শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীশ্রীগদাধরপণ্ডিতাষ্টকম্ ✍️ শ্রীলস্বরূপগোস্বামি-বিরচিতং 🌼 সংগৃহীত 📺 Youtube 🎶 শ্রীমতী কুঞ্জশ্রী দাশগুপ্ত 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/gadadhar.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                 ꧁ শ্রীশ্রীগদাধরপণ্ডিতাষ্টকম্ ꧂
               ꧁ শ্রীলস্বরূপগোস্বামি-বিরচিতং ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
              ꧁ স্তত্রম- বন্দনা- গীত- আরতি ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏শ্রীশ্রীগদাধরপণ্ডিতাষ্টকম্🙏🙏🙏
স্বভক্তিযোগ-লাসিনং সদা ব্রজে বিহারিণং
হরি-প্রিয়া-গণাগ্রগং শচীসুত-প্রিয়েশ্বরম্ ।
সরাধ-কৃষ্ণ-সেবন-প্রকাশকং মহাশয়ং
ভজাম্যহং গদাধরং সুপণ্ডিতং গুরুং প্রভুম্ ॥১॥
নবোজ্জ্বলাদি-ভাবনা-বিধান-কর্ম্ম-পারগং
বিচিত্রগৌরভক্তিসিন্ধু-রঙ্গভঙ্গ-লাসিনম্ ।
সুরাগ-মার্গ-দর্শকং ব্ৰজাদি-বাস-দায়কং
ভজাম্যহং গদাধরং সুপণ্ডিতং গুরুং প্রভুম্ ॥ ২॥
শচীশুতাঙ্ঘ্রি-সার-ভক্তবৃন্দ-বন্দ্য-গৌরবং
গৌরভাব-চিত্তপদ্ম-মধ্যে কৃষ্ণ-সুবল্লভম্ ।
মুকুন্দ-গৌররূপিণং স্বভাব-ধৰ্ম্মদায়কং
ভজাম্যহং গদাধরং সুপণ্ডিতং গুরুং প্রভুম্ ॥ ৩ ॥
নিকুঞ্জ-সেবনাদিক-প্রকাশনৈব-কারণং
সদা সখীরতি-প্রদং মহারস-স্বরূপকম্ ।
সদাশ্রিতাঙ্ঘ্রি -পুণ্ডরীকদং সদা গুরুং বরং
ভজাম্যহং গদাধরং সুপণ্ডিতং গুরুং প্রভুম্ ॥ ৪
মহাপ্রভোর্মহারসপ্রকাশনাঙ্কুরং প্রিয়ং 
সদা মহারসাঙ্কুর-প্রকাশনাদি-বাসনম্ ।
মহাপ্রভোর্ব্র জাঙ্গনাদি-ভাব-মোদ-কারকং
ভজাম্যহং গদাধরং সুপণ্ডিতং গুরুং প্রভুম্ ॥ ৫॥
দ্বিজেন্দ্র-বৃন্দ-বন্দ্য-পাদযুগ্ম-ভক্তিবৰ্দ্ধকং
নিজেষু রাধিকাত্মতা-বপুঃ-প্রকাশনাগ্রহম্।
অশেষ-ভক্তিশাস্ত্র-শিক্ষয়োজ্জ্বলামৃতপ্রদং
ভজাম্যহং গদাধরং সুপণ্ডিতং গুরুং প্রভুম্ ॥৬॥
মুদা নিজপ্রিয়াদিক-স্বপাদপদ্ম-সীধুভি-
মহারসার্ণবামৃত-প্রদেষ্ট-গৌর-ভক্তিদম্ ।
সদাষ্ট-সাত্ত্বিকান্বিতং নিজেষ্ট-ভক্তিদায়কং
ভজাম্যহং গদাধরং সুপণ্ডিতং গুরুং প্রভুম্ ॥ ৭ ॥
মদীয়-রীতিরাগ-রঙ্গভঙ্গ-দিগ্ধ-মানসো
নরোহপি যাতি তূর্ণমেব নাৰ্য্যভাব-ভাজনম্ ।
তমুজ্জ্বলাক্ত-চিত্তমেতু চিত্ত-মত্তষটপদো
ভজাম্যহং গদাধরং সুপণ্ডিতং গুরুং প্রভুম্ ॥ ৮ ৷৷
মহারসামৃতপ্রদং সদা গদাধরাষ্টকং
পঠেত্তু, যঃ সুভক্তিতো ব্রজাঙ্গনাগণোৎসবম্ ।
শচীতনূজ-পাদপদ্ম-ভক্তিরত্ন-যোগ্যতাং
লভেত রাধিকা-গদাধরাঙ্ঘ্রি -পদ্ম-সেবয়া ॥ ৯ ৷৷
🙏🙏🙏 ইতি শ্রীলস্বরূপগোস্বামি-বিরচিতং 🙏🙏🙏
🙏🙏🙏শ্রী শ্রীগদাধর পণ্ডিতাষ্টকং সমাপ্তম্ 🙏🙏🙏
🙏 সংগৃহীত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

শ্রীশ্রীগদাধরপণ্ডিতাষ্টকম্ ✍️ শ্রীলস্বরূপগোস্বামি-বিরচিতং 🌼 সংগৃহীত 📺 Youtube 🎶 শ্রীমতী কুঞ্জশ্রী দাশগুপ্ত 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/gadadhar.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                 ꧁ শ্রীশ্রীগদাধরপণ্ডিতাষ্টকম্ ꧂
               ꧁ শ্রীলস্বরূপগোস্বামি-বিরচিতং ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
              ꧁ স্তত্রম- বন্দনা- গীত- আরতি ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏শ্রীশ্রীগদাধরপণ্ডিতাষ্টকম্🙏🙏🙏
স্বভক্তিযোগ-লাসিনং সদা ব্রজে বিহারিণং
হরি-প্রিয়া-গণাগ্রগং শচীসুত-প্রিয়েশ্বরম্ ।
সরাধ-কৃষ্ণ-সেবন-প্রকাশকং মহাশয়ং
ভজাম্যহং গদাধরং সুপণ্ডিতং গুরুং প্রভুম্ ॥১॥
নবোজ্জ্বলাদি-ভাবনা-বিধান-কর্ম্ম-পারগং
বিচিত্রগৌরভক্তিসিন্ধু-রঙ্গভঙ্গ-লাসিনম্ ।
সুরাগ-মার্গ-দর্শকং ব্ৰজাদি-বাস-দায়কং
ভজাম্যহং গদাধরং সুপণ্ডিতং গুরুং প্রভুম্ ॥ ২॥
শচীশুতাঙ্ঘ্রি-সার-ভক্তবৃন্দ-বন্দ্য-গৌরবং
গৌরভাব-চিত্তপদ্ম-মধ্যে কৃষ্ণ-সুবল্লভম্ ।
মুকুন্দ-গৌররূপিণং স্বভাব-ধৰ্ম্মদায়কং
ভজাম্যহং গদাধরং সুপণ্ডিতং গুরুং প্রভুম্ ॥ ৩ ॥
নিকুঞ্জ-সেবনাদিক-প্রকাশনৈব-কারণং
সদা সখীরতি-প্রদং মহারস-স্বরূপকম্ ।
সদাশ্রিতাঙ্ঘ্রি -পুণ্ডরীকদং সদা গুরুং বরং
ভজাম্যহং গদাধরং সুপণ্ডিতং গুরুং প্রভুম্ ॥ ৪
মহাপ্রভোর্মহারসপ্রকাশনাঙ্কুরং প্রিয়ং 
সদা মহারসাঙ্কুর-প্রকাশনাদি-বাসনম্ ।
মহাপ্রভোর্ব্র জাঙ্গনাদি-ভাব-মোদ-কারকং
ভজাম্যহং গদাধরং সুপণ্ডিতং গুরুং প্রভুম্ ॥ ৫॥
দ্বিজেন্দ্র-বৃন্দ-বন্দ্য-পাদযুগ্ম-ভক্তিবৰ্দ্ধকং
নিজেষু রাধিকাত্মতা-বপুঃ-প্রকাশনাগ্রহম্।
অশেষ-ভক্তিশাস্ত্র-শিক্ষয়োজ্জ্বলামৃতপ্রদং
ভজাম্যহং গদাধরং সুপণ্ডিতং গুরুং প্রভুম্ ॥৬॥
মুদা নিজপ্রিয়াদিক-স্বপাদপদ্ম-সীধুভি-
মহারসার্ণবামৃত-প্রদেষ্ট-গৌর-ভক্তিদম্ ।
সদাষ্ট-সাত্ত্বিকান্বিতং নিজেষ্ট-ভক্তিদায়কং
ভজাম্যহং গদাধরং সুপণ্ডিতং গুরুং প্রভুম্ ॥ ৭ ॥
মদীয়-রীতিরাগ-রঙ্গভঙ্গ-দিগ্ধ-মানসো
নরোহপি যাতি তূর্ণমেব নাৰ্য্যভাব-ভাজনম্ ।
তমুজ্জ্বলাক্ত-চিত্তমেতু চিত্ত-মত্তষটপদো
ভজাম্যহং গদাধরং সুপণ্ডিতং গুরুং প্রভুম্ ॥ ৮ ৷৷
মহারসামৃতপ্রদং সদা গদাধরাষ্টকং
পঠেত্তু, যঃ সুভক্তিতো ব্রজাঙ্গনাগণোৎসবম্ ।
শচীতনূজ-পাদপদ্ম-ভক্তিরত্ন-যোগ্যতাং
লভেত রাধিকা-গদাধরাঙ্ঘ্রি -পদ্ম-সেবয়া ॥ ৯ ৷৷
🙏🙏🙏 ইতি শ্রীলস্বরূপগোস্বামি-বিরচিতং 🙏🙏🙏
🙏🙏🙏শ্রী শ্রীগদাধর পণ্ডিতাষ্টকং সমাপ্তম্ 🙏🙏🙏
🙏 সংগৃহীত 🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

রাধারাণির সেবাশক্তি 🥀 শ্রীল্ গদাধর পণ্ডিতের 🥀 আবির্ভাব তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/godadhar.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
       ꧁ শ্রীল্ গদাধর পণ্ডিতের আবির্ভাব তিথি꧂
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ DeepBagui.blogspot.com 🙏 সূচীপত্র ꧂
           ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই ꧂
      এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
#বৈশাখী_অমাবস্যা

#রাধারাণির_সেবাশক্তি_শ্রীলগদাধর_পণ্ডিতের_আবির্ভাব_তিথি 

 *পিতা #শ্রীমাধব_মিশ্র ও মাতা #শ্রীমতী_রত্নাবতীদেবীর* কোল আলো করে গদাধর পণ্ডিত আবির্ভূত হলেন আনুমানিক বাংলা ৮৯৪ সনে বৈশাখী অমাবস্যা তিথিতে। এই মাধবমিশ্রের দুই পুত্ররত্ন ছিল বাণীনাথ এবং গদাধর।
কেউ বলেন নবদ্বীপের চাঁপাহাটিতে তার জন্ম, আবার কেউ বলেন তার জন্মস্থান ছিল শ্রীহট্টে।
বাল্যকাল থেকেই গদাধরের সহজাত গৌর অনুরাগ পরিলক্ষিত হয়।
নবদ্বীপের টোলেই গদাধর বিদ্যা অধ্যয়ন করেছিলেন। মহাপ্রভু ফাঁকি জিজ্ঞাসা করতেন। বলতো গদাধর মুক্তির লক্ষণ কি? শাস্ত্র অনুসারে গদাধর উত্তর দিলে মহাপ্রভু বললেন - না, এ হল না।মুক্তির লক্ষণ হল- *#অন্যথা_রূপং_হিত্বা_স্বরূপেন_ব্যবস্থিতি"* 
প্রাকৃত ভাবনা (জড় দেহকে আমি মনে করে তার প্রতি আসক্ত হওয়া) ত্যাগ করে নিজের স্বরূপে (জীব নিত্য কৃষ্ণদাস) স্থিত হওয়াকেই মুক্তি বলা হয়। আজ ঘরে যাও আগামীকাল আবার জিজ্ঞাসা করব। বলে উভয় নিজ নিজ গৃহে গমন করতেন। যে কোন উপায়ে গদাধরের সঙ্গে দুটি কথা বলতে এবং তার সঙ্গে একটু রঙ্গ করতে মহাপ্রভু খুবই আনন্দ পেতেন।

মহাপ্রভু গয়া থেকে ফিরে আসলে, বিষ্ণুপাদপদ্মের কথা বলার সময় গদাধর ডুকরে ডুকরে কাঁদতে লাগলেন। তখন মহাপ্রভু বলেছিলেন - গদাধর! তোমার জীবন সার্থক। তুমি ছোটবেলা থেকে কৃষ্ণ ভজন করছ। আমার এতটা সময় বৃথায় নষ্ট হয়ে গেল।
কৃষ্ণপ্রেমে মহাপ্রভু অধির হয়ে হা কৃষ্ণ! হা কৃষ্ণ! বলে অঝোর নয়নে ঝুরেন।গদাধরকে দেখলে একটু প্রাণে শান্তি পান। শচীমা বলতেন- গদাধর! তুমি আমার নিমাইয়ের কাছে সবসময় থেকো বাবা! তোমার হাতে আমার নিমাইকে সমর্পণ করলাম।
ছায়ার মত অনুগত হয়ে গদাধর প্রায় সব সময় গৌরের কাছে কাছেই থাকতেন।
গদাধর কে কাছে পেয়ে প্রভুর বিরহব্যথা একটু প্রশমিত হত।

 একদিন মুকুন্দ গদাধর কে বললেন "নবদ্বীপে এক মহাবৈষ্ণব এসেছেন। যাবে বৈষ্ণব দেখতে? শুনে গদাধর অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে বললেন- চল।
গদাধরকে নিয়ে মুকুন্দ বিদ্যানিধির বাড়িতে উপস্থিত হলে গদাধর প্রনাম করলেন। বিষয়ীর মতো সমস্ত ব্যবহার দেখে আজন্ম বিরক্ত গদাধরের মনে একটু অশ্রদ্ধা  ভাব আসলো। কিন্তু একটু পরেই মুকুন্দের মুখে ভাগবতের শ্লোক শুনে বিদ্যানিধির মহাপ্রেম-বিকার দর্শনে গদাধর অত্যন্ত বিস্মিত হলেন, মনে বড় চিন্তা হল, এইরকম প্রেমিক পুরুষকে দেখে আমি অবজ্ঞা করলাম! কি অশুভ মূহূর্তে আমি সাধু দর্শনে আসলাম! মুকুন্দকে জড়িয়ে ধরে বলছেন আমার বন্ধুর মত কার্য করলে।
এহেন ভক্তিমান প্রেমনিধি আমাকে দর্শন করালে।কিন্তু আমার অপরাধ হয়ে গেল। আমি মনে মনে দুর্ভাবনা করেছি। তাই উনার কাছে মন্ত্র নেব।শিষ্য হলে আমার সকল অপরাধ ক্ষমা করবেন। মুকুন্দ বললেন -"খুব ভালো কথা"!
  বিদ্যানিধির বাহ্য হলে সব কথা বললেন -"আপনার বিষয় ব্যবহার দেখে গদাধরের মনে একটু অভাব এসেছিল, তাই আপনার কাছে দীক্ষা নিতে চায়।শুনে বিদ্যানিধি আহ্লাদিত হলেন ও বললেন বিধাতা আমাকে মহারত্ন মিলালেন। অনেক জন্মের ভাগ্যে এমন শিষ্য পাওয়া যায়।
মুকুন্দের সঙ্গে গদাধর ঘরে ফিরে আসলেন ও মহাপ্রভু কে সব কথা জানালেন।

গদাধর মহাপ্রভুর কাছে আজ্ঞা চাইলেন। মহাপ্রভুর অনুমতিক্রমে
যথাসময়ে মন্ত্রদীক্ষা হয়ে গেল।

মহাপ্রভু সন্ন্যাস গ্রহণ করলে বিরহে ব্যাকুল হয়ে গদাধরও নীলাচলে গমন করলেন। মহাপ্রভু রাধাভাবে কৃষ্ণমাধুরী আস্বানের জন্য সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন। রাধারাণির সেবাশক্তি গদাধরকে  টোটাগোপীনাথের সেবা দিয়ে মহাপ্রভু নিজের কাছেই তাঁর প্রাণপ্রিয় গদাধরকে রেখেছিলেন।
সারাজীবন প্রাণ ঢেলে গদাধর গোপীনাথের সেবা করেছিলেন, কিন্তু নিষ্ঠা ছিল গৌর চরণে।
একবার শ্রীমন্নিত্যানন্দ প্রভু গৌড়দেশ হতে অতি সুক্ষ্ম এক মাণ (একমান চাল- ছয় সেরের কিঞ্চিৎ অধিক) চাল ও একটি রঙিন শাড়ি এনে গদাধরকে দিলেন, গোপীনাথের সেবার জন্য।গদাধর শাড়িখানা গোপীনাথকে পরালেন, অদ্ভুত শোভা হল। বাগান থেকে শাক তুলে রন্ধন করলেন আর তেতুল পাতা বেটে লবন দিয়ে ব্যঞ্জন তৈরি করলেন। নিতাই আনীত চালের অন্ন ভোগ লাগালেন গোপীনাথের। এত সুন্দর পরিপাটি করে ভোগ লাগালেন! কিন্তু মহাপ্রভুকে নিমন্ত্রন করলেন না গদাধর। এখানে মনে হতে পারে গদাধর মহাপ্রভুকে না দিয়ে নিজেই উপভোগ করতে চাইছেন নিত্যানন্দের প্রীতি উপহার? কিন্তু না, তেমনটি নয়। হতেই পারে না। প্রাণ প্রিয়তম বন্ধুকে না দিয়ে নিজে উপভোগ করা যায়? তাহলে তো স্বার্থপর হয়ে যাবে! কিন্তু আমার গদাধর তো স্বার্থপর নয়। কোটিপ্রাণ নির্মঞ্ছনীয় বন্ধু , যার জন্য ক্ষেত্রসন্ন্যাস ত্যাগ করতে, এমনকি নরকে যেতেও প্রস্তুত! সেই প্রাণপ্রিয় আরাধ্যদেবতা কে না দিয়ে নিজেই ভোগ করবেন? গদাধরের মনের ইচ্ছা, সবার সামনে নিমন্ত্রণ করলে সপরিকরে মহাপ্রভু আসবেন। সকলের সামনে একান্ত প্রেমের গাঢ়তা স্ফূর্ত হবে না। তার হৃদয়ের অধীশ্বর কে একান্তে না পেলে সেবা করে সুখ হবে না। তাই তিনি প্রাণে প্রাণে ডাকতে লাগলেন। এই ঐকান্তিকতা যখন চরম সীমায় পৌঁছাল তখন মহাপ্রভুর প্রাণের সাড়া জাগালো। মহাপ্রভু কে বিবশ করে টেনে আনলো গদাধরের প্রাণঢালা ভালোবাসা। মহাপ্রভু আর স্থির থাকতে পারলেন না গদাধরের প্রেমাকর্ষণের টানে। প্রেমাধীন গৌরচন্দ্র এসে উপনীত হলেন গদাধরের টোটাগোপীনাথের অঙ্গনে।
গদাধরের প্রেমের টানে ও নিতাই আনীত তণ্ডুলের আকর্ষণে মহাপ্রভু এসে ডাকতে লাগলেন। 
গদাধর! ও গদাধর!!
 বলে ডাকছেন গৌরহরি। প্রাণ প্রিয়তম দ্বারে দাঁড়িয়ে ডাকছেন, শুনে ছুটে আসলেন গদাধর , হাতে ধরে নিয়ে ভেতরে বসালেন। আজ তার অভিলাষ পূর্ণ হলো প্রাণের ডাক শুনেছেন তিনি ।আজ যে কি আনন্দ তা ভাষায় ব্যক্ত করা সম্ভব নয়। মহাপ্রভু প্রণয়ভরে বলছেন গদাধর! একি তোমার ব্যবহার? নিতাই আনীত তণ্ডুল আর গোপীনাথের প্রসাদ এতে কি আমার ভাগ নেই? তুমি একবার আমাকে নিমন্ত্রনও করলে না! মহাপ্রভু চাইছেন গদাধরের প্রেম তার মুখ দিয়েই প্রকাশ করা। কিন্তু গদাধর হৃদয়ের প্রেম প্রকাশ করলেন না, প্রেম প্রকাশিত হলেই তার মূল্য কমে যায়। হৃদয়ের প্রেম হৃদয়ে অনুভূত হয়। তাই গদাধর হাতে ধরে নিয়ে বসালেন আসনে। গৌরগদাধরের প্রেমরঙ্গ দেখে নিতাই মনে মনে অনুভব করছেন আর আনন্দ সাগরে ভেসে যাচ্ছেন। গদাধর গোপীনাথের পুরো পারশটা এনে মহাপ্রভুর সামনে ধরে দিলেন। মহাপ্রভু বলছেন - গদাধর! প্রসাদ তিন জায়গায় পরিবেশন করো আমরা তিনজন একসঙ্গেই প্রসাদ পাবো। মহানন্দে একসঙ্গে নিতাই-গৌরাঙ্গ-গদাইয়ের অপরূপ ভোজন-বিলাস নানা হাস-পরিহাস রসের মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ হল। প্রসাদের সুঘ্রাণে সারা টোটা (বাগান)আমোদিত হয়ে উঠল।ভক্তবৃন্দ খুঁজতে খুঁজতে এসে উপস্থিত হলেন। মহাপ্রভুর ভোজন অন্তে সকলে অধরামৃত লুণ্ঠন করলেন।
গদাধর তাম্বুল অর্পণ করলেন। তিনজনে নির্জনে বসে কতই প্রেমালাপ আর কতই আনন্দের ঢেউ উঠতে লাগলো। মরমী জন অনুভব করলেন।

নিতাই অনঙ্গমঞ্জরী-  গদাধর রাই-কিশোরী।

গদাধর ক্ষেত্র-সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন, অর্থাৎ নীলাচলের বাইরে কখনো যাবেন না।
কিন্তু গৌরপ্রীতির এমন আকর্ষণ মহাপ্রভু যখন বৃন্দাবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন, তখন উনি থাকতে পারেন নাই। মহাপ্রভুর নিষেধ সত্ত্বেও কটক পর্যন্ত গিয়েছিলেন।
 *"ক্ষেত্র সন্ন্যাস না ছাড়িহ প্রভু  নিষেধিলা।।*

*পন্ডিত কহে যাঁহা তুমি সেই নীলাচল*।
 *ক্ষেত্র-সন্ন্যাস মোর যাউক রসাতল।।*

 *প্রভু কহে ইঁহা করো গোপীনাথ সেবন।*
*পন্ডিত কহে কোটি সেবা তৎপদ দর্শন।।*

মহাপ্রভু যখন কিছুতেই ফেরাতে পারলেন না।তখন কঠোরতা প্রকাশ করে বললেন - *"গদাধর! তুমি অতি স্বার্থপর! নিজের সুখ ছাড়া তুমি আর কিছুই জান না।এ তোমার সংকীর্ণ মনের পরিচয়।তুমি নিজের সুখ চাও? না আমার সুখ চাও? যদি সত্যিই আমাকে সুখী করতে চাও তাহলে আমার সঙ্গ ত্যাগ করে এখনই নীলাচলে ফিরে যাও। গোপীনাথের সেবায় নিজেকে সমর্পণ কর।"*
সব ছাড়ি আজ্ঞা বলবান। এতক্ষণ ছিল সখ্যতা, কিন্তু এখন হল আদেশ। সুতরাং গদাধরের আর কিছুই করার থাকল না। বিরহে মূর্চ্ছিত হয়ে পড়লেন। সার্বভৌমের উপর ভার ন্যস্ত করে মহাপ্রভু অগ্রসর হলেন গৌড়মন্ডলের দিকে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে গদাধরের গৌরপ্রীতির গভীরতা উপলব্ধি করা যায়।

একজন পুরুষ দেহধারী মানুষ সারাটি জীবন নারীভাবে মহাপ্রভুকে সেবা করে গিয়েছেন। কত ত্যাগ, কত ধৈর্য, ও কত সেবাপরায়ণ হলে যে তি সম্ভব,  চিন্তা করলে বিস্মিত হতে হয়।

তার আরেকটি বৈশিষ্ট্য ছিল শ্রীভাগবত পাঠ। তাঁর মুখে ভাগবত শ্রবণ না করলে মহাপ্রভুর প্রাণে শান্তি হতো না। সেজন্য তিনি প্রত্যহ মহাপ্রভুকে ভাগবত পাঠ করে শোনাতেন। গদাধরের হাতে লেখা ভাগবতে মহাপ্রভু নিচে কিছু পাদটীকা লিখে দিয়েছিলেন। মহাপ্রভুর ও
 গদাধরের চোখের জলে ভাগবত ভিজে যেত, শেষে ভাগবত পাঠ করাও দুষ্কর হয়ে গিয়েছিল।

মহাপ্রভুর সঙ্গোপনের অনধিক এক বছরের মধ্যে বিরহ জ্বালা সইতে না পেরে (ইংরেজি ১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দে ) প্রায় ৪৭ বছর বয়সে অপ্রকট লীলায় প্রবিষ্ট হন।

তাও কদাচিৎ শ্রীনিবাসাচার্য প্রভুকে দর্শন দানের জন্যই কিছুকাল প্রাণ ধারণ করে ছিলেন।

তাঁর বিরহে প্রাণ কি বাঁচে এতক্ষণ।
 প্রতীক্ষা সে মাত্র শ্রীনিবাস আগমন।।

 গদাধরের কোন দেহ সমাধি নেই।কোথায় কিভাবে লীন হয়ে গিয়েছেন তারও কোন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না। হয়তো বা তিনি নিজের প্রাণনাথের চরণেই আত্মসমর্পণ করেছিলেন।।

"নিতাই-গৌরাঙ্গ-গদাই,
অনঙ্গ--কানাই---রাই।"
সবাই মিলে জয় দাও-
নিতাই-গৌর-গদাধরের।।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*জয় নিতাই!*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-বাগুইপাড়া, বাগুইআটি,  উত্তর চব্বিশ পরগনা, কোলকাতা-৭০০১৫৯
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

রাধারাণির সেবাশক্তি 🥀 শ্রীল্ গদাধর পণ্ডিতের 🥀 আবির্ভাব তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/godadhar.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
       ꧁ শ্রীল্ গদাধর পণ্ডিতের আবির্ভাব তিথি꧂
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ DeepBagui.blogspot.com 🙏 সূচীপত্র ꧂
           ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই ꧂
      এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
#বৈশাখী_অমাবস্যা

#রাধারাণির_সেবাশক্তি_শ্রীলগদাধর_পণ্ডিতের_আবির্ভাব_তিথি 

 *পিতা #শ্রীমাধব_মিশ্র ও মাতা #শ্রীমতী_রত্নাবতীদেবীর* কোল আলো করে গদাধর পণ্ডিত আবির্ভূত হলেন আনুমানিক বাংলা ৮৯৪ সনে বৈশাখী অমাবস্যা তিথিতে। এই মাধবমিশ্রের দুই পুত্ররত্ন ছিল বাণীনাথ এবং গদাধর।
কেউ বলেন নবদ্বীপের চাঁপাহাটিতে তার জন্ম, আবার কেউ বলেন তার জন্মস্থান ছিল শ্রীহট্টে।
বাল্যকাল থেকেই গদাধরের সহজাত গৌর অনুরাগ পরিলক্ষিত হয়।
নবদ্বীপের টোলেই গদাধর বিদ্যা অধ্যয়ন করেছিলেন। মহাপ্রভু ফাঁকি জিজ্ঞাসা করতেন। বলতো গদাধর মুক্তির লক্ষণ কি? শাস্ত্র অনুসারে গদাধর উত্তর দিলে মহাপ্রভু বললেন - না, এ হল না।মুক্তির লক্ষণ হল- *#অন্যথা_রূপং_হিত্বা_স্বরূপেন_ব্যবস্থিতি"* 
প্রাকৃত ভাবনা (জড় দেহকে আমি মনে করে তার প্রতি আসক্ত হওয়া) ত্যাগ করে নিজের স্বরূপে (জীব নিত্য কৃষ্ণদাস) স্থিত হওয়াকেই মুক্তি বলা হয়। আজ ঘরে যাও আগামীকাল আবার জিজ্ঞাসা করব। বলে উভয় নিজ নিজ গৃহে গমন করতেন। যে কোন উপায়ে গদাধরের সঙ্গে দুটি কথা বলতে এবং তার সঙ্গে একটু রঙ্গ করতে মহাপ্রভু খুবই আনন্দ পেতেন।

মহাপ্রভু গয়া থেকে ফিরে আসলে, বিষ্ণুপাদপদ্মের কথা বলার সময় গদাধর ডুকরে ডুকরে কাঁদতে লাগলেন। তখন মহাপ্রভু বলেছিলেন - গদাধর! তোমার জীবন সার্থক। তুমি ছোটবেলা থেকে কৃষ্ণ ভজন করছ। আমার এতটা সময় বৃথায় নষ্ট হয়ে গেল।
কৃষ্ণপ্রেমে মহাপ্রভু অধির হয়ে হা কৃষ্ণ! হা কৃষ্ণ! বলে অঝোর নয়নে ঝুরেন।গদাধরকে দেখলে একটু প্রাণে শান্তি পান। শচীমা বলতেন- গদাধর! তুমি আমার নিমাইয়ের কাছে সবসময় থেকো বাবা! তোমার হাতে আমার নিমাইকে সমর্পণ করলাম।
ছায়ার মত অনুগত হয়ে গদাধর প্রায় সব সময় গৌরের কাছে কাছেই থাকতেন।
গদাধর কে কাছে পেয়ে প্রভুর বিরহব্যথা একটু প্রশমিত হত।

 একদিন মুকুন্দ গদাধর কে বললেন "নবদ্বীপে এক মহাবৈষ্ণব এসেছেন। যাবে বৈষ্ণব দেখতে? শুনে গদাধর অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে বললেন- চল।
গদাধরকে নিয়ে মুকুন্দ বিদ্যানিধির বাড়িতে উপস্থিত হলে গদাধর প্রনাম করলেন। বিষয়ীর মতো সমস্ত ব্যবহার দেখে আজন্ম বিরক্ত গদাধরের মনে একটু অশ্রদ্ধা  ভাব আসলো। কিন্তু একটু পরেই মুকুন্দের মুখে ভাগবতের শ্লোক শুনে বিদ্যানিধির মহাপ্রেম-বিকার দর্শনে গদাধর অত্যন্ত বিস্মিত হলেন, মনে বড় চিন্তা হল, এইরকম প্রেমিক পুরুষকে দেখে আমি অবজ্ঞা করলাম! কি অশুভ মূহূর্তে আমি সাধু দর্শনে আসলাম! মুকুন্দকে জড়িয়ে ধরে বলছেন আমার বন্ধুর মত কার্য করলে।
এহেন ভক্তিমান প্রেমনিধি আমাকে দর্শন করালে।কিন্তু আমার অপরাধ হয়ে গেল। আমি মনে মনে দুর্ভাবনা করেছি। তাই উনার কাছে মন্ত্র নেব।শিষ্য হলে আমার সকল অপরাধ ক্ষমা করবেন। মুকুন্দ বললেন -"খুব ভালো কথা"!
  বিদ্যানিধির বাহ্য হলে সব কথা বললেন -"আপনার বিষয় ব্যবহার দেখে গদাধরের মনে একটু অভাব এসেছিল, তাই আপনার কাছে দীক্ষা নিতে চায়।শুনে বিদ্যানিধি আহ্লাদিত হলেন ও বললেন বিধাতা আমাকে মহারত্ন মিলালেন। অনেক জন্মের ভাগ্যে এমন শিষ্য পাওয়া যায়।
মুকুন্দের সঙ্গে গদাধর ঘরে ফিরে আসলেন ও মহাপ্রভু কে সব কথা জানালেন।

গদাধর মহাপ্রভুর কাছে আজ্ঞা চাইলেন। মহাপ্রভুর অনুমতিক্রমে
যথাসময়ে মন্ত্রদীক্ষা হয়ে গেল।

মহাপ্রভু সন্ন্যাস গ্রহণ করলে বিরহে ব্যাকুল হয়ে গদাধরও নীলাচলে গমন করলেন। মহাপ্রভু রাধাভাবে কৃষ্ণমাধুরী আস্বানের জন্য সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন। রাধারাণির সেবাশক্তি গদাধরকে  টোটাগোপীনাথের সেবা দিয়ে মহাপ্রভু নিজের কাছেই তাঁর প্রাণপ্রিয় গদাধরকে রেখেছিলেন।
সারাজীবন প্রাণ ঢেলে গদাধর গোপীনাথের সেবা করেছিলেন, কিন্তু নিষ্ঠা ছিল গৌর চরণে।
একবার শ্রীমন্নিত্যানন্দ প্রভু গৌড়দেশ হতে অতি সুক্ষ্ম এক মাণ (একমান চাল- ছয় সেরের কিঞ্চিৎ অধিক) চাল ও একটি রঙিন শাড়ি এনে গদাধরকে দিলেন, গোপীনাথের সেবার জন্য।গদাধর শাড়িখানা গোপীনাথকে পরালেন, অদ্ভুত শোভা হল। বাগান থেকে শাক তুলে রন্ধন করলেন আর তেতুল পাতা বেটে লবন দিয়ে ব্যঞ্জন তৈরি করলেন। নিতাই আনীত চালের অন্ন ভোগ লাগালেন গোপীনাথের। এত সুন্দর পরিপাটি করে ভোগ লাগালেন! কিন্তু মহাপ্রভুকে নিমন্ত্রন করলেন না গদাধর। এখানে মনে হতে পারে গদাধর মহাপ্রভুকে না দিয়ে নিজেই উপভোগ করতে চাইছেন নিত্যানন্দের প্রীতি উপহার? কিন্তু না, তেমনটি নয়। হতেই পারে না। প্রাণ প্রিয়তম বন্ধুকে না দিয়ে নিজে উপভোগ করা যায়? তাহলে তো স্বার্থপর হয়ে যাবে! কিন্তু আমার গদাধর তো স্বার্থপর নয়। কোটিপ্রাণ নির্মঞ্ছনীয় বন্ধু , যার জন্য ক্ষেত্রসন্ন্যাস ত্যাগ করতে, এমনকি নরকে যেতেও প্রস্তুত! সেই প্রাণপ্রিয় আরাধ্যদেবতা কে না দিয়ে নিজেই ভোগ করবেন? গদাধরের মনের ইচ্ছা, সবার সামনে নিমন্ত্রণ করলে সপরিকরে মহাপ্রভু আসবেন। সকলের সামনে একান্ত প্রেমের গাঢ়তা স্ফূর্ত হবে না। তার হৃদয়ের অধীশ্বর কে একান্তে না পেলে সেবা করে সুখ হবে না। তাই তিনি প্রাণে প্রাণে ডাকতে লাগলেন। এই ঐকান্তিকতা যখন চরম সীমায় পৌঁছাল তখন মহাপ্রভুর প্রাণের সাড়া জাগালো। মহাপ্রভু কে বিবশ করে টেনে আনলো গদাধরের প্রাণঢালা ভালোবাসা। মহাপ্রভু আর স্থির থাকতে পারলেন না গদাধরের প্রেমাকর্ষণের টানে। প্রেমাধীন গৌরচন্দ্র এসে উপনীত হলেন গদাধরের টোটাগোপীনাথের অঙ্গনে।
গদাধরের প্রেমের টানে ও নিতাই আনীত তণ্ডুলের আকর্ষণে মহাপ্রভু এসে ডাকতে লাগলেন। 
গদাধর! ও গদাধর!!
 বলে ডাকছেন গৌরহরি। প্রাণ প্রিয়তম দ্বারে দাঁড়িয়ে ডাকছেন, শুনে ছুটে আসলেন গদাধর , হাতে ধরে নিয়ে ভেতরে বসালেন। আজ তার অভিলাষ পূর্ণ হলো প্রাণের ডাক শুনেছেন তিনি ।আজ যে কি আনন্দ তা ভাষায় ব্যক্ত করা সম্ভব নয়। মহাপ্রভু প্রণয়ভরে বলছেন গদাধর! একি তোমার ব্যবহার? নিতাই আনীত তণ্ডুল আর গোপীনাথের প্রসাদ এতে কি আমার ভাগ নেই? তুমি একবার আমাকে নিমন্ত্রনও করলে না! মহাপ্রভু চাইছেন গদাধরের প্রেম তার মুখ দিয়েই প্রকাশ করা। কিন্তু গদাধর হৃদয়ের প্রেম প্রকাশ করলেন না, প্রেম প্রকাশিত হলেই তার মূল্য কমে যায়। হৃদয়ের প্রেম হৃদয়ে অনুভূত হয়। তাই গদাধর হাতে ধরে নিয়ে বসালেন আসনে। গৌরগদাধরের প্রেমরঙ্গ দেখে নিতাই মনে মনে অনুভব করছেন আর আনন্দ সাগরে ভেসে যাচ্ছেন। গদাধর গোপীনাথের পুরো পারশটা এনে মহাপ্রভুর সামনে ধরে দিলেন। মহাপ্রভু বলছেন - গদাধর! প্রসাদ তিন জায়গায় পরিবেশন করো আমরা তিনজন একসঙ্গেই প্রসাদ পাবো। মহানন্দে একসঙ্গে নিতাই-গৌরাঙ্গ-গদাইয়ের অপরূপ ভোজন-বিলাস নানা হাস-পরিহাস রসের মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ হল। প্রসাদের সুঘ্রাণে সারা টোটা (বাগান)আমোদিত হয়ে উঠল।ভক্তবৃন্দ খুঁজতে খুঁজতে এসে উপস্থিত হলেন। মহাপ্রভুর ভোজন অন্তে সকলে অধরামৃত লুণ্ঠন করলেন।
গদাধর তাম্বুল অর্পণ করলেন। তিনজনে নির্জনে বসে কতই প্রেমালাপ আর কতই আনন্দের ঢেউ উঠতে লাগলো। মরমী জন অনুভব করলেন।

নিতাই অনঙ্গমঞ্জরী-  গদাধর রাই-কিশোরী।

গদাধর ক্ষেত্র-সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন, অর্থাৎ নীলাচলের বাইরে কখনো যাবেন না।
কিন্তু গৌরপ্রীতির এমন আকর্ষণ মহাপ্রভু যখন বৃন্দাবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন, তখন উনি থাকতে পারেন নাই। মহাপ্রভুর নিষেধ সত্ত্বেও কটক পর্যন্ত গিয়েছিলেন।
 *"ক্ষেত্র সন্ন্যাস না ছাড়িহ প্রভু  নিষেধিলা।।*

*পন্ডিত কহে যাঁহা তুমি সেই নীলাচল*।
 *ক্ষেত্র-সন্ন্যাস মোর যাউক রসাতল।।*

 *প্রভু কহে ইঁহা করো গোপীনাথ সেবন।*
*পন্ডিত কহে কোটি সেবা তৎপদ দর্শন।।*

মহাপ্রভু যখন কিছুতেই ফেরাতে পারলেন না।তখন কঠোরতা প্রকাশ করে বললেন - *"গদাধর! তুমি অতি স্বার্থপর! নিজের সুখ ছাড়া তুমি আর কিছুই জান না।এ তোমার সংকীর্ণ মনের পরিচয়।তুমি নিজের সুখ চাও? না আমার সুখ চাও? যদি সত্যিই আমাকে সুখী করতে চাও তাহলে আমার সঙ্গ ত্যাগ করে এখনই নীলাচলে ফিরে যাও। গোপীনাথের সেবায় নিজেকে সমর্পণ কর।"*
সব ছাড়ি আজ্ঞা বলবান। এতক্ষণ ছিল সখ্যতা, কিন্তু এখন হল আদেশ। সুতরাং গদাধরের আর কিছুই করার থাকল না। বিরহে মূর্চ্ছিত হয়ে পড়লেন। সার্বভৌমের উপর ভার ন্যস্ত করে মহাপ্রভু অগ্রসর হলেন গৌড়মন্ডলের দিকে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে গদাধরের গৌরপ্রীতির গভীরতা উপলব্ধি করা যায়।

একজন পুরুষ দেহধারী মানুষ সারাটি জীবন নারীভাবে মহাপ্রভুকে সেবা করে গিয়েছেন। কত ত্যাগ, কত ধৈর্য, ও কত সেবাপরায়ণ হলে যে তি সম্ভব,  চিন্তা করলে বিস্মিত হতে হয়।

তার আরেকটি বৈশিষ্ট্য ছিল শ্রীভাগবত পাঠ। তাঁর মুখে ভাগবত শ্রবণ না করলে মহাপ্রভুর প্রাণে শান্তি হতো না। সেজন্য তিনি প্রত্যহ মহাপ্রভুকে ভাগবত পাঠ করে শোনাতেন। গদাধরের হাতে লেখা ভাগবতে মহাপ্রভু নিচে কিছু পাদটীকা লিখে দিয়েছিলেন। মহাপ্রভুর ও
 গদাধরের চোখের জলে ভাগবত ভিজে যেত, শেষে ভাগবত পাঠ করাও দুষ্কর হয়ে গিয়েছিল।

মহাপ্রভুর সঙ্গোপনের অনধিক এক বছরের মধ্যে বিরহ জ্বালা সইতে না পেরে (ইংরেজি ১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দে ) প্রায় ৪৭ বছর বয়সে অপ্রকট লীলায় প্রবিষ্ট হন।

তাও কদাচিৎ শ্রীনিবাসাচার্য প্রভুকে দর্শন দানের জন্যই কিছুকাল প্রাণ ধারণ করে ছিলেন।

তাঁর বিরহে প্রাণ কি বাঁচে এতক্ষণ।
 প্রতীক্ষা সে মাত্র শ্রীনিবাস আগমন।।

 গদাধরের কোন দেহ সমাধি নেই।কোথায় কিভাবে লীন হয়ে গিয়েছেন তারও কোন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না। হয়তো বা তিনি নিজের প্রাণনাথের চরণেই আত্মসমর্পণ করেছিলেন।।

"নিতাই-গৌরাঙ্গ-গদাই,
অনঙ্গ--কানাই---রাই।"
সবাই মিলে জয় দাও-
নিতাই-গৌর-গদাধরের।।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*জয় নিতাই!*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧      
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-বাগুইপাড়া, বাগুইআটি,  উত্তর চব্বিশ পরগনা, কোলকাতা-৭০০১৫৯
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

হরে নামের অর্থ কি ❓ কৃষ্ণ নামের অর্থ কি ❓ 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/hare-krishna.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                  ꧁ হরে নামের অর্থ কি ❓ ꧂
                  ꧁ কৃষ্ণ নামের অর্থ কি ❓꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দ বিগ্রহঃ।
অনাদিরাদি গৌবিন্দঃ সর্ব্বকারণকারণম্ ।।
🙏 ব্রহ্ম সংহিতা 🙏
“ব্রহ্ম সংহিতা”য় বলিয়াছেন—ব্রজরাজনন্দ-নন্দন শ্রীকৃষ্ণই পরম ঈশ্বর, সৎ, চিৎ, আনন্দই তাঁর শ্রীবিগ্রহ, তিনি আদি (কারণ শূন্য) তাই অনাদি, তিনি সকলের কারণ এই হেতু আদি, সকল কারণের তিনিই মূল কারণ, এই হেতু তিন—'সর্ব্বকারণ কারণ? ॥

"হরি" শব্দের সম্বোধনে—হে হরে ॥
রাসাদি প্রেমসৌখ্যার্থে হরেহরতি যা মনঃ।
হরা সা গীয়তে সদ্-ভি বৃষভানুসুতা পরা ॥
🙏 শ্রীগম্ভীরা মাহাত্ম্য 🙏
অনন্ত শক্তির মহা নিকেতন শ্রীকৃষ্ণের স্বরূপভূতা শক্তি যে ‘আহ্লাদিনী’, তাঁহার চরম বিকাশরূপ যে—“মহাভাব” তৎস্বরূপিনী শ্রীবৃষভানুস্থতা শ্রীরাধা, পরা স্বরূপ শক্তিরূপা—তিনিই জগজ্জন চিত্তহারী হরির মন, রাসাদি বিলাস বৈদগ্ধী প্রকটনে প্রেম সুখ আস্বাদন করাইয়া হরণ করেন, অতএব 'তিনিই ‘হরা' এই রাধাবাচক ‘হর।' সম্বোধন —“হে হরে !”

স্বরূপ প্রেম বাৎসল্যৈ হরেহরতি যা মনঃ। 
হরা স কথ্যতে সদ্-ভিঃ শ্রীরাধা বৃষভানুজা ৷৷
🙏 শ্রীগম্ভীরা মাহাত্ম্য 🙏
বৃষভানুনন্দিনী শ্রীরাধাই সর্ব্বচিত্তহারী হরির মন, নিজ রূপ মাধুৰ্য্য, গুণ মাধুৰ্য্য, প্রেমমাধুর্য্য এবং “মধুর রসাশ্রিত” বাৎসল্যাদি দ্বারা হরণ করেন বলিয়া তত্ত্বজ্ঞগণ তাঁহাকেই ‘হর৷' এই নামে অভিহিত করিয়া থাকেন, তং সম্বোধনে ‘হরে !’

হরতি শ্রীকৃষ্ণমনঃ কৃষ্ণাহ্লাদ স্বরূপিনী।
অতো হরেত্যনেনৈব শ্রীরাধা পরিগীয়তে ॥৮॥
🙏 শ্রীগম্ভীরা মাহাত্ম্য 🙏
স্বরূপভূতা—আহ্লাদশক্তি স্বরূপিনী, শ্রীরাধা, স্বীর মন হরণকারী হরির মন হরণ করেন, এই হেতু ‘হরা' এই পদে‌ শ্রীরাধাই পরিগীত হয়েন, তৎ সম্বোধনে ‘হরে’।


কৃষিভূর্বাচকঃ শব্দো নশ্চ নির্বৃতি বাচকঃ ।
তয়ে৷রৈক্যং পরংব্রহ্ম কৃষ্ণ ইত্যভিধীয়তে ৷৷
🙏 শ্রীগম্ভীরা মাহাত্ম্য 🙏
‘কৃষ’ ধাতু আকর্ষণার্থক সত্তাবাচক, এইরূপ ‘ণ' শব্দটি নিবৃতি আনন্দবাচক, এই দুইটি পদের ঐক্যরূপেই পরব্রহ্ম‌ কৃষ্ণকে বুঝায়, অর্থাৎ যিনি নিখিল চরাচরাত্মক বিশ্বকে স্বীয় আকর্ষণাত্মক আনন্দ সত্তা দ্বারা সৃষ্টি করেন, সৃষ্টকে পালন করেন এবং তাহাতেই লীন করান, সেই পরব্রহ্মই ‘কৃষ্ণ’ এই শব্দে অভিহিত হয়েন ॥
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





হরে নামের অর্থ কি ❓ কৃষ্ণ নামের অর্থ কি ❓ 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/hare-krishna.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                  ꧁ হরে নামের অর্থ কি ❓ ꧂
                  ꧁ কৃষ্ণ নামের অর্থ কি ❓꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দ বিগ্রহঃ।
অনাদিরাদি গৌবিন্দঃ সর্ব্বকারণকারণম্ ।।
🙏 ব্রহ্ম সংহিতা 🙏
“ব্রহ্ম সংহিতা”য় বলিয়াছেন—ব্রজরাজনন্দ-নন্দন শ্রীকৃষ্ণই পরম ঈশ্বর, সৎ, চিৎ, আনন্দই তাঁর শ্রীবিগ্রহ, তিনি আদি (কারণ শূন্য) তাই অনাদি, তিনি সকলের কারণ এই হেতু আদি, সকল কারণের তিনিই মূল কারণ, এই হেতু তিন—'সর্ব্বকারণ কারণ? ॥

"হরি" শব্দের সম্বোধনে—হে হরে ॥
রাসাদি প্রেমসৌখ্যার্থে হরেহরতি যা মনঃ।
হরা সা গীয়তে সদ্-ভি বৃষভানুসুতা পরা ॥
🙏 শ্রীগম্ভীরা মাহাত্ম্য 🙏
অনন্ত শক্তির মহা নিকেতন শ্রীকৃষ্ণের স্বরূপভূতা শক্তি যে ‘আহ্লাদিনী’, তাঁহার চরম বিকাশরূপ যে—“মহাভাব” তৎস্বরূপিনী শ্রীবৃষভানুস্থতা শ্রীরাধা, পরা স্বরূপ শক্তিরূপা—তিনিই জগজ্জন চিত্তহারী হরির মন, রাসাদি বিলাস বৈদগ্ধী প্রকটনে প্রেম সুখ আস্বাদন করাইয়া হরণ করেন, অতএব 'তিনিই ‘হরা' এই রাধাবাচক ‘হর।' সম্বোধন —“হে হরে !”

স্বরূপ প্রেম বাৎসল্যৈ হরেহরতি যা মনঃ। 
হরা স কথ্যতে সদ্-ভিঃ শ্রীরাধা বৃষভানুজা ৷৷
🙏 শ্রীগম্ভীরা মাহাত্ম্য 🙏
বৃষভানুনন্দিনী শ্রীরাধাই সর্ব্বচিত্তহারী হরির মন, নিজ রূপ মাধুৰ্য্য, গুণ মাধুৰ্য্য, প্রেমমাধুর্য্য এবং “মধুর রসাশ্রিত” বাৎসল্যাদি দ্বারা হরণ করেন বলিয়া তত্ত্বজ্ঞগণ তাঁহাকেই ‘হর৷' এই নামে অভিহিত করিয়া থাকেন, তং সম্বোধনে ‘হরে !’

হরতি শ্রীকৃষ্ণমনঃ কৃষ্ণাহ্লাদ স্বরূপিনী।
অতো হরেত্যনেনৈব শ্রীরাধা পরিগীয়তে ॥৮॥
🙏 শ্রীগম্ভীরা মাহাত্ম্য 🙏
স্বরূপভূতা—আহ্লাদশক্তি স্বরূপিনী, শ্রীরাধা, স্বীর মন হরণকারী হরির মন হরণ করেন, এই হেতু ‘হরা' এই পদে‌ শ্রীরাধাই পরিগীত হয়েন, তৎ সম্বোধনে ‘হরে’।


কৃষিভূর্বাচকঃ শব্দো নশ্চ নির্বৃতি বাচকঃ ।
তয়ে৷রৈক্যং পরংব্রহ্ম কৃষ্ণ ইত্যভিধীয়তে ৷৷
🙏 শ্রীগম্ভীরা মাহাত্ম্য 🙏
‘কৃষ’ ধাতু আকর্ষণার্থক সত্তাবাচক, এইরূপ ‘ণ' শব্দটি নিবৃতি আনন্দবাচক, এই দুইটি পদের ঐক্যরূপেই পরব্রহ্ম‌ কৃষ্ণকে বুঝায়, অর্থাৎ যিনি নিখিল চরাচরাত্মক বিশ্বকে স্বীয় আকর্ষণাত্মক আনন্দ সত্তা দ্বারা সৃষ্টি করেন, সৃষ্টকে পালন করেন এবং তাহাতেই লীন করান, সেই পরব্রহ্মই ‘কৃষ্ণ’ এই শব্দে অভিহিত হয়েন ॥
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





বরুথিনী 🌙একাদশী🌙 ব্রত মাহাত্ম্য ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/ekadoshi.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ বরুথিনী একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য ꧂
       ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ Gopisharan.blogspot.com 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*বরুথিনী একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য।* 

বৈশাখ কৃষ্ণপক্ষীয়া বরুথিনী একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য- ভবিষ্যোত্তর পুরাণে।

যুধিষ্ঠির-শ্রীকৃষ্ণ সংবাদে বর্ণনা করা হয়েছে।যুধিষ্ঠির মহারাজ শ্রীকৃষ্ণকে বললেন- হে বাসুদেব! আপনাকে প্রণাম। 

বৈশাখ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী কি নামে প্রসিদ্ধ এবং তার মহিমাই বা কি তা কৃপা করে আমাকে বলুন।

শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে রাজন! ইহলোক ও পরলোকে বৈশাখ মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশী ‘বরুথিনী’ নামে বিখ্যাত। এই ব্রত পালনে সর্বদা সুখ লাভ হয় এবং পাপক্ষয় ও সৌভাগ্য প্রাপ্তি ঘটে। দুর্ভাগা স্ত্রীলোক এই ব্রত পালনে সর্বসৌভাগ্য লাভ করে থাকে। 

ভক্তি ও মুক্তি প্রদানকারী এই ব্রত সর্বপাপহরণ এবং গর্ভবাস যন্ত্রণা বিনাশ করে। এই ব্রত প্রভাবে মান্ধাতা, ধুন্ধুমার আদি রাজারা দিব্যধাম লাভ করেছেন। এমনকি মহাদেব শিবও এই ব্রত পালন করেছিলেন। 

দশ হাজার বৎসর তপস্যার ফল কেবলমাত্র এক বরুথিনী ব্রত পালনে লাভ হয়। যে শ্রদ্ধাবান ব্যক্তি এই ব্রত পালন করেন তিনি ইহলোক ও পরলোকে সমস্ত প্রকার বাঞ্চিত ফল লাভ করেন।

হে নৃপশ্রেষ্ঠ! অশ্বদান অপেক্ষা গজদান শ্রেষ্ঠ, গজদান থেকে ভূমিদান, তা থেকে তিলদান, তিলদান থেকে স্বর্ণদান এবং তা অপেক্ষা অন্নদান শ্রেষ্ঠ। অন্নদানের মত শ্রেষ্ঠদান আর নেই। 

পিতৃলোক, দেবলোক ও মানুষেরা অন্নদানেই পরিতৃপ্ত হন। পন্ডিতেরা কন্যাদানকে অন্নদানের সমান বলে থাকেন। স্বয়ং ভগবান গোদানকে অন্নদানের সমান বলেছেন। আবার এই সমস্ত প্রকার দান থেকেও বিদ্যাদান শ্রেষ্ঠ। 

কিন্তু এই বরুথিনী ব্রত পালনে সেই বিদ্যাদানের সমান ফল লাভ হয়ে থাকে।পাপমতি যে সব মানুষ কন্যার উপার্জিত অর্থে জীবনধারণ করে, পুণ্যক্ষয়ে তাদের নরকযাতনা ভোগ করতে হয়। তাই কখনও কন্যার উপার্জিত অর্থ গ্রহণ করা উচিত নয়। 

যে ব্যক্তি বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার সহ কন্যাদান করেন তাঁর পুণ্যের হিসাব স্বয়ং চিত্রগুপ্তও করতে অসমর্থ হন। কিন্তু ‘বরুথিনী’ ব্রত পালনকারী কন্যাদান থেকেও বেশি ফল লাভ করে।ব্রতকারী ব্যক্তি দশমীর দিনে কাঁসার পাত্রে ভোজন, মাংস, মসুর, ছোলা, শাক, মধু, অন্যের প্রদত্ত অন্নগ্রহণ, দুইবার আহার ও মৈথুন পরিত্যাগ করবে।

 দ্যূতক্রীড়া, নেশাজাতীয় দ্রব্য, দিবানিদ্রা, পরনিন্দা-পরচর্চা, প্রতারণা, চুরি, হিংসা, মৈথুন, ক্রোধ ও মিথ্যাবাক্য একাদশীর দিনে বর্জনীয়। কাঁসার পাত্রে ভোজন, মাংস, মসুর, মধু, তেল, মিথ্যাভাষণ, ব্যায়াম, দুইবার আহার ও মৈথুন এসব দ্বাদশীর দিনে পরিত্যাজ্য।

হে রাজন! এই বিধি অনুসারে বরুথিনী ব্রত পালনে সকল প্রকার পাপের বিনাশ এবং অক্ষয় গতি লাভ হয়। যিনি হরিবাসরে রাত্রিজাগরণ করে ভগবান জনার্দনের পূজা করেন, তিনি সর্বপাপ মুক্ত হয়ে পরমগতি লাভ করেন।তাই সূর্যপুত্র যমরাজের যাতনা থেকে পরিত্রাণের জন্য পরম যত্নে এই একাদশী ব্রত পালন করা কর্তব্য।

 বরুথিনী একাদশীর ব্রতকথা শ্রদ্ধাভরে পাঠ বা শ্রবণ করলে সহস্র গোদানের ফল লাভ হয় এবং সর্বপাপ থেকে মুক্ত হয়ে বিষ্ণুলোকে গতি হয়।

#জয় নিতাই।।
🙏🏼🙏🏼
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

বরুথিনী 🌙একাদশী🌙 ব্রত মাহাত্ম্য ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/ekadoshi.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
            ꧁ বরুথিনী একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য ꧂
       ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ Gopisharan.blogspot.com 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*বরুথিনী একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য।* 

বৈশাখ কৃষ্ণপক্ষীয়া বরুথিনী একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য- ভবিষ্যোত্তর পুরাণে।

যুধিষ্ঠির-শ্রীকৃষ্ণ সংবাদে বর্ণনা করা হয়েছে।যুধিষ্ঠির মহারাজ শ্রীকৃষ্ণকে বললেন- হে বাসুদেব! আপনাকে প্রণাম। 

বৈশাখ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী কি নামে প্রসিদ্ধ এবং তার মহিমাই বা কি তা কৃপা করে আমাকে বলুন।

শ্রীকৃষ্ণ বললেন- হে রাজন! ইহলোক ও পরলোকে বৈশাখ মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশী ‘বরুথিনী’ নামে বিখ্যাত। এই ব্রত পালনে সর্বদা সুখ লাভ হয় এবং পাপক্ষয় ও সৌভাগ্য প্রাপ্তি ঘটে। দুর্ভাগা স্ত্রীলোক এই ব্রত পালনে সর্বসৌভাগ্য লাভ করে থাকে। 

ভক্তি ও মুক্তি প্রদানকারী এই ব্রত সর্বপাপহরণ এবং গর্ভবাস যন্ত্রণা বিনাশ করে। এই ব্রত প্রভাবে মান্ধাতা, ধুন্ধুমার আদি রাজারা দিব্যধাম লাভ করেছেন। এমনকি মহাদেব শিবও এই ব্রত পালন করেছিলেন। 

দশ হাজার বৎসর তপস্যার ফল কেবলমাত্র এক বরুথিনী ব্রত পালনে লাভ হয়। যে শ্রদ্ধাবান ব্যক্তি এই ব্রত পালন করেন তিনি ইহলোক ও পরলোকে সমস্ত প্রকার বাঞ্চিত ফল লাভ করেন।

হে নৃপশ্রেষ্ঠ! অশ্বদান অপেক্ষা গজদান শ্রেষ্ঠ, গজদান থেকে ভূমিদান, তা থেকে তিলদান, তিলদান থেকে স্বর্ণদান এবং তা অপেক্ষা অন্নদান শ্রেষ্ঠ। অন্নদানের মত শ্রেষ্ঠদান আর নেই। 

পিতৃলোক, দেবলোক ও মানুষেরা অন্নদানেই পরিতৃপ্ত হন। পন্ডিতেরা কন্যাদানকে অন্নদানের সমান বলে থাকেন। স্বয়ং ভগবান গোদানকে অন্নদানের সমান বলেছেন। আবার এই সমস্ত প্রকার দান থেকেও বিদ্যাদান শ্রেষ্ঠ। 

কিন্তু এই বরুথিনী ব্রত পালনে সেই বিদ্যাদানের সমান ফল লাভ হয়ে থাকে।পাপমতি যে সব মানুষ কন্যার উপার্জিত অর্থে জীবনধারণ করে, পুণ্যক্ষয়ে তাদের নরকযাতনা ভোগ করতে হয়। তাই কখনও কন্যার উপার্জিত অর্থ গ্রহণ করা উচিত নয়। 

যে ব্যক্তি বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার সহ কন্যাদান করেন তাঁর পুণ্যের হিসাব স্বয়ং চিত্রগুপ্তও করতে অসমর্থ হন। কিন্তু ‘বরুথিনী’ ব্রত পালনকারী কন্যাদান থেকেও বেশি ফল লাভ করে।ব্রতকারী ব্যক্তি দশমীর দিনে কাঁসার পাত্রে ভোজন, মাংস, মসুর, ছোলা, শাক, মধু, অন্যের প্রদত্ত অন্নগ্রহণ, দুইবার আহার ও মৈথুন পরিত্যাগ করবে।

 দ্যূতক্রীড়া, নেশাজাতীয় দ্রব্য, দিবানিদ্রা, পরনিন্দা-পরচর্চা, প্রতারণা, চুরি, হিংসা, মৈথুন, ক্রোধ ও মিথ্যাবাক্য একাদশীর দিনে বর্জনীয়। কাঁসার পাত্রে ভোজন, মাংস, মসুর, মধু, তেল, মিথ্যাভাষণ, ব্যায়াম, দুইবার আহার ও মৈথুন এসব দ্বাদশীর দিনে পরিত্যাজ্য।

হে রাজন! এই বিধি অনুসারে বরুথিনী ব্রত পালনে সকল প্রকার পাপের বিনাশ এবং অক্ষয় গতি লাভ হয়। যিনি হরিবাসরে রাত্রিজাগরণ করে ভগবান জনার্দনের পূজা করেন, তিনি সর্বপাপ মুক্ত হয়ে পরমগতি লাভ করেন।তাই সূর্যপুত্র যমরাজের যাতনা থেকে পরিত্রাণের জন্য পরম যত্নে এই একাদশী ব্রত পালন করা কর্তব্য।

 বরুথিনী একাদশীর ব্রতকথা শ্রদ্ধাভরে পাঠ বা শ্রবণ করলে সহস্র গোদানের ফল লাভ হয় এবং সর্বপাপ থেকে মুক্ত হয়ে বিষ্ণুলোকে গতি হয়।

#জয় নিতাই।।
🙏🏼🙏🏼
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 প্রথম ভাগ 🙏 শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/04/ramananda.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
            ꧁ শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 প্রথম ভাগ 
             ꧁   শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
         ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
     এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
         ꧁ ১. শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 প্রথম ভাগ 
             ꧁   শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(০১)🙏শ্রীরামানন্দ রায়🙏*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌻শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ🌻*
 *🌻২৪শে আষাঢ়,১৩১৭ সাল🌻*
    🙏 🙏 🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌻🌻🌻গোদাবরী তটে🌻🌻🌻*
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🌼প্রসন্ন-সলিলা গোদাবরী কলকলতানে মৃদুল তরঙ্গে ছুটে চলেছে।গোদাবরীর তটপথে একজন নবীন সন্ন‍্যাসী আত্মহারা হয়ে "কৃষ্ণ কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, কৃষ্ণ হে" এই মধুময় নামের সুধামাধুরী ছড়াতে ছড়াতে বসন্ত বিহগের ন‍্যায় আপন ভাবে মাতোয়ারা হয়ে গমন করছেন। তাঁর কাঞ্চনকান্তিতে(সুবর্ণকান্তি দেহ) দশদিক যেন কনকিত (সোনার বর্ণের মত) হয়ে উঠেছে,কমলনেত্রের করুণ চাহনির স্নিগ্ধচ্ছটায় প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে অপূর্ব ভাবের উদয় হচ্ছে।যাঁরা তাঁর শ্রীমূর্তি দর্শন করছেন,তাঁরাই শ্রীমন্মহাপ্রভুর সহচর হয়ে যাচ্ছেন, যাঁদের কানে মহাপ্রভুর জলদ-গম্ভীর স্নিগ্ধ-বচনামৃত প্রবেশ করছে,তাঁরা আরও প্রেমে বিহ্বল হয়ে মহাপ্রভুর শ্রীমুখের মধুর নামকীর্তন শ্রবণ করার জন্য পাগলের মতো ধাবিত হচ্ছেন। মানুষের এমন রূপ,পূর্বে আর কেউ কখনও দেখেনি। মানুষের কন্ঠস্বর এমন মধুর,ইহাৎ কেউ কখন প্রত‍্যক্ষ করেনি।এই কাঞ্চন(সোনা) গিরিসদৃশ তরুণ সন্ন‍্যাসী যে একটি প্রকৃত মানুষ, কারও এ ধারণা হল না।এইভাবে পুণ‍্যসলিলা গোদাবরীর পবিত্র তীরে এক গোলোক দৃশ‍্য লোক লোচনের আনন্দ বর্ধন করতে করতে গমন করছেন।*
*🙏৭ম অঙ্কে শ্রীচৈতন‍্যচন্দ্রোদয় নাটকে পায়🙏*
*কাঞ্চনাচলমরীচিবীচিভির্গৌররন কিমপি দক্ষিণাং দিশম্।*
*দর্শনেন করুণা-তরঙ্গিণা দ্রাবরন্ জনমনাংসি সর্বতঃ।।*
*ইত্থমম্বুদবিকস্বরস্বরস্নিগ্ধমুগ্ধবচনামৃতদ্রবৈঃ।*
*হ্লাদয়ন্ শ্রুতিমতাং শ্রুতিদ্বয়ং চিত্তমপ‍্যপহরণ্ স জস্মিবান্।।*
*🌻মহাপ্রভু গমন করতে করতে চিত্ত ব্রজভাবে বিভাবিত।যৎসামান‍্য উদ্দীপক বস্তু দেখলেই তাঁর চিত্ত শ্রীবৃন্দাবনের স্ফূর্তি প্রবলতর হয়ে উঠে।গোদাবরী নদীতটে কুসুমিত কুঞ্জকানন নিরীক্ষণ করে তাঁর হৃদয়ে শ্রীবৃন্দাবনের মধুময়ী স্মৃতি জেগে উঠিল।*
*গোদাবরী দেখি হল যমুনা-স্মরণ।*
*তীরে বন দেখি স্মৃতি হৈল বৃন্দাবন।।*
*সেই বনে কথোক্ষণ করি নৃত্য গান।*
*গোদাবরী পার হৈয়া কৈলা তাহা স্নান।।*
                *(শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত)*
*🙏শ্রীমন্মহাপ্রভু এই গোদাবরী নদীতটের পাশেই একটি অতি সুন্দর  নগরীর কাছে গিয়ে উপস্থিত  হলেন। মহাপ্রভুর গমন গতি মন্থর হল।তাঁর অঙ্গগন্ধে দশদিক আমোদিত হয়ে উঠিল।তিনি নদীতে স্নান করে শিশিরস্নাত সুকোমল কেতকী কুসুমের মতো শোভা পেতে লাগলেন এবং ঘাটের অদূরে বসে আপন মনে নামজপে বিভোর হলেন। ব্রাহ্মণাদি শত শত লোক এসে মহাপ্রভুকে ঘিরে দাঁড়ালেন। এঁদের মধ্যে মন্ত্র আকৃষ্টের মত,গ্রহগৃহীতের ন‍্যায়,বিস্মিত-চমৎকৃতের ন‍্যায়,প্রতিভাসম্পন্ন ও প্রেমবিহ্বল একজন মহাভক্ত মহারাজ ☆*
*হেনকালে দোলায় চড়ি রামানন্দ রায়।*
*স্নান করিবারে আইলা-- বাজনা বাজায়।।*
*তার সঙ্গে আইলা বহু বৈদিক ব্রাহ্মণ।*
*বিধিমতে কৈলা তেহো স্নান তর্পণ।।*
☆               ☆               ☆            ☆
*সূর্য‍্য শত সমকান্তি অরুণ বসন।*
*সুবলিত প্রকান্ড দেহ কমল লোচন।।*
*দেখিয়া তাহার মন হইল চমৎকার*।
*আসিয়া করিল দন্ডবৎ নমস্কার।।*
                                      *(শ্রীচৈঃচঃ)*
*🌻একজন মহাভক্ত মহারাজ এসে সাষ্টাঙ্গে সন্ন‍্যাসীর শ্রীচরণে লুটিয়ে পড়লেন।সন্ন‍্যাসী কে জানবার প্রয়োজন হলই না, তাঁর রূপ ও অঙ্গগন্ধে মন্ত্রমুগ্ধের মত কাছে টেনে নিলেন।এই নবীন সন্ন‍্যাসী আমাদের সেই পতিতোদ্ধারণ প্রেমের ঠাকুর শ্রীগৌরাঙ্গ, যে দেশে তাঁর পদার্পণ হয়েছে,তার নাম বিদ‍্যানগর। এই বিদ‍্যানগরের বিবরণ শেষ লিখনীতে দেওয়া হবে। আর তাঁর শ্রীচরণে পতিত ভক্ত বৈষ্ণবচূড়ামণি শ্রীরামানন্দ রায়। মহাপ্রভু বললেন, তুমিই সেই রামানন্দ রায়!বটে?রামরায় বললেন, এ অধম আপনার সেই ক্ষুদ্র অধম শূদ্র দাস।কথা শুনে মহাপ্রভু রামরায়কে বক্ষে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করলেন।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
         ꧁ ২. শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 প্রথম ভাগ 
             ꧁   শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(০২)🙌শ্রীরামানন্দ রায়🙌*
*🌻🌻গোদাবরী তটে🌻🌻*
+++++++++++++++++++++
*🙏মহাপ্রভু রামরায়কে বক্ষে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করলেন।*
*তবে প্রভু কৈল তারে দৃঢ় আলিঙ্গন।*
*প্রেমাবেশে প্রভু-ভৃত‍্য দোঁহে অচেতন।।*
*স্বাভাবিক প্রেম দোঁহার উদয় করিলা।*
*দোঁহে আলিঙ্গিয়া দোঁহে ভূমিতে পড়িলা।।*
*স্তম্ভ স্বেদ অশ্রু কম্প পুলক বৈবর্ণ*।
*দোঁহার মুখেতে শুনি গদগদ্ কৃষ্ণবর্ণ।।*
                                *(শ্রীচৈঃচঃ)*
*🌻রায় রামানন্দ ইতঃপূর্বে মহাপ্রভুর নাম কখনও শুনেননি। সুতরাং আর কখনও উভয়ের আলাপ ছিল না।অথচ তিনি তাঁর দর্শন-প্রাপ্তি মাত্রই তাঁকে চিরসুহৃদের মতো মনে করলেন।যেন মনে হ'ল কত যুগ যুগ ধরে তাদের পরিচিত। (হ‍্যাঁ!সত‍্যিই তাই)প্রেমের আবেগ কিঞ্চিৎ প্রশমন হলে পর মহাপ্রভু বললেন=*
*সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য কহিল তোমার গুণ।*
*তোমারে মিলিতে মোরে করিল যতন।।*
*তোমা মিলিবারে মোর হেথা আগমন।*
*ভাল হইল অনায়াসে পাইল দর্শন।।*
*🌻সন্ন‍্যাসীর পরিচয় জিজ্ঞাসা করা শাস্ত্রবিরুদ্ধ। রামরায় জ‍্যোতির্ময় নবীন সন্ন‍্যাসীকে দেখেই মুগ্ধ ও প্রেমবিহ্বল হয়েছিলেন।তিনি সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য মহাশয়ের কথা শুনে বললেন, "ভট্টাচার্য‍্য মহাশয় আমাকে ভৃত‍্য বলে মনে করেন,যাতে আমার হিত হয় এটিই তাঁর বাসনা।তাঁর কৃপাতেই আজ আপনার দর্শন পেলাম,আজ আমার মনুষ‍্যজন্ম সফল হ'ল।সার্বভৌমের প্রতি যে আপনার যথেষ্ট কৃপা আছে,এটিই তার সুস্পষ্ট চিহ্ন,আপনি তাঁর কথায় আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন।তাঁর মনোবাঞ্জা পূর্ণ করবার জন্যই আপনি অস্পৃশ‍্য অধমকে স্পর্শ করলেন।🙏আপনি সাক্ষাৎ নারায়ণ,আর আমি রাজসেবী বিষয়ী শূদ্রাধম।প্রভু!আমায় স্পর্শ করতে কি আপনার ঘৃণা বোধ হ'ল না,এমন কি আমার মতো পতিত অধম শূদ্রকে দর্শন করাও বেদনিষিদ্ধ।🙏প্রভু আপনি বেদবিধিরও ভয় করলেন না!প্রভু!ইহা কেবল আপনার কৃপারই পরিচয়।আপনার কৃপাগুণই আপনার এই সকল নিন্দ‍্য কর্মানুষ্ঠের হেতু। আপনি সাক্ষাৎ ঈশ্বর, আপনার মর্ম বুঝতে জগতে কে সমর্থ?প্রভু!আমি বুঝেছি, কেবল আমার পরিত্রাণের জন্যই এখানে আপনার শুভাগমন। আপনি পরম-দয়াল, পতিতপাবন। শ্রীভাগবত বলেন ঃ----*
*"মহদ্বিচলনং নৃনাং গৃহিণাং দীনচেতসাং।*
*নিঃশ্রেয়সায় ভগবন্ কল্পতে নান‍্যথা ক্বচিৎ "।।*
                       *(শ্রীভাগবত=১০|৮|৩ শ্লোক)*
*🙏অর্থ‍্যাৎ দীনচিত্ত গৃহীদের মঙ্গলসাধনের জন্যই সাধুগণ স্বীয়(নিজ) আশ্রম হতে অন‍্যত্র গমন করেন, নিজের প্রয়োজনে কোথাও গমন করেন না। সুতরাং এ অধমের প্রতি কৃপা বিতরণের জন‍্যই যে আপনার এখানে আগমন,তার আর সন্দেহ কি?*
*🌻আমার সঙ্গে ব্রাহ্মণাদি নানাশ্রেণীর লোক।আপনাকে দেখে সকলেরই চিত্ত দ্রবীভূত হয়েছে।যারা কখনও কৃষ্ণনাম হরিনাম মুখে আনে না,আজ আপনার প্রভাবে তারাও হরিনাম কৃষ্ণনাম করছে,আজ কৃষ্ণপ্রেমে তাদের অঙ্গ পুলকিত ও নয়নে অশ্রুধারা পড়ছে।প্রভু! আপনার আকার প্রকার দেখে আমার মনে হচ্ছে,আপনি সাক্ষাৎ ভগবান,জীবে (মানুষে) কখনও এইরকম অপ্রাকৃত গুণ-সম্ভব হয় না।*
*🍀শ্রীগৌরহরি বললেন,রামরায়!তুমি মহাভাগবতোত্তম, তোমার প্রেম-বিকার দেখেই সকলেরই চিত্ত দ্রবীভূত হয়েছে।অপরের কথা কি, আমি মায়াবাদী সন্ন‍্যাসী, প্রেম কি তা মোটেই বুঝি না,ভক্তি জানি না,ভগবত্তত্ব পর্যন্ত আমার অজ্ঞাত ; তোমায় স্পর্শ করে আমিও কৃষ্ণপ্রেমে প্রমত্ত হয়েছি।সার্বভৌম বাসুদেব ভট্টাচার্য্য আমার অবস্থা জেনেই আমার চিত্ত-সংশোধনের জন্য তোমার কাছে পাঠিয়েছেন।*
*অন‍্যের কি কথা-- আমি মায়াবাদী সন্ন‍্যাসী,*
*আমিই তোমার স্পর্শে কৃষ্ণপ্রেমে ভাসি।।*
*এই জানি, কঠিন মোর হৃদয় শোধিতে।*
*সার্বভৌম কহিলেন তোমারে মিলিতে।।*
                                *(শ্রীচৈঃচঃ)*
🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏🙌🙏
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
         ꧁ ৩. শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 প্রথম ভাগ 
             ꧁   শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(০৩)🙏শ্রীরামানন্দ রায়🙏*
*🌻🌻গোদাবরী তটে🌻🌻*
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🌼এই কথা বলে শ্রীমন্মহাপ্রভু নীরব রইলেন।রায় রামানন্দ বিস্মিত হয়ে করুণাময় গৌরহরির শ্রীচরণপানে তাকিয়ে রইলেন। তৃণাদপি-নীচতাই বৈষ্ণবধর্ম-মন্দিরে প্রবেশের প্রথম সোপান।মহাপ্রভু ও ভক্ত উভয়েই তাঁর যথেষ্ট শিক্ষা প্রকাশ করলেন। এমন সময় এক ব্রাহ্মণ এসে মহাপ্রভুকে নিমন্ত্রণ করলেন। তিনি দেখলেন, বৈষ্ণবজন বৈষ্ণব বলেই মনে হ'ল, তাঁর নিমন্ত্রণে সম্মত হলেন।প্রেমময় শ্রীগৌরাঙ্গ ও রামানন্দের দিকে চেয়ে ঈষৎ হাসলেন,হেসে বললেন,"রামরায়, তোমার শ্রীমুখে কিছু কৃষ্ণকথা আস্বাদন করি,এটিই আমার সাধ।আবার যেন তোমার দর্শন পাই। মহাপ্রভুর কথন স্বভাবতই সুমধুর ; নয়ন যুগল স্নেহেভরা,সরল ও প্রীতি-মাখা দৃষ্টিপূর্ণ। রাম রায় এমন প্রেমের স্নিগ্ধ ভাষা আর কখনও শুনেননি,তাঁর চিত্ত একেবারে গলে গেল। তিনি গদগদ্ কন্ঠে বললেন, "দয়াময়,পতিতপাবন, এ দীনহীন পামরের চিত্ত-শোধনের জন্যই যদি এখানে আগমন হয়েছে, তবে কয়েকদিন এখানে থাকতে হবে🙏। আমার দুষ্ট চিত্ত শোধন করতে হবে 🙏।এই বলে রায় প্রণত হলেন।দয়াময় শ্রীগৌরহরি রায়কে ধরে তুললেন,ঈষৎ হেসে বললেন, তথাস্তু। রাম রায়, শ্রীগৌরাঙ্গের প্রেমোজ্জ্বল স্নিগ্ধ প্রতিচ্ছবি হৃদয়ে নিয়ে নিজ আলয়ে গমন করলেন।*
*🌻রায় রামানন্দ ও সন্ন‍্যাসীবেশ করুণাময় গৌরসুন্দরের প্রথম মিলন, যাঁরা দেখেছেন, সত‍্যিকারের তাঁদের দেহ,মন,প্রাণ ও হৃদয় সুশীতল এবং মানবজনম সার্থক করেছেন। প্রকৃতই এক অদ্ভুত দৃশ্য ; অদ্ভুত বলছি এই জন্য, রামরায় রাজা,মহাবিষয়ী ও মহা আড়ম্বরশীল। এমন কি তিনি গোদাবরীতে যখন স্নান করতে গমন করতেন,তখনও তাঁর সঙ্গে বিবাহযাত্রার মতো লোক সমাগম হত, বাদকগণ বাদ‍্য বাজিয়ে তাঁর সঙ্গে গমন করত।ব্রাহ্মণগণ স্তব স্তুতি পাঠ করে তাঁর আগে আগে যেতেন। এদিকে প্রচ্ছন্নাবতার শ্রীগৌরহরি, বৈরাগ‍্যের প্রতিচ্ছবি,সুসংযত সন্ন‍্যাসী, নির্জনতা প্রিয় ও সম্পূর্ণরূপে বিষয় বিতৃষ্ণ।তাঁর সর্বাঙ্গ তেজোদৃপ্ত অথচ স্নিগ্ধ-মধুর।*
*🍀সূর্য‍্য শত সমকান্তি অরুণ বসন*।
*সুবলিত প্রকান্ড দেহ,কমল লোচন।।*
                                             *(শ্রীচৈঃচঃ)*
*🍀আপাতত দৃষ্টিতে পরস্পর বিরুদ্ধ ভাবসম্পন্ন এই বস্তুদ্বয়ের সহসা অদ্ভুত মিলন দেখে ব্রাহ্মণগণ স্তম্ভিত, চমৎকৃত ও বিস্মিত হলেন। ব্রাহ্মণগণের বিশেষভাবে বিস্ময়ের কারণ, সাত্ত্বিক বিকার-দর্শন।সন্ন‍্যাসী জ্ঞানী বলেই মানবসমাজে পরিচিত। সন্ন‍্যাসীতে স্তম্ভ,স্বেদ,অশ্রু,কম্প, পুলক ও বৈবর্ণ‍্য প্রভৃতি সাত্ত্বিকবিকার তারা আর কখনও দেখেননি। অপর পক্ষে রায় রামানন্দও মহাপন্ডিত এবং সমুদ্রবৎ গভীর।তাঁতে এইরকম চাঞ্চল‍্যও আর কখনও দেখা যায়নি। অর্থ‍্যাৎ মহাপ্রভু দর্শনের পূর্বে রামরায় আর বর্তমানের রামরায় বিপরীত মেরু।এই ভাব দেখে সকলেই অবাক হলেন।তাঁদের বিস্ময়ের আর এক বিষয় এই যে সন্ন‍্যাসীই বা শূদ্র-স্পর্শ করেন কেন, এবং শূদ্র-স্পর্শ করেই বা এইরকম বিহ্বল হলেন কেন? আর মহারাজ রামানন্দ রায়ই বা সন্ন‍্যাসীকে আলিঙ্গন করে তাঁর স্বভাব সুলভ গাম্ভীর্য‍্য পরিত‍্যাগ করে প্রমত্ত হলেন কেন?*
*🍀দেখিয়া ব্রাহ্মণগণ হৈল চমৎকার।*
*🍀বৈদিক ব্রাহ্মণ সব করেন বিচার।।*
*🍀এই তো সন্ন‍্যাসী,তেজে দেখি ব্রহ্মসম।*
*🍀শূদ্রে আলিঙ্গিয়া কেনে করেন ক্রন্দন।।*
*🍀এই মহারাজ মহাপন্ডিত গম্ভীর।*
*🍀সন্ন‍্যাসীর স্পর্শে মত্ত,হইলা অস্থির।।ঐ।।*
*🌻ব্রাহ্মণগণ রায় রামানন্দের বাহ‍্যভাবের অতিরিক্ত অন্তর্নিগূঢ় কোন ভাবের সংবাদ রাখতেন না। ব্রাহ্মণগণ কেবল বিষয়ী রাজায় দেখেছেন,প্রকৃত তিনি যে কে, এই সন্ধান কে রাখেন! প্রেমিকগণের হৃদয়ে হৃদয়ে যে একজাতীয় মহাকর্ষণী শক্তি বিরাজিত,তা জনসাধারণের বুদ্ধির অধিগম‍্য নহে। সেই মহাকর্ষণে আপাতদৃষ্টে বিজাতীয় বিষম পদার্থসমূহও একীকৃত হয়। তাই সন্ন‍্যাসীবেশ শ্রীগৌরচন্দ্রের আকর্ষণে সমুদ্র-গম্ভীর মহাপন্ডিত রামরায়ের হৃদয় উথলিয়ে উঠিল, উভয়ের দর্শনে হৃদয়ে পরমানন্দময় সাত্ত্বিক বিকারের তরঙ্গ উছলিয়ে উঠিল।আজ গোদাবরীর পবিত্রতটে মহাপন্ডিত বিষয়ীর হৃদয়নিহিত প্রেমের ঝরনা শ্রীগৌরাঙ্গ-প্রেমের মহার্ণবে মিলে মিশে এক হ'ল।এরই এক অদ্ভুত অপূর্ব উত্তাল তরঙ্গ দেখে বহিরঙ্গ লোকেরা বিস্মিত, চমৎকৃত ও স্তম্ভিত হলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
         ꧁ ৪. শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 প্রথম ভাগ 
             ꧁   শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(০৪)🙏শ্রীরামানন্দ রায়🙏*
*🌻🌻গোদাবরী তটে🌻🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🙏শ্রীরামানন্দ রায় বিনয়ের আকর। বিনয় ভক্তির চির-সহচর।কৃপাময় গৌরহরি রামরায়কে দর্শন করে,তাঁকে আলিঙ্গন করে যে আনন্দের রস উচ্ছসিত করেছিলেন,রামরায় তাতে নিমজ্জিত হলেন,বিভোর হলেন ; উভয়েই সে প্রেমতরঙ্গে অধীর হলেন। কিন্তু মহাপ্রভু আত্মতন্ত্র, তিনি ডুবতে জানেন,ডুবাতেও জানেন,ভাসতে জানেন,ভাসাতেও জানেন। যদিও উভয়েই সাত্ত্বিক বিকারের বাহ‍্যজ্ঞান হীন হয়েছিলেন, কিন্তু বহিরঙ্গ লোকের সামনে প্রেমের এইরকম প্রকাশ সুসঙ্গত নয়, এই মনে করে গোরাচাঁদ আনন্দবেগ সম্বরণ করে সহসা রামরায়ের কাছ হতে বিচ্ছিন্ন হলেন ; জনৈক ব্রাহ্মণ ভক্তিপূর্বক নিমন্ত্রণ করে শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দরকে স্বীয় আলয়ে নিয়ে গেলেন।*
*🍀প্রেম অপার, বারিধির মতো মহান্ গম্ভীর ও বিশাল।কিন্তু তথাপি এতে নিয়ম আছে।চন্দ্রোদয়ে সমুদ্রের জল উছলিয়ে উঠে।পূর্ণিমায় জোয়ার চিরদিনই উৎসেচনশীল(উপরে ছিটায়)। কিন্তু এই জোয়ারেরও হ্রাস বৃদ্ধি আছে।সব জায়গায় সব সময়ে জোয়ার দেখা যায় না। শ্রীগৌরহরি এই বিশাল বিশ্ব-ব্রহ্মান্ডের নিয়ন্তা।প্রেম-জগতেরও নিয়ম আছে। নিয়ন্তা সেই নিয়ম লঙ্ঘন করতে পারেন না।*
*🌷চরক বলেন, ভাব সামান্যই ভাব-বৃদ্ধির কারণ। বিশেষই হ্রাসের কারণ। যথা=*
*সর্বথা সর্বভাবানাং সামান‍্যং বৃদ্ধিকারণম্।*
*হ্রাসহেতু বিশেষশ্চ প্রবৃত্তিরুভয়স‍্য তু।।*
*🌻জলধরের জলরাশি সমুদ্রবক্ষে নিপতিত হয়,কিন্তু মরুভূমির প্রতপ্তমরু তার বিন্দুমাত্রও লাভ করতে পারে না।এই দুর্বোধ‍্য জগৎ রহস‍্যের ব‍্যাখ‍্যা মানব বুদ্ধির অগম‍্য।রামানন্দ রায়ের সহচরগণের হৃদয় মরুসদৃশ (মরুতুল‍্য) উত্তপ্ত।তাদের হৃদয়ে প্রেমামৃত বর্ষণ হলে জগতের একটা অভাবপূর্ণ হত। কিন্তু স্বয়ং মহাপ্রভুও তাঁদেরকে দেখে প্রেমবেগ সম্বরণ করলেন।এর তাৎপর্য‍্য বোধহয় এই যে,কৃষক যেমন যে-সে ভূমিতে সহসা(হঠাৎ) বীজ বপন করে না,আর করলেও কেউ তাকে বুদ্ধিমান ফলে মনে করে না, শ্রীভগবানও সেইরকম অপ্রস্তুত হৃদয়ে সহসা প্রেমবারি বর্ষণ করেন না।শ্রীরায় রামানন্দকে দর্শন দিয়ে তিনি যে কৃপা করলেন,জগাই মাধাইকে উদ্ধার করে তিনি কি ঠিক তদ্রূপ কৃপা করেছিলেন?জগাই মাধাই মহাপাপ হতে বিমুক্ত হলেন বটে, কিন্তু অকৈতব(অকপট) কৃষ্ণপ্রেম তখনও তাঁদের দুর্নীরিক্ষ‍্য (যা নিরীক্ষণ করা বা যার প্রতি দৃষ্টিপাত করা দুঃসাধ‍্য) ছিলেন। মহাপ্রভুর এই সকল লীলার তাৎপর্য‍্য বুঝবার শক্তি আমাদের নেই। তথাপি বুঝতে ইচ্ছে হয়। আমাদের মনে হয়,করুণাময় গৌরহরি যেন সর্বদাই অধিকারীভেদে ধর্মোপদেশ প্রদান করতেন, অধিকারীভেদ-বিচারে স্বীয় গুণের বিকাশ বা সঙ্কোচ করতেন।এই অধিকারভেদ-বিচার অবহেলিত ও উপেক্ষিত হওয়াতে বর্তমান বৈষ্ণবসমাজে অধুনা অনেক প্রকার গ্লানিজনক কার্য‍্যের প্রভাব দেখতে পাওয়া যায়।*
*🌻জয় জয় মহাপ্রভু-রামানন্দের জয়🙏*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
         ꧁ ৫. শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 প্রথম ভাগ 
             ꧁   শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(০৫)🙏শ্রীরামানন্দ রায়🙏*
*🌻শ্রীরামানন্দ রায়ের পরিচয়🌻*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀রায় রামানন্দ যেরকম সাজ সজ্জায় ও আড়ম্বরে তিনি গোদাবরী তীরে স্নানের জন্য আগমন করতেন,তাতে তিনি যে রামা বা মহারাজ ছিলেন এইরকমই মনে করা যেতে পারে। ফলে উড়িষ‍্যার রাজা শ্রীপ্রতাপরুদ্র তখন সম্রাটের মত প্রতাপান্বিত ছিলেন।রামরায় এই প্রতাপরুদ্রের মন্ত্রী ছিলেন।রায় রামানন্দ শ্রীশ্রীজগন্নাথবল্লভ নাটকে রাজাধিরাজ প্রতাপরুদ্রের যে ঐতিহাসিক প্রতাপের কীর্তন করেছেন, এ বিষয়ে তা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ প্রমাণ আর কি হতে পারে?প্রতাপরুদ্রের প্রবল প্রতাপের কথা শুনে সুবিখ্যাত যবনকুল ধুরন্ধর সেকেন্দর সাহা ভীতচিত্তে পলায়ন করেছিলেন, কলবর্গ নৃপতি সর্বদাই এঁর নামে সশঙ্ক থাকতেন,গূর্জর দেশীয় ভূপতি এঁর ভয়ে নিজের নগরীকে জীর্ণ অরণ‍্যের মতো বোধ করতেন এবং গৌড়দেশীয় ভূপতি নিজেকে প্রবল বাত‍্যাবেগে পীড়িত সমুদ্রের ঘূর্ণিত পোতের মতো মনে করতেন।এঁর কীর্তিরাশি কৈলাশ শৈলের কায়ব‍্যূহরূপ,হিমালয়ের নির্য‍্যাসস্বরূপ, ক্ষীরবারিধির ফেনস্বরূপ,শারদবারিদের সারসদৃশ এবং সুর-তরঙ্গিনীর নীরের মতো প্রভাবশীল হয়ে জগৎ নির্মল করত।ইনি পূণ‍্যকর্মে ও দানে ধ‍্যানে অনুক্ষণ দেবতাদেরও বশীভূত করে রাখতেন। বিপক্ষরাজগণের কালাগ্নিরুদ্রস্বরূপ রাজাধিরাজ প্রতাপরুদ্রের মনোরঞ্জন করবার জন‍্যই রামানন্দ জগন্নাথবল্লভ নাটক রচনা করেন। রাজাধিরাজ প্রতাপরুদ্র একদিকে যেমন বিশাল বীরত্বের আদর্শ,অপরদিকে তেমনি আবার মহাপ্রেমিক ভক্ত। ইনি শ্রীমন্মহাপ্রভুর দর্শন লাভের জন্য কি রকম ব‍্যাকুল হয়েছিলেন,শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে তা বুঝতে পারা যায়।*
*🌹উড়িষ‍্যার সূর্য‍্যবংশীয় নৃপতিগণের অনেকেই পরম বৈষ্ণব ছিলেন।প্রতাপরুদ্রের বহু পূর্বে রাজা একবর্তী কামদেব উড়িষ‍্যায় ৭৬ বৎসরকাল রাজত্ব করেন। তিনি বৈরাগ‍্যের আদর্শ ছিলেন,শ্রীগীতগোবিন্দ শ্রবণ না করে জল গ্রহণ করতেন না।তাঁর রাজত্বের ৩০০ বৎসরের অনেক পরে খেরকা নৃসিংহদেব উড়িষ‍্যার রাজা হন।এর পরেই রাজা প্রতাপরুদ্র উড়িষ‍্যার রাজসিংহাসনে বসেছিলেন।ইনি ৩৬ বৎসর রাজত্ব করেন, সেতুবন্ধ রামেশ্বর পর্যন্ত সমগ্র ভূখন্ড ইনি নিজ শাসনাধীন করেছিলেন। মিঃ এন্ডুরু ষ্টারলিং উড়িষ‍্যার রাজাদের "বংশাবলীর" যে ইংরেজি অনুবাদ ১৮৩৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের এসিয়াটিক সোসাইটির জারনালে প্রকাশ করেন,তাতে লিখিত আছে।
*Raja Protab Rudder Deo (reigned) 36 Years.He Subjected to his dominion the whole country as far as setaband Rameswar (the bridge of Ram)*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
         ꧁ ৬. শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 প্রথম ভাগ 
             ꧁   শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(০৬)🙏শ্রীরায় রামানন্দ🙏*
*🌹🌹🌹পরিচয়🌹🌹🌹*
<><><><><><><>>><><>>>>
*তা সভার প্রসাদে মিলোঁ শ্রীপ্রভুর পায়।*
*প্রভু কৃপা বিনে রাজ‍্য নাহি ভায়।।*
*যদি মোরে কৃপা না করিবে গৌরহরি।*
*রাজ‍্য ছাড়ি প্রাণ দিব হইব ভিখারী।।*
*রামরায় এই রাজাধিরাজ প্রতাপরুদ্রের অতীব প্রিয় ছিলেন।ইনি স্বাধীনভাবেই নিজের প্রাসাদে বসে রাজকার্য‍্য সম্পন্ন করতেন। নিজেও আপনাকে "রাজসেবী"বলে পরিচয় প্রদান করেছেন। যথা=*
*কাঁহা তুমি সাক্ষাৎ ঈশ্বর নারায়ণ।*
*কাঁহা মুঞি রাজসেবী বিষয়ী শূদ্রাধম।।*
*🌺সময়ে সময়ে রামানন্দ রায়কে মন্ত্রণাদির জন্য রাজধানীতে গমন করতে হত। শ্রীচৈতন‍্যচরিত পাঠে জানা যায় যে ইনি রাজমন্ত্রী ছিলেন।*
*রাজমন্ত্রী রামানন্দ ব‍্যবহার-নিপুণ*।
*রাজার প্রীতি কহি দ্রবায় মহাপ্রভুর মন।।*
                        *(১২ পরিচ্ছেদ মধ‍্যলীলা)*
*💧রায় রামানন্দ সংস্কৃত ভাষায় যে অসাধারণ পান্ডিত‍্য লাভ করেছিলেন, তাঁর রচিত শ্রীশ্রীজগন্নাথবল্লভ নাটকই তার প্রমাণ।টীপ্পনীতে উদ্ধৃত শ্লোকগুলি পাঠেও পাঠক তা সহজে বুঝতে পারবেন।শ্রীরূপের নাটকবিচারে রামরায় কাব‍্যশাস্ত্রের অনেক সূক্ষ্মতত্ত্বকথা তুলে শ্রীপাদ রূপ গোস্বামীকে বিস্মিত করেছিলেন। যথা=*
*রূপ কহে "কাঁহা তুমি সূর্য‍্যসমভাস*।
*মুঞি কোন্ ক্ষুদ্র?যেন খদ‍্যোত-প্রকাশ।।*
*তোমার আগে ধাষর্ট‍্য এই মুখের ব‍্যাদন"।*
*এত বলি নান্দী শ্লোক করিল ব‍্যাখান।।*
*🍁রায় রামানন্দ রাজমন্ত্রী,তিনি অতি বুদ্ধিমান ও সুপন্ডিত। সুতরাং রাজপন্ডিত শ্রীবাসুদেব সার্বভৌমের সঙ্গে তাঁর সবিশেষ আলাপ পরিচয় ছিল, উভয়েই যে অনেক সময়ে অনেক কথোপকথন হত, তার আর সন্দেহ কি? এই উভয়ের মধ্যে সবিশেষ বান্ধবতাও ছিল।রামরায় শ্রীরাধাকৃষ্ণরসে প্রমত্ত,রাজধানীতে এই বিষয় কারও অবিদিত(অজানা) ছিল না।রামরায়ের পিতা ভবানন্দ রায় মহাশয়ও সম্ভবতও এই রাজসরকারেই কাজ করতেন। তিনিও কৃষ্ণভক্ত ছিলেন।কৃষ্ণকীর্তন করতেন,কীর্তন করবার সময়ে পাঁচটি পুত্র সঙ্গে নিয়ে কৃষ্ণানন্দে নৃত্য করতেন।*
*🍀পঞ্চপুত্র সঙ্গে নাচে রায় ভবানন্দ।*
*🌻ভবানন্দের পাঁচটি পুত্র।শ্রীচরিতামৃতে লিখিত আছে। মহাপ্রভু ভবানন্দকে আলিঙ্গন করে বলছেন=*
*তুমি পান্ডু,পঞ্চ পান্ডব তোমার নন্দন।*
*রামানন্দ রায়,পট্টনায়ক গোপীনাথ, কলানিধি,সুধানিধি,নায়ক বাণীনাথ।।*
*এই পঞ্চপুত্র তোমার প্রিয়,মোর প্রিয় পাত্র।*
*রামানন্দ সহ মোর দেহভেদ মাত্র*।।
*🍀সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য মহাশয় এই বৈষ্ণববংশের সবিশেষ পরিচয় জানতেন।তাই রামরায়ের সঙ্গে দেখা করতে মহাপ্রভুকে অনুরোধ করেন।মহাপ্রভু এই অনুরোধ রক্ষা করে বলেন ঃ----*
*সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য কহিল তোমার গুণ।*
*তোমারে মিলিতে মোর করিল যতন।।*
*🌻ইহার উত্তরে বললেন=*
*রামরায় কহে,সার্বভৌম করে ভৃত‍্যজ্ঞান।*
*পরোক্ষেহ মোর হিতে হয় সাবধান।।*
*তার কৃপায় পাইনু তোমার দর্শন।*
*আজি সফল হইল মোর মনুষ‍্য জনম।।*
*🍀মহাপ্রভুর মহীয়সী লীলায় শাক‍্যসিংহের বৈরাগ‍্য,সরস্বতীর বিদ‍্যা, বৃহস্পতির বুদ্ধি,ইন্দ্রের ঐশ্বর্য‍্য, ভীমার্জুনের শৌর্য‍্যবীর্য‍্যপরাক্রম,ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা ও যুধিষ্ঠিরের সত‍্যনিষ্ঠা, অথবা জগতে যা কিছু শ্রেষ্ঠ,যা কিছু গৌরবজনক, তৎসমস্তই যেন শ্রীরাধাপ্রেমে মিলে মিশে এক হয়ে উঠেছিল।*
*💧শ্রীচৈতন‍্যভাগবতে লিখিত আছে=*
*কলিযুগে সঙ্কীর্তন-ধর্ম পালিবারে*।
*অবতীর্ণ হৈলা প্রভু সর্ব পরিকরে*।।
*প্রভুর আজ্ঞায় আগে সর্ব পরিকর*।
*জন্মি লভিলেন সভে মানুষ ভিতর।।*
*কি অনন্ত কি শিব,বিরিঞ্চি,ঋষিগণ।*
*যত অবতারের পারিষদ আপ্তগণ।।*
*ভাগবতরূপে জন্ম হইল সভার।*
*কৃষ্ণ সে জানেন,যার অংশে জন্ম যার।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*যে যে দেশে গঙ্গা হরিনাম-বিবর্জিত।*
*যে দেশে পান্ডব নাহি গেলা কদাচিত।।*
*সে সব জীবেরে কৃষ্ণ বৎসল হইয়া।*
*মহাভক্ত সব জন্মায়েন আজ্ঞা দিয়া।।*
*সংসার তারিতে শ্রীচৈতন‍্য অবতার।*
*আপনে শ্রীমুখে করিয়াছেন অঙ্গীকার।।*
*শোচ‍্য দেশে শোচ‍্য কুলে আপন সমান।*
*জন্মাইয়া বৈষ্ণব সভারে করে ত্রাণ।।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
         ꧁ ৭. শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 প্রথম ভাগ 
             ꧁   শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(০৭)🙏শ্রীরায় রামানন্দ🙏*
*🙌🙌পরিচয়🙌🙌*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻শ্রীমন্মহাপ্রভু অবতীর্ণ হবার পূর্বেই এদেশের সর্বত্রই ভক্তিভূমি প্রস্তুত করেছেন।তিনি শোচ‍্য দেশে শোচ‍্য কুলে নিজের পার্ষদ বৈষ্ণবগণকে অবতারিত(আগে পাঠিয়ে দিয়েছেন)করে নিজে অবতীর্ণ হন।কলির পরম ধর্ম নামসংকীর্তন।এই সংকীর্তনে যোগদান করা সত‍্যাদি যুগের লোকেরও বাঞ্জনীয় যথা শ্রীমদ্ভাগবতে।*
*"কলিং সভাজয়ন্ত‍্যার্য‍্যা গুণজ্ঞাঃ সারভাগিনঃ।*
*যত্র সংকীর্তনেনৈব সর্বস্বার্থোহভিলভ‍্যতে।।*
*নহ‍্যতঃ পরমো লাভো দেহিনাং ভ্রাম‍্যতামিহ।*
*যতো বিন্দেত পরমাং শান্তিং নশ‍্যতি সংসৃতিঃ।।*
*কৃতাদিষু প্রজা রাজন্ কলাবিচ্ছন্তি সম্ভবম্ "।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ গুণজ্ঞ সারভোগী শ্রেষ্ঠ লোকেরা কলির সর্বাপেক্ষা আদর করে থাকেন।কেবল সংকীর্তন দ্বারা এই যুগে পুরুষার্থ লাভ হয়ে থাকে। এই সংসারে ভ্রমণশীল মানুষের এই অপেক্ষা পরম লাভ আর নাই।কারণ ইহা হতে পরম শান্তি লাভ হয় এবং ইহা হতেই সংসার বন্ধন মোচন হয়।রাজন!সত‍্যাদি যুগের মানুষ সব কলিযুগে জন্ম নিতে ইচ্ছা করেন।*
*🍀সুতরাং এই সংকীর্তন আনন্দে সিদ্ধ ও সাধক শ্রেষ্ঠগণ যে এই ধরাধামে শুভাগমন করেছিলেন তা নিঃসন্দেহ।বহু পূর্ব হতেই দ্রাবিড়াদি স্থলে মহাভাগবতগণ জন্মগ্রহণ করেন।দক্ষিণভারত ও উড়িষ‍্যায় অনেক পূর্ব হতেই ভক্তির সুধাধারায় পরিপ্লুত হয়ে উঠে।শ্রীভাগবতেও এ সম্বন্ধে কিঞ্চিৎ ভবিষ‍্যদ্বাণী দেখতে পাওয়া যায়।*
*"কলৌ খলু ভবষ‍্যন্তি নারায়ণপরায়ণাঃ।*
*ক্বচিৎ ক্বচিন্মহারাজ দ্রবিড়েষু চ ভূরিশঃ।।*
*তাম্রর্পণী নদী যত্র কৃতমালা পয়স্বিনী।।*
*কাবেরিচ মহাপুণ‍্যা প্রতীচীচ মহানদী।*
*যে পিবন্তি জলং তাসাং মনুজা মনুজেশ্বর।।*
*প্রায়োভক্তা ভগবতি বাসুদেবেহমলাশয়াঃ।।*
       *(শ্রীমদ্ভাগবত,৫অধ‍্যায় ১১শ স্কন্ধ)*
*🌼মহাপুণ‍্যা তাম্রর্পণী,কৃতমালা,পয়স্বিনী,কাবেরী, প্রতীচী ও মহানদী প্রবাহিত সেই দ্রাবিড়দেশে অনেক হরিভক্ত জন্মগ্রহণ করেন না।হে লোকনাথ!যে সব মানুষ ঐ সব নদীর জল পান করেন তাঁদের অন্তঃকরণ বিশুদ্ধ হয় এবং তাঁরা বাসুদেবে প্রায়শঃই ভক্তিমান হয়ে থাকেন। শ্রীমন্মহাপ্রভু তাঁর প্রিয়জনদের কৃতার্থ করার জন্যই দক্ষিণদেশ ভ্রমণে যাত্রা করেছিলেন।*
*☘এতে স্পষ্টতই প্রতিপন্ন হয় যে মহাপ্রভুর অবতারের আগে থেকেই দক্ষিণাঞ্চলে রায় রামানন্দ প্রভৃতি প্রেমিক ভক্তগণ আবির্ভূত হয়ে ছিলেন।১৩০০শকের শেষভাগে সম্ভবতঃ কটক অঞ্চলে রায় রামানন্দের জন্ম হয়। রামানন্দ রায় জাতিতে কায়স্থ।থবে এ দেশীয় কায়স্থগণের যেমন ঘোষ,বসু,সেন প্রভৃতি আখ‍্যা আছে, রামানন্দের সেইরকম আখ‍্যা ছিল কি না তা জানতে পারা যায় না। শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত পাঠ করে কেউ কেউ বলেন তিনি শূদ্র ছিলেন।*
*এই ত সন্ন‍্যাসীর তেজ দেখি সূর্য‍্যসম।*
*শূদ্র আলিঙ্গিয়া কেন করেন ক্রন্দন।।*
*🌺সে যাইহোক,শ্রীরামানন্দের পিতা ভবানন্দ রায় মহাশয় অতি ভক্তিমান ছিলেন।শ্রীজগন্নাথবল্লভ নাটকে রায় মহাশয় তাঁর পিতার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন=*
*"সর্ববিদ‍্যানদীবিলাসগাম্ভীর্য‍্যমর্য‍্যাদাস্থৈর্য‍্যপ্রসাদাদিগুণরত্নাকরস‍্য। সুরগুরপ্রণীতনীতিকদম্বকরন্বিতমন্ত্রাশ্রবীকৃতপ্রগুণপৃথীশ্বরস‍্য শ্রীভবানন্দ রায়স‍্য তনুজেন শ্রীহরিচরণমানসেন শ্রীরামানন্দ রায়নকবিনা" ইত‍্যাদি।*
*🌻তাঁর বিদ‍্যাবত্তা,বুদ্ধিমত্তা ও ভগবদ্ভক্তি তদীয় পুত্রে সহস্র সহস্র গুণে বিবর্ধিত হয়ে সঞ্চারিত হয়েছিল। বিদ‍্যা বুদ্ধি গাম্ভীর্য মর্য‍্যাদাস্থৈর্য‍্য, স্থৈর্য‍্য মানে স্থিরতা,বিনয় ও ভক্তিতে রায় রামানন্দ সর্বত্র সম্মান লাভ করেছিলেন। সুবিশাল বিদ‍্যানগর সাম্রাজ্যের শাসনভার রায় রামানন্দের উপর দায়িত্ব দিয়ে রাজা প্রতাপরুদ্র নিশ্চিন্ত থাকতেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
         ꧁ ৮. শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 প্রথম ভাগ 
             ꧁   শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(০৮)🙏শ্রী রামানন্দ রায়🙏*
*🌺🌺🌺পরিচয়🌺🌺🌺*
<><><><><><><><><><><><>
*🌻অধুনা "দিনমণি-চন্দ্রোদয়" নামক একখানি হস্তলিখিত পুঁথি পাওয়া গিয়াছে।ইহার রচয়িতার নাম মনোহর।ইনি উক্ত গ্রন্থে যে আত্মপরিচয় দিয়েছেন,তাতে রামানন্দের নাম উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায় ; সেটি এইরকম=*
*জগন্নাথবল্লভ নাটক দেখি আনন্দ চরণ।*
*পর পিতামহ রামানন্দ রায় যেহ হন।।*
*বাণীনাথ পট্টনায়ক মহাশয়।*
*রামানন্দ ভ্রাতা তিঁহ মোর জ্ঞান হয়।।*
*বাণীনাথের হইল দুইটি তনয়।*
*গোকুলানন্দ হরিহর রায় মহাশয়*।।
*তাহার তনয় এক গোবিন্দানন্দ হইল।*
*মহা বিদ‍্যাবান তিঁহ এই ত কহিল*।।
*তার দুই পুত্র হইল নিত‍্যানন্দ মনোহর।*
*নিজগ্রাম ছাড়ি পিতা আইল কটক নগর।।*
*কটকে করিলা তিঁহ এক রাজধানী।*
*অল্পকাল কিছু নয় জুয়ারের পাণি।।*
*দুই পুত্র রাখি পিতা হইল অন্তর্ধান*।
*সকল লইল উড়িয়া রাজা করিয়া শাসন।।*
*কিঞ্চিৎ রাখিল নিজগ্রাম সাতখানি।*
*আর সব লইল রাজা করিয়া সমানি।।* ইত‍্যাদি।
*🌻এই থেকে জানা যায় যে,রামানন্দের ভাই বাণীনাথ পট্টনায়কের দুই পুত্র,গোকুলানন্দ ও হরিহর।হরিহরের এক পুত্র জন্মে,তাঁর নাম গোবিন্দানন্দ। গোবিন্দানন্দের দুই পুত্র,নিত‍্যানন্দ ও মনোহর। পিতৃবিয়োগ ও বিত্তনাশে দুঃখিত হয়ে,মনোহরের ভাই নিত‍্যানন্দ রায়,বর্ধমানে আগমন করে, সেখানে বিষয়-কর্মের উপলক্ষ‍্যে বাস করতে লাগলেন।কিছুদিন বাস করবার পরে বর্ধমানে তিনি নিজ কনিষ্ঠ ভাই মনোহরকে কাছে ডাকেন।আসার অল্পকিছুদিন পরেই মা মারা যান। যথা=*
*দুঃখিত হইয়া ভ্রাতা সব ছাড়িয়া আসিল।*
*বিদ‍্যানগর গ্রামে পরিজন রাখিল।।*
*মাতার চরণে ভ্রাতা বিদায় মাগিয়া*
*আইল উত্তর দেশে বিষয় লাগিয়া।।*
*আমিও বালক ভাল মন্দ নাহি জানি।*
*কতদিনে সমাচার পাঠান আপনি।।*
*বর্ধমান পরগণা কহিল লিখনে।*
*আনাইল ভ্রাতা মোরে করিয়া যতনে।।*
*সেই হইতে রহি দূরে আনন্দ হরিষে।*
*মাতার অন্তর্ধান শুনিনু বিশেষে।। ইত‍্যাদি।*
*🌻স্থানান্তরে গ্রন্থকার লিখেছেন=*
*বিষয়ে আমার চিত্ত উচাটন হয়।*
*সদাকাল বিষয় মোর,অবকাশ নয়।।*
*ভ্রাতা মোর জ‍্যেষ্ঠ শ্রীনিত‍্যানন্দ দাস।*
*তাহার কনিষ্ঠ মুঞি মনোহর দাস*।।
*পিতৃহীন দুই ভাই থাকি সে বিষয়ে*।
*কেহ নাহি আর মোদের এ ভব সংসারে।।*
*পূর্বে ছিলা দক্ষিণ দেশে যাজপুর গ্রাম।*
*রামাই-আনন্দ-কোলেতে জন্ম এই নিজধাম।।*
*দক্ষিণে নিবাস হয়,আইনু গৌড় দেশে।*
*বর্ধমানে রহি দুইজন বিষয়কর্ম-রসে।।*
*🌻এতেই জানা যায় যে,উড়িষ‍্যার অন্তঃর্গত যাজপুরের অধীন রামাই-আনন্দকোল নামক গ্রামে এদের পারিবারিক বাসস্থান ছিল।*
*(২)বাণীনাথের পৌত্র গোবিন্দানন্দ, কটক নগরে রাজধানী স্থাপন করেন।সম্ভবতঃ এঁরা জমিদার ছিলেন।*
*(৩)গোবিন্দানন্দের মৃত‍্যুর পর, রাজা তাঁর পুত্রদ্বয়কে সাতখানি গ্রাম দিয়ে, অবশিষ্ট সম্পত্তি খাস করেন।*
*(৪)রাজা রামানন্দ রায়ের শাসনাধীন বিদ‍্যানগরেও এই কাল পর্যন্ত এঁদের বাসভবন ছিল।(৫)নিত‍্যানন্দ রায় পৈতৃক সম্পত্তি হারা হয়ে পরিজনকে বিদ‍্যানগরের পুরাতন বাড়ীতে রেখে,বঙ্গদেশে আগমন করেন। তিনি বর্ধমান নগরে নিজ বিষয় কার্য‍্য করেন এবং এখানে এক বাসভবন নির্মাণ করে মনোহরের সঙ্গে একসঙ্গে বাস করেন। এই সময়েই তাঁদের মা পরলোক গমন করেন।*
*(৬)নিত‍্যানন্দ রায় বর্ধমানে প্রচুর সম্পত্তি করেছিলেন।উক্ত গ্রন্থে যা লিখা ছিল তাইই লিখলাম।*
*🌻যাইহোক,শ্রীশ্রীমহাপ্রভু এক একটি অন্তরঙ্গ ভক্ত দ্বারা জগতে এক এক তত্ত্ব প্রকটন করেন।তিনি রায় রামানন্দ দ্বারা প্রেমভক্তি তত্ত্ব প্রকটিত করেছেন।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
         ꧁ ৯. শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 প্রথম ভাগ 
             ꧁   শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(০৯)🙌শ্রীরামানন্দ রায়🙌*
*🌹🌹🌹পরিচয়🌹🌹🌹*
****************************
*🌻যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে পায়*
*সন্ন‍্যাসী পন্ডিতগণের করিতে গর্বনাশ।*
*নীচ শূদ্র দ্বারা করেন ধর্মের প্রকাশ।।*
*ভক্তি-তত্ত্ব প্রেম কহে রায়ে করি বক্তা।*
*আপনি প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র সহ হয় শ্রোতা।।*
*হরিদাস দ্বারায় নাম-মাহাত্ম‍্য প্রকাশ।*
*সনাতন দ্বারায় ব্রজের ভক্তিসিদ্ধান্তবিলাস।।*
*শ্রীরূপ দ্বারায় ব্রজের প্রেমরস-লীলা।*
*কে বুঝিতে পারে গম্ভীর চৈতন‍্যের খেলা।।*
*চৈতন‍্যের লীলা এই অমৃতের সিন্ধু*
*ত্রিজগৎ ভাসাইতে পারে যার একবিন্দু।।*
*🌻শ্রীমন্মহাপ্রভুর লীলার এই এক মহা বৈচিত্র্য যে,তিনি শতমুখে ভক্তের গুণ প্রকটন করে ভক্ত-মাহাত্ম‍্য বর্ধন করতেন।তাই শ্রীচরিতামৃতকার লিখেছেন=*
*ভক্ত প্রকাশিত গৌর ভাল জানে।*
*নানা ভঙ্গীতে গুণ প্রকাশি নিজ লাভ মানে।।

*🌻শ্রীবল্লভ ভট্টের নিকট মহাপ্রভু বলেন=*
*রামানন্দ রায় মহাভাগবত প্রধান।*
*তেঁহো জানাইল,কৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান।।*
*তাতে প্রেমভক্তি পুরুষার্থ শিরোমণি।*
*রাগমার্গে প্রেমভক্তি সর্বাধিক জানি।।*
*দাস‍্য সখ‍্য বাৎসল‍্য মধুর ভাব আর।*
*দাস সখা গুরু কান্ত আশ্রয় যাহার।।*
*ঐশ্চর্য‍্য জ্ঞানযুক্ত কেবলাভাব আর।*
*ঐশ্চর্য‍্য জ্ঞানে না পাইল ব্রছেন্দ্র কুমার।।*
*শুদ্ধ ভাবে সখা করে স্কন্ধে আরোহণ।*
*শুদ্ধ ভাবে ব্রজেশ্বরী করিল বন্ধন।।*
*"মোর সখা,মোর পুত্র" এই শুদ্ধ মন।*
*অতএব শুক ব‍্যাস করে যারে প্রশংসন।।*
*ঐশ্চর্য‍্য দেখিলেহো শুদ্ধের নহে ঐশ্চর্য‍্য জ্ঞান।*
*অতএব ঐশ্চর্য‍্য হইতে কেবল ভাব প্রধান।।*
*এ সব শিখাইল মোরে রায় রামানন্দ।*
*অনর্গল রসবেত্তা,-- প্রেমসুখানন্দ।।*
*🌻রস কাকে বলে,অনর্গল রসই বা কি,মানুষের সীমাবদ্ধ সঙ্কীর্ণ ভাষায় তা প্রকাশ করা অসম্ভব।রায় রামানন্দের সঙ্গে যখন মহাপ্রভুর এই প্রেমতত্ত্বের ও রসতত্ত্বের আলাপ হয়,তখন রামরায় বলেছিলেন=*
*কৃষ্ণকে আহ্লাদে,--- তাতে নাম আহ্লাদিনী।*
*সেই শক্তিদ্বারে সুখ আস্বাদে আপনি।।*
*সুখরূপে কৃষ্ণ করে সুখ আস্বাদন*।
*ভক্তগণ সুখ দিতে হ্লাদিনী কারণ*।।
*হ্লাদিনীর সার অংশ-- তার প্রেম নাম।*
*আনন্দ-চিন্ময় রস প্রেমের আখ‍্যান।।*
*🌻কৃষ্ণতত্ত্ব,রাধাতত্ত্ব,রসতত্ত্ব ও প্রেমতত্ত্ব সম্বন্ধে শ্রীরাম রায়ের সিদ্ধান্ত কিরকম গভীর এবং কীদৃশ (কেমন বা কিরকম)দার্শনিকতায় পরিপূর্ণ,এই কয়েকটি পংক্তি পাঠেই তার যথেষ্ট আভাস পাওয়া যায়। শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর কথিত উদ্ধৃত(কোন উক্তি বা রচনা থেকে গৃহীত) বাক‍্যে প্রতিপন্ন(প্রমাণসিদ্ধ) হয়েছে যে শ্রীরায় রামানন্দ প্রকৃতপক্ষেই "প্রেমসুখানন্দ" এবং "অনর্গলরসবেত্তা"। লৌকিক রস,পরিণামবিরস,পঙ্কিল ও বিষয়দুষ্ট ; কিন্তু প্রেমরূপ-আনন্দচিন্ময় রস অনর্গল। গোপীগণ এই আনন্দচিন্ময়রস প্রতিভাবিতা।সে রসের কথা এখন কিছু বলব না।সে এক মহাসাগর, এর কুল-কিনারা নেই,বলতে গেলে ভেসে যাব, সুতরাং সে সম্বন্ধে কোনও কথা এখন বলা হবে না।যথাস্থানে কিঞ্চিৎ আলোচনা করা হবে। এস্থলে শ্রীরামরায়ের সম্বন্ধে আরও কিঞ্চিৎ পরিচয় দিচ্ছি।শ্রীরামরায়ের ব‍্যক্তিগত ঐতিহাসিক পরিচয় প্রদানের প্রয়াস (চেষ্টা) ও উপাদান আমাদের অতি সামান্য। কিন্তু তাঁর অসাধারণ পান্ডিত‍্য, অতি গভীর প্রেমরসতত্ত্বাদির জ্ঞান এবং শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের উজ্জ্বলতম দার্শনিক তত্ত্বপ্রকাশ-গৌরব-বৈভবের যথেষ্ট প্রমাণ নিদর্শন আছে।শ্রীচরিতামৃতকার লিখেছেন=*
*রামানন্দ রায়ে মোর কোটী নমস্কার।*
*যাঁর মুখে কৈল প্রভু রসের বিস্তার।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*মহাপ্রভুর ভক্তগণের দুর্গম মহিমা*।
*তাহে রামানন্দের ভাবভক্তিপ্রেমসীমা।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*গৃহস্থ হইয়া রায় নহে ষড়্ বর্গের বশে।*
*বিষয়ী হইয়া সন্ন‍্যাসীরে উপদেশে।।*
*🌻 এই সন্ন‍্যাসীটি কে? ইনি আমাদের স্বয়ং ভগবান্ শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর।যিনি স্বয়ং জগৎগুরু, স্বয়ং ভগবান্ তিনি রামানন্দ রায়ের নিকট উপদেশ গ্রহণ করেছেন।তাঁর প্রশ্নের ভঙ্গি শুনুন।*
*কৃষ্ণের স্বরূপ কহ রাধিকা-স্বরূপ*।
*রস কোন তত্ত্ব-প্রেম কোন্ তত্ত্বরূপ।।*
*কৃপা করি এই তত্ত্ব কহত আমারে*।
*তোমা বই কেহ ইহা নিরুপিতে নারে।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*সার্বভৌম সঙ্গে মোর মন নির্মল হইল।*
*কৃষ্ণভক্তি তত্ত্বকথা তাঁহারে পুছিল।।*
*তেঁহ কহে আমি নাহি জানি কৃষ্ণকথা।*
*সবে রামানন্দ জানে তিঁহ নাহি হেথা।।*
*তোমার ঠাঁই আইলাম তোমার মহিমা শুনিয়া।*
*তুমি মোরে স্তুতি কর সন্ন‍্যাসী জানিয়া।।*
*কিবা বিপ্র কিবা ন‍্যাসী শূদ্র কেনে নয়।*
*যেই কৃষ্ণ তত্ত্ববেত্তা সেই গুরু হয়*।।
*সন্ন‍্যাসী বলিয়া মোরে না কর বঞ্চন।*
*রাধাকৃষ্ণ তত্ত্ব কহি পূর্ণ কর মন।।*
*🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
         ꧁ ১০. শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 প্রথম ভাগ 
             ꧁   শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১০)🙏শ্রীরামানন্দ রায়🙏*
        *🌹🌹পরিচয়🌹🌹*
      °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌻রায় রামানন্দ বস্তুটি কি? প্রদ‍্যুম্ন মিশ্রকে মহাপ্রভু কিরকম উপদেশ করে কৃষ্ণকথা শ্রবণ করতে রাম রায়ের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। প্রেমের ঠাকুর, অখিলরসামৃতমূর্তি শ্রীগৌরসুন্দর রামরায়ের মুখে অকৈতব(অকপট) কৃষ্ণপ্রেমের অনর্গল চিন্ময়রসের যে মহাতত্ত্ব প্রকটন করেন,সে তত্ত্ব মানুষের পক্ষে এক অদ্বিতীয় শুভকর আশীর্বাদ।সেই তত্ত্বের কিঞ্চিৎ আলোচনা করাই এই সন্দর্ভের উদ্দেশ্য।সেই সকল তত্ত্ব শুনে=*
*প্রভু কহে আইলাম শুনি তোমার গুণ।*
*কৃষ্ণকথা শুনি শুদ্ধ করাইতে মন*।।
*যৈছে শুনিল,তৈছে দেখিল তোমার মহিমা।*
*রাধাকৃষ্ণ প্রেমরস-জ্ঞানের তুমি সীমা।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*নীলাচলে তুমি আমি রহিব এক সঙ্গে।*
*সুখে গোঙাইব কাল কৃষ্ণকথা রঙ্গে।।*
*🍀শেষলীলায় সত‍্যসঙ্কল্প শ্রীগৌরাঙ্গ সুন্দর এই বাক‍্যের সার্থকতা করেছিলেন।শ্রীরামানন্দ রায় নীলাচলে এসে পরমকরুণাময় পতিতপাবন গৌরহরির সঙ্গে সুখময়ী কৃষ্ণকথায় জীবনের শেষভাগ অতিবাহিত করেছিলেন। আমার সেই প্রাণের স্বরূপ-দামোদর ও প্রাণের এই রামরায় শ্রীকৃষ্ণ বিরহাকুল শ্রীগৌরাঙ্গের শেষ লীলায় নিত‍্যসহচর, যেন কৃষ্ণবিরহিনী যোগিনী শ্রীমতী রাধিকার পার্শে ললিতা ও বিশাখা।*
*🌺শেষলীলায় নীলাচলে কিরকম কৃষ্ণকথা হ'ত,সেই কথা মনে হওয়ায় পদকর্তা চন্ডীদাসের একটি পদ মনে পড়ল ; পদটি এই=*
*যমুনা যাইয়া , শ‍্যামেরে দেখিয়া,*
        *ঘরে আইল বিনোদিনী।*
*বিরলে বসিয়া, কান্দিয়া কান্দিয়া,*
       *ধেয়ায় শ‍্যামরূপ খানি।।*
*নিজ করোপরে,রাখিয়া কপোল,*
       *মহা যোগিনীর পারা।*
*ও দুটি নয়নে, বহিছে সঘনে,*
        *শ্রাবণ মেঘেরি ধারা।।*
*হেন কালে তথা ,আইল ললিতা,*
        *রাই দেখিবারে তরে।*
*সে দশা দেখিয়া, ব‍্যথিত হইয়া,*
         *তুলিয়া লইল কোলে।।*
*নিজ বাস দিয়া, মুছিয়ে পুছয়ে,*
         *মধুর মধুর বাণী।*
*আজু কেনে ধনি, হয়েছ এমনি,*
        *কহনা কি লাগি শুনি।।*
*আজনম সুখী, তুমি বিধুমুখী,*
          *কভু না হেরিয়া আন।*
*আজ কেন বল, কান্দিয়া ব‍্যাকুল,*
          *কেমন করিছে প্রাণ।।*
*চাঁচর চিকুর , কিছু না সম্বর,*
       *কেনে হইলে অগেয়ান।*
*চন্ডীদাস কহে, বেজেছে হৃদয়ে,*
        *শ‍্যামের পিরীতি বাণ।।*
*🙏নীলাচলে কৃষ্ণকথা, কেবল অবিরল অশ্রুজল!স্বরূপ-দামোদর ও রামরায় সেই অশুজলের অংশী,সাক্ষী ও মর্মসখা।আগেই বলেছি এসব কথা এখানে তুলব না।শ্রীরামরায়ের পরিচয় সম্বন্ধে আর বেশী কিছু বলতে পারলাম না। শ্রীচরিতামৃতকার এক স্থানে লিখেছেন=*
*অনন্ত চৈতন‍্য-কথা কহিতে না জানি।*
*লোভে লজ্জা খেয়ে তার করি টানাটানি।।*
*এটি শ্রীপাদ কৃষ্ণদাস কবিরাজের উক্তি, এর পরে আর অন‍্যের কথা কি?*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
 ✧═══════════•❁❀❁•══════════✧
                                🙏 ক্রমশ 🙏
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧         
         ꧁ শ্রীরামানন্দ রায় 🙏 দ্বিতীয় ভাগ 
             ꧁   শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




adds