর সে জন্য এত সাধন-ভজনের প্রয়োজন কি ছিল?* *স্বভাবতঃই আমাদের* *মনে এইরকম প্রশ্নের উদ্রেক হতে পারে। *আমরা যদি ধীরমনে এই* *বিষয়ে চিন্তা করি,তাহলে অবশ্যই* *বুঝতে পারব যে,বিশ্বের সমস্ত জীবের* *মন আনন্দের দিকেই ধাবমান হচ্ছে।* *জীবগণ সুখ বা আনন্দই চাইতে থাকে,আর সেই আনন্দের ঘনীভূত মূর্তিই ""রসো বৈ সঃ"", "আনন্দং ব্রহ্ম" "রসানাং রসতমঃ" শ‍্যাম। সুতরাং প্রকৃতপক্ষে আমাদের সবার মন শ‍্যামের দিকে ধাবিত হলেও আমরা অনেকে শ‍্যামকে ধরতে না পেরে তা হতে বিচ্ছুরিত যে আনন্দ,তার আভাস-কণিকামাত্র যে বিশ্বের জড়ীয় রূপ রসাদিতে নিহিত রয়েছি।* *তা নিয়ে মত্ত হয়ে শ‍্যামকে ভুলে রয়েছি।শ্রীগুরু বৈষ্ণবের কৃপায় যাঁরা জগতকে ভুলে জগন্নাথের অপ্রাকৃত সৌন্দর্য,মাধুর্য,রূপ, রসাদি আস্বাদনের জন্য লোলুপ,তাঁরাই সাধন ভজনের পরিপাকে শ‍্যাম-মাধুরী আস্বাদনে ধন‍্য হয়ে থাকেন।বিশ্বকে ভুলে অর্থ‍্যাৎ দেহ-দৈহিকাদির অভিমান ত‍্যাগ করে যদি যথার্থ "পতিত" না হলে পতিতপাবনের সন্ধান পাওয়া অতীব দুষ্কর।* *তাই ঠাকুর মহাশয় বলেছেন,তোমার পতিতপাবন নাম জগতে ঘোষিত এবং আমিও নিতান্তই পতিতই, সুতরাং আমায় উপেক্ষা করলে তোমার পতিতপাবন নামের কলঙ্ক হবে।* *এবং পতিতাধম জন বিশ্বে আর তুমি খুঁজে পাবে না। শ‍্যাম যদি বলেন,* *তোমায় উপেক্ষা করলে আমার পতিতপাবন নামের কলঙ্ক হবে হোক,তাতে তোমার কি? তদুত্তরে বললেন,তুমি উপেক্ষা করলে আমার আর অন‍্য কোন গতি অর্থ‍্যাৎ উপায় বা আশ্রয় যে কোথাও নাই।* 
  🍀🍀ক্রমশ🍀🍀*

 *🍀হে শ‍্যাম!তোমার "কৃষ্ণ" "গোবিন্দ"প্রভৃতি নাম যে পতিতপাবন তা জগতের সর্বত্র ঘোষিত।আমি অধম পতিত হলেও তোমার পতিত-পাবন সেই নামকে আশ্রয় করে আছি। সুতরাং অনন‍্যগতি তুমি আমায় উপেক্ষা করতে পারো না।শ্রীকৃষ্ণ পতিত-পাফন হলেও তাঁর নামেই এই গুণের সর্বাধিক অভিব‍্যক্তি বা প্রকাশ। পুত্রোপচারিত "নারায়ণ" শব্দের উচ্চারণ মাত্রে মহাপাতকী মুমুর্ষু অজামিলের কাছে বিষ্ণু দূতগণের আগমন এবং যমদূতগণকে বিতাড়ন করে অজামিলকে রক্ষা এবং যথাসময়ে বৈকুন্ঠে নিয়ে এসেছিলেন,এই প্রসঙ্গ ভাগবতে বর্ণিত আছে।সেখানে বিষ্ণুদূতগণের প্রতি উক্তিতে দেখা যায় ---*
*স্তেনঃ সুরাপো মিত্রধ্রুগ্ ব্রহ্মহা গুরুতল্পগঃ।*
*স্ত্রীরাজপিতৃগোহন্তা যে চ পাতকিনোহপরে।।*
*সর্বেষামপ‍্যঘবতামিদমেব সুনিষ্কৃম্*।
*নামব‍্যাবহরণং বিষ্ণোর্যতস্তদ্বিষয়া মতিঃ।।*
*অর্থ‍্যাৎ স্বর্ণস্তেয়ী,মদ‍্যপায়ী,মিত্রদ্রোহী, ব্রহ্মঘ্ন, গুরুপত্নীগামী,স্ত্রী,রাজা,পিতা ও গোহত‍্যাকারী এবং অন‍্যান‍্য মহাপাতকী বা অতি পাতকী সকলের শ্রীবিষ্ণুর নামকীর্তন সর্বপ্রকার পাপের শ্রেষ্ঠ ও পরম পবিত্র প্রায়শ্চিত্ত।যেহেতু নাম উচ্চারণকারীর প্রতি শ্রীবিষ্ণুর তদ্বিষয়া(সম্বন্ধে)মতি হয়ে থাকে।তাৎপর্য‍্য এই যে,অন‍্য প্রায়শ্চিত্তে পাপ নাশ হলেও পাপীর হৃদয় শোধন হয় না, বা তাদের চিত্তে ভগবৎস্মৃতি জাগরিত হয় না।* *বরং "আমি নিষ্পাপ"এইরকম অভিমানই অন্তরে উদিত হয়ে থাকে। শ্রীনাকীর্তনরূপ প্রায়শ্চিত্তের মহত্ত্ব এই যে,* *নামাভাসেই অনন্ত মহাপাতক অতিপাতক জ্বলন্ত আগুনে তূলপিন্ডের মতো ত‍ৎক্ষণাৎ ভস্মীভূত হয়ে যায় এবং পাপবাসনায় মলিনচিত্তও পরিশোধিত হয়ে যায়।*  *কারণ নামাভাসে নাম উচ্চারণকারীর হৃদয়ে শ্রীবিষ্ণুর অনুসন্ধান না থাকলেও অর্থ‍্যাৎ আমি বিষ্ণুর নাম করছি,এইরকম অনুসন্ধান না থাকলেও (অজামিল যেমন পুত্রকে নারায়ণ বলে ডেকেছিল,এইরকম অন‍্য সঙ্কেতেই নামাভাস হয় )শ্রীবিষ্ণুর কিন্তু নাম উচ্চারণকারী ব‍্যক্তির কথা স্মরণ হয় এবং "এ আমার দাস, আমা কর্তৃক সর্বদা রক্ষণীয়, এইরকম তদ্বিষয়া মতি উদয় হয়ে থাকে।*
*সুতরাং ভগবন্নামের যে পতিত পাবনতা গুণ বা শক্তি আছে,ইহা আর কোথাও সম্ভবপর নয়।*
*ভগবান যেন বলেছেন,"নামের সেই পতিত-পাবনতাদি গুণ তো নিরপরাধজনের প্রতিই প্রকাশিত হয়,অপরাধীর প্রতি নামের তো প্রসন্নতা থাকে না"?* *তার উত্তরে ঠাকুর মহাশয় বলেছেন,""যদি হই অপরাধী,তথাপিহ তুমি গতি,সত‍্য সত‍্য যেন সতী পতি", প্রেমের মূর্তি হয়েও বিপুল দৈন‍্যবশত ঠাকুরমহাশয় নিজেকে মহাঅপরাধী জ্ঞানে বলছেন,"প্রভু যদি"(এখানে "যদি"শব্দটি নিশ্চয়ার্থে,সংশয়ার্থে নয়; কারণ ঠাকুরমহাশয় নিজেকে বাস্তবিকই অপরাধী বলে মনে করছেন।যেমন"যদি বেদাঃ প্রমাণং স‍্যুঃ" অর্থ‍্যাৎ যদি বেদে প্রামাণ‍্য থাকে " এখানে "যদি" শব্দ নিশ্চয়ার্থে কারণ বেদ অবশ্যই প্রামাণ‍্য বা বেদের প্রামাণ‍্য বিষয়ে কারো সংশয় থাকতে পারে না।)* *আমি অপরাধী হই,তথাপি সতী রমণী পতিচরণে কোন অপরাধ করলে,পতি যেমন তা অবশ্যই ক্ষমা করে থাকেন,কারণ পতিব্রতার পতিই তো একমাত্র গতি,* *তিনি ক্ষমা না করলে পতিব্রতা আর কার কাছে যাবেন?তদ্রুপ প্রভো!তুমিই যে আমার একমাত্র গতি,তুমি অপরাধের ক্ষমা না করলে আমার আর কোন উপায় নাই।* *তাৎপর্য‍্য এই যে,সতী রমণী যদি পতির চরণে কোন অপরাধ করেন,পতি তা অবশ্যই ক্ষমা করে থাকেন।কিন্তু পত্নী ব‍্যভিচারিনী হলে পতি উহা কখনই ক্ষমা করেন না,তাকে পরিত‍্যাগই করে থাকেন। তদ্রুপ শ্রীহরির একনিষ্ঠ অনন‍্য ভক্ত যাঁরা, অর্থ‍্যাৎ শ্রীহরির ছাড়া অন‍্য কোন দেব-দেবীর উপাসনা করেন না বা যাঁদের অন্তরে প্রেমসেবার কামনা ব‍্যতীত অন‍্য কোন কামনারও জায়গা নাই,তাঁরা যদি দৈবাৎ (হঠাৎ) অসৎসঙ্গের প্রভাবে বা অসৎসংস্কারবশে শ্রীহরির চরণে কোনরকম অপরাধ করে থাকেন, শ্রীহরি তা অবশ্যই ক্ষমা করেন। কিন্তু অন‍্য দেব উপাসনা বা কৃষ্ণেতর কামনা অন্তরে বিদ‍্যমান থাকলে শ্রীহরি ব‍্যভিচারিনী রমণীর মত তাকে পরিত‍্যাগই করে থাকেন।* *অথবা ভগবানে মন রেখে তাঁর সেবায় নিযুক্ত হলে যদি কারো কোনরকম অপরাধ হয়,ভগবান তা ক্ষমা করে থাকেন, কিন্তু ভগবৎ পরিচর্যাকার্য‍্যে নিরত থেকেও যদি কেউ পরদারাদিতে নিরত হয়ে ব‍্যভিচার করে থাকে,ভগবান তাঁর অপরাধ ক্ষমা করেন না বা তাঁর সেবাও গ্রহণ করেন না।* *তবে যদি অন‍ন‍্য-ভজনকারীর প্রবল অসৎসঙ্গ বা দুষ্টসংস্কারের ফলে পরদারাদিতে আসক্তি জাত(জন্ম) হয়, তিনি যদি উহা পরিত‍্যাগ করে সাতিশয় অনুতপ্ত হয়ে শ্রীহরির চরণে ঐকান্তিক ভাবে শরণাপন্ন হন,তখন শ্রীহরি তাঁর প্রতি প্রসন্ন হয়ে ক্ষমা করে থাকেন। এজন‍্যই গীতাতে বলেছেন,"ক্ষিপ্রং ভবতি ধর্মাত্মা শশ্বচ্ছান্তিং নিগচ্ছতি।কৌন্তেয় প্রতিজানীহি ন মে ভক্তঃ প্রণশ‍্যতি।।*
*🍀জয় নিতাই গৌর হরিবল🍀*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






*পতিত-পাবন নাম, ঘোষণা তোমার শ‍্যাম,* *উপেখিলে নাহি মোর গতি।**যদি হই অপরাধী,তথাপিহ তুমি গতি,* *সত‍্য সত‍্য যেন সতী পতি।।* ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ, নিবাস-বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা-ইংরেজ বাজার, জেলা-মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ-৭৩২১০১

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ *পতিত-পাবন নাম, ঘোষণা তোমার শ‍্যাম,* ꧂
           ꧁ *উপেখিলে নাহি মোর গতি।* 
   ꧁ *যদি হই অপরাধী, তথাপিহ তুমি গতি,* 
              *সত‍্য সত‍্য যেন সতী পতি।।* 
                        👇👇👇🙏👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সকল কিছু লিখনী👇👇🙏👇👇📚 *PDF গ্রন্থ* 📚 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔
*পতিত-পাবন নাম, ঘোষণা তোমার শ‍্যাম,*
     *উপেখিলে নাহি মোর গতি।*
*যদি হই অপরাধী,তথাপিহ তুমি গতি,*
     *সত‍্য সত‍্য যেন সতী পতি।।*
🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔🔔
*ঠাকুর মহাশয় নিজেকে নিতান্ত পতিত অধমজন জ্ঞানে শ্রীভগবৎ-পাদপদ্মে ঐকান্তিক শরণাগতি কামনা করছেন।* *পতিত পাবন---------মোর গতি।*
*হে শ‍্যাম! তোমার পতিতপাবন নাম জগতে সর্বত্রই ঘোষিত,আমিও নিতান্ত পতিত জন ; সুতরাং আমায় উপেক্ষা করলে আমার আর গতি নাই। শ্রীকৃষ্ণকে "শ‍্যাম"নামে সম্বোধন করবার মধ্যে কিঞ্চিৎ রহস‍্য রয়েছে। "শ‍্যাম" শব্দের একটি অর্থ অভিধানে এইরকম লিখিত আছে ("শ‍্যায়তে গচ্ছতি মনোহস্মিন্নিতি শ‍্যামঃ")অর্থ‍্যাৎ যাতে মন গমন করে তার নাম "শ‍্যাম"।* *কিন্তু শ‍্যামের প্রতি স্বাভাবিক ভাবে তো সকলের মন গমন করে না।ধন,জনাদি,মান,প্রতিপত্তি প্রভৃতি দেহ দৈহিকাদির সুখ-স্বাচ্ছন্দ‍্য বিষয়েই প্রায় সকলের মন গমন করে থাকে।* *যদি স্বাভাবিক ভাবে সকলের মন শ‍্যামের (শ্রীকৃষ্ণের) দিকে গমন করত,তবে আর সে জন্য এত সাধন-ভজনের প্রয়োজন কি ছিল?* *স্বভাবতঃই আমাদের* *মনে এইরকম প্রশ্নের উদ্রেক হতে পারে। *আমরা যদি ধীরমনে এই* *বিষয়ে চিন্তা করি,তাহলে অবশ্যই* *বুঝতে পারব যে,বিশ্বের সমস্ত জীবের* *মন আনন্দের দিকেই ধাবমান হচ্ছে।* *জীবগণ সুখ বা আনন্দই চাইতে থাকে,আর সেই আনন্দের ঘনীভূত মূর্তিই ""রসো বৈ সঃ"", "আনন্দং ব্রহ্ম" "রসানাং রসতমঃ" শ‍্যাম। সুতরাং প্রকৃতপক্ষে আমাদের সবার মন শ‍্যামের দিকে ধাবিত হলেও আমরা অনেকে শ‍্যামকে ধরতে না পেরে তা হতে বিচ্ছুরিত যে আনন্দ,তার আভাস-কণিকামাত্র যে বিশ্বের জড়ীয় রূপ রসাদিতে নিহিত রয়েছি।* *তা নিয়ে মত্ত হয়ে শ‍্যামকে ভুলে রয়েছি।শ্রীগুরু বৈষ্ণবের কৃপায় যাঁরা জগতকে ভুলে জগন্নাথের অপ্রাকৃত সৌন্দর্য,মাধুর্য,রূপ, রসাদি আস্বাদনের জন্য লোলুপ,তাঁরাই সাধন ভজনের পরিপাকে শ‍্যাম-মাধুরী আস্বাদনে ধন‍্য হয়ে থাকেন।বিশ্বকে ভুলে অর্থ‍্যাৎ দেহ-দৈহিকাদির অভিমান ত‍্যাগ করে যদি যথার্থ "পতিত" না হলে পতিতপাবনের সন্ধান পাওয়া অতীব দুষ্কর।* *তাই ঠাকুর মহাশয় বলেছেন,তোমার পতিতপাবন নাম জগতে ঘোষিত এবং আমিও নিতান্তই পতিতই, সুতরাং আমায় উপেক্ষা করলে তোমার পতিতপাবন নামের কলঙ্ক হবে।* *এবং পতিতাধম জন বিশ্বে আর তুমি খুঁজে পাবে না। শ‍্যাম যদি বলেন,* *তোমায় উপেক্ষা করলে আমার পতিতপাবন নামের কলঙ্ক হবে হোক,তাতে তোমার কি? তদুত্তরে বললেন,তুমি উপেক্ষা করলে আমার আর অন‍্য কোন গতি অর্থ‍্যাৎ উপায় বা আশ্রয় যে কোথাও নাই।* 
  🍀🍀ক্রমশ🍀🍀*

