শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

১৩২. মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda132.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ১৩১. মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda131.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৩২. মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda132.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩২)শ্রীরামানন্দ রায়, বিশাখা,*
   *শ্রীমন্মহাপ্রভুর বৃন্দাবন যাত্রা*
   *****************************
*🌻শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামীওএই উক্তির প্রতিধ্বনি করে লিখেছেন=*
*🌷রামানন্দ আইলা পাছে দোলায় চড়িয়া।*
*🌷বাণীনাথ বহু প্রসাদ দিল পাঠাইয়া।।*
*🍁রামানন্দ কটকে ছিলেন। তিনি রাজা প্রতাপরুদ্রের সঙ্গে কটকেই থাকতেন, তখনও তিনি সম্পূর্ণরূপে রাজার সঙ্গে সম্বন্ধ বিচ্ছিন্ন করেননি।রাজা তখনও পূর্ণরূপে মহাপ্রভুর প্রেমপাত্র হননি।তিনি জানতেন রামরায়ের দ্বারাই তাঁর অভীষ্ট সিদ্ধ হবে এবং যে শেষ পর্যন্ত তাঁর অভীষ্ট সিদ্ধ না হয়, ততদিন পর্যন্ত রামরায়কে ছেড়ে দেওয়া যুক্তি সিদ্ধ নয়।মহাপ্রভু যখন ভবানীপুরে পৌঁছিলেন,রামরায় কটক হতে তখন সেখানে এসে উপস্থিত হলেন,পরদিন মহাপ্রভু ভুবনেশ্বর অভিমুখে যাত্রা করলেন।*
*🌺রামরায় মহাপ্রভুর সঙ্গে সঙ্গে চলিলেন।মহাপ্রভু রস-কোন্দল করতে খরতে বললেন "রামরায়,তুমি আমার সঙ্গে কেন?কটকে যাও," এই বলে মহাপ্রভু ফিরে দাঁড়ালেন, দাঁড়িয়ে বললেন, "তুমি আমার সঙ্গে গেলে* *আমি যাব না।" রামরায় বললেন, প্রভো!ভৃত‍্যকে ত‍্যাগ করিবেন না "।*
*আমি আপনার দাসানুদাস, সব অপরাধ ক্ষমা করে আমাকে সঙ্গে নিন।করুণাময় গৌরহরি তখন হেসে বললেন, বেশ তবে চল।*
*🌻রামরায় গৌরহরির বিরহ ক্ষণকালও সইতে পারতেন না।সুতরাং তিনি যতক্ষণ পারেন তাঁর সঙ্গে সথাকবেন, এই মনস্থ করলেন।ফলে মহাপ্রভু যখন তাঁকে ত‍্যাগ করে শ্রীধাম বৃন্দাবনে গিয়েছিলেন,তখন তাঁর বিরহ প্রকৃতই দুঃসহ হয়ে উঠেছিল। এ সম্বন্ধে শ্রীকবি কর্ণপুর লিখেছেন=*
*"🌷কিয়দ্দূরং ততো গত্বা বিররাম মহাপ্রভুঃ।*
*🌷শ্রীরামানন্দরায়েন প্রণয়দ্বন্দ্ববান্মিথঃ।।*
*🌷স ত‍্যক্তা গচ্ছতা তেন প্রভূনানুনরৈর্বহু।*
*🌷তর্পিতোহপি ন বৈ তৃপ্তিং জগাম ক্ষণমপ‍্যুত।।*
*🌷মনোজ্ঞদৃঙ্ নামনোজ্ঞবিভ্রমভ্রমণাকুলঃ।*
*🌷স তু প্রেমাস্পদস‍্যাস‍্য রামানন্দো মহানিধিঃ।।*
*🌷তদ্ লোকেন দুঃখেন কথঙ্কারং ভবিষ‍্যতি।।*
*🌻অতঃপরে যথাসময়ে ভুবনেশ্বরে উপস্থিত হয়ে মহাপ্রভু শ্রীভুবনেশ্বর দর্শন এবং সেই জায়গায় বিশ্রাম করলেন।তাঁর বিশ্রামের জন্য আগে থেকেই রামরায় নূতন ঘর নির্মাণ করে রেখেছিলেন।এই ঘরে গৌরহরি, পরমানন্দপুরী ও রামরায় কৃষ্ণকথায় সমস্ত রাত্রি অতিবাহিত করলেন, যথা=*
*🌷তত্র নূতন গেহাদি কারয়িত্বা নিদেশতঃ।*
*🌷পুরা রামানন্দ রায়ো নিনায় প্রভুমঞ্জসা।।*
*🌷লেপিতং শুদ্ধমালোক‍্যং গৃহং তত্র কৃপানিধিঃ।*
*🌷উবাস পরম প্রীত‍্যা প্রেম্নোপাস‍্য চ তৈঃ সমং।।*
*🌷শ্রীরামানন্দ রায়েন কথয়া রজনীং যযৌ।।*
*🌺পরদিন সকালবেলা পরমানন্দপুরী ও মহাপ্রভু সেখান হতে প্রস্থান করলেন।রামরায় পেছন পেছন চলতে লাগলেন।অনন্তর তিনি গোপীনাথকে দর্শন করে কটক অভিমুখে যাত্রা করলেন।এদিকে করুণাসিন্ধু গৌরচন্দ্র  আসছেন, গজপতি প্রতাপরুদ্র এই সংবাদ শুনে নিজ হাতে সমস্ত ঘাট পরিস্কার করতে লাগলেন।মহাপ্রভু পরমানন্দপুরী প্রভৃতি ভক্তগণকে কটকে যেতে অনুমতি করে স্বয়ং কোনও ভক্তের আলয়ে বিশ্রাম করলেন।সেখান হতে কটকে শুভাগমন করে শ্রীগোপাল দর্শন করলেন।রামানন্দ রায় তাঁর বাসাবাড়ীর উদ‍্যানে মহাপ্রভুর সঙ্গীয় ভক্তগণকে নিমন্ত্রণ করলেন।কটকের বিশাল বাগানে তখন যে শুভ দৃশ্যের উদয় হয়েছিল, সুকবির বর্ণনাতেও তা প্রকাশ করা অসম্ভব। রায় রামানন্দের বিশাল উদ‍্যান। তাতে নানান রকম বৃক্ষ,চারিদিকে চম্পক,মালতী, কুরুবক প্রভৃতি নানানরকম ফুল ফুটে রয়েছে।একটি প্রকান্ড বকুল বৃক্ষ,খুবই উচা ঘন ঘন শাখা বিস্তার করে উদ‍্যানের মধ্যেখানে বিরাজমান।এই বিবরণ কবিকর্ণপুর অতি সুন্দর ভাষায় শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত-মহাকাব‍্যে বর্ণনা করেছেন।বৃক্ষটির তলদেশে গোলাকার পাথরের বেদী।ভোজন শেষে মহাপ্রভু তাতে বসিলেন, আর চারিদিকে ভক্তগণ তাঁকে ঘিরে বসলেন।*
*এদিকে রামরায় রাজার কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন রাজন!মহাপ্রভু সমাগত, এক্ষণে ভোজনান্তে এ অধমের বাইরের উদ‍্যানে বকুল-বেদিকায় বসে আছেন।আমি মনে করি তাঁর শ্রীচরণ সন্দর্শনের এখনই উপযুক্ত সময়। প্রতাপরুদ্র আর ক্ষণকাল বিলম্ব করলেন না।শ‍্যামসুন্দরের বাঁশী রবে বিবশা ব্রজবালার মতোআকুল হয়ে তিনি শ্রীগৌরাঙ্গ চরণ দর্শনের জন্য রামরায়ের উদ‍্যান অভিমুখে ধাবিত হলেন।উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলেন, বকুলমূলে নটবর রসিকশেখর শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর যেন মূর্তিমান রসের দেবতারূপে বিরাজ করছেন।সে রূপ লাবণ‍্য মাধুরী দেখে প্রতাপরুদ্র বিস্মিত ও বিহ্বল হয়ে পড়লেন।তাঁর সর্বাঙ্গ কাঁপতে লাগল।প্রেমের বৈদ‍্যুতিক শক্তি তাঁর সর্বাঙ্গে পরিব‍্যাপ্ত হয়ে পড়ল। তিনি অবশ হয়ে কাঁপতে কাঁপতে মহাপ্রভুর শ্রীচরণতলে গিয়ে পড়লেন।আর তৎক্ষণাৎ আবিষ্টের মতো উত্থিত হলেন,আবার দন্ডবৎ প্রণত হয়ে পড়লেন।প্রতাপরুদ্র প্রেম বিহ্বল ভাবে এইরকম বহুবার উঠলেন আবার প্রণাম করে, মহাপ্রভুর স্তব করতে লাগলেন। তাঁর দেহ প্রেমে পুলকাঞ্চিত হয়ে উঠিল।প্রেমাশ্রুতে বক্ষ ভিজে গেল।প্রতাপরুদ্র অচেতন ভাবে গৌরহরির চরণতলে দন্ডবৎ প্রণাম করে পড়ে রইলেন।করুণাময় মহাপ্রভু এবার আর স্থির থাকতে পারলেন না।ভক্তের ভগবান ভক্তের আর্তি দেখে দয়ার্দ্র হলেন।যে প্রতাপরুদ্র তাঁকে দর্শন করতে চাইলে তিনি "আকারদপি ভেতব‍্যং স্ত্রীণাং বিষয়িনামপি" এই শ্লোক বলে অমত প্রকাশ করতেন, আজ সেই প্রতাপরুদ্রকে তিনি প্রীতিময় আলিঙ্গন দান করে কৃতার্থ করলেন। গৌরহরির দুই নয়ন হতে শ্রাবণের ধারার মত অশ্রুধারা প্রবাহিত হতে লাগল।আর সেই নয়নজলে প্রতাপরুদ্রের মস্তক ভিজে গেল।*
*🙏জয় করুণাময় মহাপ্রভুর জয়🙏*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ১৩৩. মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda133.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






১৩১. মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda131.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ১৩০. মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda130.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৩১. মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda131.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩১)শ্রীরামানন্দ রায়,বিশাখা*
  *শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা*
<><><><<<<<<<><<<><><><><<
*🍀মহাপ্রভু বললেন--,তোমাদের অনুমতি ছাড়া আমি কিছুই করতে পারি না।গৌড়ের পথে যাব ; গমনকালে জননী ও জাহ্নবী দর্শন করে যাব।*
*🌷গৌড়দেশে হয় মোর দুই সমাশ্রয়।*
*🌷জননী জাহ্নবী এই দুই দয়াময়।।*
*🌷গৌড়দেশ দিয়া যাব তা সবা দেখিয়া।*
*🌷তুমি দোঁহে আজ্ঞা দেহ প্রসন্ন হইয়া।।*
*🌹এর পরে সার্বভৌম ও রামরায় আর অপত্তি করা সঙ্গত বোধ করলেন না। কিন্তু তথাপি তাঁকে বর্ষাকালে ছেড়ে দিবেন না,--বললেন, প্রভো!আর তোমায় বাধা দিব না,তুমি ইচ্ছাময়, তুমি স্বতন্ত্র,আমরা ক্ষুদ্রজীব, তুমি দয়া করে আমাদের বাঞ্জা পূরণ না করলে আমরা কি এই কয়েক মাস তোমার দর্শনানন্দ আস্বাদন করতে পারতাম?তবে একটা কথা এই চতুর্মাস‍্য অন্তে বিজয়া দশমীর দিনে যাত্রা করিও,তখন আর কোন বাধা দিব না। মহাপ্রভু বললেন,--তথাস্তু*
*শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর শ্রীবৃন্দাবনে যাবেন, এই দুঃসহ বিরহ-চিন্তায় শ্রীরামরায় অধীর হয়ে পড়লেন।তিনি চাতুর্মাস‍্যের শেষে বৃন্দাবনে যাত্রা করবেন,চাতুর্মাস‍্য শেষ প্রায়।রামরায় বিরহ-বেদনা দিন দিন বাড়তে লাগল। রামরায় আপন মনে বলতে লাগলেন, "আর কতদিন তাঁর গমনে বাধা দিব,আর কতদিন কি বলে রাখব?তিনি যখন বৃন্দাবন যাত্রার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়েছেন আর কতদিনই বা তাঁকে বাধা দিয়ে রাখব?ইনি বিজয়া দশমীর পরে যাত্রা করবেন, কিন্তু আমি তার আগেই দশমী দশায় পড়ে রয়েছি।মহাপ্রভুর বিরহে কি রকমভাবেই বা প্রাণ ধারণ করব? এইরকম ভেবে ভেবে রামরায় বিষণ্ণ হয়ে পড়লেন।*
*🌻মহাপ্রভু জননী ও জাহ্নবী দর্শন করে বৃন্দাবনে যাত্রা করবেন এই প্রস্তাব স্থির হল।নীলাচলে আবার এক বিষাদের ঘন-কৃষ্ণ-ছায়া দেখা দিল।ভক্তগণের মুখমন্ডল পরিম্লান বা অত‍্যন্ত মলিন ; সকলেরই ইচ্ছা তাঁরা গৌরহরির সঙ্গে গমন করেন, কিন্তু তিনি কাউকেও সঙ্গে নিবেন না। বায়ুর প্রবল নাড়াচাড়াই মধুগন্ধি মৃণালশোভা কমলকুসুম চঞ্চল হলেও ভ্রমরগণ যেমন উড়ে উড়ে সেই কুসুমের দিকেই ধাবিত হয়, শ্রীগৌরাঙ্গ-চরণাবিন্দে মকরন্দলুব্ধ (পুষ্মমধু লোভে) ভক্তমধুপগণও সেইরকম গমনশীল শ্রীগৌরাঙ্গের চরণযুগলাভিমুখে ধাবিত হতে লাগলেন।মহাপ্রভু শ্রীনীলাচলচন্দ্রের শ্রীমন্দির প্রদক্ষিণ করতে করতে স্তব পাঠ করতে রত হলেন,আর তৃষিত (পিপাসাযুক্ত)চকোরের মতো তাঁর শ্রীমুখচন্দ্র নিরীক্ষণ করতে লাগলেন।প্রদক্ষিণের পর দীর্ঘসময় মহাপ্রভু নির্নিমেষলোচনে (অপলকনয়নে) জগন্নাথদেবের মুখপঙ্কজ অভিমুখে তদগতভাবে চেয়ে চেয়ে যেন কত কথা বললেন,তাঁর দুইনয়ন হতে বিন্দু বিন্দু অশ্রু মণিমুক্তার মোহনমালার মতো বক্ষ বহিয়া গড়িয়ে পড়ল। তিনি  সাষ্টাঙ্গে প্রণত হলেন,নীলাচলচন্দ্রের কাছে বিদায় গ্রহণ করলেন, জননীর জন্য প্রসাদী বস্ত্র নিয়ে শ্রীধাম হতে গৌড়দেশ অভিমুখে যাত্রা করলেন।যথা শ্রীচরিতামৃতে=*
*🌷আনন্দে মহাপ্রভু বর্ষা কৈলা সমাধান।*
*🌷বিজয়া দশমী দিনে করিলা পয়াণ।।*
*🌷জগন্নাথের প্রসাদ প্রভু যত পাইয়াছিল।*
*🌷কড়ার চন্দন ডোর সব সঙ্গে লইল।।*
*🌷জগন্নাথের আজ্ঞা মাগি প্রভাতে চলিলা।*
*🌷উড়িয়াভক্তগণ সব পাছে চলি আইলা।।*
*🌻ভক্তগণের হৃদয় অনুদিন বা দিনের পর দিন শ্রীভগবানের প্রতি আকৃষ্ট। প্রিয়পাঠক, আপনি ব্রজগোপীদের প্রেমাকর্ষণের কথা শুনেছেন। গোপীগণ বাঁশীর রবে শ্রীকৃষ্ণের জন্য উন্মাদিনী হয়ে নিবিড় বনে গমন করতেন।কুল-শীল-মান বিপদ-আপদের কথা মনে রাখতেন না। বাঁশীর মোহন মধুরধ্বনি শুনে তাঁদের চিত্ত আকৃষ্ট ও আকুল হত। কিন্তু শ‍্যামের বাঁশী না বাজলেও গোপীকাকুল আকুল হয়ে কৃষ্ণের অনুসরণ করেছেন।বৃন্দাবনে প্রেমলীলার এইরকম ঘটনা বেশী দেখতে পাওয়া যায় না। কিন্তু এই গৌরাঙ্গলীলায় সেইরকম বাধাবিঘ্ন কিছুই ছিল না। সুতরাং গৌরাঙ্গ ভক্তগণ কোন দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে মহাপ্রভুর পদানুসরণে রত হতেন।গৌরাঙ্গসুন্দর বৃন্দাবন দর্শনের জন্য যাত্রা করলেন, আর ভক্তগণ ব‍্যাকুল হয়ে তাঁর অনুগমন করলেন। এই সম্বন্ধে শ্রীকর্ণপুর শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত মহাকাব‍্যে একাক্ষরময় একটি অদ্ভুত শ্লোক রচনা করেছেন, যথা=*

*"ললল্লীলো ললল্লীলো লোলো লোলো ললল্ললঃ।*
*লীলালোলোহ লিলীলালীং লীলালীং  লোললাংললুঃ।।"*
*🌹অর্থ‍্যাৎ মহাপ্রভু নীলাচল-লীলা পরিহার করে ব্রজগমনরূপ লীলায় রত হওয়ার জন্য চঞ্চল ও আকুল হলেন এবং সমস্ত ভক্তগণকে পরিত‍্যাগ করে বৃন্দাবনে যাত্রা করলেন। এদিকে মধুলুব্ধ ভ্রমরগণের মত ভক্তগণও সেই চঞ্চলমনা গৌরচন্দ্রকে ধরবার জন্য ব‍্যাকুলভাবে তাঁর পেছন পেছন গমন করতে লাগিলেন।*
*🌺এর তাৎপর্য‍্য এই যে ভ্রমরগণ যেমন বায়ুচালিত পদ্ম হতে বিক্ষিপ্ত ( এলোমেলো) হয়েও পুনঃপুনঃ সেটিতে বসতে চেষ্টা করে, মহাপ্রভুর পদানুরক্ত ভক্তগণও তদ্রুপ গমনচঞ্চল মহাপ্রভুর পাদপদ্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গমন করতে লাগিলেন। কিন্তু গৌরহরি কাউকেও সঙ্গে নিলেন না। তিনি একাকী বৃন্দাবন যাবেন বলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়েছেন। সুতরাং সকলকেই অনুগমন করতে নিষেধ করলেন। যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে=*
*🌷উড়িয়া ভক্তগণে প্রভু যত্নে নিবারিলা।*
*🌷নিজগণ সঙ্গে প্রভু ভবানীপুরে আইলা।।*
*🌺তদ্ যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত মহাকাব‍্যে ঃ------*
*🌷কাশীমিশ্রমুখাঃ সর্ব্বে পশ্চাৎ পশ্চাৎ সমাযযুঃ।"*
*🌷সমনুব্রজতস্তাং স্তান্ বিসসর্জ্জ কৃপানিধিঃ।।*
*🌷নিশাবসানে তৈরেতৈঃ কীর্তনদ্ভির্মুহুর্মুহুঃ।*
*🌷প্রতস্থে গানকলয়া লোলঃ শ্রীগৌরসুন্দরঃ।।*
*🌷গোবিন্দো জগদানন্দঃ শ্রীদামোদরপন্ডিতঃ।*
*🌷যতিশ্রেষ্ঠ পুরী স্বামী কীর্তয়ন্তঃ সমাযযুঃ।।*
*🌻মহাপ্রভু কাশীমিশ্র প্রভৃতি উড়িষ‍্যাবাসী ভক্তগণকে পুরীক্ষেত্র হতেই বিদায় দিলেন।তাঁর সঙ্গে সঙ্গে কেবল গোবিন্দ,জগদানন্দ, দামোদর পন্ডিত এবং পন্ডিতবর পরমানন্দপুরী কীর্তন করতে করতে ভবানীপুর পর্য‍্যন্ত শুভাগমন করিলেন।*
*☘অতঃপর রায় রামানন্দ কটক হতে দোলায় চড়ে ভবানীপুরে উপস্থিত হলেন এবং মহাপ্রভুর সঙ্গে মিলিত হলেন, যথা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত মহাকাব‍্যে=*
*🌷ততোহনু দোলামারুহ‍্য শ্রীরামানন্দরায়কঃ।*
*🌷এতদীয়াশ্চ যে চান‍্যে সমেতাস্তে ত আযযুঃ।।*
*🌷শ্রুত্বা সর্ব্বে জনাস্তত্র স্ত্রীপুমাংসঃ সমন্ততঃ।*
*🌷হরিং বদেতি সোৎকন্ঠং বদন্তো ভূয় আযযুঃ।।*
*🍀অর্থ‍্যাৎ তারপরে শ্রীরামানন্দ রায় দোলায় চড়ে এসে উপনীত হলেন এবং অন‍্যান‍্য ভক্তগণও আগমন করিলেন।সেখানে কি স্ত্রী, কি পুরুষ সকলেই মহাপ্রভুর কথা শুনে উৎকণ্ঠার সঙ্গে পুনঃপুনঃ হরিধ্বনি করতে করতে সেখানে এসে উপস্থিত হলেন।*
           *ক্রমাগত*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ১৩২. মহাপ্রভুর শ্রীবৃন্দাবন যাত্রা👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda132.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






সনাতন শব্দের অর্থ পূর্বতন, অদ্যতন, ভবিষ্যম্। যা আগে ছিল, কতদিন আগে ছিল ❓ সেবা বিগ্রহ নিত্যানন্দ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/nityananda.html

 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সনাতন শব্দের অর্থ পূর্বতন, অদ্যতন, ভবিষ্যম্। যা আগে ছিল, কতদিন আগে ছিল ❓ সেবা বিগ্রহ নিত্যানন্দ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/nityananda.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
_*🪷 সেবা বিগ্রহ নিত্যানন্দ🪷*_

 *সনাতন শব্দের অর্থ পূর্বতন, অদ্যতন, ভবিষ্যম্। যা আগে ছিল, কতদিন আগে ছিল? কেউ বলতে পারবে না, কেননা এটা অনাদি। সময়ে সময়ে যুগের উপযোগী করে ধর্ম পরিবেশন করার প্রয়োজন পড়ে। যেমন বেদব্যাস একই বেদ চার ভাগে বিভাজন এবং বেদাঙ্গ, ব্রহ্মসূত্র, পুরাণ, মহাভারত আদি আনয়ন করলেন। প্রণয়ন নয় আনয়ন করলেন। কেননা সনাতন গ্রন্থ আগেও ছিল। যুগের প্রয়োজনে যেগুলো দরকার সামনে নিয়ে আসতে হয়। সনাতন ধর্মই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ধর্ম, অন্য সব মতবাদ। এই সনাতন ধর্মে সব কিছুর বর্ণন রয়েছে। যেমন আমরা শ্রীমদ্ভাগবতে দেখতে পাই যবনের কথা, কালযবন তিন কোটি সৈন্য নিয়ে মথুরা আক্রমণ করেছিলেন। অধর্মের সমান্তরালে তাদেরও বৃদ্ধি হয়। আরো যত অধর্মের বৃদ্ধি হবে যবনেরও সেই পরিমানে বৃদ্ধি হবে। খ্রিস্ট মতবাদ, বৌদ্ধ মতবাদ, ইসলাম মতবাদে একজনই আরাধ্য, দ্বিতীয় নেই। কিন্তু মানুষ তিন প্রকার সাত্ত্বিক প্রকৃতির, রাজসিক প্রকৃতির, তামসিক প্রকৃতির। সনাতন ধর্মে সব রকমের উপাসনার নিদান দেওয়া রয়েছে। কেননা সনাতনধর্ম পূর্ণাঙ্গ ধর্ম। নিজ নিজ রুচি অনুসারে উপাসনা করবে। যার যতটা শক্তি ততটুকু জ্ঞান আহরণ করতে পারবেন। কেউই সব জানতে পারেন না। যিনি মনে করেন আমি সব জানি। তিনি যত বড়ই পন্ডিত অথবা শাস্ত্রী হোন না কেন তিনি নিশ্চয়ই অজ্ঞ।তিনি যদি ব্যাসগদিতে বসেনও তথাপি জানতে হবে তার ব্যাসদেবের কৃপা লাভ হয় নাই।* 
*কালে কালে সনাতন ধর্মের অনেক উত্থান পতন হয়েছে, অনেক ঝড়-ঝঞ্ঝা বয়ে গেছে।*
*পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রারম্ভিক মুহূর্তে পুনরায় বিপর্যয় নেমে এসেছিল। একদিকে গোঁড়া ব্রাহ্মণদের জাত-পাতের বিভেদ মূলক বৈষম্য, ছুৎমার্গীয় নির্যাতন অপরদিকে ইসলামিক আগ্রাসন ও ঘৃন্য পৈশাচিক উৎপীড়ন। উভয়ের নিষ্পেষণে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দিশেহারা হয়ে ধর্মান্তরিত হয়ে যাচ্ছিল। সেই যুগসন্ধিক্ষণে বঙ্গদেশে এক সাম্যবাদী মহাবিপ্লবীর আবির্ভাব হয়েছিল, যার নাম ছিল নিত্যানন্দ। সর্বপ্রথম নিত্যানন্দই অসীম সাহসিকতায়, প্রবল পরাক্রমী ব্রাহ্মণদের বিষম বিরোধ উপেক্ষা করে, জাত-পাতের বেড়া ভেঙে, অচ্ছুৎ-অপাংতেয়, শোষিত-পীড়িত-নির্যাতিতদের এক ছত্রছায়াতলে নিয়ে এসেছিলেন। সকলকে এক প্রেমের মন্ত্র শুনিয়েছিলেন। ভালোবাসা দিয়ে সকলকে আপন করে নিয়েছিলেন। চৈতন্যের নির্দেশে সকলকে হরিনাম দিয়ে চিত্তশুদ্ধি করে চির অনর্পিত রাধাদাস্য দান করেছিলেন।* (বিস্তারিত জানতে বিলাপ কুসুমাঞ্জলী দ্রষ্টব্য) 
*সেই নিত্যানন্দের  প্রথম এবং প্রধান শিষ্য ঠাকুর বৃন্দাবন দাস। ছোট থেকেই বৃন্দাবনকে নিজের হাতে মানুষ করেছিলেন। লেখাপড়ায় শাস্ত্র-চর্চায় সবকিছুতেই পারঙ্গত করেছিলেন। একান্তে বসে নিজের মনের কথা, হৃদয়ের ব্যথা, গৌর কথা, সরহস্য নিজ স্বরূপ-তত্ত্ব সবই বলেছিলেন, শুধু বলেই ক্ষান্ত হন নাই, কৃপাশক্তি সঞ্চারও করেছিলেন। নিজের মনোবৃত্তি তার হৃদয়ে প্রতিস্থাপন করে সাধ্য-সাধন তত্ত্বের অনুভব দান করেছিলেন।* 
*সেই নিত্যানন্দ কৃপাধন্য বৃন্দাবন দাস ঠাকুর তাঁর হৃদয়ের স্বতঃস্ফূর্ত ভাব উৎসারিত হয়েছিল, অন্তরে বাইরে নিতাইকেই দেখেছিলেন। জগতের সব কিছুতেই নিতাই দর্শন হচ্ছিল। নিত্যানন্দময় জগত দেখতে পাচ্ছিলেন। ভাবের আবেশে স্ফূর্তি হল -*
 *অন্তরে নিতাই বাহিরে নিতাই নিতাই জগতময়।  নাগর নিতাই নাগরী নিতাই নিতাই কথা সে কয়।।*
 *সাধন নিতাই ভজন নিতাই নিতাই নয়ন তারা। দশদিক ময় নিতাই সুন্দর নিতাই ভুবন ভরা।।*
 *রাধার মাধুরী অনঙ্গ মঞ্জরী নিতাই নিতু সে সেবে।  কোটি শশধর বদন সুন্দর সখা সখী বলদেবে।।*
 *রাধার ভগিনী শ্যাম সোহাগিনী সব সখীগণ প্রাণ।  যাহার লাবনী মণ্ডপ সাজনি শ্রীমণিমন্দির নাম।।*
 *নিতাই সুন্দরে যোগপীঠে ধরে রত্ন সিংহাসন শেজে।  বসন নিতাই ভূষণ নিতাই বিলসে সখীর মাঝে।।*
 *কি কহিব আর নিতাই সবার আঁখি মুখ সর্ব অঙ্গ।  নিতাই নিতাই নিতাই নিতাই নিতাই নতুন রঙ্গ।।*
 *নিতাই বলিয়া দুবাহু তুলিয়া চলব বরজ পুরে।  দাস বৃন্দাবন করে নিবেদন নিতাই না ছাড়িও মোরে।।*
*হৃদয়ের ভাবাবেগ আরো বৃদ্ধি পেল। নিতাই চাঁদের স্বরূপ দর্শন হতে লাগলো। সেই আবেশে পুনরায় লিখলেন-* 
*নিতাই নাগর রসের সাগর সকল রসের গুরু।*
 *যে যাহা চায় তারে তাহা দেয় বাঞ্ছা কল্পতরু।।*
*নিতাই, - রাধার সমান কৃষ্ণ করে মান সতত থাকয়ে  সঙ্গে। নিশি দিশি নাই ফিরয়ে সদাই কৃষ্ণ কথা রসরঙ্গে।।*
*বসি বাম পাশে মৃদু মৃদু হাসে প্রাণনাথ বলি ডাকে। রাধার যেমন মনের বাসনা তেমতি করিয়া থাকে।।*

*সোনার কেতকি রসের মূরতি সাধিতে মনের সাধা। দাস বৃন্দাবন করে নিবেদন দেখিতে নিতাই রাধা।।*
*শুধুমাত্র ভাবাবেশেই গাইলেন না তার প্রমাণও দিলেন ব্রহ্মাণ্ড পুরাণে ধরণী শেষ সংবাদে -*
_*নিত্যা শ্রীরাধিকানাম আনন্দো রসবিগ্রহঃ। উভয়োর্মিলনান্নাম নিত্যানন্দো বসুন্ধরে।*_
মহাপ্রভু বলেছেন সর্বত্র প্রমাণ দিবে পুরাণ বচন তাই নিজের মনগড়া কিছু না বলে শাস্ত্র প্রমাণসহ উদ্ধৃত করা হলো। 
স্বয়ং মহাপ্রভু বললেন 
*অতিগূঢ় নিত্যানন্দ এই অবতারে।*
সকলেই বুঝতে পারবে না। *অতএব কহি কিছু করিয়া নিগুঢ়। বুঝিবে রসিক ভক্ত, না বুঝিবে মূঢ়।।* 
*সেবক তত্ত্ব, আশ্রয় তত্ত্ব, সেবাবিগ্রহ নিত্যানন্দ।* 
*মর্যাদা পুরুষোত্তম  রামজীর অনুজ ভ্রাতা রূপে সেবা করেছেন। ছোট ভাই বলে রামজী অনেক দুঃখ-কষ্ট ভোগ করলেও মুখে কিছু বলতে পারেন নাই। তাই কৃষ্ণলীলায় বড় ভ্রাতা হয়ে আসলেন। শাসনে সোহাগে সেবা করেছেন। লীলা পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণের সহায়ক, রক্ষক, উপদেষ্টা রূপে সেবায় সংলগ্ন থেকেছেন।*
 *সেই কৃষ্ণ রাধা ভাবকান্তি অঙ্গীকার করে একীভূত হয়ে যখন গৌরাঙ্গ রূপে আবির্ভূত হলেন, তখন তার ভাবানুকূল হয়ে প্রকট হলেন নিত্যানন্দ। যুগল না হলে যুগলের সেবা হবে না।* *তাই বলরাম-অনঙ্গ মঞ্জরী মিলিত হয়ে নিত্যানন্দ রূপে আসলেন সেব্যের সুখ বিধানের নিমিত্ত।* 
তথাহি- *স্বাসাং মধ্যে বিরোচিতানঙ্গেহানঙ্গমঞ্জরী। পরোক্ষে প্রকৃতিশ্চৈব প্রত্যক্ষে পুরুষস্তথা।।*
*ভাবনিধি গৌরহরি। ভাবের সমুদ্রে যখন যে তরঙ্গ উঠে সেই ভাবেই তরঙ্গায়িত হন নিত্যানন্দ। গৌর রাধাভাবে আবিষ্ট হলে নিতাই কৃষ্ণ রূপে বিরহ দূর করেন। কৃষ্ণভাবের উদ্দীপন হলে রাধা ভাবে বামে বসে রসপুষ্টি করেন। *বসি বাম পাশে মৃদু মৃদু হাসে, প্রাণনাথ বলি ডাকে।*
*সেবাবিগ্ৰহ নিত্যানন্দের সেবাই পরম লক্ষ্য, সেবায় পরম ধর্ম। সেবা মানে সুখ দেওয়া। যেভাবে সাজলে, যে আচরণ করলে সেব্য সুখী হবেন, তিনি তাই করতেন। *আতপে শীতলং ছত্রং, নিদাঘে শীতলোঽনিলঃ। শয়নে দিব্যপর্যঙ্কো রমণে প্রাণবল্লভা।। গমনে পাদুকারূপী রহস্যে সখীরূপকঃ। কৃষ্ণেঽপি সর্বদাতা চ সর্ব্বকার্য্যে সহায়বান্। স এব কলিকালেঽস্মিন্ নিত্যানন্দো ভবিষ্যতি।।* *এছাড়াও গৌরহরি যখন যে আদেশ করেছেন তা নির্বিচারে পালন করেছেন। প্রতি বৎসর নীলাচলে আসতে নিষেধ করলেন এবং গৌড়মন্ডলে গিয়ে বিবাহ করে নাম-প্রেম প্রচার করতে বললেন। নিতাই চাঁদ বিনা বাক্য ব্যয়ে তাঁর আজ্ঞা স্বীকার করে নিলেন। এতোটুকু ভাবলেন না, লোক কি ভাববে, সমাজ কি বলবে! এই বয়সে বিবাহ করলে! এই হল সেবকের স্বরূপ। তুমি যাতে সুখ পাও। *ত্বৎ সুখে সুখিত্বম্।*
অলমিতি।
জয় নিতাই।
 জয় গৌর হরি।।🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ꧁👇📖 সূচীপত্র 🙏 শ্রী গোপীশরণ দাস 📖👇꧂

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






শ্রীবলরাম 🏵️ শ্রাবণী পূর্ণিমা 🌷 ঝুলন পূর্ণিমা 🙇 শ্রীবলরামের আবির্ভাব তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/balaram.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীবলরাম 🏵️ শ্রাবণী পূর্ণিমা 🌷 ঝুলন পূর্ণিমা 🙇 শ্রীবলরামের আবির্ভাব তিথি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী দীপ বাগুই 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/balaram.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*শ্রীবলরাম 🏵️ শ্রাবণী পূর্ণিমা 🌷 ঝুলন পূর্ণিমা 🙇  শ্রীবলরামের আবির্ভাব তিথি।*
 
দ্বাপর যুগে কৃষ্ণ লীলায় কৃষ্ণের অগ্রজ(দাদা) রূপে শ্রীবলরাম দেহ ধারণ করেন।#পিতা_বসুদেব এবং #মাতা_রোহিণীর  সন্তান রূপে শ্রীবলরাম প্রকট হন।  শ্রীবলরাম কখনোই কৃষ্ণের থেকে পৃথক সত্ত্বা নন।কৃষ্ণ হলেন স্বয়ং ভগবান।রাম-বলরাম আদি সব অবতার পুরুষগণ এই কৃষ্ণের অংশ বা কলা ।দৈত্যনিপীড়িত লোককে যুগে যুগে এনারা রক্ষা করেন।

*#এতে_চাংশকলাঃ_পুংসঃ_কৃষ্ণস্তু_ভগবান্_স্বয়ম্।  #ইন্দ্রারিব্যাকুলং_লোকং_মৃড়য়ন্তি_যুগে_যুগে।।*

সুতরাং কৃষ্ণের অংশই হলেন বলরাম।সেই কারণে কৃষ্ণ আর বলরাম দুজনেই অভিন্ন সত্ত্বা।লীলাবিলাস কারণে দুজনে দুইদেহ ধারণ করেছেন মাত্র। 
*#একই_স্বরূপ_দোঁহে_ভিন্নমাত্র_কায়।  #আদ্য_কায়ব্যূহ_কৃষ্ণলীলার_সহায়।।*

অর্থাৎ কৃষ্ণ লীলাকে পরিপুষ্ট করার জন্যই তাঁর দেহধারণ।সঙ্কর্ষণ বিষ্ণু, কারণাব্ধিশায়ী বিষ্ণু, গর্ভোদশায়ী বিষ্ণু,পয়োব্ধিশায়ী বিষ্ণু এবং শ্রী অনন্তদেব(শেষনাগ) এই পঞ্চরূপেই শ্রী বলরামের প্রকাশ। যদিও বলরাম মূলতঃ সঙ্কর্ষণ তত্ত্ব তথাপি এই পাঁচ রূপেই তিনি কৃষ্ণ সেবা করতে উন্মুখ। 
*#শ্রী_বলরাম_গোসাঞি_মূল_সঙ্কর্ষণ । #পঞ্চরূপ_ধরি_করেন_কৃষ্ণের_সেবন।।*

প্রথম চারতত্ত্বে তিনি কৃষ্ণের জগত সৃষ্টির কার্য নির্বাহ করেন।এবং অনন্ত দেব(শেষনাগ) রূপে তিনি কৃষ্ণের  অঙ্গসেবাদি কার্য করেন। সেই কৃষ্ণই যখন লীলাবিলাস কালে দেহধারণ করেন তখন অনন্ত দেবও বলরাম রূপে দেহধারণ করেন। 
*#সৃষ্ট্যাদিক_সেবা_তার_আজ্ঞার_পালন।  #শেষ_রূপে_করে_কৃষ্ণের_বিবিধ_সেবন।।*

এই কৃষ্ণই ত্রেতাতে অযোধ্যাপতি রামচন্দ্র রূপে এসেছিলেন।এবং লীলাসহায়কারী বলরাম লক্ষ্মণ রূপে এসেছিলেন।কিন্তু ত্রেতাতে লক্ষ্মণ ছিলেন রামচন্দ্রের কনিষ্ঠ ভাই-বয়সে ছোট। সেই কারণে রামচন্দ্রের সমস্ত দুঃখ কষ্ট নীরবে সহ্য করেছেন। মুখ ফুটে কিছু বলতে পারেন নি। তাই কৃষ্ণ লীলাতে অগ্রজ-বয়সে বড় দাদা রূপে বলরাম হয়ে এসেছেন।অভিভাবক সুলভ মনোভাব ব্যক্ত করেছেন।সবটাই সেবাসুখ আস্বাদন করবার জন্যে ।
*#রামের_চরিত্র_সব_দুঃখের_কারণ।  #স্বতন্ত্র_লীলার_দুঃখ_সহেন_লক্ষ্মণ।।*

*#নিষেধ_করিতে_নারে_যাতে_ছোটো_ভাই।  #মৌন_ধরি_রহে_লক্ষ্মণ_মনে_দুঃখ_পাই।।*
*#কৃষ্ণ_অবতারে_জ্যেষ্ঠ_হৈলা_সেবার_কারণ। #কৃষ্ণ_কে_করাইল_নানা_সুখ_আস্বাদন ।।*

বৃন্দাবনলীলা থেকে লীলাবসান পর্যন্ত বলরাম কৃষ্ণের সহায়তা করেছেন।কখনো অনুকূলে কখনো প্রতিকূলে।সেবার মূর্তিমন্ত প্রতীক হলেন বলরাম। এই বলরাম স্বরূপ কলিযুগে শ্রীগৌরাঙ্গ লীলাতে *#পতিতপাবন_প্রভু_নিতাইচাঁদ_রূপে_প্রকট_হয়েছেন।।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী দীপ বাগুই 📖 👇꧂
      এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-বাগুইপাড়া, বাগুইআটি,  উত্তর চব্বিশ পরগনা, কোলকাতা-৭০০১৫৯
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






ভারতবর্ষের মাহাত্ম্য কথা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/bharat.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 ভারতবর্ষের মাহাত্ম্য কথা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/bharat.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🦚শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধবের প্রতি বলছেন, ভাগবত=১১|১৪|১৫.*
*"ন তথা মে প্রিয়তম আত্মযোনির্ন শঙ্করঃ।*
*ন চ সঙ্কর্ষণো ন শ্রীর্নৈবাত্মা চ যথা ভবান্।।"*
*🪷শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধবকে বলছেন, হে উদ্ধব!ব্রহ্মা,সঙ্কর্ষণ,লক্ষ্মী বা স্বয়ং আমি আমার তত প্রিয় নহি,যেরকম তুমি আমার প্রিয় এবং ভক্ত।*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*সেই উদ্ধব মহারাজ নিজ হৃদয়ের দীনতা ও একান্ত অনুরাগভরে শ্রীব্রজধামে কি ভাবে জন্মগ্রহণের আশা করছেন।*
*"আসামাহো চরণরেণু জুষামহং স‍্যাং,*
*বৃন্দাবনে কিমপি গুল্মলতৌষধীনাম্।*
*যা দুস্ত‍্যজং স্বজনমার্য‍্যপথঞ্চ হিত্বা,*
*ভেজুর্মুকুন্দপদবীং শ্রুতিভির্বিমৃগ‍্যাম্।।"*
                      *ভাগবত=১০|৪৭|৬১*
*🌻অহো!আমি যেন শ্রীব্রজসুন্দরীগণের পাদপদ্ম সেবী বৃন্দাবনের গুল্মলতা অথবা ঔষধির মধ্যে কোন একটিরূপে জন্মগ্রহণ করতে পারি।যেহেতু,তাঁরা দুস্ত‍্যাজ‍্য স্বজন ও আর্য‍্যপথ পরিত‍্যাগ করে শ্রুতিগণের অন্বেষণীয় মুকুন্দপদবী ভজনা করেছেন।*
*🌺শ্রীভগবান বলেছেন= আদি পুরাণে পাওয়া যায় =*
*"ন তথা মে প্রিয়তমো ব্রহ্মা রুদ্রশ্চ পার্থিব!*
*ন চ লক্ষ্মীর্ন চাত্মা চ যথা গোপীজন মম।"*
*🌹হে অর্জ্জুন!শ্রীব্রজদেবীগণ মহালক্ষ্মী অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠা।শিব,ব্রহ্মা, লক্ষ্মী এবং আমার শ্রীবিগ্রহ এসকল আমার তত প্রিয়তম নহে, গোপীগণ আমার যত প্রিয়তম।*
*🌳সেই শ্রীব্রজগোপীগণ শ্রীকৃষ্ণ বিরহাকাতরা হয়ে বলছেন, ভাঃ-- ১০|২৯|১*
*"জয়তি তেহধিকং জন্মনা ব্রজঃ শ্রয়ত ইন্দিরা শশ্বদত্র হি।*
*দয়িত দৃশ‍্যতাং দিক্ষু তাবকাস্তয়ি ধৃতাসবস্তাং বিচিন্বতে।।"*
*🍀টীকাকার শ্রীপাদ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ঠাকুর বলছেন--, হে দয়িত! তোমার আবির্ভাবে এই ব্রজমন্ডল বৈকুন্ঠ অপেক্ষাও অধিক জয়যুক্ত হয়েছেন।যেহেতু মহালক্ষ্মী এই জায়গায় নিরন্তর(সবসময়) অলঙ্কৃত করে অবস্থান করছেন।মহাআনন্দে পরিপূর্ণ এই ব্রজধামে তোমার প্রেয়সী গোপীগণ তোমার জন্যই প্রাণ ধারণ করে আছেন ও তোমাকে চারিদিকে খোঁজ করে কাতর হয়ে পড়েছেন, অতএব এবার দর্শন দাও।(সংস্কৃত শ্লোক লিখিলাম না)।*
*🍁ব্রহ্মা বলছেন,ভাঃ ৫|১৯|২০*
*"হা হন্ত ভারত ভূমৌ কদা নৃ জনুষৌ ভূত্বা বয়ং,*
*কৃষ্ণং ভজন্তঃ ক্ষণমাত্রেনৈব বৈকুন্ঠং প্রাপ্নুয়ামেতি।"*
*🌻হায় হায়!আমরাও বাঞ্জা বা কামনা করি ভারতভূমিতে কখন মানুষজন্ম পেয়ে ক্ষণকালও শ্রীকৃষ্ণ ভজন করলে বৈকুন্ঠে গমন করিব।*
*🌹ব্রহ্মার কথায় বুঝা যাচ্ছে যে, এই মায়িক ব্রহ্মান্ডের মধ্যে ভারতবর্ষ শ্রেষ্ঠ। কারণ--,পুনঃপুনঃ ভগবানের আবির্ভাব,বেদের আবির্ভাব,ঋষিগণের আবির্ভাব, তীর্থগণের আবির্ভাব  ইত‍্যাদি অনিবার্য‍্য কারণ বশতঃ ভারতবর্ষ "ভারততীর্থ" নামে অভিহিত।এই মহাতীর্থে জন্মগ্রহণের জন্য কে না বাঞ্জা করেন? আর যাঁরা জন্মগ্রহণ করেন,তাঁরা যে কত ভাগ‍্যবান তা আর কে বলবে?তার মধ্যে দুর্লভ মনুষ‍্যজনম।যে জন্মে প্রেমময় ভগবানের দর্শন-সেবালাভ হয়।*
         *ক্রমাগত*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 ভারতবর্ষের মাহাত্ম্য কথা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/bharat.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*ভারতবর্ষের মাহাত্ম্য কথা*
*🙏আজও এই ভারতের নানাস্থানে শ্রীভগবান্ তথা দেবতাগণের স্মৃতি বিজড়িত হয়ে মঙ্গলদান করছেন।তার মধ্যে শ্রীব্রজভূমি অধিক মাহাত্ম্যের কথা সর্বশাস্ত্রে ও শ্রীভাগবদবাক‍্যে উজ্জ্বল স্বর্ণাক্ষরে বতর্মান রয়েছেন।যে কথার অনুসন্ধান পেয়ে অনাদিকাল হতে নিত‍্যপরিকর,সিদ্ধ ও সাধকগণ "ত্বয়িধৃতাসবস্তাং বিচিন্বতে" শ্রীভগবৎতত্ত্বের অনুসন্ধানে জীবন অতিবাহিত করেন।আবার স্বয়ং শ্রীভগবান্ সেই প্রেমরসময় তত্ত্ব হয়েও নিজেই নিজের অনুসন্ধানে ভাবাবিষ্ট হৃদয়ে এই মধুর শ্রীব্রজধামের লুপ্তস্থান নির্ণয় ও মহিমা বর্ণন করতে করতে আকুল-ব‍্যাকুল চিত্তে কেঁদে কেঁদে জীবকে শিক্ষাদান করেছেন।*
*"অয়ি দীনদয়ার্দ্রনাথ হে মথুরানাথ কদাবলোক‍্যসে।*
*হৃদয়ং তদালোককাতরং দয়িত ভ্রাম‍্যতি কিং করোম‍্যহম্।।"*
*🙏হে দীনদয়ার্দ্র হৃদয়নাথ! হে মথুরানাথ!কবে তুমি আমাকে দর্শন প্রদান করবে?তুমি আমার দয়িত--, প্রাণের অপেক্ষাও প্রীতির পাত্র। তোমার অদর্শনে আমার হৃদয় অত‍্যন্ত কাতর হয়েছে ও ভ্রমময়ী দশা প্রাপ্ত হয়ে তোমারই দর্শনের জন্য খোঁজ করছে ; এখন আমার কি করি!!*
*💧কেবল আত্মঘাতী ছাড়া সেই ব্রজভূমির প্রতি কারই বা শ্রদ্ধা,রতি, ভক্তি হবে না। "ভারতভূমিতে মনুষ‍্যজন্ম হৈল যার।জন্ম সার্থক কর, ব্রজভূমি করি অঙ্গীকার।।" যাঁর প্রতি প্রভুর কৃপা হয়,সেই মহাভাগ‍্যবান আজও সেই লীলা দর্শন করে পাগলের মত উন্মত্ত হয়ে ক্রন্দন-নৃত‍্য-গীত-হাস‍্য ইত‍্যাদি ভাবে আনন্দসাগরে মগ্ন হন।কলিযুগপাবন অবতার শ্রীশ্রীগৌরহরি এই মহাক্রন্দনের ধ্বনি দ্বারা জগৎবাসীকে জাগরিত রেখেছেন।*
*🍁তাই আমাদের প্রার্থনা --, জয় জয় শ্রীচৈতন‍্য পতিতপাবন। জয় নিত‍্যানন্দ জয় অনাথ তারণ।। জয়াদ্বৈতচন্দ্র জয় কৃপার সাগর। জয় রূপ-সনাতন,জয় গদাধর। শ্রীজীব গোপালভট্ট রঘুনাথদ্বয়।জয় ব্রজধামবাসী বৈষ্ণব নিচয়।। জয় জয় নবদ্বীপবাসী ভক্তগণ।সবে মিলি কর মোরে কৃপা বিতরণ।।নীলাচলবাসী যত বৈষ্ণবের গণ।করযোড় করি বন্দি সবার চরণ।।নিখিল বৈষ্ণবগণ কৃপা বিতরিয়া।শ্রীগুরুচরণে মোরে রাখহ টানিয়া।।মুঞি ত দুর্ভাগা অতি বৈষ্ণব না চিনি।মোরে কৃপা করিবেন বৈষ্ণব আপনি।।শ্রীজাহ্নবা পদে মোরে ভক্তি দান কর।যে চরণ বলে পাই তত্ত্বের সন্ধান।।ব্রাহ্মণ সকলে করি কৃপা মোর প্রতি।বৈষ্ণব চরণে মোর দেহ দৃঢ় মতি।।উচ্চনীচ সর্বজীব চরণে শরণ।লইলাম আমি দীন হীন অকিঞ্চন।।*
      *🙏জয় নিতাই🙏*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






৯২. শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori92.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ৯১. শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori91.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 ৯২. শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori92.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯২)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
    *শ্রীপাদ লোকনাথ গোস্বামী*
     **************************
*💧সঙ্কল্পের দৃঢ়তা যেখানে প্রবল, নিষ্ঠা যেখানে সম্পূর্ণ পরিশুদ্ধ, ভগবান সেখানে ভক্তের মনোবাঞ্জা পূরণ সর্বদাই করেন। কৃপার বাতাস সেখানে বসিতে বাধ‍্য এবং নরোত্তমের দীক্ষার কাহিনী হচ্ছে তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।বর্তমান সময়ে হঠাৎ একজন আশ্রমে এসে দীক্ষার বাসনা জ্ঞাপন করলেন এবং আচার্য‍্য যদি কোন কারণে দীক্ষা দিতে সম্মত না হন তাহলে তিনি অন‍্যত্র চলে যান অর্থ‍্যাৎ এই দীক্ষা বাসনা যেন অনেকটা ব‍্যবসাদারী বস্তু এবং তার মধ্যে এই রকম আনুগত‍্যের সম্পূর্ণ অভাব।দীক্ষা নিতে হয় তাই নিচ্ছি, দীক্ষার পর আর কোন খবরাখবর নেওয়া তো দূরে থাকুক, শ্রীগুরুদেবকে বছরের শেষে দুই- একবার দেখা করা বা তাঁর সঙ্গে পত্রালাপ রাখার কোন প্রয়োজন তাঁরা অনেকেই বোধ করেন না। অথচ এইসব আদর্শ চরিত্রের সংলাপ পাঠ করলে আমাদের এই শিক্ষা হওয়া উচিৎ যে শ্রীগুরুদেব কি অমূল‍্য বস্তু, কি করে তাঁর কৃপা পাওয়া যায়,কি করে তাঁর সেবা করা উচিৎ ইত‍্যাদি। যাইহোক, শ্রীজীব গোস্বামীর ব‍্যবস্থাপনায় নরোত্তম চিরবিক্রিত হয়ে গেলেন লোকনাথের শ্রীচরণে।এই সময় লোকনাথ গোস্বামী দীক্ষার আগে তাঁকে কয়েকটি অমূল‍্য উপদেশ দান করেন যে তিনি যেন কোনদিন দার (পত্নী) পরিগ্রহ করতে পারবেন না। ভোগ বিলাস সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে এবং নরোত্তম তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিলেন।লোকনাথ গোস্বামীর জীবন চরিত লিখতে বা বর্ণনা করতে গেলে নরোত্তমের এই দীক্ষার কাহিনী বর্ণনা না করলে তা সত‍্যই অসম্পূর্ণ থেকে যায়।*
*☘এর পর শুরু হল শ্রীগুরুর সঙ্গ এবং শ্রীগুরু সেবা যা তাঁর সারা জীবনের অভিপ্রায়।লোকনাথও এইরকম একজন প্রাণাধিক প্রিয় শিষ্য পেয়ে সাধন পথের অর্জিত সম্পদ তাঁকে অন্তর উজোর করে দান করেন এবং নরোত্তম শুধু আর নামে নরোত্তম রইলেন না তিনি সত‍্য সত‍্যই নরশ্রেষ্ঠ বলে সমগ্র বৃন্দাবনে সমাদৃত হতে লাগলেন।তিনি তখন যেন হয়ে উঠলেন দেবরূপী মানব এবং সারা ব্রজমন্ডলে তাঁর আনন্দঘন মূর্তি দর্শন করলে সকলের যেন নয়ন জুড়িয়ে যেত।*
*🌺শ্রীজীব গোস্বামীও তখন ব্রজরসের ভজন পদ্ধতি তাকে উপযুক্ত ভাবে শিক্ষাদান করলেন এবং তাঁর সাধনায় সিদ্ধিলাভে সারা বৃন্দাবনে নরোত্তমের মহিমা এবং যশ কীর্তিত হতে লাগল, শ্রীজীব গোস্বামী তাঁকে তখন "ঠাকুর" উপাধিতে ভূষিত করেন।সেই হতে তিনি নরোত্তম ঠাকুর নামে বৈষ্ণব জগতে পরিচিত। নরোত্তম দাস ঠাকুরের মহিমার অন্ত নাই। নরোত্তম তাঁর গুরুদেবের অর্জিত ভক্তিরস প্রাণ ভরে পান করে প্রেমভক্তির এক মূর্ত বিগ্রহ হয়ে উঠেন।এর পর শ্রীজীব গোস্বামীর আদেশে তাঁরা তিনজনে গ্রন্থসহ গৌড়ে যাত্রা করেন।বিদায় কালে শ্রীগুরুদেবের সঙ্গে যে কি করুণ হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল তা উপস্থিত সকলে দর্শন করেছিলেন এবং তিনি সর্বশেষে শ্রীগুরুদেবের পাদুকা ভিক্ষা করে শ্রীধাম বৃন্দাবন পরিত‍্যাগ করেন।*
*🍀এর কিছুদিন পর ১৫৮৮ খৃষ্টাব্দে ১০৪ বৎসর বয়সে লোকনাথ গোস্বামী নিত‍্যলীলায় প্রবেশ করেন, তাঁর অভীষ্ট দেবতা রাধাবিনোদজীর দিকে দৃষ্টি আবদ্ধ করে এই নরলীলা সাঙ্গ করেন।বৃন্দাবনকে নবজীবন দান করবার জন্য মহাপ্রভু যে প্রদীপটি নিজহাতে জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন এতদিন বাদে তা যেন চিরতরে নিবিয়ে গেল। এটিই এই মহাবৈষ্ণবের সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রসঙ্গ।*
*🙏লোকনাথ গোস্বামী হচ্ছেন ব্রজলীলার লীলামঞ্জীর স্বরূপ, ভূগর্ভ গোস্বামী হচ্ছেন ব্রজলীলার প্রেমমঞ্জরীর স্বরূপ, এই লোকনাথ নামক আর একজন মহাবৈষ্ণব ছিলেন যিনি বিশ্বরূপের মাতুল ভ্রাতা এবং যিনি তাঁর সঙ্গে লুকিয়ে গৃহত‍্যাগ করেন।*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*হেরি এ স্নেহ উদ্ধব,জাগতিক ভুলে সব,*
   *অন্তরে বাহিরে সে যে বিমুগ্ধ তখন।*
*নন্দে করি সম্বোধন,উদ্ধব তখন কন,*
   *কেন তুমি করিতেছ শোক অকারণ।।*
*ভগবান নারায়ণ, শুধু তব পুত্র নন,*
   *সবার যে পিতা পুত্র করেন পালন।*
*প্রভু দেব দামোদর,হন জগত ঈশ্বর,*
   *বিশ্বময় বিরাজিত পরম কারণ*।।
*বিশ্বের সৃজনকারী, দুই ভাই রাম হরি,*
  *পরম পুরুষ তাঁরা সবার উপর।*
*কালরূপে নারায়ণ,প্রাণীদের প্রাণ লন,*
    *জগত প্রধান তিনি বিশ্বের ঈশ্বর।।*
🙏🦚🪔🦜🪷🌷🌸🙏🦚🪔🦜🪷
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ৯৩. বৈষ্ণব চূড়ামণি লালাবাবু 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori93.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂


  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






৯১. শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori91.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ৯০. শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori90.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 ৯১. শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori91.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯১)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
       *শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী*
      ***************************
*😂এর কিছুদিন পর নিত‍্যানন্দপ্রভু এবং অদ্বৈতাচার্য‍্য লীলা সাঙ্গ করেন। তার কিছুদিনের মধ্যেই সনাতন-রূপ ও রঘুনাথ ভট্ট গোস্বামী প্রকট লীলা সাঙ্গ করেন এবং প্রকৃতপক্ষে সারা বৃন্দাবন যেন ধীরে ধীরে নিষ্প্রদীপ (অন্ধকার) হতে লাগিল।একমাত্র লোকনাথ,রঘুনাথ দাসগোস্বামী, গোপাল ভট্ট এবং শ্রীজীব গোস্বামী প্রমুখ ভক্তগণ আলোর প্রদীপ হাতে নিয়ে কিরণ দিচ্ছিলেন।এই সময় শ্রীজীব গোস্বামীর অবদান সর্বশ্রেষ্ঠ এবং তখন তিনি ভাবতে লাগলেন যে বৃন্দাবনের এই বিপুল সম্পদ যা গ্রন্থাকারে রচিত হয়েছে এর প্রচার ও প্রসার সারা গৌড়মন্ডলে কিভাবে করা যায়।এই সময় পঞ্চতত্ত্বের দ্বিতীয় কলেবর ধারণ করে শ্রীনিবাস আচার্য‍্য, নরোত্তম ঠাকুর,শ‍্যামানন্দ এই তিন মহারথী শ্রীধাম বৃন্দাবনে আগমন করেন এবং শ্রীজীব তাঁদের পেয়ে চরম আনন্দ পেলেন বটে, বিরহক্ষীন্ন হৃদয়ে কিঞ্চিৎ শান্তিবারি সিঞ্চন করে তাঁদের নানারকম শাস্ত্র পাঠের মাধ্যমে উপযুক্ত করে তোলেন।এই সময় আচার্য‍্য প্রভু গোপাল ভট্টের নিকট হতে দীক্ষা গ্রহণ করেন।শ‍্যামানন্দ প্রভুও হৃদয় চৈতন‍্যের আশ্রিত হলেও এক হিসাবে শ্রীজীবের দাসত্ব স্বীকার করেন কিন্তু সমস‍্যা হল নরোত্তমকে নিয়ে।শ্রীজীবের অন্তরের বাসনা এই তিন সর্বত‍্যাগী আদর্শ সন্তানদের দ্বারা তাঁর অভীষ্ট পূরণ করাবেন এবং গ্রন্থ শাস্ত্র প্রচার করাবেন।*
*🌹রাজনন্দন নরোত্তম আবার সঙ্কল্প করেছেন যে তিনি যতদিন পর্যন্ত শ্রীলোকনাথ গোস্বামীর নিকট হতে দীক্ষামন্ত্র প্রাপ্ত না হন ততদিন তিনি শ্রীধাম বৃন্দাবন ত‍্যাগ করবেন না।অপরদিকে শ্রীজীব গোস্বামী তাঁর সূক্ষ্ম দৃষ্টি দ্বারা বেশ বুঝতে পেরেছিলেন যে নরোত্তম একজন উপযুক্ত আধার এবং বিরক্ত (এখানে বিরক্ত মানে বৈরাগ‍্য বলা হয়েছে )বৈষ্ণব।তাঁর সহায়তা না পেলে গৌড়দেশে মহাপ্রভুর এই প্রেম ধর্মের বিকাশ সাধন পূর্ণ হবে না।আচার্য‍্য প্রভুর কৃপা তিনি পেয়েছেন, শ্রীজীবের স্নেহাঙ্কে তিনি উপবিষ্ট কিন্তু কিছুতেই চিত্তে শান্তি পাচ্ছেন না অদীক্ষিত অবস্থায়। সেই সঙ্কল্পের মূল কারণ হল শ্রীপাদ লোকনাথ গোস্বামীর নিকট হতে দীক্ষা মন্ত্র গ্রহণ।এদিকে লোকনাথ প্রতিজ্ঞা করেছেন যে শিষ্যের গুরুদায়িত্ব তিনি কিছুতেই বহন করবেন না এবং তিনি সদাসর্বদা সাধন ভজনের মধ্যেই আবিষ্ট থাকতে চাহেন। কিন্তু নরোত্তমও নিজ সঙ্কল্প হতে নড়ছেন না।দীক্ষমন্ত্র প্রাপ্ত না হলেও তিনি মনেপ্রাণে লোকনাথ গোস্বামীকেই গুরুপদে বরণ করে নিয়েছেন কিন্তু তবুও দীক্ষার প্রয়োজন তো নিশ্চিত আছে।*
*🍀বর্তমানে যেখানে গোকুলানন্দ ভজন স্থান সেইটি ছিল লোকনাথ গোস্বামীর ভজন কুটীর।যাইহোক, সবরকম চেষ্টায় বিফল হয়েও নরোত্তম সর্বশেষ তাঁর ভজন কুটীরের কাছেই একটি ছোট্ট কুটীরের মধ্যে আসন করলেন।মনে এই বাসনা যে এত কাছে থাকলে কখনো না কখনো হয়তো তাঁর অভীষ্টদেবের দৃষ্টি আকর্ষণে সমর্থ হবেন। দিনের পর দিন,মাসের পর মাস,চলতে লাগিল এই প্রতিক্ষা কিন্তু হিমালয়ের বরফ তবুও গলিল না।লোকনাথের যেন ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা, তিনি কিছুতেই কাউকেও দীক্ষাদান করবেন না। কিন্তু সঙ্কল্প যেখানে দৃঢ়,নিষ্ঠা যেখানে প্রবল, আনুগত‍্য যেখানে চরম সেখানে অভীষ্ট সিদ্ধ হবেই হবে, কারণ তা না হলে তো ভক্তি জগতের মর্য‍্যাদা থাকে না।এইরকম দীর্ঘ প্রত‍্যাশায় বিফল মনোরথ হয়ে নরোত্তম দেখলেন যে কিছুতেই তো তিনি গুরু কৃপা লাভ করতে পারছেন না,শ্রীগুরুদেবের যে একটু সেবা করবেন তাঁর সুযোগ হতেও তিনি বঞ্চিত, সুতরাং কি করা যায়!কি করলে তাঁর শ্রীগুরুদেবের একটু সেবা  বা পরিচর্য‍্যার সুযোগ পাওয়া যায় যাতে তাঁর গুরুদেবের সুখ হবে অথচ তিনি বুঝতে পারবেন না  এবং তিনি স্বয়ং আত্মপ্রসাদ লাভ করতে পারবেন।*
*💧অবশেষে রাজনন্দন নরোত্তম এক অভূতপূর্ব সঙ্কল্প করলেন যা শুনলে হৃদয় মন ভক্তিরসে আপ্লুত হয়ে যায়।গুরুদেবকে যে কিভাবে শিষ্যের সেবা করা উচিৎ তার আদর্শ স্থাপিত হয়। অর্থ‍্যাৎ তিনি সেবার কোনরকম সুযোগ না পেয়ে শ্রীগুরুদেবের শৌচসেবা করবেন বলে মনস্থ করলেন এবং তাহাও তাঁর অজান্তে।দীর্ঘ প্রতীক্ষার মাধ‍্যমে তিনি লক্ষ্য করেছিলেন যে লোকনাথ গোস্বামী অতি ভোরবেলায় জঙ্গলের মধ্যে যেন কোথায় যান এবং পরে তিনি বুঝতে পারলেন যে তাঁর অভীষ্টদেব শৌচে যান।*
*🌺সেজন‍্য তিনি সকলের অজ্ঞাতে ভোররাত্রির অন্ধকারে নিত‍্য সেই শৌচস্থান সংস্কার করে তা পরিস্কার করে একভান্ড জল সেখানে রেখে দিতেন।নির্লিপ্ত বিরক্ত সন্ন‍্যাসী লোকনাথ প্রথমে কিছুই বুঝতে পারলেন না পরে মনে করলেন যে বন‍্য কোন অধিবাসীরা বোধহয় তাঁর শৌচের সহায়তা জন্য রোজ এইরকম পরিস্কার করছেন,ভজনসিদ্ধ মহাপুরুষ সাধারণত কারও সেবা নিতে চাহেন না এবং তাহাও আবার শৌচসেবা!সেইজন‍্য লোকনাথ সঙ্কল্প করলেন যে এই রহস‍্যের উদ্ঘাটন করতেই হবে যে কোন প্রকারে।সেজন‍্য একদিন শৌচের পর তিনি একটি বৃক্ষের আড়ালে লুকিয়ে রইলেন এবং তখন দেখলেন যে কে যেন তাঁর শৌচস্থান পরিস্কার করছেন, লোকনাথ তখন কে, বলে যেই সম্বোধন করলেন তখন দেখলেন নরোত্তম তাঁর শ্রীচরণতলে সাষ্টাঙ্গে দন্ডবৎ প্রণাম করে নিজ পরিচয় দিলেন।তখন লোকনাথ ভাবতে লাগলেন যে রাজনন্দন নরোত্তম, শেষ পর্যন্ত গুরুকৃপা পাবার জন্য তাঁর শৌচ সেবা করছেন এবং তাঁর আনুগত‍্য ও নিষ্ঠা দেখে লোকনাথের পাষাণ হৃদয় ধীরে ধীরে গলতে লাগিল এবং তিনি অবশেষে দীক্ষামন্ত্র দিতে স্বীকৃত হলেন।সঙ্কল্পের যুদ্ধে বাস্তব চক্ষে লোকনাথের পরাজয় হল বটে কিন্তু মনে মনে তিনি সত‍্যই চরম আনন্দ পেলেন এবং বললেন যে এইরকম শিষ্য পাওয়া কয়জনের ভাগ‍্যে ঘটে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ৯২. শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori92.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






৯০. শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori90.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ৮৯. শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori89.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 ৯০. শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori90.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯০)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
      *শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী*
      **************************
*🍀এইবার লোকনাথ গোস্বামীর প্রাণে বিগ্রহ সেবার বাসনা প্রবলভাবে দেখা দেয়। বতর্মান কালে লোকের মনে এইরকম বাসনা বাসনা জাগ্রত হলে তাঁরা যেমন এক বিগ্রহ কিনে এনে তাঁর সেবা করতে পারেন, লোকনাথের পক্ষে সেইসময়ে তা সম্ভব ছিল না, কারণ তা সবই নির্ভর করছিল শ্রীবিগ্রহের কৃপার উপর।কোথায় তাঁর অভীষ্ট দেবতা প্রচ্ছন্নভাবে আছেন তা একমাত্র তিনিই জানেন কিন্তু ভক্তের আনুগত‍্য এবং নিষ্ঠা যেখানে প্রবল, সেখানে কৃপা আসিতে বাধ‍্য,ভক্তাধীন ভগবান।এই সময় লোকনাথ একবার ব্রজমন্ডলের কিশোরীকুন্ডে এসে পৌঁছলেন এবং এই পবিত্র কুন্ডে স্নান করবার সময় লোকনাথ পরম সুন্দর এক বিগ্রহ পেলেন যাঁকে তিনি "রাধাবিনোদ" জ্ঞানে সেবা পূজা করতে মনস্থ করলেন।শ্রীবিগ্রহ কৃপা করে ভক্ত সান্নিধ্যে আসিলেন বটে কিন্তু কি করে এই শ্রীবিগ্রহের সেবা পূজা করবেন এই চিন্তায় ব‍্যাকুল হয়ে পড়লেন।না আছে তাঁর থাকবার জায়গা, না আছে কোন সেবার উপচার।অরণ‍্যচারী সাধু তিনি,লুপ্ত তীর্থ উদ্ধারের কাজে বিভিন্ন জায়গায় পরিক্রমা করাই তাঁর কাজ সুতরাং এই সেবা কিভাবে সম্ভব।লোকনাথের আচরণে বন‍্য অধিবাসীরা তাঁকে খুব শ্রদ্ধা ভক্তি করতেন এবং সেজন্য তাঁরা তাঁকে একটি পর্ণকুটীর করে দিতে প্রস্তাব করলেন কিন্তু লোকনাথ অতীব বিনয়ের সঙ্গে তাঁদেরকে বিরত করলেন। বললেন বাবা! আমি বনচারী সাধু আমার অনেক কাজ, এক জায়গায় পর্ণকুটীরে বাস করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।আমি যেমন ঘুরে বেড়ায়, আমার ইষ্টদেব রাধাবিনোদও তেমনি আমার সঙ্গে যেদিন যেখানে থাকি সেদিন সেখানেই থাকেন, হয় বৃক্ষতলে নয়তো বৃক্ষের কোটরে। সেই ব‍্যবস্থা অনুযায়ী লোকনাথ যেদিন যেখানে থাকেন সেদিন বনতুলসী ও ফলমূল দিয়ে ঠাকুরের সেবা পূজা ভোগারতি সমাপন করেন এবং এইভাবে তিনি এবং ভূগর্ভ গোস্বামী লুপ্ত তীর্থ উদ্ধারের কাজে নিজেদের নিযুক্ত রাখেন।এইভাবে কিছুদিন চলবার পর তিনি কিছু শনের গোছা পাকিয়ে একটি ঝোলা তৈরী করেন এবং সেই ঝোলার মধ্যে তাঁর রাধাবিনোদ আরাধ‍্য দেবতাকে স্থাপন করে বক্ষে করে ঘুরে বেড়াতেন।*
*🌺এইভাবে ধীরে ধীরে লোকনাথ গোস্বামী তৎকালীন ব্রজবাসীগণের কাছে অতীব শ্রদ্ধার আধার হয়ে উঠেন এবং তাঁরা সকলে তাঁর সেবার আনুকুল‍্যে নানাভাবে সহায়তা করতেন।তাঁর দৈন‍্য,বৈষ্ণবতা ও অমায়িক ব‍্যবহারে সকলেই তাঁকে আন্তরিক শ্রদ্ধা করতেন।স্বয়ং রাধাবিনোদ যাঁর সহায় তাঁর আবার ভয় কি,ভাবনা কি, কারণ তাঁর তো সমর্পিত দেহ।লোকনাথের বৈরাগ‍্য ও সাধন ভজনের সম্বন্ধে ভক্তিরত্নাকরে পাওয়া যায় =*
*🌷যে বৈরাগ‍্য তাঁর তা কহিতে অন্ত নাই।*
*🌷শ্রীরাধাবিনোদ কৃপা কৈলা এই ঠাঁই।।*
*🌷ফলমূল শাক অন্ন যবে যে মিলয়।*
*🌷সযত্নে তাহা শ্রীরাধাবিনোদে সমর্পয়।।*
*🌷বর্ষা শীতাদিতে এই বৃক্ষতলে বাস।*
*🌷সঙ্গে জীর্ণ কাঁথা আর জীর্ণ বহির্বাস।।*
*🌷আপনি হইয়া সিক্ত অতি বৃষ্টি নীরে।*
*🌷ঠাকুরে রাখিতেন এক বৃক্ষের কোটরে।।*
*🌷অন‍্য সময়েতে জীর্ণ ঝোলায় লইয়া।*
*🌷রাখিতেন বক্ষে অতি উল্লসিত হইয়া।।*
*🌻এইভাবে লোকনাথ গোস্বামী একের পর এক অনেকগুলো লুপ্ত তীর্থের উদ্ধার করেন এবং তার ফলে সারা ব্রজমন্ডলে এক সাড়া পড়ে যায়, ভক্তি সুধারস পিপাসু ভক্তগণ ধীরে ধীরে বৃন্দাবনের এইসব চিহ্নিত জায়গায় এসে সমাগত হতে লাগলেন যদিও এর পূর্ণ প্রকাশ করেছিলেন ষড় গোস্বামীগণের বৃন্দাবন আগমনের পর কিন্তু তথাপি এই নির্জন বন পরিবেশে ভক্তি সৌধের ভিত্তি স্থাপন করেন লোকনাথ গোস্বামী ও ভূগর্ভ গোস্বামী। কঠোর বৈরাগ‍্য,ত‍্যাগ, তিতিক্ষা, এবং অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সাধন ভজনের যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গিয়েছেন তা গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজের কাছে চির শ্রদ্ধা ও আদরের বস্তু হয়ে আছে এবং থাকবে। ভিত পত্তনের যে দুরূহ কাজ,তা তিনিই করেছিলেন এবং তার ফলে ষড় গোস্বামীগণের পক্ষে সেই ভক্তি সৌধ নির্মাণ বহুলাংশে সহায়ক হয়েছিল।*
*☘এর পর ধীরে ধীরে শ্রীপাদ রূপ-সনাতন গোস্বামী ব্রজে আগমন করেন এবং লোকনাথ তখন নিজের উদ্ধার করা লুপ্ত তীর্থ ও বিগ্রহাদির রহস‍্য তাঁদেরকে সব জানালেন, তখন তা তাঁদের কার্য‍্যে সহায়ক হয়েছিল। অবশ‍্য শ্রীরূপ-সনাতন এবং শ্রীজীব ইঁনারা সকলেই গ্রন্থ প্রণয়ন এবং ভজন সাধনের উপর বেশী গুরুত্ব প্রদান করেন।এর কিছুদিন পর মহাপ্রভুর অপ্রকট সংবাদে সারা বৃন্দাবনে শোকের ছায়া নেমে আসে, তখন দাসগোস্বামী বিরহানলে জর্জরিত হয়ে শ্রীধাম বৃন্দাবনে আগমন করেন এবং তাঁরই অনলস চেষ্টায় রাধাকুন্ড ও শ‍্যামকুন্ড সম্পূর্ণ সংস্কার সম্ভব হয়।ভট্ট প্রভুও তখন বৃন্দাবনে আগত।অর্থ‍্যাৎ শ্রীরূপ-সনাতন,শ্রীজীব, রঘুনাথ দাসগোস্বামী,গোপাল ভট্ট গোস্বামী, রঘুনাথ ভট্ট গোস্বামী সকলেই তখন শ্রীধাম বৃন্দাবনে সম্মিলিত ভাবে এক নব যুগের সূচনা করেছেন।কেউ বা ভজন-সাধনে আবিষ্ট,কেউ বা লুপ্ত তীর্থের উদ্ধারে সচেষ্ট।এককথায় মহাপ্রভুর এই পার্ষদ সমন্বয়ে শ্রীধাম বৃন্দাবন যেন পূর্ব দিগন্তে উদিত সূর্য‍্যের ন‍্যায় স্নিগ্ধ কিরণমালায় আলোকিত হয়ে উঠেছিল। কৃষ্ণভক্তির এক নবপ্রকাশ এর ফলে সাধিত হয়।এক কথায় একে বৃন্দাবনের স্বর্ণযুগও বললে বেশী বলা হবে না*
❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤
*ছিনু মোরা কৃষ্ণসনে,তাই লীলা জাগে মনে,*
   *মোহন মূরতি স্মরি হৃদে অনুক্ষণ।*
*কব কি আর উদ্ধব,কৃষ্ণময় হেরি সব,*
  *বুঝি বা ধরায় জন্ম লন নারায়ণ।।*
*রাম আর জনার্দন,অবনীতে দুইজন,*
  *করিছেন পাপভার একত্রে মোচন।*
*গর্গমুনি মুখে যাহা,শ্রবণ করেছি তাহা,*
    *একে একে ঘটিতেছে শোন বিবরণ।।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦜🦚🦚🦚🦚🦚🦚
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ৯১. শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori91.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






adds