শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 একাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দশম ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/gouranga10.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 একাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 একাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০১)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
             *শ্রীরূপ-সনাতন সম্মিলন*
             <><><><><><><><><><>
*🍁মহাপ্রভু বারাণসী ধামে প্রবেশ করবার সময়,চন্দ্রশেখর এসে তাঁর চরণে মস্তক নত করে দন্ডবৎ প্রণাম করে বললেন,প্রভো!আমি গতকাল রাত্রিতে আপনার আগমনের স্বপ্ন দেখে,আপনাকে নিয়ে যাবার জন্য এখানে অপেক্ষা করছি।এই বলে তিনি গৌরহরিকে নিজ ভবনে নিয়ে গেলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেবের আগমন বার্তা শুনে তপনমিশ্র এসে উপস্থিত হলেন এবং নিমন্ত্রণ করে তাঁকে নিজ ভবনে নিয়ে গেলেন।চন্দ্রশেখরের ভবনেই মহাপ্রভুর বাসস্থান নির্দিষ্ট হল।*
*শ্রীরূপ যখন শ্রীবৃন্দাবনে গমন করেন,তখন সনাতন বন্দিদশায় কারাগারে আছেন।শ্রীরূপ সনাতনকে লিখিলেন,আমি আর অনুপম শ্রীচৈতন‍্যের দর্শন অভিলাষী হয়ে বৃন্দাবন যাত্রা করছি ; আমি মুদির কাছে দশহাজার মুদ্রা রেখে গেলাম ; তুমি ঐ মুদ্রা নিয়ে,কারামুক্ত হবার জন্য চেষ্টা করবে এবং মুক্তি পেয়েই বৃন্দাবনে যাবে।শ্রীরূপ গোস্বামীর পত্র পেয়ে মহাপ্রভুর কাছে যাবার জন্য ব‍্যাকুল হয়ে উঠলেন। তিনি কারাধ‍্যক্ষকে বললেন, "মিঞাসাহেব" আপনি জানেন,কোন ব‍্যক্তির বন্ধন মোচন করতে পারলে, ভগবান তার সংসার-বন্ধন বিমোচন করে দেন।আমি এজীবনে আপনার যে উপকার করেছি,তার প্রত‍্যুপকার স্বরূপ আমাকে যেকোন প্রকারে মুক্ত করার চেষ্টা করুন।এই কথা বলে সনাতন তাঁকে পাঁচহাজার মুদ্রা দিবেন বললেন।কারাধ‍্যক্ষ বললেন, আমি আপনাকে কারামুক্ত করলে হোসেন শাহ ভীষণ ক্রুদ্ধ হবেন ; সেজন‍্য আমাকেও তার ফলভোগী হতে হবে।সনাতন তার উত্তরে বললেন,রাজা এখন যুদ্ধে যাচ্ছেন,আর ফিরবেন কি না,তার কোন নিশ্চয়তা নাই।আমার বিষয় জিজ্ঞাসা করলে বলবেন যে, তিনি কোথায় পালিয়ে গেছেন,তা আমি বলতে পারব না।সনাতন তারপরে সাতহাজার মুদ্রা তাঁকে দিতে রাজী হলেন ; কারাধ‍্যক্ষ এবার আর লোভ সম্বরণ করতে পারলেন না।লোক দ্বারা মুদির কাছ হতে মুদ্রা আনিয়ে কারাধ‍্যক্ষের সামনে ধরলেন, কারাধ‍্যক্ষ টাকাগুলি বা মুদ্রা গ্রহণ করলেন, এবং সনাতনকে সঙ্গে নিয়ে গঙ্গার পরপারে রেখে আসিলেন। সনাতন কারাগার হতে যাবার সময় ঈশান নামক এক বিশ্বস্ত ভৃত‍্যকে সঙ্গে নিয়ে বৃন্দাবনের দিকে রওনা হলেন।তাঁরা যেতে যেতে ঘন বৃক্ষে ভরা জঙ্গল দিয়ে চলতে লাগলেন, চলতে চলতে "পাতড়া" নামক এক পর্বতের কাছে উপস্থিত হন।এখানে ভূঞা নামক এক দস‍্যু বাস করে পথিকদের সর্বস্ব লুঠ করে নিত।ভূঞার কাছে এক গণক সবসময় বাস করে, পথিকের কাছে কি আছে গণনা দ্বারা তা জেনে দস‍্যুপতিকে জানাত।সনাতন ঈশানকে নিয়ে পাতড়া পর্বতে উপস্থিত হলে,জ‍্যোতিষী গণনা দ্বারা ঈশানের কাছে আটটি মোহর আছে, জেনে ভূঞাকে জানাল।দস‍্যু অর্থলোভে সনাতনকে খুব আদর অভ‍্যর্থনা করে তাঁদেরকে খুব ভাল করে ভোজনের ব‍্যবস্থা করে দিলেন।সনাতন রাজমন্ত্রী ছিলেন ; তাঁর বুদ্ধি সুতীক্ষ্ণ।তাঁদের প্রতি ভূঞার এরকম আদর যত্ন দেখে ভূঞার কাজের উপর তাঁর ভীষণ সন্দেহ হল।তিনি গোপনে ঈশানকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কাছে কি কিছু অর্থ আছে?ঈশান বলল, আমার কাছে সাতটি মোহর আছে। তখন সনাতন বললেন, "ও কাল যম কেন সঙ্গে করে এনেছ?" তখন সনাতন গোস্বামী ভূঞার হাতে সাতটি মোহর দিয়ে বললেন, আমাকে পাতড়া পর্বত পার করে দাও ; আমি রাজবন্দী,আমি প্রকাশ‍্য পথে যাব না। নির্জন বনপথে যেতে চাই।দস‍্যু তখন ঈষৎ হেসে বলল, তুমি বেশ বুদ্ধিমান লোক,আমি গণকের দ্বারা তোমার কাছে আটটি মোহর আছে জেনেছিলাম।আমি তোমার মোহর নিতে ইচ্ছা করি না।সনাতন বললেন, আমি সেটি আমার কাছে রেখে কি করব,পথে অন‍্য দস‍্যু জানতে পারলে কেড়ে নিবে।ভূঞা তারপর সনাতনের সঙ্গে একজন বিশ্বস্ত লোক দিয়ে,তাঁকে পাতড়া পর্বত পার করে দিতে বলল।ভক্ত ও বিশ্বাসী সনাতন, তার সঙ্গে নিবিড় জঙ্গল ও পর্বতশ্রেণী অতিক্রম করে চলতে লাগলেন।ভূঞার ভৃত‍্য সনাতনকে পর্বত পার করে দিয়ে ফিরে আসিল।কিছুদূর গমন করলে,সনাতন ঈশানকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার সঙ্গে কি আর একটি মোহর আছে? ঈশান তা স্বীকার করলে তিনি তাকে সেখান হতে ঐ মোহর নিয়েই বিদায় নিতে বললেন।ঈশান নিজ ঘরের দিকে প্রত‍্যাগমন করল।*
*বৈরাগী ভক্ত সনাতন,হরিনাম করতে করতে একাকী চলতে লাগলেন।যেতে যেতে তিনি মজঃফরপুরের অন্তর্গত হাজিপুর নামক জায়গায় উপস্থিত হলেন।তাঁর ভগিনীপতি শ্রীকান্ত একজন বিখ‍্যাত রাজকর্মচারী।তিনি হাজিপুরে এক উদ‍্যানের ভেতরে বিরাট অট্টালিকার মধ্যে বাস করছিলেন।এমন সময় হরিগুণ কীর্তনের শব্দ তাঁর শ্রুতিগোচর হল।কন্ঠস্বর সনাতনের বলে তাঁর মনে হওয়ায় তিনি প্রাসাদ ভবন হতে দেখলেন,সত‍্যই সনাতন,ছিঁড়া কাঁথা গায়ে দিয়ে বৃক্ষতলে বসে হরিগুণ কীর্তন করছেন।শ্রীকান্ত তাঁর সামনে উপস্থিত হয়ে,কাঁদতে কাঁদতে বললেন,যিনি অতুল ঐশ্বর্য‍্যের মধ্যে বাস করছিলেন,তাঁর আজ একি দশা?তিনি সনাতনকে মলিন ছিন্ন কাঁথা পরিত‍্যাগ করতে বলে একটি উৎকৃষ্ট শাল বা ভোটকম্বল দিলেন।সনাতন তা কিছুতেই গ্রহণ করছিলেন না।অবশেষে শ্রীকান্তের একান্ত অনুরোধে তিনি সেই ভোটকম্বল গ্রহণ করলেন।রাজমন্ত্রী অতুল ঐশ্বর্য‍্যশালী সনাতন আজ পথের ভিখারী হলেন দেখে,শ্রীকান্ত বিষাদিত অন্তরে নয়নের জল ফেলতে ফেলতে নিজ ভবনে গমন করলেন।*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌻🌹🌹🌹🌹🌹🌹
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 একাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০২)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
             *শ্রীরূপ-সনাতন সম্মিলন*
             ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻সনাতন ভোটকম্বল গায়ে দিয়ে কিছুদিন পরে কাশীধামে উপনীত হলেন।গৌরাঙ্গ দর্শনের জন্য তাঁর প্রাণ ব‍্যাকুল হয়েছে।লোকমুখে জানতে পারলেন যে,মহাপ্রভু চন্দ্রশেখরের বাড়ীতে আছেন।তিনি দুইহাতে দুইগুচ্ছ ও দন্তে তৃণ ধরে চন্দ্রশেখরের বাড়ীর বহির্দ্বারে গিয়ে দাঁড়ালেন।মহাপ্রভুর কাছে একটি সংবাদ গেল যে,একজন ফকির বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছে,মহাপ্রভুর আদেশে সনাতনকে তাঁর কাছে নিয়ে যাওয়া হল।সনাতনকে দেখে মহাপ্রভুর প্রাণ আনন্দে উথলিয়ে উঠিল।তিনি তাঁকে প্রেমভরে আলিঙ্গন করতে গেলেন, তখন সনাতন বললেন, আমি অধম নীচজাতি, আমাকে স্পর্শ করবেন না।এইকথা বলে তিনি কাঁদতে লাগলেন। প্রেমময় মহাপ্রভু তাঁকে বসিয়ে স্নেহময়ী মায়ের মত তাঁর অঙ্গে নিজের সুকোমল হাত বুলাতে লাগলেন।মহাপ্রভু বললেন,সনাতন দৈন‍্য সম্বরণ কর!তোমার দীনতা দেখে আমার বক্ষ ফেটে যাচ্ছে। তারপর গৌরহরি সনাতনকে তাঁর কারামুক্তির কথা জিজ্ঞাসা করলে,তিনি আদ‍্যপান্ত সমস্ত বিষয় জানালেন। এক মহারাষ্ট্রীয় ব্রাহ্মণ সনাতনকে কাশীতে থাকাকালীন তাঁর ভবনে ভোজনের জন্য অনুরোধ করেন, সনাতন তাতে রাজী না হয়ে বললেন,আমি ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করব।সনাতন বারাণসীর দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।বৈরাগ‍্য ও ভক্তিপথাবলম্বী সনাতনকে ক্ষৌর করাবার জন্য,মহাপ্রভু চন্দ্রশেখরকে আদেশ করলেন।ক্ষৌরকার্য‍্য সমাধা হল।স্নানান্তে চন্দ্রশেখর তাঁকে একটি নতুন বস্ত্র পরিধান করবার জন্য দিলেন। কিন্তু সনাতন তা গ্রহণ না করে একটি পুরাতন বস্ত্র প্রার্থনা করলেন।চন্দ্রশেখর নতুন সন্ন‍্যাসীর ইচ্ছা অনুসারেই কাজ করলেন।সনাতন পুরাতন বস্ত্রটি পেয়ে তা দুইখন্ড করে অর্দ্ধাংশ পরিধান করলেন, অপরার্দ্ধাংশ বহির্বাস করলেন।শ্রীকান্তের দেওয়া ভোটকম্বলটি তখনও পর্যন্ত তিনি ব‍্যবহার করছিলেন, কিন্তু মহাপ্রভু বারবার সেই জিনিসটির প্রতি দেখছেন, তা সনাতন দেখে বুঝলেন,সন্ন‍্যাসীর পক্ষে এ মূল‍্যবান ভোটকম্বল ব‍্যবহার মহাপ্রভুর অপছন্দ,তিনি তখুনি কিছু দূরে গমন করে,এক দরিদ্রকে ঐ কম্বলটি দিয়ে তার ছেড়া কাথা নিলেন। নিয়ে সেটি গায়ে দিয়ে মহাপ্রভুর নিকট আসিলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব সনাতনের কার্য‍্যে অত‍্যন্ত পুলকিত হয়ে বললেন, "কোন ভাল বৈদ‍্য কি রোগের শেষ রেখে দেয়?" মহাপ্রভু দুইমাস কাশীধামে থেকে সনাতনকে ভক্তিতত্ত্ব উপদেশ শিক্ষা দান করেন।শ্রীকৃষ্ণই জগতের আদি কারণ, ও ব্রহ্মান্ডের অধিপতি ; তাঁর বহু অবতার। শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য এইভাবে ভক্তির অতি নিগূঢ় তত্ত্ব সব তাঁকে শিক্ষা দান করলে,সনাতন বললেন,আপনি সার্বভৌম ভট্টাচার্যের নিকট "আত্মারামশ্চ মুনয়ো" শ্লোকের আঠার প্রকার ব‍্যাখ‍্যা করেছিলেন তা আমার শুনতে অত‍্যন্ত বাসনা হচ্ছে।গৌরহরি বললেন,আমি তখন কি পাগলামী করেছিলাম এখন আমার তা স্মরণে আসছে না।তারপর তাঁর মনে কি এক উৎসাহের সঞ্চার হল, তিনি ঐ শ্লোকের একষট্টি প্রকার ব‍্যাখ‍্যা করলেন।সনাতন মহাপ্রভুর অত‍্যাশ্চর্য‍্য শক্তি দেখে বিমুগ্ধ হয়ে গেলেন।শ্রীচৈতন‍্য তাঁকে বৃন্দাবনে বাস করে,নরনারীর কল‍্যাণের জন্য ভক্তিগ্রন্থ রচনা, ও লুপ্ত বৃন্দাবনের পুনরুদ্ধার করবার জন্য আদেশ করলেন।সনাতন বললেন, মহাপ্রভু! আমি ভক্তিগ্রন্থ রচনা করব আমার এমন কি শক্তি আছে?আপনি যদি কৃপা করেন তবেই এই কাজে রত হতে পারি।গৌরসুন্দর তাঁর গ্রন্থ রচনার জন্য মূল সূত্র সব রচনা করে দিলেন।সনাতন মহাপ্রভুর শ্রীচরণে প্রণাম করে বৃন্দাবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন।*
*কাশীধাম সন্ন‍্যাসীদের লীলাক্ষেত্র বললে বেশী বলা হয় না।ইঁনাদের মধ্যে অনেকেই শুষ্ক জ্ঞান আলোচনায় অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেন।ভক্তির সুমিষ্ট রসাস্বাদনে ইঁনাদের সেরকম ভাব দেখা যায় না।শ্রকচৈতন‍্য যখন বারাণসীতে থাকাকালীন,তিনি ইঁনাদের সঙ্গে মেলামেশা করতেন না।একাকী কৃষ্ণ-প্রসঙ্গে ও সনাতনের শিক্ষায় দিন অতিবাহিত করতেন।*
*🍀প্রকাশানন্দ প্রমুখ দন্ডী সন্ন‍্যাসীরা শ্রীচৈতন‍্যকে ভাবুক বলে নিন্দা করতেন।চন্দ্রশেখর,তপন মিশ্র ও মহারাষ্ট্রীয় ব্রাহ্মণ মহাপ্রভুর কাছে গিয়ে বললেন, প্রকাশানন্দের শিষ‍্যরা সর্বদাই আপনার নিন্দা করে থাকে। গৌরহরি তাঁদের কথা শুনে মৃদু হাসলেন।একদিন এক বিপ্র মহাপ্রভুর কাছে এসে বললেন,আজ প্রকাশানন্দ স্বামী ও এ জায়গার সমস্ত দন্ডী ও সন্ন‍্যাসী মিলিত হবেন।আপনাকে সেই সভায় উপস্থিত হবার জন্য সাদরে আহ্বান করছি। আপনি আজ মধ‍্যাহ্নে সভায় উপস্থিত হয়ে আমাদেরকে সুখী করবেন। শ্রীচৈতন‍্যদেব যথাসময়ে সভাতে উপস্থিত হলেন।সভাগৃহ বহু লোকে পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে।শ্রীচৈতন‍্য সভায় প্রবেশ করে এক পার্শ্বে বসে পড়লেন।মহাপ্রভুর রূপ দর্শন করে প্রকাশানন্দ নিজের কাছে মধ‍্যস্থলে বসতে বললে, মহাপ্রভু অতি বিনীতভাবে বললেন,আমি সামান্য সন্ন‍্যাসী, উচ্চস্থলে বসবার উপযুক্ত নই। প্রকাশানন্দ তৎক্ষণাৎ তাঁর হাত ধরে তাঁকে নিজের কাছে বসালেন।সভাতে কাশীর প্রধান পন্ডিতগণ সকলেই উপস্থিত ছিলেন।*
*অদ্বৈতবাদ সম্বন্ধে বিচার আরম্ভ হ'লে,মহাপ্রভু একে একে অদ্বৈতবাদের সপক্ষের যুক্তিগুলি খন্ডন করতে লাগলেন।জীব ও ব্রহ্ম যে এক হতে পারে না,এ বিষয়ে তিনি অতি যুক্তি সহকারে প্রতিপন্ন(প্রমাণ সিদ্ধ) করলে,তাঁর বুদ্ধির প্রাখর্য‍্য (তীক্ষ্ণতা)দেখে পন্ডিতমন্ডলী নিরুত্তর হয়ে রইলেন।বৈদান্তিকদের শিরোভূষণ প্রকাশানন্দ সরস্বতী বেদান্তের নিগূঢ় ও সুললিত ব‍্যাখ‍্যা শুনে অবাক হয়ে গেলেন।সকলেই একসুরে শ্রীচৈতন‍্যদেবের জয় ঘোষণা করতে লাগলেন।তারপর গৌরহরি গৃহে এসে চন্দ্রশেখর,তপন মিশ্র ও মহারাষ্ট্রীয় বিপ্রকে হেসে বললেন, "আমার ভাবকালি এখানে বিক্রয় হবে না শুনেছিলাম ; কিন্তু দেখছি বিক্রি হয়ে গেল।মহাপ্রভুর ভক্তগণ আনন্দে পুলকিত হয়ে উঠলেন।*
*শ্রীচৈতন‍্য একদিন বিন্দুমাধব মন্দিরের সামনে ভক্তগণ সহ ভাবে বিভোর হয়ে হরিনাম সংকীর্তন করছেন,এমন সময় প্রকাশানন্দ মহাপ্রভুর নৃত্য ও তাঁর স্বর্গীয় রূপমাধুরী দেখে বিমুগ্ধ হয়ে তাঁর চরণ বন্দনা করতে লাগলেন।করুণাময় মহাপ্রভুও তৎক্ষণাৎ তাঁর চরণ ধরে বললেন,আপনি জগদ্ গুরু, আমি আপনার শিষ‍্যস্থানীয় হবার উপযুক্ত নয়।তখন প্রকাশানন্দ বললেন,তুমি মানব নহ ; সাক্ষাৎ ভগবানের অবতার।অবশেষে উভয়ে সেখানে বসিলেন।তত্ত্বজ্ঞানের প্রসঙ্গ আরম্ভ হ'ল।শ্রীচৈতন‍্যদেব প্রকাশানন্দের প্রশ্নের সদুত্তর দিয়ে ভক্তির মহিমা কীর্তন করলেন।বৈদান্তিক চূড়ামণির জ্ঞানগর্ব খর্ব হয়ে গেল।তিনি মধুর ভক্তিরসের রসিক হয়ে শ্রীচৈতন‍্যদেবের পথাবলম্বী হলেন! শুকনো বারাণসী ভূমিতে ভক্তির স্রোত বহিতে লাগল ; হরিনামের মধুর ধ্বনিতে চারিদিক মুখরিত হয়ে উঠিল। শ্রীপাদ কবিরাজ বলেছেন=*
*🌷সব কাশীবাসী করে নামসংকীর্তন।*
*🌷প্রেমে হাসে কান্দে গায় করয়ে নর্তন।।*
*🌷সন্ন‍্যাসী পন্ডিত করে ভাগবত বিচার।*
*🌷বারাণসী মহাপ্রভু করিল নিস্তার।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 একাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০৩)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
     *নীলাচলে শ্রীরূপের আগমন*
     ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*☘শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভু বৃন্দাবন হতে নীলাচলে আগমন করলেন।সন্ন‍্যাস গ্রহণের পর হতে ছয় বৎসর কাল নানাতীর্থ পরিভ্রমণে অতিবাহিত হল।এখন হতে অবশিষ্ট অষ্টাদশ বর্ষ তিনি শ্রীক্ষেত্রেই অতিবাহিত করেছিলেন।বঙ্গদেশ হতে বছর বছর রথোৎসবের সময় ভক্তগণ পুরুষোত্তমে আগমন করে,চারমাস কাল অবস্থান করে,মহাপ্রভুর সঙ্গে ভক্তিতত্ত্ব আলোচনায় ও কীর্তনাদিতে যাপন করলেন।তারমধ‍্যে বার-বৎসর গম্ভীরা কক্ষে থেকে সাড়েতিনজন রসের পাত্রকে নিয়ে ব্রজের লুপ্ত লীলা প্রকাশ করেছিলেন।মহাপ্রভুর সন্ন‍্যাস গ্রহণের পর তাঁরা বহু বৎসর কাল নীলাচলে আগমন করেছিলেন।অষ্টাদশ বৎসরের মধ্যে শেষ দ্বাদশ বৎসর মহাপ্রভু সর্বদা ভগবৎ-প্রেমরসেই মগ্ন হয়ে থাকতেন।এই প্রেম বিহ্বলতায় তিনি কখন ভূমিতে মুখ রগড়াতেন ; সময়ে সময়ে প্রলাপ বাক‍্য বলতেন ; অনিদ্রায় নিশি যাপন করতেন, এবং কৃষ্ণ বিরহে সময়ে সময়ে মূর্ছিত হয়ে পড়তেন।*
*মহাপ্রভু নীলাচলে আসিবার পূর্বেই শ্রীরূপ প্রয়াগে গৌরহরির নিকট তত্ত্বোপদেশ লাভ করে বল্লভের সঙ্গে বৃন্দাবনে গমন করেন।সেখানে শ্রীরূপের মনে নাটক রচনার বাসনা উদিত হয় এবং সেখানেই তিনি গ্রন্থ সূচনা করেন।তারপর দুই ভাই বারাণসী হয়ে গৌড়দেশে যাত্রা করেন।কিন্তু বল্লভ যাত্রাকালীন পথেই মানবলীলা শেষ করেন।শ্রীরূপ নবদ্বীপে গিয়ে শুনলেন,মহাপ্রভুর ভক্তবৃন্দ বাৎসরিক রথোৎসব দর্শন করবার জন্য নীলাচলে যাত্রা করছেন, তিনিও স্থির থাকতে পারলেন না,গৌরহরির নিকট পুরীধামে পূণ‍্যভূমিতে যাত্রা করলেন।কৃষ্ণভক্ত পরম বৈরাগী শ্রীরূপ মনের আনন্দে বন,উপবন ও নদনদীর সৌন্দর্য্য দেখতে দেখতে চলতে লাগলেন ; বিশ্রামের জন্য কোন পান্থশালায় উপস্থিত হতেন,তখন মনের কল্পনাগুলি লিখে রাখতেন।উৎকল দেশে আসবার সময় শ্রীরূপ সত‍্যভামাপুর নামে কোন গ্রামে বিশ্রামের জন্য রাত্রি যাপন করেন।তিনি যখন নিদ্রায় মগ্ন,তখন স্বপ্নে কোন সুন্দরী নারী তাঁর সামনে প্রকাশিত হয়ে বলেন,নাটক দুই ভাগে বিভক্ত করে রচনা কর।তোমার মনোকামনা পূর্ণ হবে।শ্রীরূপ সেই স্বপ্নদৃষ্টা দেবীর কথা শিরোধার্য‍্য করে গ্রন্থে বিষয় চিন্তা করতে করতে নীলাচলে আগমন করলেন, এবং ভক্ত হরিদাসের কুটিরে আতিথ‍্য গ্রহণ করলেন।হরিদাস শ্রীরূপকে দর্শন করে পরম পুলকিত হলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব প্রতিদিন হরিদাসের কুটিরে আগমন করতেন।তিনি যখন সেখানে আগমন করলেন, তখন শ্রীরূপ মহাপ্রভুর দর্শনমাত্র চরণে পড়ে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 একাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০৪)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
      *নীলাচলে শ্রীরূপের আগমন*
      ••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🍀নামাচার্য‍্য হরিদাস মহাপ্রভুকে বললেন,শ্রীরূপ তোমাকে প্রণাম করেছে।তখন গৌরহরি শ্রীরূপের হাত ধরে মাটি থেকে তুলে তাঁকে প্রেমভরে আলিঙ্গন করলেন।তারপর শ্রীচৈতন‍্যদেব তাঁকে সনাতনের কথা জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বললেন, সনাতনের সঙ্গে আমার আর সাক্ষাৎ হয়নি, আমি প্রয়াগে এসে শুনলাম তিনি বৃন্দাবনে গমন করেছেন।শ্রীরূপ তৎপর বল্লভের পরলোক গমনের কথা মহাপ্রভুকে বললেন।মহাপ্রভু তাঁর প্রিয় বল্লভের পরলোকগমনের খবর পেয়ে অত‍্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করলেন।সে সময় গৌড়ীয় ভক্তগণ নীলাচলে আগমন করেছিলেন,সকলের আগমনে পুরুষোত্তমে যেন ভক্তির ঢেউ বইতেছিল।শ্রীরূপ এই ভক্ত সম্মিলনের সময় উপস্থিত হয়েছেন।গৌরহরি অতুল ঐশ্বর্য‍্যত‍্যাগী পরমভক্ত শ্রীরূপের সঙ্গে অদ্বৈতাচার্য‍্য প্রভৃতি ভক্তদের পরিচয় করিয়ে দিলেন।শ্রীরূপও গৌড়ীয় ভক্তদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে পরম পুলকিত চিত্তে ও বিনয়াবনত মস্তকে সকলের চরণ স্পর্শ করে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।*
*🍁রথযাত্রার উৎসব আরম্ভ হল।অন‍্যান‍্য বৎসরের ন‍্যায় এবারও মহাপ্রভু ভক্তগণসহ গুন্ডিচা মন্দির সংস্কার করে আইটোটা এসে কয়েকদিন সময় অতিবাহিত করলেন।যখন জগন্নাথদেব রথারোহণে গুন্ডিচার দিকে গমন করেন,তখন মহাপ্রভু রথের আগে নৃত্য করতে করতে গমন করবার সময় এইটি শ্লোক পড়তে লাগলেন।সেই শ্লোকের ভাবার্থ অন‍্য কেউ বুঝতে সক্ষম হলেন না ; কিন্তু ভাবগ্রাহী শ্রীরূপ গোঁসাই মহাপ্রভুর শ্লোকের ভাবার্থ বুঝে সেই সময় একটি রচনা করেন।পরদিন তিনি তালপত্রে সেই শ্লোকের ভাবার্থ লিখে চালের বাতায় গুঁজে রেখে সমুদ্র স্নান করতে গেলেন।এমন সময় গৌরহরি এসে চালের বাতায় তালপত্র দেখে সেটি নিয়ে পাঠ করে অপার আনন্দ লাভ করলেন।শ্রীরূপ স্নান করে ফিরে এসে দেখলেন,মহাপ্রভু সেই তালপাতায় লেখা শ্লোক পাঠ করছেন।শ্রীরূপকে দেখেই মহাপ্রভু তাঁকে গাঢ় আলিঙ্গনে আবদ্ধ করে বললেন, রূপ!তুমি কিভাবে আমার মনের ভাব বুঝে এমন চিত্তাকর্ষক শ্লোক রচনা করলে?রূপ গোঁসাই বললেন, প্রভো!তুমিই আমাকে কৃপা করেছ বলেই তো,তোমার হৃদয়ের ভাব আমি অবগত হয়েছি। আমার নিজস্থ কোন শক্তি নেই। তারপর চাতুর্মাস‍্য করে গৌড়ীয় ভক্তগণ স্বদেশে প্রত‍্যাগমন করলে মহাপ্রভু সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য ও রায় রামানন্দ প্রভৃতির সঙ্গে স্বরূপ গোস্বামীর পরিচয় করিয়ে দিলেন।একদিন জনসমক্ষে মহাপ্রভু শ্রীরূপকে তাঁর স্বরচিত নাটক পাঠ করতে বললেন।শ্রীরূ প্রথমত নিজের রচিত গ্রন্থের বিষয় পন্ডিতমন্ডলীর মধ্যে পাঠ করতে লজ্জা বোধ করে কিছুক্ষণ মস্তক নত করে রইলেন। কিন্তু গৌরহরির কথা রক্ষা করতেই হবে ; মনে ভেবে তিনি অবশেষে পাঠ করতে লাগলেন।সভার সকলেই তাঁর নাটকের বিষয় শুনে মুগ্ধ হয়ে গেলেন। সার্বভৌম,রামানন্দ,স্বরূপদামোদর প্রভৃতি ভাবগ্রাহী সুপন্ডিতগণ তাঁর রচিত নাটকের বিশেষ প্রশংসা করতে লাগলেন।শ্রীরূপ গোস্বামী তারপর নীলাচলে এক বৎসর বসবাস করে বৃন্দাবনে গমন করেন, এবং সেখানে দুইভাই ভক্তিবিষয়ক বহু গ্রন্থ রচনা করেন।*
🙏🙏🙏🌷🌷🌷🙏🙏🙏🪷🪷🪷🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 একাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০৫)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
 *ছোট হরিদাসের প্রতি দন্ডবিধান*
  ^^^^^^^^^^^^*^^^^^^^^^*^^^^^^^^
*🍀পুরীধামে ভগবান আচার্য‍্য নামে একজন সুপন্ডিত পরম বৈষ্ণব বাস করতেন।ইঁনার পিতার নাম শতানন্দ খান।শতানন্দ ঐশ্বর্য‍্যশালী ব‍্যক্তি ছিলেন ; কিন্তু ঐশ্বর্য‍্যের মধ্যে বাস করেও ইনি বিষয়ে অনাসক্ত ছিলেন।তাঁর পুত্র ভগবান আচার্য‍্য ভক্তচূড়ামণি শ্রীচৈতন‍্যদেবের বড় অনুরক্ত(অনুরাগী) ছিলেন। ভগবান আচার্য‍্য সুপন্ডিত ও ভক্ত হয়েও রন্ধন কার্য‍্যে বড় সুপটু ছিলেন। তিনি সময়ে সময়ে মহাপ্রভুকে নিমন্ত্রণ করে নানান ব‍্যঞ্জন দ্বারা ভোজন করাতেন।একদিন গৌরহরিকে ভোজন করাবার জন্য ভগবান আচার্য‍্য ছোট হরিদাসকে শিখি মাহিতির বোন বৃদ্ধা ধর্মপরায়ণা মাধবী দাসীর নিকট হতে এক মণ ভাল চাল আনবার জন্য পাঠালেন।হরিদাস আচার্য‍্যের কথা অনুসারে তাইই করলেন। ভগবান সেই তন্ডুলে অন্ন ও বিবিধ ব‍্যঞ্জন তৈরী করলেন।মহাপ্রভু যখন আচার্য‍্যের ভবনে আহার করতে বসলেন,তখন অন্নের সুগন্ধিতে মুগ্ধ হয়ে ভগবান আচার্য‍্যকে জিজ্ঞাসা করলেন, এ চাল কোথায় পেলে?আচার্য‍্য বললেন, ছোট হরিদাসকে আমি মাধবী দাসীর নিকট হতে চেয়ে আনতে বলেছিলাম,হরিদাস তাঁর কাছ হতে এই চাল নিয়ে এসেছে।মহাপ্রভু তখন কিছু না বলে ভোজনান্তে গৃহে গমন করে ভৃত‍্য গোবিন্দকে ডেকে বললেন, "ছোট হরিদাসকে আজ হতে এখানে আসতে নিষেধ করিও।"*
*🌺ছোট হরিদাস খুবই সুন্দর কীর্তন করতে পারতেন,সেজন‍্য তিনি মহাপ্রভুর বাসায় থেকে মধুর কীর্তন করে তাঁর প্রাণে আনন্দ দিতেন।কীর্তনীয়া হরিদাস নারীর নিকট হতে ভিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন বলে শ্রীচৈতন‍্যদেব তাঁর মুখ দেখবেন না বলে স্থির করলেন।হরিদাস যখন শুনলেন, মাধবী দাসীর নিকট হতে তিনি চাল এনেছিলেন বলে মহাপ্রভু আর তাঁর মুখ দেখবেন না বলে মনে সঙ্কল্প করেছেন,তখন তাঁর হৃদয়-মন যেন দুঃখে ভরে উঠিল।মহাপ্রভুর কৃপা হতে বঞ্চিত হওয়ার মত মহাকষ্ট আর কি হতে পারে!ছোট হরিদাস এ কঠোর দন্ডের কথা শুনে অনাহারে কয়েকদিন কাটিয়ে দিলেন।মহাপ্রভুর অন‍্যান‍্য ভক্তদের মধ্যে হরিদাসের দন্ডের কথা প্রচার হয়ে গেল।অনেকেই হরিদাসের অপরাধের ক্ষমা প্রার্থনা করবার জন্য গৌরহরির কাছে উপস্থিত হলেন। কিন্তু তিনি তাঁদের কথায় কর্ণপাত না করে নিজ সঙ্কল্পে অটল থাকলেন। প্রভু বললেন, তোমরা আমাকে আর এরকম অনুরোধ করবে না, করলে--,আমি এ জায়গা ত‍্যাগ করে অন‍্যত্র চলে যাব। বৈরাগী হয়ে যে ব‍্যক্তি প্রকৃতি-সঙ্গ করতে চায়,আমি তার মুখ দেখতে চাই না। হরিদাসের জন্য কেউ অনুরোধ করলে, শ্রীচৈতন‍্যদেব এস্থান পরিত‍্যাগ করবেন,এই ভয়ে ভীত হয়ে আর কেউ তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে সাহসী হলেন না।ধরাধামে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের সঙ্গ হতে বঞ্চিত হয়ে ছোটহরিদাস মৃতের ন‍্যায় শ্রীক্ষেত্রে বাস করতে লাগলেন।এইভাবে এক বৎসর কেটে গেল।একদিন মনের দুঃখে ও কষ্টে ছোটহরিদাস গৌর বিহনে জীবন বিসর্জন দেওয়াই ঠিক মনে করে প্রয়াগে গমন করলেন, এবং ইহলোকের সব সম্বন্ধ ঘুচিয়ে ত্রিবেণীর খরতর স্রোতে আত্মবিসর্জন করলেন।*
*🍁এ মর-জগতে মানবের দেহান্ত হলে যে তার সঙ্গে সঙ্গে তার আত্মার ও মনের সদ্ গুণরাশি বিনষ্ট হয়ে যায় তা নয়।ব‍্যক্তি বিশেষের প্রতি প্রগাঢ় ভক্তি ও অকৃত্রিম স্নেহ প্রভৃতি সদ্ গুণ চিরতরে ধ্বংস হতে পারে না।ছোটহরিদাসের দুই দিনের শরীর ধ্বংস হল বটে, কিন্তু এ জগতে কীর্তন করে যে ধর্মাত্মার হৃদয়ে তিনি সুধা বর্ষণ করতেন এবং নিজেও সে সুখে ও আনন্দে ভেসে যেতেন, তিনি কি মরণান্তে সে সব একেবারে বিস্মৃত হয়ে যাবেন?কথিত আছে,হরিদিস ত্রিবেণীর জলে জড়দেহ বিসর্জন দিয়ে দিব‍্যদেহ পরিগ্রহ(ধারণ) করে তাঁর ইহলোকের পরমগুরু শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যের নিকট উপস্থিত হয়ে নিশীথ সময়ে মধুর স্বরে বিভুগুণ-গানে তাঁর চিত্ত হরণ করতেন।*
*এমন সময় একদিন মহাপ্রভু তাঁর পরিত‍্যজ‍্য ছোটহরিদাসকে দেখবার জন্য বাসনা প্রকাশ করেন, এবং সেজন‍্য তাঁকে তাঁর কাছে আনবার জন্য ভক্তদের প্রতি আদেশ করেন। তাঁরা বললেন,এক বৎসর পূর্ণ হ'ল, তিনি কাউকে কিছু না বোলে কোথায় চলে গিয়েছেন, আমরা তা কিছুই জানি না।গৌরহরি নীরব রইলেন। একদিন জগদানন্দ,স্বরূপ-দামোদর প্রভৃতি সমুদ্রে স্নান করতে গমন করেছেন, এমন সময় তাঁরা সুমধুর স্বরে হরিগুণানুকীর্তন শুনতে পেলেন।কন্ঠস্বরে তাঁরা কীর্তনীয়া ছোটহরিদাসেরই কন্ঠধ্বনি বলে বুঝতে পারলেন ; কিন্তু তাঁরা চারিদিকে তাকিয়ে দেখলেন, সেখানে হরীদাস বা অন‍্য কোন মানুষ নাই।হরিদাস অশরীরী হয়ে বিভুনাম কীর্তন করছেন, এটি প্রত‍্যক্ষ অনুভব করে,এক ব‍্যক্তি বললেন,হরিদাস হয়ত চরম মনোকষ্টে আত্মঘাতী হয়ে,ব্রহ্মরাক্ষস হয়ে এইভাবে বাস করছে।স্বরূপ দামোদর তার প্রতিবাদ করে বললেন,হরিদাস আজীবন কৃষ্ণনাম কীর্তনে ও মহাপ্রভুর সেবাতে জীবন অতিবাহিত করেছেন, তিনি কি আর নিকৃষ্টজন্ম লাভ করতে পারেন? এ সকলের পেছনে মহাপ্রভুর লীলা প্রকাশ পাচ্ছে বলেই বোধ হচ্ছে।ইতোমধ‍্যে প্রয়াগ হতে এক বৈষ্ণব পুরুষোত্তমে আগমন করে ছোটহরিদাসের ত্রিবেণীতে দেহত‍্যাগের বার্তা প্রদান করল।হরিদাসের এরকম দেহত‍্যাগের কথা শুনে সকলেই দুঃখিত হলেন।শ্রীচৈতন‍্যপ্রভু যখন শ্রীবাসাদির নিকট হতে এই বার্তা শুনলেন,তখন তিনি "স্বকর্ম ফলভুক্ পুমান্" এইকথা বলেছিলেন।*
🪔🪔🪔🪔🪔🪔🙏🪔🪔🪔🪔🪔🪔
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 একাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০৬)🙌শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা *মহাপ্রভুর প্রতি দামোদরের উক্তি ও*
*শ্রীসনাতনের শ্রীক্ষেত্রে আগমন।*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেব যদিও সন্ন‍্যাসী কিন্তু তিনি প্রেমের অবতার। বালক যুবক বৃদ্ধ সকলেরই প্রতি তাঁর প্রেম বর্ষিত হত।পুরুষোত্তমে একটি সুন্দর পিতৃহীন ব্রাহ্মণকুমার সতত তাঁর নিকট আসিত।বালকেরা যেখানে ভালবাসা পায়,সেইখানেই তাদের মন ধাবিত হয়।পিতৃহীন সরল সুন্দর ব্রাহ্মণ কুমারটিকে মহাপ্রভু অত‍্যন্ত স্নেহ করতেন। কিন্তু স্বরূপ দামোদরের তা সহ‍্য হত না।ব্রাহ্মণ তনয়টির জননী ছিলেন,অল্পবয়স্কা পতিহীনা সুন্দরী যুবতী।স্বরূপ ভাবলেন,এই ব্রাহ্মণ বালকের প্রতি গৌরহরির স্নেহ দেখে লোকে অন‍্যরকম ভাবতে পারে।এইজন‍্য তিনি একদিন মহাপ্রভুকে বললেন,তুমি অন‍্যকে উপদেশ দিতে পারো ; কিন্তু তুমি কেমন গোঁসাই এবার সব লোকে তা কি ভাল বুঝবে? লোকের মুখ তো চাপা দিতে পারবে না।মহাপ্রভু বললেন,দামোদর!তুমি কি বলছ?দামোদর বললেন, তুমি ঐ ব্রাহ্মণের ছেলেটিকে অত‍্যন্ত ভালবাস, তার মা বিধবা,সুন্দরী যুবতী,আর তুমিও পরম সুন্দর যুবা পুরুষ।বালকের মা তপস্বিনী হলেও, লোকে এই নিয়ে কানাঘুষা করতে পারে।এইসব কথা বলে দামোদর মৌন অবলম্বন করলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব বুঝলেন যে,যাতে লোকের মিথ‍্যা ধারণায়,তাঁর জীবনের মহান কাজের ব‍্যাঘাত না হয়, সে জন্য দামোদর তাঁর যথার্থ হিতাকাঙ্ক্ষীর মতই তাঁকে ভর্ৎসনা করলেন।মহাপ্রভু দামোদরের কথায় মৃদু হেসে, তিনি যে তার হিতৈষী তাইই প্রকাশ করেছিলেন। কয়েকদিন পরে মহাপ্রভু স্বরূপকে ডেকে বললেন, তুমি নবদ্বীপে থেকে আমার জননীর দেখাশুনার ভার গ্রহণ কর।তোমার মত ব‍্যক্তিই এই কাজের উপযুক্ত।স্বরূপ দামোদর মহাপ্রভুর কথা শিরোধার্য‍্য করে নবদ্বীপে গমন করে শচীমাতার গৃহে তাঁদের অভিভাবকের মত বসবাস করতে লাগলেন।*
*🌻শ্রীসনাতনের শ্রীক্ষেত্রে আগমন*
*🌹শ্রীরূপ গোস্বামী কিছুকাল পুরীধামে মহাপ্রভুর সহবাসে থেকে,গৌড়দেশে গমন করলে,তাঁর জ‍্যেষ্ঠ সহোদর শ্রীসনাতন গোস্বামী, মথুরাধাম হতে পুরুষোত্তমে আগমন করলেন। তিনি এই পুণ‍্যক্ষেত্রে আসবার সময়,একাকী ঝারখন্ডের পথ দিয়ে আসবার সময় কখনও সামান্য আহারে, কখন বা অনশনে তাঁকে দিন যাপন করতে হয়েছিল।পথের আরো কষ্টের তো কথায় নাই। এই অস্বাস্থ‍্যকর ঝারিখন্ডের পথে চলতে চলতে তিনি কন্ডুরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লেন।তাঁর দেহ হতে রক্ত ও রস বাহির হতে লাগল। শরীরের এই অবস্থা দেখে তিনি ভাবলেন,এরকম কন্ডুরোগাক্রান্ত হয়ে শ্রীজগন্নাথ দর্শন ও মহাপ্রভুর কাছে বাস করা সম্ভবপর নয়।অতএব এ জীবন না রাখাই শ্রেয়স্কর বা হিতকর।সনাতন স্থির করলেন, রথযাত্রার দিন জগন্নাথদেব ও মহাপ্রভুকে দর্শন করতে করতে রথেরচাকার নিচে এ দেহপাত করে ভবধাম পরিত‍্যাগ করবেন।এই সঙ্কল্প হৃদয়ে ধারণ করে, তিনি পুরুষোত্তমে আগমন করে ভক্ত হরিদাসের কুটিরে উপস্থিত হলেন।ভক্ত হরিদাস তাঁকে দেখে ভীষণ ভীষণ আনন্দ পেলেন।শ্রীচৈতন‍্যগতপ্রাণ শ্রীসনাতন হরিদাসের কুটিরে মহাপ্রভুর আগমন অপেক্ষা করতে লাগলেন।মহাপ্রভু তাঁর অনুগত ভক্ত হরিদাসের কুটিরে প্রত‍্যেকদিনই একবার করে আসতেন।ইতিমধ‍্যে গৌরহরি এসে উপস্থিত হলেন।সনাতন ও হরিদাস ভক্তিভরে তাঁর চরণে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।মহাপ্রভু সনাতনকে দেখে, মহানন্দে তাঁকে আলিঙ্গন করতে গেলে,সনাতন পিছু সরে বললেন,প্রভু!আমাকে স্পর্শ করবেন না ; আমার সমস্ত অঙ্গ কন্ডুরসে পরিপূর্ণ।আমার মত নীচ,অধমকে স্পর্শ করবেন না।প্রেমাবতার শ্রীচৈতন‍্যদেব সে কথায় কর্ণপাত না করে তাড়াতাড়ি এগিয়ে গিয়ে সনাতনকে আলিঙ্গন করলেন।গৌরের গৌর অঙ্গ কন্ডুরসে পূর্ণ হয়ে গেল। সনাতন মহাপ্রভুর প্রেমে মুগ্ধ হয়ে গেলেন।পরক্ষণেই দেখলেন সনাতনের শ্রীঅঙ্গ পূর্ণরূপে স্বর্ণবর্ণে পরিণত হল।মহাপ্রভু সনাতনকে আলিঙ্গন করবার পর তাঁকে কাছে বসিয়ে, শ্রীরূপের পুরুষোত্তমে আগমন ও তাঁর দশমাসকাল বাস ও বল্পভের ইহলোক হতে পরলোকে গমন সব কথা বললেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 একাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০৭)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
 *শ্রীসনাতনের পুরীধামে আগমন*
  ∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*🍀সনাতন ছোট ভাইয়ের গঙ্গালাভের কথা শুনে অত‍্যন্ত ব‍্যথিত হয়ে নয়নবারি ফেলতে লাগলেন।দিন কয়েকের মধ্যে মহাপ্রভু হরিদাসের কুটিরে এসে সনাতনকে হঠাৎ বললেন, সনাতন! দেহত‍্যাগ করলেই শ্রীকৃষ্ণকে পাওয়া যায় না, দেহত‍্যাগ করলেই যদি শ্রীকৃষ্ণকে পাওয়া যেত,তাহলে আমি কোটিবার দেহত‍্যাগ করতাম।মনে রেখ, ভক্তি ছাড়া তাঁকে কিছুতেই লাভ করা যায় না। সনাতন!তুমি আমাকে আত্মসমর্পণ করেছ,এখন তোমার দেহের উপর আমার সম্পূর্ণ অধিকার ; তুমি স্ব ইচ্ছায় তোমার দেহ বিনাশ করতে পারো না।তোমার দ্বারা আমি অনেক কাজ করাব স্থির করেছি।তুমি লোকদের ভক্তিতত্ত্ব, কৃষ্ণপ্রেমতত্ত্ব ও বৈরাগ‍্যশিক্ষা দান করবে ; লুপ্ত বৃন্দাবন তীর্থ উদ্ধার করবে। আমি নীলাচলে বাস করি। কিন্তু তোমার দেহে যে আমার বিশেষ প্রয়োজন আছে ; আর তুমি এ দেহ বিনাশ করতে চাও? সনাতন মহাপ্রভুর এইসব কথা শুনে বললেন, তোমার হৃদয়ের মর্ম কে বুঝতে পারে? তুমি আমাকে যেমন নাচাও আমি তেমনই নাচতে থাকি।মহাপ্রভু তারপর হরিদাসকে বললেন,দেখ হরিদাস! সনাতন পরের দ্রব‍্য নষ্ট করতে চাই।তুমি একে এমন কাজ করতে নিষেধ করিও।হরিদাস বললেন,প্রভো!তোমার হৃদয়ের মহৎ ভাব কে বুঝতে পারে,কার জীবনের কি কাজ, তুমি না জানালে সে কিভাবে জানতে পারবে?গৌরহরি তারপর উভয়কে প্রেমালিঙ্গন দান করে ভোজনের জন্য গমন করলেন।*
*🍁জ‍্যৈষ্ঠ মাসে মহাপ্রভু যমেশ্বর টোটা নামক স্থানে গমন করলেন।সেখানে গিয়ে তিনি সনাতনকে ডেকে পাঠান।সনাতন গৌরহরির আহ্বানে পরম পুলকিত হয়ে সেখানে গমন করেন।যমেশ্বর টোটা যাবার দুইটি পথ। জগন্নাথদেবের মন্দিরের সামনে সিংহদ্বার দিয়ে ; অপরটি সমুদ্রের তট দিয়ে।সিংহদ্বার দিয়ে যে পথ,সেটি বৃক্ষচ্ছায়ায় সুশীতল ; সমুদের উপকূল দিয়ে যে পথ,সেটি রৌদ্রের উত্তাপে উত্তপ্ত হয়ে থাকে।সনাতন এই নিদাঘকালে বা গ্রীষ্মকালে মধ‍্যাহ্ন সময়ে সাগরতটে উত্তপ্ত বালুকার উপর দিয়ে সনাতন গোস্বামীর পায়ে ফোসকা পড়ে গেল।সনাতন যমেশ্বর টোটায় গমন করলে,মহাপ্রভু জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কোন পথ দিয়ে এখানে আসিলে?সনাতন বললেন,সমুদ্রের উপকূল দিয়ে। পুনঃ শ্রীচৈতন‍্যদেব জিজ্ঞাসা করলেন, সিংহদ্বারের পথ দিয়ে কেন আসিলে না? সনাতন বিনীতভাবে বললেন, "আমি নীচ জাতি,অতি অধম ; যে পথে ভক্তগণ যাতায়াত করেন,আমি সে পথ দিয়ে কিভাবে যাব?মহাপ্রভু সনাতনের এই বিনয় দৈন‍্য দেখে অত‍্যন্ত সন্তুষ্ট হলেন। কিন্তু পরে বললেন, সনাতন!মর্য‍্যাদা রক্ষা নিতান্ত আবশ্যক ; বৈষ্ণবের পক্ষে সেটি রক্ষা করা একান্ত কর্তব‍্য।*
*মর্য‍্যাদা রক্ষা না করলে লোকে উপহাস করে।এই বলে তিনি দুইবাহু প্রসারণ করে সনাতনকে জড়িয়ে ধরলেন।কিছুদিন পরে রথযাত্রা উপলক্ষ্যে গৌড় হতে ভক্তগণ নীলাচলে আসিলেন।গৌরহরি সনাতনের সঙ্গে অদ্বৈতাচার্য‍্য, নিত‍্যানন্দ প্রভৃতি ভক্তগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন।অন‍্যান‍্য বৎসরের মত গৌরভক্তগণ পরমানন্দে নৃত্য কীর্তন ও প্রীতিভোজনে সময় অতিবাহিত করলেন।রথোৎসব সমাপনান্তে গৌড়ীয় ভক্তগণ স্বদেশে চলে গেলে, মহাপ্রভু সনাতনকে বললেন,এখানে কয়েকমাস থাকো,তারপর আমি তোমায় বৃন্দাবনে পাঠিয়ে দিব।সনাতন মহাপ্রভুর সঙ্গে এক বৎসর নীলাচলে থেকে,নামকীর্তন ও ভক্তিতত্ত্ব আলোচনা করে বৃন্দাবনে যাত্রা করলেন।বৃন্দাবনে যাবার সময় গৌরহরি যে পথ দিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি সেই পথ দিয়েই বৃন্দাবন যেতে মনস্থির করলে,বলভদ্র তাঁকে সেইসব পথের কিঞ্চিৎ বিবরণ লিখে দিলেন।সনাতন নিবিড় অরণ‍্যের মধ‍্য দিয়ে হরিনামকীর্তন করতে করতে বৃন্দাবনাভিমুখে যাত্রা করলেন। সনাতন বৃন্দাবনে যাত্রা করলে, কিছুদিন পরে শ্রীরূপ ও বল্লভের পুত্র শ্রীজীব গোস্বামী এসে সেখানে উপস্থিত হলেন।ইঁনারা তিনজনে মিলিত হয়ে ভক্তিবিষয়ক বহু গ্রন্থ রচনা করে গিয়েছেন।*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌹🌻🌻🌻🌻🌻🌻
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 একাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০৮)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
             *শ্রীরঘুনাথ দাস সম্মিলন*
              ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀যে সব সাধুপুরুষ বৈষ্ণব ইতিবৃত্তকে নিজেদের ভক্তি,নিষ্ঠা, বৈরাগ‍্য প্রভৃতি মহৎ গুণের দ্বারা উজ্জ্বল করে গিয়েছেন,শ্রীরঘুনাথ দাস তাঁদের মধ্যে অন‍্যতম।প্রায় চারশ বৎসর পূর্বে ধন-জন-গৌরবে গৌরবান্বিত হিরণ‍্যদাস ও গোবর্ধনদাস নামে ঐশ্বর্য‍্যশালী দুই সহোদর বাস করতেন।শ্রীহিরণ‍্য ও গোবর্ধন হোসেন শাহর অধীনে সপ্তগ্রামের করসংগ্রহের কাজে নিযুক্ত ছিলেন।সপ্তগ্রাম হতে বার্ষিক বিল লক্ষ মুদ্রা কর আদায় হত ; এই বিশ লক্ষ সংগৃহীত মুদ্রা হতে নবাব সরকারে ১২ লক্ষ মুদ্রা দিতে হত, অবশিষ্ট আটলক্ষ মুদ্রা তাঁরা পেতেন।এই মুদ্রা এখনকার প্রায় আশীলক্ষ মুদ্রার সমতুল‍্য বলে অনুমান করা যেতে পারে।*
*🌺হিরণ‍্য দাসের কোন সন্তান সন্ততি ছিল না।গোবর্দ্ধন দাসের কেবল একমাত্র সন্তান রঘুনাথ নামে ছিলেন। রঘুনাথ এই ধনসম্পন্ন গৃহে কিভাবে যত্নের সহিত প্রতিপালিত হতেন, তা সহজেই বুঝতে পারা যায়। গোবর্দ্ধন দাস একমাত্র সন্তানকে বাল‍্যকাল হতেই রীতিমত সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা দান করিয়েছিলেন।এই অতুল ঐশ্বর্য-মধ‍্যে রঘুনাথ বাল‍্যজীবনেই সংসারের প্রতি অনাসক্তির ভাব প্রকাশ করতে লাগলেন।সন্তানের এইরকম ভাব দেখে মাতা পিতা, আত্মীয়স্বজন প্রভৃতি সকলেই চিন্তান্বিত হয়ে পড়লেন।যখন কোন মহাপরুষ মানবাত্মাতে ধর্মের নবশক্তি সঞ্চার করবার জন্য অভ‍্যুদিত হন,তখন তাঁর প্রভাব চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।শ্রীচৈতন‍্যদেব যখন সন্ন‍্যাসধর্ম অবলম্বন করে শান্তিপুরে অদ্বৈত-ভবনে আগমন করেন,তখন তাঁর দর্শনের জন্য বহুলোক সমবেত হয়েছিল। রঘুনাথ দাসও সে সময় তাঁর দর্শনের জন্য অদ্বৈত-ভবনে গিয়েছিলেন।যাবার সময় গোবর্দ্ধন দাস সন্তানের সঙ্গে কয়েকজন ভৃত‍্য ও বিবিধ দ্রব‍্যসম্ভার দিয়ে তাঁকে সুসজ্জিত দোলারোহণে পাঠিয়েছিলেন। রঘুনাথ অদ্বৈত-ভবনে এসে, কয়েকদিন সেখানে থাকবার পর শ্রীচৈতন‍্যের মধুর ভক্তিভাব দেখে ও তাঁর উপদেশ লাভ করে পরম তৃপ্তি লাভ করেছিলেন।*
*🍁রঘুনাথ গৃহে ফিরে আসিলে, বৈরাগ‍্যের যে অনলশিখা তাঁর হৃদয়ে প্রধূমিত হচ্ছিল,তা শ্রীচৈতন‍্যের সহবাসে আরো উদ্দীপ্ত হয়ে উঠিল ; তাঁর হৃদয় সততই বিষয়ের বন্ধন ছিন্ন করবার জন্য ব‍্যগ্র হয়ে পড়ল।*
*এ সময় শ্রীচৈতন‍্যদেব পুরুষোত্তমে বাস করতেন।রঘুনাথ তাঁর সঙ্গে থাকবার জন্য সময়ে সময়ে গৃহত‍্যাগ করে গোপনে পালানোর চেষ্টা করতেন।গোবর্ধন দাস তাঁকে ঘরে রাখবার জন্য প্রহরী নিযুক্ত রেখেছিলেন।তারা সবসময়ই তাঁর দিকে নজর রাখিত। রঘুনাথ বেশ কয়েকবার শ্রীক্ষেত্রে যাবার জন্য চেষ্টা করেও সফল হতে পারেননি।*
*🍀রঘুনাথের পিতা-মাতা বেশ বুঝলেন,ধনৈশ্বর্য‍্যের প্রতি রঘুনাথের কিছুমাত্র আসক্তি নাই। তখন পুত্রের মতি-গতি ফেরানোর জন্য, পুত্রকে সংসার অনুরাগী করবার জন্য এক পরমাসুন্দরী নারীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে দিলেন। কিন্তু রঘুনাথের সেইদিকেও কোন আসক্তি দেখা গেল না।রঘুনাথের উত্তরোত্তর বৈরাগ‍্য প্রণোদিত হয়ে সংসারের প্রতি বীতরাগ প্রকাশ করতে লাগলেন, তখন রঘুনাথের জননী একদিন স্বামীকে বললেন, ছেলে পাগল হয়েছে,এখন থেকে রঘুনাথকে বেঁধে রাখুা উচিত। পত্নীর কথা শুনে গোবর্দ্ধন বললেন,এই অগাধ সম্পত্তি ও পরমাসুন্দরী নারী যাকে বাঁধতে পারল না,সামান‍্য দড়ির বন্ধনে তাকে কি বাঁধতে পারা যায়?*
*🌻রঘুনাথের দিন এইভাবেই কাটতে লাগল।যাঁর প্রাণপাখী মুক্তভাবে ভক্তসঙ্গে হরিগুণ কীর্তনে দিনরাত্রি যাপন করবার জন্য ব‍্যাকুল হয়েছে, সংসারের শিকলেকি আর তাঁকে আবদ্ধ করে রাখতে পারে? রঘুনাথ এখন বিষয়ের মধ্যে বাস করেও বৈরাগী,বলবান রক্ষকদের দ্বারা ঘেরা থেকেও তিনি মুক্ত। শ্রীচৈতন‍্যদেব যখন এক বৎসর পরে পুনরায় শান্তিপুরে অদ্বৈত-ভবনে এসেছিলেন, তখন রঘুনাথ পিতাকে বললেন, শ্রীচৈতন‍্যদেবকে দর্শন করবার জন্য আমার মন চঞ্চল হয়ে উঠেছে, আপনি যদি অনুমতি দেন তাহলে দর্শন করে আসি, যদি অনুমতি না দেন তাহলে আমার এ তুচ্ছ জীবন পরিত‍্যাগ করব।তখন গোবর্দ্ধন দাস সন্তানের এই প্রবল ইচ্ছার বিরুদ্ধে আর কিছু না বলে,তাঁকে লোকজন ও নানান দ্রব‍্য সঙ্গে দিয়ে সেখানে পাঠিয়ে দিলেন। গৌরহরি রঘুনাথকে দেখে ভীষণ আনন্দ পেলেন।তিনি রঘুনাথের ব‍্যাকুলতা দেখে তাঁর হৃদয়ের অবস্থা সবই বুঝতে পেরে বললেন,এখন অনাসক্ত ভাবে সংসারে বাস করো। অন্তরে বৈরাগ‍্য রক্ষা করে বিষয় সম্ভোগ করো, পাগলের মত কোন কাজ করিও না, মর্কট বৈরাগ‍্য পরিত‍্যাগ করবে। শ্রীকৃষ্ণ তোমার বিষয়-বন্ধন মোচন করবেন।আমি যখন বৃন্দাবন দর্শন করে নীলাচলে ফিরে আসব তখন তুমি সেখানে গমন করিও।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 একাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০৯)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
             *শ্রীরঘুনাথ দাস সম্মিলন*
              +++++++++++++++++
*শ্রীরঘুনাথ দাস শ্রীচৈতন‍্যের সঙ্গে কয়েকদিন বাস করে নিজ গৃহে ফিরে এলেন। কিন্তু এখন আর আগের মত সংসার পরিত‍্যাগের জন্য কোন বাহ‍্য উদ‍্যোগ প্রকাশ করতেন না।মহাপ্রভু তাঁকে অনাসক্ত ভাবে সংসারে বাস করতে অনুমতি করেছিলেন।তাই তিনি তাঁর আদেশ শিরোধার্য‍্য করে অন্তরে বৈরাগ‍্য ধারণ করে বিষয় বিভবের মধ্যে বাস করতে লাগলেন। রঘুনাথের পরিবারের সকলে রঘুনাথের এইরকম ভাব দেখে মনে করতে লাগলেন,তাঁর হৃদয়ের বৈরাগ‍্যানল ক্রমে প্রশমিত হচ্ছে। ঘরে ফিরে আসার কয়দিন পরে শ্রীনিত‍্যানন্দপ্রভু পানিহাটী গ্রামে বৈষ্ণবধর্ম প্রচারের জন্য এসেছেন। একদিন রঘুনাথ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গমন করলে,নিতাইচাঁদ তাঁকে নানান কথার মধ্যে চিড়া মহোৎসবের আয়োজন করতে বলেন।বহুর্সখ‍্যক লোক এই মহোৎসবে যোগ দিয়ে,পরিতোষ পূর্বক দুধ,চিড়া, দধি,ক্ষীর, কলা ও মিষ্টান্ন আহার করে।এই উপলক্ষ্যে তিনি অর্থদানও করেছিলেন। তারপর নিতাইচাঁদ রঘুনাথের ব‍্যাকুলতা দেখে আশীর্বাদ করলেন যে,শীঘ্রই তোমার বিষয়-বন্ধন মোচন হোক।*
*রঘুনাথের মনের মধ্যে যে অগ্নি প্রজ্বলিত হয়েছে,তা কি আর নেভে?সেটি মানবচক্ষুর অগোচরে ধীরে ধীরে ক্রমশ উজ্জ্বলতর হয়ে উঠতে লাগল।ওদিকে শ্রীচৈতন‍্যদেব বৃন্দাবন দর্শন করে নীলাচলে ফিরে এলেন। রঘুনাথের কাছে এ সংবাদ অজানা রইল না ; তাঁর প্রাণ শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভুকে দেখবার জন্য ব‍্যাকুল হয়ে পড়লেন। তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না।একদিন যখন সকলে রাত্রিতে গভীর নিদ্রায় নিদ্রিত আছেন,তখন রঘুনাথ শয‍্যা পরিত‍্যিগ করে গৃহত‍্যাগ করে নীলাচলে যাত্রা করলেন।সাধারণ পথ ধরে যেতে গেলে পাছে তাঁর উদ্দেশ্য সাধনের বিঘ্ন উপস্থিত হয়,তারজন‍্য তিনি জঙ্গলাকীর্ণ পথ ধরে চলতে লাগলেন।এদিকে সকালবেলা রঘুনাথের দেখা না পেয়ে পরিবারের মধ্যে কান্নার রোল উঠিল।সকলেই বুঝলেন রঘুনাথ পালিয়ে গিয়েছে।সে সময় গৌড়ীয় ভক্তদের নীলাচলে যাবার সময়। সেজন‍্য গোবর্ধন দাস ভক্তদের পরিচালক শিবানন্দ সেনের নামে একটি পত্র দিয়ে কয়েকজন লোক তাঁর কাছে পাঠিয়ে দিলেন।গোবর্ধন দাসের লোকেরা বহুদূর গিয়ে নীলাচলগামী গৌড়ীয় ভক্তদের দেখা পায়।শিবানন্দ সেনের হাতে গোবর্ধন দাসের পত্র দিলেন।শিবানন্দ তদুত্তরে জানালেন, রঘুনাথ তাঁদের সঙ্গে নাই।প্রেরিত লোকেরা শিবানন্দ সেনের পত্র নিয়ে সপ্তগ্রামে ফিরে এলে হিরণ‍্য ও গোবর্ধন দাসের পরিবারের মধ্যে বিষাদের ছায়া পড়েছে।মাতা পিতা আত্মীয়স্বজনেরা দুঃখে আকুল হয়ে পড়লেন।রঘুনাথের অল্পবয়স্কা পত্নীর হৃদয়ে যে দারুণ যন্ত্রণা উপস্থিত হল,তা বলবার নহে।*
*🍀এদিকে রঘুনাথ দুর্গম পথ দিয়ে চলতে লাগলেন।কি খাবেন,সে চিন্তা তাঁর নাই।কোনদিন আহার মিলিত, কোনদিন বা অনাহারেই দিন যাপন করতেন।এইভাবে তিনি তিরিশদিনের পথ দ্বাদশ দিনে নীলাচলে উপনীত হলেন।এই দ্বাদশ দিনের মধ্যে তিনি তিনদিন মাত্র আহার করে ছিলেন।নীলাচলে শ্রীচৈতন‍্যদেব ভক্তগণসহ উপবিষ্ট হয়ে কৃষ্ণকথায় রত ছিলেন,এমন সময় রঘুনাথ সেখানে উপস্থিত হলেন।শ্রীগৌরাঙ্গ রঘুনাথকে দেখে আনন্দ চিত্তে ও প্রেমভরে তাঁকে আলিঙ্গন করলেন, এবং বললেন, শ্রীকৃষ্ণ তোমাকে বিষয়-কূপ হতে মুক্তিদান করলেন,তাঁর কি অপার করুণা।*
🦋🦚🙏🌷🪔🪷🌸🙏🌷🪔🦚🦋🪷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 একাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১০)🙏শ্রীগৌরাঙ্গের চরিতসুধা*
               *শ্রীরঘুনাথ দাস সম্মিলন*
               ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌺রঘুনাথ অনাহারে ও পথশ্রমে অত‍্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব তাঁকে অত‍্যন্ত শ্রান্ত দেখে, স্বরূপ দামোদরকে বললেন, রঘুনাথ পথে ভীষণ কষ্ট পেয়েছে, আমি তোমার হাতে অর্পণ করলাম। তুমি রঘুকে ভালভাবে আহারাদি করাইয়ে তাঁর শরীরকে সুস্থ করতে চেষ্টা করবে।দামোদর মহাপ্রভুর কথা শুনে, রঘুনাথকে নিয়ে বিশেষ যত্ন করে,তাঁর শরীর সুস্থ করতে যত্নবান হলেন। এবং নানান খাদ‍্য দ্রব‍্য আনিয়ে যত্ন সহকারে পূর্ণ সুস্থ করে তুললেন। কিন্তু পাঁচদিন পরে এরকম সুস্বাদু ভোজন আর তাঁর ভাল লাগল না ; তিনি মনে করলেন,এতে বিলাসিতা বাড়বে। তিনি সেজন‍্য জগন্নাথদেবের মন্দিরের সিংহদ্বারে গিয়ে অন‍্যান‍্য ভিখারীর মত ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতে লাগলেন।লোকে যখন শুনল,অতি ধনাঢ‍্যঘরের সন্তান রঘুনাথ এইভাবে সাধারণ লোকের মত ভিক্ষা করছেন, তখন সকলে তাঁকে বেশী পরিমাণে কিছু ব‍্যক্তি খাদ‍্যসামগ্রী প্রদান করতে আরম্ভ করল।রঘুনাথ সেজন‍্য সিংহদ্বারে ভিক্ষা করা বন্ধ করে দিলেন।*
*একদিন রঘুনাথ মহাপ্রভুর নিকট উপদেশপ্রার্থী হলে,তিনি বললেন,গ্রাম‍্য কথা শুনবে না,উগ্র আহার করবে না, সর্বদা শ্রীরাধাকৃষ্ণের উপাসনাতেই রত থাকবে। অতি সংক্ষেপে তোমাকে এই কয়টি কথা বললাম।এই সব কথা বলে তিনি এই শ্লোকটি বললেন=*
*🌷তৃণাদপি সুনীচেন তরোরিব সহিষ্ণুনা।*
*🌷অমানিনা মান দেন কীর্তনীয় সদা হরি।।*
*🌹তৃণ হতেও নীচ,বৃক্ষের মত সহিষ্ণু (সহনশীল, ধৈর্য‍্যশীল ও ক্ষমাশীল)হবে, এবং নিজে অমানী হয়ে অপরকে সম্মান দান করবে।*
*🌻কিছুদিন পরেই গৌড়ীয় ভক্তগণ নীলাচলে আসতে লাগলেন।মহাপ্রভু অদ্বৈতাচার্য‍্য,শ্রীবাস পন্ডিত প্রভৃতির সহিত রঘুনাথের পরিচয় করিয়ে দিলেন। সেখানে শিবানন্দ সেন রঘুনাথকে বললেন যে, তোমার পিতা তোমার খোঁজের জন্য দশজন লোক পাঠিয়েছিলেন, এবং আমার নামে একটি পত্র দিয়েছিলেন। কিন্তু তোমার কোন খোঁজখবর না পেয়ে,তারা নিরাশ মনে ফিরে গিয়েছে।আমিও তোমার তোমার বিষয়ে কিছু অবগত নই বলে তোমার পিতার পত্রের উত্তর দিয়েছি।*
*যাইহোক,রথোৎসব আরম্ভ হ'ল। রঘুনাথ দাস ভক্তদের নৃত্য কীর্তনাদি দর্শন করে পরম প্রীতি লাভ করলেন।ভক্তগণ চারমাস কাল নীলাচলে থেকে,স্বদেশে ফিরে গেলেন।গোবর্ধন দাসের নিকট নিকট রঘুনাথের নীলাচলে পৌঁছিবার কথা উপস্থিত হল। এইকথা শুনে রঘুনাথের জন্য চারশ মুদ্রা পাঠিয়ে দিলেন।রঘুনাথ প্রথমে নিতে অস্বীকার করেছিলেন, পরে তিনি এই অর্থের সদ্ব‍্যবহার করবার জন্য মাসে দুইদিন করে, শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভুকে নিমন্ত্রণ করতেন।এই নিমন্ত্রণে অষ্টপণ কড়ি ব‍্যয় হত। কিছুদিন পরে রঘুনাথের মনে হল, বিষয়ীর অর্থে মহাপ্রভুকে এরকম ভাবে নিমন্ত্রণ করে সেবা দেওয়া উচিত নয়, সেজন‍্য তিনি মহাপ্রভুকে সেবা দেওয়া বন্ধ করে দিলেন।একদিন মহাপ্রভু স্বরূপকে জিজ্ঞাসা করলেন,রঘুনাথ কেন আমায় আর নিমন্ত্রণ করে না?স্বরূপ বললেন, রঘুনাথ বলেছেন, আমি বিষয়ীর দ্রব‍্য নিয়ে মহাপ্রভুকে নিমন্ত্রণ করি, ও নিমন্ত্রণে গৌরহরির মন তৃপ্ত হয় না ; কেবল আমার অনুরোধে তিনি এ নিমন্ত্রণ গ্রহণ করে থাকেন, এজন‍্য আমি মহাপ্রভুর সেবা বন্ধ করেছি।শ্রীচৈতন‍্যদেব স্বরূপের কথা শুনে ঈষৎ হেসে বললেন,রঘুনাথ ঠিকই করেছে ; "বিষয়ীর অন্নগ্রহণে মন মলিন হয়, এবং মন মলিন হলে, কৃষ্ণভজনের ব‍্যাঘাত জন্মে।*
*এই পরমভক্ত বৈরাগ‍্য পুরুষ রঘুনাথ পুরুষোত্তমে বাস করে প্রত‍্যহ কীর্তন ও সাধন ভজনেই রত থাকতেন।আহার নিদ্রায় প্রায় তাঁর চারদন্ড সময় অতিবাহিত হত, (ষাট দন্ডে দিনরাত)শ্রীচৈতন‍্যদেবের অপ্রকটের পরও তিনি কিছুদিন শ্রীক্ষেত্রে বাস করেছিলেন, কিন্তু মহাপ্রভুর শোকে এতঅধীর হয়ে পড়েছিলেন যে, শেষে তিনি বৃন্দাবনে গমন করে,গোবর্ধন পর্বতের উপর হতে ঝাঁপ দিয়ে নিচে পড়ে দেহত‍্যাগ করবেন, এই স্থির করে ছিলেন। রঘুনাথ বৃন্দাবনে পৌঁছিলে শ্রীরূপ-সনাতন তাঁর এই সঙ্কল্প অনুভব করতে পেরে,তাঁকে এই কর্ম হতে প্রতিনিবৃত্ত (ক্ষান্তি, ক্ষান্ত হয়েছে এমন) করলেন। রঘুনাথ অবশিষ্ট জীবন বৃন্দাবনে বাস করে গ্রন্থাদি প্রণয়ন ও নাম-ধ‍্যান ও নামকীর্তনে অতিবাহিত করেন।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতকার শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রীরঘুনাথ দাসের শিষ‍্যত্ব স্বীকার করেছিলেন এবং ইনি তাঁরই নিকট হতে মহাপ্রভুর জীবনের অনেক বিষয়বস্তু জানতে পেরে ছিলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীগৌরাঙ্গ চরিত 📖 দ্বাদশ ভাগ 🏵️ শ্রী শশীভূষণ বসু ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/gouranga12.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧





শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/swarup.html


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 প্রথম ভাগ 🌻 ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/swarup.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০১)🙌শ্রীস্বরূপদামোদর🙌*
          *👣শ্রীচরণান্তিকে👣*
          ☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*লেখক=ভক্তপ্রবর শ্রীরসিকমোহন চক্রবর্তী,গ্রন্থ মূল‍্য ১ টাকা,৪১৯ গৌরাব্দ।*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🙏শ্রীশ্রীমহাপ্রভু দক্ষিণদেশ ভ্রমণ করে নীলাচলে ফিরে এসেছেন। ভক্তগণের চকোরচিত্ত আবার বহুদিন পরে তাঁর শ্রীমুখচন্দ্র দেখে আনন্দে বিভোর হ'ল।তিনি দক্ষিণ হতে এসেছেন,চতুর্দিকে এ সংবাদ প্রচারিত হওয়ামাত্রই দূরদেশান্তর হতে ভক্তগণ নীলাচলভিমুখে যাত্রা করলেন।*
*এই সময়ে শ্রীকাশীধাম হতে এক তরুণ সন্ন‍্যাসী ব‍্যাকুলভাবে নীলাচলের অভিমুখে ধাবিত হলেন।তাঁর মুখটি কৃষ্ণপ্রেমে ঢল ঢল,নয়নযুগল সজল, স্নিগ্ধ অথচ অলোকসামান‍্যপ্রতিভাব‍্যঞ্জক। মুন্ডিত মস্তক,পরিধানে গৈরিকবসন,মুখে সতত সুমধুর কৃষ্ণনাম,আর নয়নে প্রেমধারা।সন্ন‍্যাসীর দিগ্বিদিক্ জ্ঞান নাই,দিনরাত্রি বোধ নাই।ইনি সহসা নীলাচলে এসে শ্রীগৌরাঙ্গচরণ সামনে অপরাধীর মত কৃতাঞ্জলীপুটে দাঁড়িয়ে প্রেম গদগদস্বরে ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে একটি স্তুতি শ্লোক পাঠ করতে লাগলেন।তখন তাঁর শরীর রোমাঞ্চিত হচ্ছিল,আর বায়ু-তাড়নে কদলীকান্ডের মত কাঁপছিল।নয়নাশ্রু মুক্তামালার মত গাল বেয়ে সন্ন‍্যাসীর উজ্জ্বল বক্ষ ভিজে যাচ্ছিল।শ্লোকটি পঅতে পড়তে এই সুঠাম দেহ তরুণ সন্ন‍্যাসী শ্রীগৌরাঙ্গচরণে সাষ্টাঙ্গে প্রণত হয়ে পড়লেন।মহাপ্রভু তাঁকে ধরে নিজের বুকে নিয়ে গাঢ় আলিঙ্গন করলেন।প্রেমাশ্রুতে উভয়ই শ্রীমূর্তি তখন ভিজে পরিপূর্ণ।আর উভয়ের অরুণ ওষ্ঠ কম্পিত হতে লাগল।উভয়ে উচ্ছলিত প্রেমে ডুবে পড়লেন, অচেতন হলেন।যেন হঠাৎ গঙ্গা যমুনার মিলন হ'ল।ভক্তগণ এই ভাব দেখে বিহ্বল হলেন।ইনি যে দয়া-প্রার্থনাসূচক স্তুতি-শ্লোকটি পাঠ করে শ্রীমহাপ্রভুর বন্দনা করছিলেন,তা ইঁনার স্বরচিত।শ্লোকটি অতি মধুর ও উচ্ছসময়,যেন "দয়া" শব্দের মন্দাকিনীতরঙ্গে উচ্ছলিত। সে শ্লোকটি এই=*
*হেলোদ্ধূলিতখেদয়া বিশদয়া প্রোন্মীলদামোদয়া,*
*শাম‍্যচ্ছাস্ত্রবিবাদয়া রসদয়া চিত্তার্পিতোন্মদয়া।*
*শশ্বদ্ভক্তি বিনোদয়া সমদয়া মাধুর্য‍্যমর্য‍্যাদয়া,*
*শ্রীচৈতন‍্য দয়ানিধে!তব দয়া ভুয়াদমন্দোদয়া।।*
*🌻এই শ্লোকের টীকাকার এর ভাব-পুষ্টির জন্য শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রামৃত হতে কয়েকটি শ্লোক উদ্ধৃত করেছেন।আমরাও সেই লোভে আকৃষ্ট হয়ে তাঁর পথের কিঞ্চিৎ বেশী দূর অনুসরণ করছি।অমঙ্গল নাশ সম্বন্ধে শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রামৃতের একটি শ্লোক এই যে =*
*উচ্চৈর স্ফালয়ন্তং করচরণমহো হেমদন্ড প্রকান্ডো,*
*বাহু প্রোদ্ধৃত‍্য সত্তান্ডব তরল তনুং পুন্ডরীকায়তাক্ষম্।*
*বিশ্বস‍্যামঙ্গলঘ্নং কিমপি হরি হরীত‍্যুন্মদানন্দনাদৈ,*
*র্বন্দে তং দেবচূড়ামণিমতলরসাবিষ্ট চৈতন‍্যচন্দ্রম্।।*
*🌹এর সংক্ষিপ্ত মর্ম শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত হতে উদ্ধৃত করা যাচ্ছে যথা=*
*🌷বাহু তুলি হরি বলি প্রেমদৃষ্টে চায়।*
*🌷করিয়া কলুষ নাশ প্রেমেতে ভাসায়।।*
*🌻প্রেমদান সম্বন্ধে শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রামৃত বলেন=*
*🌷দৃষ্টঃ স্পৃষ্টঃ কীর্তিতঃ সংস্মৃতো বা,*
*🌷দূরস্থৈরপ‍্যানতো বাদৃতো বা।*
*🌷প্রেম্নঃ সারং দাতুমীশো যএকঃ,*
*🌷শ্রীচৈতন‍্যং নৌমি দেবং দয়ালূম্।।*
*🙏যাঁর শ্রীমূর্তি দর্শন ও স্পর্শ করলে,যাঁর গুণানুবাদ কীর্তন করলে, যাঁর উদ্দেশ্য করে দূর হতে নমস্কার করলে,যিনি প্রেমসার প্রদান করে থাকেন,সেই দয়াময় মহাপ্রভুকে নমস্কার।*
*🌹তাঁর "দয়া" সম্বন্ধে শ্রীচন্দ্রামৃত আরও বলেন=*
*পাত্রাপাত্রবিচারণাং ন কুরুতে ন স্বস্পরং বীক্ষ‍্যতে,*
*দেয়াদেয়বিমর্শকো নহি নবা কাল প্রতীক্ষঃ প্রভুঃ।*
*সদ‍্যো যৎ শ্রবণেক্ষণ প্রণমনধ‍্যানদিনা দুর্লভং,*
*দত্তে ভক্তিরসং সএব ভগবান্ গৌরং পরং মে গতিঃ।*
*পাপীয়ানপি হীনজাতি রপি দুঃশীলোহপি দুষ্কর্ম্মণাং,*
*সীমাপি শ্বপচধমোহপি সততং দুর্ব্বাসনাঢ‍্যোপি যঃ।*
*দুর্দ্দেশপ্রভবোহপি তত্র বিহিতা বাসোহপিদুঃসঙ্গতো,*
*নষ্টোহপ‍্যুদ্ধৃত এব যেন কৃপয়া তং গৌরমেবাশ্রয়ে।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ যিনি পাত্রাপাত্রের বিচার করেন না,আপন-পর দেখেন না,দেয় অদেয়ের বিচার করেন না,কালাদি প্রতীক্ষা না করে শ্রবণ দর্শন প্রণাম ও ধ‍্যানাদি দ্বারা দুর্লভ ভক্তিরস ক্ষণমাত্রেই যিনি প্রদান করেন,কেবল সেই গৌরহরিই আমাদের গতি।অতি পাপী,হীনজাতি,দুষ্টস্বভাব,অসীম দুষ্কর্মী চন্ডাল হতে অধম।সতত দুর্বাসনাযুক্ত,কুদেশবাসী এবং অসৎ সংসর্গী ইত্যাদি সমস্ত নষ্ট ব‍্যক্তিদেরকে যিনি কৃপা করে উদ্ধার করেছেন,সেই গৌরহরিই আমার আশ্রয়।*
*🌺মহাপ্রভুর দয়ায় শাস্ত্রবিবাদ প্রশমন সম্বন্ধে শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রামৃত বলেন=*
*স্ত্রী পুত্রাদি কথাং জহুর্ব্বিবয়িণঃ শাস্ত্র প্রবাদং বুধা,*
*যোগীন্দ্রা বিজহুর্মরুন্নিয়মজক্লেশং তপস্তাপসাঃ।*
*জ্ঞানাভ‍্যাসবিধিং জহুশ্চ যতয়শ্চৈতন‍্য চন্দ্রে পরা,*
*মাবিম্বুর্ব্বতি ভক্তিযোগ পদবীং নৈবন‍্যে আসীদ্রনঃ।।*
*🔷অর্থ‍্যাৎ শ্রীচৈতন‍্য পরম ভক্তিযোগ পদবী প্রকাশ করলে পর অন‍্যান‍্য রস তিরোহিত হল।বিষয়ে হাবুডুবু ব‍্যক্তিরা স্ত্রী পুত্রাদির কথা বিস্মৃত হল,পন্ডিতেরা শাস্ত্র বিচার ত‍্যাগ করে তাঁর শ্রীচরণে এসে শরণ নিলেন,যোগীরা যোগ,তপস্বীরা তপশ্চর্য‍্যা,যতিগণ নির্ভেদব্রহ্মানুসন্ধান প্রভৃতি ত‍্যাগ করে শ্রীভগবানে মধুর প্রেমানন্দে বিভোর হলেন। আর তখন=*
*অভূদ্গেহে গেহে তুমুলহরি-সঙ্কীর্ত্তনো রবো,*
*বভৌ দেহে দেহে বিপুল পুলকাশ্রু ব‍্যতিকরঃ।*
*অপি স্নেহে স্নেহে পরম মধুরোৎকর্ষ পদবী,*
*দবীয়াস‍্যাস্নায়াদপি জগতি গৌরোহবতরতি।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ শ্রীগৌরহরি অবতীর্ণ হলে ঘরে ঘরে সঙ্কীর্তনের তুমুল রব উত্থিত হল,প্রতি দেহই বিপুল রোমাঞ্চ ও প্রেমাশ্রু ধারায় শোভিত হল, এবং বেদের অগোচর মধুর হতেও সুমধুর প্রেম পথ প্রকাশিত হল।*
*ভক্তগণ এই প্রেমমাধুর্য‍্য লাভ করে ব্রহ্মানন্দ পর্যন্ত তুচ্ছ করলেন। শ্রীপ্রবোধানন্দ শ্রীপাদের বচন উদ্ধৃত করেই এই কথা সপ্রমাণ করেছি। যথা=*
*কৈবল‍্যং নরকায়তে ত্রিদশপূরাকাশপুষ্পয়াতে,*
*দুর্দ্দান্তেন্দ্রিয় কালসর্পপটলী প্রোৎখাতদংষ্ট্রায়তে।*
*বিশ্বং পূর্ণ সুখায়তে বিধিমহেন্দ্রাদিশ্চ কীটারতে,*
*যৎকারুণ‍্য-কটাক্ষ-বৈভববতাং তংগৌরমেবস্তুমঃ।।*
*🔶অর্থ‍্যাৎ যাঁর করুণা-দৃষ্টিরূপ বৈভববিশিষ্ট ব‍্যক্তিগণের সম্বন্ধে নির্বাণ মুক্তি নরকের মত,স্বর্গ আকাশ কুসুমের মত,ইন্দ্রিয়গণ উৎখাতদন্ত কালসাপের মত,জগৎ পূর্ণ সুখের ন‍্যায় এবং ব্রহ্মাদির বৈভব তুচ্ছ পদার্থের মত প্রতিভাত হয়, আমরা সেই শ্রীগৌরহরির স্তব করি।"হেলদ্ধূলিত খেদয়া" শ্লোকে এইসব ভাবের বীজ নিহিত আছে।*
*🌻তরুণ সন্ন‍্যাসীর এই সারগর্ভ মহাভক্তিপূর্ণ স্তুতিটি গৌরভক্ত মাত্রেরই অমূল‍্য কন্ঠহার।তাই এ জায়গায় সেইসময়ের সন্ন‍্যাসীকুলের মুকুটমণি শ্রীপ্রবোধানন্দ সরস্বতীপাদের কিছু শ্লোক উদ্ধৃত করে আত্মশোধন করিলাম মাত্র।ফলে "হেলদ্ধূলিত খেদয়া" স্তুতি শ্লোক পাঠ করলে সমগ্র শ্রীচন্দ্রামৃত উদ্ধৃত করে এর রস-পুষ্টি করতে ইচ্ছা হয়।এই শ্লোকটিতে যে মহাশক্তি নিহিত আছে,ভক্তগণের তা অজানা নাই।এর প্রতিপদই ভক্তি-রসের উদ্দীপক,দয়া প্রার্থনার ব‍্যাকুর উচ্ছাস।ভক্তগণের কাছে তরুণ সন্ন‍্যাসীর এই শ্লোকটি ভক্তিসাধনের মহামন্ত্র বলেই উপলব্ধ হয়।*
*🌺প্রথম শ্লোকটির অর্থ= অর্থ‍্যাৎ হে শ্রীচৈতন‍্য দয়ানিধি!তোমার দয়ায় অতি সহজেই লোকের সর্বসন্তাপ দূরে যায়, চিত্ত নির্মল হয়, এবং হৃদয়ে প্রেমানন্দের প্রকাশ হয়।তোমার দয়ায় শাস্ত্রাদির বিবাদ শান্ত হয় এবং সেটি চিত্তে গাঢ় রস সঞ্চার করে প্রগাঢ় মত্ততার সৃষ্টি করে।এটি হতেই সবসময় ভক্তি সুখলাভ ও সর্বত্র সমদর্শন লাভ হয়,এটি সকল মাধুর্য‍্যের সার।তুমি কৃপা করে এ অধমে দয়া প্রকাশ কর।*
*🌳নবীন সন্ন‍্যাসী এই স্তুতি পাঠ করে কাঁপতে কাঁপতে মহাপ্রভুর শ্রীচরণকমলকর্ণিকাপ্রান্তে সাষ্টাঙ্গে প্রণিপাত করে প্রেমাশ্রু ধারায় মৃত্তিকা ভিজিয়ে দিলেন।মহাপ্রভু তখন তাঁকে উঠিয়ে আলিঙ্গন করলেন।উভয়ের স্পর্শে উভয়ে প্রেমাবেশে অবশ ও অচেতন হলেন, কিছুক্ষণ পরে একটু স্থির হয়ে মহাপ্রভু বললেন---*
*🌷তুমি যে আসিবা আমি স্থপ্নেহ দেখিল।*
*🌷ভাল হৈল অন্ধ যেন দুই নেত্র পাইল।।*
                               *(চৈঃচঃ)*
*মহাপ্রভুর কৃপামধুর-বচনামৃত শুনে সজলনয়ন সন্ন‍্যাসী বললেন----*
*•••••••••• "প্রভু মোর ক্ষম অপরাপ।*
*তোমা ছাড়ি অন‍্যত্র গেনু করিনু প্রমাদ।।*
*তোমার চরণে মোর নাহি প্রেমলেশ।*
*তোমা ছাড়ি পাপী মুঞি গেনু অন‍্য দেশ।।*
*মুঞি তোমা ছাড়িনু,তুমি মোরে না ছাড়িলা*
*কৃপিরজ্জু গলে বান্ধি চরণে আনিলা।।*
*ফলতঃ শ্রীগৌরাঙ্গ-বিরহে এই যুবক পাগলের মত হয়েছিলেন,সমগ্র সংসার তাঁর কাছে অসার বলে বোধ হয়েছিল,তখন তাঁর স্বকীয় জ্ঞান থাকলে তিনি সন্ন‍্যাসের জন্য ব‍্যাকুল না হয়ে সোজাসুজি শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর চরণের অভিমুখেই ধাবিত হতেন। কিন্তু তখন সে জ্ঞান আর তাঁর ছিল না।তাই তিনি নিজকে মহাপরাধী মনে করে উক্ত শ্লোকে প্রার্থনা করলেন।মহাপ্রভু বললেন,"তুমি এসেছ,বড় ভাল হ'ল,অন্ধব‍্যক্তি যুগপৎ দুইটি নয়ন পেলে তার যেমন আনন্দ হয়,তোমাকে পেয়ে আমার সেরকম আনন্দ অনুভব হচ্ছে।*
*একান্ত ভক্ত সন্ন‍্যাসীটি এতে বুঝলেন মহাপ্রভু অনেক আগে থেকেই তাঁর শ্রীচরণান্তিকে তাঁকে দেখতে বাসনা করেছিলেন। তিনি যে এর আগে তাঁর শ্রীচরণ সমীপে কেন উপনীত হননি,এইজন‍্য তিনি নিজকে অপরাধী বলে মনে করতে লাগলেন। কিন্তু ভক্তবৎসল গৌরসুন্দরের স্নেহমধুর কথায় অচিরেই তাঁর চিত্ত প্রসন্ন হল। অতঃপর তিনি শ্রীমন্নিত‍্যানন্দ প্রভুর বন্দনা করায় প্রেমময় নিতাই তাঁকে আলিঙ্গন করলেন। সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য প্রভৃতি প্রধানতম গৌরভক্তগণের সঙ্গে মিলন হল।ইনি এই সময় হতে প্রভুর নিত‍্যসহচররূপে তাঁর শ্রীচরণাবিন্দের মকরন্দ আস্বাদ ভোগের অধিকারী হলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/swarup.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০২)🙌শ্রীস্বরূপদামোদর🙌*
  *এই প্রেমমূর্তি সন্ন‍্যাসীটী কে?*
  ••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🍀এই প্রেমমূর্তি সন্ন‍্যাসীটি কে? আমরা তাঁর সবিশেষ পরিচয় জানি না,তবে তাঁর বিষয়ে দুই-একটি কথা বলব।শ্রীপুরুষোত্তম আচার্য‍্য নামক একটি বালক শ্রীধাম নবদ্বীপে বাস করে বিদ‍্যা-অধ‍্যয়ন করতেন।শ্রীধাম তখন শ্রীমহাপ্রভুর ভক্তিরসে টলমল হয়ে উঠেছেন।পুরুষোত্তম প্রথমতঃ শ্রীনিমাই পন্ডিতের সৌন্দর্য্যে ও অসাধারণ পান্ডিত‍্যে, এবং কি-জানি-কেমন এক আকর্ষণে,তাঁর চরণে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। পুরুষোত্তমের রূপলাবণ‍্যে সকলের চিত্ত তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল।বালক অতি অল্পকালের মধ্যেই সর্ববিদ‍্যাপারদর্শী হয়ে উঠলেন। ইঁনার কোমল হৃদয়ে শ্রীগৌরাঙ্গ-ভক্তি-মন্দাকিনীর পূর্ণধারা অলোকসাধারণ পান্ডিত‍্যের সংমিশ্রণে এক অপূর্ব প্রবাহের সৃষ্টি করে তুলল।নম্রতা ও দীনতা ভক্তির চিরসহচরী।বিনয়াচ্ছাদিত পান্ডিত‍্যে ও অতুলনীয় সৌন্দর্য্যে পুরুষোত্তম নবদ্বীপবাসীর গাঢ় প্রীতি আকর্ষণ করলেন।এছাড়াও তাঁর কোকিলকন্ঠবিনিন্দিত কন্ঠরব শুনে সকলেই তাঁকে ভাল বাসতেন।তিনি যখন এই সুধামাখা কন্ঠে গান করতেন,সে গান শুনে সকলের মন বিমোহিত হত।শ্রীমান্ পুরুষোত্তম নবদ্বীপে শ্রীগৌরাঙ্গের কাছে সবাদা সলজ্জভাবে বিচরণ করতেন। কিন্তু এক মুহূর্ত তাঁকে না দেখলেই তাঁর হৃদয় অধীর হত,অথচ লোকে তা জানতে পারত না।*
*যেদিন মহাপ্রভু সন্ন‍্যাস গ্রহণ করশেন,সেইদিন হতেই পুরুষোত্তমের হৃদয় বিষণ্ণ হয়ে পড়ল,তাঁর আহার নিদ্রা দূর হল, তিনি যে শাস্ত্রপাঠ এত ভালবাসতেন,আর সে গ্রন্থগুলিও স্পর্শ করলেন না,অনবরত তাঁর দুইনয়ন দিয়ে অশ্রুধারা পড়তে পড়তে বক্ষ ভিজে যেতে লাগল,তথাপি তাঁর হৃদয়ের আগুন নিভিল না।গৌরশূন‍্য নদীয়া পুরুষোত্তমের কাছে বিষেরমত বলে বোধ হল।নবদ্বীপ নিরানন্দ,সে কীর্তন নেই,সে হরিধ্বনি নেই,সে প্রেমপ্রবাহ নাই।ভক্তগণ মৃত ব‍্যক্তির মত ঘরে ঘরে পড়ে রইলেন।গৌরবিরহে সমগ্র নদীয়া শোকের অশ্রুতে ডুবে গেল।পুরুষো‍ত্তম কিছুতেই গৌরশূন‍্য নদীয়ায় তিষ্ঠিতে না পেরে শ্রীমহাপ্রভুর পথেরই অনুসরণ করবেন বলিয়া স্থির করলেন।একদিন কাউকে কিছু না বোলে হৃদয়ের পূর্ণ আবেশে পাগলের মত শ্রীপুরুষোত্তম আচার্য‍্য কাশী অভিমুখে যাত্রা করলেন।পুরুষোত্তের সংসার বাসনা একেবারেই তিরোহিত হয়েছিল।সন্ন‍্যাসীক্ষেত্র বারাণসীর পবিত্র-সলিলা জাহ্নবী-তীরের স্নান করতে আসা লোকজন হঠাৎ একদিন দেখতে পেলেন,একটি উজ্জ্বলকান্তি তরুণ বয়স্ক বাঙ্গালী যুবক সংসার-বাসনা বিসর্জন করে সন্ন‍্যাস গ্রহণ করতে তৈরী হচ্ছেন,নাপিত তাঁর চাঁচর কেশ মন্ডন করছে।সন্ন‍্যাসার্থিগণের পুণ‍্যতীর্থ বারাণসকতে এ দৃশ্য নতুন বা বিস্ময়জনক নয়,তথাপি দর্শকমাত্রেরই হৃদয় এতে বিগলিত হয়ে গেল।পুরুষোত্তমের মস্তক মুন্ডিত হল।গঙ্গাজলে স্নান করে তিনি সন্ন‍্যাসবেশচিত একটি গৈরিক বসন পরিধান করলেন।তাঁর মুখকান্তি দেখে কাশীবাসীর বোধ হল যেন দ্বিতীয় শঙ্করাচার্য‍্য ভক্তিপ্রবাহ নিয়ে কাশীনগরীতে এসে উপনীত হলেন। সন্ন‍্যাসী চৈতন‍্যানন্দের কাছে ইনি সন্ন‍্যাস গ্রহণ করলেন=*
*🌷প্রভুর সন্ন‍্যাস দৈখি উন্মত্ত হইয়া।*
*🌷সন্ন‍্যাস গ্রহণ কৈল বারাণসী গিয়া।।*
                         *(শ্রীচৈঃচঃ)*
*🌻নির্বিঘ্নে ও নিশ্চিন্তে শ্রীকৃষ্ণ-ভজনই ইঁনার সন্ন‍্যাস গ্রহণের উদ্দেশ্য, সুতরাং ইনি যোগপাট্টাদি গ্রহণ করলেন না।ইঁনার সন্ন‍্যাসাশ্রমের নাম হল "স্বরূপ"।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/swarup.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৩)🙌শ্রীস্বরূপদামোদর🙌*
*নামকরণ ও গুণাবত্তার পরিচয়*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*পুরুষোত্তমে নীলাচলে এসে সাধারণত "স্বরূপ" নামেই অভিহিত হতেন।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে প্রভৃতি গ্রন্থে কোথাও "স্বরূপ" কোথাও "দামোদর" কোথাও বা স্বরূপদামোদর" আবার কোথাও "দামোদর স্বরূপ"নামে ইঁনার পরিচয় পাওয়া যায়।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের স্থলে স্থলে নামের নিরুক্তি ও পান্ডিত‍্যের পরিচয় সূত্রবৎ ভাষায় বর্ণিত হয়েছে যথা----*
*🌷গুরু ঠাঁই আজ্ঞা মাগি আইলা নীলাচলে।*
*🌷রাত্র দিন কৃষ্ণপ্রেম আনন্দ বিহ্বলে।।*
*🌷পান্ডিত‍্যের অবধি কথা নাহি কার সনে।*
*🌷নির্জনে রহেন সব লোকে নাহি জানে।।*
*🌷কৃষ্ণরস তত্ত্ববেত্তা "দেহ প্রেম রূপ।*
*🌷সাক্ষাৎ মহাপ্রভুর দ্বিতীয় স্বরূপ।।*
*🌹যিনি ভক্তসমাজে মহাপ্রভুর "দ্বিতীয় স্বরূপ" বলে প্রতিভাত হলেন, তাঁর সন্ন‍্যাস গুরু চৈতন‍্যানন্দের হৃদয়ে বুঝি এই ঘটনার পূর্বাভাসের অস্ফুট আলোক প্রতিফলিত হয়েই এই নবীন সন্ন‍্যাসীর "স্বরূপ" নাম রাখবার প্রবৃত্তি জন্মিয়েছিল।ইঁনার ভিন্ন ভিন্ন নাম ও গুণবত্তের পরিচয় শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের অনেক জায়গায় দেখতে পাওয়া যায় যথা----*
*🌷গ্রন্থ শ্লোক গীত কেহো প্রভু আগে আনে।*
*🌷স্বরূপ পরীক্ষা কৈলে পাছে প্রভু শুনে।।*
*🌷ভক্তি সিদ্ধান্ত বিরুদ্ধ যেই আর রসাভাস।*
*🌷শুনিতে না হয় প্রভুর চিত্তের উল্লাস।।*
*🌷অতএব স্বরূপ আগে করে পরীক্ষণ।*
*🌷শুদ্ধ হয় যদি,করায় প্রভুকে শ্রবণ।।*
*🌷বিদ‍্যাপতি চন্ডীদাস শ্রীগীতগোবিন্দ।*
*🌷এই তিন গীতে করে প্রভুর আনন্দ।।*
*🌷সঙ্গীতে গন্ধর্ব সম শাস্ত্রে বৃহস্পতি।*
*🌷"দামোদর" সম আর নাহি মহামতি।।*
*🍀এখানে আমরা স্বরূপের "দামোদর" বলে একটি নাম পাচ্ছি।লোকে বলে সঙ্গীতে শাস্ত্রজ্ঞান বিনষ্ট হয়। কিন্তু স্বরূপ "সঙ্গীতে গন্ধর্ব সম শাস্ত্রে বৃহস্পতি"।এস্থলে দুইটি বিরুদ্ধ ধর্ম এক আধারে আশ্রয় পেয়েছে,এটি অসাধারণ গুণাশ্রয়ত্বের পরিচায়ক।*
*🌺স্বরূপ যে সর্ব বিষয়েই মহাপ্রভুর "দ্বিতীয় স্বরূপ" ছিলেন,এটি হতেই তার আভাস পাওয়া যায়।তাঁর আরও নামের পরিচয় শুনুন।একবার শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার পরে মহাপ্রভু কৃষ্ণবিরহে অধীর হয়ে আলালনাথে চলে গেলেন।এই সময়ে গৌড় হতে শ্রীমহাপ্রভুর মুখশশী দেখবার জন্য দুইশ ভক্ত নীলাচলে উপস্থিত।কোন কোন ভক্ত আলালনাথে গিয়ে মহাপ্রভুর শ্রীচরণে এই সংবাদ জানালেন।এদিকে রাজা প্রতাপরুদ্রের প্রযত্নে গৌড়ীয় ভক্তগণের থাকবার বাসার সুবন্দোবস্ত হল।সংবাদ পাওয়া মাত্রই দয়াময় গৌরহরি ফিরে আসিলেন। শ্রীভগবানের সঙ্গে ভক্তগণের আনন্দ-সম্মিলন হল।ভক্তগণকে মালা-প্রসাদ দেবার জন্য স্বরূপ ও গোবিন্দের প্রতি মহাপ্রভুর আদেশ হওয়ায় এই কৃপাদেশে ইঁনারা বড়ই হৃষ্ট(প্রফুল্ল) হলেন।তাঁরা মালা প্রসাদ নিয়ে ভক্তগণকে বিতরণ করতে লাগলেন।চারিদিক হতে হরিনামের মধুর ধ্বনি উঠিল।ভক্তগণের পরিচয় জানতে রাজা প্রতাপরুদ্রের অত‍্যন্ত কৌতূহল হল।তিনি সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য মহাশয়ের কাছে ভক্তগণের পরিচয় জানতে ইচ্ছুক হয়ে বললেন, ভট্টাচার্য্য!যে দুইজন মালা বিতরণ করছেন, এ দুইজনের পরিচয় আমার আগে জানতে ইচ্ছে হচ্ছে। তদুত্তরে--*
*🌷ভট্টাচার্য‍্য কহেন-- এই স্বরূপ দামোদর।*
*🌷মহাপ্রভুর ইহোঁ হয় দ্বিতীয় কলেবর।।*
*🌷দ্বিতীয় গোবিন্দ ভৃত‍্য,ইঁহা দোঁহা দিঞা।*
*🌷মালা পাঠাইছেন প্রভু গৌরব করিয়া।।*
*🍀স্বরূপের নামের সঙ্গে অনেক স্থলেই "দামোদর" পদের যোগ আছে। এই পদটি কখনও "স্বরূপ" পদের পূর্বে, কখনওবা পরে দেখা যায়। যথা--*
*🌷দামোদর-স্বরূপ গোবিন্দ দুই জনে।*
*🌷মালা প্রসাদ লঞা যায় যাঁহা বৈষ্ণবগণে।।*
*🌹যাঁরা শ্রীগৌরলীলার শ্রীগ্রন্থাদি মধ্যে মধ্যে পাঠ করেন,তাঁদের হয়ত মনে হতে পারে "দামোদর স্বরূপ" বা "স্বরূপ দামোদর" নাম যে যে স্থলে একযোগে দেখা যায়,তৎ তৎ স্থলে কেবল "স্বরূপই" এই নামের বাচ‍্য। আবার কেবল "দামোদর" বলেও ইঁনার নামের উল্লেখ আছে, যথা---*
*🌷সঙ্গীতে গন্ধর্ব সম শাস্ত্রে বৃহস্পতি।*
*🌷দামোদর সম আর নাহি মহামতি।।*
*🌷সেই দামোদর আসি দন্ডবৎ হৈলা।*
*🌷চরণে পড়িয়া শ্লোক পড়িতে লাগিলা।।*
*🌻মহাপ্রভুর পার্ষদগণের মধ্যে আরও "দামোদর" আছেন,যথা দামোদর পন্ডিত। যখন মহাপ্রভু শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের ভবন হতে নীলাচলে গমন করেন তখন এই দামোদর পন্ডিত মহাপ্রভুর সঙ্গী হন,যথা চৈতন‍্য চরিতামৃতে=*
*🌷নিত‍্যানন্দ গোসাঞী পন্ডিত জগদানন্দ।*
*🌷দামোদর পন্ডিত আর দত্ত মুকুন্দ।।*
*🌷এই চারিজন আচার্য‍্য দিলা প্রভু সনে।*
*🌷জননী প্রবোধ করি বন্দিলা চরণে।।*
*🙏এই দামোদরপন্ডিত মহাপ্রভুর নিত‍্য ভক্ত হয়েও তাঁর অভিভাবকের মত আচরণ করতেন,অভিভাবকের মত শাসন করতেন,মহাপ্রভুও ইঁনাকে অভিভাবকের মত মান‍্য করতেন।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/swarup.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৪)🙌শ্রীস্বরূপদামোদর🙌*
*নামকরণ ও গুণবত্তার পরিচয়*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌹আমরা অন‍্য প্রসঙ্গে শ্রীদামোদরের পবিত্র চরিত-কীর্তনে আত্মশোধন করতে প্রয়াস পাব।স্বরূপদামোদর বা দামোদর-স্বরূপ যে পৃথক দুই মূতি নন,এ স্থলে তৎ প্রদর্শন করাই উদ্দেশ্য।শ্রীপুরুষোত্তম আচার্য‍্য সন্ন‍্যাসাশ্রমে "স্বরূপ" নাম পেলেন।এই সময়ে তিনি কেবল "স্বরূপ" নামে অভিহিত হয়েছিলেন,অথবা তাঁর গুরুদেব তাঁকে "স্বরূপ-দামোদর" বা দামোদর-স্বরূপ নাম দিয়েছিলেন কি না সঠিক জানা যায় না।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে দেখা যায়,*
*🌷সন্ন‍্যাস করিল শিখা সূত্র-ত‍্যাগরূপ।*
*🌷যোগ পট্ট না লইল নাম হইল স্বরূপ।।*
*☘এতেই বোধহয় তাঁর সন্ন‍্যাস গুরু বুঝি তাঁর কেবল "স্বরূপ" নামই রেখেছিলেন।এখন কথা এই যে তাঁর নামের সঙ্গে "দামোদর" শব্দের যোগ কখন হল?পুরুষোত্তমে আসিবার আগে কি পরে তাঁর নামের সঙ্গে "দামোদর" শব্দটি সংযুক্ত হয় এটিও আলোচ‍্য।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে লিখিত আছে=*
*🌷আর দিন আইলা স্বরূপ-দামোদর।*
*🌷প্রভুর অত‍্যন্ত মর্ম্ম রসের সাগর।।*
*🍁এতে আপাতত বোধ হতে পারে,আগে হতে তিনি "স্বরূপ দামোদর" নামেও অভিহিত হতেন।স্বরূপ-দামোদর বা দামোদর-স্বরূপ এইরকম নামই বা কেন হল,এটি জানতেও পাঠকগণের কৌতূহল হতে পারে। আমাদের বোধ হয় এ সম্বন্ধে শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রোদয় নাটকে যে কথার উল্লেখ আছে তাতেই পাঠকগণের কৌতূহল নিবৃত্তি হবে।এই গ্রন্থের অষ্টম অঙ্কে মহাপ্রভুর ভক্তগণের সমাগম-প্রসঙ্গ এইরকম লিখিত আছে।চারিদিক হতে ভক্তপ্রবাহ এসে শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর চরণ-রত্নাকরে মিলেছেন দেখে সার্বভৌম বলেছেন=*
*🌷ভোঃ স্বামিন ইদমতি বিচিত্রম্!*
*🌷যে কেহপি যাঃ কাশ্চন সপ্রবাহো,*
*🌷নদাশ্চ নদ‍্যশ্চ ভবন্তি ভূমৌ,*
*🌷কস‍্যাপি রত্নাকরমন্তরেণ,*
*🌷কুত্রাপি নাস্থা নচ সন্নিবেশঃ।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ প্রভো,এটি অতি বিচিত্র,এই জগতে যত নদনদী প্রবাহ আছে,এক রত্নাকর (সমুদ্র) ছাড়া অন‍্য কোথাও তাদের আস্থা ও সন্নিবেশ হয় না,হতেও পারে না।ইতোমধ‍্যে নেপথ‍্যে ধ্বনি হল=*
*🌷অহো রসকলবতো ভগবতো রসাচার্য‍্যকং,*
*🌷গ্রহীতুমিব মূর্ত্ততাং ব‍্যধিতভিক্ষুবেশং বপুঃ,*
*🌷যদেতদবনীতলে সকল এব দামোদর-,*
*🌷-স্বরূপমিতি ভাষতে তদপৃথকতয়া প্রেমতঃ।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ স্বরূপকে দেখে সকলে বলেছিলেন "অহো কি প্রেমময়ী শ্রীমূর্তি!এই সন্ন‍্যাসীদেহ যেন রসরাজ শ্রীভগবানের রসাচার্য‍্যের মূর্তিমান অবতার।রসিকশেখর শ্রীভগবান দামোদরের সঙ্গে ইঁনার কোন বিভিন্নতা না দেখেই যেন সকলে ইঁনাকে দামোদর-স্বরূপ বলে অভিহিত করেছে। মহাপ্রভু এইকথা শুনে বললেন,দামোদর স্বরূপ নামে কোন ব‍্যক্তি আসছেন বলে বোধ হচ্ছে।এই কথা বলতে না বলতেই দেখা গেল স্বরূপ আকাশ পানে সাশ্রুনয়নে দৃষ্টি করে গদগদ বাক‍্যে ধীরে ধীরে "হেলোদ্ধূলিত" শ্লোক পাঠ করতে করতে অগ্রসর হতে লাগলেন। গোপীনাথ বললেন=*
*🌹অয়ে শ্রুতংময়া চৈতন‍্যানন্দ শিষ‍্যঃ পরমবিরক্তো ভগবদ্ভক্তোহতি বিদ্বানকশ্চিৎদামোদর-স্বরূপো নাম, যঃ খলুগুরুণা বহুতর অভ‍্যর্থিতোহপি বেদান্তমধীত‍্যাধ‍্যাপয়েতি নচ তচ্চ কৃতবান ☆☆☆☆☆ভগবন্নয়ময়ং শ্রুতচরো দামোদর-স্বরূপঃ।*
*🍁এতেই স্পষ্টতঃই প্রতীত হয় যে চৈতন‍্যনন্দই সম্ভবত ইনার রসময় ভাব দেখে আনন্দলীলারস-বিগ্রহ দামোদরের রসাচার্য‍্য স্বরূপ মনে করে "দামোদর-স্বরূপ" নাম প্রদান করেছিলেন।এই প্রসঙ্গে পাঠক শ্রীভগবানের দামোদর নামটির প্রকাশ সম্বন্ধেও একবার স্মরণ করুন।শ্রীভগবানের দামবন্ধনলীলা তাঁর প্রেমবিবশতার এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ।শ্রীভাগবতে বলেন=*
*🌷এবং সন্দর্শিতাহ‍্যঙ্গ হরিণা ভক্তবশ‍্যতা।*
*🌷স্থবশেনাপি কৃষ্ণেন যস‍্যেদং স্বেশ্বরংবশে।।*
*🌷নেমং বিরিঞ্চি নভবো ন শ্রীরপ‍্যঙ্গ-সংশ্রয়া।*
*🌷প্রসাদং লেভিরে গোপী যৎতৎপ্রাপ বিমুক্তিদাৎ।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ হে রাজন! ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বতন্ত্র। জগদীশ্বর সহিত এই জগৎ তাঁর বশবর্তী,তথাপি তিনি ঐ প্রকারে বন্ধনস্থ হয়ে ভক্তবশ‍্যতা দেখিয়েছিলেন। ভগবানের অনুগ্রহ প্রসন্নতা অন‍্যান‍্য ভক্তেরাও পেয়েছেন সত‍্য, কিন্তু মা যশোদা তাঁর যেমন প্রসন্নতা লাভ করেছিলেন, ব্রহ্মাদি তো দূরের কথা,পূর্ণলক্ষ্মী তাঁর অর্দ্ধাঙ্গিনী হয়েও সেই প্রসন্নতা লাভ করতে পারেননি। ভগবান দামোদর লীলায় অতি অদ্ভুত রস প্রদর্শন করে রসিকশেখরতা ও পরমকরুণার পূর্ণ উদাহরণ দেখিয়েছেন।রসমাধুর্য‍্য আর কাকে বলে,এটিই রসমাধুর্য‍্য। তিনি আত্মারাম হয়েও বুভুক্ষিতের (ক্ষুধাতের) মত, পূর্ণকাম হয়েও অভক্তের মত,শুদ্ধসত্ত্বরূপ হয়েও ক্রোধিতের মত,অনন্ত কোটি বিশাল বিশ্বব্রহ্মান্ডের অধীশ্বর হয়েও চোরের মত,মহাকাল যমাদির ভয়স্বরূপ হয়েও নিজে ভীত ও পলায়িতের মত এবং অনন্ত আনন্দ ও অনন্ত ঐশ্বর্য‍্যময় হয়েও দুঃখিত দীন বালকের ন‍্যায় আচরণ করে লীলামাধুর্য‍্য প্রকটন করেছেন।*
*🌳ভগবানের দামবন্ধন লীলার কথা স্মরণ করে কুন্তীদেবী বিস্ময়ে ও আনন্দে অধীর হয়ে বলেছিলেন=*
*🌷গোপ‍্যাদদে ত্বয়ি কৃতাগসিদামতাবৎ,*
*🌷যা তে দশাশ্রুকলিলাঞ্জন সম্ভ্রমাক্ষং,*
*🌷বয়ং নিলীয় ভয়-ভাবনয়া স্থিতস‍্য,*
*🌷সা মাং বিমোহয়তি ভীরপি যদ্বিভেতি।*
*🔷অর্থ‍্যাৎ হে কৃষ্ণ!দধিভান্ড ভাঙ্গার অপরাধে যশোদা যখন তোমাকে বন্ধন করেছিলেন,তখন ভয়ে ও ভাবনায় তুমি কাঁদছিলে,আর তোমার নয়নের কাজল চোখের জলে গলে যাচ্ছিল,সে দৃশ্য কি মধুর!তুমি সকল ভয়ের ভয়স্বরূপ,আর তোমার এই লীলা!সেই সময়ের মুখটি স্মরণ করে এবং তোমার সেই সময়ের দশা মনে করে চিত্ত বিমুগ্ধ হচ্ছে।এই লীলা হতেই শ্রীকৃষ্ণের "দামোদর" নামে প্রকাশিত হন।*
*🌷সচ তেনৈব দাম্নাতু কৃষ্ণোবৈ দামবন্ধনাৎ।*
*🌹হরিবংশ দামোদর নামের সঙ্গে রসমাধুর্য‍্যের আরও ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধের কথা উল্লেখ করেছেন।হরিবংশে লিখিত আছে =*
*🌷গোষ্ঠে দামোদর ইতি গোপীভিঃ পরিগীয়তে।*
*🌺গোপীদের এই সোহাগের নামের সহিত অনন্ত রসমাধুর্য‍্য বিজড়িত।এই রসমাধুর্য‍্যের রসাচার্য‍্য মূর্তিই স্বরূপ--, স্বরূপ-দামোদর বা দামোদর-স্বরূপ।*
🙏🙏🙏🙏🦚🪷🪷🪷🪷🌷🌸🌸🪔
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/swarup.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৫)🙌শ্রীস্বরূপদামোদর🙌*
 *নামকরণ ও গুণবত্তার পরিচয়*
#####################
*🌹শ্রীকবি কর্ণপুর শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত মহাকাব‍্যে "স্বরূপ-দামোদর" নামের ব‍্যাখ‍্যা পরিস্ফুট করেছেন।এই শ্রীগ্রন্থে লিখিত আছে =*
*🌷সতু সন্ন‍্যাসমদভ্র ভাগ‍্যবান অগমত্তু রস-স্বরূপতাম্,*
*🌷ইহ "দামোদর" ইত‍্যুদীরিতঃ ইতি তেন নিরন্তরং প্রভোঃ।*
                  *(ত্রয়োদশ সর্গঃ ১৪৩ শ্লোক)*
*🍁পুরুষোত্তম আচার্য‍্য সন্ন‍্যাস গ্রহণ করে সন্ন‍্যাসীকুলের মধ্যে তিনি অতি ভাগ‍্যবান হলেন।কেন না,তিনি রসস্বরূপতা পেয়ে দামোদর-স্বরূপ নামে কীর্তিত হলেন।এই দামোদর-স্বরূপ নামটি কথিত ভাষার সঙ্কোচ-নিয়মে "স্বরূপ" বলেই সম্ভবত সাধারণ‍্যে অভিহিত হয়ে আসছেন।ফলে দামোদর শব্দটি তদীয় রসাচার্য‍্যকর্তার পরিচায়ক-স্বরূপ।*
*দামোদর-স্বরূপ শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর শ্রীচরণ-প্রান্তে থেকে কিভাবে তাঁর রসপুষ্টি করতেন, শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে ও শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে তার অনেক নিদর্শন পাওয়া যায়। যথা শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে=*
*🌷ভাগবত পাঠে গদাধর মহাশয়*।
*🌷দামোদর-স্বরূপের কীর্তন বিষয়।।*
*🌷একেশ্বর দামোদর-স্বরূপ গুণ গায়।*
*🌷বিহ্বল হইয়া নাচে শ্রীগৌরাঙ্গরায়।।*
*🌷অশ্রু ঘর্ম্ম হাস‍্য মূর্চ্ছা পুলক হুঙ্কার।*
*🌷যত কিছু আছে প্রেম ভক্তির বিকার।।*
*🌷দামোদর-স্বরূপের উচ্চ সংকীর্তন।*
*🌷শুনিলে না থাকে বাহ‍্য,পড়ে সেইক্ষণ।।*
*🌷দামোদর-স্বরূপ সঙ্গীত রসময়।*
*🌷যার ধ্বনি শ্রবণে প্রভুর নৃত্য হয়।।*
*🌷কীর্তন করিতে যেন তুম্বুর নারদ।*
*🌷একা প্রভু নাচায়েন কি আর সম্পদ।।*
*🌷অহর্নিশি গৌরচন্দ্র সংকীর্তন রঙ্গে।*
*🌷বিহরেন দামোদর-স্বরূপ সঙ্গে।।*
*🌷পথে চলিতেও প্রভু দামোদর গানে।*
*🌷নাচেন বিহ্বল হইয়া পথ নাহি জানে।।*
*🌷একেশ্বর দামোদর-স্বরূপ সংহতি।*
*🌷প্রভু সে আনন্দে পড়ে না জানেন কতি।।*
*🌻দামোদর-স্বরূপ মূর্তিমান রস। তাঁর একটি কথায় বা একটি গানে রসের তরঙ্গ প্রবাহিত হ'ত।রস-স্বরূপ দামোদর-স্বরূপের সঙ্গীত রসের বন‍্যায় শ্রীমন্মহাপ্রভু নিজ অনন্ত প্রেমসাগরে আকুল ভাবে ভেসে চলতেন,স্বরূপের গান শুনলে মহাপ্রভুর দিগ্বিদিক জল স্থল পাহাড় পর্বত জ্ঞান থাকত না।*
*🌷কিবা জল কিবা স্থল কিবা বন ডাল।*
*🌷কিছু না জানেন প্রভু গর্জন বিশাল।।*
*🌹দামোদর তখন গান ছেড়ে গৌরহরির দেহরক্ষার জন্য ব‍্যস্ত হতেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব পথে চলেছেন, সঙ্গে স্বরূপ। মহাপ্রভু বললেন,স্বরূপ! একটি কীর্তন শোনাও।স্বরূপ গান ধরলেন, গৌরসুন্দরের আর তখন পথ চলা হল না।তিনি ভাবে বিভোর হয়ে নাচতে আরম্ভ করলেন,বাহ‍্যজ্ঞান, বাহ‍্যদৃষ্টি বিন্দুমাত্রও রইল না।শচীনন্দন রাধাকৃষ্ণ-প্রেমার্ণবে ভেসে চললেন, পথ ছেড়ে নাচতে নাচতে পাথর-কাঁটাপূর্ণ জায়গায় গিয়ে ঢলে পড়লেন। স্বরূপ আর গান করবেন কি,হায়!কি হ'ল,হায়!কি হ'ল বলে অমনি মহাপ্রভুকে ধরে তুললেন। অন্ত‍্যলীলায় শেষ দ্বাদশ বৎসর মহাপ্রভু উত্তাল প্রেমতরঙ্গে দিনরাত্রি এইরকম আকুল থাকতেন। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে বলেন=*
*🌷শেষ যে রহিল প্রভুর দ্বাদশ বৎসর।*
*🌷কৃষ্ণের বিরহ স্ফূর্তি হয় নিরন্তর।।*
*🌷শ্রীরাধিকার চেষ্টা যেমন উদ্ধব দর্শনে।*
*🌷এই মত দশা প্রভুর হয় রাত্রি দিনে।।*
*🌷নিরন্তর হয় প্রভুর বিরহ-উন্মাদ।*
*🌷ভ্রমময় চেষ্টা সদা প্রলাপময় বাদ।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷গম্ভীরা ভিতরে রাত্রে নিদ্রা নাহি লব।*
*🌷ভিতে মুখ শির ঘষে ক্ষত হয় সব।।*
              *(মধ‍্যলীলা দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ)*
*🌺শ্রীকৃষ্ণ-বিরহে গৌরহরির এই অবস্থার মর্ম সহচর কেবল-- শ্রীস্বরূপ ও শ্রীরামানন্দ রায়।গৌরসুন্দরের হৃদয়ে বিরহ যাতনা শতধারায় উথলিয়ে উঠে,পাছে বা ভক্তগণের কষ্ট হয় এই আশঙ্কায় তিনি আপন মর্ম কথা যথা=সাধ‍্য চেপে রাখতে চেষ্টা করেন, কিন্তু দুর্বার কৃষ্ণবিরহ-প্রবাহ কিছুতেই বারণ মানে না ; আর মহাপ্রভুর বিরহ-প্রলাপ, অবরুদ্ধ উৎসের প্রমুক্ত উচ্ছাসের মত, অথবা ঝটিকোৎক্ষিপ্ত সিন্ধুতরঙ্গের মত,সমস্ত দিক বিপ্লাবিত করে প্রবাহিত হয়।এই সময়ে শ্রীরামানন্দের কৃষ্ণকথায় ও স্বরূপের গানে শ্রীগৌরাঙ্গের উদ্বেগ খানিকটা কম হয়, মহাপ্রভু একটু ধৈয‍্যধারণ করেন।আবার যেই রাত্রি উপস্থিত হয়, গৌরহরি আবার কৃষ্ণবিরহে অধীর হয়ে উঠেন।দিনমান কোনভাবে কেটে যায়, কিন্তু রাত্রিতে ভাবনিধি গৌরহরি সে বিরহ বেগে একেবারেই অধীর ও অবসন্ন হয়ে পড়েন।আহা! এই দ্বাদশ বৎসর শচীনন্দনের কৃষ্ণবিরহে আকুল আর্ত্তি ও বিরহ জ্বালার কথা মনে করলে পাষাণ হৃদয়ও গলে যায়।মহাপ্রভুর "দ্বিতীয় স্বরূপ" এ লীলার সাক্ষী। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতেও এইরকম বর্ণনা আছে =*
*🌷যদ‍্যপি অন্তরে কৃষ্ণ বিয়োগ বাধয়ে।*
*🌷বাইরে না প্রকাশয়ে ভক্ত-দুঃখ-ভয়ে।।*
*🌷উৎকট বিরহ-দুঃখ যবে বাহিরায়।*
*🌷তবে যে বৈকল‍্য প্রভুর,বর্ণন না যায়।।*
*🌷রামানন্দের কৃষ্ণকথা,স্বরূপের গান।*
*🌷বিরহবেদনায় প্রভু রাখয়ে পরাণ।।*
*🌷দিনে প্রভু নানা সঙ্গে হয় অন‍্যমনা।*
*🌷রাত্রিকালে বাড়ে প্রভুর বিরহবেদনা।।*
*🌷তাঁর সুখ হেতু কাছে রহে দুই জনা।*
*🌷কৃষ্ণরস শ্লোক লীলায় করেন সান্ত্বনা।।*
*🌷সুবল যৈছে পূর্বে কৃষ্ণ-সুখের সহায়।*
*🌷গৌর-সুখ-দান হেতু তৈছে রামরায়।।*
*🌷পূর্বে যৈছে রাধায় সহায় ললিতা প্রধান।*
*🌷তৈছে স্বরূপ গোঁসাই রাখে প্রভুর প্রাণ।।*
*🌹শ্রীশ্রীমহাপ্রভু রসিকশেখর, অথবা "রসরাজ মহাভাব দুই একরূপ" অথবা শ্রুতির সেই "রসো বৈ সঃ" শ্রীপাদ দামোদর সেই রসরাজের দ্বিতীয় স্বরূপ।শ্রীকৃষ্ণলীলায় যিনি ললিতা, গৌরলীলায় তিনিই স্বরূপ।তাই পূজ‍্যপাদ কবিরাজ গোস্বামী এখানে স্বরূপের পূর্বলীলার নামটির ধ্বনি করে রেখেছেন।শ্রীমতীর মহাবিরহে ললিতার সান্ত্বনা, আর মহাপ্রভুর রাধাভাবের মহাবিরহে স্বরূপের সাহচর্য‍্য,প্রেমসেবা ও রসময়ী সুসান্ত্বনা একেবারেই অভিন্ন তত্ত্ব।স্বরূপ সেই ললিতা সখী।অতঃপর এ সম্বন্ধে কিঞ্চিৎ বিস্তৃতভাবে আলোচনা করা যাবে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏👣🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/swarup.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৬)🙌শ্রীস্বরূপদামোদর🙌*
    *শ্রীস্বরূপদামোদর ও শ্রীরূপ*
    ▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🌹শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রার সময়ে শ্রীপুরুষোত্তমক্ষেত্রে গৌড়ীয় ভক্তগণের শুভ সমাগম হত।এই সময়ে মহাপ্রভুর মুখশশী দেখে তাঁদের সারা বৎসরের বিরহ-জ্বালা নিবারণ হত,মহাপ্রভুর সঙ্গে নৃত্য-গীত-উল্লাসে তাঁরা এই সময়ে গোলোকের সুখ উপভোগ করতেন।*
*কিছু বৎসর এইভাবে কেটে গেল। অতঃপরে ভক্তগণ দেখতে পেলেন গৌরহরি বিরহে ক্রমেই অত‍্যন্ত ব‍্যাকুল হয়ে পড়ছেন।কৃষ্ণবিরহে পরিমৃদিত কোমলের ন‍্যায় তাঁর শ্রীমুখকমল যেন মলিন হয়ে যাচ্ছে।তিনি কখন "কৃষ্ণ কৃষ্ণ" বলে হাসেন, চার পাঁচ দন্ডেও সে হাসির বিরাম হয় না।(৬০দন্ডে দিনরাত)আবার কৃষ্ণ বিরহে রোদন করেন,সে রোদন শুনলে বনের পশু পাখীর হৃদয়ও দুঃখে গলে যায়। প্রিয়জন বিরহ-বিধুরা রমণী যেমন বিনিয়ে বিনিয়ে কেঁদে কেঁদে আকুল হন এবং অন‍্যকেও আকুলিত করেন, শ্রীচৈতন‍্যদেব কৃষ্ণবিরহে সেরকম রোদন করে ভক্তগণের হৃদয় ব‍্যাকুল করে তুলেন।কার সাধ‍্য সে আর্তনাদ শুনে স্থির থাকতে পারে?*
*🍀এইভাবে বাইরের জগতের সঙ্গে মহাপ্রভুর সম্পর্ক ক্রমেই অন্তর্হিত হয়ে উঠিল,দিনরাত বিরহ-উন্মাদে তিনি একেবারে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লেন। কৃষ্ণ-ধ‍্যানে,কৃষ্ণ-জ্ঞানে,কৃষ্ণনামে ও কৃষ্ণগানে দিনরাত্রি অতিবাহিত হতে লাগল।শ্রীরামানন্দ ও তাঁর প্রাণের স্বরূপ কৃষ্ণকথায় তাঁর বিরহ-বিদগ্ধ হৃদয়ের কিছু পরিমাণ সান্ত্বনা করতে লাগিলেন।রথযাত্রার সময়ে গৌড়ীয় ভক্তগণ এসেছেন।তাঁদের মনে কত আনন্দ, মহাপ্রভুকে নিয়ে তাঁরা সংকীর্তন করবেন,মহাপ্রভুর সেবার জন্য যে সব দ্রব‍্যাদি নিয়ে এসেছেন, সেই সমস্ত নিয়ে তাঁর তাঁর পার্শ্বে বসে "এটি সেবা করুন,ওটি সেবা করুন" এইভাবে বলে তাঁকে আহার করাবেন এবং তাঁর সেবা দর্শন করবেন। কিন্তু এবার ভক্তগণ এসে দেখলেন,গৌরহরি যেন কেমন আনমনা হয়ে গিয়েছেন, তাঁর শ্রীমুখকমল পরিম্লান ও অশ্রুজলে গন্ডস্থল ভেসে যাচ্ছে। এই অবস্থায় মহাপ্রভু কখন হাসছেন,কখন কাঁদছেন,কখন নাচছেন, কখন বা নেচে নেচে গাইছেন। কিন্তু এই হাসি কান্না ও নৃত্যগীতের সঙ্গে অন‍্য ভক্ত বা ভক্তগায়কগণের সম্বন্ধ খুবই কম। সামনে শ্রীজগন্নাথদেবের রথ।রথের উপর শ্রীমূর্তি প্রতিষ্ঠিত।ভক্তগণ গৌরসুন্দরের পার্শ্বে।রথের আগে মহাপ্রভু বিভোর হয়ে নাচতে লাগলেন,আর শ্রীজগন্নাথদেবের মুখচন্দ্রিমা দেখে দেখে আনন্দে বিভোর হলেন।মহাপ্রভুর হর্ষোৎফুল্ল নয়ন-কমল দেখে ভক্তগণের মনে হল তিনি না-জানি-কি হারান-ধন পেয়ে আনন্দে মত্ত হয়ে নাচছেন।নৃত‍্য করতে করতে মহাপ্রভু এক শ্লোক পড়লেন,সে শ্লোকটি এই=*
*🌷যঃ কৌমারহরঃ স এব হি বর স্তাএব চৈত্রক্ষপা।*
*🌷স্তেচোন্মীলিত মালতী-সুরভয়ঃ প্রৌঢ়াঃ কদম্বানিলাঃ।।*
*🌷সা চৈবাস্মি তথাপি তত্র সুরত-ব‍্যাপার লীলাবিধৌ।*
*🌷রেবা-রোধসি বেতসী-তরুতলে চেতঃ সমুৎকন্ঠ‍্যতে।।*
*🌹এর অর্থ এই যে,কোন এক রমণী নিজ সখীকে বলছেন সখী!যিনি রেবাতটে (নর্মদাতটে)বেতসতরুমূলে আমার কৌমার্য‍্য হরণ করে রসের আস্বাদ প্রদান করেছিলেন,এখন তাঁকেই আমি পতিরূপে পেয়েছি।সখী!মধু যামিনীতেই তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম মিলন হয়,এখন সেই মধু যামিনী।তখন যেমন উন্মীলিত মালতী ফুলের সৌরভে চারিদিক আমোদিত হয়েছিল,তখন যেমন কদম্ব-কুসুমের গন্ধ নিয়ে মৃদু মন্দ বায়ু বইছিল, এখনও সেই সব আছে ; কিন্তু তথাপি আমার হৃদয় সেই নর্মদাতটের বেতস(বেতগাছ) তরুমূলে সুরতসুখ-সম্ভোগের জন্য ব‍্যাকুল হচ্ছে।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🌷🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/swarup.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৭)🙌শ্রীস্বরূপদামোদর🙌*
   *শ্রীস্বরূপদামোদর ও শ্রীরূপ*
   ~~~~~~~~~~~~~~~~~
*🌺এটি তো শ্রীমদ্ভাগবতের শ্লোক না, শ্লোকটি কাব‍্যপ্রকাশের।একটি সাধারণ নায়িকার উৎকন্ঠাজনিত ভাবদ‍্যোতক শ্লোকটি মহাপ্রভু এমন আনন্দের সঙ্গে নেচে নেচে পাঠ করলেন কেন, কেউই তা বুঝতে পারলেন না, বুঝলেন একমাত্র স্বরূপ।স্বরূপ শ্লোকটি শুনিবামাত্রই গান ধরলেন।*
*🌷সেই তো পরাণ নাথ পাইনু,*
*🌷যাহা লাগি মদন দহন ঝুরি গেনু।*
*🙌স্বরূপ এই ধূয়া গাইতে লাগলেন।মহাপ্রভুর দেহ পুলকে কদম্ব-কুসুমের মত প্রতিভাত হতে লাগল,বায়ু-তাড়িত সাগরের মত ভাব-সমুদ্র মহাপ্রভুর ভাব-তরঙ্গ উদ্বেলিত হয়ে উঠিল, তখন তিনি একেবারে বাহ‍্যজ্ঞানহারা হয়ে নাচতে লাগলেন।স্বরূপের গানে রসের বন‍্যা-তরঙ্গ উছলিয়া উঠিল, আর মহাপ্রভু যেন তাতে নেচে নেচে ভেসে চলিলেন।এক ধূয়ায় এক দন্ড দুই দন্ড করে দ্বিপ্রহর অতিবাহিত হয়ে গেল।পরে গৌরহরি একটু স্থির হলেন। কিন্তু এই শ্লোকের বা এই ধূয়ার কেউ মর্ম বুঝতে পারলেন না।যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতের অন্ত‍্য খন্ডে=*
*🌷সামান‍্য এক শ্লোক প্রভু পড়েন কীর্তনে।*
*🌷কোন শ্লোক পড়েন ইহা কেহ নাহি জানে।।*
*🌷সবে এক স্বরূপ গোসাঞী শ্লোকের অর্থ জানে।*
*🌷শ্লোকানুরূপ পদ প্রভুকে করান আস্বাদনে।।*
*🍁এবার শ্রীল রূপগোস্বামী রথযাত্রার সময়ে পুরুষোত্তমে উপনীত হয়ে ছিলেন।তিনি পার্শ্বে দাঁড়িয়ে উল্লাস-বিস্ফারিত নেত্রে মহাপ্রভুর নৃত্য দেখছিলেন।আর "যঃ কৌমারহর" শ্লোকটির কি-জানি-কেমন এক ঝঙ্কারে তাঁর দেহ শিহরিয়া উঠছিল।এর পরে যখন "এই তো পরাণ নাথ পাইনু" এই পদটি গাইতে শুনলেন,তখন শ্রীরূপের দেহ পুলকে পূর্ণ হয়ে উঠিল।তিনি অবশ ভাবে হরিদাসের কুটিরে গেলেন।এর অব‍্যবহিত পরেই দেখা গেল শ্রীরূপের গন্ডদেশ প্রেমাশ্রুতে ভেসে যাচ্ছে, আর তিনি আপন বাসায় বসে একটি তালপাতায় যেন কি লিখছেন।লেখা শুরু করতেই যেন লেখা সমাপ্ত হল।তালপাতাটি ঘরের চালে গুঁজে রেখে শ্রীরূপ সমুদ্রে স্নান করতে গেলেন। এই সময়ে গৌরহরি ধীরে ধীরে শ্রীরূপের বাসায় এলেন।শ্রীরূপ তখনও স্নান করে ফিরেন নাই।স্নানের পর শ্রীজগন্নাথের মন্দিরে শ্রীরূপের সঙ্গে দেখা হবার সম্ভাবনা হলে হয়ত মহাপ্রভু আর শ্রীরূপের বাসায় না আসতেও পারতেন। কিন্তু সে সম্ভাবনা নাই। শ্রীরূপ নিষ্ঠাবান ভক্ত।বিনয় ও দৈন‍্য ভক্তির অঙ্গ।শ্রীরূপ বিনয়ের খনি,দীনতার আদর্শ।তিনি সৎকুলোদ্ভব ব্রাহ্মণ হয়েও নিজকে যবন-অধম বলে মনে করতেন।তাঁর মনে হত,যবনের বেতনভোগী কর্মচারী হয়ে,যবন সংসর্গে কালাতিপাত করে আমি যবন হয়ে গিয়েছি।কোন সাহসে শ্রীমন্দির স্পর্শ করব।এইরকম মনে করে শ্রীরূপ শ্রীমন্দিরে যেতেন না।তাঁর দাদা সনাতনেরও একই ব্রত ছিল। তিনিও শ্রীমন্দির স্পর্শ করতে সাহস করতেন না। এই শ্রেণীর আরেকজন পরমভক্ত ছিলেন,পরমারাধ‍্য হরিদাস। যথা চৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷হরিদাস ঠাকুর আর রূপ সনাতন।*
*🌷জগন্নাথ মন্দিরে না যান এই তিনজন।।*
*☘সুতরাং শ্রীজগন্নাথের উপলভোগের সময়ে এই তিনজনের শ্রীজগন্নাথ মন্দিরে সমাগম হত না। কিন্তু স্নেহময় মহাপ্রভু উপলভোগ দর্শন করে ফিরবার সময়ে এই তিনজনকে দেখা দিয়ে যেতেন।শ্রীরূপের বাসায় শ্রীচরণ অর্পণ করে মহাপ্রভু দেখলেন শ্রীরূপ ঘরে নেই।তিনি দৈবাৎ উপরের দিকে চেয়ে দেখলেন ঘরের চালে একটি তালপাতার পত্র গোঁজা রয়েছে। গৌরচন্দ্র তালপত্রটি বাহির করে দেখলেন সেটিতে একটি শ্লোক লেখা রয়েছে। মহাপ্রভু পড়তে লাগলেন।*
*🌷প্রিয়ঃ সোহয়ং কৃষ্ণঃ সহচরি কুরুক্ষেত্রে মিলিত,*
*🌷স্তথাহং সা রাধা তদিদমুভয়োঃ সঙ্গম-সুখম্।*
*🌷তথাপ‍্যন্তঃ খেলন মধুর মুরলী পঞ্চমজুষে,*
*🌷মনো মে কালিন্দীপুলিনবিপিনায় স্পৃহয়তি*।।
*🔷এই শ্লোকটি শ্রীরূপ গোস্বামী প্রেমাশ্রুপূর্ণনেত্রে উচ্ছসিত হৃদয়ে তালপাতায় লিখে রেখে স্নান করতে গিয়েছিলেন।🌹এর অর্থ এই যে,শ্রীরাধা কুরুক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণের সহ সম্মিলিত হলেন,কিন্তু শ্রীবৃন্দাবন ছেড়ে কুরুক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণ-সঙ্গম তাঁর পক্ষে সুখকর বলে বোধ হল না,তাই তিনি ললিতাকে বললেন,সহচরি! আজ কুরুক্ষেত্রে সেই এই প্রিয়তম কৃষ্ণের সঙ্গসুখ লাভ করলাম, আমিও সেই রাধিকা,সঙ্গম-সুখেও কোনও বিভিন্নতা নাই, কিন্তু তথাপি কালিন্দীপুলিন-বনে মধুর মুরলীর পঞ্চম রবে সঙ্গম-সুখের যে মাধুর্য‍্য অনুভব হয়,এখানে সেরকম কোন সুখের অনুভব হচ্ছে না।আমার মন সেই মধুর মুরলীর পঞ্চম-রবে ব‍্যাকুলিত শ্রীবৃন্দাবনের জন‍্যই আকুল হচ্ছে।*
*🌳মহাপ্রভু বিস্ময়াবিষ্ট ভাবে শ্লোকটি পাঠ করলেন,তাঁর শ্রীঅঙ্গ পুলকাঞ্চিত হয়ে উঠিল।এমন সময়ে শ্রীরূপ এসে দেখতে পেলেন,স্বয়ং করুণাময় গৌরহরি নিবিষ্টচিত্তে তাঁর রচিত শ্লোক পাঠ করছেন।শ্রীরূপ সলজ্জভাবে অমনি প্রাঙ্গণে সাষ্টাঙ্গে দন্ডবৎ হয়ে পড়লেন।মহাপ্রভু তখন আনন্দে বিভোর হয়েছেন।তিনি আহ্লাদে অধীর হয়ে শ্রীরূপের পিঠে চাপড় মেরে বললেন=*
*🌷মোর শ্লোকের অভিপ্রায় কেহ নাহি জানে।*
*🌷মোর মনের কথা তুই জানিলি কেমনে।।*
               *(শ্রীচৈঃচঃ মধ‍্যখন্ড)*
*🌻এইকথা বলে মহাপ্রভু শ্রীরূপকে আলিঙ্গন করে বুকে ধরলেন।মহাপ্রভুর শ্রীঅঙ্গ-সঙ্গলাভে শ্রীরূপ মূর্ছিত প্রায় হলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/swarup.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৮)🙌শ্রীস্বরূপদামোদর🙌*
     *শ্রীস্বরূপদামোদর ও শ্রীরূপ*
    ∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*পূর্বেই বলা হয়েছে,মহাপ্রভু যে নাচতে নাচতে "যঃ কৌমারহরঃ" শ্লোক পাঠ করেছিলেন,তাঁর মর্মসখা এক স্বরূপদামোদর ছাড়া ঐ শ্লোকের মর্ম আর কেউই বুঝতে পারেননি।মহাপ্রভু শ্রীরূপের শ্লোক দেখে অবাক হলেন।অবাকের কারণ এই যে শ্রীরূপ তাঁর মনের ভাব কিভাবে জানলেন? "যঃ কৌমারহরঃ"শ্লোকের ভাষা,ভাব ও ছন্দের সম্পূর্ণ সাম‍্য রেখে শ্রীরূপ গোস্বামী নিমেষের মধ্যে "প্রিয়ঃ সোহয়ং কৃষ্ণঃ" এই শ্লোক বিরচিত করেন।শ্রীরূপ মহাপ্রভুর শ্রীমুখোদ্গীর্ণ কাব‍্যপ্রকাশের শ্লোক ও স্বরূপের পদ-গান শুনে মহাপ্রভুর মনের ভাব বুঝতে পেরেছিলেন।বিশেষ করে ইতঃপূর্বেও মহাপ্রভু তাঁকে কৃপা করেছিলেন।শ্রীরূপ মহাভক্ত,মহাকবি।তাঁর এই শ্লোকটি প্রকৃতই কাব‍্যসিন্ধুর দুর্লভ সুধাস্বরূপ।এই শ্লোকের অভিপ্রায় সম্বন্ধে শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে এরকম লেখা আছে,যথা=*
*🌷যে কালে করেন জগন্নাথ-দরশন।*
*🌷মনে ভাবে কুরুক্ষেত্রে পাঞাছি মিলন।।*
*🌷রথযাত্রায় আগে যবে করেন নর্তন।*
*🌷তাহা এই পদ মাত্র করেন গায়ন।।*
                 *তথাহি পদম্*
*🌷সেইতো পরাণ নাথ পাইনু।*
*🌷যাহা লাগি মদন দহনে ঝুরি গেনু।।*
*🌷এই ধূয়া গানে নাচে দ্বিতীয় প্রহর।*
*🌷কৃষ্ণ লঞা ব্রজে যাই এ ভাব অন্তর।।*
*🌺শ্রীরূপের রচিত "প্রিয়ঃ সোহয়ং কৃষ্ণঃ" শ্লোকটি মহাপ্রভুর মনের কথা শ্রীচৈতন‍্য যা মনে করে "যঃ কৌমারহরঃ" শ্লোকটি আবৃত্তি করেছিলেন,শ্রীরূপ সেই সেইভাব সেই ছন্দ ঠিক রেখে উক্ত শ্লোক রচনা করেন। সুতরাং মহাপ্রভু বিস্ময়াবিষ্ট হয়ে শ্লোকটি পাঠ করলেন,পাঠ করে প্রেমাবিষ্ট হলেন।উক্ত শ্লোকের তাৎপর্য‍্য ও অর্থ প্রকাশ করবার জন্য শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত বলেছেন=*
*🌷 এই শ্লোকের সংক্ষেপার্থ শুন ভক্তগণ।*
*🌷জগন্নাথ দেখি যৈছে প্রভুর ভাবন।।*
*🌷শ্রীরাধিকা কুরুক্ষেত্রে কৃষ্ণের বর্ণন।*
*🌷যদ‍্যপি পায়েন তবু ভাবেন ঐশ্বর্য‍্যন।।*
*🌷রাজবেশ হাতী ঘোড়া মনুষ‍্য গহন।*
*🌷কাহা গোপবেশ,কাহা নির্জন বৃন্দাবন।।*
*🌷সেই ভাব সেই কৃষ্ণ সেই বৃন্দাবন।*
*🌷যবে পাই তবে হয় বাঞ্জিত পূরণ।।*
*ভাবনিধি শ্রীগৌরাঙ্গের কি অদ্ভুত ভাববৈচিত্র‍্য!শ্রীজগন্নাথদেবের শ্রীমূর্তি পাঠকগণের অনেকেই সাক্ষাৎ দর্শন করেছেন।শ্রীরাধিকা অনন্ত মাধুর্য‍্যময় মুরলীধারী শ্রীমদনমোহনের রূপমাধুরী দেখে যেরকম আকুল হতেন,এই হস্তহীন "চকা-বকা" মুখ-বিশিষ্ট শ্রীজগন্নাথ মূর্তি দর্শনে মহাপ্রভু শ্রীরাধিকার মত আকুল হয়ে "যঃ কৌমারহরঃ" শ্লোক পাঠ করেছিলেন,আর নয়নজলে তাঁর শ্রীঅঙ্গ ভেসে যাচ্ছিল।সেই প্রাণনাথকে পেয়েও মনের মত সঙ্গ-সুখ-সম্ভোগের আনন্দ অনুভব হল না। "রাজবেশ হাতী ঘোড়া মনুষ‍্য গহনে" মন মাতিল না,সেই গোপবেশ,সেই নির্জন বৃন্দাবন-লাভের জন্য হৃদয়ের বাসনা বলবতী হয়ে উঠিল।শ্রীরূপ বাস্তবিক উক্ত শ্লোকে মহাপ্রভুর হৃদয়ের কথা প্রকাশ করেছিলেন।*
*শ্রীল সনাতন গোস্বামী শ্রীভাগবতে দশম স্কন্ধের ৮২ অধ‍্যায়ের ৩৫ শ্লোকের টীকায় ঐ শ্লোকটির শ্রীভাগবতানুগত ভাবের ধ্বনি করে রেখেছেন।পূজ‍্যপাদ শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতকারও শ্রীভাগবতের ঐ শ্লোকের উদ্ধৃত করেছেন। তদ্ যথা=*
*🌷••••••••তে নলিননাভ পদারবিন্দর,*
*🌷যোগেশ্বরৈ হৃদিবিচিত্র‍্য মগাধব‍্যেধৈ।*
*🌷সংসারকূপপতিতোত্তরণাবলম্বন,*
*🌷গেহং জুষামপি মনস‍্যুদিযাৎ সদা ন।।*
*🍀কুরুক্ষেত্রে গোপীগণ শ্রীকৃষ্ণের সহিত মালিত হলে শ্রীকৃষ্ণ তাঁদেরকে তত্ত্বজ্ঞান শিক্ষা প্রদান করেন।গোপীগণ অতীব প্রেমিকা।তাঁর তত্ত্বজ্ঞান নিয়ে কি করবেন?গোপীরা শ্রীকৃষ্ণ-বিরহ সহ‍্য করতে পারেন না, এবং ব্রজ ছাড়া অন‍্যত্র শ্রীকৃষ্ণরস-মাধুর্য‍্য অনুভব করতেও পারেন না।রাজবেশ হাতী ঘোড়া ও জন-মানব-প্রবাহের কল্লোল-কোলাহলে তাঁদের চিত্ত বিচলিত হয়ে পড়ে।তাঁরা সেইজন‍্য গোপবেশ ও নির্জন শ্রীবৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ-মিলনের আকাঙ্ক্ষা করেন।এই শ্লোকে বক্রোক্তি দ্বারা তাঁরা শ্রীবৃন্দবনে শ্রীকৃষ্ণের চরণারবিন্দ লাভের জন্য প্রার্থনা করছেন।উক্ত শ্লোকের বৈষ্ণব-তোষণী টীকায় "যঃ কৌমারহরঃ" শ্লোকের ধ্বনি দিয়ে শ্রীল রূপগোস্বামীপাদ "প্রিয়ঃ সোহয়ং কৃষ্ণঃ সহচরি কুরুক্ষেত্রে মিলিতঃ" পদ শ্লোকটি উদ্ধৃত করা হয়েছে। পূজ‍্যপাদ কবিরাজ গোস্বামী এই তিনটি শ্লোকই উদ্ধৃত করে সবিশেষ রসের পুষ্টি করেছেন।রসিক মহানুভব-চক্রবর্তী শ্রীল বিশ্বনাথ চক্রবর্তী মহোদয় শ্রীসনাতন গোস্বামীপাদের ব‍্যাখ‍্যা অবলম্বনে এই শ্লোকের যে ব‍্যাখ‍্যা করেছেন,তার সার মর্ম এই যে=*
*🌹হে নলিননাভ,হে অজ্ঞানধ্বান্তভাস্কর, আমরা তোমার তত্ত্বজ্ঞানানলে জ্বলে জ্বলে মরছি। আমরা চকোরী, তোমার শ্রীমুখশশীর হাসিমাখা জ‍্যোৎস্না-সুধাই আমাদের জীবনের অবলম্বন।আমরা তত্ত্বজ্ঞান নিয়ে কি করব?অনন্ত একবার শ্রীবৃন্দাবনে চলো।রাসাদিবিলাসের দ্বারা আমাদের প্রাণ রাখো।আরও দেখ! যোগেশ্বরগণ তোমার চরণ নিজ নিজ হৃদয়ের মধ্যে চিন্তা করেন, কিন্তু আমরা কি তা পারি? আমরা সেটি বক্ষের উপর ধারণ করেই বেঁচে থাকি।যোগেশ্বরগণ গম্ভীরবুদ্ধি, তাঁরা তোমার শ্রীপাদপদ্ম, ধ‍্যান করতে পারেন ; কিন্তু আমরা একে অবলা, তাতে আবার বুদ্ধিহীনা, আমরা কি করে তোমার ধ‍্যান করব? তোমার শ্রীচরণ চিন্তা করতে গেলেই আমরা মূর্ছা সাগরে ডুবে যায়।আমরা কোন বলে বা শক্তিতে তোমার ধ‍্যান করব? তোমার পাদপদ্ম চিন্তা করলে লোকে সংসার-সাগর হতে উদ্ধার পাই তা সত‍্য, কিন্তু যারা তোমার বিরহ-সমুদ্রে ভাসমান, তারা তোমার শ্রীচরণতরণীর সঙ্গ-অবলম্বন ছাড়া কিছুতেই উদ্ধার পাই না।আমরা যে তোমার জন্য শিশুকাল হতেই সংসার ছেড়ে তোমার বিরহসাগরে অকুল পাথারে ভেসে চলেছি।পাদপদ্মের চিন্তায় আমাদের কি হবে? আমরা শ্রীচরণ-সঙ্গ ছাড়া কিছুতেই দেহধারণ করতে পারব না।যদি বলো "দ্বারকায় চলো সেইখানেই তোমাদের সঙ্গে কেলিবিলাস করব"। আমরা তাও পারি না।শ্রীবৃন্দাবন আমরা ভীষণ ভীষণ ভালবাসি।বৃন্দাবন ছাড়তে পারব না। তোমার এই রাজবেশ,আর তোমার এই রাজধানী,এসবের কিছুই আমাদের হৃদয়ে ভাল লাগে না। তোমার পরণে ধড়া,মাথায় চূড়া,আর হাতে মোহন বাঁশী,ঐরকম দেখতে আমরা বড় ভালবাসি।*
*শ্রীরূপ গোস্বামীপাদের তালপাতায় লেখা প্রাগুক্ত (পূর্ব উল্লিখিত)শ্লোকের এটিই মর্ম।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত এর এরকম অনুবাদ করেছেন।*
*🌷রাজবেশ হাতী ঘোড়া মনুষ‍্য গহন।*
*🌷কাঁহা গোপ-বেশ,কাঁহা নির্জন বৃন্দাবন।।*
*🌷সেই ভাব,সেই কৃষ্ণ,সেই বৃন্দাবন।*
*🌷যবে পায় তবে হয় বাঞ্জিত পূরণ।।*
*🍁মহাপ্রভু শ্রীরূপের এই শ্লোকে প্রকৃতই অবাক হলেন।তিনি স্বরূপ গোঁসাইকে জিজ্ঞাসা করলেন,স্বরূপ! শ্রীরূপ আমার মনের কথা জানল কিভাবে?স্বরূপ বললেন,তোমার কৃপা ছাড়া কে তোমার মনের কথা জানতে পারে! আমার মনে হয় তুমি কোন না কোন সময়ে শ্রীরূপকে কৃপা করেছ,নচেৎ তোমার কথা অন‍্যে কি করে জানবে?*
*☘মহাপ্রভু বললেন তা অবশ‍্য ঠিক।পূর্বে প্রয়াগে রূপের সঙ্গে আমার যখন দেখা হয়,তখন রূপকে যোগ‍্যপাত্র মনে করে শক্তি সঞ্চার করি, এবং কিছু উপদেশও প্রদান করি। শ্রীরূপ রস-বিচারে অতি যোগ‍্য।তুমি রূপকে রসের বিষয়ে সবিশেষ উপদেশ প্রদান করবে। স্বরূপ বললেন,তুমি যে রূপের প্রতি কৃপা করেছ,তা আর বলবার অপেক্ষা কি?এই শ্লোক দেখেই আমি বুঝেছি তোমার অনুগ্রহ ছাড়া এরকম হয় না। "ফলেন ফল-কারণমনুমীয়তে", অর্থ‍্যাৎ ফল দেখলেই ফলের কারণ অনুমান হয়ে থাকে। নৈষধকার বলেন=*
*🌷স্বর্গাপগাহেম মৃণালিণীণাৎ,*
*🌷নালামৃণালাগ্রভুজো ভজমি,*
*🌷অন্নানুরূপাং তনুরূপ ঋদ্ধিং,*
*🌷কার্য‍্যং নিদানাদ্ধি গুণাতধীত।*
               *(তৃতীয় সর্গ ১৭শ্লোক নৈষধ)*
*🌻অর্থ‍্যাৎ দময়ন্তীকে হংস বলছেন,আমরা স্বর্গনদাহ সুবর্ণ কমলিনীর ও মৃণালের অগ্রভাগ ভোজন করি। সুতরাং ভক্ষ‍্য বস্তুর অনুরূপ শরীর সৌন্দর্য-সম্পৎ লাভ করেছি, যেহেতু কারণ হতেই কার্য‍্য সেটির গুণ লাভ করে থাকে।*
*🌳শ্রীরূপের শ্লোক দেখেই বুঝেছি করুণাময় গৌরহরির কৃপা ব‍্যতীত কখনও এমন শ্লোক রচিত হতে পারে না।শ্রীল সার্বভৌম এবং শ্রীল রামানন্দ রায় মহাশয়ও শ্লোক শুনে ঐরকম অভিপ্রায়ই প্রকাশ করেন। যে শ্রীরূপ মহাপ্রভুর শক্তি-সঞ্চার-ফলে এইরকম কবিত্ব ও রসতত্ত্ববিচারে পান্ডিত‍্য লাভ করেছিলেন,স্বরূপ সেই শ্রীরূপকেও বিশেষভাবে রসতত্ত্ব শিক্ষা দিবার জন্য গৌরহরি আদেশ করলেন।যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷যোগ‍্যপাত্র হয় গূঢ়রস-বিবেচনে।*
*🌷তুমিও কহিও তারে গূঢ় রসাখ‍্যানে।।*
               *(মধ‍্যলীলা প্রথম পরিচ্ছেদ)*
*🌷তবে শক্তি সঞ্চারি আমি কৈল উপদেশ।*
*🌷তুমিও কহিও উহাঁয় রসের বিশেষ।।*
                 *(অন্ত‍্যলীলা প্রথম পরিচ্ছেদ)*
*🌹শ্রীদামোদর-স্বরূপ প্রকৃতই যে রস-স্বরূপ এতে তা আরও স্পষ্টভাবে বুঝা যেতে পারে।মহাপ্রভুর কৃপা আদেশে শ্রীপাদ স্বরূপ রসতত্ত্বাচার্য‍্য শ্রীরূপেরও রসতত্ত্ব শিক্ষার গুরুপদে প্রতিষ্ঠিত হলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/swarup.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৯)🙌শ্রীস্বরূপদামোদর🙌*
           *শ্রীস্বরূপের---সখা*
           ===============
*🌺শ্রীপুরুষো‍ত্তমে শ্রীস্বরূপের একজন প্রিয়তম সখা ছিলেন, শ্রীভগবান আচার্য‍্য। শ্রীস্বরূপের অন‍্য সখা শ্রীল পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি। তাঁর কথা পরে বলব। ভগবান আচার্য‍্য ঐশ্বর্য‍্যবিলাসের কোমল কোলে লালিত পালিত এবং প্রবর্দ্ধিত হয়েও বৈরাগ‍্যের মূর্তিমান বলে জনসমাজে সমাদৃত ও পরিপূজিত হতেন। ভগবান আচার্য‍্যের পিতা শতানন্দ খান প্রচুর সম্পত্তির অধীশ্বর ছিলেন।এই শতানন্দের দুই পুত্র, বড় পুত্রের নাম ভগবান আচার্য‍্য ও ছোট পুত্রের নাম গোপাল ভট্টাচার্য্য।খান মহাশয়ের এক পুত্র আচার্য‍্য অপর পুত্র ভট্টাচার্য্য উপাধি লাভ করলেন কিভাবে, এ সম্বন্ধে পাঠকগণের মন কৌতূহল হতে পারে।আমরা শ্রীগ্রন্থে এই প্রশ্নের কোন মীমাংসা দেখতে পেলাম না।এ সম্বন্ধে যুক্তি-সঙ্গত অনুমান এই যে শতানন্দের পূর্বপুরুষগণ মুসলমান রাজ-সরকারে কাজ করে "খান" উপাধি পেয়েছিলেন। এখনও অনেক জায়গায় "খান" উপাধিধারী ব্রাহ্মণ দেখতে পাওয়া যায়। শতানন্দ খান মহাশয় বিষয়ী ছিলেন।বিষয়ানুগত পদবীতেই তাঁর পদবী চলে আসছিল। কিন্তু পুত্রদের জীবনস্রোত অন‍্য পথে পরিচালিত হওয়ায় তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন পদবীতে জনসমাজে খ‍্যাত হলেন।ছোট পুত্র গোপাল কাশীতে ধর্ম শাস্ত্রাদি পাঠ করে ভট্টাচার্য্য বলে খ‍্যাতি লাভ করেন।শ্রীভগবান "আচার্য‍্য" পদবী পেলেন কেন? এ সম্বন্ধে আমাদের অনুমান প্রকাশ করা যাচ্ছে।শ্রীভগবান শাস্ত্রাধ‍্যায় করে পরম পন্ডিত হলেন,আর্য‍্য-পথে তাঁর চিত্ত ধাবিত হল। তিনি বৈরাগ‍্য ব্রত অবলম্বন করলেন। যথা চৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷পুরুষোত্তমে প্রভুপাশে ভগবান আচার্য‍্য।*
*🌷পরম বৈষ্ণব তিঁহো সুপন্ডিত আর্য‍্য।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*🌷তার পিতা বিষয়ী বড় শতানন্দ খান।*
*🌷বিষয়-বিমুখ আচার্য‍্য বৈরাগ‍্য প্রধান।।*
*🍀যদিও ব্রাহ্মণগণের মধ্যে বংশ পরম্পরায় "আচার্য‍্য" পদবী চলে আসছে,কিন্তু এই ভগবান যে আচার্য‍্য পদবী লাভ করেছিলেন তা কেবল তাঁর নিজের আচরণে ও পান্ডিত‍্যে। তিনি সুপন্ডিত,অশেষ শাস্ত্রোধ‍্যাপক, আর্য‍্যমার্গানুসারী ও বিষয়-বিমুখ।শাস্ত্র অনুসারেই তিনি আচার্য‍্যপদ লাভের উপযুক্ত ছিলেন।শাস্ত্রকার বলেন=*
*১)আচারে শাসয়েদ্ যস্তু স আচার্য‍্য উদাহৃতঃ।*
*২)উপনীয় তু যঃ শিষ্য বেদমধ‍্যাপয়েদ্দিজঃ।*
*সঙ্কল্পং সরহস‍্যঞ্চ তমাচার্য‍্যঃ প্রচক্ষ‍্যতে।।*
*৩)আম্নায়তত্ত্ব বিজ্ঞানাচ্চরাচর সমাসতঃ।*
*যমাদিযোগসিদ্ধত্বাদাচার্য‍্য ইতি কথ‍্যতে।।*
*🌻ইত‍্যাদি বচন-প্রমাণে সদাচার অভিজ্ঞ,সুনিপণ অধ‍্যাপক ও আম্নায়তত্ত্ববিজ্ঞানশীল শ্রীভগবান খান আচার্য‍্য পদবী লাভের যথার্থ গুণবত্তা লাভ করেছিলেন। প্রকৃত আচার্য‍্যের যে সব গুণ থাকা উচিত,সবই তাতে বিদ‍্যমান ছিল। বিলাসের কোমল কোলে প্রতিপালিত হয়েও ভগবান আচার্য‍্য কঠোর বৈরাগ‍্য-ব্রতাবলম্বী ছিলেন।যম নিয়মাদি দুশ্চর তপশ্চর্য‍্যা দ্বারা তিনি একান্ত ভগবদ্ভক্তি লাভ করেছিলেন।তাঁর বিষয়-বিমুখতা ও বৈরাগ‍্যব্রত দেখে শ্রীস্বরূপদামোদর তাঁকে আপন বলে মনে করলেন।ক্রমেই উভয়ের যখন গাঢ় পরিচয় হতে লাগল তখন উভয়েই উভয়কে উত্তমরূপে বুঝতে পারলেন। ভগবান আচার্য‍্যের হৃদয় সরল ও সতত সখ‍্যভাবময়, ব্রজ-বালকদের মত সদানন্দ ও প্রফুল্ল-ভাব,তাঁর সেইরকম উদ‍্যম ও সবসময় সেইরকম তরুণ তারল‍্য। যথা চরিতামৃতে পায়=*
*🌷
*🌷সখ‍্য ভাবাক্রান্ত চিত্ত গোপ-অবতার।*
*🌷স্বরূপ গোসাঞীর সহ সখ‍্য ব‍্যবহার।।*
*🌹কেবল এটিই নয়,ইনি একান্ত ভাবে শ্রীচৈতন‍্য চরণাশ্রিত।সুতরাং এরকম মহাপুরুষ যদি স্বরূপ গোঁসায়ের সখা না হন, তবে আর তাঁরসখার যোগ‍্য কে?শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রীভগবান আচার্য‍্যের গুণ প্রকাশ করেছেন,তারমধ‍্যে সর্বপ্রধান গুণ এই যে=*
*🌷একান্তভাবে আশ্রিয়াছেন চৈতন‍্য চরণ।*
*🍀একান্ত ভাবে শ্রীভগবানের চরণ আশ্রয় করা কাকে বলে,ভক্তিনিষ্ঠ পাঠকগণের তা অজানা নাই।অনভিজ্ঞ পাঠকদের জন্য এই সম্বন্ধে দুই-একটি কথা এখানে আলোচ‍্য। ঐকান্তিকতা বা একান্ত ভাব কাকে বলে, শ্রীহরিভক্তিবিলাসে তৎসম্বন্ধে প্রমাণ আছে। এ স্থলে তা উল্লেখযোগ্য। তদ্ যথা=*
*🌷একান্তেন সদা বিষ্ণৌ যস্মাদ্দেবে পরায়ণাঃ।*
*🌷তস্মাদেকান্তিনঃ প্রোক্তা স্তদ্ভগবতচেতসঃ।।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ যাঁরা একান্তভাবে সবসময়ই বিষ্ণুর আশ্রয় গ্রহণ করেন সেই প্রতিনিয়ত ভাগবতচিত্ত ব‍্যক্তিগণ "একান্তী"নামে অভিহিত।এই একান্ত ভাবটি কি,অন‍্য এক শ্লোকে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে, যথা=*
*🌷সাধবো হৃদয়ং মহ‍্যং সাধূনাং হৃদয়ন্ত্বহং।*
*🌷মদন‍্যন্তে ন জানন্তি নাহং তেভ‍্যো মনাগপি।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ সাধুগণ আমার হৃদয়, আমি সাধুগণের হৃদয়।সাধুগণ আমাকে ছাড়া আর অন‍্য কিছুই জানেন না,আমিও তাঁদেরকে ছাড়া আর কিছু জানি না।ফলে সব পরিত‍্যাগ করে নিরুদ্বেগহৃদয়ে (শান্তহৃদয়ে) একমাত্র শ্রীভগবানের পাদপদ্ম আশ্রয় করাই ঐকান্তিকতা।*
*সৎস্ত্রী যেমন সৎ-পতির হৃদয় প্রেম দ্বারা সম্পূর্ণভাবে বশীভূত করে নেন,সাধুগণও প্রেমভক্তি দ্বারা শ্রীভগবানকে তেমনি বশীভূত করে থাকেন।শ্রীভগবান এরকম ভক্তকে কখনও পরিত‍্যাগ করতে পারেন না।*
*🌷ভক্ত আমার পিতামাতা ভক্ত আমার গুরু।*
*🌷ভক্ত আমার নাম রেখেছেন বাঞ্জা কল্পতরু।।*
*🌻ভগবানের শ্রীমুখের আজ্ঞা এই যে =*
*🌷যে দারাগার পুত্রাপ্তান প্রাণনৈ বিত্ত মিমং পরং।*
*🌷হিত্বা মাং শরণং যাতাঃ কথং তাং স্তুক্ত মুৎসহে।।*
*🌺অর্থ‍্যাৎ যাঁরা স্ত্রী পুত্র গৃহ প্রাণ ধনের মমতা পরিত‍্যাগ করে আমার শরণাপন্ন হয়েছেন,আমি তাঁদেরকে কিভাবে পরিত‍্যাগ করব? ফলে ভক্তজন-প্রিয়, ভগবানের হৃদয় সতত তাঁর একান্ত ভক্তগণের অধিকারভুক্ত।*
*🔷এই ঐকান্তিকা চার প্রকার, যথা= ১)বাহ‍্য ধর্মের প্রতি অনাদর যেমন ঃ---*
*🌷সর্ব্ব ধর্ম্মান পরিত‍্যজ‍্য মামেকং শরণং ব্রজ।*
*অথবা=====*
*🌷যদা যস‍্যানুগৃহ্নাতি ভগবনাত্মভাবিতঃ।*
*🌷সঃ জহাতি মতিং লোকে বেদেচ পরিনিষ্ঠিতাং।।*
*২)কর্ম জ্ঞানাদির অশেষ-নিরপেক্ষতা, যেমন=*
*🌷সন্তোহনপেক্ষা মচ্চিত্তাঃ প্রশান্তাঃ সমদর্শিনঃ।*
*🌷নির্ম্মমাঃ নিরহঙ্কারা র্নির্দ্বন্দ্বা নিষ্পরিগ্রহাঃ।।*
*৩)বিঘ্নসত্ত্বেও রতিপরতা, যেমন=*
*🌷আপদগতস‍্য যস‍্যেহ ভক্তিরব‍্যভিচারিণী।*
*🌷নান‍্যত্র রমতে চিত্তং সবৈ ভাগবতো নরঃ।।*
*৪)প্রেমৈকপরতা, যেমন=*
*🌷যেবা ময়ীশে কৃত সৌহৃদার্থা জনেষু দেহম্ভর বার্ত্তিকেষু।*
*🌷গৃহেষু জায়াত্মজরাতিমৎসু ন প্রীতিযুক্তা যাবদর্থাশ্চ লোকে।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ শ্রীভগবান বললেন যাঁরা আমাতে সৌহার্দ্য(বন্ধুত্ব) করে তাইই পরম পুরুষার্থ বলে মনে করেন, এবং আমাতে রতিবশতঃ স্ত্রী পুত্র দেহ গেহাদিতে রতিবিহীন হন ও দেহযাত্রা নির্বাহের জন্য যাবৎমাত্র ধনের প্রয়োজন,তাতেই সন্তুষ্ট থাকেন তাঁরাই মহৎ।এটিই একান্তি-ভক্তের লক্ষণ।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌷🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/12/swarup.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০)🙌শ্রীস্বরূপদামোদর🙌*
         *শ্রীস্বরূপদামোদরের সখা*
        /\/\/\/\/\/\/\/\/\/\/\/\
*🍀শ্রীভগবান আচার্য‍্য সমস্ত বিষয় ও সমস্ত ধর্ম পরিত‍্যাগ করে একান্ত ভাবে শ্রীগৌরাঙ্গ চরণে অনুরক্ত বা অনুরাগী হয়েছিলেন।মহাপ্রভুতে তাঁর অত‍্যন্ত আসক্তি-নিবন্ধন (নিবন্ধন=হেতু,জন‍্য,কারণ) মধ্যে মধ্যে নিজ আলয়ে বা বাড়ীতে তিনি মহাপ্রভুকে নিমন্ত্রণ করে নিয়ে যেতেন।শ্রীচৈতন‍্যদেব আমার সন্ন‍্যাসী।তাঁর আহারের উপকরণ দেখে শ্রীভগবান আচার্য‍্যের হৃদয়ে সময়ে সময়ে বড় দুঃখ হত।বিশেষকরে নিষ্ঠুর রামচন্দ্রপুরী মহাপ্রভুর সেবায় উপচারাধিক‍্য (বহুরকমের ব‍্যঞ্জনাদি) দেখলেই কটাক্ষ করতেন।এমন কি মহাপ্রভুর গৃহে একটা পিঁপড়ে দেখলে রামচন্দ্রপুরী তখুনি মহাপ্রভুর সামনেই বলতেন, এই যে পিঁপড়ে দেখছি,রাত্রে অবশ্যই এখানে গুড় আনা হয়েছিল। বিরক্ত সন্ন‍্যাসীর ইন্দ্রিয়লালসা ভাল নয়।মহাপ্রভু এইরকম শাসনবাক‍্য সসম্ভ্রমে ও নীরবে শুনতেন,কোনও প্রত‍্যুত্তর করতেন না।পরন্তু তিনি এতে খুব বেশীভাবে কঠোরতা অবলম্বন করতেন।আচার্য‍্য এইজন‍্য মধ্যে মধ্যে মহাপ্রভুকে গোপনে গোপনে বাড়ীতে নিমন্ত্রণ করে নিয়ে নানা উপচারে তাঁর সেবা করতেন। যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পাই=*
*🌷পন্ডিতগোসাঞী ভগবান্ আচার্য‍্য,সার্বভৌম।*
*🌷নিমন্ত্রণের দিন যদি করেন নিমন্ত্রণ।।*
*🌷তাঁ-সভার ইচ্ছায় প্রভু করেন ভোজন।*
*🌷তাঁহা প্রভুর স্বাতন্ত্র‍্য নাহি যৈছে তার মন।।*
*🌷ভক্তগণে সুখ দিতে প্রভুর অবতার।*
*🌷যাহা যৈছে যোগ্য তৈছে করেন ব‍্যবহার।।*
*🌷 কভু ত লৌকিক রীতি যৈছে ইতর জন।*
*🌷কভুবা স্বতন্ত্র করেন ঐশ্বর্য‍্য প্রকটন।।*
*🌷কভু রামচন্দ্রপুরীর হন ভৃত‍্য প্রায়।*
*🌷কভু তারে নাহি মানে দেখে ভৃত‍্য প্রায়।।*
*🌷ঈশ্বর চরিত্র প্রভুর,বুদ্ধি-অগোচর।*
*🌷যবে যেই করেন প্রভু সেই মনোহর।।*
                            *(অন্ত‍্যলীলা)*
*🌳সেবাবাদী রামচন্দ্রপুরীর শাসনে ভক্তগণ মনের সাধে মহাপ্রভুকে সেবা করাতে পারতেন না।তাই আমাদের প্রাণাধিক শ্রীভগবান আচার্য‍্য মধ্যে মধ্যে গৌরহরিকে গোপনে নিমন্ত্রণ করে নিয়ে যেতেন।একান্তভক্ত ভগবান আচার্য‍্যের সেবানুরাগ কি মধুর ও সুন্দর।*
*🍁এই ভগবান আচার্য‍্যের ছোট ভাই গোপাল ভট্টাচার্য্য কাশীতে বেদান্ত পাঠ সমাপন করে তাঁর দাদার কাছে উপস্থিত হলেন।দাদা ছোটভাইকে নিয়ে মহাপ্রভুর শ্রীচরণ-দর্শন করালেন।ভগবানের ভাই গোপালকে দেখে গৌরহরি বাইরে বাইরে শিষ্টাচার সম্মত কথাবার্তা বললেন বটে, কিন্তু মনে মনে তেমন সন্তুষ্ট হলেন না। না হওয়ার কারণ এই যে গোপাল তখনও ভক্তি-পথের পথিক হননি।ভক্তি ছাড়া আর কিছুতেই শ্রীরাধাকৃষ্ণের পরিতুষ্টি হয় না।কৃষ্ণভক্তি বিহনে কিছুতেই মহাপ্রভুর উল্লাস জন্মে না। গোপাল তাঁর অগ্রজ শ্রীভগবান আচার্য‍্য মহানুভবের কাছে পুরুষোত্তম অবস্থান করতে লাগলেন।তিনি কাশী হতে বেদান্ত পাঠ করে এসেছেন। ভগবানের ইচ্ছা,ছোট ভাইটি সকলের কাছে পরিচিতি হোক। তাই তিনি একদিন তাঁর প্রিয়সখা স্বরূপদামোদরকে বললেন, অভিন্ন হৃদয়, আমার ভাই গোপাল কাশী হতে বেদান্ত পাঠ করে এসেছে, একবার তার মুখে বেদান্তভাষ‍্য শোনা যাক না কেন? কথাটা স্বরূপের কাছে ভাল বোধ হল না।স্বরূপ রস-স্বরপ। ভগবান স্বরূপের প্রিয়সখা হয়ে স্বরূপের হৃদয় সম‍্যকরূপে বুঝতে পারেননি।স্বরূপের কিঞ্চিৎ ক্রোধ হ'ল।স্বরূপের আবার ক্রোধ কি?অন‍্য কেউ এরকম কথা বললে স্বরূপ সে জায়গা হতে নীরবে চলে যেতেন। কিন্তু ভগবান আচার্য‍্য তাঁর সখা।সখার সঙ্গে সখার রসকোন্দল শুনতে অতি মধুর।স্বরূপ বললেন,আমি মনে করেছিলাম,তোমার কিঞ্চিৎ বুদ্ধি আছে,এখন দেখতে পাচ্ছি গোপালের সঙ্গ করে তুমি কান্ডাকান্ড-জ্ঞান হারিয়েছ। ছি-ছি-ছি।মায়াবাদ শুনতে তোমার এমন প্রবৃত্তি হল কেন?শঙ্করের শারীরিক ভাষ‍্য ঘোর মায়াবাদ।এটি কি বৈষ্ণবের শোনা উচিত?যাতে সেব‍্য-সেবক-সম্বন্ধ বিনষ্ট হয়,ক্ষুদ্র জীব নিজেকে "সোহহং"বলে মনে করে, সোহহং মানে ভগবান।এমন মায়াবাদ কি বৈষ্ণব সাধ করে শুনতে চায়?মায়াবাদ এমনি বিষপূর্ণ যে সেটি বৈষ্ণবের কর্ণে প্রবেশ হলেই বৈষ্ণবতা নষ্ট হয়। যিনি মহাভাগবত,যিনি শ্রীকৃষ্ণকে প্রাণধন বলে মনে করেন,মায়াবাদ শুনিলে সেরকম দৃঢ় বিশ্বাসীর মনও ফিরে যায়,অর্থ‍্যাৎ ভক্তি নষ্ট হয়ে যায়। আচার্য‍্য বললেন, সে-কি কথা সখা!আমাদের চিত্ত কৃষ্ণনিষ্ঠ।গোপালের মুখে শাঙ্করভাষ‍্য শুনেই চিত্ত বিচলিত হবে,এটিও কি হয়?শ্রীকৃষ্ণে আমাদের অটল বিশ্বাস।মায়াবাদে আমাদের কি করবে?ভাষ‍্য শুনলেই কি আমাদের হৃদয়ের পরিবর্তন ঘটবে?তখন স্বরূপ বললেন,আচ্ছা,মায়াবাদ শুনে তোমার কৃষ্ণনিষ্ঠ চিত্ত নাই বা টলিল। কিন্তু তুমি কি করে মায়াবাদ শুনবে?শুনে কি তোমার কষ্ট হবে না?মায়াবাদের মত এই যে,ব্রহ্মচিন্মাত্র,শ্রীভগবদ্ বিগ্রহ মায়া-কল্পিত, অজ্ঞানবিলসিত, ভ্রমময় ও অসার।ষড়ৈশ্বর্য‍্যপূর্ণ প্রেম-নিকেতন শ্রীভগবানের সম্বন্ধে এইরকম কদর্য‍্য অশ্রাব‍্য ব‍্যাখ‍্যা শুনে তোমার হৃদয় কি বিদীর্ণ(ছিন্ন ভিন্ন ) হবে না?স্বরূপের এইকথায় আচার্য‍্য লজ্জায় মুখ নত করলেন,আর কোন কথা না বলে নীরবে নিজের ভুল স্বীকার করলেন।আচার্য‍্য সেই হতেই বুঝলেন তাঁর স্নেহের সহোদর গোপালের সঙ্গ, তাঁর পক্ষে কুসঙ্গ-স্বরূপ।স্বরূপের প্রেম-তিরস্কার আচার্য‍্যের নতুন করে চোখ ফুটিয়ে তুলিল। তিনি তাঁর স্নেহ-বন্ধন ছিন্ন করে গোপালকে বাড়ী পাঠিয়ে দিলেন, আর গোপালের সঙ্গ করলেন না।*
*☘শ্রীদামোদর-স্বরূপ এ জায়গায় শাঙ্করভাষ‍্যের কথা-প্রসঙ্গে মায়াবাদের নাম মাত্র উল্লেখ করেই আচার্য‍্যকে নীরব করে দিলেন বা চুপ করিয়ে দিলেন।ভগবান আচার্য‍্য ভক্ত ও পরম পন্ডিত, কিন্তু অতি সরল।মায়াবাদের অন্তরালে যে নিদারুণ বিষরাশি রয়েছে,তিনি তা ভাবননি।মায়াবাদের দ্বারা কেউ কোনদিন ঈশ্বর লাভ করতে পারেননি আর পারবেনও না।একমাত্র ভক্তি ছাড়া ভগবানকে পাওয়া যায় না। যাইহোক, যে নিত‍্য-সত‍্য-সচ্চিদানন্দ-বিগ্রহ বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের প্রাণের আরাধ‍্য পদার্থ,মায়াবাদের অসার যুক্তি,সেই প্রিয়তম প্রাণারাধ‍্য পদার্থকে কাল্পনিক ও অজ্ঞান-বিজম্ভিত করে তোলে।ভক্তের প্রাণে এইরকম ভগবদ্ অবজ্ঞা সহ‍্য হয় কি?স্বরূপদামোদরের এই এক কথাতেই ভগবান আচার্য‍্য চুপ করে রইলেন। তিনিও ঐ মুহূর্তেই তাঁর অসঙ্গত অনুরোধের অযৌক্তিকতা বুঝতে পেরে চুপ করে থাকলেন। এই স্থানেই মায়াবাদ সম্বন্ধে কয়েকটি কথার আলোচনা করে শাঙ্করভাষ‍্য‍্য-অনভিজ্ঞ পাঠকগণের কৌতূহল নিবারণ করতে প্রয়াস পেতাম, কিন্তু পূর্ববঙ্গীয় ব্রাহ্মণের নাটক-সমালোচনায় শ্রীস্বরূপের শ্রীমুখ হতে বাহির হওয়া উপদেশ লহরীর আলোকেই সেই তত্ত্ব পাঠকগণের দৃষ্টি গোচর হবে। এক্ষণে সেই প্রসঙ্গের উত্থাপনা করা যাচ্ছে।*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীস্বরূপদামোদর 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/swarup2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds