শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 চতুর্থ ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪১)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🔷নীলাচলে মহাপ্রভু🔷*
            *🛕জটীয়া বাবার মঠ*
              *ও স্নান------যাত্রা*
             @@@@@@@@@@
*🍀নরেন্দ্র-সরোবরের উত্তর পাড়ে বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর সমাধি আছে ; এই দেশে ইহাকে জটীয়া বাবার মঠ বলে।আশ্রমটি বড়ই সুন্দর,বাগান আছে, একটি মন্দির আছে, তার মধ্যে বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর সমাধি আছে ও তাঁর প্রতিমূর্তি আছে। গোস্বামী-মহাশয় এখানে অনেক দান করেছিলেন,সে জন্য এখানে দাতা বলে খুব প্রসিদ্ধ হয়েছিলেন। বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী ১৩০৬ সনের ২২শে জ‍্যৈষ্ঠ রবিবার দেহত‍্যাগ করেন।দেহত‍্যাগের পরেরদিন সোমবার বিকেলবেলায় সমাধি দেওয়া হয়।১২৪৮ সালের শ্রাবণমাসে ঝুলন পূর্ণিমা দিনে তাঁর জন্ম হয়।জ‍্যৈষ্ঠমাসের কৃষ্ণপক্ষীয় দ্বাদশী তিথিতে তিরোভাবের দিনে এখানে উৎসব হয়।নরনারী উভয়েই এখানে আসেন।উৎসবের দিন শ্রীহরি সংকীর্তন হয় এবং ব্রাহ্মণ ভোজন হয়।ইঁনার শান্তিপুরে অদ্বৈত বংশে জন্ম হয়।ইনি বাল‍্যকাল হতে ধর্মানুরাগী ছিলেন।তিনি প্রথমতঃ ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন ; তারপর কোন সিদ্ধপুরুষের কৃপা লাভ হয়,সেই হতে তিনি পুনরায় হিন্দুধর্ম গ্রহণ করেন।ইঁনার ভক্তির ভাব অত‍্যন্ত প্রবল ছিল।গোস্বামী মহাশয়ের কথাতেই সকলেই মুগ্ধ হতেন।তিনি একজন উচ্চর্মাগের সাধক ছিলেন।*
*🌻🌻🌻স্নানযাত্রা🌻🌻🌻*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻
*🌹শনকাদীন্ প্রতি জৈমিনিরুবাচ=*
*জ‍্যৈষ্ঠ-স্নানং ভগবতো যে পশ‍্যন্তি মুদান্বিতাঃ।*
*ন তে ভবাব্ধৌ মজ্জন্তি যাতায়াতশ্রমাতূরাঃ।।*
*বুদ্ধ‍্যবুদ্ধিকৃতঃ পুংসামনাদিপাপসঞ্চয়ঃ।*
*তৎক্ষণান্নাশমায়তি পশ‍্যতাং স্নপনং হরেঃ।।*
*🌺জ‍্যৈষ্ঠমাসে স্নানযাত্রা সময় ভক্তি সহকারে ভগবানকে দর্শন করলে আর তাকে পুনরায় সংসারে ডুবে থাকতে হয় না।হরির স্নান দর্শন করলে জ্ঞান ও অজ্ঞানকৃত অনাদিকাল সঞ্চিত পাপ তৎক্ষণাৎ বিনষ্ট হয়।*
*🌻ইন্দ্রদ‍্যুম্ন রাজার প্রতি শ্রীভগবানের উক্তি=*
*জ‍্যৈষ্ঠাং প্রতস্তনে কালে ব্রহ্মণা সহিতঞ্চ মাং।*
*রামং সুভদ্রাং সংস্নাপ‍্য মম লোকমবাপ্নুয়াৎ।।*
*স্নাপ‍্যমানস্তু যঃ পশ‍্যেৎ মাং সদা নৃপসত্তমঃ।*
*দেহবন্ধমবাপ্নোতি ন পুনঃ তু পুরুষঃ।।*
*🔵জ‍্যৈষ্ঠমাসে স্নানযাত্রাকালে আমাকে সুভদ্রাকে ও বলরামকে যাঁরা স্নান করান,তাঁরা আমার লোক প্রাপ্ত হন।হে নৃপসত্তম!আর যিনি আমাকে স্নাপ‍্যমান (স্নান করানো) অবস্থাতে দর্শন করেন তাঁর আর পুনরায় দেহ বন্ধন হয় না।*
*🌻জ‍্যৈষ্ঠমাসে পূর্ণিমা তিথিতে স্নানযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।এই তিথিতে শ্রীজগন্নাথ বলরাম ও সুভদ্রার প্রথম প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, সুতরাং এটি জগন্নাথের জন্মতিথি বলা যেতে পারে।জন্মতিথির স্মরণার্থে এই স্নান অনুষ্ঠিত হয়।এর ফলশ্রুতিও পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে।এই সময়ে স্বয়ং জগন্নাথ বলভদ্র ও সুভদ্রা এই মূর্তিত্রয়কে "পাহুতি-বিজয়" করিয়ে স্নান বেদীতে স্থাপন করান হয়।সকালবেলা "নীলাদ্রী মহোদয়োক্ত" বিধি অনুসারে মুদিরথের দ্বারা (সেবাইত শ্রেণী বিশেষ ) আগের দিনের অধিবাসিত জলে প্রভুর স্নান অনুষ্ঠিত হয়। তারপরে হস্তিসমবেশ (অর্থ‍্যাৎ গণেশ বেশ) দ্বারা প্রভুকে ভূষিত করা হয়।উক্ত বেশ খুব বেশী প্রাচীন নয়।এই স্নান উপলক্ষ্যে বহুলোক সমবেত হয়।যাঁরা রথযাত্রায় আসবেন,তাঁরা অনেকেই এই সময়ে আসবার চেষ্টা করেন ; স্থানীয় লোকও অনেকে সমবেত হন।অনের ভদ্রমন্ডলী চতুর্দিকের ছাদ ভাড়া করে ভগবানের স্নান দর্শন করেন।এই সময়ে জগন্নাথ বড়ই কৃপালু, সমস্ত লোকের সঙ্গেই কোল দিয়ে থাকেন। জগন্নাথের সঙ্গে কোল দিবার জন্য সকলেই উৎকণ্ঠিত হয়,এইজন‍্য স্নানের পরে অত‍্যন্ত লোকের ভিড় হয়ে থাকে।*
💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪২)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🌲নীলাচলে মহাপ্রভু🌲*
                 *🍀স্নান--যাত্রা🍀*
           ################
*🌸মাদলা পঞ্জিকা ও জনশ্রুতির দ্বারা জানা যায় যে,কাঞ্চীরাজা তার পদ্মাবতী নামে কন‍্যাকে পুরীর রাজা পুরুষোত্তমদেবের সঙ্গে বিয়ে দিবার জন্য স্নানযাত্রার সময় পুরীতে এসেছিলেন।তিনি গণপতি ভক্ত থাকায় শ্রীজগন্নাথদেবের প্রসাদ সেবন করতে অনিচ্ছুক হলেন। কিন্তু স্নানবেদীতে দর্শন করবার সময় প্রভুকে গণপতিরূপে দেখে অন্নপ্রসাদ ভক্ষণ করলেন।সেইদিন হতে আরম্ভ করে প্রভু উক্ত দিনে উক্তবেশে ভূষিত হন।সেই দিনেই কাঞ্চীরাজার সঙ্গে যুদ্ধের বীজ রোপিত হয়।ঐদিন পুরীর রাজা সোনার ঝাঁটা দিয়ে স্নানবেদী পরিস্কার করেন।এই শাস্ত্রোক্ত বিধির বশবর্তী হয়ে রাজা পুরুষোত্তম উক্ত কার্য‍্য অনুষ্ঠান করবার সময় কাঞ্চীরাজ তাকে সেই অবস্থায় দেখে কন‍্যা সমর্পণ না করে স্বদেশ অভিমুখে যাত্রা করলেন।পুরীরাজ এই বিষয় জানতে পেরে যুদ্ধে রত হলেন। কাঞ্চীরাজ সম্বন্ধে যে জনশ্রুতি আছে তা কতদূর সত‍্য বলতে পারি না।যিনি ভগবানকে সাক্ষাৎ দর্শন করেছেন, এবং যার ভক্তি প্রভাবে ভগবান গণেশরূপ ধারণ করেছেন,তিনি যে পুরীর রাজা সোনার ঝাড়ু দিয়ে জগন্নাথের রাস্তা পরিস্কার করছেন বলে এটিকে নিচ কাজ মনে করবেন, এটি ঠিক মনে হয় না।যিনি ভক্ত হবেন,তাঁর বরং এইরকম কাজ দেখে পরম আনন্দই হবে।সামান‍্য লৌকিক আচার নিয়ে এই ক্ষেত্রে এইরকম মহৎ লোকের এরকম ইতর জনোচিত ব‍্যবহার শোভা পায় না। বিশেষকরে গণেশ বেশ সম্বন্ধে অন‍্য ভক্তের উপাখ‍্যান রয়েছে।একই গণেশ বেশ সম্বন্ধে দুইটি উপাখ‍্যান তাওও সন্দেহ জনক।যাইহোক,যেরকম জনপ্রবাদ আছে তাইই লেখা গেল।শ্রীজগন্নাথের গণেশ বেশ সম্বন্ধে যে অন‍্য একটি জনশ্রুতি আছে তা আস্বাদন করুন। এই গল্পদ্বারা ভগবান দেখালেন যে =*
*🌷যে যথা মাং প্রপদ‍্যন্তে তাং স্তথৈব ভজাম‍্যহম্।*
*🌻ভগবান জীবের প্রতি দয়া প্রকাশ করে ভক্ত যা চান তা পূরণ করেন।🌹কর্ণাট দেশে এক ভক্ত ছিলেন,তিনি ভগবানকে গণেশরূপে ভজনা করতেন। তিনি শুনতে পেলেন, ভগবান দারুব্রহ্ম হয়ে নীলাচলে বাস করছেন,তাঁকে দর্শন করলেই ব্রহ্মদর্শন হবে।এইকথা শুনে তিনি বহুকষ্টে পুরীতে উপস্থিত হলেন। পুরীতে উপস্থিত হয়ে তিনি শ্রীজগন্নাথ দর্শন করতে গেলেন। কিন্তু তিনি ইষ্টদেবতাকে যে ভাবে পূজা করতেন, সেভাবে জগন্নাথকে দেখতে পাচ্ছেন না, অর্থ‍্যাৎ জগন্নাথকে গণেশরূপে দেখছেন না। যাঁরা ইষ্ট-নিষ্ঠ ভক্ত,তাঁরা ইষ্ট ভিন্ন কোনরূপ দেখতে চান না।এর একটি উদাহরণ দেওয়া হল।*
*🌹একসময়ে দ্বাপরযুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দ্বারকাতে রুক্মিণী সহ বিলাসভবনে বসে আছেন,এমন সময়ে ভক্ত শ্রেষ্ঠ হনুমান তাঁকে দর্শন করতে উপস্থিত হলেন।শ্রীকৃষ্ণ তখন মনে করলেন হনুমান আমার এইরূপ দেখে সন্তুষ্ট হবে না, সুতরাং আমার রামরূপ ধরতে হবে।ভক্তাধীন ভগবান শ্রীশ্রীরুক্মিণীদেবীকে তৎক্ষণাৎ সীতাদেবীর রূপ ধারণ করতে বললেন।সেই সময় উভয়ে রামসীতা সেজে ভক্তের মনোবাঞ্জা পূর্ণ করলেন।তখন হনুমান বললেন*
*🌷শ্রীনাথে জানকীনাথে অভেদে পরমাত্মনি।*
*🌷তথাপি মম সর্বস্বং রামঃ কমললোচন।।*
*🔴যদিও আমি জানি, আমার রামচন্দ্র এবং পরমাত্মারূপী ভগবান অভেদ,তবুও রামচন্দ্রই আমার যথা সর্বস্ব।*
*🔵এইরকম ত্রেতাযুগে রামচন্দ্র গরুড়কে বিষ্ণুরূপ দেখিয়ে ছিলেন। সুতরাং ব্রাহ্মণ তার ইষ্টরূপ না দেখতে পেয়ে ফিরে চলে গেলেন। এদিকে ভগবান দেখলেন তার ভক্তবাঞ্জা কল্পতরু নামের কলঙ্ক হয় এবং "যে যথা মাং প্রপদ‍্যন্তে তাং স্তথৈব ভজাম‍্যহম্" ইত্যাদি তাঁর শ্রীমুখ নিঃসৃত কথারও বিরোধ ঘটে, সেই জন্য ভক্তকে ফিরাবার জন্য পান্ডাদের আদেশ করলেন।আদেশ অনুসারে পান্ডারা তার কাছে উপস্থিত হয়ে ভগবানের আদেশ জানালেন।ব্রাহ্মণ তখন পান্ডাদের মুখে ভগবানের আদেশ শুনে আনন্দে মগ্ন হয়ে পুনঃ ফিরে আসলেন।তখন জগন্নাথদেব ভক্তবাঞ্জা পূর্ণ করতে তাঁর নিজবেশ দূরে রেখে গণেশবেশ ধারণ করলেন। ব্রাহ্মণ প্রার্থনা করলেন,তুমি যে ভক্তবৎসল, বাঞ্জাকল্পতরু তা ভক্তদেরকে দেখাবার জন্য তোমাকে চিরদিন এইদিনে এই বেশ ধারণ করতে হবে। ভগবান তাইই স্বীকার করে ভক্তবাঞ্জা পূর্ণ করলেন।সেই হতে স্নান যাত্রার দিন এই বেশ হয়ে থাকেন।*
*🌻অতুলকৃষ্ণ গোস্বামী বিরচিত "ভক্তের জয়" গ্রন্থে গণপতি ভট্টের সম্বন্ধে এইরকম একটি উপাখ‍্যান অন‍্যভাবে বিবৃত আছে,সেইজন‍্য এখানে বিস্তারিত লেখা হল না।*
*🌺পান্ডাগণ বলেন,স্নানযাত্রার পর জগন্নাথের জ্বর হয় এবং ঔষধাদি ও পাচন সেবন করেন, তখন অন্ন ভোগ করা হয় না। এই পাচন অতি সুমধুর।*
*☘এই সময়ে শ্রীগৌরাঙ্গদেবকে দর্শন করবার জন্য নবদ্বীপ হতে অদ্বৈতাচার্য‍্য প্রভৃতি পরমভক্তগণ পুরীতে উপস্থিত হতেন।চন্দনযাত্রার সময় হতে আরম্ভ করে রথ পর্যন্ত নবদ্বীপ হতে আগত ভক্তগণ সকলেই থাকতেন।তাঁরা মহাপ্রভুর সঙ্গে কীর্তন আনন্দে এবং মহাপ্রভুকে ভোজন করিয়ে তিন-চারমাস মহাপ্রভুকে নিয়ে উৎসবানন্দে কাটাতেন।এই স্নানযাত্রা উপলক্ষ্যে মহাপ্রভু কোন বিশেষ লীলা করেছেন,এরকম কোন গ্রন্থে পাওয়া যায় না।যখন প্রতিদিনই মহাপ্রভু জগন্নাথ দর্শনে রত থাকতেন,তখন এই উৎসবের দিনে যে তার কোন বিশেষ লীলা হয়নি,তা সম্ভবপর বলে মনে হয় না।নবযৌবনে,নেত্রোৎসবে,রথে সমস্ত ব‍্যাপারে তাঁর বিশেষ সংস্রব দেখা যায়।*
🙏🌳🙌❤🍁🔷💧🌲🍀🌸🌻
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৩)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
         *🌼নীলাচলে মহাপ্রভু🌼*
            *🌹রুক্মিণী--হরণ🌹*
                           *ও*
          *⚪গুন্ডিচা--মার্জন⚪*
         /\/\/\/\/\/\/\/\/\/\/\
*🍀এটি জ‍্যৈষ্ঠমাসের শুক্লা একাদশী তিথিতে হয়।একদিন মদনমোহন রুক্মিণীকে হরণ করে অক্ষয়বটের কাছাকাছি জায়গায় বিয়ে করেন।এটি স্নানযাত্রার আগের একাদশীতে হয়।রুক্মিণী-হরণ উপলক্ষ্যে দুই দল হয় --,কৃষ্ণপক্ষের এক দল ও শিশুপাল পক্ষের এক দল।দেবদাসীরা শ্রীমতী রুক্মিণীর সখী স্থানীয়া।শ্রীমতী রুক্মিণী বিমলাদেবীর মন্দিরে পূজা দিতে আসেন ; পূজা দিয়ে যখন বাইরে আসেন, তখন শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে হরণ করে রথে নিয়ে আসেন।এতে শিশুপাল শ্রীকৃষ্ণকে আক্রমণ করেন,তখন উভয়দলে যুদ্ধ হয়, এবং শিশুপাল পরাজিত ও বন্দী হন।তখন বলরাম এসে শিশুপালকে ছেড়ে দেন।শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমতী রুক্মিণীকে নিয়ে গিয়ে রাত্রে বিয়ে করেন।*
*🌿🌿🌿গুন্ডিচা--মার্জন🌿🌿*
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿
*🌹স্নানযাত্রার পরে রথযাত্রার আগে শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভু গুন্ডিচা পরিস্কার করতেন।মহাপ্রভু নীলাচলে এসে ভক্তগণ সঙ্গে নানারকম লীলা করেছিলেন ; তারমধ‍্যে গুন্ডিচা পরিস্কার একটি প্রধান লীলা।মহাপ্রভুর নীলাচলে যাবার আগে এই লীলা ছিল না।শ্রীমন্মহাপ্রভুই এই লীলা নতূন প্রবর্তন করলেন। "আপনি আচরি ধর্ম জীবেরে শিখায়", তা এই দৃষ্টান্ত দ্বারা দেখালেন।মহাপ্রভু,তুলসী পড়িছা,কাশীমিশ্র ও সার্বভৌম এই তিনজনকে ডেকে বললেন, রথযাত্রার আগের দিন শ্রীগুন্ডিচা মন্দির পরিস্কৃত ও মার্জিত করতে হবে ; অতএব আপনারা মন্দির পরিস্কার করবার জন্য এই সেবাটি আমাকে দিন।এতে সকলে হাহাকার করে বললেন যে,এরকম নীচ কাজ মহাপ্রভুর পক্ষে শোভা পায় না,তবে যদি নিতান্তই শ্রীচৈতন‍্যদেবের ইচ্ছা থাকে,তাহলে অবশ্যই মহাপ্রভুর আজ্ঞা পালন করতেই হবে।অতএব অনেক কলসী ও ঝাড়ু নিয়ে আসা হল এবং শ্রীমন্দিরে রাখা হল।গৌরহরি পরদিন সকালবেলা তাঁর পার্ষদগণ নিয়ে মহানন্দে মুহুর্মুহু হরিধ্বনি করতে করতে শ্রীগুন্ডিচা মন্দিরে উপস্থিত হলেন।এই হরি মন্দির মার্জনারূপ লীলা,মহাপ্রভু পূর্বে শ্রীনবদ্বীপেও একবার করেছিলেন।মহাপ্রভুর নবদ্বীপের ও নীলাচলের তিন-চারশ ভক্ত মন্দিরে সমবেত হলেন, তখন ভক্তি বাড়াবার জন্য প্রত‍্যেক ভক্তকে নিজ শ্রীহস্তে চন্দন মাখালেন ও মালা পরালেন।ভক্তগণ শ্রীকরস্পর্শে ভক্তিধন পেয়ে মহানন্দে শ্রীমন্দিরে প্রবেশ করলেন।*
*🌷আপনার হস্তে প্রভু চন্দন লইয়া।*
*🌷ভক্তসবে পরাইল অতি প্রীত হইয়া।।*
*🌷ঈশ্বর প্রসাদ মাল‍্য দিলেন গলায়।*
*🌷আনন্দে বিহ্বল সবে চৈতন‍্য কৃপায়।।*
*🌷করেতে শোধনী ভক্তগণ চারিদিকে।*
*🌷মত্ত-গজগতি প্রভু চলিলেন আগে।।*
*🌻মহাপ্রভু ভক্তগণ সঙ্গে মন্দির পরিস্কার কাজে রত হলেন, এবং অল্পক্ষণ মধ্যেই মন্দির পরিস্কার হলেই তখন জল আনবার আজ্ঞা হল।*
*🌷কত শত লোক জল ভরে সরোবরে।*
*🌷ঘাটে স্থল নাহি কেহ কূপে জল ভরে।।*
*🌷পূর্ণ কুম্ভ লইয়া আসে শত ভক্তগণ।*
*🌷শূন‍্য ঘট লইয়া যায় আর শত জন।।*
*🌷ঘটে ঘটে ঠেকি কত ঘট ভাঙ্গি গেল।*
*🌷শত শত ঘট তাহা লোকে আনি দিল।।*
*🌷জল ভরি ঘট ধোয়ে করে হরিধ্বনি।*
*🌷কৃষ্ণ হরিধ্বনি বিনু আর নাহি শুনি।।*
*🌷কৃষ্ণ কৃষ্ণ করি করে ঘট সমর্পণ।*
*🌷কৃষ্ণ কৃষ্ণ কহি করে ঘটের প্রার্থন।।*
*🌷যেই যেই করে সেই কহে কৃষ্ণ নাম।*
*🌷কৃষ্ণ নাম হইল তাহা সঙ্কেত সর্বকাম।।*
*🌷প্রেমাবেশে কহে প্রভু কৃষ্ণ কৃষ্ণ নাম।*
*🌷একেলা করেন প্রেমে শত জনের কাম।।*
*🌻এইভাবে সমস্ত মন্দির ধৌত করা হল।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦜🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৪)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *💐নীলাচলে মহাপ্রভু💐*
           *🌲গুন্ডিচা-মার্জন🌲*
                         *ও*
              *🌹নবযৌবন🌹*
       <><><><><[<[<><><><>
*☘শ্রীচন্দ্রোদয় নাটক বলেন=*
*🌷এইরূপ গৃহ মার্জ্জি কৈল প্রসন্ন শীতল।*
*🌷আপনি চরিত্র যেন আপন অন্তর।।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ মহাপ্রভুর অন্তর যেরকম পবিত্র ও শীতল,মন্দির সেইরকম পরিস্কার ও জল দিয়ে ধৌত করে শীতল ও পবিত্র করলেন। যথা চন্দ্রোদয়=*
*গুন্ডিচা মার্জ্জন করি,আনন্দেতে গৌরহরি,*
          *স্বরূপাদি ভক্তগণ লইয়া।*
*আরম্ভিলা সংকীর্তন,আনন্দেতে ত্রিভুবন,*
       *ধ্বনি উঠে ব্রহ্মান্ড ভেদিয়া।।*
*স্বরূপের উচ্চগীতে,প্রেমের তরঙ্গ উঠে, ইত্যাদি।*
*🌹তারপর শ্রীমন্মহাপ্রভু উদন্ড নৃত্য আরম্ভ করলেন।*
*🌷মহা উচ্চ সংকীর্তনে আকাশ ভরিল।*
*🌷মহাপ্রভুর নৃত্যে ভূমিকম্প হইল।।*
*🌻তারপরে সকল ভক্তগণে জলখেলা হল।এতেও চন্দনযাত্রার সময় যেরকম মহাপ্রভু ও ভক্তগণ জলক্রীড়া করেছিলেন,এখানে ইন্দ্রদ‍্যুম্ন সরোবরে সেইরকম করলেন। তৎপর সকলে বনভোজনে বসিলেন।শ্রীকৃষ্ণের পুলিন ভোজনের কথা মনে পড়ল ; মহাপ্রভু ব্রজের ভাবে বিভোর হলেন।চারিদিকে হরিধ্বনি হতে লাগল।এইভাবে আনন্দে বিভোর হয়ে সকলে ভোজনে বসলেন।এই বনভোজনের দৃষ্টান্ত অদ‍্যাপিও মহোৎসবে দেখা যায় ; সেই অনুকরণেই বতর্মান সময়ে মহোৎসব হয়ে থাকে।শ্রীগৌরহরি নাই,অদ্বৈতাচার্য‍্য নাই, নিতাইচাঁদও নাই,সে মধুমাখা প্রেমও নাই,সে জায়গায় এখন বসান হয় আসন, ৬৪ মহান্তের ৬৪টি আসন হয়ে থাকে। মহাপ্রভুর প্রবর্তিত হরিনাম সেই মহোৎসবে অদ‍্যাপি বতর্মান রয়েছে।যদিও মহোৎসবে মহাপ্রভুর সময়ের জীবন্ত ভাব কিছুই নাই,তবুও মহোৎসব বড়ই আনন্দপ্রদ।আর একটি জিনিস দেখতে পাই তাও মহাপ্রভুর দেওয়া বলে মনে হয়।মহোৎসবেতে হিন্দুজাতি মাত্রেতে একত্রে বসে প্রসাদ গ্রহণ করে তাতে কারও কোন আপত্তি দেখা যায় না।এইরকম ব‍্যবহার অন‍্য কোন ব‍্যাপারে দেখা যায় না। সুতরাং এটিও মহাপ্রভুর প্রবর্তিত বলেই মনে করতে হবে।*
*🌳এখনও গুন্ডিচা-বাড়ীতে প্রতি বৎসর উক্ত নিয়ম অনুসারে বৈষ্ণবগণ গুন্ডিচা মন্দির পরিস্কার করে থাকেন।আগেই বলা হয়ে স্নানযাত্রার পর শ্রীজগন্নাথের পনেরদিন দর্শন হয় না।নির্বাচিত অমাবস‍্যার দিন "নবযৌবন" দর্শন হয়।প্রতিপদ দিনে প্রভুর নেত্রোৎসব বিধি অনুষ্ঠিত হয়।*
*🔴🔵🔴নবযৌবন🔴🔵🔴*
❤❤❤❤❤❤❤❤❤
*🍀পনেরদিন অদর্শনের পর অমাবস‍্যার দিন নবযৌবন দর্শন হয়।নবযৌবনের অর্থ এই যে শ্রীজগন্নাথের অঙ্গরাগ করা হয়। বৎসরের পরে বোধ হয় এই নতূন অঙ্গরাগ করা হয়। সুতরাং মূর্তি নবকলেবরে ধারণ করেন,এইজন‍্যই এই দর্শনকে নবযৌবন দর্শন কহে।পনেরদিনে অদর্শনের পরে জগন্নাথকে দর্শন করতে পেরে লোকের দর্শনের আকাঙ্ক্ষা খুব খুব বেড়ে যায়।এইজন‍্য এই সময়ে ভীষণ লোকের ভীড় হয়ে থাকে।যখন সর্ব সাধারণেরই এত উৎকণ্ঠা,তখন মহাপ্রভুরও কত উৎকণ্ঠা হয়েছিল,তা সহজেই বুঝতে পারা যায়। তিনি সমস্ত ভক্তগণ নিয়ে শ্রীজগন্নাথ দর্শনে চললেন।মহাপ্রভু মণিকোঠায় দর্শন করতে চান না,গরুড় স্তম্ভের কাছে দাঁড়িয়ে নয়নে নয়ন দিয়ে প্রভুকে মহাপ্রভু দর্শন করছিলেন।অশ্রুজলে তাঁর বক্ষ ভেসে যাচ্ছিল। রোজই এরকম হত।আজ অনেক দিনের পরে দর্শন হওয়াতে কত কথায় বলেছেন,যেন জগন্নাথের সঙ্গে আলাপ করছেন ; এবং অনেক দিন তাঁকে ছেড়ে ছিলেন বলে রাধার ভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, যেন সখীকে সম্বোধন করে বলছেন=*
*আমার নাগর, যায় পরঘর,*
     *আমার আঙ্গিনা দিয়া।*
  *সই, কেমনে ধরিব হিয়া।*
🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৫)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *🔷নীলাচলে মহাপ্রভু🔷*
                *🔵নবযৌবন🔵* 
🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥
*🌷সই! কেমনে ধরিব হিয়া।*
*🌹আবার জগন্নাথের দিকে তাকিয়ে বলছেন,তুমি তো বোঝ না, তোমাকে যদি আঁখির নিমেষে না দেখি,তাহলে প্রাণে মারা যাই ;তুমি কি নিষ্ঠুর-- কেমন করে আমাকে এতদিন ছেড়ে থাকলে!*
*🌷আঁখির নিমেষে যদি নাহি হেরি,*
          *তবে যে পরাণে মরি।*
*🌷তুমি যে আমার পরশ রতন,*
              *গলায় গাঁথিয়া পরি।।*
                               *(চন্ডীদাস)*
*🌻আবার মনে মনে ভাবছেন,তিনি তো কেবল আমার নাথ নন। তখন বিল্গমঙ্গলের শ্লোক আবৃত্তি করলেন।*
*🌷হে দেব হে দয়িত হে ভুবনৈকবন্ধুঃ।*
*🌷হে কৃষ্ণ হে চপল করুণৈকসিন্ধুঃ।।*
*🌷হে নাথ হে রমণ হে নয়নাভিরামঃ।*
*🌷কদানুভবিতাসি পদং দৃশোর্মে।।*
*🌼🌼আবার বলছেন=*
*🌷বঁধূ কি আর বলিব আমি।*
*জনমে জনমে, জীবনে মরণে,*
         *প্রাণনাথ হইও তুমি।।*
*তোমার চরণে, আমার পরাণে,*
         *বাঁধিল প্রেমের ফাঁসি।*
*সব সমপিয়া, এক মন হইয়া,*
         *নিশ্চয় হইলাম দাসী।।*
*🌹তারপরে আবার ভক্তভাবে বলছেন, যথা বিল্বমঙ্গলের শ্লোক=*
*দীনদয়ার্দ্র নাথ হে মথুরানাথ কদাবলোক‍্যসে।*
*হৃদয়ং ত্বদলোক কাতরং দয়িত ভ্রাম‍্যতি কিং করোম‍্যহম্।।*
*🌻যদিও তিনি জগন্নাথকে কৃষ্ণভাবে দর্শন করছেন,তথাপি বলছেন,তোমাকে কবে দেখব?এটি দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে,তাঁর দেখার পিপাসা মিটছে না। যথা=চন্ডীদাস*
*🌷জনম অবধি হাম রূপ নেহারিনু।*
*🌷নয়ন না তিরপিত ভেল।।*
*🌷লাখ লাখ যুগ হিয়ে হিয়ে রাখনু।*
*🌷তবু হিয়ে জুড়ন না গেল।।*
*🍁অথবা,সেই ব্রজের ভাবে, সেই বেতসীকুঞ্জ-তরুতলে দেখা পাচ্ছেন না,কাজেই তার ব্রজের ভাবের পরিতৃপ্ত হচ্ছে না।*
*🌷সেই তুমি সেই আমি সেই নব সঙ্গম।*
*🌷তথাপি আমার মন হরে বৃন্দাবন।।*
*🌻যদি মহাপ্রভুর সঙ্গে শ্রীজগন্নাথের সংযোগ না হত,তাহলে এই অপূর্ব ভাব কোথা হতে পেতেন?এ অপূর্ব মহিমা কে কীর্তন করতে সমর্থ হত? এ অনন্ত প্রেমের উৎস কে খুলে দিতে পারত?*
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌲🌿🌿🌿🌿🌿🌿
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৬)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *🔴নীলাচলে মহাপ্রভু🔴*
                *❤নেত্রোৎসব❤*
          🍀🔥🍀🔥🍀🔥🍀🔥
*🌕এটি প্রতিপদ দিনে অনুষ্ঠিত হয়।পনেরদিন অদর্শনের পর সেইদিন তিনি জগজ্জনের নেত্রগোচর হবেন।শাস্ত্রের কথা এই যে,শ্রীজগন্নাথদেব স্নান করে পনেরদিন পর্যন্ত নিভৃতে মহালক্ষ্মীর সঙ্গে দিন যাপন করেন ; তারপরে নেত্রোৎসব হয়।নেত্রোৎসব দিনে শ্রীজগন্নাথ নয়ন গোচর হলে জগন্নাথকে দর্শন করে সকলে উৎকণ্ঠিতনেত্রে নয়নের তৃপ্তি সাধন করেন বলে এর নাম নেত্রোৎসব।নয়নের প্রকৃত তৃপ্তিসাধন অথবা উৎসব এটি অপেক্ষা আর কি হতে পারে? যা দেখলে আর কিছু দেখবার দরকার হয় না,একেবারে নয়ন "তিরপিত"(তৃপ্তি) হয়ে যায়,তাইই প্রকৃত নেত্রোৎসব।*
*🌹যৎ লব্ধ্বা পুমান্ তৃপ্তো ভবতি, অমৃতো ভবতি, সিদ্ধো ভবতি,আত্মারামো ভবতি।*
*নিপীয় যস‍্য পীযুষং ন স্পৃহা চান‍্যবস্তুষু।*
*🌻যে বদন দর্শন করলে এই অবস্থা হয়,তাকেই বলি নেত্রোৎসব, এবং তাইই বলি দর্শন।*
*🍀শ্রীচৈতন‍্যদেব রাধাভাবে বিভোর হয়ে কিরকম দর্শন করতেন তা নিচে উদ্ধৃত করছি।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করে শ্রীমতী রাধিকার কিরকম ভাব হত তা চন্ডীদাস এইভাবে বর্ণনা করেছেন=*
*শ‍্যামের বদনের ছটার কিবা ছবি।*
*কোটি মদন জনু,জিনিয়া শ‍্যামের তনু,*
          *উদয়িছে যেন শশী রবি।।*
*🌳সই কিবা সে শ‍্যামের রূপ,*
              *নয়ন জুড়ায় চেয়ে।*
*হেন মনে লয়,যদি লোক ভয় নয়,*
     *কোলে করি যেয়ে ধেঞে।।*
*🌻🌻আর একটি পদ এই=*
*বরণ দেখিনু শ‍্যাম,জিনিয়া ত কোটি কাম,*
          *বদন জিতল কোটী শশী।*
*ভাঙ ধনুভঙ্গি ঠাম,নয়নকোণে পুরে বাণ,*
          *হাসিতে খসয়ে সুধারাশি।।*
   *সই এমন সুন্দর বর কান।*
*হেরিয়ে সেই মূরতি,সতী ছাড়ে নিজ পতি,*
        *তেয়াগিয়া লাজভয় মান।।*
*এ বড় কারিকরে, কুঁদিলে তাহারে,*
         *প্রতি অঙ্গ মদনের শরে।*
*যুবতী ধরম, ধৈর্য‍্য ভুজঙ্গম্*
            *দমন করিবার তরে।।*
*অতি সুশোভিত, বক্ষ বিস্তারিত,*
          *দেখিনু দর্পণাকার।*
*তাহার উপরে, মালা বিরাজিত,*
           *কি দিব উপমা তার।।*
*নাভির উপরে, লোমলতা বলি,*
         *সাপিনী আকার শোভা।*
*ভুরুর বলনী, কামধনু জিনি,*
         *ইন্দ্র ধনুকের আভা।।*
*চরণ নখরে, বিধু বিরাজিত,*
          *মণির মঞ্জির তায়।*
*চন্ডীদাস হিয়া, সেরূপ দেখিয়া,*
           *চঞ্চল হইয়া যায়।।*
*🌹শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভুও নেত্রোৎসব দিনে শ্রীজগন্নাথের বদন কমল দর্শন করে রাধাভাবে বিভোর হয়েছেন। শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভু ভক্তগণ নিয়ে আনন্দে দর্শন করতে গমন করেছেন=*
*🌷হেরি গোরা নীলাচল নাথ।*
*🌷নিজ পারিষদগণ সাথ।।*
*🌷বিভোর হইল গোপী ভাবে।*
*🌷কহে কিছু করিয়া আক্ষেপে।।*
*🌷আমি তোমায় না দেখিলে মরি*।
*🌷পালটি না চাও তুমি ফিরি।।*
*🌷ছল ছল অরুণ নয়ন।*
*🌷বিরস আজ সরস বদন।।*
*🌷বিভোরিতে গোরা ভাব হেরি।*
*🌷কহে কিছু দাস নরহরি।।*
*🌻এইরকমে মহাপ্রভু=*
*🌷মধ‍্যাহ্ন পর্য‍্যন্ত কৈল শ্রীমুখ দর্শন।*
*🌷স্বেদ,কম্প,ঘর্ম্ম অঙ্গে বসে অনুক্ষণ।।*
*🍀তখন ভক্তগণ মহাপ্রভুকে সান্ত্বনা করে তাঁকে বাসায় আনিলেন।।*
*🌳নবযৌবন অমাবস‍্যাতে হয়, নেত্রোৎসব বিধি প্রতিপদে অনুষ্ঠিত হয়।নবযৌবনের বিষয় অমিয় নিমাই চরিত অথবা শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃতে উল্লেখ দেখছি না ; নেত্রোৎসব বিধির উল্লেখ দেখেছি।নবযৌবন বিধিটি নতূন প্রবর্তিত কিনা তা বলা যায় না।যদি নবযৌবন বিধি সে সময়ে থেকেই থাকে তাহলে মহাপ্রভু নেত্রোৎসব অপেক্ষা নবযৌবনের দিনই বেশী পরিমাণে ব‍্যাকুলতার ভাব দেখিয়েছেন মনে করতে হবে। আর উভয় দিনেই এই ভাব হলেও কিছু দোষ হয় না,কারণ তিনি ভাব-নিধি, তাঁর কোন সময়ে কোন ভাব উদয় হচ্ছে তা কেউ বর্ণনা করতে পারেন না।কোন সময়ে তিনি রাধা সেজে ভর্ৎসনা করছেন আবার পরক্ষণেই ভক্তিতে গদ গদ হয়ে শ্রীকৃষ্ণের চরণ-যুগল ধারণ করছেন।আবার নিজেই কৃষ্ণ সেজে এক সময়েতেই ভক্তের ভাব অঙ্গীকার করে নিজের পায় নিজে প্রণাম করছেন।*
*🍁পরেরদিন রথযাত্রা।শ্রীজগন্নাথদেব রথে চড়বেন, এই আনন্দে মহাপ্রভুর সারারাত্রি ঘুম নাই।*
*🌷প্রভুর হৃদয়ানন্দ সিন্ধু উথলিল*।
*🌷উন্মাদ ঝঞ্ঝার বায়ু তৎক্ষণে উঠিল।।*
*🌳প্রতিপদ দিনে গৌরহরির নেত্রোৎসব হলে,তারপর দিন দ্বিতীয়া তিথির সকালবেলাতে "খেচরান্ন" ভোগ শেষ করে রথাভিমুখে প্রভুর পাহুন্ডি-বিজয় করা হয়।এই যাত্রার নাম গুন্ডিচা যাত্রা।মহারাজ ইন্দ্রদ‍্যুম্নের পট্টমহিষীর নাম গুন্ডিচা থাকায়, সেই অনুসারে এই যাত্রার নামকরণ হয়েছে।এই যাত্রার নামান্তর নন্দীঘোষ বা পতিতপাবন যাত্রা,অথবা রথযাত্রা।*
🛕🛕🛕🛕🛕🛕🛕🛕🛕🛕🛕🛕🛕
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৭)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *⭐নীলাচলে মহাপ্রভু⭐*
                *🛕রথযাত্রা🛕*
          🛕🛕🛕🛕🛕🛕🛕
*🌷রথেতু বামনং দৃষ্ট্বা পুনর্জন্ম ন বিদ‍্যতে।*
*🌷যে পশ‍্যন্তি রথে যান্তং দারুব্রহ্ম সনাতনং।*
*🌷পদে পদেহশ্বমেধস‍্য ফলং তেষাং প্রকীর্ত্তিতং।।*
*🌷জয় কৃষ্ণ জয় কৃষ্ণ জয় কৃষ্ণেতি যো বদেৎ।*
*🌷গুন্ডিচা মন্ডপং যান্তং কৃষ্ণং ভক্তিসমন্বিতঃ।।*
*🌷স মর্ত্ত‍্যো গর্ভবাসস‍্য ন চ দুঃখমবাপ্নুয়াৎ।।*
*🌹এই শাস্ত্রোক্ত বচন অনুসারে শ্রীজগন্নাথদেবের মাহাত্ম্য রথযাত্রা উপলক্ষ্যে বিশেষ দেখা যায়।এই সময়ই নানাদেশ হতে বহু ভক্তের সমাবেশ হয়ে থাকে, এবং যতরকম উৎসব হয়ে থাকে তারমধ‍্যে রথযাত্রা সর্বপ্রধান।এই সময়ে যত ভক্ত আসেন,এরকম লোক একত্রিত আর কখনও হয় না,আনন্দও অপরিসীম হয়ে থাকে।এটি নয়দিনের যাত্রা, অর্থ‍্যাৎ দ্বিতীয়া হতে দশমী পর্য‍্যন্ত স্থায়ী। জগন্নাথ,বলদেব ও সুভদ্রা ইঁনাদের প্রত‍্যেকের জন্য এক একটি রথ প্রতি বৎসর নতূন করে নির্মিত হয়।গুন্ডিচা যাত্রার প্রথম দিনে রথ সমস্ত সিংহদ্বারে উপস্থিত করা হয়। রথযাত্রার সময়,জগন্নাথ,বলরাম ও সুভদ্রা দেবীকে রথে তুলে মন্দির হতে এক মাইল বা দেড় মাইল দূরে অবস্থিত উদ‍্যানগৃহ গুন্ডিচা মন্দিরে আনা হয়।*
*জগন্নাথ মন্দিরের পূর্বদিকে সিংহদ্বারের সামনে দিয়ে উত্তরদিকে যে একটা প্রশস্ত রাস্তা গিয়েছে, এই রাস্তার নাম "বড় দান্ড" বা রথের রাস্তা, এই রাস্তা গুন্ডিচা মন্দির ও ইন্দ্রদ‍্যুম্ন পর্য‍্যন্ত গিয়েছে।রথের সময় এই রাস্তা লোকে লোকারণ‍্য হয়ে যায়।রাস্তার দুইধারে যত দালানের ছাদ আছে,তাও পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এই সময়ে যাদের মন্দিরের কাছে বাড়ী আছে,তারা বিশেষভাবে লাভবান হয়। এমন কি বৎসরের ভাড়াতে যা লাভ না হয় তা অপেক্ষা অনেক বেশী পেয়ে থাকেন। অর্থ‍্যাৎ বাড়ী ভাড়া দিয়ে যে টাকা পান,তার তুলনায় অনেক বেশী কেবল রথের একমাসে উপার্জন হয়।অনেক আগে থেকে এইসব কোঠা বা ছাদ সংগ্রহ করতে হয়।সামান‍্য একটা কোঠার ভাড়া পঞ্চাশ টাকা হতে একশ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে, এমনকি তার থেকেও অনেক বেশী পায়।*
*শ্রীজগনাথদেব ১২টা কি ১টার সময় রথে আসেন।সকালবেলায় ভক্তগণ যার যার নির্দিষ্ট জায়গা অধিকার করেন।যারা ছাদে বসবেন,তাদের তাড়াতাড়ি যেতে হয়। রাস্তা হতে যারা দেখবেন,তাদের সকালবেলা যেতে হয় না। কিন্তু যারা রথারোহণ সময়ে ঠাকুরকে দর্শন করতে চান,তাদের সকালবেলাই যেতে হয়।সেখানে জায়গার পরিমাণ কম,লোক সংখ্যা অত‍্যন্ত বেশী। ম‍্যাজিষ্ট্রেট এবং পুলিশের বড় কর্তা, পুলিশ দলবল সহ উপস্থিত থাকেন,কতক্ষণে ঠাকুর আসবেন।ঘন্টা বাজলেই মনে হয় এই বুঝি ঠাকুর আসছেন, আবার নিরাশ হতে হয়।এইরকমে আশায় এ নিরাশায় বহু সময় কেটে যায়।নব অনুরাগিনী প্রেমিকা যেমন ভালোবাসার পাত্র কতক্ষণে আসবেন এই উৎকণ্ঠায় সময় যাপন করে, রথের জগন্নাথ দেখবার জন্য সমস্ত লোকও সেইরকম উৎকণ্ঠিত ভাবে সময় কাটাতে থাকেন।প্রথমে বলরাম রথে আসেন,তারপর সুভদ্রাদেবী, অবশেষে শ্রীজগন্নাথদেব আসেন,উঠবার আগে রথ পরিক্রমণ করে তারপরে রথে আরোহণ করেন। ঠাকুর রথে আরোহণ করলে,সাধারণ যাত্রিক,তারমধ‍্যে অধিকাংশই পশ্চিমা বা পুরীবাসী যাত্রিক বা ভক্তদল, জগন্নাথ দর্শন করবার জন্য ব‍্যাকুল হয়ে পড়ে।একদিকে পুলিশ শৃংখলা রাখবার জন্য তাদের গতি রোধ করছে,অর্থ‍্যাৎ ভিড় সামাল দিচ্ছে,অন‍্যদিকে পুলিশ আক্রমণ হতে পালিয়ে গিয়ে কেউ আহত হয়ে দর্শন করছে।এই দৃশ্য এক-দেড় ঘন্টা পর্যন্ত থাকে।এর পরে রথ চলে।এই সময়ে বহু কীর্তন হতে থাকে,তারমধ‍্যে ঁচরণ দাস বাবাজীর জল প্রধান।*
*🍀রথের প্রথম দিন উপর-নিচ,আশে-পাশে বহুসংখ‍্যক আদিমবাসীদের সাহায্যে রথের দড়ি বন্ধনে জগন্নাথ ও বলরাম রথে উত্তোলন করা হয়।সুভদ্রাদেবীকে কোলে করে রথে উঠানো হয়। যেসব লোক দ্বারা জগন্নাথ ও বলরামকে রথে তোলা হয়,তাদেরকে "দয়িতা" বলে।দয়িতাগণ এইসময়ে সর্বে সর্বা।এই সমস্ত রথের উচ্চতা যথা=জগন্নাথের রথ ২৩হাত উচ্চ,বলরামের রথ ২২হাত উচ্চ, এবং সুভদ্রাদেবীর রথ ২১হাত উচ্চ। জগন্নাথদেবের রথের ষোলটি চাকা, একে নন্দীঘোষের রথ বলা হয়, এর জন্য ষোলশ শত "বেঠিয়া" আবশ্যক। (যারা রথ টানে তাদেরকে বেঠিয়া বলে)।বলরামের রথের চোদ্দটি চাকা, একে তালধ্বজ বলা হয়।সুভদ্রাদেবীর রথের দ্বাদশ চাকা, একে দবদলন রথ বলা হয়।*
🛕🛕🛕🛕🛕🛕🙏🛕🛕🛕🛕🛕🛕
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৮)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *🦚নীলাচলে মহাপ্রভু🦚*
               *🛕রথ--যাত্রা🛕*
            🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦚
*🔷শ্রীজগন্নাথ ও বলরামের রথের দড়ি টানার জন্য চোদ্দশত ও দ্বাদশশত বেঠিয়া আবশ্যক হয়। প্রত‍্যেক রথের চাকা সংখ্যা অনুসারে রথ রজ্জু ব‍্যবহার করা হয়। রজ্জু নারকেলের ছোবায় তৈরী।প্রত‍্যেক দড়ি প্রায় একশ হাত লম্বা।বর্তমানে বেঠিয়ার সংখ্যা অনেকটাই কম হয়েছে।*
*🛕স্নানযাত্রা হতে গুন্ডিচাযাত্রা শেষ হওয়া পর্যন্ত বিশ্বাবসু বংশীয়,যাদেরকে "দয়িতা নিয়োগ" বলে,তাদের অধিকার,এবং বিদ‍্যাপতি বংশীয়েরা,যাদেরকে "পতি" বলে তারা পূজা কার্য‍্য সম্পন্ন করে। প্রতিষ্ঠা বিধির পর সমস্ত রথ নানারকম পট্টবস্ত্রে ও ভূষণে সুসজ্জিত করা হয়।*
*🙏এখন পাঠকগণ একটু আগের অবস্থা শুনতে হবে।রাজা প্রতাপরুদ্র এবং শ্রীচৈতন‍্যদেব রথের সময়ে কিরকম করতেন তা বলছি। আহা,এই রথযাত্রার সঙ্গে শ্রীগৌরাঙ্গের কতই না ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল!শ্রীচৈতন‍্যমহাপ্রভু আনন্দে বিহ্বল,ভাবে বিভোর,প্রাতঃস্নান করে সমস্ত ভক্তগণ সহ তাঁরা একেবারে শ্রীজগন্নাথের কাছে উপস্থিত হলেন।এবার রথের মহাসজ্জা!রাজা প্রতাপরুদ্র প্রভুর অনুগত।প্রভুর সন্তোষের জন্য এবার রথের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি হয়েছে। ভগবানের রথ নানা বর্ণের বস্ত্রের দ্বারা সজ্জিত হয়েছে,তাতে নানান বর্ণের পতাকা উড়ছে।মহা কলরবের সঙ্গে বাদ‍্যধ্বনি হচ্ছে।এই সময়ে সেবকগণ শ্রীবিগ্রহ ধরে মহা উৎসাহে উৎসাহিত হয়ে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবকে রথের উপর উঠালেন। রথ চলিল,দর্শকগণ দুই পার্শ্বে পায়ে-হেঁটে চললেন।এসময়ে আমাদের মহাপ্রভু কি করছেন তা আস্বাদন করা হোক,যথা অমিয় নিমাই চরিত হতে=*
*🛕অপরূপ রথের সাজনি।*
*🛕তাহে চড়ি যায় যাদুমণি।।*
*🛕দেখিয়া আমার গৌর হরি।*
*🛕নিজগণ লইয়া এক করি।।*
*🛕মাল‍্য চন্দন সবে দিয়া।*
*🛕জগন্নাথ নিকটে যাইয়া।।*
*🛕রথ বেড়ি সাত সম্প্রদায়।*
*🛕কীর্তন করে গৌর রায়।।*
*🛕আজানুলম্বিত বাহু তুলি।*
*🛕ঘন উঠে হরি হরি বলি।।*
*🛕গগন ভেদিল সেই ধ্বনি।*
*🛕অন‍্য আর কিছুই না শুনি।।*
*🌻রথাগ্রে যে কীর্তন পদ্ধতি দেখতে পায়,তা সেই মহাপ্রভুর সৃষ্টি।এর বিস্তারিত বিবরণ স্বর্গীয় শিশির বাবু অমিয় নিমাই চরিত গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণন করেছেন,তার কিছু অংশ নিচে দেওয়া হল। এই রথযাত্রার ব‍্যাপারে সমস্ত লোক এই তিনটি বস্তু লক্ষ্য করেছেন=*
*১)শ্রীশ্রীজগনাথদেবের রথারোহণ,*
*২)শ্রীগৌরাঙ্গদেব পদব্রজে,*
*৩)রাজা প্রতাপরুদ্রও পদব্রজে,*
*🌹লাখ লাখ লোক এই তিনজনকে দেখবার জন্য ব‍্যাকুল। তখন মহাপ্রভু কি করছিলেন,*
*🌷সাত ঠাঁই বুলে প্রভু হরি হরি বলি।*
*🌷জয় জয় জগন্নাথ কহে হস্ত তুলি।।চৈঃচঃ।।*
*🌹মহাপ্রভুর এই অবস্থা দেখে রাজা প্রতাপরুদ্র ভাবছেন যেন,শ্রীজগন্নাথ রথ স্থগিত করে মহাপ্রভুর কীর্তন শুনছেন।ক্রমে ক্রমে তার জ্ঞান হল যে রথের উপর যিনি বসে আছেন, তিনি আর মহাপ্রভু এক বস্তু,তিনি রথে জগন্নাথকে দেখতে পেলেন না,দেখলেন মহাপ্রভু বসে আছেন।*
*🌷প্রতাপরুদ্র হইল পরম বিস্ময়।*
*🌷দেখিতে বিবশ রাজা হইল প্রেমময়।।*
*🌷রাজার তুচ্ছ সেবা দেখি প্রসন্ন প্রভুর মন।*
*🌷সে প্রসাদে পাইল এই রহস‍্য দর্শন।।* 
                  *(অমিয় নিমাই চরিত)*
*🍀রথ চলবার আগে,সেই ধীশক্তি (শ্রবণ,কৌতূহল,আহরণ,স্মৃতিতে ধারণ,সন্দেহ নিরসন,বুদ্ধিবা মেধা, জ্ঞান,মতি বা সুধী প্রভৃতি আটরকম বুদ্ধিগুণকে ধীশক্তি বলা হয় )সম্পন্ন রাজাধিরাজ গজপতি প্রতাপরুদ্র হাতে সোনার ঝাড়ু ও চন্দন জল নিয়ে রথ পরিস্কার করতে লাগলেন, আর সেটিতে চন্দন জলের ছিটাদিতে লাগলেন।রাজা ভাবতে লাগলেন,তার এমন ভাগ‍্য কি কখন হবে যে তিনিও গৌরাঙ্গের গণ হবেন।শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গের মহিমা এখন বিবেচনা করুন।*
*🌷কৃষ্ণবর্ণং ত্বিষা কৃষ্ণং সাঙ্গোপাঙ্গাস্ত্র পার্ষদং।*
*🌷যজ্ঞৈঃ সংকীর্তন প্রায়ৈ র্যজন্তি হি সুমেধসঃ।।*
       *(শ্রীমদ্ভাগব,১১শ স্কন্ধে ৫ম অধ‍্যায়)*
*🌻গৌরহরি এই সময়ে সাত সম্প্রদায় একত্র করলেন।পরে স্বয়ং নৃত্য করবেন ইচ্ছা করলেন মহাপ্রভু প্রথমে জগন্নাথকে দন্ডবৎ করলেন এবং নিচের শ্লোকে জগন্নাথের স্তব করতে আরম্ভ করলেন।*
*🌷নমো ব্রহ্মণ‍্য দেবায় গো ব্রাহ্মণ হিতায় চ।*
*🌷জগদ্ধিতায় কৃষ্ণায় গোবিন্দায় নমো নমঃ।।*
*🌹পরে তাঁর নিজ কৃত শ্লোকে যে স্তব করেছিলেন,তা আস্বাদন করুন।*
*🌷জয়তি জয়তি দেবো দেবকী-নন্দনোহসৌ,*
*🌷জয়তি জয়তি কৃষ্ণো বৃষ্ণি-বংশ-প্রদীপঃ।*
*🌷জয়তি জয়তি মেঘ শ‍্যামলঃ কোমলাঙ্গো,*
*🌷জয়তি জয়তি পৃথ্বি ভারনাশো মুকুন্দঃ।।*
*🌷জয়তি জননিবাসো দেবকী জন্মবাদৌ,*
*🌷যদুবর পরিষৎস্বৈ র্দোর্ভিরস‍্যান্ন ধর্মং।*
*🌷স্থিরচর বৃজিনঘ্নঃ সুস্মিত শ্রীমুখেন,*
*🌷ব্রজপুর বনিতানাং বর্দ্ধয়ন্ কামদেবং।।*
*🌷নাহং বিপ্রো ন চ নরপতির্নাপি বৈশ‍্যো ন শূদ্রো,*
*🌷নাহং বর্ণী ন চ গৃহপতি র্নবনস্থো যতির্বা।*
*🌷কিন্তু প্রোদন্নিখিল পরমানন্দ পূর্ণামৃতাব্দে,*
*🌷র্গোপীভর্ত্তুঃ পদকমলয়োর্দাসানুদাস।।*
*🌻এই স্তব পাঠ করছেন,আর তাঁর আয়ত (টানা টানা)নেত্র দিয়ে জলের ধারা পড়ছে।দর্শকগণ অপরূপ দেখছেন যে তাঁর অশ্রু বারিধারার মত মাটিতে পড়ছে।এই বারিধারায় ভক্তগণের হৃদয়কে প্রক্ষালিত (ধৌত) করলেন।তারপর গৌরহরি নৃত্য আরম্ভ করলেন।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙏🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৯)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
         *🦚নীলাচলে মহাপ্রভু🦚*
               *🛕রথযাত্রা🛕*
           °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🍀মহাপ্রভুর নৃত্য সম্বন্ধে চরিতামৃতে যে বর্ণনা আছে তার কিঞ্চিৎ দেওয়া হল।*
*🌷উদ্দন্ড নৃত্য প্রভুর অদ্ভুত বিকার।*
*🌷অষ্টসাত্ত্বিক ভাব উদয় হয় সমকাল।।*
*🌷মাংস ব্রণ সহ রোমবৃন্দ পুলকিত।*
*🌷শিমুলের বৃক্ষ যেন কন্টকে বেষ্টিত।।*
*🌷এক এক দন্তের কম্প দেখি লাগে ভয়।*
*🌷লোক জানে দন্ত সব খসিয়া পড়য়।।*
*🌷সর্বাঙ্গে প্রস্বেদ ছুটে তাহে রক্তোদগম্।*
*🌷জয় জয় জজগগ গদগদ বচন।।*
*🌷জল-যন্ত্র-ধারা যেন বহে অশ্রুজল।*
*🌷আস পাশ লোক যত ভিজিল সকল।।*
*🌷দেহ-কান্তি গৌর কভু দেখিয়ে অরুণ।*
*🌷কভু কান্তি দেখি যে মল্লিকা-পুষ্পসম।।*
*🌻মহাপ্রভুর ভাবোন্মাদ হ'ল, সেই সঙ্গে লোকগুলো আনন্দে পাগল হয়ে উঠিল।*
*🌷জগন্নাথ-সেবক যত রাজ-পাত্রগণ।*
*🌷যাত্রিক-লোক নীলাচলবাসী যতজন।।*
*🌷প্রভু-নৃত‍্য-প্রেম দেখি হয় চমৎকার।*
*🌷কৃষ্ণ-প্রেমে উথলিল হৃদয় সবার।।*
*🌷প্রেমে নাচে গায় লোক করে কোলাহল।*
*🌷প্রভু-নৃত‍্য দেখি সবে আনন্দে বিহ্বল।।*
*🍀শ্রীচৈতন‍্যদেব বলেছিলেন,তিনি রাজ-সম্ভাষণ করবেন না।রাজার সঙ্কল্প,তিনি মহাপ্রভুর কৃপাপাত্র হবেন।শ্রীভগবান ভক্তের কাছে পরাস্ত হলেন।(তিনি যে ভক্তাধীন ভগবান, ভক্তের ইচ্ছায় ভগবানের ইচ্ছা), এইরকম ঘটনা আজ যে নতূন হয়েছে তা নয়।কুরুক্ষেত্র-যুদ্ধে ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা--- পঞ্চ পান্ডব বধ করবেন। যখন কৃষ্ণের কৌশলে তা ভঙ্গ হল,তখন তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন,কৃষ্ণ যে প্রতিজ্ঞা করেছেন, তিনি কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে অস্ত্র ধরবেন না,সে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে ভগবানকে অস্ত্র ধরাব।ভীষ্মের এই প্রতিজ্ঞা রক্ষা করবার জন্য,শ্রীকৃষ্ণ তাঁর নিজের প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে,কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেছিলেন।*
*🌻মহাপ্রভু রাজার প্রতি প্রসন্ন হয়েছেন,তাঁকে কৃপা করতে হবে, অথচ বিষয়ীর সঙ্গে সন্ন‍্যাসীর সংস্রব বা মেলামেশা নিষেধ।তাই আজ গৌরহরি রাজার সামনে মূর্ছিত হলেন,রাজা চরণ-দুইখানি নিজের কোলে রেখে অতি যত্নে সেবা করতে লাগলেন। যথা কবি কর্ণপুরের কাব‍্যে পাই=*
*আনন্দোৎসাহ-মূর্ছাগত ইব ভবতি স্পন্দ-নিশ্বাস-মন্দে,*
*রোহদ্রোমাঞ্চ-পূরৈর্বিকলিত-বপুষানন্দ-মন্দীকৃতেন।*
*স‍্যন্দন্নেত্রারবিন্দদ্বয়-সলিল-জুষা রুদ্রদেবেন ভূয়ঃ,*
*সানন্দং সেবিতাঙ্ঘ্রিদ্বয়-সরসি-রুহো রাজতে গৌরচন্দ্রঃ।।*
*🌹সময়ে সময়ে মহাপ্রভু আনন্দে ও উৎসাহে এত অধীর হচ্ছেন,যে তা তাঁর হৃদয়ে স্থান পাচ্ছে না ; তাতে নিশ্বাস ও স্পন্দন মন্দীভূত (ধীরগতিতে)হচ্ছে এবং শ্রীচৈতন‍্যদেবকে মূর্ছাগত প্রায় দেখা যাচ্ছে।অন‍্যদিকে প্রতাপরুদ্রের দেহপিন্ড আনন্দে জড়ীভূত হয়ে,সর্বাঙ্গ লোমাঞ্চিত হচ্ছে,তাতে বিকলিত(বিকৃতি) অঙ্গ দেখা যাচ্ছে। তাঁর নয়ন হতে বারিধারা পড়ছে, সেই অবস্থায় তিনি শ্রীগৌরচন্দ্রের পদসেবা করছেন।সেই নয়নজলে গৌরচন্দ্র,যেন পদ্ম ফুটেছে,এইরকম শোভা পাচ্ছেন।*
*🙌মহাপ্রভু ভাবে বিভোর হয়ে নৃত্য গীত সংকীর্তন করতে করতে চলেছেন। হঠাৎ রথ চলা বন্ধ হল।রথ চলছে না,রাজা ব‍্যাকুল হয়ে,রথ চালাবার জন্য যথাসাধ‍্য চেষ্টা করছেন।এইসব ব‍্যাপার মহাপ্রভু তাঁর ভক্তগণ নিয়ে,নীরবে দাঁড়িয়ে দেখছেন।রাজা যখন দেখলেন যে,রথ চালানো তাঁর পক্ষে অসাধ‍্য,তখন নিরাশ হয়ে,অত‍্যন্ত কাতরভাবে শ্রীচৈতন‍্যদেবের পানে দেখতে লাগলেন।শ্রীমন্মহাপ্রভুও অমনি "ভয় কি, এই যে আমি আছি" নয়ন-ভঙ্গী করে এই ভাব প্রকাশ করে অগ্রবর্তী হলেন।মহাপ্রভু চললেন,সঙ্গে ভক্তগণ চললেন।গৌরহরি হস্তিগুলি রথ হতে ছাড়ায়ে, রথের রজ্জু নিজ জনের হাতে দিলেন, ও রথের পেছনে মস্তক স্পর্শ করে রথ ঠেলতে লাগলেন। রথ অমনি হড়্ হড়্ করে চলতে লাগল।যাঁরা দড়ি ধরে রথ টানতে নিযুক্ত হয়েছেন,তাঁরা দেখছেন যে,তাঁদের শক্তিতে রথ চলছে না,রথ যেন নিজ শক্তিতে চলছে।তখন দর্শকগণ আনন্দে চিৎকার করে উঠিল, ও শ্রীচৈতন‍্যদেবের জয় ঘোষণা করতে লাগল।*
*🌷জয় গৌরচন্দ্র জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য।*
*🌷এই মত কোলাহল লোকে ধন‍্য ধন‍্য।।*
*🌷দেখিয়া প্রতাপরুদ্র পাত্রমিত্র সঙ্গে।*
*🌷প্রভুর মহিমা দেখি প্রেমে ফুলে অঙ্গে।।*
*🙏মহাপ্রভুর লীলা দর্শন করে রাজা এখন হতে গৌররূপ ধ‍্যান,গৌর-নাম জপ করতে লাগলেন,এটিই এখন তাঁর সাধন ভজন হল।শ্রীগৌরাঙ্গ শ্রীকৃষ্ণের অবতার বলে পুরীধামে সব জায়গায় প্রচারিত হলেন।রাজা প্রতাপরুদ্র হতে তাঁর প্রজা পর্যন্ত সকলের হৃদয়েই এইকথা বদ্ধমূল হল।রাজা প্রতাপরুদ্র মহাপ্রভুর "গণ" হলেন, অর্থ‍্যাৎ গৌরাঙ্গ-অবতারের যে চৌষট্টি আদি মহান্ত আছেন,প্রতাপরুদ্র তাঁদের মধ্যে একজন।আঠার বৎসর শ্রীচৈতন‍্যদেব জগন্নাথে লীলা করেছিলেন, কতরকম লীলাই যে করেছেন,তা সবিস্তার বর্ণনা করা যায় না। তিনি কখনও ভাবে অচেতন হয়ে পড়তেন, কখনও দীর্ঘাকার হয়ে, কখনও বা কূর্মাকার হয়ে চলতেন। কখনও বা চক্ষেতে সুরধূনীর আবির্ভাব হত,সেই বন‍্যাতে সকলকেই ভাসাতেন।*
*🌳শ্রীশ্রীজগন্নাথদেব মহাপ্রভুকে দিয়ে,তাঁর লীলা-মাহাত্ম‍্য বিস্তার করেছেন।মন্দিরের ভিতর,গরুড় স্তম্ভের কাছে যে কুন্ড দেখতে পাই, তা মহাপ্রভুর অশ্রুজলের কুন্ড। দেওয়ালের গায়ে যে আঙ্গুলের দাগ আছে,তা মহাপ্রভুর অঙ্গুলিচিহ্ন। সেখান হতে তাঁর পদচিহ্ন এখন কোন কারণে স্থানান্তরিত করে রাখা হয়েছে।স্তম্ভের গায়ে যে ষড়্ ভুজ মূর্তি অঙ্কিত দেখতে পাওয়া যায়,তা শ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদ সার্বভৌমকে যে মূর্তি দেখিয়েছিলেন,সেই মূর্তি।দক্ষিণ দরজায় যে মূর্তিটি দেখতে পাই,তাও সেই ষড়্ ভুজ মূর্তি।মন্দিরের বাইরে মন্দিরের গায়ে যে মূর্তি দেখতে পাই,তাওও সেই ষড়্ ভুজ মূর্তি।*
🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚🐚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫০)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🐚নীলাচলে মহাপ্রভু🐚*
                *🛕রথযাত্রা🛕*
             ☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🍁শ্রীপুরীধামে শ্রীগৌরাঙ্গদেব মন্দিরের ভিতর ও বাহির উভয়দিক অধিকার করেছিলেন।কবে আমাদের সেই দিন আসবে,যেদিন আমাদের দেহমন্দিরের ভেতর-বাহির মহাপ্রভু অধিকার করবেন ; আমরা তাঁর ধন তাঁকে দিয়েই কৃতার্থ হব।বাস্তবিক সেই সময়ে শ্রীগৌরাঙ্গদেব জগন্নাথের রাজা।প্রতাপরুদ্র হতে আরম্ভ করে পাত্রমিত্র সকলেই তাঁর প্রজা।প্রেম তাঁর রাজ‍্য,ভক্তি তাঁর ধন,প্রজা হতে রাজা পর্যন্ত সকলেই এই ধন নিবার জন্য ব‍্যাকুল। শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গদেব আঠার বৎসর ব‍্যাপী,এই রাজকার্য‍্যে ব‍্যস্ত ছিলেন, এই কাজের দিনরাত্রি ভেদ ছিল না,দিবানিশি এই ধ‍্যান করতেন।*
*🌳এইভাবে সারাদিনে শ্রীশ্রীজগন্নাথ দেবের রথ গুন্ডিচা-বাড়ী এসে উপস্থিত হয়।প্রথমদিন তিন মূর্তি রথারূঢ় হবার পরে,রথতিনটি "বেঠিয়া" দ্বারা টেনে নিয়ে এসে যজ্ঞবেদীর কাছে সন্ধ‍্যাবেলা উপস্থিত হয়।সেইদিন রাত্রে,প্রভুদেরকে "পাহুন্ডি" করায়ে যজ্ঞবেদীর রত্ন সিংহাসনে স্থাপন করা হয়।সাতদিন পর্যন্ত দেব যজ্ঞবেদীতে অবস্থান করেন।নীলাদ্রিস্থ মন্দিরের মত এই জায়গার নীতি অবিকলভাবে অনুষ্ঠিত হয়।এই সাতদিন অন্ন পিষ্টকাদি ভোগ দেওয়া হয়।এই উদ‍্যান বৃক্ষলতাদি দ্বারা শোভিত এবং পনের ফিট উচু প্রাচীর দিয়ে চারিদিকে ঘেরা।এর নাম গুন্ডিচাবাড়ী, সর্বসাধারণে এই বাড়ীকে শ্বশুর-বাড়ী বলে থাকে।এইখানে এসেই রথ থামে।*
*🍀এই বাড়ীতে প্রবেশ করবার দুইটি দরজা আছে।একটি দরজা দক্ষিণদিকে,অন‍্যটি পশ্চিমদিকে।ভিতরে বড় মন্দির আছে।মন্দিরের ভিতর প্রবেশ করলেই স্তম্ভোপরি গরুড় দেখা যায়। বামদিকে দেবী মূর্তি আছেন ; লোকে তাঁকে জগন্নাথের বড় মাসী বলে থাকে।ডানদিকে একটি অঙ্গন পার হলে,মন্দিরের ভিতর শ্রীশ্রীজগন্নাথের রত্নবেদী দেখা যায়।এই জায়গায় এসে জগন্নাথ থাকেন।এই জায়গায় সাতদিন পর্যন্ত জগন্নাথ দেবের সব কাজ শেষ হয়। ইতিমধ্যে রথত্রয়ের মুখ নীলাদ্রির দিকে রাখা হয়।একে দক্ষিণ-মূর্তি বলা যায় নবমদিনে সকালবেলার পূর্বে খেচরান্ন ভোগ শেষ করে,দেবকে রথারূঢ় করা হয়।এই রীতি ক্ষেত্রমাহাত্ম‍্য প্রভৃতি গ্রন্থে লেখা রয়েছে।উড়িষ‍্যা হিন্দু রাজাদের অধীন থাকার সময়,কাজ এইভাবে সম্পাদিত হত।উড়িষ‍্যা পরাধীন হবার পরে,এই রীতির বিশৃঙ্খলা ঘটে, অর্থ‍্যাৎ একদিন মধ্যে রথ না গিয়ে,চার-পাঁচদিনে রথ তিনটি যজ্ঞবেদীর কাছে উপস্থিত হত।যাইহোক,সাতদিনের মধ্যে অনন্ত একদিন ও গুন্ডিচা গৃহে প্রভুর একবার অন্নভোগ হওয়া কর্তব‍্য ; নচেৎ দ্বাদশ বৎসর পর্যন্ত রথযাত্রা বন্ধ হয়ে যাবে।এইসব "নীলাদ্রি মহোদয়" গ্রন্থের ভিতরে লেখা আছে। সম্প্রতি সুযোগ‍্য ম‍্যানেজার মহাশয়ের যত্নে, তিনটি রথ এক দিনেই, গুন্ডিচাবাড়ী পৌঁছে ; কাজেই সেখানে রীতিমত ভোগ রাগ হয়।সাতদিন প্রভু ঐ জায়গায় থেকে শ্রীমন্দিরে প্রত‍্যাবর্তন করেন।মাদলা-পঞ্জিকায় প্রকাশ এবং জনশ্রুতিও আছে, যে বড়দান্ডে প্রথমে নদী থাকায় ছয়টি রথ তৈরী হত।বর্তমান যেখানে "অর্দ্ধাশনী" (আদিতে মহাপ্রলয়কালে অর্দ্ধাংশ জলপান করেছিলেন বলেই ইঁহাকে অর্দ্ধাশনী শক্তি কহে।ইঁহাকে দর্শন করলে বিশেষ পুণ‍্য হয় )অবস্থিত, তা নদীর দক্ষিণ পাড়ে ছিল ; এবং গুন্ডিচামন্ডপ বাম পাড়ে ; এই দুইয়ের মধ্যে নদী ছিল। অধুনা নদী শুকিয়ে গিয়েছে, কিন্তু তার মোহনা অদ‍্যাপি বর্তমান, এবং এই মোহানা "বঙ্কি মোহানা" নামে অভিহিত হয়।সেই মোহানায় এখন চক্রতীর্থ অবস্থিত।বালি দ্বারা নদীর মুখ বন্ধ হওয়ায় নদীর গতি ক্রমশ কমে যাচ্ছে, এবং প্রাকৃতিক নিয়মানুবর্তী হয়ে সেই জায়গা উচু হওয়ায় জলস্রোত ভিন্ন পথ অনুসরণ করল।সেই নদী লোপ পেয়ে,কালক্রমে জীবের স্মৃতি হতে বিলুপ্ত হয়েছে।এখন তা "সৈকত-সাবধা"বলে অভিহিত।নদীতে পার হবার জন্য নৌকা থাকত।সেই নৌকায় পার হয়ে,ঠাকুর রথে আরোহণ করতেন।এখন নদী না থাকায়,মাত্র তিনটি রথ তৈরী হয়।*
🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 ষষ্ঠ ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath6.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 চতুর্থ ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 তৃতীয় ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath3.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 চতুর্থ ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 চতুর্থ ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩১)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
             *🔷নীলাচলে মহাপ্রভু🔷*
*পুরীর প্রসিদ্ধ মঠ ও অন‍্যান‍্য স্থানগুলি*
🌋⛰️🏔️🗻🏕️⛺🏚️🏘️🏡🏠🛕🛕
*🌹শ্রীজগন্নাথদেবের উৎসবের কথা লেখা হল ; এখন পুরীর মধ্যে যে সব মঠ বা প্রসিদ্ধ জায়গা ও তীর্থস্থান আছে,তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হচ্ছে। এর বিস্তারিত বিবরণ পরে দেওয়া হবে।*
*🌳১)বড়ছাতা=জগন্নাথের মন্দিরের পূর্ব-দরজার সিংহদ্বারের কাছে,উত্তরদিকে সাধুদের আখড়া*।
*🌳২)রাজবাড়ী=বড় ভান্ডের অর্থ‍্যাৎ বড় রাস্তার উত্তর অগ্রসর হলে, পূর্বপার্শ্বে পুরীর রাজারবাড়ী পাওয়া যায়।*
*🌳৩)শুভনারায়ণের মঠ=এই মঠে শুভনারায়ণ প্রতিষ্ঠিত আছেন।ইন্দ্রদ‍্যুম্ন রাজা জগন্নাথকে পাওয়ার জন্য,শুভনারায়ণকে প্রতিষ্ঠা করেন। এটি অতি প্রাচীন জায়গা।*
*🌳৪)জগন্নাথবল্লভ মঠ=এই মঠের ভিতর প্রকান্ড বাগান আছে।এখানে মদনমোহন গিয়ে অনেক লীলা করে থাকেন।*
*🌳৫)নরেন্দ্র সরোবর=এই সরোবরে চন্দন যাত্রা হয়।সরোবরটি খুবই বড়।*
*🌳৬)জটীবাবার মঠ=এটি বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর সমাধি স্থান।মন্দিরটি অতি সুন্দর।*
*🌳৭)মাসীমার বাড়ী=এখানে জগন্নাথ দেবের মাসীমার মন্দির আছে।*
*🌳৮)গুঞ্জাবাড়ী=এই জায়গায় জগন্নাথ বলরাম ও সুভদ্রা,রথের পর নয়দিন বসবাস করেন।এটি অতি পবিত্র তীর্থ।ইন্দ্রদ‍্যুম্ন রাজার পত্নী গুন্ডিচা-রাণীর নাম অনুসারে গুন্ডিচা বাড়ী নাম হয়েছে।সংক্ষেপে একে গুঞ্জবাড়ী বলা হয়ে থাকে।*
*🌳৯)ইন্দ্রদ‍্যুম্ন সরোবর=ইন্দ্রদ‍্যুম্ন রাজার যজ্ঞীয় গরুর ক্ষুর হতে এই সরোবর উৎপন্ন হয়েছে।এটি অতি পুণ‍্যক্ষেত্র। "ইন্দ্রদ‍্যুম্নসরঃ স্নাত্বা পুনর্জ্জন্ম ন বিদ‍্যতে"।*
*🌳১০)মার্কন্ডেয় সরোবর=মহর্ষি মার্কন্ডেয়, ভগবান এখানে সদাসর্বদা অধিষ্ঠিত আছেন জেনে, এবং তাঁর মায়ার তত্ত্ব বুঝতে পেরে,এখানেই তপস‍্যার জায়গা নির্দেশ করেছিলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, মহর্ষির সুবিধার জন্য,এই সরোবর করে দিয়েছিলেন।রাজা কুন্ডল-কেশরী ১৮২০খৃঃঅব্দে মন্দির নির্মাণ করে দেন।এখানে অষ্ট মাতৃকা আছেন এবং মার্কন্ডেশ্বর শিব আছেন।এই সরোবরে স্নান,ও জগন্নাথ দর্শন করতে হয়। এখানে পিতৃ-পুরুষের পিন্ডদান হয়ে থাকে।মার্কন্ডেয় সরোবরে স্নান করলে পুনর্জ্জন্ম হয় না।*
*🌳১১)চক্রতীর্থ=এই তীর্থ পুরী স্টেশনের কাছে,বাকী মোহানায় সমুদ্র হতে অনতিদূরে অবস্থিত।এখানে প্রথমে জগন্নাথ-নির্মাণ জন্য,নিম কাঠ ভেসে লেগেছিল।এইজন‍্য এই ক্ষেত্র অতি পবিত্র।এইখানে বলরাম দাস নামে এক ভক্ত,বালুর মঠ করে, জগন্নাথের আরাধনা করেছিলেন।সেইজন‍্য এখানে বালুর মন্দির তৈরী করতে হয়।এখানে চক্র-নারায়ণ ও হনুমান আছেন।*
*🌳১২)সমুদ্র=অতি পবিত্র তীর্থ।মন্দির হতে এক মাইল দূরে,দক্ষিণে অবস্থিত।সমুদ্রে স্নান করে,জগন্নাথ দর্শন করলে,পুনর্জ্জন্ম হয় না। এখানে শ্রাদ্ধ ও ফলদান করা হয়।*
*🌳১৩)স্বর্গদ্বার=এখানে ব্রহ্মা স্বর্গ হতে নেমে এসেছিলেন,তারজন‍্য একে স্বর্গদ্বার বলে। অথবা এইজায়গায় স্নান করলে,স্বর্গে যাওয়া যায় বলে,স্বর্গের দ্বার-স্বরূপ কল্পনা করা হয়েছে।এখানে বিদুরাশ্রম,স্বর্গদ্বার সাক্ষী হনুমান,সুদামাপুরী,নানক এবং কবীরের মঠ আছে।নানক এবং কবীর উভয়েই পরম ভক্ত ছিলেন। কবীরের অনেক দোহা আছে। নানক পন্থী মঠেতে একটি কূয়া আছে,তাকে গুপ্ত-গঙ্গা বলে।নানকের গ্রন্থ পূজা হয়ে থাকে।কবীরের মালা ও কাষ্ঠপাদুকা পূজিত হয়।*
*🌳১৪)শঙ্কর-মঠ=এই মঠে শঙ্কারাচার্য‍্যের প্রস্তর বা পাথরনির্মিত অতি সুন্দর মূর্তি আছে।এখানে শঙ্করাচার্য‍্যের মতাবলম্বী সাধুগণ বাস করেন ; এবং সংস্কৃত শাস্ত্রের আলোচনা হয়।শঙ্করাচার্য‍্যের জীবনী পেছনে দেওয়া যাবে।এটিকে গোবর্ধন মঠ বলে থাকে।এটি শঙ্করাচার্য‍্যের স্থাপিত চার মঠের এক মঠ।*
*🌳১৫)টোটা-গোপীনাথ=এখানে পদ্মাসনে আসীন গোপীনাথ মূর্তি আছেন।প্রবাদ আছে যে,এই মূর্তির ভিতরে শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গদেব প্রবিষ্ট হয়েছিলেন।এখনও পান্ডারা পাঁচ-সিকা নিয়ে,জানুর ভিতরে ফাটাস্থান দেখিয়ে থাকে।এখানে শ্রীমন্মহাপ্রভু ভক্তগণ সঙ্গে গদাধরের ভাগবত পাঠ শুনতেন। এখানে বলরাম,গৌর,নিতাই ও অদ্বৈত মহাপ্রভুর প্রতিমূর্তি আছে।*
*🌳১৬)হরিদাস মঠ=ব্রহ্ম হরিদাসের সমাধি স্থান।বিস্তারিত বিবরণ স্থানান্তরে লেখা হবে।এখানে গৌরাঙ্গ, নিত‍্যানন্দ,অদ্বৈত তিন প্রভুর মূর্তি স্থাপিত আছে।*
*🌳১৭)রাধাকান্তের মঠ=এখানে রাধাকান্ত স্থাপিত আছেন।এখানে শ্রীমন্মহাপ্রভুর গম্ভীরালীলা হয়েছিল।তার বিবরণ পশ্চাৎ লিখিত হবে,এটিই কাশীমিশ্রের ভবন।*
*🌳১৮)সিদ্ধ-বকুল=নামাচার্য‍্য হরিদাস ঠাকুর শ্রীজগন্নাথধামে এসে এখানেই বাস করেন।এখানে বকুল গাছ আছে,তার কেবল মাত্র বাকল অবশিষ্ট আছে।এই বৃক্ষের বিবরণ পরে লেখা হবে। এই জায়গাও শ্রীগৌরাঙ্গের লীলাক্ষেত্র*।
*🌳১৯)লোকনাথ=এখানে লোকনাথ শিব বিরাজ করছেন।মন্দির হতে দুই মাইল দুরে অবস্থিত।শিবরাত্রি ছাড়া শিবলিঙ্গ সর্বদা সমুদ্র-জলে ডুবে থাকেন।জগন্নাথের লোকেরা ইঁনাকে অত‍্যন্ত ভয় করে।শিবরাত্রির সময় এখানে বিশাল মেলা হয়।*
*🌳২০)যমেশ্বর শিব=শ্রীমন্দিরের আধ মাইল দূরে দক্ষিণদিকে অবস্থিত।যমরাজার দ্বারা স্থাপিত বলিয়া,ইঁনাকে যমেশ্বর শিব বলে।*
*🌳২১)কপাল-মোচন=ব্রহ্মার পাঁচ মুন্ডের এক মুন্ড এখানে পড়েছিল বলে,ইহার নাম কপালমোচন হয়েছে।*
*🌳২২)অলাবুকেশ্বর=এটি ললাটেন্দুকেশরী কর্তৃক স্থাপিত। প্রবাদ আছে যে,এখানে ইঁনার পূজা দিলে অপুত্রক পুত্রবতী হয়।*
*🌳২৩)শ্বেতগঙ্গা=এটি একটি সরোবর।এই জল স্পর্শ করলে,সমস্ত পাপ হতে মুক্ত হওয়া যায়।শ্বেতমাধব এখানে বিরাজিত।*
*🌳২৪)সার্বভৌম মঠ=শ্বেতগঙ্গার পরেই, সার্বভৌমের মঠ।এটিকে গঙ্গামাতার মঠ বলে। এখানে সার্বভৌমকে ষড়্ ভুজ মূর্তি দেখিয়েছিলেন।বিস্তারিত বিবরণ পেছনে দেওয়া হবে।*
*🌳২৫)পুরী গোঁসাইয়ের কূপ= শ্রীমন্মহাপ্রভুর ভক্ত পরমানন্দ পুরী এই কূপ খনন করান। কিন্তু বহুদূর খনন করার পরও এই কূপে জল উঠে না।মহাপ্রভু ঐ জায়গায় উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন,কূপ কেমন হয়েছে? তিনি উত্তর করলেন অভাগীয়া কূপ,জল উঠেনি।করুণাময় গৌরহরি ঐ কূপ পরিক্রমণ করে,গঙ্গাস্তব পাঠ করলেন।তারপর দিন দেখা গেল যে,কূপ জলে পরিপূর্ণ হয়েছে।তখন সকলেই বুঝলেন যে,গঙ্গাদেবী এই কূপেতে আবির্ভূতা হয়েছেন, এবং এই জল অতি পবিত্র জ্ঞান করে,সকলে কূপের জলে স্নান করলেন,এই কূপ অতি পবিত্র জায়গা।*
🪔🪔🪔🪔🪔🪔🙏🪔🪔🪔🪔🪔🪔
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 চতুর্থ ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩২)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *🔵নীলাচলে মহাপ্রভু🔵*
*💧শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরের বাইরের অশিষ্ট ছবির আধ‍্যাত্মিক ও নানারকম ব‍্যাখ‍্যা।*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🌻শ্রীশ্রীজগন্নাথ-মন্দিরের বাইরে নানারকম অশিষ্ট মূর্তি দেখা যায়।এই সব মূর্তি,কেবল শিল্পনৈপুণ‍্য দেখাবার জন্য,গঠিত হয়েছে?কি এর অভ‍্যন্তরে কোন আধ‍্যাত্মিক তত্ত্ব গুপ্তভাবে লুকিয়ে আছে,তা চিন্তার বিষয়?বর্তমান কালের রুচিতে,পাশ্চাত‍্য অনুকরণে,কোন কোন বাগানে নগ্নমূর্তি দেখতে পাওয়া যায়।শিল্পনৈপুণ‍্যের পরাকাষ্ঠা দেখাবার জন‍্যই নাকি এইরকম করা হয়? কিন্তু আমাদের চোখে এরকম দৃশ্য বড়ই অপ্রীতিকর বোধহয়।এইরকম জগন্নাথ-মন্দিরে,যে সমস্ত অশিষ্টমূর্তি দেখা যায়,সেগুলিও আমাদের কাছে অপ্রীতিকর সন্দেহ নাই ; কিন্তু আমাদের মনে হয়,এতে কোন নিগূঢ় আধ‍্যাত্মিক তত্ত্ব গুপ্তভাবে লুকিয়ে রয়েছে।শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের যে মণিকোঠার ভিতরে আছেন,তাওও উদ্দেশ্য-ব‍্যঞ্জক। ভগবান গুহাশায়ী কূটস্থ। আমাদের দেহে,অন্নময়, প্রাণময়,মনোময়,বিজ্ঞানময় ও আনন্দময় এই পাঁচ কোষ আছে।প্রথমে "অন্নময়"কোষ,তারপর প্রাণময় কোষ,তৎপর মনোময় কোষ,তারপরে বিজ্ঞানময় কোষ ও সর্বশেষে আনন্দময় কোষ।এই আনন্দময় কোষে পরমাত্মারূপী ভগবান বাস করছেন।একে লক্ষ্য করেই,শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবকে মণিকোঠার ভিতরে স্থাপিত করা হয়েছে।সেই জন্যই বুঝি জায়গাটি অতি নিভৃত বা নির্জন অথবা গুপ্ত।বাইরের চারিদিকটি আমাদের "অন্নময়" কোষের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।এই মন্দিরের চারটি কোঠা আছে।বাইরের দিক অন্নময় কোষের সঙ্গে তুলনা করা হল, মণিকোঠাও আনন্দময় কোষের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এখন তিনটি কোঠা অবশিষ্ট রইল--,ভোগমন্দির, নাটমন্দির ও জগমোহন মন্দির।এই তিনটি কোঠার সঙ্গে,যদি আর তিনটি কোষের তুলনা দ্বারা সামঞ্জস্য করা যায়,তাহলে একটা সর্বাঙ্গসুন্দর আধ‍্যাত্মিক ব‍্যাখ‍্যা হতে পারে।এখন একটু চিন্তা করে দেখা যাক,এ বিষয়ে কতদূর তুলনা করা যেতে পারে।ভোগমন্দিরের সঙ্গে প্রাণময় কোষের তুলনা করতে হবে। স্থূলতঃ দেখতে গেলে,ভোগমন্দিরের সঙ্গে প্রাণময় কোষের বিশেষ সাদৃশ‍্য লক্ষিত হয় না। কিন্তু একটু সূক্ষ্মভাবে বিবেচনা করলে, বিশেষ সাদৃশ‍্য বা মিল আছে বলে বোধ হয়।এটি দেখতে গেলে,প্রথমে প্রাণময় কোষটি কি তা বুঝতে হয়।এই কোষে আমাদের দেহস্থ পঞ্চবায়ুর অবস্থিতি জায়গা। "প্রাণাপানব‍্যানোদানসমানাঃ,ইদং প্রাণাদিপঞ্চকং কর্মেন্দ্রিয়সহিতং প্রাণময়কোষো ভবতি"।(বেদান্তসার) প্রাণ,অপান,ব‍্যান,উদান ও সমান, এই পাঁচটি বায়ু আমাদের দেহে বতর্মান। "প্রাণো নাম প্রাগ্ গমনবান্ নাসাগ্রস্থানবর্তী,অপানো নাম অবাগ্ গমনবান্ পায্বাদিস্থানবর্তী,ব‍্যানোনাম বিশ্চগ্ গমনবানখিলশরীরবর্তী,উদানঃ কন্ঠস্থানীয় উর্দ্ধগমনবানুৎক্রমণবায়ুঃ, সমানঃ শরীরমধ‍্যগতাশিতপীতান্নাদিসমীকরণকরঃ, সমীকরণন্তু পরিপাককরণং রসরুধিরশুক্রপুরীষাদিকরণং "। এই প্রমাণ দ্বারা আমরা দেখছি--, প্রাণ নাসাগ্রস্থানবর্তী ; অপানবায়ু গুহ‍্য স্থানবর্তী ; ব‍্যান--সর্বশরীরব‍্যাপী,উদান বায়ু কন্ঠস্থানীয় উর্দ্ধগমন ও উৎক্রমণ বায়ু ও সমান বায়ু শরীর মধ‍্যগত অন্নপীতাদি পরিপাককারী বায়ু। এই সমস্ত বায়ু দ্বারা আমাদের দেহের সমস্ত ক্রিয়া হয়ে থাকে ;ব‍্যান বায়ু দ্বারা সমস্ত শরীরের রক্তসঞ্চালনাদি ক্রিয়া হয়ে থাকে,উদান বায়ুদ্বারা আমরা উদগীরণ প্রভৃতি ক্রিয়া করে থাকি ; সমানবায়ু দ্বারা আমাদের শরীরের অন্তর্বতী সমস্ত পদার্থের সমীকরণ হয়ে থাকে (অর্থ‍্যাৎ পরিপাক হয়ে থাকে ) রস,রুধির,শুক্র,পুরীষাদি কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে।প্রাণময় কোষের ক্রিয়া দেখতে পেলাম।এখন দেখি ভোগমন্দিরের সঙ্গে এর কি সাদৃশ‍্য আছে।পক্কশালা বা পাকমন্ডপ বা রান্নাঘর হতে ভোগ রন্ধন হয়ে এই মন্দিরে নেওয়া হয়।এই ভোগ মন্দিরটি রান্নাঘরের সঙ্গে একত্র করে তুলনা করলেই, সুবিধা হয়।পাকশালায় পাক হয়ে ভোগমন্দিরে নিয়ে,ভোগ নিবেদিত হয়।নিবেদিত হওয়ার পরে,নানাস্থানে এটি বিতরণ হতে থাকে ; কতক রাজবাড়ীতে যায়,কতক মঠে যায়,কতক আনন্দবাজারে যায়, ও কতক খরিদ্দারেরা নেয়।এইভাবে সমস্ত অন্ন বিতরণ হয়ে যায়। সুতরাং ভোগমন্দিরও একটি যন্ত্র বিশেষ, এখানে উৎপন্ন হয়ে বিতরণকরণ ক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।সমীকরণ ক্রিয়ার দ্বারা সঙ্গে এর তুলনা করা যেতে পারে। শরীরের যন্ত্র বায়ু দ্বারা চালিত হয়ে,যেরকম অন্ন পাকাদি কাজ সম্পন্ন করছে,এখানেও সেরকম ভোগ আদি সমস্ত তৈরী হয়ে, বিতরণ হচ্ছে।অন্নাদি আহার্য‍্য সামগ্রী, যেমন এক জায়গায় একত্রিত হয়ে,নানা যন্ত্র দ্বারা নানাজায়গায় বিভিন্ন অবস্থায় পরিবর্তিত হচ্ছে,এখানেও সেইরকম ভোগ নানাজায়গায় পরিচালিত হচ্ছে। এই অবস্থা বিবেচনা করে, আমরা প্রাণময় কোষকে ভোগমন্দিরের সঙ্গে তুলনা করলাম।*
🔴🔵🔴🔵🔴🔵🔴🔵🔴🔵🔴🔵🔴
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 চতুর্থ ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৩)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
            *🔷নীলাচলে মহাপ্রভু🔷*
*শ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরের বাইরে অশিষ্ট ছবির আধ‍্যাত্মিক ও নানারকম ব‍্যাখ‍্যা।*
◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆◆
*🌹এখন নাটমন্দিরের সঙ্গে মনোময় কোষের তুলনা করতে হবে।মনোময় কোষেতে সমস্ত মন কর্মেন্দ্রিয়ের সঙ্গে কাজ করে থাকে, "মনস্তু কর্মেন্দ্রিয়ৈঃ সহিতং সন্মনোময়কোষো ভবতি। কর্মেন্দ্রিয়াণি-- বাক্-পাণি-পাদ-পায়ূপস্থানি "। কর্মেন্দ্রিয়ের সহিত মনের ক্রিয়া এই কোষোতে হয়ে থাকে।এখন,নাটমন্দিরের কি কাজ হয়,তা দেখা যাক।নাটমন্দিরে নৃত্যগীতাদি এবং ধ‍্যানধারণা প্রভৃতি হয়ে থাকে।ধ‍্যানধারণাদি মনের কাজ।এখানে নৃত্যগীতাদি কর্মেন্দ্রিয়ের ক্রিয়া হয়ে থাকে।ধ‍্যান মনের কাজ, সুতরাং কর্মেন্দ্রিয়ের সঙ্গে মনের ক্রিয়া এই জায়গায় হচ্ছে দেখতে পাই। অতএব নাটমন্দিরকে মনোময় কোষের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।*
*এখন বিজ্ঞানময় কোষের সঙ্গে,জগমোহনের তুলনা করতে হবে। বিজ্ঞানময় কোষেতে,জ্ঞানেন্দ্রিয়ের সঙ্গে বুদ্ধির ক্রিয়া হয়ে থাকে = "বুদ্ধিঃ জ্ঞানেন্দ্রিয়ৈঃ সহিতা বিজ্ঞানময়কোষো ভবতি"। এই কোষের পর আনন্দময় কোষ।এই কোষ হতে জীব জীবত্ব ছেড়ে ব্রহ্মত্ব লাভের পথ প্রসারণ করতে থাকে। এদিকে জগমোহনে গেলেই,ঠাকুর দর্শন হয় --, জগমোহনে পৌঁছতে পারলে, মণিকোঠায় প্রবেশ করতে,আর কোন গন্ডগোল থাকে না।গন্ডগোল ততক্ষণ,যতক্ষণ জগমোহনের দরজা খোলা না থাকে।এইজন‍্য বিজ্ঞানময় কোষের সঙ্গে জগমোহনের বেশ তুলনা হতে পারে। আমাদের পাঁচঠি কোষের সঙ্গে মন্দিরটির তুলনা করা হল।এই ভাবেতে গ্রহণ করলে,এই ছবিগুলির ব‍্যাখ‍্যা হতে পারে।যে সাধক গুহাশায়ী পরমাত্মারূপী ভগবানকে লাভ করতে চান,তাঁকে অন্নময় কোষ অর্থ‍্যাৎ দেহজনিত সমস্ত রূপবিকার পরিত‍্যাগ করে,স্রক্ চন্দনাদি বিষয়ভোগ বাসনা,এমন কি স্বর্গাদি সুখভোগে বীতস্পৃহ(বিরক্ত) হয়ে, বেদান্তে যাকে =ইহামূত্র ফলভোগ-বিরাগ বলে, সেই বিরাগ অবলম্বন করে,ধর্মরাজ‍্যে প্রবেশ করতে হবে।এই মন্দিরের সঙ্গে তুলনায় দেখতে পাই যে, বাইরের মূর্তি সব,সেই ভোগবাসনার পরিচায়ক। এই মন্দিরে প্রবেশ করে,জগন্নাথ দর্শন করতে হলে,এই সমস্ত বাইরের মূর্তিতে উপেক্ষা করে,প্রবেশ করতে হয়।সংসারে যারা ভগবৎ-তত্ত্ব-বিমুখ, তারা ভোগবিলাসেই রত থাকে,তাদের আর দেহের ভিতরে অবস্থিত চৈতন‍্যরূপী ভগবদ্ভর্শনে ইচ্ছা জন্মে না। সেইরকম যাঁরা জগন্নাথ দর্শন করতে চান না,তাঁরা বাইরের ছবিই দর্শন করবেন। এইরকম অনেক লোক দেখা যায় যে,শ্রীজগন্নাথ দর্শন না করে, কেবল বাইরের কারুকার্য‍্য দেখেই সন্তুষ্ট থাকেন ; তাতে একবার মন আকৃষ্ট হলে,আর ভিতরে প্রবেশ করতে পারে না।ভগবদ্ ভক্তের এটি একটি পরীক্ষা স্থল।ঐসব বাহ‍্যিক প্রলোভন অতিক্রম করতে পারলে, একবার মনকে অন্তর্মুখী করতে পারলেই,আর কোন ভয় থাকে না ; তখন সাধক অনায়াসেই ভগবদ্দর্শনে কৃতার্থ হয়ে যান।*
*🌸দেখুন ভক্তগণ,ভগবদ্দর্শন লাভ করতে হলে,বহু পরীক্ষা অতিক্রম করতে হয় ;তাই আবার বলি, শ্রীমন্দিরের বাইরের শিল্প-বিন‍্যাস দর্শকদের এই পরীক্ষা স্থল। দর্শকগণ,আপনারা মন্দিরে প্রবেশ করবার আগে,মনঃ স্থির করে, একাগ্র ভাবে ধ‍্যান করতে করতে গমন করবেন।দেখবেন নামের কি আশ্চর্য‍্য ক্ষমতা, একবার ঠাকুরকে মনের ভিতরে আনতে পারলেই,আর বাইরের কোন বস্তুতেই মন স্পর্শ করতে পারবে না। সাবধান!বাইরের ঐ সব মূর্তি দেখবার জন্যই,যেন ব্রগ্রতা না জন্মে,তাহলেই বিপদে পড়বেন।*
*🍁এই মূর্তি সম্বন্ধে আরও বিভিন্ন মত আছে।মহামহোপাধ‍্যায় সদাশিব মিশ্র মহাশয়,তাঁর জগন্নাথ মাহাত্ম্য গ্রন্থে ঐ বিষয়ের আলোচনা করেছেন।আমরাও সেই কয়েকটি বিষয়ের আলোচনা করব।কেউ কেউ বলেন,এই অশ্লীল মূর্তি মন্দিরে থাকলে বজ্রপাত নিবৃত্তি হয়।এটি যুক্তি দ্বারা সমর্থন করা কঠিন। এটি দ্বারা বজ্রপাত নিবারণ হতে পারে না, এরকম মতও সমর্থন করা যায় না।কারণ শাস্ত্রে যখন প্রমাণ রয়েছে,তখন অস্বীকার কি করে করি।আমাদের ক্ষুদ্র জ্ঞানে অনেক সময় যা অসম্ভব মনে করি,তাও সম্ভব হতে পারে।শাস্ত্রকারেরা ত্রিকালজ্ঞ, দূরদর্শী, সুতরাং সে মত আমরা উপেক্ষা না করে,তারও প্রমাণ উদ্ধৃত করলাম।অগ্নিপুরাণ ১০৪ অধ‍্যায়=*
*🌷অধঃ শাখা-চতুর্থাংশে প্রতীহারৌ নিবেশয়েৎ।*
*🌷মিথুনৈরথবল্লীভিঃ শাখাশেষং বিভূষয়েৎ।।*
*🌻বৃহৎ সংহিতায়=*
*🌷মিথুনৈঃ পত্রবল্লীভিঃ প্রমথৈশ্চোপশোভয়েৎ।*
*(অত্র মিথুনং নাম স্ত্রীপুরুষ-যুগলং)*
*🍁জ‍্যোতিশ্চন্দ্রিকা-টীকায়াং= বজ্রপাতশঙ্কয়া ইন্দ্রাণ‍্যাদ‍্যা বন্ধাদেয়া ইতি।*
*🌺কেউ বলেন,যে সব অশ্লীল মূর্তি মন্দিরের গায়ে দেখা যায়,তা অপরাধীদের মূর্তি।মন্দির স্থান সকলের দৃষ্টিগোচর হবে বলে,এই জায়গায় সেই মূর্তি রাখা হয়েছে। অন‍্য কেউ বলেন,বৌদ্ধদের এ মন্দিরে প্রবেশ বন্ধ করবার জন্যই,এই সব অশিষ্ট মূর্তি রাখা হয়েছে।আবার কেউ কেউ বলেন,যে সব কুলোক নিজেদেরকে পাপী মনে করে মন্দিরে প্রবেশ করতে চাই না,তাদেরকে অভয় দিবার জন্য,এ সব মূর্তি মন্দিরের গায়ে স্থাপিত হয়েছে।পাপীদেরকে এটি দ্বারা জানান হয়েছে যে,তোমরা যতই কেন পাপী হও না, মোহান্ধকারে নিমজ্জিত হইও না, জগন্নাথ তোমাদেরকে উদ্ধার করবার জন্য পতিতপাবন নাম ধারণ করেছেন,জগন্নাথ অভয় দিচ্ছেন,কোন ভয় নাই।আবার কেউ বলেন,কোন কামুক রাজার অধীনে এই মন্দির ছিল,তাঁর রুচি অনুসারে এই সব মূর্তি খোদিত হয়েছে। নানা মুনির নানা মত, অন‍্য কেউ বলেন, আত্মা কূটস্থ(সবসময় সর্বকালে রয়েছে বা নিত‍্য)।স্থূল দেহের সঙ্গে তাঁর কোন সম্পর্ক নাই।দেহের কাজ যেমনি হোক না কেন, তিনি নির্বিকার।আর একটি মত এই যে,চিত্তস্থিরতা পরীক্ষা করবার জন্য,এইসব মূর্তি অঙ্কিত হয়েছে।এইসব মূর্তিতে যাঁদের মন আকৃষ্ট হবে না,তাঁরাই দারুময় ব্রহ্মের অধিকারী।*
*☘এইরকম বিভিন্ন মত, বিভিন্ন রুচি অনুসারে প্রকাশ করা হয়েছে।এর মধ্যে কোন কোন মত, আমরা যে মত পোষণ করেছি,তা অনেক পরিমাণে সমর্থন করেছে।এখন পাঠকদের উপর ভার রইল,তাঁরা ভালমন্দ বিবেচনা করে গ্রহণ করবেন।*
*🙏পূজ‍্যপাদ পরমভক্ত স্বর্গীয় বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী মহাশয়,এই মন্দিরের বাইরের যে অশিষ্টতা ব‍্যঞ্জক যে সব মূর্তি আছে,তার যে ব‍্যাখ‍্যা দিয়েছেন,তা নিচে দেওয়া হল।*
*🌻একদিন জনৈক নীতি পরায়ণ সাধু গোস্বামী প্রভুকে জিজ্ঞাসা করলেন শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরে কতকগুলি অশিষ্ট মূর্তি স্থান পেয়েছে কেন?তার উত্তরে গোস্বামী প্রভু বললেন,শাস্ত্রকর্তৃগণ কিছুই বাদ দিয়ে লিখেন নাই। জীব প্রকৃতির নিম্নস্তরে যত রকমের কুৎসিত ভাব লুকিয়ে আছে,তাইই দেখান হয়েছে মাত্র।আবার ঐ স্তর অতিক্রম করে উঠতে পারলে,জীব ক্রমশ কি রকম সুন্দর উচ্চ অবস্থা লাভ করতে পারে,রূপকচ্ছলে তাইই দেখান হয়েছে।মন্দিরের বাইরের,নিম্ন স্তরেই ঐসব মূর্তি জায়গা পেয়েছে, কিন্তু কয়েক স্তর উপরেই নানাপ্রকার দেবদেবীর মূর্তি,তারপর ভগবানের অবতার ও লীলা-ব‍্যঞ্জক মূর্তি,সর্বোপরি শ্রীশ্রীজগন্নাথের মূর্তি প্রকটিত করা হয়েছে। মন্দিরের ভিতরে কোথাও ঐ প্রকার ছবির স্থান দেওয়া হয়নি।*
*🙏শ্রীমদাচার্য‍্য বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর=সাধনা ও উপদেশ।*
*🔵আমার বন্ধুপ্রবর শ্রীযুক্ত বাবু নীলমাধব বসু, হাইকোটের উকিল মহাশয়ের মত এই যে,এই সমস্তই জগতের চিত্র-- ভাল,মন্দ,বৃক্ষ,নদী,জীব,জন্তু সমস্ত বিষয়ই চিত্রিত হয়েছে, সুতরাং এটি জগতের চিত্র।বাইরে জগতের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে,ভিতরে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেব কূটস্থ (নিত‍্য) চৈতন‍্য স্বরূপ বিরাজ করছেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 চতুর্থ ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৪)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
            *🍀নীলাচলে মহাপ্রভু🍀*
                *🌕কালাপাহাড়🌕*
*🌹কালাপাহাড়ের নাম আপনারা সকলেই নিশ্চয়ই জানেন।ইনি হিন্দুদের অনেক দেবদেবী মূর্তি ভেঙ্গেছেন ও অনেক মন্দির বিধ্বস্ত করেন।কালাপাহাড় জগন্নাথকেও অব‍্যাহতি দেননি ;কালাপাহাড়ের বৃত্তান্ত,এখন পর্যন্তও নিশ্চিতভাবে বাহির হয়নি।কেহ কেহ বলেন,তাঁর পূর্বনাম ছিল কালাচাঁদ।আবার কেউ বলেন নিরঞ্জন ভট্টাচার্য্য নামে জনৈক ব্রাহ্মণ, শেষে কালাপাহাড় নামে পরিচিত হন।কেউ কেউ বলেন,ইনি পূর্বে রাজু নামে অভিহিত হতেন।কামরূপে ইনি পোড়াঠাকুর ও কালযবন নামে খ‍্যাত। (শ্রীযুক্ত দূর্গাচরণ সান‍্যাল মহাশয়ের সামাজিক ইতিহাস অনুসারে,ইনি রাজশাহী নিবাসী বরেন্দ্র শ্রেণীর ব্রাহ্মণ কুমার বলে উল্লিখিত হয়েছেন)। যাইহোক,যতদূর জানা গিয়েছে,তাতে দেখা যায়,তিনি একজন ব্রাহ্মণকুমার ছিলেন, মুসলমান নবাব সুলেমানের কন‍্যার রূপে মুগ্ধ হয়ে,তিনি শেষে মুসলমান ধর্মে দীক্ষিত হন।এই নবাব-কন‍্যা কোন সময়ে,পুরুষবেশে চাকরী প্রার্থনা করেন। তিনি নবযুবককে বেশ বুদ্ধিমান বিবেচনা করে চাকরিতে নিযুক্ত করলেন।এক সময়ে কালাপাহাড় এক মুসলমান জমিদারের সঙ্গে যুদ্ধে রত ছিলেন।সেই মুসলমান তাঁকে গুপ্তভাবে ছোরা নিক্ষেপ করে।ছদ্মবেশী নবাবকন‍্যা, ঐ ছোরা আঘাত করবার আগেই ধরে ফেলে।এতে কালাপাহাড় বিশেষ সন্তুষ্ট হয়ে,তাকে ইচ্ছেমত পুরস্কার দিতে প্রতিশ্রুত হন।নবাব-কন‍্যা তখন, তাঁর গুপ্তবেশ পরিত‍্যাগ করে,সুলেমানের কন‍্যা বলে পরিচয় দেন এবং তাঁর পাণিগ্রহণের বাসনা প্রকাশ করেন।তারপর মুসলমান ধর্মে দীক্ষিত হয়ে নবাব কন‍্যাকে বিয়ে করেন।*
*এর পর তিনি দাউদের প্রধান সেনাপতি হন, এবং কামাখ‍্যা, কাশী-বিশ্বেশ্বরের মন্দির সব ভেঙ্গে বিধ্বস্ত করেন।১৫৯৫ খৃঃ অব্দে তিনি উড়িষ্যা অভিযান করেন।সেই যুদ্ধে উড়িষ্যার রাজা মুকুন্দদেব নিহত হন।তারপর কালাপাহাড় শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবকে পোড়াতে চেষ্টা করেন। পান্ডারা এইকথা শুনে জগন্নাথদেবকে চিল্কাহ্রদে গড়পাড়িকোদে লুকিয়ে রাখেন।কালাপাহাড় সেখান হতে ঠাকুরকে আনিয়ে অগ্নিতে দগ্ধ করবার চেষ্টা করেন। সে সময় পান্ডাদের সঙ্গে তাঁর যুদ্ধ হয়। কিন্তু পান্ডারা ঠাকুরকে রক্ষা করতে পারেননি। এর পর যে কোন প্রকারেই হোক,বেসর মোহান্তি ঐ ঠাকুর অর্দ্ধদগ্ধ অবস্থায় পেয়ে তাঁকে কোন নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে রাখেন।কুড়ি বছর পরে খুড়দার রাজা রামচন্দ্র দেব প্রভু জগন্নাথৈর ব্রহ্মমণি নিয়ে,নিম কাঠের মূর্তি তৈরী করে,তাতে ব্রহ্মমণি স্থাপন করতঃ, এই মন্দিরে পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করেন। পান্ডাদের সহিত যুদ্ধে কালাপাহাড় আহত হন, এবং তা হতেই শেষে তাঁর মৃত‍্যু হয়। মুসলমানদের ইতিহাস অনুসারে কালাপাহাড় ১৫৮৬ খৃষ্টাব্দে মোগলবাহিনীর তোপে ভূতলশায়ী হয়ে নিহত হন।এই কালাপাহাড় এবং মুসলমানদের ইতিহাসের কালাপাহাড় এক কিনা,তা ঠিক বুঝা যায় না।এই দুটির সামঞ্জস্য করতে হলে, কালাপাহাড়ের দুইবার আক্রমণ হয়েছিল বলে মনে হয়।১৫৩৫ খৃষ্টাব্দে যখন কালাপাহাড় আক্রমণ করেন, তখন কেবলমাত্র মুকুন্দদেবকে পরাজিত করেই চলে যান,সে বারে আর পুরীতে আসেন না।তারপর ১৫৮৬ খৃষ্টাব্দে মুকুন্দদেবের পুত্র গৌড়ীয় গোবিন্দের রাজত্ত্বকালে,তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ করে,কালাপাহাড় পুরী লুন্ঠন এবং জগন্নাথ দগ্ধ করে। সেই যুদ্ধেতেই আঘাত পেয়ে অবশেষে তার মৃত‍্যু হয়। এই সময়ে আকবরের সৈন‍্যের সঙ্গে দায়ুদ খাঁর সেনানায়ক কালাপাহাড় প্রভৃতির সঙ্গে কটকে যুদ্ধ হয়।তাতে কালাপাহাড় গোলার আঘাতে ভূতলশায়ী হয় বলে পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে।বোধ হয় পান্ডাদের আঘাত আগে হয়, গোলার আঘাত পরে হয়।এই উভয় আঘাতই তার মৃত‍্যুর কারণ।এইরকম কল্পনা করা যেতে পারে।জগন্নাথের উপর এইরকম ব‍্যবহারই তার মৃত‍্যুর কারণ বলে মনে হয়।*
🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 চতুর্থ ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৫)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🔵নীলাচলে মহাপ্রভু🔵*
*🌻সার্বভৌমের ষড়্ ভুজ-মূর্তিদর্শন ও নবদ্বীপে শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর সংক্ষিপ্ত জীবনী।*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের মাহাত্ম্য বর্ণন করতে গিয়ে,জগন্নাথের মন্দিরের বাইরের-দিকে ষড়্ ভুজ মূর্তি দেখতে পাই।এই মূর্তিটি কেন এখানে সন্নিবিষ্ট (সংযুক্ত)হল,তা জানবার জন্য স্বভাবতই কৌতূহল জন্মে। এই মূর্তিটি কার এবং এর তত্ত্ব জানবার জন্য সকলেরই আগ্রহ জন্মিতে পারে। এই আগ্রহ পরিতৃপ্তির জন্য,এই বস্তুটি কি,তার অবতারণা করা আবশ্যক আরও প্রয়োজন এই যে,জগন্নাথের লীলার সঙ্গে এই বস্তুটির এত ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ হয়ে পড়েছে যে,তার সম্বন্ধে যদি বিশেষ ভাবে উল্লেখ না করা যায়,তাহলে,শ্রীজগন্নাথের প্রকৃত মাহাত্ম্যেরই অসম্পূর্ণতা থাকে।প্রায় অর্ধেক লীলার সঙ্গে এই মূর্তির সম্বন্ধ রয়েছে, সুতরাং এই বস্তুটি কি,তা দেখবার জন্য,আমরা নিচে তার বৃত্তান্ত উল্লেখ করলাম।*
*🌷অনর্পিতচরীং চিরাৎ করুণয়াবতীর্ণঃ কলৌ।*
*🌷সমর্পয়িতুমুন্নতোজ্জ্বল-রসাং স্বভক্তিশ্রিয়ং।*
*🌷হরিঃ পুরট-সুন্দরদ‍্যুতি-কদম্ব-সন্দীপিতঃ*।
*🌷সদা হৃদয়কন্দরে স্ফুরতু বঃ শচীনন্দনঃ।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ যে উন্নতোজ্জ্বল ভক্তি-রসাস্বাদ হতে জীব সুদীর্ঘকাল বঞ্চিত ছিল,সেই পরম বস্তু প্রদানের জন্য,করুণাপরবশ হয়ে,কলিতে অবতীর্ণ,দিব‍্যোজ্জ্বল-সুবর্ণকান্তি শ্রীহরি শচীনন্দন,তোমাদের হৃদয়-কন্দরে স্ফূর্তি প্রাপ্ত হন।*
*বন্দোহহং শ্রীগুরোঃ শ্রীযুতপদ-কমলং শ্রীগুরূন্ বৈষ্ণবাংশ্চ,*
*শ্রীরূপং সাগ্রজাতং সহগণ-রঘুনাথান্বিতং তং সজীবং।*
*সাদ্বৈতং সাবধূতং পরিজন-সহিতং কৃষ্ণ-চৈতন‍্যদেবং,*
*শ্রীরাধাকৃষ্ণ-পাদান্ সহগণ-ললিতান্ শ্রীবিশাখান্বিতাংশ্চ।।*
*🌻আমরা যে মন্দিরে ষড়্ ভুজ মূর্তি দেখতে পাই,তা শ্রীশ্রীচৈতন‍্যমহাপ্রভুর ষড়্ ভূজ মূর্তি।তিনি সার্বভৌমকে কৃপা করতে পুরীধামে এসেছিলেন, এবং তাঁর জন্যই এই ষড়্ ভূজ মূর্তি ধারণ করেন।এদেশের লোকেরা শ্রীগৌরাঙ্গদেবকে ভাল করে জানেন না, সুতরাং তাঁর একটু সংক্ষিপ্ত জীবনী থাকা আবশ্যক।১৪০৭ শকে ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথিতে,নবদ্বীপে শ্রীজগন্নাথ মিশ্রের ঔরসে শচীদেবীর গর্ভে শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গদেব জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মমাত্র,চারিদিক হতে বহুলোক আসতে লাগল, সমস্ত দেবগণ নরদেহ ধারণ করে এসেছিলেন,তারজন‍্যই তখন অনেক লোকের ভিড় হয়েছিল।চৈতন‍্যচরিতামৃত হতে এর একটি প্রমাণ উল্লেখ করছি=*
*🌷চৈতন‍্যাবতারে কৃষ্ণ-প্রেম-মুগ্ধ হইয়া।*
*🌷ব্রহ্মা শিব শনকাদি পৃথিবীতে জন্মিয়া।।*
*🌷কৃষ্ণনাম লইয়া নাচে প্রেম-বন‍্যায় ভাসে।*
*🌷নারদ প্রহ্লাদ আসি মনুষ‍্য প্রকাশে।।*
*🌻শ্রীচৈতন‍্যদেবের অঙ্গকান্তি গৌর বলিয়া,তাঁর গৌরাঙ্গ নাম হয়েছিল।তিনি বাল‍্যকালে চঞ্চলপ্রকৃতি ছিলেন।তিনি শৈশবকাল হতেই,অসামান‍্য বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছিলেন।অল্পদিনের মধ্যেই তিনি অদ্বিতীয় পন্ডিত হন এবং দিগ্বিজয়ী পন্ডিতকে পরাজিত করেন।ন‍্যায়শাস্ত্রের সুপ্রসিদ্ধ অদ্বিতীয় পন্ডিত রঘুনাথ শিরোমণি তাঁর সমপাঠী ছিলেন।(এ বিষয়ে মতভেদ দেখা যায় ) কিন্তু মহাপ্রভুর প্রতিভার কাছে রঘুনাথের প্রতিভা নিষ্প্রভ হয়েছিল। মহাপ্রভুর বিদ‍্যার আলোচনা আর বেশীদিন চলিল না। অল্পদিন পরেই তাঁর পিতার পিন্ডদান করবার জন্য গয়াধামে যান। সেখানে ঈশ্বরপুরীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়, এবং তাঁর নিকট দীক্ষিত হন।দীক্ষিত হবার পর হতেই,চঞ্চল নিমাই আর রইল না,তিনি একেবারে অন‍্যরকম হয়ে গেলেন।দিনরাত ভগবৎ-চিন্তায় নিমগ্ন থাকতেন,তাঁর বাহ‍্যজ্ঞান থাকত না। হরিনামেতে একেবারে পাগল হয়ে গেলেন।*
*গয়াধামে ঈশ্বর পুরী কিবা মন্ত্র দিল।*
*সেই হইতে গোরা মোর পাগল হইল।।*
                  *(অমিয় নিমাই চরিত)*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 চতুর্থ ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৬)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
           *🌲নীলাচলে মহাপ্রভু🌲*
    *শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর সংক্ষিপ্ত জীবনী*
    🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🍀কয়েকদিন পরে শ্রীনিমাই পন্ডিত দেশে ফিরিলেন,তখন আর সেই বিদ‍্যা চর্চা রইল না ;দিনরাত্রি কেবল হরিনামেই তিনি বিভোর হয়ে থাকতেন।শচীমা পুত্রের এরকম ভাব দেখে মনে করলেন,নিমাই হয় পাগল হয়েছে,না হয় তাঁর বড় পুত্র বিশ্বরূপের মত সংসার ছেড়ে চলে যাবে,মায়ের মন আগে থেকেই হয়ত সব জানতে পারে।এই ভেবেই অদ্বৈতাচার্য‍্য,শ্রীবাস পন্ডিত এবং অন‍্যান‍্য পাড়ার বৃদ্ধদের ডাকলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন ; তাঁর নিমাইয়ের কি হয়েছে?অদ্বৈতাচার্য‍্য, শ্রীবাসপন্ডিত এবং অন‍্যান‍্য বৈষ্ণবগণ তাঁর ভাব দেখে,অত‍্যন্ত মুগ্ধ হলেন এবং বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের শুভদিন উপস্থিত মনে করলেন।কারণ নিমাইয়ের মত পন্ডিত তাঁদের সম্প্রদায় ভুক্ত হলে,বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের শ্রীবৃদ্ধি হবে,তার সন্দেহ নাই।সকলেই শচীমাকে সান্ত্বনা করে চলে গেলেন।এই নবযুগের প্রথম আরম্ভ।এখন হতে শ্রীবাস পন্ডিতের বাড়ী হল শ্রীনাম-কীর্তনের অঙ্গন।সারাদিন রাত শ্রীবাসের বাড়ীতে হরিনামের বিরাম নাই। এই হরিনামের জন্য মহাপ্রভু কোনদিন বাড়ীতে যান,কোনদিন তাও ঘটে না। বৃদ্ধা মাতা ও যুবতী পত্নী,কারও সঙ্গে আর প্রায় সম্পর্ক রইল না।অহর্নিশ কেবল হরিনামকীর্তনে তাঁর সময় অতিবাহিত হতে লাগল।শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গদেব হরিনাম প্রচার করতে আরম্ভ করলে,চারিদিক থেকে ভক্তমন্ডলী দলে দলে এসে জুটতে লাগল।সন্ন‍্যাসী প্রভু নিত‍্যানন্দ,ব্রহ্মহরিদাস,মুরারীগুপ্ত, পুরুষোত্তমাচার্য‍্য,শ্রীধর,পুন্ডরীক বিদ‍্যানিধি প্রভৃতি বহুভক্ত নানা দিক থেকে নদীর মত মহাসাগর মহাপ্রভু চৈতন‍্যদেবেতে সম্মিলিত হলেন।ভূগর্ভ ও লোকনাথ আসিলেন,তাঁরা আসিবামাত্র, মহাপ্রভু তাঁদেরকে চির পরিচিতের ন‍্যায় আলিঙ্গন করলেন। অতঃপর তাঁদেরকে বৃন্দাবনের লুপ্ততীর্থ উদ্ধারের জন্য পাঠালেন।এদিকে নবদ্বীপে কাজীকে উদ্ধার করলেন ; জগাই-মাধাই উদ্ধার হল।মহাপ্রভু বিষ্ণুখট্টায় বসলেন ;এই ঈশ্বরভাব প্রহরের পর প্রহর ছিলেন।অদ্বৈতচার্য‍্য মহাপ্রভুর পূজা গ্রহণ করলেন,অনেক ভক্তকে কৃপা করলেন।তারপর শ্রীবাসের মৃতপুত্রের জীবন সঞ্চার করলেন, এবং তার দ্বারা কে কার পিতা,কে কার পুত্র, এরকম উপদেশ দেবার পর,মৃতপুত্রকে বিদায় দিলেন।পুনঃ যখন নিজভাবে প্রকট হলেন,তখন দীন-হীন কাঙালভাবে সকলের কাছে কৃপা ভিক্ষা করতে লাগলেন, বললেন কোথায় আমার কৃষ্ণ এনে দাও বলে দাও বলে সকলের কাছে প্রার্থনা জানালেন।এইভাবে শ্রীবাস অঙ্গনে আনন্দোৎসব হচ্ছিল,তা আর বেশীদিন রইল না,হঠাৎ পরিবর্তিত হল।শ্রীকৃষ্ণ বিরহে শ্রীমতীর যে ভাব হয়েছিল,সেই ভাব হৃদয়ে প্রবিষ্ট হওয়ায়,তিনি হঠাৎ নীবর হলেন।*
*🌷এই যে ধনী কৃষ্ণ কথা কইতেছিল।*
*🌷কথা কইতে কইতে নীবর হ'ল।।*
*🌹মহাপ্রভুর হৃদয়ের ভাব নিতাইকে বলছেন,যথা=*
*🌷আমার মন যেন আজ করেরে কেমন,*
          *আমায় ধর নিতাই------*
*জীবকে হরিনাম বিলাতে,*
*লাগল যে ঢেউ প্রেম-নদীতে,*
*সেই তরঙ্গে আমি এখন ভেসে যাই।*
*যে দুঃখ আমার অন্তরে,*
*ব‍্যথিত কেবা ক'ব কারে,*
*জীবের দুঃখে আমার হিয়া বিদারিয়া যায়।*
*আমার সঞ্চিত ধন ফুরাইল,*
*জীবোদ্ধার নাহি হ'ল,*
*ঋণের দায়ে আমি এখন বিকাইয়া যাই।।*
*☘এইভাবে শ্রীমুখ মলিন হয়ে গেল ; কেবল মনে একচিন্তা জীব-উদ্ধার হল না।সকলেই বুঝতে পারলেন, মহাপ্রভু আর সংসারে থাকতে চান না।বৃদ্ধা মাতা,যুবতী পত্নী এবং সুখের গৃহ,সংসার ত‍্যাগ না করলে,কেউ তার ধর্ম নিবে না,এই ভেবে একদিন শেষ রাত্রিতে মা ও গৃহত‍্যাগ করে,কাটোয়াতে কেশব ভারতীর কাছে সন্ন‍্যাস-ধর্ম গ্রহণ করলেন।চাঁচর কেশ মুড়ালেন,নটবর বেশ ছেড়ে,ডোর কৌপীন ও দন্ডধারণ করলেন।কাটোয়া হতে শান্তিপুর ভক্তগণসহ ফিরলেন।ভক্তগণের ইচ্ছা মহাপ্রভুকে নদীয়ায় রাখেন, কিন্তু তা হল না।মহাপ্রভু মায়ের কাছ হতে বিদায় গ্রহণ করে যাবেন, কিন্তু গৃহে যাবেন না,পত্নীর সঙ্গে দেখা করবেন না। সুতরাং শচীমাকে শান্তিপুরে আনা হল।অদ্বৈতাচার্য‍্যের গৃহে কয়দিন থেকে,মায়ের ইচ্ছা অনুসারে পুরীধামে গমন করলেন।নিত‍্যানন্দসহ কয়েকজন ভক্ত সঙ্গে চললেন।তাঁর আর কারও দিকে লক্ষ্য নাই, কেবল শ্রীজগন্নাথ ধ‍্যান করতে করতে চললেন।অবশেষে পুরীধামে উপস্থিত হয়ে,শ্রীজগন্নাথের চক্র দর্শন করলেন।তখন তিনি পাগলের মত, মন্দির অভিমুখে ছুটলেন,ভক্তগণ পেছন পেছন ধাবিত হলেন কিন্তু মহাপ্রভুকে ধরতে পারলেন না,পেছনেই পরে রইলেন।মহাপ্রভু এক দৌড়ে জগন্নাথের মন্দিরের ভিতরে, মণিকোঠার ভিতরে প্রবেশ করে,জগন্নাথদেবকে আলিঙ্গন করবেন,এই বাসনাই হাত বাড়াতে গিয়েছেন,এমন সময় জগন্নাথের সেবকগণ বাধা দেওয়ায়, তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।তাঁর শরীরে অষ্ট সাত্ত্বিকভাবের বিকার হতে লাগল।এদিকে ছড়িদারগণ তাঁকে ঘিরে ফেলল, এমন সময়ে সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য (বাসুদেব ভট্টাচার্য্য )সেখানে উপস্থিত হলেন।তিনি শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভুর তেজঃপুঞ্জ শরীর,সন্ন‍্যাসীবেশ,নবীন বয়স,দিব‍্যকান্তি, সাত্ত্বিক-ভাব-পরিপূর্ণ আকৃতি,মূছিত অবস্থায় দেখে,ছড়িদারগণকে সরিয়ে দিলেন।তখন এই নবীন সন্ন‍্যাসীকে নিজ বাসায় নিয়ে যাবার জন্য সকলকে আদেশ করলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🪔🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 চতুর্থ ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৭)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *🔷নীলাচলে মহাপ্রভু🔷*
*শ্রীমন্মহাপ্রভুর সংক্ষিপ্ত জীবনী*
*****************************
*🍀সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য মন্দিরের কর্তা-বিশেষ, মন্দিরের সমস্ত কাজের ভার তাঁর উপর ছিল।তিনি রাজা প্রতাপরুদ্রের দ্বার-পন্ডিত, এবং ধর্মবিষয়ের পরামর্শ-দাতা ছিলেন।কাশীধামে প্রকাশানন্দ,যেমন দেবে অদ্বিতীয় পন্ডিত ছিলেন,সেইরকম বাসুদেব ভট্টাচার্য্যও ষড়্ দর্শনে ভারতবর্ষে অদ্বিতীয় পন্ডিত ছিলেন।মিথিলা হতে ইনিই সমস্ত ন‍্যায়শাস্ত্র মুখস্থ করে এনে,নবদ্বীপে গ্রন্থ প্রণয়ন করেছিলেন। ইতিপূর্বে এদেশে ন‍্যায়শাস্ত্রের কোন গ্রন্থ ছিল না,মিথিলা হতে কোন শিষ‍্যকে গ্রন্থ দেওয়া হত না।মিথিলাতেই রেখে আসতে হত।সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।*
*ভট্টাচার্য‍্য মহাশয় ভবনে উপস্থিত হয়ে দেখলেন যে,মহাপ্রভুর মূর্চ্ছা ভঙ্গ হয়েছে, এবং ভক্তগণও তখন মিলিত হয়েছেন।তখন সকলেই একটু শান্ত হলেন। ভট্টাচার্যের সহিত শ্রীচৈতন‍্যদেবের শাস্ত্র আলাপ আরম্ভ হল।আলাপের দ্বারা সার্বভৌম বুঝলেন,সন্ন‍্যাসী ভক্ত ও বুদ্ধিমান, পন্ডিতও বটে,দীনতাও যথেষ্ট, কিন্তু দোষের মধ্যে এই যে,বেদান্ত পড়া নাই। তারজন‍্য তিনি সন্ন‍্যাসীকে বেদান্ত পড়তে উপদেশ দিলেন, তিনিও পড়তে স্বীকার করলেন।সাতদিন পর্যন্ত তাঁকে বেদান্ত শুনালেন, কিন্তু সন্ন‍্যাসী কোন কথায় বলেন না দেখে, সার্বভৌম কিছু বিরক্ত হলেন, এবং জিজ্ঞাসা করলেন, সাতদিন পর্যন্ত তোমাকে শুনালাম কিন্তু কোন কথায় জিজ্ঞাসা কর না, বুঝলে কিনা তাও বুঝতে পারলাম না। তখন মহাপ্রভু উত্তর করলেন,*
*🌷প্রভু কহে সূত্রের অর্থ বুঝিয়ে নির্মল।*
*🌷তোমার ব‍্যাখ‍্যা শুনি মন হয়তবিকল।।*
*🌻মূল সূত্রের অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু তুমি যে ব‍্যাখ‍্যা করেছ,তা বুঝি না।*
*🌷সূত্রের মুখ‍্য অর্থ না কয় ব‍্যাখ‍্যান।*
*🌷কল্পানার্থে তুমি তাহা কর আচ্ছাদন।।*
*🌻এই কথা শোনার পর রীতিমত বিচার আরম্ভ হল। সার্বভৌম নিজের পান্ডিত‍্য দেখাবার জন্য =*
*🌷ভট্টাচার্য‍্য পূর্ব পক্ষ অপার করিল।*
*🌷বিতন্ডা চ্ছল নিগ্রহাদি অনেক উঠাইল।।*
*🌷সব খন্ডি প্রভু নিজ মত সে স্থাপিত করিল।*
*🌷ভগবান্ সম্বন্ধ ভক্তি অবিধেয় হয়ে।*
*🌷প্রেমে প্রয়োজন বেদে তিন বস্তু কয়ে।।*
*🌷সৎ চিৎ আনন্দময় ঈশ্বর স্বরূপ।*
*🌷তিন অংশে চিৎশক্তি হয় তিন রূপ।।*
*🌷আনন্দাংশে হ্লাদিনী সদংশে সন্ধিনী।*
*🌷চিদংশে সম্বিৎ তারে কৃষ্ণ-জ্ঞান মানি।।*
*🌷অন্তরঙ্গা চিৎ-শক্তি তটস্থা জীব-শক্তি।*
*🌷বহিরঙ্গা মায়া তিনে করে প্রেম-ভক্তি।।*
*🌷ষড়্ বিধ ঐশ্বর্য‍্য প্রভু চিৎ-শক্তি বিলাস।*
*🌷হেন শক্তি নাহি মান,পরম সাহস।।*
*🌹এইরকম বিচারের পর বাসুদেব ভট্টাচার্য্য ক্রমশই নির্জীব হয়ে আসলেন, এবং ক্রমশঃই বিস্মিত হতে লাগলেন।মহাপ্রভু শ্রীমৎ-শঙ্করাচার্য‍্যের মায়াবাদ খন্ডন করে বললেন=*
*🌷আচার্য‍্যের দোষ নাই ঈশ্বর আজ্ঞা হইল।*
*🌷অতএব কল্পনা করি নাস্তিক শাস্ত্র কইল।।*
*🌳তথাহি পদ্মপুরাণে উত্তরখন্ডে পঞ্চবিংশতি অধ‍্যায় সপ্তম শ্লোক=*
*🌷মায়াবাদমসচ্ছাত্রং প্রচ্ছন্নং বৌদ্ধমুচ‍্যতে।*
*🌷ময়ৈব বিহিতং দেবি কলৌ ব্রাহ্মণমূর্তিনা।।*
*🌻হে দেবি!কলিযুগে আমিই ব্রাহ্মণরূপ ধারণ করে,মায়াবাদরূপ অসৎ শাস্ত্র বা প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধ শাস্ত্র প্রচার করব।*
*🍀যদিও ভট্টাচার্য্য বুঝেছেন যে,তাঁর পক্ষ দুর্বল হয়ে আসছে,তবুও তখন পর্যন্ত তর্ক ছাড়েননি। এখন=*
*🌷আত্মারামাশ্চ মূনয়ো নির্গ্রন্থা অপ‍্যুরুক্রমে।*
*🌷কুর্ব্বন্ত‍্যহৈতুকীং ভক্তিমিত্থম্ভূতগুণো হরিঃ।।*
*🍁এই শ্লোক নিয়ে মহাবিচার শুরু হল।শ্রীচৈতন‍্য বললেন,এই শ্লোকের ব‍্যাখ‍্যা আপনিই আগে করুন।*
*🌷প্রভু কহে তুমি অর্থ কর তাহা শুনি।*
*🌷পাছে আমি করিব অর্থ যেবা কিছু জানি।।*
*🌺তখন ভট্টাচার্য্য তাঁর পান্ডিত‍্যের পরিচয় দিতে ক্রটি করলেন না।নানান রকম মত উঠিয়ে,নানারকম ব‍্যাখ‍্যা করলেন। ভট্টাচার্য্য মনে করলেন, এই শ্লোকের আর অন‍্য কোন ব‍্যাখ‍্যা হতে পারে না। দেখি এবার নবীন সন্ন‍্যাসী কি বলেন।তখন মহাপ্রভু বললেন,তুমি পান্ডিত‍্যের পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছ ; এটি ছাড়াও শ্লোকের অন‍্য অর্থ আছে। এই বলে ভট্টাচার্যের নববিধ ব‍্যাখ‍্যা স্পর্শ না করে, একেবারে নতূন রকমের ব‍্যাখ‍্যা আরম্ভ করলেন, এবং এইভাবে অষ্টাদশ প্রকারে ব‍্যাখ‍্যা করলেন।*
*🌷শুনি ভট্টাচার্যের মনে হইল চমৎকার।*
*🌷প্রভুকে কৃষ্ণ জানি করে আপনা ধিক্কার।।*
*তখন মনে ভাবলেন,ইঁনার ভক্তগণ যে,ইঁনাকে শ্রীকৃষ্ণের অবতার বলে,তাইই কি ঠিক?এই আলোচনায় সারারাত্রি কাটালেন ; মনে ভাবলেন,যদি সন্ন‍্যাসী আমাকে শ্রীরাম অবতারের দ্বিভূজ,শ্রীকৃষ্ণ অবতারের দ্বিভূজ,শ্রীগৌরাঙ্গ অবতারের দ্বিভূজ দেখাতে পারেন,তাহলে অবতার বলিয়া মানব।প্রভাত হল,মহাপ্রভু প্রসাদ হাতে সার্বভৌমের কাছে উপস্থিত হয়ে,মহাপ্রসাদ দিলেন। সার্বভৌম "শুষ্কং পর্য‍্যুসিতং বাপি নীতং বা দূরদেশতঃ" ইত্যাদি বচন আবৃত্তি করে মহাপ্রসাদ ভক্ষণ করলেন।ইত‍্যবসরে মহাপ্রভু দ্বিভূজ হতে ষড়্ ভূজ মূর্তি ধারণ করলেন। সার্বভৌম ঐরকম মূর্তি দেখে মূর্ছিত হলেন। মহাপ্রভু সার্বভৌমকে কৃপা করে সেখান হতে ভবনে ফিরে গেলেন। সার্বভৌমও জন্মের মত শ্রীগৌররূপেতে ডুবলেন, এবং মনপ্রাণ সমস্ত অর্পণ করলেন।বর্তমান সার্বভৌমের এখন গৌরগত প্রাণ।তাঁর কি অবস্থা হয়েছিল,তা পাঠকগণ,তাঁর নিজকৃত শ্লোক পাঠ করলেই বুঝতে পারবেন।*
🔴🔴🔴🔴🔴🔴🔵🔴🔴🔴🔴🔴🔴
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 চতুর্থ ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৮)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *🌳নীলাচলে মহাপ্রভু🌳*
  *শ্রীমন্মহাপ্রভুর সংক্ষিপ্ত জীবনী*
  &&&&&&&&&&&&&&&&&&&&
*🌲সার্বভৌমের নিজকৃত শ্লোক পাঠ করলেই বুঝতে পারবেন।শ্রীচৈতন‍্য চন্দ্রোদয় নাটকে ষষ্ঠাঙ্কে দ্বাত্রিংশাঙ্কধৃতৌ (৩২) সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য-কৃত শ্লোকৌ=*
*🌷বৈরাগ‍্যবিদ‍্যা-নিজভক্তিযোগঃ শিক্ষার্থমেকঃ পুরুষঃ পুরাণঃ শ্রীকৃষ্ণ-চৈতন‍্য-শরীর-ধারী।*
*🌷কৃপাম্বুধির্যস্তমহং প্রপদ‍্যে।*
*🌷কালান্নষ্টং ভক্তিযোগং নিজং যঃ প্রদুষ্কর্ত্তুং শ্রীচৈতন‍্যনামা।*
*🌷আবির্ভূতস্তস‍্য পদারবিন্দে গাঢ়ং গাঢ়ং লীয়তাং চিত্তভৃঙ্গঃ।।*
*🌻যিনি অদ্বিতীয় পুরাণ পুরুষ,বৈরাগ‍্য বিদ‍্যা ও ভক্তিযোগ শিক্ষা দিবার জন্য,শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যরূপে দেহধারী হয়ে প্রকাশিত হয়েছেন,আমি সেই প্রভুর শরণাপন্ন হলাম।যে শ্রীকৃষ্ণ-চৈতন‍্য-নামা মহাপ্রভু,কালদোষে প্রনষ্ট নিজ ভক্তিযোগ, পুনঃ প্রচার করবার জন্য আবির্ভূত হয়েছেন,তাঁর পদারবিন্দে আমার মনোভৃঙ্গ অত‍্যন্ত গাঢ়ভাবে অবস্থান করুক।*
*🍀সার্বভৌমের প্রণীত আরও কয়েকটি শ্লোক উদ্ধৃত করছি ঃ---*
*🌷উজ্জ্বল-বরণ-গৌরবর-দেহং,*
*🌷বিলসতি নিরবধি ভাববিদেহং*।
*🌷ত্রিভুবন-পাবন কৃপয়া লেশং,*
*🌷তং প্রণমামি চ শ্রীশচী-তনয়ং*।।
*🌷অরুণাম্বরধর-সুচারুকপোলং,*
*🌷ইন্দুবিনিন্দিত-নখচয়রুচিরং।*
*🌷জল্পিত-নিজগুণ-নাম-বিনোদং,*
*🌷তং প্রণমামি চ শ্রীশচী-তনয়ং।।*
*🌷বিগলিত-নয়ন-কমলজল-বারণ,*
*🌷ভূষণ-নবরস-ভাব-বিকারণঃ।*
*🌷গতি অতি মন্থর নৃত্য বিলাসন,*
*🌷তং প্রণমামি চ শ্রীশচীতনয়ং।।*
*🌷চঞ্চল-চারু-চরণ-গতিরুচিরং,*
*🌷মঞ্জির-রঞ্জিত-পদযুগ-মধুরম্।*
*🌷চন্দ্র-বিনিন্দিত-শীতল-বদনং,*
*🌷তং প্রণমামি চ শ্রীশচী-তনয়ং*।।
*🌷ভূষণ-ভূরজ অলকা-বলিতং,*
*🌷কম্পিত-বিম্বাধরবর-রুচিরং।*
*🌷মলয়জবিরচিতং উজ্জ্বলতিলকং,*
*🌷তং প্রণমামি চ শ্রীশচী-তনয়ং।।*
*🌷নিন্দিত-অরুণ-কমলদল-নয়নং,*
*🌷আজানুলম্বিত-শ্রীভুজযুগলং।*
*🌷কলেবর-কৈশর-নর্ত্তক-বেশং,*
*🌷তং প্রণমামি চ শ্রীশচী-তনয়ং।।*
*🌷নব-গৌরবরং নব পুষ্পশরং,*
*🌷নবভাব-ধরং নবহেমবরং,*
*🌷প্রণমামি শচীসুত-গৌরবরং।।*
*🌷নবপ্রেমযুতং নবনীতসুচং,*
*🌷নববেশকৃতং নবপ্রেমরসং।*
*🌷নবধাবিলাসং সদা প্রেমময়ং,*
*🌷প্রণমামি শচীসুত-গৌরবরং।।*
*🌷হরিভক্তিপরং হরিনামধরং,*
*🌷পরজপ‍্যকরং হরিনামপরং।*
*🌷নয়নে সততং প্রেম সংবিশতং,*
*🌷প্রণমামি শচীসুত-গৌরবরং।।*
*🌷নিজভক্তিকরং প্রিয়চারুতরং,*
*🌷নট-নর্ত্তন-নাগরী-বাজগুণং।*
*🌷পুলকামিনী মানসোল্লস‍্য-করং,*
*🌷প্রণমামি শচীসুত-গৌরবরং।।*
*🌹সার্বভৌম বাসুদেব ভট্টাচার্য্য করযোড়ে বললেন,প্রভো!গোপীনাথ (সার্বভৌমের ভগ্নিপতি)আমাকে তোমার পরিচয় বলেছিলেন, কিন্তু আমার তর্কনিষ্ঠ মনে তা বিশ্বাস হল না। আমি তাই তোমাকে উপদেশ দিতে গিয়েছিলাম।প্রভো! আমার অপরাধ কি?তুমি নানা লীলা করো,এখন নররূপ ধরে,কপট সন্ন‍্যাসী হয়ে,আমার কাছে এসেছ,আমি তোমাকে কিভাবে চিনব? তোমার যদি ইচ্ছা হয়,তুমি গোপন থাকবে,আমি কিভাবে তোমার সে রহস‍্য ভেদ করব?আমি তর্কনিষ্ঠ, তোমাকে চিনতে প্রমাণ চাইলাম,তা পেলাম না।কিন্তু তুমি কৃপালু আমার দুর্দশা দেখে,আমার কাছে প্রকাশ হতে ইচ্ছে করলে।আমার তর্কনিষ্ঠ মন, প্রমাণের প্রয়োজন,তাই প্রমাণ দিলে।পরশমণিকে কেউ চিনতে পারে না,চিনতে হলে সেটি লোহা দ্বারা লৌহকে স্পর্শ করাতে হয়।হে করুণাময় প্রভো!আমি তর্ক করে যে লৌহপিন্ড হয়েছিলাম,আমাকে স্পর্শকরে যখন পরিবর্তন করলে,তখনই আমি চিনতে পারলাম যে তুমি পরশমণি।(অমিয় নিমাই চরিত)।*
*🌷সার্বভৌম কহিল প্রভুভক্ত একজন।*
*🌷মহাপ্রভু সেবা বিনা নাহি অন‍্যমন।।*
*🌷শ্রীকৃষ্ণ চৈতন‍্য শচীসুত গুণধাম।*
*🌷এই ধ‍্যান এই জপ লয় এই নাম।।*
                *(শ্রীচৈতন‍্যচরিতামৃত)*
*❤যথা চরিতামৃতে=*
*🌷সার্বভৌম বলে আমি তার্কিক কুবুদ্ধি।*
*🌷তোমার প্রসাদে আমার সম্পদ সিদ্ধি।।*
*🌷মহাপ্রভু বিনে কেহ নাহি দয়াময়।*
*🌷কাকেরে গরুড় করে ঐছে কোন হয়।।*
*🌷তার্কিক শৃগাল সঙ্গে ভেউ ভেউ করি।*
*🌷সেই মুখে এবে সদা কহি কৃষ্ণ হরি।।*
*🌷কাঁহা বহির্মুখ-তার্কিক-শিষ‍্যগণ-সঙ্গ।*
*🌷কাঁহা এই সখ‍্য-সুধা-সমুদ্র-তরঙ্গ।।*
*🌷শুনিয়া হাসেন প্রভু আনন্দিত মনে।*
*🌷ভট্টাচার্য‍্যে কৈল প্রভু দৃঢ় আলিঙ্গনে।।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 চতুর্থ ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৩৯)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
          *🪷নীলাচলে মহাপ্রভু🪷*
*শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের দ্বাদশ মাসের যাত্রা উৎসব।*
🛕🛕🛕🛕🛕🛕🛕🛕🛕🛕🛕🛕🛕
*🌹শ্রীজগন্নাথের দ্বাদশ যাত্রা সবই মোক্ষদায়ক,এই যাত্রাকালে জগন্নাথকে দর্শন করলে মোক্ষ(ভববন্ধন হতে মুক্তি) প্রাপ্তি হয়।*
*দৃষ্ট্বা কৃষ্ণং নরো নত্বা মোক্ষং প্রাপ্নোতি দুর্ল্লভং।*
*পাপৈর্বিমুক্তঃ শুদ্ধাত্মা কল্পকোটিশতোদ্ভবৈঃ।।*
*🌻স্নানযাত্রা ও রথযাত্রা ছাড়া,সমস্ত যাত্রাই,শ্রীশ্রীমদনমোহনদেব প্রতিনিধিরূপে নির্বাহ(সমাপন) করে থাকেন।*
*🦚১)চন্দন------------যাত্রা।*
*যঃ পশ‍্যতি তৃতীয়ায়াং কৃষ্ণং চন্দন-চর্চিতং।*
*বৈশাখস‍্য সিতে পক্ষে সঃ যাত‍্যচ‍্যুত-মন্দিরং।।*
*🌹এই যাত্রায় ভগবানকে চন্দন লেপন করা হয় বলে এর নাম চন্দনযাত্রা।বৈশাখ মাসের অক্ষয় তৃতীয়াতে শ্রীকৃষ্ণকে চন্দন চর্চিত অবস্থায় দর্শন করলে, বৈকুন্ঠধামে গমন করে।শাস্ত্রোক্ত নিয়ম অনুসারে এটি একদিনের ব‍্যাপার বলে দেখা যায়, কিন্তু এখানে একুশ দিন স্থায়ী হয়।বৈশাখমাসের শুক্লপক্ষীয় অক্ষয়তৃতীয়া তিথিতে আরম্ভ হয়ে,জ‍্যৈষ্ঠমাসের শুক্লপক্ষীয় অষ্টমী তিথিতে শেষ হয়। প্রতিদিন দুই প্রহর ভোগের শেষে,যাত্রা-ভোগ করা যায়।পরে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পালকিতে শোভা পেতে থাকেন।মদনমোহনদেব লক্ষ্মী ও ধরাদেবীর সঙ্গে মণিবিমানে বিরাজিত হয়ে,যথাক্রমে আগে-পরে বিমানারূঢ় পঞ্চ মহাদেবের সহিত,নরেন্দ্র সরোবর নিকটে গমন করেন। পঞ্চমহাদেবকে পঞ্চপান্ডব বলে থাকে।সেবকগণ রূপারচামর ব‍্যজন ও সোনার ছাতা ধরে থাকেন, এবং বহুভক্ত হরিনাম কীর্তন করতে থাকেন।সেই সময়ে বড় ডান্ডী (পুরীর একটি প্রধান রাস্তা)এক অনির্বচনীয় শোভা ধারণ করে।সেখানে শ্রীশ্রীজগন্নাথের বিশ্রামের জন্য জায়গায় জায়গায় চালাঘর নির্মিত হয়।রাস্তার দুইদিকে "পংক্তিভোগ" অনুষ্ঠিত হয়।শ্রীশ্রীমদনমোহনদেব অন‍্যান‍্য দেবতা সহ ক্রমে ভোগ দর্শন করে,সরোবরের কাছে উপস্থিত হন। দুইটি নৌকাতে একটি করে চাপ (সম্ভবত চাপ বলতে ধনুক বলা হয়েছে ) নির্মিত হয়, এবং এর চারিদিকে চারটি স্তম্ভ স্থাপিত হয়। এর উপর মন্ডপ নির্মিত হয়।চন্দ্রাতপ ও নানারকম বস্ত্র দ্বারা চাপদ্বয় সুশোভিত করে হয়।এর একটিতে মদনমোহনের চিহ্ন-স্বরূপ শুক্লবস্ত্র নির্মিত আচ্ছাদন দেওয়া হয়।এক চাপে মদনমোহন,লক্ষ্মী ও ধরাদেবী, এবং অন‍্য চাপে রামকৃষ্ণ ও পঞ্চমহাদেব বিরাজমান হন। প্রথম চাপে দেবদাসী ও দ্বিতীয় চাপে "পীল্লা" অর্থ‍্যাৎ নর্ত্তক-বালক নৃত্যগীত করে।চাপদ্বয়ে,নরেন্দ্র-সরোবরের চতুঃপার্শ্বে,দিনে একবার এবং রাত্রিতে তিনবার পরিভ্রমণ করেন।ঐ চাপদ্বয় সঙ্গে এক নৌকাতে তৈলঙ্গী বাদ‍্যবাদকগণ আরোহণ করে বাদ‍্য বাদন করে।ভক্তগণ চামর হাতে নিয়ে,চাপের উপর প্রভুর সেবা করেন।এদিকে সরোবরের চতুঃপার্শ্ব দিয়ে হাতী তার শুন্ডের দ্বারা চামর নিয়ে,শোভাযাত্রায় মদনমোহনকে চামর ব‍্যজন করতে করতে যেতে থাকে।দিবস-চাপের পর মদনমোহন প্রভৃতি দেববৃন্দ নিজ নিজ চন্দনকুন্ডে জলক্রীড়া শেষ করেন।*
*নরেন্দ্র সরোবরের অন‍্য একটি নাম চন্দনতলা।সরোবরটি অতি সুন্দর এবং সুবিস্তীর্ণ, চারিদিকে পাথরের সিঁড়ি আছে।মাঝখানে ছোট একটি মন্দির আছে।এই মন্দিরের নাম গঙ্গাদেবীর মন্দির।দক্ষিণদিকে একটি বড় মন্দির আছে,ঐ মন্দিরে ঠাকুরকে রাখা হয়। এই জায়গায় চন্দন-কুন্ড আছে,কুন্ডের মধ্যে প্রায় তিন দন্ড অবস্থানের পর,সেবক পশুপালকগণ জলক্রীড়া শেষ করিয়ে,প্রথ দশদিন পর্যন্ত প্রতিদিন পুষ্প ও হীরক সুবর্ণাদি খচিত ভূষণগুলির দ্বারা প্রভুকে সুশোভিত করেন।তারপরে পীল্লার অর্থ‍্যাৎ বালকদের নৃত্য হয়,তারসঙ্গে পাখোয়াজ বাজান হয়।বালকের নৃত্য ও গীত অতি সুমধুর, দেবদাসীদের নৃত্য অপেক্ষা বালকের নৃত্য অনেক ভাল।বঙ্গদেশের নৃত্যের মত এদের নৃত্যের ধরণ না,তা না হলেও বেশ মনোরম।এই পীল্লার নাচ দেখবার জন‍্য অনেক লোক সমবেত হয়।দেবদাসীর নৃত্য এখন ভাল বলে বোধহয় না।*
*একসময় এই দেবদাসীদের রামানন্দ রায় নৃত্য শিখাতেন।কি ভাবে নৃত্য করলে,জগন্নাথদেব সন্তুষ্ট হবেন,তা তিনি বুঝতেন, তদনুসারে তাদেরকে শিক্ষা দিতেন।ব্রজগোপীগণ যেভাবে বৃন্দাবনে কৃষ্ণের কাছে নৃত্যগীত করতেন,সেইভাব উদ্দীপনা করবার জন্য দেবদাসীদেরকে শিক্ষা দিতেন। তিনি নিজে জগন্নাথবল্লভ নামক নাটক তৈরী কোরে,তাদেরকে শিক্ষা দিয়েছিলেন।এক সময়ে,প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র মহাপ্রভুর কাছে কৃষ্ণ-ভক্তিতত্ত্ব জানতে ইচ্ছে করেন। তিনি তাঁকে শ্রীরায় রামানন্দের কাছে যেতে উপদেশ দেন, এবং বলেন তাঁর কাছে আমি কৃষ্ণ-ভক্তি শিক্ষা করেছি।তদনুসারে প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র রায় রামানন্দকে দর্শন করতে যান ; কিন্তু তাঁকে দেখতে পেলেন না,শুনলেন তিনি দেবদাসীদেরকে গান নাচ শিক্ষা দিচ্ছেন।এইকথা শুনে তাঁর মনে অত‍্যন্ত অভক্তির সঞ্চার হল ; তিনি ফিরে এসে বললেন, মহাপ্রভুর ভক্তদলের মধ্যে রায় রামানন্দের এইরকম ব‍্যবহার ভাল না বলিয়া,আভাষ প্রকাশ করেন।মহাপ্রভু তাতে বিরক্ত না হয়ে বলেছিলেন যে,রামরায়ই কেবল এইরকম ব‍্যবহারের অধিকারী, আমিও অধিকারী নই।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚🦜🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 চতুর্থ ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath4.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪০)শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ*
            *🌳নীলাচলে মহাপ্রভু🌳*
*শ্রীজগন্নাথদেবের বারমাসের যাত্রা উৎসব।*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌹শ্রীমন্মহাপ্রভু বলেছেন=*
*🌷নির্বিকার দেহ মন কাষ্ঠ পাষাণ সম।*
*🌷আশ্চর্য‍্য তরণীস্পর্শে নির্বিকার মন।।*
*🌷এক রামানন্দের হয় এই অধিকার।*
*🌷তাতে জানি অপ্রাকৃত দেহ তাহার।।*
*🌻রামানন্দের কোন ইন্দ্রিয় বিকার নাই,তার বিকারশূন‍্য দেহ। অতএব, তোমরা রায় রামানন্দের প্রতি সন্দেহ করিও না।আমি তাঁর নিকট হতে কৃষ্ণভক্তি শিক্ষা পেয়েছি, সুতরাং তাঁর কাছে কৃষ্ণভক্তি শিক্ষা কর। তারপর প্রদ‍্যুম্ন মিশ্র পুনরায় তাঁর কাছে যান এবং তাঁর সঙ্গে কৃষ্ণভক্তি সম্বন্ধে আলোচনা করেন।রায় রামানন্দের কৃষ্ণভক্তি দেখে তার সন্দেহ বিদূরিত হয়।*
*🔥সে রামও নাই,সে অযোধ‍্যাও নাই,যেভাবে আগে নৃত্য হত সে ভাব আর নাই, কাজেই এখন দেবদাসীদের নৃত্য দেখে সেরকম আনন্দ হয় না, বরং পীল্লার নাচই একটু ভাল বলে বোধহয়।পীল্লার নাচ শেষ হলে ঠাকুরকে রাত্রি চাপে নিয়ে যাওয়া হয়।এই চাপের শেষে প্রভু আগেরমত বিমানের উপরে উঠে,সঙ্গীদের সঙ্গে মন্দির অভিমুখে গমন করেন।রাত্রি চাপের সময় সরোবরের চারিদিকে দীপমালা স্থাপিত হয়,তখন দীপশিখা জলে প্রতিবিম্ব হয়ে এক অপূর্ব শোভা ধারণ করে।প্রত‍্যাগমন সময়ে ভগবান জায়গায় জায়গায় অবস্থান করে যান।সেই সময়ে যে অলৌকিক শোভা দেখা যায়,তা ভক্তহৃদয় ছাড়া আমার মত লোকের পক্ষে বুঝা অসম্ভব।পথ মধ্যে ছয়টি জায়গায় দেবদাসী ও নর্তক বালক প্রভুর সামনে নাচ করে।এই যাত্রায় এগারদিন হতে প্রভুর বেশ পরিবর্তন করা হয়।এই সময়ে প্রভু "কৃষ্ণাবতার"বেশে ভূষিত হন, অর্থ‍্যাৎ পূতনা বধ প্রভৃতি সম্পাদন করার সময়ে যে যে বেশ ধারণ করেছিলেন,সেই সেই বেশ ধারণ করেন।এই যাত্রা মাধুর্য‍্য-রসোদ্দীপক এবং বহুদিন ব‍্যাপক।*
*☘এই যে নানারকম বেশে মদনমোহনদেবকে সাজানো হয়,তা অতিসুন্দর এবং নিত‍্য নতূন সাজ হয় বলে,সকলেরই তাতে ঔৎসুক‍্য(আগ্রহ) বৃদ্ধি হয়। যদিও চন্দনযাত্রা দীর্ঘকাল ব‍্যাপী,তবুও লোকের বিরক্তির কারণ হয় না।যতই দিন যেতে থাকে,ততই লোকের উৎসাহ বাড়তে থাকে এবং লোক একত্রিত হয়ে আনন্দ করতে থাকে। সাজ শেষ হলে তারপর ভোগ হয়।এখানে অন্নভোগ হয় না,কেবল মালপোয়া,লুচি ও অন‍্যান‍্য মিষ্টি দ্রব‍্য ভোগ দেওয়া হয়।এই ভোগকে "ছানামন্ডি"বলে,মালপোয়ার মত তত মিষ্ট হয় না, কিন্তু মালপোয়ার অপেক্ষা সুস্বাদু হয়।এই ভোগ শেষ হলে, পুনরায় নৌকা বিহার করে,মন্দিরে ১২টা ১টার আগে আসেন না।*
*শ্রীজগন্নাথ প্রভুর জলক্রীড়ার সময়ে,নগরবাসীগণ নরেন্দ্র সরোবরে সাঁতার,ও স্নান করে,সুবাসিত চন্দন ও অন‍্যান‍্য দ্রব‍্য দ্বারা শ্রীঅঙ্গকে সোশোভিত করেন, ও নানরকম কীর্তন করতে থাকেন।সরোবরে মানুষের মাথা ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না,তখন সকলে এতই উন্মত্ত হয় যে,কুমীরের ভয় পর্যন্ত থাকে না, সরোবরের কুমীর সবও কোন হিংসা করে না।এই চন্দনযাত্রা উপলক্ষ্যে নরেন্দ্র সরোবরে শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভুর ভক্তগণ সঙ্গে কিরকম জলক্রীড়া করেছিলেন,তা শুনুন।চন্দনযাত্রা উপস্থিত।এই সময় শ্রীজগন্নাথদেবের প্রতিনিধি মদনমোহন সঙ্গীগণ সহ চন্দনতলায় সরোবরে জলখেলা করতে যাচ্ছেন,এদিকে শ্রীচৈতন‍্যদেব তাঁর সাঙ্গপাঙ্গো নিয়ে ঐ সরোবরে জলকেলি করতে চললেন।এই সময়ে নবদ্বীপ হতে অদ্বৈতাচার্য‍্য প্রমুখ শ্রীবাসাদি বহু ভক্তগণ এসেছেন।দূর হতে কীর্তনের শব্দ শুনে মহাপ্রভু তাঁদেরকে অভ‍্যর্থনা করবার জন্য এগিয়ে এলেন। কিছদূর এগিয়ে আসিলে উভয় দলের মিলন হল। এই দুই দলের মিলন কিরকম হল তা শ্রীচৈতন‍্যভাগবত যেরকম বর্ণনা করেছেন তা নিমাই চরিত হতে উদ্ধৃত করলাম=*
*🌷দূরে অদ্বৈতেরে দেখি শ্রীবৈকুন্ঠনাথ।*
*🌷অশ্রুমুখে করিতে লাগিলা দন্ডবৎ।।*
*🌷শ্রীঅদ্বৈত দূরে দেখি নিজ প্রাণনাথ।*
*🌷পুনঃ পুনঃ হইতে লাগিল প্রণিপাত।।*
*🌷অশ্রুকল্প স্বেদ মূর্ছা পুলক হুঙ্কার।*
*🌷দন্ডবৎ বই কিছু নাহি দেখি আর।।*
*🌷এইমত দন্ডবৎ করিতে করিতে*।
*🌷দুই গোষ্ঠী একত্রে মিলিল ভালমতে।।*
*🌷বৈষ্ণব গৃহিণী যত পতিব্রতাগণ।*
*🌷দূরে থাকি প্রভু দেখি করয়ে রোদন।।*
*🌹এর পর সকলে মিলে নরেন্দ্র সরোবরে উপস্থিত হলেন।মহাপ্রভুর এত আনন্দ হয়েছে যে তা আর আনন্দ ধরছে না।বাল‍্যভাবেতে সরোবরে ঝাঁপ দিলেন,মহাপ্রভুর সঙ্গে সঙ্গে ভক্তগণও ঝাঁপ দিলেন।ভক্তগণ সকলেই মহাপ্রভুর ভাবে বিভোর হয়ে বালকভাবে জলখেলা করতে লাগলেন।অদ্বৈতাচার্য‍্য বৃদ্ধ হয়েও তখন বালক সাজলেন।নিতাইচাঁদ ও অদ্বৈতাচার্য‍্যতে ঘোরতর জল মারামারি আরম্ভ হল।প্রেমের শক্তি এই যে বৃদ্ধকেও বালক করে তুলিল।তখন সমস্ত ভক্তের ভিতরে এই ভাব ব‍্যাপ্ত হল এ বাল‍্যকালের নানারকম জলখেলা হতে লাগল। "কয়া কয়া খেলা আরম্ভ হল।"*
*🌷গৌরদেশে জলকেলি আছে কয়া নামে।*
*🌷সেই জলক্রীড়া আরম্ভিলা প্রথমে।।*
*🌷কয়া কয়া বলি করতালি দেন জলে।*
*🌷জলবাদ‍্য বাজান বৈষ্ণব সকলে।।*
*🙌তখন বৃন্দাবনের ভাব মনে পড়িল।*
*🌷গোকুল শিশুর ভাব হইল সবার।*
*🌷প্রভুও হইল গোকুলেন্দ্র অবতার।।*
*🌷বাহ‍্য নাহি কারো সবে আনন্দে বিহ্বল।*
*🌷নির্ভয়ে গৌরাঙ্গদেহে সবে দেন জল।।*
*🔵পুরীবাসীগণ এই ভাব দেখে অবাক হলেন,এই নতূন দৃশ্য আর কখনও দেখেননি।এদিকে ভট্টাচার্য্যও এসে এই দলে যোগ দিলেন। ভট্টাচার্য্য নবদ্বীপের সমাগত ভক্তগণের পরিচয় ভালভাবে জানেন না ; শ্রীগোপীনাথ রাজা প্রতাপরুদ্রকে সমস্ত পরিচয় বলতে লাগলেন।শ্রীমদনমোহনদেব যেমন তাঁর সঙ্গী নিয়ে চন্দনযাত্রা করেছেন,মহাপ্রভুও সেইরকম নবদ্বীপ হতে আগত ভক্তগণ সঙ্গে নিয়ে নানারকম আনন্দ করছেন।এখন যে পুরীবাসীগণ চন্দন সরোবরে সাঁতার কাটেন, হয়ত মহাপ্রভুর সময় হতেই এরকম প্রথা প্রবর্তিত হয়েছে। অথবা সেই প্রথা বেশী পরিমাণে ছড়িয়ে পড়েছে।শ্রীজগন্নাথ যেরকম নানা জায়গায় ভোজন করে থাকেন,মহাপ্রভুও নবদ্বীপাগত ভক্তগণের বাড়ীতে ভোজন করতে লাগলেন।*
🌻🔥☘🌹🙌🌷🔵🌳🙏👣🍀🍁
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীশ্রীজগন্নাথ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ 🌷 পঞ্চম ভাগ 🌻 শ্রীযুক্ত রাজর্ষি গোপালচন্দ্র আচার্য‍্য চৌধুরী প্রণীত ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/01/jagannath5.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧







adds