*(৩২)🦀🦀মনোশিক্ষা🦀🦀*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""'
*এ মন!তবে সে জানিয়ে তোরে।*
*শমন-কিঙ্কর, আসিয়ে দাঁড়ালে,*
*রহিতে পার কি জোরে।।*
*যখন আসিয়া, বুকেতে বসিয়া,*
*কফেতে চাপিবে গল।*
*এ তোর গুমান, কোথা বা তখন,*
*কোথা বা রহিবে বল।।*
*কহ না এ রূপ, কোথায় থাকিবে,*
*ভাঙ্গিয়া বসিবে বুক।*
*কোথা বা রহিবে, আঁধির ঘুরাণি,*
*বিকট হইবে মুখ।।*
*তখন কি হবে, উঠিতে নারিবে,*
*নালা'য়ে মাগিবে পানি।*
*যাদের সোহাগে, আপনা হারালি,*
*সে মুখ ফেরাবে শুনি।।*
*এ দেহ ছাড়িয়া, যখন চলিবে,*
*রাখিতে নারিবে তিলে।*
*জান না গলায়, কলসী বান্ধিয়ে,*
*টানিয়া ফেলাবে জলে।।*
*কহে প্রেমানন্দ, এমন সময়ে,*
*কেবল "গোবিন্দ" বন্ধু।*
*মুখ ভরি যদি, "হরি হরি" বল,*
*তরিবে এ ভব-সিন্ধু।।*
*🍀কফ=সর্দি, গল=গলা, বিকট= বিশ্রী, নারিবে=পারবে না, নালায়ে =হাঁফাতে হাঁফাতে,গুমান=অহঙ্কার,🍀*
*🌻খুব সহজ সরল কথন তাই ব্যাখ্যা দিলাম না🌻*
*🙌জয় নিতাই গৌর হরিবোল🙌*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৩৩)💐💐মনো শিক্ষা 💐💐*
÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷
*ওরে মন! এবার বুঝিবি ভারিভুরি।*
*কুপিয়াছে সূর্য্য-পুত্র,বান্ধিবে তার দূত,*
*যেন ফির অসতাই করি।।*
*যদি মোর বল ধর,তবে মোকে রক্ষা কর,*
*যদি জয় করিবে শমন।*
*কৃষ্ণনাম গড় করি,সাধুগণ-শূর ভরি,*
*তার মাঝে রহ অনুক্ষণ।।*
*ত্রিভুবনে যেই আলা,তিলক তুলসী-মালা,*
*দৃঢ় করি ধর আগুয়ান।*
*দেখি হেঁট করি মাথা,সসৈন্য সে যম-ভ্রাতা,*
*ভঙ্গ দিয়া করিবে প্রস্থান।।*
*শ্রীগুরু-করুণা-ছায়া, চন্দ্রাতপ টাঙ্গাইয়া,*
*বসি থাক আনন্দ-হৃদয়।*
*কৃষ্ণ-নিত্যদাস বুলি,সর্বত্র ফিরাও ঢুলি,*
*প্রেমানন্দ কহে কারে ভয়।।*
*🌻চন্দ্রাতপ=সামিয়ানা, কুপিয়াছে =রেগেছে, সূর্য্য-সুত= যমরাজ, অসতাই= কুকর্ম, গড়=কেল্লা, শূর=বীর।🌻*
*🌼ওরে মন! যতই চাতুরী করে নিজেকে রক্ষা করবার চেষ্টা কর না কেন! যম মহারাজের হাত থেকে কিছুতেই নিষ্কৃতি পাবে না। তোমার দুষ্কর্মের বা খারাপ কর্মের সূত্রধরে আমাকেও তোমার সঙ্গে শমন ভবনে যেতে হবে।যম যাতনা হতে তুমি যদি রক্ষা পেতে চাও এবং আমাকেও রক্ষা করতে চাও তবে আমার পরামর্শ শোন।কৃষ্ণনামের দূর্গ বা কেল্লা নির্মাণ কর ও তাতে ভক্তি রক্ষক বলবান সাধুগণকে তোমার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব অর্পণ করে তার মাঝে তুমি নিশ্চিন্তে বসে থাক।রক্ষা কবচ হিসেবে দ্বাদশ অঙ্গে তিলক ও তুলসীমালা ধারণ কর।তাহলে যমরাজ মাথা নত করে সসৈন্যে নিজস্থানে প্রস্থান করবে।তুমি কৃষ্ণ নামরূপ চন্দ্রাতপ বা সামিয়ানা টাঙ্গিয়ে দাও।জন্ম সূত্রে পাওয়া অনিত্য আত্মপরিচয়ের কথা ভুলে গিয়ে তুমি নিত্য "শ্রীকৃষ্ণের দাস" এই চিরন্তন পরিচয় জয়ডঙ্কা বাজিয়ে ঘোষণা করতে থাক।তাহলে আর কাউকে ভয় পাবে না।*
*🙌জয় জয় রাধাকৃষ্ণের জয়🙌*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৩৪. দেহ ধীরে ধীরে জরাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে 😔 যে দেহের দ্বারা অনায়াসে পাথরকে ঠেলে দিয়ছ সে দেহ ঠিক ভাবে দাঁড়াতে গেলে ঢলে পড়ে যাচ্ছে ❓ মনোশিক্ষা🙏 দ্বিতীয় ভাগ🙏শ্রী প্রেমানন্দ দাস ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/jaydeb_14.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৩৪)💐💐মনো শিক্ষা 💐💐*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*এ মন! বুঝিয়া বুঝিতে নার।*
*দিনে দিনে তোর, ভাঁটি কি উজান,*
*শরীরে কেন না হের।।*
*আগে যেন দেহে, পাথর ঠেলেছ,*
*এবে দাঁড়াইতে হেল।*
*শ্রবণ নয়ন, তারাও অমনি,*
*দশন কোথা বা গেল।।*
*রুধির শুকা'য়ে, বল লুকায়েছে,*
*বাতাসে হেলিছে চাম।*
*যত সন্ধি কল, ক্ষণেকে নড়িছে,*
*সরস হৈয়াছে দাম।।*
*তবু ঘুচিল না, এ আমি আমার,*
*ফিরি না চাহিলি পাছে।*
*এখন তখন , কখন কি হয়,*
*শমন দেখ না কাছে।।*
*তুমি কত শত, পোড়ায়ে এসেছ,*
*বিবেক নহে কি তায়।*
*তোরে না ছাড়িবে,অমনি পোড়াবে,*
*দেখি না বুঝিলি হায়।।*
*বদন ভরিয়া, 'হরি না বলিলি,*
*সদাই অসৎ-এ ভোর।*
*কহে প্রেমানন্দ, আবার কপালে,*
*কি জানি কি আছে তোর।।*
*🍀নার=পারলে না, ভাঁটি কি উজান = আয়ু কমছে না বাড়ছে, রুধির= রক্ত,সরস চাম=দেহের চামড়া নড়বড় করছে।🍀*
*🌻মন! তুমি বুঝেও বুঝতে পারছ না। তোমার দেহ ধীরে ধীরে জরাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে।যে দেহের দ্বারা অনায়াসে পাথরকে ঠেলে দিয়ছ সে দেহ ঠিক ভাবে দাঁড়াতে গেলে ঢলে পড়ে যাচ্ছে।শ্রবণশক্তি,দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমে আসছে।দশন(দাঁত), মুক্তার মত ঝকঝকে দাঁতগুলো একে একে সব বিদায় নিচ্ছে।শরীর ধীরে ধীরে রক্ত শূন্য শক্তিহীন হয়ে শীর্ণ হচ্ছে।আগে দেহের চামড়াগুলি কত মজবুত ছিল, বতর্মানে দেহের ঝুলে পড়া চামড়া যেন বাতাসে নড়ছে।তবুও তোমার আমিত্বের মোহ গেল না, আশার শেষ হল না।তুমি একসময় কত মৃতদেহ শ্মশানে পোড়ায়ে এসেছ, ঠিক তোমাকেও যে একদিন পুড়ে শেষ হতে হবে, একথা মোটেও ভাবছ না। ওরে মন! দিনান্তে একবার "হরি হরি" এই শব্দ উচ্চারণ করছ না, তোমার পরিণাম কি হবে?
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৩৫)💐💐মনো শিক্ষা 💐💐*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*এ মন!কি লাগি আইলি ভবে।*
*এমন জনমে , 'হরি' না ভজিলি,*
*সে তুই মানুষ কবে।।*
*মানুষ-আকার, হইলে কি হয়,*
*করহ ভূতের কাম।*
*নহিলে বদনে, কেন না বলহ,*
*'শ্রীকৃষ্ণ' 'গোবিন্দ'-নাম।।*
*পাখীরে যে নাম, লওয়াইলে লয়,*
*শারী শুক আদি কত।*
*তুমি যে ইহাতে , আলস্য করহ,*
*এ হয় কেমন মত।।*
*দিবস-রজনী , আবোল তাবোল,*
*পচাল পাড়িতে পার।*
*তাহার ভিতরে, কখন কেন কি,*
*'গোবিন্দ' বলিতে নার।।*
*ভজিব বলিয়ে, কহিয়া আইলি,*
*ভুলিলি কি সুখ পাইয়ে।*
*বুঝিনু আবার, শমন-নগরে,*
*নরকে মজিবি যাইয়ে।।*
*বদন ভরিয়া, 'হরি' বল যদি,*
*ক্ষতি না হইবে তায়।*
*কহে প্রেমানন্দ, তবে যে নিতান্ত,*
*এড়াবে কৃতান্ত-দায়।।*
*ভবে= পৃথিবীতে, শমন নগরে= যমের বাড়িতে, নিতান্ত= নিশ্চয়ই, কৃতান্ত দায়= যমের হাত।*
*🌻🌻🌻ব্যাখ্যা🌻🌻🌻*
*মন! মানব জনম পেয়ে যদি হরি ভজন না কর,তাহলে কেন এই পৃথিবীতে এলে? মানুষের আকৃতি পেয়েছ বটে কিন্তু "নিরন্তর বা সবসময় ভূত প্রেতের ন্যায় নিঃকৃষ্ট কর্ম করে চলেছ।ভূত যেমন অন্য দেহে ভর করে নিজের ভোগ স্পৃহা বা অভিলাষ নিবৃত্তি করে,তেমনি তুমি ভূতের স্বভাব নিয়ে মানবদেহকে আশ্রয় করে তোমার নিঃকৃষ্ট ভোগবাসনা চরিতার্থ করে চলেছ।ভূত পিশাচের স্বভাব না হলে দিনান্তে একবারও শ্রীকৃষ্ণগোবিন্দের নাম বল না কেন?বনের পাখীকে কৃষ্ণনাম শিখিয়ে দিলে সে সুস্পষ্টভাবে মাঝে মধ্যেই বলতে থাকে।অথচ তুমি মানুষ হয়েও সে শ্রীকৃষ্ণগোবিন্দ নাম বলার চেষ্টা কর না।তবে,আবোল তাবোল কথা বলার বিরাম থাকে না।ভেবে দেখ মন! মাতৃগর্ভে থাকাকালীন শ্রীভগবানের কাছে তুমি কৃষ্ণনাম করবে এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছ।জানি না কোন মোহে পড়ে তুমি তা ভুলে গিয়ে নরকের পথ প্রশস্ত করছ।ওরে অবুঝ মন!🦀 এখনও সময় আছে কিছু না পার মুখে অন্তত একবার করে রোজ হরি হরি বল।যমের হাত থেকে নিষ্কৃতি পাবে।*

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৩৬. হে মন! পূর্বজন্মের কোন সুকৃতির ফলে সর্বোত্তম মানবদেহ পেয়েছ বলে প্রতি জন্মেই যে এইরকম মানবদেহ পাবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই ☝️ মনোশিক্ষা🙏 দ্বিতীয় ভাগ🙏শ্রী প্রেমানন্দ দাস ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/jaydeb_14.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৩৬)💐💐মনো শিক্ষা 💐💐*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*ওরে মন!আর কি হইবে হেন জন্ম।*
*না জানি কি পুণ্যফলে, মানুষ উত্তম কুলে,*
*হেলে যার না বুঝিলে মর্ম।।*
*দেখ আয়ু-সংখ্যা যত,নিদ্রাতে অর্ধেক গত,*
*চৌঠি রোগ শোক অপকথা।*
*চৌঠি বিদ্যা ধনে মানে,কাম ক্রোধ দূর্বাসনে,*
*হাস্যকৌতুকে গেল বৃথা।।*
*সত্য ত্রেতা দ্বাপরেতে,বহু আয়ু ছিল তাতে,*
*বিনা সংখ্যা-পূর্ণ মৃত্যু নাই।*
*কত করি পরিশ্রম,আচরিত যুগ-ধর্ম,*
*ধ্যান যজ্ঞার্চন ভরি আই।।*
*এবে কলি অল্প আই,শতেক বৎসর ভাই,*
*সেহ দৃঢ় নহে নিরূপণ।*
*তা গোঙালি মিছা কাজে,কি বলিবি কোন লাজে,*
*যবে তোরে শুধাবে শমন।।*
*এমন সুলভ কলি,যাতে "হরেকৃষ্ণ" বলি,*
*হেন নামে না করিলি রতি।*
*প্রেমানন্দ কহে পুনি,এ চৌরাশিলক্ষ যোনি,*
*ভ্রমাইবে কতেক দুর্গতি।।*
*🌺চৌঠি=সিকি ভাগ, আই=আয়ু, অপকথা=বাজেকথা, গোঙালি= কাটালি,সুধাবে=জিজ্ঞাসা করবে।*
*🌻হে মন! পূর্বজন্মের কোন সুকৃতির ফলে সর্বোত্তম মানবদেহ পেয়েছ বলে প্রতি জন্মেই যে এইরকম মানবদেহ পাবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই।একে তো মানবদেহ পাওয়া বহু ভাগ্যের কথা,তাতে আবার সমগ্র পরমায়ুর অর্ধেক নিদ্রাতে অতিবাহিত হয়।বাকী অর্ধেকের একভাগ রোগ শোকাদি ভোগে যায়। অবশিষ্ট সময় ধন-জন-যৌবন মদে ভোগবিলাসে অতিবাহিত হয়।শ্রীকৃষ্ণভজনের সময় আর থাকে না।সত্য-ত্রেতা-দ্বাপর তিনযুগের মানুষের ছিল নির্ধারিত সংখ্যাপূর্ণ আয়ুষ্কাল। তাই ধ্যান,যজ্ঞ এবং অর্চনা দ্বারা ভগবদ্ উপাসনার সময় তারা যথেষ্ট পেত। কিন্তু কলিযুগের মানুষের জন্য নির্দিষ্ট কোন সংখ্যার আয়ুষ্কাল নেই।বয়স যায় হোক না কেন কর্মফল ভোগ শেষ হলেই সঙ্গে সঙ্গে চলে যেতে হবে।এইরকম অনিশ্চিত আয়ু পেয়ে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র নামে তোমার রতি হল না।মন!তুমি স্মরণ রেখ, এই নাম না করার জন্য পুনরায় তোমাকে চৌরাশিলক্ষ যোনি ভ্রমণ করতে হবে।*
*🙌হরেকৃষ্ণ হরেকৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।হরেরাম হরেরাম রাম রাম হরে হরে🙌।।*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৩৭)🦀🦀মনো শিক্ষা 🦀🦀*
++++++++++++++++++++++
*ওরে মন!কিবা তুমি বিচারি না চাও।*
*'কৃষ্ণ'ভুলি এই পাপ,তেঁই তোর তিন তাপ,*
*নানা যোনি ভ্রমিয়া বেড়াও।।*
*তুমি কৃষ্ণ-নিত্যদাস,কোথা গেল সে অভ্যাস,*
*ধন-জন-মদে হৈয়া আন্ধ।*
*বিনা মূল্যে মাথা পাতি,দাস হয়ে খাও লাথি,*
