শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/02/podaboli.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
              *চর্যা ও নাথ-গীতি*

*🍀ঐ সময়ে যোগপন্থানুসারী নাথধর্মও স্বতন্ত্রভাবে বাংলার সর্বত্র বিস্তারলাভ করেছিল বৌদ্ধতন্ত্রের প্রভাবকে অতিক্রম না করেও। মহামহোপাধ‍্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই প্রসঙ্গে বলেছেন--,*
*But there were other forms of religions which the Buddhist community absorbed in itself. One of these is the "Nath-marga" or Nathism. ☆ ☆Thus the Nathism of Matsyendra arose outside Buddhism, but was at last absorbed into it. On the otherhand, Ramana Vajra was a Buddhism of the Varayana School, but when he became Goraksanath, and was regarded as a hertic by Buddhists, so Goraksa's Nathism was originally within Buddhism, but it was not incorporated into it.*
*🌹Vide Introduction to the Modern Buddhism and its Followers in Orissa, page=89.*
*🍀আসলে গুরু গোরক্ষনাথ,মীননাথ, মৎস‍্যেন্দ্রনাথ ও অন‍্যান‍্য নাথ আচার্য‍্যদের প্রবর্তিত যোগসাধন,কায়াসাধন ও উল্টাসাধন প্রভৃতিও বৌদ্ধ ও হিন্দুধর্মে প্রবেশ করেছিল। "গোরক্ষসম্প্রদায়ে প্রচলিত হঠযোগের গ্রন্থে মৎস‍্যেন্দ্রনাথ-প্রবর্তিত একটি কষ্টসাধ‍্য আসন ও তার ফলের কথা আছে,যথা---*
*🌷বামোরুমূলার্পিতদক্ষপাদং,*
*🌷জানোর্বহির্বেষ্টিতবামপাদম্।*
*🌷প্রগৃহ‍্য তিষ্ঠেৎ পরিবর্তিতাঙ্গঃ,*
*🌷শ্রীম‍্যস‍্যনাথোদিতমাসনং স‍্যাৎ।।*
                       *(হঠযোগপ্রদীপিকা ১|২৬)*
*🌻"আদিনাথ শঙ্কর হঠযোগের উপদেষ্টা ; "আদিনাথ শিবঃ সর্বেষাং নাথনাং প্রথমো নাথঃ। ☆ ☆ মৎস‍্যেন্দ্রাখ‍্যশ্চ আদিনাথ-শিব"। ☆  ☆ গোরক্ষ সংহিতায় গোরক্ষনাথের উপদেশ  "আসনং প্রাণসংরোধঃ প্রত‍্যাহাবাশ্চ ধারণা" এবং "যোগশাস্ত্রঞ্চ পরমং যোগিণাং সিদ্ধিদায়কম্"। এছাড়াও গোরক্ষনাথ কায় বা কায়াসাধনের প্রধান নেতা ছিলেন, যোগের কঠোর নিয়ম দ্বারা দেহসংযম ও চিত্তবৃত্তিনিরোধ ছিল মৎস‍্যেন্দ্র-গোরক্ষের পন্থা।*
*ডাক্তার কল‍্যাণী মল্লিক, "নাথসম্প্রদায়ের ইতিহাস,দর্শন ও সাধনপ্রণালী (১৯৫০) পৃঃ ৬৫ ।*
*🍀এ থেকে প্রমাণ হয় যে,গোরক্ষনাথ,মৎস‍্যেন্দ্রনাথ প্রভৃতি নাথাচার্য‍্যদের যোগ পদ্ধতি বৌদ্ধধর্ম-সাধনার অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং চর্যা-রচয়িতা সিদ্ধাচার্য‍্যরাও সেই যোগপদ্ধতির দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।*
*🍀পরে খ্রীষ্টীয় নবম শতকে সহজিয়া সম্প্রদায় যখন বৌদ্ধ-বজ্রযান ধর্মমতের অনুসরণ করেছিল তখন কৃষ্ণাচার্য‍্য বা (কাহ্ন-পাদ) প্রভৃতি গাথা বা পদ-রচয়িতারা যে বহু সহজিয়াগান রচনা করে বাংলার গীতিভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছিলেন বাংলার ইতিহাস তার সাক্ষ‍্য দান করে।অচ‍্যুতানন্দের শূন‍্যসংহিতায়ও আমরা এর কিছুটা প্রমাণ পাই।শূন‍্যসংহিতায় দশম অধ‍্যায়ে উল্লেখ আছে----*
*🌷নাগান্তক বেদান্তক যোগান্তক জেতে।*
*🌷নানা প্রতি বিধিরে কহিলে তোষ চিতে।।*
*🌷গোরক্ষনাথঙ্ক বিদ‍্যা বীরসিংহ আজ্ঞা।*
*🌷মল্লিকানাথঙ্ক যোগ বাউলী প্রতিজ্ঞ।।*
*🌷লোহিদাস কপিলঙ্ক সাক্ষিসন্ত্র জেতে।*
*🌷কহিলে জে যেমন্ত সে হোইক্কি গুপতে।।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ নাগার্জুনের অনুসারী নাগান্তক বা সৌত্রান্তিক,যোগান্তিক বা যোগাচার প্রভৃতি বৌদ্ধসম্প্রদায় তাঁদের আপনাপন নিয়ম-পদ্ধতিতে অনুসরণ করেও স্বধর্মে ও বিশ্বাসে নিষ্ঠ ছিলেন।তাছাড়া বীরসিংহের অনুশাসনে গোরক্ষনাথের ধর্মমত ও যোগানুষ্ঠান, মল্লিকানাথের যোগসাধন,বাউলী বা বাউলধর্ম এবং লোহিদাস ও কপিলের সাক্ষীমন্ডল ছিল সর্বসাধারণের লোকচক্ষের অন্তরালে গুপ্ত ও রহস‍্যময়। আচার্য‍্য মীননাথের মন্ত্রশিষ‍্য গুরু গোরক্ষনাথ পরে মৎস‍্যেন্দ্রনাথ নামে পরিচিত হয়েছিলেন।তিব্বতের ইতিবৃত্ত থেকে জানা যায়, গোরক্ষনাথ তিব্বতের বৌদ্ধসম্প্রদায়ের বিশেষভাবে পূজিত ছিলেন। ঐতিহাসিক লামা তারানাথের বিবরণ থেকেও জানা যায়, খ্রীষ্টীয় তেরশ শতকে গোরক্ষনাথ শৈবধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন এবং তারজন‍্য তাঁর প্রবর্তিত যোগীসম্প্রদায়ের কাছে তিনি "শিবাবতার"বলে পরিচিত ও পূজিত ছিলেন। অচ‍্যুতানন্দ তাঁর শূন‍্যসংহিতায় গোরক্ষনাথ ও মল্লিকানাথকে বৌদ্ধ-যোগাচার ধর্মমতের অনুসারী ছিলেন বলে বর্ণনা করেছেন।*
           ♻♻♻♻♻♻
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২) পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
           *চর্যা ও নাথ-গীতি=দুই*

*🍀পূর্বেই আলোচনা করেছি যে,চর্যা ও বজ্র-গীতি নির্দিষ্ট তালে ও রাগে গীত হ'ত এবং তাল ও রাগগুলি ছিল শাস্ত্রীয় অভিজাত সঙ্গীতপদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত। মহামহোপাধ‍্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বলেন--, শ্রীচৈতন‍্যদেবের অন্ততঃ ছয়শ বৎসর পূর্বে ভারতে বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য‍্যগণ সংকীর্তনের গান ("সংকীর্তন" শব্দটির প্রয়োগ ঠিক নয়, কেননা চর্যাগুলি ছিল গীতি বা গান,বৈষ্ণবপদকীর্তন বা সংকীর্তন থেকে তারা প্রকাশে ও গঠনে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল )। সংকীর্তনের গান বেঁধে ও নানা রাগ-রাগিনীতে ঐ সমস্ত গান গেয়ে ভারতবাসীর মন বৌদ্ধধর্মের দিকে আকৃষ্ট করতেন।তাঁরা সচরাচর যে সমস্ত রাগিনীতে গান গায়তেন তাদের নাম পঠমঞ্জরী,অরু,গুঞ্জরী,দেবক্রী দেশাখ,ভৈরবী,কামোদ,ধনেশ্রী,রামক্রী, বরাড়ি,শীবরী বা সাবেরী,মল্লারি,মালশ্রী, কহ্নূ গুঞ্জরী, বাংলা প্রভৃতি।(বৌদ্ধ গান ও দোহা (১৩২৩ সাল)পৃষ্ঠা ছয়)। অবশ‍্য চর্যায় অনেক বিকৃত রাগ-নামের উল্লেখ আছে,যেগুলির সুসংস্কৃত নাম সঙ্গীতশাস্ত্রে পাওয়া যায়। মহামহোপাধ‍্যায় বলেছেন যে,বৌদ্ধসন্ন‍্যাসীরা অনেক সময় গাথা রচনা করতেন এবং গাথা বা গাথাগান রচনার জন্য একটি স্বতন্ত্র ভাষা ছিল।*
*☘কোন কোন পন্ডিতের অভিমত যে, বৌদ্ধ-ভিক্ষু-ভিক্ষুণীদের অচরণমূলক অথবা আচরণের উদ্দেশ্য রচিত গাথাগানই চর্যাগীতি। "চর্যা" শব্দটির আভিধানিক অর্থ আচরণ (চর্-ধাতু থেকে নিষ্পন্ন),পালন,রক্ষণ,অনুষ্ঠান প্রভৃতি ; যেমন ধর্মচর্যা,দেহচর্যা,ব্রতচর্যা। ডাক্তার সুকুমার সেন বলেন, "ঐ চর্যা" শব্দ থেকেই তপস্বীর আচরণ --তপশ্চর্যা, নটের আচরণ --নটচর্যা শব্দগুলির সৃষ্টি।এথেকে অনুমান হয় যে,খ্রীষ্টীয় ১০-১১শ শতকের বাংলার বৌদ্ধসমাজে ভিক্ষু-ভিক্ষুণীদের ধর্মাচরণমূলক বা অধ‍্যত্মকর্ম-আচরণের উদ্দেশ্য রচিত গাথাগানই চর্যাগীতি।এখানে 'গাথা' গানেরই প্রতিশব্দ। বৈদিক যুগে যজ্ঞানুষ্ঠান বা যজ্ঞকর্মে 'গাথা-নারশাংসী' গান করা হ'ত। ঠিক ঐরকমভাবে বৌদ্ধযুগে নিষ্ঠাচারী ভিক্ষু ও নিষ্ঠাচারিণী ভিক্ষুণীরা অসংখ্য গাথা বা পদ রচনা ক'রে শাস্ত্রীয় রাগে ও তালে তাদের সম্পৃক্ত বা মিলিত করে বিভিন্ন ধমানুষ্ঠানে ও উৎসব-ব‍্যাপারে গান করতেন।তাছাড়া অধ‍্যাত্ম সাধনচর্যার গানের বিধি তো ছিলই।(লেখকের "রাগ ও রূপ " প্রথমভাগ (তৃতীয় সংস্করণ) পৃষ্ঠা ৭৮ দ্রষ্টব‍্য)।অনেকে বলেন,চর্যাগীতিগুলি প্রধানত উৎসবে বা অবসর-বিনোদনে গান করা হ'ত। কিন্তু অবসর বিনোদনের কথা বাদ দিলে উৎসব-প্রসঙ্গে গীত হলেও চর্যাগীতি যে পবিত্র পরিবেশ সৃষ্টর কারণ হত তা "উৎসব" শব্দ থেকেই স্পষ্ট প্রমাণ হয়। আসলে চর্যা ও বজ্র-গীতিগুলি গুহ‍্য যৌগিক ও তান্ত্রিক অনুষ্ঠানে মন্ডলচক্রে গীত হত। ডাক্তার সুকুমার সেন বলেন,এই মন্ডলচক্র ছিল অনেকটা ব্রাহ্মণ‍্যতন্ত্রের যোগিনীচক্রের সম পর্য‍্যায়ভুক্ত।বৌদ্ধ-যোগিনীচক্র বা মন্ডলচক্রের অনুষ্ঠানে বজ্রগীতি গান করে বজ্রধর হেরুককে জাগ্রত করা হত।এরই জন্য চর্যাগীতি বজ্রগীতি থেকে কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির ছিল।চর্যার সাহিত‍্যরচনা প্রায় সম্পূর্ণ হত, যদি শেষপদে ও তৃতীয় পদে অথবা দ্বিতীয় পদরূপ ধ্রুবপদে ভণিতা সন্নিবেশিত থাকত।তবে এই ধ্রুবপদ "ধ্রুবপদের তস‍্যানুৎপাদং সূচয়তি", "ধ্রুবপদের তমেবার্থমভিদ‍্যোতয়তি", "ধ্রুবপদেনাসংগপরিহারং করোতি" প্রভৃতি নিবদ্ধ প্রবন্ধগীতিরূপ ধ্রুবপদ নয়, এটি গান বা পদের অংশ বা ধাতু।কারও কারও মতে, চর্যাগীতির ভাষায় দুইরকম অর্থের দ‍্যোতনা বা প্রকাশ পাওয়া যায়।অদ্দয়বজ্র ও মুণিদত্তের ভাষ‍্যে এই দ্ব‍্যর্থক ভাষাকে বলা হয়েছে "সন্ধাভাষা, বা সন্ধাসংকেত বা সন্ধাবচন"।(সন্ধাভাষার মধ্যে 'সন্ধ‍্যা' শব্দটির মার্জিত রূপ 'সন্ধা' (সম্+ধা=সন্ধা) অর্থ‍্যাৎ যা অভিসন্ধিসূচক বা আভিপ্রায়িক ভাষা তাই "সন্ধাভাষা"।)যেমন (১)যথা=বালৈঃ সন্ধাভাষণম-জনদভির্মনপবনাদিনিরোধমাশ্রয়ঃ কল্পিতঃ ; (২) বারুনীতি সন্ধাবচনেন ☆ ☆ (৩) "দুলি সন্ধাসংকেতে বোদ্ধব‍্যম্" প্রভৃতি )।*
                  *ক্রমাগত*
📯🎻🎺🎷🎸🎺📯🎸📟🎧🎷🎸🎷🎺
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩) পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
         *চর্যা ও নাথ-গীতি (তিন)*

*চর্যাগীতির প্রকৃতি,রচনা ও গীতরীতি বা গায়নশৈলীর ধারা আমরা পরবর্তী সঙ্গীতগ্রন্থগুলির মধ্যেও পাই।আগেই বলেছি যে,খ্রীষ্টীয় তের শতকের সঙ্গীতশাস্ত্রী শার্ঙ্গদেবের "সঙ্গীত-রত্নাকর" এবং ১৬শ শতকের গুণী বেঙ্কটমখীর "চতুর্দন্ডীপ্রকাশিকা" গ্রন্থে চর্যার গীতি ও গায়নশৈলীর পরিচয় আছে সম্পূর্ণ ক্ল‍্যাসিক‍্যাল পরিবেশ নিয়ে।হতে পারে যে, ৯ম--১১শ শতকের চর্যাগীতির গীতিরীতি হয়ত ১৩শ বা ১৬শ শতকের চর্যার উন্নত গীতিরীতির ঠিক সহপর্যায়ভুক্ত ছিল না। কিন্তু তাহলেও সঙ্গীত-রত্নাকর ও চতুর্দন্ডীপ্রকাশিকায় বিশ্লেষিত চর্যার রূপ ও শৈলী থেকে ৯ম-১১শ শতকের সমাজে গীত চর্যার রূপ ও গায়নশৈলীর কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। তাছাড়া একথা সত‍্য যে, খ্রীষ্টীয় শতকের আরম্ভ থেকে প্রায় ১৭শ-১৮শ শতক পর্যন্ত ভারতীয় সঙ্গীতের রাগরূপ তার মূলনিয়ন্ত্রক রাগ বা ষ্ট‍্যান্ডার্ড-স্কেল অনুযায়ী বতর্মান রাগরূপ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল, আর তার জন্য প্রাচীন গানে বা পদে রাগনামের উল্লেখ থাকলেই যে তা ঠিক বতর্মান রাগরূপ অনুযায়ী গীত হবে এমন কোন নিয়ম নেই।যেমন,সঙ্গীত শিক্ষাবিদ্-মাত্রেই জানেন যে, নাট‍্যশাস্ত্রকার "ভরতের" সময়ে মূল-নিয়ন্ত্রক রাগ বা থাট (Standard scale) ছিল অনেকটা এখনকার কাফীরাগ-অনুযায়ী অর্থ‍্যাৎ স-রি-জ্ঞ-ম-প-ধ-ণ (=গান্ধার ও নিষাদ কোমল বা বিকৃত) এবং এই নিয়ন্ত্রক রাগ বা থাটরূপের প্রচলন ছিল প্রায় ১৭শ-১৮শ শতক পর্যন্ত। বিদ‍্যারণ‍্য মুনি ছিলেন যেমন বিদগ্ধ দার্শনিক, তেমনি ছিলেন সঙ্গীতজ্ঞানী।বিদ‍্যারণ‍্য মুনির আবির্ভাব-কাল খ্রীষ্টীয় ১৪শ-১৫শ শতক।তাঁর মতে,তদানীন্তন সকল রাগের মূল-নিয়ামক রাগ বা থাট ছিল মুখারী---,তার স্বররূপ ছিল এখনকারই কাফীরাগের (থাটের) মত --, স-রি-জ্ঞ-ম-প-ধ-ণ ।অথচ ১৯শ শতকের শেষভাগ অথবা ২০শ শতকের প্রথম ভাগে সব রাগের মূল নিয়ন্ত্রক বা নিয়ামক-রাগরূপে আত্মপ্রকাশ করল "বিলাবল-রাগ বা বিলাবল-থাট, যার সব স্বররূপ-- স-রি-গ-ম-প-ধ-ন (অর্থ‍্যাৎ সব স্বরই শুদ্ধ)। সুতরাং প্রাচীন রাগগুলিকে পদ বা গানের রূপে প্রকাশ করতে গেলে অনেক সময় প্রয়োজন হয় স্বররূপের পরিবর্তন।যেমন, দ্বারভাঙ্গার রাগতরঙ্গিণীকার লোচন কবি (১৬৫০খ্রীঃ)(◆অনেকে দ্বারভাঙ্গা সংস্করণে উল্লেখ অনুযায়ী রাগতরঙ্গিণীর রচনাকাল নির্ণয় করেন ১১শ শতকে,কিন্তু তা ঠিক নয়। রাগতরঙ্গিণীর আলোচনাভঙ্গি ও রাগরূপসমাবেশ লক্ষ্য করলে তাকে খ্রীঃ সতের শতকের মধ‍্যভাগের গ্রন্থ বলেই প্রতিপন্ন(প্রমাণ সিদ্ধ) করা উচিত)।*
*ভৈরবরাগকে গৌরীসংস্থান বা গৌরীমেলের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন।গৌরীমেলের রূপ বতর্মান হিন্দুস্থানী পদ্ধতির ভৈরবীমেলের মত অর্থ‍্যাৎ স-ঋ-জ্ঞ-ম-প-দ-ণ (ঋষভ,গান্ধার, বৈধত,ও নিষাদ কোমল বা বিকৃত)। কিন্তু ৯ম-১১শ শতকের সঙ্গীতশাস্ত্রী জৈন পার্শদেব বলেছেন--,ভৈরব-শ্রীরাগৌ-রি-প-হীনৌ, ☆  ☆ রাগাংগানি বিদুর্বুধাঃ। সুতরাং ভৈরব ও শ্রীরাগ পাঁচ স্বরের ঔড়বজাতির রাগ। কিন্তু বতর্মান পদ্ধতির ভৈরব সম্পূর্ণজাতির। সুতরাং এ'থেকে সহজেই অনুমান করা যায় যে,প্রাচীনকালে বর্ণিত (খ্রীঃ ১ম-১৩শ অথবা তারও বেশী)রাগরূপগুরি হুবহু প্রাচীনের মত প্রকাশ করতে গেলে অনেক সময় তা অসমীচীন হবে।তাছাড়া প্রাচীন মূলনিয়ন্ত্রক রাগ বা মেলে ক্রমিক মূর্ছনার পরিবর্তন থেকে আমরা ভৈরবী,কল‍্যাণ,খামাজ (খম্বাজ বা খাম্বাজ বা খামাইচ), আশাবরী, বিলাবল (বর্তমান পদ্ধতির) রাগগুলিরও রূপবিকাশ পেতে পারি। অবশ‍্য এ সমস্তই সঙ্গীতে গাণিতিক বিশ্লেষণের পরিণতি, সুতরাং সাধারণের পক্ষে তা সহজবোধ‍্য নয় বলে তার আলোচনা থেকে বিরাম হলাম। যাইহৌক, কিন্তু চর্যাগীতিতে যে সমস্ত শাস্ত্রীয় রাগের উল্লেখ আছে,সেগুলি নিশ্চয়ই সাধক-শিল্পীরা সার্থকভাবে প্রকাশ করতেন তাদের রাগে,তালে,রসে ও ভাবে সম্পৃক্ত বা মিলিত করে।  বর্তমানে ঐ প্রাচীনকালের তথা ৯ম-১১শ শতকের চর্যা ও বজ্র গীতিগুলিকে গানে প্রকাশ করতে গেলে একটি নিয়মকে আমাদের অবশঅনুসরণ করতে হবে এবং সেক্ষেত্রেই এই সব প্রাচীন ও নবীন সঙ্গীতপদ্ধতি তথা রাগপদ্ধতির আলোচনা প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে। (এ সম্বন্ধে লেখকের 'রাগ ও রূপ' প্রথম ভাগ,(তৃতীয় সংস্করণ), পৃঃ ৮১ দ্রষ্টব‍্য)।সুতরাং সহজবোধ‍্য ভাবে "গীতগোবিন্দ" পদগীতিতে রাগরূপের প্রসঙ্গে এগুলির আলোচনা করার চেষ্টা করব।*
*তবে একথা সত‍্য যে,প্রাচীন ভারতেও শাস্ত্রীয় রাগ ও তাল সম্পৃক্ত (মিলিত বা সংযুক্ত) করে যে সব গান গাওয়া হত তারা বেশীর ভাগই ছিল নিবদ্ধ-প্রবদ্ধশ্রেণীর গান।চর্যা সম্বন্ধেও ঠিক একথা বলা চলে।চর্যাপদগীতি সত‍্যই নিবদ্ধ, সতাল,ধাতুবদ্ধ ও রাগযুক্ত ছিল।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪) পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
             *চর্যা ও নাথ--গীতি*

*🍀শার্ঙ্গদেব ও বেঙ্কটমখী "চর্যা"-প্রবন্ধগানকে অঙ্গযুক্ত তারাবলীজাতির গান বলেছেন, "চর্যা বাহড়ী" ☆ ☆ তারাবলীজাতিমন্তঃ প্রবন্ধাঃ পরিকীর্তিতাঃ। অর্থ‍্যাৎ চর্যা প্রবন্ধ গীতির পরিচয় প্রসঙ্গে শার্ঙ্গদেব বলেছেন---------*

*🌷পদ্ধডীপ্রভৃতিচ্ছন্দাঃ পাদান্তপ্রাসশোভিতাঃ।*
*🌷অধ‍্যাত্মগোচরা চর্যা স‍্যাদ্ দ্বিতীয়াদিতালতঃ।।*
*🌷সা দ্বিধা ছন্দসঃ পূর্ত‍্যা পূর্ণাপূর্ণাত্বপূর্তিতঃ।*
*🌷সমধ্রুবা চ বিষয়ধ্রুবেত‍্যেষা পুনর্দ্বিধা।।*
*◆সঙ্গীত-রত্নাকর (আড়েয়ার সংস্করণ)দ্বিতীয় ভাগ, পৃষ্ঠা ৩০৩,৩০৪ ।*

*🌻সিংহভূপাল টীকায় বলেছেন, পদ্ধডিতি রাহডিমুখ‍্যানি ছন্দাংসি। যস‍্যাংপাদানামন্তেহনুপ্রাসযুক্তঃ ; অধ‍্যাত্ম-বাচকৈঃ পদৈরুপনিবদ্ধা সা চর্যা। দ্বিতীয়াদিতালৈঃ সা কর্তব‍্যা। তৃতীয়াবহুবচনার্থে তলপ্রত‍্যয়। সা দ্বিপ্রকারা-- ছন্দঃপুর্তৌ পূর্ণঃ, অপূর্তাবপূর্ণঃ। পুনরপি দ্বিধা। সর্বেষাং পাদানামাবৃত্তৌ সমধ্রুবা, ধ্রুবসৈবাবৃত্তৌ।*
*(সঙ্গীত-রত্নাকর, পৃঃ ৩০৪।*

*🌻"কলানিধি" টীকায় কল্লিনাথ আরও বিশদভাবে অর্থ দিয়েছেন। মোটকথা,পদ্ধডি,রাহডি প্রভৃতি ছন্দে রচিত চর্যাগীতির পাদের শেষে অনুপ্রাস(শব্দালঙ্কারবিশেষ,একই ধ্বনি ও বর্ণের পুনঃ পুনঃ প্রয়োগ সমন্বিত কাব‍্যলঙ্কারবিশেষ) থাকে।চর্যা পদনিবদ্ধ ও দ্বিতীয়াদি তালযুক্ত।পূর্ণ ও অপূর্ণভেদে চর্যা আবার দুইরকম ছিল।তাছাড়া সমধ্রুবা বিষমধ্রুবাভেদে চর্যা দুইশ্রেণীর ছিল।সব পদ আবৃত্তিযুক্ত গীত হলে সমধ্রুবা এবং কেবল ধ্রুব বা ধ্রুবধাতুর আবৃত্তি থাকলে বিষমধ্রুবাশ্রেণীর চর্যা বলা হত।চর্যায় বীররসের সমাবেশ করতে গেলে রাহডীছন্দে পদ তথা গীত রচনা করা হত ; "যত্র বীররসেন স‍্যাৎ ☆ ☆ রাহডী পরিকীর্তিতা"। পদ্ধডীতে বিরুদ, স্বর ও পাট এই তিনটি অঙ্গ থাকত, আর তারজন‍্য চর্যা পদ্ধডীছন্দযুক্ত এবং তিন ধাতুযুক্ত ছিল। সেজন‍্য কল্লিনাথ বলেছেন-- "তেনায়ং ত্রিধাতুঃ ছন্দস্তালনিয়মান্নির্যুক্তঃ ; পদতালবদ্ধত্বাদ্দ‍্যঙ্গ তারাবলীজাতিমান্"। "নির্যুক্ত" বলতে অঙ্গবদ্ধ তথা নিবদ্ধ-প্রবন্ধগীতশ্রেণীর ছিল চর্যাগীতি।*
*🍀শার্ঙ্গদেব ও বেঙ্কটমখীর এই বিবরণ থেকে এ কথায় প্রমাণিত হয় যে, ৯ম-১১শ শতকের বাংলাদেশে বৌদ্ধ-চর্যাগীতিগুলিও ক্ল‍্যাসিক‍্যাল তথা শাস্ত্রীয় ও ট্ট‍্যাডিসন‍্যাল শ্রেণীভুক্ত ছিল।হতে পারে যে,১৩শ থেকে ১৬শ শতকে গীত চর্যাগীতরীতি গঠনে ও প্রকাশভঙ্গিতে ছিল অনেকটা সহজ সরল, কিন্তু তা যে ৯ম-১১শ শতকের গীতিরূপ ও গীতশৈলীকে ভিত্তি করেই বিকাশ লাভ করেছিল একথা সত‍্য।৯ম-১১শ শতকের পরবর্তী "গীতগোবিন্দ" পদগান বা অষ্টপদীগান, কৃষ্ণকীর্তন, মঙ্গলগান, নামকীর্তন, পদাবলীকীর্তন ও অন‍্যান‍্য ভক্তিমূলক অভিজাত গানের যোগসূত্রও চর্যাগীতির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। মোটকথা চর্যার গীতরীতি ও প্রেরণাই সব গীতিশ্রেণীর সমৃদ্ধির পথে পাথেয়।*
🎷🎷🎸🎸🎧🎧🎻🎻📯📯🎺🎺🎷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৫)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*চর্যাগীতির গঠন ও গায়নশৈলী*

*🍀চর্যাগীতির পরবর্তী পদগান অষ্টপদী বা গীতগোবিন্দ প্রবন্ধশ্রেণীর পর্যায়ভুক্ত এবং এ'কথা ভক্তকবি জয়দেব গোস্বামীও নিজে স্বীকার ক'রে বলেছেন--, "শ্রীবাসুদেবরতিকেলিকথাসমেনমেতং করোতি জয়দেবকবিঃ প্রবন্ধম্" (১ম সর্গ,২য় শ্লোক)।"বালবোধিনী" টীকাকার পূজারী গোস্বামীও সে'কথার প্রতিধ্বনি ক'রে বলেছেন--, "এতৎ শ্রীগীতগোবিন্দাখ‍্যা প্রবন্ধং প্রকর্ষেণ বাধ‍্যতে শ্রোতৃণাং হৃদয়মস্মিন্নিতি প্রবন্ধস্তং করোতি প্রকাশয়তি"। অবশ‍্য গীতগোবিন্দগানের আলোচনার সময়ে এই সম্বন্ধে বিস্তৃতভাবে আলোচনা করতে চেষ্টা করব। আগেই বলেছি যে, পদাবলীকীর্তনের গীতিরূপ ও গীতশৈলীর যথাযথ আলোচনা করতে হলে খ্রীষ্টীয় শতকের প্রথম থেকে ১৫শ-১৬শ শতকের বাংলাসাহিত‍্যে গাথা, গীতিরূপ ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ধারা এবং পরিবেশের আমাদের কিছুটা অনুশীলন করা উচিত,কেননা, দীর্ঘ সময় ব‍্যবধানের মধ্যে যতগুলি পদসাহিত‍্য,গীতিরূপ ও কাব‍্যসম্ভারের সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশে--তারাই বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনে যথেষ্ট পরিমাণে উপাদান ও প্রেরণা জোগিয়েছে।*
*🍀চর্যা ও গীতগোবিন্দ-পদগানের "পদ" শব্দটি আবার বিশেষ অর্থবোধক।আমরা খ্রীঃ৭ম থেকে ১৪শ শতকের মধ্যে রচিত সঙ্গীতশাস্ত্রগুলি থেকে জানতে পারি যে,"পদ" শব্দটি প্রবন্ধ বা প্রবন্ধগানের একটি অঙ্গবিশেষ।পার্শ্বদেব শার্ঙ্গদেব ও অন‍্যান‍্য সঙ্গীতশাস্ত্রীরা প্রবন্ধের অপরিহার্য "পদ" অঙ্গের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় সব শ্রেণীর গান বা গীতিরূপকেই প্রবন্ধগানের পর্যায়ভুক্ত বলেছেন।সেদিক থেকে চর্যা,বজ্র, গীতগোবিন্দ প্রভৃতি গীতি বা গানগুলি প্রবন্ধশ্রেণীরই অন্তর্ভুক্ত। ১৩শ শতকের সঙ্গীতশাস্ত্রী শার্ঙ্গদেব, ১৭শ শতকের সঙ্গীতশাস্ত্রী তাঞ্জোরের রঘুনাথ নায়ক ও দক্ষিণ-ভারতের পন্ডিত বেঙ্কটমখী "সঙ্গীত-রত্নাকর", "সঙ্গীতসুধা" ও "চতুর্দন্ডীপ্রকাশিকা" গ্রন্থগুলিতে চর্যাকে নিঃসংশয়ে প্রবন্ধগীতির পর্যায়ভুক্ত বলেছেন।আগেই উল্লেখ করেছি,শার্ঙ্গদেব প্রবন্ধাধ‍্যায়ে বলেছেন--,"অধ‍্যাত্মগোচরা চর্যা (২|২৯৬), অর্থ‍্যাৎ চর্যাগীতি অধ‍্যাত্মপ্রকৃতির পরিচায়ক।*
*শার্ঙ্গদেব সঙ্গীত-রত্নাকরের চতুর্থ অধ‍্যায়ে বিপ্রকীর্ণ-প্রবন্ধের প্রসঙ্গে বলেছেন, "বদনং চর্চ্চরী চর্যা পদ্ধডী বাহুডী তথা"।(৪|৩২)।শার্ঙ্গদেবের মত ত্রিপদী,চতুষ্পাদী,ষটপদী,চতুর্মুখ, হংসীলীল,চর্চরী,মঙ্গল,ধবল প্রভৃতির মত চর্যাও প্রবন্ধগান।চর্যার প্রাথমিক বা প্রারম্ভিক গীতিরূপ ও গীতিশৈলী সম্ভবতঃ সহজ সাধারণ হলেও সাধকগণের সৃষ্টি প্রতিভায় ক্রমশঃ তা প্রবন্ধরূপ পরিগ্রহ করেছিল। শার্ঙ্গদেব চর্যাগীতির সঠিক রূপ,প্রকৃতি ও গায়নশৈলীর পরিচয় দিয়ে যে বলেছেন তার পরিচয় আমরা আগেই দিয়েছি।মোটকথা পদ্ধডী,রাহুডী প্রভৃতি প্রধান ছন্দে চর্যাপদ রচিত হত এবং তাতে দ্বিতীয়াদি তালের সমাবেশ থাকত (এদের বিশেষ পরিচয় সঙ্গীত-রত্নাকরে দেওয়া আছে )। সাধারণতঃ সেই গান বা গীতি ছিল দু'রকম ; ছন্দপ্রধান ও ছন্দ অপ্রধান। ছন্দপ্রধান হলে তাকে বলা হত "পূর্ণ" এবং ছন্দের প্রাধান্য না থাকলে বলা হত "অপূর্ণ"।তারা ছিল আবার সমধ্রুবা ও অসমধ্রুবা-রূপে দু'ভাগে বিভক্ত।সমধ্রুবার গানে সমগ্র পদের আবৃত্তি করা হত, আর কেবল ধ্রুবাংশটি আবৃত্তি করে গাওয়া হলে তাকে বলা হতঅসম বা বিষমধ্রুবা। চর্যায় ধ্রুব ও উদগ্রাহ ধাতু দু'টি যখন উদগ্রাহধাতু অপেক্ষা ধ্রুবধাতুর ◆(ধ্রুব-শব্দটি বিচিত্র অর্থবোধক।ধ্রুব পদ বা গানের ধাতু,অংশ বা ভাগ। ধ্রুব প্রবন্ধ-হিসাবে ধ্রুবপদপ্রবন্ধ বা ধ্রুপদ। শাস্ত্রের দৃষ্টিতে সালগ-সূড়শ্রেণীর।নাট‍্যশাস্ত্রে "ধ্রুবা" নাট‍্যগীতির পরিচয় আছে। প্রাচীন নাটকে জাতিরাগের সঙ্গে ছন্দ,অক্ষর,তাল প্রভৃতি সম্পৃক্ত বা মিলিত হয়ে নাট‍্যগীতি ধ্রুবার ব‍্যবহার হত।তবে মনে রাখতে হবে যে,নাট‍্যগীতি ধ্রুবা ও ধ্রুবাপ্রবন্ধ জাতিতে ও শ্রেণীতে সম্পূর্ণ আলাদা। অনেকেই নাট‍্যগীতি ধ্রুবাকে ধ্রুবপ্রবন্ধের সমগোত্রীয় বলে ভুল করেন।আসলে নাট‍্যরধ্রুব প্রবন্ধজাতীয় ধ্রুবপদ বা ধ্রুপদ থেকে আলাদা)।প্রয়োগ কম হত তখন তাকে বলা হত বিষমধ্রুবজাতীয় চর্যা। চতুর্থ অভোগধাতুকে পৃথকভাবেই ব‍্যবহার করা হত।উদগ্রাহক,ধ্রুব ও অভোগ এই তিন ধাতুর ব‍্যবহারে সমগ্র গান বা গীতির প্রকাশ হত বলে চর্যাপদকে (চর্যাপ্রবন্ধগানকে) "ত্রিধাতুক" বলা হত।ত্রিধাতুক চর্যায় মেলাপকধাতুর ব‍্যবহার হত না। অনেক সময় মেলাপক ও আভোগকে বাদ দিয়ে মাত্র উদগ্রাহ ও ধ্রুব এই দু'টি ধাতুতেই চর্যাগীতা গান করা হত।পদ ও তাল এই দুইটি অঙ্গযুক্ত বলে চর্যাকে বলা হত তারাবলীজাতীয় গান বা গীতি (পদতালবদ্ধত্বাদ্দ্ব‍্যঙ্গস্তারাবলীজাতীমান্) সেকথা আগেই বলেছি।*
🎺📯🎻🎺📯🎻🎺📯🎻🎺📯🎻🎺
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৬)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
  *চর্যাগীতির গঠন ও গায়নশৈলী*

*🍀এ তো গেল চর্যার গঠন ও গায়নশৈলীর কথা, কিন্তু চর্যায় যে সব রাগের ব‍্যবহার হ'ত,তাদের গঠন ও বিকাশধারার কথাও এখানে কিছুটা আলোচনা করা উচিত।প্রাচীন ভারতে রাগের গঠনপ্রকৃতি নির্ধারিত হত সাতটি স্বরসম্বন্ধ গ্রামকে নিয়ে।স্বরসম্বন্ধ গ্রাম ছিল তিনটি--,ষড়জ, গান্ধার ও মধ‍্যম।ঐ প্রচলিত রীতি বা ধারার মধ্যে এলো ক্রমে পরিবর্তন।রাগগুলির নিয়ামকরূপে বা নিয়ন্ত্রণকারীরূপে দেখা দিল মূর্ছনা। মূর্ছনার মধ্যেও সাতটি স্বরের দেখি সজ্জা বা বিকাশ।প্রতিটি গ্রামে মূর্ছনা সাতটি করে, সুতরাং তিন গ্রামের মূর্ছনা সংখ্যা একুশটি।গ্রাম তিনটি, সুতরাং মূর্ছনার সংখ্যা একুশটি (৭×৩=২১) ব'লে বিচিত্র রাগগুলিকে নিয়মিত করার রীতি মূর্ছনার সংস্থান মাধ‍্যমেই প্রচলিত হল। ক্রমে মূর্ছনার স্থান অধিকার করল "থাট" বা ঠাট শব্দ।'থাট' শব্দটির ব‍্যবহার ১৭শ শতকের গোড়াকার দিকে পন্ডিত সোমনাথের "রাগবিরোধ" গ্রন্থে পাওয়া যায়। "ঠাট" পারসিক শব্দ।এই উভয়ই অর্থই "গটন" বা কাঠামো।গ্রাম ও মূর্ছনার মত সাত স্বরের লীলায়ন থাকে থাটেও। সুতরাং ৯ম-১১শ শতকের বজ্র ও চর্যা-গানে যে ভৈরবী, গুর্জরী,বসন্ত,গুণক্রী প্রভৃতি শাস্ত্রীয় রাগের ব‍্যবহার ছিল সেগুলির একটি নির্দিষ্ট নিয়ামক (Standard) থাট অবশ্যই ছিল একথা সঙ্গীতশাস্ত্রীরা স্বীকার করেন।প্রাচীন ভারতে অর্থ‍্যাৎ খ্রীঃ শতকের গোড়ার দিকে ভারতীয় সঙ্গীতধারায় রাগের মূল-নিয়ামক বা নির্ধারক হিসাবে গ্রাম ও মূর্ছনা এই উভয়েরই প্রচলন ছিল।ভরত নাট‍্যশাস্ত্রে গ্রাম ও মূর্ছনার পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু ভরতের সময়ে (খ্রীঃ দ্বিতীয় শতকে)◆(নাট‍্যশাস্ত্রকে অনেকে খৃষ্টপূর্ব যুগে রচিত বলেন।নাট‍্যশাস্ত্র রচনা করেন ভরত)। গ্রাম ছিল মাত্র দুইটি--ষড়জ ও মধ‍্যম।নানান কারণে (সেই বিস্তৃত আলোচনা এখানে অপ্রাসঙ্গিক হবে ) গান্ধারগ্রামের প্রচলন লোপ পেল। সুতরাং গান্ধারগ্রামের সাতটি মূর্ছনার বিলুপ্তিও ঐ সঙ্গে ঘটলো।খ্রীঃ প্রথম শতকের গ্রন্থ নারদীশিক্ষায় (১ম নারদ-রচিত "শিক্ষাশাস্ত্রে") গান্ধারগ্রামের সাতটি মূর্ছনার উল্লেখ আছে।অনেকের মতে,গ্রাম ও মূর্ছনা-সঙ্কটের জন্য তখন থেকেই এক ধরণের শুদ্ধথাটের প্রচলন হ'ল, যার স্বরবিকাশ ছিল বতর্মান কালের কাফীরাগের বা থাটের স্বরসজ্জার মত।বিদ‍্যারণ‍্য মুনি-নির্দেশিত শুদ্ধথাট মুখারীর স্বররূপও অনেকটা তাই ছিল।তবে ভরতের নাট‍্যশাস্ত্রে নির্দিষ্ট কোন শুদ্ধথাটের উল্লেখ নেই।বলা যায় যে, আমাদের প্রাচীন রাগগুলিকে নিরূপণ বা নির্ধারণ করার সুবিধার জন্যই আমরা রাগ-নিয়ামক একটি শুদ্ধথাটের প্রলন মেনে নিয়েছি এবং সেদিক থেকে খ্রীঃ নবম থেকে একাদশ শতকের প্রবন্ধশ্রেণীভুক্ত বজ্র ও চর্যা গীতি দুটির নির্দিষ্ট নিয়ামক-রূপে একটি শুদ্ধথাটের অস্তিত্বও কল্পনা করা অসমীচীন নয়।তার স্বরবিকাশ ছিল বতর্মান উত্তর-ভারতীয় সঙ্গীত পদ্ধতির কাফীরাগের বা থাটের অনুযায়ী। কিন্তু বর্তমানে বিলাবলকে আমরা রাগ-নিয়ামক শুদ্ধথাট বলে স্বীকার করি। উল্লেখযোগ্য যে,এই শুদ্ধথাটরূপের বিপর্যয় বা বিবর্তনের জন্য বর্তমানে সব রাগরূপেও পরিবর্তন দেখা দিয়েছে, আর তারজন‍্য প্রাচীন রাগরূপের সঙ্গে বতর্মান বা নবীন রাগরূপের ঠিক মিল পাওয়া যায় না।*
*🍀পদাবলীকীর্তনের অন‍্যতম পটভূমিকা চর্যাগীতির আলোচনার পর অষ্টপদী বা গীতগোবিন্দপদের বিশেষ আলোচনায় আমরা রত হব। কিন্তু তার আগে "প্রবন্ধ"-বস্তুসম্বন্ধে কিছুটা ধারণা আমাদের থাকা উচিত। আগেই বলেছি যে, "পদ" অর্থে গান ছাড়াও প্রবন্ধগানের একটি অঙ্গকে বোঝায়।প্রাচীন সঙ্গীতশাস্ত্রীরা বিচিত্র প্রবন্ধগানের বিস্তৃত পরিচয় দিয়েছেন। "সঙ্গীত-রত্নাকর" গ্রন্থে প্রবন্ধের পরিচয় দিয়ে শার্ঙ্গদেব বলেছেন, প্রবন্ধ প্রধানত তিন শ্রেণীতে বিভক্ত--সূড়,আলি বা আলিসংশ্রয় ও বিপ্রকীর্ণ।অঙ্গ,তাল,ধাতু, প্রভৃতি উপাদানে প্রকৃষ্টরূপে বদ্ধ হয়ে গান প্রকাশ পেলেই তাকে "প্রবন্ধ" বলা হত। শার্ঙ্গদেব বলেছেন--"প্রবন্ধস্ত্রিবিধা সূড়স্থা আলিসংশ্রয়াঃ বিপ্রকীর্ণাশ্চি" (রত্নাকর ৪|২২-২৩)।তাছাড়া দ্বিধাতু,ত্রিধাতু ও চতুর্ধাতু ভেদে প্রবন্ধ আবার তিনরকম।প্রবন্ধের ছয়টি অঙ্গ, "প্রবন্ধোহঙ্গানি ষট্"।এই ছয়টি অঙ্গের নাম--স্বর,বিরুদ,পদ,তেনক,পাট ও তাল। "স্বর" ষড়্ জাদি সাত স্বর। "বিরুদ" অর্থে গুণ বা প্রশংসাবাচক শব্দ-- "বিরুদং গুণনাম স‍্যাৎ"। এই বিরুদ গদ‍্যে ও পদ‍্যে রচিত শৌর্য‍্য, গুণ, প্রশংসা,ধৈর্য‍্য,স্তুতিপ্রকাশক, "তেন স‍্যান্মঙ্গলার্থপ্রকাশকঃ"।বিরুদের অর্থ-সার্থকতার সঙ্গে কীর্তনের কীর্তিগাথাগান কীর্তনের অর্থের বা অর্থ-সার্থকতার অনেকটা সাদৃশ‍্য আছে।*
                    *ক্রমাগত*
🎻🎻🎻🎻🎻🎻🎺🎻🎻🎻🎻🎻🎻
*🌻"ভরত" সংজ্ঞা একটি "পদবী" ও "ভরত" পদবী বা উপাধিকারী ভরত ছিলেন প্রায় পাঁচজন।বৃদ্ধ,কোহল,দত্তিল,মতঙ্গ প্রভৃতি শাস্ত্রকারদের উপাধিও ভরত ছিল।নাট‍্যশাস্ত্রকার ভরতকে তাই "মুনিভরত" বলা হ'ত।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৭) পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
 *চর্যাগীতির গঠন ও গায়নশৈলী*

*🍀তবে প্রবন্ধাঙ্গ বিরুদ ও প্রবন্ধরূপে কীর্তন এক বস্তু নয়। "পাট" বাদ‍্যের বোল--- যেগুলি মুখে মুখে উচ্চারণ করা হত। "পাটো বাদ‍্যোক্ষারোৎকর " এবং "তাল" মাত্রার সমষ্টি ও গানের সঙ্গতির থাক।অষ্টাদশ শতকের গোড়ার দিকে ঘনশ‍্যাম-নরহরি চক্রবর্তী "ভক্তিরত্নাকর" গ্রন্থের সঙ্গীতাংশে অতি প্রাঞ্জল ভাষায় এই অঙ্গগুলির পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন--*
*🌷স্বর বিরুদ পদ তেনক পাঠ তাল।*
*🌷এই ছয় অঙ্গে গীত পরম রসাল।।*
*🌷স্বর স বি গ ম প ধা দিক নিরূপয়।*
*🌷গুণ-নাম-যুক্ত মতে বিরুদ কহয়।।*
*🌷পদ শব্দ বাচক প্রকার বহু ইথে।*
*🌷তেনা তেনাদিক শব্দ মঙ্গল নিমিত্তে।।*
*🌷পাট বাদ‍্যোদ্ভবাক্ষর ধা ধা ধিলঙ্গাদি।*
*🌷তাল চচ্চাৎপুট যত‍্যাধিক যথাবিধি।।*
*🌷এ' ষড়ঙ্গ প্রাচীন আচার্য‍্য নিরূপয়।*
*🌷বাক‍্য স্বর তাল তেনা চারি কেহ কয়।।*
*🍀প্রবন্ধগানের জাতি আছে ও সে' জাতি পাঁচটি। যেমন,*
*🌷মেদিন‍্যাথানন্দিনী স‍্যাদ্দীপনী ভাবনী তথা।*
*🌷তারাবলীতি পঞ্চ স‍্যুঃ প্রবন্ধানাঞ্চ তু জাতয়।।*
*🛑ঘনশ‍্যাম-নরহরি চক্রবর্তী লিখিত "সঙ্গীতসারসংগ্রহ" ও "গীত-চন্দ্রোদয়" গ্রন্থ দুইটিও দ্রষ্টব‍্য। লেখক কর্তৃক সম্পাদিত সংস্কৃত "সঙ্গীতসারসংগ্রহ, শ্রীরামকৃষ্ণ বেদান্ত মঠ থেকে প্রকাশিত এবং গীতচন্দ্রোদয় লেখকের 'রাগ ও রূপ' গ্রন্থের দ্বিতীয় ভাগে অন্তনির্বিষ্ট করা হয়েছে।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ মেদিনী,আনন্দিনী,দীপনী ভাবনী,ও তারাবলী এই পাঁচটি জাতি।এদের লক্ষণ নির্ণয় করতে গিয়ে রত্নাকরের টীকাকার সিংহভূপাল বলেছেন--, ষড়্ ভিরঙ্গৈরূপনিবদ্ধা মেদিনীত‍্যুচ‍্যতে ; পঞ্চভিরঙ্গৈরুপানিবদ্ধা আনন্দিনী ; চতুর্ভিরঙ্গৈরূপনিবদ্ধা দীপনী ; ত্রিভিরঙ্গৈরূপনিবদ্ধাভাবনী ; দ্বাভ‍্যামঙ্গাভ‍্যামুপনিবদ্ধা তারাবলীতি", অর্থ‍্যাৎ ছয়টি অঙ্গ প্রবন্ধের নাম মেদিনী,পাঁচ অঙ্গযুক্ত প্রবন্ধ আনন্দিনী, চার অঙ্গযুক্ত দীপনী,তিন অঙ্গযুক্ত ভাবনী ও দুটি অঙ্গযুক্ত প্রবন্ধ ছিল তারাবলীজাতি। শার্ঙ্গদেব "কেষাংচন মতে" বলে অন‍্য মতানুযায়ী শ্রুতি,নীতি,সেনা,কবিতা ও চম্পূ এই পাঁচটি জাতির নামও উল্লেখ করেছেন।এই অন‍্য মতের জাতিগুলিও মেদিনী প্রভৃতির মত সমান অঙ্গযুক্ত।শেষোক্ত চম্পূজাতি গদ‍্য ও পদ‍্যযুক্ত পদের সমজাতীয়। প্রবন্ধগান আবার নির্যুক্ত ও অনির্যুক্ত ভেদে দুরকম।অনির্যুক্ত প্রবন্ধ ছন্দ,তাল প্রভৃতির নিয়মাধীন নয়, কিন্তু নির্যুক্ত প্রবন্ধে যথারীতি ছন্দ ও তালের সমাবেশ থাকে।*
            *🛑🛑দুই🛑🛑*
            ◆◆◆◆◆◆◆
*🍀চর্যা-সম্পর্কে আরও কিছু আলোচনার প্রয়োজন, কেননা, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহের অভিমত--, "বৌদ্ধগানগুলিই (চর্যা)(অনেকে লিখেন "চর্য‍্যা", কিন্তু "চর্যা" শব্দই ঠিক )। পরবর্তীকালের মহাজন পদাবলী ও মুসলমানী মারফতী গানের পূর্বরূপ (Proto-type)। একসময়ে নাথগণের চর্যাগীতি সমস্ত ভারতে ছড়িয়ে পড়েছিল।পারস‍্য সাহিত‍্যের গজলগীতিরও পূর্বরূপ চর্যাগীতি। পরবর্তীকালে হিন্দি ভাষায় দোহা রচনা তুলসীদাস,কবীর প্রভৃতি দ্বারা উৎকর্ষ লাভ করেছিল।(বাংলা সাহিত‍্যের কথা, (প্রথম খন্ড,ঢাকা ১৯৫৩) পৃষ্ঠা--৯)। তিনি পুনরায় লিখেছেন--, আমরা দেখেছি যে,গীতগোবিন্দ, বৌদ্ধগান (চর্যা) দ্বারা প্রভাবান্বিত। আর এই গীতগোবিন্দই বৈষ্ণব পদাবলীর আদিম আদর্শ। জয়দেব স্বয়ং "পদাবলী"-শব্দ ব‍্যবহার করেছেন--*
*🌷মধুর কোমল-কান্ত-পদাবলীং,*
*🌷শৃণু তদা জয়দেবী-সরস্বতীম্।*
*পদাবলীর কবিগণের মধ্যে সর্বপ্রাচীন চন্ডীদাস ও বিদ‍্যাপতি। চন্ডীদাসের "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" (যার আদি নাম শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ) আমরা পেয়েছি।☆ ☆ বৌদ্ধগানের "শূন‍্যতা", বৈষ্ণব-পদাবলীতে "রাধা" হয়েছেন।তদ্ভিন্ন রাগ ও ভণিতা একরকমই রয়েছে।কাজেই আমরা বলতে পারি যে,বৌদ্ধগানই (চর্যা ও বজ্রগীতি)যেমন একদিকে গজলের,তেমনি অন‍্যদিকে বৈষ্ণব পদাবলীর মূল-উৎস।ভাষাতত্ত্ব ও ধর্মতত্ত্বের কথা ছেড়ে দিলেও এই দিক দিয়ে বৌদ্ধ-চর্যাগানের এক বিশেষ মূল‍্য আছে।*
*🍀চর্যা ও চর্যাগীতির ভাষা-সম্পর্কে মহামহোপাধ‍্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী অভিমত প্রকাশ করেছেন "সন্ধ‍্যাভাষা"--যা আলো-আঁধারি ভাষা, কিছু বুঝা যায়, কিছুটা বুঝা যায় না। ডক্টর বিনয়তোষ ভট্টাচার্য্য তাঁর (AN INTRODUCTION TO BUDDHIST ESOTERISM, Page--32) গ্রন্থেও অনুরূপ মন্তব‍্য করেছেন।তিনি লিখেছেন ঃ-----*
*🍀They (Vajrayani Mahaasiddhas) wrote(gitis or songs) in a language which was designated by them as the sandhyabhasa, or the twilight language, meaning these by that the contents may be explained either by the light of day, or by the darkness of night. The songs composed by the Mahasiddhas were all written in this language, which had always a hidden or a mystic meaning. (Page 35). ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তাঁর Buddhist Mystic গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন ; The original text with its Sanskrit commentary was edited by M.M Haraprasad Shastri from a unique MS.obtained from Nepal. It was published in Bengali chatacter under the title "Charyacharya-Vinishchaya" in a volume with other works entitled Banddha Gan-O-Doha by the Vangiya sahitya porishad of calcutta in 1323 B.E (-1916 A D.)*
               *ক্রমাগত*
🎷🎷🎷🎷🎷🎷🎻🎷🎷🎷🎷🎷🎷
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৮)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*চর্যাগীতির গঠন ও গায়নশৈলী*

*🍀মহামহোপাধ‍্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, চর্য‍্যা,(চর্যা) আলো-আঁধারি ভাষায় লেখা মন্তব‍্য-সম্পর্কে মহামহোপাধ‍্যায় বিধুশেখর শাস্ত্রী বলেছেন, ভাষাটি মূলে সন্ধ‍্যাভাষা নয়, পরন্তু সন্ধাভাষা (সম্ +ধা) একটি বিশেষ অভিসন্ধি বা অভিপ্রায় নিয়ে প্রয়োগ করা ভাষা, সুতরাং অশিক্ষিত লিপিকারগণের ভ্রম বা প্রমাদবশতই "সন্ধাভাষা" পরবর্তীকালে বিকৃত সন্ধ‍্যাভাষায় রূপান্তরিত হওয়া স্বাভাবিক।Vide (a)Sastri ; Sandhabhasa (in the Indian Historical Quaterly, Vol.5,1928 ; (b)Dr. P. G. Bagchi ; Sandhabhasa and Sandhavachana (in Studies in Tanra, 1939).*
*🍀মহামোহপাধ‍্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী "বৌদ্ধ গান ও দোহা"- গ্রন্থে লিখেছেন, "সহজিয়া ধর্মের সকল বইই সন্ধ‍্যাভাষায় লিখা।সন্ধ‍্যাভাষার মানে, আলো-আঁধারি ভাষা-- কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। অর্থ‍্যাৎ এই সব উচু অঙ্গের ধর্মকথার ভিতরে একটা অন‍্য ভাবের কথায় আছে (পৃষ্ঠা--৮)। ডাক্তার শশীভূষণ দাসগুপ্ত বলেছেন-- আমার মনে হয়,সন্ধাভাষা কথাটিই পরবর্তীকালে আভিপ্রায়িক অর্থ হতে অস্পষ্ট আলো-আঁধারি ভাষার একটা অর্থ গ্রহণ করেছিল এবং এই ভাবেই সন্ধ‍াভাষা সন্ধ‍্যাভাষাতে রূপান্তরিত হয়ে গিয়েছিল।(বৌদ্ধধর্ম ও চর্যাগীতি )*
*🙏একটি শুদ্ধতত্ত্ব ঃ---------*
*বৈষ্ণব-জগতের মুকুটমণি সর্বশাস্ত্র বিশারদ শ্রীপাদ শ্রীজীব গোস্বামী তৎকৃত ভক্তিসন্দর্ভে বলেছেন----*
*🌷শুদ্ধভক্তাস্ত্বেকে শ্রীগুরোঃ শ্রীশিবস‍্য চ ভগবতা,*
*🌷সহাভেদ-দৃষ্টিং তৎপ্রিয়তমত্বেনৈব মন‍্যন্তে।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ, শা‍স্ত্রে যে শ্রীগুরুদেব ও শ্রীশিবকে শ্রীভগবানের সঙ্গে অভেদ দৃষ্টিতে দেখতে বলেছেন, তৎসম্বন্ধে পরম-বিজ্ঞ মুখ‍্য মুখ‍্য শুদ্ধভক্তগণ এইরকমই বিবেচনা করেন যে, গুরুদেব ও শিব শ্রীভগবানের প্রিয়তম অর্থ‍্যাৎ পরমপ্রিয় ভক্ত বা দাস বলেই শাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণ সহ তাঁদের ঐরকম অভেদ-দৃষ্টির আদেশ করেছেন।*
*🌹এখানে কেউ কেউ "শুদ্ধভক্তাস্ত্বেকে" এই বাক‍্যে "একে" শব্দের অর্থে "কোন কোন" অর্থ ধরে "কোন কোন শুদ্ধভক্ত" এইরকম অর্থ করে থাকেন ; কিন্তু শ্রীমদ্ভাগবত দশম স্কন্ধ দ্বিতীয় অধ‍্যায় "ত্বয‍্যম্বুজাক্ষাখিলসত্ত্বধাম্নি" ইত্যাদি ৩০ দাগ শ্লোকের (অস্মৎ-সম্পাদিত শ্রীমদ্ভাগবত দ্রষ্টব‍্য) ব‍্যাখ‍্যায় শ্রীধর স্বামীপাদ "একে" শব্দের অর্থ বলেছেন "মুখ‍্যা বিবেকিনঃ" অর্থ‍্যাৎ "প্রধান প্রধান বিজ্ঞগণ"।তাহলে তদনুসারে "শুদ্ধভক্তাস্ত্বেকে" ইহার অর্থে "পরম-বিজ্ঞ মুখ‍্য মুখ‍্য শুদ্ধভক্তগণ" এইরকম অর্থই নিষ্পন্ন হয়।পরন্তু যদি "শুদ্ধভক্তাস্ত্বেকে" এই কথার অর্থে "কোন কোন শুদ্ধভক্ত" এইরকম অর্থ ধরা যায়,তাহলে তারদ্বারা ইহাই বুঝায় যে, "গুরুদেব ও শিব যে ভগবানের প্রিয়তম, এইরকম অর্থ শ্রীজীব গোস্বামীপাদের নিজের অভিপ্রেত না বলেই তিনি বলেছেন "কেউ কেউ বলে থাকেন"। কিন্তু এটি যে শ্রীজীবপাদের নিজের অভিপ্রেত না, এ কথা কদাচ বলা যায় না, যেহেতু তিনি "শুদ্ধভক্তাঃ" এই শব্দের উল্লেখ করে এটিই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, "একে" শব্দের অর্থে "কোন কোন" এই অর্থ ধরলেও, ঐ সমস্ত শুদ্ধভক্তগণের মত কদাচ বা কখনও অগ্রাহ‍্য করবার নয়, যেহেতু তিনি তাঁদেরকে "শুদ্ধভক্ত" বলে উল্লেখ করেছেন। তবে যদি তিনি "শুদ্ধভক্ত" না বলে কেবল "ভক্ত" এই কথা বলতেন, তাহলেও না হয় "একে" শব্দের অর্থে "কোন কোন" এই অর্থ ধরেও,তা যে শ্রীজীবপাদের নিজ-মত না এইরকম মন্তব‍্য প্রকাশ করা চলতে পারত। কিন্তু শুদ্ধভক্তগণের মত তো কদাচ অগ্রাহ‍্য করবার না ; সুতরাং শ্রীজীবপাদ "শুদ্ধভক্তাঃ" বলায়, সেটি যে তাঁর নিজেরও মত তাইই স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন।*
*🍀শ্রীগুরুদেব যে শ্রীকৃষ্ণের দাস, এই তত্ত্ব পরমারাধ‍্যপাদ শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীও তৎপ্রণীত বিশ্ববিশ্রুত শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত গ্রন্থে স্পষ্টভাবেই ব‍্যক্ত করে বলেছেন, যথা---*
*🌷যদ‍্যপি আমার গুরু চৈতন‍্যের দাস।*
*🌷তথাপি জানিয়ে আমি তাঁহার প্রকাশ।।*
*🍀এই সমস্ত শাস্ত্রোক্তি দ্বারা শ্রীগুরুদেবের শ্রীকৃষ্ণদাসত্ব-স্বরূপই স্পষ্টভাবে প্রকটিত হয়েছে।এই "গুরুবন্দনা" প্রবন্ধেও ইহার পরেই দ্বিতীয় দাগ পয়ারে বলেছেন---"*
*🌷মহিমায় গুরু কৃষ্ণ এক করি জান।*
*🌻এতদ্বারা এটিই ব‍্যক্ত করলেন যে,শ্রীকৃষ্ণের যেমন অপার মহিমা,শ্রীগুরুদেবকেও তদ্রূপই মহিমময় বলে জ্ঞান করবে,যেহেতু যে গুরুদেব এই সুদুস্তর ভব-সাগর পার করবার একমাত্র মূল, যাঁর কৃপা ছাড়া এই সুদুঃসহ ভব-যন্ত্রণার হাত হতে নিস্তার পাবার অন্য আর কোনও উপায় নাই,তাঁর যে কি মহামহিম তা কে বর্ণনা করতে পারে? সেইজন‍্য শাস্ত্রে বলেছেন, শ্রীগুরুদেবকে শ্রীকৃষ্ণের ন‍্যায় ভক্তি করতে হবে,তাঁকে কৃষ্ণ-স্বরূপেই দেখতে হবে ; পরন্তু "কৃষ্ণদাস-রূপ" তাঁর যে প্রকৃত-স্বরূপ বা মূলতত্ত্ব, তা স্মরণ করে তাঁর শ্রীচরণে তুলসী দিয়ে বা তাঁকে অনিবেদিত দিয়ে যেন অপরাধী হতে না হয়,তদ্বিষয়েও বিশেষ ভাবে সাবধান থাকতে হবে।শ্রীগুরুদেব নিজে নিজ-তত্ত্ব বিশেষভাবে অবগত আছেন বলে,তিনি নিজ চরণে তুলসী গ্রহণের কথা ভাবতেই পারেন না, বরং দিতে গেলে ভীত হয়ে সরে দাঁড়ান, বা তাঁর পক্ষে তেমন প্রবৃত্তি হওয়াও কদাচ বাঞ্জনীয় বা শাস্ত্রসঙ্গত নয়।*
*🌻শ্রীজগন্নাথদেবের লীলা।*

*🍀শ্রীজগন্নাথদেব ও শ্রীবলদেব প্রত‍্যেকদিন একটি পানের দোকানে গিয়ে পান নিতেন ও মুখে দিয়ে দিতেন।দোকানদার কিন্তু পয়সা চাইত না, সকলের কাছেই পয়সা নিত, কিন্তু ছদ্মবেশী জগন্নাথ ও বলরামের কাছে পয়সা চাইত না।একদিন জগন্নাথ বললেন তুমি পয়সা নেবে না কেন? তোমাকে তো পয়সা দিয়ে জিনিস কিনতে হয় তাইনা? ছদ্মবেশী দুই ভাই এত কিছু বললেন, তবুও পয়সা নিল না। তখন জগন্নাথ ও বলরামের গায়ে উত্তরীয় ছিল তা পানের দোকানদারকে দিয়ে দিলেন। দোকানদার সুন্দর উত্তরীয় পেয়ে ভীষণ আনন্দ পেল। পরদিন মন্দিরের দরজা খুলে পান্ডাগণ দেখলেন জগন্নাথ ও বলরামের উত্তরীয় নাই। দেখে পান্ডাগণ অন‍্যান‍্য পান্ডাদের জানালেন, এবং সিদ্ধান্ত হল যে, এই বিষয়টি রাজাকে জানানো দরকার। রাজাকে জানাতে গেলে রাজা বললেন যে ভাবেই হোক সেই উত্তরীয় খোঁজ করে আনতে হবে।খোঁজ করতে করতে পান্ডাগণ দেখলেন সেই পানের দোকানদারের কাছে সেই দুইটি উত্তরীয়।তখন পান্ডারা বলছেন তোর এতবড় স্পর্ধা যে তুই মন্দির থেকে উত্তরীয় চুরি করে এনেছিস? এই কথা শুনে পানের দোকানদার বলল, না আমি উত্তরীয় চুরি করিনি, রোজ দুইভাই, দেখতে খুবই সুন্দর, যখন আমি তাদের দিকে দেখতাম সবকিছুই ভুলে যেতাম। তখন দুইভাই আমার কাছে পান চাইতেন, আমি সুন্দর করে দুই খিলি দিতাম কিন্তু পয়সা নিতাম না, ঐ দুই ভাই আমাকে এই দুটি উত্তরীয় দিয়ে গিয়েছেন। এই কথা শুনে সকলেই অবাক হলেন, শোনা যায়, সেই উত্তরীয় অদ‍্যাবধি সেই পরিবারে আছে।*
*(১৩৭৬, পৃঃ--১৩২)। ডক্টর সুকুমার সেন বলেন,কতকগুলি চর্যাগীতিতে তত্ত্ব-উপদেশ ও সাধনার ইঙ্গিত সম্পূর্ণভাবে গোপন রাখা হয়েছে বাহ‍্য অর্থের ঢাকনায়।এই ধরণের চর্যায় এমন শব্দ ও উপমা-উৎপ্রেক্ষা (অর্থালঙ্কার বিশেষ, এতে উপমেয়কে উপমান বলে কল্পনা করা হয়)ব‍্যবহার করা হয়েছে যার দুটি অর্থ একটি অর্থ--- সাধারণের ভাষা,অন‍্য অর্থ-- চর্যাকর্তাদেরসিধনার পারিভাষিক, যেন তাঁদেরই প্রাইভেট কোড্।এইরকম দ্ব‍্যর্থ শব্দ ও প্রকাশরীতিতে সরহের দোহাকোষের "পঞ্জিকা"-কার অদ্বয়বজ্র এবং চর্যগীতিকোষের বৃত্তিকার মুনিদত্ত বলেছেন সন্ধ‍্যাভাষা (সন্ধাভাষা),সন্ধ‍্যাভাষা,সন্ধ‍্যাবচন, সন্ধ‍্যাসঙ্কেত,অথবা শুধু সন্ধ‍্যা। ডক্টর সুকুমার সেন,মহামোহপাধ‍্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মন্তব‍্য খন্ডন করে লিখেছেন, "একথা ঠিক নয়।সন্ধ‍্যা (সন্ধা)ভাষার কৌন সম্পর্ক নাই দিবারাত্রির মোহানার সঙ্গে।☆ ☆ যে ভাষার বা শব্দের অভীষ্ট অর্থ অনুধ‍্যান করে অর্থ‍্যাৎ মর্মজ্ঞ হয়ে বুঝতে হয়, অথবা যে ভাষার শব্দের অর্থ বিশেষভাবে নির্দিষ্ট, তাইই সন্ধ‍্যা (সন্ধা) ভাষা।(চর্যাগীতি-পদাবলী (১৯৫৬), পৃঃ ২৩-২৪)।অধ‍্যাপক তারাপদ মুখোপাধ‍্যায় আর একটু সুচিন্তিত ভাবে বিচার করে বলেছেন, "তান্ত্রিক বৌদ্ধ যোগীদের সাধনপদ্ধতি গুহ‍্য ব‍্যাপার।সাধনার এই গুহ‍্যত্ব বজায় রাখবার উদ্দেশ্যে তাঁরা কতগুলি কায়িক এবং বাচনিক সঙ্কেত সৃষ্টি করেছিলেন।☆ ☆ এই সঙ্কেতের তাৎপর্য‍্য কেবলমাত্র যোগীদেরই বোধগম্য ছিল।☆ ☆ হেবজ্রব‍্যাখ‍্যা বিবরণে আরও বলা হয়েছে,চর্যাবত যোগী যখন পীঠ এবং ক্ষেত্রে যোগিনীর সন্ধানে ঘুরে বেড়াবে তখন কায়িক সঙ্কেতের দ্বারাই যোগিনীর সঙ্গে ভাবের আদান-প্রদান করবে।(চর্যাগীতি, বিশ্বভারতী-১৯৫৬, পৃঃ ৩৮)।হেবজ্রতন্ত্র গ্রন্থের প্রথম খন্ডের সপ্তম পটলে ও দ্বিতীয় খন্ডের তৃতীয় পটলে বিভিন্ন অঙ্গুলি ও দৃষ্টি-সঙ্কেতের প্রকাশই ছোম্বা বা কায়িক সঙ্কেত।এই সঙ্কেত বা ভাষার রহস‍্য শ্রাবকরাই(শ্রবণকারীরাই) ভেদ করতে পারত।(ঐ) পৃষ্ঠা।*
*🍀এখানে উল্লেখযোগ্য যে,বৌদ্ধতন্ত্রের মত হিন্ধুতন্ত্রেও সাংকেতিক ও দ্ব‍্যর্থ ভাষার প্রচলন ছিল। কৌলোপনিষদে "প্রাকট‍্যং ন কুর্যাৎ"(২৭) "আত্মরহস‍্যং ন বদেৎ (৩১) "গুপ্তা কুলবধূরিব", "পীত্বা পীত্বা পুন পীত্বা যাবৎ পততি ভূতলে" প্রভৃতি।পরশুরামকল্পসূত্রে এদের দুটি অর্থের বিশ্লেষণ আছে।🍀চর্যার অর্থ আচার বা আচরণ।এগুলি গান করা হত।* "*কৌলজ্ঞাননির্ণয়" গ্রন্থে যে চর্যার উল্লেখ আছে, "শৃণু ত্বং বীরচামুন্ডে পাত্রাণাং চর্য‍্যলক্ষণম্"(১২|৩)--এর অর্থ রহস‍্যমূলক আচরণ (mystic practice)। চর্যাকে তাই গেয় গাথা বা সাহিত্য বলা যায়। চর্যাগীতিগুলি একই সময়ে রচিত হয়নি।বহুকাল ধরে এগুলি মুখে মুখে প্রচলিত ছিল ও গান করা হত। বৈষ্ণবপদাবলীর মতচর্যাগীতিতে ভণিতা আছে ও কবির নাম ভণিতায় উল্লিখিত।গান বা গীতিগুলি অধ‍্যাত্ম-সহজসাধনার অঙ্গরূপে ব‍্যবহৃত হত এবং সে গানগুলি ছিল গুপ্তসাধনার জন্য অভিপ্রেত এবং বৌদ্ধ-অধ‍্যাত্মসাধনার উদ্বোধক ও পথনির্দেশক। "কৌলজ্ঞাননির্ণয়" গ্রন্থের অন্তর্গত অকুলবীরতন্ত্রে বজ্রযোগও সহজানন্দ-রূপ সামরস‍্য বা মুক্তির কথা আছে।*
               *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৯) পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*চর্যাগীতির গঠন ও গায়নশৈলী*

*🌷সর্বজ্ঞং সর্বমাসৃত‍্য সর্বতো হিতলক্ষণম্।*
☆ ☆ ☆
*🌷ভাবাভাববিনির্মুক্ত উদয়াস্তমনবর্জিতঃ।*
*🌷স্বভাবমতিমতং শান্তং মনো যস‍্য মনোময়ম্।।১১-১৪*
*🌻যখন সাধক সহজ-সাধনায় কৃতকার্য‍্য হন, তখন তাঁর অবস্থা হয়---*
*🌷কার্যকারণনির্মুক্তমচিন্ত‍্যকমনাময়ম্।*
*🌷মায়াতীতং নিরালম্বং ব‍্যাপকং সর্বতোমুখম্।।*
*🌷সমত্বঞ্চ একভূতঞ্চ ☆ ☆ ☆* *৩৩-৩৪।*
*🌻বৌদ্ধ-বজ্রযানী সাধকরা চর্যাগীতির ব‍্যবহার করতেন তাঁদের অধ‍্যাত্মসাধনার অনুকূলে এবং সাধকরা প্রভাস্বর মহাসুখময় সহজানন্দকে লাভ করে কৃতকৃতার্থ হতেন।অকুরবীরতন্ত্রে (বৌদ্ধ-বজ্রযানীদের তন্ত্র) এই সহজানন্দের বর্ণনা এইরকম---*
*🌷দগ্ধবীজস‍্য সংভূতির্যথা নৈব প্রপদ‍্যতে।।*
*🌷মূলচ্ছিন্নো যথা বৃক্ষঃ প্ররোহন্নৈব বিদ‍্যতে।*
*🌷অকুলবীরস‍্য বৈ তদ্বদন পুনর্ভববন্ধনম্।।৮৩-৮৪*
*🌻সহজকামী বৌদ্ধসাধকগণ ভব বা অস্তিত্ব (বাসনা)ও নির্বাণ বা অনস্তিত্বের (নির্বাসনা)পারে-- ইতি ও নেতির পারে অবধূতিকা পথে উর্ধে স্থিত হয়ে অদ্বয় বোধিচিত্ত বা সহজানন্দ-রূপ মহাসুখ লাভ করেন।*
*🌺চর্যাগীতির অনুশীলনের সঙ্গে সঙ্গে চর্যা-রচয়িতা বৌদ্ধ তান্ত্রিক আচার্য‍্যদের সাধনতত্ত্ব ও অনুভূতিতত্ত্বের কিছুটা অনুশীলন করা দরকার, কেননা চর্যাগীতি যেমন ভাবসিদ্ধ অনুভূতির দ্বারা প্রদীপ্ত,চর্যার ভাবধারায় অনুপ্রাণিত বৈষ্ণব-পদাবলীগুলিও তেমনি অনুভূতিরসে নিবিড়ভাবে সিক্ত।চর্যাগীতি মন্ত্রশক্তির বজ্রযানী সাধকদের চিত্তকে সংযত ও জ্ঞানলাভের পথে প্রবুদ্ধ(জ্ঞানপ্রাপ্ত) করত।অবধূতিকা-পথে চর্যা ছিল প্রেরণাদানের উৎস স্বরূপ।*
*♻এক্ষণে দেখা যাক,বজ্রযানী বৌদ্ধ-সিদ্ধসাধকগণের সাধনতত্ত্বের রূপ কি ছিল--,যে রূপকে গ্রহণ ও অনুভব করে তাঁরা সহজানন্দ লাভ করতেন। বাংলাদেশে বৌদ্ধধর্মের বিস্তৃতি ঘটে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীতে এবং চর্যাকারগণ সকলেই ছিলেন সহজিয়া-সাধক।সহজিয়া বৌদ্ধধর্মের বিকাশ মহাযান-ধর্মমত থেকে। মহাযান মতে, শূন‍্যতার সঙ্গে মহাকরুণার মিলন অবিচ্ছেদ‍্যভাবে।করুণার বিশুদ্ধির জন্যই শূন‍্যতার সার্থকতা ও সেজন‍্য চর্যাগানগুলিতে বা তান্ত্রিক দোহাগীতিগুলিতে করুণার স্পর্শ পাই আমরা বিশেষভাবে।মহাযানীদের মধ্যে যারা আবার মন্ত্রনয়ের উপর বিশ্বাসী ছিলেন,তাঁরা মুদ্রা,মন্ডল,মন্ত্র,যন্ত্র, ধারণী প্রভৃতির প্রচলন করে তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মকে বজ্রযান রূপে রূপায়িত করেন।"বজ্র" শব্দের অর্থ "শূন‍্যতা" ও সেজন‍্য বজ্রযানের মূল অর্থ "শূন‍্যতাযান"।তাই বজ্রযানের পূজাবিধি,মন্ত্র,দেবদেবী,সাধনতত্ত্ব ও সাধনসামগ্রী সমস্তই বজ্রচিহ্নিত ছিল।নেপালে বজ্রযান থেকে ক্রমশঃ কালচক্রযানের উদ্ভব হল।কালচক্রযানের সাধনবৈশিষ্ট‍্য হল শ্বাসপ্রশ্বাসধারার উপর আধিপত্য করা ও শ্বাসপ্রশ্বাসকে নিরুদ্ধ আবদ্ধ করে কালচক্রকে অতিক্রম করা।সহজযানী সাধকরা বজ্রযানী ও কালচক্রযানীদেরই সমন্বিত রূপ।সহজযানী তান্ত্রিক বৌদ্ধাচার্য‍্যের সাধ‍্য ও সাধন উভয়ই ছিল 'সহজ' এবং এই 'সহজ'-স্বরূপই চিরপরিবর্তনের মধ্যে এক অপরিবর্তনীয় অদ্বয় রূপ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এবং এই অদ্দয়রূপে আসীন হওয়ার নামই মহাসুখ বা সহজানন্দ লাভ।(এ'সম্বন্ধে বিস্তৃত আলোচনা ডক্টর বিনয়তোষ ভট্টাচার্য্য লিখিত Buddhist Esoterism, chapt. 111, (2)মহামহোপাধ‍্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী লিখিত "অদ্বয়বজ্রর্সগ্রহ" গ্রন্থের Introduction এবং (3) ডক্টর শশীভূষণ দাসগুপ্ত লিখিত "বৌদ্ধধর্ম ও চর্যাগীতি দ্রষ্টব‍্য)।*
*♻বৌদ্ধ-সহজিয়া বা বৌদ্ধসহজযান মতাবলম্বীদের মহাসুখতত্ত্ব সম্পর্কে মহামোহপ‍াধ‍্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী লিখেছেন--, ☆ ☆ Sunyavada of Nagarjuna was supplemented by that of the Vijnanavada of Maitrcya, but to some minds there is little difference between the two. ☆ ☆ So another idea was thought in. And that is the idea of Mahasukha. * * But what is Mahasukha? It is a result of the union of two principles, existence in one priciple and the existence is another principle, but they are one and the same, * * The Bodhi is pleasure, because without pleasure there is no Bodhi ।*
                *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/podaboli2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২০)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
 *চর্যাগীতির গঠন ও গায়নশৈলী*

*🌳ডক্টর বিনয়তোষ ভট্টাচার্য্য "গুহ‍্যসমাজতন্ত্র" বা তথাগত গুহ‍‍্যকতন্ত্রের ইংরেজি ভূমিকাও তান্ত্রিক বৌদ্ধ-দেবদেবী ও পূজাবিধির উল্লেখ করেছেন।"গুহ‍্যসমাজতন্ত্রের" সম্ভবত খ্রীঃ তৃতীয় শতকে আচার্য‍্য অসঙ্গ রচনা করেন।গুহ‍্যসমাজতন্ত্রের পূর্বে খ্রীঃ দ্বিতীয় শতকে "মঞ্জুশ্রীমূলকল্প" নামে তান্ত্রিক গ্রন্থ লিখিত হয় এবং "জ্ঞানসিদ্ধি" গ্রন্থকার ইন্দ্রভূতি ঐ দুটি তন্ত্রের নাম উল্লেখ করেছেন।গুহ‍্যসমাজতন্ত্রের রচয়িতা অসঙ্গ যোগাচারী ছিলেন এবং সম্ভবত এই অসঙ্গ "পারমিতা-সাধনা"র প্রবর্তক অসঙ্গ থেকে ভিন্ন ব‍্যক্তি।অবশ‍্য এটি নিয়ে মতভেদ আছে।তবে বজ্রযানী সাধকদের মধ্যে পঞ্চধ‍্যানীবুদ্ধ ও বুদ্ধশক্তি এবং ধারণী, মন্ডল,মন্ত্র প্রভৃতির প্রবর্তন করে বিশেষভাবে গুহ‍্যসমাজতন্ত্র।শুদ্ধচিত্ত বৌদ্ধযোগীরা মন্ত্রে মন নিবিষ্ট করেন ও তখনই সমগ্র বিশ্বপ্রপঞ্চ সংবৃতি বা মায়ায় পরিণত হয় ও মনের বা চিত্তের বা বোধির তখন স্থিতি হয় অদ্বয়তত্ত্বে। তখন বাহ‍্য ও অন্তর বিশুদ্ধতা-রূপ অদ্বয়তত্ত্বে ও সত‍্যে প্রজ্ঞা ও উপায়ের (শিব ও শক্তির বা বিন্দু ও নাদের) লয় হয় সিদ্ধযোগী 'মহাসুখ' উপলব্ধি করেন।(Introduction to Advayavaja-samgraha, pp.XXXI I--XXX I I I.)।*
*🍀ডক্টর বিনয়তোষ ভট্টাচার্য্য বৌদ্ধধর্মের বিকাশ-সম্পর্কে বলেছেন, যোগাচারী বৌদ্ধরা মাধ‍্যমিকদের শূন‍্যতার সত্তাকে বাদ না দিয়ে শূন‍্যতার সঙ্গে বিজ্ঞানের সহচারিতা স্বীকার করেন।তখন মাধ‍্যমিকদের 'শূন‍্যতা' সত্তাসম্পন্ন 'তথতা'-য় রূপান্তরিত হয়।*
*সুতরাং যোগাচারের পাশাপাশি মহাসুখবাদের অভ‍্যুত্থান হয় ও নাম গ্রহণ করে,বজ্রযান বা "the ament-vehicle"।বজ্রযানের মধ্যে নির্বাণ রূপ পেল শূন‍্য, বিজ্ঞান ও মহাসুখ এই ত্রিতত্ত্বের রূপ নিয়ে এবং এই ত্রিতত্ত্বকেই বজ্রযানীরা নাম দিলেন "বজ্র" নামে,কেননা এই বজ্রের রূপ ও প্রকৃতি স্থির,অবিনশ্বর ও অচ্ছেদ‍্য।*
*🌷দৃঢ়ং সারমসৌশীর্ষমচ্ছেদ‍্যাভেদ‍্যলক্ষণম্।*
*🌷অনাদি অবিনাশী চ শূন‍্যতা বজ্রমুচ‍্যতে।।*
*(অদ্বয়বজ্রসংগ্রহে পঞ্চতথাগতমুদ্রা বিবরণম, বরোদা সং,পৃঃ ২৩)।*
*🍀বজ্রযানী বৌদ্ধসাধকরা কল্পনা করলেন শূন‍্যই নৈরাত্মাদেবী-- যাঁর অনন্ত গর্ভে ব‍্যষ্টিচিত্ত-রূপ বোধিচিত্ত বা বিজ্ঞানের বিকাশ অক্ষুন্ন থাকে।ক্রমে তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মরূপ বজ্রযানের মধ্যে পঞ্চ ধ‍্যানীবুদ্ধ বৈরোচন, রত্নসম্ভব,অমিতাভ,অমোঘসিদ্ধি ও অক্ষোভ‍্যের কল্পনা হল।(পঞ্চ ধ‍্যানীবুদ্ধের বিস্তৃত ব‍্যাখ‍্যা ডক্টর শশিশেখর দাসগুপ্তের "বৌদ্ধধর্ম ও চর্যাগীতি" পৃঃ ৬২-৬৬ দ্রষ্টব‍্য)।*
*🍀সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টি হল দেহশুদ্ধি,কায়া বা কায়া-সাধনের তত্ত্ব,কেননা তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মে দেহের মধ্যে পঞ্চ স্কন্ধাত্মক পাঁচটি নাড়ী ও পাঁচটি তথাগত বা ধ‍্যানীবুদ্ধের কল্পনার সংক্রমণ অপরিহার্য‍্য হল।তাই একটি চর্যাগীতিতেও উল্লেখ দেখি----*
*🌷 পঞ্চ তথাগত কিঅ কেড়ুআল।*
*🌷বাহঅ কাঅ কাহ্নিল মাআজাল।*
  ☆ ☆ ☆
*🌷চিঅ কণ্ণহার সুণত মাঙ্গে।*
*🌷চলিল কাহ্ন মহাসুখ সাঙ্গে।।*
*🍀ধ‍্যানীবুদ্ধগণের সঙ্গে পঞ্চশক্তিরও কল্পনা করা হয়েছিল তান্ত্রিক বৌদ্ধসাধনায়। মোটকথা সহজিয়া-সাধনায় সমরস বা সামরস‍্য-রূপ সহজানন্দ লাভ করাই ছিল বৌদ্ধ-চর্যারচয়িতা সহজ-সাধকদের উদ্দেশ্য। সরহপাদ একটি দোঁহাতে বলেছেন---*
*🌷সঙ্কপাস তোড়হ গুরুবঅণেঁ।*
*🌷 ণ্ণ সুনই সোণউ দীসই ন অণেঁ।।*
  ☆ ☆ ☆
*🌷ণউ বট্টই ণ তনুন্তে ণ বজ্জই।*
*🌷 সমরস সহজাণন্দ জাণিজ্জই।।*
*🍀সহজই সহজানন্দ এবং সহজকে উপলব্ধি করতে পারলেই নির্বিকল্প পরমানন্দ লাভ হয়।পরমানন্দস্বরূপ সহজানন্দ অদৃশ্য,অস্পৃশ‍্য,অদাহ‍্য, আক্লেদ‍্য যেভাবে আত্মার স্বরূপ নির্ণীত হয়েছে শ্রীমদ্ভাগবতগীতায়। বৌদ্ধগান ও দোহা-গ্রন্থে শাস্ত্রী মহাশয় লিখেছেন, "সহজধর্মে বাচ‍্য নাই,বাচক নাই এবং এদের সম্বন্ধও নাই। যে যে উপায়ে মুক্তির উপায় করুক না কেন,সবই শূন‍্যরূপ, অর্থ‍্যাৎ ভব ও নির্বাণে কোন ভেদ নাই, দুই এক সুতরাং সহজিয়ারা অদ্বয়বাদী (পৃঃ ৮)।এই সহজ বা সহজানন্দকে বৌদ্ধতন্ত্রে মহাসুখ নৈরাত্মা বলা হয়েছে এবং "জ্ঞানসিদ্ধি"-গ্রন্থের সপ্তম পরিচ্ছেদে এইমহাসুখবাদের বিশেষ পরিচয় দেওয়া হয়েছে। (Vide Two Vajrayana Works, G.O.S, No. XL IV,p.57, and vide also Advayavayaja, p. XXXVlll.)।*
*অবশ‍্য সুত্তনিপাতে, ধর্মপদে, অঙ্গুত্তর নিকায়ে নির্বাণ বা নির্বাণকেই "পরমসুখ" বা সহজানন্দবলে বর্ণনা করা হয়েছে --নির্ব্বাণং পরমং সুখম্।*
                  *ক্রমাগত*

*🌻তত্ত্বকথন,কৃষ্ণতত্ত্ব,১১০ ও ৪২৯*

*🍀শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পাই--*
*🌷কৃষ্ণের যে সাধারণ সদ্ গুণ পঞ্চাশ।*
*🌷সেই সব গুণ তাঁর শরীরে নিবাস।।*
*🌻ভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থে শ্রীপাদ রূপগোস্বামী বলেন, শ্রীকৃষ্ণের অনন্ত গুণের মধ্যে যে পঞ্চাশটি প্রধান গুণের কথা জানিয়েছেন, সেগুলো হল--,সুরম‍্যদেহ,সুলক্ষণযুক্ত, রুচিশীল,তেজস্বী,বলীয়ান, কৈশোর-বয়োযুক্ত, বিবিধ-অদ্ভুত-ভাষাবিদ্, সত‍্যবাক্, প্রিয়ংবদ বা প্রিয়ভাষক,বাবদূক (শ্রবণপ্রিয় ও অখিল গুণান্বিত বাক‍্য প্রয়োগে পটু), সুপন্ডিত,বুদ্ধিমান, প্রতিভান্বিত,বিদগ্ধ, চতুর,দক্ষ,কৃতজ্ঞ, সুদৃঢ়ব্রত,দেশকালপাত্রজ্ঞ, শাস্ত্রচক্ষু (যিনি শাস্ত্রানুসারে কর্ম করেন),শুচি, বশী (জিতেন্দ্রিয়),স্থির,দান্ত, (যিনি নিজ রিপুকে দমন করেছেন), ক্ষমাশীল, গম্ভীর,ধৃতিমান (ধৈর্য‍্যশালী),সম,বদান‍্য,ধার্মিক,শূর (বলবান্),করুণ,মান‍্যমানকৃৎ, দক্ষিণ, বিনয়ী,হ্রীমান (লজ্জাশীল), শরণাগত-পালক,সুখী, ভক্তসুহৃৎ, প্রেমবশ‍্য,সর্বশুভঙ্কর,প্রতাপী, কীর্তিমান,রক্তলোক (লোকের অনুরাগ-ভাজন), সাধু-সমাশ্রয়,নারীগণ-মনোহারী, সর্বারাধ‍্য,সমৃদ্ধিমান, বরীয়ান ও ঈশ্বর।*
*🌻শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পাই---*
*🌷 সর্ব মহাগুণগণ বৈষ্ণব-শরীরে।*
*🌷কৃষ্ণভক্তে কৃষ্ণের গুণ সকল সঞ্চারে।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের অনন্ত গুণের মধ্যে ৬৪টি প্রধান।এই ৬৪টি গুণের সবগুলিই কৃষ্ণভক্তে সঞ্চারিত হয় না।ভক্তিরসামৃতসিন্ধু মতে ৬৪ গুণের মধ্যে মাত্র ২৯টি গুণ কৃষ্ণভক্তে লক্ষ্য করা যায়। সেগুলি হল--, সত‍্যবাক‍্য, প্রিয়ম্বদ, বাবদূক (মধুর বাক‍্যপ্রয়োগে পটু),সুপন্ডিত,বুদ্ধিমান, প্রতিভান্বিত, বিদগ্ধ, চতুর,দক্ষ,কৃতজ্ঞ,সুদৃঢ়ব্রত, দেশকাল সুপাত্রজ্ঞ, শাস্ত্রচক্ষু, শুচি,বশী (জিতেন্দ্রিয়),স্থির, দান্ত, ক্ষমাশীল, গম্ভীর,ধৃতিমান,সম, বদান‍্য (দাতা), ধার্মিক,শূর (অস্ত্র প্রয়োগে দক্ষ),করুণ,মান‍্যমানকৃৎ (গুরু-ব্রাহ্মণে শ্রদ্ধা),দক্ষিণ (সৎস্বভাব গুণে কোমল চরিত্র ), বিনয়ী এবং হ্রীমান (লজ্জাযুক্ত)।*
*🌻শ্রীমদ্ভাগবতে পাই----*
*🌷যস‍্যাস্তি ভক্তির্ভগবত‍্যকিঞ্চনা সর্বৈর্গুণৈস্তত্র সমাসতে সুরাঃ।*
*🌷হরাবভক্তস‍্য কুতো মহদ্ গুণা মনোরথেনাসতি ধাবতো বহিঃ।।*

*🍀অন্বয়= ভগবতি যস‍্য অকিঞ্চনা ভক্তিঃ (ভগবানে যাঁর নিষ্কামা ভক্তি আছে ); তত্র সর্বৈঃ গুণৈঃ সুরাঃ সমাসতে (তাঁতে সেই ব‍্যক্তির মধ্যে সমস্ত গুণের সহিত দেবগণ নিত‍্য বাস করেন) ; মনোরথেন বহিঃ (মনোরথ দ্বারা বাইরের) ; অসতি ধাবতঃ (অনিত‍্য বিষয়-সুখের দিকে ধাবমান) ; হরৌ (হরিতে) ; অভক্তস‍্য মহদ্ গুণাঃ কুতঃ (অভক্ত ব‍্যক্তির মহদ্ গুণগুলি কোথা হতে আসবে?)।*
*🌻শ্রীভগবানে যাঁর নিষ্কামা ভক্তি আছে,সমস্ত গুণের সঙ্গে সকল দেবগণ তাঁর মধ্যে নিত‍্য বাস করেন। আর যে ব‍্যক্তির হরিতে বা ভগবানে ভক্তি নাই,তার মহদ্ গুণ সব কোথায়? যেহেতু, সে ব‍্যক্তি সর্বদা মনোরথের দ্বারা অসৎপথে অনিত‍্য বিষয় সুখাদিতে ধাবিত হয়।*
              👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০১)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (দ্বিতীয় খন্ড)*
    *ব্রজধামের চার সিদ্ধ বাবা*
    ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀আমরা যারা ব্রজধামে যাই তারা সকলেই প্রায় প্রধান বৃন্দাবনের বিশিষ্ট মন্দির এবং ষড়গোস্বামীর সৃষ্ট দেবদেবীর মন্দিরগুলি দর্শন করি। কিন্তু এছাড়াও বতর্মানের বৃন্দাবনের যাঁরা স্থায়ী বৈষ্ণব এবং ভক্তসমাজ আছেন তাঁরা কিন্তু ব্রজের চার সিদ্ধবাবার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধ‍্যার্ঘ নিবেদন করেন এবং এই চার সাদ্ধ বাবার নাম হচ্ছে--,*
*🌷কাম‍্যবনের সিদ্ধ জয়কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজ, গোবর্দ্ধনের সিদ্ধ কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজ, রণবাড়ীর সিদ্ধ কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজ এবং সূর্য‍্যকুন্ডের সিদ্ধ মধুসূদনদাস বাবাজী মহারাজ।*
*🌸এই চার মহাত্মার মধ্যে কাম‍্যবনের সিদ্ধ জয়কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজই সর্বজ‍্যেষ্ঠ এবং তৎপরে গোবর্দ্ধনের সিদ্ধবাবা এবং তারপরে রণবাড়ীর সিদ্ধবাবা এবং সর্ব কনিষ্ঠ সূর্য‍্যকুন্ডের সিদ্ধবাবা। এই চার মহাত্মার ভজন এবং তাঁরা কিভাবে শ্রীরাধারাণীর কৃপা পেয়েছিলেন সে এক বিরাট কাহিনী, সেজন‍্য অধমের মনের বাসনা এই চার সিদ্ধবাবার সাধন ভজনের কাহিনী ভক্তসমাজে প্রচার করে এবং সেজন‍্য চার মহাত্মার ভজন কাহিনী পৃথক পৃথক ভাবে প্রকাশ করা।যাতে ভক্তবৃন্দ যাঁরা বৃন্দাবনধামে যান তাঁরা তা দর্শন করতে পারেন।*
*🌻কাম‍্যবনের সিদ্ধ জয়কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজ।*
*🍀এই সিদ্ধ বাবার পূর্বাশ্রমের কোন পরিচয় জানা যায় না, শুধুমাত্র গঙ্গামাতা পরিবার ছাড়া।তিনি বৃন্দাদেবী কর্তৃক স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে কাম‍্যবনে ভজনে রত হন।যার অর্থ এই যে, সর্বপ্রথমেই স্বপ্নের মাধ‍্যমে কৃপা প্রাপ্ত হন।এইভাবে কাম‍্যবনের অন্তর্গত বিচ্চেলীবাস নামক এক জায়গায় সাধন-ভজনের উদ্দেশ্যে স্থায়ী হন।এমত সময়ে নিত‍্যানন্দ বংশাত্মজ নবকিশোর গোস্বামী নামক এক ভজনীয়া মাহাত্ম্য সেই কাম‍্যবনে আগমন করেন, এবং সঙ্গে তাঁরই সেবিত মদনমোহন বিগ্রহকে সঙ্গে আনেন।কিছুদিন বাদে তিনি যখন কাম‍্যবন ত‍্যাগের সঙ্কল্প করেন তখন স্বপ্নের মাধ‍্যমে সেই মদনমোহন বিগ্রহ তাঁকে বলেন যা গ্রন্থের ভাষায় এইরকম---*
*🌷তোমার সেবায় তুষ্ট হইল মোর মন।*
*🌷এবে বাবাজীর সেবা করিব গ্রহণ।।*
*🌷এথায় রাখিয়া মোরে করহ গমন।*
*🌷এই স্থান ত‍্যজিতে নাহি চাহে মোর মন।।*
*🌻এইরকম স্বপ্নাদেশের পর সেই নবকিশোর গোস্বামী মহাশয় সিদ্ধবাবার হাতে সেই সেবা অর্পণ করে গমন করেন, এবং তদবধি (সেই অবধি) সেই মদনমোহন বিগ্রহ জয়কৃষ্ণদাস বাবাজীর সেবাপ্রাপ্ত হতে থাকেন। এখানে দেখুন সর্বপ্রথম বৃন্দাদেবী তাঁকে কাম‍্যবনে ভজনের স্বপ্নাদেশ করেন এবং তার পরে এই মদনমোহন বিগ্রহের সেবা কৃপা লাভ করেন।তাঁর ভজন নিষ্ঠা এমনই ছিল যে তা শুনিলে বিস্ময়ে হতকাক হতে হয়, যা গ্রন্থের ভাষায় আপনারা কিঞ্চিৎ আস্বাদন করুন---*
*🌷অপূর্ব বাবার গুণ শুন সর্বজন।*
*🌷শুনিলে ভগবদ্ কথা প্রেমাবিষ্ট হন।।*
*🌷কভু হাসে কভু নাচে হুঙ্কার গর্জন।*
*🌷প্রেমে মস্তকের শিখা হয়ত উদ্দাম।।*
*🌷হুঙ্কারে কুটির ছাদ বিদীর্ণ হইল।*
*🌷সকলে হেরিয়া তাহা ধন‍্য ধন‍্য কৈল।।*
*🌺সিদ্ধবাবা ভজনানন্দে দিন কাটান এবং দেহধারণের জন্য একবার মাত্র মাধুকরী ভিক্ষায় বাহির হতেন।এমত সময়ে একদিন ভরতপুরের মহারাজা তাঁর নিষ্ঠার কথা শুনে আকৃষ্ট হয়ে তাঁকে দর্শন করতে আসেন, এবং তখন বাবা ভিক্ষায় বাইরে ছিলেন। ভরতপুরের মহারাজা দীনভাবে তাঁর কুটিরের সামনে বসে আছেন, এমন সময়ে বাবা হঠাৎ চিৎকার করে বলতে থাকেন যে, তাঁর কুঠিয়ায় আগুন লেগেছে এবং সেইকথা শুনে গ্রামবাসীগণ ছুটে এসে দেখেন যে আগুনের কোন চিহ্নই নাই এবং তার-পরিবর্তে ভরতপুরের মহারাজকে ঐ অবস্থায় সেখানে দেখেন।তখন গ্রামবাসীগণ ভীত সন্ত্রস্তভাবে মহারাজের কাছে গিয়ে বললেন, যে মহারাজ বাবা রাজদর্শন করতে চান না এবং তিনি যেন কৃপা করে সরে যান।মনক্ষুন্ন হয়ে মহারাজ বিষন্ন মনে স্থান ত‍্যাগ করলেন।(অনেকটা মহারাজা প্রতাপরুদ্রের সঙ্গে শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভুর দর্শন কাহিনী অনুরূপ)।মহারাজার মনে যে কিরকম দুঃখ হতে পারে তা ভক্তপাঠকগণ সহজেই অনুমান করতে পারেন।অতঃপর মহারাজ চলে গেলে সেই জায়গা গোময় জলে শুদ্ধ করে বাবা তাঁর কুটিরে প্রবেশ করেন।*
*ভজনের কৃপা ধীরে ধীরে বর্ষিত হয়।এমত সময়ে রাখাল বালকগণ প্রায়ই বারার কঠিয়ার নিকট আগমন করে খাবার জল চাহিত এবং বাবা তাতে ভীষণ বিরক্ত হতেন।অবশেষে স্থান ত‍্যাগের সঙ্কল্প করেন।কিন্তু গ্রামবাসীদের চরম অনুরোধে সেই সিদ্ধান্ত ত‍্যাগ করেন।অবশেষে আবার একদিন সেই রাখাল বালকগণ বাবার কুঠিরের কাছে এসে তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে গেছে বলে জল পান করতে চেয়ে ভীষণ ব‍্যতিব‍্যস্ত করতে লাগল এবং হিন্দি ভাষায় বাবাকে যা তা বলতে লাগল,যাতে বাবা বাইরে এসে তাদের তাড়া দেন এবং জল দেন। অবশেষে বাবা বিরক্ত হয়ে হাতে লাঠি নিয়ে বাইরে এসে দেখেন যে অসংখ্য অর্থ‍্যাৎ হাজার হাজার গোবৎসগণ তাঁর কুঠিয়ার চারিদিকে বিচরণ করছে, যা ঐ অঞ্চলের অন‍্য সময় দেখা যায় না, এবং তদুপরি দেখেন যে দু'টি রাখাল বালক তাদের চরাচ্ছে এবং সমানে পান করবার জন্য খাবার জল চাইছে। বাবা তাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বলেন যে-----*
*🌷শিশু কহে নন্দগ্রাম হতে আগমন।*
*🌷কানাই আমার নাম বলাই ও জন।।*
*🌷পরিচয় কর পাছে ধরহ বচন।*
*🌷শীঘ্র জল আনি কর পিপাসা মোচন।।*
*🍀সিদ্ধ বাবার রাগ যেন হঠাৎ শান্ত হল এবং তিনি কমন্ডলুর জল এনে সেই বালকদ্বয়কে পিয়ালেন এবং বালকদ্বয় হাতের অঞ্জলি করে সেই জলপান করতে লাগলেন।পরে আবার সেই বালকদ্বয় বাবাকে বললেন যে, তারা দূর হতে এসেছেন এবং একটু বাল‍্যভোগ পেলে তারা খেতেন।তারপরে আরও বললেন যে,তাঁরা রোজই আসবেন এবং তিনি যেন তাঁদের জন্য একটু বাল‍্যভোগেরও ব‍্যবস্থা রাখেন।এইরকম কথাবার্তা হবার পর বাবা কুটিরের ভিতরে চলে আসিলেন এবং হঠাৎ তাঁর মনে হল যে তিনি যে এই বিমলাকুন্ড অঞ্চলে থাকেন, কিন্তু এইরকম রাখাল বালককে তিনি তো আগে কখনও দেখেন নাই, তার উপরে এত অজস্র গোধনগুলিও তো তিনি এই অঞ্চলে আগে কখনও দেখেন নাই। মনে এক প্রশ্ন বা সংশয়ের উদয় হল এবং তখন তিনি আবার কুটিরের বাইরে এসে দেখেন যে সেই বালক দুটির কেউই সেখানে নেই এবং এত যে হাজার হাজার গোবৎস তারাও কেউ নেই।তখন সিদ্ধ বাবার মনে এক ভীষণ সংশয়ের সৃষ্টি হল এবং ভাবতে লাগলেন যে মুহূর্তের মধ্যে কিভাবে এত গোবৎস ও গোবালকগণ কিভাবে অন্তর্হিত হতে পারে!তবে কি দেখলাম!*
*🌷তবে বাবা হৃদয় মাঝে চিন্তিতে লাগিল।*
*🌷এতাদৃশ গোধন আর গোপ শিশুগণ।।*
*🌷এমত কথা কভু না করি শ্রবণ।*
*🌷অতএব জাগতিক নহে এই গোপশিশুগণ।।*
*🌷অন্তর্দ্ধান হেরি হৈল অনুতপ্ত মন।*
*🌷আপন দুর্ভাগ্য চিন্তি করয়ে ক্রন্দন।।*
*🌻বাবার এই আক্ষেপ এবং অনুশোচনা দর্শনে কৃপাময় শ্রীকৃষ্ণচন্দ্রের হৃদয়ে করুণার সঞ্চার হল এবং স্বপ্নের মাধ‍্যমে বললেন যে তুমি আক্ষেপ করিও না,আগামীকাল আমরা তোমার কাছে আবার আসিব।বাবা তখন ধৈর্য‍্য ধরে বিষন্ন চিত্তে ভজনে নিবিষ্ট হলেন এবং পরদিনে এক বৃদ্ধ ব্রজমায়ী এক বালগোপাল মূর্তি হাতে বাবার কাছে আগমন করে বললেন--বাবা আমি বৃদ্ধ হয়েছি আর সেবা করতে পারি না, তুমি বাবা এই গোপালকে নিয়ে সেবা করো।বাবা তখন কহিলেন যে "আমি বনবাসী বৈষ্ণব আমি কি করে তোমার এই গোপাল সেবা করব।তখন সেই বৃদ্ধা ব্রজমায়ী বললেন যে ঠাকুর তাঁর সেবা নিজেই চালিয়ে নিবেন, তুমি বাবা গোপালকে গ্রহণ করে আমায় উদ্ধার করো। ব্রজমায়ের পীড়াপীড়িতে অবশেষে বাবা সেই গোপালকে গ্রহণ করলেন এবং সেই ব্রজমা তখন চলে গেলেন।কৃপার এমনই মহিমা যে সেই রাত্রেই ব্রজমায়ীরূপে বৃন্দাজী স্বপ্নে বাবাকে বললেন যে তুমি আমার প্রিয়জন এবং তোমার কাছেই আমার গোপাল প্রকৃত প্রেমসেবা পাবে এবং এইজন‍্যই তোমাকে আমি এই বালগোপালের সেবা দিয়েছি।এই বাবাজীর জীবন অনুশীলন করলে দেখা যায় যে কৃপার বাতাস কিভাবে তাঁর জীবনকে ধন‍্য করেছিল।*
*(১)সর্বপ্রথম তিনি বৃন্দাদেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে কাম‍্যবনে ভজনে আসেন।*
*(২)তার পরে নবকিশোর গোস্বামী সেবিত মদনগোপাল বিগ্রহের স্বপ্নাদেশের মাধ‍্যমে তাঁর সেবা পাবার বাসনা প্রকাশ করেন যার ফলে এই গোস্বামী মহাশয় তাঁর সেবিত মদনগোপাল বিগ্রহকে, বাবাকে সেবার জন্য দিয়ে যান।*
*(৩)বাবাজীর ভজনের হুঙ্কার গর্জন এমনই ছিল সেই শব্দের প্রভাবে বারার মস্তকের শিখা খাড়া হয়ে যেত এবং কুটিরের ছাদ পর্যন্ত ফেটে যেত।*
*(৪)ভরতপুরের মহারাজা দীন-দৈন‍্যভাবে তাঁকে দর্শন করবার জন্য তাঁর কুটিরে এসেছিলেন কিন্তু বাবা মানসে তা জানতে পেরে আগুন আগুন বলে চিৎকার করেছিলেন যদিও প্রকৃত আগুন লাগেনি। এবং রাজার আগমনে স্থান অপবিত্র হয়েছে বিচার করে জায়গাটি গোবর জল দিয়ে শুদ্ধ করে নিয়েছিলেন।*
*(৫)অবশেষে বাবার ভাগ্য এতই সুপ্রসন্ন ছিল যে তিনি স্বয়ং নিজের কমন্ডলুর জল কানাই-বলাইকে তাঁদের করাঞ্জলীতে ঢেলে পান করিয়েছিলেন। আবার তাঁরা দুইজন বাবার কাছে বাল‍্যভোগও খেতে চেয়েছিলেন।*
*(৬)তদুপরি বাবা যখন পরে তাঁদের স্বরূপ বুঝতে পেরে আক্ষেপ এবং অনুশোচনার দহন জ্বালায় পীড়িত হয়েছিলেন। তখন কৃপাময় শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন তুমি আর দুঃখ করিও না।আমরা আবার আসিব।পরে ব্রজমায়ী স্বরূপে এক বৃদ্ধা হয়ে এসে গোপাল বিগ্রহ দিয়ে যান।যে বিগ্রহ অদ‍্যাপি বিদ‍্যমান। এই ভাবেই বাবার মহাজীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে এবং অন্তিমকালে বাবা যেন শ্রীমতীকে মানসে শৃঙ্গার করেছিলেন এবং নিশ্চয়ই তার জন্য --*
*🌷কোথা কাঁচুলী ঘাঘরা ওড়না কহিল।*
*🌷দিব‍্য ভাব প্রকাশিয়া অন্তর্দ্ধান কৈল।।*
*🌻অনেকের মনে এই প্রশ্ন আসতে পারে যে বাবা কেন বৃন্দাবন ত‍্যাগ করে কাম‍্যবনে সাধনভজনে রত হয়েছিলেন, তার কারণ এই যে,বাবা বৃন্দাদেবীর স্বপ্নাদেশেই ইহা করেছিলেন।তার উপরে বর্তমানে বাবার যে সমাধি আমরা দর্শন করি তা বিমলাকুন্ড তীরে। বিমলাকুন্ডের পরিবেশ এমনই মনোরম এবং চিত্তাকর্ষক যে নির্জনে কুন্ডতীরে বসে স্মরণ মনন করলে ভক্তিভাব জাগ্রত হতে বাধ‍্য।তদুপরি আরও জানাই যে বাবার যে এই সব লীলা কাহিনী আপনারা শুনিলেন তা কিন্তু বতর্মান মন্দিরের সামনে না। বাবার সেই আদি গুম্ফা খানিকটা দূরে এবং এখনও সেই আদি ভজন গুম্ফা দেখা যায় এবং স্থান মাহাত্ম্যের জন‍্য বহু ত‍্যাগী বৈষ্ণব সাধুগণ সেখানে থেকে ভজন করেন, যা আপনারা অবশ্যই দর্শন করবেন।বাবার ভজন প্রভাবে সেই জায়গার জল,মাটি,আকাশ,বাতাস সবই পবিত্র এ রাধারাণীর কৃপার বাতাস এবং দয়ালু শ্রীকৃষ্ণচন্দ্রের পরশ আপনারা অবশ্যই অনুভব করবেন।তার উপরে বৃন্দাজী দেওয়া সেই অপ্রাকৃত গোপাল বিগ্রহ অদ‍্যাপি এই শ্রীমন্দিরে বিরাজমান।অধম লেখক এই জায়গাটির যথা সম্ভব সংস্কার করে দিয়েছেন এবং যার ভাবার্থ সিদ্ধ বাবা কৃপা করে এই অধমের দ্বারা কিঞ্চিৎ সেবা করিয়ে নিয়েছেন।কারণ মানুষের কোন ক্ষমতা নেই। এই আশ্রমের বতর্মান মোহন্ত শ্রীশচীনন্দন দাস বাবাজী মহারাজ এবং তাঁরা সকলে অভ‍্যাগত ভক্তদের যথেষ্ট ভালবাসেন।এই আশ্রমের পরিবেশে প্রচুর মহারাজ ভজন করেন।ভক্তগণ যেন সিদ্ধবাবার সেবার জন্য যথাসাধ‍্য ভিক্ষা দান করেন এই প্রার্থনা।ভিক্ষা পাঠাবার ঠিকানা ---*
*Sri sachinandan Das*
   *(Mohanta Maharaj)*
*Madan Gopal Mandir*
*P.O= Kama*
*Dist=Bharatpur (Rajasthan)*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০২)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (দ্বিতীয় খন্ড)*
*গোবর্দ্ধনের সিদ্ধ জয়কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজ*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀পূর্বাশ্রমের পরিচয় হতে জানা যায় যে উৎকলদেশে তাঁর জন্ম এবং তাঁর পিতার নাম সনাতন কানুনগো এবং মাতার নাম জয়ীদেবী।পিতার মৃত‍্যুর পর তাঁর মা সহমরণের মাধ‍্যমে সতী হন এবং তার পূর্বে এই পুত্রকে বৃন্দাবন ধামে গমন করে সাধনভজন করতে মনোবাঞ্জা প্রকাশ করে যান। যার ফলে ষোল বৎসর বয়সকালে একাকী বৃন্দাবনধামে গমন করেন,ক্রমে শ্রীধাম বৃন্দাবনে ব্রহ্মকুন্ডে আগমন করেন।*
*সর্বপ্রথম তিনি বৈষ্ণবদাস নামক এক মহাবৈষ্ণবের আনুগত‍্যে গ্রন্থপাঠ ইত্যাদি শুরু করেন, হঠাৎ তাঁর অপ্রকটে মনে বড় অভাব বোধ করেন এবং তখন তিনি গোবিন্দদেবের সেবা অভিলাষে জয়পুরে গমন করেন।জয়পুরের মহারাজা এইরকম একজন নিষ্কিঞ্চন বৈষ্ণফকে পেয়ে সেখানে থাকতে সম্মতি প্রদান করেন এবং বেশ কিছুদিন গোবিন্দদেবের সেবার কার্য‍্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেন।রাজবাড়ীর সেবা মানে রাজসেবা খুবই বাহুল‍্য এবং প্রাচুর্য‍্যের সহিত সেই সেবা হয়।এই রাজসেবার প্রসাদ পেতে পেতে তাঁর মনে এক বিকৃতভাবের উদয় হল,যা ভজনের পক্ষে মোটেই অনুকূল নহে।তখন তিনি আত্মশোধনের জন্য জয়পুরের সেবা পরিত‍্যাগ করে পুনরায় কাম‍্যবনে সিদ্ধ বাবার কাছে এসে নিজের মনের বিকৃতভাবের সব কথা অকপটে নিবেদন করলেন।সেইসব কথা শুনে সিদ্ধবাবা যা বলেছিলেন তা আপনারা গ্রন্থের ভাষায় শুনুন।*
*🌷কাঁচা অবস্থায় বৃক্ষ কাটি জলেতে ফেলিয়া।*
*🌷তুলিয়া আগুনে দিলে না যায় পুড়িয়া।।*
*🌷না শুকালে অগ্নিতে কভু না হয় দহন।*
*🌷 সেই মত জীবের দশা হয়ত ঘটন।।*
*🌻এই উপদেশের মাধ‍্যমে সিদ্ধবাবা ইহাই বুঝিয়ে দিলেন যে অল্পবয়সে এই রাজষিক পরিবেশে থেকে ভজন ফলে তাঁর এই চিত্ত বিকৃতি ঘটেছে, অতএব তা করা অনুচিত।তখন তিনি বৃন্দাবনের "দোমন বনে" বাস করে কঠোর ভজনের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে দিলেন এবং দেহ ধারণের জন্য "কাঁচা আটা গুলে,তার সঙ্গে নিমপাতা মিশিয়ে একদম তিতা করে তা খাদ‍্য হিসাবে গ্রহণ করতে লাগলেন"।আপনারা একবার ভেবে দেখুন যে যিনি এতদিন জয়পুরের মহারাজার মাধ‍্যমে উন্নতমানের সব প্রসাদ পেতেন,তিনি কিনা কাঁচা ময়দার গোলার সঙ্গে নমপাতার রস মিশিয়ে তা ভোজন করতে লাগলেন, যার ফলে অতি অল্পদিনের মধ্যেই তাঁর দেহ ক্ষীণ হয়ে গেল এবং তারউপরে তিনি দৃষ্টিশক্তিও হারিয়ে ফেললেন।*
*যার ফলে আর মাধুকরীতে যেতে পারেন না,এমনকি অন্ধ অবস্থায় জল পর্য‍্যন্ত নিতে পারেন না।অথচ ভজন ঠিক চলতে লাগল কিন্তু "কৃপাময়ীর কৃপা দৃষ্টি সর্বত্র বিরাজিত, সেজন‍্য অচিরেই তিনি তা জানতে পারলেন যে,ভক্তের এই কষ্টে তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না। তখন তিনি ললিতা সখীকে কি বলেছিলেন তা আপনারা গ্রন্থের ভাষায় আস্বাদন করুন।*
*🌷পরম করুণাময়ী রাধাঠাকুরাণী।*
*🌷ললিতারে ডাকি কহে সকরুণ বাণী।।*
*🌷শীঘ্র কৃষ্ণদাসে গিয়া করাহ ভোজন।*
*🌷মোর নামে কলঙ্ক না করহ রটন।।*
*🌷ব্রজেতে অভুক্ত নাহি রহে কোনজন।।*
*🌷এই বাক‍্য রাখিতে সত‍্য করহ গমন।*
*🌷আজ্ঞা লইয়া অনুরাধা চলিল তখন।।*
*🌷দোমন বনে কৃষ্ণদাস সমীপে আসিল।*
*🌷সম্বোধন করি তাঁরে কহিতে লাগিল।।*
*🌷 বাবা প্রতি কৃপা দৃষ্টি করি প্রদর্শন।*
*🌷 ব্রজবালা রূপে দেবী দিল দরশন।।*
*🌷কহে বাবা প্রসাদ লৈয়া করহ ভোজন।*
*🌷তোর দুঃখ দেখি মাতা করিল প্রেরণ।।*
*🌷মৃত সঞ্জীবনী বাক‍্য করিয়া শ্রবণ।*
*🌷উল্লাসে বাবার চিত্ত হইল পূরণ।।*
*🌷প্রসাদ সৌগন্ধে দেহ সবল হইল।*
*🌷প্রসাদ গ্রহণে দিব‍্য শক্তি উপজিল।।*
*🌻তখন ললিতারূপী ব্রজবালা বাবাকে বললেন,যে আপনি মাধুকরী ভিক্ষায় আজকাল কেন যান না? তখন বাবা বললেন,যে মা আমি দৃষ্টিহীনতার জন্য যেতে পারি না।তাঁর কথা শুনে ললিতা সখী তখন বললেন "মা" আপনার জন্য এক অঞ্জন (কাজল) পাঠিয়ে দিয়েছেন।*
*আমি তা আপনার চোখে লাগাতে চাই, তবে একটি সর্ত্ত আছে।চোখে কাজল লাগাবার পর একঘণ্টা আপনাকে চোখ বুজে থাকতে হবে।বাবাজী সেই সর্ত্তে রাজী হওয়ায় ললিতাসখী সেই দিব‍্য অঞ্জন বা কাজল তাঁর দুই নয়নে প্রলেপ লাগিয়ে দিলেন এবং একঘণ্টা বাদে যখন তাকালেন তখন সেই হারানো দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলেন।🌺ভজনের কি মহিমা-- ভজনের কি পুস্কার--তা ভাবলে মনে হয় দৈবী কৃপায় সব অসম্ভবই সম্ভব হতে পারে।যাকে বলা হয় ঐশী শক্তি বা ভগবদ্ শক্তি,কারণ এই যে চোখে আমরা দেখি সেই চোখের যিনি মালিক তিনি ইচ্ছা করলে সবই করতে পারেন।এই লীলার দ্বারা ইহাই প্রতিষ্ঠিত হল যে ভক্তের যোগক্ষেম তিনি সত‍্যই বহন করেন।*
*অতঃপর কৃপাময়ী মহাভাবস্বরূপিনী রাধারাণী তাঁকে স্বপ্নাদেশের মাধ‍্যমে সব রহস‍্য প্রকাশ করেন এবং তাঁকে গোবর্দ্ধনে চলে এসে ভজন করতে আজ্ঞা করেন।এইভাবেই বাবা মানস গঙ্গাতীরে গোবর্দ্ধনে আগমন করে ভজনে নিবিষ্ট হন।এই গোবর্দ্ধনেই তাঁর ভক্তিময় জীবনের চরম বিকাশ সাধিত হয় যা ভক্ত পাঠকগণ এখন আস্বাদন করুন।*
*এই ভাবে গোবর্দ্ধনে চাকলেশ্বরে মহাদেবের কাছেই মানসগঙ্গাতীরে বাবা তাঁর সাধনভজন শুরু করেন, গ্রন্থজ্ঞান শাস্ত্র অধ‍্যয়নের বাসনা তাঁর মধ্যে ভীষণভাবে জাগ্রত হল কিন্তু নিজে অশিক্ষিত হওয়ায় সেই সব ভক্তিগ্রন্থ পাঠে অসমর্থ ছিলেন, তাতে মনস্থ করেন যে,আমি যখন গ্রন্থ পাঠ করতেই পারব না,তাহলে আমার জীবনে কিছুই জানা হবে না!তাই মানসগঙ্গায় নিজদেহ বিসর্জন দিবেন।সারারাত ঘুম নাই,মন বড়ই বিষাদিত,দেহপাতের সঙ্কল্প করে যখন তন্দ্রাবেশে আচ্ছন্ন ছিলেন তখন শেষ রাত্রে কে যেন কুটিরের পাশ থেকে ডাকল,তখন তিনি কুটিরের বাইরে এসে দেখেন যে কন্থাকরঙ্গধারী শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামী এবং তাঁর সঙ্গে ললিতাসখী সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন।এই অভূতপূর্ব (আগে যাহা ঘটে নাই এমন) অবিশ্বাস্য দৃশ্য দেখে বাবা তখন তাঁদের শ্রীচরণতলে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন এবং তাঁরা তাঁর শিরস্পর্শ করে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, "কৃষ্ণদাস সব কুশল তো-- মাধুকরী ভিক্ষাতে যা পাও তাতে পেট ভরে তো? তখন বাবা সাশ্রুনয়নে গদগদ কন্ঠে বললেন, যে প্রভো!শাস্ত্রজ্ঞানের অভাবে বড়ই মনোকষ্টে আছি, সেজন‍্য এই দেহ আর রাখতে চাহি না। তখন শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামী কৃপা পরবশ হয়ে বললেন, এরজন‍্য দেহপাতের কোন প্রয়োজন নেই, আমার আশীর্বাদে সর্বশাস্ত্রজ্ঞান তোমার মধ্যে স্ফূরণ হবে এবং ললিতাদেবীও তাঁকে অনুরূপ আশীর্বাদ করে তাঁর শ্রীচরণ বাবার শিরে স্পর্শ করে আশীর্বাদ করলেন, যাকে বলা হয় স্পর্শিত কৃপা।কৃপার এমনই প্রভাব যে শুধুমাত্র মহৎ কৃপায় সব শাস্ত্রজ্ঞান তার মধ্যে আপনা হতেই প্রকাশ পেতে লাগল এবং ক্রমে ক্রমে এই দিব‍্যশক্তি প্রভাবে তিনি বৈষ্ণব জগতের সার্বিক মঙ্গলের জন্য কয়েকটি গ্রন্থও রচনা করে গিয়েছেন যার মধ্যে প্রধান হচ্ছেন---*
*(১)ভজন পদ্ধতি গুটিকা।*
*(২)ভাবনাসার সংগ্রহ।*
*(৩)প্রার্থনামৃত তরঙ্গিণী।*
*(৪সাধনামৃত চন্দ্রিকা ইত্যাদি।*
               *🙏ক্রমাগত🙏*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৩)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (দ্বিতীয় খন্ড)*
*গোবর্দ্ধনের সিদ্ধ কৃষ্ণদাস বাবাজীমহারাজ*
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*🍀এমত সময়ে দক্ষিণদেশীয় এক দিগ্বিজয়ী পন্ডিত বৃন্দাবনে আগমন করে তাঁর সঙ্গে শাস্ত্র যুদ্ধে রত হন এবং পরে পরাজিত হয়ে তিনি নিজ মুখে স্বীকার করেন, আজ যে তিনি ইহার মধ্যে যে জ্ঞানের পরিচয় পেলেন, ইহা কিছুতেই কোন জাগতিক বিদ‍্যা নহে, নিশ্চিত ইহা ঐশী শক্তি। কথাটা ঠিকই বটে, কারণ বাবা যে শাস্ত্রজ্ঞান লাভ করেছিলেন তা কোন অধীত(যা পাঠ করা বা অধ‍্যয়ন করা হয়েছে )বিদ‍্যা নহে তা হচ্ছে বৈষ্ণব কৃপা সঞ্জাত এবং সেজন‍্য ইহা প্রকৃতপক্ষে জাগতিক বিদ‍্যা কভু নহে।*
*আর একবার বাবা ভজন আবেশে মানসগঙ্গায় ঝাঁপ দিলেন এবং কেউই তা জানতেই পারল না,সকলে মনে করলেন যে,বাবা নিশ্চিত দেহপাত করেছেন।এই ভাবে সাতদিন অতিক্রান্ত হবার পর বাবা হঠাৎ মানসগঙ্গার জলের মধ্যে ভেসে উঠলেন এবং সঙ্গে একাধিক গ্রন্থ।সাতদিন জলের মধ্যে থাকলেও একখানি গ্রন্থও জলসিক্ত হয়নি বা ভিজা ছিল না।দৈবীশক্তিতে কি-না হয়?পরে সফাই যখন বাবাকে জিজ্ঞাসা করেন যে বাবা! এই সাতদিন আপনি কোথায় ছিলেন? তদুত্তরে বাবা বলেন এই তো আমি সবে মাত্র মানসগঙ্গায় স্নান করে উঠিলাম।উপস্থিত সবাই বাবার এই কান্ড দেখে স্তম্ভিত ও অবাক হয়ে গেলেন।*
*বাবার সাধন-ভজন এত উচ্চস্তরে ছিল যে একবার বর্ষানায় হোলি খেলবার কথা তাঁর মানসপটে উদিত হল, তিনি তখন মানসে হোলি খেলার রাজ‍্যে প্রবেশ করলেন এবং বহু পরে যখন তাঁর বাহ‍্যজ্ঞান ফিরে আসিল তখন দেখেন যে বাবার পুরো দেহে,বহির্বাসে সব কুঙ্কুম আবীরে ভেজা এবং তার সৌগন্ধে চারিদিক আমোদিত।সাধনভজনের কি স্তরে পৌঁছাইলে যে এইসব অপ্রাকৃত ব‍্যাপার মানুষের জীবনে সংঘটিত হয় তা কল্পনার অতীত।করুণাময়ী রাধারাণীর কি অসীম কৃপা বাবার উপর বর্ষিত হত তা এইসব ঘটনার দ্বারা উপলব্ধি করা যায়।অন‍্য একটি ঘটনা এখন তুলে ধরব, যা শ্রবণ করলে বাবার চরণে নিজে থেকেই মস্তক নত হয়।*
*🍀একবার যশোবন্ত সিংহ নামক এক রাজপুত, মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হয়ে প্রচুর ধনরত্ন লাভ করেন এবং তিনি তা বৈষ্ণব সেবায় দান করবেন মনস্থ করে বাবার কাছে আগমন করে তাঁর মনের কথাগুলি বললেন, কিন্তু বাবা তা গ্রহণ করলেন না এবং তখন তিনি কিছু দান গ্রহণ করবার জন্য চরমভাবে অনুনয় বিনয় করাতে বাবা এক অদ্ভুত প্রস্তাব করলেন যা গ্রন্থের ভাষায় আপনারা আস্বাদন করুন।*
*🌷শেষে বাবা পাশে আসি করে নিবেদন।*
*🌷কৃতার্থ করহ কিছু করিয়া গ্রহণ।।*
*🌷বাবা কহে রাণী তব আছে বহুজন।*
*🌷সর্ব প্রিয়তমা জনে কর আনয়ন।।*
*🌷আজ্ঞামাত্র লছমিকে তথা আনাইল।*
*🌷সুসজ্জিত করিয়া বাবা পাশে পাঠাইল।।*
*🌷ভজনাবেশে বাবা বসিয়া নির্জন।*
*🌷সেকালে লছমীদেবী করয়ে গমন।।*
*🌷কঙ্কণ কিঙ্কিণী নূপুরের কলতান।*
*🌷বিস্ফারিত নেত্রে হেরি হারাইল জ্ঞান।।*
*🌷দশ পনেরো হাত দূরে রাণী দাঁড়াইল।*
*🌷এই ভাবে এক প্রহর অতীত হইল।।*
*🌷পরদা খুলিয়া রাণী দাঁড়াইয়া রহিল।*
*🌷দাসীদ্বারা ডাকাইয়া রাজাকে দেখাইল।।*
*🌷বাবার ভাব হেরি রাজা কিঞ্চিৎ বুঝিল।*
*🌷ভাবরাজ‍্যের জ্ঞানহীনে সংশয় জন্মিল।।*
*🌷হেনমতে তিনদিন অতীত হইল।*
*🌷রাজা তথা তিনদিন আপনি রহিল।।*
*🌷বাহ‍্য পাইয়া বাবা যশোবন্তে যে ডাকিল।*
*🌷শিরে হস্ত সমর্পিয়া আশীষ করিল।।*
*🌷তখন বাবার ভাব বুঝিল রাজন।*
*🌷সামান‍্য ধ্বনিতে বাবার হৈল দিব‍্যমন।।*
*🌷রাধার কঙ্কণ ধ্বনি করি অনুমান।*
*🌷প্রেমেতে বিভোর হইয়া হারাইল জ্ঞান।।*
*🌻এখানে দেখুন কি অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটিল।ত‍্যাগী মহাবৈষ্ণব যাঁরা নারীমুখ দর্শন করেন না,তিনি কিনা বললেন যে আপনার সবচেয়ে প্রিয় সুন্দরী রাণীকে নিয়ে আসুন যদি কিছু দান করবার একান্ত ইচ্ছাই আপনার মন চাহে।বিষয়ী রাজা,বৈষ্ণব আদেশ পালনের জন্য তাঁর সুন্দরী রাণী লছমীদেবীকে সুসজ্জিত করে বাবার কাছে পাঠিয়ে নিজে অলক্ষ‍্যে সেখানে রইলেন।ভোগ বিলাসী বিষয়ী রাজার মনে নানা সন্দেহ আসা খুবই স্বাভাবিক, কারণ ক্ষণিক পূর্বে যিনি কোন পার্থিব ধনদৌলত দান হিসাবে গ্রহণ করলেন না, তিনি তার পরিবর্তে চান তাঁর সুন্দরী রাণীকে দর্শন করতে।মনে বিকার আসা রাজার পক্ষে খুবই স্বাভাবিক কিন্তু রাণীর অলঙ্কারের কঙ্কণ ধ্বনি শোনামাত্র বাবা জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন, কারণ বাবা মনে করলেন যে,স্বয়ং করুণাময়ী রাধারাণী তাঁর কাছে আগমন করেছেন এবং শুধু মাত্র সেই কঙ্কণের ধ্বনি শোনামাত্র তাঁর বাহ‍্যজ্ঞান লুপ্ত হল এবং এইভাবে তিনদিন অতিবাহিত হল, পরে বাহ‍্যজ্ঞান ফিরে আসিলে সব ঘটনার কাহিনী খুলে বললেন।কোথাকার জল কোথায় গড়াল। রাজা যশোবন্ত সিংহ এবং তাঁর রাণী লছমীদেবীর ভাগ‍্যে বাবার কৃপা কিভাবে বর্ষিত হয়েছিল তা সুধী পাঠকবৃন্দ কিঞ্চিৎ উপভোগ করুন। ভেবে দেখুন যে সাধনবলে রক্তমাংসধারী একজন মহাবৈষ্ণব কি সব অসাধ‍্য সাধন করে গিয়েছেন কিন্তু আমরা কয়জন তা জানি। সুতরাং যাঁরা বৃন্দাবনধাম দর্শনে যান তাঁরা যদি সিদ্ধ মহাত্মাদের সাধনস্থলী এবং সমাধিতে ভক্তি অর্ঘ‍্য নিবেদন না করেন তা কতবড় অপরাধ।যাঁদের সাধন প্রভাবে বৃন্দাবনের জল মাটি সব পবিত্র,যাঁরা তাঁদের ভজনের মাধ‍্যমে এই চিন্ময়ধামের মহিমাকে প্রেমোজ্জ্বল করে গিয়েছেন তাঁদের সমাধিতে প্রণাম করে দুটি টাকা প্রণামী যদি না দেন তাহলে ধামদর্শনই বৃথা।*
*🍀বাবার এই কৃপা হবার পর রাণী লছমীদেবী মহাবৈষ্ণবীতে পরিণত হলেন এবং ঐশ্বর্য‍্য, ভোগ ও বিলাসের প্রতি তাঁর প্রচন্ড অনীহা জন্মিল এবং তখন তিনি বহু অর্থ নিয়ে বৈষ্ণব সেবায় দান করবার মনস্থ করলেন।তখন সমবেত বৈষ্ণবগণ কি বলেছিলেন তা শুনুন।*
*🌷সবিনয়ে বৈষ্ণবগণে করে নিবেদন।*
*🌷সবে কহে রাজ অন্ন না করি স্পর্শন।।*
*🌷কাঁদিয়া কাঁদিয়া রাণী করে নিবেদন।*
*🌷কৃপা করো রাজকুলে যেন মোর না হয় জনম।।*
*🌷রাণীর প্রেম হেরি কহে শ্রীবৈষ্ণবগণ।*
*🌷 গাভীর গোবরে ঘুটে করহ এখন।।*
*🌷তাহা বেচি উপার্জিত হবে যে ধন।*
*🌷 সেই ধনে হবে তবে অভীষ্ট পূরণ।।*
*🌻এখানে দেখুন মহৎ কৃপার কি প্রভাব।রাজরাণী হয়ে তিনি ভোগবিলাস কামনা বাসনা সব জলাঞ্জলী দিয়ে দীনহীন কাঙ্গালীনীর বেশে মাঠে ঘাটে গোবর কুড়িয়ে তা দ্বারা ঘুটে দিয়ে মাথায় ফেরি করে তা বেচতে মনস্থ করলেন,কারণ প্রকৃত বৈষ্ণব বিষয়ীর কাছ হতে রাজসেবা গ্রহণে স্বীকৃত হননি বলে। সেই ঘুটে বিক্রি করা পয়সা দ্বারা বৈষ্ণবসেবা করতে লাগলেন। আমাদের মা বোনেরা যাঁরা বৈষ্ণব অনুরাগী তাঁরা কি এসব কথা চিন্তাও করতে পারেন।শুধু মায়েরা নন সংসারী গৃহস্থগণ যাঁরা বৈষ্ণব অনুরাগী যাঁরা বৃন্দাবনধামে গমন করেন ভক্তি লালসায়,তাঁরা যদি এতটা নাও করতে পারেন,তাঁদের চরণে এই প্রার্থনা যেন যাঁরা ধামবাসী ত‍্যাগী বৈষ্ণব মহাত্মাগণের যথাসাধ‍্য ভজন আনুকুল‍্যে যেন করেন।*
*🍀উড়িষ‍্যাবাসী এক গ্রাম‍্য বালক মাতৃ আজ্ঞায় বৃন্দাবনধামে আগমন করে কি ভাবে সাধনভজনের সুউচ্চ চূড়ায় আরোহণ করেছিলেন তা ভাবলেও বিস্ময় জাগে। অবশেষে সাধনভজনের লীলা শেষ করে বাবা আশ্বিন মাসের চতুর্থী তিথিতে নিত‍্য লীলায় সেই পরমধামে গমন করেন,গ্রন্থে এইরকম লেখা আছে----*
*🌷দৈবে আশ্বিনী চতুর্থী তিনি আগমন।*
*🌷এদেহ ছাড়িয়া কৈল লীলাতে গমন।।*
*🌷অদ‍্যাপি গোবর্দ্ধনে সমাধি বিদ‍্যমান।*
*🌷মানস গঙ্গার পারে হেরে ভাগ‍্যবান।।*
*🌷 সিদ্ধ বাবার প্রেমগুণ অপূর্ব কথন।*
*🌷শ্রবণে ত্রিতাপ জ্বালা হয় বিমোচন।।*
*🌷বৈরাগ‍্যের পরাকাষ্ঠা প্রেম মূর্তিমন্ত।*
*🌷সাধন স্মরণ লীলায় সদা অনুরক্ত।।*
*🌷 স্মরণ মনন পথের প্রদর্শক লইয়া।*
*🌷রাখিল অক্ষয় কীর্তি মোদের লাগিয়া।।*
*🌻এই সিদ্ধ বাবার ভজন কাহিনী শুনে অধম লেখক এই শ্রীপাট দর্শনে গমন করে বড়ই মনোকষ্ট পায়।শ্রীপাটের জায়গাটি মানস গঙ্গার তীরে,আশ পাশে জায়গা না থাকায় তিরোভাব তিথির সময়ে যে মহাবৈষ্ণব সম্মেলন হয় তাঁরা অপ্রশস্ত গলির মধ্যে বসে প্রসাদ পান--, না আছে রান্নার জায়গা,না আছে জল-কল বাথরুম, তার ফলে প্রচন্ড অসুবিধার মধ্যে তা সব করা হয় দেখে মনে বড়ই কষ্ট হয় এবং তখন এই শ্রীপাট পূর্ণ সংস্কার করে উপরের দিকে আরও দ্বিতল বাড়ান হয় কিন্তু তাতেও মন ভরে না।*
*তখন অনেক চেষ্টার পর সংলগ্ন কিছু দূরে একটি বিরাট জায়গা পাওয়া যায়, সেখানে এক বিরাট হলঘর ইত্যাদি করা হয়। তার কাছে ভোগ রান্নার জায়গা জলকল-বাথরুম ইত্যাদি সব করা হয়। বিশাল অর্থ ব‍্যয় করে,যার ফলে বতর্মানে সিদ্ধবাবার তিরোভাব তিথিতে জায়গার অভাব দূর হয়েছে এবং সব কিছু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।গোবর্দ্ধন অঞ্চলে এরকম বিরাট হলঘর আর কোথাও নাই এবং বর্তমানে গোবর্দ্ধন অঞ্চলে বহু প্রকার পাঠ প্রসঙ্গ এবং বৈষ্ণব সমাবেশ এই স্থানে সম্পন্ন হয়। সবই সিদ্ধবাবা বা রাধারাণীর কৃপা।তাঁদের কাজ তাঁরাই করিয়ে নেন।জায়গাটির কিরকম উন্নতি হয়েছে তা না দেখলে বুঝা যাবে না।অধমের ভক্তচরণে এই বিশেষ অনুরোধ যে তাঁরা ব্রজধামে গমন করলে সিদ্ধবাবার এই সমাধি এবং হলঘরটি অবশ্যই দেখবেন আর যথাসাধ‍্য সেবার জন্য ও বাবার বাৎসরিক তিথিতে যেন অতি অবশ্যই কিছু ভিক্ষা প্রদান করেন। রাণী লছমীমাই যদি রাজরাণী হয়েও ঘুটে বেচে বৈষ্ণব সেবা করতে পারেন আমরা কেন কিছু ভিক্ষা দিতে পারব না।সবই নির্ভর করে অনুরাগী বৈষ্ণব ভক্তগণের মানসিকতার উপর। আমরা কেউই সঙ্গে নিয়ে যেতে পারব না,সেজন‍্য যতদিন জীবিত আছেন ততদিন পর্যন্ত ভগবদ্ সেবা বা ভক্তসেবায় যেন মনের আগ্রহটি থাকে।*
*🍀এই কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজই হচ্ছেন ভক্ত প্রবর লালাবাবুর শ্রীগুরুদেব এবং ইনিই আবার বাংলা "ভক্তমাল" গ্রন্থের রচয়িতা।ইহারই শিষ‍্য হচ্ছেন কালনার সিদ্ধ ভগবান দাস বাবাজী মহারাজ যিনিও উড়িষ‍্যাবাসী একজন মহাবৈষ্ণব ছিলেন।ভক্তগণ এইসব মহাজীবন প্রসঙ্গ পাঠ করে যদি কিছু ভিক্ষা পাঠাতে চাহেন তা নিম্নলিখিত ঠিকানায় পাঠাবেন*
 *Sri Hari Mohan Das (Mohanta Maharaj)*
*Gobardhan sidha baba Ashram*
*Near Chakleswar Mahadeb*
*P.O= Gobardhan*
*Dist=Mathura (U.P)*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৪)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (দ্বিতীয় খন্ড)*
*রণবাড়ীর সিদ্ধ কৃষ্ণদাস বাবাজীমহারাজ*
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🍀রণবাড়ীর সিদ্ধ বাবার আবির্ভাব যশোহর জেলার আহমদপুর গ্রামে।তাঁর পিতার নাম গোকুলচন্দ্র চট্ট‍োপাধ‍্যায়। শৈশব এবং বাল‍্যকাল হতেই উদাসীনভাব এবং সংসারে অনাসক্তি দেখে পিতামাতা পুত্রের বিয়ে দিবার মনস্থ করেন কিন্তু সংস্কার কোথায় যাবে? শ্রীমন্মহাপ্রভুর জ‍্যেষ্ঠভ্রাতা বিশ্বরূপে মত বিয়ের প্রস্তাব কানে শুনতেই তিনি সকলের অলক্ষ‍্যে যেরকম গৃহত‍্যাগ করেছিলেন এক্ষেত্রেও সেরকম বালক কৃষ্ণদাস গোপনে গৃহত‍্যাগ করে পদব্রজে ব্রজধামের দিকে যাত্রা করলেন।একবার চিন্তা করে দেখুন যে,মনে যখন বৈরাগ‍্যভাবের উদয় হয় তখন আর কোন আকর্ষণ তা রোধ করতে পারেন না।না হলে কোথায় যশোহর জেলার একটি গ্রাম, আর কোথায় বৃন্দাবন ধাম এই পাঁচ কি ছয়শ মাইল রাস্তা হেঁটে কৃষ্ণদাস চললেন একাকী ধাম বৃন্দাবনে।বহুদিন বাদে বহু কষ্ট স্বীকার করে পথশ্রমে ক্লান্ত হয়ে চললেন এক অজানা অচেনা দেশে যেখানে তাঁর পরিচিতি কেউই ছিলেন না, একমাত্র শুধু রাধারাণীর উপর ভরসা। অবশেষে প্রভুপাদ সনাতন গোস্বামী সেবিত মদনমোহন বিগ্রহের সেবায় কিছুদিন কাটাবার পর অরণ‍্যসঙ্কুল রণবাড়ীতে ভজনের মনস্থ করলেন।এই যে রণবাড়ী সেখানেও তাঁর পরিচিত কেউই ছিলেন না,একমাত্র শুধু ভরসা করুণাময়ী রাধারাণী, যিনি প্রকৃত ভক্তের যোগক্ষেম বহনে সদাজাগ্রত।অবশেষে রণবাড়ী অঞ্চলের ব্রজবাসীগণ বাবাকে যথেষ্ট মর্য‍্যাদার চোখে দেখতে লাগলেন এবং বাবা কোনদিন কারও বাড়ীতে মাধুকরী ভিক্ষায় গমন না করলে তাঁরা মনে বড়ই দুঃখ পেতেন।*
*🍀এইভাবে প্রায় পঞ্চাশ বৎসর যাবৎ রণবাড়ীর জঙ্গলের মধ্যে কুটিরে বাস করে রাধারাণীর ভজনে নিজেকে আবিষ্ট করলেন।এই সময়ে বিভিন্ন ধামবাসী হরিদ্বার,কাশী,কুম্ভমেল,দ্বারকা চারধাম ইত্যাদি সব তীর্থস্থান দর্শন করে এসে বাবার সঙ্গে সেইসব তীর্থ দর্শনের কাহিনী শুনাতেন।শোনার পর বাবার মনে এই সব তীর্থ দর্শনের বাসনা জাগ্রত হল।এমনি সময়ে প্রিয়াজী (রাধারাণী) তাঁকে বৃন্দাবনবাস ত‍্যাগ করতে নিষেধ করেন স্বপ্নের মাধ‍্যমে যা গ্রন্থের ভাষায় আস্বাদন করুন।*
*🌷হেনকালে প্রিয়াজী তাঁরে দিল দরশন।*
*🌷বৃন্দাবন ছাড়ি কোথা না কর গমন।।*
*🌷এথাই হইবে তব বাঞ্জিত পূরণ।*
*🌷তীর্থাদি ভ্রমণে তব নাহি প্রয়োজন।।*
*🌷চিত্তভ্রম জ্ঞানে তিঁহ আজ্ঞা উপেক্ষিল।*
*🌷 চারিধাম করিবারে গমন করিল।।*
*🌻রাধারাণীর এই স্বপ্নাদেশ বাবার চিত্তে ভ্রমজ্ঞান হল এবং তিনি তা অলীক স্বপ্ন মনে করে ব্রজধাম বা রণবাড়ী পরিত‍্যাগ করে চারধাম দর্শনে বাহির হলেন।ক্রমে তিনি যখন দ্বারকায় উপস্থিত হলেন তখন সেইদেশের প্রথা অনুযায়ী তিনি তপ্তমুদ্রার ছাপ নিজ শরীরে ধারণ করলেন।আপনারা সকলেই জানেন যে দ্বারকা হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের ঐশ্বর্য‍্যময় রাজ‍্য, সেখানে রুক্মিণী সত‍্যভামা মহিষীদের প্রভাব এবং বৃন্দাবন হচ্ছে ত‍্যাগের বা মাধুর্য‍্যের জায়গা, সেখানে গোয়ালানী রাধারাণী ও গোপীদের রাজত্ব। এই তপ্ত মুদ্রা ধারণের ভাবার্থ হচ্ছে সত‍্যভামার দাসীত্ব গ্রহণ যা রাধারাণীর ভজনের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধ।*
*🍀এই তপ্তমুদ্রা ধারণের পর বাবাজীর মনে নানা সংশয় সৃষ্টি হল এবং তিনি সংশয় জালে জড়িত হয়ে বৃন্দাবন ফিরবার মনস্থ করলেন। অবশেষে রাধারাণীর স্বপ্নের মাধ‍্যমে তাঁকে ব্রজধাম ছেড়ে চলে যেতে বললেন যা গ্রন্থে পাওয়া যায়।*
*🌷তপ্তমুদ্রা ধরি বাবা বিচলিত মন।*
*🌷চিত্তের বিক্ষেপে আর না কৈল ভ্রমণ।।*
*🌷তথা হইতে ব্রজধামে কৈল আগমন।*
*🌷 সেইরাত্রে রাধারাণী দিলা দরশন।।*
*🌷কহে ব্রজ ছাড়ি তুমি করহ গমন।*
*🌷 সত‍্যভামাজীর দাসী হইলে এখন।।*
*🌷 তপ্তমুদ্রাদি যবে তুমি কৈলে ধারণ।*
*🌷এখানে থাকিয়া আর কোন প্রয়োজন।।*
*🌷স্বপ্নাদেশে সিদ্ধবাবা ব‍্যাকুলিত মন।*
*🌷কিংকর্ত্তব‍্য বিমূঢ় হইয়া করেন চিন্তন।।*
*🌻তখন অবস্থা এমন হল যে সিদ্ধবাবার আর ভজনে মন বসে না। স্মরণ মনন যা খুব তাড়াতাড়ি সম্পন হত,সেই মানসিকতায় প্রচন্ড ব‍্যাঘাত হতে লাগল। তখন তিনি আত্মশোধনের জন্য কাম‍্যবনে সিদ্ধ জয়কৃষ্ণদাস বাবার কাছে উপনীত হয়ে পূর্বাপর (আগাগোড়া) বৃত্তান্ত সব তাঁকে বললেন।তখন কাম‍্যবনের সিদ্ধবাবা মনে মনে খুব ক্ষুব্ধ হলেন ও বললেন----*
*🌷বার্তা শুনি সিদ্ধবাবা ছাড়িল নিঃশ্বাস।*
*🌷স্পর্শের যোগ‍্যতা মোর হইল বিনাশ।।*
*🌷 রাজরাজেশ্বরী দাসী হইলে এখন।*
*🌷গোয়ালানী দাসী মুই স্পর্শিব কেমন।।*
*🌷শুনি রণবাড়ীবাবা স্তম্ভিত হইল।*
*🌷অতঃপর প্রণমিয়া স্ব-স্থানে আইল।।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ বৃন্দাবনে ভজন অর্থে রাধারাণীর আনুগত‍্যে নিষ্কিঞ্চন ভাবে ভজন করা।কৃপাময়ী প‍্যারীজীর মধ্যে কোন ঐশ্বর্য‍্যভাব নেই, তিনি চান তাঁর ভক্তরা যেন তাঁর আশ্রয়ে তাঁর চরণেই ছত্র-ছায়ার মত পড়ে থাকে এবং তবেই তো তিনি তাঁদের দায়িত্ব বহন করেন এবং যথাযোগ্য ভজন অধিকার-দান করেন। সেজন‍্য কাম‍্যবনের সিদ্ধবাবা যিনি রণবাড়ীর সিদ্ধবাবাকে অত‍্যন্ত প্রীতি করতেন, তিনি এই সব বৃত্তান্ত শুনে তাঁকে স্পর্শ করাও অপরাধ জ্ঞানে বিচার করলেন এবং ভজন জগতের যে ভ্রাতৃভাব তা শ্লথ বা ঢিলে হয়ে গেল কারণ তাঁরা যে রাধারাণীর প্রেমরাজ‍্যের দাসীভাবে ভজন করেন ঐশ্বর্য‍্যভাব সেখানে একেবারেই বিলুপ্ত।*
*🍀এদিকে দেখুন যে বালকটি সংসার আশ্রম ত‍্যাগ করে পঞ্চাশ বৎসর যাব‍ৎ একাধিক্রমে শ্রীরাধিকার ভজনে নিজেকে সমাহিত (একাগ্রচিত্ত)রেখে ছিলেন, তিনি কৃপাময়ীর কৃপা হতে বঞ্চিত হলেন। তখন নিজেকে সমানে ধিক্কার দিতে লাগলেন যে কেন তিনি এরকম দ্বারকাধাম দর্শনে গিয়েছিলেন।এই সময় তার মনের অবস্থা যে কিরকম হয়েছিল তা আস্বাদন করুন।*
*🌷হতাশ হইয়া রণবাড়ীতে আসিল।*
*🌷ব‍্যাকুলিত চিত্তে অন্নজল তেয়াগিল।।*
*🌷 নিজ কৃতকার্য‍্যে সদা অনুতপ্ত মন।*  
*🌷প্রিয়াজী বিরহানলে তপ্ত মন প্রাণ।।*
*🌷বিরহ হৃদয় অনল করয়ে দহন।*
*🌷 হেন মতে তিন মাস করয়ে যাপন।।*
*🌷ভিতরের অগ্নি এবে বাহ‍্যে প্রকাশিল।*
*🌷 বিরহ অনলে দেহ ভস্মীভূত হইল।।*
*🌷দক্ষিণের বৃদ্ধাঙ্গুলে অগ্নি প্রকাশিল।*
*🌷ক্রমে ক্রমে তিন দিনে ভস্মীভূত হইল।।*
*🍀আমাদের বৈষ্ণব জগতে বিরহ কথাটি প্রায়ই ব‍্যবহৃত হয় বিশেষত শ্রীগুরুদেবের তিরোভাব তিথিতে তদীয় শিষ‍্যগণ --- তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিজ নিজ মনের ভক্তি অর্ঘ‍্য নিবেদন করেন।এক হিসাবে এটি স্মরণ মনন জাতীয় একপ্রকার আক্ষেপ বা তাঁর স্মৃতি চারণ।এই জন্যই বলা হয় বিরহানল অর্থ‍্যাৎ বিরহ যেন অনলরূপে বা আগুনরূপে ভক্তকে মানসে পীড়া দেয় অর্থ‍্যাৎ যেন ভিতরটা পুড়ে যায় যার বাইরে দেখা যায় না।সকলেই মানসে তাঁকে স্মরণ মনন করেন পীড়িত অন্তরে, অর্থ‍্যাৎ এই যে বিরহরূপ অনল তার বাইরে প্রকাশ, বা দেখা যায় না।👣আবার এ কথাও শুনেছি যে শ্রীপাদ দাস গোস্বামী তখন কুন্ডতটে ভজন করতেন। তখন রাধারাণীর বিরহের উত্তাপে তিনি যখন দীর্ঘনিশ্বাস ফেলতেন তখন তার সংস্পর্শে আসিলে শুকনো গাছের পাতা পর্যন্ত জ্বলে যেত।*
*🍀কিন্তু রণবাড়ীর সিদ্ধবাবার যে বিরহ তা বৈষ্ণব জগতে এক অভিনব বস্তু। ভগবানের বিরহে ভক্তের অন্তরে এমন উত্তাপ সৃষ্টি হত যে তা হতে নিজের দেহের মধ্যে আগুন বাস্তবে প্রকাশিত হয়েছিল। অর্থ‍্যাৎ রাধারাণীর বিরহ তাঁকে তিনমাস ধরে এমনভাবে দগ্ধ করেছিল যে অবশেষে বাবাজী মহারাজের দক্ষিণ বৃদ্ধ-অঙ্গুলে সর্বপ্রথম আগুনের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। আবার এই যে আগুন তার দহন জ্বালা তুষানলের মত অর্থ‍্যাৎ ধীরে ধীরে দগ্ধ করেছিল, না হলে একটি দেহ পুড়তে তিনদিন সময় লাগবে কেন?দপ করে জ্বলিলে আগুন যেমন ক্ষণিকের মধ্যেই সব গ্রাস করে নেয়, এক্ষেত্রে তা হয়নি, বাবাজী অনুশোচনার দহন জ্বালায় পীড়িত হয়ে হচ্ছেন এবং তা হতে এই বিরহ অনলের আবির্ভাব।বাবা তাঁর কুটিরে বসে ভজন করছেন আর তাঁর এই পঞ্চভূতের দেহ ধীরে ধীরে ধিক ধিক করে জ্বলতে লাগল এবং তার জন্য বাবার কোন চিত্ত বিক্ষেপ নাই, কোন ছুটোছুটি করেননি,কোন জল দিয়ে সেই আগুন নেভানোর চেষ্টাও তিনি করেননি, কারণ তিনি চেয়েছিলেন নিজেকে শাস্তি দিতে যে কেন তিনি প্রিয়াজীর আদেশ লঙ্ঘন করে ব্রজধামের বাইরে গমন করে তপ্তমুদ্রা ধারণ করেছিলেন।*
*তাঁর মানসিকতা এইরকম ছিল যে তাঁর দেহ আগুনে পুড়ছে সে বাহ‍্যজ্ঞানও তাঁর ছিল না। তিনি বিচল ভাবে ধ‍্যানে বসে কৃতকর্মের জন্য রাধারাণীর ভজনে নিজেকে আবিষ্ট রেখেছিলেন।অর্থ‍্যাৎ বাবার তখন দেহ বোধ পর্যন্ত ছিল না।অনেকটা ঠাকুর হরিদাসের মত।যবনগণ যখন তাঁকে বাইশ বাজারে চরমভাবে বেত্রাঘাত করছিল তখন তিনি নামধ‍্যানে মগ্ন থাকায় সেই আঘাত যন্ত্রণা কিছুই বুঝতে পারেননি।এক্ষেত্রেও সেইরকম বাবার ভজন নিষ্ঠা এমনই প্রগাঢ় ছিল যে রাধারাণী তাঁকে উপেক্ষা করেছেন,সেই রাধারাণীর শ্রীচরণতলে নিজেকে সমর্পণ করে বাবা তাঁর কৃতকর্মের জন্য নিজেকে চরম শাস্তি দিয়েছেন। সারাটি দেহ ধিক ধিক জ্বলছে, যাকে বলা হয় তুষানলের দগ্ধ,ডান-পায়ের বৃদ্ধ-অঙ্গুলি হতে সেই আগুন ক্রমশ শরীরের উপরদিকে উঠতে লাগল এবং বাবা রাধারাণীর স্মরণের মাধ‍্যমে স্থির অচলভাবে নিজ কুটিরেই বসে দগ্ধ হচ্ছেন। অথচ মুখে নাম ঠিক চলছে।ক্রমে চারিদিকে এই খবর রটে গেল এবং গ্রামবাসীগণ পাগলের মত ছুটোছুটি করতে লাগলেন।যখন ব্রিটিশ আমল স্থানীয় থানার বড়বাবু যিনি ছিলেন তিনি জাতিতে মুসলমান।এই খবর তার কর্ণগোচর হলে তিনি তার এক অধীন অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনার সত‍্যতা যাচাই করতে আসেন।বাবার কুটিরে পবিত্র প্রাঙ্গণে সেই মুসলমান বড়বাবু আসিলে সেই আগুন নিভে গেল কিন্তু তার অধীনস্থ হিন্দু অফিসারটি তারপরে তা দর্শন করেন তখন তিনি জ্বলন্ত অগ্নি দর্শন করেন যার অর্থ বাবার মুসলমান স্পর্শন বা দর্শন বাঞ্জনীয় ছিল না।এটিও এক প্রকার ঐশী লীলা।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৫)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (দ্বিতীয় খন্ড)*
*রণবাড়ীর সিদ্ধ কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজ*
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*🍀এই খবর দাবানলের মত চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল এবং চারিদিকের লোকে লোকারণ‍্য হয়ে গেল।এমত সময়ে নবদ্বীপের সিদ্ধ জগন্নাথ দাসবাবাজী এই অঞ্চলে ছিলেন এবং তাঁর বাহক ছিলেন বিহারীদাস বাবাজী।তখন সেই সিদ্ধ জগন্নাথদাস বাবাজীকে বিহারীদাস মাথার উপর বসিয়ে রণবাড়ীর সিদ্ধ বাবার কুটিরের কাছে আনয়ন করেন, ব‍্যাপার কি তা দেখতে।বাহক বিহারীদাস দেখেন বাবার কুটিরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ অথচ আগুন জ্বলছে ও সিদ্ধবাবা উচ্চৈঃস্বরে নাম করছেন।বিহারীদাস জগন্নাথবাবাকে বলেন যে,সারা শরীরে গনগনে আগুন এবং তা ধীরে ধীরে উপরে উঠে গলা পর্যন্ত পৌঁছিয়েছে কিন্তু নামের এমন মহিমা যে সেই অগ্নি সিদ্ধবাবার মুখ অবধি আর ছড়িয়ে পরতে পারছে না। সেইকথা শুনে জগন্নাথদাস বাবাজী বিহারীকে আদেশ করেন দরজা ভেঙ্গে ফেলতে, এবং একটি তুলাবস্ত্রতে আগুন জ্বালিয়ে তা বাবার মাথার উপর ফেলতে বললেন, যার ফলে সেই দেহ অগ্নি বাবার মাথা ও মুখমন্ডলে ছড়িয়ে পড়ল এবং বাবার দেহ সম্পূর্ণভাবে দগ্ধীভূত হয়ে লয় প্রাপ্ত হয়।*
*কি করুণ পরিণতি--,রণবাড়ীর গ্রামবাসীগণ হায় হায় করে বাবা বাবা বলে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলেন এবং তাঁদের মুখে শুধু একটাই কথা "বাবা আপনি চলে গেলে আমাদের কি হবে --,কে আমাদের সুখে দুঃখে দেখবে ইত্যাদি সব আক্ষেপ করে কান্নার রোল তুললেন।বাবার তখন একপ্রকার শেষ সময় কিন্তু তা সত্ত্বেও বাবা তাঁদের অভয় দিয়ে বলেছিলেন যে,আমি সব সময় তোমাদের কাছে আছি। আমার আশীর্বাদে তোমাদের গ্রামে খরা, আজন্মা মহামারী এই সব কোন দিনই হবে না।আর তোমরা যদি সত‍্যই আমাকে ভালবাস তাহলে ফাল্গুনী শুক্লা একাদশী তিথি পালন করবে এবং ঐদিন সারারাত্রি হরিবাসরের মাধ‍্যমে জেগে থেকে নামকীর্তন করবে।ইহার অন‍্যথা যারা করেছিল তাদের কি শাস্তি ভোগ করতে হয়েছিল তা শুনুন।*
*🌷বাবার আদেশ যারা লঙ্ঘন করিল।*
*🌷উক্ত হরিবাসরে যারা যোগ নাহি দিল।।*
*🌷 যাহারা বাবার বাক‍্য করিল হেলন।*
*🌷সব গৃহে ভেদবমি হৈর আরম্ভন।।*
*🌷প্রাণ যায় যায় প্রায় কেহ নাহি মরে।*
*🌷আতঙ্কে বাবার পদে সবে আসি পড়ে।।*
*🌷সকাতরে বাবার পাশে করে নিবেদন।*
*🌷রক্ষা কর আর নাহি করিব হেলন।।*
*🌷চরণামৃত পানে সবে সুস্থির হইল।*
*🌷বাবার প্রভাব হেরি সকলে মোহিল।।*
*🌻এই ঘটনাটির সাক্ষী ছিলেন পরবর্তী বাবার গাদীর মোহন্ত নিত‍্যানন্দ বাবাজী মহারাজ যিনি স্বচক্ষে এইসব দর্শন করে গিয়েছেন।*
*বাবার অপর আদেশ ছিল যে তারা যদি একান্তেই বাবার তিরোভাব তিথি পালন করেন তাহলে যেন কারও কাছ হতে ভিক্ষারূপে যেন কিছু গ্রহণ না করেন, তা অর্থ বা সামগ্রী যাই হোক না কেন।এই প্রসঙ্গে বলতে চাই কত গুরুদেব তো কত কথায় বলে যান, কিন্তু কয়জন পালন করে পরম্পরা হিসাবে, কিন্তু রণবাড়ীর গ্রামবাসীগণ অতীব নিষ্ঠার সঙ্গে আজ প্রায় দেড়শ-দুইশ বৎসর ধরে সেই আদেশ পালন করে যাচ্ছেন অর্থ‍্যাৎ বাবার তিরোভাব তিথিতে তাঁরা বাইরের কোন ভক্ত বা গৃহী কারও কাছ হতে কোন দান বা ভিক্ষা গ্রহণ করেন না, কারণ সিদ্ধবাবার আদেশ তাঁদের কাছে বেদবাক‍্য স্বরূপ।*
*সাধারণত বৈষ্ণবজগতে ভিক্ষা সংগ্রহ যেন তিরোভাব তিথি পালনের একটা অঙ্গ বিশেষ।চাঁদার বই ছাপিয়ে অনেক আগে হতেই অর্থ সংগ্রহ করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে দাবীও করা হয়।এটিই বৈষ্ণব জগতে তিরোভাব তিথি পালনের একটি অঙ্গ হিসাবে চলছে।এমনকি ব্রজের চার সিদ্ধবাবার অন‍্য তিনজনের ক্ষেত্রেও ভিক্ষা সংগ্রহের প্রথা চালু আছে কিন্তু ব‍্যতিক্রম শুধু রণবাড়ীর সিদ্ধবাবার তিরোভাব তিথি। যেখানে আপনি কিছু আনুকূল‍্য করতে চাইলেও গ্রামবাসীগণ তা সবিনয়ে প্রত‍্যাখ‍্যান করেন।কারণ এটি সিদ্ধবাবার নির্দেশ।এইরকম সেবা আনুগত‍্য বর্তমানের বৈষ্ণব জগতে অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি সত‍্য সত‍্য সত‍্য।সারাটি বৎসর ধরে প্রত‍্যেকেই তাঁদের সামর্থ‍্য অনুযায়ী অর্থ এবং সামগ্রী জমিয়ে রাখেন বাবার তিরোভাব তিথিতে তা খরচ করবেন বলিয়া-- এটি এক অভিনব আনুগত‍্য।দেড়শ-দুইশ বৎসরে কত বংশ পরম্পরা চলছে কিন্তু বাবার সেই অমোঘবাণী অদ‍্যাপি রণবাড়ীর গ্রামবাসীগণ অতীব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন।বিশেষ কোরে বর্তমানকালে জিনিসপত্রের দাম এত বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও তাঁদের সেই নিষ্ঠার কোন খামতি নেই।*
*তারউপরে এই তিরোভাব তিথি পালনের অন‍্য বৈশিষ্ট্য এই যে তাঁরা কোন বাইরের লোকদের দ্বারা এইসব কাজ করান না,নিজেরাই সব করেন।কোন ভাড়াটে ঠাকুর বা পাচক সেখানে নিষিদ্ধ। ফল, সবজি আমানি করা হতে শুরু করে উনুনের কাজ,যাবতীয় রান্নার কাজ সব রণবাড়ী গ্রামবাসীগণ নিজহাতে সম্পাদন করেন।কোন ত‍্যাগী বৈষ্ণবকে পর্যন্ত এইসব কাজ করতে দেওয়া হয় না।অর্থ‍্যাৎ এটি ব্রজবাসীর সেবা এবং অভ‍্যাগত বাবাজী বৈষ্ণবগণ সব ব্রজবাসীদের হাতের সেবা গ্রহণ করে নিজেদের কৃতার্থ করেন।*
*অন‍্য একটি প্রথা হচ্ছে পঙ্গত মাত্র একবার হবে।সিদ্ধবাবার আশ্রমের প্রাঙ্গণ খুবই বড় এবং পাঁচ থেকে সাতশ বৈষ্ণব মাহাত্ম্য একসঙ্গে সেখানে প্রসাদ পাবার জন্য বসতে পারেন যার ফলে মাত্র একবার পঙ্গত হয়।পঙ্গতের পদ হচ্ছে পুয়া এবং সবজি আর কিছুই না।সর্বপ্রথম যখন এই উৎসবে যোগদান করি তখন কিছুই বুঝতে পারলাম না যে পুয়া এবং সবজি দ্বারা কি উৎসব হবে। কিন্তু স্বচক্ষে সব দেখে অবাক বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই।বিভিন্ন সবজি বটি দ্বারা আমানি করে মাটির উপর রাখছেন,কোন থালা বা পাত্র সেখানে নেই,তার উপরে সব সবজি জলে ধোয়া একটা চিরন্তন প্রথা কিন্তু এখানে ঐ মাটিতে রাখা সবজি সব একদম চলার কড়াইতে ছাড়া হচ্ছে এবং তারসঙ্গে মশলাদি দিয়ে সবজি পাক হচ্ছে এবং বিশ্বাস করুন আমরা যখন প্রসাদ পাবার জন্য সেই উন্মুত্ত প্রাঙ্গণে বসে তা পেতে লাগলাম মনে হতে লাগল যেন অমৃত ভোজন করছি, আর কিছুই না। কিন্তু এত পরিতৃপ্তির সঙ্গে তা ভোজন করেছিলাম যে এখনও তা ভুলতে পারিনি। সবই সিদ্ধবাবার অলক্ষ‍্য কৃপা।*
*এই উৎসবের অন‍্য বৈশিষ্ট্য এই যে,ঐ উৎসবের দিন গ্রামের বালক,বৃদ্ধ, নরনারী কেউই সেখানে প্রসাদ পাবার জন্য বা খাবার জন্য ত্রিসীমানার মধ্যে আসবেন না।তাঁদের মনোভাব আজ সিদ্ধবাবার তিথি--,আজ শুধু অভ‍্যাগত বাবাজী বৈষ্ণব এবং ভক্তসেবা হবে।গ্রামের কোন লোক ধারে কাছেই আসবে না।পরেরদিন যা অবশিষ্ট থাকে তা গ্রামবাসীদের সেবা করান হয়।এটিও এক অভিনব প্রথা কারণ বতর্মানকালে যে কোন মঠ মন্দিরে যারা আসেন তারা শুধু নিজের পেটের চিন্তায় অস্থির, বাবাজী বৈষ্ণবগণ বা অভ‍্যাগতগণ পেলেন কিনা সেদিকে তাদের ভ্রুক্ষেপ নেই। অর্থ‍্যাৎ রণবাড়ীর সিদ্ধবাবার তিরোভাব তিথিটি একটি দেখবার মত বস্তু।*
*(১)সর্ব প্রথম বাইরের কোন ভিক্ষা বা দান তারা গ্রহণ করেন না। সব খরচ গ্রামবাসীরাই করেন।*
*(২)অদ‍্যাপি নিয়মিত হরিবাসর পালিত হয়।*
*(৩)প্রসাদের বস্ত পুয়া ও সবজি।*
*(৪)পঙ্গত মাত্র একবার হয়।*
*(৫)ব্রজবাসীরাই নিজেরা সব কাজ করেন, কোন ভাড়াটে লোকের সেখানে চলন নেই।*
*(৬)উৎসবের দিন গ্রামের ছেলে মেয়ে বালক বৃদ্ধ কেউই সেই প্রাঙ্গণে খাবার জন্য আসেন না।*
*(৭)উদ্বৃত্ত যা থাকে তা পরদিন গ্রামবাসীদের সেবা করান হয়।*
*🍀বর্তমানকালের ভক্তপাঠকদের অবগতির জন্য জানাই যে এমন যে মহা মহিমাময় শ্রীপাট তা একেবারে জীর্ণদশায় পরিণত হয়েছিল।অর্থ‍্যাৎ সেই দেড়শ কি দুইশ বৎসর আগে যা সব করা হয়েছিল কাঁচা গাথুনি ভাঙ্গা ভাঙ্গা দরজা জানালা,না ছিল কোন পাকা বাথরুম, না ছিল কোন নাটমন্দির, না ছিল কোন বৈষ্ণব খন্ড,জল কল,বাথরুম ইত্যাদি।এক কথায় চরম দুর্দশা। এই অবস্থা দেখে অধমের মনে বিশেষ ভাবান্তর হয় এবং মনে বড় আক্ষেপ হয় এই যে সব মহাজীবন, তাঁদের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা বতর্মান প্রজন্মের অবশ‍্য কর্তব‍্য। এইরকম মানসিকতার বশবর্তী হয়ে সেই শ্রীপাটের যেরকম পরিবর্তন হয়েছে তা লিখে বর্ণনা করা যায় না।এককথায় সমস্ত জিনিস নতূনভাবে করা হয়েছে, শ্বেতপাথরের ছড়াছড়ি,এমন কি গ্রানাইট পাথর দ্বারা সিদ্ধবাবার সমাধি তৈরী করা হয়েছে এবং সারা ব্রজমন্ডলে এক অভিনব সাড়া পড়ে যায় যে কলকাতার এক শেঠ বাবার সব কাজ সুন্দরভাবে করছেন যা আজ পর্যন্ত হয়ত কেউই করেনি, অধমের মনে হয় অর্থের এইরকম সদ্ব‍্যবহার আর কি হতে পারে। ভগবদ্ সেবায় যদি অর্জিত অর্থ না ব‍্যয় হল তাহলে সে অর্থ নয় অনর্থ।আত্মপ্রশংসা করা লজ্জার বিষয় তবে আমি নিজেকে ভাগ‍্যবান মনে করি যে, এমন যে সিদ্ধবাবা তিনি অধমের এই ষেবা গ্রহণ করে তার জীবনকে ধন‍্য করে দিয়েছেন।যদি কখনও এই অধমের সঙ্গে আপনারা এই চার সিদ্ধবাবার শ্রীপাটে গমন করেন তাহলে যে কি অব‍্যক্ত আনন্দলাভ করবেন তা বলা নিষ্প্রয়োজন।এক কথায় রণবাড়ীর সিদ্ধবাবা এই অধমের সেবা গ্রহণ করে তার জীবনকে ধন‍্য করে দিয়েছেন।*
*🍀তদুপরি অন‍্য একটি ঘটনা শুনলে আপনারা অবাক হয়ে যাবেন।রণবাড়ী অঞ্চলে কোট-কাছারি মামলা মোকর্দমা ফৌজদারী মামলা ইত্যাদি সবই হয় ধরুন, আপনার ঘরে চুরি হয়েছে আপনি থানায় ডায়রি করলেন, সন্দেহভাজন ব‍্যক্তির নামও করলেন।পুলিশ তাদের ধরে আনল তখন সর্বপ্রথম বলা হয় "চল সিদ্ধবাবার সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে বলো যে তুমি চুরি করো নাই, কিন্তু সাবধান সিদ্ধবাবা অতি প্রকট, তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে মিথ‍্যাকথা বললে সবংশে ধ্বংস হবে। এবং বহুক্ষেত্রে এই জাতীয় মামলা গোড়াতেই নিষ্পত্তি হয়ে যায় কারণ সিদ্ধবাবার ভয়ে কেউ মিথ্যা কথা বলতে সাহস পায় না।এটি দ্বারা প্রমাণিত হয় সিদ্ধবাবার অপ্রকট নামে মাত্র তিনি সদাজাগ্রত। বতর্মানের ঘোর কলিযুগে এখনও এরকম সমাধির প্রভাব বিদ‍্যমান।*
*🛑সেইজন‍্য ভক্ত পাঠকগণের নিকট অধমের আবেদন এই যে আপনারা রণবাড়ীতে যান বা না যান সিদ্ধবাবার সেবার জন্য যথাসাধ‍্য আনুকুল‍্য M.O যোগে পাঠাবেন নিম্ন ঠিকানায়।*
      *Sri Radha Binod Das.*
      *Mohanta Maharaj*
      *Ranabari siddha baba Ashram*
      *P.O= TEHSIL--CHHATA*
      *Dist= Mathura (U.P)*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏👣🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৬)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (দ্বিতীয় খন্ড)*
*সূর্য‍্যকুন্ডের সিদ্ধ মধুসূদনদাস বাবাজীমহারাজ*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🙏সর্ব প্রথম যাঁরা ব্রজধাম প্রকট করেছিলেন তাঁদের নাম ঃ-----*
*🙏শ্রীমৎ লোকনাথ গোস্বামী-- প্রকটিত বিগ্রহ "শ্রীশ্রীরাধাবিনোদ"।*
*🙏শ্রীপাদ রূপ গোস্বামী-- প্রকটিত বিগ্রহ "শ্রীশ্রীগোবিন্দদেব"।*
*🙏শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামী-- প্রকটিত বিগ্রহ "শ্রীশ্রীমদনমোহন"।*
*🙏শ্রীমধুপন্ডিত-- প্রকটিত বিগ্রহ "শ্রীশ্রীগোপীনাথ"*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

*🍀সিদ্ধবাবা মধুসূদনদাস বাবাজী মহারাজের বংশগত নাম হচ্ছে শ্রীমধুসূদন দাস।কুলীন ব্রাহ্মণ বংশে আবির্ভাব।শিশুকাল হতেই শ্রীকৃষ্ণে গাঢ় অনুরাগ।তাঁর অনিচ্ছা সত্ত্বেও পিতামাতা তাঁর বিয়ে দেন এবং তিনি সেই রাত্রেই বাসরঘর হতে পলায়ন করে বৃন্দাবনে চলে যান।উদাসভাবে বৃন্দাবনের যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়ান, কখনও বনে জঙ্গলে, কখনও যমুনার তটে, আহারে অনাহারে দিন অতিবাহিত হতে থাকে।মনের একান্ত ইচ্ছে কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষা গ্রহণ করে সাধনভজনে জীবন কাটাবেন। কিন্তু কার কাছে দীক্ষা মন্ত্র গ্রহণ করবেন নিজেই জানেন না।তথাপি মনের গভীরকোণে দীক্ষা নিবার প্রবল বাসনা। ভগবান ভক্তের আর্ত্তি যদি যথার্থ হয় তা কিভাবে পূরণ করেন তার সাক্ষাৎ উদাহরণ এই বালকের দীক্ষা এবং প্রসঙ্গটি আপনারা গ্রন্থের ভাষায় আস্বাদন করুন।*
*🌷কিরূপে কোথায় করি মন্ত্রের গ্রহণ।*
*🌷কেশীতীর্থে বসি তিঁহ করয়ে চিন্তন।।*
*🌷হেন কালে এলো তথা এক মহাজন।*
*🌷 যমুনায় স্নান লাগি কৈল আগমন।।*
*🌷 তাঁহারে হেরিয়া ডাকি বলেন বচন।*
*🌷এবে তোরে দীক্ষামন্ত্র করিব অর্পণ।।*
*🌷 বারতা শুনিয়া তিঁহ প্রেমাকুল মন।*
*🌷আপনার ভাগ‍্য বহু করে প্রশংসন।।*
*🌷হর্ষে ভয়ে স্নান করি কৈল আগমন।*
*🌷 দশাক্ষর মন্ত্র কর্ণে করিল স্থাপন।।*
*🌷মন্ত্রলাভ করি তিঁহ আবিষ্ট হইল।*
*🌷হেনকালে মন্ত্রদাতা অন্তর্হিত হইল।।*
*🌷কে বা তিনি কিবা তাঁর হয় পরিচয়।*
*🌷জিজ্ঞাসিতে নাহি তার হইল সময়।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ কে যে মহামন্ত্র দান করলেন তা বুঝতেই পারলেন না, কারণ তিনি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যান।এর অর্থ এই যে, স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ ভগবান ছদ্মবেশে তাঁকে দীক্ষা দান করে চলে গেলেন। মনে বড় হতাশা,যিনি আমায় দীক্ষমন্ত্র দান করলেন কে যে সেই গুরুদেব,কি তাঁর পরিচয় তা কিছুতেই বুঝতে পারলেন না। এজন‍্য হতাশ মনে গোবর্দ্ধনের সিদ্ধবাবার কাছে গিয়ে সব কথা বললেন।কৃষ্ণদাস বাবাজী মহারাজ বালকটির মধ্যে দিব‍্যভাব দেখে তাঁর পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে তিনি সব কথা বললেন, এবং মধুসূদন বাবাজী যখন তাঁর কাছে ভজন প্রণালী জানতে চাইলেন তখন তিনি বললেন যে তাঁর গুরুদেবের ভজন প্রণালী না জানলে তিনি কিভাবে তাঁকে পরবর্তী প্রথা বলবেন। এইকথা শুনে নবাগত বালক-বাবাজী হতাশায় কাঁদতে লাগলেন।তাঁর সাধন-ভজনে আগ্রহ এবং নিষ্ঠা দেখে গোবর্দ্ধনের সিদ্ধবাবা তাঁকে আশ্বস্ত করে বললেন যে তুমি মনক্ষুণ্ণ হইও না, আমি তোমাকে দাদার কাছে পাঠাচ্ছি এবং তিনি বললেন কাম‍্যবনের সিদ্ধবাবার কাছে গমন করতে।কারণ তিনি সর্বজ‍্যেষ্ঠ এবং সর্ববেত্তা এবং তিনি নিশ্চিত তোমাকে সঠিক পথ বলে দিবেন।*
*হতাশ মনে আশা নিরাশায় ব‍্যাকুল মনে তিনি চললেন কাম‍্যবনে যা ত্রিশ থেকে চল্লিশ মাইল দূরে।সিদ্ধবাবাও সব কথা শুনলেন, এবং বললেন যে তিনি যখন অযাচিত কৃপাদীক্ষা পেয়েছেন তা তখনই লঙ্ঘন করা উচিত না।তবে তিনিও তাঁকে রাগানুগা ভজনের প্রথা এবং পদ্ধতি বলতে পারবেন না কারণ গুরু প্রণালী জানা না থাকলে সেরকম নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়।আবার হতাশা,তথাপি তিনি শুধু এই মাত্র বললেন যে,"বাবা তুমি হতাশ হইও না একান্তে বসে হরিনাম করো কৃপাময়ী রাধারাণী অথবা ভক্তবৎসল মহাপ্রভু নিশ্চিত ইহার বিহিত করবেন"।তখন হতাশায় নিরাশায় ভগ্নমনে রাধাকুন্ত এসে উপস্থিত হলেন।এখানে দেখুন এই বালকটির মধ্যে সাধনভজনের কি অদম‍্য বাসনা বারবার ভগ্নমনোরথ হয়েও ভজনবাসনা বিলুপ্ত হয়নি।তখন তিনি মনে মনে সঙ্কল্প করলেন যে,বৃন্দাবনে এসে যদি ভজনসাধনই করতে না পারলাম তাহলে এ জীবন বৃথা।অতএব আজ রাধাকুন্ডের জলে গলায় গিরিধারী শিলা বেঁধে রাত্রিতে রাধাকুন্ডে ঝাঁপ দিয়ে দেহপাত করবেন। এই প্রসঙ্গটি গ্রন্থের ভাষায় আপনারা আস্বাদন করুন।*
*🌷 নিভৃতে বসিয়া মনে করেন বিচার।*
*🌷যদি ভজনেতে মোর না হয় অধিকার।।*
*🌷তবে এই দেহে মোর কোন প্রয়োজন।*
*🌷কুন্ডজলে ঝাঁপ দিয়া ছাড়িব জীবন।।*
*🌷অদ‍্যরাত্রে এই দেহ বিসর্জন করিব।*
*🌷ভজন অযোগ‍্য দেহ কি লাগি রাখিব।।*
*🌷এতচিন্তি গিরিধারী গলেতে বান্ধিল।*
*🌷অর্দ্ধরাত্রে শ্রীকুন্ডের জলে ঝাঁপ দিল।।*
*🌷ক্রমশ অতল তলে পড়িল যখন।*
*🌷তখনি ঘটিল এক বিচিত্র ঘটন।।*
*🌷কেহ যেন গলা হতে শিলা ভাসাইল।*
*🌷তালপত্র হস্তে দিয়া তীরে নিক্ষেপিল।।*
*🌷 তালপত্রখানি পাইয়া হইল হর্ষমন।*
*🌷তাহা লৈয়া গোবর্দ্ধনে কৈল আগমন।।*
*🌷 বন্দি সিদ্ধ বাবা পদ সব নিবেদিল।*
*🌷তবে বাবা তারে কাম‍্যবনে পাঠাইল।।*
*🌷তালপত্র হেরি বাবা তাঁহাকে কহিল।।*
*🌷প্রিয়াজীর যথেষ্ট কৃপা তোমার উপর।*
*🌷 হইল অব‍্যক্ত বস্তু তোমার গোচর।।*
*🌷পরম অব‍্যক্ত যাহা পেয়েছ এখন।*
*🌷 বর্হিজগতের তাহা বুঝাব কেমন।।*
*🌷পুনঃ শ্রীকুন্ডেতে তুমি করহ গমন।*
*🌷প‍্যারীরে ডাকিলে হবে অভীষ্ট পূরণ।।*
*🌷পরম করুণাময়ী রাধা রাধা বৃন্দাবনেশ্বরী।*
*🌷অবশ‍্য পুরাবে আশা কৃপাদৃষ্টি করি।।*
*🌻কাম‍্যবনের সিদ্ধবাবার নিকট হতে এইরকম-- কৃপাদেশ পেয়ে তখন তিনি পুনরায় রাধাকুন্ডে রওনা হলেন এবং কৃপার এমনই মহিমা সেই রাত্রিতেই কৃপাময়ী রাধে তাঁকে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে সস্নেহে বললেন যে,"তুমি এখন সূর্য‍্যকুন্ডে গিয়ে ভজন কর এবং আরও কহিলেন--*
*🌷সূর্য‍্যকুন্ডে বাস করি করহ ভজন।*
*🌷তথায় পাইবে তুমি আমার সেবন।।*
*🌷যেই মন্ত্রে দীক্ষা তুমি করিলে গ্রহণ।*
*🌷সেই মন্ত্র কারে তুমি না করো অর্পণ।।*
*🌷আমি যাহা দিলাম তাহা করিও গোপন।*
*🌷এত কহি রাধারাণী হৈলা অদর্শন।।*
*🌻এইরকম স্বপ্নদিষ্ট হয়ে বাবা সূর্য‍্যকুন্ডে এসে ভজনে রত হলেন এবং বহুলোককে ভেক্ দিলেন। কিন্তু রাধারাণীর নিষেধ থাকায় মন্ত্রদীক্ষা কাউকেও দান করেন নাই।তাঁর জীবনে করুণাময়ী রাধারাণীর কৃপা যে কিভাবে অবিরত বর্ষিত হ'ত তা আপনারা শুনুন--*
*🌷একদা প্রিয়াজী স্বপ্নে বাবাকে কহিল।*
*🌷পরম বিচিত্র তাহা জগতে ঘোষিল।।*
*🌷সূর্য‍্যকুন্ডের যেই ঘাটে কর তুমি স্নান।*
*🌷এক শিলা রহে তথা কন্ঠ দঘ্ন স্থান।।*
*🌷দুই ভগ্নীর কেয়ুর অলঙ্কারাদি আর।*
*🌷স্নানকালে রাখিতাম উপরে তাহার।।*
*🌷পাথর গলিত হইয়া চিহ্নিত হইল।*
*🌷তাহা আনি পূজা করো তোমারে কহিল।।*
*🌷স্বপ্নাদেশ পাইয়া বাবার পুলকিত মন।*
*🌷জলেতে ডুবিয়া পাথর উঠাল তখন।।*
*🌻এইভাবে বাবা সেই শিলাখানি উঠিয়ে দেখেন যে তার উপর সব অলঙ্কারাদির গলিত চিহ্ন গুলি বিদ‍্যমান রয়েছে, এবং সেই অপ্রাকৃত শিলাখন্ডটি প্রতিষ্ঠা করে সেবাপূজায় মনোনিবেশ করলেন।এইভাবে বাবা ভজনানন্দে দিন যাপন করেন, কারণ এখন তাঁর সর্ব অভীষ্ট পূরণ হয়েছে।🌹এখন শ্রোতা ভক্তগণ নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কে তাঁকে দীক্ষামন্ত্র দান করে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলেন।কে তাঁকে ডুবন্ত অবস্থায় গলার পাথর খুলে তীরে নিক্ষেপ করেছিলেন,কে তাঁর হাতে অপ্রাকৃত তালপত্রে লিখা ভজন প্রণালী দান করেছিলেন, কে তাঁকে সূর্য‍্যকুন্ডে এসে ভজনে নিমগ্ন হতে কৃপাদেশ করেছিলেন।সত‍্যই স্বার্থক জনম বাবার।বৃন্দাবনে বাস করে সাধন ভজনের মাধ‍্যমে জীবন অতিবাহিত করবেন এবং এই যে মনোবাসনা তা কি ভাবে একটির পর একটি ঘটনার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হল।ধন‍্য সিদ্ধবাবা আপনার শ্রীচরণে দন্ডবৎ প্রণাম।*
*🌹কিন্তু ভজনের বহুবিধ পুরস্কার এখনও তাঁর জীবনে বাকী রয়েছে।এখানে থাকা কালীন হোলি উৎসব সমাগত হলে বাবার ইচ্ছা হয় বর্ষাণাতে হোলি উৎসবে যোগদান করবেন এবং এইরকম মনস্থ করে একটি শুভ্র বহির্বাস পরিধান করে বাবা চললেন পদব্রজে বর্ষাণার পথে।এই সূর্য‍্যকুন্ড বরাবর একটি জলের খাল আছে তাকে লোকে "বোম্বাখাল" বলে, এই খালের পার ধরে বর্ষাণার দিকে যেতে হয় এবং যাত্রাকালে কি হয়েছিল তা আপনারা কৃপা করে শুনুন।*
                   *ক্রমাগত*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৭)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (দ্বিতীয় খন্ড)*
*সূর্য‍্যকুন্ডের সিদ্ধ মধুসূদনদাষ বাবাজী মহারাজ*
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🌷ফাল্গুনী শুক্লা নবমী তিথির অপরাহ্নে।*
*🌷শুক্ল বস্ত্র পরি বাবা চলয়ে আপনে।।*
*🌷কুটির হইতে দ্রুতপদে করিয়া গমন।*
*🌷বোম্বার সমীপে গিয়া পড়য়ে তখন।।*
*🌷 রাখাল বালক আদি যত শিশুগণ।*
*🌷কৌতূহলী হৈয়া করে বাবাকে দর্শন।।*
*🌷চোখে জল মুখের লালায় ভূমি কর্দমাক্ত।*
*🌷মুখে ফেন ঝরে দেখি সবে চমকিত।।*
*🌷হোলি খেলা অনুভবে ঘন দীর্ঘশ্বাস।*
*🌷সাত্ত্বিক বিকার তাঁহার দেহেতে প্রকাশ।।*
*🌷 এইভাবে সন্ধ‍্যাবধি করিয়া যাপন।*
*🌷হুঙ্কার করিয়া বাবা উঠয়ে তখন।।*
*🌷সাদা বস্ত্রখানি তাঁর রক্তবর্ণ হইল।*
*🌷বিচিত্র বাবার গুণ জগতে ব‍্যাপিল।।*
*🌻এখানে দেখুন মনের ষোলআনা আর্তি সহকারে যদি দেব দর্শন অভিলাষ কারও বাঞ্জা হয় এবং সেই আর্তি যদি প্রকৃত যথার্থ হয়, তাহলে এরকম ভাবেই তাঁর দর্শন সম্ভব হয়।বাবার আর বর্ষাণা যাওয়া হল না।রাখাল বালকগণ বাবাকে ধরাধরি করে তাঁর ভজন কুটিরে নিয়ে আসিল।মানসে এইরকম হোলিরাজ‍্যে প্রবেশের কাহিনী আমরা শ্রীনিবাস আচার্য‍্য প্রভুর জীবনেও দেখতে পাই, যেখানে তিনি যাজিগ্রামে বসেই মানসে বর্ষাণার হোলিরাজ‍্যে প্রবেশ করেছিলেন। সর্ব অঙ্গময় ফাগু এবং আবিরে রঞ্জিত হয়ে গিয়েছিল। সূর্য‍্যকুন্ডের বাবার বুলি ছিল -------*
        *🌷বিশ্বম্ভর গৌরচন্দ্র*
        *🌷বৃষভানুনন্দিনী রাধে।*
*🌻অতি ভোরবেলা শয‍্যা ত‍্যাগ করে নীরবে সূর্য‍্যকুন্ডতীরে বসে আপন মনে এই কীর্তন করতেন এবং নয়নজলে ভেসে যেতেন।*
*🌹বিয়ের পর ফুলশয‍্যার রাত্রিতে গোপনে গৃহত‍্যাগ করলেও অবশ্যই তাঁর ধর্মপত্নী একজন ছিলেন, যদিও জীবনে তিনি স্বামীর সাহচর্য‍্য পাননি, তথাপি তাঁর স্বামীর সাধনভজনের এইসব কথা শুনে আকৃষ্ট হয়ে একবার পতিদেবতাকে দেখবার জন্য সেখানে আগমন করেন, কিন্তু বাবা সেই খবর পাওয়া মাত্র, জায়গা জায়গায় ঘুরে বেড়াতে লাগলেন যাতে তাঁর পত্নী কিছুতেই তাঁর নাগাল না পান।অবশেষে হতাশাগ্রস্ত হয়ে তিনি বিষন্নমনে ধামত‍্যাগ করেন।এটিও এক অতি অদ্ভুত সিদ্ধান্ত।*
*🌳একবার সিদ্ধবাবার জীবনে যে ঘটনা ঘটেছিল তাইই এক হিসাবে তাঁর শেষ লীলা।একবার বাবার চরণে এক ক্ষত হল এবং অনেক চেষ্টাতেও যখন তা ভাল হল না,সিদ্ধবাবা মনস্থ করলেন দেহপাত করবেন।এইরকম মানসিকতার বশবর্তী হয়ে বাবা সকলের অলক্ষ‍্যে কুটির ত‍্যাগ করে নির্জন বনে প্রবেশ করলেন এবং রোগ যন্ত্রণায় কাতর হয়ে অন্নজল ত‍্যাগ করে সমানে রাধারাণীর কাছে প্রার্থনা করতে লাগলেন, নীরবে যাতে কেউ শুনতে না পান।কুটির বাসী বৈষ্ণবগণ অনেক খোঁজখবর করেও তাঁর কোন খোঁজ পেলেন না এবং সকলে মনে করলেন বাবা নিশ্চিত দেহপাত করেছেন। কিন্তু ভক্তের এই কষ্টে করুণাময়ী রাধারাণী আর স্থির থাকতে পারলেন না, তখন তিনি এক লীলা প্রকাশ করলেন, তা আস্বাদন করুন-----*
*🌷হেরিয়া বাবার দশা প্রিয়াজী দুঃখ মন।*
*🌷ব্রজকিশোরীর রূপে দিলা দরশন।।*
*🌷রুটিজল হস্তে লইয়া সম্মুখে আসিল।*
*🌷বাবায় সম্বোধিয়া তাহা কহিতে লাগিল।।*
*🌷দুইদিন তুমি নাহি করিলে গমন।*
*🌷তে কারণে করি মুই তোমা অন্বেষণ।।*
*🌷মাধুকরীতে তুমি না করি গমন।*
*🌷কি কারণে হেথা পড়ি রয়েছ এখন।।*
*🌷 মাতা পাঠাইল রুটি,করহ ভোজন।*
*🌷 শুনি সিদ্ধবাবা হইল সচকিত মন।।*
*🌷ব্রজবাসী কন‍্যা জ্ঞানে তাঁহারে কহিল।*
*🌷যে বাড়ীর কন‍্যা তাহাও সে বুঝিল।।*
*🌷সেই অনুভবে বাবা প্রনয় কোপ কৈল।*
*🌷কিঞ্চিৎ পরিহাসচ্ছলে কহিতে লাগিল।।*
*🌷কি কারণে হেথা তুমি কৈলে আগমন।*
*🌷এখানে রয়েছি আমি জানিলে কেমন।।*
*🌷কন‍্যা কহে সব জানি করহ ভোজন।*
*🌷কাজ আছে তবে মুই করিব গমন।।*
*🌷বাবা কহে লৈয়া যাহ আমি না খাইব।*
*🌷বালিকা কহয়ে আমি তাহা না শুনিব।।*
*🌷সম্মুখে বসি খাওয়াতে মাতা করিল প্রেরণ।*
*🌷কি কারণে তুমি নাহি করিবে ভোজন।।*
*🌷আরাম ব‍্যারাম সর্ব দেহে ঘটয়।*
*🌷শরীর ছাড়িলে ভজন পূর্ণ নাহি হয়।।*
*🌷বালিকার মিষ্টবাক‍্য করিয়া শ্রবণ।*
*🌷তাঁহার প্রদত্ত দ্রব‍্য করিল ভোজন।।*
*🌷 পুনঃ কভু হেথা নাহি কর আগমন।*
*🌷শুনি মৃদু হাসি তিঁহ করিল গমন।।*
*🌷কতক্ষণ বাদে বাবা সুস্থির হইলে।*
*🌷পায়ে জ্বালা নাহি বুঝি,নেকড়া খুলিলে।।*
*🌷ক্ষত না হেরিয়া মনে সন্দেহ জাগিল।*
*🌷ধীরে ধীরে উঠি গ্রাম মধ্যে প্রবেশিল।।*
*🌷ব্রজমায়ীর মাতা স্থানে বাবা জিজ্ঞাসা করিল।*
*🌷শ্বশুরালয়ে তিহ কন‍্যা মাতা যে কহিল।।*
*🌷বাবা কহে কতদিন করিল গমন।*
*🌷তিঁহ কহে তিনমাস হইবে এখন।।*
*🌷রুটি না পাঠাল সেই মায়ী বাবা অন্তরে বুঝিল।*
*🌷কাঁদিতে কাঁদিতে বাবা কুটিরে আসিল।।*
*🌷গোপন করিলেও তাহা প্রকাশ পাইল।*
*🌷তদবধি সিদ্ধবাবা নাম সর্বত্র ব‍্যাপিল।।*
*🌺এখানেই কৃপাময়ী রাধারাণী তাঁর ভক্তের কষ্ট লাঘব করবার জন্য সর্বপ্রথম ভোজনের থালি পাঠালেন তাঁরই এক গোপীরূপী দাসী দ্বারা যিনি ব্রজমায়ীর বিবাহিতা কন‍্যারূপে পরিচয় দিয়ে তাঁকে কৌশলে খাইয়ে গেলেন এবং পরে চলে গেলে বাবা দেখেন যে তাঁর সেই চরণের ক্ষত একেবারে ভাল হয়ে গেছে।ভগবদ্ কৃপায় এক সিদ্ধবাবা দৃষ্টি শক্তি ফিরে পেলেন আর এখানে বাবার না ভাল হওয়া ক্ষতও ভাল হয়ে গেল। এক হিসাবে বাবার মহিমা জীবজগতে প্রকাশ করবার জন্য এটি রাধারাণীর একপ্রকার কৃপা।এই ঘটনার পর হতে তিনি সিদ্ধবাবা নামে খ‍্যাত হলেন।*
*🍀সিদ্ধবাবা তাঁর জীবনে সাধ‍্য বস্তু পাওয়ার পর হতে সূর্য‍্যকুন্ড অঞ্চলে তাঁর প্রভাব এবং মহিমা চতুর্গুণ বৃদ্ধি পেল এবং তখন আরও কঠোর ভজনে নিজেকে ডুবিয়ে দিলেন।এই সময়ে বাবা প্রায়ই বিভিন্ন তিথিতে তাঁর শ্রীপাটে বসে শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করতেন।বাবার কোন জাত বিচার ছিল না।একবার এই পাঠের সময় একটি ডোমের ছেলে বাবার কোলে বসে ভাগবদ্ পাঠ শুনছিল।সেইদিন কার্ত্তিকমাসে বাবা ভাগবতের রাসপঞ্চাধ‍্যায় পাঠ করছিলেন এবং যথাসম্ভব ব্রজবুলি ভাষায় তা শ্রোতাবৃন্দকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।আপনারা সকলে নিশ্চিত জানেন যে কৃষ্ণচন্দ্র সেই মহারাস রজনীতে হঠাৎ অন্তর্দ্ধান করেন এটি শুনে সেই ডোম বালকটি বাবাকে সরল মনে জিজ্ঞাসা করে যে বাবা!কৃষ্ণচন্দ্র রাসস্থলী হতে কোথায় গেলেন। বাবার অবচেতন মন তখন রাসলীলায় মগ্ন এবং হঠাৎ এইরকম প্রশ্ন করাতে বাবার মনে যে কি ভাবান্তর হল তা বাবাই জানেন এবং হঠাৎ তখন একটি বিরাট শব্দ হল যার ফলে সকলে দেখলেন যে বাবার ব্রহ্মতালু ভেদ করে প্রাণবায়ু বেড়িয়ে গেল। গ্রন্থে পাই----*
*🌷ডোমসুত হেন বাক‍্য বলিল যখন।*
*🌷অমনি বোমের শব্দ হইল তখন।।*
*🌷বাবার ব্রহ্মরন্ধ্র ভেদি প্রাণ বাহিরিল।*
*🌷বাবার দিব‍্যভাব বলি সকলে বুঝিল।।*
*🌷 ক্ষণমধ‍্যে সিদ্ধবাবা ঢলিয়া পড়িল।*
*🌷সেই স্থানে সিদ্ধবাবার সমাধি হইল।।*
*🌷 অদ‍্যাপিও সূর্য‍্যকুন্ডে সমাধি দর্শন।*
*🌷ভাগ‍্যবান হেরি করে কৃতার্থ জীবন।।*
*♻বাবার মহাজীবন অনুশীলন করলে দেখা যায় যে শুরু হতে শেষ পর্যন্ত ক্রমাগত বাবার উপর রাধারাণীর কৃপার বারি বর্ষিত হয়েছিল।এইভাবে সাধন ভজনের মাধ‍্যমে বাবা তাঁর সুদুর্লভ মানবজনম স্বার্থক করে চির অমর হয়ে আছেন।*
*🔵এখানে ভক্তপাঠকগণের অবগতির জন্য বলতে চাই, এই জীবাধম সিদ্ধবাবার এই শ্রীপাটে বহুপ্রকার সেবার কাজ করেছে যথা, বিরাট শ্বেত পাথরের Hall ঘরের মত নাট মন্দির। শিলা প্রোথিত(পোতা) জায়গাটি মন্দিরের রূপদান।বৈষ্ণব খন্ড,পাকঘর,জলকল, বাথরুম ইত্যাদি কাজগুলি করা হয়েছে। বতর্মানে এটি এক নবরূপ ধারণ করেছে সবই রাধারাণীর কৃপা কারণ। তিনি চান যে তাঁর একান্ত ভক্তগণের স্মৃতি যেন যুগ যুগ অমর হয়ে থাকে।এই সিদ্ধবাবার তিরোভাব তিথিতে প্রচুর বৈষ্ণব এবং গৃহীভক্ত সমাবেশ হয় এবং উৎসবের কয়দিন জায়গাটিতে যেন নতূন করে প্রাণ সঞ্চার হয়।*
*🌳অর্থ‍্যাৎ এই সেবার দ্বারা ব্রজের বিখ‍্যাত চার সিদ্ধবাবার শ্রীপাটগুলি নতুনরূপ লাভ করেছেন এবং সবই শ্বেত পাথরের কাজ বলে নোনা লাগবার ভয় নাই। মনে হয় কম করেও পঞ্চাশ-ষাট বৎসর ঠিকই থাকবে তারপর প্রকৃতির নিয়মে আবার ক্ষয় নিশ্চয়ই হবে তখন এই জীবাধম আর ইহজগতে থাকবে না। আবার নিশ্চয়ই কোন না কোন ভক্ত আবার এটির নতুনরূপ দান করবেন।*
*🍀গ্রন্থ লেখকের উক্তি--এই অধম জীবনে সাধনভজন কিছুই করতে পারলাম না,তবে এই সব সেবা দ্বারা যদি রাধারাণীর কৃপা তার উপর বর্ষিত হয় সেটাই তার ভাগ‍্য।কর্ম করে তার ফল প্রত‍্যাশা করা গীতায় নিষিদ্ধ,কারণ কর্ম তার ধর্ম অনুসারে ফল ঠিকই দিবে যদি নিঃস্বার্থভাবে ভগবদ্ সেবায় কোন কর্ম করা হয়,এটিই ধমজগতের হিসাব বা সিদ্ধান্ত।ব্রজের এই চার সিদ্ধবাবার শ্রীপাটগুলি যে কি চরম দুর্দশায় হয়েছিল তা যাঁরা আগে দেখেছেন তাঁরাই বুঝতে পারবেন অন‍্য কেউ নয়।এগুলিকে সংস্কার বলা যায় না কারণ দেড়শ কি দুইশ বছর আগে সব কাঁচার গাথুনী ছিল,সেগুলি সব নতূন করে করা হয়েছে এবং সর্বত্র শ্বেত পাথরের কাজ করা হয়েছে অর্থ‍্যাৎ এককথায় New Construction অধম তার সীমিত জীবনে যথাসাধ‍্য বা সাধ‍্যাতীত ভাবে এইসব সেবা সর্বত্রই করেছে এবং কোথাও নিজের নামে কোন পাথর লাগায় নাই, তার উপরে এইসব সেবার মধ্যে পূর্বের কোন সর্ত্তও জারী করা হয় নাই।এককথায় নিঃস্বার্থভাবে করা হয়েছে।*
*এই শ্রীপাটের সেবার দায়িত্ব বহন করেন শ্রীমুরারিদাস বাবাজী, যদিও তিনি বৃন্দাবনে বাস করেন।সেজন‍্য যদি কোন আগ্রহী ভক্ত এই সিদ্ধবাবার সেবার জন্য কিছু আনুকুল‍্য করতে মনস্থ করেন তাহলে তা নিম্নলিখিত ঠিকানায় পাঠাবেন। M.O কুপনে সূর্য‍্যকুন্ডের সেবার জন্য লিখবেন=*
*Sri Murari Das Babaji*
*Mohanta Murari Mohan Kung*
*Keshighat*
*P.O=Vrindaban*
*Dist=Mathura (U.P)*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৮)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (দ্বিতীয় খন্ড)*
  *বৈষ্ণব আশ্রম সম্বন্ধে দু'চার কথা*
  ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀নিজের বাড়ী,স্কুল কলেজ, ক্লাব ইত্যাদি সব জায়গাতেই মানুষ একত্রে বাস করে বা সমবেত হয়,নানা প্রকার সাংসারিক বৈষয়িক ব‍্যবসায়িক আলাপ আলোচনাও হয়, কিন্তু এই জাতীয় সব সঙ্ঘের মধ্যে নৈতিক চরিত্র বা আদর্শ মানব জীবন যাপন করার কোন অনুশীলন হয় না।ক্ষণিকের আনন্দ ক্ষণিকের হাস‍্য-কৌতূক, গানবাজনা ইত্যাদির মাধ‍্যমে সময় কেটে যায়। কিন্তু হতভাগ‍্য জীব বুঝে না যে এ জগতে আমি বলে কিছুই নেই,সবই সেই তুমি। এই বিরাট বিশ্বের যিনি শ্রষ্ঠাতাঁর সঙ্গে সম্বন্ধ না রেখে জীবন যাপন করা যে কত বড় অপরাধ তা বিজ্ঞজনেরাই জানেন বা বলবেন। অর্থ‍্যাৎ নিজের সংসারকে ঠাকুরের সংসার, নিজের আয়কে ঠাকুরের দেওয়া আয়, নিজের সন্তান সন্ততিকে ঠাকুরের কৃপার কৃপার দান হিসাবে যারা গ্রহণ না করে তাদের মত অকৃতজ্ঞ এ বিশ্বে আর নেই।সেজন‍্যই সাধু মাহাত্ম্যগণ আশ্রম প্রতিষ্ঠার কথা চিন্তা করেছিলেন, কারণ এই সব ভগবদ্ আশ্রমে মানুষ পায় সর্বক্ষণের জন্য তাঁর দেখা,তাঁর স্পর্শন তাঁকে সমর্পণ করে সেই নিবেদিত প্রসাদ গ্রহণ ইত্যাদি সবকাজের মধ্যেই ভগবদ্ সেবার সুযোগ একমাত্র আশ্রম পরিবেশেই সম্ভব। কারণ ভগবান বিগ্রহরূপে সেখানে সদা প্রকট।আপনারা নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন যে সংসার তাপক্লিষ্ট মানুষটি যখন কোন আশ্রম পরিবেশে আসে তখন সে মনে পায় এক অনাবিল আনন্দ এবং সাধুসঙ্গ প্রভাবে তখনকার মত মনটি চলে যায় এক অন‍্য জায়গাতে বা জগতে। কিন্তু মায়াদেবীর এমনই আকর্ষণী শক্তি যে তবুও সেই মানুষটি আবার ফিরে যায় সেই সংসার পরিবেশে। সেইসব ভগবদ্ আশ্রমে যাঁরা চিরস্থায়ী হিসাবে বাস করেন, ভগবদ্ প্রভাবে বা সৎসঙ্গ প্রভাবে তাঁরা হয়ে যান অন‍্য একটি মানুষ।তাঁদের মুখে সদাসর্বদা ভগবদ্ কথা,সদাসর্বদা ভগবানের গুণ কীর্তন মহাপুরুষগণের জীবনী প্রসঙ্গ আলোচনা ইত্যাদির প্রভাবে তাঁদের মুখমন্ডল দর্শন মাত্রেই তাঁদের, মানুষ প্রণাম করে শুধু তাঁদের মধ্যে ভগবদ্ শক্তির বিকাশ দেখে। কারণ আশ্রম পরিবেশের প্রভাবে তাঁরা তখন অন‍্য এক মানুষ হয়ে যান।তাঁদের মন-মন্দিরে না থাকে কোনও আবর্জনা, না থাকে কোন সঙ্কীর্ণতা, ধনী দরিদ্র সকলেই পায় সমান ব‍্যবহার,তাঁদের সদা হাস‍্যময় লাবণ‍্য জ‍্যোতিঃসম্পন্ন মুখমন্ডল দেখলেই মনের মধ্যে শ্রদ্ধা নিজে থেকেই উদিত হয়।এটাই হচ্ছে আশ্রমের বাসিন্দাদের সঙ্গে সংসারী জীবনের পার্থক্য।*

*🍀বর্তমানকালে প্রায় সব আশ্রমের পরিবেশ এমন বিষাক্ত হয়ে পড়েছে যে সেখানে যারা যায় তারা মুখে না বললেও মনে মনে সাধু-সন্ন‍্যাসী বা আশ্রমবাসীদের স্বভাব এবং আচরণের নানানরকম সমালোচনা করেন।এটি প্রত‍্যক্ষ সত‍্য কথা।সত‍্যি কি মিথ‍্যা নিজের মনকেই আপনারা জিজ্ঞাসা করুন।কয়টা লোকের প্রাণ গুরু বলে কেঁদে উঠে, কয়টা লোক গুরু দর্শনের লালসায় অস্থির চিত্ত হয়ে আশ্রমে আসেন,কয়টা লোক একটু শ্রীগুরুদেবের শ্রীচরণতলে বসে শান্তি পান এটি এক বিরাট প্রশ্ন?এর সঠিক উত্তর আপনার মনই দিতে পারে। কিন্তু এটাই কি আশ্রমে আসার উদ্দেশ্য, এই বাসনা নিয়েই কি আমরা সব আশ্রমে যাই, শুধু দুইটি ভাল চচ্চড়ী রসা খাবার আশায়,সেটা তো বাড়ীতে পাওয়া যায়। মনের খোরাক সংগ্রহই মঠ মন্দির বা আশ্রমে আসার মুখ‍্য উদ্দেশ্য,পেটের খোরাকের জন্য না।এটি যথার্থ সত‍্য কিনা নিজেদের মনকেই জিজ্ঞাসা করুন। 🛑(এই কথাগুলি সম্পূর্ণ গ্রন্থ লেখকের)।*
========================
*🍀শ্রদ্ধা এমনই একটা বস্তু যা মানুষের মনের কোণে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, একদিনে বা একরাত্রে শ্রদ্ধার সঞ্চার হয় না, অনেকটা বীজ থেকে গাছ জন্মাবার মত,ধীরে ধীরে--পরিচর্য‍্যা--আগাছা অপসারণ--জল,সার ইত্যাদির মাধ‍্যমে সেই বীজ থেকে অঙ্কুরিত হয় এক শিশু পল্লব।শ্রদ্ধাও সেইরকম, ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়, কিন্তু এমনই যে শ্রদ্ধা তা কিন্তু বিভিন্ন আচরণের ত্রুটির জন্য চিরতরে লুপ্ত হয়, যেমনটি দেখা যায় সেই চারা গাছটি যখন ছাগলে খেয়ে নেয়। সেইজন‍্য ঠাকুর আশ্রমকে বলতেন, "যে মানুষ গড়ার কারখানা"। অর্থ‍্যাৎ মানুষ একমাত্র আশ্রমে এসেই আশ্রম পরিবেশের প্রভাবেই নিজেকে আদর্শবান করে তুলতে পারে।তার চরিত্রের সব বিশেষত্বগুলি ফুটে উঠে আশ্রম পরিবেশের মধ্যে।*
*🍀কিন্তু অনেক আশা নিয়ে অনেক বাধা বিঘ্নকে উপেক্ষা করে যেসব সংসারী জীব মনের খোরাক জোগানোর উদ্দেশ্য নিয়ে এই জাতীয় সব আশ্রমে আসেন এবং সেখানে এসে যদি তারা সেটা না পান তাদের হতভাগ‍্য ছাড়া আর কি বলা যেতে পারে। আবার সেই আশ্রমে এসে যদি দেখা যায় সেখানে সঙ্কীর্ণ রাজনীতি,দলাদলী,ঝগড়াঝাটি সবই চলছে তাহলে সেরকম আশ্রমে না আসাই ভাল,কারণ সাক্ষাৎ দর্শনে মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া বিশেষভাবে বৃদ্ধি পায়, সেটি দূরে থাকলে হয় না যার ফলে ভক্তিজগতের হিসাবে অপরাধও কম হয়।অনেক আশ্রমের অনেক শিষ‍্যই বলেন, যে গুরুদেবকে দেখে আকৃষ্ট হয়ে তাঁর কাছে দীক্ষা নিয়েছিলাম, সেই গুরুদেব আর এখন নেই, কারণ তাঁর ব‍্যবহারিক দিকটা কিছুতেই নিতে পারছি না। কিন্তু গুরুকরণ এমনই একটি বস্তু তাঁকে উপেক্ষা করাও চলে না,তিনিই তো হাত ধরে এপথের সন্ধান দিয়েছেন, সেই শ্রদ্ধা হানির ভয়ে দূরে দূরে থাকাই ভালো, কারণ স্বচক্ষে নানাপ্রকার বিরুদ্ধ আচরণ দেখলে সেই শ্রদ্ধায় আঘাত লাগে যার জন্য দূরে থাকাই ভাল।যদিও এটা শিষ‍্যের পক্ষে চরম দুর্ভাগ‍্য ছাড়া আর কিছুই নয়।*
*🍀দূরে থেকে বা সংসারে থেকে ভগবদ্ সেবাই নিজেকে রাখা সেখানে তুলনামূলক হিসাবে অনেক ভাল, সেখানে সাক্ষাৎ দর্শনের মাধ‍্যমে অপরাধের বীজটি অঙ্কুরিত হবার সুযোগ পায় না।একটা সাংসারিক উদাহরণ এখানে মনে হয় প্রযোজ‍্য।🌹মায়ের যে সন্তান বারোমাস মাকে নিয়েই সংসার করে, সেখানে বিভিন্ন কারণে ঐ মায়ের মনে নানারকম বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবার সম্ভাবনা খুবই বেশী। কিন্তু সেই মায়ের যে ছেলেটি বিদেশে থাকে, যে সংসারের নিত‍্য ঝামেলা কিছুই বহন করে না, সেই ছেলেটি বিদেশ থেকে যখন অল্প সময়ের জন্য আসে, তখন মা তাকে বক্ষের মধ্যে জড়িয়ে ধরেন,সদা সর্বদা তার সঙ্গই পেতে চান, পুত্র যা ভালবাসে তা রান্না করে খাওয়ান, এক্ষেত্রেও সেইরকম দূরে দূরে থাকলেও সমান প্রতিক্রিয়া অবশ‍্যম্ভাবী।যাইহোক,নিশ্চিত বিফল মনোরথ হয়ে ফিরে যাব,যেতে হয় যাচ্ছি, প্রণাম করতে হয় করছি,এরকম মানসিকতা নিয়ে আশ্রমে না আসাই ভাল।*
*🍀গুরুদেব হবেন আদর্শ,তাঁর ত‍্যাগ,তিতিক্ষা সাধন ভজন সদা হাস‍্যময় নির্মল মুখমন্ডল দেখে শিষ‍্যগণ পাবেন মনে অব‍্যক্ত আনন্দ। আশ্রমবাসীগণ হবেন গুরু মহারাজ বলতে পাগল, এইরকম পরিবেশের সেখানে অভাব, সেটিকে তো ঠাকুরের কথায় প্রকৃত মানুষ গড়ার কারখানা বলা যায় না।*
*সর্বশেষে বলতে চাই যে এই প্রসঙ্গটি লেখা হল তা নিজের মনের গুপ্ত ভাবকে প্রকাশ করার জন্য না, বতর্মানকালের বহুবিধ পরিবেশকে উপলক্ষ্য করে।তার অর্থ এই নয় যে এটি সকলের পক্ষেই প্রযোজ‍্য।যারা প্রকৃত মনের খোরাক পান তাঁরা আসুন একশবার আসুন, কারণ আশ্রমে যদি শিষ‍্য ভক্তগণ না আসেন তাহলে কি মানায়? যাঁদের মনে এই জাতীয় কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া না হয় তাঁদের চরণে দন্ডবৎ,তাঁরা ভাগ‍্যবান।এটি কোন গুরু বিরোধী প্রসঙ্গ নয়, আত্মসমীক্ষা মাত্র।সর্বশেষে প্রণাম জানাই আমার শ্রীগুরুদেবের শ্রীচরণে কারণ বিষ্ঠার কীট হয়েই ছিলাম আজ যেটুকু রস আস্বাদন করতে পারছি বা পেরেছি তা সবই তাঁর কৃপায়।*
*🌹গুরুদেব তিন প্রকারের=*
*(১)যিনি দীক্ষা দানের পর শিষ‍্যদের আর কোনো খবরই রাখেন না বা নেন না তিনি হচ্ছেন আচার্য‍্যের মধ্যে অধম।*
*(২)আবার যিনি শিষ‍্যদের মঙ্গলের জন্য তাদের বার-বার বুঝান যাতে ধর্মীয় উপদেশগুলি তারা ধারণ করতে পারে বা আচরণ করতে পারে, অনেক অনুনয় বিনয় করে ভালবাসা দেখান, তিনি হচ্ছেন মধ‍্যম আচার্য‍্য বা মধ‍্যম শ্রেণীর গুরুদেব।*
*(৩)আবার সেই আচার্য‍্য যদি দেখেন যে তার সেই শিষ্য কোন কথায় শুনছে না তখন জোর করে তাকে সেইমত কাজ করাতে বাধ‍্য করেন সেই আচার্য‍্য বা গুরুদেবকে বলা হয় উত্তম আচার্য‍্য।*
*🙏ভক্তিজগতের বৈদ‍্য ভগবান স্বয়ং।*
*🌹শ্রীসনাতন গোস্বামীর অঙ্গে যে রোগ হয়েছিল, তা শুধুমাত্র আলিঙ্গন দ্বারাই মহাপ্রভু তাঁকে দিব‍্যদেহ দান করেছিলেন।*
*🌹দক্ষিণদেশ ভ্রমণ কালে বাসুদেব নামক কুষ্ঠরোগগ্রস্ত ভক্তকে শুধুমাত্র আলিঙ্গন দ্বারাই মহাপ্রভু তাঁকে দিব‍্যদেহ দান করেছিলেন।*
*🌹অন্ধ বিল্বমঙ্গলকে শ্রীকৃষ্ণ ভগবান শুধুমাত্র হস্তস্পর্শ দ্বারাই দৃষ্টিশক্তি দান করেছিলেন।*
*🌹সূর্য‍্যকুন্ডের সিদ্ধ মধুসূদনদাস বাবাজীর পায়ে বলা যেতে পারে ক‍্যান্সার জাতীয় ক্ষত নিমেষের মধ্যেই রাধারাণীর কৃপায় বিদূরিত হয়েছিল।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(০৯)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
             *নিয়তির লিখন*

*🍀প্রাচীনকালে গৌতমী নামক এক পরম ধার্মিক রমণী ছিলেন, সংসারে তাঁর একটি মাত্র পুত্র ছাড়া আর কেউ ছিল না।একদিন বনের মধ্যে হঠাৎ একটি বিষধর সাপ তাকে দংশন করে, যার ফলে তার মৃত‍্যু হয়।ঠিক সেই সময়ে ঐ জায়গা দিয়ে এক ব‍্যাধ যাচ্ছিল, সে তখুনি সেই সাপটিকে ধরে ফেলল।তারপর ব‍্যাধটি বিধবা গৌতমীর কাছে গিয়ে বলল মা এই সাপটিই আপনার পুত্রকে দংশন করেছে, আপনি আদেশ করুন আমি এখনই সাপকে খন্ড খন্ড করে কেটে পেলে উপযুক্ত শাস্তি দিই। গৌতমী পুত্র শোকে ব‍্যাকুল হয়ে অধীরভাবে কাঁদতে লাগলেন, পরে শোকাবেগ কিছু কমলে তিনি সেই ব‍্যাধকে বললেন নিশ্চিত আমার ছেলের আয়ু ফুরিয়েছিল তাই সে মারা গেছে, এই সাপটিকে মারলে আমার কি লাভ হবে, আমার পুত্র তো আর ফিরে আসবে না,আমি সাপটিকে ক্ষমা করছি।তুমি বাবা সাপটিকে ছেড়ে দাও।এইকথা শুনে ব‍্যাধ বলল, মা!সাপটিকে ছেড়ে দিলে এ আরও কতলোকের প্রাণনাশ করবে সুতরাং বধ করাই সঙ্গত।*
*🍀তখন ব‍্যাধের এই কথা শুনে সাপটি বলল,ভাই বল তো এতে আমার দোষ কি? আমি তো সবাইকে দংশন করছি না --এক্ষেত্রে মৃত‍্যুদেবতা আমাকে পাঠিয়েছেন, তাঁর আদেশেই আমি এই আমি এই কর্ম করেছি।এই ছেলেটিকে দংশন করার জন্য যদি কেউ দায়ী হয় তাহলে মৃত‍্যুদেবতাই দায়ী, আমার কোন দোষ নেই। এইকথা বলতে বলতে এমন সময়ে মৃত‍্যুদেবতা সেখানে এসে উপস্থিত হলেন এবং তিনি বললেন যে ছেলেটির মৃত‍্যুকাল উপস্থিত হয়েছিল বলেই আমি তোমাকে পাঠিয়েছি ছেলেটিকে দংশন করার জন্য,এতে আমারই বা কি দোষ?যদি কারুর সত‍্যই দোষ থাকে তাহলে সে দোষ হচ্ছে "কালের"।কারণ আমরা সকলেই কালের অধীন।*
*🍀এমন সময়ে "কাল" এসে উপস্থিত হলেন এবং বললেন এ বালক পূর্বজন্মে যেরকম কর্ম করেছে,এই জন্মে সেইরকম ফলভোগ করছে কারণ সকলেই কর্মের অধীন। এইসব কথা শুনে সন্তানহারা গৌতমী বললেন,বৎস! আমার ছেলে তার পূর্বজন্মের কর্ম অনুযায়ী ফলভোগ করছে এবং আমিও পূর্বজন্মের কর্মফলের দোষে এই পুত্রশোক পেলাম।পূর্বজন্মে যে যেরকম কর্ম করে,পর জন্মে সে সেইরকম ফলভোগ করে, কিছুতেই এর অন‍্যথা হয় না।অতএব হে ব‍্যাধ! তুমি সাপটিকে বধ কোরো না ওকে ছেড়ে দাও।তখন সেই ব‍্যাধ তাকে মুক্তি দিল। ধর্মপরায়ণা গৌতমী তাঁর ক্রমে ক্রমে পুত্রশোক ভুলে গেলেন।*

*🙏মাধুকরী ভিক্ষার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য‍্য।*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀অচ‍্যুতানন্দ মহারাজকে একভক্ত প্রশ্ন করেছিলেন যে,"বাবা ভিক্ষা প্রদানের সময় গৃহস্থেরা মিষ্টি,ঝাল,নোনতা কত বিভিন্ন রকমের খাদ‍্যবস্তু দেয়,যা ঝুলির মধ্যে মৃৎভান্ডের মধ্যেই একসঙ্গে রাখা হয়। পায়স,দুধ,লুচি,সবজি সবই একই ভান্ডে এবং তার ফলে এক অদ্ভুত মিশ্র আহার্য‍্য দিয়েই ভক্তদের আহার সমাধা করতে হয়।হব খাদ‍্যবস্তু মিশে এক অদ্ভুত আস্বাদ হয়।এটির কি কোন বিশেষ কারণ আছে ---এগুলিকে কি আলাদা ভাবে রাখা যায় না।*
*🌻উত্তরে মহারাজ বলেছিলেন, দেখ বেটা এই দেহ কেবলই ভোগ সুখ চাই।এই পাঁচ মিশালি খাদ‍্য খেলে জিহ্বার লালসা দূর হয়।আসল বৈরাগী জিহ্বার দ্বারা কৃষ্ণরস আস্বাদন করবে।প্রাণ ধারণের জন্য দেহকে কিছুমাত্র খাদ‍্য দিলেই চলবে। 🙏যেমন শ্রীপাদ রঘুনাথ দাস গোস্বামী প্রসাদ পেতেন।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১০)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী (দ্বিতীয় খন্ড)*
      *মানব জীবনে হরি ভজন*

*🍀মানুষ চায় শুধু শান্তি, কিন্তু প্রকৃত শান্তির উৎস কোথায় সে জানে না।ভ্রান্ত জীব দুঃখ নাশের জন্য সুন্দরী সুখময়ী পত্নীকে নিয়ে ভোগ বিলাসে মত্ত।ক্ষণিকের জন্যও সে মনে করে না যে জীব মাত্রেই কৃষ্ণদাস।শুধু কৃষ্ণদাস নহে, জীবের সঙ্গে সেই অনাদির আদি গোবিন্দের ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ।আমরা যে তাঁরই অংশ।তাঁর শক্তি ছাড়া আমাদের যে নিজস্ব কোন সত্ত্বাই নাই, এই চরম সত‍্যটি মায়ার আবরণে আমরা ভুলে যাই। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ ভগবান বলেছেন, "মমৈবাংশো জীব লোকে জীবভূতঃ সনাতনঃ", অর্থ‍্যাৎ জীব মাত্রেই সেই পরম পুরুষের অংশ বিশেষ কিন্তু আমরা এত অকৃতজ্ঞ যে ভৃত‍্য হয়ে প্রভুর সেবা করছে না,তাঁরই দেওয়া জীবনী শক্তি নিয়ে তাঁরই জগতে বাস কোরে,তাঁরই দেওয়া ভোগ‍্য বস্তু সব পেয়ে অকৃতজ্ঞের মত তাঁকে জানি না বা জানবার চেষ্টাও করি না।যদি কোন সময় আমরা তাঁকে সেবা করবার জন্য একটু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, তিনি তখন আনন্দে অধীর হয়ে তাঁর আত্মাকে আমাদের কাছে বিলিয়ে দেন।*
*তাঁরই মৃত্তিকাজাত তুলসীদল,জল যদি হেলায় শ্রদ্ধায় তাঁর পাদপদ্মে অর্পণ করা যায়, তাহলে তিনি পরম সন্তুষ্ট লাভ করেন।সেই জল তুলসীতে তুষ্ট শ্রীকৃষ্ণ, সেই গোবিন্দকেই যদি ভুলে থাকতে হল, তবে এ সংসারে আমাদের না আসাই ছিল ভাল। আমরা শুধু চাই সুখ, শান্তি কিন্তু সুখময় শ্রীকৃষ্ণকে ভজন না করলে, কি ভাবে সুখের সন্ধান মিলবে?পরমদয়াল গৌরহরি কলিহত জীবকে উপদেশ ছলে বলেছেন, "হে আমার কলিহত জীব তোমাদের অন‍্য কোনরকম সাধন ভজনের প্রয়োজন নেই, শুধুমাত্র হরিনাম সংকীর্তনের মাধ‍্যমে তোমাদের সব বাসনা পূরণ হবে।হেলায়, শ্রদ্ধায় শয়নে,স্বপনে,চলতে,ফিরতে, জাগরণে সদা সর্বদা শ্রীহরির নাম কীর্তনাদি করলেই সব আশা পূরণ হবে।*
*🍀সেই জন্য নরোত্তম ঠাকুর মহাশয় বলেছেন যে, "যেই জন কৃষ্ণ ভজে সেই বড় চতুর"।সত‍্যই তো এই মায়া মোহময় সংসার পিঞ্জর হতে মুক্ত হয়ে কয়জন তাঁদের জীবনকে গোবিন্দসেবায় সমর্পণ করতে পারেন? শ্রীমদ্ভাগবত গীতায় শ্রীকৃষ্ণ ভগবান প্রিয়সখা অর্জুনকে বলেছেন-----*
*🌷ত্বমেব শরণং গচ্ছ সর্বভাবেন ভারত।*
*🌷মৎ প্রসাদাৎ পরাং শান্তিং স্থাপং প্রাস‍্যসি শাশ্বতম্।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ হে অর্জুন! তোমার নিজের কর্ত্তৃত্বাভিমান সম্পূর্ণভাবে পরিত‍্যাগ করে সর্বোতোভাবে আমারই শরণাপন্ন হও, আমারই প্রসাদে তোমার মায়িক মনের দুষ্প্রবৃত্তিগুলি বিদূরিত হবে এবং সেই মনোমন্দিরে তোমার যথার্থস্বরূপ উদ্ভাসিত হবে।তখন সাধনবলে আবার তুমিই আমার নিত‍্যধাম প্রাপ্ত হয়ে আমার নিত‍্যসেবারূপ পরমানন্দ লাভ করে মনুষ‍্যজন্ম সফল করতে পারবে।সেইরকম আবার পদকর্তা বিদ‍্যাপতি বলেছেন----*
*🌷রে মাধব!কত চতুরানন মরি মরি যাওত,*
            *ন তুয়া আদি অবসানা।*
*🌷তোহি জনমি পুনঃ,তোহে সামাওত,*
           *সাগর লহরী সমানা।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ পরম ভক্ত পদকর্তা বিদ‍্যাপতি এই চরম সত‍্যটি উপলব্ধি করে সৃষ্টিকর্তার প্রশস্তি করে বলছেন যে,"হে প্রভু জীব তো দূরের কথা,কতশত ব্রহ্মা জন্ম নিচ্ছেন ও মরছেন, কিন্তু হে মাধব! তোমার আদিও নাই অন্তও নাই।সাগরের তরঙ্গ যেরকম সাগর হতে উত্থিত হয়ে সাগরেই বিলীন হয়ে যায়,তদ্রূপ ব্রহ্মাদি দেবগণও তোমা হতে জন্মিয়া আবার তোমাতেই লীন হয়ে যান--জীব জগতের কী কথা!*
*🍀তেমনি আবার ভক্ত তুলসীদাস রচিত একটি পয়ার এই প্রসঙ্গে বড়ই তাৎপর্য‍্যমূলক এবং তিনি বলছেন যে মানুষকে কিভাবে তার জীবনকে চালিত করতে হবে --*
*🌷তুলসি! যব জগমে আয়ো,*
*🌷জগ হসে তোম্ রোয়,*
*🌷অ‍্যায়সি করণি কর্ চলো কি,*
*🌷তোম্ হসো জগ রোয়।*
*🌻এখানে ভক্ত তুলসীদাস নিজেকে উপলক্ষ্য করে নিজেকে বলছেন যে, হে তুলসী! তুমি জগতে যখন এসেছিলে,তখন জগৎ হেসেছিল আর তুমি কেঁদেছিলে।এক্ষণে জগতে এমন কর্ম করে যাও যেন জগৎ তোমার জন্য কাঁদে আর তুমি হেসে হেসে চলতে পারো।একটি গ্রাম‍্য পয়ার আছে যা খুবই সহজ সরল হলেও প্রণিধানযোগ্য বা চিত্তের একাগ্রতার যোগ্য ---*
*🌷না আসা তো ছিল ভাল।*
*🌷যদি আসা যাওয়া সার হল।।*
*🌻একটু নীরবে বসে আত্মসমীক্ষা করলে এই কথায় মনে হবে যে,হ‍্যাঁ, নিশ্চয়ই না আসা ভালই ছিল,যদি এই ধরিত্রীর বুকে এসে মানুষ জন্মোচিত কর্তব‍্যই না সম্পাদন করতে পারলাম,শুধু অপরাধ এবং অকৃতজ্ঞতাই জীবনের পাথেয় স্বরূপ হল,তাহলে না আসাই ভাল ছিল।যিনি স্নেহময়ী জননীর মত সবদিক দিয়ে সর্বতোভাবে আমাদের রক্ষা করছেন এবং প্রতিপালন করছেন, সেই পরম প্রভুকেই যদি এই সুদুর্লভ মানবজীবনে ভুলে থাকতে হল তখন এই আসা ব‍্যর্থ।জন্ম বৃথা।সেজন‍্য মানুষ মাত্রেই আত্মসমীক্ষার প্রয়োজন আছে, এবং ভাবতে হবে আমি কে? কেন এসেছি?কি করতেই বা আসতে হয়েছে। এই জ্ঞান যদি হৃদয়ে উদিত না হল, অমৃতের সন্তান হয়ে সেই অমৃতময়কেই যদি না জানলাম তবে এই পৃথিবীর বুকে মানুষ হয়ে জন্মানোর কোন প্রয়োজন ছিল না। সমুদ্রতটে মুক্তার খোঁজ করতে এসে শুধু তরঙ্গমালা গণনা করেই ক্ষান্ত হলাম অর্থ‍্যাৎ দেবদুর্লভ মানবজনম পেয়ে মায়ার কুহক জালে আবদ্ধ হয়ে বৃথাই জীবন অতিবাহিত করলাম।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণভজন বিনা পরমায়ু ক্ষয় হচ্ছে, যে জন এটি উপলব্ধি করতে না পারে তার হাজার বৎসর পরমায়ু লাভ হলেও কোন ফল হবে না।যেজন শ্রীকৃষ্ণভজনের মহিমা ও তাৎপর্য‍্য উপলব্ধি করেছেন, তাঁর কাছে এক মুহূর্তকাল পরমায়ুও মঙ্গলজনক।কারণ এই মুহূর্ত কালের মধ্যেই তিনি কৃষ্ণভজনের মাধ‍্যমে নিজের জীবনকে মহিমান্বিত করতে পারেন। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে যে রাজর্ষি খট্টাঙ্গ দেবাসুর যুদ্ধে দেবতাদের পক্ষে সংগ্রাম করে কৃতিত্ব দেখালে দেবগণ সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে বর প্রদান করতে চাইলে তিনি সর্বপ্রথম তাঁর পরমায়ুর কথা জিজ্ঞাসা করেন।তখন দেবগণ বললেন যে তাঁর পরমায়ু আর মুহূর্তকাল অবশিষ্ট আছে।সেইকথা শুনে তিনি দেবদত্ত বিমানযোগে অতি সত্ত্বর পৃথিবীতে অবতরণ করে শ্রীহরির শ্রীচরণে নিজের দেহ মন প্রাণ সমর্পণ করে সেই মুহূর্তকালের মধ্যেই সিদ্ধিলাভ করেছিলেন।*
                   *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 বৈষ্ণব রস-সাহিত‍্য 🙏 দ্বিতীয় খন্ড 🙇 পরম বৈষ্ণব খগেন্দ্র নাথ মিত্র 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/sahityo2_11.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds