✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/prem.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১)👣প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব👣*
*শ্রীকৃষ্ণের প্রথম বাঞ্জা*
*🍀শ্রীমতী রাধারাণী হচ্ছেন দেবী অর্থ্যাৎ অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের সুন্দরীগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠা,কৃষ্ণময়ী অর্থ্যাৎ "শ্রীকৃষ্ণ যাঁহার অন্তরে বাহিরে।যাহা যাহা নেত্র পড়ে তাহা কৃষ্ণ স্ফুরে।।তিনি সর্বপূজ্যা, সর্বপালিকা,সর্বলক্ষ্মীময়ী, সম্মোহিনী অর্থ্যাৎ যে কৃষ্ণ নিজরূপ মাধুর্য্যে সর্বজগতকে মুগ্ধ করেন,এমন গোবিন্দকেও যিনি মুগ্ধ করেছেন, সর্বকান্তি অর্থে যিনি সর্বসৌন্দর্য্যের আধার স্বরূপা ও পরা অর্থ্যাৎ সর্বপ্রকার সর্বশ্রেষ্ঠা।শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে শ্রীকৃষ্ণ নিজ শ্রীমুখে শ্রীরাধার প্রণয়মহিমা বর্ণনা করেছেন ঃ--- যথা-----*
*🌷না জানি রাধার প্রেমে আছে কতবল।*
*🌷সে বলে আমায় করে সর্বদা বিহ্বল।।*
*🌻🌻🌻বল=শক্তি🌻🌻🌻*
*🌷রাধিকার প্রেমগুরু আমি শিষ্য নট।*
*🌷সদা আমায় নানা নৃত্যে নাচায় উদ্ভট।।*
*🌻এই নৃত্যগুরু সম্বন্ধে শ্রীগোবিন্দ লীলামৃত গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে--*
*🌷কস্নাদ বৃন্দে,প্রিয় সখি হরে পাদমূলাৎ কুতোহসৌ।*
*🌷কন্ডারণ্যে কিমিহ কুরুতে নৃত্য শিক্ষা গুরু কঃ।।*
*🌷তং তন্মূতিং প্রতিতরুলতাং দিগবিদিক্ষু স্ফূরন্তী।*
*🌷শৈলষীর ভ্রমতি পরিতো নর্ত্তয়ন্তী স্বপশ্চাৎ।।*
*🌻শ্রীরাধা বললেন--বৃন্দে! কোথা হতে এলে?বৃন্দা কহিলেন-- প্রিয়সখি! আমি শ্রীহরির শ্রীচরণ দর্শন করে এলাম।শ্রীরাধা কহিলেন---এখন শ্রীকৃষ্ণ কোথায়?বৃন্দা বললেন-- তিনি এখন কুঞ্জকাননে,রাধাকুন্ডারণ্যে।রাধা বললেন--তিনি এখন কি করছেন?বৃন্দা বললেন--নৃত্যশিক্ষায় নিযুক্ত আছেন।শ্রীরাধা পুনঃ বললেন-- নৃত্যশিক্ষার গুরু কে? বৃন্দা কহিলেন--তোমরই মূর্তি কি দিক, কি বিদিক তরুলতাদিতে সর্বত্র স্ফূর্তিপ্রাপ্ত হয়ে শৈলষীর (নর্তকীর) মত ভ্রমণ সহকারে সেই কৃষ্ণকে আপনার পেছন পেছন নৃত্য করাচ্ছে।*
*শ্রীকৃষ্ণ শৃঙ্গার রস--সর্বস্ব শৃঙ্গার রসের ঘনীভূত মূর্তি,সেইজন্য তাঁর হৃদয়ে সবসময়ই শৃঙ্গার শুচি বা প্রেমদ্বারা পরমোজ্জ্বল রস পিপাসা জেগে থাকে।"নিরন্তর কামক্রীড়া যাঁহার চরিত"-- সেই কাম বা প্রেমতৃষ্ণা শান্তির জন্য শ্রীরাধিকা উজ্জ্বল শ্যামরসই পরিবেশন করেন।শ্রীরাধারস সুধানিধিতে শ্রীপ্রবোধানন্দ সরস্বতীপাদ শ্রীরাধাকে "শ্যাম মন্ডল মৌলীমন্ডল মণিঃ" বলে আখ্যা দিয়েছেন।শ্রীকৃষ্ণ বিষয়ক শৃঙ্গার রস হতে যে উদ্দাম প্রেমময়ী তৃষ্ণা জন্ম হয়,সেই প্রেমোন্মত্ততা রূপ মধু হচ্ছে (শ্যামরস মধু) শ্রীরাইধনি শ্রীশ্যামসুন্দরকে পরিবেশন করেন। তাই শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে বর্ণিত হয়েছে,যথা---*
*🌷কৃষ্ণবাঞ্জা পূর্ত্তিরূপ করে আরাধনে।*
*🌷অতএব রাধানাম পুরাণে-বাখানে।।*
*🌷অন্যত্র,কৃষ্ণকে করায় শ্যামরস মধুপানে।*
*🌷নিরন্তর পূর্ণ করেন কৃষ্ণের সর্বকামে।।*
*🌻ব্রজে যে "কাম" শব্দটি উচ্চারণ হয়, আমাদের পার্থিব জগতের সেই কাম নহে,আমরা কোনদিন কি কামদেবের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারব,তুমি আমার তুমি আমার বশীভূত? এককথায় না, ব্রজগোপীগণ কামদেবকে নাকখত পর্যন্ত দিতে বাধ্য করেছিলেন।অতএব ব্রজের কাম অর্থে কৃষ্ণসুখ বাসনা।) যাইহোক,মধুর সেই বৃন্দাবনে দান,মান,রাস প্রভৃতি বিবিধ প্রেয়সী প্রেমবশ্যতাময়ী লীলার মধ্য দিয়ে শ্রীরাইধনি ধীর ললিত, নায়ক শিরোমণি প্রাণবল্লভ শ্যামসুন্দরকে নানাভাবে নতূন নতূন নিগূঢ় প্রেমরসই আস্বাদন করিয়েছেন।*
*নায়ক শিরোমণি রসমৌলী শ্রীকৃষ্ণের সবই প্রেমরসে ভরপূর।একদিকে নায়িকাগণ পরবধূ,তাতে "কভূ মিলে কভূ না মিলে দৈবের ঘটন",অন্যদিকে পৌর্ণমাসি যোগমায়া দ্বারা নায়ক-নায়িকাগণের স্বরূপ আবরিত ও বন্যবেশভূষায় ভূষিত হয়ে প্রকৃত নায়ক নায়িকার মত এই ভৌমবৃন্দাবনে সর্বোত্তম নরলীলার যে উচ্ছসিত প্রেম-রসের হিল্লোল,প্রেমের হুড়োহুড়ি চলেছিল এবং এখনও চলছে, সেইনিত্য লীলা শ্রুতিগণও অন্বেষণ করেন ; কিন্তু নির্দেশ করতে পারেন না।*
*🍀এই মধুরলীলার রসাস্বাদনের জন্য গোলোক ত্যাগ করে গোকুলে প্রকটাপ্রকট উভয় অবস্থাতেই বেণুকর শ্রীকৃষ্ণ রাখালবেশে গোচারণাদি লীলা ও বিদগ্ধরাজ রূপে শ্রীব্রজললনাগণের সঙ্গে ঝুলন,জলকেলি,দান প্রভৃতি লীলা করেছেন।শ্রীকৃষ্ণ রাধাকে সম্বোধন করে বলেছেন----* *(চন্ডীদাস)*
*🌷রাই! তুমি সে আমার গতি।*
*🌷তোমার কারণে রসতত্ত্ব লাগি*
*গোকুলে আমার স্থিতি।।*
*🌷নিশি দিশি সদা গীতি আলাপনে,*
*মুরলী লইয়া করে।*
*🌷যমুনা সিনানে তোমার কারণে,*
*বসে থাকি তার তীরে।।*
*🌻অঘটন-ঘটন-পটীয়সী চিৎ-শক্তির পরিণতি লীলার সহায়কারিণী পৌর্ণমাসী যোগমায়া দেবী শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছায় শ্রীব্রজদেবদেবীগণকে পরবধূরূপে প্রতীতি (জ্ঞান বা বোধ) করাইয়েছেন বলেই মর্য্যাদা প্রাপ্ত কুলবধূগণের পক্ষে দুত্যজ্য ধর্মবাধা অতিক্রম করা সহজ হয়েছে।ব্রজবধূগণ যদি পরবধূরূপে লোকে বোধ না হতেন,তবে মুখে যা আসে তাইই অসঙ্কোচে শ্রীকৃষ্ণকে বলতে পারতেন না।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*কৃষ্ণের প্রথম বাঞ্জা*
*দানলীলা প্রসঙ্গই তার প্রমাণ,যথা--*
*কোন গুণে তোমার সনে,*
*পিরীতি করিব হে কানাই।*
*তুমি রাখাল, আমি রাজার ঝি,*
. *একথা শুনিলে লোকে বলবে কি?*
*রূপেতে ভ্রমর, গুণে ননীচোরা,*
*ধনেতে ধবলি বসতি গাছে,*
*কেন ঘনায়ে ঘনায়ে আসিছ কাছে,*
*মোরা পর পুরুষের পবন পরশে,*
*সচেল সিনান করি।।*