 *🍀হে শ‍্যাম!তোমার "কৃষ্ণ" "গোবিন্দ"প্রভৃতি নাম যে পতিতপাবন তা জগতের সর্বত্র ঘোষিত।আমি অধম পতিত হলেও তোমার পতিত-পাবন সেই নামকে আশ্রয় করে আছি। সুতরাং অনন‍্যগতি তুমি আমায় উপেক্ষা করতে পারো না।শ্রীকৃষ্ণ পতিত-পাফন হলেও তাঁর নামেই এই গুণের সর্বাধিক অভিব‍্যক্তি বা প্রকাশ। পুত্রোপচারিত "নারায়ণ" শব্দের উচ্চারণ মাত্রে মহাপাতকী মুমুর্ষু অজামিলের কাছে বিষ্ণু দূতগণের আগমন এবং যমদূতগণকে বিতাড়ন করে অজামিলকে রক্ষা এবং যথাসময়ে বৈকুন্ঠে নিয়ে এসেছিলেন,এই প্রসঙ্গ ভাগবতে বর্ণিত আছে।সেখানে বিষ্ণুদূতগণের প্রতি উক্তিতে দেখা যায় ---*
*স্তেনঃ সুরাপো মিত্রধ্রুগ্ ব্রহ্মহা গুরুতল্পগঃ।*
*স্ত্রীরাজপিতৃগোহন্তা যে চ পাতকিনোহপরে।।*
*সর্বেষামপ‍্যঘবতামিদমেব সুনিষ্কৃম্*।
*নামব‍্যাবহরণং বিষ্ণোর্যতস্তদ্বিষয়া মতিঃ।।*
*অর্থ‍্যাৎ স্বর্ণস্তেয়ী,মদ‍্যপায়ী,মিত্রদ্রোহী, ব্রহ্মঘ্ন, গুরুপত্নীগামী,স্ত্রী,রাজা,পিতা ও গোহত‍্যাকারী এবং অন‍্যান‍্য মহাপাতকী বা অতি পাতকী সকলের শ্রীবিষ্ণুর নামকীর্তন সর্বপ্রকার পাপের শ্রেষ্ঠ ও পরম পবিত্র প্রায়শ্চিত্ত।যেহেতু নাম উচ্চারণকারীর প্রতি শ্রীবিষ্ণুর তদ্বিষয়া(সম্বন্ধে)মতি হয়ে থাকে।তাৎপর্য‍্য এই যে,অন‍্য প্রায়শ্চিত্তে পাপ নাশ হলেও পাপীর হৃদয় শোধন হয় না, বা তাদের চিত্তে ভগবৎস্মৃতি জাগরিত হয় না।* *বরং "আমি নিষ্পাপ"এইরকম অভিমানই অন্তরে উদিত হয়ে থাকে। শ্রীনাকীর্তনরূপ প্রায়শ্চিত্তের মহত্ত্ব এই যে,* *নামাভাসেই অনন্ত মহাপাতক অতিপাতক জ্বলন্ত আগুনে তূলপিন্ডের মতো ত‍ৎক্ষণাৎ ভস্মীভূত হয়ে যায় এবং পাপবাসনায় মলিনচিত্তও পরিশোধিত হয়ে যায়।*  *কারণ নামাভাসে নাম উচ্চারণকারীর হৃদয়ে শ্রীবিষ্ণুর অনুসন্ধান না থাকলেও অর্থ‍্যাৎ আমি বিষ্ণুর নাম করছি,এইরকম অনুসন্ধান না থাকলেও (অজামিল যেমন পুত্রকে নারায়ণ বলে ডেকেছিল,এইরকম অন‍্য সঙ্কেতেই নামাভাস হয় )শ্রীবিষ্ণুর কিন্তু নাম উচ্চারণকারী ব‍্যক্তির কথা স্মরণ হয় এবং "এ আমার দাস, আমা কর্তৃক সর্বদা রক্ষণীয়, এইরকম তদ্বিষয়া মতি উদয় হয়ে থাকে।*
*সুতরাং ভগবন্নামের যে পতিত পাবনতা গুণ বা শক্তি আছে,ইহা আর কোথাও সম্ভবপর নয়।*
*ভগবান যেন বলেছেন,"নামের সেই পতিত-পাবনতাদি গুণ তো নিরপরাধজনের প্রতিই প্রকাশিত হয়,অপরাধীর প্রতি নামের তো প্রসন্নতা থাকে না"?* *তার উত্তরে ঠাকুর মহাশয় বলেছেন,""যদি হই অপরাধী,তথাপিহ তুমি গতি,সত‍্য সত‍্য যেন সতী পতি", প্রেমের মূর্তি হয়েও বিপুল দৈন‍্যবশত ঠাকুরমহাশয় নিজেকে মহাঅপরাধী জ্ঞানে বলছেন,"প্রভু যদি"(এখানে "যদি"শব্দটি নিশ্চয়ার্থে,সংশয়ার্থে নয়; কারণ ঠাকুরমহাশয় নিজেকে বাস্তবিকই অপরাধী বলে মনে করছেন।যেমন"যদি বেদাঃ প্রমাণং স‍্যুঃ" অর্থ‍্যাৎ যদি বেদে প্রামাণ‍্য থাকে " এখানে "যদি" শব্দ নিশ্চয়ার্থে কারণ বেদ অবশ্যই প্রামাণ‍্য বা বেদের প্রামাণ‍্য বিষয়ে কারো সংশয় থাকতে পারে না।)* *আমি অপরাধী হই,তথাপি সতী রমণী পতিচরণে কোন অপরাধ করলে,পতি যেমন তা অবশ্যই ক্ষমা করে থাকেন,কারণ পতিব্রতার পতিই তো একমাত্র গতি,* *তিনি ক্ষমা না করলে পতিব্রতা আর কার কাছে যাবেন?তদ্রুপ প্রভো!তুমিই যে আমার একমাত্র গতি,তুমি অপরাধের ক্ষমা না করলে আমার আর কোন উপায় নাই।* *তাৎপর্য‍্য এই যে,সতী রমণী যদি পতির চরণে কোন অপরাধ করেন,পতি তা অবশ্যই ক্ষমা করে থাকেন।কিন্তু পত্নী ব‍্যভিচারিনী হলে পতি উহা কখনই ক্ষমা করেন না,তাকে পরিত‍্যাগই করে থাকেন। তদ্রুপ শ্রীহরির একনিষ্ঠ অনন‍্য ভক্ত যাঁরা, অর্থ‍্যাৎ শ্রীহরির ছাড়া অন‍্য কোন দেব-দেবীর উপাসনা করেন না বা যাঁদের অন্তরে প্রেমসেবার কামনা ব‍্যতীত অন‍্য কোন কামনারও জায়গা নাই,তাঁরা যদি দৈবাৎ (হঠাৎ) অসৎসঙ্গের প্রভাবে বা অসৎসংস্কারবশে শ্রীহরির চরণে কোনরকম অপরাধ করে থাকেন, শ্রীহরি তা অবশ্যই ক্ষমা করেন। কিন্তু অন‍্য দেব উপাসনা বা কৃষ্ণেতর কামনা অন্তরে বিদ‍্যমান থাকলে শ্রীহরি ব‍্যভিচারিনী রমণীর মত তাকে পরিত‍্যাগই করে থাকেন।* *অথবা ভগবানে মন রেখে তাঁর সেবায় নিযুক্ত হলে যদি কারো কোনরকম অপরাধ হয়,ভগবান তা ক্ষমা করে থাকেন, কিন্তু ভগবৎ পরিচর্যাকার্য‍্যে নিরত থেকেও যদি কেউ পরদারাদিতে নিরত হয়ে ব‍্যভিচার করে থাকে,ভগবান তাঁর অপরাধ ক্ষমা করেন না বা তাঁর সেবাও গ্রহণ করেন না।* *তবে যদি অন‍ন‍্য-ভজনকারীর প্রবল অসৎসঙ্গ বা দুষ্টসংস্কারের ফলে পরদারাদিতে আসক্তি জাত(জন্ম) হয়, তিনি যদি উহা পরিত‍্যাগ করে সাতিশয় অনুতপ্ত হয়ে শ্রীহরির চরণে ঐকান্তিক ভাবে শরণাপন্ন হন,তখন শ্রীহরি তাঁর প্রতি প্রসন্ন হয়ে ক্ষমা করে থাকেন। এজন‍্যই গীতাতে বলেছেন,"ক্ষিপ্রং ভবতি ধর্মাত্মা শশ্বচ্ছান্তিং নিগচ্ছতি।কৌন্তেয় প্রতিজানীহি ন মে ভক্তঃ প্রণশ‍্যতি।।*
*🍀জয় নিতাই গৌর হরিবল🍀*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






*পাপ-পূণ‍্যময় দেহ,সকলই অনিত‍্য এহ,* *ধন জন সব মিছা ধন্দ।**মরিলে যাইবে কোথা,ইহাতে না পাও ব‍্যথা,* *তবু নিতি কর কার্য‍্য মন্দ।।* ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ, নিবাস-বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা-ইংরেজ বাজার, জেলা-মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ-৭৩২১০১

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ *পাপ-পূণ‍্যময় দেহ, সকলই অনিত‍্য এহ,* ꧂
               ꧁ *ধন জন সব মিছা ধন্দ।* 
꧁ *মরিলে যাইবে কোথা, ইহাতে না পাও ব‍্যথা,* 
              *তবু নিতি কর কার্য‍্য মন্দ।।* ꧂
                        👇👇👇🙏👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সকল কিছু লিখনী👇👇🙏👇👇📚 *PDF গ্রন্থ* 📚 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 *🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲
*পাপ-পূণ‍্যময় দেহ,সকলই অনিত‍্য এহ,*
     *ধন জন সব মিছা ধন্দ।*
*মরিলে যাইবে কোথা,ইহাতে না পাও ব‍্যথা,*
    *তবু নিতি কর কার্য‍্য মন্দ।।*
🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲
*শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেমকথা বা ভজনের কথা ব‍্যতীত অন‍্য সমস্ত কথাকেই গন্ডগোল বা বৃথা কোলাহল বলেছেন এবং উহার(আনকথার) শ্রবণ,কীর্তনাদি করতে নিষেধ করেছেন। তবে দেহ-দৈহিকাদির অনিত‍্যতা চিৎজড়ের পার্থক্য প্রভৃতি তত্ত্বকথাও কি গন্ডগোল বা বৃথা কোলাহল মাত্র?তাহলে আচার্য‍্যপাদগণ এত তত্ত্ব সিদ্ধান্তের অবতারণা করেছেন কেন এবং ভক্ত মহানুভবগণকেও তত্ত্বকথার এত আলোচনা করতে দেখা যায় কেন?* *এই ধরণের প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, দেহে ও দৈহিকাদি বস্তুতে অর্থ‍্যাৎ স্ত্রী-পুত্র,ধন,জনাদিতে আসক্তি থাকলে কখনও হরিভজন হয় না।কারণ মনের আসক্তি যুগপৎ (এককালে)জড়ীয় বিষয়বস্তুতে ও ভগবানে রাখা কখনই সম্ভব নয়।*
*ভাগবতে দেখা যায়, "বিষয়ান্ ধ‍্যায়তশ্চিত্তং বিষয়েষু বিষজ্জতে।মামনুস্মরতশ্চিত্তং ময‍্যেব প্রবিলীয়তে।।*
   *ভাগবত=১১|১৪|২৭*
*শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধবের প্রতি বলেছেন, বিষয় চিন্তাশীল ব‍্যক্তির চিত্ত বিষয়েই আসক্ত হয়ে থাকে এবং সবসময় আমার চিন্তায় নিবিষ্ট(মনোযোগী)চিত্ত আমাতেই নিমগ্ন (ডুবে থাকা ) হয়ে যায়।*
*আর কি, ভগবান এও বলেছেন, "বিষয়াভিনিবেশন নাত্মানং বেদ নাপরম্।বৃক্ষজীবিকয়া ব‍্যর্থং ভস্ত্রেব যঃ শ্বসন।।* *(ভাঃ ১১|২১|২২)*
*অর্থ‍্যাৎ বিষয়ের মধ্যে ডুবে থাকা ব‍্যক্তির মন নিজেকে এবং পরমাত্মাকে কাউকেও জানতে পারে না।সে চেতনাশূন‍্যের মত,বৃক্ষের মত কেবল প্রাণ ধারণ উপযোগী বিষয় গ্রহণ করে থাকে এবং ভস্ত্রার(হাপরের) মত বৃথা শ্বাস-প্রশ্বাস ত‍্যাগ করে। সুতরাং সে জীবন মৃতের মত।দেহ-দৈহিকাদিতে নিবিষ্টচেতা ব‍্যক্তি যখন বিধিভক্তিই যাজনে সমর্থ হন না,তখন রাগভক্তি,সর্বোপরি পরম রহস‍্যময় শ্রীরাধাকৃষ্ণের ভজন যে তাঁদের পক্ষে কখনই সম্ভবপর হয় না, এইজন‍্য দেহ-দৈহিকাদির অনিত‍্যতা এবং চিৎজড়ের পার্থক্যরূপ তত্ত্ব আলোচনার প্রয়োজনও রয়েছে।* 
*🍀🍀🍀ক্রমশ🍀🍀🍀*

*🍀পাপ পূণ‍্যময় দেহ,সকলি অনিত‍্য এহ,ধন-জন সব মিছা ধন্দ।* *পাপের ফলে মানুষের দুঃখ দারিদ্র আদি যুক্ত এবং অবিরত বা সবসময় রোগ-শোক -ত্রিতাপাদি জ্বালাময় দেহ লাভ হয়ে থাকে ও পূণ‍্যের ফলে বিষয় ভোগময় শরীর লা করে থাকে।* *এইসব দেহই অনিত‍্য বা নশ্বর,অর্থ‍্যাৎ জল বুদবুদের মত অতি ক্ষণভঙ্গুর।প্রতিনিয়ত বুদ্ধিমান মানুষকে এই নশ্বর দেহ ত‍্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এবং সবসময় মনে রাখতে হবে যে ঐশ্বর্য‍্য-সম্পদ,আত্মীয়-স্বজনাদি সবই মিছা ধন্দ অর্থ‍্যাৎ মিথ‍্যা ভ্রান্তি বা মোহ ব‍্যতীত আর কিছুই নয়।কারণ অনাত্মীয় আত্মবুদ্ধি আনয়ন করাই মোহের কাজ।ইহাদ্বারা মিছা ধন্দ বা মিথ‍্যা ভ্রান্তিবশতঃ যা অস্থির,কষ্ট,তাপ ও দুঃখ শোকের আকর বা খনি,তাকেই স্থায়ী,ধ্রুব ও আনন্দের নিদান বলে মনে হয়।*
*যা কখনই তার নয়,যার প্রতি তার কিছুমাত্র অধিকার নাই ; সেই ধন জনাদি নশ্বর বস্তুকে "আমার আমার " বলে তার অভাবে মোহমুগ্ধ মানুষ অস্থির হয়ে পড়ে এবং সেই সেই বিষয় চিন্তায় দেব-দুর্লভ সাধনযোগ‍্য সুদুর্লভ আয়ুষ্কালকে বৃথা দিন কাটায়।বিষয়চিন্তা বিষময় ফলের কথা ভগবান গীতায় অর্জুনকে বলেছেন,*
*ধ‍্যায়তো বিষয়ান্ পুংসঃ সঙ্গস্তেষূপজায়তে।*
*সঙ্গাৎ সংজায়তে কামঃ কামাৎ ক্রোধোহভিজায়তে।।*
*ক্রোধাদ্ভবতি সম্মোহঃ সম্মোহাৎ স্বৃতিবিভ্রমঃ।*
*স্মৃতিভ্রংশাদ্ বুদ্ধিনাশো বুদ্ধিনাশাৎ প্রণশ‍্যতি।।*
*🍀মানুষ ইন্দ্রিয়-গ্রাহ‍্য বিষয়ের ধ‍্যান করতে করতে তাতে তার আসক্তি জন্মে,আসক্তি হতে তা ভোগের অভিলাষ জন্ম নেয়।ভোগের কামনা প্রতিহত হলে ক্রোধ জন্মে,ক্রোধ হতে কার্যাকার্য বিবেকভ্রংশরূপ মোহ জন্ম নেয়,মোহ হতে স্মৃতিনাশ বা শাস্ত্র উপদিষ্ট স্বার্থের বিস্মৃতি ঘটে,তা হতে বুদ্ধিনাশ,বুদ্ধিনাশ হতে সর্বনাশ হয়, অর্থ‍্যাৎ নানা জীব-যোনিতে পুনঃপুনঃ ভ্রমণ এবং দুঃসহ নরকাদি ভোগকরে মহাদুঃখময় ঘোরদশা উপস্থিত হয়ে থাকে।* 
*🍀মরিলে যাবে কোথা,ইহাতে না পাও ব‍্যথা,তবু নিতি কর কার্য‍্য মন্দ।* *মরণের মত সুনিশ্চিত সত‍্য জীবনে আর কিছুই নাই।মরণ যে কোন সময়ে জীবকে গ্রাস করতে পারে।এইকথা তো সকলেই জানেন এবং মৃত‍্যুর সঙ্গে সঙ্গে এই বিশ্বের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক যে একেবারেই মুছে যাবে,এটিও কারও অজানা নয়। কিন্তু জীব-জগতের উপরে মায়ার এমনি বিমোহিনী শক্তি যে,যার মত সুনিশ্চিত সত‍্য আর কিছুই নাই,জ্ঞান বুদ্ধি মানবদেহ পেয়েও বিশ্বের মানুষ সেই মৃত‍্যুকে ভুলে নানা বিষয় লোভকে গলার মালা করে পুনঃপুনঃ জন্ম মরণাদির করাল কবল গ্রস্ত হচ্ছে।*
*মরণের পরে যে মায়াবদ্ধজীব কোথায় যাবে,কোন অন্ধকার রাজ‍্যে কি দশায় সে পড়ে থাকবে,তা যে কত ভয়াবহ, একসব চিন্তা করে মায়াবদ্ধ মানুষের ব‍্যথা পাওয়া উচিত।* 
      *ক্রমশ*

*😭আমার মরণ হবে,চিরদিন বেঁচে থাকবার জন্য জন্ম হয়নি,পরবর্তী কোথায় কোন যোনিতে যেতে হবে এই চিন্তা করলেই মনেহয় মানুষ কখনই খারাপ কাজ করা তার পক্ষে সম্ভবপর হবে না।এই বিষয়ে একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত শোনা যায় =কোন এক রাজা নানারকম সাংঘাতিক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের মত প্রায় হয়ে পড়েছিলেন।* *নানারকম চিকিৎসা করেও সেই দুরারোগ‍্য ব‍্যাধি হতে মুক্তি লাভ করতে না পেরে তিনি জীবনের আশা ত‍্যাগ করেছিলেন।এইসময় এক সাধু সেই রাজ‍্যে আগমন করে রাজাকে আরোগ‍্য করবার বা সবল করবার জন্য কোন বৃক্ষপত্রের রস পান করাতে লাগলেন।রাজা যতটুকু রস পান করতেন,সেই সাধু রাজার কাছেই রোজ তা অপেক্ষা তিনগুণ ঐ রস পান করতেন।* *রসপানে রাজার মন্ত্রশক্তির মত ব‍্যাধি নাশ হল, তিনি ক্রমশ সুস্থ ও সবল হতে লাগলেন ; তাঁর শরীর ক্রমশ তেজপূর্ণ হতে লাগল কিন্তু তজোবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মনে অতিশয় অপবিত্র ভাবের উদয় হতে লাগল এবং ক্রমশ কুপ্রবৃত্তির উত্তেজনায় তাঁর চিত্ত মন অস্থির হয়ে পড়ল।* *একদিন তিনি সেই রস পান করতে করতে সাধুকে বললেন,ভগবন্!আপনার প্রদত্ত এই রসপানে আমার ব‍্যাধি-মুক্তি এবং দেহ পুষ্ট ও তেজপূর্ণ হল বটে, কিন্তু আমার মনে অপবিত্র ভাবের উদয় হওয়ায় আমি ক্রমশ নাশের পথে এগিয়ে চলেছি।* *আপনাকে প্রশ্ন করি,আপনি যে রোজ আমা হতে তিনগুণ ঐ রস পান করেছেন,এতে আপনার ব্রহ্মচর্য‍্য অটুট আছে কি ভাবে?* *রাজার কথা শুনে সাধু তৎক্ষণাৎ বললেন,মহারাজ!এই প্রশ্নের উত্তর পরে দিব।সহসা এখনি আপনার হাতের রেখায় আপনার মৃত‍্যুযোগ দেখতে পেলাম।আজ হতে যে দিন একমাস পূর্ণ হবে,সেই নিনই আপনার মৃত‍্যু হবে।একমাস পরে নিজের মৃত‍্যুকথা জানতে পেরে রাজা খুবই ভীত হয়ে পড়লেন এবং সাধুর কাছে তার প্রতিকার জিজ্ঞাসা করলেন।* *সাধু বললেন রাজাকে, মহারাজ!মৃত‍্যু আপনার নিশ্চিতই,একমাত্র যদি প্রতিকার হয়,* *এই রসের দ্বারাই হবে ; তবে রসের মাত্রা আপনাকে চারগুণ বাড়াতে হবে,রাজা সাধুর আদেশে চতুর্গুণ রসপান করতে লাগলেন।* *বস্তুশক্তিতে দেহ যেন তেজে ফেটে পড়তে লাগল, কিন্তু কুপ্রভাব আর মনে স্থান পায় না ; যেহেতু মন মৃত‍্যুচিন্তায় অস্থির।* *দুইদিন পরে সাধু রাজাকে জিজ্ঞাসা করেলেন,মহারাজ!এখন আপনার কুপ্রবৃত্তি কিরকম অত‍্যাচার করছে,আপনি তো চারগুণ রস পান করছেন?* *মহারাজ বললেন, ভগবন্! এখন তো মৃত‍্যুচিন্তায় আমার মন সবসময় অস্থির হয়ে রয়েছে,তাতে আর কুপ্রবৃত্তির উদয় হবে কি ভাবে?* *সাধু বললেন,মহারাজ! আপনার মৃত‍্যু আসতে এখনো একমাস দেরী আছে,তাতেই কুভাব নষ্ট হয়েছে, আর আমিতো মৃত‍্যুকে সর্বদা সামনে দেখি,তবে আমার মনে কুপ্রবৃত্তি জায়গা পাবে কিভাবে?*
*মহারাজ!দেহের ক্ষণভঙ্গুরতা মনে রাখলে মনে কুপ্রবৃত্তি স্থান পায় না; এটি উপলব্ধি করাবার জন্য বললাম যে আপনি একমাস বাঁচবেন,বস্তুত আপনি বহুকাল বাঁচবেন।* *সাধুর উপদেশে রাজা দেহরোগ মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে দেহ-দৈহিকাদির নশ্বরত্ব বোধে শ্রীগোবিন্দ চরণে শরণাগত হয়ে ভবব‍্যাধি হতেও মুক্তি লাভ করেছিলেন।*
*🍀এখানেই রইল, বানান,ও ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়🍀*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






*পাপ-পূণ‍্যময় দেহ,সকলই অনিত‍্য এহ,* *ধন জন সব মিছা ধন্দ।**মরিলে যাইবে কোথা,ইহাতে না পাও ব‍্যথা,* *তবু নিতি কর কার্য‍্য মন্দ।।* ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ, নিবাস-বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা-ইংরেজ বাজার, জেলা-মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ-৭৩২১০১

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ *পাপ-পূণ‍্যময় দেহ, সকলই অনিত‍্য এহ,* ꧂
               ꧁ *ধন জন সব মিছা ধন্দ।* 
꧁ *মরিলে যাইবে কোথা, ইহাতে না পাও ব‍্যথা,* 
              *তবু নিতি কর কার্য‍্য মন্দ।।* ꧂
                        👇👇👇🙏👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সকল কিছু লিখনী👇👇🙏👇👇📚 *PDF গ্রন্থ* 📚 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 *🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲
*পাপ-পূণ‍্যময় দেহ,সকলই অনিত‍্য এহ,*
     *ধন জন সব মিছা ধন্দ।*
*মরিলে যাইবে কোথা,ইহাতে না পাও ব‍্যথা,*
    *তবু নিতি কর কার্য‍্য মন্দ।।*
🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲
*শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেমকথা বা ভজনের কথা ব‍্যতীত অন‍্য সমস্ত কথাকেই গন্ডগোল বা বৃথা কোলাহল বলেছেন এবং উহার(আনকথার) শ্রবণ,কীর্তনাদি করতে নিষেধ করেছেন। তবে দেহ-দৈহিকাদির অনিত‍্যতা চিৎজড়ের পার্থক্য প্রভৃতি তত্ত্বকথাও কি গন্ডগোল বা বৃথা কোলাহল মাত্র?তাহলে আচার্য‍্যপাদগণ এত তত্ত্ব সিদ্ধান্তের অবতারণা করেছেন কেন এবং ভক্ত মহানুভবগণকেও তত্ত্বকথার এত আলোচনা করতে দেখা যায় কেন?* *এই ধরণের প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, দেহে ও দৈহিকাদি বস্তুতে অর্থ‍্যাৎ স্ত্রী-পুত্র,ধন,জনাদিতে আসক্তি থাকলে কখনও হরিভজন হয় না।কারণ মনের আসক্তি যুগপৎ (এককালে)জড়ীয় বিষয়বস্তুতে ও ভগবানে রাখা কখনই সম্ভব নয়।*
*ভাগবতে দেখা যায়, "বিষয়ান্ ধ‍্যায়তশ্চিত্তং বিষয়েষু বিষজ্জতে।মামনুস্মরতশ্চিত্তং ময‍্যেব প্রবিলীয়তে।।*
   *ভাগবত=১১|১৪|২৭*
*শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধবের প্রতি বলেছেন, বিষয় চিন্তাশীল ব‍্যক্তির চিত্ত বিষয়েই আসক্ত হয়ে থাকে এবং সবসময় আমার চিন্তায় নিবিষ্ট(মনোযোগী)চিত্ত আমাতেই নিমগ্ন (ডুবে থাকা ) হয়ে যায়।*
*আর কি, ভগবান এও বলেছেন, "বিষয়াভিনিবেশন নাত্মানং বেদ নাপরম্।বৃক্ষজীবিকয়া ব‍্যর্থং ভস্ত্রেব যঃ শ্বসন।।* *(ভাঃ ১১|২১|২২)*
*অর্থ‍্যাৎ বিষয়ের মধ্যে ডুবে থাকা ব‍্যক্তির মন নিজেকে এবং পরমাত্মাকে কাউকেও জানতে পারে না।সে চেতনাশূন‍্যের মত,বৃক্ষের মত কেবল প্রাণ ধারণ উপযোগী বিষয় গ্রহণ করে থাকে এবং ভস্ত্রার(হাপরের) মত বৃথা শ্বাস-প্রশ্বাস ত‍্যাগ করে। সুতরাং সে জীবন মৃতের মত।দেহ-দৈহিকাদিতে নিবিষ্টচেতা ব‍্যক্তি যখন বিধিভক্তিই যাজনে সমর্থ হন না,তখন রাগভক্তি,সর্বোপরি পরম রহস‍্যময় শ্রীরাধাকৃষ্ণের ভজন যে তাঁদের পক্ষে কখনই সম্ভবপর হয় না, এইজন‍্য দেহ-দৈহিকাদির অনিত‍্যতা এবং চিৎজড়ের পার্থক্যরূপ তত্ত্ব আলোচনার প্রয়োজনও রয়েছে।* 
*🍀🍀🍀ক্রমশ🍀🍀🍀*

*🍀পাপ পূণ‍্যময় দেহ,সকলি অনিত‍্য এহ,ধন-জন সব মিছা ধন্দ।* *পাপের ফলে মানুষের দুঃখ দারিদ্র আদি যুক্ত এবং অবিরত বা সবসময় রোগ-শোক -ত্রিতাপাদি জ্বালাময় দেহ লাভ হয়ে থাকে ও পূণ‍্যের ফলে বিষয় ভোগময় শরীর লা করে থাকে।* *এইসব দেহই অনিত‍্য বা নশ্বর,অর্থ‍্যাৎ জল বুদবুদের মত অতি ক্ষণভঙ্গুর।প্রতিনিয়ত বুদ্ধিমান মানুষকে এই নশ্বর দেহ ত‍্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এবং সবসময় মনে রাখতে হবে যে ঐশ্বর্য‍্য-সম্পদ,আত্মীয়-স্বজনাদি সবই মিছা ধন্দ অর্থ‍্যাৎ মিথ‍্যা ভ্রান্তি বা মোহ ব‍্যতীত আর কিছুই নয়।কারণ অনাত্মীয় আত্মবুদ্ধি আনয়ন করাই মোহের কাজ।ইহাদ্বারা মিছা ধন্দ বা মিথ‍্যা ভ্রান্তিবশতঃ যা অস্থির,কষ্ট,তাপ ও দুঃখ শোকের আকর বা খনি,তাকেই স্থায়ী,ধ্রুব ও আনন্দের নিদান বলে মনে হয়।*
*যা কখনই তার নয়,যার প্রতি তার কিছুমাত্র অধিকার নাই ; সেই ধন জনাদি নশ্বর বস্তুকে "আমার আমার " বলে তার অভাবে মোহমুগ্ধ মানুষ অস্থির হয়ে পড়ে এবং সেই সেই বিষয় চিন্তায় দেব-দুর্লভ সাধনযোগ‍্য সুদুর্লভ আয়ুষ্কালকে বৃথা দিন কাটায়।বিষয়চিন্তা বিষময় ফলের কথা ভগবান গীতায় অর্জুনকে বলেছেন,*
*ধ‍্যায়তো বিষয়ান্ পুংসঃ সঙ্গস্তেষূপজায়তে।*
*সঙ্গাৎ সংজায়তে কামঃ কামাৎ ক্রোধোহভিজায়তে।।*
*ক্রোধাদ্ভবতি সম্মোহঃ সম্মোহাৎ স্বৃতিবিভ্রমঃ।*
*স্মৃতিভ্রংশাদ্ বুদ্ধিনাশো বুদ্ধিনাশাৎ প্রণশ‍্যতি।।*
*🍀মানুষ ইন্দ্রিয়-গ্রাহ‍্য বিষয়ের ধ‍্যান করতে করতে তাতে তার আসক্তি জন্মে,আসক্তি হতে তা ভোগের অভিলাষ জন্ম নেয়।ভোগের কামনা প্রতিহত হলে ক্রোধ জন্মে,ক্রোধ হতে কার্যাকার্য বিবেকভ্রংশরূপ মোহ জন্ম নেয়,মোহ হতে স্মৃতিনাশ বা শাস্ত্র উপদিষ্ট স্বার্থের বিস্মৃতি ঘটে,তা হতে বুদ্ধিনাশ,বুদ্ধিনাশ হতে সর্বনাশ হয়, অর্থ‍্যাৎ নানা জীব-যোনিতে পুনঃপুনঃ ভ্রমণ এবং দুঃসহ নরকাদি ভোগকরে মহাদুঃখময় ঘোরদশা উপস্থিত হয়ে থাকে।* 
*🍀মরিলে যাবে কোথা,ইহাতে না পাও ব‍্যথা,তবু নিতি কর কার্য‍্য মন্দ।* *মরণের মত সুনিশ্চিত সত‍্য জীবনে আর কিছুই নাই।মরণ যে কোন সময়ে জীবকে গ্রাস করতে পারে।এইকথা তো সকলেই জানেন এবং মৃত‍্যুর সঙ্গে সঙ্গে এই বিশ্বের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক যে একেবারেই মুছে যাবে,এটিও কারও অজানা নয়। কিন্তু জীব-জগতের উপরে মায়ার এমনি বিমোহিনী শক্তি যে,যার মত সুনিশ্চিত সত‍্য আর কিছুই নাই,জ্ঞান বুদ্ধি মানবদেহ পেয়েও বিশ্বের মানুষ সেই মৃত‍্যুকে ভুলে নানা বিষয় লোভকে গলার মালা করে পুনঃপুনঃ জন্ম মরণাদির করাল কবল গ্রস্ত হচ্ছে।*
*মরণের পরে যে মায়াবদ্ধজীব কোথায় যাবে,কোন অন্ধকার রাজ‍্যে কি দশায় সে পড়ে থাকবে,তা যে কত ভয়াবহ, একসব চিন্তা করে মায়াবদ্ধ মানুষের ব‍্যথা পাওয়া উচিত।* 
      *ক্রমশ*

*😭আমার মরণ হবে,চিরদিন বেঁচে থাকবার জন্য জন্ম হয়নি,পরবর্তী কোথায় কোন যোনিতে যেতে হবে এই চিন্তা করলেই মনেহয় মানুষ কখনই খারাপ কাজ করা তার পক্ষে সম্ভবপর হবে না।এই বিষয়ে একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত শোনা যায় =কোন এক রাজা নানারকম সাংঘাতিক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের মত প্রায় হয়ে পড়েছিলেন।* *নানারকম চিকিৎসা করেও সেই দুরারোগ‍্য ব‍্যাধি হতে মুক্তি লাভ করতে না পেরে তিনি জীবনের আশা ত‍্যাগ করেছিলেন।এইসময় এক সাধু সেই রাজ‍্যে আগমন করে রাজাকে আরোগ‍্য করবার বা সবল করবার জন্য কোন বৃক্ষপত্রের রস পান করাতে লাগলেন।রাজা যতটুকু রস পান করতেন,সেই সাধু রাজার কাছেই রোজ তা অপেক্ষা তিনগুণ ঐ রস পান করতেন।* *রসপানে রাজার মন্ত্রশক্তির মত ব‍্যাধি নাশ হল, তিনি ক্রমশ সুস্থ ও সবল হতে লাগলেন ; তাঁর শরীর ক্রমশ তেজপূর্ণ হতে লাগল কিন্তু তজোবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মনে অতিশয় অপবিত্র ভাবের উদয় হতে লাগল এবং ক্রমশ কুপ্রবৃত্তির উত্তেজনায় তাঁর চিত্ত মন অস্থির হয়ে পড়ল।* *একদিন তিনি সেই রস পান করতে করতে সাধুকে বললেন,ভগবন্!আপনার প্রদত্ত এই রসপানে আমার ব‍্যাধি-মুক্তি এবং দেহ পুষ্ট ও তেজপূর্ণ হল বটে, কিন্তু আমার মনে অপবিত্র ভাবের উদয় হওয়ায় আমি ক্রমশ নাশের পথে এগিয়ে চলেছি।* *আপনাকে প্রশ্ন করি,আপনি যে রোজ আমা হতে তিনগুণ ঐ রস পান করেছেন,এতে আপনার ব্রহ্মচর্য‍্য অটুট আছে কি ভাবে?* *রাজার কথা শুনে সাধু তৎক্ষণাৎ বললেন,মহারাজ!এই প্রশ্নের উত্তর পরে দিব।সহসা এখনি আপনার হাতের রেখায় আপনার মৃত‍্যুযোগ দেখতে পেলাম।আজ হতে যে দিন একমাস পূর্ণ হবে,সেই নিনই আপনার মৃত‍্যু হবে।একমাস পরে নিজের মৃত‍্যুকথা জানতে পেরে রাজা খুবই ভীত হয়ে পড়লেন এবং সাধুর কাছে তার প্রতিকার জিজ্ঞাসা করলেন।* *সাধু বললেন রাজাকে, মহারাজ!মৃত‍্যু আপনার নিশ্চিতই,একমাত্র যদি প্রতিকার হয়,* *এই রসের দ্বারাই হবে ; তবে রসের মাত্রা আপনাকে চারগুণ বাড়াতে হবে,রাজা সাধুর আদেশে চতুর্গুণ রসপান করতে লাগলেন।* *বস্তুশক্তিতে দেহ যেন তেজে ফেটে পড়তে লাগল, কিন্তু কুপ্রভাব আর মনে স্থান পায় না ; যেহেতু মন মৃত‍্যুচিন্তায় অস্থির।* *দুইদিন পরে সাধু রাজাকে জিজ্ঞাসা করেলেন,মহারাজ!এখন আপনার কুপ্রবৃত্তি কিরকম অত‍্যাচার করছে,আপনি তো চারগুণ রস পান করছেন?* *মহারাজ বললেন, ভগবন্! এখন তো মৃত‍্যুচিন্তায় আমার মন সবসময় অস্থির হয়ে রয়েছে,তাতে আর কুপ্রবৃত্তির উদয় হবে কি ভাবে?* *সাধু বললেন,মহারাজ! আপনার মৃত‍্যু আসতে এখনো একমাস দেরী আছে,তাতেই কুভাব নষ্ট হয়েছে, আর আমিতো মৃত‍্যুকে সর্বদা সামনে দেখি,তবে আমার মনে কুপ্রবৃত্তি জায়গা পাবে কিভাবে?*
*মহারাজ!দেহের ক্ষণভঙ্গুরতা মনে রাখলে মনে কুপ্রবৃত্তি স্থান পায় না; এটি উপলব্ধি করাবার জন্য বললাম যে আপনি একমাস বাঁচবেন,বস্তুত আপনি বহুকাল বাঁচবেন।* *সাধুর উপদেশে রাজা দেহরোগ মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে দেহ-দৈহিকাদির নশ্বরত্ব বোধে শ্রীগোবিন্দ চরণে শরণাগত হয়ে ভবব‍্যাধি হতেও মুক্তি লাভ করেছিলেন।*
*🍀এখানেই রইল, বানান,ও ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়🍀*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






*একবার কৃষ্ণনামে করে সর্বপাপ নাশ।**প্রেমের কারণ ভক্তি করেন প্রকাশ।।* ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ, নিবাস-বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা-ইংরেজ বাজার, জেলা-মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ-৭৩২১০১

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
       ꧁*একবার কৃষ্ণনামে করে সর্বপাপ নাশ।* ꧂
       ꧁*প্রেমের কারণ ভক্তি করেন প্রকাশ।।* 
                        👇👇👇🙏👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সকল কিছু লিখনী👇👇🙏👇👇📚 *PDF গ্রন্থ* 📚 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*যাবৎ জনম মোর,অপরাধে হৈনু ভোর,*
     *নিষ্কপটে না ভজিনু তোমা।*
*তথাপি তুমি সে গতি,না ছাড়িহ প্রাণপতি,*
    *আমা সমা নাহিক অধমা।।*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*একবার কৃষ্ণনামে করে সর্বপাপ নাশ।*
*প্রেমের কারণ ভক্তি করেন প্রকাশ।।*
*প্রেমের উদয়ে হয় প্রেমের বিকার*।
*স্বেদ-কম্প-পুলকাদি গদগদাশ্রুধার।।*
*অনায়াসে ভবক্ষয়,কৃষ্ণের সেবন*।
*এক কৃষ্ণনামের ফলে পাই এত ধন।।*
*হেন কৃষ্ণনাম যদি লয় বহুবার।*
*তবে যদি প্রেম নহে,নহে অশ্রুধার।।*
*তবে জানি অপরাধ তাহাতে প্রচুর*
*কৃষ্ণনাম বীজ তাহে না হয় অঙ্কুর।।*
 *🍀যেমন ধরুন,একটী বীজ যদি মাটি উর্বর করে সযত্নে মাটিতে ফেলে ঠিকঠাক যত্ন করা যায় তবে দেখা যাবে সেই বীজটি একসময় অঙ্কুরিত হয়ে ধীরে ধীরে চারাগাছে পরিণত হবে, এবং সময়কালে ফল আসবে তাইনা?* *তদ্রুপ কৃষ্ণনামবীজ হৃদয়ভূমিতে ফেলে শ্রবণ কীর্তনাদি জলে সিঞ্চিত হলে ভক্তিকল্পলতার অঙ্কুর উদগম হয়ে তাতে যথাসময়ে ভাব-কুসুম ও প্রেমফল অবশ্যই ফলবে।* *কিন্তু যদি ঐ বীজ কোন পাষাণের উপরে পড়ে যায়,তবে তার আর অঙ্কুরিত হবার কোনরকম সম্ভাবনাই থাকে না।* *অপরাধ চিত্তটিও পাষাণের মত,তাতে নাম উপলক্ষিতা ভক্তিবীজ অঙ্কুরিত হবার কোন সম্ভাবনা থাকে না।* *এই জন‍্যই বৈষ্ণব সম্প্রদায়ে অপরাধের বিচার এত প্রবল।* *শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে যে পয়ার উদ্ধৃত হয়েছে,তার অব‍্যবহিত পরেই লিখিত আছে, "চৈতন‍্য নিত‍্যানন্দে নাহি এসব-বিচার। নাম লইতে প্রেম দেন,বহে অশ্রুধার"।।* *এইকথায় মনে হতে পারে যে,শ্রীচৈতন‍্যদেব ও শ্রীমন্নিত‍্যানন্দে অপরাধের বিচার নাই,নাম-গ্রহণমাত্রেই তাঁরা অপরাধীকেও তাঁরা প্রেমদান করে থাকেন। কিন্তু শ্রীমন্মহাপ্রভুর নবদ্বীপ-লীলায় নিন্দুক,পড়ুয়া,পাষন্ডী প্রভৃতি মহাপ্রভুকে নিন্দা করেছিল বলে মহাপ্রভু সেই নিন্দুক অপরাধীগণকে প্রেমদানের অন‍্য উপায় না দেখে সন্ন‍্যাস গ্রহণ করেছিলেন এবং সন্ন‍্যাস গ্রহণের পর নিন্দুকেরা মহাপ্রভুর শ্রীচরণে নত হওয়ায় অপরাধের অপগমে তাদেরকে প্রেম দিয়াছিলেন বলে ঐ শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে বর্ণিত রয়েছে।* *আবার চাপালগোপাল শ্রীবাসের কাছে অপরাধী হয়েছিল বলে মহাপ্রভু শ্রীবাসের কাছে অপরাধ ক্ষমা করিয়ে তাকে প্রেমদান করেছিলেন।*
       *ক্রমশ*


*বিরাম অংশ*
---------------------
*সেই রকম কপট দুষ্টচিত্ত ব‍্যক্তি বাইরে ভজনের অভিনয় মাত্র করলেও প্রবল মহৎসঙ্গ বা মহৎকৃপায় ঐ কপটের অপগম না হওয়া পর্যন্ত আর তার নিষ্কপট ভজনের বা আন্তরিকতাপূর্ণ ভজনের কোন আশায় থাকে না।*
*সরলপ্রাণে যাঁরা শ্রীগুরুদেব,বৈষ্ণব ও ভগবানের চরণে প্রপন্ন(আশ্রয়)হয়ে ভজন করেন,তাঁরাই নিষ্কপট ভজনের সৌভাগ্য প্রাপ্ত হয়ে তাঁদের করুণালাভে ধন‍্য হয়ে থাকেন।*
*জয় নিতাই গৌর হরিবল।*
অতি সংক্ষেপে পূর্ণ
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






*একবার কৃষ্ণনামে করে সর্বপাপ নাশ।**প্রেমের কারণ ভক্তি করেন প্রকাশ।।* ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ, নিবাস-বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা-ইংরেজ বাজার, জেলা-মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ-৭৩২১০১

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
       ꧁*একবার কৃষ্ণনামে করে সর্বপাপ নাশ।* ꧂
       ꧁*প্রেমের কারণ ভক্তি করেন প্রকাশ।।* 
                        👇👇👇🙏👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সকল কিছু লিখনী👇👇🙏👇👇📚 *PDF গ্রন্থ* 📚 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*যাবৎ জনম মোর,অপরাধে হৈনু ভোর,*
     *নিষ্কপটে না ভজিনু তোমা।*
*তথাপি তুমি সে গতি,না ছাড়িহ প্রাণপতি,*
    *আমা সমা নাহিক অধমা।।*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*একবার কৃষ্ণনামে করে সর্বপাপ নাশ।*
*প্রেমের কারণ ভক্তি করেন প্রকাশ।।*
*প্রেমের উদয়ে হয় প্রেমের বিকার*।
*স্বেদ-কম্প-পুলকাদি গদগদাশ্রুধার।।*
*অনায়াসে ভবক্ষয়,কৃষ্ণের সেবন*।
*এক কৃষ্ণনামের ফলে পাই এত ধন।।*
*হেন কৃষ্ণনাম যদি লয় বহুবার।*
*তবে যদি প্রেম নহে,নহে অশ্রুধার।।*
*তবে জানি অপরাধ তাহাতে প্রচুর*
*কৃষ্ণনাম বীজ তাহে না হয় অঙ্কুর।।*
 *🍀যেমন ধরুন,একটী বীজ যদি মাটি উর্বর করে সযত্নে মাটিতে ফেলে ঠিকঠাক যত্ন করা যায় তবে দেখা যাবে সেই বীজটি একসময় অঙ্কুরিত হয়ে ধীরে ধীরে চারাগাছে পরিণত হবে, এবং সময়কালে ফল আসবে তাইনা?* *তদ্রুপ কৃষ্ণনামবীজ হৃদয়ভূমিতে ফেলে শ্রবণ কীর্তনাদি জলে সিঞ্চিত হলে ভক্তিকল্পলতার অঙ্কুর উদগম হয়ে তাতে যথাসময়ে ভাব-কুসুম ও প্রেমফল অবশ্যই ফলবে।* *কিন্তু যদি ঐ বীজ কোন পাষাণের উপরে পড়ে যায়,তবে তার আর অঙ্কুরিত হবার কোনরকম সম্ভাবনাই থাকে না।* *অপরাধ চিত্তটিও পাষাণের মত,তাতে নাম উপলক্ষিতা ভক্তিবীজ অঙ্কুরিত হবার কোন সম্ভাবনা থাকে না।* *এই জন‍্যই বৈষ্ণব সম্প্রদায়ে অপরাধের বিচার এত প্রবল।* *শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে যে পয়ার উদ্ধৃত হয়েছে,তার অব‍্যবহিত পরেই লিখিত আছে, "চৈতন‍্য নিত‍্যানন্দে নাহি এসব-বিচার। নাম লইতে প্রেম দেন,বহে অশ্রুধার"।।* *এইকথায় মনে হতে পারে যে,শ্রীচৈতন‍্যদেব ও শ্রীমন্নিত‍্যানন্দে অপরাধের বিচার নাই,নাম-গ্রহণমাত্রেই তাঁরা অপরাধীকেও তাঁরা প্রেমদান করে থাকেন। কিন্তু শ্রীমন্মহাপ্রভুর নবদ্বীপ-লীলায় নিন্দুক,পড়ুয়া,পাষন্ডী প্রভৃতি মহাপ্রভুকে নিন্দা করেছিল বলে মহাপ্রভু সেই নিন্দুক অপরাধীগণকে প্রেমদানের অন‍্য উপায় না দেখে সন্ন‍্যাস গ্রহণ করেছিলেন এবং সন্ন‍্যাস গ্রহণের পর নিন্দুকেরা মহাপ্রভুর শ্রীচরণে নত হওয়ায় অপরাধের অপগমে তাদেরকে প্রেম দিয়াছিলেন বলে ঐ শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে বর্ণিত রয়েছে।* *আবার চাপালগোপাল শ্রীবাসের কাছে অপরাধী হয়েছিল বলে মহাপ্রভু শ্রীবাসের কাছে অপরাধ ক্ষমা করিয়ে তাকে প্রেমদান করেছিলেন।*
       *ক্রমশ*


*বিরাম অংশ*
---------------------
*সেই রকম কপট দুষ্টচিত্ত ব‍্যক্তি বাইরে ভজনের অভিনয় মাত্র করলেও প্রবল মহৎসঙ্গ বা মহৎকৃপায় ঐ কপটের অপগম না হওয়া পর্যন্ত আর তার নিষ্কপট ভজনের বা আন্তরিকতাপূর্ণ ভজনের কোন আশায় থাকে না।*
*সরলপ্রাণে যাঁরা শ্রীগুরুদেব,বৈষ্ণব ও ভগবানের চরণে প্রপন্ন(আশ্রয়)হয়ে ভজন করেন,তাঁরাই নিষ্কপট ভজনের সৌভাগ্য প্রাপ্ত হয়ে তাঁদের করুণালাভে ধন‍্য হয়ে থাকেন।*
*জয় নিতাই গৌর হরিবল।*
অতি সংক্ষেপে পূর্ণ
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






adds