✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ *পাপ-পূণ্যময় দেহ, সকলই অনিত্য এহ,* ꧂
꧁ *ধন জন সব মিছা ধন্দ।* ꧂
꧁ *মরিলে যাইবে কোথা, ইহাতে না পাও ব্যথা,* ꧂
꧁ *তবু নিতি কর কার্য্য মন্দ।।* ꧂
👇👇👇🙏👇👇👇
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সকল কিছু লিখনী👇👇🙏👇👇📚 *PDF গ্রন্থ* 📚
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন
꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲
*পাপ-পূণ্যময় দেহ,সকলই অনিত্য এহ,*
*ধন জন সব মিছা ধন্দ।*
*মরিলে যাইবে কোথা,ইহাতে না পাও ব্যথা,*
*তবু নিতি কর কার্য্য মন্দ।।*
🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲🌲
*শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেমকথা বা ভজনের কথা ব্যতীত অন্য সমস্ত কথাকেই গন্ডগোল বা বৃথা কোলাহল বলেছেন এবং উহার(আনকথার) শ্রবণ,কীর্তনাদি করতে নিষেধ করেছেন। তবে দেহ-দৈহিকাদির অনিত্যতা চিৎজড়ের পার্থক্য প্রভৃতি তত্ত্বকথাও কি গন্ডগোল বা বৃথা কোলাহল মাত্র?তাহলে আচার্য্যপাদগণ এত তত্ত্ব সিদ্ধান্তের অবতারণা করেছেন কেন এবং ভক্ত মহানুভবগণকেও তত্ত্বকথার এত আলোচনা করতে দেখা যায় কেন?* *এই ধরণের প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, দেহে ও দৈহিকাদি বস্তুতে অর্থ্যাৎ স্ত্রী-পুত্র,ধন,জনাদিতে আসক্তি থাকলে কখনও হরিভজন হয় না।কারণ মনের আসক্তি যুগপৎ (এককালে)জড়ীয় বিষয়বস্তুতে ও ভগবানে রাখা কখনই সম্ভব নয়।*
*ভাগবতে দেখা যায়, "বিষয়ান্ ধ্যায়তশ্চিত্তং বিষয়েষু বিষজ্জতে।মামনুস্মরতশ্চিত্তং ময্যেব প্রবিলীয়তে।।*
*ভাগবত=১১|১৪|২৭*
*শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধবের প্রতি বলেছেন, বিষয় চিন্তাশীল ব্যক্তির চিত্ত বিষয়েই আসক্ত হয়ে থাকে এবং সবসময় আমার চিন্তায় নিবিষ্ট(মনোযোগী)চিত্ত আমাতেই নিমগ্ন (ডুবে থাকা ) হয়ে যায়।*
*আর কি, ভগবান এও বলেছেন, "বিষয়াভিনিবেশন নাত্মানং বেদ নাপরম্।বৃক্ষজীবিকয়া ব্যর্থং ভস্ত্রেব যঃ শ্বসন।।* *(ভাঃ ১১|২১|২২)*
*অর্থ্যাৎ বিষয়ের মধ্যে ডুবে থাকা ব্যক্তির মন নিজেকে এবং পরমাত্মাকে কাউকেও জানতে পারে না।সে চেতনাশূন্যের মত,বৃক্ষের মত কেবল প্রাণ ধারণ উপযোগী বিষয় গ্রহণ করে থাকে এবং ভস্ত্রার(হাপরের) মত বৃথা শ্বাস-প্রশ্বাস ত্যাগ করে। সুতরাং সে জীবন মৃতের মত।দেহ-দৈহিকাদিতে নিবিষ্টচেতা ব্যক্তি যখন বিধিভক্তিই যাজনে সমর্থ হন না,তখন রাগভক্তি,সর্বোপরি পরম রহস্যময় শ্রীরাধাকৃষ্ণের ভজন যে তাঁদের পক্ষে কখনই সম্ভবপর হয় না, এইজন্য দেহ-দৈহিকাদির অনিত্যতা এবং চিৎজড়ের পার্থক্যরূপ তত্ত্ব আলোচনার প্রয়োজনও রয়েছে।*
*🍀🍀🍀ক্রমশ🍀🍀🍀*
*🍀পাপ পূণ্যময় দেহ,সকলি অনিত্য এহ,ধন-জন সব মিছা ধন্দ।* *পাপের ফলে মানুষের দুঃখ দারিদ্র আদি যুক্ত এবং অবিরত বা সবসময় রোগ-শোক -ত্রিতাপাদি জ্বালাময় দেহ লাভ হয়ে থাকে ও পূণ্যের ফলে বিষয় ভোগময় শরীর লা করে থাকে।* *এইসব দেহই অনিত্য বা নশ্বর,অর্থ্যাৎ জল বুদবুদের মত অতি ক্ষণভঙ্গুর।প্রতিনিয়ত বুদ্ধিমান মানুষকে এই নশ্বর দেহ ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এবং সবসময় মনে রাখতে হবে যে ঐশ্বর্য্য-সম্পদ,আত্মীয়-স্বজনাদি সবই মিছা ধন্দ অর্থ্যাৎ মিথ্যা ভ্রান্তি বা মোহ ব্যতীত আর কিছুই নয়।কারণ অনাত্মীয় আত্মবুদ্ধি আনয়ন করাই মোহের কাজ।ইহাদ্বারা মিছা ধন্দ বা মিথ্যা ভ্রান্তিবশতঃ যা অস্থির,কষ্ট,তাপ ও দুঃখ শোকের আকর বা খনি,তাকেই স্থায়ী,ধ্রুব ও আনন্দের নিদান বলে মনে হয়।*
*যা কখনই তার নয়,যার প্রতি তার কিছুমাত্র অধিকার নাই ; সেই ধন জনাদি নশ্বর বস্তুকে "আমার আমার " বলে তার অভাবে মোহমুগ্ধ মানুষ অস্থির হয়ে পড়ে এবং সেই সেই বিষয় চিন্তায় দেব-দুর্লভ সাধনযোগ্য সুদুর্লভ আয়ুষ্কালকে বৃথা দিন কাটায়।বিষয়চিন্তা বিষময় ফলের কথা ভগবান গীতায় অর্জুনকে বলেছেন,*
*ধ্যায়তো বিষয়ান্ পুংসঃ সঙ্গস্তেষূপজায়তে।*
*সঙ্গাৎ সংজায়তে কামঃ কামাৎ ক্রোধোহভিজায়তে।।*
*ক্রোধাদ্ভবতি সম্মোহঃ সম্মোহাৎ স্বৃতিবিভ্রমঃ।*
*স্মৃতিভ্রংশাদ্ বুদ্ধিনাশো বুদ্ধিনাশাৎ প্রণশ্যতি।।*
*🍀মানুষ ইন্দ্রিয়-গ্রাহ্য বিষয়ের ধ্যান করতে করতে তাতে তার আসক্তি জন্মে,আসক্তি হতে তা ভোগের অভিলাষ জন্ম নেয়।ভোগের কামনা প্রতিহত হলে ক্রোধ জন্মে,ক্রোধ হতে কার্যাকার্য বিবেকভ্রংশরূপ মোহ জন্ম নেয়,মোহ হতে স্মৃতিনাশ বা শাস্ত্র উপদিষ্ট স্বার্থের বিস্মৃতি ঘটে,তা হতে বুদ্ধিনাশ,বুদ্ধিনাশ হতে সর্বনাশ হয়, অর্থ্যাৎ নানা জীব-যোনিতে পুনঃপুনঃ ভ্রমণ এবং দুঃসহ নরকাদি ভোগকরে মহাদুঃখময় ঘোরদশা উপস্থিত হয়ে থাকে।*
*🍀মরিলে যাবে কোথা,ইহাতে না পাও ব্যথা,তবু নিতি কর কার্য্য মন্দ।* *মরণের মত সুনিশ্চিত সত্য জীবনে আর কিছুই নাই।মরণ যে কোন সময়ে জীবকে গ্রাস করতে পারে।এইকথা তো সকলেই জানেন এবং মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে এই বিশ্বের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক যে একেবারেই মুছে যাবে,এটিও কারও অজানা নয়। কিন্তু জীব-জগতের উপরে মায়ার এমনি বিমোহিনী শক্তি যে,যার মত সুনিশ্চিত সত্য আর কিছুই নাই,জ্ঞান বুদ্ধি মানবদেহ পেয়েও বিশ্বের মানুষ সেই মৃত্যুকে ভুলে নানা বিষয় লোভকে গলার মালা করে পুনঃপুনঃ জন্ম মরণাদির করাল কবল গ্রস্ত হচ্ছে।*
*মরণের পরে যে মায়াবদ্ধজীব কোথায় যাবে,কোন অন্ধকার রাজ্যে কি দশায় সে পড়ে থাকবে,তা যে কত ভয়াবহ, একসব চিন্তা করে মায়াবদ্ধ মানুষের ব্যথা পাওয়া উচিত।*
*ক্রমশ*
*😭আমার মরণ হবে,চিরদিন বেঁচে থাকবার জন্য জন্ম হয়নি,পরবর্তী কোথায় কোন যোনিতে যেতে হবে এই চিন্তা করলেই মনেহয় মানুষ কখনই খারাপ কাজ করা তার পক্ষে সম্ভবপর হবে না।এই বিষয়ে একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত শোনা যায় =কোন এক রাজা নানারকম সাংঘাতিক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের মত প্রায় হয়ে পড়েছিলেন।* *নানারকম চিকিৎসা করেও সেই দুরারোগ্য ব্যাধি হতে মুক্তি লাভ করতে না পেরে তিনি জীবনের আশা ত্যাগ করেছিলেন।এইসময় এক সাধু সেই রাজ্যে আগমন করে রাজাকে আরোগ্য করবার বা সবল করবার জন্য কোন বৃক্ষপত্রের রস পান করাতে লাগলেন।রাজা যতটুকু রস পান করতেন,সেই সাধু রাজার কাছেই রোজ তা অপেক্ষা তিনগুণ ঐ রস পান করতেন।* *রসপানে রাজার মন্ত্রশক্তির মত ব্যাধি নাশ হল, তিনি ক্রমশ সুস্থ ও সবল হতে লাগলেন ; তাঁর শরীর ক্রমশ তেজপূর্ণ হতে লাগল কিন্তু তজোবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মনে অতিশয় অপবিত্র ভাবের উদয় হতে লাগল এবং ক্রমশ কুপ্রবৃত্তির উত্তেজনায় তাঁর চিত্ত মন অস্থির হয়ে পড়ল।* *একদিন তিনি সেই রস পান করতে করতে সাধুকে বললেন,ভগবন্!আপনার প্রদত্ত এই রসপানে আমার ব্যাধি-মুক্তি এবং দেহ পুষ্ট ও তেজপূর্ণ হল বটে, কিন্তু আমার মনে অপবিত্র ভাবের উদয় হওয়ায় আমি ক্রমশ নাশের পথে এগিয়ে চলেছি।* *আপনাকে প্রশ্ন করি,আপনি যে রোজ আমা হতে তিনগুণ ঐ রস পান করেছেন,এতে আপনার ব্রহ্মচর্য্য অটুট আছে কি ভাবে?* *রাজার কথা শুনে সাধু তৎক্ষণাৎ বললেন,মহারাজ!এই প্রশ্নের উত্তর পরে দিব।সহসা এখনি আপনার হাতের রেখায় আপনার মৃত্যুযোগ দেখতে পেলাম।আজ হতে যে দিন একমাস পূর্ণ হবে,সেই নিনই আপনার মৃত্যু হবে।একমাস পরে নিজের মৃত্যুকথা জানতে পেরে রাজা খুবই ভীত হয়ে পড়লেন এবং সাধুর কাছে তার প্রতিকার জিজ্ঞাসা করলেন।* *সাধু বললেন রাজাকে, মহারাজ!মৃত্যু আপনার নিশ্চিতই,একমাত্র যদি প্রতিকার হয়,* *এই রসের দ্বারাই হবে ; তবে রসের মাত্রা আপনাকে চারগুণ বাড়াতে হবে,রাজা সাধুর আদেশে চতুর্গুণ রসপান করতে লাগলেন।* *বস্তুশক্তিতে দেহ যেন তেজে ফেটে পড়তে লাগল, কিন্তু কুপ্রভাব আর মনে স্থান পায় না ; যেহেতু মন মৃত্যুচিন্তায় অস্থির।* *দুইদিন পরে সাধু রাজাকে জিজ্ঞাসা করেলেন,মহারাজ!এখন আপনার কুপ্রবৃত্তি কিরকম অত্যাচার করছে,আপনি তো চারগুণ রস পান করছেন?* *মহারাজ বললেন, ভগবন্! এখন তো মৃত্যুচিন্তায় আমার মন সবসময় অস্থির হয়ে রয়েছে,তাতে আর কুপ্রবৃত্তির উদয় হবে কি ভাবে?* *সাধু বললেন,মহারাজ! আপনার মৃত্যু আসতে এখনো একমাস দেরী আছে,তাতেই কুভাব নষ্ট হয়েছে, আর আমিতো মৃত্যুকে সর্বদা সামনে দেখি,তবে আমার মনে কুপ্রবৃত্তি জায়গা পাবে কিভাবে?*
*মহারাজ!দেহের ক্ষণভঙ্গুরতা মনে রাখলে মনে কুপ্রবৃত্তি স্থান পায় না; এটি উপলব্ধি করাবার জন্য বললাম যে আপনি একমাস বাঁচবেন,বস্তুত আপনি বহুকাল বাঁচবেন।* *সাধুর উপদেশে রাজা দেহরোগ মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে দেহ-দৈহিকাদির নশ্বরত্ব বোধে শ্রীগোবিন্দ চরণে শরণাগত হয়ে ভবব্যাধি হতেও মুক্তি লাভ করেছিলেন।*
*🍀এখানেই রইল, বানান,ও ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়🍀*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 👇👇👇
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ📱7001138871꧂
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧







