শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৪১. কৃষ্ণকীর্তনের সুর ও তাল 🎵 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪১) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
*কৃষ্ণকীর্তনের সুর ও তাল*
**************************
*☘প্রাচীনতর পুথিটির অনেকগুলি পদ দ্বিতীয় পুথিটিতে উদ্ধৃত হয়েছে।তা ছাড়া অন‍্য একটি পদও বড়ু চন্ডীদাসের নামে প্রচার করার চেষ্টা দেখা যায়।পদটি দ্বিজ চন্ডীদাসের একটি উত্তম পদ ; এটি "পদকল্পতরুতে" এবং নীলরতন বাবুর সংগ্রহে উদ্ধৃত হয়েছে। মণীন্দ্র বাবু এই পদটি তুলতে ভুলেছেন।*
*🌻বষু তালের পদাবলী, রাগিনী পটমঞ্জরী।*
*🌷এক কাল হইল মোর জমুনার জল।*
*🌷আর কাল হইল মোর কদম্বের তল।।*
*🌷আর কাল হইল মোর পাসে বৃন্দাবন।*
*🌷আর কাল হইল মোর নহলি জৌবন।।*
*🌻লঘু দুইবারে ১৪ চৌদ্দ কলা।পরে গুরু।*
*🌷আর কাল হইল মোরে ভ্রমরার বোল।*
*🌷আর কাল হইল মোরে কানু মাগে কোল।।*
*🌷আর কাল হইল মোরে তরলিয়া বাঁসি।*
*🌷আর কাল হইল মোরে কানু মুখের হাসি।।*
*🌷আর কাল হইল মোরে নয়ানের নির।*
*🌷আর কাল হইল মোর চিত নহে স্থির।।*
*🌷আর কাল হইল মোরে কোকিল‍্যার স্বর।*
*🌷আর কাল হইল মোর নিজ পাপ ঘর।।*
*🌷আর কাল হইল মোরে বড়ায়ের সঙ্গ।*
*🌷আর কাল হইল দানি করে কত রঙ্গ।।*
*🌷আর কাল হইল মোরে মোহনিঞা বাঁসি।*
*🌷আর কাল হইল মোরে কালা মুখের হাসি।।*
*🌷আর কাল হইল মোরে নাহিক উপায়ে।*
*🌷আর কাল হইল বটু চন্ডিদাসে গায়ে।।*
*🌹🌹গ্রন্থে যেমনটি ছিল তুলে ধরলাম🌹🌹*
*🌻এবং লঘু গুরু সকলে চৌষট্টি কলা।*
*🌳এই পদটি কৃষ্ণকীর্তনে নেই।আশ্চর্য‍্যের বিষয় এই যে,মণীন্দ্র বাবু এই সুন্দর পদটি তাঁর বিবরণ হতে বাদ দিয়েছেন।নীলরতন বাবুর চন্ডীদাসের পদবলী ১৫৭ পৃষ্ঠায় নিম্নলিখিত পাঠ ধৃত হয়েছে।*
             *পটমঞ্জরী*
*🌷একে কাল হৈল মোর নয়লি যৌবন।*
*🌷আর কাল হৈল মোর বাস বৃন্দাবন।।*
*🌷আর কাল হৈল মোর কদম্বের তল।*
*🌷আর কাল হৈল মোর যমুনার জল।।*
*🌷আর কাল হৈল মোর রতন ভূষণ।*
*🌷আর কাল হৈল মোর গিরি গোবর্দ্ধন।।*
*🌷এত কাল সনে আমি থাকি একাকিনী।*
*🌷এমন ব‍্যথিত নাই শুনয়ে কাহিনী।।*
*🌷দ্বিজ চন্ডীদাস কহে না কহ এমন।*
*🌷কার কোন দোষ নাই সব এক জন।।*
*🌻পদকল্পতরু (বঙ্গীয় সাহিত‍্য-পরিষৎ সংস্করণ) ২য় খন্ড ৯৪৫ পদ এরই প্রায় অনুরূপ, ভণিতাও প্রায় এক ঃ-----*
*🌷দ্বিজ চন্ডীদাস কহে না কহ এমন।*
*🌷কারু কোন দোষ নাই সবে একজন।।*
*🌹এই পদটির ভাষা, ভাব, ব‍্যঞ্জনা কৃষ্ণকীর্তন হতে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র।পাওয়া পুথির পদটিতে দ্বিরুক্তি দোষ ঘটেছে, ভণিতার কলিটি টেনে বুনে মিলিত, এইরকম মনে হয়। পদটিতে দানের পদের মধ্যে ফেলবার চেষ্টাও দেখা যায় ; কারণ ঐ পুথিতে উদ্ধৃত সবগুলি পদই দানখন্ডের।*
*🌷আর কাল হৈল মোরে বড়ায়ের সঙ্গ।*
*🌷আর কাল হৈল দানি করে কত রঙ্গ।।*
*🌺এই কলিটি যেন গানের অপরাংশ হতে আলাদা হয়ে পড়েছে। এই সব কারণে আমার মনে হয়, কৃষ্ণকীর্তন এই দুইটি পুথির সঙ্গে মিলিয়ে পড়া উচিত।তাহলে,যে ভাবধারার জন্য কৃষ্ণকীর্তন পুথিটিকে চতুর্দশ শতকের বলে গণ‍্য করা হচ্ছে, তার জের উনবিংশ শতকেও প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যাবে।সে যাইহোক,সঙ্গীতের দিক দিয়ে এই অপূর্ব পুথিত্রয়ের সম‍্যক্ আলোচনা হওয়া বাঞ্জনীয়।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৪২. দীন চন্ডীদাস 🍀 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪২) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
              *দীন চন্ডীদাস*
                 *স্বয়ং দৌত‍্য*
        🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

*🍀প্রবাসী-সম্পাদক শ্রীযুক্ত রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের সৌজন‍্যে আমি বাঁকুড়া হতে একটি পুথি পেয়েছি।সেই গ্রন্থে দীন চন্ডীদাসের অনেকগুলি পদ আছে।পুথিটি তাঁর ভ্রাতুষ্পৌত্র পুরুলিয়ার উকিল শ্রীযুক্ত বিমলাপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় প্রদত্ত।ইহার কতগুলি পদ সাহিত‍্য পরিষৎ পত্রিকায় (১৩৪৫ সন চতুর্থ সংখ্যা )প্রকাশিত হয়েছে।পরিষৎ পত্রিকায় যে পালাটি বা পর্যায়টি প্রকাশিত হয়েছে, তার নাম কপালী মিলন। অর্থ‍্যাৎ কপালী (মহাদেব)বেশে শ্রীকৃষ্ণ রাধিকার সঙ্গে মিলিত হবার চেষ্টা করেছেন।শ্রীকৃষ্ণ কখনও বাজীকর বেশে, কখনও মালিনী বেশে, কখনও দোকানী বেশে প্রভৃতি রাধিকার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেছেন।এইজন‍্য এই পালা বা পর্য‍ায় গুলির সাধারণ নাম স্বয়ং দৌত‍্য।এটির অন্তর্নিহিত ভাব এই যে ভগবান স্বয়ং সময়ে সময়ে ভক্তের কাছে নানা ছদ্মবেশে উপস্থিত হন।যাইহোক, এই কপালী মিলন পালাটি সম্পূর্ণ নূতন ; অন‍্য কোথায়ও এটি প্রকাশিত হয়েছে বলে জানি না। কিন্তু নাপিতানী মিলন একটি পুরোনো পালা। বিষয়বস্তু আর কিছুই না ; শ্রীকৃষ্ণ রাধিকার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবার জন্য নাপিতানী সেজেছিলেন।বিষয়বস্তু পুরাতন হলেও, এই পালাটি সম্পূর্ণ নূতন।নাপিতানী মিলন স্বয়ং দৌত‍্যের পদ হিসাবে চন্ডীদাসের ভণিতায় পদকল্পতরুতে পাওয়া যায় (তৃতীয় শাখা প্রথম পল্লব)। এই পদগুলি নীলরতন বাবুর সম্পাদিত "চন্ডীদাস" গ্রন্থেও আছে।কিন্তু নিম্নধৃত পদগুলির সঙ্গে তার একটি পদেরও মিল নাই। পদকল্পতরু ও চন্ডীদাস গ্রন্থের নাপিতানী মিলনের ব‍্যাপার সংক্ষেপে এই= একদিন রসিক চূড়ামণি নাপিতানীর বেশ ধরে অন্দর মহলে প্রবেশ করলেন এবং নাপিতানী পরিচয় দিয়ে শ্রীমতীকে অলক্তক (আলতা) পরালেন।নায়ক কর্তৃক নায়িকার চরণে অলক্তক পরানো ব‍্যাপার পুরাতন কাব‍্যরসে অপরিজ্ঞাত বা অজানা নহে।*
*🌷বিবুধৈরসি যস‍্য দারুণৈরসমাপ্তে পরিকর্মণি স্মৃতঃ।*
*🌷তমিমং কুরু দক্ষিণেতরং চরণং নির্মিত রাগমেহি মে।।*
                 *(কুমার সম্ভব ৪র্থ সর্গ)*
*🔴যথারীতি যাবক (আলতা) পরিয়ে ধারে ধারে শ‍্যামচন্দ্র নিজের নাম লিখে দিতে ভুললেন না। কিন্তু নাপিতানী তার পারিশ্রমিক চেয়ে বড় গন্ডগোল করে বসলেন।সখী এসে বললেন যে,নাপিতানী অপেক্ষা করছে সে বেতন (পয়সা) না পেলে যাবে না।শ্রীমতী তখন তাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন সে কত পয়সা চাহে?তার উত্তরে চতুর শিরোমণি রসিকশেখর জানিয়ে দিলেন যে, তিনি রাধিকার স্পর্শ-সুখের প্রার্থী।এটিই নাপিতানী মিলনের কাব‍্যরস। দুইটি পদে এই চিত্রটি অঙ্কিত হয়েছে।তারমধ‍্যে একটি পদ দ্বিজ চন্ডীদাসের অন‍্যটি চন্ডীদাসের ভণিতায় পাওয়া যাচ্ছে।অথচ এই পদগুলি দীন চন্ডীদাসের বলে দাবী করা হচ্ছে।*
*☘নিম্নের দশটি পদের মধ্যে আটটি চন্ডীদাসের ও একটি দীন চন্ডীদাসের ভণিতায়।এই পালার মর্ম নায়ক নাপিতানীর বেশে মহলে প্রবেশ করে শ্রীমতীকে যাবক পরাচ্ছেন।(ঠিক কি ভাবে তিনি প্রবেশ করেছেন,তা জানা যায় না।গোড়ায় পদগুলি পাওয়া যাচ্ছে না)।নিপুণ শিল্পীর মত তিনি আলতা পরাতে পায়ে নানা লতাপাতা, হংস,মীন প্রভৃতির চিত্র এঁকে দিচ্ছেন। শ্রীমতী অলসের ভরে অনঙ্গমঞ্জরী নামা সখীর অঙ্গে হিলন দিয়ে ঘুমালেন।সখীগণ তাঁকে শীতল চামর দিয়ে ব‍্যজন করতে লাগলেন।নিদ্রাভঙ্গে রাধিকা পদে বিচিত্র চিত্রাঙ্কন দেখে ভীষণ আনন্দিত হলেন।তখন তিনি নিজের গলার মণিময় হার খুলে নাপিতানীর কন্ঠে পরিয়ে দিলেন।*
*🌷নবিন কিসোরি,রাজার কুমারি,*
            *হার লঞা নিজকরে।*
*নাপিতানী গলে, দিয়া কুতূহলে,*
           *মনের আনন্দ সরে।।*
       *(পদকর্তার পদের ভাষা লিখিলাম)*
*🌻(মন সরে,মনের সরে,সুখের সরে,মনের আনন্দ সরে, এই কবির কবিতায় অনেক ব‍্যবহৃত দেখা যায়। দীন চন্ডীদাসের পদাবলী ৩৮৫--৩৮৮ পৃঃ দ্রষ্টব‍্য)।নাপিতানী মালা উপহার পেয়ে খুশী হল।তখন সে বলল যে,যদি ও সে নীচ ও দরিদ্র,তথাপি তার মনে সাধ হচ্ছে যে, সে কিছু প্রতিদান দেয়।শ্রীমতীর সম্মতি পেয়ে ছদ্মবেশী কৃষ্ণচন্দ্র নিজের কন্ঠের হেমময় হার তাঁর গলায় পরিয়ে দিলেন।তখন শ্রীমতী রাইধনী বুঝলেন এ আর অন‍্য কেউ নয়, রসিকচূড়ামণি শ্রীকৃষ্ণই বটে।*
*🌷পরশে জানিল কপট কান,*
*🌷কত ভেল তার অমিয় স্নান,*
*🌷জানল হৃদয় ভিতর আন,*
*🌷দোঁহে দোঁহা ভেল ভোরিতে?*
*🌹এই পদগুলিতে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য করবার আছে।*
*🍀(১)পদগুলিতে ক্রমিক সংখ্যা =৩১১ হতে ৩২২।মাঝের কয়েকটি পদ (৩১৫-৩১৭) নাই ; দীন চন্ডীদাসের ভণিতাযুক্ত পদটিতে ক্রমিক সংখ্যা নাই।তাহলেও দীন চন্ডীদাসের পদাবলীই ক্রমিক সংখ্যার দ্বারা নির্দিষ্ট। বতর্মান ছোট পুথিতেও ক্রমিক সংখ্যা ধরে দেওয়া আছে।এই জন‍্যই পদগুলি দীন চন্ডীদাসের বলেই মনে হয়।*
*🌳শ্রীযুক্ত মণীন্দ্রমোহন বসু মহাশয় সম্পাদিত দীন চন্ডীদাসে এই ক্রমিক সংখ্যাগুলি নাই।তাঁর গৌণরাসের (? স্বয়ং দৌত‍্য) পদগুলি আরম্ভ হয়েছে,১০৪৫ হতে। পুথিতে তিনি ১০৪৫ হতে ১০৫১ পদ পেয়েছেন, কিন্তু তার পরে ২০ টি পদ তিনি অন‍্যত্র হতে সংকলন করে নষ্ট বা ফাঁকা পদগুলির জায়গা পূরণ করেছেন। কারণ তাঁর পাওয়া পুথিতে ১০৫১ পদের পরেই ১০৮০ পদ রয়েছে।কাজেই বুঝা যায় যে,২৮টি পদ পাওয়া যাচ্ছে না।মণীন্দ্রবাবুর ১০৫১ পদে তৈল হরিদ্রা সহ নায়কের ছদ্মবেশ গ্রহণের সঙ্কেত হওয়া সঙ্গত।*
*কিন্তু আমার এ পুথিতে ক্রমিক সংখ্যা ১১১ হতে আরম্ভ।অথচ দীন চন্ডীদাসের অন‍্য পালার পদ আমার এই পুথিতে ২৬৪০ পর্য‍্যন্ত পাচ্ছি। (মণীন্দ্রবাবু ২০০১ পর্য‍্যন্ত সন্ধান পেয়েছেন)।এ পুথিটি মোটেই বড় নয়। পৃষ্ঠাঙ্ক ১২ ; এখনকার খাতার মত করে মাঝে সেলাই করা। এখানে সমস‍্যা এই যে,মণীন্দ্রবাবুর পালা যদি দীন চন্ডীদাসের হয় তবে এ আবার কোন চন্ডীদাসের? একই চন্ডীদাস দুইটি স্বতন্ত্র পালা একই বিষয়ে লিখবেন এটি অসম্ভব না হলেও ক্রমিক সংখ‍্যার দ্বারা বিধিত হচ্ছে।*
*(২) দীন চন্ডীদাসের কাল অভ্রান্ত ভাবে নির্ণয় করা যায় নাই।মণীন্দ্রবাবু তাঁর পুস্তকে শুধু এইমাত্র বলেছেন যে,দীন চন্ডীদাস শ্রীচৈতন‍্যের পরবর্তী কালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এই ধারণার হেতু এই যে দীন চন্ডীদাসের পদে চৈতন‍্যপ্রভাব লক্ষিত হয় এবং উজ্জ্বল নীলমণি বিদগ্ধ মাধব প্রভৃতি গ্রন্থের প্রভাবও সুস্পষ্ট। আমার এই পুথিতে স্পষ্টভাবে ১০৯৪-৯৫ সন (বাংলা) লিখিত আছে।অতএব দীন চন্ডীদাস ২৫০ বৎসর আগেই বর্তমান ছিলেন, এটিই সিদ্ধ হয়।ঠিক কত আগে তা অবশ‍্য বলা যায় না।*
*(৩)২৫০ বৎসর পূর্বের বৈষ্ণব কবি গৌরচন্দ্রিকা সম্বন্ধে একটিও পদ লেখেননি,এরই বা কারণ কি ; মণীন্দ্রবাবু বলেন, হয়ত লিখেছিলেন, কিন্তু সেগুলি সমস্তই হারিয়ে গেছে।এ শুধু অনুমান ছাড়া আর কিছুই না। আমার এই সংগ্রহে গৌরচন্দ্রিকা আছে কিন্তু চন্ডীদাসের ভণিতায় নহে।সংগ্রহকর্তা কি চন্ডীদাসের একটিও গৌরচন্দিকা সংগ্রহ করতে পারলেন না? এর কারণ কি? নীলরতন বাবুর সংগৃহীত চন্ডীদাস গ্রন্থে দীন চন্ডীদাসের অন‍্যুন ৩৪ টি পদ রয়েছে।এর মধ্যে একটিও গৌরাঙ্গ-বিষয়ক পদ নেই। আমার এই র্সগ্রহে আছে।এটি হতে এ অনুমান অসঙ্গত হয় কি যে দীন চন্ডীদাসগৌরচন্দ্রিকার ধার ধারেননি? যদি তাই হয়, তাহলে শ্রীচৈতনের প্রভাবযুক্ত চন্ডীদাস নামাঙ্কিত পদ দেখলেই যে তা আমরা দীন চন্ডীদাসের বলে সিদ্ধান্ত করব এরকম যুক্তি কখনও সমীচীন হতে পারে না।যে কবি চৈতন‍্যের প্রভাবপুষ্ট, তাঁর পক্ষে শ্রীগৌরাঙ্গ সম্বন্ধীয় গীত রচনা করা অত‍্যন্ত স্বাভাবিক।এমন হওয়া খুবই বিচিত্র যে,তাঁর রচিত একটিও গৌরচন্দ্রিকা আজ পর্য‍্যন্ত আবিস্কৃত হয়নি! অথচ তিনি শ্রীচৈতনের ভাবধারায় সুস্নাত বা ডুবে ছিলেন।বাঁকুড়ায় এক সময়ে যে শ্রীচৈতন‍্যবর্জিত সম্প্রদায়ের অভ‍্যুদয় হয়েছিল,তাদেরকে সহজিয়াই বলি বা যে নামেই অভিহিত করি,তাও অমূলক অনুমান নয়।*
*(৪)দীন চন্ডীদাস ও দ্বিজ চন্ডীদাস যে অভিন্ন ব‍্যক্তি,এরকম অনুমানও যুক্তিসহ নহে।শ্রীযুক্ত মণীন্দ্রবাবু যে পুথি হতে দীন চন্ডীদাসের পদাবলী প্রকাশ করেছেন তাতে একটি জায়গাতেও দ্বিজের উল্লেখ নেই।নীলরতন বাবুর গ্রন্থে দ্বিজ ও দীন উভয়ই বিদ‍্যমান।*
*বাঁকুড়ার এই একটি পুথিতেও (বিমলাপ্রসাদ বাবুর) দ্বিজের নাম পাচ্ছি না। যদি দীনের পদের মধ্যে দ্বিজের এ দ্বিজের পদের মধ্যে দীনের পদ থাকত,তাহলে লেখকের অনবধানতার দোহাই দিয়ে ইনাদের একাত্মতা প্রমাণ করা যেতেও পারত। কিন্তু যতগুলি পদ পাওয়া গিয়েছে,তাতে দীন চন্ডীদাসকে দ্বিজ হতে আলাদা ব‍্যক্তি মনে না করে উপায় নাই।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৪৩. বিদ‍্যাপতি 🌼 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৩) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
      *🌻🌻বিদ‍্যাপতি🌻🌻*
      ************************
*🌺দ্বারভাঙ্গা জেলার অন্তর্গত বিসপী গ্রামে বিদ‍্যাপতির নিবাস ছিল।বিদ‍্যাপতির পূর্বপুরুষগণ সকলেই পন্ডিত ও বিষয়-কর্মে পটু ছিলেন।পূর্বে অনেকের ধারণা ছিল যে বিদ‍্যাপতি বাংলা দেশেরই লোক, কিন্তু রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় ১২৮২ সালের বঙ্গদর্শনে যে প্রবন্ধ প্রকাশ করেন তাতেই প্রথম প্রচারিত হল যে,বিদ‍্যাপতি ঠাকুর বাংলার লোক নন,মিথিলার লোক। বিদ‍্যাপতির সময় নিয়ে যথেষ্ট মতভেদ আছে।বিদ‍্যাপতির সময় সম্বন্ধে প্রথম প্রমাণ বিসপীর দানপত্র।এই দানপত্রে উল্লিখিত হয়েছে যে,মহারাজ শিবসিংহ বিদ‍্যাপতির কবিত্বে তুষ্ট হয়ে বিসপী গ্রামটি তাঁকে দান করেন।এই দানপত্রের তারিখ ২৯৩ লসং অর্থ‍্যাৎ লক্ষ্মণ সংবৎ।মিথিলায় সে সময় লক্ষ্মণ সংবৎ প্রচলিত ছিল।তার কারণ এই যে,তৎকালে মিথিলা বঙ্গদেশের অন্তর্গত বলে পরিগণিত হ'ত।দ্বারবঙ্গ কথাটিও এই অনুমান সমর্থন করে। যাইহোক,পন্ডিতগণের গণনা অনুসারে লক্ষ্মণ সেন ১১১৯ খ্রীষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন। সুতরাং ২৯৩ লসং ১৪১২ খ্রীষ্টাব্দ দাঁড়াচ্ছে।কিন্তু মিথিলার রাজপঞ্জী অনুসারে শিবসিংহ ১৪৪৬ খ্রীষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।দানপত্রে তিনি দিগ্বিজয়ী মহারাজ বলে অভিহিত হয়েছেন। তাহলে দানপত্র অনুসারে শিবসিংহ রাজা হবার অন্ততঃ ৩৪ বৎসর পূর্বে বিদ‍্যাপতিকে বিসপী দান করেন! সুতরাং রাজপঞ্জীর সময় সঙ্কেতে গোলযোগ আছে। এ ছাড়া দানপত্র যে জাল তা প্রমাণিত হয়েছে।দানপত্রে লসং ছাড়া আরও তিনটি অব্দের উল্লেখ আছে। যথা=শকাব্দা,সংবৎ ও হিজরি সন।এখন হিজরি সন আকবরের সময়ে এদেশে প্রচলিত হয়।বিদ‍্যাপতির অনেক পরে। কাজেই "দানপত্র" জাল না বলে উপায় নাই।হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয় এক প্রবন্ধে প্রমাণ করতে চেষ্টা করেছিলেন যে,দানপত্র জাল না হতেও পারে ; শুধু হিজরি সনটি পরবর্তী কালে যোজনা।আকবরের সময়ে যখন সমস্ত ভারতবর্ষ রাজা টোডরমল্ল কর্তৃক জরিপ হয় তখন সম্ভবতঃ প্রমাণকে দৃঢ়তর করবার জন্য বিদ‍্যাপতির কোনও বংশধর হিজরি সনটি জুড়ে দিয়ে থাকবেন। এই রকম যুক্তির মধ্যে সারবেত্তা অপেক্ষা চাতুর্যই বেশী প্রশংসার্হ।সে যাইহোক,দানপত্রের প্রমাণিকতার উপর নির্ভর করে কোনও কথা বলা চলে না।*
*☘সন-তারিখ সম্বন্ধে যাইহোক, মিথিলার রাজপঞ্জীতে শিবসিংহ এবং বিদ‍্যাপতি উভয়েরই পরিচয় পাওয়া যায়। রাজপঞ্জী প্রবর্তিত হয় ১২৪৮ শকে।বিদ‍্যাপতি নিজহাতে বঙ্গাক্ষরে শ্রীমদ্ভাগবত নকল করেছিলেন।এই নকল ৩০৯ লসংয়ে সম্পূর্ণ হয়। এ সময়ে প্রাচীন মৈথিলগ্রন্থ সমূহ বঙ্গাক্ষরেই লিখিত হ'ত।বিদ‍্যাপতির আদেশক্রমে একজন পন্ডিত কাব‍্যপ্রকাশের টীকা নকল করেছিলেন লসং ২০১ (১৪২০)। বিদ‍্যাপতি রচিত লিখনাবলী সমাপ্ত হয় ১৪১৮ খৃষ্টাব্দে।বিদ‍্যাপতি "দূর্গাভক্তিতরঙ্গিণী" রচনা করেন রাজা নরসিংহদেবের রাজত্ব কালে।তিনি ১৩৯৫ শকে সিংহাসনে আরোহণ করে ছয় বৎসর রাজত্ব করেন বলিয়া জানা যায়।🔴রায় বাহাদুর শ‍্যামনারায়ণ সিংহ বলেন যে,বিদ‍্যাপতি বৃদ্ধ বয়সে মিথিলার রাজা ধীরসিংহের সময় দূর্গাভক্তি তরঙ্গিণী রচনা করেছিলেন। Histori of Tirhoot. দূর্গাভক্তির প্রারম্ভে যে শ্লোক আছে,তা দেখে মনে হয় নরসিংহদেবের রাজত্বকালে রাজকুমার রূপনারায়ণের আদেশে এই গ্রন্থ রচিত হয়। নরসিংহদেবের তিন পুত্র।ধীরসিংহ,ভৈরবসিংহ ও রূপনারায়ণ।*
*🌻নবদ্বীপের স্মার্ত রঘুনন্দন তাঁর দূর্গোৎসব-তত্ত্বে দূর্গাভক্তি তরঙ্গিণীর উল্লেখ করেছেন।রঘুনন্দন শ্রীচৈতন‍্যদেবের সমসাময়িক ছিলেন। দূর্গাভক্তি তরঙ্গিণী বিদ‍্যাপতির শেষ গ্রন্থ ; ইঁনার রচনাকাল সম্ভবতঃ ১৪৭৫ খৃষ্টাব্দে বা তার কাছাকাছি কোন সময়।বিদ‍্যাপতির জন্ম যদি ১৩৫০ খৃষ্টাব্দে ধরা যায় (নগেন্দ্র নাথ গুপ্ত ) বা ১৩৫৮ খৃষ্টাব্দ হয় (দীনেশচন্দ্র সেন) তাহলে দূর্গাভক্তি তরঙ্গিণী রচনার সময় তাঁর বয়স একশ বৎসরের বেশী হয়ে পড়ে? এইরকম বৃদ্ধ বয়সে দূর্গাভক্তির মত প্রগাঢ় পান্ডিত‍্যপূর্ণ গ্রন্থ লেখা সম্ভবপর বলে মনে হয় না।পরন্তু বিদ‍্যাপতির জন্থ যদি ১৩৯০ খৃষ্টাব্দ বলে ধরে যায়,তাহলে তাঁর তরুণ বয়সে বিসপী পেয়েছিলেন (২৯৩ লসং=১৪১২ খৃঃঅঃ)।ভাগবতের নকল ও পরিণত বয়সে দূর্গাভক্তি তরঙ্গিণী লেখা, এই সবের মধ্যে একটি সামঞ্জস্য রক্ষা করা সহজ হয়।*
*🍀বিদ‍্যাপতি বহুদিন জীবিত ছিলেন একথা সত‍্য এবং অদ্বৈতাচার্য‍্যের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল,এরকমও প্রমাণ আছে।ঈশান নাগর কৃত "অদ্বৈত প্রকাশে" ইঁনার বর্ণনা আছে। কিন্তু ঐ গ্রন্থ কতদূর প্রামাণিক তা বলা যায় না। বিদ‍্যাপতি যে চন্ডীদাসের সমকালে জীবিত ছিলেন,এরকম ধারণার পরিপোষক কতগুলি পদ পদকল্পতরু গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে।পদকল্পতরুর সংকলয়িতা বৈষ্ণবদাস প্রায় ২৫০ বৎসর পূর্বে বতর্মান ছিলেন ; কাজেই তাঁর সংগৃহীত পদাবলী কেউ কেউ প্রামাণিক বলে মনে করেন। কিন্তু ঐ পদাবলীগুলি বিশ্লেষণ করলে বুঝতে দেরী হবে না ঐ গুলি কোনও পরবর্তী কবি কল্পনার সাহায্যে গ্রথিত করেছেন।(প্রবাসীতে আমার লিখিত প্রবন্ধ "দীন চন্ডীদাস" দ্রষ্টব‍্য)। বিদ‍্যাপতির পদাবলী যে শ্রীচৈতন‍্য আস্বাদন করতেন এবং তাঁর অল্প পরবর্তী মহাকবি গোবিন্দ দাস যে প্রশস্তির মালা গেঁথে বিদ‍্যাপতির উদ্দেশ্যে অর্ঘ‍্য দিয়েছিলেন, এটিও বিদ‍্যাপতির প্রাচীনত্বের প্রমাণ বটে।গোবিন্দ দাসের বন্দনা=*
*🌷বিদাপতি পদ যুগলসরোরুহ,*
                 *নিস‍্যন্দিত মকরন্দে।*
*🌷তছু মঝু মানস মাতল মধুকর,*
                 *পিবইতে করু অনুবন্ধে।।*
*🌻🌻🌻বিদ‍্যাপতির ভাষা🌻🌻🌻*
*🌺বিদ‍্যাপতি ছিলেন মিথিলার মানুষ।কাজেই তিনি তাঁর মাতৃভাষা মৈথিলেই পদাবলী রচনা করেছেন, এইরকম ধারণায় স্বাভাবিক। কিন্তু এই মৈথিল কোকিলের ভাষা অনেক সময়ে মৈথিল ভাষার ব‍্যাকরণ ও রীতি রক্ষা করেনি দেখা যায়।হিন্দি, বাংলা ও মৈথিলীর সংমিশ্রণে তাঁর ভাষা এক নূতন রূপ পরিগ্রহ করেছে।বিদ‍্যাপতির সুবিখ‍্যাত সমালোচক ও সম্পাদক নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত তাঁর কৃত সংস্করণে বিদ‍্যাপতির পদের মৈথিল রূপ আবিস্কার করবার চেষ্টা করে অনেক জায়গায় হাস‍্যাস্পদ হয়েছেন।যথা=*
*🌷জাইতে পেখলুঁ নাহলি গোরি।*
*🍀পদটিতে বিদ‍্যাপতি সদ‍্যস্নাতা গমনশীলা রাধার বর্ণনা করেছেন।ইঁনার ছন্দও কৃতস্নানা রমণীর গমনের ঝঙ্কার তুলেছে। কিন্তু নগেন্দ্র বাবু ইনাকে মৈথিল রূপ দিতে গিয়ে যা করেছেন তা ছন্দের দিক দিয়ে আদৌ শ্রুতিমধুর হয়নি।*
*🌷জাইত পেখল নহাএলি গোরি*।
*🌻এরকম বিভ্রাটের বহু উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে।নগেন্দ্র বাবু কতগুলি বাংলা পদকেও মৈথিলে রূপান্তরিত করতে চেষ্টা করেছেন। অথচ সে পদগুলি যে আদৌ বিদ‍্যাপতির নহে এটি একরকম সর্ববাদিসম্মত।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🪔🦚🦚🦚🦚🦚🦚

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৪৪. বিদ‍্যাপতি 🌷 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৪) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
  *🌻🌻বিদ‍্যাপতি🌻🌻*
^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^*^
*🍀বিদ‍্যাপতির মৈথিল পদ যে লিপিকার ও গায়কের হাতে পড়েছে,এটি কেবল নগেন্দ্রবাবুর মত নহে ; আরও অনেক বিজ্ঞ পন্ডিত এরকম মত পোষণ করেন। অনেক পন্ডিত মনে করেন যে সেই যুগে বাংলাদেশ হতে ছাত্রেরা ন‍্যায়শাস্ত্র পড়বার জন্য মিথিলায় যেত ; সেইসব বাঙ্গালী ছাত্র বিদ‍্যাপতির পদ শিখে আসিত।তারা মৈথিল ভাষা ভাল ভাবে আয়ত্ত করতে না পারার ফলে নানা ভুল ভ্রান্তি ঘটিয়েছে।তাদের ভুলের জন্য বাংলাদেশে বিদ‍্যাপতির পদ অশুদ্ধ আকারে প্রচারিত হতে থাকে।তারই জন্য বিদ‍্যাপতির ভাষায় গোলযোগ ঘটেছে। অর্থ‍্যাৎ অনেক পদে খাঁটি মৈথিলরূপ পাওয়া যায় না। এখানে বিচার্য‍্য এই যে,ন‍্যায়শাস্ত্রের মেধাবী ছাত্রেরা অর্থ‍্যাৎ তাদের মধ্যে যারা সঙ্গীতানুরাগী ছিল তারা যে ভুল করেই গান শিখবে, এরকম মনে করবার কি কারণ আছে?তারপর সে সময়ে বাংলা ও মিথিলা একই প্রদেশ বলে পরিগণিত ছিল।দ্বারবঙ্গ কথাটি তার প্রমাণ। সুতরাং একজন ভুল করে একটি ভাষা শিক্ষা করলে অন‍্যের দ্বারা তা সংশোধিত হবার বাধা ছিল না। কিন্তু তা না হয়ে কতগুলি অর্বাচীন ছাত্র যেমন বিদ‍্যাপতির গান ভুল করে প্রচার করল,অমনি সারা বাংলাদেশ সেই ভুল চিরস্থায়ী করে নিল?শুধু তাইই নয়, বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিগণ সেই ভুল ভাষার অনুকরণ করে অনবদ‍্য কবিতা লিখতে আরম্ভ করলেন, এরকম মত যুক্তিসহ বলে বোধ হয় না।বাঙ্গালীরাই যে বিদ‍্যাপতির ভাষা বিভ্রাটের জন্য দায়ী,এটিও একশ্রেণীর সমালোচকের অভিমত।মৈথিল কবিকে আমরা বাঙ্গালীর সাজ-পোষাক পরিয়েছি,একথা দীনেশচন্দ্র সেন মহাশয় তাঁর অভ‍্যস্ত পরিহাস প্রিয়তার ভঙ্গীতে বলেছেন।আমরা অর্থ‍্যাৎ বাঙ্গালীরা,বিদ‍্যাপতির কুর্তাপাগড়ী খুলে ধুতি চাদর পরিয়েছি।অবশ‍্য সব প্রাচীন কবির বেলা যা ঘটেছে,বিদ‍্যাপতির বেলাও তার অন‍্যথা হয়নি,হয়ত কিছু কম-বেশী মাত্রায় ঘটেছে--, অর্থ‍্যাৎ গায়ক এবং লিপিকার অনেক সময়েঅর্থ না বুঝতে পেরে বিকৃত পাঠ ঘটিয়েছে। কিন্তু সমস্ত গায়ক এবং লিপিকার যে ষড়যন্ত্র করে বিদ‍্যাপতির ভাষাকে বিকৃত করেছে,এটি বিশ্বাস করা কঠিন। মনে রাখতে হবে যে বাংলাদেশই বিদ‍্যাপতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে।একথা নগেন্দ্রবাবুও স্বীকার করেছেন। বাংলাদেশে বিদ‍্যাপতির শত শত পদ পাওয়া যায় কিন্তু "গ্রীয়ার্সন সাহেব" অক্লান্ত অধ‍্যবসায় সত্ত্বেও ৮২টি মাত্র পদ মিথিলা হতে সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।নগেন্দ্রবাবুই বলেছেন যে মিথিলার লোক বিদ‍্যাপতির কোনও সংবাদই রাখতেন না।অবশ‍্য পরে দ্বারভাঙ্গার মহারাজার অর্থব‍্যয়ে বিদ‍্যাপতির পদাবলী প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু সে পদাবলীও নগেন্দ্রবাবুর সংগ্রহের ছায়া মাত্র বললেই চলে।অথচ বাংলাদেশ বিদ‍্যাপতির গানে মুখরিত।সেই নগেন্দ্র বাবুই পাঠ বিকৃতির জন্য বাঙ্গালীকে দায়ী করেছেন।এদেশের বৈষ্ণবেরা ভেঙ্গে-চুরে, গড়ে-পিটে,এক রকম করে নিয়েছেন। কিন্তু কথা এই যে পদকল্পতরু,পদামৃত সমুদ্র,কীর্ত্তনানন্দ প্রভৃতি সংগ্রহ গ্রন্থে বিদ‍্যাপতির বহু পদ সংগৃহীত হয়েছে।তাঁরা সকলেই এক রকমের ভুল করলেন কেন?ইঁনাদের সংগৃহীত পদের ভাষায় অবশ‍্য কিছু পাঠভেদ আছে বটে, কিন্তু মোটের উপর বলা যায় যে অজ্ঞতা বশতঃ ইঁনারা বিদ‍্যাপতির পদকে এমন বিকৃত করেননি যাতে ঐ পদ বিদ‍্যাপতির বলে চিনতে পারা কঠিন হয়।*
*🌳পদাবলীই বিদ‍্যাপতির একমাত্র রচনা নহে। বিদ‍্যাপতি একাধিক ভাষা অত‍্যন্ত নিপুণতার সহিত ব‍্যবহার করেছেন।তাঁর প্রথম গ্রন্থ "কীর্তিলতা" ও কীর্তিপতাকায় তিনি এক মিশ্র ভাষার ব‍্যবহার করেছেন।সংস্কৃত ও প্রাকৃত মিশ্রিত এই ভাষাকে তিনি "অবহট্ট" নাম দিয়েছেন।অবহট্ট বোধ হয় অপভ্রষ্ট শব্দ হতে এসেছে। বিদ‍্যাপতি "পুরুষ পরীক্ষা " লিখনাবলী,গঙ্গা-বাক‍্যাবলী, দান-বাক‍্যাবলী,শৈবসর্বস্বহার, দূর্গাভক্তি তরঙ্গিণী প্রভৃতি গ্রন্থ সংস্কৃতে রচনা করেছিলেন।তাঁর রচিত "ভূ-পরিক্রমা" বোধহয় ভ্রমণ বৃত্তান্ত রচনার প্রথম চেষ্টা।বলরাম শাপগ্রস্ত হয়ে কাশী, কোশল, প্রয়াগ প্রভৃতি তীর্থ পর্য‍্যটন করছেন এই ভঙ্গীতে লেখা।দূর্গাভক্তি তরঙ্গিণী তাঁর শেষ গ্রন্থ।নবদ্বীপের প্রসিদ্ধ স্মার্ত্ত রঘুনন্দন তাঁর দূর্গোৎসবতত্ত্বে দূর্গাভক্তি তরঙ্গিণীর উল্লেখ করেছেন একথা আগেই বলা হয়েছে। কিন্তু এইসব গ্রন্থ গ্রন্থকারকে অমরত্ব প্রদান করতে পারে নাই।বিদ‍্যাপতি অমর হয়েছেনতাঁর পদাবলীতে।এ পর্য‍্যন্ত বিদ‍্যাপতির যত পদাবলী আবিস্কৃত হয়েছে, বোধহয় আর কোনও বৈষ্ণব কবি তত পদ লেখেন নাই।তাঁর এই পদাবলী গীতছন্দে রচিত।বস্তুতঃ শ্রীজয়দেবের পরে মিথিলায় তিনিই এ বিষয়ে পথ-প্রদর্শক।চন্ডীদাস বাংলাদেশে বসে যা করেছেন,বিদ‍্যাপতি মিথিলায় অক্লান্ত পরিশ্রমে সেই একই কাজ করেছেন অর্থ‍্যাৎ অসংখ্য গীতরচনা।চন্ডীদাস বিদ‍্যাপতির সাক্ষাতের যে প্রবাদটি আছে,তা বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে অনেকেরই মত। সুতরাং আমরা সময়ের পারম্পর্য সম্বন্ধে জটিল প্রশ্ন উত্থাপন না করেও এখানে বলতে পারি যে,এই উভয় কবি স্বাধীনভাবে নিজ নিজ প্রতিভা-বলে একই শ্রেণীর গীতরচনা করতে প্রাণোদিত হয়েছিলেন। কিন্তু ইঁনাদের পূর্বে এই গীতের কোনও ধারা আমরা দেখতে পাই না, হয়ত বিস্মৃতির বালুকায় সে ধারা লুপ্ত হয়ে গিয়েছে।তাহলে বলতে হয় যে,ইঁনাদের সামনে কোনও আদর্শ ছিল না।বিদ‍্যাপতি এই পদাবলী রচনা করতে গিয়ে নিশ্চয়ই উপলব্ধি করেছিলেন যে দেশের হৃদয়ের উপর দিয়ে কি ভাবের ঢেউ বইছে!দেশ-অর্থে মিথিলায় চতুঃসীমা মাত্র বুঝাত না। বতর্মান বাংলা,বিহার, উড়িষ‍্যা এবং আসাম সর্বত্রই বৈষ্ণবধর্ম প্রভাব বিস্তার করেছিল এবং এটি আদৌ অসম্ভব নয় যে সেইসময় বৃহত্তর মিথিলার জন্যই বিদ‍্যাপতির গীত রচিত হয়েছিল।সে বৃহত্তর মিথিলায় প্রতিবাসী বাংলাদেশের কতকাংশ এবং হিন্দীভাষী বিহারের কতকাংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল,এটি খুবই সম্ভবপর। উত্তরকালে এই ভাববন‍্যার ফলে শ্রীচৈতন‍্যদেবের আবির্ভাব। উত্তর ভারতের উপর দিয়ে এই যে ভাব প্রবাহ হয়েছিল,তারই প্রভাবে উত্তর পশ্চিমে বল্লভাচার্য‍্য,সূরদাস, উড়িষ‍্যায় রামানন্দ রায়, আসামে শঙ্করদেব প্রভৃতির প্রাদুর্ভাব।এইসব জায়গার মধ্যে সাংস্কৃতির মিলনের সূত্র কিরকম ছিল তার ইতিহাস আমরা সম‍্যক্ না জানলেও এটি নিঃসন্দেহে বলতে পারি যে,ইংরেজ আমলে প্রদেশ হতে প্রদেশের যে কৃষ্টিগত ব‍্যবধান, তা সে সময়ে ছিল না।সেইজন‍্য বিদ‍্যাপতি যখন গীত রচনা করতে রত হলেন,তখন তিনি "দেশী" ভাষায় প্রকাশের বাহনস্বরূপে ব্রবহার করলেন।দেশী ভাষার মত মিষ্ট ভাষা আর নেই।*
*🌷দেসিল ভাষা সবজন মিঠঠা।*
*🌷তে তৈসন জম্পও অবহঠঠা।*
             *(জম্প-ও-জল্পনা করি)*
*🌻আমাদের কবিও বলেছেন=*
*🌷নানান্ দেশের নানান ভাষা।*
*🌷বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে না আশা।?*
*🌹গানের ভাষা শুধু যে দেশী হবে তা নয় ; এটি সরল ও সুখবোধ‍্য হওয়া আবশ্যক। পান্ডিত‍্যপূর্ণ কট-মট ভাষায় কবিতা রচিত হতেও পারে, কিন্তু গানে এরকম ভাষা অচল। সুতরাং আমরা বুঝতে পারি বৈষ্ণব কবিতায় অন‍্যতম পদপ্রদর্শক, নিপুণ স্রষ্টা বিদ‍্যাপতি কেন এমন সুমধুর সহজ সরল ভাষায় পদরচনা করতে রত হয়েছিলেন।তাঁর অনেকগুলি পদে খাঁটি মৈথিল ভাষার শব্দকোষ হতেই কেবল তাঁর গীতের শব্দ-সম্পদ আহরণ করেছিলেন।এখনও মিথিলার কোনও কোনও অংশে বাংলা মিশ্রিত মৈথিল ভাষা ব‍্যবহৃত হয়, একথা বহু ভাষাবিৎ "গ্রীয়ার্সনই " বলেছেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌹🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৪৫. বিদ‍্যাপতি 🌷 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৫)⚪বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য⚪*
       *🔷🔷বিদ‍্যাপতি🔷🔷*
   ∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*🍀বিদ‍্যাপতির শ্রোতৃমন্ডল অল্প পরিসর ভূমিতে নিবদ্ধ ছিল না। বৈষ্ণবভাব বিভাবিত বাংলা ও উত্তর-পশ্চিমও তাঁর দৃষ্টি-পরিধির বাইরে ছিল না,এরকম মনে করা অসঙ্গত নহে। এর সর্বাপেক্ষা মূল‍্যবান প্রমাণ বাংলার বৈষ্ণব কবিগণই যোগায়েছেন গোবিন্দদাস, জ্ঞানদাস,বলরাম দাস প্রভৃতি বহু বৈষ্ণব কবি বিদ‍্যাপতির সুমিষ্ট ভাষা আয়ত্ত করে তাতেই গীতরচনা করতে মনোনিবেশ করেছিলেন।নগেন্দ্রগুপ্ত মহাশয় ঠিকই বলেছেন যে, পৃথিবীর অন‍্য কোনও কবির এত অনুকরণ হয় নাই যত অনুকরণ হয়েছিল বিদ‍্যাপতির, আমাদের বাঙ্গালী কবির ভাষাতে সাধারণতঃ ব্রজবুলি নামে আখ‍্যাত করা হয়। এটি যে বিদ‍্যাপতির অনুকৃতি, সে সম্বন্ধেও সন্দেহ নাই। কিন্তু আমরা এক ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে মনে করে বসে আছি যে,এই ব্রজবুলি বাঙ্গালীরই সৃষ্ট এক কেতাবী ভাষা এবং এটি বিদ‍্যাপতির মৈথিলীর ভ্রান্ত অনুকরণ। বস্তুতঃ আমাদের শ্রেষ্ঠ কবিগণের প্রতি এটি অপেক্ষা অধিকতর অবিচার কল্পনা করা যায় না।এইসব কবি একাধারে অপূর্ব কবি-প্রতিভা সম্পন্ন ও পান্ডিত‍্য-মন্ডিত ব‍্যক্তি ছিলেন।তাঁরা বিদ‍্যাপতির অনুকরণ করতে গিয়ে ভুলের বোঝা বহে আনবেন,এরকম কল্পনা অসঙ্গত বলেই মনে হয়।এইসব প্রগাঢ় পান্ডিত‍্য মন্ডিত ব‍্যক্তি মৈথিলের ভ্রান্ত অনুকরণ করে তাতে এমন সুন্দর কবিতা রচনা করবেন,এটি কোনও মতে বিশ্বাস করা যায় না।বিশেষ করে এই অনুকরণ বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ ছিল না। উড়িষ‍্যায় রায় রামানন্দ,গোবিন্দদাস প্রভৃতির আগেই আবির্ভূত হয়েছিলেন এটি স্মরণ রাখা প্রয়োজন। বিদ‍্যাপতির ভাষায় যে উদারতা দেখতে পাই,তা দেশকাল পাত্রের বিবেচনা ব‍্যতিরেকে বুঝতে পারা যাবে না। স্কটল‍্যান্ডের কবি বার্ণস (Burns) যেমন তাঁর প্রাদেশিক ভাষায় কবিতা লিখেছিলেন, বিদ‍্যাপতির মত সৃষ্টিকুশল প্রথম শ্রেণীর কবি যে তাইই করবেন,এরকম অনুমান সমর্থনযোগ‍্য নহে।*
*☘বিদ‍্যাপতির যে কয়েকটি পদ গ্রীয়ার্সনের মারফতে আমরা পেয়েছি, তার মধ্যে এমন কতগুলো পদ আছে যা ব্রজবুলি হতে বহুদূরে নহে।এটি বিদ‍্যাপতির "মুখবন্ধে" আমি বলতে চেষ্টা করেছি।তার পর নগেন্দ্রবাবু যে দুইটি পুথি দেখে তাঁর পদাবলী সংগ্রহ করেছিলেন, তার মধ্যে একটি পুথি নেপালে পাওয়া যায়,অন‍্যটি (তালপত্রের পুথি) মিথিলার অন্তর্গত তরৌনী গ্রামে তিনি পেয়েছিলেন।প্রবাদ আছে যে,এই পুথিটি বিদ‍্যাপতির পৌত্রের লেখা।সে যাইহোক, এই দুইটি পুথিতে বহু পদ পাওয়া যায় যা গোবিন্দদাস বা বলরাম দাসের ব্রজবুলি পদ হতে ভিন্ন লক্ষণাক্রান্ত নয়। বিদ‍্যাপতির প্রায় দুইশ কি আড়াইশ বৎসর পরে মিথিলার লোচন কবি "রাগতরঙ্গিণী" নামে একটি সঙ্গীত গ্রন্থ সংকলন করেন।ঐ গ্রন্থের মুখবন্ধে লোচন লিখেছেন যে,বিদ‍্যাপতি মিথিলার অপভ্রংশ ভাষায় প্রথমে গীত রচনা করেন।সুমতি নামে একজন কায়স্থ উত্তম কথক ও গায়ক ছিলেন।তার পুত্র জয়তঃ বিদ‍্যাপতির কাছে তাঁর পদাবলী গান করতে শিক্ষা করে।লোচনের রাগতরঙ্গিণীতে বিদ‍্যাপতির অনেকগুলি গীত উদ্ধৃত হয়েছে।ঐসব গীতের কয়েকটিতে যে সহজ সরল ভাষার প্রয়োগ দেখতে পাই,তাকে ব্রজবুলি বলতে ইচ্ছা হয়।*
*🌺বস্তুতঃ বিখ‍্যাত ব্রজবলির মত ভাষা বিদ‍্যাপতি স্বয়ং সৃষ্টি না করলে এটি কখনই পরবর্তী কবিগণ কর্তৃক অনুসৃত (অনুসরণ) হত না। বাংলায় যশোরাজ খান,উড়িষ‍্যার রামানন্দ রায়,আসামে শঙ্কর দেব যে সুমধুর ভাষায় পদ রচনা করেছিলেন, এটি বিদ‍্যাপতির দ্বারাই উদভাবিত এটি স্বীকার না করে উপায় নাই। বিদ‍্যাপতির নামে কতগুলি খাঁটি বাংলা পদ এদেশে প্রচলিত আছে। যথা "মরিব মরিব সখি, শুনলো রাজার ঝি" ইত্যাদি।এই পদগুলি অবশ‍্য বিদ‍্যাপতির রচিত নহে। কিছুদিন আগে শ্রীযুক্ত ডাঃ সুকুমার সেন সাহিত‍্য পরিষৎ-পত্রিকায় বিদ‍্যাপতির কতগুলি অপ্রকাশিত রাগাত্মিক বাংলা পদ প্রকাশ করেছিলেন।এইসব পদের প্রকৃত রচয়িতা কে?যদি বিদ‍্যাপতির মৈথিল পদকে আমরা বাঙ্গালী সাজ পরাতাম,তাহলে সবগুলি পদই বাংলা হ'ত।কাজেই মনে হয়, কোনও বাঙ্গালী কবি বিদ‍্যাপতির নাম দিয়ে নিজের পদ চালাতে চেষ্টা করেছেন।এরকম রচনা চলে আসছে।আমাদের দেশে ব‍্যাস,বাল্মীকি, কালিদাসের নামেও অজ্ঞাতনামা কবিরা কবিতা লিখে চালাবার চেষ্টা করেছেন।*
*🌻শ্রীযুক্ত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় সাহিত‍্যরত্ন আবিস্কার করেছেন যে,শ্রীখন্ডের একজন কবি "ছোট বিদ‍্যাপতি" আখ‍্যা পেয়েছিলেন এবং বাংলা পদগুলি তাঁরই রচিত।তিনি কবিরঞ্জন ও রঞ্জন এই নামে পরিচিত ছিলেন এবং বিদ‍্যাপতি ছিল ইঁনার উপাধি।*
*🌷ছোট বিদ‍্যাপতি বলি যাহার খেয়াতি।*
*🌷যাহার কবিতাগানে ঘুচয়ে দুর্গতি।।*
*🌹এই কবি কোনও সময়ে খ‍্যাতি লাভ করেছিলেন বলে বোধহয় "শ্রীরঞ্জন" সর্বকলানিধানঃ"। কিন্তু তিনি যে বিদ‍্যাপতির নাম দিয়ে পদ লিখেছিলেন তার প্রমাণ কোথায়? পদকল্পতরুতে এবং রসমঞ্জরীতে যে কবিরঞ্জন ভণিতা যুক্ত পদ আছে,তা যদি এই রঞ্জন কবির হয়,তবে তো ইনি কবিরঞ্জন নামেই পদ লিখেছেন। বিদ‍্যাপতি নামে পদ লিখেছিলেন,তা সিদ্ধ হয় কিভাবে?বাংলা পদগুলির বিদ‍্যাপতি ভণিতা দেখে অনুমান করতে হয় যে,এই রঞ্জন কবি যিনি কবিরঞ্জন ভণিতায় পদ রচনা করেছেন এবং যাঁর "ছোট বিদ‍্যাপতি " বলে করকঙ্কণ উর্দ্ধে তুলে (মণিবন্ধের উপরে উঠিয়ে) তাকে নিঃশব্দ করেছে। মেখলা (কিঙ্কিণী) দৃঢ়ভাবে বেঁধেছে (যাতে শব্দ না হয়); নূপুরদ্বয়ের নিঃশব্দতা যত্নে সম্পাদন করেছে ; কিন্তু প্রিয় সখী! আমার এই অভিসার উৎসবে চন্দ্র চন্ডালের মত আচরণ করে তিমিরাবগুন্ঠন অপসারিত করল!(এখন আমি কি করে যাই)?*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌹🌻🌻🌻🌻🌻🌻

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৪৬. বিদ‍্যাপতি 🌼 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৬)🌹বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🌹*
    *💧💧বিদ‍্যাপতি💧💧*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌺এই শ্লোক শ্রীজয়দেবের পংক্তি "মুখরমধীরং ত‍্যজ মঞ্জীরং রিপুমিব কেলিষু লোলং" স্মরণ করে দিবে।চাঁদ যে অভিসারে বাধা জন্মায়, তা বিদ‍্যাপতির রাধা অন্তরে অন্তরে বুঝেছেন।*
*🌷চন্দা জনু উগ আজু কি রাতী।*
*🌷পিয়াকে লিখিঅ পঠাওব পাঁতি।।*
*🌷অথবা রাহু বুঝাএব হঁসী।*
*🌷পিবি জনি উগিলহ সীতল সসী।।*
*🌷কোটি রতন জলধর তোহেঁ লেহ।*
*🌷আজুক রয়নি ঘন তম কএ দেহ।।*
*⚪চাঁদ,আজ রাত্রিতে তুমি উদিত হইও না। প্রিয়কে আজ (অভিসারের কথা ) লিখে চিঠি পাঠাব।•••• অথবা রাহুকে হেসে বুঝাব যে শীতল চন্দ্রকে পান করে তুমি আর উদগীরণ করিও না (চন্দ্র যেন আর না উঠে)।হে মেঘ,তুমি কোটি রত্ন গ্রহণ কর,আজকের রজনী ঘোর তমসাচ্ছন্ন করে দাও।*
*🌷চন্দা ভলি নাহি তুএ রীতি!*
*🌷এহি মতি তোহে কলঙ্ক লাগল,*
*🌷কুছ ন গুনহ ভীতি।।*
•••• •••• •••• ••••
*🌷এক মাস বিহি তোহি সিরিজিএ,*
             *দএ সকলও বল।*
*🌷দোসর দিন পূনু পূর ন রহসি,*
             *এহী পাপক ফল।।*
*⚪চাঁদ তোর ব‍্যবহার ভাল না,এই জন্যই তোর কলঙ্ক লাগিল,তোর মনে কিছুমাত্র ভয় নাই।••••বিধাতা তোকে এক মাস বসিয়া সৃষ্টি করেন,সমস্ত শক্তি দিয়ে (পূর্ণ করেন), কিন্তু দ্বিতীয় দিন আর তুই পূর্ণ থাকিস না,এই তোর পাপের ফল।*
*🌹দূতী কৃষ্ণকে বলছেন, হে মাধব!রাধা কত কষ্ট করে তোমার কাছে আসিল,*
*🌷প্রেম হেম পরখাওল কসোটি,*
            *ভাদর কুহু-তিথি রাতি।।*
*⭐ভাদ্রের কুহু (অমাবস‍্যা) রজনীরূপ কষ্টিপাথরে প্রেমরূপ স্বর্ণের পরীক্ষা হল।রাত্রি কাজল বমন করছে (চারিদিক মসীলিপ্ত হয়েছে )(পথে) ভীম সর্প,দুর্বার বজ্রপাত হচ্ছে, সে গর্জনে মনে ভয় হ'ল।মেঘ কুপিত হয়ে জলধারা বর্ষন করছে ; অভিসারে সংশয় পড়ে গেল।•••সর্প পায়ে বেষ্টন করল,(ভালই হল)নূপুরের শব্দ আর হয় না।*
*🌷ঠামহি রহিএ ঘুমি,পরস চিহ্নিঅ ভূমি,*
            *দিগমগ উপজু সন্দেহ।*
*🌷হরি হরি সিব সিব,তাবে জাইহ জীব,*
          *জাবে ন উপজু সিনেহ।।*
*🌺(যেতে যেতে) ঘুরে ঘুরে একই জায়গায় আসি,(অন্ধকারে)হাতড়িয়ে জায়গা চিনি, দোলায়মান চিত্তে সংশয় হয় (ঠিক পথে যাচ্ছি তো) হরি হরি!যতদিন প্রেম উৎপন্ন না হয়,ততদিন বেঁচে থাকা ভাল (তারপর নয়)।*
*🌷নলিনী দল নির,চিত ন রহএ থির,*
          *তত ঘর তত হো বহার।*
*🌷বিহি মোর বড় মন্দা,উগি জনু জাএ চন্দা,*
        *সুতি উঠি গগন নিহার।।*
*🌷পথহু পথিক সঙ্কা,পয় পয় ধএ পঙ্কা,*
       *কি করতি ও নব তরুণী।*
*🌷চলএ চাহ ধসি, পূনু পড় খসি খসি,*
       *জালক ছেকলি হরিণী।।*
*🌹মাধব! রাধার চিত্ত নলিনীদলগত জলের মত অস্থির ; যত না ঘরে যায়,তত বাইরে আসে (তুলনীয়= ঘরের বাহিরে দন্ডে শতবার তিলে তিলে আইসে যায় --চন্ডীদাস)।বিধাতা বড়ই মূর্খ, পাছে (বিধাতার চক্রে)চন্দ্র উদিত হয়, এই জন্য শুইতে গিয়েও (পুনঃ পুনঃ) উঠে আকাশের দিকে চেয়ে দেখে।পথে যেতে কোনও পথিকের সঙ্গে হয়ত দেখা হবে, এই আশঙ্কা হয়,পায়ে পিয়ে পঙ্ক (কাদা)ধরে (তাতেও গ্রাহ‍্য করে না ) নবযুবতী (রাধা)কি যে করে (ভেবে পায় না )!দ্রুত চলতে চায়, কিন্তু আবার আছাড় খেয়ে পড়ে (পিছল পথে) জালে বাঁধা হরিণীর মত।*
*🌻বিদ‍্যাপতি এইভাবে যে চিত্রটি এঁকেছেন,তা রূপে,রসে অতুলনীয়।অভিসারের পদে বিদ‍্যাপতিরই প্রিয় শিষ্য গোবিন্দ দাস দুই শতাব্দী পরে তাঁকেই অনুকরণ করে অমর পদাবলী রচনা করেছেন।অনেক সময়ে পংক্তিতে পংক্তিতে এই শ্রেষ্ঠ কবিদ্বয়ের পদের তুলনা চলে।অভিসার পদে প্রধান আস্বাদ‍্য-- অনুরাগ। বিঘ্নসমাকুল রজনীতে প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে তরুণী নায়িকা প্রিয়তমের সঙ্গে মিলনের কি অসাধ‍্য সাধন করছেন,তাইই অভিসারে পদাবলীর মুখ‍্যরস।অভিসারিকা নায়িকা অবলম্বনে বিদ‍্যাপতির বহু পদ রয়েছে।রাধামোহন ঠাকুর ও পদামৃত সমুদ্রের টীকায় বলেছেন="শ্রীবিদ‍্যাপতি ঠককুর কৃত গীত প্রাচুর্য‍ বশাৎ "।*
🪷🪷🌷🪷🪷🌷🪷🪷🌷🪷🪷🌷🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৪৭. বিদ‍্যাপতি 🌷 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৭)🌻বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🌻*
      *🌹🌹বিদ‍্যাপতি🌹🌹*
    ❤❤❤❤❤❤❤❤
*🍀এই অনুরাগ সম্বন্ধে বিদ‍্যাপতির একটি পদ আছে,যার তুলনা কোথাও পাই না।শ্রীমতী রাধারাণী যমুনায় স্নান করে উঠে দেখলেন,শ্রীকৃষ্ণ কেলিকদম্বে হিলন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। হৃদয়ে প্রবল ইচ্ছে যে,একবার সেই অনুপম রূপমাধুরীসমন্বিত নটবর-শেখরকে দর্শন করেন=*
*🌷নহাই উঠল তীর রাই কমল মুখি,*
             *সমুখে হেরল বরকান।*
*🌷গুরুজন সঙ্গ লাজে ধনি নতমুখি,*
             *কৈসন হেরব বয়ান।।*
*🌷সখি হে,অপরুব চাতুরি গোরি*।
*🌷সব জন তেজি,অগুসরি সঞ্চরি,*
             *আড় বদন তঁহি ফেরি।।*
*🌷তঁহি পুন মোতি হার তোড়ি ফেঁকল,*
          *কহইত হার টুটি গেল।*
*🌷সব জন এক এক চুনি সঞ্চরু,*
           *স‍্যাম-দরস ধনি ভেল।।*
*🌺সঙ্গে গুরুজন,লজ্জায় তাঁকে নতমুখী হয়ে থাকতে হ'ল ; (ভাবছেন) কেমন করে প্রিয়তমের অপরূপ বদন দেখবেন। কিন্তু সুন্দরীর অপরূপ চাতুরী।তিনি (ছল করে )সবার আগে গমন করলেন এবং নিজের গলার মুক্তা হার ছিঁড়ে ফেললেন।(সবাইকে ডেকে) বললেন--,আমার গলার হার কেমন করে বুঝতে পারলাম না ছিঁড়ে গিয়েছে।(এইকথা শুনে) সবাই (যমুনাতটের বালুর মধ্যে )একটি একটি করে সেই মুক্তা খুটে খুটে তুলতে লাগল।(সেই অবসরে)শ্রীমতী কৃষ্ণানুরাগিনী শ‍্যামদর্শন করে নিলেন।*
*🌹এই অপূর্ব পদটি পরেও যদি কেউ বলেন যে,বিদ‍্যাপতির পদ কেবল প্রেমের কবিতা,রাধাকৃষ্ণের সম্বন্ধ তাতে খুবই কম, তাহলে আমাদের আর কি কথা থাকতে পারে? এই বিষয়টি আরও পরিস্ফুট হবে,বিদ‍্যাপতির একটি মিলনের পদ হ'তে।অভিসারের পরেই মিলন।মিলনের প্রকৃতি দেখে অভিসার সম্বন্ধে প্রকৃত ধারণায় উপনীত হওয়া যেতে পারে=*
*🌹দুহু মুখ হেরইত দুহু ভেল ধন্দ।*
*🌹রাহী কহ তমাল মাধব কহ চন্দ।।*
*🌹চিতপুতলী জনু রহু দুহু দেহ।*
*🌹ন জানিঅ প্রেম কেহন অছু নেহ।।*
*🌹এ সখি দেখ দেখ দুহুক বিচার*।
*🌹ঠামহি কোই লখই নাহি পার।।*
*🌹ধনি কহ কাননময় দেখিঅ শ‍্যাম।*
*🌹সে কিএ গুণব মঝু পরিণাম।।*
*🌹চউকি চউকি দেখি নাগর কান।*
*🌹প্রতি তরুতর দেখ রাহী সমান*।।
*🌻দুইজন দুইজনকে দেখে সন্দেহে পড়লেন।রাইধনি বললেন--,এ কি তরুণ তমাল!মাধব বললেন--, এ কি চাঁদ (উঠিল)! দুইজনেই চিত্রপুত্তলীর মত দাঁড়িয়ে রইলেন।(এক সখী অন‍্যসখিকে বলছেন)সখি!দেখ দেখ দু'জনের কি বিচার! নিজের কাছেই, অথচ কেউ কাউকেও দেখতে পাচ্ছে না। ধনি বলিল একি।আমি যে কাননময় শ‍্যাম দেখছি, আমার দশা সে কি ভাববে?(আমি যে অনুরাগে আত্মহারা হয়ে জাতি-কুল-মান বিসর্জন দিয়ে আসিলাম, কিন্তু আমার সেই প্রেমাস্পদ কৈ? এ যে বহু শ‍্যাম)।নাগর চমকিয়ে চমকিয়ে দেখছেন--,প্রতি তরুতলে রাইধনি দাঁড়িয়ে (যার জন্য সঙ্কেত কুঞ্জে এসে প্রতীক্ষা করেছি,আমার সে প্রিয়তমা কোনটি)?!*
*🍀এই পদটির ভণিতায় বিদ‍্যাপতির নাম না পাওয়া গেলেও, সন্দেহের বেশী অবকাশ বোধহয় নাই।কেননা, বিদ‍্যাপতির বহু পদে শ্রীরাধার প্রেমের উৎকর্ষ সুন্দরভাবে বর্ণিত হয়েছে।*
❤❤❤❤❤❤🌹❤❤❤❤❤❤

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৪৮. রাইধনির ছলনা 🌼 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৮)🍁বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🍁*
              *রাইধনির ছলনা*
          •••••••••••••••••••••••••••
*🍀নব-অনুরাগিনী নানা ছলে প্রিয়তমের সঙ্গে মিলিত হবার জন্য ব‍্যগ্র। কিন্তু সংসারে প্রতিকূলতা এবং বাধাও বহু। কাজেই প্রেমিকাকে অনেকক্ষেত্রে চতুরতার আশ্রয় নিয়ে পরিত্রাণ পেতে হয়।এই চতুরতা নিয়ে অনেক কবিতা রচিত হয়েছে।মিথিলায় তার নাম "লাথ"।লাথ অর্থে ছলনা।বিদ‍্যাপতির একটি কবিতা এইরকম লাথের সুন্দর নিদর্শন ঃ--*
*🌷জাহি লাগি গেলি হে তাহি কহাঁ লইলি হে,*
       *তা পতি বৈরি পিতু কাহাঁ।*
*🌷অছলি হে দুখ সুখ, কহহ অপন মুখ,*
       *ভুসন গমওলহ জাহাঁ।।*
  *🌷সুন্দরী, কি কএ বুঝাওব কন্তে।*
*🌷জহ্নিকা জনম হোইত তোহে গেলিহু,*
      *অইলি হে তহ্নিকা অন্তে।।*
*🌷জাহি লাগি গেলহু সে চলি আএল,*
       *তেঁ মোয়ঁ ধাএল নুকাঈ।*
*🌷সে চলি গল তাহি লএ চলিলিহু,*
        *তেঁ পথ ভেল অনেআঈ।।*
*🌷সঙ্কর-বাহন খেড়ি খেলাইত,*
            *মেদিনি-বাহন আগে।*
*🌷জে সব অছলি সঙ্গ, সে সব চললি ভঙ্গ,*
       *উবরি আএলহুঁ অতি ভাগে।।*
*🌷জাহি দুই খোজ করইছথি সাসুহ্নি,*
       *সে মিলু আপনা সঙ্গে।*
*🌷ভণই বিদ‍্যাপতি সুন বর জউবতি,*
      *গুপুত নেহ রতি-রঙ্গে।।*
*🌹ননদিনী বধূকে জিজ্ঞাসা করছেন= তুই যার জন্য গিয়েছিলি, তা আনলি কৈ? (অর্থ‍্যাৎ ঘাটে জল আনতে গিয়েছিলি, জল না নিয়ে আসলি কেন?)আর সেই জলের পতির শত্রুর পিতা কোথায়? (জলের পতি=সমুদ্র ; সমুদ্রের শত্রু=অগস্ত‍্য ; তার পিতা =ঘট ) অর্থ‍্যাৎ ঘট কোথায় ফেলে আসলি?যেখানে ভূষণ (বা অঙ্গরাগ) খোয়াইয়ে বা হারিয়ে আসলি, সেখানে কি রকম সুখে দুঃখে ছিলি, নিজমুখে বল। সুন্দরী,কি বলে' কান্তকে বুঝাবি?যার জন্ম হতে তুই গেলি,তার শেষে তুই আসলি (অর্থ‍্যাৎ সেই কোন সকালে গিয়েছিস, আর ফিরে আসলি দিনান্তে।*
*তখন বধূ উত্তর করছেন = যা আনতে গিয়েছিলাম,সে এসে পড়ল, (জল অর্থ‍্যাৎ বৃষ্টি এলো ; সেজন‍্য ছুটে গিয়ে আশ্রয় নিলাম। সে চলে গেল),তখন পথে আসতে (অনেআঈ বা অন‍্যায়=বিলম্ব)হলো।(বিলম্বের কারণ আর কিছুই নয়) দেখি,পথে ষাঁড়ের (শঙ্করবাহন) লড়াই বেধে গেছে--আর একদিকে এক সাপ (মেদিনীবাহন)।যারা সব সঙ্গে ছিল তারা পালিয়ে গেল।আমি অতিভাগ‍্যে বেঁচে এসেছি।শাশুড়ী যে দুইয়ের খোঁজ করছেন,তারা আপনার সঙ্গে মিলিল (অর্থ‍্যাৎ মাটিতে পড়ে ঘট চূর্ণ হয়ে মাটির সঙ্গে এবং ঘাটের জল বৃষ্টির সঙ্গে মিশিল।*
*🍁ছেলবেলায় একটি সারি গানে এইরকম উক্তি-প্রত‍্যুক্তি-মূলক ছলনার দৃষ্টান্ত পেয়েছিলাম।গানটি আমাদের অঞ্চলে (যশোহর) পল্লীবাসীর মুখে সেকালে খুব শোনা যেত।গানটি আমার যত দূর মনে পড়ে তাইই বলি ঃ---*
*🍁ওলো ছোট বউ,সাঁঝের বেলা*।
*🍁জল আনতি ঘাটে গেলি ফুল পালি কনে?*
*🍁ছান করতে গিয়েছিলাম শান বাঁধা ঘাটে ;*
*🍁ভাসে যাতি চাঁপা ফুল তুলে দিলাম কানে।*
     *🍁ওলো ননদী,সাঁঝের বেলা।*
*🍁ওলো ছোট বউ,সাঁঝের বেলা*।
*🍁তোর চুল কেন আ'লো-থালো গাল কেন ফুলো।*
*🍁ফুলের সঙ্গে ভ্রমর ছিল অধরে দংশিল।*
    *🍁ওলো ননদী,সাঁঝের বেলা।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌻আমাদের দেশের ভাষা হলেও বুঝতে বোধহয় কষ্ট হবে না।এত ছেলে বেলায় গানের কথা এবং তার ইঙ্গিত যত বুঝি আর না বুঝি, সুরটি মর্ম স্পর্শ করেছিল ; সারি গানের সহজ মিষ্টত্ব থাকায় সুরটি অতি মধুর।*
*🌺ছলনা কিন্তু নাগরীগণের একচেটিয়া নয়।নাগরদেরও অনেক সময়ে ছল-চাতুরীর আশ্রয় গ্রহণ করা ছাড়া কোন উপায় থাকে না।বৈষ্ণব পদাবলীতে এরকম বিপদাপন্ন নায়কের এক সুন্দর উদাহরণ পাওয়া যায়। পদটি শশিশেখরের এবং অনেকেরই সুপরিচিত।তা হলেও ঐ পদটি এখানে উদ্ধৃত করি=*
*নীলোৎপল, শ্রীমুখ মন্ডল,*
         *ঝামর কাহে ভেল।*
*মদন জ্বরে , তনু তাতল,*
      *জাগরে নিশি গেল।।*
*"খন্ডিতায়" শ্রীকৃষ্ণ যখন সারা নিশি চন্দ্রাবলীর কুঞ্জে কাটিয়ে প্রভাতে শ্রীরাধার কুঞ্জে দর্শন দিলেন, তখন শ্রীরাধা জিজ্ঞাসা করছেন= তোমার নীলকমল সমান মুখটি আজ এত ঝামর বা বিরস হ'ল কি জন্য?শ্রীকৃষ্ণের উত্তর--,তোমার বিরহে জর্জর হয়ে সারা নিশি জাগরণে কাটিয়েছি।*
            *🌹শ্রীরাধা বলছেন=*
*নখ নির্ঘাত- , ক্ষত বক্ষসি,*
       *দেয়ল কোন নারী।*
         *শ্রীকৃষ্ণ বলছেন=*
*কন্টকে তনু, ক্ষত বিক্ষত,*
        *তোহে ঢুড়ইতে গোরি।।*
      *শ্রীরাধা বলছেন=*
*সিন্দুর কাহে, অলকা পরি,*
          *চন্দন কাঁহা গেল।*
        *শ্রীকৃষ্ণ বলছেন=*
*গিরি গোবর্দ্ধন, গোরিক সেবি,*
          *সিন্দুর শিরে নেল।।*
*🏞গিরি গোবর্দ্ধনে গেছে (তোমার জন্য ) গৌরীর পূজা করে তাঁর প্রসাদী সিন্দুর কপালে পরেছি। তখন শ্রীরাধা বলছেন=*
*নীলাম্বর, তুহু পহিরলি,*
         *পীতাম্বর ছোড়ি।*
      *শ্রীকৃষ্ণ বলেছন=*
*অগ্রজ সঙ্গে, পরিবর্তিত,*
         *নন্দালয়ে ভোরি।।*
*❤তুমি আজ নীলাম্বর পরেছ, এ কি ব‍্যাপার? তুমি তো চিরদিন পীতাম্বরধারী! শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, নন্দালয়ে (বাড়ীতে) আমি আর বলাইদাদা একসঙ্গে শুয়েছিলাম।ভোরে উঠে এসেছি, ভল করে দাদার নীলাম্বরটি পরে এসেছি।*
*🌹তখন শ্রীরাধা পুনঃ বলছেন=*
*অঞ্জন কাঁহে, গন্ডস্থলে,*
         *হৃদি খন্ডন অধরে।*
*উত্তর প্রতি-, উত্তর দিতে,*
         *পরাজয় শশিশেখরে।।*
*⭐শশিশেখর উত্তর দতে পারেননি ; কিন্তু গোবিন্দদাসের একটি পদে এরও সমাধান আছে, ধৃষ্ট নাগর বলছেন=*
*কাজর ভরমে, মরম কিয়ে গঞ্জসি,*
        *মৃগমদ-পদ পুন এহ।*
*🌻সুন্দরী! তুমি কাজল বলে ভুল করছ, কিন্তু এটি কাজল না, মৃগমদকস্তুরী। শোভার জন্য পরেছি। আর হৃদয়ে যে রক্তিম চিহ্ন দেখছ,সেটি গৈরিক চিহ্ন।তোমারই বিরহে আমার হৃদয় সংসার বিবাদী হয়ে উঠেছে।*
*গৈরিক হেরি, বৈরি সম মানসি,*
        *উরপর যাবক ভানে।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏❤🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৪৯. রায় রামানন্দ 🌻 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৯)🌻বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🌻*
           *🌹রায় রামানন্দ🌹*
         🍀🍀🍀🍀🍀🍀🍀
*🌻সংস্কৃত নাটকের মধ্যে রায় রামানন্দ-কৃত "জগন্নাথবল্লভ নাটক" সুপরিচিত।শ্রীচৈতন‍্যদেব যে সব গ্রন্থ আস্বাদন করতেন,জগন্নাথবল্লভ তাদের অন‍্যতম।*
*চন্ডীদাস বিদ‍্যাপতি,রায়ের নাটকগীতি,*
      *কর্ণামৃত শ্রীগীতগোবিন্দ।*
*মহাপ্রভু রাত্রিদিনে,স্বরূপ রামানন্দ সনে,*
      *গায় শুনে পরম আনন্দ।।*
                    *(চৈঃচঃমঃ ২য় পরিঃ)*
*🍁এই পংক্তি দুইটির মধ্যে লক্ষ্য করবার বিষয় এই যে, মহাপ্রভুর আস্বাদ‍্য কাব্র বা গ্রন্থের মধ্যে তিনটি সংস্কৃতে রচিত ; বিল্বমঙ্গল ঠাকুরের শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত, শ্রীজয়দেব গোস্বামীর গীতগোবিন্দ এবং রামানন্দ প্রণীত জগন্নাথবল্লভ নাটক।সমস্তই শ্রীকৃষ্ণলীলা বিষয়ক।বিদ‍্যাপতি ও চন্ডীদাসের পদাবলী প্রসিদ্ধ,সে জন্য কৃষ্ণদাস কবিরাজগোস্বামী এই দুই কবির কোনও গ্রন্থের উল্লেখ না করে শুধু কবির নাম উল্লেখ করলেন।রামানন্দের জগন্নাথবল্লভ নাটকের নাম করা হয়নি বটে, কিন্তু তার কারণ এই যে,জগন্নাথ-বল্লভের আর একটি নাম রামানন্দ-সঙ্গীত নাটক।*
*শ্রীরামানন্দ রায়েণ কবিনা তত্তৎগুণালঙ্কৃতং শ্রীজগন্নাথ-বল্লভ-নাম গজপতি প্রতাপরুদ্রপ্রিয়ং রামানন্দসঙ্গীতনাটকং নির্মায়•••••*
                      *(জগঃ-বঃ ১ম অঙ্ক)*
*🌹আরও একটি লক্ষ্য করবার বিষয় এই যে,যাঁর নাটক,তাঁকে নিয়েই মহাপ্রভু আস্বাদন করতেন।এখানে "রামানন্দ" বলতে অবশ‍্য রায় রামানন্দকেই বুঝতে হবে।নীলাচল লীলায় স্বরূপদামোদরের মত রামরায় মহাপ্রভুর নিত‍্য সঙ্গী ছিলেন। এই নাটকটি মহাপ্রভুর সঙ্গে রামানন্দের সাক্ষাতের আগেই রচিত হয়েছিল বলে মনে হয়।কারণ,এতে নান্দী বা মঙ্গলাচরণে নূপুরশোভিত চরণ,নৃত‍্যপরায়ণ শ্রীকৃষ্ণের স্তুতি আছে, শ্রীচৈতন‍্যের বন্দনা নাই।অর্থ‍্যাৎ তখনও রামানন্দ রায়ের সঙ্গে মহাপ্রভুর সাক্ষাৎ হয় নাই।গোদাবরীতটে উভয়ের মিলনেযে প্রেমের তরঙ্গ ছুটেছিল, তাতে রামানন্দ গৌরাঙ্গময় হয়ে গিয়েছিলেন বলে বেশ মনে হয়। ঐ ঘটনার পর রামানন্দ রায়ের পক্ষে শ্রীগৌরাঙ্গের বন্দনা না করা সম্ভবপর বলে মনে হয় না। রামানন্দ রায় ছিলেন,গজপতি প্রতাপরুদ্রের অধীনে একজন প্রধান রাজপুরুষ,তাঁর রাজধানী ছিল বিদ‍্যানগর, বতর্মান রাজমাহেন্দ্রী।ইঁনার পিতা ভবানন্দ রায় একজন সম্মানিত ব‍্যক্তি ছিলেন।তবে তিনি বিদ‍্যানগরের অধীশ্বর ছিলেন কি না,তা বলা যায় না।সতীশচন্দ্র রায় লিখেছেন যে,ভবানন্দ রায় বিদ‍্যানগরের অধীশ্বর ছিলেন।মৃণালকান্তি ঘোষ তাঁর "গৌরপদতরঙ্গিণীর" ভূমিকায় এই মতের প্রতিবাদ করে বলেছেন যে,রায় ভবানন্দ যে রাজা ছিলেন, তার প্রমাণাভাব।মৃণালবাবু সম্ভবতঃ জগন্নাথবল্লভের "পৃথ্বীশ্বরস‍্য শ্রীভবানন্দ রায়স‍্য" লক্ষ্য করেন নাই। কিন্তু ভবানন্দ যে বিদ‍্যানগরের রাজা ছিলেন,তাও প্রমাণিত হয় না।*
*🌻রামানন্দ তাঁর পৃষ্ঠপোষক নরপতি গজপতি প্রতাপরুদ্রের যে পরিচয় দিয়েছেন,তাতে মনে হয়, রায় রামানন্দের মত তিনিও লীরারসিক বিদগ্ধজন ছিলেন।কবি তাঁকে "নিরুপম-কান্তি-লক্ষ্মী-লুব্ধ-লক্ষ্মী রমণাবস্থানোচিত চিত্তদুগ্ধাব্ধিনা বিভাবাদি পরিণত রস-রসালমুকুল রসাস্বাদ-কোবিদপুংস্কোকিলেন শ্রীকন্ঠহার সহচরগুণ মুক্তা-ফলমন্ডিতহৃদয়েন" বলেছেন।শ্রীকন্ঠহার অর্থ‍্যাৎ (শ্রীরাধাকন্ঠহারের যিনি সহচর অর্থ‍্যাৎ শ্রীকৃষ্ণ,তাঁর গুণরূপ মুক্তাফলে ভূষিত হয়েছে হৃদয় যাঁর)। তাহলে দাঁড়ায় এই যে,শ্রীচৈতন‍্য নীলাচলে গমন করবার পূর্বে প্রতাপরুদ্র বৈষ্ণবধর্মের প্রতি পক্ষপাতী হয়েছিলেন।যে কারণে লক্ষ্মণ সেনের রাজসভায় শ্রীজয়দেব গীতগোবিন্দ গান করে তাঁর আশ্রয়দাতার মনস্তুষ্টি সাধন করতে পেরেছিলেন, ঠিক সেই কারণেই নীলাচলের বিখ‍্যাত স্বাধীন ভূপতি প্রতাপরুদ্রের রাজসভায় রায় রামানন্দ জগন্নাথবল্লভ নাটক রচনা করেছিলেন।অনেকের মতে গজপতি প্রতাপরুদ্র শ্রীচৈতন‍্যের প্রভাবে পতিত হয়ে রাজধর্মপালনে উদাসীন হয়েছিলেন, এবং বৈষ্ণবধর্মই তাঁর পরাজয়ের কারণ। কিন্তু রামরায় তাঁর আশ্রয়দাতা সম্বন্ধে যা বলেছেন,তা ঐ ধারণার অনুকূল নয়।*
*গজপতি প্রতাপরুদ্র মহারাজ পুরুষোত্তমদেবের পর ১৪৮৯ খৃষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং ১৫৪০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন।রামানন্দ তাঁর প্রশস্তি উচ্ছসিত ভাষায় গ্রথিত করেছেন।যথা প্রতাপরুদ্রের পরাক্রমে সেকেন্দর (সেকন্দর লোদি ১৪৮৯-১৫১৭)ভীত হয়ে গিরিকন্দরে পলায়ন করেছেন, কলবর্গ (গুলবর্গ) দেশের ভূপতি তাঁর পরিবারবর্গের রক্ষার জন্য আশঙ্কিত হয়েছেন, গুর্জরের (গুজরাটের)রাজা তাঁর রাজ‍্য অরণ‍্যে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করেছেন এ গৌড় ভূপতি ব‍্যাতাতাড়িত অর্ণবপোতের আরোহীর ন‍্যায় ব‍্যাকুল হয়েছেন।এরকম পরিচয় হতে মনে হয়,তখনও বিজয়নগরের কৃষ্ণদেব রায়ের হাতে প্রতাপরুদ্রের পরাজয় ঘটে নাই।কৃষ্ণদেব রায় শুধু যে উড়িষ‍্যাধিপকে পরাজিত করেন তা নহে, বিদ‍্যানগর দুর্গ ধ্বংস করেন।মাদলাপঞ্জী অনুসারে এই ঘটনা ১৫০৫ খৃষ্টাব্দে ঘটে।তাহলে এর পৃর্বেই জগন্নাথবল্লভ নাটকের রচনা হয়েছিল বলে মনে করা অসঙ্গত নহে।রায় রামানন্দ নিজে একজন রাজা ছিলেন, কেউ কেউ বলেন, করদ রাজা ছিলেন, কাজেই তাঁর প্রশংসা গতানুগতিক প্রশস্তি-পাঠের মত না হওয়ায় স্বাভাবিক।সেই সময়ে বঙ্গে বা গৌড়ে হোসেন শাহ রাজত্ব করছিলেন।১৫১৫ খৃষ্টাব্দে মুসলমানগণ উড়িষ‍্যা আক্রমণ করে। উড়িষ‍্যার ইতিহাস হতে জানা যায় যে,তাঁরা কটক (প্রতাপরুদ্রের রাজধানী ) পর্যন্ত গিয়ে শিবির-সন্নিবেশ করেছিলেন এবং তাঁদের ভয়ে জগন্নাথের মূর্তি চটক পর্বতে নিয়ে লুকানো হয়েছিল। কিন্তু প্রতাপরুদ্র সসৈন‍্যে দাক্ষিণাত‍্য যুদ্ধক্ষেত্র হতে তাড়াতাড়ি করে ফিরলেন এবং মুসলমানগণকে গড় মান্দারণ পর্যন্ত তাড়িয়ে দিলেন।এই ঘটনার পরে জগন্নাথবল্লভ রচিত হলে নিশ্চয়ই সে কথা নাট‍্যকার লিখতে ভুলতেন না।সেকন্দর লোদি একজন ন‍্যায়পরায়ণ সুলতান ছিলেন, কিন্তু তাঁর হিন্দু বিদ্বেষের জন্য হিন্দু নরপতিগণ নিশ্চয়ই তাঁকে ভাল চোখে দেখতেন না।কাজেই তাঁর উল্লেখ এই প্রসঙ্গে হিন্দু লেখকের কলমে যোগ‍্যই হয়েছে বলতে হবে।গুলবর্গে বাহমণি রাজবংশের শেষ রাজা বিরাজ করছিলেন।আত্মরক্ষায় তিনি তৎপর ছিলেন না বলেই মনে হয়।কারণ, কৃষ্ণদেব রায় মহাশয় এই রাজাকে পরাজিত করেন।*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌺🌻🌻🌻🌻🌻🌻

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৫০. রায় রামানন্দ 🚩 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/sahityo5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫০) 🌹বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🌹*
            *🙏রায় রামানন্দ🙏*
          🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভু এই যে জগন্নাথ ভল্লভ নাটক আস্বাদন করতেন, তা চৈতন্য চরিতামৃতে মধ‍্যলীলার দ্বিতীয় পরিচ্ছদেই বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু ঠিক কোন সময়ে এই নাটকটির বৃত্তান্ত তিনি জেনেছিলেন বা অবগত হয়েছিলেন,তা জানবার উপায় নেই।নীলাচলে আসিবার দুইমাস পরেই বৈশাখমাসে মহাপ্রভু যখন দক্ষিণ ভ্রমণে গমন করেন,তখন সার্বভৌম মহাশয় তাঁকে গোদাবরী-তীরে রায় রামানন্দের সহিত সাক্ষাৎ করতে অনুরোধ করলেন।সেই প্রসঙ্গে তিনি যা বলেছেন, তা প্রণিধানযোগ্য।*
*🌷তোমার সঙ্গের যোগ্য তেঁহো একজন।*
*🌷পৃথিবীতে রসিক ভক্ত নাহি তাঁর সম।।*
*🌷পান্ডিত‍্য ভক্তিরস দুয়ের তেঁহো সীমা।*
*🌷সম্ভাষিলে জানিবে তুমি তাঁহার মহিমা।।*
*🌷অলৌকিক বাক‍্য চেষ্টা তাঁর না বুঝিয়া।*
*🌷পরিহাস করিয়াছি বৈষ্ণব বলিয়া।।*
                         *(চৈঃচঃমঃ ৭ম)*
*🙏এতদিন তাঁকে বুঝতে পারিনি, তিনি বৈষ্ণব,ভক্তিরসের অধিকারী রসিক ; তাঁকে নিয়ে কত পরিহাস করেছি। কিন্তু এক্ষণে তোমার প্রসাদে বুঝিলাম যে তিনি কত বড় প্রকৃত বৈষ্ণব।ইহা হতে স্পষ্ট বুঝা যায় যে,শ্রীচৈতন‍্যদেবের সহিত তাঁর সাক্ষাৎ হবার পূর্বেই রায় রামানন্দ বৈষ্ণব বলে খ‍্যাত হয়েছিলেন। কিন্তু এখানে বা শ্রীপাদ রূপ গোস্বামীর সঙ্গে ইষ্টগোষ্ঠী সময়ে বা সাধ‍্যসাধনতত্ত্ব বিচার প্রসঙ্গে কোনও খানে জগন্নাথ বল্লভ নাটকের নাম কেউ করেননি।এর কারণ কি?রায় রামানন্দের পক্ষে এটি বৈষ্ণবোচিত বিনয় হতে পারে। কিন্তু শ্রীরূপগোস্বামী বা মহাপ্রভুও তো ইঁনার উল্লেখ করতে পারতেন? মহাপ্রভুর যে এই নাটক ভাল লাগিত সে প্রমাণ তো আমরা পেয়েছি।আরও প্রমাণ পাচ্ছি যে,যায় রামানন্দকে মহাপ্রভু অন্তরঙ্গ বন্ধু বলে আদর করতেন।*
*পুরীর বাৎসল‍্য মুখ‍্য,রামানন্দের শুদ্ধ সখ‍্য,*
      *গোবিন্দাদ‍্যের শুদ্ধ দাস‍্যরস।*
                  *(ঐ,মধ‍্য,২য় পরিচ্ছদ)*
*🌹অর্থ‍্যাৎ কবি,ভক্ত,রসিক ও দার্শনিক রামানন্দ তাঁর রাজ‍্যবৈভব পরিত‍্যাগ করে শ্রীচৈতন‍্যের শ্রীচরণে আত্মসমর্পণ করে তাঁকে সখ‍্যে বশীভূত করলেন।রামরায়ের বৈরাগ‍্য সম্বন্ধে বলা হয়েছে যে,সনাতনের মতই তাঁর ত‍্যাগের মহিমা।*
*🌷তোমার যৈছে বিষয় ত‍্যাগ তৈছে তার রীতি।*
*🌷দৈন‍্য বৈরাগ‍্য পান্ডিত‍্য তাহাতেই স্থিতি।।*
                        *(চৈঃচঃঅন্ত‍্য, প্রথম)*
*🍀শ্রীপাদ রূপগোস্বামীর সহিত ইষ্টগোষ্ঠীর উপলক্ষ্য করে মহাপ্রভু একজনের অসাধারণ কাব‍্যপ্রতিভা এবং অপরের অপূর্ব রসানুভূতি প্রকাশ করবার সুযোগ দিলেন।রস-প্রবীণ রামানন্দ প্রশ্ন-কর্তা,শ্রীরূপ উত্তরদাতা,মহাপ্রভু স্বয়ং বিচারক এবং শ্রীঅদ্বৈত,নিত‍্যানন্দ,হরিদাস, স্বরূপদামোদর গোস্বামী, সার্বভৌম বাসুদেব ভট্টাচার্য্য প্রভৃতি পন্ডিত ও রসজ্ঞগণ শ্রোতা।শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী এই ইষ্টগোষ্ঠীর বর্ণনায় যথেষ্ট পান্ডিত‍্যের পরিচয় দিয়েছেন।প্রশ্ন ও তার উত্তর উভয়ই সাধারণের পক্ষে দুর্বোধ‍্য ;উদাহরণের সাহায্যে স্পষ্টীকৃত না হলে এর মধ্যে প্রকাশ করা অনেকের পক্ষেই দুঃসাধ‍্য ছিল।এই ইষ্টগোষ্ঠীর বিবরণ কতটা প্রকৃত ঘটনার উপর প্রতিষ্ঠিত,তা জানবার উপায় নাই, তবে কবিরাজ গোস্বামীর প্রামাণিকতা সম্বন্ধে সন্দেহের সার্থকতা আছে বলে বোধ হয় না।কারণ তিনি প্রত‍্যদর্শীর মত যে চিত্রটি অঙ্কিত করেছেন,তাইই এই ব‍্যাপারে আমাদের অবলম্বন করলে বেশী বলা হয় না। এই ইষ্টগোষ্ঠীতে আমরা দুইজন বিখ‍্যাত কবি ও দার্শনিকের যে পারস্পরিক সম্বন্ধের পরিচয় পাচ্ছি,তা সহজ সত‍্যের আভায় উজ্জ্বল। স্বরূপ দামোদর সভাস্থ লোকের সমক্ষে শ্রীরূপগোস্বামীর বিখ‍্যাত নাটকদ্বয় বিদগ্ধমাধব ও ললিতমাধবের পরিচয় দিচ্ছেন ; তার পূর্বে এই নাটক দুইটি অপরিজ্ঞাত ছিল বলে বোধহয়।রামরায় শ্রীরূপকে সেই সম্বন্ধে প্রশ্ন করেছেন, আর শ্রীরূপ সবিনয়ে তার উত্তর দিচ্ছেন।যেখানে স্বয়ং অদ্বৈতাচার্য‍্য, সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য উপস্থিত, সেখানে রামানন্দ কেন প্রশ্ন করবার দায়িত্ব গ্রহণ করলেন,এটি প্রণিধানযোগ্য।বস্তুতঃ রসের বিচারে জগন্নাথবল্লভ নাটক-রচয়িতা রাম রায়ই যে সর্বাপেক্ষা যোগ্য,এটি মহাপ্রভু নিশ্চয়ই জানতেন এবং সভার সকলেরও যে ইহা অনুমোদিত নহে,এরকম অনুমান করা যেতে পারে।শ্রীরূপগোস্বামীর উক্তিতে এই সত‍্যটি উদঘাটিত হয়েছে।*
*🌷রায় কহে তোমার কবিত্ব অমৃতের ধার।*
*🌷দ্বিতীয় নাটকের কহ নান্দী ব‍্যবহার।।*
*🌷রূপ কহে কাঁহা তুমি সূর্য‍্যোপম ভাস।*
*🌷মুঞি কোন্ ক্ষুদ্র যেন খদ‍্যোত প্রকাশ।।*
*🌹এই বিনয় প্রকাশ শ্রীরূপের পক্ষে যে অত‍্যন্ত শোভন হয়েছিল,এই তো বৈষ্ণবত্ব।কারণ, জগন্নাথ-বল্লভ নাটকের একমাত্র সমসাময়িক তুলনাস্থল বিদগ্ধমাধব ও ললিতমাধব। শ্রীকৃষ্ণলীলা নিয়ে শ্রীজয়দেব গীতগোবিন্দ প্রণয়ন করেছিলেন, কিন্তু সেটি নাটক নহে, কাব‍্য।শ্রীরূপগোস্বামীর নাটকদুটি শ্রীচৈতন‍্যের অন্ত‍্যলীলায় উল্লিখিত হলেও ললিতমাধব সম্পূর্ণ হতে আরও কিছু সময় লেগেছিল।বিদগ্ধমাধব সম্পূর্ণ হয় ১৫৩২ এবং ললিলমাধব ১৫৩৭ খৃঃঅব্দে। সুতরাং জগন্নাথবল্লভ নাটক যে তার বহু আগে লিখিত হয়েছিল এবং শ্রীচৈতন‍্যের অপ্রকটের পূর্বেই যে তাঁর পান্ডিত‍্য ও যশঃ পন্ডিত-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, এইমাত্র অনুমান করা যায়।*
*জগন্নাথবল্লভে সূত্রধার বলছেন যে, তিনি এমন একটি প্রবন্ধ প্রণয়ন করতে আদিষ্ট হয়েছেন যা সম্পূর্ণ অভিনব অর্থ‍্যাৎ যাতে অন‍্য কোনও পুরাতন প্রবন্ধের ছায়া না থাকে।*
*🌹অভিনবকৃতিমন‍্যচ্ছায়য়া নো নিবদ্ধং•••••••*
*🍀ইহা হতে স্পষ্ট বুঝা যায় যে,শ্রীরূপগোস্বামীর বিখ‍্যাত নাটক দুয়ের আগেই জগন্নাথবল্লভ রচিত হয়েছিল।শ্রীরূপ ও রামরায়ের কবিতার সমালোচনার জায়গা এটি নয়।তবে নান্দী শ্লোক উভয়ে যে দৈন‍্য প্রকাশ করেছেন,তার ভঙ্গী দেখলে ইঁনাদের ক্রম বুঝা যায়। "জগন্নাথ বল্লভ"=*
*🌷ন ভবতু গুণগন্ধোহপ‍্যত্র নাম প্রবন্ধে,*
*🌷মধুরিপুপদপদ্মোৎকীর্ত্তনং নস্তথাপি।*
*🌷সহৃদয়হৃদয়াস‍্যানন্দসন্দোহহেতু-,*
*🌷নিয়তমিদমতোহয়ং নিষ্ফলো ন প্রয়াসঃ।।*
*🌻এই প্রবন্ধে গুণলেশও না থাকতে পারে,তথাপি শ্রীকৃষ্ণের পাদপদ্ম সম্বন্ধে আমাদের এই কীর্তন সহৃদয় ব‍্যক্তির প্রচুর হৃদয়ানন্দের কারণ হবে অতএব এই প্রয়াস কখনও নিষ্ফল হবে না। (কিন্তু বিদগ্ধ-মাধবে )যথা=*
*🌷অভিব‍্যক্তা মত্তঃ প্রকৃতিলঘুরূপাদপি বুধা,*
*🌷বিধাত্রী সিদ্ধার্থান্ হরিগুণময়ী বঃ কৃতিরিয়ং।*
*🌷পুলিন্দেনাপ‍্যগ্নিঃ কিমু সমিধমুন্মথ‍্য জনিতো,*
*🌷হিরণ‍্যশ্রেণীনামপহরতি নান্তঃ-কলুষতাম্।।*
*🌻হে পন্ডিতগণ! আমি স্বল্প-বুদ্ধি হলেও আমার কবিতা আপনাদের অভিলাষ পূর্ণ সমর্থ হবে ;কেন না,অতি নিকৃষ্ট পুলিন্দ বা শবর কর্তৃক কাষ্ঠঘর্ষণে উৎপন্ন অগ্নি কি কাঞ্চন-সমূহের অন্তর্মালিন‍্য বিনাশ করে না?*
*🍀কবিত্বের দিক দিয়ে তুলনা করলে শ্রীরূপ গোস্বামীকেই শ্রেষ্ঠ আসন দিতে হয়।বস্তুতঃই রূপের তুলনা নাই।বৈষ্ণব-সাহিত‍্যে জগন্নাথ বল্লভের কবি অপেক্ষা রূপগোস্বামী যে বহু গুণ বেশী প্রভাব বিস্তার করেছেন,তা কে না স্বীকার করবে? তবে রূপগোস্বামীর উপর রায় রামানন্দের কাব‍্য কতখানি প্রভাব বিস্তার করেছিল, তা সম‍্যক্ আলোচিত হয় নাই জগন্নাথ বল্লভে রাধা পরকীয়া নায়িকা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 সপ্তম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৭১. দাক্ষিণাত‍্য ভ্রমণ উদ্দেশ্যে 🚩 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭১) 🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
           *দাক্ষিণাত‍্য ভ্রমণ উদ্দেশ্যে*
          👣👣👣👣👣👣👣👣
*শ্রীগৌরহরি সন্ন‍্যাসী।তাঁর আত্মা বিহঙ্গমের মত এখন মুক্তাকাশে বিচরণ করবার জন্য উন্মুক্ত হয়েছে ; তিনি সংসারের সকল বন্ধন ছিন্ন করেছেন।এখন দেশ-দেশান্তরে ভ্রমণ করে নানা তীর্থ দর্শন করবেন, সাধুগণের সঙ্গে মিলিত হয়ে ধর্মপ্রসঙ্গ করবেন ও হরিগুণ কীর্তনে নরনারীকে প্রেমের পথে,পরিত্রাণের পথে আনয়ন করবেন, এই তাঁর সঙ্কল্প।মাঘ মাসের শুক্লপক্ষ তিথিতে শ্রীগৌরাঙ্গদেব সংসারের সকল মায়া মমতায় বিসর্জন দিয়ে,সন্ন‍্যাসব্রত গ্রহণ করেন, এবং সন্ন‍্যাসান্তে ফাল্গুন মাসে নীলাচলে আগমন করেন।চৈত্রমাসে সেখানে অবস্থিতি করে সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যকে নিজ মতে আনয়ন করেন।চৈত্রমাস অন্তে তিনি দক্ষিণ প্রদেশে গমন করবার জন্য উৎসুক হয়ে উঠেন।তিনি ভক্তগণকে বললেন,দেখ,তোমরা আমার প্রাণাপেক্ষাও প্রিয় ; প্রাণ ছাড়া যায়, কিন্তু তোমাদেরকে পরিত‍্যাগ করা যায় না।তোমরা আমাকে এখানে এনে যথার্থই বন্ধুর কাজ করেছ।এখন আমি দক্ষিণ প্রদেশে গমন করবার জন্য বাসনা করেছি।বিশ্বরূপের সন্ধান এটি আমার একটা প্রধান উদ্দেশ্য।আমি একাকীই গমন করব, তোমরা আমাকে অনুমতি প্রদান কর।মহাপ্রভুর কথা শুনে তাঁর ভক্তগণ চিন্তাকুল হয়ে পড়লেন।তাঁদের প্রফুল্ল মুখমন্ডল যেন মেঘাবৃত হয়ে পড়ল।তিনি দুর্গম পথে কিভাবে একাকী বিচরণ করবেন,এই ভাবনাই তাঁদের প্রধান চিন্তার কারণ হয়ে উঠিল। নিত‍্যানন্দ বললেন,"না,তা হবে না " তোমার সঙ্গে দুই-একজন লোক গমন করুক।আমি দক্ষিণপথে পর্য‍্যটন করেছি ; তুমি যদি আজ্ঞা কর,আমি তোমার সঙ্গে গমন করি। শ্রীচৈতন‍্যদেব তাঁর কথা শুনে বললেন, "আমি নর্তক,তুমি সূত্রধার,তুমি যেমন ভাবে আমাকে নাচাও আমি সেই ভাবেই নেচে থাকি।আমি বৃন্দাবন যেতে ইচ্ছে করলাম, তুমি আমাকে শান্তিপুর অদ্বৈতভবনে এনে উপস্থিত করলে।নীলাচলে আসিবার সময় তুমি আমার দন্ড ভেঙ্গে ফেললে।আর এক কথা,তোমাদের গাঢ় স্নেহেতে আমার সন্ন‍্যাসধর্মের ক্ষতি হচ্ছে।জগদানন্দ আমাকে বিষয়-সুখে আবদ্ধ করতে সর্বদাই প্রয়াসী।আমি তার কাজের বিরুদ্ধে কোন কথা বললেই, সে অভিমান করে আমার সঙ্গে তিনদিন কথা বন্ধ করে থাকে।শীতকালেও আমি দিনে তিনবার স্নান করি ও ভূমিতে শয়ন করি দেখে, মুকুন্দ বড়ই দুঃখিত হয় ; অথচ মুখে প্রকাশ করে না।তার দুঃখ দেখে আমারও প্রাণে বড় কষ্ট হয়।তোমরা সকলে নীলাচলে বাস কর, আমি একাকী তীর্থ পর্য‍্যটন করে আসি।মহাপ্রভুর কথা শুনে তাঁর অনুগত ভক্তগণ তাঁকে একাকী তীর্থ পর্য‍্যটনের অসুবিধা হতে প্রতিনিবৃত্ত হবার জন্য অনেক অনুনয় বিনয় করলেন ; কিন্তু তবুও তাঁর সঙ্কল্প অটুট রইল দেখে অবধূত নিত‍্যানন্দ অতি বিনয়ের সঙ্গে তাঁর জীবনের জীবন শ্রীচৈতন‍্যদেবকে বললেন, তোমার আদেশ আমার শিরোধার্য‍্য। কিন্তু আমার একটা নিবেদন আছে,তুমি বিচার করে দেখ,তোমার আঙ্গুলী সদাই হরিনাম জপে নিযুক্ত থাকে। তুমি কখন কখন প্রেমাবেশে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়বে,এই জন্য তোমার কৌপীন বহির্বাস ও জলপাত্র বহন করতে ও তোমাকে রক্ষা করবার জন্যও একজন লোকের আবশ্যক। নিত‍্যানন্দ শ্রীচৈতন‍্যকে এই কথা বলে, তিনি কৃষ্ণদাস নামক একজন ব্রাহ্মণকে তাঁর সঙ্গের সঙ্গী করতে অনুরোধ করে বললেন, কৃষ্ণদাস তোমার সঙ্গে গমন করুক,সে মস্তকে বহন করে কাজ করবে। নিত‍্যানন্দের এত অনুনয় বিনয় শুনে,মহাপ্রভু তাঁর কথায় সম্মতি দান করলে,তাঁরা সকলে মিলে সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যের ভবনে গমন করলেন। ভট্টাচার্য্য মহাশয় তাঁদেরকে যথোচিত সম্মান করে বসতে আসন দিলেন।কিছুক্ষণ কৃষ্ণকথা প্রসঙ্গের পর শ্রীচৈতন‍্যদেব ভট্টাচার্য্যকে বললেন, বিশ্বরূপ সন্ন‍্যাস গ্রহণ করে দক্ষিণাপথে গমন করেছেন,আমি তাঁর অন্বেষণে সেই অঞ্চলে ভ্রমণ করতে সঙ্কল্প করেছি, এখন তোমার অনুমতি প্রার্থনা করছি। সার্বভৌম তাঁর দেশ ভ্রমণের কথা শুনে দুঃখে কাতর হয়ে পড়লেন, এবং তাঁর চরণ ধরে বললেন, আমি বহু পুণ‍্যফলে তোমার সঙ্গলাভ করেছিলাম,হায়! বিধি সে সঙ্গ আমার ভেঙ্গে দিলেন, আমার শিরে যদি বজ্রপাত হয় ও আমার সন্তান মৃত‍্যুমুখে নিপতিত হয়, আমি তাহাও সহ‍্য করতে পারি, কিন্তু তোমার বিচ্ছেদ,তদপেক্ষা আমার পক্ষে অসহনীয়।তবে যদি তুমি নিতান্তই যেতে চাও, তাহলে আর দিন কয়েক এখানে থাক, আমি তোমার শ্রীচরণ দর্শন করে জীবন শীতল করি। শ্রীচৈতন‍্যের হৃদয় স্নিগ্ধ কুসুমসমান কোমলতাত পূর্ণ। তিনি সার্বভৌমের মিষ্ট কথায় ও মধুর ব‍্যবহারে তাঁর অনুরোধ একেবারে অগ্রাহ‍্য করতে পারলেন না। সার্বভৌম ভট্টাচার্যের প্রতি গৌরহরির অচলা ভক্তি ; তাঁকে একটু সুখী করতে পারলে তিনিও নিজেকে আনন্দিত মনে করেন।গৌরসুন্দর তাঁর কথায় স্বীকৃত হয়ে চার-পাঁচদিন পুরীতে থাকলেন এবং সার্বভৌম কর্তৃক নিমন্ত্রিত হয়ে এই কয়েক দিন তাঁরই বাসভবনে আহার করলেন।সার্বভৌমের পত্নী মহাপ্রভুর জন্য বিবিধ ব‍্যঞ্জন রন্ধন করে তাঁকে মনোসুখে ভোজন করালেন।মহাপ্রভুও আহার করে পরম তৃপ্তি লাভ করতেন।*

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ৭২. দাক্ষিণাত‍্য ভ্রমণ উদ্দেশ্য 🚩 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭২) 🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
         *দাক্ষিণাত‍্য ভ্রমণ উদ্দেশ্য*
         👥👥👥👥👥👥👥👥
*🍁নির্দ্ধারিত দিন ফুরিয়ে গেল।শ্রীচৈতন‍্যদেব আর বিলম্ব করতে পারলেন না। সার্বভৌমের কাছে দক্ষিণাপথ যাবার প্রস্তাব করে অনুমতি পেলেন।পর্য‍্যটনের আগে মহাপ্রভুও তাঁর ভক্তগণসহ শ্রীজগন্নাথ দেবের মন্দিরে গমন করে, তাঁর আশীর্বাদ ও অনুমতি প্রার্থনা করলেন। পূজারী এই অতুল সৌন্দর্য্যপূর্ণ নবীন সন্ন‍্যাসীর গলে মালা পরিয়ে,তাঁকে প্রসাদান্ন প্রদান করলেন।গৌরসুন্দর শ্রীজগন্নাথদেবের অনুগ্রহ ও সকলের শুভ প্রার্থনা মস্তকে ধারণ করে দক্ষিণ দেশে যাত্রার জন্য প্রস্তুত হলেন।*
*🍀সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য,চৈতন‍্যদেবের জন্য চারটা নতূন কৌপীন ও চারটা বহির্বাস প্রস্তুত করাইয়ে রেখেছিলেন ; গোপীনাথ তা নিয়ে আলালনাথ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে গমন করলেন।যাবার সময় বাসুদেব ভট্টাচার্য্য মহাপ্রভুকে বললেন, গোদাবরী (দাক্ষিণাত‍্যের মধ্যে প্রসিদ্ধা নদী, সেটি ব্রহ্মগিরি পর্বত হতে উৎপন্ন হয়েছে)।তীরে বিদ‍্যানগরে রামানন্দ রায় নামে একজন বৈষ্ণব আছেন ; ঐশ্বর্য‍্যের মধ্যে বসবাস করলেও এমন সুপন্ডিত ও ভগবদ্ভক্ত খুবই কম দৃষ্টি গোচর হয়।তুমি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।বিষয়ী বা শূদ্র বলে তাঁকে উপেক্ষা করবে না।তাঁর সহিত ধর্মপ্রসঙ্গ করলেই তুমি বুঝতে পারবে।তিনি কি রকম পরমভক্ত। এমন কৃষ্ণপ্রেমানুরাগী,সুরসিক ভক্তকে আমি পূর্বে ভাল করে বুঝতে না পেরে তাঁকে বৈষ্ণব বলে উপহাস করতাম, এখন তোমার কৃপায় বৈষ্ণবধর্মের মর্ম বুঝতে পেরেছি।গৌরহরি সার্বভৌমের কথা পালন করতে অঙ্গীকার করে, ভট্টাচার্য্যকে প্রেমভরে গাঢ় আলিঙ্গন করে দক্ষিণদেশে যাত্রা করলেন।*
*☘নিত‍্যানন্দ প্রভৃতি কয়েকজন অনুগত ভক্ত তাঁর অনুগমন করলেন।এদিকে সার্বভৌমের অন্তরে মহাপ্রভুর বিচ্ছেদ-যন্ত্রণা এতই প্রবলতর হয়ে উঠিল যে,তিনি আর স্থির থাকতে না পেরে, ভূতলে পড়ে অচেতন হলেন।যাত্রীদল বিশাল বারিধির উপকূল দিয়ে চলতে লাগলেন।যেতে যেতে তাঁরা আলালনাথে উপস্থিত হলেন।মহাপ্রভু আলালনাথের সামনে উপস্থিত হয়ে ভক্তিভরে তাঁকে প্রণাম করলেন, এবং নিজের স্বভাবসিদ্ধ প্রকৃতি অনুসারে নৃত্য করতে লাগলেন।হরিনামের মধুর ধ্বনিতে সকলের কানে যেন সুধা বর্ষিত হতে লাগল। শ্রীমন্মহাপ্রভুর রূপলাবণ‍্য, তরুণযৌবনে কঠোর বৈরাগ‍্য ও ভগবানের প্রতি অলৌকিক প্রীতি দেখে লোকে দলে দলে আলালনাথ দেবমন্দির সম্মুখে এসে উপস্থিত হ'ল।*
*🌹চারিদিকে লোকে পরিপূর্ণ হয়ে গেল।গৌরহরি হৃদয়ের ভগবৎ-প্রেম তড়িৎপ্রবাহের মত সকলকে হরিপ্রেমে উন্মত্ত করে তুললেন।বহুজনাকীর্ণ লোকমন্ডলীর মধ‍্য হতে আকাশভেদী হরিধ্বনি উত্থিত হতে লাগল।মধ‍্যাহ্ন সূর্য‍্য ক্রমে পশ্চিমদিকে হেলে পড়লেন, কিন্তু তবুও জনতার হ্রাস হল না।গৌরহরির অশ্রু-কম্প-পুলক মিশ্রিত ভাব দেখে, সকলেই বিমুগ্ধ।হরিনামের পীযূষ(সুধা) পানে সকলেই আত্মহারা।সমবেত নরনারীর সে জায়গা পরিত‍্যাগ করবার ক্ষমতা ছিল না।নিত‍্যানন্দ সেই আনন্দ কোলাহলপূর্ণ প্রেমের হাট দেখে ভক্তগণকে সম্বোধন করে বললেন, ভাই সব,হরিনামের মধুর হিল্লোলে চারিদিকে প্রবাহিত হবে,গ্রামে গ্রামে নরনারী এই হরিসংকীর্তনে মেতে উঠবে।*
*নিত‍্যানন্দ দেখলেন,গৌরহরি যে হরিনামে মত্ত হয়েছেন,তাঁকে ধরে নিয়ে আহার না করালে দিন অবসান হলেও তাঁর নৃত্য থামবে না।হরিনামে উন্মত্ত ভক্তগণও এস্থান ত‍্যাগ করবে না।তিনি গৌরসুন্দরকে ভোজন করাবার জন্য সেখান হতে তাঁকে নিয়ে গেলেন। কিন্তু বহুসংখ‍্যক ভক্ত,অলিকুলের মত,তাঁর পশ্চাদবর্তী হল।নিত‍্যানন্দ তাঁকে একটু নিভৃত স্থানে নিয়ে গিয়ে ভোজন করালেন।মহাপ্রভুর ভোজনান্তে ভক্তেরাও নিজেদের জীবনকে কৃতার্থ করবার জন্য তাঁর ভোজন পাত্রের অবশিষ্ট খাদ‍্যদ্রব‍্য কিছু কিছু অংশ সেবা করলেন।আহারান্তে নিত‍্যানন্দ তাঁকে নিয়ে মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করলেন, এবং লোকসংঘ হতে কিছু সময় মহাপ্রভুকে বিশ্রাম করাবার জন্য, মন্দিরের দ্বার রুদ্ধ করে দিলেন।দ্বার রুদ্ধ হল বটে, কিন্তু হাজার হাজার লোক দেবমন্দিরের বাইরে দাঁড়িয়ে হরিনামের ধ্বনিতে চারিদিক নিনাদিত করতে লাগল। শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের আলালনাথ দেবমন্দিরে আগমন ও তাঁর অপূর্ব ভক্তি লীলার কথা,মুখে মুখে সর্বত্র বর্ণিত হয়ে,গ্রাম-গ্রামান্তরেও প্রবেশ করেছিল।মানবজীবনের এমন শান্তিপথ-প্রদর্শক, এমন মুক্তিপথের সহায়কে দর্শন করে জীবন কৃতার্থ করবার জন্য দলে দলে লোক আসতে লাগল।গৌরহরি আজ আনন্দে ভরপুর।মহাপ্রভু রুদ্ধ দ্বার উন্মুক্ত করতে বললেন।দ্বার খোলা হলে, চৈতন‍্য-দর্শনাভিলাষী নরনারী তাঁর দর্শন লাভ করে মহোল্লাসে হরিধ্বনি করতে লাগল।গৌরসুন্দরও আবার পূর্ববৎ নৃত্য ও কীর্তন করতে লাগলেন।আলালনাথের মন্দির আজ এক জীবন্ত দেবতার আবির্ভাবে উৎসবময় হয়ে উঠেছে। হাজার হাজার লোক শ্রীচৈতন‍্যের পদানুসরণ করে তাঁর প্রদর্শিত বৈষ্ণবধর্মের পথ অবলম্বন করিল।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৩) 🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
            *রামানন্দ রায় সম্মিলন*
                 *অতি সংক্ষেপে*
            <><><><><><>>>>><><>
*🌻রজনী প্রভাত হয়ে গেল।গৌরসুন্দর স্নান করে দক্ষিণপথ পর্য‍্যটনের জন্য আলালনাথ হতে যাত্রা করলেন।বিদায়কালে তিনি প্রেমভরে ভক্তগণকে আলিঙ্গন করলেন। কিন্তু প্রেমময় গৌরহরির বিচ্ছেদ ভক্তদের এতই অসহনীয় হয়ে পড়িল যে,তাঁরা আর স্থির থাকতে না পেরে,সংজ্ঞাহীন হয়ে ভূতলে পড়ে গেলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব সকল মায়ার অতীত হয়েছেন,তাঁর সকল বন্ধন ছিন্ন হয়ে গেছে ; তিনি যাত্রাকালে কারও জন্য পেছনদিকে একবারও তাকিয়ে দেখলেন না।অতুল অনুরাগভরে কৃষ্ণগুণ কীর্তন করতে করতে চলতে লাগলেন।পথিমধ‍্যে তাঁর কন্ঠ হতে, সুধাবর্ষী হরিনামের ধ্বনি শুনে,শত শত লোক তাঁর পশ্চাদনুবর্তী হয়ে তাঁর সঙ্গে সুধামাখা নামকীর্তন করতে লাগল।বহুলোক তাঁর অনুসরণ করলে,তিনি কিছুদূর গমন করার পর সকলকে আলিঙ্গন করে,গৃহে ফিরে যেতে বললেন।লোকে সে পবিত্র হরিরসপূর্ণ দেহের আলিঙ্গন লাভ করে, হরিপ্রেমে আপ্লুত হয়ে পড়ল, সকলের দেহ-মনে এক অপার্থিব তেজোময় শক্তির সঞ্চার হতে লাগল, সকলেই শ্রীচৈতন‍্যের অভিনব ভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে হরিধ্বনি করতে করতে গৃহে গমন করতে লাগলেন।তাঁদের কন্ঠনিঃসৃত হরিধ্বনি শুনে,অন‍্যেরাও সেই সুধামাখা শ্রীনাম উচ্চারণ করতে লাগল।এইভাবে গ্রাম হতে গ্রামান্তরে শ্রীনামের পবিত্র ও মধুর হিল্লোলে সকলের হৃদয় শীতল হতে লাগিল। দক্ষিণাপথের হাজার হাজার নরনারী হরিভক্ত হয়ে উঠিল।শ্রীচৈতন‍্য ক্রমে সেতুবন্ধে,(একে রামেশ্বর সেতুবন্ধ বলে।এটি একটি সুবিখ‍্যাত দ্বীপ)।এসে উপস্থিত হলেন, এবং সেখান হতে তিনি কূর্ম্ম নামক স্থানে গমন করলেন।এখানে কূর্ম্মাবতারের মন্দির আছে।শ্রীচৈতন‍্য কূর্ম্মদেবের গমন করে যথারীতি তাঁর স্তবস্তুতি করলেন, এবং নিজের প্রকৃতি অনুসারে নৃত‍্য গীতাদি বহু সময় করলেন।যারা তাঁর মোহন মূর্তি ও হরিপ্রেমের অপূর্ব দর্শন করিল,তারাই বিমুগ্ধ হয়ে গেল। তাঁর হরিপ্রেমানুরাগের কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।গ্রামবাসীরা দলে দলে এমন মোহনমূরতি নবীন সন্ন‍্যাসীর দর্শন লালসায়,দেবমন্দিরের কাছে এসে উপস্থিত হল।প্রেমের স্রোত বহিতে লাগল--, এবং শত শত লোক সে মধুর স্রোতে নিজেদের অঙ্গ ভাসিয়ে দিল।*
*তাই শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী তাঁর অমর গ্রন্থ শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে লিখেছেন=*
*🌷আশ্চর্য‍্য শুনি সব লোক আইল দেখিবারে।*
*🌷প্রভু রূপ প্রেম দেখি হৈল চমৎকারে।।*
*🌷দর্শনে বৈষ্ণব হৈলা বলে কৃষ্ণ হরি।*
*🌷প্রেমাবেশে নাচে লোক উর্দ্ধবাহু করি।।*
*🌷কৃষ্ণনাম লোক মুখে শুনি অবিরাম।*
*🌷সেই লোক বৈষ্ণব কৈল অন‍্য সব গ্রাম।।*
*🌷এই মত পরম্পরায় দেশ বৈষ্ণব হৈল।*
*🌷কৃষ্ণনামামৃত বন‍্যায় দেশ ভাসাইল।।*
*🌻এই কূর্ম্মস্থানে কূর্ম্ম নামক এক বৈদিক ব্রাহ্মণ বাস করতেন।তিনি মহাপ্রভুর চিত্তহারী শক্তির কথা শুনে, তাঁকে আপন আলয়ে আনিবার জন্য তাঁর কাছে উপস্থিত হলেন, এবং করযোড়ে, নিজ অভিপ্রায় নিবেদন করিলেন।শ্রীচৈতন‍্য তাঁর ব‍্যাকুলতা ও নিষ্ঠার পরিচয় পেয়ে ব্রাহ্মণের প্রার্থনা অনুসারে তাঁর বাসভবনে গমন করলেন।কূর্ম্ম এবং তাঁর পরিবারের সকলে গৌরহরির আগমনে পরম কৃতার্থ বোধ করলেন।কূর্ম্ম তাঁর শ্রীচরণ ধৌত করে দিলেন, এবং তিনি ও তাঁর পরিবারবর্গ সকলে মিলে সেই চরণামৃত পান করলেন।পাদ প্রক্ষালন করিবার পর গৃহস্বামী তাঁর ভোজনের আয়োজন করে, অতি বিনীতভাবে তাঁকে ভোজন করতে অনুরোধ করিলে, মহাপ্রভু সম্মত হয়ে, কূর্ম্মের বাড়ীতে সেদিন ভোজন করলেন।ভোজনান্তে তাঁর প্রসাদান্ন সকলে পেয়ে পরম তৃপ্তি লাভ করলেন। কূর্ম্ম মনে করতে লাগলেন যে, তিনি ঘরে বসে আজ স্বর্গের দেবতাকে দর্শন করলেন, এবং তাঁর পরিবারের সকলেই বহু পুণ‍্যফলে আজ সে দেবতার দর্শন লাভে জীবন সফল করিল।কূর্ম্ম অবশেষে হৃদয়ের আবেগ সংবরণ করতে না পেরে,শ্রীচৈতন‍্যদেবকে বলতে লাগলেন,প্রভো! তোমার পাদপদ্ম দর্শনের জন্য ব্রহ্মাদির মত দেবগণও তপস‍্যা করে থাকেন,আজ তুমি স্বয়ং আমার মত ব‍্যক্তির ঘরে আগমন করলে, তোমার শ্রীচরণ দর্শন ও স্পর্শ করলাম। এর তুল‍্য আমার উচ্চভাগ‍্য আর কি হতে পারে? আজ আমার মানব জন্ম ধন‍্য হল, আমার কুল কৃতার্থ হল।প্রভো!তুমি যদি কৃপা কর, আমি তোমার সঙ্গের সাথী হই, বিষয়ের দুঃখ আর ভোগ করতে ইচ্ছে হয় না। কূর্ম্ম সংসার পরিত‍্যাগ করে সঙ্গের সাথী হবার বাসনা নিবেদন করিলে, মহাপ্রভু তাঁকে সংসার ত‍্যাগ করতে নিষেধ করে বললেন, তুমি ঘরে বসে কৃষ্ণনাম কর, ঘরে বসেই তুমি সে ধন লাভ করবে। হ‍্যাঁ, আর যাকে দেখবে তাকেই শ্রীকৃষ্ণের কথা বলে উপদেশ দিবে। আমার আদেশ তুমি গুরুর ন‍্যায় এদেশে শ্রীকৃষ্ণের মধুময় নামকীর্তন করে,দেশের লোকের উদ্ধার সাধন কর।সংসার তোমার কাজের প্রতিকূলাচরণ করতে সমর্থ হবে না।মহাপ্রভু বৈদিক ব্রাহ্মণ কূর্ম্মের গৃহে সেদিন যাপন করে,পরদিন প্রভাতে পর্য‍্যটনের জন্য যাত্রা করলেন।কূর্ম্মও তাঁর সঙ্গে গমন করতে লাগলেন। কিন্তু কিছুদূর গমন করলে,মহাপ্রভুর আদেশে তিনি গৃহে ফিরে এলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৪)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
                *রামানন্দ সম্মিলন*
                    *অতি সংক্ষেপে*
              ▪▪▪▪▪▪▪
*🍀ঐ অঞ্চলে বাসুদেব নামে জনৈক ব্রাহ্মণ কুষ্ঠরোগগ্রস্ত হয়ে অতি কষ্টে জীবন যাপন করছিলেন।তাঁর শরীরের ক্ষতস্থান সব কীটাণুতে পূর্ণ হয়ে থাকত।বাসুদেব যখন শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের আগমনবার্তা শুনলেন,তখন তিনি তাঁর দর্শন লালসায়, কূর্ম্মের গৃহাভিমুখে গমন করলেন ; কিন্তু কূর্ম্মভবনে উপস্থিত হয়ে যখন শুনলেন যে, মহাপ্রভু চলে গিয়েছেন, তখন তিনি শোকে ও দুঃখে অধীর হয়ে,বিলাপ করতে করতে হতচেতন হয়ে পড়লেন।এদিকে দয়ার্দ্রচিত্ত করুণার অবতার শ্রীচৈতন‍্যদেব যেতে যেতে কুষ্ঠরোগগ্রস্ত বাসুদেবের কাতরোক্তি হৃদয়ে অনুভব করে, পুনরায় কূর্ম্মস্থানে কূর্ম্মগৃহে আগমন করে বাসুদেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে প্রেমভরে আলিঙ্গন করলেন ; করুণাময় মহাপ্রভুর প্রেমালিঙ্গনে বাসুদেবের ব‍্যাধি আরোগ‍্য হয়ে গেল।তাঁর রোগগ্রস্ত কুৎসিত অঙ্গ সুন্দর হয়ে উঠিল। বাসুদেব তাঁর অলৌকিক শক্তি দেখে, বললেন,প্রভো!এ শক্তি একমাত্র তোমাতেই সম্ভব। কিন্তু প্রভো! আমার দেহ এমন সুন্দর হল বলে মনে অহংকার জন্মিতে পারে ;আমি যখন কীটদষ্ট হয়ে রোগভোগ করছিলাম,তখন আমি নিজেকে অধম বলে মনে করতাম ; আমার আত্মার কল‍্যাণের পক্ষে তাইই শ্রেয়স্কর ছিল।মহাপ্রভু বুঝলেন, বাসুদেব সত‍্যই পরমভক্ত ;তিনি তাই বললেন, তুমি সদাসর্বদা শ্রীকৃষ্ণের নামকীর্তন কর, ও সব লোকের মধ্যে শ্রীনাম প্রচার কর। অভিমান তোমাতে স্থান পাবে না।এই বলে মহাপ্রভু সেখান হতে চলে গেলেন। কূর্ম্ম ও বাসুদেব পরস্পর কন্ঠালিঙ্গন করে উভয়ে মহাপ্রভুর প্রেমলীলা স্মরণ করতঃ অশ্রু ফেলতে লাগলেন।*
*🍁কূর্ম্মস্থানে হরিনামের প্লাবনে সকলকে প্লাবিত করে শ্রীচৈতন‍্যদেব পরদিন সেখান হতে যাত্রা করলেন। প্রাকৃতিক শোভা ও সৌন্দর্যের মধ‍্য দিয়ে হরিগুণ কীর্তন করতে করতে, তিনি কয়েকদিন পরে গোদাবরী তীরে এসে উপস্থিত হলেন।গোদাবরী তীরের সুরম‍্য বনরাজি ও নদীর নির্মল জল দেখে,তাঁর মনে বৃন্দাবনের ভাবে ভাবিত হলেন।নির্মল সলিলা গোদাবরী যমুনা ও তার তীরের ঘন পল্লব আবৃত বৃক্ষগুলি বৃন্দাবনের বন বলে তাঁর প্রতীয়মান (অনুভূত)হ'ল। তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না, বনের মধ্যে প্রবেশ করে,কিছুক্ষণ নৃত্য গীতাদি করলেন, এবং পরে স্নান করে ঘাটের অনতিদূরে বসে নামকীর্তনে রত হলেন।এই জায়গার নাম বিদ‍্যানগর।তিনি কীর্তনানন্দে মত্ত রয়েছেন, এমন সময়ে দেখলেন,এক ব‍্যক্তি বহুজন পরিবেষ্টিত হয়ে দোলায় চেপে নদীর দিকে চলে আসছেন, তাঁর সঙ্গে বাদকেরা বাদ‍্য বাজাচ্ছে ও বৈদিক ব্রাহ্মণগণ বেদমন্ত্র উচ্চারণ করতে করতে আগমন করছেন।শ্রীচৈতন‍্য দোলায় আরোহণকারীকে দেখে মনে করলেন, ইনিই কি সেই রায় রামানন্দ!ইঁনার বিষয়ই কি সার্বভৌম আমাকে বলেছেন?এদিকে রামানন্দ রায় লোকজনসহ স্নানঘাটের কাছে এসে দোলা থেকে নেমে দেখলেন, এক অপূর্ব রূপলাবণ‍্যময় নবীন সন্ন‍্যাসী নদীতীরে বসে রয়েছেন, তাঁর রূপে যেন চারিদিক আলোকিত হচ্ছে।তাঁর বদনমন্ডল হতে যেন এক অপার্থিব স্বর্গীয় জ‍্যোতিঃ বিনির্গত বা বাহির হচ্ছে। পরম কৃষ্ণভক্ত রামরায়, সন্ন‍্যাসীর শ্রীচরণে ভক্তিভরে প্রণাম করলেন। শ্রীচৈতন‍্যদেব তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন,আপনিই কিসরামানন্দ রায়?রামানন্দ মহাপ্রভুর কথার উত্তরে অতি বিনীতভাবে বললেন, "আমিই সেই অধম শূদ্রই সত‍্য"।মহাপ্রভু তখন নিজের বাহু প্রসারণ করে তাঁকে প্রেমভরে আলিঙ্গন করলেন।উভয়ের হৃদয়ে প্রেমতরঙ্গ উত্থিত হল। উভয়েই ভক্তির আবেশে অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন।রাজা রামরায় সমভিব‍্যাহারে ব্রাহ্মণেরা,উভয়ের ভাব দেখে অবাক হয়ে গেলেন।তাঁরা বলাবলি করতে লাগলেন,এ সন্ন‍্যাসীর মধ্যে ব্রহ্মতেজ প্রকাশ পাচ্ছে ; আমাদের রাজা শূদ্র, ইনি সন্ন‍্যাসীকে আলিঙ্গন করে কেনই বা ক্রন্দন করছেন ; আর আমাদের রাজা মহাপন্ডিত, ইনিই বা কেন, এ সন্ন‍্যাসীর কন্ঠালিঙ্গন করে কাঁদছেন?রাজা রামানন্দের সমভিব‍্যাহারে লোকদের কাছে এ দৃশ্য এক অভিনব ঘটনা বলেই বোধ হতে লাগিল।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙏🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৫)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
              *রামানন্দ রায় সম্মিলন*
                   *অতি সংক্ষেপে*
             ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌻কিছু সময় পরে উভয়ে স্থির হয়ে বসিলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব,রামরায়কে বললেন, "সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য আমাকে আপনার অনুপম চরিত্রের কথা বলেছিলেন, আমি আপনাকে দেখবার জন্যই এখানে আগমন করেছি। আমার এখানে আসা সার্থক হ'ল"।রামরায়, চৈতন‍্যদেবের কথা শুনে বিনম্র বচনে বললেন, সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য এ দাসের প্রতি কৃপা করে আমার পরিত্রাণের জন্যই আপনাকে এখানে প্রেরণ করেছেন ; আমার মত অধম আপনার শ্রীচরণ দর্শনে মানবজীবন ধারণ আজ সফল হ'ল। আমার পূর্ণ ধারণা আপনি নরদেহধারী নারায়ণ ; আমি রাজসেবী বিষয়ী, আপনি এ অধমের উদ্ধারের জন্যই এখানে আগমন করেছেন ; সত‍্যি আপনি দয়ার অবতার। যে শত শত লোক আমার সঙ্গে আজ আগমন করেছে, তাদের সকলের হৃদয় আপনার দর্শনে দ্রবীভূত হয়েছে ; দেখলাম আপনার রূপমাধুর্য‍্য দর্শন করে,সকলের নয়ন হতে বারিধারা বহিছে, সকলেরই মুখ হতে শ্রীকৃষ্ণের মধুর নাম উচ্চারিত হচ্ছে। শ্রীচৈতন‍্য বললেন, "আপনার অঙ্গ স্পর্শে আজ আমার হৃদয়ও কৃষ্ণপ্রেমে ভাসছে ; সত‍্যই আমার মনে হয়েছে আপনি মহাভাগবত। উভয়ে এরকম কথোপকথন করছেন, এমন সময়ে এক ব্রাহ্মণ এসে উপস্থিত হলেন ; এবং শ্রীচৈতন‍্যদেবকে নিজের বাড়ীতে নিমন্ত্রণ করলেন, সেই ব্রাহ্মণও একজন পরম ভক্তবৈষ্ণব। চৈতন‍্যদেব তাঁর বাড়ীতে ভিক্ষা গ্রহণে প্রস্তুত হয়ে, রামরায়কে বললেন, স্বল্পসময় আপনার সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম, আপনি পরম বৈষ্ণব, আপনার মুখে কৃষ্ণকথা শুনতে আমার বড়ই ভাল লাগল, পুনরায় যেন আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। রামরায় বললেন, যদি এই অধমকে তরাইবার সাধ থাকে,তাহলে আরো বেশ কয়েকদিন এখানে অপেক্ষা করুন। এইকথা বলে রামরায় স্নান ও তর্পণাদি কার্য‍্য সমাধা করে লোকজন পরিবেষ্টিত হয়ে,বাদ‍্যধ্বনি সহকারে গৃহে প্রত‍্যাগমন করলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেবও ব্রাহ্মণের বাড়ীতে ভিক্ষা গ্রহণের জন্য গমন করলেন।*
*👑রামানন্দ রায় বিদ‍্যানগরের শাসনকর্তা।ইঁনার উপাধি রাজা।ইনি বিষয়-কার্য‍্যে লিপ্ত থেকেও জীবনে কৃষ্ণভক্তির পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করতেন।সন্ধ‍্যা সমাগত হলে,রামরায় ভগবৎ-কথায় সময় অতিবাহিত করবার জন্য শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেবের কাছে উপস্থিত হয়ে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেবও তাঁকে আলিঙ্গন দান করলেন।তারপর উভয়ে একটি নির্জন স্থানে গিয়ে বসে ভগবৎ প্রসঙ্গে রত হলেন।*
*🌺শ্রীচৈতন‍্য রামরায়কে সাধন সম্বন্ধে কিছু বলতে বলিলে, রামরায় বললেন, "বিষ্ণুভক্তিই পরম সার"।*
*🌺শ্রীচৈতন‍্য বললেন, এটি বাইরের কথা, এর পর কি আছে বল।*
*🌺রামানন্দ বললেন, শ্রীকৃষ্ণে সব কর্ম সমর্পণই সাধনার সার। শ্রীমদ্ভগবতগীতায় শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন,আহার,দান,তপ, যা কিছুই করবে,সবই আমাতে অর্পণ করবে।*
*🌺মহাপ্রভু বললেন,এটিও বাইরের কথা, এর পর কি আছে বল।*
*🌺রামানন্দ=স্বধর্ম পরিত‍্যাগ করাই সাধনার সার।শ্রীমদ্ভাগবতে শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, যে ব‍্যক্তি বেদবিহিত আচার পরিহার করে আমাকে ভজনা করে, সেই ব‍্যক্তি প্রকৃত পথ পেয়ে থাকেন।ভগবতগীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, স্বধর্ম পরিত‍্যাগ করে যে ব‍্যক্তি আমার শরণাপন্ন হয়,সে সব পাপ হতে মুক্তি লাভ করে।*
*🌺শ্রীচৈতন‍্য= এটিও বাইরের কথা, এর পর কি আছে বল?*
*🌺রামানন্দ=জ্ঞানমিশ্রা ভক্তিই সাধনা সার।গীতায় আছে,সমদর্শী প্রসন্নচিত্ত ব্রতনিষ্ঠ ব‍্যক্তি আমাতে পরাভক্তি লাভ করে।*
*🌺শ্রীচৈতন‍্যদেব= ইহাও বাহিরের কথা, আগে কি আছে বল?*
*🌺রামানন্দ=জ্ঞানশূন‍্যা ভক্তিই সর্বসাধ‍্যসার*।
*🌺শ্রীচৈতন‍্য=এহ বাহ‍্য, আগে কহ আর।*
*🌺রামানন্দ=প্রেমভক্তিই সকলের সার।*
*🌺মহাপ্রভু=এটি সত‍্য বটে, তবে আগে বল আর।*
*🌺রামরায়=দাস‍্য প্রেম উৎকৃষ্ট। ভাগবতে দুর্বাসামুনি অম্বরীষকে বলেছেন,যাঁর নাম শ্রবণমাত্র জীবের পরিত্রাণ হয়,তাঁর দাসেদের আর অবশিষ্ট কি আছে?*
*🌺মহাপ্রভু=বেশ ভাল, তবে আগে আরও কিছু বল।*
*🌺রামানন্দ=সখ‍্যপ্রেম সকল ধর্মের সার।*
*🌺গৌরসুন্দর=সত‍্য কথা, তবে আগে কিছু আর শুনাও।*
*🌺রামরায়=বাৎসল‍্য প্রেম ••••••••,*
*🌺শ্রীচৈতন‍্যদেব=এটিও উত্তম,এর বাইরেও যদি কিছু থাকে বল।*
*🌺রায় রামানন্দ=কান্তভাব প্রেম সাধনার সর্বসাধ‍্যসার। এটি পরম মাধুর্য‍্য রস।শান্ত,দাস‍্য, সখ‍্য ও বাৎসল‍্যের মধ্যে সকল রসেরই সমাবেশ আছে, কিন্তু •••••••••••, শ্রীকৃষ্ণ গোপীদের বলেছেন, যারা আমার প্রতি ভক্তি অর্পণ করেছে,তারা অমৃতত্ব লাভ করেছে।*
*🌺শ্রীগৌরহরি=এটি সাধনার সুন্দর কথা, তবে আর কি কিছু বলা যেতে পারে?*
*🌺রামানন্দ বললেন,এর পর সাধনার বিষয় জানতে চাই,আমি এমন লোক তো এ সংসারে দেখি নাই।তবে রাধাপ্রেমই সর্বশ্রেষ্ঠ।তিনি রাধাপ্রেমের নিগূঢ় তত্ত্বের কথা বলিলে, শ্রীচৈতন‍্যদেব অত‍্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করে বললেন, এই বিদ‍্যানগরে আসা আমার সার্থক হল।*
*🌻সেদিন এরকমে রামরায়ের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের সমস্ত রজনীই ভক্তিবিষয়ক প্রসঙ্গে অতিবাহিত হল। গৌরহরি, রামরায়ের মুখে রাধাতত্ত্ব,কৃষ্ণতত্ত্ব ও ভক্তির উচ্চ অঙ্গের কথা শুনে অত‍্যন্ত প্রীত হয়ে, প্রেমভরে রামানন্দকে আলিঙ্গন করলেন।উষাকালে রামরায় বিদায়কালে শ্রীগৌরাঙ্গকে বললেন, যদি কৃপা করে এখানে পাতকীর উদ্ধারের জন্য এসেছ, তবে আরও দশদিন অপেক্ষা করলে মনোআশা পূর্ণ হবে।তখন মহাপ্রভু বললেন, তোমার জন্য দশদিন কি, এ জীবন পর্যন্ত সমর্পণ করতে পারি। এইরকম কথাবার্তার পর রামরায় গৌরহরির নিকট হতে বিদায় নিয়ে নিজ ভবনের দিকে চলিলেন।*
*সমস্ত দিন অতিবাহিত হল,সন্ধ‍্যাকাল অতীত হলে,রামরায় পুনরায় গৌরহরির কাছে এসে উপস্থিত হলেন। পূর্বের দিন মত ধর্মপ্রসঙ্গ আরম্ভ হল।গৌরহরি রামরায়কে জিজ্ঞাসা করলেন, বিদ‍্যার মধ্যে কোন্ বিদ‍্যা সার?*
*🌺রামানন্দ=কৃষ্ণভক্তির সম আর বিদ‍্যা নাই।*
*🌺শ্রীচৈতন‍্যদেব= কোন কীর্তি শ্রেষ্ঠ?*
*🌺রামরায়=শ্রীকৃষ্ণের প্রেমিক বলে যাঁরা খ‍্যাত, তাঁদের কীর্তি সর্বশ্রেষ্ঠ।*
*🌺মহাপ্রভু=সম্পত্তির মধ্যে কোন সম্পত্তি শ্রেষ্ঠ?*
*🌺রামরায়=যাঁর শ্রীকৃষ্ণে প্রেম আছে,তিনিই শ্রেষ্ঠ সম্পত্তিশালী।*
*🌺গৌরহরি=দুঃখের মধ্যে প্রধান দুঃখ কি?*
*🌺রামানন্দ=কৃষ্ণভক্তি বিহনে মানবের আর দুঃখ নাই।*
*🌺শ্রীগৌরাঙ্গ=কোন জীবকে মুক্ত বলা যায়?*
*🌺রামরায়=যাঁর কৃষ্ণপ্রেমে সাধনা হয়েছে,সেই মুক্ত।*
*🌺মহাপ্রভু=সঙ্গীতের মধ্যে কোন সঙ্গীত শ্রেষ্ঠ?*
*🌺রায় রামানন্দ=যে সঙ্গীতে শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেমকেলি আছে।*
*🌺শ্রীচৈতন‍্যদেব=শ্রেয়ের মধ্যে কোন শ্রেয় জীবের সার?*
*🌺কৃষ্ণভক্ত সঙ্গ বিনা আর শ্রেয়ঃ নাই।*
*🌺মহাপ্রভু=মানব সর্বদা কার স্মরণ নেয়?*
*🌺রামরায়=কৃষ্ণনাম গুণ লীলা।*
*🌺গৌরহরি=ধ‍্যেয়ের মধ্যে মানবের কোন বস্তু প্রধান ধ‍্যেয়?*
*🌺রামরায়=শ্রীরাধাকৃষ্ণের শ্রীচরণ ধ‍্যানই প্রধান।*
*🌺জীবের কোথায় বাস করা কর্তব‍্য?*
*🌺রামানন্দ=শ্রীবৃন্দাবন ভূমিই বসবাসের শ্রেষ্ঠ।*
*🌺মহাপ্রভু=শ্রবণের মধ্যে কোন কথা শ্রবণের শ্রেষ্ঠ উপযোগী?*
*🌺শ্রীরাধাগোবিন্দের গুণকীর্তন।*
*🌺মহাপ্রভু=উপাস‍্যের মধ্যে কার উপাসনা প্রধান?*
*🌺রামরায়=শ্রীরাধাকৃষ্ণের যুগল রূপ।*
*🌻শ্রীচৈতন‍্য রামানন্দ রায়কে বললেন, এখানে এসে তোমার নিকট হতে আমি রাধাতত্ত্ব কৃষ্ণতত্ত্ব প্রেমতত্ত্ব প্রভৃতি ভক্তির নতুন নতুন তত্ত্বকথা শুনে অত‍্যন্ত আনন্দ লাভ করলাম।রামরায় কহিলেন, প্রভো! তোমার মুখ দিয়ে তুমি তোমার কথায় প্রকাশ করিলে। তুমি নিজেই রাধা প্রেমতত্ত্বের বক্তা ও নিজেই শ্রোতা।*
*🍁ভক্তিপ্রসঙ্গে উভয়ে মাতোয়ারা, এমন সময়ে রামরায় বললেন,আমি প্রথমে তোমাকে সন্ন‍্যাসীর বেশে দেখেছিলাম, কিন্তু এখন আর তোমার সে রূপ দেখছি না। তোমার শ‍্যামরূপের নিকটে সোনার প্রতিমার ন‍্যায় পঞ্চালিকা (মাটির ধাতু বা কাঠ দিয়ে তৈরি পুতুল)রয়েছে।তাঁর উজ্জ্বল জ‍্যোতিতে তোমার দেহ আলোকিত হয়েছে। শ্রীচৈতন‍্য বললেন, "রাধাকৃষ্ণের প্রতি তোমার প্রেম অসাধারণ, সেইজন‍্য সববস্তু দর্শনেই তোমার হৃদয়ে কৃষ্ণপ্রেমের স্ফূর্তি হয়।কথিত আছে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য তারপরে সামান্য হাসি হেসে রসরাজ ও মহাভাব এই দুই ভাবে রামরায়ের নিকট প্রকাশিত হন।রামরায় সে রূপ দর্শনে আনন্দের আবেগে ভূতলে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন। মহাপ্রভু তাঁর অঙ্গে হাতস্পর্শ করলে তাঁর চেতনা ফিরল ; তিনি পুনরায় শ্রীচৈতন‍্যকে সন্ন‍্যাসীর বেশে দর্শন করলেন।দশদিন এইভাবে অতিবাহিত হলে, উভয়ের বিদায়কালে রামরায় ক্রন্দন করতে লাগলেন, মহাপ্রভু গাঢ় আলিঙ্গন দিয়ে বললেন, তুমি পুরীতে যাও, আমি তীর্থ পর্য‍্যটন করে সেখানে যাব, উভয়ে কৃষ্ণকথা প্রসঙ্গে দিন কাটাব। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পায়=*
*🌷বিষয় ছাড়িয়া তুমি যাহ নীলাচলে।*
*🌷আমি তীর্থ করি তাঁহা আসিব অল্পকালে।।*
*🌷দুইজনে নীলাচলে রহিব এক সঙ্গে।*
*🌷সুখে গোঙাইব কাল কৃষ্ণকথা রঙ্গে।।*
*🌻রায় রামানন্দ মহাপ্রভুর বিচ্ছেদে বিষাদিত অন্তরে গৃহে ফিরে গেলেন। শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য নিশাবসানে বিদ‍্যানগর পরিত‍্যাগ করে তীর্থ ভ্রমণে বাহির হলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৬)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
               *নানা তীর্থে ভ্রমণ*
              ***********************
*🌷দক্ষিণ গমন প্রভুর অতি বিলক্ষণ।*
*🌷সহস্র সহস্র তীর্থ কৈল দরশন।।*
*🌷সে সব তীর্থ স্পর্শি মহাতীর্থ কৈলা।*
*🌷সেই ছলে সে দেশের লোক নিস্তারিলা।।(চৈঃচঃ)*
*🍀ভক্তচূড়ামণি শ্রীচৈতন‍্যদেব বিদ‍্যানগর হতে গোবিন্দ দাসকে সঙ্গে নিয়ে বাহির হলেন। গোবিন্দ দাস মহাপ্রভুর দক্ষিণাপথ ভ্রমণের সাথী হয়ে কড়চায় অনেক জায়গার অনেক ঘটনা লিপিবদ্ধ করে গিয়েছেন। কয়েকদিন পরে মহাপ্রভু মল্লিকার্জুন তীর্থে গমন করলেন।এখানে দেবমন্দিরে প্রবেশ করতঃ তিনি মহেশকে দর্শন করলেন।তিনি যেখানেই গমন করতেন, সেখানেই তাঁর ভগবদভক্তির জীবন্ত নিদর্শন পেয়ে তারই পথ অনুসরণ করল।গৌরহরি সেখান হতে আহোবলে গমন করে নৃসিংহ দর্শন ও তাঁকে প্রণতি করে সিদ্ধবটে এসে রাম-সীতা দর্শন করেন।তাঁর আগমনবার্তা চারিদিকে প্রচারিত হলে,অনেকে তাঁর দর্শনাকাঙ্ক্ষী হয়ে দলে দলে আসতে লাগিল।এখানে এক রামভক্ত ব্রাহ্মণ তাঁর প্রেমময় মূর্তি দেখে বিমোহিত হয়ে,তাঁকে আগ্রহপূর্বক নিজ ভবনে নিমন্ত্রণ করলেন। গৌরহরি তাঁর নিমন্ত্রণ রক্ষা করে স্কন্ধক্ষেত্রে গমন করে স্কন্ধ দর্শন করলেন।এখন হতে পুনরায় সিদ্ধবটে প্রত‍্যাগমন করবার বাসনা হলে, তিনি সেখানে এসে সেই রামভক্ত ব্রাহ্মণের বাড়ীতে আতিথ‍্য গ্রহণ করলেন।বিপ্র তাঁকে অতি সমাদরে ও ভক্তি সহকারে নিজ বাড়ীতে স্থান দান করে,তাঁর পরিচর্য‍্যায় রত হন।মহাপ্রভু দেখলেন, সেই রামভক্ত ব্রাহ্মণ পূর্বে রামনাম জপ করতেন, কিন্তু এখন তারপরিবর্তে তাঁর রসনা হতে শ্রীকৃষ্ণনাম উচ্চারিত হচ্ছে।তিনি এই পরিবর্তনের কারণ জিজ্ঞাসা করাতে, ব্রাহ্মণ বললেন, "তোমাকে দেখিয়া অবধি,আমার মনের কেমন এক পরিবর্তন উপস্থিত হয়েছে ;আমার জিহ্বা হতে রামনামের পরিবর্তে আপনাআপনিই শ্রীকৃষ্ণনাম বাহির হচ্ছে। যথা চৈতন‍্য চরিতামৃতে=*
*🌷বাল‍্যাবধি রামনাম গ্রহণ আমার।*
*🌷তোমা দেখি কৃষ্ণনাম আইল একবার।।*
*🌷সেই হইতে কৃষ্ণনাম জিহ্বাতে বসিল।*
*🌷কৃষ্ণনাম স্ফুরে রামনাম দূরে গেল।।*
*🌺এই বলে নূতন কৃষ্ণভক্ত ব্রাহ্মণ, গোরহরির চরণে লুন্ঠিত হয়ে নয়নবারি ফেলতে ফেলতে বললেন, "আমি তোমারই মধ্যে সেই শ্রীকৃষ্ণের মোহন মূরতি দর্শন করছি।শ্রীগৌরাঙ্গ তাঁকে আশীর্বাদ করে বৃদ্ধ কাশীতে এসে শিব দর্শন করলেন, এবং এখন হতে কোন নিকটবর্তী গ্রামে গমন করলেন।সেই গ্রামে বহুসংখ‍্যক ব্রাহ্মণের বাস।ইঁনাদের মধ্যে অনেকেই তার্কিক,বৈদান্তিক ও মায়াবাদী।শ্রীচৈতন‍্যদেব সেখানে উপস্থিত হলে,পন্ডিতমন্ডলী তাঁর সঙ্গে বিচারে রত হন। কিন্তু মহাপ্রভুর তীক্ষ্ণ বুদ্ধির প্রভাবে সকলেই পরাভব স্বীকার করে,তাঁদের মধুময় ভক্তিপথের পথিক হয়ে পড়েন।*
*🍁এইখানে একজন বৌদ্ধাচার্য‍্য বাস করতেন।তাঁর অনেক শিষ্য ছিল। বৌদ্ধাচার্য‍্য মহাপ্রভুকে পরাস্ত করবার মানসে তাঁর সঙ্গে বিচারে রত হন।শ্রীচৈতন‍্য তাঁকে বিচারে পরাস্ত করলেন।গুরুকে পরাস্ত হতে দেখে,তাঁর শিষ‍্যেরা ক্রূদ্ধ হয়ে এক অবৈধ উপায় অবলম্বন করে।*
*শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী বলেন,তাঁরা মন্ত্রণা করে একটি থালিতে, উচ্ছিষ্ট অন্ন পূর্ণ করে,কোন ব‍্যক্তির দ্বারা শ্রীচৈতন‍্যের নিকট প্রেরণ করেন।সেই সময় একটি পক্ষী চঞ্চু দ্বারা থালাটি তুলে নিয়ে যাই, এবং উচ্চ জায়গা থেকে টেরচাভাবে বৌদ্ধ গুরুর মাথায় সজোরে ফেলে দেয়।থালার আঘাতে আচার্য‍্যের মাথা কেটে রক্ত বাহির হয়ে সর্বাঙ্গ ভিজে যায়।তাদেখে বৌদ্ধাচার্য‍্য ও তদীয় শিষ‍্যগণ গৌরহরির শরণাপন্ন হয়ে,বৈষ্ণবধর্ম গ্রহণ করলেন। তারপর সেখান হতে মহাপ্রভু ত্রিমন্দ নগরে গমন করলেন।সেখানেও অনেক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বাস করতেন। তিনি সেখানে গমন করলে,বৌদ্ধেরা তাঁর সঙ্গে বিচার করতে বসলেন।ত্রিমন্দ নগরের রাজা এই বিচারের মধ‍্যস্থ হলেন।তিনিও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।তর্কযুদ্ধে বৌদ্ধেরা বিচারে পরাস্ত হলেন।বৌদ্ধদের শীর্ষস্থানীয় রামগিরি ভক্তচূড়ামণি শ্রীচৈতন‍্যের বুদ্ধির প্রাখর্য‍্য ও অদ্ভুত ভক্তির লক্ষণ সব দেখে,মন্ত্রমুগ্ধের মত তাঁর চরণতলে বিলুন্ঠিত হয়ে কাতর অন্তরে বলতে লাগলেন, "নবীন সন্ন‍্যাসী" তোমাকে দেখে তো মানুষ বলে বোধ হচ্ছে না ; আমি ঘোর পাষন্ড, তোমাকে দেখে আজ আমার হৃদয় গলে গেল। আমি তোমারই সঙ্গে থাকব, প্রভো!তুমি আমায় মুক্তির পথ প্রদর্শন কর।*
*🍀গোবিন্দ দাস তাঁর কড়চায় লিখেছেন=*
*🌷তুমি ত মানুষ নহ নবীন সন্ন‍্যাসী।*
*🌷থাকিতে তোমার সহ বড় ভালবাসি।।*
*🌷পাষন্ডের শিরোমণি ছিলাম সংসারে।*
*🌷কৃপা করি ভক্তিমার্গ দেখাও আমারে।।*
*শ্রীচৈতন‍্যদেব বৌদ্ধাচার্য‍্যের ব‍্যাকুলতা দেখে আনন্দিত হয়ে তাঁকে মধুময় হরিনাম দান করলেন ; রামগিরি তাঁর নিকট হতে প্রাণপদ ভক্তিধর্মে দীক্ষিত হয়ে নবজীবন লাভ করলেন। তাঁর শুষ্ক হৃদয়ে ভক্তির অমৃতধারা বহিতে লাগল।ত্রিমন্দের সকলেই শ্রীচৈতন‍্যদেবের প্রচারিত ভক্তিমার্গের পক্ষপাতী হলেন, বৌদ্ধগুরু রামগিরির শিষ‍্যগণও তাঁদের গুরুর পথ অনুসরণ করলেন।*
*🌷পন্ডিতের শিরোমণি যত বৌদ্ধগণ।*
*🌷রামগিরি পথে সবে করিল গমন।।*
👌👌👌👌👌👌✋👌👌👌👌👌👌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৭)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
         *👣নানা তীর্থে ভ্রমণ 👣*
         👣👣👣👣👣👣👣👣
*🌻রামগিরি গৌরহরির অনুগত হলেন,ঢুন্ডিরাম নামক এক বিখ‍্যাত পন্ডিত তাঁর সঙ্গে বিচার করতে রত হলেন। গৌরহরি তার্কিকের চূড়ামণি হলেও জ্ঞানের অস্ত্রে অনেকেরই জ্ঞানগর্ব ছেদন করতে অগ্রসর হতেন না।ভক্তির স্নিগ্ধ ও মধুর ভাবে তিনি অহঙ্কারী জ্ঞানীদের জ্ঞানের গর্ব প্রশমিত করে তাঁদেরকে ভগবৎ প্রেমের বন্ধনে জড়িত করে ফেলতেন। ঢুন্ডিরাম মহাপ্রভুর সঙ্গে বিচারার্থী হলে, তিনি অতি বিনয়ের সঙ্গে বললেন, "তুমি সর্বশাস্ত্রে সুপন্ডিত" আমি অজ্ঞ সন্ন‍্যাসী,আমি তোমার সঙ্গে বিচার করতে সমর্থ হব না,আমি তোমার কাছে পরাভব স্বীকার করলাম বলে জয়পত্র লিখে দিচ্ছি। গৌরহরি এইসব কথা বলে তাঁর সঙ্গে বিচারে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে, ঢুন্ডিরাম এদিক ওদিক তাকাতে লাগলেন, এবং অবশেষে তাঁর চরণে লুন্ঠিত হয়ে পড়লেন।শ্রীচৈতন‍্যদেবের প্রেমের শক্তির প্রভাবে ঢুন্ডিরামের সব গর্ব খর্ব হয়ে গেল, ঢুন্ডিরাম বুঝতে পারলেন যে,ইনি মানুষ নন,মানুষরূপে ভগবান। তিনি নবজীবনের পথে নীত হয়ে মধুময় হরিনাম গ্রহণ করলেন।ঢুন্ডিরামের হৃদয় দ্রবীভূত হয়ে গেল, সর্বশাস্ত্রে সুপন্ডিত জ্ঞানগর্বিত ঢুন্ডিরাম সেই সময় হতে "হরিদাস" নামে অভিহিত হলেন।*
*পরদিন প্রভাতে গোবিন্দ দাসকে সঙ্গে নিয়ে,মহাপ্রভু সেখান হতে বেড়িয়ে পড়লেন। গোবিন্দ খড়ম করঙ্গ বহন করে সঙ্গে সঙ্গে চলতে লাগলেন।ভানু অস্ত গমন করলে তাঁরা বটেশ্বরে উপস্থিত হলেন, এবং ভক্তিভরে বটেশ্বর দর্শন করে সেদিন সেইখানে রাত্রি যাপন করলেন।*
*গোবিন্দ ভিক্ষা সংগ্রহের জন্য বাহির হলেন।ভিক্ষা করে যা পেয়েছিলেন, দুপুরবেলা মহাপ্রভু রন্ধনকার্য‍্য সমাধা করলেন। তারপরে আহারান্তে তাঁরা বসে বিশ্রাম করছেন,এমন সময়ে তত্রত‍্য (সেখানকার) কোন বিখ‍্যাত ধনী, এই নবাগত সন্ন‍্যাসীকে পরীক্ষা করবার জন্য দুইজন কুলটা নারী সঙ্গে নিয়ে সেখানে আগমন করলেন।ধনীর নাম তীর্থরাম।নারীদ্বয়ের নাম সত‍্যবাঈ ও লক্ষ্মীবাঈ।অসচ্চরিত্রা নারীদ্বয় মহাপ্রভুর কাছে এসে নানারকম অঙ্গভঙ্গী করে হাসতে হাসতে তাঁর সহিত কথা বলতে লাগল।তারা যখন দেখল,তাদের মন্দ অভিপ্রায় সিদ্ধ হওয়া সুদূরপরাহত (অসম্ভবপ্রায়), তখন সত‍্যবাঈ লোকসমক্ষে নারীর নিলজ্জতা প্রদর্শন যতদূর সম্ভব,তা করতে ত্রুটি করল না, অর্থ‍্যাৎ নারীর সম্মান নষ্ট করতে চেয়েছে এই প্রমাণ করতে চেষ্টা করল।সে নিজের বক্ষের বস্ত্রাঞ্চল কতক উন্মোচন করে মহাপ্রভুর চিত্তবিকারের চেষ্টা করল।সত‍্যবাঈ এরকম নিলজ্জতার কাজ করলে,মহাপ্রভু আর স্থির থাকতে পারলেন না, তখন তিনি তাকে "মা" বলে সম্বোধন করে বললেন, মা! আমাকে কেন অপরাধী করবার জন্য এরকম করছ!এই বলে মহাপ্রভু উর্দ্ধবাহু হয়ে নৃত্য করতে লাগলেন ; তাঁর মস্তকের জটাবন্ধন খুলে গেল ; শরীর রোমাঞ্চিত হ'ল, নয়নাশ্রুতে বক্ষ ভাসতে লাগিল।এইরকম পরীক্ষার অনলের মধ্যে কোন মানবসন্তান যে অবিকৃত হৃদয়ে থেকে ভগবানের মহিমা কীর্তন করতে পারেন,কুলটা নারীদ্বয় তা কখনও দেখেনি।তখন সত‍্যবাঈ মহাপ্রভুর শ্রীচরণে বিলুন্ঠিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করল।অবশেষে উভয়েই সে জায়গা হতে পলায়ন করল। আড়াল থেকে তীর্থরাম সবই দেখলেন।তিনি কি আর স্থির থাকতে পারেন? তিনি তখনই গৌরহরির চরণে লুটিয়ে পড়লেন।মহাপ্রভু তখন বাহ‍্যজ্ঞানশূন‍্য হয়ে নৃত্য করছেন।সেই সময় তীর্থরাম শ্রীচৈতন‍্যের মুখে অনুপম স্বর্গীয় জ‍্যোতিঃ ও তাঁর মনের অমানুষিক শক্তি দেখে তীর্থরামের হৃদয় মন একেবারে পরিবর্তন হয়ে গেল। আর তীর্থরাম কাঁদতে লাগলেন, তীর্থরামকে ক্রন্দন করতে দেখে, মহাপ্রভু তাঁর হাত ধরে বললেন, "সংসারের বিষয় বিভব সকলই অতি অসার,এই যে দেহ ধারণ করেছ, এই দেহ-পিঞ্জর হতে প্রাণ-পাখী যখন উড়ে যাবে,তখন সেটি ভস্মসাৎ হবে, বা কাঠের আধার হবে,অথবা মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। চক্ষু বন্ধ হলে কেউ কারও নয়,সব আত্মীয়তাই চলে যাবে।তুমি ধন,মান,বসন,ভূষণ সব দূরে ফেলে দিয়ে,সেই একমাত্র সত‍্য ও নিত‍্য বস্তু শ্রীকৃষ্ণের আশ্রয় গ্রহণ কর। শ্রীচৈতন‍্যদেবের কথাগুলি যেন যাদুকরের মত তাঁর হৃদয়ে পরিবর্তন উপস্থিত করল।যে ব‍্যক্তি ঐশ্বর্যের অধিপতি হয়ে, মানবজীবনের উচ্চতর লক্ষ্যের প্রতি উদাসীন থেকে ইহলোকের খ‍্যাতি ও ধনৈশ্বর্য‍্যকে সর্বস্ব জ্ঞান করে জীবন ধারণ করছিলেন,যে ব‍্যক্তি অতি অল্পক্ষণ পূর্বেই,চঞ্চল ও নিলজ্জ যুবকের ন‍্যায় নারীদ্বয়কে সঙ্গে নিয়ে, মহাপ্রভুর সামনে এসে তাঁর ধর্ম নষ্ট করতে প্রয়াসী হয়েছিলেন,তিনি এখন পুরোপুরি অন‍্য মানুষে পরিণত হয়েছেন।তীর্থরাম নিজের পত্নী ও আত্মীয়স্বজন হতে দূরে এসে দাঁড়আলেন। অগাধ সম্পত্তি মহাপ্রভুর কৃপা বলে তৃণবৎ মনে করে ঠেলে ফেললেন।চিক্কণ বসন পরিত‍্যাগ করে,কৌপীন ধারণ করে, হরিনামের তিলকে অঙ্গ আচ্ছাদিত করলেন।তাঁর গর্বিত মস্তক, ভক্তি ও বিনয়ে নত হল।তীর্থরাম হরিপ্রেমে বিভোর হয়ে নৃত্য করতে লাগলেন।*
*🌷তীর্থরাম তৃণ সম বিষয় ছাড়িয়া।*
*🌷হরি বলি নাচে দুই বাহু পসারিয়া।।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৮)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
           *👥নানা তীর্থ ভ্রমণ👥*
         ▪▪▪▪▪▪▪▪
*🍀তীর্থরাম কৌপীন পরে সন্ন‍্যাস গ্রহণ করলেন।তাঁর সন্ন‍্যাস গ্রহণের কথা তাঁর বাড়ীতে সকলে জানতে পারল,তাঁর পরমাসুন্দরী পত্নী কমলকুমারী কাঁদতে কাঁদতে ছুটে আসিলেন।তাঁর রূপের আলোতে যেন চারিদিক আলোকিত হয়ে উঠিল।তীর্থরাম-পত্নী কাঁদতে কাঁদতে ছুটে আসিলে,তীর্থরাম কমলের হাত ধরে বললেন, "আমি নরক হতে পরিত্রাণ পেয়েছি, আমার সমস্ত বিষয় সম্পত্তি তুমিই ভোগ কর"।পতির মুখ হতে এই নিদারুণ কথা শুনে,কমলকুমারী ভূমিতে পড়ে গিয়ে ক্রন্দন করতে লাগলেন।তীর্থরাম তাঁর পত্নীকে অত‍্যন্ত অধীরা দেখে মায়াজাল ছিন্ন করবার জন্য তাঁকে হরিনাম গ্রহণ করতে বললেন।কমল দেখলেন, স্বামীকে ঘরে ফেরানোর চেষ্টা বৃথা, তখন নয়নের জলে বক্ষ ভাসাতে ভাসাতে গৃহে ফিরে গেলেন।তীর্থরাম সংসারের ধন মান ঐশ্বর্য‍্যে জলাঞ্জলি দিয়ে ধর্মধনে ধনী হয়ে পথ-ভিখারীর ন‍্যায় জীবন অতিবাহিত করতে লাগলেন।*
*🌷কাঁদিতে কাঁদিতে তবে কমলকুমারী।*
*🌷ফিরে গেল তীর্থ হলো পথের ভিখারী।।*
                               *(গোঃ দাস)*
*🍀তীর্থরামকে ভক্তি পথাবলম্বী করে,শ্রীচৈতন‍্য সাতদিন পরে বটেশ্বর গ্রাম ত‍্যাগ করলেন।যেতে যেতে তাঁদেরকে এক নিবিড় অরণ‍্য অতিক্রম করতে হল। মহাপ্রভু বিভুগান কীর্তন করতে করতে চলতে লাগলেন।তাঁর ভয় নাই,কোন চিন্তা নাই, কিন্তু গোবিন্দের প্রাণ সময়ে সময়ে ভয়ে আকুল হয়ে উঠিল। মহাপ্রভুর পেছনে যেতে যেতে তাঁর সব ভীতি ক্রমে বিদূরিত হয়ে গেল।দশক্রোশ ব‍্যাপী সেই নিবিড় অরণ‍্য অতিক্রম করে তাঁরা মুন্নানগরে উপস্থিত হলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব এক বৃক্ষতলে বসিলেন,পল্লীবাসী দুইজন গৃহস্থ তাঁর সেবার জন্য সমস্ত ব‍্যবস্থা করলেন।তারা মহাপ্রভুর মোহন মূর্তি দেখে অনিমিষ নয়নে তাকিয়ে রইল।এই নবীন সন্ন‍্যাসীর আগমনবার্তা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে,নগরের লোকেরা দলে দলে তাঁর দর্শন লালসায় সেখানে আগমন করে সেই দেবসদৃশ গৌরহরির চরণে ভক্তিভরে প্রণাম করতে লাগল ; এবং মহাপ্রভুকে অনেকেই বৃক্ষতল ছেড়ে নিজেদের বাসভবনে আতিথ‍্য গ্রহণের জন্য অনুরোধ করিল। কিন্তু তিনি তাদের সেই আশা পূর্ণ করতে পারলেন না।মহাপ্রভু ভগবৎ প্রেমে বিভোর হয়ে রয়েছেন। কিছুক্ষণ পরেই তিনি করতালি দিয়ে নৃত্য করতে লাগলেন।তাঁর ভাব-এ আগন্তুক লোকেরাও ভাবে বিভোর হয়ে উঠিল এবং গৌরহরির কন্ঠোত্থিতমধুর ধ্বনির সঙ্গে নিজেদের কন্ঠ মিলিয়ে হরিধ্বনি করতে করতে নৃত্য করতে লাগল।এইভাবে প্রায় অর্দ্ধরজনী কেটে গেল। মুন্নানগরে অন্তঃপুরের মধ্যে এই নবীন সন্ন‍্যাসীর আগমন বার্তা জানতে পেরেছিল, সেজন‍্য কুলবধূরা শ্রীগৌরাঙ্গকে দেখবার জন্য দলে দলে আসতে লাগল।দেখে সকলেই বিস্মিত।এমন সুন্দর যুবাপুরুষ সংসারের সকল সুখ বিসর্জন দিয়ে কৃচ্ছ্র সাধনে নিজের দেহকে শীর্ণ করে ফেলেছেন, এই ভেবে তাদের প্রাণ আকুল হয়ে উঠিল।তারা গৌরসুন্দরের মনোহর গঠন ও অনিন্দিত রূপমাধুরী, কঠোর বৈরাগ‍্যের নিষ্পীড়নে রুগ্ন ও মলিন হয়ে গিয়েছে,সেই বিষয়ে বলাবলি করতে লাগল।*
*🌷অবশেষে কুল হতে কুলবধূগণে।*
*🌷গৌরাঙ্গ দেখিতে আসি মিলে সেই স্থানে।।*
*🌷দেখিতে নয়ন মেলি গৌরাঙ্গসুন্দরে।*
*🌷নারীগণ যাইতে না পারে ফিরে ঘরে।।*
*🌷মুখ তাকাতাকি করি এ বলে উহারে।*
*🌷সন্ন‍্যাসী দেখিয়া প্রাণ আকু-বাকু করে।।*
*🌷এমন সুন্দর দিদি কভু দেখি নাই।*
*🌷ইহাকেই বলে সবে চৈতন‍্য গোঁসাই।।*
*🌷আহা মরি না খাইয়া অস্থিচর্মসার।*
*🌷এ বয়সে বাঁধিয়াছে কেন জটা-ভার।।*
*🌷এই কথা বলি যত মুন্নাবাসী নারী।*
*🌷কাঁদিয়া আকুল হলো চক্ষে বহে বারি।।*
*☘সেই দিনরাত্রি এইভাবেই কেটে গেল। পরদিন প্রভাতে মহাপ্রভু অন‍্য স্থানে যাবার জন্য উদ‍্যোগ করছেন, এমন সময়ে এক অন্নক্লিষ্টা, ছিন্নবস্ত্র পরিধেয়া বৃদ্ধা নারী গৌরহরির কাছে এসে ভিক্ষা প্রার্থনা করিল।বৃদ্ধাকে দেখে মহাপ্রভুর হৃদয় একেবারে আনন্দে ভরে উঠিল।তিনি সেই বৃদ্ধার বাসনা পূর্ণ করবার জন্য,মুন্নাবাসী নরনারীদের কাছে খাদ‍্য ও বস্ত্র প্রার্থনা করতে লাগলেন। যার চরণে লোকে কোন বস্তু উপহার প্রদান করতে পারলে নিজেকে কৃতার্থ মনে করে,আজ তিনি স্বয়ং ভিক্ষা প্রার্থনা করছেন, ইহা দেখে সকলে নানান খাদ‍্য সামগ্রী ও বস্ত্রাদি এনে তাঁর সামনে উপস্থিত করিল। এভাবে অনেক খাদ‍্যদ্রব‍্য ও পরিধেয় বস্ত্র সংগৃহীত হলে, শ্রীচৈতন‍্যদেব বৃদ্ধাকে সবগুলোই প্রদান করলেন।বৃদ্ধা কৃতজ্ঞ হৃদয়ে আশাতীত ফললাভে নিজেকে কৃতার্থ মনে করে দাতাকে হৃদয়ের সহিত ধন‍্যবাদ জ্ঞাপন করিল।মুন্নাবাসী তখন শ্রীচৈতন‍্যের ভিক্ষার অভিপ্রায় বুঝতে পেরে তাঁর প্রেমার্দ্র হৃদয়ের প্রত‍্যক্ষ নিদর্শন লাভ করল।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৯)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
                 *নানা তীর্থ ভ্রমণ*
               ••••••••••••••••••••••••••••••
*🍀বৃদ্ধার মনোবাঞ্জা পূর্ণ করে শ্রীচৈতন‍্যদেব সেই জায়গা হতে বাহির হলেন।গোবিন্দও তাঁর কৌপীন ও করঙ্গ নিয়ে সঙ্গে চললেন।মুন্নাবাসী বহুলোক শ্রীগৌরাঙ্গদেবের পশ্চাৎ অনুসরণ করিল। মহাপ্রভু একবারও পেছনদিকে না তাকিয়ে বিভুনাম কীর্তন করতে করতে অগ্রসর হতে লাগলেন। কিছুদূর গমন করে একে একে সকলেই আপন আপন গৃহাভিমুখে প্রত‍্যাগমন করিল।এক ব‍্যক্তি আর ফিরলেন না ; তাঁর নাম রামানন্দ স্বামী।শ্রীচৈতন‍্যকে দর্শন করে তাঁর সংসার বন্ধন ছিন্ন হয়ে যায়।তিনি যেতে যেতে গোবিন্দকে বললেন, "মহাপ্রভুকে দেখে আমার মন প্রাণ তাঁর শ্রীচরণে সমর্পণ করেছি, তিনি যদি আমাকে শিষ‍্য না করেন, তাহলে আমি এ দেহ আর রাখব না। তাঁরা পথ চলতে চলতে বেঙ্কট নগরে উপস্থিত হলেন।সেখানে এক সুবিখ‍্যাত বৈদান্তিক পন্ডিত ছিলেন।নাম রামানন্দ।বৈদান্তিক অদ্বৈতবাদী রামানন্দ শ্রীচৈতন‍্যদেবের সহিত বিচার করবার জন্য বসিলে,তিনি প্রথমে নিজের অজ্ঞতা স্বীকার করে বিচারে রত হতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেন ; কিন্তু রামানন্দ কিছুতেই ছাড়লেন না। গৌরহরি অগত‍্যা বিচারে রত হলেন।অদ্বৈতবাদ সম্বন্ধে উভয়ের মধ্যে ঘোরতর তর্ক বেধে গেল।বিচারে পন্ডিত রামানন্দ পরাস্ত হলেন।তাঁর জ্ঞানের গর্ব চূর্ণ হয়ে গেল।শ্রীচৈতন‍্যদেবের বুদ্ধির প্রখরতা ও ভগবৎ ভক্তির নিদর্শন পেয়ে রামানন্দ অদ্বৈতবাদের গন্ডী পরিত‍্যাগ করে ভক্তির পথ অনুসরণ করলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব তিনদিন বেঙ্কটনগরে থেকে, সকলকে প্রেমরসে মত্ত করে তুললেন।বৈদান্তিক রামানন্দের শিষ‍্যেরাও তাঁদের গুরুর পথ অনুসরণ করে ভক্তি পথাবলম্বী হলেন।*
*🍁পাপী-তাপীদের জন্য সর্বদাই গৌরসুন্দরের প্রাণ ক্রন্দন করত।নরনারীকে শান্তিময় ভক্তিপথে চালিত করাই তাঁর জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য।বেঙ্কট নগর পরিত‍্যাগ করবার সময় তিনি শুনলেন,সেখান হতে কিছু দূরে এক নিবিড় জঙ্গলের মধ্যে "পন্থভীল" নামে এক দস‍্যু বাস করে।মহাপ্রভু তার কথা শোনা মাত্র সেখানে যেতে উদ‍্যত হলে, সকলে পন্থভীলের ভীতিজনক স্বভাবের কথা বলল, সে নিজের সঙ্গীদের নিয়ে পথিকের সর্বস্ব লুঠ ও জীবন নাশ করে থাকে।তুমি সেখানে যেও না।পাপীর বন্ধু শ্রীগৌরাঙ্গদেব কারও কথায় কর্ণপাত না করে সেই অরণ‍্যের দিকে ধাবিত হলেন।তাঁর সহচর গোবিন্দও মহাপ্রভুর সাথী হলেন।এই নিবিড় জঙ্গলের নাম বগুলা।মহাপ্রভু বনে প্রবেশ করলে, পন্থ শ্রীচৈতন‍্যকে যথোচিত সম্মান প্রদর্শন করে বসতে বললেন। তিনি দস‍্যুপতির কাছে বসে বললেন, "তুমি সাধু পুরুষ, সংসারের সকল মায়া ও নারীসঙ্গ পরিত‍্যাগ করে নিজের বন্ধুদের সঙ্গে অতি সুখেই এই নির্জন বনের মধ্যে বাস করছ।আমি তোমাকে দেখবার জন্যই এখানে আগমন করেছি। পন্থ, গৌরসুন্দরের মনোহর মূর্তি ও এই সব মধুমাখা কথা শুনে মাথা নিচু করে রইল এবং কিছুক্ষণ পরে তাঁর চরণে লুন্ঠিত হয়ে কাঁদতে লাগল।গৌরহরি অমনি তাকে নিজ বক্ষে তুলে নিয়ে তার কর্ণকুহরে সেই পাপতাপহারী মধুর হরিনাম উচ্চারণ করতে লাগলেন।এই নবীন সন্ন‍্যাসীর কন্ঠনিঃসৃত সে নামের ধ্বনি যেন পন্থভীলের কানে সুধা বর্ষণ করতে লাগল।তার পাষাণসম প্রাণ দ্রবীভূত হল, সে নবজীবন লাভ করে,অন‍্য এক মানুষে পরিণত হল।পন্থভীল করতালি দিয়ে নৃত্য করতে করতে হরিনাম কীর্তন করতে লাগল।পন্থভীলের অভাবনীয় পরিবর্তন দেখে তার সহচরেরা অবাক হয়ে গেল এবং তারাও ঐ নামের শক্তিতে নব জীবন লাভ করে হরিনাম করতে করতে নৃত্য করতে লাগল।হরিনামের ধ্বনিতে নিস্তব্ধ নিবিড় জঙ্গল প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠিল।দস‍্যু অরণ‍্য যেন আনন্দ-কাননে পরিণত হল।গৌরহরি পন্থভীল ও তার সহচরদের উদ্ধার করে দ্বারে দ্বারে হরিনাম বিলাতে বিলাতে চলতে লাগলেন। গৌরহরিকে যে একবার দেখত,তারই চিত্ত তাঁর দিকে আকৃষ্ট হয়ে পড়ত। মহাপ্রভু পথে যেতে যেতে এক বৃক্ষতলে আশ্রয় গ্রহণ করলেন। অনাহারে সেই বৃক্ষতলে তিনদিন কেটে গেল। শরীর শীর্ণ হয়ে পড়ল। কিন্তু তাঁর রসনা পবিত্র ভগবানের নামকীর্তনে বিরত হল না।তিনদিন পরে এক বৃদ্ধা নারী আটা ও দুগ্ধ নিয়ে এলেন।মহাপ্রভু ও গোবিন্দ দাস তাতেই ক্ষুধা নিবৃত্তি করে গারীশ্বর শিব দর্শন মানসে গমন করলেন।বৃক্ষতল হতে দেবমন্দির প্রায় তিনক্রোশ, তিনি সেই মন্দিরের কাছে উপস্থিত হলেন।মন্দিরটির কাছে একটি প্রকান্ড বিল্গবৃক্ষ ছিল। গোবিন্দ দাস বলেন,বৃক্ষটির শাখা প্রায় অর্ধক্রোশ ব‍্যাপিয়া রয়েছে। গৌরহরি সেই শত শত শাখা ও পত্রবিশিষ্ট বিল্ববৃক্ষ হতে পাতা তুলে ভক্তিভরে শিবকে অঞ্জলী দান করলেন।সেখানে দুইদিন থাকবার পর, শ্রীচৈতন‍্যদেব দেখলেন, এক সন্ন‍্যাসী পর্বত শিখর হতে নেমে মন্দিরে শিব আরাধনা করে পুনরায় পর্বতের উপরে চলে গেলেন।সন্ন‍্যাসী মৌনব্রতধারী।তাঁর জ‍্যোতিঃ যেন তাঁর ছায়া আলোকিত করছে।তাঁকে দেখে শ্রীচৈতন‍্যের হৃদয়ে কেমন এক ভাবের সঞ্চার হল।তাঁর দর্শন লালসায় তিনি পর্বতের দিকে ধাবিত হলেন।গোবিন্দও তাঁর পেছন পেছন চললেন।গিরিশিখরে বৃক্ষতলে সন্ন‍্যাসী চক্ষু নিমীলিত করে বসে আছেন।তিনি যথার্থ উদাসীন।শ্রীচৈতন‍্যদেব জোড়হস্তে সেখানে দাঁড়িয়ে যোগীবরের স্তব করতে লাগলেন।কিছুক্ষণ পরে তিনি চক্ষু উন্মীলন করে,তাঁর দিকে দৃষ্টিপাত করে হাসতে লাগলেন।গৌরহরি তাঁর কাছে গিয়ে বসলেন।সন্ন‍্যাসী আশ্রমে আগত অতিথিদের জন্য পরটা নামক কয়েকটি সুমিষ্ট ফল এনে তাঁদেরকে প্রদান করলেন।গোবিন্দদাস বলেন যে,পরটা খেয়ে তাঁর লালসা আরো বৃদ্ধি হয়ে উঠিল।মহাপ্রভু তা জানতে পেরে নিজের দুইটি ফল তাঁকে প্রদান করলেন।সন্ন‍্যাসী এটি দেখে পুনরায় আরো কয়েকটি ফল আনিয়ে মহাপ্রভুকে প্রদান করলেন।*
🌲🌳🌲🌳🌲🌳🌲🌳🌲🌳🌲🌳🌲
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 অষ্টম 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/11/gouranga8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮০)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
              *👣নানা তীর্থ ভ্রমণ👣*
           ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀নিস্তব্দ নির্জন পর্বতের উপরে নির্ঝরাণী কুলু কুল রবে বহে যাচ্ছে।পল্লবাবৃত তরুরাজির মধ্যে বিহঙ্গকুল নিজের মনে গান করছে ; প্রকৃতির এই রমণীয় জায়গায় শ্রীচৈতন‍্যদেব কি স্থির হয়ে থাকতে পারেন,তাঁর প্রেমোচ্ছ্বাস উথলিয়ে উঠল।তিনি আনন্দে কীর্তন করতে করতে নৃত্য করতে লাগলেন।অবশেষে তিনি ভূতলে পড়ে গেলে,পাথরের আঘাতে মস্তক ফেটে রক্তধারায়তাঁর শ্রীবদন ভিজে গেল।এই অমানুষিক ভক্তিপ্রবণতা দেখে সন্ন‍্যাসীর হৃদয় দ্রবীভূত হল।তিনিও ভূতলে পড়ে ছটফট করতে লাগলেন।তাঁরও নয়নযুগলের বারিধারায় শুভ্র শ্মশ্রু সিক্ত হয়ে গেল। তিনি শ্রীচৈতন‍্যদেবের শ্রীচরণ ধরে বললেন, "তুমি তো মানব নহ,স্বয়ং ঈশ্বর "। কিন্তু চৈতন‍্যদেব এইরকম স্তুতিতে প্রীত না হয়ে কানে আঙ্গুল দিয়ে বললেন,সন্ন‍্যাসীবর! একথা মুখে আনিও না।*
*🌺তার পর মহাপ্রভু সেখান থেকে বিদায় নিয়ে ত্রিপদিনগরে গমন করে শ্রীরামচন্দ্রের মূর্তি দর্শন করতঃ ভিবে বিভোর হয়ে ধূলায় লুন্ঠিত হলেন। সেখানে মথুরা নামে এক পন্ডিত অনেক শিষ‍্যসহ বাস করতেন।তাঁরা সকলেই রাম-উপাসক ; রামাইত বলে পরিচিত। রামাইত সম্প্রদায়ের শীর্ষ স্থানীয় মথুরা পন্ডিত শ্রীচৈতন‍্যদেবের সঙ্গে বিচারার্থী হলে, তিনি অতি বিনয়ের সহিত বললেন, পন্ডিত! শুকনো বিচারে প্রয়োজন নাই ; ঈশ্বরতত্ত্ব,জীবতত্ত্ব,মায়াবাদ,ধর্মের সূক্ষ্মতত্ত্ব প্রভৃতি সুললিত ভাবে ব‍্যাখ‍্যা কর,শুনে আমাদের প্রাণ শীতল হোক। তুমি সুপ্রসিদ্ধ তার্কিক,আমি তোমার সঙ্গে বিচার করতে অক্ষম।এই বলে মহাপ্রভু আনন্দে উন্মত্তপ্রায় হয়ে দুই বাহু তুলে নৃত্য করতে লাগলেন।মথুরাপন্ডিত ও তাঁর শিষ‍্যগণ শ্রীচৈতন‍্যের মধ্যে এই দেবভাব দেখে তারাও সকলে হরিধ্বনি করে আনন্দে নৃত্য করতে লাগলেন।মহাপ্রভু রামোপাসকদেরকে নিজের মতাবলম্বী করে পাপানরসিংহ দর্শন মানসে ধাবিত হলেন।মথুরাপন্ডিত নিজের হৃদয়ের ভক্তি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মানসে শ্রীচৈতন‍্যদেবের পশ্চাৎ অনুগমন করলেন।কিন্তু কিছুদূর গমন করলে, মহাপ্রভু ঈষৎ হেসে তাঁকে নিজ আশ্রমে গমন করতে বললেন।চৈতন‍্যদেব পানানরসিংহ এসে নৃসিংহ মূর্তি দর্শন করে তাঁর স্তব করলেন।দেব পুরোহিত মাধবেন্দ্র ভুজা নবাগত নবীন সন্ন‍্যাসীর গলে তুলসীর মালা পরিয়ে দিলেন।শর্করার সরবতে নৃসিংহদেবের সেবা হয়ে থাকে।শ্রীচৈতন‍্যদেব ও গোবিন্দ সেই পানা প্রসাদ পেয়ে ভক্ষণ করলেন।এখানে লক্ষ্মীনারায়ণ দর্শন করে তাঁরা পক্ষগিরিতে পক্ষতীর্থ দর্শন করতে গমন করেন।পক্ষগিরির পাদদেশে ভদ্রানদী প্রবাহিতা হচ্ছে। গৌরসুন্দর সেই নদীতে স্নান করে,কিছু জলযোগান্তে এক বৃক্ষতলে শয়ন করলেন। রাত্রে বাঘ এসে বিকট চিৎকার করতে আরম্ভ করল।গোবিন্দদাস বাঘের শব্দে অত‍্যন্ত ভীত হয়ে পড়লেন।তিনি বলেন,গোরাচাঁদ বাঘের ভীষণ চিৎকারে কিছুমাত্র ভীত না হয়ে, আনন্দিত মনে হরিধ্বনি করতে লাগলেন।বাঘ লাফ দিয়ে জঙ্গলের মধ্যে পালিয়ে গেল।মহাপ্রভুর মুখবিনিঃসৃত হরিনামের এই অপূর্ব শক্তি দেখে গোবিন্দ বিস্ময়াবিষ্ট চিত্তে তাঁর পদধূলিমস্তকে গ্রহণ করলেন।*
*ভদ্রানদী হতে প্রায় পাঁচ ক্রোশ দূরে কালতীর্থে বরাহদেবের মূর্তি প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।গৌরহরি সেটি দর্শন করবার জন্য সেখানে গমন করলেন এবং নিষ্ঠা ও ভক্তিসহকারে বরাহদেবের অর্চনা করলেন। তীর্থের এক পান্ডা ফুলের মালা এনে তাঁর গলদেশে পরিয়ে দিলেন।মহাপ্রভু মালা পরবার পরে হতেই নয়ন হতে জলধারা বহিতে লাগল। তিনি সেখান হতে সন্ধিতীর্থে যাত্রা করলেন। নন্দা ও ভদ্রা নামে দুইটি নদীর জলরাশি মিলিত হয়ে সেখানে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি সেখানে স্নান করলেন।সেখানকার তীর্থস্বমীর নাম সদানন্দপুরী ; তিনি সুবিখ‍্যাত পন্ডিত বলে পরিচিত।শ্রীচৈতন‍্যদেব সেখানে গমন করলে,পন্ডিত সদানন্দপুরী তাঁর সঙ্গে অদ্বৈতবাদ সম্বন্ধে বিতন্ডা উপস্থিত করলেন। কিন্তু বিচারে পন্ডিত সদানন্দ নবদ্বীপের দিগ্বিজয়ী নিমাই পন্ডিতের কাছে পরাভূত হয়ে তাঁর চরণতলে লুটিয়ে পড়লেন।*
*🌷তুলিলা অদ্বৈতবাদ সদানন্দপুরী।*
*🌷এক তর্কে পুরীর ভাঙ্গির ভারিভুরি।।*
*🌷অবশেষে সদানন্দ আশ্চর্য‍্য হইয়া।*
*🌷ভক্তিভরে প্রভুপদে পোলো লোটাইয়া।।*
                           *(গোঃ দাস)*
*🌹শ্রীচৈতন‍্যদেব সদানন্দপুরীকে ভক্তিধর্মে দীক্ষিত করে,চাঁইপালা তীর্থে গমন করলেন।তথায় এক ভৈরবী বাস করতেন।তাঁর নাম সিদ্ধেশ্বরী।তাঁর তখন বয়স প্রায় একশ বৎসর। কিন্তু এই দীর্ঘ বয়সেও, তাঁর দেহের গঠন ও রূপলাবণ‍্য দেখে তাঁকে শতবর্ষীয়া নারী বলে বোধ হত না। তেজস্বিনী মহাতপা এক বিল্ববৃক্ষের তলে বসে,ভগবত আরাধনায় রত থেকে বহুদিন অতিবাহিত করেছিলেন।এই মহাতপার অনতিদূরে শৃগালী ভৈরবী নামে আর এক তাপসী নদীর কুলে বসে তপস‍্যা করতেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব এই যোগিনীদেরকে দর্শন করে,কাবেরী নদীতটে গমন করে স্নান করলেন।অপরাহ্নে মহাপ্রভুর সঙ্গী গোবিন্দ ভিক্ষার জন্য বাহির হয়ে কিছু আটা সংগ্রহ করে আনিলে, গৌরসুন্দর ভিক্ষালব্ধ আটা নিয়ে রুটি তৈরী করলেন।গোবিন্দও মহাপ্রভুর প্রসাদ পেয়ে পরম আনন্দ লাভ করলেন।*
*🍀অতঃপর শ্রীচৈতন‍্যদেব সেখান হতে পরদিন প্রভাতে বাহির হয়ে,পথে হরিনাম বিলাতে বিলাতে চলতে লাগলেন, এবং নাগর নগরে এসে উপস্থিত হলেন।সেখানে শ্রীরাম লক্ষ্মণের মূর্তি দেখে, প্রেমভরে হরিগুণ কীর্তন করতে লাগলেন।তাঁর প্রেমানুরাগের কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল, দশ ক্রোশ দূর হতে তাঁর দর্শন লালসায় লোকে নাগর নগরে আগমন করতে লাগল।বহু সংখ্যক ব‍্যক্তি মহাপ্রভুর রূপদর্শন ও প্রেমে আকৃষ্ট হল। কিন্তু তত্র‍ত‍্য (সেখানকার) এক ব্রাহ্মণ তাঁর বিরোধী হয়ে উঠিল।সে উগ্রমূর্তি ধারণ করে মহাপ্রভুর সামনে উপস্থিত হয়ে অতি তীব্রভাবে তাঁকে গালি দিতে লাগিল ; অবশেষে তাঁর কোমল অঙ্গে প্রহার করতে উদ‍্যত হলে, সমবেত জনমন্ডলী ব্রাহ্মণের এই অস‍ৎ ব‍্যবহারের জন্য সক্রোধে তাঁকে তিরস্কার করতে লাগল। কিন্তু প্রেমাবতার শ্রীচৈতন‍্যদেব এই সুযোগে প্রহার উদ‍্যত ব্রাহ্মণকে সংসারের অনিত‍্যতা বিষয়ে নানান উপদেশ প্রদান করে বললেন, আমাকে প্রহার কর, ক্ষতি নেই, কিন্তু একবার প্রাণভরে হরিনাম কর ; তোমার কাছে আমার এই প্রার্থনা। গোবিন্দদাস তাঁর কড়চায়=*
*🌷আমারে আঘাত কর তাতে দুঃখ নাই।*
*🌷প্রাণভরে হরি বল এই ভিক্ষা চাই।।*
*🌺শ্রীচৈতন‍্যদেবের অপূর্ব ভক্তি,বিনয় ও ধৈর্য্য দেখে ব্রাহ্মণের কঠোর হৃদয় কোমল হল।সে নিজের দুষ্কার্য‍্যের কথা মনে করে অনুতপ্ত হৃদয়ে মহাপ্রভুর চরণে লুটিয়ে পড়ল, এবং প্রাণভরে হরিনাম উচ্চারণ করতে করতে ভক্তের ন‍্যায় নৃত্য করতে লাগল। গৌরহরি ব্রাহ্মণকে উদ্ধার করে সেখান হতে তাঞ্জোরে গমন করলেন। সেখানে ধলেশ্বর নামে এক বিষ্ণুভক্ত ব্রাহ্মণ বাস করতেন।তাঁর বাড়ীর আঙ্গিনায় প্রকান্ড বকুল বৃক্ষতলে, অনেক বৈষ্ণব সন্ন‍্যাসী বাস করতেন।তাঁদের ধর্মনিষ্ঠা ও বৈরাগ‍্য দর্শন করলে, ঘোর সংসার আসক্ত বিষয়ীরও অন্তরে বৈরাগ‍্যের সঞ্চার হত।গৌরসুন্দর এ সব দেখে অনতিদূরবর্তী চন্ডালু নামক এক পর্বতে গমন করলেন।বৃক্ষলতাদি পরিবেষ্টিত এই গিরিগাত্রের বহু গহ্বরের মধ্যে অনেক সাধক,তপঃপরায়ণ ব‍্যক্তি ধ‍্যান স্তিমিত লোচনে পরমাত্মার ধ‍্যানে নিমগ্ন থাকতেন।মহাপ্রভু সে স্থান দর্শন করবার জন্য গমন করলে,সেখানকার ভট্ট নামে এক বিপ্র তাঁকে নিজ ভবনে নিয়ে গেলেন।ভট্টের ভক্তির ভাব দেখে মহাপ্রভু খুবই খুশী হলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧









adds