✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🔙 পূর্ব লীলা 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita4.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪১)শ্রীঅদ্বৈতার্য্যের চরিতসুধা*
*বৈষ্ণব-অপরাধ খন্ডন*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🍀একদিন শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীবাস মন্দিরে বিষ্ণখট্টায় বসে সকলকে বরদান করতে আরম্ভ করলেন। অখিলরসামৃতমূর্তি শ্রীগৌরসুন্দর প্রত্যহই এক এক ভাবে প্রেমের বহু বৈচিত্র্য প্রকাশ করতে লাগলেন।ভক্তগণ যদিও সকলেই গৌরপ্রেমের পাত্র, সকলেই মহাপ্রেমিক, তবুও প্রেমরূপ মহাসমুদ্রের এক এক রত্ন এক এক দিন শ্রীমন্মহাপ্রভু কৃপা করে বিতরণ করেন।সেদিন মহাপ্রভু এক অভিনব প্রেম রত্ন প্রকাশ করলে, ভক্তগণ মহানন্দিত হয়ে সেই অপূর্ব বস্তু শ্রীশচীমাতাকে আস্বাদন করাইতে অনুরোধ করলেন।তখন মহাপ্রভু বললেন,ইহা বৈষ্ণবাপরাধীর পক্ষে সুদুর্লভ।*
*তখন সকলে বললেন, স্বয়ং ভগবান যাঁর গর্ভে অবতীর্ণ হয়েছেন,তাঁর অপরাধ থাকতেই পারে না।তখন গৌরহরি বললেন,শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের কাছে ইঁনার অপরাধ আছে।আমি প্রতিকার-উপায় বলে দিতে পারি, কিন্তু বৈষ্ণব-অপরাধ খন্ডাতে পারি না।যে বৈষ্ণবের কাছে যার অপরাধ আছে,তিনি ক্ষমা করলে তবেই অপরাধ ঘুচে।অন্যের পক্ষে তা সম্ভব না। দুর্বাসামুনির অম্বরীষের কাছে অপরাধ ক্ষমার বিষয় সকলেরই জানা আছে।অতএব অদ্বৈতের চরণের ধূলি শচীমা মস্তকে ধারণ করলে সেই অপরাধ যদি আচার্য্য ক্ষমা করেন,তবে আমি আজ্ঞা করব,তখন তাঁর প্রেমরস আস্বাদন সম্ভব হবে।তখন সকলে মিলে শ্রীঅদ্বৈতের স্থানে গিয়ে সমস্ত বিবরণ বললেন।এইকথা শুনে তখন আচার্য্য বিষ্ণুস্মরণ করে বললেন, তোমরা ওকথা মুখে এনো না।যাঁর প্রেমে বশীভূত হয়ে ভগবান পরমস্বতন্ত্র হয়েও তাঁর গর্ভে আবির্ভূত হয়েছেন,সেই জগন্মাতা বিষ্ণুভক্তির মূর্তিমতী,পরমবৈষ্ণবী শ্রীশচীমায়ৈর কখনও অপরাধের সম্ভাবনা থাকতে পারে?তাঁর দুর্বিজ্ঞেয় তত্ত্ব আমি একটু অবগত আছি বা জানি।যদি সেই অভিন্না দেবকী-যশোদাস্বরূপার "আই"(মা) নাম কেও তত্ত্ব অবগত না হয়েও মুখে বলে,তার সর্বদুঃখ বিমোচন হয়ে যায়।অর্থ্যাৎ তাঁর নামের এত গুণ যে, কেবল না নিলেই সর্বদুঃখ দূর হয়। আচার্য্য বলেছেন, আমি তাঁর পদধূলি পেলে কৃতার্থ হই।ইত্যাদি বলতে বলতে "আই'র" তত্ত্বে আবিষ্ট হয়ে আচার্য্য মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।সময় বুঝে শ্রীশচীমা সেই বাহ্যজ্ঞানহীন অদ্বৈতচার্য্যের পদধূলি মস্তকে ধারণ করলেন।শ্রীশচীমা আচার্য্যের পদধূলি মস্তকে ধারণ করিবা মাত্র বিহ্বল হয়ে বাহ্যজ্ঞানশূন্য হলেন।*
*🌷অদ্বৈতের বাহ্য নাহি--- আইর প্রভাবে।*
*🌷আইর নাহিক বাহ্য -- অদ্বৈতানুভাবে।।*
*🌷দোঁহার প্রভাবে দোঁহে হইলা বিহ্বল।*
*🌷'হরি হরি'-ধ্বনি করে বৈষ্ণবমন্ডল।।*
*🌷হাসে, প্রভু বিশ্বম্ভর খট্টার উপরে।*
*🌷প্রসন্ন হইয়া প্রভু বলে জননীরে।।*
*🌷এখনে সে বিষ্ণুভক্তি হইল তোমার।*
*🌷অদ্বৈতের স্থানে অপরাধ নাহি আর।।*
*🌷শ্রীমুখের অনুগ্রহ শুনিয়া বচন*।
*🌷জয়-জয়-হরিধ্বনি হইল তখন।।*
*🌷জননীর লক্ষ্যে শিক্ষাগুরু ভগবান।*
*🌷করায়েন বৈষ্ণবাপরাধ-সাবধান।।*
*🌷"শূলপাণি-সম যদি বৈষ্ণবেরে নিন্দে।*
*🌷তথাপিহ নাশ পায়-- কহে শাস্ত্রবৃন্দে।।*
*🌷ইহা না মানিয়া যে সুজন-নিন্দা করে।*
*🌷জন্মে জন্মে সে পাপীষ্ঠ দৈব-দোষে মরে।।*
*🌷অন্যের কি দ্যায়,গৌর-সিংহের জননী।*
*🌷তাঁহারেও "বৈষ্ণবাপরাধ" করি গণি।।*
*🌷বস্তুবিচারেতে সেহ অপরাধ নহে।*
*🌷তথাপিহ "অপরাধ" করি' প্রভু কহে।।*
*🌷ইহারে "অদ্বৈত" নাম কেনে লোকে ঘোষে?*
*🌷"দ্বৈত" বলিলেন আই কোন অসন্তোষে।।*
*(শ্রীচৈঃ ভাঃ মঃ ২২|৪৯-৫৯)*
*🌻পূর্বে মহাপ্রভুর অগ্রজ শ্রীবিশ্বরূপ সর্বক্ষণ অদ্বৈতের সঙ্গ করতেন। কিছুদিন পরে সংসার ত্যাগ করে সন্ন্যাস গ্রহণ করে চলে গেলেন।তখন শচীমা দুঃখিত হয়ে ভাবলেন অদ্বৈতের সঙ্গফলে বিশ্বরূপের বৈরাগ্যের উদয় হওয়ায় সন্ন্যাস গ্রহণ করলেন, কিন্তু বৈষ্ণব অপরাধ ভয়ে কিছুই বললেন না, বিশ্বম্ভরকে পরে পেয়ে সব ভুলে গেলেন।আবার যখন বিশ্বম্ভর ভাব প্রকাশ আরম্ভ করলেন।তখন তিনিও প্রায় সর্বক্ষণ শ্রীঅদ্বৈতের কাছে থাকতে লাগলেন।মহাপ্রভু গৃহে থাকেন না, সর্বক্ষণ অদ্বৈতের সঙ্গে কৃষ্ণকথায় রত।এটি দেখে শচীমা বলেছিলেন যে,আচার্য্য এক পুত্রকে গৃহত্যাগী করিয়েছেন,এক্ষণে আমার যথাসর্বস্ব প্রাণাপেক্ষা প্রিয়তম এই বিশ্বম্ভরকেও বুঝি গৃহত্যাগী করাবেন।এই ভেবে দুঃখে শচীমা বলেছিলেন=*
*🌷কে বলে অদ্বৈত,দৈত এ বড় গোসাঞি।*