*শ্রদ্ধাতে বসন দিয়া কান্ধে।।*
*এই মোর সদা ধন্দ,কহ লক্ষ কথা মন্দ,*
*'কৃষ্ণনাম' লইতে আলিস।*
*থাকিতে রসনা তুন্ড,যাও কেন নরক কুন্ড,*
*ইহা হইতে কে আর বালিশ।।*
*বৃথা তবে নর-তনু,শ্রীকৃষ্ণ-ভজন বিনু,*
*কেমনে পামর জীতে চায়।*
*কৃষ্ণ বিনা কোটি-যুগ,জীয়েই বা কোন সুখ,*
*সে জীবন পাথরের প্রায়।।*
*এবার মানুষ-দেহ,আর কি হইবে এহ,*
*ভজ কৃষ্ণ,ছাড় অনাচার।*
*দেখ সব-নাশা ফাঁদা,কেবল অনর্থ ধাঁধা,*
*অসময়ে হয় কেবা কার।।*
*প্রেমানন্দ কহে মন,'কৃষ্ণ' কহ অনুক্ষণ,*
*আপনার তত্ত্বে হও দৃঢ়।*
*সংসার-বাসনা-গর্ত,কীট-কৃমিময় কত,*
*দেখিয়া শুনিয়া কেন পড়।।*
*🌻আন্ধে=অন্ধকারে, ধন্দ=সন্দেহ, রসনা=জিহ্বা, তুন্ড=মুখ, বালিশ= মূর্খ, জীতে=বাঁচিতে,ফাঁদা= সংসাররূপ ফাঁদ।*
*🌻মন!তুমি সুখের অনুসন্ধান করছ বটে কিন্তু তুমি না চাইলেও তিন প্রকার দুঃখ তোমাকে দিবানিশি জর্জরিত করছে।এই দুঃখের জন্য কি তা তুমি জান না।বিশ্বের সমস্ত দুঃখকে প্রকৃতিগতভাবে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।(১)আধিভৌতিক, (২)আধিদৈবিক (৩) আধ্যাত্মিক। আধিভৌতিক দুঃখ হল=পঞ্চভূত ও জীব হতে উৎপন্ন বিপদ বা দুঃখ। যেমন=কুকুরে কামড়ানো,সাপে দংশন প্রভৃতি।দৈবজাত বিপদ বা দুঃখকে বলে আধিদৈবিক।যেমন= বৃষ্টিপাত,ভূমিকম্প প্রভৃতি। মন বা শরীর থেকে উৎপন্ন দুঃখই হল আধ্যাত্মিক।যেমন= বিভিন্ন প্রকার ব্যাধি। এই সমস্ত দুঃখের কারণই হল ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে ভুলে থাকা এবং শ্রীকৃষ্ণের সেবা না করা।*
*🙏শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে পায়=*
*কৃষ্ণ ভুলি সেই জীব অনাদি বহির্মুখ।*
*অতএব মায়া তারে দেয় সংসার দুঃখ।।*
*🌻শ্রীচৈতন্যভাগবতের ভাষায় পায়*
*জগতের পিতা কৃষ্ণ যে না ভজে বাপ।*
*পিতৃদ্রোহী পাতকীর জন্মে জন্মে তাপ।।*
*🌻শ্রীকৃষ্ণ আমার প্রভু এই স্মৃতি জাগলেই সমস্ত প্রকার দুঃখের অবসান হয়। মন! তুমি জান বা না জান-- মানো বা না মানো অনাদি অনন্তকাল হতেই তুমি শ্রীকৃষ্ণের নিত্য দাস।বিষয় মদে বা গৌরবে অন্ধ হয়ে তা বুঝতে না পেরে সবসময় মায়ার লাথি খেয়ে চলেছ।শ্রীকৃষ্ণ নাম অনুশীলনে সকল দুঃখ দূরে যায় জেনেও নামের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ কর না।এটাই আমার কাছে আশ্চর্য্য বলে মনে হচ্ছে।দেহের একটি ইন্দ্রিয়ের দ্বারায় ভগবদ্ প্রাপ্তি হয়, মায়ার বন্ধন ছিন্ন করা যায়। মানুষ যদি তার জিহ্বাকে কৃষ্ণনাম সাধনায় নিয়োজিত করে রাখে, তাহলে নাম সাধনায় নামীকে সহজে পেতে পারে।মন! তুমি দীর্ঘকাল বেঁচে থাকতে চাও, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ সম্বন্ধ বিনা দীর্ঘজীবনের কোন মূল্য নেই।বহু পুণ্যফলে এবার যখন সুদুর্লভ মানবজনম পেয়েছ তখন শ্রীকৃষ্ণভজন করে জীবনকে সার্থক করতে চেষ্টা কর।শ্রীকৃষ্ণ ভজন করলে কৃমি কীটময় সংসার বাসনাগর্তে আর তোমাকে পড়তে হবে না।*
*🙌জয় শ্রীরাধাশ্যামসুন্দরের জয়🙌*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৩৮)💐💐মনো শিক্ষা 💐💐*
$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$$
*এ মন! মানুষ হবে কি আর।*
*বদন ভরিয়া, 'হরি হরি' বল,*
*শোধ' না যমের ধার।।*
*ভাবিয়া দেখ না,সে হারে আপনা,*
*ইহাতে যে করে পাপ।*
*আপনার দোষে,আপনি পায় সে,*
*জনমে জনমে তাপ।।*
*সেই সে চতুর, বাপের ঠাকুর,*
*যে লয় হরির নাম।*
*ইহাতে যাহার, রুচি না জন্মিল,*
*বিধাতা তাহারে বাম।।*
*এ বোধ বুঝিবে, নরকে মজিবে,*
*শমন রুষিবে যবে।*
*আঁখির পলকে, এ ঠাট ভাঙ্গিবে,*
*কি বলি এড়াবে তবে।।*
*ভাই বন্ধু জায়া, তনয় তনয়া,*
*আপনা বলিছ যারে।*
*জান না মুখেতে অনল ভেজায়ে,*
*অগাধ জলেতে ডারে।।*
*মূরতি দেখিয়া, ডরে ডরাইয়া,*
*তিলে না রাখিবে ঘর।*
*কহে প্রেমানন্দ, "হরি হরি" বল,*
*তা বিনু সকলি পর।।*
*🌺শমন রুষিবে=যম রাগ করবে, তনয়=পুত্র তনয়া =কন্যা, ভেজায়ে =দিয়ে,ডারে=ফেলে,ডরাইয়া= ভয় পেয়ে।*
*🌻মন! মনে রেখ তুমি যমের কাছে ঋণী আছো।একমাত্র হরিনাম সাধনের দ্বারা এই ঋণ শোধ হয়। যদি হরিনাম না কর,তবে ঋণের দায়ে তোমাকে বার বার যমের দুয়ারে যেতে হবে।যমের ঐখানে যে কি সুখ আছে যারা গেছে তারাই জানে।(বেগুনী ভাজার মত তোমাকে গরম তেলের মধ্যে ফেলে জীবন্ত ভাজবে)।এত জেনেও যদি তুমি হরিনাম না কর, তাহলে নিজের দোষে যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে।জগতে সেই চতুর বা বুদ্ধিমান, হাজার ব্যস্থতার মধ্যেও যে হরিনাম গ্রহণ করেন।হরিনাম না করে নরকগামী হওয়ার পরে তুমি অনুভব করতে পারবে।স্ত্রী পুত্র কন্যা ভ্রাতা ভগ্নী প্রভৃতিকে একান্ত আপন ভেবে তাদের সেবার জন্য জীবনপাত করে চলেছ, তারাই একদিন তোমার মুখে অনল অর্থ্যাৎ আগুন দেবে।তাই বলি মন! শ্রীহরি এবং হরিনামই একমাত্র আপন।আর বাকী সব পর।*
*🙌হরিবোল,হরিবোল,হরিবোল🙌*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৩৯)💐💐মনো শিক্ষা 💐💐*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*ওরে মন! এমন কেন রে ভাই।*
*দেখ না কি কাজে, ভারত-ভুবনে,*
*তা তোর স্মরণ নাই।।*
*উদয়-তিমিরে, নাভিতে বন্ধন,*
*জঠর-অনলে দহে।*
*কৃমিতে বেড়িয়া,কত না কাটিছে,*
*কহ কে রাখিল তাহে।।*
*ভূমিতে পড়িয়ে, আপনা ভুলিছ,*
*যখন ধরেছে মায়া।*
*সংসার-বাসনা, গলার শৃঙ্খল,*
*চরণ-দাড়ুকা জায়া।।*
*কি সুখে মজিছ, পাছু না গণিছ,*
*তুমি কি বুঝিছ ভাড়ু।*
*এমন জনমে, 'হরি' না ভজিলে,*
*তোমার কপালে ঝাড়ু।।*
*এ বার ও বার, আসিছ যে আর,*
*বিচার করিয়া দেখ।*
*বদন ভরিয়া, 'হরি' না বলিলে,*
*তরিতে না পারে এক।।*
*জান না কখন, শমন ফুকারে,*
*কি বলি দাঁড়াবে কাছে।*
*কহে প্রেমানন্দ, 'হরি' বল যদি,*
*কে বল এমন আছে।।*
*🌻জঠর অনলে দহে= মাতৃগর্ভস্থ অন্ধকারে মায়ের নাড়ীর সঙ্গে তোমার নাইতে বাঁধন থাকে ও সেখানে জঠরাগ্নিতে দগ্ধ করে। চরণ-দাড়ুকা = পায়ের বেড়ি।*
🤚🤚🤚🤚🤚🤚🤚🤚🤚🤚🤚🤚🤚
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৪০)💐💐মনো শিক্ষা 💐💐*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*ওরে মন! তিল আধ নাহিক চেতন।*
*রাত্রিদিন এ সংসার,চেষ্টাতে হইলি ভোর,*
*ভুলে রইলি মায়ার কারণ।।*
*পাইয়া মনুষ্য জন্ম,করহ পশুর কর্ম,*
*বুঝি দেখ আপনার মূল।*
*সে আহার নিদ্রা করে,স্বগণ সহিত চরে,*
*তবে কিসে নহ সমতুল।।*
*ধন জন পূর্ব-জন্ম,যেমন করেছ কর্ম,*
*ভাবিলে কি তার বাঢ়া পাও।*
*দুর্লভ এ নর-তনু,শ্রীকৃষ্ণ-ভজন বিনু,*
*কেন মিছে নিষ্ফলে গোঙাও।।*
*শাস্তিকর্তা দন্ডধর,আসিয়া তাহার চর,*
*চর্ম-পাশে বান্ধিবে যখন।*
*মারিবে ডাঙ্গসের বাড়ি,কে তোরে লৈবে ছাড়ি,*
*সুখ দুঃখ বুঝিবে তখন।।*
*শুন মন দুরাচার,কেন কর অনাচার,*
*তোর কর্ম সকলি অসার।*
*শ্রীগুরু-চরণে দৃষ্টি,দেখ যার আছে নৈষ্ঠি,*
*সেই মাত্র ধন্য রে দুর্বার।।*
*কৃষ্ণ যদি মনে করে,ব্রহ্ম-পদ দিতে পারে,*
*হেন কৃষ্ণ ছাড় কি কারণে।*
*দেখ যাঁর শ্রীচরণ,ধ্যান করে পঞ্চানন,*
*তথাপি প্রত্যয় নাহি মনে।।*
*ছাড় সব মিছা কাম,মুখে বলো হরিনাম,*
*তবে তোর সম কেবা হয়।*
*প্রেমানন্দ কহে মন,কর হেন আচরণ,*
*তবে আর কারে তোর ভয়।।*
*🌻ওরে মন! অবিদ্যা মায়ায় বশীভূত হয়ে সাংসারিক দায়িত্ব কর্তব্য পালনে বিভোর হয়ে থাকলে, ক্ষণকালের জন্য পারমার্থিক চেতনা জাগল না।মনব জনম পেয়ে মনুষ্যত্বের মর্য্যাদা না দিয়ে পশুর কর্ম করে চলেছ।যদি বলো আমি পশুর কর্ম করছি তার প্রমাণ কি?তার উত্তরে বলি শোন,পশু আহার করে তুমিও কর,পশু নিদ্রা যায়,তুমিও নাদ্রা যাও,পশু নিজগণকে নিয়ে দলবদ্ধভাবে বাস করে,তুমিও পারিবারিক জীবন যাপন করছ।তাহলে কি তুমি পশুর সমতুল্য হলে না? পরের বিত্ত-বৈভব দেখে তার সমান হতে বা তার চাইতে বেশী পেতে অমানুষিক পরিশ্রম করে চলেছো। কিন্তু পূর্বজন্মের কর্ম অনুসারে যতখানি তোমার পাওনা আছে,ততখানিই পাবে। যতই পরিশ্রম কর একবিন্দুও বেশী পাবে না।জীবনের সময় ফুরিয়ে এলে শ্রীকৃষ্ণ ভজন না করার অপরাধে চর্মপাশে বেঁধে প্রহার করতে করতে নরকে নিয়ে যাবে।তখন নিজের ভুল বুঝতে পারলেও আর কিছু করবার থাকবে না।তুমি অসার কর্ম ত্যাগ করে শ্রীগুরুদেবের শ্রীচরণে শরণাগত হও। শ্রীগুরুদেবের কৃপা দৃষ্টি পেলে ভজন পথের সকল বিপত্তি দূর হয়ে যাবে।তখন অনায়াসে শ্রীকৃষ্ণচরণ প্রাপ্ত হবে।শ্রীগুরু কৃপায় শ্রীকৃষ্ণচরণ পেলে তোমার কোন অভিলাষ আর অপূর্ণ থাকবে না।তখন শ্রীকৃষ্ণ মনে করলে অনায়াসে ব্রহ্মপদ দিতে পারেন।তাই কৈলাসপতি শ্রীমহাদেব কৈলাসে বসেও সর্বদা শ্রীকৃষ্ণের ধ্যান করেন।অন্য কামনা বাসনা ও কর্তব্য পরিত্যাগ করে মুখে সদা হরিনাম করতে থাকো।তাহলে তোমার মতো সুকৃতিবান কেউ হতে পারবে না।*
*🍀শাস্তিকর্তা দন্ডধর=যমরাজ, ডাঙ্গস=লোহার লাঠি, মূল=তত্ত্ব, ছাড়ি=ছাড়াইয়া,দুর্বার=দুর্লঙ্ঘ্য, অনাচার=দুষ্কর্ম।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৪১. মন! তুমি ভেবেছ বিশাল ধনী হতে পারলে,জননেতা হতে পারলে,বর্ণশ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ হতে পারলে তোমার জন্ম সার্থক হবে।এ ধারণা তোমার একেবারেই ভুল 🙇 মনোশিক্ষা🙏 দ্বিতীয় ভাগ🙏শ্রী প্রেমানন্দ দাস ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/jaydeb_14.html ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৪১)💐💐মনো শিক্ষা 💐💐*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*ওরে মন! দেখ না সকলি ভুল।*
*কি ছার গরব, ধন জন জাতি,*
*কিসে বা ঢলাও কুল।।*
*ধন দিয়া বুঝি, শমন এড়াবে,*
*যমে কি ছাড়িবে তোরে।*
*বড় জাতি হৈলে,সে বুঝি ছাড়িবে,*
*কুলে কি রাখিবে তোরে।।*
*সুত সুতা ভায়া, বেশ্যা পর-দার,*
*সে ঝুটা খাইলি সাধে।*
*বৈষ্ণব-উচ্ছিষ্টে, কুকুড়ি-মুকড়ি,*
*তাহাতে জাতিতে বাধে।।*
*রজনী-দিবস, কত কু-পচাল,*
*উছলি উছলি বুক।*
*শ্রীকৃষ্ণ বলিতে,না জানি বা কেহ,*
*চাপিয়া ধরে কি মুখ।।*
*যখন মরিবে, কিসে বা তরিবে,*
*কখনো না ভাব ভাই।*
*তিলেকে পলকে, দন্ডে শতবার,*
*খসিয়া পড়িছে আই।*
*নরক পরক, সে আর কেমন,*
*পরিচয় দিলে হেথা।*
*কহে প্রেমানন্দ, হরি না ভজিয়া,*
*যমকে বেচিলি মাথা।।*
*🌻মন! তুমি ভেবেছ বিশাল ধনী হতে পারলে,জননেতা হতে পারলে,বর্ণশ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ হতে পারলে তোমার জন্ম সার্থক হবে।এ ধারণা তোমার একেবারেই ভুল। কারণ প্রচুর ধনের বিনিময়ে, নেতৃত্ব দিয়ে বিশাল জনসমাবেশ ঘটিয়ে, অথবা বংশ মর্য্যাদা দেখিয়ে যমের হাত থেকে কিছুতেই মুক্তি পাওয়া যায় না।ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে শিশুপুত্র,শিশু কন্যা,বারবনিতা,পরস্ত্রীর মুখ চুম্বনে ও তাদের উচ্ছিষ্টাদি খেতে বিন্দুমাত্র সঙ্কোচ হয় না।আর যা বিন্দুমাত্র ভোজনে কোটি কোটি জন্মের পাপতাপরাশি ধূয়ে মুছে দিয়ে শীঘ্রই দুর্লভ কৃষ্ণ ভক্তির উদয় হয়,সেই পতিতপাবন বৈষ্ণব অধরামৃতে প্রকৃত রুচি জাগে না।দিনরাত্রি উৎসাহের সঙ্গে অসৎ কথা বলতে তোমার ক্লান্তি আসে না, অথচ যে কথা শ্রদ্ধাহীনভাবে উচ্চারণ করলেও মানব আত্মার পরাগতি লাভ হবে,সেই ভক্তবৎসল শ্রীকৃষ্ণ নাম দুই একবার উচ্চারণ করতে তোমার কন্ঠ অবরোধ হয়ে আসে। মন!তুমি বিশেষভাবে স্মরণে রেখো তুমি যাই কর না কেন, দন্ডে দন্ডে পলে পলে তুমি মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলেছ, আর এ মৃত্যুর পথে হরিনাম ছাড়া আর কোন বন্ধু নেই।এহেন মধুর থেকেও সুমধুর হরিনাম গ্রহণ না করার জন্য স্বাভাবিক ভাবেই তোমার মস্তক যমের কাছে বিক্রিত থাকছে। মন! গভীর ভাবে একবার ভেবে দেখ।*
😪😪😪😪😪😪😪😪😪😪😪😪😪
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৪২)🔥🔥মনো শিক্ষা 🔥🔥*
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*ওরে মন! বিচারিয়া দেখ না হৃদয়*
*ধনে জনে যত আর্তি,বাড়ে বই নহে নিবৃত্তি,*
*হরি-পদে হৈলে কি না হয়।।*
*যা ভাবিলে হবে নাই,তাই ভেবে কাট আই,*
*ভাবিলে যে পাও তা না কর।*
*লক্ষকোটি যার ধন,সে কি পায় এক মণ,*
*বুঝি কেনে ধৈরয না ধর।।*
*খাওয়া পরা ভাল চাও,তাই কি ভাবিলে পাও,*
*পূর্ব-জন্মার্জিত সেই পাবে।*
*কার ধন চিরস্থায়ী,না গণ'আপন আই,*
*কত কাল তুমি বা বাঁচিবে।।*
*অজ ভব ভবে যাঁরে,কি মদে পাসর তাঁরে,*
*"হরি" ভুলি জীয় কোন্ কাজে।*
*"হরিনাম"যাতে নাই,সে বদনে পড়ুক ছাই,*
*সে মুখ সে দেখায় কোন্ লাজে।।*
*"হরিনাম"সুধাময়,তাতে তোর রুচি নয়,*
*সংসার-নরক লাগে মিঠা।*
*নর-তনু কেনে তাক,শৃগার কুকুর কাক,*
*সেই ভাল বৃথা কাচ এটা।।*
*দেখিয়া তোমার কাজ,মনে হাসে ধর্মরাজ,*
*জান না ভাঙ্গিবে এনা ঠাট।*
*প্রেমানন্দ কহে যদি,"কৃষ্ণ"কহ নিরবধি,*
*সংসার তরিবে করি বাট।।*
*🌻আর্তি=আসক্তি,নিবৃত্তি=ক্ষান্ত হওয়া,আই=আয়ু,অজ=ব্রহ্মা,কাচ=সাজ,তাক=মিছা ধরেছ,বাট=রাস্তা।*
*🌼ধন জন প্রাপ্তির স্পৃহা (অভিলাষ) ক্রমবর্ধমানরূপে মানুষের অন্তরে অনন্তকাল থেকেই রয়েছে।একশ পেলে হাজার পেতে ইচ্ছে করে, হাজার পেলে লাখ পেতে ইচ্ছে করে। নির্দিষ্ট পরিমাণ পাওয়ার পরে কখনোই তৃপ্তি আসে না।আবার চেষ্টা করলেই আকাঙ্খিত বিত্ত-বৈভব পাওয়া যায় এর কোন নিশ্চয়তা নেই।ধন প্রাপ্তির অবাস্তব আর্তি যদি হরিভক্তি প্রাপ্তির জন্য হত,তাহলে নিশ্চিতরূপে শ্রীহরির পদকমল পাওয়া যেত।মন! তুমি তা ভাল ভাবে জেনেও ধন জনের আর্তি ছাড়তে পারলে না। আরো দেখ যে যত বড়ই লক্ষপতি,কোটিপতি হোক না কেন! দৈহিক ভোগ ক্ষমতা দরিদ্র ব্যক্তিরও যেমন ধনী ব্যক্তিরও তেমনি।ভাল থাকা-খাওয়া-পরিবেশ চাইলেই পাওয়া যাবে না। পূর্ব জন্মার্জিত কর্মফল অনুসারে যতখানি পাবার আছে ঠিক ততখানি পাওয়া যাবে। সুতরাং সৎভাবে পরিশ্রমের দ্বারা যথালব্ধ অর্থে সন্তুষ্ট হয়ে মন তুমি শ্রীকৃষ্ণ ভজনে তৎপর হও।স্বয়ং ব্রহ্মা এবং মহেশ্বর যাঁর আরাধনা করেন আর সেই তুমি শ্রীহরিকে ভুলে থেকো না।যে মুখে হরিনাম উচ্চারণ হয় না সেই মুখ তো যতই সুন্দর হোক সেই মুখ দেখাও উচিৎ নয়,দেখানোও উচিৎ নয়।সুধামাখা হরিনামে যখন তোমার রুচি নেই,সংসার নরকই যখন অতি মধুর বলে মনে হয়, তখন মানবদেহ ধারণ মিথ্যা অভিনয় মাত্র।তোমার শৃগাল কুকুর কাক হওয়া ভাল ছিল।মন! তোমার এহেন অশাস্ত্রীয় প্রবৃত্তি ও কর্ম দেখে যম মহারাজ হাসছেন।তাই বলি মন! যমের হাসির পাত্র না হয়ে তুমি নিরন্তর শ্রীকৃষ্ণনাম কর।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৪৩)💐💐মনো শিক্ষা💐💐*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*এ মন! আমার কথাটি লও।*
*বদন ভরিয়া, "হরি" বল যদি,*
*আবার মানুষ হও।।*
*কেনে বা অসৎ, সতত ভজিছ,*
*তাহে বা কি সুখ আছে।*
*তিলেকে এ সব, কোথায় রহিবে,*
*শমন দেখ না পাছে।।*
*স্বপনে যেমন , সম্পদ পাইলে,*
*হৃদয়ে বাড়য়ে ইচ্ছে।*
*দন্ডেক পলেক,কতেক আমোদ,*
*চেতনে সকলি মিছে।।*
*তেমতি জানিবা, এ ধন এ জন,*
*কতেক দিন বা রবে।*
*হাসিতে খেলিতে,দুই আঁখি মুদিলে,*
*সকলি আন্ধার হবে।।*
*শুন রে অধম, তো বড়ি নিলাজ,*
*কিছু না বাসহ তিক্।*
*দেখ না শমন, হাতেতে দমন,*
*এ তোরে শতেক ধিক্।।*
*এ কলি-যুগেতে, মানুষ জনম,*
*আর কি তোমার ভয়।*
*কহে প্রেমানন্দ, হরি হরি বল,*
*শমন কর না জয়।।*
*🌺কেনে=কেন, দন্ডেক পলেক =দন্ড পলকে, আন্ধার=অন্ধকার, তো বড়ি নিলাজ= তুই বড় নিলজ্জ, তিক = তিত।*
*🌻মন ! যে মনুষ্যদেহ পেয়ে ভোগবিলাসে উন্মত্ত হয়ে আছো, তুমি যদি পুনর্বার সেই মানব জন্ম পেতে চাও তাহলে আমার কথা শোন। তুমি অতি শ্রদ্ধা ভরে হরিনাম কীর্তন কর।ধনে জনে দৈহিক ভোগ বিলাসে প্রকৃত সুখ নেই, পরিতৃপ্তিও নাই।স্বপ্নে যতই সম্পদাদি ভোগ করা হোক না কেন জেগে উঠলেই সুখানুভূতি থাকে না।তদ্রূপ এ দেহ নাশের সঙ্গে সঙ্গে পার্থিব ভোগের অনুভূতি শেষ হয়ে যায়। অতএব অনিত্য ভোগের মোহে আয়ু ক্ষয় করছ।কলিযুগে যখন জন্মগ্রহণ করেছ হরিনাম করে জন্ম সার্থক করো।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৪৪)💐💐মনোশিক্ষা💐💐*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*এ মন!শমনে কর কি ডর।*
*শমন-ভবনে, না হবে গমন,*
*আমি যা বলি তা কর।।,*
*তীরথ-ভ্রমণে, কত পরিশ্রম,*
*দেখ না বিচার করি।*
*কোটি-তীর্থ-স্নান,হবে যদি প্রেমে,*
*বদনে বলহ হরি।।*
*জপ তপ ধ্যান, করিতে নারিছ,*
*তাহাতে স্থির বা কোথা।*
*সৎ-সঙ্গে বসি, "হরি হরি" বল,*
*ঘুচিবে সকল ব্যথা।।*
*ধরম করম, কি করি তাতে,*
*কত না বিপদ আছে।*
*বদন ভরিয়া , "হরি " বল যদি,*
*কি আছে তাহার কাছে।।*
*দানে দেখ সাক্ষী, নৃপ হরিশ্চন্দ্র,*
*কে ও পাইবে আর।*
*আনন্দ হৃদয়ে, "হরি " বল ভাই,*
*তায় না শকতি কার।।*
*"হরি" বল যদি, পুলক শরীরে,*
*নয়নে বহিবে ধারা।*
*কহে প্রেমানন্দ, ভুকতি মুকতি,*
*সরিয়া দাঁড়াবে তারা।।*
*🍀ডর=ভয়,তীরথ=তীর্থ,নারিছ =পারছ না, ধরম করম=ধর্ম কর্ম, ওর = সীমা, শকতি=শক্তি, ভুকতি =সুখ ভোগ, মুকতি=মুক্তি।🍀*
*🌻ওরে পাগল মন! যমরাজকে কি তোমার ভয় করে না? যদি বল সর্বতীর্থ ভ্রমণ ও তীর্থকৃত্য সম্পাদন করে যম যাতনা হতে নিষ্কৃতি পাবে, এ ধারণা তোমার যথার্থ নয়।কারণ কলিতে হরিনাম সাধন বিনা তীর্থাদি ভ্রমণ পরিশ্রম মাত্র।ভক্তিদায়ক নয়। যদি বল কঠোর জপ-তপের দ্বারা যম ভীতি হতে মুক্ত হব তাও অবাস্তব।কর্মব্যস্ত জীবনে নিশ্চন্তে ধীরস্থির হয়ে জপ-তপ যোগাভ্যাস সার্বিকভাবে কারো পক্ষেই সম্ভব ন য় এবং তাতে অনেক বিড়ম্বনাও আছে।আবার অকাতরে দান করে সেই দানের পুণ্যে যমরাজকে জয় করবে, তাও সম্ভব নয়।তার দৃষ্টান্ত রাজা হরিশ্চন্দ্র। তাই বলি সব সাধনার শ্রেষ্ঠ সাধনা হরিনাম বা হরিনাম কীর্তন। মন!তুমি হরিনাম কর তাহলে প্রেমানন্দ উদয় হবে। শরীরে হবে পুলক শিহরণ।নয়নে বইবে আনন্দাশ্রুধারা।*
*🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৪৫. মন! তুমি কেন ভ্রান্ত বুদ্ধি হলে। প্রতি ক্ষণে ক্ষণে তোমার আয়ু ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে এবং মৃত্যু ক্ষণে ক্ষণে তোমার দিকে এগিয়ে আসছে। তবুও আগামী দিন আগত হলে ভোগ বিলাসের মাধ্যমে দিনকে সার্থক করতে উল্লসিত হচ্ছো🙇 মনোশিক্ষা🙏 দ্বিতীয় ভাগ🙏শ্রী প্রেমানন্দ দাস ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/jaydeb_14.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৪৫)💐💐মনোশিক্ষা💐💐*
++++++++++++++++++++++
*ওরে মন!কেন হেন বুঝ বিপরীত।*
*দন্ডে পলে আয়ু-ক্ষয়,তাতে তোর বোধ নয়,*
*আইসে দিন ইথে হরষিত।।*
*দিনে মাসে অব্দে বাঢ়,ঐছে জানিয়াছ দঢ়,*
*ঘাটে কে তা বুঝিতে না পার।*
*নায়ে চড়ি চাহ কূলে,দেখ যেন পৃথিবী চলে,*
*তুমি যে চলিছ তা না হের।।*
*ধন জন আপনার,সে না ভাবিয়ছ সার,*
*সে কি তোর,জান না সে কার।*
*তিলেকে কাড়িয়া লয়,যারে ইচ্ছা তারে দেয়,*
*নহে তুমি মরিলেও তার।।*
*বৃথা অহঙ্কারে মর,বিচারিয়া পূর্বাপর,*
*সাধুজন পথেতে দাঁড়াও।*
*মনুষ্য দুর্লভ জন্ম,কেন কর অপকর্ম,*
*করে রত্ন পাইয়া ফেলাও।।*
*যাবত সামর্থ্য আছে,জরা না আসিছে কাছে,*
*"কৃষ্ণ কৃষ্ণ" কহ অবিরাম।*
*জরায় ভাঙ্গীবে তনু,সর্বেন্দ্রিয় হবে ক্ষীণু,*
*তবে কি স্ফুরিবে কৃষ্ণনাম।।*
*নহে বা কখনো যাই,কিছু নিরূপণ নাই,*
*তিলে এক নাহিক বিশ্বাস।*
*প্রেমানন্দ কহে ভাই,কহ"কৃষ্ণ" ব্যাজ নাই,*
*এ জীবন কেবল নিঃশ্বাস।।*
*🌻হরষিত=আনন্দিত,অব্দে=বৎসরে, বাঢ়=বড় হতে থাক,🌻*
*🌼মন! তুমি কেন ভ্রান্ত বুদ্ধি হলে।প্রতি ক্ষণে ক্ষণে তোমার আয়ু ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে এবং মৃত্যু ক্ষণে ক্ষণে তোমার দিকে এগিয়ে আসছে।তবুও আগামী দিন আগত হলে ভোগ বিলাসের মাধ্যমে দিনকে সার্থক করতে উল্লসিত হচ্ছো।ভ্রান্ত বুদ্ধি বশতঃ তুমি আরো ভাবছ সংসারের সবাই মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু তুমি স্থির হয়েই থাকবে,এইরকম ধারণা কিন্তু ঠিক নয়।দৃষ্টান্ত স্বরূপ বলা যায় চলমান নৌকাতে দাঁড়িয়ে থাকলে দুইকূলের ঘরবাড়ি গাছপালা যেন ছুটে চলেছে মনে হয়, এবং নিজেকে স্থির মনে হয়। কিন্তু তা নয়, চলমান নৌকাতে চেপে থাকা মানুষই চলতে থাকে আর দুকূলের সবই স্থির থাকে তাই মন! তোমার দশাও ঠিক তেমনি। বৃথা অহঙ্কার ত্যাগ করে অপকর্ম করার প্রবণতা থেকে বিরত হয়ে সাধুগণ কর্তৃক আচরিত এবং প্রদর্শিত পথে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে মানবজনম সফল কর।যৌবন বিগত হলে ধর্মানুষ্ঠান করবে এইরকম আশা করিও না।দৈহিক সামর্থ্য না থাকলে ঠিক ভাবে ভজন সাধন হয় না।পৌঢ় বা বার্ধক্য অবস্থা পর্যন্ত তুমি বেঁচে থাকবে এরও কোন নিশ্চয়তা নেই।তাই কালবিলম্ব না করে হরিনাম কৃষ্ণনাম কর।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁৪৬. মনোশিক্ষা🙏 দ্বিতীয় ভাগ🙏শ্রী প্রেমানন্দ দাস꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৪৬)💐💐মনো শিক্ষা 💐💐*
========================
*ওরে মন! এগুলি তোমার অনুচিত।*
*ছাড়িয়া সাধুর পথ,কুপথে হইয়া রত,*
*কেন বিড়ম্বনা কর নিত।।*
*তোমার আশ্রয়ে থাকি,তুমি মোরে দেও ফাঁকি,*
*ইহাতে কি জানিছ চতুর।*
*যে সুখে হয়েছ রত,সে না সুখ দিন কত,*
*শেষে দুঃখ আছয়ে প্রচুর।।*
*অধিকারী ধর্মরাজ,যাহার যেমন কাজ,*
*অপমান সম্মান তেমন।*
*কেহ বা নরকে পচে,কারে ইন্দ্রপদ যাচে,*
*কারে লৌহ-মুদ্গরে তাড়ন।।*
*যাঁর আজ্ঞা শিরে ধরি,সে শমন দন্ডধারী,*
*হেন কৃষ্ণ সম্বন্ধ ছাড়িয়া।*
*প্রেমানন্দ কহে মন,রৈলে জানি কোন্ ক্ষণ,*
*কাল-দূতে ধরিবে পাড়িয়া।।*
*🌻মহাজন বাণীতে আছে =*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*মহাজনের যেই পথ,তাতে হব অনুরত,*
*পূর্বাপর করিয়া বিচার।*
*সাধন স্মরণ লীলা,ইহাতে না কর হেলা,*
*কায় মনে করিয়া সু-সার।।*
☆☆☆ ☆☆☆ ☆☆☆
*দেখিয়া শুনিয়া ভজ,সাধু শাস্ত্র মত কাজ,*
*যুগল চরণ কর রতি।।*
*🌻নিত=রোজ রোজ, বিড়ম্বনা = বঞ্চনা,যাচে=দেয়,দন্ডধারী=শাস্তিদাতা* *কাল-দূতে=যমদূতে।*
*🌻সাধুগণ যে পথ অবলম্বন করে চলেন বা চলেছেন,সেই পথই প্রকৃত সৎপথ। সেই পথে অন্ধ ব্যক্তির মত হাতড়াতে হাতড়াতে হোঁচট খেতে খেতেও যদি চলা যায়, তাহলেও সেই সৎপথ অবলম্বনে একদিন সচ্চিদানন্দময় শ্রীভগবানের শ্রীচরণ সমীপে (কাছে) অবশ্য অবশ্যই উপনীত হওয়া যাবে।এহেন সহজ পথ ত্যাগ করে কুপথে চল মন! তোমার কখনোই উচিৎ নয়। ওরে মন! তোমাকে আশ্রয় করে শ্রীকৃষ্ণ প্রাপ্তির আশা নিয়ে নিশ্চিন্তে আছি, আর তুমি আমাকে এইভাবে প্রতারণা করছ?এতে কিন্তু তোমার চাতুর্য্যের বড়াই মোটেও নেই।মৃত্যু সমাগত হলে তোমার অনিত্য সুখবাসনা নরক যন্ত্রণায় পরিণত হবে।কারণ কর্মানুসারে ফল প্রাপ্তি হয়।একই মানুষ অসৎ কর্মে নরক ভোগ করে, পুণ্য কর্মে স্বর্গ ভোগ করে।স্বয়ং যমরাজ যাঁর আজ্ঞা শিরে বহন করে,তুমি সেই শ্রীকৃষ্ণের সম্বন্ধ ত্যাগ করিও না।এটাই তোমার যথোচিত ধর্ম।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁৪৭.মনোশিক্ষা🙏 দ্বিতীয় ভাগ🙏শ্রী প্রেমানন্দ দাস꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৪৭)💐💐মনো শিক্ষা 💐💐*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*এ মন! তুমি সে ভরসা মোর।*
*তো যদি আমাকে, ডুবাও নরকে,*
*এ কোন্ ধরম তোর।।*
*যা বলি আমার, সকলি তোমার,*
*কে শুনে আমার কথা।*
*এতেক ভেবেছি, তোরে না পারিছি,*
*দাঁতেতে ধরিয়া কুটা।।*
*গেল না এ দিন, তুমি বা ক'দিন,*
*বসিতে আসিছ এথা।*
*এনা পরিজন, পথের মিলন,*
*জান না কে যাবে কোথা।।*
*শমন-ভবন , না হয় গমন,*
*করিতে পারহ তাই।*
*তবে সে ঠাকুর, নহে ত কুকুর,*
*সে যদি বান্ধে রে ভাই।।*
*যদি বল হরি, তবে যমে তরি,*
*ছাড়িয়া অসৎ-কথা।*
*কহে প্রেমানন্দ, না বল "গোবিন্দ",*
*শমনে ভাঙ্গিবে মাথা।।*
*🌻ওরে মন! আমি তোমার উপরে ভরসা করে নিশ্চিন্তে আছি। আর তুমি আমাকে নরকে ডুবিয়ে দিচ্ছ, এই কি তোমার ধর্ম। ভেবেছিলাম ইন্দ্রিয়গণ আমারই বটে, কিন্তু এখন দেখছি,সব তোমার অধীন। তোমার কথা মত চলে। আমার কথা কেউ শোনে না।আর আমি দৈন্যের সঙ্গে দন্তে তৃণ ধরে অনুনয় করলেও তুমি মোটেও কর্ণপাত করছ না।কিন্তু কয় দিনই বা এইভাবে স্বেচ্ছাচারী হয়ে থাকবে।যে কর্ম করলে যম যাতনা হতে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়,যে কর্ম করলে শ্রীকৃষ্ণ চরণ অনায়াসে পাওয়া যায়, সেই কর্ম যদি না কর ; তাহলে যথার্থ মানুষের মর্য্যাদা পাবে না। কুকুর শিয়ালাদি পশুরূপে পরিগণিত হবে।অসৎকথা,অসৎসঙ্গ পরিত্যাগ করে হরিনাম, গোবিন্দনাম আশ্রয় কর।নইলে শমন তোমাকে রেহাই দিবে না।🍀দাঁতেত••••কুটা=খুব মিনতি করে।বসিতে=বাস করতে। পরিজন=পরিবারবর্গ।*
🙏🙏🙏🙏জয় নিতাই গৌর হরিবল🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁৪৮.মনোশিক্ষা🙏 দ্বিতীয় ভাগ🙏শ্রী প্রেমানন্দ দাস꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৪৮)💚মনোশিক্ষা💚*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*এ মন! এবে সে জানিনু তোমা।*
*রিপুর সহিতে, মিশিয়া ঘুষিয়া,*
*বিপাকে ঠেকালি আমা।।*
*কে তোর আপন,পর কে তোমার,*
*বিচার করিতে নার।*
*আপন--ইচ্ছায় , নরকে যাইতে,*
*আপনি সে পথ কর।।*
*দু'কর জুড়িয়া , কামের চাকর,*
*ক্রোধকে ধরেছ বুকে।*
*লোভের পিছুতে, সদাই ঘুরিছ,*
*মোহেতে মাতিছ সুখে।।*
*কে সৎ অসৎ,কিছু না জানিলি,*
*মদের সহিত দোল।*
*আপনা আপনি, কত না গরিমা,*
*দম্ভকে ধরিয়া কোল।।*
*এ ধন এ জন, আপনা জানিছ,*
*ভাবিছ এমতি যাবে।*
*জান না শমন, চর পাঠাইয়া,*
*বান্ধিয়া লয় বা কবে।।*
*বদন ভরিয়া, "হরি হরি" বল,*
*কি সুখে রয়েছ ভুলি।*
*কহে প্রেমানন্দ, শমন তরিবে,*
*হাতেতে বাজিয়ে তালি।।*
*💚মন! তুমি রিপুগণের প্রলোভনে পড়ে আমাকে ভগবদ্ মুখী করা দূরে থাকুক, আমাকে আরও বিপাকে ঠেলে দিচ্ছ।এতদিনে তা সম্যক উপলব্ধি করলাম।💚মন! তোমার প্রকৃত হিতকারী কে? তা তুমি বুঝতে না পেরে নিজের ইচ্ছাতেই যন্ত্রণাময় নরকের দিকে এগিয়ে চলেছ! কামনার ক্রীতদাস হয়ে ভক্তি ধ্বংসকারী ক্রোধকে বুকে ধরে মায়ায় আত্ম-স্বরূপজ্ঞান বিস্মৃত হয়ে লোভের পেছনে অন্ধের মত ছুটে চলেছ। ওরে অবুঝ মন!প্রকৃত কে সৎ কে অসৎ বুঝতে পারছ না। দৈহিক শক্তি সামর্থ্য ও ধনমদে উন্মত্ত হয়ে অহঙ্কারকে আলিঙ্গন করছ। তোমার এই অনিত্য অহঙ্কারের কোন মূল্য নাই। জীবনের সমস্ত দর্প চূর্ণ করতে যমালয় হতে দূত এগিয়ে আসছে।দেহ ইন্দ্রিয়ের সুখ প্রাপ্তির ভ্রান্ত বাসনা ত্যাগ করে মুখে সর্বদা "হরি হরি বল"।*
*🙌🙌🙌🙌জয় নিতাই গৌর হরিবল🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁৪৯.মনোশিক্ষা🙏 দ্বিতীয় ভাগ🙏শ্রী প্রেমানন্দ দাস꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৪৯)💚💚মনোশিক্ষা💚💚*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*ওরে মন!অহঙ্কারে না জান আপনা।*
*কাচিয়াছ কিবা কাচ,নাচ এবে কোন নাচ,*
*তিলেক না কর বিবেচনা।।*
*ভুলিয়া কমল-অক্ষ,ভ্রমহ চৌরাশি লক্ষ,*
*নানা ক্লেশ ভুঞ্জ বারেবার।*
*পাইয়া মানুষ দেহ,ভজ"কৃষ্ণ কৃষ্ণ" কহ,*
*অসতাই না করিহ আর।।*
*দেহের ইন্দ্রিয় দশ,সকলি তোমার বশ,*
*সবে কর্ম করয়ে তোমার।*
*তোর পিছে লড়ালড়ি,মোর গলে দিয়া দড়ি,*
*লৈয়া যায় যথা ইচ্ছা যার।।*
*অতএ কহিয়ে ভাই,যে কর সে আমি দায়ী,*
*তে লাগি মিনতি করি পায়।*
*জানি কৃষ্ণ-নিত্যদাস,কাট মায়া কর্মফাঁস,*
*প্রেমানন্দ তবে সে জুড়ায়।।*
*🍀কমল-অক্ষ=পদ্মপলাশ লোচন শ্রীকৃষ্ণ।ভুঞ্জ=ভোগ কর।অসতাই= দুষ্কর্ম।অতএ=অতএব। কাচিয়াছ= সাজিয়াছ। কাচ= সাজ।*
*🌻মন! তুমি ধন-জন-বিত্ত-দেহের অহঙ্কারে নিজে নিজেকে চিনতে পারছ না।মানুষ যেমন অভিনয়ের ক্ষেত্রে রাজা-উজির প্রভৃতি অনেক কিছু সেজে রাজ ঐশ্বর্য্য ভোগের অভিনয় করে,তেমনি তুমি আত্মপরিচয়কে ভুলে গিয়ে ভোক্তার অভিনয়ে মেতে উঠেছ।এর পরিণাম কি জান? চৌরাশি লক্ষ যোনি ভ্রমণ, আবার সেই হাজার হাজার বার গরু,ছাগল,ভেড়া,কীট,পতঙ্গ প্রভৃতি হয়ে ঘুরে বেড়াতে হবে, কি যে কষ্ট তা নিশ্চয়ই অনুভব কর। তুমি ইন্দ্রিয়ের বশ হইও না। আমি তোমায় মিনতি করে বলছি, তুমি শ্রীকৃষ্ণের নিত্যদাস। তোমার এই আত্মপরিচয় সম্যকভাবে জানবার চেষ্টা কর।তাহলে অনায়াসে তোমার কর্মফাঁস ছিন্ন হবে।*
💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁৫০.মনোশিক্ষা🙏 দ্বিতীয় ভাগ🙏শ্রী প্রেমানন্দ দাস꧂
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৫০)💚💚মনোশিক্ষা💚💚*
####################
*ওরে মন! নিবেদন শুনহ আমার।*
*জন্মিলে মরণ আছে,কাল-দূত আছে পিছে,*
*ভুঞ্জাইবে কম-অনুসার।।*
*যাবত আছয়ে আই,"কৃষ্ণ কৃষ্ণ" কহ ভাই,*
*কহি 'কৃষ্ণ সার' আপনাকে।*
*'কৃষ্ণনাম' যে বদনে,সে জিতিল ত্রিভুবনে,*
*কি ভয় শমনে আছে তাকে।।*
*যদি চিন্ত নিজ-হিত,সাধু-সঙ্গে কর প্রীত,*
*অসৎ-সঙ্গ না করিহ ক্ষণে।*
*কুকুর-ভবনে গেলে,অস্থি-চর্ম খুব মিলে,*
*গজ-দন্ত-মুক্তা সিংহ-স্থানে।।*
*কৃষ্ণ-নাম লীলা-গুণ,শ্রবণ-কীর্তন মন,*
*অশ্রু কম্প পুলক আনন্দে।*
*সাধু-সঙ্গে সদা বসি,বিলসহ দিবিনিশি,*
*তবে বাঞ্জা পূরে প্রেমানন্দে।।*
*🌹জন্মগ্রহণ করলে মৃত্যু তার অবশ্যম্ভাবী, পৃথিবীতে সব থেকে বড় সত্য একটি,তুমি বিশ্বাস কর আর না কর মর্ত্যলোক মানেই মৃত্যুলোক।মৃত্যুর পথ ধরে যমরাজ জীবের কর্মফল ভোগ করাবার জন্য নিয়ে যাবেই। যাদের কর্মফল কু থাকে না,যম তাদের নিয়ে যেতে পারে না।জীবের সর্বপ্রকার কর্মফল নাশ হয় একমাত্র হরিনামের দ্বারা।তাই হে মন! আমার বিশেষ নিবেদন শোন, যতক্ষণ তোমার পরমায়ু রয়েছে,তুমি কৃষ্ণনাম ভজনা কর।নিজের যাতে ভাল হয়,যাতে হিত হয় তার জন্য সর্বদা চিন্তা কর।আমি বলি শোন মন!সাধুসঙ্গ দ্বারা মানুষের প্রকৃত হিত হয়।আর অসৎসঙ্গ যতই মধুর এবং লোভনীয় হোক না কেন তার দ্বারা মানব আত্মার হয় চরম অধোগতি।অসাধুগণ শিয়াল,কুকুরের মত।তাদের কাছে গেলে কুৎসিত গন্ধে ভরা অস্থি-চর্ম মাত্র মিলে।সাধুগণ হলেন পশুরাজ সিংহের মতন।তাঁদের সান্নিধ্যে গেলে বহুমূল্য গজদন্ত(হাতির দাঁত)এবং গজমুক্তা (হাতির মগজে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট মোতি বিশেষ ) হ্যাঁ মোতি বিশেষ পাওয়া যায়।ঐ সব বহুমূল্য পেলে অনায়াসে মহাধনী হওয়া যায়।শুধু তাই নয় সিংহের সঙ্গে মিত্রতা হলে যেমন অন্যান্য হিংস্রপশু কর্তৃক আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা একেবারে থাকে না, তেমনি সাধুসঙ্গ লাভ করলে কাম,ক্রোধাদিরূপ হিংস্র পশুগণ সাধককে আক্রমণ করতে পারে না।তাই বলি মন!দিবানিশি সাধুগণের সঙ্গে থেকে শ্রীকৃষ্ণের নাম-রূপ-গুণ-লীলা শ্রবণ ও কীর্তন কর।তোমার সুখপ্রাপ্তির বাঞ্জা অনায়াসে পূরণ হবে।*
*🙌🙌🙌🙌হরি হরি হরিবল🙌🙌🙌🙌*