শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

*তুমিত দয়ার সিন্ধু, অধম জনার বন্ধু,* *মোহে প্রভো! কর অবধান।* ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ -> http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/08/blog-post_29.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     ꧁ *তুমিত দয়ার সিন্ধু, অধম জনার বন্ধু*  ꧂
             ꧁ *মোহে প্রভো! কর অবধান।* ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*তুমিত দয়ার সিন্ধু, অধম জনার বন্ধু,*
    *মোহে প্রভো! কর অবধান।*
*পড়িনু অসৎ ভোলে,কাম তিমিঙ্গিলে গিলে,*
    *ওহে নাথ!কর পরিত্রাণ।।*
*🙏🙏অধমের প্রতি কৃপা🙏🙏*
*শ্রীঠাকুরমহাশয় শ্রীকৃষ্ণকে "মহাশয়" অর্থ‍্যাৎ উদারচেতা বা কৃপালু বলে জড়ীয় বিষয়াবেশ হতে পরিত্রাণ লাভের জন্য তাঁর করুণা কামনা করেছেন।শ্রীকৃষ্ণকে "মহাশয়" বলে সম্বোধন করায় বিশ্বের অপর কোন মহাশয় বা উদারচেতার মত তাঁকে মনে হতে পারে বলে এই ত্রিপদীতে বলছেন,*
*"তুমি তো দয়ার সিন্ধু", "সিন্ধু" যেমন অসীম,অপারও দুর্বিগাহ,শ্রীকৃষ্ণের করুণাও তেমনি অনন্ত অপার। ক্ষুদ্র জীবশক্তির কথা দূরে থাকুক=ব্রহ্মা,মহেশ্বর,অনন্তদেব প্রভৃতিও যাঁর করুণাদি গুণের অন্ত পান না; জীবের পক্ষে সেই অপার করুণাসিন্ধুর একবিন্দুর স্পর্শ করা ব‍্যতীত আর কোন উপায় নাই।সেই করুণাসিন্ধুর কথাই আমরা কিঞ্চিৎ* *উল্লেখ করছি।জীবের প্রতি শ্রীকৃষ্ণের করুণা দুইরকম ভাবে বর্ষিত হয়,(১)মায়াময়ী (২)স্বরূপশক্তিময়ী।মায়াশক্তির দ্বার দিয়ে যে করুণার প্রকাশ হয়,তাহাই মায়াময়ী-করুণা।সেই মায়াময়ী করুণাও কোন অংশে কম নয়।শ্রীকৃষ্ণের তটস্থাশক্তি সংখ‍্যাতীত চিৎকণ জীব দুই প্রকার (১)নিত‍্যমুক্ত (২)নিত‍্যবদ্ধ।* *এই দুই শ্রেণীর জনসমষ্টি অনাদিকাল হতেই রয়েছে।যাঁরা নিত‍্য মুক্ত, তাঁরা নিত‍্যকাল কৃষ্ণের সেবানন্দে বিভোর রয়েছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন। নিত‍্যব‍দ্ধ জীবগণ অনাদিকাল হতেই কৃষ্ণবহির্মুখ,এই বহির্মুখতার কারণ তাঁরা শ্রীকৃষ্ণের নিত‍্যদাস হয়েও তাঁর সেবা ভুলে স্বতন্ত্রভাবে ভোগ আকাঙ্খায় রত আছে।* *ভগবান কৃপা করে মায়াশক্তির দ্বারা ভোগ আকাঙ্খী কৃষ্ণবহির্মুখ জীবের ভোগের ক্ষেত্র এই ব্রহ্মান্ড এবং ভোগ আয়তন দেহ-রচনা করছেন।* *যদিও ভোগাকাঙ্খা ভোগের দ্বারা নিবৃত্ত হয় না,তবু ভোগের দ্বারা নরকাদি দুঃখপ্রাপ্তির ফলে অনুতপ্ত বা নির্বেদপ্রাপ্ত হয়ে সাধু-গুরু কৃপায় জীব শ্রীকৃষ্ণচরণে উন্মুখ হয়ে থাকে এবং ভজনের ফলে প্রেমসেবা লাভ করে চিরতরে ধন‍্য হয়।* *শ্রীকৃষ্ণ মায়াশক্তির দ্বারা তাদের ভোগভূমি এই ব্রহ্মান্ড রচনা না করলে অনন্তকাল তাদের শীকৃষ্ণবহির্মুখ হয়েই থাকতে হতো।* *আবার এই বিশাল ব্রহ্মান্ড, এখানের জীবকুলের প্রাণ ধারণের জন্য জল,বায়ু,সূর্য‍্য,চন্দ্র,গ্রহ,নক্ষত্র ও বিবিধ ভোগ‍্য-পদার্থ‍্যের যিনি স্রষ্টা,মায়াশক্তির দ্বার দিয়ে তাঁর এইসব করুণা কম নয়, কিন্তু এতে জীবের সংসারবন্ধন মোচন হয় না বা নিত‍্য কৃষ্ণদাস জীব নিজ স্বরূপের সন্ধান লাভ করে নিত‍্যপ্রভু শ্রীকৃষ্ণের সেবালাভ করে ধন‍্য হতে পারে না বলে স্বরূপশক্তির দ্বার দিয়ে শ্রীগুরু বৈষ্ণবের কৃপা সাহায্যে জীবকুলকে তাঁর স্বরূপশক্তি হ্লাদিনী এবং সম্বিতের বৃত্তি ভক্তি প্রদান করে থাকেন এবং এই মৃন্ময় ব্রহ্মান্ডে তাঁর চিন্ময়ী লীলার অবতারণা করে নিজ নাম,গুণ,লীলারূপ ভজন উপকরণ দ্বারা জীবকুলকে প্রেমদানে এবং সাক্ষাৎ প্রেমসেবাদানে ধন‍্য করে থাকেন।* *তাঁর এইসব করুণা অত‍্যন্ত ব‍্যাপক,বিশাল ও অফুরন্ত বলে "দয়ার সিন্ধু"শব্দে তার সূচনা করা হয়েছে মাত্র,বস্তুত তাঁর বিশালতার কাছে কোটি কোটি সিন্ধুও তুচ্ছাতিতুচ্ছ।*
      ক্রমশ


*শ্রীকৃষ্ণ অফুরন্ত করুণার সিন্ধু হলেও তাঁর স্বরূপশক্তিময়ী করুণা কখনো ধন,জন,আভিজাত‍্য অভিমানীর চিত্তে জায়গা পাই না,তাই ঠাকুরমহাশয় বলেছেন,"অধম জনার বন্ধু, মোহে প্রভু!কর অবধান",হে প্রভো!তুমি অধম জনার বন্ধু এবং আমিও নিতান্ত অধম, সুতরাং তোমার করুণা পাওয়ার যোগ‍্যই।আমার কথা একবার স্মরণ করিও।ঠাকুরমহাশয়ের এই প্রার্থনাবাক‍্যে সাধকের ইহাই শিক্ষনীয় যে,ভক্তিপথে থেকে শ্রীগুরু-বৈষ্ণব এবং ভগবানের করুণা লাভ হলে দেহ-দৈহিকাদির সমস্ত অভিমান ত‍্যাগ করে ""অধম"" হতে হবে।* *নীচ,দীন,অপকৃষ্ট,নিন্দিত,তুচ্ছ ইত‍্যাদি "অধম"শব্দের আভিধানিক অর্থ।ভক্ত বিশ্ব সদগুণের খনি হয়েও নিজেকে অতি হীন,দীন,অপকৃষ্ট(নীচ)বলেই মনে করেন।* *এটি সর্ব সদগুণ-খনি,ভাগবতী-ভক্তি হতেই প্রকাশ পেয়ে থাকে।তার কারণ এই যে,স্বরূপত জীবাত্মা স্বাধীন তত্ত্ব নয়,পরমাত্মার অধীন,আবার মায়িক বিশ্বে কাল,কর্ম,গুণাদি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। মহদকৃপায় জীব যখন ভক্তি পথাশ্রয় করে,তখন মহৎসঙ্গে এই রহস‍্যটি অবগত হয় এবং এই আত্মজ্ঞানের উন্মেষে(নয়ন খুলে গেলে) স্বীয় (নিজ)কর্তৃতাদির অভাববোধ হেতু সর্বকর্মে নিজেকে অযোগ্য ও অসমর্থ মনে করে এবং সর্বত্র ঈশ্বরের প্রবল কর্তৃত্ব অনুভব করে সর্বোভাবে তাঁর চরণে প্রপন্ন(আশ্রয়প্রার্থী)হয়,তখনি নিজেকে অধম বা অপকৃষ্ট বলে মনে হয়,ইহার নাম "দৈন‍্য" ইহা ভক্তগণের সাধন-সম্পদ।যা অতি তাড়াতাড়িই সাধকের প্রতি ভগবানের করুণাকে আকর্ষণ করে আনে।জাতরতি সাধকের লক্ষণে কথিত হয়েছে "সর্বোত্তম আপনাকে "হীন" করি মানে"(চৈঃচঃ)*
*ঠাকুরমহাশয় বলেছেন,হে প্রভো!অতি অধম দুর্গতজন আমার কথা একবার মনে করিও।শ্রীকৃষ্ণ যদি বলেন,'তোমার কি কথা মনে করতে হবে? তদুত্তরে বলছেন,""পড়িনু অসৎ ভোলে,কাম তিমিঙ্গিলে গিলে,ওহে নাথ! কর পরিত্রান।""*
*'হে নাথ! আমি অসৎ ভোলে ,কাম বা কামনারূপ তিমিঙ্গিল আমায় গিলে ফেলছে,তার কবল হতে তুলে আমায় তুমি রক্ষা কর।এখানে শব্দান্তরের বিন‍্যাস দেখে মনে হয় অসৎভোল বলতে অসৎ অর্থ‍্যাৎ দেহ-দৈহিকাদি নশ্বর বস্তুকে সৎ বা সত‍্য বলে ভোল বা ভ্রান্তিতে পড়ে যাওয়াই অসৎভোলে পড়ে যাওয়া বা পতিত হওয়া।* *এইরকম ভ্রান্তি হতেই দেহ-দৈহিকাদিকে সত‍্য মনে করে স্বরূপ বিভ্রান্ত মানুষ কুল বিশ্বের অর্থ-সম্পদাদিই কামনা করে থাকে এবং এতে তাদের এমনি আবেশ জন্ম হয় যে,এদের নশ্বরত্ব বা দুঃখদত্ব বিষয়ে শত শত সদউপদেশ শুনেও তা কিছুতেই ধরে রাখতে পারে না।কার্যত এই কামের সেবাতেই জীবন অতিবাহিত করে থাকে।যেমন কাম-কামনা ভোগের আধার এই দেহের স্বরূপ বিচার করলে দেখা যাবে(যোগোপনিষদ)*
*"অমেধ‍্যপূর্ণে কৃমিজালসঙ্কুলে স্বভাবদুর্গন্ধিবিনিন্দিতান্তরে।কলেবরে মূত্রপুরিষভাবিতে রমন্তি মূঢ়া বিরমন্তি পন্ডিতাঃ।।*
*অর্থ‍্যাৎ অমেধ‍্যপূর্ণ(অপবিত্রপূর্ণ), কৃমিজালসঙ্কুল,স্বভাবতই দুর্গন্ধযুক্ত মূত্র-পুরীষপূর্ণ এই কলেবরে মূঢ়গণই(মহামুর্খগণই) ভোগের লালসা করে থাকে,পন্ডিতগণ এই জঘণ‍্য দেহিসক্তি হতে বিরত হন।*
*🌻আরো কথিত আছে 🌻*
*ব্রণমুখমিব দেহং পূতিচর্মাবনদ্ধং কৃমিকুলশতপূর্ণং মূত্রবিষ্ঠানুলেপম্। বিগতবহুলরূপং সর্বভোগাদিবাসং ধ্রুবমরণনিমিত্তং কিন্তু মোহপ্রসক্ত‍্যা।।*
*অর্থ‍্যাৎ=এই দেহ ব্রণমুখ,(ক্ষতে ভরা),দুর্গন্ধ-চর্মজড়িত,শত শত কৃমিপূর্ণ,মূত্রবিষ্ঠালিপ্ত,ভিন্ন ভিন্ন বয়সে ভিন্ন রূপ প্রাপ্ত যা নিশ্চিত বিনাশপ্রাপ্ত হবে তবুও মোহ প্রসক্তিদ্বারা এই দেহ সকল-প্রকার কামনা ভোগের কারণ হয়েছে।*
*এই সকল সহজ ও অতি সত‍্য উপদেশগুলি শুনে বুঝেও এই দেহকেই "আমি"বলে মনে হয়েছে -- এটিই ঠাকুরমহাশয় বলছেন। সেই প্রবল কামনা যেন তিমিঙ্গলের মতো আমায় গিলে ফেলেছে।সমুদ্রের তিমিঙ্গিল যেন গ্রাস করেছে।এতে কামনার শক্তি বা ভয়াবহতা প্রদর্শিত হয়েছে।ক্ষুদ্র মানুষের নিজের ইচ্ছায় বা সামর্থে এর কবল হতে আত্মরক্ষা করবার সাধ‍্য নাই, তাই বলা হয়েছে =ওহে নাথ!কর পরিত্রাণ।হে প্রভো!শ্রীকৃষ্ণ!তুমিই একমাত্র মহাশক্তিশালী কামের হাত থেকে রক্ষা করতে পার,অতএব এর কবল হতে আমায় রক্ষা কর।*
*🌻বানান,ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
🌐 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






