শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 নবম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 https://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯১)🙏শ্রীগৌরিঙ্গের চরিতসুধা*
        *রথ উৎসব ও ভক্ত সম্মিলন*
       °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀শ্রীচৈতন‍্যদেব মুরারি গুপ্তকে আলিঙ্গন করে সকলকে বললেন, ইনি রামভক্ত, আমি এঁকে কৃষ্ণনাম করতে বলি।ইনি আমার আজ্ঞা প্রতিপাল‍্য বলিয়া গৃহে গমন করলেন।পরদিন আমার কাছে এসে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, "রামকে হৃদয় হতে পরিত‍্যাগ করতে আমার প্রাণ যেন ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় "।আমি তাঁর এইকথা শুনে তাঁকে আলিঙ্গন করে বললাম,তোমার বিশ্বাস দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি,এরকম বিশ্বাসই প্রয়োজন। ভক্তগণ তাঁর প্রেমপূর্ণ কথা শুনে ও প্রীতি ও আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে গভীর ব‍্যথা নিয়ে বিদায় নিলেন।(শ্রীচৈতন‍্যদেবকে ছেড়ে যেতে হচ্ছে এই গভীর ব‍্যথা)।মহাপ্রভুও তাঁর স্নেহের পাত্রদেরকে বিদায় দিয়ে অশ্রু বিসর্জন করতে লাগলেন।পুরুষোত্তমে গদাধর পন্ডিত,জলেশ্বর,পুরীগোঁসাই, জগদানন্দ,স্বরূপদামোদর পন্ডিত,গোবিন্দ, কাশীশ্বর প্রভৃতি ভক্ত ও সেবকেরা তাঁর সঙ্গে বাস করতে লাগলেন। গৌড়ভক্তগণ স্বদেশে প্রত‍্যাগমন করলে, সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য মহাপ্রভুর কাছে এসে তাঁকে একমাস কাল নিমন্ত্রণ গ্রহণ করবার জন্য অনুরোধ করলেন। শ্রীচৈতন‍্যদেব বললেন, সন্ন‍্যাসীর পক্ষে একমাস এককভাবে কোন গৃহস্থের বাড়ীতে ভিক্ষা গ্রহণ উচিত নয়,তাতে তার ধর্মহানিহবার সম্ভাবনা। ভট্টাচার্য্য তাঁকে কুড়ি দিনের জন্য তাঁর অনুরোধ রক্ষা করতে বললেন, গৌরহরি তাহাও যতীর কর্তব‍্য নয় বলে রাজি হলেন না। পনের দিনের জন্য সার্বভৌম অনুরোধ করলেন,তাঁর সে অনুরোধও রক্ষিত হল না।অবশেষে পাঁচ দিনের জন্য বলিলে,মহাপ্রভু আর আপত্তি না করে ভিক্ষা গ্রহণে স্বীকৃত হলেন। ভট্টাচার্য্য পুরীগোঁসাই প্রভৃতিকেও ভিন্ন ভিন্ন দিনে নিমন্ত্রণ করে একমাস পূর্ণ করলেন। সার্বভৌম বাড়ীতে এসে নিজের পত্নীকে শ্রীগৌরাঙ্গের জন্য নানান অন্ন ব‍্যঞ্জন রন্ধন করতে বললেন।বাসুদেব সার্বভৌম ভট্টাচার্যের ষাটি নামে এক কন‍্যা ছিল, এবং অমোঘ নামে তার স্বামী শ্বশুরালয়ে বাস করত। মহাপ্রভু যথাসময়ে ভট্টাচার্যের গৃহে উপস্থিত হলেন।বড় কলাপাতায় অন্ন রাখা হল, এবং তার উপরে পীতবর্ণ গব‍্যঘৃত দেওয়া হল।নানান প্রকার ব‍্যঞ্জন দুধ কলা ক্ষীর পাতার চারিদিকে সাজিয়ে দেওয়া হল। গৌরহরি প্র‍থমে এত অন্ন দেখে সে পাতায় বসতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে, সার্বভৌম বললেন, যা পার তাই খাও,অনুরুদ্ধ হয়ে, মহাপ্রভু ভোজনে বসিলেন। হঠাৎ সার্বভৌমের জামাতা অমোঘ,সবসময় তার মুখে সাধুনিন্দা ছাড়া ভাল কথা বলত না, গৌরহরি আহার করতে বসিলে, সে জানলা দিয়ে উঁকি মেরে বলল, এ সন্ন‍্যাসী তো দশজনের খাবার একাই খাচ্ছে। সার্বভৌম অমোঘের কথা শুনে হাতে লাঠি নিয়ে তাকে ধরতে গেলেন কিন্তু পারলেন না।গৌরহরি এই অবস্থা দেখে হাসতে লাগলেন। সার্বভৌম বাড়ীতে এসে বললেন,ষাটি বিধবা হোক, ইত্যাদি কথা বলে অমোঘের প্রতি ভয়ানক ক্রোধ প্রকাশ করতে লাগলেন।মহাপ্রভুর আহারের শেষে সার্বভৌম অতি বিনীতভাবে বললেন, তোমাকে নিমন্ত্রণ করে আজ তোমার মনে বড়ই কষ্ট দিলাম। মহাপ্রভু বললেন, অমোঘের কথায় আমার কোনই কষ্ট হয়নি, সে যথার্থ কথায় বলেছে। ভট্টাচার্য্য মনের দুঃখে সেদিন অনাহারেই দিন যাপন করেন।অমোঘ সে রাত্রে যেখানে থাকে সেখানে সে বিসূচিকা রোগে আক্রান্ত হয়। গোপীনাথাচার্য‍্য মহাপ্রভুকে এই সমাচার দিলে,তিনি তৎক্ষণাৎ অমোঘের শয‍্যাপার্শ্বে উপস্থিত হয়ে তাঁর সুকোমল হাত অমোঘের বক্ষে রাখে বললেন, এই মাৎসর্য‍্যরূপ চন্ডালকে স্থানদান করে কেন এ পবিত্র জায়গাকে অপবিত্র করছ?উঠ, ভক্তিভরে হরিনাম কর, অচিরে ভগবানের কৃপা লাভ করবে। সানুনিন্দুক অমোঘ শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেবের সুকোমল হস্তস্পর্শে শারীরিক ও মানসিক ব‍্যাধি হতে মুক্তীলাভ করল। সে মহাপ্রভুর কথায় উঠে বসিল এবং তাঁর চরণ ধরে কাঁদতে কাঁতে ক্ষমা প্রার্থনা করল। সেই মুহূর্তে অমোঘ শ্রীচৈতন‍্যের মধুময় ভক্তিপথের পথিক হয়ে বৈষ্ণবধর্ম গ্রহণ করে জীবন অতিবাহিত করতে লাগিল।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯২)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*বৃন্দাবনযাত্রা ও গৌড়দর্শন এবং পুনরায় নীলাচলে প্রত‍্যাবর্তন*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀দেখতে দেখতে সন্ন‍্যাস গ্রহণের পর শ্রীচৈতন‍্যদেবের চার বৎসর কেটে গেল।দক্ষিণদেশ ভ্রমণ ও অন‍্যান‍্য স্থানে দুই বৎসর ও পুরুষোত্তমে অপরার্দ্ধ গত হল।শেষে দুই বৎসর বৃন্দাবনগমনের বাসনা প্রবল হয়ে উঠে, কিন্তু ভক্তবৃন্দগণ তাঁর বিচ্ছেদ অতীব কষ্টকর হবে বলে, তাঁর মনের বাসনা পূর্ণ হতে দেন নাই।তৃতীয় বৎসরে গৌড়ীয় ভক্তগণ পূর্বের ন‍্যায় রথযাত্রার সময় পুরুষোত্তমে আগমন করলেন।এবার মহাপ্রভুর দর্শন লালসায় অদ্বৈতাচার্য‍্যের পত্নী সীতাদেবী,শ্রীবাস পন্ডিতের পত্নী মালিনীদেবী ও শিবানন্দ সেন প্রভৃতির পত্নীরা আপন আপন স্বামীসহ নীলাচলে আগমন করেছেন।গৌড়ীয় ললনারা গৌরহরির জন্য নানারকম খাদ‍্যদ্রব‍্য সঙ্গে করে এনেছেন।তাঁরা দূর হতে মহাপ্রভুকে দর্শন করে ভক্তিভরে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন ; শ্রীচৈতন‍্যদেবও তাঁদেরকে শুভাশীর্বাদ জ্ঞাপন করলেন। এবৎসরও পূর্ব বৎসরের ন‍্যায় গুন্ডিচা মার্জন,রথোৎসবে কীর্তন,পংক্তিতে প্রসাদান্ন ভোজন প্রভৃতিতে অতিবাহিত হল।রথোৎসব সম্পন্ন হলে,ভক্তগণ গৌরহরি সঙ্গে চারমাস যাপন করলেন।এই সময়ে অদ্বৈতাচার্য‍্যের বাসায়(পুরীতে সেখানে ছিলেন ) গৌরহরি অনেক সময় নিমন্ত্রিত হতেন।গৌড়বাসীরা এই চারমাস শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের সঙ্গে ধর্ম-প্রসঙ্গে ও কীর্তনানন্দে অতিবাহিত করেন ; এবং বিদায়কালে তাঁর আশীর্বাদ মস্তকে নিয়ে স্বদেশে প্রত‍্যাবর্তন করলেন।*
*🌺পঞ্চম বর্ষে গৌরাঙ্গপ্রভু বৃন্দাবন গমনের উদ্দেশ্য রামরায় ও সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যকে নিজের মনের কথাগুলি বললেন, তোমরা দুই বৎসরকাল আমাকে আজ-কাল করে এখানে রেখেছ, এখন খুশীমনে আমাকে বিদায় দাও ; শ্রীধাম বৃন্দাবন দর্শন করে আসি।গৌড়দেশে আমার আমার অত‍্যন্ত অন্তরের বস্তু রয়েছে,জননী ও জাহ্নবী।যাবার সময় গৌড়ে ইঁনাদের দর্শন করে যাব স্থির করেছি।তখন রামরায় ও সার্বভৌম ভাবলেন, নিজেদের সুখের জন্য মহাপ্রভুর সঙ্কল্পের পথে আর বিঘ্ন দেওয়া কর্তব‍্য নয়। তাঁরা উভয়ে পরামর্শ করে বললেন,এখন বর্ষাকাল, এ সময় বাহির হলে পথে অত‍্যন্ত কষ্ট হবে, আগামী বিজয়াদশমীর দিন বৃন্দাবন যাত্রা নির্দ্ধারণ করলে ভাল হয়।ভক্তবৎসল গৌরহরি তাঁদের পরামর্শ অনুসারে কয়েক মাস পরে বিজয়া দশমীর দিন সকালবেলা শ্রীজগন্নাথদেব দর্শন করে বৃন্দাবন যাত্রা করলেন।বহুভক্ত সঙ্গের সাথী হয়ে মহাপ্রভুর সঙ্গে গমন করতে লাগলেন।ভক্তদল ভবানীপুরে উপস্থিত হলে,বাণীনাথ প্রসাদান্ন নিয়ে ও রামানন্দ দোলায় করে সেখানে উপস্থিত হলেন।তার পরদিন তাঁরা ভুবনেশ্বর দর্শন করে কটকে উপধীত হলেন। এখানে স্বপ্নেশ্বর নামক জনৈক ব্রাহ্মণের অনুরোধে মহাপ্রভু তাঁর ভবনে ভিক্ষা গ্রহণ করে,আহারান্তে এক বকুল বৃক্ষের তলে আশ্রয় নিলেন।উৎকলাধিপতি রাজা প্রতাপরুদ্র ইতিপূর্বেই মহাপ্রভুর বৃন্দাবন-যাত্রার বিষয়,অবগত হয়েছিলেন ; বর্তমানে কটকে তাঁর আগমনবার্তা শুনে,তাড়াতাড়ি বকুলতলায় এসে শ্রীচৈতন‍্যদেবের শ্রীচরণে দন্ডবৎ প্রণাম করে,ভক্তি প্রণোদিত অন্তরে স্তুতি করতে লাগলেন। মহাপ্রভু তাঁর ব‍্যাকুলতা দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে প্রেমভরে আলিঙ্গন করলেন।রাজকর্মচারীরাও প্রণাম করল। তারপর রাজা মহাপ্রভুর কাছ হতে বিদায় নিয়ে গমনপথের সবরকম সুব‍্যবস্থা করবার জন্য কর্মচারীদের আদেশ করলেন।রাজার আদেশে কর্মচারীগণ মহাপ্রভুর নদী পার হবার জন্য সমস্ত ব‍্যবস্থা করল।মহাপ্রভু সদলে নদী পার হবেন বলে তটে সুন্দর নৌকা রাখা হল।রাজা প্রতাপরুদ্র গৌরহরিকে নিরাপদে নিয়ে যাবার জন্য কয়েকজন লেঠেল সঙ্গে যেতে আদেশ করলেন, এবং রামরায়কেও সঙ্গে থাকতে বললেন। মহাপ্রভু সন্ধ‍্যার সময় যাত্রা করবেন শুনে উৎকলাধিপতি হাতীপিঠে পটমন্ডপাচ্ছাদিত করে রাজমহিষী ও পুরাঙ্গনাদেরকে নিয়ে মহাপ্রভুর যাত্রাপথে অপেক্ষা করতে লাগলেন ; সন্ধ‍্যা হলে ভক্তসকল যখন মহাপ্রভুকে নিয়ে গমন করতে লাগলেন,তখন রাজমহিষীগণ তাঁকে প্রণাম করলেন, এবং তাঁর ভক্তিপূর্ণ মূর্তিদর্শনে বিমোহিত হয়ে অশ্রু বিসর্জন করতে লাগলেন।প্রভু নদীতটে উপস্থিত হলে,অন‍্যান‍্য ভক্তদের মত গদাধর তাঁর সঙ্গে যেতে ইচ্ছে প্রকাশ করলে, তিনি তাঁকে সঙ্গে যেতে নিষেধ করে বললেন, তুমি আমার সঙ্গে গেলে গোপীনাথের সেবা হবে না।গদাধর পন্ডিত বললেন, তুমি যেখানেই থাক সেই নীলাচল, আর তোমার শ্রীচরণ দর্শনেই কোটি দেবসেবার ফল হয়ে থাকে। মহাপ্রভু তাঁকে বুঝিয়ে বললেন,দেবসেবা পরিত‍্যাগ করলে তোমার অপরাধ হবে আর তুমি নীলাচলে থাকলে আমি ভীষণ সুখী হব।এই বলে তিনি নৌকায় চড়িলেন।রায় রামানন্দ, মঙ্গরাজ,হরিচন্দন, রাজাদিষ্ট কর্মচারী ও পুরীগোঁসাই,স্বরূপদামোদর, জগদানন্দ,মুকুন্দ,গোবিন্দ, কাশীশ্বর, হরিদাস ঠাকুর, গোপীনাথাচার্য‍্য, পন্ডিত দামোদর মহাপ্রভুর সঙ্গে নৌকায় চড়িলেন।গদাধর পন্ডিত প্রভুর অনুমতি না পেয়ে মনে ব‍্যাথা পেয়ে নদীতটে চেতনাহীন হয়ে পড়লেন।প্রভুর বিদায়কালে সার্বভৌম কাছেই ছিলেন। যদিও গৌরাঙ্গ বিচ্ছেদে তাঁরও প্রাণ শোকাকুল হয়ে পড়েছিল,তথাপি গদাধর পন্ডিতের অবস্থা দেখে তিনি প্রবোধবাক‍্যে তাঁর মনে সান্ত্বনা দিতে লাগলেন।অবশেষে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে নীলাচলে প্রত‍্যাগমন করলেন।*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯৩)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*বৃন্দাবনযাত্রা ও গৌড়দর্শন এবং মাঝপথ হতে নীলাচলে প্রত‍্যাবর্তন*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*⚪আজ জ‍্যোৎস্নাময়ী রজনী ;চন্দ্রমার রজত কিরণে চারিদিক আলোকিত ; স্রোতস্বিনী বহে নৌকাটি পূণ‍্যাত্মাদেরকে নিয়ে পরপারে উপস্থিত হল।গৌরহরি সপার্ষদে চতুর্দ্বার নামক স্থানে রাত্রি যাপন করলেন।রাজার আজ্ঞায় সব জায়গায়ই রাজকর্মচারীরা তাঁদের পরিচর্য‍্যায় নিজেদের যতটুকু করা কর্তব‍্য তাইই করেছিল।তাঁরা যেখানেই গিয়েছন সেখানেই চরম সম্মান পেতে লাগলেন।কেবল রাজ আজ্ঞায় নহে, শ্রীচৈতন‍্যদেবের দর্শন ও সেবাতে লোকে নিজেদের জন্ম সার্থক হল মনে করতে লাগলেন।পরদিন সকালে চতুর্দ্বারে বাণীনাথের পাঠানো প্রসাদান্ন উপস্থিত হল।সকলে স্নানান্তে চরম আনন্দ সহকারে ভোজন করে পুনরায় চলতে লাগলেন। ক্রমে তাঁরা যাজপুরে উপস্থিত হলেন,যে দুইজন রাজকর্মচারী তাঁর সঙ্গে আগমন করছিলেন,মহাপ্রভু তাদেরকে বিদায় দিলেন।যাজপুর হতে তাঁরা রেমুনায় উপস্থিত হলেন।মহাপ্রভু এখান হতে রামরায়কে বিদায় করলেন।এ পর্যন্ত তিনি রামানন্দের সঙ্গে কৃষ্ণকথা প্রসঙ্গে সময় অতিবাহিত করছিলেন।বিদায়কালে রামরায়ের মন ভীষণ কষ্ট পেতে লাগল।তাঁর নয়ন দিয়ে অবিরল বারিধারা বহিতে লাগল। তিনি বিচ্ছেদ-যন্ত্রণা সহ‍্য করতে না পেরে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন। করুণাময় গৌরহরি রামরায়কে কোলে তুলে নিয়ে ক্রন্দন করতে লাগলেন। তারপর সেখান হতে ক্রমে সকলে উৎকল রাজ‍্যের সীমান্ত প্রদেশে এসে পৌঁছলেন।এখানে উৎকলাধিপতির জনৈক কর্মচারী শ্রীচৈতন‍্যদেবের প্রতি যথোচিত ভক্তি প্রদর্শন করে তাঁদের থাকবার ব‍্যবস্থা ও সেবার আয়োজন করে দিলেন।রাজকর্মচারী মহাপ্রভুকে বললেন, এটিই উৎকল রাজার সীমান্ত প্রদেশ ; নিকটবর্তী পিছিলদা নদীর পরপার হতে মদ‍্যপ যবন রাজার আধিপত‍্য।আপনারা এখানে দিনকয়েক অপেক্ষা করুন।মুসলমান অধিপতির সঙ্গে একটা সন্ধি করে নেয়।তারপর আপনাদেরকে পিছিলদা পার করাইয়ে দিব।পরপারে যাত্রীদের বিচরণ নিরাপদ নয়।ইতিমধ‍্যে মদ‍্যপের এক হিন্দু চর ছদ্মবেশে মহাপ্রভুর দর্শনার্থে আগমন করে।সে চৈতন‍্য মহাপ্রভুর অসাধারণ ঈশ্বরানুরাগ ও তাঁর সঙ্গীদের জীবনের অনুপম সৌন্দর্য্য দেখে বিস্মিত হয়ে রাজার হয়ে রাজার কাছে গিয়ে সে সকলের উল্লেখ করতে করতে যেন আত্মহারা হয়ে পড়ল এবং কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে প্রেমোন্মত্ত বৈষ্ণবের মত নৃত্য করতে লাগল।এরকম শক্তি যিনি মানবের অন্তরে সঞ্চার করাইতে পারেন,তিনি নরলোকের অতীত।এই কথা শুনে মনের বিশ্বাসে মদ‍্যপরাজ শ্রীচৈতন‍্যের দর্শন-লালসায় ব‍্যাকুল হয়ে তাঁর কাছে একজন কর্মচারী পাঠিয়ে দিলেন।যবনরাজ আপন কর্মচারীকে এই উপলক্ষ্যে উৎকলের সঙ্গে সন্ধি স্থাপিত হবে বলে উৎকল-সীমান্ত-রাজকর্মচারী মহাপাত্রকে জ্ঞাপন করলেন। মদ‍্যপরাজার পাঠানো লোক এসে শ্রীচৈতন‍্য-চরণে প্রণাম করে যবনরাজের দর্শনের ইচ্ছা বলল।মহাপাত্র মদ‍্যপরাজার লোককে যথোচিত সম্মান করে বললেন,যবনরাজ নিরস্ত্র চার পাঁচজন লোক সঙ্গে নিয়ে মহাপ্রভুকে দেখতে এখানে আসতে পারেন।মদ‍্যপ কর্মচারী যবনরাজের সন্ধি স্থাপনের বাসনাও জানাল।যবনরাজ দূতমুখে মহাপাত্রের সম্মতি জেনে শ্রীচৈতন‍্যকে দেখবার জন্য বেরোলেন এবং অনেক দূর হতে তাঁকে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।মহাপাত্র আগন্তুককে অভ‍্যর্থনা করে আনয়ন করলেন।যবনরাজ মহাপ্রভুর কাছে এসে বললেন, আমি যদি যবনকুলে জন্মগ্রহণ না করে হিন্দু হতাম তাহলে আমি তোমার পবিত্র শ্রীচরণে স্থান পেতাম।গৌরহরি তার হৃদয়ের ব‍্যাকুলতা দেখে পরম আনন্দিত হয়ে তাকে কৃষ্ণনাম গ্রহণ করতে বললেন।যবনরাজ মহাপ্রভুর কৃপায় মুগ্ধ হয়ে বললেন,যদি আমার পরিত্রাণের জন্য কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত করলে,তাহলে আমাকে কৃপা করে তোমার সেবার অধিকারী কর।আমি বৈষ্ণব-নিন্দা প্রভৃতি অনেক অপরাধে এ জীবন কলঙ্কিত করেছি ; এমন সময় মুকুন্দ দত্ত মুসলমান অধিপতিকে বললেন, মহাপ্রভুর গঙ্গা-পথে যাবার যদি ব‍্যবস্থা করে দেন তাহলেই এ সময় বিশেষ উপকার করা হয়।তাঁর পক্ষে শ্রীচৈতন‍্যেদেবের জন্য এই উপকার অকিঞ্চিৎকর মনে করে মদ‍্যপরাজ তৎক্ষণাৎ মুকুন্দের প্রস্তাবে রাজি হয়ে সেদিন মহাপ্রভুর চরণে প্রণত হয়ে বিদায় নিলেন।পরদিন যবনরাজ মহাপ্রভুর যাবার জন্য একটি সুন্দর সুসজ্জিত বড় নৌকা পাঠিয়ে দিলেন।*
*🍀সেইসময়ে স্থলপথ ও জলপথ দস‍্যুদের অত‍্যাচার ছিল। এ জন্য ভক্তদের রক্ষার জন্য সৈন‍্যপূর্ণ আরো দশটি নৌকা সঙ্গে নিয়ে যবনরাজ স্বয়ং ভক্তগণের সঙ্গে গমন করতে লাগলেন। শ্রীগৌরাঙ্গের নৌকা অবশেষে নদ নদী ও বঙ্গোপসাগর অতিক্রম করে পানিহাটী গ্রামে উপস্থিত হল।শ্রীচৈতন‍্যপ্রভুর আগমনবার্তা চারিদিকে প্রচারিত হয়ে পড়ল।পথে এত লোক হয়েছিল যে,রাঘব পন্ডিত লোকের ভিড় ঠেলে অতিকষ্টে তাঁকে নিজ ভবনে নিয়ে আসিলেন।সেখানে একদিন থাকবার পর তিনি কুমারহট্ট শ্রীবাসের গৃহে অবস্থান করে অবশেষে বাচস্পতির গৃহে আতিথ‍্য গ্রহণ করলেন।মহাপ্রভুকে দেখবার জন্য সেখানে বহুলোকের সমাগম হতে লাগল।*
*🌺এত লোকজনের ভিড় দেখে মহাপ্রভু গোপনে বাচস্পতির গৃহ হতে অন‍্যত্র চলে যান।কিন্তু যাঁকে দেখবার জন্য হাজার হাজার লোক ব‍্যাকুল হয়ে উঠেছে,বাচস্পতি গৃহে তাঁকে দেখতে না পেয়ে, অনেকেই বাচস্পতিকে দোষারোপ করে বলতে লাগল যে,তিনি গৌরসুন্দরকে লুকিয়ে রেখেছেন। গৌরহরি কোথায় গেছেন তা বাচস্পতি জানেন না। একদিকে লোকের গঞ্জনা, অন‍্যদিকে মহাপ্রভু বিরহের কষ্ট,এইসবে তাঁর চিত্ত অস্থির হয়ে পড়ল।তাঁর নয়ন দিয়ে বারিধারা বহিতে লাগল। অল্প সময়ের মধ্যে প্রচারিত হয়ে পড়ল যে, গৌরহরি কুলিয়াগ্রামে মাধবদাসের বাড়িতে রয়েছেন।মহাপ্রভু কুলিয়ায় এক সপ্তাহ বাস করেন।এই কয়েকদিন গৌরচন্দ্রের দর্শন অভিলাষী হয়ে হাজার হাজার লোক গ্রাম গ্রামান্তর হতে কুলিয়ায় আসতে লাগল।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯৪)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
*বৃন্দাবনযাত্রা ও গৌড়দর্শন ও মাঝপথ হতে নীলাচলে প্রত‍্যাবর্তন*
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🍁লোকের পারাপারের জন্য নদীবক্ষে বহু নৌকা রাখা হল।কিন্তু জনগণ এত বেশী হয়ে পড়ল যে,বহুসংখ‍্যক নৌকা হওয়া সত্ত্বেও তাতে তাদের জায়গা হল না। অনেক লোক কলস প্রভৃতির সাহায্যে নদী পার হতে লাগল।গ্রামের পথে আর যেন জায়গা নেই, অনেকে গাছের উপর উঠে একবার নবদ্বীপচন্দ্র গৌরসুন্দরকে দেখে নয়ন সার্থক করতে লাগল।নানা জায়গায় মহোৎসবের মত মেলা বসে গেল।*
*🌺মহাপ্রভু তারপর সকলকে নিয়ে শান্তিপুরে অদ্বৈতাচার্য‍্যের ভবনে গমন করলেন।আচার্য‍্য শচীদেবীকে নিজ ভবনে আনয়ন করেন।তিনি আচার্য‍্য ভবনে এসে পুত্রের চাঁদবদন দর্শন করে আনন্দলাভ করলেন।নবদ্বীপ হতে বহু সংখ্যক লোক আচার্য‍্য ভবনে আসেন। গৌরহরি দশদিন আচার্য‍্যভবনে ছিলেন।এই দশদিন যেন তাঁর ভবনে এক মহোৎসব হয়েছিল মহাপ্রভুকে কেন্দ্র করে। সেখানে শচীমা স্বহস্তে রন্ধন করে নিমাইকে ও তাঁর ভক্তগণকে ভোজন করিয়ে পরম আনন্দ লাভ করতে লাগলেন।এখানে ধনশালী গোবর্দ্ধন দাসের পুত্র রঘুনাথ দাস আগমন করতঃ মহাপ্রভুর দর্শনলাভে চরিতার্থ হন।*
*🌺গৌরসুন্দর তারপরে বঙ্গের রাজধানী গৌড়ের নিকটবর্তী রামকেলিগ্রামে আগমন করেন।হোসেন শাহ তখন গৌড়ের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত।গৌরহরি যেখানেই যেতেন সেইখানেই বহু বহুলোকের সমাগম হত।রাজনানীর নিকটবর্তী রামকেলিগ্রামে তিনি উপস্থিত হলে গৌড়াধিপতি মহাপ্রভুর আগমনবার্তা ও তাঁর প্রচারপ্রণালীর বিষয় শুনে, তাঁর জনৈক কর্মচারীকে মহাপ্রভুর প্রভাব সম্বন্ধে বলেন, আমি অর্থ ব‍্যয় করেও আমার কর্মচারীদের এমন আনুগত‍্য লাভ করতে সমর্থ হই না। আর শত শত লোক বিনা অর্থে এ ব‍্যক্তির আদেশ পালন ও পরিচর্য‍্যা করে নিজেদের জীবন সফল হল বলে মনে করছে।* *মুসলমান উপাধিধারী "বীরখাস বা সাকরমল্লিক" ও "দবিরখাস" নামে গৌড়াধিপতির দুইজন কর্মচারী ছিলেন,তাঁরা পরমভক্ত ও ধর্মানুরাগী এবং পন্ডিত ছিলেন।অনেক দিন হতে শ্রীচৈতন‍্যের প্রতি অনুরাগী হয়ে ভক্তির পথ অবলম্বন করেছিলেন।তাঁরা ভাবলেন, মুসলমানধিপতিকে বিশ্বাস নাই। হয়ত কোন সময় বিপদ ঘটাতে পারে।তাঁরা এইজন‍্য গৌরহরিকে রামকেলি হতে অন‍্যত্র গমন করবার জন্য বললেন।*
*🍀শ্রীচৈতন‍্যের ভক্তবৃন্দের মধ্যে যাঁরা চরম ভগবৎপ্রেম,বিভিন্ন শাস্ত্র অধ‍্যয়ন ও বৈরাগ‍্যের অত‍্যুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করে গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে শ্রীরূপ-সনাতনের নাম চিরদিনই উজ্জ্বলবর্ণে চিত্রিত থাকবে। যজুর্বেদীয় ব্রাহ্মণবংশে কর্ণাটরাজ সর্বজ্ঞ জন্মগ্রহণ করেন।দেহান্তের সময় তিনি তাঁর পুত্র অনিরুদ্ধের হাতে রাজ‍্যভার অর্পণ করে যান।অনিরুদ্ধের দুই পত্নীর গর্ভে রূপেশ্বর ও হরিহর দুই সহোদর জন্মগ্রহণ করেন। রূপেশ্বর কনিষ্ঠ ভাই হরিহর কর্তৃক রাজ‍্যচ‍্যুত হয়ে মা ও পত্নীসহ পৌরস্ত দেশে আসিয়া বাস করেন। এখানে তাঁর একটি পুত্র জন্মগ্রহণ করে।তাঁর নাম পদ্মনাভ। পদ্মনাভ বড় হয়ে,গঙ্গাতীরে বাস করবার জন্য নবহট্ট (নৈহাটি) গ্রামে এসে বাসগৃহ নির্মাণ করেন।পদ্মনাভ ধর্মপরায়ণ ছিলেন, এইজন‍্য যাগযজ্ঞ অনুষ্ঠানে পরমানন্দেই সময় অতিবাহিত করতেন।ইঁনার ১৮ কন‍্যা ও পাঁচ পুত্র জন্মগ্রহণ করেন।এই পঞ্চপুত্রের সর্বকনিষ্ঠের নাম মুকুন্দ।মুকুন্দের পুত্র কুমারদেব। ইঁনি অতি ধীর ও ধর্মাত্মা ব‍্যক্তি ছিলেন।*
*হিন্দুসমাজের উৎকট জাত‍্যভিমানের(আভিজাত‍্যের জন্য অর্থ‍্যাৎ উচু বংশে জন্মের জন্য কুলগর্ব)জন‍্য কুমারদেব যবন দেখলেই ধর্মনষ্ট হল বলে তারজন‍্য প্রায়শ্চিত্ত করতেন। কিন্তু জানা যায় না কেন, ইনি গ্রামের আত্মীয়স্বজনের অপ্রিয় ব‍্যবহারে উত‍্যক্ত হয়ে বাখরগঞ্জে এসে বাস করেন, এবং যশোহরের মধ্যে ফতোয়াবাদে গৃহ নির্মাণ করেন। এই জায়গায় শ্রীরূপ-সনাতন জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সনাতন জ‍্যেষ্ঠ রূপ মধ‍্যম,বল্লভ বা অনুপম নামে আরেক ভাই ছিলেন তিনি কনিষ্ঠ।শ্রীরূপ সনাতন বাল‍্যকালে সংস্কৃতভাষায় বিশেষ ব‍্যুৎপত্তিলাভ করেছিলেন। সনাতন সার্বভৌম ভট্টাচার্য্যের সহোদর বিদ‍্যাবাচস্পতির কাছে যথানিয়মে শ্রুতি,স্মৃতি,দর্শন প্রভৃতি অধ‍্যয়ন করেছিলেন। তিনি তাঁর কোন গ্রন্থে শিক্ষাগুরুর নাম উল্লেখ করে গিয়েছেন। শ্রীরূপ-সনাতন যেমন সুপন্ডিত তেমনি ধর্মানুরাগী ছিলেন।ইঁনাদের বুদ্ধিও প্রখর ছিল। সেইসময় হোসেন শাহ বঙ্গের রাজধানী গৌড়ের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন।গৌড়েশ্বর শ্রীরূপ-সনাতনের পান্ডিত‍্য ও বুদ্ধিমত্তার কথা শুনে সনাতনকে সচিবের ও রূপকে রাজ‍্যের উচ্চতর পদে অধিষ্ঠিত করেন।ভ্রাতৃদ্বয় মুসলমান রাজসরকারে কাজ করতে ইচ্ছুক  ছিলেন না, কিন্তু তাঁদের প্রতি কোন উৎপীড়ন হয়, এই ভয়ে কর্মে যুক্ত হতে বাধ‍্য হন। অল্পকাল মধ্যে গৌড়েশ্বর দুইভাইয়ের কার্যদক্ষতা দেখে ভীষণ সন্তুষ্ট হয়ে তাঁদেরকে স্বল্প করে অনেক জমিদারী দান করেন।তাঁরা গৌড়ের কাছে রামকেলিগ্রামে নেজেদের বাসভবন নির্মাণ করেছিলেন।অতুল ঐশ্বর্যের অধিকারী হয়ে,তাঁরা পন্ডিত ও সাধুদের সঙ্গে জ্ঞান ও ধর্মচর্চায় অনেক সময় অতিবাহিত করতেন।*
*শ্রীরূপ-সনাতন বাড়ীর সম্মুখে কদম্ববৃক্ষ-পরিবেষ্টিত শ‍্যাম ও রাধাকুন্ড নামে দুইটি জলাশয় খনন করে সেই খানে বসে হরির ধ‍্যান ও কীর্তনে রত হতেন।শ্রীসনাতন রাজমন্ত্রীর পদে থেকেও রাজ‍্যের সমস্ত ভার মাথায় নিয়েও "হংসদূত" ও "পদাবলী" নামক দুইখানি সংস্কৃত গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।যেসময় শ্রীচৈতন‍্যদেব হরিনামের মধুর কীর্তনে বঙ্গের নানাজায়গায় লোকদেরকে মাতোয়ারা করে তুলেছিলেন, ভক্তির সুধারসে শুকনো কঠোর বৈদান্তিকদের হৃদয় অভিষিক্ত করে তাঁদেরকে ভক্তিপথাবলম্বী করেছেন। সেসময় শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রের পবিত্র সঙ্গ লাভ করবার জন্য রূপসনাতনের চিত্ত ব‍্যাকুল হয়ে উঠে ; কিন্তু রাজকার্য‍্যের গুরুতর ভারে লিপ্ত থাকায় তা পূর্ণ হওয়া সম্ভব নয় মনে করে,তাঁরা হৃদয়ের পিপাসা নিবারণের জন্য অতি দীনভাবে তাঁর কাছে পত্র লিখতেন।মহাপ্রভু তাঁদের ব‍্যাকুলতা দেখে বিমুগ্ধ হয়ে পত্রদ্বারা এই শ্লোক লিখে পাঠিয়েছিলেন।*
*🌷পরব‍্যসনিনী নারী ব‍্যগ্রাপি গৃহকর্মসু।*
*🌷✋তমেবা স্বাদয়ত‍্যন্তর্নবসঙ্গরসায়নম্।।*
*🌺কোন কুলনারী অন‍্য পুরুষে আসক্তা হয়ে গৃহকর্মে রতা থেকেও যেমন অন্তরের ভিতর প্রেমরস আস্বাদন করে থাকেন,তদ্রূপ কার্য‍্যের মধ্যে লিপ্ত থেকেও সেই ভগবানের মধুর রসে সতত চিত্তকে নিমগ্ন রাখবে।ধর্মানুরাগী দুইভাই শ্রীচৈতন‍্যের উপদেশ অনুসারেই বিষয়ের মধ্যে থেকেও হরিপ্রেমানুরাগী হয়েই বাস করতেন।*
*🌳শ্রীচৈতন‍্যদেব বৃন্দাবন যাত্রাকালে যখন রামকেলি 🌹মালদহ হতে প্রায় ৮/৯ ক্রোশ দূরে অবস্থিত।সনাতন গোস্বামী খোদিত সনাতনসাগর ও রূপ গোস্বামী খোদিত রূপসাগর আজও উক্ত গ্রামে এই ভক্তদ্বয়ের স্মৃতিচিহ্ন রক্ষা করছে।এখানে প্রতি বৎসর জ‍্যৈষ্ঠ মাসের সংক্রান্তিতে বৈষ্ণবভক্তগণের বিশাল মিলনমেলা শুরু হয়।*
*🍀তখন শ্রীরূপ-সনাতন তাঁর দর্শন অভিলাষী হয়ে,গভীর রাত্রিতে দীনবেশে হরিদাস ও নিত‍্যানন্দের সামনে উপস্থিত হলেন।গৌরহরি ভক্তদ্বয়কে দেখে পুলকিত অন্তরে তাঁদেরকে আলিঙ্গন করলেন।শ্রীরূপ সনাতন অতি দীনভাবে কাঁদতে কাঁদতে শ্রীচৈতন‍্য চরণে দন্ডবৎ ও প্রণাম করে বললেন, আমরা অতি হীন,মহাপাপী,বিষয় কূপে ডুবে রয়েছি।কিভাবে পরিত্রাণ লাভ করব, তার উপায় বলে দিন। শ্রীচৈতন‍্য তাঁদের প্রার্থনায় মুগ্ধ হয়ে বললেন, শীঘ্রই কৃষ্ণ তোমাদের বন্ধন মোচন করবেন। তোমরা এখন যেমত কর্মে রত আছ, সেরকম ভাবেই থাক।অবশেষে গৌরহরি তাঁদের সম্বোধন করে বললেন, অদ‍্য হতে যাবনিক নামের পরিবর্তে তোমাদের নাম হল শ্রীরূপ ও শ্রীসনাতন।সকলেই এই নামে এঁদেরকে সম্বোধন করবে।দবিরখাস ও সাকরমল্লিকের প্রতি কৃপা-আশীর্বাদ ও তাঁদের নতুন নামকরণে সকলের হৃদয় আনন্দে ভরে গেল।তাঁরা হরিধ্বনিতে নিস্তব্ধ নৈশগগন বিকম্পিত করে তুললেন। বিদায় নিবার সময় সনাতন বললেন, প্রভো! যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের উদ্ধার করুন। পরদিন প্রভাতে মহাপ্রভু কানাইয়ের নাটশালায় আগমন করলেন।🌹কানাইয়ের নাটশালা, গৌড়ের নিকটে রাজমহল হতে তিন ক্রোশ দূরে।*
*🍁মহাপ্রভু যেখানেই যান সেইখানেই প্রবল জনস্রোত তাঁর অনুগমন করে। বৃন্দাবনের পথে যেতে যেতে কি যেন মনে হল মহাপ্রভুর, তিনি কি যেন মনে ভাবলেন এবং নীলাদ্রি যাবেন বলে মনোস্থির করে, পুনঃ কি যেন চিন্তা হল! তিনি পুনরায় শান্তিপুরে অদ্বৈতাচার্য‍্যের ভবনে গমন করলেন। সেখানে শচীমাকে পুনঃ আনা হয় এবং শচীমা স্বয়ং রন্ধনাদি করে সকলকে আহার করান।মহাপ্রভু এখানে দশদিন থেকে ভক্তসঙ্গে কীর্তন করে নীলাচলাভিমুখে প্রত‍্যাগমন করেন। মহাপ্রভু নীলাচল পথে যেতে যেতে বরাহনগর নামে কোন গ্রামে উপস্থিত হন।সেই গ্রামে এক ব্রাহ্মণ বাস করতেন, ইনি সুপন্ডিত।শ্রীচৈতন‍্যদেব,তাঁর ভাগবত পাঠ শুনে প্রেমাবিষ্ট হয়ে পড়লেন ; এবং বিপ্রকে বললেন, আমি তোমার মুখে যেরকম ভাগবত পাঠ শুনলাম, সত‍্যই অন‍্য কারো মুখ হতে এমন মিষ্ট পাঠ শুনি নাই।শ্রীচৈতন‍্য বিপ্র গৃহে গভীর রাত্রি পর্যন্ত ভাগবত শ্রবণ ও কীর্তনাদিতে যাপন করে গন্তব‍্য স্থলে যাত্রা করলেন।যাবার সময় তিনি ব্রাহ্মণকে "ভাগবতাচার্য‍্য" উপাধি দান করেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🦚🙏🙏🙏🙏🙏🙏
══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯৫)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
           *বৃন্দাবন যাত্রা ও বিহার*
           👣👣👣👣👣👣👣👣
*🍀শ্রীচৈতন‍্যদেব নীলাচলে ফিরে বৃন্দাবন গমনের বাধা-বিপত্তির কথা সকল ভক্তকে জানালেন, এবং রামরায় ও দামোদরকে বললেন, আমি এবার কাউকেও সঙ্গে না নিয়ে একাকীই বনপথে গমন করব স্থির করেছি।তোমরা এ বিষয়ে বাধা-বিপত্তির কারণ হইও না।সন্তুষ্টমনে আমাকে সেখানে যাবার অনুমতি দাও।মহাপ্রভুর বৃন্দাবনগমনের একান্ত বাসনার বিষয় সকলেই জানতেন।এখন যেন মহাপ্রভুর মনের বাসনা পূর্ণ হয় আমাদের সেই ব‍্যবস্থা করতে হবে, রামরায় একথা বললেন।তবে এখন বর্ষাকাল নিকটবর্তী ; পথে বাহির হলে অত‍্যন্ত কষ্ট পেতে হবে ; বর্ষান্তে শরতের শুরুতে বাহির হওয়ায় ভাল।আর ঐ দুর্গম পথে গমন করতে হলে, তোমার সেবার জন্য দুইজন লোক সঙ্গে থাকা চাই।মহাপ্রভু বললেন, সঙ্গীদের মধ্যে একজনকে নিলে অন‍্যজনও আমার সাথী হতে চাইবে।তখন পরামর্শদাতারা বললেন, "বলভদ্র ভট্টাচার্য্য সম্প্রতি তোমার সঙ্গে গৌড় হতে এসেছেন,তাঁর সঙ্গে একজন ভাল ব্রাহ্মণ সেবক আছে।সাথী করে নিলে,তোমারও সাহায্য হবে আর ইঁনারাও তোমার সঙ্গে থেকে তোমার সেবাতে ও তীর্থদর্শনে নিজেদের জীবনকে সার্থক বিবেচনা করবে।মহাপ্রভু তাঁদের কথায় কোন উত্তর দিলেন না নীরব হয়ে রইলেন।শরৎকাল সমাগত হলে,চৈতন‍্যদেব একদিন শ্রীজগন্নাথ দর্শন ও তদীয় আজ্ঞা নিয়ে উষাকালে বলভদ্র ভট্টাচার্য্য ও তদীয় সহচরকে সঙ্গে নিয়ে অজ্ঞাতসারে বৃন্দাবন যাত্রা করলেন।নির্জন বনপথে সেই হৃদয়বিহারী হরির মধুময় নাম কীর্তন করতে করতে গমন করবেন,এই তাঁর হৃদয়ের বাসনা।গৌরহরি এই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য মানুষের সাধারণ যাতাযাতের পথ ছেড়ে দিয়ে কটক শহর ডানদিকে রেখে বনপথে প্রবেশ করলেন।ক্রমে ঘন হতে ঘনতর জঙ্গলের মধ্যে তাঁরা প্রবেশ করতে লাগলেন।ভগবৎ প্রেমিকেরা চিরদিনই সব দেশে ও সব জায়গায় নির্জন প্রকৃতির সঙ্গ উপভোগে অপার আনন্দ অনুভব করে থাকেন।আজ ভগবদ্ভক্তদের শিরোভূষণ শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেব বৃন্দাবন যাত্রাকালে গহন বনে পাখীররবে বৃক্ষশ্রেণীর মধ‍্য দিয়ে,মনের উল্লাসে নিজ ইষ্টদেবতার নামকীর্তন করতে করতে গমন করতে লাগলেন।🌹কথিত আছে,এই নিবিড় জঙ্গলে, তিনি বাঘ সিংহ প্রভৃতি হিংস্র জন্তু সকলের মধ‍্য দিয়ে যখন গমন করতে লাগলেন,তখন তারাও মহাপ্রভুর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে, নিজেদের হিংসাবৃত্তি ভুলে হরিনামামৃত রসে ডুবে গিয়েছিল।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পাই=একদিন একটা বাঘ পথেরমধ‍্যে শুয়েছিল, চৈতন‍্যদেব ভাবে বিভোর হয়ে চলতে চলতে, বাঘের গায়ে চরণ স্পর্শিত হলে,বাঘ তৎক্ষণাৎ মাটি হতে উঠে "কৃষ্ণ কৃষ্ণ"বলে নৃত্য করতে লাগল।🌹আর একদিন মহাপ্রভু অরণ‍্য মাঝে নদীতে স্নান করছিলেন, এমন সময় এক হাতীরদল জল পান করবার জন্য সেই নদীতে নামল ;মহাপ্রভু অঞ্জলী ভরে,হাতীর দলের গায়ে জল ফেললেন, তাদের গায়ে জল পড়লে,তারা ভাবে প্রেমে উন্মত্ত হয়ে কৃষ্ণনাম উচ্চারণ করতে করতে,কেউ মাটিতে গড়াগড়ি দিতে লাগল, কেউ বা নৃত্য করতে লাগল। শ্রীচৈতন‍্যের কন্ঠনিঃসৃত সুমধুর হরিনাম শুনে কুরঙ্গের(মৃগ বা হরিণের) দল আকৃষ্ট হয়ে,তাঁর সামনে উপস্থিত হল, এবং প্রেমাবিষ্ট হয়ে হরিগুণ কীর্তন করতে নৃত্য করতে লাগিল।ময়ূর ও অরণ‍্যের বিহগকুল মধুর হরিগুণ কীর্তন করে আনন্দে নাচতে নাচতে মহাপ্রভুর সঙ্গে চলতে লাগল।মহাপ্রভুর আগমনে ঝারিখন্ড অরণ‍্যের তরুলতা সবও যেন কৃষ্ণপ্রেমের মধুর আস্বাদনে বিভোর হয়ে,হরিধ্বনি করতে লাগল।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী এ সকল ঘটনা বলভদ্র ভট্টাচার্য্যের চাক্ষুষ দর্শনের প্রমাণ বলে বর্ণনা করে গিয়েছেন।*
*বনপথে অসভ‍্য ভীলদের ছোট ছোট পল্লী অতিক্রম করে চলতে হয়েছিল। যিনি গৌড়দেশ, দাক্ষিণাত‍্য ও উৎকল-বাসীদের কৃষ্ণনামে যেমন উন্মত্ত করে তুলেছিলেন, তিনি নিরক্ষর অর্দ্ধ উলঙ্গাকৃতি ভীলদেরকেও সেই প্রেমের অধিকারী করে তুলতে লাগলেন।তারাও মহাপ্রভুর আগমনে ও সুমধুর হরিনামে "হরি হরি" বলে নাচতে লাগল।*
*🍀মহাপ্রভু ও সঙ্গীগণ আনন্দিত মনে নির্জন বনে চলতে লাগলেন।গৌরহরি ঝরণার উষ্ণজলে ত্রিসন্ধ‍্যা স্নান করতেন, বনের কাষ্ঠখন্ড জ্বালিয়ে কোন কোনও সময় শীত নিবারণ করতেন।তাঁরা যখন কোন জনপদে দিয়ে চলতেন,তখন বলভদ্র ভট্টাচার্য্য সময়ে সময়ে দীর্ঘকাল চলার জন্য,ভিক্ষালব্ধ তন্ডুলাদি সঞ্চয় করে রাখতেন।ভট্টাচার্য‍্য বনের বিভিন্ন শাক নিয়ে রন্ধন করতেন, মহাপ্রভু অতি আনন্দমনে শাকান্ন ভোজন করে পরম আনন্দ উপভোগ করতেন।মহাপ্রভু আরও বললেন যে,শ্রীকৃষ্ণ কৃপাময়,তিনি আমাকে এই নির্জন পথে নিয়ে আসিলেন। আহা!তাঁর কি অপার করুণা!আমি বনপথে বিচরণ করে যে সুখ অনুভব করছি,তা আমি আর জীবনে কখনও করিনি।শ্রীকৃষ্ণের অপার করুণা ছাড়া জীবনে কোন সুখই লাভ হয় না।বলভদ্র বিনম্র ভাবে বললেন,প্রভো!আমি অধম পামর,তুমি সাক্ষাৎ শ্রীকৃষ্ণ,তুমি যে কৃপা করে, আমাকে সঙ্গে নিয়ে আসিলে,এটিই আমার পরম সৌভাগ্য,তুমি আমাকে সঙ্গে এনে কাককে গরুঅএর সম্মান দান করলে।*
*শ্রীচৈতন‍্যদেব এরকম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখতে দেখতে সঙ্গীদের সঙ্গে কাশীধামে উপনীত হলেন। দুপুরে যখন তিনি মণিকর্ণিকার ঘাটে স্নান করবার জন্য যাচ্ছিলেন, তখন তপন মিশ্রও স্নানের জন্য সেখানে যাচ্ছিলেন।🌹মহাপ্রভু যখন পূর্ববঙ্গে গিয়েছিলেন,তখন তপন মিশ্রের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়, এ বিষয় পূর্বেই বলা হয়েছে।মিশ্র গৌরহরিকে দেখেই ভক্তিভরে তাঁর চরণে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন, মহাপ্রভু তাঁর হাত ধরে তুলে প্রেমভরে আলিঙ্গন করলেন।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌  🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯৬)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
     *শ্রীধামবৃন্দাবন যাত্রা ও বিহার*
    ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀বহুদিন পরে গৌরহরিকে দেখে তপন মিশ্রের নয়ন হতে অশ্রু বর্ষিত হতে লাগল।যাইহোক, স্নানের পর বিশ্বেশ্বর ও বিন্দুমাধব দর্শন করবার পর মিশ্র মহাপ্রভুকে নিজ ভবনে ভিক্ষার জন্য নিমন্ত্রণ করলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব মিশ্রের ভবনে গমন করলে, মিশ্র-পরিবারের সকলে,যেন আনন্দ-নীরে ভাসতে লাগলেন ;এবং তাঁর শ্রীচরণ ধৌত করে,পাদোদক পান করলেন।বলভদ্র মহাপ্রভুর জন্য রন্ধন করলেন।ভোজনান্তে গোরাচাঁদ শয়ন করলে,তপন মিশ্রের পুত্র রঘুনাথ তাঁর চরণ-সেবা করতে লাগলেন।তাঁর আগমনবার্তা শুনে মহাপ্রভুর পরিচিত চন্দ্রশেখর এসে উপস্থিত হলেন।ইনি কাশীতে লিখনকার্য করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।চন্দ্রশেখর মহাপ্রভুকে দেখে ভক্তিভরে শ্রীচরণতলে পড়ে কাঁদতে লাগলেন।দয়াময় মহাপ্রভুও প্রেমভরে তাঁর হাত ধরে তুললেন।চন্দ্রশেখর কাঁদতে কাঁদতে বললেন,প্রভো!এই জায়গায় মায়াবাদ,অদ্বৈতবাদ ও শুকনো বেদান্তের কথা ছাড়া আর অন‍্য কোন ভক্তিমার্গের কথা শুনতে পাবেন না কেবল তপনমিশ্র আমাকে হরিকথা শুনিয়ে আমার তাপিত প্রাণ শীতল করে থাকেন। আমরা নিত‍্যই আপনার অনুপম চরিত্রের গুণানুকীর্তন করি।*
*🌺সেইসময়ে কাশীতে প্রকাশানন্দ স্বামী বৈদান্তিকদের মধ্যে বিশিষ্ট ব‍্যক্তি বলে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন।তিনি শিষ‍্যদেরকে বেদান্ত শিক্ষা দিতেন।একদিন এক ব্রাহ্মণ প্রকাশানন্দ স্বামীর কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন, "শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেব নামে এক পরম ভক্ত এখানে এসেছেন।এই পরমরূপবান সন্ন‍্যাসীর মধ্যে দেব-বাঞ্জিত ভক্তির সব লক্ষণই প্রকাশ পেয়ে থাকে, তিনি কখন ভক্তির উচ্ছ্বাসে নাচেন, আবার কখনও কাঁদেন।ইঁনাকে দেখলেই সাক্ষাৎ বৈকুন্ঠের নারায়ণ বলে প্রতীয়মান হয়।বৈদান্তিক প্রকাশানন্দ বিপ্রের মুখ হতে শ্রীচৈতন‍্যদেবের দেবোপম গুণাবলীর কথা শুনে,তাচ্ছিল‍্যের হাসি হেসে বলতে লাগলেন, "গৌড়দেশেরএক ভাবুক সন্ন‍্যাসী কেশবভারতীর শিষ্য,ঐন্দ্রজালিক শক্তিপ্রভাবে লোককে বিমোহিত করেন ; এবং দেশে দেশে,গ্রামে গ্রামে লোক নাচিয়ে বেড়ান,তা শুনেছি।এই ভাবুক সন্ন‍্যাসী প্রসিদ্ধ বৈদান্তিক সার্বভৌম বাসুদেব ভট্টাচার্য্যকেও নাকি মোহিনীশক্তি প্রভাবে ভাব-রসের রসিক করে ফেলেছেন। কিন্তু কাশীধাম ভাব-প্রধান জায়গা নয় ; এখানে তাঁর ভাবকালি বিক্রি হবে না। বিপ্র শ্রীচৈতন‍্যদেবের প্রতি প্রকাশানন্দের এইরকম ভাব,ও তাচ্ছিল‍্যরূপ কথাবার্তা শুনে ব‍্যথিত হৃদয়ে, মহাপ্রভুর কাছে এসে সব কথা নিবেদন করলেন।শ্রীচৈতন‍্য মিষ্টি মধুর হাসি হেসে বললেন,কাশীধামে ভাবকালি বিক্রি করবার জন্য এসেছি, যদি বিক্রি না হয় তাহলে আপন গৃহে ফিরে যাব, অথবা সুবিধা হলে অল্পমূল‍্যেও বিক্রি করব।*
