✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৪৪. মা জাহ্নবার পালিত পুত্রদ্বয় 🍀 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori44.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 ꧂❀•*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
**(৪৪)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*মা জাহ্নবার পালিত পুত্রদ্বয়*
<><><><><><><><><><><>
*🪷দয়ালপ্রভু নিতাইচাঁদ পত্নীর এই অকাল মৃত্যুতে ব্যথিত হয়ে বারো দিনের বয়স্ক সেই শিশু সন্তানটিকে নেজ কোলে করে তাঁর শ্রীপাট খড়দহে নিয়ে আসেন যা বৃন্দাবন দাস ঠাকুর বিরচিত "শ্রীচৈতনচন্দ্রোদয়" গ্রন্থে পাওয়া যায়।যথা=*
*🌷দ্বাদশ দিনের হইলে আমার প্রভু লইয়া গেলা।*
*🌷যত্ন করি পুত্র ভাবে পালন করিলা।।*
*🌹এইভাবে শিশু সন্তানটিকে খড়দহে নিয়ে এসে নিত্যানন্দ প্রভু মা জাহ্নবার হাতে সমর্পণ করেন এবং তিনিই তাঁকে অপত্যস্নেহে বা নিজপুত্রস্নেহে লালন পালন করেন এবং "শিশু কৃষ্ণদাস" এই নামকরণ করেন এবং পরে তাঁকে দীক্ষাদানও করেন। মা জাহ্নবা তিনবার ব্রজধামে গমন করেছিলেন এবং এই তৃতীয় যাত্রায় গমন করে তিনি কাম্যবনে প্রকট লীলা সাঙ্গ করেন।একবার মা জাহ্নবা এই শিশু কৃষ্ণদাসকে বাল্যকালে শ্রীধাম বৃন্দাবন নিয়ে যান এবং কৃষ্ণভক্ত এই বালকটি শ্রীমদনমোহনের মন্দির প্রাঙ্গণে মদনগোপালের আবেশে নূপুর পরে নৃত্য করে তদানীন্তন বা তখনকার ব্রজবাসীগণকে মধুর মুরলী ধ্বনিতে মুগ্ধ করে দেন এবং সেইদিন সেইক্ষণে শ্রীজীব গোস্বামীপাদও তা দর্শন ও শ্রবণ করে এই বালকের ভবিষ্যৎ জীবন সম্বন্ধে অনেক আশা পোষণ করেছিলেন।এই প্রসঙ্গটি শ্রীপাদ বৃন্দাবন দাসঠাকুর তাঁরই রচিত "চৈতন্যচন্দ্রোদয়" গ্রন্থে কিভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন আস্বাদনের জন্য দেওয়া হল।*
*🌷কিশোর বয়স যখন তখন বৃন্দাবনে।*
*🌷মহা অনুভব তার দেখিয়াছি নয়নে।।*
*🌷সঙ্কীর্তনে অদ্বিতীয় মদন গোপাল।*
*🌷মণিহার কন্ঠে শোভে দোলে বনমাল।।*
*🌷মুরলীর রবে সভার হরিলেন চিত।*
*🌷ব্রজবাসী বলে কানাই হইল প্রতীত।।*
*🌷শ্রীজীব গোস্বামী আদি ব্রজবাসীগণ।*
*🌷দেখিয়া তাহার রূপ করিলা স্তবন।।*
*🌷সেই হতে নাম হইল শ্রীকানু ঠাকুর।*
*🌷কি আর বলিব তাঁর মহিমা প্রভুর।।*
*🌻বালকের এই অত্যদ্ভূদ্ ভাববিকার লক্ষ্য করে শ্রীজীব প্রমুখ বৈষ্ণব মহান্তগণ তাঁকে "উজ্জ্বল গোপাল" উপাধিতে ভূষিত করলেন। ব্রজে এইরকম একদিন নৃত্য করবার সময় হঠাৎ তাঁর ডান চরণের নূপুর হারিয়ে যায় কিছুতেই তা খুঁজে পাওয়া যায় না।এই সময় তিনি ভাবাবেশে তিনি বলেন যে জায়গায় এই নূপুর পড়েছে তা আমি জানি এবং আমি সেই জায়গায় গিয়ে শ্রীপাট স্থাপন করব।ইহা দ্বারা তিনি ইঙ্গিতে এইই বুঝাতে চাইলেন যে তাঁর পূর্বপুরুষ সেবিত প্রাণবল্লভ বিগ্রহ যে জায়গায় আছেন সেই বোধখানায় তিনি তাঁর শ্রীপাট স্থাপনা করবেন। এই "বোধখানা" হচ্ছে যশোহর জেলার অন্তর্গত এবং এটি হচ্ছে তাঁদের আদি পূর্ব পুরুষের বাসস্থান যদিও তাঁর পিতা "সুখসাগরে" শ্রীপাট স্থাপনা করেছিলেন।*
*🌹কথিত আছে কানু ঠাকুর তাঁর শেষ জীবনে সকলের অজ্ঞাতে বোধখানা ত্যাগ করে মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত গড়বেতা গ্রামে এক পর্ণকুটীরে থেকে কঠোর সাধন ভজনে নিজেকে সমাহিত রাখতেন। এই সময় একদিন শীলাবতী নদীতে স্নান করবার সময় এক মৃতদেহ তাঁর পাদস্পৃষ্ট হয় এবং তিনি তা উঠিয়ে দেখেন তা এক সুন্দর ব্রাহ্মণ কুমারের প্রাণহীন দেহ।তখন তিনি সেই মৃতের কর্ণে মহামন্ত্র প্রদান করতেই মৃতদেহে প্রাণ সঞ্চার হয় এবং পুনর্জন্ম লাভ করে সেই ব্রাহ্মণ কুমার পূর্বস্মৃতি ফিরে পান এবং নিজ বংশ পরিচয় প্রদান করেন। বলেন যে তাঁর আদি নিবাস বাঁকুড়া জেলার গড়সিমলাপাল গ্রামে। হঠাৎ কোন ব্যাধিতে তাঁর মৃত্যু হওয়ায় তাঁর আত্মীয়স্বজন দাহ না করেই নদীর জলে ভাসিয়ে দেন এবং পরে মহৎকৃপা প্রভাবে নবজীবন লাভ করেন। কানু ঠাকুর তাঁকে "রাম" বলে ডাকতেন।পরে এই সংবাদ বাঁকুড়ায় পৌঁছলে তাঁর নিজজনেরা তাঁকে সংসার আশ্রমে ফিরে নিবার জন্য আগমন করেন কিন্তু শ্রীরাম তাঁদের কথায় কর্ণপাত না করে আজীবন কানু ঠাকুরের আনুগত্যে থেকে সাধন ভজনের মনোভাব প্রকাশ করেন।অদ্যাপি শ্রীরামের বংশধরগণ গড়বেথায় কানু ঠাকুরের পদাঙ্কিত ভূমিতে বসবাস করে সেবাকার্য্য চালিয়ে যাচ্ছেন।কানু ঠাকুরের আবির্ভাব যেমন অলৌকিক তাঁর তিরোভাবের সহিতও তেমনি অলৌকিক কাহিনীর ইতিহাস জড়িত।এই সব সিদ্ধ মহাপুরুষগণ নিজেরাই তাঁদের অপ্রকটের দিনক্ষণ সব বুঝতে পারেন। সেই হিসাবে তিনি সব ব্রাহ্মণ বৈষ্ণব মহান্তগণকে নিমন্ত্রণ করে মালসাভোগ আপ্যায়িত করেন। নিমন্ত্রিতের মধ্যে কয়েক মূর্তি আম ও কাঁঠাল প্রসাদ পাবার বাসনা প্রকাশ করেন। তখন কিন্তু আম ও কাঁঠালের অসময়। আম ও কাঁঠাল গাছে নাই, তথাপি তিনি তাঁর গুরুদেব মা জাহ্নবাকে স্মরণ করে প্রিয়শিষ্য রামকে সঙ্গে করে শীলাবতী নদীর তীরে এক আমের বাগানের দিকে অগ্রসর হন। হঠাৎ শীলাবতী নদীতে বন্যা এসে নদীর স্রোত এবং গতি পরিবর্তন করে দেয় যার ফলে এপারের আমবাগান নদীর উপরে হয়ে যায়। মহাশক্তিধর কানাই ঠাকুর তখন সেই খরস্রোতা নদীর উপর তাঁর উত্তরীয় বিছিয়ে শিষ্যসহ জলের উপর দিয়ে হেঁটে সেই নদী পার হন এবং পরিশেষে সেই আম বাগানে এসে পৌঁছান।গাছে তখন প্রকৃতির নিয়মে কোন আম কাঁঠাল নাই। কিন্তু সিদ্ধ মহাত্মাগণের ইচ্ছায় সবই সম্ভব হয়। তিনি সেই বৃক্ষের কাছে আম ও কাঁঠাল পাওয়ার মনোবাসনা প্রকাশ করলে বৃক্ষগণ তাঁর আদেশ পালন করে এবং গুরুশিষ্য উভয়ে মিলে পর্য্যাপ্ত পরিমাণে সুপক্ক আম কাঁঠাল নিয়ে এসে অতিথিগণকে প্রাণ ভরিয়ে সেবা করান।*
*🌼অতঃপর তিনি এই ধরাধাম হতে লৌকিক দেহের অবসান কামনায় ভজনে আবিষ্ট হয়ে পড়েন।সেইদিনটি ছিল শ্রীরাসপূর্ণিমার দিন। ধীরে ধীরে স্মরণ মননের মাধ্যমে লীলাসমুদ্রে বিলীন হয়ে যান এবং এইভাবে নিতাই গৌরের এক বিশিষ্ট (অসাধারণ) পরিকরের ভক্তিময় জীবনের পরিসমাপ্তি মাতৃস্নেহে লালিত পালিত তিনি যে বৈষ্ণব জগতের একজন উজ্জ্বল জ্যোতিষ্করূপে বৈষ্ণব নভোমন্ডলে বিরাজ করবেন এতে অবাক হবার কিছুই নাই কিন্তু দুঃখের বিষয় কয়জন ভক্তি জগতের এইসব সুমধুর কথার খবর রাখেন?*
*(ক্রমাগত)*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
