✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ৯০. শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori90.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 ৯১. শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori91.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯১)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী*
***************************
*😂এর কিছুদিন পর নিত্যানন্দপ্রভু এবং অদ্বৈতাচার্য্য লীলা সাঙ্গ করেন। তার কিছুদিনের মধ্যেই সনাতন-রূপ ও রঘুনাথ ভট্ট গোস্বামী প্রকট লীলা সাঙ্গ করেন এবং প্রকৃতপক্ষে সারা বৃন্দাবন যেন ধীরে ধীরে নিষ্প্রদীপ (অন্ধকার) হতে লাগিল।একমাত্র লোকনাথ,রঘুনাথ দাসগোস্বামী, গোপাল ভট্ট এবং শ্রীজীব গোস্বামী প্রমুখ ভক্তগণ আলোর প্রদীপ হাতে নিয়ে কিরণ দিচ্ছিলেন।এই সময় শ্রীজীব গোস্বামীর অবদান সর্বশ্রেষ্ঠ এবং তখন তিনি ভাবতে লাগলেন যে বৃন্দাবনের এই বিপুল সম্পদ যা গ্রন্থাকারে রচিত হয়েছে এর প্রচার ও প্রসার সারা গৌড়মন্ডলে কিভাবে করা যায়।এই সময় পঞ্চতত্ত্বের দ্বিতীয় কলেবর ধারণ করে শ্রীনিবাস আচার্য্য, নরোত্তম ঠাকুর,শ্যামানন্দ এই তিন মহারথী শ্রীধাম বৃন্দাবনে আগমন করেন এবং শ্রীজীব তাঁদের পেয়ে চরম আনন্দ পেলেন বটে, বিরহক্ষীন্ন হৃদয়ে কিঞ্চিৎ শান্তিবারি সিঞ্চন করে তাঁদের নানারকম শাস্ত্র পাঠের মাধ্যমে উপযুক্ত করে তোলেন।এই সময় আচার্য্য প্রভু গোপাল ভট্টের নিকট হতে দীক্ষা গ্রহণ করেন।শ্যামানন্দ প্রভুও হৃদয় চৈতন্যের আশ্রিত হলেও এক হিসাবে শ্রীজীবের দাসত্ব স্বীকার করেন কিন্তু সমস্যা হল নরোত্তমকে নিয়ে।শ্রীজীবের অন্তরের বাসনা এই তিন সর্বত্যাগী আদর্শ সন্তানদের দ্বারা তাঁর অভীষ্ট পূরণ করাবেন এবং গ্রন্থ শাস্ত্র প্রচার করাবেন।*
*🌹রাজনন্দন নরোত্তম আবার সঙ্কল্প করেছেন যে তিনি যতদিন পর্যন্ত শ্রীলোকনাথ গোস্বামীর নিকট হতে দীক্ষামন্ত্র প্রাপ্ত না হন ততদিন তিনি শ্রীধাম বৃন্দাবন ত্যাগ করবেন না।অপরদিকে শ্রীজীব গোস্বামী তাঁর সূক্ষ্ম দৃষ্টি দ্বারা বেশ বুঝতে পেরেছিলেন যে নরোত্তম একজন উপযুক্ত আধার এবং বিরক্ত (এখানে বিরক্ত মানে বৈরাগ্য বলা হয়েছে )বৈষ্ণব।তাঁর সহায়তা না পেলে গৌড়দেশে মহাপ্রভুর এই প্রেম ধর্মের বিকাশ সাধন পূর্ণ হবে না।আচার্য্য প্রভুর কৃপা তিনি পেয়েছেন, শ্রীজীবের স্নেহাঙ্কে তিনি উপবিষ্ট কিন্তু কিছুতেই চিত্তে শান্তি পাচ্ছেন না অদীক্ষিত অবস্থায়। সেই সঙ্কল্পের মূল কারণ হল শ্রীপাদ লোকনাথ গোস্বামীর নিকট হতে দীক্ষা মন্ত্র গ্রহণ।এদিকে লোকনাথ প্রতিজ্ঞা করেছেন যে শিষ্যের গুরুদায়িত্ব তিনি কিছুতেই বহন করবেন না এবং তিনি সদাসর্বদা সাধন ভজনের মধ্যেই আবিষ্ট থাকতে চাহেন। কিন্তু নরোত্তমও নিজ সঙ্কল্প হতে নড়ছেন না।দীক্ষমন্ত্র প্রাপ্ত না হলেও তিনি মনেপ্রাণে লোকনাথ গোস্বামীকেই গুরুপদে বরণ করে নিয়েছেন কিন্তু তবুও দীক্ষার প্রয়োজন তো নিশ্চিত আছে।*
*🍀বর্তমানে যেখানে গোকুলানন্দ ভজন স্থান সেইটি ছিল লোকনাথ গোস্বামীর ভজন কুটীর।যাইহোক, সবরকম চেষ্টায় বিফল হয়েও নরোত্তম সর্বশেষ তাঁর ভজন কুটীরের কাছেই একটি ছোট্ট কুটীরের মধ্যে আসন করলেন।মনে এই বাসনা যে এত কাছে থাকলে কখনো না কখনো হয়তো তাঁর অভীষ্টদেবের দৃষ্টি আকর্ষণে সমর্থ হবেন। দিনের পর দিন,মাসের পর মাস,চলতে লাগিল এই প্রতিক্ষা কিন্তু হিমালয়ের বরফ তবুও গলিল না।লোকনাথের যেন ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা, তিনি কিছুতেই কাউকেও দীক্ষাদান করবেন না। কিন্তু সঙ্কল্প যেখানে দৃঢ়,নিষ্ঠা যেখানে প্রবল, আনুগত্য যেখানে চরম সেখানে অভীষ্ট সিদ্ধ হবেই হবে, কারণ তা না হলে তো ভক্তি জগতের মর্য্যাদা থাকে না।এইরকম দীর্ঘ প্রত্যাশায় বিফল মনোরথ হয়ে নরোত্তম দেখলেন যে কিছুতেই তো তিনি গুরু কৃপা লাভ করতে পারছেন না,শ্রীগুরুদেবের যে একটু সেবা করবেন তাঁর সুযোগ হতেও তিনি বঞ্চিত, সুতরাং কি করা যায়!কি করলে তাঁর শ্রীগুরুদেবের একটু সেবা বা পরিচর্য্যার সুযোগ পাওয়া যায় যাতে তাঁর গুরুদেবের সুখ হবে অথচ তিনি বুঝতে পারবেন না এবং তিনি স্বয়ং আত্মপ্রসাদ লাভ করতে পারবেন।*
*💧অবশেষে রাজনন্দন নরোত্তম এক অভূতপূর্ব সঙ্কল্প করলেন যা শুনলে হৃদয় মন ভক্তিরসে আপ্লুত হয়ে যায়।গুরুদেবকে যে কিভাবে শিষ্যের সেবা করা উচিৎ তার আদর্শ স্থাপিত হয়। অর্থ্যাৎ তিনি সেবার কোনরকম সুযোগ না পেয়ে শ্রীগুরুদেবের শৌচসেবা করবেন বলে মনস্থ করলেন এবং তাহাও তাঁর অজান্তে।দীর্ঘ প্রতীক্ষার মাধ্যমে তিনি লক্ষ্য করেছিলেন যে লোকনাথ গোস্বামী অতি ভোরবেলায় জঙ্গলের মধ্যে যেন কোথায় যান এবং পরে তিনি বুঝতে পারলেন যে তাঁর অভীষ্টদেব শৌচে যান।*
*🌺সেজন্য তিনি সকলের অজ্ঞাতে ভোররাত্রির অন্ধকারে নিত্য সেই শৌচস্থান সংস্কার করে তা পরিস্কার করে একভান্ড জল সেখানে রেখে দিতেন।নির্লিপ্ত বিরক্ত সন্ন্যাসী লোকনাথ প্রথমে কিছুই বুঝতে পারলেন না পরে মনে করলেন যে বন্য কোন অধিবাসীরা বোধহয় তাঁর শৌচের সহায়তা জন্য রোজ এইরকম পরিস্কার করছেন,ভজনসিদ্ধ মহাপুরুষ সাধারণত কারও সেবা নিতে চাহেন না এবং তাহাও আবার শৌচসেবা!সেইজন্য লোকনাথ সঙ্কল্প করলেন যে এই রহস্যের উদ্ঘাটন করতেই হবে যে কোন প্রকারে।সেজন্য একদিন শৌচের পর তিনি একটি বৃক্ষের আড়ালে লুকিয়ে রইলেন এবং তখন দেখলেন যে কে যেন তাঁর শৌচস্থান পরিস্কার করছেন, লোকনাথ তখন কে, বলে যেই সম্বোধন করলেন তখন দেখলেন নরোত্তম তাঁর শ্রীচরণতলে সাষ্টাঙ্গে দন্ডবৎ প্রণাম করে নিজ পরিচয় দিলেন।তখন লোকনাথ ভাবতে লাগলেন যে রাজনন্দন নরোত্তম, শেষ পর্যন্ত গুরুকৃপা পাবার জন্য তাঁর শৌচ সেবা করছেন এবং তাঁর আনুগত্য ও নিষ্ঠা দেখে লোকনাথের পাষাণ হৃদয় ধীরে ধীরে গলতে লাগিল এবং তিনি অবশেষে দীক্ষামন্ত্র দিতে স্বীকৃত হলেন।সঙ্কল্পের যুদ্ধে বাস্তব চক্ষে লোকনাথের পরাজয় হল বটে কিন্তু মনে মনে তিনি সত্যই চরম আনন্দ পেলেন এবং বললেন যে এইরকম শিষ্য পাওয়া কয়জনের ভাগ্যে ঘটে।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ৯২. শ্রীপাদ্ লোকনাথ গোস্বামী 🚩 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/madhukori92.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