*🌹মহাপ্রভু বারাণসীধামে থাকাকালীন সুবুদ্ধি রায়কে হরিনাম গ্রহণ করতে বলে তাঁর পরিত্রাণের পথ দেখিয়ে ছিলেন।সুবুদ্ধি রায় একসময়ে গৌড়ের অধীশ্বর ছিলেন।তাঁর অধীনে হোসেন শাহ কর্ম করতেন।একবার এক দীঘি খনন করবার ভার হোসেনের উপর অর্পিত হয় ; সুবুদ্ধি রায় তার কাজের ভুলের জন্য তার পিঠে চাবুকের আঘাত করেন।যে কোন কারণেই একসময় হোসেন শাহ গৌড়ের সিংহাসনে বসেন।হোসেন শাহর পত্নী,স্বামীর প্রতি সুবুদ্ধি রায়ের প্রহারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাঁকে হত‍্যা করতে বলে।হোসেন শাহ বললেন,সুবুদ্ধি রায়ের কাছ হতে আমি অনেক উপকার পেয়েছি, আমি তাঁর প্রাণ বিনাশ অপরাধে অপরাধী হতে পারব না। কিন্তু শাহ পত্নী জেদবশত, পুনঃপুনঃ স্বামীকে বলতে লাগলেন যে যদি তাঁকে যথাযোগ্য শাস্তি না দেন আমি থাকব না।পত্নীর কথা আর ফেলতে পারলেন না,হোসেন শাহ সুবুদ্ধি রায়ের মুখে জাতি নষ্ট করবার জন্য করোয়ার জল মুখে ঢেলে দেন।সুবুদ্ধিরায় জাতিভ্রষ্ট হয়ে ঘৃণায় ও লজ্জায় চিরদিনের জন্য নিজের আবাস ভূমি পরিত‍্যাগ করে কাশীধামে চলে আসেন।কারণ সেখানে ব্রাহ্মণ পন্ডিতদের কাছ হতে,প্রায়শ্চিত্তের বিধান প্রার্থনা করাতে,পন্ডিতগণ তপ্তঘৃত পানে জীবন নাশ করায় এ পাপের প্রায়শ্চিত্ত বলে বিধান দেন।সুবুদ্ধি রায় হিন্দু পন্ডিতদের এই বিধান পালনে বিমুখ হয়ে, মনের দুঃখে লোকের আড়ালে বাস করতে লাগলেন।যখন শ্রীচৈতন‍্যদেব কাশীধামে আসেন,তখন সুবুদ্ধি রায় তাঁর কাছে এসে সমস্ত কথা বললেন।চৈতন‍্যদেব তাঁর সমস্ত কথা শুনে বললেন, "তুমি সদাসর্বদা হরিনাম কীর্তন কর, এটিই তোমার প্রকৃত প্রায়শ্চিত্ত হবে "।সুবুদ্ধি রায় মহাপ্রভুর এইকথা শুনে হরিনামামৃত রসপানে ও দীন-দুঃখীদের সেবায় জীবন কাটাতে লাগলেন।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌👣🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯৭)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
     *শ্রীধামবৃন্দাবন যাত্রা ও বিহার*
    ◆☆∆◆☆∆◆☆∆◆☆∆◆☆∆
*🍀অনন্তর গৌরহরি কাশীধাম পরিত‍্যাগ করে প্রয়াগে গমন করেন। এখানে যমুনা দর্শন করে তাঁর এমন ভাবোদয় হল যে,তিনি তাতে ঝাঁপ দিলেন।বলভদ্র ভট্টাচার্য্য তৎক্ষণাৎ জলে ঝাঁপ দিয়ে মহাপ্রভুকে জল হতে ডাঙ্গায় উঠিয়ে নিয়ে এলেন।মহাপ্রভু তিনদিন প্রয়াগে থেকে বহু লোককে কৃষ্ণপ্রেমানুরাগী করে,মথুরাধামে গমন করলেন।এখানে বিশ্রামতীর্থে স্নান করে তিনি কেশব দর্শন করে তিনি ভাবে-বিভোর হয়ে নৃত্য কীর্তনাদি করলেন।এখানে এক বিপ্র তাঁর সঙ্গে নৃত্য ও কীর্তনাদি করছেন দেখে,তাঁকে পরম কৃষ্ণভক্ত বলে মনে হল।মহাপ্রভু তাঁকে নিভৃতে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার মধ্যে আমি চরম ভগবৎভক্তির ভাব দর্শন করছি ; তুমি এ মধুর ভাব কোথা হতে লাভ করলে?বিপ্র তদুত্তরে বললেন, শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী একবার এখানে এসেছিলেন,কৃপা করে আমার গৃহে আতিথ‍্য স্বীকার করেন, এবং আমার হাতের রান্না তিনি ভোজন করেছিলেন।তিনি গরিবের গৃহে কয়েকদিন থেকে আমাকে কৃতার্থ করেন, এবং দীক্ষাদানে আমাকে তাঁর শিষ‍্য করে যান।গৌরহরি মাধবেন্দ্রপুরীর কথা শুনে চরম ভক্তিভরে সেই বিপ্রের চরণে প্রণিপাত করলেন। শ্রীচৈতন‍্যদেবের এইরকম কাজ দেখে বিপ্র ভীত ও লজ্জিত হয়ে বললেন,আমি সামান্য মানুষ,আপনি আমার চরণ স্পর্শ করে আমাকে কেন চরম অপরাধী করেন?এইকথা বলে বিপ্র মহাপ্রভুর শ্রীচরণে লুটিয়ে পড়লেন।তখন বলভদ্র ভট্টাচার্য্য বিপ্রকে বললেন, মাধবেন্দ্রপুরীর শিষ্য ঈশ্বরপুরী মহাপ্রভুর গুরুদেব।তখন বিপ্র গৌরসুন্দরকে নিজ ভবনে ভিক্ষা গ্রহণের জন্য নিমন্ত্রণ করলেন।ভাবময় গৌরহরি নিমন্ত্রণ স্বীকার করলে বিপ্র তাঁদেরকে নিজ ভবনে নিয়ে গেলেন। বিপ্রগৃহে বলভদ্র ভট্টাচার্য্য রন্ধন করলেন এবং মহাপ্রভু ভোজন করলেন।সনোড়িয়া ব্রাহ্মণের গৃহে সাধারণত সন্ন‍্যাসীগণ ভোজন করেন না ; কিন্তু মাধবেন্দ্রপুরী ও শ্রীচৈতন‍্যদেব সে নিয়ম উলঙ্ঘন করেছিলেন।বিপ্র মহাপ্রভুর অপূর্ব ভক্তি ও উদারতার কথা উল্লেখ করে বললেন,তুমি আমার গৃহে ভিক্ষা গ্রহণ করলে, এ আমার পরম সৌভাগ্য ; তুমি তো আর মনুষ‍্য নহে, তুমি সাধারণ বিধির অতীত।*
*🍁মহাপ্রভু যখন এই সনোড়িয়া ব্রাক্ষণের গৃহে অতিথি হলেন,তখন তাঁর আগমনবার্তা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।বহুসংখ‍্যক লোক তাঁকে দেখবার জন্য আসতে লাগল।বিপ্র গৌরহরিকে সঙ্গে করে বৃন্দাবনের নানাস্থান দেখাতে লাগলেন।শ্রীগৌরাঙ্গ বৃন্দাবনের চব্বিশ ঘাটে স্নান করলেন, এবং মধুবন,তালবন প্রভৃতি ভক্তিভরে দেখলেন।🌹কথিত আছে,তিনি যখন বৃন্দাবনের পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন,তখন গাভীগণ হাম্বারবে কাছে এসে তাঁর গাত্র লেহন করেছিল ; মৃগীগণও নির্ভয়ে তাঁর মুখের দিকে অনিমিষনয়নে তাকিয়ে থাকত।বিহঙ্গমগণ বৃক্ষশাখা হতে মধুরস্বরে গান করত ; ময়ূর তাদের পুচ্ছ বিস্তার নৃত্য করত ;তরুলতা সব প্রেমে বিভোর হয়ে পুষ্পবর্ষণ করত, তাঁর অভ‍্যর্থনা করত।শুক-সারী গাছেরডালে বসে রাধাকৃষ্ণের গুণাবলী কীর্তনে মহাপ্রভুর হৃদয়ে সুধা বর্ষণ করত। এইভাবে শ্রীবৃন্দাবনধাম শ্রীরাধাগোবিন্দের মিলিত তনু শ্রীগৌরাঙ্গের আগমনে যেন এক নতুন আকার ধারণ করল।জল-স্থল যেন হরিপ্রেমরসে অনুরঞ্জিত হয়ে উঠিল।বৃন্দাবন দর্শনে শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভুরও কৃষ্ণপ্রেম পূর্বাপেক্ষা আরো ঘনীভূত হয়ে দাঁড়াল ; সকল বস্তুই তাঁর হৃদয়ের প্রেম প্রস্রবণকে আরো উচ্ছ্বসিত করে তুলতে লাগল, সব বস্তুতেই তাঁর কৃষ্ণস্ফূর্তি জেগে উঠতে লাগল।একবার কাঁটায়ভরা দুর্গম পথে যেতে যেতে ময়ূর দেখে তাঁর কৃষ্ণস্মৃতি উদিত হয়ে উঠিল, তিনি হঠাৎ মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।বলভদ্র ভট্টাচার্য্য তাঁর কানে কৃষ্ণনাম উচ্চারণ করাতে,তিনি চেতনা লাভ করে,পথে গড়াগড়ি দিতে লাগলেন।কাঁটায় তাঁর শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে রক্তেরধারা বহিতে লাগল।ভট্টাচার্য‍্য জলসেক প্রভৃতির দ্বারা তাঁর সেবা করতে লাগলেন ; মহাপ্রভু প্রেমানন্দে নৃত্য গীত করতে করতে বৃন্দাবনের দ্বাদশবন ভ্রমণ করে অরিটগ্রামে উপনীত হলেন। সেখানে গমন করে,তিনি গ্রামের লোককে জিজ্ঞাসা করলেন, "রাধাকুন্ড কোথায়"? কেউ তার তত্ত্ব বলতে না পারায়, তিনি কুন্ডের উদ্দেশ্যে এক ধানক্ষেতের জলে স্নান করলেন।বৃন্দাবনধাম চৌরাশী ক্রোশ।শ্রীচৈতন‍্যের বৃন্দাবন গমনের পূর্বে প্রকৃত বৃন্দাবন ক্ষেত্র বলে কোন নির্দিষ্ট স্থান লোকে নির্ণয় করতে পারত না।তাঁর সময় হতেই বৃন্দাবনের স্থান নির্দিষ্ট হ'ল,শ্রীকৃষ্ণের লুপ্ত কীর্তি সব পুনর্জীবন লাভ করল, বৃন্দাবনের মাহাত্ম্য ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে লাগল।*
*🌲মহাপ্রভু তারপর সুমোল সরোবর ও গোবর্দ্ধন গিরি দর্শন করেন।গিরি গৌবর্দ্ধন দর্শন করে কৃষ্ণলীলার স্মৃতি তাঁর হৃদয়পথে উদিত হয়ে তাঁকে প্রেমে বিহ্বল করে দিল।তৎপর অন্নকূট, গোকুল প্রভৃতি জায়গা দর্শন করে,তিনি পুনরায় মথুরায় ফিরে গেলেন। মথুরায় আসিলে,তাঁকে দেখবার জন্য বহু বহুলোক এক এককরে জমায়েত হতে লাগল।লোক সমাগম দেখে তিনি নির্জনতা লাভের জন্য অক্রূর তীর্থে গমন করলেন।এখানে যমুনার কাছে একটি তেঁতুল গাছের তলায় সুন্দর বসবার জন্য বেদীর মত ছিল,বৃক্ষটি বহু পুরাতন।এই বৃক্ষটি দ্বাপরযুগে শ্রীকৃষ্ণলীলা সময়কার বলে পরিচিত।মহাপ্রভু এই রমণীয় জায়গায় খুব আনন্দ মনে বসিলেন।বৃক্ষতলে বসে,তিনি সম্মুখে পবিত্র যমুনার স্রোত প্রবাহিত হতে দেখে শ্রীকৃষ্ণের গুণগানে রত হলেন।জনকোলাহলশূন‍্য জায়গায় তিনি তাঁর প্রাণনাথকে নিয়ে হৃদয়ে সম্ভোগ করবেন, এই বাসনা তাঁর প্রবল হয়েছিল বটে, কিন্তু তা পূর্ণ হল না। তাঁর দর্শনলালসা লোকের হৃদয়ে এত প্রবল হয়ে উঠেছিল যে,তিনি যেখানেই যেতেন জনস্রোত তাঁর পেছন পেছন ধাবিত হয়ে তাঁকে ঘিরে ফেলত,এই নির্জন জায়গাতেও তা ঘটিল।যারা তাঁকে দেখত,তাঁর কন্ঠ হতে সুধামাখা হরিধ্বনি শুনত, তারাই মন্ত্রমুগ্ধের মত তাঁর পথ অনুসরণ করত।বৃন্দাবনধামে তিনি বহুসংখ‍্যক লোককে শ্রীকৃষ্ণের উপাসক করেছিলেন।ব্রজবাসীগণ তাঁকেই শ্রীকৃষ্ণ জ্ঞানে,শ্রীকৃষ্ণ প্রকট হয়েছেন বলে ঘোষণা করতে লাগলেন।মহাপ্রভু এক বৃক্ষেরতলে বসে আছেন,এমন সময় এক ব‍্যক্তি এসে বলল,বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ অবতীর্ণ হয়েছেন। শ্রীচৈতন‍্য জিজ্ঞাসা করলেন,তিনি কোথায়?সে বলল, সে যে স্বয়ং আপনিই।শ্রীচৈতন‍্য তার কথা শুনে বললেন,"বিষ্ণু বিষ্ণু" জীবাধমকে কোনদিনও কৃষ্ণ বলিও না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏👣🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯৮)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
     *শ্রীধামবৃন্দাবন যাত্রা ও বিহার*
    👣👣👣👣👣👣👣👣👣
*🌳অক্রূরতীর্থে থাকাকালীন কৃষ্ণদাস নামে এক রাজপুত মহাপ্রভুকে দেখতে এসে তাঁর রূপগুণে এতই আকৃষ্ট হয়ে পড়ল যে,সে ব‍্যক্তি বৈষ্ণবধর্ম গ্রহণ করে সংসার সুখ একেবারেই বিসর্জন দিয়ে সন্ন‍্যাসের পথ অবলম্বন করল। এস্থলে অবস্থান থাকাকালীন লোকে তাঁকে দেখেই যে হৃদয়ের পিপাসা নিবৃত্তি করত তা নয়,বহুসংখ‍্যক লোক তাঁকে নিজ ভবনে ভিক্ষা গ্রহণের জন্য নিমন্ত্রণ করতে লাগল।বলভদ্র প্রতিদিন একটির বেশী নিমন্ত্রণ গ্রহণ করতেন না।অক্রূরতীর্থে কিছুদিন থাকবার পর বলভদ্র,বিপ্র কৃষ্ণদাস মহাপ্রভুকে নিয়ে প্রয়াগে যাত্রা করলেন।পথে যেতে যেতে গৌরহরি সঙ্গীদের ক্লান্তি দেখে, বিশ্রামের জন্য এক বৃক্ষতলে বসিলেন। সেই সময় হঠাৎ এক গোপ বাঁশী বাজাতে আরম্ভ করে ; ভাবনিধি গৌরহরি বংশীধ্বনি শুনে বিমুগ্ধ হয়ে ভূতলে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।তাঁর মুখ হতে ফেন নির্গত হতে লাগল ; সঙ্গীরা সহজে তাঁর চেতনা ফেরাতে পারলেন না।এমন সময়ে দশজন পাঠান সৈন‍্য অশ্বারোহণে সেইদিক দিয়ে আসছিল,তারা সেই জায়গায় ঘোড়ার পিঠ হতে নেমে শ্রীচৈতন‍্যের চেতনাহীন অবস্থা দেখে মনে করল, ইঁনার কাছে যারা বসে আছে,এরাই অর্থলোভে এই ব‍্যক্তিকে নেশার বস্তু খাইয়েছে ; এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে তারা বলভদ্র প্রভৃতিকে প্রাণদন্ডের ভয় দেখিয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলল।অশ্বারোহী পাঠানদের কথায় সকলেই ভীত হলেন। কিন্তু রাজপুত কৃষ্ণদাস নির্ভয়ে বললেন,যিনি অজ্ঞান অবস্থায় শয়ন করে আছেন, ইনি আমাদের গুরু ; ইঁনার মৃগীরোগ আছে। কিছুক্ষণ পরেই মহাপ্রভু চেতনা লাভ করবেন।এই বলে আবার কৃষ্ণদাস বললেন,এই গ্রামেই আমার নিবাস ; আমি যদি এখনই গ্রামে সংবাদ দেয় তাহলে দুইশ তুরুকী এখানে উপস্থিত হবে এবং দুইশ কামানও আসবে ; তুরুকীরা তোমাদের যা কিছু আছে সমস্ত কেড়ে নিয়ে অনেক কিছুই করতে পারে। যাদের তুমি চোর বলছ, এঁরা কেউই চোর নহে।রাজপুতের মুখ হতে এইসব কথা শুনে তারা সকলেই ভয় পেল, যাদের দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছিল,তাদের মুক্ত করল। এইসব কথোপকথনের মাঝে শ্রীচৈতন‍্যদেবের মূর্ছা ভঙ্গ হয়ে গেল, তিনি প্রেমাবেশে উর্দ্ধবাহু হয়ে হরি হরি বলতে বলতে নৃত্য করতে লাগলেন।পাঠানগণ মহাপ্রভুর এইরকম দেবভাব দেখে তাঁর চরণ বন্দনা করল।এই পাঠানদের মধ্যে এক ব‍্যক্তি অদ্বৈতবাদ বিষয়ে প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে, গৌরসুন্দর তা খন্ডন করে দিলেন।সে ব‍্যক্তি মহাপ্রভুর যুক্তি শুনে পরম সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর চরণ ধরে বলল,আমি অধম,আমাকে দয়া কর। আমি অনেক শাস্ত্রাদি আলোচনা করেছি, কিন্তু এতদিন আমি কোনপথ নির্দ্ধারণ করতে পারেনি।আজ আমার সব সংশয় দূর হল।তুমি মানব নহে,সাক্ষাৎ পরমেশ্বর।মহাপ্রভু তাকে কৃষ্ণনাম করতে বললেন, আর তাকে রামদাস নামে তার করণ করলেন।অশ্বারোহীদের মধ্যে একজন নবীনবয়স্ক রাজকুমার ছিলেন, মহাপ্রভু তারও পূর্বনামের পরিবর্তে "বিজুলী" নাম রাখলেন। বর্তমানে রাজকুমার বিজুলী ও রামদাস প্রভৃতি পাঠানই মহাপ্রভু শ্রীচরণে প্রণিপাত করল, এবং তাঁরই উপদেশ অনুসারে কৃষ্ণ-উপাসক হয়ে বৈষ্ণবধর্ম গ্রহণ করল।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৯৯)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
          *শ্রীরূপ-সনাতন সম্মিলন*
          ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀বহুদিন হতেই রূপ-সনাতনের হৃদয়ে সংসারত‍্যাগের বাসনা প্রবল হয়ে উঠেছিল।মহাপ্রভু রামকেলি গ্রামে যখন গমন করেন,তখন রূপ-সনাতন তাঁর দর্শন লাভে কৃতার্থ হন।গৌরহরি তাঁদের সংকল্পের সহায় হয়ে,তাঁদের প্রাণে বৈরাগ‍্যানল প্রদীপ্ত করে দেন দুইভাই ঘরে ফিরে এসে বিষয়-বন্ধন একেবারে ছিন্ন করবার জন্য প্রস্তুত হতে লাগলেন।শ্রীরূপ-সনাতন গৌড়াধিপতির প্রধান কর্মচারী।তাঁরা জানতেন,কাজ হতে অবসর নিতে চাইলে হোসেন শাহ কখনই অনুমতি দিবেন না। কিন্তু তাঁদের অন্তরে যে আগুনেরশিখা জ্বলে উঠেছে তা উত্তরোত্তর বাড়তে লাগল।শ্রীসনাতন রাজমন্ত্রী ; তাঁকে সবসময়ই রাজধানীতে থাকতে হত। শ্রীরূপ রাজ‍্যের অন‍্যত্র কাজ করতেন।তারজন‍্য তিনি গোপনে নিজের অভিলাষ সিদ্ধ করবার সুযোগ পেলেন। তিনি সমস্ত ধনসম্পত্তি নৌকা পূর্ণ করে স্বদেশাভিমুখে যাত্রা করলেন।যাবার সময় কি মনে হল,এক মুদির দোকানে মুদির দোকানদারের হাতে দশহাজার মুদ্রা জমা রেখে দিলেন, এই ভেবেই যে, যদি জ‍্যেষ্ঠভ্রাতা সনাতনের আবশ‍্যক হলে তাঁকে দিয়ে দিবেন।শ্রীরূপ,বাড়ীতে গিয়ে সমস্ত সম্পত্তি ব্রাহ্মণ,বৈষ্ণব ও আত্মীয়স্বজনদের ভাগ করে দিলেন।* *এদিকে সনাতন বিষয়-পিঞ্জর হতে মুক্তি লাভ করবার জন্য ব‍্যাকুল হয়ে উঠলেন।তিনি মনে মনে ভাবলেন,রাজার কোন অপ্রিয় কাজ করে তাঁর প্রাণে অসন্তোষ ভাব না জাগাতে পারলে,তাঁর মনোবাঞ্জা পূরণ হবার উপায় নাই।সনাতন পাতশার (মুসলমাল সম্রাট বা নৃপতির)কাছে নিজ শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে রাজকার্য‍্যে অবহেলা করে ঘরে বসে,ভাগবত অধ‍্যয়ন, ও ব্রাহ্মণ পন্ডিতদের সঙ্গে শাস্ত্র আলোচনায় সময় কাটাতে লাগলেন।হোসেন শাহ রাজমন্ত্রীর অসুস্থতার কথা শুনে চিকিৎসার জন্য রাজবৈদ‍্য পাঠিয়ে দিলেন।বৈদ‍্য এসে দেখলেন, সনাতনের কোন রোগেরই লক্ষণ নাই। রাজবৈদ‍্য কর্তব‍্যানুরোধে রাজাকে তদনুরূপ সংবাদ প্রদান করলেন।*
*সনাতন সুস্থদেহে রাজকার্য‍্য পরিত‍্যাগ করে ঘরে বসে আছেন শুনে হোসেন শাহ অবাক হলেন এবং এর প্রকৃত কারণ নির্ণয় করবার জন্য একদিন তিনি স্বয়ং হঠাৎ সনাতনের ভবনে চলে গেলেন।গৌড়াধিপতি সনাতন গৃহে গেলে,সকলে সসম্ভ্রমে দাঁড়িয়ে থেকে যথোচিত অভ‍্যর্থনা করে তাঁকে বসবার আসন দিলেন।রাজা আসনে বসে থেকে বললেন, তোমার অসুস্থতার সংবাদ শুনে বৈদ‍্য পাঠালাম, কিন্তু তিনি তোমার সুস্থতার কথা বললেন।তোমাকে নিয়েই আমার সমস্ত কাজ ; আমার যে সর্বনাশ হচ্ছে! তোমার মনে কি ভাব আমায় খুলে বলতে পার?সনাতন বিনীতভাবে বললেন,জাঁহাপনা!বিষয়কার্য‍্য করবার আমার আর বাসনা নাই ; আমা হতে আপনার আর রাজকার্য‍্য চলবে না, আপনি অন্য লোক নিযুক্ত করে কার্য‍্য পরিচালনের ব‍্যবস্থা করুন।হোসেন শাহ সনাতনের কথা শুনে বিরক্তির স্বরে বললেন, তোমার ভাই রূপ যেন দস‍্যুর মত পালিয়ে গিয়েছে।পরম বৈরাগী ও ভক্ত রূপের প্রতি গৌড়েশ্বর ঐরকম কর্কশ বা রুক্ষ কথা শুনে সনাতন মনে মনে অত‍্যন্ত বিরক্ত হয়ে বললেন,আপনি স্বাধীন রাজা, দোষীর প্রতি আপনি যেরকম শাস্তি উচিত মনে করেন,তাইই বিধান করতে পারেন।সনাতনের এই কথা শুনে হোসেন শাহ ক্রব্ধচিত্তে আসন পরিত‍্যাগ করে উঠলেন, এবং সনাতনকে বন্দী করতে আদেশ করে রাজপ্রাসাদে প্রত‍্যাগমন করলেন।*
*শ্রীরূপ যখন বিষয়-সম্পত্তি সকলের মধ্যে ভাগ করে দিলেন,তখন শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভু কোথায় আছেন তা অবগত হবার জন্য দুইজন ভৃত‍্য নীলাচলে পাঠিয়ে দিলেন।তারা ফিরে এসে মহাপ্রভুর বৃন্দাবন যাত্রার বিষয় তাঁকে অবগত করল।শ্রীরূপ তাঁর ছোট ভাই বল্লভের সঙ্গে বৃন্দাবন যাত্রা করলেন।যাবার সময় সনাতনকে সমস্ত বিষয় উল্লেখ করে একটি পত্র লিখে গেলেন।*
*বিপদসঙ্কুল দুর্গম পথ অতিক্রম করে তাঁরা প্রয়াগে উপনীত হলেন।গিয়ে দেখলেন,মহাপ্রভু তখন বিন্দুমাধব মন্দিরের কাছে প্রেমানন্দে উর্দ্ধবাহু হয়ে,মধুর হরিনাম কীর্তন করতে করতে নৃত্য করছেন।তাঁর নয়নযুগল থেকে বারিধারা প্রবাহিত হয়ে তাঁর গাল ভাসিয়ে দিচ্ছে।সমবেত লোকমন্ডলীও তাঁর সঙ্গে কন্ঠ মিলিয়ে,উচ্চরবে ভক্তিভরে হরিধ্বনিতে চারিদিক প্রতিধ্বনিত করছে,প্রেমাবেশে তারাও মাটিতে গড়াগড়ি দিচ্ছে।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০০)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
             *শ্রীরূপ-সনাতন সম্মিলন*
