শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০১)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (দ্বিতীয় খন্ড)*
    *ব্রজধামের চার সিদ্ধ বাবা*
    ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀আমরা যারা ব্রজধামে যাই তারা সকলেই প্রায় প্রধান বৃন্দাবনের বিশিষ্ট মন্দির এবং ষড়গোস্বামীর সৃষ্ট দেবদেবীর মন্দিরগুলি দর্শন করি। কিন্তু এছাড়াও বতর্মানের বৃন্দাবনের যাঁরা স্থায়ী বৈষ্ণব এবং ভক্তসমাজ আছেন তাঁরা কিন্তু ব্রজের চার সিদ্ধবাবার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধ‍্যার্ঘ নিবেদন করেন এবং এই চার সাদ্ধ বাবার নাম হচ্ছে--,*
*🌷কাম‍্যবনের সিদ্ধ জয়কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজ, গোবর্দ্ধনের সিদ্ধ কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজ, রণবাড়ীর সিদ্ধ কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজ এবং সূর্য‍্যকুন্ডের সিদ্ধ মধুসূদনদাস বাবাজী মহারাজ।*
*🌸এই চার মহাত্মার মধ্যে কাম‍্যবনের সিদ্ধ জয়কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজই সর্বজ‍্যেষ্ঠ এবং তৎপরে গোবর্দ্ধনের সিদ্ধবাবা এবং তারপরে রণবাড়ীর সিদ্ধবাবা এবং সর্ব কনিষ্ঠ সূর্য‍্যকুন্ডের সিদ্ধবাবা। এই চার মহাত্মার ভজন এবং তাঁরা কিভাবে শ্রীরাধারাণীর কৃপা পেয়েছিলেন সে এক বিরাট কাহিনী, সেজন‍্য অধমের মনের বাসনা এই চার সিদ্ধবাবার সাধন ভজনের কাহিনী ভক্তসমাজে প্রচার করে এবং সেজন‍্য চার মহাত্মার ভজন কাহিনী পৃথক পৃথক ভাবে প্রকাশ করা।যাতে ভক্তবৃন্দ যাঁরা বৃন্দাবনধামে যান তাঁরা তা দর্শন করতে পারেন।*
*🌻কাম‍্যবনের সিদ্ধ জয়কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজ।*
*🍀এই সিদ্ধ বাবার পূর্বাশ্রমের কোন পরিচয় জানা যায় না, শুধুমাত্র গঙ্গামাতা পরিবার ছাড়া।তিনি বৃন্দাদেবী কর্তৃক স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে কাম‍্যবনে ভজনে রত হন।যার অর্থ এই যে, সর্বপ্রথমেই স্বপ্নের মাধ‍্যমে কৃপা প্রাপ্ত হন।এইভাবে কাম‍্যবনের অন্তর্গত বিচ্চেলীবাস নামক এক জায়গায় সাধন-ভজনের উদ্দেশ্যে স্থায়ী হন।এমত সময়ে নিত‍্যানন্দ বংশাত্মজ নবকিশোর গোস্বামী নামক এক ভজনীয়া মাহাত্ম্য সেই কাম‍্যবনে আগমন করেন, এবং সঙ্গে তাঁরই সেবিত মদনমোহন বিগ্রহকে সঙ্গে আনেন।কিছুদিন বাদে তিনি যখন কাম‍্যবন ত‍্যাগের সঙ্কল্প করেন তখন স্বপ্নের মাধ‍্যমে সেই মদনমোহন বিগ্রহ তাঁকে বলেন যা গ্রন্থের ভাষায় এইরকম---*
*🌷তোমার সেবায় তুষ্ট হইল মোর মন।*
*🌷এবে বাবাজীর সেবা করিব গ্রহণ।।*
*🌷এথায় রাখিয়া মোরে করহ গমন।*
*🌷এই স্থান ত‍্যজিতে নাহি চাহে মোর মন।।*
*🌻এইরকম স্বপ্নাদেশের পর সেই নবকিশোর গোস্বামী মহাশয় সিদ্ধবাবার হাতে সেই সেবা অর্পণ করে গমন করেন, এবং তদবধি (সেই অবধি) সেই মদনমোহন বিগ্রহ জয়কৃষ্ণদাস বাবাজীর সেবাপ্রাপ্ত হতে থাকেন। এখানে দেখুন সর্বপ্রথম বৃন্দাদেবী তাঁকে কাম‍্যবনে ভজনের স্বপ্নাদেশ করেন এবং তার পরে এই মদনমোহন বিগ্রহের সেবা কৃপা লাভ করেন।তাঁর ভজন নিষ্ঠা এমনই ছিল যে তা শুনিলে বিস্ময়ে হতকাক হতে হয়, যা গ্রন্থের ভাষায় আপনারা কিঞ্চিৎ আস্বাদন করুন---*
*🌷অপূর্ব বাবার গুণ শুন সর্বজন।*
*🌷শুনিলে ভগবদ্ কথা প্রেমাবিষ্ট হন।।*
*🌷কভু হাসে কভু নাচে হুঙ্কার গর্জন।*
*🌷প্রেমে মস্তকের শিখা হয়ত উদ্দাম।।*
*🌷হুঙ্কারে কুটির ছাদ বিদীর্ণ হইল।*
*🌷সকলে হেরিয়া তাহা ধন‍্য ধন‍্য কৈল।।*
*🌺সিদ্ধবাবা ভজনানন্দে দিন কাটান এবং দেহধারণের জন্য একবার মাত্র মাধুকরী ভিক্ষায় বাহির হতেন।এমত সময়ে একদিন ভরতপুরের মহারাজা তাঁর নিষ্ঠার কথা শুনে আকৃষ্ট হয়ে তাঁকে দর্শন করতে আসেন, এবং তখন বাবা ভিক্ষায় বাইরে ছিলেন। ভরতপুরের মহারাজা দীনভাবে তাঁর কুটিরের সামনে বসে আছেন, এমন সময়ে বাবা হঠাৎ চিৎকার করে বলতে থাকেন যে, তাঁর কুঠিয়ায় আগুন লেগেছে এবং সেইকথা শুনে গ্রামবাসীগণ ছুটে এসে দেখেন যে আগুনের কোন চিহ্নই নাই এবং তার-পরিবর্তে ভরতপুরের মহারাজকে ঐ অবস্থায় সেখানে দেখেন।তখন গ্রামবাসীগণ ভীত সন্ত্রস্তভাবে মহারাজের কাছে গিয়ে বললেন, যে মহারাজ বাবা রাজদর্শন করতে চান না এবং তিনি যেন কৃপা করে সরে যান।মনক্ষুন্ন হয়ে মহারাজ বিষন্ন মনে স্থান ত‍্যাগ করলেন।(অনেকটা মহারাজা প্রতাপরুদ্রের সঙ্গে শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভুর দর্শন কাহিনী অনুরূপ)।মহারাজার মনে যে কিরকম দুঃখ হতে পারে তা ভক্তপাঠকগণ সহজেই অনুমান করতে পারেন।অতঃপর মহারাজ চলে গেলে সেই জায়গা গোময় জলে শুদ্ধ করে বাবা তাঁর কুটিরে প্রবেশ করেন।*
*ভজনের কৃপা ধীরে ধীরে বর্ষিত হয়।এমত সময়ে রাখাল বালকগণ প্রায়ই বারার কঠিয়ার নিকট আগমন করে খাবার জল চাহিত এবং বাবা তাতে ভীষণ বিরক্ত হতেন।অবশেষে স্থান ত‍্যাগের সঙ্কল্প করেন।কিন্তু গ্রামবাসীদের চরম অনুরোধে সেই সিদ্ধান্ত ত‍্যাগ করেন।অবশেষে আবার একদিন সেই রাখাল বালকগণ বাবার কুঠিরের কাছে এসে তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে গেছে বলে জল পান করতে চেয়ে ভীষণ ব‍্যতিব‍্যস্ত করতে লাগল এবং হিন্দি ভাষায় বাবাকে যা তা বলতে লাগল,যাতে বাবা বাইরে এসে তাদের তাড়া দেন এবং জল দেন। অবশেষে বাবা বিরক্ত হয়ে হাতে লাঠি নিয়ে বাইরে এসে দেখেন যে অসংখ্য অর্থ‍্যাৎ হাজার হাজার গোবৎসগণ তাঁর কুঠিয়ার চারিদিকে বিচরণ করছে, যা ঐ অঞ্চলের অন‍্য সময় দেখা যায় না, এবং তদুপরি দেখেন যে দু'টি রাখাল বালক তাদের চরাচ্ছে এবং সমানে পান করবার জন্য খাবার জল চাইছে। বাবা তাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বলেন যে-----*
*🌷শিশু কহে নন্দগ্রাম হতে আগমন।*
*🌷কানাই আমার নাম বলাই ও জন।।*
*🌷পরিচয় কর পাছে ধরহ বচন।*
*🌷শীঘ্র জল আনি কর পিপাসা মোচন।।*
*🍀সিদ্ধ বাবার রাগ যেন হঠাৎ শান্ত হল এবং তিনি কমন্ডলুর জল এনে সেই বালকদ্বয়কে পিয়ালেন এবং বালকদ্বয় হাতের অঞ্জলি করে সেই জলপান করতে লাগলেন।পরে আবার সেই বালকদ্বয় বাবাকে বললেন যে, তারা দূর হতে এসেছেন এবং একটু বাল‍্যভোগ পেলে তারা খেতেন।তারপরে আরও বললেন যে,তাঁরা রোজই আসবেন এবং তিনি যেন তাঁদের জন্য একটু বাল‍্যভোগেরও ব‍্যবস্থা রাখেন।এইরকম কথাবার্তা হবার পর বাবা কুটিরের ভিতরে চলে আসিলেন এবং হঠাৎ তাঁর মনে হল যে তিনি যে এই বিমলাকুন্ড অঞ্চলে থাকেন, কিন্তু এইরকম রাখাল বালককে তিনি তো আগে কখনও দেখেন নাই, তার উপরে এত অজস্র গোধনগুলিও তো তিনি এই অঞ্চলে আগে কখনও দেখেন নাই। মনে এক প্রশ্ন বা সংশয়ের উদয় হল এবং তখন তিনি আবার কুটিরের বাইরে এসে দেখেন যে সেই বালক দুটির কেউই সেখানে নেই এবং এত যে হাজার হাজার গোবৎস তারাও কেউ নেই।তখন সিদ্ধ বাবার মনে এক ভীষণ সংশয়ের সৃষ্টি হল এবং ভাবতে লাগলেন যে মুহূর্তের মধ্যে কিভাবে এত গোবৎস ও গোবালকগণ কিভাবে অন্তর্হিত হতে পারে!তবে কি দেখলাম!*
*🌷তবে বাবা হৃদয় মাঝে চিন্তিতে লাগিল।*
*🌷এতাদৃশ গোধন আর গোপ শিশুগণ।।*
*🌷এমত কথা কভু না করি শ্রবণ।*
*🌷অতএব জাগতিক নহে এই গোপশিশুগণ।।*
*🌷অন্তর্দ্ধান হেরি হৈল অনুতপ্ত মন।*
*🌷আপন দুর্ভাগ্য চিন্তি করয়ে ক্রন্দন।।*
*🌻বাবার এই আক্ষেপ এবং অনুশোচনা দর্শনে কৃপাময় শ্রীকৃষ্ণচন্দ্রের হৃদয়ে করুণার সঞ্চার হল এবং স্বপ্নের মাধ‍্যমে বললেন যে তুমি আক্ষেপ করিও না,আগামীকাল আমরা তোমার কাছে আবার আসিব।বাবা তখন ধৈর্য‍্য ধরে বিষন্ন চিত্তে ভজনে নিবিষ্ট হলেন এবং পরদিনে এক বৃদ্ধ ব্রজমায়ী এক বালগোপাল মূর্তি হাতে বাবার কাছে আগমন করে বললেন--বাবা আমি বৃদ্ধ হয়েছি আর সেবা করতে পারি না, তুমি বাবা এই গোপালকে নিয়ে সেবা করো।বাবা তখন কহিলেন যে "আমি বনবাসী বৈষ্ণব আমি কি করে তোমার এই গোপাল সেবা করব।তখন সেই বৃদ্ধা ব্রজমায়ী বললেন যে ঠাকুর তাঁর সেবা নিজেই চালিয়ে নিবেন, তুমি বাবা গোপালকে গ্রহণ করে আমায় উদ্ধার করো। ব্রজমায়ের পীড়াপীড়িতে অবশেষে বাবা সেই গোপালকে গ্রহণ করলেন এবং সেই ব্রজমা তখন চলে গেলেন।কৃপার এমনই মহিমা যে সেই রাত্রেই ব্রজমায়ীরূপে বৃন্দাজী স্বপ্নে বাবাকে বললেন যে তুমি আমার প্রিয়জন এবং তোমার কাছেই আমার গোপাল প্রকৃত প্রেমসেবা পাবে এবং এইজন‍্যই তোমাকে আমি এই বালগোপালের সেবা দিয়েছি।এই বাবাজীর জীবন অনুশীলন করলে দেখা যায় যে কৃপার বাতাস কিভাবে তাঁর জীবনকে ধন‍্য করেছিল।*
*(১)সর্বপ্রথম তিনি বৃন্দাদেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে কাম‍্যবনে ভজনে আসেন।*
*(২)তার পরে নবকিশোর গোস্বামী সেবিত মদনগোপাল বিগ্রহের স্বপ্নাদেশের মাধ‍্যমে তাঁর সেবা পাবার বাসনা প্রকাশ করেন যার ফলে এই গোস্বামী মহাশয় তাঁর সেবিত মদনগোপাল বিগ্রহকে, বাবাকে সেবার জন্য দিয়ে যান।*
*(৩)বাবাজীর ভজনের হুঙ্কার গর্জন এমনই ছিল সেই শব্দের প্রভাবে বারার মস্তকের শিখা খাড়া হয়ে যেত এবং কুটিরের ছাদ পর্যন্ত ফেটে যেত।*
*(৪)ভরতপুরের মহারাজা দীন-দৈন‍্যভাবে তাঁকে দর্শন করবার জন্য তাঁর কুটিরে এসেছিলেন কিন্তু বাবা মানসে তা জানতে পেরে আগুন আগুন বলে চিৎকার করেছিলেন যদিও প্রকৃত আগুন লাগেনি। এবং রাজার আগমনে স্থান অপবিত্র হয়েছে বিচার করে জায়গাটি গোবর জল দিয়ে শুদ্ধ করে নিয়েছিলেন।*
*(৫)অবশেষে বাবার ভাগ্য এতই সুপ্রসন্ন ছিল যে তিনি স্বয়ং নিজের কমন্ডলুর জল কানাই-বলাইকে তাঁদের করাঞ্জলীতে ঢেলে পান করিয়েছিলেন। আবার তাঁরা দুইজন বাবার কাছে বাল‍্যভোগও খেতে চেয়েছিলেন।*
*(৬)তদুপরি বাবা যখন পরে তাঁদের স্বরূপ বুঝতে পেরে আক্ষেপ এবং অনুশোচনার দহন জ্বালায় পীড়িত হয়েছিলেন। তখন কৃপাময় শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন তুমি আর দুঃখ করিও না।আমরা আবার আসিব।পরে ব্রজমায়ী স্বরূপে এক বৃদ্ধা হয়ে এসে গোপাল বিগ্রহ দিয়ে যান।যে বিগ্রহ অদ‍্যাপি বিদ‍্যমান। এই ভাবেই বাবার মহাজীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে এবং অন্তিমকালে বাবা যেন শ্রীমতীকে মানসে শৃঙ্গার করেছিলেন এবং নিশ্চয়ই তার জন্য --*
*🌷কোথা কাঁচুলী ঘাঘরা ওড়না কহিল।*
*🌷দিব‍্য ভাব প্রকাশিয়া অন্তর্দ্ধান কৈল।।*
*🌻অনেকের মনে এই প্রশ্ন আসতে পারে যে বাবা কেন বৃন্দাবন ত‍্যাগ করে কাম‍্যবনে সাধনভজনে রত হয়েছিলেন, তার কারণ এই যে,বাবা বৃন্দাদেবীর স্বপ্নাদেশেই ইহা করেছিলেন।তার উপরে বর্তমানে বাবার যে সমাধি আমরা দর্শন করি তা বিমলাকুন্ড তীরে। বিমলাকুন্ডের পরিবেশ এমনই মনোরম এবং চিত্তাকর্ষক যে নির্জনে কুন্ডতীরে বসে স্মরণ মনন করলে ভক্তিভাব জাগ্রত হতে বাধ‍্য।তদুপরি আরও জানাই যে বাবার যে এই সব লীলা কাহিনী আপনারা শুনিলেন তা কিন্তু বতর্মান মন্দিরের সামনে না। বাবার সেই আদি গুম্ফা খানিকটা দূরে এবং এখনও সেই আদি ভজন গুম্ফা দেখা যায় এবং স্থান মাহাত্ম্যের জন‍্য বহু ত‍্যাগী বৈষ্ণব সাধুগণ সেখানে থেকে ভজন করেন, যা আপনারা অবশ্যই দর্শন করবেন।বাবার ভজন প্রভাবে সেই জায়গার জল,মাটি,আকাশ,বাতাস সবই পবিত্র এ রাধারাণীর কৃপার বাতাস এবং দয়ালু শ্রীকৃষ্ণচন্দ্রের পরশ আপনারা অবশ্যই অনুভব করবেন।তার উপরে বৃন্দাজী দেওয়া সেই অপ্রাকৃত গোপাল বিগ্রহ অদ‍্যাপি এই শ্রীমন্দিরে বিরাজমান।অধম লেখক এই জায়গাটির যথা সম্ভব সংস্কার করে দিয়েছেন এবং যার ভাবার্থ সিদ্ধ বাবা কৃপা করে এই অধমের দ্বারা কিঞ্চিৎ সেবা করিয়ে নিয়েছেন।কারণ মানুষের কোন ক্ষমতা নেই। এই আশ্রমের বতর্মান মোহন্ত শ্রীশচীনন্দন দাস বাবাজী মহারাজ এবং তাঁরা সকলে অভ‍্যাগত ভক্তদের যথেষ্ট ভালবাসেন।এই আশ্রমের পরিবেশে প্রচুর মহারাজ ভজন করেন।ভক্তগণ যেন সিদ্ধবাবার সেবার জন্য যথাসাধ‍্য ভিক্ষা দান করেন এই প্রার্থনা।ভিক্ষা পাঠাবার ঠিকানা ---*
*Sri sachinandan Das*
   *(Mohanta Maharaj)*
*Madan Gopal Mandir*
*P.O= Kama*
*Dist=Bharatpur (Rajasthan)*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০২)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (দ্বিতীয় খন্ড)*
*গোবর্দ্ধনের সিদ্ধ জয়কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজ*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀পূর্বাশ্রমের পরিচয় হতে জানা যায় যে উৎকলদেশে তাঁর জন্ম এবং তাঁর পিতার নাম সনাতন কানুনগো এবং মাতার নাম জয়ীদেবী।পিতার মৃত‍্যুর পর তাঁর মা সহমরণের মাধ‍্যমে সতী হন এবং তার পূর্বে এই পুত্রকে বৃন্দাবন ধামে গমন করে সাধনভজন করতে মনোবাঞ্জা প্রকাশ করে যান। যার ফলে ষোল বৎসর বয়সকালে একাকী বৃন্দাবনধামে গমন করেন,ক্রমে শ্রীধাম বৃন্দাবনে ব্রহ্মকুন্ডে আগমন করেন।*
*সর্বপ্রথম তিনি বৈষ্ণবদাস নামক এক মহাবৈষ্ণবের আনুগত‍্যে গ্রন্থপাঠ ইত্যাদি শুরু করেন, হঠাৎ তাঁর অপ্রকটে মনে বড় অভাব বোধ করেন এবং তখন তিনি গোবিন্দদেবের সেবা অভিলাষে জয়পুরে গমন করেন।জয়পুরের মহারাজা এইরকম একজন নিষ্কিঞ্চন বৈষ্ণফকে পেয়ে সেখানে থাকতে সম্মতি প্রদান করেন এবং বেশ কিছুদিন গোবিন্দদেবের সেবার কার্য‍্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেন।রাজবাড়ীর সেবা মানে রাজসেবা খুবই বাহুল‍্য এবং প্রাচুর্য‍্যের সহিত সেই সেবা হয়।এই রাজসেবার প্রসাদ পেতে পেতে তাঁর মনে এক বিকৃতভাবের উদয় হল,যা ভজনের পক্ষে মোটেই অনুকূল নহে।তখন তিনি আত্মশোধনের জন্য জয়পুরের সেবা পরিত‍্যাগ করে পুনরায় কাম‍্যবনে সিদ্ধ বাবার কাছে এসে নিজের মনের বিকৃতভাবের সব কথা অকপটে নিবেদন করলেন।সেইসব কথা শুনে সিদ্ধবাবা যা বলেছিলেন তা আপনারা গ্রন্থের ভাষায় শুনুন।*
*🌷কাঁচা অবস্থায় বৃক্ষ কাটি জলেতে ফেলিয়া।*
*🌷তুলিয়া আগুনে দিলে না যায় পুড়িয়া।।*
*🌷না শুকালে অগ্নিতে কভু না হয় দহন।*
*🌷 সেই মত জীবের দশা হয়ত ঘটন।।*
*🌻এই উপদেশের মাধ‍্যমে সিদ্ধবাবা ইহাই বুঝিয়ে দিলেন যে অল্পবয়সে এই রাজষিক পরিবেশে থেকে ভজন ফলে তাঁর এই চিত্ত বিকৃতি ঘটেছে, অতএব তা করা অনুচিত।তখন তিনি বৃন্দাবনের "দোমন বনে" বাস করে কঠোর ভজনের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে দিলেন এবং দেহ ধারণের জন্য "কাঁচা আটা গুলে,তার সঙ্গে নিমপাতা মিশিয়ে একদম তিতা করে তা খাদ‍্য হিসাবে গ্রহণ করতে লাগলেন"।আপনারা একবার ভেবে দেখুন যে যিনি এতদিন জয়পুরের মহারাজার মাধ‍্যমে উন্নতমানের সব প্রসাদ পেতেন,তিনি কিনা কাঁচা ময়দার গোলার সঙ্গে নমপাতার রস মিশিয়ে তা ভোজন করতে লাগলেন, যার ফলে অতি অল্পদিনের মধ্যেই তাঁর দেহ ক্ষীণ হয়ে গেল এবং তারউপরে তিনি দৃষ্টিশক্তিও হারিয়ে ফেললেন।*
*যার ফলে আর মাধুকরীতে যেতে পারেন না,এমনকি অন্ধ অবস্থায় জল পর্য‍্যন্ত নিতে পারেন না।অথচ ভজন ঠিক চলতে লাগল কিন্তু "কৃপাময়ীর কৃপা দৃষ্টি সর্বত্র বিরাজিত, সেজন‍্য অচিরেই তিনি তা জানতে পারলেন যে,ভক্তের এই কষ্টে তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না। তখন তিনি ললিতা সখীকে কি বলেছিলেন তা আপনারা গ্রন্থের ভাষায় আস্বাদন করুন।*
*🌷পরম করুণাময়ী রাধাঠাকুরাণী।*
*🌷ললিতারে ডাকি কহে সকরুণ বাণী।।*
*🌷শীঘ্র কৃষ্ণদাসে গিয়া করাহ ভোজন।*
*🌷মোর নামে কলঙ্ক না করহ রটন।।*
*🌷ব্রজেতে অভুক্ত নাহি রহে কোনজন।।*
*🌷এই বাক‍্য রাখিতে সত‍্য করহ গমন।*
*🌷আজ্ঞা লইয়া অনুরাধা চলিল তখন।।*
*🌷দোমন বনে কৃষ্ণদাস সমীপে আসিল।*
*🌷সম্বোধন করি তাঁরে কহিতে লাগিল।।*
*🌷 বাবা প্রতি কৃপা দৃষ্টি করি প্রদর্শন।*
*🌷 ব্রজবালা রূপে দেবী দিল দরশন।।*
*🌷কহে বাবা প্রসাদ লৈয়া করহ ভোজন।*
*🌷তোর দুঃখ দেখি মাতা করিল প্রেরণ।।*
*🌷মৃত সঞ্জীবনী বাক‍্য করিয়া শ্রবণ।*
*🌷উল্লাসে বাবার চিত্ত হইল পূরণ।।*
*🌷প্রসাদ সৌগন্ধে দেহ সবল হইল।*
*🌷প্রসাদ গ্রহণে দিব‍্য শক্তি উপজিল।।*
*🌻তখন ললিতারূপী ব্রজবালা বাবাকে বললেন,যে আপনি মাধুকরী ভিক্ষায় আজকাল কেন যান না? তখন বাবা বললেন,যে মা আমি দৃষ্টিহীনতার জন্য যেতে পারি না।তাঁর কথা শুনে ললিতা সখী তখন বললেন "মা" আপনার জন্য এক অঞ্জন (কাজল) পাঠিয়ে দিয়েছেন।*
*আমি তা আপনার চোখে লাগাতে চাই, তবে একটি সর্ত্ত আছে।চোখে কাজল লাগাবার পর একঘণ্টা আপনাকে চোখ বুজে থাকতে হবে।বাবাজী সেই সর্ত্তে রাজী হওয়ায় ললিতাসখী সেই দিব‍্য অঞ্জন বা কাজল তাঁর দুই নয়নে প্রলেপ লাগিয়ে দিলেন এবং একঘণ্টা বাদে যখন তাকালেন তখন সেই হারানো দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলেন।🌺ভজনের কি মহিমা-- ভজনের কি পুস্কার--তা ভাবলে মনে হয় দৈবী কৃপায় সব অসম্ভবই সম্ভব হতে পারে।যাকে বলা হয় ঐশী শক্তি বা ভগবদ্ শক্তি,কারণ এই যে চোখে আমরা দেখি সেই চোখের যিনি মালিক তিনি ইচ্ছা করলে সবই করতে পারেন।এই লীলার দ্বারা ইহাই প্রতিষ্ঠিত হল যে ভক্তের যোগক্ষেম তিনি সত‍্যই বহন করেন।*
*অতঃপর কৃপাময়ী মহাভাবস্বরূপিনী রাধারাণী তাঁকে স্বপ্নাদেশের মাধ‍্যমে সব রহস‍্য প্রকাশ করেন এবং তাঁকে গোবর্দ্ধনে চলে এসে ভজন করতে আজ্ঞা করেন।এইভাবেই বাবা মানস গঙ্গাতীরে গোবর্দ্ধনে আগমন করে ভজনে নিবিষ্ট হন।এই গোবর্দ্ধনেই তাঁর ভক্তিময় জীবনের চরম বিকাশ সাধিত হয় যা ভক্ত পাঠকগণ এখন আস্বাদন করুন।*
*এই ভাবে গোবর্দ্ধনে চাকলেশ্বরে মহাদেবের কাছেই মানসগঙ্গাতীরে বাবা তাঁর সাধনভজন শুরু করেন, গ্রন্থজ্ঞান শাস্ত্র অধ‍্যয়নের বাসনা তাঁর মধ্যে ভীষণভাবে জাগ্রত হল কিন্তু নিজে অশিক্ষিত হওয়ায় সেই সব ভক্তিগ্রন্থ পাঠে অসমর্থ ছিলেন, তাতে মনস্থ করেন যে,আমি যখন গ্রন্থ পাঠ করতেই পারব না,তাহলে আমার জীবনে কিছুই জানা হবে না!তাই মানসগঙ্গায় নিজদেহ বিসর্জন দিবেন।সারারাত ঘুম নাই,মন বড়ই বিষাদিত,দেহপাতের সঙ্কল্প করে যখন তন্দ্রাবেশে আচ্ছন্ন ছিলেন তখন শেষ রাত্রে কে যেন কুটিরের পাশ থেকে ডাকল,তখন তিনি কুটিরের বাইরে এসে দেখেন যে কন্থাকরঙ্গধারী শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামী এবং তাঁর সঙ্গে ললিতাসখী সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন।এই অভূতপূর্ব (আগে যাহা ঘটে নাই এমন) অবিশ্বাস্য দৃশ্য দেখে বাবা তখন তাঁদের শ্রীচরণতলে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন এবং তাঁরা তাঁর শিরস্পর্শ করে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, "কৃষ্ণদাস সব কুশল তো-- মাধুকরী ভিক্ষাতে যা পাও তাতে পেট ভরে তো? তখন বাবা সাশ্রুনয়নে গদগদ কন্ঠে বললেন, যে প্রভো!শাস্ত্রজ্ঞানের অভাবে বড়ই মনোকষ্টে আছি, সেজন‍্য এই দেহ আর রাখতে চাহি না। তখন শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামী কৃপা পরবশ হয়ে বললেন, এরজন‍্য দেহপাতের কোন প্রয়োজন নেই, আমার আশীর্বাদে সর্বশাস্ত্রজ্ঞান তোমার মধ্যে স্ফূরণ হবে এবং ললিতাদেবীও তাঁকে অনুরূপ আশীর্বাদ করে তাঁর শ্রীচরণ বাবার শিরে স্পর্শ করে আশীর্বাদ করলেন, যাকে বলা হয় স্পর্শিত কৃপা।কৃপার এমনই প্রভাব যে শুধুমাত্র মহৎ কৃপায় সব শাস্ত্রজ্ঞান তার মধ্যে আপনা হতেই প্রকাশ পেতে লাগল এবং ক্রমে ক্রমে এই দিব‍্যশক্তি প্রভাবে তিনি বৈষ্ণব জগতের সার্বিক মঙ্গলের জন্য কয়েকটি গ্রন্থও রচনা করে গিয়েছেন যার মধ্যে প্রধান হচ্ছেন---*
*(১)ভজন পদ্ধতি গুটিকা।*
*(২)ভাবনাসার সংগ্রহ।*
*(৩)প্রার্থনামৃত তরঙ্গিণী।*
*(৪সাধনামৃত চন্দ্রিকা ইত্যাদি।*
               *🙏ক্রমাগত🙏*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৩)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (দ্বিতীয় খন্ড)*
*গোবর্দ্ধনের সিদ্ধ কৃষ্ণদাস বাবাজীমহারাজ*
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*🍀এমত সময়ে দক্ষিণদেশীয় এক দিগ্বিজয়ী পন্ডিত বৃন্দাবনে আগমন করে তাঁর সঙ্গে শাস্ত্র যুদ্ধে রত হন এবং পরে পরাজিত হয়ে তিনি নিজ মুখে স্বীকার করেন, আজ যে তিনি ইহার মধ্যে যে জ্ঞানের পরিচয় পেলেন, ইহা কিছুতেই কোন জাগতিক বিদ‍্যা নহে, নিশ্চিত ইহা ঐশী শক্তি। কথাটা ঠিকই বটে, কারণ বাবা যে শাস্ত্রজ্ঞান লাভ করেছিলেন তা কোন অধীত(যা পাঠ করা বা অধ‍্যয়ন করা হয়েছে )বিদ‍্যা নহে তা হচ্ছে বৈষ্ণব কৃপা সঞ্জাত এবং সেজন‍্য ইহা প্রকৃতপক্ষে জাগতিক বিদ‍্যা কভু নহে।*
*আর একবার বাবা ভজন আবেশে মানসগঙ্গায় ঝাঁপ দিলেন এবং কেউই তা জানতেই পারল না,সকলে মনে করলেন যে,বাবা নিশ্চিত দেহপাত করেছেন।এই ভাবে সাতদিন অতিক্রান্ত হবার পর বাবা হঠাৎ মানসগঙ্গার জলের মধ্যে ভেসে উঠলেন এবং সঙ্গে একাধিক গ্রন্থ।সাতদিন জলের মধ্যে থাকলেও একখানি গ্রন্থও জলসিক্ত হয়নি বা ভিজা ছিল না।দৈবীশক্তিতে কি-না হয়?পরে সফাই যখন বাবাকে জিজ্ঞাসা করেন যে বাবা! এই সাতদিন আপনি কোথায় ছিলেন? তদুত্তরে বাবা বলেন এই তো আমি সবে মাত্র মানসগঙ্গায় স্নান করে উঠিলাম।উপস্থিত সবাই বাবার এই কান্ড দেখে স্তম্ভিত ও অবাক হয়ে গেলেন।*
*বাবার সাধন-ভজন এত উচ্চস্তরে ছিল যে একবার বর্ষানায় হোলি খেলবার কথা তাঁর মানসপটে উদিত হল, তিনি তখন মানসে হোলি খেলার রাজ‍্যে প্রবেশ করলেন এবং বহু পরে যখন তাঁর বাহ‍্যজ্ঞান ফিরে আসিল তখন দেখেন যে বাবার পুরো দেহে,বহির্বাসে সব কুঙ্কুম আবীরে ভেজা এবং তার সৌগন্ধে চারিদিক আমোদিত।সাধনভজনের কি স্তরে পৌঁছাইলে যে এইসব অপ্রাকৃত ব‍্যাপার মানুষের জীবনে সংঘটিত হয় তা কল্পনার অতীত।করুণাময়ী রাধারাণীর কি অসীম কৃপা বাবার উপর বর্ষিত হত তা এইসব ঘটনার দ্বারা উপলব্ধি করা যায়।অন‍্য একটি ঘটনা এখন তুলে ধরব, যা শ্রবণ করলে বাবার চরণে নিজে থেকেই মস্তক নত হয়।*
*🍀একবার যশোবন্ত সিংহ নামক এক রাজপুত, মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হয়ে প্রচুর ধনরত্ন লাভ করেন এবং তিনি তা বৈষ্ণব সেবায় দান করবেন মনস্থ করে বাবার কাছে আগমন করে তাঁর মনের কথাগুলি বললেন, কিন্তু বাবা তা গ্রহণ করলেন না এবং তখন তিনি কিছু দান গ্রহণ করবার জন্য চরমভাবে অনুনয় বিনয় করাতে বাবা এক অদ্ভুত প্রস্তাব করলেন যা গ্রন্থের ভাষায় আপনারা আস্বাদন করুন।*
*🌷শেষে বাবা পাশে আসি করে নিবেদন।*
*🌷কৃতার্থ করহ কিছু করিয়া গ্রহণ।।*
*🌷বাবা কহে রাণী তব আছে বহুজন।*
*🌷সর্ব প্রিয়তমা জনে কর আনয়ন।।*
*🌷আজ্ঞামাত্র লছমিকে তথা আনাইল।*
*🌷সুসজ্জিত করিয়া বাবা পাশে পাঠাইল।।*
*🌷ভজনাবেশে বাবা বসিয়া নির্জন।*
*🌷সেকালে লছমীদেবী করয়ে গমন।।*
*🌷কঙ্কণ কিঙ্কিণী নূপুরের কলতান।*
*🌷বিস্ফারিত নেত্রে হেরি হারাইল জ্ঞান।।*
*🌷দশ পনেরো হাত দূরে রাণী দাঁড়াইল।*
*🌷এই ভাবে এক প্রহর অতীত হইল।।*
*🌷পরদা খুলিয়া রাণী দাঁড়াইয়া রহিল।*
*🌷দাসীদ্বারা ডাকাইয়া রাজাকে দেখাইল।।*
*🌷বাবার ভাব হেরি রাজা কিঞ্চিৎ বুঝিল।*
*🌷ভাবরাজ‍্যের জ্ঞানহীনে সংশয় জন্মিল।।*
*🌷হেনমতে তিনদিন অতীত হইল।*
*🌷রাজা তথা তিনদিন আপনি রহিল।।*
*🌷বাহ‍্য পাইয়া বাবা যশোবন্তে যে ডাকিল।*
*🌷শিরে হস্ত সমর্পিয়া আশীষ করিল।।*
*🌷তখন বাবার ভাব বুঝিল রাজন।*
*🌷সামান‍্য ধ্বনিতে বাবার হৈল দিব‍্যমন।।*
*🌷রাধার কঙ্কণ ধ্বনি করি অনুমান।*
*🌷প্রেমেতে বিভোর হইয়া হারাইল জ্ঞান।।*
*🌻এখানে দেখুন কি অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটিল।ত‍্যাগী মহাবৈষ্ণব যাঁরা নারীমুখ দর্শন করেন না,তিনি কিনা বললেন যে আপনার সবচেয়ে প্রিয় সুন্দরী রাণীকে নিয়ে আসুন যদি কিছু দান করবার একান্ত ইচ্ছাই আপনার মন চাহে।বিষয়ী রাজা,বৈষ্ণব আদেশ পালনের জন্য তাঁর সুন্দরী রাণী লছমীদেবীকে সুসজ্জিত করে বাবার কাছে পাঠিয়ে নিজে অলক্ষ‍্যে সেখানে রইলেন।ভোগ বিলাসী বিষয়ী রাজার মনে নানা সন্দেহ আসা খুবই স্বাভাবিক, কারণ ক্ষণিক পূর্বে যিনি কোন পার্থিব ধনদৌলত দান হিসাবে গ্রহণ করলেন না, তিনি তার পরিবর্তে চান তাঁর সুন্দরী রাণীকে দর্শন করতে।মনে বিকার আসা রাজার পক্ষে খুবই স্বাভাবিক কিন্তু রাণীর অলঙ্কারের কঙ্কণ ধ্বনি শোনামাত্র বাবা জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন, কারণ বাবা মনে করলেন যে,স্বয়ং করুণাময়ী রাধারাণী তাঁর কাছে আগমন করেছেন এবং শুধু মাত্র সেই কঙ্কণের ধ্বনি শোনামাত্র তাঁর বাহ‍্যজ্ঞান লুপ্ত হল এবং এইভাবে তিনদিন অতিবাহিত হল, পরে বাহ‍্যজ্ঞান ফিরে আসিলে সব ঘটনার কাহিনী খুলে বললেন।কোথাকার জল কোথায় গড়াল। রাজা যশোবন্ত সিংহ এবং তাঁর রাণী লছমীদেবীর ভাগ‍্যে বাবার কৃপা কিভাবে বর্ষিত হয়েছিল তা সুধী পাঠকবৃন্দ কিঞ্চিৎ উপভোগ করুন। ভেবে দেখুন যে সাধনবলে রক্তমাংসধারী একজন মহাবৈষ্ণব কি সব অসাধ‍্য সাধন করে গিয়েছেন কিন্তু আমরা কয়জন তা জানি। সুতরাং যাঁরা বৃন্দাবনধাম দর্শনে যান তাঁরা যদি সিদ্ধ মহাত্মাদের সাধনস্থলী এবং সমাধিতে ভক্তি অর্ঘ‍্য নিবেদন না করেন তা কতবড় অপরাধ।যাঁদের সাধন প্রভাবে বৃন্দাবনের জল মাটি সব পবিত্র,যাঁরা তাঁদের ভজনের মাধ‍্যমে এই চিন্ময়ধামের মহিমাকে প্রেমোজ্জ্বল করে গিয়েছেন তাঁদের সমাধিতে প্রণাম করে দুটি টাকা প্রণামী যদি না দেন তাহলে ধামদর্শনই বৃথা।*
*🍀বাবার এই কৃপা হবার পর রাণী লছমীদেবী মহাবৈষ্ণবীতে পরিণত হলেন এবং ঐশ্বর্য‍্য, ভোগ ও বিলাসের প্রতি তাঁর প্রচন্ড অনীহা জন্মিল এবং তখন তিনি বহু অর্থ নিয়ে বৈষ্ণব সেবায় দান করবার মনস্থ করলেন।তখন সমবেত বৈষ্ণবগণ কি বলেছিলেন তা শুনুন।*
*🌷সবিনয়ে বৈষ্ণবগণে করে নিবেদন।*
*🌷সবে কহে রাজ অন্ন না করি স্পর্শন।।*
*🌷কাঁদিয়া কাঁদিয়া রাণী করে নিবেদন।*
*🌷কৃপা করো রাজকুলে যেন মোর না হয় জনম।।*
*🌷রাণীর প্রেম হেরি কহে শ্রীবৈষ্ণবগণ।*
*🌷 গাভীর গোবরে ঘুটে করহ এখন।।*
*🌷তাহা বেচি উপার্জিত হবে যে ধন।*
*🌷 সেই ধনে হবে তবে অভীষ্ট পূরণ।।*
*🌻এখানে দেখুন মহৎ কৃপার কি প্রভাব।রাজরাণী হয়ে তিনি ভোগবিলাস কামনা বাসনা সব জলাঞ্জলী দিয়ে দীনহীন কাঙ্গালীনীর বেশে মাঠে ঘাটে গোবর কুড়িয়ে তা দ্বারা ঘুটে দিয়ে মাথায় ফেরি করে তা বেচতে মনস্থ করলেন,কারণ প্রকৃত বৈষ্ণব বিষয়ীর কাছ হতে রাজসেবা গ্রহণে স্বীকৃত হননি বলে। সেই ঘুটে বিক্রি করা পয়সা দ্বারা বৈষ্ণবসেবা করতে লাগলেন। আমাদের মা বোনেরা যাঁরা বৈষ্ণব অনুরাগী তাঁরা কি এসব কথা চিন্তাও করতে পারেন।শুধু মায়েরা নন সংসারী গৃহস্থগণ যাঁরা বৈষ্ণব অনুরাগী যাঁরা বৃন্দাবনধামে গমন করেন ভক্তি লালসায়,তাঁরা যদি এতটা নাও করতে পারেন,তাঁদের চরণে এই প্রার্থনা যেন যাঁরা ধামবাসী ত‍্যাগী বৈষ্ণব মহাত্মাগণের যথাসাধ‍্য ভজন আনুকুল‍্যে যেন করেন।*
*🍀উড়িষ‍্যাবাসী এক গ্রাম‍্য বালক মাতৃ আজ্ঞায় বৃন্দাবনধামে আগমন করে কি ভাবে সাধনভজনের সুউচ্চ চূড়ায় আরোহণ করেছিলেন তা ভাবলেও বিস্ময় জাগে। অবশেষে সাধনভজনের লীলা শেষ করে বাবা আশ্বিন মাসের চতুর্থী তিথিতে নিত‍্য লীলায় সেই পরমধামে গমন করেন,গ্রন্থে এইরকম লেখা আছে----*
*🌷দৈবে আশ্বিনী চতুর্থী তিনি আগমন।*
*🌷এদেহ ছাড়িয়া কৈল লীলাতে গমন।।*
*🌷অদ‍্যাপি গোবর্দ্ধনে সমাধি বিদ‍্যমান।*
*🌷মানস গঙ্গার পারে হেরে ভাগ‍্যবান।।*
*🌷 সিদ্ধ বাবার প্রেমগুণ অপূর্ব কথন।*
*🌷শ্রবণে ত্রিতাপ জ্বালা হয় বিমোচন।।*
*🌷বৈরাগ‍্যের পরাকাষ্ঠা প্রেম মূর্তিমন্ত।*
*🌷সাধন স্মরণ লীলায় সদা অনুরক্ত।।*
*🌷 স্মরণ মনন পথের প্রদর্শক লইয়া।*
*🌷রাখিল অক্ষয় কীর্তি মোদের লাগিয়া।।*
*🌻এই সিদ্ধ বাবার ভজন কাহিনী শুনে অধম লেখক এই শ্রীপাট দর্শনে গমন করে বড়ই মনোকষ্ট পায়।শ্রীপাটের জায়গাটি মানস গঙ্গার তীরে,আশ পাশে জায়গা না থাকায় তিরোভাব তিথির সময়ে যে মহাবৈষ্ণব সম্মেলন হয় তাঁরা অপ্রশস্ত গলির মধ্যে বসে প্রসাদ পান--, না আছে রান্নার জায়গা,না আছে জল-কল বাথরুম, তার ফলে প্রচন্ড অসুবিধার মধ্যে তা সব করা হয় দেখে মনে বড়ই কষ্ট হয় এবং তখন এই শ্রীপাট পূর্ণ সংস্কার করে উপরের দিকে আরও দ্বিতল বাড়ান হয় কিন্তু তাতেও মন ভরে না।*
*তখন অনেক চেষ্টার পর সংলগ্ন কিছু দূরে একটি বিরাট জায়গা পাওয়া যায়, সেখানে এক বিরাট হলঘর ইত্যাদি করা হয়। তার কাছে ভোগ রান্নার জায়গা জলকল-বাথরুম ইত্যাদি সব করা হয়। বিশাল অর্থ ব‍্যয় করে,যার ফলে বতর্মানে সিদ্ধবাবার তিরোভাব তিথিতে জায়গার অভাব দূর হয়েছে এবং সব কিছু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।গোবর্দ্ধন অঞ্চলে এরকম বিরাট হলঘর আর কোথাও নাই এবং বর্তমানে গোবর্দ্ধন অঞ্চলে বহু প্রকার পাঠ প্রসঙ্গ এবং বৈষ্ণব সমাবেশ এই স্থানে সম্পন্ন হয়। সবই সিদ্ধবাবা বা রাধারাণীর কৃপা।তাঁদের কাজ তাঁরাই করিয়ে নেন।জায়গাটির কিরকম উন্নতি হয়েছে তা না দেখলে বুঝা যাবে না।অধমের ভক্তচরণে এই বিশেষ অনুরোধ যে তাঁরা ব্রজধামে গমন করলে সিদ্ধবাবার এই সমাধি এবং হলঘরটি অবশ্যই দেখবেন আর যথাসাধ‍্য সেবার জন্য ও বাবার বাৎসরিক তিথিতে যেন অতি অবশ্যই কিছু ভিক্ষা প্রদান করেন। রাণী লছমীমাই যদি রাজরাণী হয়েও ঘুটে বেচে বৈষ্ণব সেবা করতে পারেন আমরা কেন কিছু ভিক্ষা দিতে পারব না।সবই নির্ভর করে অনুরাগী বৈষ্ণব ভক্তগণের মানসিকতার উপর। আমরা কেউই সঙ্গে নিয়ে যেতে পারব না,সেজন‍্য যতদিন জীবিত আছেন ততদিন পর্যন্ত ভগবদ্ সেবা বা ভক্তসেবায় যেন মনের আগ্রহটি থাকে।*
*🍀এই কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজই হচ্ছেন ভক্ত প্রবর লালাবাবুর শ্রীগুরুদেব এবং ইনিই আবার বাংলা "ভক্তমাল" গ্রন্থের রচয়িতা।ইহারই শিষ‍্য হচ্ছেন কালনার সিদ্ধ ভগবান দাস বাবাজী মহারাজ যিনিও উড়িষ‍্যাবাসী একজন মহাবৈষ্ণব ছিলেন।ভক্তগণ এইসব মহাজীবন প্রসঙ্গ পাঠ করে যদি কিছু ভিক্ষা পাঠাতে চাহেন তা নিম্নলিখিত ঠিকানায় পাঠাবেন*
 *Sri Hari Mohan Das (Mohanta Maharaj)*
*Gobardhan sidha baba Ashram*
*Near Chakleswar Mahadeb*
*P.O= Gobardhan*
*Dist=Mathura (U.P)*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৪)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (দ্বিতীয় খন্ড)*
*রণবাড়ীর সিদ্ধ কৃষ্ণদাস বাবাজীমহারাজ*
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🍀রণবাড়ীর সিদ্ধ বাবার আবির্ভাব যশোহর জেলার আহমদপুর গ্রামে।তাঁর পিতার নাম গোকুলচন্দ্র চট্ট‍োপাধ‍্যায়। শৈশব এবং বাল‍্যকাল হতেই উদাসীনভাব এবং সংসারে অনাসক্তি দেখে পিতামাতা পুত্রের বিয়ে দিবার মনস্থ করেন কিন্তু সংস্কার কোথায় যাবে? শ্রীমন্মহাপ্রভুর জ‍্যেষ্ঠভ্রাতা বিশ্বরূপে মত বিয়ের প্রস্তাব কানে শুনতেই তিনি সকলের অলক্ষ‍্যে যেরকম গৃহত‍্যাগ করেছিলেন এক্ষেত্রেও সেরকম বালক কৃষ্ণদাস গোপনে গৃহত‍্যাগ করে পদব্রজে ব্রজধামের দিকে যাত্রা করলেন।একবার চিন্তা করে দেখুন যে,মনে যখন বৈরাগ‍্যভাবের উদয় হয় তখন আর কোন আকর্ষণ তা রোধ করতে পারেন না।না হলে কোথায় যশোহর জেলার একটি গ্রাম, আর কোথায় বৃন্দাবন ধাম এই পাঁচ কি ছয়শ মাইল রাস্তা হেঁটে কৃষ্ণদাস চললেন একাকী ধাম বৃন্দাবনে।বহুদিন বাদে বহু কষ্ট স্বীকার করে পথশ্রমে ক্লান্ত হয়ে চললেন এক অজানা অচেনা দেশে যেখানে তাঁর পরিচিতি কেউই ছিলেন না, একমাত্র শুধু রাধারাণীর উপর ভরসা। অবশেষে প্রভুপাদ সনাতন গোস্বামী সেবিত মদনমোহন বিগ্রহের সেবায় কিছুদিন কাটাবার পর অরণ‍্যসঙ্কুল রণবাড়ীতে ভজনের মনস্থ করলেন।এই যে রণবাড়ী সেখানেও তাঁর পরিচিত কেউই ছিলেন না,একমাত্র শুধু ভরসা করুণাময়ী রাধারাণী, যিনি প্রকৃত ভক্তের যোগক্ষেম বহনে সদাজাগ্রত।অবশেষে রণবাড়ী অঞ্চলের ব্রজবাসীগণ বাবাকে যথেষ্ট মর্য‍্যাদার চোখে দেখতে লাগলেন এবং বাবা কোনদিন কারও বাড়ীতে মাধুকরী ভিক্ষায় গমন না করলে তাঁরা মনে বড়ই দুঃখ পেতেন।*
*🍀এইভাবে প্রায় পঞ্চাশ বৎসর যাবৎ রণবাড়ীর জঙ্গলের মধ্যে কুটিরে বাস করে রাধারাণীর ভজনে নিজেকে আবিষ্ট করলেন।এই সময়ে বিভিন্ন ধামবাসী হরিদ্বার,কাশী,কুম্ভমেল,দ্বারকা চারধাম ইত্যাদি সব তীর্থস্থান দর্শন করে এসে বাবার সঙ্গে সেইসব তীর্থ দর্শনের কাহিনী শুনাতেন।শোনার পর বাবার মনে এই সব তীর্থ দর্শনের বাসনা জাগ্রত হল।এমনি সময়ে প্রিয়াজী (রাধারাণী) তাঁকে বৃন্দাবনবাস ত‍্যাগ করতে নিষেধ করেন স্বপ্নের মাধ‍্যমে যা গ্রন্থের ভাষায় আস্বাদন করুন।*
*🌷হেনকালে প্রিয়াজী তাঁরে দিল দরশন।*
*🌷বৃন্দাবন ছাড়ি কোথা না কর গমন।।*
*🌷এথাই হইবে তব বাঞ্জিত পূরণ।*
*🌷তীর্থাদি ভ্রমণে তব নাহি প্রয়োজন।।*
*🌷চিত্তভ্রম জ্ঞানে তিঁহ আজ্ঞা উপেক্ষিল।*
*🌷 চারিধাম করিবারে গমন করিল।।*
*🌻রাধারাণীর এই স্বপ্নাদেশ বাবার চিত্তে ভ্রমজ্ঞান হল এবং তিনি তা অলীক স্বপ্ন মনে করে ব্রজধাম বা রণবাড়ী পরিত‍্যাগ করে চারধাম দর্শনে বাহির হলেন।ক্রমে তিনি যখন দ্বারকায় উপস্থিত হলেন তখন সেইদেশের প্রথা অনুযায়ী তিনি তপ্তমুদ্রার ছাপ নিজ শরীরে ধারণ করলেন।আপনারা সকলেই জানেন যে দ্বারকা হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের ঐশ্বর্য‍্যময় রাজ‍্য, সেখানে রুক্মিণী সত‍্যভামা মহিষীদের প্রভাব এবং বৃন্দাবন হচ্ছে ত‍্যাগের বা মাধুর্য‍্যের জায়গা, সেখানে গোয়ালানী রাধারাণী ও গোপীদের রাজত্ব। এই তপ্ত মুদ্রা ধারণের ভাবার্থ হচ্ছে সত‍্যভামার দাসীত্ব গ্রহণ যা রাধারাণীর ভজনের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধ।*
*🍀এই তপ্তমুদ্রা ধারণের পর বাবাজীর মনে নানা সংশয় সৃষ্টি হল এবং তিনি সংশয় জালে জড়িত হয়ে বৃন্দাবন ফিরবার মনস্থ করলেন। অবশেষে রাধারাণীর স্বপ্নের মাধ‍্যমে তাঁকে ব্রজধাম ছেড়ে চলে যেতে বললেন যা গ্রন্থে পাওয়া যায়।*
*🌷তপ্তমুদ্রা ধরি বাবা বিচলিত মন।*
*🌷চিত্তের বিক্ষেপে আর না কৈল ভ্রমণ।।*
*🌷তথা হইতে ব্রজধামে কৈল আগমন।*
*🌷 সেইরাত্রে রাধারাণী দিলা দরশন।।*
*🌷কহে ব্রজ ছাড়ি তুমি করহ গমন।*
*🌷 সত‍্যভামাজীর দাসী হইলে এখন।।*
*🌷 তপ্তমুদ্রাদি যবে তুমি কৈলে ধারণ।*
*🌷এখানে থাকিয়া আর কোন প্রয়োজন।।*
*🌷স্বপ্নাদেশে সিদ্ধবাবা ব‍্যাকুলিত মন।*
*🌷কিংকর্ত্তব‍্য বিমূঢ় হইয়া করেন চিন্তন।।*
*🌻তখন অবস্থা এমন হল যে সিদ্ধবাবার আর ভজনে মন বসে না। স্মরণ মনন যা খুব তাড়াতাড়ি সম্পন হত,সেই মানসিকতায় প্রচন্ড ব‍্যাঘাত হতে লাগল। তখন তিনি আত্মশোধনের জন্য কাম‍্যবনে সিদ্ধ জয়কৃষ্ণদাস বাবার কাছে উপনীত হয়ে পূর্বাপর (আগাগোড়া) বৃত্তান্ত সব তাঁকে বললেন।তখন কাম‍্যবনের সিদ্ধবাবা মনে মনে খুব ক্ষুব্ধ হলেন ও বললেন----*
*🌷বার্তা শুনি সিদ্ধবাবা ছাড়িল নিঃশ্বাস।*
*🌷স্পর্শের যোগ‍্যতা মোর হইল বিনাশ।।*
*🌷 রাজরাজেশ্বরী দাসী হইলে এখন।*
*🌷গোয়ালানী দাসী মুই স্পর্শিব কেমন।।*
*🌷শুনি রণবাড়ীবাবা স্তম্ভিত হইল।*
*🌷অতঃপর প্রণমিয়া স্ব-স্থানে আইল।।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ বৃন্দাবনে ভজন অর্থে রাধারাণীর আনুগত‍্যে নিষ্কিঞ্চন ভাবে ভজন করা।কৃপাময়ী প‍্যারীজীর মধ্যে কোন ঐশ্বর্য‍্যভাব নেই, তিনি চান তাঁর ভক্তরা যেন তাঁর আশ্রয়ে তাঁর চরণেই ছত্র-ছায়ার মত পড়ে থাকে এবং তবেই তো তিনি তাঁদের দায়িত্ব বহন করেন এবং যথাযোগ্য ভজন অধিকার-দান করেন। সেজন‍্য কাম‍্যবনের সিদ্ধবাবা যিনি রণবাড়ীর সিদ্ধবাবাকে অত‍্যন্ত প্রীতি করতেন, তিনি এই সব বৃত্তান্ত শুনে তাঁকে স্পর্শ করাও অপরাধ জ্ঞানে বিচার করলেন এবং ভজন জগতের যে ভ্রাতৃভাব তা শ্লথ বা ঢিলে হয়ে গেল কারণ তাঁরা যে রাধারাণীর প্রেমরাজ‍্যের দাসীভাবে ভজন করেন ঐশ্বর্য‍্যভাব সেখানে একেবারেই বিলুপ্ত।*
*🍀এদিকে দেখুন যে বালকটি সংসার আশ্রম ত‍্যাগ করে পঞ্চাশ বৎসর যাব‍ৎ একাধিক্রমে শ্রীরাধিকার ভজনে নিজেকে সমাহিত (একাগ্রচিত্ত)রেখে ছিলেন, তিনি কৃপাময়ীর কৃপা হতে বঞ্চিত হলেন। তখন নিজেকে সমানে ধিক্কার দিতে লাগলেন যে কেন তিনি এরকম দ্বারকাধাম দর্শনে গিয়েছিলেন।এই সময় তার মনের অবস্থা যে কিরকম হয়েছিল তা আস্বাদন করুন।*
*🌷হতাশ হইয়া রণবাড়ীতে আসিল।*
*🌷ব‍্যাকুলিত চিত্তে অন্নজল তেয়াগিল।।*
*🌷 নিজ কৃতকার্য‍্যে সদা অনুতপ্ত মন।*  
*🌷প্রিয়াজী বিরহানলে তপ্ত মন প্রাণ।।*
*🌷বিরহ হৃদয় অনল করয়ে দহন।*
*🌷 হেন মতে তিন মাস করয়ে যাপন।।*
*🌷ভিতরের অগ্নি এবে বাহ‍্যে প্রকাশিল।*
*🌷 বিরহ অনলে দেহ ভস্মীভূত হইল।।*
*🌷দক্ষিণের বৃদ্ধাঙ্গুলে অগ্নি প্রকাশিল।*
*🌷ক্রমে ক্রমে তিন দিনে ভস্মীভূত হইল।।*
*🍀আমাদের বৈষ্ণব জগতে বিরহ কথাটি প্রায়ই ব‍্যবহৃত হয় বিশেষত শ্রীগুরুদেবের তিরোভাব তিথিতে তদীয় শিষ‍্যগণ --- তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিজ নিজ মনের ভক্তি অর্ঘ‍্য নিবেদন করেন।এক হিসাবে এটি স্মরণ মনন জাতীয় একপ্রকার আক্ষেপ বা তাঁর স্মৃতি চারণ।এই জন্যই বলা হয় বিরহানল অর্থ‍্যাৎ বিরহ যেন অনলরূপে বা আগুনরূপে ভক্তকে মানসে পীড়া দেয় অর্থ‍্যাৎ যেন ভিতরটা পুড়ে যায় যার বাইরে দেখা যায় না।সকলেই মানসে তাঁকে স্মরণ মনন করেন পীড়িত অন্তরে, অর্থ‍্যাৎ এই যে বিরহরূপ অনল তার বাইরে প্রকাশ, বা দেখা যায় না।👣আবার এ কথাও শুনেছি যে শ্রীপাদ দাস গোস্বামী তখন কুন্ডতটে ভজন করতেন। তখন রাধারাণীর বিরহের উত্তাপে তিনি যখন দীর্ঘনিশ্বাস ফেলতেন তখন তার সংস্পর্শে আসিলে শুকনো গাছের পাতা পর্যন্ত জ্বলে যেত।*
*🍀কিন্তু রণবাড়ীর সিদ্ধবাবার যে বিরহ তা বৈষ্ণব জগতে এক অভিনব বস্তু। ভগবানের বিরহে ভক্তের অন্তরে এমন উত্তাপ সৃষ্টি হত যে তা হতে নিজের দেহের মধ্যে আগুন বাস্তবে প্রকাশিত হয়েছিল। অর্থ‍্যাৎ রাধারাণীর বিরহ তাঁকে তিনমাস ধরে এমনভাবে দগ্ধ করেছিল যে অবশেষে বাবাজী মহারাজের দক্ষিণ বৃদ্ধ-অঙ্গুলে সর্বপ্রথম আগুনের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। আবার এই যে আগুন তার দহন জ্বালা তুষানলের মত অর্থ‍্যাৎ ধীরে ধীরে দগ্ধ করেছিল, না হলে একটি দেহ পুড়তে তিনদিন সময় লাগবে কেন?দপ করে জ্বলিলে আগুন যেমন ক্ষণিকের মধ্যেই সব গ্রাস করে নেয়, এক্ষেত্রে তা হয়নি, বাবাজী অনুশোচনার দহন জ্বালায় পীড়িত হয়ে হচ্ছেন এবং তা হতে এই বিরহ অনলের আবির্ভাব।বাবা তাঁর কুটিরে বসে ভজন করছেন আর তাঁর এই পঞ্চভূতের দেহ ধীরে ধীরে ধিক ধিক করে জ্বলতে লাগল এবং তার জন্য বাবার কোন চিত্ত বিক্ষেপ নাই, কোন ছুটোছুটি করেননি,কোন জল দিয়ে সেই আগুন নেভানোর চেষ্টাও তিনি করেননি, কারণ তিনি চেয়েছিলেন নিজেকে শাস্তি দিতে যে কেন তিনি প্রিয়াজীর আদেশ লঙ্ঘন করে ব্রজধামের বাইরে গমন করে তপ্তমুদ্রা ধারণ করেছিলেন।*
*তাঁর মানসিকতা এইরকম ছিল যে তাঁর দেহ আগুনে পুড়ছে সে বাহ‍্যজ্ঞানও তাঁর ছিল না। তিনি বিচল ভাবে ধ‍্যানে বসে কৃতকর্মের জন্য রাধারাণীর ভজনে নিজেকে আবিষ্ট রেখেছিলেন।অর্থ‍্যাৎ বাবার তখন দেহ বোধ পর্যন্ত ছিল না।অনেকটা ঠাকুর হরিদাসের মত।যবনগণ যখন তাঁকে বাইশ বাজারে চরমভাবে বেত্রাঘাত করছিল তখন তিনি নামধ‍্যানে মগ্ন থাকায় সেই আঘাত যন্ত্রণা কিছুই বুঝতে পারেননি।এক্ষেত্রেও সেইরকম বাবার ভজন নিষ্ঠা এমনই প্রগাঢ় ছিল যে রাধারাণী তাঁকে উপেক্ষা করেছেন,সেই রাধারাণীর শ্রীচরণতলে নিজেকে সমর্পণ করে বাবা তাঁর কৃতকর্মের জন্য নিজেকে চরম শাস্তি দিয়েছেন। সারাটি দেহ ধিক ধিক জ্বলছে, যাকে বলা হয় তুষানলের দগ্ধ,ডান-পায়ের বৃদ্ধ-অঙ্গুলি হতে সেই আগুন ক্রমশ শরীরের উপরদিকে উঠতে লাগল এবং বাবা রাধারাণীর স্মরণের মাধ‍্যমে স্থির অচলভাবে নিজ কুটিরেই বসে দগ্ধ হচ্ছেন। অথচ মুখে নাম ঠিক চলছে।ক্রমে চারিদিকে এই খবর রটে গেল এবং গ্রামবাসীগণ পাগলের মত ছুটোছুটি করতে লাগলেন।যখন ব্রিটিশ আমল স্থানীয় থানার বড়বাবু যিনি ছিলেন তিনি জাতিতে মুসলমান।এই খবর তার কর্ণগোচর হলে তিনি তার এক অধীন অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনার সত‍্যতা যাচাই করতে আসেন।বাবার কুটিরে পবিত্র প্রাঙ্গণে সেই মুসলমান বড়বাবু আসিলে সেই আগুন নিভে গেল কিন্তু তার অধীনস্থ হিন্দু অফিসারটি তারপরে তা দর্শন করেন তখন তিনি জ্বলন্ত অগ্নি দর্শন করেন যার অর্থ বাবার মুসলমান স্পর্শন বা দর্শন বাঞ্জনীয় ছিল না।এটিও এক প্রকার ঐশী লীলা।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৫)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (দ্বিতীয় খন্ড)*
*রণবাড়ীর সিদ্ধ কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজ*
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*🍀এই খবর দাবানলের মত চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল এবং চারিদিকের লোকে লোকারণ‍্য হয়ে গেল।এমত সময়ে নবদ্বীপের সিদ্ধ জগন্নাথ দাসবাবাজী এই অঞ্চলে ছিলেন এবং তাঁর বাহক ছিলেন বিহারীদাস বাবাজী।তখন সেই সিদ্ধ জগন্নাথদাস বাবাজীকে বিহারীদাস মাথার উপর বসিয়ে রণবাড়ীর সিদ্ধ বাবার কুটিরের কাছে আনয়ন করেন, ব‍্যাপার কি তা দেখতে।বাহক বিহারীদাস দেখেন বাবার কুটিরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ অথচ আগুন জ্বলছে ও সিদ্ধবাবা উচ্চৈঃস্বরে নাম করছেন।বিহারীদাস জগন্নাথবাবাকে বলেন যে,সারা শরীরে গনগনে আগুন এবং তা ধীরে ধীরে উপরে উঠে গলা পর্যন্ত পৌঁছিয়েছে কিন্তু নামের এমন মহিমা যে সেই অগ্নি সিদ্ধবাবার মুখ অবধি আর ছড়িয়ে পরতে পারছে না। সেইকথা শুনে জগন্নাথদাস বাবাজী বিহারীকে আদেশ করেন দরজা ভেঙ্গে ফেলতে, এবং একটি তুলাবস্ত্রতে আগুন জ্বালিয়ে তা বাবার মাথার উপর ফেলতে বললেন, যার ফলে সেই দেহ অগ্নি বাবার মাথা ও মুখমন্ডলে ছড়িয়ে পড়ল এবং বাবার দেহ সম্পূর্ণভাবে দগ্ধীভূত হয়ে লয় প্রাপ্ত হয়।*
*কি করুণ পরিণতি--,রণবাড়ীর গ্রামবাসীগণ হায় হায় করে বাবা বাবা বলে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলেন এবং তাঁদের মুখে শুধু একটাই কথা "বাবা আপনি চলে গেলে আমাদের কি হবে --,কে আমাদের সুখে দুঃখে দেখবে ইত্যাদি সব আক্ষেপ করে কান্নার রোল তুললেন।বাবার তখন একপ্রকার শেষ সময় কিন্তু তা সত্ত্বেও বাবা তাঁদের অভয় দিয়ে বলেছিলেন যে,আমি সব সময় তোমাদের কাছে আছি। আমার আশীর্বাদে তোমাদের গ্রামে খরা, আজন্মা মহামারী এই সব কোন দিনই হবে না।আর তোমরা যদি সত‍্যই আমাকে ভালবাস তাহলে ফাল্গুনী শুক্লা একাদশী তিথি পালন করবে এবং ঐদিন সারারাত্রি হরিবাসরের মাধ‍্যমে জেগে থেকে নামকীর্তন করবে।ইহার অন‍্যথা যারা করেছিল তাদের কি শাস্তি ভোগ করতে হয়েছিল তা শুনুন।*
*🌷বাবার আদেশ যারা লঙ্ঘন করিল।*
*🌷উক্ত হরিবাসরে যারা যোগ নাহি দিল।।*
*🌷 যাহারা বাবার বাক‍্য করিল হেলন।*
*🌷সব গৃহে ভেদবমি হৈর আরম্ভন।।*
*🌷প্রাণ যায় যায় প্রায় কেহ নাহি মরে।*
*🌷আতঙ্কে বাবার পদে সবে আসি পড়ে।।*
*🌷সকাতরে বাবার পাশে করে নিবেদন।*
*🌷রক্ষা কর আর নাহি করিব হেলন।।*
*🌷চরণামৃত পানে সবে সুস্থির হইল।*
*🌷বাবার প্রভাব হেরি সকলে মোহিল।।*
*🌻এই ঘটনাটির সাক্ষী ছিলেন পরবর্তী বাবার গাদীর মোহন্ত নিত‍্যানন্দ বাবাজী মহারাজ যিনি স্বচক্ষে এইসব দর্শন করে গিয়েছেন।*
*বাবার অপর আদেশ ছিল যে তারা যদি একান্তেই বাবার তিরোভাব তিথি পালন করেন তাহলে যেন কারও কাছ হতে ভিক্ষারূপে যেন কিছু গ্রহণ না করেন, তা অর্থ বা সামগ্রী যাই হোক না কেন।এই প্রসঙ্গে বলতে চাই কত গুরুদেব তো কত কথায় বলে যান, কিন্তু কয়জন পালন করে পরম্পরা হিসাবে, কিন্তু রণবাড়ীর গ্রামবাসীগণ অতীব নিষ্ঠার সঙ্গে আজ প্রায় দেড়শ-দুইশ বৎসর ধরে সেই আদেশ পালন করে যাচ্ছেন অর্থ‍্যাৎ বাবার তিরোভাব তিথিতে তাঁরা বাইরের কোন ভক্ত বা গৃহী কারও কাছ হতে কোন দান বা ভিক্ষা গ্রহণ করেন না, কারণ সিদ্ধবাবার আদেশ তাঁদের কাছে বেদবাক‍্য স্বরূপ।*
*সাধারণত বৈষ্ণবজগতে ভিক্ষা সংগ্রহ যেন তিরোভাব তিথি পালনের একটা অঙ্গ বিশেষ।চাঁদার বই ছাপিয়ে অনেক আগে হতেই অর্থ সংগ্রহ করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে দাবীও করা হয়।এটিই বৈষ্ণব জগতে তিরোভাব তিথি পালনের একটি অঙ্গ হিসাবে চলছে।এমনকি ব্রজের চার সিদ্ধবাবার অন‍্য তিনজনের ক্ষেত্রেও ভিক্ষা সংগ্রহের প্রথা চালু আছে কিন্তু ব‍্যতিক্রম শুধু রণবাড়ীর সিদ্ধবাবার তিরোভাব তিথি। যেখানে আপনি কিছু আনুকূল‍্য করতে চাইলেও গ্রামবাসীগণ তা সবিনয়ে প্রত‍্যাখ‍্যান করেন।কারণ এটি সিদ্ধবাবার নির্দেশ।এইরকম সেবা আনুগত‍্য বর্তমানের বৈষ্ণব জগতে অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি সত‍্য সত‍্য সত‍্য।সারাটি বৎসর ধরে প্রত‍্যেকেই তাঁদের সামর্থ‍্য অনুযায়ী অর্থ এবং সামগ্রী জমিয়ে রাখেন বাবার তিরোভাব তিথিতে তা খরচ করবেন বলিয়া-- এটি এক অভিনব আনুগত‍্য।দেড়শ-দুইশ বৎসরে কত বংশ পরম্পরা চলছে কিন্তু বাবার সেই অমোঘবাণী অদ‍্যাপি রণবাড়ীর গ্রামবাসীগণ অতীব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন।বিশেষ কোরে বর্তমানকালে জিনিসপত্রের দাম এত বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও তাঁদের সেই নিষ্ঠার কোন খামতি নেই।*
*তারউপরে এই তিরোভাব তিথি পালনের অন‍্য বৈশিষ্ট্য এই যে তাঁরা কোন বাইরের লোকদের দ্বারা এইসব কাজ করান না,নিজেরাই সব করেন।কোন ভাড়াটে ঠাকুর বা পাচক সেখানে নিষিদ্ধ। ফল, সবজি আমানি করা হতে শুরু করে উনুনের কাজ,যাবতীয় রান্নার কাজ সব রণবাড়ী গ্রামবাসীগণ নিজহাতে সম্পাদন করেন।কোন ত‍্যাগী বৈষ্ণবকে পর্যন্ত এইসব কাজ করতে দেওয়া হয় না।অর্থ‍্যাৎ এটি ব্রজবাসীর সেবা এবং অভ‍্যাগত বাবাজী বৈষ্ণবগণ সব ব্রজবাসীদের হাতের সেবা গ্রহণ করে নিজেদের কৃতার্থ করেন।*
*অন‍্য একটি প্রথা হচ্ছে পঙ্গত মাত্র একবার হবে।সিদ্ধবাবার আশ্রমের প্রাঙ্গণ খুবই বড় এবং পাঁচ থেকে সাতশ বৈষ্ণব মাহাত্ম্য একসঙ্গে সেখানে প্রসাদ পাবার জন্য বসতে পারেন যার ফলে মাত্র একবার পঙ্গত হয়।পঙ্গতের পদ হচ্ছে পুয়া এবং সবজি আর কিছুই না।সর্বপ্রথম যখন এই উৎসবে যোগদান করি তখন কিছুই বুঝতে পারলাম না যে পুয়া এবং সবজি দ্বারা কি উৎসব হবে। কিন্তু স্বচক্ষে সব দেখে অবাক বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই।বিভিন্ন সবজি বটি দ্বারা আমানি করে মাটির উপর রাখছেন,কোন থালা বা পাত্র সেখানে নেই,তার উপরে সব সবজি জলে ধোয়া একটা চিরন্তন প্রথা কিন্তু এখানে ঐ মাটিতে রাখা সবজি সব একদম চলার কড়াইতে ছাড়া হচ্ছে এবং তারসঙ্গে মশলাদি দিয়ে সবজি পাক হচ্ছে এবং বিশ্বাস করুন আমরা যখন প্রসাদ পাবার জন্য সেই উন্মুত্ত প্রাঙ্গণে বসে তা পেতে লাগলাম মনে হতে লাগল যেন অমৃত ভোজন করছি, আর কিছুই না। কিন্তু এত পরিতৃপ্তির সঙ্গে তা ভোজন করেছিলাম যে এখনও তা ভুলতে পারিনি। সবই সিদ্ধবাবার অলক্ষ‍্য কৃপা।*
*এই উৎসবের অন‍্য বৈশিষ্ট্য এই যে,ঐ উৎসবের দিন গ্রামের বালক,বৃদ্ধ, নরনারী কেউই সেখানে প্রসাদ পাবার জন্য বা খাবার জন্য ত্রিসীমানার মধ্যে আসবেন না।তাঁদের মনোভাব আজ সিদ্ধবাবার তিথি--,আজ শুধু অভ‍্যাগত বাবাজী বৈষ্ণব এবং ভক্তসেবা হবে।গ্রামের কোন লোক ধারে কাছেই আসবে না।পরেরদিন যা অবশিষ্ট থাকে তা গ্রামবাসীদের সেবা করান হয়।এটিও এক অভিনব প্রথা কারণ বতর্মানকালে যে কোন মঠ মন্দিরে যারা আসেন তারা শুধু নিজের পেটের চিন্তায় অস্থির, বাবাজী বৈষ্ণবগণ বা অভ‍্যাগতগণ পেলেন কিনা সেদিকে তাদের ভ্রুক্ষেপ নেই। অর্থ‍্যাৎ রণবাড়ীর সিদ্ধবাবার তিরোভাব তিথিটি একটি দেখবার মত বস্তু।*
*(১)সর্ব প্রথম বাইরের কোন ভিক্ষা বা দান তারা গ্রহণ করেন না। সব খরচ গ্রামবাসীরাই করেন।*
*(২)অদ‍্যাপি নিয়মিত হরিবাসর পালিত হয়।*
*(৩)প্রসাদের বস্ত পুয়া ও সবজি।*
*(৪)পঙ্গত মাত্র একবার হয়।*
*(৫)ব্রজবাসীরাই নিজেরা সব কাজ করেন, কোন ভাড়াটে লোকের সেখানে চলন নেই।*
*(৬)উৎসবের দিন গ্রামের ছেলে মেয়ে বালক বৃদ্ধ কেউই সেই প্রাঙ্গণে খাবার জন্য আসেন না।*
*(৭)উদ্বৃত্ত যা থাকে তা পরদিন গ্রামবাসীদের সেবা করান হয়।*
*🍀বর্তমানকালের ভক্তপাঠকদের অবগতির জন্য জানাই যে এমন যে মহা মহিমাময় শ্রীপাট তা একেবারে জীর্ণদশায় পরিণত হয়েছিল।অর্থ‍্যাৎ সেই দেড়শ কি দুইশ বৎসর আগে যা সব করা হয়েছিল কাঁচা গাথুনি ভাঙ্গা ভাঙ্গা দরজা জানালা,না ছিল কোন পাকা বাথরুম, না ছিল কোন নাটমন্দির, না ছিল কোন বৈষ্ণব খন্ড,জল কল,বাথরুম ইত্যাদি।এক কথায় চরম দুর্দশা। এই অবস্থা দেখে অধমের মনে বিশেষ ভাবান্তর হয় এবং মনে বড় আক্ষেপ হয় এই যে সব মহাজীবন, তাঁদের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা বতর্মান প্রজন্মের অবশ‍্য কর্তব‍্য। এইরকম মানসিকতার বশবর্তী হয়ে সেই শ্রীপাটের যেরকম পরিবর্তন হয়েছে তা লিখে বর্ণনা করা যায় না।এককথায় সমস্ত জিনিস নতূনভাবে করা হয়েছে, শ্বেতপাথরের ছড়াছড়ি,এমন কি গ্রানাইট পাথর দ্বারা সিদ্ধবাবার সমাধি তৈরী করা হয়েছে এবং সারা ব্রজমন্ডলে এক অভিনব সাড়া পড়ে যায় যে কলকাতার এক শেঠ বাবার সব কাজ সুন্দরভাবে করছেন যা আজ পর্যন্ত হয়ত কেউই করেনি, অধমের মনে হয় অর্থের এইরকম সদ্ব‍্যবহার আর কি হতে পারে। ভগবদ্ সেবায় যদি অর্জিত অর্থ না ব‍্যয় হল তাহলে সে অর্থ নয় অনর্থ।আত্মপ্রশংসা করা লজ্জার বিষয় তবে আমি নিজেকে ভাগ‍্যবান মনে করি যে, এমন যে সিদ্ধবাবা তিনি অধমের এই ষেবা গ্রহণ করে তার জীবনকে ধন‍্য করে দিয়েছেন।যদি কখনও এই অধমের সঙ্গে আপনারা এই চার সিদ্ধবাবার শ্রীপাটে গমন করেন তাহলে যে কি অব‍্যক্ত আনন্দলাভ করবেন তা বলা নিষ্প্রয়োজন।এক কথায় রণবাড়ীর সিদ্ধবাবা এই অধমের সেবা গ্রহণ করে তার জীবনকে ধন‍্য করে দিয়েছেন।*
*🍀তদুপরি অন‍্য একটি ঘটনা শুনলে আপনারা অবাক হয়ে যাবেন।রণবাড়ী অঞ্চলে কোট-কাছারি মামলা মোকর্দমা ফৌজদারী মামলা ইত্যাদি সবই হয় ধরুন, আপনার ঘরে চুরি হয়েছে আপনি থানায় ডায়রি করলেন, সন্দেহভাজন ব‍্যক্তির নামও করলেন।পুলিশ তাদের ধরে আনল তখন সর্বপ্রথম বলা হয় "চল সিদ্ধবাবার সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে বলো যে তুমি চুরি করো নাই, কিন্তু সাবধান সিদ্ধবাবা অতি প্রকট, তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে মিথ‍্যাকথা বললে সবংশে ধ্বংস হবে। এবং বহুক্ষেত্রে এই জাতীয় মামলা গোড়াতেই নিষ্পত্তি হয়ে যায় কারণ সিদ্ধবাবার ভয়ে কেউ মিথ্যা কথা বলতে সাহস পায় না।এটি দ্বারা প্রমাণিত হয় সিদ্ধবাবার অপ্রকট নামে মাত্র তিনি সদাজাগ্রত। বতর্মানের ঘোর কলিযুগে এখনও এরকম সমাধির প্রভাব বিদ‍্যমান।*
*🛑সেইজন‍্য ভক্ত পাঠকগণের নিকট অধমের আবেদন এই যে আপনারা রণবাড়ীতে যান বা না যান সিদ্ধবাবার সেবার জন্য যথাসাধ‍্য আনুকুল‍্য M.O যোগে পাঠাবেন নিম্ন ঠিকানায়।*
      *Sri Radha Binod Das.*
      *Mohanta Maharaj*
      *Ranabari siddha baba Ashram*
      *P.O= TEHSIL--CHHATA*
      *Dist= Mathura (U.P)*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏👣🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৬)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (দ্বিতীয় খন্ড)*
*সূর্য‍্যকুন্ডের সিদ্ধ মধুসূদনদাস বাবাজীমহারাজ*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🙏সর্ব প্রথম যাঁরা ব্রজধাম প্রকট করেছিলেন তাঁদের নাম ঃ-----*
*🙏শ্রীমৎ লোকনাথ গোস্বামী-- প্রকটিত বিগ্রহ "শ্রীশ্রীরাধাবিনোদ"।*
*🙏শ্রীপাদ রূপ গোস্বামী-- প্রকটিত বিগ্রহ "শ্রীশ্রীগোবিন্দদেব"।*
*🙏শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামী-- প্রকটিত বিগ্রহ "শ্রীশ্রীমদনমোহন"।*
*🙏শ্রীমধুপন্ডিত-- প্রকটিত বিগ্রহ "শ্রীশ্রীগোপীনাথ"*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

*🍀সিদ্ধবাবা মধুসূদনদাস বাবাজী মহারাজের বংশগত নাম হচ্ছে শ্রীমধুসূদন দাস।কুলীন ব্রাহ্মণ বংশে আবির্ভাব।শিশুকাল হতেই শ্রীকৃষ্ণে গাঢ় অনুরাগ।তাঁর অনিচ্ছা সত্ত্বেও পিতামাতা তাঁর বিয়ে দেন এবং তিনি সেই রাত্রেই বাসরঘর হতে পলায়ন করে বৃন্দাবনে চলে যান।উদাসভাবে বৃন্দাবনের যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়ান, কখনও বনে জঙ্গলে, কখনও যমুনার তটে, আহারে অনাহারে দিন অতিবাহিত হতে থাকে।মনের একান্ত ইচ্ছে কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষা গ্রহণ করে সাধনভজনে জীবন কাটাবেন। কিন্তু কার কাছে দীক্ষা মন্ত্র গ্রহণ করবেন নিজেই জানেন না।তথাপি মনের গভীরকোণে দীক্ষা নিবার প্রবল বাসনা। ভগবান ভক্তের আর্ত্তি যদি যথার্থ হয় তা কিভাবে পূরণ করেন তার সাক্ষাৎ উদাহরণ এই বালকের দীক্ষা এবং প্রসঙ্গটি আপনারা গ্রন্থের ভাষায় আস্বাদন করুন।*
*🌷কিরূপে কোথায় করি মন্ত্রের গ্রহণ।*
*🌷কেশীতীর্থে বসি তিঁহ করয়ে চিন্তন।।*
*🌷হেন কালে এলো তথা এক মহাজন।*
*🌷 যমুনায় স্নান লাগি কৈল আগমন।।*
*🌷 তাঁহারে হেরিয়া ডাকি বলেন বচন।*
*🌷এবে তোরে দীক্ষামন্ত্র করিব অর্পণ।।*
*🌷 বারতা শুনিয়া তিঁহ প্রেমাকুল মন।*
*🌷আপনার ভাগ‍্য বহু করে প্রশংসন।।*
*🌷হর্ষে ভয়ে স্নান করি কৈল আগমন।*
*🌷 দশাক্ষর মন্ত্র কর্ণে করিল স্থাপন।।*
*🌷মন্ত্রলাভ করি তিঁহ আবিষ্ট হইল।*
*🌷হেনকালে মন্ত্রদাতা অন্তর্হিত হইল।।*
*🌷কে বা তিনি কিবা তাঁর হয় পরিচয়।*
*🌷জিজ্ঞাসিতে নাহি তার হইল সময়।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ কে যে মহামন্ত্র দান করলেন তা বুঝতেই পারলেন না, কারণ তিনি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যান।এর অর্থ এই যে, স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ ভগবান ছদ্মবেশে তাঁকে দীক্ষা দান করে চলে গেলেন। মনে বড় হতাশা,যিনি আমায় দীক্ষমন্ত্র দান করলেন কে যে সেই গুরুদেব,কি তাঁর পরিচয় তা কিছুতেই বুঝতে পারলেন না। এজন‍্য হতাশ মনে গোবর্দ্ধনের সিদ্ধবাবার কাছে গিয়ে সব কথা বললেন।কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজ বালকটির মধ্যে দিব‍্যভাব দেখে তাঁর পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে তিনি সব কথা বললেন, এবং মধুসূদন বাবাজী যখন তাঁর কাছে ভজন প্রণালী জানতে চাইলেন তখন তিনি বললেন যে তাঁর গুরুদেবের ভজন প্রণালী না জানলে তিনি কিভাবে তাঁকে পরবর্তী প্রথা বলবেন। এইকথা শুনে নবাগত বালক-বাবাজী হতাশায় কাঁদতে লাগলেন।তাঁর সাধন-ভজনে আগ্রহ এবং নিষ্ঠা দেখে গোবর্দ্ধনের সিদ্ধবাবা তাঁকে আশ্বস্ত করে বললেন যে তুমি মনক্ষুণ্ণ হইও না, আমি তোমাকে দাদার কাছে পাঠাচ্ছি এবং তিনি বললেন কাম‍্যবনের সিদ্ধবাবার কাছে গমন করতে।কারণ তিনি সর্বজ‍্যেষ্ঠ এবং সর্ববেত্তা এবং তিনি নিশ্চিত তোমাকে সঠিক পথ বলে দিবেন।*
*হতাশ মনে আশা নিরাশায় ব‍্যাকুল মনে তিনি চললেন কাম‍্যবনে যা ত্রিশ থেকে চল্লিশ মাইল দূরে।সিদ্ধবাবাও সব কথা শুনলেন, এবং বললেন যে তিনি যখন অযাচিত কৃপাদীক্ষা পেয়েছেন তা তখনই লঙ্ঘন করা উচিত না।তবে তিনিও তাঁকে রাগানুগা ভজনের প্রথা এবং পদ্ধতি বলতে পারবেন না কারণ গুরু প্রণালী জানা না থাকলে সেরকম নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়।আবার হতাশা,তথাপি তিনি শুধু এই মাত্র বললেন যে,"বাবা তুমি হতাশ হইও না একান্তে বসে হরিনাম করো কৃপাময়ী রাধারাণী অথবা ভক্তবৎসল মহাপ্রভু নিশ্চিত ইহার বিহিত করবেন"।তখন হতাশায় নিরাশায় ভগ্নমনে রাধাকুন্ত এসে উপস্থিত হলেন।এখানে দেখুন এই বালকটির মধ্যে সাধনভজনের কি অদম‍্য বাসনা বারবার ভগ্নমনোরথ হয়েও ভজনবাসনা বিলুপ্ত হয়নি।তখন তিনি মনে মনে সঙ্কল্প করলেন যে,বৃন্দাবনে এসে যদি ভজনসাধনই করতে না পারলাম তাহলে এ জীবন বৃথা।অতএব আজ রাধাকুন্ডের জলে গলায় গিরিধারী শিলা বেঁধে রাত্রিতে রাধাকুন্ডে ঝাঁপ দিয়ে দেহপাত করবেন। এই প্রসঙ্গটি গ্রন্থের ভাষায় আপনারা আস্বাদন করুন।*
*🌷 নিভৃতে বসিয়া মনে করেন বিচার।*
*🌷যদি ভজনেতে মোর না হয় অধিকার।।*
*🌷তবে এই দেহে মোর কোন প্রয়োজন।*
*🌷কুন্ডজলে ঝাঁপ দিয়া ছাড়িব জীবন।।*
*🌷অদ‍্যরাত্রে এই দেহ বিসর্জন করিব।*
*🌷ভজন অযোগ‍্য দেহ কি লাগি রাখিব।।*
*🌷এতচিন্তি গিরিধারী গলেতে বান্ধিল।*
*🌷অর্দ্ধরাত্রে শ্রীকুন্ডের জলে ঝাঁপ দিল।।*
*🌷ক্রমশ অতল তলে পড়িল যখন।*
*🌷তখনি ঘটিল এক বিচিত্র ঘটন।।*
*🌷কেহ যেন গলা হতে শিলা ভাসাইল।*
*🌷তালপত্র হস্তে দিয়া তীরে নিক্ষেপিল।।*
*🌷 তালপত্রখানি পাইয়া হইল হর্ষমন।*
*🌷তাহা লৈয়া গোবর্দ্ধনে কৈল আগমন।।*
*🌷 বন্দি সিদ্ধ বাবা পদ সব নিবেদিল।*
*🌷তবে বাবা তারে কাম‍্যবনে পাঠাইল।।*
*🌷তালপত্র হেরি বাবা তাঁহাকে কহিল।।*
*🌷প্রিয়াজীর যথেষ্ট কৃপা তোমার উপর।*
*🌷 হইল অব‍্যক্ত বস্তু তোমার গোচর।।*
*🌷পরম অব‍্যক্ত যাহা পেয়েছ এখন।*
*🌷 বর্হিজগতের তাহা বুঝাব কেমন।।*
*🌷পুনঃ শ্রীকুন্ডেতে তুমি করহ গমন।*
*🌷প‍্যারীরে ডাকিলে হবে অভীষ্ট পূরণ।।*
*🌷পরম করুণাময়ী রাধা রাধা বৃন্দাবনেশ্বরী।*
*🌷অবশ‍্য পুরাবে আশা কৃপাদৃষ্টি করি।।*
*🌻কাম‍্যবনের সিদ্ধবাবার নিকট হতে এইরকম-- কৃপাদেশ পেয়ে তখন তিনি পুনরায় রাধাকুন্ডে রওনা হলেন এবং কৃপার এমনই মহিমা সেই রাত্রিতেই কৃপাময়ী রাধে তাঁকে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে সস্নেহে বললেন যে,"তুমি এখন সূর্য‍্যকুন্ডে গিয়ে ভজন কর এবং আরও কহিলেন--*
*🌷সূর্য‍্যকুন্ডে বাস করি করহ ভজন।*
*🌷তথায় পাইবে তুমি আমার সেবন।।*
*🌷যেই মন্ত্রে দীক্ষা তুমি করিলে গ্রহণ।*
*🌷সেই মন্ত্র কারে তুমি না করো অর্পণ।।*
*🌷আমি যাহা দিলাম তাহা করিও গোপন।*
*🌷এত কহি রাধারাণী হৈলা অদর্শন।।*
*🌻এইরকম স্বপ্নদিষ্ট হয়ে বাবা সূর্য‍্যকুন্ডে এসে ভজনে রত হলেন এবং বহুলোককে ভেক্ দিলেন। কিন্তু রাধারাণীর নিষেধ থাকায় মন্ত্রদীক্ষা কাউকেও দান করেন নাই।তাঁর জীবনে করুণাময়ী রাধারাণীর কৃপা যে কিভাবে অবিরত বর্ষিত হ'ত তা আপনারা শুনুন--*
*🌷একদা প্রিয়াজী স্বপ্নে বাবাকে কহিল।*
*🌷পরম বিচিত্র তাহা জগতে ঘোষিল।।*
*🌷সূর্য‍্যকুন্ডের যেই ঘাটে কর তুমি স্নান।*
*🌷এক শিলা রহে তথা কন্ঠ দঘ্ন স্থান।।*
*🌷দুই ভগ্নীর কেয়ুর অলঙ্কারাদি আর।*
*🌷স্নানকালে রাখিতাম উপরে তাহার।।*
*🌷পাথর গলিত হইয়া চিহ্নিত হইল।*
*🌷তাহা আনি পূজা করো তোমারে কহিল।।*
*🌷স্বপ্নাদেশ পাইয়া বাবার পুলকিত মন।*
*🌷জলেতে ডুবিয়া পাথর উঠাল তখন।।*
*🌻এইভাবে বাবা সেই শিলাখানি উঠিয়ে দেখেন যে তার উপর সব অলঙ্কারাদির গলিত চিহ্ন গুলি বিদ‍্যমান রয়েছে, এবং সেই অপ্রাকৃত শিলাখন্ডটি প্রতিষ্ঠা করে সেবাপূজায় মনোনিবেশ করলেন।এইভাবে বাবা ভজনানন্দে দিন যাপন করেন, কারণ এখন তাঁর সর্ব অভীষ্ট পূরণ হয়েছে।🌹এখন শ্রোতা ভক্তগণ নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কে তাঁকে দীক্ষামন্ত্র দান করে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলেন।কে তাঁকে ডুবন্ত অবস্থায় গলার পাথর খুলে তীরে নিক্ষেপ করেছিলেন,কে তাঁর হাতে অপ্রাকৃত তালপত্রে লিখা ভজন প্রণালী দান করেছিলেন, কে তাঁকে সূর্য‍্যকুন্ডে এসে ভজনে নিমগ্ন হতে কৃপাদেশ করেছিলেন।সত‍্যই স্বার্থক জনম বাবার।বৃন্দাবনে বাস করে সাধন ভজনের মাধ‍্যমে জীবন অতিবাহিত করবেন এবং এই যে মনোবাসনা তা কি ভাবে একটির পর একটি ঘটনার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হল।ধন‍্য সিদ্ধবাবা আপনার শ্রীচরণে দন্ডবৎ প্রণাম।*
*🌹কিন্তু ভজনের বহুবিধ পুরস্কার এখনও তাঁর জীবনে বাকী রয়েছে।এখানে থাকা কালীন হোলি উৎসব সমাগত হলে বাবার ইচ্ছা হয় বর্ষাণাতে হোলি উৎসবে যোগদান করবেন এবং এইরকম মনস্থ করে একটি শুভ্র বহির্বাস পরিধান করে বাবা চললেন পদব্রজে বর্ষাণার পথে।এই সূর্য‍্যকুন্ড বরাবর একটি জলের খাল আছে তাকে লোকে "বোম্বাখাল" বলে, এই খালের পার ধরে বর্ষাণার দিকে যেতে হয় এবং যাত্রাকালে কি হয়েছিল তা আপনারা কৃপা করে শুনুন।*
                   *ক্রমাগত*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৭)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (দ্বিতীয় খন্ড)*
*সূর্য‍্যকুন্ডের সিদ্ধ মধুসূদনদাষ বাবাজী মহারাজ*
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🌷ফাল্গুনী শুক্লা নবমী তিথির অপরাহ্নে।*
*🌷শুক্ল বস্ত্র পরি বাবা চলয়ে আপনে।।*
*🌷কুটির হইতে দ্রুতপদে করিয়া গমন।*
*🌷বোম্বার সমীপে গিয়া পড়য়ে তখন।।*
*🌷 রাখাল বালক আদি যত শিশুগণ।*
*🌷কৌতূহলী হৈয়া করে বাবাকে দর্শন।।*
*🌷চোখে জল মুখের লালায় ভূমি কর্দমাক্ত।*
*🌷মুখে ফেন ঝরে দেখি সবে চমকিত।।*
*🌷হোলি খেলা অনুভবে ঘন দীর্ঘশ্বাস।*
*🌷সাত্ত্বিক বিকার তাঁহার দেহেতে প্রকাশ।।*
*🌷 এইভাবে সন্ধ‍্যাবধি করিয়া যাপন।*
*🌷হুঙ্কার করিয়া বাবা উঠয়ে তখন।।*
*🌷সাদা বস্ত্রখানি তাঁর রক্তবর্ণ হইল।*
*🌷বিচিত্র বাবার গুণ জগতে ব‍্যাপিল।।*
*🌻এখানে দেখুন মনের ষোলআনা আর্তি সহকারে যদি দেব দর্শন অভিলাষ কারও বাঞ্জা হয় এবং সেই আর্তি যদি প্রকৃত যথার্থ হয়, তাহলে এরকম ভাবেই তাঁর দর্শন সম্ভব হয়।বাবার আর বর্ষাণা যাওয়া হল না।রাখাল বালকগণ বাবাকে ধরাধরি করে তাঁর ভজন কুটিরে নিয়ে আসিল।মানসে এইরকম হোলিরাজ‍্যে প্রবেশের কাহিনী আমরা শ্রীনিবাস আচার্য‍্য প্রভুর জীবনেও দেখতে পাই, যেখানে তিনি যাজিগ্রামে বসেই মানসে বর্ষাণার হোলিরাজ‍্যে প্রবেশ করেছিলেন। সর্ব অঙ্গময় ফাগু এবং আবিরে রঞ্জিত হয়ে গিয়েছিল। সূর্য‍্যকুন্ডের বাবার বুলি ছিল -------*
        *🌷বিশ্বম্ভর গৌরচন্দ্র*
        *🌷বৃষভানুনন্দিনী রাধে।*
*🌻অতি ভোরবেলা শয‍্যা ত‍্যাগ করে নীরবে সূর্য‍্যকুন্ডতীরে বসে আপন মনে এই কীর্তন করতেন এবং নয়নজলে ভেসে যেতেন।*
*🌹বিয়ের পর ফুলশয‍্যার রাত্রিতে গোপনে গৃহত‍্যাগ করলেও অবশ্যই তাঁর ধর্মপত্নী একজন ছিলেন, যদিও জীবনে তিনি স্বামীর সাহচর্য‍্য পাননি, তথাপি তাঁর স্বামীর সাধনভজনের এইসব কথা শুনে আকৃষ্ট হয়ে একবার পতিদেবতাকে দেখবার জন্য সেখানে আগমন করেন, কিন্তু বাবা সেই খবর পাওয়া মাত্র, জায়গা জায়গায় ঘুরে বেড়াতে লাগলেন যাতে তাঁর পত্নী কিছুতেই তাঁর নাগাল না পান।অবশেষে হতাশাগ্রস্ত হয়ে তিনি বিষন্নমনে ধামত‍্যাগ করেন।এটিও এক অতি অদ্ভুত সিদ্ধান্ত।*
*🌳একবার সিদ্ধবাবার জীবনে যে ঘটনা ঘটেছিল তাইই এক হিসাবে তাঁর শেষ লীলা।একবার বাবার চরণে এক ক্ষত হল এবং অনেক চেষ্টাতেও যখন তা ভাল হল না,সিদ্ধবাবা মনস্থ করলেন দেহপাত করবেন।এইরকম মানসিকতার বশবর্তী হয়ে বাবা সকলের অলক্ষ‍্যে কুটির ত‍্যাগ করে নির্জন বনে প্রবেশ করলেন এবং রোগ যন্ত্রণায় কাতর হয়ে অন্নজল ত‍্যাগ করে সমানে রাধারাণীর কাছে প্রার্থনা করতে লাগলেন, নীরবে যাতে কেউ শুনতে না পান।কুটির বাসী বৈষ্ণবগণ অনেক খোঁজখবর করেও তাঁর কোন খোঁজ পেলেন না এবং সকলে মনে করলেন বাবা নিশ্চিত দেহপাত করেছেন। কিন্তু ভক্তের এই কষ্টে করুণাময়ী রাধারাণী আর স্থির থাকতে পারলেন না, তখন তিনি এক লীলা প্রকাশ করলেন, তা আস্বাদন করুন-----*
*🌷হেরিয়া বাবার দশা প্রিয়াজী দুঃখ মন।*
*🌷ব্রজকিশোরীর রূপে দিলা দরশন।।*
*🌷রুটিজল হস্তে লইয়া সম্মুখে আসিল।*
*🌷বাবায় সম্বোধিয়া তাহা কহিতে লাগিল।।*
*🌷দুইদিন তুমি নাহি করিলে গমন।*
*🌷তে কারণে করি মুই তোমা অন্বেষণ।।*
*🌷মাধুকরীতে তুমি না করি গমন।*
*🌷কি কারণে হেথা পড়ি রয়েছ এখন।।*
*🌷 মাতা পাঠাইল রুটি,করহ ভোজন।*
*🌷 শুনি সিদ্ধবাবা হইল সচকিত মন।।*
*🌷ব্রজবাসী কন‍্যা জ্ঞানে তাঁহারে কহিল।*
*🌷যে বাড়ীর কন‍্যা তাহাও সে বুঝিল।।*
*🌷সেই অনুভবে বাবা প্রনয় কোপ কৈল।*
*🌷কিঞ্চিৎ পরিহাসচ্ছলে কহিতে লাগিল।।*
*🌷কি কারণে হেথা তুমি কৈলে আগমন।*
*🌷এখানে রয়েছি আমি জানিলে কেমন।।*
*🌷কন‍্যা কহে সব জানি করহ ভোজন।*
*🌷কাজ আছে তবে মুই করিব গমন।।*
*🌷বাবা কহে লৈয়া যাহ আমি না খাইব।*
*🌷বালিকা কহয়ে আমি তাহা না শুনিব।।*
*🌷সম্মুখে বসি খাওয়াতে মাতা করিল প্রেরণ।*
*🌷কি কারণে তুমি নাহি করিবে ভোজন।।*
*🌷আরাম ব‍্যারাম সর্ব দেহে ঘটয়।*
*🌷শরীর ছাড়িলে ভজন পূর্ণ নাহি হয়।।*
*🌷বালিকার মিষ্টবাক‍্য করিয়া শ্রবণ।*
*🌷তাঁহার প্রদত্ত দ্রব‍্য করিল ভোজন।।*
*🌷 পুনঃ কভু হেথা নাহি কর আগমন।*
*🌷শুনি মৃদু হাসি তিঁহ করিল গমন।।*
*🌷কতক্ষণ বাদে বাবা সুস্থির হইলে।*
*🌷পায়ে জ্বালা নাহি বুঝি,নেকড়া খুলিলে।।*
*🌷ক্ষত না হেরিয়া মনে সন্দেহ জাগিল।*
*🌷ধীরে ধীরে উঠি গ্রাম মধ্যে প্রবেশিল।।*
*🌷ব্রজমায়ীর মাতা স্থানে বাবা জিজ্ঞাসা করিল।*
*🌷শ্বশুরালয়ে তিহ কন‍্যা মাতা যে কহিল।।*
*🌷বাবা কহে কতদিন করিল গমন।*
*🌷তিঁহ কহে তিনমাস হইবে এখন।।*
*🌷রুটি না পাঠাল সেই মায়ী বাবা অন্তরে বুঝিল।*
*🌷কাঁদিতে কাঁদিতে বাবা কুটিরে আসিল।।*
*🌷গোপন করিলেও তাহা প্রকাশ পাইল।*
*🌷তদবধি সিদ্ধবাবা নাম সর্বত্র ব‍্যাপিল।।*
*🌺এখানেই কৃপাময়ী রাধারাণী তাঁর ভক্তের কষ্ট লাঘব করবার জন্য সর্বপ্রথম ভোজনের থালি পাঠালেন তাঁরই এক গোপীরূপী দাসী দ্বারা যিনি ব্রজমায়ীর বিবাহিতা কন‍্যারূপে পরিচয় দিয়ে তাঁকে কৌশলে খাইয়ে গেলেন এবং পরে চলে গেলে বাবা দেখেন যে তাঁর সেই চরণের ক্ষত একেবারে ভাল হয়ে গেছে।ভগবদ্ কৃপায় এক সিদ্ধবাবা দৃষ্টি শক্তি ফিরে পেলেন আর এখানে বাবার না ভাল হওয়া ক্ষতও ভাল হয়ে গেল। এক হিসাবে বাবার মহিমা জীবজগতে প্রকাশ করবার জন্য এটি রাধারাণীর একপ্রকার কৃপা।এই ঘটনার পর হতে তিনি সিদ্ধবাবা নামে খ‍্যাত হলেন।*
*🍀সিদ্ধবাবা তাঁর জীবনে সাধ‍্য বস্তু পাওয়ার পর হতে সূর্য‍্যকুন্ড অঞ্চলে তাঁর প্রভাব এবং মহিমা চতুর্গুণ বৃদ্ধি পেল এবং তখন আরও কঠোর ভজনে নিজেকে ডুবিয়ে দিলেন।এই সময়ে বাবা প্রায়ই বিভিন্ন তিথিতে তাঁর শ্রীপাটে বসে শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করতেন।বাবার কোন জাত বিচার ছিল না।একবার এই পাঠের সময় একটি ডোমের ছেলে বাবার কোলে বসে ভাগবদ্ পাঠ শুনছিল।সেইদিন কার্ত্তিকমাসে বাবা ভাগবতের রাসপঞ্চাধ‍্যায় পাঠ করছিলেন এবং যথাসম্ভব ব্রজবুলি ভাষায় তা শ্রোতাবৃন্দকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।আপনারা সকলে নিশ্চিত জানেন যে কৃষ্ণচন্দ্র সেই মহারাস রজনীতে হঠাৎ অন্তর্দ্ধান করেন এটি শুনে সেই ডোম বালকটি বাবাকে সরল মনে জিজ্ঞাসা করে যে বাবা!কৃষ্ণচন্দ্র রাসস্থলী হতে কোথায় গেলেন। বাবার অবচেতন মন তখন রাসলীলায় মগ্ন এবং হঠাৎ এইরকম প্রশ্ন করাতে বাবার মনে যে কি ভাবান্তর হল তা বাবাই জানেন এবং হঠাৎ তখন একটি বিরাট শব্দ হল যার ফলে সকলে দেখলেন যে বাবার ব্রহ্মতালু ভেদ করে প্রাণবায়ু বেড়িয়ে গেল। গ্রন্থে পাই----*
*🌷ডোমসুত হেন বাক‍্য বলিল যখন।*
*🌷অমনি বোমের শব্দ হইল তখন।।*
*🌷বাবার ব্রহ্মরন্ধ্র ভেদি প্রাণ বাহিরিল।*
*🌷বাবার দিব‍্যভাব বলি সকলে বুঝিল।।*
*🌷 ক্ষণমধ‍্যে সিদ্ধবাবা ঢলিয়া পড়িল।*
*🌷সেই স্থানে সিদ্ধবাবার সমাধি হইল।।*
*🌷 অদ‍্যাপিও সূর্য‍্যকুন্ডে সমাধি দর্শন।*
*🌷ভাগ‍্যবান হেরি করে কৃতার্থ জীবন।।*
*♻বাবার মহাজীবন অনুশীলন করলে দেখা যায় যে শুরু হতে শেষ পর্যন্ত ক্রমাগত বাবার উপর রাধারাণীর কৃপার বারি বর্ষিত হয়েছিল।এইভাবে সাধন ভজনের মাধ‍্যমে বাবা তাঁর সুদুর্লভ মানবজনম স্বার্থক করে চির অমর হয়ে আছেন।*
*🔵এখানে ভক্তপাঠকগণের অবগতির জন্য বলতে চাই, এই জীবাধম সিদ্ধবাবার এই শ্রীপাটে বহুপ্রকার সেবার কাজ করেছে যথা, বিরাট শ্বেত পাথরের Hall ঘরের মত নাট মন্দির। শিলা প্রোথিত(পোতা) জায়গাটি মন্দিরের রূপদান।বৈষ্ণব খন্ড,পাকঘর,জলকল, বাথরুম ইত্যাদি কাজগুলি করা হয়েছে। বতর্মানে এটি এক নবরূপ ধারণ করেছে সবই রাধারাণীর কৃপা কারণ। তিনি চান যে তাঁর একান্ত ভক্তগণের স্মৃতি যেন যুগ যুগ অমর হয়ে থাকে।এই সিদ্ধবাবার তিরোভাব তিথিতে প্রচুর বৈষ্ণব এবং গৃহীভক্ত সমাবেশ হয় এবং উৎসবের কয়দিন জায়গাটিতে যেন নতূন করে প্রাণ সঞ্চার হয়।*
*🌳অর্থ‍্যাৎ এই সেবার দ্বারা ব্রজের বিখ‍্যাত চার সিদ্ধবাবার শ্রীপাটগুলি নতুনরূপ লাভ করেছেন এবং সবই শ্বেত পাথরের কাজ বলে নোনা লাগবার ভয় নাই। মনে হয় কম করেও পঞ্চাশ-ষাট বৎসর ঠিকই থাকবে তারপর প্রকৃতির নিয়মে আবার ক্ষয় নিশ্চয়ই হবে তখন এই জীবাধম আর ইহজগতে থাকবে না। আবার নিশ্চয়ই কোন না কোন ভক্ত আবার এটির নতুনরূপ দান করবেন।*
*🍀গ্রন্থ লেখকের উক্তি--এই অধম জীবনে সাধনভজন কিছুই করতে পারলাম না,তবে এই সব সেবা দ্বারা যদি রাধারাণীর কৃপা তার উপর বর্ষিত হয় সেটাই তার ভাগ‍্য।কর্ম করে তার ফল প্রত‍্যাশা করা গীতায় নিষিদ্ধ,কারণ কর্ম তার ধর্ম অনুসারে ফল ঠিকই দিবে যদি নিঃস্বার্থভাবে ভগবদ্ সেবায় কোন কর্ম করা হয়,এটিই ধমজগতের হিসাব বা সিদ্ধান্ত।ব্রজের এই চার সিদ্ধবাবার শ্রীপাটগুলি যে কি চরম দুর্দশায় হয়েছিল তা যাঁরা আগে দেখেছেন তাঁরাই বুঝতে পারবেন অন‍্য কেউ নয়।এগুলিকে সংস্কার বলা যায় না কারণ দেড়শ কি দুইশ বছর আগে সব কাঁচার গাথুনী ছিল,সেগুলি সব নতূন করে করা হয়েছে এবং সর্বত্র শ্বেত পাথরের কাজ করা হয়েছে অর্থ‍্যাৎ এককথায় New Construction অধম তার সীমিত জীবনে যথাসাধ‍্য বা সাধ‍্যাতীত ভাবে এইসব সেবা সর্বত্রই করেছে এবং কোথাও নিজের নামে কোন পাথর লাগায় নাই, তার উপরে এইসব সেবার মধ্যে পূর্বের কোন সর্ত্তও জারী করা হয় নাই।এককথায় নিঃস্বার্থভাবে করা হয়েছে।*
*এই শ্রীপাটের সেবার দায়িত্ব বহন করেন শ্রীমুরারিদাস বাবাজী, যদিও তিনি বৃন্দাবনে বাস করেন।সেজন‍্য যদি কোন আগ্রহী ভক্ত এই সিদ্ধবাবার সেবার জন্য কিছু আনুকুল‍্য করতে মনস্থ করেন তাহলে তা নিম্নলিখিত ঠিকানায় পাঠাবেন। M.O কুপনে সূর্য‍্যকুন্ডের সেবার জন্য লিখবেন=*
*Sri Murari Das Babaji*
*Mohanta Murari Mohan Kung*
*Keshighat*
*P.O=Vrindaban*
*Dist=Mathura (U.P)*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৮)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (দ্বিতীয় খন্ড)*
  *বৈষ্ণব আশ্রম সম্বন্ধে দু'চার কথা*
  ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀নিজের বাড়ী,স্কুল কলেজ, ক্লাব ইত্যাদি সব জায়গাতেই মানুষ একত্রে বাস করে বা সমবেত হয়,নানা প্রকার সাংসারিক বৈষয়িক ব‍্যবসায়িক আলাপ আলোচনাও হয়, কিন্তু এই জাতীয় সব সঙ্ঘের মধ্যে নৈতিক চরিত্র বা আদর্শ মানব জীবন যাপন করার কোন অনুশীলন হয় না।ক্ষণিকের আনন্দ ক্ষণিকের হাস‍্য-কৌতূক, গানবাজনা ইত্যাদির মাধ‍্যমে সময় কেটে যায়। কিন্তু হতভাগ‍্য জীব বুঝে না যে এ জগতে আমি বলে কিছুই নেই,সবই সেই তুমি। এই বিরাট বিশ্বের যিনি শ্রষ্ঠাতাঁর সঙ্গে সম্বন্ধ না রেখে জীবন যাপন করা যে কত বড় অপরাধ তা বিজ্ঞজনেরাই জানেন বা বলবেন। অর্থ‍্যাৎ নিজের সংসারকে ঠাকুরের সংসার, নিজের আয়কে ঠাকুরের দেওয়া আয়, নিজের সন্তান সন্ততিকে ঠাকুরের কৃপার কৃপার দান হিসাবে যারা গ্রহণ না করে তাদের মত অকৃতজ্ঞ এ বিশ্বে আর নেই।সেজন‍্যই সাধু মাহাত্ম্যগণ আশ্রম প্রতিষ্ঠার কথা চিন্তা করেছিলেন, কারণ এই সব ভগবদ্ আশ্রমে মানুষ পায় সর্বক্ষণের জন্য তাঁর দেখা,তাঁর স্পর্শন তাঁকে সমর্পণ করে সেই নিবেদিত প্রসাদ গ্রহণ ইত্যাদি সবকাজের মধ্যেই ভগবদ্ সেবার সুযোগ একমাত্র আশ্রম পরিবেশেই সম্ভব। কারণ ভগবান বিগ্রহরূপে সেখানে সদা প্রকট।আপনারা নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন যে সংসার তাপক্লিষ্ট মানুষটি যখন কোন আশ্রম পরিবেশে আসে তখন সে মনে পায় এক অনাবিল আনন্দ এবং সাধুসঙ্গ প্রভাবে তখনকার মত মনটি চলে যায় এক অন‍্য জায়গাতে বা জগতে। কিন্তু মায়াদেবীর এমনই আকর্ষণী শক্তি যে তবুও সেই মানুষটি আবার ফিরে যায় সেই সংসার পরিবেশে। সেইসব ভগবদ্ আশ্রমে যাঁরা চিরস্থায়ী হিসাবে বাস করেন, ভগবদ্ প্রভাবে বা সৎসঙ্গ প্রভাবে তাঁরা হয়ে যান অন‍্য একটি মানুষ।তাঁদের মুখে সদাসর্বদা ভগবদ্ কথা,সদাসর্বদা ভগবানের গুণ কীর্তন মহাপুরুষগণের জীবনী প্রসঙ্গ আলোচনা ইত্যাদির প্রভাবে তাঁদের মুখমন্ডল দর্শন মাত্রেই তাঁদের, মানুষ প্রণাম করে শুধু তাঁদের মধ্যে ভগবদ্ শক্তির বিকাশ দেখে। কারণ আশ্রম পরিবেশের প্রভাবে তাঁরা তখন অন‍্য এক মানুষ হয়ে যান।তাঁদের মন-মন্দিরে না থাকে কোনও আবর্জনা, না থাকে কোন সঙ্কীর্ণতা, ধনী দরিদ্র সকলেই পায় সমান ব‍্যবহার,তাঁদের সদা হাস‍্যময় লাবণ‍্য জ‍্যোতিঃসম্পন্ন মুখমন্ডল দেখলেই মনের মধ্যে শ্রদ্ধা নিজে থেকেই উদিত হয়।এটাই হচ্ছে আশ্রমের বাসিন্দাদের সঙ্গে সংসারী জীবনের পার্থক্য।*

*🍀বর্তমানকালে প্রায় সব আশ্রমের পরিবেশ এমন বিষাক্ত হয়ে পড়েছে যে সেখানে যারা যায় তারা মুখে না বললেও মনে মনে সাধু-সন্ন‍্যাসী বা আশ্রমবাসীদের স্বভাব এবং আচরণের নানানরকম সমালোচনা করেন।এটি প্রত‍্যক্ষ সত‍্য কথা।সত‍্যি কি মিথ‍্যা নিজের মনকেই আপনারা জিজ্ঞাসা করুন।কয়টা লোকের প্রাণ গুরু বলে কেঁদে উঠে, কয়টা লোক গুরু দর্শনের লালসায় অস্থির চিত্ত হয়ে আশ্রমে আসেন,কয়টা লোক একটু শ্রীগুরুদেবের শ্রীচরণতলে বসে শান্তি পান এটি এক বিরাট প্রশ্ন?এর সঠিক উত্তর আপনার মনই দিতে পারে। কিন্তু এটাই কি আশ্রমে আসার উদ্দেশ্য, এই বাসনা নিয়েই কি আমরা সব আশ্রমে যাই, শুধু দুইটি ভাল চচ্চড়ী রসা খাবার আশায়,সেটা তো বাড়ীতে পাওয়া যায়। মনের খোরাক সংগ্রহই মঠ মন্দির বা আশ্রমে আসার মুখ‍্য উদ্দেশ্য,পেটের খোরাকের জন্য না।এটি যথার্থ সত‍্য কিনা নিজেদের মনকেই জিজ্ঞাসা করুন। 🛑(এই কথাগুলি সম্পূর্ণ গ্রন্থ লেখকের)।*
========================
*🍀শ্রদ্ধা এমনই একটা বস্তু যা মানুষের মনের কোণে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, একদিনে বা একরাত্রে শ্রদ্ধার সঞ্চার হয় না, অনেকটা বীজ থেকে গাছ জন্মাবার মত,ধীরে ধীরে--পরিচর্য‍্যা--আগাছা অপসারণ--জল,সার ইত্যাদির মাধ‍্যমে সেই বীজ থেকে অঙ্কুরিত হয় এক শিশু পল্লব।শ্রদ্ধাও সেইরকম, ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়, কিন্তু এমনই যে শ্রদ্ধা তা কিন্তু বিভিন্ন আচরণের ত্রুটির জন্য চিরতরে লুপ্ত হয়, যেমনটি দেখা যায় সেই চারা গাছটি যখন ছাগলে খেয়ে নেয়। সেইজন‍্য ঠাকুর আশ্রমকে বলতেন, "যে মানুষ গড়ার কারখানা"। অর্থ‍্যাৎ মানুষ একমাত্র আশ্রমে এসেই আশ্রম পরিবেশের প্রভাবেই নিজেকে আদর্শবান করে তুলতে পারে।তার চরিত্রের সব বিশেষত্বগুলি ফুটে উঠে আশ্রম পরিবেশের মধ্যে।*
*🍀কিন্তু অনেক আশা নিয়ে অনেক বাধা বিঘ্নকে উপেক্ষা করে যেসব সংসারী জীব মনের খোরাক জোগানোর উদ্দেশ্য নিয়ে এই জাতীয় সব আশ্রমে আসেন এবং সেখানে এসে যদি তারা সেটা না পান তাদের হতভাগ‍্য ছাড়া আর কি বলা যেতে পারে। আবার সেই আশ্রমে এসে যদি দেখা যায় সেখানে সঙ্কীর্ণ রাজনীতি,দলাদলী,ঝগড়াঝাটি সবই চলছে তাহলে সেরকম আশ্রমে না আসাই ভাল,কারণ সাক্ষাৎ দর্শনে মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া বিশেষভাবে বৃদ্ধি পায়, সেটি দূরে থাকলে হয় না যার ফলে ভক্তিজগতের হিসাবে অপরাধও কম হয়।অনেক আশ্রমের অনেক শিষ‍্যই বলেন, যে গুরুদেবকে দেখে আকৃষ্ট হয়ে তাঁর কাছে দীক্ষা নিয়েছিলাম, সেই গুরুদেব আর এখন নেই, কারণ তাঁর ব‍্যবহারিক দিকটা কিছুতেই নিতে পারছি না। কিন্তু গুরুকরণ এমনই একটি বস্তু তাঁকে উপেক্ষা করাও চলে না,তিনিই তো হাত ধরে এপথের সন্ধান দিয়েছেন, সেই শ্রদ্ধা হানির ভয়ে দূরে দূরে থাকাই ভালো, কারণ স্বচক্ষে নানাপ্রকার বিরুদ্ধ আচরণ দেখলে সেই শ্রদ্ধায় আঘাত লাগে যার জন্য দূরে থাকাই ভাল।যদিও এটা শিষ‍্যের পক্ষে চরম দুর্ভাগ‍্য ছাড়া আর কিছুই নয়।*
*🍀দূরে থেকে বা সংসারে থেকে ভগবদ্ সেবাই নিজেকে রাখা সেখানে তুলনামূলক হিসাবে অনেক ভাল, সেখানে সাক্ষাৎ দর্শনের মাধ‍্যমে অপরাধের বীজটি অঙ্কুরিত হবার সুযোগ পায় না।একটা সাংসারিক উদাহরণ এখানে মনে হয় প্রযোজ‍্য।🌹মায়ের যে সন্তান বারোমাস মাকে নিয়েই সংসার করে, সেখানে বিভিন্ন কারণে ঐ মায়ের মনে নানারকম বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবার সম্ভাবনা খুবই বেশী। কিন্তু সেই মায়ের যে ছেলেটি বিদেশে থাকে, যে সংসারের নিত‍্য ঝামেলা কিছুই বহন করে না, সেই ছেলেটি বিদেশ থেকে যখন অল্প সময়ের জন্য আসে, তখন মা তাকে বক্ষের মধ্যে জড়িয়ে ধরেন,সদা সর্বদা তার সঙ্গই পেতে চান, পুত্র যা ভালবাসে তা রান্না করে খাওয়ান, এক্ষেত্রেও সেইরকম দূরে দূরে থাকলেও সমান প্রতিক্রিয়া অবশ‍্যম্ভাবী।যাইহোক,নিশ্চিত বিফল মনোরথ হয়ে ফিরে যাব,যেতে হয় যাচ্ছি, প্রণাম করতে হয় করছি,এরকম মানসিকতা নিয়ে আশ্রমে না আসাই ভাল।*
*🍀গুরুদেব হবেন আদর্শ,তাঁর ত‍্যাগ,তিতিক্ষা সাধন ভজন সদা হাস‍্যময় নির্মল মুখমন্ডল দেখে শিষ‍্যগণ পাবেন মনে অব‍্যক্ত আনন্দ। আশ্রমবাসীগণ হবেন গুরু মহারাজ বলতে পাগল, এইরকম পরিবেশের সেখানে অভাব, সেটিকে তো ঠাকুরের কথায় প্রকৃত মানুষ গড়ার কারখানা বলা যায় না।*
*সর্বশেষে বলতে চাই যে এই প্রসঙ্গটি লেখা হল তা নিজের মনের গুপ্ত ভাবকে প্রকাশ করার জন্য না, বতর্মানকালের বহুবিধ পরিবেশকে উপলক্ষ্য করে।তার অর্থ এই নয় যে এটি সকলের পক্ষেই প্রযোজ‍্য।যারা প্রকৃত মনের খোরাক পান তাঁরা আসুন একশবার আসুন, কারণ আশ্রমে যদি শিষ‍্য ভক্তগণ না আসেন তাহলে কি মানায়? যাঁদের মনে এই জাতীয় কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া না হয় তাঁদের চরণে দন্ডবৎ,তাঁরা ভাগ‍্যবান।এটি কোন গুরু বিরোধী প্রসঙ্গ নয়, আত্মসমীক্ষা মাত্র।সর্বশেষে প্রণাম জানাই আমার শ্রীগুরুদেবের শ্রীচরণে কারণ বিষ্ঠার কীট হয়েই ছিলাম আজ যেটুকু রস আস্বাদন করতে পারছি বা পেরেছি তা সবই তাঁর কৃপায়।*
*🌹গুরুদেব তিন প্রকারের=*
*(১)যিনি দীক্ষা দানের পর শিষ‍্যদের আর কোনো খবরই রাখেন না বা নেন না তিনি হচ্ছেন আচার্য‍্যের মধ্যে অধম।*
*(২)আবার যিনি শিষ‍্যদের মঙ্গলের জন্য তাদের বার-বার বুঝান যাতে ধর্মীয় উপদেশগুলি তারা ধারণ করতে পারে বা আচরণ করতে পারে, অনেক অনুনয় বিনয় করে ভালবাসা দেখান, তিনি হচ্ছেন মধ‍্যম আচার্য‍্য বা মধ‍্যম শ্রেণীর গুরুদেব।*
*(৩)আবার সেই আচার্য‍্য যদি দেখেন যে তার সেই শিষ্য কোন কথায় শুনছে না তখন জোর করে তাকে সেইমত কাজ করাতে বাধ‍্য করেন সেই আচার্য‍্য বা গুরুদেবকে বলা হয় উত্তম আচার্য‍্য।*
*🙏ভক্তিজগতের বৈদ‍্য ভগবান স্বয়ং।*
*🌹শ্রীসনাতন গোস্বামীর অঙ্গে যে রোগ হয়েছিল, তা শুধুমাত্র আলিঙ্গন দ্বারাই মহাপ্রভু তাঁকে দিব‍্যদেহ দান করেছিলেন।*
*🌹দক্ষিণদেশ ভ্রমণ কালে বাসুদেব নামক কুষ্ঠরোগগ্রস্ত ভক্তকে শুধুমাত্র আলিঙ্গন দ্বারাই মহাপ্রভু তাঁকে দিব‍্যদেহ দান করেছিলেন।*
*🌹অন্ধ বিল্বমঙ্গলকে শ্রীকৃষ্ণ ভগবান শুধুমাত্র হস্তস্পর্শ দ্বারাই দৃষ্টিশক্তি দান করেছিলেন।*
*🌹সূর্য‍্যকুন্ডের সিদ্ধ মধুসূদনদাস বাবাজীর পায়ে বলা যেতে পারে ক‍্যান্সার জাতীয় ক্ষত নিমেষের মধ্যেই রাধারাণীর কৃপায় বিদূরিত হয়েছিল।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৯)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
             *নিয়তির লিখন*

*🍀প্রাচীনকালে গৌতমী নামক এক পরম ধার্মিক রমণী ছিলেন, সংসারে তাঁর একটি মাত্র পুত্র ছাড়া আর কেউ ছিল না।একদিন বনের মধ্যে হঠাৎ একটি বিষধর সাপ তাকে দংশন করে, যার ফলে তার মৃত‍্যু হয়।ঠিক সেই সময়ে ঐ জায়গা দিয়ে এক ব‍্যাধ যাচ্ছিল, সে তখুনি সেই সাপটিকে ধরে ফেলল।তারপর ব‍্যাধটি বিধবা গৌতমীর কাছে গিয়ে বলল মা এই সাপটিই আপনার পুত্রকে দংশন করেছে, আপনি আদেশ করুন আমি এখনই সাপকে খন্ড খন্ড করে কেটে পেলে উপযুক্ত শাস্তি দিই। গৌতমী পুত্র শোকে ব‍্যাকুল হয়ে অধীরভাবে কাঁদতে লাগলেন, পরে শোকাবেগ কিছু কমলে তিনি সেই ব‍্যাধকে বললেন নিশ্চিত আমার ছেলের আয়ু ফুরিয়েছিল তাই সে মারা গেছে, এই সাপটিকে মারলে আমার কি লাভ হবে, আমার পুত্র তো আর ফিরে আসবে না,আমি সাপটিকে ক্ষমা করছি।তুমি বাবা সাপটিকে ছেড়ে দাও।এইকথা শুনে ব‍্যাধ বলল, মা!সাপটিকে ছেড়ে দিলে এ আরও কতলোকের প্রাণনাশ করবে সুতরাং বধ করাই সঙ্গত।*
*🍀তখন ব‍্যাধের এই কথা শুনে সাপটি বলল,ভাই বল তো এতে আমার দোষ কি? আমি তো সবাইকে দংশন করছি না --এক্ষেত্রে মৃত‍্যুদেবতা আমাকে পাঠিয়েছেন, তাঁর আদেশেই আমি এই আমি এই কর্ম করেছি।এই ছেলেটিকে দংশন করার জন্য যদি কেউ দায়ী হয় তাহলে মৃত‍্যুদেবতাই দায়ী, আমার কোন দোষ নেই। এইকথা বলতে বলতে এমন সময়ে মৃত‍্যুদেবতা সেখানে এসে উপস্থিত হলেন এবং তিনি বললেন যে ছেলেটির মৃত‍্যুকাল উপস্থিত হয়েছিল বলেই আমি তোমাকে পাঠিয়েছি ছেলেটিকে দংশন করার জন্য,এতে আমারই বা কি দোষ?যদি কারুর সত‍্যই দোষ থাকে তাহলে সে দোষ হচ্ছে "কালের"।কারণ আমরা সকলেই কালের অধীন।*
*🍀এমন সময়ে "কাল" এসে উপস্থিত হলেন এবং বললেন এ বালক পূর্বজন্মে যেরকম কর্ম করেছে,এই জন্মে সেইরকম ফলভোগ করছে কারণ সকলেই কর্মের অধীন। এইসব কথা শুনে সন্তানহারা গৌতমী বললেন,বৎস! আমার ছেলে তার পূর্বজন্মের কর্ম অনুযায়ী ফলভোগ করছে এবং আমিও পূর্বজন্মের কর্মফলের দোষে এই পুত্রশোক পেলাম।পূর্বজন্মে যে যেরকম কর্ম করে,পর জন্মে সে সেইরকম ফলভোগ করে, কিছুতেই এর অন‍্যথা হয় না।অতএব হে ব‍্যাধ! তুমি সাপটিকে বধ কোরো না ওকে ছেড়ে দাও।তখন সেই ব‍্যাধ তাকে মুক্তি দিল। ধর্মপরায়ণা গৌতমী তাঁর ক্রমে ক্রমে পুত্রশোক ভুলে গেলেন।*

