✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 ১৩৮. পুনর্ম্মিলন 👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda138.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🆕 ১৩৯. পুনর্ম্মিলন 👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramnananda139.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৩৯)শ্রীরামানন্দ রায়,কাষ্ঠ পুত্তলিকা*
*🙏🙏পুনর্ম্মিলন🙏🙏*
*************************
*🍀শ্রীরামরায়কে ও শ্রীপাদ সার্বভৌমকে শ্রীরূপের নাটকের শ্লোক শুনাবার জন্য মহাপ্রভু বললেন, শ্রীরূপ!নাটকের সেই শ্লোকটি আবার পড় শুনি।তোমার রচিত সেই শ্লোকটি শুনলে লোকের দুঃখ-শোকাদিময় ভব-যন্ত্রণার খন্ডন হয়। সেই নামমাহাত্ম্যের শ্লোকটি একবার পাঠ করো।আগেই বলেছি, শ্রীরূপ স্বভাবতই লজ্জাশীল ছিলেন, তিনি আত্ম-প্রশংসার কথা শুনলে ম্রিয়মাণ (কাতর) হতেন।মহাপ্রভুর আদেশ সত্ত্বেও তিনি বেশ কিছুক্ষণ নীরব রইলেন। মহাপ্রভু বললেন, শ্রীরূপ! আমি বলছি,তুমি সেই শ্লোকটি একবার পাঠ করো।শ্রীরূপ তখন পড়তে লাগলেন।*
*"তুন্ডে তান্ডবিনী রতিং বিতনুতে তুন্ডাবলীলব্ধয়ে।*
*কর্ণক্রোড়কড়ম্বিনী ঘটয়তে কর্ণার্ব্যুদেভ্যঃ স্পৃহাম্।।*
*চেতঃপ্রাঙ্গণসঙ্গিনী বিজয়তে সর্বেন্দ্রিয়ানাং কৃতিং।*
*নো জানে জনিতা কিয়দ্ভিরমৃতৈঃ কৃষ্ণেতিবর্ণদ্বয়ী।।*
*🌹এই পদ্যটি বিদগ্ধমাধব নাটকের প্রথম অঙ্কে পৌণমাসীর উক্তি। নান্দীমুখী পৌণমাসীকে বললেন, ভগবতী,শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শ্রীরাধার অনুরাগ অতীব বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েছে।পৌণমাসী বললেন ; কি ভাবে বুঝলে?নান্দীমুখী বললেন,যখন কথা প্রসঙ্গে শ্রীরাধা "কৃষ্ণ" এই নাম শুনলেন,তখন রোমাঞ্চিত হন এবং তাঁর কি জানি কেমন এক ভাবের উদয় হয়।পৌণমাসী প্রত্যুত্তরে বললেন, "ঠিক কথা,কৃষ্ণ-নামের এমনই মাহাত্ম্য বটে।" এই বলিয়া পৌণমাসী উক্ত পদ্য পাঠ করলেন।সেটির অর্থ এই যে,"কৃষ্ণ" এই দুইবর্ণ যদি মুখরূপ রঙ্গভূমিতে নটীর মতো তান্ডবে নৃত্য করবার সুবিধা পান,তখন কোটি কোটি বদনে কৃষ্ণনাম করার জন্য ইচ্ছার উদয় বা সঞ্চার করে তোলেন। একমুখে কৃষ্ণনাম করে তৃপ্তি হয় না, কৃষ্ণনাম করবার জন্য শত শত মুখ পাওয়ার বাসনা হয়।এই বর্ণদুটি কানের ভিতরে অঙ্কুরিত হলে কোটি কোটি কর্ণলাভের বাসনা জন্মে।এটি চিত্তের প্রাঙ্গণে আবির্ভূতা হলে ইন্দ্রিয় ব্যাপার বিজিত(জয়) হয়ে পড়ে, অর্থ্যাৎ সমগ্র ইন্দ্রিয় বিশেষরূপে নামে আকৃষ্ট হয়, তখন ইন্দ্রিয়ের বহির্মুখী কর্ম শান্ত হয়।নান্দীমুখী "কৃষ্ণ" এই বর্ণদুটি যে কত অমৃতরাশিতে নির্মিত,তা বলতে পারি না।*
*🌻শ্রীমদ্ যদুনন্দন দাস এই শ্লোকের পদ্যানুবাদ করেছেন, সেই সুমধুর বাংলা পদ্যানুবাদও এখানে উদ্ধৃত করা যাচ্ছে=*
*মুখে লইতে কৃষ্ণনাম,নাচে তুন্ড অবিরাম,*
*আরতি বাড়ায় অতিশয়।*
*নাম সুমাধুরী পাঞা,ধরিবারে নারে হিয়া,*
*অনেক তুন্ডের বাঞ্জা হয়।।*
*কি কহব নামের মাধুরী।*
*কেমন অমিয়া দিয়া,কে জানি গঢ়ল ইহা,*
*কৃষ্ণ এই দুই আখর করি।।*
*আপন মাধুরী গুণে,আনন্দ বাড়ায় কানে,*
*তাতে কানে অঙ্কুর জনমে।*
*বাঞ্জা হয় লক্ষ কান,যবে হয় তার নাম,*
*মাধুরী করিতে আস্বাদনে।।*
*কৃষ্ণ দু আখর দেখি,যুড়ায় তাপিত আঁখি,*
*অঙ্গ দেখিবারে আঁখি চায়।*
*যদি হয় কোটি আঁখি,তবে কৃষ্ণরূপ দেখি,*
*নাম আর তনু ভিন্ন নয়।।*
*চিত্তে কৃষ্ণনাম যবে,প্রবেশ করয়ে তবে,*
*বিস্তারিত হৈত হয় সাধ।*
*সকল ইন্দ্রিয় গণ,করে অতি আহ্লাদন,*
*নামে করে প্রেম উনমাদ।।*
*যে কানে পরশে নাম,সে তেজয়ে আন কাম,*
*এ যদুনন্দন দাস কয়।।*
*(৪৩৩ পৃষ্ঠা)*
*🔴শ্রীরামরায় ও অন্যান্য ভক্তগণ এই শ্লোক শুনে সকলেই আনন্দে বিস্মিত হলেন।নামমাধুর্য্য অনেক জায়গায় অনেক অনেক ভাবে বর্ণন করেছেন, কিন্তু এমন মহামাধুর্য্যময়ী নাম-মাহাত্ম্য-রচনা তাঁরা ইতঃপূর্বে আর কখনও শুনেননি। যথা শ্রীচরিতামৃতে ঃ---*
*🌷সবে বলে নাম মহিমা শুনিয়াছি অপার।*
*🌷এমন মাধুর্য্য কেহ বর্ণে নাহি আর।।*
*🌻শ্রীরামরায় বললেন, শ্রীরূপ! আপনি কি গ্রন্থ লিখছেন, যাতে এইরকম সিদ্ধান্ত-রত্নসমূহ নিহিত হচ্ছে?লজ্জাশীল শ্রীরূপ তখন মাথা নিচু করে রইলেন।প্রশ্ন শেষ হতে না হতেই শ্রীপাদ স্বরূপ বললেন শ্রীরূপ! শ্রীকৃষ্ণলীলা নাটক লিখতে আরম্ভ করে ব্রজলীলা ও পুরলীলা একত্র লিখছেন, কিন্তু মহাপ্রভুর আজ্ঞায় এখন বিদগ্ধমাধব ও ললিতমাধব এই দুই নাটকে দুই লীলা আলাদা আলাদা করে লিখবেন বলে স্থির করেছেন।এই পদ্যটি বিদগ্ধমাধবে লিখিত হয়েছে।এই দুইখানি নাটকই প্রেমরসের সুধাধারায় পরিপ্লুত।*
*🌺শ্রীরূপ কৃষ্ণলীলার নাটক লিখছেন শুনে রায় রামানন্দ আনন্দিত হলেন।শ্রীরামরায় সংস্কৃত সাহিত্যে প্রবীণ পন্ডিত।সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য মহাশয়ও তাঁর পান্ডিত্যের যথেষ্ট প্রশংসা করতেন।রায় মহাশয় জানতেন, দুই চারটি মাধুর্য্যপূর্ণ সংস্কৃত পদ্য লেখা বিশেষ করে কঠিন কাজ নয়, কিন্তু নাটক লেখা অতি কঠিন ব্যাপার। তিনি নিজেও শ্রীজগন্নাথবল্লভ নামক একটি নাটকের রচয়িতা।শ্রীরামানন্দ রায় বিশেষ ভাবেই জানতেন,গ্রন্থকারের অবাধ কল্পনা ও কবিত্ব প্রতিভা থাকলে খন্ডকাব্যাদি সহজেই রচিত হতে পারে, কিন্তু নাটক রচনায় মানব হৃদয়ের অন্তস্থল দর্শিতার প্রয়োজন।যার মুখে যে কথাটি শোভা পায়, বিশুদ্ধ রসের সঙ্গে তার মুখে সেই কথা প্রকটিত করে তুলতে হলে নাটকের পাত্রাদির চরিত্রে পূর্ণজ্ঞান থাকা প্রয়োজনীয়।শ্রীকৃষ্ণলীলার নাটক লেখা আরও কঠিন।কেননা, শ্রীভগবানের,তাঁর শক্তিসমূহের ও পার্ষদগণের গম্ভীর গূঢ় রহস্যময় চরিত্র-বিশ্লেষণ মানববুদ্ধির পক্ষে সর্বদা ও সর্বথা অসম্ভব।*
🪷🪷🪷🪷🪷🪷🦚🪷🪷🪷🦋🌷🌸
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🔜 ক্রমাগত 👉 ১৪০ হইতে ১৫০ পর্ব 🌷 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/08/ramananda140to150.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
