শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৭১. দাক্ষিণাত‍্য ভ্রমণ উদ্দেশ্যে 🚩 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭১) 🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
           *দাক্ষিণাত‍্য ভ্রমণ উদ্দেশ্যে*
          👣👣👣👣👣👣👣👣
*শ্রীগৌরহরি সন্ন‍্যাসী।তাঁর আত্মা বিহঙ্গমের মত এখন মুক্তাকাশে বিচরণ করবার জন্য উন্মুক্ত হয়েছে ; তিনি সংসারের সকল বন্ধন ছিন্ন করেছেন।এখন দেশ-দেশান্তরে ভ্রমণ করে নানা তীর্থ দর্শন করবেন, সাধুগণের সঙ্গে মিলিত হয়ে ধর্মপ্রসঙ্গ করবেন ও হরিগুণ কীর্তনে নরনারীকে প্রেমের পথে,পরিত্রাণের পথে আনয়ন করবেন, এই তাঁর সঙ্কল্প।মাঘ মাসের শুক্লপক্ষ তিথিতে শ্রীগৌরাঙ্গদেব সংসারের সকল মায়া মমতায় বিসর্জন দিয়ে,সন্ন‍্যাসব্রত গ্রহণ করেন, এবং সন্ন‍্যাসান্তে ফাল্গুন মাসে নীলাচলে আগমন করেন।চৈত্রমাসে সেখানে অবস্থিতি করে সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যকে নিজ মতে আনয়ন করেন।চৈত্রমাস অন্তে তিনি দক্ষিণ প্রদেশে গমন করবার জন্য উৎসুক হয়ে উঠেন।তিনি ভক্তগণকে বললেন,দেখ,তোমরা আমার প্রাণাপেক্ষাও প্রিয় ; প্রাণ ছাড়া যায়, কিন্তু তোমাদেরকে পরিত‍্যাগ করা যায় না।তোমরা আমাকে এখানে এনে যথার্থই বন্ধুর কাজ করেছ।এখন আমি দক্ষিণ প্রদেশে গমন করবার জন্য বাসনা করেছি।বিশ্বরূপের সন্ধান এটি আমার একটা প্রধান উদ্দেশ্য।আমি একাকীই গমন করব, তোমরা আমাকে অনুমতি প্রদান কর।মহাপ্রভুর কথা শুনে তাঁর ভক্তগণ চিন্তাকুল হয়ে পড়লেন।তাঁদের প্রফুল্ল মুখমন্ডল যেন মেঘাবৃত হয়ে পড়ল।তিনি দুর্গম পথে কিভাবে একাকী বিচরণ করবেন,এই ভাবনাই তাঁদের প্রধান চিন্তার কারণ হয়ে উঠিল। নিত‍্যানন্দ বললেন,"না,তা হবে না " তোমার সঙ্গে দুই-একজন লোক গমন করুক।আমি দক্ষিণপথে পর্য‍্যটন করেছি ; তুমি যদি আজ্ঞা কর,আমি তোমার সঙ্গে গমন করি। শ্রীচৈতন‍্যদেব তাঁর কথা শুনে বললেন, "আমি নর্তক,তুমি সূত্রধার,তুমি যেমন ভাবে আমাকে নাচাও আমি সেই ভাবেই নেচে থাকি।আমি বৃন্দাবন যেতে ইচ্ছে করলাম, তুমি আমাকে শান্তিপুর অদ্বৈতভবনে এনে উপস্থিত করলে।নীলাচলে আসিবার সময় তুমি আমার দন্ড ভেঙ্গে ফেললে।আর এক কথা,তোমাদের গাঢ় স্নেহেতে আমার সন্ন‍্যাসধর্মের ক্ষতি হচ্ছে।জগদানন্দ আমাকে বিষয়-সুখে আবদ্ধ করতে সর্বদাই প্রয়াসী।আমি তার কাজের বিরুদ্ধে কোন কথা বললেই, সে অভিমান করে আমার সঙ্গে তিনদিন কথা বন্ধ করে থাকে।শীতকালেও আমি দিনে তিনবার স্নান করি ও ভূমিতে শয়ন করি দেখে, মুকুন্দ বড়ই দুঃখিত হয় ; অথচ মুখে প্রকাশ করে না।তার দুঃখ দেখে আমারও প্রাণে বড় কষ্ট হয়।তোমরা সকলে নীলাচলে বাস কর, আমি একাকী তীর্থ পর্য‍্যটন করে আসি।মহাপ্রভুর কথা শুনে তাঁর অনুগত ভক্তগণ তাঁকে একাকী তীর্থ পর্য‍্যটনের অসুবিধা হতে প্রতিনিবৃত্ত হবার জন্য অনেক অনুনয় বিনয় করলেন ; কিন্তু তবুও তাঁর সঙ্কল্প অটুট রইল দেখে অবধূত নিত‍্যানন্দ অতি বিনয়ের সঙ্গে তাঁর জীবনের জীবন শ্রীচৈতন‍্যদেবকে বললেন, তোমার আদেশ আমার শিরোধার্য‍্য। কিন্তু আমার একটা নিবেদন আছে,তুমি বিচার করে দেখ,তোমার আঙ্গুলী সদাই হরিনাম জপে নিযুক্ত থাকে। তুমি কখন কখন প্রেমাবেশে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়বে,এই জন্য তোমার কৌপীন বহির্বাস ও জলপাত্র বহন করতে ও তোমাকে রক্ষা করবার জন্যও একজন লোকের আবশ্যক। নিত‍্যানন্দ শ্রীচৈতন‍্যকে এই কথা বলে, তিনি কৃষ্ণদাস নামক একজন ব্রাহ্মণকে তাঁর সঙ্গের সঙ্গী করতে অনুরোধ করে বললেন, কৃষ্ণদাস তোমার সঙ্গে গমন করুক,সে মস্তকে বহন করে কাজ করবে। নিত‍্যানন্দের এত অনুনয় বিনয় শুনে,মহাপ্রভু তাঁর কথায় সম্মতি দান করলে,তাঁরা সকলে মিলে সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যের ভবনে গমন করলেন। ভট্টাচার্য্য মহাশয় তাঁদেরকে যথোচিত সম্মান করে বসতে আসন দিলেন।কিছুক্ষণ কৃষ্ণকথা প্রসঙ্গের পর শ্রীচৈতন‍্যদেব ভট্টাচার্য্যকে বললেন, বিশ্বরূপ সন্ন‍্যাস গ্রহণ করে দক্ষিণাপথে গমন করেছেন,আমি তাঁর অন্বেষণে সেই অঞ্চলে ভ্রমণ করতে সঙ্কল্প করেছি, এখন তোমার অনুমতি প্রার্থনা করছি। সার্বভৌম তাঁর দেশ ভ্রমণের কথা শুনে দুঃখে কাতর হয়ে পড়লেন, এবং তাঁর চরণ ধরে বললেন, আমি বহু পুণ‍্যফলে তোমার সঙ্গলাভ করেছিলাম,হায়! বিধি সে সঙ্গ আমার ভেঙ্গে দিলেন, আমার শিরে যদি বজ্রপাত হয় ও আমার সন্তান মৃত‍্যুমুখে নিপতিত হয়, আমি তাহাও সহ‍্য করতে পারি, কিন্তু তোমার বিচ্ছেদ,তদপেক্ষা আমার পক্ষে অসহনীয়।তবে যদি তুমি নিতান্তই যেতে চাও, তাহলে আর দিন কয়েক এখানে থাক, আমি তোমার শ্রীচরণ দর্শন করে জীবন শীতল করি। শ্রীচৈতন‍্যের হৃদয় স্নিগ্ধ কুসুমসমান কোমলতাত পূর্ণ। তিনি সার্বভৌমের মিষ্ট কথায় ও মধুর ব‍্যবহারে তাঁর অনুরোধ একেবারে অগ্রাহ‍্য করতে পারলেন না। সার্বভৌম ভট্টাচার্যের প্রতি গৌরহরির অচলা ভক্তি ; তাঁকে একটু সুখী করতে পারলে তিনিও নিজেকে আনন্দিত মনে করেন।গৌরসুন্দর তাঁর কথায় স্বীকৃত হয়ে চার-পাঁচদিন পুরীতে থাকলেন এবং সার্বভৌম কর্তৃক নিমন্ত্রিত হয়ে এই কয়েক দিন তাঁরই বাসভবনে আহার করলেন।সার্বভৌমের পত্নী মহাপ্রভুর জন্য বিবিধ ব‍্যঞ্জন রন্ধন করে তাঁকে মনোসুখে ভোজন করালেন।মহাপ্রভুও আহার করে পরম তৃপ্তি লাভ করতেন।*

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৭২. দাক্ষিণাত‍্য ভ্রমণ উদ্দেশ্য 🚩 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭২) 🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
         *দাক্ষিণাত‍্য ভ্রমণ উদ্দেশ্য*
         👥👥👥👥👥👥👥👥
*🍁নির্দ্ধারিত দিন ফুরিয়ে গেল।শ্রীচৈতন‍্যদেব আর বিলম্ব করতে পারলেন না। সার্বভৌমের কাছে দক্ষিণাপথ যাবার প্রস্তাব করে অনুমতি পেলেন।পর্য‍্যটনের আগে মহাপ্রভুও তাঁর ভক্তগণসহ শ্রীজগন্নাথ দেবের মন্দিরে গমন করে, তাঁর আশীর্বাদ ও অনুমতি প্রার্থনা করলেন। পূজারী এই অতুল সৌন্দর্য্যপূর্ণ নবীন সন্ন‍্যাসীর গলে মালা পরিয়ে,তাঁকে প্রসাদান্ন প্রদান করলেন।গৌরসুন্দর শ্রীজগন্নাথদেবের অনুগ্রহ ও সকলের শুভ প্রার্থনা মস্তকে ধারণ করে দক্ষিণ দেশে যাত্রার জন্য প্রস্তুত হলেন।*
*🍀সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য,চৈতন‍্যদেবের জন্য চারটা নতূন কৌপীন ও চারটা বহির্বাস প্রস্তুত করাইয়ে রেখেছিলেন ; গোপীনাথ তা নিয়ে আলালনাথ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে গমন করলেন।যাবার সময় বাসুদেব ভট্টাচার্য্য মহাপ্রভুকে বললেন, গোদাবরী (দাক্ষিণাত‍্যের মধ্যে প্রসিদ্ধা নদী, সেটি ব্রহ্মগিরি পর্বত হতে উৎপন্ন হয়েছে)।তীরে বিদ‍্যানগরে রামানন্দ রায় নামে একজন বৈষ্ণব আছেন ; ঐশ্বর্য‍্যের মধ্যে বসবাস করলেও এমন সুপন্ডিত ও ভগবদ্ভক্ত খুবই কম দৃষ্টি গোচর হয়।তুমি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।বিষয়ী বা শূদ্র বলে তাঁকে উপেক্ষা করবে না।তাঁর সহিত ধর্মপ্রসঙ্গ করলেই তুমি বুঝতে পারবে।তিনি কি রকম পরমভক্ত। এমন কৃষ্ণপ্রেমানুরাগী,সুরসিক ভক্তকে আমি পূর্বে ভাল করে বুঝতে না পেরে তাঁকে বৈষ্ণব বলে উপহাস করতাম, এখন তোমার কৃপায় বৈষ্ণবধর্মের মর্ম বুঝতে পেরেছি।গৌরহরি সার্বভৌমের কথা পালন করতে অঙ্গীকার করে, ভট্টাচার্য্যকে প্রেমভরে গাঢ় আলিঙ্গন করে দক্ষিণদেশে যাত্রা করলেন।*
*☘নিত‍্যানন্দ প্রভৃতি কয়েকজন অনুগত ভক্ত তাঁর অনুগমন করলেন।এদিকে সার্বভৌমের অন্তরে মহাপ্রভুর বিচ্ছেদ-যন্ত্রণা এতই প্রবলতর হয়ে উঠিল যে,তিনি আর স্থির থাকতে না পেরে, ভূতলে পড়ে অচেতন হলেন।যাত্রীদল বিশাল বারিধির উপকূল দিয়ে চলতে লাগলেন।যেতে যেতে তাঁরা আলালনাথে উপস্থিত হলেন।মহাপ্রভু আলালনাথের সামনে উপস্থিত হয়ে ভক্তিভরে তাঁকে প্রণাম করলেন, এবং নিজের স্বভাবসিদ্ধ প্রকৃতি অনুসারে নৃত্য করতে লাগলেন।হরিনামের মধুর ধ্বনিতে সকলের কানে যেন সুধা বর্ষিত হতে লাগল। শ্রীমন্মহাপ্রভুর রূপলাবণ‍্য, তরুণযৌবনে কঠোর বৈরাগ‍্য ও ভগবানের প্রতি অলৌকিক প্রীতি দেখে লোকে দলে দলে আলালনাথ দেবমন্দির সম্মুখে এসে উপস্থিত হ'ল।*
*🌹চারিদিকে লোকে পরিপূর্ণ হয়ে গেল।গৌরহরি হৃদয়ের ভগবৎ-প্রেম তড়িৎপ্রবাহের মত সকলকে হরিপ্রেমে উন্মত্ত করে তুললেন।বহুজনাকীর্ণ লোকমন্ডলীর মধ‍্য হতে আকাশভেদী হরিধ্বনি উত্থিত হতে লাগল।মধ‍্যাহ্ন সূর্য‍্য ক্রমে পশ্চিমদিকে হেলে পড়লেন, কিন্তু তবুও জনতার হ্রাস হল না।গৌরহরির অশ্রু-কম্প-পুলক মিশ্রিত ভাব দেখে, সকলেই বিমুগ্ধ।হরিনামের পীযূষ(সুধা) পানে সকলেই আত্মহারা।সমবেত নরনারীর সে জায়গা পরিত‍্যাগ করবার ক্ষমতা ছিল না।নিত‍্যানন্দ সেই আনন্দ কোলাহলপূর্ণ প্রেমের হাট দেখে ভক্তগণকে সম্বোধন করে বললেন, ভাই সব,হরিনামের মধুর হিল্লোলে চারিদিকে প্রবাহিত হবে,গ্রামে গ্রামে নরনারী এই হরিসংকীর্তনে মেতে উঠবে।*
*নিত‍্যানন্দ দেখলেন,গৌরহরি যে হরিনামে মত্ত হয়েছেন,তাঁকে ধরে নিয়ে আহার না করালে দিন অবসান হলেও তাঁর নৃত্য থামবে না।হরিনামে উন্মত্ত ভক্তগণও এস্থান ত‍্যাগ করবে না।তিনি গৌরসুন্দরকে ভোজন করাবার জন্য সেখান হতে তাঁকে নিয়ে গেলেন। কিন্তু বহুসংখ‍্যক ভক্ত,অলিকুলের মত,তাঁর পশ্চাদবর্তী হল।নিত‍্যানন্দ তাঁকে একটু নিভৃত স্থানে নিয়ে গিয়ে ভোজন করালেন।মহাপ্রভুর ভোজনান্তে ভক্তেরাও নিজেদের জীবনকে কৃতার্থ করবার জন্য তাঁর ভোজন পাত্রের অবশিষ্ট খাদ‍্যদ্রব‍্য কিছু কিছু অংশ সেবা করলেন।আহারান্তে নিত‍্যানন্দ তাঁকে নিয়ে মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করলেন, এবং লোকসংঘ হতে কিছু সময় মহাপ্রভুকে বিশ্রাম করাবার জন্য, মন্দিরের দ্বার রুদ্ধ করে দিলেন।দ্বার রুদ্ধ হল বটে, কিন্তু হাজার হাজার লোক দেবমন্দিরের বাইরে দাঁড়িয়ে হরিনামের ধ্বনিতে চারিদিক নিনাদিত করতে লাগল। শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের আলালনাথ দেবমন্দিরে আগমন ও তাঁর অপূর্ব ভক্তি লীলার কথা,মুখে মুখে সর্বত্র বর্ণিত হয়ে,গ্রাম-গ্রামান্তরেও প্রবেশ করেছিল।মানবজীবনের এমন শান্তিপথ-প্রদর্শক, এমন মুক্তিপথের সহায়কে দর্শন করে জীবন কৃতার্থ করবার জন্য দলে দলে লোক আসতে লাগল।গৌরহরি আজ আনন্দে ভরপুর।মহাপ্রভু রুদ্ধ দ্বার উন্মুক্ত করতে বললেন।দ্বার খোলা হলে, চৈতন‍্য-দর্শনাভিলাষী নরনারী তাঁর দর্শন লাভ করে মহোল্লাসে হরিধ্বনি করতে লাগল।গৌরসুন্দরও আবার পূর্ববৎ নৃত্য ও কীর্তন করতে লাগলেন।আলালনাথের মন্দির আজ এক জীবন্ত দেবতার আবির্ভাবে উৎসবময় হয়ে উঠেছে। হাজার হাজার লোক শ্রীচৈতন‍্যের পদানুসরণ করে তাঁর প্রদর্শিত বৈষ্ণবধর্মের পথ অবলম্বন করিল।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৩) 🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
            *রামানন্দ রায় সম্মিলন*
                 *অতি সংক্ষেপে*
            <><><><><><>>>>><><>
*🌻রজনী প্রভাত হয়ে গেল।গৌরসুন্দর স্নান করে দক্ষিণপথ পর্য‍্যটনের জন্য আলালনাথ হতে যাত্রা করলেন।বিদায়কালে তিনি প্রেমভরে ভক্তগণকে আলিঙ্গন করলেন। কিন্তু প্রেমময় গৌরহরির বিচ্ছেদ ভক্তদের এতই অসহনীয় হয়ে পড়িল যে,তাঁরা আর স্থির থাকতে না পেরে,সংজ্ঞাহীন হয়ে ভূতলে পড়ে গেলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব সকল মায়ার অতীত হয়েছেন,তাঁর সকল বন্ধন ছিন্ন হয়ে গেছে ; তিনি যাত্রাকালে কারও জন্য পেছনদিকে একবারও তাকিয়ে দেখলেন না।অতুল অনুরাগভরে কৃষ্ণগুণ কীর্তন করতে করতে চলতে লাগলেন।পথিমধ‍্যে তাঁর কন্ঠ হতে, সুধাবর্ষী হরিনামের ধ্বনি শুনে,শত শত লোক তাঁর পশ্চাদনুবর্তী হয়ে তাঁর সঙ্গে সুধামাখা নামকীর্তন করতে লাগল।বহুলোক তাঁর অনুসরণ করলে,তিনি কিছুদূর গমন করার পর সকলকে আলিঙ্গন করে,গৃহে ফিরে যেতে বললেন।লোকে সে পবিত্র হরিরসপূর্ণ দেহের আলিঙ্গন লাভ করে, হরিপ্রেমে আপ্লুত হয়ে পড়ল, সকলের দেহ-মনে এক অপার্থিব তেজোময় শক্তির সঞ্চার হতে লাগল, সকলেই শ্রীচৈতন‍্যের অভিনব ভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে হরিধ্বনি করতে করতে গৃহে গমন করতে লাগলেন।তাঁদের কন্ঠনিঃসৃত হরিধ্বনি শুনে,অন‍্যেরাও সেই সুধামাখা শ্রীনাম উচ্চারণ করতে লাগল।এইভাবে গ্রাম হতে গ্রামান্তরে শ্রীনামের পবিত্র ও মধুর হিল্লোলে সকলের হৃদয় শীতল হতে লাগিল। দক্ষিণাপথের হাজার হাজার নরনারী হরিভক্ত হয়ে উঠিল।শ্রীচৈতন‍্য ক্রমে সেতুবন্ধে,(একে রামেশ্বর সেতুবন্ধ বলে।এটি একটি সুবিখ‍্যাত দ্বীপ)।এসে উপস্থিত হলেন, এবং সেখান হতে তিনি কূর্ম্ম নামক স্থানে গমন করলেন।এখানে কূর্ম্মাবতারের মন্দির আছে।শ্রীচৈতন‍্য কূর্ম্মদেবের গমন করে যথারীতি তাঁর স্তবস্তুতি করলেন, এবং নিজের প্রকৃতি অনুসারে নৃত‍্য গীতাদি বহু সময় করলেন।যারা তাঁর মোহন মূর্তি ও হরিপ্রেমের অপূর্ব দর্শন করিল,তারাই বিমুগ্ধ হয়ে গেল। তাঁর হরিপ্রেমানুরাগের কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।গ্রামবাসীরা দলে দলে এমন মোহনমূরতি নবীন সন্ন‍্যাসীর দর্শন লালসায়,দেবমন্দিরের কাছে এসে উপস্থিত হল।প্রেমের স্রোত বহিতে লাগল--, এবং শত শত লোক সে মধুর স্রোতে নিজেদের অঙ্গ ভাসিয়ে দিল।*
*তাই শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী তাঁর অমর গ্রন্থ শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে লিখেছেন=*
*🌷আশ্চর্য‍্য শুনি সব লোক আইল দেখিবারে।*
*🌷প্রভু রূপ প্রেম দেখি হৈল চমৎকারে।।*
*🌷দর্শনে বৈষ্ণব হৈলা বলে কৃষ্ণ হরি।*
*🌷প্রেমাবেশে নাচে লোক উর্দ্ধবাহু করি।।*
*🌷কৃষ্ণনাম লোক মুখে শুনি অবিরাম।*
*🌷সেই লোক বৈষ্ণব কৈল অন‍্য সব গ্রাম।।*
*🌷এই মত পরম্পরায় দেশ বৈষ্ণব হৈল।*
*🌷কৃষ্ণনামামৃত বন‍্যায় দেশ ভাসাইল।।*
*🌻এই কূর্ম্মস্থানে কূর্ম্ম নামক এক বৈদিক ব্রাহ্মণ বাস করতেন।তিনি মহাপ্রভুর চিত্তহারী শক্তির কথা শুনে, তাঁকে আপন আলয়ে আনিবার জন্য তাঁর কাছে উপস্থিত হলেন, এবং করযোড়ে, নিজ অভিপ্রায় নিবেদন করিলেন।শ্রীচৈতন‍্য তাঁর ব‍্যাকুলতা ও নিষ্ঠার পরিচয় পেয়ে ব্রাহ্মণের প্রার্থনা অনুসারে তাঁর বাসভবনে গমন করলেন।কূর্ম্ম এবং তাঁর পরিবারের সকলে গৌরহরির আগমনে পরম কৃতার্থ বোধ করলেন।কূর্ম্ম তাঁর শ্রীচরণ ধৌত করে দিলেন, এবং তিনি ও তাঁর পরিবারবর্গ সকলে মিলে সেই চরণামৃত পান করলেন।পাদ প্রক্ষালন করিবার পর গৃহস্বামী তাঁর ভোজনের আয়োজন করে, অতি বিনীতভাবে তাঁকে ভোজন করতে অনুরোধ করিলে, মহাপ্রভু সম্মত হয়ে, কূর্ম্মের বাড়ীতে সেদিন ভোজন করলেন।ভোজনান্তে তাঁর প্রসাদান্ন সকলে পেয়ে পরম তৃপ্তি লাভ করলেন। কূর্ম্ম মনে করতে লাগলেন যে, তিনি ঘরে বসে আজ স্বর্গের দেবতাকে দর্শন করলেন, এবং তাঁর পরিবারের সকলেই বহু পুণ‍্যফলে আজ সে দেবতার দর্শন লাভে জীবন সফল করিল।কূর্ম্ম অবশেষে হৃদয়ের আবেগ সংবরণ করতে না পেরে,শ্রীচৈতন‍্যদেবকে বলতে লাগলেন,প্রভো! তোমার পাদপদ্ম দর্শনের জন্য ব্রহ্মাদির মত দেবগণও তপস‍্যা করে থাকেন,আজ তুমি স্বয়ং আমার মত ব‍্যক্তির ঘরে আগমন করলে, তোমার শ্রীচরণ দর্শন ও স্পর্শ করলাম। এর তুল‍্য আমার উচ্চভাগ‍্য আর কি হতে পারে? আজ আমার মানব জন্ম ধন‍্য হল, আমার কুল কৃতার্থ হল।প্রভো!তুমি যদি কৃপা কর, আমি তোমার সঙ্গের সাথী হই, বিষয়ের দুঃখ আর ভোগ করতে ইচ্ছে হয় না। কূর্ম্ম সংসার পরিত‍্যাগ করে সঙ্গের সাথী হবার বাসনা নিবেদন করিলে, মহাপ্রভু তাঁকে সংসার ত‍্যাগ করতে নিষেধ করে বললেন, তুমি ঘরে বসে কৃষ্ণনাম কর, ঘরে বসেই তুমি সে ধন লাভ করবে। হ‍্যাঁ, আর যাকে দেখবে তাকেই শ্রীকৃষ্ণের কথা বলে উপদেশ দিবে। আমার আদেশ তুমি গুরুর ন‍্যায় এদেশে শ্রীকৃষ্ণের মধুময় নামকীর্তন করে,দেশের লোকের উদ্ধার সাধন কর।সংসার তোমার কাজের প্রতিকূলাচরণ করতে সমর্থ হবে না।মহাপ্রভু বৈদিক ব্রাহ্মণ কূর্ম্মের গৃহে সেদিন যাপন করে,পরদিন প্রভাতে পর্য‍্যটনের জন্য যাত্রা করলেন।কূর্ম্মও তাঁর সঙ্গে গমন করতে লাগলেন। কিন্তু কিছুদূর গমন করলে,মহাপ্রভুর আদেশে তিনি গৃহে ফিরে এলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৪)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
                *রামানন্দ সম্মিলন*
                    *অতি সংক্ষেপে*
              ▪▪▪▪▪▪▪
*🍀ঐ অঞ্চলে বাসুদেব নামে জনৈক ব্রাহ্মণ কুষ্ঠরোগগ্রস্ত হয়ে অতি কষ্টে জীবন যাপন করছিলেন।তাঁর শরীরের ক্ষতস্থান সব কীটাণুতে পূর্ণ হয়ে থাকত।বাসুদেব যখন শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের আগমনবার্তা শুনলেন,তখন তিনি তাঁর দর্শন লালসায়, কূর্ম্মের গৃহাভিমুখে গমন করলেন ; কিন্তু কূর্ম্মভবনে উপস্থিত হয়ে যখন শুনলেন যে, মহাপ্রভু চলে গিয়েছেন, তখন তিনি শোকে ও দুঃখে অধীর হয়ে,বিলাপ করতে করতে হতচেতন হয়ে পড়লেন।এদিকে দয়ার্দ্রচিত্ত করুণার অবতার শ্রীচৈতন‍্যদেব যেতে যেতে কুষ্ঠরোগগ্রস্ত বাসুদেবের কাতরোক্তি হৃদয়ে অনুভব করে, পুনরায় কূর্ম্মস্থানে কূর্ম্মগৃহে আগমন করে বাসুদেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে প্রেমভরে আলিঙ্গন করলেন ; করুণাময় মহাপ্রভুর প্রেমালিঙ্গনে বাসুদেবের ব‍্যাধি আরোগ‍্য হয়ে গেল।তাঁর রোগগ্রস্ত কুৎসিত অঙ্গ সুন্দর হয়ে উঠিল। বাসুদেব তাঁর অলৌকিক শক্তি দেখে, বললেন,প্রভো!এ শক্তি একমাত্র তোমাতেই সম্ভব। কিন্তু প্রভো! আমার দেহ এমন সুন্দর হল বলে মনে অহংকার জন্মিতে পারে ;আমি যখন কীটদষ্ট হয়ে রোগভোগ করছিলাম,তখন আমি নিজেকে অধম বলে মনে করতাম ; আমার আত্মার কল‍্যাণের পক্ষে তাইই শ্রেয়স্কর ছিল।মহাপ্রভু বুঝলেন, বাসুদেব সত‍্যই পরমভক্ত ;তিনি তাই বললেন, তুমি সদাসর্বদা শ্রীকৃষ্ণের নামকীর্তন কর, ও সব লোকের মধ্যে শ্রীনাম প্রচার কর। অভিমান তোমাতে স্থান পাবে না।এই বলে মহাপ্রভু সেখান হতে চলে গেলেন। কূর্ম্ম ও বাসুদেব পরস্পর কন্ঠালিঙ্গন করে উভয়ে মহাপ্রভুর প্রেমলীলা স্মরণ করতঃ অশ্রু ফেলতে লাগলেন।*
*🍁কূর্ম্মস্থানে হরিনামের প্লাবনে সকলকে প্লাবিত করে শ্রীচৈতন‍্যদেব পরদিন সেখান হতে যাত্রা করলেন। প্রাকৃতিক শোভা ও সৌন্দর্যের মধ‍্য দিয়ে হরিগুণ কীর্তন করতে করতে, তিনি কয়েকদিন পরে গোদাবরী তীরে এসে উপস্থিত হলেন।গোদাবরী তীরের সুরম‍্য বনরাজি ও নদীর নির্মল জল দেখে,তাঁর মনে বৃন্দাবনের ভাবে ভাবিত হলেন।নির্মল সলিলা গোদাবরী যমুনা ও তার তীরের ঘন পল্লব আবৃত বৃক্ষগুলি বৃন্দাবনের বন বলে তাঁর প্রতীয়মান (অনুভূত)হ'ল। তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না, বনের মধ্যে প্রবেশ করে,কিছুক্ষণ নৃত্য গীতাদি করলেন, এবং পরে স্নান করে ঘাটের অনতিদূরে বসে নামকীর্তনে রত হলেন।এই জায়গার নাম বিদ‍্যানগর।তিনি কীর্তনানন্দে মত্ত রয়েছেন, এমন সময়ে দেখলেন,এক ব‍্যক্তি বহুজন পরিবেষ্টিত হয়ে দোলায় চেপে নদীর দিকে চলে আসছেন, তাঁর সঙ্গে বাদকেরা বাদ‍্য বাজাচ্ছে ও বৈদিক ব্রাহ্মণগণ বেদমন্ত্র উচ্চারণ করতে করতে আগমন করছেন।শ্রীচৈতন‍্য দোলায় আরোহণকারীকে দেখে মনে করলেন, ইনিই কি সেই রায় রামানন্দ!ইঁনার বিষয়ই কি সার্বভৌম আমাকে বলেছেন?এদিকে রামানন্দ রায় লোকজনসহ স্নানঘাটের কাছে এসে দোলা থেকে নেমে দেখলেন, এক অপূর্ব রূপলাবণ‍্যময় নবীন সন্ন‍্যাসী নদীতীরে বসে রয়েছেন, তাঁর রূপে যেন চারিদিক আলোকিত হচ্ছে।তাঁর বদনমন্ডল হতে যেন এক অপার্থিব স্বর্গীয় জ‍্যোতিঃ বিনির্গত বা বাহির হচ্ছে। পরম কৃষ্ণভক্ত রামরায়, সন্ন‍্যাসীর শ্রীচরণে ভক্তিভরে প্রণাম করলেন। শ্রীচৈতন‍্যদেব তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন,আপনিই কিসরামানন্দ রায়?রামানন্দ মহাপ্রভুর কথার উত্তরে অতি বিনীতভাবে বললেন, "আমিই সেই অধম শূদ্রই সত‍্য"।মহাপ্রভু তখন নিজের বাহু প্রসারণ করে তাঁকে প্রেমভরে আলিঙ্গন করলেন।উভয়ের হৃদয়ে প্রেমতরঙ্গ উত্থিত হল। উভয়েই ভক্তির আবেশে অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন।রাজা রামরায় সমভিব‍্যাহারে ব্রাহ্মণেরা,উভয়ের ভাব দেখে অবাক হয়ে গেলেন।তাঁরা বলাবলি করতে লাগলেন,এ সন্ন‍্যাসীর মধ্যে ব্রহ্মতেজ প্রকাশ পাচ্ছে ; আমাদের রাজা শূদ্র, ইনি সন্ন‍্যাসীকে আলিঙ্গন করে কেনই বা ক্রন্দন করছেন ; আর আমাদের রাজা মহাপন্ডিত, ইনিই বা কেন, এ সন্ন‍্যাসীর কন্ঠালিঙ্গন করে কাঁদছেন?রাজা রামানন্দের সমভিব‍্যাহারে লোকদের কাছে এ দৃশ্য এক অভিনব ঘটনা বলেই বোধ হতে লাগিল।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙏🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৫)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
              *রামানন্দ রায় সম্মিলন*
                   *অতি সংক্ষেপে*
             ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌻কিছু সময় পরে উভয়ে স্থির হয়ে বসিলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব,রামরায়কে বললেন, "সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য আমাকে আপনার অনুপম চরিত্রের কথা বলেছিলেন, আমি আপনাকে দেখবার জন্যই এখানে আগমন করেছি। আমার এখানে আসা সার্থক হ'ল"।রামরায়, চৈতন‍্যদেবের কথা শুনে বিনম্র বচনে বললেন, সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য এ দাসের প্রতি কৃপা করে আমার পরিত্রাণের জন্যই আপনাকে এখানে প্রেরণ করেছেন ; আমার মত অধম আপনার শ্রীচরণ দর্শনে মানবজীবন ধারণ আজ সফল হ'ল। আমার পূর্ণ ধারণা আপনি নরদেহধারী নারায়ণ ; আমি রাজসেবী বিষয়ী, আপনি এ অধমের উদ্ধারের জন্যই এখানে আগমন করেছেন ; সত‍্যি আপনি দয়ার অবতার। যে শত শত লোক আমার সঙ্গে আজ আগমন করেছে, তাদের সকলের হৃদয় আপনার দর্শনে দ্রবীভূত হয়েছে ; দেখলাম আপনার রূপমাধুর্য‍্য দর্শন করে,সকলের নয়ন হতে বারিধারা বহিছে, সকলেরই মুখ হতে শ্রীকৃষ্ণের মধুর নাম উচ্চারিত হচ্ছে। শ্রীচৈতন‍্য বললেন, "আপনার অঙ্গ স্পর্শে আজ আমার হৃদয়ও কৃষ্ণপ্রেমে ভাসছে ; সত‍্যই আমার মনে হয়েছে আপনি মহাভাগবত। উভয়ে এরকম কথোপকথন করছেন, এমন সময়ে এক ব্রাহ্মণ এসে উপস্থিত হলেন ; এবং শ্রীচৈতন‍্যদেবকে নিজের বাড়ীতে নিমন্ত্রণ করলেন, সেই ব্রাহ্মণও একজন পরম ভক্তবৈষ্ণব। চৈতন‍্যদেব তাঁর বাড়ীতে ভিক্ষা গ্রহণে প্রস্তুত হয়ে, রামরায়কে বললেন, স্বল্পসময় আপনার সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম, আপনি পরম বৈষ্ণব, আপনার মুখে কৃষ্ণকথা শুনতে আমার বড়ই ভাল লাগল, পুনরায় যেন আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। রামরায় বললেন, যদি এই অধমকে তরাইবার সাধ থাকে,তাহলে আরো বেশ কয়েকদিন এখানে অপেক্ষা করুন। এইকথা বলে রামরায় স্নান ও তর্পণাদি কার্য‍্য সমাধা করে লোকজন পরিবেষ্টিত হয়ে,বাদ‍্যধ্বনি সহকারে গৃহে প্রত‍্যাগমন করলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেবও ব্রাহ্মণের বাড়ীতে ভিক্ষা গ্রহণের জন্য গমন করলেন।*
*👑রামানন্দ রায় বিদ‍্যানগরের শাসনকর্তা।ইঁনার উপাধি রাজা।ইনি বিষয়-কার্য‍্যে লিপ্ত থেকেও জীবনে কৃষ্ণভক্তির পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করতেন।সন্ধ‍্যা সমাগত হলে,রামরায় ভগবৎ-কথায় সময় অতিবাহিত করবার জন্য শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেবের কাছে উপস্থিত হয়ে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেবও তাঁকে আলিঙ্গন দান করলেন।তারপর উভয়ে একটি নির্জন স্থানে গিয়ে বসে ভগবৎ প্রসঙ্গে রত হলেন।*
*🌺শ্রীচৈতন‍্য রামরায়কে সাধন সম্বন্ধে কিছু বলতে বলিলে, রামরায় বললেন, "বিষ্ণুভক্তিই পরম সার"।*
*🌺শ্রীচৈতন‍্য বললেন, এটি বাইরের কথা, এর পর কি আছে বল।*
*🌺রামানন্দ বললেন, শ্রীকৃষ্ণে সব কর্ম সমর্পণই সাধনার সার। শ্রীমদ্ভগবতগীতায় শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন,আহার,দান,তপ, যা কিছুই করবে,সবই আমাতে অর্পণ করবে।*
*🌺মহাপ্রভু বললেন,এটিও বাইরের কথা, এর পর কি আছে বল।*
*🌺রামানন্দ=স্বধর্ম পরিত‍্যাগ করাই সাধনার সার।শ্রীমদ্ভাগবতে শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, যে ব‍্যক্তি বেদবিহিত আচার পরিহার করে আমাকে ভজনা করে, সেই ব‍্যক্তি প্রকৃত পথ পেয়ে থাকেন।ভগবতগীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, স্বধর্ম পরিত‍্যাগ করে যে ব‍্যক্তি আমার শরণাপন্ন হয়,সে সব পাপ হতে মুক্তি লাভ করে।*
*🌺শ্রীচৈতন‍্য= এটিও বাইরের কথা, এর পর কি আছে বল?*
*🌺রামানন্দ=জ্ঞানমিশ্রা ভক্তিই সাধনা সার।গীতায় আছে,সমদর্শী প্রসন্নচিত্ত ব্রতনিষ্ঠ ব‍্যক্তি আমাতে পরাভক্তি লাভ করে।*
*🌺শ্রীচৈতন‍্যদেব= ইহাও বাহিরের কথা, আগে কি আছে বল?*
*🌺রামানন্দ=জ্ঞানশূন‍্যা ভক্তিই সর্বসাধ‍্যসার*।
*🌺শ্রীচৈতন‍্য=এহ বাহ‍্য, আগে কহ আর।*
*🌺রামানন্দ=প্রেমভক্তিই সকলের সার।*
*🌺মহাপ্রভু=এটি সত‍্য বটে, তবে আগে বল আর।*
*🌺রামরায়=দাস‍্য প্রেম উৎকৃষ্ট। ভাগবতে দুর্বাসামুনি অম্বরীষকে বলেছেন,যাঁর নাম শ্রবণমাত্র জীবের পরিত্রাণ হয়,তাঁর দাসেদের আর অবশিষ্ট কি আছে?*
*🌺মহাপ্রভু=বেশ ভাল, তবে আগে আরও কিছু বল।*
*🌺রামানন্দ=সখ‍্যপ্রেম সকল ধর্মের সার।*
*🌺গৌরসুন্দর=সত‍্য কথা, তবে আগে কিছু আর শুনাও।*
*🌺রামরায়=বাৎসল‍্য প্রেম ••••••••,*
*🌺শ্রীচৈতন‍্যদেব=এটিও উত্তম,এর বাইরেও যদি কিছু থাকে বল।*
*🌺রায় রামানন্দ=কান্তভাব প্রেম সাধনার সর্বসাধ‍্যসার। এটি পরম মাধুর্য‍্য রস।শান্ত,দাস‍্য, সখ‍্য ও বাৎসল‍্যের মধ্যে সকল রসেরই সমাবেশ আছে, কিন্তু •••••••••••, শ্রীকৃষ্ণ গোপীদের বলেছেন, যারা আমার প্রতি ভক্তি অর্পণ করেছে,তারা অমৃতত্ব লাভ করেছে।*
*🌺শ্রীগৌরহরি=এটি সাধনার সুন্দর কথা, তবে আর কি কিছু বলা যেতে পারে?*
*🌺রামানন্দ বললেন,এর পর সাধনার বিষয় জানতে চাই,আমি এমন লোক তো এ সংসারে দেখি নাই।তবে রাধাপ্রেমই সর্বশ্রেষ্ঠ।তিনি রাধাপ্রেমের নিগূঢ় তত্ত্বের কথা বলিলে, শ্রীচৈতন‍্যদেব অত‍্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করে বললেন, এই বিদ‍্যানগরে আসা আমার সার্থক হল।*
*🌻সেদিন এরকমে রামরায়ের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের সমস্ত রজনীই ভক্তিবিষয়ক প্রসঙ্গে অতিবাহিত হল। গৌরহরি, রামরায়ের মুখে রাধাতত্ত্ব,কৃষ্ণতত্ত্ব ও ভক্তির উচ্চ অঙ্গের কথা শুনে অত‍্যন্ত প্রীত হয়ে, প্রেমভরে রামানন্দকে আলিঙ্গন করলেন।উষাকালে রামরায় বিদায়কালে শ্রীগৌরাঙ্গকে বললেন, যদি কৃপা করে এখানে পাতকীর উদ্ধারের জন্য এসেছ, তবে আরও দশদিন অপেক্ষা করলে মনোআশা পূর্ণ হবে।তখন মহাপ্রভু বললেন, তোমার জন্য দশদিন কি, এ জীবন পর্যন্ত সমর্পণ করতে পারি। এইরকম কথাবার্তার পর রামরায় গৌরহরির নিকট হতে বিদায় নিয়ে নিজ ভবনের দিকে চলিলেন।*
*সমস্ত দিন অতিবাহিত হল,সন্ধ‍্যাকাল অতীত হলে,রামরায় পুনরায় গৌরহরির কাছে এসে উপস্থিত হলেন। পূর্বের দিন মত ধর্মপ্রসঙ্গ আরম্ভ হল।গৌরহরি রামরায়কে জিজ্ঞাসা করলেন, বিদ‍্যার মধ্যে কোন্ বিদ‍্যা সার?*
*🌺রামানন্দ=কৃষ্ণভক্তির সম আর বিদ‍্যা নাই।*
*🌺শ্রীচৈতন‍্যদেব= কোন কীর্তি শ্রেষ্ঠ?*
*🌺রামরায়=শ্রীকৃষ্ণের প্রেমিক বলে যাঁরা খ‍্যাত, তাঁদের কীর্তি সর্বশ্রেষ্ঠ।*
*🌺মহাপ্রভু=সম্পত্তির মধ্যে কোন সম্পত্তি শ্রেষ্ঠ?*
*🌺রামরায়=যাঁর শ্রীকৃষ্ণে প্রেম আছে,তিনিই শ্রেষ্ঠ সম্পত্তিশালী।*
*🌺গৌরহরি=দুঃখের মধ্যে প্রধান দুঃখ কি?*
*🌺রামানন্দ=কৃষ্ণভক্তি বিহনে মানবের আর দুঃখ নাই।*
*🌺শ্রীগৌরাঙ্গ=কোন জীবকে মুক্ত বলা যায়?*
*🌺রামরায়=যাঁর কৃষ্ণপ্রেমে সাধনা হয়েছে,সেই মুক্ত।*
*🌺মহাপ্রভু=সঙ্গীতের মধ্যে কোন সঙ্গীত শ্রেষ্ঠ?*
*🌺রায় রামানন্দ=যে সঙ্গীতে শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেমকেলি আছে।*
*🌺শ্রীচৈতন‍্যদেব=শ্রেয়ের মধ্যে কোন শ্রেয় জীবের সার?*
*🌺কৃষ্ণভক্ত সঙ্গ বিনা আর শ্রেয়ঃ নাই।*
*🌺মহাপ্রভু=মানব সর্বদা কার স্মরণ নেয়?*
*🌺রামরায়=কৃষ্ণনাম গুণ লীলা।*
*🌺গৌরহরি=ধ‍্যেয়ের মধ্যে মানবের কোন বস্তু প্রধান ধ‍্যেয়?*
*🌺রামরায়=শ্রীরাধাকৃষ্ণের শ্রীচরণ ধ‍্যানই প্রধান।*
*🌺জীবের কোথায় বাস করা কর্তব‍্য?*
*🌺রামানন্দ=শ্রীবৃন্দাবন ভূমিই বসবাসের শ্রেষ্ঠ।*
*🌺মহাপ্রভু=শ্রবণের মধ্যে কোন কথা শ্রবণের শ্রেষ্ঠ উপযোগী?*
*🌺শ্রীরাধাগোবিন্দের গুণকীর্তন।*
*🌺মহাপ্রভু=উপাস‍্যের মধ্যে কার উপাসনা প্রধান?*
*🌺রামরায়=শ্রীরাধাকৃষ্ণের যুগল রূপ।*
*🌻শ্রীচৈতন‍্য রামানন্দ রায়কে বললেন, এখানে এসে তোমার নিকট হতে আমি রাধাতত্ত্ব কৃষ্ণতত্ত্ব প্রেমতত্ত্ব প্রভৃতি ভক্তির নতুন নতুন তত্ত্বকথা শুনে অত‍্যন্ত আনন্দ লাভ করলাম।রামরায় কহিলেন, প্রভো! তোমার মুখ দিয়ে তুমি তোমার কথায় প্রকাশ করিলে। তুমি নিজেই রাধা প্রেমতত্ত্বের বক্তা ও নিজেই শ্রোতা।*
*🍁ভক্তিপ্রসঙ্গে উভয়ে মাতোয়ারা, এমন সময়ে রামরায় বললেন,আমি প্রথমে তোমাকে সন্ন‍্যাসীর বেশে দেখেছিলাম, কিন্তু এখন আর তোমার সে রূপ দেখছি না। তোমার শ‍্যামরূপের নিকটে সোনার প্রতিমার ন‍্যায় পঞ্চালিকা (মাটির ধাতু বা কাঠ দিয়ে তৈরি পুতুল)রয়েছে।তাঁর উজ্জ্বল জ‍্যোতিতে তোমার দেহ আলোকিত হয়েছে। শ্রীচৈতন‍্য বললেন, "রাধাকৃষ্ণের প্রতি তোমার প্রেম অসাধারণ, সেইজন‍্য সববস্তু দর্শনেই তোমার হৃদয়ে কৃষ্ণপ্রেমের স্ফূর্তি হয়।কথিত আছে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য তারপরে সামান্য হাসি হেসে রসরাজ ও মহাভাব এই দুই ভাবে রামরায়ের নিকট প্রকাশিত হন।রামরায় সে রূপ দর্শনে আনন্দের আবেগে ভূতলে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন। মহাপ্রভু তাঁর অঙ্গে হাতস্পর্শ করলে তাঁর চেতনা ফিরল ; তিনি পুনরায় শ্রীচৈতন‍্যকে সন্ন‍্যাসীর বেশে দর্শন করলেন।দশদিন এইভাবে অতিবাহিত হলে, উভয়ের বিদায়কালে রামরায় ক্রন্দন করতে লাগলেন, মহাপ্রভু গাঢ় আলিঙ্গন দিয়ে বললেন, তুমি পুরীতে যাও, আমি তীর্থ পর্য‍্যটন করে সেখানে যাব, উভয়ে কৃষ্ণকথা প্রসঙ্গে দিন কাটাব। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পায়=*
*🌷বিষয় ছাড়িয়া তুমি যাহ নীলাচলে।*
*🌷আমি তীর্থ করি তাঁহা আসিব অল্পকালে।।*
*🌷দুইজনে নীলাচলে রহিব এক সঙ্গে।*
*🌷সুখে গোঙাইব কাল কৃষ্ণকথা রঙ্গে।।*
*🌻রায় রামানন্দ মহাপ্রভুর বিচ্ছেদে বিষাদিত অন্তরে গৃহে ফিরে গেলেন। শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য নিশাবসানে বিদ‍্যানগর পরিত‍্যাগ করে তীর্থ ভ্রমণে বাহির হলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৬)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
               *নানা তীর্থে ভ্রমণ*
              ***********************
*🌷দক্ষিণ গমন প্রভুর অতি বিলক্ষণ।*
*🌷সহস্র সহস্র তীর্থ কৈল দরশন।।*
*🌷সে সব তীর্থ স্পর্শি মহাতীর্থ কৈলা।*
*🌷সেই ছলে সে দেশের লোক নিস্তারিলা।।(চৈঃচঃ)*
*🍀ভক্তচূড়ামণি শ্রীচৈতন‍্যদেব বিদ‍্যানগর হতে গোবিন্দ দাসকে সঙ্গে নিয়ে বাহির হলেন। গোবিন্দ দাস মহাপ্রভুর দক্ষিণাপথ ভ্রমণের সাথী হয়ে কড়চায় অনেক জায়গার অনেক ঘটনা লিপিবদ্ধ করে গিয়েছেন। কয়েকদিন পরে মহাপ্রভু মল্লিকার্জুন তীর্থে গমন করলেন।এখানে দেবমন্দিরে প্রবেশ করতঃ তিনি মহেশকে দর্শন করলেন।তিনি যেখানেই গমন করতেন, সেখানেই তাঁর ভগবদভক্তির জীবন্ত নিদর্শন পেয়ে তারই পথ অনুসরণ করল।গৌরহরি সেখান হতে আহোবলে গমন করে নৃসিংহ দর্শন ও তাঁকে প্রণতি করে সিদ্ধবটে এসে রাম-সীতা দর্শন করেন।তাঁর আগমনবার্তা চারিদিকে প্রচারিত হলে,অনেকে তাঁর দর্শনাকাঙ্ক্ষী হয়ে দলে দলে আসতে লাগিল।এখানে এক রামভক্ত ব্রাহ্মণ তাঁর প্রেমময় মূর্তি দেখে বিমোহিত হয়ে,তাঁকে আগ্রহপূর্বক নিজ ভবনে নিমন্ত্রণ করলেন। গৌরহরি তাঁর নিমন্ত্রণ রক্ষা করে স্কন্ধক্ষেত্রে গমন করে স্কন্ধ দর্শন করলেন।এখন হতে পুনরায় সিদ্ধবটে প্রত‍্যাগমন করবার বাসনা হলে, তিনি সেখানে এসে সেই রামভক্ত ব্রাহ্মণের বাড়ীতে আতিথ‍্য গ্রহণ করলেন।বিপ্র তাঁকে অতি সমাদরে ও ভক্তি সহকারে নিজ বাড়ীতে স্থান দান করে,তাঁর পরিচর্য‍্যায় রত হন।মহাপ্রভু দেখলেন, সেই রামভক্ত ব্রাহ্মণ পূর্বে রামনাম জপ করতেন, কিন্তু এখন তারপরিবর্তে তাঁর রসনা হতে শ্রীকৃষ্ণনাম উচ্চারিত হচ্ছে।তিনি এই পরিবর্তনের কারণ জিজ্ঞাসা করাতে, ব্রাহ্মণ বললেন, "তোমাকে দেখিয়া অবধি,আমার মনের কেমন এক পরিবর্তন উপস্থিত হয়েছে ;আমার জিহ্বা হতে রামনামের পরিবর্তে আপনাআপনিই শ্রীকৃষ্ণনাম বাহির হচ্ছে। যথা চৈতন‍্য চরিতামৃতে=*
*🌷বাল‍্যাবধি রামনাম গ্রহণ আমার।*
*🌷তোমা দেখি কৃষ্ণনাম আইল একবার।।*
*🌷সেই হইতে কৃষ্ণনাম জিহ্বাতে বসিল।*
*🌷কৃষ্ণনাম স্ফুরে রামনাম দূরে গেল।।*
*🌺এই বলে নূতন কৃষ্ণভক্ত ব্রাহ্মণ, গোরহরির চরণে লুন্ঠিত হয়ে নয়নবারি ফেলতে ফেলতে বললেন, "আমি তোমারই মধ্যে সেই শ্রীকৃষ্ণের মোহন মূরতি দর্শন করছি।শ্রীগৌরাঙ্গ তাঁকে আশীর্বাদ করে বৃদ্ধ কাশীতে এসে শিব দর্শন করলেন, এবং এখন হতে কোন নিকটবর্তী গ্রামে গমন করলেন।সেই গ্রামে বহুসংখ‍্যক ব্রাহ্মণের বাস।ইঁনাদের মধ্যে অনেকেই তার্কিক,বৈদান্তিক ও মায়াবাদী।শ্রীচৈতন‍্যদেব সেখানে উপস্থিত হলে,পন্ডিতমন্ডলী তাঁর সঙ্গে বিচারে রত হন। কিন্তু মহাপ্রভুর তীক্ষ্ণ বুদ্ধির প্রভাবে সকলেই পরাভব স্বীকার করে,তাঁদের মধুময় ভক্তিপথের পথিক হয়ে পড়েন।*
*🍁এইখানে একজন বৌদ্ধাচার্য‍্য বাস করতেন।তাঁর অনেক শিষ্য ছিল। বৌদ্ধাচার্য‍্য মহাপ্রভুকে পরাস্ত করবার মানসে তাঁর সঙ্গে বিচারে রত হন।শ্রীচৈতন‍্য তাঁকে বিচারে পরাস্ত করলেন।গুরুকে পরাস্ত হতে দেখে,তাঁর শিষ‍্যেরা ক্রূদ্ধ হয়ে এক অবৈধ উপায় অবলম্বন করে।*
*শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী বলেন,তাঁরা মন্ত্রণা করে একটি থালিতে, উচ্ছিষ্ট অন্ন পূর্ণ করে,কোন ব‍্যক্তির দ্বারা শ্রীচৈতন‍্যের নিকট প্রেরণ করেন।সেই সময় একটি পক্ষী চঞ্চু দ্বারা থালাটি তুলে নিয়ে যাই, এবং উচ্চ জায়গা থেকে টেরচাভাবে বৌদ্ধ গুরুর মাথায় সজোরে ফেলে দেয়।থালার আঘাতে আচার্য‍্যের মাথা কেটে রক্ত বাহির হয়ে সর্বাঙ্গ ভিজে যায়।তাদেখে বৌদ্ধাচার্য‍্য ও তদীয় শিষ‍্যগণ গৌরহরির শরণাপন্ন হয়ে,বৈষ্ণবধর্ম গ্রহণ করলেন। তারপর সেখান হতে মহাপ্রভু ত্রিমন্দ নগরে গমন করলেন।সেখানেও অনেক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বাস করতেন। তিনি সেখানে গমন করলে,বৌদ্ধেরা তাঁর সঙ্গে বিচার করতে বসলেন।ত্রিমন্দ নগরের রাজা এই বিচারের মধ‍্যস্থ হলেন।তিনিও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।তর্কযুদ্ধে বৌদ্ধেরা বিচারে পরাস্ত হলেন।বৌদ্ধদের শীর্ষস্থানীয় রামগিরি ভক্তচূড়ামণি শ্রীচৈতন‍্যের বুদ্ধির প্রাখর্য‍্য ও অদ্ভুত ভক্তির লক্ষণ সব দেখে,মন্ত্রমুগ্ধের মত তাঁর চরণতলে বিলুন্ঠিত হয়ে কাতর অন্তরে বলতে লাগলেন, "নবীন সন্ন‍্যাসী" তোমাকে দেখে তো মানুষ বলে বোধ হচ্ছে না ; আমি ঘোর পাষন্ড, তোমাকে দেখে আজ আমার হৃদয় গলে গেল। আমি তোমারই সঙ্গে থাকব, প্রভো!তুমি আমায় মুক্তির পথ প্রদর্শন কর।*
*🍀গোবিন্দ দাস তাঁর কড়চায় লিখেছেন=*
*🌷তুমি ত মানুষ নহ নবীন সন্ন‍্যাসী।*
*🌷থাকিতে তোমার সহ বড় ভালবাসি।।*
*🌷পাষন্ডের শিরোমণি ছিলাম সংসারে।*
*🌷কৃপা করি ভক্তিমার্গ দেখাও আমারে।।*
*শ্রীচৈতন‍্যদেব বৌদ্ধাচার্য‍্যের ব‍্যাকুলতা দেখে আনন্দিত হয়ে তাঁকে মধুময় হরিনাম দান করলেন ; রামগিরি তাঁর নিকট হতে প্রাণপদ ভক্তিধর্মে দীক্ষিত হয়ে নবজীবন লাভ করলেন। তাঁর শুষ্ক হৃদয়ে ভক্তির অমৃতধারা বহিতে লাগল।ত্রিমন্দের সকলেই শ্রীচৈতন‍্যদেবের প্রচারিত ভক্তিমার্গের পক্ষপাতী হলেন, বৌদ্ধগুরু রামগিরির শিষ‍্যগণও তাঁদের গুরুর পথ অনুসরণ করলেন।*
*🌷পন্ডিতের শিরোমণি যত বৌদ্ধগণ।*
*🌷রামগিরি পথে সবে করিল গমন।।*
👌👌👌👌👌👌✋👌👌👌👌👌👌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৭)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
         *👣নানা তীর্থে ভ্রমণ 👣*
         👣👣👣👣👣👣👣👣
*🌻রামগিরি গৌরহরির অনুগত হলেন,ঢুন্ডিরাম নামক এক বিখ‍্যাত পন্ডিত তাঁর সঙ্গে বিচার করতে রত হলেন। গৌরহরি তার্কিকের চূড়ামণি হলেও জ্ঞানের অস্ত্রে অনেকেরই জ্ঞানগর্ব ছেদন করতে অগ্রসর হতেন না।ভক্তির স্নিগ্ধ ও মধুর ভাবে তিনি অহঙ্কারী জ্ঞানীদের জ্ঞানের গর্ব প্রশমিত করে তাঁদেরকে ভগবৎ প্রেমের বন্ধনে জড়িত করে ফেলতেন। ঢুন্ডিরাম মহাপ্রভুর সঙ্গে বিচারার্থী হলে, তিনি অতি বিনয়ের সঙ্গে বললেন, "তুমি সর্বশাস্ত্রে সুপন্ডিত" আমি অজ্ঞ সন্ন‍্যাসী,আমি তোমার সঙ্গে বিচার করতে সমর্থ হব না,আমি তোমার কাছে পরাভব স্বীকার করলাম বলে জয়পত্র লিখে দিচ্ছি। গৌরহরি এইসব কথা বলে তাঁর সঙ্গে বিচারে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে, ঢুন্ডিরাম এদিক ওদিক তাকাতে লাগলেন, এবং অবশেষে তাঁর চরণে লুন্ঠিত হয়ে পড়লেন।শ্রীচৈতন‍্যদেবের প্রেমের শক্তির প্রভাবে ঢুন্ডিরামের সব গর্ব খর্ব হয়ে গেল, ঢুন্ডিরাম বুঝতে পারলেন যে,ইনি মানুষ নন,মানুষরূপে ভগবান। তিনি নবজীবনের পথে নীত হয়ে মধুময় হরিনাম গ্রহণ করলেন।ঢুন্ডিরামের হৃদয় দ্রবীভূত হয়ে গেল, সর্বশাস্ত্রে সুপন্ডিত জ্ঞানগর্বিত ঢুন্ডিরাম সেই সময় হতে "হরিদাস" নামে অভিহিত হলেন।*
*পরদিন প্রভাতে গোবিন্দ দাসকে সঙ্গে নিয়ে,মহাপ্রভু সেখান হতে বেড়িয়ে পড়লেন। গোবিন্দ খড়ম করঙ্গ বহন করে সঙ্গে সঙ্গে চলতে লাগলেন।ভানু অস্ত গমন করলে তাঁরা বটেশ্বরে উপস্থিত হলেন, এবং ভক্তিভরে বটেশ্বর দর্শন করে সেদিন সেইখানে রাত্রি যাপন করলেন।*
*গোবিন্দ ভিক্ষা সংগ্রহের জন্য বাহির হলেন।ভিক্ষা করে যা পেয়েছিলেন, দুপুরবেলা মহাপ্রভু রন্ধনকার্য‍্য সমাধা করলেন। তারপরে আহারান্তে তাঁরা বসে বিশ্রাম করছেন,এমন সময়ে তত্রত‍্য (সেখানকার) কোন বিখ‍্যাত ধনী, এই নবাগত সন্ন‍্যাসীকে পরীক্ষা করবার জন্য দুইজন কুলটা নারী সঙ্গে নিয়ে সেখানে আগমন করলেন।ধনীর নাম তীর্থরাম।নারীদ্বয়ের নাম সত‍্যবাঈ ও লক্ষ্মীবাঈ।অসচ্চরিত্রা নারীদ্বয় মহাপ্রভুর কাছে এসে নানারকম অঙ্গভঙ্গী করে হাসতে হাসতে তাঁর সহিত কথা বলতে লাগল।তারা যখন দেখল,তাদের মন্দ অভিপ্রায় সিদ্ধ হওয়া সুদূরপরাহত (অসম্ভবপ্রায়), তখন সত‍্যবাঈ লোকসমক্ষে নারীর নিলজ্জতা প্রদর্শন যতদূর সম্ভব,তা করতে ত্রুটি করল না, অর্থ‍্যাৎ নারীর সম্মান নষ্ট করতে চেয়েছে এই প্রমাণ করতে চেষ্টা করল।সে নিজের বক্ষের বস্ত্রাঞ্চল কতক উন্মোচন করে মহাপ্রভুর চিত্তবিকারের চেষ্টা করল।সত‍্যবাঈ এরকম নিলজ্জতার কাজ করলে,মহাপ্রভু আর স্থির থাকতে পারলেন না, তখন তিনি তাকে "মা" বলে সম্বোধন করে বললেন, মা! আমাকে কেন অপরাধী করবার জন্য এরকম করছ!এই বলে মহাপ্রভু উর্দ্ধবাহু হয়ে নৃত্য করতে লাগলেন ; তাঁর মস্তকের জটাবন্ধন খুলে গেল ; শরীর রোমাঞ্চিত হ'ল, নয়নাশ্রুতে বক্ষ ভাসতে লাগিল।এইরকম পরীক্ষার অনলের মধ্যে কোন মানবসন্তান যে অবিকৃত হৃদয়ে থেকে ভগবানের মহিমা কীর্তন করতে পারেন,কুলটা নারীদ্বয় তা কখনও দেখেনি।তখন সত‍্যবাঈ মহাপ্রভুর শ্রীচরণে বিলুন্ঠিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করল।অবশেষে উভয়েই সে জায়গা হতে পলায়ন করল। আড়াল থেকে তীর্থরাম সবই দেখলেন।তিনি কি আর স্থির থাকতে পারেন? তিনি তখনই গৌরহরির চরণে লুটিয়ে পড়লেন।মহাপ্রভু তখন বাহ‍্যজ্ঞানশূন‍্য হয়ে নৃত্য করছেন।সেই সময় তীর্থরাম শ্রীচৈতন‍্যের মুখে অনুপম স্বর্গীয় জ‍্যোতিঃ ও তাঁর মনের অমানুষিক শক্তি দেখে তীর্থরামের হৃদয় মন একেবারে পরিবর্তন হয়ে গেল। আর তীর্থরাম কাঁদতে লাগলেন, তীর্থরামকে ক্রন্দন করতে দেখে, মহাপ্রভু তাঁর হাত ধরে বললেন, "সংসারের বিষয় বিভব সকলই অতি অসার,এই যে দেহ ধারণ করেছ, এই দেহ-পিঞ্জর হতে প্রাণ-পাখী যখন উড়ে যাবে,তখন সেটি ভস্মসাৎ হবে, বা কাঠের আধার হবে,অথবা মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। চক্ষু বন্ধ হলে কেউ কারও নয়,সব আত্মীয়তাই চলে যাবে।তুমি ধন,মান,বসন,ভূষণ সব দূরে ফেলে দিয়ে,সেই একমাত্র সত‍্য ও নিত‍্য বস্তু শ্রীকৃষ্ণের আশ্রয় গ্রহণ কর। শ্রীচৈতন‍্যদেবের কথাগুলি যেন যাদুকরের মত তাঁর হৃদয়ে পরিবর্তন উপস্থিত করল।যে ব‍্যক্তি ঐশ্বর্যের অধিপতি হয়ে, মানবজীবনের উচ্চতর লক্ষ্যের প্রতি উদাসীন থেকে ইহলোকের খ‍্যাতি ও ধনৈশ্বর্য‍্যকে সর্বস্ব জ্ঞান করে জীবন ধারণ করছিলেন,যে ব‍্যক্তি অতি অল্পক্ষণ পূর্বেই,চঞ্চল ও নিলজ্জ যুবকের ন‍্যায় নারীদ্বয়কে সঙ্গে নিয়ে, মহাপ্রভুর সামনে এসে তাঁর ধর্ম নষ্ট করতে প্রয়াসী হয়েছিলেন,তিনি এখন পুরোপুরি অন‍্য মানুষে পরিণত হয়েছেন।তীর্থরাম নিজের পত্নী ও আত্মীয়স্বজন হতে দূরে এসে দাঁড়আলেন। অগাধ সম্পত্তি মহাপ্রভুর কৃপা বলে তৃণবৎ মনে করে ঠেলে ফেললেন।চিক্কণ বসন পরিত‍্যাগ করে,কৌপীন ধারণ করে, হরিনামের তিলকে অঙ্গ আচ্ছাদিত করলেন।তাঁর গর্বিত মস্তক, ভক্তি ও বিনয়ে নত হল।তীর্থরাম হরিপ্রেমে বিভোর হয়ে নৃত্য করতে লাগলেন।*
*🌷তীর্থরাম তৃণ সম বিষয় ছাড়িয়া।*
*🌷হরি বলি নাচে দুই বাহু পসারিয়া।।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৮)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
           *👥নানা তীর্থ ভ্রমণ👥*
         ▪▪▪▪▪▪▪▪
*🍀তীর্থরাম কৌপীন পরে সন্ন‍্যাস গ্রহণ করলেন।তাঁর সন্ন‍্যাস গ্রহণের কথা তাঁর বাড়ীতে সকলে জানতে পারল,তাঁর পরমাসুন্দরী পত্নী কমলকুমারী কাঁদতে কাঁদতে ছুটে আসিলেন।তাঁর রূপের আলোতে যেন চারিদিক আলোকিত হয়ে উঠিল।তীর্থরাম-পত্নী কাঁদতে কাঁদতে ছুটে আসিলে,তীর্থরাম কমলের হাত ধরে বললেন, "আমি নরক হতে পরিত্রাণ পেয়েছি, আমার সমস্ত বিষয় সম্পত্তি তুমিই ভোগ কর"।পতির মুখ হতে এই নিদারুণ কথা শুনে,কমলকুমারী ভূমিতে পড়ে গিয়ে ক্রন্দন করতে লাগলেন।তীর্থরাম তাঁর পত্নীকে অত‍্যন্ত অধীরা দেখে মায়াজাল ছিন্ন করবার জন্য তাঁকে হরিনাম গ্রহণ করতে বললেন।কমল দেখলেন, স্বামীকে ঘরে ফেরানোর চেষ্টা বৃথা, তখন নয়নের জলে বক্ষ ভাসাতে ভাসাতে গৃহে ফিরে গেলেন।তীর্থরাম সংসারের ধন মান ঐশ্বর্য‍্যে জলাঞ্জলি দিয়ে ধর্মধনে ধনী হয়ে পথ-ভিখারীর ন‍্যায় জীবন অতিবাহিত করতে লাগলেন।*
*🌷কাঁদিতে কাঁদিতে তবে কমলকুমারী।*
*🌷ফিরে গেল তীর্থ হলো পথের ভিখারী।।*
                               *(গোঃ দাস)*
*🍀তীর্থরামকে ভক্তি পথাবলম্বী করে,শ্রীচৈতন‍্য সাতদিন পরে বটেশ্বর গ্রাম ত‍্যাগ করলেন।যেতে যেতে তাঁদেরকে এক নিবিড় অরণ‍্য অতিক্রম করতে হল। মহাপ্রভু বিভুগান কীর্তন করতে করতে চলতে লাগলেন।তাঁর ভয় নাই,কোন চিন্তা নাই, কিন্তু গোবিন্দের প্রাণ সময়ে সময়ে ভয়ে আকুল হয়ে উঠিল। মহাপ্রভুর পেছনে যেতে যেতে তাঁর সব ভীতি ক্রমে বিদূরিত হয়ে গেল।দশক্রোশ ব‍্যাপী সেই নিবিড় অরণ‍্য অতিক্রম করে তাঁরা মুন্নানগরে উপস্থিত হলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব এক বৃক্ষতলে বসিলেন,পল্লীবাসী দুইজন গৃহস্থ তাঁর সেবার জন্য সমস্ত ব‍্যবস্থা করলেন।তারা মহাপ্রভুর মোহন মূর্তি দেখে অনিমিষ নয়নে তাকিয়ে রইল।এই নবীন সন্ন‍্যাসীর আগমনবার্তা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে,নগরের লোকেরা দলে দলে তাঁর দর্শন লালসায় সেখানে আগমন করে সেই দেবসদৃশ গৌরহরির চরণে ভক্তিভরে প্রণাম করতে লাগল ; এবং মহাপ্রভুকে অনেকেই বৃক্ষতল ছেড়ে নিজেদের বাসভবনে আতিথ‍্য গ্রহণের জন্য অনুরোধ করিল। কিন্তু তিনি তাদের সেই আশা পূর্ণ করতে পারলেন না।মহাপ্রভু ভগবৎ প্রেমে বিভোর হয়ে রয়েছেন। কিছুক্ষণ পরেই তিনি করতালি দিয়ে নৃত্য করতে লাগলেন।তাঁর ভাব-এ আগন্তুক লোকেরাও ভাবে বিভোর হয়ে উঠিল এবং গৌরহরির কন্ঠোত্থিতমধুর ধ্বনির সঙ্গে নিজেদের কন্ঠ মিলিয়ে হরিধ্বনি করতে করতে নৃত্য করতে লাগল।এইভাবে প্রায় অর্দ্ধরজনী কেটে গেল। মুন্নানগরে অন্তঃপুরের মধ্যে এই নবীন সন্ন‍্যাসীর আগমন বার্তা জানতে পেরেছিল, সেজন‍্য কুলবধূরা শ্রীগৌরাঙ্গকে দেখবার জন্য দলে দলে আসতে লাগল।দেখে সকলেই বিস্মিত।এমন সুন্দর যুবাপুরুষ সংসারের সকল সুখ বিসর্জন দিয়ে কৃচ্ছ্র সাধনে নিজের দেহকে শীর্ণ করে ফেলেছেন, এই ভেবে তাদের প্রাণ আকুল হয়ে উঠিল।তারা গৌরসুন্দরের মনোহর গঠন ও অনিন্দিত রূপমাধুরী, কঠোর বৈরাগ‍্যের নিষ্পীড়নে রুগ্ন ও মলিন হয়ে গিয়েছে,সেই বিষয়ে বলাবলি করতে লাগল।*
*🌷অবশেষে কুল হতে কুলবধূগণে।*
*🌷গৌরাঙ্গ দেখিতে আসি মিলে সেই স্থানে।।*
*🌷দেখিতে নয়ন মেলি গৌরাঙ্গসুন্দরে।*
*🌷নারীগণ যাইতে না পারে ফিরে ঘরে।।*
*🌷মুখ তাকাতাকি করি এ বলে উহারে।*
*🌷সন্ন‍্যাসী দেখিয়া প্রাণ আকু-বাকু করে।।*
*🌷এমন সুন্দর দিদি কভু দেখি নাই।*
*🌷ইহাকেই বলে সবে চৈতন‍্য গোঁসাই।।*
*🌷আহা মরি না খাইয়া অস্থিচর্মসার।*
*🌷এ বয়সে বাঁধিয়াছে কেন জটা-ভার।।*
*🌷এই কথা বলি যত মুন্নাবাসী নারী।*
*🌷কাঁদিয়া আকুল হলো চক্ষে বহে বারি।।*
*☘সেই দিনরাত্রি এইভাবেই কেটে গেল। পরদিন প্রভাতে মহাপ্রভু অন‍্য স্থানে যাবার জন্য উদ‍্যোগ করছেন, এমন সময়ে এক অন্নক্লিষ্টা, ছিন্নবস্ত্র পরিধেয়া বৃদ্ধা নারী গৌরহরির কাছে এসে ভিক্ষা প্রার্থনা করিল।বৃদ্ধাকে দেখে মহাপ্রভুর হৃদয় একেবারে আনন্দে ভরে উঠিল।তিনি সেই বৃদ্ধার বাসনা পূর্ণ করবার জন্য,মুন্নাবাসী নরনারীদের কাছে খাদ‍্য ও বস্ত্র প্রার্থনা করতে লাগলেন। যার চরণে লোকে কোন বস্তু উপহার প্রদান করতে পারলে নিজেকে কৃতার্থ মনে করে,আজ তিনি স্বয়ং ভিক্ষা প্রার্থনা করছেন, ইহা দেখে সকলে নানান খাদ‍্য সামগ্রী ও বস্ত্রাদি এনে তাঁর সামনে উপস্থিত করিল। এভাবে অনেক খাদ‍্যদ্রব‍্য ও পরিধেয় বস্ত্র সংগৃহীত হলে, শ্রীচৈতন‍্যদেব বৃদ্ধাকে সবগুলোই প্রদান করলেন।বৃদ্ধা কৃতজ্ঞ হৃদয়ে আশাতীত ফললাভে নিজেকে কৃতার্থ মনে করে দাতাকে হৃদয়ের সহিত ধন‍্যবাদ জ্ঞাপন করিল।মুন্নাবাসী তখন শ্রীচৈতন‍্যের ভিক্ষার অভিপ্রায় বুঝতে পেরে তাঁর প্রেমার্দ্র হৃদয়ের প্রত‍্যক্ষ নিদর্শন লাভ করল।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৯)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
                 *নানা তীর্থ ভ্রমণ*
               ••••••••••••••••••••••••••••••
*🍀বৃদ্ধার মনোবাঞ্জা পূর্ণ করে শ্রীচৈতন‍্যদেব সেই জায়গা হতে বাহির হলেন।গোবিন্দও তাঁর কৌপীন ও করঙ্গ নিয়ে সঙ্গে চললেন।মুন্নাবাসী বহুলোক শ্রীগৌরাঙ্গদেবের পশ্চাৎ অনুসরণ করিল। মহাপ্রভু একবারও পেছনদিকে না তাকিয়ে বিভুনাম কীর্তন করতে করতে অগ্রসর হতে লাগলেন। কিছুদূর গমন করে একে একে সকলেই আপন আপন গৃহাভিমুখে প্রত‍্যাগমন করিল।এক ব‍্যক্তি আর ফিরলেন না ; তাঁর নাম রামানন্দ স্বামী।শ্রীচৈতন‍্যকে দর্শন করে তাঁর সংসার বন্ধন ছিন্ন হয়ে যায়।তিনি যেতে যেতে গোবিন্দকে বললেন, "মহাপ্রভুকে দেখে আমার মন প্রাণ তাঁর শ্রীচরণে সমর্পণ করেছি, তিনি যদি আমাকে শিষ‍্য না করেন, তাহলে আমি এ দেহ আর রাখব না। তাঁরা পথ চলতে চলতে বেঙ্কট নগরে উপস্থিত হলেন।সেখানে এক সুবিখ‍্যাত বৈদান্তিক পন্ডিত ছিলেন।নাম রামানন্দ।বৈদান্তিক অদ্বৈতবাদী রামানন্দ শ্রীচৈতন‍্যদেবের সহিত বিচার করবার জন্য বসিলে,তিনি প্রথমে নিজের অজ্ঞতা স্বীকার করে বিচারে রত হতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেন ; কিন্তু রামানন্দ কিছুতেই ছাড়লেন না। গৌরহরি অগত‍্যা বিচারে রত হলেন।অদ্বৈতবাদ সম্বন্ধে উভয়ের মধ্যে ঘোরতর তর্ক বেধে গেল।বিচারে পন্ডিত রামানন্দ পরাস্ত হলেন।তাঁর জ্ঞানের গর্ব চূর্ণ হয়ে গেল।শ্রীচৈতন‍্যদেবের বুদ্ধির প্রখরতা ও ভগবৎ ভক্তির নিদর্শন পেয়ে রামানন্দ অদ্বৈতবাদের গন্ডী পরিত‍্যাগ করে ভক্তির পথ অনুসরণ করলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব তিনদিন বেঙ্কটনগরে থেকে, সকলকে প্রেমরসে মত্ত করে তুললেন।বৈদান্তিক রামানন্দের শিষ‍্যেরাও তাঁদের গুরুর পথ অনুসরণ করে ভক্তি পথাবলম্বী হলেন।*
*🍁পাপী-তাপীদের জন্য সর্বদাই গৌরসুন্দরের প্রাণ ক্রন্দন করত।নরনারীকে শান্তিময় ভক্তিপথে চালিত করাই তাঁর জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য।বেঙ্কট নগর পরিত‍্যাগ করবার সময় তিনি শুনলেন,সেখান হতে কিছু দূরে এক নিবিড় জঙ্গলের মধ্যে "পন্থভীল" নামে এক দস‍্যু বাস করে।মহাপ্রভু তার কথা শোনা মাত্র সেখানে যেতে উদ‍্যত হলে, সকলে পন্থভীলের ভীতিজনক স্বভাবের কথা বলল, সে নিজের সঙ্গীদের নিয়ে পথিকের সর্বস্ব লুঠ ও জীবন নাশ করে থাকে।তুমি সেখানে যেও না।পাপীর বন্ধু শ্রীগৌরাঙ্গদেব কারও কথায় কর্ণপাত না করে সেই অরণ‍্যের দিকে ধাবিত হলেন।তাঁর সহচর গোবিন্দও মহাপ্রভুর সাথী হলেন।এই নিবিড় জঙ্গলের নাম বগুলা।মহাপ্রভু বনে প্রবেশ করলে, পন্থ শ্রীচৈতন‍্যকে যথোচিত সম্মান প্রদর্শন করে বসতে বললেন। তিনি দস‍্যুপতির কাছে বসে বললেন, "তুমি সাধু পুরুষ, সংসারের সকল মায়া ও নারীসঙ্গ পরিত‍্যাগ করে নিজের বন্ধুদের সঙ্গে অতি সুখেই এই নির্জন বনের মধ্যে বাস করছ।আমি তোমাকে দেখবার জন্যই এখানে আগমন করেছি। পন্থ, গৌরসুন্দরের মনোহর মূর্তি ও এই সব মধুমাখা কথা শুনে মাথা নিচু করে রইল এবং কিছুক্ষণ পরে তাঁর চরণে লুন্ঠিত হয়ে কাঁদতে লাগল।গৌরহরি অমনি তাকে নিজ বক্ষে তুলে নিয়ে তার কর্ণকুহরে সেই পাপতাপহারী মধুর হরিনাম উচ্চারণ করতে লাগলেন।এই নবীন সন্ন‍্যাসীর কন্ঠনিঃসৃত সে নামের ধ্বনি যেন পন্থভীলের কানে সুধা বর্ষণ করতে লাগল।তার পাষাণসম প্রাণ দ্রবীভূত হল, সে নবজীবন লাভ করে,অন‍্য এক মানুষে পরিণত হল।পন্থভীল করতালি দিয়ে নৃত্য করতে করতে হরিনাম কীর্তন করতে লাগল।পন্থভীলের অভাবনীয় পরিবর্তন দেখে তার সহচরেরা অবাক হয়ে গেল এবং তারাও ঐ নামের শক্তিতে নব জীবন লাভ করে হরিনাম করতে করতে নৃত্য করতে লাগল।হরিনামের ধ্বনিতে নিস্তব্ধ নিবিড় জঙ্গল প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠিল।দস‍্যু অরণ‍্য যেন আনন্দ-কাননে পরিণত হল।গৌরহরি পন্থভীল ও তার সহচরদের উদ্ধার করে দ্বারে দ্বারে হরিনাম বিলাতে বিলাতে চলতে লাগলেন। গৌরহরিকে যে একবার দেখত,তারই চিত্ত তাঁর দিকে আকৃষ্ট হয়ে পড়ত। মহাপ্রভু পথে যেতে যেতে এক বৃক্ষতলে আশ্রয় গ্রহণ করলেন। অনাহারে সেই বৃক্ষতলে তিনদিন কেটে গেল। শরীর শীর্ণ হয়ে পড়ল। কিন্তু তাঁর রসনা পবিত্র ভগবানের নামকীর্তনে বিরত হল না।তিনদিন পরে এক বৃদ্ধা নারী আটা ও দুগ্ধ নিয়ে এলেন।মহাপ্রভু ও গোবিন্দ দাস তাতেই ক্ষুধা নিবৃত্তি করে গারীশ্বর শিব দর্শন মানসে গমন করলেন।বৃক্ষতল হতে দেবমন্দির প্রায় তিনক্রোশ, তিনি সেই মন্দিরের কাছে উপস্থিত হলেন।মন্দিরটির কাছে একটি প্রকান্ড বিল্গবৃক্ষ ছিল। গোবিন্দ দাস বলেন,বৃক্ষটির শাখা প্রায় অর্ধক্রোশ ব‍্যাপিয়া রয়েছে। গৌরহরি সেই শত শত শাখা ও পত্রবিশিষ্ট বিল্ববৃক্ষ হতে পাতা তুলে ভক্তিভরে শিবকে অঞ্জলী দান করলেন।সেখানে দুইদিন থাকবার পর, শ্রীচৈতন‍্যদেব দেখলেন, এক সন্ন‍্যাসী পর্বত শিখর হতে নেমে মন্দিরে শিব আরাধনা করে পুনরায় পর্বতের উপরে চলে গেলেন।সন্ন‍্যাসী মৌনব্রতধারী।তাঁর জ‍্যোতিঃ যেন তাঁর ছায়া আলোকিত করছে।তাঁকে দেখে শ্রীচৈতন‍্যের হৃদয়ে কেমন এক ভাবের সঞ্চার হল।তাঁর দর্শন লালসায় তিনি পর্বতের দিকে ধাবিত হলেন।গোবিন্দও তাঁর পেছন পেছন চললেন।গিরিশিখরে বৃক্ষতলে সন্ন‍্যাসী চক্ষু নিমীলিত করে বসে আছেন।তিনি যথার্থ উদাসীন।শ্রীচৈতন‍্যদেব জোড়হস্তে সেখানে দাঁড়িয়ে যোগীবরের স্তব করতে লাগলেন।কিছুক্ষণ পরে তিনি চক্ষু উন্মীলন করে,তাঁর দিকে দৃষ্টিপাত করে হাসতে লাগলেন।গৌরহরি তাঁর কাছে গিয়ে বসলেন।সন্ন‍্যাসী আশ্রমে আগত অতিথিদের জন্য পরটা নামক কয়েকটি সুমিষ্ট ফল এনে তাঁদেরকে প্রদান করলেন।গোবিন্দদাস বলেন যে,পরটা খেয়ে তাঁর লালসা আরো বৃদ্ধি হয়ে উঠিল।মহাপ্রভু তা জানতে পেরে নিজের দুইটি ফল তাঁকে প্রদান করলেন।সন্ন‍্যাসী এটি দেখে পুনরায় আরো কয়েকটি ফল আনিয়ে মহাপ্রভুকে প্রদান করলেন।*
🌲🌳🌲🌳🌲🌳🌲🌳🌲🌳🌲🌳🌲
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮০)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
              *👣নানা তীর্থ ভ্রমণ👣*
           ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀নিস্তব্দ নির্জন পর্বতের উপরে নির্ঝরাণী কুলু কুল রবে বহে যাচ্ছে।পল্লবাবৃত তরুরাজির মধ্যে বিহঙ্গকুল নিজের মনে গান করছে ; প্রকৃতির এই রমণীয় জায়গায় শ্রীচৈতন‍্যদেব কি স্থির হয়ে থাকতে পারেন,তাঁর প্রেমোচ্ছ্বাস উথলিয়ে উঠল।তিনি আনন্দে কীর্তন করতে করতে নৃত্য করতে লাগলেন।অবশেষে তিনি ভূতলে পড়ে গেলে,পাথরের আঘাতে মস্তক ফেটে রক্তধারায়তাঁর শ্রীবদন ভিজে গেল।এই অমানুষিক ভক্তিপ্রবণতা দেখে সন্ন‍্যাসীর হৃদয় দ্রবীভূত হল।তিনিও ভূতলে পড়ে ছটফট করতে লাগলেন।তাঁরও নয়নযুগলের বারিধারায় শুভ্র শ্মশ্রু সিক্ত হয়ে গেল। তিনি শ্রীচৈতন‍্যদেবের শ্রীচরণ ধরে বললেন, "তুমি তো মানব নহ,স্বয়ং ঈশ্বর "। কিন্তু চৈতন‍্যদেব এইরকম স্তুতিতে প্রীত না হয়ে কানে আঙ্গুল দিয়ে বললেন,সন্ন‍্যাসীবর! একথা মুখে আনিও না।*
*🌺তার পর মহাপ্রভু সেখান থেকে বিদায় নিয়ে ত্রিপদিনগরে গমন করে শ্রীরামচন্দ্রের মূর্তি দর্শন করতঃ ভিবে বিভোর হয়ে ধূলায় লুন্ঠিত হলেন। সেখানে মথুরা নামে এক পন্ডিত অনেক শিষ‍্যসহ বাস করতেন।তাঁরা সকলেই রাম-উপাসক ; রামাইত বলে পরিচিত। রামাইত সম্প্রদায়ের শীর্ষ স্থানীয় মথুরা পন্ডিত শ্রীচৈতন‍্যদেবের সঙ্গে বিচারার্থী হলে, তিনি অতি বিনয়ের সহিত বললেন, পন্ডিত! শুকনো বিচারে প্রয়োজন নাই ; ঈশ্বরতত্ত্ব,জীবতত্ত্ব,মায়াবাদ,ধর্মের সূক্ষ্মতত্ত্ব প্রভৃতি সুললিত ভাবে ব‍্যাখ‍্যা কর,শুনে আমাদের প্রাণ শীতল হোক। তুমি সুপ্রসিদ্ধ তার্কিক,আমি তোমার সঙ্গে বিচার করতে অক্ষম।এই বলে মহাপ্রভু আনন্দে উন্মত্তপ্রায় হয়ে দুই বাহু তুলে নৃত্য করতে লাগলেন।মথুরাপন্ডিত ও তাঁর শিষ‍্যগণ শ্রীচৈতন‍্যের মধ্যে এই দেবভাব দেখে তারাও সকলে হরিধ্বনি করে আনন্দে নৃত্য করতে লাগলেন।মহাপ্রভু রামোপাসকদেরকে নিজের মতাবলম্বী করে পাপানরসিংহ দর্শন মানসে ধাবিত হলেন।মথুরাপন্ডিত নিজের হৃদয়ের ভক্তি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মানসে শ্রীচৈতন‍্যদেবের পশ্চাৎ অনুগমন করলেন।কিন্তু কিছুদূর গমন করলে, মহাপ্রভু ঈষৎ হেসে তাঁকে নিজ আশ্রমে গমন করতে বললেন।চৈতন‍্যদেব পানানরসিংহ এসে নৃসিংহ মূর্তি দর্শন করে তাঁর স্তব করলেন।দেব পুরোহিত মাধবেন্দ্র ভুজা নবাগত নবীন সন্ন‍্যাসীর গলে তুলসীর মালা পরিয়ে দিলেন।শর্করার সরবতে নৃসিংহদেবের সেবা হয়ে থাকে।শ্রীচৈতন‍্যদেব ও গোবিন্দ সেই পানা প্রসাদ পেয়ে ভক্ষণ করলেন।এখানে লক্ষ্মীনারায়ণ দর্শন করে তাঁরা পক্ষগিরিতে পক্ষতীর্থ দর্শন করতে গমন করেন।পক্ষগিরির পাদদেশে ভদ্রানদী প্রবাহিতা হচ্ছে। গৌরসুন্দর সেই নদীতে স্নান করে,কিছু জলযোগান্তে এক বৃক্ষতলে শয়ন করলেন। রাত্রে বাঘ এসে বিকট চিৎকার করতে আরম্ভ করল।গোবিন্দদাস বাঘের শব্দে অত‍্যন্ত ভীত হয়ে পড়লেন।তিনি বলেন,গোরাচাঁদ বাঘের ভীষণ চিৎকারে কিছুমাত্র ভীত না হয়ে, আনন্দিত মনে হরিধ্বনি করতে লাগলেন।বাঘ লাফ দিয়ে জঙ্গলের মধ্যে পালিয়ে গেল।মহাপ্রভুর মুখবিনিঃসৃত হরিনামের এই অপূর্ব শক্তি দেখে গোবিন্দ বিস্ময়াবিষ্ট চিত্তে তাঁর পদধূলিমস্তকে গ্রহণ করলেন।*
*ভদ্রানদী হতে প্রায় পাঁচ ক্রোশ দূরে কালতীর্থে বরাহদেবের মূর্তি প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।গৌরহরি সেটি দর্শন করবার জন্য সেখানে গমন করলেন এবং নিষ্ঠা ও ভক্তিসহকারে বরাহদেবের অর্চনা করলেন। তীর্থের এক পান্ডা ফুলের মালা এনে তাঁর গলদেশে পরিয়ে দিলেন।মহাপ্রভু মালা পরবার পরে হতেই নয়ন হতে জলধারা বহিতে লাগল। তিনি সেখান হতে সন্ধিতীর্থে যাত্রা করলেন। নন্দা ও ভদ্রা নামে দুইটি নদীর জলরাশি মিলিত হয়ে সেখানে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি সেখানে স্নান করলেন।সেখানকার তীর্থস্বমীর নাম সদানন্দপুরী ; তিনি সুবিখ‍্যাত পন্ডিত বলে পরিচিত।শ্রীচৈতন‍্যদেব সেখানে গমন করলে,পন্ডিত সদানন্দপুরী তাঁর সঙ্গে অদ্বৈতবাদ সম্বন্ধে বিতন্ডা উপস্থিত করলেন। কিন্তু বিচারে পন্ডিত সদানন্দ নবদ্বীপের দিগ্বিজয়ী নিমাই পন্ডিতের কাছে পরাভূত হয়ে তাঁর চরণতলে লুটিয়ে পড়লেন।*
*🌷তুলিলা অদ্বৈতবাদ সদানন্দপুরী।*
*🌷এক তর্কে পুরীর ভাঙ্গির ভারিভুরি।।*
*🌷অবশেষে সদানন্দ আশ্চর্য‍্য হইয়া।*
*🌷ভক্তিভরে প্রভুপদে পোলো লোটাইয়া।।*
                           *(গোঃ দাস)*
*🌹শ্রীচৈতন‍্যদেব সদানন্দপুরীকে ভক্তিধর্মে দীক্ষিত করে,চাঁইপালা তীর্থে গমন করলেন।তথায় এক ভৈরবী বাস করতেন।তাঁর নাম সিদ্ধেশ্বরী।তাঁর তখন বয়স প্রায় একশ বৎসর। কিন্তু এই দীর্ঘ বয়সেও, তাঁর দেহের গঠন ও রূপলাবণ‍্য দেখে তাঁকে শতবর্ষীয়া নারী বলে বোধ হত না। তেজস্বিনী মহাতপা এক বিল্ববৃক্ষের তলে বসে,ভগবত আরাধনায় রত থেকে বহুদিন অতিবাহিত করেছিলেন।এই মহাতপার অনতিদূরে শৃগালী ভৈরবী নামে আর এক তাপসী নদীর কুলে বসে তপস‍্যা করতেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব এই যোগিনীদেরকে দর্শন করে,কাবেরী নদীতটে গমন করে স্নান করলেন।অপরাহ্নে মহাপ্রভুর সঙ্গী গোবিন্দ ভিক্ষার জন্য বাহির হয়ে কিছু আটা সংগ্রহ করে আনিলে, গৌরসুন্দর ভিক্ষালব্ধ আটা নিয়ে রুটি তৈরী করলেন।গোবিন্দও মহাপ্রভুর প্রসাদ পেয়ে পরম আনন্দ লাভ করলেন।*
*🍀অতঃপর শ্রীচৈতন‍্যদেব সেখান হতে পরদিন প্রভাতে বাহির হয়ে,পথে হরিনাম বিলাতে বিলাতে চলতে লাগলেন, এবং নাগর নগরে এসে উপস্থিত হলেন।সেখানে শ্রীরাম লক্ষ্মণের মূর্তি দেখে, প্রেমভরে হরিগুণ কীর্তন করতে লাগলেন।তাঁর প্রেমানুরাগের কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল, দশ ক্রোশ দূর হতে তাঁর দর্শন লালসায় লোকে নাগর নগরে আগমন করতে লাগল।বহু সংখ্যক ব‍্যক্তি মহাপ্রভুর রূপদর্শন ও প্রেমে আকৃষ্ট হল। কিন্তু তত্র‍ত‍্য (সেখানকার) এক ব্রাহ্মণ তাঁর বিরোধী হয়ে উঠিল।সে উগ্রমূর্তি ধারণ করে মহাপ্রভুর সামনে উপস্থিত হয়ে অতি তীব্রভাবে তাঁকে গালি দিতে লাগিল ; অবশেষে তাঁর কোমল অঙ্গে প্রহার করতে উদ‍্যত হলে, সমবেত জনমন্ডলী ব্রাহ্মণের এই অস‍ৎ ব‍্যবহারের জন্য সক্রোধে তাঁকে তিরস্কার করতে লাগল। কিন্তু প্রেমাবতার শ্রীচৈতন‍্যদেব এই সুযোগে প্রহার উদ‍্যত ব্রাহ্মণকে সংসারের অনিত‍্যতা বিষয়ে নানান উপদেশ প্রদান করে বললেন, আমাকে প্রহার কর, ক্ষতি নেই, কিন্তু একবার প্রাণভরে হরিনাম কর ; তোমার কাছে আমার এই প্রার্থনা। গোবিন্দদাস তাঁর কড়চায়=*
*🌷আমারে আঘাত কর তাতে দুঃখ নাই।*
*🌷প্রাণভরে হরি বল এই ভিক্ষা চাই।।*
*🌺শ্রীচৈতন‍্যদেবের অপূর্ব ভক্তি,বিনয় ও ধৈর্য্য দেখে ব্রাহ্মণের কঠোর হৃদয় কোমল হল।সে নিজের দুষ্কার্য‍্যের কথা মনে করে অনুতপ্ত হৃদয়ে মহাপ্রভুর চরণে লুটিয়ে পড়ল, এবং প্রাণভরে হরিনাম উচ্চারণ করতে করতে ভক্তের ন‍্যায় নৃত্য করতে লাগল। গৌরহরি ব্রাহ্মণকে উদ্ধার করে সেখান হতে তাঞ্জোরে গমন করলেন। সেখানে ধলেশ্বর নামে এক বিষ্ণুভক্ত ব্রাহ্মণ বাস করতেন।তাঁর বাড়ীর আঙ্গিনায় প্রকান্ড বকুল বৃক্ষতলে, অনেক বৈষ্ণব সন্ন‍্যাসী বাস করতেন।তাঁদের ধর্মনিষ্ঠা ও বৈরাগ‍্য দর্শন করলে, ঘোর সংসার আসক্ত বিষয়ীরও অন্তরে বৈরাগ‍্যের সঞ্চার হত।গৌরসুন্দর এ সব দেখে অনতিদূরবর্তী চন্ডালু নামক এক পর্বতে গমন করলেন।বৃক্ষলতাদি পরিবেষ্টিত এই গিরিগাত্রের বহু গহ্বরের মধ্যে অনেক সাধক,তপঃপরায়ণ ব‍্যক্তি ধ‍্যান স্তিমিত লোচনে পরমাত্মার ধ‍্যানে নিমগ্ন থাকতেন।মহাপ্রভু সে স্থান দর্শন করবার জন্য গমন করলে,সেখানকার ভট্ট নামে এক বিপ্র তাঁকে নিজ ভবনে নিয়ে গেলেন।ভট্টের ভক্তির ভাব দেখে মহাপ্রভু খুবই খুশী হলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧









মাধবেন্দ্রপুরী কর্তৃক অন্নকূট উৎসব 🌾🍙 কার্তিক মাসের শুক্লা প্রতিপদ তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/annokut.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

মাধবেন্দ্রপুরী কর্তৃক অন্নকূট উৎসব 🌾🍙 কার্তিক মাসের শুক্লা প্রতিপদ তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/annokut.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*#কার্তিক_মাসের_শুক্লা_প্রতিপদ_তিথি*
*#মাধবেন্দ্রপুরী_কর্তৃক_অন্নকূট_উৎসব* 

মহাপ্রভু সন্ন্যাস গ্রহণ করে যখন নীলাচলপুরীতে আসার পথে রেমুণার মন্দিরে ক্ষীরচোরা গোপীনাথকে দর্শন করেছিলেন তখন ক্ষীরচোরা গোপীনাথের ক্ষীর প্রসাদ আস্বাদনের ছলে সঙ্গের ভক্তদের তিনি নিজের পরম গুরুদেব মাধবেন্দ্রপুরীর চরিতাস্বাদন করিয়েছিলেন । মহাপ্রভু নিজে এই কাহিনী শুনেছিলেন শ্রীগুরুদেব ঈশ্বর পুরী গোস্বামীর কাছ থেকে।

*#মহাপ্রসাদ_ক্ষীরলোভে_রহিলা_প্রভু_তথা*।
*#পূর্বে_ঈশ্বরপুরী_তাঁরে_কহিয়াছেন_কথা*।।

বৃন্দাবনের তীর্থ তখন লুপ্ত ।কারণ মাধবেন্দ্রপুরীর বহুপরে শ্রীমন্মহাপ্রভুর বৃন্দাবনে আগমন ,আরিট গ্রামে রাধাকুণ্ড প্রকটন এবং ভবিষ্যতের দায়ভার রূপ সনাতনাদি গোস্বামীগণের ওপর আরোপন।

মাধবেন্দ্রপুরী বৃন্দাবন দর্শন করতে করতে এলেন গোবর্ধন পর্বতের পাদদেশে ।পর্বত পরিক্রমা করে গোবিন্দকুণ্ডে এসে নিত্যকর্ম করে এক গাছের তলায় এসে স্মরণে রত রয়েছেন।তিনি অযাচকবৃত্তি ধারী সন্ন্যাসী ।নিজে কিছু চেয়ে খান না। যদি কেউ কিছু দেন তো ভোগ লাগিয়ে প্রসাদ পান নয়তো উপবাসী। গোবিন্দকুণ্ডের তটে বসে তিনি উপবাসী রয়েছেন। বোধকরি অন্তর্যামীর অন্তর কেঁদে উঠল ভক্তের জন্য । গোপবালকের ছদ্মবেশে এসে শ্রীগোবিন্দ এক ভাঁড় দুধ দিয়ে গেলেন মাধবেন্দ্রপুরীকে ।
 *#গোপবালক_এক_দুগ্ধভাণ্ড_লৈয়া*।
*#আসি_আগে_ধরে_কিছু_বলিল_হাসিয়া* ।।
মাধবেন্দ্রপুরী রাতে গোবিন্দকুণ্ড তটেই শুয়েই পড়লেন। স্বপ্ন দেখলেন। সেই গোপবালক তাঁর হাত ধরে এক কুঞ্জে নিয়ে গিয়ে বলছেন ,"আমি এই কুঞ্জে খুব কষ্টে আছি।আমার সেবক ম্লেচ্ছভয়ে আমাকে এখানে গোপনে রেখে দিয়ে গেছে।আমাকে তুমি উদ্ধার করে পর্বতের ওপরে প্রতিষ্ঠা করো।আমি তোমার হাতে সেবা পেতে অপেক্ষায় আছি।
*#বহুদিন_হৈতে_করি_পথ_নিরীক্ষণ*।
*#কবে_আসি_মাধব_মোরে_করিবে_সেবন*।।
স্বপ্নভঙ্গে মাধবেন্দ্রপুরী দেখলেন ভোরের আলো ফুটে উঠবে এবার।ব্রজবাসীদের ডেকে তিনি তার স্বপ্নের কথা বললেন এবং ব্রজবাসীদের সহায়তায় গোবর্ধন পর্বতের অন্তর্গত এক কুঞ্জে মাটি ঘাসের আড়াল থেকে উদ্ধার করলেন গোপালের নয়নাভিরাম বিগ্রহ ।বিধিমতো অবিষেকাদি সম্পন্ন হবার পরেই দই দুধ সন্দেশ (ব্রজের সর্বত্রই এই দুগ্ধজাত সামগ্রীর প্রাচুর্য) দিয়ে বাল্যভোগ নিবেদন করলেন। এরপরে শুরু হল মধ্যাহ্নভোগের প্রস্তুতি।গোবর্ধনের সন্নিকটস্থ গ্রামের মানুষজন সবাই ভোগের সামগ্রী নিয়ে এল।তণ্ডুল ডাল গোধূম চূর্ণ ইত্যাদি । কুমোরের ঘরে যত মাটির পাত্র ছিল সবাই নিয়ে এল ভোগরান্নার জন্য ।

*#কুম্ভকার_ঘরে_ছিল_যে_মৃদ্ভাজন*।
*#সব_আনাইল_প্রাতে_চড়িল_রন্ধন*।।
দশজন ব্রাহ্মণ অন্ন রান্না করতে লাগলেন।পাঁচ জন মিলে ব্যঞ্জন ডাল রসা তৈরি করতে লাগলেন।কেউ কেউ বড়া বড়ি তৈরি করলেন।পাঁচ সাত জন মিলে রাশি রাশি রুটি তৈরি করলেন।অন্ন ব্যঞ্জন সবকিছুর ওপর ঘি দেওয়া হতে থাকল । রন্ধনকারীর সংখ্যা দেখেই অনুমান করা যায় যে কি পরিমান ভোগ তৈরি হয়েছিল।
ভোগ রান্নার পরে সমস্ত অন্ন চূড়া করে সাজানো হতে থাকল।অন্নের পাশে রুটির চূড়া করা হলো।চারদিকে ডাল রসা লাফড়া ব্যঞ্জন রাখা হল।তারপাশে দই দুধ মাঠা পায়েস সর সব সাজানো হল। দেখে মনে হল ছোটো খাটো একটা খাবারের পর্বত।এইভাবে অন্নকূট তৈরি হল।

*#হেনমতে_অন্নকূট_করিল_সাজন*।
*#পুরী_গোসাঞি_গোপালেরে_কৈল_সমর্পণ* ।।

গোপালের আনন্দ আর ধরে না। এতদিন যাঁর সেবার জন্য তিনি উৎকণ্ঠিত ছিলেন, সেই মাধবেন্দ্রপুরী আজ নিজে স্বয়ং অন্নকূট উৎসব করলেন।অন্নকূটের সবকিছুই গোপাল প্রাণভরে খেল।আর গোপালের হাতের স্পর্শে অন্নকূট পুনরায় যেমন ছিল তেমনই রয়ে গেল। অন্তরঙ্গ ব্যক্তি ছাড়া কেউ বুঝতে পারল না গোপালের এই লীলা। অন্তরে অন্তরে যাঁর যোগ সেই তো অন্তরঙ্গ হতে পারে।গোপালের সঙ্গে অন্তরের যোগ মাধবেন্দ্রপুরীর । তাই মাধবেন্দ্রপুরীই একমাত্র অনুভব করলেন যে গোপাল সবকিছু খেয়েছে।

*#যদ্যপি_গোপাল_সব_অন্ন_ব্যঞ্জন_খাইল*।
*#তাঁর_হস্তস্পর্শে_পুনঃ_তেমনি_রহিল*।।
*#ইহা_অনুভব_কৈল_মাধব_গোসাঞি*।
*#তাঁর_ঠাঞি_গোপালের_লুকা_কিছু_নাই*। 
এরপরে প্রায়শই গোপালকে দেখতে আশপাশের মানুষজন আসতে লাগল ।তাঁরাও গোপালের জন্য ভোগ সামগ্রী নিয়ে আসতে লাগল। দৈনিক অন্নকূট মহোৎসব হতে থাকল।*জয় নিতাই!*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
      ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী দীপ বাগুই📖👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-বাগুইপাড়া, বাগুইআটি,  উত্তর চব্বিশ পরগনা, কোলকাতা-৭০০১৫৯

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







রমা একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/rama.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

রমা একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/rama.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*#রমা_একাদশী_ব্রত_মাহাত্ম্য।*

একসময় যুধিষ্ঠির মহারাজ শ্রীকৃষ্ণকে বললেন-
হে জনার্দন! কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর নাম ও মাহাত্ম্য কৃপা করে আমায় বলুন। শ্রীকৃষ্ণ বললেন-হে রাজন! মহাপাপ দূরকারী সেই একাদশী ‘রমা’ নামে বিখ্যাত। আমি এখন এর মাহাত্ম্য বর্ণনা করছি, আপনি তা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করুন। 

পুরাকালে মুচুকুন্দ নামে একজন সুপ্রসিদ্ধ রাজা ছিলেন। দেবরাজ ইন্দ্র, যম, বরুণ ও ধনপতি কুবেরের সাথে তার বন্ধুত্ব ছিল। ভক্তশ্রেষ্ঠ বিভীষণের সাথেও তার অত্যন্ত সদ্ভাব ছিল। তিনি ছিলেন বিষ্ণুভক্ত ও সত্যপ্রতিজ্ঞ। এইরূপে তিনি ধর্ম অনুসারে রাজ্যশাসন করতেন।

 চন্দ্রভাগা নামে তার একটি কন্যা ছিল। চন্দ্রসেনের পুত্র শোভনের সাথে তার বিবাহ হয়েছিল। শোভন একসময় শ্বশুর বাড়িতে এসেছিল। দৈবক্রমে সেইদিন ছিল একাদশী তিথি। স্বামীকে দেখে পতিপরায়ণা চন্দ্রভাগা মনে মনে চিন্তা করতে লাগল-হে ভগবান! আমার স্বামী অত্যন্ত দুর্বল, তিনি ক্ষুধা সহ্য করতে পারেন না। এখানে আমার পিতার শাসন খুবই কঠোর। দশমীর দিন তিনি নাগড়া বাজিয়ে ঘোষণা করে দিয়েছেন যে, একাদশী দিনে আহার নিষিদ্ধ। আমি এখন কি করি! 

রাজার নিষেধাজ্ঞা শুনে শোভন তার প্রিয়তমা পত্নীকে বলল-হে প্রিয়ে, এখন আমার কি কর্তব্য, তা আমাকে বলো। উত্তরে রাজকন্যা বলল-হে স্বামী, আজ এই গৃহে এমনকি রাজ্যমধ্যে কেউই আহার করবে না। মানুষের কথা তো দূরে থাকুক পশুরা পর্যন্ত অন্নজল মাত্র গ্রহণ করবে না। হে নাথ, যদি তুমি এ থেকে পরিত্রাণ চাও তবে নিজগৃহে প্রত্যাবর্তন কর। এখানে আহার করলে তুমি সকলের নিন্দাভাজন হবে এবং আমার পিতাও ক্রুদ্ধ হবেন। এখন বিশেষভাবে বিচার করে যা ভাল হয়, তুমি তাই কর।

 সাধ্বী স্ত্রীর এই কথা শুনে শোভন বলল-হে প্রিয়ে! তুমি ঠিকই বলেছ। কিন্তু আমি গৃহে যাব না। এখানে থেকে একাদশী ব্রত পালন করব। ভাগ্যে যা লেখা আছে তা অবশ্যই ঘটবে। 

এইভাবে শোভন ব্রত পালনে বদ্ধপরিকর হলেন। সমস্ত দিন অতিক্রান্ত হয়ে রাত্রি শুরু হল। বৈষ্ণবদের কাছে সেই রাত্রি সত্যিই আনন্দকর। কিন্তু শোভনের পক্ষে তা ছিল বড়ই দুংখদায়ক। কেননা ক্ষুধা-তৃষ্ণায় সে ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ল। এভাবে রাত্রি অতিবাহিত হলে সূর্যোদয়কালে তার মৃত্যু হল। রাজা মুচুকুন্দ সাড়ম্বরে তার শবদাহকার্য সুসম্পন্ন করলেন। চন্দ্রভাগা স্বামীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সমাপ্ত করে পিতার আদেশে পিতৃগৃহেই বাস করতে লাগল।

কালক্রমে রমাব্রত প্রভাবে শোভন মন্দরাচল শিখরে অনুপম সৌন্দর্যবিশিষ্ট এক রমণীয় দেবপুরী প্রাপ্ত হলেন। একসময় মুচুকুন্দপুরের সোমশর্ম্মা নামে এক ব্রাহ্মণ তীর্থভ্রমণ করতে করতে সেখানে উপস্থিত হলেন। সেখানে রত্নমণ্ডিত বিচিত্র স্ফটিকখচিত সিংহাসনে রত্নালঙ্কারে ভূষিত রাজা শোভনকে তিনি দেখতে পেলেন। গন্ধর্ব ও অপ্সরাগণ দ্বারা নানা উপচারে সেখানে তিনি পূজিত হচ্ছিলেন। রাজা মুচুকুন্দের জামাতারূপে ব্রাহ্মণ তাকে চিনতে পেরে তার কাছে গেলেন। শোভনও সেই ব্রাহ্মণকে দেখে আসন থেকে উঠে এসে তাঁর চরণ বন্দনা করলেন। শ্বশুর মুচুকুন্দ ও স্ত্রী চন্দ্রভাগা সহ নগরবাসী সকলের কুশলবার্তা জিজ্ঞাসা করলেন। ব্রাহ্মণ সকলের কুশল সংবাদ জানালেন। জিজ্ঞাসা করলেন-এমন বিচিত্র মনোরম স্থান কেউ কখনও দেখেনি। আপনি কিভাবে এই স্থান প্রাপ্ত হলেন, তা সবিস্তারে আমার কাছে বর্ণনা করুন। শোভন বললেন যে, কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া রমা একাদশী সর্বব্রতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। আমি তা শ্রদ্ধারহিতভাবে পালন করলেও তার আশ্চর্যজনক এই ফল লাভ করেছি। আপনি কৃপা করে চন্দ্রভাগাকে সমস্ত ঘটনা জানাবেন।

 সোমশর্ম্মা মুচুকুন্দপুরে ফিরে এসে চন্দ্রভাগার কাছে সমস্ত ঘটনার কথা জানালেন। ব্রাহ্মণের কথা শুনে অত্যন্ত আনন্দিত চন্দ্রভাগা বললেন-হে ব্রাহ্মণ! আপনার কথা আমার কাছে স্বপ্ন বলে মনে হচ্ছে। তখন সোমশর্ম্মা বললেন-হে পুত্রী, সেখানে তোমার স্বামীকে আমি স্বয়ং সচক্ষে দেখেছি। অগ্নিদেবের মতো দীপ্তিমান তার নগরও দর্শন করেছি। কিন্তু তার নগর স্থির নয়, তা যাতে স্থির হয় সেই মতো কোন উপায় কর। এসব কথা শুনে চন্দ্রভাগা বললেন, তাকে দেখতে আমার একান্ত ইচ্ছা হচ্ছে। আমাকে এখনই তার কাছে নিয়ে চলুন। আমি ব্রত পালনের পুণ্যপ্রভাবে এই নগরকে স্থির করে দেব। 

তখন সোমশর্ম্মা চন্দ্রভাগাকে নিয়ে মন্দার পর্বতে বামদেবের আশ্রমে উপনীত হলেন। সেখানে ঋষির কৃপায় ও হরিবাসর ব্রত পালনের ফলে চন্দ্রভাগা দিব্য শরীর ধারণ করল। দিব্য গতি লাভ করে নিজ স্বামীর নিকট উপস্থিত হলেন। প্রিয় পত্নীকে দেখে শোভন অতীব আনন্দিত হলেন।

 বহুদিন পর স্বামীর সঙ্গ লাভ করে চন্দ্রভাগা অকপটে নিজের পুণ্যকথা জানালেন। হে প্রিয়, আজ থেকে আট বছর আগে আমি যখন পিতৃগৃহে ছিলাম তখন থেকেই এই রমা একাদশীর ব্রত নিষ্ঠাসহকারে পালন করতাম। ঐ পুণ্য প্রভাবে এই নগর স্থির হবে এবং মহাপ্রলয় পর্যন্ত থাকবে। 

হে মহারাজ! মন্দারাচল পর্বতের শিখরে শোভন স্ত্রী চন্দ্রভাগা সহ দিব্যসুখ ভোগ করতে লাগলেন। পাপনাশিনী ও ভক্তি প্রদায়িনী রমা একাদশীর মাহাত্ম্য আপনার কাছে বর্ণনা করলাম। যিনি এই একাদশী ব্রত শ্রবণ করবেন, তিনি সর্বপাপ মুক্ত হয়ে বিষ্ণুলোকে পূজিত হবেন।*জয় নিতাই!*
*নিত্যানন্দ প্রভু ও গৌড়ীয় গোস্বামী সিদ্ধান্ত সম্বলিত বিবিধ প্রসঙ্গ জানতে এই গ্রুপে অ্যাড হোন, বন্ধুদের অ্যাড করুন , লাইক,কমেন্ট ও শেয়ার করে সাথে থাকুন।*

https://www.facebook.com/groups/1370545549769377/

*এখানে ধর্মীয় ভক্তি-জ্ঞান সম্বন্ধে অনেক নতুন নতুন পোস্ট পেতে পারবেন।*
 *জয় নিতাই!*
 *জয় জয় নিতাই!!*
*🌹🌹🙏🙏🌹🌹*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
  ꧁👇📖সূচীপত্র ✍️ শ্রী গোপীশরণ দাস📖👇
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

      ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০১)🏢🏢জগৎ শেঠ🏢🏢*
        *গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায়*
*জগৎ শেঠ প্রথমে "উৎসাহ"পত্রে পরে "ঐতিহাসিক চিত্রে" প্রকাশিত হতে আরম্ভ হয়, উক্ত পত্রদ্বয়ে জগৎশেঠের সামান্য অংশ প্রকাশিত হয়েছিল।এক্ষণে সম্পূর্ণ গ্রন্থ প্রকাশিত হল।*
*🔷ইংরেজী ১৯১২ সালে জগৎশেঠ বইখানি প্রথম প্রকাশিত হবার সঙ্গে সঙ্গেই তদানীন্তন ইংরেজ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়।*
**************************************
*🌻🌻ধর্ম ও আদি পুরুষ🌻🌻*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻
*🌹প্রকৃতির ভৈরবীমূর্তি মরুস্থলী বা মাড়বারভূমি রাঠোর বিজয় পতাকা হৃদয়ে ধারণ করে এককালে সমগ্র রাজস্থানে নিজের গৌরবপ্রভা বিস্তার করেছিল।এই মাড়বার প্রদেশে "নাগর" নামে এক প্রসিদ্ধ নগর আছে।মাড়বারের রাজধানী যোধপুরের পরই নাগর উক্ত প্রদেশের প্রধান স্থান বলে পরিকীর্তিত।খৃষ্টীয় ১৩৮২ অব্দে নাগর রাঠোরকুলশ্রেষ্ঠ চন্ড কর্তৃক অধিকৃত হয়।তদবধি সেটি যোধপুরের যুবরাজগণের বৃত্তিভূমিরূপে নির্দিষ্ট হয়ে আসছিল।রাঠোরগণের প্রভুত্বকালে নাগর হতে বার্ষিক ৭৫ হাজার টাকা রাজস্ব আদায়ের কথা শোনা যায়।নাগর অনেক বার মুসলমানদের দ্বারা অধিকৃত হয়েছিল। মোগরকেশরী আকবর শাহ একবার এর বক্ষে বিজয়বৈজয়ন্তী প্রোথিত করে বিকানীররাজকে উক্ত নগর সমর্পণ করেছিলেন।* 
*🔴yet surrounded by walls, Mr Habib, with a party of their best horses. having found means, to fall upon that city, before Alywerdy qhan could come up carried from Jagat-seat's house two crores of rupees, in Arcot coin only ; and this prodigious sum did not affect the two brothers, more than if it had been two trusses of straw. They continued to give afterwards to Government. as they had done before, bill of exchange, called dursunnies, of one crore at a time by which words is meant, a draft,which the acceptor. is to pay at sight without any sort of excuse In short their wealth was such that there is no mentioning it, whitout seeming to exaggerate, and to deal in extravagant fables. Thousands of their agents and factors, have acquired such fortunes in their service, as have enabled them to purchase large trabts of land, and other astonishing possession.(Seir Mutuqherin Trans. Vol. II, pp. 226-227).*
*🌹কিন্তু অবশেষে সেটি পুনর্বার যোধপুর-রাজ‍্যের অন্তর্ভূত হয়।কারও কারও মতে এই "নাগর" হতে দেবনাগর অক্ষরের উৎপত্তি হয়েছে।মাড়বারের অন্তর্গত এই সুপ্রসিদ্ধ নাগরই বাংলার "শেঠ বংশীয়দের পূর্বনিবাস"।নাগরে বহুকাল হতে জৈনধর্মাবলম্বী বণিকগণ বাস করতেন।বৌদ্ধধর্মের অবসানের পর জৈনধর্ম কিছু দিনের জন্য ভারতের কোন কোন জায়গায় প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল।রাজপুতানার অনেক জায়গা জৈনদের বাসভূমি হয়ে উঠে।নাগর তারমধ‍্যে একটি প্রধান জায়গা। বাংলার শেঠগণ প্রথমে উক্ত জৈনধর্মাবলম্বী ছিলেন,তাঁরা জৈনদের শ্বেতাম্বর-সম্প্রদায়ী বলে গণ‍্য হতেন। সাধারণের অবগতির জন্য আমরা প্রথমে শেঠগণের পূর্ব ধর্মের কিঞ্চিৎ আভাস প্রদান করছি।*
*🍀যৎকালে ভারতবর্ষে শাক‍্যসিংহের প্রচারিত বৌদ্ধধর্ম দিন দিন হীনপ্রভ হতে লাগল, (ধীরে ধীরে ডুবতে লাগল), সেই সময়ে জৈনধর্ম ক্রমে ক্রমে নিজের প্রসার বৃদ্ধি করতে আরম্ভ করে। জৈনধর্ম প্রাচীনকাল হতে প্রচলিত থাকলেও সাধারণত বৌদ্ধধর্মের নীতিমালার উপর বতর্মান জৈনমতের ভিত্তি সংস্থাপিত হয়। কিন্তু অন‍্যান‍্য উপকরণ মিশ্রিত হওয়ায় তার ভিত্তি সেইরকম সুদৃঢ় হতে পারেনি।সেই জন্য এটি কেবলই ভারতবর্ষে আবদ্ধ হয়ে থাকে ; ভারত ছাড়া অন‍্য কোন দেশে এর জায়গা হয়নি। জৈনধর্মের সৃষ্টিকর্তার নাম "অর্হৎ", ইনি দক্ষিণ কর্ণাটনিবাসী ও বেঙ্ককগিরির অধীশ্বর ছিলেন। অর্হৎ নৃপতি ঋষভদেবের চরিত্র আদর্শ করে তাঁর মত ধর্মপরায়ণ হবার জন্য উদাসীনবেশে ধর্মপ্রচারে রত হন।হিন্দুদের মতে ঋষভদেব ভগবান বিষ্ণুর অংশাবতার। জৈনেরা তাঁকে প্রথম অর্হৎ বলে ব‍্যক্ত করে থাকেন।জৈনগণ পরমেশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করেন না, তাঁদের মতে অর্হৎই পরমেশ্বর।ইঁনাদের পরমেশ্বর সর্বজ্ঞ,রাগদ্বেষাদি সমস্ত দোষজয়ী, ত্রিলোকমান‍্য ও সত‍্যবাদী।জৈনমতে ধর্মই একমাত্র মুক্তির পথ।ধর্ম দ্বারা বন্ধক্ষয় হলে জীব মুক্ত হয়, অর্থ‍্যাৎ স্বভাব-প্রাপ্ত হয়ে থাকে।মুক্তির স্বরূপ সতত উর্দ্ধগমন। এই মতে দুইটি মাত্র মূলতত্ত্ব, জীব ও অজীব তারমধ‍্যে বোধস্বরূপ জীব ও অবোধাত্মক অজীব।কোন কোন সম্প্রদায়ের মতে জীবাজীবেরও ভেদ আছে, জীব দ্বিবিধ, সংসারী ও মুক্ত।অমনস্ক,ধর্মাধর্ম,পুদ্গল(শরীর) অস্তিকায় (তত্ত্ব) প্রভৃতি ভেদে অজীব বহুবিধ।সম‍্যক্ দর্শন,সম‍্যক্ জ্ঞান ও সম‍্যক্ চরিত্র এই তিনটি মোক্ষের পথ।জৈনেরা এই তিনটিকে রত্নত্রয় নামে অভিহিত করে থাকেন।বৌদ্ধদের মত জৈনরাও অহিংসাকে পরম ধর্ম বলে মনে করে থাকেন। জৈনদের যে সমস্ত নীতি প্রচলিত আছে,তারমধ‍্যে কিছু প্রধান নীতির কথা উল্লেখ করা যাচ্ছে।*
*☘যেখানে গুণবান লোক,সত‍্য,শৌচ, প্রতিষ্ঠা,গুণগৌরব, এবং যেখানে বাস করলে অপূর্ব জ্ঞানলাভের সম্ভাবনা, সেই জায়গায় বাস করা কর্তব‍্য। উত্তম ব‍্যক্তিগণ জীর্ণ কি মলিন বস্ত্র পরিধান করবেন না। যদি প্রাজ্ঞ হও,তবে দেবতা ও বৃদ্ধদের প্রতারণা করিও না।প্রতিভূ হইও না,সাক্ষী হইও না। পেষণযন্ত্র,ছেদনযন্ত্র, জলাধার, বর্ধনী (গাড়ু, ঘটী) এই পাঁচটি ব‍্যবহার্য‍্য বস্তু হতে গৃহস্থদের ধর্মবাধক পাপ জন্মে, অর্থ‍্যাৎ এইসব জায়গায় হিংসা ঘটবার সম্ভাবনা। দয়া,দান,ইন্দ্রিয়সংযম,দেবপূজা, গুরু,ভক্তি, ক্ষমা,সত‍্য,শৌচ, তপস‍্যা,চৌর্য‍্য-বিমুখতা এইগুলি গৃহস্থদের ধর্ম। ধর্মের অবয়ব বহুবিস্তৃত হলেও তৎসমস্তের সার পরোপকার। পতিতের উদ্ধার,অহিংসা,বিনয়, ইন্দ্রিয়সংযম, ন‍্যায়পূর্বক জীবিকাগ্রহণ, মৃদুতা, এইসব ধর্ম পাপ নাশ করে।*
*🌻অতিথি,যাচক,দুঃস্থ ব‍্যক্তি গৃহাগত হলে যথাশক্তি ভক্তি-শ্রদ্ধা সহকারে তাদেরকে কৃতার্থ করে পরে তোমরা আহার করবে। পীড়িত,ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর ও ভয়যুক্ত হয়ে যদি কোন ব‍্যক্তি আগমন করে,তবে তাকে বিশেষরূপে অর্চনা করবে। দুর্লভ মনুষ‍্য জনম পেয়ে এমন কাজ করতে হবে যে,যাতে এক মুহূর্ত্ও যেন বৃথা না যায়। এই সমস্ত নীতি যে হিন্দু নীতিশাস্ত্র হতে গৃহীত হয়েছে তা স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে।বৌদ্ধ ও জৈনধর্ম হিন্দুধর্মের কাছে যে অনেক বিষয়ে ঋণী তার যথেষ্ট প্রমাণ আছে।*
❤❤❤❤❤❤🌻❤❤❤❤❤❤
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০২)🏢🏢জগৎ শেঠ🏢🏢*
      *📿ধর্ম ও আদি পুরুষ📿*
      **************************
*🔷জৈনরা চতুর্বিংশতি তীর্থঙ্কর বা মহাপুরুষের পূজা করে থাকেন,ইঁনারা "জিন" নামে অভিহিত হন।মন্দিরে তাঁদের প্রতিমূর্তি স্থাপিত করে পূজা করা হয়।ঋষভ,অজিত, সম্ভব,অভিনন্দন,সুমতি,পদ্মপ্রভ, সুপার্শ্ব,চন্দ্রপ্রভা,পুষ্পদন্ত,শীতল, শ্রেয়াংস,বসুপূজ‍্য,বিমল,অনন্ত,ধর্ম, শান্তি,কুন্তু,অরা,মালি,সুব্রত,নাম,নেমি, পার্শ্ব ও মহাবীর এই চতুর্বিংশ জন জৈনদের জিন বা তীর্থঙ্কর।ইঁনাদের মধ্যে পার্শ্বনাথের মত ভারতের সর্বস্থানেই প্রচলিত।পার্শ্বনাথ কাশীধামের অশ্বসেন নামে জৈনরাজের পুত্র,ইঁনার মাতার নাম বামা।বামাদেবী স্বপ্নে দেখেছিলেন যে,আদি জিনেশ্বর তাঁর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছেন।পার্শ্বদেব গর্ভে অবস্থানকালে বামাদেবীর এইরকম জ্ঞান হত যেন তিনি নিজ পার্শ্বে একটি সর্প ধারণ করছেন,এইকথা তিনি মুখেও ব‍্যক্ত করতেন।সেই কারণে তাঁর পিতা তাঁকে "পার্শ্ব" বলে অভিহিত করেন।পার্শ্বনাথের বাল‍্যকাল ও যৌবনকাল নির্দোষে অতিবাহিত হয়েছিল,বার্ধক‍্যে তিনি কাশীবাস পরিত‍্যাগ করে সম্মেত পর্বতে প্রাণত‍্যাগ করেন।তিনি শত বৎসর জীবিত ছিলেন,তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময়ই উপদেশপ্রধান ও ধর্মপ্রচার প্রভৃতি সদ-অনুষ্ঠানে অতিবাহিত হ'ত।জৈনদের চতুর্বিংতিতম তীর্থঙ্কর মহাবীরও জৈনধর্ম প্রচারের জন্য অপরিসীম যত্ন করেছিলেন।আবুগির্ণার,শত্রুঞ্জয় ও পার্শ্বনাথ পর্বত জৈনদের প্রধান তীর্থ স্থান।এদের মধ্যে শত্রুঞ্জয় মাহাত্ম্যে প্রসিদ্ধ।জৈনদের পূজক ও সাধুদেরকে যতি বলা হয়।তাঁরা জৈনধর্মের দার্শনিক মতের বিষয় সম‍্যক্ অবগত না।ধর্মই জগতের সার,যেহেতু ধর্মই সুখমাত্রেই প্রধান কারণ,ধর্মের উৎপত্তি কারণ মানুষ, সেই কারণে মনুষ‍্য জীবের সার,যারদ্বারা মানুষের উৎকর্ষ-লাভ হয়,তাইই ধর্ম--, ইত্যাদি কিছু স্থূল নীতিমাত্র ইঁনারা জানতেন।দেবমন্দিরে পাঠ,সাধুদের বন্দনা, তীর্থভ্রমণ,পরস্পর মিত্রভাবে থাকা ও ইন্দ্রিয়দমন এই পাঁচটি যতিদের অবশ‍্য কর্তব‍্য কার্য‍্য বলে উল্লিখিত হয়।মুখবন্ধন,পিচ্ছিকাগ্রহণ,কেশোল্লুঞ্চন প্রভৃতি কয়েকটি জৈনদের অসাধারণ ধর্ম আছে, অন‍্য কোন জাতির মধ্যে এসব দেখা যায় না।শ্বেতাম্বর ও দিগম্বর ভেদে জৈনেরা সাধারণতঃ দুইটি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত।তাঁদের সাধারণ লক্ষণ এই যে,শ্বেতাম্বরগণ ক্ষমাশীল,সঙ্গ-রহিত, কেশসংস্কার-বিহীন ও ভিক্ষান্নভোজী হয়ে থাকেন।দিগম্বরগণ পিচ্ছিকা (চামরধারী) ও পয়ঃপাত্রধারী এবং নিরাবরণ অর্থ‍্যাৎ উলঙ্গ।শ্বেতাম্বরগণ বস্ত্র পরিধান করেন।তাঁরা স্ত্রীসম্ভোগে একান্ত বিরত, কিন্তু দিগম্বরগণ স্ত্রীসম্ভোগে রত।জগৎশেঠগণ পূর্বে উক্ত শ্বেতাম্বর জৈনসম্ম্রদায়ভুক্ত ছিলেন, পরে বাংলার বৈষ্ণবধর্ম গ্রহণ করেন।*
*🌺নাগরবাসী শ্বেতাম্বর জৈনদের মধ্যে হীরানন্দ একজন সামান্য গৃহস্থ ছিলেন।মাড়বারিগণ চিরদিন হতে ব‍্যবসায় বাণিজ‍্যে নিজেদের শ্রীবৃদ্ধি সম্পাদন করে আসছেন।তাঁদের মধ্যে জৈনগণই উক্ত কাজে বিশেষ পটু। ভারতবর্ষের এমন কোন নগর নাই,যেখানে অনন্তঃ দুই-চারজন মাড়বারি ব‍্যবসায়ের জন্য বাস করতেন না।কলকাতা,মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি জায়গা তাঁদের এক একটি উপনিবেশ বললেও বেশী বলা হবে না।কলকাতার বড়বাজার ও মুর্শিদাবাদের আজিমগঞ্জ,বালুচর প্রভৃতি জায়গা এই সমস্ত মাড়বারি বণিক সম্প্রদায়ের প্রধান জায়গা।মুর্শিদাবাদবাসী মাড়বারিও আছেন, ঐসব জায়গা বাণিজ‍্যলক্ষ্মীর প্রিয় বাসনিকেতন হওয়াই, সেখানে প্রতিনিয়ত উন্নতির স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে।দুঃখের বিষয় মুর্শিদাবাদের জৈন বণিক-সম্প্রদায় কিঞ্চিৎ শ্রীহীন হয়ে পড়েছে।এই সমস্ত মাড়বারি বণিকগণ কেবল ভারতবর্ষে আবদ্ধ না থেকে বিশাল সাগর অতিক্রম করে জাঞ্জিবার,নেটাল প্রভৃতি আফ্রিকার উপকূলহমূহেও বাণিজ‍্য করবার জন্য বসবাস করছেন।তাঁদের এইরকম সমুদ্রযাত্রা নিতান্ত আধুনিক না,বহুদিন হতে তাঁদের মধ্যে উক্ত প্রথা প্রচলিত রয়েছে।হীরানন্দ সেই জাতির মধ্যে জন্ম পরিগ্রহ করায় নিতান্ত সম্বলহীন হলেও তাঁর বাণিজ‍্য পিপাসা বলবতী হয়ে উঠে।তিনি ব‍্যবসায়কার্য‍্যে উন্নতি লাভ করবার ইচ্ছায় নিজের সামান্য মূলধন নিয়ে ছাতু,ভুট্টা,লঙ্কা ও লবণের আহারে পরিতৃপ্ত হয়ে পর্বত,নদী,গ্রাম,নগর অতিক্রম করতে করতে প্রাচীন পাটলীপুত্র বা বতর্মান পাটনা নগরীতে এসে উপস্থিত হলেন।সেইসময় তিনি পাটনায় শ্রীশালিনী হয়ে ওঠেন।*

*মোঘল রাজত্বে ভারতবর্ষে যে বাণিজ‍্যের অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয়েছিল এটি সর্ববাদীসম্মত।দেশীয় বণিকসম্প্রদায় ছাড়া ইউরোপীয় বণিকগণ সেইসময় পাটনায় কুঠী স্থাপন করে সুচারুরূপে বাণিজ‍্যকার্য‍্য পরিচালনা করেছিলেন।শোণ,গন্ডবত ও গঙ্গা সম্মিলিত হয়ে পাটনাকে বাণিজ‍্যকার্য‍্যের উপযুক্ত স্থান করে তুলেছিল।এই জন্য উত্তরপশ্চিম প্রদেশ,নেপাল,ও বাংলার বাণিজ‍্যের সঙ্গে চিরদিন হতে এদের গাঢ় সম্বন্ধ ছিল।সপ্তদশ শতাব্দীতে এর ব‍্যবস‍াবাণিজ‍্য উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করে।তুলা,সরিসা,এরন্ড, নীল,লবণ প্রভৃতির বাণিজ‍্যের জন্য এটি চিরবিখ‍্যাত।হীরানন্দ ব‍্যবসায় বাণিজ‍্যে সর্বদা কোলাহলময় পাটনানগরীতে উপস্থিত হয়ে নিজ ভাগ‍্যোদয়ের জন্য যত্নবান হলেন।পাটনা বাণিজ‍্যের প্রধান জায়গা হওয়ায়,সেখানে অনেক মহাজনের গদী সংস্থাপিত ছিল।ব‍্যবসায়ীগণ সেই সমস্ত গদী হতে প্রয়োজন অনুসারে অর্থ গ্রহণ করতেন।যাঁরা গদীয়ানের কাজ করতেন,অল্প সময়ের মধ্যে তাঁরা বিপুর সম্পত্তির অধীশ্বর হতেন।কোন গদীর সঙ্গে সম্বন্ধ স্থাপন করতে পারলে অল্প দিনের মধ্যে ভাগ‍্যলক্ষ্মীর অনুগ্রহ লাভ হবে বিবেচনা করে হীরানন্দ সেই চেষ্টায় রত হলেন। কিন্তু প্রথমে ভাগ‍্যলক্ষ্মী তাঁর প্রতি প্রসন্না হলেন না! তিনি যে গদীয়ানের কাছে পরিচিত হতে যান,তিনি তাকে নবাগত দেখে তাঁর প্রতি সেইরকম বিশ্বাস স্থাপন করতে অনিচ্ছুক হন।*
🌲🌲🌲🌲🌲🌲🔴🌲🌲🌲🌲🌲🌲
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৩)🏢🏢জগৎ শেঠ🏢🏢*
             *ধর্ম ও আদি পুরুষ*
         --------------------------------------
*🌹কোনভাবে কোন গদীয়ানের কাছে পরিচিত হতে না পেরে তিনি অত‍্যন্ত মনঃকষ্টে পীড়িত হতে লাগলেন।তিনি তাঁর সুদূর জন্মভূমি মাড়বার পরিত‍্যাগ করে ভাগ‍্যোদয়ের জন্য কত কষ্ট সহ‍্য করে পাটনায় উপস্থিত হলেন। কিন্তু ভাগ‍্যলক্ষ্মীর বিন্দুমাত্রও করুণা তাঁর উপর নিপতিত হল না।এইরকম হতাশ অন্তঃকরণে তাঁকে সময় অতিবাহিত করতে বাধ‍্য হতে হল।একদিন বিষণ্ন চিত্তে তিনি নগরের বাইরে ভ্রমণ করতে লাগলেন।কিছু দূর যেতে যেতে তিনি একটি নিবিড় বনমধ‍্যে প্রবেশ করলেন।তার মন এত চিন্তাকুল হয়ে ছিল যে, তিনি বুঝতে পারেননি যে, তিনি একটি নিবিড় জঙ্গলমধ‍্যে প্রবেশ করেছিলেন।তখন সন্ধ‍্যা হয়ে এসেছে।চন্দ্রালোকের স্নিগ্ধ জ‍্যোতিতে শ‍্যামল বৃক্ষরাজি হাসছিল,পাখীগুলি পাখার শব্দ করতে করতে বৃক্ষশাখায় আশ্রয় নিতেছিল।ক্রমে ঝিল্লীরবে অরণ‍্যানী ঈষৎ মুখরা হয়ে উঠিল।প্রকৃতির সেই মনোহারিণী শোভা দেখতে দেখতে হীরানন্দ ক্রমে অরণ‍্যের বহুদুরে এসে পড়লেন।সহসা এক যাতনাব‍্যঞ্জক আর্তনাদ তাঁর কানে এসে প্রবেশ করল।সেই শব্দ শোনামাত্র তাঁর চমক ভেঙ্গে গেল।কোথা থেকে সেই শব্দ আসছে, তা জানবার জন্য তিনি ব‍্যগ্র হয়ে পড়লেন।ক্রমে ক্রমে সেই শব্দের দিকনির্ণয় করে তিনি তার অনুসরণে রত হলেন।যে জায়গা হতে শব্দ আসছিল, অনুসন্ধানের পর তিনি সেই জায়গার আবিস্কারে সমর্থ হলেন।দেখলেন,একটি ভাঙ্গা অট্টালিকা, সেই ভাঙ্গা অট্টালিকার মধ্যে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পেলেন,তার কোন প্রকোষ্ঠে একটি মুমূর্ষু বৃদ্ধ যন্ত্রণায় আর্তনাদ করছে।হীরানন্দ বৃদ্ধের সেই অবস্থা দেখে আর স্থির থাকতে পারলেন না, তিনি তৎক্ষণাৎ তার সেবায় প্রবৃত্ত হলেন।তার শুশ্রূষায় বৃদ্ধের যন্ত্রণার কিছু উপশম হল বটে, কিন্তু তার জীবনদীপ ক্রমশ নির্বাণোন্মুখ হয়ে আসিল। হীরানন্দ বহু চেষ্টা করেও তাকে সেই মহাযাত্রা হতে ফিরাতে পারলেন না, অল্পক্ষণের মধ্যে বৃদ্ধ চিরদিনের জন্য চক্ষু মুদিত করল।মরবার পূর্বে বৃদ্ধ হীরানন্দকে সঙ্কেত করে গৃহের এক কোণে অঙ্গুলী নির্দেশ করে যায়।হীরানন্দের সেবায় তুষ্ট হয়ে প্রত‍্যুপকার-স্বরূপ যেন বৃদ্ধ ঐরকম করেছিল বলে বোধ হয়।হীরানন্দ একাকী যথাসাধ‍্য বৃদ্ধের সৎকার করে পরে গৃহের সেই কোণে খননে রত হলেন,খনন করতে করতে বুঝতে পারলেন যে,বৃদ্ধ তাতে অপরিমিত ধনের অধিকারী করে গিয়েছে।যতই খনন করেন,ততই তাঁর হৃদয় উৎফুল্ল হয়ে উঠে।অবশেষে তিনি সেই সমস্ত অর্থ হাতে নিয়ে মনে মনে ভাগ‍্যলক্ষ্মীকে কোটি কোটি প্রণাম করতে লাগলেন।সেই বিপুল ধনরাশি নিয়ে হীরানন্দ পাটনায় একটি গদী স্থাপিত করলেন।এক্ষণে তিনি অন‍্যান‍্য গদীয়ানদেরকে আর গণনার মধ্যে আনতে চাইলেন না।তিনি অন‍্যান‍্য গদীয়ান অপেক্ষা কিছু অল্প সুদে অর্থ দিতে লাগলেন,ক্রমে সমস্ত ব‍্যবসায়ীগণই তাঁর গদীর কথা জানতে পারল, এবং বহুলোকে তাঁরই গদী হতে প্রয়োজন অনুসারে অর্থ গ্রহণ করতে লাগল।অল্পদিনের মধ্যে গদীয়ানের কাজ করে তিনি প্রচুর সম্পত্তির অধীশ্বর হলেন।অর্থলাভের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সুসন্তান লাভেরও আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। তিনি গোবর্ধন,সদানন্দ,রূপচাঁদ,মুলুকচাঁদ, আমীনচাঁদ, নয়নচাঁদ ও মানিকচাঁদ নামে সাতটি পুত্র লাভ করলেন।ধনবাঈ নামে তাঁর একটি কন‍্যারও উল্লেখ দেখা যায়।শেঠ উদয়চাঁদ নামক কোন এক যুবকের সঙ্গে তার পরিণয় সংঘটিত হয়।হীরানন্দের পুত্র সাতটিই সুসন্তান হয়েছিলেন,তাঁরাও পিতার মত কার্য‍্যপটু ও ব‍্যবসায়কার্য‍্যে অত‍্যন্ত অভিজ্ঞতা লাভ করেন।এইভাবে "ধনে পুত্রে লক্ষ্মীলাভ" করে হীরানন্দ মহানন্দে দিনযাপন করতে লাগলেন।সর্বদা নিজ জীবনকে যেরকম অকিঞ্চিৎকর বিবেচনা করতেন, এক্ষণে সেই ভাগ‍্যলক্ষ্মী যেন নিজহাতে তাঁকে আশীর্মাল‍্য পরিয়ে দিলেন।এই চিন্তায় তিনি অত‍্যন্ত উৎফুল্ল হতে লাগলেন।যখন তাঁর গদীর কাজ অত‍্যন্ত ভাবে চলতে লাগল, তখন তিনি উত্তরপশ্চিম প্রদেশে বাংলার প্রধান প্রধান জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন গদী স্থাপনে রত হলেন।দিল্লী,আগ্রা,পাটনা,ঢাকা প্রভৃতি সাতটি জায়গায় তিনি সাতটি পুত্রের জন্য সাতটি আলাদা আলাদা গদী সংস্থাপিত করে দিলেন।তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র মানিকচাঁদ ঢাকার গদীর ভারপ্রাপ্ত হন।এই মানিকচাঁদ হতেই মুর্শিদাবাদের জগ‍ৎ শেঠগণের উৎপত্তি।এইভাবে সাত পুত্রের দ্বারা গদীর কাজ সুচারুরূপে নির্বাহিত হতে দেখে হীরানন্দ যথাসময়ে এ জগৎ হতে চিরবিদায় গ্রহণ করলেন।উক্ত সাত পুত্রের মধ্যে মানিকচাঁদের নামই ক্রমশ সমস্ত উত্তর ভারতবর্ষে প্রচারিত হয়ে পড়ে।*
*🌻ধর্ম ও আদি পুরুষ এখানেই বিরাম হ'ল।*
*🪔🪔🪔🪔🪔🪔🪷🪔🪔🪔🪔🪔🪔
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৪) 🏢🏢জগৎশেঠ🏢🏢*
              *🏢মানিকচাঁদ🏢*
          °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🔴খৃষ্টীয় সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে ঢাকা নগরী বাংলা বিহার ও উড়িষ‍্যার রাজধানীপদে প্রতিষ্ঠিত ছিল।বাংলার প্রাচীন রাজধানী গৌড় মহামারীতে বিধ্বস্ত হলে,বঙ্গসিংহাসন ঢাঁড়া,রাজমহল প্রভৃতি জায়গায় কিছুদিন অবস্থান করে,অবশেষে পূর্ববঙ্গের গৌরবস্থল ঢাকায় আশ্রয় গ্রহণ করতে বাধ‍্য হয়।ষোড়শ শতাব্দী হতে নিম্নবঙ্গ নানারূপ অত‍্যাচার সহ‍্য করছিল।পর্তুগীজ,মগ প্রভৃতি দস‍্যুগণের উপদ্রবে বঙ্গভূমি জলে স্থলে সর্বত্রই সন্ত্রাসিত হয়ে উঠেছিল, এর সঙ্গে উড়িষ‍্যার পাঠানদের অত‍্যাচারও যুক্ত হয়।এছাড়াও ইউরোপীয়গণ সেই সময়ে বাণিজ‍্যের জন্য বঙ্গদেশকে একরকম নিজেদের বাসভূমি করে তুলেছিল। বাংলার শেষপ্রান্তে রাজধানী স্থাপিত হওয়াই তাঁরা অনেক পরিমাণে অবাধ বাণিজ‍্য সুখভোগ করছিলেন।এই সমস্ত বিষয়ে দৃষ্টি রাখবার জন্য ঢাকা রাজধানীর উপযুক্ত জায়গা বলে বিবেচিত হয়।১৬০৮ খৃষ্টাব্দে ইসলাম খাঁ বাংলার সুবেদার পদে প্রতিষ্ঠিত হলে, তিনি পূর্বোক্ত উপদ্রব সব নিবারণের জন্য, বিশেষ করে ফিরিঙ্গী জলদস‍্যুদেরকে উপযুক্ত শিক্ষা দিবার ইচ্ছায়,ঢাকায় মসনদ স্থাপন করতে বাধ‍্য হন। কিন্তু ১৬৩১ খৃষ্টাব্দে সা সুজা পুনর্বার রাজমহলে মসনদ নিয়ে আসেন।সম্রাট শাহজাহানের মৃত‍্যুর পর তাঁর পুত্রদের মধ্যে অন্তর্বিবাদ উপস্থিত হলে,ঔরঙ্গজেব সা সুজাকে দমন করবার জন্য তাঁর প্রধান সেনাপতি মীরজুল্মাকে প্রেরণ করেন।মীরজুল্মা সা সুজাকে রাজমহল হতে বিতারিত করে পূর্ববঙ্গে, পরে আরাকান প্রদেশে আশ্রয় গ্রহণ করতে বাধ‍্য করেন।সেখানে সা সুজার মৃত‍্যু হলে,মীরজুল্মা বাংলার সুবাদার হয়ে পূর্ববঙ্গেই অবস্থান করতে থাকেন, এবং আসাম কুচবিহার প্রভৃতি আক্রমণের পর অবশেষে ঢাকায় এসে তাঁর জীবনবায়ুর অবসান হয়।তাঁর পরেই সুপ্রসিদ্ধ সায়েস্তা খাঁ বাংলার সুবাদারীর ভার প্রাপ্ত হয়েছিলেন। সেই সময়ে আবার আরাকান ও পর্তুগীজ দস‍্যুদের উপদ্রব আরম্ভ হওয়ায় তিনি ঢাকাতেই রাজধানী পুনঃস্থাপিত করতে বাধ‍্য হন।খৃষ্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রারম্ভে মুর্শিদকুলী খাঁ মুর্শিদাবাদে রাজধানী স্থাপন করেন।মুর্শিদাবাদই বাংলা বিহার ও উড়িষ‍্যার শেষ মুসলমান রাজধানী।*
*🍀সপ্টদশ শতাব্দীর শেষভাগে সেইসময়ে ঢাকা বাংলার রাজধানী পদে প্রতিষ্ঠিত ছিল,সেই সময়ে বাণিজ‍্যাদি ব‍্যাপারে এর অত‍্যন্ত শ্রীবৃদ্ধি সাধিত হয়। নবাব সায়েস্তা খাঁর শাসন সময়ে ঢাকা বিশেষকরে উন্নতি লাভ করে।রাজস্ব,বাণিজ‍্য ও অন‍্যান‍্য ব‍্যবসায়ের জন্য ঢাকা নগরীতে প্রতিনিয়ত অর্থের প্রয়োজন হ'ত,সেই জন্য হীরানন্দ এখানে একটি গদী স্থাপিত করেছিলেন। মানিকচাঁদ সেই গদীর ভারপ্রাপ্ত হয়েছিলেন,এর আগে উল্লিখিত হয়েছে।মানিকচাঁদ অত‍্যন্ত কার্য‍্যদক্ষ ছিলেন,তিনি দিন দিন ঢাকার গদীর উন্নতি সাধন করতে লাগলেন।সেইসময়ে স্বর্ণ প্রসবিনী বঙ্গভূমি বাণিজ‍্য স্রোতে প্রতিনিয়ত ভাসমান থাকায় ঢাকার গদী শেঠদের মধ্যে দারুণ ভাবে উন্নতি লাভ করে।এমন কি দিল্লী,আগরার গদী অপেক্ষা এরই প্রসিদ্ধি ব‍্যাপ্ত হয়ে পড়ে।সেই সময়ে মানিকচাঁদ ঢাকায় গদীয়ানের কাজ করছিলেন, সেই সময়ই ঔরঙ্গজেবের পৌত্র আজিম ওশ্বান বাংলার সুবেদারী পদে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।তাঁর সঙ্গে মানিকচাঁদের যথেষ্ট পরিচয় হয়। অনেক সময়ে নবাবকে শেঠদের গদী হতে অর্থাদি নিতে হত বলে এই পরিচয় ঘটেছিল।এই সময়ে মুর্শিকুলী খাঁ বাংলার দেওয়ান হয়ে ঢাকায় উপস্থিত হলেন।রাজস্ব বিষয়ের সমস্ত ভার দেওয়ানের প্রতি ন‍্যস্ত বা অর্পিত থাকায় মানিকচাঁদের সঙ্গে অল্পদিনের মধ্যেই তাঁর পরিচয় হল।কেবল পরিচয় নয়,ক্রমে ক্রমে উভয়ের মধ্যে বেশ একটু সৌহার্দ্যও স্থাপিত হয়।তৎকালে দেওয়ানের ক্ষমতা প্রচুর ছিল। সুতরাং দেওয়ান (রাজস্ব বিভাগীয় মন্ত্রী) মুর্শিদের উৎসাহে ও সাহায্যে মানিকচাঁদের যে দিন দিন উন্নতি লাভ হবে,তাতে আর সন্দেহ কি? বাস্তবিকই দেওয়ানের জন্য তাঁর উন্নতি ক্রমেই বর্ধিত হতে লাগিল।*
*🌳মোগল বাদশাহীদের সময় হতে বাংলার রাজস্ব সম্বন্ধে সুবন্দোবস্ত হয়।সম্রাট ঔরঙ্গজেব উক্ত রাজস্বের বন্দোবস্তের জন্য দেওয়ানের পদ সৃষ্টি করেন।তাঁর আর এক উদ্দেশ্য ছিল যে,নবাবের হাত হতে কিছু ক্ষমতা নিয়ে আর একজন প্রধান কর্মারীকে অর্পণ করলে,উভয়েরই ক্ষমতা কতকটা সুসংযত হবে।একজনের হাতে সমস্ত ক্ষমতা থাকলে ভবিষ্যতে নানারকম গোলযোগ ঘটতে পারে। সেই সময় হতে নাজিম বা দেওয়ান এই দুই পৃথক পদের সৃষ্টি হয়। যুদ্ধ ও শাসনসংক্রান্ত সমস্ত ভার নাজিমের (মুসলমান গর্ভনরের) উপর ন‍্যস্ত হত। তিনিই সাধারণত নবাব বা সুবাদার নামে অভিহিত হতেন।দেওয়ান রাজস্ব-সংগ্রহ,তার বন্দোবস্ত ও সেইরকম অন‍্যান‍্য কাজ এবং কোষাধ‍্যক্ষেরও কাজ করতেন।তাঁর হাত হতে রাজ‍্যসংক্রান্ত সমস্ত বিষয়ে অর্থাদির ব‍্যয় হত।এমন কি নাজিমকে পর্যন্তও দেওয়ানের কাছ হতেই বেতন গ্রহণ করতে হত।এতে বুঝা যায় যে,দেওয়ানেরও ক্ষমতা নিতান্ত কম ছিল না, অথচ একজনে সম্পূর্ণ ক্ষমতা প্রাপ্ত হতেন না।মুর্শিদকুলী খাঁর আগে বাংলা হতে অতি অল্প পরিমাণেই রাজস্ব সংগৃহীত হত, অথচ বাংলা চিরদিনই স্থর্ণপ্রসবিনী বলে বিখ‍্যাত ছিল।বাংলার রাজস্ব অনেক অসৎ উপায়ে ব‍্যয় হত এবং সেটি অনেক ভূমি জায়গীররূপে নির্দিষ্ট থাকায় বেশী পরিমাণে রাজস্ব আদায় হতে পারত না। বাংলার রাজস্বের ক্রমেই লাঘব হচ্ছে দেখে বাদশাহ ঔরঙ্গজেব এর সুবন্দোবস্তের জন্য কার্যদক্ষ মুর্শিদকুলী খাঁকে বাংলায় পাঠিয়ে দেন। মুর্শিদকুলী খাঁ ব্রাহ্মণের সন্তান বলে বিখ‍্যাত।একজন পারসীক সওদাগর তাঁকে দাসরূপে ক্রয় করে পারস‍্যে নিয়ে যান এবং সেখানে মুসলমান ধর্মে দীক্ষিত করেন।তিনি সেখান হতে দাক্ষিণাত‍্যে আগমন করে "বেরারের" দেওয়ানের অধীন কিছুদিন কাজ করেছিলেন।এইসময়ে তাঁর আয়,ব‍্যয়, হিসাব নিকাশ প্রভৃতি বিষয়ে বিশিষ্ট জ্ঞানের কথা ছড়িয়ে পড়ে।বাদশাহ ঔরঙ্গজেব সেই সময়ে দাক্ষিণাত‍্যে ছিলেন। তিনি মুর্শিদকুলীর কার্যদক্ষতার কথা জেনে তাঁকে হায়দরাবাদে দেওয়ানী পদে নিযুক্ত করেন।পরে সেখান হতে ১৭০১ খৃষ্টাব্দে বাংলায় পাঠিয়ে দেন।সেই সময়ে বাদশাহ ঔরঙ্গজেবের পৌত্র আজিম ওশ্বান বাংলার সুবাদারী পদে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।মুর্শিদকুলী ঢাকায় এসে রাজস্ব আদায়ের জন্য ভিন্ন ভিন্ন সরকারে নিজের পরিচিত লোক সব পাঠিয়ে দিলেন।এইভাবে মুর্শিদকুলী রাজস্ব আদায়ের বন্দোবস্ত করলেন।জায়গীর ভূমি সব বাংলা হতে উঠিয়ে তার পরিবর্তে উড়িষ‍্যা প্রদেশে নির্দিষ্ট করলেন।(জায়গীর=কৃতকর্মের পুরস্কারস্বরূপ রাজদত্ত জমি ; ভূপতির দেওয়া পারিতোষিক স্বরূপ নিষ্করজমি বা পেনশন স্বরূপ প্রাপ্ত ভূসম্পত্তি)।তাঁর বন্দোবস্তে বাংলা হতে সেইসময় কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতে লাগল।রাজ‍্য-সংক্রান্ত যাবতীয় আয়ব‍্যয়াদির ভার তাঁর হাতে অর্পিত হওয়ায় দেওয়ান মুর্শিদকুলী খাঁকে অনেক সময়ে প্রয়োজন অনুসারে শেঠ মানিকচাঁদের সঙ্গে আদান প্রদান ব‍্যাপারে লিপ্ত হতে হয়েছিল।ক্রমে উভয়ের মধ্যে বিশেষ একটু ঘনিষ্ঠতাও হয়। দেওয়ান রাজস্ব বন্দোবস্ত প্রভৃতি বিষয়ে মানিকচাঁদের কাছ হতে অনেক পরামর্শ গ্রহণ করতেন, এবং যাতে মানিকচাঁদের গদীর উন্নতি সাধন হয়,সে বিষয়েও দেওয়ানের যথেষ্ট চেষ্টা ছিল।এইরকমে দেওয়ানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ হওয়ায় লোকে শেঠ মানিকচাঁদের সঙ্গেই আদান প্রদান করতে লাগলেন।কি জমিদার,কি ব‍্যবসায়ী সকলেই মানিকচাঁদের গদীতে কারবার আরম্ভ করলেন,কাজেই দিন দিন তাঁর লক্ষ্মীলাভ হতে লাগিল।*
⚪⚪⚪⚪⚪⚪🌹⚪⚪⚪⚪⚪⚪
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৫)🏢🏢জগৎ শেঠ🏢🏢*
              *🏢মানিকচাঁদ🏢*
        ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀মুর্শিদকুলী খাঁ সম্রাট ঔরঙ্গজেবের অত‍্যন্ত প্রিয়পাত্র ছিলেন।তাঁর কর্মদক্ষতায় এর একমাত্র কারণ।বিশেষ করে বাংলার এইরকম সুবন্দোবস্তে তিনি মুর্শিদের প্রতি অত‍্যন্ত প্রীত হয়েছিলেন।মুর্শিদের প্রতি সম্রাট ঔরঙ্গজেবের এরকম প্রীতি নবার আজিম ওশ্বানের ভাল লাগত না। তিনি সম্রাটবংশধর,কাজেই দেওয়ানের এরকম ক্ষমতা-বিস্তার তাঁর পক্ষে অসহ‍্য বোধ হতে লাগল।বিশেষ করে রাজ‍্যের সমস্ত আয়-ব‍্যয় মুর্শিদের মত দেওয়ানের হাতে অর্পিত হওয়ায়,তাঁর বিলাস বিভ্রমেরও অনেক বিঘ্ন উপস্থিত হল।এই সমস্ত কারণে তিনি মুর্শিদকে অপদস্থ করতে যত্নবান হলেন ; কেবল তাইই নয়,তাঁর প্রাণসংহারের ষড়যন্ত্র পর্যন্ত হল।নবাবের অধীন একজন সেনাপতি নিজেদের বেতন আদায় করবার ছলে দেওয়ানকে আক্রমণ করবার জন্য নবাবের অনুমতি চাহে।নবাব গোপনে তাতে সম্মতি দেন।প্রকাশ‍্যে দেওয়ানের প্রতি কোনরকম অত‍্যাচার করলে পরে সম্রাট বিরক্ত হন, এই জন্য তিনি কৌশল অবলম্বন করতে বাধ‍্য হয়েছিলেন।উক্ত সেনাপতি নিজের দলবল নিয়ে পথিমধ‍্যে দেওয়ানকে আক্রমণ করে ; কিন্তু সে সময়ে দেওয়ান এরকম সাহস দেখালেন যে,অবশেষে তারা পালিয়ে যেতে বাধ‍্য হয়। সমস্তই আজিম ওশ্বানের সম্মতিতে হয়েছে এটি বুঝতে দেওয়ানের অসুবিধা হল না।তিনি প্রাসাদে গিয়ে নবাবকে যৎপরোনাস্তি (অতিশয়)তিরস্কার করলেন।নবাব নিজের নির্দোষিতা প্রমাণের জন্য উক্ত সেনাপতিকে ডেকে পাঠিয়ে দেওয়ানের সামনেই তার প্রতি অনেক তীব্র শাসনবাক‍্য প্রয়োগ করেন।দেওয়ান তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে অবিলম্বে তাদের সমস্ত প্রাপ‍্য পাবার বন্দোবস্ত করে দিলেন এবং নবাবের প্রতি অত‍্যন্ত বিরক্ত হলেন।*
*🌺নবাব আজিম ওশ্বানের সঙ্গে এইরকম মনোবিবাদ ঘটায় দেওয়ান মুর্শিদকুলী খাঁ ঢাকায় থাকা নিরাপদ মনে করলেন না।তিনি সমস্ত ঘটনাই সম্রাটের কাছে লিখে পাঠালেন।পরে আপনার আত্মীয় বন্ধু-বান্ধব, অধীন কর্মচারী বিশেষ করে শেঠ মানিকচাঁদের সঙ্গে পরামর্শ করে ঢাকা পরিত‍্যাগ করাই শ্রেয় মনে করলেন।দেওয়ানের সঙ্গে তাঁর অধীন দেওয়ানী বিভাগের সমস্ত কর্মচারী আসতে প্রস্তুত হল।মুর্শিদকুলী খাঁ শেঠ মানিকচাঁদকেও সেই সঙ্গে আসতে অনুরোধ করলেন, এবং তাঁকে এইরকম সাহস প্রদান করলেন যে,যতদিন বঙ্গরাজ‍্যের কোন না কোন ভার তাঁর উপর অর্পিত থাকবে,ততদিন যাতে শেঠ মানিকচাঁদ বাংলার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ গদীয়ান বলে প্রতিপন্ন হন,সে বিষয়ে তাঁর বিশেষ ভাবে দৃষ্টি থাকবে।মানিকচাঁদ মুর্শিদকুলীর দ্বারা অত‍্যন্ত উপকৃত হয়েছিলেন।তিনি আরও দেখলেন যে,ঢাকা হতে দেওয়ানী বিভাগ স্থানান্তরিত হলে,সেখানে আর গদীর কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন হওয়া কষ্টকর হবে,পরন্তু তাঁর প্রতি যদি দেওয়ানের অনুগ্রহদৃষ্টি থাকে,তাহলে ভবিষ্যতে তাঁর যে অনেক অনেক উন্নতি সাধিত হবে,সে বিষয়ে অণুমাত্র সন্দেহ নাই।বিশেষ করে দেওয়ান মুর্শাদকুলী খাঁ মূকসুদাবাদে দেওয়ানী বিভাগ নিয়ে যেতে ইচ্ছে করেছিলেন।সেই সময়ে মূকসুদাবাদের নিকটস্থ বঙ্গের প্রধান বন্দর কাশীমবাজার দিন দিন বাণিজ‍্যে শ্রীশালী হয়ে উঠছিল।মূকসুদাবাদে গমন করলে প্রধান প্রধান বণিকসম্প্রদায়ের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ হতে পারবে, ইত্যাদি মনে করে তিনি দেওয়ানের সঙ্গে ঢাকা পরিত‍্যাগ করতে কৃতসঙ্কল্প হলেন। যদিও এক জায়গা হতে অন‍্য জায়গায় ব‍্যবসায় উঠিয়ে নিয়ে গেলে প্রথমতঃ কিছু ক্ষতি স্বীকার করতে হয়, তথাপি ভবিষ্যতে যদি সে বিষয়ের অপরিসীম উন্নতি সম্ভাবনা থাকে,তাতে সেরকম আপাতক্ষতি সহ‍্য করতে বিচক্ষণমাত্রেই কুন্ঠিত হন না।বাস্তবিক পরিশেষে শেঠ মানিকচাঁদের পক্ষে তাইই ঘটেছিল।মূকসুদাবাদে আসার পর শেঠদের শ্রীবৃদ্ধি উত্তরোত্তর চরম সীমায় উপনীত হতে আরম্ভ হয়।*
*☘মুর্শিদকুলী খাঁ মূকসুদাবাদকে বাংলার মধ‍্যস্থলে ও ভাগীরথীতীরে অবস্থিত বলে দেওয়ানীর উপযুক্ত স্থান বিবেচনা করেছিলেন। সেইসময়ে ভাগীরথী বাংলার বাণিজ‍্যকার্য-পরিচালনের একমাত্র প্রধান উপায় ছিল।*

*কাশীমবাজার,হুগলী প্রভৃতি প্রধান প্রধান বন্দর এরই তীরে অবস্থিত ছিল।ইউরোপীয়গণ নানারকম বাণিজ‍্য অতি চতুরতার সঙ্গে নির্বাহ করতেন।তাঁদের প্রতি দৃষ্টি রাখতে হলে মূকসুদাবাদের মত জায়গায় উপযুক্ত।পূর্ববঙ্গ অপেক্ষা সেইসময়ে এর স্বাস্থ‍্যও ভাল ছিল, এবং আরাকানী,পর্তুগীজ প্রভৃতি দস‍্যুগণের উপদ্রব সে সময়ে শান্ত হয়েছিল। সুতরাং সে সময় পূর্ববঙ্গে থাকার বিশেষ কোন প্রয়োজন ছিল না। বিশেষ করে শান্তিস্থাপন বিষয়ের সঙ্গে নাজিমেরই সম্বন্ধ ছিল,দেওয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ সম্বন্ধ ছিল না।বিহার ও উড়িষ‍্যার সঙ্গে সম্বন্ধ রাখতে হলে মূকসুদাবাদের মত জায়গায়ই অবস্থান করা কর্তব‍্য।কারণ মূকসুদাবাদ হতে উভয় প্রদেশে যাতায়াতের সুগম পথ বিদ‍্যমান ছিল। এসব কারণে মুর্শিদকুলী খাঁ মুর্শিদাবাদে দেওয়ানী বিভাগ স্থাপন করতে কৃতসঙ্কল্প হন।তিনি ১৭০৩ খৃষ্টাব্দে দেওয়ানী বিভাগের সমস্ত কর্মচারী,শেঠ মানিকচাঁদ ও অন‍্যান‍্য আত্মীয় বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ঢাকা পরিত‍্যাগ করে মূকসুদাবাদে উপস্থিত হলেন।মুর্শিদাবাদের বতর্মান কেল্লার মধ্যেই তিনি নিজ বাসভবন নির্মাণ করেন।শেঠ মানিকচাঁদ তার কাছে মহিমাপুর নামক জায়গায় বসবাস করবার জন্য ঠিক করলেন।মহিমাপুর মুর্শিদাবাদ হতে এক ক্রোশের কিছু বেশী উত্তরে অবস্থিত।আজও সেখানে শেঠভবনে ভগ্নাবশেষ দেখতে পাওয়া যায়।মহিমাপুরে গদী স্থাপন করে শেঠ মানিকচাঁদ নিজ ব‍্যবসায়ে বিশেষ মনোযোগ প্রদান করলেন।দেওয়ানের সাহায্যে ও উৎসাহে তাঁর গদী অল্পদিনের মধ্যেই সর্বশ্রেষ্ঠ গদী বলে প্রসিদ্ধ হয়ে পড়ল।*
*🍀মুর্শিদকুলী খাঁ মূকসুদাবাদে আগমন করলে, সম্রাট ঔরঙ্গজেব দেওয়ানের সঙ্গে পৌত্র আজিম ওশ্বানের মনোবিবাদ অবগত হয়ে তাঁকে বিহারে রাজধানী স্থাপন করতে আদেশ করলেন।নবাব আজিম নিজ পুত্র ফরখ্ শেরকে ঢাকায় প্রতিনিধিস্বরূপ রেখে বিহারে উপস্থিত হন ও পাটনায় রাজধানী স্থাপন করেন।তদবধি পাটনা আজিমাবাদ নামে অভিহিত হয়।এদিকে দেওয়ান রাজস্ব সংক্রান্ত সমস্ত হিসাবপত্র নিয়ে সম্রাটের কাছে উপস্থিত হলেন। সম্রাট সে সময়ে দাক্ষিণাত‍্যে ছিলেন। তিনি দেওয়ান মুর্শিদকুলীর রাজস্ব বন্দোবস্তে সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে বাংলা,বিহার ও উড়িষ‍্যার দেওয়ানীর সঙ্গে বাংলা ও উড়িষ‍্যার নায়েব নাজিমী প্রদান করলেন।তাছাড়া মুর্শিদকুলী সম্মানসূচক উপাধি ও খেলাতাদিতে ভূষিত হয়ে বাংলায় আগমন করবার জন্য আদিষ্ট হলেন।মূকসুদাবাদে উপস্থিত হয়ে মুর্শিদকুলী খাঁ নিজ নামানুসারে একে মুর্শিদাবাদ আখ‍্যা প্রদান করেন।তদবধি মূকসুদাবাদ মুর্শিদাবাদ নামে অভিহিত হয়ে আসছে। মুর্শিদাবাদে থাকা কালীন মুর্শিদকুলী জাফর খাঁ রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়ের ক্রমোন্নতি সাধনে তৎপর হলেন।তিনি ঐ সম্বন্ধে শেঠ মানিকচাঁদের সঙ্গে পরামর্শ করলে,তিনি প্রথমে মুর্শিদাবাদে টাঁকশাল স্থাপনের প্রস্তাব করেন। কারণ, মুর্শিদাবাদ সেইসময়ে দেওয়ানী বিভাগের মুখ‍্য জায়গা হওয়ায় সর্বদাই মুদ্রাদির প্রয়োজন হত।টাঁকশাল স্থাপিত হলে,অন‍্য জায়গা হতে মুদ্রাদির আনার জন্য কষ্ট স্বীকার করতে হবে না মনে করে, দেওয়ান মানিকচাঁদের প্রস্তাবে সম্মত হলেন। সঙ্গে সঙ্গে মানিকচাঁদের গদীরও উন্নতি হবে বলে বুঝতে পারলেন।সেই পরামর্শ অনুসারে ১৭০৬ খৃষ্টাব্দে মহিমাপুরের পরপারে গঙ্গাতীরে মুর্শিদাবাদ টাঁকশাল স্থাপিত হল। স্বয়ং শেঠ মানিকচাঁদ তার দেখাশুনা করতে নিযুক্ত হলেন।শেঠদের গদীর পরপারে টাঁকশাল স্থাপিত হওয়ায় মানিকচাঁদের পক্ষে তার দেখাশুনার যথেষ্ট সুযোগ হয়ে ছিল।তাঁর যত্নে মুর্শিদাবাদ টাঁকশালের দিন দিন শ্রীব‍ৃদ্ধি হতে লাগিল।যতদিন পর্যন্ত বাংলায় মুসলমান রাজত্বের সামান্যমাত্রও অস্তিত্ব ছিল,ততদিন পর্যন্ত শেঠদের সঙ্গে এদের বিশেষ ভাবে সম্বন্ধই ছিল।ইংরেজ প্রভৃতি ইউরোপীয় বণিকরা নিজেদের সুবিধার জন্য এই টাঁকশাল হতে মুদ্রা মুদ্রিত করিয়ে নিতেন।নবাব সায়েস্তা খাঁর আদেশে বাংলার অন‍্যান‍্য জায়গার মত কাশীমবাজারে কুঠী সরকার হতে বাজেয়াপ্ত হয়। কিন্তু নবাব ইব্রাহিম খাঁর আদেশে যদিও ইংরেজগণ বাংলায় পুনঃপ্রবেশের অধিকার পেয়েছিলেন, তথাপি কাশীমবাজারে তাঁরা রীতিমত কাজ আরম্ভ করতে পারেননি।মুর্শিদাবাদ টাঁকশাল স্থাপিত হলে,তাঁরা পুনর্বার কাশীমবাজারের কুঠী সুদৃঢ় করে উৎসাহ সহকারে কাজ আরম্ভ করেন।কারণ,এই টাঁকশালের জন্য কাশীমবাজার প্রদেশের ব‍্যবসায়ীগণের বিশেষরূপ উপকার সংসাধিত হয়েছিল। এই সময়ে লন্ডন কোম্পানী ও ইংলিশ কোম্পানী নামে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ইংরেজ কোম্পানী মিলিত হয়ে ইষ্ট ইন্ডিয়া নামে একটি মাত্র কোম্পানীতে পরিণত হওয়ায় ইংরেজদের ব‍্যবসায়ে আরও সুযোগ সুবিধা ঘটে।কোম্পানী নিজেদের সুবিধার জন্য মুর্শিদকুলী খাঁকে ২৫ হাজার টাকা প্রদান করে ইংল‍্যান্ড হতে আনীত অমুদ্রিত রৌপ‍্যসমূহ মুর্শিদাবাদ টাঁকশাল হতে মুদ্রাকারে পরিণত করাইয়ে নিবার অনুমতি পেয়েছিলেন।টাঁকশালের কর্মচারীগণের আদেশে ইংরেজরা সপ্তাহে তিনদিন নিজেদের মুদ্রা করাইয়ে নিতেন।ইংরেজদের জন্য মুদ্রিত মুদ্রাসবও সরকারী মুদ্রার মত ব‍্যবহৃত হত। পলাশী যুদ্ধের পর হতে তাঁরা নিজেদের স্বতন্ত্র মুদ্রা মুদ্রিত করতে আরম্ভ করেন, এবং তাতেও প্রথমে দিল্লীর বাদশাহের নাম অঙ্কিত থাকত।১৭৫৮ খৃষ্টাব্দে ইংরেজরা কলিকাতায় নিজেদের টাঁকশাল স্থাপন করেন। কিন্তু মুর্শিদাবাদ টাঁকশালের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁদেরকে অনেক দিন পর্যন্ত অসুবিধা ভোগ করতে হয়েছিল।শেঠেরা সেই সময়ে সামান্য রৌপ‍্য বাটা দিয়ে মুর্শিদাবাদ টাঁকশাল হতে নিজেদের জন্য মুদ্রা মুদ্রিত করিয়ে নিতেন।*
👑👑👑👑👑👑👑👑👑👑👑👑
══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৬)🏢🏢জগৎ শেঠ🏢🏢*
            *🏢মানিকচাঁদ🏢*
      ০০০০০০০০০০০০০০০০০০০
*🍀দেশমধ‍্যে মুদ্রা প্রচলনের ভার তাঁদেরই প্রতি অর্পিত হওয়ায় ইংরেজদের প্রথমে নানারকম অসুবিধা হয়েছিল।নবাব মীর কাশিমের সিংহাসনে আহোরণের পর ১৭৬০ খৃষ্টাব্দের নভেম্বর মাস হতে কলকাতা টাঁকশালের সমস্ত অসুবিধাই দূর হয় এবং ইংরেজরা সব রকম সুবিধা লাভ করেন।তদবধি মুর্শিদাবাদ টাঁকশালের অধঃপতন শুরু হয়, এবং অল্পদিনের মধ্যেই তার পরিসমাপ্তি ঘটে।১৭৮৫ খৃষ্টাব্দে আবার মুর্শিদাবাদে টাঁকশাল স্থাপিত হয়। কিন্তু তা বেশীদিন স্থায়ী হয়নি।১৭৯৬ খৃষ্টাব্দে সমস্ত প্রাদেশিক টাঁকশাল উঠে গেলেও মুর্শিদাবাদ টাঁকশালের কাজ থেমে যায়নি।১৭৯৯ খৃঃ মুর্শিদাবাদের কালেক্ট্রার টাঁকশালের সমস্ত উপকরণাদি কলকাতায় পাঠিয়ে দেন এবং টাঁকশাল-গৃহ প্রকাশ‍্যে নিলামে বিক্রিত হয়।☆Hunter's Statistical Accounts of Murshidabad,p.174. নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর স্থাপিত টাঁকশালের ও ইংরেজ কোম্পানীর টাঁকশালের জায়গা বিভিন্ন।মুর্শিদকুলী খাঁর স্থাপিত টাঁকশাল মহিমাপুরের পরপারে স্থাপিত ছিল,এখনও তার যৎসামান্য ভগ্নাবশেষ দেখা যায়। জগৎশেঠদের ভাঙ্গা বাসভবনের সামনে ভাগীরথীর পশ্চিম তীরে উক্ত টাঁকশালের চিহ্ন বিদ‍্যমান আছে।যেরকম জানা যায়,তাতে মুর্শিদাবাদ টাঁকশালের অত‍্যন্ত শ্রীব‍ৃদ্ধি হয়েছিল বোধহয়।১৭২৮ খৃঃ রাজস্ব হিসাবে মুর্শিদাবাদ টাঁকশাল হতে ৩০৪১০৩ টাকা আয়ের কথা উল্লিখিত আছে।তখনকার বাজার চরম মূল‍্য জানতে হবে।আজও মুর্শিদাবাদ টাঁকশালের মুদ্রা দেখতে পাওয়া যায়। বাজারে শাহ আলম বাদশাহের নামাঙ্কিত যে সমস্ত মোহর দেখা যায়,সেগুলি মুর্শিদাবাদ টাঁকশাল হতেই মুদ্রিত হয়েছিল। আগে বলা হয়েছে যে,দেওয়ান মুর্শিদকুলী বাংলার রাজস্বের অনেক পরিমাণে উন্নতি সাধন করেছিলেন।তাঁর সময়ে বাংলা হতে এক কোটি তিরিশ লক্ষ টাকার রাজস্ব দিল্লীতে পাঠানো হত।◆(রিয়াজ-উস্ সালাতীন গ্রন্থে পাওয়া যায় যে,তিনকোটি তিনলক্ষ লেখা আছে।ফরাসী সে শব্দে ৩ ও সী,৩০। সে ও সীর গোলযোগ হয়ে থাকবে)।এই রাজস্ব সম্বন্ধে শেঠ মানিকচাঁদ দেওয়ান মুর্শিদকে অনেক সাহায্য করায় তিনি বাদশাহের অনুমতিক্রমে তাঁকে বাংলার পেস্কার রূপে নিযুক্ত করেন। বাংলার যাবতীয় জমিদার অথবা তাঁদের প্রতিনিধিগণ মানিকচাঁদের কাছে নিজেদের দেয় রাজস্ব প্রদান করতেন।মানিকচাঁদ তা সরকারে পেশ করতেন।রাজস্ব আদায়ের সুব‍্যবস্থার জন্য মুর্শিদকুলী খাঁ পুণ‍্যাহের (কর্মের জন্য একটি ভাল দিন) সূচনা করেছিলেন।বৎসরের শেষে সমস্ত রাজস্ব পরিশোধ করে নববর্ষের প্রথমে শুভ পুণ‍্যাহে বতর্মান বর্ষের কতক রাজস্ব প্রদান করে জমিদারগণ সনন্দ বহাল করিয়ে নিতেন।রাজস্ব বিষয়ে মানিকচাঁদের এইরকম ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ থাকাই বাংলার সমস্ত জমিদারের সঙ্গে তাঁর বিশেষ ভাবে পরিচয় ঘটে। সময়ে সময়ে যখন জমিদারগণ নির্দিষ্ট সময় মধ্যে রাজস্ব প্রদানে অক্ষম হতেন,তখন তাঁরা শেঠ মানিকচাঁদের কাছ হতে টাকা নিয়ে রাজস্ব পরিশোধ করতেন।এইভাবে বাংলার প্রায় সমস্ত জমিদারের সঙ্গে মানিকচাঁদের কারবার চলতে লাগল।সেইসময়ে বাংলা হতে দিল্লীতে রাজস্ব পাঠানোর এইরকম ব‍্যবস্থা ছিল যে,সমস্ত মুদ্রা বাক্সবন্দী হয়ে দুই শতেরও বেশী গো-শকটে রেখে উপযুক্ত প্রহরী ও একজন নায়েব খাজাঞ্জীর সঙ্গে পাঠানো হত।সেই সঙ্গে বাদশাহ ও অমাত‍্যদের জন্য নানা উপঢৌকন পাঠাবার ব‍্যবস্থা ছিল।এই সমস্ত শকট ও প্রহরী বিহার পর্যন্ত পৌঁছে দিত, পরে সেখান হতে নূতন শকট ও প্রহরীর দ্বারা সেই সমস্ত রাজস্ব এলাহাবাদ পর্যন্ত যেত, তথা হতে আবার নূতন শকট ও প্রহরীর সাহায্যে একেবারে দিল্লী গিয়ে উপস্থিত হত।এতে অবশ‍্য সময়ে সময়ে অসুবিধা ঘটত। দেওয়ান মুর্শিদকুলী শেঠ মানিকচাঁদের পরামর্শে তাঁদের দিল্লীর গদীতে হুন্ডি পাঠাবার ব‍্যবস্থা করেন, এবং সেই হুন্ডি অনুসারে দিল্লীর শেঠ গদীয়ানগণ বাংলার সমস্ত রাজস্ব সম্রাট দরবারে উপস্থিত করতেন।এদিকে মানিকচাঁদ বাংলার গদীতে সমস্ত রাজস্ব জমা করে নিতেন।এইভাবে বাংলার জমিদারদের কাছ হতে রাজস্ব আদায় করে দিল্লীতে পৌঁছাতেন, তার সমস্তটাই মানিকচাঁদকে করতে হত।সেজন‍্য বাংলার রাজস্বের সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ ছিল।মুর্শিদকুলী খাঁর এই সমস্ত বন্দোবস্তের সময় দিল্লীতে বাদশাহ পরিবর্তন ও নানারকম বিপ্লব উপস্থিত হয়।১৭০৭ খৃঃ সম্রাট ঔরঙ্গজেবের দেহত‍্যাগ ঘটলে, তাঁর পুত্রগণ মোয়াজিম, বাহাদুর শাহ উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে বসিলেন।নবাব আজিমের পিতা বাহাদুর শাহের সময়েও মুর্শিদকুলী তিন প্রদেশের দেওয়ানী ও বাংলা বিহার ও উড়িষ‍্যার নায়েব নাজিমী পদেই নিযুক্ত ছিলেন।বাহাদূর শাহের পরে জাহান্দরশাহ,অবশেষে ফরখ্ শের দিল্লীর সিংহাসনে বসেন।১৭১৩ খৃঃ অব্দে সম্রাট ফরখ্ শেরের কাছ হতে মুর্শিদ দেওয়ানী ও নাজিমী উভয় পদেরই ক্ষমতা প্রাপ্ত হন।তদবধি তিনি নবাব মুর্শিদকুলী নামে অভিহিত হয়ে আসছেন।নবাব মুর্শিদকুলী দেওয়ানী ও নাজিমী উভয় পদই পেয়ে বাংলার শাসন ও বন্দোবস্তে বেশী মনোযোগ প্রদান করলেন। যদিও নায়েব নাজিমীর সময় হতেই তিনি অনেকটা স্বাধীনভাবে কাজ আরম্ভ করেছিলেন, তথাপি অনেক কাজে হস্তক্ষেপ করতে সঙ্কুচিত হতেন।এই সময় হতে তিনি নির্ভয়ে কাজ আরম্ভ করেন।*

*নবাব নিজে উচ্চ পদ পেয়ে মানিকচাঁদকেও সম্মানিত করে তুললেন।যদিও ইতিপূর্বে লোকে তাঁদেরকে শেঠ বলত,তবুও বাদশাহ দরবার হতে তাঁরা সেটির কোন সনন্দ বা ফার্মান পেয়েছিলেন না। বাদশাহ ফরখ্ শের এঁদেরকে আগে থেকেই জানতেন এবং তাঁদের সঙ্গে বাদশাহেরও ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ ছিল।সেইসময়ে বাদশাহ ফরখ্ শের সিংহাসন পাওয়ার আশায় সৈন‍্যাদি সংগ্রহের জন্য অর্থাভাব অনুভব করেছিলেন, সেই সময়ে শেঠেরা যথেষ্ট পরিমাণে তাঁর সাহায্য করেন।এছাড়াও বাদশাহ নিজেও মানিকচাঁদকে বিশেষ ভাবে অবগত ছিলেন।পিতা আজিম ওশ্বানের ঢাকায় থাকা কালীন শেঠ মানিকচাঁদের সঙ্গে সম্রাটের পরিচয় হয় ; তার পর ফরখ্ শের অনেকদিন বাংলায় ছিলেন।এই সমস্ত কারণে তিনি মানিকচাঁদকে খুব ভাল ভাবেই জেনেছিলেন।মানিকচাঁদকে উপযুক্ত পাত্র জেনে ও নবাব মুর্শিদের অনুরোধক্রমে বাদশাহ ফরখ্ শের ১৭১৫ খৃষ্টাব্দে (হিজরী ১২২৭) মানিকচাঁদকে শেঠ উপাধিতে ভূষিত করে যথারীতি ফার্মান প্রদান করেন।শেঠ মানিকচাঁদের উক্ত ফার্মান অদ‍্যাপি জগৎ শেঠদের কাছে রয়েছে।মুর্শিদকুলী খাঁ দেওয়ানী পদে নিযুক্ত হয়ে অবধি বাংলার রাজস্ব সম্বন্ধে সুবন্দোবস্ত করতে আরম্ভ করেন। কিন্তু সম্পূর্ণ ক্ষমতা না পাওয়ায় অনেক কাজ অসম্পূর্ণ ভাবে সম্পাদন করতে বাধ‍্য হন।নবাব হয়ে তিনি এর আমূল সংস্কারে রত হলেন।এবিষয়ে শেঠ মানিকচাঁদ তাঁর প্রধান পরামর্শদাতা ছিলেন। বাংলার জমিদার সম্প্রদায়ের হাতে সেইসময়ে রাজস্ব আদায়ের ভার ছিল। কিন্তু তাঁরা অনেক সময়ে রাজস্ব প্রদানে সক্ষম হতেন না।মুর্শিদকুলী খাঁ তাঁদের কাছ হতে রাজস্ব আদায়ের ভার কেড়ে নিয়ে কতকগুলি আমিনের হাতে তা প্রদান করেন।এই আমিনী প্রথা তিনি আগে হতেই ক্রমে ক্রমে প্রচলিত করছিলেন। উপযুক্ত বিবেচনা করে দুই-চারজন জমিদারের হাতেও তার ভার অর্পিত হয়েছিল।এইসব জমিদারদের মধ্যে নাটোর বা রাজশাহীর, বর্ধমানের, দিনাজপুরের, নদীয়ার ও বিষ্ণুপুরের রাজারাই প্রধান।এছাড়াও বীরভূমের জমিদারেরও উল্লেখ দেখা যায়।বিষ্ণুপুর কতটা স্বাধীনভাবেও কাজ করতেন। ত্রিপুরা ও কুচবিহারের স্বাধীন রাজাদেরকে জয় করে তাঁদেরকে করদ-রূপে গণ‍্য করা হয়।যেসব জমিদারদের রাজস্ব আদায় হত না,এবং তাদের প্রতি যথেষ্ট অত‍্যাচার করাও হত।তাঁদেরকে ধরে মুর্শিদাবাদে আনা হত।কয়েকজন লোকের প্রতি এই উৎপীড়নের ভার দেওয়া হয়েছিল।তাদের মধ্যে নাজীর আমেদ ও সৈয়দ রেজা খাঁ প্রধান।রেজা খাঁ নবাবের স্বসম্পর্কীয় হওয়ায় তাঁর ক্ষমতা অসীম হয়ে উঠে।তিনি দুর্গন্ধময় নানা আবর্জনাপূর্ণ এক নরককুন্ড স্থাপন করে,তাতে জমিদারদের ফেলে দিতেন এবং হিন্দুদেরকে উপহাস করবার জন্য তার "বৈকুন্ঠ" আখ‍্যা প্রদান করেন।যে সমস্ত জমিদারের হাত হতে জমিদারী কেড়ে নেওয়া হত, জীবিকার জন্য তাদেরকে নানকর,বনকর ও জলকর নামে কতগুলি বৃত্তি প্রদত্ত হত।কোন জায়গায় তার পরিবর্তে জমি দেওয়ারও ব‍্যবস্থা ছিল।অনেক অত‍্যাচারী জমিদার মুর্শিদাবাদে বন্দি অবস্থায় সময় কাটাতে বাধ‍্য হয়।নবাব সুজাউদ্দীন তাদেরকে মুক্তি প্রদান করে অত‍্যাচারকারী কর্মচারীগণ মধ্যে কারও কারও দন্ডবিধান করেছিলেন। রাজস্ব ও শাসন সুচারুরূপে নির্বাহ করার জন্য নবাব মুর্শিদকুলী সমস্ত বাংলা ১৩টি চাকলায় বিভক্ত করেন।রাজা তোড়রমল্লের সময়ে সমস্ত বাংলা ১৯ সরকারে ও ৬৮২ পরগণায় বিভক্ত হয়।এক্ষণে তা ১৩ চাকলায় ৩৪ সরকারে ও ১৬৬০ পরগণায় বিভক্ত হয়ে ১৪,২৮৮,১৮৬ টাকা মোট জমা নির্দিষ্ট হল।এই তের চাকলার মধ্যে হিজলী ও বন্দর বালেশ্বর উড়িষ‍্যা হতে গৃহীত হয়।সপ্তগ্রাম,বর্ধমান,মুর্শিদাবাদ,যশোহর ও ভূষণা এই পাঁচটি গঙ্গা ও পদ্মার পশ্চিম,এবং আকবরনগর (রাজমহল) ঘোড়াঘাট,কড়াইবাড়ী, জাহাঙ্গীরনগর(ঢাকা) শ্রীহট্ট, ইসলামাবাদ (চট্টগ্রাম) এই ছয়টি পদ্মার উত্তর ও পূর্বে অবস্থিত ছিল। এই সমস্ত বন্দোবস্তের জন্য যে কাগজ বা হিসাব তৈরী হয়,তার নাম "জমা কামেল তুমার"।উক্ত আসল জমা ছাড়া মুর্শিদকুলী খাঁ আড়াইলক্ষ টাকার উপর আবওয়াব বা অতিরিক্ত কর ধার্য‍্য করেছিলেন।*

*Grant's Analysis of Bengal Finance. ১৭২২ খৃষ্টাব্দে মুর্শিদকুলী খাঁর উক্ত বন্দোবস্ত কার্য‍্যে পরিণত হয়। কিন্তু সেই বৎসরই শেঠ মানিকচাঁদ পরলোকগত হন।তিনি মুর্শিদকুলীকে এই বন্দোবস্তে অনেক সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু জমিদারদের প্রতি অত‍্যাচার,উৎপীড়ন তাঁর কতটা অনুমোদিত ছিল, তা আমরা বলতে পারি না। সম্ভবত তিনি উক্ত পরামর্শের বিরোধী ছিলেন বলেই বোধ হয়। ঐ সমস্ত উৎপীড়ন অত‍্যাচার নবাবের সেইসময় অনুমোদিত না হলেও তাঁর কর্মচারীরা যে তাতে বিশেষভাবে তৎপর ছিল, এর অনেক প্রমাণ আছে।*

*আমরা আগেই বলেছি যে, শেঠ মানিকচাঁদের সঙ্গে নবাব মুর্শিদকুলীর অত‍্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ ছিল। উভয়ে উভয়ের সাহায্যে কোন ভুল করতেন না।নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর অনুরোধ ক্রমে যেমন বাদশাহ ফরখ শের মানিকচাঁদকে শেঠ উপাধি দিয়েছিলেন, আবার এরকম শোনা যায় যে,মুর্শিদের নবাবিপ্রাপ্তির জন্য নজর,উপঢৌকনাদি প্রদানে যে সমস্ত অর্থের প্রয়োজন হয়েছিল,শেঠ মানিকচাঁদ অকাতরে তার সাহায্য করেছিলেন।নবাব মুর্শিদকুলী মানিকচাঁদকে যেরকম বিশ্বাস করতেন,নিজের পরিবারের মধ্যে আর কাউকেও সেরকম করতেন কিনা সন্দেহ।এই বিশ্বাসের জন্য শেঠকে নবাবের কোষাধ‍্যক্ষ‍েরও কর্ম করতে হত।সরকারী ও নবাবের নিজ অর্থ সমস্তই তাঁর কাছে গচ্ছিত থাকত।এইরকম দেখা যায় যে,শেঠের কাছে নবাবের নিজের পাঁচকোটি (কোন কোন মতে সাতকোটি) টাকা গচ্ছিত ছিল।এই টাকা প্রত‍্যর্পিত না হওয়ায় শেঠবংশীয়দের সঙ্গে মুর্শিদকুলীর দৌহিত্র নবাব সরফরাজ খাঁর মনোবিবাদ ঘটে বলিয়া শেঠবংশীয়গণ উল্লেখ করে থাকেন। এইভাবে মুর্শিদকুলীর রাজস্ব বন্দোবস্তে যথেষ্ট সাহায্য করে ও নিজের গদীর শ্রীবৃদ্ধি করে শেঠ মানিকচাঁদ ১৭২২ খৃষ্টাব্দে নিঃসন্তান অবস্থায় পরলোকগমন করেন। তিনি নিজ ভাগনেয় ফতেচাঁদকে দত্তক গ্রহণ করেছিলেন।ধনবাঈ নামে তাঁর এক ভগিনীর সঙ্গে বারাণসীর শেঠ উদয়চাঁদের বিয়ে হয়,ফতেচাঁদ তাঁদেরই কনিষ্ঠ পুত্র।এই ফতেচাঁদই প্রথমে জগৎশেঠ উপাধি পেয়েছিলেন, আমরা পরে সে বিষয়ে উল্লেখ করব।মহিমাপুরের পরপারে "দয়াবাগ" নামে মনোহর উদ‍্যানে শেঠ মানিকচাঁদের স্মৃতি স্তম্ভ স্থাপিত হয়।অনেক দিন পর্যন্ত সেই উদ‍্যানটি শোভা বিস্তার করে ভাগীরথীতীর আলোকিত করত।কয়েক বৎসর হল, সেই উদ‍্যানের সঙ্গে স্মৃতিস্তম্ভটি ভাগীরথী গর্ভস্থ করেছেন।মানিকচাঁদের গঠিত মহিমাপুরের বাড়ীর অধিকাংশ তাঁর গর্ভস্থ।সামান‍্য ভগ্নাবশেষ আজও তাঁর নাম স্মৃতিপথে এনে দেয়।তাঁর বিশেষ যত্নের সামগ্রী মুর্শিদাবাদ টাঁকশালেরও বিশেষ চিহ্ন নাই। যা কিছু আছে,দুই এক বৎসর পরে তাও ধরণীপৃষ্ঠ হতে মুছে যাবে।মুর্শিদাবাদের সমস্ত গৌরব-চিহ্ন ক্রমে কালগর্ভে নিমগ্ন হয়ে গিয়েছে।এক্ষণে তা শ্মশান ছাড়া আর কিছুই নয়।একসময়ে যা গৌরবে জগৎ বিখ‍্যাত ছিল,এক্ষণে তার শোচনীয় পরিণাম দেখলে অসহনীয় যন্ত্রণায় হৃদয় অভিভূত হয়ে পড়ে।*
🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৭)🏢🏢জগৎ শেঠ🏢🏢*
             *🏢ফতেচাঁদ (১)🏢*
        °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌺মানিকচাঁদের পরলোক গমনের পর ফতেচাঁদ দিল্লী হতে মুর্শিদাবাদে উপস্থিত হয়ে মহিমাপুরের গদীর ভার গ্রহণ করেন।ইতিপূর্বে তিনি দিল্লীর গদীতে কাজ করতেন, এবং উক্ত গদীর কর্তা-স্বরূপই ছিলেন! মানিকচাঁদ তাঁকে পুত্ররূপে গ্রহণ করায়,তিনি দিল্লী পরিত‍্যাগ করে মুর্শিদাবাদে উপস্থিত হন।এখানেই বুঝা যায় যে দিল্লীর গদী অপেক্ষা মুর্শিদাবাদের গদীই বেশী শ্রীবৃদ্ধিশালী ছিল।হীরানন্দ নিজের সাত পুত্রের জন্য ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় গদী স্থাপন করে দেন, কিন্তু মানিকচাঁদের অধ‍্যবসায় ও যত্নে বাংলার গদীই শ্রেষ্ঠ হয়ে উঠে।নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর বিশেষ অনুগ্রহই যে মুর্শিদাবাদ গদীর শ্রীবৃদ্ধির কারণ এটিও স্মরণ রাখা কর্তব‍্য। বস্তুতঃ মুর্শিদাবাদের গদী শেঠদের সমস্ত গদীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ না হলেও ফতেচাঁদ কখনও দিল্লী হতে মুর্শিদাবাদে আসতেন না। মানিকচাঁদ তাঁকে দত্তক পুত্র মনোনীত করেছিলেন সত‍্য, কিন্তু তিনি ভারত সম্রাটের রাজধানী দিল্লী নগরীর গদীর কর্তা হয়েও, বিশেষ কোন কারণ না থাকলে কখনও মুর্শিদাবাদে আসতেন না।আমরা এও জানতে পারি যে,দিল্লীতে থাকা কালীন ফতেচাঁদের সঙ্গে বাদশাহ ও আমীর ওমরাহগণের ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ ছিল, এবং তাঁর গদীর সঙ্গে তাঁরা প্রায়ই কারবার সূত্রে আবদ্ধ হতেন।ফতেচাঁদ বুদ্ধিমান,চতুর ও কর্মদক্ষ বলে মানিকচাঁদ তাঁকেই পুত্র ও স্বীয় উত্তরাধিকারী মনোনীত করে যান।পূর্বাধ‍্যায়ে উল্লিখিত হয়েছে যে,ফতেচাঁদ মানিকচাঁদের ভাগ্নে ; কিন্তু কেউ কেউ বলে থাকেন যে,তিনি মানিকচাঁদের ভাইয়ের পুত্র।যাঁরা মানিকচাঁদের ভাগ্নে বলে থাকেন,তাঁরা বলেন যে,মানিকচাঁদের বোন ধনবাঈএর সঙ্গে শেঠ উদয়চাঁদের বিয়ে হয়,উদয়চাঁদ পিতার একমাত্র পুত্র ছিলেন,ফতেচাঁদ তাঁরই কনিষ্ঠ পুত্র।রিয়াজ-উস-সালাতীন গ্রন্থে লিখিত আছে যে,ফতেচাঁদ বারাণসীর বিখ‍্যাত মহাজন নগরশেঠের ভাগ্নে।মানিকচাঁদের সাত ভাইয়ের মধ্যে কারও নাম নাগরশেঠ ছিল না,তবে তাঁদের আদি নিবাস "নাগর" হওয়ায়,যদি তাঁরা নাগর বা নগরশেঠ বলে অভিহিত হয়ে থাকতেন,তাহলে ফতেচাঁদের পক্ষে মানিকচাঁদের ভাগ্নে হওয়া সম্ভব হলেও হতে পারে।নগরশেঠ কোন ব‍্যক্তি বিশেষের নাম হলে উক্ত সম্বন্ধের প্রমাণ ঘটে উঠে না।তবে হীরানন্দের সাত পুত্রের মধ্যে যদি কারও নাম নাগরশেঠ থাকে,তাহলে উক্ত সম্বন্ধ স্থাপন করা যেতে পারে।ফলে ফতেচাঁদ মানিকচাঁদের ভাইয়ের পুত্র কি ভাগ্নে এই বিষয়ে বিশেষ কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না।সাধারণতঃ তিনি ভাগ্নে বলেই উল্লিখিত হয়ে থাকেন।*
*🌳মুর্শিদাবাদে আসবার আগে ফতেচাঁদ যে সময়ে দিল্লীর গদীতে কাজ করতেন, সেইসময়ে তিনি শেঠ উপাধি পেয়েছিলেন।রিয়াজ-উস-সালাতীনে লেখা আছে যে,সেইসময় ফরখশের দিল্লীর সিংহাসন লাভের জন্য চেষ্টা করছিলেন,সেই সময়ে তাঁর অর্থাভাব হওয়ায় বারাণসীর বিখ‍্যাত মহাজন নগরশেঠ তাঁকে অর্থ সাহায্য করেছিলেন, তার প্রত‍্যুপকার স্বরূপ বাদশাহ ফরখশের নগরশেঠের ভাগ্নে ও গোমস্তা ফতেচাঁদকে জগৎশেঠ উপাধি প্রদান ও বাংলার রাজস্বের পেস্কারী পদে নিযুক্ত করেন।রিয়াজ-উস-সালাতীনের উক্ত বিবরণ যথার্থ বলে বিশ্বাস হয় না।ফতেচাঁদের ফার্মান বা সনন্দে দেখা যায় যে,ফরখশের তাঁকে শেঠ উপাধি মাত্রই প্রদান করেছিলেন, কিন্তু সম্রাট মহম্মদশাহ তাঁকে জগৎশেঠ উপাধি প্রদান করেন।ফতেচাঁদ মুর্শিদাবাদে আসার পর জগৎশেঠ উপাধি পেয়েছিলেন।মানিকচাঁদের মৃত‍্যুর পর তিনি মুর্শিদাবাদে আসেন।১৭২২ খৃঃ অব্দে মানিকচাঁদের মৃত‍্যু হয়। কিন্তু ১৭২০ খ‍ৃঃঅব্দে ফরখশের এ জগৎ থেকে চিরবিদায় নিতে বাধ‍্য হয়।১৭২৪ খৃঃ অব্দে মুর্শিদাবাদ হতে দিল্লী গমন করলে সম্রাট মহম্মদশাহ ফতেচাঁদকে জগৎশেঠ উপাধিতে ভূষিত করে তারসঙ্গে "একটি বহুমূল‍্য খেলাত,জগৎশেঠ নামাঙ্কিত মণিময় মোহর ও শিরোপা সম্মান চিহ্নস্বরূপ প্রদান করেন"। সেইকালে মুর্শিদাবাদের গদীর নাম এরকম ভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল যে,জগতে তার সমকক্ষ আর দ্বিতীয় গদী ছিল না বলে সাধারণে বিশ্বাস করত।সেইজন‍্য ফতেচাঁদ জগতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মহাজন হওয়ায় বাদশাহ তাঁকে জগৎশেঠ উপাধি প্রদান করেছিলেন।ফতেচাঁদই প্রথমে জগৎশেঠ উপাধি লাভ করেন। ফতেচাঁদের গদী মুর্শিদাবাদে থাকলেও ভারতের নানা জায়গার সঙ্গে তাঁর সম্বন্ধ সংস্থাপিত হয়। দিল্লীর বাদশাহগণও মুর্শিদাবাদের গদীর সঙ্গে সম্বন্ধ রেখেছিলেন। নবাব সরকারেও দিন দিন ফতেচাঁদের প্রতিপত্তি বাড়তে লাগল।রাজা জমিদার ব‍্যবসায়ী মহাজন সকলের সঙ্গেই তাঁর পরিচয় হল।* *নবাব মুর্শিদকুলী ফতেচাঁদের ব‍্যবহারে পরম সন্তুষ্ট হয়েছিলেন,তিনি পূর্ব হতেই ফতেচাঁদের পরামর্শ অনুসারে অনেক কাজ করতেন, এক্ষণে বাদশাহের আদেশ পেয়ে রাজ‍্যশাসন বিষয়ে সব সময়েই জগৎশেঠের পরামর্শ গ্রহণ করতে লাগলেন।বাদশাহের দরবারে ও নবাব সরকারে শেঠদের এইরকম প্রতিপত্তি হওয়ায়, বাংলার সমস্ত লোক তাঁদেরকে গৌরবের চক্ষে দেখতে লাগল।মুর্শিদাবাদের নবাবদের পরই শেঠেরা সম্মানে সর্বশ্রেষ্ঠ হয়ে উঠলেন।নবাব মুর্শিদকুলী যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিনই ফতেচাঁদের পরামর্শ অনুসারে কাজ করেছিলেন। ১৭২৭ খৃঃ অব্দে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি মৃত‍্যুর পূর্বে তাঁর মনোনীত উত্তরাধিকারী দৌহিত্র সরফরাজকে ফতেচাঁদের পরামর্শ অনুসারে কাজ করতে উপদেশ দিয়েছিলেন।মুর্শিদকুলী খাঁর মৃত‍্যুর পর সরফরাজ নবাব হতে পারেননি।মুর্শিদকুলীর জামাতা ও সরফরাজের পিতা সুজাউদ্দীন মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে বসেন। সুজাউদ্দীন মহাম্মদ খাঁ মুর্শিদকলীর সময়ে উড়িষ‍্যার শাসনকর্তার পদে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।মুর্শিদকুলী জামাতার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন না,তাঁর কন‍্যা স্বামীর কাছে না থেকে পিতার কাছেই থাকত।রাজনৈতিক অনেক বিষয়ে শ্বশুর জামাতার ঐক‍্য হত না। যাইহোক, সুজাউদ্দীন মুর্শিদকুলীর মৃত‍্যুর পর উড়িষ‍্যা হতে মুর্শিদাবাদে উপস্থিত হলে সরফরাজ পিতার কোনরকম বিরুদ্ধাচরণ করেনি।জগৎশেঠ ফতেচাঁদ ও অন‍্যান‍্য অমাত‍্যবর্গ তাঁকে পিতার বশ‍্যতা স্বীকারের পরামর্শ দিয়েছিলেন।*
🏢🏢🏢🏢🏢🏢🏢🏢🏢🏢🏢🏢🏢
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮) 🏢🏢জগৎ শেঠ 🏢🏢*
            *🏢ফতেচাঁদ(১)🏢*
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🌺সরফরাজ যদি সেই পরামর্শ অনুসারে কাজ না করতেন তাহলে পিতাপুত্রের গৃহবিবাদে বাংলায় এক অশান্তির আগুন জ্বলে উঠত।ফতেচাঁদ এ বিষয়ে যে পরামর্শই দিয়েছিলেন এতে সন্দেহ নাই।সুজাউদ্দীন পুত্রের ব‍্যবহারে তুষ্ট হয়ে তাঁকে বাংলার দেওয়ানী পদে নিযুক্ত করলেন,এবং রায় আলমচাঁদ নামক এক ব‍্যক্তিকে তাঁর সহকারী নিযুক্ত করে দিলেন।এই রায় আলমচাঁদ পরে "রায়রায়ান"উপাধি পেয়ে রাজস্ব বিষয়ে প্রধান দেওয়ান নিযুক্ত হন।যাতে শাসনকার্য‍্য সুচারুরূপে পরিচালিত হয়,তার জন্য সুজাউদ্দীন একটি মন্ত্রীসভা গঠিত করলেন।হাজী আহম্মদ,আলিবর্দী খাঁ,জগৎশেঠ ফতেচাঁদ ও রায়রায়ান আলমচাঁদ এর সভ‍্য নিযুক্ত হলেন।আলিবর্দীর প্রতি যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ের ভার ছিল। রাজস্ব সম্বন্ধীয় সমস্ত কাজই রায়রায়ন ও জগৎশেঠ করতেন।আলমচাঁদই প্রকৃত প্রস্তাবে রাজস্ববিষয়ে প্রথম দেওয়ান নিযুক্ত হন।*
*🍀নবাব মুর্শিদকুলী খাঁর সময় অপেক্ষা সুজাউদ্দীনের সময় রাজস্ববৃদ্ধি হল,নবাব মুর্শিদ দিল্লীতে এক কোটি ত্রিশ লক্ষ টাকা রাজস্ব পাঠাতেন,সুজাউদ্দীন তার জায়গায় দেড়কোটি পাঠাতেন।১৭৩২ খৃঃ অব্দে পুনর্বার সুজাউদ্দীনের প্রতি বিহার শাসনের ভার অর্পিত হলে,সেখানে একজন উপযুক্ত ব‍্যক্তি পাঠাবার আবশ্যক হওয়ায়,নবাব মন্ত্রিসভার সঙ্গে পরামর্শ করে আলিবর্দী খাঁকে সেখানে পাঠিয়ে দেন।আলিবর্দী মন্ত্রীসভার একজন প্রধান ব‍্যক্তি ছিলেন।জগৎশেঠ,ফতেচাঁদ প্রভৃতির তাঁর সঙ্গে সৌহার্দ্য জন্মে।ফতেচাঁদ প্রভৃতির পরামর্শ অনুসারে নবাব আলিবর্দী খাঁকে পাটনায় পাঠিয়ে দেন।ফতেচাঁদ মন্ত্রিসভায় থেকে যেরকম শাসনকার্য‍্য পরিচালন করছিলেন,সেইরকম নিজের গদীর প্রতি যত্নেরও ত্রুটি ছিল না।রাজ‍্যশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ থাকায় সব শ্রেণীর লোকের সঙ্গে তাঁর গদীর সম্বন্ধ স্থাপিত হয়।রাজা জমিদার ও অন‍্যান‍্য ভূম‍্যধিকারীদের তো কথাই নাই,ব‍্যবসায়ী মহাজন সকলেই আগে যেমন মহিমাপুরের গদী হতে অর্থাদি গ্রহণ করতেন,এখনও সেইরকম ভাবেই কারবার চলতে লাগল।এই সময় ইংরেজ ফরাসী ওলন্দাজ ও অন‍্যান‍্য ইউরোপীয়দের বাণিজ্য দিন দিন উন্নতি লাভ করতে লাগল।কলিকাতা,চন্দননগর,চুঁচুড়া প্রভৃতি ইউরোপীয়দের প্রধান প্রধান জায়গা,দিন দিন শ্রীবৃদ্ধিশালী হয়ে উঠতে ছিল।সেইসব জায়গার ব‍্যবসায়ীগণ জগৎশেঠের সঙ্গে কারবারসূত্রে আবদ্ধ ছিলেন।যেমন যেমন সেই সমস্ত জায়গায় উন্নতি হতে লাগল,জগৎশেঠগণও দিন দিন সেইরকম ধনকুবের হয়ে উঠতে লাগলেন।জগৎশেঠ ফতেচাঁদের এইরকম উন্নতির সময়ে ১৭৩৯ অব্দে নবাব সুজাউদ্দীন পরলোকগমন করেন।সুজাউদ্দীনের মৃত‍্যুর পর সরফরাজ মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে উপবিষ্ট হন।যদিও তাঁর পিতা মৃত‍্যুকালে সরফরাজকে জগৎশেঠ প্রভৃতির পরামর্শ অনুসারে সমস্ত কাজ করতে উপদেশ দিয়ে যান। কিন্তু তিনি বেশীদিন পিতার যে উপদেশ পালন করেননি।জগৎশেঠ প্রভৃতির সঙ্গে মনোমালিন‍্য ঘটাতেই তাঁর অধঃপতনের সূত্রপাত হয়।*
*১৭৪৪ খৃষ্টাব্দে জগৎশেঠ ফতেচাঁদের মৃত‍্যু হয়।☆হন্টার লিখেছেন যে,১৭৪৪ খৃষ্টাব্দে ফতেচাঁদের মৃত‍্যু হয়।এটি কতদূর সত‍্য বলা যায় না,কারণ আমরা মহাতপচাঁদের জৎশেঠ ফরমানে দেখতে পাই যে,মহাতপচাঁদ সম্রাট আমেদ সাহার রাজত্বের প্রথম বর্ষে ১১৬১ হিজরী বা ১৭৪৮ খৃষ্টাব্দে জগৎশেঠ উপাধি পেয়েছিলেন।ফতেচাঁদের মৃত‍্যুর চার বৎসর পরে এই উপাধি পাওয়ায় তাঁর মরণাব্দ ১৭৪৪ কি না এতে সন্দেহ উপস্থিত হয়।তবে যদি সেই সময়ে মহাতপচাঁদের বয়স বেশী না থাকাই অথবা মহারাষ্ট্রীয় আক্রমণ ও আফগান বিদ্রোহের অশান্তির জন্য তাঁর জগৎশেঠ উপাধি পাবার দেরী ঘটে থাকে তাহলে ১৭৪৪ খৃষ্টাব্দে ফতেচাঁদের মৃত‍্যু হওয়া অসম্ভব বলে মনে হয় না।হন্টার নিজামত দেওয়ান রাজা প্রসন্ননারায়ণ দেব বাহাদুরের দ্বারা তাৎকালীক জগৎশেঠের কাছ হতে বিবরণ সংগ্রহ করেছিলেন।তারজন‍্য সন্দেহ থাকলেও আমরা ১৭৪৪ খৃষ্টাব্দে ফতেচাঁদের মৃত‍্যু বৎসর ধরে নিলাম।*
*🌹তাঁর মৃত‍্যুর পর তদীয় পৌত্র ও শেঠ আনন্দচাঁদের পুত্র মহাতপচাঁদ গদীতে বসেন।ফতেচাঁদের বয়স তখন আশির উপরে হয়েছিল।সেই বহুদর্শী বৃদ্ধ জগৎশেঠের মৃত‍্যুতে আলিবর্দী খাঁ অত‍্যন্ত অভাব অনুভব করতে লাগলেন।যাঁর সাহায্যে ও পরামর্শে তিনি ভাগ‍্যলক্ষ্মীর আশীর্বাদ লাভ করে মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে বসেছিলেন, এবং মহারাষ্ট্রীয় আক্রমনরূপ ভীষণ বিপদ হতে যিনি তাঁকে পদে পদে রক্ষা করেছিলেন,তাঁর অভাব যে অত‍্যন্তই কষ্টকর তাতে সন্দেহ কি? কিন্তু অল্পকাল মধ্যে শেঠ মহাতপচাঁদ নবাবের সে অভাব মোচনে সমর্থ হয়েছিলেন।ফতেচাঁদের মত প্রতিভাশালী কার্যদক্ষ ও সুচতুর ব‍্যক্তি খুব অল্পই দেখা যায়, তিনি জগৎশেঠবংশীয়দের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন।নিজের প্রতিভা ও ক্ষমতাবলে তিনিই প্রথমে "জগৎশেঠ" উপাধি লাভ করেন।মানিকচাঁদ হতে যে গদীর উন্নতি আরম্ভ হয়েছিল,ফতেচাঁদের দ্বারা তা পূর্ণতা পেয়ে থাকে।বাদশাহ ও নবাব দরবারে তাঁর অসীম প্রতিপত্তি ছিল।কেবল সরফরাজ খাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে যোগদান করে তিনি নিজের নামের কলঙ্কিত করে গিয়েছেন।তথাপি তিনি যে বহুগুণে গরীয়ান ছিলেন তা অস্বীকার করবার উপায় নাই।*
🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৯) 🏢🏢জগৎশেঠ🏢🏢*
             *🏢মহাতপচাঁদ🏢*
               *অতি সংক্ষেপে*
        ∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*🍀ফতেচাঁদের মৃত‍্যুর পর তাঁর পৌত্রদ্বয় মহাতপচাঁদ ও স্বরূপচাঁদ মুর্শিদাবাদ গদীর অধিকারী হয়ে দিন দিন তার উন্নতিসাধনে যত্নবান হন।ফতেচাঁদের আনন্দচাঁদ,দয়াচাঁদ ও মহাচাঁদ নামে তিনপুত্র জন্মে,এঁরা পিতার জীবদ্দশাতেই এ জগৎ হতে বিদায় নিয়েছিলেন।আনন্দচাঁদের মহাতপচাঁদও দয়াচাঁদের স্বরূপচাঁদ নামে পুত্র হয়।পুত্রশোকাতুর ফতেচাঁদ পৌত্রদেরকে অবলম্বন করে যেমন দিন দিন শান্ত ছিলেন,তেমনই তাদের প্রতি তাঁর অপরিসীম স্নেহ বর্ধিত হতে থাকে।এই জন্য তিনি দুইজনকেই গদীর উত্তরাধিকারী মনোনীত করে যান।ইঁনাদের মধ্যে মহাতপচাঁদ বয়সে বড় হওয়ায় তিনি গদীর তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত হন,স্বরূপচাঁদও তাঁকে যথারীতি সাহায্য করতেন।দুইভাই মিলিত হয়ে গদীর উন্নতিসাধনে প্রাণপণে চেষ্টা করতে আরম্ভ করেন। মুর্শিদাবাদের যে গদীকে ফতেচাঁদ ভারতের বা জগতের মধ্যে অদ্বিতীয় করেছিলেন,মহাতপচাঁদ ও স্বরূপচাঁদ তাকে কেবল তদবস্থায় রাখননি বরঞ্চ তার গৌরববৃদ্ধির জন্য অশেষ রকম চেষ্টা আরম্ভ করেছিলেন।তাঁদের গদীর অপরিসীম শ্রীবৃদ্ধি দেখে নবাব আলিবর্দী খাঁ অত‍্যন্ত আনন্দ পেয়েছিলেন, এবং তাঁদের যারপরনাই (অতিশয়) কার্যতৎপরতা জেনে সময়ে সময়ে মহাতপচাঁদের সঙ্গে রাজকার্য‍্যের পরামর্শও করতেন।*
*🍁নবাব আলিবর্দী খাঁ অত‍্যন্ত ক্ষমতাশালী হয়ে সুচারুরূপে রাজ‍্যশাসনে মনোনিবেশ করলেও তাঁর রাজত্ব যেরকম ঘোরতর অশান্তিপূর্ণ হয়েছিল,তাতে তিনি তিলমাত্রও বিশ্রাম করবার অবকাশ পেতেন না। যদিও মহাতপচাঁদ প্রভৃতির সুপরামর্শে তিনি দক্ষতা সহকারে রাজ‍্য-শাসনে সক্ষম হয়ে উঠেছিলেন। ভাস্কর পন্তের মৃত‍্যুর পর কিছুকাল মহারাষ্ট্রীয় আক্রমণ বঙ্গভূমিকে শান্তিলাভের অবকাশ দিলেও মুর্শিদাবাদের রাজ সিংহাসনে সে শান্তি কল‍্যাণছায়া বিতরণ করতে সক্ষম হয়নি।মহারাষ্ট্রীয় আক্রমণের পর ভীষণ আফগান-বিদ্রোহ উপস্থিত হয়ে নবাব আলিবর্দী খাঁকে অত‍্যন্ত ব‍্যাকুল করে তুলে। এই ভয়াবহ বিদ্রোহ বঙ্গদেশ পরিত‍্যাগ করে বিহার প্রদেশেই ভীষণ আকার ধারণ করে।নবাবের সেনাপতি মস্তাফা খাঁ অসংখ্য আফগান সৈন‍্য সমবেত করেছিলেন। তাঁর অধীনে অনেক আফগান কর্মচারী মহারাষ্ট্রীয় যুদ্ধ প্রভৃতিতে অদ্ভুত বীরত্ব প্রদর্শন করে ক্রমে ক্রমে ক্ষমতাশালী হয়ে উঠে। ক্রমে ক্রমে মস্তাফা খাঁর ক্ষমতা প্রবল হয়।তাঁর ক্ষমতা যেমন দিন দিন বাড়তে থাকে,তেমনি তাঁর হৃদয়ে রাজ‍্যপিপাসার সঞ্চার হয়ে তাঁকে উত্তেজিত করে তুলে। বাংলা অপেক্ষা বিহারের প্রতি তাঁর লালসা বেশী দেখা গিয়েছিল।মস্তাফা আলিবর্দীর কাছ হতে বিহারের নায়েবী প্রার্থনা করেছিলেন, আলিবর্দী তাঁকে সময়ে সময়ে আশাও দেন, কিন্তু মস্তাফা খাঁ আলিবর্দীর কথায় বিশ্বাস না করে নিজ বাহুবলে তা অধিকারের জন্য উদ‍্যোগী হন।তিনি নবাবের সেনাপতিত্ব ত‍্যাগ করে সসৈন‍্যে বিহার অভিমুখে ধাবিত হন। এই সময়ে আলিবর্দীর কনিষ্ঠ ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা এবং সিরাজউদ্দৌলার পিতা জৈনুদ্দীন আহম্মদ বিহারে সহকারী শাসনকর্তা নিযুক্ত ছিলেন।নবাবের কাছ হতে তিনি মস্তাফার অভিপ্রায়ের খবর পেয়ে মস্তাফা খাঁকে বাধা দিতে প্রস্তুত হন।মস্তাফা খাঁ পাটনা আক্রমণ করে কৃতকার্য হতে পারেন নাই।সেই সময়ে নবাব আলিবর্দী বিহারে উপস্থিত হয়ে জৈনুদ্দীনের সঙ্গে যোগদান করেন।উভয়ের আক্রমণে মস্তাফাকে পরাজিত হতে হয়, এবং তিনি শেষে জীবন বিসর্জন দিতে বাধ‍্য হয়েছিলেন।মস্তাফা খাঁর মৃত‍্যুতে কিন্তু আফগান বিদ্রোহের উপশম হয়নি। বরঞ্চ তা শেষে ভীষণ আকার ধারণ করে সমগ্র বিহার প্রদেশে অশান্তির আগুন জ্বলেছিল।*
*🌺বিহারে আফগান বিদ্রোহ কিছু সময়ের জন্য শান্ত হলেও, বাংলা ও উড়িষ‍্যায় আবার মহারাষ্ট্রীয় আক্রমণের আগুন জ্বলতে আরম্ভ করল।ভাস্কর পন্তের মৃত‍্যু-সংবাদ অবগত হয়ে রঘুজী ভোঁসলে সসৈন‍্যে নিজেই বাংলায় উপস্থিত হন।নবাব আফগান-বিদ্রোহ দমনে ব‍্যস্ত থাকায় কোনরকমে রঘুজীকে শান্ত করবার চেষ্টা করেছিলেন।রঘুজী সেই সময়ে বর্ধমান পর্যন্ত অগ্রসর হন।তিনি নবাবের কাছে অনেক টাকার দাবী করে বসেন।নবাব তাতে রাজি না হওয়ায় রঘুজী প্রথমে উড়িষ‍্যা অধিকারে কৃতসংকল্প হন।এই সময়ে রাজা দুর্লভরাম উড়িষ‍্যার সহকারী শাসনকর্তা নিযুক্ত ছিলেন।তাঁর অবিবেচনা ও অকর্মণ‍্যতার জন্য সহজে উড়িষ‍্যা মহারাষ্ট্রীয়দের হাতে চলে গেল।দুর্লভরাম বন্দী হয়ে অবশেষে কোনরকমে নিষ্কৃতিলাভ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।তার পর রঘুজী বিহারে উপস্থিত হয়ে আফগানদের সঙ্গে মিলিত হন।এর পর রঘুজী বাংলায় উপস্থিত হয়ে মুর্শিদাবাদাভিমুখে অগ্রসর হবার ইচ্ছা করেন।*
*রঘুজীর বিহারে অবস্থানকালে পবাব সৈন‍্যগণের সঙ্গে তার ঘোরতর যুদ্ধ লাগে।এই যুদ্ধে আফগান সেনাপতিগণ বিশ্বাসঘাতকতা করায় নবাব পরাজয় হন।তিনি প্রথমে রঘুজীর কাছে সন্ধির প্রস্তাব করে পাঠান, কিন্তু রঘুজী মীর হাবিবের পরামর্শে অরাজি হওয়ায়,নবাব তাঁকে বাধা দিবার জন্য চেষ্টা করেন।রঘুজী মুর্শিদাবাদের দিকে অগ্রসর হলে নবাব তাঁকে আক্রমণ করেন।এই আক্রমণে রঘুজী পরাজিত হয়ে প্রবলবেগে মুর্শিদাবাদের দিকে ধাবিত হন।নবাবের আদেশ অনুসারে নওয়াভেস মহম্মদ খাঁ রঘুজীকে বাধা দিবার জন্য প্রস্তুত হন।এদিকে নবাব নিজে তার পেছন পেছন ধাবিত হন।রঘুজী মুর্শিদাবাদের কাছের কোন কোন জায়গা লুন্ঠন করে কাটোয়ার দিকে অগ্রসর হন।নবাব মহারাষ্ট্রীয়গণের পেছন পেছন গিয়ে কাটোয়ার কাছে তাদেরকে আক্রমণ করেন।এই আক্রমণে পরাজিত হয়ে রঘুজী বাংলা পরিত‍্যাগ করতে বাধ‍্য হন।তার পর কিছুদিন বঙ্গভূমি মহারাষ্ট্রীয় আক্রমণ হতে নিষ্কৃতি লাভ করেছিল।রঘুজীর সঙ্গে যুদ্ধে যে সমস্ত আফগান সেনাপতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল,তাদের মধ্যে সমসের খাঁ ও সর্দার খাঁ প্রধান। নবাব মহারাষ্ট্রীয়দেরকে বিতাড়িত করে সৈনিক কর্মচারীদ্বয়কে অবসর দেন। কিন্তু এরা শেষে ঘোর বিদ্রোহের অবতারণা করেছিল।রঘুজীদের আক্রমণ হতে শান্তিলাভ করে নবাব কিছুদিনের জন্য বিশ্রাম করবার অবকাশ পেয়েছিলেন।এই অবসরে তিনি নিজ দৌহিত্র ও প্রিয়পাত্র সিরাজউদ্দৌলা ও তার ভাই এক্রামউদ্দৌলার বিয়ে দিলেন। এই সময়ে তিনি মহাতপচাঁদের জগৎশেঠ উপাধির জন্য বাদশাহ দরবারে চেষ্টা করেন, সম্রাট মহম্মদ সাহের মৃত‍্যু হলে তারপুত্র আহম্মদ সাহ দিল্লীর সিংহাসনে বসেন।নবার তাঁর কাছে মহাতপচাঁদের "জগৎশেঠ" উপাধির জন্য অনুরোধ করে পাঠান। সেই সময়ে মহিমাপুরের শেঠদের গদীর উন্নতি চরমসীমায় উপনীত হয়েছিল।তাঁদের গদীতে সেইসময় অনবরত দশকোটি টাকার লেনদেন বা কারবার হত।সমগ্র ভারতে তাঁদের মত শ্রেষ্ঠী আর কেউ ছিলেন না। সুতরাং বাদশাহ তাঁদেরকে তাঁদের বংশের সম্মানীয় উপাধিযে দান করবেন,তাতে সন্দেহ কি? সেইজন‍্য আহম্মদ সাহের রাজত্বের প্রথমবর্ষে ১১৬১ হিজরী বা ১৭৪৮ খৃঃঅব্দে মহাতপচাঁদ বাদশাহ দরবার হতে "জগৎশেঠ" উপাধি পেয়েছিলেন।*
🔵🔴🔵🔴🔵🔴🔵🔴🔵🔴🔵🔴🔵
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/jagotseth.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০)🏢🏢জগৎশেঠ🏢🏢*
             *🏢মহাতপচাঁদ🏢*
       ◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🍀মহাতপচাঁদ জ‍্যেষ্ঠ বা বড় হওয়ায় "জগৎশেঠ" উপাধি লাভ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু স্বরূপচাঁদ তাঁর ডান-হাতস্বরূপ থাকায়, বাদশাহ দরবার থেকে তিনিও সম্মানীয় উপাধি লাভ করেন,বাদশাহ তাঁকে "মহারাজ" উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।*
*🔥মাঝে বহু সময় অতিবাহিত হলে পরবর্তীকালে গিরিয়ার পরাজয় খবর শুনে মীরকাসিম মুঙ্গের পরিত‍্যাগ করতে কৃতসংকল্প হন।যদিও তিনি নিজের সৈন‍্যগণকে উধুয়ানালায় যাবার আদেশ দিয়ে সেখানে ইংরেজসৈন‍্যের গতিরোধের ব‍্যবস্থা করেছিলেন, কিন্তু তার ফলাফলের উপর নির্ভর করতে সাহসী না হয়ে,তিনি মুঙ্গের পরিত‍্যাগ করেন ও নিজের পরিবারবর্গ ও ধনসম্পত্তি রোটাসগড়ে পাঠিয়ে দেন।মুঙ্গের পরিত‍্যাগের পূর্বে তিনি যে সমস্ত দেশীয় ধনবান লোককে মুঙ্গেরে বন্দী করে রেখেছিলেন,তাদের বধ করবার জন্য।তাঁর আদেশে সেই সমস্ত সম্ভ্রান্ত লোকের গলায় বালুভরা বস্তা বেধে, মুঙ্গের দূর্গপ্রাকারের অতি উচ্চ শিখর হতে নদীগর্ভে ফেলে দেওয়া হয়।জগৎশেঠ মহাতপচাঁদ ও মহারাজ স্বরূপচাঁদের হননকান্ডও সেইরকম ভাবেই হয়েছিল বলে শোনা যায়। মুতাক্ষরীণকার বলেন যে,মীরকাসিম মুঙ্গের পরিত‍্যাগের পর বাঢ়নগরে উপস্থিত হয়ে শেঠ ভ্রাতৃদ্বয়কে হনন করতে আদেশ দিয়েছিল। কিন্তু সাধারণ জনপ্রবাদে তাদেরকে মুঙ্গের দূর্গশিখর হতে ভাগীরথীবক্ষে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। শেঠ ভ্রাতৃদ্বয়ের গোলাপচাঁদ ও মিহিরচাঁদ নামে পুত্রদ্বয় বন্দিভাবে মীরকাসিমের সঙ্গে দেশে দেশে পরিভ্রমণ করতে বাধ‍্য হন। এইরকমভাবে জগৎশেঠ মহাতপচাঁদ ও মহারাজ স্বরূপচাঁদের জীবলীলার অবসান হয়।যাঁরা নবাব আলিবর্দী খাঁর সময় হতে দক্ষতা সহকারে বঙ্গরাজ‍্যের রাজনৈতিক ব‍্যাপারগুলি পরিচালনা করে আসছিলেন,যাঁদের সময় তাঁদের বিশাল কারবারলব্দ পর্বতাকার অর্থ ভাগীরথীর মোহনা বদ্ধ করতেও সমর্থ ছিল,কি দেশীয়,কি বিদেশীয়, সব সম্ভ্রান্ত জনগণ যাঁদের মুখাপেক্ষা করতেন,মুর্শিদাবাদ নবাব-দরবারে যাঁদের একাধিপত‍্য ছিল,এমন কি বাদশাহ-দরবারেও যাঁদের সম্মানের সীমা ছিল না,মীরকাসিমের কঠোর ব‍্যবস্থা তাঁদেরকে সামান্য অপরাধীর মত এ জগৎ হতে অন‍্য জগতে পাঠিয়ে দিয়েছিল।যাঁদের দ্বারা বঙ্গরাজ‍্যে কত উন্নতি সাধিত হয়েছিল,দেশের ধনী নির্ধন যাঁদের দ্বারা উপকৃত হত,যাঁরা দেশমধ‍্যে শান্তি স্থাপনের অশেষ প্রকার চেষ্টা করতেন,তাঁদেরকে ইহলোক হতে বিদায় নিয়ে পরলোকে যেতে হল। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সেই বিশাল কারবারও দিন দিন শ্রীহীন হতে লাগল। মুর্শিদাবাদের গৌরবও দিন দিন ধ্বংসের পথে অগ্রসর হল।দেশীয় বিদেশীয় সকলেই হাহাকারে গগন বিদীর্ণ করতে লাগল, এবং মীরকাসিমের প্রতি অভিশাপ দিতে লাগল।*
*🍀জগৎশেঠ মহাতপচাঁদ অল্প বয়স হতেই অত‍্যন্ত বুদ্ধিমান ছিলেন।মহারাজ স্বরূপচাঁদ তাঁর দক্ষিণ-হস্তস্বরূপ ছিলেন।যে সময়ে আলিবর্দী খাঁ মহারাষ্ট্রীয় যুদ্ধে ব‍্যস্ত থাকায় বঙ্গভূমিতে ঘোরতর অশান্তি বিরাজ করছিল,সে সময়ে শেঠভ্রাতৃদ্বয় নিজেদের কারবার সুচারুরূপে পরিচালনা করে অগাধ সম্পত্তির অধীশ্বর হয়েছিলেন।সেইজন‍্য প্রবাদ ছিল যে,🌹তাঁরা ইচ্ছে করলে সোনা দিয়ে ভাগীরথীর মোহনা বাঁধিয়ে দিতে পারেন,এতই অর্থ ছিল।যাইহোক,মহারাষ্ট্রীয়রা তাঁদের গদী লুঠ করেও তাঁদের কারবারের কিছুই ক্ষতি করতে পারিনি।তাঁদের ক্ষমতা অসীম ছিল।আলিবর্দী খাঁ, সিরাজউদ্দৌলা,মীরজাফর খাঁ প্রভৃতি নবাবদের দরবারে তাঁদের অপরিসীম প্রভুত্ব ছিল।নবাবগণ অনেক বিষয়ে তাঁদের পরামর্শ গ্রহণ করতেন।সিরাজউদ্দৌলার উচ্ছৃঙ্খলার জন্য তাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে যোগদান করলেও, সিরাজ একেবারে তাঁদের পরামর্শ উপেক্ষা করেননি।দেশীয় রাজা মহারাজগণ এবং বিদেশীয় ইংরেজ,ফরাসী,ওলন্দাজ প্রভৃতি বণিকগণ কিভাবে তাঁদের শরণাগত হতেন,তা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে।ফলে অর্থে ও প্রভুত্বে শেঠভ্রাতৃদ্বয় যে বঙ্গরাজ‍্য মধ্যে অতুলনীয় ছিলেন, তাতে সন্দেহ নেই।দুঃখের বিষয়,তাঁদের সেই অর্থ ও প্রভুত্বই তাঁদের পক্ষে কালস্বরূপ হয়ে উঠে, এবং তাঁদের সেই অর্থ ও প্রভুত্বের জন‍্যই মীরকাসিম তাঁদেরকে বন্দী করে অবশেষে এ জগৎ হতে অপসারিত করবার ব‍্যবস্থা করেছিলেন।মীরকাসিমের এরকম নির্দয় নরহত‍্যা যে তাঁর চরিত্রের একটি প্রধান কলঙ্ক,তা হয়ত সকলেই জানেন।শেষজীবনে মীরকাসিম ভিখারীর বেশে দেশে দেশে ভ্রমণ করে,অবশেষে অজ্ঞাতভাবে একমুষ্টি অন্নের অভাবে নিজের জীবন বিসর্জন দিতে বাধ‍্য হয়েছিল।*
*মীরকাসিম প্রথমে রোহিলখন্ডে উপস্থিত হয়ে পরে দিল্লীর নগরোপকন্ঠের এক জীর্ণ কুটীরে অজ্ঞাতভাবে দিনযাপন করেন। ১৭৭৭ খৃষ্টাব্দে ৬ই জুন তার জীবন-পক্ষী দেহ-পিঞ্জর পরিত‍্যাগ করে কোন অলক্ষিত জায়গায় উড়ে যায়।তার একটি জীর্ণ শাল বিক্রি করে নাগরিকগণ তার অন্ত‍্যোষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল। এইভাবে বাংলা,বিহার,উড়িষ‍্যার নবাব নাজিম, অগাধ ধনসম্পত্তির অধীশ্বর,স্বাধীনচেতা মীরকাসিম বঙ্গরাজ‍্যে নানারকম লীলার অভিনয় করে,রাজ‍্যচ‍্যুত,হৃতসর্বস্ব হয়ে,ভিখারীর বেশে দেশে দেশে ঘুরে বেড়াতে হয়েছিল।*
🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷🔷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 জগৎ শেঠ 🙇 গ্রন্থকার নিখিলনাথ রায় 📚 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/jagotseth2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds