✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সনাতন শব্দের অর্থ পূর্বতন, অদ্যতন, ভবিষ্যম্। যা আগে ছিল, কতদিন আগে ছিল ❓ সেবা বিগ্রহ নিত্যানন্দ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/nityananda.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
_*🪷 সেবা বিগ্রহ নিত্যানন্দ🪷*_
*সনাতন শব্দের অর্থ পূর্বতন, অদ্যতন, ভবিষ্যম্। যা আগে ছিল, কতদিন আগে ছিল? কেউ বলতে পারবে না, কেননা এটা অনাদি। সময়ে সময়ে যুগের উপযোগী করে ধর্ম পরিবেশন করার প্রয়োজন পড়ে। যেমন বেদব্যাস একই বেদ চার ভাগে বিভাজন এবং বেদাঙ্গ, ব্রহ্মসূত্র, পুরাণ, মহাভারত আদি আনয়ন করলেন। প্রণয়ন নয় আনয়ন করলেন। কেননা সনাতন গ্রন্থ আগেও ছিল। যুগের প্রয়োজনে যেগুলো দরকার সামনে নিয়ে আসতে হয়। সনাতন ধর্মই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ধর্ম, অন্য সব মতবাদ। এই সনাতন ধর্মে সব কিছুর বর্ণন রয়েছে। যেমন আমরা শ্রীমদ্ভাগবতে দেখতে পাই যবনের কথা, কালযবন তিন কোটি সৈন্য নিয়ে মথুরা আক্রমণ করেছিলেন। অধর্মের সমান্তরালে তাদেরও বৃদ্ধি হয়। আরো যত অধর্মের বৃদ্ধি হবে যবনেরও সেই পরিমানে বৃদ্ধি হবে। খ্রিস্ট মতবাদ, বৌদ্ধ মতবাদ, ইসলাম মতবাদে একজনই আরাধ্য, দ্বিতীয় নেই। কিন্তু মানুষ তিন প্রকার সাত্ত্বিক প্রকৃতির, রাজসিক প্রকৃতির, তামসিক প্রকৃতির। সনাতন ধর্মে সব রকমের উপাসনার নিদান দেওয়া রয়েছে। কেননা সনাতনধর্ম পূর্ণাঙ্গ ধর্ম। নিজ নিজ রুচি অনুসারে উপাসনা করবে। যার যতটা শক্তি ততটুকু জ্ঞান আহরণ করতে পারবেন। কেউই সব জানতে পারেন না। যিনি মনে করেন আমি সব জানি। তিনি যত বড়ই পন্ডিত অথবা শাস্ত্রী হোন না কেন তিনি নিশ্চয়ই অজ্ঞ।তিনি যদি ব্যাসগদিতে বসেনও তথাপি জানতে হবে তার ব্যাসদেবের কৃপা লাভ হয় নাই।*
*কালে কালে সনাতন ধর্মের অনেক উত্থান পতন হয়েছে, অনেক ঝড়-ঝঞ্ঝা বয়ে গেছে।*
*পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রারম্ভিক মুহূর্তে পুনরায় বিপর্যয় নেমে এসেছিল। একদিকে গোঁড়া ব্রাহ্মণদের জাত-পাতের বিভেদ মূলক বৈষম্য, ছুৎমার্গীয় নির্যাতন অপরদিকে ইসলামিক আগ্রাসন ও ঘৃন্য পৈশাচিক উৎপীড়ন। উভয়ের নিষ্পেষণে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দিশেহারা হয়ে ধর্মান্তরিত হয়ে যাচ্ছিল। সেই যুগসন্ধিক্ষণে বঙ্গদেশে এক সাম্যবাদী মহাবিপ্লবীর আবির্ভাব হয়েছিল, যার নাম ছিল নিত্যানন্দ। সর্বপ্রথম নিত্যানন্দই অসীম সাহসিকতায়, প্রবল পরাক্রমী ব্রাহ্মণদের বিষম বিরোধ উপেক্ষা করে, জাত-পাতের বেড়া ভেঙে, অচ্ছুৎ-অপাংতেয়, শোষিত-পীড়িত-নির্যাতিতদের এক ছত্রছায়াতলে নিয়ে এসেছিলেন। সকলকে এক প্রেমের মন্ত্র শুনিয়েছিলেন। ভালোবাসা দিয়ে সকলকে আপন করে নিয়েছিলেন। চৈতন্যের নির্দেশে সকলকে হরিনাম দিয়ে চিত্তশুদ্ধি করে চির অনর্পিত রাধাদাস্য দান করেছিলেন।* (বিস্তারিত জানতে বিলাপ কুসুমাঞ্জলী দ্রষ্টব্য)
*সেই নিত্যানন্দের প্রথম এবং প্রধান শিষ্য ঠাকুর বৃন্দাবন দাস। ছোট থেকেই বৃন্দাবনকে নিজের হাতে মানুষ করেছিলেন। লেখাপড়ায় শাস্ত্র-চর্চায় সবকিছুতেই পারঙ্গত করেছিলেন। একান্তে বসে নিজের মনের কথা, হৃদয়ের ব্যথা, গৌর কথা, সরহস্য নিজ স্বরূপ-তত্ত্ব সবই বলেছিলেন, শুধু বলেই ক্ষান্ত হন নাই, কৃপাশক্তি সঞ্চারও করেছিলেন। নিজের মনোবৃত্তি তার হৃদয়ে প্রতিস্থাপন করে সাধ্য-সাধন তত্ত্বের অনুভব দান করেছিলেন।*
*সেই নিত্যানন্দ কৃপাধন্য বৃন্দাবন দাস ঠাকুর তাঁর হৃদয়ের স্বতঃস্ফূর্ত ভাব উৎসারিত হয়েছিল, অন্তরে বাইরে নিতাইকেই দেখেছিলেন। জগতের সব কিছুতেই নিতাই দর্শন হচ্ছিল। নিত্যানন্দময় জগত দেখতে পাচ্ছিলেন। ভাবের আবেশে স্ফূর্তি হল -*
*অন্তরে নিতাই বাহিরে নিতাই নিতাই জগতময়। নাগর নিতাই নাগরী নিতাই নিতাই কথা সে কয়।।*
*সাধন নিতাই ভজন নিতাই নিতাই নয়ন তারা। দশদিক ময় নিতাই সুন্দর নিতাই ভুবন ভরা।।*
*রাধার মাধুরী অনঙ্গ মঞ্জরী নিতাই নিতু সে সেবে। কোটি শশধর বদন সুন্দর সখা সখী বলদেবে।।*
*রাধার ভগিনী শ্যাম সোহাগিনী সব সখীগণ প্রাণ। যাহার লাবনী মণ্ডপ সাজনি শ্রীমণিমন্দির নাম।।*
*নিতাই সুন্দরে যোগপীঠে ধরে রত্ন সিংহাসন শেজে। বসন নিতাই ভূষণ নিতাই বিলসে সখীর মাঝে।।*
*কি কহিব আর নিতাই সবার আঁখি মুখ সর্ব অঙ্গ। নিতাই নিতাই নিতাই নিতাই নিতাই নতুন রঙ্গ।।*
*নিতাই বলিয়া দুবাহু তুলিয়া চলব বরজ পুরে। দাস বৃন্দাবন করে নিবেদন নিতাই না ছাড়িও মোরে।।*
*হৃদয়ের ভাবাবেগ আরো বৃদ্ধি পেল। নিতাই চাঁদের স্বরূপ দর্শন হতে লাগলো। সেই আবেশে পুনরায় লিখলেন-*
*নিতাই নাগর রসের সাগর সকল রসের গুরু।*
*যে যাহা চায় তারে তাহা দেয় বাঞ্ছা কল্পতরু।।*
*নিতাই, - রাধার সমান কৃষ্ণ করে মান সতত থাকয়ে সঙ্গে। নিশি দিশি নাই ফিরয়ে সদাই কৃষ্ণ কথা রসরঙ্গে।।*
*বসি বাম পাশে মৃদু মৃদু হাসে প্রাণনাথ বলি ডাকে। রাধার যেমন মনের বাসনা তেমতি করিয়া থাকে।।*
*সোনার কেতকি রসের মূরতি সাধিতে মনের সাধা। দাস বৃন্দাবন করে নিবেদন দেখিতে নিতাই রাধা।।*
*শুধুমাত্র ভাবাবেশেই গাইলেন না তার প্রমাণও দিলেন ব্রহ্মাণ্ড পুরাণে ধরণী শেষ সংবাদে -*
_*নিত্যা শ্রীরাধিকানাম আনন্দো রসবিগ্রহঃ। উভয়োর্মিলনান্নাম নিত্যানন্দো বসুন্ধরে।*_
মহাপ্রভু বলেছেন সর্বত্র প্রমাণ দিবে পুরাণ বচন তাই নিজের মনগড়া কিছু না বলে শাস্ত্র প্রমাণসহ উদ্ধৃত করা হলো।
স্বয়ং মহাপ্রভু বললেন
*অতিগূঢ় নিত্যানন্দ এই অবতারে।*
সকলেই বুঝতে পারবে না। *অতএব কহি কিছু করিয়া নিগুঢ়। বুঝিবে রসিক ভক্ত, না বুঝিবে মূঢ়।।*
*সেবক তত্ত্ব, আশ্রয় তত্ত্ব, সেবাবিগ্রহ নিত্যানন্দ।*
*মর্যাদা পুরুষোত্তম রামজীর অনুজ ভ্রাতা রূপে সেবা করেছেন। ছোট ভাই বলে রামজী অনেক দুঃখ-কষ্ট ভোগ করলেও মুখে কিছু বলতে পারেন নাই। তাই কৃষ্ণলীলায় বড় ভ্রাতা হয়ে আসলেন। শাসনে সোহাগে সেবা করেছেন। লীলা পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণের সহায়ক, রক্ষক, উপদেষ্টা রূপে সেবায় সংলগ্ন থেকেছেন।*
*সেই কৃষ্ণ রাধা ভাবকান্তি অঙ্গীকার করে একীভূত হয়ে যখন গৌরাঙ্গ রূপে আবির্ভূত হলেন, তখন তার ভাবানুকূল হয়ে প্রকট হলেন নিত্যানন্দ। যুগল না হলে যুগলের সেবা হবে না।* *তাই বলরাম-অনঙ্গ মঞ্জরী মিলিত হয়ে নিত্যানন্দ রূপে আসলেন সেব্যের সুখ বিধানের নিমিত্ত।*
তথাহি- *স্বাসাং মধ্যে বিরোচিতানঙ্গেহানঙ্গমঞ্জরী। পরোক্ষে প্রকৃতিশ্চৈব প্রত্যক্ষে পুরুষস্তথা।।*
*ভাবনিধি গৌরহরি। ভাবের সমুদ্রে যখন যে তরঙ্গ উঠে সেই ভাবেই তরঙ্গায়িত হন নিত্যানন্দ। গৌর রাধাভাবে আবিষ্ট হলে নিতাই কৃষ্ণ রূপে বিরহ দূর করেন। কৃষ্ণভাবের উদ্দীপন হলে রাধা ভাবে বামে বসে রসপুষ্টি করেন। *বসি বাম পাশে মৃদু মৃদু হাসে, প্রাণনাথ বলি ডাকে।*
*সেবাবিগ্ৰহ নিত্যানন্দের সেবাই পরম লক্ষ্য, সেবায় পরম ধর্ম। সেবা মানে সুখ দেওয়া। যেভাবে সাজলে, যে আচরণ করলে সেব্য সুখী হবেন, তিনি তাই করতেন। *আতপে শীতলং ছত্রং, নিদাঘে শীতলোঽনিলঃ। শয়নে দিব্যপর্যঙ্কো রমণে প্রাণবল্লভা।। গমনে পাদুকারূপী রহস্যে সখীরূপকঃ। কৃষ্ণেঽপি সর্বদাতা চ সর্ব্বকার্য্যে সহায়বান্। স এব কলিকালেঽস্মিন্ নিত্যানন্দো ভবিষ্যতি।।* *এছাড়াও গৌরহরি যখন যে আদেশ করেছেন তা নির্বিচারে পালন করেছেন। প্রতি বৎসর নীলাচলে আসতে নিষেধ করলেন এবং গৌড়মন্ডলে গিয়ে বিবাহ করে নাম-প্রেম প্রচার করতে বললেন। নিতাই চাঁদ বিনা বাক্য ব্যয়ে তাঁর আজ্ঞা স্বীকার করে নিলেন। এতোটুকু ভাবলেন না, লোক কি ভাববে, সমাজ কি বলবে! এই বয়সে বিবাহ করলে! এই হল সেবকের স্বরূপ। তুমি যাতে সুখ পাও। *ত্বৎ সুখে সুখিত্বম্।*
অলমিতি।
জয় নিতাই।
জয় গৌর হরি।।🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁👇📖 সূচীপত্র 🙏 শ্রী গোপীশরণ দাস 📖👇꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