গৌরাঙ্গ' বলিতে হবে পুলক শরীর 'হরি হরি'বলিতে নয়নে বহে নীর ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ -> http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/08/home-page-pdf-httpsmrinmoynandy.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
        ꧁ *'গৌরাঙ্গ' বলিতে হবে পুলক শরীর* 
         ꧁ *'হরি হরি'বলিতে নয়নে বহে নীর*  ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🙏
*'গৌরাঙ্গ' বলিতে হবে পুলক শরীর* 
*'হরি হরি'বলিতে নয়নে বহে নীর*  
*আর কবে নিতাইচাঁদ করুণা করিবে।*
*সংসার বাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে।।*
*বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন*।
*কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন।।*
*রূপ-রঘুনাথ বলি হইবে আকূতি।*
*কবে হাম বুঝব সে যুগল পিরীতি।।*
*রূপ-রঘুনাথ-পদে রহু মোর আশ*।
*প্রার্থনা করয়ে সদা নরোত্তম দাস*।।
🙏🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🙏
*🌻শ্রীনরোত্তম ঠাকুর মহাশয়ের প্রেমভক্তিচন্দ্রিকার মতো ""প্রার্থনা"" ও বৈষ্ণবজগতে তাঁর এক অতুলনীয় অবদান।তাঁর অতি সরল প্রাঞ্জল এবং প্রাণের আবেগময়ী প্রার্থনায় যে অসাধারণ সাধন সম্পদ্ বা ভাবোচ্ছাস নিহিত আছে,তা ভক্তিজগতে মৃতসঞ্জীবনীসুধার মতো ত্রিতাপদগ্ধ মুমূর্ষ(মৃতমুখী)কলিজীবের যুগলভজনরূপ জীবনদায়ী এবং পরম আস্বাদ‍্য।*
*🌻"প্রার্থনা" শব্দের আভিধানিক অর্থ "যাচ্ঞা" বা "চাওয়া"।শুদ্ধ ভক্তগণের অভীষ্টের কাছে নিজেদের প্রার্থনার কিছুই থাকে না।ঐহিকের (ইহকালের) ঐশ্বর্য‍্য-সম্পদাদি বা পারত্রিকের(পরকালের)স্বর্গাদি,এমনকি মুক্তিলাভের প্রার্থনাও ভক্তের অন্তরে জাগলে ভক্তি আভাসিত হয়ে পড়েন ; আর প্রেমফল প্রসব করেন না।অর্থ‍্যাৎ প্রেমফল জন্মাইতে পারে না।* *নিজ সুখের জন্য কোন বাসনা শুদ্ধভক্তের অন্তরে না থাকলেও অভীষ্টের  সুখের জন্য ভজনকামনা,প্রেমকামনা বা অভীষ্টের সাক্ষাৎসেবা কামনার তরঙ্গ তাঁদের হৃদয়-নদীতে সবসময় দোলা দিতে থাকে!তাই তাঁরা অভীষ্টচরণে ঐ বিষয়ে সবসময় প্রার্থনা জ্ঞাপন করে থাকেন।ভক্তের সকাতর প্রার্থনা ভগবানের করুণার অর্গল খুলে দেয়। ভগবানের করুণাধারায় স্নান করে ভক্ত অভীষ্টলাভে ধন‍্য হয়ে থাকেন। শ্রীঠাকুর মহাশয়ের প্রার্থনা বাণী তাহারই উৎস।*
*🌻শ্রীমৎ রূপগোস্বামীপাদ তাঁর ভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থে শ্রীমদ্ভাগবত প্রণিহিত-(প্রাপ্তি) শ্রবণ কীর্তনাদি নববিধাভক্তির বিবৃতি প্রসঙ্গে চৌষট্টি প্রকার ভজনাঙ্গের উল্লেখ করেছেন,তাতে (প্রার্থনা) ভক্তির একটি অন‍্যতম অঙ্গ। শ্রীপাদ প্রার্থনার প্রকারভেদ নিরূপণে বলেছেন=*
*"সংপ্রার্থনাত্মিকা দৈন‍্যবোধিকা লালসাময়ী।*
*ইত‍্যাদির্বিবিধা ধীরৈঃ কৃষ্ণে বিজ্ঞপ্তিরীরিতা।।*
    *(ভক্তিরসামৃতসিন্ধু=১|২|১৫২)*
*🌻অর্থ‍্যাৎ "বিজ্ঞজন শ্রীকৃষ্ণের কাছে বিজ্ঞপ্তির সংপ্রার্থনাত্মিকা,দৈন‍্যবোধিকা এবং লালসাময়ী ইত‍্যাদি বিবিধভেদ নিরূপণ করে থাকেন"।* *এই* *প্রসঙ্গে শ্রীমৎ জীবগোস্বামীচরণ তাঁর দুর্গমসঙ্গমনী টীকায় লিখেছেন=* *"যতঃ সংপ্রার্থনা অনুৎপন্নভাবস‍্য,লালসা তু জাতভাবস‍্যেতি ভেদঃ।লালসাময়ত্বাৎ সংপ্রার্থনাপ‍্যত্র লালসেত‍্যেব হি ভণ‍্যতে,অতো লালসাময়ীয়ম্।অত্রেদৃশে সংপ্রার্থনা লালসে প্রস্তাবাদেব দর্শিতে, কিন্তু রাগানুগায়ামেব জ্ঞেয়ে"।* *তাৎপর্য‍্য এই যে,মন,বুদ্ধি প্রভৃতিকে ভগবানের চরণে নিষ্ঠাপ্রাপ্তি করাবার প্রার্থনাই "সংপ্রার্থনা",অতএব ইহা অজাতরতি সাধকের এবং অভীষ্টের সেবাদি প্রার্থনারূপ লালসা জাতরতি সাধকের সম্ভবপর হয়।* *জাতরতি সাধকের সংপ্রার্থনাগুলিও লালসাপূর্ণ বলে তাঁকেও লালসাময়ী বলতে কোন বাধা নাই। প্রসঙ্গত বৈধীভক্তির প্রকরণে সংপ্রার্থনা এবং লালসার বিবৃতি দিলেও রাগানুগা প্রকরণেই ইহার উপযুক্ত স্থল বলে জানতে হবে"।* *শ্রীঠাকুরমহাশয় প্রেমের মূরতি এবং রাগানুগাভক্তির আচার্য‍্য সুতরাং তাঁর সংপ্রার্থনা,দৈন‍্যবোধিকা প্রভৃতি বিজ্ঞপ্তি সবই প্রগাঢ় লালসাময়ী বলে জানতে হবে।* *সুতরাং এইসব প্রার্থনার অনুবাদে বা শ্রবণ-কীর্তনে সাধকের প্রাণের প্রার্থনাটি খাঁটি হবে এবং এই মহাশক্তিশালী প্রার্থনাবাণী সাধকের প্রতি ভগবানের করুণার অর্গল খুলে দিবে।* 
*(ক্রমশ)*


*শ্রীঠাকুরমহাশয় প্রার্থনা পদের আরম্ভে ভাবদশার কামনায় বললেন=* *"গৌরাঙ্গ-----ব'বে নীর,(ব'বে=বইবে বা বহিবে)*। *নাম ও নামী অভিন্নতত্ত্ব, সুতরাং নামে নামী ভগবানের পূর্ণশক্তির অভিব‍্যক্তি (প্রকাশ)রয়েছে।ব্রজেন্দনন্দন শ্রীকৃষ্ণ প্রেমময়ী রাধারাণীর ভাবকান্তি গ্রহণ করেই গৌর হয়েছেন। সুতরাং সেই প্রেমাবতারের অন্তরে যেমন সবসময় মহাভাবসিন্ধুর বিপুল আলোড়ন,তেমনি শ্রীঅঙ্গও সর্বদা অশ্রু পুলকাদি অষ্ট সাত্ত্বিক বিকারে ব‍্যাপ্ত।"গৌরাঙ্গ"শব্দের উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই সেই মহা প্রেমময় বিগ্রহের স্মৃতিতে নাম উচ্চারণকারীর দেহও পুলকিত হয়ে উঠে। ""অদ‍্যাপিহ দেখ-- চৈতন্য-নাম যেই লয়।কৃষ্ণপ্রেমে পুলকাশ্রু বিহ্বল সে হয়।।* *শ্রীঠাকুরমহাশয় দৈন‍্যবশত ভাবছেন,হায়!এমন প্রেমময় গৌরাঙ্গ নামে আমার রতি জন্মিল না। কবে আমার এমন শুভদিন হবে,যেদিন "গৌরাঙ্গ"নাম উচ্চারণে ভাবদশার উদয়ে দেহ পুলকিত হয়ে উঠবে!"গৌরাঙ্গ"নামে রতি কামনা করে "হরি"নামে বা কৃষ্ণনামে রতি কামনা করছেন, "হরি হরি বলিতে নয়নে ব'বে (বইবে বা বহিবে)নীর। "হরি" নাম উচ্চারণ করতেই স্বপ্রকাশ হরিনাম শ্রীঠাকুরমহাশয়ের প্রেমময় জিহ্বায় পুনঃপুনঃ উচ্চারিত হতে লাগল।কতবার যে জিহ্বায় হরিনাম উচ্চারিত করলেন,তা কারো ধারণা করবার সাধ‍্য নেই।কেল 'হরি হরি'এই দুইবার লিখেই তিনি সেই পুনঃপুনঃ সমুচ্চারিত অনন্ত হরি নামের ইঙ্গিত করলেন মাত্র।হায়!হরি হরি বলতে কবে আমার নয়নে অশ্রুধারা প্রবাহিত হবে।*
       *ক্রমশ*
 *🌻শ্রীঠাকুরমহাশয় গৌরাঙ্গ নামে এবং হরিনামে যে অশ্রু-পুলকাদি কামনা করলেন,তার নাম "সাত্ত্বিক" ভাব। ""কৃষ্ণসম্বন্ধিভিঃ সাক্ষাৎ কিঞ্চিদ্বা ব‍্যবধানতঃ।ভাবৈশ্চিত্তমিহাক্রান্তং সত্ত্বমিত‍্যুচ‍্যতে বুধৈঃ।সত্ত্বাদস্মাৎ সমুৎপন্না যে যে ভাবাস্তে তু সাত্ত্বিকাঃ।।(ভঃরঃসিঃ ২|৩|১-২,) অর্থ‍্যাৎ ""শ্রীকৃষ্ণ সম্বন্ধীয় দাস‍্য,সখ‍্যাদি পঞ্চবিধ মুখ‍্যরতি সাক্ষাৎ ভাবে এবং হাস, করুণাদি সপ্তগৌণরতি দ্বারা কিঞ্চিৎ ব‍্যবধানে আক্রান্ত চিত্তকে পন্ডিতগণ ""সত্ত্ব"" বলে থাকেন।* *কেবল সেই সত্ত্ব হতে সমুৎপন্ন ভাবগুলিকে ""সাত্ত্বিক""বলা হয়। অশ্রু,পুলক,কম্প,বৈবর্ণাদি অষ্ট সাত্ত্বিক ভাব।ভাব বা রতি কর্তৃক আক্রান্ত গলিত চিত্তে এই অশ্রুপুলকাদি উদিত হলেই তার আস্বাদন চমৎকারীত্ব প্রকাশ পায়,চিত্তগলনের আগে অশ্রু,পুলকাদি উদিত হলেও তাকে সাত্ত্বিকভাস বলা হয় ।ইহার কোন আস্বাদন চমৎকারিতা নাই।* *এইজন‍্য অশ্রু পুলকাদিকে ভাবোদয়ের সাধারণ লক্ষণ বলা হয়েছে।অসাধারণ লক্ষণ বা অনুভাব নয়টি যথা=*
*ক্ষান্তিরব‍্যর্থকালত্বং বিরক্তির্মানশূন‍্যতা।আশাবন্ধঃ সমুৎকন্ঠা নামগানে সদা রুচিঃ।আসক্তিস্তদগুণাখ‍্যানে প্রীতিস্তদ্বসতিস্থলে।ইত‍্যাদয়োহনুভাবাঃ স‍্যুর্জাতভাবাঙ্কুরে জনে।।(ভঃরঃসিঃ=১|৩|২৫)* 
      ক্রমশ
*ভঃরঃসিঃ ১|৩|২৫ ব‍্যাখ‍্যা, অর্থ‍্যাৎ ক্ষান্তি,(তিতিক্ষা বা ক্ষমা),অব‍্যর্থকালতা,বিরক্তি,নিরভিমানতা,আশাবন্ধ,সমুৎকন্ঠা,নামগানে সদা রুচি,ভগবানের গুণ-রূপ-অনুবাদে আসক্তি এবং বসতিস্থলে প্রীতিভাবের অঙ্কুরমাত্র যাঁদের উদিত হয়েছে,তাঁদের মধ্যে এই ভাবগুলি উদিত হয়ে থাকে।*
*🌻শ্রীমৎ জীবগোস্বামীপাদ লিখেছেন="তদেবং প্রীতের্লক্ষণং চিত্তদ্রবস্তস‍্য চ রোমহর্ষাদিকম্।কথঞ্চিজ্জাতেহপি চিত্তদ্রবে রোমহর্ষাদিকে বা ন চেদাশয়শুদ্ধিস্তদাপি ন ভক্ত‍্যেঃ সম‍্যগাবির্ভাবঃ ইতি জ্ঞাপিতম্। (প্রীতিসন্দর্ভ=৬৯ অনুচ্ছেদ),*
*অর্থ‍্যাৎ "প্রীতির লক্ষণ চিত্তদ্রবতা এবং তার লক্ষণ অশ্রু-পুলকাদি।সামান‍্য পরিমাণে চিত্ত দ্রবিত হলেও বা অশ্রুপুলকাদির উদয় হলেও যদি চিত্তশুদ্ধি বা কৃষ্ণসেবা ছাড়া অন‍্য কোনসব পরিত‍্যাগ এবং শ্রীকৃষ্ণেই প্রীতি ইচ্ছার প্রকাশ না হয়,তাহলে তাও ভক্তির সম‍্যক আবির্ভাব নয় বলেই জানতে হবে।* *এইজন‍্য ঠাকুরমহাশয় ভাবদশার প্রার্থনা করেও বললেন,""আর কবে নিতাইচাঁদ করুণা করিবে"", সংসার বাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে।। বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন।কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন।। শ্রীপাদ ঠাকুরমহাশয় শ্রীশ্রীনিতাইচাঁদের প্রমের মূরতি হয়েও দৈন‍্যভরে প্রার্থনা করে এই গৌর-নিতায়ের যুগের মানুষকে শিক্ষা দিচ্ছেন।এইযুগে পতিত উদ্ধারণ জন্য পতিতপাবন শ্রীনিতাইচাঁদে যে অসাধারণ করুণার অভিব‍্যক্তি ঘটেছে,তার কোন তুলনায় নাই।*
*""দন্তে তৃণ ধরি নিতাই নগরে বেড়ায়"",* 
*যারে দেখে তারে কহে দন্তে তৃণ করি।* 
*আমারে কিনিয়া লহ বল গৌরহরি।।* 
*এইরকম দয়াময় নিতাইচাঁদের কৃপা ছাড়া কলিজীবের অনাদিকালের সংসার বাসনা বা দেহ-দৈহিকাদিতে আসক্তির প্রবল সংস্কার তুচ্ছ হবে কিকরে?* *আমার নিতাইয়ের করুণা হলে বিষয় বিষে ডুবে থাকা মন ত‍্যাগ হবে,মন শুদ্ধ হবে,এবং তখনি বৃন্দাবন দর্শনের জন্য প্রাণে ব‍্যাকলতা জাগবে ও মধুর বৃন্দাবনের শোভা নয়ন গোচর হবে।* *শ্রীবৃন্দাবন শ্রীরূপ-রঘুনাথের ভজনস্থলী এই বৃন্দাবনেই শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের খোঁজ করছেন।""ভজন""মানেই অভীষ্টকে খোঁজা বা অন্বেষণ করা।বৃন্দাবন শ্রীগোস্বামীপাদগণের আকূতিময় ভজনরসে ভরপূর।বৃন্দাবনে আসলে শুদ্ধচিত্ত সাধকেরও সেই আকূতির যথাসম্ভব সংক্রমণ হয়ে থাকে।শ্রীরূপ-রঘুনাথের কৃপাতে সাধক তখন যুগলপ্রীতি বুঝতে পারেন।* *গোস্বামীপাদগণই ব্রজেরই মঞ্জরী,যুগলপ্রীতি বিশ্বমানবকে বুঝাবার জন‍্যই শ্রীমন্মহাপ্রভুর সঙ্গে বিশ্বে নেমে আসা।সেইজন‍্য তাঁরা তাঁদের বিপুল অনুভূতিপূর্ণ যুগলপ্রীতির শিক্ষা তাঁদের গ্রন্থে লিপিবদ্ধ রেখেছেন।সাধক তাঁদের ভজনস্থলী এই বৃন্দাবনে তাঁদের জন্য ব‍্যাকুল হবেন,হারূপ!হা রঘুনাথ! তোমরা আছ দর্শন দাও।এইতো তোমাদের ভজনস্থলী,শ্রীবৃন্দাবন।এই জায়গায় তোমাদের নিত‍্যলীলা চলছে, মোহান্ধ আমি,তোমাদের লীলা দেখতে পাচ্ছি না,সাধক এইভাবে এই বৃন্দাবনে রূপ-রঘুনাথের নাম নিয়ে ব‍্যাকুল হলে তাঁদের করুণা নেমে আসবে।""কবে হাম বুঝব সে যুগল পিরীতি।। যুগল পিরীতি=শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের পরম বিশুদ্ধ পারস্পরিক প্রেম।এইপ্রেমের বোধ অতি সুদুর্লভ,একমাত্র শ্রীরূপ-রঘুনাথের কৃপা সাপেক্ষ।তাই বলছেন,রূপ-রঘুনাথ পদে রহু মোর আশ।প্রার্থনা করয়ে সদা নরোত্তম দাস।।*
*🙏বানান,ভুল ভ্রান্তি ক্ষমা করবেন🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
🌐 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






