শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 প্রথম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/prem.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১১)👣প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব👣*
             *শ্রীকৃষ্ণের প্রথম বাঞ্জা*

*🍀শ্রীমতী রাধারাণী হচ্ছেন দেবী অর্থ‍্যাৎ অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের সুন্দরীগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠা,কৃষ্ণময়ী অর্থ‍্যাৎ "শ্রীকৃষ্ণ যাঁহার অন্তরে বাহিরে।যাহা যাহা নেত্র পড়ে তাহা কৃষ্ণ স্ফুরে।।তিনি সর্বপূজ‍্যা, সর্বপালিকা,সর্বলক্ষ্মীময়ী, সম্মোহিনী অর্থ‍্যাৎ যে কৃষ্ণ নিজরূপ মাধুর্য‍্যে সর্বজগতকে মুগ্ধ করেন,এমন গোবিন্দকেও যিনি মুগ্ধ করেছেন, সর্বকান্তি অর্থে যিনি সর্বসৌন্দর্য‍্যের আধার স্বরূপা ও পরা অর্থ‍্যাৎ সর্বপ্রকার সর্বশ্রেষ্ঠা।শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে শ্রীকৃষ্ণ নিজ শ্রীমুখে শ্রীরাধার প্রণয়মহিমা বর্ণনা করেছেন ঃ--- যথা-----*
*🌷না জানি রাধার প্রেমে আছে কতবল।*
*🌷সে বলে আমায় করে সর্বদা বিহ্বল।।*
*🌻🌻🌻বল=শক্তি🌻🌻🌻*
*🌷রাধিকার প্রেমগুরু আমি শিষ্য নট।*
*🌷সদা আমায় নানা নৃত্যে নাচায় উদ্ভট।।*
*🌻এই নৃত্যগুরু সম্বন্ধে শ্রীগোবিন্দ লীলামৃত গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে--*
*🌷কস্নাদ বৃন্দে,প্রিয় সখি হরে পাদমূলাৎ কুতোহসৌ।*
*🌷কন্ডারণ‍্যে কিমিহ কুরুতে নৃত্য শিক্ষা গুরু কঃ।।*
*🌷তং তন্মূতিং প্রতিতরুলতাং দিগবিদিক্ষু স্ফূরন্তী।*
*🌷শৈলষীর ভ্রমতি পরিতো নর্ত্তয়ন্তী স্বপশ্চাৎ।।*
*🌻শ্রীরাধা বললেন--বৃন্দে! কোথা হতে এলে?বৃন্দা কহিলেন-- প্রিয়সখি! আমি শ্রীহরির শ্রীচরণ দর্শন করে এলাম।শ্রীরাধা কহিলেন---এখন শ্রীকৃষ্ণ কোথায়?বৃন্দা বললেন-- তিনি এখন কুঞ্জকাননে,রাধাকুন্ডারণ‍্যে।রাধা বললেন--তিনি এখন কি করছেন?বৃন্দা বললেন--নৃত‍্যশিক্ষায় নিযুক্ত আছেন।শ্রীরাধা পুনঃ বললেন-- নৃত‍্যশিক্ষার গুরু কে? বৃন্দা কহিলেন--তোমরই মূর্তি কি দিক, কি বিদিক তরুলতাদিতে সর্বত্র স্ফূর্তিপ্রাপ্ত হয়ে শৈলষীর (নর্তকীর) মত ভ্রমণ সহকারে সেই কৃষ্ণকে আপনার পেছন পেছন নৃত্য করাচ্ছে।*
*শ্রীকৃষ্ণ শৃঙ্গার রস--সর্বস্ব শৃঙ্গার রসের ঘনীভূত মূর্তি,সেইজন‍্য তাঁর হৃদয়ে সবসময়ই শৃঙ্গার শুচি বা প্রেমদ্বারা পরমোজ্জ্বল রস পিপাসা জেগে থাকে।"নিরন্তর কামক্রীড়া যাঁহার চরিত"-- সেই কাম বা প্রেমতৃষ্ণা শান্তির জন্য শ্রীরাধিকা উজ্জ্বল শ‍্যামরসই পরিবেশন করেন।শ্রীরাধারস সুধানিধিতে শ্রীপ্রবোধানন্দ সরস্বতীপাদ শ্রীরাধাকে "শ‍্যাম মন্ডল মৌলীমন্ডল মণিঃ" বলে আখ‍্যা দিয়েছেন।শ্রীকৃষ্ণ বিষয়ক শৃঙ্গার রস হতে যে উদ্দাম প্রেমময়ী তৃষ্ণা জন্ম হয়,সেই প্রেমোন্মত্ততা রূপ মধু হচ্ছে (শ‍্যামরস মধু) শ্রীরাইধনি শ্রীশ‍্যামসুন্দরকে পরিবেশন করেন। তাই শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে বর্ণিত হয়েছে,যথা---*
*🌷কৃষ্ণবাঞ্জা পূর্ত্তিরূপ করে আরাধনে।*
*🌷অতএব রাধানাম পুরাণে-বাখানে।।*
*🌷অন‍্যত্র,কৃষ্ণকে করায় শ‍্যামরস মধুপানে।*
*🌷নিরন্তর পূর্ণ করেন কৃষ্ণের সর্বকামে।।*
*🌻ব্রজে যে "কাম" শব্দটি উচ্চারণ হয়, আমাদের পার্থিব জগতের সেই কাম নহে,আমরা কোনদিন কি কামদেবের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারব,তুমি আমার তুমি আমার বশীভূত? এককথায় না, ব্রজগোপীগণ কামদেবকে নাকখত পর্যন্ত দিতে বাধ‍্য করেছিলেন।অতএব ব্রজের কাম অর্থে কৃষ্ণসুখ বাসনা।) যাইহোক,মধুর সেই বৃন্দাবনে দান,মান,রাস প্রভৃতি বিবিধ প্রেয়সী প্রেমবশ‍্যতাময়ী লীলার মধ‍্য দিয়ে শ্রীরাইধনি ধীর ললিত, নায়ক শিরোমণি প্রাণবল্লভ শ‍্যামসুন্দরকে নানাভাবে নতূন নতূন নিগূঢ় প্রেমরসই আস্বাদন করিয়েছেন।*
*নায়ক শিরোমণি রসমৌলী শ্রীকৃষ্ণের সবই প্রেমরসে ভরপূর।একদিকে নায়িকাগণ পরবধূ,তাতে "কভূ মিলে কভূ না মিলে দৈবের ঘটন",অন‍্যদিকে পৌর্ণমাসি যোগমায়া দ্বারা নায়ক-নায়িকাগণের স্বরূপ আবরিত ও বন‍্যবেশভূষায় ভূষিত হয়ে প্রকৃত নায়ক নায়িকার মত এই ভৌমবৃন্দাবনে সর্বোত্তম নরলীলার যে উচ্ছসিত প্রেম-রসের হিল্লোল,প্রেমের হুড়োহুড়ি চলেছিল এবং এখনও চলছে, সেইনিত‍্য লীলা শ্রুতিগণও অন্বেষণ করেন ; কিন্তু নির্দেশ করতে পারেন না।*
*🍀এই মধুরলীলার রসাস্বাদনের জন্য গোলোক ত‍্যাগ করে গোকুলে প্রকটাপ্রকট উভয় অবস্থাতেই বেণুকর শ্রীকৃষ্ণ রাখালবেশে গোচারণাদি লীলা ও বিদগ্ধরাজ রূপে শ্রীব্রজললনাগণের সঙ্গে ঝুলন,জলকেলি,দান প্রভৃতি লীলা করেছেন।শ্রীকৃষ্ণ রাধাকে সম্বোধন করে বলেছেন----* *(চন্ডীদাস)*
*🌷রাই! তুমি সে আমার গতি।*
*🌷তোমার কারণে রসতত্ত্ব লাগি*
             *গোকুলে আমার স্থিতি।।*
*🌷নিশি দিশি সদা গীতি আলাপনে,*
           *মুরলী লইয়া করে।*
*🌷যমুনা সিনানে তোমার কারণে,*
            *বসে থাকি তার তীরে।।*
*🌻অঘটন-ঘটন-পটীয়সী চিৎ-শক্তির পরিণতি লীলার সহায়কারিণী পৌর্ণমাসী যোগমায়া দেবী শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছায় শ্রীব্রজদেবদেবীগণকে পরবধূরূপে প্রতীতি (জ্ঞান বা বোধ) করাইয়েছেন বলেই মর্য‍্যাদা প্রাপ্ত কুলবধূগণের পক্ষে দুত‍্যজ‍্য ধর্মবাধা অতিক্রম করা সহজ হয়েছে।ব্রজবধূগণ যদি পরবধূরূপে লোকে বোধ না হতেন,তবে মুখে যা আসে তাইই অসঙ্কোচে শ্রীকৃষ্ণকে বলতে পারতেন না।*
                *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১২)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
             *কৃষ্ণের প্রথম বাঞ্জা*

*দানলীলা প্রসঙ্গই তার প্রমাণ,যথা--*
*কোন গুণে তোমার সনে,*
      *পিরীতি করিব হে কানাই।*
*তুমি রাখাল, আমি রাজার ঝি,*
. *একথা শুনিলে লোকে বলবে কি?*
*রূপেতে ভ্রমর, গুণে ননীচোরা,*
     *ধনেতে ধবলি বসতি গাছে,*
*কেন ঘনায়ে ঘনায়ে আসিছ কাছে,*
 *মোরা পর পুরুষের পবন পরশে,*
       *সচেল সিনান করি।।*
*🌻রসগ্রন্থ দানকেলি কৌমুদী পাঠ করলেই বেশ বুঝতে পারা যায় যে ব্রজঙ্গনাগণ পরিহাস রসে, কৌতুক রসে,উদ্দাম ও উচ্ছাসময়ী ভাষাতে শ্রীকৃষ্ণকে রসাস্বাদনে ডুবিয়ে রেখেছেন।প্রিয়া যদি প্রিয়তমের কাছে অসঙ্কোচে মনের কথা বলতে না পারেন, তবে হৃদয়ে কেমন যেন একটা বেদনা থেকে যায়, তাই শ্রীসনাতন গোস্বামীপাদ লঘুতোষণী গ্রন্থে বলেছেন--,"পরদারতা চাস‍্যাং বাগ নির্গলতা প্রকটনায়",-- অর্থ‍্যাৎ সবসময় কথা বলবার জন্যই ইহাদের পরদারতা প্রকাশ পেয়েছে।পরকীয়াভাবে বীভাবিতা শ্রীব্রজ মৃগনয়নাগণ কারণে অকারণে শ্রীকৃষ্ণের উপর মান করেন এবং মানের প্রখরতায় প্রায়শ প্রাকৃত নায়িকার মত নায়ককে ভর্ৎসনা করতে করতে "মাধব যাহি,কেশব যাহি" বলে কুঞ্জ হতে বাহির করে দেন।আবার মান প্রকরণে শ্রীরাইধনি বিপ্রলম্ভ বসে কাতরা হয়ে বিবর্ণা হলে ললিতা সখি শ্রীকৃষ্ণকে শ্রীরাধার কাছে আনতে গিয়ে শ্রীকৃষ্ণকে সম্বোধন করলেন, "তুহু অতির্ব্বর নন্দঘোষের নন্দন"।ব্রজগোপী ছাড়া এই চৌদ্দভুবনে কি কেউ এইরকম শ্লেষযুক্ত ভর্ৎসনা করতে পেরেছেন? প্রেমময়ী তৃষ্ণার পরিবধিত্ব না হলে কি কেউ এইরকম কথা বলতে পারেন?প্রেমের সপ্তম বিলাস যে মহাভাব, সেই মহাভাব স্বরূপিনী শ্রীরাধা ঠাকুরাণী ও তাঁর যূথের সখিবৃন্দই শ্রীকৃষ্ণকে এইরকম উচ্চবাচ্চ কথা বলতে পারেন।অখিল রসামৃতসিন্ধু শ্রীকৃষ্ণ দেবতাগণের ও সর্ব যোগেশ্বরগণের স্তুতি অপেক্ষাও ব্রজগোপীগণের এই মনোহরা ভর্ৎসনায় অনেক বেশী উল্লসিত হন। "প্রিয়া যদি মান করি করয়ে ভর্ৎসন। দেবস্তুতি হৈতে হরে সেই মোর মন "।। তাই তিনি প্রেয়সীমুগ্ধ ধীরললিত নায়ক হয়ে প্রধানা গোপীকার চরণতলে বসে অশ্রুসিক্ত নয়নে বলতে থাকেন--, "দেহিপদপল্লব মুদারম্"।আবার নিধুবনে রাই রাখাল হলে তাঁর চরণতলে দাসখত লিখে দেন। স্বকীয়া নায়িকার পক্ষে এরকম বাক‍্যবিন‍্যাস সম্পূর্ণ অসম্ভব ;কারণ তাঁরা ধর্মবোধে শ্রীকৃষ্ণকে ভজনা করে থাকেন।অনুরোধময় প্রেমিক প্রেমিকার মিলন সুখদ হয় না। সুতরাং তটস্থ হয়ে বিচার করলে স্বকীয়া হতে পরকীয়ায় মধুর রসের আস্বাদন চরম-উৎকর্ষও পরাকাষ্ঠা বলে রসিকশেখরের এই পরকীয়া লীলায় অশেষ বিশেষ প্রেমরস নির্য‍্যাস আস্বাদন করাই অখিলরসামৃত মূর্তি শ্রীকৃষ্ণের চরিত্র বৈশিষ্ট্য।*
*🍀এই গোপীগণের মধ্যে শ্রীরাধা বা প্রধানা গোপিকা সর্বোত্তমা। যথা--*
*🌷সেই গোপীগণের মধ্যে উত্তমা রাধিকা।*
*🌷রূপেগুণে সৌন্দর্য‍্যে প্রেমে সর্বাধিকা।।*
*🍀শ্রীবৃন্দাবনে শ্রীচন্দ্রাবলী প্রভৃতি কৃষ্ণানুরাগিনী শত শত যূথেশ্বরীগণ থাকলেও বহুবল্লভ শ্রীকৃষ্ণ যেমন শ্রীরাধার প্রাণবন্ধু,শ্রীরাধাও সেইরকম কৃষ্ণপ্রাণের একমাত্র বন্ধু অর্থ‍্যাৎ প্রাণ রক্ষার মহৌষধি।উভয়ে যেন উভয়ের প্রাণের একমাত্র আশ্রয়।অতএব রাধাকৃষ্ণ একআত্মা তনুভেদ। যেমন কস্তরিকা ও তার গন্ধ,অগ্নি ও তার দাহিকা শক্তি,পদ্ম ও তার সৌরভ প্রভৃতি যেমন অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ও অভেদ তদ্রূপ আদ‍্যাশক্তি শ্রীরাধা ও অচিন্ত‍্য শক্তিমান শ্রীকৃষ্ণ অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত তথা শক্তি ও শক্তিমানে কোন প্রভেদ নাই। লীলারস মাধুর্য‍্য আস্বাদন করতে ও রসিক ভক্তগণকে কৃপা ও আনন্দ প্রদানের জন্য এক হয়েও দুই-রূপ ধারণ করেন।যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে--*
*🌷জগৎমোহন কৃষ্ণ তাহার মোহিনী।*
*🌷অতএব সমস্তের পরা ঠাকুরাণী।।*
*🌷রাধা পূর্ণ শক্তি কৃষ্ণ পূর্ণ শক্তিমান।*
*🌷দুই বস্তুর ভেদ নাহি শাস্ত্রের প্রমাণ।।*
*🌷মৃগমদ তার গন্ধ যৈছে অবিচ্ছেদ।*
*🌷অগ্নি ও জ্বালাতে যৈছে কিছু নাহি ভেদ।।*
*🌷রাধাকৃষ্ণ ঐছে সদা একই স্বরূপ।*
*🌷লীলারস আস্বাদিত ধরে দুইরূপ।।*
*🌻এই দুই বস্তু নিয়েই শ্রীঅমিয়া ব্রজলীলা।অন‍্য যা কিছু বা যে কেউ সে শুধু এই যুগল লীলার রসপুষ্টির উপকরণ মাত্র।*
*🌷রাধা সহ ক্রীড়ারস বৃদ্ধির কারণ।*
*🌷আর সব গোপীগণ রসোপকরণ।।*
                *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৩)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
             *শ্রীকৃষ্ণের প্রথম বাঞ্জা*

*🍀শ্রীরাধার প্রিয় সখী হলেন ললিতা ও বিশাখা এবং তাঁরা শ্রীরাধার কায়ব‍্যূহরূপা।ললিতা, বিশাখা,চিত্রা,চম্পকলতা,রঙ্গদেবী, সুদেবী,তুঙ্গবিদ‍্যা ও ইন্দুরেখা--এই অষ্টসখী রূপে গুণে সমতুল‍্যা এবং সকলেরই লক্ষ্য এক।শ্রীরাধাকৃষ্ণ যুগল সকলেরই প্রাণস্বরূপ।নায়ক শিরোমণি শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে নায়িকা মুকটমণি শ্রীরাইধনির মিলন সাধন করাই এই সখীগণের নিত‍্য কাম‍্য। নিজেদের সুখের প্রতি বিন্দুমাত্রও স্পৃহা বা বাসনা নাই।শ্রীরাধারাণীর সুখই সখীগণের সুখ।এই সখীগণের স্বভাব অতি দুর্বোধ‍্য ও অদ্ভুত।নায়িকা হয়ে তাঁদের শিরোমণি শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে স্পর্শন,আলিঙ্গন প্রভৃতি মিলনের বিন্দুমাত্র স্পৃহা নাই।এই প্রেম কারিকরগণের ব্রত হল শ্রীরাধাকৃষ্ণের মিলন সম্পাদন করা।*
*🌹প্রেম কারিকর মোরা যত সখীগণ।*
*🌹ভাঙ্গিলে গড়িতে পারি পিরীতি রতন।।*
*🍀শ্রীরাধাকৃষ্ণ প্রেমের ভাঙ্গা গড়াই হল এই প্রেম-কারিকরগণের নিত‍্যকর্ম।শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে মিলনে শ্রীরাইধনির মনে যে উল্লাস হয় তা হতে কোটিগুণ সুখ সখীগণ আস্বাদন করেন।*
*🌹নিজেন্দ্রিয় সুখবাঞ্জা নাহি গোপীকার।*
*🌹কৃষ্ণ সুখ দিতে করে সঙ্গম বিহার।।*
*🌻বস্তুতঃ সুখবাঞ্জা নেই,অথচ কোটিগুণ সুখাস্বাদ হয়,এটি অতি অদ্ভুত ও তাৎপর্য‍্যময় ও দুর্বোধ‍্য।অহো! সখীগণের এই নিঃস্বার্থ ও নির্বৃতি মার্গীয় প্রেমসেবা,অকৈতব, নিরুপাধি গাঢ় পিপাসাপূর্ণ প্রেম সেবন না হলে কি সূত্রসঞ্চালিত দুই পুত্তুলিকার মত শ্রীরাধাকৃষ্ণ তাদের অনুরাগ রজ্জুতে আকৃষ্ট হয়ে সখীগণের অনুগত ভাবেও ইচ্ছা অনুসারে লীলা করছেন।যার ভগবত্তা শক্তি অন‍্য নিরপেক্ষ ও স্বয়ং সিদ্ধ।তিনিও এই সমর্থাবতির সখীগণের হাতে খেলার পুতুল।এই মহাবল প্রেমের কাছে শ্রীভগবান পরাভব মেনে নতি স্বীকার করেন।দুর্বোধ‍্য,দুর্জ্ঞেয় ও নিরুপম এই গোপীপ্রেমা এ প্রেমের কাছে ভগবান ঋণী থেকে যান।প্রেমক্রীড়া সাম‍্যের পরিধিত্ব না হলে এই নিঃস্বার্থ নিবৃত্তি মার্গীয় নিরুপাধি প্রেম জন্ম হতে পারে না।তাই এই গোপী প্রেমকে শাস্ত্রে "অপ্রাকৃত কাম বা প্রেম" বলে অভিহিত হয়েছে।যথা----*
*🌹সহজ গোপীয় প্রেম নহেত প্রাকৃত কাম।*
*🌹কামক্রীড়া সাম‍্যে তাহে কহি প্রেম নাম।।*
*🌻এই সখীগণের প্রধানা ও প্রাণস্বরূপা শ্রীরাধারাণীর দেহ মাদনাখ‍্য মহাভাবরূপ উজ্জ্বল চিন্তামণি দ্বারা অলংকৃত।ললিতা বিশাখাদি সখীগণের স্নেহপূর্ণ সুসখ‍্য ভাবরূপ সুরভিত কুঙ্কুমাদি দ্বারা শ্রীমতীর দেহ সুন্দর কান্তি ধারণ করেছে।মধ‍্যাহ্নে যৌবনামৃত ধারায় ও সায়াহ্নে দেহের উজ্জ্বল ধারায় স্নান করেন।আবার বদ্ধ কেশপাশ যেরকম বসন দ্বারা আবৃত থাকে,তদ্রূপ শ্রীমতীর মাদনাখ‍্য বিপ্রলম্ভও নিজ মনের ভাবদ্বারা গোপন হেতু আবৃত হওয়ায় কারও বোধের বিষয় হয় না।কৃষ্ণ প্রেয়সী শিরোমণি ও রমণি মুকুটমণি রূপে শ্রীমতীর খ‍্যাতি,তাইই ললাটে উজ্জ্বল তিলক হাস্রিদি দ্বারা শ্রীমুখমন্ডল অন্তরের অনুরাগ প্রস্ফুটিত হয় বলে অনুরাগ রূপ তাম্বুল দ্বারা শ্রীরাধার অধরোষ্ঠ রঞ্জিত বলা হয়েছে।চক্ষু গোলকদ্বারা হৃদয়ের বাম‍্য ফা কুটিল ভাব প্রকাশিত হয় বলে প্রেম কৌটিল‍্যরূপ কজ্জল ধারণ কথিত হয়েছে।আবার প্রেম বৈচিত্র্যের এক প্রকার বিরহভেদ এটিকে মারমধ‍্যগত মণির সঙ্গে অভেদ বলায় সেটির অনুরাগ অংশে শ্রেষ্ঠত্ব ধ্বনিত হয়েছে।প্রিয়তমের কাছে থেকে অত‍্যন্ত অনুরাগ কারণ যে বিরহ-বোধ, তাইই প্রেম বৈচিত্র্য।প্রেমের আতিশয‍্যে "প্রিয়তমের সঙ্গলাভ আর বেশীক্ষণ হবে না "এইরকম ভাবও ভাবনা হতেই প্রেম বৈচিত্র্য আবির্ভাব হয়। শ‍্যামসুন্দরের বক্ষে থেকেও শ্রীরাধার---*
*🌹এই ভয় উঠে মনে এই ভয় উঠে।*
*🌹না জানি রাধার প্রেম তিলে নাহি টুটে।।চন্ডীদাস।।*
*🌻আবার পদকর্তা গোবিন্দ দাস প্রেম বৈচিত্র্য সম্বন্ধে এইভাবে গাইতেছেন----*
*🌷শ‍্যামক কোরে, যতনে ধনি শুতল,*
          *মদন আলসে দুহুঁ ভোর।*
*ভুজে ভুজে বন্ধন, নিবিড় আলিঙ্গন,*
         *যেমন কাঞ্চনমণি জোড়।।*
*কোরহি শ‍্যাম,চমকি ধনি বোলত,*
         *কব মোহে মিলব কান।*
*হৃদয়ক তাপ, তবহু-মঝু মিটিত,*
        *অমিয়া রব সিনান।।*
                      *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৪)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
            *শ্রীকৃষ্ণের প্রথম বাঞ্জা*

*🍀শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেমের কথা একহাতে লিখে বা একমুখে বলে এককোণও অনুভব করা যাবে না।যে প্রেমে--*
*🌷না খুঁজিল দূতী না খুঁজিল আন।*
*🌷দুহুকো মিলন মধ্যে পঞ্চবান।।*
*🌻যে প্রেমে দুঁহু কোলে দুঁহু কাঁদে বিচ্ছেদ ভেবে।যে প্রেম বিরহের মধ্যে মিলনের আস্বাদন করায় ও মিলনের মধ্যে বিরহ-উৎকন্ঠা জাগায়,যে প্রেম নিত‍্য-নবায়মান অর্থ‍্যাৎ তিল তিল করে বৃদ্ধি পাচ্ছে,বাড়িবার আর জায়গা নেই, তবুও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যে প্রেম গুণ দর্শনে গুরুত্ব প্রাপ্ত হয় না অথবা দোষ দর্শনে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না, যে প্রেম প্রিয়তর প্রাণাপেক্ষাও প্রাণাধিক।যথায় প্রতিদান চাই না, নির্বিচারে আকুল আগ্রহে একে অন‍্যেকে বিলিয়ে দেয়,সেই স্বতঃসিদ্ধ অকৈতব ও নিরূপাধি রাধা প্রেম ও প্রেমমহিমা ও প্রেমমাধুর্য‍্যের জয় হোক।এই প্রেম মাধুর্য‍্যের কথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে বর্ণিত হয়েছে।*
*🌷কৃষ্ণনাম গুণ যশ অবতংস কানে।*
*🌷কৃষ্ণনাম গুণ যশ প্রবাহ বচনে।।*
*🌷কৃষ্ণকে করায় শ‍্যামরস মধুপানে।*
*🌷নিরন্তর পূর্ণ করেন কৃষ্ণের সর্বকামে।।*
*🌹বৈষ্ণব কবি চন্ডীদাস শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রীতিরস এইভাবে বর্ণনা করেছেন---*
*🌷এমন পিরীতি কভু দেখি নাই শুনি।*
*🌷পরাণে পরাণে বাঁধা আপনা আপনি।।*
*🌷দুঁহু কোরে দুঁহু কাঁন্দে বিচ্ছেদ ভাবিয়া।*
*🌷তিল আধ না দেখিলে যায় সে মরিয়া।।*
*🌷জলবিনু মীন জনু কবহুঁ না জীয়ে।*
*🌷মানুষে এমন প্রেম কোথা নাহি শুনিয়ে।।*
*🌷 ভানু কমল বলি সেই হেন নহে।*
*🌷হিয়ে কমল মরে ভানু সুখে রহে।।*
*🌷 চাতক জলদ কহি সে নহে তুলনা।*
*🌷সময় নহিলে সে না দেয় এককণা।।*
*🌷 কুসুমে মধুপ কহি,সে নহে তুল।*
*🌷না আইলে ভ্রমর আপনি না যায় ফুল।।*
*🌷কি ছার চকোর চাঁদ দুঁহু সম নহে।*
*🌷ত্রিভুবনে হেন নাহি চন্ডীদাস কহে।।*
*🌻আবার পদকর্তা গোবিন্দ দাস শ্রীরাধাকৃষ্ণের নিত‍্যনব প্রেমবিলাস এইভাবে বর্ণনা করেছেন।*
*🌷দুঁহু জন নিতি নিতি নব অনুরাগ।*
*🌷দুঁহু রূপগুণ, দুহু হিয়ে জাগ।।*
*🌷দুঁহু মুখ চুম্বই দুহু করু কোর।*
*🌷দুঁহু পরিরম্ভনে দুঁহু ভেল ভোর।।*
*🌷দুঁহু দোঁহে যৈছন দারিদ হেম।*
*🌷নিতি নিতি আর নিতি নবপ্রেম।।*
*🌷নিতি নিতি ঐছন করত বিলাস।*
*🌷নিতি নিতি হেরই গোবিন্দ দাস।।*
*🌻শ্রীগোপাঙ্গনাদের সঙ্গে প্রীতিরস নির্য‍্যাস আস্বাদন করবার জন্য অচিন্ত‍্য শক্তিমান শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছা,তাই তাঁর ইচ্ছার গতিরোধ করবার মত সাধ‍্য চতুর্দশ ভুবনের জগমন্ডলে কারও নাই।শ্রীনন্দকিশোরের এই পরকীয়া লীলা যে কত মধুর,তা তাঁর রসিক ভক্তগণই জানেন।অনাদিরাদি গোবিন্দের পরকীয়া অভিমানিনী ব্রজঙ্গনাদের শ্রীমুখোচ্চারিত হরিকথা গীত আলাপনে ত্রিভুবনের আকাশ বাতাস পবিত্র হয়ে যাচ্ছে।সেই কৃষ্ণ প্রেয়সীগণের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের এই পরকীয়া লীলা রসিক ভক্তগণকে কৃপা করবার জন্য এই ভৌমবৃন্দাবনে প্রকাশিত হয়েছে।এটি মর্ত্ত‍্যবাসীর অপরিসীম সৌভাগ্যের সূচনা করছে।শ্রীব্রজগোপীগণের সমস্ত চেষ্টা ও উদ‍্যম কেবল কৃষ্ণ-সুখের জন্য, এমন কি শ্রীকৃষ্ণের সহিত তাঁদের সঙ্গম ও বিহার প্রভৃতিও নিজ সুখের জন্য না।যেখানে শ্রীকৃষ্ণ প্রীতিলাভ করলে গোপীগণের দেহ-মন প্রফুল্লিত হয়, যেখানে তাঁদের সুখ-বাঞ্জা না থাকলেও শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে দেখা করা,স্পর্শন ও আলিঙ্গনে কোটিগুণ সুখ আবির্ভাব হয়ে কৃষ্ণসুখে পর্যুবসিত হয়,যেখানে কৃষ্ণপ্রাপ্তি কৃষ্ণসুখের জন্যই কেবল গোপীগণের কামনা, সেই কামই প্রেমনামে অভিহিত হয়েছে।*
*🌷প্রেমৈব গোপ রামানাং কাম ইত‍্যগমং প্রথাং।*
*🌹তথাহি গোপীপ্রেমামৃত গ্রন্থে---*
*🌷নিজাঙ্গমপি যা গোপ‍্যা মমেতি সমুপাসতে।*
*🌷তাভ‍্যাং পরং ন মে পার্থ!নিগূঢ় প্রেমভাজন্।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণ বললেন হে অর্জুন! যে সব গোপীগণ নিজেদের অঙ্গকেও মদীয়-ভোগ‍্য বলে যত্ন করেন,তাঁরা ছাড়া মদীয় (আমার) নিগূঢ় প্রেমভাজন আর অন‍্য কেউ নাই।যথা শ্রীচরিতামৃতে-------*
*🌷এ দেহ দর্শন স্পর্শে কৃষ্ণ সম্ভাষণ।*
*🌷এই লাগি করেন দেহের মার্জ্জন ভূষণ।।*
*🌻শ্রীব্রজগোপীগণের দর্শন ও কীর্তনাদি দ্বারা সাধক জগতে পরম কল‍্যাণ সাধিত হয়েছে।কৃষ্ণ মাধুর্য‍্যের চরম উৎকর্ষ একমাত্র শ্রীব্রজাঙ্গনাগণই অনুভব করেছেন, অন‍্য কেউই এই জাতীয় অভিনিবেশ, এই পরিমাণে প্রেমমাধুর্য‍্য আস্বাদন করতে পারেননি।*
*🙏এই গোপীগণই বা কে? দাস‍্যগণই বা কে? বাৎসল‍্যময়ী যশোদাই বা কে? এই অন্তর-তত্ত্ব সন্ধান করলে তবেই শ্রীকৃষ্ণের তত্ত্ব অনুভব হবে, নচেৎ না---।*
                      *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৫)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
    *শ্রীকৃষ্ণের প্রথম ও দ্বিতীয় বাঞ্জা।*

*🌻প্রথম বাঞ্ছার শেষ অংশের পর দ্বিতীয় বাঞ্জা।*
*🌹তাদের অধিরূঢ় মহাভাবের গতি-নীতি যে কত দুর্লভ,তা ভাষায় বর্ণনাতীত,গোপীপ্রেমামৃত গ্রন্থে উল্লেখ আছে ----*
*🌷ত্রৈলক‍্য পৃথিবী ধন‍্যা যত্র বৃন্দাবন পুরী।*
*🌷তত্রাপি গোপীকা পার্থ!রাধাভিধা মম।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছন--হে পার্থ! বৃন্দাবন পুরী বিদ‍্যমান থাকাতেই ত্রিলোকীতলে পৃথিবী ধন‍্যা।সেই বৃন্দাবনে গোপীগণই ধন‍্যা,কেননা তারমধ‍্যে আমার প্রিয়তমা শ্রীরাধিকা রয়েছেন।*
*🍀যে ব্রজদেবীগণের চরণরেণু লালসায় ব্রহ্মা গোকুলে স্থাবর জন্ম এবং উদ্ধব মহাশয় গুল্মলতা ঔষধি জন্ম প্রার্থনা করেছেন, শ্রীকৃষ্ণের শিরঃপীড়ায় কৃষ্ণশিরে প্রলেপ করতে ত্রিভুবনে কোন ভক্তপদ রেণুলাভে বঞ্চিত হয়ে পরিশেষে যে ব্রজাঙ্গনাগণের চরণরেণু পেয়ে দেবর্ষি নারদ চমকিত হয়ে ভাবাবেশে মূর্ছিত হয়েছিলেন,যে ব্রজঙ্গনাগণের স্বজন, কুলাদি,আর্যপথ ত‍্যাজক অনুরাগময় পরকীয়া ভাব বেদ বিধির অগোচর,যে ব্রজঙ্গনাদেবীগণের মহিমা কীর্তন করতে করতে শ্রীউদ্ধব মহাশয় এমনই দৈন‍্য সাগরে ডুবে গিয়েছিলেন যে তাঁদের চরণে সাক্ষাৎ প্রণাম করতে সাহসীনা হয়ে দূর হতে কম্প ও গদগদ ভাবে বলতে লাগলেন--"বন্দে নন্দব্রজ স্ত্রীণাং অর্থ‍্যাৎ আমি দূর হতে এই নন্দব্রজস্ত্রী মাত্রেরই চরণের অসংখ্য রেণুর মধ্যে একটি রেণুকে প্রতিক্ষণই বন্দনা করি,যাঁদের শ্রীমুখোচ্চারিত শ্রীহরি কথার উচ্চৈঃস্বরে গান--"উদ্গায়তীনাং" রীতি অনুসারে এই ত্রিভুবনের আকাশ বাতাস পবিত্র করেছে,যাঁদের সম্বন্ধান্বিত হরিকথা মহাভাগবতগণ উচ্চৈঃস্বরে গান করে উর্দ্ধ,মধ‍্য ও অধঃ এই ত্রিভুবনকে পবিত্র করেছেন,সেই ব্রজদেবিগণই শ্রীকৃষ্ণের প্রাণস্বরূপ ও কৃষ্ণ হৃদয় সরোবরের প্রস্ফুটিত কমল।এই কৃষ্ণকান্তা গোপীগণের মধ্যে শ্রীরাধা কৃষ্ণকান্তা শিরোমণি, শ্রীমদ্ভাগবতে যিনি পরম গোপ‍্যা বলে ক্কাচিৎ শব্দ ব‍্যবহৃত হয়েছে।এই কাচিৎ শব্দের অর্থ পরম শ্রেষ্ঠা ও প্রেষ্ঠা,কৃষ্ণকান্তা শিরোমণি,রমণীমুকুটমণি,শ্রীরাধারাণী।ক্কাচিৎ শব্দের শ্লেষার্থেও "কে প্রেমসুখে আসমস্তাৎ চিৎ জ্ঞানং যস‍্যা", অর্থ‍্যাৎ কৃষ্ণপ্রেমে যে অখন্ড সুখ,তা যাঁর পরিপূর্ণ ভাবে উপলব্ধি আছে,তিনিই কাচিৎ, শ্রীকৃষ্ণপ্রিয়া মুকুটমণি শ্রীরাধারাণীতে মাদনাখ‍্য মহাভাব জনিত পরিপূর্ণ প্রেমসুখ অনুভব হয় বলে শ্রীরাধার একটি নাম "কাচিৎ",শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শ্রীরাধার মধুরোচ্ছল ব্রজপ্রেম ভাষায় বর্ণনাতীত।*
*শ্রীরাধার প্রেম মহিমার গুরুত্ব আমাদের মত ক্ষুদ্র ও নশ্বর জীবের পক্ষে বর্ণনা করা সাধ‍্যের অতীত।যার ভগবত্তা শক্তি অন‍্য নিরপেক্ষ,যিনি অবতারবলী বীজ,যিনি অনাদিরাদি গোবিন্দ সেই শ্রীকৃষ্ণই মহামহিমান্বিতা শ্রীরাধার মহিমা ও গুণ বর্ণনে অসমর্থ অর্থ‍্যাৎ মহিমা বর্ণনে কুল-কিনারা পান না।যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে--*
*🌷যার সৎগুণ গণের কৃষ্ণ না পায় পার?*
*🌷তার গুণ গণিবে কেমতে জীব ছার।।*

*বৃন্দাবনদাস কবিরাজ গোস্বামীর চরণ শিরে ধরি।*
*নিতাই গৌরাঙ্গ-পাদপদ্মের ভৃঙ্গ হৈয়া মধু পান করি।।*

*🙏🙏শ্রীশ‍্যামসুন্দরের দ্বিতীয় বাঞ্জা।*
♻♻♻♻♻♻♻♻♻♻♻

*"অনয়া আস্বাদ‍্যঃ যেন অদ্ভুত মাধুরিমা কীদৃশঃ বা মদীয়"--- অর্থ‍্যাৎ পূর্বে শ্রীরাধার যে প্রেম ও মহিমার কথা বলা হয়েছে,সেই প্রেম মহিমা দ্বারা শ্রীরাধা কর্তৃক আস্বাদিত আমার অসীম মাধুর্য‍্যটি কিরকম?আরও একটু বেশী আস্বাদন করলে মনে হবে যে শ্রীকৃষ্ণের লোভ কেবলমাত্র নিজ মাধুর্য‍্যের প্রতি না,শ্রীরাধা কর্তৃক আস্বাদিত নিজ মাধুর্য‍্যের লোলুপতাও বটে।দ্বিতীয় বাঞ্জাটি আস্বাদন করতে হলে শ্রীকৃষ্ণের (১)নাম মাধুর্য‍্য (২) রূপ-গুণ মাধুর্য‍্য (৩)লীলা মাধুর্য‍্য (৪)বেণু মাধুর্য‍্য ও (৫)প্রেম মাধুর্য‍্য আস্বাদন করতে হবে।এই মাধুর্য‍্য অনন‍্যসাধারণ ও অসমোর্দ্ধ। অন‍্যকোন ভগবৎস্বরূপে বা অবতার স্বরূপে এত মাধুর্য‍্য দেখা যায় না।*
           *🙏🙏নাম মাধুর্য‍্য*
*🌷নাম চিন্তামণি, কৃষ্ণশ্চৈতন‍্য রস বিগ্রহ।*
*🌷পূর্ণশুদ্ধো নিত‍‍্যমুক্তোহ ভিন্নাত্মান্নাম নামীনো।।*
*🌻নাম এবং নামীর ভেদ না থাকায় শ্রীকৃষ্ণই নামরূপে আবির্ভূত হয়েছেন।অতএব নাম কৃষ্ণস্বরূপ,নাম চৈতন‍্যরসমূর্তি,সর্ববিধ শক্তিতে পূর্ণ, মায়া বদ্ধ রহিত।নিত‍্যমুক্ত ও চিন্তামণির মত সর্বাভীষ্টপ্রদ।কলিযুগে এই তারকব্রহ্ম নামই মহামন্ত্র। "কৃষ ধাতুর অর্থ আকর্ষণ করা বা কর্ষণ করা"।এই কৃষ্ণ নাম জীবের দেহমন প্রাণাদি সর্ব ইন্দ্রিয় আকর্ষণ করেন অথবা জীব-হৃদয় কর্ষণ করে শ্রীনামবীজ বপনে উপযোগী করেন।কৃষ্ণ শব্দের নিম্নলিখিত রূপ পাওয়া যায় -----*
*🌷কৃ আছি গোপীগণের রত্ন পুষ্টি করে।*
*🌷অতএব কৃষ্ণনাম বলি যে তাহারে।।*
*🌻আবার রাম শব্দের রূপ এই ভাবে পাওয়া যায়,যথা----*
*🌷রাধিকার সঙ্গে সদা করয়ে রমণ।*
*🌷অতএব রাম নাম কহি সে কারণ।।*
*🌻কাশীর মায়াবাদী সন্ন‍্যাসী ও মহাপন্ডিত শ্রীপ্রকাশানন্দ সরস্বতী শ্রীমন্মহাপ্রভুকে বলেছিলেন--, আপনি শ্রীপাদ কেশব ভারতীর শিষ্য।সন্ন‍্যাসী হয়ে বেদান্ত পাঠ ও ধ‍্যান না করে শুধু ভাবাবেশে নৃত্য করেন,এটি সন্ন‍্যাসীর ধর্ম নয়।উত্তরে মহাপ্রভু গুরু প্রদত্ত কৃষ্ণনাম মহামন্ত্রের প্রভাব সম্বন্ধে বলেছেন---*
*🌷কিবা মন্ত্র দিলা গোসাঞি কিবা তার বল।*
*🌷জপিতে জপিতে মন্ত্র করিল পাগল।।*
*🌷হাসায় নাচায় মোরে করায় ক্রন্দন।*
*🌷এতবলি গুরু বলিলা মোরে বচন।।*
*🌷কৃষ্ণনাম মহামন্ত্রের এই ত স্বভাব।*
*🌷যেই ভজে তার কৃষ্ণে উপজয়ে ভাব।।*
                  *ক্রমাগত
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৬)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
         *শ্রীকৃষ্ণের দ্বিতীয় বাঞ্ছা*
        ◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🍀নাম-মাহাত্ম‍্য সম্বন্ধে শ্রীরাধারাণী কোন সখীকে বলছেন--,হে সখী!আমার শ্রুতিমূলে বা কানে কৃষ্ণনাম প্রবেশ করতে আমার নয়ন প্রতিনিয়ত বা অহরহ অশ্রুসিক্ত হচ্ছে, আমার মন দ্রবীভূত হয়ে মনোপ্রাণ আকুল করে ফেলল সখী!কৃষ্ণ নামের এই দুইটি অক্ষর যে কত মধুময় যে আমার রসনা বা জিহ্বা ঐ নাম ছাড়তে পারছে না।এই নাম জপিতে আমার সমস্ত দেহ অবশ হয়ে অশ্রু,কম্প,পুলক প্রভৃতিতে অষ্টসাত্ত্বিক বিকারগ্রস্ত হল।বলে দাও সখী!কেমনে তাঁকে পাব,(বিদগ্ধ মাধব)।🔷বৈষ্ণব কবি চন্ডীদাস নাম মাধুর্য‍্য সম্বন্ধে বর্ণনা করেছেন-----*
*🌷সই কেবা শুনাইল শ‍্যাম নাম।*
*কানের ভিতর দিয়া,মরমে পশিল গো,*
     *আকুল করিল মোর প্রাণ।।*
*🌷না জানি কতেক মধু,শ‍্যামনামে আছে গো,*
           *বদন ছাড়িতে না পারে।*
*🌷জপিতে জপিতে নাম অবশ করিল গো,*
          *কেমনে পাইব সই তারে।।*
*🌻শ্রীপাদ শ্রীরূপগোস্বামী বিদগ্ধ মাধব নাটকে শ্রীকৃষ্ণের নাম মাধুর্য‍্য, রূপ মাধুর্য‍্য ও বেণু মাধুর্য‍্য একসঙ্গে প্রকাশ করেছেন।শ্রীরাধা বলছেন--, হে সখী!একজনের (কৃষ্ণের) এই নামের অক্ষর শুনেই আমার জ্ঞান লোপ পাচ্ছে,অন‍্য একজনের বংশীধ্বনিতে আমাকে পাগল করেছে, চিত্রপটে দেখা আর একজন (ঘনশ‍্যাম)পুরুষ আমার মনের মধ্যে চরমভাবে বিরাজিত--হায়!ধিক।কি কষ্ট!একসঙ্গে তিন পুরুষের প্রতি আমার মন ধাবিত হওয়া আমার পক্ষে মঙ্গলজনক নয় সখী! আমি এক নারী হয়ে তিনজন পুরুষকে হৃদয়ে ধারণ করলাম? ধিক,ধিক নিজেকে।তখন অন‍্যান‍্য সখী সহর্ষে বা আনন্দে উত্তর দিলেন,সখী রাধে! কিভাবে তোমার গোকুলেন্দ্র বা গোকুলচন্দ্র ছাড়া অন‍্য কারও প্রতি অনুরাগ সম্ভব হতে পারে কি?অতএব শোনো,এই তিন সেই এক মহানাগর শ্রীকৃষ্ণ।*

      *🌻🌻রূপগুণ মাধুর্য‍্য🌻🌻*
       🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*🍀শ্রীকৃষ্ণের রূপ ও গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে বৈষ্ণব কবিগণ ও তত্ত্ববিদগণ শুধু "মধুরং,মধুরং" কথায় সমাধান করে আর কিছু লিখতে সমর্থ হননি।◆তাঁর বর্ণ নীলোৎপল অপেক্ষাও সুকোমল, নীলমণি অপেক্ষা উজ্জ্বল,নবজলধর অপেক্ষাও স্নিগ্ধ বা কোমল ও মেদুর বা চিক্কণ।তাঁর মোহন চূড়ায় মনোহর ময়ূর পুচ্ছ সামান্য বামে হেলিয়া দুলছে।দেখতে মনে হচ্ছে যেন নবজলধর দর্শনে ময়ূর আনন্দে নৃত্য করছে।পদ্মপলাশের মত সুবিশাল আকর্ণ বিস্তৃত নয়ন-দুটি যেন প্রফুল্ল পুন্ডরীক বা শ্বেতপদ্ম (white lotus) প্রভাকে পরাভূত করেছে, আবার তাঁর নয়ন চকোর বদন চন্দ্রমার সুধালোভে চঞ্চল মূর্তি ধারণ করে বঙ্কিম বা বাঁকা নয়নে নয়ন-পত্র রূপ দুইটি চকোরের পাখা ক্ষণে ক্ষণে সঙ্কুচিত ও প্রসারিত করে শ্রীরাধাসহ ব্রজঙ্গনাগণকে এবং সমস্ত জগৎকে যেন সঙ্কেতে আকর্ষণ করছে।এই কটাক্ষবাণ প্রণয় মদে মত্ত হয়ে ব্রজযুবতীগণের মর্মস্থল বিদীর্ণ বা ছিন্ন-ভিন্ন করে দিচ্ছে এবং তাঁরজন‍্য অবশ হওয়ায় ব্রজবাসীগণের সর্বাঙ্গে দুঃসহ আনন্দ কম্পন-যন্ত্রণা উপস্থিত হচ্ছে।শ্রীগোবিন্দের অঙ্গ-সন্নিবেশ এত মধুর,এত সুরম‍্যাঙ্গ যে দেখলে মনে প্রশ্ন জাগে যে তাঁর দেহের কি সমস্তই শোভা,কি সমস্তই লাবণ‍্য, কি সমস্তই মাধুর্য‍্য ; কি সমস্তই সৌরভ বা কমণীয়তা, আবার বিদগ্ধ মাধবে (১|১৪) পৌর্ণমাসী দেবী নান্দীমুখীকে বলে ছিলেন---, অহো! শ্রীকৃষ্ণ কি মনোহারিণী শোভা ধারণ করেছেন,কৃষ্ণের দেহকান্তি নীলমণি অপেক্ষাও দিব‍্য প্রভায় সমুজ্জ্বল, নয়নের দীপ্তিতে বিকচ সরোজ (বিকশিত পদ্ম) প্রভা পরাভূত,অর্থ‍্যাৎ তাঁর নয়নের ভেতরে যে আলো দেখা যাচ্ছে তা সদ‍্য প্রস্ফুটিত পদ্মের সৌন্দর্যকেও পরাজয় করেছে,তাঁর পীতাম্বর (তাঁর পরিধানের বসন) শোনকুসুম বা পদ্মরাগ মণির কান্তিকেও লজ্জিত করেছে এবং কাননজাত পত্র পুষ্পাদি বিরচিত বেশভূষা দিব‍্য বেশের শোভাকে বিড়ম্বিত করেছে।তাঁর মুরলী লাঞ্ছিত নিরুপম বদনচন্দ্রমা দেখলে মনে হয় যেন বিধাতা নিখিল সৌন্দর্য্য,(বিশ্বের সমস্ত সৌন্দর্য‍্য) হরণ করে ঐ শারদ সুধাকরের মুখমন্ডলে সন্নিবেশ করাতে সৌন্দর্যের ভান্ডার শূন‍্য হয়ে গিয়েছে।শ্রীগোবিন্দদাস রূপাভিসারে বর্ণনা করেছেন---*
*🌷ও মুখমন্ডল জিতি শারদ সুধাকর,*
       *তনুরুচি তরুণ তমাল।*
*🌷চূড়া চারু শিখন্ডক মন্ডিত,*
         *মালতী মধুকর মাল।।* *ইত‍্যাদি*।
*🌻আবার কবিরাজ গোস্বামীপাদ বলেছেন----*
*🌷কৃষ্ণরূপামৃত সিন্ধু,তাহার তরঙ্গবিন্দু,*
          *এক বিন্দু জগৎ ডুবায়।*
*🌷ত্রিভুবনের যত নারী,তার চিত্ত উচ্চগিরি,*
           *তাহে ডুবায় আগে উঠি ধায়।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের অধর ও ওষ্ঠ বান্ধুলী পুষ্পের ন‍্যায় রঙ্গিন।(এই বান্ধুলী পুষ্প দুপুরবেলা ফুটে ও বিকেলবেলা শুকিয়ে যায় বলে এর আরেক নাম দুপুরিয়া, এই ফুল কাল,সাদা,পীত ও লালবর্ণ ভেদে চার প্রকার।লাল বান্ধুলীর সঙ্গে সুন্দরীর অধরের তুলনা করা হয়।🌷(পরিধান পীতাম্বর অধর বান্ধুলীবর মুখ-সুধাকরে সুধাহাস)।চন্দ্র,কুন্দ পুষ্প ও মন্দার কুসুম সদৃশ(সমান) সামান্য হাস‍্যে তার সর্বাঙ্গ দেদীপ্তমান (জাজ্বল‍্যমান)।সাধারণ লোকে কথা বোলে তবে হাসে, কিন্তু শ‍্যামসুন্দর কথা বলবার আগেই এমন স্মিত মধুর হাস‍্যে উৎফুল্লিত হন, যেন মনে হয়, অমিয় বা সুধা নিছনি মধুর রক্তিম বিম্বাধর হতে নিষ্কলঙ্কচাঁদ ফেটে সুধারাশি বর্ষণ করছে।এই হাসিভরা মধুর অধর দেখলে কোন যুবতী নারী কুল রক্ষা করতে পারেন।সে মাধুরী দেখে "লক্ষ্মীর" হৃদয়ও দুলতে থাকে।*
                   *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৭)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
           *শ্রীকৃষ্ণের দ্বিতীয় বাঞ্ছা*
            ☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍀শ্রীমতী বিরহে কাতরা হয়ে শ্রীকৃষ্ণের রূপমাধুর্য‍্য আস্বাদন করে বলছেন-----*
*🌷সেই সৌন্দর্য‍্যামৃত সিন্ধু,তাহার তরঙ্গ বিন্দু,*
                *ললনার চিত্তাদি ডুবায়।*
*🌷কৃষ্ণের যে নর্ম্ম কথা,শুধু সুধাময় গাথা,*
              *তরুণীর কর্ণানন্দ তায়।।*
   *🌷কহ সখী কি করি উপায়।*
*🌷কৃষ্ণের মাধুরী ছন্দে,সর্বেন্দ্রিয়গণে বাঁধে,*
               *বলে সর্বেন্দ্রিয়ে আকর্ষয়।।*
*🌻গোপীগণ শ্রীকৃষ্ণকে বললেন--, হে কৃষ্ণ! আমাদের যে চোখ তোমার কুটিল কুন্তল বিশিষ্ট শ্রীমুখ দর্শন করে,বিধাতা সেই চক্ষুতে পলকের সৃষ্টি করাতে নির্বোধ জড় বলেই বিবেচনা করি।*
*🌻এই প্রসঙ্গে শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত বলেন---*
*🌷এ মাধুর্য‍্যামৃত সদা যেই পান করে।*
*🌷তৃষ্ণা শান্তি নহে তৃষ্ণা বাড়ে নিরন্তরে।।*
*🌷অতৃপ্ত হইয়া করে বিধিরে নিন্দন।*
*🌷অবিদগ্ধ বিধি ভাল না জানে সৃজন।।*
*🌷কোটি নেত্র নাহি দিল সবে দিল দুই।*
*🌷তাহাতে নিমেষ কৃষ্ণ কি দেখিব মুই।।*

*🌻এই কোটি নেত্র নাহি দিল, সত‍্য কথা বলতে কি আমরা সাধারণ গৃহস্থ ঘরের কারও মুখে এই শব্দগুলি শুনতে পাই?তাই অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ডের মধ্যে একমাত্র ব্রজেই ব্রজরমণীগণের শ্রীমুখ হতে এই শব্দ শোনা গেছে।*
*🌹আবার অন‍্যত্র লেখা আছে--*
*🌷যে দেখিবে কৃষ্ণানন,তারে করে দ্বিনয়ন,*
             *বিধি হয়ে হেন অবিচার।*
*🌷মোর যদি বোল ধরে,কোটি আঁখি তারে করে,*
             *তবে জানি যোগ্য সৃজন তার।।*
*🌻শ্রীরূপ গোস্বামীপাদ বলেছেন--, "সৌন্দর্যেন দৃগানন্দকারী রুচির উচ‍্যতে"। অর্থ‍্যাৎ কান্তদ্বারা আনন্দকারী হলেই "রুচির" বলা হয়। কোন সোনা,রূপো, হীরের অলংকার না পরে যদি সত‍্যই রূপে আকর্ষণ হয় তাহাই প্রকৃত রূপ।*
*🌻আগে সুরম‍্যাঙ্গের উদাহরণ দিয়ে সম্পূর্ণ তৃপ্তিলাভ করতে না পেরে তিনি একটি শ্লোক পরিবেশন করেছেন।তার বঙ্গানুবাদ দেওয়া হল--, শ্রীকৃষ্ণের করদ্বয়,(হাত দুইটি) নাভি, চরণযুগল, নেত্রদ্বয় ও শ্রীমুখমন্ডল--, এই আটটি অঙ্গই পদ্ম।এই অষ্টাঙ্গের কোন একটিতে গোপীদের চঞ্চল নেত্ররূপ ভ্রমর সব কোনভাবে পতিত হয়, তবে সেই অঙ্গ কান্তিরূপ পঙ্কময় স্থান হতে আর উঠতে পারে না।তাই শ্রীরাইধনি বলে ছিলেন---*
*🌷জনম অবধি হাম ওরূপ নেহারিনু।*
*🌷নয়ন না তিরপিত ভেল।।*
*🌻বিদগ্ধ মাধব নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কে বিশাখা সখী শ্রীরাধাকে বললেন, হে সখী!লোকগণ তোমাকে সম্পূর্ণ ধৈর্য‍্যশালী বলে থাকে তবে কেন উদ্বিগ্ন হচ্ছ?উত্তরে শ্রীরাধা বিশাখা সখীকে বললেন,সখী! সেই ধূর্ত্তই আমাকে নির্গুণে পরিণত করেছে।যাঁর সুশোভন বক্ষস্থল কুল বধূগণের ধৈর্য‍্য নদী অবরোধ করতে দক্ষ,যাঁর বদন চন্দ্রমা কুলধর্ম সঙ্কোচনে দীক্ষিত, যাঁর বাহুযুগল উন্নত ব্রীড়া-বলিদান যজ্ঞের জন্য চিরকালের জন্য উদ্গত যুপকাষ্ঠ (যজ্ঞের পশুকে যে কাঠে বেঁধে রাখা হয়) সমান,হে সখী!কি কষ্ট যে!তাঁর নেত্রভঙ্গীরূপ ভূজঙ্গিনী আমাদের সবই গ্রাস করে ফেলিল।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণের অর্গলসমান আজানুলম্বিত বলিষ্ঠ অথচ কমনীয় বাহু দুইটি সঙ্কুচিত করে মনোরম বেণুরন্ধ্রে চপল করাঙ্গুলী গুলি সঞ্চালন করে বংশীধারী রক্তিম বিম্বাধর সুধারসে সিক্ত করাতে মধুর মুরলী "রাধা!রাধা"! বলে বাদন করে দিব‍্যরাগসব উদ্গীরণ বা বমন করছেন। শ্রীকৃষ্ণের অধর ও ওষ্ঠ বান্ধুলী ফুলের মত রঙ্গিন এবং সেটি রাধিকার কাছে অমৃতের খনি বলে শ্রীরাধার মধুর অধর স্পর্শ করবার জন্যই মনে হয় শ্রীকৃষ্ণের হৃদয়জাত অন্তঃরঙ্গ রাগ (রঙ)হতেই ঐ ওষ্ঠ রঞ্জিত হয়েছিল।*
*🌻যাঁর মনোহর,উন্নত পদাগ্রভাগের নখরাজি দর্পণ অপেক্ষাও শোভান্বিত এবং নখাবলী দ্বারা শোভমান রত্নাঙ্গুলী রূপ পত্র নিকরে তার পরম রমণীয় যুগল চরণকমল কোটি চন্দ্রের মত আভা বা আলো উদ্গীরণ করছে এবং উজ্জ্বল শ্রীচরণ পদ্মদ্বয়ের উপরিভাগে মণিময় নূপুর দীপ্তি পাচ্ছে,সেই জগন্মোহন নবকিশোর,নবকন্দর্প স্বরূপ নন্দকিশোরকে নিরীক্ষণ করলে তার নয়নদ্বয় পরিতৃপ্ত না হয়?*
*♻শ্রীকৃষ্ণের রূপ ও গুণ নিরূপম ও অচিন্ত‍্য। যিনি অচিন্ত‍্য মহাশক্তিমান, যিনি সমস্ত অবতারগুলির উৎপত্তিস্থল,যার চমৎকারী রূপগুণ-লীলা-তরঙ্গের মহাসাগরে স্নাত (স্নান) হয়ে পরমহংস মুকুটমণি শ্রীশুকদেব গোস্বামীপাদ শৌণকাদি ও সনকাদি আত্মারাম মুনিগণ নিগ্রন্থচিত্ত হয়ে অহৈতুকী ভক্তি করে থাকেন, যার বিশ্ববিমোহন রসরাজ ও বিদগ্ধরাজ মূর্তিতে গোপরামাগণের নীবিবন্ধ স্খলিত হয়ে পড়ে ও চরাচর জগতকে বিমুগ্ধ করে দেয়,যার মনোরম বংশীধ্বনিতে ত্রিভুবনের চিত্ত আকর্ষণ করে,শ্রীযমুনা তরঙ্গ ভেঙ্গে উজানে বহিতে থাকে,ও পর্বতমালা আর্দ্রীভূত হয়ে যায়, যাকে একটিমাত্র তুলসীপত্র সহ একবিন্দু জলদ্বারা আরাধনা করলে ভক্তগণের কাছে নিজেকে বিক্রয় করে মধুর প্রেমে ভূষিত করেন,যিনি বৃন্দাবনের লতা পাতাকেও বক্ষে নিয়ে চুম্বন করে মধুর প্রেমে ভূষিত করতেন,সেই অনন্ত রূপ-গুণ সমন্বিত শ্রীকৃষ্ণ মথুরায় পূর্ণ, দ্বারকাদিতে পূর্ণতর ভাবে এবং গোকুলে পূর্ণতম ভাবে প্রকাশিত হয়ে বিরাজ করছেন,সেই নিত‍্যনবায়মান ধীর ললিত,বদান‍্য,ভক্তসুহৃদ, প্রেমবশ‍্যা, সর্বশুভঙ্কর,মধুময় শ্রীগোবিন্দের চারু চরণ-কমলে ব্রজাঙ্গনাগণ ও ব্রজবাসীগণ ও রসিক ভক্তগণ মধুপান করছেন।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং মদনমোহন মূরতি।প্রাকৃত মদন তাঁর রূপে মুগ্ধ হয়ে সম্ভোগসুখ কামনায় অসমর্থ হয়ে মূছিত হয়ে যায়।শ্রীকৃষ্ণের মধুর রূপ দর্শনে,*
*🌷পুরুষ,যোষিত কিম্বা স্থাবর জঙ্গম।*
*🌻মোহিত হয়ে যায়।শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীসনাতন গোস্বামীপাদকে বলেছিলেন------*
*যে রূপের এক কোণ,ডুবায় এই ত্রিভুবন,*
           *সর্বপ্রাণী করে আকর্ষণ।*
 🛑🛑🛑ক্রমাগত🛑🛑🛑
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৮)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
         *শ্রীকৃষ্ণের দ্বিতীয় বাঞ্ছা*
          ◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆

*🌷বৃন্দাবনের অপ্রাকৃত নবীন মদন।*
*🌷কামবীজ কামগায়ত্রী যার উপাসন।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণের নিরূপম রূপমাধুরী এমনই চিত্তাকর্ষক ও মনোহারী যে দর্পণে বা আয়নায়,মণিস্তম্ভে অথবা মানসগঙ্গায় নবীন নাবিকবেশে নিজের প্রতিবিম্ব মূর্তি দর্শন করে নিজেই বিমোহিত হয়ে বলেন--,"আমি কি এতই সুন্দর!*
*🌷কৃষ্ণের মাধুরী কৃষ্ণে উপজয়ে লোভ।*
*🌷সম‍্যক্ আস্বাদিতে নারে মনে রহে ক্ষোভ।।*
*🌷বিচার করিয়ে যদি আস্বাদ উপায়।*
*🌷রাধিকা স্বরূপ হৈতে তবে মন ধায়।।*
*🌻নিজের অদ্ভুত,অনন্ত ও মনোহারী রূপমাধুর্য‍্য সম‍্যক (সর্বপ্রকার)আস্বাদন করতে না পেরে ক্ষুব্ধচিত্তে আশ্রয়জাতীয় সুখ আস্বাদনের মানসে শ্রীরাধার রূপ ও কান্তি ধারণ করে রসিকশেখর শ্রীশ‍্যামসুন্দর শ্রীধাম নবদ্বীপে শ্রীগৌরকিশোর রূপে অবতীর্ণ হলেন।সংসারে এমন কেউ নাই যে শ্রীকৃষ্ণের রূপ,গুণ,মাধুর্য‍্য সম‍্যক বা সর্বপ্রকার উপলব্ধি করতে পারে।ঐ সর্বাতিশয়ী মাধুরিমা সর্বাঙ্গীন ভাবে আস্বাদন করা জীবের পক্ষে সহজসাধ‍্য নয়।*
*🌷ত্রিজগতে কেহ ইহার নাহি পায় সীমা।*
*🌻শুধু তবু একজন আছেন, যিনি ঐ বিশ্ব-বিমোহন মাধুর্য‍্য সর্বতোভাবে আস্বাদন করতে পারেন, তিনি বৃষভানু রাজনন্দিনী শ্রীমতী রাধাঠাকুরাণী।*
*🌷এই প্রেমদ্বারে নিত‍্য রাধিকা একলি।*
*🌷আমার মাধুর্য‍্যামৃত আস্বাদে সকলি।।*
*শ্রীরাধা "একলি" এবং নিত‍্যই আস্বাদন করেন।এইকথা বলবার তাৎপর্য‍্য এই যে আমরা দর্পণে বা আয়নায় প্রতিবিম্ব দেখি,সেটি জড়ীয় ও মলিন।শ্রীভগবান নিজের মূর্তি দেখেন ভক্তের হৃদয় দর্পণে।জড়ীয় দর্পণ গ্রহণ করে প্রতিবিম্ব আর ভক্তহৃদয় গ্রহণ করে বিম্ব বা মূল বস্তু, কারণ ভক্তের হৃদয়ে কৃষ্ণের সবসময়ই বিশ্রাম।এ জগতে যত ভক্তের হৃদয়ে দর্পণ আছে--,স্বচ্ছ, স্বচ্ছতর ও স্বচ্ছতম, তারমধ‍্যে সর্বশ্রেষ্ঠ স্বচ্ছতমের পরাকাষ্ঠা রয়েছে শ্রীরাধার প্রেমদর্পণে বা সৎ-দর্পণে। এই সৎ-দর্পণে মলিনতার লেশমাত্রও নাই বলে সেটি নিরূপাধি।এই প্রেমদর্পণে শ্রীরাধা "একলি" শ্রীকৃষ্ণের নিরুপম রূপমাধুর্য‍্য পূর্ণাঙ্গে গ্রহণ করেন এবং শ্রীকৃষ্ণও নিজেকে সর্বতোভাবে দর্শন করেন।*
*শ্রীরাধার চিত্ত দর্পণের স্থচ্ছতা ও উজ্জ্বলতা প্রতিক্ষণেই বর্দ্ধনশীল (বেড়ে চলেছে)।শ্রীরাধার কৃষ্ণ-মাধুর্য‍্য আস্বাদনের উৎকণ্ঠাও এইরকম নিরন্তর (সবসময়ই)বেড়ে চলেছে।*
*🌷বাঢ়িতে ঠাঁই নাই' তবুও বর্দ্ধনশীল।*
*🍀এই প্রতিনিয়ত (অহরহ) বর্দ্ধনশীল ভাব অধিরূঢ় (উপরে উঠা বা চড়া)মহাভাবের বিশেষত্ব।শ্রীরাধার এই নিরুপাধি (যার উপাধি নাই বা লাভ-যশ-প্রতিষ্ঠাবিহীন কর্ম) চিত্তদর্পণের আগে কৃষ্ণ-মাধুর্য‍্য নিত‍্য নবায়মান।তাই কবিরাজ গোস্বামীপাদ বলেছেন--,*
*🌷এ দর্পণের আগে নব নব রূপে ভাসে।*
*🌺শ্রীকৃষ্ণের নিত‍্যনবায়মান মাধুর্য‍্য রয়েছে রাধাকৃষ্ণের নিবিড় মিলনে--, অর্থ‍্যাৎ শ্রীরাধার সান্নিধ্যেই শ্রীকৃষ্ণের মাধুরিমা তথা শ্রীকৃষ্ণের সান্নিধ্যেই রাধা মাধুরী বর্দ্ধনশীল।কৃষ্ণ-নিষ্ঠ মাধুর্য‍্য ও রাধা-নিষ্ঠ উৎকণ্ঠা এই দুইই অপরিসীম,যথা---*
*🌷মন্মাধুর্য‍্য রাধার দোঁহে হোড় করি।*
*🌷ক্ষণে ক্ষণে বাঢ়ে দোঁহে কেহ ধাহি হারি।।*
*🌻হোড় বলতে বোধহয়, প্রতিযোগিতা বলা হয়েছে।*
*🍀(৩)শ্রীকৃষ্ণ লীলা মাধুর্য‍্য ঃ----*
*🌹অতি সংক্ষিপ্ত ভাবে লীলা মাধুর্য‍্য বর্ণনা করবার চেষ্টা করছি মাত্র। শ্রীমদ্ভাগবতে--- "অহো। স্তনকালকূটং" ইত্যাদি শ্লোকে অর্থ‍্যাৎ যাঁকে শিশুকালে বধ করবার জন্য পূতনা স্তনে কালকূট বা বিষ দিয়ে বধ করতে চেয়েছেন।সেই শ্রীকৃষ্ণ তাকে ধাত্রীপদ যোগ্য গতিই প্রদান করেছিলেন, বল দেখি তিনি ছাড়া আর কোন দয়ালুর শরণ গ্রহণ করব", ঠাকুর শ্রীবৃন্দাবন দাস শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে মধ‍্যখন্ডে লিখেছেন--*
*🌷রাক্ষসী পূতনা শিশু খাইতে নির্দ্দয়া।*
*🌷ঈশ্বর বধিতে গেল কালকূট লইয়া।।*
*🌷তাহারেও মাতৃপদ দিলেন ঈশ্বরে।*
*🌷না ভজে অবোধ জীব হেন দয়ালুরে।।*
*🌻শ্রীদামোদরের দামবন্ধন লীলায়--, মা যশোদা শ্রীদামোদরকে রজ্জুদ্বারা বন্ধন করবার জন্য যত্ন নিচ্ছিলেন, তখন বাৎসল‍্য ভাব প্রবণা ব্রজ গোপীগণ বলেছেন-- হে ব্রজেশ্বরী! বিধাতা তোমার পুত্রের ললাটফলকে বন্ধন লিখেননি, তুমি তো সাক্ষাতেই দেখছ যে,সুদীর্ঘ দড়ি দিয়েও তোমার পুত্রের উদর বা পেট বেষ্টিত বা ঘিরে ধরতে পারছে না, যত দড়ি যুক্ত করছ ততই কম পরছে।ইহা দ্বারা স্পষ্টই বুঝতে পারা যায় যে যখনই রাশি রাশি দড়ি দিয়ে বন্ধন হচ্ছে না তখনই বালগোপালের বিভূত্ব বা ভগবানত্ব স্বীকার করতে হবে।পরিশেষে গোপাল যখন দেখলেন যে, গোপালকে বাঁধবার জন্য পরিশ্রমী মা ঘেমে সমস্ত শরীর ভিজে গেছে, মা আর পারছেন না,মায়ের কষ্ট দেখে গোপাল নিজেই বন্ধন স্বীকার করলেন।তখন ব্রজেশ্বরী গোপালকে বাঁধলেন।ঈশ্বর বুদ্ধিহীন পুত্র বুদ্ধিতে তিনি ধরা দেন।*
                  *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(১৯)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
            *শ্রীকৃষ্ণের মাধুর্য‍্য লীলা*

*🍀নন্দ মহারাজ বিলাপ করে উদ্ধব মহাশয়কে বলেছিলেন--, অহো!বাল‍্যকাল হতেই গোপাল আমাদেরকে নানাভাবে রক্ষা করেছে।কালিয়দমন লীলায় কালিয়নাগের মাথায় যখন আমার গোপাল নাচছিল,সেই কালিয়-হ্রদের উপকূলে একটি বনের ভিতরে আমরা সব ব্রজবাসীগণ যখন নিদ্রিত ছিলাম তখন চারিদিক হতে দাবানল আমাদের গ্রাস করতে রত হলে,সেই ছড়িয়ে পড়া দাবানল আমার গোপাল ভোজনে রত হ'ল।অগ্নিও তার দাহধর্ম পরিত‍্যাগ করে সুধার মত সন্তর্পণ ধর্ম প্রকাশ করেছিল।এইভাবে দেবরাজ ইন্দ্র কর্তৃক ভীষণ ঝড়,শিলাবৃষ্টি করলে আমার গোপাল খেলার বলের মত গিরিগোবর্দ্ধনকে ধারণ করে আমাদের রক্ষা করেছিল।বৃষাসুর,সর্পাকৃতি অঘাসুর, অম্বিকাবনের অজর সাপ প্রভৃতি হতে নানাপ্রকারে আমাদেরকে রক্ষা করেছে।কৃষ্ণের কারুণ‍্যাদি প্রভাবে ও প্রেমাস্পদাদি স্বভাবে ইহা করেছে।*
*🌺ব্রজে পূর্বরাগ,মান,দান প্রভৃতি লীলা ছাড়া মুখ‍্যা অন্তরঙ্গা নিত‍্যলীলা এই ভৌম বৃন্দাবনে বতর্মানও চলছে।এই অহোরাত্র কৃতলীলাকে অষ্টকালীয়লীলা বলে।নিশান্তলীলা বিপ্রলম্ভ অর্থ‍্যাৎ বিয়োগাত্মিকা বিধায় বৈষ্ণবগণ নিশান্ত হতে আরম্ভ করে অলসলীলা পর্যন্ত শ্রীরাধামাধবের নিত‍্য মানসী সেবা করে থাকেন।এই নিত‍্যলীলা "সনৎকুমার তন্ত্রে ষটত্রিংশ‍ৎ(৩৬) পটলে" শিব-নারদ সংবাদে দেবর্ষি নারদ শিবকে কহিলেন--,ভগবন্!গুরোঃ সম্প্রতি সকল সাধনাপেক্ষা উৎকৃষ্ট ভাব মার্গ শুনতে ইচ্ছা করি।তখন শিব বললেন--, "সাধু পৃষ্টং ত্বয়া বিপ্র সর্বলোকা হিতৈষিণা ইত্যাদি শ্লোকের অনুবাদ করলেন। শিব কহিলেন--, হে বিপ্র!তুমি সব লোকের হিত কামনা কর,অতএব অতি উত্তম প্রশ্ন করেছ।আমার কথিত এই ভাবমার্গের সাধন অত‍্যন্ত গুহ‍্য ও রহস‍্যাবৃত।এই ভৌম বৃন্দাবনের শ্রীকৃষ্ণের দাস,সখা,পিতামাতা, প্রেয়সীগণ সকলেই নিত‍্য, সকলেই তাঁর তুল‍্য গুণশালী।প্রকটলীলায় শ্রীকৃষ্ণের যে রকম ব্রজবিলাস পুরাণে প্রসিদ্ধ আছে,অপ্রকট লীলাতেও ভৌমবৃন্দাবনেই তা সেইরকমই হয়ে থাকে।সেইরূপে গোচারণ জন্য প্রতিদিন বনে গমন,বয়স‍্যগণের সঙ্গে গোচারণ,আবার অপরাহ্নে বা বিকেলে গোচারণ অন্তে গৃহে আগমন,সেইরকমই অভিসার।কুঞ্জভঙ্গে বনগোষ্ঠে গমনাগমন নিত‍্যই হয়ে থাকে।নিত‍্যলীলায় শুধু অসুর নিধনাদি নৈমিত্তিক লীলা নাই।পরকীয়া অভিমানিনী কৃষ্ণপ্রেয়সীগণ সেইরকম গোপন ভাবে নির্জন নিকুঞ্জে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে নিত‍্যই বিহার করছেন।*
*🌻সেই প্রেয়সীগণের মধ্যে যিনি সর্বোত্তমা মনোরমা রূপ-যৌবন সম্পন্না,প্রমদাকৃতি নানা শিল্পকলা অভিজ্ঞা, কৃষ্ণভোগানুরূপিনী সেই ভোগপরা কিশোরীর সঙ্গে লীলা বিলাস করবার জন্য শ্রীকৃষ্ণ প্রার্থনা করে থাকেন।তথায় শ্রীরাধার কিঙ্করীগণ নিত‍্যসেবা পরায়ণা হয়ে শ্রীকৃষ্ণ হতে শ্রীরাধার প্রেম-উৎকর্ষ কারণ,প্রতিদিন যত্ন সহকারে শ্রীরাধা গোবিন্দের মিলন করানো এ মিলনান্তে যুগলের সেবা-সুখ আস্বাদ মনে মনে ভাবনা করতঃ,সেই ভাবে সেবা করে থাকেন।এই নিত‍্যলীলা ব্রাহ্মমুহূর্ত্ত হতে আরম্ভ করে মহানিশা পর্যন্ত চলতে থাকে।(নিত‍্যলীলার বিস্তৃত বর্ণনা এ,বৈষ্ণদাসানুদাস কৃত "মনুষ‍্যত্বের ক্রম বিকাশে আদর্শ বৈষ্ণব গ্রন্থে দ্রষ্টব‍্য)।*
                *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(২০)প্রেম ঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব*
*শ্রীকৃষ্ণের বংশী মাধুর্য‍্য ও ৩য় বাঞ্ছা*

*🌻🌻শ্রীকৃষ্ণের বংশী মাধুর্য‍্য🌻🌻*
*🍀শ্রীকৃষ্ণের মধুর মুরলী শ্রবণে শ্রীরাধা ললিতাদি সহচরীগণ সহ কৃষ্ণ-অনুরাগে গদগদ হয়ে রাজহংসীর মত হেলে দুলে দিগ বিদিক জ্ঞান শূন‍্য হয়ে কৃষ্ণ গুণগানের অবিরল অমৃতধারা বর্ষণ করতে করতে চাঁদের মালার মত কৃষ্ণাভিসারে গমন করেন।শ্রীকৃষ্ণের মধুর মুরলী মধুধারা বর্ষণ করে ব্রহ্ম ও শুককে পাগল করল।জলধরের গতিরোধ করে গন্ধর্বরাজ তুম্বরূর চমৎকারিত্ব সম্পাদন করে সনন্দাদি মুনিগণকে ধ‍্যান হতে চ‍্যুত করে, নাগরাজ বাসুকিকে আঘূর্ণিত(খানিক ঘূর্ণন) করে ব্রহ্মান্ড কটাহের আবরণের ভিত্তি(এককথায় ত্রিলোকে বংশীধ্বনি ঘুরতে লাগল,যাঁরা কৃষ্ণানুরাগী তাঁরা শ্রবণ করে পাগল হয়ে গেলেন) ভেদ করে শ্রীকৃষ্ণের মধুক্ষারা বংশীধ্বনি চারিদিকে ভ্রমণ করছে।অষ্টকর্ণপুটে মধুর মুরলী অমৃতময় ধ্বনি শুনে ধৈর্য‍্যশালী ব্রহ্মা হংসপিঠে মুহুর্মূহু গড়াগড়ি দিচ্ছেন। বংশীধ্বনি শ্রবণে ইন্দ্রের হাজার নয়ন অশ্রু প্লাবিত হয়ে বারিধারা বর্ষিত হচ্ছে।গৃহকর্মকালে গোপাঙ্গনাগণের হাত স্তব্ধ করে দিচ্ছে।এমনও দেখা গেছে যে,কোন কোন ব্রজরামাগণকে পতির কোল হতে আকর্ষণ করে তাঁদের গুরুজন সমীপেই নীবিবদ্ধ মোচন করে দিচ্ছে,অর্থ‍্যাৎ বংশীধ্বনি শ্রবণ করে অঙ্গে বসন আছে কি নেই তার কোন খেয়াল নেই।শ্রীরাইধনির কাঁচুলী (নারীবক্ষ বা স্তনাবরক বস্ত্রবন্ধনী বা কুর্ত্তি)ভিজে পিযূষধারা বর্ষিত হতে লাগিল।(◆অপ্রাকৃত লীলা প্রাকৃত বুদ্ধি দ্বারা আস্বাদন হয় না), এবং ঘন ঘন শ্বাস বহে রোমাঞ্চ পুঞ্জে অঙ্গ সব কাঁটার মত হয়ে গেল।শ্রীযমুনা তরঙ্গ ভেঙ্গে উজান বইছে।পশু পাখীগণ মূক বা বোবা হয়ে সেই অমৃতরস আস্বাদন করছে।কুসুমিত তরুলতাপাতা আনন্দে হেলে দুলে একে অন‍্যের গায়ে পড়ছে।পাষাণ মধুমাধুরী আস্বাদন করে গলে যাচ্ছে।এই হচ্ছে আমার শ্রীকৃষ্ণের বংশীধ্বনির মহিমা।*
*🌻নন্দকিশোরের তৃতীয় বাঞ্ছা🌻*
*🌷সোখ‍্যং চাস‍্যাং মদনুভবতঃ কীদৃশং বা।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণ মাধুর্য‍্য আস্বাদন করে শ্রীরাধার সেই মাধুরিমার অনুভবটি কি প্রকার তাইই শ‍্যামসুন্দরের জানবার ইচ্ছা। তিনি স্বয়ং সুখময় হয়ে অন‍্যের সুখানুভূতির লোভ কেন?ইহা অতি বিচিত্র।শ্রীরাধার অন্তরে বিন্দুমাত্র সুখবাঞ্ছা নেই,অথচ তাঁর হৃদয়ে কোটিগুণ সুখ অনুভব হয়ে থাকে।শ্রীপাদ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বলেছেন----*
*🌷কারণং বিনা কার্য‍্যেৎপত্তেঃ---, সেব তৃতীয় বাঞ্ছাৎপত্তেঃ কারণমিতি।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ কারণ বিনা কার্য‍্য হয়েছে, তাহাই তৃতীয় বাঞ্ছার হেতু।*
*🌹শ্রীরাধা রমণীমুকুটমণি এবং শ‍্যামকন্ঠ হেমমণি ও পরা।আগে বলা হয়েছে যে অনুরাগ যখন প্রেমের চরম সীমা লাভ করে তখনই মহাভাব হয়।চিত্ত সম্পূর্ণভাবে নিষ্কাম না হলে হৃদয়ের অনুরাগ মহাভাব ভূমিতে আরোহণ করতে পারে না।তাই শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী বলেছেন---*
*🌷গোপীকার প্রেম অধিরূঢ় মহাভাব নাম।*
*🌷নির্মল বিশুদ্ধ প্রেম কভু নহে কাম।।*
*🌷আত্মেন্দ্রিয় প্রীতি ইচ্ছা তারে বলি কাম।*
*🌷কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি বাঞ্ছা ধরে প্রেম নাম।।*
*🌻গোপীগণের সম্বন্ধে কোন "কাম" শব্দ প্রয়োগ দেখলেই সেটিকে প্রেমার্থেই বুঝতে হবে।(যার ভিতরে কিঞ্চিৎ কাম ভাব রয়েছে,তারা কোনদিনই মদনের সামনে দাঁড়াতে পারবে না,যাঁরা মদনের সামনে দাঁড়িয়ে মদনকে নাকখত দিতে বাধ‍্য করেছিলেন,তাঁদের মধ্যে "কাম" কিভাবে জন্ম নিতে পারে?)*
*ব্রজাঙ্গনাগণের প্রেম যদি প্রাকৃত প্রেম হত,তবে অষ্টাদশ পুরাণাদির বহু শাস্ত্রপ্রণেতা অসাধারণ ধীমান মহর্ষি ব‍েদব‍্যাস,তাঁর পুত্র আকুমার বৈরাগ‍্যবান পরমহংস মুকুটমণি শ্রীশুকদেব গোস্বামীপাদ,পরম ধার্মিক মহারাজ পরীক্ষিৎ, দেবাদিদেবমহাদেব,দেবর্ষি নারদ প্রভৃতি বহু শাস্ত্রকারগণ মহামুনি ও তপস্বীগণ ও শ্রেষ্ঠ মানবগণ পবিত্র হবার বাসনায় এই পরম পাবনী লীলার গুণগান করতেন না। শ্রীরাধিকাদি ব্রজ গোপীগণ নিষ্কলঙ্ক পূর্ণিমা চাঁদের মত ব্রজ-গগনে উদিত হয়ে কৃষ্ণপ্রেম সুধাধারা সিঞ্চন করেছেন বা করে চলেছেন।🙏জয় শ্রীব্রজগোপীগণ।*
*যাঁর কলঙ্ক কথা, ভাগবতে কবি গাঁথা,*
      *গুরু দেন শিষ‍্যেরই কানে।*
*🌻সেই পরকীয়া পাবনী লীলা ও সেই মধুরোঞ্জল ব্রজ প্রেমের জয় হোক।শ্রীকৃষ্ণের দেহ যেরকম অপ্রাকৃত,তাঁর ধামও সেইরকম অপ্রাকৃত ; তাঁর সঙ্গীগণও তদ্রূপ অপ্রাকৃত,চিন্ময় ও নিত‍্য।রসশাস্ত্রে পরোঢ়া (পরস্ত্রী) পরকীয়া মুখ‍্য শৃঙ্গার রসে বর্জন করা হয়েছে তা প্রাকৃত নায়িকা সম্বন্ধেই বুঝতে হবে, ব্রহ্ম সংহিতায় বর্ণিত--, ◆আনন্দ চিন্ময় রস প্রতিভাবিতা কৃষ্ণবল্লভা ব্রজ গোপীগণের সম্বন্ধে নয়।শ্রীরাধা ললিতাদি ব্রজদেবীগণ শ্রীকৃষ্ণের নিত‍্য কান্তা হলেও রসিকেন্দ্র মৌলি শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছায় লীলাশক্তি যোগমায়া কল্পিত পরকীয়ায় ভাবের দ্বারা অবগুন্ঠিতা।এই পরকীয়া ভাব হেতু শ্রীকৃষ্ণের প্রতি অদম‍্য অনুরাগ বিশেষই ধ্বনিত হয়েছে।কৃষ্ণসুখ হেতু গোপীগণ সব ত‍্যাগ করে কৃষ্ণের প্রেমসেবা করেন।এহেন গোপীকাগণের মধ্যে যিনি সর্বোত্তমা,যাঁর সুখের মধ্যে বিন্দুমাত্র সুখবাঞ্ছা নেই,সেই নিবিড় সুখের অনুভূতির জন্য শ্রীরাধারমণের লোভ এই ব্রজদেবীগণের সকল উদ‍্যমের মূলে কৃষ্ণ-সুখ কামনা,কৃষ্ণসুখ বিধানের জন্য অদম‍্য চেষ্টা।যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পাই----*
*🌷আত্ম-সুখ গোপীকার নাহিক বিচার।*
*🌷কৃষ্ণ-সুখ হেতু চেষ্টা মনো ব‍্যবহার।।*
                   *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 প্রেমঋণে শ্রীগৌরাঙ্গ মাধব 🥀 শ্রীরাধাবিনোদ সরকার 📖 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/prem3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







আজ হোলি খেলব শ্যাম তোমার সনে 💗 একলা পেয়েছি তোমায় নিধুবনে 🙇 সংগৃহীত 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/holi.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 আজ হোলি খেলব শ্যাম তোমার সনে 💗 একলা পেয়েছি তোমায় নিধুবনে 🙇 সংগৃহীত 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/holi.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
আজ হোলি খেলব শ্যাম তোমার সনে
একলা পেয়েছি তোমায় নিধুবনে ।
আজ হোলি খেলবো চরণে দলবো
কুমকুম মারিব তোমার রাঙা চরণে
একলা পেয়েছি তোমায় নিধুবনে ।
শুন ওহে বনমালী ভাঙব তোমার চতুরালী
কুমকুম মারিব তোমার রাঙা চরণে
একলা পেয়েছি তোমায় নিধুবনে ।
একলা পেয়েছি হেথা পালিয়ে যাবে কোথা?
লালে লাল করিব অঙ্গ নিরজনে
কুমকুম মারিব তোমার রাঙা চরণে ।
রঙে রঙে পিচকারী রেখেছি ও বংশীধারী
বারেক দাঁড়াও না হেসে ও চাঁদ বদনে ,
একলা পেয়েছি তোমায় নিধুবনে ।
আজ হোলি খেলব শ্যাম তোমার সনে
একলা পেয়েছি তোমায় নিধুবনে ।।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

আজ হোলি খেলবো শ্যাম তোমার সনে

একলা পেয়েছি তোমায় নিধুবনে (২)


আজ হোলি খেলবো চরণে দলবো (২)

কুমকুম মারিবো তোমার রাঙা চরণে (২)


শোনো ওহে বনমালী ভাঙবো তোমার চতুরালি (২)

কুমকুম মারিবো তোমার রাঙা চরণে (২)

একলা পেয়েছি তোমায় নিধুবনে


আজ হোলি খেলবো শ্যাম তোমার সনে।

একলা পেয়েছি হেথা পালিয়ে যাবে কোথা (২)

লালে লাল করব অঙ্গ নির্জনে

কুমকুম মারিবো তোমার রাঙা চরণে।

রঙে রঙে পিচকারী’ রেখেছিল ও বংশীধারী (২)

বারেক দাঁড়াও না হেসে ও চাঁদ বদনে (২)

একলা পেয়েছি তোমায় নিধুবনে

আজ হোলি খেলবো শ্যাম তোমার সনে।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
     ꧁👇📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧



শ্রীনিত্যানন্দতত্ত্ব 🌷 শ্রীস্বরূপ দামোদর গোস্বামী কড়চা হইতে ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/nityananda.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীনিত্যানন্দতত্ত্ব 🌷 শ্রীস্বরূপ দামোদর গোস্বামী কড়চা হইতে ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/nityananda.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







বাঁশবাড়ী নবরাত্রি লীলা সঙ্কীর্তন মহাযজ্ঞোৎসবের ১৪৩১ সনের কীর্তনীয়াগণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/bansbari.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 বাঁশবাড়ী নবরাত্রি লীলা সঙ্কীর্তন মহাযজ্ঞোৎসবের ১৪৩১ সনের কীর্তনীয়াগণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/bansbari.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*বাঁশবাড়ী নবরাত্রি লীলা সঙ্কীর্তন মহাযজ্ঞোৎসবের ১৪৩১ সনের কীর্তনীয়াগণ।*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌻নয়দিন আছেন কীর্তনীয়াগণ*
       °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌻নয়দিন নয়রাত কেবল পদাবলী কীর্তন পরিবেশন।*

*চক্ষুদান দিল যেই,জন্মে জন্মে প্রভু সেই,*
          *দিব‍্য-জ্ঞান হৃদে প্রকাশিত।*
*প্রেমভক্তি যাঁহা হৈতে,অবিদ‍্যা বিনাশ যাতে,*
          *বেদে গায় যাঁহার চরিত।।*
*🌻চক্ষুদান দিল যেই=যিনি বিষয়াসক্তি-রূপ অজ্ঞান-অন্ধকার ঘুচিয়ে হৃদয়ে শ্রীকৃষ্ণসেবা লাভ-আকাঙ্খা-রূপ জ্ঞান-আলো প্রদান করলেন।*
*🌻দিব‍্য-জ্ঞান=শ্রীকৃষ্ণ-ভজনই যে একমাত্র অবশ্য কর্তব‍্য এই মহাজ্ঞান।*
*🌻প্রেমভক্তি=শ্রীকৃষ্ণে পরমা প্রীতি বা ঐকান্তিক ভালবাসার নাম প্রেমভক্তি ;প্রেমভক্তির অন‍্য নাম প্রেম।অন‍্য সবরকম বাসনা, এমন কি মোক্ষ-লাভের বাসনা পর্যন্তও পরিত‍্যাগ করে এবং যাগ, যোগ, তপস‍্যা,দান,ধ‍্যান,ব্রত,জ্ঞান বা কর্মাদি অন‍্য সবরকম পথ ও অন‍্য সমস্ত দেব-দেবীর পূজাদি পরিহার করে,একমাত্র শ্রীকৃষ্ণ-পাদপদ্মে একান্তভাবে আশ্রয় করে, শ্রীকৃষ্ণে নিরতিশয় বা অত‍্যন্ত মমতাপন্ন হয়ে,সুনির্মল ও প্রগাঢ়-অনুরাগ-সহকারে নিষ্কাম ও একান্তভাবে শ্রীকৃষ্ণ-ভজন করবার জন্য যে অনুত্তমা ভক্তি,তার নাম শুদ্ধভক্তি।এবম্বিধ (এইরকম) শুদ্ধভক্তির সঙ্গে ভজন করতে করতে কালক্রমে প্রেমভক্তি বা প্রেম লাভ হয়ে থাকে।*
*🌻স্বরূপ-জ্ঞানের অভাবের নাম অবিদ‍্যা অর্থ‍্যাৎ যদ্দ্বারা সত‍্যে মিথ‍্যা-বুদ্ধি ও মিথ‍্যায় সত‍্য-বুদ্ধি হয়,তাইই হল অবিদ‍্যা।এই অবিদ‍্যার কাজ হচ্ছে নিত‍্য ও সত‍্য বস্তু শ্রীভগবানের মমতার অভাব জন্মিয়ে সংসার-রূপ অনিত‍্য ও মিথ‍্যা বস্তুতে আসক্তি আনিয়ে দেয়।*
*🙏জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরিবল 🙌🙌🙌*

*🌻বংশীশিক্ষা নামক গ্রন্থে "পঞ্চভাব" সম্বন্ধে শ্লোক পাওয়া যায়।*
*🌷শান্ত তামা দাস‍্য কাঁসা সখ‍্য রূপা গণি।*
*🌷বাৎসল‍্য সোনা শৃঙ্গার রত্নচিন্তামণি।।*
*🌻উক্ত বংশীশিক্ষা গ্রন্থে মহাপ্রভু এই পঞ্চভাব সম্বন্ধে বংশীবদনকে বলছেন-----*
*🌷মাত্র করমের ফলে তামা লাভ হয়।*
*🌷জ্ঞানের ফলেতে কাঁসা লাভ সুনিশ্চয়।।*
*🌷কর্মমিশ্র ভক্তি ফলে রূপা লাভ জানি।*
*🌷জ্ঞানমিশ্রভক্তি ফলে সোনা লাভ মানি।।*
*🌷সুবিশুদ্ধা ভক্তি প্রেম পিরীতের ফলে।*
*🌷রত্ন চিন্তামণি লাভ মহাজনে বলে।।*
*🌻এই ভাব,ভক্তি,প্রেম ও কৃষ্ণৈকশরণতা ছাড়া কৃষ্ণ লাভের কোন উপায়ই নাই। ভগবানের জন্য প্রহ্লাদ,পরশুরাম,বিভীষণ,ভরত,শুকদেব এবং গোপীগণ গুরু-আজ্ঞা পর্যন্ত লঙ্ঘন করেছিলেন।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/name4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/name3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/name4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/name4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩১)🐚শ্রীশ্রীনাম--মাধুরী🐚*
               *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🌷হরিভক্তি-মহাদেব‍্যাঃ সর্বমুক্ত‍্যাদিসিদ্ধয়ঃ।*
*🌷ভুক্তয়শ্চাদ্ভুতাস্তস‍্যাশ্চেষ্টিকাবদনুব্রতাঃ।।*

*(২)শ্রীপাদ শ্রীধর স্বামী বলেন---*

*🌷জ্ঞানমস্তি তুলিতং তুলায়াম্,*
*🌷প্রেম নৈব তুলিতং তু তুলায়াম্।*
*🌷সিদ্ধিরেব তুলিতাত্র তুলায়াম্,*
*🌷 কৃষ্ণ-নাম তুলিতং ন তুলায়াম্।।*

*🌻জ্ঞান তৌল-যন্ত্রে বা দাড়িপাল্লায় তুলিত হতে পারে, বা জ্ঞান দাড়িপাল্লায় ওজন করা যেতে পারে, কিন্তু প্রেমকে ওজন করা যেতে পারে না,সিদ্ধিকে ওজন করা যেতে পারে, কিন্তু কৃষ্ণ নাম দাড়িপাল্লায় ওজন করা যেতে পারে না।সত‍্যভামার যজ্ঞ দক্ষিণাদানে দেখা গিয়েছিল স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ অপেক্ষাও তুলসী পত্রে লিখিত কৃষ্ণনাম অধিকতর ভারী হয়ে দাড়িপাল্লার পাত্র মাটিতে ঠেকে গিয়েছিল।*
*🍀এর তাৎপর্য‍্য এই যে জ্ঞান উপাধি নিবর্তক বা নিবারক ও মোক্ষ দায়ক সাধন-ভক্তির প্রারম্ভেই সমস্ত উপাধি বিনষ্ট হয়, অন‍্য অভিলাষিতা দূরীভূত হয়,চিত্ত শক্তি লাভ করে, ব্রহ্মজ্ঞানজনিত মোক্ষ সহজে সাধন-ভক্তির প্রভাবে সাধকের সমায়াত্ত হয়। কিন্তু শ্রীভগবান স্বয়ং বলেছেন--*
*🌷সালোক‍্য সার্ষ্ট সারূপ‍্য সামীপ‍্যৈকত্বমপ‍্যুত।*
*🌷দীয়মানং ন গৃহ্নতি বিনামৎসেবনং জনাঃ।।*

*🌻মোক্ষ হতে যে ভগবদ্ সেবা অনেক বেশী বাঞ্জনীয় এতে তাইই সপ্রমাণ হল। কিন্তু প্রেমের তুলনা হয় না।শ্রীমদ্ভাগবতে ভগবদ্ উক্তি এই যে--*

*🌷নায়ং সুখাপো ভগবান্ দেহিনাং গোপিকাসুতঃ।*
*🌷জ্ঞানিনাঞ্চাত্মভূতানাং যথা ভক্তিমতামিহ।।*

*🌻গোপীজপবল্লভ শ্রীকৃষ্ণ ভক্তজনের পক্ষে যেরকম সুখপ্রদ বি সুখকর,আত্মভূত জ্ঞানীদের পক্ষে তাদৃশ বা তেমন আনন্দজনক নন। অর্থ‍্যাৎ জ্ঞানে তেমন আনন্দ অনুভব হয় না,প্রেম-ভক্তিতে যেরকম আনন্দ হয়।*

*🌹একাদশ স্কন্ধে জায়ন্তের উপাখ‍্যানে লেখা আছে ----*

*🌷বিসৃজতি হৃদয়ং ন যস‍্য সাক্ষাৎ।*
*🌷হরিরবশাভিহিতো হপ‍্যঘৌঘনাশঃ।।*
*🌷প্রণয়-রসনয়া ধৃতাঙ্ঘ্রি পদ্মঃ।*
*🌷স ভবতি ভাগবত প্রধান উক্তঃ।।*

*🌻অবশে অভিহিত হলেও যিনি সাধকের সমস্ত পাপ বিনষ্ট করেন, এতাদৃশ বা এমন হরির শ্রীপাদপদ্ম যিনি প্রেমরজ্জুতে হৃদয়ে আবদ্ধ করেছেন এবং যাঁর হৃদয় হতে শ্রীহরি কখনও দূরীভূত হন না,তাঁকে ভাগবত প্রধান বলে জানবে।*
*🍀প্রেমের ভগবদ্ বশীকারিণী শক্তি ভক্তি-শাস্ত্রে বহু জায়গায় আলোচিত হয়েছে। সুতরাং জ্ঞান বা জ্ঞান-ফল মুক্তির সঙ্গে ভক্তির তুলনায় হয় না।প্রেম-ভক্তির সঙ্গে কারও তুলনা হয় না।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/name4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩২)🐚🐚শ্রীশ্রীনাম মাধুরী🐚🐚*
                     *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*
*🍀শ্রীমদ্ভাগবতে একাদশ স্কন্ধে লিখিত হয়েছে--------*
*🌷যৎকর্ম্মভি র্যৎতপসা জ্ঞান-বৈরাগ‍্যতশ্চ যৎ।*
*🌷যোগেন দানধর্ম্মেন শ্রেয়োভিরিতরৈরপি।।*
*🌷সর্ব্বং মদ্ভক্তিযোগেন মদ্ভক্তো লভতেহঞ্জসা।*
*🌷স্বর্গাপবর্গং মদ্ধাম কথঞ্চিদ্ যদি বাঞ্জতি।।*
*🌹অপিচ বা আরও*
       °°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌷ন পারমেষ্ঠ‍্যং ন মহেন্দ্রধিষ্ণ‍্যং।*
*🌷 ন সার্ব্বভৌমং ন রসাধিপত‍্যম্।।*
*🌷ন যোগ-সিদ্ধিরপুনর্ভবং বা।*
*🌷 ময‍্যর্পিতাত্মেচ্ছতি মদ্বিনান‍্যৎ।।*
*🔵যিনি আমাতে আত্মসমর্পণ করেছেন,---ব্রহ্মপদ,মহেন্দ্রপদ, সার্বভৌমত্ব,পাতালাধিপত‍্য, যোগসিদ্ধি বা ব্রহ্মনির্বাণ এতৎ বা এই সকলই তাঁর সমক্ষে অতি তুচ্ছ।*
*🌹শ্রীভাগবতে ষষ্ঠে পাওয়া যায়--*
*🌷বাসুদেব ভগবতি ভক্তিমুদ্বহতাং নৃণাং।*
*🌷জ্ঞানবৈরাগ‍্য-বীর্য‍্যানাং নেহ কশ্চিদ্ব‍্যপাশ্রয়ঃ।।*
*🌻শ্রীভগবান বাসুদেবে যাঁরা ভক্তি বহন করেন,জ্ঞান,বৈরাগ‍্য,বীর্য‍্য প্রভৃতি ভগবত্তার জন্য তাঁরা লালায়িত নন।*
*🌹বিষ্ণুপুরাণে প্রহ্লাদের উক্তি এই যে-------*
*🌷ধর্ম্মার্থকামৈঃ কিং তস‍্য মুক্তিস্তস‍্য করে স্থিতা।*
*🌷সমস্তজগতাং মূলে যস‍্য ভক্তিঃ স্থিতা ত্বয়ি।।*
*🌻নিখিল বা সমস্ত জগতের মূলস্বরূপ আপনাতে যাঁদের ভক্তি অর্পিত হয়েছে,তাঁদের পক্ষে ধর্ম ও অর্থ কামের কোনও প্রয়োজন নাই।মুক্তি তো তাঁদের করস্থিতা বা হাতের মুঠোই।*
     *🌷ভক্তি যোগই পরম ধর্ম।*
           °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌹স্মৃতাদি উক্ত ধর্ম বটে কিন্তু পরম ধর্ম নয়। শ্রীভাগবত বলেন---*
*🌷স বৈ পুংসাং পরো ধর্মো যতো ভক্তিরধোহক্ষজে।*
*🌷অহৈতুক‍্যপ্রতিহতা যয়াত্মা সুপ্রসীদতি।।*
*🌻যাঁর নামে,যাঁর চিন্তনে ও অনুধ‍্যানে জাগতিক নিখিল ইন্দ্রিয় গ্রাহ‍্য পদার্থ তুচ্ছ হয়ে পড়ে,তিনি অধোক্ষজ।যে সব ধর্ম করলে এই অধোক্ষজ বা সর্বশ্রেষ্ঠ শ্রীকৃষ্ণে অহৈতুকী ও অপ্রতিহতা (বাধাহীন) ভক্তির উদয় হয়,তাহাই পরম ধর্ম।কেন না তাদৃশ বা তেমন ভক্তি দ্বারাই আত্মা প্রসন্নতা পেয়ে থাকেন।সেই সব কর্মও ভক্ত‍্যঙ্গ কর্ম, সুতরাং উহারা ভক্তি-যোগ। শ্রীভাগবতে ষষ্ঠ অধ‍্যায়ে উক্ত হয়েছে-----*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/name4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৩)🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚🐚*
               *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🌹শ্রীমদ্ভাগবতে ষষ্ঠ অধ‍্যায়ে উক্ত হয়েছে ----*

*🌷এতাবানেব লোকেহস্মিন্ পুংসাং ধর্মঃ পর স্মৃতঃ।*
*🌷ভক্তি-যোগে ভগবতি তন্নাম-গ্রহণাদিভিঃ।।*

*🌻এই লোকজনগণের এটিই পরম ধর্ম,-- তাঁর নাম গ্রহণাদি দ্বারা তাঁতে ভক্তিযোগ-স্থাপন।শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামী শ্রীহরিভক্তিবিলাসধৃত এই শ্লোকের টীকায় লিখেছেন---*

*🌷তস‍্য ভগবতো নাম গ্রহণাদিভিরতো ভক্তের্নাম গ্রহণ প্রধানতাভিপ্রেতা।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ নাম গ্রহণেই ভক্তির প্রধানতা এটিই অভিপ্রেত।*

*🌷অংহসংহরদখিলং সকৃদুয়াদেব সকললোকস‍্য,*
*🌷তরণিরিব তিমিরজলধিং জয়তি জগন্মঙ্গলং হরের্নাম।*

*🌻সূর্য‍্যদেব উদিত হয়ে যেমন অন্ধকার-রাশি বিনাশ করেন,তেমনি শ্রীহরির নাম-উচ্চারণে নিখিল বা সমস্ত পাপ রাশি বিনষ্ট হয়। এই শ্রীহরি নামের জয় হোক।*

*🌹এই পদ‍্যটি শ্রীপাদ শ্রীধর স্বামী-কৃত। কিন্তু কলকাতার প্রকাশিত একটি ক্ষুদ্র আয়তন পদ‍্যবলীতে এই শ্লোকটি শ্রীলক্ষ্মীধর কৃত বলে প্রকাশিত হয়েছে।হরিনাম যে কেবল পাপহারি তা নয়,যিনি নাম উচ্চারণ করেন,তাঁর মঙ্গল হয়,যাঁরা শ্রবণ করেন,তাঁদেরও মঙ্গল হয়। শ্রীনাম উচ্চারণ শব্দজনিত বায়ুতে যে বিকম্পন-তরঙ্গ (Vibrations) উপস্থিত হয়,তাতে জগতের মঙ্গল সাধিত হয়। এইজন‍্য নাম,--পরম স্বস্ত‍্যয়ন(আপদশান্তি পাপমোচন অভীষ্টলাভ)।ওলাউঠা প্রভৃতি জনপদ-ধ্বংসকর মহামারী উপস্থিত হলে কেবল শ্রীনাম কীর্তন দ্বারাই সেই মহা-উপদ্রব প্রশান্ত হয়ে থাকে, এটি অনেকেই প্রত‍্যক্ষ করেছেন ; সুতরাং "জয়তি জগন্মঙ্গলং হরের্নাম" এটি অতি সত‍্য কথা।এই পদ‍্যটি শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে শ্রীপাদ হরিদাসের শ্রীমুখে ঊক্ত ও ব‍্যাখ‍্যাত হয়েছে।*
*🌷কেহ বলে নাম হৈতে হয় পাপ নাশ।*
*🌷কেহ বলে নাম হৈতে জীবের মোক্ষ হয়।।*
*🌷হরিদাস কহে নামের এই দুই ফল নহে।*
*🌷নামের ফলে কৃষ্ণপদে প্রেম উপজয়ে।।*
*🌷আনুসাঙ্গিক ফল নামের মুক্তি, পাপনাশ।*
*🌷 তাহার দৃষ্টান্ত যৈছে সূর্য‍্যের প্রকাশ।।*
*🌷হরিদাস কহে যৈছে সূর্য‍্যের উদয়।*
*🌷উদয় না হতে,আরম্ভে তমের হয় ক্ষয়।।*
*🌷চোর প্রেত রাক্ষসাদির হয় ভয় নাশ।*
*🌷উদয় হৈলে ধর্ম কর্ম আদি পরকাশ।।*
*🌷ঐছে নমোদয়ারম্ভে পাপ আদি ক্ষয়।*
*🌷উদয় কৈলে কৃষ্ণপদে হয় প্রেমোদয়।।*
*🌷মুক্তি তুচ্ছ ফল হয় নামাভাস হৈতে।*
*🌷যেই মুক্তি না লয়,সে কৃষ্ণ চাহে দিতে।।*
*🌻অজ্ঞাত নামা জনৈক ভক্তের একটি পদ‍্য এই-----*
*🌷চতুর্ণাং বেদানাং হৃদয়মিদ মাকৃষ‍্য হরিণা।*
*🌷চতুর্ভির্যদ্বর্ণৈঃ স্ফুটমঘটি নারায়ণ-পদম্।।*
*🌷তদেতদ্ গায়ন্তো বয়মনিশ মাত্মানমধুনা।*
*🌷পুণীমো জানীমো ন পরিতোষায় কিমপি।।*
*🌻বেদকর্তা হরি চতুর্বেদের হৃদয় আকর্ষণ করে চারটি বর্ণে "নারায়ণ" এই পদটি রচিত করেছেন। জগৎ নিস্তারের জন্যই এই নাম প্রকাশিত হয়েছে।আমরা অধুনা বা বতর্মান সতত এই নাম কীর্তন করে আত্মশোধন করব।এছাড়াও হরি পরিতোষণের জন্য যে আর কি আছে তা জানি না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙌🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/name4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৪)🐚🐚শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী🐚*
                    *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🍀শ্রীকৃষ্ণনামে রুচিশীল ব‍্যক্তিদের পক্ষে মুক্তি অপেক্ষাও ভগবানের নাম-রস-পানের সুখাধিক‍্য বেশী, তৎ প্রদর্শনের জন্য শ্রীমৎ ঈশ্বরপুরীকৃত একটি পদ‍্য উদ্ধৃত হয়েছে। যথা--*
*🌷যোগশ্রুত‍্যপপত্তি-নির্জনবন ধ‍্যানাধ্বসম্ভাবিত,*
*🌷স্বারাজ‍্যং প্রতিপাদ‍্য নির্ভয়মমী মুক্তা ভবন্তু দ্বিজাঃ।*
*🌷অস্মাকন্তু কদম্ব-কুঞ্জ-কুহুর প্রোন্মীলদিন্দীবর,*
*🌷শ্রেণী-শ‍্যামলধাম-নাম-জুযতাং জন্মাস্তু লক্ষাবধি।।*
*🌻বর্ণাশ্রম-ধর্ম-নিরত দ্বিজগণ ধ‍্যান-ধারণাদি যোগাঙ্গের অনুষ্ঠান,শ্রুতির অনুশীলন, নির্জন বনে চিত্তের একাগ্রতার জন্য ধ‍্যান,তীর্থ-পর্য‍্যটনাদি দ্বারা সম্ভাবিত নির্ভয় স্বারাজ‍্য লাভ করে মুক্ত হতে যদি বাসনা করেন,তাঁরা তা করুন। কিন্তু আমরা কদম্ব-কুঞ্জ-মধ‍্যবর্তী নববিকশিত ইন্দীবর-শ্রেণী-শ‍্যামল শ‍্যামসুন্দরের নাম-গান-সুখে মগ্ন হয়ে যেন লক্ষ জন্ম যাপন করতে পারি।*
*🔵আর কোনও অজ্ঞাতনামা ব‍্যক্তিকৃত একটি নাম মাহাত্ম্যসূচক পদ‍্য উদ্ধৃত হয়েছে,যথা----*
*🌷কল‍্যানাণাং নিধানং কলিমল-মথনং পাবনং পাবনাং,*
*🌷পাথেয়ং যন্ মুমুক্ষোঃ সপদি পরপদ-প্রাপ্তয়ে প্রোচ‍্যমানম্,*
*🌷বিশ্রাম-স্থানমেকং কবিবর-বচসাং জীবনং সজ্জনানাং,*
*🌷বীজং ধর্মদ্রুমস‍্য প্রভবতু ভবতাং ভূতয়ে কৃষ্ণ-নাম।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণ-নাম সমস্ত কল‍্যাণের ভান্ডার,কলিকাল-জনিত পাপরাশির বিনাশক, পবিত্রতাকর উপায় বা বস্তু গুলি হতেও অত‍্যন্ত পবিত্রতম।যাঁরা মুক্তি কামনা করেন,তাঁদের পরমপদ প্রাপ্তির পাথেয়-স্বরূপ,নারদ,ব‍্যাস, শুকাদি প্রেমিক ভক্তগণের কথার বিশ্রাম জায়গা, সাধু ভক্তগণের জীবন তুল‍্য এবং ধর্ম বৃক্ষেরবীজ স্বরূপ, হে ভক্তগণ এইরকম কৃষ্ণ-নাম আপনাদের মঙ্গলজনক হোক।শ্রীকৃষ্ণ-নাম যে শ্রীকৃষ্ণবৎ সর্বগুণাশ্রয়, এই পদ‍্যে তাহাই ব‍্যক্ত করা হয়েছে।*
*🛑অতঃপরে অজ্ঞাতনামা কোন কবিকৃত একটি পদ‍্য, যথা---*

*🌷বেপন্তে দুরিতানি মোহমহিমা সন্দোহমালম্বতে,*
*🌷সাতঙ্কং নখরঞ্জনীং কলয়তি শ্রীচিত্রগুপ্তকৃতী,*
*🌷সানন্দং মধুপর্ক-সংভৃতিবিধৌ বেধাঃ করোত‍্যোদমং,*
*🌷বক্তুং নাম্নি তবেশ্বরাভিলষিতে ব্রূমঃ কিমন‍্যৎ পরম্।*
*🌹হে ঈশ্বর! তোমার নাম-কীর্তন করবার জন্য অভিলাষ বা বিসনা করলে পাপ সব কম্পিত হয়,মোহ-মহিমা বিমূর্ছিত হয়,সুনিপুণ চিত্রগুপ্ত শঙ্কিত হয়ে পূর্ব লিখিত পাপীদের তালিকা হতে নাম গ্রহণকারী পাপীর নাম নরুন দ্বারা তুলে ফেলতে ব‍্যতিব‍্যস্ত হন।তাঁর সশঙ্ক হওয়ার উদ্দেশ্য এই যে,বিলম্ব হলে ধর্মরাজ অসন্তুষ্ট হবেন।যে ব‍্যক্তি ভগবানের নাম গ্রহণ করছে পাপীশ্রেণীতে তাঁর নাম থাকা মহাদোষ।নাম উচ্চারণকারী ব‍্যক্তি বৈকুন্ঠ গমন করবেন, এই মনে করে বিধাতা আনন্দ সহকারে তাঁর সাদর অভ‍্যর্থনার জন্য মধুপর্ক ধারণ করেন,শ্রীনাম গ্রহণের যে কি মাহা, তা কেই বা জানে আর কেই বা বলতে পারে?*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/name4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৫)🐚🐚শ্রীশ্রীনাম--মাধুরী🐚*
                    *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🌹নাম মাহাত্ম্যসূচক নিচে লেখা পদ‍্যটি আনন্দাচার্য‍্য কৃত-----*

*🌷কঃ পরেত-নগরী-পুরন্দরঃ,*
*🌷কোভবেদথ তদীয় কিঙ্করঃ,*
*🌷কৃষ্ণ নাম জগদেকমঙ্গলম্,*
*🌷কন্ঠ-পীঠমুররীকরোতি চেৎ।*

*🌻জগতের একমাত্র মঙ্গলস্বরূপ কৃষ্ণ-নাম যদি কন্ঠপীঠক অধিকার করেন, অর্থ‍্যাৎ নর-নারীগণের কন্ঠ পীঠে বসে থাকেন, তাহলে প্রেতপুর পুরন্দরের আর অধিকার থাকে কোথায়?◆যদি প্রত‍্যেক নর-নারীগণের মুখে ও পীঠে বা বেদিতে কৃষ্ণনাম হতে থাকে,তাহলে যমালয়ের যমকর্তার অধিকার থাকে কি করে, শ্রীনাম করলে তো আর পাপ ও অপরাধ হতে মুক্ত হয়ে বৈকুন্ঠে গমন করবে, এটিই বলতে চেয়েছেন। কেই বা তাঁর কিঙ্কর হয়?*
*🍀অতঃপরে শ্রীশ্রীকৃষ্ণ চৈতন‍্যদেব মহাপ্রভু কৃত চেতোদর্পণ মার্জন ইত্যাদি পদ‍্য উদ্ধৃত হয়েছে।শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীমুখ-নির্গলিত বা নিঃসৃত নাম মাহাত্ম্য সম্বন্ধীয় উপদেশগুলি এই পদ‍্য এবং "নাম্নামকারি বহুতা" পদ‍্য উদ্ধৃত ও ব‍্যাখ‍্যাত হবে।*
*🍁অজ্ঞাতনামা অন‍্য কোন কবির কৃত আর একটি পদ‍্য যথা----*

*🌷ব্রহ্মান্ডানাং কোটিসংখ‍্যাধিকানাং,*
*🌷ঐশ্বৈর্য‍্যং যচ্চেতনা বা তদংশঃ,*
*🌷আবির্ভূতং তন্মহঃ কৃষ্ণ-নাম,*
*🌷তন্মে সাধ‍্যং সাধনং জীবনঞ্চ।*

*🌻অপরিমিত (সীমা-সংখ‍্যা নেই এমন) ব্রহ্মান্ড সম্বন্ধীয় সমস্ত ঐশ্বর্য‍্য এবং সমস্ত চেতন পদার্থ যাঁর অংশ, সেই মহামহিম শ্রীকৃষ্ণ নামই আমার সাধ‍্য, আমার সাধন ও আমার জীবন।নাম ও নামী অভিন্ন। এখানে শ্রীনামের পরম ব্রহ্ম স্বরূপত্ব প্রদর্শিত হয়েছে।ভক্ত যখন বলেন শ্রীকৃষ্ণ নামই আমার সাধ‍্য,(সাধনারবস্তু), শ্রীকৃষ্ণ নামই আমার সাধন, তখন বুঝতে হবে এই শ্রীনামব্রহ্ম সাধন দ্বারা সাধ‍্যবস্তু ও উপলব্ধ হয়, কেবল তাইই না, তিনি আরও বলেন এই শ্রীকৃষ্ণ নামই আমার জীবন, আমি নাম ছাড়া এক মুহূর্তও জীবন ধারণ করতেপারি না।নামে ও প্রাণে যতক্ষণ দৃঢ়ভাবে মেশামেশি ও মাখামাখি না হয়,ততক্ষণ এইরকম কথা বলা সম্ভবপর হয় না।*
*🌹শ্রীমদ্ভগবদ্ব‍্যাস বর্ণিত একটি পদ‍্য এই---*

*🌷বিষ্ণোর্নামৈব পুংসাং শমলমপহরৎ পুণ‍্যমুৎপাদয়চ্চ,*
*🌷ব্রহ্মাদিস্থানভোগাদ্ বিরতিমথগুরোঃ শ্রীপদদ্বন্দ্ব-ভক্তিম্।*
*🌷তত্ত্বজ্ঞানঞ্চ বিষ্ণোরিহ স্মৃতিজনন-ভ্রান্তি-বীজঞ্চ দগ্ধ্বা,*
*🌷সম্পূর্ণানন্দবোধে মহতি চ পুরুষে স্থাপয়িত্বা নিবৃত্তিম্।।*

*🌻শ্রীভগবানের নাম কেবল যে পাপ হরণ করেন তা নয়, কিন্তু পুণ‍্য উৎপাদন বা সৃষ্টি করেন, (এখানে পুণ‍্য শব্দের অর্থ শ্রীকৃষ্ণ-কৃপা-জনিত পুণ‍্য)।শ্রীচরিতামৃতে লিখিত আছে-- "সুকৃতি শব্দের অর্থ কৃষ্ণ কৃপাহেতু পুণ‍্য", সুতরাং শ্রীনাম যে পুণ‍্য দান করেন তা সাধারণ পুণ‍্য না, শ্রীকৃষ্ণ কৃপা হেতু পুণ‍্যই তাঁর শ্রীনাম-সাধকের লাভ)।শ্রীনাম সাধকের ব্রহ্মাদি ভোগ‍্য পদার্থেও বিরতি উপস্থিত হয়, অর্থ‍্যাৎ যাঁরা শ্রীকৃষ্ণনাম করেন, তাঁরা ব্রহ্মলোক পাওয়ার আশা করেন না।শ্রীগুরুর পাদপদ্ম যুগলে ভক্তি উৎপন্ন করে।গুরু ভক্তির মহামহিমা সর্বত্রই সুপ্রসিদ্ধ। শাস্ত্র বলেন---*

*🌷যস‍্য দেবে চ মন্ত্রে চ গুরৌ ত্রিষ্বপি নিশ্চলা।*
*🌷ন ব‍্যবচ্ছিদ‍্যতে বুদ্ধি স্তস‍্য সিদ্ধিরদূরতঃ।।*

*🌻দেবতায়, মন্ত্রে ও গুরুতে যাঁর বুদ্ধি নিশ্চলা বা স্থির ভাবে বিদ‍্যমান থাকে,তাঁর সিদ্ধি অতি নিকটবর্তিনী। শ্রীনাম সাধনে তত্ত্বজ্ঞান প্রকট হয়,জন্ম মৃত‍্যুরূপ সংসার ভ্রমণের বীজ অবিদ‍্যা দগ্ধ হয়, অখন্ড সচ্চিদানন্দ শ্রীভগবানের শ্রীপাদপদ্মে প্রেমময় দাস‍্যে নাম-সাধক পুরুষকে সমর্পিত করে শ্রীনাম অন‍্য করণীয় কার্য‍্যাভাবে নিবৃত্ত হয়ে থাকেন। মোক্ষাবস্থাতেও নাম সংকীর্তনের প্রচলন ও প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।*
*🌺শ্রীবেদব‍্যাসের এই পদ‍্যটি শ্রীনাম মাহাত্ম্য সম্বন্ধে অতি প্রয়োজনীয়।শ্রীনাম-সাধনার মহামহাত্ম‍্য এই পদ‍্যে অতি সুনির্বাচিত বাক‍্যে বলা হয়েছে এতে যে সব প্রয়োজনীয় কথা বলা হয়েছে,তারমধ‍্যে একটি বিশেষ কথা এই যে শ্রীনাম সাধনে শ্রীগুরুপাদপদ্মে ভক্তির উদয় হয়। ফলে গুরুভক্তের পক্ষে সিদ্ধি যে অতি নিকট-বর্তিনী শাস্ত্রকার স্পষ্টভাবেই তা বলেছেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/name4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৬)🐚🐚শ্রীশ্রীনাম--মাধুরী🐚*
                    *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🌹গুরুভক্তি সামান্য আলোচনা করব।শ্রীহরিভক্তবিলাস ধৃত শাস্ত্রীয় কথাগুলির সামান্য আলোচনা করলেই এখানকার প্রয়োজন সিদ্ধি হবে।গুরু পদাশ্রয় ও গুরুসেবা সাধনার প্রথম সিঁড়ি। স্বয়ং ভগবান শ্রীভগবদগীতায় স্পষ্টভাবেই বলেছেন-- "তদবিদ্ধি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া"। গুরুসেবা ছাড়া তত্ত্বজ্ঞান পরিস্ফুট বা স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয় না।কূর্ম্মপুরাণে ব‍্যাসগীতায় লিখিত হয়েছে,----*
*🌷উদকুম্ভং কুশান্ পুষ্পং সমিধোহস‍্যাহরেৎ সদা।*
*🌷মার্জ্জন লেপনং নিত‍্যমঙ্গানাং বাসসাং চরেৎ।।*
*🌷নাস‍্য নির্ম্মাল‍্য-শয়নং পাদুকোপানহাবপি।*
*🌷আক্রমেদাসনং ছায়া মাসন্দীং বা কদাচন।।*
*🌷সাধয়েদ্দন্তকাষ্ঠাদীন্ কৃত‍্যং চাস্মৈ নিবেদয়েৎ।*
*🌷অনাপৃচ্ছ‍্য ন গন্তব‍্যং ভবেৎ প্রিয়হিতে রতঃ।।*
*🌷ন পাদসাবয়েদস‍্য সন্নিধানে কদাচন।*
*🌷জৃম্ভাহাস‍্যাদিকঞ্চৈব কন্ঠ-প্রাবরণং তথা।*
*🌷বর্জ্জয়েৎ সন্নিধৌ নিত‍্য মথাস্ফোটনমেবচ।।*

*🌻অর্থ‍্যাৎ শ্রীগুরুর জলকুম্ভ,কুশ, কুসুম ও সমিধ বা হোমের কাষ্ঠ আহরণ করবে।সর্বদা অঙ্গের ও বস্ত্রের মার্জনা করবে।শ্রীগুরুর নির্মাল‍্য,শয‍্যা,কাষ্ঠ পাদুকা বা চর্মপাদুকা,আসন শয‍্যা,ভোজন পাত্রাধার,ত্রিপদিকা কখনও লঙ্ঘন করবে না।গুরুদেবের জন্য দন্ত কাষ্ঠাদি আহরণ করবে এবং স্বকৃত কর্ম সব তাঁর কাছে নিবেদন করবে।গুরুর অনুমতি না নিয়ে কখনও কোথাও গমন করবে না।গুরুদেবের প্রিয় ও হিত-অনুষ্ঠানে রত থাকবে। তাঁর ষামধে কখনও পা ছড়িয়ে বসবে না।তাঁর সামনে জৃম্ভণ (হাইতোলা)হাসাহাসি ও উচ্চৈঃস্বরে কথা বলবে না।উত্তরীয় বস্ত্র দিয়ে কন্ঠাবরণ ও অঙ্গুলী নাচানাচি করবে না।*
*🌹দেব‍্যাগমে লিখিত আছে----*
*🌷গুরোরগ্রে পৃথক্ পৃজামদ্বৈতঞ্চ পরিত‍্যজেৎ।*
*🌷দীক্ষাং ব‍্যাখ‍্যাং প্রভুত্বঞ্চ গুরোরগ্রে বিবর্জ্জেয়েৎ।।*
*🌻গুরুর সামনে আলাদা করে কোন পূজা,অদ্বৈতবাদোক্তি, দীক্ষা ব‍্যাখ‍্যা ও প্রভুত্ব সর্বথা পরিত‍্যাগ করবে, এটি শিব বাক‍্য। উক্ত আগমে শ্রীনারদ উক্তি এই যে-----*
*🌷যত্র যত্র গুরুং পশ‍্যেৎ তত্র তত্র কৃতাঞ্জলিঃ।*
*🌷প্রণমেৎ দন্ডবদ্ ভূমৌ চ্ছিন্নমূল ইব দ্রুমঃ।।*
*🌷গুরোর্বাক‍্য‍াসনং যানং পাদুকোপানহৌ তথা।*
*🌷বস্ত্রচ্ছায়াং তথা শিষ‍্যো লঙ্ঘয়েন্ন কদাচন।।*
*🌻যে যে জায়গায় গুরুদর্শন হবে, সেই সেই জায়গায় ছিন্নমূল গাছের মত করজোড়ে ভূতলে দন্ডবৎ প্রণাম করবে।শিষ‍্য কোন সময় গুরুদেবের আদেশ লঙ্ঘন করবে না।আসন,যান,কাষ্ঠ,ও চর্মপাদুকা অতিক্রম করবে না বা ডিঙ্গিয়ে যাবে না।*
*🌹মনু বলেন-----------------*
*🌷নোদাহরেৎ গুরোর্নাম পরোক্ষমপি কেবলং।*
*🌷নচৈবাস‍্যানুকুর্ব্বীত গতি-ভাষণ-চেষ্টিতম্।।*
*🌻পরোক্ষেও বা অসাক্ষাতেও কেবলমাত্র গুরুদেবের নামাক্ষর উচ্চারণ করতে নাই,তাঁর চালচলন, স্বর ও চেষ্টাদির অনুকরণ বা নকল করবে না।*
*🌹শ্রীনারদ পঞ্চরাত্রে---------*
*🌷যথা তথা যত্র তত্র ন গৃহ্নীয়াশ্চ কেবলং।*
*🌷অভক্ত‍্যা ন গুরোর্নাম গৃহ্নীয়াচ্চ যতাত্মবান্।।*
*🌷প্রণবশ্রী স্ততো নাম বিষ্ণুশব্দাদনন্তরম্।*
*🌷পাদ শব্দ সমেতঞ্চ নতমুর্দ্ধাঞ্জলিযুতঃ।।*
*🌷ন তমজ্ঞাপযেন্মোহাত্তস‍্যাজ্ঞাং নচ লঙ্ঘয়েৎ।*
*🌷নানিবেদ‍্য গুরোঃ কিঞ্চিৎ ভোক্তব‍্যং বা গুরোস্তথা।।*
*🌻বুদ্ধিমান ব‍্যক্তি যেখানে সেখানে অভক্তি সহকারে গুরুদেবের নাম উচ্চারণ করবে না।নতশির ও কৃতাঞ্জলি হয়ে (মাথা নিচু করে ও জোড়হাত করে)ও শ্রীঅমুক বিষ্ণুপাদ এইরকমভাবে বলবে।মোহ বশতঃ গুরুদেবকে আদেশ করবে না অথবা তাঁর আদেশ লঙ্ঘন করবে না।গুরুদেবকে নিবেদন না করে দিয়ে কোনও বস্তু খাবে না এবং গুরুদেবের কোনও দ্রব‍্য ভক্ষণ করবে না।প্রসাদ সম্বন্ধে এ বিধান আদৌ প্রযোজ‍্য নয়।আরও লিখিত আছে যে-----*
                     *ক্রমাগত*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣🎷👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/name4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৭)🐚🐚শ্রীশ্রীনাম--মাধুরী🐚*
                     *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🌷যৎকিঞ্চিদন্নপানাদি প্রিয়ং দ্রব‍্যং মনোরমং।*
*🌷সমর্প‍্য গুরুবে পশ্চাৎ স্বয়ং ভূঞ্জীত প্রত‍্যহম্।।*

*🌻মনোরম, প্রিয় অন্নপানাদি যা কিছু শাস্ত্রত উপভোগ‍্য, তার সমস্তই শ্রীগুরুদেবকে প্রতিদিন নিবেদন করে ভোজন করবে।*
*🌹বিষ্ণু স্মৃতিতে লিখিত আছে--*

*🌷ন গুরোরপ্রিয়ং কুর্য‍্যাৎ তাড়িতঃ পীড়িতোহপি বা।*
*🌷নাবমন‍্যেত তদ্বাক‍্যং নাপ্রিয়ং হি সমাচরেৎ।।*
*🌷আচার্য‍্যস‍্য প্রিয়ং কুর্য‍্যাৎ প্রাণৈরপি ধনৈরপি।*
*🌷কর্ম্মনা মনসাবাচা স যাতি পরমাং গতিম্।।*

*🌻নিজে তাড়িত ও পীড়িত হলেও গুরুর অপ্রিয় কাজ করবে না। তাঁর কথার অবমাননা করবে না।প্রাণ ধন কর্ম মন ও কথায় যে ব‍্যক্তি গুরুর প্রিয় আচরণ করে,সে পরমাগতি পেয়ে থাকে।*

*🌹শ্রীনারদ পঞ্চরাত্রে লিখিত আছে।*

*🌷যত্র তত্র পরীবাদো মাৎসর্য‍্যাৎ শ্রুয়তে গুরোঃ।*
*🌷তত্র তত্র ন বস্তব‍্যং নির্য‍্যায়াৎ সংস্মরণ্ হরিম্।।*
*🌷যৈঃ কৃতাচ গুরোর্নিন্দা বিভোঃ শাস্ত্রস‍্য নারদ।*
*🌷নাপি তৈঃ সহ বস্তব‍্যং বস্তব‍্যং বা কথঞ্চন।।*

*🌻যেখানে যেখানে মাৎসর্য‍্য পরশ্রীকাতর) বশতঃ গুরু নিন্দা হয় সে জায়গা হতে তৎক্ষণাৎ শ্রীহরি নাম স্মরণ করে অনেক দূরে চলে যাবে, কখনও সে জায়গায় থাকবে না। হে নারদ! যে সব মানুষ গুরুনিন্দা,শাস্ত্রনিন্দা বা ভগবানের নান্দা করে,কখনই তাদের সঙ্গে একত্রে বাস করবে না। এমন কি তাদের সঙ্গে কথাও বলবে না।*

*🌹স্মৃতি মহার্ণবে লিখিত আছে।*

*🌷রিক্তপাণি র্ন পশ‍্যেত রাজানং ভিষজং গুরুং।*
*🌷নোপায়নকরঃ পুত্রং শিষ‍্যং ভৃত‍্যং নিরীক্ষয়ে‍ৎ।।*

*🌻রাজা,গুরু ও চিকিৎসককে রিক্তহস্তে বা খালিহাতে দর্শন করতে নাই।অন‍্যপক্ষে উপহার হাতে নিয়ে পুত্র শিষ‍্য বা ভৃত‍্যকে দেখতে নাই।*
*🌹শ্রীভগবানের উক্তি এই যে ----*
*🌷প্রথমন্তু গুরুং পূজ‍্য ততশ্চৈব মমার্চ্চনং।*
*🌷কুর্ব্বন্ সিদ্ধিমবাপ্নোতি হ‍্যনথা নিষ্ফলং ভবেৎ।।*

*🌻সর্ব প্রথমে গুরুপূজা করে পরে আমার পূজা করবে, তাহলে সিদ্ধিপ্রাপ্ত হবে,অন‍্যথা নিষ্ফল হবে।*

*🌹দেবর্ষি নারদের উক্তি এই যে--*
*🌷গুরৌ সন্নিহিতে যস্তু পূজয়েদন‍্যমগ্রতঃ।*
*🌷স দুর্গতি মবাপ্নোতি পূজনং তস‍্য নিষ্ফলং।।*

*🌻গুরু উপস্থিত থাকলে যে ব‍্যক্তি গুরু পূজা না করে অন‍্য পূজা করে, তার দুর্গতি ঘটে পূজাও নিষ্ফল হয়।*

*🌹শ্বেতাশ্বতর উপনিষদে লিখিত আছে---*
*🌷যস‍্য দেবে পরা ভক্তির্যথা দেবে তথা গুরৌ।*
*🌷তস‍্যৈতে কথিতাহ‍্যর্থাঃ প্রকাশন্তে মহাত্মনঃ।।*

*🌻দেবে বা দেবতাগণে যেরকম ভক্তি, গুরুতেও সেইরকম ভক্তি সেই মহাত্মার চিত্তের গোচরে প্রকৃত শাস্ত্রে কথিত ও প্রকাশিত হয়।*

*🌹শ্রীমদ্ভাগবতে একাদশে----*
*🌷আচার্য‍্যং মাং বিজানিয়ান্নবমন‍্যতে কর্হিচিৎ।*
*🌷ন মর্ত্ত‍্যা বুদ্ধ‍্যা সূয়েত সর্বদেবময়ো গুরুঃ।।*

*🌻শ্রীভগবান বলেছেন আমাকেই সর্ব ধর্মের আচার্য‍্য বলে জানবে।কারও অনাদর করিও না।গুরুকে প্রাকৃত মানুষের মত মনে করে অবহেলা করিও না।গুরু সর্বদেবময়।*

*🌹দশম স্কন্ধে লিখিত আছে--*
*🌷নাহমিজ‍্যা প্রজাতিভ‍্যাং তপসোপশমেন চ।*
*🌷তুষ‍্যেয়ং সর্বভূতাত্মা গুরুশুশ্রূষয়া যথা।।*

*🌻আমি সর্ব ভূতাত্মা হরি ; গুরু শুশ্রূষা(সেবা) দ্বারা আমি যেমন তৃপ্ত হই, গার্হস্থ‍্য ধর্ম, ব্রহ্মচর্য‍্য, বানপ্রস্থ বা যাতিধর্ম দ্বারা সেরকম তুষ্ট হই না।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/name4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৮)🐚🐚শ্রীশ্রীনাম--মাধুরী🐚*
                     *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🌷যস‍্য সাক্ষাদ্ ভগবতি জ্ঞানদীপপ্রদে গুরৌ।*
*🌷মর্ত্ত‍্যাসদ্ধীঃ শ্রুতং তস‍্য সর্বং কুঞ্জরশৌচবৎ।।*

*🌻জ্ঞানদীপপ্রদাতা গুরু, অর্থ‍্যাৎ যিনি আমাদের কর্ণে মন্ত্র প্রদান করে অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখান সেই গুরু সাক্ষাৎ ভগবৎস্বরূপ,অর্থ‍্যাৎ ভগবান তুল‍্য।সেই গুরুকে যে প্রাকৃত মানুষ বলে মনে করে তার সমস্ত শাস্ত্র শোনা হাতীরস্নানের মত(অর্থ‍্যাৎ হাতী স্নান করে পুনরায় মাটিতে গড়াগড়ি দেয় আর নোংরাময় হয় ) নিষ্ফল হয়।*

*🌹আরো বলা হয়েছে---*

*🌷গুর্রুব্রহ্মা গুর্রুবিষ্ণু গুর্রুদেবো মহেশ্বরঃ।*
*🌷গুরুরেব পরংব্রহ্ম তস্মাদ্ সংপৃজয়েৎ সদা।।*

*🌻গুরুদেবই ব্রহ্মা,বিষ্ণু গুরুদেবই দেবাদিদেব মহাদেব, গুরুদেবই পরব্রহ্ম সুতরাং সর্বদাই গুরুপূজো করবে।*

*🌷যো মন্ত্রঃ স গুরুঃ সাক্ষাৎ যো গুরুঃ সঃ হরিঃ স্মৃতঃ।*
*🌷গুরুর্যস‍্য ভবেৎ তুষ্ট স্তস‍্য তুস্ত হরিঃ স্বয়ম্।*
*🌷গুরো সমাসনে নৈব নচৈবোচ্চাসনে বসেৎ।।*

*🌻মন্ত্র ও গুরু অভিন্ন,গুরু ও কৃষ্ণ অভিন্ন, যিনি গুরু তিনিই কৃষ্ণ,গুরু তুষ্ট থাকলে স্বয়ং হরি তুষ্ট হন।গুরুর সমান আসনে অথবা তদপেক্ষা উচ্চ আসনে কখনই বসবে না।*

*🌹বিষ্ণুরহস‍্যে-------*

*🌷তস্মাৎ সর্ব প্রযত্নেন যথাবিধি তথা গুরুং।*
*🌷অভেদেনার্চ্চয়েদ্ যস্তু স মুক্তি-ফল মাপ্নুয়াৎ।।*

*🌻যিনি বা যে ব‍্যক্তিশ্রীকৃষ্ণের সহিত অভেদ জ্ঞানে যথাবিধ গুরুর অর্চনা করেন,তিনি ভব-যন্ত্রণা হতে মুক্ত হয়ে শ্রীকৃষ্ণে প্রীতি লাভ করেন।*

*🌹শ্রীবিষ্ণুধর্মে ও ভাগবতে শ্রীহরিশ্চন্দ্রেরউক্তিতে বর্ণিত হয়েছে।*

*🌷গুরু-শুশ্রূষণং নাম সর্বধর্মোত্তমোত্তমং।*
*🌷তস্মাৎ ধর্মাৎ পরং কিঞ্চিৎ পবিত্রং নৈব বিদ‍্যতে।।*

*🌻গুরুদেবকে সেবা-শুশ্রূষাই সর্বধর্মের শ্রেষ্ঠ বা উত্তম, তা অপেক্ষা পবিত্র আর কিছুই নাই।*

*🌷কাম ক্রোধাদিকং যদ্ যদাত্মনোহনিষ্ট-কারণম্।*
*🌷এতৎ সর্বং গুরৌ ভক্ত‍্যা পুরুষো হঞ্জসা জয়েৎ।।*

*🌻কাম, ক্রোধাদি ছয়টি রিপু আত্মার অনিষ্ট কারণ,যে সব রিপু আছে,গুরুভক্তি দ্বারা তা সবই জয় করা যায়।*

*🌹আদিত‍্যপুরাণে পাই-----*

*🌷হরৌ রূষ্টে গুরুস্ত্রাতা গুরৌ রুষ্টেন কশ্চন।*
*🌷তস্মাৎ সর্ব প্রযত্নেন গুরুমেব প্রসাদয়েৎ।।*

*🌻হরি রুষ্ট হলেও গুরু তা হতে পরিত্রাণ করতে পারেন, কিন্তু গুরু রুষ্ট হলে কেউই পরিত্রাণ করতে পারেন না।*

*🌹ব্রহ্মবৈবর্ত্তে পাই-----*

*🌷অপি ঘ্নন্তঃ শপন্তো বা বিরুদ্ধা অপি যে ক্রুধা।*
*🌷গুরবঃ পূজনীয়াস্তে গৃহং নত্বা নয়েত তাম্।।*
*🌷তৎশ্লাঘ‍্যং জন্ম ধন‍্যং তৎদিনং পুণ‍্যাথ নাড়িকা।*
*🌷যস‍্যাং গুরুং প্রণমতে সমুপাস‍্য তু ভক্তিতঃ।।*

*🌻ক্রোধ বশত গুরুদেব যদি প্রহার করেন কিম্বা অভিশাপ দেন তাহলেও তাঁকে প্রণাম করে তাঁর ক্রোধ দূরকরে তাঁকে গৃহে নিয়ে আসবে। সেই জন্ম শ্লাঘ‍্য (প্রশংসার হবে), সে দিন ধন‍্য হবে,সেই নাড়িকা কালও পুণ‍্য ; যাতে গুরুদেবকে ভক্তিকরে উপাসনা করে প্রণাম করা যায়।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/name4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৯)🐚🐚শ্রীশ্রীনাম--মাধুরী🐚*
                   *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🌹শ্রীনারদ পঞ্চরাত্রে পায়---*

*🌷অবৈষ্ণবোপদিষ্টেন মন্ত্রেন নিরয়ং ব্রজেৎ।*
*🌷পুনশ্চ বিধিনা সম‍্যগ্ গ্রাহয়েদ বৈষ্ণবং গুরুম্।।*

*🌻কোন অবৈষ্ণব উপদিষ্ট মন্ত্র গ্রহণ করলে নরকগামী হতে হয়, প্রকৃত গুরুর নিকট মন্ত্র গ্রহণ না করলে নরকগামী হতে হয়, সেরকম যদি গুরু হয়,তাহলে পুনশ্চ পুনরায় বৈষ্ণব গুরু গ্রহণ করতে হয়।*

*🌹শ্রীগুরুর প্রতি অভক্তি বা অশ্রদ্ধা করলে যে নরক কষ্ট পেতে হয়, অগস্ত‍্য সংহিতায় তার বিবরণ আছে, যথা---*

*🌷যে গুর্ব্বাজ্ঞাং ন কুর্ব্বন্তি পাপিষ্ঠাঃ পুরুষাধমাঃ।*
*🌷ন তেষাং নরকক্লেশনিস্তারো মুনি-সত্তম।।*
*🌷যৈঃ শিষ‍্যৈঃ শশ্বদারাধ‍্যা গুরবো হ‍্যবমানিতাঃ।*
*🌷পুত্রমিত্রকলত্রাদি সম্পদ্ভ‍্যঃ প্রচ‍্যুতা হি তে।।*
*🌷অধিক্ষিপ‍্য গুরুং মোহাৎ পুরুষং প্রবদন্তি যে।*
*🌷শূকরত্বৎ ভবত্বেব তেযাং জন্মশতেষ্বপি।।*
*🌷যে গুরুদ্রোহিনো মূঢ়াঃ সততং পাপকারিণঃ।*
*🌷তেষাঞ্চ যাবৎ সুকৃতং দুষ্কৃতং স‍্যান্ন সংশয়ঃ।।*
*🌷অতঃ প্রাগ্ গুরু মভ‍্যর্চ্চ‍্য কৃষ্ণ-ভাবেন বুদ্ধিমান।*
*🌷ত্র‍্যবরানসমান্ কুর্য‍্যাৎ প্রণামান্ দন্ডপাতবৎ।।*

*🌻যে পাপিষ্ঠ পুরুষ অধম সব গুরুর আদেশ প্রতি পালন না করে, কোনও ক্রমে তাদের নরক কষ্ট দূর হয় না।সর্বদা আরাধ‍্য গুরুকে যে সব ব‍্যক্তি অবমাননা করে, পুত্র বন্ধু-বান্ধব, পত্নী ও সম্পৎ হতে তাদের বিচ‍্যুত হতে হয়।যে সব পুরুষ অজ্ঞান বশত গুরুকে ভর্ৎসনা করে,তাঁকে সামান্য পুরুষ মনে করে, তাদের শতজন্ম শূকর হয়ে জন্ম গ্রহণ করতে হয়।যে সব মূর্খ গুরুদ্রোহী হয় এবং পাপ কাজ করে, তাদের পূর্বজন্ম ও ইহ জন্মের সব পুণ‍্যই পাপে পরিণত হয়ে তাদেরকেও নরকভোগী করে। সুতরাং বুদ্ধিমান ব‍্যক্তি শ্রীগুরুকে শ্রীকৃষ্ণ মনে করে প্রথমে পূজা করে দন্ডবৎ হয়ে তিনের অন‍্যূন অযুগ্ম(বিজোড় বা পৃথক) প্রণাম করবে।*
*🍀এইরকম গুরুভক্তি সহকারে শ্রীনাম-জপ ও শ্রীনাম সঙ্কীর্তন করলে একদিকে যেমন এক শ্রেণীর নাম অপরাধ হতে নিষ্কৃতি লাভ করা যায়, অন‍্যদিকে শ্রীনাম গ্রহণের সাফল‍্যও অনেকবেশী পাওয়া যায়।*
*🌹এ পর্যন্ত পদ‍্যাবলীর একটি পদ‍্যের গুরুভক্তির প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে ব‍্যাখ‍্যা করা হল।এখন আবার পদ‍্যাবলীর শ্রীনাম মাহাত্ম্যসূচক অন‍্যান‍্য পদ‍্য উদ্ধৃত ও ব‍্যাখ‍্যা করা হচ্ছে।*

*🛑অজ্ঞাতনামা কোন কবি-রচিত একটি পদ‍্য এই যে-----*

*🌷স্বর্গার্থীয়া ব‍্যবসিতিরসৌ দীনয়ত‍্যেব লোকান।*
*🌷মোক্ষাপেক্ষা জনয়তি জনং কেবলং ক্লেশভাজম্।।*
*🌷যোগাভ‍্যাসঃ পরমবিরস স্তাদৃশৈঃ কিং প্রয়াসৈঃ।*
*🌷সর্বং ত‍্যক্ত্বা মমতু রসনা কৃষ্ণ কৃষ্ণেতি রৌত্ব।।*

*🌻দোষযুক্ত সাধ‍্য-সাধনে আসক্তি ত‍্যাগ করে, বিশুদ্ধসাধন শ্রীকৃষ্ণ নামই সাধনীয়-- এই সিদ্ধান্ত-জ্ঞাপনের জন্য বলা হচ্ছে স্বর্গ প্রাপ্তির অনুষ্ঠানে লোক সুদীন হয়ে পড়ে।প্রথমে মন্ত্র,দ্রব‍্য,পুরোহিত,কাল বা সময় প্রভৃতির দোষে স্বর্গ-ফল আদৌ উপজাত হয় না, যদিই বা হল,তাতেই বা কি?স্বর্গের ফল অতি অস্থায়ী, স্বর্গেও সুখের তারতম‍্য আছে,অন‍্যের বেশী সুখ দেখলে মনে তাপ জন্মে।তাও দুঃখজনক, সুতরাং লোক তাতে দীনাতিদীনই হয়ে থাকে।নির্ভেদ ব্রহ্মজ্ঞানজনিত মোক্ষের চেষ্টা শুষ্ক ও কষ্টকর বৈরাগ‍্যময়,তাতে অত‍্যন্ত কষ্টই জন্মে।যোগাভ‍্যাসে শমদমাদি অঙ্গ প্রতিপালনে অনন্ত কষ্টের উদয় হয়, সেই সব কষ্টে সাধক বিরস হয়ে পড়েন। এ সব দোষ দেখে বহু কষ্টসাধ‍্য সাধনায় অতি তুচ্ছ ফলের আশা দেখা যায়। সুতরাং এই সব চেষ্টা পরিত‍্যাগ করে আমার রসনা কেবল কৃষ্ণ-কৃষ্ণনাম উচ্চারণ করুক, ফলে এই শ্রীনাম গ্রহণে যে ফল লাভ হয়,তা প্রকৃতই অতুল‍্য।*
     *🙏জয় শ্রীমন্ মহাপ্রভুর জয়*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/03/name4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪০)🐚🐚শ্রীশ্রীনাম--মাধুরী🐚*
                    *শ্রীশ্রীনামব্রহ্ম*

*🌹শ্রীপাদ শ্রীধরস্বামীকৃত একটি শ্লোক উল্লেখযোগ্য,সেটি এই---*

*সদা সর্বত্রান্তে ননু বিমলমাদ‍্যং তব পদম্।*
*তথাপ‍্যৈকং স্তোকং নহি ভবতরোঃ পত্রমভিনৎ।।*
*ক্ষণং জিহ্বাগ্রস্তং তব তু ভগবন্নাম মখিলং।*
*সমূলং সংসারং কষতি কতরৎ সেব‍্যমনয়োঃ।।*

*🌻শ্রীনাম ও ভগবৎ প্রভারূপ ব্রহ্ম-- এই উভয়ের মধ্যে নামই শ্রেষ্ঠতর।একান্তী নাম-সাধক শ্রীপাদ শ্রীধরস্বামী এই পদ‍্য দ্বারা সেটিই প্রতিপন্ন(প্রমাণসিদ্ধ) করেছেন।হে ভগবন্!যদিও তোমার অঙ্গের প্রভাবস্বরূপ নির্মল ব্রহ্ম সর্বত্র সর্বদা বিদ‍্যমান আছেন, তথাপি তিনি সংসার বৃক্ষের এখন মাত্র পাতাও ছেদন করতে সমর্থ নন।কিন্তু হে প্রভো! ক্ষণকালের জন্য যদি তোমার নাম রসনায় বা জিহ্বায় স্ফুরিত হন তাহলে উহা সমূল সংসার তরু উৎপাটন করেন।অতএব ব্রহ্ম অপেক্ষা তোমার নামব্রহ্মই শ্রেষ্ঠতর। এখানে "পদ" শব্দের অর্থ ব্রহ্ম বলা হয়েছে।*

*🌹সুপ্রসিদ্ধ শ্রীনামকৌমুদী গ্রন্থকার শ্রীমৎ-লক্ষ্মীধর-কৃত একটি বিখ‍্যাত পদ‍্যে শ্রীনাম-মাহাত্ম্য কীর্তিত হয়েছে, যথা---*

*🌷আকৃষ্টিঃকৃতচেতসাং সুমহতামুচ্চাটনং চাংহসাং,*
*🌷আচন্ডালমমূকলোকসুলভো বশ‍্যশ্চ মোক্ষশ্রিয়ঃ।*
*🌷নো দীক্ষাং নচ সৎক্রিয়াং ন চ পুরশ্চর্য‍্যাং মনাগীক্ষতে,*
*🌷মন্ত্রোহয়ং রসনা-স্পৃগেব ফলতি শ্রীকৃষ্ণনামাত্মকঃ।।*

*🌻শ্রীকৃষ্ণ-নামের মন্ত্র রসনায় স্পৃষ্ট হওয়া মাত্রই ফল প্রদান করেন।এটি দীক্ষা,কি সৎক্রিয়া বা পুনশ্চরণ (মন্ত্রজপে ও অভীষ্টলাভে প্রথমেই ইষ্টদেবতার পূজা-অর্চনা ইত্যাদি )প্রভৃতি কিছুই অপেক্ষা করেন না।এটি নাম-উচ্চারণকারী সাধুগণের আকর্ষণ,সব পাপ বিনিশ কারক।কেবল বোবা ভিন্ন চন্ডাল আদি লোক গুলিরও সুলভ ও বশ‍্য ; শ্রীনাম দ্বারা মুক্তি-রূপাশ্রীও বশীভূতা হন। "শ্রীরামার্চ্চনচন্দ্রিকাতেও" লিখিত হয়েছে, "বিনৈব দীক্ষাং বিপ্রেন্দ্র পুরশ্চর্য‍্যাং বিনৈব হি•••••••• জপ মাত্রেণ সিদ্ধিদা" ইত্যাদি।"মন্ত্র-দেবপ্রবেশিকা গ্রন্থেও এইরকম অভিমত দেখা যায়।*
*🍀সাধনা-অভিনিবেশ ছাড়াও শ্রীনাম সর্বপাপ হরণ করেন। আমি নাম-উচ্চারণ করব, কেবল এই বাসনা হওয়া মাত্রই জিহ্বায় নামের স্ফূর্তি প্রকাশ পায়। শাস্ত্র বলেন---*

*🌷অতঃ শ্রীকৃষ্ণ নামাদি ন ভবেদ্ গ্রাহ‍্যমিন্দ্রিয়ৈঃ।*
*🌷সেবন্মুখোহি জিহ্বাদৌ স্বয়মেব স্ফুরত‍্যদঃ।।*

*🌻এই শ্রীনাম মোক্ষের আধার।নামাশ্রয় ছাড়া মোক্ষসিদ্ধি অসম্ভব।এই পদ‍্যে যে দীক্ষার আপাত অনাদরবৎ কথা বলা হয়েছে, সেটি প্রৌঢ়ীবাদ(দাম্ভিকতাপূর্ণ বা মান‍্য ব‍্যক্তির সম্মান করে না) মাত্র।তা না হলে গুরুকরণ করে দীক্ষাই বিফল হয়। কিন্তু শাস্ত্র এই যে, মহাদেব বলেছেন--*

*দেবি,দীক্ষা বিহীনস‍্য ন সিদ্ধির্নচ সদ্ গতিঃ।*
*তস্মাৎ সর্ব প্রযত্নেন গুরুণা দীক্ষিতোভবেৎ।।*
*তথাহদীক্ষিত লোকানাং অন্নং বিন্মূত্রবজ্জলং।*
*অদীক্ষিতকৃতং শ্রাদ্ধং গৃহীত্বা পিতরস্তথা।।*
*নরকেচ পতন্ত‍্যেতি যাবদিন্দ্রা চতুর্দশ।*
*অজস্রৈরুপচারৈশ্চ ভক্তিযুক্তোব্রজেদ্ যদি।।*
*তথাপ‍্যদীক্ষিতস‍্যার্চ্চা দেবা গৃহ্নন্তি নৈব হি।*
*নাদীক্ষিতস‍্য কার্য‍্যং স‍্যাৎতপোভি র্নিয়মৈর্ব্র তৈঃ।।*
*ন তীর্থ গমনেনাপি নচ শারীরযন্ত্রণৈঃ।*
*সদ্ গুরোরাহিতদীক্ষঃ সর্ব কর্মাণি সাধয়েৎ।।*

*🌻এই সব বচন প্রমাণে দীক্ষার নিত‍্যত্ব দৃষ্ট হচ্ছে।"তস্মাদ্ গুরুং প্রপদ‍্যতে" "বৈদিকী তান্ত্রিকী দীক্ষা মদীয় ব্রতধারণম্" ইত্যাদি বহু শাস্ত্রবাক‍্য আছে। "গৃহ্নীয়াদ্ বৈষ্ণবং মন্ত্রং দীক্ষাপূর্বং বিধানতঃ" "শ্রুতি স্মৃতি পুরাণাদি পঞ্চরাত্রবিধিং বিনা" "অস্মিল্লোকে-হথবা" ইত্যাদি "তান্ অধিতিষ্ঠতি ইত্যাদি " "মদ্ভক্তো যো মদর্চ্চাঞ্চ" ইত্যাদি শ্রীনারদপঞ্চরাত্রে--- "নাচরেদ্ যস্তু সিদ্ধোহপি লৌকিকং ধর্ম্মনগ্রতঃ" ইত্যাদি বচনগুলি দ্বারা ভক্তিসন্দর্ভে সিদ্ধান্তিত হয়েছে নামমন্ত্রের প্রভাব খুব বেশী হলেও দীক্ষাদি পরিত‍্যাজ‍্য নয়।দীক্ষান্তরে নাম গ্রহণে যে ফল বেশী হয় এরকম উপদেশ দেখতে পাওয়া যায়। শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-লীলা-দর্শনের জন্য ললিতার কাছে শ্রীনারদ দীক্ষা গ্রহণ করেছিলেন।ব্রহ্মা,ব‍্যাস ও ধ্রুবাদি মন্ত্রগ্রহণ করেছিলেন।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীশ্রীনাম-মাধুরী 🙇 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/name5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds