শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

অর্জুন মিশ্রের গীতা পাঠ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/08/arjunmishra.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 অর্জুন মিশ্রের গীতা পাঠ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/08/arjunmishra.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*📖অর্জুন মিশ্রের গীতা পাঠ।*

*🌷শ্রীমন্ অর্জুন মিশ্র ভাগবদ্ সাধু।*
*🌷শ্রীপুরুষোত্তমে বাস সমবিভ‍্যাহার বধু।*
*🌷পন্ডিত গম্ভীর মহা উদার চরিত।*
*নির্ম্মৎসর শান্ত শিষ্ট তদগতচিত।।*
*🏵নির্ম্মৎসর=নিরহঙ্কার।*
*🌷ভিক্ষা উপজীব‍্য মাত্র সর্বত্র উদাস।*
*🌷শ্রীমদ্ গীতা ভাগবতে সদাই বিলাস।।*
*🌷গীতা উপনিষদের টীকা বিস্তারিতে।*
*🌷যোগক্ষেমং বহাম‍্যহং শ্লোক বিস্তারিতে।।*
*🌷মনে কিছু সন্দেহ জন্মিল সাধুবরে।*
*🌷যোগক্ষেম বহিয়া যে অনন‍্য ভক্তেরে।।*
*🌷আপনি যোগান হেন সম্ভব না হয়।*
*🌷পরোক্ষেতে দেন,বলি সে পাঠ কাটয়।।*

*🏵শ্রীপুরুষোত্তমক্ষেত্রে অর্জুন মিশ্র নামক এক পরমভাগবদ্ ব্রাহ্মণ বাস করতেন এবং তাঁরসঙ্গে তাঁর ভক্তিমতি পত্নীও ছিলেন।মিশ্র ঠাকুরের গীতা ভাগবদ্-এ অসম্ভব ভক্তি এবং তিনি নিত‍্য তা পাঠ বা আস্বাদন করেন।এই মিশ্র মহাশয় প্রণীত গীতার টীকাও খুব প্রসিদ্ধ। গীতার টীকা লিখিবার সময়ে তিনি হঠাৎ নবম অধ‍্যায়ের রাজবিদ‍্যা রাজগুহ‍্য যোগে বাইশ নম্বরে একটি শ্লোক পেলেন যেখানে স্বয়ং বাসুদেব বলেছেন যে---*
*🌷অনন‍্যশ্চিন্তয়ন্তো মাং যে জনাঃ পর্য‍্যুপাসতে।*
*🌷তেষাং নিত‍্য অভিযুক্তানাং যোগক্ষমং বহাম‍্যহং।।*
*🏵অর্থ‍্যাৎ যে ভক্ত একমনে অনন‍্যচিত্ত হয়ে আমার উপাসনা করেন(সেই সব ভক্তগণের তখন আর দেহবোধ থাকে না তখন ভগবান কি করেন?) তখন তিনি তাঁর সেইসব নিত‍্যযুক্ত ভক্তগণের যোগ ক্ষেম স্বয়ং বহন করে থাকেন।*
*🌻এক্ষণে সবার আগে যোগক্ষেম শব্দটির অর্থ আমাদের জানা প্রয়োজন, কারণ শ্রীভগবান বলেছেন যে তিনি স্বয়ং ভক্তের যোগক্ষেম বহন করেন।যোগ শব্দটির অর্থ হচ্ছে ভক্তের প্রয়োজনীয় বস্তুর সংস্থান এবং ক্ষেম শব্দটির অর্থ হচ্ছে সেই লব্ধ বা লাভ করার বস্তুরসংরক্ষণ বা রক্ষা করা।উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে যে, ধরুন,বৃন্দাবনের কোন নিভৃতকুঞ্জে এক ভক্ত সাধন জগতে এমনই ডুবে আছেন এবং তাঁর আত্মা তখন তার প্রকৃত খাদ‍্য পেয়ে দিনের পর দিন রাতের পর রাত সাধন সমুদ্রে ভাসমান হয়ে গিয়েছেন।তখন তাঁর আর লৌকিক দেহবোধ নেই। কিন্তু বিশ্বপিতার দৃষ্টি সারাবিশ্বে, এমন যে ভক্ত সে যদি দেহমন্দিরকে পরিতৃপ্ত করবার জন্য কিছু খাদ‍্য গ্রহণ না করে তাহলে তো বাঁচবে না, সেইজন‍্য ভগবান তখন সেই ভক্তের প্রয়োজনীয় খাবার যোগান দেন। ভগবান হয়ত পৌঁছে দিলেন কিন্তু ভক্ত তো লীলারসে ডুবে আছেন, সে তখন এক মহা মিলন আনন্দে ভরপুর,কারণ, তাঁর আত্মা তখন তার প্রকৃত খাদ‍্য প্রাপ্ত হয়ে লীলারসে মগ্ন।যার অর্থ হচ্ছে যে ভগবান পৌঁছে দিলেও ভক্তের তো সে খেয়াল নেই, সেজন‍্য তাঁর ভক্ত যতক্ষণ সেটিকে গ্রহণ না করেন ততক্ষণ তাঁর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও তিনি নেন।তা সে খাদ‍্যই হোক, শীতবস্ত্রই হোক--আচ্ছাদনই হোক বা আর যাই হোক না কেন।তাকেই বলা হয় ভক্তের যোগক্ষম বহন।*

*এক্ষেত্রে পরম ভাগবদ অর্জুন মিশ্র গীতার টীকা লিখিবার সময়ে যখন এই শ্লোকটির উপর টীকা লিখবেন তখনই তাঁর মনে কিছু সন্দেহের উদয় হ'ল। তিনি ভাবতে লাগলেন যে,স্বয়ং ভগবান কিভাবে ভক্তের যোগক্ষেম স্বয়ং বহন করতে পারেন এটি তো সম্ভব নয়-- তিনি হয়ত তা করেন তবে তা পরোক্ষ অর্থ‍্যাৎ অন‍্যভাবে বা অন‍্যের দ্বারা, এইরকম সন্দেহের বশবর্তী হয়ে তিনি তখন তাঁর লেখনীর ধাতব সূক্ষ্মাগ্র (কলমের নিব) দ্বারা সেই শ্লোকটি নিবের আঘাত দিয়ে কেটে দিলেন।এর ফলে সাক্ষাৎ শ্রীজগন্নাথ বলরামের শ্রীঅঙ্গে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে রক্তপাত হতে লাগিল। অর্জুন মিশ্র "বহাম‍্যহং" এই শ্লোকটি কেটে দিলেন কিন্তু ইহার পরিণতি যে কি হল তা কিছুই বুঝতে পারলেন না। সেই ব্রাহ্মণ ভিক্ষা করেই জীবন ধারণ করতেন এবং শ্রীক্ষেত্রে বাস করতেন, সেজন‍্য এই যে ক্ষত তা শ্রীজগন্নাথ বলরামের শ্রীঅঙ্গে বাজিল এবং তখন দুই প্রভু গীতার সত‍্যতা প্রমাণের জন্য এক লীলা প্রকাশ করলেন। প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টি এবং প্রাকৃতিক দুর্য‍্যোগের সৃষ্টি করার ফলে ব্রাহ্মণ পরপর দুইদিন উপবাসী রইলেন এবং দ্বিতীয় দিনে (অর্জুন মিশ্র যখন ভিক্ষার জন্য বাড়ীতে ছিলেন না ) স্বয়ং জগন্নাথ ও বলরাম পরম সুন্দর দুই বালকের বেশে বাঁকে করে নানারকম ভোজ‍্য দ্রব‍্য এনে ব্রাহ্মণীর কাছে এসে বললেন যে, "মা!মাগো!তোমার ব্রাহ্মণ আজ বহু ভিক্ষা লাভ করেছেন, একা নিয়ে আসতে পারছিলেন না,আমরা দুইভাই মাঠে খেলা করছিলাম, ডেকে আমাদের মাথায় চাপিয়ে দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন তুমি তাড়াতাড়ি এগুলি নাও"।ব্রাহ্মণী তখন দেখলেন যে সেই দুইটি দেবশিশুর বক্ষ হতে রুধির (রক্তের) ধারা প্রবাহিত হচ্ছে এবং সেই রক্ত দেখে সবিস্ময়ে জিজ্ঞাসা করলেন, হ‍্যাঁ বাবা তোমাদের বক্ষ দিয়ে রক্তধারা পড়ছে,কেউ কি তোমাদের মেরেছে?তখন সেই বালক দুইটি করুণস্বরে বললেন যে, মা!তোমার ব্রাহ্মণই আমাদের এমন করে মেরেছেন যে আমাদের বক্ষ হতে রক্তধার বহে যাচ্ছে।বালকের কথা শুনে ব্রাহ্মণী কিছুতেই তা বিশ্বাস করতে পারছেন না, কারণ তিনি জানেন তাঁর স্বামীর চরিত্র এবং তিনি কখনই এইরকম নিষ্ঠুর হতে পারেন না।*

*ব্রাহ্মণী এই কথাগুলি ভাবতে ভাবতেই সেই বালক দুইটি অবশেষে অদৃশ্য হয়ে গেলেন এবং ব্রাহ্মণী আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতে অচেতন হয়ে পড়লেন।অবশেষে ব্রাহ্মণ যখন কোথাও কোন ভিক্ষা না পেয়ে ঘরে ফিরে এলেন,তখন দেখলেন যে কুটিরের মধ্যে বহুবিধ খাদ‍্যদ্রব‍্য ভারে ভারে সাজানো রয়েছে।তখন তিনি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গৃহিণীকে ইহার বৃত্তান্ত জিজ্ঞাসা করলে তিনি অত‍্যন্ত ক্রুদ্ধভাবে বললেন,আপনি নিজেই তো দুই বালকের দ্বারা এইসব পাঠিয়েছেন অতএব জিজ্ঞাসার কি দরকার? এবং ক্ষিপ্ত ভাবে তাঁকে বললেন যে,তুমি কি নিষ্ঠুর যে এই দুইটি বালককে এমনভাবে মেরেছ যে,তাঁদের বক্ষ দিয়ে অঝোরঝরে রক্ত পড়ছিল এবং কেন তুমি বালকদের মারলে? এই প্রশ্নের আগে উত্তর দাও।ব্রাহ্মণ হতবাক!ব্রাহ্মণ বললেন যে তিনি তো কিছুই বুঝতে পারছেন না যে কে কিভাবে এইসব খাদ‍্যদ্রব‍্য দিয়ে গেলেন এবং কিভাবেই বা তাঁদের বক্ষ হতে রক্তের ধারা প্রবাহিত হচ্ছিল।তিনি যতই বলেন তিনি এ ব‍্যাপারের কিছুই জানেন না,মারধোরও তিনি করেন নাই কিন্তু তবুও গৃহিণী বললেন যে দুইটি বালক নিজমুখে তাঁকে বলেছেন যে স্বয়ং ব্রাহ্মণ তাঁদের বক্ষে ক্ষতের সৃষ্টি করে এইভাবে রক্তপাত করেছেন।উপবাসী ব্রাহ্মণ বাস্তবে কিছুই করেননি বটে, কিন্তু তখন হঠাৎ তাঁর চৈতন্য হল যে গীতার টীকা লিখিবার সময়ে "যোগক্ষমং বহাম‍্যহং" শ্লোকটিতে তিনি ধারাল কলমের নিব দ্বারা আঁচড়িয়ে আঁচড়িয়ে কেটে দিয়েছিলেন এবং তাতেই নিশ্চিত রামকৃষ্ণের শ্রীঅঙ্গে ক্ষত হয়ে রক্তেরধারা প্রবাহিত হয়েছে।*
*ভগবান যে স্বয়ং ভক্তের যোগক্ষেম বহন করেন ইহাকে বাস্তবে বুঝাবার জন্য শ্রীক্ষেত্রের অধীশ্বর শ্রীজগন্নাথ বলরাম শিশুবেশ ধারণ করে নিজ কাঁধে এবং মাথায় করে নানারকম অপ্রাকৃত খাদ‍্যবস্তু স্বয়ং সেই ব্রাহ্মণের ঘরে পৌঁছে দিয়ে গেছেন, এবং জীবজগৎকে বুঝিয়ে দিলেন যে,গীতার বাণী কখনও মিথ‍্যা নয়, তবে সেইরকম ভক্ত এবং সেইরকম নির্ভরতা কয়জনের আছে?তার উপরে ইহাও বুঝিয়ে দিলেন যে গীতার শ্লোকগুলি সবই বাস্তবে সত‍্য এবং শ্রীকৃষ্ণপরিবর্তিতঃ অর্থ‍্যাৎ গীতার শ্লোকগুলি সবই যেন কৃষ্ণ ভগবানের অঙ্গ এবং ইহার পবিত্রতা এবং মর্য‍্যাদা রক্ষা করা কতদুর আবশ‍্যক।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇꧂



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧



ভক্ত নষ্ট হবার কারণ গুলি কি কি ❓❓🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/08/vokti.html


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕  ভক্ত নষ্ট হবার কারণ গুলি কি কি ❓❓🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/08/vokti.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
ভক্তিকল্পবল্লরীর শত্রুগণ :-
১। পাদুকাসহ শ্রীমন্দিরে গমন।
২। দোল জন্মোৎসবাদি না করণ বা না দর্শন
৩। শ্রীভগবদগ্রে প্রণাম না করণ ।
৪। উচ্ছিষ্ট বা অশৌচাদিতে দর্শনাদি ।
৫। এক হস্ত দ্বারা প্রণাম ৷
৬। শ্রীভগবদগ্রে প্ৰদক্ষিণ ৷
৭। শ্রীভগবৎ সম্মুখে পাদ প্রসারণ ।
৮। শ্রীভগবদগ্রে পৰ্য্যঙ্ক বন্ধন ৷
৯। শ্রীভগবদগ্রে শয়ন ।
১০। শ্রীভগবদগ্রে ভোজন ৷
১১। মিথ্যা ভাষণ ৷
১২। শ্রীভগবৎ সম্মুখে উচ্চ কথন ৷
১৩। গ্রাম্যকথা আলাপন ৷
১৪। মায়ারোদন ।
১৫। পরস্পর কলহ করণ।
১৬। শ্রীভগবদগ্রে কাহাকেও পীড়ন ৷
১৭। শ্রীভগবদগ্রে কাহাকেও অনুগ্রহ করণ ।
১৮। অন্যের প্রতি কটূক্তি প্রয়োগ ৷
১৯। কম্বল গাত্রে সেবার কার্য্য ।
২০। পরনিন্দা।
২১। পরস্তুতি।
২২। অশ্লীল কথন ৷
২৩। শ্রীভগবদগ্রে অধোবায়ু ত্যাগ ৷
২৪। শক্তি থাকিতেও সামান্য উপচারে অর্চ্চনা ।
২৫। অনিবেদিত ভক্ষণ ৷
২৬। দ্রব্যের অবশিষ্টাংশ নিবেদন ।
২৭। শ্রীভগবৎ সম্মুখে অন্যকে প্রণাম ৷
২৮। ইষ্টদেবকে পিছনে রাখিয়া উপবেশন ।
২৯। কালোচিত ফলাদি শ্রীভগবানকে না দেওন ।
৩০। শ্রীগুরুদেবের অগ্রে স্তব না করা ।
৩১। শ্রীগুরুদেবের অগ্রে শাস্ত্রব্যাখ্যা ।
৩২ ৷ আত্মশ্লাঘা ৷
৩৩। অন্য দেবতা নিন্দা ৷
৩৪। রাজাম্ন ভক্ষণ ৷
৩৫। অন্ধকার গৃহে শ্রীবিগ্রহ স্পর্শ ৷
৩৬। যথাবিধি শ্রীবিগ্রহ স্পর্শ না করণ ।
৩৭। বিনাবাদ্যে শ্রীমন্দির দ্বারমোচন ।
৩৮। মৎস্য মাংসাদি নিবেদন ।
৩৯। পূজাকালে বাক্যালাপ ৷
৪০। পূজার সময় মলত্যাগ হেতু গমন ।
৪১ । গন্ধমাল্য না দিয়া ধূপ দেওন ।
৪২ । অযোগ্য বা প্রার্থিত পুষ্পে পূজা ৷
৪৩। শ্রীভগবৎ শাস্ত্র অমর্য্যাদা ও অন্য শাস্ত্র অবলম্বন বা প্রচার করণ ।
৪৪। শ্রীভগবদগ্রে তাম্বুল চরণ ।
৪৫। এরণ্ড পত্রস্থিত পুষ্পে পূজা ৷
৪৬। আসুরিককালীন অর্চ্চনা ৷
৪৭। পূজাকরণ হেতু অহঙ্কার ৷
৪৮। হস্ত, পদ্ম, মুখ না ধুইয়া শ্রীমন্দিরে প্রবেশ ।
৪৯। অবৈষ্ণব-পক্ব অন্ন নিবেদন ।
৫০ । শ্রীগণেশের পূজা না করিয়া শ্রীবিষ্ণু অর্চ্চন ।
৫১। নিৰ্ম্মাল্য প্রসাদাদির অমর্য্যাদা ।
৫২। শ্রীভগবানের নামে শপথ ।
৫৩। দন্তমার্জ্জনাদি না করিয়া, স্ত্রীসম্ভোগ, ঋতুমতী নারী, প্রদীপ, মৃতদেহ স্পর্শ করিয়া, রক্তবর্ণ বা নীলবর্ণ বস্ত্র, অধৌত বস্ত্র, অন্যের ' বস্ত্র, মলিন বস্ত্র পরিয়া শব দর্শন করিয়া, ক্রোধ করিয়া, শ্মশান ক্রিয়া অবস্থায়, ভুক্ত দ্রব্যের অজীর্ণাবস্থায়, তিল, খলি, মাংস ও মাদক দ্রব্যাদি সেবন করিয়া, তৈল মর্দন করিয়া শ্রীবিগ্রহ স্পর্শ বা সেবাদি করণ ।
৫৪। শ্রীবিগ্রহ স্নানকালে বাম হস্তে শ্রীঅঙ্গ স্পর্শ ৷
৫৫। নামাপরাধ : -
বিষ্ণু আর শিবে করে পৃথক ঈশ্বর জ্ঞান ।
গুরুদেবে মানে যথা মনুষ্য সমান ॥
বেদ পুরাণাদি শাস্ত্র আগম নিন্দন ৷
নামে অর্থবাদ আর কুব্যাখ্যা করণ ॥
নাম বলে পাপকর্ম্মে কয়য়ে প্রবৃত্তি ।
নাম, ন্যূন জ্ঞানে অন্য শুভকৰ্ম্মে মতি ৷৷
অশ্রদ্ধালু জনে করে নাম উপদেশ ৷
নামের মাহাত্ম্য শুনি না করে বিশ্বাস ।।
বৈষ্ণবের নিন্দা আদি কিঞ্চিৎ করণ ।
নামে দশ অপরাধ এই বিবরণ ॥
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
     ꧁👇📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

শ্রীকামিকা একাদশীর ব্রত মাহাত্ম্য 🙇 সংগৃহীত 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/07/ekadoshi.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕  শ্রীকামিকা একাদশীর ব্রত মাহাত্ম্য 🙇 সংগৃহীত 🙇 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/07/ekadoshi.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রাবণ কৃষ্ণপক্ষীয়া কামিকা একাদশীর কথা ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণ সংবাদে বর্ণিত হয়েছে। যুধিষ্ঠির মহারাজ শ্রীকৃষ্ণকে বললেন--হে গোবিন্দ! হে বাসুদেব! শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর নাম ও মাহাত্ম্য সবিস্তারে আমার কাছে বর্ণনা করুন। তা শুনতে আমি অত্যন্ত কৌতূহলী। প্রত্যুত্তরে ভক্ত বৎসল ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন--হে রাজন! পূর্বে দেবর্ষি নারদ প্রজাপতি ব্রহ্মাকে এই প্রশ্ন করলে তিনি যে উত্তর প্রদান করেছিলেন আমি এখন সেই কথাই বলছি। আপনি মনযোগ দিয়ে তা শ্রবন করুন। এক সময় ব্রহ্মার কাছে ভক্ত শ্রেষ্ঠ নারদ জিজ্ঞাসা করলেন--হে ভগবান! শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশীর নাম কি, এর আরাধ্য দেবতা কে, এই ব্রতের বিধিই বা কি রকম এবং এই ব্রতের ফলে কি পুন্য লাভ হয় তা সবিশেষ জানতে ইচ্ছা করি। আপনি কৃপা করে আমাকে তা জানালে আমার জীবন ধন্য হবে। শ্রী নারদের কথা শুনে ব্রহ্মা অত্যন্ত সন্তুষ্ট হলেন। তিনি বললেন--হে বৎস! জগৎ জীবের মঙ্গলের জন্য আমি তোমার প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিচ্ছি, তুমি তা শ্রবন কর। শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া একাদশী 'কামিকা' নামে জগতে প্রসিদ্ধা। এই একাদশীর মাহাত্ম্য শ্রবণে বাজপেয় যজ্ঞের ফল লাভ হয়। ভগবান শ্রী হরির পূজা অর্চনা অপরিমিত পূর্ণ ফল প্রদান করে। গঙ্গা গোদাবরী কাশী নৈমিষ্যারণ্য পুষ্কর ইত্যাদি তীর্থ দর্শনের সমস্ত ফল একমাত্র কৃষ্ণ পূজার মাধ্যমে কোটি গুন লাভ করা যায়। সাগর ও অরণ্য যুক্ত পৃথিবী দানের ফল, দুগ্ধবতী গাভী দানের ফল অনায়াসে এই ব্রত পালনে লাভ হয়। যারা পাপপূর্ণ সাগরে নিমগ্ন এই ব্রতই তাদের উদ্ধারের একমাত্র সহজ উপায়। এই রকম পবিত্র পাপনাশক শ্রেষ্ঠ ব্রত আর জগতে নেই। শ্রী হরি স্বয়ং এই মাহাত্ম্য কীর্তন করেছেন। রাত্রি জাগরণ করে যারা এই ব্রত পালন করেন তাঁরা কখনও দুঃখ দুর্দশাগ্রস্ত হন না। এই ব্রত পালনকারী কখনও নিম্ন যোনি প্রাপ্ত হন না। কেশবপ্রিয়া তুলসীপত্রে যিনি শ্রী হরির পূজা করেন পদ্ম পাতায় জলের মতো তিনি পাপে নির্লিপ্ত থাকেন। তুলসীপত্র দিয়ে বিষ্ণু পূজায় ভগবান যেমন সন্তুষ্ট হন, মণিমুক্তাদি মূল্যবান রত্ন মাধ্যমেও তেমন প্রীত হন না। যিনি কেশবকে তুলসীমঞ্জরী দিয়ে পূজা করেন তার জন্মার্জিত সমস্ত পাপ ক্ষয় হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে ব্রহ্মা বললেন--হে নারদ! যিনি তুলসীকে প্রত্যহ দর্শন করেন তার সকল পাপরাশি বিদূরিত হয়ে যায়। যিনি তাঁকে স্পর্শ করেন তার পাপমলিন দেহ পবিত্র হয়। তাঁকে প্রণাম করলে সমস্ত রোগ দূর হয়। তাঁকে জল সিঞ্চন করলে যমও তার কাছে আসতে ভয় পান। শ্রী হরি চরণে তুলসী অর্পিত হলে ভগবদ্ভক্তি লাভ হয়। তাই হে কৃষ্ণভক্তি প্রদায়িনী তোমাকে প্রণাম করি। যে ব্যক্তি হরিবাসরে ভগবানের সামনে দীপদান করেন চিত্রগুপ্তও তাঁর পুণ্যের হিসাব করতে পারে না। তার পিতৃপুরুষেরাও পরম তৃপ্তি লাভ করেন। শ্রীকৃষ্ণ বললেন--হে রাজন! আমি আপনার কাছে সর্বপাপহারিনী কামিকা একাদশীর মাহাত্ম্য বর্ণনা করলাম। অতএব যিনি ব্রহ্মহত্যা ভ্রুণহত্যা পাপবিনাশিনী, মহাপুণ্যফলদায়ী এই ব্রত পালন করবেন এবং এই মাহাত্ম্য শ্রদ্ধা সহকারে শ্রবণ করবেন তিনি সর্বপাপ থেকে মুক্ত হয়ে বিষ্ণুলোকে গমন করবেন।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
     ꧁👇📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧









গুরু পূর্ণিমা বিষয়ক কথন ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/07/guru.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 গুরু পূর্ণিমা বিষয়ক কথন ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/07/guru.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙏জয়নিতাই গৌর হরিবল🙏*
*গুরু পূর্ণিমা বিষয়ক কথন*
  ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

*🌷শ্রীরূপ সনাতন ভট্ট রঘুনাথ।*
*🌷শ্রীজীব গোপালভট্ট দাস রঘুনাথ।।*
*🌷এই ছয় গোঁসাই যবে ব্রজে কৈলে বাস।*
*🌷রাধাকৃষ্ণের নিত‍্যলীলা পুনঃ কৈলে প্রকাশ।।*

*🌹এই ছয় গোঁসায়ের মধ্যে অন‍্যতম গোঁসাই শ্রীসনাতন গোস্বামীপাদকে কেন্দ্র করে এই আষাঢ়ী গুরু পূর্ণিমা। শ্রীসনাতন গোস্বামীর পূর্ব পরিচয় পাওয়া যায় অতি সংক্ষেপে বলিবার চেষ্টা করব।তাঁদের আদি বংশধর কর্ণাট দেশাধিপতি ভরদ্বাজ গোত্রীয় যজুর্বেদী ব্রাহ্মণ জগদ্- গুরু ছিলেন।তাঁর পুত্র শ্রীঅনিরুদ্ধদেব,তাঁর দুই পুত্র,রূপেশ্বর ও হরিহর। রূপেশ্বর শাস্ত্রে ও হরিহর শস্ত্রে পারঙ্গত ছিলেন।পিতার অন্তর্ধ‍্যানের পর রূপেশ্বর ছোট ভাই হরিহর দ্বারা রাজ‍্য হতে বিতাড়িত হন।তৎকালে তিনি আটটি অশ্বসহ পৌলস্ত‍্য দেশে আগমন করেন এবং পৌলস্ত‍্যের রাজা শ্রীশিখরেশ্বরের সঙ্গে তাঁর মৈত্রীভাব হয়।রূপেশ্বরের পরম সুন্দর এক পুত্র জন্মগ্রহণ করেন।ঐ পুত্রের নাম শ্রীপদ্মনাভদেব। তিনি নিখিল বেদশাস্ত্রে পন্ডিত ছিলেন।পদ্মনাভ গঙ্গাতটে বাস অভিপ্রায়ে নৈহাটী নামক গ্রামে এলেন এবং সেখানে সাধ্বী পত্নীসহ সুখে বাস করতে লাগলেন।তিনি শ্রীজগন্নাথদেবের শ্রীবিগ্রহ পূজো করতেন।পদ্মনাভর আঠারটি কন‍্যা এবং পাঁচটি পুত্রের জন্ম হয়। পুরুষোত্তম,জগন্নাথ,নারায়ণ, মুরারি ও মুকুন্দ এই পাঁচটি পুত্র।শ্রীমুকুন্দদেবের পুত্র শ্রীকুমারদেব, ইনি পরম সদাচারী ও বিপ্রকুলের রত্ন সদৃশ ছিলেন এবং নিরন্তর যাগ-যজ্ঞাদি পরায়ণ ছিলেন। পরবর্তীকালে স্বজনগণের দ্বারা পীড়িত হয়ে নৈহাটি ত‍্যাগ করে বঙ্গদেশে বাকলা চন্দ্রদীপ গ্রামে এসে বসবাস করতে লাগলেন।সেখানে সজ্জনগণ দ্বারা পরম আদৃত হলেন।শ্রীকুমারদেবের অনেকগুলি সন্তান ছিলেন তাঁর মধ্যে তিনটি পুত্র পরম বৈষ্ণব।*
*🌷কুমারদেবের হৈল অনেক সন্তান।*
*🌷তার মধ্যে তিনপুত্র বৈষ্ণবের প্রাণ।।*
*🌷সনাতন,রূপ, শ্রীবল্লভ এই ত্রয়।*
*🌷সগোত্র অন‍্যত্র যে অর্চিত মহাশয়।।*
     *(ভক্তিরত্নাকর--১|৫৬৭-৫৬৮)*
*🌹শ্রীপাদ রূপ,সনাতন যে শাস্ত্রগুরুর নিকট শাস্ত্র অধ‍্যয়ন করেছিলেন, অতি সংক্ষেপে বলি।*
*🌷ভট্টাচার্য‍্যং সার্বভৌমং বিদ‍্যাবাচস্পতীন্ গুরুণ্।*
*🌷বন্দে বিদ‍্যাভূষণঞ্চ গৌড়দেশ বিভূষণম্।।*
*🌷বন্দে শ্রীপরমানন্দ ভট্টাচার্য্যং রসপ্রিয়ং।*
*🌷রামভদ্রং তথা বাণীবিলাসং চোপদেশকম্।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ শ্রীরূপ- সনাতন গোস্বামীর অধ‍্যাপক সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য,গৌড়দেশ বিভূষণ বিদ‍্যাভূষণ, বাচস্পতি,রসপ্রিয় পরমানন্দ ভট্টাচার্য্য, এবং বাক্ চতুর অধ‍্যাপক রামভদ্রাদিকে বন্দনা করি।*
*🍀শ্রীরূপ-সনাতন বহু ভাষা জানতেন,তৎসহ আরবি,ফার্সি।সেই সময় গৌড়েশ্বর হোসেন শাহ বাদশাহের মন্ত্রীত্ব লাভ করেন। তার সম্বন্ধে কিছু প্রবাদ আছে, বাদশাহের যে গুরু মৌলবী ছিলেন তিনি বেশ সাধক পুরুষ ছিলেন,ত ৎসহ ভূত ভবিষ্যতের কথাও বলতে পারতেন। তখন বাদশাহ হোসেনশাহকে বলেছিলেন যে,তোমার এই মহানগরীতে পরম বিদ্বান সর্বসদ্ গুণ সম্পন্ন দুইটি ব্রাহ্মণ সন্তান বাস করছেন, তাদের নাম অমর ও সন্তোষ। তাঁদের মন্ত্রীপদ দিলে তোমার বহু বৈভব রাজ‍্যাদি সম্পদ লাভ হবে।বাদশাহ গুরুর কথা অনুসারে তাঁদের মন্ত্রীপদ দান করেন, শ্রীরূপ-দবিরখাস, ও শ্রীসনাতন-সাকর মল্লিক।শ্রীরূপ ও সনাতন শ্রীমন্মহাপ্রভুর দেওয়া নাম। বহু কাহিনী আছে অতি সংক্ষেপে দুই-এক কথায় লিখিলাম।*

*তাঁদের কর্মজীবন শুরু হ'ল, কিছুদিনের মধ্যে চরম কষ্ট অনুভব করতে লাগলেন, কেন?হোসেন শাহ মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ গড়ছে,হিন্দু সুন্দরী নারীদের জোর করে ধর্মান্তর করছে, আরো বহু কিছু বলার যোগ্য নহে।রূপ-সনাতনের মনে চরম বিরক্ত ভাব জন্মাইল,এমন সময় জানতে পারলেন যে, এক নবীন সন্ন‍্যাসী, শ্রীক্ষেত্রে আছেন, তখন সাহস করে নবীন সন্ন‍্যাসী মহাপ্রভুকে পত্র লিখিলেন, মহাপ্রভু পত্রের উত্তরে লিখিলেন,তোমরা যেমত অবস্থায় আছ থাক, আমি সময়মতো তোমাদের নিকটে যাব। (মহাপ্রভু বলেছিলেন, পর পুরুষ, অনুরক্তা রমণী যেমন বাহ‍্য স্বামীর সেবায় অনুরক্ততা দেখায়, তদ্রূপ তোমরা চিত্তটি শ্রীকৃষ্ণপদে রেখে বাইরে রাজকার্য‍্যে অনুরাগ দেখাও।অচিরাৎ শ্রীকৃষ্ণ তোমাদের প্রতি কৃপা করবেন)। মহাপ্রভুর কথামত অবসর সময়ে শাস্ত্র পাঠাদি করতেন।ভক্তবৎসল মহাপ্রভু ভক্তের আহ্বানে আর স্থির থাকতে পারলেন না, ভক্তকে দেখা দিতেই হবে ভেবে,কিছুদিন পুরীধামে থেকে পুন গৌড় দেশাধিমুখী যাত্রা করলেন।তারপর মহাপ্রভু বিদ‍্যানগরে সার্বভৌম পন্ডিতের ভাই বিদ‍্যা বাচস্পতির ভবনে শুভবিজয় করলেন।সেখানে কয়েকদিন থেকে, তিনি গৌড় রাজধানী রামকেলি গ্রামাভিমুখে চলতে লাগলেন।*
*🌷ঐছে আইলা প্রভু রামকেলি গ্রাম।*
*🌷গৌড়ের নিকট গ্রাম অতি অনুপাম।।*
*🌷তাঁহা নৃত্য করে প্রভু প্রেমে অচেতন।*
*🌷কোটি কোটি লোক আইসে দেখিতে চরণ।।*
*🌹শ্রীরূপ-সনাতন ছদ্মবেশে সামান্য মাত্র বস্ত্র পরিধান করে দুইগুচ্ছ তৃণ মুখে ধরে প্রেমে পুলকিত প্রেমাশ্রু স্মরণ নেত্রে সাষ্টাঙ্গ দন্ডবৎ হয়ে পড়লেন নিত‍্যানন্দ ও মহাপ্রভুর শ্রীচরণে।মহাপ্রভু বললেন----*
*🌷আজি হৈতে দুঁহার নাম রূপ-সনাতন।*
*🌷দৈন‍্য ছাড়,তোমার দৈন‍্যে ফাটে মোর মন।।*
*🌷দৈন‍্য পত্রী লিখি মোরে পাঠালে বার বার।*
*🌷সেই পত্রীদ্বারা জানি তোমার ব‍্যবহার।।*
*🌷তোমার হৃদয় আমি জানি পত্রীদ্বারে।*
*🌷তোমা শিখাইতে শ্লোক পাঠাইল বারে বারে।।*
*🌷গৌড়-নিকট আসিতে নাহি মোর প্রয়োজন।*
*🌷তোমা দুঁহা দেখিতে মোর ইহা আগমন।।*
*🌷এই মোর মনের কথা কেহ নাহি জানে।*
*🌷সবে বলে,কেনে আইলে রামকেলি গ্রামে।।*
*🌷ভাল হৈল,দুই ভাই আইলা মোর স্থানে।*
*🌷ঘরে যাহ, ভয় কিছু না করিহ মনে।।*
*🌷জন্মে জন্মে তুমি দুই, আমার কিঙ্কর।*
*🌷অচিরাতে কৃষ্ণ তোমায় করিবে উদ্ধার।।*
*🌹মহাপ্রভু ভক্তগণ নিয়ে রামকেলি হৈতে কানাইর নাটশালা অভিমুখে যাত্রা করলেন। শ্রীরূপ গোস্বামীর আর কর্মে মন রইল না, গোপনে গোপনে তিনি যশোহরে ফতেয়াবাদে নিজ গৃহে নৌকাতে করে বহুধন নিয়ে এলেন। সেই ধন কিছু ব্রাহ্মণ বৈষ্ণবগণকে, কিছু কুটুম্ব ভরণ পোষণের এবং ভবিষ‍্য আপৎ কালাদির জন্য ভাল ভাল বিপ্র স্থানে রেখে ছিলেন।শ্রীরূপ গোস্বামী অন্তরে বুঝতে পেরেছিলেন যে দাদা বাদশাহের কারাগারে বন্দীদশায় থাকতে হতে পারে,তাই গৌড় রামকেলিতে দাদার বন্ধন মোচনের জন্য দশহাজার স্বর্ণমুদ্রা এক বিশ্বস্ত মুদীর ঘরে রেখেছিলেন।*

*তারপর শ্রীরূপ ভাই অনুপমকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়লেন।অন‍্যদিকে শ্রীসনাতন গোস্বামীর জীবনে অনেক ঘটনা ঘটেছিল, সব কাটিয়ে কাশী পৌঁছলেন, মহাপ্রভুর সহিত সাক্ষাৎ হ'ল, প্রায় দুইমাস ধরে মহাপ্রভু সনাতন গোস্বামীকে ভাগবত তত্ত্বসার উপদেশ দান করলেন এবং বললেন এসব সিদ্ধান্ত চিন্তা করে ভক্তিশাস্ত্র রচনা কর।তোমার দুইভাই বৃন্দাবনে আছে, তুমিও সেখানে গমন কর।শ্রীসনাতন গোস্বামী বৃন্দাবনে এলেন এবং সেখানে সুবুদ্ধি রায় ও ভাই শ্রীরূপের সঙ্গে মিলিত হলেন, দুঃখের সংবাদ পেলেন পথ মধ্যে গঙ্গাতটে অনুপমের গঙ্গাপ্রাপ্তি ঘটে। (সনাতন গোস্বামীর নীলাচল লীলা বর্ণনা করিলাম না)।*
*🙏ব্রজে শ্রীশ্রীমদনগোপাল দেবের প্রকট।*
*🌹মহাবনে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব স্থানের সন্নিকটে এক পত্র কুটীরে সনাতন গোস্বামী ভজন করতেন।মাধুকরীর জন্য তিনি একদিন যমুনার তট দিয়ে গ্রামে যাচ্ছেন, স্বয়ং মদনগোপালদেব তখন যমুনার তীরে গোপ বালকের রূপ ধরে গোপরাখালদের সঙ্গে খেলা করছিলেন।সনাতন গোস্বামীকে দেখেই বাবা!বাবা! বলে ছুটে এলেন এবং তাঁর হাত ধরলেন, বললেন বাবা! আমি তোমার সঙ্গে তোমার কাছে থাকব।*
*সনাতন--আমার কাছে তুমি কেন আসবে?*
*মদন-- তোমার কাছে আমি থাকব।*
*সনাতন--আমার কাছে থাকবে, খাবে কী?*
*মদন-- তুমি কি খাও?*
*সনাতন-- আমি শুকনো রুটি আর চানা খাই।*
*মদন-- বাবা! আমিও তাইই খাব।*
*সনাতন-- তুমি এই খাবার খেয়ে থাকতে পারবে না,তুমি বাপ-মায়ের কাছে গিয়ে থাক। আমার কাছে তোমার ভীষণ কষ্ট হবে লালা! পুনঃ মদনগোপাল বললেন,বাবা!আমি তোমার কাছেই থাকব, অন‍্য জায়গায় যাব না।তারপর অনেক বুঝিয়ে সনাতন গোস্বামী কথাকথিত ঘরে পাঠিয়ে দিয়ে মাধুকরীতে গেলেন।তিনি রাত্রে স্বপ্ন দেখলেন যে শিশুটি হাসতে হাসতে কাছে এসে তাঁর হাত ধরে বলছেন বাবা! আমার নাম মদনগোপাল, আমি আগামীকাল তোমার কাছে আসিব। এ বলে মদনগোপালদেব অন্তর্ধান হলেন। শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামীর নিদ্রা ভঙ্গ হ'ল,আনন্দে আত্মহারা হলেন, বললেন আমি এই কি দেখলাম! আহা-হা এমন সুন্দর শিশু আগে কখনই দেখি নাই। হরি স্মরণ করতে করতে কুটিরের দ্বার খুললেন, দেখলেন দরজার সামনে এক অপূর্ব গোপাল মূরতি, তাঁর অঙ্গ শোভায় চারিদিক আলোকিত।সনাতন গোস্বামী স্তম্ভিতভাবে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন। তারপর প্রেমাশ্রু ফেলতে ফেলতে ভূতলে দন্ডবৎ করলেন।*


*অতঃপর শ্রীমূরতির অভিষেকাদি সম্পূর্ণ করলেন। শ্রীরূপ গোস্বামী এলেন এবং সেই অপূর্ব মূরতি দরশন করে প্রেমাবিষ্ট হলেন।তারপর শ্রীপাদ সনাতন নিজ কুটীরে শ্রীশ্রীমদনগোপালদেবের সেবা করতে লাগলেন। এ শুভ সংবাদ শ্রীমন্ মহাপ্রভুকে দেবার জন্য শ্রীরূপ গোস্বামী তৎক্ষণাৎ একজন লোককে পুরীধামে প্রেরণ করলেন।*
*🌹শ্রীরাধারাণীর দর্শন দান🌹*
*🍀শ্রীপাদ রূপ ও শ্রীরঘুনাথ দাস গোস্বামীকে দেখবার জন্য শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামী একদিন শ্রীরাধাকুন্ডে এলে দুইজন তাঁকে বন্দনা করলেন এবং বসিবার আসন দিলেন।তারপরে তিনজনে ইষ্টগোষ্ঠী করতে লাগলেন।শ্রীপাদ রূপ গোস্বামী "চাটূ পুষ্পাঞ্জলী" নামক একটি শ্রীরাধাস্তব লিখেছিলেন।শ্রীপাদ সনাতন পড়লেন, তাতে একটি শ্লোক আছে-----*
*🌷নবগোরোচনা গৌরী প্রবরেন্দ্রী বরাম্বরাম্।*
*🌷মণিস্তবক-বিদ‍্যোতিবেণী বালাঙ্গনা-ফণাম্।।*
*🌹শ্রীকৃষ্ণের দুগ্ধ দান🌹*
      ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀যে কোন কারণেই অন্ন-জল ত‍্যাগ করে শ্রীপাদ সনাতন গোস্বামী পাবন-সরোবর তটে নির্জন বনে ভজন করতে লাগলেন।অন্তর্য‍্যামী শ্রীকৃষ্ণ সব জানতে পেরে ভক্ত অনাহারে আছেন সইতে পারলেন না। ভক্তের আহার ভগবান নিজেই যোগান দেন,এই কথা তাঁর বাণীতে আছে।ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গোপবালকের বেশে একভান্ড দুগ্ধ নিয়ে সন্ধ‍্যার কিছু আগে সনাতন গোস্বামীর কাছে গিয়ে উপস্থিত হলেন।*
*🌷কৃষ্ণ গোপ বালকের ছলে দুগ্ধ লৈয়া।*
*🌷দাঁড়াইলা গোস্বামী সম্মুখে হর্ষ হৈয়া।।*
       *ভক্তিরত্নাকর--৫|১৩০৩)*
*🍀শ্রীকৃষ্ণ বললেন, বাবা! আমি তোমার জন্য দুধ এনেছি।*
*সনাতন=লালা!কে তুমি? কেন এত কষ্ট করে দুধ আনলে?*
*কৃষ্ণ=বাবা! তুমি অভুক্ত আছ, তাই।*
*সনাতন=তুমি কেমন জানলে যে আমি অভুক্ত আছি?*

*সরোবরের তীরে গোচারণ করতে এসে দেখলাম তুমি একাকী নির্জনে বসে আছ, মনে হল তুমি অভুক্ত, তাই দুধ আনিলাম।*
*সনাতন=অন‍্য কেউ এলো না কেন?তুমি ছোট, তুমি না এসে বড় কেউ আসতে পারত?*
*কৃষ্ণ=বাবা! বড়দের ঘরে অনেক কাজ গো!তাই আমাকে আনতে হয়েছে।*
*সনাতন=আহা!লালা!তুমি এতটুকু শিশু, তোমার কত কষ্ট হয়েছে?😭*
*কৃষ্ণ=না,না,বাবা!তুমি বিশ্বাস কর, তোমার জন্য দুধ আনতে আমার বিন্দুমাত্র কষ্ট হয় নাই।*
*🍀সনাতন গোস্বামী আর কথা না বাড়িয়ে তাড়াতাড়ি দুগ্ধ ভান্ডটি নিয়ে বললেন,লালা,বস!পাত্রটি খালি করে দেই।কৃষ্ণ বললেন,না বাবা!আমি আর অপেক্ষা করতে পারব না,সন্ধ‍্যা হয়ে আসছে, "গো-দোহন" করতে হবে, ভান্ড আগামীকাল এসে নিয়ে যাব।এইকথা বলতে বলতে তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন।সনাতন গোস্বামী অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন।পরে তিনি সব বুঝতে পারলেন যে, আমার মদনগোপলই সব করেছেন। নয়নজলে ভাসতে ভাসতে সেই দুগ্ধ পান করলেন,যেন অমৃত পান করলেন। তারপর থেকে পুনঃ মাধুকরী করতে লাগলেন। ব্রজবাসীগণের সঙ্গে ধীরে ধীরে আপন ভাব হতে লাগল এবং ব্রজবাসীগণ তাঁর থাকবার জন্য সেখানেই একটি কুটীর করে দিলেন।*
*🍀সনাতন গোস্বামী মহাবনে ছিলেন।একদিন তিনি যমুনা তটে মদনগোপালকে খেলতে দেখলেন।অবাক হলেন গোস্বামীপাদ!এ-কি সেই মদনগোপাল খেলছেন না কি! আবার চিন্তা করলেন, না, কোন গোপবালক হবে।সেদিন গেল, আর একদিন দেখলেন যমুনার তটে সেই শিশুটি অন‍্যান‍্য গোপ শিশুর সঙ্গে খেলছেন।গোস্বামী একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন।মনে মনে ভাবলেন যে,আজ দেখব সেই গোপশিশু কোথায় যায়। প্রায় সন্ধ‍্যে হয়ে এলো,খেলা সাঙ্গ করে অন‍্যান‍্য গোন শিশুগণ ঘরে চলে গেল।আর মদনগোপাল মন্দিরে প্রবেশ করলেন। তখন গোস্বামীপাদ বুঝতে পারলেন, আমার সেই মদনগোপাল শিশুরূপ ধারণ করে প্রতিদিন যমুনাতীরে খেলা করেন।*


*শ্রীসনাতন ও শ্রীরূপ গোস্বামী যখন ব্রজে যে গ্রামে যেতেন, সেই গ্রামের গোপ-গোপীগণ দুইভাইকে প্রাণের অধিক শ্রদ্ধা করতেন।গ্রামবাসীগণ নিজ পরিবারভুক্ত মনে করে দুগ্ধ,দই,ছানা, মাখন ইত্যাদি খাওয়াতেন।আর গোস্বামীদ্বয়ও গ্রামবাসীদের সাক্ষাৎ শ্রীকৃষ্ণের পরিকর মনে করতেন। আর সেই ভাবে অতি আপন মনে করে সমস্ত কথা আদানপ্রদান করতেন।গ্রামবাসীগণও নিজ পিতাতুল‍্য মনে করতেন।গোস্বামীদ্বয়ের প্রাণ যেমন গ্রামবাসীগণ,তেমনি ব্রজবাসীগণের প্রাণ তাঁরা দুইজন।*
*🍀শ্রীসনাতন গোস্বামী প্রতিদিন চোদ্দমাইল গোবর্দ্ধনগিরি পরিক্রমা করতেন।বার্দ্ধক‍্য হেতু তাঁর কষ্ট হ'ত, কিন্তু তিনি নিয়ম ভঙ্গ করতে চাইতেন না।বহু কষ্ট করেও তিনি পরিক্রমা করতেন।ভক্তের সেই কষ্ট শ্রীকৃষ্ণ ফুঝতে পারলেন। এক গোপ শিশুররূপ ধারণ করে সনাতনের কাছে এলেন,বললেন,বাবা!তুমি বৃদ্ধ হয়েছ,এত কষ্ট করে কেন গিরিরাজ পরিক্রমা কর, আর করতে হবে না।তখন গোস্বামীপাদ বললেন,ইহা আমার নিত‍্য ভজন-নিয়ম।কৃষ্ণ বললেন,বৃদ্ধকালে ধিয়ম ত‍্যাগ কর। সনাতন বললেন,লালা! নিয়ম কখনও ত‍্যাগ করা যায় না। কৃষ্ণ বললেন,বাবা! আমার কথা মানবে? সনাতন বললেন, বল!যদি মানবার হয় তবে অবশ্যই মানিব।শ্রীকৃষ্ণ তখন নিজ পদচিহ্নযুক্ত একটি শিলাখন্ড দিয়ে বললেন,বাবা!এটি সাক্ষাৎ গোবর্দ্ধনশিলা।সনাতন বললেন এ শিলা আমি কি করব? কৃষ্ণ বললেন, এ শিলা পরিক্রমা করলে গিরিরাজ পরিক্রমার ফল পাবে।"শিলা সমর্পিয়া কৃষ্ণ হলেন অদর্শন"।গিরিরাজ স্বয়ং দিয়ে গেলেন,সেইদিন থেকে তিনি সেই পদচিহ্ন-শিলাখন্ড পরিক্রমা করতেন।*
*🙏শ্রীসনাতন গোস্বামীর আবির্ভাব ১৪১০ শকাব্দ, ১৪৮৮ খ্রীঃ১৫৪৪ সম্বৎ, তিনি ২৭ বৎসর গৃহে ও ৪৩ বৎসর ব্রজে বাস করেছিলেন।তাঁর প্রকট স্থিতি-- ৭০ বৎসর, অপ্রকট ১৪৮০ শকাব্দ,১৫৫৮ খ্রীঃ আষাঢ়ী পূর্ণিমার দিন।*
*🍀অপ্রকটকালে ব্রজের ব্রজবাসীগণ নিজ পিতা-মাতা হারানোর মত কষ্ট পেয়েছিলেন এবং সেইদিন ব্রজবাসীগণ নিজ নিজ মস্তক মুন্ডন করে শ্রীগুরুর আষনে বসিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছিলেন।ব্রজে এই দিনটিকে "মুরিয়া পূর্ণিমা" বলেন।৪১ দিবস দশা পালন করা হয়েছিল, এবং জানা যায় সেবা-শান্তির দিন শ্রীরাধাকৃষ্ণসহ সকল সখা-সখীগণ সেবা নিয়েছিলেন।তাই "গৌড়ীয় বৈষ্ণবমতে" এই দিনটি "গুরুপূর্ণিমা"।*
*🙏জয় শ্রীসনাতন গোস্বামীর জয়, জয় সকল ব্রজবাসীর জয়, জয় শ্রীমন্ গৌর-নিতাইয়ের জয়।*
*🙏🙏ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়।*

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


শ্রীকৃষ্ণনাম তাড়াতাড়ি ইহলোকে ফলদায়ক হয় না ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/06/krishna-name.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীকৃষ্ণনাম তাড়াতাড়ি ইহলোকে ফলদায়ক হয় না ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/06/krishna-name.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🌹হরিভক্তিবিলাসের ১১ বিলাসে ২৮৯ অঙ্কধৃতং পদ্মপুরাণবচনম্------*

*🌷নামৈকং যস‍্য বাচি স্মরণপথগতং,*
       *🌷শ্রোত্রমূলং গতং বা,*
*🌷শুদ্ধং বাশুদ্ধবর্ণং ব‍্যবহিতরহিতং,*
    *🌷তারয়ত‍্যেব সত‍্যম।*
*তচ্চেদ্দেহদ্রবিণজনতালোভ-,*
       *🌷পাষন্ডমধ‍্যে,*
*🌷নিক্ষিপ্তং স‍্যান্ন ফলজনকং,*
       *শীঘ্রমেবাত্র বিপ্র।।*
*অন্বয়=একং নাম যস‍্য বাচি গতং (শ্রীভগবানের যে কোনো একটি নাম যার বাক‍্যে প্রবৃত্ত বা রত হয়) ; ‍স্মরণপথগতং শ্রোত্রমূলং গতং বা (স্মরণ পথে আসে কিংবা কর্ণগোচর হয়) ; শুদ্ধং বা অশুদ্ধবর্ণম্ ব‍্যবহিতরহিতং তারয়তি এব (শুদ্ধ বা অশুদ্ধ বর্ণ হোক কিম্বা নামের অক্ষরগুলি পরস্পর ব‍্যবহৃত হোক বা নামের শেষাংশবর্জিতই হোক, তাকে উদ্ধার কর); সত‍্যম্ তৎ চেৎ দেহ-দ্রবিণ-জনতালোভপাষন্ডমধ‍্যে (এটি সত‍্য,সেই নাম যদি দেহ, ধন এবং জনতাকে লুব্ধ পাষন্ডী মধ্যে) ; নিক্ষিপ্তং স‍্যাৎ,বিপ্র অত্র শীঘ্র ফলজনকং ন এব(বিন‍্যস্ত হয়,হে বিপ্র! ইহলোকে শীঘ্র ফলদায়ক হয় না)।*
*🍀অনুবাদ=শ্রীভগবানের যে কোন একটি নাম যদি কারও বাক‍্যে প্রবৃত্ত হয়, স্মরণ পথে আসে কিম্বা কর্ণগোচর হয়, তাহলে ওই নাম শুদ্ধভাবেই হোক বা অশুদ্ধভাবেই হোক, এক বারেই হোক বা ক্রমে ক্রমেই হোক,সে মুক্তিলাভ করে। হে বিপ্র! যে পাষন্ড দেহসুখ চায়,ধনসুখ চায়, এবং জনপ্রিয়তা চায়,তার পক্ষে এই শ্রীকৃষ্ণনাম তাড়াতাড়ি ইহলোকে ফলদায়ক হয় না।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


প্রকাশানন্দ সরস্বতী কৃত শ্লোক ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/06/prakashananda.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 প্রকাশানন্দ সরস্বতী কৃত শ্লোক ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/06/prakashananda.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙏প্রকাশানন্দ সরস্বতী কৃত শ্লোক।*

*সংসার সিন্ধুতরনে হৃদয়ং যদি স‍্যাৎ,*
*সঙ্কীর্ত্তনামৃত রসে রমতে মনশ্চেৎ,*
*প্রেমাম্বুধৌ বিহরণে যদি চিত্তবৃত্তিঃ,*
*চৈতন‍্যচন্দ্র চরণে শরণং প্রয়াত।*

*🌻এই শ্লোকটি প্রকাশানন্দ সরস্বতী-কৃত।এখানে তিনি বলেছেন যে,হে মানবগণ! তোমাদের যদি এই সংসাররূপ সমুদ্র পার হবার বাসনা মনে জাগ্রত হয়ে থাকে, নাম সংকীর্তনে যদি হৃদয় মনে সদা সর্বদা আনন্দ অনুভূতি বোধ কর,নিজের চিত্তবৃত্তি যদি প্রেম সাগরে অবগাহন (স্নান) করাইতে চাও,তাহলে শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভুর শ্রীচরণে শরণাগতি কামনা কর।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


শ্রীশ্রীরাসলীলায় চন্দ্রের উৎপত্তি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/06/rash.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 শ্রীশ্রীরাসলীলায় চন্দ্রের উৎপত্তি ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/06/rash.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*শ্রীশ্রীরাসলীলায় চন্দ্রের উৎপত্তি।*

*তদোড়ুরাজঃ ককুভঃ করৈর্মুখং প্রাচ‍্যা বিলিম্পন্নরুণেনশন্তমৈঃ।*
*স চর্ষণীনামুদ্গাচ্ছুচো মৃজন্ প্রিয়ঃ প্রিয়ায়া ইব দীর্ঘদর্শনঃ।।*

*🌻শ্রীভগবান শ্রীকৃষ্ণ যখন রমণ(পার্থিব জগতের রমণ নয়, এই রমণ মানে আনন্দ) করতে ইচ্ছে তখনই দীর্ঘকাল পরে সমাগত প্রিয়া যেমন কুঙ্কুমরাগে প্রিয়ামুখ লেপন করে,সেইরকম পূর্ব দিক বধূর মুখখানি বিমল কিরণ ও উদয় রাগে লিপ্ত করে এবং জগতবাসীর শরৎ-সূর্য‍্যতাপজনিত গ্লানি দূর করে শারদ পূর্ণচন্দ্র উদিত হলেন।*
*🍀তদা উড়ুরাজঃ উদ্গগাৎ (সেই সময়ে তারকাপতি উদিত হলেন),কোন সময়ে উদিত হলেন? "যদা ভগবান্ রন্তুং মনশ্চক্রে তদা উড়ুরাজঃ উদগাৎ" অর্থ‍্যাৎ যে সময়ে শ্রীভগবান শ্রীকৃষ্ণ রমণ করতে ইচ্ছা করলেন,সেই সময়ে তারকাপতি উদিত হলেন।মাধ্বচার্য‍্য কৃত শ্রীকৃষ্ণমঙ্গল গ্রন্থে দেখা যায়--*
*🌷রমণের ইচ্ছা কানু করিল যখন।*
*🌷হরিষে তারকাপতি উদিল তখন।।*

*দৃষ্ট্বা কুমুদ্বন্তমখন্ডমন্ডলং রমাননাভং নবকুঙ্কুমারুণম্।*
*বনঞ্চ তৎ কোমলগোভিরঞ্জিতং জগৌ কলং বামদৃশাং মনোহরম্।।*

*নবকুঙ্কুমপিন্ডবৎ অরুণবর্ণ এবং লক্ষ্মীবদনের মত আনন্দজনক পূর্ণচন্দ্রকে গগনে উদিত দেখে এবং তার মৃদু কিরণে বনভূমি উদ্ভাসিত দৈখে শ্রীকৃষ্ণ গোপরমণীগণের মনোমুগ্ধকর বংশীনাদ করলেন।*

*শ্রীকৃষ্ণ যখন গগনচন্দ্রের দিকে দেখলেন,তখন গগনচন্দ্র কৃষ্ণচন্দ্রের মনে এক অভিনব ভাবের উদ্দীপনা প্রকাশ করলেন।গগনচন্দ্রের দিকে দেখা মাত্রই কৃষ্ণচন্দ্রের মনে হ'ল যে,গগনচন্দ্র "রমাননাভ" অর্থ‍্যাৎ রমানন সদৃশ।প্রতি পূর্ণিমাতেই কৃষ্ণচন্দ্রের পূর্ণচন্দ্র দর্শন হয়, কিন্তু তাঁর কোনদিনই পূর্ণচন্দ্রকে "রমাননাভ"বলে মনে হয়নি। কিন্তু আজ রাসক্রীড়া সম্পাদনের জন্য রাসরসিক শ্রীকৃষ্ণের মনে অভিনব এক ভাবের উদ্দীপনা হওয়ায় তিনি সেই ভাবেই গগনচন্দ্রকে দেখলেন, তাই তাঁর আজ গগনচাঁদ দেখে রমাননের কথা মনে পড়ে গেল।কাজেই তিনি আজ রমার সঙ্গে রমণ করবার জন্য ব‍্যাকুল হয়ে পড়লেন এবং রমাকে আকর্ষণ করবার জন‍্যই মোহন বেণুনাদ করলেন।*
*🌺রমা শব্দে সাধারণত নারায়ণ  প্রেয়সী লক্ষ্মীর কথায় সকলের মনে হয়, কিন্তু রমা শব্দের ব‍্যুৎপত্তিগত অর্থ সমালোচনা করলে মনে হয় "ভগবতা সহ রমতে তং রময়তি বা যা সৈব রমা"। যিনি ভগবানের সঙ্গে রমণ করেন, কিম্বা যিনি অসাধারণ প্রেম ও সৌন্দর্যের আকর্ষণে অখিলব্রহ্মান্ডপতি ভগবানকে আকর্ষণ করে নানান বিহারে রত করান,তিনিই রমা।*
*🌼গৌতমীতন্ত্রে পাওয়া যায়--*
*দেবী কৃষ্ণময়ী প্রোক্তা রাধিকা পরদেবতা।*
*সর্বলক্ষ্মীময়ী সর্বকান্তিঃ সম্মোহিনী পরা।।*
*🍀ইহাতেও জানা যায় যে শ্রীকৃষ্ণপ্রেয়সী রাধিকা সর্বলক্ষ্মীময়। সুতরাং "রমা" শব্দে শ্রীরাধিকা বুঝিলে অসঙ্গত হয় না।বিশেষকরে রাসক্রীড়ায় ভগবান শ্রীরাধাদি গোপীগণের সঙ্গেই নানান বিলাস বিহার করে থাকেন।যাইহোক, শ্রীকৃষ্ণের যখন গগনচন্দ্রকে "রমাননাভ" বলে মনে হল, তখনই তিনি দেখলেন যে,তাঁর পরমপ্রেয়সী শ্রীরাধার বদন সাদৃশ‍্য সম্পূর্ণভাবেই গগনচন্দ্রে পরিস্ফুট, কেননা,রাধাবদন যেমন অখন্ডমন্ডল অর্থ‍্যাৎ যথাযথ অবয়ব সন্নিবেশ পরিপূর্ণ, সেইরকম গগনচন্দ্রও অখন্ডমন্ডল অর্থ‍্যাৎ ষোল কলায় পরিপূর্ণ।*
*🌲শারদ পূর্ণিমার দিন, রাধাবদন যেমন নবকুঙ্কুমরাগে সুরঞ্জিত, গগনচন্দ্রও সেইরকম উদয়কালীন অরুণচ্ছটায় আরক্তিম এবং রাধাবদন যেমন কুমুদ্বৎ অর্থ‍্যাৎ পৃথিবীর আনন্দবর্ধক (কু=পৃথিবী, মুদ=আনন্দ), সেইরকম গগনচন্দ্রও কুমুদ্বৎ অর্থ‍্যাৎ কুমুদ নামক জলজ কুসুম বিকাশপরায়ণ।*
*🙏চন্দ্রকে নিয়ে বহু কথন রয়েছে,দুই,একটি কথায় বিরাম দিলাম।*
*🌻শ্রীশ্রীরাস "ধেয়-ধেয়" করে নৃত‍্য নহে।*

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


গজেন্দ্র মোক্ষণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/06/gajendra.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 গজেন্দ্র মোক্ষণ লীলা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/06/gajendra.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*🙏গজেন্দ্র মোক্ষণ লীলা, শ্রীমদ্ভাগবতের অষ্টম স্কন্ধে দ্বিতীয় অধ‍্যায়, তৃতীয় অধ‍্যায় ও চতুর্থ অধ‍্যায়ে বর্ণিত আছে। আমি অতি সংক্ষেপে কয়েকটি কথায় লিপিবদ্ধ করিব।*

*🌻প্রসঙ্গক্রমে প্রথম উনিশটি শ্লোকে ক্ষীরোদসাগর পরিবেষ্টিত অযুতযোজন উচ্ছ্রিত অতি মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য সমন্বিত গজেন্দ্রের আবাসস্থল "ত্রিকূট" নামক যে এক পর্বত আছে,তার এক অনুপম চিত্র অঙ্কিত করেছেন।সেই পর্বতের যে তিনটি শৃঙ্গ প্রধান,তারমধ‍্যে একটি শৃঙ্গ লৌহময়,অপরটি রৌপ‍্যময় এবং অন‍্যটি সুবর্ণময় ; এইজন‍্য ঐ পর্বত স্মরণাতীত কাল হতেই "ত্রিকূট" নামে প্রসিদ্ধ হয়েছে। এই পর্বতস্থ বনের মধ্যে বহু হিংস্র শ্বাপদাদি জন্তু বাস করত ও এই জায়গায় নানারকম জলজ-পুষ্পে সুশোভিত এবং জলচর বিহঙ্গমগণের বিচিত্র কলরবে মুখরিত ভগবান বরুণের  "ঋতুমৎ" নামক উদ‍্যানে এক মনোরম সরোবর আছে।একদা, কাননচারী এক মহাগজ বা হাতী, হস্তিনী এবং হস্তিশাবকগণের সঙ্গে বিচরণ করতে করতে তৃষ্ণার্ত হয়ে জলপান করবার জন্য সেই সরোবর কাছে উপস্থিত হল।অনন্তর গজরাজ,হস্তিনী প্রভৃতি সরোবরে স্নান করে জলপানে পরিতৃপ্ত হয়ে শাবকগণকে জলপান করাচ্ছে, এইসময় সেই জলের ভিতরে এক বিশাল কুমীর ছিল,তার দ্বারা গজরাজ আক্রান্ত হল।এইভাবে সহসা আক্রান্ত হয়ে গজরাজ কুমীর হতে মুক্ত হবার জন্য মহাশক্তি দিয়ে কুমীরকে তীর-ভাগের দিকে আকর্ষণ বা টান দিতে লাগল, কিন্তু কুমীরও হীনবল ছিল না সেও মহাশক্তিশালী ছিল,সেও গজেন্দ্রকে জলমধ‍্যে টানতে লাগল ; এইভাবে উভয়েই তুল‍্যবল কারণ কেউই পরাভব স্বীকার করল না।এদিকে যূথপতিকে (দলের সেরাকে) এভাবে আক্রান্ত হতে দেখে হাতীগুলি সমবেতভাবে তাকে সাহায্য করতে লাগল, কিন্তু তবুও গজেন্দ্রকে মুক্ত করতে সক্ষম হল না।এইভাবে দ্বন্দ্বযুদ্ধে হাজার বৎসর অতীত হয়ে গেল!কালক্রমে গজরাজ ক্রমশঃ উৎসাহশূন‍্য ও ক্ষীণবল হয়ে আসিলে,কুমীররাজ উৎসাহাধিক‍্যবশতঃ তাকে ধীরে ধীরে গভীর জলে আকর্ষণ করতে লাগল।তখন অনন‍্যোপায় ও মৃত‍্যু ভয়ে ভীত হয়ে গজেন্দ্র চিন্তা করতে লাগল যে,আমার আত্মীয়গণও যখন আমাকে মুক্ত করতে সমর্থ হল না, সুতরাং এক্ষণে আমি সেই সর্বভয়হারী সনাতন বিপদভঞ্জন শ্রীমধুসূদনের শরণাপন্ন হব।তিনি ছাড়া আমার এ বিপদে উদ্ধারকর্তা আর কেউ নেই।এইরকম চিন্তা করে গজেন্দ্র তখন সর্বসঙ্কটতারণ শ্রীমধুসূদনের শরণাগত হতে মনস্থ করল।*
                  *ক্রমাগত*

*তারপর গজেন্দ্র স্থির চিত্তে পূর্ব জন্ম অভ‍্যস্ত পবিত্র স্তব জপ করতে আরম্ভ করিল।গজেন্দ্র বলল,যে ভগবান বাসুদেব হতে এই দেহাদি চৈতন‍্যপ্রাপ্ত হয়েছে,যিনি সমস্ত জীবদেহে কারণরূপে প্রবেশ এবং যিনি আদিকারণ,সেই সর্বেশ্বর ভগবানকে শত শত দন্ডবৎ প্রণাম।যে গজেন্দ্রকৃত স্তব গভীর আধ‍্যাত্মিক ও দার্শনিক ভাবে পরিপূর্ণ।এতে স্বভাবতই প্রশ্ন হতে পারে যে গজেন্দ্র তো জড়বুদ্ধি পশুমাত্র ; সুতরাং এরকম আধ‍্যাত্নিক ভাববিশিষ্ট জ্ঞান কোথা হতে আসিল?"প্রাগজন্মন‍্যনুশিক্ষিতম্" গজেন্দ্রের এরকম জ্ঞান তার বতর্মান জন্মলব্ধ নয়, সেটি ইন্দ্রদ‍্যুম্ন নামক তার পূর্বজন্মের জ্ঞান,ইহজন্মে অনুস্মৃত বা বিস্মৃত হয়েছে মাত্র।জগতেও দেখা যায়,অতি অল্প বয়সের বালকাদির প্রগাঢ় শাস্ত্র জ্ঞান, সঙ্গীত-কুশলতা ও কোনও কোনও বিষয়ে অস্বাভাবিক পারদর্শিতা হয়ে থাকে। এর কারণ আর কিছুই নয়, একমাত্র কারণ এই যে, "মৃত‍্যুমপ‍্যনুগচ্ছতে বিদ‍্যা" অর্থ‍্যাৎ বিদ‍্যা মৃত ব‍্যক্তিরও অনুগমন করে। সুতরাং গজেন্দ্রের এই অপূর্ব স্তব কাল্পনিক বলে উপেক্ষার বিষয় নয়,এটি এক অনন‍্যশরণ ভক্তিভাবিত চিত্তের আধ‍্যাত্মিক ও করুণ আর্ত্তি।*
*গ্রাহগ্রস্ত,ক্ষীণবল ও মৃত‍্যুকবলিত গজেন্দ্র তখন "ওঁ নমো ভগবতে তস্মৈ" প্রভৃতি বলে ভগবানের স্তব করতে আরম্ভ করে বলিল, হে ভগবান!আপনি সর্বকারণ-কারণ আদিপুরুষ পরমেশ্বর।আপনা হতেই পরিদৃশ‍্যমান এই বিশ্বের সমস্ত চেতনসত্ত্বা প্রকটিত হয়,আপনিই এই কার্য‍্যকারণাত্মক বিশ্বের মূলীভূত উপাদান ও নিমিত্ত কারণ,আপনাতেই এই বিশ্বের স্থিতি, তবুও আপনি পৃথকরূপে মায়াতীত হয়ে গোলোক-বৈকুন্ঠাদিধামে নিত‍্যলীলাপরায়ণ।হে সর্বকারণ-কারণ!আপনারই শক্তি-পরিণত এই বিশ্ব সত‍্য এবং আপনারই ইচ্ছাশক্তি প্রভাবে এই বিশ্বের সৃষ্টি,স্থিতি,ও প্রলয়াদির সংঘটিত হয়ে থাকে। সুতরাং আপনি সর্বকালেই বিরাজমান,সর্বদুর্জ্ঞেয় অতিমর্ত‍্য পুরুষ। হে করুণাঅপারপারাবার! আপনি সকলের দর্শনের অবিষয়ীভূত হয়েও ভাগবতব্রত অর্থ‍্যাৎ ভগবদ্ ভক্তগণের দৃশ‍্য হয়ে থাকেন। প্রাকৃত জন্ম-কর্ম-নাম-রূপ-গুণদোষাদি পরিশূন‍্য আপনি অনুগতজনের সংসার ধ্বংস করে তাকে ভক্তিসুখ দানের জন্য নিজ যোগমায়া শক্তিদ্বারা অপ্রাকৃত জন্মাদিলীলা পরিগ্রহ করে থাকেন।আপনি জীবাত্মা-প্রকাশক সর্বনিয়ন্তা পরমাত্মা,প্রাকৃত বাক‍্য,মন ও চিত্তবৃত্তির অগম‍্যতত্ত্ব হয়েও আপনি শুদ্ধসত্ত্বাত্মক ভক্তিযোগে প্রতিলভ‍্য।এইভাবে গজেন্দ্র প্রাণের আর্তি নিয়ে ভগবানের স্তবপ্রসঙ্গে শরণাগতরক্ষক ভগবানের মূর্তিবিশেষ বর্ণনা না করে তাঁর নির্বিশেষ পরমাত্মারূপ বর্ণনা করতে থাকলে রূপাভিমান সম্পন্ন ব্রহ্মাদি দেবগণ যখন তার মোচনের জন্য আসিলেন না, বরং নিজেদের এরকম দোষ খন্ডনের জন্য ভগবানের স্তব করছিলেন,তখন চক্রায়ুধধারী ভগবান গজেন্দ্রের স্তব শুনে ও স্তবে তুষ্ট হয়ে গরুড়ের উপর বসে তীব্রগতিতে গজেন্দ্রের দৃষ্টিপথে আবির্ভূত হলেন।গজেন্দ্র,তখন একটি পদ্ম নিয়ে শুন্ডে উত্তোলন করে নারায়ণকে নমস্কার করলে ভগবান গরুড় পৃষ্ঠ হতে নেমে একটি চক্রদ্বারা নক্রের (কুমীরের) মুখ বিদীর্ণ করে গজেন্দ্রকে মুক্ত করলে ও নিজ পার্ষদত্ব দান করলেন।এই গজেন্দ্র মোক্ষণলীলায় ভগবানের অপূর্ব ভক্তবাৎসল‍্য পরিলক্ষিত হয়।কেননা তিনি নিজ শ্রীমুখেই বলেছিলেন, "ন মে ভক্তাঃ প্রণশ‍্যন্তি" আমার ভক্তগণ কখনও বিনাশপ্রাপ্ত হয় না।পূর্বজন্মে যে গজেন্দ্র ইন্দ্রদ‍্যুম্নরূপে ভগবদ্ ভক্ত ছিলেন,ইহজন্মেও প্রাণসঙ্কটে পড়ে সে ভগবানকে ভক্তিভরে ডেকেছে,তাই ভক্তদুঃখহারী অকুলকান্ডারী শ্রীহরি,সশরীরে ভক্তের সামনে আবির্ভূত হয়ে তাঁর অভয়হস্তের প্রসারণে গজেন্দ্রের সব ভয় নিবারণ করলেন।*
                *ক্রমাগত*

*গ্রাহগ্রস্ত(কুমীর আক্রান্ত)গজেন্দ্রের প্রার্থনায় ভগবান গরুড়স্কন্ধে গজেন্দ্রের কাছে আবির্ভূত হয়ে গজেন্দ্র মোক্ষণ বর্ণনা করে বর্তমান অধ‍্যায়ে নক্র ও গজেন্দ্রের পূর্বজন্ম বৃত্তান্ত ও গজেন্দ্র মোক্ষণ লীলার ফলশ্রুতি বর্ণনা।গজেন্দ্র মোক্ষণ লীলায় শ্রীভগবান সুদর্শন চক্রদ্বারা কুমীরের মুখ বিদারণ করে কেবল যে নিজ ভক্তের রক্ষা বিধান করলেন তাইই নয়,তিনি ভক্ত ও ভক্তদ্বেষী উভয়েরই উদ্ধার সাধন করলেন। অপার করুণা নিকেতন শ্রীভগবানের ইতর-বিশেষ ভেদজ্ঞান নেই ; শ্রীমদ্ভাগবতগীতায় তিনি নিজ শ্রীমুখেই বলেছেন, "ন মে দ্বেষ‍্যোহস্তি ন প্রিয়ঃ", অর্থ‍্যাৎ আমার দ্বেষ‍্য বা হিংসাপরায়ণ বা প্রিয় কেউই নেই। এইজন‍্যই তিনি দেবলমুনির শাপ হতে কুমীরকেও মুক্ত করলেন।এই কুমীর পূর্বজন্মে "হূহূ" নামে গন্ধর্বরাজ ছিলেন,দেবল মুনির অভিশাপেই কুমীরযোনি প্রাপ্ত হয়েছিলেন।এই গন্ধর্বরাজ হূহূ, একদা স্ত্রীগণের সঙ্গে সরোবরে জলক্রীড়া করছিলেন।জলক্রীড়া করতে করতে গন্ধর্ব দুর্বুদ্ধি বশতঃ স্নানরত দেবল মুনির চরণ দুইটি ধরে টান দিয়েছিলেন,তাতে মুনি কুপিত হয়ে শাপ দিয়েছিলেন যে, যেহেতু তুমি কুমীরের মত আচরণ করেছ, অতএব এখন হতে তুমি কুমীর যোনি প্রাপ্ত হও।তখন শাপগ্রস্ত হয়ে হূহূ মুনিবরের চরণ ধরে স্তবাদি করায় তিনি সন্তুষ্ট হয়ে বলেছিলেন যে,এইভাবে তুমি গজেন্দ্রকে আকর্ষণ করিও, তাহলে ল্রীভগবান গজেন্দ্রের উদ্ধারের জন্য এসে তোমাকেও উদ্ধার করবেন।আর গজেন্দ্রেও পূর্বজন্মে ইন্দ্রদ‍্যুম্ন নামে দ্রবিড় দেশের রাজা ছিলেন,হরিভক্ত ইন্দ্রদ‍্যুম্ন একদা শ্রীহরির আরাধনায় নিরত ছিলেন এমন সময় মহর্ষি অগস্ত‍্য সেখানে আসিয়া উপস্থিত হলেন।তখন ইন্দ্রদ‍্যুম্ন মহর্ষির যথাযোগ্য সৎকারাদি করলেন না,নীরবেই রইলেন। এতে মহর্ষি কুপিত হয়ে শাপ দিলেন যে,যেহেতু তুমি অতিথির অভ‍্যর্থনা না করে গজের মত স্তব্ধভাবে রয়েছ,অতএব তুমি স্তব্ধমতি গজযোনি প্রাপ্ত হও।অনন্তর মহর্ষির শাপে ইন্দ্রদ‍্যুম্ন গজযোনি প্রাপ্ত হলেন ; কিন্তু শ্রীহরির আরাধনার ফলে তাঁর ভগবদ্ভক্তি অব‍্যাহত রইল।এইজন‍্যই তিনি ভগবানের গ্রাহ(কুমীর)জন্ম হতে মুক্তি প্রর্থনা করেন নাই, পরন্তু অপবর্গরূপ মুক্তিই প্রার্থনা করেছেন ; "জিজীবিষে নাহমিহামুয়া কিম্" ইত্যাদি শ্লোক পর্য‍্যালোচনা করলেই সেটি উপলব্ধ হবে।*

*জিজীবিষে নাহমিহামুয়া কিম্,*
*অন্তর্ব্বহিশ্চাবৃতয়েভযোন‍্যা।*
*ইচ্ছামি কালেন ন যস‍্য,*
*বিপ্লবস্তস‍্যাত্মলোকাবরণস‍্য মোক্ষম্।।*
*🏵সম্প্রতি এই কুমীরের আক্রমণ হতে আমি শরীরের মুক্তি কামনা করি না,যেহেতু অন্তরে ও বাইরে অজ্ঞানযুক্ত এই গজজন্ম দ্বারা আমার কি হবে?কালবশেও যার বিনাশ হয় না,সেই আত্মার অপ্রকাশক অজ্ঞানের নাশরূপ মোক্ষই আমি ইচ্ছা করি।*
*🍀ভক্তবৎসল শ্রীভগবানও ভক্তের মনের বাসনা অনুযায়ী গজেন্দ্রের মুক্তিবিধান করে ভক্তপ্রবর গজেন্দ্ররূপী ইন্দ্রদ‍্যুম্নকেও স্বপার্ষদ করে নিয়ে তাঁর সঙ্গে গরুড়াসনে নিজধামে প্রস্থান করলেন। এইজন‍্যই তাঁর সরোবরতীরে আবির্ভাব হয়েছে, নচেৎ মাত্র কুমীরের কবল হতে গজেন্দ্রকে মুক্ত করবার জন্য তাঁর স্বয়ংই আসিবার আবশ‍্যকতা ছিল না,স্বভবনে উপস্থিত হয়েই তিনি চক্রপ্রেরণে বা ইচ্ছামাত্রেই গজেন্দ্রকে কুমীর হতে মুক্ত করতে পারতেন। কাতর প্রাণে অনন‍্যশরণ ভক্ত তাঁর দর্শন প্রার্থনা করেছেন, কাজেই তাঁকে স্বয়ংই আসতে হয়েছে,এটি তাঁর ভক্তবাৎসল‍্যেরই পরিচয়।*

*🙏অতি সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ করিলাম, বানান ভুলক্রুটি মার্জনীয়।*
*জয় নিতাই গৌর সীতানাথ প্রেমানন্দে হরিবল🙏🙏🙏*

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 নবম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/06/podaboli9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔙 পূর্ব লীলা 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 অষ্টম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/05/podaboli8.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 নবম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/06/podaboli9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 নবম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/06/podaboli9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮১)পদাবলী কীর্থনের ইতিহাস*
*পদাবলীকীর্তনে বিভিন্ন পদসাহিত‍্যের অবদান।*

*🍀শ্রীকৃষ্ণ-সম্পর্কে "গাথাসপ্তশতীতে" নরপতি হাল উল্লেখ করেছেন, (ডক্টর রাধাগোবিন্দ বসাক সম্পাদিত "গাথাসপ্তশতী"দ্রষ্টব‍্য)।*

*🌷মুহমারুএণ তং কণহ গোরঅং রাত্রিআত্রে ☆☆।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ হে কৃষ্ণ!তুমি তোমার মুখ-মারুতের সাহায্যে রাধিকার চক্ষু থেকে ধূলি অপনীত(দূর) করে ☆ ☆।*

*🌷অজ্জবি বালো দামোঅরো ত্তি ই অ ☆ ☆।*
*🌻অর্থ‍্যাৎ আজ-পর্য‍্যন্ত দামোদর শ্রীকৃষ্ণ বালকই থেকে গেলেন,যশোদা একথা বললে ব্রজবধূগণ কৃষ্ণমুখের প্রতি নয়ন অর্পিত করে গোপনভাবে হাসাহাসি করলেন।*
*🌹ডক্টর অসিতকুমার বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় এ' প্রসঙ্গে লিখেছেন ঃ-- "লক্ষ্মণসেনের মহাসামন্ত ও বন্ধু বটুদাসের পুত্র "মহামন্ডলিক" শ্রীধরদাস "সদুক্তিকর্ণামৃত" সঙ্কলন করে ১২শ-১৩শ শতকের বাঙ্গালীর সহিত পরবর্তী বাঙ্গালীর সেতু রচনা করে দিয়েছেন। পুনরায় তিনি লিখেছেন--, "সেই দিক দিয়ে এই সঙ্কলনখানি (সদুক্তিকর্ণামৃত) "কবীন্দ্রসমুচ্চয়" অপেক্ষাও মূল‍্যবান।১২০৬ খ্রীষ্টাব্দে 'সদুক্তিকর্ণামৃত' সঙ্কলিত হয়।ইহাতে মোট পাঁচটি প্রবাহ,প্রত‍্যেক প্রবাহে কয়েকটি "বীচি" এবং প্রত‍্যেক বীচিতে পাঁচটি করে কবিতা সংগৃহীত হয়েছে।কবিতার সংখ্যা ২৩৭০টি ; মোট কবির সংখ্যা ৪৮৫ জন। ☆ ☆ কবিদের মধ্যে যেমন সর্বভারতীয় ভাস,কালীদাস, ভামহ,অমরু,ভর্ত্তৃহরি,রাজশেখর, কেশবসেন,উমাপতিধর,জয়দেব, শরণ,গোবর্দ্ধন, ধোয়ী প্রভৃতি প্রসিদ্ধ বাঙ্গালী কবি-মনীষীদেরও নানান ধরণের শ্লোক জায়গা পেয়েছে।(বাংলা সাহিত‍্যের ইতিবৃত্ত,(প্রথম খন্ড,দ্বিতীয় সংস্ককরণ),পৃঃ _৮)। "সদুক্তিকর্ণমৃত" গ্রন্থেও নায়ক-নায়িকাভেদের সঙ্গে সঙ্গে ঋতুবর্ণনা প্রভৃতির শ্লোক পাওয়া যায়। মোটকথা "কবীন্দ্রসমুচ্চয়", "সদুক্তকর্ণামৃত", "শৃঙ্গারপ্রবাহ" প্রভৃতি কাব‍্যগ্রন্থে বিচিত্র বিষয়বস্তুর আলোচনাশৈলী প্রভৃতি লক্ষ্য করলে বাংলাদেশের সব কাব‍্যগ্রন্থকেই আদিরস শৃঙ্গার ও ভক্তিরসের প্রবাহে সঞ্জীবিত করে পরবর্তীকালে বৈষ্ণব পদাবলীকীর্তনের সাহিত‍্য বা পদসম্পদ, রসসম্পদ,ভাবসম্পদ ও অপার্থিব কবিকল্পনাকে সমুজ্জ্বল করেছিল। তাছাড়া বৈষ্ণব-পদাবলীতে যে রাধা-কৃষ্ণ তত্ত্বের উচ্ছলতা, তার বীজ শ্রীমদ্ভাগবত ও গীতগোবিন্দের বহুপূর্ব থেকেই সংস্কৃত কাব‍্যগ্রন্থ ও প্রাচীন বাংলা কাব‍্যগ্রন্থে নিহিত দেখা যায়।*
*ডক্টর শশিভূষণ দাসগুপ্ত বলেছেন, হালের "গাথাসপ্তশতীতে" "রাহিআত্রঁ বা রাধিকা-শব্দ ছাড়া পাহাড়পুরের মন্দিরগায়ে দন্ডায়মান যুগলমূর্তির নিদর্শন,কবি ভট্টনারায়ণ-কৃত "বেণীসংহার" নাটকের নান্দীশ্লোকে কালিন্দীপুলিনে রাসের সময়ে কেলিকুপিতা অশ্রুকলুষা রাধিকা ও তাঁর উদ্দেশ্যে কৃষ্ণের অনুনয়ের উল্লেখ, আলঙ্কারিক বামন তাঁর অলঙ্কারশাস্ত্রে ভট্টনারায়ণের কবিতায় রাধার প্রসঙ্গে, খ্রীষ্টীয় নবম শতকে আনন্দবর্দ্ধন-কৃত ধ্বন‍্যালেকে রাধাকৃষ্ণ প্রসঙ্গ, "তেষাং গোপবধূবিলাসসুহৃদাং রাধারহঃসাক্ষিণাং ☆ ☆ বিগলন্নীলত্বিষঃ পল্লবাঃ" প্রভৃতি শ্লোকে প্রবাসী শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবন থেকে আগত সখাকে গোপবধূগণের বিলাস-সুহৃৎ ও রাধার গোপন-সাক্ষী কালিন্দী তীরবর্তী লতাগৃহগুলির কুশলপ্রশ্ন, আলঙ্কারিক কুন্তকের "বক্রোক্তিজীবিত" গ্রন্থে খ্রীষ্টীয় দশম-একাদশ শতকের "যাতে দ্বারবতীং পুরং ☆ ☆ কালিন্দীতটকুঞ্জমঞ্জুললতামালম্ব‍্য সোৎকন্ঠয়া, উদগীতং গুরুবাষ্পগদগলত্তাবস্বরং রাধয়া" প্রভৃতি শ্লোকে রাধা বা রাধিকা শব্দের নিদর্শন,৯১৫ খ্রীষ্টীয় শতকে ত্রিবিক্রমভট্টের "নলচম্পূ" গ্রন্থে নল-দময়ন্তী প্রসঙ্গে "কলা কৌশলে চতুরা রাধা পরমপুরুষ মায়াময় কেশিহন্তার (কৃষ্ণের) প্রতি অনুক্ত" উদ্ধৃতি,দশম শতকের পূর্বাধে কাশ্মীরের টীকাকার বল্লভদেব কবি মাঘ-রচিত "শিশুপালবধ" কাব‍্যে রাধাকৃষ্ণের নামাঙ্কিত ৪|৩৫ শ্লোকের নিদর্শন, দশম শতকের চম্পূ-রচয়িতা সোমদেব-সূবির "যশস্তিলক" গ্রন্থে অমৃতমতি নাম্নী একজন নারীর সমর্থনে "রাধা কি নারায়ণে অনুরাগিণী" উক্তির ঊদ্ধৃতি প্রভৃতি প্রাচীন সাহিত‍্যে (ঐ গ্রন্থে পৃঃ ১১৭-১১৮) কাব‍্যে ও নাটকে রাধা ও কৃষ্ণের নামের ঐতিহাসিকতা প্রমাণ করে।*
                  *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ,বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 নবম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/06/podaboli9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮২)পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস*
*পদাবলীকীর্তনের বিভিন্ন পদসাহিত‍্যের অবদান।*

*🍀তাছাড়া ১২শ শতকে জৈন গ্রন্থকার হেমচন্দ্র (সূরী) "কাব‍্যানুশাসন" গ্রন্থে রাধাকৃষ্ণের প্রেমকাহিনীর পরিচয় দিয়েছেন ও শ্রীধরদাস "সদুক্তিকর্ণামৃত" গ্রন্থে তার উল্লেখও করেছেন।হেমচন্দ্রের শিষ্য রামচন্দ্র (১১৭০-১১৭৫)গুণচন্দ্রের সহায়তার যে "নাট‍্যদর্পণ" রচনা করেন,সেই নাটকে ভেজ্জ্বল কবি-রচিত "রাধা-বিপ্রলম্ভ"নামক একটি নাটকের উদ্ধৃতি আছে এবং তাতে "রাধা" নামের ও কৃষ্ণপ্রেমের নিদর্শন আছে।দ্বাদশ শতকে সারদাতনয় "ভাবপ্রকাশন" সংগ্রহগ্রন্থে "বামারাধা" নামে রাধা-সম্পর্কীয় একটি নাটকের উল্লেখ করেছেন,(ঐ গ্রন্থে পৃঃ ১১৭-১১৮)।তাছাড়া "সদুক্তিকর্ণামৃত" গ্রন্থে উদ্ধৃত নাথোক-কবির পদে উল্লিখিত "রাধধব" শব্দ,১৩শ শতকের সাগরনন্দীর "নাটকলক্ষণরত্নকোশ" গ্রন্থে "রাধা" নামক একখানি "বীথি" জাতীয় নাটকে "রাধা" নামের সার্থকতা স্বীকৃত দেখি। "প্রাকৃতপিঙ্গল" নামক প্রাকৃতছন্দ গ্রন্থে উল্লিখিত শ্রীকৃষ্ণ-কর্তৃক "রাধামুখমধুপান" শব্দটিও রাধাকৃষ্ণ প্রেমকাহিনীর নিগূঢ় তত্ত্ব প্রকাশ করে। তাছাড়া কবি জয়দেব-রচিত "গীতগোবিন্দ", লীলাশুক-রচিত "শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃত", জহ্লন-কবি সংগৃহীত "সূক্তিমুক্তাবলী" গ্রন্থে লীলাশুকের "রাধা" নামাঙ্কিত একটি পদের উল্লেখ থাকায় জহ্লনও যে "রাধা" নামের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন তা প্রমাণ হয়। তাছাড়া ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর ভারতীয় সাহিত‍্যগুলিতে "রাধা" নাম স্পষ্টভাবে উল্লিখিত আছে। চৈতন‍্যযুগের অব‍্যবহিত পূর্বে এবং চৈতন‍্যযুগের পরবর্তী বৈষ্ণব পদসাহিত‍্যগুলিতে রাধাকৃষ্ণ প্রেমতত্ত্ব কাহিনীর অপ্রাচুর্য‍্য নাই। শ্রদ্ধেয় শশিভূষণ দাসগুপ্ত তাঁর অশেষ পরিশ্রমসাধ‍্য ও বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টির পরিপ্রেক্ষিতে শ্রীরাধা বা রাধিকা নামের সঙ্গে সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের নাম-সার্থকতা ও ইতিকথার বিবরণ দিয়ে সাহিত‍্যক্ষেত্রে চিরস্মরণীয় হয়েছেন।*
*বৈষ্ণব-পদাবলীকীর্তনের প্রাণবস্তু শ্রীরাধা-কৃষ্ণের প্রেমতত্ত্ব ও প্রেমলীলাকাহিনী। সুতরাং পঞ্চরাত্রসংহিতা, প্রাচীন পুরাণসাহিত‍্য ও অন‍্যান‍্য ভক্তিগ্রন্থ প্রভাবিত শ্রীমদ্ভাগবতে "অনয়ারাধিত" শব্দের মধ্যে শ্রীরাধার অস্পষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ প্রকাশ দেখা গেলেও সুস্পষ্টভাবে "রাধা" নাম ও রাধাতত্ত্বের উল্লেখ ও অনুশীলন যে শ্রীমদ্ভাগবত মহাগ্রন্থের পূর্বেও বতর্মান ছিল এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।* *(শ্রীরাধার ইঙ্গিত বা আভাস বেদের মধ্যেও নক্ষত্রনামের সঙ্গে সম্পর্কিত দেখি)*

*শ্রীজয়দেব দাঁ,বাঁশবাড়ী, মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 নবম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/06/podaboli9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৮৩)পদাবলীকীর্তনের ইতিহাস*
*পদাবলীকীর্তনের বিভিন্ন পদসাহিত‍্যের অবদান।*

*🍀বৈষ্ণব-পদকর্তাগণের রসলীলায়িত ও ভাবস্নিগ্ধ ব্রজবুলিভাষায় রচিত পদ ও ভণিতায় সংস্কৃত ছন্দের রীতিমত রাঁধুনী না থাকলেও তার মধ্যে ছন্দমাধুর্য‍্যের একটি গতি ও স্থিতি লক্ষ্য করা যায়।যেমন বড়ু চন্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে মহারাগ-বর্ণনায় (কোড়ারাগে অনুবিদ্ধ)দেখি----*
*🌷বুঝিআঁ গোপীর মনে*
          *আল।*
*🌷ক্ষণেক শুনিল কাহ্নে।*
*🌷ষোল সহস্র গোপী তোষিবোঁ কেমনে।।*
*🏵আবার পাহাড়ীরাগে শ্রীরাধার মন-সম্পর্কে শ্রীকৃষ্ণের উক্তি----*
*🌷তমাল কুসুম চিকুর গণে।*
*🌷নীল কুরুবক তোর নয়নে।।*
*🌷সুপুট নাসা তিলকুলে।*
*🌷দেখি তোর গন্ডযুগ মহুলে।।*
*🌷আধার সুরঙ্গ বান্ধুলী ফুলে।*
*🌷কাণ্ণ যুগ তোর এ' বগহুলে।।ইত‍্যাদি।।*
*🏵ধানুষীরাগে শ্রীরাধার ভক্তিতে (লঘুশেখর) আবার দেখি----*

*খোঁপা পরতেখ মোর,ত্রিদশ ঈশ্বর হর,*
     *কেশপাশে নীল বিদ‍্যমানে।*
*সিসের সিন্দুর সুর,ললাটে তিলক চাঁদ,*
     *নয়নত বসএ মদনে।। ইত্যাদি।।*

*🏵শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ-সম্পর্কে তোড়ীরাগে উল্লিখিত পুনরায় দেখি----*

*নবীন কিশোরী, মেঘের বিজুরী,*
      *চমকি চলিয়া গেল।*
*সঙ্গের সঙ্গিনী, সকল কামিনী,*
     *ততহি উদয় ভেল।। ইত্যাদি।।*
*🏵কবি বিদ‍্যাপতি-রচিত শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগের অন‍্যতম পদগানে পুনরায় দেখি---*
*🌷আজু মঝু শুদিন (শুভদিন)ভেলা।*
*🌷কামিনি পেখলু সিনানক বেলা।।*
*🌷চিকুর গলয়ে জলধারা।*
*🌷মেহ বরিখ জনু মোতিম হারা।।*
*🏵আবার পদকর্তা রায় রামানন্দের পদ-রচনায় দেখি কবি জয়দেব-রচিত গীতগোবিন্দ পদগানের কিছুটা ঝঙ্কার ও অলঙ্কার--*

*মৃদুল-মলয়জ-পবন-তরলিত,*
        *চিকুর-পরিগত-কলাপম্।*
*সাচি-তরলিত-নয়ন-মন্মথ,*

    *সুন্দরী-জনিত কৌতুকম্।। ইত্যাদি*

*🏵কিংবা শ্রীরাধার প্রতি শ্রীকৃষ্ণের উক্তি----*

*বিদলিত-সরসিজ-দল-চয়-শয়নে।*
*বারিত-সকল-সখী-জন-নয়নে।।*
☆ ☆ ☆ ☆
*অভিনব-বিস-কিশলয়-চয়-বলয়ে।*
*মলয়জ-রস-পরিষেচিত-নিলয়ে।।ইত্যাদি।।*

*🏵পুনরায় দেখি পদকর্তা গোবিন্দ দাসের ভণিতায় রচনা আরও রসায়িত,সমৃদ্ধ ও ছন্দায়িত হয়ে উঠেছে--*
*🌷ঘন মেঘ বরখিয়ে বিজুরি চমকে।* 
*🌷তাহা দেখি প্রাণ মোর থরহরি কাঁপে।।*

*🏵কিংবা-----------*
*🌷ঝাঁপল বনতল তিমির আসিয়ে।*
*🌷একসরি আকুল পথ নাহি পাইয়ে।।*
*🌷নিবারিয়ে নীরধারা বসন-অঞ্চলে।*
*🌷নিরজন জানিয়া আইলুঁ তরুতলে।। ইত্যাদি*

*🏵সাহিত‍্যরত্ন পন্ডিত শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ‍্যায় লিখেছেন--, "রামায়ণ,শিবায়ণ, চন্ডীমঙ্গল ও বিবিধ গীতিধারার মাঝখানে আপন স্বতন্ত্র নিয়ে অভ‍্যুদিত হল বৈষ্ণবপদাবলী।☆ ☆ বৈষ্ণবগীতিকবিতায় কথা ও সুরের সমান মধুরতা।যেন একটি পাখীর দুইটি পাখা।এই দুই পক্ষে ভর দিয়ে সাধনসিদ্ধ গায়কের সঙ্গে ভাবুক ও রসিক শ্রোতৃবৃন্দের চিত্তকেও উধাও করে বৈষ্ণবের গান যে কল্পলোকে নিয়ে যায় তি কোন কাল্পনিক জগৎ নহে।বৈষ্ণব-কবিগণের অনুভূতিতে সেই চিদানন্দময় ধামও যেমন সত‍্য,এই নিত‍্য নূতন লীলাও তেমনই সত‍্য।কবিগণ তার সাক্ষাৎদ্রষ্টা।*
                 *ক্রমাগত*
*শ্রীজয়দেব দাঁ,বাঁশবাড়ী,মালদা।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 নবম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/06/podaboli9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 নবম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/06/podaboli9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 নবম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/06/podaboli9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 নবম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/06/podaboli9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 নবম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/06/podaboli9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 নবম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/06/podaboli9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🆕 👉 পদাবলী কীর্তনের ইতিহাস 🌷 নবম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2024/06/podaboli9.html

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

🔜 ক্রমাগত 👉 

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝📝
    ꧁👇📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖👇



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।

✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 



✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧

     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 


✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
   🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧


adds