✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীমন্মহাপ্রভুর বাল্যলীলা ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*পিতা জগন্নাথ ডাকলেন,নিমাই!বাবা,ঘরের ভিতর থেকে আমার পুঁথিখানা নিয়ে এস তো।* *কোন পুঁথি কে জানে,শিশু নিমাই চললেন ঘরের দিকে। এ কি,নিমায়ের পায়ে নূপুর এলো কোত্থেকে!কই,না,শচীদেবী ত্রস্ত-ব্যস্ত হয়ে উঠলেন,তার পায়ে নূপুর নেই তো!* *তবে কেন বাজছে এই রুণুঝুনু!জগন্নাথও চঞ্চল নয়নে তাকাতে লাগলেন চারিদিক।* *দেখ,দেখ যেমন পা পড়ছে তেমনি শব্দ ঝরছে তালে তালে।ঘর তো ফাঁকা।তবে নিমাই ছাড়া কার এই ঝঙ্কার!* *বাপের হাতে পুঁথি দিয়েই নিমাই চলে গেলেন খেলতে।দ্রুত পায়ে ঘরে ঢুকলেন জগন্নাথ,শচীদেবীও অনুগমন করলেন।* *এ কি অদ্ভুত দৃশ্য!ঘরের মেঝেতে তিন চিহ্ন ফুটে আছে, ধ্বজ,বজ্র আর অঙ্কুশ।* *বিষ্ণুর তিন পদচিহ্ন।এ কে রেখে গেলেন!"ঘরে দামোদর শিলা" শচীকে মনে করিয়ে দিলেন জগন্নাথ,তিনি ভাবলেন এ তারই কান্ড।* *মনে ভাবলেন তাই হবে হয়ত।সরল বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে রইলেন শচীদেবী।* *পঞ্চগব্যে স্নান করাও শিলাকে,নিজে গিয়ে পরমান্ন রান্না কর,আদেশ করলেন জগন্নাথ।* *বললেন,স্নান ও আহারের খুব ভাল আয়োজন হয়েছে দামোদরের,পাশে নিমাই সব শুনছিলেন,কথা শুনে মনে মনে হাসলেন।* *আমাকে কে খাওয়ায়!সকালের রোদ প্রায় দুপুরে এসে ঠেকল,আমাকে কে স্নান করায়,আমি বন্ধুদের সঙ্গে ধূলোখেলা নিয়েই মেতে থাকি।* *এবারে শচীমা ডাকছেন আকুল হয়ে,নিমাই "ওরে নাইবি-খাবি আয়"* *নিমাই গ্রাহ্যও করে না।* *মা বলছেন,ওরে,রোদে তোর মুখ যে শুকিয়ে গেল,আহা রে সোনার অঙ্গ কালি হয়ে গেল,শচীমা আবার ডুকরে উঠলেন;বাড়ী আয়,তোর খাবার বেলা যে বয়ে গেল ---,*
*কে আর কাকে ডাকে----------*
*মা বলছেন,তুই কেমনতর ছেলে,তোর খিদে তেষ্টা পাই না?* *নিমাই মনে মনে হাসে,আর বলে,তোমাদের তো দামোদরই আছে,তাকে খাওয়াও গে।* *ছেলেকে ধরবার জন্যে হাত বাড়ায় শচীমা,নিমাই ছুট দেয়।সাধ্য কি তুমি আমাকে ধরো,আমি তো ঘরবন্দী পাথরের টুকরো নই।* *যখন ধরা দিল না,তখন শচীমা কাঁদতে লাগলেন।নিমাই মায়ের চোখের জল দেখতে পারেন না,গুটি গুটি পায়ে এসে চুপি চুপি ধরা দেয়।* *""এক তৈথিক ব্রাহ্মণ এসেছেন জগন্নাথের বাড়ীতে,গলায় ঝুলছে "বালগোপালের"মূর্তি,মুখে নিরবধি কৃষ্ণ-কৃষ্ণ নাম।* *নামই কলিমলমথন,নামই চৈতন্যরসবিগ্রহ,* *নামই ঘনীভূত ব্রহ্ম।""নামকে যে শুধু শব্দ মনে করে সে মূঢ়,যাঁর প্রতিমাকে শিলাবুদ্ধি,গুরুকে মর্তবুদ্ধি,বৈষ্ণবে জাতিবুদ্ধি,চরণামৃতে জলবুদ্ধি ও নাম মন্ত্রে শব্দবুদ্ধি,সেই নিরয়গামী।তার নরকে ঠাঁই হয়।* *"কৃষ্ণ-কৃষ্ণ বলো। কৃষ ধাতুর উপর "ণ"প্রত্যয় করে কৃষ্ণ।* *কৃষি সত্তাবাচক,"ণ" আনন্দবাচক।* *যে নিত্যপুরুষ নিত্য আনন্দের উৎস,সেই কৃষ্ণ।*
*যে জীবহৃদয় কর্ষণ করে ভক্তির বীজ বোনে,সেই কৃষ্ণ।* *কিংবা যে জীবহৃদয় আকর্ষণ করে ভক্তিপথে নিয়ে যায়,সে-ও কৃষ্ণ।* *কৃষি সত্তাবাচক,"ণ"নির্বাণবাচক।* *যে নিত্যপুরুষ সমস্ত কামনা ক্লেশের নিবারক, সেই কৃষ্ণ।* *কৃষির আরেক অর্থ উৎকর্ষ,"ণ"এর আরেক অর্থ সদ্ভক্তি,উৎকৃষ্ট সদ্ভক্তিদাতাই কৃষ্ণ।* *যিনি পাপের নিবৃত্তি করেন ও শত্রুর নিধন করেন, সে-ও কৃষ্ণ।* *এই নাম জপের বিধি কি?এর কোনো বিধি নেই,দেশকালের অপেক্ষা নেই,অধিকারী-অনধিকারীর প্রশ্ন নেই,জাতি ধর্মের বিচার নেই,শুচি অশুচি,উচ্ছষ্ট-অনুচ্ছিষ্ট নেই,নামই নির্নিষেধ,নামই কামিতকামদ।* *কামিত=বাঞ্জিত,কামদ=বাসনা পূরক।* *গোবিন্দরসে দুই নয়ন ঢুলু ঢুলু,ব্রাহ্মণকে দেখে জগন্নাথ কৃতকৃতার্থ।কি ভাবে তাঁকে সসম্ভ্রম সেবা করবেন ভেবে পাচ্ছেন না।নিজের হাতে চরণ ধুয়ে দিলেন,জিজ্ঞেস করলেন,কোথায় আপনার দেশ।* *ব্রাহ্মণ বললেন,আমি দেশান্তরী,আমি উদাসীন,চিত্তের বিক্ষেপে আমি দেশে দেশে ঘুরে বেড়াই।* *আতিথেয়তার উদ্বেল হলেন জগন্নাথ, স্বহস্তে পাক করেন ব্রাহ্মণ,তাঁর রন্ধনের সমস্ত যোগাড় করে দিলেন।* *প্রচুর আয়োজন,ফল-মূল সেবা করে থাকেন,আজ কৃষ্ণের কৃপায় পক্ক অন্নের উপচার।* *রন্ধন সমাপ্ত হয়েছে,গোপালকে অন্ন নিবেদন করছেন,মনে মনে বলছেন,গোপাল সেবা নেবে এসো।* *কোত্থেকে ছুটে এসেছেন নিমাই,বলা-কওয়া নেই,অন্নের স্তুপের মধ্যে হাত ডুবিয়ে দিয়েছেন।শুধু তাই নয়,ব্রাহ্মণ মুখে তুলে নিয়েছেন এক গ্রাস,বলে উঠলেন,হায়!হায়!গেল,গেল চিৎকার করে উঠলেন।* *জগন্নাথ ছুটে এলেন,এ কি কান্ড,সর্ব অঙ্গে ধূলোবালি প্রায় দিগম্বর,নিমাই দিব্যি ব্রাহ্মণের থালা থেকে অন্ন তুলে সেবা করছেন।* *শুধু সেবা করছেন তা নয়,মৃদু মৃদু হাসছেন।* *এ চঞ্চল শিশু ছুঁয়ে সব নষ্ট করে দিল,ব্রাহ্মণ উঠে দাঁড়ালেন আসন থেকে।* *নিমায়ের কান্ড দেখে বাবা নিমাইকে মারতে ছুটলেন,এ কি কদর্যতা?* *ব্রাহ্মণ বললেন ও অজ্ঞান শিশু,ওর কি ভালো মন্দ,শুচি অশুচি বোধ আছে?ওকে মেরে বা বকে লাভ কি?ও যখন এত চঞ্চল,বাড়ীর লোকেদেরই উচিত ছিল ওকে সাবধানে রাধা।*
*🌻ক্রমশ🌻*
*পুত্রের কান্ড দেখে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন।ব্রাহ্মণ বললেন,আপনি কেন দুঃখ করছেন,সবই গোপালের ইচ্ছা।*
*ঘরে যদি ফল মূল কিছু থাকে দিন,তাই-ই তো আমার অভ্যেস।তাই পেয়েই আজকের দিন কাটুক।* *না,না,কিছুতেই না।প্রবল প্রতিবাদ করলেন জগন্নাথ,আমি আবার সব যোগাড় করে দিচ্ছি।আপনি পুনঃ রন্ধন করুন।* *রন্ধনের সব যোগাড় হল,যতক্ষণ না ব্রাহ্মণের রন্ধন ও সেবা না হচ্ছে,এই দুরন্তকে সাবধানে রাখ, শচীমাকে বললেন।* *বেঁধে রাখতে না পারো তো,পাশের বাড়িতে নিয়ে যাও,বন্ধুদের সঙ্গে খেলা করুক।*
*ছেলেকে কোলে নিয়ে চলেছেন শচীমা,পাড়ার ছেলে মেয়েরা বলছে, ছি,ছি,এ কি করলি?অতিথি ব্রাহ্মণের অন্ন ছুঁয়ে দিলি?আমি কি জানি!ডাগর দীঘল চোখে তাকিয়ে নিমাই বললেন,"আমাকে ডাকল কেন?"* *এ আবার কেমন কথা!পরস্পর দেখাদেখি করতে লাগল।* *বলতে লাগল,কোথাকার না কোথাকার ব্রাহ্মণ,কোন কুল কে জানে,তুই উনার অন্ন খেলি?মাঝখান থেকে তোরই জাত গেল,হাসি হাসি মুখে নিমাই বললেন,"আমি তো গোয়ালা"বামুণের অন্ন খেলে কি গোয়ালার জাত যায়?* *তারা বললে,এ আবার কি অসম্ভব কথা!শচীমায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে, ও যে ব্রাহ্মণের সন্তান এটুকুও ওকে শেখাওনি। *বেলা ঢলে পড়েছে,দ্বিতীবারের জন্য রন্ধন শেষ করলেন ব্রাহ্মণ।* *শুদ্ধমনে নিরিবিলিতে আহারে বসেছেন আরবার,ধ্যানে বালগোপালকে ভাবছেন,বলছেন, গোপাল অগ্রভাগ গ্রহণ কর।* *চিত্তের ঈশ্বর গৌরচন্দ্র শুনতে পেয়েছেন,দ্রুতগতিতে ছুটে চলে এসেছেন ব্রাহ্মণের কাছে,তাঁর মুদিত নয়ন খোলবার আগেই নিমাই থালা থেকে তুলে নিয়েছেন একমুষ্টি অন্ন।* *শুধু তুলে নেননি,একেবারে মুখের মধ্যে পুরে দিয়াছেন। হায়!হায়!আবার এসেছে,আবার ছুঁয়েছে,আর্তনাদ করে উঠলেন ব্রাহ্মণ।* *আর্তনাদ শুনে জগন্নাথ লাঠি নিয়ে তেড়ে এলেন,নিমাই ছুট দিলেন।* *শাসন বারণ মানেন না,মানবে কেমন করে?ব্রজের কানাই ছিল যে,নদের নিমাই হল সে।* *এ কি দুর্দান্ত অনাচার!ওকে আজ মাবই মারব।ক্রদ্ধ পায়ে জগন্নাথ পিছু নিলেন।* *পাড়ার লোকজন ধরে ফেলল জগন্নাথকে, বললেন,দুই-দুইবার অতিথির অন্ন নষ্ট করেছে!আমাকে ছাড়,ওকে আজ আমি উচিত শিক্ষা দিব।* *কিছুতেই ছাড়ব না।* *রসের পাত্র হলেই রসিক নাগরকে চেনা যায়,বাৎসল্য,বা অন্য ভাবে তাঁকে চেনা যায় না গো* *অবোধ বালককে মেরে তোমার সাধুত্বের কী বাহাদুরি হবে!সকলে বারণ করল জগন্নাথ কে।* *আর মারলেই বা শিখবে কে?শিখলেই বা লাভ কি?ব্রাহ্মণের অন্ন তো আর শুদ্ধ হবে না।* *ব্রাহ্মণও সুর মেলেলেন,বললেন,মিশ্র,যেদিন যা হবার তাই হবে,কৃষ্ণ আমার জন্যে আজ অন্ন মাপেন নাই,তা-না হলে দু-দুবার ফেলা যাবে?* *তুমি যা পার ফল মূল আমাকে কিছু দাও,না পার যদি উপবাসে থাকব।* *আমার গোপালও উপবাসে থাকবে।* *হঠাৎ কে এক কিশোর সামনে এসে দাঁড়াল,সর্ব অঙ্গে নিরুপম লাবণ্য,স্কন্ধে যজ্ঞসূত্র,মূর্তিমন্ত ব্রহ্মতেজ,কে এই বররুচি?মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রইলেন।* *এ কে!কার সন্তান?জিজ্ঞাসা না করে থাকতে পারলেন না।* *বা, এ তো মিশ্রেরই সন্তান,বড় বিশ্বরূপ,বললেন কে একজন,"দুরন্তের বড় ভাই প্রশান্ত।* *দেখলেই যেন নয়ন মন আনন্দে ভরে উঠে।* *ব্রাহ্মণ বললেন,যাদের এমন পুত্র,ধন্য সেই পিতা-মাতা।* *সব শুনলেন বিশ্বরূপ,বললেন,আপনি আমাদের অতিথি,এ আমাদের মহৎ ভাগ্য।* *কিন্তু আপনি উপবাস করে থাকবেন এ দুঃসহ,তাতে আমাদের ঘোর অমঙ্গল হবে।* *ব্রাহ্মণ বললেন,আমি বনবাসী,ফল মূল খেয়েই দিন কাটে।* *কদাচিৎ অন্ন জোটে।দেখলে তো আজ তিনি জুটিয়েও জোটালেন না।* *দু-দুবার রন্ধন করলাম,দুইবারই পন্ড হল।* *সবই কৃষ্ণের ইচ্ছে।তোমার ঘরে যদি কোটি ভক্ষ্যদ্রব্যও থাকে,যদি কৃষ্ণ আজ্ঞা না হয়,সাধ্য কি তুমি তা পাবে?* *তোমাকে দর্শন করেই,আমার সন্তোষ হল ও ভোজন হল।* *না,না,কিছুতেই না,আপনাকে পুনঃ রন্ধন করতে হবে,বিশ্বরূপ চরণ ধরে বললেন,আপনি করুণাসিন্ধু,পরদুঃখে আপনি কাতর,পরসুখই আপনার পরমসুখ।* *সুতরাং আমাদের সন্তোষের জন্যে আপনি আবার রন্ধন করুন।* *আমি নিজের হাতে সব যোগাড় করে দিচ্ছি।* *কিন্তু ভয়ে ভয়ে তাকালেন ব্রাহ্মণ, কিন্তু ঐ দুরন্ত শিশুর কী হবে?ওকে আমি সামলাব,* *ও আমার বাধ্য,অনুগত,আমি না বললে* *কিছুতেই আসবে না এদিকে।তা ছাড়া* *বিশ্বরূপ বললেন, নিশ্চিন্ত আশ্বাসে,' এখন সন্ধ্যে হয়ে গেছে,খেলা ছেড়ে বাড়ি ফিরেছে নিমাই,এবার ঘুমিয়ে পড়বে বিভোর হয়ে।* *নিমাই ঘুমিয়ে পড়লে একতাল কাদা হয়ে যায়,বললেন শচীমা।* *তখন কে বলবে নিমাই আমার চঞ্চলের শিরোমণি।* *রাঁধতে রাঁধতে রাত হয়ে গেল ব্রাহ্মণের, নিমাই মায়ের পাশে ঘুমিয়ে পড়েছেন, নিদ্রার সরোবরে ফুটে আছে একটি শান্তির শ্বেতপদ্ম।* *যাক,নিশ্চিন্ত হয়েছেন সকলে, তবু বলা যায় না,"অধিকন্তু ন দোষায়" আরো নেওয়া যাক সতর্কতা।* *দুই ঘরের মাঝ দুয়ারে বসলেন মিশ্রবাবু,বললেন বারদুয়ার বেঁধে রাখ দড়ি দিয়ে,কোন ফাঁক দিয়েই যেন বেরুতে না পারে।* *শচীমা বললেন,আমিও আমার হাত দিয়ে চেপে ধরে আছি।* *চারদিক দিয়েই সবাই ঘিরে রেখেছে নিমাইকে।* *অন্ন-ব্যঞ্জনের থালা নিয়ে ব্রাহ্মণ বসেছেন আহারে,* *নয়ন বন্ধ করে গোপালকে ধ্যান করছেন, নিবেদন করছেন কৃপালব্ধ অন্নের অমৃত।* *(আমার কি আছে তোমাকে দিতে পারি,তুমি যে আমাকে অকৃপণ কৃপা করছ আমার শুধু আছে এই অনুভব।* *এই অনুভবটুকুই তুমি নাও গোপাল,এই অনুভবটুকুও তোমার কৃপা।* *তোমার কৃপাতেই আমার ভক্তি,ভক্তি হয় কিসে?তোমার কৃপাতেই ভক্তি।* *তোমার কৃপাতেই সুখসারসর্বস্ব,সারঙ্গরঙ্গদা।* *ধীরে ধীরে সর্বত্র নিদ্রার আবেশ নামল,অচেষ্ট ঘুমে আচ্ছন্ন হলেন সকলে।নিমাই উঠে এসে দাঁড়ালেন ব্রাহ্মণের সামনে,হঠাৎ হাত দিলেন অন্নের থালিতে,হায়!হায়!হায়!বিপ্র চিৎকার করে উঠলেন, কিন্তু শোনে কে? সবাই ঘুমে অচেতন।* *হায় হায় করছ কেন?নিমাই ধমক দিয়ে উঠলেন।* *কেন তবে ডাকছ আমাকে?কেন তবে অন্ন ব্যঞ্জন নিবেদন করছ?* *তোমাকে ডাকছি? তোমাকে নিবেদন করছি?মূঢ়ের মত তাকিয়ে রইলেন বিপ্র।* *তবে আর কাকে?আমাকে ভক্তিভরে ডাকছ বলেই তো আমি থাকতে পারছি না।* *বারে বারে তোমার কাছে ছুটে আসছি।বিপ্র বললেন,কে তুমি?কে আমি?নিমাই অষ্টহাত মেলে দাঁড়ালেন,বিপ্র দেখলেন,এ কি বিভূতি!একহাতে ননী,আরেক হাতে তুলে তুলে খাচ্ছেন নিমাই।* *আর দুই হাতে বাঁশী বাজাচ্ছেন,আর বাকী চারহাতে শঙ্খ,চক্র,গদা ও পদ্ম,শিরে শিখিপুচ্ছ,* *চরণে রতন নূপুর,বুকে কৌস্তুভ,গলায় বৈজয়ন্তী।* *আর এ কী!পেছনে কদম্ব বৃক্ষ,গোপ-গোপী,গাভী আর নীলাঞ্জনা যমুনা।আনন্দে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন বিপ্র।* *গৌরহরি বিপ্রের অঙ্গে হাত রাখলেন,বিপ্র চেতনা পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে চরণ ধরলেন,নিমাই বললেন,আজ যা দেখলে,তা কাউকে বোলো না।*
ক্রমশ
*এই রূপ কেবল তোমাকে দেখালাম,কেন?তোমার প্রেমভক্তিই তোমাকে এই রূপ দর্শনের অধিকারী করেছে।* *এ আখ্যান শুধু ভক্ত আর ভগবানের।* *এক মুষ্ঠি অন্ন মুখে তুললেন নিমাই,তারপরে ধীরে ধীরে সেখান হতে চলে গেলেন।* *মায়ের পাশে এসে শুয়ে পড়লেন।* *রাত্রে আচমকা সকলের ঘুম ভেঙ্গে গেল,দেখলেন,বিপ্র তৃপ্তির সহিত আহার করছেন,নয়নভরা জল, প্রসাদ যেন অমৃতের স্থাদে ভরা।*
*"মন্মনা ভব মদ্ভক্তো মদযাজী মাং নমস্কুরু" শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন,শুধু আমাতে মন অর্পণ কর,আমার ভক্ত হও,যজন কর আমার,আর প্রণাম করো আমাকে।* *আমি প্রতিজ্ঞা করে বলছি,শুধু তাতেই আমাকে পাবে।* *তুমি যে আমার স্বভাবপ্রিয়।* *কেবলমাত্র ভক্তিতেই হবে,কর্ম,যোগ ও জ্ঞান কিছুরই ভক্তি অপেক্ষা রাখে না।* *সে স্বতন্ত্র, স্বসম্পূর্ণ। বৈরাগ্যে যা হবে,জ্ঞান ধ্যানে যা হবে,যা হবে তীর্থে,ব্রতে,দানে ও পূণ্যে,তা একমাত্র ভক্তিতেই ফলনীয়।* *একমাত্র ভক্তিতেই ঈশ্বর বশংবদ।ভক্তির সাধনে কিছুই লাগে না,না জ্ঞান,না বৈরাগ্য,না অন্যতর অনুসঙ্গ।* *"জ্ঞান বৈরাগ্য ভক্তির কভু নহে অঙ্গ"।* *ভক্তি অন্যনিরপেক্ষ। বেদে পারঙ্গত,যে বা সর্বশাস্ত্রার্থবিদ,সেও যদি সর্বেশ্বরে ভক্তিযুক্ত না হয়,সে পুরুষাধম ছাড়া কিছু নয়।* *ভক্তিতে জাতি কুলের বিচার নেই, ভক্তি সার্বত্রিক,হোক সে কিরাত, হূন বা অন্ধ,পুলিন্দ বা পুক্কস,আভীর বা যবন,সেও যদি ভক্তিকে আশ্রয় করে বা ভক্তকে আশ্রয় করে,সেও শুদ্ধ হয়ে উঠে।* *শুধু মানুষ কেন,কীট পতঙ্গ পশুও হরিতে সংন্যস্তকর্মা হলে উর্ধগতি লাভ করে।*সাধু ভজন করবেন এ আর বেশী কথা কি!সুদুরাচারও যদি অনন্যভাক হয়ে আমাকে ভজনা করে,শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন,তাকেও সাধু বলে জানবে।* *ভক্তিতে স্থান-অস্থান নেই। "ন দেশো নিয়মস্তত্র ন কালনিয়মস্তথা।" যেখানে খুশি হাটে ঘাটে মাঠে ভবনে শ্মশানে ভজন করলেই হল।* *প্রহ্লাদ করেছিলেন মাতৃগর্ভে,ধ্রুব শৈশবে,অম্বরীষ যৌবনে,যযাতি বার্ধক্যে,অজামিল মৃত্যুকালে,চিত্রকেতু মরণান্তে।*
*আর যে কোন অবস্থায়,নরকে বসেও যদি হরিনাম করা যায়,নরক স্বর্গ হয়ে ওঠে। শ্রীনামসংকীর্তনই শ্রীকৃষ্ণভজন।*
*হরি হরি হরিবল,জয় নিতাই*
*🌻🌻🌻বিরাম🌻🌻🌻*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা-ইংরেজ বাজার, জেলা-মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ-৭৩২১০১
📱 +91 70011 38871
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
লীলা কীর্তন PDF 📚 ভবিষ্যতে আরো PDF এই লিঙ্কে আপলোড করা হবে।👉 https://drive.google.com/drive/folders/1j7S6jqXPssNeUbC2Fq9lPJbN2vFwfWn3
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম।
ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ *••••┉━❀꧁ রাধে রাধে ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ জয় শ্রীশ্রীজগন্নাথ ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁জয় শ্রীশ্রীরাধাকান্ত꧂ ❀━┅••••*
শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী
শ্রীগুরুদেব(আশ্রিত)-বৈষ্ণব কুলতিলক আচার্য্যপ্রবর মহান্ত মহারাজ শ্রীল ধ্যানচন্দ্র দাস গোস্বামী (শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর অপ্রকট লীলায় শ্রীগম্ভীরা মন্দিরে ঊনবিংশ পীঠাচার্য্য, শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ - শ্রীশ্রীগম্ভীরা, শ্রীধাম পুরী), মধবাচার্য্য(ব্রহ্ম) সম্প্রদায়,বক্রেশ্বর পরিবার(শ্রীতিলক সেবা- শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর শ্রীচরণ), তুঙ্গবিদ্যা সখী,পশ্চিম দ্বার, লবঙ্গ মঞ্জুরী ( সনাতন গোস্বামী)।
*••••┉━❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀━┅••••*
শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম। নিবাস-গিরিরাজ ভবন, উত্তর নারায়নপুর, ভালীয়া, আরামবাগ, পশ্চিমবঙ্গ।
••••┉━❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀━┅••••
📚 *PDF গ্রন্থ* 📚
👉 https://www.facebook.com/groups/SriMrinmoyNandy 👉 https://drive.google.com/folderview?id=1_2ZHIyZKJeOOLMK0uLv53SkpMNgyi6eR
Whatsapp Group 👉 https://chat.whatsapp.com/KaxjcTegzmy9y1DJzQjIFI
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
