✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ ২৭. শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ (বয়োঃসন্ধি বর্ণন) ꧂
সকল কিছু লিখনী এবং 📚 *PDF গ্রন্থ* 📚🌐 👉 https://MrinmoyNandy.blogspot.com
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🌻শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ,বয়োঃসন্ধি বর্ণন, গৌর চন্দ্রিকা🌻*
*********************************
*পৌগন্ড বয়স শেষ গৌরাঙ্গ সুন্দর।
*ভুরুর নাচনি করে কিবা সে অন্তর।।*
*লাজে অবনত মুখ আর আঁখি দুটি।*
*বুঝিতে নারিনু এই ভাব পরিপাটী।।*
*বাম নয়নে পুন কটাক্ষ করয়।*
*মধুর মধুর স্মিত বুঝিল না হয়।।*
*কুন্দন কনয়া জিনি অঙ্গ ঝলমলি।*
*রাধামোহন পহুঁ ভাবে কুতূহলী।।*
^&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&
*অথ বয়োঃসন্ধি*
*শৈশব তরুণতা একত্র মিলয়।*
*লাজ চপলতা শোভা গুণ প্রকাশয়।।*
*শ্রীশ্রী ভক্তমাল*
*শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ,রাধার বয়োঃসন্ধিরূপ*
*প্রথম পদ*
*খেলত না খেলত লোক দেখি লাজ*
*হেরত না হেরত সহচরী মাঝ*।।
*শুনশুন মাধব তোহারি দোহাই*
*বড় অপরূপ আজু পেখলু রাই*
*** নবানুরাগী শ্রীকৃষ্ণকে দূতী (বিশাখা) বলছেন,হে মাধব!কেবল রাধা নামটি শুনেই তুমি অধৈর্য্য হ'লে, তাঁর বয়োঃসন্ধি রূপের কথা শুনলে যে তোমার দশা কি হবে তাই ভাবছি। তোমার যা হবে হোক কিঞ্চিৎ বলি। এখন সেই রমণীমণির বয়োঃসন্ধি।তাঁর শৈশবকাল প্রায় গত,যৌবনের প্রারম্ভে ঈষৎ(একটুখানি, সামান্য) লজ্জাশীলা হয়েছেন।তিনি সখিসঙ্গে খেলছেন,এমন সময় হঠাৎ কোন লোক দর্শন হলে দেখেও যেন দেখে নাই, লজ্জাতে সখিগণ মধ্যে বদন ফিরিয়ে বসে থাকেন।তখন খেলা দূরে যাক, খেলা করেও যেন খেলেন নাই। হে মাধব! তোমার দোহাই দিয়া সত্য কথা বলছি,আজ সে রাধার অপরূপ মূর্তিটি দর্শন করে আমার চমৎকার বোধ হচ্ছে। এইরকম ভঙ্গিমময় মূর্তি
কখনও নয়নে দেখি নাই।
*মুখরুচি মনোহর অধর সুরঙ্গ*
*ফুটল বান্ধুলি কমলক সঙ্গ*
*লোচন জনু থির ভৃঙ্গ আকার*
*মধু মাতল কিয়ে উড়ই না পার*
*** হে কৃষ্ণ! আহা-হা সে রাই রঙ্গিণীর প্রফুল্ল (সহাস্য)মুখরূচি ও রঙ্গিম অধরের শোভা দর্শন করে আমার বোধ হল যেন কমলের সঙ্গে বান্ধুলি পুষ্প সমকালে বিকশিত হয়েছে।(বান্ধুলি ফুল= রক্তবর্ণ পুষ্প বিশেষ,বা দোপহরিয়া ফুল)। সেই বরাননার(সুন্দর মুখ বিশিষ্ট ) নয়ন কমল মধ্যে যেন মধুকর স্থির ভাবে বসে মধুপান করতঃ(করে) মুগ্ধ হয়ে রয়েছে।তার উড়বার শক্তি নাই।
*ভাঙক ভঙ্গিমা থোরি জনু*
*কাজরে সাজল মদন ধনু*
*ভণয়ে বিদ্যাপতি দোতিক বচনে*
*বিকসল অঙ্গ না যায় ধরনে*
***হে মাধব! আশ্চর্যের পর আশ্চর্য এই যে তাঁর নয়ন যুগল অঞ্জনে (কাজলে) রঞ্জিত(চিত্রিত) ও তদুপরি
(তার উপরে) ঈষৎ (সামান্য) ভঙ্গিকৃত ভ্রুযুগল দেখে মনে হয় যেন ভূবন বিজয়ী মদনের ধনু সজ্জিত হয়েছে।দূতী মুখে শ্রীরাধার বয়োঃসন্ধিররূপের কথা শুনে তদভাবাবিষ্ট গীতকর্তা বিদ্যাপতি উত্তর দিচ্ছেন,সেই রমণিমণির অঙ্গে
যৌবনের বিকাশ হওয়াতে আর ধৈর্য্যাবলম্বন করতে পারছেন না।
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
দ্বিতীয় পদ
*শৈশব যৌবন দুহুঁ মেলি গেল*
*শ্রবণক পথ দুহুঁ লোচন নেল*
*বচনক চাতুরি লহু লহু হাস*
*ধরণীয়ে চাঁদ করত পরকাশ*
*মুকুর লেই করে করত শিঙ্গার*
*সখিরে পুছই কৈছে সুরত বিহার*
***শ্রীকৃষ্ণকে সম্বোধন করে দূতী পুন বলছেন, হে মাধব!সো রমণীমণির বয়োঃসন্ধি রূপের কথা তোমাকে বলিয়া শেষ করতে পারিনি, অতএব আবার শুন।তাঁর শৈশবের সঙ্গে যৌবনের মিলন হয়েছে এই বয়োঃসন্ধি সময়ে যৌবনের প্রারম্ভে তিনি অত্যন্ত রূপ লাবণ্য শালিনী হয়ে যেন ভূবনমোহিনী মূর্তি ধারণ করেছেন।তাঁর উপমা দিবার যোগ্য বিধাতা এই জগতে এমন কোনও পদার্থই সৃষ্টি করেন নাই যে তার দ্বারা তোমাকে বুঝিয়ে দিব। সেই নব রঙ্গিণী। শ্রবণ পথে নয়ন নিয়ে চঞ্চল লোচনে দৃষ্টি সঞ্চার করে (লহু লহু) মৃদু মৃদু হাস্য বদনে সখি সঙ্গে (চাতুরি) রহস্য আলাপন করেন। তৎ সময়ে বা সেইসময়ে তাঁর ইন্দু বদনখানি দর্শন করলে বোধহয় যেন অকলঙ্ক পূর্ণ চন্দ্র ভূতলে সমুদিত( উদিত) হয়েছে।তিনি মুকুর (আয়না) করে(হাতে) ধারণ করত (করে) শ্রীমুখ (সিংহার)বেশ বিন্যাস করতে থাকেন ও সখিকে দাম্পত্য বিলাসের কথা বারংবার জিজ্ঞাসা করেন এবং সখিমুখে তার উত্তর শুনে অত্যন্ত আনন্দ অনুভব করেন।
*নিরজনে উরজ হেরই কতবেরি*
*হাসত আপন পয়োধর হেরি*
*পহিল বদরি সম পুন নবরঙ্গ*
*দিনে দিনে অনঙ্গ আগোরয়ে অঙ্গ*
**কোন খেলা ধূলো বিষয়ের কথা শুনলে আনভাবে থাকে ও এদিক ওদিক তাকিয়ে থাকে,অথচ সেদিকে
কর্ণপাত করে শুনে কাউকে বুঝতে দেই না।
*ইথে যদি কোই করয়ে পরচারি*
*কান্দন মাখি হাসি দেই গারি*
*কবি বিদ্যাপতি ভাণে*
*বালা-চরিত রসিকজন জানে*
**তাঁর ঐরকম অবস্থা দেখে যদি কেউ কিছু প্রচার করে তাতে ক্রন্দনমাখা হাসিতে তাকে গালি দিয়া থাকে। উক্ত সখীর ভাবভাবিত গীতকর্তা কবি বিদ্যাপতি নাগরেন্দ্র শ্রীকৃষ্ণের প্রতি লক্ষ্য করে বলছেন, বালিকার চরিত্র একমাত্র রসিকজনই জানেন।
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*বয়োঃসন্ধি অপ্রচলিত পদ*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*না রহে গুরুজন মাঝে*।
*বেকত অঙ্গ,না ঢাকয়ে লাজে*।।
*বালাজন সঞে বাসে*।
*তরুণী পায় তহি পরিহাসে*।।
** নায়ক নায়িকার ( কৃষ্ণ-রাধার) ভাব সংবেত্তা (অনুভাবনীয়) সখীগণের লীলা সম্পাদনের চাতুর্য্যই
রসাস্বাদনের চমৎকারিত্ব।পূর্ব গীতে শ্রীকৃষ্ণের উক্তি শ্রবণে সখী বলছেন--
শ্রীরাধারাণীর ভাব ও বয়স এখনও নায়কের (কৃষ্ণের) উপযোগী এরকম মনে হয় না,এই বাক্যচ্ছলে নাগর শ্রীকৃষ্ণের মন পরীক্ষা করছেন। সেই বালা(রাধিকা) নবযৌবনার ন্যায় গুরুজনগণের আবেষ্টনীর(বেড়া বা ঘেড়ার) মধ্যে থাকে না।বস্ত্র শিথিল হইলে উন্মুক্ত অঙ্গ পুনরায় ঢাকে না। অন্য বালাজন সঙ্গে থাকে।পূর্ব সঙ্গিনী
তরুণী পেলে তার হাবভাব দেখে পরিহাস করে।
*মাধব! পেখলু রমণী*।
*কো কহু বালা কো কহু তরুণী*
*কেলি-রভস যব শুনে*
*অনত হি হেরি, তহি দেই কানে*।।
**সখী বলছেন,মাধব!সেই রমণীকে ঐরকম দেখে আসিলাম।তাকে কেউ বালিকা আবার কেউ তরুণী বলিয়া থাকে।আবার কেলি(লীলা খেলা) বিষয়ক কথা শ্রবণ (শুনলে)অন্যত্র দৃষ্টিপাত করে থাকে অর্থ্যাৎ কোন খেলা ধূলো বিষয়ের কথা শুনলে আনভাবে থাকে ও এদিক ওদিক তাকিয়ে থাকে।(বাকী অংশ পরে)
*শৈশব যৌবন দুহুঁ মেলি গেল।*
*শ্রবণক পথ দুহুঁ লোচন নেল।।*
*বচনক চাতুরি লহু লহু হাস।*
*ধরণীয়ে চাঁদ করত পরকাশ।।*
*মুকুর লেই করে করত শিঙ্গার।*
*সখিরে পুছই কৈছে সুরত বিহার*
*নিরজনে উরজ হেরই কতবেরি।*
*হাসত আপন পয়োধর হেরি।।*
*পহিল বদরিসম পুন নবরঙ্গ।*
*দিনে দিনে অনঙ্গ আগোরয়ে অঙ্গ।।*
*মাধব পেখলু অপরূপ বালা।*
*শৈশব যৌবন দুহুঁ এক ভেলা।।*
*বিদ্যাপতি কহ তুহুঁ অগেয়ানি।*
*দুহুঁ একযোগ ইহ কে কহে সিয়ানি।।*
*অর্থ্যাৎ=দূতী (বিশাখা)পুন বলছেন,* *হে মাধব!সেই রমণী মণির বয়ঃসন্ধি রূপের কথা তোমাকে বলে শেষ করতে পারব না।* *তবুও সামান্য কিছু বলি আস্বাদন কর।* *তাঁর শৈশবের সঙ্গে যৌবনের মিলন হয়েছে।* *এই* *বয়ঃসন্ধি সময়ে যৌবনের প্রারম্ভে* *তিনি অত্যন্ত রূপ লাবণ্য শালিনী হয়ে যেন ভূবন মোহিনী মূরতি ধারণ করেছেন।* *তাঁর উপমা দেবার যোগ্য বিধাতা এই জগতে এমন কোন পদার্থই সৃষ্টি করেননি, যে তার দ্বারা তোমাকে বুঝিয়ে দিব।* *সেই নব রঙ্গিনী।* *এখন শ্রবণ পথে নয়ন নিয়ে চঞ্চল লোচনে দৃষ্টি সঞ্চার করে (লহু লহু)মৃদু মৃদু হাস্য বদনে সখি সঙ্গে (চাতুরি)রহস্য* *আলাপন করেন।* *তৎসময়ে তাঁর ইন্দু বদনখানি দর্শন করলে মনে হয় যেন অকলঙ্ক পূর্ণ চন্দ্র ভূতলে উদিত হয়েছে।* *তিনি মুকুর(আয়না)করে (হাতে) ধারণ করতঃ (করে)শ্রীমুখ (সিংহার)বেশ বিন্যাস করতে থাকেন ও সখিকে দাম্পত্য বিলাসের কথা বারংবার জিজ্ঞাসা করেন এবং সখির মুখে তার উত্তর শুনে অত্যন্ত আনন্দ অনুভব করেন বুঝলে মাধব?* *আরও কি জান?তিনি নির্জনে নিজ* *বক্ষ পুনঃপুন দর্শন করেন।* *আর পাগলিনীর ন্যায় নিজে নিজেই হাসতে থাকেন।* *সেই অপরূপা মোহিনীর অঙ্গখানি অনুদিন (রোজ রোজ) অনঙ্গে (আগোর) অধিকার করছে।* *হে মাধব!সেই বালা রমণীর অপরূপ রূপ (পেখলু)দর্শন করলাম,* *তাঁর শৈশব ও যৌবন একত্র মিলিত হয়েছে।* *দূতী মুখে (দুহুঁ একযোগ)এই বাক্য শ্রবণ করে তদভাবাবিষ্ট গীতকর্তা বিদ্যাপতি দূতীকে সম্বোধন করে উত্তর দিচ্ছেন,* *হে (অগেয়ানি)অজ্ঞানী,* *একরসে অন্যরস সংস্থাপন (যোগ) করলে যে রসাভাস দোষ হয়।* *তোমার কি রস বোধ নাই?* *তোমাকে (সেয়ানি)রসিকিনী কে বলে।* *শৈশব, যৌবনে যোগ হয়েছে,এইরকম কথা না বলে যদি কেবল নবযৌবনী বললেই শ্রুতি মধুর ও রসের পোষ্টতা হত।*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
এই লিখনী 📚 PDF 📚 👉🌐 https://drive.google.com/file/d/1W6ya_-gIR3PNDoR7d-4mPy14VgSq8qVD/view?usp=drivesdk
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীকৃষ্ণ লীলা 🙏 সূচীপত্র ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏 SRI KRISHNA LILA 🙏
🙏 SRI JOYDEB DAWN 🙏