গৌরাঙ্গ' বলিতে হবে পুলক শরীর 'হরি হরি'বলিতে নয়নে বহে নীর ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ -> http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/08/home-page-pdf-httpsmrinmoynandy.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
        ꧁ *'গৌরাঙ্গ' বলিতে হবে পুলক শরীর* 
         ꧁ *'হরি হরি'বলিতে নয়নে বহে নীর*  ꧂
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🙏
*'গৌরাঙ্গ' বলিতে হবে পুলক শরীর* 
*'হরি হরি'বলিতে নয়নে বহে নীর*  
*আর কবে নিতাইচাঁদ করুণা করিবে।*
*সংসার বাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে।।*
*বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন*।
*কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন।।*
*রূপ-রঘুনাথ বলি হইবে আকূতি।*
*কবে হাম বুঝব সে যুগল পিরীতি।।*
*রূপ-রঘুনাথ-পদে রহু মোর আশ*।
*প্রার্থনা করয়ে সদা নরোত্তম দাস*।।
🙏🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🔥🙏
*🌻শ্রীনরোত্তম ঠাকুর মহাশয়ের প্রেমভক্তিচন্দ্রিকার মতো ""প্রার্থনা"" ও বৈষ্ণবজগতে তাঁর এক অতুলনীয় অবদান।তাঁর অতি সরল প্রাঞ্জল এবং প্রাণের আবেগময়ী প্রার্থনায় যে অসাধারণ সাধন সম্পদ্ বা ভাবোচ্ছাস নিহিত আছে,তা ভক্তিজগতে মৃতসঞ্জীবনীসুধার মতো ত্রিতাপদগ্ধ মুমূর্ষ(মৃতমুখী)কলিজীবের যুগলভজনরূপ জীবনদায়ী এবং পরম আস্বাদ‍্য।*
*🌻"প্রার্থনা" শব্দের আভিধানিক অর্থ "যাচ্ঞা" বা "চাওয়া"।শুদ্ধ ভক্তগণের অভীষ্টের কাছে নিজেদের প্রার্থনার কিছুই থাকে না।ঐহিকের (ইহকালের) ঐশ্বর্য‍্য-সম্পদাদি বা পারত্রিকের(পরকালের)স্বর্গাদি,এমনকি মুক্তিলাভের প্রার্থনাও ভক্তের অন্তরে জাগলে ভক্তি আভাসিত হয়ে পড়েন ; আর প্রেমফল প্রসব করেন না।অর্থ‍্যাৎ প্রেমফল জন্মাইতে পারে না।* *নিজ সুখের জন্য কোন বাসনা শুদ্ধভক্তের অন্তরে না থাকলেও অভীষ্টের  সুখের জন্য ভজনকামনা,প্রেমকামনা বা অভীষ্টের সাক্ষাৎসেবা কামনার তরঙ্গ তাঁদের হৃদয়-নদীতে সবসময় দোলা দিতে থাকে!তাই তাঁরা অভীষ্টচরণে ঐ বিষয়ে সবসময় প্রার্থনা জ্ঞাপন করে থাকেন।ভক্তের সকাতর প্রার্থনা ভগবানের করুণার অর্গল খুলে দেয়। ভগবানের করুণাধারায় স্নান করে ভক্ত অভীষ্টলাভে ধন‍্য হয়ে থাকেন। শ্রীঠাকুর মহাশয়ের প্রার্থনা বাণী তাহারই উৎস।*
*🌻শ্রীমৎ রূপগোস্বামীপাদ তাঁর ভক্তিরসামৃতসিন্ধু গ্রন্থে শ্রীমদ্ভাগবত প্রণিহিত-(প্রাপ্তি) শ্রবণ কীর্তনাদি নববিধাভক্তির বিবৃতি প্রসঙ্গে চৌষট্টি প্রকার ভজনাঙ্গের উল্লেখ করেছেন,তাতে (প্রার্থনা) ভক্তির একটি অন‍্যতম অঙ্গ। শ্রীপাদ প্রার্থনার প্রকারভেদ নিরূপণে বলেছেন=*
*"সংপ্রার্থনাত্মিকা দৈন‍্যবোধিকা লালসাময়ী।*
*ইত‍্যাদির্বিবিধা ধীরৈঃ কৃষ্ণে বিজ্ঞপ্তিরীরিতা।।*
    *(ভক্তিরসামৃতসিন্ধু=১|২|১৫২)*
*🌻অর্থ‍্যাৎ "বিজ্ঞজন শ্রীকৃষ্ণের কাছে বিজ্ঞপ্তির সংপ্রার্থনাত্মিকা,দৈন‍্যবোধিকা এবং লালসাময়ী ইত‍্যাদি বিবিধভেদ নিরূপণ করে থাকেন"।* *এই* *প্রসঙ্গে শ্রীমৎ জীবগোস্বামীচরণ তাঁর দুর্গমসঙ্গমনী টীকায় লিখেছেন=* *"যতঃ সংপ্রার্থনা অনুৎপন্নভাবস‍্য,লালসা তু জাতভাবস‍্যেতি ভেদঃ।লালসাময়ত্বাৎ সংপ্রার্থনাপ‍্যত্র লালসেত‍্যেব হি ভণ‍্যতে,অতো লালসাময়ীয়ম্।অত্রেদৃশে সংপ্রার্থনা লালসে প্রস্তাবাদেব দর্শিতে, কিন্তু রাগানুগায়ামেব জ্ঞেয়ে"।* *তাৎপর্য‍্য এই যে,মন,বুদ্ধি প্রভৃতিকে ভগবানের চরণে নিষ্ঠাপ্রাপ্তি করাবার প্রার্থনাই "সংপ্রার্থনা",অতএব ইহা অজাতরতি সাধকের এবং অভীষ্টের সেবাদি প্রার্থনারূপ লালসা জাতরতি সাধকের সম্ভবপর হয়।* *জাতরতি সাধকের সংপ্রার্থনাগুলিও লালসাপূর্ণ বলে তাঁকেও লালসাময়ী বলতে কোন বাধা নাই। প্রসঙ্গত বৈধীভক্তির প্রকরণে সংপ্রার্থনা এবং লালসার বিবৃতি দিলেও রাগানুগা প্রকরণেই ইহার উপযুক্ত স্থল বলে জানতে হবে"।* *শ্রীঠাকুরমহাশয় প্রেমের মূরতি এবং রাগানুগাভক্তির আচার্য‍্য সুতরাং তাঁর সংপ্রার্থনা,দৈন‍্যবোধিকা প্রভৃতি বিজ্ঞপ্তি সবই প্রগাঢ় লালসাময়ী বলে জানতে হবে।* *সুতরাং এইসব প্রার্থনার অনুবাদে বা শ্রবণ-কীর্তনে সাধকের প্রাণের প্রার্থনাটি খাঁটি হবে এবং এই মহাশক্তিশালী প্রার্থনাবাণী সাধকের প্রতি ভগবানের করুণার অর্গল খুলে দিবে।* 
*(ক্রমশ)*


