শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🥀 সংক্ষিপ্ত কথন 🙏 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/mohaprobhu4.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
         ꧁ শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
         ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
     এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 প্রথম ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
       ꧁ শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 দ্বিতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
       ꧁ শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
      ꧁ ৭৬. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৭৬)গৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন*
*কুমার হট্টে------শ্রীবাস মন্দিরে*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌻অদ্বৈত আচার্য‍্যের ভবন হতে শ্রীমন্মহাপ্রভু আসিলেন কুমারহট্টে শ্রীবাস মন্দিরে।সেই সময় শ্রীবাস কৃষ্ণধ‍্যানানন্দে মগ্ন ছিলেন।আচম্বিতে সম্মুখে পেলেন ধ‍্যানের ধন।সংবাদ পেয়ে সব ভক্তগণ শ্রীবাস মন্দিরে আসিলেন।আচার্য‍্য পুরন্দর,শিবানন্দ সেন,বাসুদেব দত্ত আরো কতভক্ত আসিলেন,বাসুদেব মহাপ্রভুর শ্রীচরণ ধরে উচ্চৈঃস্বরে কাঁদতে লাগলেন।*
*🍀আপনে শ্রীগৌর চন্দ্র বলে বার বার।*
*🍀এ শরীর বাসুদেব দত্তের আমার।।*
*🌻এইকথা শুনে সকল বৈষ্ণবগণ জয়ধ্বনি করতে লাগলেন।*
*🌻একদিন মহাপ্রভু গৌরচন্দ্র শ্রীবাসকে বললেন,শ্রীবাস তুমি তো কোথাও যাও না।কেমন করে তোমার সংসার চালাও? তোমার পরিবারও ছোট নয়।সকলে নির্বাহ কি করে হয়?শ্রীবাস বললেন যার অদৃষ্টে যা থাকে তাই-ই হবে।মহাপ্রভু বললেন, তাহলে তুমি সন্ন‍্যাসী হও। তখন শ্রীবাস কহিলেন, না,তাও পারব না। মহাপ্রভু বললেন,সন্ন‍্যাসী কেন হবে না? ভিক্ষা করতেও কারো দুয়ারে যাবে না, পরিবার পোষণ কি করে করবে? আমি কিছুই বুঝতে পারি না। তখন শ্রীবাস হাতে তিনটা তালি দিয়ে বললেন,*
*🍀এক দুই তিন এই কহিলুঁ ভানিয়া।*
*🌻মহাপ্রভু জানতে চাইলেন, এক দুই তিনের অর্থ কি? শ্রীবাস বললেন, একদিন দুইদিন তিনদিন উপবাস দিব তারপর গিয়ে গঙ্গায় ডুবে মরব। শ্রীবাসের এইকথা শুনে গৌরসুন্দর হুঙ্কার করে উঠলেন, কি বললি, তোর অন্নের দুঃখে উপোস হবে!*
*🍀যদি কদাচিৎ বা লক্ষ্মীও ভিক্ষা করে।*
*🍀 তথাপিহ দারিদ্র নহিব তোর ঘরে।।*
*🍀যে যে জনে চিন্তে মোরে অনন‍্য হইয়া।*
*🍀তার ভক্ষ‍্য দেই মুঞি মাথায় বহিয়া।।*
*🌻শ্রীমন্মহাপ্রভুর বাণী শূনে সকল ভক্তগণ আনন্দ ধ্বনি করতে লাগলেন। অতঃপর শ্রীবাস মন্দিরে কিছুদিন বাস করে গৌরহরি পানিহাটি রাঘব পন্ডিতের মন্দিরে গমন করলেন।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
      ꧁ ৭৭. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৭৭)গৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন*
*শ্রীরাঘব পন্ডিত ভবনে মহাপ্রভু*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻করুণাময় গৌরাঙ্গসুন্দর রাঘব ভবনে এসে উপস্থিত হলেন। অপ্রত‍্যাশিত ভাবে আরাধ‍্যবস্তু পেয়ে রাঘবের চিত্তে অপরিসীম আনন্দের উদ্রেক হল।অল্পক্ষণের মধ্যে ভক্তগণ জানতে পারলেন যে শ্রীরাঘব পন্ডিত গৃহে চিরসুন্দর গৌরসুন্দর এসেছেন, গদাধর দাস,পরমেশ্বর দাস,পুরন্দর পন্ডিত, রঘুনাথ বৈদ‍্য সকল প্রিয়ভক্তগণ ছুটে আসিলেন।তখন তাঁদের মনে যে কি আনন্দের উদ্রেক হল তা বর্ণনাতীত।*
*রাঘব ভবনে থাকতেই একদিন মহাপ্রভু রাঘবকে ডেকে নিভৃতে নিতাইচাঁদের তত্ত্বটি নিজ শ্রীমুখে প্রকাশ করলেন।*
*🍀রাঘব তোমারে আমি নিজ গোপ‍্য কই।*
*🍀আমার দ্বিতীয় নাই নিত‍্যানন্দ বই।।*
*🍀এই নিত‍্যানন্দ যেই করায়েন আমারে।*
*🍀সে-ই করি এই আমি বলিল তোমারে।।*
*🙏জয় জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেবের জয়🙏*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
      ꧁ ৭৮. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৭৮)গৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন*
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🙏বরাহনগরে ভাগবতাচার্য‍্য🙏*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🌻শ্রীরাঘব ভবন হতে গৌরহরি আসিলেন বরাহ-নগরে।মহাভাগ‍্যবন্ত এক ব্রাহ্মণ গৃহে অবস্থান করলেন। সেই ব্রাহ্মণ শ্রীমদ্ভাগবতের পন্ডিত। শ্রীমন্মহাপ্রভুকে গৃহে পেয়ে তাঁকে ভাগবত শুনাতে আরম্ভ করলেন।তাঁর ভক্তি-রসময় পাঠ শুনে মহাপ্রভু আনন্দে আবিষ্ট(বিহ্বল) হলেন। "বোল বোল" বলে মহাপ্রভু আরও শুনতেইচ্ছা প্রকাশ করলেন।ভাগবতাচার্য‍্যও উল্লাসে পাঠ করতে লাগলেন।ভক্তির মহিমাত্মক শ্লোক শুনে গৌরহরি পুনঃপুনঃ ভূমিতে গড়াগড়ি দিতে লাগলেন।এই প্রকার রাত্রি তিন প্রহর পর্যন্ত ভক্তি শ্লোক পাঠ হল।পরে বাহ‍্যজ্ঞান লাভ করে মহাপ্রভু বললেন=*
*এতেক তোমার নাম ভাগবতাচার্য‍্য*।
*ইহা বই আর কোন না করিহ কার্য‍্য।।*
*🌻এই ভাবে গঙ্গাতীর তীরে ভক্ত গৃহে বিহার করে শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু নীলাচলে চলে আসিলেন।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
      ꧁ ৭৯. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৭৯)🙏গৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন🙏*
*🌻🌻বনপথে শ্রীব্রজগমন🌻🌻*
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🌻শ্রীবৃন্দাবন যাবার জন্য মহাপ্রভুর অন্তরে প্রবল উৎকণ্ঠা।সঙ্কল্প করলেন এবার তিনি ব্রজে একাই যাবেন।ভক্তগণের একান্ত অনুরোধে বলভদ্র ভট্টাচার্য্যকে সঙ্গে নিলেন।তিনি জলপাত্র ও বহির্বাস বহন করবেন ও ভিক্ষা করে সেবার ব‍্যবস্থা করবেন। মহাপ্রভুর ভয় একবার ব্রজের পথে চললে, নিতাইচাঁদ চতুরতা করে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলেন।তাই শেষ রাত্রে কাউকে কিছু না বলে বলভদ্রকে সঙ্গে নিয়ে ব্রজযাত্রা করলেন।পথ ছেড়ে উপপথে চললেন, কটক ডানদিকে রেখে বনে প্রবেশ করলেন।*
*🌿নির্জন বনে গৌরহরি চলেছেন "কৃষ্ণ কৃষ্ণ" গাইতে গাইতে।হাতি,বাঘ, বড়ই আশ্চর্য‍্য ব‍্যাপার তারা পথ ছেড়ে সরে দাঁড়াল।একটি দুটি নয়, পালে পালে বাঘ, পালে পালে শূকর,গন্ডার-- তাদের মধ‍্য দিয়ে মহা আবেশে মহাপ্রভু চলেছেন।এমনি মহাপ্রভুর প্রতাপ,তারা সকলে পাশ কেটে পথ ছেড়ে দিচ্ছে।(যে হিংস্র পশু মনুষ‍্য দেখলে আক্রমণ করে, আজ পরম ঈশ্বর মহাপ্রভুকে দেখে হয়ত তারা বুঝতে পেরেছে আমাদের পারকর্তা আমাদের সামনে এসেছেন, তিনি আমাদের উদ্ধার করবেন।)এর সাক্ষাৎ সাক্ষী বলভদ্র ভট্টাচার্য্য।*
*🌹একটা বাঘ শুয়ে আছে।পথে চলতে চলতে মহাপ্রভুর শ্রীচরণ লাগল বাঘের গায়ে।মহাপ্রভু বোলে উঠলেন "কৃষ্ণ কৃষ্ণ"।চরম আশ্চর্য‍্য তৎক্ষণাৎ বাঘ উঠে কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে নাচতে লাগল।সর্বজীব নাথ মহাপ্রভু আমার নদীতে স্নান করছেন।একদল হাতি সেখানে জলপান করতে আসিল।"কৃষ্ণ কহ" বলে শ্রীগৌরাঙ্গ সুন্দর জল ছিটিয়ে দিলেন।সেই জলবিন্দুর এক কণাও যার গায়ে লাগল সেই সঙ্গে সঙ্গে কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে নাচতে লাগল।কেউ মাটিতে পড়ে গেল কেউ চিৎকার করল।*
*🙏জয় জয় শ্রীচৈতন‍্যদেবের জয়🙏*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
      ꧁ ৮০. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮০)🙏গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন🙏*
*🌿বনপথে শ্রীব্রজগমন🌿*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀উচ্চৈঃস্বরে কীর্তন করতে করতে শ্রীগৌরহরি চলেছেন।মহাপ্রভুর কন্ঠস্বর ময়ূরের কন্ঠস্বর মনে করে মৃগীগণ ছুটে আসছে।তখন পাঁচ সাতটি বাঘ আসিল।কি অসম্ভব দৃশ্য! বাঘ আর হরিণ একই পরিবারের সদস‍্য মনে করে মহাপ্রভুর সঙ্গে চলেছে। আমার শচীদুলালের মুখে "কৃষ্ণ কৃষ্ণ" মধুর উচ্চারণ শুনে বাঘ, হাতী নাচতে লাগল, অদ্ভুত কাঁদতেও লাগল একত্র হয়ে!স্বভাব বৈরিতা (শত্রুতা) ভুলে গেল।আর ময়ূরগুলি মহাপ্রভুর সঙ্গে সঙ্গে "কৃষ্ণ কৃষ্ণ"বলে নাচতে নাচতে চলেছে।মোহনীয়া গৌরসুন্দর হরিবোল হরিবোল বলে উচ্চ ধ্বনি দিয়েছেন তখন ধ্বনির মাধুর্য‍্যে বৃক্ষ লতাগুলি সঞ্জীবিত হয়ে উঠিল।ঝাড়িখন্ডের স্থাবর জঙ্গম সকলেই প্রেমে উন্মত্ত হয়ে গেল।এই যে অপরূপ দৃশ্য ইহা স্বর্গীয় দৃশ্য, গোলেকের দেখা যাই বলা যায় কোনটাতেই বলা যাবে না, কারণ কোন স্বর্গে বা গোলোকে এবং বৈকুন্ঠে এই দৃশ্য পূর্বে কোনদিন দেখা যায়নি আর দেখাও যাবে না। একমাত্র মর্ত‍্যভূমিতেই সম্ভব। সেই মর্ত‍্যের এই ঝাড়িখন্ডের পথেই এই অপরূপ দৃশ্য একদিন প্রকট হয়েছিল।সেদিন রাধাভাব মন্ডিত তনু ঝাড়িখন্ডের বনকে ব্রজবন মনে করে কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে ঝাড়িখন্ডের বনপথ দিয়ে ব্রজের পথে নেচে নেচে চলেছেন।সমগ্র বিশ্ব প্রকৃতি তাঁর সঙ্গে সঙ্গে নেচে চলেছে। এই দৃশ্য যে দেখল সেই সেই ধন‍্য হল। তাঁদের চরণরেণুর স্পর্শে ধরণীর ধূলো ধন‍্য হল।*
*🌼মহাপ্রভু ঝরনার উষ্ণ জলে তিনবার স্নান করেন। ভট্টাচার্যের পাককরা অন্ন আহার করেন,ফল মূল শাক-পাতা।বলভদ্র সন্ধ‍্যায় আগুনের তাপে শ্রীদেহ উষ্ণ করেন।শুকনো কাঠের অভাব নেই।মাঝে মাঝে বলেন "অহো বনপথে ব্রজযাবার কি অপরিসীম আনন্দ -- দুঃখের লেশমাত্রও নেই।বলেন,সনাতনের মুখে কৃষ্ণ আমায় শিক্ষা দিয়েছেন।তাই এই বনপথে এত আনন্দে চলা। মহাপ্রভু ভাবের মধ্যে থেকে বলভদ্রকে আলিঙ্গন করে বলেন, তোমার প্রসাদে এত আনন্দ পেলাম, বলভদ্র দৈন‍্যে জড়সড় হয়ে বলেন, মহাপ্রভু আপনি এ অধম কাককে গরুড় করিয়েছেন।মোর হাতে ভিক্ষা নিয়ে কৃতার্থ করেছেন প্রভু, আপনি স্বতন্ত্র ঈশ্বর আপনি স্বয়ং ভগবান, আমি সামান্য ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আপনার সেবক।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
      ꧁ ৮১. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮১)শ্রীগৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
*🍀কাশীধাম-প্রয়াগধাম-মধুপুরী🍀*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻এইভাবে বনপথে চলতে চলতে মহাপ্রভু কাশীধামে পৌঁছলেন। মণিকর্ণিকার ঘাটে তপন মিশ্রের সঙ্গে দেখা হল,তারপর বৈদ‍্য চন্দ্র শেখরের সঙ্গে।মহাপ্রভু চন্দ্রশেখরের গৃহে থাকেন আর তপন মিশ্রের গৃহে ভিক্ষা।অতঃপর কাশী হতে প্রয়াগে এসে ত্রিবেণীতে স্নান করলেন।মাধব দর্শন করলেন।প্রেমের আবেগে যমুনায় ঝাঁপিয়ে পড়লেন,প্রয়াগে তিন দিন বাস করে মথুরায় আসিলেন। শ্রীকৃষ্ণ জন্ম স্থানে কেশব দেখে প্রণত হলেন।মহাপ্রভুর প্রেমাবেশ দেখে সকল লোকের চিত্তে চমৎকার লাগল।এক ব্রাহ্মণ এসে গৌরহরিকে দর্শন করে আবেশে নৃত্য করতে লাগলেন।শ্রীগৌরাঙ্গ ব্রাহ্মণকে গোপনে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন "তুমি এই প্রেমধন কোথায় পেয়েছ? ব্রাহ্মণ নিজেকে মাধবেন্দ্র পুরীর শিষ‍্য বলে পরিচয় দিলেন।এইকথা শুনেই মহাপ্রভু তাঁর চরণে প্রণাম করলেন।একদিন তাঁর গৃহে ভিক্ষা গ্রহণ করলেন। মধুপুরীর লক্ষ লক্ষ লোক মহাপ্রভুকে দর্শন করতে আসিলেন।গৌরহরি যমুনার চব্বিশ ঘাটে স্নান করলেন। স্বয়ম্ভূ বিশ্রাম দীর্ঘ বিষ্ণু, ভূতেশ্বর,গোকর্ণ প্রভৃতি তীর্থস্থান দর্শন করলেন।সেই ব্রাহ্মণকে সঙ্গে নিয়ে মহাপ্রভু মধুবন,তালবন,কুমুদবন,বহুলাবন প্রভৃতি দ্বাদশ বন দর্শন করলেন।পথে গাভীর দল দেখে মহাপ্রভু প্রেমানন্দে দন্ডায়মান হন।গাভীগণ এসে গৌরহরির অঙ্গ লেহন করতে থাকে।প্রভু গাভীদের অঙ্গে হাত বোলান।তাঁরা মহাপ্রভুর সঙ্গে সঙ্গে হেঁটে চলে।রাখাল বহু কষ্ট করে ধেনুর দল ঘরে নিয়ে যাই।*
*🌻মহাপ্রভু উচ্চৈঃস্বরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ গান করেন, তা শুনে মৃগীর পাল আসে।মৃগমৃগী মিলে দুইজনে মহাপ্রভুর অঙ্গ লেহন করে। কোকিল, ভ্রমর মহাপ্রভুকে দেখে পঞ্চমস্বরে গান করে। ময়ূরময়ূরী পেখম তুলে নৃত্য করে।ময়ূরের কন্ঠ দেখে গৌরহরির শ্রীকৃষ্ণ স্ফূর্তি হয়।প্রেমাবেশে ধূলায় পড়ে যান।বৃন্দাবনের স্থাবর জঙ্গম প্রভুর সঙ্গে মিলে যেন কৃষ্ণ নামধ্বনি করে।মহাপ্রভু প্রত‍্যেকটি বৃক্ষলতা জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করেন।শুক,শারী মহাপ্রভুর হাতের উপর উড়ে এসে বসে।শুক কৃষ্ণ গুণ গায়,শারী রাধাগুণ গায়।শুনে মহাপ্রভু প্রেমে গদগদ হয়ে পড়েন।ব্রজে এসে শ্রীগৌরাঙ্গ রাত্রিদিন প্রেমের আবেশে থাকেন।স্নানাহার করেন মাত্র দেহের অভ‍্যাস বশত।বৃন্দাবনে এসে কপট বৃন্দাবনবিহারী গৌরহরি যে মহা আনন্দে ডুবলেন,ভাসলেন, ভাসালেন তা ভাষায় বর্ণনা করবার সামর্থ‍্য সহস্র বদন অনন্তেরও নাই।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
      ꧁ ৮২. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮২)শ্রীগৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
*❄❄শ্রীরাধাকুন্ড উদ্ধার❄❄*
 °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌹শ্রীবৃন্দাবনে অরিট গ্রামে এসে মহাপ্রভু গৌরসুন্দর জনে জনের কাছে জিজ্ঞাসা করলেন---, শ্রীরাধা কুন্ড কোথায় অবস্থিত। কেউ কোন উত্তর দিতে পারল না, নিকটে দুই ধানক্ষেত।তাতে অল্প অল্প জল।ভাবনিধি গৌরহরি সেই জলে স্নান করলেন। সেখানে বসে রাধাকুন্ডের শ‍্যামকুন্ডের স্তব পাঠ করতে লাগলেন। ওখানকার মাটি তুলে ব্রজভাবে বিভাবিত শ্রীচৈতন‍্যদেব তিলক করলেন। কিছু মৃত্তিকা বহির্বাসে বেঁধে নিলেন সকলেই জানলেন এই জায়গায় শ্রীরাধাশ‍্যাম কুন্ডদ্বয় বিরাজিত মহাপ্রভু স্বয়ং এবং পরে রূপ-সনাতন প্রমুখ পার্ষদগণ বৃন্দাবনের বহু লুপ্ত তীর্থ উদ্ধার করলেন।শ্রীবৃন্দাবন তত্ত্ব, বৃন্দাবনীয় রসের ভজন এবং বিশিষ্ট লীলাস্থলী সকলই শ্রীমন্মহাপ্রভুর করুণায় প্রকটীভূত হয়েছেন।*
*🙏🙏🙏জয় শ্রীমন্মহাপ্রভুর জয়🙏🙏🙏*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
      ꧁ ৮৩. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮৩)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
    *🌻প্রয়াগে রূপ-অনুগ্রহ🌻*
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🌿শ্রীবৃন্দাবনে থাকা কালীন দিনের পর দিন লোক সংখ্যা বাড়তেই লাগল। বলভদ্র মহাপ্রভুকে বললেন, চলুন প্রভু এখন ব্রজ ছেড়ে প্রয়াগের দিকে যাই।এখন রওনা হলে প্রয়াগে মকরস্নান পাব।পদযাত্রীর পথ ধরে যাব।মহাপ্রভু রাজী হলেন।বললেন ব্রজ দর্শন করিয়ে ঋণী করেছ।এখন যা বলবে আমি তাই শুনব।প্রয়াগ যাবার পথে মহাপ্রভু দুইজন দুদ্ধর্ষ পাঠিনকে কৃষ্ণভক্ত করলেন।তাঁদের লোকে "পাঠান বৈষ্ণব" বলেন। তাঁরা সর্বত্র মহাপ্রভুর কীর্তি ঘোষণা করে বেড়াতেন অর্থ‍্যাৎ মহাপ্রভুর নাম প্রচার করে বেড়াতেন। পশ্চিমদেশ প্রেমে ভাসিয়ে মহাপ্রভু প্রয়াগে আসিলেন।ত্রিবেণীতে মকরস্নান করে গৌরহরি দশদিন থাকলেন।এই সময়ে সংসার বন্ধন ছিন্ন করে রাজমন্ত্রিত্ব পদ ত‍্যাগ করে শ্রীরূপ গোস্বামী কনিষ্ঠ ভ্রাতা বল্লভকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়াগধামে উপস্থিত হলেন।শ্রীগৌরাঙ্গ তাদের আত্মস‍াৎ করলেন।ভক্তিতত্ত্বের উপদেশ দিয়ে শ্রীরূপকে শক্তি সঞ্চার করলেন।মহাপ্রভুর উদ্দেশ্য বৃন্দাবনীয় রসকেলিবার্তা লুপ্ত হয়ে গিয়েছে। তাকে পুনরায় সঞ্জীবিত করে সুষ্ঠুভাবে ভক্ত হৃদয়ে সংস্থাপিত করা।এইসব কাজের জন্য শ্রীগৌরহরি শ্রীরূপ ও শ্রীসনাতনকে অভিষিক্ত করেছিলেন।শ্রীরূপকে শক্তি সঞ্চার করে বললেন, "বৃন্দাবনে গিয়ে গ্রন্থ রচনা কর ও লুপ্ততীর্থ উদ্ধার কর।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
      ꧁ ৮৪. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮৪)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
*🍀🍀কাশীধামে গৌরহরি🍀🍀*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻প্রয়াগ ধাম হতে করুণাময় পতিতপাবন শ্রীগৌরহরি কাশীধামে আসিলেন।চন্দ্রশেখরের গৃহে এসে উঠলেন এবং বাস করলেন।একদিন সকালে মহাপ্রভু চন্দ্রশেখরকে বললেন,তোমার দরজায় একজন বৈষ্ণব আছে তাকে নিয়ে এসো।চন্দ্রশেখর গিয়ে দেখলেন কিন্তু কাউকে দেখতে পেলেন না।মহাপ্রভু বললেন,দুয়ারে কেউই কি নাই? চন্দ্রশেখর বললেন "একজন দরবেশ আছেন।গৌরহরি কহিলেন, তিনিই বৈষ্ণব,তাঁকেই চাই।*
*🌹মহাপ্রভু ডেকেছেন শুনে সনাতন আনন্দে গৃহে প্রবেশ করে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।মহাপ্রভু উঠায়ে তাঁকে বক্ষে চেপে ধরলেন।শ্রীগৌরহরির স্পর্শে সনাতন প্রেমাবিষ্ট হলেন।শ্রীগৌরাঙ্গ তাঁর নিজ পার্শে বসালেন। পিঠে হাত বুলাতে লাগলেন।সনাতন পরম দৈন‍্যে বলতে লাগলেন "মহাপ্রভু আমাকে স্পর্শ করিও না"।জগৎসুন্দর গৌরহরি বললেন,তোমাকে স্পর্শ করছি নিজেকে পবিত্র করতে।শ্রীকৃষ্ণ পরম করুণাময়।মহারৌরব হতে তোমাকে উদ্ধার করেছেন।তখন সনাতন বললেন, আমি শ্রীকৃষ্ণ চিনি না, তুমিই কৃপা করে আমার উদ্ধার বিধান করেছ🙏।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
      ꧁ ৮৫. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮৫)গৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন*
   *🌻🌻সনাতন-----প্রশ্ন🌻🌻*
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*"কে আমি কেন আমায় জারে তাপত্রয়"*
*🌺করুণাময় গৌরহরির আদেশে সনাতন "বেশ পরিবর্তন করে ভদ্র" বেশ ধারণ করলেন।মহাপ্রভুর পাদপদ্ম পার্শে বসে সনাতন প্রশ্ন করলেন তিনটি। ১)আমি কে? ২) ত্রিতাপ জ্বালায় জর্জরিত হচ্ছি কেন? ৩)কিসে হিত হবে অর্থ‍্যাৎ দুঃখ নাশ হবে?*
*🍀মহাপ্রভু সনাতনের প্রশ্নের উত্তর দিলেন---,জীবের স্বরূপ কৃষ্ণের দাস। শ্রীকৃষ্ণের তিনটি শক্তির মধ্যে "তটস্থা" শক্তি জীবের স্বরূপ।তার কাজ শ্রীকৃষ্ণ সেবা, শ্রীকৃষ্ণের সুখবিধান।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে জীবের অভেদও আছে ভেদও আছে।শ্রীকৃষ্ণ অনন্ত অসীম,পূর্ণ।জীব ক্ষুদ্র কণা।শ্রীকৃষ্ণ পূর্ণানন্দঘন--জীব চিৎকণ।প্রথম প্রশ্নের উত্তর দিলেন।*
*🌺দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, শ্রীকৃষ্ণকে ভুলে আছে বলেই জীবের এত দুঃখ।দুঃখের এই একটি মাত্র কারণ সাধু কৃপায়,শাস্ত্র কৃপায়, ও গুরু কৃপায় যেমাত্র জীব কৃষ্ণ-উন্মুখী হয় তখনই তার দুঃখ দূর হতে থাকে।যাতে আমরা শ্রীকৃষ্ণকে না ভুলি,এই জন্য সর্বদা তিনি নিজেকে জানান।জীবের হৃদয়ে অন্তর্য‍্যামীরূপে থেকে জানান।শাস্ত্ররূপে নিজেই ব‍্যক্ত হয়ে জীবের স্বরূপ কি,করণীয় কি তা জানান--আবার গুরুরূপে প্রকট হয়ে শ্রীকৃষ্ণ প্রাপ্তির উপায় কি তা জানান। শাস্ত্রকৃপায় গুরুকৃপায় যেইমাত্র জীব কৃষ্ণের প্রতি উন্মুখী হয় অমনি তার দুঃখ ঘুচিতে থাকে। এইভাবে সহজ সরল কথায়,অল্প কথায় তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে মহাপ্রভু বিস্তার করে বলতে লাগলেন।*
*☘বেদশাস্ত্রে তিনটি তত্ত্বের কথা বলেছেন--সম্বন্ধ,অভিধেয় ও প্রয়োজন।সকল শাস্ত্রে কৃষ্ণই সম্বন্ধ।ভক্তি অভিধেয়(বোধক,শব্দ উচ্চারণ করলে যে বস্তুকে বুঝায়,প্রতিপাদ‍্য ও উদ্দিষ্ট অর্থ)তাকে পাবার উপায়।জীবের চরম প্রয়োজন প্রেম।প্রেমই পঞ্চম পুরুষার্থ,এই কৃষ্ণ ভক্তি-তত্ত্ব, প্রেম তত্ত্ব নিয়ে প্রভু সুবিস্তারে আলোচনা করলেন।সনাতন গোস্বামীকে শিক্ষা দিয়ে বিশেষভাবে শক্তি সঞ্চার করে দিলেন।তারপর "আত্মারাম" শ্লোকের বহুপ্রকার অর্থ সনাতন শুনতে চাইলে মহাপ্রভু অদ্ভুত পান্ডিত‍্য প্রকাশ করে এক শ্লোকের একষট্টি (৬১) প্রকার অর্থ করলেন।সনাতনকে শ্রীবৃন্দাবনে পাঠিয়ে দিলেন।গ্রন্থ-রচনা করতে ও লুপ্ততীর্থ উদ্ধার করতে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
      ꧁ ৮৬. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮৬)গৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন*
*🌻🌻🌻সন্ন‍্যাসী উদ্ধার🌻🌻🌻*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀বারাণসী হৈল দ্বিতীয় নদীয়া নগর।*
*🌹কাশীধাম জ্ঞান প্রধান স্থান।শঙ্কর পন্থী সন্ন‍্যাসীর প্রধান কেন্দ্র কাশী। তখন যত সন্ন‍্যাসী ছিলেন সকলের প্রধান ছিলেন প্রকাশানন্দ সরস্বতী। মহাপ্রভু যখন কাশীতে আছেন তখন কেউ কেউ এসে সরস্বতীর কাছে গৌরহরির রূপ,গুণ,মহিমার কথা বললে প্রকাশানন্দ উপহাস করে বলতেন,শুনেছি গৌড়দেশের একজন ভাবুক সন্ন‍্যাসী এসেছেন,কেশব ভারতীর শিষ‍্য।শ্রীচৈতন‍্য তার নাম, কতকগুলি ভাবুক নিয়ে গ্রামে গ্রামে নাচে।এমন মোহিনী বিদ‍্যা জানে যে দেখে সেই তাকে ঈশ্বর বলে। শুনেছি পুরীর পন্ডিত বাসুদেব ভট্টাচার্য্য সার্বভৌমও এই মহা-ইন্দ্রজালীর ফাঁদে পড়েছে।লোকটি নামে মাত্র সন্ন‍্যাসী, আসলে ভন্ড প্রতারক। কাশীধামে তার ভাবকালী বিকাবে না। মহাপ্রভুর প্রতি তাচ্ছিল্য করে প্রকাশানন্দ এইভাবে অবজ্ঞা করছেন। সরস্বতীর কথা শুনে পরম করুণাময় গৌরহরি হাস‍্য করেন আর বলেন যদি কাশীতে না বিকায় বিনামূল‍্যে দিয়ে যাব।*
*🌻একজন ব্রাহ্মণ এসে একদিন মহাপ্রভুর শ্রীচরণে নিবেদন করলেন-- তিধি সন্ন‍্যাসীদের তার বাড়ীতে নিমন্ত্রণ করেছেন, মহাপ্রভুও যদি কৃপা করে আসেন তাহলে কৃতার্থ হন। ব্রাহ্মণের কথা শুনে পরমপ্রেমময় প্রভু রাজী হলেন। মহাপ্রভু নিমন্ত্রণ গ্রহণ করে ঐ ব্রাহ্মণের গৃহে গেলেন। গিয়ে দেখলেন সন্ন‍্যাসীগণ বসে আছেন।তিনি তাঁদের নমস্কার করে "পা ধোয়ার জায়গায় পা ধুয়ে সেইখানেই বসে পড়লেন"।বসে শ্রীদেহে ঐশ্বর্য‍্য বিকাশ করলেন।শ্রীতনু হতে কোটি সূর্য‍্যের তেজ বহির্গত হতে লাগল। তখন প্রকাশানন্দ বললেন শ্রীপাদ ঐ অপবিত্র জায়গায় কেন বসেছ এখানে কাছে এসো।মহাপ্রভু বললেন, আমি হীন সম্প্রদায়ভুক্ত এই জন্য এখানে বসেছি।প্রকাশানন্দ তখন নিজে হাত ধরে মহাপ্রভুকে মধ‍্যস্থলে বসালেন। বসিয়ে বিনয়ের সঙ্গে জিজ্ঞাসা করলেন, "তোমার নাম শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য"? তুমি কেশব ভারতীর শিষ‍্য? তুমি আমাদের সম্প্রদায়ী সন্ন‍্যাসী।আমাদের সঙ্গে মেলামেশা না করে তুমি নেচে বেড়াও, গান কীর্তন এসব কর কেন? তোমার শ্রীঅঙ্গ জ‍্যোতিঃ দেখলে মনে হয় তুমি সাক্ষাৎ নারায়ণ কিন্তু বেদান্ত পড় না কেন?রসিকচূড়ামণি গৌরসুন্দর মধুর হাসি হেসে উত্তর দিলেন।তিনি বললেন-- গুরুদেব আমাকে মূর্খ জেনে বললেন তোমার বেদান্ত শাস্ত্র অধিকার নেই।তুমি সদাসর্বদা শ্রীকৃষ্ণনাম জপ কর।এই যুগে হরের্নামৈব কেবলম্।গুরুদেবের আদেশে আমি নাচি আর কাঁদি।এই নাচ ও কান্না আমি আমার ইচ্ছায় করি না।নামের শক্তিতে করায়।আমি পাগল হয়েছি মনে করিয়া গুরুদেবকে শুধালাম,তিনি বললেন, তোমার পঞ্চম পুরুষার্থপ্রেম লাভ হয়েছে।আমি গুরুবাক‍্য বিশ্বাস করে সর্বদা কৃষ্ণনাম করি।কৃষ্ণনামে যে আনন্দ সিন্ধুর আস্বাদন ব্রহ্মানন্দ তাঁর কাছে একটি জোনাকী পোকার মত।*
              *ক্রমাগত*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
      ꧁ ৮৭. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮৭) গৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন*
    *শঙ্কর-ভাষ‍্যের সমালোচনা*
   °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀সূত্র উপনিষদের মুখ‍্যার্থ ছাড়িয়া।*
*🍀আচার্য‍্য কল্পনা করে আগ্রহ করিয়া।।*
*🍀আচার্য‍্য কল্পিত অর্থ পন্ডিত যে শুনে।*
*🍀মুখে হয় হয় করে হৃদয়ে না মানে।।*
*🌹সর্বশ্বর হরির মধুময় কথা শুনে সন্ন‍্যাসীর চিত্ত গলে গেল।তারা বললেন তুমি যা বলেছ সবই শাস্ত্রসম্মত,ঠিক কথা।কৃষ্ণপ্রেম সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ। কিন্তু তুমি সন্ন‍্যাসী হয়ে বেদান্ত শ্রবণ কর না কেন?পতিতপাবন গৌরহরি বললেন, বেদান্ত সূত্র ঈশ্বর বচন এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই কিন্তু তোমাদের আচার্য‍্য শঙ্কর অসদ্ব‍্যাখ‍্যা করেছেন শাস্ত্রের মুখ‍্য অর্থ বাদ দিয়ে গৌণ অর্থ কল্পনা করেছেন। ব্রহ্ম বৃহৎবস্তু,নিরাকার নহেন, তিনি চিদাকার, তিনি ও তাঁর লীলা পার্ষদগণ সবই চিদানন্দময়, আর যারা তাঁকে নিরাকার বলেন তারা ভুল পথের পথিক। ভগবানের চিন্ময় দেহকে প্রাকৃত বলে মনে করলে মহা অপরাধ হয়।*
*🌼শাস্ত্রের প্রত‍্যেক শব্দের অর্থ হবে মুখ‍্য বৃত্তিতে (অর্থ প্রকাশের ব‍্যাপারে শব্দের অন্তর্নিহিত শক্তি)।আচার্য‍্য শঙ্কর শ্রুতির অর্থ করেছেন গৌণ বৃত্তিতে।শব্দ শ্রবণ করে সহজে যে অর্থ বোধহয় তা মুখ‍্যবৃত্তি।প্রকৃত সহজ অর্থ পরিত‍্যাগ করে লক্ষণা দ্বারা কষ্টে যে অর্থের বোধ হয় তা গৌণবৃত্তি।আচার্য‍্য শঙ্কর বেদান্তের অর্থ মুখ‍্যবৃত্তিতে না করে গৌণবৃত্তিতে করেছেন।গৌণ শুনলে সর্বনাশ হয়।*
         *ক্রমাগত*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
      ꧁ ৮৮. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮৮)শ্রীগৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন*
           🙌 *ব্রহ্ম------তত্ত্ব*🙌
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌻ব্রহ্ম নিরাকার নহে,চিদাকার।তাঁর সকল শক্তি বিভূতি(ভগবানের ঐশ্বর্য‍্য বা শক্তি) সবই চিদাকার।যারা নিরাকার বলেন তারা চিদ্বিভূতি আচ্ছাদন করে তাঁকে নিরাকার বলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণই ব্রহ্ম।তাঁর স্থান,পরিকর,ধাম সবই চিন্ময়।প্রকৃত সত্ত্বের বিকার নেই।শ্রীকৃষ্ণ শ্রীদেহ চিন্ময় বিকার রহিত--অপ্রাকৃত। বেদান্তের সব সূত্রের ভাষ‍্য মুখ‍‍্য অর্থে হবে এবং পরিণামবাদ স্বীকার করতে হবে।কারণ ব‍্যাসদেবের হার্দ (স্নেহ বা প্রণয়) পরিণামবাদ।শঙ্কর তা আবরণ করে বিবর্তবাদে(মায়াবাদে) ব‍্যাখ‍্যা করেছেন।তাদের যুক্তি পরিণামবাদ স্বীকারে ব্রহ্ম পরিনামী,বিকারী নয়।এই যুক্তি বিচার সত‍্য নয়।ব্রহ্ম অধিকারী থেকেও সৃষ্টি করেন।চিন্তামণি রত্ন হতে রত্নের প্রকাশ। কিন্তু মূল চিন্তামণি অধিকারী থাকে প্রাকৃত বস্তুতেই যখন এই অবিচিন্ত‍্য শক্তি আছে তখন ব্রহ্মে থাকবে না কেন?ব্রহ্ম বিকারী না হওয়ায় সৃষ্টাদি কার্য‍্যের কর্তা হন।*
*🌹দেহে আত্মবুদ্ধি হল বিবর্ত। ভগবানের সৃষ্টি কাজে কোথাও বিবর্ত নাই।সবই পরিণাম।ব্রহ্ম পরিনামী হয়েও অধিকারী।এই কথাটি শঙ্করাচার্য‍্য বুঝতে পারেননি। অথবা বুঝেও ভগবৎ ইচ্ছার ঐ রকম কাজ করেছেন।*
*🍁চিৎকণ জীবকে ব্রহ্মের সঙ্গে অভিন্ন মনে করলে শাস্ত্রের ভুল ব‍্যাখ‍্যা হয়।সর্বশাস্ত্র জীব শক্তিকে ব্রহ্মেরই তটস্থা শক্তি বলেছেন।অংশকে পূর্ণের সঙ্গে অভিন্ন মনে করলে সে ব‍্যাখ‍্যা অশেষ দোষপূর্ণ হবে।*
*🌷কৃষ্ণেতে অনুরাগই প্রেম।এই প্রেমই পঞ্চম পুরুষার্থ। প্রেমদ্বারাই শ্রীকৃষ্ণের মাধুর্য‍্য রস আস্বাদিত হয়।অন‍্য কোন উপায়ে নহে।প্রেমে কৃষ্ণ ভক্তের বশ হন ; প্রেম হতেই কৃষ্ণ সুখ লাভ হয়।নাম-কীর্তনে সেই প্রেমের উদয় হয়।মহাপ্রভুর ব‍্যাখ‍্যা শুনে সন্ন‍্যাসীদের মন ফিরে গেল---- তারা আনন্দে কৃষ্ণনাম গ্রহণ করলেন।*
*"সব কাশীবাসী করে নাম সংকীর্তন।*
*প্রেমোল্লাসে কান্দে গায় করায় নর্তন।।*
*সন্ন‍্যাসী পন্ডিত করে ভাগবৎ বিচার।*
*বারাণসী দেশ প্রভু করিলা নিস্তার।।*
*🌺এইমত দিন-পাঁচেক থেকে কাশীবাসীদের উদ্ধার করলেন। একদিন রাত্রে উঠে একাকী মহাপ্রভু নীলাচল অভিমুখে চলিলেন। তপন মিশ্র, রঘুনাথ,মহারাষ্ট্রী ব্রাহ্মণ,চন্দ‍্যশেখর ও পরমানন্দ এই পাঁচজন দ্রুত দৌড়িয়ে মহাপ্রভুকে পথ ধরলেন।সকলেই মহাপ্রভুর সঙ্গে নীলাচল যেতে চাইলেন।মহাপ্রভু কাউকেও সঙ্গে নিলেন না। সনাতন গোস্বামীকে শ্রীবৃন্দাবন পাঠিয়েদিলেন।রাধাকৃষ্ণ লীলাতত্ত্ব প্রচার করবেন, গ্রন্থ লিখে আরও লুপ্ত তীর্থ উদ্ধারণ করে ব্রজের সর্বত্র বিচরণ করবেন, এই দুই কাজ করার জন্য পাঠালেন।আরও একটি কথা বলে দিলেন=*
*কাঁথা করঙ্গিয়া---- মোর কাঙ্গাল ভক্তগণ।*
*বৃন্দাবনে আইলে তার করিও পালন।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
      ꧁ ৮৯. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৮৯)শ্রীগৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন*
      *সুবুদ্ধি রায়ের ব্রজবাস*
*********************************
*🌻একসময় সুবুদ্ধি রায় গৌড় রাজ‍্যের অধিকারী ছিলেন।সৈয়দ হোসেন শাহ তার চাকুরি করত।সুবুদ্ধি রায় হোসেন শাহকে একটা দীঘি খনন করবার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।হোসেন শাহ সেই কাজে অনেক ফাঁকী দিয়েছিলেন।অসৎ আচরণের জন্য সুবুদ্ধি রায় তাকে একটা চাবুকের আঘাত করেছিলেন। হোসেন শাহ পরে ভাগ‍্যবশে গৌড়ের রাজা হলেন।তিনি সুবুদ্ধি রায়কে খুব মর্য‍্যাদা দিতেন।হোসেন শাহর স্ত্রী স্বামীর পিঠে চাবুকের দাগ দেখে ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন সুবুদ্ধি রায়ের শিরচ্ছেদ কর অথবা জাতি নাশ কর নতুবা আমি প্রাণ ত‍্যাগ করব।হোসেন শাহ অগত‍্যা "করোয়ার পানি" মুখে দিয়ে তার জাতি নাশ করে দিল। তারপর কি করবেন চিন্তা করে সুবুদ্ধি রায় কাশীতে গিয়ে পন্ডিতদের কাছে প্রায়শ্চিত্ত বিধান চাইলেন।পন্ডিতেরা বললেন, মুখে তপ্ত ঘি খেয়ে প্রাণত‍্যাগ কর। ভাগ‍্যক্রমে গৌরসুন্দর যখন কাশীধামে আসিলেন তখন সুবুদ্ধি রায় তাঁর শ্রীচরণে উপস্থিত হয়ে সব নিবেদন করলেন। মহাপ্রভু বললেন কেন তপ্ত ঘি খেয়ে প্রাণত‍্যাগ করবে? আমি যা বলছি তাই কর।*
*প্রভু কহে ইহাঁ হৈতে যাহ বৃন্দাবন।*
*নিরন্তন কর কৃষ্ণ নাম সংকীর্তন।।*
*এক নামাভাসে তোমার পাপদোষ যাবে।*
*আর নাম হৈতে কৃষ্ণ চরণ পাইবে।।*
*🍀সুবুদ্ধি রায় মহাপ্রভুর আজ্ঞা শিরোধার্য‍্য করে শ্রীবৃন্দাবন চললেন।*
        🙏🙏🙏🙏🙏🙏
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
      ꧁ ৯০. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯০)গৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন*
     *🍀নীলাদ্রি প্রত‍্যাবর্তন🍀*
     ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌻শ্রীশ্রীগৌরসুন্দর বলভদ্রকে সঙ্গে নিয়ে বনপথে নীলাচলে যাত্রা করলেন।আঠারনালা পৌঁছিয়া মহাপ্রভু বলভদ্রকে পাঠালেন ভক্তদের সংবাদ দিতে। আনন্দে বিহ্বল হয়ে ভক্তগণ নরেন্দ্র সরোবর পর্যন্ত এসে মহাপ্রভুর সঙ্গে মিলিত হলেন।ভক্তবৃন্দ সঙ্গে নিয়ে প্রেমিবিষ্ট হয়ে গৌরহরি শ্রীজগন্নাথদেব দর্শন করলেন।তারপর কাশী মিশ্রের ভবনে আগমন করলেন।*
       *🙌গৌড়বাসীর আগমন🙌*
               °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভু দক্ষিণদেশ বিজয় করে ফিরেছেন এই সংবাদ স্বরূপদামোদর, কালাকৃষ্ণ দাস মাধ‍্যমে গৌড়দেশে পাঠালেন।গৌড়দেশ বাসী দুইশ ভক্ত মহাপ্রভুর দর্শন আশায় নীলাচলে যাত্রা করলেন।কুলীন গ্রামের শিবানন্দ সেন, যারা যারা নীলাচল যেতে ইচ্ছুক সবাইকে দেখাশুনা করে নিয়ে চললেন।রাজায় রাজায় যুদ্ধে পথঘাট নিরাপদ নয়।মাঝে মাঝেই শুল্কঘাটি,সেখানে অনেক বিড়ম্বনা ছিল।এই সব পথের ব‍্যাপার সমাধানের দায়িত্ব শিবানন্দ স্বেচ্ছায় সানন্দে গ্রহণ করতেন। ভক্তদের সঙ্গে একটি কুকুর ছিল।সেই কুকুরটি প্রসাদ ছাড়া অন‍্য কিছু খাবার খেত না।একদিন শুল্কঘাটিতে শিবানন্দের অনেক দেরী হয়।কুকুরকে প্রসাদ দিতে ভৃত‍্য ভুলে যায়।সেইদিন কুকুর কোথায় চলে যায় কিছু বুঝা গেল না।অনেক অনুসন্ধানে তাকে পাওয়া গেল না, তারজন‍্য সকলের দুঃখ হয়। স্নানযাত্রার পর জগন্নাথদেবের দর্শন কয়েকদিন বন্ধ থাকে।তখন গৌরসুন্দর আলালনাথ দর্শনে যান।গৌড়দেশ থেকে ভক্তগণ এসেছেন এই সংবাদ পেয়ে মহাপ্রভু সত্বর নীলাচলে আসেন।ভক্তগণ আঠারনালা হতে কীর্তন আনন্দে কীর্তন করতে করতে চলতে থাকেন। ঐদিকে প্রতাপরুদ্র মহারাজ নিজ প্রাসাদের ছাদ হতে দর্শন করেন। সঙ্গে সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য।গোপীনাথ সবাইকে পরিচয় করে দিলেন।*
*মহাপ্রভু স্বরূপদামোদর ও গোবিন্দ দাসকে দিয়ে মালা পাঠিয়ে দেন ভক্তগণকে সম্বোধনা করতে।স্বরূপদামোদর ও গোবিন্দ দুইজনেই অদ্বৈতাচার্য‍্যকে মালা দিয়ে সম্বোধন জানালেন।প্রতাপরুদ্র জানতে চাইলেন এই যে সূর্য‍্যের মত জ‍্যোতির্ময় পুরুষবর যাকে দুইজনে মালা পরাল ইনি কে?গোপীনাথ বললেন ইনি অদ্বৈতাচার্য‍্য।ইনিই গৌর আনা ঠাকুর।গঙ্গাজল আর তুলসী দিয়ে ইনি কেঁদে কেঁদে গৌরহরিকে অবতার করিয়েছেন।ইনি শান্তিপুরেশ্বর আচার্য‍্যবর্য‍্য। স্বয়ং মহাপ্রভু ইনাকে মান‍্য করেন।ইনি সকলের শিরোমণি।প্রতাপরুদ্র বললেন, মানুষের দেহে এত তেজ জীবনে কখনও দেখি নাই।ইনাকে দর্শন করে ধন‍্য হলাম।গোপীনাথ একে একে শ্রীবাস,গদাধর,শিবানন্দ, মুরারি, বক্রেশ্বর সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিলেন।নৃত‍্য,কীর্তন হরিধ্বনি শুনে রাজা কহিলেন--*
*ঐছে নৃত্য ঐছে কীর্তন ঐছে হরিধ্বনি।*
*কভু নাহি দেখি ঐছে কভু নাহি শুনি।।*
*🌹গোপীনাথ বললেন, মহারাজ আপনার বাক‍্য সুসত‍্য।*
*🍀চৈতন‍্যের সৃষ্টি এই নাম সংকীর্তন।*
*🌻ভক্তগণ সকলে কাশী মিশ্র ভবনে প্রবেশ করে দীর্ঘ বিরহের পর মহাপ্রভুর দর্শন স্পর্শন আপ‍্যায়ন আলিঙ্গন লাভে কৃতকৃতার্থ হলেন। উড়িষ‍্যাবাসী ভক্তদের সঙ্গে গৌড়দেশ বাসী ভক্তগণেরও পরম মিলনানন্দ হল।*
                  🙌🙌🙌
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
      ꧁ ৯১. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯১)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
           *অনুগৃহীত কুকুর*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*শিবানন্দ সেন শ্রীমন্মহাপ্রভুর সঙ্গে মিলিত হলেন।মহাপ্রভু আলিঙ্গন করে পাশে বসালেন।শিবানন্দ সেন দেখলেন সেই কুকুরটি গৌরহরির পাশে বসে আছে।ভৃত‍্য প্রসাদ দিতে ভুল করায় যে কুকুরটি কোথায় অন্তর্ধ‍ান করেছিল-- সেই কুকুরটি। মহাপ্রভু তার সামনে নারকেল শস‍্য ফেলে দেন আর কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলেন।কুকুর শ্রীগৌরহরির প্রসাদী নারকেল শস‍্য খাই আর কৃষ্ণ বলে।তার উচ্চারণ স্পষ্ট কুকুরের ভাগ‍্য দেখে সকলে মুগ্ধ।শিবানন্দ কুকুরকে দন্ডবৎ করে ক্ষমা ভিক্ষা চাইলেন।তারপর হতে কুকুরটিকে কেউ দেখতে পেল না।সে সিদ্ধ দেহ পেয়ে বৈকুন্ঠে চলে গিয়েছে।*
💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧
*🌻শ্রীরূপের ভাবানুরূপ শ্লোক🌻*
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভু যখন জগন্নাথের রথাগ্রে অগণিত ভক্তসঙ্গে মধুর নর্তন কীর্তন করেন তখন শ্রীমুখের দীকে তাকিয়ে এইটি শ্লোক পড়েন। শ্লোকটি প্রকৃত রসের প্রায় অশ্লীল পর্য‍্যায়। শ্লোকটির অর্থ এইরকম ঃ--*
*🌹বিবাহের পর পত্নী পতিকে বলছেন-- তোমার সঙ্গে মিলনে সুখ হচ্ছে না। বিবাহের পূর্বে রেবানদীর তীরে বেতসীখুঞ্জের আড়ালে মিলনে যে সুখ হত আজ আর নেই।মহাপ্রভু কেন এইরকম শ্লোক পড়েন তা কেউই বুঝতে পারেন না।এক বৎসর রথের সময় শ্রীরূপ গোস্বামী এসেছেন।তিনি শ্লোক শুনে মহাপ্রভুর ভাবানুরূপ আর একটি শ্লোক লিখলেন।*
*প্রিয়ঃ সোহয়ং কৃষ্ণঃ সহচরি কুরুক্ষেত্র মিলিত-*
*স্তথাহং সা রাধা তদিদমুভয়োঃ সঙ্গমসুখম্।*
*তথাপ‍্যন্তঃ খেলন্মধুরমুরলী পঞ্চমজুষে,*
*মনো মে কলিন্দী পুলিন বিপিনায় স্পৃহয়তি।।*
*🌹শ্লোক পড়ে মহাপ্রভু আনন্দে অধীর হলেন। শ্রীপাদ রূপের পিঠে চাপড় দিয়ে বললেন, "আমার অন্তর তুই জানিলি কেমন? শ্লোকের সংক্ষেপ অর্থ কৃষ্ণদাস কবিরাজ বলেছেন=*
*এই শ্লোকের সংক্ষেপার্থ শুন ভক্তগণ।*
*জগন্নাথ দেখি যৈছে প্রভুর ভাবন।।*
*শ্রীরাধিকা কুরুক্ষেত্রে কৃষ্ণের দর্শন।*
*যদ‍্যপি পায়েন তবু ভাবেন ঐছন*।।
*রাজবেশ সাতী মোড়া মনুষ‍্য গহন*।
*কাঁহা গোপবেশ কাঁহা নির্জন বৃন্দাবন।।*
*সেই ভাব সেই কৃষ্ণ সেই বৃন্দাবন।*
*যবে পাই তবে হয় বাঞ্জিত পূরণ।।*
         🙏🙏🙏🙏🙏⭐
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
      ꧁ ৯২. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯২)শ্রীগৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
*🍀শ্রীরূপের শ্লোকে গৌরতত্ত্ব🍀*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌻শ্রীপাদ রূপ গোস্বামী নাটক লিখছেন।মহাপ্রভুর নির্দশে একটি গ্রন্থকে দুইটি করে লিখছেন। বিদগ্ধমাধব ও ললিতমাধব।রসিক ভক্তগণ সঙ্গে স্বয়ং রসিকেন্দ্র চূড়ামণি গৌরসুন্দর উপবিষ্ট অর্থ‍্যাৎ বসে আছেন।রায় রামানন্দ বিদগ্ধ মাধবের প্রারম্ভে ইষ্টদেব বন্দনায় কি লিখেছ?শ্রীমহাপ্রভু নিকটে বসে শ্রীরূপ শ্লোক পাঠ করতে ইতস্ততঃ (কুন্ঠা বোধ) করছেন।কারণ শ্লোক মহাপ্রভুর তত্ত্ব মহিমা বর্ণিত আছে।মহাপ্রভু তা বুঝেননি।তিনি বললেন, রূপ!সঙ্কোচ কর কেন?বৈষ্ণব সমাজে গ্রন্থ শুনানো মহাভাগ‍্যের কথা। তথাপিসশ্রীপাদ রূপ চুপ করে থাকলে, স্বরূপ দামোদর সেই লেখা হাতে নিয়ে পাঠ করলেন---*
*অনর্পিতচরীং চিরাৎ করুণয়াবতীর্ণ কলৌ,*
*সমর্পয়তুমুন্নতোজ্জ্বলরসাং স্বভক্তিশ্রিয়ম্।*
*হরিঃ পুরটসুন্দরদ‍্যুতি কদম্ব সন্দীপিতঃ,*
*সদা হৃদয়কন্দরে স্ফুরতু বঃ শচীনন্দনঃ"*
*🌹শ্লোক শুনে সকল ভক্ত আনন্দে অধীর।চতুর চূড়ামণি গৌরসুন্দর মন্তব‍্য করলেন, "অতি স্তুতি হয়ে গেছে"।*
*🍀মহাপ্রভু সকল ভক্তদের বললেন, তোমরা সকলে রূপকে আশীর্বাদ কর যেন রসতত্ত্ব বর্ণনা করতে পারে। ভক্তগণ বললেন, "তুমি নিজেই শ্রীরূপকে অশেষ কৃপা করেছ। আমাদের আর কিছু করতে হবে না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
      ꧁ ৯৩. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯৩)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
*🌹🌹🌹প্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের কথা🌹🌹🌹*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র নামক একজন কৃষ্ণভক্ত শ্রীগৌরহরির কাছে কৃষ্ণ কথা শুনতে চাইলেন।মহাপ্রভু বললেন, আমি কৃষ্ণকথা জানি না।রামানন্দ রায় জানেন।তার কাছে তুমি যাও। মহাপ্রভুর কথা অনুসারে প্রদ‍্যুম্ন রামরায়ের গৃহে গেলেন। রামরায় গৃহে ছিলেন।রামরায়ের গৃহে গিয়ে দেখলেন তাঁর সেবক আছেন।সেবককে জিজ্ঞাসা করলেন রামরায় কোথায়,তাঁর সেবক বললেন,রায় এখন কাজে ব‍্যস্ত আছেন। তিনি দুইটি দেবকন‍্যাকে নৃত‍্যাদি শিক্ষা দিচ্ছেন। তারা লীলাভিনয় করে শ্রীজগন্নাথদেবকে শুনাবেন।*
*⭐কিশোরী সুন্দরী মেয়েদের নাচ শিক্ষা দেন শুনে প্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের মনে অশ্রদ্ধা হল। তিনি তখন ফিরে গিয়ে মহাপ্রভুকে বললেন,রাম রায়ের কার্য‍্যাদি শুনে আমার শ্রদ্ধা হল না তাই ফিরে এলাম।গৌরহরি বললেন তুমি আবার যাও। রামানন্দকে তুমি চিনতে পারো নি।রামানন্দ রায় একজন নির্বিকার জিতেন্দ্রিয় পুরুষ। ঐরকম দ্বিতীয় ব‍্যক্তি আর কেউ নাই। তার দেহ অপ্রাকৃত।একটি কাঠের মানুষ আকার পুতুলের সামনে যদি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দরীগণ বিবসন হয়ে নৃত্য করে, তাহলে কি সেই কাঠের পুতুলের কোন বিকার হয়? সেই রামানন্দ রায়।শ্রীমদ্ভাগবতের রাসলীলা আস্বাদন করতে করতে তিনি কামবিকার শূন‍্য হয়েছেন। তুমি আমার নাম নিয়ে আবার তার কাছে যাও।*
*🍁প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র নিজের ভুল বুঝতে পেরে আবার গেলেন।রামানন্দ রায় প্রাণভরে কৃষ্ণলীলা তত্ত্বমাধুর্য‍্য কীর্তন করলেন বেলা তৃতীয় প্রহর পর্যন্ত।বক্তা রামরায় শ্রোতা প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র। দুইজনেই প্রেমাবেশে বাহ‍্যস্মৃতি শূন‍্য হয়ে গেলেন। পরে তিনি বললেন কৃতার্থ হলাম, বলে বিদায় নিলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
      ꧁ ৯৪. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯৪)গৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন*
*🍀এক বঙ্গীয় কবির নাটক🍀*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌹বঙ্গদেশীয় এক বিপ্র শ্রীমহাপ্রভুর চরিত্রের একখানি নাটক লিখে এনেছেন।অনেক ভক্ত তা শ্রবণ করে আনন্দলাভ করেছেন।সকলের ইচ্ছা মহাপ্রভু শোনেন।মহাপ্রভু বললেন-- আগে স্বরূপ-দামোদরকে শোনাও। সে যদি বলে শ্রবণযোগ‍্য তাহলে আমি শুনব।*
*🍁স্বরূপদামোদরের কাছে প্রথম নান্দীশ্লোক পাঠ করলেন। শ্লোকটি সুন্দর। তার তাৎপর্য‍্য এই যে, সম্প্রতি নীলাচলে জগন্নাথ, গৌরসুন্দর দ্বারা আত্মতা প্রাপ্ত হয়েছেন। অর্থ‍্যাৎ জগন্নাথ দেহ,গৌরহরি আত্মা। তিনি এখন অজ্ঞান জীবকে জ্ঞান দান করছেন।তিনি সকলের মঙ্গল বিধান করুন।*
*🌺শ্লোকের অর্থ শুনে সকলেই প্রশংসা করলেন। কিন্তু স্বরূপদামোদর বিমনা হলেন। তিনি বললেন-- শ্লোকের ব‍্যাখ‍্যান কর। কবি বললেন--, সুন্দর শরীর জগন্নাথ আর চৈতন‍্য গোসাঞি শরীরী।জড় জগৎকে চেতন করাতে কৃষ্ণ চৈতন‍্য রূপে আবির্ভূত। তিনি মঙ্গল বিধান করুন। স্বরূপ গোঁসাই বললেন, তোমার শ্লোক দোষযুক্ত হয়েছে।দুইজন ঈশ্বরের একজনেও তোমার বিশ্বাস নাই। জগন্নাথ পূর্ণানন্দ চিৎস্বরূপ।তাঁকে জড়দেহের সঙ্গে তুলনা করেছ। আর পূর্ণ ষড়ৈশ্বর্য‍্য শ্রীচৈতন‍্য স্বয়ং ভগবান।তাঁকে তুমি চিৎকন জীবাত্মার সঙ্গে তুলনা করেছ।দুই ঈশ্বরের কাছেই তোমার অপরাধ।*
*🍀আরও এক অপরাধ করেছ।ঈশ্বরের নাহি কভু দেহ-দেহি ভেদ। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা হয়েছে তোমার শ্লোকে। একজনকে দেহ ও অপরজনকে দেহী বলায়। আবার শ্লোকের শব্দার্থও করা যায়।জগন্নাথ কৃষ্ণের আত্মা স্বরূপ।তিনি দারুব্রহ্ম রূপে বিরাজমান,তাঁরই সঙ্গে অভিন্নরূপে।তাঁর সহিত আত্মতায়,এইরূপ হয়ে কৃষ্ণ এক তত্ত্ব, দুই রূপ হয়ে লোক নিস্তারের জন্য জঙ্গম ব্রহ্মরূপে আবির্ভূত হয়েছেন। জগন্নাথ "দারুব্রহ্ম স্থাবর স্বরূপ" আর গৌরচন্দ্র জঙ্গমরূপে কৈল অবতার। এই অর্থ শ্লোক নির্দোষ হয়।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
      ꧁ ৯৫. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯৫)গৌরাঙ্গ প্রভু সংক্ষেপ কথন*
*💧রঘুনাথ দাসের প্রতি কৃপা💧*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*🍀সপ্তগ্রামের বড় জমিদার শ্রীগোবর্ধন দাসের পুত্র রঘুনাথ। গৌরসুন্দরের আবির্ভাব বার্তা, নাম গুণ গান শুনে রঘুনাথ শান্তিপুরে মহাপ্রভুর পাদপদ্মে গিয়ে পৌঁছান।প্রভু গৌরহরি তাকে বাড়ী ফিরে যেতে বলেন।একটু বেশ কঠোর ভাষাতে বলেন=*
*মর্কট বৈরাগ‍্য না করিহ লোক দেখাইয়া।*
*যথাযোগ‍্য বিষয় ভুঞ্জ অনাসক্ত হইয়া।।*
*☘মহাপ্রভুর কথায় রঘুনাথ গৃহে ফিরে গেলেন।তাঁর পিতামাতা তাকে সংসারবদ্ধ করবার জন্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেন। রঘুনাথ সংসারে মন দিলেন বটে, তা শুধু বাইরে।অন্তর তীব্র বৈরাগ‍্যময়। একদিন রাত্রে উঠে একাকী পলায়ন করলেন।পিতা সন্ধান করে পথ হতে ধরে গৃহ আনেন এবং সর্বদা পাহারায় রাখলেন।*
*কিছুদিন পর দয়াল নিতাইচাঁদ পাণিহাটিতে এসেছেন শুনে বাড়ীতে পিতামাতার অনুমতি নিয়ে সঙ্গে লোক লস্কর দিয়ে রঘুনাথ সেখানে প্রায় ছুটে আসিলেন। রঘুনাথ ইতিপূর্বে নিতাইচাঁদকে দর্শন করেননি। আজ প্রথম দেখলেন। গঙ্গাতটে এক বৃক্ষমৃলের উপর বসে আছেন।অঙ্গে মধ‍্যাহ্ন সূর্য‍্যের জ‍্যোতিঃ।চারিদিকে ভক্তবৃন্দ ঘিরে বষে আছেন।প্রভুর প্রভাব দেখে রঘুনাথ বড়ই আশ্চর্য‍্য হলেন। দূর হতে দন্ডবৎ করলেন।পরম কৌতুকী দয়াল নিতাইচাঁদ রঘুনাথকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে মাথায় শ্রীচরণ দিলেন।মধুর ভাষায় বললেন,"চোরা দেখা দিস না কেন?" আজ ভক্তদের চিড়া দধি খাইয়ে দে। নিতাইচাঁদের আদরে আবদারে রঘুনাথ মুগ্ধ হলেন।যেমন আদেশ করলেন তেমনই তিনি পালন করলেন।খুব ঘটা করে চিড়া দধি মহোৎসবে ভক্তদের সেবা দিলেন। অতঃপর নিত‍্যানন্দপ্রভু গৌরসুন্দরকে ধ‍্যানে আনিয়া ভোজন করালেন এবং অবশেষ প্রসাদ রঘুনাথকে দিয়ে বললেন, "শ্রীচৈতন‍্য প্রভু ভোজন করেছেন" তাঁর অধরামৃত পাইলে তোমার বন্ধন খন্ডন হবে।*
*🍁তখন রঘুনাথ শ্রীনিত‍্যানন্দের শ্রীচরণে প্রার্থনা করলেন, শ্রীগৌরের শ্রীচরণ কিভাবে পাব উপায় বলে দিন।যতবার গৃহ ছেড়ে পালিয়েছি ততবার আমায় গৃহে ফিরে আসতে হয়েছে।প্রভু তোমার কৃপা ছাড়া শ্রীগৌরহরির শ্রীচরণ পাবার অপর কোন পথ বা উপায় দেখি না। পুন রঘুনাথের মস্তকে শ্রীচরণ ধরে নিতাইচাঁদ বললেন,তোমার সমস্ত বন্ধন ছুটে গেছে।প্রাণের গৌরহরি তোমাকে অন্তরঙ্গ ভৃত‍্য বলে গ্রহণ করবেন।*
        *ক্রমাগত*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
      ꧁ ৯৬. শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯৬)গৌরাঙ্গপ্রভু সংক্ষেপ কথন*
*👌রঘুনাথ দাসের প্রতি কৃপা👌*
*********************************
*🌻নিতাইচাঁদ বললেন, স্বরূপের হাতে সমর্পণ করবেন।ইহা অচিরেই ঘটবে।*
*🌷বাড়ীর চন্ডীমন্ডপে রঘুনাথ শয়নে আছেন।চারিদিকে কড়া পাহারা।শেষ রাত্রে যখন সবাই নিদ্রিত তখন পরিবারের পুরোহিত "ঠাকুর যদুনাথ আচার্য‍্যের" সঙ্গে গৃহ ছেড়ে পলায়ন করলেন।পরে পুরোহিতকে বাড়ী পাঠিয়ে একাই চললেন।পথ ছেড়ে উপপথে চললেন।একদিনে পনের ক্রোশ পথ অতিক্রম করলেন।পরদিন পূর্বমুখ ছেড়ে দক্ষিণমুখে চলিলেন। তিরিশ দিনের পথ ১২ দিনে নীলাচলে পৌঁছিলেন।পথে তিনদিন মাত্র কিছু আহার করেছিলেন। "চৈতন‍্য চরণ প্রান্তে মন তাই ক্ষুধা নাহি বাধে"। করুণাময় শ্রীগৌরাঙ্গ সুন্দর স্বরূপাদি ভক্তসঙ্গে বসে আছেন। ঠিক সেই সময় রঘুনাথ এসে দন্ডবৎ করলেন। মহাপ্রভু স্নেহভরা কন্ঠে বললেন, আইস, রঘুনাথ শ্রীচরণে পতিত হলেন।প্রেমের ঠাকুর গৌরহরি তাঁকে বক্ষে ধারণ করলেন।সকল ভক্তগণ সঙ্গে মিলন হল।স্বরূপকে লক্ষ্য করে গৌরহরি বললেন, এই রঘুনাথ আমি সঁপিনু তোমারে। আমার তিনজন রঘুনাথ আছে। এর পরিচয় হল "স্বরূপের রঘুনাথ "।তুমি রঘুকে পুত্র ভৃত‍্যরূপে গ্রহণ কর। গোবিন্দদাস মহাপ্রভুর অবশেষ পাত্র রঘুনাথকে দিল।এইমত পাঁচদিন চলিল।তারপর রঘুনাথ দশদন্ড রাত্রের পর জগন্নাথে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে সিংহদ্বারে দাঁড়িয়ে থাকেন।যে যা দিতেন তাই নিতেন।*
*"রাত্রে সিংহদ্বারে খাড়া হঞা মাগি খায়" শুনে মহাপ্রভু বললেন, "ভাল হইল,বৈরাগীর ধর্ম আচরিলা"।*
*🍀বৈরাগী করিবে সদা সম সংকীর্তন।*
*মাগিয়া যাচিয়া করে জীবন ধারণ।।*
*পরবর্তীকালে রঘুনাথ শ্রীগৌর চরণে জিজ্ঞাসা করলেন, আমার কৃত‍্য কি? সাধ‍্য-সাধন কহ, মহাপ্রভু বললেন, স্বরূপ সব তোমায় বলবে।আমি কয়েকটি মাত্র কথা তোমাকে বলি=*
*গ্রাম‍্য কথা না শুনিবে ; গ্রাম‍্য কথা না কহিবে।*
*ভাল না খাইবে আর ভাল না পরিবে।।*
*অমানী মানদ কৃষ্ণ নাম সদা লবে*।
*ব্রজে রাধাকৃষ্ণ সেবা মানসে করিবে।।*
*🌻রঘুধাথের সংবাদ পেয়ে তাঁর পিতা এক ব্রহ্মণের হাতে চারশত টাকা দিয়ে পাঠালেন। রঘুনাথ তা গ্রহণ করলেন না।সিংহদ্বার ছেড়ে ছত্রে ভিক্ষা করা শুরু করলেন। শুনে মহাপ্রভু বললেন=*
*ভাল হইল ছাড়িল সিংহদ্বার।*
*সিংহদ্বারে ভিক্ষা বৃত্তি বেশ‍্যার আচার।।*
*🌷কিছুদিন পর রঘুনাথ ছত্রে ভিক্ষাও ত‍্যাগ করলেন। পসারির যে প্রসাদান্ন বিক্রি না হয় তা তারা বাইরে ফেলে দেন।নর্দমা দিয়ে চলে যায়। পচাসড়া গন্ধে গাভীগুলো তা খায় না। রঘুনাথ তা তুলে ধুয়ে যে অন্নকটি আস্ত পান তাইই সেবা করেন।একদিন স্বরূপদামোদর রঘুনাথ নাথের হাত হতে ঐ প্রসাদান্ন চেয়ে নিলেন, বললেন আমাকে ভাগ না দিয়ে এমন অমৃত সেবা কর!মহাপ্রভু গৌরহরি শুনে একদিন একগ্রাস কেড়ে নিয়ে খেলেন, এবং বললেন "অসাধারণ প্রসাদান্ন" বস্তু সেবা কর আমাকে দাও না কেন? অতুলনীয় রঘুনাথের বৈরাগ‍্য দেখে মহাপ্রভুর আনন্দের সীমা নাই।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•══════════✧
                                🙏 ক্রমশ 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




৩. শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 🥀 শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🌼 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী ❇️ শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🌼 শ্রীগম্ভীরা 🌼 শ্রীধাম পুরী ❇️ রচয়িতা 🥀 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/bokreshwar3.html

   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                 ꧁ ৩. শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 
শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏
শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
     ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                 ꧁ ২. শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 
শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏
শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
যাঁহারা অবতারবাদ মানেন না, তাঁহারা ঐ ভগবদ্বাক্য সম্বন্ধে নানা তর্ক উত্থাপিত করিতে পারেন। তাঁহার বলিতে পারেন যে, ভগবান যখন সর্ব্বশক্তিমান্; যখন তিনি মনে করিলেই নিমেষ মধ্যেই কোটি কোটি ব্রহ্মান্ডের সৃষ্ঠি ও প্রলয় করিতে পারেন, তখন ধর্ম্ম- সংস্থাপন জন্য দেহ ধারণ করিয়া, দুষ্ট লোকদিগের বিনাশ করিবার নিমিত্তে অস্ত্রাদি ধারণ পূর্ব্বক সামান্য দেহীর মত কার্য্যক্ষেতে প্রবিষ্ট হইবার তাঁহার প্রয়োজন কি? এই প্রশ্ন সম্বন্ধে প্রয়োজন অপ্রয়োজন বিষয়ে কোন তর্কই উঠতে পারে না। তিনি কোন কার্য্য কি জন্য করেন, তাহা তিনিই জানেন; মায়া দ্বারা অভিভূত জীবের পক্ষে তাহা বুঝিয়া উঠা সহজ নহে এবং যে বিষয়ে মায়াভিভূত জীবের পক্ষে তর্ক দ্বারা কিছু মীমাংসা হইবারও সম্ভাবনা নাই। আমরা কেবল ইহাই বলিতে পারি যে, নরদেহ ধারণ করিয়া নরের মত কার্য্য দ্বারা ধর্ম্মসংস্থাপন করা তাহার নিজের ইচ্ছা; আমরা সে ইছাময়ের ইচ্ছার বিষয় কি বুঝিব? উপর্য্যুক্ত গীতেক্তি ভগবদ্ধাক্যে কেহ কেহ এরূপ তর্কও করিয়া থাকেন যে, যদি ধর্ম্মসংস্থাপন করাই ভগবানের অবতারের উদ্দেশ্য হয়, তাহা হইলে তিনি তাহা সংসীধিত করিবার জন্য অন্য কোন সাধু পন্থা ও সৎ উপায় অবলম্বন করিতেন; দুষ্টগণের বিনাশরূপ গহিত প্রাণী - হিংসা কার্য্য কখনই করিতেন না। 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                              🙏 ক্রমাগত 🙏
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                 ꧁ ৪. শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 
শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏
শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 🌼 তৃতীয় ভাগ 🥀 শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🌼 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী ❇️ শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🌼 শ্রীগম্ভীরা 🌼 শ্রীধাম পুরী ❇️ রচয়িতা 🥀 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/bokreshwar3.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - প্রথম ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - দ্বিতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫১.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীঅদ্বৈত আচাৰ্য্যের ভক্ত-গোষ্ঠীর মধ্যে কে প্রধান ছিলেন ❓ 
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 প্রথম 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাবের কিছুকাল পূর্ব্বে নবদ্বীপবাসী জনসাধারণের অতি ভক্তিশূন্য অবস্থা ছিল। সে সময় অতি অল্পসংখ্যক লোকই বৈষ্ণবধর্ম্মাবলম্বী ছিলেন। তাঁহারাই পরে- শ্রীগৌরাঙ্গের প্রথম প্রধান পারিষদগণ মধ্যে পরিগণিত হইয়াছিলেন। তাঁহাদের মধ্যে, সর্ব্বপ্রধান, প্রবীণ, জ্ঞানী ও বয়োজ্যেষ্ঠ, ছিলেন- শ্রীঅদ্বৈত আচাৰ্য্য । ঐ আচার্য্যের ভক্ত-গোষ্ঠীর মধ্যে শ্রীবাসপণ্ডিত একজন প্রধান ছিলেন। ইহারা চারি ভাই ; শ্রীগৌরাঙ্গ দেবের জন্মগ্রহণের পূর্ব্ব হইতেই ভক্তি-পথাবলম্বী ছিলেন এবং প্রতি রজনীতে আপন বাটীতে উচ্চৈস্বরে হরিনাম সঙ্কীর্ত্তন‌ করিতেন। সে সময় নবদ্বীপ যবন নরপতি কর্ত্তৃক শাসিত ছিল। ভক্তিশূন্য নদে-বাসী অপর সকল জনগণ ঐ শ্রীবাস পণ্ডিত এবং তাঁহার ভ্রাতৃগণের প্রতি অত্যন্ত‌ বিরক্ত ও অসন্তুষ্ট ছিল। এক তো ভক্তিশূন্যতাহেতুক, ঐরূপ উচ্চ হরিনামকীর্ত্তন তাহাদের ভাল লাগিত না,— অতিশয় প্রতি কঠোর বোধ হইত; দ্বিতীয়তঃ তাহারা মনে করিতে যে, দুর্দান্ত যবন শাসনকর্তা ঐরূপ ব্যাপারে সমস্ত নগরবাসিগণের উপরই বিরক্ত হইয়া কোন কঠিন আজ্ঞা‌ প্রচার করিতে পারেন, এই জন্য তাহারা শ্রীবাসের অনিষ্ট সাধন করিতে কতসঙ্কল্প হইয়া- ছিল, এবং তাঁহাকে পরিজনসহিত নগর হইতে বহিষ্কৃত করিয়া দেওয়াই উচিত বিচেনা করিয়া তদ্বিষয়ে যুক্তি পরামর্শ করিত।
যথা—
চারি ভাই শ্রীবাস মিলিয়া নিজ ঘরে।
নিশা হৈলে হরিনাম গায় উচ্চৈঃস্বরে ॥
শুনিয়া পাষণ্ডী বলে হইল প্রমাদ।
এ ব্রাহ্মণ করিবেক গ্রামের উৎসাদ |
মহাতীব্র’ নরপতি যবন ইহার ।
এ আখ্যান শুনিলে প্রমাদ নদীয়ার ॥
কেহ বলে এ ব্রাহ্মণে এই গ্রাম হ’তে।
ঘর ভাঙ্গি ঘুচাইয়া ফেলাইমু স্রোতে ॥
এ ব্রাহ্মণে ঘুচাইলে গ্রামের মঙ্গল।
অন্যথা যবনে গ্রামে করিবেক বল ॥
🙏 শ্রীচৈতন্যভাগবত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫২.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 দ্বিতীয় 🙏
পাষণ্ডি-দলের বক্তব্য--"লোকে নির্জনে আপন ঘরে বসিয়াই হরিনাম করে, ইহাদের মত হরিনাম করা তো কখনও শুনি নাই এবং কোথাও দেখি নাই। উৎকট চীৎকার-শব্দ করিয়া এ কিপ্রকার হরিনাম !! আবার মধ্যে মধ্যে কান্না-কাটি !! ইহাদের তো সকলই বাড়াবাড়ি। ইহাদের জালায় রাত্রিতে নিদ্রা যাইতে পারি না।”
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
ঐ যে পাষণ্ডি-দলের উল্লেখ করা হইল, তন্মধ্যে কেবলই যে অজ্ঞ, দুর্দান্ত, বিদ্যাশূন্য লোকই ছিল এমন নহে; অনেক জ্ঞানগৰ্ব্বিত, বড় পণ্ডিত বলিয়া গণনীয় ব্যক্তিরও অভাব ছিল না। ঐ পণ্ডিতমণ্ডলীর উচ্চ হরিনামসঙ্কীর্ত্তন তাঁহাদের কিছুমাত্র ভাল লাগিত না, তাঁহারা বলিতেন “এ বেটাদের কি রকম ভজনপদ্ধতি : হরিনাম করিতে হয় তো লোকে নির্জনে আপন ঘরে বসিয়াই হরিনাম করে, ইহাদের মত হরিনাম করা তো কখনও শুনি নাই এবং কোথাও দেখি নাই। উৎকট চীৎকার-শব্দ করিয়া এ কিপ্রকার হরিনাম !! আবার মধ্যে মধ্যে কান্না-কাটি !! ইহাদের তো সকলই বাড়াবাড়ি। ইহাদের জালায় রাত্রিতে নিদ্রা যাইতে পারি না।” ঐ নবদ্বীপে দেবানন্দ পণ্ডিত নামে একজন বিখ্যাত ভাগবতের পণ্ডিত বাস করিতেন। তিনি প্রসিদ্ধ সার্বভৌমের পিতা মহেশ্বর বিশারদের প্রতিবেশী ছিলেন। তিনি ঐরূপ ভক্তিশূণ্য পণ্ডিতগণের মধ্যে ঐ সময়ে জ্ঞানবান, নিষ্ঠাবান্ ও চিরকুমার এবং একজন ভাগবতশাস্ত্রাধ্যাপক বড় পণ্ডিত বলিয়া খ্যাত্যাপন্ন ছিলেন। তাঁহার চতুষ্পাঠীতে অনেক ভাগবত শাস্ত্র অধ্যয়ন করিত। কিন্তু তিনি ভাগবতের‌ ভক্তিপক্ষে ব্যাখ্যা কিছুই করিতে পারিতেন না এবং এত বড় পণ্ডিত হইয়াও ভাগবতের যথার্থ মর্শ * বুঝিতেন না।
যথা—
সেইখানে দেবানন্দ পণ্ডিতের বাস।
পরম সুশান্ত বিপ্র মোক্ষ অভিলাষ ॥
জ্ঞানবন্ত তপস্বী আজন্ম উদাসীন।
ভাগবত পড়ান তথাপি ভক্তিহীন।
ভাগবতে মহা অধ্যাপক লোকে ঘোষে।
মৰ্ম্ম অর্থ না জানেন ভক্তিহীন দোষে ॥
🙏 শ্রীচৈতন্যভাগবত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫৩.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 তৃতীয় 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
কথা সত্যই বটে, ভক্তিহীন হইয়া বহু শাস্ত্র আলোচনা করিলেও শাস্ত্রের প্রকৃত রসাস্বাদন করিবার সম্ভাবনা নাই; এজন্য ভক্তিহীন পণ্ডিতের সহিত দর্ব্বীর তুলনা অনেক গ্রন্থে দেখিতে পাওয়া যায়। লোকে দব্বী দ্বারা অনেক প্রকার সুরস মিষ্টান্ন প্রস্তুত করিয়া থাকে, দব্বী সেই মিষ্টান্নে মাখাচোকা হইয়া অনেক নাড়াচাড়া করে; কিন্তু, দব্বী সেই মিষ্টারের মধুর স্বাদ আস্বাদন কি করিতে পারে ? দেবানন্দ পণ্ডিতও তেমনি ভক্তিগ্রন্থ শ্রীমদ্ভাগবতের প্রকৃত মৰ্ম্ম আম্বাধনে অনধিকারী ছিলেন।

একদা উক্ত শ্রীবাস পণ্ডিত মহোদয় ভাগবত শ্রবণার্থ ঐ দেবানন্দের চতুষ্পাঠীতে উপস্থিত হইলেন। পরম প্রেমিক ভক্ত প্রবর শ্রীবাস সেখানে ভাগবত শ্রবণ করিয়া প্রেমে একেবারে বিভোর হইয়া উঠিলেন এবং ভাবে গদগদচিত্ত হইয়া একেবারে বাহ্যজ্ঞান-শূন্য হইয়া পড়িলেন। তাহার ঘন ঘন নিশ্বাস পড়িতে লাগিল; তিনি অধিকক্ষণ আর আপনাকে সামলাইতে না পারিয়া উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন "করিয়া উঠিলেন। দেবানন্দের তরলমতি শিষ্যগণ অধ্যাপকের ভক্তিহীন ব্যাথ্যাই শুনিত, সুতরাং তাহারাও ভক্তিহীন ছিল। শ্রীবাসের ঐরূপ দীর্ঘ নিশ্বাসপতন ও
উচ্চ ক্রন্দনের কারণ কি বুঝিবে? তাহারা তাঁহার ক্রন্দন-শব্দে মহা বিরক্ত হইয়া উঠিল ও আপনাদের পাঠের ব্যাঘাত হইতেছে দেখিয়া এবং ঐরূপ ক্রন্দন তাহাদের পাঠের কণ্টক বিবেচনা করিয়া শ্রীবাস পণ্ডিতকে ঐ অচেতন অবস্থার ধরিয়া লইয়া টোলের বহির্ভাগে টানিয়া ফেলিয়া দিয়া আসিয়া তবে নিশ্চিন্ত হইল। দেবানন্দ পণ্ডিতও সেখানে উপস্থিত থাকিয়া ছাত্রবৃন্দের ঐরূপ গর্হিত কার্য করিবার পক্ষে কোনও নিষেধ করিলেন না। বোধ হয় উহার মনে ঐ কাৰ্য্য গর্হিত বলিয়া বিবেচিত হয় নাই । 

যথা—
দৈবে এক দিন তথা গেলা শ্রীনিবাস ।
ভাগবত শুনিতে করিয়া অভিলাষ ।।
*অক্ষরে অক্ষরে ভাগবত প্রেমময়।
শুনিয়া দ্ৰবিল শ্রীনিবাসের হৃদয় ।।
“ভাগবত শুনিয়া কান্দয়ে শ্রীনিবাস।
মহা ভাগবত বিপ্র ছাড়ে ঘন শ্বাস ॥
“পাপিষ্ঠ পড়ুয়া বলে হইল জঞ্জাল।
পড়িতে না পাই ভাই ব্যর্থ যায় কাল ॥
পাপিষ্ঠ পড়ুয়া সব যুকতি করিয়া।
বাহিরে এড়িল লঞা শ্রীবাসে টানিয়া ।।
দেবানন্দ পণ্ডিত না কৈলা নিবারণ।
গুরু যথা ভক্তিশূণ্য তথা শিষ্যগণ।।
🙏 শ্রীচৈতন্যভাগবত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫৪.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 চতুর্থ 🙏
মহাপ্রভু কর্ত্তৃক দেবানন্দ পণ্ডিতকে তিরস্কার ও ভৎসনা
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীবাস পণ্ডিত কিছুক্ষণ পরে বাহ্যজ্ঞান প্রাপ্ত হইয়া নিজ গৃহে চলিয়া গেলেন। এইরূপে তো দেবানন্দ পণ্ডিত নবদ্বীপ- মধ্যে এক জন ‘বড় মাননীয় পণ্ডিত বলিয়া' কান কাটাইতে লাগিলেন এবং তত্রত্য ভক্তিবিহীন জনসাধারণের নিকট পরম মোহান্ত বলিয়াও পূজিত ছিলেন। কিছু দিন পরে কলিযুগের লোকের পরম সৌভাগ্য ফলে শ্রীগৌরাঙ্গদেব জীব-উদ্ধার জন্য নবদ্বীপে অবতীর্ণ হইলেন। কতক দিন নিমাই পণ্ডিতরূপে বিরাজ করিয়া, গয়াধাম হইতে প্রত্যাবর্তনের পর যখন তাঁহার ভগবদ্ভাব আর অন্তরঙ্গ ভক্তগণের নিকট অপ্রকাশ রহিল না, সেই সময়ে এক দিন। মহাপ্রভু ভক্তগণ সহিত নগরপরি-ভ্ৰমণ-কালে পথে -দেবানন্দ -পণ্ডিতকে দেখিতে পাইলেন । পূর্ব্বে দেবানন্দ যে শ্রীবাস পণ্ডিতকে অপমানিত করিয়া-ছিলেন, অন্তর্যামী প্রভুর সেই কথা স্মরণ হইবামাত্র অতিশয় ক্রোধাবিষ্ট হইয়া, দেবানন্দের” সম্মুখীন হইলেন ও তাঁহাকে বহু তিরস্কার ও ভৎসনা করিতে লাগিলেন। 

প্রভু বলিলেন------
অহে অহে দেবানন্দ বলি যে তোমারে।
তুমি এবে ভাগবত পড়াও সবারে ॥
যে শ্রীবাসে দেখিতে গঙ্গার মনোরথ।
হেন জন শুনিবারে গেলা ভাগবত ৷।
কোন অপরাধে তারে শিষ্য হাথাইয়া।
বাড়ির বাহিরে লঞা এড়িলা টানিয়া ॥
ভাগবত শুনিতে যে কান্দে কৃষ্ণরসে।
টানিয়া ফেলিতে সে তাহার যোগ্য আইসে।।
বুঝিলাম তুমি সে পড়াও ভাগবত ।
“কোন জন্মে না জানহ গ্ৰন্থ-অভিমত ।।
পরিপূর্ণ করিয়া যে সব জনে খায়।"
তবে বহির্দ্দেশে গিয়া সে সন্তোষ পায়।।
প্রেমময় ভাগবত পড়াইয়া তুমি ।
তত সুখ না পাইলা' কহিলাম আমি।।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫৫.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
মহাপ্রভু কর্ত্তৃক দেবানন্দ পণ্ডিতকে তিরস্কার ও ভৎসনা
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 পঞ্চম 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
অত বড় পণ্ডিত ও সম্মানবিশিষ্ট দেবানন্দকে এইরূপে ভৎসনা করিতে পারে, ঐ সময়ে, নবদ্বীপের মধ্যে এমন সাধ্য আর কাহারও ছিল না। যখন মহাপ্রভুর প্রতি দেবানন্দের বিশ্বাস তত উপজাত হয় নাই, এবং যখন তিনি নিমাই পণ্ডিত একজন সামান্য লোক বলিয়াই বিশ্বাস করিতেন, তখন তিনি নবদ্বীপবাসী কোন লোকের কাছে এরূপ তিরস্কারবাক্য শ্রবণ করিয়া সহ্য করিবার লোকও ছিলেন না। কিন্তু কি আশ্চর্য্য ব্যাপার! শ্রীচৈতন্যদেবের ভৎসনা বাক্য শ্রবণ করিয়া দেবানন্দ পণ্ডিত লজ্জায় অবনতমস্তক হইয়া রহিলেন এবং কোনরূপ উত্তর প্রদান না করিয়া নিজ গৃহাভিমুখে প্রস্থান করিলেন, তাহার কারণ কি ? এই ঘটনাটীতেই দেবানন্দের সৌভাগ্যের সূত্রপাত বলিতে হইবে। কারণ জীবের সৌভাগ্যের উদয় না হইলে আর ভগবানের দণ্ড তাহার উপর পড়ে না। সে তো প্রকৃত দণ্ড নহে, বাহিরে দেখিতে দণ্ড বলিয়া বোধ হয় বটে, কিন্তু তাহা দয়াময় লোকনাথের কৃপারই পরিচায়ক। প্রভু এই যে দেবানন্দকে বাক্যদণ্ডে দণ্ডিত করিলেন, তাহার ফলে তাঁহার এতদিনের শুষ্ক, নীরস, জ্ঞানগৰ্ব্বিত, মরুভূমি- সদৃশ হৃদয়ক্ষেত্রের অবস্থা সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হইয়া, তাহাতে ভগবানের কৃপা-বারি বর্ষণ হইল, এখন কেবল সাধুসঙ্গের মাহাত্ম্যে তাহাতে ভক্তিবীজ পতিত হইলেই তাহা অঙ্কুরিত হইয়া উঠিবে, তাহাতে আর সন্দেহ নাই। দেবানন্দের সেই সময় সমাগত হইয়া আসিতেছিল, এজন্যই তিনি মৌনভাবে নিরুত্তর হইয়া বাটী প্রস্থান করিলেন। যথা—
চৈতন্যের দণ্ড যে মস্তকে করি লয়।
সেই দণ্ডে তারে প্রেম, ভক্তিযোগ হয় ৷
🙏 শ্রীচৈতন্যভাগবত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫৬.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
মহাপ্রভু কর্ত্তৃক দেবানন্দ পণ্ডিতকে তিরস্কার ও ভৎসনা
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 ষষ্ঠ 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
আর একদিন শ্রীগৌরাঙ্গ ভক্তগোষ্ঠী সহিত মহেশ্বর বিশারদের জাঙ্গালে পরিভ্রমণ-সময়ে দেবানন্দ পণ্ডিতের টোলের নিকট যাইতে যাইতে তাহার ভাগবত্-ব্যাখ্যা শুনিতে পাইয়া, অমনি ক্রোধাবিষ্ট হইয়া তাহার চতুষ্পাঠীতে প্রবেশ পূর্ব্বক তাঁহার ভাগবতগ্রন্থ ছিঁড়িয়া ফেলিবার জন্য উদ্যত হইলে, ভক্তগণ তাঁহাকে নিরস্ত করিলেন। যথা—
দৈবে প্ৰভু ভক্তসঙ্গে সেই পথে যায়।
যেখানে তাহার ব্যাখ্যা শুনিবারে পায় ॥
সৰ্ব্বভূত-হৃদয় জানয়ে সৰ্ব্ব তত্ত্ব।
না শুনয়ে ব্যাখ্যা ভক্তিযোগের মহত্ত্ব।।
কোপে বলে প্রভু, বেটা কি অর্থ বাখানে।
ভাগবত অর্থ কোন জন্মেও না জানে।।
এ বেটার ভাগবতে কোন অধিকার।
গ্রন্থরূপে ভাগবত শ্রীকৃষ্ণ অবতার।।
*********************************
নিরবধি ভক্তিহীন এ বেটা বাখানে।
আজি পুথি চিরি এই দেখ বিদ্যমানে ।।
পুঁথি চিরিবারে প্রভু ক্রোধাবেশে যায়।
সকল বৈষ্ণবগণ ধরিয়া রহায় ॥

মহাপ্রভুর সন্ন্যাসগ্রহণের পূর্ব্বে ভক্তগণ-সঙ্গে নবদ্বীপ-লীলার সময় নানা দূরদেশ হইতে কত কত ব্যক্তি যে আকৃষ্ট হইয়া ঐ প্রেম-স্পর্শমণির সমীপে উপস্থিত হইয়া প্রেমানন্দ উপভোগ করিলেন, তাঁহাদের সংখ্যা কে করিবে? কিন্তু শ্রীনবদ্বীপ ধামে বাস করিয়াও ততদিন দেবানন্দ পণ্ডিতের মনে শ্রীচৈতন্যের প্রতি কোনরূপ বিশ্বাস হয় নাই ও তিনি ঐ সকল অদ্ভুত লীলার কাৰ্য্য দেখিয়াও দেখিতেন না।
যথা--
গৃহবাসে যখন আছিলা গৌরচন্দ্র।
তখনে যতেক করিলেন দেবানন্দ।।
প্রেমময় দেবানন্দ পণ্ডিতের মনে।
নহিল বিশ্বাস না দেখিলা এ কারণে ॥
🙏 শ্রীচৈতন্যভাগবত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫৭.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  🌼শ্রীপাদ রূপগোস্বামি-প্রদর্শিত ভক্তির ক্রম 🌼
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 সপ্তম 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
ইহার কারণ আর কিছুই নহে, তখনও তাঁহার সময় উপস্থিত হয় নাই। ভক্তিধন প্রাপ্তির সময় সমাগত হইলে জীবের সাধুসঙ্গ হইয়া থাকে এবং সেই সাধুসঙ্গগুণে ক্রমে ভক্তির উদয় হয়। শ্রীরূপ গোস্বামিপাদ "ভক্তিরসামৃতসিন্ধু” গ্রন্থে “আদৌ শ্রদ্ধা ততঃ সাধুসঙ্গশ্চ ভজনক্রিয়া ইত্যাদি শ্লোকে ভক্তি-উদয়ের ক্রম প্রদর্শন করিয়াছেন।
শ্লোকার্থ যথা-
“প্রথমতঃ ভগবৎকথাদিতে শ্রদ্ধা উপস্থিত হয়, তৎপরে সাধুসঙ্গ, সাধুসঙ্গ গুণে শ্রবণ কীৰ্ত্তন হয়, শ্রবণ কীর্ত্তন করিলে সর্বপ্রকার অনর্থনিবৃত্তি হয়, সৰ্ব্বকার অনর্থ‌ নিবারিত হইলে নিষ্ঠা হয়, সেই নিষ্ঠাই শ্রবণাদিতে রুচি উপস্থিত করে, আবার রুচি হইতে আসক্তি এবং আসক্তি হইতে চিত্তে রতির উদয় হয়, সেই রতি হইতে ভক্তির উদয় হয়।”

এই যে শ্রীপাদ রূপগোস্বামি-প্রদর্শিত ভক্তির ক্রম, তাহা আমরা দেবানন্দ পণ্ডিতের জীবনে সুন্দররূপে মিলিতে দেখিতে পাই। হইতে পারে যে, শ্রীগৌরাঙ্গের সাক্ষাৎকার-মাহাত্ম্যে ও তাহার বাক্যদণ্ডে দেবানন্দের মন কতকটা আর্দ্র' হইয়াছিল, পরে শ্রীচৈতন্যদেবের সন্ন্যাসগ্রহণরূপ মহাত্মো পারে তাঁহার প্রতি শ্রদ্ধার উদয় হইয়া থাকিবে; অবশেষে‌ যখন তাঁহার পূৰ্ব্বজন্মার্জ্জিত সুকৃতিফলে এবং ঐ শ্রদ্ধার বলে সাধুসঙ্গ হইল, তখন সেই সঙ্গগুণে ক্রমে তাঁহার ভক্তির উদয় হইল। যে সাধুসঙ্গে দেবানন্দের ঐরূপ পরিবর্ত্তন ও উন্নতি হয়, সে আর কাহারও সঙ্গ, নহে, প্রভু শ্রীমৎ বক্রেশ্বর পণ্ডিতের সঙ্গ।

যখন গৌরচন্দ্র সন্ন্যাসধর্ম গ্রহণ করিয়া নীলাচলে চলিয়া-গেলেন, গৃহী ভক্তগণ তো আপনাপন বাটীতে থাকিয়া প্রভু বিচ্ছেদ-যন্ত্রণা সহ্য করিতে লাগিলেন; উদাসীন ভক্তগণের মধ্যে সেই! সময় দেবানন্দের সৌভাগ্যবলে শ্রীবক্রেশ্বর পণ্ডিত তাঁহার, বাটীতে আসিয়া উপস্থিত হইলেন এবং তাঁহার ভক্তিগুণে বশীভূত হইয়া কিছুদিন তাঁহার বাটীতে বাসও করিয়াছিলেন।
যথা------
সন্ন্যাস করিয়া য়দি ঠাকুর চলিলা ।
তবে তান ভাগ্য হইতে বক্রেশ্বর আইলা ॥
🙏 শ্রীচৈতন্যভাগবত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫৮.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সহস্র বৎসর যোগ তপস্যা করিলে যাহা লাভ না হয়, একবার সাধুসঙ্গ হইলে তাহা অনায়াসেই লভি হইয়া থাকে। কিন্তু ইহার কারণ কি ❓
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 অষ্টম 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
এই বক্রেশ্বর-সঙ্গ-মাহাত্ম্যে দেবানন্দের এত কালের ভক্তিশূন্য হৃদয়ে শ্রীকৃষ্ণপ্রেমের অঙ্কুর হইয়া এবং সেই অঙ্কুর ক্রমে ক্ৰমে বৃদ্ধি, পাপ্ত হইয়া পরমানন্দ-ফলধর সুন্দর বৃক্ষে পরিণত হইয়া উঠিল। শ্রীবক্রেশ্বরের মহাভাবাপন্ন সাত্ত্বিক নৃত্যাদি; দর্শনে তাঁহার প্রতি দেবানন্দের দৃঢ় শ্রদ্ধা উপজাত হইল এবং তিনি অতি ভক্তি সহকারে তাঁহার সেবা শুশ্রুষা করিতে লাগিলেন। যে বাটীতে এক সময়ে তাঁহার ভাগবতশ্রবণে প্রেমিক-হৃদয় শ্রীবাস, পণ্ডিতের ক্রন্দনশব্দ বিরক্তিকর বলিয়া বোধ হইয়াছিল, সেই দেবানন্দভবনে এখন আর সঙ্কীর্ত্তনের কলরবের নিবৃত্তি নাই। ঐ সঙ্কীৰ্ত্তন মধ্যে জগতে অতুল্য প্রভু বক্রেশ্বরের নৃত্য আরম্ভ হইলে, দেবানন্দের আর আনন্দের সীমা থাকিত না এবং পাছে সে নৃত্য ভঙ্গ হয়, সেইজন্য তিনি নিজে সমাগত লোক সরাইয়া দিয়া। নৃত্যের স্থান পরিষ্কৃত করিয়া দিতেন। এবং যখন বক্রেশ্বর মহাভাবে আবিষ্ট হইয়া বাহ্য জ্ঞান-শূন্য হইয়া যাইতেন, তখন পাছে ভূমিতে পতিত হইয়া তাঁহার দেবতুল্য তপ্তকাঞ্চনসদৃশ সুন্দর এবং কোমল শরীরে ব্যথা লাগে, এই জন্য তিনি নিজে তাঁহাকে কোলে করিয়া বসিতেন। সংক্ষেপতঃ দেবানন্দের প্রেম ভক্তির কথা আর কি বলিব ? এখন তাঁহার শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্রের প্রতি সম্পূর্ণ বিশ্বাস জন্মিয়াছিল। সাধুসঙ্গের এইরূপই আশ্চর্য্য প্রভাব বটে। এ জন্য শাস্ত্রে বলিয়াছেন যে, সহস্র বৎসর যোগ তপস্যা করিলে যাহা লাভ না হয়, একবার সাধুসঙ্গ হইলে তাহা অনায়াসেই লভি হইয়া থাকে। তাহা হইবারই কথা, কারণ সাধুদিগের শরীর হইতে নিয়ত যে সাধুভাব বিনির্গত হইয়া থাকে, তাহাদ্বারা, তাহাদের নিকটে যে সকল ব্যক্তি থাকে, তাহাদের মহৎ ইষ্ট সংসাধিত হয়। তাহাদের ইচ্ছা না থাকিলেও কেমন আপনা আপনি ঐ সাধুভাব তাহাদের মনে প্রবিষ্ট হয়। সাধুগণের মহিমাই এই যে, অনিচ্ছা সত্ত্বেও পাষন্ডীদিগের নীরস হৃদয়ক্ষেত্রে ভক্তিবীজ অঙ্কুরিত করিয়া দেন। রোগী যেমন ঔষধ খাইতে অনিচ্ছুক হইলেও হিতাকাঙ্ক্ষী চিকিৎসক তাহাকে ঔষধ সেবন করাইয়া রোগমুক্ত করিয়া থাকেন, সেইরূপ সাধুগণ তবরোগাক্রান্ত জীবকে কৃপা করিয়া কৃষ্ণভক্তি-মহৌষধ প্রদান করত তাহাদের ভব-রোগের শান্তি সম্পাদন করিয়া থাকেন এবং ঐ সৌভাগ্যবান্ জীব অনায়াসে ভবসমুদ্র পার হইয়া সদগতি-লাভে সমর্থ হয়। এই জন্য শ্রীমৎ শঙ্করাচার্য্য সাধুসঙ্গকে ভবসমুদ্র উত্তীর্ণ হইবার একমাত্র নৌকা বলিয়া বর্ণিত করিয়াছেন। যথা-
ক্ষণমপি সজ্জনসঙ্গতি-রেকা।
ভবতি ভবার্ণব-ত্বরণে নৌকা।।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৫৯.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
কৃষ্ণসেবা হৈতে বৈষ্ণবের সেবা বড়।
ভাগবত আদি সব শাস্ত্ৰে কৈল দড় ৷৷
এতেকে বৈষ্ণবসেবা পরম উপায়।
ভক্তসেবা হৈতে সে সবাই কৃষ্ণ পায় ৷।
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 নবম 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
দেবানন্দের আলয়ে শ্রীবক্রেশ্বরের অবস্থিতিকালে সেই সঙ্গগুণে ও তাঁহার সেবার ফলে দেবানন্দের যে আশ্চর্য্য পরিবৰ্ত্তন ঘটিয়াছিল, তাহা অতি সুন্দর ও বিশদরূপে শ্রীপাদ দাস গোস্বামী শ্রীচৈতন্যভাগবতে বর্ণন করিয়াছেন। যথা—
দৈবে দেবানন্দ পণ্ডিতের ভক্তিবশে ৷
রহিলেন তাঁহার আশ্রমে-প্রেমরসে ।।
দেখিয়া তাঁহার তেজঃপুঞ্জ কলেবর।
ত্রিভুবনে অতুলিত বিষ্ণুভক্তিধর।।
দেবানন্দ পণ্ডিত পরম সুখী মনে ।
অকৈতব প্রেমে তানে করেন সেবনে ॥
বক্রেশ্বর পণ্ডিত নাচেন যতক্ষণ ।
বেত্র হস্তে আপনে বুলেন তত্‌ক্ষণ ॥
আপনি করেন সব লোক এক ভিতে।
পড়িলা আপনে ধরি রাখেন কোলেতে ॥
তাঁহার অঙ্গের ধূলা বড় ভক্তি-মনে।
আপনার সর্ব্ব অঙ্গে করেন লেপনে ।।
তাঁর সঙ্গে থাকি তান দেখিয়া প্রকাশ ।
তখনে জন্মিল প্রভু চৈতন্যে বিশ্বাস ॥
বৈষ্ণব সেবার ফল কহে যে পুরাণে ।
তার সাক্ষী এই সবে দেখ বিদ্যমানে ॥
আজন্ম ধাৰ্ম্মিক উদাসীন জ্ঞানবান।
ভাগবত অধ্যাপনা বিনা নাহি আন ।।
শান্ত দান্ত জিতেন্দ্রিয় নিল্লোভ বিষয়।
প্রায় আর কতেক বা গুণ তানে হয় ।।
তথাপিও গৌরচন্দ্রে নহিল বিশ্বাস ।
বক্রেশ্বর প্রসাদে সে কুবুদ্ধি বিনাশ ৷৷
কৃষ্ণসেবা হৈতে বৈষ্ণবের সেবা বড়।
ভাগবত আদি সব শাস্ত্ৰে কৈল দড় ৷৷
এতেকে বৈষ্ণবসেবা পরম উপায়।
ভক্তসেবা হৈতে সে সবাই কৃষ্ণ পায় ৷।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৬০.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
বৈষ্ণবচূড়ামণি দেবানন্দ পণ্ডিত কাহার কাছে দীক্ষা গ্রহণ করেন বা ওনার শ্রীগুরুদেবের নাম কি ❓
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 দশম 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীমদ্ বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপাবলেই দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্যভক্ত পরম বৈষ্ণবচূড়ামণি হইয়াছিলেন এবং পরে তিনি শ্রীচৈতন্যচন্দ্রের শ্রীচরণ প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। কি করিয়া‌ তিনি শ্রীগৌরাঙ্গ দেবের কৃপাপাত্র হইয়া একজন শক্তিধর ভক্ত মধ্যে পরিগণিত হইয়াছিলেন, দেবানন্দ-উপাখ্যানের সেই শেষ অংশটী পরে লিথিত হইবে। এক্ষণে কেবল আর একটা কথা এস্থলে বক্তব্য যে, সম্ভবতঃ যে সময়ে তাঁহার বাটীতে বক্রেশ্বর আসিয়া কিছু দিন বাস করেন, ঐ সময়ে দেবানন্দ শ্রীপণ্ডিত বক্রেশ্বর প্রভুর নিকট কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত‌ হইয়া তাঁহার শিষ্য বলিয়া পরিগণিত হয়েন। ইতিপূর্ব্বে চারিজন উদাসীন ভক্ত লইয়া শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর সন্ন্যাসবেশে নীলাচলে যাত্রা করিবার কথা বলা হইয়াছে । প্রভু এইরূপে ভক্তগণকে পরিত্যাগ করিয়া যখন চলিয়া গেলেন, তখন নবদ্বীপবাসী ভক্তগণ প্রভুশূন্য নদীয়ায় যে, কিপ্রকার অবস্থায় কাল কাটাইতে লাগিলেন, তাহা বর্ণনাতীত। যাহারা এক মুহূর্ত্ত কাল প্রভুর অদর্শনে অস্থির হইয়া পড়িতেন, তাঁহারা কি এরূপ প্রভুবিচ্ছেদ-যাতনা সহ্য করিতে পারেন । তাঁহাদের প্রভুর প্রতি যে অকৈতব প্রেম, তাহাতে বিচ্ছেদ অতীব যন্ত্রণা-প্রদ হইয়া উঠিয়াছিল। কারণ, প্রেমের লক্ষণই এই। প্রেম সম্বন্ধেই যখন এই সংসারে যে যাহাকে যত অধিক ভালবাসে, তাহার অদর্শনে তাহার মন ততই অধিক আকুল হয়, তখন অপ্রাকৃত ভগবৎপ্রেম সম্বন্ধে যে নদেবাসী ভক্তগণের প্রভুবিরহ-জালা অসহ্য হইবে, তার' আর কথা কি? প্রকৃত ভালবাসাই যে, “আমি তোমারই, আমি তোমা ভিন্ন অল্পকালও থাকিতে পারি না।” প্রকৃত পতিব্রতা সাধ্বী স্ত্রীর নিজ প্রিয়তমের প্রতি এইরূপই অনুরাগ এবং তিনি যেমন স্বামীর অদর্শনে পলকে প্রণয় জ্ঞান করেন, প্রভুর ভক্তগণেরও প্রভুর প্রতি যেরূপ প্রগাঢ় অনুরাগ ছিল, তাহাতে তাঁহারাও প্রভুর নীলাচলে গমনের পর সেইরূপ পলকে প্রলয় জ্ঞান করিতে লাগিলেন। যখন প্রভু নবদ্বীপে তাঁহাদের নিকটে ছিলেন, তখন প্রভুর দর্শন, স্পর্শন ও সঙ্গ ভক্তগণের প্রতি বড়ই মধুর বোধ হইত এবং ঠিক দিগ্দর্শন যন্ত্রের লৌহসূচিকাটী যেমন নানা দিকে ঘুরাইলেও উত্তরদিক্ ভিন্ন আর কোন দিকে যায় না, তাঁহাদের মনও তেমনি নানা প্রকার বিষয়ব্যাপারের মধ্যে আত্মীয় জনগণের মায়া মমতা অতিক্রম করিয়া সর্ব্বদাই প্রভুর প্রতিই নিরত ছিল। 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৬১.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকৃষ্ণ যেমন গোপীদিগকে পুনর্মিলনের আশা দিয়া গিয়াছিলেন বলিয়া সেই আশায় তাঁহারা প্রাণ ধারণ করিয়াছিলেন, শ্রীগৌরসুন্দরও সেইরূপ যাইবার সময়ে ভক্তগণকে আশা দিয়া গিয়াছেন কিন্তু কি সেই আশ্বাসবাক্যে❓
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 একাদশ 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
এখন সেই প্রিয়জন প্রভু দৃষ্টির অগোচর এবং মনের বল হ্রাস পাইয়া স্থানান্তরিত ; ভক্তগণের শরীরের ও যাইতেছে—প্রভু যেন মন প্রাণ সমস্ত হরণ করিয়া লইয়া চলিয়া গিয়াছেন—তাঁহাদের মনের উদ্যম, উৎসাহাদি সকল বিনষ্ট হইয়া গিয়াছে—দেহ নিস্তেজ; মন শান্তিশূন্য। বক্রেশ্বর প্রভৃতি প্রভুর অন্তরঙ্গ ভক্তগণ এইরূপে যেন একপ্রকার মৃতপ্রায় অবস্থার কাল কাটাইতেছিলেন। তাঁহারা যে জীবনধারণ করিয়াছিলেন, তাহা কেবল প্রভুর আশ্বাসবাক্যে।

শ্রীকৃষ্ণ মথুরার গমন করিলে ব্রজগোপীগণের যেরূপ অবস্থা হইয়াছিল, প্রভু নীলাচলে গমন করিলে পর ঠিক সেইরূপ বক্রেশ্বরাদি ভক্তগণও—যাঁহারা ব্রজগোপীগণেরই প্রকাশ ছিলেন— সেইরূপ অবস্থায় দিনাতিপাত করিতেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ যেমন গোপীদিগকে পুনর্মিলনের আশা দিয়া গিয়াছিলেন বলিয়া সেই আশায় তাঁহারা প্রাণ ধারণ করিয়াছিলেন, শ্রীগৌরসুন্দরও সেইরূপ যাইবার সময়ে ভক্তগণকে আশা দিয়া গিয়াছেন বলিয়া ইহারাও ঐ আশ্বাসবাক্যে জীবন ধারণ করিয়াছিলেন।

তিনি বলিয়াছিলেন যে, “কথনও বা তোমরা নীলাচলে গমন করিবে, কখনও বা আমি গঙ্গাস্নান উপলক্ষে তোমাদের এখানে আসিব” ।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৬২.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
মহাপ্রভুর দক্ষিণাঞ্চলে গমনের প্রধান উদ্দেশ্য গুলি কি কি❓
 কত বৎসর কাল দক্ষিণাঞ্চলে গমন  করেছিলেন ❓
🙏দেবানন্দ-উপাখ্যান 🥀 প্রথম অংশ 🙏 দ্বাদশ 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
ভক্তগণ যথন গৌরশূন্য নদীয়ায় আর তিষ্ঠিতে পারিলেন না, তখন প্রভু যে বলিয়া গিয়াছেন “আমি কখনও গঙ্গাস্নান উপলক্ষে আসিব,” সে আগমন আর প্রতীক্ষা না করিয়া, প্রভুর প্রথম আদেশ যে “তোমরা কখনও বা নীলাচলে যাইবে,” তাহাই পালনীর মনে করিয়া, শ্রীগৌরচন্দ্রকে দর্শন করিবার জন্য নীলাচলে যাইবার নিমিত্ত ব্যগ্র হইয়া পড়িলেন। কিন্তু যখন শুনিলেন যে, শ্ৰীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্ৰ নীলাচল হইতে দক্ষিণ দেশে গমন করিয়াছেন, তখন আর কি করেন, অগত্যা ক্লেশ না করিয়া রহিলেন। শ্রীচৈতন্যদেব গৌড়দেশ হইতে সন্ন্যাস পরিগ্রহ করিয়া নীলাচলে গমন পূর্ব্বক কিছু দিন তথায় অবস্থিতি করিবার পরই দক্ষিণ দেশসমূহে তীর্থ সকল দর্শন মানসে এবং প্রধানতঃ তদ্দেশবাসী জনগণকে প্রেমবন্য স্রোতে ভাসাইয়া তাহাদের কৃষ্ণভক্তিপরায়ণ করত উদ্ধার করিবার উদ্দেশে, দক্ষিণাঞ্চলে গমন করিয়াছিলেন এবং আপনার অগ্রদ বিশ্বরূপের অনুসন্ধান করাও তাহার একটা উদ্দেশ্য ছিল। দুই বৎসর কাল এইরূপে নানা তীর্থ সকল দর্শন করিয়া পূনর্ব্বার নীলাচলে প্রত্যাগমন করেন। ঐ দুই বৎসর কাল প্রভুর যে অলৌকিক ও অনন্ত লীলাপ্রকাশ, তাহা গ্রন্থাবলিতে বর্ণিত কাছে এবং অমিয় নিমাইচরিতেও অতি বিশদরূপে বর্ণিত হইয়াছে। শ্রীচৈতন্যদেবের নীলাচলে প্রত্যাগমন-সংবাদ নবদ্বীপে প্রেরিত হইলে, যখন নদেবাসী বক্রেশ্বর প্রভৃতি ভক্তগণ তাহা শুনিলেন, তখন আর কি তাহারা কালবিলম্ব করিতে পারেন ? তাহাদের আর আনন্দের সীমা রহিল না। নীলাচলে যাইয়া শ্রীগৌরসুন্দরকে দেখিবার জন্য একেবারেই যুক্তি পরামর্শ স্থির হইতে লাগিল। মহাপ্রভুর অভাবে এখন শ্রীঅদ্বৈতাচাৰ্য্যই প্রধান ও সকল গণের কর্তা স্বরূপ ছিলেন। ভক্তগণ শান্তিপুরে আচার্য্যের আলয়ে গমন করিয়া মনের অভিলাষ তাঁহাকে অবগত করিবার জন্য চলিলেন। যথা —
হরিদাস ঠাকুরের হৈল পরম আনন্দ।
বাসুদেব দত্ত গুপ্ত মুরারি শিবানন্দ ।।
আচার্য্যরত্ন আর পণ্ডিত বক্রেশ্বর।
আচার্য্যনিধি আর পণ্ডিত গদাধর ॥
শ্রীরাম পণ্ডিত আর পণ্ডিত দামোদর।
শ্রীমান পণ্ডিত আর বিজয় শ্রীধর ॥
রাঘব পণ্ডিত আর আচার্য্য নন্দন ।
কতেক কহিব আর যত প্রভুর গণ।।
শুনিয়া সবার হৈল পরম উল্লাস।
সবে মিলি আইলা শ্রীঅদ্বৈতের পাশ ॥
🙏 শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৬৩.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্ৰীঅদ্বৈত সকল ভক্তগণকে লইয়া শচীমাতার অনুমতি ও বিদায় গ্রহণ করিয়া নীলাচলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করিলেন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীঅদ্বৈতের আলয়ে ভক্তগণ আগমন করিলে, আচার্য্য তাঁহাদের অতি যত্নের সহিত রাখিলেন ও কয়েক দিন সেখানে মহোৎসবও হইল। যথা—
দুই তিন দিন আচার্য্য মহোৎসব কৈল।
নীলাচল যাইতে তবে যুক্তি দৃঢ় হৈল ॥

শান্তিপুরে যুক্তি পরামর্শ স্থির হইয়া গেল যে, প্রভুকে দেখিতে নীলাচলে যাওয়াই কর্ত্তব্য। ভক্তগণের আর আনন্দ ধরে না। তখন শ্ৰীঅদ্বৈত সকল ভক্তগণকে লইয়া শচীমাতার অনুমতি ও বিদায় গ্রহণ করিবার জন্য নবদ্বীপে প্রভুর বাটীতে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। এবং তাঁহার নিকট বিদায় গ্রহণ করিয়া নীলাচলে যাত্রা করিলেন। যথা—
অনন্ত চৈতন্যভক্ত কত জানি নাম । 
চলিলেন সবে হই আনন্দের ধাম ৷৷
আই স্থানে ভক্তি করি বিদায় হইয়া। 
চলিলা অদ্বৈত সিংহ ভক্ত গোষ্ঠী লৈয়া।।
🙏 শ্রীচৈতন্যভাগবত 🙏

তথাহি—শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে----
সবে মিলি নবদ্বীপে একত্র হইঞা।
নীলাদ্রি চলিল শচীমাতার আজ্ঞা লঞ ॥
যাইবার সময় শ্রীবক্রেশ্বরের আর আনন্দ দেখে কে? যদিও তাঁহার নৃত্যোপযোগী কীর্তনিয়া শ্রীগৌরসুন্দর উপস্থিত নাই, তথাচ সেই কীর্তনিয়াকে দর্শন করিতে যাইতেছেন, এই উল্লাসেই তিনি পথে নৃত্য করিতে করিতে চলিলেন। তাঁহার আনন্দ উপস্থিত হইলেই আপনা আপনি নৃত্য আসিয়া পড়িত। 
নৃত্যক্রিয়াটীই তীব্র আহ্লাদের একটী লক্ষণ।
চলিলেন হরিষে পণ্ডিত বক্রেশ্বর ।
যে নাচিতে কীৰ্ত্তনিয়া শ্রীগৌরসুন্দর ৷।

ভক্তগণ তো নীলাচলে আসিয়া প্রভুর সহিত মিলিত হইলেন। বিচ্ছেদের পর প্রিয়বস্তুর সহিত পুনর্মিলন হইলে যেরূপ হইয়া থাকে, সেইরূপ প্রভুর সহিত, পুনর্মিলনে ভক্তগণের যেন আবার কোথা হইতে উদ্যম, উৎসাহ পুনরুজ্জীবিত হইয়া তাঁহাদের নিস্তেজ দেহে শক্তি ও ভগ্ন মনে শান্তি সঞ্চার করিয়া দিল এবং আবার নবানুরাগে মাতিয়া তাঁহারা প্রাণবল্লভ প্রভুর সঙ্গসুখ উপভোগ করিতে লাগিলেন। নদেবাসী ভক্তগণের মধ্যে গৃহীর সংখ্যাই অধিক—তাঁহারা স্ত্রীপুত্রাদি পরিবার বাটীতে রাখিয়া আসিয়াছেন। যদিও প্রভুকে ছাড়িয়া নদীয়ায় ফিরিয়া যাইতে তাঁহাদের মন চাহিত না বটে, তবু তাঁহারা জানিতেন যে প্রভু তাঁহাদের সংসার পরিত্যাগ করিয়া চিরদিনের জন্য নিকটে থাকিতে অনুমতি দিবেন না—এই জন্য, তাঁহারা আসিবার সময় কয়েক মাসের জন্যই বাটী হইতে বিদায় লইয়া আসিয়াছিলেন ; কিন্তু উদাসীন ভক্তগণ আর গৌরশূন্য গৌড়ে ফিরিবেন না, প্রভুর সঙ্গে থাকিয়া চিরকাল প্রভুর সেবা করিবেন, ইহাই সঙ্কল্প করিয়া আসিয়াছিলেন, এবং বাস্তবিকই তাহারা আর ফিরিলেন না; নীলাচলে প্রভুর নিত্যসঙ্গী হইয়া রহিয়া গেলেন। 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৬৪.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
নীলাচলে শ্রীমৎ বক্রেশ্বর পণ্ডিত কাহার আশ্রমেই বাস করিতেন ❓❓❓
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
ঐ সকল উদাসীন মর্ম্মী ভক্তগণ মধ্যে শ্রীবক্রেশ্বর পণ্ডিত একজন প্রধান ছিলেন। তাঁহাদের নাম শ্রীচৈতন্য চরিতামৃতে লিখিত হইয়াছে। যথা—
পরমানন্দপুরী আর স্বরূপ দামোদর ।
গদাধর জগদানন্দ শঙ্কর বক্রেশ্বর ॥
দামোদর পণ্ডিত ঠাকুর হরিদাস।
রঘুনাথ বৈদ্য আর রঘুনাথ দাস ॥
ইত্যাদিক পূর্ব্বসঙ্গী বড় ভক্তগণ।
নীলাচলে বহি করে প্রভুর সেবন ॥

এই সকল বন্দনীয় প্রভুর পারিষদগণের মধ্যে শ্রীমৎ বক্রেশ্বর পণ্ডিতকে একজন প্রধান এই জন্য বলিলাম যে, তিনি প্রভুর সহিত প্রভুর নিজের আশ্রমেই বাস করিতেন।

আমরা এ পর্যন্ত, প্রভু নীলাচলে যে স্থানে অবস্থিতি করিতেন, তাহার কোন উল্লেখ করি নাই ; এক্ষণে তদ্বিষয়ে কিঞ্চিৎ বর্ণন করা প্রাসঙ্গিক বিবেচনা করি। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু নীলাচলে উড়িষ্যার রাজা প্রতাপরুদ্রের গুরু কাশীমিশ্রের বাটীতেই থাকিভেন৷ দুই বৎসর কাল ব্যাপিয়া দক্ষিণ দেশ-সমূহে পরিভ্রমণের পর যখন প্রভু নীলাচলে প্রত্যাবর্তন করিলেন, সেই সময় হইতেই প্রভুর বাসের জন্য ঐ কাশীমিশ্রের, আলয় নির্ব্বাচিত হইয়াছিল। এবং সেই সময় হইতেই কাশীমিশ্র প্রভুর গণ-মধ্যে ভুক্ত হইয়া, নিজ আলয় প্রভুর আশ্রমের জন্য প্রদান করিয়া কৃতার্থ হইয়াছিলেন। প্রভু দক্ষিণ দেশ হইতে ফিরিয়া আসিলে পর সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য—যিনি উড়িষ্যার রাজা প্রতাপরুদ্রের সভাপণ্ডিত ছিলেন ও যিনি পূর্ব্বেই প্রভুকে আত্মসমর্পণ করিয়াছিলেন—তিনিই রাজার নিকট মহাপ্রভুর উপযুক্ত কুটী বাসা স্থির করিয়া দিবার জন্য অনুরোধ করেন। কি প্রকার স্থান প্রভুর, আশ্রমের জন্য উপযুক্ত হইবে, সে সম্বন্ধে
ভট্টাচার্য্য রাজাকে বলিলেন, যথা—
ঠাকুরের নিকট হবে হইবে নির্জনে।
ঐছে নির্ণয় করি দেহ এক স্থানে ॥
🙏শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ꧁ ৬৫.  শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত - তৃতীয় ভাগ ꧂
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
রাজা প্রতাপরুদ্র মহাপ্রভুকে রাখিবার জন্য কোন স্থান উপযুক্ত মনে করেছিলেন ❗
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
রাজা শুনিয়া মনে মনে বিচার করিয়া দেখিলেন এবং শ্রীজগন্নাথ দেবের নিকট নির্জন স্থান—শ্রীকাশীমিশ্রের বাটীই উপযুক্ত স্থান স্থির করিয়া ভট্টাচার্য্যকে কহিলেন, যথা—
রাজা কহে ঐছে কাশীমিশ্রের সদন।
ঠাকুরের নিকট হয় পরম নির্জন।।
🙏শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত🙏

ভট্টাচার্য্য রাজার ঐ কথা শুনিরা অবিলম্বে কাশীমিশ্রের নিকট গমন করত তাহাকে রাজার ঐ অভিপ্রায়ের কথা জানাইলেন। কাশী মিশ্র শুনিবামাত্রেই 'আনন্দে পরিপূর্ণ হইয়া কহিলেন, তাহা হইতে তাঁহার সৌভাগ্য কি হইবে ? তাহার ঐ ছার ভবন জগদ্গুরু শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যদেবের আবাসস্থল হইয়া পবিত্র' হইবে, ইহাতে তিনি ধন্য হইবেন। মিশ্র কহিলেন, যথা—
কাশীমিশ্র কহে আমি বড় ভাগ্যবান্।
মোর ঘরে প্রভুপাদের হবে অবস্থান ॥
🙏শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত🙏

যখন সাৰ্ব্বভৌম ভট্টাচার্য্য প্রভুকে ঐ কাশীমিশ্রের বাটীতে
লইয়া গেলেন, তখন কাশীমিশ্র আসিয়া মহাপ্রভুর চরণপ্রান্তে পতিত হইয়া শরণাগত হইলেন এবং ভক্তবৎসল দয়াল প্রভুও তাঁহাকে কৃপা করিয়া শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্মধারী রূপে দর্শন দিলেন ও আলিঙ্গন করিয়া কৃতার্থ করিলেন, যথা—
কাশীমিশ্র পড়িলা আসি প্রভুর চরণে।
গৃহ সহিত আত্মা তাঁরে কৈল নিবেদনে
প্রভু চতুর্ভুজ মূর্ত্তি তাঁরে দেখাইলা।
আত্মসাৎ করি তাঁরে আলিঙ্গন কৈলা॥
🙏শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত🙏
**** বর্তমানে এই (কাশীমিশ্রালয়) মন্দিরটির নাম----
🙏 শ্রীশ্রী রাধাকান্ত মঠ (শ্রী গম্ভীরা) 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                              🙏 ক্রমশ 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীনরহরি মহাশয়কৃত সূচক হইতে শ্রীশ্রী বক্রেশ্বর পণ্ডিতের অদ্ভুত চরিত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    ꧁ শ্রীল গোপাল গুরু গোস্বামী প্রভুর শোচক ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





লিখনী সম্পূর্ণ হলে PDF LINK দেওয়া হবে 🙏🙏🙏





adds