*🙏মাধুকরী ভিক্ষার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য‍্য।*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀অচ‍্যুতানন্দ মহারাজকে একভক্ত প্রশ্ন করেছিলেন যে,"বাবা ভিক্ষা প্রদানের সময় গৃহস্থেরা মিষ্টি,ঝাল,নোনতা কত বিভিন্ন রকমের খাদ‍্যবস্তু দেয়,যা ঝুলির মধ্যে মৃৎভান্ডের মধ্যেই একসঙ্গে রাখা হয়। পায়স,দুধ,লুচি,সবজি সবই একই ভান্ডে এবং তার ফলে এক অদ্ভুত মিশ্র আহার্য‍্য দিয়েই ভক্তদের আহার সমাধা করতে হয়।হব খাদ‍্যবস্তু মিশে এক অদ্ভুত আস্বাদ হয়।এটির কি কোন বিশেষ কারণ আছে ---এগুলিকে কি আলাদা ভাবে রাখা যায় না।*
*🌻উত্তরে মহারাজ বলেছিলেন, দেখ বেটা এই দেহ কেবলই ভোগ সুখ চাই।এই পাঁচ মিশালি খাদ‍্য খেলে জিহ্বার লালসা দূর হয়।আসল বৈরাগী জিহ্বার দ্বারা কৃষ্ণরস আস্বাদন করবে।প্রাণ ধারণের জন্য দেহকে কিছুমাত্র খাদ‍্য দিলেই চলবে। 🙏যেমন শ্রীপাদ রঘুনাথ দাস গোস্বামী প্রসাদ পেতেন।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (দ্বিতীয় খন্ড)*
      *মানব জীবনে হরি ভজন*