*শ্রীঠাকুরমহাশয় প্রার্থনা পদের আরম্ভে ভাবদশার কামনায় বললেন=* *"গৌরাঙ্গ-----ব'বে নীর,(ব'বে=বইবে বা বহিবে)*। *নাম ও নামী অভিন্নতত্ত্ব, সুতরাং নামে নামী ভগবানের পূর্ণশক্তির অভিব‍্যক্তি (প্রকাশ)রয়েছে।ব্রজেন্দনন্দন শ্রীকৃষ্ণ প্রেমময়ী রাধারাণীর ভাবকান্তি গ্রহণ করেই গৌর হয়েছেন। সুতরাং সেই প্রেমাবতারের অন্তরে যেমন সবসময় মহাভাবসিন্ধুর বিপুল আলোড়ন,তেমনি শ্রীঅঙ্গও সর্বদা অশ্রু পুলকাদি অষ্ট সাত্ত্বিক বিকারে ব‍্যাপ্ত।"গৌরাঙ্গ"শব্দের উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই সেই মহা প্রেমময় বিগ্রহের স্মৃতিতে নাম উচ্চারণকারীর দেহও পুলকিত হয়ে উঠে। ""অদ‍্যাপিহ দেখ-- চৈতন্য-নাম যেই লয়।কৃষ্ণপ্রেমে পুলকাশ্রু বিহ্বল সে হয়।।* *শ্রীঠাকুরমহাশয় দৈন‍্যবশত ভাবছেন,হায়!এমন প্রেমময় গৌরাঙ্গ নামে আমার রতি জন্মিল না। কবে আমার এমন শুভদিন হবে,যেদিন "গৌরাঙ্গ"নাম উচ্চারণে ভাবদশার উদয়ে দেহ পুলকিত হয়ে উঠবে!"গৌরাঙ্গ"নামে রতি কামনা করে "হরি"নামে বা কৃষ্ণনামে রতি কামনা করছেন, "হরি হরি বলিতে নয়নে ব'বে (বইবে বা বহিবে)নীর। "হরি" নাম উচ্চারণ করতেই স্বপ্রকাশ হরিনাম শ্রীঠাকুরমহাশয়ের প্রেমময় জিহ্বায় পুনঃপুনঃ উচ্চারিত হতে লাগল।কতবার যে জিহ্বায় হরিনাম উচ্চারিত করলেন,তা কারো ধারণা করবার সাধ‍্য নেই।কেল 'হরি হরি'এই দুইবার লিখেই তিনি সেই পুনঃপুনঃ সমুচ্চারিত অনন্ত হরি নামের ইঙ্গিত করলেন মাত্র।হায়!হরি হরি বলতে কবে আমার নয়নে অশ্রুধারা প্রবাহিত হবে।*
       *ক্রমশ*
 *🌻শ্রীঠাকুরমহাশয় গৌরাঙ্গ নামে এবং হরিনামে যে অশ্রু-পুলকাদি কামনা করলেন,তার নাম "সাত্ত্বিক" ভাব। ""কৃষ্ণসম্বন্ধিভিঃ সাক্ষাৎ কিঞ্চিদ্বা ব‍্যবধানতঃ।ভাবৈশ্চিত্তমিহাক্রান্তং সত্ত্বমিত‍্যুচ‍্যতে বুধৈঃ।সত্ত্বাদস্মাৎ সমুৎপন্না যে যে ভাবাস্তে তু সাত্ত্বিকাঃ।।(ভঃরঃসিঃ ২|৩|১-২,) অর্থ‍্যাৎ ""শ্রীকৃষ্ণ সম্বন্ধীয় দাস‍্য,সখ‍্যাদি পঞ্চবিধ মুখ‍্যরতি সাক্ষাৎ ভাবে এবং হাস, করুণাদি সপ্তগৌণরতি দ্বারা কিঞ্চিৎ ব‍্যবধানে আক্রান্ত চিত্তকে পন্ডিতগণ ""সত্ত্ব"" বলে থাকেন।* *কেবল সেই সত্ত্ব হতে সমুৎপন্ন ভাবগুলিকে ""সাত্ত্বিক""বলা হয়। অশ্রু,পুলক,কম্প,বৈবর্ণাদি অষ্ট সাত্ত্বিক ভাব।ভাব বা রতি কর্তৃক আক্রান্ত গলিত চিত্তে এই অশ্রুপুলকাদি উদিত হলেই তার আস্বাদন চমৎকারীত্ব প্রকাশ পায়,চিত্তগলনের আগে অশ্রু,পুলকাদি উদিত হলেও তাকে সাত্ত্বিকভাস বলা হয় ।ইহার কোন আস্বাদন চমৎকারিতা নাই।* *এইজন‍্য অশ্রু পুলকাদিকে ভাবোদয়ের সাধারণ লক্ষণ বলা হয়েছে।অসাধারণ লক্ষণ বা অনুভাব নয়টি যথা=*
*ক্ষান্তিরব‍্যর্থকালত্বং বিরক্তির্মানশূন‍্যতা।আশাবন্ধঃ সমুৎকন্ঠা নামগানে সদা রুচিঃ।আসক্তিস্তদগুণাখ‍্যানে প্রীতিস্তদ্বসতিস্থলে।ইত‍্যাদয়োহনুভাবাঃ স‍্যুর্জাতভাবাঙ্কুরে জনে।।(ভঃরঃসিঃ=১|৩|২৫)* 
      ক্রমশ
*ভঃরঃসিঃ ১|৩|২৫ ব‍্যাখ‍্যা, অর্থ‍্যাৎ ক্ষান্তি,(তিতিক্ষা বা ক্ষমা),অব‍্যর্থকালতা,বিরক্তি,নিরভিমানতা,আশাবন্ধ,সমুৎকন্ঠা,নামগানে সদা রুচি,ভগবানের গুণ-রূপ-অনুবাদে আসক্তি এবং বসতিস্থলে প্রীতিভাবের অঙ্কুরমাত্র যাঁদের উদিত হয়েছে,তাঁদের মধ্যে এই ভাবগুলি উদিত হয়ে থাকে।*
*🌻শ্রীমৎ জীবগোস্বামীপাদ লিখেছেন="তদেবং প্রীতের্লক্ষণং চিত্তদ্রবস্তস‍্য চ রোমহর্ষাদিকম্।কথঞ্চিজ্জাতেহপি চিত্তদ্রবে রোমহর্ষাদিকে বা ন চেদাশয়শুদ্ধিস্তদাপি ন ভক্ত‍্যেঃ সম‍্যগাবির্ভাবঃ ইতি জ্ঞাপিতম্। (প্রীতিসন্দর্ভ=৬৯ অনুচ্ছেদ),*
*অর্থ‍্যাৎ "প্রীতির লক্ষণ চিত্তদ্রবতা এবং তার লক্ষণ অশ্রু-পুলকাদি।সামান‍্য পরিমাণে চিত্ত দ্রবিত হলেও বা অশ্রুপুলকাদির উদয় হলেও যদি চিত্তশুদ্ধি বা কৃষ্ণসেবা ছাড়া অন‍্য কোনসব পরিত‍্যাগ এবং শ্রীকৃষ্ণেই প্রীতি ইচ্ছার প্রকাশ না হয়,তাহলে তাও ভক্তির সম‍্যক আবির্ভাব নয় বলেই জানতে হবে।* *এইজন‍্য ঠাকুরমহাশয় ভাবদশার প্রার্থনা করেও বললেন,""আর কবে নিতাইচাঁদ করুণা করিবে"", সংসার বাসনা মোর কবে তুচ্ছ হবে।। বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন।কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন।। শ্রীপাদ ঠাকুরমহাশয় শ্রীশ্রীনিতাইচাঁদের প্রমের মূরতি হয়েও দৈন‍্যভরে প্রার্থনা করে এই গৌর-নিতায়ের যুগের মানুষকে শিক্ষা দিচ্ছেন।এইযুগে পতিত উদ্ধারণ জন্য পতিতপাবন শ্রীনিতাইচাঁদে যে অসাধারণ করুণার অভিব‍্যক্তি ঘটেছে,তার কোন তুলনায় নাই।*
*""দন্তে তৃণ ধরি নিতাই নগরে বেড়ায়"",* 
*যারে দেখে তারে কহে দন্তে তৃণ করি।* 
*আমারে কিনিয়া লহ বল গৌরহরি।।* 
*এইরকম দয়াময় নিতাইচাঁদের কৃপা ছাড়া কলিজীবের অনাদিকালের সংসার বাসনা বা দেহ-দৈহিকাদিতে আসক্তির প্রবল সংস্কার তুচ্ছ হবে কিকরে?* *আমার নিতাইয়ের করুণা হলে বিষয় বিষে ডুবে থাকা মন ত‍্যাগ হবে,মন শুদ্ধ হবে,এবং তখনি বৃন্দাবন দর্শনের জন্য প্রাণে ব‍্যাকলতা জাগবে ও মধুর বৃন্দাবনের শোভা নয়ন গোচর হবে।* *শ্রীবৃন্দাবন শ্রীরূপ-রঘুনাথের ভজনস্থলী এই বৃন্দাবনেই শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের খোঁজ করছেন।""ভজন""মানেই অভীষ্টকে খোঁজা বা অন্বেষণ করা।বৃন্দাবন শ্রীগোস্বামীপাদগণের আকূতিময় ভজনরসে ভরপূর।বৃন্দাবনে আসলে শুদ্ধচিত্ত সাধকেরও সেই আকূতির যথাসম্ভব সংক্রমণ হয়ে থাকে।শ্রীরূপ-রঘুনাথের কৃপাতে সাধক তখন যুগলপ্রীতি বুঝতে পারেন।* *গোস্বামীপাদগণই ব্রজেরই মঞ্জরী,যুগলপ্রীতি বিশ্বমানবকে বুঝাবার জন‍্যই শ্রীমন্মহাপ্রভুর সঙ্গে বিশ্বে নেমে আসা।সেইজন‍্য তাঁরা তাঁদের বিপুল অনুভূতিপূর্ণ যুগলপ্রীতির শিক্ষা তাঁদের গ্রন্থে লিপিবদ্ধ রেখেছেন।সাধক তাঁদের ভজনস্থলী এই বৃন্দাবনে তাঁদের জন্য ব‍্যাকুল হবেন,হারূপ!হা রঘুনাথ! তোমরা আছ দর্শন দাও।এইতো তোমাদের ভজনস্থলী,শ্রীবৃন্দাবন।এই জায়গায় তোমাদের নিত‍্যলীলা চলছে, মোহান্ধ আমি,তোমাদের লীলা দেখতে পাচ্ছি না,সাধক এইভাবে এই বৃন্দাবনে রূপ-রঘুনাথের নাম নিয়ে ব‍্যাকুল হলে তাঁদের করুণা নেমে আসবে।""কবে হাম বুঝব সে যুগল পিরীতি।। যুগল পিরীতি=শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের পরম বিশুদ্ধ পারস্পরিক প্রেম।এইপ্রেমের বোধ অতি সুদুর্লভ,একমাত্র শ্রীরূপ-রঘুনাথের কৃপা সাপেক্ষ।তাই বলছেন,রূপ-রঘুনাথ পদে রহু মোর আশ।প্রার্থনা করয়ে সদা নরোত্তম দাস।।*
*🙏বানান,ভুল ভ্রান্তি ক্ষমা করবেন🌻*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
🌐 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






*কৃষ্ণসেবা কামার্পণে, ক্রোধ ভক্তদ্বেষী জনে,* *লোভ সাধুসঙ্গে হরিকথা।*। *মোহ ইষ্টলাভ বিনে, মদ কৃষ্ণ গুণগানে,* *নিযুক্ত করিব যথা তথা।।* ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ -> http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/08/blog-post_3.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ *কৃষ্ণসেবা কামার্পণে, ক্রোধ ভক্তদ্বেষী জনে,* 
                ꧁ *লোভ সাধুসঙ্গে হরিকথা।* 
     ꧁  *মোহ ইষ্টলাভ বিনে, মদ কৃষ্ণ গুণগানে,* ꧂
                *নিযুক্ত করিব যথা তথা।।* 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🍉🍈🍊🍋🍌🍍🍎🍏🍐🥑🍒🍑
*কৃষ্ণসেবা কামার্পণে, ক্রোধ ভক্তদ্বেষী জনে,*
    *লোভ সাধুসঙ্গে হরিকথা।*
*মোহ ইষ্টলাভ বিনে, মদ কৃষ্ণ গুণগানে,*
    *নিযুক্ত করিব যথা তথা।।*
🍉🍈🍊🍋🍌🍍🍎🍏🍐🥑🥝🍒
*শ্রীঠাকুরমহাশয় কামাদি রিপুগণকে শ্রীকৃষ্ণ-সেবায় নিযুক্ত করবার যথাযোগ্য জায়গাগুলি নিরূপণ করেছেন।* *প্রথমে বলেছেন,"কৃষ্ণসেবা কামার্পণে" 'শ্রীকৃষ্ণসেবায় কামকে নিযুক্ত করব'।* *"আত্মেন্দ্রিয় প্রীতি বাঞ্জা, তারে বলি কাম", কামের তাৎপর্য‍্য নিজ সম্ভোগ কেবল।।(চৈঃচঃ)*
*নানা বাক‍্যে জানা যায় কাম বা কামনার গতি নিজের সুখের দিকে।যদি একে শ্রীকৃষ্ণ সুখের জন্য নিয়োগ করা যায়,তবে এই কামই প্রেমরূপে পরিণত হয়ে পরমপুরুষার্থরূপে গণ‍্য হতে পারে।* *"কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি বাঞ্জা ধরে প্রেম নাম"।।* *কৃষ্ণসুখ তাৎপর্য‍্য,হয় প্রেম ত প্রবল।(ঐ) ইত‍্যাদি বাক‍্যে শ্রীকৃষ্ণের সুখ,সাধনের ইচ্ছাকেই ""প্রেম"" বলে জানা যায়।(কম্ ধাতুর উত্তর ঘঙ্ প্রত‍্যয় যোগে "কাম" শব্দ নিষ্পন্ন হয় এবং "প্রী" ধাতুর ক প্রত‍্যয় প্রিয় তার উত্তর ভাববাচ‍্যে "ইমন" প্রত‍্যয় যোগে "প্রেম"শব্দ নিষ্পন্ন হয়ে থাকে।"কম"ধাতু ও "প্রী" ধাতু উভয় ধাতুর অর্থই ইচ্ছা।সুতরাং "কাম" ও "প্রেম"শব্দে ধাতুগত কোন ভেদ না থাকলেও লক্ষ‍্যগত অনেক ভেদ বিদ‍্যমান।* *কাম ব‍্যভিচারী,বহু বিষয়গামী এবং প্রেম একনিষ্ঠ, সিন্ধুগামী গঙ্গাধারার মতো শ্রীকৃষ্ণের দিকে তার গতি অবিচ্ছন্ন।* *কামের হেয়াংশ অর্থ‍্যাৎ স্ব-সুখ তাৎপর্য‍্য অনুসন্ধান বর্জিত হয়ে পরম প্রশংসিত হতে পারে।* *যে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামা যায়,সেই সিঁড়ি বেয়েই উপরে উঠা যেতে পারে কিন্তু নামবার সময় নিচের দিকে লক্ষ‍্য এবং উঠবার সময় উপরের দিকে লক্ষ‍্য রাখতে হয় ; তেমনি যাদের কাম বা কামনার নিজের সুখের দিকে লক্ষ‍্য,তারা বিষয় বাসনায় বদ্ধ হয়ে নানাযোনি ভ্রমণ ও নরকাদি দুঃখভোগ করে বেড়ায়।* *আর যাঁরা ভজন পথ আশ্রয় করেন,তাঁদের অন্তরের কাম বা কামনা শ্রীকৃষ্ণ সুখের প্রতি যুক্ত হয়ে ভক্তিদেবীর প্রভাবে ক্রমশঃ চিন্ময় হতে থাকে এবং শেষে ঐ কামনা হ্লাদিনীর সারবৃত্তির সঙ্গে তাদাত্মা প্রাপ্ত হয়ে "প্রেম"আখ‍্যা লাভ করে থাকে।* *ভাগবতে ১১|১১|২৪, শ্রীভগবান স্বয়ং উদ্ধবের প্রতি বলেছেন,*

*"মদর্থে ধর্মকামার্থানাচারন্ মদপাশ্রয়ঃ।
লভতে নিশ্চলাং ভক্তিং ময‍্যুদ্ধব সনাতনে"।*

 *হে উদ্ধব!আমার আশ্রিত ব‍্যক্তি আমার ভালবাসার জন্য ধর্ম,অর্থ ও কামসমূহের আচরণ করে সনাতন পুরুষ আমাতে প্রেমলাভ করে ধন‍্য হয়ে থাকেন।* *শ্রীকৃষ্ণ কামনার আচরণে জড়ীয় বিশ্ব বিষয় কামনার অবসান ঘটে থাকে। ভগবান নারদের প্রতি বলেছিলেন,"মৎকামঃ শনকৈঃ সাধু সর্বান্মুঞ্চতি হৃচ্ছয়ান্" অর্থ‍্যাৎ আমার কামনা বুকে নিয়ে সাধুগণ বিশ্ব কামনা বিসর্জন দিয়ে থাকেন।অন‍্য কামনা শূন‍্য হয়ে কৃষ্ণ-কামধায় হৃদয় পূর্ণ হওয়ার নামই ""প্রেম""।*
        🌻ক্রমশ🌻
 *অতঃপর বললেন, "ক্রোধ ভক্তদ্বেষী জনে" মানুষের মহাশত্রু এবং মহা অনিষ্টকারী এই ক্রোধকে সাক্ষাৎভাবে কৃষ্ণসেবার কোন কার্য‍্যে নিয়োজিত করা যেতে পারে না বটে, কিন্তু ভক্তদ্বেষীজনের অর্থ‍্যাৎ যারা ভক্তজনকে হিংসা ঘৃণা করে, তাদের প্রতি একে নিয়োজিত করলে ভক্তির পরিপুষ্টি সাধিত হয়ে থাকে।* *ভক্তদ্বেষী জনের ভক্তনিন্দা এবং ভক্তের বিদ্বেষজনক কার্য‍্য যদি সহ‍্য করা যায়, যদি তাতে সাধকের ক্রোধ বা অসহিষ্ণুতার প্রকাশ না হয়,তাহলে শ্রীবিষ্ণুতে এবং বৈষ্ণবে যে তাঁর প্রীতি আছে,ইহা প্রমাণিত হয় না।দক্ষ প্রজাপতির যজ্ঞে মহাদেবের অবমাননা দেখে সতী ক্রুদ্ধা হয়ে বলেছিলেন=,ভাগবত=৪|৪|১৭,*

*কর্ণৌ পিধায় নিরিয়াদযদকল্পে ঈশে ধর্মাবিতর্য‍্যশৃণিভির্নিভিরস‍্যমানে।*
*ছিন্দ‍্যাৎ প্রসহ‍্য রূষতীমসতাং প্রভুশ্চেজ্জিহ্বামসূনপি ততো বিসৃজেৎ স ধর্মঃ।।*