*🌻এক পুত্র বাহির করে দিলেন, আবার এই পুত্রকেও ঘরে স্থির রাখছেন না। আমি "অনাথিনী" আমার প্রতি একটু দয়া নাই! জগতের কাছে তিনি "অদ্বৈত", আমার কাছে তিনি "দ্বৈত-মায়া"।মাত্র এই অপরাধ, আর কিছুই নাই*। *এর জন্যই বিশ্বম্ভর তাঁকে অপরাধী সাব্যস্ত করে প্রেম-প্রদানে বিরত থাকলেন।নিজ মাকে লক্ষ্য করে সর্বজগতের শিক্ষাগুরু শ্রীগৌরসুন্দর বৈষ্ণব অপরাধের গুরুত্ব ও তার খন্ডনের উপায় জানিয়ে জীবগণকে বৈষ্ণব অপরাধের হাত থেকে রক্ষা করবার জন্য এই কৌশল প্রপঞ্চিত করলেন।*
*🍀কাজী উদ্ধার লীলায়ও শ্রীঅদ্বৈতার্য্যের এক কীর্তন সম্প্রদায় গঠিত হয়ে মহানগর সংকীর্তনে সংকীর্তন হয়েছিল।কাজী উদ্ধার সময়ে ও তারপরে শ্রীধরের জনপানের সময় আচার্য্য- মহাপ্রভুর সঙ্গী ছিলেন।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪২) শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের বিশ্বরূপ দর্শন*
<><><><><><><><><><><><><>
*🍀একদিন অদ্বৈতাচার্য্য গোপীভাবে ভক্তগণসহ নৃত্য-কীর্তন করতে লাগলেন।তাঁর প্রেমভাব আর থামে না, দুই প্রহর হয়ে গেল, ভক্তগণ কোনরকমে কিছু স্থির করে গৃহে চলে গেলেন।শ্রীবাসাদিও গঙ্গাস্নান করতে চলে গেলেন।অদ্বৈতাচার্য্য একাকী শ্রীবাস-অঙ্গনে গড়াগড়ি দিতে লাগলেন।শ্রীবিশ্বম্ভর তখন নিজ গৃহে।সেখান হতেই অদ্বৈতের আর্ত্তি শুনে, শ্রীবাস অঙ্গনে এসে অদ্বৈতকে নিয়ে বিষ্ণুগৃহে দরজা বন্ধ করে আচার্য্যকে কহিলেন--,আচার্য্য! তোমার ইচ্ছে কি? এবং তুমি কি চাইছ? তখন অদ্বৈত বললেন, "পূর্বে অর্জুনকে যে বিশ্বরূপ দেখিয়েছিলে, তা দেখতে আমার ইচ্ছে হচ্ছে"।তৎক্ষণাৎ আচার্য্য দেখলেন, এক রথ চতুর্দিকে সৈন্য-দলে বেষ্টিত মহা-যুদ্ধক্ষেত্রে বিরাজিত।সেই রথের উপরে শ্যামল-সুন্দর, চতুর্ভূজ শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম ধর অনন্তব্রহ্মান্ডরূপ দর্শন করলেন।চন্দ্র, সূর্য্য,সিন্ধু,গিরি,নদী,উপবন ; কোটি চক্ষু,বাহু,মুখ পুনঃপুনঃ দেখলেন এবং সম্মুখে অর্জুন স্তুতি করছেন।তাঁর বদনগুলিতে যেন মহা অগ্নি জ্বলছে।সেই মুখাগ্নিতে ভগবদ্ বৈমুখ যারা পাপ-পরায়ণ হয়ে শ্রেষ্ঠ ভাগবতগণের নিন্দা বা বিদ্বেষ করে, সেই পাপ-প্রবণ চিত্তগণের মানসিক দুর্বলতা ও কায়িক তান্ডবনৃত্যরূপ মলগুলি শ্রীচৈতন্যদেবের অনুকম্পালব্ধ প্রকৃত অভিজ্ঞতাসূচক চেতনময় কীর্তনাগ্নিতে দগ্ধ হয়,অর্থ্যাৎ যারা বৈষ্ণব নিন্দুক, ভাগবতগণের নিন্দুক তারা মহাপাপের পাপী, তাদের একমাত্র পথ হচ্ছে, শ্রীচৈতন্যদেবের নামকীর্তন করে সমস্ত পাপ হতে মুক্তি হয়। কারণ কর্তৃত্বাভিমান প্রবল হওয়ায় পূর্ণ-বস্তু-দর্শনে জীবের অসামর্থ্য হয়।অতএব এই রূপ দর্শন করতে অন্যে অসমর্থ।আচার্য্য সেই রূপ দেখে, দন্তে তৃণ ধারণ করে কাঁদতে লাগলেন। তখন শ্রীমন্নিত্যানন্দপ্রভু পর্য্যটনসুখে নগরে ভ্রমণ করছিলেন।তিনি মহাপ্রভুর উক্ত প্রকাশের বিষয় জেনে, সত্বর শ্রীবাস-অঙ্গনে এসে বিষ্ণু-গৃহের দরজায় ভীষণ গর্জন করতে লাগলেন।বিশ্বম্ভর নিত্যানন্দের আগমন জেনে দরজা খুলে দিলেন এবং ভিতরে নিলেন।নিত্যানন্দপ্রভু দেখলেন--, পরিপূর্ণতম শ্রীগৌরাবতারের বিশ্বে প্রকাশিত গৌণ-লক্ষণ-রূপ এক অঙ্গ "বিশ্বরূপ" দেখে চোখ বুজে দন্ডবৎ প্রণত হয়ে পড়লেন।মহাপ্রভু নিত্যানন্দপ্রভুকে উঠিয়ে বললেন, তুমি আমার সব অবতারের বিষয়ে সবই জানো। তোমার কৃপায় আমার দর্শন জীবের পক্ষে সুষ্ঠু হয়।তুমি ও অদ্বৈত ভেদ না থাকায় উভয়েই আমার পূর্ণ অবতারীত্ব জ্ঞাত আছ।নিত্যানন্দ ও অদ্বৈতাচার্য্য, মহাপ্রভুকে দেখে মন্দির মধ্যে পরমানন্দে বাহ্যজ্ঞান-শূন্য হলেন।পরে উভয়েই নৃত্যকীর্তন আরম্ভ করলেন।শেষে উভয়ের প্রেম কোন্দল আরম্ভ হল।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৩) অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*অদ্বৈতাচার্য্যের বিশ্বরূপ দর্শনের উদ্দেশ্য*
*********************************
*🍀বিশ্বরূপ তাঁর অপ্রাকৃত প্রেমময় স্বরূপ নহে। সর্ববতার-অবতারী সর্বাংশী শ্রীগৌরসুন্দরের সঙ্গে পার্ষদরূপে বিলাস ও সেবাকারী নিত্য সেব্য-সেবকভাবে লীলাপুষ্টিকারী প্রভুদ্বয়ের লীলাবিলাস বৈচিত্র্য বিশ্বরূপের মধ্যে কিভাবে সংশ্লিষ্ট ও অবস্থিত এবং সেই শ্রীগৌরলীলায় বিশ্বরূপের মধ্যে গৌরকৃপা-কটাক্ষ বৈভব অবলোকন করাই উভয়ের হৃদগত উদ্দেশ্য,যা বর্তমানে শ্রীঅদ্বৈত ও নিত্যানন্দের শুভ উদযোগে ও শ্রীগৌরসুন্দরের কৃপাভিষিক্ত অবস্থার বৈশিষ্ট্য অবলোকন করলেন।মহামহাবদান্যাবতার অনর্পিচর প্রেমোদ্ভাসিত অবস্থা দর্শন করে শ্রীআচার্য্য ও নিত্যানন্দপ্রভু মহাপ্রভুর বৈশিষ্ট্য উপলব্ধি করে ধীরশিরোমণিদ্বয় অধীর হয়ে পড়লেন।শেষে পরস্পর পরস্পরের আকর্ষণীশক্তি ও কারুণ্যগুণে বর্ণনা করার জন্য প্রেম-কোন্দলের আবাহন করলেন।আচার্য্য কহিলেন--, তোমাকে কে আকর্ষণ করিল?আমি তো শ্রীমন্মহাপ্রভুকে আসিবার জন্য সকরুণ আবেদন ও আর্ত্তি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তুমি না আসিলে তো মহাপ্রভু আসিবেন না।তুমি এত করুণাময় যে, তোমার জন্য কারণোদ্ভাসিত জীবগণকে উদ্ধার করার জন্য তুমি নিজেই করুণা করে, আমার প্রতিও করুণা করে আবির্ভূত হয়েছ ; কারণ তুমি চরম গুরু বস্তু,এত গম্ভীর ও মহৎশ্রেষ্ঠ যে,তোমাকে আনিবার শক্তি অনন্তব্রহ্মান্ডে কারও নাই ; এমন কি আমারও শক্তি নাই। অন্যের কথা তো দূরের কথা।তাই তুমি এসে নিজ কারুণ্যগুণে জোর-পূর্বক ভক্তিবিঘ্নরূপ আবরণ ও অর্গল ঘুচিয়ে,জগৎজীবের ভগবদ্দর্শনের স্বরূপ অবগত করিয়েছ। সঙ্কীর্ণদৃষ্টি জীবগণ তাঁকে বিশ্বের অন্যতম জানিলেও,বিশ্ব তাঁর অঙ্গ,এইরকম বিশিষ্টাদ্বৈতদর্শনের পূর্ণত্ব তোমারই পূর্ণ সেবাময়ী দৃষ্টিতে দেখতে পায়।শ্রীমদ্ভাগবত-- বিশ্বের জন্ম-স্থিতি-ভঙ্গ-দর্শনকে ভগবত্তার গৌণ-লক্ষণেরই প্রকাশ বলেছেন।*
*এইভাবে অতি গূঢ় গম্ভীর শ্রীচৈতন্যদেবকে তোমার কৃপা ছাড়া কেউ উপলব্ধি করতে পারে না।অতএব শ্রীগৌরসুন্দরকে জানতে বা তাঁর কৃপা লাভ করতে হলে তোমার কৃপায় একমাত্র সম্বল।তুমি কপট সন্ন্যাসী অর্থ্যাৎ সন্ন্যাসীত্ব তোমার বাহ্য পরিচয়।তুমি জাতির অতীত শুদ্ধ-সত্ত্ব-ভগবৎ-তনু।তা স্বরূপশক্তি প্রকটিত অপ্রাকৃত।প্রকৃতির অধীন তত্ত্ব নহে।তোমার তত্ত্ববিদ্ কোন ব্যক্তি তোমাকে কোন মায়িক জাতীয়ের অন্তর্ভুক্ত বলবে না অর্থ্যাৎ যাঁরা তোমাকে চিনতে পেরেছে, তাঁরা কোনদিনই মায়ার সংসারের যুক্ত বলতে পারে না।এই বৈষ্ণবসভায় তোমার মতো প্রেমোন্মত্ত মহাপুরুষের আবির্ভাব মহাসৌভাগ্যের ও তোমার অহৈতুক কৃপারই নিদর্শন।তুমি যদি সত্বর না যাও তবে এই বৈষ্ণবসভায় সমস্ত ভক্তগণকেও তোমার মতো মাতাল করে তুলবে।এটি জাগতিক "মঙ্গল" মাত্র নহে,পরন্তু মহাপ্রেমের প্লাবন।এইভাবে আচার্য্য নিতাইচাঁদের মহিমা প্রকাশ করলেন, একেই বলছেন "প্রেম-কোন্দল"।*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৪) অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*নিতাইচাঁদ কর্তৃক অদ্বৈত-তত্ত্ব*
****************************
*🍀তখন গৌর প্রেমোন্মত্ত শ্রীমন্নিত্যানন্দপ্রভু ছলে অদ্বৈততত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে লাগলেন।নিত্যানন্দপ্রভু বললেন--,আচার্য্য!তুমি যে আমার এত গুণ বর্ণন করলে,তা অনুচিত!তা-- আমার পক্ষে অতি-স্তুতি মাত্র,আমি তা খন্ডন করতে চাই।কারণ তুমি যে সব কারুণ্যাদি গুণগ্রাম আমার বর্ণনা করলে,তা আমার নহে, তা আমার প্রভুর ; তাঁর শক্তিতে ও প্রভাবে আমি শক্তিশালী ও প্রভাবান্বিত, আমার গৌরব,আমি বিশ্বম্ভরের ভাই। আমি তারকৃপা ও প্রেমে তারজন্য মত্ত।তিনি বৃক্ষদ্বারেও মহৎ কার্য্য করাতে ও স্থাবর ও জঙ্গমকে তাঁর প্রেমে উন্মত্ত বা পাগল করতে পারেন।আমার মূল তাঁর পাদপদ্মে সংশ্লিষ্ট (সম্বন্ধযুক্ত)।এবার তোমার গুণের কথা একটু বলি--, এই দৃশ্যাদৃশ্য জগতের তুমিই উপাদান কারণ।সমস্তই তোমার আশ্রিত।তুমি সকলেরই আশ্রয়দাতারূপে এই জগত সংসারের মহাসংসারী।সমস্ত জীবই তোমার শক্তি ও পুত্রাদি স্থানীয়। অতএব তাদের প্রতি তোমার কৃপা ও আসক্তি-প্রবলতা হেতু তুমি তাদের ভরণ-পোষণ ও পালন করবার জন্য শ্রীবিশ্বম্ভরকে নিয়ে এসেছ।তাই মহামত্ত প্রভু বিশ্বম্ভর নাম ধারণ করে তোমার সংসারে তোমার আশ্রিতবর্গের জন্য আবির্ভূত হয়েছেন।*
*🌷প্রথম লীলায় তাঁর বিশ্বম্ভর নাম।*
*🌷ভক্তিরসে ভরিল,ধরল ভূতগ্রাম।।*
*🌷ডুভৃঞ্ ধাতুর অর্থ পোষণ, ধারণ।*
*🌷পুষিল,ধরিল প্রেম দিয়া ত্রিভুবন।।*
( *চৈঃচঃআঃ=৩|৩২|৩৩*)
*🌹আর আমি পরমহংসপথের আধিকারী বা অবধূত--স্বেচ্ছাচারী। বিষয়গ্রহণ সত্ত্বেও বিষয়-বাধ্য নাই। অতএব জীবের প্রতি আমার কোন দয়ামায়া নাই।তুমিই পরম দরদী। অতএব আমাকে "জীব উদ্ধারকর্তা" ইত্যাদি কথা বলিও না।তুমি আমার যে করুণার কথা বলছ, তাহাও মহাপ্রভুরই।অতএব আমার কোন গুণব্যাখ্যা করলে তা আমি নিতে পারি না, যেহেতু তা আমার কিছুই নেই সবই তিনি।বাহ্য বিচারে সকলে পরমহংসকে সম্মান করে, সুতরাং সে বিচারেও আমার কথা, তুমি আমার গুণবর্ণনা করবে না। তখন অদ্বৈতাচার্য্য নিত্যানন্দ স্বরূপের দৈন্য ও শ্রীচৈতন্য-পাদপদ্মে নিষ্ঠাদি গুণ শুনে আরও মুগ্ধ হয়ে তাঁর বিরোধীগণের প্রতি ক্রোধ প্রকাশ লীলাভিনয় করে বলতে লাগলেন,যে পাষন্ডী এমন কৃষ্ণ-প্রেমময়তনু শ্রীগৌরসুন্দর বিশ্বম্ভরের প্রিয়তম পাত্রকে সন্ন্যাসীর উপযুক্ত না বলে মৎস্য-মাংসাশী বলে নিন্দা করে,তাদেরকে আমি সংহার করব। তাঁর গৌর-প্রেমময়তনু, আচরণ, লীলা ও কৃপাময়ত্ব উপলব্ধি করতে না পেরে প্রাকৃত বিচারে অপরাধ করছে।তিনি কোনও প্রাকৃত বস্তু গ্রহণ করেন না। তাঁর অপ্রাকৃত গূঢ় গম্ভীর লীলার আবরণ উন্মোচন করে,তা আমি প্রকাশ করব,এজন্য আমি আবরণ খুলে দিগবাসী হলাম।আমায়ায় নিত্যানন্দতত্ত্ব প্রকাশ করিব।তাঁকে প্রাকৃতবস্তু বা প্রাকৃতবুদ্ধি মনে করা মহানিন্দা।তিনি নিমিত্তকারণ মহাবিষ্ণুরও অবতারী। তাঁর সৃষ্টিকর্তা বা মাতা-পিতা কেউ নেই।তবে যে রোহিণী-বসুদেব মাতা-পিতা বলে পরিচয় দেন বা গৌরলীলায় হাড়াই পন্ডিতের পুত্র বলিয়া পরিচিত, তা কেবল বাৎসল্য-রসের রসিকাগ্রগণ্যগণকে কৃপাপূর্বক সেবা প্রদানেচ্ছাই জানতে হবে।*
🦚🦚🦚🦚🦚🦚
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৫) অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীমন্নিত্যানন্দের উক্তি*
*************************
*🍀যারা নিন্দুক, বৈষ্ণব-বিদ্বেষী ও প্রাকৃত বুদ্ধিকারীকে আমি সংহার করব, অর্থ্যাৎ তাদের সমস্ত প্রাকৃত বুদ্ধিকে গ্রাস করে ভক্তিপথে আনয়ন করব।সন্ন্যাসীর লক্ষণ বিচারে তিনি সন্ন্যাসী নহেন।ফল্গুবৈরাগীর বা কর্মজড়স্মার্তের বিচার তাঁর যুক্তবৈরাগ্যের অর্থ নির্ণয় করতে অসমর্থ। ধন্য শ্রীবাস পন্ডিত,ধন্য তোমার ভক্তি, তাই তাঁকে অজ্ঞ,অপরাধী,কর্মজড়স্মার্তাদির বিচারাধীনে না দেখে তাঁর প্রকৃত স্বরূপ অবগত হয়ে তাঁর সুষ্ঠু-সেবায় নিযুক্ত হয়ে নিজের আশ্রয়রূপে সেব্যবিচারে সেবা করছ।আমার সে সৌভাগ্য ঘটিল না(নাতাইচাঁদ এই কথাগুলি বলছেন)।তিনি কোথা হতে স্বতন্ত্রেচ্ছাময় কৃপা-পূর্বক কৃষ্ণপ্রেম বিতরণ করার জন্য প্রকাশিত হয়েছেন।তাঁকে কেউ আনতে পারে না।উভয়ের দৈন্যময়ী কলহপ্রতীম কথার দ্বারা তত্ত্ব নির্দ্ধারণ ও প্রকাশপূর্বক ভক্তবৎসল শ্রীগৌরসুন্দরের সুখ-বিধানে তৎপর ও মহাপ্রেমিক।এসব কথা মহাভাগ্যবান ও শ্রীচৈতন্যদেবও তদ্ভক্ত-কৃপাভিষিক্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্যে জানতে পারে না। অন্যে=অজ্ঞব্যক্তিগণ গূঢ়ার্থ বা অন্তরতত্ত্ব ও তত্ত্ব না জেনে, বাইরে কলহ-প্রতীম অপ্রাকৃত কথার তাৎপর্য্য প্রাকৃত বিদ্যা-বুদ্ধিদ্বারা অবগত হতে গিয়ে একের পক্ষ অবলম্বন করে অন্যের নিন্দা করলে সর্বনাশ হবে, অর্থ্যাৎ প্রকৃত তত্ত্ব না জেনে কিছু ব্যক্তি আছে যারা মনগড়া ও কাল্পনিক কথা কথা বলে, কিছু লোক তাদের কথায় তখন বৈষ্ণব নিন্দা করতে থাকে, এবং তাদের পরিণতি সর্বনাশ হয়।বিষ্ণু ও বৈষ্ণবের মধ্যে বিষয়াশ্রয়-ভেদে বিশেষ ধর্মযুক্ত। সুতরাং বিষ্ণুর তাৎপর্য্য ও বৈষ্ণবের তাৎপর্য্য ভেদের বিচারে সমতার পরিবর্তে বৈষম্যের বিচার আহৃত হয় বা আমন্ত্রণ করে।এইরকম বৈষম্য পাষন্ডী ও নিন্দুকগণের মধ্যেই প্রবল, কেন না তারা বিষ্ণু ও বৈষ্ণবের প্রকৃততত্ত্ব না জেনে নিজ নিজ মনগড়া কথা লোকের কাছে বিচার করে। তারা বিষ্ণুসেবা-বর্জিত অহঙ্কারী তাদেরকে "প্রভু" সাজিয়ে বিষ্ণু-বৈষ্ণবের সমতা ও বৈষম্য বিচার করে।তারজন্য বৈষ্ণবমাত্রেরই শ্রীকৃষ্ণচরণ-ভজনে কৃষ্ণের লীলায় প্রবেশ অধিকারের অভেদত্ব জানলে জীবের ভজনের সুষ্ঠুতা হয়।পরিকর-বৈশিষ্ট্য-বিচার-রহিত হয়ে ভগবানের যে নাম,রূপ ও গুণাবলী, তাতে শুদ্ধ বৈষ্ণবসঙ্গ না করায় জীবের ভগবদ্-ভজনের প্রতি রুচি নাই, যাহাও আছে তা লোক দেখান।কোটিতে গুটিকয়েক শুদ্ধ বৈষ্ণব রয়েছেন,তা আবার যত্রতত্র দেখা মিলে না।নিজ ভজন স্থলে প্রায় অষ্টপ্রহর ভজনে রত আছেন। যাইহোক,বিষ্ণুভক্তি রহিত বৈষ্ণবকেই "অবৈষ্ণব " বলা হয়।উষ্ণতা রহিত বস্তুকেই "শীতল" বলা হয়। বৈচিত্র্য বা বিলাস স্বরূপের ধর্ম।বিরূপ-বিচারে স্বভাব ও অভাবের সাম্য বা বৈষম্য, উভয়ই দোষযুক্ত।এই উভয় জড়ীয়-বর্জিত চিন্ময় ভাবের উদয় না হওয়া পর্যন্ত জীবের শুদ্ধা ভাবাভাব সেবা প্রবৃত্তি উদিত হয় না।সেবা-বৃত্তির অনুদয়ে ভগবদ্দর্শন বা ভক্তিতে অবস্থান সম্ভব হয় না।*
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভুর সন্ন্যাসের কথা শুনে,মহাপ্রভুর সঙ্গ ত্যাগ হবে বলিয়া অদ্বৈতাদি ভক্তগণ দেহত্যাগের সঙ্কল্প করলেন।তাঁদের বিলাপ শুনে পাষাণ-কাষ্ঠ পর্যন্ত দ্রবীভূতহতে লাগিল।তখন এক দৈববাণী হল, অদ্বৈতাদি ভক্তগণ!তোমরা এইভাবে দুঃখ করিও না,সকলে মনের সুখে শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করো, সেই প্রভু দুই-চার দিনের মধ্যে তোমাদের সঙ্গ দান করে আগের মতো তোমাদের সঙ্গে বিহার করবেন।এই দৈববাণী শুনে,ভক্তগণ দেহত্যাগ সঙ্কল্প ত্যাগ করে মহাপ্রভুর গুণ ও লীলা আশ্রয় করে সর্বক্ষণ শচীমাতার কাছে থাকলেন।*
*🌹এদিকে শ্রীমন্নিত্যানন্দপ্রভু মহাপ্রভুকে কৌশলে শান্তিপুরে নিয়ে এলেন।তখন অদ্বৈতাচার্য্য নূতন বস্ত্র কৌপীনসহ নৌকা নিয়ে গঙ্গায় শ্রীমন্মহাপ্রভুর জন্য নিত্যানন্দপ্রভুর ইঙ্গিত মতো অপেক্ষা করছিলেন।মহাপ্রভু গঙ্গায় স্নান করিলে,দেখলেন আচার্য্য অপেক্ষা করছেন,প্রেমোন্মাদে মহাপ্রভুর বাহ্য জ্ঞান ছিল না। তিনি মনে করেছিলেন বৃন্দাবনে এসেছেন এবং যমুনায় স্নান করছেন। কিন্তু আচার্য্যকে দেখে বুঝলেন নিতাইচাঁদের সুকৌশলে তিনি শান্তিপুরে এসেছেন।*
*🌹শ্রীচৈতন্য ভাগবতে বর্ণিত আছে = শ্রীমন্মহাপ্রভু ফুলিয়া হতে শান্তিপুরে আসিলেন।তখন আচার্য্য নিজ প্রভুকে দেখে দন্ডবৎ প্রণত হয়ে কান্দিতে লাগলেন।মহাপ্রভু তাঁকে উঠিয়ে উভয়ের নয়ন প্রেমজলে উভয়ে স্নাত হলেন।আচার্য্যপুত্র "অচ্যুত"দন্ডবৎ প্রণত হলে মহাপ্রভু তাঁর ধূলা ধূসরিত অঙ্গ কোলে করে বললেন, "আচার্য্য আমার পিতা, তুমি আমার ভ্রাতা। অচ্যুতানন্দ বললেন=*
*🌷তুমি দৈবে জীব সখা।*
*🌷সবাকার বাপ তুমি এই বেদে লেখা।।*
*🌻সকলেই শিশুমুখে এই অপূর্ব সিদ্ধান্ত-পূর্ণ কথা শুনে বিস্মিত হয়ে ভাবলেন,না জানি কোন মহাপুরুষ এসে জন্মিয়েছেন। সবাইকে মহাপ্রভু প্রেমালিঙ্গন করে কৃপা করলেন।কৃপা পেয়ে ভক্তগণ রোদন করতে লাগলেন।পরে নৃত্য কীর্তন করে বিষ্ণুখট্টায় বসে নিজতত্ত্ব প্রকাশ করলেন।পরে সবাইকে নিয়ে ভোজন করলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🌻🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৬)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*মহাপ্রভুর সন্ন্যাসান্তে অদ্বৈত-গৃহে মিলন*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভু বললেন, নিত্যানন্দ আমাকে বললেন,"তুমি যমুনায় স্নান করছ", এখন দেখছি, আমি গঙ্গায় স্নান করছি এবং আমি বৃন্দাবনে আসি নাই।*
*🌷আচার্য্য কহে,মিথ্যা নহে,শ্রীপাদ বচন।*
*🌷যমুনাতে স্নান তুমি করিলা এখন।।*
*🌷গঙ্গা যমুনা বহে হঞা একাধার*।
*🌷পশ্চিমে যমুনা বহে,পূর্বে গঙ্গাধার।।*
*🌷পশ্চিম পারে যমুনা বহে,তাঁহা কৈলে স্নান।*
*🌷আর্দ্র কৌপীন ছাড়ি' শুষ্ক কর পরিধান।।*
*🌷প্রেমাবেশে তিন দিন আছ উপবাস।*
*🌷আজি মোর ঘরে ভিক্ষা,চল মোর বাস।।*
*🌷একমুষ্টি অন্ন মুঞি করিয়াছোঁ পাক।*
*🌷শুখরুখা ব্যঞ্জন কৈলুঁ,সূপ আর শাক।।*
*🌷এত বলি নৌকায় চড়ায়া নিল নিজ-ঘর।*
*🌷পাদ প্রক্ষালন কৈল আনন্দ-অন্তর।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷শুনি সব ভক্তগণ কহে করি নমস্কার।*
*🌷মাতার যে ইচ্ছা,সেই সম্মত সবার।।*
*🌷মাতার ব্যগ্রতা দেখি ' প্রভুর ব্যগ্র মন।*
*🌷ভক্তগণ একত্র করি বলিলা বচন।।*
*🌷তোমা সবার আজ্ঞা বিনা চলিলাম বৃন্দাবন।*
*🌷যাইতে নারিল,বিঘ্ন কৈল নিবর্তন।।*
*🌷যদ্যপি সহসা আমি কর্যাছো সন্ন্যাস।*
*🌷তথাপি তোমা-সবা হৈতে নাহিব উদাস।।*
*🌷তোমা-সব না ছাড়িব,যাবৎ আমি জীব।*
*🌷মাতারে তাবৎ আমি ছাড়িতে নারিব।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷তবে ত' আচার্য্য কহে বিনয় করিয়া।*
*🌷দিন দুই চারি রহ কৃপা ত' করিয়া।।*
*🌷আচার্য্যের বাক্য প্রভু না করে লঙ্ঘন।*
*🌷রহিলা অদ্বৈত-গৃহে না কৈল গমন।।*
*🌷আনন্দিত হৈল আচার্য্য,শচী,ভক্ত,সব।*
*🌷প্রতিদিন করে আচার্য্য মহা-মহোৎসব।।*
☆ ☆ ☆ ☆ ☆ ☆
*🌷নিত্যানন্দ গোসাঞি, পন্ডিত জগদানন্দ।*
*🌷দামোদর পন্ডিত, আর দত্ত মুকুন্দ।।*
*🌷এই চারিজন, আচার্য্য দিল প্রভু সনে।*
*🌷জননী প্রবোধ করি 'বন্দিল চরণে।।*
*🌷তাঁরে প্রদক্ষিণ করি,করিল গমন।*
*🌷এথা অদ্বৈতের ঘরে উঠিল ক্রন্দন।।*
*🌷নিরপেক্ষ হঞা প্রভু শীঘ্র চলিলা।*
*🌷কান্দিতে কান্দিতে আচার্য্য পশ্চাৎ চলিলা।।*
*🌷কতদূর গিয়া প্রভু করি ' জোড়হাত।*
*🌷আচার্য্যে প্রবোধি কিছু কহে মিষ্ট বাত।।*
*🌷জননী প্রবোধ, কর ভক্ত সমাধান।*
*🌷তুমি ব্যগ্র হৈলে কারো না রহিবে প্রাণ।।*
*🌷এত বলি ' প্রভু তাঁরে করি আলিঙ্গন।*
*🌷নিবৃত্ত করিয়া কৈল স্বচ্ছন্দ গমন।।চৈঃচঃ।।*
😭😭😭😭😭😭🙏😭😭😭😭😭😭
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৭)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীধামপুরীতে মহামিলন*
************************
*শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীক্ষেত্রে গমন করিলে,ভক্তগণ মহাপ্রভু বিরহে ব্যথিত হয়ে কোন রকমে জীবন ধারণ করে রইলেন।মাঝে মধ্যে সংবাদ নিতে থাকতেন।যখন দক্ষিণ দেশে গমন করলেন,তখন ভক্তগণ আরও বিরহক্লিষ্ট হলেন।মহাপ্রভু দক্ষিণদেশ হতে নীলাচলে ফিরে আসিলে শ্রীমন্নিত্যানন্দপ্রভু বঙ্গদেশীয় ভক্তগণকে মহাপ্রভুর সমাচার প্রদান করে কিছু শান্ত করবার জন্য মহাপ্রভুর দক্ষিণ ভ্রমণ কালীন সেবক কালা-কৃষ্ণদাসকে বঙ্গদেশে পাঠালেন। সেখানকার বৈষ্ণবগণকে দেবার জন্য প্রচুর পরিমাণে মহাপ্রসাদ পাঠালেন।কারণ নবদ্বীপ,শান্তিপুর,কালনা প্রভৃতি স্থানে বহু বৈষ্ণবগণ রয়েছেন। কালা-কৃষ্ণদাস মহাপ্রভুর সংবাদ নিয়ে গৌড়দেশে সর্বপ্রথমেই শচীমাকে প্রসাদ দিয়ে, শ্রীমায়ের শ্রীচরণ বন্দনা করে মহাপ্রভুর কুশল সংবাদসহ দক্ষিণবিজয় ও সেখান হতে শ্রীক্ষেত্রে পুনরাগমন বার্তা নিবেদন করলেন।কালা-কৃষ্ণদাস সেখন থেকে শান্তিপুরে অদ্বৈতাচার্য্যের গৃহে গিয়ে মহাপ্রসাদ দিয়ে,আচার্য্যের শ্রীচরণ বন্দনা করে, মহাপ্রভুর দাক্ষিণাত্য ভ্রমণের সব সমাচার বললেন।এই সমাচার সকলে শুনে, তখন গৌড়ের ভক্তগণ আচার্য্যের কাছে গিয়ে নীলাচলে যাবার জন্য যুক্তি করলেন।আচার্য্য সুসংবাদ পেয়ে ভক্তগণকে নিয়ে মহাপ্রভুর নীলাচলে ফিরে এসেছেন, এই খুশীতে দুই-তিনদিন মহা-মহোৎসব করলেন।এবং সকলে শচীমায়ের আদেশ নিয়ে শ্রীআচার্য্যসহ নীলাচলে যাত্রা করলেন।পায়ে হাঁটা পথ, কিছুদিনের মধ্যে নীলাচলে পৌঁছলেন।শ্রীমন্মহাপ্রভু সংবাদ পেয়ে শ্রীস্বরূপ দামোদর ও শ্রীগোবিন্দকে দিয়ে মালা পাঠিয়ে পুরীতে প্রবেশমাত্র সম্বোধন করতে পাঠালেন।স্বরূপ দামোদর প্রথমে শ্রীল আচার্য্যকে মালা দিয়ে দন্ডবৎ প্রণাম করলেন। তারপর স্বরূপদামোদর গোবিন্দের পরিচয় প্রদান করলেন।কথা বলতে বলতে কিছুদূর অগ্রসর হলে,স্বয়ং শ্রীমন্মহাপ্রভু এসে ভক্তগণকে দেখা দিলেন।শ্রীআচার্য মহাপ্রভুর চরণ বন্দনা করিলে, প্রেমেরঠাকুর মহাপ্রভু আচার্য্যকে প্রেমালিঙ্গন প্রদান করলেন।সবাইকে নিয়ে মহাপ্রভুর বাসায় নিয়ে গিয়ে শ্রীহস্তে সবার অঙ্গে মাল্য চন্দনাদি প্রদান করে সার্বভৌম ভট্টাচার্য্য ও ক্ষেত্রবাসী ভক্তগণের সঙ্গে সবার পরিচয় করিয়ে দিলেন। অদ্বৈতাচার্য্যকে মহাপ্রভু অতি সুমধুর বাক্যে বললেন--, তোমার শুভাগমনে আজি আমার মনোরথ পূর্ণ হ'ল।তখন আচার্য্য কহিলেন--, এটি ঈশ্বরের স্বভাব,যদিও নিজে সর্বৈশ্বর্য্যময়পূর্ণ, তথাপি ভক্তসঙ্গে নিত্য বিবিধ বিলাস করার জন্য তাঁর সুখোল্লাস হয়। সকলকে গোপীনাথ আচার্য্য দ্বারা বাসস্থান দিয়ে ভক্তগণকে পাঠিয়ে দিলেন।সকলে সমুদ্রস্নান করে শ্রীজগন্নাথদেবের শ্রীমন্দিরের চূড়া দর্শন করে পুনঃ মহাপ্রভুর কাছে আসিলেন।সকলকে যথাস্থানে বসিয়ে, স্বয়ং মহাপ্রভু মহাপ্রসাদ পরিবেশন করতে লাগলেন।স্বরূপদামোদরের প্রার্থনায় সন্ন্যাসী ভক্তগণসহ মহাপ্রভু প্রসাদ পেতে আরম্ভ করলেন।নানা প্রকার বিচিত্র শ্রীজগন্নাথদেবের প্রসাদ মহাপ্রভু ভক্তগণকে পাওয়াইলেন।ভোজনান্তে নিজে ভক্তগণকে মালা-চন্দনাদি দিয়ে সকলকে বিশ্রাম করতে বাসায় পাঠালেন।সন্ধার সময় সকলে পুনঃ মহাপ্রভুর কাছে আসিলে, সকলকে নিয়ে গৌরহরি শ্রীজগন্নাথ দর্শনে চলিলেন।সন্ধ্যা-ধূপ দেখে সকলকে নিয়ে শ্রীমন্মহাপ্রভু সংকীর্তন আরম্ভ করলেন।পড়িছা সকলকে মাল্যচন্দন দিল।চারদিকে চার সম্প্রদায় কীর্তন করতে লাগলেন মধ্যে শ্রীগৌরাঙ্গ নৃত্য আরম্ভ করলেন। সেই সংকীর্তনধ্বনি যেন ব্রহ্মান্ড ভেদ করে উঠিল।সকলে শ্রীমন্দির সংকীর্তনসহ পরিক্রমা করতে লাগলেন।কিছুক্ষণ বেড়া নৃত্য করে মন্দিরের পেছনে থেকে কীর্তন করতে লাগলেন।চারদিকে চার সম্প্রদায় উচ্চৈঃস্বরে কীর্তন করছেন, মধ্যে মহাপ্রভু নৃত্য করছেন, তখল অশ্রু,পুলক,কম্প,স্বেদ অষ্টসাত্ত্বিক ভাব মহাপ্রভুর শ্রীঅঙ্গে প্রকাশিত হল। কিছুক্ষণ নৃত্য করে নিজে স্থির হয়ে চারমহান্তকে নাচতে আজ্ঞা দিলেন। শ্রীনিত্যানন্দ,শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য,শ্রীবক্রেশ্বর ও শ্রীবাস।চারদিকে চার মহান্ত নৃত্য করছেন,মহা সংকীর্তনের মধ্যে মহাপ্রভু মধ্যে থেকে তাঁদের নৃত্য দেখছেন।বহু ভক্তগণ নৃত্য করছেন,যাঁরায় নৃত্য করতে করতে মহাপ্রভুর দিকে তাকাচ্ছেন, তাঁরায় যেন দেখছেন, মহাপ্রভুর তাঁদের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করছেন।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌🙏🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৮)অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীধাম পুরীতে মহামিলন*
*************************
*🌳গুন্ডিচামার্জন লীলায় অদ্বৈতাচার্য্যাদি ভক্তগণসহ মহাপ্রভু গুন্ডিচা-মার্জন বা পরিস্কার করলেন।নৃত্য-কীর্তনসহ গুন্ডিচা-মন্দির পরিস্কার করে শেষে মহা-সংকীর্তন নৃত্যাদি করতে লাগলেন।সেখানে আচার্য্যের পুত্র গোপালকে মহাপ্রভু নৃত্য করতে অনুমতি দিলে, গোপাল মহাপ্রভুর আদেশে প্রেমবেশে নৃত্য করতে করতে মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।শ্রীঅদ্বৈত তাঁকে কোলে কোরে উঠিয়ে দেখলেন,তাঁর শ্বাস-রহিত হয়েছে।তাতে মহাপ্রভুর প্রেমিক-ভক্তের এই অবস্থা দেখে শ্রীআচার্য্য বিকল হয়ে নৃসিংহ-মন্ত্রে জল ছিটা মারতে লাগলেন।তাঁর হুঙ্কারের শব্দে ব্রহ্মান্ড যেন কেঁপে উঠতে লাগল।বহুক্ষণ ঐ প্রক্রিয়াতে তাঁর শ্বাস ফিরল না, তখন মহাপ্রভু তাঁর বক্ষে হাত দিয়ে উচ্চেঃস্বরে কহিলেন--,গোপাল! উঠো?এইকথা শুনতেই গোপালের চেতন হল।তখন ভক্তগণ "হরি হরি" ধ্বনি দিয়ে নৃত্য করতে লাগলেন।ক্ষণেক বিশ্রাম করে মহাপ্রভু সকলকে নিয়ে স্নান করিয়ে অদ্বৈতাদি ভক্তগণ সহ শ্রীজগন্নাথদেবের মহপ্রসাদ ভোজন করতে বসলেন, এমত সময় নিত্যানন্দপ্রভু কিছু প্রেম-কলহ আরম্ভ করলেন।আচার্য্য কহিলেন--,অবধূত নিত্যানন্দের সঙ্গে একসারিতে বসে ভোজন করলে যে আমার কি অবস্থা হয় জানি না।মহাপ্রভু সন্ন্যাসী,তাঁর অন্ন-দোষ নাই। "নান্নাদোষেণ মস্করী" এই শাস্ত্রবাক্য। কিন্তু আমি তো সন্ন্যাসী নহি, আমার অন্নের দোষ-গুণ লাগবে।যাঁর জন্ম-কুল-শীল-আচার জানা যায় না,তাঁর সঙ্গে একসারিতে ভোজনে তাঁর সঙ্গদোষ লাগে।তাঁর এই সঙ্গ-ফলে আমার কি অবস্থা হয় জানি না। তখন নিত্যানন্দপ্রভু বললেন--, তুমি অদ্বৈত-আচার্য্য ; তোমার সিদ্ধান্তসকল যেন অদ্বৈতবাদ, যাতে শুদ্ধভক্তি-কাজের বাধা হয়। তোমার সিদ্ধান্তে যিনি আসক্ত হন, তিনি একবস্তু (চিদ্বিলাস) ব্রহ্ম বৈ আর কিছুই দেখতে পান না। এবং তোমার সঙ্গ দ্বৈতবাদীর ত্যজ্য হলেও তোমার সঙ্গে একসঙ্গে ভোজন করতে হচ্ছে, এতে আমার মন সায় দেয় না।এটি ব্যাজস্তুতি অর্থ্যাৎ বাইরে নিন্দাকথা, ভিতরে মহাত্ম্যসূচক।উভয়েই মায়াধীশ তত্ত্ব, মায়িক জাতীয়ত্ব ও মায়িক মায়াবাদসিদ্ধান্ত উভয়কে স্পর্শ করতে পারে না।উক্তবাক্য "মায়াবাদ সঙ্গ সর্বথা পরিত্যজ্য ও ভক্তিবাধক" এবং অনাচারীর সঙ্গে এক সারিতে ভোজনে সঙ্গদোষ হয়, সেইজন্য ভোজন বাধাপ্রাপ্ত হয়। এইকথাগুলি সাধকগণকে সাবধান করবার জন্য বললেন।*
*🌻🌻🌻স্তুতিবাক্য🌻🌻🌻*
🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻🌻
*শ্রীমন্নিত্যানন্দপ্রভু অপ্রাকৃত অবধূত, তাঁর সঙ্গ-প্রভাবে মায়িক সব অবরতা ধৌত হয়ে পরম নির্মল শুদ্ধভক্তির প্রাকট্য-রূপ ফল লাভ হয়, তা সকলেরই পক্ষে অত্যন্ত লোভনীয়। অদ্বৈত-আচার্য্য সমান বা ততোধিক সিদ্ধান্তবিদ্ কেহ নাই, তাঁর সঙ্গ ফলে তাঁর মতো কৃষ্ণপ্রেমোন্মত্ততা লাভ হয়, তাও অত্যন্ত লোভনীয়, এবং তাঁর সিদ্ধান্তই চরম অসমোর্দ্ধ অদ্বৈত, অতএব উভয়েই উভয়ের সঙ্গ পিপাসু।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🦚🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৪৯) অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীধাম পুরীতে মহামিলন*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌳নেত্র উৎসবের দিন মহাপ্রভু পুরী ভারতীকে আগে রেখে স্বরূপদামোদর ও অদ্বৈতাচার্য্যকে পার্শ্বে নিয়ে শ্রীজগন্নাথ দর্শনোৎকন্ঠায় ভোগমন্ডপে গিয়ে দর্শন করলেন। রথযাত্রার দিন শ্রীমন্মহাপ্রভু শ্রীমন্নিত্যানন্দপ্রভু ও শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যাদি ভক্তগণসহ পান্ডুবিজয় দর্শন করলেন, পরে চার সম্প্রদায় রচনা করে প্রত্যেক সম্প্রদায়ে দুইজন মৃদঙ্গবাদক,একজন মূলগায়ক, একজন নর্তক এবং পাঃচজন করে পালিগানকারী বিভাগ করে দিলেন।তারমধ্যে দ্বিতীয় সম্প্রদায়ে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য নর্তক,শ্রীবাস পন্ডিত মূলগায়ক হলেন।আরও কুলীনগ্রামের এক কীর্তনসম্প্রদায়, শান্তিপুরের আচার্য্যের এক কীর্তনসম্প্রদায়, তাতে শ্রীঅচ্যুতানন্দ (অদ্বৈত তনয়) নর্তক, ও শ্রীখন্ডের এক কীর্তনসম্প্রদায় এই সাত সম্প্রদায়।শ্রীজগন্নাথের রথের আগে চার সম্প্রদায়,দুই পার্শ্বে দুই সম্প্রদায়, ও পেছনে এক সম্প্রদায় নৃত্য কীর্তন করতে লাগলেন।মহাপ্রভু সেখানে ঐশ্বর্য্য প্রকাশ করে এক কালে সাত ঠাঞি বিলাস করলেন।এই দৃশ্য মহাভাগ্যবান প্রতাপরুদ্র রাজা পথ পরিস্কারের সেবায় সন্তুষ্ট মহাপ্রভুর কৃপায় দর্শন সৌভাগ্য লাভ করলেন।তাঁরা রাজার সৌভাগ্য দর্শনে বিস্মিত হলেন।মহাপ্রভুর যখন নিজেই নৃত্য করতে হচ্ছে হল, তখন সাত সম্প্রদায়কে একত্র করে সেখানে নৃত্য করতে লাগলেন।নৃত্য করা কালীন নানা সাত্ত্বিকভাবের বিকার শ্রীঅঙ্গে প্রকাশিত হল।নিতাইচাঁদ দুই বাহু প্রসার করে মহাপ্রভুকে আগলে রাখলেন।শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্য পেছনে হুঙ্কার করে "হরিবোল হরিবোল" বারবার বলতে লাগলেন।ক্রমে রথ গুন্ডিচা অভিমুখে চলতে লাগিল। "বলগন্ডি-ভোগের সময় মহাপ্রভু এক উপবনে বিশ্রাম করবার সময় রাজা প্রতাপরুদ্রকে কৃপা করলেন। সেখানে বিচিত্র বহু "বলগন্ডি ভোগের" প্রসাদ বাণীনাথ আনিলে সব ভক্তগণসহ শ্রীমন্মহাপ্রভু তা আস্বাদন করে বহু পারিপার্শিক ভক্তদের বিতরণ করলেন। ক্রমে রথ শ্রীগুন্ডিচায় পৌঁছিল।মহাপ্রভুও ভক্তগণসহ আঙ্গিনাতে নৃত্য কীর্তন করলেন।সন্ধ্যাবেলা পান্ডুবিজয় ও স্নান ভোগান্তে আরতি হল, তা দর্শন করে মহাপ্রভু আইটোটায় এসে বিশ্রাম করলেন।সেখানে নয়দিন থাকলেন।এই নয়দিন শ্রীঅদ্বৈতাদি ভক্তগণকে নৃত্য করতে আদেশ দিয়ে নাচতেন।ভক্তগণসহ মহাপ্রভু প্রত্যেকদিন "ইন্দ্রদ্যুম্ন" সরোবরে জলকেলি করতেন।কোনদিন নিত্যানন্দকে সঙ্গে নিয়ে জলকেলি করতেন,কোনদিন নিত্যানন্দ ও অদ্বৈতকে নিয়ে লীলাবিলাস করতেন।নিত্যানন্দ ও আচার্য্য একসঙ্গে থাকলে কোন কারণ বশত আচার্য্য হেরে গেলে নিত্যানন্দকে গালমন্দ করতেন। একদিন মহাপ্রভু শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যকে ডেকে কাছে এনে জলের উপর তাঁর শেষশয্যা করে শয়ন করে "শেষশায়ী" লীলা প্রকট করলেন।মহাবিষ্ণু অবতার অদ্বৈত নিজ-শক্তি প্রকট করে মহাপ্রভুকে নিয়ে জলেতে ভেসে বেড়াতে লাগলেন।এইভাবে নানান প্রকার জলক্রীড়া করে আইটোটায় এসে প্রসাদ পেতেন।আচার্য্যের নিমন্ত্রণে পুরী, ভারতী ও মুখ্য ভক্তগণসহ ভোজন করলেন।অন্যান্য ভক্তগণ বাণীনাথের আনা প্রসাদ পেতেন।বিকেলবেলা দর্শন-নর্তনাদি করতে করতে রাত্রে আইটোটায় এসে শয়ন করতেন।এইভাবে রোজ নৃত্য কীর্তন দর্শন ও প্রসাদ সেবনে নয়দিন আইটোটায় অতিবাহিত করলেন।মধ্যে "হেরা-পঞ্চমীর" উৎসবাদি দেখলেন।আবার কোনদিন নরেন্দ্র সরোবরে জলক্রীড়াও করতেন।শ্রীজগন্নাথ,বলদেব,সুভদ্রা পুনঃ শ্রীমন্দিরে আসিলেন।পুর্নযাত্রাতে আগের মতই নৃত্য কীর্তনাদি ভক্তগণসহ মহাপ্রভুও করলেন।শ্রীজগন্নাথ সিংহাসনে বসিলেন, মহাপ্রভু্ও কাশীমিশ্র ভবনে অবস্থান করতে লাগলেন।*
🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌 🙌
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
🆕 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 পঞ্চম ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/09/advaita5.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*(৫০) অদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা*
*শ্রীধাম পুরীক্ষেত্রে মিলন,*
************************
*🍀শ্রীমন্মহাপ্রভু প্রথম বৎসর ভক্তগণসহ এইরকম নৃত্য-গীত, দন্ডবৎ-প্রণাম,স্তবন করে প্রত্যহ শ্রীজগন্নাথ দর্শন করতেন। "উপলভোগ" সম্পূর্ণ হয়ে গেলে, বাইরে এসে শ্রীনামাচার্য্য হরিদাস ঠাকুরের সঙ্গে কুটিরে বসে নাম-সঙ্কীর্তন করতেন। মহাবিষ্ণুর অবতার অদ্বৈত প্রত্যহ এসে মহাপ্রভুর পূজা করতেন।সর্বাঙ্গে সুগন্ধি চন্দন লেপন করতেন,মাল্য তুলসীমঞ্জরী দিয়ে পূজা করে জোড়হাতে নানারকম স্তবস্তুতি করে শ্রীচরণে প্রণাম করতেন।ভক্তবৎসল শ্রীমন্মহাপ্রভুও পূজাপাত্রের অবশিষ্ট তুলসী,চন্দনাদি দ্বারা "যোহসি সোহসি নমোহস্তুতে" এই মন্ত্রে শ্রীঅদ্বৈতকে পূজা করতেন। এবং মুখবাদ্য করে আচার্য্যকে হাসাতেন।*
*🌺এইরকম চারমাস গৌড়ীয় ভক্তগণ মহাপ্রভুর কাছে থেকে শ্রীজগন্নাথদেবের নানা যাত্রা মহোৎসবাদি দর্শ করতেন। কৃষ্ণজন্ম অষ্টমী দিনে নন্দোৎসব করলেন।মহাপ্রভু সেদিন নিজ কাঁধে দধিদুগ্ধ ভান্ড নিয়ে মহোৎসব স্থানে আসিলেন। তখন অদ্বৈত বললেন, যদি লগুড় ঘুরাতে পার তাহলেই প্রকৃত গোপবেশের লক্ষণ প্রকাশিত হয়।মহাপ্রভু এইকথা শুনে অপূর্ব কৌশলে লগুড় বা লাঠি ঘুরাতে লাগলেন। সঙ্গে নিত্যানন্দপ্রভুও সেইরকম হাতে লাঠি নিয়ে তিনিও ঘুরাতে লাগলেন।মহারাজ প্রতাপরুদ্রের আজ্ঞায় তুলসী-পড়িছা শ্রীজগন্নাথদেবের একটি প্রসাদীবস্ত্র নিয়ে আসিলে মহাপ্রভু সেই বস্ত্রের সম্মান নিজ মস্তকে বেঁধে, আচার্য্যাদি ভক্তগণের মস্তকেও পরালেন।এইপ্রকার বিজয়া-দশমী,রাসযাত্রা, দীপাবলী, উত্থান একাদশী প্রভৃতি সব যাত্রা দেখলেন।*
*একদিন মহাপ্রভু নিত্যানন্দপ্রভুকে ডেকে নির্জনে বসে যেন কি যুক্তি করে গৌড়ীয় সকল ভক্তগণকে ডেকে বললেন, তোমরা সকলে গৌড়দেশ বিজয় কর বা ফিরে যাও।প্রত্যেক বৎসর রথযাত্রার সময় শ্রীজগন্নাথ দর্শন এসে আমার সঙ্গে মিলিত হবে।শ্রীঅদ্বৈতকে সসম্মানে বললেন, আ-চন্ডালাদিকে কৃষ্ণভক্তি দান করবে। নিতাইচাঁদকেও বললেন, গৌড়দেশে ফিরে গিয়ে তুমি প্রেমভক্তি দান করবে ও শ্রীরামদাস গদাধর দাস আদি তোমার সাহায্যের জন্য পাশে থাকবে। আরও বললেন আমি মাঝে মধ্যে গিয়ে অলক্ষিতে তোমার নৃত্য দেখব।এইভাবে সকল সেবাকার্য্য ভাগ করে দিয়ে,তাঁদের বিচ্ছেদ আশঙ্কায় বিহ্বল হয়ে পড়লেন।সকল ভক্তের যাঁর যে গুণে প্রভু মুগ্ধ,তাঁর সেই গুণ বলে সকলকে বিদায়ালিঙ্গন প্রদান করে মহাপ্রভু অঝোর নয়নে কাঁদতে লাগলেন।ভক্তগণও শ্রীমন্মহাপ্রভুর অবস্থা দেখে তাঁরাও অঝোর নয়নে রোদন করতে লাগলেন।সে বিরহ ক্রন্দনে মহাপাষাণ হৃদয়ও গলে যাবে।এইভাবে গৌড়ীয় প্রেমিক ভক্তগণকে বিদায় দিয়ে মহাপ্রভু ভক্তের বিচ্ছেদে বিষণ্ণ হয়ে রইলেন।শ্রীগদাধর পন্ডিত মহাপ্রভুর নিকট রইলেন।*
*🌹তৃতীয় বৎসর গৌড়ের ভক্তগণ নীলাচলে আসিবার জন্য শ্রী অদ্বৈতের কাছে এসে একত্রিত হলেন। আবার বৈষ্ণবগৃহিণীগণ আচার্য্যানী সীতাঠাকুরাণীসহ মহাপ্রভুকে দর্শন করতে চাইলেন।সব ঠাকুরাণী মহাপ্রভুকে ভিক্ষা দিতে মহাপ্রভুর প্রিয় দ্রব্য সঙ্গে নিয়ে নিলেন।পথের সমস্ত ব্যবস্থা শিবানন্দ সেনই করতে লাগলেন।সকলে কিছুদিনের মধ্যে রেমুনায় এসে উপস্থিত হলেন। সেখানে গোপীনাথ দর্শন করে আচার্য্য নৃত্য কীর্তন করলেন।নিতানন্দপ্রভু সকলের কাছে ক্ষীরচোরা গোপীনাথের বৃত্তান্ত কীর্তন করলেন এবং সে রাত্রি ভক্তগণ সেখানে থাকলেন।এই মত কটকে সাক্ষীগোপালের কথা শুনে সে রাত্রি তথায় অবস্থান করলেন।তারপর মহাপ্রভু দর্শন আকাঙ্ক্ষায় ভক্তগণ নীলাচলে এসে উপস্থিত হলেন।আঠারনালায় পৌঁছিলে মহাপ্রভু গোবিন্দকে দিয়ে, নিত্যানন্দ ও আচার্য্যকে পরাবার জন্য দুটি মালা পাঠিয়ে অভ্যর্থনা করলেন।*
📿📿📿📿📿📿📿📿📿📿📿📿📿
🔜 ক্রমাগত 👉 শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের চরিতসুধা 🌷 শ্রীমদ্ ভক্তিবিলাস ভারতী মহারাজ 📝 ষষ্ঠ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/10/advaita6.html
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
꧁👇 📖 সূচীপত্র ✍️ শ্রী জয়দেব দাঁ 📖 👇꧂
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
🌷❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🌷
🏵️❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀🏵️
✧══════════•❁❀🙇❀❁•══════════✧
