🔙 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 দ্বিতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/advaita2.html
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
*(২১)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*অদ্বৈতাচার্য্যে যৌবন---লীলা*
****************************
*শান্তিপুরনাথ অদ্বৈতাচার্য্য শান্তিপুরে পুন আগমন করে গঙ্গাতীরে এক প্রশস্ত জায়গায় একটি সুন্দর তুলসী মঞ্চ নির্মাণ করে সেখানে তাঁর ভজনস্থান নির্মাণ করলেন।দিনেরবেলা সেই শ্রীমদনগোপাল শ্রীবিগ্রহেরআলেখ্য ও শালগ্রাম পূজা এবং রাত্রে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা লাগলেন।*
*বহু শ্রোতার সমাগম হতে লাগল। কাম্যকবনের কৃষ্ণদাস ছাত্র হয়ে তাঁর নিকট থেকে সর্বক্ষণ সবরকম সেবা কায়মনো-বাক্যে পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে সম্পাদন করতে লাগলেন।পূজার জন্য রোজ ফুলিয়া থেকে ফুল আনতে লাগলেন এবং শান্তিপুরের বহু সুকৃতিমান ব্যক্তি ফুল দিতে লাগলেন। শান্তিপুরের অধিকাংশ লোক রোজ গঙ্গায় স্নান করে তুলসী পরিক্রমা ও শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যকে ভক্তিভরে দন্ডবৎ প্রণাম করে যেতেন।বহুদিন এইভাবে পূজা ও শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করলেন।এর মধ্যে বহুলোক তাঁর কাছে ভাগবত অধ্যয়ন করে কৃতার্থ হলেন।*
*🙏🙏শ্রীমাধবেন্দ্র মিলন🙏🙏*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌻একদিন শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য তাঁর ছাত্রগণকে বললেন--, "আমি শেষরাত্রে স্বপ্ন দেখেছি, বৈষ্ণবাচার্য্য পরম প্রেমিক শিরোমণি শ্রীল মাধবেন্দ্রপুরীপাদের এই জায়গায় আগমন হয়েছে।" তোমরা তাঁর বসবাস উপযোগী নির্জন ভাবে উপযুক্ত জায়গা করে রাখো। তিনি নিশ্চয়ই আমার এখানে আসিবেন।তাঁর আদেশ অনুযায়ী ছাত্রগণ গঙ্গাতীরে একটি সুরম্য-স্থান করে রাখলেন। একদিন অদ্বৈতাচার্য্য বললেন--, শ্রীপাদ পুরী মহাশয় আজই এখানে আসিবেন।সকলেই তাঁকে দেখার জন্য উৎকণ্ঠিত হয়ে অপেক্ষা করতে লাগলেন।শ্রীঅদ্বৈতও সব কাজ ফেলে রেখে তাঁর দর্শন উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করতে লাগলেন।তিনি শ্রীবৃন্দাবন হতে নবদ্বীপ হয়ে সন্ধ্যার পর শান্তিপুর এসে উপস্থিত হলেন।তাঁকে দেখামাত্র অদ্বৈতপ্রভু অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে ভক্তিভরে তাঁর পাদপদ্ম বন্দনা করলেন।পুরীপাদ "কৃষ্ণ কৃষ্ণ" বলে শ্রীঅদ্বৈতকে গাঢ় আলিঙ্গন দান করলেন।পরে কুশল জিজ্ঞাসা করলে কমলাক্ষ বললেন, "এতদিনে কুশল হল, শ্রীমদনগোপাল কৃপা করলেন।শ্রীঅদ্বৈত নিজ হাতে তাঁর শ্রীচরণ ধূয়ে দিয়ে পাদোদক পান করলেন।অতি ভক্তিভরে তাঁর সেবা করতে লাগলেন।তিনি সুখাসনে বসিলে, তখন অদ্বৈতাচার্য্য বললেন, আমি বৃন্দাবনে অনেক খোঁজ করেও আপনার দেখা না পেয়ে অত্যন্ত দুঃখিত হয়েছিলাম। গোবিন্দকুন্ডের তীরে গিয়ে শুনলাম,আপনি দক্ষিণদেশে গমন করেছেন।এক্ষণে আপনি কৃপা করে সেবকের কাছে শুভাগমন করেছেন,এখন কিছুদিন এখানে থেকে আমার দুষ্টচিত্ত শোধন করতে প্রার্থনা করি।*
*শ্রীপুরীপাদ বজ্রনাভের স্থাপিত শ্রীগোবর্দ্ধনধারী গোপালের স্বপ্নাদেশ ও প্রাকট্যের আনুপূর্বিক বৃত্তান্ত বর্ণন করে বললেন, "তাঁর আদেশে চন্দন সংগ্রহের জন্য, পুনঃ দক্ষিণদেশে যাচ্ছি।শ্রীমদনগোপাল তোমার কথা বলেছেন এবং তোমাকে তত্ত্ব নিতে আদেশ করেছেন।সেই আদেশ অনুসারে তোমাকে দেখতে এখানে এসেছি।শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের প্রার্থনা মত শ্রীপুরীপাদ কিছুদিন শান্তিপুরে থাকলেন।প্রত্যহ উভয়ে কৃষ্ণকথায় সবসময়ই যাপন করতেন।কৃষ্ণ কথায় উভয়েরই প্রেম উন্মত্ততা উপস্থিত হয়।শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য নিজ হাতে রন্ধন করে শ্রীপুরীপাদের ভিক্ষা নির্বহন ও সবরকম সেবাই নিজহাতে সম্পাদন করেন।শ্রীপুরীপাদ শ্রীমদনগোপালের আলেখ্য দর্শন করে প্রসাদ পেয়ে কৃতার্থ হলেন।*
*শ্রীমাধবেন্দ্রপুরীপাদ বললেন, (ভাগবত ১০|৩৩|৬)।*
*🌷দেবকীসুত ভগবান্ সর্ব্বসৌন্দর্য্যের সার হলেও ব্রজদেবীর সঙ্গে তিনি হেমমণিদের মধ্যে মহা-মরকতনীলমণির মত অত্যন্ত শোভা পেয়েছিলেন। আবার পদ্মপুরাণে বর্ণিত আছে, "শ্রীরাধা যেরকম শ্রীকৃষ্ণের প্রিয়া, শ্রীরাধাকুন্ডও তদ্রূপ প্রিয়স্থান, সমস্ত গোপীদের মধ্যে শ্রীরাধাই শ্রীকৃষ্ণের অত্যন্ত বল্লভা।" আবার আদিপুরাণে বর্ণিত আছে, "শ্রীবৃন্দাবন-ধাম পৃথিবীর মধ্যে অবতীর্ণ হওয়ায় ত্রৈলোক্য বা তিনলোক ধন্য হয়েছেন।তারমধ্যে গোপীকা সব ধন্যা, যে হেতু তারমধ্যে আমার অত্যন্ত প্রিয় শ্রীরাধা নামে গোপী বর্তমানা।" শ্রীরাধা ছাড়া অন্য গোপী সব শ্রীকৃষ্ণের সুখের কারণ হতে পারে না।শ্রীরাধা সহ শ্রীকৃষ্ণের মিলনে শ্রীকৃষ্ণের রূপমাধুর্য্য ও লীলামাধুর্য্য পরিপূর্ণতমরূপে প্রকাশিত হয়। অতএব শ্রীরাধাগোবিন্দের ভজনেই চরম-পরাকাষ্ঠা পাওয়া যায়।*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
*(২২)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরী মিলন*
!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
*🙏শ্রীরাধাগোবিন্দের ভজনেই চরম সীমা পাওয়া যায়।এ কারণ এটি সর্বপেক্ষা সুদুর্লভ--,এটি কেবল-মাত্র গৌড়ীয় গুরুর নিকট পাওয়া।এটি দেখাতে হলে শ্রীঅদ্বৈতপ্রভু প্রেমকল্পতরু-আরম্ভের প্রথম গৌড়ীয় গুরু শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরীর কাছে শ্রীরাধাগোবিন্দের ভজন প্রণালী অবগত বা জেনে তদানুগত্যে ভজন চমৎকারিতার চরমসীমার বিষয় আচরণ-পদ্ধতি শিক্ষা করলেন,যা শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যদেবের অবতার গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা।গৌর আনা ঠাকুরের এটিই শ্রীগৌরসুন্দরকে আকর্ষণের মূল কৌশল।তখন শ্রীরাধার আলেখ্য মূরতি প্রকাশ করে অভিষেক কার্য্য মহাসমারোহে সম্পন্ন করলেন। শ্রীরাধা-মদনগোপালের আলেখ্যের অভিষেক অন্তে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য, শ্রীমাধবেন্দ্রপুরীপাদ সহ বিরলে বসে শ্রীরাধাগোবিন্দের ভজন-বিষয়ক ইষ্ট গোষ্টীতে রত হলেন।একসময় অদ্বৈতাচার্য্য শ্রীপুরীপাদের কাছে মন্ত্রদীক্ষা লাভের জন্য চরম আগ্রহান্বিত সকাতর প্রার্থনা নিবেদন করলেন।পুরীপাদ কমলাক্ষের দৈন্য বিনয় ভাবে রাজী হলেন।শুভক্ষণে দীক্ষা-গ্রহণ করে প্রেমে পাগল হলেন। উভয়েই প্রেমে মত্ত হয়ে বাহ্যজ্ঞান শূন্য হলেন।মন্ত্রের অর্থ ব্যাখ্যা করে পুরীপাদ শুনালেন।দীক্ষা গ্রহণের পরে আচার্য্যের অভিনব ভাবাবেশের উদয় হল।তিনি প্রেমে অধীর হয়ে পড়লেন।পুরীপাদ বহু যত্নে তাঁকে স্থির করলেন। ক্রমে সাধুসঙ্গ, নামসংকীর্তন ও মন্ত্র-সাধনের যাবতীয় তথ্য ও শরণাগতির বিষয় বিশদ ব্যাখ্যা করলেন, এবং বললেন, সখীর আনুগত্য ছাড়া ঐশ্চর্য্য-জ্ঞানে ব্রজেন্দ্রনন্দনকে পাওয়া যায় না।ইহার সব সুসিদ্ধান্তসার শ্রীকৃষ্ণের চৈতন্যাবতারে প্রকাশ হবে। তোমার আরাধনায় ও আকর্ষণে শ্রীকৃষ্ণ অবতীর্ণ হয়ে ব্রজপ্রেম বিতরণ করবেন।শ্রীনাম সঙ্কীর্তন ও ভজন প্রণালী সুষ্ঠুভাবে আচার-প্রচার করে জীব উদ্ধার করবেন।তুমি তাঁর সেই সঙ্কীর্তন প্রেমধর্ম প্রচারের সহায়রূপে সেবা লাভ করে পরম কৃতার্থ হবে। শ্রীরাধাগোবিন্দের উপাসনা জগতে অতীব সুদুর্লভ।তা সাধুসঙ্গ ছাড়া কখনই লাভ হবে না। আবার সে রকম সাধুও সুদুর্লভ। স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ বা শ্রীরাধা বা তাঁদের কায়ব্যূহগণ যদি কৃপা করে অবতীর্ণ হয়ে তার আচরণ ও প্রচার করেন তবেই তাঁদের শক্তি-সঞ্চার-ক্রমে সেই প্রেম অন্যের লাভ হতে পারে।এই কারণেই শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের আবশ্যক হয়েছে। তোমার তীব্র আরাধনায় ও ব্যাকুলতাময় আকর্ষণে শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র অবতীর্ণ হবেন।ইষ্টগোষ্ঠী হতে থাকল, অদ্দৈতাচার্য্যের অনুরোধে কিছুদিন থেকে শ্রীপুরীপাদ শ্রীগোপালদেবের চন্দন আনার জন্য দক্ষিণদেশে গমন করলেন।গমনকালে উভয়ের বিচ্ছেদের আশঙ্কায় উভয়ে ব্যাকুল হয়ে পড়লেন।উভয়েই মূর্ছিত হলেন।*
*🍀কুবের পুত্রের চরিত্র,প্রভাব,আচার ও অনুষ্ঠানাদি দেখে লোকে চরম আশ্চর্য্য হলেন।বহুলোক তাঁর সেবা করে কৃতার্থ হলেন।সব জায়গায় তাঁর প্রতিভার কথা প্রকার হয়ে গেল।একসময় শ্যামদাস-নামক দক্ষিণদ্রাবিড় দেশীয় এক দিগ্বিজয় পন্ডিত আগমন করলেন। তিনি দক্ষিণ,পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চল জয় করে পূর্বাঞ্চল গৌড়দেশে আগমন করেছিলেন। সেখানে এসে কমলাক্ষের পান্ডিত্যের কথা শুনে শান্তিপুরে আসিলেন, এবং তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে তুলসী ও গঙ্গার স্তব করতে আরম্ভ করলেন। তাঁর সিদ্ধান্ত-বিরুদ্ধ স্তবে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য প্রতিবাদ করলেন।নানারকম বাদ-বিতন্ডাদির পর দিগ্বিজয় পন্ডিত বিচারে পরাজিত হলেন।তখন দিগ্বিজয়ী পন্ডিত ব্রহ্মের নিরাকারত্ব স্থাপন করে বেদ-বাক্য উদ্ধার করতে লাগলেন।শ্রীঅদ্বৈত আচার্য্য ব্রহ্মের প্রাকৃত আকার নিরাসক বেদ-বাক্য ও অপ্রাকৃত সচ্চিদানন্দ আকার প্রকাশক বেদ ও বেদান্তবাক্য দ্বারা দিগ্বিজয়ী পন্ডিতের সিদ্ধান্তকে খন্ড-বিখন্ড করে শুদ্ধ সিদ্ধান্ত স্থাপন করলেন।পান্ডিত্য অভিমানী শ্যামদাসের সমস্ত তর্কই মহাবিষ্ণু-অবতার শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের যুক্তিস্রোতে ভেসে যেতে লাগিল।সপ্তাহকাল অবিশ্রান্ত বিচার করলেন।কোনও মতেই জয়লাভ করতে সমর্থ হলেন না। অবশেনিতান্ত হতাশ হয়ে সরস্বতীর স্তব আরম্ভ করলেন।শ্রীসরস্বতী দৈববাণীতে বললেন, "তুমা যাঁর সঙ্গে বিচার করছ, তিনি মহাবিষ্ণুর অবতার,বিচার পরিত্যাগ করে তাঁর শরণাগত হও।এই দৈববাণী শুনে শ্যামদাস পন্ডিত শ্রীঅদ্বৈত চরণে সাষ্টাঙ্গে দন্ডবৎ প্রণাম করতে লাগলেন।নানারকম স্তব স্তুতি করে কহিলেন,আমি আপনার শরণাপন্ন হলাম,আমার অপরাধ মার্জনা করুন। আমি শ্রীসরস্বতীর কৃপায় দ্রাবিড়,কাশী,অবন্তি প্রভৃতি প্রধান প্রধান জায়গায় সুবিখ্যাত পন্ডিতগণের সঙ্গে বিচার করে জয়লাভ করেছি। আমাকে পরাস্ত করতে পারে, মানুষের মধ্যে এমন সাধ্য কারও নাই।এই বলে জয়পত্র সব দেখালেন, এবং প্রার্থনা করলেন, "কৃপা করে আমার কাছে আপনার প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশ করুন। অদ্বৈতপ্রভু দৈন্যভরে বললেন, আপনি আমাকে অতি স্তুতি করছেন কেন? "কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলুন"।দর্পহারি নারায়ণ বেশী দর্পকারীদর দর্প চূর্ণ করেন।আমি দরিদ্র ব্রাহ্মণ ; গঙ্গা ও তুলসীর শরণ নিয়ে পড়ে আছি, কৃষ্ণভক্তি লাভ করবার জন্য আমাকে বৃথা স্তব কেন করছেন?*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
*(২৩)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*দিগ্বিজয়ী পন্ডিতের আত্মসমর্পণ*
*********************************
*🍀দিগ্বিজয়ী পন্ডিত বললেন আমি আপনার সঙ্গে বিচারে ও দৈববাণীতে নিশ্চয় বুঝেছি যে, আপনি "মহাবিষ্ণুর অবতার" আমাকে বঞ্চনা করবেন না। আমি আপনার শরণাগত ; আমি শরণাগত-পালক, আপনি আমাকে কৃপা না করলে আমি প্রাণ ত্যাগ করব। আপনার কৃপা ছাড়া আমার জীবন বিফল।তখন করুণাময় শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য দিগ্বিজয়ীর কাকুতি মিনতিতে ও শরণাগতিতে প্রসন্ন হয়ে, বললেন সরস্বতীর কৃপার অপব্যবহার করবেন না। দিগ্বিজয়ী হওয়া বিদ্যার ফল নয়,কৃষ্ণভক্তিই বিদ্যার ফল।সরস্বতী প্রদত্ত বিদ্যাদ্বারা বিদ্যাবধূজীবনের সেবা করুন।ভক্তিশাস্ত্র ও অধ্যাপনা করুন,কৃষ্ণভক্তি প্রচার করুন,দম্ভ পরিত্যাগ করে বিনয়ী হোন "বিদ্যা দদাতি বিনয়" বিদ্যার প্রকৃত সার্থকতা করুন।তখন দিগ্বিজয়ী বললেন আমি পন্ডিত নহি "মুর্খ"এটি আপনার উপদেশে বুঝতে পেরেছি।আপনি আমাকে নিজ ভৃত্যজ্ঞানে সমুচিত দন্ড প্রদান করে শোধন করুন। এবং নিজ পাদপদ্মে আশ্রয় প্রদান করে শিক্ষা প্রদান করুন। এই কথাগুলি বলে শ্রীঅদ্বৈতের শ্রীচরণ ধরে কাঁদতে লাগলেন।অদ্বৈতাচার্য্যের করুণ হৃদয় দিগ্বিজয়ীর কথায় গলে গেলেন।"তবে প্রভু কৃপাদৃষ্টি করিলা তাহারে"। মস্তকেতে হাত দিয়া আশীর্বাদ করে।।" অন্য গ্রন্থে বর্ণিত আছে, অদ্বৈতাচার্য্য শ্যামদাসকে নিজ চতুর্ভূজ মূর্তিতে দর্শন প্রদান করে কৃপা করেছিলেন।দিগ্বিজয়ী পন্ডিত কমলাক্ষের কৃপা লাভ করে মুখে সর্বক্ষণ শ্রীহরিনাম করতে লাগলেন। এবং বিনীতভাবে মন্ত্র গ্রহণের প্রার্থনা নিবেদন করলেন।শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য তাঁর প্রার্থনা পূরণ করলেন।দীক্ষাদান করে সমস্ত ভক্তি সিদ্ধান্ত শিক্ষা দিলেন।শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করালেন।সমস্ত ভাগবতের সিদ্ধান্তে পারঙ্গত করে ভাগবতাচার্য্য উপাধি প্রদান করলেন। আরও কিছুদিন শ্রীআচার্য্যের পাদপদ্মে থেকে ভক্তি সিদ্ধান্তের আলোচনা করে স্বদেশে যাত্রা করলেন।*
*🍀দিগ্বিজয়ী-জয় হতে শ্রীঅদ্বৈতের পান্ডিত্য ও প্রভাব সব জায়গায় ভীষণ ভাবে প্রচারিত হল।আচার্য্য সবসময় ভক্তিশাস্ত্রের ব্যাখ্যা করতে লাগলেন।*
*🌷ভক্তি উপদেশ বিনা নাহি আর কার্য্য।*
*🌷অতএব নাম তার অদ্বৈতাচার্য্য।।*
*🌷বৈষ্ণবের গুরু তেঁহো জগতের আর্য্য।*
*🌷দুই নাম মিলে হৈল অদ্বৈত-আচার্য্য।।*
*(চৈঃচঃআঃ=৬|২৮-২৯)*
*🍀কিছুদিন পরে রাজা দিব্যসিংহ শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের পূর্ব আদেশক্রমে নবগ্রাম পরিত্যাগ করলেন।রাজা কিছুদিন রাজ্যশাসন ও কৃষ্ণ-সেবায় নিযুক্ত থাকেন।পরে কেবল শ্রীকৃষ্ণ মূর্তির সেবা,হরিনাম,ভাগবতচর্চা ও বৈষ্ণব সেবায় দিনযাপন করে উপযুক্ত সময় বুঝে পুত্রের উপর রাজ্যভার অর্পণ করে গৃহত্যাগ করে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের পাদপদ্মে এসে আশ্রয় নিলেন।রাজা এসেই শ্রীআচার্য্যপাদপদ্মে সাষ্টাঙ্গ দন্ডবৎ প্রণাম করে স্তবস্তুতি ও দৈন্য ভাবে নিবেদন করলেন।তাঁর দৈন্য ও বৈরাগ্য-দেখে শ্রীঅদ্বৈত তাঁর প্রতি অতিশয় প্রীত হয়ে আলিঙ্গন করে সসম্মানে বসতে দিলেন।রাজা এক্ষণে আর রাজা অভিমানে মত্ত নাই,কাঙ্গাল হয়ে অন্য শিষ্যদের সঙ্গে একত্র বাস ও সেবা করতে লাগলেন। শ্রীঅদ্বৈত-আচার্য্য রাজাকে "কৃষ্ণদাস" নাম প্রদান করে সমস্ত ভক্তিশাস্ত্র ক্রমে ক্রমে শিক্ষা দিলেন।আচার্য্যের আলয়ে কাম্যবনবাসী কৃষ্ণদাস ছিলেন ; ইনি দ্বিতীয় কৃষ্ণদাস হলেন এজন্য ইনার নাম "লাউরীয় কৃষ্ণদাস" হল*
*এর কিছুদিন পরে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য প্রভু শ্রীজগন্নাথদেবের দর্শন উদ্দেশ্যে প্রেমোন্মাদে মত্ত হয়ে শ্রীকৃষ্ণনাম করতে করতে চললেন।পথে শ্রীনাথ আচার্য্য নামক জনৈক সুপন্ডিত শান্তমূর্তি সাধুচরিত্র ব্রাহ্মণ তাঁর সঙ্গে আলাপ ও দর্শনে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করলেন।তাঁকে শ্রীকৃষ্ণতত্ত্ব,রাধাতত্ত্ব, ও ভক্তিতত্ত্বের উপদেশ দান করে নীলাচল অভিমুখে যাত্রা করলেন।কিছুদিনে নীলাচলে উপস্থিত হয়ে প্রেমভরে নীলাচলচন্দ্রের দর্শন লাভ করে প্রেম-মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।সেখানে অনেকদিন থাকলেন।প্রতিদিনই সকালে,বিকেলে, সন্ধ্যাকালে জগন্নাথ দর্শন কালে তাঁর অশ্রু-পুলকাদি সাত্ত্বিক ভাবসব প্রকাশ পেতে লাগল।বহু লোকের কাছে তিনি ভক্তিশাস্ত্র ব্যাখ্যা করতে লাগলেন।বহুলোক তাঁর শ্রীমুখে হরিকথামৃত শুনে কৃতার্থ হলেন।সেখানে কর্ণাট রাজবংশীয় মহানুভব মুকুন্দ দেবের সঙ্গে (শ্রীরূপ সনাতনের পিতামহ)তাঁর খুবই মিত্রতা হল।তিনি তীর্থ-দর্শন-উপলক্ষ্যে পুরীতে বাস করছিলেন। একদা শ্রীঅদ্বৈতপ্রভুর অসামান্য ভক্তিভাব দেখে চরম আশ্চর্য্য হলেন।সেইদিন থেকে প্রতিদিন তিনি শ্রীঅদ্বৈতপ্রভুর কাছে এসে শ্রীমদ্ভাগবতের নিগূঢ় অর্থ ও ব্যাখ্যা শুনতেন।উভয়ের সম্মেলন ও ইষ্টগোষ্ঠী বড়ই সুখময় হয়েছিল।*
*🍀শ্রীপুরুষোত্তম ও শ্রীকামদেব নামক দুই ব্যক্তি শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের অসামান্য পান্ডিত্য ও অসাধারণ ভাব দেখে প্রত্যেকদিনই তাঁর শ্রীমুখে শ্রীভাগবত ও ভক্তিশাস্ত্রের ব্যাখ্যা শুনে আকৃষ্ট হয়ে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করলেন।(ইনাদের নাম চৈঃচঃআঃ ১২|৫৯-৬৩, পাওয়া যায় )।বেশ কিছুদিন নীলাচলে থাকবার পর আচার্য্য শান্তিপুরে যাবার বাসনা করলেন।এইকথা শুনে পুরুষোত্তের ভক্তবৃন্দ বিচ্ছেদ আশঙ্কায় ব্যাকুল হলে, আচার্য্য তাঁদেরকে মধুর কথায় সান্ত্বনা দিলেন।শ্রীপুরুষোত্তম ও কামদেব আচার্য্যের সঙ্গে শান্তিপুরে আসিলেন এবং তাঁর কাছে ভক্তিশাস্ত্র অধ্যয়ন করে পরম পারঙ্গত বা পারদর্শী হলেন, এবং আচার্য্যের পরম প্রীতিভাজন হলেন।*
⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪⚪
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
*(২৪)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*অদ্বৈত আচায্যের অধ্যাপনা*
***************************
*🍀নীলাচল হতে আসিবার পর শ্রীঅদ্বৈত আচার্য্য মহা উৎসাহে ভক্তিশাস্ত্রের অধ্যাপনা করতে রত হলেন।শান্তিপুরবাসী সকলকেই পরমানন্দে তাঁর শ্রীমুখের ব্যাখ্যা শুনতে লাগলেন।কৃষ্ণদাস দশ বৎসর ধরে ভক্তিশাস্ত্র অধ্যয়ন ও অকপটে সুষ্ঠুভাবে আচায্যের সেবা করে পরমপ্রিয় হলেন ;তখন আচার্য্য তাঁকে দীক্ষা দান করলেন।লাউড়াধিপতি রাজা দিব্যসিংহ যিনি লাউরিয়া কৃষ্ণদাস-নামে পরিচিত, তিনিও দশ বৎসর ভক্তিশাস্ত্র অধ্যয়ন ও আচার্য্য সেবার ফলে আচার্য্য ভীষণ তুষ্ট হলেন।শ্রীআচার্য্য তাঁকেও দীক্ষাদান করলেন।দীক্ষা দানের পর গঙ্গাতীরে এক পর্ণকুটীর নির্মাণ করে সেখানে বাস করতে আদেশ দিলেন।কৃষ্ণদাস (লাউরিয়া) শান্তিপুরে সেই পর্ণকুটীরে বহদিন বাস করে বৃন্দাবনে গমন করেন।সেখানে কিছুদিন ভজন করে নিত্যধামে গমন করেন।তিনি অদ্বৈতাচার্য্যের বাল্যলীলা বিশেষ ভাবে জ্ঞাত ছিলেন।*
*🌹🌹হরিদাস সম্মিলন🌹🌹*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*🍀কিছুদিন পরে একদিন কমলাক্ষ ভক্তগণ পরিবেষ্টিত হয়ে বসে আছেন। এমত সময়ে তরুণ-বয়স্ক, তেজপুঞ্জ-কলেবর, আজানুলম্বিত-বাহু,প্রশান্তমূর্তি এক ব্যক্তি এসে সাষ্টাঙ্গে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন।তাঁর ভাবভঙ্গী ও শ্রীমূতিদর্শনে অত্যন্ত প্রীত হয়ে আচার্য্য তাঁর পরিচয় জিজ্ঞাসা করলেন।তিনি বললেন প্রভো!আমি ম্লেচ্ছ, আমার নাম হরিদাস। শুনেছি, আপনি ভক্তিদাতা,শরণাগতের আশ্রয়,স্নেহময়,করুণা-সাগর বৈষ্ণবাচার্য্য।তাই কৃষ্ণভক্তি লাভের ইচ্ছায় আপনার শ্রীচরণাশ্রয় উদ্দেশ্যে আপনার কাছে এসেছি।অদ্বৈতাচার্য্য বললেন,এসো!এসো!আমার হরিদাস। আমি তোমাকে এই প্রথম দেখলেও বিলক্ষণরূপেই জানি।তুমি আমার অন্তরঙ্গ পরমাত্মীয় ; দূরে থাকলেও অতি কাছের মানুষ তুমি। (একজন নন্দীশ্বর অন্য বর্ষানেশ্বর) তোমার সঙ্গে আমার অবিচ্ছেদ্য সম্বন্ধ।এখানে থেকে ভক্তিশাস্ত্র অধ্যয়ন ও শ্রীকৃষ্ণভজন করো, কৃপাময় শ্রীকৃষ্ণ তোমাকে অচিরেই কৃপা করবেন। এই আলাপে আশ্রমের সকলেই অবাক হয়ে গেলেন। যেন কত নিকট আত্মীয়, শিশুকালের বন্ধু, কত প্রিয়তম,কত যুগ যুগান্তরের পুরাতন স্নেহপাত্র, কিন্তু এই প্রথম দেখা।যাইহোক,সকলেই বুঝলেন ইনা ভাগবদ্ পার্ষদই হবেন।উভয়েরই হৃদয়ে অপূর্ব আনন্দরস উচ্ছলিত হল।দুইজনেই যেন বহুদিনের হারানিধি ফিরে পেলেন।গঙ্গাতীরে নির্জন জায়গায় তাঁর জন্য একটি কুটীর নির্মিত হল।হরিদাস সেই কুটীরে বাস করতে লাগলেন।*
*🙏শ্রীহরিদাস, অদ্বৈতাচার্য্যের স্নেহ ও আশ্রয় লাভ করে নিজেকে ধন্য মনে করলেন।আচার্য্য কহিলেন, হরিদাস!কৃষ্ণ তোমার দ্বারা তাঁর শ্রেষ্ঠ মনো অভীষ্ট প্রচার করিবেন।হরিদাস দৈন্য ভাবে বললেন,আমি নীচজাতি,মুর্খ, পাপী আমার দ্বারা শ্রীভগবানের কি অভীষ্ট পূরণ হতে পারে?তখন আচার্য্য বললেন, তুমি চিন্তা করছ কেন? শ্রীকৃষ্ণের অচিন্ত্য শক্তিপ্রভাবে কি না হতে পারে? ভূবনপাবন শ্রীঅদ্বৈতের ইচ্ছায় হরিদাস অধ্যয়নে রত হলেন।আচার্য্যের কৃপা ও যত্নে খুব অল্পদিনের মধ্যেই তাঁর ব্যাকরণ,সাহিত্য ও দর্শন অধ্যয়ন সমাপ্ত করে তখন শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যয়ন করতে আরম্ভ করলেন। খুব অল্পদিনের মধ্যেই শ্রীমদ্ভাগবতের সিদ্ধান্তে পারদর্শী হলেন।তখন সর্বশাস্ত্রজ্ঞ শ্রীহরিদাস সর্বশাস্ত্রের সার অবগত হয়ে শ্রীকৃষ্ণভজনই যে জীবের একমাত্র পরম প্রয়োজন তা বুঝলেন। কিন্তু শ্রীগুরুকৃপা ও শুদ্ধ সাধুসঙ্গ ছাড়া হরি ভজন হতে পারে না। একারণ শ্রীআচার্য্য-চরণে প্রণত হয়ে তাঁর কৃপাভিক্ষা করলেন।আচার্য্য কৃপাকরে তাঁর শক্তিসঞ্চার করে শ্রীনাম-ভজনে উপদেশ দিলেন।বললেন,শ্রীপ্রহ্লাদ মহারাজের উপদিষ্ট নববিধা ভক্তির যে কোনও অঙ্গ যাজন করলে জীব কৃতকৃতার্থ হতে পারলেও সর্বশাস্ত্রে শ্রীনাম-ভজনেরই সর্বশ্রেষ্ঠত্ব বলা হয়েছে।শ্রীনাম-ভজনে জাতি-কুলাদির বিচার নাই।প্রাকৃত জায়গা,কাল,পাত্র,জ্ঞান,অজ্ঞান,পাপ, অসৎকর্ম, যোগ্যতা,অযোগ্যতা, বিধি, নিষেধ ইত্যাদির অপেক্ষা নাই বা শ্রীনাম প্রাকৃত কোন বিচার আচারের অধীন নহেন।প্রাকৃত কোন সাধন, যোগ্যতা বা জ্ঞানাদি সাধনচেষ্টার দ্বারা নামভজন হয় না,প্রাকৃত কোনও বাধা-বিঘ্ন পরম স্বতন্ত্র সর্বভূমা শ্রীনামকে বাধিত করতে পারে না।এমন কি দীক্ষা পুরশ্চর্য্যারও অপেক্ষা করেন না।কেবলমাত্র সাধুর কৃপায় সেই অপ্রাকৃত নাম পাওয়া যায়।শ্রীনাম চিন্তামণি, চৈতন্য-রসবিগ্রহ, নিত্য,শুদ্ধ ও মুক্ত এবং নাম ও নামী অভিন্ন। আবার বলেছেন, নামী অপেক্ষা নাম বড়।অতএব তুমি সর্বক্ষণ শ্রীনাম আশ্রয় করে নামের কৃপা লাভ করে সেই নাম আচার ও প্রেম-প্রচার করো।শ্রীনামের কৃপায় সবরকম সাধন প্রণালী ও সিদ্ধান্ত হৃদয়ে স্ফূর্তি লাভ করবে।বিশেষ করে কলিকালে শ্রীনাম-ভজন ছাড়া আর কোন সাধন জীবকে ফল দিতে পারে না। সত্যযুগের ধ্যানে,ত্রেতার যজ্ঞে, দ্বাপরের পূজা অর্চনের যে ফল, কলিকালে শ্রীনামসংকীর্তনে সেই সব ফল অনায়াসে অনুসঙ্গক্রমে লাভ হয়। এমনকি শ্রীকৃষ্ণপ্রেম পর্য্যন্ত লাভ হয়,অন্য কোন সাধনে অতি কষ্টে বহুদিনে যে ভুক্তি বা ধর্মার্থকাম লাভ হয়,তা একমাত্র নামাভাসেই অনায়াসে লাভ হয়।মুক্তি নামাভাসেই সহজেই লাভ হয়। এবং শুদ্ধ নামোদয়ে কৃষ্ণপ্রেমও লাভ হয়। ইত্যাদি নানারকম নাম-ভজন-সম্বন্ধীয় উপদেশ প্রদান করে শ্রীহরিদাসকে শক্তিসঞ্চার করে নাম প্রদান করলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏😭🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
*(২৫)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*হরিদাসের সহিত মিলন*
**************************
*🍀শ্রীহরিদাস দৃঢ়বিশ্বাসের সঙ্গে নিষ্ঠার সঙ্গে শ্রীনাম-ভজন করতে লাগলেন।প্রত্যহ তিনলক্ষ নাম গ্রহণ ও আচার্য্যের সঙ্গ প্রভাবে অল্পদিনের মধ্যেই শ্রীহরিদাসের প্রেম প্রকাশিত হল।আচার্য্য তাঁকে যে নামের ব্যাখ্যা শুনিয়েছিলেন তা এইরকম জানা যায়, যথা="হকার পীতবর্ণশ্চ সর্ববর্ণ বরোত্তম।জ্ঞানাজ্ঞানকৃতং পাপং হ কারো দহতি ক্ষণাৎ।।রে কারো রক্তবর্ণস্যাৎ গোপালেন নিরূপিতঃ।গুর্ব্বঙ্গনাকৃতং পাপং রে কারো দহতি ক্ষণাৎ।।কৃ কারো কজ্জলোবর্ণ সংহৃত দ্যুত পাতকং।গতি শক্তি রতি প্রেমঃ কৃ কারাজ্জায়তে ক্ষণাৎ।। নানারূপধরশ্চৈব ষ্ণ কারঃ পরিকীর্ত্তিতঃ। ষ্ণ কারোচ্চারণাদেব নরকাদুদ্ধরেদ্ধ্র বং।।তত্তুজন্মার্জিতং পাপং ষ্ণ কারো দহতি ক্ষণাৎ। রা কারো গৌরবর্ণশ্চ রসশক্তীভবেদ্ধ্র বং।। রবিচন্দ্রসমোভাতি তমিস্রা দহতি ক্ষণাৎ। ম কারো জ্যোতিরূপশ্চ দিব্যাঞ্জন সদর্চ্চিতঃ।।মিথ্যাবাক্যং কৃতং পাপং ম কারো দহতি ক্ষণাৎ। শ্রীরাধাকৃষ্ণৌ সর্বাঙ্গে ষোড়শনাম নিরূপয়েৎ।।*
*🌹🌹সখা-সখী--তত্ত্ব🌹🌹*
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
*ললিতাচ বিশাখাচ চিত্রা চম্পকলতা তথা।*
*রঙ্গদেবী সুদেবীচ তুঙ্গবিদ্যেন্দুরেখিকা।।*
*শশীরেখা চমরিকা পালিকানঙ্গমঞ্জরী।*
*শ্যামা মধুবতী দেবী তথা ধন্যাচ মঙ্গলা।।*
*এতা প্রকৃতি সর্বেষাং মূল প্রকৃতি রাধিকা।*
*🌻🌻🌻ষোড়শ সখা🌻🌻🌻*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻
*শ্রীদামশ্চ সুদামশ্চ বসুদমস্ততঃ পরং।*
*সুবলশ্চার্জুনশ্চৈব কিঙ্কর স্তোককৃষ্ণকৌ।।*
*বরুথপোহংশুরামশ্চ বৃশালো বৃষভস্তথা।*
*দেবপ্রস্থউজ্জ্বলশ্চ মহাবাহু মহাবলৌ।।*
*এই ষোড়শ সখাময় শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র।*
*এই বত্রিশ সখাসখী রাধাকৃষ্ণমন্ত্র।।*
*হরিনাম মহামন্ত্র সর্বসার তন্ত্র।*
*এই জপ দিবা রাতি এই যে পরতন্ত্র।।*
*হরিনাম মহামন্ত্র জপ রাত্রিদিনে।*
*জপিতে জপিতে কৃষ্ণ জানিবে আপনে।।*
*🌹শান্তিপুরে বহুলোকের বাস। সেখানে সবরকম লোক বাস করে, বিশেষকরে সেখানে স্মার্তের প্রবল প্রতাপ।তারা হরিদাস যবন-কুলোৎপন্ন এবং শ্রীআচার্য্য তার সঙ্গে সঙ্গ করেন বলিয়া নিন্দাবাদ আরম্ভ করেন।তাঁর বহু ছাত্র।তারমধ্যে কেউ কেউ স্মার্ত-প্রবণ থাকাই হরিদাসের সামনে শ্রীআচার্য্যের উক্ত নিন্দা ব্যক্ত করল।তাতে হরিদাস দুঃখিত হয়ে আচার্য্যের কাছে কৌশলে নিজের আচার্য্যসঙ্গের অযোগ্যতা জ্ঞাপন করলেন।তাতে আচার্য্য দুঃখিত হয়ে বললেন, হরিদাস! অজ্ঞ-লোকে ঐশ্বর্য্য না দেখলে কিছুই বুঝে না।তুমি আমার ইচ্ছায় কিছু প্রভাব দেখাও,এতে আমার আদেশ পালন ও অজ্ঞলোকেরও মঙ্গল হবে।তাতে তোমার কিছুই ক্ষতি হবে না। আচার্য্যের আদেশে হরিদাস পরদিন গ্রামের "অগ্নি-হরণ" করলেন। শান্তিপুরময় আগুনের অভাব হল,কেউ কোনও জায়গায় আগুন পেল না।যাজ্ঞিক ব্রাহ্মণের যজ্ঞকুন্ড পর্য্যন্ত নিভে গেল।অন্য গ্রাম থেকে আগুন আনতে গেলে, শান্তিপুরে আসামাত্র নিভে যায়।সারাদিন গত হল, সন্ধ্যা উপস্থিত ; আগুনের উপায় আর হল না।তখন কিছু ভালমানুষে এর কারণ নির্দ্ধারণ করে পরামর্শ দিলেন, আচার্য্যের নিন্দার ফলে এই অবস্থা হয়েছে।তাঁকে প্রসন্ন করতে না পারলে,আগুন আর পাবে না।তখন সকলে মিলে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের শরণ গ্রহণ করলেন।নিজেদের অপরাধ ক্ষমা ভিক্ষা করে অগ্নি প্রার্থনা করলেন।তখন আচার্য্য বললেন, তোমরা তো ধর্মপরায়ণ মহাতেজী যাজ্ঞিক ব্রাহ্মণ, কেউ বা বেদজ্ঞ! তোমাদের মুখেই তো অগ্নি আছে, তা হতে অগ্নি প্রজ্বলিত করতে পারো।তাতে সকলেই বর্তমান ব্রাহ্মণের অযোগ্যতার কথা বলে দৃঢ়ভাবে আচার্য্যের চরণে শরণাপন্ন হলেন।বহু কাকুতি মিনতি কথায় প্রসন্ন করতে চেষ্টা করতে লাগলেন। আচার্য্য বললেন, তোমরা হরিদাসের মহিমা জানো না, তাঁকে যবন বলে নিন্দা করায় তাঁর চরণ অপরাধের ফলে আগুন অপহৃত হয়েছেন। তিনি সাক্ষাৎ ব্রহ্মা।তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে প্রসন্ন করতে পারলে, পুনঃ অগ্নি লাভ করতে পারবে, এতে আমার কোন হাত নেই। আচার্য্যের আদেশে গ্রামবাসীগণ শ্রীহরিদাসের কুটিরে গমন করে কুটির পরিক্রমা করে তাঁর সামনে জোড়হাত করে দাঁড়িয়ে কাতরভাবে বললেন,প্রভো!আমরা অজ্ঞ,আপনি আমাদের অপরাধ ক্ষমা করে অগ্নি দান করুন ; নচেৎ সকলের জীবন যায় বুঝি ; আজ কারও অন্নাহার হয়নি,কেউ রন্ধন করতে পারেনি।দয়াময় ঠাকুর হরিদাস ব্রাহ্মণগণের কাতরতা দেখে,সদয় হয়ে বললেন,তৃণ আনুন, অগ্নি সম্ভাষ করে দিচ্ছি। তাড়াতাড়ি তৃণ আনা হল,শ্রীহরিদাস জয়ধ্বনি করে অগ্নি প্রজ্বলিত করলেন।সকলে চমৎকৃত হয়ে হরিদাসকে প্রণাম করতে লাগলেন।সেই দিন থেকে হরিদাস শান্তিপুরে পূজিত হতে লাগলেন।*
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🙏🌷🌷🌷🌷🌷🪷
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
*(২৬)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীযদুনন্দন আচার্য্য*
🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷
*🍀শ্রীহরিদাস ঠাকুর শ্রীহরিনামানন্দে মত্ত আছেন।লাউরীয় কৃষ্ণদাস কাছে বসে আছেন।এমত সময়ে তর্কচূড়ামণি উপাধিখ্যাত শ্রীযদুনন্দন আচার্য্য (সপ্তগ্রামের হরিহরপুর নিবাসী)নামক এক ব্রাহ্মণ সেখানে উপনীত হলেন। তিনি শ্রীহরিদাসের শ্রীহরিনামপ্রেম দেখে পাগল বলিয়া মনে করলেন,এবং কৃষ্ণদাসকে জিজ্ঞাসা করলেন,ইনি কি পাগল? বিচক্ষণ কৃষ্ণদাস উত্তর করলেন, ইনি সামান্য পাগল নহেন, ভগবৎপ্রেমে পাগল।ইনি শোক দুঃখাতীত,পরমভাগবত,সর্বশাস্ত্রজ্ঞ, ও মহাপন্ডিত, শ্রীগুরুদেবের নিকট হতে ব্রহ্ম-হরিদাস আখ্যা পেয়েছেন।শ্রীসরস্বতী দেবী ইঁনার জিহ্বায়।কিছুক্ষণ পরে হরিদাস ঠাকুরের কীর্তন বিরাম হল।তর্কচূড়ামণি অহংকারের সঙ্গে তাঁকে কয়েকটি কঠিন প্রশ্ন করলেন।ঠাকুর হরিদাস প্রশান্ত ভাবে তার এমন সুমীমাংসা করলেন যে,তর্কচূড়ামণি মহাশয় চরম আশ্চর্য্যান্বিত হয়ে লজ্জিত হলেন।*
*🍀এমন সময় শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য সেখানে আগমন করলেন।তাঁকে দেখা মাত্রেই শ্রীযদুনন্দন আচার্য্য সসম্ভানের সঙ্গে প্রণাম করে দৈন্য জ্ঞাপন করলেন।আচার্য্য কারণ জিজ্ঞাসা করায়, যদুনন্দন বললেন, "আপনার শিষ্যের প্রভাব দেখে আপনার লোকোত্তর মহিমা ও অসাধারণ শক্তি অবগত হয়েছি।আমি আপনার শ্রীচরণে শরণ গ্রহণ করিলাম।আপনি শরণাগত পালক, আপনার এই শরণাগত ভৃত্যকে কৃপা করুন।তাঁর দৈন্য ও বিনয় ভাবে আচার্য্য প্রসন্ন হয়ে তাকে ভক্তিশাস্ত্র শিক্ষা দিলেন এবং শক্তিসঞ্চার করে শ্রীকৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত করলেন।তিনি শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের কৃপা ও শক্তি পেয়ে কৃতার্থ হলেন।ইনিই শ্রীমৎ রঘুনাথ দাসগোস্বামীর গুরু হয়েছিলেন।*
*🪷🪷🪷শ্যামদাস সম্মিলন🪷🪷*
*🍀শ্যামদাস আচার্য্য একজন রাঢ়দেশীয় ব্রাহ্মণ।বহু শাস্ত্রজ্ঞ পন্ডিত।কিন্তু ভক্তিশাস্ত্রের আলোচনা না করাতে উদ্ধত ও দাম্ভিক ছিলেন। যেখানে সেখানে শাস্ত্রার্থ বিচার ও তর্ক উঠিয়ে জয়লাভ করতেন কিন্তু ভক্তি শাস্ত্রের জায়গায় পরাজিত হতেন।এই দুঃখে কাশী গিয়ে শ্রীবিশ্বেশ্বরের শরণাগত হয়ে অনাহারে কঠোর তপস্যায় নিযুক্ত হন।বিশ্বেশ্বর তার তপস্যায় প্রসন্ন হয়ে স্বপ্নাদেশ করলেন, তোমার বাসভূমির কাছে শান্তিপুরে মহাবিষ্ণু আবির্ভূত হয়ে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য নামে প্রকট হয়েছেন। তাঁকে সেবা করে তুষ্ট করতে পারলে তোমার মনোবাসনা পূর্ণ হবে।শ্যামদাস এই স্বপ্নাদেশ পেয়ে শান্তিপুরের দিকে আগমন করলেন। তিনি শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের শ্রীচরণতলে সাষ্টাঙ্গে দন্ডবৎ প্রণাম করে শ্রীবিশ্বেশ্বরের স্বপ্নাদেশের সমস্ত কথা বললেন।আচার্য্য তাঁকে ভাগবতশাস্ত্র অধ্যয়ন করালেন। কিন্তু তিনি ভাগবত পড়েও শান্তি লাভ করতে পারলেন না।একসময় শ্যামদাস শ্রীআচার্য্যের শ্রীচরণে পড়ে প্রার্থনা করলেন, প্রভো!আমি এখন বেশ বুঝতে পেরেছি যে,কেবল শাস্ত্র পড়ে বিশেষ লাভ নাই, শুকনোতর্কে আমার হৃদয় শুকনোই রয়েছে।আপনার কৃপা ছাড়া ভক্তি রসাস্বাদন করতে পারছি না।আপনি এই শরণাগত ভৃত্যকে কৃপা করে শক্তি সঞ্চার ও ভক্তিরস প্রদান করলে আমি কৃতার্থ হতে পারি।তাঁর দৈন্য ও আর্তি দেখে শ্রীআচার্য্য প্রসন্ন হয়ে দীক্ষা দান করলেন।মন্ত্র ও নামের অর্থ ও ভজন-প্রণালী শিক্ষা দিয়ে তাকে ভক্তিরসময় করলেন।আচার্য্যের কৃপায় শ্যামদাস কৃতার্থ হলেন।তিনি সর্বক্ষণ শ্রীহরিনাম ও গুরুসেবায় নেজ জীবন নিযুক্ত করে ভক্তিরসাস্বাদনে প্রেমলাভ পর্যন্ত করলেন।*
*🎎🎎🎎🎎বিবাহ🎎🎎🎎🎎*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🍀"প্রাকৃত স্ত্রী ও পুরুষ-জীবের যে ভোগমূলক "বিবাহ",তা "বন্ধন"-নামে কথিত ; কিন্তু বৈকুন্ঠপতি মহাবিষ্ণু অবতার শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের "সীতা" ও "শ্রী"-দেবীর সঙ্গে নিত্যশক্তির সম্মেলনরূপ বিবাহ-লীলা দেখলে বা শুনলে সংসার-পরায়ণ জীবের সংসার-ভোগ-বাসনা বিদূরিত হয়ে অপ্রাকৃত-জ্ঞানোদয়-ফলে সংসার মুক্তিলাভ ও বৈকুন্ঠপ্রাপ্তি ঘটে। প্রপঞ্চে সংসার-ভোগ-বাসনা-যুক্ত দীন কৃপণ লোকগণকে দিব্যজ্ঞান প্রদান দ্বারা তাদের সংসারভোগ বাসনা বিদূরিত স্ব-স্বরূপে বৈকুন্ঠে উপনীত করিয়ে দেব-দুর্লভ সেবাধিকার প্যদান করবার জন্যই লোক-সমক্ষে পরম-করুণ প্রভু নিজে অপ্রাকৃত উদ্বাহ বা বিবাহ-লীলা উদয় করালেন। এইজন্য তিনি 'অহৈতুক কৃপাময় ' আমন্দোদয়া-দয়া-সিন্ধু, "দীনবন্ধু" প্রভৃতি অসীম কারুণ্য সূচক বহুবিধ নামাবলীদ্বারা অভিহিত হন। জীবের বিভিন্ন কর্ম-প্রবৃত্তি কালের মধ্যে স্তব্ধ হয় বলে প্রপঞ্চে অবতীর্ণ মায়াধীশ শ্রীভগবানের অপ্রাকৃত-লীলা ও মায়াবশ প্রাকৃত জীবের কর্মচেষ্টার সঙ্গে সমান,এইরকম জ্ঞান করা নিতান্ত অবৈধ ও অপরাধজনক বলেই শাস্ত্র তারস্বরে বা শাস্ত্রের কথায় মায়াধীশ ভগবান ও মায়াবশ জীবের কর্মের মধ্যে নিত্য ভেদ-কীর্তন করে ভীষণ মায়াবশ হতে সতর্ক করেছেন। (চৈঃভাঃ) প্রভুপাদ।*
*🍀শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের বিবাহাদি সম্বন্ধে,শ্রীভক্তিরত্নাকর গ্রন্থে বর্ণিত আছে =*
*🌷শ্রীঅদ্বৈত-আচার্য্য-বিবাহ করাইতে।*
*🌷বিশিষ্ট লোকের চেষ্টা হৈল ভাল মতে।।*
*🌷সকলেই কৈলা বিবাহের আয়োজন।*
*🌷তাহা জানিলেন প্রভু কুবের নন্দন।।*
*🌷করিতে বিবাহ অদ্বৈতের ইচ্ছা হৈল।*
*🌷মন্দ মন্দ হাসি ' সভে অনুমতি দিল।।*
*🌷সভে মহাহর্ষ হৈয়া গিয়া নিজ ঘরে।*
*🌷জানাইল নৃসিংহ-ভাদুড়ী বিপ্রবরে।।*
*🌷ভাগ্যবন্ত নৃসিংহ-বিপ্রের দুই কন্যা।*
*🌷বিবাহের যোগ্যা,রূপে গুণে মহা ধন্যা।।*
*🌷নৃসিংহ ভাদুড়ী অতি উল্লাস অন্তরে।*
*🌷দুই কন্যা সম্প্রদান কৈলা অদ্বৈতেরে।।*
*🌷অদ্বৈতের বিবাহে সুখের অন্ত নাই।*
*🌷বহু অর্থ ব্যয় কৈল যত ভাগ্যবন্ত।।*
*🌷আচার্য্যের ভার্য্যা দুই জগৎপূজিতা।*
*🌷সর্বত্র বিদিত নাম "শ্রী" আর "সীতা"।।*
*🌻আবার শ্রীগৌরগণোদ্দেশ দীপিকায় পাওয়া যায় =*
*🌷যোগমায়া ভগবতী গৃহিণী তস্য সাম্প্রতং।*
*🌷সীতারূপেণাবতীর্ণা শ্রীনাম্নী তৎপ্রকাশতঃ।।*
*🍀অর্থ্যাৎ ভগবতী যোগমায়া শ্রীমদ্ অদ্বৈতাচার্য্যর পত্নী "সীতাদেবী" এবং তৎপ্রকাশ "শ্রী"রূপে সম্প্রতি অবতীর্ণা হলেন।*
*🌷সর্বতত্ত্বজ্ঞাতা দুই অদ্বৈতঘরণী*।
*🌷দোঁহার যে চেষ্টা তাহা কহিতে কি জানি।।*
*🌷ঐছে রহে শান্তিপুরে শ্রীঅদ্বৈতরায়।*
*🌷করিলেন এক বাসস্থান নদীয়ায়।।*
*🌷প্রায় শ্রীবাসের গৃহে অদ্বৈতের স্থিতি।*
*🌷কৃষ্ণরসাস্বাদে না জানয়ে দিবারাতি।।*
*🌷কভু শান্তিপুরে, কভু রহে নদীয়ায়।*
*🌷কৃষ্ণবিনা কথোদিনে উদ্বেগে গোঙায়।।*
*🌷কৃষ্ণে আরাধয়ে সদা অশেষ প্রকারে।*
*🌷হইলা প্রকট অদ্বৈত-হুঙ্কারে।।*
*🌷প্রভুর অদ্ভূত লীলা দেখে নদীয়ায়।*
*🌷না করয়ে ব্যক্ত সভে,প্রকারে জানায়।।*
*🌷প্রভু প্রকাশিয়া পূজি ' উল্লাস অন্তরে।*
*🌷কত মনোরথ করি' গেলা শান্তিপুরে।।*
*(১২|১৭৭৮-১৭৯৩)*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
*(২৭)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীচরিতামৃতের কথন*
***********************
*🍀গৌর-আনা-ঠাকুর সম্বন্ধে শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে আদি ৩য় পরিচ্ছেদ ৯১, ৯৫-১০৯ সংখ্যায় বর্ণিত হয়েছে।*
*🌷আচার্য্য গোসাঞি প্রভুর ভক্ত-অবতার।*
*🌷কৃষ্ণ-অবতার হেতু যাঁহার হুঙ্কার।।*
*🌷প্রকটিয়া দেখে আচার্য্য সকল সংসার।*
*🌷কৃষ্ণভক্তিগন্ধহীন বিষয়-ব্যবহার।।*
*🌷কেহ পাপে,কেহ পুণ্যে করে বিষয়-ভোগ।*
*🌷ভক্তিগন্ধ নাহি,যাতে যায় ভবরোগ।।*
*🌷লোকগতি দেখি ' আচার্য্য করুণ-হৃদয়।*
*🌷বিচার করেন,লোকের কৈছে হিত হয়।।*
*🌷আপনি শ্রীকৃষ্ণ যদি করেন অবতার।*
*🌷আপনে আচরি 'ভক্তি করেন প্রচার।।*
*🌷নাম বিনু কলিকালে ধর্ম নাহি আর।*
*🌷কলিকালে কৈছে হবে কৃষ্ণ অবতার।।*
*🌷শুদ্ধভাবে করিব কৃষ্ণের আরাধন।*
*🌷নিরন্তর সদৈন্যে করিব নিবেদন।।*
*🌷আনিয়া কৃষ্ণেরে করোঁ কীর্তন সঞ্চার।*
*🌷তবে সে "অদ্বৈত" নাম সফল আমার।।*
*🌷কৃষ্ণ বশ করিবেন কোন্ আরাধনে।*
*🌷বিচারিতে এক শ্লোক আইল তাঁর মনে।।*
*🌻গৌতমীয়-তন্ত্রে নারদবাক্য যথা=*
*🌷তুলসী দলমাত্রেণ জলস্য চুলুকেণ বা।*
*🌷বিক্রীণীতে স্বমাত্মানং ভক্তেভ্যো ভক্তবৎসল।।*
*🌹অর্থ্যাৎ=ভক্তবৎসল ভগবান্ চন্দন মন্ত্র-আদি-বিনা তুলসীদল মাত্রে জল গন্ডুষের দ্বারা ভক্তের কাছে আত্ম-বিক্রীত (তদায়ত্ত করেন)হন।*
*🍀এই শ্লোকের অর্থ আচার্য্য করেন বিচরণ।*
*🍀কৃষ্ণকে তুলসীজল দেয় যেই জন।।*
*🍀তার ঋণ শোধিতে কৃষ্ণ করেন চিন্তন।*
*🍀জল-তুলসীর সম আর কিছু নাহি ধন।।*
*🍀তবে আত্মা বেচি' করে ঋণের শোধন।*
*🍀এত ভাবি' আচার্য্য করেন আরাধন।।*
*🍀গঙ্গাজলে তুলসী মঞ্জরী অনুক্ষণ।*
*🍀কৃষ্ণপাদপদ্ম ভাবি' করে সমর্পণ।।*
*🍀কৃষ্ণের আহ্বান করেন করিয়া হুঙ্কার।*
*🍀এমতে কৃষ্ণের করাইল অবতার।।*
*🍀চৈতন্যের অবতারে এই মুখ্য হেতু।*
*🍀ভক্তের ইচ্ছার অবতার ধর্মসেতু।।*
*🙏🙏🙏শ্রীধাম মায়াপুরে🙏🙏🙏*
*🌻শ্রীচৈতন্যভাগবত ও শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থে শ্রীল অদ্বৈত আচার্য্যের বিষয় যা বর্ণিত আছে তা সংক্ষেপে লিখিত হচ্ছে।*
*🪷ভক্তিকল্পবৃক্ষের স্কন্ধস্বরূপ মহাবিষ্ণু অবতার গৌর-আনা-ঠাকুর শ্রীমায়াপুরে টোলবাড়ী করে ভক্তিশাস্ত্রের অধ্যাপনা করতে লাগলেন।নবদ্বীপবাসী বৈষ্ণবগণ মায়াপুরে গৌরভক্ত চূড়ামণি আচার্য্যকে পেয়ে পরমানন্দে তাঁর সঙ্গ করতে লাগলেন।জীব দুঃখে দুঃখী বৈষ্ণবগণ একটু শান্তির জায়গা পেয়ে সবসময়ই তাঁর সঙ্গে কৃষ্ণকথা-রঙ্গে আনন্দে সময় কাটাতে লাগলেন।তাঁরা সকলেই শ্রীগৌর-পার্ষদ।তারমধ্যে শ্রীমন্নিত্যানন্দের সঙ্গে অভেদ শরীর শ্রীবিশ্বরূপ যিনি শ্রীনিমাইচাঁদের দাদা, গৌরসেবার জন্য আগেই জন্মগ্রহণ করে শ্রীগৌরসুন্দরের কীর্তন-প্রচার কাজের, ক্ষেত্র-পরিস্কার-কাজে, অগ্রণী হয়ে এসেছিলেন, তিনি শ্রীঅদ্বৈত আচার্য্যকে পেয়ে তাঁর প্রধান সহায়করূপে তাঁর গৌর সেবার সঙ্গী করে নিলেন।সবসময় তাঁর কাছে ইষ্টগোষ্ঠী ; জীব উদ্ধারের উপায় ও জীবের মঙ্গল-চিন্তা-দ্বারা জীব সত্তার উপর প্রবলভাবে শুদ্ধিকার্য্য আরম্ভ করলেন।জীবের এই মঙ্গলময় বন্ধুর কাজ আর কেউই বুঝতে পারলেন না।(সত্যিকারের যাঁদের মধ্যে কৃষ্ণপ্রেম আছে, তাঁরা কোনদিনই নিজের প্রচার করেন না, আর বতর্মান ?) যাইহোক,আরম্ভ করলেন, উপাদান কারণের মালিক ও নিমিত্ত কারণের মালিক শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য ও শ্রীবিশ্বরূপ ; উভয়েরই জীব সত্তার উপর একতার তাঁদের প্রথম অনুষ্ঠান হল "সন্ধিনীর উপর সম্বিতের প্রভাব বিস্তার ", তাই সর্বশাস্ত্রের কৃষ্ণভক্তিময় ব্যাখ্যা।শ্রীবিশ্বরূপের সবশাস্ত্রের কৃষ্ণভক্তি-সার ব্যাখ্যা শুনে আচার্য্য পূজা ছেড়েও বিশ্বরূপকে কোলে করে হুঙ্কার ও নৃত্য আরম্ভ করলেন এবং বললেন "পেলাম,পেলাম" আমার প্রভুর সেবার সহায়করূপে বিশ্বরূপকে পেলাম।সকল ভক্তেরই শ্রীবিশ্বরূপ প্রাণস্বরূপ হলেন।শ্রীনিমাইও আর গৃহে থাকতে পারেন না ; নিজ-কাজের বিস্তার,প্রভাব ও গতিবিধির মূলস্থানে ছুটে আসতে চান।ছল পেলেন,মায়ের আদেশ, মা বললেন নিমাই তোমার দাদা বিশ্বরূপকে ডেকে আনো, রান্না হয়ে গেছে! তিনিও আসবার জন্য ব্যস্ত।ভগবান ভক্তের প্রবল আকর্ষণে ব্যাকুল হয়ে ছুটে শ্রীঅদ্বৈত-সভায় এসে দেখলেন,ভক্তগণ বিভোর হয়ে তাঁরই কাজ করছেন।সেই মঙ্গলময় কাজে সবার প্রতি শুভদৃষ্টিপাত করে পুরস্কার-স্বরূপে নিজ নিরূপম লাবণ্যসীমা কোটিচন্দ্রবিনিন্দিত পদনখশোভা বিস্তার করে ভক্তগণের চিত্ত আকর্ষণ করলেন।ভক্তগণ সেই কৃপা লাভ করে শ্রীভগবদ্দর্শনে মহাযোগীগণের সমাধি-তিরস্কারী প্রেমবিকাশরূপ স্তম্ভ-নামক সাত্ত্বিক ভাবে বিহ্বল হলেন।ধন্য প্রভু ও ধন্য ভক্ত, বিনা অনুভবেও ব্রহ্মার দুর্লভ ভাব অনায়াসেই লাভ করলেন।এটি শুদ্ধচিত্ত ভক্তের প্রতি পরাকাষ্ঠা ভগবৎ প্রকাশের অসমোর্দ্ধ প্রভাব।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪷🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
*(২৮)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীধাম মায়াপুর*
°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀 কিন্তু অপরাধে পরিপূর্ণ অভক্তের প্রতি এত বড় শক্তিও অপ্রকাশিত ও অব্যক্ত।কেবল ভক্তের প্রতি এই প্রভাব চরমভাবে প্রকাশ পায়।ভক্তসংঘে কৃপা করে মহাপ্রভু অগ্রজকে (দাদা বিশ্বরূপকে) নিয়ে চলতেন।শ্রীঅদ্বৈত ভাবলেন--, এই নিমাই কোন বস্তু!মায়াধীশ আমাকেও মুগ্ধ করে পূজা ছাড়িয়ে,কৃষ্ণকেও ভুলিয়ে দিচ্ছে!এ বুঝি কৃষ্ণেরই চরম মাধুর্য্য -পরাকাষ্ঠা-প্রকাশ উদার বিগ্রহ। কিছুদিনে বিশ্বরূপ সন্ন্যাস গ্রহণ করে চলে গেলেন।তাঁর সেবা পূর্ণ হয়েছে ;এক্ষণে নিত্যানন্দ স্বরূপের সেবার সময় এসেছে।শ্রীঅদ্বৈতাদি ভক্তগণের হৃদয় বিদীর্ণ হল ; যাঁর কৃপায় নিমাইয়ের সেই অসমোর্দ্ধ কারুণ্যময়ী রূপলাবণ্য দর্শন সুলভ হয়েছিল,তাও আর তত সহজে সম্ভবপর হচ্ছে না।ধন্য কৃপাময় বিশ্বরূপ! কিন্তু নিমাই বিশ্বরূপের বিরহব্যথা ভক্তগণকে অন্য ভাবে সান্ত্বনা দিলেন,তা অবশ্যই তত্ত্বজ্ঞান।তত্ত্বজ্ঞান দ্বারা কর্ম-ফাঁস ছিন্ন হয় বটে,কিন্তু ভক্তপ্রাণে প্রেমের অভাব পূরণ করতে পারে না। তাই ভক্তগণ ভাবলেন বিশ্বরূপ যখন আদর্শ পথ প্রদর্শন করলেন,আমারও সেই পথ অনুসরণ করে বিশ্বরূপের আনুগত্য করব।তার উপর আবার পাষন্ডীর নিন্দাবাক্য জ্বালা ভক্তগণকে ব্যথিত করতে লাগল।তখন শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য ভক্তগণকে বললেন--,আমি, হৃদয়ে আর এক মহা-ভরসা ও উৎসাহময়ী সান্ত্বনা পাচ্ছি।তা আমি যদি শুদ্ধ কৃষ্ণদাস হই,তবে নিশ্চয়ই সফল হবে, তোমরা সকলে কৃষ্ণনাম কীর্তন কর,কৃষ্ণনাম ও শ্রীকৃষ্ণ অভিন্ন।কৃষ্ণকীর্তন-ফলে শ্রীকৃষ্ণ সত্বরই প্রকাশিত হবেন।ব্রহ্মা, শুক, প্রহ্লাদাদির ও দুর্লভ কৃষ্ণপ্রেম ভক্তের ভৃত্যের সুলভ হবে।আচার্য্যের অমৃতময়ী ভরসাময়ী সান্ত্বনা বাক্যে আচার্য্য-অনুগত্যে ভক্তগণ সবসময়ই কৃষ্ণকীর্তন করতে লাগলেন।*
*🌺বিকেল হলেই ভাগবতগণ শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের সভায় মিলিত হয়ে কৃষ্ণকীর্তন আরম্ভ করেন,যেই মাত্র মুকুন্দ কৃষ্ণকীর্তন করেন,তখুনি ভাগবতগণ মহাপ্রেমবিকারে, কেউ হাসেন,কেউ কাঁদেন,কেউ মাটিতে গড়াগড়ি দেন,কেউ হুঙ্কার করেন,কেউ মালসাট মারেন,কেউবা মুকুন্দের দুই চরণ গিয়ে ধরেন, এই রকম পরমানন্দে বিভোর হয়ে পড়েন।পাষন্ডীগণ কীর্তন শুনে নানারকম ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে ও বৈষ্ণব দেখলেই নানারকম কুকথা বলৈ। তাতে বৈষ্ণবগণ মহা দুঃখ পেতে লাগলেন।ভাগবতগণ পাষন্ডীর ব্যবহার* *আচার্য্যের কাছে বললে আচার্য্য ক্রোধে রুদ্র অবতার হয়ে হুঙ্কার করে বলেন="পাষন্ডী সকলকে সংহার করব।* *"আমার চক্রধর প্রভু সত্বর আসছেন, তখন এই নদীয়ায় কি হয় ' দেখতে পাবে। যদি আমার প্রভু শ্রীকৃষ্ণকে সকলের নয়নগোচর করাতে পারি,তবেই আমার অদ্বৈত-নামের সার্থকতা। কিছু দিন একটু সহ্য করে থাক। তোমরা সকলেই শ্রীকৃষ্ণের অনুভাব(প্রভাব) দেখতে পাবে।ভাগবতগণ আচার্য্যের প্রবোধ-বাক্যে দুঃখ ভুলে কৃষ্ণকীর্তন করতে লাগলেন। সকলেই আচার্য্যের সঙ্গে কৃষ্ণকীর্তনে মত্ত হলেন।*
*🌹প্রভুও বিদ্যাবিলাসে শচীমাতার আনন্দ বিধান করছেন।কেউই নিজ প্রভুকে চিনতে পারছেন না।হেনকালে কৃষ্ণরসে পরম বিহ্বল, কৃষ্ণের একান্ত অতি প্রিয়,অতি দয়াময় শ্রীঈশ্বরপুরীপাদ অতি অলক্ষিত বেশে শ্রীঅদ্বৈত মন্দিরে এসে উঠলেন।তাঁর বেশভূষা দেখে কেউ তাঁকে চিনতে পারেননি।আচার্য্য সেবা-মগ্ন আছেন,তাঁর সামনে গিয়ে অতি সঙ্কুচিত হয়ে বসে রইলেন।কেউ না চিনলেও বৈষ্ণবে বৈষ্ণবের তেজ বুঝতে পারেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন,আপনি কে?আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে --, আপনি বৈষ্ণব সন্ন্যাসী। পুরীপাদ বললেন,আমি শূদ্রাধম,আপনার শ্রীচরণ দর্শনে এসেছি।ভাব বুঝে শ্রীমুকুন্দ অতি প্রেমের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের এক লীলাসূচক কীর্তন ধরলেন। শ্রীঈশ্বরপুরী শোনামাত্র ভূমিতে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন, অবিরাম নয়নে অশ্রুধারা বহিত্র লাগল, ক্রমেই সেই ধারা প্রবলভাবে বাড়তে লাগল। তাড়াতাড়ি আচার্য্য গিয়ে পুরীপাদকে নিজ-কোলে করে তুলে তাঁর অশ্রুধারায় অঙ্গ ভিজে গেল।পুনঃ পুনঃ প্রেমের বিকাশ বাড়তে লাগল, মুকুন্দও খুব জোড়ে শ্লোক পড়তে লাগলেন।তাঁর প্রেমের অদ্ভুত-বিকার দর্শন করে ভাগবতগণ চরম আনন্দিত হলেন। সকলেই ভাবলেন,এই প্রেম তো যেখানে সেখানে প্রকাশ পায় না।শেষে বুঝলেন, ইনি প্রেমকল্পতরুর প্রথম-অঙ্কুর শ্রীপাদ মাধবেন্দ্রপুরীর শিষ্য শ্রীঈশ্বর পুরীপাদ।এইভাবে তিনি নবদ্বীপে গুপ্তভাবে থাকলেন।সেখানে মহাপ্রভুর সঙ্গে পরিচয় হল।কিছুদিন পরে মহাপ্রভু গয়া গিয়ে শ্রীঈশ্বরপুরীর কাছে দীক্ষা-মন্ত্র গ্রহণের অভিনয় করে গুরু-করণের আবশ্যকতা আচরণ দ্বারা প্রচার করলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏💧🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
*(২৯)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীধাম---------মায়াপুর*
***********************
*🍀গয়া হতে ফিরে মহাপ্রভুর প্রেমাবেশে সংকীর্তন আরম্ভ করলেন।শ্রীকৃষ্ণপ্রেমের লক্ষণ সব তাঁর চরিত্রে অসাধারণ ভাবে প্রকাশিত হতে লাগল।"ভক্তগণ মহাপ্রভুর ঐ প্রেম-লক্ষণ দেখে আচার্য্যের কাছে মহানন্দে বলতে লাগলেন।ভক্ত-প্রভাবে মহাবল আচার্য্য মহাপ্রভুর অবতার সম্বন্ধে সবই জেনেও যেন কিছু জিনেন না।এইরকম ভাব দেখাতে লাগলেন। একদিন আচার্য্য পরমআবিষ্ট হয়ে বলতে লাগলেন--,ভক্তগণ!আজ এক অপূর্ব স্বপ্ন দেখেছি, "গীতার একটি শ্লোকের ভক্তিপর অর্থ নিশ্চয় করতে না পেরে দুঃখিত হয়ে উপবাস করে শুয়ে ছিলাম।গভীর নিশিতে দেখলাম, পরম-রূপবান্,পরম-কারুণিক একব্যক্তি সুমধুর বাণীতে আমাকে জাগিয়ে তুললেন,এবং বললেন--, তোমার গীতার এই শ্লোকের অর্থ এইরকম হবে। তুমি দুঃখ ত্যাগ করে ভোজন করো এবং আমাকে পূজো করো।শুধু এই শ্লোকের অর্থ নহে,সমস্ত অভিলাষিত বস্তুই পাবে।আর দুঃখ করো না।তুমি যে সঙ্কল্প করে উপবাস,আরাধনা ও কৃষ্ণ বলে ক্রন্দন করেছ,যাঁকে আনতে দুইবাহু তুলে প্রতিজ্ঞা করেছ,আজ সে প্রভু বিদিত হলেন।সব দেশে,সব নগরে নগরে,ঘরে ঘরে অনুক্ষণ কৃষ্ণ-কীর্তন হবে।ব্রহ্মাদির দুর্লভ ভক্তিযোগ এই "শ্রীবাসের অঙ্গনে "সকল বৈষ্ণবগণ অনুক্ষণ অনুভব করবেন।আমি এক্ষণে চললাম, তোমার ভোজনকালে পুনরায় আসিব।তখুনি চোখ মেলে চেয়ে দেখেন, এই বিশ্বম্ভর।দেখামাত্রই অদৃশ্য হয়ে গেলেন।কখন কার কাছে প্রভু কি ভাবে প্রকশিত হয়ে কৃপা করেন, তা বুঝা যায় না।পূর্বে বিশ্বরূপকে আমার সভায় ডাকতে এসে আমার চিত্তবৃত্তি হরণ করেছিলেন।ইনি সর্বগুণে,সর্ববিষয়ে,সর্বশ্রেষ্ঠ।সকলে মিলে কীর্তন করো, সব সংসার সংকীর্তনে মত্ত হোক।যদি সত্য সত্যই আমার বিশ্বম্ভর আমার প্রভু হন, তবে নিশ্চয়ই আমাকে কৃপা করতে এখানে আসিবেন। অদ্বৈতের আশা কি কখনও অপূর্ণ থাকতে পারে?অল্পদিনের মধ্যেই বিশ্বম্ভর গদাধরকে সঙ্গে নিয়ে অদ্বৈত-ভবনে গেলেন। দেখলেন--,আচার্য্য জল-তুলসী দিয়ে শ্রীকৃষ্ণের পূজা করছেন ; ক্ষণে হাসছেন,ক্ষণে কাঁদছেন, কখনও বা মদমত্ত সিংহের মত হুঙ্কার করছেন ; তাঁর বাহ্যজ্ঞান নেই।আচার্য্যের প্রেমভাব দেখে মহাপ্রভু মূর্ছিত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন।ভক্তিযোগে মহাবল আচার্য্য "এই মোর প্রাণনাথ" বলে জানতে পারলেন। মনে মনে ভাবলেন,আমার প্রভু বিশ্বম্ভর প্রচ্ছন্নাবতার রূপে আত্মগোপন করে বঞ্চনা করছেন, আমিও তদ্রূপ তাঁর এই বতর্মান অন্তর্দশায় অবস্থানের সুযোগ গ্রহণ করে তাঁর অজ্ঞাতসারে তাঁর উপর ডাকাতি বা লুন্ঠন (প্রকশ্যে পূজা করে তাঁর ভগবৎ-স্বরূপ প্রকাশ করিব)।সময় বুঝে আচার্য্য সর্ব-পূজা সাজ নিয়ে নেমে এসে পাদ্য,অর্ঘ্য,গন্ধ, পুষ্পাদি দ্বারা পূজা করে পুনঃ পুনঃ "নমো ব্রহ্মণ্যদেবায় গো ব্রাহ্মণ্য হিতায় চ। জগদ্ধিতায় কৃষ্ণায় গোবিন্দায় নমো নমঃ।। এই কৃষ্ণের প্রণাম মন্ত্রে প্রণাম করতে করতে আপন প্রভুকে চিনে কাঁদতে লাগলেন।অশ্রুজলে তাঁর শ্রীচরণ ধৌত করে পদতলে দাঁড়িয়ে রইলেন।তখন গদাধর হেসে বললেন--, আপনি মহাতেজীয়ান্ ভগবদবতার ও সর্ববিষয়ে প্রবীণ হয়ে এই বালক বিশ্বম্ভরকে এইরকম পূজা করা উচিত হচ্ছে না, বলিয়া জিহ্বা কামড়ালেন।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 তৃতীয় ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita3.html
*(৩০)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীধাম মায়াপুরে*
*🍀অদ্বৈতাচার্য্য গদাধরের কথায় হেসে বললেন--,গদাধর!এই বালককে একদিন-না-একদিন জানতে পারবে।এই কথায় গদাধর বিস্মিত হয়ে ভাবলেন,আচার্য্যের কথায় বুঝা গেল--,ইনি ভগবান অবতীর্ণ হয়েছেন।বিশ্বম্ভর কিছুক্ষণে বাহ্য প্রকাশিয়া দেখলেন আচার্য্য আবিষ্ট হয়ে আছেন,তাঁর বাহ্যস্মৃতি নাই। তখন আত্মসঙ্গোপনার্থে (মহাপ্রভু অতি গোপনে)আচার্য্যের স্তুতি আরম্ভ করলেন।*
*🌷অদ্বৈতেরে স্তুতি করে' যুড়ি দুই কর।*
*🌷নমস্কার করি তাঁর পদধূলি লয়।।*
*🌷আপনার দেহ প্রভু তাঁরে নিবেদয়।*
*🌷অনুগ্রহ তুমি মোরে কর' মহাশয়।।*
*🌷ধন্য হইলাঙ আমি দেখিয়া তোমারে।*
*🌷তুমি কৃপা করিলে সে কৃষ্ণনাম স্ফুরে।।*
*🌷তুমি সে করিতে পার,ভববন্ধ নাশ।*
*🌷তোমার হৃদয়ে কৃষ্ণ সর্বদা প্রকাশ।।*
*🌷নিজভক্তে বাড়াইতে ঠাকুর সে জানে।*
*🌷যেন করে ভক্ত,তেন করেন আপনে।।*
*🌷মনে বলে অদ্বৈত,কি কর,ভারি-ভূরি।*
*🌷চোরের উপর আগে করিয়াছ চুরি।।*
*🌷হাসিয়া অদ্বৈত কিছু করিলা উত্তর।*
*🌷"সবা" হৈতে তুমি মোর বড়, বিশ্বম্ভর।।*
*🌷কৃষ্ণ-কথা কৌতুকে থাকিব একঠাঁই।*
*🌷নিরন্তর তোমা ' যেন দেখিবারে পাই।।*
*🌷সর্ব-বৈষ্ণবের ইচ্ছা, তোমারে দেখিতে।*
*🌷তোমার সহিত কৃষ্ণ কীর্তন করিতে।।*
*🌷অদ্বৈতের বাক্য শুনি ' পরম-হরিষে।*
*🌷স্বীকার করিয়া চলিলেন নিজ-বাসে।।*
*🌷জানিলা অদ্বৈত,হৈল প্রভুর প্রকাশ।*
*🌷পরীক্ষিতে চলিলেন শান্তিপুর বাস।।*
*🌷সত্য যদি প্রভু হয়,মুই হঙ দাস*।
*🌷তবে মোরে বান্ধিয়া আনিবে নিজপাশ।।*
*(চৈতন্য ভাগবত মঃ ২|১৪৪-১৫৬)*
*💧শ্রীনিত্যানন্দ এসে প্রভুর সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। একদিন প্রভু শ্রীনিত্যানন্দতত্ত্ব প্রকাশের জন্য শ্রীবাস-অঙ্গনে শ্রীব্যাস-পূজার অধিবাস দিনে বিষ্ণু-খট্টায় বসে আদেশ করলেন--,বলরাম স্তুতি পাঠ করো। চারিদিকে ভক্তগণ রাম স্তুতি পড়ছেন।প্রভু সর্বক্ষণ নাড়া,নাড়া, বলে মাথা ঢুলাচ্ছেন। সকলে বললেন, প্রভু!"নাড়া" কে?প্রভু বললেন-- যার হুঙ্কারে আমি এসেছি,যাঁকে অদ্বৈত আচার্য্য বলো, আমার এই অবতার যাঁর জন্য।আমারে বৈকুন্ঠ হতে এনে নিশ্চিন্তে হরিদাসকে নিয়ে শান্তিপুরে বসে আছেন।সংকীর্তন আরম্ভে আমার অবতার।আমি ঘরে ঘরে কীর্তন প্রচার করব।বিদ্যা-ধন-কুল-জ্ঞান-তপস্যার মদে আমার ভক্তেরচরণে যার অপরাধ আছে,সেই অধমগণকে প্রেমযোগ দিব না।এছাড়া অতিরিক্ত সকলকে ব্রহ্মাদিরও দুর্লভ প্রেম বিতরণ করব।*
*🍀একদিন মহাপ্রভু ঈশ্বরাবেশে শ্রীবাসের ভাই রামাইকে আজ্ঞা করলেন, রামাই! তুমি তাড়াতাড়ি শান্তিপুরে যাও।আচার্য্যকে আমার প্রকাশের কথা বলবে ও নির্জনে নিত্যানন্দের আগমন বার্তা বলবে।তাঁকে আমার পূজার সব উপহার সহ সত্বর সস্ত্রীক আসতে বলবে।রামাই শান্তিপুরে গিয়ে আচার্য্যের কাছে পৌঁছিবামাত্রই আচার্য্য বললেন-- মহাপ্রভু বুঝি আমাকে ডেকেছেন? রামাই করজোড়ে মহাপ্রভুর সবকথা বললেন।গৌরহরির আদেশ শুনে আচার্য্য আনন্দে মূর্ছিত হলেন।ক্ষণেকে বাহ্যজ্ঞান পেয়ে হুঙ্কার করে বলতে লাগলেন, আমার প্রভুকে আনিলাম,আমাকে কৃপা করতে আনিলাম,আমাকে কৃপা করতে প্রভু আমার বৈকুন্ঠ হতে এসেছেন, বলিয়া পুনঃ মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।তারপর কিছুক্ষণে চেতনা লাভ করে পূজার সামগ্রী সংগ্রহ করে তাড়াতাড়ি প্রভুপাদপদ্ম-মিলনে ব্যাকুল হয়ে চলিলেন।রামাইকে বললেন--,তিনি যদি আমার প্রভু হন,তবে নিজ ঐশ্বর্য্য দেখাবেন এবং আমার মস্তকে শ্রীচরণ অর্পণ করবেন।এটি মন থেকে সত্য কথা বললাম।রামাই বললেন, আমার সৌভাগ্য হলে দেখতে পাব।তখন আচার্য্য রামাইকে বললেন, তুমি প্রভুকে বলবে,আচার্য্য আসিলেন না। দেখি প্রভু আমায় কি বলেন ; আমি নন্দন আচার্য্যের বাড়ীতে গিয়ে গোপনে থাকব।রামাই মহাবিপদে পড়লেন। মহাপ্রভুর কাছে মিথ্যাকথা বলবেন?না আচার্য্যের আদেশ লঙ্ঘন করবেন?মহাচিন্তায় বিভোর হয়ে মহাপ্রভুর শরণাগত হলেন। সর্বজ্ঞ শিরোমণি মহাপ্রভু রামাইকে দেখামাত্র বললেন, "নাড়া আমাকে পরীক্ষা করতে তোমাকে পাঠিয়েছে।নাড়া আমাকে জেনেও সর্বদা আমার প্রকাশের নানা কৌশল করছে।নন্দন আচার্য্যের ঘরে থেকে তোমাকে পাঠিয়েছে।তুমি তাড়াতাড়ি নাড়াকে ডেকে আন।" রামাই মহানন্দে নন্দন আচার্য্যের গৃহে গিয়ে মহাপ্রভুর আদেশ কথা বললেন।বাঞ্জাকল্পতরু মহাপ্রভুর কৃপাদেশ পেয়ে আচার্য্য তাড়াতাড়ি পূজার দ্রব্যসহ প্রভুর স্থানে গিয়ে দূর হতে দন্ডবৎ করে স্তব পাঠ করতে করতে সামনে গিয়ে নিখিল ব্রহ্মান্ডের অপরূপ বেশ দেখলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita4.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