*অর্থ‍্যাৎ=নিন্দুকব‍্যক্তি যদি ধর্মরক্ষক প্রভুর নিন্দাবাদ কীর্তন করে আর তা শুনে যদি কেউ তাকে মারতে বা স্বয়ং মরতে সমর্থ না হয়,তবে কর্ণদ্বয় আচ্ছাদনপূর্বক ক্রোধভরে সেখান থাকে চলে যাবে,আর সমর্থ হলে নিন্দাকারীর কুবাক‍্যবাদিনী জিহ্বাকে বলপূর্বক ছেদন করবে এবং তদনন্তর স্বয়ং প্রাণত‍্যাগ করবে ইহাই ধর্ম।* 
*🌻বৈষ্ণবগণের পক্ষে ভজনোপযোগী দেহত‍্যাগ অনুচিত বলে তাঁদের দুইকান ঢেকে শ্রীবিষ্ণুরনাম স্মরণ করে সেই জায়গা ত‍্যাগ করাই উচিত।* *অতএব সাধারণের সর্বনাশ সাধক ক্রোধ বা অসহনশীলতা ভক্তদ্বেষীর প্রতি নিয়োজিত হয়ে বৈষ্ণবগণের ভজনের পরিপূষ্টি সাধন করে এটিই বুঝা গেল।* *আবার "লোভ সাধুসঙ্গে হরিকথা" লোভ অর্থে লালসা,জড়ীয় বিষয়ে লোভ বা লালসা জীবের মহা অনিষ্টকারী বা সংসার রোগের মূল কারণ হলেও ইহা সাধুসঙ্গে হরিকথা শ্রবণে যুক্ত হয়ে সাধককে অনায়াসে প্রেমদানে ধন‍্য করে থাকে এবং ইহার আনুষঙ্গিক ফলেই ক্ষুধা,পিপাসা,ভয়,মোহাদি নাশপ্রাপ্ত হয়ে থাকে।* *(প্রেমদাতৃত্ব যথা)*

*"তমেব নিত‍্যং শৃণুয়াদভীক্ষ্মীং কৃষ্ণেহমলাং ভক্তিমভীপ্সমানঃ"। (ভাগবত=১২|৩|১৫),*
*অর্থ‍্যাৎ "মহতের শ্রীমুখে শ্রীকৃষ্ণের যশোগাথা শ্রবণমাত্রেই শ্রীকৃষ্ণে প্রেমভক্তি লাভ হয়ে থাকে।*

*🍁ক্ষুৎ পিপাসাদি সংসার ধর্ম নাশ সম্বন্ধে দেবর্ষি নারদের প্রাচীনবর্হির প্রতি উক্তি(ভাগবত=৪|২৯|৪০)*
*"তস্মিন মহন্মুখরিতা মধুভিচ্চরিত্রপীযূষশেষসরিতঃ পরিতঃ স্রবন্তি।*
*তা যে পিবন্ত‍্যবিতৃষ্ণো নৃপ গাঢ়কর্ণৈস্তান্ন স্পৃশন্ত‍্যশনতৃড় ভয়শোকমোহাঃ।।*

*"হে রাজন!কেউ কেউ মনে করেন সাধুসঙ্গ ব‍্যতীত নিজেই হরিকথা চিন্তন আদি দ্বারা ভগবানে প্রেমভক্তির উদয় হয়ে থাকে,কিন্তু তা অত‍্যন্ত অসম্ভব।হরিকথামৃত ব‍্যতীত অন‍্য কথাপ্রসঙ্গ যাতে নাই এইরকম হরিকথারূপ সুধা তরঙ্গিনী যে সাধুসমাজে সবসময় চারদিকে প্রবাহিত হয় সেই সাধুর জায়গায় বসে তাঁদের সাবহিত কর্ণে ও অহং প্রবৃত্তি হয়ে হরিসুধা কথা পান করুন।ক্ষুধা,পিপাসা,ভয়,শোক,মোহ তাঁদেরকে স্পর্শ করতে পারবে না।*
*আরো কি,সাধুসঙ্গে হরিকথায় লোভই পরমপুরুষার্থ ; ভগবান পৃথু মহারাজকে বর দিতে চাইলে তিনি বলেছিলেন=* 

*"ন কাময়ে নাথ তদপ‍্যহং ক্বচিন্ন যত্র যুস্মচ্চরণাম্বুজাসবঃ।*
*মহত্তমান্তর্হৃদয়ান্মুখচ‍্যুতো, বিধৎস্ব কর্ণাযুতমেষ মে বরঃ।।*

*হে নাথ!মহত্তমগণের হৃদয় হতে তাঁদের মুখকমল নিঃসৃত ভবদীয় গুণকীর্তনরূপ শ্রীপাদপদ্ম মকরন্দরস যাতে লাভ করা যায় না,এইরকম মুক্তিতে আমার কোন প্রয়োজন নাই।আপনি আমার দশহাজার বা অসংখ‍্য শ্রবণেন্দ্রিয় বিধান করুন,যাতে আমার প্রাণ ভরে আপনার গুণকথা শুনতে পারি।এটিই আমার উত্তম বর"।* *সাধুসঙ্গ দ্বারাই শ্রকৃষ্ণকথায় লোভের পরম পুরুষার্থ বুঝা যায়।*
    🌻ক্রমশ🌻
 *তাপর বললেন,"মোহ ইষ্টলাভ বিনে" মানুষের বিষয়-কামনা বা দেহ- দৈহিকাদিতে আসক্তি যখন আত্মজ্ঞানকে ঢেকে রাখে তত্ত্ববস্তুকে বুঝতে দেয় না, তখন তাকেই "মোহ"বলা হয়।* *তত্ত্বজ্ঞ ভক্তি-সাধক এই মোহটিকে নিজ ইষ্টলাভ অর্থ‍্যাৎ ভগবৎপ্রাপ্তি বা ভগবানের সাক্ষাৎ সেবাপ্রাপ্তির বিহনে ভগবৎ বিরহ জনিত মোহ বা মূর্ছারূপে গ্রহণ করে ভজনে নিয়োজিত করে থাকেন।* *তাৎপর্য‍্য এই যে,কৃষ্ণের শ্রবণ,কীর্তন,স্মরণাদিতে যে সাধক লোকাতীত আনন্দ লাভ করে থাকেন,এই আনন্দের মধ্যেও সাধকের সবসময় সাক্ষাৎপ্রাপ্তির অভাব বা বিরহউৎকন্ঠা জাগরূক থাকা প্রয়োজন।নচেৎ আত্মারামতার মতো একটি অবস্থা উদিত হয়ে তাঁর সাক্ষাৎ সেবাপ্রাপ্তিতে বিলম্ব ঘটিয়ে থাকে।*
*যেমন দম্পতির মিলনেই সন্তান জাত বা জন্ম হয়,তেমনি প্রেমের সঙ্গে উৎকন্ঠার যোগ হলেই ভগবদ্দর্শন সম্ভবপর হয়ে থাকে।শ্রীরূপ,সনাতন,রঘুনাথাদি ষড়গোস্বামীপাদ সাক্ষাৎ শ্রীমন্মহাপ্রভুর পার্ষদ হয়েও ইষ্ট লাভের অভাবে কি অলৌকিক বিরহ- ব‍্যাকুলতা প্রকাশ করেছিলেন, তা তাঁদের চরিত্রানুশীলনে জানা যায়।* *তাঁদের সেই মহা বিরহ-ব‍্যাকুলতা বা ইষ্টের জন্য সবসময় মোহ,মূর্ছাদি সুমেরু-শিখরের মতো বিশ্বের ভক্তিসাধকগণ চির আদর্শস্থানীয় হয়ে রয়েছে।* *তিনি বললেন,ষড়রিপুর অন‍্যতম এই মোহটিকে ইষ্টবিরহের নবমদশারূপে যদি গ্রহণ করেন,তবে অচিরায় অভীষ্টের দর্শন বা সেবালাভে ধন‍্য হতে পারবেন।* *অবশেষে বললেন,"মদ কৃষ্ণগুণ গানে" "মদ"শব্দের অর্থ অভিমান বা অহঙ্কার, ইহা ভক্তির অত‍্যন্ত বিঘাতক বা বাধা।অভিমানী ব‍্যক্তি ভগবান হতে বহু দূরে। "অহঙ্কার-নিবৃত্তানাং কেশব নহি দূরগঃ।অহঙ্কার-যুতানাং মধ্যে পর্বতরাশয়ঃ"।। অর্থ‍্যাৎ যাঁর অহঙ্কার নিবৃত্ত হয়েছে কেশব তাঁর খুবই কাছে এবং অহঙ্কারী ব‍্যক্তির কাছ হতে তিনি রাশি রাশি পর্বত দূরে অবস্থিত।* *বুদ্ধিম‍ান ভক্তিসাধক কিন্তু এই অভিমান বা মদকে নষ্ট না করে শ্রীকৃষ্ণ গুণগানে মত্ততারূপে নিযুক্ত করে থাকেন।* *("মদ" শব্দের একটি অর্থ মত্ততা) অর্থ‍্যাৎ শ্রীকৃষ্ণগুণগানে মত্ত হয়ে অচিরায় প্রেমসিদ্ধি লাভে ধন‍্য হয়ে থাকেন।* *শ্রীকৃষ্ণগুণগানে মত্ততাও পরমপুরুষার্থ বলে শ্রীমদ্ভাগবতে ৮|৩|২০ বর্ণিত আছে।*
       *ক্রমশ*
*একান্তিনো যস‍্য ন কঞ্চনার্থং,বাঞ্জন্তি যে বৈ ভগবৎপ্রপন্নাঃ।*
*অত‍্যদ্ভুতং তচ্চরিতং সুমঙ্গলং,গায়ন্ত আনন্দসমুদ্রমগ্নাঃ*।।

*🌻শ্রীগজেন্দ্র ভগবানের স্তব প্রসঙ্গে বললেন, হে ভগবন্!ভগবৎপাদপদ্মে শরণাগত ঐকান্তিক ভক্তগণ কিছুই কামনা করেন না, তাঁরা অতি অদ্ভুত ও সুমঙ্গলময় শ্রীহরিচরিত গানে মত্ত হয়ে আনন্দরসসাগরে নিমগ্ন হয়ে থাকেন।🌻*
*শ্রীঠাকুরমহাশয় বলেছেন, ভক্তি সাধনার মহা অন্তরায় এই কামাদি রিপুগণকে এইভাবে ভগবৎভক্তজনের জায়গায় জায়গায় নিযুক্ত করে এদেরকে ভক্তিসাধনার সহায়ক করে নিব।ঠাকুরমহাশয় এর পূর্বের ছয় রিপুকে ভজনের স্থানে স্থানে নিযুক্ত করবার সংকল্প করেছিলেন এবং যেভাবে সুকৌশলে কাম,ক্রোধাদিকে ভজনে নিয়োজিত করবার জায়গাগুলি নির্দেশ করেছিলেন।কিন্তু তিনি ষড়রিপুর অন‍্যতম মাৎসর্য‍্যের জায়গা খুঁজে পাননি।(অপরের উৎকর্ষ দর্শনে উহা সহ‍্য করতে না পারা,উহা ভাল না লাগা বা মনটি বিমর্ষ হয়ে আসা ইহাই মাৎসর্য‍্য),*
*🌺বানান,ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়🌺*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






*কৃষ্ণসেবা কামার্পণে, ক্রোধ ভক্তদ্বেষী জনে,* *লোভ সাধুসঙ্গে হরিকথা।*। *মোহ ইষ্টলাভ বিনে, মদ কৃষ্ণ গুণগানে,* *নিযুক্ত করিব যথা তথা।।* ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ -> http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/08/blog-post_3.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ꧁ *কৃষ্ণসেবা কামার্পণে, ক্রোধ ভক্তদ্বেষী জনে,* 
                ꧁ *লোভ সাধুসঙ্গে হরিকথা।* 
     ꧁  *মোহ ইষ্টলাভ বিনে, মদ কৃষ্ণ গুণগানে,* ꧂
                *নিযুক্ত করিব যথা তথা।।* 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🍉🍈🍊🍋🍌🍍🍎🍏🍐🥑🍒🍑
*কৃষ্ণসেবা কামার্পণে, ক্রোধ ভক্তদ্বেষী জনে,*
    *লোভ সাধুসঙ্গে হরিকথা।*
*মোহ ইষ্টলাভ বিনে, মদ কৃষ্ণ গুণগানে,*
    *নিযুক্ত করিব যথা তথা।।*
🍉🍈🍊🍋🍌🍍🍎🍏🍐🥑🥝🍒
*শ্রীঠাকুরমহাশয় কামাদি রিপুগণকে শ্রীকৃষ্ণ-সেবায় নিযুক্ত করবার যথাযোগ্য জায়গাগুলি নিরূপণ করেছেন।* *প্রথমে বলেছেন,"কৃষ্ণসেবা কামার্পণে" 'শ্রীকৃষ্ণসেবায় কামকে নিযুক্ত করব'।* *"আত্মেন্দ্রিয় প্রীতি বাঞ্জা, তারে বলি কাম", কামের তাৎপর্য‍্য নিজ সম্ভোগ কেবল।।(চৈঃচঃ)*
*নানা বাক‍্যে জানা যায় কাম বা কামনার গতি নিজের সুখের দিকে।যদি একে শ্রীকৃষ্ণ সুখের জন্য নিয়োগ করা যায়,তবে এই কামই প্রেমরূপে পরিণত হয়ে পরমপুরুষার্থরূপে গণ‍্য হতে পারে।* *"কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি বাঞ্জা ধরে প্রেম নাম"।।* *কৃষ্ণসুখ তাৎপর্য‍্য,হয় প্রেম ত প্রবল।(ঐ) ইত‍্যাদি বাক‍্যে শ্রীকৃষ্ণের সুখ,সাধনের ইচ্ছাকেই ""প্রেম"" বলে জানা যায়।(কম্ ধাতুর উত্তর ঘঙ্ প্রত‍্যয় যোগে "কাম" শব্দ নিষ্পন্ন হয় এবং "প্রী" ধাতুর ক প্রত‍্যয় প্রিয় তার উত্তর ভাববাচ‍্যে "ইমন" প্রত‍্যয় যোগে "প্রেম"শব্দ নিষ্পন্ন হয়ে থাকে।"কম"ধাতু ও "প্রী" ধাতু উভয় ধাতুর অর্থই ইচ্ছা।সুতরাং "কাম" ও "প্রেম"শব্দে ধাতুগত কোন ভেদ না থাকলেও লক্ষ‍্যগত অনেক ভেদ বিদ‍্যমান।* *কাম ব‍্যভিচারী,বহু বিষয়গামী এবং প্রেম একনিষ্ঠ, সিন্ধুগামী গঙ্গাধারার মতো শ্রীকৃষ্ণের দিকে তার গতি অবিচ্ছন্ন।* *কামের হেয়াংশ অর্থ‍্যাৎ স্ব-সুখ তাৎপর্য‍্য অনুসন্ধান বর্জিত হয়ে পরম প্রশংসিত হতে পারে।* *যে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামা যায়,সেই সিঁড়ি বেয়েই উপরে উঠা যেতে পারে কিন্তু নামবার সময় নিচের দিকে লক্ষ‍্য এবং উঠবার সময় উপরের দিকে লক্ষ‍্য রাখতে হয় ; তেমনি যাদের কাম বা কামনার নিজের সুখের দিকে লক্ষ‍্য,তারা বিষয় বাসনায় বদ্ধ হয়ে নানাযোনি ভ্রমণ ও নরকাদি দুঃখভোগ করে বেড়ায়।* *আর যাঁরা ভজন পথ আশ্রয় করেন,তাঁদের অন্তরের কাম বা কামনা শ্রীকৃষ্ণ সুখের প্রতি যুক্ত হয়ে ভক্তিদেবীর প্রভাবে ক্রমশঃ চিন্ময় হতে থাকে এবং শেষে ঐ কামনা হ্লাদিনীর সারবৃত্তির সঙ্গে তাদাত্মা প্রাপ্ত হয়ে "প্রেম"আখ‍্যা লাভ করে থাকে।* *ভাগবতে ১১|১১|২৪, শ্রীভগবান স্বয়ং উদ্ধবের প্রতি বলেছেন,*

*"মদর্থে ধর্মকামার্থানাচারন্ মদপাশ্রয়ঃ।
লভতে নিশ্চলাং ভক্তিং ময‍্যুদ্ধব সনাতনে"।*

 *হে উদ্ধব!আমার আশ্রিত ব‍্যক্তি আমার ভালবাসার জন্য ধর্ম,অর্থ ও কামসমূহের আচরণ করে সনাতন পুরুষ আমাতে প্রেমলাভ করে ধন‍্য হয়ে থাকেন।* *শ্রীকৃষ্ণ কামনার আচরণে জড়ীয় বিশ্ব বিষয় কামনার অবসান ঘটে থাকে। ভগবান নারদের প্রতি বলেছিলেন,"মৎকামঃ শনকৈঃ সাধু সর্বান্মুঞ্চতি হৃচ্ছয়ান্" অর্থ‍্যাৎ আমার কামনা বুকে নিয়ে সাধুগণ বিশ্ব কামনা বিসর্জন দিয়ে থাকেন।অন‍্য কামনা শূন‍্য হয়ে কৃষ্ণ-কামধায় হৃদয় পূর্ণ হওয়ার নামই ""প্রেম""।*
        🌻ক্রমশ🌻
 *অতঃপর বললেন, "ক্রোধ ভক্তদ্বেষী জনে" মানুষের মহাশত্রু এবং মহা অনিষ্টকারী এই ক্রোধকে সাক্ষাৎভাবে কৃষ্ণসেবার কোন কার্য‍্যে নিয়োজিত করা যেতে পারে না বটে, কিন্তু ভক্তদ্বেষীজনের অর্থ‍্যাৎ যারা ভক্তজনকে হিংসা ঘৃণা করে, তাদের প্রতি একে নিয়োজিত করলে ভক্তির পরিপুষ্টি সাধিত হয়ে থাকে।* *ভক্তদ্বেষী জনের ভক্তনিন্দা এবং ভক্তের বিদ্বেষজনক কার্য‍্য যদি সহ‍্য করা যায়, যদি তাতে সাধকের ক্রোধ বা অসহিষ্ণুতার প্রকাশ না হয়,তাহলে শ্রীবিষ্ণুতে এবং বৈষ্ণবে যে তাঁর প্রীতি আছে,ইহা প্রমাণিত হয় না।দক্ষ প্রজাপতির যজ্ঞে মহাদেবের অবমাননা দেখে সতী ক্রুদ্ধা হয়ে বলেছিলেন=,ভাগবত=৪|৪|১৭,*

*কর্ণৌ পিধায় নিরিয়াদযদকল্পে ঈশে ধর্মাবিতর্য‍্যশৃণিভির্নিভিরস‍্যমানে।*
*ছিন্দ‍্যাৎ প্রসহ‍্য রূষতীমসতাং প্রভুশ্চেজ্জিহ্বামসূনপি ততো বিসৃজেৎ স ধর্মঃ।।*

*অর্থ‍্যাৎ=নিন্দুকব‍্যক্তি যদি ধর্মরক্ষক প্রভুর নিন্দাবাদ কীর্তন করে আর তা শুনে যদি কেউ তাকে মারতে বা স্বয়ং মরতে সমর্থ না হয়,তবে কর্ণদ্বয় আচ্ছাদনপূর্বক ক্রোধভরে সেখান থাকে চলে যাবে,আর সমর্থ হলে নিন্দাকারীর কুবাক‍্যবাদিনী জিহ্বাকে বলপূর্বক ছেদন করবে এবং তদনন্তর স্বয়ং প্রাণত‍্যাগ করবে ইহাই ধর্ম।* 
*🌻বৈষ্ণবগণের পক্ষে ভজনোপযোগী দেহত‍্যাগ অনুচিত বলে তাঁদের দুইকান ঢেকে শ্রীবিষ্ণুরনাম স্মরণ করে সেই জায়গা ত‍্যাগ করাই উচিত।* *অতএব সাধারণের সর্বনাশ সাধক ক্রোধ বা অসহনশীলতা ভক্তদ্বেষীর প্রতি নিয়োজিত হয়ে বৈষ্ণবগণের ভজনের পরিপূষ্টি সাধন করে এটিই বুঝা গেল।* *আবার "লোভ সাধুসঙ্গে হরিকথা" লোভ অর্থে লালসা,জড়ীয় বিষয়ে লোভ বা লালসা জীবের মহা অনিষ্টকারী বা সংসার রোগের মূল কারণ হলেও ইহা সাধুসঙ্গে হরিকথা শ্রবণে যুক্ত হয়ে সাধককে অনায়াসে প্রেমদানে ধন‍্য করে থাকে এবং ইহার আনুষঙ্গিক ফলেই ক্ষুধা,পিপাসা,ভয়,মোহাদি নাশপ্রাপ্ত হয়ে থাকে।* *(প্রেমদাতৃত্ব যথা)*

*"তমেব নিত‍্যং শৃণুয়াদভীক্ষ্মীং কৃষ্ণেহমলাং ভক্তিমভীপ্সমানঃ"। (ভাগবত=১২|৩|১৫),*
*অর্থ‍্যাৎ "মহতের শ্রীমুখে শ্রীকৃষ্ণের যশোগাথা শ্রবণমাত্রেই শ্রীকৃষ্ণে প্রেমভক্তি লাভ হয়ে থাকে।*

*🍁ক্ষুৎ পিপাসাদি সংসার ধর্ম নাশ সম্বন্ধে দেবর্ষি নারদের প্রাচীনবর্হির প্রতি উক্তি(ভাগবত=৪|২৯|৪০)*
*"তস্মিন মহন্মুখরিতা মধুভিচ্চরিত্রপীযূষশেষসরিতঃ পরিতঃ স্রবন্তি।*
*তা যে পিবন্ত‍্যবিতৃষ্ণো নৃপ গাঢ়কর্ণৈস্তান্ন স্পৃশন্ত‍্যশনতৃড় ভয়শোকমোহাঃ।।*

*"হে রাজন!কেউ কেউ মনে করেন সাধুসঙ্গ ব‍্যতীত নিজেই হরিকথা চিন্তন আদি দ্বারা ভগবানে প্রেমভক্তির উদয় হয়ে থাকে,কিন্তু তা অত‍্যন্ত অসম্ভব।হরিকথামৃত ব‍্যতীত অন‍্য কথাপ্রসঙ্গ যাতে নাই এইরকম হরিকথারূপ সুধা তরঙ্গিনী যে সাধুসমাজে সবসময় চারদিকে প্রবাহিত হয় সেই সাধুর জায়গায় বসে তাঁদের সাবহিত কর্ণে ও অহং প্রবৃত্তি হয়ে হরিসুধা কথা পান করুন।ক্ষুধা,পিপাসা,ভয়,শোক,মোহ তাঁদেরকে স্পর্শ করতে পারবে না।*
*আরো কি,সাধুসঙ্গে হরিকথায় লোভই পরমপুরুষার্থ ; ভগবান পৃথু মহারাজকে বর দিতে চাইলে তিনি বলেছিলেন=* 

*"ন কাময়ে নাথ তদপ‍্যহং ক্বচিন্ন যত্র যুস্মচ্চরণাম্বুজাসবঃ।*
*মহত্তমান্তর্হৃদয়ান্মুখচ‍্যুতো, বিধৎস্ব কর্ণাযুতমেষ মে বরঃ।।*

*হে নাথ!মহত্তমগণের হৃদয় হতে তাঁদের মুখকমল নিঃসৃত ভবদীয় গুণকীর্তনরূপ শ্রীপাদপদ্ম মকরন্দরস যাতে লাভ করা যায় না,এইরকম মুক্তিতে আমার কোন প্রয়োজন নাই।আপনি আমার দশহাজার বা অসংখ‍্য শ্রবণেন্দ্রিয় বিধান করুন,যাতে আমার প্রাণ ভরে আপনার গুণকথা শুনতে পারি।এটিই আমার উত্তম বর"।* *সাধুসঙ্গ দ্বারাই শ্রকৃষ্ণকথায় লোভের পরম পুরুষার্থ বুঝা যায়।*
    🌻ক্রমশ🌻
 *তাপর বললেন,"মোহ ইষ্টলাভ বিনে" মানুষের বিষয়-কামনা বা দেহ- দৈহিকাদিতে আসক্তি যখন আত্মজ্ঞানকে ঢেকে রাখে তত্ত্ববস্তুকে বুঝতে দেয় না, তখন তাকেই "মোহ"বলা হয়।* *তত্ত্বজ্ঞ ভক্তি-সাধক এই মোহটিকে নিজ ইষ্টলাভ অর্থ‍্যাৎ ভগবৎপ্রাপ্তি বা ভগবানের সাক্ষাৎ সেবাপ্রাপ্তির বিহনে ভগবৎ বিরহ জনিত মোহ বা মূর্ছারূপে গ্রহণ করে ভজনে নিয়োজিত করে থাকেন।* *তাৎপর্য‍্য এই যে,কৃষ্ণের শ্রবণ,কীর্তন,স্মরণাদিতে যে সাধক লোকাতীত আনন্দ লাভ করে থাকেন,এই আনন্দের মধ্যেও সাধকের সবসময় সাক্ষাৎপ্রাপ্তির অভাব বা বিরহউৎকন্ঠা জাগরূক থাকা প্রয়োজন।নচেৎ আত্মারামতার মতো একটি অবস্থা উদিত হয়ে তাঁর সাক্ষাৎ সেবাপ্রাপ্তিতে বিলম্ব ঘটিয়ে থাকে।*
*যেমন দম্পতির মিলনেই সন্তান জাত বা জন্ম হয়,তেমনি প্রেমের সঙ্গে উৎকন্ঠার যোগ হলেই ভগবদ্দর্শন সম্ভবপর হয়ে থাকে।শ্রীরূপ,সনাতন,রঘুনাথাদি ষড়গোস্বামীপাদ সাক্ষাৎ শ্রীমন্মহাপ্রভুর পার্ষদ হয়েও ইষ্ট লাভের অভাবে কি অলৌকিক বিরহ- ব‍্যাকুলতা প্রকাশ করেছিলেন, তা তাঁদের চরিত্রানুশীলনে জানা যায়।* *তাঁদের সেই মহা বিরহ-ব‍্যাকুলতা বা ইষ্টের জন্য সবসময় মোহ,মূর্ছাদি সুমেরু-শিখরের মতো বিশ্বের ভক্তিসাধকগণ চির আদর্শস্থানীয় হয়ে রয়েছে।* *তিনি বললেন,ষড়রিপুর অন‍্যতম এই মোহটিকে ইষ্টবিরহের নবমদশারূপে যদি গ্রহণ করেন,তবে অচিরায় অভীষ্টের দর্শন বা সেবালাভে ধন‍্য হতে পারবেন।* *অবশেষে বললেন,"মদ কৃষ্ণগুণ গানে" "মদ"শব্দের অর্থ অভিমান বা অহঙ্কার, ইহা ভক্তির অত‍্যন্ত বিঘাতক বা বাধা।অভিমানী ব‍্যক্তি ভগবান হতে বহু দূরে। "অহঙ্কার-নিবৃত্তানাং কেশব নহি দূরগঃ।অহঙ্কার-যুতানাং মধ্যে পর্বতরাশয়ঃ"।। অর্থ‍্যাৎ যাঁর অহঙ্কার নিবৃত্ত হয়েছে কেশব তাঁর খুবই কাছে এবং অহঙ্কারী ব‍্যক্তির কাছ হতে তিনি রাশি রাশি পর্বত দূরে অবস্থিত।* *বুদ্ধিম‍ান ভক্তিসাধক কিন্তু এই অভিমান বা মদকে নষ্ট না করে শ্রীকৃষ্ণ গুণগানে মত্ততারূপে নিযুক্ত করে থাকেন।* *("মদ" শব্দের একটি অর্থ মত্ততা) অর্থ‍্যাৎ শ্রীকৃষ্ণগুণগানে মত্ত হয়ে অচিরায় প্রেমসিদ্ধি লাভে ধন‍্য হয়ে থাকেন।* *শ্রীকৃষ্ণগুণগানে মত্ততাও পরমপুরুষার্থ বলে শ্রীমদ্ভাগবতে ৮|৩|২০ বর্ণিত আছে।*
       *ক্রমশ*
*একান্তিনো যস‍্য ন কঞ্চনার্থং,বাঞ্জন্তি যে বৈ ভগবৎপ্রপন্নাঃ।*
*অত‍্যদ্ভুতং তচ্চরিতং সুমঙ্গলং,গায়ন্ত আনন্দসমুদ্রমগ্নাঃ*।।

*🌻শ্রীগজেন্দ্র ভগবানের স্তব প্রসঙ্গে বললেন, হে ভগবন্!ভগবৎপাদপদ্মে শরণাগত ঐকান্তিক ভক্তগণ কিছুই কামনা করেন না, তাঁরা অতি অদ্ভুত ও সুমঙ্গলময় শ্রীহরিচরিত গানে মত্ত হয়ে আনন্দরসসাগরে নিমগ্ন হয়ে থাকেন।🌻*
*শ্রীঠাকুরমহাশয় বলেছেন, ভক্তি সাধনার মহা অন্তরায় এই কামাদি রিপুগণকে এইভাবে ভগবৎভক্তজনের জায়গায় জায়গায় নিযুক্ত করে এদেরকে ভক্তিসাধনার সহায়ক করে নিব।ঠাকুরমহাশয় এর পূর্বের ছয় রিপুকে ভজনের স্থানে স্থানে নিযুক্ত করবার সংকল্প করেছিলেন এবং যেভাবে সুকৌশলে কাম,ক্রোধাদিকে ভজনে নিয়োজিত করবার জায়গাগুলি নির্দেশ করেছিলেন।কিন্তু তিনি ষড়রিপুর অন‍্যতম মাৎসর্য‍্যের জায়গা খুঁজে পাননি।(অপরের উৎকর্ষ দর্শনে উহা সহ‍্য করতে না পারা,উহা ভাল না লাগা বা মনটি বিমর্ষ হয়ে আসা ইহাই মাৎসর্য‍্য),*
*🌺বানান,ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়🌺*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






ষড়্ রিপু দমনের উপায় কি ❓❓❓ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/08/blog-post_28.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                ꧁ ষড়্ রিপু দমনের উপায় 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👤👤👤👤👤👤
*রিপু দমনের উপায়*
👤👤👤👤👤👤
*কাম ক্রোধ লোভ মোহ,*
*মদ মাৎসর্য‍্য দম্ভ সহ,*
*স্থানে স্থানে নিযুক্ত করিব।*
*আনন্দ করি হৃদয়,রিপু করি পরাজয়,*
     *অনায়াসে গোবিন্দ ভজিব।।*
*🙏শ্রীঠাকুর মহাশয় ভজনের প্রবল মধ‍্যদিয়ে কামাদি রিপুগণকে দমনের বা বশীকরণের শ্রেষ্ঠতম উপায় নিরূপণ করেছেন,"কাম,ক্রোধ,লোভ, মোহ,মদ,মাৎসর্য‍্য,দম্ভসহ জায়গায় জায়গায় নিযুক্ত করব"শ্রীকৃষ্ণ ভজন বিরোধী রিপুগণকে বশীভূত করবার শ্রেষ্ঠতম উপায় শ্রীকৃষ্ণ-সম্বন্ধীয় এক একটি বিষয়ে এক একটি রিপুকে নিয়োগ করা।*
*জ্ঞানী,যোগী প্রভৃতি সাধকগণের কামাদি রিপুকে বিনাশ না করলে সেই সেইসাধনায় সিদ্ধিলাভ কখনই হয় না।তাই তাঁরা কৃচ্ছ্র(ক্লেশ বা কষ্ট)সাধনদ্বারা কামাদি রিপুগণকে বিনাশ করবার চেষ্টা করেন এবং কঠোরভাবে ইন্দ্রিয় দমনের চেষ্টা করেন।* *কিন্তু ইন্দ্রিয়দ্বারে যে সব ইন্দ্রিয়-অধিষ্ঠাত্রী দেবগণ অবস্থান করেন,তাঁরা ভোগপ্রিয়,কঠোর ত‍্যাগ বা ইন্দ্রিয় নিগ্রহ তাঁদের মোটেই পছন্দ হয় না।তাই তাঁরা যখন বিষয়ের প্রবল বাত‍্যা আসতে দেখেন,তখন জোর করে ইন্দ্রিয়দ্বার উদঘাটিত(অনাবৃত)অর্থ‍্যাৎ পূর্ণ রূপে খুলে দেওয়া,করে দেন।(আরো ভোগ করো,আরো ভোগ করো বলে সুপথে চালিত করতে না দেওয়া )সেই প্রবল বিষয়-বাত‍্যা জ্ঞানীর হৃদয়ে প্রবিষ্ট (প্রবেশ)হয়ে তাঁদের হৃদয়ের জ্ঞানদীপকে নির্বাপিত(নিবিয়ে)করে দেয়।* *তখন জ্ঞানী সাধকের পুনরায় সংসারদশা ভোগব‍্যতীত উপায়ান্তর থাকে না,(অর্থ‍্যাৎ সংসার থেকে ধীরে ধীরে বেড়িয়ে ভজন সাধনে রত হন),* *হরিমায়া অতি প্রবল, শ্রীহরিচরণে শরণাগতি বা তাঁর করুণা ব‍্যতীত নিজচেষ্টায় কেহই একে উত্তীর্ণ হতে সমর্থ হন না।*

*"দৈবী হ‍্যেষা গুণময়ী মম মায়া দুরত‍্যয়া।মামেব যে প্রপদ‍্যন্তে মায়ামেতাং তরন্তি তে"।।* *(গীতা=৭|১৪)*

*🍀ভগবান অর্জুনের প্রতি বললেন, "জীবমোহিনী আমার এই ত্রিগুণাত্মিকা মায়া অতিশয় দুরতিক্রমণীয় ; যাঁরা আমার শরণাপন্ন হয়,তাঁরাই এই মায়াসাগর উত্তীর্ণ হয়ে থাকে "।*

 *ভগবানের চরণে শরণাগত ভক্তগণ অতি সুচতুর,তাঁরা জানেন=যে রসপ্রিয়, সে তো রস চাহিবেই,যে সব ইন্দ্রিয়কুল কুৎসিত রসপ্রিয় বা বিষয়রসনিষ্ঠ তারা যদি কোন উৎকৃষ্টতর রসের আস্বাদন না পায়,তবে তারা কখনই ঐ ঘৃণ‍্য বিষয়রসের নেশা ত‍্যাগ করতে সমর্থ হবে না।তাই তারা "তদেব রম‍্যং নবং নবং তদেব শশ্বন্মনসো মহোৎসবম্"।অর্থ‍্যাৎ=অতি রুচির প্রতিক্ষণে নব-নবায়মান ও চিত্ত মনের* *মহানন্দদায়ক ভগবৎমাধুর্য‍্যরস ইন্দ্রিয় ও মনের কাছে পৌঁছায়ে দেন।তখন মন এবং ইন্দ্রিয় ঘৃণ‍্য বা বীভৎস‍্য বিষয়রস-স্পৃহা চিরতরে ত‍্যাগ করে সেই ভগবত মাধুর্য‍্যরসসিন্ধুতে ডুবে চিরতরে ধন‍্য হয়ে যায়।* *শ্রীহরিচরণে শরণাগত ভক্তগণ তাই কাম,ক্রোধাদি রিপুগণের গতিকে এমনভাবে অতি কৌশলে ভগবদমুখী করে থাকেন যে রিপুগণ তাদের স্বাভাবিক বৈরতা ত‍্যাগ করে অচিন্ত‍্য শক্তিশালী ভক্তিদেবীর করুণায় স্পর্শমণির স্পর্শে মলিন নোংরা লৌহের সোনার বর্ণের মতো চিন্ময়ত্ব প্রাপ্ত হয়ে ভক্তের ভজনপথের মহা সহায়ক বা পরম মিত্র হয়ে থাকে।* *যদি কোন শত্রু কোন পাত্রের গুণে,কালের গুণে বা জায়গার গুণে শত্রুতা ত‍্যাগ করে মহাবান্ধবের মতো কাজ করে থাকে তবে কোন বুদ্ধিমান ব‍্যক্তি সেই শত্রুকে বিনাশের ইচ্ছা করেন?* *শ্রীভগবৎপাদপদ্মে শরণাগত ভক্তের গুণে বা তাঁর হৃদয়ের ভক্তিরগুণে ঐ মহারিপুগণেরও স্বভাবের পরিবর্তন ঘটে থাকে।

"অরের্মিত্রং বিষং পথ‍্যমধর্মো ধর্মতাং ব্রজেৎ।
সুপ্রসন্নে হৃষীকেশে বিপরীত বিপর্য‍্যয়"।।*
*অর্থ‍্যাৎ শ্রীহরি যাঁর প্রতি প্রসন্ন হন,তাঁর শত্রুও মিত্র হয়ে যায়,বিষ তাকে অমৃতের মতো অমরত্ব দান করে এবং অধর্মও তাঁর কাছে ধর্ম হয়ে থাকে।তাঁর প্রতি সবই বিপরীত হয়ে তাঁর সেবার কাজ করে থাকে।*
*🙏তাই শ্রীঠাকুরমহাশয় বলেছেন, আমরা শ্রীহরির শ্রীচরণাশ্রিত ভক্ত; আমরা কাম,ক্রোধ,লোভাদি দম্ভসহ দম্ভাদিক জ্ঞানী,যোগীর মতো বিনাশের চেষ্টা না করে শ্রীগোবিন্দ সেবার যথাযোগ্য জায়গায় নিয়োজিত করব।অর্থ‍্যাৎ শ্রীহরিভজনের যেখানে যা উপযোগিতা,সেই সেই জায়গায় তাদের নিযুক্ত করব।* *এইভাবে ভজনের যথাজায়গায় এদের নিয়োজিত করতে পারলে তবেই এদের(রিপুদের)যথাযথ পরাভব হবে।মহত্বের দ্বারাই দুষ্টশত্রুর যথাযথ পরাজয় হয়ে থাকে।*

*🌻পুরাকালে কোন এক মহাশক্তিশালী দুষ্ট রাজা তার পার্শবর্তী অপেক্ষাকৃত ছোটরাজ‍্যের এক শিষ্টরাজার গুণাবলী শুনে মাৎসর্য‍্য বশত তাঁকে পরাজিত করে তাঁর রাজ‍্য অধিকার করে নেই।এতে প্রজাবৃন্দ সেই দুষ্টরাজার প্রতি খুবই ক্ষুব্ধ হয়ে সেই সৎ নরপতির বহুবহু গুণকীর্তন করতে থাকলে ঐ দুষ্ট নৃপতি মাৎসর্য‍্যের জ্বালায় এতই অস্থির হয়ে পরলেন যে,তিনি ঘোষণা করেন যে ব‍্যক্তি ঐ পলায়িত রাজার মস্তক ছিন্ন করে তার কাছে আনতে পারলে তাকে লক্ষমুদ্রা পুরস্কার দিবেন।* *এই ঘোষণা শুনে সৎ পলায়িত রাজা একটি বনের মধ্যে প্রবেশ করে শ্মশ্রু(দাড়ি)জটাদি ধারণ পূর্বক প্রাণরক্ষার জন্য তপস্বীর বেশে আত্মগোপন করলেন।* *একদা এক ব্রাহ্মণ কন‍্যাদায়গ্রস্ত হয়ে সেই সৎরাজার অনুসন্ধান বা খোঁজ করতে করতে সেই বনে প্রবেশ করেন, এবং দৈবাৎ(হঠাৎ)সেই তপস্বীর বেশধারী সৎরাজারই কাছে রাজার বার্তা জিজ্ঞাসা করেন।ছদ্মবেশী রাজা বলেন,হে বিপ্র!আপনি যে অর্থের আশায় সেই হতভাগ‍্য নরপতির খোঁজ করছেন,তিনি তো আজ রাজ‍্যত‍্যাগী ভিক্ষুক,তিনি আপনাকে অর্থ দান করবেন কিভাবে?* *বিপ্র বললেন,হে মহাত্মন!তাঁর পরিচয় আপনার জানা থাকলে দয়া করে আমায় বলে দিন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস,তিনি যে অবস্থাতেই থাকুন,তাঁর মতো মহাবদান‍্য ব‍্যক্তির সঙ্গে দেখা হলে নিশ্চয়ই আমার অভাব মোচন করবেন।তখন সেই ছদ্মবেশী নরপতি ব্রাহ্মণকে আশ্বাস দিয়ে তাঁকে নিয়ে সেই দুষ্ট রাজার রাজসভায় গমন করেন। এবং দুষ্টরাজার প্রতি বলেন,হে মহারাজ!আপনি যে ঘোষণা করেছিলেন অমুক রাজার মস্তক এনে দিলে আপনি তাকে লক্ষমুদ্রা পুরস্কার দিবেন,আমিই সেই রাজা,আপনি আমার মস্তক ছেদন করুন এবং এই লক্ষমুদ্রা আমার সঙ্গী এই দরিদ্র ব্রাহ্মণকে দিন,ইনি কন‍্যাদায়গ্রস্ত।* *সেই সৎরাজার অদ্ভুত শিষ্টতা এবং লোকাতীত বদান‍্যতা দর্শনে দুষ্ট নরপতি হতবাক হয়ে যান,তার হৃদয়ের আমূল পরিবর্তন ঘটে।তিনি সেই সৎরাজার কাছে নতজানু হয়ে নিজ অন‍্যায় আচরণের জন্য ক্ষমা ভিক্ষা করেন।* *তাঁর রাজ‍্য তাঁকে ফিরিয়ে দেন এবং তাঁকে সৌহার্দ্যপাশে চিরতরে আবদ্ধ করেন।অর্থ‍্যাৎ চিরদিনের জন্য বন্ধুত্ব স্থাপন করেন।* *ইহাকেই দুষ্টতার যথার্থ পরাভব বলা হয়ে থাকে। তদ্রুপ যে সকল কামাদি রিপু সাধকের প্রাণঘাতক শত্রুর মতো কাজ করে থাকে, সাধক যদি তাদের শ্রীকৃষ্ণভজনে নিয়োজিত করে শ্রীকৃষ্ণমাধুর্য‍্যামৃত আস্বাদনের সৌভাগ্য দান করেন,তখন তারা সাধকের অদ্ভুত শিষ্টতা এবং অলৌকিক বদান‍্যতা দর্শনে অবাক বিস্ময়ে স্তম্ভিত হয়ে যায় এবং সাধকের প্রতি শত্রুতা ত‍্যাগ করে তাঁর মহাবান্ধবের মতো কাজ করে থাকে।* *তাই শ্রীঠাকুরমহাশয় বলছেন,এই কামাদি রিপুকে শ্রীকৃষ্ণ ভজনের যথাস্থানে নিযুক্ত করব এবং "আনন্দ করি হৃদয়,রিপু করি পরাজয়,অনায়াসে গোবিন্দ ভজিব"।* *রিপু পরাজয় স্বীকার করে মহাবন্ধুর মতো কাজ করলে চিত্তে আনন্দের উদয় হবে এবং অনায়াসে শ্রীকৃষ্ণভজনের সুসিদ্ধি হবে।অর্থ‍্যাৎ বিষয়ী ব‍্যক্তির যেমন বিষয়কার্য‍্য অনায়াসে বা স্বাভাবিক ভাবেই সম্পন্ন হয়,তেমনি শ্রীকৃষ্ণভজনটি তখন স্বাভাবিক হবে এবং অনায়াসেই সম্পন্ন হবে।*
*🙏বানান,ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়🙏*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






ষড়্ রিপু দমনের উপায় কি ❓❓❓ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/08/blog-post_28.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                ꧁ ষড়্ রিপু দমনের উপায় 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👤👤👤👤👤👤
*রিপু দমনের উপায়*
👤👤👤👤👤👤
*কাম ক্রোধ লোভ মোহ,*
*মদ মাৎসর্য‍্য দম্ভ সহ,*
*স্থানে স্থানে নিযুক্ত করিব।*
*আনন্দ করি হৃদয়,রিপু করি পরাজয়,*
     *অনায়াসে গোবিন্দ ভজিব।।*
*🙏শ্রীঠাকুর মহাশয় ভজনের প্রবল মধ‍্যদিয়ে কামাদি রিপুগণকে দমনের বা বশীকরণের শ্রেষ্ঠতম উপায় নিরূপণ করেছেন,"কাম,ক্রোধ,লোভ, মোহ,মদ,মাৎসর্য‍্য,দম্ভসহ জায়গায় জায়গায় নিযুক্ত করব"শ্রীকৃষ্ণ ভজন বিরোধী রিপুগণকে বশীভূত করবার শ্রেষ্ঠতম উপায় শ্রীকৃষ্ণ-সম্বন্ধীয় এক একটি বিষয়ে এক একটি রিপুকে নিয়োগ করা।*
*জ্ঞানী,যোগী প্রভৃতি সাধকগণের কামাদি রিপুকে বিনাশ না করলে সেই সেইসাধনায় সিদ্ধিলাভ কখনই হয় না।তাই তাঁরা কৃচ্ছ্র(ক্লেশ বা কষ্ট)সাধনদ্বারা কামাদি রিপুগণকে বিনাশ করবার চেষ্টা করেন এবং কঠোরভাবে ইন্দ্রিয় দমনের চেষ্টা করেন।* *কিন্তু ইন্দ্রিয়দ্বারে যে সব ইন্দ্রিয়-অধিষ্ঠাত্রী দেবগণ অবস্থান করেন,তাঁরা ভোগপ্রিয়,কঠোর ত‍্যাগ বা ইন্দ্রিয় নিগ্রহ তাঁদের মোটেই পছন্দ হয় না।তাই তাঁরা যখন বিষয়ের প্রবল বাত‍্যা আসতে দেখেন,তখন জোর করে ইন্দ্রিয়দ্বার উদঘাটিত(অনাবৃত)অর্থ‍্যাৎ পূর্ণ রূপে খুলে দেওয়া,করে দেন।(আরো ভোগ করো,আরো ভোগ করো বলে সুপথে চালিত করতে না দেওয়া )সেই প্রবল বিষয়-বাত‍্যা জ্ঞানীর হৃদয়ে প্রবিষ্ট (প্রবেশ)হয়ে তাঁদের হৃদয়ের জ্ঞানদীপকে নির্বাপিত(নিবিয়ে)করে দেয়।* *তখন জ্ঞানী সাধকের পুনরায় সংসারদশা ভোগব‍্যতীত উপায়ান্তর থাকে না,(অর্থ‍্যাৎ সংসার থেকে ধীরে ধীরে বেড়িয়ে ভজন সাধনে রত হন),* *হরিমায়া অতি প্রবল, শ্রীহরিচরণে শরণাগতি বা তাঁর করুণা ব‍্যতীত নিজচেষ্টায় কেহই একে উত্তীর্ণ হতে সমর্থ হন না।*

*"দৈবী হ‍্যেষা গুণময়ী মম মায়া দুরত‍্যয়া।মামেব যে প্রপদ‍্যন্তে মায়ামেতাং তরন্তি তে"।।* *(গীতা=৭|১৪)*

*🍀ভগবান অর্জুনের প্রতি বললেন, "জীবমোহিনী আমার এই ত্রিগুণাত্মিকা মায়া অতিশয় দুরতিক্রমণীয় ; যাঁরা আমার শরণাপন্ন হয়,তাঁরাই এই মায়াসাগর উত্তীর্ণ হয়ে থাকে "।*

 *ভগবানের চরণে শরণাগত ভক্তগণ অতি সুচতুর,তাঁরা জানেন=যে রসপ্রিয়, সে তো রস চাহিবেই,যে সব ইন্দ্রিয়কুল কুৎসিত রসপ্রিয় বা বিষয়রসনিষ্ঠ তারা যদি কোন উৎকৃষ্টতর রসের আস্বাদন না পায়,তবে তারা কখনই ঐ ঘৃণ‍্য বিষয়রসের নেশা ত‍্যাগ করতে সমর্থ হবে না।তাই তারা "তদেব রম‍্যং নবং নবং তদেব শশ্বন্মনসো মহোৎসবম্"।অর্থ‍্যাৎ=অতি রুচির প্রতিক্ষণে নব-নবায়মান ও চিত্ত মনের* *মহানন্দদায়ক ভগবৎমাধুর্য‍্যরস ইন্দ্রিয় ও মনের কাছে পৌঁছায়ে দেন।তখন মন এবং ইন্দ্রিয় ঘৃণ‍্য বা বীভৎস‍্য বিষয়রস-স্পৃহা চিরতরে ত‍্যাগ করে সেই ভগবত মাধুর্য‍্যরসসিন্ধুতে ডুবে চিরতরে ধন‍্য হয়ে যায়।* *শ্রীহরিচরণে শরণাগত ভক্তগণ তাই কাম,ক্রোধাদি রিপুগণের গতিকে এমনভাবে অতি কৌশলে ভগবদমুখী করে থাকেন যে রিপুগণ তাদের স্বাভাবিক বৈরতা ত‍্যাগ করে অচিন্ত‍্য শক্তিশালী ভক্তিদেবীর করুণায় স্পর্শমণির স্পর্শে মলিন নোংরা লৌহের সোনার বর্ণের মতো চিন্ময়ত্ব প্রাপ্ত হয়ে ভক্তের ভজনপথের মহা সহায়ক বা পরম মিত্র হয়ে থাকে।* *যদি কোন শত্রু কোন পাত্রের গুণে,কালের গুণে বা জায়গার গুণে শত্রুতা ত‍্যাগ করে মহাবান্ধবের মতো কাজ করে থাকে তবে কোন বুদ্ধিমান ব‍্যক্তি সেই শত্রুকে বিনাশের ইচ্ছা করেন?* *শ্রীভগবৎপাদপদ্মে শরণাগত ভক্তের গুণে বা তাঁর হৃদয়ের ভক্তিরগুণে ঐ মহারিপুগণেরও স্বভাবের পরিবর্তন ঘটে থাকে।

"অরের্মিত্রং বিষং পথ‍্যমধর্মো ধর্মতাং ব্রজেৎ।
সুপ্রসন্নে হৃষীকেশে বিপরীত বিপর্য‍্যয়"।।*
*অর্থ‍্যাৎ শ্রীহরি যাঁর প্রতি প্রসন্ন হন,তাঁর শত্রুও মিত্র হয়ে যায়,বিষ তাকে অমৃতের মতো অমরত্ব দান করে এবং অধর্মও তাঁর কাছে ধর্ম হয়ে থাকে।তাঁর প্রতি সবই বিপরীত হয়ে তাঁর সেবার কাজ করে থাকে।*
*🙏তাই শ্রীঠাকুরমহাশয় বলেছেন, আমরা শ্রীহরির শ্রীচরণাশ্রিত ভক্ত; আমরা কাম,ক্রোধ,লোভাদি দম্ভসহ দম্ভাদিক জ্ঞানী,যোগীর মতো বিনাশের চেষ্টা না করে শ্রীগোবিন্দ সেবার যথাযোগ্য জায়গায় নিয়োজিত করব।অর্থ‍্যাৎ শ্রীহরিভজনের যেখানে যা উপযোগিতা,সেই সেই জায়গায় তাদের নিযুক্ত করব।* *এইভাবে ভজনের যথাজায়গায় এদের নিয়োজিত করতে পারলে তবেই এদের(রিপুদের)যথাযথ পরাভব হবে।মহত্বের দ্বারাই দুষ্টশত্রুর যথাযথ পরাজয় হয়ে থাকে।*

*🌻পুরাকালে কোন এক মহাশক্তিশালী দুষ্ট রাজা তার পার্শবর্তী অপেক্ষাকৃত ছোটরাজ‍্যের এক শিষ্টরাজার গুণাবলী শুনে মাৎসর্য‍্য বশত তাঁকে পরাজিত করে তাঁর রাজ‍্য অধিকার করে নেই।এতে প্রজাবৃন্দ সেই দুষ্টরাজার প্রতি খুবই ক্ষুব্ধ হয়ে সেই সৎ নরপতির বহুবহু গুণকীর্তন করতে থাকলে ঐ দুষ্ট নৃপতি মাৎসর্য‍্যের জ্বালায় এতই অস্থির হয়ে পরলেন যে,তিনি ঘোষণা করেন যে ব‍্যক্তি ঐ পলায়িত রাজার মস্তক ছিন্ন করে তার কাছে আনতে পারলে তাকে লক্ষমুদ্রা পুরস্কার দিবেন।* *এই ঘোষণা শুনে সৎ পলায়িত রাজা একটি বনের মধ্যে প্রবেশ করে শ্মশ্রু(দাড়ি)জটাদি ধারণ পূর্বক প্রাণরক্ষার জন্য তপস্বীর বেশে আত্মগোপন করলেন।* *একদা এক ব্রাহ্মণ কন‍্যাদায়গ্রস্ত হয়ে সেই সৎরাজার অনুসন্ধান বা খোঁজ করতে করতে সেই বনে প্রবেশ করেন, এবং দৈবাৎ(হঠাৎ)সেই তপস্বীর বেশধারী সৎরাজারই কাছে রাজার বার্তা জিজ্ঞাসা করেন।ছদ্মবেশী রাজা বলেন,হে বিপ্র!আপনি যে অর্থের আশায় সেই হতভাগ‍্য নরপতির খোঁজ করছেন,তিনি তো আজ রাজ‍্যত‍্যাগী ভিক্ষুক,তিনি আপনাকে অর্থ দান করবেন কিভাবে?* *বিপ্র বললেন,হে মহাত্মন!তাঁর পরিচয় আপনার জানা থাকলে দয়া করে আমায় বলে দিন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস,তিনি যে অবস্থাতেই থাকুন,তাঁর মতো মহাবদান‍্য ব‍্যক্তির সঙ্গে দেখা হলে নিশ্চয়ই আমার অভাব মোচন করবেন।তখন সেই ছদ্মবেশী নরপতি ব্রাহ্মণকে আশ্বাস দিয়ে তাঁকে নিয়ে সেই দুষ্ট রাজার রাজসভায় গমন করেন। এবং দুষ্টরাজার প্রতি বলেন,হে মহারাজ!আপনি যে ঘোষণা করেছিলেন অমুক রাজার মস্তক এনে দিলে আপনি তাকে লক্ষমুদ্রা পুরস্কার দিবেন,আমিই সেই রাজা,আপনি আমার মস্তক ছেদন করুন এবং এই লক্ষমুদ্রা আমার সঙ্গী এই দরিদ্র ব্রাহ্মণকে দিন,ইনি কন‍্যাদায়গ্রস্ত।* *সেই সৎরাজার অদ্ভুত শিষ্টতা এবং লোকাতীত বদান‍্যতা দর্শনে দুষ্ট নরপতি হতবাক হয়ে যান,তার হৃদয়ের আমূল পরিবর্তন ঘটে।তিনি সেই সৎরাজার কাছে নতজানু হয়ে নিজ অন‍্যায় আচরণের জন্য ক্ষমা ভিক্ষা করেন।* *তাঁর রাজ‍্য তাঁকে ফিরিয়ে দেন এবং তাঁকে সৌহার্দ্যপাশে চিরতরে আবদ্ধ করেন।অর্থ‍্যাৎ চিরদিনের জন্য বন্ধুত্ব স্থাপন করেন।* *ইহাকেই দুষ্টতার যথার্থ পরাভব বলা হয়ে থাকে। তদ্রুপ যে সকল কামাদি রিপু সাধকের প্রাণঘাতক শত্রুর মতো কাজ করে থাকে, সাধক যদি তাদের শ্রীকৃষ্ণভজনে নিয়োজিত করে শ্রীকৃষ্ণমাধুর্য‍্যামৃত আস্বাদনের সৌভাগ্য দান করেন,তখন তারা সাধকের অদ্ভুত শিষ্টতা এবং অলৌকিক বদান‍্যতা দর্শনে অবাক বিস্ময়ে স্তম্ভিত হয়ে যায় এবং সাধকের প্রতি শত্রুতা ত‍্যাগ করে তাঁর মহাবান্ধবের মতো কাজ করে থাকে।* *তাই শ্রীঠাকুরমহাশয় বলছেন,এই কামাদি রিপুকে শ্রীকৃষ্ণ ভজনের যথাস্থানে নিযুক্ত করব এবং "আনন্দ করি হৃদয়,রিপু করি পরাজয়,অনায়াসে গোবিন্দ ভজিব"।* *রিপু পরাজয় স্বীকার করে মহাবন্ধুর মতো কাজ করলে চিত্তে আনন্দের উদয় হবে এবং অনায়াসে শ্রীকৃষ্ণভজনের সুসিদ্ধি হবে।অর্থ‍্যাৎ বিষয়ী ব‍্যক্তির যেমন বিষয়কার্য‍্য অনায়াসে বা স্বাভাবিক ভাবেই সম্পন্ন হয়,তেমনি শ্রীকৃষ্ণভজনটি তখন স্বাভাবিক হবে এবং অনায়াসেই সম্পন্ন হবে।*
*🙏বানান,ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়🙏*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧ 
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






adds