*🌻রসগ্রন্থ দানকেলি কৌমুদী পাঠ করলেই বেশ বুঝতে পারা যায় যে ব্রজঙ্গনাগণ পরিহাস রসে, কৌতুক রসে,উদ্দাম ও উচ্ছাসময়ী ভাষাতে শ্রীকৃষ্ণকে রসাস্বাদনে ডুবিয়ে রেখেছেন।প্রিয়া যদি প্রিয়তমের কাছে অসঙ্কোচে মনের কথা বলতে না পারেন, তবে হৃদয়ে কেমন যেন একটা বেদনা থেকে যায়, তাই শ্রীসনাতন গোস্বামীপাদ লঘুতোষণী গ্রন্থে বলেছেন--,"পরদারতা চাস্যাং বাগ নির্গলতা প্রকটনায়",-- অর্থ্যাৎ সবসময় কথা বলবার জন্যই ইহাদের পরদারতা প্রকাশ পেয়েছে।পরকীয়াভাবে বীভাবিতা শ্রীব্রজ মৃগনয়নাগণ কারণে অকারণে শ্রীকৃষ্ণের উপর মান করেন এবং মানের প্রখরতায় প্রায়শ প্রাকৃত নায়িকার মত নায়ককে ভর্ৎসনা করতে করতে "মাধব যাহি,কেশব যাহি" বলে কুঞ্জ হতে বাহির করে দেন।আবার মান প্রকরণে শ্রীরাইধনি বিপ্রলম্ভ বসে কাতরা হয়ে বিবর্ণা হলে ললিতা সখি শ্রীকৃষ্ণকে শ্রীরাধার কাছে আনতে গিয়ে শ্রীকৃষ্ণকে সম্বোধন করলেন, "তুহু অতির্ব্বর নন্দঘোষের নন্দন"।ব্রজগোপী ছাড়া এই চৌদ্দভুবনে কি কেউ এইরকম শ্লেষযুক্ত ভর্ৎসনা করতে পেরেছেন? প্রেমময়ী তৃষ্ণার পরিবধিত্ব না হলে কি কেউ এইরকম কথা বলতে পারেন?প্রেমের সপ্তম বিলাস যে মহাভাব, সেই মহাভাব স্বরূপিনী শ্রীরাধা ঠাকুরাণী ও তাঁর যূথের সখিবৃন্দই শ্রীকৃষ্ণকে এইরকম উচ্চবাচ্চ কথা বলতে পারেন।অখিল রসামৃতসিন্ধু শ্রীকৃষ্ণ দেবতাগণের ও সর্ব যোগেশ্বরগণের স্তুতি অপেক্ষাও ব্রজগোপীগণের এই মনোহরা ভর্ৎসনায় অনেক বেশী উল্লসিত হন। "প্রিয়া যদি মান করি করয়ে ভর্ৎসন। দেবস্তুতি হৈতে হরে সেই মোর মন "।। তাই তিনি প্রেয়সীমুগ্ধ ধীরললিত নায়ক হয়ে প্রধানা গোপীকার চরণতলে বসে অশ্রুসিক্ত নয়নে বলতে থাকেন--, "দেহিপদপল্লব মুদারম্"।আবার নিধুবনে রাই রাখাল হলে তাঁর চরণতলে দাসখত লিখে দেন। স্বকীয়া নায়িকার পক্ষে এরকম বাক্যবিন্যাস সম্পূর্ণ অসম্ভব ;কারণ তাঁরা ধর্মবোধে শ্রীকৃষ্ণকে ভজনা করে থাকেন।অনুরোধময় প্রেমিক প্রেমিকার মিলন সুখদ হয় না। সুতরাং তটস্থ হয়ে বিচার করলে স্বকীয়া হতে পরকীয়ায় মধুর রসের আস্বাদন চরম-উৎকর্ষও পরাকাষ্ঠা বলে রসিকশেখরের এই পরকীয়া লীলায় অশেষ বিশেষ প্রেমরস নির্য্যাস আস্বাদন করাই অখিলরসামৃত মূর্তি শ্রীকৃষ্ণের চরিত্র বৈশিষ্ট্য।*
*🍀এই গোপীগণের মধ্যে শ্রীরাধা বা প্রধানা গোপিকা সর্বোত্তমা। যথা--*
*🌷সেই গোপীগণের মধ্যে উত্তমা রাধিকা।*
*🌷রূপেগুণে সৌন্দর্য্যে প্রেমে সর্বাধিকা।।*
*🍀শ্রীবৃন্দাবনে শ্রীচন্দ্রাবলী প্রভৃতি কৃষ্ণানুরাগিনী শত শত যূথেশ্বরীগণ থাকলেও বহুবল্লভ শ্রীকৃষ্ণ যেমন শ্রীরাধার প্রাণবন্ধু,শ্রীরাধাও সেইরকম কৃষ্ণপ্রাণের একমাত্র বন্ধু অর্থ্যাৎ প্রাণ রক্ষার মহৌষধি।উভয়ে যেন উভয়ের প্রাণের একমাত্র আশ্রয়।অতএব রাধাকৃষ্ণ একআত্মা তনুভেদ। যেমন কস্তরিকা ও তার গন্ধ,অগ্নি ও তার দাহিকা শক্তি,পদ্ম ও তার সৌরভ প্রভৃতি যেমন অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ও অভেদ তদ্রূপ আদ্যাশক্তি শ্রীরাধা ও অচিন্ত্য শক্তিমান শ্রীকৃষ্ণ অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত তথা শক্তি ও শক্তিমানে কোন প্রভেদ নাই। লীলারস মাধুর্য্য আস্বাদন করতে ও রসিক ভক্তগণকে কৃপা ও আনন্দ প্রদানের জন্য এক হয়েও দুই-রূপ ধারণ করেন।যথা শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে--*
*🌷জগৎমোহন কৃষ্ণ তাহার মোহিনী।*
*🌷অতএব সমস্তের পরা ঠাকুরাণী।।*
*🌷রাধা পূর্ণ শক্তি কৃষ্ণ পূর্ণ শক্তিমান।*
*🌷দুই বস্তুর ভেদ নাহি শাস্ত্রের প্রমাণ।।*
*🌷মৃগমদ তার গন্ধ যৈছে অবিচ্ছেদ।*
*🌷অগ্নি ও জ্বালাতে যৈছে কিছু নাহি ভেদ।।*
*🌷রাধাকৃষ্ণ ঐছে সদা একই স্বরূপ।*
*🌷লীলারস আস্বাদিত ধরে দুইরূপ।।*
*🌻এই দুই বস্তু নিয়েই শ্রীঅমিয়া ব্রজলীলা।অন্য যা কিছু বা যে কেউ সে শুধু এই যুগল লীলার রসপুষ্টির উপকরণ মাত্র।*
*🌷রাধা সহ ক্রীড়ারস বৃদ্ধির কারণ।*
*🌷আর সব গোপীগণ রসোপকরণ।।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*শ্রীকৃষ্ণের প্রথম বাঞ্জা*
*🍀শ্রীরাধার প্রিয় সখী হলেন ললিতা ও বিশাখা এবং তাঁরা শ্রীরাধার কায়ব্যূহরূপা।ললিতা, বিশাখা,চিত্রা,চম্পকলতা,রঙ্গদেবী, সুদেবী,তুঙ্গবিদ্যা ও ইন্দুরেখা--এই অষ্টসখী রূপে গুণে সমতুল্যা এবং সকলেরই লক্ষ্য এক।শ্রীরাধাকৃষ্ণ যুগল সকলেরই প্রাণস্বরূপ।নায়ক শিরোমণি শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে নায়িকা মুকটমণি শ্রীরাইধনির মিলন সাধন করাই এই সখীগণের নিত্য কাম্য। নিজেদের সুখের প্রতি বিন্দুমাত্রও স্পৃহা বা বাসনা নাই।শ্রীরাধারাণীর সুখই সখীগণের সুখ।এই সখীগণের স্বভাব অতি দুর্বোধ্য ও অদ্ভুত।নায়িকা হয়ে তাঁদের শিরোমণি শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে স্পর্শন,আলিঙ্গন প্রভৃতি মিলনের বিন্দুমাত্র স্পৃহা নাই।এই প্রেম কারিকরগণের ব্রত হল শ্রীরাধাকৃষ্ণের মিলন সম্পাদন করা।*
*🌹প্রেম কারিকর মোরা যত সখীগণ।*
*🌹ভাঙ্গিলে গড়িতে পারি পিরীতি রতন।।*
*🍀শ্রীরাধাকৃষ্ণ প্রেমের ভাঙ্গা গড়াই হল এই প্রেম-কারিকরগণের নিত্যকর্ম।শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে মিলনে শ্রীরাইধনির মনে যে উল্লাস হয় তা হতে কোটিগুণ সুখ সখীগণ আস্বাদন করেন।*
*🌹নিজেন্দ্রিয় সুখবাঞ্জা নাহি গোপীকার।*
*🌹কৃষ্ণ সুখ দিতে করে সঙ্গম বিহার।।*
*🌻বস্তুতঃ সুখবাঞ্জা নেই,অথচ কোটিগুণ সুখাস্বাদ হয়,এটি অতি অদ্ভুত ও তাৎপর্য্যময় ও দুর্বোধ্য।অহো! সখীগণের এই নিঃস্বার্থ ও নির্বৃতি মার্গীয় প্রেমসেবা,অকৈতব, নিরুপাধি গাঢ় পিপাসাপূর্ণ প্রেম সেবন না হলে কি সূত্রসঞ্চালিত দুই পুত্তুলিকার মত শ্রীরাধাকৃষ্ণ তাদের অনুরাগ রজ্জুতে আকৃষ্ট হয়ে সখীগণের অনুগত ভাবেও ইচ্ছা অনুসারে লীলা করছেন।যার ভগবত্তা শক্তি অন্য নিরপেক্ষ ও স্বয়ং সিদ্ধ।তিনিও এই সমর্থাবতির সখীগণের হাতে খেলার পুতুল।এই মহাবল প্রেমের কাছে শ্রীভগবান পরাভব মেনে নতি স্বীকার করেন।দুর্বোধ্য,দুর্জ্ঞেয় ও নিরুপম এই গোপীপ্রেমা এ প্রেমের কাছে ভগবান ঋণী থেকে যান।প্রেমক্রীড়া সাম্যের পরিধিত্ব না হলে এই নিঃস্বার্থ নিবৃত্তি মার্গীয় নিরুপাধি প্রেম জন্ম হতে পারে না।তাই এই গোপী প্রেমকে শাস্ত্রে "অপ্রাকৃত কাম বা প্রেম" বলে অভিহিত হয়েছে।যথা----*
*🌹সহজ গোপীয় প্রেম নহেত প্রাকৃত কাম।*
*🌹কামক্রীড়া সাম্যে তাহে কহি প্রেম নাম।।*
*🌻এই সখীগণের প্রধানা ও প্রাণস্বরূপা শ্রীরাধারাণীর দেহ মাদনাখ্য মহাভাবরূপ উজ্জ্বল চিন্তামণি দ্বারা অলংকৃত।ললিতা বিশাখাদি সখীগণের স্নেহপূর্ণ সুসখ্য ভাবরূপ সুরভিত কুঙ্কুমাদি দ্বারা শ্রীমতীর দেহ সুন্দর কান্তি ধারণ করেছে।মধ্যাহ্নে যৌবনামৃত ধারায় ও সায়াহ্নে দেহের উজ্জ্বল ধারায় স্নান করেন।আবার বদ্ধ কেশপাশ যেরকম বসন দ্বারা আবৃত থাকে,তদ্রূপ শ্রীমতীর মাদনাখ্য বিপ্রলম্ভও নিজ মনের ভাবদ্বারা গোপন হেতু আবৃত হওয়ায় কারও বোধের বিষয় হয় না।কৃষ্ণ প্রেয়সী শিরোমণি ও রমণি মুকুটমণি রূপে শ্রীমতীর খ্যাতি,তাইই ললাটে উজ্জ্বল তিলক হাস্রিদি দ্বারা শ্রীমুখমন্ডল অন্তরের অনুরাগ প্রস্ফুটিত হয় বলে অনুরাগ রূপ তাম্বুল দ্বারা শ্রীরাধার অধরোষ্ঠ রঞ্জিত বলা হয়েছে।চক্ষু গোলকদ্বারা হৃদয়ের বাম্য ফা কুটিল ভাব প্রকাশিত হয় বলে প্রেম কৌটিল্যরূপ কজ্জল ধারণ কথিত হয়েছে।আবার প্রেম বৈচিত্র্যের এক প্রকার বিরহভেদ এটিকে মারমধ্যগত মণির সঙ্গে অভেদ বলায় সেটির অনুরাগ অংশে শ্রেষ্ঠত্ব ধ্বনিত হয়েছে।প্রিয়তমের কাছে থেকে অত্যন্ত অনুরাগ কারণ যে বিরহ-বোধ, তাইই প্রেম বৈচিত্র্য।প্রেমের আতিশয্যে "প্রিয়তমের সঙ্গলাভ আর বেশীক্ষণ হবে না "এইরকম ভাবও ভাবনা হতেই প্রেম বৈচিত্র্য আবির্ভাব হয়। শ্যামসুন্দরের বক্ষে থেকেও শ্রীরাধার---*
*🌹এই ভয় উঠে মনে এই ভয় উঠে।*
*🌹না জানি রাধার প্রেম তিলে নাহি টুটে।।চন্ডীদাস।।*
*🌻আবার পদকর্তা গোবিন্দ দাস প্রেম বৈচিত্র্য সম্বন্ধে এইভাবে গাইতেছেন----*
*🌷শ্যামক কোরে, যতনে ধনি শুতল,*
*মদন আলসে দুহুঁ ভোর।*
*ভুজে ভুজে বন্ধন, নিবিড় আলিঙ্গন,*
*যেমন কাঞ্চনমণি জোড়।।*
*কোরহি শ্যাম,চমকি ধনি বোলত,*
*কব মোহে মিলব কান।*
*হৃদয়ক তাপ, তবহু-মঝু মিটিত,*
*অমিয়া রব সিনান।।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*শ্রীকৃষ্ণের প্রথম বাঞ্জা*
*🍀শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেমের কথা একহাতে লিখে বা একমুখে বলে এককোণও অনুভব করা যাবে না।যে প্রেমে--*
*🌷না খুঁজিল দূতী না খুঁজিল আন।*
*🌷দুহুকো মিলন মধ্যে পঞ্চবান।।*
*🌻যে প্রেমে দুঁহু কোলে দুঁহু কাঁদে বিচ্ছেদ ভেবে।যে প্রেম বিরহের মধ্যে মিলনের আস্বাদন করায় ও মিলনের মধ্যে বিরহ-উৎকন্ঠা জাগায়,যে প্রেম নিত্য-নবায়মান অর্থ্যাৎ তিল তিল করে বৃদ্ধি পাচ্ছে,বাড়িবার আর জায়গা নেই, তবুও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যে প্রেম গুণ দর্শনে গুরুত্ব প্রাপ্ত হয় না অথবা দোষ দর্শনে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না, যে প্রেম প্রিয়তর প্রাণাপেক্ষাও প্রাণাধিক।যথায় প্রতিদান চাই না, নির্বিচারে আকুল আগ্রহে একে অন্যেকে বিলিয়ে দেয়,সেই স্বতঃসিদ্ধ অকৈতব ও নিরূপাধি রাধা প্রেম ও প্রেমমহিমা ও প্রেমমাধুর্য্যের জয় হোক।এই প্রেম মাধুর্য্যের কথা শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে বর্ণিত হয়েছে।*
*🌷কৃষ্ণনাম গুণ যশ অবতংস কানে।*
*🌷কৃষ্ণনাম গুণ যশ প্রবাহ বচনে।।*
*🌷কৃষ্ণকে করায় শ্যামরস মধুপানে।*
*🌷নিরন্তর পূর্ণ করেন কৃষ্ণের সর্বকামে।।*
*🌹বৈষ্ণব কবি চন্ডীদাস শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রীতিরস এইভাবে বর্ণনা করেছেন---*
*🌷এমন পিরীতি কভু দেখি নাই শুনি।*
*🌷পরাণে পরাণে বাঁধা আপনা আপনি।।*
*🌷দুঁহু কোরে দুঁহু কাঁন্দে বিচ্ছেদ ভাবিয়া।*
*🌷তিল আধ না দেখিলে যায় সে মরিয়া।।*
*🌷জলবিনু মীন জনু কবহুঁ না জীয়ে।*
*🌷মানুষে এমন প্রেম কোথা নাহি শুনিয়ে।।*
*🌷 ভানু কমল বলি সেই হেন নহে।*
*🌷হিয়ে কমল মরে ভানু সুখে রহে।।*
*🌷 চাতক জলদ কহি সে নহে তুলনা।*
*🌷সময় নহিলে সে না দেয় এককণা।।*
*🌷 কুসুমে মধুপ কহি,সে নহে তুল।*
*🌷না আইলে ভ্রমর আপনি না যায় ফুল।।*
*🌷কি ছার চকোর চাঁদ দুঁহু সম নহে।*
*🌷ত্রিভুবনে হেন নাহি চন্ডীদাস কহে।।*
*🌻আবার পদকর্তা গোবিন্দ দাস শ্রীরাধাকৃষ্ণের নিত্যনব প্রেমবিলাস এইভাবে বর্ণনা করেছেন।*
*🌷দুঁহু জন নিতি নিতি নব অনুরাগ।*
*🌷দুঁহু রূপগুণ, দুহু হিয়ে জাগ।।*
*🌷দুঁহু মুখ চুম্বই দুহু করু কোর।*
*🌷দুঁহু পরিরম্ভনে দুঁহু ভেল ভোর।।*
*🌷দুঁহু দোঁহে যৈছন দারিদ হেম।*
*🌷নিতি নিতি আর নিতি নবপ্রেম।।*
*🌷নিতি নিতি ঐছন করত বিলাস।*
*🌷নিতি নিতি হেরই গোবিন্দ দাস।।*
*🌻শ্রীগোপাঙ্গনাদের সঙ্গে প্রীতিরস নির্য্যাস আস্বাদন করবার জন্য অচিন্ত্য শক্তিমান শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছা,তাই তাঁর ইচ্ছার গতিরোধ করবার মত সাধ্য চতুর্দশ ভুবনের জগমন্ডলে কারও নাই।শ্রীনন্দকিশোরের এই পরকীয়া লীলা যে কত মধুর,তা তাঁর রসিক ভক্তগণই জানেন।অনাদিরাদি গোবিন্দের পরকীয়া অভিমানিনী ব্রজঙ্গনাদের শ্রীমুখোচ্চারিত হরিকথা গীত আলাপনে ত্রিভুবনের আকাশ বাতাস পবিত্র হয়ে যাচ্ছে।সেই কৃষ্ণ প্রেয়সীগণের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের এই পরকীয়া লীলা রসিক ভক্তগণকে কৃপা করবার জন্য এই ভৌমবৃন্দাবনে প্রকাশিত হয়েছে।এটি মর্ত্ত্যবাসীর অপরিসীম সৌভাগ্যের সূচনা করছে।শ্রীব্রজগোপীগণের সমস্ত চেষ্টা ও উদ্যম কেবল কৃষ্ণ-সুখের জন্য, এমন কি শ্রীকৃষ্ণের সহিত তাঁদের সঙ্গম ও বিহার প্রভৃতিও নিজ সুখের জন্য না।যেখানে শ্রীকৃষ্ণ প্রীতিলাভ করলে গোপীগণের দেহ-মন প্রফুল্লিত হয়, যেখানে তাঁদের সুখ-বাঞ্জা না থাকলেও শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে দেখা করা,স্পর্শন ও আলিঙ্গনে কোটিগুণ সুখ আবির্ভাব হয়ে কৃষ্ণসুখে পর্যুবসিত হয়,যেখানে কৃষ্ণপ্রাপ্তি কৃষ্ণসুখের জন্যই কেবল গোপীগণের কামনা, সেই কামই প্রেমনামে অভিহিত হয়েছে।*
*🌷প্রেমৈব গোপ রামানাং কাম ইত্যগমং প্রথাং।*
*🌹তথাহি গোপীপ্রেমামৃত গ্রন্থে---*
*🌷নিজাঙ্গমপি যা গোপ্যা মমেতি সমুপাসতে।*
*🌷তাভ্যাং পরং ন মে পার্থ!নিগূঢ় প্রেমভাজন্।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণ বললেন হে অর্জুন! যে সব গোপীগণ নিজেদের অঙ্গকেও মদীয়-ভোগ্য বলে যত্ন করেন,তাঁরা ছাড়া মদীয় (আমার) নিগূঢ় প্রেমভাজন আর অন্য কেউ নাই।যথা শ্রীচরিতামৃতে-------*
*🌷এ দেহ দর্শন স্পর্শে কৃষ্ণ সম্ভাষণ।*
*🌷এই লাগি করেন দেহের মার্জ্জন ভূষণ।।*
*🌻শ্রীব্রজগোপীগণের দর্শন ও কীর্তনাদি দ্বারা সাধক জগতে পরম কল্যাণ সাধিত হয়েছে।কৃষ্ণ মাধুর্য্যের চরম উৎকর্ষ একমাত্র শ্রীব্রজাঙ্গনাগণই অনুভব করেছেন, অন্য কেউই এই জাতীয় অভিনিবেশ, এই পরিমাণে প্রেমমাধুর্য্য আস্বাদন করতে পারেননি।*
*🙏এই গোপীগণই বা কে? দাস্যগণই বা কে? বাৎসল্যময়ী যশোদাই বা কে? এই অন্তর-তত্ত্ব সন্ধান করলে তবেই শ্রীকৃষ্ণের তত্ত্ব অনুভব হবে, নচেৎ না---।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৫)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*শ্রীকৃষ্ণের প্রথম ও দ্বিতীয় বাঞ্জা।*
*🌻প্রথম বাঞ্ছার শেষ অংশের পর দ্বিতীয় বাঞ্জা।*
*🌹তাদের অধিরূঢ় মহাভাবের গতি-নীতি যে কত দুর্লভ,তা ভাষায় বর্ণনাতীত,গোপীপ্রেমামৃত গ্রন্থে উল্লেখ আছে ----*
*🌷ত্রৈলক্য পৃথিবী ধন্যা যত্র বৃন্দাবন পুরী।*
*🌷তত্রাপি গোপীকা পার্থ!রাধাভিধা মম।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছন--হে পার্থ! বৃন্দাবন পুরী বিদ্যমান থাকাতেই ত্রিলোকীতলে পৃথিবী ধন্যা।সেই বৃন্দাবনে গোপীগণই ধন্যা,কেননা তারমধ্যে আমার প্রিয়তমা শ্রীরাধিকা রয়েছেন।*
*🍀যে ব্রজদেবীগণের চরণরেণু লালসায় ব্রহ্মা গোকুলে স্থাবর জন্ম এবং উদ্ধব মহাশয় গুল্মলতা ঔষধি জন্ম প্রার্থনা করেছেন, শ্রীকৃষ্ণের শিরঃপীড়ায় কৃষ্ণশিরে প্রলেপ করতে ত্রিভুবনে কোন ভক্তপদ রেণুলাভে বঞ্চিত হয়ে পরিশেষে যে ব্রজাঙ্গনাগণের চরণরেণু পেয়ে দেবর্ষি নারদ চমকিত হয়ে ভাবাবেশে মূর্ছিত হয়েছিলেন,যে ব্রজঙ্গনাগণের স্বজন, কুলাদি,আর্যপথ ত্যাজক অনুরাগময় পরকীয়া ভাব বেদ বিধির অগোচর,যে ব্রজঙ্গনাদেবীগণের মহিমা কীর্তন করতে করতে শ্রীউদ্ধব মহাশয় এমনই দৈন্য সাগরে ডুবে গিয়েছিলেন যে তাঁদের চরণে সাক্ষাৎ প্রণাম করতে সাহসীনা হয়ে দূর হতে কম্প ও গদগদ ভাবে বলতে লাগলেন--"বন্দে নন্দব্রজ স্ত্রীণাং অর্থ্যাৎ আমি দূর হতে এই নন্দব্রজস্ত্রী মাত্রেরই চরণের অসংখ্য রেণুর মধ্যে একটি রেণুকে প্রতিক্ষণই বন্দনা করি,যাঁদের শ্রীমুখোচ্চারিত শ্রীহরি কথার উচ্চৈঃস্বরে গান--"উদ্গায়তীনাং" রীতি অনুসারে এই ত্রিভুবনের আকাশ বাতাস পবিত্র করেছে,যাঁদের সম্বন্ধান্বিত হরিকথা মহাভাগবতগণ উচ্চৈঃস্বরে গান করে উর্দ্ধ,মধ্য ও অধঃ এই ত্রিভুবনকে পবিত্র করেছেন,সেই ব্রজদেবিগণই শ্রীকৃষ্ণের প্রাণস্বরূপ ও কৃষ্ণ হৃদয় সরোবরের প্রস্ফুটিত কমল।এই কৃষ্ণকান্তা গোপীগণের মধ্যে শ্রীরাধা কৃষ্ণকান্তা শিরোমণি, শ্রীমদ্ভাগবতে যিনি পরম গোপ্যা বলে ক্কাচিৎ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।এই কাচিৎ শব্দের অর্থ পরম শ্রেষ্ঠা ও প্রেষ্ঠা,কৃষ্ণকান্তা শিরোমণি,রমণীমুকুটমণি,শ্রীরাধারাণী।ক্কাচিৎ শব্দের শ্লেষার্থেও "কে প্রেমসুখে আসমস্তাৎ চিৎ জ্ঞানং যস্যা", অর্থ্যাৎ কৃষ্ণপ্রেমে যে অখন্ড সুখ,তা যাঁর পরিপূর্ণ ভাবে উপলব্ধি আছে,তিনিই কাচিৎ, শ্রীকৃষ্ণপ্রিয়া মুকুটমণি শ্রীরাধারাণীতে মাদনাখ্য মহাভাব জনিত পরিপূর্ণ প্রেমসুখ অনুভব হয় বলে শ্রীরাধার একটি নাম "কাচিৎ",শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শ্রীরাধার মধুরোচ্ছল ব্রজপ্রেম ভাষায় বর্ণনাতীত।*
*শ্রীরাধার প্রেম মহিমার গুরুত্ব আমাদের মত ক্ষুদ্র ও নশ্বর জীবের পক্ষে বর্ণনা করা সাধ্যের অতীত।যার ভগবত্তা শক্তি অন্য নিরপেক্ষ,যিনি অবতারবলী বীজ,যিনি অনাদিরাদি গোবিন্দ সেই শ্রীকৃষ্ণই মহামহিমান্বিতা শ্রীরাধার মহিমা ও গুণ বর্ণনে অসমর্থ অর্থ্যাৎ মহিমা বর্ণনে কুল-কিনারা পান না।যথা শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে--*
*🌷যার সৎগুণ গণের কৃষ্ণ না পায় পার?*
*🌷তার গুণ গণিবে কেমতে জীব ছার।।*
*বৃন্দাবনদাস কবিরাজ গোস্বামীর চরণ শিরে ধরি।*
*নিতাই গৌরাঙ্গ-পাদপদ্মের ভৃঙ্গ হৈয়া মধু পান করি।।*
*🙏🙏শ্রীশ্যামসুন্দরের দ্বিতীয় বাঞ্জা।*
♻♻♻♻♻♻♻♻♻♻♻
*"অনয়া আস্বাদ্যঃ যেন অদ্ভুত মাধুরিমা কীদৃশঃ বা মদীয়"--- অর্থ্যাৎ পূর্বে শ্রীরাধার যে প্রেম ও মহিমার কথা বলা হয়েছে,সেই প্রেম মহিমা দ্বারা শ্রীরাধা কর্তৃক আস্বাদিত আমার অসীম মাধুর্য্যটি কিরকম?আরও একটু বেশী আস্বাদন করলে মনে হবে যে শ্রীকৃষ্ণের লোভ কেবলমাত্র নিজ মাধুর্য্যের প্রতি না,শ্রীরাধা কর্তৃক আস্বাদিত নিজ মাধুর্য্যের লোলুপতাও বটে।দ্বিতীয় বাঞ্জাটি আস্বাদন করতে হলে শ্রীকৃষ্ণের (১)নাম মাধুর্য্য (২) রূপ-গুণ মাধুর্য্য (৩)লীলা মাধুর্য্য (৪)বেণু মাধুর্য্য ও (৫)প্রেম মাধুর্য্য আস্বাদন করতে হবে।এই মাধুর্য্য অনন্যসাধারণ ও অসমোর্দ্ধ। অন্যকোন ভগবৎস্বরূপে বা অবতার স্বরূপে এত মাধুর্য্য দেখা যায় না।*
*🙏🙏নাম মাধুর্য্য*
*🌷নাম চিন্তামণি, কৃষ্ণশ্চৈতন্য রস বিগ্রহ।*
*🌷পূর্ণশুদ্ধো নিত্যমুক্তোহ ভিন্নাত্মান্নাম নামীনো।।*
*🌻নাম এবং নামীর ভেদ না থাকায় শ্রীকৃষ্ণই নামরূপে আবির্ভূত হয়েছেন।অতএব নাম কৃষ্ণস্বরূপ,নাম চৈতন্যরসমূর্তি,সর্ববিধ শক্তিতে পূর্ণ, মায়া বদ্ধ রহিত।নিত্যমুক্ত ও চিন্তামণির মত সর্বাভীষ্টপ্রদ।কলিযুগে এই তারকব্রহ্ম নামই মহামন্ত্র। "কৃষ ধাতুর অর্থ আকর্ষণ করা বা কর্ষণ করা"।এই কৃষ্ণ নাম জীবের দেহমন প্রাণাদি সর্ব ইন্দ্রিয় আকর্ষণ করেন অথবা জীব-হৃদয় কর্ষণ করে শ্রীনামবীজ বপনে উপযোগী করেন।কৃষ্ণ শব্দের নিম্নলিখিত রূপ পাওয়া যায় -----*
*🌷কৃ আছি গোপীগণের রত্ন পুষ্টি করে।*
*🌷অতএব কৃষ্ণনাম বলি যে তাহারে।।*
*🌻আবার রাম শব্দের রূপ এই ভাবে পাওয়া যায়,যথা----*
*🌷রাধিকার সঙ্গে সদা করয়ে রমণ।*
*🌷অতএব রাম নাম কহি সে কারণ।।*
*🌻কাশীর মায়াবাদী সন্ন্যাসী ও মহাপন্ডিত শ্রীপ্রকাশানন্দ সরস্বতী শ্রীমন্মহাপ্রভুকে বলেছিলেন--, আপনি শ্রীপাদ কেশব ভারতীর শিষ্য।সন্ন্যাসী হয়ে বেদান্ত পাঠ ও ধ্যান না করে শুধু ভাবাবেশে নৃত্য করেন,এটি সন্ন্যাসীর ধর্ম নয়।উত্তরে মহাপ্রভু গুরু প্রদত্ত কৃষ্ণনাম মহামন্ত্রের প্রভাব সম্বন্ধে বলেছেন---*
*🌷কিবা মন্ত্র দিলা গোসাঞি কিবা তার বল।*
*🌷জপিতে জপিতে মন্ত্র করিল পাগল।।*
*🌷হাসায় নাচায় মোরে করায় ক্রন্দন।*
*🌷এতবলি গুরু বলিলা মোরে বচন।।*
*🌷কৃষ্ণনাম মহামন্ত্রের এই ত স্বভাব।*
*🌷যেই ভজে তার কৃষ্ণে উপজয়ে ভাব।।*
*ক্রমাগত
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৬)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*শ্রীকৃষ্ণের দ্বিতীয় বাঞ্ছা*
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🍀নাম-মাহাত্ম্য সম্বন্ধে শ্রীরাধারাণী কোন সখীকে বলছেন--,হে সখী!আমার শ্রুতিমূলে বা কানে কৃষ্ণনাম প্রবেশ করতে আমার নয়ন প্রতিনিয়ত বা অহরহ অশ্রুসিক্ত হচ্ছে, আমার মন দ্রবীভূত হয়ে মনোপ্রাণ আকুল করে ফেলল সখী!কৃষ্ণ নামের এই দুইটি অক্ষর যে কত মধুময় যে আমার রসনা বা জিহ্বা ঐ নাম ছাড়তে পারছে না।এই নাম জপিতে আমার সমস্ত দেহ অবশ হয়ে অশ্রু,কম্প,পুলক প্রভৃতিতে অষ্টসাত্ত্বিক বিকারগ্রস্ত হল।বলে দাও সখী!কেমনে তাঁকে পাব,(বিদগ্ধ মাধব)।🔷বৈষ্ণব কবি চন্ডীদাস নাম মাধুর্য্য সম্বন্ধে বর্ণনা করেছেন-----*
*🌷সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।*
*কানের ভিতর দিয়া,মরমে পশিল গো,*
*আকুল করিল মোর প্রাণ।।*
*🌷না জানি কতেক মধু,শ্যামনামে আছে গো,*
*বদন ছাড়িতে না পারে।*
*🌷জপিতে জপিতে নাম অবশ করিল গো,*
*কেমনে পাইব সই তারে।।*
*🌻শ্রীপাদ শ্রীরূপগোস্বামী বিদগ্ধ মাধব নাটকে শ্রীকৃষ্ণের নাম মাধুর্য্য, রূপ মাধুর্য্য ও বেণু মাধুর্য্য একসঙ্গে প্রকাশ করেছেন।শ্রীরাধা বলছেন--, হে সখী!একজনের (কৃষ্ণের) এই নামের অক্ষর শুনেই আমার জ্ঞান লোপ পাচ্ছে,অন্য একজনের বংশীধ্বনিতে আমাকে পাগল করেছে, চিত্রপটে দেখা আর একজন (ঘনশ্যাম)পুরুষ আমার মনের মধ্যে চরমভাবে বিরাজিত--হায়!ধিক।কি কষ্ট!একসঙ্গে তিন পুরুষের প্রতি আমার মন ধাবিত হওয়া আমার পক্ষে মঙ্গলজনক নয় সখী! আমি এক নারী হয়ে তিনজন পুরুষকে হৃদয়ে ধারণ করলাম? ধিক,ধিক নিজেকে।তখন অন্যান্য সখী সহর্ষে বা আনন্দে উত্তর দিলেন,সখী রাধে! কিভাবে তোমার গোকুলেন্দ্র বা গোকুলচন্দ্র ছাড়া অন্য কারও প্রতি অনুরাগ সম্ভব হতে পারে কি?অতএব শোনো,এই তিন সেই এক মহানাগর শ্রীকৃষ্ণ।*
*🌻🌻রূপগুণ মাধুর্য্য🌻🌻*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*🍀শ্রীকৃষ্ণের রূপ ও গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে বৈষ্ণব কবিগণ ও তত্ত্ববিদগণ শুধু "মধুরং,মধুরং" কথায় সমাধান করে আর কিছু লিখতে সমর্থ হননি।◆তাঁর বর্ণ নীলোৎপল অপেক্ষাও সুকোমল, নীলমণি অপেক্ষা উজ্জ্বল,নবজলধর অপেক্ষাও স্নিগ্ধ বা কোমল ও মেদুর বা চিক্কণ।তাঁর মোহন চূড়ায় মনোহর ময়ূর পুচ্ছ সামান্য বামে হেলিয়া দুলছে।দেখতে মনে হচ্ছে যেন নবজলধর দর্শনে ময়ূর আনন্দে নৃত্য করছে।পদ্মপলাশের মত সুবিশাল আকর্ণ বিস্তৃত নয়ন-দুটি যেন প্রফুল্ল পুন্ডরীক বা শ্বেতপদ্ম (white lotus) প্রভাকে পরাভূত করেছে, আবার তাঁর নয়ন চকোর বদন চন্দ্রমার সুধালোভে চঞ্চল মূর্তি ধারণ করে বঙ্কিম বা বাঁকা নয়নে নয়ন-পত্র রূপ দুইটি চকোরের পাখা ক্ষণে ক্ষণে সঙ্কুচিত ও প্রসারিত করে শ্রীরাধাসহ ব্রজঙ্গনাগণকে এবং সমস্ত জগৎকে যেন সঙ্কেতে আকর্ষণ করছে।এই কটাক্ষবাণ প্রণয় মদে মত্ত হয়ে ব্রজযুবতীগণের মর্মস্থল বিদীর্ণ বা ছিন্ন-ভিন্ন করে দিচ্ছে এবং তাঁরজন্য অবশ হওয়ায় ব্রজবাসীগণের সর্বাঙ্গে দুঃসহ আনন্দ কম্পন-যন্ত্রণা উপস্থিত হচ্ছে।শ্রীগোবিন্দের অঙ্গ-সন্নিবেশ এত মধুর,এত সুরম্যাঙ্গ যে দেখলে মনে প্রশ্ন জাগে যে তাঁর দেহের কি সমস্তই শোভা,কি সমস্তই লাবণ্য, কি সমস্তই মাধুর্য্য ; কি সমস্তই সৌরভ বা কমণীয়তা, আবার বিদগ্ধ মাধবে (১|১৪) পৌর্ণমাসী দেবী নান্দীমুখীকে বলে ছিলেন---, অহো! শ্রীকৃষ্ণ কি মনোহারিণী শোভা ধারণ করেছেন,কৃষ্ণের দেহকান্তি নীলমণি অপেক্ষাও দিব্য প্রভায় সমুজ্জ্বল, নয়নের দীপ্তিতে বিকচ সরোজ (বিকশিত পদ্ম) প্রভা পরাভূত,অর্থ্যাৎ তাঁর নয়নের ভেতরে যে আলো দেখা যাচ্ছে তা সদ্য প্রস্ফুটিত পদ্মের সৌন্দর্যকেও পরাজয় করেছে,তাঁর পীতাম্বর (তাঁর পরিধানের বসন) শোনকুসুম বা পদ্মরাগ মণির কান্তিকেও লজ্জিত করেছে এবং কাননজাত পত্র পুষ্পাদি বিরচিত বেশভূষা দিব্য বেশের শোভাকে বিড়ম্বিত করেছে।তাঁর মুরলী লাঞ্ছিত নিরুপম বদনচন্দ্রমা দেখলে মনে হয় যেন বিধাতা নিখিল সৌন্দর্য্য,(বিশ্বের সমস্ত সৌন্দর্য্য) হরণ করে ঐ শারদ সুধাকরের মুখমন্ডলে সন্নিবেশ করাতে সৌন্দর্যের ভান্ডার শূন্য হয়ে গিয়েছে।শ্রীগোবিন্দদাস রূপাভিসারে বর্ণনা করেছেন---*
*🌷ও মুখমন্ডল জিতি শারদ সুধাকর,*
*তনুরুচি তরুণ তমাল।*
*🌷চূড়া চারু শিখন্ডক মন্ডিত,*
*মালতী মধুকর মাল।।* *ইত্যাদি*।
*🌻আবার কবিরাজ গোস্বামীপাদ বলেছেন----*
*🌷কৃষ্ণরূপামৃত সিন্ধু,তাহার তরঙ্গবিন্দু,*
*এক বিন্দু জগৎ ডুবায়।*
*🌷ত্রিভুবনের যত নারী,তার চিত্ত উচ্চগিরি,*
*তাহে ডুবায় আগে উঠি ধায়।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের অধর ও ওষ্ঠ বান্ধুলী পুষ্পের ন্যায় রঙ্গিন।(এই বান্ধুলী পুষ্প দুপুরবেলা ফুটে ও বিকেলবেলা শুকিয়ে যায় বলে এর আরেক নাম দুপুরিয়া, এই ফুল কাল,সাদা,পীত ও লালবর্ণ ভেদে চার প্রকার।লাল বান্ধুলীর সঙ্গে সুন্দরীর অধরের তুলনা করা হয়।🌷(পরিধান পীতাম্বর অধর বান্ধুলীবর মুখ-সুধাকরে সুধাহাস)।চন্দ্র,কুন্দ পুষ্প ও মন্দার কুসুম সদৃশ(সমান) সামান্য হাস্যে তার সর্বাঙ্গ দেদীপ্তমান (জাজ্বল্যমান)।সাধারণ লোকে কথা বোলে তবে হাসে, কিন্তু শ্যামসুন্দর কথা বলবার আগেই এমন স্মিত মধুর হাস্যে উৎফুল্লিত হন, যেন মনে হয়, অমিয় বা সুধা নিছনি মধুর রক্তিম বিম্বাধর হতে নিষ্কলঙ্কচাঁদ ফেটে সুধারাশি বর্ষণ করছে।এই হাসিভরা মধুর অধর দেখলে কোন যুবতী নারী কুল রক্ষা করতে পারেন।সে মাধুরী দেখে "লক্ষ্মীর" হৃদয়ও দুলতে থাকে।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৭)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*শ্রীকৃষ্ণের দ্বিতীয় বাঞ্ছা*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀শ্রীমতী বিরহে কাতরা হয়ে শ্রীকৃষ্ণের রূপমাধুর্য্য আস্বাদন করে বলছেন-----*
*🌷সেই সৌন্দর্য্যামৃত সিন্ধু,তাহার তরঙ্গ বিন্দু,*
*ললনার চিত্তাদি ডুবায়।*
*🌷কৃষ্ণের যে নর্ম্ম কথা,শুধু সুধাময় গাথা,*
*তরুণীর কর্ণানন্দ তায়।।*
*🌷কহ সখী কি করি উপায়।*
*🌷কৃষ্ণের মাধুরী ছন্দে,সর্বেন্দ্রিয়গণে বাঁধে,*
*বলে সর্বেন্দ্রিয়ে আকর্ষয়।।*
*🌻গোপীগণ শ্রীকৃষ্ণকে বললেন--, হে কৃষ্ণ! আমাদের যে চোখ তোমার কুটিল কুন্তল বিশিষ্ট শ্রীমুখ দর্শন করে,বিধাতা সেই চক্ষুতে পলকের সৃষ্টি করাতে নির্বোধ জড় বলেই বিবেচনা করি।*
*🌻এই প্রসঙ্গে শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত বলেন---*
*🌷এ মাধুর্য্যামৃত সদা যেই পান করে।*
*🌷তৃষ্ণা শান্তি নহে তৃষ্ণা বাড়ে নিরন্তরে।।*
*🌷অতৃপ্ত হইয়া করে বিধিরে নিন্দন।*
*🌷অবিদগ্ধ বিধি ভাল না জানে সৃজন।।*
*🌷কোটি নেত্র নাহি দিল সবে দিল দুই।*
*🌷তাহাতে নিমেষ কৃষ্ণ কি দেখিব মুই।।*
*🌻এই কোটি নেত্র নাহি দিল, সত্য কথা বলতে কি আমরা সাধারণ গৃহস্থ ঘরের কারও মুখে এই শব্দগুলি শুনতে পাই?তাই অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের মধ্যে একমাত্র ব্রজেই ব্রজরমণীগণের শ্রীমুখ হতে এই শব্দ শোনা গেছে।*
*🌹আবার অন্যত্র লেখা আছে--*
*🌷যে দেখিবে কৃষ্ণানন,তারে করে দ্বিনয়ন,*
*বিধি হয়ে হেন অবিচার।*
*🌷মোর যদি বোল ধরে,কোটি আঁখি তারে করে,*
*তবে জানি যোগ্য সৃজন তার।।*
*🌻শ্রীরূপ গোস্বামীপাদ বলেছেন--, "সৌন্দর্যেন দৃগানন্দকারী রুচির উচ্যতে"। অর্থ্যাৎ কান্তদ্বারা আনন্দকারী হলেই "রুচির" বলা হয়। কোন সোনা,রূপো, হীরের অলংকার না পরে যদি সত্যই রূপে আকর্ষণ হয় তাহাই প্রকৃত রূপ।*
*🌻আগে সুরম্যাঙ্গের উদাহরণ দিয়ে সম্পূর্ণ তৃপ্তিলাভ করতে না পেরে তিনি একটি শ্লোক পরিবেশন করেছেন।তার বঙ্গানুবাদ দেওয়া হল--, শ্রীকৃষ্ণের করদ্বয়,(হাত দুইটি) নাভি, চরণযুগল, নেত্রদ্বয় ও শ্রীমুখমন্ডল--, এই আটটি অঙ্গই পদ্ম।এই অষ্টাঙ্গের কোন একটিতে গোপীদের চঞ্চল নেত্ররূপ ভ্রমর সব কোনভাবে পতিত হয়, তবে সেই অঙ্গ কান্তিরূপ পঙ্কময় স্থান হতে আর উঠতে পারে না।তাই শ্রীরাইধনি বলে ছিলেন---*
*🌷জনম অবধি হাম ওরূপ নেহারিনু।*
*🌷নয়ন না তিরপিত ভেল।।*
*🌻বিদগ্ধ মাধব নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কে বিশাখা সখী শ্রীরাধাকে বললেন, হে সখী!লোকগণ তোমাকে সম্পূর্ণ ধৈর্য্যশালী বলে থাকে তবে কেন উদ্বিগ্ন হচ্ছ?উত্তরে শ্রীরাধা বিশাখা সখীকে বললেন,সখী! সেই ধূর্ত্তই আমাকে নির্গুণে পরিণত করেছে।যাঁর সুশোভন বক্ষস্থল কুল বধূগণের ধৈর্য্য নদী অবরোধ করতে দক্ষ,যাঁর বদন চন্দ্রমা কুলধর্ম সঙ্কোচনে দীক্ষিত, যাঁর বাহুযুগল উন্নত ব্রীড়া-বলিদান যজ্ঞের জন্য চিরকালের জন্য উদ্গত যুপকাষ্ঠ (যজ্ঞের পশুকে যে কাঠে বেঁধে রাখা হয়) সমান,হে সখী!কি কষ্ট যে!তাঁর নেত্রভঙ্গীরূপ ভূজঙ্গিনী আমাদের সবই গ্রাস করে ফেলিল।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণের অর্গলসমান আজানুলম্বিত বলিষ্ঠ অথচ কমনীয় বাহু দুইটি সঙ্কুচিত করে মনোরম বেণুরন্ধ্রে চপল করাঙ্গুলী গুলি সঞ্চালন করে বংশীধারী রক্তিম বিম্বাধর সুধারসে সিক্ত করাতে মধুর মুরলী "রাধা!রাধা"! বলে বাদন করে দিব্যরাগসব উদ্গীরণ বা বমন করছেন। শ্রীকৃষ্ণের অধর ও ওষ্ঠ বান্ধুলী ফুলের মত রঙ্গিন এবং সেটি রাধিকার কাছে অমৃতের খনি বলে শ্রীরাধার মধুর অধর স্পর্শ করবার জন্যই মনে হয় শ্রীকৃষ্ণের হৃদয়জাত অন্তঃরঙ্গ রাগ (রঙ)হতেই ঐ ওষ্ঠ রঞ্জিত হয়েছিল।*
*🌻যাঁর মনোহর,উন্নত পদাগ্রভাগের নখরাজি দর্পণ অপেক্ষাও শোভান্বিত এবং নখাবলী দ্বারা শোভমান রত্নাঙ্গুলী রূপ পত্র নিকরে তার পরম রমণীয় যুগল চরণকমল কোটি চন্দ্রের মত আভা বা আলো উদ্গীরণ করছে এবং উজ্জ্বল শ্রীচরণ পদ্মদ্বয়ের উপরিভাগে মণিময় নূপুর দীপ্তি পাচ্ছে,সেই জগন্মোহন নবকিশোর,নবকন্দর্প স্বরূপ নন্দকিশোরকে নিরীক্ষণ করলে তার নয়নদ্বয় পরিতৃপ্ত না হয়?*
*♻শ্রীকৃষ্ণের রূপ ও গুণ নিরূপম ও অচিন্ত্য। যিনি অচিন্ত্য মহাশক্তিমান, যিনি সমস্ত অবতারগুলির উৎপত্তিস্থল,যার চমৎকারী রূপগুণ-লীলা-তরঙ্গের মহাসাগরে স্নাত (স্নান) হয়ে পরমহংস মুকুটমণি শ্রীশুকদেব গোস্বামীপাদ শৌণকাদি ও সনকাদি আত্মারাম মুনিগণ নিগ্রন্থচিত্ত হয়ে অহৈতুকী ভক্তি করে থাকেন, যার বিশ্ববিমোহন রসরাজ ও বিদগ্ধরাজ মূর্তিতে গোপরামাগণের নীবিবন্ধ স্খলিত হয়ে পড়ে ও চরাচর জগতকে বিমুগ্ধ করে দেয়,যার মনোরম বংশীধ্বনিতে ত্রিভুবনের চিত্ত আকর্ষণ করে,শ্রীযমুনা তরঙ্গ ভেঙ্গে উজানে বহিতে থাকে,ও পর্বতমালা আর্দ্রীভূত হয়ে যায়, যাকে একটিমাত্র তুলসীপত্র সহ একবিন্দু জলদ্বারা আরাধনা করলে ভক্তগণের কাছে নিজেকে বিক্রয় করে মধুর প্রেমে ভূষিত করেন,যিনি বৃন্দাবনের লতা পাতাকেও বক্ষে নিয়ে চুম্বন করে মধুর প্রেমে ভূষিত করতেন,সেই অনন্ত রূপ-গুণ সমন্বিত শ্রীকৃষ্ণ মথুরায় পূর্ণ, দ্বারকাদিতে পূর্ণতর ভাবে এবং গোকুলে পূর্ণতম ভাবে প্রকাশিত হয়ে বিরাজ করছেন,সেই নিত্যনবায়মান ধীর ললিত,বদান্য,ভক্তসুহৃদ, প্রেমবশ্যা, সর্বশুভঙ্কর,মধুময় শ্রীগোবিন্দের চারু চরণ-কমলে ব্রজাঙ্গনাগণ ও ব্রজবাসীগণ ও রসিক ভক্তগণ মধুপান করছেন।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং মদনমোহন মূরতি।প্রাকৃত মদন তাঁর রূপে মুগ্ধ হয়ে সম্ভোগসুখ কামনায় অসমর্থ হয়ে মূছিত হয়ে যায়।শ্রীকৃষ্ণের মধুর রূপ দর্শনে,*
*🌷পুরুষ,যোষিত কিম্বা স্থাবর জঙ্গম।*
*🌻মোহিত হয়ে যায়।শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীসনাতন গোস্বামীপাদকে বলেছিলেন------*
*যে রূপের এক কোণ,ডুবায় এই ত্রিভুবন,*
*সর্বপ্রাণী করে আকর্ষণ।*
🛑🛑🛑ক্রমাগত🛑🛑🛑
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৮)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*শ্রীকৃষ্ণের দ্বিতীয় বাঞ্ছা*
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🌷বৃন্দাবনের অপ্রাকৃত নবীন মদন।*
*🌷কামবীজ কামগায়ত্রী যার উপাসন।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের নিরূপম রূপমাধুরী এমনই চিত্তাকর্ষক ও মনোহারী যে দর্পণে বা আয়নায়,মণিস্তম্ভে অথবা মানসগঙ্গায় নবীন নাবিকবেশে নিজের প্রতিবিম্ব মূর্তি দর্শন করে নিজেই বিমোহিত হয়ে বলেন--,"আমি কি এতই সুন্দর!*
*🌷কৃষ্ণের মাধুরী কৃষ্ণে উপজয়ে লোভ।*
*🌷সম্যক্ আস্বাদিতে নারে মনে রহে ক্ষোভ।।*
*🌷বিচার করিয়ে যদি আস্বাদ উপায়।*
*🌷রাধিকা স্বরূপ হৈতে তবে মন ধায়।।*
*🌻নিজের অদ্ভুত,অনন্ত ও মনোহারী রূপমাধুর্য্য সম্যক (সর্বপ্রকার)আস্বাদন করতে না পেরে ক্ষুব্ধচিত্তে আশ্রয়জাতীয় সুখ আস্বাদনের মানসে শ্রীরাধার রূপ ও কান্তি ধারণ করে রসিকশেখর শ্রীশ্যামসুন্দর শ্রীধাম নবদ্বীপে শ্রীগৌরকিশোর রূপে অবতীর্ণ হলেন।সংসারে এমন কেউ নাই যে শ্রীকৃষ্ণের রূপ,গুণ,মাধুর্য্য সম্যক বা সর্বপ্রকার উপলব্ধি করতে পারে।ঐ সর্বাতিশয়ী মাধুরিমা সর্বাঙ্গীন ভাবে আস্বাদন করা জীবের পক্ষে সহজসাধ্য নয়।*
*🌷ত্রিজগতে কেহ ইহার নাহি পায় সীমা।*
*🌻শুধু তবু একজন আছেন, যিনি ঐ বিশ্ব-বিমোহন মাধুর্য্য সর্বতোভাবে আস্বাদন করতে পারেন, তিনি বৃষভানু রাজনন্দিনী শ্রীমতী রাধাঠাকুরাণী।*
*🌷এই প্রেমদ্বারে নিত্য রাধিকা একলি।*
*🌷আমার মাধুর্য্যামৃত আস্বাদে সকলি।।*
*শ্রীরাধা "একলি" এবং নিত্যই আস্বাদন করেন।এইকথা বলবার তাৎপর্য্য এই যে আমরা দর্পণে বা আয়নায় প্রতিবিম্ব দেখি,সেটি জড়ীয় ও মলিন।শ্রীভগবান নিজের মূর্তি দেখেন ভক্তের হৃদয় দর্পণে।জড়ীয় দর্পণ গ্রহণ করে প্রতিবিম্ব আর ভক্তহৃদয় গ্রহণ করে বিম্ব বা মূল বস্তু, কারণ ভক্তের হৃদয়ে কৃষ্ণের সবসময়ই বিশ্রাম।এ জগতে যত ভক্তের হৃদয়ে দর্পণ আছে--,স্বচ্ছ, স্বচ্ছতর ও স্বচ্ছতম, তারমধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ স্বচ্ছতমের পরাকাষ্ঠা রয়েছে শ্রীরাধার প্রেমদর্পণে বা সৎ-দর্পণে। এই সৎ-দর্পণে মলিনতার লেশমাত্রও নাই বলে সেটি নিরূপাধি।এই প্রেমদর্পণে শ্রীরাধা "একলি" শ্রীকৃষ্ণের নিরুপম রূপমাধুর্য্য পূর্ণাঙ্গে গ্রহণ করেন এবং শ্রীকৃষ্ণও নিজেকে সর্বতোভাবে দর্শন করেন।*
*শ্রীরাধার চিত্ত দর্পণের স্থচ্ছতা ও উজ্জ্বলতা প্রতিক্ষণেই বর্দ্ধনশীল (বেড়ে চলেছে)।শ্রীরাধার কৃষ্ণ-মাধুর্য্য আস্বাদনের উৎকণ্ঠাও এইরকম নিরন্তর (সবসময়ই)বেড়ে চলেছে।*
*🌷বাঢ়িতে ঠাঁই নাই' তবুও বর্দ্ধনশীল।*
*🍀এই প্রতিনিয়ত (অহরহ) বর্দ্ধনশীল ভাব অধিরূঢ় (উপরে উঠা বা চড়া)মহাভাবের বিশেষত্ব।শ্রীরাধার এই নিরুপাধি (যার উপাধি নাই বা লাভ-যশ-প্রতিষ্ঠাবিহীন কর্ম) চিত্তদর্পণের আগে কৃষ্ণ-মাধুর্য্য নিত্য নবায়মান।তাই কবিরাজ গোস্বামীপাদ বলেছেন--,*
*🌷এ দর্পণের আগে নব নব রূপে ভাসে।*
*🌺শ্রীকৃষ্ণের নিত্যনবায়মান মাধুর্য্য রয়েছে রাধাকৃষ্ণের নিবিড় মিলনে--, অর্থ্যাৎ শ্রীরাধার সান্নিধ্যেই শ্রীকৃষ্ণের মাধুরিমা তথা শ্রীকৃষ্ণের সান্নিধ্যেই রাধা মাধুরী বর্দ্ধনশীল।কৃষ্ণ-নিষ্ঠ মাধুর্য্য ও রাধা-নিষ্ঠ উৎকণ্ঠা এই দুইই অপরিসীম,যথা---*
*🌷মন্মাধুর্য্য রাধার দোঁহে হোড় করি।*
*🌷ক্ষণে ক্ষণে বাঢ়ে দোঁহে কেহ ধাহি হারি।।*
*🌻হোড় বলতে বোধহয়, প্রতিযোগিতা বলা হয়েছে।*
*🍀(৩)শ্রীকৃষ্ণ লীলা মাধুর্য্য ঃ----*
*🌹অতি সংক্ষিপ্ত ভাবে লীলা মাধুর্য্য বর্ণনা করবার চেষ্টা করছি মাত্র। শ্রীমদ্ভাগবতে--- "অহো। স্তনকালকূটং" ইত্যাদি শ্লোকে অর্থ্যাৎ যাঁকে শিশুকালে বধ করবার জন্য পূতনা স্তনে কালকূট বা বিষ দিয়ে বধ করতে চেয়েছেন।সেই শ্রীকৃষ্ণ তাকে ধাত্রীপদ যোগ্য গতিই প্রদান করেছিলেন, বল দেখি তিনি ছাড়া আর কোন দয়ালুর শরণ গ্রহণ করব", ঠাকুর শ্রীবৃন্দাবন দাস শ্রীচৈতন্যভাগবতে মধ্যখন্ডে লিখেছেন--*
*🌷রাক্ষসী পূতনা শিশু খাইতে নির্দ্দয়া।*
*🌷ঈশ্বর বধিতে গেল কালকূট লইয়া।।*
*🌷তাহারেও মাতৃপদ দিলেন ঈশ্বরে।*
*🌷না ভজে অবোধ জীব হেন দয়ালুরে।।*
*🌻শ্রীদামোদরের দামবন্ধন লীলায়--, মা যশোদা শ্রীদামোদরকে রজ্জুদ্বারা বন্ধন করবার জন্য যত্ন নিচ্ছিলেন, তখন বাৎসল্য ভাব প্রবণা ব্রজ গোপীগণ বলেছেন-- হে ব্রজেশ্বরী! বিধাতা তোমার পুত্রের ললাটফলকে বন্ধন লিখেননি, তুমি তো সাক্ষাতেই দেখছ যে,সুদীর্ঘ দড়ি দিয়েও তোমার পুত্রের উদর বা পেট বেষ্টিত বা ঘিরে ধরতে পারছে না, যত দড়ি যুক্ত করছ ততই কম পরছে।ইহা দ্বারা স্পষ্টই বুঝতে পারা যায় যে যখনই রাশি রাশি দড়ি দিয়ে বন্ধন হচ্ছে না তখনই বালগোপালের বিভূত্ব বা ভগবানত্ব স্বীকার করতে হবে।পরিশেষে গোপাল যখন দেখলেন যে, গোপালকে বাঁধবার জন্য পরিশ্রমী মা ঘেমে সমস্ত শরীর ভিজে গেছে, মা আর পারছেন না,মায়ের কষ্ট দেখে গোপাল নিজেই বন্ধন স্বীকার করলেন।তখন ব্রজেশ্বরী গোপালকে বাঁধলেন।ঈশ্বর বুদ্ধিহীন পুত্র বুদ্ধিতে তিনি ধরা দেন।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৯)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*শ্রীকৃষ্ণের মাধুর্য্য লীলা*
*🍀নন্দ মহারাজ বিলাপ করে উদ্ধব মহাশয়কে বলেছিলেন--, অহো!বাল্যকাল হতেই গোপাল আমাদেরকে নানাভাবে রক্ষা করেছে।কালিয়দমন লীলায় কালিয়নাগের মাথায় যখন আমার গোপাল নাচছিল,সেই কালিয়-হ্রদের উপকূলে একটি বনের ভিতরে আমরা সব ব্রজবাসীগণ যখন নিদ্রিত ছিলাম তখন চারিদিক হতে দাবানল আমাদের গ্রাস করতে রত হলে,সেই ছড়িয়ে পড়া দাবানল আমার গোপাল ভোজনে রত হ'ল।অগ্নিও তার দাহধর্ম পরিত্যাগ করে সুধার মত সন্তর্পণ ধর্ম প্রকাশ করেছিল।এইভাবে দেবরাজ ইন্দ্র কর্তৃক ভীষণ ঝড়,শিলাবৃষ্টি করলে আমার গোপাল খেলার বলের মত গিরিগোবর্দ্ধনকে ধারণ করে আমাদের রক্ষা করেছিল।বৃষাসুর,সর্পাকৃতি অঘাসুর, অম্বিকাবনের অজর সাপ প্রভৃতি হতে নানাপ্রকারে আমাদেরকে রক্ষা করেছে।কৃষ্ণের কারুণ্যাদি প্রভাবে ও প্রেমাস্পদাদি স্বভাবে ইহা করেছে।*
*🌺ব্রজে পূর্বরাগ,মান,দান প্রভৃতি লীলা ছাড়া মুখ্যা অন্তরঙ্গা নিত্যলীলা এই ভৌম বৃন্দাবনে বতর্মানও চলছে।এই অহোরাত্র কৃতলীলাকে অষ্টকালীয়লীলা বলে।নিশান্তলীলা বিপ্রলম্ভ অর্থ্যাৎ বিয়োগাত্মিকা বিধায় বৈষ্ণবগণ নিশান্ত হতে আরম্ভ করে অলসলীলা পর্যন্ত শ্রীরাধামাধবের নিত্য মানসী সেবা করে থাকেন।এই নিত্যলীলা "সনৎকুমার তন্ত্রে ষটত্রিংশৎ(৩৬) পটলে" শিব-নারদ সংবাদে দেবর্ষি নারদ শিবকে কহিলেন--,ভগবন্!গুরোঃ সম্প্রতি সকল সাধনাপেক্ষা উৎকৃষ্ট ভাব মার্গ শুনতে ইচ্ছা করি।তখন শিব বললেন--, "সাধু পৃষ্টং ত্বয়া বিপ্র সর্বলোকা হিতৈষিণা ইত্যাদি শ্লোকের অনুবাদ করলেন। শিব কহিলেন--, হে বিপ্র!তুমি সব লোকের হিত কামনা কর,অতএব অতি উত্তম প্রশ্ন করেছ।আমার কথিত এই ভাবমার্গের সাধন অত্যন্ত গুহ্য ও রহস্যাবৃত।এই ভৌম বৃন্দাবনের শ্রীকৃষ্ণের দাস,সখা,পিতামাতা, প্রেয়সীগণ সকলেই নিত্য, সকলেই তাঁর তুল্য গুণশালী।প্রকটলীলায় শ্রীকৃষ্ণের যে রকম ব্রজবিলাস পুরাণে প্রসিদ্ধ আছে,অপ্রকট লীলাতেও ভৌমবৃন্দাবনেই তা সেইরকমই হয়ে থাকে।সেইরূপে গোচারণ জন্য প্রতিদিন বনে গমন,বয়স্যগণের সঙ্গে গোচারণ,আবার অপরাহ্নে বা বিকেলে গোচারণ অন্তে গৃহে আগমন,সেইরকমই অভিসার।কুঞ্জভঙ্গে বনগোষ্ঠে গমনাগমন নিত্যই হয়ে থাকে।নিত্যলীলায় শুধু অসুর নিধনাদি নৈমিত্তিক লীলা নাই।পরকীয়া অভিমানিনী কৃষ্ণপ্রেয়সীগণ সেইরকম গোপন ভাবে নির্জন নিকুঞ্জে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে নিত্যই বিহার করছেন।*
*🌻সেই প্রেয়সীগণের মধ্যে যিনি সর্বোত্তমা মনোরমা রূপ-যৌবন সম্পন্না,প্রমদাকৃতি নানা শিল্পকলা অভিজ্ঞা, কৃষ্ণভোগানুরূপিনী সেই ভোগপরা কিশোরীর সঙ্গে লীলা বিলাস করবার জন্য শ্রীকৃষ্ণ প্রার্থনা করে থাকেন।তথায় শ্রীরাধার কিঙ্করীগণ নিত্যসেবা পরায়ণা হয়ে শ্রীকৃষ্ণ হতে শ্রীরাধার প্রেম-উৎকর্ষ কারণ,প্রতিদিন যত্ন সহকারে শ্রীরাধা গোবিন্দের মিলন করানো এ মিলনান্তে যুগলের সেবা-সুখ আস্বাদ মনে মনে ভাবনা করতঃ,সেই ভাবে সেবা করে থাকেন।এই নিত্যলীলা ব্রাহ্মমুহূর্ত্ত হতে আরম্ভ করে মহানিশা পর্যন্ত চলতে থাকে।(নিত্যলীলার বিস্তৃত বর্ণনা এ,বৈষ্ণদাসানুদাস কৃত "মনুষ্যত্বের ক্রম বিকাশে আদর্শ বৈষ্ণব গ্রন্থে দ্রষ্টব্য)।*
*ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২০)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*শ্রীকৃষ্ণের বংশী মাধুর্য্য ও ৩য় বাঞ্ছা*
*🌻🌻শ্রীকৃষ্ণের বংশী মাধুর্য্য🌻🌻*
*🍀শ্রীকৃষ্ণের মধুর মুরলী শ্রবণে শ্রীরাধা ললিতাদি সহচরীগণ সহ কৃষ্ণ-অনুরাগে গদগদ হয়ে রাজহংসীর মত হেলে দুলে দিগ বিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে কৃষ্ণ গুণগানের অবিরল অমৃতধারা বর্ষণ করতে করতে চাঁদের মালার মত কৃষ্ণাভিসারে গমন করেন।শ্রীকৃষ্ণের মধুর মুরলী মধুধারা বর্ষণ করে ব্রহ্ম ও শুককে পাগল করল।জলধরের গতিরোধ করে গন্ধর্বরাজ তুম্বরূর চমৎকারিত্ব সম্পাদন করে সনন্দাদি মুনিগণকে ধ্যান হতে চ্যুত করে, নাগরাজ বাসুকিকে আঘূর্ণিত(খানিক ঘূর্ণন) করে ব্রহ্মান্ড কটাহের আবরণের ভিত্তি(এককথায় ত্রিলোকে বংশীধ্বনি ঘুরতে লাগল,যাঁরা কৃষ্ণানুরাগী তাঁরা শ্রবণ করে পাগল হয়ে গেলেন) ভেদ করে শ্রীকৃষ্ণের মধুক্ষারা বংশীধ্বনি চারিদিকে ভ্রমণ করছে।অষ্টকর্ণপুটে মধুর মুরলী অমৃতময় ধ্বনি শুনে ধৈর্য্যশালী ব্রহ্মা হংসপিঠে মুহুর্মূহু গড়াগড়ি দিচ্ছেন। বংশীধ্বনি শ্রবণে ইন্দ্রের হাজার নয়ন অশ্রু প্লাবিত হয়ে বারিধারা বর্ষিত হচ্ছে।গৃহকর্মকালে গোপাঙ্গনাগণের হাত স্তব্ধ করে দিচ্ছে।এমনও দেখা গেছে যে,কোন কোন ব্রজরামাগণকে পতির কোল হতে আকর্ষণ করে তাঁদের গুরুজন সমীপেই নীবিবদ্ধ মোচন করে দিচ্ছে,অর্থ্যাৎ বংশীধ্বনি শ্রবণ করে অঙ্গে বসন আছে কি নেই তার কোন খেয়াল নেই।শ্রীরাইধনির কাঁচুলী (নারীবক্ষ বা স্তনাবরক বস্ত্রবন্ধনী বা কুর্ত্তি)ভিজে পিযূষধারা বর্ষিত হতে লাগিল।(◆অপ্রাকৃত লীলা প্রাকৃত বুদ্ধি দ্বারা আস্বাদন হয় না), এবং ঘন ঘন শ্বাস বহে রোমাঞ্চ পুঞ্জে অঙ্গ সব কাঁটার মত হয়ে গেল।শ্রীযমুনা তরঙ্গ ভেঙ্গে উজান বইছে।পশু পাখীগণ মূক বা বোবা হয়ে সেই অমৃতরস আস্বাদন করছে।কুসুমিত তরুলতাপাতা আনন্দে হেলে দুলে একে অন্যের গায়ে পড়ছে।পাষাণ মধুমাধুরী আস্বাদন করে গলে যাচ্ছে।এই হচ্ছে আমার শ্রীকৃষ্ণের বংশীধ্বনির মহিমা।*
*🌻নন্দকিশোরের তৃতীয় বাঞ্ছা🌻*
*🌷সোখ্যং চাস্যাং মদনুভবতঃ কীদৃশং বা।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণ মাধুর্য্য আস্বাদন করে শ্রীরাধার সেই মাধুরিমার অনুভবটি কি প্রকার তাইই শ্যামসুন্দরের জানবার ইচ্ছা। তিনি স্বয়ং সুখময় হয়ে অন্যের সুখানুভূতির লোভ কেন?ইহা অতি বিচিত্র।শ্রীরাধার অন্তরে বিন্দুমাত্র সুখবাঞ্ছা নেই,অথচ তাঁর হৃদয়ে কোটিগুণ সুখ অনুভব হয়ে থাকে।শ্রীপাদ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বলেছেন----*
*🌷কারণং বিনা কার্য্যেৎপত্তেঃ---, সেব তৃতীয় বাঞ্ছাৎপত্তেঃ কারণমিতি।*
*🌻অর্থ্যাৎ কারণ বিনা কার্য্য হয়েছে, তাহাই তৃতীয় বাঞ্ছার হেতু।*
*🌹শ্রীরাধা রমণীমুকুটমণি এবং শ্যামকন্ঠ হেমমণি ও পরা।আগে বলা হয়েছে যে অনুরাগ যখন প্রেমের চরম সীমা লাভ করে তখনই মহাভাব হয়।চিত্ত সম্পূর্ণভাবে নিষ্কাম না হলে হৃদয়ের অনুরাগ মহাভাব ভূমিতে আরোহণ করতে পারে না।তাই শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী বলেছেন---*
*🌷গোপীকার প্রেম অধিরূঢ় মহাভাব নাম।*
*🌷নির্মল বিশুদ্ধ প্রেম কভু নহে কাম।।*
*🌷আত্মেন্দ্রিয় প্রীতি ইচ্ছা তারে বলি কাম।*
*🌷কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি বাঞ্ছা ধরে প্রেম নাম।।*
*🌻গোপীগণের সম্বন্ধে কোন "কাম" শব্দ প্রয়োগ দেখলেই সেটিকে প্রেমার্থেই বুঝতে হবে।(যার ভিতরে কিঞ্চিৎ কাম ভাব রয়েছে,তারা কোনদিনই মদনের সামনে দাঁড়াতে পারবে না,যাঁরা মদনের সামনে দাঁড়িয়ে মদনকে নাকখত দিতে বাধ্য করেছিলেন,তাঁদের মধ্যে "কাম" কিভাবে জন্ম নিতে পারে?)*
*ব্রজাঙ্গনাগণের প্রেম যদি প্রাকৃত প্রেম হত,তবে অষ্টাদশ পুরাণাদির বহু শাস্ত্রপ্রণেতা অসাধারণ ধীমান মহর্ষি বেদব্যাস,তাঁর পুত্র আকুমার বৈরাগ্যবান পরমহংস মুকুটমণি শ্রীশুকদেব গোস্বামীপাদ,পরম ধার্মিক মহারাজ পরীক্ষিৎ, দেবাদিদেবমহাদেব,দেবর্ষি নারদ প্রভৃতি বহু শাস্ত্রকারগণ মহামুনি ও তপস্বীগণ ও শ্রেষ্ঠ মানবগণ পবিত্র হবার বাসনায় এই পরম পাবনী লীলার গুণগান করতেন না। শ্রীরাধিকাদি ব্রজ গোপীগণ নিষ্কলঙ্ক পূর্ণিমা চাঁদের মত ব্রজ-গগনে উদিত হয়ে কৃষ্ণপ্রেম সুধাধারা সিঞ্চন করেছেন বা করে চলেছেন।🙏জয় শ্রীব্রজগোপীগণ।*
*যাঁর কলঙ্ক কথা, ভাগবতে কবি গাঁথা,*
*গুরু দেন শিষ্যেরই কানে।*
*🌻সেই পরকীয়া পাবনী লীলা ও সেই মধুরোঞ্জল ব্রজ প্রেমের জয় হোক।শ্রীকৃষ্ণের দেহ যেরকম অপ্রাকৃত,তাঁর ধামও সেইরকম অপ্রাকৃত ; তাঁর সঙ্গীগণও তদ্রূপ অপ্রাকৃত,চিন্ময় ও নিত্য।রসশাস্ত্রে পরোঢ়া (পরস্ত্রী) পরকীয়া মুখ্য শৃঙ্গার রসে বর্জন করা হয়েছে তা প্রাকৃত নায়িকা সম্বন্ধেই বুঝতে হবে, ব্রহ্ম সংহিতায় বর্ণিত--, ◆আনন্দ চিন্ময় রস প্রতিভাবিতা কৃষ্ণবল্লভা ব্রজ গোপীগণের সম্বন্ধে নয়।শ্রীরাধা ললিতাদি ব্রজদেবীগণ শ্রীকৃষ্ণের নিত্য কান্তা হলেও রসিকেন্দ্র মৌলি শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছায় লীলাশক্তি যোগমায়া কল্পিত পরকীয়ায় ভাবের দ্বারা অবগুন্ঠিতা।এই পরকীয়া ভাব হেতু শ্রীকৃষ্ণের প্রতি অদম্য অনুরাগ বিশেষই ধ্বনিত হয়েছে।কৃষ্ণসুখ হেতু গোপীগণ সব ত্যাগ করে কৃষ্ণের প্রেমসেবা করেন।এহেন গোপীকাগণের মধ্যে যিনি সর্বোত্তমা,যাঁর সুখের মধ্যে বিন্দুমাত্র সুখবাঞ্ছা নেই,সেই নিবিড় সুখের অনুভূতির জন্য শ্রীরাধারমণের লোভ এই ব্রজদেবীগণের সকল উদ্যমের মূলে কৃষ্ণ-সুখ কামনা,কৃষ্ণসুখ বিধানের জন্য অদম্য চেষ্টা।যথা শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে পাই----*
*🌷আত্ম-সুখ গোপীকার নাহিক বিচার।*
*🌷কৃষ্ণ-সুখ হেতু চেষ্টা মনো ব্যবহার।।*
*ক্রমাগত*
🔜 ক্রমাগত 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
