*(১১৬)শ্রীরায় রামানন্দ, বিশাখা*
*🪷🪷🪷শ্রীগৌরাঙ্গতত্ত্ব🪷🪷🪷*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌻শ্রীশ্রীমহাপ্রভু শ্রীরামরায় মহা অনুভবকে অনন্যদৃষ্ট ও অশ্রুতপূর্ব (আগে কখনো শোনা যায়নি এমন) শ্রীমূর্তি দেখিয়ে বললেন=*
*🌹তোমার ঠাঁই আমার কিছু গুপ্ত নাহি কর্ম।*
*🌹লুকাইলে, প্রেমবলে জান সর্বমর্ম।।*
*🌹গুপ্ত রাখিও কথা,না করিহ প্রকাশ।*
*🌹আমার বাতুল চেষ্টা,লোকে উপহাস।।*
*🌹আমি এক বাউল,তুমি দ্বিতীয় বাতুল।*
*🌹অতএব আমায় তোমায় হই সমতুল।।*
*🌻মহাপ্রভু বিনয়ের খনি,ও ভক্তানুগ্রাহী।শ্রীরামরায় সাক্ষাৎ বিশাখা সখী।দ্বাপর লীলায় যে মিলন অভিব্যক্ত(প্রকাশিত)হয় নাই,কলিতে তিনি সেই মিলন লীলার চমৎকার-স্বরূপ প্রদর্শন (ভালোভাবে সাক্ষাৎ দর্শন) করলেন।প্রিয় নর্ম্মসখীর কাছে শ্রীযুগলকিশোরের প্রেমলীলা সম্বন্ধে গোপ্য কি আছে।আর গোপন করলেই বা সে কথা গুপ্ত থাকবে কেন? গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন=*
*"নাহং প্রকাশঃ সর্ব্বস্য যোগমায়াসমাবৃতঃ।"*
*🍀আমি যোগমায়া সমাবৃত (সম্পূর্ণ ভাবে আবৃত বা ঢাকা ), সুতরাং সকলে আমার প্রকাশ জানতে পারে না। শ্রীচরিতামৃতকার লিখেছেন=*
*🌷অসুর স্বভাবে কৃষ্ণে কভু নাহি চিনে।*
*🌷লুকাইতে নারে কৃষ্ণ ভক্তগণ স্থানে।।*
*🌷আপনাকে লুকাইতে নানা যত্ন করে।*
*🌷তথাপি তাঁহার ভক্ত জানয়ে তাঁহারে।।*
*🌻শ্রীযামুনাচার্য্য একটি স্তোত্রে লিখেছেন=*
*"উল্লিঙ্ঘিতত্রিবিধসীমসমাতাশায়ি-,*
*সম্ভাবনং তব পরিব্রঢ়িম স্বভাবম্।*
*মায়াবলেন ভবতাপি নিগুহ্যমানং,*
*পশ্যন্তি কেচিদনিশং ত্বদনন্যভাবাঃ।।"*
*🌹অর্থ্যাৎ হে ভগবন্! তোমার প্রভুত্ব স্বভাব ত্রিভুবনের সীমাতীত।ইহা লুকিয়ে রাখা সহজ কথা নয়। কিন্তু যোগমায়াবলে তুমি তোমার নিজ ঐশ্বর্য্যপ্রভাব লুকিয়ে রাখলেও তোমার অনন্যশরণ একান্ত ভক্তগণ তোমাকে জানতে পারেন।*
*🔴তাৎপর্য্য এই যে,রূপ-গ্রহণ-যোগ্যা দর্শনেন্দ্রিয়ের পক্ষে রূপ-গ্রহণ যেমন স্বাভাবিক, কিন্তু প্রয়াসসাধ্য ব্যাপার নয়, ভক্তগণের ভক্তিচক্ষুর কাছেও ভগবান তাদৃশ (সেইরূপ)দৃশ্যমান হন। তাই মহাপ্রভু বললেন=*
*🌷লুকাইলে প্রেমবলে জান সর্ব মর্ম।*
*🌳ফলে শ্রীরামরায়ই তাঁর প্রকৃত স্বরূপ জানবার উপযুক্ত পাত্র। স্বাভাবিক নিয়মেই তিনি এই রসরাজ-মহাভাব-একীভূত-শ্রীমূর্তি দর্শনযোগ্য।*
*🔴রসিকভক্ত শ্রীল রামরায়ের যোগ্যতা এবং শ্রীভগবানের অনুগ্রহ--, এই উভয়ই এই অভিনব শ্রীমূর্তি প্রাকট্যের সম্ভবপর হেতু।চিরসুন্দর জগৎসুন্দর দয়াময় মহাপ্রভু রামরায়কে সাবধান করে বললেন "রামরায়!তুমি আমার পরম ভক্ত, আমার এই রূপ আর কখনও কেউ দেখেনি, কেবল তোমায় দেখালাম।দেখিয়েই বা গোপনে রাখব কিভাবে? তোমার কাছে আমার গোপনই বা কি? গোপন রাখলেই বা গুপ্ত থাকবে কেন?তুমি প্রেমবলে সকলই জানতে পারো। আমি শ্রীগৌরাঙ্গরূপে জগতে প্রকটিত হয়েছি।ভক্তগণ আমার এই রূপ দর্শন করছে। কিন্তু এই শ্রীগৌরাঙ্গরূপে যে অতি নিগূঢ় রসরহস্যময় রসরাজমহাভাব-মিলিত এবং ভক্তসাধারণের দশানেন্দ্রিয়ের অনধিগম্য(যা বুঝা যায় না বা জানা যায় না)স্বরূপ-তত্ত্ব বিদ্যমান, তা কেবল তোমাকেই দেখালাম।এটি আমার বাতুলতা বিশেষ।তুমিও যেমন অকপট কৃষ্ণপ্রেমে বাউল,আমিও সেইরকম শ্রীরাধাপ্রেম-মাধুর্য্যাদি আস্বাদনের জন্য বাউল হয়েছি।তোমাকে যে রূপ দেখালাম,এটি সেই বাতুলতারই কাজমাত্র।নচেৎ এমন মিলন কি কখনও সহজে হয়?তুমি যে মিলন দেখলে এটি অলৌকিক, অদ্ভুত ও অনন্যদৃষ্ট।(অনন্যদৃষ্ট বলতে বলা হয়েছে যে,একমাত্র আমার চিন্তন করে,আমা ছাড়া আন কিছু বুঝে না,তাহাই অনন্যদৃষ্ট)। কিন্তু সাবধান!যা দেখলে, এটি কাউকেও বলিও না।এটি শুনলে জগতের বুদ্ধমানেরাই বা কি মনে করবে?যে রূপ সাধারণের অশ্রুত(যা পূর্বে শোনা যাইনি বা শোনা হয়নি),অদৃষ্ট (যা কোনদিন কেউ দেখেনি),অননুভূত (অনুভব করা যাইনি), তা সাধারণের গ্রাহ্য হবে না, গ্রাহ্য(গ্রহণযোগ্য বা স্বীকার্য্য) হবারও বিষয়ও নয়।বিশেষকরে এই রহস্য অতীব নিগূঢ়,এটি প্রকাশ করিও না।*
*🔷আগেই তো বলেছি, শ্রীভগবান তাঁর লীলারহস্য লুকাবার যতই কেন চেষ্টা করুন না, কিন্তু ভক্তের ভক্তি চক্ষুর সমক্ষে, ভক্তের ভক্তিময় স্বচ্ছ মনের সামনে সেই রূপ ও সেই ভাব প্রকটিত হয়ে পড়ে।এটি তাঁরই ভক্ত অনুগ্রহের অচিন্ত্য মহিমা।এই অতি নিগূঢ় রহস্যময় স্বরূপ-প্রদর্শনরূপ অলৌকিক ব্যাপার অচিরেই ভক্তগণের সব জানা হয়ে গেল।গোদাবরীর পূণ্যতটে শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর শ্রীল রাম রায়ের কাছে তাঁর শ্রীরূপের যে রসময়-মহাভাবময় মূর্তি প্রকটিত করলেন,তাঁর ভক্তগণ তা শুনে স্তম্ভিত ও বিস্মিত হলেন,কেউ কেউ এই রূপের ধ্যানে বিভোর হয়ে পড়লেন।পরবর্তী লীলালেখকগণ এই ধ্যেয় রূপের আভাস প্রদান করতে ক্ষান্ত হলেন না। সুতরাং ভক্তগণের আনন্দ বৃদ্ধিরূপ অনুগ্রহ প্রকাশের জন্য তিনি যে নিগূঢ় রহস্যময় তনু অতি সংগোপনে প্রকটিত করলেন,ভক্তগণ সামনে সে সংবাদ গুপ্ত রইল না।এইরূপে শ্রীরামানন্দ রায় মিলন ব্যাপারে শ্রীগৌরাঙ্গের এক অতি নিগূঢ় স্বরূপতত্ত্ব জগতে প্রকাশিত হয়।*
*🙏🙏শ্রীগৌরাঙ্গ-তত্ত্ব এখানেই রইল, পরবর্তী পর্ব শ্রীগৌরাঙ্গের বিদায়, অর্থ্যাৎ শ্রীরামরায়ের নিকট হতে বিদায়।🙏*
*🙌জয় জয় শ্রীগৌররূপ শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দের জয়🙌*