*🍀মানুষ চায় শুধু শান্তি, কিন্তু প্রকৃত শান্তির উৎস কোথায় সে জানে না।ভ্রান্ত জীব দুঃখ নাশের জন্য সুন্দরী সুখময়ী পত্নীকে নিয়ে ভোগ বিলাসে মত্ত।ক্ষণিকের জন্যও সে মনে করে না যে জীব মাত্রেই কৃষ্ণদাস।শুধু কৃষ্ণদাস নহে, জীবের সঙ্গে সেই অনাদির আদি গোবিন্দের ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ।আমরা যে তাঁরই অংশ।তাঁর শক্তি ছাড়া আমাদের যে নিজস্ব কোন সত্ত্বাই নাই, এই চরম সত‍্যটি মায়ার আবরণে আমরা ভুলে যাই। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ ভগবান বলেছেন, "মমৈবাংশো জীব লোকে জীবভূতঃ সনাতনঃ", অর্থ‍্যাৎ জীব মাত্রেই সেই পরম পুরুষের অংশ বিশেষ কিন্তু আমরা এত অকৃতজ্ঞ যে ভৃত‍্য হয়ে প্রভুর সেবা করছে না,তাঁরই দেওয়া জীবনী শক্তি নিয়ে তাঁরই জগতে বাস কোরে,তাঁরই দেওয়া ভোগ‍্য বস্তু সব পেয়ে অকৃতজ্ঞের মত তাঁকে জানি না বা জানবার চেষ্টাও করি না।যদি কোন সময় আমরা তাঁকে সেবা করবার জন্য একটু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, তিনি তখন আনন্দে অধীর হয়ে তাঁর আত্মাকে আমাদের কাছে বিলিয়ে দেন।*
*তাঁরই মৃত্তিকাজাত তুলসীদল,জল যদি হেলায় শ্রদ্ধায় তাঁর পাদপদ্মে অর্পণ করা যায়, তাহলে তিনি পরম সন্তুষ্ট লাভ করেন।সেই জল তুলসীতে তুষ্ট শ্রীকৃষ্ণ, সেই গোবিন্দকেই যদি ভুলে থাকতে হল, তবে এ সংসারে আমাদের না আসাই ছিল ভাল। আমরা শুধু চাই সুখ, শান্তি কিন্তু সুখময় শ্রীকৃষ্ণকে ভজন না করলে, কি ভাবে সুখের সন্ধান মিলবে?পরমদয়াল গৌরহরি কলিহত জীবকে উপদেশ ছলে বলেছেন, "হে আমার কলিহত জীব তোমাদের অন‍্য কোনরকম সাধন ভজনের প্রয়োজন নেই, শুধুমাত্র হরিনাম সংকীর্তনের মাধ‍্যমে তোমাদের সব বাসনা পূরণ হবে।হেলায়, শ্রদ্ধায় শয়নে,স্বপনে,চলতে,ফিরতে, জাগরণে সদা সর্বদা শ্রীহরির নাম কীর্তনাদি করলেই সব আশা পূরণ হবে।*
*🍀সেই জন্য নরোত্তম ঠাকুর মহাশয় বলেছেন যে, "যেই জন কৃষ্ণ ভজে সেই বড় চতুর"।সত‍্যই তো এই মায়া মোহময় সংসার পিঞ্জর হতে মুক্ত হয়ে কয়জন তাঁদের জীবনকে গোবিন্দসেবায় সমর্পণ করতে পারেন? শ্রীমদ্ভাগবত গীতায় শ্রীকৃষ্ণ ভগবান প্রিয়সখা অর্জুনকে বলেছেন-----*
*🌷ত্বমেব শরণং গচ্ছ সর্বভাবেন ভারত।*
*🌷মৎ প্রসাদাৎ পরাং শান্তিং স্থাপং প্রাস‍্যসি শাশ্বতম্।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ হে অর্জুন! তোমার নিজের কর্ত্তৃত্বাভিমান সম্পূর্ণভাবে পরিত‍্যাগ করে সর্বোতোভাবে আমারই শরণাপন্ন হও, আমারই প্রসাদে তোমার মায়িক মনের দুষ্প্রবৃত্তিগুলি বিদূরিত হবে এবং সেই মনোমন্দিরে তোমার যথার্থস্বরূপ উদ্ভাসিত হবে।তখন সাধনবলে আবার তুমিই আমার নিত‍্যধাম প্রাপ্ত হয়ে আমার নিত‍্যসেবারূপ পরমানন্দ লাভ করে মনুষ‍্যজন্ম সফল করতে পারবে।সেইরকম আবার পদকর্তা বিদ‍্যাপতি বলেছেন----*
*🌷রে মাধব!কত চতুরানন মরি মরি যাওত,*
            *ন তুয়া আদি অবসানা।*
*🌷তোহি জনমি পুনঃ,তোহে সামাওত,*
           *সাগর লহরী সমানা।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ পরম ভক্ত পদকর্তা বিদ‍্যাপতি এই চরম সত‍্যটি উপলব্ধি করে সৃষ্টিকর্তার প্রশস্তি করে বলছেন যে,"হে প্রভু জীব তো দূরের কথা,কতশত ব্রহ্মা জন্ম নিচ্ছেন ও মরছেন, কিন্তু হে মাধব! তোমার আদিও নাই অন্তও নাই।সাগরের তরঙ্গ যেরকম সাগর হতে উত্থিত হয়ে সাগরেই বিলীন হয়ে যায়,তদ্রূপ ব্রহ্মাদি দেবগণও তোমা হতে জন্মিয়া আবার তোমাতেই লীন হয়ে যান--জীব জগতের কী কথা!*
*🍀তেমনি আবার ভক্ত তুলসীদাস রচিত একটি পয়ার এই প্রসঙ্গে বড়ই তাৎপর্য‍্যমূলক এবং তিনি বলছেন যে মানুষকে কিভাবে তার জীবনকে চালিত করতে হবে --*
*🌷তুলসি! যব জগমে আয়ো,*
*🌷জগ হসে তোম্ রোয়,*
*🌷অ‍্যায়সি করণি কর্ চলো কি,*
*🌷তোম্ হসো জগ রোয়।*
*🌻এখানে ভক্ত তুলসীদাস নিজেকে উপলক্ষ্য করে নিজেকে বলছেন যে, হে তুলসী! তুমি জগতে যখন এসেছিলে,তখন জগৎ হেসেছিল আর তুমি কেঁদেছিলে।এক্ষণে জগতে এমন কর্ম করে যাও যেন জগৎ তোমার জন্য কাঁদে আর তুমি হেসে হেসে চলতে পারো।একটি গ্রাম‍্য পয়ার আছে যা খুবই সহজ সরল হলেও প্রণিধানযোগ্য বা চিত্তের একাগ্রতার যোগ্য ---*
*🌷না আসা তো ছিল ভাল।*
*🌷যদি আসা যাওয়া সার হল।।*
*🌻একটু নীরবে বসে আত্মসমীক্ষা করলে এই কথায় মনে হবে যে,হ‍্যাঁ, নিশ্চয়ই না আসা ভালই ছিল,যদি এই ধরিত্রীর বুকে এসে মানুষ জন্মোচিত কর্তব‍্যই না সম্পাদন করতে পারলাম,শুধু অপরাধ এবং অকৃতজ্ঞতাই জীবনের পাথেয় স্বরূপ হল,তাহলে না আসাই ভাল ছিল।যিনি স্নেহময়ী জননীর মত সবদিক দিয়ে সর্বতোভাবে আমাদের রক্ষা করছেন এবং প্রতিপালন করছেন, সেই পরম প্রভুকেই যদি এই সুদুর্লভ মানবজীবনে ভুলে থাকতে হল তখন এই আসা ব‍্যর্থ।জন্ম বৃথা।সেজন‍্য মানুষ মাত্রেই আত্মসমীক্ষার প্রয়োজন আছে, এবং ভাবতে হবে আমি কে? কেন এসেছি?কি করতেই বা আসতে হয়েছে। এই জ্ঞান যদি হৃদয়ে উদিত না হল, অমৃতের সন্তান হয়ে সেই অমৃতময়কেই যদি না জানলাম তবে এই পৃথিবীর বুকে মানুষ হয়ে জন্মানোর কোন প্রয়োজন ছিল না। সমুদ্রতটে মুক্তার খোঁজ করতে এসে শুধু তরঙ্গমালা গণনা করেই ক্ষান্ত হলাম অর্থ‍্যাৎ দেবদুর্লভ মানবজনম পেয়ে মায়ার কুহক জালে আবদ্ধ হয়ে বৃথাই জীবন অতিবাহিত করলাম।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণভজন বিনা পরমায়ু ক্ষয় হচ্ছে, যে জন এটি উপলব্ধি করতে না পারে তার হাজার বৎসর পরমায়ু লাভ হলেও কোন ফল হবে না।যেজন শ্রীকৃষ্ণভজনের মহিমা ও তাৎপর্য‍্য উপলব্ধি করেছেন, তাঁর কাছে এক মুহূর্তকাল পরমায়ুও মঙ্গলজনক।কারণ এই মুহূর্ত কালের মধ্যেই তিনি কৃষ্ণভজনের মাধ‍্যমে নিজের জীবনকে মহিমান্বিত করতে পারেন। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে যে রাজর্ষি খট্টাঙ্গ দেবাসুর যুদ্ধে দেবতাদের পক্ষে সংগ্রাম করে কৃতিত্ব দেখালে দেবগণ সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে বর প্রদান করতে চাইলে তিনি সর্বপ্রথম তাঁর পরমায়ুর কথা জিজ্ঞাসা করেন।তখন দেবগণ বললেন যে তাঁর পরমায়ু আর মুহূর্তকাল অবশিষ্ট আছে।সেইকথা শুনে তিনি দেবদত্ত বিমানযোগে অতি সত্ত্বর পৃথিবীতে অবতরণ করে শ্রীহরির শ্রীচরণে নিজের দেহ মন প্রাণ সমর্পণ করে সেই মুহূর্তকালের মধ্যেই সিদ্ধিলাভ করেছিলেন।*
                   *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২. শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
         *🙏শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম🙏*
          ‼‼‼‼‼

*🔅কূর্ম্মপুরাণে নামের পরম পাবনত্ব সম্বন্ধে লিখিত হয়েছে, যথা------*

*🌷বসন্তি যানি কোটিস্তু পাবনানি মহীতলে।*
*🌷ন তানি তৎতুলাং যান্তি কৃষ্ণনামানুকীর্তনে।।*

*🌻পৃথিবীতে যে সব কোটি কোটি পবিত্রতাজনক বস্তু আছেন, কৃষ্ণনামের সঙ্গে তাঁদের তুলনাই হয় না।*

*🔆বৃহদ্বিষ্ণু-পুরাণে লেখা আছে--*

*🌷নাম্নোহস‍্য যাবতীশক্তিঃ পাপনির্হরণে হরেঃ।*
*🌷তাবৎকর্ত্তুং ন শক্নোতি পাতকং পাতকী জনঃ।।*

*🌻শ্রীহরির এই নামের পাপ-উন্মূলনে (পাপ-সমূলে উচ্ছেদে) যে পরিমাণ শক্তি আছে, কোনও পাপী নিরন্তর বা সবসময় পাপ করলেও সে পরিমাণে পাপ করতে পারে না।পাপের পাপাপেক্ষা শ্রীভগবানের পাপ-বিনাশন-শক্তি অত‍্যন্ত বেশী।*

*🌷একবার কৃষ্ণনামে যত পাপ হরে।*
*পাতকীর শক্তি নাই তত পাপ করে।।*

*🌹ইতিহাসোত্তমে-----*
*🌷শ্বাদোহপি নহি শক্নোতি কর্ত্তুং পাপানি যত্নতঃ।*
*🌷তাবন্তি যাবতীশক্তি বিষ্ণোনাম্নোহশুভক্ষয়ে।।*

*🌻হরিনামের অশুভক্ষয়ে যত শক্তি আছে,নিরন্তর বা সবসময় কুকুরের মাংস ভক্ষণকারী অতীব অন্ত‍্যজ (নীচবংশ) জাতি অতি যত্ন করেও তত পরিমাণে পাপ করতে পারে না।*

*🌺সর্বকালের জন্য সামান‍্যতঃ নামের অশেষ পাপ-উন্মূলন শক্তি লিখে এখন বিশেষভাবে কলিকালের জন্য লেখা হচ্ছে।এই কলিকাল অতি ভীষণ।এই কালে লোকগণ দুস্তর (পার হওয়া দুঃসাধ‍্য এমন)নানান পাপগুলির বিষময় ফলে নিরন্তর ব‍্যাকুল--- অন‍্যান‍্য যুগে মুক্তিলাভের যে সব সাধনা ছিল, কলিহত জীবগণের তাওও দুরধিগম‍্য (অতি কষ্টে আয়ত্ত করা যায় এমন বা দুর্লভ)।অতএব এদের আর অন‍্য গতি নাই।কেবল প্রভাব-বিশেষ-প্রকটন-পরায়ণ শ্রীকৃষ্ণনাম-কীর্তনের দ্বারাই যে কলিহত জীবগণের অশেষ পাপ উন্মূলন (সমূলে উচ্ছেদ) হয়, শাস্ত্রকারগণ তারও প্রমাণ প্রর্শন করেছেন। যথা স্কান্দে-----*

*🌷তন্নাস্তি কর্ম্মজং লোকে বাগজং মানসমেব বা।*
*🌷যন্ন ক্ষপয়তে পাপং কলৌ গোবিন্দ-কীর্ত্তনাৎ।।*

*🌻কর্মজ,কথাজাত ও মানস এমন কোনও পাপ নাই যা এই দুরন্ত কলিকালে গোবিন্দ কীর্তন দ্বারা বিনষ্ট না হয়।*

*🌺বিষ্ণোধর্মোত্তরে----*

*🌷শমায়ালম্ জলং বহ্নে স্তমসো ভাস্করোদয়ে।*
*🌷শান্ত‍্যৈ কলেরঘৌঘস‍্য নামসঙ্কীর্তনং হরেঃ।।*

*🌻যেমন আগুন নিভানোর জন্য জলের প্রয়োজন, যেমন অন্ধকার দূর করবার জন্য সূর্য‍্যদয়ের দরকার, তেমনি কলিকালের সর্বপ্রকার পাপ-নাশের জন্য একমাত্র হরিনাম-সংকীর্তনই একমাত্র সম্বল।*

*🌳এই দুরন্ত কলিতে সর্ব-সাধনা অপেক্ষা এই নাম-সঙ্কীর্তনেরই প্রাধান‍্য স্বীকৃত হয়েছে।*

*🌷নাম্নাং হরেঃ কীর্তনতঃ প্রযাতি,*
*🌷সংসারপারং দুরিতৌঘ-মুক্তঃ।*
*🌷নরঃ স সত‍্যং কলিদোষ-জন্ম-,*
*🌷পাপং নিহন্ত‍্যাশু কিমত্র চিত্রম্।।*

*🌻নিত‍্য মহাপাপে রত হলেও একমাত্র নাম সঙ্কীর্তনের প্রভাবে পাপরাশি বিমুক্ত হয়ে মহাপাপীও যখন সংসার যন্ত্রণা হতে বিমুক্ত হয়,এই নাম প্রভাবে কলিদোষজাত পাপ যে বিনষ্ট হবে তাতে আর বিস্ময়ের বিষয় কি আছে?*
⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉⁉
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২. শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
         *🔆শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম🔆*
          ☆☆☆☆☆☆☆
*☢ব্রহ্মান্ড পুরাণে-----*

*🌷পরাক-চন্দ্রায়ণ-তপ্ত কৃচ্ছৈ,*
*🌷র্ন দেহি-শুদ্ধির্ভবতীহ তাদৃক্।*
*🌷কলৌ সর্ব্বকৃন্মাধব-কীর্তনেন,*
*🌷গোবিন্দ-নাম্না ভবতীহ যাদৃক্।।*

*🌹এই কলিকালে একবার মাত্র "গোবিন্দ" এই নাম দ্বারা মাধবের সঙ্কীর্তন করলে দেহীদের পাপ হতে যেরকম শুদ্ধি ঘটে, পরাকব্রত,চান্দ্রায়ণ ও তপ্তকৃচ্ছ্র গুলির অনুষ্ঠানে সেইরকম শুদ্ধি হয় না।*
*🔵পরাকব্রত,তপ্তকৃচ্ছ্রব্রত ও চান্দ্রায়ণ ব্রত সম্বন্ধে অত্রি সংহিতায় বিধান এইরকম---*
*🌷একৈকং বর্দ্ধয়েন্নিত‍্যং শুক্লে কৃষ্ণে চ হ্রাসয়েৎ।*
*🌷অমাবস‍্যাং ন ভুঞ্জিত এষ চন্দ্রায়ণো বিধিঃ।।*

*🌻শুক্লপক্ষের প্রতিপদে একগ্রাস ভোজন করে শুক্ল দ্বিতীয়া হতে পূর্ণিমা পর্য‍্যন্ত এক এক গ্রাস বাড়াবে আবার কৃষ্ণপক্ষের প্রতিপদ হতে এক এক গ্রাস কমিয়ে অমাবস‍্যার দিন উপবাস করবে, এটিই চান্দ্রায়ণ বিধি।*
*🛑দ্বাদশাহোপবাসেন পরাকঃ পরকীর্ত্তিতঃ।*
*🌻দ্বাদশদিন ক্রমাগত উপবাসে পরাকব্রত সিদ্ধ হয়।*
*🌷ত্র‍্যহ মুষ্ণং পিত্র‍্যেদাপস্ত্র‍্যমুষ্ণ পিবেৎ পয়ঃ,*
*🌷ত্র‍্যহ মুষ্ণং ঘৃতং পীত্বা বায়ুভক্ষো দিনত্রয়ম্।*
*🌷ষট্ পলানি পিবেদাপ স্ত্রিপলন্তু পয়ঃ পিবেৎ,*
*🌷পলমেকন্তু বৈ সর্পি স্তপ্তকৃচ্ছং বিধীয়তে।।*
                       *(১২২ শ্লোক)*
                                              
*🌹তিনদিন ছয়পল (পল= ২৪ সেকেন্ড বা মুহূর্তে) পরিমিত উষ্ণজল,তিনদিন তিনপল পরিমিত উষ্ণ দুধ, তিনদিন একপল পরিমিত উষ্ণঘৃত পান করবে, তার পরে তিনদিন বায়ু ভক্ষণ করে থাকলে তপ্তকৃচ্ছ নামক ব্রতানুষ্ঠান হয়।*

*🌳ব্রহ্মান্ড পুরাণের এই পদ‍্যে জানা যায় কলিকালে গোবিন্দ নামের মাহাত্ম্যই বেশী।শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামী শ্রীহরিভক্তিবিলাসের টীকাতে লিখেছেন----*
*🛑সকৃৎ যৎ মাধবস‍্য কীর্তনম্।*
*🛑তচ্চ গোবিন্দেতি নাম্না ইতি কলৌ "গোবিন্দ" নাম-মাহাত্ম‍্য‍মভিপ্রেতম্।*
*🛑যদ্বা গোবিন্দেতি নাম মাত্রেণেতি কীর্তনস‍্য বাহুল‍্যং বিবিধত্বঞ্চ পরিহৃতমিতিদিক্।*
*🌻একবার "গোবিন্দ" নামে মাধবের কীর্তনে এই কলিকালে যথেষ্ট ফললাভ হয়।অথবা বহুল কীর্তন ও নানান কীর্তনেরও তেমন প্রয়োজন হয় না।*
*🌻গোবিন্দ নাম মাত্রেই দেহীদের শুদ্ধি সম্পাদিত হয় ; কীর্তনের বাহুল ও বিবিধত্ব ইহা দ্বারা পরিহৃত হল।অর্থ‍্যাৎ কেবল গোবিন্দ গোবিন্দ এইরকম নাম উচ্চারণ করলেই দেহিশুদ্ধি সংঘটিত হয়।অর্থ‍্যাৎ জীবাত্ম শুদ্ধ হন।*
*🌻শ্রীহরিনামে যে সর্বপাপ উন্মূলিত বা সমূলে উচ্ছেদ হয়,এই সব প্রমাণ বচন দ্বারা তা প্রতিপন্ন (প্রমাণ সিদ্ধ) করে এক্ষণে নাম কীর্তনের দ্বারা যে নিজকুল ও সঙ্গীজন পর্য‍্যন্ত পবিত্র হয়,তারই আলোচনা করা হচ্ছে। তত্রৈব------*
*🌷মহাপাতকযুক্তোহপি কীর্ত্তয়ন্ননিশং হরিং।*
*🌷শুদ্ধান্তকরণো ভূত্বা জায়তে পংক্তি-পাবনঃ।।*

*🌻মহাপাতকযুক্ত অর্থ‍্যাৎ মহাপাপে জর্জরিত ব‍্যক্তিও যদি সর্বদা হরিনাম করেন,তাহলে খুব তাড়াতাড়ি তাঁর অন্তঃকরণ বিশুদ্ধ হয়, এবং তিনি পংক্তিপাবন হন।*
*🛑লঘু ভাগবতে-----*
*🌷গোবিন্দেতি মুদাযুক্তঃ কীর্ত্তয়েদ্ যস্ত্বনন‍্যধীঃ,*
*🌷পাবনেন চ ধন‍্যেন তেনেয়ং পৃথিবী ধৃতা।*
*🌻যিনি একমনে সানন্দচিত্তে গোবিন্দনাম কীর্তন করেন, সেই পরমপবিত্র ধন‍্যপুরুষ এই পৃথিবীকে ধারণ করেন। হরিভক্তি-সুধোদয়ে-----*
*🌷ন চৈবমেকং বক্তারং জিহ্বা রক্ষতি বৈষ্ণবী।*
*🌷আশ্রাব‍্য ভগবৎ-খ‍্যাতিং জগৎ কৃৎস্নং পুনাতি হি।।*
*🌻বৈষ্ণবী জিহ্বা যে কেবল একমাত্র বক্তাকে রক্ষা করেন তা নয়,ইনি ভগবৎ নাম বা ভগবৎ নামাত্মিকা কীর্তি শুনিয়ে সমগ্র জগৎকে পবিত্র করেন।*
♻♻♻♻♻♻♻♻♻♻♻♻
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২. শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
              *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*
               """""""""""""""""""

*🍀শ্রীভাগবতের দশম স্কন্ধে=*

*🌷যন্নাম গৃহ্নন্ নিখিলান্ শ্রোতৃনাত্মন মেবাং।*
*🌷সদ‍্যঃ পুনাতি কিং ভূয়স্তস‍্য স্পৃষ্টঃ পদাত্বি তে।।*

*🌻যাঁর নাম গ্রহণ করতে করতে লোক নিজেকে এবং নিখিল (সমস্ত)শ্রোতৃবৃন্দকে (শ্রবণকারীকে)সদ‍্য সদ‍্য পবিত্র করতে পারেন সেইরকম যে তুমি, সেই তোমার শ্রীচরণের স্পর্শ পেলে আর কথা কি?*

*🛑নরসিংহ পুরাণে প্রহ্লাদের উক্তি এই যে ---*

*🌷তে সন্তঃ সর্বভূতানাং নিরুপাধিকবান্ধবাঃ।*
*🌷যে নৃসিংহ ভবন্নাম গায়ন্ত‍্যুচ্চৈ র্মুদান্বিতাঃ।।*

*🙏হে নৃসিংহ!যাঁরা আনন্দিত চিত্তে উচ্চকন্ঠে বা খুব জোরে জোরে তোমার নাম উচ্চারণ করেন,তাঁরাই সাধু,তাঁরাই সর্বজীবের অকপট স্বার্থশূন‍্য বন্ধু।*

*✳সর্বব‍্যাধি বিনাশ করে, বৃহন্নারদীয় ভগবত্তোম্ প্রসঙ্গে-----*

*🌷অচ‍্যুতানন্দগোবিন্দনামোচ্চারণ-ভীষিতাঃ।
*🌷নশ‍্যতি সকলা রোগাঃ সত‍্যং সত‍্যং বদাম‍্যহম্।।*

*🌻অচ‍্যুত অর্থ‍্যাৎ অক্ষয়,অব‍্যয়,অবিনাশী, লয় বা ক্ষয় নেই, শ্রীকৃষ্ণ,আনন্দ-গোবিন্দ নাম উচ্চারণ শুনিলে ভীত হয়ে রোগ সব নষ্ট হয়, এটি সত‍্য সত‍্য বলছি।*

*🌹পরাশর সংহিতায় শাম্ব প্রতি ব‍্যাস বলছেন-----*

*🌷ন শাম্ব ব‍্যাধিজং দুঃখং হেয়ং নান‍্যৌষধৈরপি।*
*🌷হরিনামৌষধং পীত্বা ব‍্যাধিস্ত‍্যাজ‍্যো ন সংশয়ঃ।।*

*🌻হে শাম্ব! অন‍্যান‍্য ঔষধ দ্বারা ব‍্যাধি দূরীভূত হয় না, কিন্তু হরিনামরূপ মহৌষধে সব ব‍্যাধি নিশ্চয় দূরীভূত হয়।*

*🌷আধয়ো ব‍্যাধয়ো যস‍্য স্মরণান্নাম-কীর্ত্তনাৎ।*
*🌷তদৈব বিলয়ং যান্তি তমনন্তং নমাম‍্যহম্।।(স্কান্দে)*

*🌻যাঁর নাম স্মরণে ও কীর্তনে,দেহরোগ ও মানসিক রোগে সদ‍্য সদ‍্য (তখনই তখনই)বিনষ্ট হয়,সেই অনন্ত দেবকে নমস্কার করি।*

*🔵বহ্নিপুরাণে--------*

*🌷মহাব‍্যাধিসমাচ্ছন্নো রাজবাধোপপীড়িতঃ।*
*🌷নারায়ণেতি সঙ্কীর্ত্ত‍্য নিরাতঙ্কো ভবেন্নরঃ।।*

*🌻মহাব‍্যাধি সমাচ্ছন্ন,(কঠিন কোন বড় রোগে ঘিরে ধরেছে, ও রাজবাধায় উৎপীড়িত মানুষ "নারায়ণ" এই নাম সংকীর্তন করে নিরাতঙ্ক হয়।*

*🌹সর্বদুঃখ উপশম বৃহদ্বিষ্ণু পুরাণে--*

*🌷সর্ব রোগোপশমনং সর্বোপদ্রবনাশনম্।*
*🌷শান্তিদং সর্বরিষ্টানাং হরের্নামানুকীর্তনম্।।*

*🌻সদাসর্বদা হরিনাম কীর্তন করলে সর্বরোগ ও সর্ব-উপদ্রব বিনষ্ট হয়।এই হরিনাম সর্বপ্রকার অরিষ্টের (মঙ্গলের) শান্তিদায়ক।*

*🛑শ্রীভাগবতে দ্বাদশ স্কন্ধে---*
*🌷সঙ্কীর্ত্ত‍্যমানো ভগবাননন্তঃ,*
*🌷শ্রুতানুভাবো ব‍্যসনং হি পুংসাম্।*
*🌷প্রবিশ‍্য চিত্তং বিধুনোত‍্যশেষং,*
*🌷যথা তমোহর্কোহভ্রমিবাতিবাতঃ।।*
*🌻শ্রীভগবানের সংকীর্তন হলে অথবা তাঁর অনুভাব বা মাহাত্ম্য শুনিলে তিনি স্বয়ং জনগণের চিত্তে প্রবেশ করে সূর্য‍্য যেমন অন্ধকার নাশ করেন অথবা মহাবাত (ভীষণ ঝড় বা বাতাস) যেমন মেঘ গুলিকে উড়িয়ে লয়,তদ্রূপ জনসাধারণে অশেষ অশুভ বিনষ্ট করে। এস্থলে "শ্রতানুভাব"এই পদটির একটি অর্থ এই যে শ্রুত (শোনা) হয়েছে অনুভাব (মাহাত্ম‍্য)যাঁর,এমন যে শ্রীভগবান।আর এক অর্থ এই যে এই ভগবান কে? না, শ্রুত হয়েছে অনুভাব যার ; তাঁর মাহাত্ম্যটি কি! না,পূতনাদি মুক্তি প্রদান প্রভৃতি অতি চমৎকার লীলা।এমন যে চিত্ত চমৎকারী লীলাকারী শ্রীভগবান তাঁর নাম কীর্তন করলে তিনি অন্তরে প্রবেশ করে অশেষ পাপ বিনষ্ট করেন।সূর্য‍্য যেমন গিরি গুহার অন্ধকার বিনষ্ট করেন, তিনিও তেমনি নিখিল (সমস্ত)পাপ বিনাশ করেন।এ দৃষ্টান্তেও পরিতোষ না হওয়ায় আর একটি দৃষ্টান্ত এই যে অতিবাত (ঝঞ্জা বায়ু বা বাতাস)যেমন মেঘগুলিকে উড়িয়ে নিয়ে বিনাশ করে ফেলে, সেইরকম শ্রীগোবিন্দ নাম কীর্তন হলে পাপরাশি বিনষ্ট হয়।*
♻♻♻♻♻♻✳♻♻♻♻♻♻
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২. শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
               *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*
               *************
*🌻বিষ্ণু ধর্মোত্তরে-------*

*🌷আর্ত্তা বিষণ্ণাঃ শিথিলাশ্চ ভীতা,*
*🌷ঘোরেষু চ ব‍্যাধিষু বর্ত্তমানাঃ।*
*🌷সঙ্কীর্ত্ত‍্য নারায়ণ শব্দমেকম্,*
*বিমুক্তদুঃখাঃ সুখিনো ভবন্তি।।*

*🌻যারা বিষ ভক্ষণাদি দ্বারা ব‍্যাকুল,দারিদ্র‍্য-দুঃখে নিপীড়িত (অত‍্যাচারিত) এবং ভগ্নাঙ্গ (দুঃখে অবসন্ন বা হতাশ)শত্রু ভয়ে ভীত এবং ঘোরতর ব‍্যাধিগ্রস্ত, তাঁরা "নারায়ণ" একমাত্র এই শব্দ উচ্চারণ করে সব দুঃখের হাত থেকে নিষ্কৃতি লাভ করে ও সুখী হয়ে থাকে।*

*🌷কীর্তনাদেব দেবস‍্য বিষ্ণোরমিত তেজসঃ।*
*🌷যক্ষ-রাক্ষস-বেতাল-ভূতপ্রেত-বিধায়কাঃ।।*
*🌷ডাকিন‍্যো বিদ্রবন্তিস্ম যে তথান‍্যেচ হিংসকাঃ।*
*🌷সর্ব্বানর্থহরঃ তস‍্য নাম সঙ্কীর্তনং স্মৃতম্।।*
*🌷নাম সঙ্কীর্তনং কৃত্বা ক্ষুৎতৃটপ্রস্খলিতাদিষু।*
*🌷বিয়োগং শীঘ্র মাপ্নোতি সর্ব্বানর্থৈন সংশয়ঃ।।*

*🌻অমিততেজা (সীমাহীন তেজ বা ক্ষমতা আছে এমন, অত‍্যধিক শক্তিশালী )বিষ্ণুর নাম-কীর্তন মাত্রেই যক্ষ,রাক্ষস,ভূত,প্রেত,বেতাল,বিনায়ক ডাকিনী প্রভৃতি হিংসকগণ খুব তাড়াতাড়ি বহু বহুদূরে পলায়ন করে।শ্রীভগবানের নাম-কীর্তন, সর্বঅনর্থ নিবৃত্ত(অবসান) হয়।ক্ষুধায়,তৃষ্ণায় ও পতনাদিতে (দুর্দশাদিতে) হরিনাম কীর্তন করলে অনর্থ(অমঙ্গল,অশুভ) দূর হয়।*

*🌹পদ্মপুরাণে দেবহূতি স্তুতিতে----*

*🌷মোহানলোল্লসজ্জ্বালাজ্বলল্লোকেষু সর্বদা।*
*🌷যন্নামাম্ভোধরচ্ছায়াং প্রবিষ্টো নৈব দহ‍্যতে।।*

*🌻অজ্ঞান রূপ অনলের নিত‍্য পরিবর্দ্ধনশালিনী শিখায় বিশ্ব-সংসার প্রতি নিয়তই জ্বলে মরছে, কিন্তু ভগবানের নাম-রূপ বারিধর মেঘের শীতল ছায়ায় প্রবেশ হলে আর সে জ্বালার ভয় থাকে না। মোহ শব্দের অর্থ "অজ্ঞান" ; অর্থ‍্যাৎ গৃহাদি বিষয়ক মমতা।এই মন তাই অনল বা আগুনরূপ।আর এই আগুনেই সংসারের লোক নিরন্তর বা সবসময় দগ্ধ হচ্ছে বা পুড়ছে।"বিষয়ের বিষানলে নিরবধি হিয়া জ্বলে জুড়াইতে না কৈনু উপায়"।ইহার একমাত্র উপায় ভগবানের নাম রূপ বারিবর্ষি মেঘের শীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করা।*
*🌹ইতিপূর্বে বা এর আগে কলির পাপ-হরণ কি ভাবে হবে এই সম্বন্ধেই আলোচিত হয়েছে।এক্ষণেকলির পাপ-কার্য‍্য-কারণাদির অখিল (সমস্ত) পরিকরও যে শ্রীভগবানের নাম গ্রহণে বিনষ্ট হয় তার প্রমাণ বচন লেখা হচ্ছে।*
*🌻কলিতে বহু সমস‍্যা আসবে=*

*🌷কলি-কাল-কুসর্পস‍্য তীক্ষ্ণ দংষ্ট্রস‍্য মা ভয়ম্।*
*🌷গোবিন্দ নাম-দাবেন দগ্ধো যাস‍্যতি ভস্মতাম্।।*

*🌻সুতীক্ষ্ণ বিষদাঁত কলিরূপ কাল সাপের আর ভয় নাই। শ্রীগোবিন্দ নাম গ্রহণ করলেই সেটি যে কেবল পুড়ে যায় তা নয়,একেবারেই ভস্মীভূত বা ছাই হয়ে যায়।*

*🛑বৃহন্নারদীয় কলিধর্ম প্রসঙ্গে--*

*🌷হরি-নামপরা যে চ ঘোরে কলি যুগে নরাঃ।*
*🌷ত এব কৃত কৃত‍্যাশ্চ ন কলির্বাধতে হি তান্।।*
*🌷হরে কেশব গোবিন্দ বাসুদেব জগন্ময়।*
*🌷ইতীরয়ন্তি যে নিত‍্যং ন হি তান্ বাধতে কলিঃ।।*

*♻এই ঘোর কলিযুগে যে সব মানুষ হরিনাম-পরায়ণ হন তাঁরাই কৃতকৃত‍্য বা কর্তব‍্যকর্মে সফল।কলি তাদেরকে দুঃখ দিতে পারে না। হে জগন্ময়!হে হরে কেশব গোবিন্দ বাসুদেব ইত্যাদি নাম যাঁরা গ্রহণ করেন কলি তাঁদেরকে কোনভাবেই দুঃখ দিতে পারে না।*

*✳বিষ্ণু ধর্মোত্তরে পায়---*

*🌷যেহহর্নিশং জগৎধাতুর্বাসু দেবস‍্য কীর্তনম্।*
*🌷কুর্ব্বন্তি তান্ নরব‍্যাঘ্র ন কলির্বাধতে নরান্।।*

*🌺এতদ্বারা নামের পাপ-বিনাশিনী শক্তির প্রমাণ দিয়ে এক্ষণে বতর্মান পাপ-ফল ভোগাদি হতেও যে শ্রীনাম রক্ষা করেন,দুইটি শ্লোকে তার প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে----*

*🔆নারকি-উদ্ধার----নৃসিংহ পুরাণে---*

*🌷যথা যথা হরের্নাম কীর্ত্তয়ন্তিস্ম নারকাঃ।*
*🌷তথা তথা হরৌ ভক্তি মুদবহন্তো দিবং যযুঃ।।*
*🛑এস্থলে নারকাঃ পদের অর্থ নরকবর্তী মানুষগুলি ; এবং "দিব"পদের অর্থ বিষ্ণুলোক ; স্বর্গ নহে।নরসিংহ পুরাণে এই নরকোদ্ধার প্রসঙ্গ বর্ণিত হয়েছে।ধর্মরাজের কাছে নারকীরা নাম-মাহাত্ম‍্য শুনেছিলেন এবং শ্রীনারদ তাঁদেরকে নাম কীর্তন-উপদেশ প্রদান করেছিলেন।তাঁর ফলে নারকীগণ নাম কীর্তন করতে করতে অত‍্যন্ত সুখ লাভ করে বৈকুন্ঠে গমন করেছিলেন।*
                   *🍀ক্রমাগত🍀*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২. শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৫)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
              *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*
              *************

*🌻ইতিহাসোত্তমে=*

*🌷নরকে পচ‍্যমানানাং নরানাং পাপকর্ম্মাণাম্।*
*🌷মুক্তিঃ সঞ্জায়তে তস্মাৎ নাম সঙ্কীর্ত্তনাৎ হরেঃ।।*

*🌻নরকে পঁচে পঁচে মরছে পাপীরাও নাম কীর্তনে নরক হতে মুক্তিলাভ করেন। এস্থলে "তস্মাৎ" পদের অর্থ নরক হতে।*

*♻প্রারব্ধ বিনাশিত্ব,(প্রারব্ধ=পূর্ব জন্মার্জিত কর্মফল)।*

*🌹শ্রীনামের একটি অসাধারণ শক্তি। এই যে ইহাতে প্রারব্ধ-কর্ম -শক্তিও বিনষ্ট হয়ে যায়।যথা শ্রীভাগবতে ষষ্ঠ স্কন্ধে অজামিল উপাখ‍্যানে।*

*🌷নাতঃ পরং কর্মনিবন্ধকৃন্তনং,*
*🌷মুমুক্ষূণাং তীর্থপদানুকীর্তনাৎ,*
*🌷ন যৎ পুনঃ কর্মসু সজ্জতে মনঃ,*
*🌷রজস্তমোভ‍্যাং কলিলং ততোহন‍্যথা।*

*🌻তীর্থপদ শ্রীভগবানের নামানুকীর্তন ছাড়া অন‍্য কিছুই মুমুক্ষদের (মোক্ষলাভের ইচ্ছুকদের)কর্মনিবন্ধ কর্তনের উপায় নহে।নামকীর্তন ছাড়া অপরাপর (অন‍্যান‍্য)প্রায়শ্চিত্ত দ্বারা পাপের তেমন উপশম(শান্তি) হয় না।রজো ও তমোগুণের দ্বারা যে মন ময়লা হয়ে থাকে,তা এই নামকীর্তনের প্রভাবে পুনরায় কর্মে আসক্ত হয় না।*
*🍀আগে বলা হয়েছে শ্রীভগবানের নাম দুষ্প্রারব্ধ-নিবর্ত্তক।এই শ্লোক এবং আরও তিনটি শ্লোক দ্বারা এই সিদ্ধান্ত সংস্থাপিত হয়েছে।মূল শ্লোকে লিখিত আছে শ্রীভগবানের নামানুকীর্তন "কর্মনিবন্ধ-নিকৃন্তন"।কর্মনিবন্ধ-নিকৃন্তন পদে "অশেষ প্রারব্ধ কর্মচ্ছেদন" (পূর্ব জন্মার্জিত কর্মফলের মধ্যে যদি কুপ্রভাব বা চরম অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে একমাত্র নামকীর্তনের মাধ‍্যমে তা ছেদন হয় )এই অর্থই উপলব্ধ হয়। তথাপি অখিল বা সমস্ত প্রারব্ধ-ক্ষয় এই অর্থে এখানে গৃহীত হতে পারে না।কেন না,নিখিল বা সমস্ত প্রারব্ধকর্মক্ষয়ে দেহপাত অবশ‍্যম্ভাবী। তাহলে ভগবদ্ ভক্তজন উপযোগী দেহের অভাবে ভগবদ্ভক্তজনও অসম্ভব হয়ে পড়ে। সুতরাং এস্থলে সেটির অর্থ দুষ্প্রারব্ধ ক্ষয়ই বুঝতে হবে।অতএব নাম শ্রুতি ভাষ‍্যে লিখিত আছে, কোন স্থরে কোন কোন উপাসকে প্রারব্ধ-কর্ম-নির্বতকত্ব উপাসকের ইচ্ছা বশতঃই হয়ে থাকে। (নিবর্তক=নিবারক),অন‍্যথা অজামিলাদির সম্বন্ধে বিরোধ ঘটে।অথবা এরকম অর্থও হতে পারে যে রোগাদি বিলাপন (রোগ হলে যে কষ্ট শোক) ও নারকী উদ্ধার পর্যন্ত যে সব প্রমাণ দেওয়া হয়েছে তাতে দুষ্প্রারব্ধ ক্ষয় পর্যন্ত লিখে এক্ষণে সর্বপ্রারব্ধ-ক্ষপন সম্বন্ধে লিখিত হচ্ছে --অশেষ প্রারব্ধ-ক্ষয়ে দেহপাত হলেও নাম-সংকীর্তন-প্রভাবে নিত‍্য প্রলয়াদির প্রণালী অনুসারে তখনও ভগবদ্ভক্তজনের জন্য তৎযোগ‍্য দেহান্তর প্রাপ্তি সংঘটিত হয়।কিংবা এমনও হতে পারে যে সদ‍্যজাত ভগবদ্ভক্তজনোচিত গুণ-বিশেষ-প্রাপ্তি দ্বারা পূর্ব দেহই নবীন ভাব প্রাপ্ত হয়।এরকম দৃষ্টান্তেরও অভাব নাই।যেমন শ্রীধ্রুবের পরম পদারোহণ-সময়ে নিজের পূর্বদেহই ভগবৎপার্ষদোচিত-দেহ-গুণযুক্ত হয়ে ভিন্নবৎ প্রতিভাত(উজ্জ্বলরূপে প্রকাশ) হয়েছিল।"বিভ্রৎ রূপং হিরণ্ময়ম্" এই স্থলে স্বামীপাদ এসম্বন্ধে অতি সুব‍্যাখ‍্যা করেছেন।অতঃপরে লিখিত আছে "সুরবৎ ভাসকো নরঃ" এই উক্তিও এস্থলে সুসঙ্গত।দেহের এইরকম পরিবর্তন সম্বন্ধে পাশ্চাত্ত‍্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অনেক অনেক দেখা যায়।*
*🍀বহিঃ সুখ দুঃখজনকপ্রারব্ধ ক্ষীণ হলেও কারও কারও দেহাদিতে কিঞ্চিৎ বাহ‍্য সুখ দুঃখ দেখা যায়, সেটি কেবল ভক্তিমাহাত্ম‍্য-গোপনের জন্যই ভগবৎ কর্তৃক বা ভক্ত কর্তৃক আত্মগোপনেচ্ছা-জাত।*
*🍀ফলনোন্মুখ কর্মকেই প্রারব্ধ বলা হয়।এই প্রারব্ধ দুই প্রকার--,একপ্রকার--প্রারব্ধ বতর্মান দেহোপভোগ‍্য ; দুই, শরীরান্তরোপভোগ‍্য। যেমন শ্রীভরতের মৃগশরীর ধারণ।এ সম্বন্ধে শ্রীভাগবতে স্বয়ং বাদরায়ণই সিদ্ধান্ত করে লিখেছেন।ভরত স্বকীয় প্রারব্ধ-কর্ম-স্বরূপ মৃগদারক ব‍্যপদেশ-প্রভাবে প্রারব্ধ কর্ম মৃগশিশুরূপে তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁকে যোগপথ হতে বিভ্রষ্ট করেছিল। "নাতঃপরং" এই শ্লোকটি বতর্মান শরীরভোগ‍্য প্রারব্ধ নাশ করার উদাহরণ, কিন্তু শ্রীভগবানের নামের এমনই মহিমা যে সেটি কেবল বতর্মান শরীরভোগ‍্য প্রারব্ধের বিনাশক নহে,শরীরান্তরে অবশ‍্যভোগ‍্য প্রারব্ধেরও বিনাশক।শ্রীভগবানের নামে অশেষ প্রারব্ধ নষ্ট হয়। যথা শ্রীমদ্ভাগবতে দ্বাদশে---*
*🌷যন্নামধেয় ম্রিয়মাণ আতুরঃ,*
*🌷পতন্ স্মরন্ বা বিবশো গৃণন্ পুমান্,*
*🌷বিমুক্তকর্ম্মার্গল উত্তমাং গতিং,*
*🌷প্রাপ্নোতি যক্ষ‍্যন্তি ন তং কলৌ জনাঃ।*

*🌻এই কলিকালের এমনই মাহাত্ম্য যে পতনোন্মুখ আসন্নমৃত‍্যু আতুর অবশ ভাবেও যাঁর নাম কীর্তন করলে বা কোনরকমে যার নাম নিলে কর্মবন্ধন হতে মুক্তিলাভ করে অতি সদগতি লাভ করে, এই কলিযুগে জনগণ কি তাঁর অর্চনা করবে না? একটি শ্লোকে "কর্মনিবন্ধ" আর একটি শ্লোকে "কর্মার্গল" এই দুইটি পদ ব‍্যবহৃত হওয়ায় ঐ কর্ম যে অবশ‍্য ভোগ‍্য তাইই জানা যাচ্ছে।যে কর্ম অবশ‍্য ভোগ‍্য,তা প্রারব্ধ কর্ম।যেহেতু প্রারব্ধ কর্মছাড়া অন‍্যান‍্য কর্ম যে অবশ‍্য ভোগ করতে হবে এমন নিয়ম নাই।আগের শ্লোক দুইটি যে "নিবন্ধ" ও "অর্গল" শব্দের উল্লেখ আছে --তাদ্বারা উক্ত কর্ম,প্রারব্ধ কর্ম বলে নিরূপিত হয়েছে।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙏🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২. শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৬)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
              *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*
              🐚🐚🐚🐚
*🌻শ্রীগোবিন্দ নাম উচ্চারণে প্রারব্ধও ক্ষয় হয়, যথা বৃহন্নারদীয় পুরাণে লেখা আছে------*

*🌷গোবিন্দেতি জপন্ জন্তুঃ প্রত‍্যহং নিয়তেন্দ্রিয়ঃ।*
*🌷সর্ব্বপাপবিনির্মুক্তঃ সুরবৎ ভাসতে নরঃ।।*

*♻সৎ-কর্মাদি বিহীন কীটবৎ অতি নীচ ব‍্যক্তিও যদি গোবিন্দ নাম জপ করে, তাহলে তাদৃশ (তেমন) জীবও নিরন্তর অশেষ দুষ্প্রারব্ধ হতে মুক্ত হয়ে সেই দেহে ইন্দ্রাদি দেবতা বিরাজ করে। এই শ্লোকে যে সুর পদের উল্লেখ আছে, সেটির এক অর্থ ইন্দ্রাদি।অন‍্য অর্থ এই যে "সু সুশোভিনং পদং রোতি দদাতি ইতি সুরং" অর্থ‍্যাৎ ভগবৎপার্ষদ। এই শ্লোকে যে পাপাশব্দের প্রয়োগ আছে,তা স্বর্গাদি ফলক পুণ‍্যকেও বুঝাবে।কেন না, পুণ‍্যের ফল ক্ষয়িষ্ণু বলে তাও পাপ বলেই গণ‍্য করা হয়েছে।অথবা এই শ্লোকে দুষ্প্রারব্ধ-মাত্র-বিনাশিত্বই উক্ত হয়েছে। তার ফলেই জীব এই দেহেই দেববৎ বিরাজ করতে সমর্থ হন।*
*🍀এইরূপে বিহিত-কার্য‍্য না করায় এবং নিষিদ্ধাচারণ করার যে সব পাপ জন্মে, শ্রীভগবানের নাম-প্রভাবে সে সবই উন্মুলিত হয়ে যায়।শ্রীনামের এতাদৃশ (এরকম) মাহাত্ম্য শাস্ত্রে লেখা হয়েছে। ফলে যে কোনরকমে ভগবদাশ্রয় করলেই এই সব পাপ বিনষ্ট হয়। কিন্তু ভগবানের কাছে ও তাঁর নামের কাছে যে অপরাধ করা হয়,তা মহাপাতক, অন‍্য কোন প্রায়শ্চিত্ত দ্বারাই সে মহাপাতকের বিনাশ হয় না। কিন্তু নাম কীর্তন দ্বারা নাম-অপরাধেরও ক্ষয় হয়। যথা শ্রীবিষ্ণুযামলে ভগবান বলছেন=*

*🌷মম নামানি লোকেহস্মিন্ শ্রদ্ধয়া যস্তু কীর্ত্তয়েৎ।*
*🌷তস‍্যাপরাধকোটীস্তু ক্ষমাম‍্যেব ন সংশয়ঃ।।*

*🌻এই সংসারে যিনি শ্রদ্ধা সহকারে আমার নাম-কীর্তন করেন,আমি তাঁর কোটি কোটি অপরাধ ক্ষমা করে থাকি সন্দেহ নাই।*

*🌹স্কন্দপুরাণে লেখা আছে।*

*🌷যস‍্য স্মৃত‍্যা চ নামোক্ত‍্য তপোযজ্ঞক্রিয়াদিষু।*
*🌷ন‍্যূনং সম্পূর্ণতা মেতি সদ‍্যো বন্দে তমচ‍্যুতম্।।*

*🌳যাকে স্মরণ করলে অথবা যাঁর নামোচ্চারণ করলে তপস‍্যা যজ্ঞ ও অন‍্যান‍্য ক্রিয়ার ন‍্যূনতা সদ‍্যই সম্পূর্ণতা লাভ করে আমি সেই অচ‍্যুতকে বন্দনা করি।*

*🛑বিষ্ণুধর্মোত্তরে শ্রীপ্রহ্লাদ বলছেন--*

*🌷ঋগ্ বেদো হি যজুর্ব্বেদঃ সামবেদোহপ‍্যথর্ব্বণঃ।*
*🌷অধীতা স্তেন যেনোক্তং হরিরিত‍্যক্ষরদ্বয়ম।।*

*🌻হরি এই দুইটি অক্ষর উচ্চারণ করলেই সর্ববেদ পাঠজনিত ফল লাভ হয়, সুতরাং হরি নাম উচ্চারণ যে বেদপাঠ অপেক্ষাও অনেক বেশী ফলজনক ইহাই শাস্ত্রকারগণের সিদ্ধান্ত।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🌷🪷🪷🪷🪷🪷🪷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২. শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৭)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
              *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*
             ^^^^^^^^^^^^^
*🍀স্কন্দ পুরাণে শ্রীপার্বতী বলছেন=*

*🌷মা ঋচো মা যজুস্তাত মা সাম পঠ কিঞ্চন।*
*🌷গোবিন্দেতি হরের্নাম গেয়ং গায়স্ব নিত‍্যশঃ।।*

*🌻তুমি ঋক্ যজু বা সামবেদ ইহার কিছুই পাঠ করিও না, কেবল শ্রীহরির গোবিন্দ নাম নিত‍্য কীর্তন কর।*

*🌹এই প্রমাণে স্পষ্টতই বেদাদি পাঠের নিষেধ ও সেইস্থলে কেবল গোবিন্দ নাম কীর্তনের উপদেশ করা হয়েছে। সুতরাং গোবিন্দনাম কীর্তন যে বেদাদি পাঠ হতেও অনেকবেশী ফল জনক,তাতে আর সন্দেহ রইল না।*

*🛑পদ্ম পুরাণে শ্রীরামাষ্টোত্তর শতনাম স্তোত্রে লিখিত আছে।*

*🌷বিষ্ণোরেকৈকনামাপি সর্বাবেদাধিকং মতম্।*
*🌷তাদৃক্ নাম সহস্রেণ রাম নাম সমং স্মৃতম্।।*

*🌸বিষ্ণুর এক একটি নাম সর্ববেদাধিক রূপে গণ‍্য, আবার এক রামনাম তেমনি সহস্র নামের তুল‍্য।*

*☘সর্বতীর্থাধিকত্ব-- স্কান্দে---*

*🌷কুরুক্ষেত্রেণ কিং তস‍্য কিং কাশ‍্যা পুষ্করেণ বা।*
*🌷জিহ্বাগ্রে বর্ত্ততে যস‍্য হরিরিত‍্যক্ষরদ্বয়ম্।।*

*🌲যদি জিহ্বাগ্রে হরি এই দুই অক্ষর সর্বদা বতর্মান থাকে, তবে কুরুক্ষেত্র,কাশী ও পুষ্করাদি তীর্থকি প্রয়োজন?*

*🌷তীর্থ-কোটি-সহস্রাণি তীর্থকোটি-শতানি চ।*
*🌷তানি সর্বাণ‍্যবাপ্নোতি বিষ্ণোর্নামানুকীর্তনাৎ।।*
                     *(বামন পুরাণে)*

*🍁বিষ্ণুনাম কীর্তনে কোটি কোটি তীর্থ ফল অপেক্ষাও বেশী ফললাভ হয়।*

*🔆বিশ্বামিত্র সংহিতায়=*

*🌷বিশ্রুতানি বহুন‍্যেব তীর্থানি বিবিধানি চ।*
*🌷কোট‍্যংশেনাপি তুল‍্যানি নাম কীর্তনতো হরেঃ।।*

*🍀কোটি কোটি তীর্থ আছেন। কিন্তু নামের তুলনায় তাদের ফল কোটি ভাগের একভাগও না।*

*💐লঘুভাগবতে----*

*🌷কিং তাত বেদাগম শাস্ত্র-বিস্তরৈ,*
*🌷স্তীর্থে রনেকৈরপি কিং প্রয়োজনম্।*
*🌷যদ‍্যাত্মানো বাঞ্জসি মুক্তি-কারণম্,*
*🌷গোবিন্দ গোবিন্দ ইতি স্ফুটং রট।।*
*🌹হে বৎস!বেদ আগম ও অন‍্যান‍্য শাস্ত্রবিস্তারে এবং অনেকানেক তীর্থ গুলিরই বা প্রয়োজন কি?যদি নিজের মুক্তি নিদান আকাঙ্ক্ষা কর,তাহলে হে গোবিন্দ হে গোবিন্দ স্পষ্টরূপে এই নাম উচ্চারণ কর।*

*🌷গো-কোটিদানং গ্রহণে খগস‍্য,*
*🌷প্রয়াগ-গঙ্গোদক-কল্পবাসঃ।*
*🌷যজ্ঞাযুতং মেরু-সুবর্ণ দানং,*
*🌷 গোবিন্দকীর্ত্তে র্ন সমং শতাংশৈঃ।।*

*🌻সূর্য‍্যগ্রহণ সময়ে কোটি গো-দান, প্রয়াগে গঙ্গাতীরে কল্পকাল বাস, সুমেরু সমান সোনা-দান, ইহার কিছুই গোবিন্দ নাম কীর্তনের শতাংশের একাংশ তুল‍্যও না।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২. শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৮)🐚শ্রীশ্রীনাম--মাধুরী🐚*
               *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🌹বৌধায়ন সংহিতায়------*

*🌷ইষ্টাপূর্ত্তানি কর্ম্মাণি সুবহুনি কৃতান‍্যপি।*
*🌷ভব-হেতুনি তান‍্যেব হরের্নাম তু মুক্তিদম্।।*

*🌻বহু বহু ইষ্টপূর্তকর্ম (অগ্নিহোত্র,তপস‍্যা,সত‍্যনিষ্ঠা, বেদাজ্ঞাপালন আতিথ‍্য, বিশ্বদেবগণের উদ্দেশ্যে যজ্ঞানুষ্ঠান প্রভৃতিকে ইষ্টকর্ম বলে।বাপী (বড় দিঘী বা পুকুর),কূপ,তড়াগাদি জলাশয় উৎসর্গ দেবমন্দির প্রতিষ্ঠা,অন্নদান ও উপবনাদি (মানুষের দ্বারা রোপিত তরুলতায় পূর্ণ কৃত্রিম বন)উৎসর্গ প্রভৃতি কাজকে পূর্ত্ত বলা হয় )।ইষ্টপূর্ত্তকর্ম অনুষ্ঠিত হলেও, ওরা সংসার বন্ধনেরই হেতু হয়ে থাকে, কিন্তু একমাত্র হরিনামই মুক্তিপ্রদ।*

*🌹গারুড়ে শ্রীশৌণক অম্বরিষ সংবাদে*

*🌷বাজপেয়-সহস্রানাং নিত‍্যং ফলমভীস্পসি।*
*🌷প্রাতরুত্থায় ভূপাল কুরু গোবিন্দ-কীর্তনম্।।*

*🌻হে ভূপাল! যদি প্রত‍িদিন হাজার বাজপেয় যজ্ঞের ফল অভিলাষ কর,তা হলে সকালবেলা গাত্রোত্থান পূর্বক বা শয‍্যা ত‍্যাগ করে, গোবিন্দ নাম কীর্তন করিও।*

*🌷কিং করিষ‍্যতি সাংখ‍্যেন কিং যোগৈর্নর-নায়ক।*
*🌷মুক্তি মিচ্ছসি রাজেন্দ্র কুরু গোবিন্দ-কীর্তনম্।।*

*🌻হে রাজেন্দ্র! আত্মানাত্ম-বিবেক-প্রদর্শক সাংখ‍্য-জ্ঞানে কি ফল হবে, অষ্টাঙ্গ যোগেই বা কি ফল হবে,যদি মুক্তি ইচ্ছা কর,তবে গোবিন্দ নাম কীর্তন কর।*

*🌹শ্রীভাগবতের তৃতীয় স্কন্ধে কপিলদেবের প্রতি দেবাহূতি বলছেন-- (অত্রি-সংহিতা ৪৩,৪৪ শ্লোক)।*

*🌷ইষ্টাপূর্ত্ত-- অগ্নিহোত্র বা তপঃ সত‍্যং বেদানাংশ্চৈব পালনম্।*
*🌷আতিথ‍্যং বৈশ্বদেবঞ্চ ইষ্টমিত‍্যভিধীয়তে।।*
*🌷বাপী কূপ-তড়াগাদি দেবতারতনানি চ।*
*🌷অন্ন-প্রদান-মারাম পূর্ত্তমিত‍্যভিধীয়তে।।*

*🌻অগ্নিহোত্র,তপস‍্যা,সত‍্যনিষ্ঠা, বেদাজ্ঞাপালন আতিথ‍্য, বিশ্বদেগণের উদ্দেশ্যে যজ্ঞানুষ্ঠান প্রভৃতিকে ইষ্টকর্ম বলে। বড় দিঘী,কূপ, বড় বড় জলাশয়, উৎসর্গ দেবমন্দির প্রতিষ্ঠা, অন্নদান ও উপবনাদি উৎসর্গ প্রভৃতি কাজকে পূর্ত্ত বলা হয়।*

*🌷অহো বত শ্বপচোহতো গরীয়ান্,*
*🌷যজ্জিহ্বাগ্রে বর্ত্ততে নাম তুভ‍্যং।*
*🌷তেপুস্তপস্তে জুহুবুঃ সস্নূরার্য‍্যা,*
*🌷ব্রহ্মানূচুর্নাম গৃহ্নতি যে তে।।*

*🌻যারা শ্রদ্ধাদিরহিত হয়েও যে কোন প্রকারেই হোক, তোমার নাম উচ্চারণ করে,নামাভাস রূপে অসম‍্যক্ রূপেও যদি উচ্চারণ করে,সে যদি জাতিতে কুকুরমাংসভোজী চন্ডালও হয়,তবুও তোমার নাম গ্রহণ ফলে সে শ্রেষ্ঠ বলেই পরিকীর্তিত।যাঁরা তোমার নাম গ্রহণ করেন,তাঁরা সম‍্যক্ তপস‍্যার ফল লাভ করেন।তাঁরা আর্য‍্য অর্থ‍্যাৎ সদাচার সম্পন্ন।তাঁরা অনচু অর্থ‍্যাৎ সদ্ গুরুর কাছে সমগ্র বেদ অধ‍্যয়ন করার ফল লাভ করেন।অর্থ‍্যাৎ সব রকমের সৎকর্মই শ্রীনামকীর্তনের অন্তর্ভুত।এতে এই সিদ্ধান্ত হল যে,যাঁরা নামকীর্তন পরায়ণ,তাঁরা জন্মান্তরে সব পুণ‍্য কর্মই সম্পন্ন করেছেন।*

*🌹স্কান্দে ব্রহ্ম নারদ সংবাদে চাতুমাস‍্য মাহাত্ম্যে-----*

*🌷এতৎ ষড়বর্গ-হরণং রিপু-নিগ্রহণং পরম্।*
*🌷অধ‍্যাত্মমূলমেতদ্ধি বিষ্ণোর্নামানুকীর্তনম্।।*

*🌻শ্রীবিষ্ণুর এই শ্রীনাম-কীর্তন, কামক্রোধাদি ষড়্ বর্গের বিনাশক, রিপু নিগ্রহে নিপুণ এবং আত্মতত্ত্ব লাভের নিদান।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২. শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৯)🐚শ্রীশ্রীনাম--মাধুরী🐚*
                *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🌹বিষ্ণুধর্মোত্তরে লেখা আছে--*

*🌷হৃদিকৃত্বা তথা কামমভীষ্টং দ্বিজ-পুঙ্গব।*
*🌷একং নাম জপেদষন্তু শতং কামানবাপ্ন য়াৎ।।*

*🌻হে দ্বিজপুঙ্গবগণ! হে দ্বিজ শ্রেষ্ঠগণ! যে ব‍্যক্তি হৃদয়ে কোনও অভীষ্ট কামনা করে ভগবানের একটি নাম জপ করেন,তাঁর শত-কামনা পূর্ণ হয়ে থাকে।*

*🌹তত্রৈব শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল স্তোত্রে--*

*🌷সর্বমঙ্গল-মঙ্গল‍্য মায়ুষ‍্যং ব‍্যাধিনাশনম্।*
*🌷ভুক্তি-মুক্তি-প্রদং দিব‍্যং বাসুদেবস‍্য কীর্তনম্।।*

*🌻শ্রীকৃষ্ণের নাম কীর্তন সর্বপ্রকার মঙ্গল হয়, পরমায়ুবৃদ্ধি,ব‍্যাধিবিনাশন, ভুক্তি-মুক্তি-লাভ ও বৈকুন্ঠ প্রাপ্তি হয়ে থাকে।*

*🌹শ্রীনারায়ণ ব‍্যূহ স্তবে-----*

*🌷পরিহাসোপহাসাদ‍্যৈ র্বিষ্ণো র্গৃহ্নন্তি নাম যে।*
*🌷কৃতার্থা স্তেহপি মনুজা স্তেভ‍্যোহপীহ নমোনমঃ।।*

*🌻পরিহাস ও তিরস্কার ছলেও যাদের মুখে শ্রীকৃষ্ণনাম উচ্চারিত হয়,তাঁরাও কৃতার্থ হন ; তাঁদেরকে নমস্কার।*

*🌷তে ধন‍্যাস্তে কৃতার্থাশ্চ তৈরেব সুকৃতং কৃতম্।*
*🌷তৈরা_ং জন্মনঃ প্রাপ‍্যং যে কালে কীর্তয়ন্তি মাম্।।*
                                *(বারাহে)*

*🌻যাঁরা স্নানাদি সময়ে আমার নামকীর্তন করেন,তাঁরা কৃতার্থ ও ধন‍্য।আবার কাল শব্দের পরিবর্তে অকাল পাঠান্তরে "অশৌচাদি সময়ে" এই অর্থ হবে। অর্থ‍্যাৎ অশৌচাদি সময়েও নামকীর্তন ফলজনক। বিশেষতঃ কলিযুগে----------*

*🌷ষকৃদুচ্চারন্ত‍্যেতদ্ দুর্ল্লভঞ্চাকৃতাত্মনাম্।*
*🌷কলৌযুগে হরের্নাম তে কৃতার্থাঃ ন সংশয়ঃ।।*

*🌻এই কলিকালে পাপীদের দুর্লব এই হরিনাম যাঁরা একবার মাত্রও উচ্চারণ করেন তাঁরা কৃতার্থ হন।*
*🌹শ্রীমদ্ভাগবতে একাদশে পাই--*

*🌷কলিং সভাজয়ন্ত‍্যার্য‍্যাঃ গুণজ্ঞাঃ সারভাগিনঃ।*
*🌷যত্র সঙ্কীর্ত্তনেনৈব সর্বস্বার্থোহপি লভ‍্যতে।।*

*🌻গুণজ্ঞ বা গুণীজন, সারগ্রাহী বা গূঢ় তাৎপর্য‍্য উপলব্ধি করতে সমর্থ, আর্য‍্যগণ কলিকে সম্মান করেন,কেন না, এই কলিকালে কেবল নাম সঙ্কীর্তন দ্বারাই সর্বস্বার্থ লাভ হয়।*

*🌹স্কান্দে, ব্রহ্ম নারদ সংবাদে--*

*🌷তথাচৈবোত্তমং লোকে তপঃ শ্রীহরি-কীর্তনম্।*
*🌷কলৌযুগে বিশেষণে বিষ্ণু প্রীত‍্যৈ সমাচরেৎ।।*

*🌻সংসারে হরিনাম-সংকীর্তনই উৎকৃষ্ট তপস‍্যা,অতএব শ্রীবিষ্ণুর প্রীতির জন্য বিশেষভাবে হরিনাম করা কর্তব‍্য।*

*🌹সর্বশক্তিমত্ত্ব------ *(স্কান্দে)*

*🌷দানব্রত তপস্তীর্থ ক্ষেত্রাদীণাঞ্চ যাঃ স্থিতাঃ।*
*🌷শক্তয়ো দেবমহতাং সর্বপাপহরা শুভাঃ।।*
*🌷রাজসূয়াশ্বমেধানাং জ্ঞানস‍্যাধ‍্যাত্মবস্তুনঃ।*
*🌷আকৃষ‍্য হরিণা সর্বাঃ স্থাপিতাঃ স্বেষু নামসু।।*
*🌷বাতোহপ‍্যতো হরের্নাম উগ্রাণামপি দুঃসহঃ।*
*🌷সর্বেষাং পাপরাশীনাং যথৈব তমসাং রবিঃ।।*

*🌹অতএব ব্রহ্মান্ডে-----*

*🌷সর্বার্থশক্তিযুক্তস‍্য দেবদেবস‍্য চক্রিণঃ।*
*🌷যচ্চভিরুচিতং নাম তৎসর্বার্থেষু যোজয়েৎ।।*

*🌻দান ব্রত তপস‍্যা ও তীর্থযাত্রা প্রভৃতি দ্বারা যে সব পাপ দূরীভূত হয়, দেবতা ও সাধুসেবায় যে সব পাপ ক্ষালন হয়, অশ্বমেধ যজ্ঞানুষ্ঠান ও অন‍্যান‍্য আত্ম-বস্তু লাভে যে সব পাপ বিনষ্ট হয়,মঙ্গল-বিধাতা বিষ্ণু সেই সব মঙ্গল-দায়িনী শক্তি আকর্ষণ করে আপনার নামগুলি প্রতিষ্ঠিত করেছেন।সূর্য‍্য যেমন তমোরাশি বা অন্ধকার বিনাশ করে থাকেন,সেইরকম ভগবানের নামরূপ বায়ু যথা কথঞ্চিৎ সামান্য পাপ হতে অতি ভয়ানক পাপও বিদূরিত করে থাকে।*
*🌻সর্বার্থশক্তি-সম্পন্ন দেব-দেব চক্রপাণির যে নাম অভিপ্রেত বা অভীষ্ট,সব প্রয়োজন-সিদ্ধির জন্য সেই নামই কীর্তন করবে।এতে বুঝতে হবে যে ভগবানের প্রত‍্যেক নামেই সর্বার্থ সিদ্ধির শক্তি আছে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 ২. শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/name2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২০)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
               *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🌹জগদানন্দকত্ব, ভাগবতগীতা--*

*🌷স্থানে হৃষীকেশ তব প্রকীর্ত্ত‍্যা,*
*🌷জগৎ প্রহৃষ‍্যত‍্যনুরজ‍্যতে চ।*
*🌷রক্ষাং সি ভীতানি দিশো দ্রবন্তি,*
*🌷সর্বে নমস‍্যন্তি চ সিদ্ধসংঘাঃ।।*

*🌻হে হৃষিকেশ!আপনার নাম কীর্তন দ্বারা কেবল যে আমি আনন্দ অনুভব করছি এমন না,আপনার নামে সমস্ত সংসার যে অনুরাগী বা আসক্ত ও সন্তুষ্ট হয় তা যুক্তিযুক্তই বটে।*

*🌹জগৎ বন্দ‍্যতাপাদকত্ব,বৃহন্নারদীয়ে-*

*🌷নারায়ণ জগন্নাথ বাসুদেব জনার্দন।*
*🌷ইতীরয়ন্তী যে নিত‍্যং তে বৈ সর্বত্র বন্দিতাঃ।।*
*🌷স্বপন্ ভুঞ্জন্ ব্রজন্ স্তিষ্ঠন্নু ত্তিষ্ঠংশ্চ বদং স্তথা।*
*🌷যে বদন্তি হরের্নাম তেভ‍্যো নিত‍্যং নমোনমঃ।।*

*🌻শ্রীনারায়ণ-ব‍্যূহ-স্তবে----*

*🌷স্ত্রী শূদ্রঃ পুক্বশোবাপি যে চান‍্যে পাপযোনয়ঃ।*
*🌷কীর্ত্তয়ন্তি হরিং ভক্ত‍্যা তেভ‍্যোহপি চ নমোনমঃ।।*

*🌻স্ত্রী, শূদ্র, পুক্কশ বা চন্ডাল অথবা পাপ যোনিজাত ব‍্যক্তিগণও যদি ভক্তি পূর্বক হরিনাম গ্রহণ করেন, তবে তাঁদের প্রতিও ভূয়োভূয় নমস্কার।*

*🌹অগতির একমাত্র গতিত্ব, পাদ্মে বৃহৎ সহস্রনাম-কথারম্ভে----*

*🌷অনন‍্যগতয়ো মর্ত্ত‍্যা ভোগিনোহপি পরন্তপাঃ।*
*🌷জ্ঞানবৈরাগ‍্যরহিতা ব্রহ্মচর্য‍্যাদিবর্জ্জিতাঃ।।*
*🌷সর্বধর্মোজঝিতা বিষ্ণো র্নামমাত্রৈকজল্পকাঃ।*
*🌷সুখেন যাং গতি যান্তি ন তাং সর্বেহপি ধার্মিকাঃ।।*

*🌻যারা অনন‍্যগতি অর্থ‍্যাৎ অত‍্যন্ত পাপজাতিত্ব নিবন্ধন (কারণ) যাদের কর্মে কোনও অধিকার নাই,যারা নিয়ত (সবসময়) বিষয়ভোগী,পরপীড়াদায়ক (অন‍্যকে কষ্ট দেয়) জ্ঞান-বৈরাগ‍্য বর্জিত, ব্রহ্মচর্য‍্যশূন‍্য এবং সর্বধর্মত‍্যাগী,তারাও যদি নিরন্তর বা সবসময় বিষ্ণুনাম জপ করে,তাহলে অনায়াসে ধর্মনিষ্ঠদের মত দুর্লভগতি লাভ করতে পারে।*

*🌹সদা-সর্বত্র সেব‍্যত্ব, বিষ্ণুধর্মে ক্ষত্রবন্ধু উপাখ‍্যানে----*

*🌷ন দেশনিয়মস্তস্মিন্ ন কাল নিয়মস্তথা।*
*🌷নোচ্ছিষ্টাদৌ নিষেধোহস্তি শ্রীহরের্নাম্নি লুব্ধক।।*

*🌻হে লুব্ধক!(ব‍্যাধ), শ্রীহরির নাম কীর্তনের বিষয়ে দেশ ও কালের নিয়ম নাই এবং উচ্ছিষ্টমুখেও নাম গ্রহণের নিষেধ নাই।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/name3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds