শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

৩০. সার্বভৌমের আত্মসাৎ প্রসঙ্গ 🍀 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori30.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৩০)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
    *সার্বভৌমের আত্মসাৎ প্রসঙ্গ*
   ++++++++++++++++++++++
*🌷গোপীনাথ আচার্য‍্যের মনেও আজ বড় আনন্দ।তিনি করজোড়ে মহাপ্রভুর কাছে গিয়ে ভক্তিভরে নিবেদন করে বললেন-- প্রভু হে, তুমি সর্ব গুণনিধি,তুমি অগতির গতি, জ্ঞানগর্বী সার্বভৌমকে তুমি আজ এ কি করলে?তোমার শ্রীচরণে কোটি কোটি প্রণিপাত।সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য মহাশয় তখন মহাপ্রভুর শ্রীচরণে পড়ে ব‍্যাকুলভাবে ক্রন্দন করতে লাগলেন। অনুশোচনায় তখন তিনি মর্মাহত।করজোড়ে সর্বসমক্ষে তিনি মহাপ্রভুর চরণ ধরে ক্রন্দন করতে করতে বলতে লাগলেন=*
*জগৎ নিস্তারিলে তুমি সেহ অল্প কার্য‍্য।*
*আমা উদ্ধারিলে তুমি এ শক্তি আশ্চর্য‍্য।।*
*তর্কশাস্ত্রে জয়ী আমি যৈছে লৌহপিন্ড।*
*আমা দ্রবাইলে তুমি প্রতাপ প্রচণ্ড।।*
*🌻ভক্তের এই আর্তিতে তুষ্ট হয়ে করুণাসাগর গৌরহরি সার্বভৌমকে তাঁর ষড়ভূজ রূপ দর্শন করালেন।এইরকম কৃপা মহাপ্রভু আর কাউকেও করেন নাই।এর দ্বারা বুঝা যায় যে সার্বভৌমের প্রতি করুণাময় গৌরহরির কি অপার কৃপা।এর পূর্বে তিনি মুরলীধর মদনমোহন মূর্তিও দর্শন করিয়েছেন এ সর্বশেষে তাঁর ষড়ভূজ মূর্তি দর্শন করলেন সার্বভৌম।শ্রীকৃষ্ণ একবার কৃপা করে অর্জুনকে তাঁ বিশ্বরূপ দর্শন করিয়ে ছিলেন আর কলিযুগে মহাপ্রভু একমাত্র সার্বভৌমকে তাঁর ভাগবত্তা প্রমাণের জন্য এই প্রকার বিভিন্ন রূপে দর্শন দান করেছিলেন।তখন সার্বভৌম দেখলেন যে এই নবীন সন্ন‍্যাসী এক অপূর্ব দিব‍্য মূর্তিতে দিব‍্য জ‍্যোতি কিকীর্ণ করে ত্রিভঙ্গ মূর্তিতে তাঁর সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছেন,মহাপ্রভুর তখন ষড়ভূজ মূরতি।*
*🙏উর্ধে দুই বাহু নব দূর্বাদল শ‍্যামবর্ণ,তাতে ধনুর্বাণ ধরাণ করে আছেন। মধ্যে দুই বাহু নীলকান্তমণির মতো উজ্জ্বলবর্ণ এবং তা দ্বারা মোহন মুরলী ধারণ করে আছেন।নিম্নে দুই বাহু কষিত কাঞ্চনের মতো সুবর্ণবর্ণ এবং তা দ্বারা দন্ড কমন্ডলু ধারণ করে আছেন।শ্রীমূর্তির কন্ঠে বনমালা,মস্তকে শিখিচূড়া এবং বদনে মঞ্জুহাস‍্যতাম অর্থ‍্যাৎ মধুর হাসি।এই অপূর্ব শ্রীমূর্তি দর্শন করে সার্বভৌম বাসুদেব ভট্টাচার্য্য আনন্দে আত্মহারা হয়ে তাঁর শ্রীচরণতলে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন এবং শ্রীপাদ কবিরাজের ভাষায় =*
*🌷অপূর্ব ষড়ভূজ মূর্তি কোটি সূর্য‍্যময়।*
*🌷দেখি মূর্ছা গেলা সার্বভৌম মহাশয়।।*
*🙏করুণাময় মহাপ্রভু তখন তাঁর শ্রীঅঙ্গে শ্রীহস্ত স্পর্শ দ্বারা চেতনা ফেরালেন।বাসুদেব ভট্টাচার্য্য তখন সম্পূর্ণ ভাবে বুঝতে পারলেন যে তাঁর ভগ্নীপতি গোপীনাথ আচার্য‍্য মহাশয় এই নবীন সন্ন‍্যাসী সম্বন্ধে যা যা বলেছিলেন তা সবই সত‍্য হ'ল।গৌর ভগবান তখন ঐশ্বর্য‍্যভাবে ভাবিতা হয়ে কহিলেন=*
*🌷সার্বভৌম কি তোর বিচার।*
*🌷সন্ন‍্যাসে কি আমার নাহিক অধিকার।।*
*🌷সন্ন‍্যাসী কি আমি হেন তোর চিত্তে লয়।*
*🌷তোর লাগি হেথা মুঞি হইনু উদয়।।*
*🌷বহু জন্মে মোর লাগি ত‍্যাজিলে জীবন।*
*🌷অতএব তোরে মুঞি দিনু দরশন।।*
*🌷সঙ্কীর্তনারম্ভে এই মোর অবতার।*
*🌷অনন্ত ব্রহ্মান্ডে মুঞি বৈ নাহি আর।।*
*🌷জন্ম জন্ম তুই মোর শুদ্ধ প্রেমদাস।*
*🌷অতএব তোমারে মুঞি হইল প্রকাশ।।*
*🌷সাধু উদ্ধারিমু দুষ্ট বিনাশিমু সব।*
*🌷চিন্তা কিছু নাহি,পড় মোর স্তব।।*
*🙏সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য মহাশয় তৎক্ষণাৎ স্বতঃস্ফূর্তভাবে শচীসুতাষ্টক স্তব পাঠ করলেন যা বৈষ্ণব শাস্ত্রের এক অমূল‍্য সম্পদ, যথা=*
*উজ্জ্বল বরণ গৌরবর্ণদেহং বিলসিত নিরবধি ভাববিদেহং।*
*ত্রিভুবন পালন কৃপয়া লেশং তং প্রণমামি শ্রীশচীতনয়ং।।*
*গদগদ অন্তর ভাববিদেহং দুর্জন তর্জন গর্জন বিশালং।*
*ভবভয় খন্ডন কারণ করুণং তং প্রণমামি শ্রীশচীতনয়ং।।*
*অরুণাম্বর সুচারু কপোলং ইন্দুবিনিন্দিত নখচয় রুচিরং।*
*জল্পিত নিজগুণ নাম বিনোদং তং প্রণমামি শ্রীশচীতনয়ং।।*
*বিগলিত নয়ন কমলজল ধারং ভূষণ নবরস ভাববিকারং।*
*গতি অতি মন্থর নৃত্যবিলাসং তং প্রণমামি শ্রীশচীতনয়ং।।*
*চঞ্চল চারু চরণ গতিরুচিরং মঞ্জীর রঞ্জিত পদযুগ মধুরং।*
*চন্দ্র বিনিন্দিত শীতল বদনং তং প্রণমামি শ্রীশচীতনয়ং।।*
*ধৃত কোটি ডোর কমন্ডলু দন্ডং দিব‍্য কলেবরং মুন্ডিত মুন্ডং।*
*দুর্জন কল্মষ খন্ডন দন্ডং তং প্রণমামি শ্রীশচীতনয়ং।।*
*ভূষণ ভূরজ অলকাবলিতং কম্পিত বিম্বাধর বর রুচিরং।*
*মলয়জ বিরচিত উজ্জ্বল তিলকং তং প্রণমামি শ্রীশচীতনয়ং।।*
*নিন্দিত অরুণ কমলদল নয়নং আজানুলম্বিত শ্রীভূজযুগং।*
*কলেবর কৈশোর নর্তকবেশং তং প্রণমামি শ্রীশচীতনয়ং।।*
*🌺করুণাময় গৌরহরি তখন তাঁর স্তবে তুষ্ট হয়ে কৃপা করে সার্বভৌমের হৃদয়ের উপর স্বীয় (নিজ)পাদপদ্ম স্থাপন করলেন, যথা=*
*🌷করুণা সমুদ্র প্রভু শ্রীগৌর সুন্দর।*
*🌷পাদপদ্ম দিলা তাঁর হৃদয় উপর।।*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*কি মধুর বাঁশীর সুর,প্রেমে হৃদি ভরপুর,*
   *হরি নিল প্রাণ,হরি কি করি উপায়।*
*সে যে করে আকর্ষণ,বিমোহিত করি মন,*
   *গৃহে বাস করা এবে হইল যে দায়।।*
*প্রেমে মত্ত গোপীগণ,উপনীত যবে হন,*
   *তাহাদের হেরি হরি পুলকে গমন।*
*অপলকে তারা সবে,কৃষ্ণ ধনে হেরে সবে,*
   *বিমোহিত করিল যে সে রূপ মোহন।।*
*রহিয়া মোদর সাথ,পূরাও মনের সাধ,*
   *ছুটিয়া এসেছি হেথা তোমার কারণ।*
*বনে রহি যবে তুমি,বাজাইলে বাঁশী স্বামী,*
     *ধ্বনি দ্বারা আমাদের হরি নিলে মন।।*
*মোরা যত গোপনারী,চরণ ছাড়িতে নারি,*
   *কমলা সেবিতপদ জানে সর্বজন।*
*আমরা যে ও চরণ,ধ‍্যানে রাখি অনুক্ষণ,*
  *ভক্তের সম্পদ ইহা জেনো নারায়ণ।।*
*ওহে অধম তারণ,মোরা ল'য়েছি শরণ,*
   *তবে কেন কহ হেন নিঠুর বচন।*
*ধন জন পতি পুত্র,সব ছাড়ি আসি অত্র,*
  *তুমি ছাড়া আর কেহ নহে যে আপন।।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



২৯. সার্বভৌমের আত্মসাৎ প্রসঙ্গ 🍀 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori29.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(২৯)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
    *সার্বভৌমের আত্মসাৎ প্রসঙ্গ*
    °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌺শ্রীমন্মহাপ্রভু যখন নীলাচল ধামে গমন করেন তখন সার্বভৌম বাসুদেব ভট্টাচার্য্য হচ্ছেন পুরীধামের সর্বশ্রেষ্ঠ পন্ডিত।সার্বভৌম ন‍্যায়শাস্ত্রের অদ্বিতীয় পন্ডিত,বেদান্ত শিরোমণি এবং সকল মায়াবাদী সন্ন‍্যাসীদের গুরু।তাঁর তর্কনিষ্ঠ মন,প্রেমভক্তি যে কি বস্তু তা তিনি একেবারেই জানেন না।কৃষ্ণপ্রেমে জীবের মনে যে অপূর্ব প্রেমোদয় হয় তা বুঝবার শক্তিও তাঁর নাই।মহাপ্রভুর সঙ্গে তাঁর মাঝে মিঝে সাক্ষাৎ হয় কিন্তু ঘনিষ্ঠতা কিছু হয়নি। গোপীনাথ আচার্য‍্যের গৌরাঙ্গগত প্রাণ এবং সম্পর্কে সার্বভৌমের শ‍্যালক।সার্বভৌম নবীন সন্ন‍্যাসী মহাপ্রভুকে কোন আমলই দিতে চাইতেন না।এতে গোপীনাথের মনে প্রাণে খুবই অনুতপ্ত ছিলেন।*
*🍀বরং সার্বভৌম মনে করতেন যে যৌবনকালে সন্ন‍্যাস ধর্ম গ্রহণ করে এই বালক অতীব ভুল করেছে।সন্ন‍্যাসীর ধর্ম নৃত্য কীর্তন নহে।ঘরে সুন্দরী ভার্য‍্যা (পত্নী)বর্তমান তাই বোধহয় গৃহ সংসারের কথা মনে পড়লে "কৃষ্ণ কৃষ্ণ" বলে ক্রন্দন করেন।একে বেদান্ত পড়াতে হবে  এবং তাহলে এর প্রকৃত জ্ঞানোদয় হবে।এমন কি তিনি একদিন কথা প্রসঙ্গে ভগ্নিপতিকে বললেন যে, "কলিযুগে বিষ্ণুর অবতার নাই"। সুতরাং তোমার চৈতন‍্য গোসাঞী ঈশ্বর হতেই পারেন না।তবে তিনি যে পরম ভক্ত মহাভাগবদ্ একথা আমি বিশ্বাস করি--ইত‍্যাদি।*
*🌳চতুর চূড়ামণি গৌরভগবান তখন সার্বভৌমকে আত্মসাৎ(নিজের হাতে করা)করবার মানসে তাঁর কাছে বেদান্ত শোনার জন্য মনস্থ করলেন।পরপর সাতদিন বেদান্ত পাঠ শ্রবণ করে সার্বভৌম লক্ষ্য করলেন যে এই নবীন সন্ন‍্যাসীটি কোন রকম প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা কিছুই করেন না শুধু মাত্র নীরব শ্রোতা হিসাবে অন‍্য ছাত্রদের মধ্যে বসে থাকেন তখন সার্বভৌম তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে গৌরভগবান বিনীত ভাবে কহিলেন যে =*
*"মূর্খ আমি নাহি জানি অধ‍্যয়ন।*
*তোমার আজ্ঞাতে মাত্র করিয়ে শ্রবণ।।*
*সন্ন‍্যাসীর ধর্ম লাগি শ্রবণ মাত্র করি।*
*তুমি যেই অর্থ কর বুঝিতে না পারি।।*
*🌹তখন তিনি সার্বভৌম-কৃত বেদান্তের ব‍্যাখ‍্যায় নানারকম দোষ ক্রটি ধরিয়ে জগদগুরু শঙ্করাচার্য‍্যের বেদান্তের নূতন ভাবে ব‍্যাখ‍্যা করে সকলকে মোহিত করে দিলেন। সার্বভৌমও অনেক তর্কজাল বিস্তার করে তাঁর পান্ডিত‍্যের পরিচয় দিলেন কিন্তু পরিশেষে পরাস্ত হলেন।এই নবীন সন্ন‍্যাসীর মুখে বেদান্তের এইরকম অপূর্ব ব‍্যাখ‍্যা শুনে সকলে মোহিত হয়ে গেলেন এবং সমগ্র নীলাচলে হৈচৈ পড়ে গেল। অবশেষ গৌরভগবান একদিন সার্বভৌমের কাছে ভাগবদ পাঠ শোনার বাসনা প্রকাশ করলেন। শ্রীমদ্ভাগবত হতে নিচের লেখা শ্লোকটি পাঠ করে তাঁর ব‍্যাখ‍্যা শুনতে চাইলেন।*
*"আত্মারামশ্চ মুনয়ো নিগ্রন্থা অপি উরুক্রমে।*
*কুর্বন্তি অহৈতুকীং ভক্তিং ইত্থম্ভূতগুণো হরিঃ।।"*
*🌻সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য এই শ্লোকটি শোনার পর গৌর ভগবানকে এর ব‍্যাখ‍্যা করতে বললেন কিন্তু পরে অনুরুদ্ধ (স্বীকৃত) হয়ে এবং নিজের পান্ডিত‍্যের প্রতিভা প্রকাশের জন্য "আত্মারাম" শ্লোকের নয়প্রকার ব‍্যাখ‍্যা করলেন নানারকম তর্কজাল বিস্তার করে।সার্বভৌম তখনও পর্যন্ত বুঝতে পারেননি যে মহাপ্রভু তাঁকে পরীক্ষা করছেন।সার্বভৌমের শিষ‍্যগণ তাঁকে ধন‍্য ধন‍্য করতে লাগলেন। কিন্তু পরে করুণাময় গৌরহরি এই ব‍্যাখ‍্যার কোনরকম সাহায্য না নিয়েই নতূনভাবে একষট্টি প্রকার ব‍্যাখ‍্যা করলেন।(অর্থ‍্যাৎ সার্বভৌম যে ব‍্যাখ‍্যা করেছিলেন, সেই সব একটিও কথা বললেন না।) সমবেত শ্রোতা মন্ডলী একেবারেই হতবাক্ হয়ে গেলেন।বিদ‍্যাগর্বী সার্বভৌম তখন মনে মনে ভাবতে লাগলেন যে "ইনিতো মনুষ‍্য নন"।ইনিই স্বয়ং সাক্ষাৎ শ্রীকৃষ্ণ ভগবান।কপট সন্ন‍্যাসীরূপ ধারণ করে আমাকে পরীক্ষা করতে এসেছেন।বিদ‍্যাগর্বে স্ফীত হয়ে আমি ইঁনার কাছে কত অপরাধীই না হয়েছি।এক্ষণে ইঁনার শ্রীচরণাশ্রয় ভিন্ন আমার গতি নাই।*
*🌷আত্মগ্লানিতে তিনি মরমে মরে গেলেন এবং তাঁর মন যেন অনুশোচনায় পুড়ে যেতে লাগল এবং সজল নয়নে মহাপ্রভুর রাতুল চরণপ্রান্তে একভাবে দেখতে লাগলেন।চতুর চূড়ামণি গৌর ভগবান তখন কৃপা পরবশ হয়ে তাঁকে ষড়ৈশ্বর্য‍্যপূর্ণ চতুর্ভূজ মূর্তি দেখালেন এবং তৎক্ষণাৎ সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য বাহ‍্যজ্ঞান লুপ্ত হয়ে মহাপ্রভুর চরণতলে লুটিয়ে পড়লেন। আবেশে বাহ‍্যজ্ঞান রহিত হয়ে তখন তিনি শ্রীভগবানের নানা মূর্তি দর্শন করতে লাগলেন যথা=*
*"কখনও শঙ্খচক্রগদাপদ্মধারী শ্রীমূর্তি।*
*কখনও পরমৈশ্বর্য‍্যময় শ্রীবিষ্ণু মূর্তি।।*
*কখনও দ্বিভূজ মুরলীধর শ্রীমূর্তি।*
*কখনও শ‍্যামসুন্দর মদনমোহন শ্রীকৃষ্ণ মূর্তি। ইত‍্যাদি।*
*🍀কিছুক্ষণ পরে গৌর ভগবানের কৃপায় তাঁর আনন্দ মূর্ছাভঙ্গ হল এবং তখন তিনি প্রেমানন্দে বিভোর হয়ে শ্রীগৌরভগবানের সামনে দাঁড়িয়ে করজোড়ে সাশ্রুনয়নে নিজকৃত শত শ্লোক বন্দনা করে মহাপ্রভুর স্তুতি বন্দনা করলেন।তাঁর জিহ্বার আগে যেন সাক্ষাৎ সরস্বতীর আবির্ভাব হল যেহেতু কৃষ্ণদাস কবিরাজ বলেছেন যে=*
*শত শ্লোক কহিল এক দন্ড না যাইতে।*
*বৃহস্পতি তৈছে শ্লোক না পার কহিতে।।*
*🌹করুণাময় গৌরহরি তাঁর স্তবে তুষ্ট হয়ে তাঁকে প্রেমালিঙ্গন দান করলেন এবং সার্বভৌম তখন প্রেমাবেশে অচৈতন্য হয়ে পড়লেন।তাঁর সর্বাঙ্গে অষ্টসাত্ত্বিক ভাবের উদয় হল এবং নয়নে দরদর ধারে প্রেম অশ্রুধারা প্রবাহিত হতে লাগল।সার্বভৌমের সর্ব অঙ্গে তখন পুলকাবলী দেখা যাচ্ছে,থরথর করে কাঁপছেন,সর্বশরীর দিয়ে ঘাম বের হচ্ছে, কখনও কাঁদছেন, কখনও আবার হাসছেন, প্রেমভরে তাঁর সর্ব অঙ্গ টলমল করছে।সে এক অপূর্ব স্বর্গীয় দৃশ্য তা বর্ণনা করবার শক্তি বোধকরি কারও নাই কারণ তা একমাত্র প্রত‍্যক্ষ দর্শীরাই উপভোগ করেছিলেন।সার্বভৌমের ছাত্রগণতাঁদের অধ‍্যাপক গুরর এমত অবস্থা দেখে অবাক সাগরে নিমগ্ন হলেন।সেই সময় সেই জায়গায় সনাতন গোস্বামীও শ্রোতারূপে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনিও হঠাৎ প্রেমানন্দে বিভোর হয়ে মহাপ্রভুর শ্রীচরণ ধরে বন্দনা করলেন যথা=*
*অর্থ শুনি সনাতন বিস্মিত হইয়া।*
*স্তুতি করে মহাপ্রভুর চরণ ধরিয়া*।।
*সাক্ষাৎ ঈশ্বর তুমি ব্রজেন্দ্র নন্দন।*
*তোমার নিশ্বাসে বেদ হয় প্রবর্তন*।।
*তুমি বক্তা ভাগবদে,তুমি জান অর্থ।*
*তোমা বিনা অর্থ জানিতে নাহিক সমর্থ।।*
👣👣👣👣👣👣🙌👣👣👣👣👣👣
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



২৮. সেবার আদর্শ 🍀 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori28.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(২৮)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
         *🙏সেবার আদর্শ🙏*
         ++++++++++++++++
*🪷আপনারা সকলেই জানেন যে,নীলাচলে মহাপ্রভুর সেবক ছিলেন শ্রীগোবিন্দ।এই গোবিন্দ আবার এক হিসাবে মহাপ্রভুর শ্রেয়।কারণ তিনি ছিলেন মহাপ্রভুর দীক্ষাগুরু শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীর সেবক। সুতরাং শ্রীগুরুদেবের যিনি সেবা বা পরিচর্য‍্যা করতেন তিনি সর্বপ্রকারে গুরুজন। কিন্তু শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীর আদেশে তিনি গৌরহরির সেবার কার্য‍্যে নিজেকে নিযুক্ত করেন।মহাপ্রভু প্রথমে এই সেবা নিতে অমত করেন কিন্তু বৈষ্ণব জগতে আজ্ঞা বলবান।সেইজন‍্য গোবিন্দ যখন সমস্ত কথা খুলে বললেন তখন গৌরহরির পক্ষে আর অমত করা সম্ভব ছিল না।এই গোবিন্দ আজীবন গম্ভীরা মন্দিরে থেকে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভুর সেবা কার্য‍্য করে গিয়েছেন।অন‍্যান‍্য সেবা ছাড়া তাঁর নিত‍্য নৈমিত্তিক সেবার এক বৈশিষ্ট্য এই ছিল যে,মহাপ্রভু মধ‍্যাহ্নে যখন প্রসাদ পাবার পর অল্প সময়ের জন্য বিশ্রাম করতেন তখন গোবিন্দ তাঁর পাদ-সম্বাহন (শ্রীচরণসেবা) ও সর্বঅঙ্গ সেবা করতেন,মহাপ্রভুর বিশ্রামসুখ যেন পরিপূর্ণ হয়।তাঁর এই সেবার আরও একটি ফিশেষত্ব ছিল এই যে,তিনি মহাপ্রভুর অঙ্গসেবা না করা পর্যন্ত নিজে প্রসাদ পেতেন না।*
*🍀একদিন মহাপ্রভু গোবিন্দকে পরীক্ষা করবার মানসে গম্ভীরা মন্দিরের দ্বারদেশে (দরজার সামনে )এমনভাবে শয়ন করলেন যেন না ডিঙ্গিয়ে ভেতরে যাওয়া সম্ভব নয়, সম্পূর্ণ কপট নিদ্রার অভিনয় করে তিনি এমনভাবে শয়ন করে রইলেন যে গোবিন্দের পক্ষে ভেতরে গিয়ে অঙ্গসেবা করা সম্ভবপর ছিল না।গৌরহরি যে আসলে নিদ্রামগ্ন ছিলেন না গোবিন্দ তা বেশ বুঝতে পেরেছিলেন। সেইজন‍্য অতিশয় বিনয়,নম্রতার সঙ্গে হাতজোড় করে তাঁর শ্রীচরণে নিবেদন করলেন যে =*
*"এক পাশ হও মোরে,দেহ ভিতর যাইতে।"*
*মহাপ্রভু তখন উত্তর দিলেন="শক্তি নাহি অঙ্গ চালাইতে।।"*
*গোবিন্দ তখন বললেন="করিতে চাহি পাদ সম্বাহন।"*
*মহাপ্রভু আবার কহিলেন="কর বা না করো যেই তোমার মন।"*
*☘গোবিন্দ তখন বেশ বুঝতে পারলেন যে মহাপ্রভু তাঁকে পরীক্ষা করছেন, যে তাঁর সেবার আন্তরিকতা কতখানি তা পরীক্ষা করবার জন্য ইত‍্যাদি।ভক্ত ভগবানের এইরকম লীলা প্রায়ইশ দেখা যায় এবং শেষে ভক্তের জয় হয় তখন ভগবান তাঁর ভক্তকে কোলে তুলে নিয়ে আলিঙ্গন করে মহানন্দ লাভ করেন।এই হচ্ছে ভক্ত ভগবানের মহিমা কীর্তন।গোবিন্দ যখন কোন কারণে মহা সমস‍্যায় পড়ে গেলেন এবং আপন মনে চিন্তা করতে লাগলেন যে কিভাবে প্রভুর অঙ্গ সেবা করা যায়।*

*মহাপ্রভুর যদি নিদ্রাসুখ না হয় তাহলে গোবিন্দেরও তো আহারে কোন সুখ হবে না,নানারকম চিন্তা করে কি করলেন শ্রবণ করুন।শায়িত মহাপ্রভুর শ্রীঅঙ্গের উপর একটি বর্হিবাস আচ্ছাদন দিয়ে তিনি এক লাফে মহাপ্রভুর উপর দিয়ে ডিঙ্গিয়ে গম্ভীরা মন্দিরে প্রবেশ করলেন এবং গৌরহরির পদ সেবা করতে লাগলেন।শ্রীগৌরাঙ্গ যেন কিছুই বুঝতে পারলেন না এবং নিদ্রাচ্ছন্ন ভাবে পড়ে রইলেন।ভাগ‍্যবান গোবিন্দ তাঁর সর্ব অঙ্গ মৃদুভাবে মর্দন করে মহাপ্রভুর ক্লান্তি দূর করতে লাগলেন।🙏হে গোবিন্দ!তোমার ভাগ‍্য "শিব বিরিঞ্চি বাঞ্জিত" তোমার চরণে কোটি কোটি নমস্কার কারণ তুমি আমাদের মহাপ্রভুর নিত‍্য অঙ্গ সেবার অধিকারী ছিলে।যে সৌভাগ্য কোটির মধ্যে একজনেরও ভাগ‍্যে হয়নি। এই প্রসঙ্গে চরিতামৃতে লেখা আছে যে=*
*তবে গোবিন্দ বর্হিবাস তাঁর উপর দিয়া।*
*ভিতর ঘরেতে গেলা প্রভুকে লঙ্ঘিয়া।।*
*পাদ সম্বাহন করিল,কটি পৃষ্ঠ চাপিল।*
*মধুর মর্দনে প্রভুর পরিশ্রম গেল।।*
*সুখে নিদ্রা হোলো প্রভুর গোবিন্দ চাপে অঙ্গ।*
*দুই দন্ড বাদে প্রভুর হইল নিদ্রা ভঙ্গ।।*
*💧কপট নিদ্রাভঙ্গের পর মহাপ্রভু হঠাৎ গোবিন্দকে সেবারত দেখে বলে উঠলেন=*
*"আদিবস‍্যা কেন এতক্ষণ আছিস বসিয়া।*
*নিদ্রা হৈলে কেন নাহি গেলা প্রসাদ পাইতে।।"*
*🍀অর্থ‍্যাৎ কিনা অঙ্গসেবা হয়ে গেল, আমি নিদ্রা হতে উঠে পড়লাম তবুও তুমি এখনও বসে আছ প্রসাদ পেতে যাওনি কেন?কারণ গৌরহরি ইহা জানতের যে তাঁর প্রসাদ পাবার পর তাঁর অঙ্গসেবা না করে গোবিন্দ কখনও প্রসাদান্ন গ্রহণ করতেন না। তখন গোবিন্দ স্নিগ্ধ মধুর কন্ঠে বলিলেন=*
*"দ্বারে শুইলা যাইতে নাহি পথে।"*
*🌷অর্থ‍্যাৎ আপনি বা নিজে দরজার ধারে এমন ভাবে শয়ন করে আছেন যে আমার পক্ষে বাহিরে যাওয়া সম্ভব নয়।তখন গৌরহরি কহিলেন, ভিতরে তবে আইলা কেমনে?এইবার শ্রবণ করুন গোবিন্দ মহিমা।উপযুক্ত আধার না হলে কি আর তাঁর শ্রীগুরুদেব এই সেবার দায়িত্ব তাঁর উপর ন‍্যস্ত(সমর্পিত) করেছিলেন। গোবিন্দ খানিকক্ষণ নীরব থেকে বললেন=*
*"গোবিন্দ কহিলেন মোর সেবা সে নিয়ম।*
*অপরাধ হউক বা নরকে গমন।।*
*সেবা লাগি কোটি অপরাধ নাহি গণি।*
*স্ব নিমিত্ত অপরাধভাসে ভয় মানি।।*
*🍁অর্থ‍্যাৎ হে প্রভো! তোমার সেবার জন্য আমার যত অপরাধই হোক না কেন তাকে আমি ভয় করি না।তার জন্য আমাকে যদি নরকে যেতে হলেও আমি তার জন্য রাজী আছি। কারণ তোমার সেবাই আমার জীবনের একমাত্র ব্রত,জীবনের ধ‍্যান-জ্ঞান, আমার নিজের প্রয়োজনে অপরাধের আভাস মাত্রকে আমি বড় ভয় করি। অর্থ‍্যাৎ তোমার শ্রীঅঙ্গ সেবার জন্য তোমাকে লঙ্ঘন করে যে পাপ করেছি তাতে যদি আমাকে নরকে পর্য‍্যন্ত যেতে হয় তার জন্য আমি ভয় করি না। কিন্তু সেবা অন্তে তোমাকে ডিঙ্গিয়ে বাইরে যাবার অর্থ নিজ প্রয়োজন সিদ্ধ করা অর্থ‍্যাৎ এই যাবার অর্থ আর কিছু না, শুধু নিজের ক্ষুধার জ্বালা নিবারণ করা, এতে যদি মহা মহা অপরাধ হয় হোক।দুনিয়ার লোক জানবে যে গোবিন্দ তাঁর নিজ প্রয়োজনে স্বয়ং ভগবানের শ্রীঅঙ্গের উপর দিয়ে লঙ্ঘন করে খেতে গেছে। কিন্তু মহাপ্রভু সে তো আমার দ্বারা সম্ভব নয়।তুমি যতক্ষণ পর্যন্ত এইভাবে শুয়ে থাকবে ততক্ষণ আমি এইভাবেই ভিতরে বসে থাকব।চতুর চূড়ামণি গৌরহরি গোবিন্দের এই কথা শুনে একেবারেই মুগ্ধ হয়ে গেলেন এবং গোবিন্দের প্রশস্তি (প্রশংসা)করতে লাগলেন। ভগবানের এই পরীক্ষায় ভক্তের জয় হল কিন্তু ভক্ত মনে করেন এ জয় আমার নহে তাঁরই জয়।সেবার এইরকম জ্বলন্ত আদর্শ বৈষ্ণব শাস্ত্রের এক অমূল্য সম্পদ।ভক্তি জগতের এটি একটি রত্নহার।প্রেমভক্তি কি বস্তু তা একমাত্র বৈষ্ণব শাস্ত্রের নিগূঢ় তত্ত্বের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে যা পাঠ করে ভক্ত ভ্রমরগণ তা আহরণ করে মনে তৃপ্তিলাভ করতে পারেন।*
*🌹আহা!হায়! আজ আমাদের মহাপ্রভুও নেই,গোবিন্দও নেই, কিন্তু আছে সেই শাস্ত্র, আছে সেইসব আদর্শ যা আমাদের পালন করা কর্তব‍্য।শ্রীগুরুদেব হচ্ছেন শ্রীনিত‍্যানন্দ শক্তি।আজ আমরা গুরুরূপে যাঁকে পেয়েছি তাঁকেই নন্দসুত জ্জানে সেবা করা শিষ্যদের কর্তব‍্য। তাহলে গুরুকৃপা আমরা লাভ করতে পারব।শ্রীগুরুদেবের উপর নিষ্কপট ভক্তি,পরমকরুণ শ্রীগুরুদেবের শ্রীচরণে নির্ভেজাল নিষ্ঠাই শিষ‍্যকে তাঁর নিজ সিদ্ধির পথে নিয়ে যাবেন।মহাপ্রভুর নিজের এই আচরণ শুধু জীব শিক্ষার জন্য তাঁর নিজ সুখের জন্য নহে আশাকরি ইহা সুধী পাঠকগণ তা অনুধাবন করতে পেরেছেন।🙏ধন‍্য গোবিন্দ!তোমার শ্রীচরণে ভক্তি দাও ও আশীর্বাদ করো যেন শ্রীগুরুচরণে আমাদের মতি থাকে*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*রাসলীলা ইচ্ছি মনে,ডাকি হরি গোপীগণে,*
    *একত্রে আসিয়া তবে সমবেত হন।*
*গোপীদের নারায়ণ,কন্ঠে হস্ত দিয়া রণ,*
   *সবে ভাবে মোর কাছে আছে জনার্দন।।*
*করিলেন ইচ্ছা হরি,গোপীগণে সঙ্গে করি,*
 *করিবেন রাসলীলা রহি বৃন্দাবন।*
*কেলির মানস করি,পূর্ণিমা রাতেতে হরি,*
  *সুমধুরে মুরলী তবে করেন বাদন।।*
*সে সুর শ্রবণ করি,গৃহে যারা গোপনারী,*
  *ব‍্যাকুল হইল সেথা করিতে গমন*।
*মুরলী-ধ্বনি করি হরি,ডাকিছেন নাম ধরি,*
  *ধ্বনি শুনি পরস্পরে করে আলাপন।।*
🦚🪷🙏🪔🦚🪷🙏🪔🙏🦚🪷🪔🦚
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



২৭. চেতোদর্পণ মার্জনং শ্লোকের ব‍্যাখ‍্যা 🍀 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori27.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(২৭)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*💧চেতো দর্পণ পরের অংশ💧*
========================
*🌷যেমন ধরুন সাংসারিক জীবনে গৃহস্থের বাড়ীতে বিভিন্ন ঘর থাকলেও যেটি ড্রয়ংরুম ফা বৈঠকখানা ঘরটি কিন্তু সব সময় সাজানো গোছানো থাকে, কারণ সেটি হচ্ছে বিশিষ্ট লোকেদের বসবার জায়গা।সেই গৃহস্থের অন‍্য ঘরগুলি কিন্তু সেরকম সাজানো গোছানো থাকে না কারণ সেখানে বিশিষ্ট অভ‍্যাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।সেইরকম হৃদয়াসনে যদি ভগবানকে বসাতে চান তাহলে জায়গাটিকেও সর্বপ্রকারে শুচিশুদ্ধ করতে হবে। কারণ তা না হলে ভগবান আসিবেন না। এর প্রকৃত প্রমাণ পাওয়া যায় ভক্তপ্রবর লালাবাবুর জীবনে। লালাবাবু যখন লাখ লাখ টাকা ব‍্যয় করে শ্রীধাম বৃন্দাবনে মঠ মন্দির করিয়ে দিয়ে নিষ্কিঞ্চন ভাবে মাধুকরী অবলম্বনে ভজন করতেন। একদিন তাঁর আরাধ‍্য দেবতা তাঁকে স্বপ্নাদেশ করে বলেন যে লালা তোর কাছে আমার একটি প্রার্থনা আছে।লালাবাবু দৈন‍্য বিনয় সহকারে বললেন, হে প্রভো!এ অধমের কাছে কৃপা করে প্রকাশ করুন।আমি যথাসাধ‍্য তা পূরণ করবার চেষ্টা করব।তখন কৃপাময় কৃষ্ণচন্দ্র কহিলেন যে লালা তুই আমার জন্য আর একটি মন্দির নির্মাণ কর ; আমি সেখানে থাকতে চাই।তখন লালাবাবু দৈন‍্য বিনয় সহকারে বললেন, প্রভো! আমি যে সম্পূর্ণ রিক্তহস্ত (খালিহাত), সেহেতু পুনরায় মন্দির নির্মাণ করবার মত অর্থ আমার নাই।তখন কৃপাময় কৃষ্ণচন্দ্র লালাবাবুকে বলেছিলেন, যে লালা আমি যে মন্দিরের কথা বলছি তাতে তোর কোন অর্থ ব‍্যয় হবে না অর্থ‍্যাৎ আমি তোর হৃদয় মন্দিরে থাকতে চাই, সেখানে একটু জায়গা আমায় করে দে।অর্থ‍্যাৎ ভগবান ভক্তের হৃদয়াসনে থাকবার জন্য একটুখানি জায়গা ভিক্ষা চাইছেন কারণ সেই লালাবাবুর হৃদয়টি ছিল ময়লা বর্জিত।এই শ্লোকাংশের এ অপেক্ষা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আর কি হতে পারে।*
*🔥অরণ‍্যের মধ্যে যে অনল বা আগুন প্রজ্বলিত হয় তাকে দাবানল বলে। সেই আগুনের প্রবলতা এত বেশী যে তার প্রকোপে বৃহৎ বনানীসমূহ বনানী=অরণ‍্য,পুড়ে ছারখার হয়ে যায়।তাকে নিভানো প্রায় একরকম অসম্ভব হয়ে উঠে, কিন্তু মহাপ্রভু এখানে বলছেন যে ত্রিতাপ জ্জ্বালায় জর্জরিত কামনা বাসনার দ্বারা পীড়িত জীবসকল মায়াময় এই সংসারে সদাসর্বদা এই পৃথিবীতে জ্বলে পুড়ে মরছে, একমাত্র ভাল ও সুস্থ থাকবার পথ নাম সংকীর্তন প্রভাবে মানুষ এই ভবদাবাগ্নির হাত হতে উদ্ধার হতে পারে।এই উদাহরণটির অতীব চমৎকার প্রকাশভঙ্গি পাওয়া যায় প্রকাশানন্দ সরস্বতীর আত্মনিবেদন বা অনুশোচনার মাধ‍্যমে যেখানে তিনি বলছেন যে =*
*"সংসার দুঃখজলধৌ পতিতস‍্য কাম,*
*ক্রোধাদি নক্র মকরৈঃ কবলীকৃতস‍্য।*
*দুর্বাসনা নিগড়িতস‍্য নিরাশ্রয়স‍্য,*
*চৈতন‍্যচন্দ্র,মম দেহি পদাবলম্বনম্।।"*
*🍁অর্থ‍্যাৎ প্রকাশানন্দ সরস্বতী আক্ষেপ করে বলছেন যে আমি সংসাররূপ দুঃখসমুদ্রে পড়ে রয়েছি এবং কাম-ক্রোধরূপ নক্র(কুমীর) মকরগণ অর্থ‍্যাৎ কুমীরগণ আমাকে সবসময় দংশন করছে।তার উপরে দুর্বাসনারূপ নিগড়ে (লোহার শিকলে) বন্ধনে আমি যেন আবদ্ধ হয়ে পড়েছি, তার ফলে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিরাশ্রয় এবং অসহায় বোধ করছি। এই বন্ধন বা জ্বালা হতে নিজেকে উদ্ধার করবার কোন উপায় দেখছি না। সেজন‍্য হে করুণাময়! মহাপ্রভু! তুমি কৃপা করে তোমার শ্রীচরণে স্থান দিয়ে আমাকে উদ্ধার করো।অর্থ‍্যাৎ এই শ্লোকের মাধ‍্যমে সংসারী জীব যে কিভাবে ত্রিতাপ জ্বালায় যন্ত্রণা ভোগ করে তা সহজেই বুঝা যাচ্ছে।*
*🌷অতঃপর মহাপ্রভু বলছেন, যে রাত্রিকালে চাঁদের কিরণ স্পর্শে কুমুদফুল প্রস্ফুটিত হয়ে ধরণীমাতাকে যেরকম স্নিগ্ধ মধুর গন্ধদ্বারা আনন্দদান করে, সেইরকম নাম-কীর্তন প্রভাবে সাধকের দেহ-মন স্নিগ্ধ ও সুশীতল করে।*
*🌹পুনরায় গৌরহরি শ্রীনাম কীর্তনের মহিমা প্রকাশ করে বলছেন যে, আমাদের হৃদয়ের মধ্যে যে বিদ‍্যারূপা বধূ আছেন, তিনি কাম ক্রোধ লোভ মোহ ইত‍্যাদি সব প্রবল রিপুর প্রভাবে যোগমায়া দেবী তার জীবাত্মাকে এই রিপু প্রভাব হতে মুক্ত করে নবজীবন দান করেন এবং এককথায় এই সঙ্কুচিত জীবাত্মা শ্রীনামকীর্তন প্রভাবে নতূনজীবন পাই।*
*☘এর ফলে জীবের হৃদয়ে আনন্দ সাগরে বিলীন হয়ে যায় এবং হৃদয়কে আনন্দসাগরে উদ্বেলিত করে প্রতিপদে প্রতিক্ষণে আনন্দ দান করেন।সাধক তখন নামরূপ অমৃত আস্বাদন করেন যাকে বলা হয় নামামৃত ভোজনং।একবার নামে রুচি হলে আর রক্ষা নাই, কারণ একমাত্র মহানামই মানুষকে ভগবদ্ সান্নিধ‍্যে পৌঁছে দিতে নারেন।এই নাম মহিমা যে কি বস্তু তা ব‍্যক্ত হয়েছে শ্রীপাদ রূপ গোস্বামীর ভাষায় যেখানে তিনি বলেছেন যে =*
*"তুন্ডে তান্ডবিনী রতিং বিতনতু তুন্ডবলী লব্ধয়ে।*
*কর্ণ ক্রোড় ক্রোড়ম্বনী ঘটয়তে কর্ণার্বুদেভ‍্য স্পৃহাং।।*
*চেতঃ প্রাঙ্গণসঙ্গিনী বিজয়তে সর্বেন্দ্রিয়ানাং কৃতিং।*
*ন জানে জনিতু কিয়দ্ভিঃ অমৃতৈঃ কৃষ্ণেতি বর্ণদ্বয়ী।।"*
*🍀অর্থ‍্যাৎ নাম-আনন্দে বিভোর শ্রীপাদ রূপগোস্বামী বলছেন,যে কৃষ্ণনাম বা হরিনামের মধ্যে যে কি অমৃত মাখানো শক্তি আছে তা তিনি কিছুতেই বুঝাতে পারবেন না।কারণ এই মহানাম যখন তিনি তাঁর জিহ্বা দ্বারা উচ্চারণ করেন তখন তাঁর মনে এই আক্ষেপ জাগে যে ভগবান কেন তাকে অসংখ্য জিহ্বা প্রদান করলেন না।একটি জিহ্বা দ্বারা নাম সংকীর্তন করে বা মহানাম জপ করে যেন শ্রীপাদ রূপের মনের ক্ষুধা মিটছে না।*
*🌺সেইরকম এই মহানাম যখন তাঁর শ্রুতিগোচর হয় (কানে শোনেন) তখন শ্রীরূপের মনে এই খেদ হয় যে ভগবান কেন তাঁর দেহে অসংখ্য অসংখ্য কান দিলেন না, কারণ তাহলে বিভিন্ন দ্বার দিয়ে এই মহানাম ধ্বনি তাঁর দেহমন্দিরে প্রবেশ করত।*
*🌷সর্বশেষ শ্রীপাদ রূপগোস্বামী বলছেন যে "কৃষ্ণ" এই কথাটি যখন প্রকৃত ভক্তের হৃদয় মন বা চিত্ত গুহার মধ্যে প্রবেশ করে তখন সেই সাধক যেন কৃষ্ণপ্রেমে একেবারে পাগল হয়ে যান এবং তিনি কৃষ্ণ প্রেমরস সিন্ধুতে ভাসতে থাকেন। এর ফলে সমস্ত ইন্দ্রিয়গণ তাদের প্রভাব বিস্তারে অক্ষম হয়।সুতরাং মহাপ্রভু যে বলেছেন যে নাম প্রভাবে ভক্তের মনে যে "আনন্দাম্বুধি বর্ধনং প্রতিপদং পূর্ণামৃতং আস্বাদনং" হয় তার জাজ্বল‍্যময় প্রমাণ শ্রীপাদ রূপগোস্বামী বিরচিত এই নাম মহিমা শ্লোক।*
*🍁এইরকম চরম পরিস্থিতি যখন সাধকের সামনে উপস্থিত হয় তখন এই নাম প্রভাবে তাঁর দেহ মন আত্মা সব যেন স্নাত হয়ে আনন্দধারায় বিলীন হয়ে যায়, অনেকটা স্নান করলে যেমন দেহমন পরিতৃপ্ত হয় সেইরকম। ঠাকুর হরিদাসের দ্বারাই মহাপ্রভু এই কলিযুগে নাম মহিমা প্রকাশ করিয়েছিলেন। নির্যাণকালে মহাপ্রভু কিভাবে তাঁকে মর্য‍্যাদা দান করেছিলেন সে প্রসঙ্গ গৌরভক্তগণ সকলেই জানেন।স্বয়ং মহাপ্রভুর নামে কি নিষ্ঠা ছিল তা গোপালগুরু প্রসঙ্গে এই গ্রন্থের মধ্যে দেওয়া হয়েছে।সেজন‍্যই মহাপ্রভু সর্বশেষ এই শ্লোকের ব‍্যাখ‍্যা প্রসঙ্গে বলেছেন, এমন যে নাম সংকীর্তন,তাঁর বিজয় বা জয় হোক।*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*যমল অর্জুন যথা,উদুখল সহ তথা,*
    *প্রবেশি সে বৃক্ষ মাঝে ঘটান পতন।*
*সর্পের কালীয় নাম,কালিন্দীতে রহে ধাম,*
    *সমুচিত শিক্ষা দেন সে সর্পে ভীষণ।।*
*নন্দরাজ তবে কন,শোন ব্রজবাসীগণ,*
    *সবার সন্দেহ এবে করিব ভঞ্জন।*
*গর্গমুনি কন যাহা,মন দিয়ে শোন তাহা,*
 *যুগে যুগে ভগবান অবতীর্ণ হন।।*
*শুনি নন্দের বচন,সেথা ব্রজবাসীগণ,*
   *আনন্দে অধীর হয় তিরপিত মন।*
*ভক্তিভরে যুক্ত করে,স্তুতি করি কহে তাঁরে,*
   *হে কৃষ্ণ,হে নারায়ণ,পতিতপাবন।।*
*ওহে গোবর্ধনধারী,এস হে কৃষ্ণ মুরারী,*
  *ভক্ত বাঞ্জা কল্পতরু ইন্দ্র দর্পহারী।।*
*কতমত করি স্তুতি,বার বার করে নতি,*
   *কহে শেষে কৃপা করি পার কর হরি।।*
*শুকদেব মুনি প্রতি,কহিলেন নরপতি,*
    *কি লীলা করেন হরি রহি বৃন্দাবন।*
*জনগণ সেথা কয়,রাসলীলা শ্রেষ্ঠ হয়,*
    *কহ তুমি সেই কথা বিস্তারি এখন।।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌👣🙌🙌🙌🙌🙌🙌
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



২৬. চেতোদর্পণ মার্জনং শ্লোকের ব‍্যাখ‍্যা 🍀 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori26.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(২৬)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*চেতোদর্পণ মার্জনং শ্লোকের ব‍্যাখ‍্যা*
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*"চেতোদর্পণ মার্জনং ভবমহাদাবাগ্নি নির্বাপনম্।*
*শ্রেয় কৈরব চন্দ্রিকা বিতরণং বিদ‍্যাবধূ জীবনম্।।*
*আনন্দাম্বুধি বর্ধনং প্রতিপদং পূর্ণামৃতাস্বাদানম্।*
*সর্বাত্মস্নপনং পরং বিজয়তে শ্রীকৃষ্ণ সঙ্কীর্তনম্।।"*
*🙏এই শ্লোকটি শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীমুখ নিঃসৃত এবং এখানে তিনি হরিনাম বা কৃষ্ণনামের মহিমা ব‍্যক্ত করেছেন।*
*🌷(১)চেতো দর্পণ মার্জনং=চেতো অর্থে চিত্ত বা মানুষের হৃদয় বা মন।দর্পণ অর্থে আয়না।চেতোদর্পণ শব্দের অর্থ হচ্ছে চিত্তরূপ যে দর্পণ বা আয়না। "মার্জনং" অর্থে মার্জন করা বা পরিস্কার করা।এক্ষেত্রে মানুষের চিত্তকে বা হৃদয়কে আয়না সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।আয়নার কাঁচের উপর যদি ময়লা জমে থাকে তাহলে তো আর নিজের প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট দেখা যায় না এবং তা স্বচ্ছভাবে বা পরিস্কার ভাবে দেখতে গেলে সর্বপ্রথম কাঁচের উপরকার ময়লা পরিস্কার করা দরকার। আয়না বা দর্পণ একটি বাস্তব পদার্থ সেজন‍্য তার ময়লাকে ঝেড়ে মুছে পরিস্কার করা যায় কিন্তু মানুষের মনকে তো আর সেইরকম ঝেড়ে মুছে পরিস্কার বারো টাকা বাদ 18 টাকা। করা যায় না।অতএব তাকে কিভাবে পরিস্কার করা যাবে? বিভিন্ন মঠ মন্দিরে বিগ্রহ স্বরূপে ভগবান বিদ‍্যমান এবং সেজন‍্য সে জায়গাগুলি সদাসর্বদা শুদ্ধভাবে বা পবিত্র ভাবে রাখা হয় কারণ সেটি ভগবানের আসন।সেইরকম নিজের হৃদয়াসনে যদি ভগবানকে বসাতে চান সে জায়গাটিও ততোধিক শুদ্ধ বা পবিত্র হওয়া চাই। কিন্তু মনের কাঁচ যদি কামনা-বাসনারূপ ময়লা দ্বারা আবৃত (ঢাকা) থাকে তাহলে তা কখনও ভগবদ্ আসনের উপযোগী হতে পারে না।সেজন‍্য আগ্রহী ভক্তকে তার চিত্তরূপ দর্পণকে ময়লা বর্জিত করতে হবে এবং এই প্রসঙ্গে শ্রীমন্মহাপ্রভু বলেছেন যে ক্রমাগত নাম সংকীর্তনের দ্বারা বা শ্রীহরির নামকীর্তন অভ‍্যাসের দ্বারা ময়লাপূর্ণ এই চিত্ত ধীরে ধীরে মার্জিত বা পরিস্কার হয়। এই প্রসঙ্গে পরমভক্ত লালাবাবুর জীবন কৃপা করে পাঠ করবেন যদিও এই প্রসঙ্গে কিছু আভাস পাবেন।*
*(২)ভবমহাদাবাগ্নি নির্বাপনম্=দাবাগ্নি শব্দের অর্থ হচ্ছে বনের বা অরণ‍্যের মধ্যে যে আগুন জ্বলে তাকে দাবানল বা দাবাগ্নি বলে।এই দাবানল প্রভাবে বিশাল অরণ‍্য সব পুড়ে ছাই বা ছারখার হয়ে যায়।তাকে প্রশমিত করবার কোন উপায় নাই বললেই চলে। "নির্বাপনম্" শব্দের অর্থ হচ্ছে নিভান।কিন্তু মহাপ্রভু এখানে বলেছেন ভব-মহাদাবাগ্নি অর্থ‍্যাৎ ত্রিতাপ জ্বালায় জর্জরিত কামনা-বাসনার প্রভাবে মায়াময় এ সংসারে মানুষ যে জ্বালায় দিনরাত্রি জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে সেই ভবমহাদাবাগ্নি হতে কিরকমে মানুষ নিষ্কৃতি বা মুক্তি পেতে পারে? তার উত্তরে মহাপ্রভু সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন যে ক্রমাগত নাম সংকীর্তন প্রভাবে এই ভবদাবাগ্নিকে প্রশমিত (শান্ত)করা যায়।
*(৩)শ্রেয়ঃ কৈরব চন্দ্রিকা বিতরণং= কৈরব শব্দের অর্থ হচ্ছে কুমুদ ফুল।এই কুমুদ ফুলের বিশেষত্ব এই যে এর গন্ধ অতি স্নিগ্ধ এবং মিষ্ট।এর অপর বিশেষত্ব হচ্ছে যে চন্দ্রালোকের স্পর্শ ছাড়া প্রস্ফুটিত হয় না, যেমনটি দেখা যায় সূর্য‍্যমুখী ফুলের বেলাতেও যা সূর্য‍্যালোক ছাড়া প্রস্ফুটিত হয় না। কুমুদ শব্দটির ব‍্যাকরণগত ব‍্যাখ‍্যা হচ্ছে কু+মুদ্। "কু" অর্থে পৃথিবী আর "মুদ" অর্থে হৃষ্ট করা অর্থ‍্যাৎ যে ফুল ফুটলে ধরণীমাতা হৃষ্ট(আনন্দিত)হন। সেই হিসাবে "শ্রেয়ঃ কৈরব চন্দ্রিকা বিতরণং" শ্লোকের মোটামুটি ভাবার্থ হচ্ছে যে রাত্রিকালে চাঁদের কিরণ স্পর্শে কুমুদ ফুল প্রস্ফুটিত হয়ে ধরণীমাতাকে যেরকম স্নিগ্ধমধুর গন্ধ দ্বারা আনন্দদান করে, সেইরকম সংকীর্তন প্রভাবে দেহ মন স্নিগ্ধ ও সুশীতল হয়।*
*(৪)বিদ‍্যাবধূ জীবনং=বিদ‍্যা অর্থে জ্ঞান।বিদ‍্যাবধূ অর্থে জ্ঞানরূপ বধূ। জীবনং শব্দের ভাবার্থ হচ্ছে যে এই জ্ঞানরূপা বধূ যেন নবজীবন প্রাপ্ত হন। বধূ মাত্রেই ঘোমটা দ্বারা মুখ আচ্ছাদন করে রাখেন যাতে তাঁর স্বরূপ কেউ দেখতে না পায়।সেইজন‍্য প্রত‍্যেক মানুষের অন্তরাত্মার ভিতর এই চিৎশক্তি বা জীবাত্মা প্রচ্ছন্নভাবে বিরাজিত থাকায় এখানে বধূর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।অর্থ‍্যাৎ এই বিদ‍্যারূপা বধূ বা জীবাত্মা বা পরমাত্মা পঞ্চেন্দ্রিয়ের প্রভাবে সঙ্কুচিত হয়ে যেন ঘোমটা দিয়ে প্রচ্ছন্ন(আবরণ)ভাবে রয়েছেন এবং নাম সংকীর্তন প্রভাবে এই জীবাত্মা যেন নবজীবন প্রাপ্ত হন।যেকথা আমরা সকলেই জানি যে দেহের পুষ্টি হয় খাদ‍্যের দ্বারা  কিন্তু এই সঙ্কুচিত জীবাত্মা যা প্রত‍্যেক মানবদেহের মধ্যে বিরাজিত। যার শক্তিতে আমরা বেঁচে আছি তার পুষ্টি সাধিত হয় একমাত্র নামামৃত ভোজনের দ্বারা।*
*(৫)আনন্দাম্বুধি বর্ধনম্=অম্বুধি অর্থে সমুদ্র।সমুদ্রের বিশাল জলরাশি যেরকম তরঙ্গাঘাতে আনন্দে নৃত্য করছে সেইরকম নাম সংকীর্তন প্রভাবে সারা দেহ মন যেন আনন্দ সাগরে বিলীন হয়ে যায়।*
*(৬)প্রতিপদং পূর্ণামৃতাস্বাদনং= এবং তার ফলে প্রতিপদে প্রতিক্ষণে অর্থ‍্যাৎ সদাসর্বদা যেন অমৃতের আস্বাদ প্রাপ্ত হওয়া যায়।জিহ্বা দ্বারা যেরকম খাদ‍্য দ্রব‍্য আস্বাদন করা যায় সেইরকম জিহ্বা দ্বারা উচ্চারিত এই নামসঙ্কীর্তন প্রভাবে ভক্ত যেন অমৃত আস্বাদন করেন।যাকে বলা হয় নামামৃত ভোজনম্।*
*(৭)সর্বাত্মস্নপনং=স্নপনং অর্থে স্নান করা।স্নান বা অবগাহন করলে যেরকম সারা দেহমন পরিতৃপ্ত হয় সেইরকম শ্রীহরির নামকীর্তন প্রভাবে সর্ব আত্মা যেন নাম কীর্তন দ্বারা স্নাত হয়ে পরিতৃপ্ত লাভ করে*
*(৮)পরং বিজয়তে শ্রীকৃষ্ণ সঙ্কীর্তনম্= সেইজন‍্য মহাপ্রভু বলেছেন যে এমন যে নাম সংকীর্তন তার বিজয় হোক বা জয় হোক।*
*🌻এতক্ষণ আপনাদের এই শ্লোকটির বিভিন্ন অংশের ভাবার্থ ব‍্যাখ‍্যা করা হয়েছে,আশাকরি ভাবার্থ বুঝতে পেরেছেন।*
*🌺ত্রিতাপ জ্বালায় জর্জরিত মানুষের চিত্তদর্পণ স্বভাবতই মালিন‍্যপূর্ণ (ময়লায় ভরা)।বাইরের ময়লাকে যেভাবে মেজে ঘষে পরিস্কার করা যায় চিত্তের ময়লাকে তু আর সেভাবে পরিস্কার করা যায় না।সেজন‍্য মহাপ্রভু বলেছেন যে কলির জীবের সমস্ত পাপ অপরাধ যা কিছু আছে ক্রমাগত নাম সঙ্কীর্তন প্রভাবে এবং নাম অভ‍্যাসের ফলে চিত্তের সমস্ত ময়লা পরিস্কার হয়ে যাবে।যাকে আমরা বলি চিত্তদর্পণ ময়লা শূন‍্য।কারণ হৃদয়াসনে ভগবানকে বসাতে চাইলে সর্বপ্রথম সেই জায়গাটি শুদ্ধ বা পবিত্র বা নির্মল হতে হবে।*
       *পরের অংশ আগামী পর্বে।*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



adds