            •••••••••••••••••••••••••••••••
*🍀প্রেমাবেশে তারাও মাটিতে গড়াগড়ি দিচ্ছে। শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী কলম দিয়েছেন=*
*🌷কেহ কাঁন্দে কেহ হাসে কেহ নাচে গায়।*
*🌷কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলি কেহ গড়াগড়ি যায়।।*
*🌷গঙ্গা যমুনা প্রয়াগ নারিল ডুবাতে।*
*🌷প্রভু ডুবাইল প্রেমের বন‍্যাতে।।*
*শ্রীরূপ ও সনাতন এই জনবহুল ঠেলে মহাপ্রভুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা বিশেষ সুবিধা নয় মনে করে তাঁরা জনমন্ডলীর এক পার্শ্বে দাঁড়িয়ে থেকে মহাপ্রভুর অপরূপ লীলা দেখতে লাগলেন। এই সময় এক বিপ্র গৌরহরিকে নিজ ভবনে ভিক্ষার জন্য নিমন্ত্রণ করে গেলেন।সেখানে মহাপ্রভু এক নিভৃত জায়গায় বসে,শ্রীরূপ ও বল্লভ দুইজনে দুইগুচ্ছ তৃণ দন্তে করে দূর হতে দন্ডবৎ প্রণাম করে,ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে লাগলেন।মহাপ্রভু শ্রীরূপকে দেখে হাত ধরে "উঠ,উঠ" বলে,তাঁকে মাটি থেকে তুলে কাছে বসিয়ে সনাতনের কথা জিজ্ঞাসা করলেন।শ্রীরূপ, গৌড়াধিপতি কর্তৃক তাঁর কারাগারে বন্দী হয়েছেন সেই কথা বললে, মহাপ্রভু বললেন,"সনাতন কারামুক্ত হয়েছে,শীঘ্রই আমার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হবে "।শ্রীরূপ ও বল্লভ প্রয়াগে বসবাস করতে লাগলেন।প্রয়াগের কাছেই যমুনার পরপারে বল্লভ ভট্ট নামে এক সুপন্ডিত ব্রাহ্মণ বাস করতেন।তিনি শ্রীচৈতন‍্যদেবের আগমনবার্তা শুনে,তাঁকে নিমন্ত্রণ করবার জন্য ছুটে এলেন।ভট্ট আগমন করলে শ্রীচৈতন‍্যদেব,শ্রীরূপ ও বল্লভের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় করে দিলেন।ভট্ট এই নবাগত ভক্তদেরকে আলিঙ্গন করতে গেলে,তাঁরা নিজেদেরকে অস্পৃশ‍্য বলে দূরে সরে গেলেন।বল্লভ ভট্ট তাঁদের বিনয় ও ভগবন্নিষ্ঠা দর্শন করে মুগ্ধ হলেন।মহাপ্রভু বল্লভ ভট্টের সঙ্গে অম্বুলি গ্রামে গমন করলেন।অম্বুলি গ্রামে যমুনার নিকটবর্তী।মহাপ্রভু প্রসন্নসলিলা,কলনাদিনী যমুনার শ‍্যামল জলরাশি দেখে ভাবে মুগ্ধ হয়ে গেলেন। তিনি এখানে উপস্থিত হলে, বহুসংখ‍্যক লোক তাঁর দর্শন করবার জন্য আসতে লাগল ; এবং তাঁর জীবনের অনুপম মাধুরী দর্শনে বিমুগ্ধ হয়ে,তাঁরই প্রদর্শিত মধুময়ভক্তিপথের পথিক হয়ে পড়ল।যমুনার কাছে গিয়ে মহাপ্রভু ভাবোচ্ছাসে উচ্ছসিত হয়ে যমুনায় ঝাঁপ দিতে পারেন মনে করে,এই ভয়ে,বল্লভাচার্য‍্য তাঁকে পুনরায় প্রয়াগে আনয়ন করলেন।*
*শ্রীচৈতন‍্যদেব শ্রীরূপের হৃদয়ে শক্তি সঞ্চার করে,ভক্তিতত্ত্ব উপদেশ শিক্ষা দিয়েছিলেন।মহাপ্রভু বলেছিলেন, রূপ!ভক্তিসিন্ধু অনন্ত গম্ভীর ও পারাপারশূন‍্য।কেশাগ্র শতভাগ করে, সেটি পুনরায় শতভাগ করলে যেরকম হয়,জীবের স্বরূপ তদ্রূপ জানবে।মানব অনেক সময়ে জীবাত্মা ও পরমাত্মার মধ্যে অভেদ স্বীকার করে থাকে,এটি অত‍্যন্ত ভ্রম।জীব ক্ষুদ্র, ভগবান অপরিমেয়, তিনি সর্বগত ও সৃষ্টিকর্তা।জগৎ সৃষ্ট ; তিনি শাসনকর্তা,মানব শাসনাধীন।যাঁরা ঈশ্বর ও জীব তুল‍্য মনে করেন,তাঁরা বিশ্বনিয়ন্তার স্বরূপ সম্বন্ধে বড়ই অনভিজ্ঞ।*
*মানুষ ও জীবজন্তপূর্ণ এই বিশাল সংসার সেই অনন্ত স্বরূপের তুলনায়, অতি ক্ষুদ্রতম।নিকৃষ্ট প্রাণীদের মধ্যে মানুষের সংখ্যা যৎসামান্য বললেই হয় ; তার মধ্যে ম্লেচ্ছ,পুলিন্দ,বৌদ্ধ ও শবর আছে ; বেদনিষ্ঠদের মধ্যে, অধিকাংশ ব‍্যক্তিই বেদবিহিত কর্ম প্রতিপালন করে না,কেবল মুখেই বেদনিষ্ঠ বলে স্বীকার করে থাকে।ধর্মচারীদের মধ্যে অধিকাংশ* *কর্মনিষ্ঠ। কোটি ধর্মনিষ্ঠদের মধ্যে কেবল একজন মাত্র ব‍্যক্তিকেই জ্ঞাননিষ্ঠ বলা হয়।কোটি জ্ঞানীর মধ্যে একজন মুক্ত ; আবার কোটি মুক্ত জীবের মধ্যে একজন প্রকৃত কৃষ্ণভক্ত পাওয়া যায়।কৃষ্ণভক্তগণ কামনাশূন‍্য,অতএব শান্ত।যাঁরা* *মুক্তিপ্রার্থী,সিদ্ধ ও ফলকামী,তাঁরা*
*অশান্ত।যদি কোন ভাগ‍্যবান ব‍্যক্তি শ্রীকৃষ্ণের প্রসাদে ভক্তিলতা বীজ প্রাপ্ত হন, এবং তদুপরি শ্রবণ-কীর্তনরূপ জলসেচন করেন, তাহলে সেই লতা,গোলোকে, শ্রীকৃষ্ণচরণরূপ কল্পবৃক্ষ আশ্রয় করে ; সেটি হতেই প্রেমফল উৎপন্ন হয়।বৈষ্ণব-অপরাধরূপ হাতী যদি মস্তক উত্তোলন করে, তাহলে ভক্তিলতা উৎপাটিত,ছিন্ন ও শুষ্ক হয়ে যায়।*
*যদি বিষয়-লালসা,মুক্তির বাসনা প্রভৃতি উপশাখাগণ তারসঙ্গে উত্থিত হয়, তাহলে ভক্তিলতাকে একেবারে বিনষ্ট করা ফেলে ; এই জন্য আগে উপশাখা সব ছেদন করে ফেলতে হবে।ইক্ষুরস গাঢ় হলে যেমন তা হতে ক্রমে মিছরি তৈরী হয়,সেরকম সাধনভক্তি হতে রতি জন্মায়।এই রতি গাঢ় হলে,তাকে প্রেম বলা যায়।প্রেম হতে প্রণয়,অনুরাগ,ভাব ও মহাভাব সমস্ত উৎপন্ন হয়ে থাকে।ভক্তির প্রকৃতিভেদে রতি পাঁচ প্রকার= যথা,শান্ত,দাস‍্য,সখ‍্য,বাৎসল‍্য ও মধুর। এই মাধুর্য‍্য রসে সব রসেরই সমাবেশ হয়ে থাকে।হে রূপ!ভক্তির পথ ভাল করে অবলম্বন কর।ভক্তিতেই প্রকৃত শান্তি। মহাপ্রভু শ্রীরূপকে ভক্তিতত্ত্ব সম্বন্ধে উপদেশ দান করে, বারাণসী যাবার জন্য প্রস্তুত হলেন।শ্রীরূপ তাঁর সঙ্গে যেতে চাইলে,মহাপ্রভু বললেন, বৃন্দাবনের এত কাছে এসে, সেটি দর্শন করা উচিত। তুমি এখন বৃন্দাবনে যাও,পরে গৌড় হয়ে নীলাচলে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিও।এই বলিয়া মহাপ্রভু ভট্টাচার্যের সঙ্গে কাশীধামে যাত্রা করলেন।শ্রীরূপ প্রভুবিরহে অত‍্যন্ত শোকাকুল হয়ে পড়লেন।অবশেষে তিনি বল্লভকে সঙ্গে নিয়ে বৃন্দাবনে গমন করলেন।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 একাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧





বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭১)🙏বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
*উত্তর-পশ্চিমের মুসলমান বৈষ্ণব কবি*
•▪◆•▪◆•▪◆•▪◆•▪◆•▪◆☆
*🔵 বাংলাদেশে এক সময়ে অনেকগুলি মুসলমান বৈষ্ণব কবির আবির্ভাব হয়েছিল,এটি সাহিত‍্যের ইতিহাস হতে জানা যায়।নসির মামুদ, সালবেগ,সৈয়দ মর্ত্তুজা, আকবর প্রভৃতি বহু মুসলমান কবি যে বৈষ্ণব ভাবের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন,একথা বৈষ্ণব সাহিত‍্যের পাঠকমাত্রেই জানেন।মুনসী আবদুল করিম সাহিত‍্যবিশারদও কয়েকজন মুসলমান বৈষ্ণব কবির পরিচয় দিয়েছেন,যাঁরা রাধাকৃষ্ণের প্রেম অবলম্বন করে কবিতা রচনা করে গিয়েছেন। গরিব খাঁ নামক একজন কবি শুধু বৈষ্ণব পদ রচনা করে ক্ষান্ত হননি,বৈষ্ণব রসতত্ত্বেও ডুবেছিলেন। "রাই-কানু একতনু হয়ে যে নদীয়ায় এসে গৌরাঙ্গ হয়েছেন, এ নিগূঢ় তত্ত্বও তাঁর অজ্ঞাত বা অজানা ছিল না ঃ------*
*🌷গবির কয় ধরমু বলে ডুবে পেলে না,*
        *তাই ক্ষেপে নদেয় এসেছে।*
*🌺বাংলায় আরেকজন মুসলমান কবি গৌরাঙ্গ সম্বন্ধে পদ রচনা করেছেন। পদটি এই=*
*🌷জীউ জীউ মেরে মনোচোরা গোরা।*
*🌷আপহি নাচত আপন রসে ভোরা।।*
*🌷খোল করতাল বাজে ঝিকি ঝিকি ঝিকিয়া।*
*🌷ভকত আনন্দে নাচে লিকি লিকি লিকিয়া।।*
*🌷পদ দুই চলু নট নট নটিয়া।*
*🌷থির নাহি হোয়ত আনন্দে মাতুলিয়া।।*
*🌷ঐছন পহুঁক যাঙ বলিহারি।*
*🌷সাহ আকবর তেরে প্রেমভিখারী।।*
                    *(গৌরপদতরঙ্গিণী)*
*🍁এই সাহ আকবর কে ছিলেন তা জানা যায় না।ইনি যে আকবর বাদশাহ নন,তা না বললেও চলে। কারণ ঐ পদটির মধ্যে যে গৌরপ্রীতি দেখা যায়,তার কোন নিদর্শন সম্রাট আকবরের চরিত্রে ঘুণাক্ষরেও পাওয়া যায় না,যদি ঐ আকবর হত, তাহলে বোধহয় বৃন্দাবন আক্রমণ করত না।*
*🌻কিন্তু ঐ একই সময়ে খান খানান আবদুর রহিম খান বৈষ্ণব ধর্মের প্রতি যে প্রীতিসম্পন্ন হয়েছিলেন,তা জানা যায়। আবদুর রহিম আকবরের অভিভাবক বৈরাম খানের পুত্র ছিলেন। তিনি নিজেও একজন অসাধারণ রাজনীতিজ্ঞ এবং যোদ্ধা ছিলেন।মোগল সম্রাটের সেনাপতি পদে অধিষ্ঠিত থেকেও তিনি কাব‍্যলক্ষ্মীর সেবা করতে পেরেছিলেন।তাঁর দান এত বেশী ছিল যে,অনেকে তাঁকে দাতাকর্ণের সঙ্গে তুলনা করত।আকবরের এক সভাকবি ছিলেন,তাঁর নাম গঙ্গ। এই কবিকে রহিম ছত্রিশ লাখ টাকা দান করেছিলেন।আবদুর রহিম একবার বাদশাহ জাহাঙ্গীরের কোপে পড়ে সর্বস্বান্ত ও কারারুদ্ধ হন। রহিম তুলসীদাসের অতি প্রিয়পাত্র ছিলেন। রহিমের রচিত গ্রন্থাবলীর মধ্যে দোহাবলী,সৎসই,রাসপঞ্চাধ‍্যায়ী প্রভৃতির নাম পাওয়া যায়।রহিমের কৃষ্ণভক্তির পরিচয় পাওয়া যায় নিম্ন লিখিত পদে ঃ---*
*🌷অনুদিন শ্রীবৃন্দাবন ব্রজ তেঁ আবন আবন জানি।*
*🌷অব রহীম চিতে তেঁ টরতি হ‍্যায় সকল স‍্যামকী বানি।।*
 *(হিন্দি সাহিত‍্যকা ইতিহাস পৃঃ ১৮৫)*
*🌺উত্তর পশ্চিমের আর একজন মুসলমান কবি বৈষ্ণব ভক্তিবাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।ইঁনার নাম কি ছিল,তা জানা যায় না।কবিতার ভণিতায় ইনি নিজেকে "রসখান" বলে পরিচিত করেছেন,রসখান বাদশাহ-বংশসম্ভূত ছিলেন (খানদানি), একথা তিনি নিজেই বলেছেন।যতদূর জানা যায়,তাতে রসখান দিল্লীর একজন পাঠান সর্দার ছিলেন।ইঁনার রচিত "সুজান রসখান" ও "প্রেমবাটিকা" নামক পদ‍্যগ্রন্থদ্বয় পাওয়া যায়।প্রেমবাটিকা ১৬৭১ সংবৎ অর্থ‍্যাৎ ১৬১৪ খ্রীষ্টাব্দে রচিত হয়।*
*🌷বিধু সাগরে রস ইন্দু সুভ বরস সরস রসখানি।*
*🌷প্রেমবাটিকা রুচির রুচির চির হিয় হরসি বখানি।।*
*🌹এই সময়ে বঙ্গদেশে বৈষ্ণব কাব‍্য ও সঙ্গীতের সুবণা যুগ চলছিল। শ্রীনিবাস,নরোত্তম ও শ‍্যামানন্দের প্রভাবে বঙ্গ ও উৎকল কীর্তনে মেতে উঠেছিল। বাংলার অধিকাংশ বৈষ্ণব কবি এই যুগে আবির্ভূত হয়েছিলেন। পাঞ্জাবে নানকজী হতে যে ভক্তিবাদের ধারা প্রবাহিত হয়, মিথিলায় বিদ‍্যাপতির মধ্যে যে ধারার পরিণতি দেখা যায়,উত্তর পশ্চিমে সূরদাস,তুলসীদাস ও বল্লভাচার্য‍্যের দ্বারা সেই ধারারই পুষ্টি ও বৃদ্ধি হয়, সে সম্বন্ধে সন্দেহ নেই।*
              *ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪷🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭২)🌹বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🌹*
*উত্তর-পশ্চিমের মুসলমান বৈষ্ণব কবি*
#######"###################
*🍁বাঙ্গালী কবিগণ যে উত্তর পশ্চিমের বৈষ্ণব কবিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন অথবা উত্তর পশ্চিমের কবিগণ যে বাঙ্গালী কবির কাছ হতে তাঁদের প্রেরণা লাভ করেছিলেন তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় না। এ সম্বন্ধে অবশ‍্য এখনও যথেষ্ট অনুসন্ধান হয়নি। সূরদাস যখন তাঁর "সূর সাগর" গোকুলে বসে রচনা করছিলেন, ঠিক সেই সময়েই বৃন্দাবনে রূপ-সনাতন প্রভৃতি গোস্বামীগণ গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের ভিত্তি নির্মাণ করছিলেন।আশ্চর্য‍্যের বিষয় এই যে,ইঁনাদের মধ্যে কোনও সংস্রব (যোগাযোগ) ছিল কিনা,তা জানা যায় না।মীরাবাঈয়ের সম্বন্ধে প্রবাদ কিছু পাওয়া যায়, কিন্তু সূরদাসের সম্বন্ধে প্রবাদও নীরব। অথচ সূরদাসের পদাবলীর সঙ্গে বাঙ্গালী বৈষ্ণব কবির এমন অদ্ভুত সাজাত‍্য (একজাতীয়তা) কিভাবে আসিল,তা বুঝা যায় না।রসখানের পদাবলীর সহিতও বাংলা পদাবলীর ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ রয়েছে।রসখান যে রসটিকে গ্রহণ করেছিলেন তাহাও বৈষ্ণব রসতত্ত্বের মধ্যে একটি বিশিষ্ট রস ; তিনি সখ‍্য রসের উপাসক ছিলেন।এই রসের সাধক খুব একটা বেশী আছে বলে মনে হয় না।তাঁর এই আবেশ ছিল যে, তিনি শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে নিত‍্য গোচারণে যেতেন। তাঁর কবিতায় মধুর বা শৃঙ্গার রসেরও অভাব নাই। তিনি একটি কবিতায় গোপী-ভাবের আবেশে বলেছেন=*
*🌷মোর পখা সির উপর রাখিহৌ,*
         *গুঞ্জকী মাল গরে পহিরৌংগী।*
*🌷ওঢ়ি পিতাম্বর লৈ লকুটি বন,*
             *গোধন গ্বারন সঙ্গ ফিরৌংগী।।*
*🌷ভাবতো সোই মেরো রসখান সো,*
        *তেরে কহে সব স্বাংগ করৌংগী।*
*🌷যা মুরলী মুরলীধর-কী,*
             *অধরান ধরী অধরা ন ধরৌংগী।।*
*🌻আমি মাথার উপর ময়ূরপুচ্ছ ধারণ করব,গলে গুঞ্জমালা পরব।পীতাম্বর পরে,লাঠি হয়ে গোধন গোয়ালার সঙ্গে বেড়াব। (রসখান বলেন) তিনি যে অভিপ্রায় করেন (অথবা তিনিই যখন আমার প্রিয় তখন) তিনি বলিলেই আমি তা সম্পূর্ণভাবে পূরণ করব। কিন্তু, যে মুরলী মুরলীধর অধরে ধারণ করেন,তা অধরে স্পর্শ করব না। (কারণ মুরলী আমাকে বঞ্চিত করে শ্রীকৃষ্ণের অধর-সুধা পান করছে।*
*🌹রসখান ভাবাবেশে গরু চরাইতেন, শ্রীকৃষ্ণের মোহনবেণু শুনে বিভোর হতেন,আর তাঁর রূপ-সুধারস পান করবার জন্য পাগল হয়ে যেতেন=*
*🌷মত্ত ভয়ো মন সঙ্গ ফিরৈ,*
            *রসখানি সুরূপ-সুধারস ঘুটয়ো।*
*🍁এবং নদী যেমন সাগরে মিলিতে ছুটে যায়,সেইরকম ভাবে মন কুলের বাঁধ ভেঙ্গে ফেলে--------*
*🌷সাগর কোঁ সরিতা জিমি ধাবতি,*
       *রোকি রহে কুলকৌ পুল টুটয়ো।*
*🌹রসখানজী শ‍্যামের রূপ এইভাবে আস্বাদন করেছেন=*
*🌷সুন্দর স‍্যাম সিরোমণি মোহন,*
             *জোহন মেঁ চিত চোরতু হ‍্যায়।*
*🌷বাঁকী বিলোকনি কী অবলোকনি,*
          *নোকনু কৈ দৃগ্ জোরতু হ‍্যায়।।*
*🌷রসখানি মনোহর রূপ সলোনে কৌ,*
         *মারগ তেঁ মন মোরত হ‍্যায়।*
*🌷গৃহ-কাজ সমাজ সবৈ কুল লাজ,*
        *ললা ব্রজরাজ কৌ তোরতু হ‍্যায়।।*
*🌻সুন্দর শ‍্যাম মোহন-শিরোমণিকে অনুসন্ধান করতেই আমার চিত্ত চুরি করেছে। সুন্দর নয়নের যে অবলোকন (দৃষ্টি ভঙ্গী) তা দেখলাম, নাসিকার উপর চক্ষু দুইটি যেন যুক্ত হয়েছে। রসখান বলেছেন, সুন্দর মনোহর রূপ আমার মনের পথ ফিরিয়ে দিয়েছে, অর্থ‍্যাৎ অন‍্য পথে যেতে গেলে নিজের দিকে আকৃষ্ট করে, ব্রজ-রাজ লালা (কিশোর তনয়) গৃহকাজ, সমাজ,সমস্ত কুললাজ ভেঙ্গে দিল।*
*🌺রসখানের একটি দানের পদ আছে =*
*🌷দানী ভয় নয়ে মাঙ্গত দান,*
           *সুইন জু-পৈ কংস তৌ বাঁধিকৈ জৈহো।*
*🌷রোকত হৌ বন মে রসখানি,*
              *পসারত হাথ ঘনৌ দুখ পৈহো।।*
*🌷টুটে ছরা বছরা অরু গোধন,*
             *জো ধন হ‍্যায় সূ সবৈ ধরি দৈহো।*
*🌷জৈছে ভুষণ কাহূ সখী কৌ,*
            *তো মোল ছলা কে ললা ন বিকৈহো।।*
*🍀দানী হয়ে নতুন দান চাইছে,ভয় নাই! কংস যখন শুনবে তখন তোমাকে বেঁধে নিয়ে যাবে।রসখান বলছেন বনের মধ্যে পথ রোধ করে (দানের জন্য ) হাত পেতেছ, এতে অত‍্যন্ত দুঃখ পাবে।যদি হার ছিঁড়ে যায়,তবে তোমার গরু-বাছুর সব ধরে নিয়ে যাবে।যদি কোনও সখীর অলঙ্কার যায়,তবে,হে লালা!তোমাকে বেচলেও হারের দাম পরিশোধ হবে না।*
*🌹এই দানের পালা নিয়ে বাংলাদেশে বেশ একটু কৌতূককর আলোচনা আছে। শ্রীমদ্ভাগবতে দানলীলার প্রসঙ্গ নাই।এ দানলীলার ব‍্যাপার কোথা হতে আসিল?এটিই প্রশ্ন।*
*এতদিন পরে দানলীলার প্রাচীনতম প্রামাণিক বর্ণনা পাওয়া যায় শ্রীপাদ রূপগোস্বামীর দানলীলাকৌমুদী এবং রঘুনাথ দাস গোস্বামীর দানকেলিচিন্তামণিতে।*
               *ক্রমাগত*
🙏🙏🙏🌳🌳🌳🌻🌻🌻🌹🌹🌹🌲
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭৩)🙏বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🙏*
*উত্তর-পশ্চিমের মুসলমান বৈষ্ণব কবি*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🌹বৈষ্ণব রস সাহিত‍্য বিরাম পর্য‍্যায়🌹*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🍀দানকেলিকৌমুদী নামক ভাণিকা (হাস‍্যরসাত্মক একাঙ্ক নাটিকা)রচিত হয়।*
*🌷গতে মনুশতে শাকে চন্দ্রস্বর সমন্বিতে।*
*🌷নন্দীশ্বরে নিবসতা ভাণিকেয়ং বিনির্মিতা।।*
*🌻এরই অল্পদিন পরে দানকেলিচিন্তামণি রচিত হয়েছিল। এই গ্রন্থে শ্রীরূপ গোস্বামীর নাম আছে। ভক্তিরত্নাকরে শ্রীরঘুনাথ গোস্বামীর এই গ্রন্থ দানচরিত নামে উল্লিখিত হয়েছে ঃ---*
*🌷রঘুনাথ দাস গোস্বামীর গ্রন্থত্রয়।*
*🌷স্তবমালা নাম স্তবাবলী পরে কয়।।*
*🌷শ্রীদানচরিত মুক্তাচরিত মধুর।*
*🌷যাহার শ্রবণে মহা দুঃখ যায় দূর।।*
*🌺দাসগোস্বামীর দানচরিত বলে কোনও গ্রন্থ নাই।কাজেই দানকেলিচিন্তামণিকে শ্রীনরহরি চক্রবর্তী দানচরিত বলে উল্লেখ করেছেন এটিই বোধ হয়।*
*🍁সূরদাস অনুমান ১৪৮৩ খৃঃ জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর কবিতায় দান লীলার উল্লেখ আছে। সূরদাসের দানলীলার পদাবলী এখনও গান হয়ে থাকে।রসখানের দানলীলার সম্বন্ধে পদ রয়েছে। এটি হতে অনুমান হয় যে দানলীলা সম্বন্ধে নিশ্চয়ই কোনও পূর্বতন (বহুদিন আগে) সংস্কৃত কাব‍্য উত্তর ভারতে প্রচলিত ছিল যা হতে পশ্চিমদেশীয় কবিগণ এ বঙ্গদেশের মহাজনগণ প্রেরণা পেয়েছিলেন।সূরদাস এবং শ্রীরূপগোস্বামী সমসাময়িক কবি ; কিন্তু আগেই বলেছি ইঁনাদের মধ্যে একজন যে অপরের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন এরকম কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় না।একটু প্রণিধান (মনোনিবেশ) করলেই বুঝতে পারা যায় যে,রসখানজীর দানের পদে যে ভাবটি রয়েছে,বঙ্গদেশীয় দানলীলার পদাবলীতে ঠিক সেই ভাবটি আমরা দেখতে পাই ঃ----*
*গায়ের গরবে তুমি,চলিতে না পার জানি,*
        *রাজপথে কর পরিহাস।*
*রাজকর নাহি মান,কংস দরবার জান,*
        *দেখি কেনে নহে একপাশ।।*
                             *(জ্ঞানদাস)*
*🌳অন‍্য একটি পদে=*
*🌷সহজই তুহুঁ সে অধীর।*
*🌷ধর কুলবধূগণ চীর।।*
*🌷রাজভয় নাহিক তোহার।*
*🌷পথমাহা এতহুঁ বেভার।।*
                         *(রাধাবল্লভ দাস)*
*🍀দানলীলার মধ্যে কাব‍্য-বৈচিত্র‍্য এই যে গোপীরা দধি-দুগ্ধ-ঘৃতের পসরা সাজিয়ে চলেছেন,আর পথের মধ্যে রসিক শ্রীকৃষ্ণ তাঁদের কাছে "দান" সাধছেন অর্থ‍্যাৎ শুল্ক বা কর চাইছেন।গোপীরা তাঁকে কংসরাজার ভয় দেখিয়ে নিরস্ত হতে বলছেন।ইঁনাদের মধ্যে যে উক্তি-প্রত‍্যুক্তি, তা কাব‍্যরসে সরস হয়ে উঠেছে।দান চাইবার ছলে শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক রাধার রূপ বর্ণন, এবং প্রেম নিবেদন অনাবিল কাব‍্যসম্পদে ভূষিত।চন্ডীদাসের কৃষ্ণ-কীর্তনেই কেবল এর ব‍্যতিক্রম দেখা যায়।রসখানের কবিতায়ও যে কাব‍্যকলা আছে,তাহাও উপভোগ‍্য। রাধিকা বলছেন--,সখীগণের কোনও ভূষণ যদি ছিঁড়ে দাও বা নষ্ট কর, তাহলে তোমাকে বেচলেও তার মূল‍্য হবে না।কেননা তুমি ধেনুর রাখাল। রসখানজী যে যে একজন ভক্ত ছিলেন, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।তিনি শ্রীবৃন্দাবনের পশুপাখী হয়ে থাকতে পারলেও নিজেকে ধন‍্য মনে করেন,অন‍্য কিছু কামনা করেন না।*
*🌷মানুষ হোঁ তো বহী রসখান,*
           *বসৌ ব্রজ গোকুল গাঁব কে গ্বারন।*
*🌷জো পসু হোঁ তো কহা বসু মেরো,*
       *চরৌ নিত নন্দকী ধেনু মঁ ঝারন।।* 
*🌷পাহন হৌঁ তো বহী গিরি কো,*
           *জো কিয়ো করছত্র পুরন্দর-ধারণ।*
*🌷জৌ খগ হোঁ তো বসেরো করৌঁ,*
           *মিলি কালিন্দী-কূল-কদম্ব কী ডারন।।*
*🌻যদি মানুষ হই,তবে (রসখান বলেন)যেন ঐ ব্রজগোকুল গ্রামের গোয়ালা হয়ে বাস করি।যদি পশু হই,তবে নন্দের ধেনুপাল মধ্যে যেন চরতে পারি। যদি পাষাণ(পাথর) হই, তবে যেন গিরিগোবর্দ্ধনের পাষাণ হই, যে গোবর্দ্ধনকে শ্রীকৃষ্ণ ছত্ররূপে ধারণ করেছিলেন।যদি পাখী হই,তবে যেন কালিন্দী-কুল-কদম্ব তরুর ডালে বাস করতে পারি।*
*🌲আমরা জানি বৃন্দাবন বাঙ্গালীরই সৃষ্টি।বাঙ্গালী কবিগণই নানা ছন্দে এর মাহাত্ম্য ঘোষণা করেছেন। কিন্তু হিন্দী কবিদের মধ্যেও এর প্রভাব যথেষ্ট দেখতে পাওয়া যায়।*
*🌹বংশী-অলি নামে একজন কবি অষ্টাদশ বিক্রমসংবতে আবির্ভূত হয়েছিলেন।তাঁর শিষ্য কিশোরী-অলির একটি প্রসিদ্ধ পদ আছে =*
*🌷শ্রীবৃন্দাবন বৃন্দাবন বৃন্দাবন কহুরে।*
*🌷বৃন্দাবন রজ কী তূ সরণ বেগি গহুরে।।*
*🙏শ্রীবৃন্দাবনের রজে গড়াগড়ি দিতে বিলম্ব করিও না।*
*🔴আর একজন কবি বলেছেন=*
*🌷প্রথম জথামতি প্রণউ শ্রীবৃন্দাবন অতি রম‍্য।*
*🌷শ্রীরাধিকা কৃপা বিনু সব কে মাননি অগম‍্য।।*
                *(হিতহরিবংশ ১৫৫৯ সংবৎ)*
*🌻বাঙ্গলী কবিগণও গেয়েছেন=*
*🌷মনের আনন্দে বল হরি ভজ বৃন্দাবন।*
                          *(নরোত্তম দাস)*
*🍀শুধু বৃন্দাবনের মাহাত্ম্য-প্রচারে না,রাধাতত্ত্ব সম্বন্ধেও উত্তর-পশ্চিমের কবিদের সঙ্গে বাঙ্গালী কবিদের যথেষ্ট মিল দেখা যায়। শ্রীকৃষ্ণকে পেতে হলে মূর্তিমতী ভক্তিরূপিণী শ্রীরাধিকার আরাধনা আবশ‍্যক। ভগবান যে ভক্তির বশ এই কথাটি বৈষ্ণব কবিগণ ও বৈষ্ণব ভক্তগণ বিশেষ জোর দিয়ে বলেছেন। এমন কি মুসলমান কবি রসখান তাঁর একটি কবিতায় সেই ভাবটি সুন্দরভাবে ব‍্যক্ত করেছেন।তিনি বলেছেন,বেদে,পুরাণে ব্রহ্মকে খুঁজলাম, পেলাম না ; কত নরনারী জিজ্ঞাসা করিলাম,কেউই সন্ধান দিতে পারে না ; দেখলাম তিনি নিভৃত কুঞ্জ-কুটীরে শ্রীরাধিকার পদসেবা করছেন=*
*🌷দেখো দুরয়ৌ বহ কুঞ্জ-কুটীর মেঁ,*
           *বৈঠয়ৌ পলোটতু রাধিকা-পায়ন।।*
*🌹রসখান প্রেমভক্তি সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন।তাঁর পদাবলী লালিত‍্যে ও সরলতায় অপূর্ব।ইঁনার জীবন-কথা সম্বন্ধে বিশেষ কিছু জানা যায় না।একটি প্রবাদ আছে যে,তিনি একজন রমণীর প্রতি অত‍্যন্ত অনুরক্ত ছিলেন। কিন্তু বিল্বমঙ্গলের চিন্তামণির ন‍্যায় এই রমণী তাঁর প্রেমের সমাদর করত না।সে অত‍্যন্ত অভিমানিনী ও রূপগর্বিতা ছিল।রসখান একদিন ঘটনাক্রমে শ্রীমদ্ভাগবতের একটি ঊর্দু অনুবাদে দেখলেন যে,ব্রজের হাজার হাজার গোয়ালিনী শ্রীকৃষ্ণকে দেহ-মন-প্রাণ সমর্পণ করেছিলেন।সেই হতে রসখান শ্রীকৃষ্ণের সম্বন্ধে অনুসন্ধান করতে লাগলেন এবং শ্রীনাথজীর একটি চিত্র দেখে মোহিত হলেন।অতঃপর এই প্রেমিক কবি তাঁর সমস্ত প্রেম শ্রীকৃষ্ণকে অর্পণ করলেন এবং বৃন্দাবনে গিয়ে সাধন-ভজনে আত্মনিয়োগ করলেন।নিচের কবিতায় এর আভাস পাওয়া যায়।*
*🌷তোরি মানিনী তেঁ হিয়ো ফোরি মোহনী মান।*
*🌷প্রেমদেব কী ছবি হি লখি ভয়ে মিয়া রসখান।।*
*🌹প্রেমদেবতার ছবি দেখে তোমার মোহিনী মায়া অতিক্রম করতে সক্ষম হয়ে রসখান শ্রেষ্ঠ (মিয়াঁ) হল।*
*🌺"২৫২ বৈষ্ণবন কী বার্ত্তা" নামক গ্রন্থে এই সম্বন্ধে আর একটি প্রবাদ দেখা যায়।রসখান প্রেমে এক বাণিয়ার পুত্রের প্রতি এত অনুরক্ত হয়েছিলেন যে তার উচ্ছিষ্ট পর্যন্ত ভোজন করতেন।একদিন কয়েকজন বৈষ্ণবের মধ্যে কথা হতে হতে একজন বলে উঠিল যে,ঐ বাণিয়ার ছেলের প্রতি রসখানের যেরকম ভালবাসা, ভগবানের প্রতি কারও যদি ঐরকম ভালোবাসা হত!কথাটি রসখানের কানে পৌঁছল। তখন তিনি ভগবানের রূপ কেমন জানবার জন্য ব‍্যাকুল হলেন।তাঁকে একজন শ্রীনাথজীর চিত্র বা ছবি দেখাল।সেই অবধি তিনি বণিক পুত্রের প্রতি অনুরাগ ত‍্যাগ করে শ্রীনাথজীর প্রতি আকৃষ্ট হলেন।রসখান তারপর বল্লভাচার্য‍্য স্বামীর পুত্র বিঠ্ ঠলনাথের শরণাপন্ন হলেন। এবং বিঠ্ ঠল নাথজী তাঁর অনুরাগ দেখে রসখানকে শিষ‍্যরূপে গ্রহণ করলেন, জাতি ধর্মের বিচার করলেন না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🙌 🙌জয় নিতাই গৌর হরিবল, বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য এখানেই বিরাম দিলাম। বানান,ভুলভ্রান্তি,ভাষা অসামঞ্জস্য হলে মার্জনা করবেন,লেখক যেভাবে গ্রন্থে লিখেছেন আমি হুবহু সেই ভাবেই তুলে ধরেছি,তবে সাধুভাষার স্থানে চলিত ভাষা প্রয়োগ করেছি।🙏*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🪷🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬১)💧বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য💧*
               *👥ভাবোল্লাস👥*
             •••••••••••••••••••••••••••
*আজু রজনী হাম, ভাগে পোহাইলুঁ,*
             *পেখলুঁ পিয়া মুখ চন্দা।*
*জীবন যৌবন, সফল করি মানলুঁ,*
           *দশ দিশ ভেল নিরদন্দা।।*
*🍀বিদ‍্যাপতির এই প্রসিদ্ধ পদটি ভাবোল্লাসের পদ বলে উল্লিখিত হয়। ভাবোল্লাস বলতে আমরা বুঝি যে,দীর্ঘ বিরহ যখন অসহনীয় হয়ে উঠেছে,মন যখন আর কিছুতেই প্রবোধ মানতে চাইছে না, তখন শ্রীরাধিকা অন্তশ্চিত্তে (মনের ভেতরে) মিলন-সুখ অনুভব করে কৃতার্থ হচ্ছেন।দৈহিক মিলনের পরিবর্তে এখানে আত্মিক মিলনই বর্ণনীয়। বিদ‍্যাপতি সুকৌশলে তাই এই আত্মিক মিলন ঘটিয়েছেন। সখি!আমি আজ (গত) রজনী ভাগ‍্যে কাটালাম।কেন না,আমি স্বপ্নে আমার প্রিয়তমের চন্দ্রবদন দেখেছি।দেখে আমি জীবন যৌবন সফল বলে গণ‍্য করলাম। সমস্ত সংশয় কুহেলিকা (কুয়াসা বা অন্ধকারময়) দূর হল এবং দুঃখের ঘনঘটা কেটে গিয়ে দশদিক প্রসন্ন হল।*
*আজু মঝু গেহ, গেহ কলি মানলুঁ,*
      *আজু মঝু দেহ ভেল দেহা।*
*আজু বিহি মোহে,অনুকূল হোয়ল,*
           *টুটল সবহু সন্দেহা।।*
*🌹আজ স্বপ্নে প্রিয়তম এসেছেন,এজন‍্য আমি গৃহ--গৃহ বলে মানলাম--এতদিন এ গৃহ তাঁর বিরহে শ্মশান-সম হয়েছিল। আমার দেহ আজ দেহ বলে মনে করছি--এতদিন দেহের কোনও সার্থকতা ছিল না।*
*সোই কোকিল অব, লাখ ডাকউ,*
        *লাখ উদয় করু চন্দা।*
*পাঁচ বাণ অব, লাখ বাণ হোউ,*
         *মলয় পবন বহু মন্দা।।*
*🌻চন্ডীদাসের পদেও আছে=*
*🌷গগনে উদয় হউক চন্দ।*
*🌷মলয় পবন বহুক মন্দ।।*
*🌷কোকিল আসিয়া করুক গান।*
*🌷ভ্রমরা ধরুক তাহার তান।।*
*👥মিলনে এই সব প্রেমোদ্দীপক উপাদানের প্রয়োজন আছে।এখন মদনের পাঁচ বাণ লক্ষ বাণ হলেও ক্ষতি নাই।*
*🍀বিদ‍্যাপতি এই ভাবোল্লাসের স্রষ্টা বললে বেশী বলা হবে না।বিদ‍্যাপতির উপরি লিখিত পদটি এবং সুপ্রসিদ্ধ "হরি যব আওব গোকুলপুর। ঘরে ঘরে নগরে বাজব জয় তূর "।। অথবা "অঙ্গনে আওব যুব রসিয়া। পলটি চলব হম ঈষৎ হসিয়া।। অথবা "পিয়া যব আওব এ মঝু গেহে। মঙ্গল যতহুঁ করব নিজ দেহে"।।শ্রীরাধিকা মনে মনে এই যে মিলন-মহোৎসবের কল্পনা করে হর্ষোৎফুল্ল হয়ে উঠেছেন, কোথায়ও এর তুলনা আছে বলে আমি জানি না।বৈষ্ণব সাহিত‍্যেও এর তুলনা বেশী নেই। বিদ‍্যাপতি এর প্রবর্তক, এইজন‍্য মনে হয় যে,অন‍্য সকলের পদে বিদ‍্যাপতির মুদ্রাঙ্কই দেখতে পাই।বৈষ্ণব কবিদের মধ্যে দেখা যায় যে,এক এক জন কবি এক এক বিষয়ের রচনায় সিদ্ধ।যেমন চন্ডীদাস পূর্বরাগে,গোবিন্দ দাস অভিসারে,নরোত্তম দাস প্রার্থনায়, বিদ‍্যাপতি প্রার্থনার পদেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী বলা যায়। কিন্তু তাঁর ভাবোল্লাস পদগুলিতে এমনই একটি অজ্ঞাতপূর্ব বৈশিষ্ট্যের সাক্ষাৎ পাই যে,সমগ্র বৈষ্ণব সাহিত‍্যেও তা দুর্লভ।*
*☘সাহিত‍্যদর্পণে ভাবোল্লাসের কোনও প্রসঙ্গ নাই। উজ্জ্বলনীলমণিতেও দেখেছি বলে মনে হয় না। বিদ‍্যাপতি এই পদগুলিকে কোথায়ও ভাবোল্লাস আখ‍্যা দিয়েছেন কি না তাও জানি না।রাধামোহন ঠাকুরের পদামৃত সমুদ্রে ভাবোল্লাস কথাটির সঙ্গে বোধহয় প্রথম পরিচয় লাভ করা যায়। "ভাবোল্লাস" রসপর্য‍্যায়ে তিনি অনেকগুলো পদ দিয়েছেন।*
*🍁রাধামোহন ঠাকুর যে ভাবে এই পদগুলির অবতারণা করেছেন,তাতে মনে হয় যেন গায়কদের মধ্যে এই নামটি সুপরিচিত ছিল।কেন না, তিনি টীকায় বলেছেন, "অথ ভাবোল্লাস-গান-নির্ব্বাহকং তদ্ ভাবাক্রান্তং শ্রীমদ্ গৌরচন্দ্রং "আজহু শচীসুত " ইত্যাদিনা স্মরতি"। ভাবোল্লাস সম্বন্ধে টীকায় বেশী কিছু নির্দেশ তিনি দেননি।শুখু এই মাত্র বলেছেন, "ভাবোল্লাসোহয়ং ভাবি সমৃদ্ধিমদ্ রসস‍্যাঙ্গভূতত্বাৎ তদ্ রস এবেতি জ্ঞেয়ঃ"। অর্থ‍্যাৎ ভাবী ( ভবিষ্যৎ ) সমৃদ্ধিমান রসের অঙ্গ বলে এটি সেই রস বলেই বুঝতে হবে।সমৃদ্ধি বা সমৃদ্ধিমান সম্ভোগ রসশাস্ত্রের পারিভাষিক শব্দ। "দুর্লভালোকয়োযুনোঃ পারতন্ত্র‍্যাৎ বিযুক্তয়োঃ উজ্জ্বল-নীলমণির এই শ্লোকের ব‍্যাখ‍্যায় শ্রীজীব গোস্বামী তাঁর লোচনরোচনী টীকায় বলেন ; "ঋদ্ধি শব্দস্তাবৎ সম্পন্নতা-বাচকঃ, তত্র সমিত‍্যুপসর্গে আধিক‍্যং মতুপ্ প্রত‍্যয়স‍্য প্রশংসাতিশয়নিত‍্যযোগ প্রত‍্যায়নং তু ততোহপ‍্যধিকং দর্শয়তি"।তাহলে বুঝা যায় যে, সুচির বিরহের পরে যে মিলন হল, তাতে উপভোগ বা আনন্দাতিশয‍্য থাকায় তাকে সমৃদ্ধিমান সম্ভোগ বলে। শ্রীপাদ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী তাঁর আনন্দচন্দ্রিকা টীকায় এই কথায় বলেছেন ; "সুদূর প্রবাসবসাৎ বিরহিণোর্যুনোর্নায়িকানায়কয়োঃ•••••• উপভোগ‍াস‍্যাতিরেক আধিক‍্যং স সমৃদ্ধিমান্ সম্ভোগ কীর্ত্ত‍্যতে "। এই সমৃদ্ধিমান সম্বোগ যদি শ্রীরাধামোহন ঠাকুরের "সমৃদ্ধিমদ্ররসঃ" হয়,তবে ভাবোল্লাসের অর্থ দাঁড়ায় যে সুদীর্ঘ বিরহের পর যে মিলন আনন্দ উপভোগের আতিশয‍্য তারই নাম ভাবোল্লাস।*
*🍀বৈষ্ণব সাহিত‍্যে ভাব অনেক জায়গায় প্রণয়ের নামান্তর মাত্র।অতএব ভাবোল্লাস অত‍্যধিক প্রণয়ের আনন্দ উচ্ছ্বাস। এই অর্থ গ্রহণ করলে বিরহের পর মিলনের সমস্ত পদকেই ভাবোল্লাস বলে ধরা যেতে পারে। কিন্তু অনেকগুলো শ্রেষ্ঠপদে অন‍্যরকম ভাবও দেখা যায়।সেসব পদে কবি কল্পনায় আনন্দ উপভোগ করাচ্ছেন মিলনের পূর্বে।🌹প্রিয় আসবেন, এই স্বপ্ন দেখে শ্রীমতী রাইধনি অধীরা হয়েছেন। তাঁর আগমন-সম্বন্ধিনী আশায় উৎফুল্ল হয়ে উপভোগের ও অভ‍্যর্থনার নানা উপচার মনে মনে রচনা করছেন, অথবা নানা সুলক্ষণ দেখে প্রিয়তমের আগমন সম্বন্ধে সুনিশ্চিত হয়ে তাঁর সম্বর্দ্ধনার জন্য আয়োজন করছেন। কাকের কর্কশ স্বরও আজ কানে মধু বর্ষণ করছে।কাকের যতই দোষ থাক, ভবিষ‍্যদ্বেত্তা বলে তার খ‍্যাতি আছে।তাই জ্ঞানদাস বলছেন=*
*আজু পরভাতে, কাক কলকলি,*
         *আহার বাটিয়া খায়।*
*বন্ধু আসিবার, নাম সুধাইতে,*
       *উড়িয়া বৈসয়ে তায়।।*
*🍁বিদ‍্যাপতি বলেছেন, কাক,তোমার চঞ্চু সোনা দিয়ে বাঁধিয়ে দিব-- যদি বন্ধু আজ আসেন।*
*সোনে চঞ্চু বঁধএ, দেব মোঞে বাঅস,*
    *জঞো পিয়া আওত আজ রে।*
*🌳আরও কত সুলক্ষণ প্রিয়তমের আগমন সূচনা করছে=*
*বামভূজ আঁখি, সঘনে নাচিছে,*
          *হৃদয় উঠিছে সুখ।*
*প্রভাত স্বপন, প্রতীত বচন,*
       *দেখিব পিয়ার মুখ।।*
                                 *(বংশীদাস)*
*🍀হাতের বাসন খসে পড়ছে,দুইজনার মুখে যুগপৎ একই কথা, "বন্ধু আসিবার ঠিকন সুধাইতে" নাগিনী মাথা নাচাচ্ছে, এ সব শুভ লক্ষণ কি কখনও বৃথা হতে পারে?*
*🌷খঞ্জন কমলিনি সঙ্গ।*
*🌷পুলকে পুরয়ে সব অঙ্গ।।*
*🌷বাম নয়ন করু কম্প।*
*🌷সঘনে খসয়ে নিবি-বন্ধ।।জ্ঞানদাস।।*
*🍀খঞ্জনের নৃত্য করা বা দেখা অতীব শুভ লক্ষণ,যদি কমলে (পদ্মের উপরে) খঞ্জনের নৃত্য দর্শন করা যায়,তাহলে আরও শুভ হয়। এ সব লক্ষণ কখনও বিফল হবে না। মাধব নিজ গৃহে আসবে=*
*🌹চিকুর ফুরিছে,বসন খসিছে,*
           *পুলক যৌবন ভার।*
*🌹বাম অঙ্গ আঁখি,সঘনে নাচিছে,*
         *নাচিছে হিয়ার হার।।*
                          *(গোপাল দাস)*
*🍀এরকম ভাবে অনেক কবি ভাবোল্লাসের পদ রচনা করেছেন।একটি লক্ষ্য করবার বিষয় এই যে, এই রসের কোনও প্রসিদ্ধ পদ গোবিন্দ দাস রচনা করেননি। আকস্মিক ভাবোল্লাসে•••••••*
*উলসিত মঝু হিয়া,আজু আওব পিয়া,*
        *দৈবে কহল শুভবাণী।*
*শুভ-সূচক যত,প্রতি অঙ্গে বেকত,*
       *অতএ নিচয় করি মানি।।*
*🌻গোবিন্দ দাসের এই একটি মাত্র পদ আছে। কিন্তু এতেও কিন্তু রসটি সুপরিস্ফুট হয়নি।শ্রীমতী রাধারাণী শুভ-সূচক লক্ষণ প্রতি অঙ্গে পরিব‍্যক্ত দেখে সখীগণকে বলছেন ; তোমরা জায়গায় জায়গায় মঙ্গলকলস স্থাপন করে তার উপরে আম্র-পল্লব বা আমের-শাখা দাও। গ্রহগণককে ডেকে এনে নানা উপহার দাও। সোনার পাত্রে খৈ ভরে চোখের সামনে রাখ।সখীগণ! সুন্দর বেশভূষায় সজ্জিত হয়ে উলুধ্বনি দাও, আমার প্রাণের প্রাণ হরি আজ নিজগৃহে আসিবেন।*
*🍁ভাবোল্লাসের পদে বিদ‍্যাপতির প্রতিভা কেউ খর্ব করতে পারেননি। কিন্তু এই বিষয়ে তাঁর শ্রেষ্ঠ পদগুলি বঙ্গদেশে ছাড়া অন‍্য কোথায়ও পাওয়া যায় না।মিথিলায় পাওয়া কয়েকটি পদে তার কিছু কিছু ভাব পাওয়া যায় বটে ; কিন্তু বিদ‍্যাপতির খ‍্যাতি রক্ষা করতে তা যথেষ্ট বলে মনে হয় না।প্রিয়তমের আগমন আশায় শ্রীমতী যে মনের কত সাধ ব‍্যক্ত করছেন,তার সংখ্যা নেই= বন্ধু যখন আমার আঙ্গিনায় আসবেন, তখন "পলটি চলব হাম ঈষৎ হসিয়া" একটি তুলির টানে বিরহিণীর আশা উৎফুল্ল হৃদয়ের ছবিটি যেন চোখের সামনে ভেসে উঠে।প্রিয়তম যখন আমার আলিঙ্গন প্রার্থনা করবেন, তখন=*
*🌷মুখ মোঢ়ি বিহসি বোলব নহি তবহি।*
*🌹তবে তিনি আসিলে তাঁর সর্ব উপচারে অর্চনা করতে হবে।নগরের ঘরে ঘরে জয়-তূর্য‍্য(বাদ‍্য)বাজবে।আমি আর কি দিয়ে তাঁর অভ‍্যর্থনা করব?প্রাণবন্ধুর অভ‍্যর্থনার জন্য কারও কাছে তো প্রার্থনা করতে যেতে পারব না।লজ্জা করে না? আমি আমার নিজের দেহেই সমস্ত উপচার করব।আলপনা দিতে হয়, আমার গলার শুভ্র মোতির মালা আলিম্পন (আলপনা) হবে।মঙ্গল-কলস স্থাপন করতে হয়,আমার কুচযুগল মঙ্গল-কলস হবে। আমার অঙ্গগন্ধ ধূপ, আমার এই রূপশ্রী দীপ, এবং আমার সর্বাত্ম-নিবেদন নৈবেদ‍্য হবে। আর নয়নজলে প্রিয়তমের অভিষেক করব। নিদারুণ বিরহের মধ্যে যখন এই সুরটি বাজে,তখন তা মর্মে গিয়ে প্রবেশ না করে পারে না।বিশেষ করে যখন মনে পড়ে যে এই মরণাধিক বিরহের হয়ত কোনদিন অবসান নাই।*
😭😭😭😭😭😭🌹😭😭😭😭😭😭
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬২)🙏বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🙏*
            *🌹মুরলী-শিক্ষা🌹*
        🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*বংশীগানামৃত ধাম,লাবণ‍্যামৃত জন্মস্থান,*
    *যে না হেরে সো চাঁদ বদন।*
*সে নয়নে কিবা কাজ,পড়ু তার মাথে বাজ,*
    *জন্ম তার হৈল অকারণ।।*
 *সখি হে শুন মোর হতবিধি বল।*
*মোর বপু চিত্ত মন, সকল ইন্দ্রিয়গণ,*
     *কৃষ্ণ বিনা সকলই বিফল।।*
                    *(শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত)*
*🍀শ্রীকৃষ্ণের মুখচন্দ্র মনে হলেই সবার আগে মনে পড়ে তাঁর বাঁশীর গান।মহাপ্রভু তাই আক্ষেপ করে বলেছেন,সেই মুরলীরঞ্জিত বদন যে নয়নে না দিখিল,তার নয়নে কি কাজ?সে নয়নে পড়ুক বাজ।সেই ভুবন মনোমোহন মুখটি সমস্ত লাবণ‍্যের আকরস্থল বা খনি।বিশ্বের যেখানে যা কিছু সুন্দর,সুশ্রী,সুষমামন্ডিত,তার মূল প্রস্রবণ যে ঐ চাঁদ মুখখানি।*
*🌷তমেব ভান্তমনুভাতি সর্বং,*
*🌷তস‍্য ভাসা সর্বমিদং বিভাতি।*
*🌻তাই মহাপ্রভু শ্রীমতীর ভাবে বিভাবিত হয়ে খেদ করে বলেছেন যে,শ্রীকৃষ্ণের দর্শন বিনা তাঁর সমস্তই বিফল হল।শ্রীচৈতন‍্য আবির্ভূত হয়েছিলেন শ্রীরাধিকার প্রেম আস্বাদন করবার জন্য।বস্তুতঃ বা প্রকৃতপক্ষে শ্রীরাধাকৃষ্ণলীলার দুইটি বস্তু অতুলনীয়।শ্রীকৃষ্ণের রূপের তুলনা নেই,আর শ্রীরাধিকার প্রেমের তুলনা নাই। বৈষ্ণব পদাবলীতে এই রূপ ও প্রেমের উৎকর্ষ অন‍্য সমস্ত বিষয়কে অতিক্রম করে আমাদের বিস্ময়বিমূঢ় দৃষ্টি আকর্ষণ করে।রূপ নহিলে প্রেম স্ফূর্তি লাভ করে না।এখানে যত না রূপ,তত না প্রেম।*
*কিয়ে কমল দোলে রে নাটুয়া খঞ্জন পাখী।*
*ঘর সরবস্ব যৌবন দিয়ে শ‍্যামরূপ দেখি।।*
                            *(গোবিন্দ দাস)*
*☘এই রূপ দেখবার জন্য গৃহ, সর্বস্ব যৌবনে তিলাঞ্জলী দিতে হয়।নইলে তো এ রূপ দেখতে পাওয়া যায় না।দেখলেও প্রেমপিপাসা চরিতার্থ হয় না বা মেটে না।যিনি এমন করে রূপ দেখতেন,তাঁর প্রেম কেমন?এমন সর্বহারা প্রেম তো কল্পনা করা যায় না।তাই এই "প্রেমের মধুরিমা" কেমন তা দেখবার জন্য যেন রাধাকৃষ্ণ এক দেহ ধারণ করে "শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দররূপে" আবির্ভূত হয়েছিলেন। শ্রীবৃন্দাবনে ও নীলাচলে স্বরূপদামোদর গোস্বামী প্রমুখ পার্ষদবৃন্দ মহাপ্রভুকে এই অপূর্ব ভাব-সমন্বয়ের মধ্যে নিরীক্ষণ করেছিলেন।আমরা এই কথাগুলি শুনতে শুনত এত অভ‍্যস্ত হয়ে পড়েছি যে এই সুন্দর কবিত্বপূর্ণ ভাবগম্ভীর কল্পনার গুরুত্ব বা মৌলিকত্ব সম্বন্ধে একবারও চিন্তা করি না। এরকমভাবে অবতার-কল্পনা ভারতীয় অবতারবাদসঙ্কুল ধর্মতত্ত্বের ইতিহাসে আর কখনও হয়নি।এমন প্রাণস্পর্শীভাবে মানব-দেবতার চরিত্র-চিত্র আর কোথায়ও কোনও যুগে উদঘাটিত হয়নি।শ্রীচৈতন‍্য সাক্ষাৎ রূপ ও প্রেমের মূর্ত বিগ্রহ। একাধারে রূপ ও প্রেমের এরকম অবস্থান আর কোথায়ও কল্পিত হয়েছে বলে শুনি নাই। আমরা সচরাচর এটিই জানি রূপ যেখানে,প্রেম সেখানে নয় ; আবার প্রেম যেখানে রূপ সেখানে নয়।প্রেমের নির্মল দর্পণেই রূপ অম্লান-মধুরিমায় বিকশিত হয়।কাজেই রূপ ও প্রেম পরস্পরের সাহায্যকারী।রূপ হৃদয়ে জাগায় প্রেম, আর প্রেম রূপকে আস্বাদন করে সার্থক করে,ধন‍্য করে,সম্পূর্ণ করে।প্রেম আধার,রূপ আধেয়।উভয়েই পারস্পর্যেই সার্থকতা। কিন্তু বৈষ্ণব মহাজনদের চোখে কে যেন প্রেমের অলৌকিক কাজল পরিয়ে দিয়েছেন,তাঁরা দেখলেন রূপে রসে মাখামাখি হয়ে একজন এসেছেন ; তিনি আধারও বটে,আধেয়ও বটে। আবার ভগবানও বটে, ভক্তও বটে। আস্বাদ‍্যও বটে,আস্বাদিকাও বটে।অপূর্ব পরিকল্পনা!এর তুলনা নাই।*
*🌺প্রেমলম্পট ভগবান বৃষভানুনন্দিনীর প্রেমে মুগ্ধ হলেন।আর শ্রীমতী রাধারাণীর নয়ন-মনভুলে গেল তাঁর আরাধ‍্যের রূপে।শুধু কি রূপে?তাঁর প্রাণমনও উদভ্রান্ত হ'ল বাঁশীর রবে। "কদম্বের বন হইতে কি যে শব্দ আচম্বিতে" কানে প্রবেশ করল,তাতেই তো পাগল করেছে।নবমেঘের গর্জনের মত এ কি অপূর্ব ধ্বনি।বাঁশীর স্বরলহরী ভুবন ভাসিয়ে দিচ্ছে।এ অপূর্ব বাঁশী যার, তার চরণে নিজেকে বিলিয়ে দিতে ইচ্ছা হয় কেন?মনে হয় এমন মধুর ধ্বনি কখনও শুনেন নাই,আবার মনে হয় এই মধুর ধ্বনি শুনে কেউ প্রাণ ধরে রাখতে পারে কি? এমন আকুল ডাকে কেউ কি তিলার্ধ ধৈর্য্য ধরতে পারে?এ যে তপ্ত ইক্ষু চর্বণের মত উষ্ণ অথচ মধুর ; মুখ জ্বলে যায়, অথচ ত‍্যাগ করবারও সাধ‍্য নাই। এ যেন অমৃত এবং গরল মিশিয়ে কে বাঁশী বাজাচ্ছেন! বাঁশীর গানের এই অপূর্ব কল্পনা একমাত্র বৈষ্ণব কবিতাই দেখতে পাওয়া যায়, যে গানে=*
*🌷যোগী যোগ ভুলে,মুনির ধ‍্যান টলে।*
*🌷ধায় কামিনী কাননে ত‍্যজি কুলে।।*
                              *(নৃসিংহ দেব)*
*🌹যে গানে বনের পশু পাখী মোহিত হয়,যে গানে জলের মকর মীন ভেসে উঠে,মৃত তরু মুঞ্জরে বা জীবিত হয়,যমুনা উজানে বহে, পাষাণ বা পাথর বিগলিত হয়, সে-ই কৃষ্ণের শ্রবণমঙ্গল বাঁশী। শ্রীরাধিকা বলেছেন=*
*🌷বাঁশী,তোর গানে স্থকিত রে, যমুনা নীর উছলই,*
      *মীন ভাসে মুখ চাহই রে।*
*🌷তোর গানে পাষাণ রে*
            *দরবিত,মৃত তরু মুঞ্জরে,*
                 *কাননে পশুপাখী ধাবই রে।।*
*❤এ কি বাঁশী?এ কি সঙ্গীত!যে বাঁশীতে এমন পাগল করে,সে বাঁশী খেয়াতি ছিল,তিনিই নিশ্চয় এই বাংলা পদের রচয়িতা বিদ‍্যাপতি।*
*এই প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে যে, বিদ‍্যাপতির পদাবলীর মধ্যে শেখর রায় শেখর রচিত অনেক পদ স্থান পেয়েছে।(নরেন্দ্র গুপ্তের সংস্করণ) নগেন্দ্র বাবু বলেন যে বিদ‍্যাপতির উপাধি ছিল কবি শেখর। সুতরাং শেখর ভণিতা যুক্ত পদগুলিকে বিদ‍্যাপতির পদ বলে তিনি ধরে নিয়েছেন। কিন্তু শেখর বা শেখর রায় নামে একজন কবি শ্রীচৈতন‍্যের পরে আবির্ভূত হয়েছিলেন।তাঁর দন্ডাত্মিকা পদাবলীতে শেখর ভণিতার অনেক পদ উদ্ধৃত হয়েছে।এই পদগুলিতে শ্রীচৈতন‍্যের প্রভাব ও তাঁর প্রচারিত প্রেম-ভজনের বৈশিষ্ট্য বতর্মান।কাজেই সেগুলি ব্রজবুলির পদ হলেও বিদ‍্যাপতির কখনও হতে পারে না। চম্পতি নামে আর একজন বৈষ্ণব কবির পদ বিদ‍্যাপতির বলে দাবী করা হচ্ছে।চম্পতি নাকি বিদ‍্যাপতির আর এক নাম ছিল।(নগেন্দ্র গুপ্ত)।দুই একটি পদে চম্পতি বিদ‍্যাপতি এই যুগ্ম নামও দেখা যায়।চম্পতির ব্রজবুলি পদগুলি অতি সুন্দর।সেগুলিকে বিদ‍্যাপতির পদের অন্তর্ভুক্ত করে নিবার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু রাধামোহন ঠাকুর পদামৃত সমুদ্রের টীকায় স্পষ্ট লিখেছেন যে,চম্পতি একজন গৌর ভক্ত, ও প্রতাপরুদ্র নরপতির পরম ভাগবত মহাপাত্র ছিলেন। অনুমান হয় যে তায় চম্পতি,বিদ‍্যাপতি উপাধি লাভ করেছিলেন।*
*🌻বিদ‍্যাপতি কি বৈষ্ণব ছিলেন?*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*নগেন্দ্রবাবু বলেন যে,বিদ‍্যাপতি পরম শৈব ছিলেন, বৈষ্ণব ছিলেন না।মিথিলার সর্বত্র তাঁর রচিত শিব ও গৌরীর গান শুনতে পাওয়া যায়,লোকমুখে রাধা-কৃষ্ণের গীত খুব অল্প। এর উত্তরে বলা যেতে পারে যে,গ্রীয়ার্সন কর্তৃক মিথিলা হতে যে ৮২টি বিদ‍্যাপতির পদ সংগৃহীত হয়েছিল,তার মধ্যে ৭৬টি রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক ; একথা নগেন্দ্র বাবুও স্বীকার করেছেন।এছাড়াও এ পর্যন্ত বিদ‍্যাপতির যে সব পদ সংগৃহীত হয়েছে,তার মধ্যে হরগৌরী সম্বন্ধীয় পদ ৫০টির বেশী না,অথচ রাধাকৃষ্ণ পদের সংখ্যা এক হাজারের কম না। এটিই কি বিদ‍্যাপতির বৈষ্ণবধর্ম-প্রীতির ফল না?বিদ‍্যাপতি তরুণ বয়সে কবিত্বের জন্য যে বিসপী গ্রাম দান স্বরূপ পেয়েছিলেন এবং তার সঙ্গে নবজয়দেব উপাধি পেয়েছিলেন, তা কি হরগৌরী পদাবলীর জন্য। বিদ‍্যাপতি জয়দেবকে অনুসরণ করে পদাবলী রচনা করেছিলেন এবং তাঁর চিত্ত সেই রসে ভরপূর ছিল এ সম্বন্ধে সন্দেহের অবকাশ নাই। তবে এটিও ঠিক যে ঐ সময়ে শৈবও বৈষ্ণব ধর্মের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব ছিল না।বিদ‍্যাপতির পদ হতেও তা বুঝা যায় =*
*🌷ভণই বিদ‍্যাপতি বিপরীত বাণী*
*🌷ও নারায়ণ ও শূলপাণি।।*
*🌹আপাততঃ বিপরীত শুনালেও এটি নিশ্চয়, যিনি নারায়ণ তিনি শূলপাণি। হর ও হরির মধ্যে কোনও ভেদ নাই। সুতরাং এটি কোনও ক্রমেই বলা চলে না যে বিদ‍্যাপতি বৈষ্ণব ছিলেন না।বিদ‍্যাপতির প্রার্থনার পদগুলির প্রতি দৃষ্টিপাত করলে এই ভ্রম বিদূরিত হতে দেরী হবে না।*
*🌷মাধব,বহুত মিনতি করু তোয়*।
*🌷দেই তুলসি তিল, এ দেহ সমর্পিল,*
       *দয়া জনু ছোড়বি মোয়।।*
*🌷হে হরি বন্দো তুয়া পদ-নায়।*
*🌷তুয়াপদ পরিহরি, পাপ পয়োনিধি,*
       *পার হোয়ব কওন উপায়।।*
*🙏এরকম আকুতি ভরা প্রার্থনা ও দৈন‍্য খুবই কম কবির পদেই পাওয়া যায়।*
*🌻এ সম্বন্ধে বিস্তৃত আলোচনা বিদ‍্যাপতি ঠাকুরের পদাবলীর ভূমিকায় দ্রষ্টব‍্য (দ্বিতীয় সংস্করণ, মুখবন্ধ পৃষ্ঠা ১০)*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৩)🌹বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🌹*
        *❤বিদ‍্যাপতির প্রেম❤*
    ❤❤❤❤❤❤❤❤❤
*🍀সাধারণতঃ চন্ডীদাসকেই আমরা প্রেমের কবি বলে জানি।প্রেমের এমন পূজারী বুঝি আর হয়নি!বিদ‍্যাপতিকে আমরা রূপের কবি বলেই জানি।চন্ডীদাসের প্রেম আধ‍্যাত্মিক,বিদ‍্যাপতির প্রেম রূপজ, এমনই ভাবে আমরা এই দুই প্রেমিক কবির মধ্যে তুলনায় সমালোচনা করে থাকি। চন্ডীদাসে প্রেম সম্বন্ধে বেশী কিছু বলবার প্রয়োজন নাই,কারণ প্রেমের তিনি ছিলেন প্রধান সাধক, পিরীতির চারণ কবি।প্রেমের মহিমা তাঁর মত আর কোনও কবিই প্রচার করতে পারেননি।*
*আঁখির নিমিষে, যদি নাহি হেরি,*
        *তবে সে পরাণে মরি।*
*চন্ডীদাস কহে, পরশ-রতন,*
        *গলায় গাঁথিয়া পরি।।*
*❤প্রেম অমূল‍্য নিধি--পরশমণি, মণিমাণিক‍্য হতেও অমূল‍্য।প্রেমাস্পদকে চোখের আড় করতে ইচ্ছা হয় না, পাছে হারিয়ে যায়।তাকে পরশমণির মত হার গেঁথে গলায় পরতে সাধ হয়।মিলনেও শঙ্কা যায় না। তাই=*
*🌷দুহুঁ কোরে দুহুঁ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া।*
*🌷তিল আধ না দেখিলে যায় যে মরিয়া।।*
*🍁এ প্রেমের তুলনা নাই। কবি নিজেই বলছেন=*
*জল বিনু মীন জনু কবহুঁ না জীয়ে।*
*মানুষে এমন প্রেম কোথা না শুনিয়ে।।*
*🌺সত‍্যই মানুষে এমন প্রেম কি হয়?শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী যেন ইঁনারই প্রতিধ্বনি করে বলেছেন=*
*অকৈতব কৃষ্ণ প্রেম,যেন জাম্বুনদ হেম,*
     *হেন প্রেমা নৃলোকে না হয়।*
*যদি তার হয় যোগ,না হয় তার বিয়োগ,*
    *বিয়োগ হৈলে কেহ না জীয়য়।।*
*🍀ভাগ‍্যগুণে যদি এই প্রেম হয়,তাহলে বিচ্ছেদে প্রাণ বাঁচে না। বিদ‍্যাপতিও বলেছেন=*
*🌷এ সখি অপুরুব রীতি।*
*🌷কহাহুঁ ন দেখিঅ অইসনি পিরীতি।।*
*🌳হে সখি!এ এক অপূর্ব ব‍্যাপার, কোথাও এমন পিরীতি দেখিনি। বিদ‍্যাপতির রাধিকা বলছেন প্রিয়তম গাঢ় আলিঙ্গনে বদ্ধ থেকেও চমকিয়ে উঠেন।আমি একটু পাশ ফিরলেই অমনি মান করেছি আশঙ্কায় ব‍্যস্ত-সমস্ত হয়ে উঠেন।*
*🌷ঘুমক আলসে জদি পলটি হোউ পাস।*
*🌷মান ভয়ে মাধব উঠয়ে তরাস*।।
*☘বিদ‍্যাপতি প্রেমে যে উপমা দিয়েছেন,তাহাও প্রেমকে উর্ধ্বস্তরে স্থাপন করেছে।প্রেম অতল স্পর্শ রহস‍্য, অথচ মধুরিমায় অফুরন্ত নির্ঝর।কবিরা নানাভাবে যেমন এর মাধুর্য‍্য বিকশিত করে তুলতে চেয়েছেন,তেমনি এটির রহস‍্য উপমা উৎপ্রেক্ষার দ্বারা বুঝতে চেষ্টা করেছেন।যে প্রেম ইন্দ্রিয়জ সুখের সমতল হতে উর্ধ্বে উঠতে পারে না,তাকে বৈষ্ণবগণ "কাম" বলে বর্ণনা করেছেন।কাম ও প্রেমের মধ্যে যে প্রভেদ তা কবিরাজ গোস্বামী তাঁর প্রসিদ্ধ পয়ারে ব‍্যক্ত করেছেন=*
*🌷আত্মেন্দ্রিয়-প্রীতি-ইচ্ছা তারে বলি কাম।*
*🌷কৃষ্ণেন্দ্রিয়-প্রীতি-বাঞ্জা ধরে প্রেম নাম।।*
*🌺এই সংজ্ঞা সর্ববাদিসম্মত হোক বা না হোক, এটি স্বীকার করতেই হবে যে,প্রেমের বিভিন্ন স্তরভেদ বৈষ্ণব কবিগণ যেমন বুঝাতে চেয়েছেন এমন আর কোথাও দেখা যায় না।*
*🌻কবিরাজ গোস্বামী যে সংজ্ঞা দিয়েছেন, তার মূল অনুসন্ধানে আমরা আমাদের জাতীয় কবি চন্ডীদাস বিদ‍্যাপতির কাব‍্যে উপনীত হই।চন্ডীদাস যা তাঁর সরল তরল ভাষার তুলিকায় ধরতে পারেননি,তাও উপমার দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন=*
*🌷ভানু কমল বলি সেও হেন নহে*।
*🌷হিমে কমল মরে ভানু সুখে রহে।।*
*🌷চাতক জলদ কহি সে নহে তুলনা।*
*🌷সময় নহিলে সে না দেয় এক কণা।।*
*🌷কুসুমে মধুপ কহি সে নহে তুল*।
*🌷না আইসে ভ্রমর আপনি না যায় ফুল।।*
*❤প্রেমের দুরবগাহ (জটিল) রহস‍্য এখানে আরও জটিল হয়ে উঠেছে,যাতে উপমাও তার নাগাল পেল না।*
*🍁বিদ‍্যাপতি চাতক ও জলদের উপমায় সুন্দর মাধুর্য‍্য পরিবেশন করেছেন=*
*🌷সহজে চাতক,না ছাড়য় বরত,*
           *না বৈসে নদি তীরে।*
*🌷নব জলধর, বরিখন বিনু,*
          *না পিয়ে তাহারি নীরে।।*
*🌺চাতক নবীন জলদের জল ছাড়া অন‍্য জল পান করে না,তার ব্রত ত‍্যাগ করে না।পিপাসায় নদী তীরে গিয়ে বাস করে না। যদি দৈবাৎ (কখনও) তৃষ্ণায় কন্ঠ শুকিয়ে যায়, তবে হয়ত একটু জল পান করতে পারে, কিন্তু চেয়ে থাকে সেই মেঘের পানে।সেইরকম তোমার প্রেমাস্পদ অতি দুঃখে তোমার নাম স্মরণ করে শতধারে অশ্রু বিসর্জন করেন।*
*যদি দৈব বশে, অধিক পিয়াস,*
         *পিয়ব হেরয়ে থোর।*
*তবহুঁ তোহার, নাম সুমরি,*
       *গলয় শতগুণ লোর।।*
❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৪) বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য*
           *বিদ‍্যাপতির প্রেম*
           ^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*❤প্রেম যে শুধু ক্ষুধিত প্রাণের বুভুক্ষা (ভোজন করবার ইচ্ছা) মাত্র নয়, এটি যে জীবনের ব্রত,অচল, অপ্রকম্প(স্থির) তাইই বিদ‍্যাপতি সুন্দর উপমার দ্বারা বুঝিয়েছেন।উপমা-টি প্রসিদ্ধ, কিন্তু এতে যে ভাবের পরিবেশ আছে,তাইই বিদ‍্যাপতির কাব‍্যের বিশিষ্টতা সম্পাদন করেছে।*
*☘বিদ‍্যাপতির আরও একটি প্রচলিত উপমার মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করেছেন।প্রেমের রহস্যটি উপমানের রহস‍্যে যে গাম্ভীর্য লাভ করেছে,তার তুলনা নাই।◆সখী বলছেন, যে প্রেমের উপমার জন্য সারা বিশ্ব খুঁজলাম, কিন্তু ক্ষীর ও নীরের সম্বন্ধের মত একটিও তুলনা খুঁজে পেলাম না বা দেখলাম না।*
*🌷খোঁজল সকল মহীতল গেহ।*
*🌷খীর নীর সম না হেরল নেহ।।*
*❤প্রেমের এমন উপমাস্থল আর নেই। কারণ যদি কেউ ক্ষীর আগুনেরমুখে স্থাপন করে এবং কাঠি দিয়ে নেড়ে জল "মারে" তাহলে (জলের সঙ্গে দুধের বিয়োগ ঘটলে) ক্ষীর উথলিয়ে আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রাণ-ত‍্যাগ করতে চাহে।*
*🌷যব কোই বেরি অনল মুখ আনি।*
*🌷খীর দন্ড দেই নিরসত পানি।।*
*🌷তবহুঁ খীর উমড়ি পড় তাপে।*
*🌷বিরহ বিয়োগ আগ দেই ঝাঁপে।।*
*❤বলুন তো? এমন প্রেম কোথায় আছে?দুগ্ধ যখন উথলিয়ে আগুনে পড়ে,তখন যদি কেউ একটু জল সেই দুধে দেয়,অমনি বিরহবিয়োগ দূরে যায় এবং ক্ষীর শান্ত ভাব ধারণ করে।*
*🌷যব কোই পানি আনি তহি দেল।*
*🌷বিরহ বিয়োগ তবহি দূরে গেল।।*
*🌷ভনই বিদ‍্যপতি এহেন সুনেহ।*
*🌷রাধা মাধব ঐসন নেহ।।*
*❤রাধামাধবের প্রেমের এমন উপমা চন্ডীদাসও দিতে পারেননি।বিরহের পরে মিলনেরও যে চিত্র বিদ‍্যাপতি এঁকেছেন,তা অন‍্য কোনও কবির কাব‍্যে পাই না।*
*🌷রাধা বদন নিরখি রহু কান।*
*🌷ভাবে ভরল অঙ্গ ধরল ধিয়ান।।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণ অনিমিষে প্রিয়তমার মুখের দিকে চেয়ে রইলেন।অষ্ট সাত্ত্বিক ভাবে (রোমাঞ্চ,স্বেদ,অশ্রু ইত্যাদি ) তাঁর অঙ্গ পূর্ণ হল, তিনি ধ‍্যানে আত্মহারা হলেন।যাকে পাবার জন্য প্রাণে অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষা, তাকে দেখে বক্ষে ধারণ করবার কথা কৃষ্ণ ভুলে গেলেন। তখন রাইধনি কিন্তু তাঁর মনের কথা বুঝলেন,অমনি বাহু প্রসারিত করে তাঁকে বক্ষে টেনে নিলেন।*
*🌷রাহী বুঝল তনু মরমক বোল।*
*🌷বাহু পসারি কাহ্নু কর কোর।।*
*🌺কীর্তনানন্দের এই পদটিতে বিদ‍্যাপতির ভণিতা নাই। কিন্তু পদটি যে বিদ‍্যাপতির সে সম্বন্ধে সন্দেহ করবার কারণ নাই। আর একটি ভণিতাযুক্ত পদে এটি অপেক্ষাও গভীরতর ভাব রয়েছে।বিরহের পর মিলনে দুজনেই চিত্রপুতুলীর মত স্থির হয়ে রইলেন,সম্ভাবণ(কোন চিন্তা) নাই,আলিঙ্গন নাই--,এ প্রেমের ধারা কেমন কে বলতে পারে!*
*🌷চিত পুতলি জনু রহু দুহু দেহ।*
*🌷ন জানিয় প্রেম কেহন অছু নেহ।।*
*❤এ প্রেমের গতি বুঝা ভার,কাছে থেকেও কেউ কাউকে দেখতে পাচ্ছেন না।*
*🌷এ সখি দেখ দুহুক বিচার।*
*🌷ঠামহি কোই লখই নাহি পার।।*
*🌹শ্রীমতী সখীকে জিজ্ঞাসা করছেন,সখি! আমার শ‍্যাম কোথায়?যাঁর প্রেমে পাগল হয়ে আমার বনে আসিলাম, তিনি কোথায়? আমি যে সমস্ত বৃন্দাবনময় শ‍্যাম দেখছি--, সব কানন ভরে যে শ‍্যারূপ,তাঁর কাছে আমি কেমন করে যাব?তিনি কি আমার সুখদুঃখের কথা বুঝবেন?*
*🌷ধনি কহ কাননময় দেখিয় শ‍্যাম।*
*🌷সে কিয়ে গুনব মঝু পরিণাম।।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণের অবস্থাও সেইরকম। তিনি রাইধনিকে দেখেও দেখছেন না।প্রতি তরুতলে শ্রীরাধিকার সেই অপরূপ মূর্তি দেখছেন--,আর যেদিকে নয়ন ফিরাচ্ছেন সে দিকেই রাইরূপ দেখে চমকিয়ে চমকিয়ে উঠছেন=*
*🌷চউকি চউকি দেখি নাগর কান।*
*🌷প্রতি তরুতল দেখ রাই সমান।।*
*❤যে প্রেমে বিশ্বময় প্রেমাস্পদকে নিরীক্ষণ করে বা দেখেন, তা যে ইন্দ্রিয়-গ্রামের অনেক উর্দ্ধে,একথা বলে বুঝাবার বোধহয় প্রয়োজন নাই।*
*🌷স্থাবর জঙ্গম দেখে না দেখে তার মূর্তি।*
*যাঁহা যাঁহা নেত্র পড়ে তাহা কৃষ্ণ স্ফূর্তি।।*
*🍀ইহা পাঠ করবার সময় বিদ‍্যাপতির "কাননময় দেখিয় শ‍্যাম" মনে পড়বেই।*
❤🌹🌻❤🌹🌻❤🌹🌻❤🌹🌻❤
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৫)🌻বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🌻*
      *👣বিদ‍্যাপতির অভিসার👣*
       ▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🍀পদাবলী সাহিত‍্যে বহু অভিসারের পদ আছে।অলঙ্কার শাস্ত্রে নায়িকা-প্রকরণে যে অষ্ট প্রকার নায়িকার কথা আছে,অভিসারিকা তাদের মধ্যে অন‍্যতমা। শ্রীবিশ্বনাথ বলেন=*
*🌷অভিসারয়তে কান্তং যা মন্মথ-বশংবদা।*
*🌷স্বয়ং বাভিসরত‍্যেষা ধীরৈরুক্তাভিসারিকা।।*
                            *(সাহিত‍্য দর্পণ)*
*🍀অর্থ‍্যাৎ অভিসারিকা দুই প্রকার=যে নায়িকা মন্মথবশীভূতা হয়ে কান্তকে নিজের কাছে আনয়ন করে এবং যে নায়িকা নিজেই কান্তের কাছে গমন করে।শ্রীপাদ রূপ গোস্বামীও ঐ দুই প্রকার অভিসারিকার কথায় বলেছেন=*
*🌷যাভিসারয়তে কান্তং স্বয়ং বাভিসরত‍্যপি।*
                    *(উজ্জ্বল নীলমণি)*
*🍁কিন্তু পদাবলীতে দ্বিতীয় প্রকার অভিসারিকার বর্ণনাই বেশীর ভাগে পাওয়া যায়।অমরকোষেও এই প্রকার অভিসারিকার কথায় বলা হয়েছে =*
*🌷কান্তার্থিনী তু যা যাতি সংকেতং সাহভিসারিকা।*
*☘সংস্কৃত কাব‍্যে স্বয়ং অভিসারিণীর উদাহরণটি উপভোগ‍্য ঃ--*
*🌷উৎক্ষিপ্তং করকঙ্কণদ্বয়মিদং বদ্ধা দৃঢ়ং মেখলা,*
*🌷যত্নেন প্রতিপাদিতা মুখরয়োমঞ্জীরয়োর্মূকতা।*
*🌷আরব্ধে রভসান্ময়া প্রিয়সখি! ক্রীড়াভিসারোৎসবে,*
*🌷চন্ডলস্তিমিরাবগুন্ঠনপটক্ষেপং বিধত্তে বিধুঃ।।*
                            *(সাহিত‍্য দর্পণ)*
*🌻মত মুরলী সঙ্কেতে আহ্বান করে অন‍্য রমণীর সহিত নিশি যাপন করিলে,অতএব আর এমন পিরীতিতে কাজ নাই।*
*🌷ধিক রহু মাধব তোহারি সোহাগ।*
*🌷ধিক রহু যো ধনি তোহে অনুরাগ।।*
*🌷চলহ কপট শঠ না কর বেয়াজ।*
*🌷কৈতব বচনে অবহু কিয়ে কাজ।।*
                       *(বলরাম দাস)*
*🍀যাঁরা আধ‍্যাত্মিক ভাবের সন্ধানী,তাঁরা ভক্ত ভগবানের মধ্যে এই মান-অভিমানের পালা দেখতে পান।ভক্ত ভগবানকে অনন‍্যশরণ হয়ে ভজনা করেন। কিন্তু ভগবান তো একের একান্ত বশীভূত হতে পারেন না।কাব‍্যের ভাষায়,রসের ভাষায় তাই ভগবানকে বহুবল্লভ বলা হয়।*
*🍁বৈষ্ণব কবিতায় কাব‍্যরসই মূলত আস্বাদ‍্য, আধ‍্যাত্মিকভাব তার অনুগামী।আধ‍্যাত্মিক অনুসন্ধানকে প্রাধান্য দিলে কাব‍্যরসের অনুপম মাধুর্য‍্য হারিয়ে ফেলবার সম্ভাবনা আছে। আহার করবার সময় যেমন আস্বাদনের দিকেই বেশী মনোযোগ থাকে,মধুর অম্ল প্রভৃতি বিচিত্র রসের পরিবেশনে যেমন আহার্য‍্য রুচিকর হয়ে উঠে এবং ক্ষুধার নিবৃত্তি তার অবশ‍্যম্ভাবী ফল, বৈষ্ণব কবিতা সম্বন্ধেও আমার বোধ হয় কবিদের সেরকম অভিসন্ধি দেখা যায়।আস্বাদনের জন্যই রসপারিপাট‍্য, সেই জন্যই এই গীতি-কবিতা ভক্ত-অভক্ত সকলের পক্ষে চিরন্তন আস্বাদ‍্য হয়ে রয়েছে। যাইহোক,এই খন্ডিতা-রস বৈষ্ণব কবিগণ কিভাবে আস্বাদন করেছেন, তাইই আলোচনা করা যাক। বিদ‍্যাপতির খন্ডিতার অনেকগুলো পদ আছে,যথেচ্ছভাবে দুই একটি উদ্ধৃত করছি।*
*🌷সহস রমণী সোঁ ভরল তোহর হিয়,*
            *করু তনি পরসি ন ত‍্যাগে।*
*🌷সকল গোকুল জনি সে পুনমতি ধনি,*
            *কি কহব তহ্নিক ভাগে।।*
*🌷পদ-জাবক হৃদয় ভিন অছ,*
             *অরু করজ খত তাহে।*
*🌷জাহি যুবতি সঙ্গে রয়নি গমৌলহ,*
             *ততহি পলটি বরু জাহে।।*
                            *(তালপত্রের পুঁথি)*
*🍀তোমার হৃদয় সহস্র রমণী দ্বারা পূর্ণ। (কিন্তু) তার স্পর্শ ত‍্যাগ করিও না।গোকুলে সব নারীর অপেক্ষা সেই রমণী পুণ‍্যবতী,তার ভাগ‍্যের কথা কি বলব? পদের অলক্তকরাগ এবং হৃদয়ে নখরেখার দ্বারা সে কর্জখত লেখিয়ে নিয়েছে।যে রমণীর সঙ্গে রজনী কাটালে বরং তার কাছেই ফিরে যাও।তোমার-----*
*🌷প্রতি অঙ্গে রতি চিন বেকত হোয়।*
*🌷করতলে চাঁদ ধপাবয় কোয়।।*
                           *(কীর্তনানন্দ গ্রন্থ )*
*🌹চন্ডীদাসের অনবদ‍্য পদ=*
*🌷ভাল হইল আরে বন্ধু আইলা সকালে।*
*🌷প্রভাতে দেখিলাম মুখ দিন যাবে ভালে।।*
*🌺কোনও কোনও বিষয়ে এই পদটির তুলনা বৈষ্ণব সাহিত‍্যে নাই। শ্রীকৃষ্ণ প্রভাতে সঙ্কেত-কুঞ্জে এসেছেন, তাঁর নয়ন অর্ধ নিমীলিত নিশি জাগরণের ফলে,নিশি জাগার ফলে তাঁর চোখ আধ ঘুম ভাব দেখাচ্ছে।বক্ষে যাবকলেখা (আলতারদাগ) ও খর নখর-ক্ষত। এ অবস্থায় নায়িকার অত‍্যন্ত ক্রোধ হওয়াই স্বাভাবিক কিন্তু বাইরে ক্রোধ প্রকাশ হলে, চোখের জলে দৈন‍্য প্রকাশ পেলে,পরাভবের গ্লানি স্বীকার করতে হয়। কাজেই তিনি বক্রোক্তির সাহায্যে মনোভাব গোপন করতে চেষ্টা করছেন।এরকম নায়িকাকে "ধীরা মধ‍্যা" খন্ডিতা বলে।সাপরাধ নায়ককে হেসে হেসে তীব্র শ্লেষোক্তির দ্বারা যে নায়িকা কষ্টদান করে তাকে ধীরামধ‍্যা বলে।যে নায়িকা ঐরকম অবস্থায় কেঁদে কেটে নায়কের সন্তাপ উৎপাদন করে,তাকেও বলে ধীরামধ‍্যা, আর যে নায়িকা কটুক্তির দ্বারা নায়কের মনস্তাত (মনোদুঃখ)দেয় তাকে মধ‍্যা অধীরা বলে। বক্রোক্তির অর্থ=*
*অন‍্যন‍্যান‍্যর্থকং বাক‍্যমন‍্যথা যোজয়েদ্ যদি।*
*অন‍্যঃ শ্লেষেণ কাক্কা বা সা বক্রোক্তিস্ততো দ্বিধা।।*
*🌻🌻আগামী পর্বে ব‍্যাখ‍্যা।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦜🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৬)⚪বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য⚪*
           *বিদ‍্যাপতির অভিসার*
                    *খন্ডিতা*
          ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀যিনি কথা বলছেন,তাঁর কথা যদি বাহ‍্যতঃ এক অর্থ বহন করে আর অন‍্য অর্থ বক্তার অভিপ্রেত হয়, তাহলে তাকে বক্রোক্তি অলঙ্কার বলে।*
*🌺শ্লেষপূর্ণ কথার দ্বারা বা বিকৃত স্বরের দ্বারা এই ব‍্যঙ্গ গূঢ় অর্থপূর্ণ হয়ে উঠে।বেণীসংহারে ভীমকে দুঃশাসনের রক্তপান করতে দেখে যখন অশ্বত্থামা কর্ণকে বিদ্রূপ করে বলেছেন=*
*অঙ্গরাজ! সেনাপতে!দ্রোণোপহাসিন্,*
*রক্ষ সাম্প্রতম্ ভীমাদ্ দুঃশাসনম্।*
*🍁তখন তার প্রত‍্যেকটি কথা শাণিত ছুরিকার মত শ্রোতার অন্তরে প্রবেশ করে। অভিনয়ের স্থলে স্বরের ঈষৎ বিকৃতির দ্বারা এই উক্তিকে আরও কঠোর করে তোলা হয়। পূর্বে যে পদটির উল্লেখ করেছি, "ভাল হৈল আরে বন্ধু", এর নিষ্ঠুর শ্লেষ (বিকৃতি স্বর) সহজেই কষ্টদায়ক, কীর্তন গায়ক স্বরের কিঞ্চিৎ বৈচিত্র্য সাধন করে একে অপূর্ব করে তুলেন।সঙ্গীতে স্বরভঙ্গীর দ্বারা বিদ্রূপকে যে এমন ভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়,তা না শুনলে বিশ্বাস করা কঠিন।প্রকৃতপক্ষে কোনও সঙ্গীতেই বিদ্রূপের এরকম অভিব‍্যক্তি দেখা যায় না।এইজন‍্য গীতটির বৈশিষ্ট্য অদ্ভুত!কবি আগাগোড়া এই অলঙ্কার ঠিক রেখেছেন।পদটি সুপরিচিত হলেও এখানে উদ্ধৃত করা অপ্রাসঙ্গিক হবে না।*
*🌷বন্ধু তোমার বলিহারি যাই।*
*🌷ফিরিয়া দাঁড়াও তোমার চাঁদ মুখ চাই।।*
*🌹তোমাকে শতমুখে প্রশংসা করি, কারণ তোমার যে অপূর্ব "শ্রী" হয়েছে, তা দেখবার যোগ্য।(এই কথা শুনে যখন নায়ক মুখ লুকাচ্ছেন তখন বললেন) তুমি একবার আমার দিকে মুখ করে ফিরে দাঁড়াও, তোমার অনিন্দ‍্যসুন্দর (নূতন শোভায়) মুখটি একবার ভাল করে দেখি।*
*🌷আই আই পড়েছে রূপে কাজরের শোভা।*
*🌷ভালে সে সিন্দুর তোমার মুনির মনোলোভা।।*
*🌲আহা! কি অপরূপ শোভাই না হয়েছে! সখী!(আই আই) তোরা একবার দেখে যা। একেবারে কাজলে সিন্দুরে মাখামাখি।কালোরূপে কি সুন্দর মানিয়েছে।*
*🌷খরনখ দশন অঙ্গ জর জর।*
*🌷ভালে সে কঙ্কণ দাগ হিয়ার উপর।।*
*🌷নীল পাটের শাড়ি কোঁচার বলনি।*
*🌷রমণী-রমণ হৈয়া বঞ্চিলা রজনী।।*
*☘চিরদিন তো তোমার পীতধুতি পরাই অভ‍্যাস,আজ একি সুন্দর সাজ! রমণীর নীলশাড়ী পরে এসেছ?তাতে আবার কোঁচা দুলাচ্ছ!*
*🌷সুরঙ্গ যাবক রঙ্গ উরে ভাল সাজে।*
*🌷এখন কহ মনের কথা আইলা কিবা কাজে।।*
*🔴তোমার বক্ষে সুলোহিত আলতার রেখা সুন্দর মানিয়েছে।এমন করে কে তোমাকে সাজাল বল দেখি?সেই রসিকা রমণী রতিরণে তোমাকে পরাভব করে বোধ হয় পদাঘাত করেছে, অথবা প্রেমে বশীভূত হয়ে তার আলতা-রঞ্জিত পদযুগল তুমি নিজে বক্ষে ধারণ করেছ!এখন বল, তোমার জন্য আমি কি করতে পারি? আমি তোমার এই নব প্রেমোৎসবে সব কিছু করতে সতত তৈরী আছি।*
*🌷চারি পানে চাহে নাগর আঁচরে মুখ মোছে।*
*🌷চন্ডীদাসের লাজ ধুইলে না ঘুচে।।*
*🔷পদটি পীতাম্বর দাসের "রসমঞ্জরীতে" গোপালদাসের ভণিতায় আছে।গোপালদাস বা রামগোপাল দাস পীতাম্বর দাসের পিতা।পিতার সম্বন্ধে পুত্র সঠিক সংবাদ না দিয়ে পারেন না, এই মনে করে অনেক গবেষক এই পদটি চন্ডীদাসের বলে স্বীকার করতে চান না। কিন্তু সব দিক দিয়ে বিবেচনা করে দেখলে এই উৎকৃষ্ট পদটি চন্ডীদাসের বলেই মনে হয়। (খন্ডিতার মধ্যে চন্ডীদাস-রচিত বহু পদ পাওয়া যায় )। একই ভাবের সুন্দর সুন্দর পদ খন্ডিতার মধ্যে চন্ডীদাস ও গোবিন্দ দাসের,এটি না মেনে উপায় নাই।গোপালদাসের একটি মাত্র পদ খন্ডিতায় আছে।*
*ছল করি বাণী,কতয়ে পরলাপসি,*
       *তোহারি বচন পরমাণ।*
*চারি পহর রাতি,জাগিয়া পোহাইলুঁ,*
       *আয়লি রাতি বিহান।।*
*🌻এই পদটি দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর রচনা, এটি বুঝতে দেরি হয় না। রাধামোহনের পদামৃত সমুদ্রে এবং বৈষ্ণবদাস পদ কল্পতরুতে চন্ডীদাসের ভণিতাই দিয়েছেন।*
*🍀চতুরের শিরোমণি নাগর মহা ফাঁপরে পড়ে চারিদিকে দেখছেন। কিন্তু ধৃষ্ট নায়ক সহজে হটিবার পাত্র নন।তিনি প্রবঞ্চনার জাল বুনে বললেন=*
*🌷না কর না কর ধনি এত অপমান।*
*🌷তরুণী হইয়া কেনে একে দেখ আন।।*
*🌷বংশী-পরশি আমি শপতি করিয়ে।*
*🌷তোমা বিনে দিবানিশি কিছু না জানিয়ে।।*
*🌷ফাগু বিন্দু দেখিয়া সিন্দুর বিন্দু কহ।*
*🌷কন্টক কঙ্কণ-দাগ মিছাই ভাবহ।।*
*🌷এত কহি বিনোদ নাগর চলিতে চায় ঘর।*
*🌷চন্ডীদাস কহে রাই কাঁপে থর থর।।*
*🌹তুমি তরুণী,তোমার চোখের দৃষ্টি এত খারাপ হল কি করে?এক দেখতে অন‍্য দেখছ।সিন্দুর কোথায় দেখলে, ও তো ফাগের বা আবিরের বিন্দু। (তোমার জন্য সারানিশি জেগে বনে বনে ঘুরে বেড়িয়েছি)তারই জন্য বক্ষে কন্টকের বা কাঁটার ক্ষত হয়েছে।কঙ্কণের দাগ বলে তাহাই ভুল করেছ। "ধৃষ্ট নাগর" অর্থে যে মিথ‍্যা কথায় দক্ষ। আজ শ্রীমতীর মন রাখবার জন্য কৃষ্ণ মিথ‍্যার উপর মিথ‍্যা কথা অসঙ্কুচিত ভাবে বলেই যাচ্ছেন। অথচ তিনি তাঁকে বুঝাচ্ছেন=*
*🌷মিথ‍্যা কথায় যত পাপ জানহ আপনি।*
*🌷জানিয়া না মানে যেই সেই সে পাপিনী।।*
                        *(চন্ডীদাস)*
❤❤❤❤❤❤🌹❤❤❤❤❤❤
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৭)🌻বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🌻*
*উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বৈষ্ণব প্রভাব*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🍁অনেকের ধারণা যে বৈষ্ণবধর্মের প্রভাব বঙ্গদেশেই নিবদ্ধ।সে ধারণার হেতু বোধ হয় এই যে,শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য ও নিত‍্যানন্দ প্রভু বঙ্গদেশে অবতীর্ণ হয়ে বৈষ্ণবধর্মের প্লাবনে এ দেশ ভাসিয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গদেশের বাইরেও যে এ ধর্মের প্রভাব ছিল,তা ইতিহাস হতে জানতে পারা যায়।শ্রীমন্মহাপ্রভুর পূর্বে দক্ষিণভারতে শ্রীরামানুজ আচার্য‍্য আবির্ভূত হয়েছিলেন।তারও পূর্বে দক্ষিণদেশে অনেক সাধুসন্ত বৈষ্ণবধর্মের উপদেশ দিয়েছিলেন।তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ গোপীভজনও অনুমোদন করেছিলেন। শ্রীমন্মধ্বাচার্য‍্যও দক্ষিণদেশে প্রাদুর্ভূত হয়েছিলেন। শ্রীগৌরাঙ্গ যখন দক্ষিণদেশে গমন করেছিলেন,তখন তিনি বৈষ্ণবধর্মের দুইটি উৎকৃষ্ট বা উত্তম পুঁথি সংগ্রহ করে এনেছিলেন।একটি ব্রহ্মসংহিতা, অপরটি ভক্তচূড়ামণি বিল্বমঙ্গল ঠাকুরের শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত।মহাপ্রভু নীলাচলে যে সব গ্রন্থ সবসময় আস্বাদন করতেন,তার মধ্যে কর্ণামৃত অন‍্যতম।দক্ষিণদেশের কবি,ভক্ত ও দার্শনিক একবাক‍্যে বলা যায় রায় রামানন্দের সহিত মহাপ্রভু সাধ‍্য-সাধনতত্ত্ব আলোচনা করেছিলেন।সেরকম আলোচনা,সেরকম ইষ্টগোষ্ঠী কোন ধর্মের ইতিহাসে বড় বেশী দেখতে পাওয়া যায় না।রামরায় বলেছেন=*
*🌷ইহা আমি কিছুই না জানি।*
*🌷যে তুমি কহাও সেই কহি আমি বাণী।।*
*🌷তোমার শিক্ষায় পড়ি যেন শুক পাঠ।*
*🌷সাক্ষাৎ ঈশ্বর তুমি কে বুঝে তোমার নাট।।*
                    *(শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত)*
*🍀উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে শ্রীরাম-সীতার লীলাই সমধিক প্রচলিত বলে আমাদের ধারণা।রামসীতার লীলা মহাপ্রভুর সময়ে দাক্ষিণাত‍্য দেশেও যে প্রচলিত ছিল, তা বেশ বুঝা যায়।মহাপ্রভু শুধু যে রামসীতার মন্দির দেখেছিলেন তা নয়,তিনি দাক্ষিণাত‍্য ভ্রমণের অনেক সময় সীতা ও রামের চরিত্র আলোচনা করে কাটাতেন।উত্তর-পশ্চিমে রামলীলার প্রবল প্রচার হল তুলসীদাস হতে।তুলসীদাস আকবরের সময়ে প্রাদুর্ভূত হয়েছিলেন।তাঁর রাম-চরিতমানস আজও কোটি কোটি লোকের আধ‍্যাত্মিক ক্ষুধা মিটিয়ে থাকে।তাঁর দোহা ও চোপাই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হিন্দুর কন্ঠে কন্ঠে বিরাজ করে।*
*🌳উত্তর-পশ্চিম ভারতে শ্রীকৃষ্ণলীলার প্রসারও কম নয়।মহাপ্রভুর সমকালে শ্রীবল্লভাচার্য‍্য মথুরামন্ডলে বৈষ্ণবধর্ম প্রচার করেন।তাঁর জন্ম সন ১০৭১ খৃষ্টাব্দ অর্থ‍্যাৎ বল্লভাচার্য‍্য মহাপ্রভু অপেক্ষা সাত কি আট বৎসরের বড় ছিলেন।তাঁরও পূর্বে রামানন্দ প্রভৃতি সাধুগণ বৈষ্ণবধর্মের সারকথা পশ্চিমাঞ্চলের নরনারীগণকে শুনিয়ে গিয়েছেন। রামানন্দ রামানুজাচার্য‍্যের শিষ্য সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।ভক্তপ্রবর কবীর (কাশীর জোলা), বৈষ্ণবাগ্রগণ‍্য রুইদাস (চর্মকার বা মুচি) রামানন্দের শিষ্য বলে কথিত হন।নিম্বার্ক নামক বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা নিম্বার্ক বা নিম্বাদিত‍্যও বঙ্গের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।*
*🍁ষোড়শ শতাব্দীর প্রারম্ভে,তুলসীদাসের কিছু পূর্বে সূরদাস শ্রীকৃষ্ণলীলা নিয়ে হিন্দীতে অসংখ্য পদ রচনা করেছিলেন।সূরদাসকে বৈষ্ণবমহাজনদের মধ্যে গণনা করা হয় এবং তাঁর কৃত পদাবলী বৈষ্ণবপদসংগ্রহের মধ্যে স্থান লাভ করেছে।সূরদাস গোকুলে বসে যে সময় তাঁর সূরসাগর রচনা করছিলেন,প্রায় সেই সময়েই শ্রীপাদ রূপ-সনাতন প্রভৃতি শ্রেষ্ঠ বৈষ্ণবাচার্য‍্য ও কবিগণ বৃন্দাবনে বসে তাঁদের অমর কাব‍্য ও গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। কিন্তু আশ্চর্য‍্যের বিষয় এই যে,ইঁনারা পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন কিনা,তা জানা যায় না।শ্রীমদ্ বল্লভাচার্য‍্য সম্বন্ধে ভক্তমালে উল্লিখিত হয়েছে যে,তাঁর সঙ্গে মহাপ্রভুর সাক্ষাৎ হয়েছিল এবং তিনি (বল্লভ) শ্রীধরস্বামীর টীকার (শ্রীমদ্ভাগবতের) নিন্দা করলে মহাপ্রভু কানে হাত দিয়ে বলেছিলেন=*
*🌷কহের স্বামীর প্রতি যেই দোষ দেয়।*
*🌷ভ্রষ্টা করিয়া তাহে বেদেতে কহয়।।ভক্তমাল।।*
*🍁এই বল্লভাচার্য‍্য নিজেই ভাগবতের একখানি টীকা করেছিলেন।বল্লভাচার্য‍্য যে সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠা করেন, তার নাম "বল্লভাচারী"।বল্লভাচার্য‍্যের এক পুত্র ছিলেন,তাঁর নাম বিঠঠলনাথ।বল্লভাচার্য‍্যের ন‍্যায় তিনিও শিষ্য গ্রহণ করেছিলেন।বল্লভাচার্য‍্যের চারজন শিষ্য ছিলেন,বিঠ্ ঠলনাথেরও শিষ্য ছিলেন চারজন।এই আট শিষ‍্য অষ্টছাপ নামে প্রতিষ্ঠিত হন। অষ্টছাপের মধ্যে একজন ছিলেন,তাঁর নাম "নন্দদাস"।নন্দদাস বিঠ্ ঠলনাথের শিষ্য।নন্দদাস এই নামটি তাঁর গুরুদত্ত নাম কিনা বলা যায় না।নাম শুনলেই মনে হয় যে,হয় তিনি কোনও নিষ্ঠাবান বৈষ্ণব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন,অথবা গুরু হতে এই নাম লাভ করেছিলেন।*
*নন্দদাস শুধু অষ্টছাপের একজন ছিলেন না,তিনি বিখ‍্যাত কবি হয়েছিলেন। বাংলার কবি গোবিন্দদাস যেমন শ্রীনিবাস আচার্য‍্যের কাছে বৈষ্ণবধর্মে দীক্ষালাভ করে অদ্ভুত কবিত্ব শক্তি লাভ করেন ও শ্রীরাধাকৃষ্ণের লীলা গানে অদ্বিতীয় হয়ে উঠেছিলেন, নন্দদাসজিও সেইরকম শ্রীগুরু কৃপায় অপূর্ব প্রতিভাশালী কবি হয়ে উঠেছিলেন।তাঁর কবিতা এত মধুর যে,মনে হয় যেন শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেমামৃতে তিনি তাঁর লেখনী ডুবিয়ে লিখেছিলেন।তাঁর কবিতায় শ্রীজয়দেবের ঝঙ্কার পাওয়া যায়।আশ্চর্য‍্যের বিষয় এই যে,শ্রীজয়দেবের কবিতা যেমন পদ্মাবতীর প্রেমে ফুটে উঠেছিল, চন্ডীদাস যেমন রামীর কৃপায় কৃষ্ণপ্রেম অনুভব করতে পেরেছিলেন, বিদাপতির কবিতা যেমন লছমী দেবীর কৃপা ছাড়া স্ফূর্তিপ্রাপ্ত হত না,নন্দদাসের সম্বন্ধেও সেইরকম কিম্বদন্তী আছে।বিঠ্ ঠলনাথের এক শিষ‍্যা ছিলেন,তাঁরই আদেশে নাকি নন্দদাসজির প্রাণে শ্রীরাধাকৃষ্ণপ্রেমের সঞ্চার হয়েছিল। নন্দদাসজীর "রাস পঞ্চাধ‍্যায়" শুধু ভাগবতের অনুবাদ নয়।তিনি নিজে লীলারসে ডুবে ঐ গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।শ্রীজয়দেব গীতগোবিন্দে বসন্তরাসের বর্ণনা দিয়েছেন। হরিবংশেও রাসের বর্ণনা আছে। কিন্তু নন্দদাসজী ইঁনাদের গ্রন্থ হতে আখ‍্যানভাগ নিলেও নিজের প্রতিভাগুণে তাকে সুন্দর কাব‍্যে পরিণত করেছেন।হিন্দী সাহিত‍্যে নন্দদাসের রাসপঞ্চাধ‍্যায় ও ভম্বর-গীতার (ভ্রমর গীতা)সুখ‍্যাতি ধরে না।সূরদাসও ভ্রমর-গীতায় অপূর্ব মাধুর্য‍্যের সঞ্চার করেছিলেন।*
*রাজপুতানায় মীরাবাই গিরিধরলালের প্রেমে আত্মহারা হয়েছিলেন।মীরা চিতোরের রাণা ভোজরাজের পত্নী ছিলেন।মীরার অপূর্ব প্রেমসঙ্গীতে রাজপুতানা একদিন মেতে উঠেছিল।পরে ঔরঙ্গজেবের অত‍্যাচারে যখন গৌড়ীয় বৈষ্ণবেরা বৃন্দাবন ছাড়তে বাধ‍্য হলেন,তখন রাজপুতানা তাঁদের আশ্রয় স্থান হয়েছিল।শ্রীমদনমোহন প্রসঙ্গে জানতে পারা যায় যে,মূলতান ও পাঞ্জাব এক সময়ে মদনমোহন ও সনাতন গোস্বামীর স্মৃতির সমাদর করত।পাঞ্জাবের অন্তর্গত কাংড়া উপত‍্যকায় এখনও অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ খৃষ্টাব্দের বৈষ্ণব চিত্র পাওয়া যায়।লাহোর চিত্রশালায় রাধাকৃষ্ণের "স্বাধীনভর্ত্তৃকার" যে ছবিটি রক্ষিত আছে,তা প্রকৃতপক্ষে আতি সুন্দর।🌹শ্রীপদামৃত মাধুরী'র তৃতীয় খন্ডে প্রসিদ্ধ শিল্প-সমালোচক অর্ধেন্দ্রকুমার গাঙ্গুলী মহাশয়ের সৌজন্যে ছবিটি মুদ্রিত হয়েছে।*
🪔🪔🪔🪔🪔🪔🙏🪔🪔🪔🪔🪔🪔
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৮)🙏বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🙏*
*উত্তর-বঙ্গে বৌদ্ধ ও বৈষ্ণব প্রভাব*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*⭐রাজশাহীর আদিবাসী আমি না হলেও এর সঙ্গে আমার অন্তরের যে নিবিড় যোগ আছে,সেই কথাটি আপনাদের কাছে আগে বলিনি। আমার এই শেষোন্মুখ কর্মজীবনের সূত্রপাত হয়েছিল রাজশাহীতে।রাজশাহী কলেজের অধ‍্যাপক পদ লাভ করে প্রথম যখন আসি,তখন প্রমত্তা পদ্মার সেই বর্ষাকালের ঢল ঢল রূপ আমাকে মুগ্ধ মূক করেছিল।আমি সেদিন সারাদিন অভুক্ত ছিলাম, কিন্তু তাতে আমার কোনও কষ্ট বোধ হয়নি। তখন আমি বালক বললেও অন‍্যায় হবে না। সেদিন পদ্মা আমাকে যে চঞ্চলতার দীক্ষা দিয়েছিল,জীবনে তা ভুলতে পারিনি।তারপরে এসেছিলাম বঙ্গীয় সাহিত‍্য সম্মেলনের অধিবেশনে, সেও আজ বহুদিন হ'লো।আপনাদের "বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির" যখন ভিত্তি স্থাপিত হয় তখন আমি উপস্থিত ছিলাম সে উৎসবে।লর্ড কারমাইকেল যে সৌধের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন,আজ তা সারা বাংলার গৌরবস্থল হয়েছে। সুতরাং আপনাদের আভিজাত‍্যপূর্ণ ইতিহাসের সঙ্গে কোনও রূপে জড়িত হতে পারা যে-কোনও ব‍্যক্তির পক্ষে সৌভাগ্যের কথা।*
*আমার দুঃখ এই যে,প্রথম জীবনে যেসব বন্ধু পেয়েছিলাম,তাঁদের মধ্যে অনেকেই আজ নেই। ঐতিহাসিক অক্ষয়কুমার,সুকবি রজনীকান্ত,সুলেখক মহারাজ জগদিন্দ্রনাথ এঁরা রাজশাহীর লোক, কিন্তু সমগ্র বাংলার দুলাল।এঁদের বন্ধুত্ব লাভ করবার সুযোগ আমার হয়েছিল।তাই স্মরণ ক'রে রাজশাহী জেলার এই উৎসব-বাসরে আমার শ্রদ্ধার স্রক-চন্দন তাঁদের উদ্দেশ্যে অর্পণ করি। ব্রজসুন্দর সান‍্যাল ছিলেন তার সম্পাদক, আমার প্রবন্ধ সে কাগজে বেড়িয়েছে। এখন এ অঞ্চলে কোনও কাগজ আছে কিনা জানি না।যদি থাকে,তবে আমার সহানুভূতি তার সঙ্গে অবশ‍্যই থাকবে।যদি কাগজ না থাকে,তাহলে আপনাদের মারফতে আমি এই আবেদন জানাতে চাই,পাঠাগারের সঙ্গে একটি সাময়িকপত্র থাকলে সোনায় সোহাগা হয়।তার কারণ যেখানেই জ্ঞান, সেখানেই প্রকাশ। সত্ত্বগুণের ধর্মই এই যে,সে প্রকাশশীল।যাঁরা পাঠাগারকে সত‍্যিকার বস্তু বলে মনে করেন,যাঁরা তার সমস্ত সার্থকতা দিতে চান,তাঁরা প্রকাশের পথ খুঁজবেনই ; কারণ পাঠাগারের সার্থকতা প্রচারে। পাঠাগারের (লাইব্রেরীর)বিস্তৃতিও অনেকটা প্রচারের উপর নির্ভর করছে। তা নইলে ঘরের গৃহিণীরা চাকর পাঠিয়ে মধ‍্যাহ্ন-বিনোদনের জন্য কতগুলি পাঠ‍্য অপাঠ‍্য নভেল নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবেন।আপনাদের এখানে উপস্থিত পরিস্থিতি ঠিক এই রকম কিনা জানিনা। কিন্তু বহু পাঠাগারের সঙ্গে আমি পরিচিত,যেখানে অবস্থা এর চেয়ে বেশী ভাল নয়।*
*আমাদের অতীত ইতিহাস এমন নৈরাশ‍্যজনক ছিল না। এই বরেন্দ্র ভূমি একদিন যশঃসৌরভে ভারতবর্ষের আকাশ বাতাস মুগ্ধ করে রেখেছিল। সেদিনকার ইতিহাস যদি আমরা ভুলে যাই,তাহলে অকৃজ্ঞতার চরম হবে।অতীত ইতিহাসের সোপানরাজি(উর্ধে উঠার সিঁড়ির পথ) কোনও জাতির সভ‍্যতাকে উন্নত হ'তে উন্নততর রাজ‍্যে পৌঁছে দেয়, একথা ভুললে চলবে না। আজ যেখানে আমরা সম্মিলিত হয়ে,এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে' গৌরব বোধ করছি (নওগা) একদিন তারই অনতিদূরে নানা বিদেশ হ'তে জ্ঞান-মন্দিরের তীর্থযাত্রীরা হাজার হাজার সংখ্যাই সমাগত হয়েছিল। তারও পূর্বে হিউয়েন সাঙ এখানে এসে এক উন্নতশালী জনপদের বিবরণ লিখেছিলেন। জৈন ধর্মেরও নিদর্শন এখানে আবিস্কৃত হয়েছে।ব্রাহ্মণ‍্যধর্মের প্রভাবও বহু পূর্ব হতে বতর্মান ছিল, পন্ডিতেরা এই অনুমান করেন।শিবশক্তির যে যুগনগ্ধ মূর্তি পাওয়া গেছে, তার থেকে বৌদ্ধ ও হিন্দুর মধ্যে ঘনিষ্ঠ আদান প্রদানের পরিচয় পাওয়া যায়। হেবজ্র এবং প্রজ্ঞাপারমিতার যুগল মূর্তি (তিব্বতীয় ভাষায় যবষুম) বোধ হয় পরে শিবশক্তি রূপে হিন্দুদের দেবগোষ্ঠীতে প্রবেশ করেছিল। হিন্দু বৌদ্ধ জৈনের মিলনক্ষেত্র এই সুন্দর দেশ কি ভাবে সভ‍্যতা, ঐশ্বর্য‍্য ও শৌর্য‍বীর্য‍্যের মহান আদর্শ গড়ে উঠেছিল, তা ভাবলে সম্ভ্রমে ও ভক্তিতে আমাদের মাথা অবনত হয়ে আসে স্বভাবতই।যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না,তাই ঘটেছিল এই উত্তর বঙ্গে।আমরা ভাবি যে সভ‍্যতা ও জ্ঞানে আমরা অতীত যুগকে বহু পেছনে ফেলেছি। কিন্তু এ যে কত বড় ভুল,তা একটু প্রণিধান (মনোযোগ)করলেই বুঝতে পারা যায়। ইলেকট্রিক পাখা,টেলিফোন, বেতার,মোটর প্রভৃতি বতর্মান যুগের আবিস্কার আমাদের নিত‍্য নতুন চমক লাগিয়ে দিচ্ছে সত‍্য ; কিন্তু সেই অতীত গৌরবময় যুগের তুলনায়, আমাদের এই ধার-করা উন্নতি যে কতখানি ম্লান তা আমরা ভেবে দিখিনি। সে সুবর্ণ যুগের তুলনায় এখনকার যুগকে জোর গিলটি যুগ বলা চলে, তার বেশী নয়।*
*🌻সেই অতীত যুগের কথা আজ স্মরণ করি।পালরাজগণের সময় উত্তর বঙ্গ যে উন্নতি করেছিল,তা আজ কল্পনার বস্তু।পালরাজগণের গৌরবময় যুগে বঙ্গের এই উত্তরপ্রদেশের ইতিহাস ভারতের ইতিহাস বললেও বেশী বলা হয় না।সে সময়ে বঙ্গে যেসব রাজ‍্য ছিল,তারা কোথায় গেল?সেই দলভুক্তি,কোটাটবী,বালবলভী, রাজশাহী জেলার কৌশাম্বী প্রভৃতি আজ কোথায়?সেই প্রসিদ্ধ বিহারগুলিই বা কোথায়? ওদন্তপুর, বিক্রমশীল, জগদ্দল প্রভৃতি বিহারগুলি একাধারে ধর্ম ও বিদ‍্যাশিক্ষার প্রসিদ্ধ কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল।এই পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার সেই গৌরবময় যুগের স্মৃতি মাটিরতলে লুকিয়ে রেখেছে যুগ যুগান্ত ধরে। এই রাজশাহী জেলাতেই দিব্বোকের বিজয়বাহিনী দ্বিতীয় মহীপালের দর্প চূর্ণ করে, যে জয়স্তম্ভ স্থাপন করেছিল,আজও তা বতর্মান আছে শুনেছি।রামপাল অতিকষ্টে আবার এইদেশে শান্তি স্থাপন করেছিলেন। "শেক শুভোদয়ায়" রামপাল সম্বন্ধে যে গল্প আছে, তা রোমের ন‍্যায়-বিচারের খ‍্যাতিকেও ম্লান করে।তিনি তাঁর একমাত্র পুত্র যক্ষপালকে অপরাধের জন্য প্রাণদন্ড দিয়েছিলেন এবং সেই শোকে নিজেও নদীগর্ভে আত্মবিসর্জন দিলেন।"তারনাথের" ইতিহাস থেকেও আমরা পাই যে রামপালের এক পুত্র ছিল তার নাম যক্ষ।এ সব কীর্তি কাহিনী আমরা ভুলে গেছি। শুধু রাজরাজাদের কীর্তি গাথা নয়, সংস্কৃতির দিক দিয়েও উত্তরবঙ্গ বহুদূর অগ্রসর হয়েছিল। স্মরণাতীত কাল হতে রাঢ়দেশ অপেক্ষাও উত্তর বঙ্গের গৌরব ছিল বেশী। গুপ্ত সম্রাটদের সময় থেকে আরম্ভ করে উত্তর বঙ্গের একটি অব‍্যাহত ইতিহাস দেখতে পাওয়া যায়।সেজন‍্যই এখানে অতীতের এত নিদর্শন পাওয়া যাচ্ছে যে বঙ্গের অন‍্য কোন জায়গায় সেরকম নয়।বৌদ্ধধর্মের একটি বৈশিষ্ট্য এই যে এটি কোন সম্প্রদায় বা শ্রেণী-বিশেষের মধ্যে নিবদ্ধ ছিল না। "শ্রমণ" বা ভিক্ষুরা আপামর সাধারণের মধ্যে শান্তির বাণী প্রচার করতেন। আমরা শুধু জানি যে,বৌদ্ধেরা তাঁদের ধর্ম প্রচার করতে দেশ বিদেশে অভিযান করেছিলেন। কিন্তু দেশের মধ্যেও অহিংসা, সন্তোষ ও শান্তির বাণী তাঁরা যে কি অদম‍্য উৎসাহে প্রচার করেছিলেন,তা ভাবলে বিস্মিত হতে হয়।অশোকের শিলালিপি,স্তম্ভলিপি এসব চিরপরিচিত উপায় তো ছিলই।সারা দেশময় সঙ্ঘারাম,বিহার,মহাবিহার প্রভৃতি স্থাপন করে,তাঁরা লোক-শিক্ষার বিরাট আয়োজন করেছিলেন।লোকশিক্ষার এরকম বিপুল ব‍্যবস্থা আর কোনও প্রাচীন জাতির ইতিহাসে দেখা যায় না।হিউয়েসাঙ্গের বিবরণ থেকে বুঝা যায় যে তিনি বিংশিতিটি বিহার এই উত্তর বঙ্গেই দেখেছিলেন।শুধু তাই নয়, অন্তঃপুরচারিকাদের নিকট সদ্ধর্মের অর্থ‍্যাৎ বৌদ্ধধর্মের মর্ম বুঝাবার জন্য ভিক্ষুণীগণেরও সংখ্যা কম ছিল না। বৌদ্ধধর্মের শিক্ষা সমগ্র জগতের ধর্মে ইতিহাসে যে এক অতি উন্নততর স্তরের সূচনা করেছিল একথা বোধকরি সকলেই জানেন। জীবন যাত্রার যে নীতি তাঁরা শিখিয়েছিলেন তা আজও পুরোনো হয় নি বা অন‍্য নীতির দ্বারা পরাভূত হয়নি।এই অত‍্যদ্ভূত উন্নতি কিভাবে সম্ভব হয়েছিল,তার ইতিহাস আমরা বিশেষ কিছু জানি না।তবে অনুমান হয় যে পাহাড়পুর,তাম্রলিপি,নালন্দা প্রভৃতি জায়গায় যেসব বিহার ছিল,তাকে কেন্দ্র করে এক একটি প্রদেশের সভ‍্যতা বিস্তার লাভ করেছিল।প্রত‍্যেক বিহারে ত‍্যাগশীল,সুপন্ডিত, বহুদর্শী প্রবীণ শ্রমণগণ বাস করতেন।*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌻🌹🌹🌹🌹🌹🌹
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৬৯)🔴বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🔴*
*উত্তর-বঙ্গে বৌদ্ধ ও বৈষ্ণব প্রভাব*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌺তাঁদের কাছে দেশ-বিদেশ থেকে ছাত্রেরা সমাগত হতো জ্ঞানলাভ করবার জন্য। এইভাবে বিক্রমশীল, তক্ষশীলা,নালন্দা প্রভৃতির খ‍্যাতি বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল।ভারতবর্ষের ইতিহাসে তেমন আর কখনও হয়নি।পন্ডিতেরা অধ‍্যয়ন ও অধ‍্যাপনা করতেন।ছাত্রেরা শিক্ষা করতেন।উভয়ের পুঁথি লিখিত হ'ত শত সহস্র সংখ্যায়।পুঁথি না হলে বিশ্ববিদ্যালয় কেন,সাধারণ বিদ‍্যালয়ও চলে না। নালন্দায় দশহাজার ছাত্র অধ‍্যয়ন করতো, এইকথা হিউয়েন সাঙ বলেছেন--, তাদের জন্য অন্তত দুইশ কি আড়াইশ অধ‍্যাপক থাকতেন।তাঁদের প্রত‍্যেকের জন্য গ্রন্থের প্রয়োজন মিটাতে হলে কত পুঁথি থাকা আবশ্যক, ভেবে দেখুন।নালন্দায় নয়তলা বাড়িতে গ্রন্থাগার ছিল। অন‍্যান‍্য বিহারেও এরকম পুস্তকাগার নিশ্চয়ই ছিল, কারণ আগেই বলেছি বিহারগুলি ছিল প্রধানতঃ শিক্ষার কেন্দ্র।তখন মুদ্রাযন্ত্র ছিল না,কাজেই পুঁথি নকল করবার হাজার হাজার লোকের পরিশ্রম আবশ্যক হত।এইসব লোক ভূমি,গ্রাম এবং বিত্ত পারিশ্রমিক স্বরূপ প্রাপ্ত হত।অষ্টম শতাব্দী হতে আরম্ভ করে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত তিব্বতের পন্ডিতেরা দলে দে এদেশে আসতেন, ভারতের বিশেষ করে উত্তর ভারতের পুঁথি তিব্বতীয় ভাষায় নকল করত।এই ভাবেই অতীতকালে আমাদের সংস্কৃতির সৌধ বিরচিত হয়েছিল,যার গঠনে উত্তর বঙ্গ কম সহায়তা করেনি।সে সংস্কৃতি করকম ছিল?আজ আর শত চেষ্টাতেও তার একটি ছবি আমরা চোখের সামনে আনতে পারি না।ভারতবর্ষ থেকে, বাংলাদেশ থেকে বৌদ্ধধর্মের নিদর্শন চিরদিনের জন্য বিলুপ্ত হয়েছে। এর কারণই বা কি? কেউ কেউ মনে করেন মুসলমানেরা বৌদ্ধধর্মের কীর্তিকলাপ নিশ্চিহ্ন করে মুছে দিয়েছে। কিন্তু সেটা সত‍্য কথা নয়। কারণ মুসলমানদের কাছে বৌদ্ধও যা, হিন্দুও তা-ই। মুসলমান আক্রমণে দেশের সংস্কৃতির স্রোত অনেকটা বাধা পেয়েছিল, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু হিন্দুধর্মের মন্দির,আশ্রম, গুহাগুলি এখনও তো মেখলার মত আমাদের জন্মভূমির অঙ্গ বেষ্টন করে বিরাজ করছে। এই কারণেই হিমালয় হতে কন‍্যাকুমারীকা পর্যন্ত সমগ্রদেশ এখনও হিন্দুদের স্থান বা হিন্দুস্থান বলে, দেশ বিদেশে পরিচিত হবার দাবী রাখে।তাহলে মুসলমানদের দৌরাত্ম্য বৌদ্ধধর্মের বিলোপের কারণ হতে পারে না।*
*🍁কেউ কেউ বলেন শঙ্করাচার্য‍্যের সময় হতে হিন্দুধর্মের যে অভ‍্যুদয় হয়েছিল,তারই ফলে বৌদ্ধধর্মের পতন হয়েছে। কিন্তু তা-ই বা কেমন করে, বিশ্বাস করা যায়?হিন্দুধর্মের এখন যে অবস্থা দেখতে পাচ্ছি, তা বৌদ্ধধর্মের অনেকখানি আত্মসাৎ করে নিয়েছে। বৌদ্ধধর্মের আদর্শ= নির্বাণ, হিন্দুদের= মোক্ষ বা মুক্তি। বৌদ্ধদের জন্মান্তর ও কর্মফলবাদের সঙ্গে হিন্দুর অধ‍্যাত্মবিদ‍্যার একটুও প্রভেদ নাই। বৌদ্ধদের শূন‍্য এবং হিন্দুদর্শনের নির্গুণ ব্রহ্মে তফাৎ কি বড় বেশী? এইভাবে হিন্দু এবং বৌদ্ধমতের যে সমন্বয় আমরা দেখতে পাই,তাতে এক ধর্মের দ্বারা অন‍্য ধর্মের উচ্ছেদ-সাধন সম্ভব কতখানি তাহাও বিবেচ‍্য।পালরাজগণ সকলেই বৌদ্ধ ছিলেন। কিন্তু তাঁরা হিন্দুমতের প্রতি বিরূপ ছিলেন না।যতদূর জানা যায় তাতে পালরাজারা ব্রাহ্মণগণকে সমাদর করতেন,ভূমিদান করতেন এবং নিশ্চয়ই তাঁদের উপাসনাদিতে বাধা দিতেন না। আমার বোধহয়, বৈষ্ণবধর্মের অভ‍্যুত্থান বৌদ্ধসংস্কৃতির বিশেষ অন্তরায়রূপে দেখা দিয়েছিল। বাংলাদেশে ঐ ধর্মের যে প্রবল বন‍্যা একদিন বয়েছিল, তার শক্তি সম্বন্ধে আমাদের অনেকেরই হয়ত সুস্পষ্ট ধারণা নেই। আমার মনে হয় যে,বহুদিন এরকম শক্তিশালী প্রভাব জনসাধারণের মধ্যে অনুভূত হয়নি। তার ফলে হয়েছে এই যে,বঙ্গদেশে বহুলোক এখনও বৈষ্ণব, এবং বৌদ্ধ সংস্কৃতিও নানা ছদ্মবেশে বৈষ্ণবমতের সঙ্গে মিশে আত্মগোপন করে রয়েছে। হিন্দুর অধ‍্যাত্মবিদ‍্যার সঙ্গে বৌদ্ধমতের যতটা মিল আছে, বৈষ্ণবদের সঙ্গে ততটা নয়। কিন্তু একটি বিষয়ে বৌদ্ধদের অনুকরণ করেছিলেন বৈষ্ণবেরা, সেটি হচ্ছে বৈষ্ণবদের জাতিভেদের প্রতি অনাস্থা।জাতিভেদ বৈষ্ণব প্রভাবে কতটা খর্ব হয়েছিল,তা এখন বুঝতে পারা কঠিন হবে। কারণ পরে ব্রাহ্মণ‍্যধর্মের সঙ্গে বৈষ্ণবধর্মের যে সমন্বয় ঘটলো,তাতে জাতিভেদ আবার মাথা তুলতে সমর্থ হয়েছিল। ব্রাহ্মণেরা এই বিষয়ে চৈতন‍্য-প্রবর্তিত ধর্মের উপর গোড়া থেকেই খুব চটা ছিলেন। এখন দাঁড়িয়েছে এই যে,বৈষ্ণবতত্ত্ব কতটা হিন্দু সমাজে চললেও জাতিভেদ পুরোমাত্রায় মেনে নেওয়া হচ্ছে।সে "চন্ডালোহপি দ্বিজশ্রেষ্ঠ হরিভক্তি-পরায়ণঃ" আর নেই।মহাপ্রভু যা শিখিয়ে গিয়েছিলেন=*
*🌷যে-ই ভজে সে-ই বড় অভক্ত হীন ছার।*
*🌷কৃষ্ণ ভজনে নাহি জাতিকুলাদি বিচার।।*
*🌻সে শিক্ষা আমরা ক্রমে বিস্মৃত হয়েছি। অবশ‍্য সেজন‍্য আমাদের যে দুর্গতি,তার জন্য এখনই আমাদের প্রায়শ্চিত্ত শুরু হয়েছে ভীষণভাবে।বাংলার তথা ভারতবর্ষের প্রধান রাষ্ট্রীয় সমস‍্যা এখন হিন্দু মুসলমান নিয়ে নয়,এখন সে সমস‍্যা Scheduled caste বা অনুন্নত জাতি নিয়ে।যাদের আমরা আঙ্গিনার বাহির করে দিয়েছি,তারাই অন‍্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগ দিয়ে হিন্দুদের স্বাধীনতা-লাভের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব দেখে মনে হয় যে, বৌদ্ধদের শিক্ষা,বৈষ্ণবদের শিক্ষা ত‍্যাগ করে আমরা ভাল করিনি। আর কোনও দেশের সংস্কৃতির ইতিহাসে এই জটিলতা নেই। আমাদের নিজ কর্মফল অভিসম্পাতরূপে আমাদের ভাগ‍্যকে বিড়ম্বিত করছে।*
❤💧❤💧❤💧❤💧❤💧❤💧❤
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 সপ্তম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo7.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৭০)🦚বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য🦚*
*উত্তরবঙ্গে বৌদ্ধ ও বৈষ্ণব প্রভাব*
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
*🌻সে যাই হোক, এই জেলাতেই বৈষ্ণবদের যে অভ‍্যুদয় হয় ষোড়শ শতাব্দীতে,শ্রীচৈত‍ন‍্যের পরে এত বড় বিপ্লব আর ঘটেনি।খেতুরির রাজপুত্র বুদ্ধেরই মত গৃহত‍্যাগ করে,যে আদর্শ এই জেলাতেই (রাজশাহী) দেখিয়েছেন,তা গৌতম বুদ্ধের সংসার ত‍্যাগেরই মত মর্মস্পর্শী ও আধ‍্যাত্মিক প্রভাবশালী।দিকে দিকে এই খবর ছড়িয়ে পড়ল, নরোত্তমদাসের এই ত‍্যাগের আদর্শে বৈষ্ণবধর্ম মহীয়ান্ হয়ে উঠলো।দেশব‍্যাপী যে আন্দোলন হলো,তাঁর কাছে সমস্ত বাধাবিঘ্ন ভেসে গেল।শূন‍্যবাদের রিক্ত সিংহাসনে বসলেন শ্রীরাধাকৃষ্ণের যুগল মূরতি।শালগ্রাম শিলা নয়, একেবারে রূপেরসে ভরপুর সচ্চিদানন্দঘন বিগ্রহ।শালগ্রাম অনেকটা শূন‍্যের প্রতীক। কিন্তু তাঁর স্থলে আসলেন অখিলরসামৃত মূর্তি,নন্দনন্দন শ্রীকৃষ্ণ।বৌদ্ধদের দুরূহ অষ্টমার্গিক সাধনের স্থলে এলো আপামর সাধারণের জন্য নাম-সংকীর্তন।শুকনো কঠোর বিধি-নিষেধের জায়গায় এলো প্রেম,অহিংসার জায়গায় করুণা।অহিংসা একটি অভাবাত্মক ধর্ম--,হিংসার অভাব এই মাত্র। কিন্তু করুণা হৃদয়ের একটি সহজাত শ্রেষ্ঠ বৃত্তি।এইভাবে সারাদেশ বৈষ্ণবধর্মের আহ্বানে সাড়া দিয়ে উঠেছিল। আগের যেসব সংস্কৃতির ভগ্নাবশেষ তখনও বতর্মান ছিল,সেগুলি অল্পে অল্পে ধরণীপৃষ্ঠ হতে বিদায় গ্রহণ করতে লাগল।*
*বৌদ্ধধর্মের প্রভাব এইরূপে যখন খর্ব হতে আরম্ভ করেছিল,তখন বৈষ্ণবরাও ভগবান বুদ্ধের জন্য একটু জায়গা করে,তাঁকে দশাবতারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে চেষ্টা করেছিলেন ; তারই পরিচয় আমরা শ্রীজয়দেবে পাই।শ্রীজয়দেব বাংলার কবি ; তাঁর সময়ে বৌদ্ধ প্রভাব জীবন্ত ভাবে বাংলাদেশে বতর্মান ছিল।*
*নরোত্তমদাস ঠাকুরের প্রভাব কীর্তনের অনুকূল পবনে দূর দূরান্তরে প্রবাহিত হতে লাগল। আমার মনে হয় কূলপ্লাবিনী পদ্মার প্লাবনের মত এই ধর্মের ঢেউ লেগেই পুরাতন ভাবধারার শেষ সৌধগুলি ভেঙ্গে পড়তে লাগল। নরোত্তমদাস গরাণহাটী কীর্তনের প্রবর্তক,শ্রীনিবাস আচার্য‍্য মনোহরসাহী কীর্তনের জনক বলে বিখ‍্যাত। এঁদের উভয়ের সম্মিলন ঘটেছিল এই জেলাতেই। একজন উত্তর বঙ্গের, আর একজন রাঢ়ের। এই হতে উত্তর বঙ্গ আর রাঢ় এক স্বর্ণ সূত্রে গ্রথিত হলো।এমনটি আগে হয়েছিল বলে জানা যায় না। শ্রীচৈতন‍্যের সময়ে এবং তাঁর অব‍্যবহিত পরবর্তী কালে নদীয়া শান্তিপুর দিয়ে রাঢ় অঞ্চলে বৈষ্ণব ধর্মের ঢেউ বয়েছিল।শ্রীহট্ট অঞ্চলেও এর কতকটা প্রভাব পৌঁছেছিল। কিন্তু উত্তর বঙ্গে যে বৈষ্ণব ভাব-প্রবাহ এমন প্রবলভাবে ধাক্কা দিতে পারলো, তার কারণ আমার বোধহয় উত্তরবঙ্গের পুরাতন সংস্কৃতি।উত্তরবঙ্গ আগে থেকেই যেন এর জন্য তৈরী ছিল। পুন্ড্রবর্দ্ধন ও সোমপুর বিহারকে কেন্দ্র করে যে সভ‍্যতা যুগযুগান্ত ধরে পুরাতন অট্টালিকায় বট গাছের মত অসংখ্য শিকড় বিস্তার করে সমাজকে আচ্ছন্ন করেছিল, তারই ফলে একদিন হঠাৎ জাগরণ এসেছিল।সে জাগরণের দিকে সারা বাংলাদেশ নির্ণিমেষ নেত্রে তাকিয়ে রইল। ঠাকুর নরোত্তমদাস যা করেছিলেন,তার তাৎপর্য‍্য বুঝতে হলে সমস্ত বৈষ্ণব ধর্মমতের ইতিহাস আলোচনা করতে হয়।তিনি একদিকে যেমন কীর্তনের পদ্ধতি বেঁধে দিলেন,তেমনি বৈষ্ণব মতবাদের ভিত্তিও সুদৃঢ় করে দিলেন।তাঁর "শ্রীশ্রীপ্রেমভক্তিচন্দ্রিকা" "হাটপত্তন" "প্রার্থনা" "চমৎকারচন্দ্রিকা" প্রভৃতি গ্রন্থ বৈষ্ণব সমাজের যে কি অসামান্য উপকার করেছে,তা বলে শেষ করা যায় না।নরোত্তমদাস ঠাকুরের অবদান বরেন্দ্রীপুন্ড্র বর্দ্ধনের গরিমময় ইতিহাসের উপযুক্ত বলে আমরা মনে করতে পারি।তাঁর "প্রার্থনা" পদগুলি জগতের সাহিত্যে তুলনাবিহীন এবং তাঁর প্রেমভক্তিচন্দ্রিকা নামক গ্রন্থটিকে বৈষ্ণবগণ বলেন "লক্ষ গ্রন্থের টীকা"।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য প্রথম শাখা 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/sahityo8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds