শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ 🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

                   🙏 জয় শ্রীশ্রী গোপীনাথ 🙏

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


🔙 পূর্ব লীলা 👉  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ প্রথম ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/02/abhiram-gopal.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉  শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉  ১১. শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
কন্যা নিজ প্রকট ঐতিহ্য জগতকে জানাইবার জন্যই মালীগণের কন্যারূপে মালিনী নাম ধারণ করিলেন। এভাবে মালিনী দেবী মালীগণের পরিচর্য্যায় কতককাল অতিবাহিত করিলেন। এদিকে গ্রামবাসীগণ কন্যার প্রকাশ কাহিনী কাজীর নিকটে সবিশেষ কহিলেন। তখন কাজী কন্যাসহ সিন্ধুক আনিতে লোক পাঠাইলেন। মালীগণ সংবাদ পাইয়া বিস্মিত হইলেন। তারপর দূতগণ পৌছিলে মালীগণ দূতের সঙ্গে কাজীর গৃহে উপনীত হইলেন। মালীগণ তাহাদের আনয়নের কারণ জিজ্ঞাসা করিলে কাজী বলিলেন, 'তোমরা সিন্ধুকসহ বহু সম্পদ পাইয়াছ। তাহা কোন বিচারে নিজেদের ঘরে রাখিয়াছ? তাহা সমস্ত আমাকে অর্পন কর।' মালীগণ বলিল, 'আমরা একটি সিন্ধুক পাইয়াছি। তাহা এখনই আনিয়া দিব।' কাজী বলিল, 'তাহাতে কি ধন ছিল?' তখন মালীগণ মনে মনে চিন্তা করিলেন, ‘কাজীর মনের অভিপ্রায় কি তাহা বুঝা দুঃসাধ্য; কোন দুষ্ট ব্যক্তি আসি কাজীকে বলিয়াছে। যাহা হউক প্রাণ থাকিতে আমরা কাজীর হস্তে কন্যাকে অর্পন করিব না।' এই যুক্তি সাব্যস্ত করিয়া মালীগণ বলিল, 'সিন্ধুকে একটি দিব্য কন্যারত্ন ছিল।' তখন ক্রোধে কাজী বলিল, ‘আমি সিন্ধুকসহ সেই কন্যাকে চাই।' কাজীর অভিপ্রায় বুঝিয়া মালীগণ সবিনয়ে বলিলেন, ‘আপনি যবন হইয়া দেবকন্যা বাঞ্ছা করিতেছেন? এই মহৎ অপরাধে প্রায় গ্রাম উজাড় হইবে। তৎসঙ্গে আপনিও রক্ষা পাইবেন না। তারপর মালীগণ কন্যার অপ্রাকৃত মহিমারাশির বর্ণন করিলেন। মালীগণের হিতবাক্যে কাজীর ভাবান্তর ঘটিল। তখন কাজী আপনারগণকে বলিলেন, ‘আমি না বুঝিয়া দুষ্টগণের বাক্যে মালীগণকে বহু কষ্ট দিয়াছি। আমার মহাঅপরাধ হইয়াছে। তোমরা এখনই মালীগণকে মুক্ত কর। আজ্ঞামাত্র পাত্রগণ মালীগণকে মুক্ত করিলে কাজী স্তুতিনতি সহকারে সবিনয়ে মালীগণকে বলিলেন, 'আমি হিন্দুর দেবতায় নিজ কন্যারূপে সেবা করিব। তোমরা নিঃসন্দেহে আমার গৃহে আনয়ন কর।’ কাজীর ভাবান্তর ঘটায় মালীগণ অন্তরে মহানন্দ লাভ করিলেন। তখন তাঁহারা বলিলেন, 'আমরা গিয়া দেবীকে অনুরোধ করব। যদি তিনি কৃপা-পরবশ হইয়া স্বেচ্ছায় আপনার গৃহে আসেন, তাহা হইলে অবশ্য আমরা লইয়া আসিব। মালীগণ মুক্ত হইয়া মহানন্দে গৃহে আসিলেন। তারপর দেবীর সমীপে কাজীর অভিপ্রায় ব্যক্ত করিলেন। তখন দেবী বলিলেন, “তোমরা কোন চিন্তা করিও না। আমি ঐ স্থানে অবস্থান করিয়া লীলার প্রকাশ করিব। তোমরা কাজীর সমীপে আমার আগমনবার্ত্তা কহিয়া আমার নির্দেশটি বলিবে। আমি কাজীর গোগৃহে অবস্থান করিব আর মিষ্টান্ন ভোজন করিব। কাজী সহাস্তে যেন গোগৃহ মাৰ্জ্জন করেন।' তখন মালীগণ কাজীর সমীপে উপনীত হইয়া দেবীর নির্দেশ জ্ঞাপন করিলেন। কাজী মহানন্দে স্বহস্তে গোগৃহ মার্জ্জনে প্রবৃত্ত হইলেন। কাজীর ভাবের অভিব্যক্তি দেখিয়া মালীগণ মহানন্দে দেবীকে কাজীর ভবনে আনয়ন করিতেছেন। দেবীর আগমনবাৰ্ত্তা শুনিয়া গ্রামবাসীগণ আসিয়া কাজীকে বলিলেন, ‘এতদিনে আপনার সৌভাগ্যের প্রকাশ ঘটিয়াছে। মালীগণ কন্যা লইয়া আসিতেছে। আপনি শীঘ্ৰ গিয়া দেবীকে সাদর অভ্যর্থনা জানাইয়া স্বগৃহে আনয়ন করুন।' তখন কাজী মহানন্দে পুষ্পরথ সাজাইয়া সপার্ষদে কন্যাকে আনিতে চলিলেন। পথে সাক্ষাৎ ঘটিলে কাজী সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করিযা স্তবাদি করিতে লাগিলেন। কন্যা কাজীর স্তবে সন্তুষ্ট হইয়া রথারোহণে চলিলেন। তারপর কন্যা কাজীর গৃহে উপনীত হইলে মালীগণ কন্যাকে কাজীর গোগৃহে অধিষ্ঠান করাইয়া জল দ্বারা শ্রীচরণ ধৌত করিলেন। মালীগণের নির্দেশে কাজী দূত মারফৎ পসারীগণকে ডাকাইয়া বলিলেন, “তোমরা প্রত্যহ প্রভূত মিষ্টান্ন আনিয়া দিবে। আমার গৃহে সাধুর আগমন ঘটিয়াছে, তাঁহাকে নিত্য ভোজন করাইব।' অতঃপর কাজী ও পসারীগণ মালিনী দেবীকে --প্রণামাদি করিলেন। কাজী কন্যাকে মালীগণ দ্বারা নতুন বস্ত্র পরিধান করাইয়া মিষ্টান্ন ভোজন করাইলেন। কন্যার আদেশে মালীগণ প্রসাদ গ্রহণ করিয়া সকলকে বিতরণ করিয়া দিলেন। তখন সকলে জয় জয় ধ্বনি দিতে দিতে প্রসাদ পাইয়া প্রণামাদি করিলেন। তারপর কাজী কন্যার শ্রীচরণে লুণ্ঠিত হইয়া সবিনয়ে বহুত কাকুতি সহকারে বলিলেন, ‘আমি বহু অপরাধ করিয়াছি। আপনি আমায় নিজগুণে করুণা করিয়া ক্ষমা করুন।' কন্যা বলিলেন, ‘তুমি মালীগণের সমীপে অপরাধ করিয়াছ। তাঁহারা ক্ষমা না করিলে তোমার অপরাধ স্খলন হইতে পারে না।' তখন কাজী শীঘ্র মালীগণের সমীপে গমন করিয়া সকাতরে ক্ষমা প্রার্থনা করিলেন। মালীগণ বলিলেন, ‘চরণ ছাড়, তুমি ও আমরা এখন এক। তোমার আর কোন অপরাধ নাই। এখন কন্যারত্নে দর্শন করিয়া জীবন ধন্য কর। 

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉  ১২. শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
তখন কাজী মালীগণকে কন্যারত্নের সেবাকার্য্যে নিযুক্ত করিলেন। মালীগণের  সংসারের ব্যয়ভার কাজী বহন করিতে লাগিল। এইভাবে শ্রীঅভিরাম গোপালের শক্তিরূপা কন্যা শ্রী মালিনী দেবী কাজীপুরে আগমন করতঃ কাজীর কন্যারূপ পরিহগ্রহ। করিয়া কাজীর গৃহে অবস্থান করিতে লাগিলেন। আর মালীগণ তাঁহার সেবক হইয়া মহানন্দে সেবা করিতে লাগিলেন। কতদিনে বিল্লোক গ্রামে কাজী সৈন্যগণের বিদায়ের কালে মালিনী দেবী কাজীপুরের নাম খানাকুল স্থাপন করেন।
- তথাহি -
“এতেক শুনিয়া কন্যা বলেন বচন।
খানাকুল হৈল নাম কাজীপুর এখন।।”

এদিকে শ্রীঅভিরাম গোপাল নিজশক্তিরূপা কন্যাকে লীলা প্রকাশের জন্য পাঠাইয়া আপনি এক অভিনব ভাবের উদ্দীপন করিলেন।
তথাহি - তত্রৈব -
“ভ্রমণ করিব সব বিগ্রহ দেখিয়া।
দেখি কেবা কোনরূপে আছেন বসিয়া।।
একে একে সবাকার করিব দর্শন।
চৈতন্যের মনোবৃত্তি বুঝিব এখন।।
দেখি কার কত শক্তি দিয়াছে চৈতন্য।
দুই কাৰ্য্য হেতু আমি হৈব অবতীর্ণ।।
ব্রজেতে শ্রীকৃষ্ণে বহু সেবন করিলা।
তখন আমাকে কৃষ্ণ আপনি কহিলা।।
তোমার সমান বন্ধু নাহি কোনজনে।
বশ যে হইনু দেখ তোমার সেবনে।।
বলরাম আদি করি যত সখাগণ।
সবার অপেক্ষা শক্তি দিলাম এখন।।
এমন পীরিতি সেই শ্রীকৃষ্ণ সহিত।
মনে না করিয়া গেলা হইয়া বিস্মিত।
বুঝিব এবে তাঁর প্রিয় হয় কেবা
কাহার প্রেমেতে বশ পাইলেন সেবা।।
সেববাশ হয়া সেই প্রেমেতে চলিলা।
অতেব আমারে তিঁহ বিস্মৃত হইলা।।
এতেক ভাবিয়া মনে করেন ভ্রমণ।
যেখানে বিগ্রহ আছে করেন দর্শন।।
দর্শন করিয়া তাঁরে বলেন হাসিয়া।
কেবা কোনরূপে আছে দেখিব কষিয়া।।”

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉  ১৩. অভিরাম ঠাকুরের শ্রীবিগ্রহ দর্শন লীলা 👏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
এইরূপ প্রেমানুরাগাবেশে ঠাকুর অভিরাম শ্রীবিগ্রহ দর্শন ও প্রণাম করিয়া ভ্রমণ করিতে লাগিলেন। অভিরাম প্রণাম করিয়া তাকাইলেন অমনি প্রতিমা বিদীর্ণ হইয়া অন্তৰ্দ্ধান করিতে লাগিল। তাহার প্রণামে সর্ব্বদেশ বিগ্রহশূন্য হইল। কেবলমাত্র শ্রীবিগ্রহগণের প্রণামের মধ্যে বিষ্ণুপুরের মদনমোহন, বগড়ীর কৃষ্ণরায়, শ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদগণেল মধ্যে শ্রীগোপালগুরু, শ্রীখন্ডের রঘুনন্দন, প্রভু নিত্যানন্দের পুত্র বীরচন্দ্র ও কন্যা গঙ্গাদেবী তাহার প্রণাম সহ্য করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন। তাঁহার প্রণামে প্রভু নিত্যানন্দের ছয় পুত্র অন্তর্দ্ধান করেন। বিষ্ণুপুরের শ্রীমদনমোহন দেবকে দ্বিতীয় প্রণামে মন্দিরের দ্বারা ঘুরাইয়া তৃতীয় প্রণামে মদনমোহনের ঘাড় বাঁকাইয়া মহিমাবর্দ্ধন করিয়াছিলেন। আর বগড়ীর কৃষ্ণরায়কে প্রণাম করিলে তাঁহার সর্ব্বাঙ্গ বহিয়া রক্তক্ষরণ হইয়াছিল । এইভাবে লীলারঙ্গে অভিরাম বৃন্দাবন হইতে গৌড়দেশ পরিভ্রমণ করিতে করিতে কেন্দুবিল্বগ্রামে জয়দেবের সহিত মিলন করিলেন । তথা হইতে বিষ্ণুপুর হইতে পথে কৃষ্ণরায়ে প্রণাম করতঃ বিক্রমপুরে উপনীত হইলেন। তথায় বসুলীদেবীর সহিত সাক্ষাত করিযা কাজীপুরে মালিনী দেবীর সহিত মিলন করিলেন।

- তথাহি -
“শুনিয়া তাঁহার বাক্য আনন্দিত হৈলা।
বিক্রমপুরেতে সেই বাসুলী রহিলা।।
বসুলীকে আশ্বাস দিয়া চলিলা তুরিতে।
কাজীপুরে হৈলা দেখা মালিনী সহিতে।।
মালিনী আসিয়া ছিলা স্নান করিবারে।
তখন গোঁসাইজীউ ডাকিলা তাহারে।।
শীঘ্রগতি আইস তুমি নদী পার হৈয়া।
ভ্রমণ করি যে আমি তোমার লাগিয়া।।”

মালিনী দেবী দাসীগণ সঙ্গে নদীতে স্নানে আসিয়াছেন। এদিকে ঠাকুর অভিরাম ভ্রমণ করিতে করিতে নদীর অপর পারে উপস্থিত। তথা হইতে মালিনী দেবীকে দেখিয়া ইঙ্গিতে আহ্বান জানাইলেন। মালিনী দেবীও দূর হইতে নিজ প্রাণনাথকে দর্শন করিয়া মিলনের জন্য ব্যাকুল‌ হইলেন। তখন মালিনী দেবী মহাচিন্তায় পড়িলেন। কি প্রকারে গিয়া প্রাণনাথের সহিত মিলন করিবেন। সঙ্গে দাসীগণ বৰ্ত্তমান। তখন অনন্যোপায় হইয়া মালিনী দেবী দাসীগণকে বলিলেন, ‘চল আমরা সকলে সাঁতার দিয়া নদীর ওপারে যাই। আবার এপারে ফিরিয়া আসিব।' দাসীগণের বচনের মালিনী দেবী মহানন্দে একাকী অপর পারে গিয়া নিজ প্রাণনাথের সহিত মিলিত হইলেন। তারপর কথা হইতে শীঘ্র প্রাণনাথের সঙ্গে চলিলেন। এদিকে দাসীগণ ব্যাকুল হইয়া কাজীর সমীপে গমন করতঃ সমস্ত ঘটনা বলিলেন। এবং বলিলেন, একজন উদাসী আসিয়া মালিনীকে সঙ্গে লইয়া চলিয়া গিয়াছে। এই সংবাদ শ্রবণমাত্র কাজীর মস্তকে যেন বিনামেঘে বজ্রপাত ঘটিল। তিনি অতীব ব্যাকুল হইয়া ব্যাগ্রতা সহকারে সৈন্য সাজাইয়া কন্যাকে আনিতে পাঠাইলেন । সৈন্যগণ মালিনীর অন্বেষণে চলিলেন। সৈন্যগণ অন্বেষণ করিতে করিতে‌ বিল্বোক গ্রামে উপনীত হইয়া মালিনীর সাক্ষাৎ পাইলেন। এইভাবে মালিনী দেবী খানাকুল গ্রামে আগমন
করিয়া অপ্রাকৃত লীলার প্রকাশ করতঃ খানাকুল গ্রামকে মহাতীর্থে পরিণত করিলেন।

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉  ১৪. বিল্লোকগ্রামের লীলারহস্য 👏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
ঠাকুর অভিরাম খানাকুল হইতে মালিনী দেবীকে সঙ্গে লইয়া বিল্লোকগ্রামে উপনীত হইলেন।

তথাহি - শ্রীঅভিরাম লীলামৃতে - ৫য় পরিচ্ছেদেঃ------

“এখন বিল্লোক গ্রামে মালিনী লইয়া।
নদীর তটেতে দুঁহে আছেন বসিয়া।।
মুরলীর কাষ্ঠ তবে দেখেন সেখানে।
সে মৰ্ম্ম গোসাঞিজীউ জানেন সন্ধানে।।
সবার মুরলী পূর্ব্বে একত্র করিয়া ।
স্রোতেতে সকলে মিলি দিলা ভাসাইয়া।।
যমুনার স্রোত যায় দক্ষিণ বহিয়া ।
অতেব সে কাষ্ঠ হেথা আইলা ভাসিয়া।।”

ঠাকুর অভিরাম মালিনী দেবীর সঙ্গে বিল্লোক গ্রামে নদীর তীরে উপবিষ্ঠ আছেন; সেই সময় কাজীর সৈন্যগণ তথায় উপনীত হইলেন। তখন সৈন্যগণ মহাক্রোধে বলিতে লাগিলেন, ‘তুমি উদাসী হইয়া কেন এরূপ হীন কর্ম্ম আচরণ করলে, বৈরাগী বেশ ধারণ করিয়া যবণের কন্যায় অপহরণ করিলে কেন?' এদিকে গ্রামবাসী লোকজন তথায় একত্রিত হইয়া তিরস্কার সহকারে বলিতে লাগিল, 'তুমি কোথাকার উদাসী, যবনের কন্যা হরণ করিয়া এই গ্রামের অধিবাসী হইতে চাও।' তখন অভিরাম চিন্তা করিতে লাগিলেন, “কিভাবে মালিনী দেবীকে প্রকাশ করিবে।' মহিমা না দেখাইলে কেহ আমার কথায় বিশ্বাস করিবে না। তখন অভিরাম তীরে ভাসমান মুরলীর কাষ্ঠ বোঝাটি এক হস্তে উত্তোলন করিয়া কাজীর সৈন্যগণকে বলিলেন, 'তোমরা সকলে এই কাষ্ঠের বোঝাটি তুলিতে পারিলে আমার সহিত যুদ্ধ করিও।' এই অলৌকিক দৃশ্য দেখিয়া সকলে বিস্মিত হইল। যে বোঝাটি একশত জনে তুলিতে পারিবে না সেই বোঝাটি এই উদাসী অনায়াসে উত্তোলন করিলেন। তখন অভিরামের বাক্যে কাজীর সৈন্যগণ বিনয় সহকারে বলিলেন, "আমরা এই বোঝা তুলিতে পারিব না।' তখন অভিরাম মালিনী দেবীকে আজ্ঞা করিলে মালিনী দেবী এক অঙ্গুলীতে সেই কাষ্ঠের বোঝাটি তুলিয়া আনিলেন। তাহা দেখিয়া সকলেই আশ্চৰ্য্যান্বিত হইলেন।
তথাহি -
“সবাকার মনোভাব গোঁসাই জানিয়া।
মালিনীর হাতে কাষ্ঠ তখন লইয়া।।
মুরলী বাজায়ে কত করেন গর্জ্জন।
বকুলের বৃক্ষতলে করিলা আসন।।
মুরলী রাখিয়া তলে আসনে বসিলা।
হেনকালে কাজীগণ কহিতে লাগিলা।।”

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉  ১৫. কানা নদীর নামকরণ 👏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
এই অত্যাশ্চয় বৈভব দর্শন করিয়া কাজীর সৈন্যগণ বলিতে লাগিল, ‘এতদিনের এই কন্যা আমাদের ঘরে ছিল, আপনাদের মহিমা আমরা কি প্রকারে জানিব । এখন আমাদের সর্ব্ব অপরাধ ক্ষমা করিয়া আশীর্ব্বাদ প্রদান করুন।' তখন মালিনী দেবী সৈন্যগণকে বলিলেন, ‘আজ হইতে কাজীপুরের নাম খানাকুল বলিয়া খ্যাত হইবে।' তারপর কাজীর সৈন্যগণ বহুত দৈন্য স্তুতি সহকারে প্রণামাদি করিয়া স্বগৃহে চলিলেন। এদিকে অভিরাম ভাবিলেন, ‘আমি কি প্রকারে নিজ সখাগণের সহিত মিলন করিব, আর মালিনী দেবীকে কিভাবে অপ্রকট করিয়া রাখিব।' কতক্ষণে উপায় উদ্ভোবন করিয়া মালিনীকে বলিলেন, 'তুমি এখন অপ্রকট হও, আমি পুনরায় আসিয়া তোমার সহিত মিলন করিব। অভিরামের বাক্য শুনিয়া মালিনী দেবী বলিলেন, 'আমি কোথায় কিভাবে অবস্থান করিব। তখন অভিরাম বলিলেন :  যথা ------
তথাহি -
“তখনে গোসাঁইজী বলেন বচন।
মুরলী ভিতরে তুমি রহ যে এখন।।
এতেক শুনিয়া তিঁহো প্রবেশ করিলা।
গোপনের তাঁহারে রাখি গোঁসাই চলিলা।।”

এইভাবে মালিনী দেবীকে গোপন রাখিয়া অভিরাম চলিলেন। তারপর নদীতে স্নান করিতে আসিলে এক লীলা ঘটিল। সেই স্থানে তখন রত্নাকর নদী প্রবাহিত। অভিরাম নদীতে স্নান করিতে গেলে নদী তাহার কৌপীন হরণ করিল। তখন অভিরাম ক্রোধে নদীকে অভিশাপ প্রদান করিলেন। তখন নদী নিজ অপরাধ স্বীকার করিয়া বহুত স্তব-স্তুতি করিলে অভিরাম প্রসন্ন হইয়া বলিতে লাগিলেনঃ
তথাহি - তত্রৈব -
“অন্ধবৎ হয়া থাক তিনশত যে বৎসর।
পরে এক চক্ষু তুমি পাবে রত্নাকর ৷ ৷
দ্বারকেশ্বর বলি নাম কেহবা কহিবে।
কানা নদী নামে তোমা সবাই ডাকিবে।।”

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉  ১৬. বাসুলী দেবী ও অভিরাম গোপাল ঠাকুর 👏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
তারপর অভিরাম নদীয়ায় আগমন করতঃ শ্রীগৌরাঙ্গেদেবের সহিত মিলন করিয়া গৌরাঙ্গদেবসহ নীলাচলে গমন করিলেন। তথা হইতে গৌরাঙ্গদেবকে নদীয়ায় পাঠাইয়া আপনি একাকী চলিলেন।
তথাহি - তত্রৈব -
“এতেক শুনিয়া সবে গমন করিলা ।
একলা গোসাঁইজী বিল্লোকে আইলা।।
মালিনী সহিত আসি করিলা মিলন।
ছুঁহেতে বসিয়া দোঁহে কথোপকথন।।”

বহুদিন পরে অভিরামকে পাইয়া গ্রামবাসীগণ আনন্দে উৎফুল্ল হইলেন। সেই দুইজন আসিয়া বলিল, 'আমরা বৃন্দাবন হইতে আসিয়াছি। আপমার আশ্রিত হইয়া এখানে অবস্থান করিব। ভিক্ষা করিব আনয়ন করতঃ আপনার সেবা করিব।' তাহা শুনিয়া অভিরাম

দুইজনকে কৃষ্ণনগরে পাঠাইলেন। তাহারা হরি-সঙ্কীর্তন সহকারে তথায় ভ্রমণ করিতে লাগিল । পাষন্ডীগণ বহুত নিন্দা আরম্ভ করিলে দুইজন আসিয়া অভিরামের সমীপে সমস্ত জানাইলেন । অভিরাম তাহাদিগকে সান্ত্বনা দিয়া বলিলেন, “চিন্তা করিও না আমি গিয়া সবাইকে দলন করিব।’তারপর অভিরাম ভ্রমণ করিতে করিতে একদিন এক রান্ডী ব্রাহ্মণীকে পথে ক্রন্দন করিতে দেখিয়া তাহার ক্রন্দনের কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। ব্রহ্মণী ব্যাকুলভাবে বলিতে লাগিলেন, ‘এই গ্রামে বাসুলী দেবী আছেন, তিনি আমার পুত্রকে ভক্ষণ করিয়াছেন। তখন অভিরাম বলিলেন, ‘তুমি আমার সঙ্গে চল, আমি তোমার পুত্রকে প্রদান করিব।' এই বলিয়া অভিরাম ব্রহ্মণীসহ দেবীর মন্দিরে আগমন করতঃ দেবীকে বলিলে দেবী বলিলেন, 'আমি এই গ্রামে বহুদিন যাবৎ স্থাপিত হইয়া সর্ব্বদা নরমাংস ভক্ষণ করি।' তখন অভিরাম বলিলেন, 'তুমি এখন ব্রহ্মণীর পুত্রকে আনিয়ে দাও; আর আজ হইতে মনুষ্য ভক্ষণ বন্ধ করিয়া মিষ্টান্ন ভক্ষণ আরম্ভ কর।' বাসলী বলিলেন, “মিষ্টান্ন খেতে আমার রুচি হয় না।' তখন অভিরাম ভাবিলেন, দেবীর বড় অহঙ্কার হইয়াছে। আজই ইহার দম্ভ বিনাশ করিব। অভিরাম দেবীকে বলিলেন, 'তুমি যে মুখে নর মাংস ভক্ষণ করিবে, তোমার সেই মুখের দন্ত খসিয়া পড়িবে।' তখন দেবী করপুটে বহু মিনতি করিলে অভিরাম বলিলেন, ‘অগ্রে ব্রাহ্মণীর পুত্র প্রদান কর। পরে তোমার বিহিত করিব, নতুবা শরীর বিনষ্ট করিব।' দেবী ভয়ে সন্ত্রস্ত হইয়া ব্রাহ্মণীর পুত্রকে আনিয়া দিলেন। অভিরাম পুত্রকে লইযা ব্রাহ্মণীর হস্তে অর্পন করিলেন। তারপর দেবী সবিনয়ে বলিলেন, ‘আপনি নিজ হস্তে পাক করিয়া এক সের চালের অন্ন আমায় খাওয়ান; আর আপনার সমীপে আমায় রাখুন।' অভিরাম বলিলেন, 'আমি কৃষ্ণনগরে অবস্থান করিলে তোমায় লইয়া যাইব।' তারপর অভিরাম তথা হইতে পুনরায় বিশ্লোক গ্রামে শ্রীমদনমোহনের সমীপে আসিলেন। কতদিনে কৃষ্ণনগরে গিয়া শ্রীপাঠ স্থাপন করিলেন। এইভাবে ঠাকুর অভিরাম বিল্লোক গ্রামে লীলা করিলেন।


══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉  ১৭. শ্রীপাট কৃষ্ণনগরের লীলারহস্য 👏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
ঠাকুর অভিরাম বিল্লোক গ্রাম হইতে সঙ্কীৰ্ত্তন নৃত্যাবেশে ভ্রমণ করিতে করিতে শ্রীকৃষ্ণনগরে আগমন করিয়া লীলা সূচনা করিলেন।

তথাহি -
“ষোলশাঙ্গে সেই কাষ্ঠ তুলিতে নারিলা।
সেই কাষ্ঠ লয়া তিঁহ মুরলী পূরিলা।।
মুরলীর কাষ্ঠ শীঘ্র রাখিল পুঁতিয়া।
কাষ্ঠকে বহুত স্তুতি করেন বসিয়া।।
বকুলের বৃক্ষ হয়ে থাকহ এখন।
তোমায় করিবে লোক আসিয়া পূজন।।
বৎসরে বৎসরে পুষ্প হইবে তোমার।
পুষ্প বিনা ফল কভু না হইবে আর।।
বলিতে বলিতে বৃক্ষ হইল মঞ্জরী।
মদনমোহন তবে কহেন বিচারি।।
শ্রীকৃষ্ণনগর হৈল গুপ্ত বৃন্দাবন।
বকুলের বৃক্ষ দেখি হইল স্মরণ।।
শ্রী ব্রজবল্লভ বলেন শুনিয়া তখনে।
বৃন্দাবন শোভা যেন কদম্ব কাননে।।”

তখন অভিরাম বকুল তলায় উপবেশন করিয়া নাম-সঙ্কীর্ত্তন আরম্ভ করিলেন। গ্রামবাসীগণ অত্যাশ্চর্য্য লীলা দর্শন করিযা মিষ্টান্ন আনয়ন করতঃ ভোজন করাইলেন। সে সময় গোপাল দাস এই সংবাদ শুনিয়া তথাই আগমন করতঃ অভিরামের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করিলেন। অভিরাম তাঁহার স্তুতিনতি শুনিয়া শক্তি সঞ্চার করতঃ বৃক্ষ সেবায় নিযুক্ত রহিলেন। সহসা একদিন এক ব্রহ্মচারী তথায় উপনীত হইলেন। ব্রহ্মচারী ভাবিলেন, 'তাহার প্রভাবিত এলাকায় আর একজন আসিয়া ভিত্তি স্থাপন করিয়াছে। তাই ঈর্ষাপরবশ হইয়া যোগ

প্রভাবে ব্রহ্মচারী দৃষ্টি প্রদান করতঃ অভিরামের প্রতিষ্ঠিত বৃক্ষটিকে ভস্মীভূত করিলেন। গোপাল দাস এই দৃশ্য দেখিয়া অভিরামের সমীপে গমন করতঃ সমস্ত নিবেদন করিলেন। তখন অভিরামের আদেশে গোপাল দাস অগ্নিতে শ্রীচরণামৃত প্রদান করিতেই অগ্নি নির্ব্বাপিত হলো এবং বৃক্ষও পূর্ব্ব স্বরূপ ধারণ করিল। গোপাল দাস ব্রহ্মচারীকে বলিলেন, ‘গোসাঞি বৃক্ষ রোপন করিয়াছেন, তাহা আপনি নষ্ট করিতেছেন কেন?” ব্রহ্মচারী বলিলেন, ‘তোমার গোসাইর কিরূপ প্রভাব তাহা দেখিব’, ঠিক সেই সময় ঠাকুর অভিরাম তথায় উপনীত হইলেন। অভিরামের দ্বাদশ আদিত্য সদৃশ তেজপুঞ্জ দেখিয়া ব্রহ্মচারী সবিস্ময়ে বলিলেন, ‘আপনার ঈশ্বর স্বরূপ লক্ষণ দৃষ্ট হইতেছে।' অভিরাম তাঁহার পরিচয় জানিতে চাহিলে তিনি বলিলেন, 'আমার নাম অমৃতানন্দ ব্রহ্মচারী। আমি শক্তি উপাসক, কোথাও স্থায়ীভাবে বাস না করিয়া সর্ব্বদা পরিভ্রমণ করি।' অভিরাম বলিলেন, ‘এখন দোঁহাকার শক্তি পরীক্ষা হইবে। যে শ্রেষ্ঠ হইবে তাঁহার উপাসনা অন্যকে গ্রহণ করিতে হইবে।' তারপর অভিরামের মালা ও তিলক এবং ব্রহ্মচারীর দন্ড, কমুন্ডলু অগ্নিকুন্ডে নিক্ষিপ্ত হইল। এক সপ্তাহ পরে অগ্নি নির্ব্বাপণ হইলে দেখা গেল ব্রহ্মচারীর সকল দ্রব্য ভষ্মীভূত হইয়াছে। তখন অভিরামের অলৌকিক মহিমা দেখিয়া ব্রহ্মচারী তাঁহার শিষ্যত্ব বরণ করতঃ কৃষ্ণানন্দ অবধূত নাম ধারণ করিলেন। ব্রহ্মচারী অভিরামের শিষ্যত্ব গ্রহণ করিলে কৃষ্ণনগরবাসী ব্রহ্মচারীর শিষ্যগণ প্রতিবাদ করিল। অভিরাম তাহাদিগকে বৈষ্ণবতার মহিমা শ্রবণ করাইলেন। কিন্তু তাহাতে বিপ্রগণের মন সন্তুষ্ট হইল না । তাহারা অভিরামের অবমাননার জন্য উপায় চিন্তা করিতে লাগিলেন। শেষে সকলেই এক যুক্তিস্থির করিল যে, অভিরাম যবনের কন্যাকে গ্রহণ করিয়াছে, এই অপবাদ রটাইতে পারিলে অভিরাম আপনি কৃষ্ণনগর ছাড়িয়া পালাইবে। তাহারা গ্রামের সর্ব্বত্রই এই অপবাদ বাক্য প্রচার করিতে লাগিলেন। তখন অভিরাম ভাবিলেন, ‘আমি পাষন্ড উদ্ধারর জন্য আসিলাম, কিন্তু আমার স্থানের পাষন্ডের উদ্ভব হইল। অভিরাম কৃষ্ণনগরবাসীগণকে উদ্ধারের জন্য কৃতনিশ্চয় হইলেন। মালিনী দেবীর গুপ্ত মহিমাকে বিদিত করিয়া কৃষ্ণনগরবাসীগণকে উদ্ধারের জন্য এক মহামহোৎসবের আয়োজন করিলেন। সেই মহোৎসবে সপার্ষদ শ্রী গৌরসুন্দর উপনীত হইলেন। 

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉  ১৯. মালিনীর অপমান করে যেইজন 🙇
বৃন্দাবন প্রাপ্তি তার না হবে কখন 👏  শ্রীপাট কৃষ্ণনগরের লীলারহস্য 👏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীমন্মহাপ্রভুর আদেশে মালিনী দেবী রন্ধন কার্য্যে প্রবৃত্ত l হইলেন। রন্ধনের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি অভিরাম যোগাড় দিতেলাগিলেন। সেই সময় এক সরোবর খোদাইতে শ্রীগোপীনাথ দেব প্রকট হইলেন।

তথাহি -
“এতেক বলিয়া পুনঃ বিচারিয়া মনে।
দিব্য এক সরোবর করিলা সেইক্ষণে।।
তথি মধ্যে গোপীনাথ করিলা প্রকাশ ।
দেখিয়া মালিনী দেবী হইল উল্লাস।।”

তথাহি - শ্রী অনুরাগবল্লী -
“বাড়ীর পূর্ব্বেতে রামকুন্ড খোদাইতে।
শ্রীমূর্ত্তির ছলে কৃষ্ণ হইল সাক্ষাতে।।
শ্রীগোপীনাথ নাম পরম মোহন।
অশেষ বিশেষ রূপে করেন সেবন।।”

তথাহি - শ্রী ভক্তিরত্নাকরে -
“শ্রী বিগ্রহ সেবিতে যবে ইচ্ছা উপজিল।
স্বপ্নছলে গোপীনাথ দরশন দিল।।
এথা মোর স্থিতি কহি স্থান দেখাইল।
অভিরাম খুদি তথা বিগ্রহ পাইল।।”

এইভাবে শ্রীগোপীনাথ প্রকট হইলেন। শ্রীগোপীনাথ দেবকে রন্ধন শালে লইয়া রাখিলেন । শ্রীগৌরাঙ্গদেব স্বীয় পরিকরগণের সঙ্গে শ্রীগোপীনাথ দেবকে দর্শন করিয়া আনন্দে বিভোর হইলেন। শ্রীগোপীনাথ দেবের সহিত রাসালাপ সহকারে মালিনীদেবী রন্ধন কার্য্য করিতে লাগিলেন। শ্রীমন্মহাপ্রভু পারিষদগণকে সঙ্গে লইয়া বকুলতলায় উপবেশন করিলেন। মালিনীদেবী পাক কাৰ্যে অতীব সুনিপুণ। শ্রীগোপীনাথদেব রন্ধনশালায় অবস্থায় করিয়া দেখিতে লাগিলেন। শ্রীগৌরাঙ্গদেব পাকশালে আগমন করতঃ পাকসামগ্রী দেখিয়া বিস্মিত

হইলেন। অভিরামকে বলিলেন, ‘তুমি এত সামগ্রী কোথায় পাইলে ?' অভিরাম বলিলেন, “শ্রীগোপীনাথদেবই জোগাইয়াছেন।' তারপর রন্ধন কার্য্য সমাপন হইলে প্রভু বলিলেন, ‘অগ্রে শ্রীগোপীনাথকে নিবেদন কর, পরে আমরা তাঁহার প্রসাদ গ্রহণ করিব।’ শ্রীগোপীনাথদেবের ভোগ সমাপন হইলে প্রভুপ্রসাদ গ্রহণের জন্য নিত্যানন্দাদিকে ডাকিতে বকুলতলায় আসিলেন । প্রভু আসিয়া বলিলেন, “তোমরা বিলম্ব না করিয়া সকলে প্রসাদ গ্রহণের জন্য গমন কর।' এই কথা শুনিয়া প্ৰভু নিত্যানন্দ বলিলেন, ‘আমরা কি প্রকারে প্রসাদ গ্রহণের জন্য যাইব। মালিনী যবনের কন্যা বলিয়া বিখ্যাত তাঁহার হস্তের পাক আমরা কি প্রকারে গ্রহণ করিব।' প্রভু নিত্যানন্দের বচনে শ্রীমন্মহাপ্রভু বলিলেন
তথাহি - তত্রৈব -
“তখন চৈতন্য পুনঃ করেন বিনয় ।
অভিরাম শক্তি কন্যা জানিব নিশ্চয়।।
মালিনীর অপমান করে যেইজন।
বৃন্দাবন প্রাপ্তি তার না হবে কখন।”

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉  ২০. মালিনীর মহিমা প্রকাশ 🙇 বৃন্দাবন প্রাপ্তি তার না হবে কখন 👏  শ্রীপাট কৃষ্ণনগরের লীলারহস্য 👏 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ দ্বিতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/abhiram-gopal1.html

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
তখন প্রভু নিত্যানন্দ পবনকে ডাকিয়া বলিলেন, “তুমি বিনা মালিনীর মহিমা প্রকাশ করা অসম্ভব। যখন মালিনীদেবী প্রসাদ লইয়া পরিবেশন করিতে আসিবে তখন তুমি আপন স্বরূপ ধরিয়া তাহার মস্তকে বস্ত্র উড়াইবে, তাইতেই মালিনীর প্রকাশ ঘটিবে।' নিত্যানন্দের বাক্য পালনে পবন স্বীকার করিলেন। তারপর সকলে ভোজন করিতে চলিলেন। প্রভু সকলকে লইয়া ভোজন করিতে বসিলে মালিনীদেবী পরিবেশন করিতে আসিলেন। তখন পবনদেব উঠিয়া প্রভু নিত্যানন্দের আজ্ঞা পালন করিলেন।
তথাহি -
“শুনি পদোদক করি আছেন বসিয়া ।
মালিনী আইলা তবে প্রসাদ লইয়া ।।
সুবর্ণের থালে হস্ত হইল বন্ধন।
হেনকালে পবন উঠি করিলা গমন।।
স্বভাব আপন তবে পবন ধরিলা।
শীঘ্রগতি মস্তকের বস্ত্র খসাইলা ।।
বস্ত্র সহিত কেশ উড়ায় তখন।
হেনকালে অভিরামে বলেন বচন।।
শুনহ গোঁসাইজীউ হইনু লজ্জিত।
পবন আসিয়া দেখ কৈল বিপরীত।।
দেখি অভিরাম তবে বলেন হাসিয়া ।
দুই হস্তে বস্ত্ৰ কৈলা সম্বরণ।।
বস্ত্র সম্বরণ কর চতুর্ভুজা হইয়া ।।
দেখিয়া সবার মনে হইল বিশ্বাস ।
অভিরাম শক্তি কন্যা জানিলা নিৰ্য্যাস।।”

এইভাবে মালিনীদেবীর প্রকাশ ঘটিল। মহান্ত সকলের প্রসাদ গ্রহণ অন্তে ঠাকুর অভিরাম প্রসাদ গ্রহণ করিলেন। কিন্ত পাষন্ডীগণ পরিহাস করিয়া চলিলেন। কেহই প্রসাদ গ্রহণ করিল না। তখন মালিনীদেবী পবনকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিতে লাগিলেন।
তথাহি -
“সকলের সনে প্রসাদ না পাইল পবন।
শেষ প্রসাদ পাইবে সে শুনহ বচন।।
বৎসর বৎসর পবন আসি এই স্থানে।
স্বভাব প্রকাশি প্রসাদ পাইবে তখনে৷৷
এইত অভিশাপ আমি দিনু পবনে।
মিথ্যা না হইবে জেন আমার বচনে।।”

এইভাবে মহামহোৎসব সমাপন হইল। কিন্তু যাহাদের জন্য এই মহামহোৎসবের আয়োজন, তাহারা কেহই প্রসাদ গ্রহণ করিল না। তখন পাষন্ডীগণের উদ্ধারের জন্য ঠাকুর অভিরাম এক অভিনব উপায় উদ্ভাবন করিলেন। স্বশক্তি প্রভাবে এক অপ্রাকৃত মার্জ্জার সৃষ্টি করিয়া তাহার মাধ্যমে মহাপ্রসাদ প্রেরণ করতঃ প্রসাদের মহিমাত্বে পাষন্ডগণের চিত্তের বিভ্রান্তি দূরীভূত করিলেন। সকলে অভিরাম প্রসাদে সুনির্ম্মল প্রেমরসে নিমগ্ন হইল। তারপর ঠাকুর অভিরাম শ্রীপাট কৃষ্ণনগরে অবস্থান করিয়া আপনার লীলা-বৈচিত্র্য প্রকাশ করিতে লাগিলেন। 

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

                   🙏 জয় শ্রীশ্রী গোপীনাথ 🙏

══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলা রহস্য 🌹 শ্রীদ্বাদশ গোপালের প্রথম গোপাল অভিরাম গোপালের অদ্ভুত বৃত্তান্ত 🏵️ তৃতীয় ভাগ  🌷 শ্রীশ্রীঅভিরাম লীলাস্থলী 🙏 শ্রীপাঠ কৃষ্ণনগর, খানাকুল 🙇 রচয়িতা 📝 শ্রীমৎ কিশোরী দাস বাবাজী 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/abhiram-gopal2.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
     ꧁👇📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧





পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩১)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের রসতত্ত্ব ও দর্শনতত্ত্ব*

*🍀নাট‍্যশাস্ত্রে ভরত আটটি রসের ও বর্ণের নাম উল্লেখ করেছেন এবং শৃঙ্গারকে স্থায়ীভাবসম্পন্ন শুচি ও উজ্জ্বলবেশাত্মক রস বলে বর্ণনা করেছেন।"তত্র শৃঙ্গারো নাম রতিস্থায়িভাবপ্রভবঃ।উজ্জ্বলবেশাত্মক।যৎকিঞ্চিল্লোকে শুচি মেধ‍্যমুজ্জ্বলং দর্শনীয়ং তচ্ছৃঙ্গারেনোপমীয়তে।যস্তাবদুজ্জ্বলবেশঃ স শৃঙ্গারবানিত‍্যুচ‍্যতে।*
*🍀অভিনবগুপ্ত প্রভৃতি ভাষ‍্য ও টীকাকারগণ শৃঙ্গারের লৌকিক পরিচয় দিয়েছেন নাট‍্যশিল্পীজীবনে রূপায়ণের জন্য ও তারজন‍্য তাঁরা নির্বেদসূচক শান্তরসের অবতারণা করেছেন পবিত্রতার প্রকাশকরূপে। অভিনবগুপ্ত "অভিনবভারতী" টীকায় বলেছেন--, "অথ শান্তো নাম শমস্থায়িভাবাত্মকো মোক্ষপ্রবর্তক"। কিন্তু কবি জয়দেবের অভিপ্রায় এসব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা,কেননা যেখানে তিনি সর্বরসাশ্রয় ও সর্বভাবকেন্দ্র শ্রীকৃষ্ণকে আদিরস শৃঙ্গারের প্রতিমূর্তি এবং অধিষ্ঠাতারূপে বর্ণনা করেছেন, সেখানে শৃঙ্গাররসময়শ্রীকৃষ্ণ কখনই লৌকিক অথবা জাগতিক সম্ভোগরসের প্রতিমূর্তি ও নায়ক বলে গণ‍্য হতে পারেন না।জয়দেবের শ্রীকৃষ্ণ তাই সর্বোত্তম ও সর্বসাধকারাধ‍্য "কৃষ্ণ ভগবান"।তিনি দিব‍্যলীলার কেন্দ্রদেবতা এবং তাঁর লীলাসঙ্গিনী পরমা নায়িকা শ্রীরাধাও দিব‍্যশক্তিরূপিণী।গীতগোবিন্দের এই শ্রেষ্ঠ নায়ক নায়িকাই তন্ত্রসাহিত‍্যের শিব-শক্তি-রূপের দিব‍্য প্রতিমূর্তি।*
*🍀তন্ত্রে শিবকে কল্পনা করা হয়েছে নিষ্কল ব্রহ্ম ও পরমানন্দ বিশুদ্ধচৈতন‍্যরূপে। তিনি পরমোজ্জ্বল দিব‍্যজ্ঞানপীঠ সহস্রারকমলে আসীন এবং তারই অভিন্ন প্রকাশ শক্তি কামকলা বা কুন্ডলিনী আধারপদ্মে আসীনা। একটি ব‍্যক্ত ও জাগ্রত এবং অন‍্যটি অব‍্যক্ত ও সুপ্ত।একটি কেন্দ্রে শক্তি চৈতন‍্যঘন পরমশিব-রূপে সপ্রকাশ এবং অন‍্য কেন্দ্রে শক্তি অব‍্যক্তচৈতন‍্য রূপে অপ্রকাশ, কিন্তু পূর্ণ চৈতন‍্যরূপিণী।*
*🍁তন্ত্র প্রসঙ্গে আমাদের মনে রাখা উচিত যে, সাধারণ মানবীয় "কাম"-রূপ সিসৃক্ষাকে তন্ত্রে সৃষ্টি-ইচ্ছার প্রতীকরূপে বর্ণনা করেছে।উপনিষদে উল্লিখিত আদিকামও সগুণব্রহ্মের সৃসিক্ষা বা সৃষ্টি-ইচ্ছা, কেননা উপনিষদে পাই, তিনি (সগুণব্রহ্ম) কামনা করলেন "বহু" হবার জন্য, সুতরাং সেই কাম বা কামনাই দিব‍্যস্পন্দনরূপিণী কলা বা কামকলা কুন্ডলিনী।সেই কাম বা কামকলাই শক্তি বা শক্তিস্বরূপিনী। তন্ত্রদৃষ্টিতে শক্তি চিৎ বা জ্ঞানস্বরূপ। স‍্যার জন্ উডবফ্ তান্ত্রিক "যন্ত্র" বিশ্লেষণে এ সম্বন্ধে যে বলেছেন তা প্রণিধানযোগ্য।*
*তিনি শক্তি,কামশক্তি বা কামকলার বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে বলেছেন--, Consciousness is power.As this is an identity, its simple converse is also true--- power is Consciousness. Consciousness is of Being and Becoming. So power is to Be and Become. Power posits itself as Will. Hence Will-to-be and Will-to-become. This is Kala which,as Basic Desire,is Kama-Kala. Cosmically, it is What informs, formulates, shapes,patterns.☆ ☆ But Chit-sakti is Vimarsa also.That is to say,It not only is and manifests Its own being,but It also becomes and manifests what It becomes.prakasa and Vimarsa are not isolable.This is shown in.God Mother kali. There kali,in this fundamental context, is kali (Cf. Swami pratyagatmananda saraswati and sir John Woodroffe ; sadhana for self-raali=ation (1963),p. 43 এবং The serpent-power গ্রন্থ দ্রষ্টব‍্য)।*
*🍀মোটকথা তন্ত্রে কামকলা বা কুন্ডলিনীকে coilling energy বা অব‍্যক্তশক্তি বলা হয়েছে কুন্ডলিনীর স্বরূপবিকাশের অভাবের জন্য।স‍্যার জন উডরফ্ তন্ত্রতত্ত্ব ব‍্যাখ‍্যা প্রসঙ্গে মূলাধারে কুন্ডলিনী-সম্বন্ধে বলেছেন, The Kundolini at the muladhara is the whole primordial sakti in monad or germ or latency ; that is why it iscoiled. The kundulini that mounts up the nadi is also the whole sakti in a specially dynamic form--an eject likeness of the Eternal serpent. The resultof the last fusion(there are successive fusions in the various centres also) in the sahasrara is also the whole,or purna. উপনিষদের "পূর্ণস‍্য" পূর্ণমাদায় পূর্ণমেবারশিষ‍্যত‍্য, মন্ত্রের এটি প্রতিধ্বনি।এথেকে আমরা বুঝি যে,Potential বা সূক্ষ্মাবস্থায় শক্তি কুন্ডলিনী শুধু ব‍্যষ্টি(পৃথক পৃথক) জীবেই নয়, বিশ্বের সর্বত্র সব জীব ও জিনিসের মধ্যে নিহিত বা স্থাপিত।তন্ত্রে এই শক্তি তেজোময় "বিদ‍্যুৎলতাকারা"। 'কামকলাবিলাস' তন্ত্রে কামকলা কুন্ডলিনী সম্বন্ধে বলা হয়েছে--, "কাম কমনীয় তথা কলা চ দহনেন্দু বিগ্রহৌ বিন্দু"। "কাম" অর্থে তাই কামেশ্বর শিব এবং তিনি তেজোময় প্রকাশস্বরূপ।এই 'কাম' শিবই 'অগ্নি' নামে পরিচিত।এঁকে ইন্দু বা চন্দ্র-রূপেও কল্পনা করা হয় ; "অগ্নিষোমরূপিনী"।অগ্নি ও চন্দ্রের মিথুন রূপ 'বিন্দু'।তন্ত্রে বিন্দু মহাত্রিপুরসুন্দরী কামকলা।'কলা' অর্থে বিমর্শশক্তি। বিমশাশক্তিই কামেশ্বরী 'ষোড়শী', "বিমর্শরূপিনী বিদ‍্যা ষোড়শী যা প্রকীর্তিতা"।বিন্দু, নাদ ও বীজরূপে কামকলার প্রকাশ। আবার বিন্দু শিব ও বীজ শক্তি এবং এদের মিলিত রূপেই নাদের সৃষ্টি। নাদ বা কুন্ডলিনীই শব্দব্রহ্ম স্ফোট। সারদাতিলকতন্ত্রে (১|১১-১২) এবং প্রপঞ্চসারতন্ত্রে (১|৪৪) শব্দব্রহ্ম নাদের বা স্ফোটের সৃষ্টি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে।*
                    *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩২)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
 *গীতগোবিন্দের রসতত্ত্ব ও দর্শনতত্ত্ব*

*(ক)ভিদ‍্যমানাৎ পরাদ্ বিন্দোবব‍্যক্তাত্মা বরোহভবৎ।*
*শব্দব্রহ্মেতি তং প্রাহুঃ সর্বাগমবিশারদাঃ।।*
*(খ)বিন্দোস্তস্মাদ্ ভিদ‍্যমানাদ্ রবোহব‍্যক্তাত্মকো ভবেৎ।*
*স স্বঃ শ্রুতিসংপন্নৈঃ শব্দব্রহ্মেতি কথ‍্যতে।।*
*🌻ভাষ‍্যকার উমাপতি স্বতন্ত্রতন্ত্রের ২৪শ কারিকায় বলেছেন--, "কুন্ডলিনী শব্দবাচ‍্যা তু ভুজঙ্গকুটিলাকারেণ নাদাত্মনা স্বকার্যেন প্রতিপুরুষং ভেদেনাবস্থিতো, ন তু স্বরূপেণ প্রতিপুরুষবস্থিতা"। স্বতন্ত্রতন্ত্রের কারিকাটি হল---*
*🌷যথা কুন্ডলিনী শক্তির্মায়াকর্মানুসারিণী।*
*🌷নাদবিন্দ্বাদিকং কার্যং তস‍্যা ইতি জগতস্থিতি।।*
*"ললিতাসহস্রনাম" গ্রন্থে নাদরূপী কুন্ডলিনী "কমলা-দেবী"।এর টীকাকার ভাস্কর রায় নাদরূপী কুন্ডলিনী বা কামকলার 'কাম' অর্থে বলেছেন ইচ্ছা বা শিব ও শক্তির মিথুনমূর্তি এবং "কলা" অর্থে তাদের প্রকাশ বা manifesttation । তন্ত্রশাস্ত্রে তাই কামকলা কুন্ডলিনী সর্ব মন্ত্র তথা শব্দের ও বিশ্বপ্রপঞ্চের বীজ বা কারণরূপে পরিচিত। সুতরাং তন্ত্রদৃষ্টিতে সৃষ্টিবিলাসিনী কাম বিমর্শ (বিমর্শশক্তি) এবং নিষ্কল চিৎ বা শিব প্রকাশ (প্রকাশশক্তি)।এই বিমর্শ ও প্রকাশ একই শক্তির উন্মীলন ও নিমীলন রূপ।কাম সাধারণ মানুষের কাছে পার্থিব সংসারসৃষ্টির কারণ এবং অপার্থিব মহামানবের কাছে সমষ্টি বিশ্বসৃষ্টির কারণ।পুনরায় মানুষের বিকৃত দৃষ্টির কাছে কাম (ld) অকল‍্যানরূপে প্রতীত (বোধগম‍্য) হলেও মহামানব বা দেবমানবের কাছে কল‍্যাণময় ইচ্ছা রূপেই প্রতিভাত (উজ্জ্বলরূপে প্রকাশিত) হয়। গীতগোবিন্দের নায়ক শ্রীকৃষ্ণ রসপ্রতিষ্ঠারূপী শৃঙ্গার অর্থে অপ্রাকৃত রসলীলার স্রষ্টা ও দ্রষ্টা।কবি জয়দেব তাই শৃঙ্গারকে মানবীয় প্রেমের পরিবর্তে শাশ্বত আনন্দসত্তায় প্রতিষ্ঠিত কামকে ঈশ্বরীয় প্রেম-রূপে অনুভব ও বর্ণনা করেছেন।তারজন‍্য কবা দশাবতারের রূপবর্ণনার শেষে শৃঙ্গাররসরূপী সর্বরসকেন্দ্র শ্রীকৃষ্ণকে প্রণাম জানিয়ে বলেছেন--, "কৃষ্ণায় তুভ‍্যং নমঃ"।*
*🌺এখানে রস-নির্ধারণের ব‍্যাপারে "রসিকপ্রিয়া"টীকাকার রাণা কুম্ভা পূজারী গোস্বামীর ব‍্যাখ‍্যাকে মোটেই অনুসরণ করেননি। যেমন মীনাবতারকে রাণা কুম্ভ বলেছেন--, উৎসাহস্থায়িভাবো বীরো রসঃ। দশস্বপি পদেষু ধীরললিতো নায়কঃ"। বামন অবতারকে রাণা কুম্ভ বলেছেন--, অত্রাদ্ভূতো রসঃ। পরশুরামকে বলেছেন--, অত্র বীভৎসো রসঃ। "প্রলয়েত‍্যাদিপদষট্ কে ধীরোদ্ধতো নায়কঃ।রামচন্দ্রকে বলেছেন--,ধীরোদাত্তো নায়কঃ।বলরামকে বলেছেন--, ধীরললিতো নায়কঃ বা শৃঙ্গারী নায়কঃ এবং বুদ্ধাবতারকে বলেছেন--, ধীরশান্তো নায়কঃ এবং তিনি শান্তরসের প্রতিষ্ঠা বা কারণ।আবার যেখানে জয়দেব শ্রীকৃষ্ণকে বর্ণনা করেছেন--,"শৃণু সুখদং শুভদং ভবসারম্", সেখানেও শ্রীকৃষ্ণ শান্তরসের প্রতিমূর্তি বা আশ্রয়, এবং যেখানে বলেছেন--, "কৃষ্ণায় তুভ‍্যং নমঃ", সেখানে শ্রীকৃষ্ণ শৃঙ্গার-রসের প্রতীক (◆টীকাকার পূজারী-গোস্বামী গীতগোবিন্দের অধিকাংশ পদ ব‍্যাখ‍্যায় নায়ক-নায়িকা গুণের পরিচয় দিয়েছেন। যেমন (১)"বসন্তে বাসন্তীকুসুমসুকুমারৈবরয়বৈর্ভ্রমন্তী" প্রভৃতি পদের (১|২৭) ব‍্যাখ‍্যায় বলেছেন--, ☆ ☆ শ্রীরাধিকায়াঃ সর্বোৎকর্ষমাবিষ্কর্তুং তত্র তত্র তস‍্যা অষ্টনায়িকাবস্থাং বর্ণয়ন সম্ভোগপোষকবিপ্রলম্ভশৃঙ্গারবণানায় প্রথমং বিরহোৎকন্ঠিতামাহ বসন্ত ইতি।(২)অথাগতাং সাধকমস্তবেণ ☆ ☆ দৃষ্টরদেবদাহ (৭|১২) পদব‍্যাখ‍্যায় বলেছেন--,চন্দ্রোদয়েন শ্রীকৃষ্ণাগমন প্রতিবন্ধে সতি তং বিনা সখ‍্যা আগমনে তস‍্যা বিপ্রলব্ধাবস্থাং বর্ণায়িতুমাহ অথেতি।(৩) সমুদিতমদনে রমণীবদনে প্রভৃতি (৭|২২) পদ ব‍্যাখ‍্যায় বলেছেন--, পুনস্তস‍্যা এব স্বাধীনভর্তৃকাত্বসূচক পূর্বকং তল্লীলাবিশেষমাহ ☆ ☆। (৪) অথ কথমপি যামিনীং প্রভৃতি (৮|১) পদব‍্যাখ‍্যায় খন্ডিতাবস্থার বর্ণনা করেছেন)। রাণা কুম্ভ তাঁর "সঙ্গীতরাজ" গ্রন্থ থেকে রস ও নায়কের রূপবর্ণনা করেছেন (◆ রাণা কুম্ভা-কৃত "সঙ্গীতরাজ" গ্রন্থে রস-বর্ণনা দ্রষ্টব‍্য। বারাণসী মহাবিদ‍্যালয় থেকে প্রকাশিত ও ডক্টর প্রেমলতা শর্মা সম্পাদিত Sangitaraja, প্রথম ভাগ)।*
*🍀মোটকথা পূজারী গোস্বামী ও রাণা কুম্ভার মধ্যে রস-নির্ধারণ ব‍্যাপারে কিছু কিছু মতভেদ থাকলেও শ্রীকৃষ্ণ যে সর্বরসনায়ক ও পরমরসরূপী একথা উভয়েই স্বীকার করেছেন এবং এই স্বীকৃতি থেকে একথাও নিঃশংসয়ে প্রমাণ হয় যে, সর্বরসাশ্রয়ী গীতগোবিন্দ-পদগান যে পরবর্তী কালের রসমন্দাকিনীর আশ্রয় বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনের "পটভূমি" এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।তাছাড়া গীতগোবিন্দের অন‍্যান‍্য পদ বা গানগুলির পর্য‍্যালোচনা করলে একথা স্পষ্ট প্রমাণ হয়।*
*💮উদাহরণরূপে বলা যেতে পারে যেমন, গীতগোবিন্দের তৃতীয় গান "ললিতলবঙ্গলতা-পরিশীলনকোমল- মলয়সমীরে " প্রভৃতি নববসন্তের পরিবেশ ও সৌন্দর্য্যকে আবাহন জানিয়ে শ্রীরাধা-কৃষ্ণের সম্ভোগলীলাচিত্র স্মরণে যদি কারো মনে কোন ব‍্যভিচারী ভাবের সঞ্চার হয় তার জন্য কবি জয়দেব বলেছেন--, "শ্রীজয়দেবভণিতমিদ- মুদয়তি হরিচরণস্মৃতিসারম্" প্রভৃতি, অর্থ‍্যাৎ শ্রীজয়দেব রচিত এই সরসবসন্তকালের বনশোভা ও তদনুগত মদনবিকারের বর্ণনা সকলের চিত্তে যেন হরিচরণের পবিত্র স্মৃতি জাগ্রত করে। দৃষ্টি ও ভাবনা এখানে বিশ্বোত্তীর্ণ ও আনন্দাভিমুখী, পার্থিব সংসারসুখের দিকে তা মোটেই নমিত নয়। অধিকাংশ ব‍্যাখ‍্যা ও টীকাকাররা এখানে ধীরোদাত্ত (সুখে-দুঃখে অবিচলিত) ধীরললিত (নম্রস্থভাব, নিশ্চিন্ত এবং নম্র ও স্থির বুদ্ধিসম্পন্ন),ধীরশান্ত (প্রসিদ্ধ গুণাবলীর অধিকারী নায়কবিশেষ),ও ধীরোদ্ধত (স্বভাবে স্থিরচিত্ত কিন্তু সময়ে সময়ে উদ্ধত নায়কবিশেষ)এই চার রকম নায়কগুণের বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।রস,ভাব ও নায়ক-নায়িকার বিস্তৃত পরিচয়ের উল্লেখ আমরা পরে করার চেষ্টা করব এখানে আলোচনার উদ্দেশ্য হল, কীভাবে গীতগোবিন্দাশ্রিত রস,ভাব ও নায়ক-নায়িকা গুণকে আশ্রয় করে পরবর্তী মহাজন-পদাবলীকীর্তন রস ও ভাবসমৃদ্ধির পথে অগ্রসর হয়েছিল তা প্রদর্শন করা।*
                 *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৩)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের রসতত্ত্ব ও দর্শনতত্ত্ব*

*🍀বৈষ্ণবশাস্ত্রবেত্তা পন্ডিত শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায়ের বিবৃতিও এ'প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য।তিনি বলেছেন, "ভগবদুপাসনার দুইটি দিক আছে--, একটি ঐশ্বর্য‍্যের ও অন‍্যটি মাধুর্য‍্যের।☆ ☆ কবি জয়দেব প্রথম জীবনে ঐশ্বর্য‍্যের-- বিধিমার্গের উপাসক ছিলেন এবং সেই ভাব হতে সাধনার ক্রমবিকাশে রাগের পথে তিনি মাধুর্য‍্যের ব্রজকুঞ্জে প্রবেশলাভ করেছিলেন।☆ ☆ শ্রীগীতগোবিন্দের আরম্ভভাগে দশাবতারস্তোত্রে এবং "শ্রিতকমলাকুচমন্ডল" (গীত ২) সঙ্গীতটিতে শ্রীকৃষ্ণের এই ঐশ্বর্যরূপই প্রকাশিত হয়েছে। দশাবতারস্তোত্রে শ্রীকৃষ্ণ সর্ব অবতারের কেন্দ্ররূপে বর্ণিত হয়েছেন।কবি বন্দনা করেছেন "দশাকৃতিকৃতে কৃষ্ণায় তুভ‍্যং নমঃ"।☆ ☆ শ্রিয়কমলাকুচমন্ডল" পদগানটি ঐশ্বর্য‍্য দ‍্যোতক (প্রকাশক), কারণ তার মধ্যে একবারও শ্রীরাধার নাম উল্লিখিত হয়নি,আদ‍্যপান্তে শ্রী-র নামই কীর্তিত হয়েছে।*
*🍀তাছাড়া "জনকসুতাকৃতভূষণ জিতদূষণ সমরশমিতদশকন্ঠ অভিনবজলধরসুন্দরধৃতমন্দর শ্রীমুখচন্দ্রচকোর " প্রভৃতি গীতটির প্রসঙ্গেও শ্রীমুখোপাধ‍্যায় বলেছেন--, কবি শ্রীরাধার প্রেমের উৎকর্ষ দেখাবার জন্য শ্রী ও সীতার প্রসঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের নায়কত্বের দুইটি দিক প্রদর্শন করেছেন। ☆ ☆ টীকাকার বলেছেন--,এই সঙ্গীতে ধীরললিত, ধীরশান্ত,ধীরোদ্ধত এবং ধীরোদাত্ত নায়কের লক্ষণ বর্ণিত হয়েছে।কিন্তু ধীরললিত নায়ক শ্রেষ্ঠ বলে আদি ও অন্তে তিনি শ্রীপতিরূপেই উল্লিখিত হয়েছেন। ☆ ☆ শ্রীমদ্ভাগবত বলেন সৌন্দর্য্য সম্পদের অধিষ্ঠাত্রী শ্রীদেবীও গোপীপ্রেমের আকাঙ্ক্ষা করতেন। সুতরাং বুঝতে পারা যাচ্ছে যে,কবি এই দুইটি সঙ্গীতে ঐশ্বর্য‍্যের পরিপূর্ণ ক্ষেত্র তৈরী করে নিয়েছেন, এইবার ধীরে মাধুর্য‍্যের অগ্রসর হবেন। পরবর্তী পদাবলীকীর্তনেও শ্রীকৃষ্ণের ঐশ্বর্য‍্য ও মাধুর্য‍্যের বিকাশ সুস্পষ্ট।*
*🌹কবি জয়দেব শ্রীরাধা-কৃষ্ণের বিচিত্র ভাবময় রসলীলার বর্ণনায় সাধকের রসানুভূতির ক্ষেত্রে যে এক অনির্বচনীয় ভাবমন্দাকিনীর প্রবাহ সৃষ্টি করেছেন এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। পরবর্তী লীলাকীর্তন বা রসকীর্তনে বিদগ্ধ মহাজনগণ যে বৃন্দাবন,দ্বারকা,মথুরা ও অন‍্যান‍্য স্থানবিলাসী শ্রীরাধা-কৃষ্ণের অপার্থিব লীলাকাহিনীর পটভূমিকায় বিচিত্র পালাগানের অবতারণা ক'রে কীর্তনের সুর ও সাহিত‍্য-ভান্ডারকে রসসমৃদ্ধ করেছেন তার ধারণা,আদর্শ ও উদ্দীপনায় বীজ বা উপকরণও তাঁরা সংগ্রহ করেছেন কবি জয়দেবের গীতগোবিন্দ থেকে।যেমন, শ্রীকৃষ্ণের লীলাবর্ণনাচ্ছলে শ্রীজয়দেব বলেছেন--, "কালিয়বিষধরগঞ্জন" (১|১৯) "বৃন্দাবনবিপিনে পরিসরপরিগত যমুনাজলপূতে (১|৩৪) "গোপবধূরনুগায়তি কাচিদুদঞ্চিতপঞ্চমরাগম্"(১|৪১) "রাসরসে সহনৃত‍্যপরা হরিণাঃ যুবতীঃ প্রশশংসে"(১|৪৩),"রাসোল্লাসভরণে বিভ্রমভৃতামাতীরবামভ্রুবাম্" (১|৪৯), "বিহরতি বনে রাধা সাধারণপ্রণয়ে হরৌ"(২|১),"গোপকদম্বনিতম্ববতীমুখচুম্বনলম্বিতলোভম্"(২|৪), "পীতবসনমনুগতমুনি মনুজসুরাসুরবরপরিবারম্" (২|৬), "বিশদকদম্বতলে মিলিতং" (২|৮), "গোবিন্দং ব্রজসুন্দরীগণধৃতং" (২|১৯), "বৃষ্টিব‍্যাকুল-গোকুলাবন রসাদুগ্ধত‍্য গোবর্দ্ধনং ☆ ☆ শ্রেয়সি কংসদ্বিষঃ" (৪|২৩), "ধীরসমীরে যমুনাতীরে বসতি বনে বনমালী" (৫|০), "পততি পতত্রে বিচলিত পত্রে ☆ ☆ রচয়তি শয়নং সচকিতনয়নং, পশ‍্যতি তব পন্থানম্" (৫|১১), প্রভৃতি এগুলি যে পরবর্তী পদাবলীকীর্তনের রসধারাসিক্ত মান,খন্ডিতা,মাথুরা,দান,নৌকাখন্ড, রাস,কলহান্তরিতা প্রভৃতি পালারূপ লীলাভিনয়ের বিষয়বস্তুতে গৃহীত হয়েছিল একথা সূক্ষ্মদর্শী মাত্রেই স্বীকার করেন।রাগ,তাল প্রভৃতির বেলাতেও তাই।*
*🍀এরপর এ প্রসঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু হবে গীতগোবিন্দ-মহাকাব‍্যে নৃত্যলক্ষণসম্পৃক্ত অভিনয়পদ্ধতি অব‍্যাহত আছে এখনো বিশেষভাবে দক্ষিণ-ভারতে তাঞ্জোর-অঞ্চলে ভরত-রচিত নাট‍্যশাস্ত্রের ধারাকে অনুসরণ করে।যদিও বাংলার পদাবলীকীর্তনে অভিনয়ের সহযোগ একান্তভাবে পাওয়া যায় না,তবুও প্রাচীন গীতানাট‍্য গীতগোবিন্দের নৃত্যাভিনয়ের কিছুটা প্রাচীনধারার ইঙ্গিত পাওয়া সম্ভব হবে।তাছাড়া একথা সত‍্য যে,গীতগোবিন্দ গীতিনাট‍্যের বা গেয়নাটকের অনুপ্রেরণা লাভ করে ভারতেই এবং বিশেষ করে দক্ষিণভারতের ও বাংলার গীতিনাট‍্য ও সঙ্গে সঙ্গে নৃত্যনাট‍্যগুলির বিকাশ পরবর্তীকালে সম্ভব হয়েছিল।*
🎺🎺🎺📯📯📯🎷🎷🎷🎻🎻🎻🎸
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৪)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
         *শ্রীজয়দেব ও পদ্মাবতী*

*🍀সঙ্গীতশাস্ত্রে নৃত্য এবং বাদ‍্যকেও সঙ্গীতকলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তা যে কোন শ্রেণীর সঙ্গীতই হোক না কেন।খ্রীষ্টীয় ১৩শ শতকের সঙ্গীতশাস্ত্রী শার্ঙ্গদেব "সঙ্গীত রত্নাকর" গ্রন্থে "সঙ্গীত" শব্দের ব‍্যাখ‍্যা বা বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে একথাই বলেছেন।খ্রীষ্টীয় ১৩শ শতকের পরবর্তী সঙ্গীতগ্রন্থকাররা "সঙ্গীত" শব্দের ব‍্যাখ‍্যায় বা বিশ্লেষণে শার্ঙ্গদেবকে অনুসরণ করেছেন।তবে এ'প্রসঙ্গে এ'কথাও এখানে উল্লেখযোগ্য যে,"সঙ্গীত" শব্দটি গীতিকলার বোধক-রূপে ১৩শ শতকের পূর্ববর্তী সময়ে এবং এমন কী খ্রীষ্টপূর্ব যুগেও বিভিন্ন গ্রন্থে উল্লেখ দেখা যায়।রামায়ণ,মহাভারত,হরিবংশ ছাড়া পুরাণগুলির জায়গায় জায়গায় "সঙ্গীত" শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়।তবে "সঙ্গীত" বলতে তখন নৃত্য,গীত ও বাদ‍্যের সমবেত রূপকেই যে বোঝাত এমন কোন বাঁধাধরা নিয়মের উল্লেখ পাই না।প্রাচীন ভারতে দেবদাসী প্রথার প্রচলন যখন থেকে হয়, মনে হয় তখন থেকেই "সঙ্গীত" শব্দ কলারূপে ত্রৌর্যত্রিক তথা নৃত্য,গীত ও বাদ‍্যকলার সমন্বিত রূপকে নিয়ে সার্থক ছিল। বাংলাদেশে পাল ও সেন রাজাদের রাজত্বের সময়ে শিব কিম্বা কার্তিকের মন্দিরে দেবদাসীদের সঙ্গীতের ব‍্যবস্থা ছিল এবং তাতে নৃত্য ও বাদ‍্যের সহযোগে গীত পরিবেশনের ব‍্যবস্থা ছিল, একথা "রাজতরঙ্গিণী"গ্রন্থে কহ্লন এবং "পবনদূত" গ্রন্থে কবি ধোয়ী স্বীকার করেছেন।শ্রদ্ধেয় জি.এস. ঘুরে (G.S.Ghurye)তাঁর Bharatanatya and Its Costume (poona 1958) গ্রন্থে বাংলাদেশে শাস্ত্রীয় নৃত্য প্রসঙ্গে লিখেছেন--, The Kashmiri royal patron and employer of Damodara gupta, Jayapida,it would appear,was proficient in Bharata's Natyasastra even before he took Damodaraguptain his service. Kalhana, while describing the intinerary of that King. tells us that he once entered the city of pundravardhana in 'Gauda-Desa', Bengal.While there, he once chanced to see a dance being performed to the accompaniment of vocal and instrumental music, and being 'versed in the historic arts of the dance,song and the like in accordance with Bharata, sat himself down for a while', Jayapida's reign,according to R.S. Pandit,extended from A.D, 751 to 782 । তিনি আরো লিখেছেন--, "Another Kashmiri King, Jayapida (A.D 751-782) while he has in the town of paundravardhana.in Gauda. Bengal, once saw in the temple of Kartikeya a dance "lasya" being performed. The dancer "nartaki", was one Kamala by name. Kamala,on her part, looking at him and seeing his hand stretching to his shoulder-top at intervals, concluded that he must be a royal person. Her reasoning was that the hand was stretched over the shoulders behind to catch hold of the "tambula" or the betel nut-leaves-packet from.his attanedants, ☆ ☆ Eventually Jayapida took Kamala with him Kashmir".।এখানে 'লাস‍্য' নৃত‍্যছন্দ স্ত্রীলোকদের ও দেবদাসীদের নৃত্যকেই লক্ষ্য করা হয়েছে এবং পুরুষ-নৃত‍্য ছিল 'তান্ডব,।নাট‍্যশাস্ত্রে ভরত এবং নাট‍্যদর্পণে রামচন্দ্র তান্ডব ও লাস‍্যনৃত‍্যের উল্লেখ করেছেন।*
                    *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৫)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
        *শ্রীজয়দেব ও পদ্মাবতী*

*🍀তাছাড়া বাংলার ইতিহাস থেকে একথা প্রমাণ হয় যে,গুপ্ত,পাল ও সেন রাজাদের আমলে শাস্ত্রনির্দিষ্ট গান ও নৃত্যের পাশাপাশি দেশীগান এবং আঞ্চলিক নৃত্যেরও প্রচলন ছিল এবং গুপ্ত,পাল ও সেন রাজারা সে সকল গান ও নৃত্যের বিশেষ পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।কথিত আছে, রাজা লক্ষ্মণসেনের রাজত্বকালে "সেকশুভোদয়া"-গ্রন্থ রচিত হয়।সেকশুভোদয়ার রচয়িতার নাম নিয়ে পন্ডিতদের মধ্যে মতভেদ আছে।তবে গ্রন্থনামের সঙ্গে "সেখ" শব্দটির সংযোগ থাকায় গ্রন্থকার ইসলামধর্মসেবি ছিলেন এ' সিদ্ধান্তই গ্রহণ করেছেন অধিকাংশ পন্ডিত এবং সেদিক থেকে জলালুদ্দিন তাব্রিজি এর রচয়িতা--, এই অভিমতও পন্ডিতেরা গ্রহণ করেছেন। ১৯২৭ খ্রীষ্টাব্দে ডঃ সুকুমার সেন সম্পাদিত "সেকশুভোদয়া" গ্রন্থে (হৃষীকেশ-সিরিজ,নং ১১, আর.এন. শীল বি এ প্রকাশিত) ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়-লিখিত মুখবন্ধের (Foreword) বিবৃতিও প্রণিধানযোগ্য*
*তিনি লিখেছেন--,The work, inspite of its benig attributed to Halayudha Misra of the court of king Lakshmanasena, is to a large extent of Mohammedan inspiration in its contens.। অবশ্য ডক্টর সুনীতিবাবু এখানে স্পষ্ট করে গ্রন্থকারের নাম উল্লেখ করেননি।ডঃ সুকুমার সেন গ্রন্থের মুখবন্ধে (Introduction) যে মন্তব‍্য করেছেন তা থেকে সেখ জলালুদ্দিন (তাব্রিজিই) যে মধ‍্যযুগীয় সাহিত্য "সেকশুভোদয়া"-র রচয়িতাএকথা অনুমান হয়।তিনি লিখেছেন--, The authorship courtier of Lakshmanasena, author of the Brahmanasarvasia, a popular Smriti work, so that its authenticity might not be questioned.। প্রকৃতপক্ষে বাংলা-সংস্কৃত-প্রাকৃতমিশ্রিত অথবা বিকৃত-সংস্কৃতে লিখিত "সেখশুভোদয়া"গ্রন্থটির রচনার ও প্রচারের পিছনে মুসলমান তথা ইসলামধর্মের প্রতিষ্ঠা প্রচেষ্টাই মর্মকাহিনী সুস্পষ্ট। তাছাড়া ধর্মপ্রচার ও সমাজসংগঠন প্রভৃতির কথা ছেড়ে দিলে "সেখশুভোদয়া" "কবীন্দ্রসমুচ্চয়", "সদুক্তিকর্ণামৃত", "রামচরিত" প্রভৃতি গ্রন্থ থেকে গুপ্ত, পাল ও সেন রাজাদের ঐতিহাসিক কাহিনীগুলির সঙ্গে সঙ্গে তদানীন্তন বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও সংস্কৃতিক জীবনের অনেক কিছু তথ‍্যের সন্ধান পাওয়া যায়।গীতিনাট‍্য (Vide Rajatarangini by Kalhana (of Kashmir)edited and translated by M.A.Stein (1961), Vols 1 & 11.) "গীতগোবিন্দ" পদগানের নৃত্যসম্বলিত নাট‍্যরূপের পরিচয়দানের পরিপ্রেক্ষণসামগ্রী বা কাহিনীগ্রন্থ হিসাবে সেখ জলালুদ্দিন-রচিত সেখশুভোদয়ার অন্ততঃ এয়োদশ পরিচ্ছেদ কিছুটা প্রয়োজনীয় বলে মনে করি।*
*🍀গুপ্ত,পাল ও সেন রাজাদের আমলে বাংলায় (বৃহত্তর বাংলায়) নৃত্য-গীতের যে সচ্ছ্বল অনুশীলন ছিল সেকথা আগেই আলোচনা করেছি।লোকগীতি ও লোকনৃত‍্যের পাশাপাশি শাস্ত্রীয় করণ, অঙ্গহার ও চারি-সম্বলিত নৃত্যকলার অনুশীলন তখন অব‍্যাহত ছিল রাজ-অন্তঃপুরে, রাজদরবারে রাজদরবারসংলগ্ন নাট‍্যগৃহে বা রঙ্গমঞ্চে,দেবায়তনে ও বিভিন্ন পার্বণ-উৎসবাদিতে।অভিজাত নৃত্যকর্মের আঙ্গিক ও বিকাশ নাট‍্যশাস্ত্রকার ভরতের নির্দেশ অনুযায়ী ছিল এবং নৃত্য,নাট‍্য ও বাদ‍্যের সহচারী ছিল অভিজাত ও দেশী গান।"সেখশুভোদয়া" গ্রন্থের কাহিনী কিছু-কিছু বিকৃত ও অতিরঞ্জিত হলেও তা রাজা লক্ষ্মণসেন ও তৎপরবর্তী সমাজে শিল্পরুচি ও সাধারণ জীবনচর্চা-র উপকরণ সামগ্রী জোগাতে কার্পণ‍্য করেনি।সেখশুভোদয়ায় বর্ণিত গঙ্গোনটবধূ বিদ‍্যুৎপ্রভা, বুঢ়ণ মিশ্র, জয়দেবসতী পদ্মাবতী ও কবি জয়দেবের নৃত্যগীতিসম্পৃক্ত কাহিনীর কিছুটা পরিচয় দেন গীতগোবিন্দ নাট‍্যরূপের পরিচয় দেবার আগে।*
*🍀সেখশুভোদয়া-র এয়োদশ পরিচ্ছেদে নৃত্যসম্পৃক্ত গীতিকাহিনীটি হল--, (ক)বিদ‍্যুৎপ্রভানাম্নী নর্তখীবিশেষা তামানয়।সা নর্তয়তু লোকাঃ পশ‍্যন্তু।এতচ্ছত্বা রাজা তামানয়ামাস শশিকলয়াসহ। (খ) ইতি ভূতে সতি কশ্চিদ ব্রাহ্মণো বূঢ়ননামামিশ্রঃ(বূঢ়নমিশ্রনামা?) রাজসভায়াং গত্বা রাজানমবাদীৎ। রাজন্ মহাগায়নেহহং পুনঃ পন্ডিতশ্চ। ☆ ☆। হে বিপ্র, কশ্চিদ ধ্বনিরুদগীয়তাম। ততো দ্বিজঃ পঠমঞ্জরীরাগমুদগীবিতবান।উদগীরিতে সতি পিপ্পলবৃক্ষতলে তস‍্য পিপ্পলস‍্য পত্রাণি সমস্তান‍্যপতৎ। ☆ ☆ তদা সর্বানানীতে সতি জয়দেবমিশ্রশ‍্য পদ্মাবতী নামা তচ্ছব্দমশ্রৌষীৎ।গঙ্গাস্নানং গতে সতি ত্ত্ববয়া রাজসভায়াংসমায়াতা (ঃ) চ। পুনরুক্তবতী চ।☆ ☆ ততঃ পদ্মাবতী জয়দেবস‍্য ব্রাহ্মণী গান্ধারনামা ধ্বনিরুদগায়তা চ । তদুদগীরিতে সতি নৌকাঃ গঙ্গায়াং যদ বিদ‍্যন্তে,শ্রূত্বা, তৎসন্নিধানং সমাযাতা (ঃ) চ ।☆ ☆ তদা জয়দেবমিশ্রোহবদ‍্যৎ। অস‍্য ধ্বনিনা নিষ্পত্র বৃক্ষোহভবৎ কিন্তু বসন্তসময়ে সামান‍্যেন বৃক্ষস‍্য পত্রাণি পতন্তি। মহানিতি কথম্? ☆ ☆ পূর্ণগীয়তাম্।নিষ্পত্রবৃক্ষাঃ সপত্রো ভবতু। বূঢ়নমিশ্রোহবদৎ অহং ন শক্নোমি। ত্ত্বমপি সপত্রং কর্তুং শক্নোমি?পশ‍্যতাং কুরু ত্বম্ ☆ ☆। ততো জয়দেবমিশ্রঃ বসন্তরাগমুদগীরতবান্। উদগীরিতে সতি অস‍্য বৃক্ষস‍্য কমনীয়ানি নবপত্রাণি ভূতানি।ততো জয়শব্দঃ সর্বত্র অশ্রৌষীৎ। ☆ ☆ ইতি হলায়ূধ মিশ্রকৃতৌ সেকেশুভোদয়ায়াম্ মিশ্রোপাখ‍্যানে এয়োদশঃ পরিচ্ছেদঃ।*
                 *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৬)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
          *শ্রীজয়দেব ও পদ্মাবতী*

*🍀কাহিনীমূলক গ্রন্থবিবৃতি এই, কিন্তু অতিশয়োক্তি ও অলৌকিকতায় পূর্ণ।তবে ফেনায়িত অতিরঞ্জিত কাহিনীসামগ্রীর মধ্যে বাস্তব উপাদানও যে নাই তা নয়।শাস্ত্রীয় অভিজাত সুহৈ বা সুহা,পঠমঞ্জরী, গান্ধার বা গান্ধারী,বসন্ত প্রভৃতি রাগের পরিচয় আমরা এই আখ‍্যানে পাই, যদিও তাদের কয়েকটির প্রভাবের ও কার্যকারিতার প্রতিফলনে ঠিক সত‍্যতা নাই।তবে "বসন্তসময়ে সামান‍্যেন বৃক্ষস‍্য পত্রাণি পতন্তি" প্রসঙ্গে বসন্তকালে জয়দেব মিশ্রের বসন্তরাগের প্রতিফলন সার্থক হয়েছে।তাছাড়া বিদ‍্যুৎপ্রভা,পদ্মাবতী ও জয়দেবের সঙ্গীতকুশলতার নিদর্শন পাওয়া যায় এই কাহিনী থেকে।উড়িষ‍্যা বা উৎকলের মনীষীরাও পুরীর জগন্নাথ-মন্দিরে জয়দেব (মিশ্র?) ও পদ্মাবতীর গীতগোবিন্দগানের সঙ্গে ছন্দায়িত নৃত্যের উল্লেখ করেছেন।*
*🍁সেকশুভোদয়ায় এয়োদশ পরিচ্ছেদ থেকে বিশেষ করে পদ্মাবতী ও জয়দেবের সঙ্গীতপ্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায়, আর নৃত্যের কিছুটা পরিচয় পাই বিদ‍্যূৎপ্রভা ও শশিকলার প্রসঙ্গে (বিদ‍্যুৎপ্রভানাম্নী নর্তকী বিশেষা)। ষোড়শ পরিচ্ছেদে কবি ধোয়ীর পরিচয়ও দিয়েছেন জলালুদ্দিন তাব্রিজ--, "অয়মপি ধোয়ী সেবকত্বেন ☆ ☆; 'অয়ং ধোয়ী তন্তুবায়ঃ' তচ্ছ ত্বা ধোয়ী তানব্রবীৎ।(কবি জয়দেবও ধোয়ী নাম উল্লেখ করেছেন গীতগোবিন্দে ; 'শ্রুতিধরো ধোয়ী কবিক্ষ্মাপর্তি)।আগেই উল্লেখ করেছি যে,ধোয়ী "পবনদূত" গ্রন্থে পাল ও সেন রাজাদের গৌরবকাহিনীর সঙ্গে সঙ্গে তদানীন্তন বাংলাদেশের নগর ও পল্লীসমাজের জীবনচর্চার কাহিনীর উল্লেখ করেছেন।*
*🍀তাব্রিজির "সেকশুভোদয়া" নাভাজীর "ভক্তমাল" প্রভৃতি গ্রন্থের কাহিনী থেকে অনেকে জয়দেবকে নট,ও পদ্মাবতীকে নটী শ্রেণীভুক্ত করেছেন।"ভক্তমাল"-গ্রন্থকার পদ্মাবতীকে পুরীধামে জগন্নাথ-মন্দিরে নৃত্যশীলা নটী বা দেবদাসী বলেই বর্ণনা করেছেন এবং কবি জয়দেব নাকি পদ্মাবতীর নৃত্য ও গীতছন্দে তাল রক্ষা করতেন এবং তার সাক্ষ‍্য হিসাবে কবি গীতগোবিন্দে "পদ্মাবতীচারণচরণ চক্রবর্তী " বলে নিজের পরিচয় দিয়েছেন। কাহিনী বা কথার পিছনে ঐতিহাসিক মূল‍্য কতটুকু তা নির্ণয় করবেন বিচক্ষণ ঐতিহাসিকগণ।তাঞ্জোর সরস্বতীমহল-গ্রন্থমালার অন্তর্গত Gitagobinda with Abhinaya (1963) গ্রন্থের সম্পাদক বিদগ্ধ সংস্কৃতজ্ঞ ও শিল্পকলারসিক পন্ডিত কে.বাসুদেব শাস্ত্রী গ্রন্থ-বিবৃতিতেও ঐ কথার উল্লেখ করেছেন।আমরা নৃত্যসম্বলিত গীতিনাট‍্যরূপ "গীতগোবিন্দ"-পদগানের পরিচয় দিব ঐ গ্রন্থকেই অনুসরণ করে। শ্রদ্ধেয় শাস্ত্রী মহাশয় লিখেছেন--, He (Jayadeva) was born in Bengal, but he made puri his home. ☆ ☆ This is indicated by the reference in the text of the ashtapadi to the accompaniment of Nritya by his devoted wife, padmavati. He calls himself in introductory verse No. 2 an expert directing the feel of padmavati in her dance (padmavati-charana-charana chakraborty), and again he refers to the collaboration of padmavati in his recital in Astapadi 21 (vihita-padmavati sukha samaji bhanati Jaydeva kavirajaraje).*
*এ প্রসঙ্গে এখানে উল্লেখ করা সমীচীন যে,সেকশুভোদয়ার অনুসরণে কবি জয়দেব নট ও পদ্মাবতীকে নটী অথবা সঙ্গীতকলানিপুণ ও নিপুণা কিনা তা প্রমাণ করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, উদ্দেশ্য,গীতিনাট‍্য, গীতগোবিন্দ- পদগানকে পৃষ্ঠ বা উৎসক্ষেত্র (Back-ground) করে যে পরবর্তী রসসমৃদ্ধ পদাবলীকীর্তনের সার্থক সৃষ্টি হয়েছিল তারই আভাস দেওয়া এবং সঙ্গে সঙ্গে বৈষ্ণব-পদাবলী কীর্তনের রূপ,বিকাশ,সৌন্দর্য‍্য, অধ‍্যাত্মতত্ত্ব ও রসধারার পরিচয় দান করা, ঐতিহাসিক দৃষ্টির সহায়তা নিয়ে।বিদগ্ধ(পন্ডিত বা বিদ্বান) বৈষ্ণব মহাজন পদকর্তা ও গ্রন্থকারের বাবরণ হতে কীর্তনেও যে মৃদঙ্গ ছন্দের ও গীতিভঙ্গীর তালে তালে নৃত্যের প্রচলন এবং তার সঙ্গে বিচিত্র বাদ‍্যের সহযোগ ছিল একথা আমরা জানতে পারি।*
*নৃত‍্য কীর্তনের প্রধান অঙ্গ না হলেও ভাবসমৃদ্ধি ও ছন্দমাধুর্য‍্য সৃষ্টির পক্ষে যে পরমসহায়ক ছিল এবং এখনো আছে একথা কীর্তনরসিকমাত্রেই স্বীকার করবেন।আমরা বৈষ্ণব পদ গ্রন্থে কীর্তনের সঙ্গে নৃত্যের উল্লেখ পাই।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৭)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
         *শ্রীজয়দেব ও পদ্মাবতী*

*🍀এবার দক্ষিণ-ভারতে গীতগোবিন্দের গীতারূপ ছাড়াও যে নৃত্যনাট‍্যের রূপ গড়ে উঠেছিল এবং এখনো কিছু কিছু তার ধারা সঞ্জীবিত আছে তার পরিচয় দিব।আগেই উল্লেখ করেছি যে,তাঞ্জোরের সরস্বতীমহল প্রকাশন থেকে Gitgovinda with Abhinaya নামে যে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে সেটির সম্পাদনা করেছেন বিদ্বান শ্রীবাসুদেব শাস্ত্রী। তিনি গ্রন্থের মুখবন্ধে লিখেছেন-- Abhinaya given here, agrees well with the practice of the art in the Tanjore District which is now the home of the purest tradition of Bharatanatya, is itself sufficient to conclude that the work is pretty old ☆ ☆ lt is extremely probable that, this work was composed by the direct disciples of sri Jayadeva himself or those Just after them. তিনি আরো বলেছেন যে,তামিল দেশের প্রাচীন "শিলপ্পাধিকবম্" গ্রন্থে মন্ডলাকারে রাসনৃত‍্যের যে উল্লেখ পাওয়া যায়, তা সাধারণ গোপবালা বা আভীর রমণীদের কৃষ্ণ ও গোপীগণের ভূমিকা নিয়ে সম্পন্ন করত এবং সে নৃত্যের নাম ছিল "অয়চিয়র-কুরবৈ" (Aychiyar- Kuravai)। এই তাঞ্জোর-গ্রন্থমালায় প্রকাশিত গীতগোবিন্দ গ্রন্থে মুনি ভরত-প্রণীত "নাট‍্যশাস্ত্র" সম্মত ছাব্বিশ প্রকার অসংযুক্ত হস্ত, তের প্রকার সংযুক্ত হস্ত,চার প্রকার হস্তকরণ,তের রকম শিবকর্মের উল্লেখ আছে।নাট‍্যশাস্ত্রের অষ্টম,নবম ও দশম অধ‍্যায়ে এবং নন্দিকেশ্বর-রচিত অভিনয়দর্পণে এদের পরিচয় দেওয়া আছে।আমরা এই গ্রন্থ থেকে গীতগোবিন্দ পদগানের একটির নিদর্শন দিব নৃত্যনাট‍্যের সার্থক রূপায়ণ হিসাবে।*
*🌹গীতগোবিন্দের প্রথম সর্গের প্রথম গানটি হল--*
*🌷প্রলয়পয়োধিজলে ধৃতবানসি বেদং,*
*🌷বিহিতরহিত্র চরিত্রমখেদন।*
*🌷কেশব ধৃতমীনশরীর, জয়জগদীশ হরে।*
*🌻এই গানটি মালবরাগে ও রূপকতালে গান করার রীতি ছিল।মালবরাগের ধ‍্যানশ্লোকে--*
*🌷নিতম্বিনীচুম্বিতবক্তবিম্বঃ শুভদ‍্যুতিকুন্ডলবান্ প্রমত্তঃ।*
*🌷সঙ্গীতশালা প্রবিশন্ প্রদোষে মালাধরো মালবরাগরাজঃ।।*
*🌻এবং রূপকতালের পরিচয়-- বিরামান্তর্দ্রুতদ্বন্দ্বো রূপকঃ স্বাদ্বিলক্ষণ ইতি।*
*◆(কীর্তনে রাগনাম,রাগরূপ,ধ‍্যানরূপ,ও তালকমের বিস্তৃত পরিচয় পরে দেওয়া হবে )।*
*🌻"প্রলয়পয়োধি জলে" প্রভৃতি গানের নৃত্যনাট‍্যরূপের পরিচয় দিয়েছেন "অভিনয়" গ্রন্থকার।*
*(১)প্রলয়-- পতাকোপরিমর্দিত পতাকেন গগনদৃষ্ট‍্যা চ।*
*(২)পয়োধিজলে--অধঃস্বস্তিকীকৃত- বিচ‍্যুতোর্ধ্ব তলপতাকাভ‍্যাম্।*
*(৩)ধৃতবানসি--অধোদেশাদুদ্বৃপ্তদৃষ্টিনা।*
*(৪)বেদং-- পুরস্তলনিকুঞ্জকেন।*
*(৫)বিহিত-- শনৈবধস্তলীকৃতপতাকেন।*
*(৬)রহিত্র-- চালিতাঙ্গুষ্ঠকরপ্রসারিত- পুষ্পপুটেন।*
*(৭)চরিত্র-- প্রসারিতেতার্ধ্ব তলপতাকেন।*
*(৮)অখেদং-- হৃদ্ গতপতাকেন মুকুলয় দৃষ্টা চ।*
*(৯)কেশব--কেশবন্ধেন।*
*(১০)ধৃত-- আবর্তনেন কৃতমুষ্টিনা।*
*(১১)মীনশরীর-- মকরহস্তকেন।*
*(১২)জয়-- উদ্ধৃতহস্তকেন।*
*(১৩)জগদীশ--ললাটস্থাঞ্জলিনা।*
*(১৪)হরে--বৈষ্ণবস্থানকেন।*
*🌻গানের প্রতিটি কথা (ব) বা (র) শব্দ নৃত‍্যসম্পর্কিত হস্ত,চরণ,গ্রীবা,দৃষ্টি প্রভৃতি সঞ্চালন কর্মের দ্বারা প্রকাশিত এবং এ'গুলি বিচিত্র রস ও ভাবের উদ্বোধক বা প্রকাশক।এখানে হস্ত,দৃষ্টি,অঙ্গকরণ হিসাবে পতাক,পুষ্পপুট, মুকুলদৃষ্টি, মকরহস্ত,অঞ্জলি,কৃতমুষ্টি প্রভৃতি নৃত্যহস্তকরণ নাট‍্যশাস্ত্রে ও অভিনয়দর্পণে দ্রষ্টব‍্য।নৃত‍্যনাট‍্য পরিচায়ক এই গীতগোবিন্দের সংস্করণে প্রতিটি গানের এরকমভাবেই নৃত‍্যাঙ্গিকের বিবরণ দেওয়া আছে।গীতগোবিন্দের গীতিরূপ ছাড়াও নৃত‍্যরূপ যে শাস্ত্রসম্মত তারই পরিচায়ক এই অভিনয়-গ্রন্থ ও আলোচনা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৮)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের আন্তর ও সাঙ্গেতিক রূপ*

*🌻পূর্বে আমরা তাঞ্জোর-সরস্বতীমহল-প্রকাশিত Gitagobinda with Abhinaya গ্রন্থ থেকে "গীতগোবিন্দ" পদগানের নৃত্য-সম্পৃক্ত (সম্পৃক্ত মানে মিলিত) নাট‍্যরূপের কিছুটা পরিচয় দিয়েছি এবং সেই নৃত্যসম্পৃক্ত নাট‍্যশাস্ত্রকার "মুনি ভরত" ও অভিনয়দর্পণকার নন্দীকেশর-সমর্থিত নিয়ম-নীতির অনুরূপ তা স্পষ্ট বোঝা যায়।*
*🍀মুনি ভরত=ভরতের সঙ্গে "মুনি" শব্দ ব‍্যবহার করার উদ্দেশ্য এই যে,"ভরত" একটি উপাধি (title) বিশেষ এবং এই উপাধিধারী শাস্ত্রকার বা গ্রন্থকার আরও অনেক ছিলেন।নাট‍্যশাস্ত্র-রচয়িতা ভরতকে তাঁদের থেকে পৃথক করার জন্য তাই "মুনি" শব্দ তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।*
*🌻Gitagobinda with Abhinaya গ্রন্থে সম্পাদক বিদ্বান্ শ্রীবাসুদেব শাস্ত্রী মুখবন্ধে লিখেছেন--, Having thus been composed for the express purpose of Nritya,the Abhinaya for all the pieces must have been determined and preserved by tradition. But the traditional practice has suffered by the general break of tradition due to the foreign invasion and foreign in fluence. Fortunately for us, however, the Abhinaya for every word is found in two manuscripts, preserved in the saraswart-Mahal. ☆ ☆ The fact that the Abhinaya, given in here, agrees well with the Art in the Tanjore District, which is now the home of the purest tradition of Bharat-natya. It is itself sufficient to conclude that the work is pretty old.।*
*এ'প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য যে,গীতগোবিন্দ বা অষ্টপদী-গানের গোত্র বা পর্যায়-নির্ধারণ ব‍্যাপারে মতবাদ এবং মতভেদেরও অন্ত নেই।গীতিনাট‍্য,নৃত‍্যনাট‍্য,অতিনাটক, অপেরা,যাত্রা,খন্ডকাব‍্য এ' ধরণের বিচিত্র মন্তব‍্য গীতসম্বন্ধে করা হয়েছে।বহিরঙ্গ ও অন্তরঙ্গ উভয় বিচার-বিশ্লেষণভঙ্গীতে গীতগোবিন্দে সঙ্গীত ও কাব‍্যের মিশ্রণই স্পষ্ট এবং তা থেকে গীতগোবিন্দ যে নাট‍্যগীতি ও খন্ডকাব‍্য এই সিদ্ধান্তই অধিকাংশ মনীষী গ্রহণ করেছেন। কিন্তু জানি না, কেন তাঁরা এই গীতিকাব‍্যের নৃত্যসম্বলিত নাট‍্যরূপটির আলোচনা থেকে বিরত।একথা সত‍্য যে বিশেষ করে আখ‍্যান,নাটকীয়তা ও সঙ্গীত ত্রিধাতু অথবা ত্রিবৈশিষ্ঠ‍্য-সম্বলিত এই পদগান, কিন্তু এর নৃত্যসম্পৃক্ত নাট‍্যরূপের বৈশিষ্ট্যও কোন অংশে অবহেলার যোগ্য নয়।*
*আমরা পদাবলীকীর্তনের প্রাণকেন্দ্র ও উৎসস্বরূপ "গীতগোবিন্দ"-পদগানের নৃত‍্যসম্পৃক্ত নাট‍্যরূপের নিদর্শনসূচক বিশদ আলোচনা না করে কবি জয়দেব প্রদর্শিত একটিমাত্র সঙ্কেতশব্দেরই উল্লেখ করব।কবি চতুর্থ সর্গের নবম গানের প্রথম চরণে বলেছেন--, "শ্রীজয়দেবভণিতমিদমধিকং যদি মনসা নটনীয়ম্"।পূজারী গোস্বামী প্রভৃতি ভাষ‍্য ও টীকাকারদের অধিকাংশই "নটনীয়ম"শব্দের ব‍্যাখ‍্যা করেছেন "নর্তয়িতব‍্যম্" বা নর্তিতব‍্যম্", কিন্তু রাণা কুম্ভা "রসিকপ্রিয়া"-টীকায় এর সঠিক মর্ম-বিশ্লেষণ করেছেন বলে মনে হয়।*
*রাণা কুম্ভা বলেছেন--, শ্রীজয়দেবেতি। হে বৈষ্ণবাঃ ; ইদং শ্রীজয়দেবভণিতং যদি মনসাধিকং নটনীয়মভিনেতব‍্যম। "নট"শব্দেনাত্র নাট‍্যস‍্যাভিনয়প্রধানাদভিনয়ো বিবক্ষিতঃ। অথবা নটনীয়মিত‍্যাস্বাদনীয়ম, রসনীয়মিতি যাবৎ। 'নাট‍্যশব্দো বসে মুখ‍্যঃ ইতি ভবতীয়ে।(◆নির্ণয়সাগর প্রেস, বোম্বাই প্রকাশিত "গীতগোবিন্দ" (নবম সংস্করণ, ১৯৪৯)পৃষ্ঠা--৮১)।তাছাড়া গীতগোবিন্দের রাগ-বিশ্লষণে আমরা লক্ষ্য করি যে,কবি জয়দেব প্রধানভাবে সঙ্গীত প্রকৃতির নির্দেশ দিয়ে যেভাবে সব গানের প্রবন্ধরূপ ও বিচিত্র রাগরূপের উল্লেখ করেছেন-- সেই সঙ্কেতের পূর্ণপরিচয় দিয়েরাণা কুম্ভা "রসিকপ্রিয়া"টীকায়।'গীতগোবিন্দ' পদগান যদি সত‍্যই রাখালী নাট‍গীতি বা যাত্রার পূর্বসূত্র নাটগীতি অথবা অপেরা হত তাহলে তাতে শাস্ত্রনির্দিষ্ট অভিজাত তথা ক্ল‍্যাসিক‍্যাল পর্যায়ের রাগ,তাল ও প্রবন্ধ-নির্বাচনের কোন সার্থকতাই থাকত না এবং সে' সম্বন্ধে বিশদভাবে আলোচনা করব কীর্তনের রাগ ও তালের বিশ্লেষণপ্রসঙ্গে। অবশ‍্য গীতিরস ও সাহিত‍্যরস আবেদনের দিক থেকে অনেকে গীতগোবিন্দকে গীতিরসার্দ্র "আখ‍্যানকাব‍্য" বলে সিদ্ধান্ত করেন এবং সে সিদ্ধান্ত সাহিত‍্যের রূপ ও রসদৃষ্টির দিক থেকে কিছুটা সত‍্য। মনে হয়,'গীতগোবিন্দ' পদগানের গোত্র বা পর্যায়-নির্ধারণ ব‍্যাপারে কেবলই রস ও ছন্দানুবিদ্ধ সাহিত‍্যদৃষ্টি কিংবা সঙ্গীতদৃষ্টি নিয়ে বিচার না করে সামগ্রিকভাবে এবং বিশেষ করে এর আনুসঙ্গিক অথবা অপরিহার্য সহায়কসামগ্রী শাস্ত্রীয় প্রবন্ধ,রাগ,তাল-মিলিত পদসাহিত‍্য,আখ‍্যান ও নৃত‍্যরূপেরই বিশ্লেষণ ও পর্য‍্যালোচনা করা প্রয়োজন।*
                *ধারাবাহিক*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৯)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের আন্তর ও সাঙ্গীতিক রূপ।*

*🍀এবার 'গীতগোবিন্দ'-পদগানমিলিত রাগ ও তালের কিছু আলোচনা এবং সঙ্গে সঙ্গে পদগানগুলির প্রবন্ধরূপ কি,তাদের পরিচয় দেবার চেষ্টা করি।আগেই বলৈছি যে,গীতগোবিন্দ-পদগান "প্রবন্ধশ্রেণীর গান"।যেমন প্রথম সর্গের দ্বিতীয় গান--, "বাগ্দেবতাচরিতচিত্রিতচিত্তসদ্মা পদ্মাবতীচরণচক্রবর্তী" প্রভৃতি পদের ব‍্যাখ‍্যায় পূজারী গোস্বামী বলেছেন--, এতৎ শ্রীগীতগোবিন্দাখ‍্য প্রবন্ধং প্রকর্ষেণ বাধ‍্যতে শ্রোতৃণাং হৃদয়মস্মিন্নিতি প্রবন্ধস্তং করোতি প্রকাশয়তি। রসমঞ্জরীকার বলেছেন--, জয়দেবকবিরেতং গীতগোবিন্দাখ‍্যং প্রবন্ধং করোতি। রসিকপ্রিয়া-টীকায় রাণা কুম্ভা বলেছেন--, কবিবিদানীং ☆ ☆ শৃঙ্গারোত্তর প্রবন্ধং কর্তুং প্রতিজানীতে বাগদেবতেতি।জয়দেব কবিবেতাং গীতগোবিন্দাভিধং প্রবন্ধং করোতি। অবশ‍্য এ সমস্ত টীকা বা ভাষ‍্যসিদ্ধান্ত কবি জয়দেবের "শ্রীবাসুদেবরতিকেলিকথাসমেতমেতং করোতি জয়দেবকবিঃ প্রবন্ধম্ পদাংশকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে। প্রবন্ধের পরিচয় দিয়ে ভোজদেব বলেছেন---*
*🌷শৃঙ্গারৈকপ্রধানো যো গীততালাদিসংযুতঃ।*
*🌷অভিসারার্থনিপুণঃ প্রবন্ধঃ স প্রকীর্তিতঃ।।*
*🍀গীত অর্থে এখানে রাগ।তালযুক্ত হবে শৃঙ্গাররসাত্মক পদ এবং সে পদাভিপ্রায় হবে অভিসারপ্রধান। "অভিপ্রায়" শব্দে প্রয়োগ বুঝতে হবে।সঙ্গীতশাস্ত্রে বলা হয়েছে যে,প্রকৃষ্টরূপে গান বা গীত পদবদ্ধ অর্থ‍্যাৎ রাগ,তাল,পাট,ধাতু,অঙ্গ প্রভৃতি দ্বারা সম্বন্ধ (বদ্ধ ও বন্ধ একার্থক) হলে তাকে "প্রবন্ধ" বলে। সুতরাং এই প্রবন্ধ-শব্দ থেকে আমরা বুঝি যে,গীতগোবিন্দ বা অষ্টপদীগান রাগ,তাল,অঙ্গ,ধাতু প্রভৃতি সমন্বিত হয়ে রূপায়িত হওয়া উচিত।*
*গীতগোবিন্দের ভাষ‍্য ও টীকাকারদের মধ্যে মনে হয় একমাত্র সঙ্গীতশাস্ত্রবিদ রাণা কুম্ভা ◆(রসিকপ্রিয়ার সূচনাশ্লোকে নিজেই বলেছেন-- "নত্বা মতঙ্গভবতপ্রমুখানাং সুগীতসংগীতশাস্ত্রনিপুণাঞ্জয়দেববাচম্"।এ' থেকে জয়দেবের সঙ্গীত-কুশলতার পরিচয়দানের সঙ্গে সঙ্গে রাণা কুম্ভা নিজের সঙ্গীতশাস্ত্রজ্ঞানের পরিচয় দিয়েছেন বুঝতে হবে)।রাণা কুম্ভাই রাগ,তাল ও প্রবন্ধের সঙ্গে সঙ্গে কলা,রীতি,ছন্দ,লয়,অলঙ্কার ও বৃত্তিযুক্ত নাট‍্যগীতিরূপের সবিশেষ পরিচয় দিয়েছেন। যেমন জয়দেবের সূচনাগীতি "মেঘৈর্মেদুরম্বরং বনভুবঃ ☆ ☆ যমুনাকুলে রহঃ কেলয়ঃ। এই প্রথম পদ বা গানের রাগ,তাল,বৃত্তি, কলা প্রভৃতির পরিচয় দিয়ে রাণা কুম্ভা বলেছেন--"গমকালাপপেশলতায়া মধ‍্যমগ্রামে ষাড়বেন মধ‍্যমগৃহেণ মধ‍্যমাদিরাগেণ গীয়তে ☆ ☆ শৃঙ্গারাবস্থানসূচিকা কৌশিকীবৃত্তি। সংভাবিতা গীতিঃ।তস‍্যাশ্চ লক্ষণম্-- সমভাবিতা ভূরিগুরুর্দ্বিকলা বার্তিকে পথি।◆(এ' সম্বন্ধে সঙ্গীত-রত্নাকর ১|৮|১৯ শ্লোক দ্রষ্টব‍্য।সিংহভূপাল ও কল্পিনাথ টীকায় বিশদভাবে সংভাবিতাগীতির পরিচয় দিয়েছেন ব্রহ্মগীতির পর।সংভাবিতাগীতি গ্রামরাগের সংযোগে বিশেষভাবে প্রাচীনকালে গান করা হত)। মধ্যে লয়ঃ।অনুকূলো নায়কঃ স্বাধীনপতিকা নায়িকা।পূর্বার্ধেহভিলাষলক্ষণো বিপ্রলম্ভঃ।অপরার্ধে সংভোগশ্চ শৃঙ্গারঃ।☆ ☆ শাদুলবিক্রীত ছন্দঃ।◆(গমক,আলাপ,মধ‍্যমগ্রাম (গ্রাম তিনটি--, ষড়জ্, মধ‍্যম ও গান্ধার), মধ‍্যমগ্রহ অর্থে মধ‍্যমস্বরে গানের বা পদের আরম্ভ,মধ‍্যমাদি বা মধুমাধবীরাগ,ষাড়ব অর্থ‍্যাৎ ঐ রাগে ছ'টি মাত্র স্বরের সমাবেশ। কিন্তু মধ‍্যমাদি,মধুমাবতী বা মধুমাধবী রাগের প্রাচীন রূপ ঔড়ব অর্থ‍্যাৎ পাঁচটি স্বরের সমাবেশ এবং মধ‍্যমাদি ভৈরবরাগের প্রথম রাগিনী।মধ‍্যমগ্রহ (মধ‍্যমস্বরে আরম্ভ) এবং ঋষভ-ধৈবত-বর্জিত। বতর্মান হিন্দুস্থানীপদ্ধতিতে মধ‍্যমাদি বা মধ‍্যমাধবীতে গান্ধার ও ধৈবত-বর্জিত, সুতরাং ঔড়ব (স বি ম প নি-কোমল)।দুটি কর বিশিষ্ট বার্তিক (লয়েরই সামিল) এবং মধ‍্যলয়ে গীত হবে )।এখানে প্রথম পদগান-সম্পর্কে রাণা কুম্ভা যে বলেছেন-- "সম্ভাবিতা গীতিঃ, শার্ঙ্গদেবও সঙ্গীত-রত্নাকরে সে প্রসঙ্গে বলেছেন--,"☆ ☆ দ্বিরিবৃত্তপদাং পরে।সংক্ষেপিতপদা ভূরিগুরুং সমভাবিতা মতা"(১|৮|১৯)।টীকাকার কল্পিনাথ ও সিংহভূপাল দু'জনেই এর ব‍্যাখ‍্যা-বিশ্লেষণ করেছেন।প্রাচীন সঙ্গীতশাস্ত্রী মতঙ্গও সম্ভাবিতার পরিচয় দিয়ে বলেছেন-- "সংক্ষিপ্তত সমভাব‍্যতে পদানাং যত্র সা সমভাবিতা"।মতঙ্গের এই ঊদ্ধৃতিবাক‍্য দিয়েছেন কল্পিনাথ তাঁর টীকায়।*
                 *ক্রমাগত*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪০)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*গীতগোবিন্দের আন্তর সাঙ্গীতিক ও রূপ*

*🍀সিংহভূপাল এর অর্থ-বিশ্লেষণ করে বলেছেন--,"দ্বিরাবৃত্তে পদান্তরে যস‍্যাং সা সংক্ষেপিতপদা বহুগুরুযুতা সমভাবিতা গীতিঃ।প্রথমকলায়াং চত্বারি পদানি গীত্বা ভক্ত‍্যা দেবং রুদ্রং বন্দ ইতি,দ্বিতীয়কলায়াং মধ‍্যস্থং পদদ্বয়ং দ্বির্গীয়তে দেবং দেবং রুদ্রং রুদ্রমিতি,তৃতীয়কলায়াং প্রথমকলাবদ্ ভক্ত‍্যা দেবং রুদ্রং বন্দ ইতি"।শার্ঙ্গদেব এর গীতি ও স্বর-রূপের উল্লেখ করেছেন এভাবে--*
ধা মা মা বি গা বা গা সা সা
ভ ০ ক্ত‍্যা ০ ০ দে ০ বং ০
 নী ধা সা নী ধা নী মা মা
 রু ০ দ্রা ০ বন ০ দে ০

*🍀সেরকম গীতগোবিন্দের "মেঘৈর্মেদুরমম্বরং বনভূবঃ"-- প্রভৃতি দুটি পদের দু'বার আবৃত্তি এবং তৃতীয় কলায় প্রথম কলার মত চারটি পদের সমাবেশ থাকবে।সম্ভাবতাগীতি ব্রহ্মগীতির মত গ্রামরাগসম্পৃক্ত বা মিলিত হয়ে গীত হত স্বাধীনভাবে অথবা ধ্রুবাগীতির সঙ্গে।সংগীতশাস্ত্রবিদ্ রাণা কুম্ভা এইতত্ত্ব জানতেন, সুতরাং গীতগোবিন্দের প্রতিটি পদের প্রবন্ধ এবং সঙ্গীত-রূপ লক্ষ্য করার বিষয়।রাগ,তাল,লয় প্রভৃতিকে বাদ দিয়ে গীতগোবিন্দগান অর্থহীন।তাছাড়া নৃত্য ও নাট‍্যরূপ এর স্বতন্ত্র। সুতরাং এই সব দিক থেকে গীতগোবিন্দের গোত্র ও রূপ নির্ণয় করা সমীচীন বা উপযুক্ত।*
*🌺বিশেষ করে 'গীতগোবিন্দ'-পদগানের রাগ ও তাল সম্পর্কে আলোচনা করার আগে বলে রাখা সমীচীন যে,রাগনামের ও তালনামের ব‍্যাপারে পূজারী গোস্বামী ও অন‍্যান‍্য টীকা ও ভাষ‍্যকাররা একমত হলেও রাণা কুম্ভা "রসিকপ্রিয়া"-টীকায় স্বাধীনভাবে একটি বিশ্লেষণরীতির উপস্থাপন করেছেন।তাঁর রাগনাম ও তালনামের কোন কোন অংশে অন‍্যান‍্য টীকাকারদের সঙ্গে মিল থাকলেও বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই পৃথক ও নতূন। "নির্ণয়সাগর-প্রেস" থেকে প্রকাশিত গীতগোবিন্দের(১৯৪৯ খ্রীঃ) পরিশিষ্টে দীপিকা,রসমঞ্জরী,রসিকপ্রিয়া, পদদ‍্যোতনিকা,বালবোধিনী ও সঞ্জীবিনী এই ছয়টি টীকার সমাবেশ করে তাদের মধ্যে রাগনাম ও তালনামের মধ্যে একটি ঐক‍্য ও অনৈক‍্য মতের তালিকার উল্লেখ করা হয়েছে।সেই বিশ্লেষণী তালিকা থেকে জানা যায় যে,রাগনামে ও তালনামে ছয়টি টীকার মধ্যে কিছু কিছু পার্থক্য থাকলেও মোটামুটিভাবে তারা এক।কিন্তু কার্য‍্যতঃ তা নয় বলেই আমাদের ধারণা হয় একমাত্র "রসিকপ্রিয়া" টীকার প্রমাণ থেকে। কেননা উদাহরণস্বরূপ দেখা যায়,প্রথম অষ্টপদী "মালবগৌড়রাগেণ রূপক তালেন গীয়তে" এই রূপকতালে ও মালবগৌড়রাগে গান করার বিধি আছে যেখানে মূলে, সেখানে রসিকপ্রিয়াকার রাণা কুম্ভা।মূলানুসারে "মালবরাগেণ---প্রলয়েতি" শব্দ ব‍্যবহার করেও "প্রলয়পয়োধিজলে ধৃতবানসি বেদম্"*
*◆(গমক,আলাপ,মধ‍্যমগ্রাম (গ্রাম তিনটি--ষড়জ্,মধ‍্যম ও গান্ধার), মধ‍্যমগ্রহ অর্থে মধ‍্যমস্বরে গানের বা পদের আরম্ভ,মধ‍্যমাদি বা মধুমাবতী বা মধুমাধবী, ষাড়ব অর্থ‍্যাৎ ঐ রাগে ছ'টি মাত্র স্বরের সমাবেশ। কিন্তু মধ‍্যমাদি,মধুমাবতী বা মধুমাধবী, রাগের প্রাচীন রূপ ঔড়ব অর্থ‍্যাৎ পাঁচটি স্বরের সমাবেশ এবং মধ‍্যমাদি ভৈরবরাগের প্রথম রাগিনী।মধ‍্যম গ্রহ (মধ‍্যমস্বরে আরম্ভ) এবং ঋষভ-ধৈবত-বর্জিত। বতর্মান হিন্দুস্থানীপদ্ধতিতে মধ‍্যমাদি বা মধ‍্যমাধবীতে গান্ধার ও ধৈবত-বর্জিত, সুতরাং ঔড়ব (স বি ম প নি-কোমল) দুটি কল বিশিষ্ট বার্তিক (লয়েরই সামিল) এবং মধ‍্যলয়ে গীত হবে)।*
*🍀প্রভৃতি পদগানকে "কীর্তিধবল-ছন্দ" এই অভিধা দিয়ে আদিতালে,বিলম্বিত লয়ে ও মধ‍্যমাদি তথা মধুমাধবীরাগে গান করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন--, অত্র প্রলয়পয়োধীত‍্যাদ‍্যেকাদশস্বপি পদেষু(◆প্রলয়পয়োধিজলে••••••১। থেকে "কেশব ধৃতদশবিধরূপ জয় জগদীশ হরে" এই ১১শ পদ পর্যন্ত কীর্তিধবল-ছন্দ) "কীর্তিধবলং নাম ছন্দঃ।তল্লক্ষণং যথা--"অযুজি পদে দ্বাদশৈব যুজি তু যস‍্য হি দশ রাষ্ট মাত্রাশ্চেৎ।পরমপি পদযুগমেবং তং কীর্তিধবলমিহ ধীরাঃ প্রাহুঃ।☆ ☆ ছন্দসা কীর্তিপূর্বেন ধবলেন বিনির্মিতঃ।পদান্তভোগরুচিরস্ততঃ পাটম্বরাঞ্চিতঃ।।দশাবতারকীর্ত‍্যাভ‍্যো ধবলোহয়ং প্রবন্ধরাট্।রাগোহত্র মধ‍্যমাদিঃ স‍্যাদাদিতালো বিলম্বিতঃ।লয়ঃ স‍্যান্মাগধী রীতিঃ শৃঙ্গারোহত্র রসঃ স্মৃতঃ।কীর্তনং বাসুদেবস‍্য বিনিয়োগো নৃত‍্যোৎসবে।।"সঙ্গীতরাজ গ্রন্থ রচয়িতা সঙ্গীতকুশল রাণা কুম্ভা এই প্রবন্ধের নামকরণ করেছেন "কীর্তিধবলপ্রবন্ধ"।ত্রয়োদশ শতকের সঙ্গীতশাস্ত্রী শার্ঙ্গদেব "সঙ্গীত-রত্নাকর" গ্রন্থে চতুর্থ প্রবন্ধ‍াধ‍্যায়ে বিচিত্র প্রবন্ধের পরিচয়প্রসঙ্গে "করণ" প্রবন্ধের উল্লেখ করেছেন এবং মঙ্গল,আনন্দবর্ধন, কীর্তিলহরী বা কীর্তিপূর্বিকালহরী এই প্রবন্ধ তিনটিকে করণপ্রবন্ধের অন্তর্গত বলেছেন। টীকাকার সিংহভূপাল কীর্তিলহরী প্রবন্ধের পরিচয়প্রসঙ্গে বলেছেন--, "যস্তু ধ্রুবস‍্যাধস্থানে উদগ্রাহদ্বিতীয়ার্ধং গীয়তে অন‍্যলক্ষণমানন্দবর্ধনবত্তদা কীর্তিলহরী।(◆সঙ্গীত-রত্নাকর ৪|১৪২,১৪৫)।ধবলপ্রবন্ধ-সম্পর্কে শার্ঙ্গদেব বলেছেন--,"আশীর্ভির্ধবলো গেয়ো ধবলাদিপদান্বিতঃ।যদ্দৃচ্ছয়া বা ধবলো গেয়ো লোকসিদ্ধিতঃ।ধবলপ্রবন্ধ আবার তিন শ্রেণীর--, কীর্তিধবল,বিজয়ধবল ও বিক্রমধবল।রাণা কুম্ভা পূর্বোক্ত কীর্তি বা কীর্তিলহরীপ্রবন্ধের কথা বলেছেন ধবলশ্রেণীর "কীর্তিধবল"-প্রবন্ধের কথা।"কীর্তিধবল"-প্রবন্ধের পরিচয় দিয়ে টীকাকার সিংহভূপাল বলেছেন--, "বিষমে প্রথমে তৃতীয়ে চ চরণে ছগণঃ ছগণদ্বয়ম্ ; সমে দ্বিতীয়ে চতুর্থে চ চরণে তগণঃ দগণো বাধিকঃ, তদা কীর্তিধবল"।"তদা স‍্যাৎ কীর্তিধবলো" বোলে শার্ঙ্গদেব কীর্তিধবল-প্রবন্ধের পরিচয় দিয়েছেন।এই প্রবন্ধে চারটি চরণ থাকে,দুইটি বিষম ও দুটি সম-চরণ।দুটি বিষম-চরণে অর্থ‍্যাৎ প্রথম ও তৃতীয় চরণে দুটি করে ছ-গণ থাকে,আর সম-চরণে অর্থ‍্যাৎ দ্বিতীয় ও চতুর্থ চরণে তাছাড়া ত-গণ বা দ-গণ থাকে। সুতরাং বিষম-চরণে দুটি ছ-গণ থাকলে মোট বারোটি মাত্রার সমষ্টি এবং সম-চরণে সঙ্গে ত-গণ, সুতরাং আরো তিনটি মাত্রা তার সঙ্গে যুক্ত হলে পনের মাত্রার সমষ্টি হয়,আর দ-গণ তাতে সংযুক্ত হলে মাত্রার সংখ্যা হয় চোদ্দ।(◆এই সম্বন্ধে বিস্তৃত বিবরণ কল্পিনাথ ও সিংহভূপালের টীকা দ্রষ্টব‍্য)।*
*🌺এ'ভাবে রাণা কুম্ভা "গীতগোবিন্দ" পদগানের পদগুলিতে শাস্ত্রীয় অভিজাত তথা ক্ল‍্যাসিক‍্যাল রাগ,তাল,প্রবন্ধ প্রভৃতির সমাবেশের উল্লেখ করেছেন।এর পরে আমরা সমস্তগুলি রাগ,তাল ও প্রবন্ধের এবং সঙ্গে সঙ্গে পদসাহিত‍্যের বৃত্তি,রীতি, অলংকার প্রভৃতির আলোচনা করব,কেননা,পরবর্তী পদাবলী কীর্তনের অঙ্গাভরণরূপেও এগুলি গৃহীত হয়েছে।*
🎷🎷📯📯🎺🎺🎻🎻🎸🎸🎻🎺📯
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/04/podaboli5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds