শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

১৫১ হইতে ১৬০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৫৬. শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৬)শ্রীরামানন্দ রায়,শ্রেষ্ঠভক্ত*
           *প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা*
         **************************
*☘আপনি এখন স্নানাহার করুন। এই বলে প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র গৃহ-অভিমুখে প্রত‍্যাবর্তন করলেন, তাঁর হৃদয় তখনও কৃষ্ণকথার রসরঙ্গে ভাবসাগরে ডুবে ছিলেন, তাঁর কর্ণযুগল তখনও শ্রীরামরায়ের মধুময়ী কৃষ্ণকথার সুধাঝঙ্কার প্রবাহিত হচ্ছিল।তিনি গোলোকে কি ভূলোকে আছেন, অনেকক্ষণ পর্যন্ত তাঁর ষে জ্ঞান ছিল না। তিনি ধীরে ধীরে আপন ঘরে উপস্থিত হলেন,ভাব-এ ভাব-এ স্নান করলেন, আহার করলেন, তখনও শ্রীরামরায়ের সুধামধুর কন্ঠস্বরের আনন্দময় ঝঙ্কার তাঁর দুই কানে যেন ঝলকে ঝলকে অমৃতবর্ষণ করছিল।*
*☘সন্ধ‍্যার সময় মিশ্র শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীচরণ সন্দর্শনার্থে (সাক্ষাৎ দর্শনের জন্য )আগমন করে তাঁর শ্রীপাদপদ্ম বন্দনা করলেন।মিশ্র মহাশয়ের মুখটি আজ আনন্দে ভরপুর, হৃদয়ে যেন কতই আনন্দ বিরাজমান,তাঁর শ্রীঅঙ্গে যেন আনন্দরাশি জায়গা না পেয়ে উছলিয়ে পড়ছে।মিশ্র মহাশয়কে দেখামাত্রই মহাপ্রভু একটু মৃদুমধুর হেসে বললেন,মিশ্র!কৃষ্ণকথা শুনেছ তো?মহাপ্রভুর কথা শেষ হতে না হতেই মিশ্র মহাশয় খুব উৎসাহের সঙ্গে বললেন, দয়াময়🙏,আপনি এই দাসকে কৃতার্থ করেছেন।আমি কৃষ্ণকথা শুনতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আপনি কৃপা করে এ অধমকে কৃষ্ণকথা সাগরে একেবারে ডুবিয়ে রেখেছেন।রায় মহাশয়ের কথা বর্ণনার অতীত।শ্রীরায় মহাশয় মানুষ নহেন,তিনি কৃষ্ণভক্তিরসের মূর্তিমান অবতার।*
*☘এই কথাগুলি বলতে বলতে মিশ্রের দেহ পুলকিত হল,আবার যেন তাঁর হৃদয়ে কৃষ্ণকথা-রসসাগর উথলিয়ে উঠিল।শ্রীরামহাশয়ের সুধা মধুর ভক্তিমাখা কন্ঠস্বর, সেই কন্ঠস্বরে রসময়কৃষ্ণকথার অমৃত প্রবাহ, মিশ্র মহাশয়ের হৃদয়ে আবার যেন পূর্ণবেগে প্রবাহিত হল।শ্রীরামরায়ের প্রকৃত স্বরূপ, কৃষ্ণভক্তিরসময় শ্রীমূর্তি, আবার শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের চিত্তে লোকাতীত মাধুর্য‍্যে ও ঔজ্জ্বল‍্যে প্রকটিত হলেন।মিশ্র মহাশয় কথা বলতে বলতে অমনি একেবারেই চুপ করে গেলেন।ভক্তগণ বুঝলেন,শ্রীরামানন্দ রায় সত‍্যই মানুষ নহেন,তিনি নররূপে শ্রীকৃষ্ণ-ভক্তিরসের মূর্তিমান অবতার।প্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের ভাব প্রবাহ অতর্কিতভাবে ভক্তগণের হৃদয়ে সঞ্চারিত হল।সকলেই বুঝতে পারলেন, রামরায় অকপট কৃষ্ণপ্রেমের প্রকৃত শিক্ষাগুরু। শ্রীচরিতামৃতে, শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের কথাতে লেখা হয়েছে =*
*🌷মিশ্র কহে প্রভু মোরে কৃতার্থ করিলা।*
*🌷কৃষ্ণকথামৃতার্ণবে মোরে ডুবাইলা।।*
*🌷রামানন্দ রায় কথা কহিলে না হয়।*
*🌷মনুষ‍্য নহে রায়--,কৃষ্ণভক্তিরসময়।।*
*🌻ফলে শ্রীকৃষ্ণভক্তি-রসময়ত্বই শ্রীরামানন্দ রায়ের স্বরূপ।শ্রীবৃন্দাবনে শ্রীমতীবিশাখা নবদ্বীপ লীলায় কৃষ্ণভক্তিরসের পূর্ণ প্রবাহস্বরূপ শ্রীরামরায়রূপে বিরাজিতা।*
*🦚(শ্রীগোরাঙ্গ-লীলায় পাত্র-পাত্রীগণের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণ-লীলার পাত্রপাত্রীগণের একত্ব প্রদর্শনের জন্য প্রাচীন গোড়ীয় বৈষ্ণব পন্ডিতগণের প্রয়াস পরিলক্ষিত হয়।অন্ত‍্য লীলায় শ্রীমন্মহাপ্রভুর যে সব ভাব অভিব‍্যক্ত (প্রকাশিত) হয়েছে,তা শ্রীরাধিকার ভাব-অভিব‍্যক্তি বলেই পূজ‍্যপাদ গ্রন্থকারগণ নির্দেশ করেছেন।শ্রীপাদ স্বরূপদামোদর ও শ্রীপাদ রামানন্দ রায় এই সময়ে সর্বদাই শ্রীরাধা ভাবনিমগ্ন মহাপ্রভুর পার্শ্বে বসে থেকে ললিতা ও বিশাখার মত তাঁর সেবা পরিচর্য‍্যা ও সান্ত্বনা করতেন।শ্রীপাদ কবিরাজ কৃষ্ণদাস গোস্বামী মহোদয় শ্রীচরিতামৃতের অন্ত‍্যলীলায় ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে লিখেছেন=*
*🌷পূর্বে যৈছে রাধার সহায় ললিতা প্রধান।*
*🌷তৈছে স্বরূপ গোঁসাই রাখে প্রভুর প্রাণ।।*
*🌻এতে প্রতিপন্ন (প্রমাণসিদ্ধ) হচ্ছে শ্রীকবিরাজ গোস্বামী শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরকে ললিতা বলে নির্দেশ করেছেন। কিন্তু শ্রীকবিকর্ণপুর কৃত গৌরগণোদ্দেশ দীপিকা গ্রন্থে লিখিত আছে স্বরূপদামোদর বিশাখা যথা=*
*🌷কলামশিক্ষয়দ্ রাধাং যা বিশাখা ব্রজে পুরা।*
*🌷সোহদ‍্য স্বরূপ গোস্বামী তত্তদ্ভাববিলাসবান্।।*
*🌹আমরা শ্রীকবিরাজ গোস্বামী মহোদয়ের অনুভবই এক্ষেত্রে সব থেকে বেশী সুসঙ্গত মনে করেছি।শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরই ললিতার মত রসজ্ঞ এটিই মহানুভাব বৈষ্ণবগণের ধারণা।শ্রীপাদ রামানন্দের তথ‍্য খুববেশী জটিল।শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু রামানন্দের পিতাকে পান্ডু এবং তার পঞ্চপুত্রকে পঞ্চপান্ডব বলে অভিহিত করেছেন,যদিও এটি আগে উল্লিখিত হয়েছে =*
*🌷সাক্ষাৎ পান্ডু তুমি তোমার পত্নী কুন্তী।*
*🌷পঞ্চপান্ডব তোমার পঞ্চপুত্র মহামতি।।*
*🌻আদিলীলাতে আরও স্পষ্ট করে লিখিত আছে ঃ---*
*🌷আলিঙ্গন করি তারে বলিল বচন।*
*🌷তুমি পান্ডু পঞ্চপান্ডব তোমার নন্দন।।*
*🌷রামানন্দ রায়,পট্টনায়ক গোপীনাথ।*
*🌷কলানিধি,সুধানিধি,নায়ক বাণীনাথ।।*
*🌷এই পঞ্চপুত্র তোমার প্রিয় পাত্র।*
*🌷রামানন্দ সহ মোর দেহভেদমাত্র।।*
*🌻এতে জানা যায় রামানন্দকে মহাপ্রভু বাহ‍্যদশায় সখা বলে মনে করতেন। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে এর উল্লেখ আছে,যথা ঃ--*
*🌷পুরীর বাৎসল‍্য মুখ‍্য,রামানন্দের শুদ্ধ সৌখ‍্য,*
      *গোবিন্দাদ‍্যেরশুদ্ধদাস‍্যরস।*
*গদাধর জগদানন্দ,স্বরূপের মুখ‍্য রসানন্দ,*
     *এই চারি ভাবে প্রভু বশ।।*
*🍀দ্বারকার ভাবে রায় রামানন্দ অর্জ্জুন বলে কীর্তিত হয়েছেন।কবিকর্ণপুরের শ্রীগৌরগণোদ্দেশ দীপিকাগ্রন্থে রায় রামানন্দকে অর্জুন বলে প্রথমে অভিহিত করা হয়েছে। কিন্তু ব্রজের সখ‍্যরসের সঙ্গে ঐক‍্য রাখার জন্য শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রীচরিতামৃতে একে সুবল বলে নির্দিষ্ট করেছেন।যথা অন্ত‍্যলীলায় ষষ্ঠ অধ‍্যায়ে=*
*🌷সুবল যৈছে পূর্বে কৃষ্ণ সুখের সহায়।*
*🌷গৌর সুখ দান হেতু তৈছে রামরায়।।*
*🌹কিন্তু গম্ভীরা-লীলায় শ্রীরামরায়ের যে ভাব প্রকাশ পেয়েছে তাতে তাঁকে বিশাখা বলে মনে করাই উচিত, এ সম্বন্ধে শ্রীকবিকর্ণপুরের মীমাংসাই সুসঙ্গত, তদ্ যথা=*
*প্রিয় নর্মসখঃ কশ্চিৎ সোহর্জ্জুনঃ পান্ডবোহর্জ্জুনঃ।*
*মিলিত্বা সমভূদ্রামানন্দ রায়ঃ প্রভোঃ প্রিয়ঃ।।*
*অতো রাধাকৃষ্ণভক্তিপ্রেমতত্ত্বাদিকং কৃতী*।
*রামানন্দো গৌরচন্দ্রং প্রত‍্যবর্ণয়দম্বহম্।।*
*ললিতেত‍্যাহরেকো যত্তদেকো নানুমন‍্যতে।*
*ভবানন্দং প্রতিপ্রাহ গৌরো যত্ত্বং পৃথাপতিঃ।।*
*গোপার্জ্জুনী যয়া সার্দ্ধমেকীভূয়াপি পান্ডবঃ।*
*অর্জ্জুনো যদ্ রায় রামানন্দ ইত‍্যাহরুত্তমাঃ।।*
*অর্জ্জুনী যাভবৎ তূর্ণং অর্জ্জুনোহপি পান্ডবঃ।*
*ইতি পাদ‍্যোত্তরে খন্ডে ব‍্যক্তমেব বিরাজতে।।*
*তস্মাদেতৎত্রয়ং রায় রামানন্দ মহাশয়ঃ।*
*ব্রজভক্তা সমাসেন কথ‍্যন্তেহথ যথামতি।।*
*🌺কেউ কেউ বলেন পান্ডব অর্জুন ও ব্রজের নর্মসখা অর্জুন এই উভয়ে মিলে গৌরাঙ্গলীলায় রামানন্দরূপে প্রকাশিত হয়েছেন, সুতরাং তিনি ব্রজলীলায় অভিজ্ঞ ছিলেন বলেই মহাপ্রভুর কাছে শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেমভক্তি আদিলীলা বর্ণনা করতে সমর্থ হয়েছিলেন।আবার কেউ কেউ বলেন তিনি ললিতা ছিলেন,কেউ কেউ এইকথা অনুমোদন করেন না।ইহারা বলেন মহাপ্রভু যখন ভবানন্দকে পান্ডু বলে অভিহিত করেছেন তখন রামরায়ললিতা না হয়ে বরং অর্জুনী বা বিশাখা হতে পারেন।সেই অর্জুনীতে বা বিশাখায় পান্ডব অর্জুন মিলিত হয়েছিলেন। চিদানন্দ রাজ‍্যের নিয়মে এটি যে সম্ভবপর হবে তাতে আর বৈচিত্র্য কি? পদ্মপুরাণে উত্তরখন্ডে এটি প্রকাশিত আছে। সুতরাং শ্রীপাদ রায় রামানন্দ এই তিনের মিলিত মূর্তি)*
*🍁রামরায়ের সন্দর্শন আর শ্রীকৃষ্ণভক্তিরস-সন্দর্শন একই কথা।শ্রীরামরায়ের শ্রীমুখে কৃষ্ণকথা শ্রবণ, আর কৃষ্ণকথারসসমুদ্রে ডুবে যাওয়া একই কথা।শিষ্টশান্ত ভদ্রলোক, কিংবা শুকনোজ্ঞানী বেদান্তী, যিনিই একবার শ্রীরামরায়ের সঙ্গে সরলভাবে ধর্মালাপ করতেন,তাঁরই হৃদয় ভক্তিরসে পরিপ্লুত হয়ে উঠিত।*
           *ক্রমাগত*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ১৪০ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda140to150.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৫১ হইতে ১৬০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৫১. শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫১)শ্রীরায় রামানন্দ,বিশাখা*
      *শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা*
      ====================
*🍀শ্রীরামরায়কি গুরুতর ব‍্যাপারে রত থাকতেন, পৃর্বের পর্বে যে শ্রীচরিতামৃতের কথন তা থেকে অবশ্যই তার ধারণা করা যেতে পারে।রায় মহাশয় শ্রীজগন্নাথবল্লভ নাটকটি যাঁরা পাঠ করেছেন,তাঁরা জানেন,এই নাটকে শ্রীপিদ জয়দেব গোস্বামীর রচিত গীতগোবিন্দের অনুকৃতিতে (অনুকরণ করা হয়েছে )অনেকগুলি গভীর গূঢ়ভাবময় গীত আছে।শ্রীমন্মহাপ্রভু অন্ত‍্যলীলায় রায় মহাশয়ের রচিত নাটকের এইসব গীতিরসে বিভোর থাকতেন। তাই শ্রীপাদ কবিরাজ লিখেছেন=*
*চন্ডীদাস বিদ‍্যাপতি,রায়ের নাটক গীতি,*
      *কর্ণামৃত শ্রীগীতগোবিন্দ।*
*স্বরূপ রামানন্দ সনে,মহাপ্রভু রাত্রি দিনে,*
    *গায় শুনে পরম আনন্দ।।*
*🍀শ্রীরায় মহাশয়ের নাটক-গীতির কিঞ্চিৎ আলোচনা এখানে না করলে এই প্রসঙ্গ নিতান্তই অপূর্ণ থাকবে, সুতরাং এখানে উক্ত নাটকের দুই একটি গান উদ্ধৃত করা যাচ্ছে, তদ্ যথা=*
*মৃদুতর মারুত---, বেল্লিত পল্লব-,*
        *বল্লীবলিতশিখন্ডম্।*
*তিলক-বিড়ম্বিত-, মরকত মণিতল-,*
      *বিম্বিতশশধরখন্ডম্।।*
      *যুবতীমনোহরবেশম্।*
*কলয়কলানিধি-,   মিরধরণীমনু-,*
     *পরিণতরূপবিশেষম্।ধ্রু।*
*খেলাদোলায়িত-,   মণিময় কুন্ডল-,*
        *রুচিরাননশোভম্।*
*হেলাতরলিত,      মধুর বিমোচন-,*
        *জনিতবধূজনলোভম্।।*
*গজপতি রুদ্র-,  নরাধিপ চেতসী,*
        *জনয়তু মুদমনুবারম্।*
*রামানন্দ-,       রায় কবিভণিতং,*
        *মধুরিপুরূপমুদারম্।।*
*শ্রীলোচন দাস ঠাকুর এর যে বঙ্গানুবাদ করেছেন তা এই=*
   *যুবতী মনোহর ওনা বেশ গো।*
*অবনীমন্ডলে সখি,চাঁদের উদয় যেন,*
     *সুধাময় রূপের বিশেষ গো।।*
*চূড়ার উপরে শোভে,নানা ফুলদাম গো,*
      *তাহে উড়ে ময়ূরের পাখা।*
*যেন,চাঁদের উপরে চাঁদ,উদয় করিল গো,*
      *ললাটে চন্দনবিন্দু রেখা।।*
*সঘনে দোলায় বামে,মকর কুন্ডল গো,*
      *কুলবতীর কুল মজাইতে।*
*উহার নয়ন কুসুমশর,মরমে পশিল গো,*
      *ধৈরজ ধরিতে নারে চিতে।।*
*এমন সুন্দর রূপ,কোথা হতে এলো গো,*
      *মনোভব ভুলিল দেখিয়া।*
*লোচন মজিল সই,ওরূপ সাগরে গো,*
      *কিবা সে নাগর বিনোদিয়া।।*
*🌹সরসিক ভক্ত পাঠকগণ, কবিবর শ্রীরামরায়ের নাটকগীতি আর আমাদের রসময় কবি লোচনদাসের বঙ্গানুবাদ একবার একাধারে পাঠ করুন, আর ভেতরের চক্ষু খুলে দেখুন, এখানে মধুরে মধুরে কেমন চমৎকার সংমিলন।এই মধুর-উজ্জ্বলরস গীত অভিনয়ে পরিস্ফুট করে তুলবার জন্যই রামরায় কিশোরীসুন্দরী দুইজনসহ নিভৃত কাননচারী হয়েছিলেন, প্রেমসাধনার লোকাতীত যজ্ঞে প্রাকৃত  ইন্দ্রিয়-বৃত্তিনিচয়ের পূর্ণাহুতি প্রদান করে অপ্রাকৃত মানসিক বৃত্তি লাভ করেছিলেন,তাতে তাঁর নিজ পুরুষত্বের জ্ঞান বিলুপ্ত ও বিনষ্ট হয়ে গিয়েছিল।আনন্দ-চিন্ময়রস প্রতিভাবিতা সখীভাবের উন্মেষে (উদ্ভবে)তাঁর হৃদয়ে ব্রজরস উথলিয়ে উঠিত, তিনি দেবদাসীর দুইজনের হৃদয়ে সেই ভাবের সঞ্চার করে দিতেন, নিজের মুখ-চোখে ভাববিশেষের প্রকটন করে মুখচোখাদির বিলাসভঙ্গী শিক্ষা দিতেন,কন্ঠ হতে গান বাহির হত এবং মুখ চোখ ও হাত দিয়ে বাইরে ভাবের অভিব‍্যক্ত বা প্রকাশ হত।এইরকম অভিনয় ছাড়া গানের সজীবতা উপলব্ধি হয় না।এখানে উদাহরণচ্ছলে শ্রীজগন্নাথবল্লভ নাটক হতে আর একটি গান দেওয়া হল।*
*চিকুরতরঙ্গক-,  ফেন-পটলমিব,*
        *কুসুমং দধতী কামং।*
*নটদপসব‍্য-,      দৃশা দিশতীব চ,*
        *নর্ত্তিতুমতনুমবামম্।।*
        *রাধা মাধববিহরা।*
*হরীমুপগচ্ছতি,      মন্দুস্থপদগতী*
       *লঘুলঘুতলরিতহারা।।*
*শঙ্কিতলজ্জিত,    রসভর-মধুর,*
               *দৃগন্তলবেন।*
*মধুমথনং প্রতি,        সমুপহরন্তী,*
          *কুবলয়াদিমরসেন।।*
*গজপতিরূদ্র,  নরাধিপমধুনাতন,*
            *মদনং মধুরেণ।*
*রামানন্দরায় কবি-,ভণিতং সুখরতু,*
        *রসবিসরেণ।।*
*🌻এটি শ্রীমতী রাধারাণীর অভিসারের গানে।শ্রীরাধিকা কি সাজে ও কি ভাবে প্রাণবল্লভের সঙ্গে মিলিত হতে চলেছেন, এই গানে কবিবর তাইই প্রকাল করে লিখেছেন ঃ----*
*(১)শ্রীরাধা কুঞ্চিত ঘনকৃষ্ণ চিকুরে শুভ্র কুসুম ধারণ করেছেন। (শ্রীরাধার কোঁচকান কালোঘন চুলে সাদা ফুল ধারণ করেছেন)।সেটি নীল যমুনার মৃদুল (কোমল)তরঙ্গে ফেনার মত শোভা পাচ্ছে।তিনি তাঁর ডান নয়নভঙ্গীতে যেন অনুকূল অনঙ্গকে নৃত‍্য করতে আদেশ করতে মধুরবেশে হরির কাছে অভিসার করছেন।এখানে অত‍্যন্ত আনন্দে অভিসারিকা শ্রীমতীর নয়নে যে রস উথলিয়ে উঠেছিল, গানে তার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু গায়িকা যখন এই গান করেন,তাঁর নয়নে তেমনি ভাবের অনন্ত লেশাভাসটুকুও অভিনয় না হলে এই সরস গানের সজীবতা থাকে না, অন‍্যের হৃদয়েও সে ভাব সঞ্চারিত হয় না। মানুষের মনের ভাব মুখ চোখাদিতে প্রকাশিত হয়।মনের সঙ্গে দেহের সম্বন্ধ অতি ঘনিষ্ঠ,চোখের সঙ্গে সে সম্বন্ধ আরও ঘনিষ্ঠতর।হাসির ভাবটুকু মুখে ফুটতে না ফুটতেই আগে চোখে ফুটে উঠে।কোন ভাব দেহের কোন জায়গায় কি রকম কাজ করে, তাতে কি রকম পরিবর্তনের সঞ্চার করে তার নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। ইদানিং পাশ্চাত‍্য মনস্তত্ত্ব বিদগণের মধ্যে "প্রফেসর বেইন" প্রভৃতিও এ বিষয়ের আলোচনা আরম্ভ করেছেন। তিনি এই ব‍্যাপারকে (Manifestation of feeling) বা "ভাবপ্রকটন" নামে অভিহিত করেছেন। সহজ কথায় একে "ভাওবাতান" (Expression) বলা যেতে পারে। প্রফেসর Bell নামক অন‍্য একজন পন্ডিত (Psycho-Physionlogist) কোন ভাব মুখচোখাদিতে কি রকম পরিবর্তন উপস্থিত করে,তার বিবরণ লিখেছেন, কিন্তু সে সব অতি স্থূল।*
🦚🌷🪷🌸🦜🦚🌷🪷🌸🦜🌸🪷🦚

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৫২. শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫২)শ্রীরামানন্দ রায়,কাষ্ঠ পুত্তলিকা*
    *শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা*
    **************************
*🍀কাব‍্যকলায় সুপন্ডিত, ভাব-রসে সুরসিক শ্রীরামরায় সঙ্গীত-বিদ‍্যায় পারদর্শী ছিলেন।নাট‍্যগানাদিতে তাঁর অপরিসীম নৈপুণ‍্য ছিল।তিনি শ্রীকৃষ্ণলীলার মধুররসে সবসময় পরিষিক্ত (ডুবে) থাকতেন।তাঁর সবরকম বিদ‍্যা শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ লীলারসের আস্বাদ অনুভাব সাধনে ব‍্যবহৃত হত।শ্রীরায় মহাশয় অপ্রাকৃত ভাবে বিভোর থেকে দুইটি পরমা সুন্দরী কিশোরী দেবদাসীকে এই ভাব প্রকটন লাস‍্য (স্ত্রলোকের নৃত‍্য) ও শ্রীশ্রীজগন্নাথবল্লভ নাটকের গান শিক্ষা দিতেন।আমরা উদাহরণ স্বরূপ যে গানটি উদ্ধৃত করেছি,এখন তার অন‍্য অংশের উল্লেখ করা হচ্ছে।*
*(২)শ্রীমতী রাধারাণীর নয়নকোণে একই সময়ে শঙ্কা ও লজ্জার প্রকাশ হয়েছে।তাতে নেত্রপ্রান্ত রসভরে চঞ্চল মধুর প্রতিভাত (স্পষ্টভাবে ব‍্যক্ত) হচ্ছে। তিনি যেন নয়নরূপ নীল উৎপলে নব-নীরদ-সুন্দরকে ভালোবাসার উপহার প্রদান করছেন।এই যে এখানে নয়নে লজ্জা ও শঙ্কার ভাব প্রকটনের পরিচয় দেওয়া হয়েছে, সেটি ব‍্যভিচারীভাবের অন্তর্গত।এই ব‍্যভিচারী ভাব সঞ্চারীভাব নামেও অভিহিত হয়ে থাকে, যথা ভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থে=*
*অথোচ‍্যন্তে ত্রয়স্ত্রিংশৎ ভাবা যে ব‍্যভিচারিণঃ।*
*বিশেষণাভিমুখ‍্যেন চরন্তি স্থায়িনং প্রতি।।*
*বাগঙ্গসত্ত্বসূচা যে জ্ঞেয়াস্তে ব‍্যভিচারিণঃ।*
*সঞ্চারয়ন্তি ভাবস‍্য গতিং সঞ্চারিণোহপি তে।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ বাক‍্য ভ্রু-নেত্রাদি অঙ্গ এবং সত্ত্বোৎপন্ন ভাব দ্বারা যে সব ভাব প্রকাশিত হয় তারাই ব‍্যভিচারী।এরা ভাবের গতি সঞ্চার করে বলিয়া সঞ্চারী ভাব নামেও অভিহিত হয়ে থাকে।এদের সংখ্যা তেত্রিশটি, যথা= নির্ব্বেদ,বিষাদ,দৈন‍্য,গ্লানি,শ্রম,মদ, গর্ব্ব,শঙ্কা,ত্রাস,অবেশ,উন্মাদ,অপস্মৃতি,ব‍্যাধি,মোহ,মৃত‍্যু,আলস‍্য,জাড‍্য, ব্রীড়া,অবহিত্থা,হর্ষ,উৎসুকতা,উগ্রতা, অমর্ষ,চপলতা,নিদ্রা,সুপ্তি ও বোধ এরা সঞ্চারী ভাব।*
*🍀সাত্ত্বিকভাব আট প্রকার যথা= স্তম্ভ,স্বেদ,রোমাঞ্চ,স্বরভেদ,কম্প, বৈবণ‍্য,অশ্রু ও প্রলয়।*
*🌺এর পরে স্থায়ীভাবেরও আট প্রকার ভেদ আছে।এদের প্রভাবেও অঙ্গপ্রত‍্যঙ্গ ও ইন্দ্রিয়াদির বহুপ্রকার লাস‍্য বা ক্রীড়া জন্ম হয়।স্থায়ীভাব সম্বন্ধে প্রাচীন আলঙ্কারিক "ভোজরাজ" ভরত মুনির পদানুসরণ করে লিখেছেন ঃ----*
*রতির্হাসশ্চ শোকশ্চ ক্রোধোৎসাহৌ ভয়ং তথা।*
*জুগুপ্সা বিস্ময়শ্চাষ্টৌ স্থায়ীভাবাঃ প্রকীর্ত্তিতাঃ।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ রতি,হাসি,শোক,ক্রোধ,উৎসাহ,ভয়, জুগুপ্সা (কুৎসা,নিন্দা বা ঘৃণা), ও বিস্ময় এই আটটি স্থায়ীভাব। আমাদের এই প্রাকৃত জগতের পক্ষে স্থায়ীভাব বিচার এইরকম হলেও ব্রজরসের স্থায়ীভাব বিচারে সামান্য স্বাতন্ত্র‍্য দেখা যায়।*
*🍀শ্রীপাদ রূপগোস্বামী ভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থে লিখেছেন=*
*অবিরুদ্ধান্ বিরুদ্ধাংশ্চ ভাবান্ যো বশতাং নয়ন্।*
*সুরাজের বিরাজেত স স্থায়ীভাব উচ‍্যতে।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ যে ভাব,অবিরুদ্ধ ও বিরুদ্ধভাবগুলিকে বশে নিয়ে এসে পরাক্রমশালী রাজার মত বিরাজ করে,তাইই স্থায়ীভাব নামে খ‍্যাত।এখানে হাস‍্যাদিকে অবিরুদ্ধ ভাব এবং ক্রোধাদিকে বিরুদ্ধভাব সংজ্ঞায় অভিহিত করে হয়েছে।এখন প্রশ্ন হতে পারে যে সেই ভাবটি কি? এর উত্তরে শ্রীপাদ গোস্বামী মহোদয় বিশদ করেছেন=*
*স্থায়ীভাবোহত্র স প্রোক্তঃ শ্রীকৃষ্ণবিষয়া রতি।*
*র্মূখ‍্যা গৌণীচ সাদ্বেধা রসজ্ঞৈঃ পরিকীর্ত্তিতা।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ শ্রীকৃষ্ণ বিষয়া রতিই স্থায়ীভাব নামে অভিহিত।এই রতি বা অনুরাগ মুখ‍্যা ও গৌণীভেদে দুই প্রকার।মুখ‍্যারতি আবার দুই প্রকার= স্বার্থা ও পরার্থা।এদের প্রত‍্যেকে আবার পাঁচ প্রকার, যথা= শুদ্ধা, প্রীতি,সখ‍্য,বাৎসল‍্য ও প্রিয়তা। শুদ্ধারও প্রকার ভেদ আছে =সামান‍্যা, স্বচ্ছ ও শান্তি।শুদ্ধারতিতে অঙ্গে যে আকুঞ্চন (কোঁকড়ানো বা সংকোচন) প্রসারণ হয়,তাতে অঙ্গ কম্পন,চক্ষু উন্মীলনাদি(চোখ মেলাদি) উৎপন্ন হয়ে থাকে। সুতরাং স্থায়ীভাবের শুদ্ধারতির ভাব প্রকটন লাস‍্যের অভিনয় করতে হলে উল্লিখিত আকুঞ্চন প্রসারণাদির অভিনয় শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজনীয়।*
*🍀প্রীতি,সখ‍্য ও বাৎসল‍্যরূপ মুখ‍্যারতিতে চোখেতে যে নৃত‍্যের উদ্গম(উদয়) হয়,তাতে চোখাদির ফুল্লতা(পূর্ণ প্রকাশিত) জৃম্ভণ (মুখব‍্যাদানবা হাই তোলা)উদঘূর্ণন (ক্রমাগত ঘুরতে ইচ্ছা) উপস্থিত হয়ে থাকে।এই তিনরকম রতি কেবলা ও সঙ্কুলাভেদে দুই প্রকার। প্রিয়তা রতির অন‍্য নাম মধুরা।মধুরায় কটাক্ষ, ভ্রুক্ষেপ এবং হাস‍্যাদি ভাব প্রকটিত হয়। হাস‍্য,বিস্ময়,উৎসাহ,শোক, ক্রোধ,ভয় এবং জুগুপ্সা এই সাতটি স্থায়ীভাব যখন ভাব ভিন্ন আর কিছুই নয়, তখন এরাও রতি নামেই অভিহিত। কিন্তু এরা মুখ‍্যারতি না, গৌণীরতি। কিন্তু হাস‍্য হতে ভয় পর্যন্ত এই ছয়টি ভাব দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের আলম্বনত্ব (আশ্রয়) সম্ভবপর হয়।জুগুপ্সা বা নিন্দায় শ্রীকৃষ্ণের আশ্রয় নাই। ভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থে এই সব বিষয়ের সূক্ষ্ম বিচার আছে।এখানে কেবল স্থায়ীভাব অঙ্গাদিতে কি কি লক্ষণ প্রকাশ করে, তাইই আলোচ‍্য। সুতরাং স্থায়ীভাবের বিশ্লেষণ এবং সেটির নানান শ্রেণী বিভাগের বিচার সম্বন্ধে বাহুল‍্যবোধে এখানে কোন আলোচনা করা হল না।ভাব প্রকটন লাস‍্যই এখানে আলোচ‍্য।*
❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤🔴🔵⚪

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৫৩. শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৩)শ্রীরামানন্দ রায়, বিশাখা*
   *শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা*
   ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*(১)হাস‍্যরতিতে নয়নের প্রকাশ, নাক ওষ্ঠ ও গালের কম্পন হয়।*
*(২)বিস্ময়-রতিতে চোখের কম্পন ও দেহ পুলকিত হয়।*
*(৩)দেহের স্ফূর্তিই উৎসাহ-রতির বাহ‍্য প্রকাশ।*
*(৪)শোক-রতিতে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, নিশ্বাসপতনাদি ঘটে থাকে,নয়ন জলপূর্ণ হয়  ও রোদন লক্ষণ পায়।*
*(৫)ক্রোধ-রতিতে ভ্রু-কোচকানো ও চোখে রক্তিমাদি লক্ষণ প্রকটিত হয়।*
*(৬)ভয়-রতিতে কম্পন ও ভয়ের চিহ্ন মুখ শুকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি হয়।*
*(৭)জুগুপ্সায় বা নিন্দায় ঘৃণার প্রকাশ পেয়ে থাকে।*
*🍀সাত্ত্বিকভাব আটটি,সঞ্চারীভাব তেত্রিশটি, এবং স্থায়ীভাব আটটি।সর্বসাকল‍্যে ঊনপঞ্চাশ রকম ভাবে চোখ ও মুখাদিতে যে সব আকুঞ্চন (একটুখানি কুকড়ে যাওয়া )প্রসারণ উপস্থিত করে,তা ভাবলাস‍্য নামে অভিহিত।এই লাস‍্য সমূহ দ্বারা মানসিক ভাবসকল প্রকটিত হয়, সুতরাং সেটিকে ভাব-প্রকটন-লাস‍্য বলা হয়ে থাকে।এইসব লাস‍্য অভিনয়ে প্রকটিত করাই অভিনয়ের প্রধানতম সৌন্দর্য্য।প্রাকৃত রসময় সঙ্গীতাদিতেও ভাব-প্রকটন-লাস‍্যের অভিনয় প্রদর্শন কঠিন ব‍্যাপার।ব্রজরসের ভাব-প্রকটন-লাস‍্য শিক্ষাদান করা যে কত বেশী নৈপুণ‍্য ও প্রেমভক্তির সাধনার প্রয়োজন, তা পাঠক মহোদয়গণ একটু ভেবে দেখুন।সিদ্ধ প্রেমিকভক্ত শ্রীরামরায় ছাড়া এই ব্রজরসের ভাব-প্রকটন-লাস‍্যের অভিনয় শিক্ষাদান অন‍্যের পক্ষে সম্ভব নয়। "যিনি সাক্ষাৎ বিশাখা," যিনি ব্রজরসের নিগূঢ় মর্মাভিজ্ঞ, যিনি দিনরাত্রি ব্রজরসে বিভাবিত সুতরাং প্রাকৃত কামের অত‍্যন্ত অস্পৃষ্ট,অস্পৃশ‍্য এবং অগোচর, তিনি ছাড়া এইরকম শিক্ষাদানে আর কারও অধিকার থাকতে পারে না। তাই স্বয়ং শ্রীভগবান মহাপ্রভু বলেছেন=*
*🌷এক রামানন্দের হয় এই অধিকার।*
*🌷তাতে জানি অপ্রাকৃত দেহ তাহার।।*
*🍀শ্রীরামরায় ব্রজরসে বিভাবিত সঙ্গে দেবদাসীদ্বয়কে এই ভাব-প্রকটন লাস‍্য শিক্ষা দিতেন,এই শিক্ষাদানের সময়ে তিনি যে রামানন্দ রায় এবং এরা দুইজন তরুবয়স্কা,এটি তাঁর জ্ঞান থাকত না। তিনি যে শিক্ষক, এরা যে তাঁর ছাত্রী,এইরকম জ্ঞানও তাঁর হৃদয়ে জায়গা পেত না, বরং তিনি এদেরকে ব্রজসখীদের অনুগা প্রেমভক্তির প্রকট মূর্তি বলেই শ্রদ্ধা ভক্তি করতেন। তিনি দেবদাসীদ্বয়কে দেবকার্য‍্য সাধনের সাধিকা বলে সেবা করতেন,যথা শ্রীচরিতামৃতে=*
*🌷স্বহস্তে করেন তার অভ‍্যঙ্গ মার্জন।*
*🌷স্বহস্তে করান স্নান গাত্র-সংমার্জন।।*
*🌷স্বহস্তে পরান বস্ত্র সর্বাঙ্গ-মন্ডন*।
*🌷তবু নির্বিকার রায় রামানন্দের মন।।*
*🌷সেব‍্য-বুদ্ধি আরোপিয়া করেন সেবন।*
*🌷স্বাভাবিক দাস‍্যভাব করি আরোপণ।।*
*🌻এতে জানা যাচ্ছে যে,শ্রীরামরায় এই দুই দেবদাসীকে যদিও ভাবপ্রকটন-লাস‍্য শিক্ষা দিতেন, কিন্তু তিনি এদেরকে ছাত্রী বলে মনে করতেন না,প্রাকৃত মানবী বলেও মনে করতেন না। তিনি এদেরকে ব্রজরস শিক্ষার সাধিকা বলে সেব‍্যভাবে এদের সেবা করতেন।আমরা নিজের হাতে প্রতিমা গড়ে নিই, আবার সেই প্রতিমাকে সাক্ষাৎ চিন্ময়ী বলে পূজা করে থাকি।শ্রীরামরায় স্বয়ং যাঁদের হৃদয়ে ব্রজরস সঞ্চারিত করে দিচ্ছিলেন,যাঁদেরকে প্রাকৃত জগতের ভাব হতে টেনে নিয়ে অপ্রাকৃত জগতের ভাবরসে স্বয়ং বিভাবিত করেছিলেন,সেই দেবদাসীদ্বয়কে তিনি দেবীভাবে দেখতে পেতেন।গোলোকের ভাব হৃদয়ে প্রতিফলিত না হলে,গোলোকসুধায় হৃদয় পরিপ্লুত ও পবিত্রীকৃত না হলে এইরকম দিব‍্য ভাবের উদয় হয় না।এ ভাব মাতৃ শোণিত ও পিতৃ শুক্র দ্বারা জীবের অসম্ভব।তাই মহাপ্রভু বলেছেন=*
*🌷এক রামানন্দের হয় এই অধিকার।*
*🌻 এইরকম সাধন অন‍্যের পক্ষে সম্ভবে না।যাঁরা তড়িৎ বিজ্ঞানে নিপূণ, তাঁরা সদ‍্যঃপ্রাণনাশিনী দামিনীদাম নিয়ে যথেচ্ছ খেলা করতে পারেন, কিন্তু অন‍্যের পক্ষে সেটি ভীষণতম কৃষ্ণসর্প হতেও ভীষণতর। সুতরাং পরম করুণাময় মহাপ্রভু জগতের সমগ্র মানুষকে সাবধান করে বললেন, এইরকম কাজে কেবল একমাত্র রিমরায়ই অধিকারী। আমি তো সব ত‍্যাগ করে সন্ন‍্যাসী হয়েছি, কিছুতেই আমার আসক্তি নাই, কিন্তু আমার পক্ষেও স্ত্রীদর্শন তো দূরের কথা, তার নাম শূনলেও চিত্তবিকারের আশঙ্কা ঘটতে পারে। সুতরাং অন‍্যে পরে কা কথা। ফলে প্রকৃতি-দর্শনে কে স্থির থাকতে পারে? কিন্তু রামরায়ের কাজ প্রকৃতই আশ্চর্য‍্য। তিনি পরমাসুন্দরী দুইজন তরুণবয়স্কা দেবদাসীর অঙ্গ-স্পর্শ করেন,তাদের স্ননাদি করান, ইত্যাদি বহু কিছু।*

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৫৪. শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৪)শ্রীরায় রামানন্দ, বিশাখা*
        *প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা*
        !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভু ভক্তগণের সন্দেহ দূর করার ছলে শ্রীরামরায়ের ভজন গৌরব প্রকটনের জন্য প্রসঙ্গচ্ছলে শাস্ত্রযুক্তি অনুযায়ী বহু কথা বললেন।ভক্তগণের সন্দেহ দূর করার জন্য মহাপ্রভুর শ্রীমুখের একটি কথামাত্রই যথেষ্ট। তিনি যদি শুধু বলতেন রামরায় পরমসাধু, তাহলে তাঁর ভক্তগণ বেদবাক‍্য বলে বিশ্বাস করতেন। কিন্তু তিনি সেইরকম ভাবে লোকের মনে বিশ্বাস আনাকে সুসঙ্গত মনে করলেন না। শাস্ত্র যুক্তি দ্বারা বিশ্বাসের মূল দৃঢ় করে দেওয়াই তাঁর চিরন্তনী রীতি।শ্রীপাদ সনাতনের শিক্ষায় গৌরহরি নিজ শ্রীমুখে উপদেশ করেছিলেন ঃ---*
*🌷শাস্ত্রে যুক্ত‍্যে সুনিপুণ দৃঢ় শ্রদ্ধা যাঁর।*
*🌷উত্তম অধিকারী তিঁহো তারয়ে সংসার।।*
*🍀শ্রীরামরায়ের অলৌকিক ব‍্যবহার সম্বন্ধে কারও মনে যেন সন্দেহের লেশমাত্র না থাকতে পারে,তাঁর উত্তম ভজনাধিকারিত্ব সম্বন্ধে যাতে সকলেরই দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে, দয়াময় গৌরহরি এই জন্য শাস্ত্র যুক্তিদ্বারা ভক্তগণের হৃদয়ে শ্রীরামরায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রতিষ্ঠিত করে দিলেন, এবং প্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের মনোবাঞ্জা পূরণের জন্য বললেন, মিশ্র! আমি তোমায় কৃষ্ণকথা কি শুনাব? আমার নিজের যখন সাধ হয়, আমি তখন রামরায়ের কাছেই কৃষ্ণকথা শুনে থাকি।কৃষ্ণকথা শুনতে ইচ্ছা হলে পুনর্বার রামরায়ের কাছে যাও। তুমি আমার নাম করে বলিও তিনি আমাকে আপনার কাছে কৃষ্ণকথা শুনতে পাঠিয়েছেন।এখনই তাঁকে ঘরের বাইরে দেখতে পাবে, তাড়াতাড়ি যাও,বিলম্ব করিও না। যথা শ্রীচরিতামৃতে পায়=*
*🌷আমিও রায়ের স্থানে শুনি কৃষ্ণকথা।*
*🌷শুনিতে ইচ্ছা হয় যদি পুন যাও তথা।।*
*🌻শ্রীরামরায় কৃষ্ণকথার সুধানিধি।নীলাচল-লীলায় যখনই কৃষ্ণকথার প্রসঙ্গ হয়েছে,তখনই ভুবনপাবন লীলাগ্রন্থকারগণ শ্রীরামরায়ের মধুমাখা নামের উল্লেখ করেছেন।মহাপ্রভু শ্রীকৃষ্ণ বিরহে আকুল হয়ে পড়তেন,আর রামরায় অমনি শ্রীকৃষ্ণকথার প্রসঙ্গ করে তাঁর ব‍্যাকুলতার বেগ প্রশমিত করতেন। যথা অন্ত‍্যলীলায়=*
*🌷রামানন্দের কৃষ্ণকথা,স্বরূপের গান।*
*🌷বিরহবেদনা প্রভুর রাখয়ে পরাণ।।*
*🌹মহাপ্রভু স্বয়ং বিদ‍্যানগরে রামরায়কে বলে এসেছিলেন,রামরায় নীলাচলে চলো, আমরা দুইজন একত্র থাকব, আর কৃষ্ণকথা-রঙ্গে সুখে সময় অতিবাহিত করব। যথা=*
*🌷তুমি আর আমি নীলাচলে রহিব একসঙ্গে।*
*🌷সুখে কাল গোঙাইব কৃষ্ণকথা রঙ্গে।।*
*🌻প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র কৃষ্ণকথা শুনবার জন্য উৎকণ্ঠিত হয়ে মহাপ্রভুর কাছে নিজ প্রার্থনা জানালেন। দয়াময় গৌরহরি তৎক্ষণাৎ প্রত‍্যুত্তরে বললেন=*
*🌷-------কৃষ্ণকথা আমি নাহি জানি।*
*🌷সবে রামানন্দ জানেন তার মুখে শুনি।।*
*🌻প্রদ‍্যুম্ন বুঝলেন, ভগবান তাঁর ভক্তগণের দ্বারা নিজ মাহাত্ম্য প্রচারের বিধান করেছেন।শ্রীরামরায়কে তিনি কৃষ্ণকথা বর্ণনের পূর্ণতম অধিকার প্রদান করেছেন।মিশ্র মুহূর্তমাত্র বিলম্ব না করে রায় মহাশয়ের ভবনের অভিমুখে গমন করলেন,গিয়ে দেখলেন,রায় মহাশয় তখনও ঘরের বাইরেই রয়েছেন।অর্থ‍্যাৎ উদ‍্যানে প্রবেশ করেন নাই। মিশ্রকে দেখে রায় মহাশয় মিশ্রকে প্রণাম করে বললেন,কিসের জন্য মহোদয়ের শুভাগমন, বলতে আজ্ঞা হয়।মহাপ্রভুর আশেশ অনুসারে মিশ্র বললেন,আমি মহাপ্রভুর কাছে কৃষ্ণকথা শুনব বলে প্রার্থনা করেছিলাম।তিনি আপনার কাছে পাঠিয়ে দিলেন।এখন আপনি কৃপা করুন।রামরায় আহ্লাদিত হয়ে বললেন, মহাপ্রভু যে এইরকম আজ্ঞা করেছেন, এ আমার মহাভাগ‍্য।যথা শ্রীচরিতামৃতে=*
*🌷প্রভু-আজ্ঞায় কৃষ্ণকথা শুনিতে আইলা হেথা।*
*🌷ইহা বই মহাভাগ‍্য আমি পাব কোথা।।*
*🌹শ্রীরামরায় এখানে নিজ মহাভাগ‍্যের খ‍্যাপন করেছেন।এর হেতু কি? আমাদের মনে হয় প্রথমতঃমহাপ্রভুর আজ্ঞা পেয়েই শ্রীরামানন্দ রায় সৌভাগ্যফল বলে মনে করলেন।দ্বিতীয়তঃ দয়াময় গৌরহরি তাঁকে কৃষ্ণকথা বলবার অধিকার দান করলেন,এটিও সৌভাগ্যের কথা।তৃতীয়তঃ শাস্ত্রানুসারে যিনি কৃষ্ণ-কথার প্রশ্ন করেন, যিনি কৃষ্ণকথা বলেন ও যিনি শোনেন, এই তিনজনই ভাগ‍্যবান।*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🙏🌻🌻🌻🌻🌻🌻

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

🆕 ১৫৫. শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৫)শ্রীরামানন্দ রায়, বিশাখা*
        *প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা*
         **********************
*🙏শ্রীভাগবতে পায়,১০|১|১৩,*
*"বাসুদেবকথাপ্রশ্নঃ পুরুষাংস্ত্রীন্ পুনাতি হি।*
*বক্তাবং প্রকচ্ছং শ্রোতৃং স্তৎপাদসলিলং যথা।।"*
*🍀একাদশ স্কন্ধে লেখা হয়েছে =*
*"শ্রুতোহনুপঠিতো ধ‍্যাতঃ আদৃতো বানুমোদিতঃ।*
*সদ‍্যঃ পুনাতি সদ্ধর্মো দেব বিশ্বদ্রুহোহপি হি।।"*
*🌻এইরকম নানান কারণে শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের প্রস্তাব শুনেই রামরায় নিজের সৌভাগ্য খ‍্যাপন (প্রচার) করলেন এবং মিশ্র মহাশয়কে নিয়ে এক নির্জন কক্ষে প্রবেশ করে বললেন, আপনি কি ভাবের কৃষ্ণকথা শুনতে ইচ্ছা করেন।মিশ্র মহাশয় এই প্রশ্নের কি উত্তর দিবেন,তা হঠাৎ ঠিক করতে পারলেন না।তিনি শুনেছিলেন, বিদ‍্যানগরে শ্রীরামরায় কৃষ্ণকথা শুনিয়ে মহাপ্রভুকে পরিতৃপ্ত করিয়েছিলেন।মিশ্র কৃষ্ণকথা শুনতে গিয়েছেন ; কৃষ্ণকথা কি,কৃষ্ণকথা কত ভাবের হতে পারে,কৃষ্ণকথা রসসাগরে কত ভাবের তরঙ্গ আছে, কত বিলাস-উল্লাস আছে,তিনি তখনও তা জানতেন না।তাঁর মন কৃষ্ণকথা শুনবার জন্য ব‍্যাকুল হয়েছিল।তিনি রামরায়ের কাছে মনের ভাবই প্রকাশ করলেন। কিন্তু রামরায়ের প্রশ্ন শুনে প্রথমতঃ তিনি কোনও সদুত্তর করতে না পেরে হঠাৎ বললেন,বিদ‍্যানগরে আপনি মহাপ্রভুকে যে কৃষ্ণকথা শুনিয়েছিলেন, সেই কথা আমাকে ক্রমে ক্রমে বলুন।*
*🌹পরক্ষণে মিশ্র মহাশয়ের মনে প্রাকৃত বুদ্ধির উদয় হল।তিনি নিজেই নিজের কথার সংশোধন করে বললেন=*
*🌷অন‍্যের কি কথা তুমি প্রভুর উপদেষ্টা।*
*🌷আমি তো ভিক্ষুক বিপ্র,তুমি মোর পোষ্টা।।*
*🌷ভালমন্দ কিছু আমি পুছিতে না জানি।*
*🌷দীন দে'খে কৃপা করি কহিবে আপনি।।*
*🌻রামরায় মিশ্রের কথায় বাধা দিয়ে বিনীত ভাবে বললেন, ঠাকুর!এ আধমকে অত বাড়াবেন না। মহাপ্রভুর আজ্ঞা এবং আপনারও একান্ত আগ্রহ।আমি কিছুই জানি না, তবে গৌরহরির প্রেরণায় যৎকিঞ্চিৎ নিবেদন করছি।এই বলে শ্রীরামরায় কৃষ্ণকথা আরম্ভ করলেন।মিশ্র মহাশয়কে শ্রীরামরায় কি ভাবের কৃষ্ণকথা শুনিয়েছিলেন,তার স্পষ্ট করে কোথাও কোনও উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায় না।বিদ‍্যানগরে মহাপ্রভুকে রামরায় রসতত্ত্ব,প্রেমতত্ত্ব, কৃষ্ণতত্ত্ব,রাধাতত্ত্ব এবং লীলাতত্ত্ব বিষয়িণী বহু কথা শুনিয়েছিলেন। প্রথম দশদিন পর্যন্ত রাত্রির পর দিন,দিনের পর রাত্রি অতিবাহিত হত, তথাপি সে কথার বিরাম হত না।মহাপ্রভু দক্ষিণ তীর্থ ভ্রমণের পরে আবার বিদ‍্যানগরে এসে কৃষ্ণকথা-রস-প্রসঙ্গে কিছুকাল অতিবাহিত করেছিলেন।শ্রীরামরায় সংক্ষেপ করে ক্রমানুসারে সেই সব রসময়ী প্রসঙ্গ করলেন।আগেই বলেছি,কৃষ্ণকথা সুধাসাগর বিশেষ। সেটির প্রসঙ্গ করামাত্রই রসের তরঙ্গে বক্তা ও শ্রোতার হৃদয় পরিপ্লুত হয়ে উঠে। এখানেও স্বয়ং রামরায় বক্তা এবং চিরপিপাসি ব‍্যাকুলপ্রাণ প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র শ্রোতা। সুতরাং কৃষ্ণকথা আরম্ভ হওয়া মাত্রই উভয় হৃদয়ে যে রসের উত্তালতরঙ্গ অদৃশ‍্য হবে তা বলাই বাহুল‍্য।রায় মহাশয়ের নির্জনকক্ষে কৃষ্ণকথা-রসার্ণবের যে তুমুল তরঙ্গ উঠেছিল, তার বর্ণনা কেমন ভাবে করব?শ্রীচরিতামৃতের ভাষায় "মন্ত্রশক্তিশালিনী"। মন্ত্রের ক্ষমতা অসীম ও অলৌকিক।*
*🌷তবে রামানন্দ ক্রমে কহিতে লাগিল।*
*🌷কৃষ্ণকথা-রসামৃত সিন্ধু উথলিল।।*
*🌷আপনি প্রশ্ন করি পাছে করেন সিদ্ধান্ত।*
*🌷তৃতীয় প্রহর হৈল,নহে কথা অন্ত।।*
*🌷বক্তা শ্রোতা কহে শোনে দোঁহে প্রেমাবেশে।*
*🌷আত্মস্মৃতি নাহি,কাঁহা জানিবে দিন শেষে।।*
*🙏মধুময়ী কৃষ্ণকথা একবার মরমে প্রবেশ করলে মানুষের বাহ‍্যজ্ঞান তিরোহিত(অন্তর্হিত)হয়, হৃদয় মধুময় হয়ে উঠে,ক্ষুধা-তৃষ্ণা ও অন‍্যান‍্য জীবধর্ম বিলুপ্ত হয়,আত্মা প্রেমময়ের অপ্রাকৃত প্রেমানন্দময় রাজ‍্যে বিচরণ করে গোলোকসুধায় পাগল হয়।কৃষ্ণকথা মাদনীশক্তিশালিনী, কৃষ্ণকথা ভবরোগনাশিনী এবং সাক্ষাৎ প্রেমদায়িনী।*
*🌺শ্রীরামানন্দ রায় মহাশয়ের নির্জন কক্ষে কৃষ্ণকথারসামৃতসিন্ধু উথলিয়ে উঠিল,দন্ডের পর দন্ড, (এক প্রহরের সাড়ে সাত ভাগের এক ভাগ অর্থ‍্যাৎ চব্বিশ মিনিট কে দন্ড বলা হয় )অতিবাহিত হতে লাগল,শ্রোতা ও বক্তার কাছে বাহ‍্যজগৎ বিলুপ্ত হয়ে গেল, উভয়ে এক সুধারসে বিভোর হলেন, এদিকে বেলা তৃতীয় প্রহর গত প্রায়, কিন্তু তবুও কথার বিরাম নেই, অথচ কোথাকার বেলা কোথায় ঢলে পড়েছে, উভয়ের একজনেরও সে জ্ঞান নেই।*
*🦚শ্রীরায় মহাশয়ের ভৃত‍্য উভয়ের ভাবগতি দেখে আর বেশীক্ষণ অপেক্ষা করা অসঙ্গত মনে করে বলিল, "বেলা অবসান প্রায়, এখনও আপনাদের স্নান-আহ্নিক হল না!" ভৃত‍্যের কথায় উভয়ের বাহ‍্যজ্ঞান হল।মিশ্র মহাশয় ব‍্যস্তভাবে বললেন,তবে আজ এই পর্য‍্যন্তই থাক।রায় মহাশয় বললেন, যে আজ্ঞে🙏। সে দিনের জন্য সুখময় কৃষ্ণকথার বিরাম হল,রায় মহাশয় মিশ্র মহাশয়ের সেবার জন্য বললেন,মিশ্র মহাশয় বললেন,"মহানুভব আপনি আমায় কৃষ্ণকথাসুধাপানে চিরতৃপ্ত করেছেন,আমি কৃতার্থ হলাম।রায় মহাশয় আপনি আমার জন্য ব‍্যস্ত হবেন না, আপনি স্নান আহার করুন।*
           *ক্রমাগত*
🦚🦜🌸🙏🪷🌷🦚🦜🌸🙏🪷🌷🙏


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৫৬. শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৬)শ্রীরামানন্দ রায়,শ্রেষ্ঠভক্ত*
           *প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা*
         **************************
*☘আপনি এখন স্নানাহার করুন। এই বলে প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র গৃহ-অভিমুখে প্রত‍্যাবর্তন করলেন, তাঁর হৃদয় তখনও কৃষ্ণকথার রসরঙ্গে ভাবসাগরে ডুবে ছিলেন, তাঁর কর্ণযুগল তখনও শ্রীরামরায়ের মধুময়ী কৃষ্ণকথার সুধাঝঙ্কার প্রবাহিত হচ্ছিল।তিনি গোলোকে কি ভূলোকে আছেন, অনেকক্ষণ পর্যন্ত তাঁর ষে জ্ঞান ছিল না। তিনি ধীরে ধীরে আপন ঘরে উপস্থিত হলেন,ভাব-এ ভাব-এ স্নান করলেন, আহার করলেন, তখনও শ্রীরামরায়ের সুধামধুর কন্ঠস্বরের আনন্দময় ঝঙ্কার তাঁর দুই কানে যেন ঝলকে ঝলকে অমৃতবর্ষণ করছিল।*
*☘সন্ধ‍্যার সময় মিশ্র শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীচরণ সন্দর্শনার্থে (সাক্ষাৎ দর্শনের জন্য )আগমন করে তাঁর শ্রীপাদপদ্ম বন্দনা করলেন।মিশ্র মহাশয়ের মুখটি আজ আনন্দে ভরপুর, হৃদয়ে যেন কতই আনন্দ বিরাজমান,তাঁর শ্রীঅঙ্গে যেন আনন্দরাশি জায়গা না পেয়ে উছলিয়ে পড়ছে।মিশ্র মহাশয়কে দেখামাত্রই মহাপ্রভু একটু মৃদুমধুর হেসে বললেন,মিশ্র!কৃষ্ণকথা শুনেছ তো?মহাপ্রভুর কথা শেষ হতে না হতেই মিশ্র মহাশয় খুব উৎসাহের সঙ্গে বললেন, দয়াময়🙏,আপনি এই দাসকে কৃতার্থ করেছেন।আমি কৃষ্ণকথা শুনতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আপনি কৃপা করে এ অধমকে কৃষ্ণকথা সাগরে একেবারে ডুবিয়ে রেখেছেন।রায় মহাশয়ের কথা বর্ণনার অতীত।শ্রীরায় মহাশয় মানুষ নহেন,তিনি কৃষ্ণভক্তিরসের মূর্তিমান অবতার।*
*☘এই কথাগুলি বলতে বলতে মিশ্রের দেহ পুলকিত হল,আবার যেন তাঁর হৃদয়ে কৃষ্ণকথা-রসসাগর উথলিয়ে উঠিল।শ্রীরামহাশয়ের সুধা মধুর ভক্তিমাখা কন্ঠস্বর, সেই কন্ঠস্বরে রসময়কৃষ্ণকথার অমৃত প্রবাহ, মিশ্র মহাশয়ের হৃদয়ে আবার যেন পূর্ণবেগে প্রবাহিত হল।শ্রীরামরায়ের প্রকৃত স্বরূপ, কৃষ্ণভক্তিরসময় শ্রীমূর্তি, আবার শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের চিত্তে লোকাতীত মাধুর্য‍্যে ও ঔজ্জ্বল‍্যে প্রকটিত হলেন।মিশ্র মহাশয় কথা বলতে বলতে অমনি একেবারেই চুপ করে গেলেন।ভক্তগণ বুঝলেন,শ্রীরামানন্দ রায় সত‍্যই মানুষ নহেন,তিনি নররূপে শ্রীকৃষ্ণ-ভক্তিরসের মূর্তিমান অবতার।প্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের ভাব প্রবাহ অতর্কিতভাবে ভক্তগণের হৃদয়ে সঞ্চারিত হল।সকলেই বুঝতে পারলেন, রামরায় অকপট কৃষ্ণপ্রেমের প্রকৃত শিক্ষাগুরু। শ্রীচরিতামৃতে, শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের কথাতে লেখা হয়েছে =*
*🌷মিশ্র কহে প্রভু মোরে কৃতার্থ করিলা।*
*🌷কৃষ্ণকথামৃতার্ণবে মোরে ডুবাইলা।।*
*🌷রামানন্দ রায় কথা কহিলে না হয়।*
*🌷মনুষ‍্য নহে রায়--,কৃষ্ণভক্তিরসময়।।*
*🌻ফলে শ্রীকৃষ্ণভক্তি-রসময়ত্বই শ্রীরামানন্দ রায়ের স্বরূপ।শ্রীবৃন্দাবনে শ্রীমতীবিশাখা নবদ্বীপ লীলায় কৃষ্ণভক্তিরসের পূর্ণ প্রবাহস্বরূপ শ্রীরামরায়রূপে বিরাজিতা।*
*🦚(শ্রীগোরাঙ্গ-লীলায় পাত্র-পাত্রীগণের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণ-লীলার পাত্রপাত্রীগণের একত্ব প্রদর্শনের জন্য প্রাচীন গোড়ীয় বৈষ্ণব পন্ডিতগণের প্রয়াস পরিলক্ষিত হয়।অন্ত‍্য লীলায় শ্রীমন্মহাপ্রভুর যে সব ভাব অভিব‍্যক্ত (প্রকাশিত) হয়েছে,তা শ্রীরাধিকার ভাব-অভিব‍্যক্তি বলেই পূজ‍্যপাদ গ্রন্থকারগণ নির্দেশ করেছেন।শ্রীপাদ স্বরূপদামোদর ও শ্রীপাদ রামানন্দ রায় এই সময়ে সর্বদাই শ্রীরাধা ভাবনিমগ্ন মহাপ্রভুর পার্শ্বে বসে থেকে ললিতা ও বিশাখার মত তাঁর সেবা পরিচর্য‍্যা ও সান্ত্বনা করতেন।শ্রীপাদ কবিরাজ কৃষ্ণদাস গোস্বামী মহোদয় শ্রীচরিতামৃতের অন্ত‍্যলীলায় ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে লিখেছেন=*
*🌷পূর্বে যৈছে রাধার সহায় ললিতা প্রধান।*
*🌷তৈছে স্বরূপ গোঁসাই রাখে প্রভুর প্রাণ।।*
*🌻এতে প্রতিপন্ন (প্রমাণসিদ্ধ) হচ্ছে শ্রীকবিরাজ গোস্বামী শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরকে ললিতা বলে নির্দেশ করেছেন। কিন্তু শ্রীকবিকর্ণপুর কৃত গৌরগণোদ্দেশ দীপিকা গ্রন্থে লিখিত আছে স্বরূপদামোদর বিশাখা যথা=*
*🌷কলামশিক্ষয়দ্ রাধাং যা বিশাখা ব্রজে পুরা।*
*🌷সোহদ‍্য স্বরূপ গোস্বামী তত্তদ্ভাববিলাসবান্।।*
*🌹আমরা শ্রীকবিরাজ গোস্বামী মহোদয়ের অনুভবই এক্ষেত্রে সব থেকে বেশী সুসঙ্গত মনে করেছি।শ্রীপাদ স্বরূপদামোদরই ললিতার মত রসজ্ঞ এটিই মহানুভাব বৈষ্ণবগণের ধারণা।শ্রীপাদ রামানন্দের তথ‍্য খুববেশী জটিল।শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভু রামানন্দের পিতাকে পান্ডু এবং তার পঞ্চপুত্রকে পঞ্চপান্ডব বলে অভিহিত করেছেন,যদিও এটি আগে উল্লিখিত হয়েছে =*
*🌷সাক্ষাৎ পান্ডু তুমি তোমার পত্নী কুন্তী।*
*🌷পঞ্চপান্ডব তোমার পঞ্চপুত্র মহামতি।।*
*🌻আদিলীলাতে আরও স্পষ্ট করে লিখিত আছে ঃ---*
*🌷আলিঙ্গন করি তারে বলিল বচন।*
*🌷তুমি পান্ডু পঞ্চপান্ডব তোমার নন্দন।।*
*🌷রামানন্দ রায়,পট্টনায়ক গোপীনাথ।*
*🌷কলানিধি,সুধানিধি,নায়ক বাণীনাথ।।*
*🌷এই পঞ্চপুত্র তোমার প্রিয় পাত্র।*
*🌷রামানন্দ সহ মোর দেহভেদমাত্র।।*
*🌻এতে জানা যায় রামানন্দকে মহাপ্রভু বাহ‍্যদশায় সখা বলে মনে করতেন। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে এর উল্লেখ আছে,যথা ঃ--*
*🌷পুরীর বাৎসল‍্য মুখ‍্য,রামানন্দের শুদ্ধ সৌখ‍্য,*
      *গোবিন্দাদ‍্যেরশুদ্ধদাস‍্যরস।*
*গদাধর জগদানন্দ,স্বরূপের মুখ‍্য রসানন্দ,*
     *এই চারি ভাবে প্রভু বশ।।*
*🍀দ্বারকার ভাবে রায় রামানন্দ অর্জ্জুন বলে কীর্তিত হয়েছেন।কবিকর্ণপুরের শ্রীগৌরগণোদ্দেশ দীপিকাগ্রন্থে রায় রামানন্দকে অর্জুন বলে প্রথমে অভিহিত করা হয়েছে। কিন্তু ব্রজের সখ‍্যরসের সঙ্গে ঐক‍্য রাখার জন্য শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রীচরিতামৃতে একে সুবল বলে নির্দিষ্ট করেছেন।যথা অন্ত‍্যলীলায় ষষ্ঠ অধ‍্যায়ে=*
*🌷সুবল যৈছে পূর্বে কৃষ্ণ সুখের সহায়।*
*🌷গৌর সুখ দান হেতু তৈছে রামরায়।।*
*🌹কিন্তু গম্ভীরা-লীলায় শ্রীরামরায়ের যে ভাব প্রকাশ পেয়েছে তাতে তাঁকে বিশাখা বলে মনে করাই উচিত, এ সম্বন্ধে শ্রীকবিকর্ণপুরের মীমাংসাই সুসঙ্গত, তদ্ যথা=*
*প্রিয় নর্মসখঃ কশ্চিৎ সোহর্জ্জুনঃ পান্ডবোহর্জ্জুনঃ।*
*মিলিত্বা সমভূদ্রামানন্দ রায়ঃ প্রভোঃ প্রিয়ঃ।।*
*অতো রাধাকৃষ্ণভক্তিপ্রেমতত্ত্বাদিকং কৃতী*।
*রামানন্দো গৌরচন্দ্রং প্রত‍্যবর্ণয়দম্বহম্।।*
*ললিতেত‍্যাহরেকো যত্তদেকো নানুমন‍্যতে।*
*ভবানন্দং প্রতিপ্রাহ গৌরো যত্ত্বং পৃথাপতিঃ।।*
*গোপার্জ্জুনী যয়া সার্দ্ধমেকীভূয়াপি পান্ডবঃ।*
*অর্জ্জুনো যদ্ রায় রামানন্দ ইত‍্যাহরুত্তমাঃ।।*
*অর্জ্জুনী যাভবৎ তূর্ণং অর্জ্জুনোহপি পান্ডবঃ।*
*ইতি পাদ‍্যোত্তরে খন্ডে ব‍্যক্তমেব বিরাজতে।।*
*তস্মাদেতৎত্রয়ং রায় রামানন্দ মহাশয়ঃ।*
*ব্রজভক্তা সমাসেন কথ‍্যন্তেহথ যথামতি।।*
*🌺কেউ কেউ বলেন পান্ডব অর্জুন ও ব্রজের নর্মসখা অর্জুন এই উভয়ে মিলে গৌরাঙ্গলীলায় রামানন্দরূপে প্রকাশিত হয়েছেন, সুতরাং তিনি ব্রজলীলায় অভিজ্ঞ ছিলেন বলেই মহাপ্রভুর কাছে শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেমভক্তি আদিলীলা বর্ণনা করতে সমর্থ হয়েছিলেন।আবার কেউ কেউ বলেন তিনি ললিতা ছিলেন,কেউ কেউ এইকথা অনুমোদন করেন না।ইহারা বলেন মহাপ্রভু যখন ভবানন্দকে পান্ডু বলে অভিহিত করেছেন তখন রামরায়ললিতা না হয়ে বরং অর্জুনী বা বিশাখা হতে পারেন।সেই অর্জুনীতে বা বিশাখায় পান্ডব অর্জুন মিলিত হয়েছিলেন। চিদানন্দ রাজ‍্যের নিয়মে এটি যে সম্ভবপর হবে তাতে আর বৈচিত্র্য কি? পদ্মপুরাণে উত্তরখন্ডে এটি প্রকাশিত আছে। সুতরাং শ্রীপাদ রায় রামানন্দ এই তিনের মিলিত মূর্তি)*
*🍁রামরায়ের সন্দর্শন আর শ্রীকৃষ্ণভক্তিরস-সন্দর্শন একই কথা।শ্রীরামরায়ের শ্রীমুখে কৃষ্ণকথা শ্রবণ, আর কৃষ্ণকথারসসমুদ্রে ডুবে যাওয়া একই কথা।শিষ্টশান্ত ভদ্রলোক, কিংবা শুকনোজ্ঞানী বেদান্তী, যিনিই একবার শ্রীরামরায়ের সঙ্গে সরলভাবে ধর্মালাপ করতেন,তাঁরই হৃদয় ভক্তিরসে পরিপ্লুত হয়ে উঠিত।*
           *ক্রমাগত*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৫১ হইতে ১৬০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৭)শ্রীরামানন্দ রায়,কাষ্ঠ পুত্তলিকা*
           *প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা*
           ***********************
*🍀বিষ্ণুপাদদকী পুণ‍্যসলিলা গঙ্গাপ্রবাহ অপেক্ষাও কৃষ্ণভক্তিরসময় শ্রীরামরায়ের কৃষ্ণকথা-প্রবাহ অনেকবেশী পবিত্রতাময় বলেই বিবেচিত হত। গঙ্গা নরকনিবারিণী,পবিত্রতা প্রদায়িনী এবং বিষ্ণুভক্তিপ্রদা। কিন্তু শ্রীরামানন্দ রায়ের কৃষ্ণকথা-সুধাসরিৎ বা সুধানদী সাক্ষাৎ শ্রীকৃষ্ণপ্রেম-প্রদায়িত্রী। শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের কথা শুনে ভক্তগণ এতদিন পরে অতি উত্তমরূপে শ্রীরামরায়ের মাহাত্ম্য বুঝতে পারলেন।তারপরে মিশ্র মহাশয় আরও একটি কথা বললেন, যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷আর কথা রায় কহিল আমারে।*
*🌷কৃষ্ণকথাবক্তা করি না জানিও মোরে।।*
*🌷মোর মুখে কথা কহে আপনি গৌরচন্দ্র।*
*🌷যৈছে কহায় তৈছে কহি যেন বীণাযন্ত্র।।*
*🌷মোর মুখে কহে কথা,করে পরচার।*
*🌷পৃথিবীতে কে জানিবে এ লীলা তাহার।।*
*🌹প্রদ‍্যুম্ন মহাশয় শ্রীরামরায়ের মুখে কৃষ্ণকথা শুনে যখন তাঁর সাক্ষাতেই শতমুখে তাঁর প্রশংসা করে হৃদয়ে প্রগাঢ়তম কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছিলেন,তা শুনে রামরায় বললেন, মহাশয়!আমাকে একি বলছেন, আমি কৃষ্ণকথার কি জানি? এই যে এতক্ষণ আপনি আমার মুখে কৃষ্ণকথা শুনলেন,আমাকে এর বক্তা বলে মনে করবেন না। শ্রীগৌরসুন্দরই আমার মুখে এইসব রসময়ী কথা বলিয়েছেন, আমি কেবল তাঁর কথা বলার যন্ত্রস্বরূপ।শ্রীশ্রীমহাপ্রভু আমার মুখে প্রেমতত্ত্ব,রসতত্ত্ব,লীলাতত্ত্ব ও শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণতত্ত্ব প্রভৃতি ব‍্যক্ত করিয়ে জগতে প্রচার করছেন।তাঁর লীলার এই এক গূঢ় রহস‍্য। সুতরাং এ সম্বন্ধে যদি কারও কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার প্রয়োজন হয়, তবে শ্রীমন্মহাপ্রভুই একমাত্র পাত্র।রামরায় স্তুতিবাদ ভালবাসতেন না।সত‍্য সরলতা বিনয় ও ন‍্যায়নিষ্ঠা তাঁর চরিত্রের প্রধান গৌরব ছিল।তাঁর ভাই গোপীনাথ রাজসরকারের তহবিল তছরূপ করার অপরাধে যখন গুরুদন্ড দন্ডে দন্ডিত হবার আদেশ পেলেন তখন শ্রীরামরায় মহারাজ প্রতাপরুদ্রের কাছে তাঁর ক্ষমার জন্য কোন অনুরোধও জ্ঞাপন করেননি।মিশ্র মহাশয় তাঁর অনেক স্তুতি করলেন।ন‍্যায়নিষ্ঠ সহজ সরল বিনয়ী রামরায় তখুনি বললেন,আমার কথায় যদি কোন কৃতীত্ব থাকে,তা মহাপ্রভুরই প্রেরণা।সেটি আমার গুণের পরিচয় নয়।*
*🍀মিশ্র মহাশয় বুঝলেন, ভক্ত ও ভগবান একআত্মা।ভক্তহৃদয়ই ভগবানের লীলাবিহারের স্থান।ভক্তহৃদয় বিরাজিত থেকেই ভগবান কথা বলেন,ধর্মোপদেশ করেন।ভক্তের কথা ভগবানেরই প্রেরণা। পরে মহাপ্রভুর কাছে এসে প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র এই ব‍্যাপারের সমস্ত কথা বললেন, তারপর ভক্তি চিত্তে মিশ্র বললেন=*
*🌷যে সব শুনিলু কৃষ্ণ রসের সাগর।*
*🌷ব্রহ্মার এ সব রস না হয় গোচর।।*
*🌷হেন রস পান মোরে করাইলে তুমি।*
*🌷জন্মে জন্মে তোমার পায় বিকাইলাম আমি।।*
*🌲ভক্তিরসময় হৃদয়ের কেমন সরল ও সুমধুর উচ্ছাস।মিশ্র মহাশয় যেন কৃষ্ণকথা-সুধারসে একেবারেই গলে গেলেন।ভক্তবৎসল গৌরহরি, মিশ্র মহাশয়ের মুখে শ্রীরামরায়ের কথা শুনে মৃদু হেসে বললেন,"সে কথা কিছুই নয়"। রামানন্দ বিনয়ের খনি।তিনি নিজের গুণ পরের উপর অর্পণ করে নিজে তৃণাদপির থেকে নীচ হয়ে অন‍্যকে মানী ও গুণবান করেন। মহানুভবগণ কখনও নিজের গুণ স্বীকার করেন না,এটি তাঁদের স্বতঃসিদ্ধ স্বভাব।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৫১ হইতে ১৬০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৮)শ্রীরামানন্দ রায়,কাষ্ঠ পুত্তলিকা*
          *শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্র ও কৃষ্ণকথা*
          °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🙏মহা-অনুভবগণ কখনও নিজের গুণ স্বীকার করেন না,এটি তাঁদের স্বতঃসিদ্ধ স্বভাব। যথা শ্রীচরিতামৃতে।*
*🌷প্রভু কহে রামানন্দ বিনয়ের খনি।*
*🌷আপনার কথা পর-মুন্ডে দেন আনি।।*
*🌷মহানুভবের এইমত স্বভাব হয়*।
*🌷আপনার গুণ নাহি আপনি কহয়।।*
*🙏যেমন প্রভু,তেমনই ভক্ত,উভয়েই গুণগ্রাহী(অন‍্যের গুণের সমাদর করেন)উভয়েই নিজগুণ স্বীকারে পরাঙ্মুখ (মুখ ফিরিয়ে থাকেন)।ভক্ত বলছেন, মহাপ্রভুর লীলার এই এক বিশেষত্ব যে, তিনি তাঁরভক্তের মুখে তত্ত্বকথা প্রকাশ করে জগতজনকে উপদেশ প্রদান করছেন।মহাপ্রভু বলছেন, আমি কিছুই জানি না।কৃষ্ণকথা শুনতে বাসনা হলে আমার রামরায়ের কাছে কৃষ্ণকথা শুনে কৃতার্থ (সিদ্ধমনোরথ বা কৃতকার্য‍্য)হই।শ্রীরামরায় কৃষ্ণতত্ত্ববেত্তা, তিনিই কৃষ্ণকথার সুধানিধি।মহানুভাবের স্বভাবই এই যে নিজে নিজের গুণ প্রকাশ করেন না ; তাই তিনি নিজের গুণ অন‍্যের উপরে অর্পণ করে থাকেন। ফলতঃ (ফলে) শ্রীনবদ্বীপলীলা প্রকৃতই অত‍্যদ্ভুত প্রেমলীলা।শ্রীভগবান ও ভক্তের এইরকম মাখামাখি আত্মীয়তা, ভক্ত-মাহাত্ম‍্য প্রকাশে ভগবানের এইরকম আগ্রহ অত‍্যন্ত,জীবের প্রতি এমন অদ্ভুত ঔদার্য‍্য (উদারতা)ও নিরঙ্কুশ(অবাধ) কৃপা আর কোথাও দেখা যায় না।*
*🍀শ্রীপ্রদ‍্যুম্ন মিশ্রের কৃষ্ণকথা-শ্রবণ উপলক্ষ্য করে শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীরামরায়ের উচ্চতম ভজন-অধিকারিত্বের বিবরণ ভক্তসমাজে প্রকাশ করেছেন,এটি স্পষ্টভাবেই পাঠকগণ বুঝতে পারছেন।শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী লিখেছেন=*
*🌷ভক্তগুণ প্রকাশিতে প্রভু ভাল জানে।*
*🌷নানা ভঙ্গীতে প্রকাশি নিজ লাভ মানে।।*
*☘শ্রীরামরায় দ্বারা মহাপ্রভু প্রেমধর্ম প্রকটন করেন এটি অতি সত‍্য কথা, কিন্তু এটির আরও একটি মহান উদ্দেশ্য আছে।যে সময়ে শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর অবতরণ করে লীলা প্রকট করেন, সেই সময়ে এদেশে শুষ্কজ্ঞানী সন্ন‍্যাসীরা ধর্মাচার্য‍্যের পদে অভিষিক্ত হতেন।তাঁরা সমাজপূজ‍্য ব্রাহ্মণদেরও নমস‍্য। কিন্তু মহাপ্রভু দেখলেন,অধিকাংশ সন্ন‍্যাসীই নামমাত্র সন্ন‍্যাসী।এরা গার্হস্থ‍্য ধর্ম ত‍্যাগ করেও ক্রোধাদি ষড়্ বর্গের (কাম,ক্রোধ,লোভ,মদ,মোহ ও মাৎসর্য‍্য)বশীভূত।প্রকৃত ধর্মের যা প্রথম সোপান,এইসব সন্ন‍্যাসী তাতে আরোহণেও অসমর্থ,অথচ এরা কেবল অনর্থক সন্ন‍্যাসীর চিহ্নমাত্র ব‍্যবহার করেই সমাজে সদম্ভে ও সগর্বে বিচরণ করে থাকে।প্রকৃত ধর্ম কি,এরা তার বিন্দুমাত্রেরও খোঁজ রাখে না। কিন্তু এরা সমাজে ধর্মাচার্য‍্য বলে গণ‍্য।জীবশিক্ষার জন্য শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর নিজে সন্ন‍্যাস গ্রহণ করলেন, অথচ এই সন্ন‍্যাসীবরেণ‍্য মহাপ্রভু ধর্মোপদেশ পাওয়ার জন্য শ্রীরামরায়ের কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন ঃ-----*
*🌷সার্বভৌম সঙ্গে মোর মন নির্মল হৈল।*
*🌷"কৃষ্ণভক্তি তত্ত্ব কহ" তাঁহারে পুছিল।।*
*🌷তিঁহো কহে "আমি নাহি জানি কৃষ্ণকথা।"*
*🌷সবে রামানন্দ জানে তিঁহো নাহি হেথা।।*
*🌷তোমার ঠাঁই আইলাম মহিমা শুনিয়া।*
*🌷তুমি মোরে স্তুতি কর সন্ন‍্যাসী জানিয়া।।*
*🌷কিবি বিপ্র কিবা ন‍্যাসী শূদ্র কেন নয়।*
*🌷যেই কৃষ্ণ তত্ত্ববেত্তা সেই গুরু হয়।।*
*🌷সন্ন‍্যাসী বলিয়া মোরে না কর বঞ্চন।*
*🌷রাধাকৃষ্ণ তত্ত্ব কহি পূর্ণ কর মন।।*
*🌻মহাপ্রভু জাতিতে সমাজপূজ‍্য ব্রাহ্মণ,আশ্রমে ব্রাহ্মণপূজ‍্য সন্ন‍্যাসী শ্রীরামরায় জাতিতে শূদ্র,আশ্রমে গৃহস্থ,---বিষয়ী।তাঁর কাছে মহাপ্রভু বলছেন, ব্রাহ্মণ হন,ন‍্যাসী হন,আর শূদ্র হন, যিনি কৃষ্ণতত্ত্ববেত্তা তিনিই গুরু।আমি সন্ন‍্যাসী আর তুমি শূদ্র, এটি মনে করে আমাকে বঞ্চনা করিও না।আমি তোমার কাছে শ্রীরাধাকৃষ্ণতত্ত্ব শুনতে এসেছি। আমার এই প্রার্থনা তোমায় পূর্ণ করতেই হবে।*
*🙏প্রিয় ভক্তপাঠক, গম্ভীর চরিত্র শ্রীগৌরাঙ্গের লীলাভঙ্গী দেখুন।যে সমাজে সন্ন‍্যাস-চিহ্নধারী হলেই ধর্মাচার্য‍্যের গুরুগৌরবময় আসন পাওয়ার অধিকার বতর্মান, ভগবান সেই সমাজে পূর্ণ বিপরীত প্রথার প্রবর্তন করলেন,রাজাধিরাজ যেন মুষ্টিভিক্ষার জন্য পথের কাঙালের কাছে ব‍্যাকুল ভাবে হাত বাড়ালেন! এই লীলা অতি রহস‍্যময়ী,অতি নিগূঢ় ও অতি গম্ভীর।*
*🍀শ্রীরামরায় মহানুভাব দ্বারা শ্রীমন্মহাপ্রভু জগতে সপ্রমাণ করলেন যে,জাতিতে শূদ্র ও আশ্রমে গৃহস্থ হলেও তাঁর হৃদয়ে আধ‍্যাত্মিক গুণ-প্রভাব পূর্ণমাত্রায় বিরাজিত থাকতে পারে,এমন কি তিনি সন্ন‍্যাসীর ধর্মো-উপদেষ্টাপদেও অভিষিক্ত হতে পারেন।শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী লিখেছেন ঃ---"*
*🌷গৃহস্থ হঞা নহে রায় ষড়বর্গের বশ।*
*🌷বিষয়ী হইয়া সন্ন‍্যাসীর উপদেশে।।*
☆          ☆          ☆          ☆          ☆
*🌷সন্ন‍্যাসী পন্ডিতগণের করিতে গর্ব নাশ।*
*🌷নীচ শূদ্র দ্বারা করে ধর্মের প্রকাশ।।*
*🌷ভক্তিতত্ত্ব প্রেম কহে রায়ে করি বক্তা।*
*🌷আপনি প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র সহ হয় শ্রোতা।।*
*🌷হরিদাস দ্বারা নামমাহাত্ম‍্য প্রকাশ।*
*🌷সনাতন দ্বারা ভক্তি-সিদ্ধান্ত-বিলাস।।*
*🌷শ্রীরূপ দ্বারা ব্রজরস-প্রেমলীলা।*
*🌷কে বুঝিতে পারে গম্ভীর চৈতনের লীলা।।*
*🌷শ্রীচৈতন‍্যলীলা এই অমৃতের সিন্ধু।*
*🌷জগৎ ভাসাতে পারে যার একবিন্দু।।*
*🌻শ্রীমৎ প্রদ‍্যুম্নমিশ্রের কৃষ্ণকথা শ্রবণচ্ছলে শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীরামানন্দ রায় মহাশয়ের অকৈতব বা অকপট কৃষ্ণপ্রেম-সিদ্ধির অলৌকিক অপ্রাকৃত মাহাত্ম্য গৌরব প্রকট করেছেন।*
*🌹শ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদগণের সুধাময়ী লীলাকথার সীমা নেই,এটি অপার ও অনন্ত।আমি সেটির বিন্দুমাত্রও বলতে সমর্থ হলাম না।আত্মশোধনের জন্য এই রসময় চরিত্রের সম্বন্ধে সামান্য চিন্তা করে ছিলাম,এই গ্রন্থে তাইই সঙ্কলিত হল মাত্র।আর দুই একটি আনুসঙ্গিক কথা লেখেই গ্রন্থের উপসংহার করছি।করুণাময় শ্রীগৌরহরির কৃপায় "গম্ভীরায় শ্রীগৌরাঙ্গ " গ্রন্থ  প্রকাশিত হল আরও দুই চারবার এই প্রেমরসময় ভুবনপাবন নামোচ্চারণ করবার আশা আছে।নচেৎ শ্রীপাদ রায় রামানন্দের রসময়লীলা বর্ণনের সৌভাগ্য এখানেই একরকম সমাপ্ত হ'ল🙏।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷🪷
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৫১ হইতে ১৬০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৯)শ্রীরামানন্দ রায়, কাষ্ঠ পাষাণ সম*
          *😭😭তিরোভাব😭😭*
          °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভুর গম্ভীরা লীলায় শ্রীরামরায়, কৃষ্ণবিরহিনী শ্রীরাধার সঙ্গে থাকা বিশাখা সখীর মত শ্রীপাদ স্বরূপসহ তাঁর (মহাপ্রভুর) সান্ত্বনা করতেন,উভয়ে দিন-রাত্রি ভাবনিধি গৌরহরির কাছে থেকে তাঁকে সুধাময় কৃষ্ণ-কথা শুনাতেন।সেই সব কথা "গম্ভীরায় শ্রীগৌরাঙ্গ" সন্দর্ভে আলোচ‍্য।তাতে শ্রীরামরায়ের নাম উল্লেখমাত্র পরিলক্ষিত হয়।সেটিতে তাঁর চরিতের অন‍্য কোন উপাদান দেখতে পাওয়া যায় না।তিনি যে কিরকম ভাবের কৃষ্ণকথায় মহাপ্রভুর সান্ত্বনা করতেন, কোনও গ্রন্থে তার উল্লেখ নাই।এই অবস্থায় সেই সন্দর্ভে শ্রীরামরায়ের তিরোভাব সম্বন্ধে আলোচনা করা অপ্রাসঙ্গিক। সুতরাং শ্রীরামরায়ের চরিত-কথা এই গ্রন্থে পূর্ণরূপ আলোচিত না হলেও এই স্থলেই তাঁর তিরোভাব সম্বন্ধে দুই একটি কথা বলা প্রয়োজন।*
*🍀শ্রীকবিকর্ণপুর শ্রীচৈতন‍্যচরিত মহাকাব‍্যে লিখেছেন যে শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীবৃন্দাবনে গমন করায় শ্রীরামানন্দ রায় তাঁর বিরহে প্রাণত‍্যাগ করলেন, যথা=*
*🌷স্থিত্বা তত্র শ্রীময়োগৌরচন্দ্রঃ,*
*🌷ক্বচিৎ কালং তেন ভূয়োহধ্বনৈব।*
*🌷কালিন্দীয়ং তীরমেব প্রতস্থে,*
*🌷বিচ্ছেদার্ত্তাং স্তত্র তাং স্তান্ বিধায়।।*
*🌷রামানন্দস্তদবিয়োগাধিপীড়া,*
*🌷ক্ষীণ ক্ষীণ স্তত‍্যাজাহসূন্ মহাত্মা।*
*🌷বিচ্ছেদে স‍্যাদ্ যোগ‍্যমেতচ্চরিত্রং,*
*🌷প্রেম্নস্তাবত্তাদৃশস‍্যাস‍্য নূনম্।।*
*🌻এতে বুঝা যাচ্ছে যে,শ্রীরামরায় মহাপ্রভুর বিয়োগরূপ মানসিক যন্ত্রণায় দিন দিন ক্ষীণ হয়ে প্রাণত‍্যাগ করলেন। কেননা প্রেম-বিচ্ছেদের এটিই রীতি।রসশাস্ত্রে লেখা আছে, বিরহে যে দশ দশা উপস্থিত হয়,সেটির শেষদশায় মৃত‍্যু।মৃত‍্যু বিরহের দশমী দশা। সুতরাং কবিকর্ণপুর বর্ণিত এই প্রাণত‍্যাগ ব‍্যাপার বা মৃত‍্যু কিরকম ব‍্যাপার,তা বিচার্য‍্য। শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ কৃত শ্রীচেতনচরিতামৃতের পাঠকগণের অজানা নাই যে মহাপ্রভু শ্রীবৃন্দাবন থেকে ফিরে আসার পরেও শ্রীরামরায়ের সঙ্গে পুনর্ম্মিলন হয়।শ্রীরামরায় শ্রীরূপের নাটক সমালোচনা করেন,প্রদ‍্যুম্ন মিশ্রকে উপদেশ প্রদান করেন, মহাপ্রভুর গম্ভীরা-লীলায় শ্রীপাদ স্বরূপদামোদর শ্রীরামরায়ই তাঁর অন্তরঙ্গ পার্ষদরূপে সর্বদা সেবা করতেন। সুতরাং এই প্রাণত‍্যাগ কিরকম ব‍্যাপার, তা অবশ্যই বিচার্য‍্য।শ্রীকবিকর্ণপুরের এই গ্রন্থ ১৪৬৪ শকে লিখিত হয় বলে তিনি নিজে লিখে রেখে গিয়েছেন,যথা=*
*🌷বেদারসাঃ শ্রুতয়ঃ ইন্দুরিতি প্রসিদ্ধে।*
*🌷শাকে তথা খলু শুচৌ সুভগে চ মাসি।।*
*🌷বারে সুধাকিরণনাম্ন‍্যসিতদ্বিতীয়া-,*
*🌷-তিথ‍্যন্তরে পরিসমাপ্তিরভুদমুষ‍্য।।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ চৌদ্দশত চৌষট্টি শকের আষাঢ় মাসে সোমবারে কৃষ্ণ দ্বিতীয়া তিথিতে এই গ্রন্থ পরিসমাপ্তি হয়। সুতরাং মহাপ্রভুর অন্তর্দ্ধানের পর ৯ বৎসর যেতে না যেতেই এই গ্রন্থ রচিত হয়। কিন্তু শ্রীমুরারি গুপ্ত এর বহুপূর্বে নিজ গ্রন্থ রচনা করেন।কবিকর্ণপুর শ্রীমুরারির সেই গ্রন্থ দেখেই এই গ্রন্থ বিরচন করেন।তিনি নিজ গ্রন্থে স্পষ্টভাবেই তার উল্লেখ করে গিয়েছেন, তদ্ যথা=*
*🌷আশৈশবং প্রভুচরিত্রবিলাসবিজ্ঞৈঃ,*
*🌷কেচিন্মুরারিরিতিমঙ্গলনামধেয়ৈঃ।*
*🌷যদ্ যদ্ বিলাসললিতং সমলেখি তজজ্ঞৈ,*
*🌷স্তত্তদ্বিলোক‍্য বিলিলেখ শিশুঃ স এষঃ।।*
*🍀এখন কথা এই যে শ্রীরামানন্দের নির্য‍্যাণ সম্বন্ধে শ্রীমুরারি গুপ্ত কিছু লিখেছেন কি না?শ্রীমুরারিকৃতশ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যচরিতামৃতে শ্রীরামরায়ের অন্তর্দ্ধানের সম্বন্ধে কোন সংবাদ দেখতে পাওয়া যায় না। কিন্তু শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর শ্রীবৃন্দাবন হতে নীলাচলে ফিরে আসার পরেও যে রামরায়ের সঙ্গে তাঁর পুনর্ম্মিলন হয়েছিল,তার উল্লেখ আছে। ঐ গ্রন্থের চতুর্থ প্রক্রমের পঞ্চদশ সর্গে শ্রীবৃন্দাবন হতে পুরুষোত্তমক্ষেত্রে মহাপ্রভুর প্রত‍্যাগমন পর্য‍্যন্ত বর্ণিত হয়েছে। ষোড়শ সর্গের প্রারম্ভে লিখিত হয়েছে =*
*🌷ততো গজপতিরাজা দর্শনার্থং মহাপ্রভোঃ।*
*🌷সার্ব্বভৌমং সমাহূয় রামানন্দসমন্বিতম্।।*
*🍀এছাড়াও অন‍্যান‍্য লীলা সম্বন্ধেও সূত্ররূপে বর্ণনা আছে।এতে জানা যাচ্ছে,মহাপ্রভু বৃন্দাবন হতে ফিরে আসিলে তার পর গজপতি প্রতাপরুদ্রদেব মহাপ্রভুর দর্শনে অধীর হলেন এবং তার পরামর্শের জন্য সার্বভৌম ও রামানন্দকে আহ্বান করলেন।*
*শ্রীমুরারিকৃত শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যচরিতামৃত গ্রন্থই যে কবিকর্ণপুরের আদ‍্য(প্রথম)আলেখ‍্য, তাতে আর সন্দেহ নাই। কিন্তু এতে যখন স্পষ্টভাবেই দেখা যাচ্ছে যে বৃন্দাবন হতে ফিরে আসার পরেও মহাপ্রভুর সঙ্গে রামরায়ের অনেকদিন পর্য‍্যন্ত একসঙ্গে অবস্থান হয়েছে,রামরায়ের নাম অনেক লীলার সঙ্গে বিজড়িত রয়েছে,তখন এই প্রাণত‍্যাগের অর্থ, মহাবিরহে রামরায় জীবনমৃতবৎ হয়েছিলেন এটিই বুঝতে হবে।তাছাড়া অন‍্য রকম অর্থ সঙ্গতি করা যেতে পারে না।বিশেষ করে হাতে লেখা আরও কয়েকটি শ্রীকবিকর্ণপুরকৃত এই গ্রন্থ না দেখা পর্যন্ত এ সম্বন্ধে* 
*আমরা আর কোনও ব‍্যাখ‍্যা করতে পারি না।*
*🍀এখন অন‍্য এক কথা বিচার্য‍্য এই যে শ্রীমন্মহাপ্রভুর প্রকট অবস্থাতেই শ্রীরামরায়ের তিরোভাব হয়, কিংবা তাঁর অন্তর্ধানের পরে শ্রীরামরায় তিরোহিত হন।মহাপ্রভুর প্রকট অবস্থায় রামানন্দের তিরোভাব হলে মহাপ্রভু তাঁর মহাপ্রস্থানের ব‍্যাপারে হরিদাস নির্য‍্যাণের মত কোন রকম কাজের অনুষ্ঠান করতেন এবং লীলা লেখক মহাশয়গণও এই ব‍্যাপার লিখে রাখতেন। সুতরাং আমাদের অনুমান হচ্ছে শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর অপ্রকট হবার পরেই কোনও সময়ে শ্রীপাদ স্বরূপ দামোদরের মত মহাপ্রভুর মহাবিরহে শ্রীরামরায়ও বিরহের শেষ অশ্রু ও শেষ দীর্ঘশ্বাস ত‍্যাগ করে সহসা এই ধরাধাম হতে অন্তর্হিত হন। প্রাচীন বৈষ্ণবগণও এই অনুমান পোষণ করে আসছেন। ভক্তিরত্নাকরের লেখক এই অনুমানের সমর্থক। তিনি লিখেছেন=*
*🌷হেন কালে প্রভুর অদর্শন কথা শুনি।*
*🌷অঙ্গ আছাড়িয়া রাজা (প্রতাপরুদ্র)লুটায় ধরণী।।*
*🌷শিরে করাঘাত করি হৈর অচেতন।*
*🌷রায় রামানন্দ মাত্র রাখিল জীবন।।*
*🍀ভক্তিরত্নাকর-পাঠে আরও জানা যায়, মহাপ্রভুর অপ্রকট হবার পরে শ্রীনিবাস আচার্য‍্য শ্রীক্ষেত্রে গিয়েছিলেন।তিনি তখন শ্রীপাদ সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য ও শ্রীরায় রামানন্দের সন্দর্শন পেয়েছিলেন।যথা ভক্তিরত্নাকর তৃতীয় তরঙ্গে=*
*🌷সবে উৎকণ্ঠিত শ্রীনিবাসেরে দেখিতে।*
*🌷শ্রীনিবাস গেলা সার্বভৌমের বাটীতে।।*
*🌷তথায় শ্রীরায় রামানন্দের গমন।*
*🌷দোঁহে বসি গায় গৌরচন্দ্র-গুণ-গুণ।।*
*🌷মহাশোক-সমুদ্রে ভাসয়ে দুই জনে।*
*🌷শ্রীনিবাস দেখি সুখ উপজিল মনে।।*
*🍀মহাপ্রভুর অন্তর্ধানের অতি অল্পদিন পরেই শ্রীনিবাস শ্রীক্ষেত্রে গমন করেছিলেন।তখনও শোকের ঘনকৃষ্ণ-বিষাদ ছায়ায় সমগ্র পুরীক্ষেত্র সমাচ্ছন্ন।বোধহয় এর অল্পদিন পরেই শ্রীরায় রামানন্দ অপ্রকট হয়েছিলেন।*
*🍀মুরলীবিলাস নামক একটি গ্রন্থের গ্রন্থকারও উক্ত মতের পোষক।এই গ্রন্থে লেখা আছে বংশীবদনের পৌত্র রামাই মহাপ্রভুর অপ্রকটের পরে শ্রীক্ষেত্রে গিয়ে শ্রীরামরায়ের দেখা পেয়েছিলেন এবং তাঁর কাছে উপদেশ গ্রহণ করেছিলেন, যথা=*
*🌷তবে মিশ্র লঞা গেল রায়ের সদন।*
*🌷রায় বসি সদা ভাবেন চৈতন‍্য চরণ।।*
*🌷বিরহে আকুল অঙ্গ নিতান্ত দুর্বল।*
*🌷কভু কিছু ভক্ষণ করয়ে মাত্র জল।।*
*🍀এইসব কথা জানা যায় যে মহাপ্রভুর অন্তর্ধানের পরে শ্রীরামানন্দের তিরোধান হয়েছিল। ১৪৫৫ শকে শ্রীশ্রীমহাপ্রভু অন্তর্হিত হন।রায় রামানন্দকে সম্ভবতঃ এই ভীষণ বিরহ দীর্ঘকাল সহ‍্য করতে হয়নি।১৪৫৫ বা ১৪৫৬ শকেই হয়ত রামানন্দের তিরোভাব ঘটে। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় এই যে পঞ্জিকাতে মহাপ্রভুর পারিষদগণ ও ভক্তগণের অনেকেরই আবির্ভাব ও তিরোভাবের দিন সূচিত হয়ে থাকে।কিন্তু যিনি মহাপ্রভুর একান্ত অন্তরঙ্গ পারিষদ সেই রায় রামানন্দের আবির্ভাব ও তিরোভাবের দিনের কোন উল্লেখ নেই! সেই পুণ‍্যদিনের স্মরণ ও মহোৎসব-বৈষ্ণব-সমাজে প্রচলিত নাই, এটি অত‍্যন্ত পরিতাপের বিষয়।প্রেমরস-বিগ্রহ শ্রীপাদ রামানন্দ রায় মহাশয়ের স্মরণ মহোৎসবের কোন সময় নির্দ্ধারণ করা গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজের একান্ত কর্তব‍্য।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৫১ হইতে ১৬০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda151to160.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৬০)শ্রীরায় রামানন্দ, বিশাখা*
         *শ্রীরায় রামানন্দের গ্রন্থ*
          ***********************
*🍀শ্রীরায় রামানন্দের পান্ডিত‍্য ও ভগবৎ-প্রেম সম্বন্ধে আমলা বহুকিছু পরিচয় পেয়েছি।তিনি বঙ্গদেশে কিংবা উৎকলই তাঁর জন্মভূমি ছিল,তার সম্বন্ধে কোনরকম প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারিনি, কল্পনার সাহায্যে এইরকম বিষয় অভিমত প্রকাশ করাও যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয় নাই।বাংলা ভাষায় বা উড়িয়া ভাষায় তাঁর কোন গ্রন্থ আছে কি না,তার খোঁজ করেছিলাম, কিন্তু সে খোঁজ নিস্ফল হয়েছে।বাংলা ভাষায় তাঁর রচিত শ্রীকৃষ্ণলীলা-বিষয়ক পদ আছে বলে জনশ্রুতি আছে, তার আলোচনা তারপরে করা যাবে।*
*🍀শ্রীপাদ রূপগোস্বামী সঙ্কলিত "পদ‍্যাবলী নামক গ্রন্থে" যে সব শ্লোক সংগৃহীত হয়েছে,সেই গ্রন্থে রায় রামানন্দের শ্লোকও দুই-একটি দেখতে পাওয়া যায়।তারপরে সেই শ্লোকাদির উল্লেখ করব।*
*🍀ভারতীয় সংস্কৃত পুস্তকের তালিকাকার সুবিখ‍্যাত জার্মান পন্ডিত আউফ্রেক্ট তার গ্রন্থ-তালিকায় যে সব গ্রন্থের নাম উল্লেখ করেছেন,তাতে রামানন্দ রায় প্রণীত কেবল একটি "জগন্নাথ বল্লভ নাটকের" নামই দেখা যায়।কেউ কেউ বলেন রায় রামানন্দ "শান্তিশতকের" একটি টীকা লিখেছিলেন।*
*🍀খুব সম্ভবতঃ শ্রীরামরায় উড়িয়া, বাংলা,আরবী,পারসী,তামিল, তেলেগু ও সংস্কৃত ভাষায় সুপন্ডিত ছিলেন।তামিল ও তেলেগু ভাষা মাদ্রাজে প্রচলিত।বিদ‍্যানগরের শাসনকর্তার পক্ষে এই দুই ভাষার অভিজ্ঞতা সেইসময়ে একান্তই প্রয়োজন ছিল।চারশত বৎসর পূর্বে মুসলমানদের প্রভাব-সময়ে এ দেশবাসীদের বিশেষ করে রাজকীয় কর্মচারীদের পক্ষে আরবী ও পারসী ভাষায় জ্ঞান, বিষয়কার্য‍্যে একান্ত পয়োজনীয়,সেই সময়ে আরবী ও পারসী ভাষাও সেইরকম রাজভাষা বলে সম্মানিত ও আদৃত হত।বাঙ্গালীদের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক থাকার জন্য উড়িষ্যার অধিবাসীদের পক্ষে বাংলা-ভাষাজ্ঞানও স্বাভাবিক।রায় মহাশয় সংস্কৃত ভাষাতেও যথেষ্ট পান্ডিত‍্য লাভ করেছিলেন। কিন্তু কেবল সংস্কৃত ভাষায় লিখিত শ্রীজগন্নাথবল্লভ নাটক ছাড়া তাঁর রচিত অন্য কোন গ্রন্থের সন্ধান লাভ করতে পারিনি। ফলে সবসময় বিশাল সাম্রাজ্যের রাজকার্য‍্যের ভার নিজ কাঁধে বহন করে তাঁর গ্রন্থরচনার অবকাশ সম্ভবত বড়ই কম ছিল।*
*🍀শ্রীজগন্নাথ বল্লভ নাটকটি কোন সময়ে রচিত হয়েছিল, গ্রন্থকার নিজ গ্রন্থে তার উল্লেখ করেননি।তবে শ্রীশ্রীকৃষ্ণ চৈতন‍্য মহাপ্রভুর সহ আলাপ পরিচয়ের পৃর্বেই যে তিনি এই গ্রন্থ লিখেছিলেন তার যুক্তসঙ্গত কারণ অনুমিত হতে পারে।মহাপ্রভুর ভক্তমাত্রেই গ্রন্থের মঙ্গলাচরণে মহাপ্রভুর বন্দনা করেছেন। শ্রীজগন্নাথ বল্লভ নাটকে শ্রীচৈতন‍্যদেবের বন্দনা নাই।এতে অনুমিত হয় ১৪৩২ শকের পূর্বে কোনও সময়ে তিনি এই নাট‍্য-গীতিকা রচনা করেছিলেন।শ্রীপুরীধামে রক্ষিত মাদলা পঞ্জী অনুসারে জানা যায় ১৪২৬ হতে ১৪৫৪ শকাব্দ পর্যন্ত মহারাজ প্রতাপরুদ্র উৎকলে রাজত্ব করেন।এই নাটক যে প্রতাপরুদ্রের ভালবাসার জন্যই রচিত হয়, গ্রন্থকারে বহু স্থলে তার উল্লেখ করেছেন।প্রতাপরুদ্র নিজ বাহুবলে মুসলমান শাসনকর্তা সেকেন্দরকে পরাজিত করেছিলেন, জগন্নাথ বল্লভ নাটকের প্রথমে তাও উল্লিখিত হয়েছে। সুতরাং সম্ভবত ১৪২৬ শকাব্দ হতে ১৪৩২ শকাব্দের মধ্যে কোনও সময়ে এই গ্রন্থ বিরচিত হয়েছিল।*
*🍀শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে জায়গায় জায়গায় এই নাকটটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।শ্রীমন্মহাপ্রভু এই নাটকগীতি অতীব আগ্রহের সঙ্গে শুনতেন। যথা শ্রীচরিতামৃতে=*
*চন্ডীদাস বিদ‍্যাপতি, রায়ের নাটকগীতি,*
        *কর্ণামৃত শ্রীগীতগোবিন্দ।*
*স্বরূপ রামানন্দ সনে, মহাপ্রভু রাত্রিদিনে,*
      *গায় শুনে পরম আনন্দ।।*
*🍀এখানে "রায়ের নাটকগীতি" বলে যে গ্রন্থের নাম করা হয়েছে, সেই গ্রন্থই শ্রীজগন্নাথবল্লভ নাটক।এই নাটকটিতে গ্রন্থকার নিজেও "রামানন্দ সঙ্গীত নাটক" বলে এই গ্রন্থেই অভিহিত করেছেন, যথা=*
 *পৃথীশ্বরস‍্য শ্রীভবানন্দরায়স‍্য তনুজেন শ্রীহরিচরণালঙ্কৃতমানসেন শ্রীরামানন্দরায়েন কবিনা তৎতৎগুণালঙ্কৃতং শ্রীজগন্নাথবল্লভ- নামগজপতি প্রতাপরুদ্রংপ্রিয়ং "রামানন্দসঙ্গীত নাটকম্" নির্ম্মায় সমর্পিতম্।*
*🍀সুতরাং "রামানন্দ সঙ্গীত নাটককেই শ্রীপাদ কবিরাজ "রায়ের নাটকগীতি" আখ‍্যা প্রদান করেছেন।মহাপ্রভু দিনরাত্রি যে নাটকগীতির রসমাধুর্য‍্য আস্বাদন করতেন,তা যে শ্রীবৃন্দাবন-রসমাধুর্য‍্যের উচ্ছসিত উৎসস্বরূপ তা স্পষ্টভাবেই স্বতঃসিদ্ধ।*
🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ১৬১ হইতে ১৭০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/ramananda161to170.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(২১)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
*অদ্বৈতাচার্য‍্যে যৌবন---লীলা*
****************************
*শান্তিপুরনাথ অদ্বৈতাচার্য‍্য শান্তিপুরে পুন আগমন করে গঙ্গাতীরে এক প্রশস্ত জায়গায় একটি সুন্দর তুলসী মঞ্চ নির্মাণ করে সেখানে তাঁর ভজনস্থান নির্মাণ করলেন।দিনেরবেলা সেই শ্রীমদনগোপাল শ্রীবিগ্রহেরআলেখ‍্য ও শালগ্রাম পূজা এবং রাত্রে শ্রীমদ্ভাগবত ব‍্যাখ‍্যা লাগলেন।*
*বহু শ্রোতার সমাগম হতে লাগল। কাম‍্যকবনের কৃষ্ণদাস ছাত্র হয়ে তাঁর নিকট থেকে সর্বক্ষণ সবরকম সেবা কায়মনো-বাক‍্যে  পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে সম্পাদন করতে লাগলেন।পূজার জন্য রোজ ফুলিয়া থেকে ফুল আনতে লাগলেন এবং শান্তিপুরের বহু সুকৃতিমান ব‍্যক্তি ফুল দিতে লাগলেন। শান্তিপুরের অধিকাংশ লোক রোজ গঙ্গায় স্নান করে তুলসী পরিক্রমা ও শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যকে ভক্তিভরে দন্ডবৎ প্রণাম করে যেতেন।বহুদিন এইভাবে পূজা ও শ্রীমদ্ভাগবত ব‍্যাখ‍্যা করলেন।এর মধ্যে বহুলোক তাঁর কাছে ভাগবত অধ‍্যয়ন করে কৃতার্থ হলেন।*
*🙏🙏শ্রীমাধবেন্দ্র মিলন🙏🙏*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌻একদিন শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য তাঁর ছাত্রগণকে বললেন--, "আমি শেষরাত্রে স্বপ্ন দেখেছি, বৈষ্ণবাচার্য‍্য পরম প্রেমিক শিরোমণি শ্রীল মাধবেন্দ্রপুরীপাদের এই জায়গায় আগমন হয়েছে।" তোমরা তাঁর বসবাস উপযোগী নির্জন ভাবে উপযুক্ত জায়গা করে রাখো। তিনি নিশ্চয়ই আমার এখানে আসিবেন।তাঁর আদেশ অনুযায়ী ছাত্রগণ গঙ্গাতীরে একটি সুরম‍্য-স্থান করে রাখলেন। একদিন অদ্বৈতাচার্য‍্য বললেন--, শ্রীপাদ পুরী মহাশয় আজই এখানে আসিবেন।সকলেই তাঁকে দেখার জন্য উৎকণ্ঠিত হয়ে অপেক্ষা করতে লাগলেন।শ্রীঅদ্বৈতও সব কাজ ফেলে রেখে তাঁর দর্শন উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করতে লাগলেন।তিনি শ্রীবৃন্দাবন হতে নবদ্বীপ হয়ে সন্ধ‍্যার পর শান্তিপুর এসে উপস্থিত হলেন।তাঁকে দেখামাত্র অদ্বৈতপ্রভু অত‍্যন্ত আনন্দিত হয়ে ভক্তিভরে তাঁর পাদপদ্ম বন্দনা করলেন।পুরীপাদ "কৃষ্ণ কৃষ্ণ" বলে শ্রীঅদ্বৈতকে গাঢ় আলিঙ্গন দান করলেন।পরে কুশল জিজ্ঞাসা করলে কমলাক্ষ বললেন, "এতদিনে কুশল হল, শ্রীমদনগোপাল কৃপা করলেন।শ্রীঅদ্বৈত নিজ হাতে তাঁর শ্রীচরণ ধূয়ে দিয়ে পাদোদক পান করলেন।অতি ভক্তিভরে তাঁর সেবা করতে লাগলেন।তিনি সুখাসনে বসিলে, তখন অদ্বৈতাচার্য‍্য বললেন, আমি বৃন্দাবনে অনেক খোঁজ করেও আপনার দেখা না পেয়ে অত‍্যন্ত দুঃখিত হয়েছিলাম। গোবিন্দকুন্ডের তীরে গিয়ে শুনলাম,আপনি দক্ষিণদেশে গমন করেছেন।এক্ষণে আপনি কৃপা করে সেবকের কাছে শুভাগমন করেছেন,এখন কিছুদিন এখানে থেকে আমার দুষ্টচিত্ত শোধন করতে প্রার্থনা করি।*
*শ্রীপুরীপাদ বজ্রনাভের স্থাপিত শ্রীগোবর্দ্ধনধারী গোপালের স্বপ্নাদেশ ও প্রাকট‍্যের আনুপূর্বিক বৃত্তান্ত বর্ণন করে বললেন, "তাঁর আদেশে চন্দন সংগ্রহের জন্য, পুনঃ দক্ষিণদেশে যাচ্ছি।শ্রীমদনগোপাল তোমার কথা বলেছেন এবং তোমাকে তত্ত্ব নিতে আদেশ করেছেন।সেই আদেশ অনুসারে তোমাকে দেখতে এখানে এসেছি।শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের প্রার্থনা মত শ্রীপুরীপাদ কিছুদিন শান্তিপুরে থাকলেন।প্রত‍্যহ উভয়ে কৃষ্ণকথায় সবসময়ই  যাপন করতেন।কৃষ্ণ কথায় উভয়েরই প্রেম উন্মত্ততা উপস্থিত হয়।শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য নিজ হাতে রন্ধন করে শ্রীপুরীপাদের ভিক্ষা নির্বহন ও সবরকম সেবাই নিজহাতে সম্পাদন করেন।শ্রীপুরীপাদ শ্রীমদনগোপালের আলেখ‍্য দর্শন করে প্রসাদ পেয়ে কৃতার্থ হলেন।*
*শ্রীমাধবেন্দ্রপুরীপাদ বললেন, (ভাগবত ১০|৩৩|৬)।*
*🌷দেবকীসুত ভগবান্ সর্ব্বসৌন্দর্য‍্যের সার হলেও ব্রজদেবীর সঙ্গে তিনি হেমমণিদের মধ্যে মহা-মরকতনীলমণির মত অত‍্যন্ত শোভা পেয়েছিলেন। আবার পদ্মপুরাণে বর্ণিত আছে, "শ্রীরাধা যেরকম শ্রীকৃষ্ণের প্রিয়া, শ্রীরাধাকুন্ডও তদ্রূপ প্রিয়স্থান, সমস্ত গোপীদের মধ্যে শ্রীরাধাই শ্রীকৃষ্ণের অত‍্যন্ত বল্লভা।" আবার আদিপুরাণে বর্ণিত আছে, "শ্রীবৃন্দাবন-ধাম পৃথিবীর মধ্যে অবতীর্ণ হওয়ায় ত্রৈলোক‍্য বা তিনলোক ধন‍্য হয়েছেন।তারমধ‍্যে গোপীকা সব ধন‍্যা, যে হেতু তারমধ‍্যে আমার অত‍্যন্ত প্রিয় শ্রীরাধা নামে গোপী বর্তমানা।" শ্রীরাধা ছাড়া অন‍্য গোপী সব শ্রীকৃষ্ণের সুখের কারণ হতে পারে না।শ্রীরাধা সহ শ্রীকৃষ্ণের মিলনে শ্রীকৃষ্ণের রূপমাধুর্য‍্য ও লীলামাধুর্য‍্য পরিপূর্ণতমরূপে প্রকাশিত হয়। অতএব শ্রীরাধাগোবিন্দের ভজনেই চরম-পরাকাষ্ঠা পাওয়া যায়।*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(২২)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
   *শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী মিলন*
!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
*🙏শ্রীরাধাগোবিন্দের ভজনেই চরম সীমা পাওয়া যায়।এ কারণ এটি সর্বপেক্ষা সুদুর্লভ--,এটি কেবল-মাত্র গৌড়ীয় গুরুর নিকট পাওয়া।এটি দেখাতে হলে শ্রীঅদ্বৈতপ্রভু প্রেমকল্পতরু-আরম্ভের প্রথম গৌড়ীয় গুরু শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরীর কাছে শ্রীরাধাগোবিন্দের ভজন প্রণালী অবগত বা জেনে তদানুগত‍্যে ভজন চমৎকারিতার চরমসীমার বিষয় আচরণ-পদ্ধতি শিক্ষা করলেন,যা শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেবের অবতার গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা।গৌর আনা ঠাকুরের এটিই শ্রীগৌরসুন্দরকে আকর্ষণের মূল কৌশল।তখন শ্রীরাধার আলেখ‍্য মূরতি প্রকাশ করে অভিষেক কার্য‍্য মহাসমারোহে সম্পন্ন করলেন। শ্রীরাধা-মদনগোপালের আলেখ‍্যের অভিষেক অন্তে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য, শ্রীমাধবেন্দ্রপুরীপাদ সহ বিরলে বসে শ্রীরাধাগোবিন্দের ভজন-বিষয়ক ইষ্ট গোষ্টীতে রত হলেন।একসময় অদ্বৈতাচার্য‍্য শ্রীপুরীপাদের কাছে মন্ত্রদীক্ষা লাভের জন্য চরম আগ্রহান্বিত সকাতর প্রার্থনা নিবেদন করলেন।পুরীপাদ কমলাক্ষের দৈন‍্য বিনয় ভাবে রাজী হলেন।শুভক্ষণে দীক্ষা-গ্রহণ করে প্রেমে পাগল হলেন। উভয়েই প্রেমে মত্ত হয়ে বাহ‍্যজ্ঞান শূন‍্য হলেন।মন্ত্রের অর্থ ব‍্যাখ‍্যা করে পুরীপাদ শুনালেন।দীক্ষা গ্রহণের পরে আচার্য‍্যের অভিনব ভাবাবেশের উদয় হল।তিনি প্রেমে অধীর হয়ে পড়লেন।পুরীপাদ বহু যত্নে তাঁকে স্থির করলেন। ক্রমে সাধুসঙ্গ, নামসংকীর্তন ও মন্ত্র-সাধনের যাবতীয় তথ‍্য ও শরণাগতির বিষয় বিশদ ব‍্যাখ‍্যা করলেন, এবং বললেন, সখীর আনুগত‍্য ছাড়া ঐশ্চর্য‍্য-জ্ঞানে ব্রজেন্দ্রনন্দনকে পাওয়া যায় না।ইহার সব সুসিদ্ধান্তসার শ্রীকৃষ্ণের চৈতন‍্যাবতারে প্রকাশ হবে। তোমার আরাধনায় ও আকর্ষণে শ্রীকৃষ্ণ অবতীর্ণ হয়ে ব্রজপ্রেম বিতরণ করবেন।শ্রীনাম সঙ্কীর্তন ও ভজন প্রণালী সুষ্ঠুভাবে আচার-প্রচার করে জীব উদ্ধার করবেন।তুমি তাঁর সেই সঙ্কীর্তন প্রেমধর্ম প্রচারের সহায়রূপে সেবা লাভ করে পরম কৃতার্থ হবে। শ্রীরাধাগোবিন্দের উপাসনা জগতে অতীব সুদুর্লভ।তা সাধুসঙ্গ ছাড়া কখনই লাভ হবে না। আবার সে রকম সাধুও সুদুর্লভ। স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ বা শ্রীরাধা বা তাঁদের কায়ব‍্যূহগণ যদি কৃপা করে অবতীর্ণ হয়ে তার আচরণ ও প্রচার করেন তবেই তাঁদের শক্তি-সঞ্চার-ক্রমে সেই প্রেম অন‍্যের লাভ হতে পারে।এই কারণেই শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের আবশ্যক হয়েছে। তোমার তীব্র আরাধনায় ও ব‍্যাকুলতাময় আকর্ষণে শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র অবতীর্ণ হবেন।ইষ্টগোষ্ঠী হতে থাকল, অদ্দৈতাচার্য‍্যের অনুরোধে কিছুদিন থেকে শ্রীপুরীপাদ শ্রীগোপালদেবের চন্দন আনার জন্য দক্ষিণদেশে গমন করলেন।গমনকালে উভয়ের বিচ্ছেদের আশঙ্কায় উভয়ে ব‍্যাকুল হয়ে পড়লেন।উভয়েই মূর্ছিত হলেন।*
*🍀কুবের পুত্রের চরিত্র,প্রভাব,আচার ও অনুষ্ঠানাদি দেখে লোকে চরম আশ্চর্য‍্য হলেন।বহুলোক তাঁর সেবা করে কৃতার্থ হলেন।সব জায়গায় তাঁর প্রতিভার কথা প্রকার হয়ে গেল।একসময় শ‍্যামদাস-নামক দক্ষিণদ্রাবিড় দেশীয় এক দিগ্বিজয় পন্ডিত আগমন করলেন। তিনি দক্ষিণ,পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চল জয় করে পূর্বাঞ্চল গৌড়দেশে আগমন করেছিলেন। সেখানে এসে কমলাক্ষের পান্ডিত‍্যের কথা শুনে শান্তিপুরে আসিলেন, এবং তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে তুলসী ও গঙ্গার স্তব করতে আরম্ভ করলেন। তাঁর সিদ্ধান্ত-বিরুদ্ধ স্তবে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য প্রতিবাদ করলেন।নানারকম বাদ-বিতন্ডাদির পর দিগ্বিজয় পন্ডিত বিচারে পরাজিত হলেন।তখন দিগ্বিজয়ী পন্ডিত ব্রহ্মের নিরাকারত্ব স্থাপন করে বেদ-বাক‍্য উদ্ধার করতে লাগলেন।শ্রীঅদ্বৈত আচার্য‍্য ব্রহ্মের প্রাকৃত আকার নিরাসক বেদ-বাক‍্য ও অপ্রাকৃত সচ্চিদানন্দ আকার প্রকাশক বেদ ও বেদান্তবাক‍্য দ্বারা দিগ্বিজয়ী পন্ডিতের সিদ্ধান্তকে খন্ড-বিখন্ড করে শুদ্ধ সিদ্ধান্ত স্থাপন করলেন।পান্ডিত‍্য অভিমানী শ‍্যামদাসের সমস্ত তর্কই মহাবিষ্ণু-অবতার শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের যুক্তিস্রোতে ভেসে যেতে লাগিল।সপ্তাহকাল অবিশ্রান্ত বিচার করলেন।কোনও মতেই জয়লাভ করতে সমর্থ হলেন না। অবশেনিতান্ত হতাশ হয়ে সরস্বতীর স্তব আরম্ভ করলেন।শ্রীসরস্বতী দৈববাণীতে বললেন, "তুমা যাঁর সঙ্গে বিচার করছ, তিনি মহাবিষ্ণুর অবতার,বিচার পরিত‍্যাগ করে তাঁর শরণাগত হও।এই দৈববাণী শুনে শ‍্যামদাস পন্ডিত শ্রীঅদ্বৈত চরণে সাষ্টাঙ্গে দন্ডবৎ প্রণাম করতে লাগলেন।নানারকম স্তব স্তুতি করে কহিলেন,আমি আপনার শরণাপন্ন হলাম,আমার অপরাধ মার্জনা করুন। আমি শ্রীসরস্বতীর কৃপায় দ্রাবিড়,কাশী,অবন্তি প্রভৃতি প্রধান প্রধান জায়গায় সুবিখ‍্যাত পন্ডিতগণের সঙ্গে বিচার করে জয়লাভ করেছি। আমাকে পরাস্ত করতে পারে, মানুষের মধ্যে এমন সাধ‍্য কারও নাই।এই বলে জয়পত্র সব দেখালেন, এবং প্রার্থনা করলেন, "কৃপা করে আমার কাছে আপনার প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশ করুন। অদ্বৈতপ্রভু দৈন‍্যভরে বললেন, আপনি আমাকে অতি স্তুতি করছেন কেন? "কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলুন"।দর্পহারি নারায়ণ বেশী দর্পকারীদর দর্প চূর্ণ করেন।আমি দরিদ্র ব্রাহ্মণ ; গঙ্গা ও তুলসীর শরণ নিয়ে পড়ে আছি, কৃষ্ণভক্তি লাভ করবার জন্য আমাকে বৃথা স্তব কেন করছেন?*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(২৩)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
*দিগ্বিজয়ী পন্ডিতের আত্মসমর্পণ*
*********************************
*🍀দিগ্বিজয়ী পন্ডিত বললেন আমি আপনার সঙ্গে বিচারে ও দৈববাণীতে নিশ্চয় বুঝেছি যে, আপনি "মহাবিষ্ণুর  অবতার" আমাকে বঞ্চনা করবেন না। আমি আপনার শরণাগত ; আমি শরণাগত-পালক, আপনি আমাকে কৃপা না করলে আমি প্রাণ ত‍্যাগ করব। আপনার কৃপা ছাড়া আমার জীবন বিফল।তখন করুণাময় শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য দিগ্বিজয়ীর কাকুতি মিনতিতে ও শরণাগতিতে প্রসন্ন হয়ে, বললেন সরস্বতীর কৃপার অপব‍্যবহার করবেন না। দিগ্বিজয়ী হওয়া বিদ‍্যার ফল নয়,কৃষ্ণভক্তিই বিদ‍্যার ফল।সরস্বতী প্রদত্ত বিদ‍্যাদ্বারা বিদ‍্যাবধূজীবনের সেবা করুন।ভক্তিশাস্ত্র ও অধ‍্যাপনা করুন,কৃষ্ণভক্তি প্রচার করুন,দম্ভ পরিত‍্যাগ করে বিনয়ী হোন "বিদ‍্যা দদাতি বিনয়" বিদ‍্যার প্রকৃত সার্থকতা করুন।তখন দিগ্বিজয়ী বললেন আমি পন্ডিত নহি "মুর্খ"এটি আপনার উপদেশে বুঝতে পেরেছি।আপনি আমাকে নিজ ভৃত‍্যজ্ঞানে সমুচিত দন্ড প্রদান করে শোধন করুন। এবং নিজ পাদপদ্মে আশ্রয় প্রদান করে শিক্ষা প্রদান করুন। এই কথাগুলি বলে শ্রীঅদ্বৈতের শ্রীচরণ ধরে কাঁদতে লাগলেন।অদ্বৈতাচার্য‍্যের করুণ হৃদয় দিগ্বিজয়ীর কথায় গলে গেলেন।"তবে প্রভু কৃপাদৃষ্টি করিলা তাহারে"। মস্তকেতে হাত দিয়া আশীর্বাদ করে।।" অন‍্য গ্রন্থে বর্ণিত আছে, অদ্বৈতাচার্য‍্য শ‍্যামদাসকে নিজ চতুর্ভূজ মূর্তিতে দর্শন প্রদান করে কৃপা করেছিলেন।দিগ্বিজয়ী পন্ডিত কমলাক্ষের কৃপা লাভ করে মুখে সর্বক্ষণ শ্রীহরিনাম করতে লাগলেন। এবং বিনীতভাবে মন্ত্র গ্রহণের প্রার্থনা নিবেদন করলেন।শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য তাঁর প্রার্থনা পূরণ করলেন।দীক্ষাদান করে সমস্ত ভক্তি সিদ্ধান্ত শিক্ষা দিলেন।শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করালেন।সমস্ত ভাগবতের সিদ্ধান্তে পারঙ্গত করে ভাগবতাচার্য‍্য উপাধি প্রদান করলেন। আরও কিছুদিন শ্রীআচার্য‍্যের পাদপদ্মে থেকে ভক্তি সিদ্ধান্তের আলোচনা করে স্বদেশে যাত্রা করলেন।*
*🍀দিগ্বিজয়ী-জয় হতে শ্রীঅদ্বৈতের পান্ডিত‍্য ও প্রভাব সব জায়গায় ভীষণ ভাবে প্রচারিত হল।আচার্য‍্য সবসময় ভক্তিশাস্ত্রের ব‍্যাখ‍্যা করতে লাগলেন।*
*🌷ভক্তি উপদেশ বিনা নাহি আর কার্য‍্য।*
*🌷অতএব নাম তার অদ্বৈতাচার্য‍্য।।*
*🌷বৈষ্ণবের গুরু তেঁহো জগতের আর্য‍্য।*
*🌷দুই নাম মিলে হৈল অদ্বৈত-আচার্য‍্য।।*
       *(চৈঃচঃআঃ=৬|২৮-২৯)*
*🍀কিছুদিন পরে রাজা দিব‍্যসিংহ শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের পূর্ব আদেশক্রমে নবগ্রাম পরিত‍্যাগ করলেন।রাজা কিছুদিন রাজ‍্যশাসন ও কৃষ্ণ-সেবায় নিযুক্ত থাকেন।পরে কেবল শ্রীকৃষ্ণ মূর্তির সেবা,হরিনাম,ভাগবতচর্চা ও বৈষ্ণব সেবায় দিনযাপন করে উপযুক্ত সময় বুঝে পুত্রের উপর রাজ‍্যভার অর্পণ করে গৃহত‍্যাগ করে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের পাদপদ্মে এসে আশ্রয় নিলেন।রাজা এসেই শ্রীআচার্য‍্যপাদপদ্মে সাষ্টাঙ্গ দন্ডবৎ প্রণাম করে স্তবস্তুতি ও দৈন‍্য ভাবে নিবেদন করলেন।তাঁর দৈন‍্য ও বৈরাগ‍্য-দেখে শ্রীঅদ্বৈত তাঁর প্রতি অতিশয় প্রীত হয়ে আলিঙ্গন করে সসম্মানে বসতে দিলেন।রাজা এক্ষণে আর রাজা অভিমানে মত্ত নাই,কাঙ্গাল হয়ে অন‍্য শিষ‍্যদের সঙ্গে একত্র বাস ও সেবা করতে লাগলেন। শ্রীঅদ্বৈত-আচার্য‍্য রাজাকে "কৃষ্ণদাস" নাম প্রদান করে সমস্ত ভক্তিশাস্ত্র ক্রমে ক্রমে শিক্ষা দিলেন।আচার্য‍্যের আলয়ে কাম‍্যবনবাসী কৃষ্ণদাস ছিলেন ; ইনি দ্বিতীয় কৃষ্ণদাস হলেন এজন‍্য ইনার নাম "লাউরীয় কৃষ্ণদাস" হল*
*এর কিছুদিন পরে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য প্রভু শ্রীজগন্নাথদেবের দর্শন উদ্দেশ্যে প্রেমোন্মাদে মত্ত হয়ে শ্রীকৃষ্ণনাম করতে করতে চললেন।পথে শ্রীনাথ আচার্য‍্য নামক জনৈক সুপন্ডিত শান্তমূর্তি সাধুচরিত্র ব্রাহ্মণ তাঁর সঙ্গে আলাপ ও দর্শনে তাঁর শিষ‍্যত্ব গ্রহণ করলেন।তাঁকে শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব,রাধাতত্ত্ব, ও ভক্তিতত্ত্বের উপদেশ দান করে নীলাচল অভিমুখে যাত্রা করলেন।কিছুদিনে নীলাচলে উপস্থিত হয়ে প্রেমভরে নীলাচলচন্দ্রের দর্শন লাভ করে প্রেম-মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।সেখানে অনেকদিন থাকলেন।প্রতিদিনই সকালে,বিকেলে, সন্ধ‍্যাকালে জগন্নাথ দর্শন কালে তাঁর অশ্রু-পুলকাদি সাত্ত্বিক ভাবসব প্রকাশ পেতে লাগল।বহু লোকের কাছে তিনি ভক্তিশাস্ত্র ব‍্যাখ‍্যা করতে লাগলেন।বহুলোক তাঁর শ্রীমুখে হরিকথামৃত শুনে কৃতার্থ হলেন।সেখানে কর্ণাট রাজবংশীয় মহানুভব মুকুন্দ দেবের সঙ্গে (শ্রীরূপ সনাতনের পিতামহ)তাঁর খুবই মিত্রতা হল।তিনি তীর্থ-দর্শন-উপলক্ষ‍্যে পুরীতে বাস করছিলেন। একদা শ্রীঅদ্বৈতপ্রভুর অসামান্য ভক্তিভাব দেখে চরম আশ্চর্য‍্য হলেন।সেইদিন থেকে প্রতিদিন তিনি শ্রীঅদ্বৈতপ্রভুর কাছে এসে শ্রীমদ্ভাগবতের নিগূঢ় অর্থ ও ব‍্যাখ‍্যা শুনতেন।উভয়ের সম্মেলন ও ইষ্টগোষ্ঠী বড়ই সুখময় হয়েছিল।*
*🍀শ্রীপুরুষোত্তম ও শ্রীকামদেব নামক দুই ব‍্যক্তি শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের অসামান্য পান্ডিত‍্য ও অসাধারণ ভাব দেখে প্রত‍্যেকদিনই তাঁর শ্রীমুখে শ্রীভাগবত ও ভক্তিশাস্ত্রের ব‍্যাখ‍্যা শুনে আকৃষ্ট হয়ে তাঁর শিষ‍্যত্ব গ্রহণ করলেন।(ইনাদের নাম চৈঃচঃআঃ ১২|৫৯-৬৩, পাওয়া যায় )।বেশ কিছুদিন নীলাচলে থাকবার পর আচার্য‍্য শান্তিপুরে যাবার বাসনা করলেন।এইকথা শুনে পুরুষোত্তের ভক্তবৃন্দ বিচ্ছেদ আশঙ্কায় ব‍্যাকুল হলে, আচার্য‍্য তাঁদেরকে মধুর কথায় সান্ত্বনা দিলেন।শ্রীপুরুষোত্তম ও কামদেব আচার্য‍্যের সঙ্গে শান্তিপুরে আসিলেন এবং তাঁর কাছে ভক্তিশাস্ত্র অধ‍্যয়ন করে পরম পারঙ্গত বা পারদর্শী হলেন, এবং আচার্য‍্যের পরম প্রীতিভাজন হলেন।*
⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(২৪)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
   *অদ্বৈত আচায‍্যের অধ‍্যাপনা*
    ***************************
*🍀নীলাচল হতে আসিবার পর শ্রীঅদ্বৈত আচার্য‍্য মহা উৎসাহে ভক্তিশাস্ত্রের অধ‍্যাপনা করতে রত হলেন।শান্তিপুরবাসী সকলকেই পরমানন্দে তাঁর শ্রীমুখের ব‍্যাখ‍্যা শুনতে লাগলেন।কৃষ্ণদাস দশ বৎসর ধরে ভক্তিশাস্ত্র অধ‍্যয়ন ও অকপটে সুষ্ঠুভাবে আচায‍্যের সেবা করে পরমপ্রিয় হলেন ;তখন আচার্য‍্য তাঁকে দীক্ষা দান করলেন।লাউড়াধিপতি রাজা দিব‍্যসিংহ যিনি লাউরিয়া কৃষ্ণদাস-নামে পরিচিত, তিনিও দশ বৎসর ভক্তিশাস্ত্র অধ‍্যয়ন ও আচার্য‍্য সেবার ফলে আচার্য‍্য ভীষণ তুষ্ট হলেন।শ্রীআচার্য‍্য তাঁকেও দীক্ষাদান করলেন।দীক্ষা দানের পর গঙ্গাতীরে এক পর্ণকুটীর নির্মাণ করে সেখানে বাস করতে আদেশ দিলেন।কৃষ্ণদাস (লাউরিয়া) শান্তিপুরে সেই পর্ণকুটীরে বহদিন বাস করে বৃন্দাবনে গমন করেন।সেখানে কিছুদিন ভজন করে নিত‍্যধামে গমন করেন।তিনি অদ্বৈতাচার্য‍্যের বাল‍্যলীলা বিশেষ ভাবে জ্ঞাত ছিলেন।*
*🌹🌹হরিদাস সম্মিলন🌹🌹*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*🍀কিছুদিন পরে একদিন কমলাক্ষ ভক্তগণ পরিবেষ্টিত হয়ে বসে আছেন। এমত সময়ে তরুণ-বয়স্ক, তেজপুঞ্জ-কলেবর, আজানুলম্বিত-বাহু,প্রশান্তমূর্তি এক ব‍্যক্তি এসে সাষ্টাঙ্গে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।তাঁর ভাবভঙ্গী ও শ্রীমূতিদর্শনে অত‍্যন্ত প্রীত হয়ে আচার্য‍্য তাঁর পরিচয় জিজ্ঞাসা করলেন।তিনি বললেন প্রভো!আমি ম্লেচ্ছ, আমার নাম হরিদাস। শুনেছি, আপনি ভক্তিদাতা,শরণাগতের আশ্রয়,স্নেহময়,করুণা-সাগর বৈষ্ণবাচার্য‍্য।তাই কৃষ্ণভক্তি লাভের ইচ্ছায় আপনার শ্রীচরণাশ্রয় উদ্দেশ্যে আপনার কাছে এসেছি।অদ্বৈতাচার্য‍্য বললেন,এসো!এসো!আমার হরিদাস। আমি তোমাকে এই প্রথম দেখলেও বিলক্ষণরূপেই জানি।তুমি আমার অন্তরঙ্গ পরমাত্মীয় ; দূরে থাকলেও অতি কাছের মানুষ তুমি। (একজন নন্দীশ্বর অন‍্য বর্ষানেশ্বর) তোমার সঙ্গে আমার অবিচ্ছেদ‍্য সম্বন্ধ।এখানে থেকে ভক্তিশাস্ত্র অধ‍্যয়ন ও শ্রীকৃষ্ণভজন করো, কৃপাময় শ্রীকৃষ্ণ তোমাকে অচিরেই কৃপা করবেন। এই আলাপে আশ্রমের সকলেই অবাক হয়ে গেলেন। যেন কত নিকট আত্মীয়, শিশুকালের বন্ধু, কত প্রিয়তম,কত যুগ যুগান্তরের পুরাতন স্নেহপাত্র, কিন্তু এই প্রথম দেখা।যাইহোক,সকলেই বুঝলেন ইনা ভাগবদ্ পার্ষদই হবেন।উভয়েরই হৃদয়ে অপূর্ব আনন্দরস উচ্ছলিত হল।দুইজনেই যেন বহুদিনের হারানিধি ফিরে পেলেন।গঙ্গাতীরে নির্জন জায়গায় তাঁর জন্য একটি কুটীর নির্মিত হল।হরিদাস সেই কুটীরে বাস করতে লাগলেন।*
*🙏শ্রীহরিদাস, অদ্বৈতাচার্য‍্যের স্নেহ ও আশ্রয় লাভ করে নিজেকে ধন‍্য মনে করলেন।আচার্য‍্য কহিলেন, হরিদাস!কৃষ্ণ তোমার দ্বারা তাঁর শ্রেষ্ঠ মনো অভীষ্ট প্রচার করিবেন।হরিদাস দৈন‍্য ভাবে বললেন,আমি নীচজাতি,মুর্খ, পাপী আমার দ্বারা শ্রীভগবানের কি অভীষ্ট পূরণ হতে পারে?তখন আচার্য‍্য বললেন, তুমি চিন্তা করছ কেন? শ্রীকৃষ্ণের অচিন্ত‍্য শক্তিপ্রভাবে কি না হতে পারে? ভূবনপাবন শ্রীঅদ্বৈতের ইচ্ছায় হরিদাস অধ‍্যয়নে রত হলেন।আচার্য‍্যের কৃপা ও যত্নে খুব অল্পদিনের মধ্যেই তাঁর ব‍্যাকরণ,সাহিত‍্য ও দর্শন অধ‍্যয়ন সমাপ্ত করে তখন শ্রীমদ্ভাগবত অধ‍্যয়ন করতে আরম্ভ করলেন। খুব অল্পদিনের মধ্যেই শ্রীমদ্ভাগবতের সিদ্ধান্তে পারদর্শী হলেন।তখন সর্বশাস্ত্রজ্ঞ শ্রীহরিদাস সর্বশাস্ত্রের সার অবগত হয়ে শ্রীকৃষ্ণভজনই যে জীবের একমাত্র পরম প্রয়োজন তা বুঝলেন। কিন্তু শ্রীগুরুকৃপা ও শুদ্ধ সাধুসঙ্গ ছাড়া হরি ভজন হতে পারে না। একারণ শ্রীআচার্য‍্য-চরণে প্রণত হয়ে তাঁর কৃপাভিক্ষা করলেন।আচার্য‍্য কৃপাকরে তাঁর শক্তিসঞ্চার করে শ্রীনাম-ভজনে উপদেশ দিলেন।বললেন,শ্রীপ্রহ্লাদ মহারাজের উপদিষ্ট নববিধা ভক্তির যে কোনও অঙ্গ যাজন করলে জীব কৃতকৃতার্থ হতে পারলেও সর্বশাস্ত্রে শ্রীনাম-ভজনেরই সর্বশ্রেষ্ঠত্ব বলা হয়েছে।শ্রীনাম-ভজনে জাতি-কুলাদির বিচার নাই।প্রাকৃত জায়গা,কাল,পাত্র,জ্ঞান,অজ্ঞান,পাপ, অসৎকর্ম, যোগ‍্যতা,অযোগ‍্যতা, বিধি, নিষেধ ইত্যাদির অপেক্ষা নাই বা শ্রীনাম প্রাকৃত কোন বিচার আচারের অধীন নহেন।প্রাকৃত কোন সাধন, যোগ‍্যতা বা জ্ঞানাদি সাধনচেষ্টার দ্বারা নামভজন হয় না,প্রাকৃত কোনও বাধা-বিঘ্ন পরম স্বতন্ত্র সর্বভূমা শ্রীনামকে বাধিত করতে পারে না।এমন কি দীক্ষা পুরশ্চর্য‍্যারও অপেক্ষা করেন না।কেবলমাত্র সাধুর কৃপায় সেই অপ্রাকৃত নাম পাওয়া যায়।শ্রীনাম চিন্তামণি, চৈতন‍্য-রসবিগ্রহ, নিত‍্য,শুদ্ধ ও মুক্ত এবং নাম ও নামী অভিন্ন। আবার বলেছেন, নামী অপেক্ষা নাম বড়।অতএব তুমি সর্বক্ষণ শ্রীনাম আশ্রয় করে নামের কৃপা লাভ করে সেই নাম আচার ও প্রেম-প্রচার করো।শ্রীনামের কৃপায় সবরকম সাধন প্রণালী ও সিদ্ধান্ত হৃদয়ে স্ফূর্তি লাভ করবে।বিশেষ করে কলিকালে শ্রীনাম-ভজন ছাড়া আর কোন সাধন জীবকে ফল দিতে পারে না। সত‍্যযুগের ধ‍্যানে,ত্রেতার যজ্ঞে, দ্বাপরের পূজা অর্চনের যে ফল, কলিকালে শ্রীনামসংকীর্তনে সেই সব ফল অনায়াসে অনুসঙ্গক্রমে লাভ হয়। এমনকি শ্রীকৃষ্ণপ্রেম পর্য‍্যন্ত লাভ হয়,অন‍্য কোন সাধনে অতি কষ্টে বহুদিনে যে ভুক্তি বা ধর্মার্থকাম লাভ হয়,তা একমাত্র নামাভাসেই অনায়াসে লাভ হয়।মুক্তি নামাভাসেই সহজেই লাভ হয়। এবং শুদ্ধ নামোদয়ে কৃষ্ণপ্রেমও লাভ হয়। ইত্যাদি নানারকম নাম-ভজন-সম্বন্ধীয় উপদেশ প্রদান করে শ্রীহরিদাসকে শক্তিসঞ্চার করে নাম প্রদান করলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏😭🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(২৫)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
       *হরিদাসের সহিত মিলন*
      **************************
*🍀শ্রীহরিদাস দৃঢ়বিশ্বাসের সঙ্গে নিষ্ঠার সঙ্গে শ্রীনাম-ভজন করতে লাগলেন।প্রত‍্যহ তিনলক্ষ নাম গ্রহণ  ও আচার্য‍্যের সঙ্গ প্রভাবে অল্পদিনের মধ্যেই শ্রীহরিদাসের প্রেম প্রকাশিত হল।আচার্য‍্য তাঁকে যে নামের ব‍্যাখ‍্যা শুনিয়েছিলেন তা এইরকম জানা যায়, যথা="হকার পীতবর্ণশ্চ সর্ববর্ণ বরোত্তম।জ্ঞানাজ্ঞানকৃতং পাপং হ কারো দহতি ক্ষণাৎ।।রে কারো রক্তবর্ণস‍্যাৎ গোপালেন নিরূপিতঃ।গুর্ব্বঙ্গনাকৃতং পাপং রে কারো দহতি ক্ষণাৎ।।কৃ কারো কজ্জলোবর্ণ সংহৃত দ‍্যুত পাতকং।গতি শক্তি রতি প্রেমঃ কৃ কারাজ্জায়তে ক্ষণাৎ।। নানারূপধরশ্চৈব ষ্ণ কারঃ পরিকীর্ত্তিতঃ। ষ্ণ কারোচ্চারণাদেব নরকাদুদ্ধরেদ্ধ্র বং।।তত্তুজন্মার্জিতং পাপং ষ্ণ কারো দহতি ক্ষণাৎ। রা কারো গৌরবর্ণশ্চ রসশক্তীভবেদ্ধ্র বং।। রবিচন্দ্রসমোভাতি তমিস্রা দহতি ক্ষণাৎ। ম কারো জ‍্যোতিরূপশ্চ দিব‍্যাঞ্জন সদর্চ্চিতঃ।।মিথ‍্যাবাক‍্যং কৃতং পাপং ম কারো দহতি ক্ষণাৎ। শ্রীরাধাকৃষ্ণৌ সর্বাঙ্গে ষোড়শনাম নিরূপয়েৎ।।*
*🌹🌹সখা-সখী--তত্ত্ব🌹🌹*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*ললিতাচ বিশাখাচ চিত্রা চম্পকলতা তথা।*
*রঙ্গদেবী সুদেবীচ তুঙ্গবিদ‍্যেন্দুরেখিকা।।*
*শশীরেখা চমরিকা পালিকানঙ্গমঞ্জরী।*
*শ‍্যামা মধুবতী দেবী তথা ধন‍্যাচ মঙ্গলা।।*
*এতা প্রকৃতি সর্বেষাং মূল প্রকৃতি রাধিকা।*
*🌻🌻🌻ষোড়শ সখা🌻🌻🌻*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻
*শ্রীদামশ্চ সুদামশ্চ বসুদমস্ততঃ পরং।*
*সুবলশ্চার্জুনশ্চৈব কিঙ্কর স্তোককৃষ্ণকৌ।।*
*বরুথপোহংশুরামশ্চ বৃশালো বৃষভস্তথা।*
*দেবপ্রস্থউজ্জ্বলশ্চ মহাবাহু মহাবলৌ।।*
*এই ষোড়শ সখাময় শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র।*
*এই বত্রিশ সখাসখী রাধাকৃষ্ণমন্ত্র।।*
*হরিনাম মহামন্ত্র সর্বসার তন্ত্র।*
*এই জপ দিবা রাতি এই যে পরতন্ত্র।।*
*হরিনাম মহামন্ত্র জপ রাত্রিদিনে।*
*জপিতে জপিতে কৃষ্ণ জানিবে আপনে।।*
*🌹শান্তিপুরে বহুলোকের বাস। সেখানে সবরকম লোক বাস করে, বিশেষকরে সেখানে স্মার্তের প্রবল প্রতাপ।তারা হরিদাস যবন-কুলোৎপন্ন এবং শ্রীআচার্য‍‍্য তার সঙ্গে সঙ্গ করেন বলিয়া নিন্দাবাদ আরম্ভ করেন।তাঁর বহু ছাত্র।তারমধ‍্যে কেউ কেউ স্মার্ত-প্রবণ থাকাই হরিদাসের সামনে শ্রীআচার্য‍্যের উক্ত নিন্দা ব‍্যক্ত করল।তাতে হরিদাস দুঃখিত হয়ে আচার্য‍্যের কাছে কৌশলে নিজের আচার্য‍্যসঙ্গের অযোগ্যতা জ্ঞাপন করলেন।তাতে আচার্য‍্য দুঃখিত হয়ে বললেন, হরিদাস! অজ্ঞ-লোকে ঐশ্বর্য‍্য না দেখলে কিছুই বুঝে না।তুমি আমার ইচ্ছায় কিছু প্রভাব দেখাও,এতে আমার আদেশ পালন ও অজ্ঞলোকেরও মঙ্গল হবে।তাতে তোমার কিছুই ক্ষতি হবে না। আচার্য‍্যের আদেশে হরিদাস পরদিন গ্রামের "অগ্নি-হরণ" করলেন। শান্তিপুরময় আগুনের অভাব হল,কেউ কোনও জায়গায় আগুন পেল না।যাজ্ঞিক ব্রাহ্মণের যজ্ঞকুন্ড পর্য‍্যন্ত নিভে গেল।অন‍্য গ্রাম থেকে আগুন আনতে গেলে, শান্তিপুরে আসামাত্র নিভে যায়।সারাদিন গত হল, সন্ধ‍্যা উপস্থিত ; আগুনের উপায় আর হল না।তখন কিছু ভালমানুষে এর কারণ নির্দ্ধারণ করে পরামর্শ দিলেন, আচার্য‍্যের নিন্দার ফলে এই অবস্থা হয়েছে।তাঁকে প্রসন্ন করতে না পারলে,আগুন আর পাবে না।তখন সকলে মিলে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের শরণ গ্রহণ করলেন।নিজেদের অপরাধ ক্ষমা ভিক্ষা করে অগ্নি প্রার্থনা করলেন।তখন আচার্য‍্য বললেন, তোমরা তো ধর্মপরায়ণ মহাতেজী যাজ্ঞিক ব্রাহ্মণ, কেউ বা বেদজ্ঞ! তোমাদের মুখেই তো অগ্নি আছে, তা হতে অগ্নি প্রজ্বলিত করতে পারো।তাতে সকলেই বর্তমান ব্রাহ্মণের অযোগ্যতার কথা বলে দৃঢ়ভাবে আচার্য‍্যের চরণে শরণাপন্ন হলেন।বহু কাকুতি মিনতি কথায় প্রসন্ন করতে চেষ্টা করতে লাগলেন। আচার্য‍্য বললেন, তোমরা হরিদাসের মহিমা জানো না, তাঁকে যবন বলে নিন্দা করায় তাঁর চরণ অপরাধের ফলে আগুন অপহৃত হয়েছেন। তিনি সাক্ষাৎ ব্রহ্মা।তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে প্রসন্ন করতে পারলে, পুনঃ অগ্নি লাভ করতে পারবে, এতে আমার কোন হাত নেই। আচার্য‍্যের আদেশে গ্রামবাসীগণ শ্রীহরিদাসের কুটিরে গমন করে কুটির পরিক্রমা করে তাঁর সামনে জোড়হাত করে দাঁড়িয়ে কাতরভাবে বললেন,প্রভো!আমরা অজ্ঞ,আপনি আমাদের অপরাধ ক্ষমা করে অগ্নি দান করুন ; নচেৎ সকলের জীবন যায় বুঝি ; আজ কারও অন্নাহার হয়নি,কেউ রন্ধন করতে পারেনি।দয়াময় ঠাকুর হরিদাস ব্রাহ্মণগণের কাতরতা দেখে,সদয় হয়ে বললেন,তৃণ আনুন, অগ্নি সম্ভাষ করে দিচ্ছি। তাড়াতাড়ি তৃণ আনা হল,শ্রীহরিদাস জয়ধ্বনি করে অগ্নি প্রজ্বলিত করলেন।সকলে চমৎকৃত হয়ে হরিদাসকে প্রণাম করতে লাগলেন।সেই দিন থেকে হরিদাস শান্তিপুরে পূজিত হতে লাগলেন।*
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🙏🌷🌷🌷🌷🌷🪷
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(২৬)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
           *শ্রীযদুনন্দন আচার্য‍্য*
         🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
*🍀শ্রীহরিদাস ঠাকুর শ্রীহরিনামানন্দে মত্ত আছেন।লাউরীয় কৃষ্ণদাস কাছে  বসে আছেন।এমত সময়ে তর্কচূড়ামণি উপাধিখ‍্যাত শ্রীযদুনন্দন আচার্য‍্য (সপ্তগ্রামের হরিহরপুর নিবাসী)নামক এক ব্রাহ্মণ সেখানে উপনীত হলেন। তিনি শ্রীহরিদাসের শ্রীহরিনামপ্রেম দেখে পাগল বলিয়া মনে করলেন,এবং কৃষ্ণদাসকে জিজ্ঞাসা করলেন,ইনি কি পাগল? বিচক্ষণ কৃষ্ণদাস উত্তর করলেন, ইনি সামান্য পাগল নহেন, ভগবৎপ্রেমে পাগল।ইনি শোক দুঃখাতীত,পরমভাগবত,সর্বশাস্ত্রজ্ঞ, ও মহাপন্ডিত, শ্রীগুরুদেবের নিকট হতে ব্রহ্ম-হরিদাস আখ‍্যা পেয়েছেন।শ্রীসরস্বতী দেবী ইঁনার জিহ্বায়।কিছুক্ষণ পরে হরিদাস ঠাকুরের কীর্তন বিরাম হল।তর্কচূড়ামণি অহংকারের সঙ্গে তাঁকে কয়েকটি কঠিন প্রশ্ন করলেন।ঠাকুর হরিদাস প্রশান্ত ভাবে তার এমন সুমীমাংসা করলেন যে,তর্কচূড়ামণি মহাশয় চরম আশ্চর্য‍্যান্বিত হয়ে লজ্জিত হলেন।*
*🍀এমন সময় শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য সেখানে আগমন করলেন।তাঁকে দেখা মাত্রেই শ্রীযদুনন্দন আচার্য‍্য সসম্ভানের সঙ্গে প্রণাম করে দৈন‍্য জ্ঞাপন করলেন।আচার্য‍্য কারণ জিজ্ঞাসা করায়, যদুনন্দন বললেন, "আপনার শিষ্যের প্রভাব দেখে আপনার লোকোত্তর মহিমা ও অসাধারণ শক্তি অবগত হয়েছি।আমি আপনার শ্রীচরণে শরণ গ্রহণ করিলাম।আপনি শরণাগত পালক, আপনার এই শরণাগত ভৃত‍্যকে কৃপা করুন।তাঁর দৈন‍্য ও বিনয় ভাবে আচার্য‍্য প্রসন্ন হয়ে তাকে ভক্তিশাস্ত্র শিক্ষা দিলেন এবং শক্তিসঞ্চার করে শ্রীকৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত করলেন।তিনি শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের কৃপা ও শক্তি পেয়ে কৃতার্থ হলেন।ইনিই শ্রীমৎ রঘুনাথ দাসগোস্বামীর গুরু হয়েছিলেন।*
*🪷🪷🪷শ‍্যামদাস সম্মিলন🪷🪷*
*🍀শ‍্যামদাস আচার্য‍্য একজন রাঢ়দেশীয় ব্রাহ্মণ।বহু শাস্ত্রজ্ঞ পন্ডিত।কিন্তু ভক্তিশাস্ত্রের আলোচনা না করাতে উদ্ধত ও দাম্ভিক ছিলেন। যেখানে সেখানে শাস্ত্রার্থ বিচার ও তর্ক উঠিয়ে জয়লাভ করতেন কিন্তু ভক্তি শাস্ত্রের জায়গায় পরাজিত হতেন।এই দুঃখে কাশী গিয়ে শ্রীবিশ্বেশ্বরের শরণাগত হয়ে অনাহারে কঠোর তপস‍্যায় নিযুক্ত হন।বিশ্বেশ্বর তার তপস‍্যায় প্রসন্ন হয়ে স্বপ্নাদেশ করলেন, তোমার বাসভূমির কাছে শান্তিপুরে মহাবিষ্ণু আবির্ভূত হয়ে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য নামে প্রকট হয়েছেন। তাঁকে সেবা করে তুষ্ট করতে পারলে তোমার মনোবাসনা পূর্ণ হবে।শ‍্যামদাস এই স্বপ্নাদেশ পেয়ে শান্তিপুরের দিকে আগমন করলেন। তিনি শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের শ্রীচরণতলে সাষ্টাঙ্গে দন্ডবৎ প্রণাম করে শ্রীবিশ্বেশ্বরের স্বপ্নাদেশের সমস্ত কথা বললেন।আচার্য‍্য তাঁকে ভাগবতশাস্ত্র অধ‍্যয়ন করালেন। কিন্তু তিনি ভাগবত পড়েও শান্তি লাভ করতে পারলেন না।একসময় শ‍্যামদাস শ্রীআচার্য‍্যের শ্রীচরণে পড়ে প্রার্থনা করলেন, প্রভো!আমি এখন বেশ বুঝতে পেরেছি যে,কেবল শাস্ত্র পড়ে বিশেষ লাভ নাই, শুকনোতর্কে আমার হৃদয় শুকনোই রয়েছে।আপনার কৃপা ছাড়া ভক্তি রসাস্বাদন করতে পারছি না।আপনি এই শরণাগত ভৃত‍্যকে কৃপা করে শক্তি সঞ্চার ও ভক্তিরস প্রদান করলে আমি কৃতার্থ হতে পারি।তাঁর দৈন‍্য ও আর্তি দেখে শ্রীআচার্য‍্য প্রসন্ন হয়ে দীক্ষা দান করলেন।মন্ত্র ও নামের অর্থ ও ভজন-প্রণালী শিক্ষা দিয়ে তাকে ভক্তিরসময় করলেন।আচার্য‍্যের কৃপায় শ‍্যামদাস কৃতার্থ হলেন।তিনি সর্বক্ষণ শ্রীহরিনাম ও গুরুসেবায় নেজ জীবন নিযুক্ত করে ভক্তিরসাস্বাদনে প্রেমলাভ পর্যন্ত করলেন।*
*🎎🎎🎎🎎বিবাহ🎎🎎🎎🎎*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🍀"প্রাকৃত স্ত্রী ও পুরুষ-জীবের যে ভোগমূলক "বিবাহ",তা "বন্ধন"-নামে কথিত ; কিন্তু বৈকুন্ঠপতি মহাবিষ্ণু অবতার শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের "সীতা" ও "শ্রী"-দেবীর সঙ্গে নিত‍্যশক্তির সম্মেলনরূপ বিবাহ-লীলা দেখলে বা শুনলে সংসার-পরায়ণ জীবের সংসার-ভোগ-বাসনা বিদূরিত হয়ে অপ্রাকৃত-জ্ঞানোদয়-ফলে সংসার মুক্তিলাভ ও বৈকুন্ঠপ্রাপ্তি ঘটে। প্রপঞ্চে সংসার-ভোগ-বাসনা-যুক্ত দীন কৃপণ লোকগণকে দিব‍্যজ্ঞান প্রদান দ্বারা তাদের সংসারভোগ বাসনা বিদূরিত স্ব-স্বরূপে বৈকুন্ঠে উপনীত করিয়ে দেব-দুর্লভ সেবাধিকার প‍্যদান করবার জন্যই লোক-সমক্ষে পরম-করুণ প্রভু নিজে অপ্রাকৃত উদ্বাহ বা বিবাহ-লীলা উদয় করালেন। এইজন‍্য তিনি 'অহৈতুক কৃপাময় ' আমন্দোদয়া-দয়া-সিন্ধু, "দীনবন্ধু" প্রভৃতি অসীম কারুণ‍্য সূচক বহুবিধ নামাবলীদ্বারা অভিহিত হন। জীবের বিভিন্ন কর্ম-প্রবৃত্তি কালের মধ্যে স্তব্ধ হয় বলে প্রপঞ্চে অবতীর্ণ মায়াধীশ শ্রীভগবানের অপ্রাকৃত-লীলা ও মায়াবশ প্রাকৃত জীবের কর্মচেষ্টার সঙ্গে সমান,এইরকম জ্ঞান করা নিতান্ত অবৈধ ও অপরাধজনক বলেই শাস্ত্র তারস্বরে বা শাস্ত্রের কথায় মায়াধীশ ভগবান ও মায়াবশ জীবের কর্মের মধ্যে নিত‍্য ভেদ-কীর্তন করে ভীষণ মায়াবশ হতে সতর্ক করেছেন। (চৈঃভাঃ) প্রভুপাদ।*
*🍀শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের বিবাহাদি সম্বন্ধে,শ্রীভক্তিরত্নাকর গ্রন্থে বর্ণিত আছে =*
*🌷শ্রীঅদ্বৈত-আচার্য‍্য-বিবাহ করাইতে।*
*🌷বিশিষ্ট লোকের চেষ্টা হৈল ভাল মতে।।*
*🌷সকলেই কৈলা বিবাহের আয়োজন।*
*🌷তাহা জানিলেন প্রভু কুবের নন্দন।।*
*🌷করিতে বিবাহ অদ্বৈতের ইচ্ছা হৈল।*
*🌷মন্দ মন্দ হাসি ' সভে অনুমতি দিল।।*
*🌷সভে মহাহর্ষ হৈয়া গিয়া নিজ ঘরে।*
*🌷জানাইল নৃসিংহ-ভাদুড়ী বিপ্রবরে।।*
*🌷ভাগ‍্যবন্ত নৃসিংহ-বিপ্রের দুই কন‍্যা।*
*🌷বিবাহের যোগ‍্যা,রূপে গুণে মহা ধন‍্যা।।*
*🌷নৃসিংহ ভাদুড়ী অতি উল্লাস অন্তরে।*
*🌷দুই কন‍্যা সম্প্রদান কৈলা অদ্বৈতেরে।।*
*🌷অদ্বৈতের বিবাহে সুখের অন্ত নাই।*
*🌷বহু অর্থ ব‍্যয় কৈল যত ভাগ‍্যবন্ত।।*
*🌷আচার্য‍্যের ভার্য‍্যা দুই জগৎপূজিতা।*
*🌷সর্বত্র বিদিত নাম "শ্রী" আর "সীতা"।।*
*🌻আবার শ্রীগৌরগণোদ্দেশ দীপিকায় পাওয়া যায় =*
*🌷যোগমায়া ভগবতী গৃহিণী তস‍্য সাম্প্রতং।*
*🌷সীতারূপেণাবতীর্ণা শ্রীনাম্নী ত‍ৎপ্রকাশতঃ।।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ ভগবতী যোগমায়া শ্রীমদ্ অদ্বৈতাচার্য‍্যর পত্নী "সীতাদেবী"  এবং তৎপ্রকাশ "শ্রী"রূপে সম্প্রতি অবতীর্ণা হলেন।*
*🌷সর্বতত্ত্বজ্ঞাতা দুই অদ্বৈতঘরণী*।
*🌷দোঁহার যে চেষ্টা তাহা কহিতে কি জানি।।*
*🌷ঐছে রহে শান্তিপুরে শ্রীঅদ্বৈতরায়।*
*🌷করিলেন এক বাসস্থান নদীয়ায়।।*
*🌷প্রায় শ্রীবাসের গৃহে অদ্বৈতের স্থিতি।*
*🌷কৃষ্ণরসাস্বাদে না জানয়ে দিবারাতি।।*
*🌷কভু শান্তিপুরে, কভু রহে নদীয়ায়।*
*🌷কৃষ্ণবিনা কথোদিনে উদ্বেগে গোঙায়।।*
*🌷কৃষ্ণে আরাধয়ে সদা অশেষ প্রকারে।*
*🌷হইলা প্রকট অদ্বৈত-হুঙ্কারে।।*
*🌷প্রভুর অদ্ভূত লীলা দেখে নদীয়ায়।*
*🌷না করয়ে ব‍্যক্ত সভে,প্রকারে জানায়।।*
*🌷প্রভু প্রকাশিয়া পূজি ' উল্লাস অন্তরে।*
*🌷কত মনোরথ করি' গেলা শান্তিপুরে।।*
                       *(১২|১৭৭৮-১৭৯৩)*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(২৭)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
        *শ্রীচরিতামৃতের কথন*
       ***********************
*🍀গৌর-আনা-ঠাকুর সম্বন্ধে শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে আদি ৩য় পরিচ্ছেদ ৯১, ৯৫-১০৯ সংখ্যায় বর্ণিত হয়েছে।*
*🌷আচার্য‍্য গোসাঞি প্রভুর ভক্ত-অবতার।*
*🌷কৃষ্ণ-অবতার হেতু যাঁহার হুঙ্কার।।*
*🌷প্রকটিয়া দেখে আচার্য‍্য সকল সংসার।*
*🌷কৃষ্ণভক্তিগন্ধহীন বিষয়-ব‍্যবহার।।*
*🌷কেহ পাপে,কেহ পুণ‍্যে করে বিষয়-ভোগ।*
*🌷ভক্তিগন্ধ নাহি,যাতে যায় ভবরোগ।।*
*🌷লোকগতি দেখি ' আচার্য‍্য করুণ-হৃদয়।*
*🌷বিচার করেন,লোকের কৈছে হিত হয়।।*
*🌷আপনি শ্রীকৃষ্ণ যদি করেন অবতার।*
*🌷আপনে আচরি 'ভক্তি করেন প্রচার।।*
*🌷নাম বিনু কলিকালে ধর্ম নাহি আর।*
*🌷কলিকালে কৈছে হবে কৃষ্ণ অবতার।।*
*🌷শুদ্ধভাবে করিব কৃষ্ণের আরাধন।*
*🌷নিরন্তর সদৈন‍্যে করিব নিবেদন।।*
*🌷আনিয়া কৃষ্ণেরে করোঁ কীর্তন সঞ্চার।*
*🌷তবে সে "অদ্বৈত" নাম সফল আমার।।*
*🌷কৃষ্ণ বশ করিবেন কোন্ আরাধনে।*
*🌷বিচারিতে এক শ্লোক আইল তাঁর মনে।।*
*🌻গৌতমীয়-তন্ত্রে নারদবাক‍্য যথা=*
*🌷তুলসী দলমাত্রেণ জলস‍্য চুলুকেণ বা।*
*🌷বিক্রীণীতে স্বমাত্মানং ভক্তেভ‍্যো ভক্তবৎসল।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ=ভক্তবৎসল ভগবান্ চন্দন মন্ত্র-আদি-বিনা তুলসীদল মাত্রে জল গন্ডুষের দ্বারা ভক্তের কাছে আত্ম-বিক্রীত (তদায়ত্ত করেন)হন।*
*🍀এই শ্লোকের অর্থ আচার্য‍্য করেন বিচরণ।*
*🍀কৃষ্ণকে তুলসীজল দেয় যেই জন।।*
*🍀তার ঋণ শোধিতে কৃষ্ণ করেন চিন্তন।*
*🍀জল-তুলসীর সম আর কিছু নাহি ধন।।*
*🍀তবে আত্মা বেচি' করে ঋণের শোধন।*
*🍀এত ভাবি' আচার্য‍্য করেন আরাধন।।*
*🍀গঙ্গাজলে তুলসী মঞ্জরী অনুক্ষণ।*
*🍀কৃষ্ণপাদপদ্ম ভাবি' করে সমর্পণ।।*
*🍀কৃষ্ণের আহ্বান করেন করিয়া হুঙ্কার।*
*🍀এমতে কৃষ্ণের করাইল অবতার।।*
*🍀চৈতন‍্যের অবতারে এই মুখ‍্য হেতু।*
*🍀ভক্তের ইচ্ছার অবতার ধর্মসেতু।।*
*🙏🙏🙏শ্রীধাম মায়াপুরে🙏🙏🙏*
*🌻শ্রীচৈতন‍্যভাগবত ও শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত গ্রন্থে শ্রীল অদ্বৈত আচার্য‍্যের বিষয় যা বর্ণিত আছে তা সংক্ষেপে লিখিত হচ্ছে।*
*🪷ভক্তিকল্পবৃক্ষের স্কন্ধস্বরূপ মহাবিষ্ণু অবতার গৌর-আনা-ঠাকুর শ্রীমায়াপুরে টোলবাড়ী করে ভক্তিশাস্ত্রের অধ‍্যাপনা করতে লাগলেন।নবদ্বীপবাসী বৈষ্ণবগণ মায়াপুরে গৌরভক্ত চূড়ামণি আচার্য‍্যকে পেয়ে পরমানন্দে তাঁর সঙ্গ করতে লাগলেন।জীব দুঃখে দুঃখী বৈষ্ণবগণ একটু শান্তির জায়গা পেয়ে সবসময়ই তাঁর সঙ্গে কৃষ্ণকথা-রঙ্গে আনন্দে সময় কাটাতে লাগলেন।তাঁরা সকলেই শ্রীগৌর-পার্ষদ।তারমধ‍্যে শ্রীমন্নিত‍্যানন্দের সঙ্গে অভেদ শরীর শ্রীবিশ্বরূপ যিনি শ্রীনিমাইচাঁদের দাদা, গ‍ৌরসেবার জন্য আগেই জন্মগ্রহণ করে শ্রীগৌরসুন্দরের কীর্তন-প্রচার কাজের, ক্ষেত্র-পরিস্কার-কাজে, অগ্রণী হয়ে এসেছিলেন, তিনি শ্রীঅদ্বৈত আচার্য‍্যকে পেয়ে তাঁর প্রধান সহায়করূপে তাঁর গৌর সেবার সঙ্গী করে নিলেন।সবসময় তাঁর কাছে ইষ্টগোষ্ঠী ; জীব উদ্ধারের উপায় ও জীবের মঙ্গল-চিন্তা-দ্বারা জীব সত্তার উপর প্রবলভাবে শুদ্ধিকার্য‍্য আরম্ভ করলেন।জীবের এই মঙ্গলময় বন্ধুর কাজ আর কেউই বুঝতে পারলেন না।(সত‍্যিকারের যাঁদের মধ্যে কৃষ্ণপ্রেম আছে, তাঁরা কোনদিনই নিজের প্রচার করেন না, আর বতর্মান ?) যাইহোক,আরম্ভ করলেন, উপাদান কারণের মালিক ও নিমিত্ত কারণের মালিক শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য ও শ্রীবিশ্বরূপ ; উভয়েরই জীব সত্তার উপর একতার তাঁদের প্রথম অনুষ্ঠান হল "সন্ধিনীর উপর সম্বিতের প্রভাব বিস্তার ", তাই সর্বশাস্ত্রের কৃষ্ণভক্তিময় ব‍্যাখ‍্যা।শ্রীবিশ্বরূপের সবশাস্ত্রের কৃষ্ণভক্তি-সার ব‍্যাখ‍্যা শুনে আচার্য‍্য পূজা ছেড়েও বিশ্বরূপকে কোলে করে হুঙ্কার ও নৃত‍্য আরম্ভ করলেন এবং বললেন "পেলাম,পেলাম" আমার প্রভুর সেবার সহায়করূপে বিশ্বরূপকে পেলাম।সকল ভক্তেরই শ্রীবিশ্বরূপ প্রাণস্বরূপ হলেন।শ্রীনিমাইও আর গৃহে থাকতে পারেন না ; নিজ-কাজের বিস্তার,প্রভাব ও গতিবিধির মূলস্থানে ছুটে আসতে চান।ছল পেলেন,মায়ের আদেশ, মা বললেন নিমাই তোমার দাদা বিশ্বরূপকে ডেকে আনো, রান্না হয়ে গেছে! তিনিও আসবার জন্য ব‍্যস্ত।ভগবান ভক্তের প্রবল আকর্ষণে ব‍্যাকুল হয়ে ছুটে শ্রীঅদ্বৈত-সভায় এসে দেখলেন,ভক্তগণ বিভোর হয়ে তাঁরই কাজ করছেন।সেই মঙ্গলময় কাজে সবার প্রতি শুভদৃষ্টিপাত করে পুরস্কার-স্বরূপে নিজ নিরূপম লাবণ‍্যসীমা কোটিচন্দ্রবিনিন্দিত পদনখশোভা বিস্তার করে ভক্তগণের চিত্ত আকর্ষণ করলেন।ভক্তগণ সেই কৃপা লাভ করে শ্রীভগবদ্দর্শনে মহাযোগীগণের সমাধি-তিরস্কারী প্রেমবিকাশরূপ স্তম্ভ-নামক সাত্ত্বিক ভাবে বিহ্বল হলেন।ধন‍্য প্রভু ও ধন‍্য ভক্ত, বিনা অনুভবেও ব্রহ্মার দুর্লভ ভাব অনায়াসেই লাভ করলেন।এটি শুদ্ধচিত্ত ভক্তের প্রতি পরাকাষ্ঠা ভগবৎ প্রকাশের অসমোর্দ্ধ প্রভাব।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪷🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(২৮)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
             *শ্রীধাম মায়াপুর*
              °°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀 কিন্তু অপরাধে পরিপূর্ণ অভক্তের প্রতি এত বড় শক্তিও অপ্রকাশিত ও অব‍্যক্ত।কেবল ভক্তের প্রতি এই প্রভাব চরমভাবে প্রকাশ পায়।ভক্তসংঘে কৃপা করে মহাপ্রভু অগ্রজকে (দাদা বিশ্বরূপকে) নিয়ে চলতেন।শ্রীঅদ্বৈত ভাবলেন--, এই নিমাই কোন বস্তু!মায়াধীশ আমাকেও মুগ্ধ করে পূজা ছাড়িয়ে,কৃষ্ণকেও ভুলিয়ে দিচ্ছে!এ বুঝি কৃষ্ণেরই চরম মাধুর্য‍্য -পরাকাষ্ঠা-প্রকাশ উদার বিগ্রহ। কিছুদিনে বিশ্বরূপ সন্ন‍্যাস গ্রহণ করে চলে গেলেন।তাঁর সেবা পূর্ণ হয়েছে ;এক্ষণে নিত‍্যানন্দ স্বরূপের সেবার সময় এসেছে।শ্রীঅদ্বৈতাদি ভক্তগণের হৃদয় বিদীর্ণ হল ; যাঁর কৃপায় নিমাইয়ের সেই অসমোর্দ্ধ কারুণ‍্যময়ী রূপলাবণ‍্য দর্শন সুলভ হয়েছিল,তাও আর তত সহজে সম্ভবপর হচ্ছে না।ধন‍্য কৃপাময় বিশ্বরূপ! কিন্তু নিমাই বিশ্বরূপের বিরহব‍্যথা ভক্তগণকে অন‍্য ভাবে সান্ত্বনা দিলেন,তা অবশ্যই তত্ত্বজ্ঞান।তত্ত্বজ্ঞান দ্বারা কর্ম-ফাঁস ছিন্ন হয় বটে,কিন্তু ভক্তপ্রাণে প্রেমের অভাব পূরণ করতে পারে না। তাই ভক্তগণ ভাবলেন বিশ্বরূপ যখন আদর্শ পথ প্রদর্শন করলেন,আমারও সেই পথ অনুসরণ করে বিশ্বরূপের আনুগত‍্য করব।তার উপর আবার পাষন্ডীর নিন্দাবাক‍্য জ্বালা ভক্তগণকে ব‍্যথিত করতে লাগল।তখন শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য ভক্তগণকে বললেন--,আমি, হৃদয়ে আর এক মহা-ভরসা ও উৎসাহময়ী সান্ত্বনা পাচ্ছি।তা আমি যদি শুদ্ধ কৃষ্ণদাস হই,তবে নিশ্চয়ই সফল হবে, তোমরা সকলে কৃষ্ণনাম কীর্তন কর,কৃষ্ণনাম ও শ্রীকৃষ্ণ অভিন্ন।কৃষ্ণকীর্তন-ফলে শ্রীকৃষ্ণ সত্বরই প্রকাশিত হবেন।ব্রহ্মা, শুক, প্রহ্লাদাদির ও দুর্লভ কৃষ্ণপ্রেম ভক্তের ভৃত‍্যের সুলভ হবে।আচার্য‍্যের অমৃতময়ী ভরসাময়ী সান্ত্বনা বাক‍্যে আচার্য‍্য-অনুগত‍্যে ভক্তগণ সবসময়ই কৃষ্ণকীর্তন করতে লাগলেন।*
*🌺বিকেল হলেই ভাগবতগণ শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের সভায় মিলিত হয়ে কৃষ্ণকীর্তন আরম্ভ করেন,যেই মাত্র মুকুন্দ কৃষ্ণকীর্তন করেন,তখুনি ভাগবতগণ মহাপ্রেমবিকারে, কেউ হাসেন,কেউ কাঁদেন,কেউ মাটিতে গড়াগড়ি দেন,কেউ হুঙ্কার করেন,কেউ মালসাট মারেন,কেউবা মুকুন্দের দুই চরণ গিয়ে ধরেন, এই রকম পরমানন্দে বিভোর হয়ে পড়েন।পাষন্ডীগণ কীর্তন শুনে নানারকম ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে ও বৈষ্ণব দেখলেই নানারকম কুকথা বলৈ। তাতে বৈষ্ণবগণ মহা দুঃখ পেতে লাগলেন।ভাগবতগণ পাষন্ডীর ব‍্যবহার* *আচার্য‍্যের কাছে বললে আচার্য‍্য ক্রোধে রুদ্র অবতার হয়ে হুঙ্কার করে বলেন="পাষন্ডী সকলকে সংহার করব।* *"আমার চক্রধর প্রভু সত্বর আসছেন, তখন এই নদীয়ায় কি হয় ' দেখতে পাবে। যদি আমার প্রভু শ্রীকৃষ্ণকে সকলের নয়নগোচর করাতে পারি,তবেই আমার অদ্বৈত-নামের সার্থকতা। কিছু দিন একটু সহ‍্য করে থাক। তোমরা সকলেই শ্রীকৃষ্ণের অনুভাব(প্রভাব) দেখতে পাবে।ভাগবতগণ আচার্য‍্যের প্রবোধ-বাক‍্যে দুঃখ ভুলে কৃষ্ণকীর্তন করতে লাগলেন। সকলেই আচার্য‍্যের সঙ্গে কৃষ্ণকীর্তনে মত্ত হলেন।*
*🌹প্রভুও বিদ‍্যাবিলাসে শচীমাতার আনন্দ বিধান করছেন।কেউই নিজ প্রভুকে চিনতে পারছেন না।হেনকালে কৃষ্ণরসে পরম বিহ্বল, কৃষ্ণের একান্ত অতি প্রিয়,অতি দয়াময় শ্রীঈশ্বরপুরীপাদ অতি অলক্ষিত বেশে শ্রীঅদ্বৈত মন্দিরে এসে উঠলেন।তাঁর বেশভূষা দেখে কেউ তাঁকে চিনতে পারেননি।আচার্য‍্য সেবা-মগ্ন আছেন,তাঁর সামনে গিয়ে অতি সঙ্কুচিত হয়ে বসে রইলেন।কেউ না চিনলেও বৈষ্ণবে বৈষ্ণবের তেজ বুঝতে পারেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন,আপনি কে?আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে --, আপনি বৈষ্ণব সন্ন‍্যাসী। পুরীপাদ বললেন,আমি শূদ্রাধম,আপনার শ্রীচরণ দর্শনে এসেছি।ভাব বুঝে শ্রীমুকুন্দ অতি প্রেমের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের এক লীলাসূচক কীর্তন ধরলেন। শ্রীঈশ্বরপুরী শোনামাত্র ভূমিতে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন, অবিরাম নয়নে অশ্রুধারা বহিত্র লাগল, ক্রমেই সেই ধারা প্রবলভাবে বাড়তে লাগল। তাড়াতাড়ি আচার্য‍্য গিয়ে পুরীপাদকে নিজ-কোলে করে তুলে তাঁর অশ্রুধারায় অঙ্গ ভিজে গেল।পুনঃ পুনঃ প্রেমের বিকাশ বাড়তে লাগল, মুকুন্দও খুব জোড়ে শ্লোক পড়তে লাগলেন।তাঁর প্রেমের অদ্ভুত-বিকার দর্শন করে ভাগবতগণ চরম আনন্দিত হলেন। সকলেই ভাবলেন,এই প্রেম তো যেখানে সেখানে প্রকাশ পায় না।শেষে বুঝলেন, ইনি প্রেমকল্পতরুর প্রথম-অঙ্কুর শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরীর শিষ‍্য শ্রীঈশ্বর পুরীপাদ।এইভাবে তিনি নবদ্বীপে গুপ্তভাবে থাকলেন।সেখানে মহাপ্রভুর সঙ্গে পরিচয় হল।কিছুদিন পরে মহাপ্রভু গয়া গিয়ে শ্রীঈশ্বরপুরীর কাছে দীক্ষা-মন্ত্র গ্রহণের অভিনয় করে গুরু-করণের আবশ‍্যকতা আচরণ দ্বারা প্রচার করলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏💧🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(২৯)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
         *শ্রীধাম---------মায়াপুর*
         ***********************
*🍀গয়া হতে ফিরে মহাপ্রভুর প্রেমাবেশে সংকীর্তন আরম্ভ করলেন।শ্রীকৃষ্ণপ্রেমের লক্ষণ সব তাঁর চরিত্রে অসাধারণ ভাবে প্রকাশিত হতে লাগল।"ভক্তগণ মহাপ্রভুর ঐ প্রেম-লক্ষণ দেখে আচার্য‍্যের কাছে মহানন্দে বলতে লাগলেন।ভক্ত-প্রভাবে মহাবল আচার্য‍্য মহাপ্রভুর অবতার সম্বন্ধে সবই জেনেও যেন কিছু জিনেন না।এইরকম ভাব দেখাতে লাগলেন। একদিন আচার্য‍্য পরমআবিষ্ট হয়ে বলতে লাগলেন--,ভক্তগণ!আজ এক অপূর্ব স্বপ্ন দেখেছি, "গীতার একটি শ্লোকের ভক্তিপর অর্থ নিশ্চয় করতে না পেরে দুঃখিত হয়ে উপবাস করে শুয়ে ছিলাম।গভীর নিশিতে দেখলাম, পরম-রূপবান্,পরম-কারুণিক একব‍্যক্তি সুমধুর বাণীতে আমাকে জাগিয়ে তুললেন,এবং বললেন--, তোমার গীতার এই শ্লোকের অর্থ এইরকম হবে। তুমি দুঃখ ত‍্যাগ করে ভোজন করো এবং আমাকে পূজো করো।শুধু এই শ্লোকের অর্থ নহে,সমস্ত অভিলাষিত বস্তুই পাবে।আর দুঃখ করো না।তুমি যে সঙ্কল্প করে উপবাস,আরাধনা ও কৃষ্ণ বলে ক্রন্দন করেছ,যাঁকে আনতে দুইবাহু তুলে প্রতিজ্ঞা করেছ,আজ সে প্রভু বিদিত হলেন।সব দেশে,সব নগরে নগরে,ঘরে ঘরে অনুক্ষণ কৃষ্ণ-কীর্তন হবে।ব্রহ্মাদির দুর্লভ ভক্তিযোগ এই "শ্রীবাসের অঙ্গনে "সকল বৈষ্ণবগণ অনুক্ষণ অনুভব করবেন।আমি এক্ষণে চললাম, তোমার ভোজনকালে পুনরায় আসিব।তখুনি চোখ মেলে চেয়ে দেখেন, এই বিশ্বম্ভর।দেখামাত্রই অদৃশ্য হয়ে গেলেন।কখন কার কাছে প্রভু কি ভাবে প্রকশিত হয়ে কৃপা করেন, তা বুঝা যায় না।পূর্বে বিশ্বরূপকে আমার সভায় ডাকতে এসে আমার চিত্তবৃত্তি হরণ করেছিলেন।ইনি সর্বগুণে,সর্ববিষয়ে,সর্বশ্রেষ্ঠ।সকলে মিলে কীর্তন করো, সব সংসার সংকীর্তনে মত্ত হোক।যদি সত‍্য সত‍্যই আমার বিশ্বম্ভর আমার প্রভু হন, তবে নিশ্চয়ই আমাকে কৃপা করতে এখানে আসিবেন। অদ্বৈতের আশা কি কখনও অপূর্ণ থাকতে পারে?অল্পদিনের মধ্যেই বিশ্বম্ভর গদাধরকে সঙ্গে নিয়ে অদ্বৈত-ভবনে গেলেন। দেখলেন--,আচার্য‍্য জল-তুলসী দিয়ে শ্রীকৃষ্ণের পূজা করছেন ; ক্ষণে হাসছেন,ক্ষণে কাঁদছেন, কখনও বা মদমত্ত সিংহের মত হুঙ্কার করছেন ; তাঁর বাহ‍্যজ্ঞান নেই।আচার্য‍্যের প্রেমভাব দেখে মহাপ্রভু মূর্ছিত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন।ভক্তিযোগে মহাবল আচার্য‍্য "এই মোর প্রাণনাথ" বলে জানতে পারলেন। মনে মনে ভাবলেন,আমার প্রভু বিশ্বম্ভর প্রচ্ছন্নাবতার রূপে আত্মগোপন করে বঞ্চনা করছেন, আমিও তদ্রূপ তাঁর এই বতর্মান অন্তর্দশায় অবস্থানের সুযোগ গ্রহণ করে তাঁর অজ্ঞাতসারে তাঁর উপর ডাকাতি বা লুন্ঠন (প্রকশ‍্যে পূজা করে তাঁর ভগবৎ-স্বরূপ প্রকাশ করিব)।সময় বুঝে আচার্য‍্য সর্ব-পূজা সাজ নিয়ে নেমে এসে পাদ‍্য,অর্ঘ‍্য,গন্ধ, পুষ্পাদি দ্বারা পূজা করে পুনঃ পুনঃ "নমো ব্রহ্মণ‍্যদেবায় গো ব্রাহ্মণ‍্য হিতায় চ। জগদ্ধিতায় কৃষ্ণায় গোবিন্দায় নমো নমঃ।। এই কৃষ্ণের প্রণাম মন্ত্রে প্রণাম করতে করতে আপন প্রভুকে চিনে কাঁদতে লাগলেন।অশ্রুজলে তাঁর শ্রীচরণ ধৌত করে পদতলে দাঁড়িয়ে রইলেন।তখন গদাধর হেসে বললেন--, আপনি মহাতেজীয়ান্ ভগবদবতার ও সর্ববিষয়ে প্রবীণ হয়ে এই বালক বিশ্বম্ভরকে এইরকম পূজা করা উচিত হচ্ছে না, বলিয়া জিহ্বা কামড়ালেন।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৩০)অদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা*
               *শ্রীধাম মায়াপুরে*

*🍀অদ্বৈতাচার্য‍্য গদাধরের কথায় হেসে বললেন--,গদাধর!এই বালককে একদিন-না-একদিন জানতে পারবে।এই কথায় গদাধর বিস্মিত হয়ে ভাবলেন,আচার্য‍্যের কথায় বুঝা গেল--,ইনি ভগবান অবতীর্ণ হয়েছেন।বিশ্বম্ভর কিছুক্ষণে বাহ‍্য প্রকাশিয়া দেখলেন আচার্য‍্য আবিষ্ট হয়ে আছেন,তাঁর বাহ‍্যস্মৃতি নাই। তখন আত্মসঙ্গোপনার্থে (মহাপ্রভু অতি গোপনে)আচার্য‍্যের স্তুতি আরম্ভ করলেন।*
*🌷অদ্বৈতেরে স্তুতি করে' যুড়ি দুই কর।*
*🌷নমস্কার করি তাঁর পদধূলি লয়।।*
*🌷আপনার দেহ প্রভু তাঁরে নিবেদয়।*
*🌷অনুগ্রহ তুমি মোরে কর' মহাশয়।।*
*🌷ধন‍্য হইলাঙ আমি দেখিয়া তোমারে।*
*🌷তুমি কৃপা করিলে সে কৃষ্ণনাম স্ফুরে।।*
*🌷তুমি সে করিতে পার,ভববন্ধ নাশ।*
*🌷তোমার হৃদয়ে কৃষ্ণ সর্বদা প্রকাশ।।*
*🌷নিজভক্তে বাড়াইতে ঠাকুর সে জানে।*
*🌷যেন করে ভক্ত,তেন করেন আপনে।।*
*🌷মনে বলে অদ্বৈত,কি কর,ভারি-ভূরি।*
*🌷চোরের উপর আগে করিয়াছ চুরি।।*
*🌷হাসিয়া অদ্বৈত কিছু করিলা উত্তর।*
*🌷"সবা" হৈতে তুমি মোর বড়, বিশ্বম্ভর।।*
*🌷কৃষ্ণ-কথা কৌতুকে থাকিব একঠাঁই।*
*🌷নিরন্তর তোমা ' যেন দেখিবারে পাই।।*
*🌷সর্ব-বৈষ্ণবের ইচ্ছা, তোমারে দেখিতে।*
*🌷তোমার সহিত কৃষ্ণ কীর্তন করিতে।।*
*🌷অদ্বৈতের বাক‍্য শুনি ' পরম-হরিষে।*
*🌷স্বীকার করিয়া চলিলেন নিজ-বাসে।।*
*🌷জানিলা অদ্বৈত,হৈল প্রভুর প্রকাশ।*
*🌷পরীক্ষিতে চলিলেন শান্তিপুর বাস।।*
*🌷সত‍্য যদি প্রভু হয়,মুই হঙ দাস*।
*🌷তবে মোরে বান্ধিয়া আনিবে নিজপাশ।।*
        *(চৈতন‍্য ভাগবত মঃ ২|১৪৪-১৫৬)*
*💧শ্রীনিত‍্যানন্দ এসে প্রভুর সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। একদিন প্রভু শ্রীনিত‍্যানন্দতত্ত্ব প্রকাশের জন্য শ্রীবাস-অঙ্গনে শ্রীব‍্যাস-পূজার অধিবাস দিনে বিষ্ণু-খট্টায় বসে আদেশ করলেন--,বলরাম স্তুতি পাঠ করো। চারিদিকে ভক্তগণ রাম স্তুতি পড়ছেন।প্রভু সর্বক্ষণ নাড়া,নাড়া, বলে মাথা ঢুলাচ্ছেন। সকলে বললেন, প্রভু!"নাড়া" কে?প্রভু বললেন-- যার হুঙ্কারে আমি এসেছি,যাঁকে অদ্বৈত আচার্য‍্য বলো, আমার এই অবতার যাঁর জন্য।আমারে বৈকুন্ঠ হতে এনে নিশ্চিন্তে হরিদাসকে নিয়ে শান্তিপুরে বসে আছেন।সংকীর্তন আরম্ভে আমার অবতার।আমি ঘরে ঘরে কীর্তন প্রচার করব।বিদ‍্যা-ধন-কুল-জ্ঞান-তপস‍্যার মদে আমার ভক্তেরচরণে যার অপরাধ আছে,সেই অধমগণকে প্রেমযোগ দিব না।এছাড়া অতিরিক্ত সকলকে ব্রহ্মাদিরও দুর্লভ প্রেম বিতরণ করব।*
*🍀একদিন মহাপ্রভু ঈশ্বরাবেশে শ্রীবাসের ভাই রামাইকে আজ্ঞা করলেন, রামাই! তুমি তাড়াতাড়ি শান্তিপুরে যাও।আচার্য‍্যকে আমার প্রকাশের কথা বলবে ও নির্জনে নিত‍্যানন্দের আগমন বার্তা বলবে।তাঁকে আমার পূজার সব উপহার সহ সত্বর সস্ত্রীক আসতে বলবে।রামাই শান্তিপুরে গিয়ে আচার্য‍্যের কাছে পৌঁছিবামাত্রই আচার্য‍্য বললেন-- মহাপ্রভু বুঝি আমাকে ডেকেছেন? রামাই করজোড়ে মহাপ্রভুর সবকথা বললেন।গৌরহরির আদেশ শুনে আচার্য‍্য আনন্দে মূর্ছিত হলেন।ক্ষণেকে বাহ‍্যজ্ঞান পেয়ে হুঙ্কার করে বলতে লাগলেন, আমার প্রভুকে আনিলাম,আমাকে কৃপা করতে আনিলাম,আমাকে কৃপা করতে প্রভু আমার বৈকুন্ঠ হতে এসেছেন, বলিয়া পুনঃ মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।তারপর কিছুক্ষণে চেতনা লাভ করে পূজার সামগ্রী সংগ্রহ করে তাড়াতাড়ি প্রভুপাদপদ্ম-মিলনে ব‍্যাকুল হয়ে চলিলেন।রামাইকে বললেন--,তিনি যদি আমার প্রভু হন,তবে নিজ ঐশ্বর্য‍্য দেখাবেন এবং আমার মস্তকে শ্রীচরণ অর্পণ করবেন।এটি মন থেকে সত‍্য কথা বললাম।রামাই বললেন, আমার সৌভাগ্য হলে দেখতে পাব।তখন আচার্য‍্য রামাইকে বললেন, তুমি প্রভুকে বলবে,আচার্য‍্য আসিলেন না। দেখি প্রভু আমায় কি বলেন ; আমি নন্দন আচার্য‍্যের বাড়ীতে গিয়ে গোপনে থাকব।রামাই মহাবিপদে পড়লেন। মহাপ্রভুর কাছে মিথ‍্যাকথা বলবেন?না আচার্য‍্যের আদেশ লঙ্ঘন করবেন?মহাচিন্তায় বিভোর হয়ে মহাপ্রভুর শরণাগত হলেন। সর্বজ্ঞ শিরোমণি মহাপ্রভু রামাইকে দেখামাত্র বললেন, "নাড়া আমাকে পরীক্ষা করতে তোমাকে পাঠিয়েছে।নাড়া আমাকে জেনেও সর্বদা আমার প্রকাশের নানা কৌশল করছে।নন্দন আচার্য‍্যের ঘরে থেকে তোমাকে পাঠিয়েছে।তুমি তাড়াতাড়ি নাড়াকে ডেকে আন।" রামাই মহানন্দে নন্দন আচার্য‍্যের গৃহে গিয়ে মহাপ্রভুর আদেশ কথা বললেন।বাঞ্জাকল্পতরু মহাপ্রভুর কৃপাদেশ পেয়ে আচার্য‍্য তাড়াতাড়ি পূজার দ্রব‍্যসহ প্রভুর স্থানে গিয়ে দূর হতে দন্ডবৎ করে স্তব পাঠ করতে করতে সামনে গিয়ে নিখিল ব্রহ্মান্ডের অপরূপ বেশ দেখলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita4.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






জন্মাষ্টমী তিথি নির্ণয় ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/krishna.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
জন্মাষ্টমী তিথি নির্ণয় ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/krishna.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*#জন্মাষ্টমী_তিথি_নির্ণয়;*

*#জন্মাষ্টমী_ব্রত_উদযাপন_৭ইসেপ্টেম্বর_২০২৩_বৃহস্পতিবার_। ০৬সেপ্টেম্বর ২০২৩ বুধবার গৌড়ীয় বৈষ্ণব  পরম্পরা অনুসারে জন্মাষ্টমী হবে না।

#স্কন্দপুরাণে বলা আছে 
*উদয়ে_চাষ্টমী_কিঞ্চিন্নবমী_সকলা_যদি। 
অর্থাৎ সূর্যোদয়ের সময়ে যদি অষ্টমী তিথি থাকে এবং তারপরে যদি সারাদিন নবমী তিথির সংযোগ ঘটে  তাহলে সেই তিথিতেই জন্মাষ্টমী ব্রত কর্তব্য।
#ভবিষ্যপুরাণে বলা আছে
*নবম্যাং_যোগনিদ্রায়া_জন্মাষ্টম্যাং_হরেস্ততঃ।*  *নবম্যা_সহিতোপোষ্যা_রোহিণী_বুধ_সংযুতা।।*

অর্থাৎ নবমীতে যোগনিদ্রা এবং অষ্টমীতে হরি অবতীর্ণ হন।তাই  নবমীযুক্ত অষ্টমী তিথি যদি রোহিণী নক্ষত্র সমন্বিতা হয় তাহলে সেই নবমী যুক্ত অষ্টমী তেই উপবাস কর্তব্য।
#পদ্মপুরাণে বলা আছে
*মুহূর্ত্তেনাপি_সংযুক্তা_সম্পূর্ণাচাষ্টমী_ভবেৎ।     কিং_পুনর্নবমীযুক্তা_কুলকোট্যাস্তু_মুক্তিদা।।*

অর্থাৎ নবমী যুক্ত অষ্টমী তিথির আরাধনা তে কোটিকুল মুক্তিপ্রাপ্ত হয়।
#পদ্মপুরাণে বলা হয়েছে,
*পঞ্চগব্যং_যথা_শুদ্ধং_ন_গ্রাহ্যং_মদ্যসংযুক্তম্।   রবিবিদ্ধা_তথা_ত্যজ্যা_রোহিণী_সহিতা_যদি*॥

অনুবাদ: যদিও পঞ্চগব্য পবিত্র, কিন্তু এতে মদ মিশলে আর তা গ্রহণযোগ্য থাকেনা, তেমনিভাবে রোহিণী নক্ষত্র সংযুক্তা হলেও সপ্তমীবিদ্ধা অষ্টমী গ্রহণযোগ্য নয়।"

*#কৃষ্ণোপাস্যাষ্টমী_ভাদ্রে_রোহিণ্যাঢ্যা_মহাফলা।   #নিশীথেঽত্রাপি_কিঞ্চেন্দৌজ্ঞেবাপি_নবমীযুতা॥*

অর্থাৎ, ভাদ্রমাসে কৃষ্ণাষ্টমী উপবাস যোগ্যা। রোহিণী নক্ষত্রযুক্তা হলে আরও অধিক ফলপ্রদা। আর নবমী তিথি সংযুক্তা হলে আরও অধিক ফলপ্রদা হয়। অর্থাৎ নবমী তিথি যুক্ত জন্মাষ্টমী অধিক শ্রেষ্ঠ। অন্যদিকে পূর্বতিথি সপ্তমী, যা বিদ্ধা জন্মাষ্টমী সর্বদা ত্যজ্য।
এখন #বিশুদ্ধ_সিদ্ধান্ত_পঞ্জিকা অনুযায়ী আগামী     #০৬_সেপ্টেম্বর_২০২৩_বুধবার_বিকাল_০৩টা৩৯মিনিট_থেকে_০৭_সেপ্টেম্বর_২০২৩বৃহস্পতিবার_বিকাল০৪টা১৫মিনিট_পর্যন্ত_অষ্টমী তিথি বিরাজিত। #বৃহস্পতিবার_নবমী_তিথি_শুরু_হচ্ছে_বিকাল_৪টা১৬মিনিট থেকে। সুতরাং উপরিউক্ত মতানুসারে যদি নবমী যুক্ত অষ্টমী তিথি জন্মাষ্টমী ব্রত হিসাবে নির্ধারিত হয় তবে #৭সেপ্টেম্বর_বৃহস্পতিবার এই তিথির সংযোগ ঘটছে।ঐদিন #সকাল_১০টা২৫মিনিট_পর্যন্ত_রোহিণী_নক্ষত্রের যোগ আছে।

 #পি_এম_বাকচি_পঞ্জিকা অনুযায়ী ০৬_সেপ্টেম্বর_২০২৩_বুধবার_রাত_০৮টা১৩মিনিট_থেকে_০৭_সেপ্টেম্বর_২০২৩বৃহস্পতিবার_রাত০৮টা০৫মিনিট_পর্যন্ত_অষ্টমী তিথি বিরাজিত। #বৃহস্পতিবার_নবমী_তিথি_শুরু_হচ্ছে_রাত০৮টা০৬মিনিট_থেকে #ঐদিন_বিকেল৩টা১৯_মিনিট_পর্যন্ত_রোহিণী_নক্ষত্রের_যোগ আছে। সুতরাং পি এম বাকচি পঞ্জিকা অনুযায়ীও #বৃহস্পতিবার_৭সেপ্টেম্বর_জন্মাষ্টমী_ব্রত তিথি নির্ণয় করা হয়েছে।

এবার আসা যাক কেন ৬ইসেপ্টেম্বর_২০২৩_বুধবার_ জন্মাষ্টমী পালন হবে না সেই বিষয়ে ।

#হরিভক্তিবিলাসে বলা আছে ত্যাজ্যা_বিদ্ধা_চ_সপ্তম্যা_সা_বিদ্ধৈকাদশী_যথা।অর্থাৎ দশমী বিদ্ধা একাদশী ত্যাগের মতো সপ্তমী বিদ্ধা অষ্টমী ত্যাগ করা উচিত।
#ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে বলা আছে
বর্জ্জনীয়া_প্রযত্নেন_সপ্তমীসহিতাষ্টমী।অর্থাৎ সপ্তমী সহিত যে অষ্টমী তা যত্নপূর্বক বর্জন করতে হবে। এখন 
#৭সেপ্টেম্বর_বৃহস্পতিবার_অষ্টমী_থাকছে_বিকাল_০৪টা১৫মিনিট_পর্যন্ত-বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী। 
আর পি.এম.বাকচি পঞ্জিকা অনুযায়ী #৭সেপ্টেম্বর_বৃহস্পতিবার_অষ্টমী_থাকছে_রাত_৮টা৫মিনিট_পর্যন্ত।

এবার আসা যাক শ্রীমন্মহাপ্রভুর অভিপ্রায়ে। সনাতন গোস্বামী কে মহাপ্রভু বলেছেন-
#একাদশী_জন্মাষ্টমী_বামনদ্বাদশী।
#শ্রীরামনবমী_আর_নৃসিংহচতুর্দশী।।
#এইসবে_বিদ্ধা_ত্যাগ_অবিদ্ধাকরণ।
#অকরণে_দোষ_কৈলে_ভক্তির_লঙ্ঘন।।অর্থাৎ জন্মাষ্টমী সহ অন্যান্য তিথিতে বিদ্ধা ত্যাগ করতে হবে। যেহেতু ৬ইসেপ্টেম্বর_২০২৩_বুধবার_ সপ্তমী বিদ্ধা অষ্টমী থাকছে_তাই ঐদিন জন্মাষ্টমী ব্রত পরিত্যাগ করে পরের দিন #৭ইসেপ্টেম্বর_২০২৩_বৃহস্পতিবার_ পালন করতে হবে।
পারণ-পরদিন ৮সেপ্টেম্বর  শুক্রবার সকাল ০৯টা৩২মিনিটের মধ্যে- বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে এবং পি এম বাকচি পঞ্জিকা অনুযায়ী 

*(ইতি জন্মাষ্টমী তিথি নির্ণয় বিধি)*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী দীপ বাগুই 📖 👇꧂
      এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-বাগুইপাড়া, বাগুইআটি,  উত্তর চব্বিশ পরগনা, কোলকাতা-৭০০১৫৯
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

adds