শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীপাদ গোপাল ভট্ট গোস্বামীর পিতা শ্রীপাদ বেঙ্কট ভট্ট ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/09/blog-post_92.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
              ꧁🌻🌼🌻বেঙ্কট ভট্ট  🌻🌼🌻
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*দাক্ষিণ‍্যাত‍্যে শ্রীরঙ্গম-নিবাসী বৈষ্ণব, লক্ষ্মী-নারায়ণের উপাসক।মহাপ্রভু শ্রীরঙ্গক্ষেত্রে পৌঁছলে বেঙ্কটভট্ট মহাপ্রভুকে বহু সমাদর করে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেলেন।সকলে তাঁর পদ ধৌত করলেন এবং পাদোদক পান করলেন।অতঃপর ভিক্ষা গ্রহণ করে মহাপ্রভু কিছুটা সুস্থ হ'লে ভট্ট বললেন,চাতুর্মাস‍্য সামনে এসে পড়েছে,কৃপা পূর্বক এই চার মাস এই অধমের গৃহে থাকুন।কৃষ্ণকথা শুনিয়ে আমাদের নিস্তার করুন।মহাপ্রভু সম্মতি প্রদান করলেন।ভট্টগৃহে শুরু হ'ল শ্রীকৃষ্ণনামগান, শ্রীকৃষ্ণকথাপ্রসঙ্গ। মহাপ্রভু প্রত‍্যহ কাবেরী নদীতে স্নান করে শ্রীরঙ্গম দর্শন করেন, এবং নৃত‍্য করেন প্রেমাবেশে।সেই সময় হাজার হাজার লোক এসে সমবেত হয় মহাপ্রভুকে দর্শন করতে,শ্রীকৃষ্ণের নাম,কথায় লুব্ধ(মুগ্ধ)হয়ে।মহাপ্রভুর সৌন্দর্য্য আর প্রেমাবেশ দেখে সমস্ত শোক-দুঃখ ভুলে যায়।কৃষ্ণনাম ছাড়া আর আন কথা তাদের মুখে আসে না।(সাধু সঙ্গ সাধু সঙ্গ সর্ব শাস্ত্রে কয়।লবমাত্র সাধুসঙ্গ কৃষ্ণ প্রাপ্তি হয়।)* *শ্রীরঙ্গমে সেই অবস্থায় হল।🌻🌻একদিন শ্রীরঙ্গের মন্দিরে গিয়েছেন মহাপ্রভু,দেখলেন এক বৈষ্ণব ব্রাহ্মণ তন্ময়(বিভোর) হয়ে গীতা অধ‍্যয়ন করছেন।অর্থ বা ব‍্যাকরণের ধার ধারেন না,উচ্চারণও অশুদ্ধ।যারা শুনছেন প্রত‍্যেকেই উপহাস করছেন, কিন্তু ব্রাহ্মণের কোন চাঞ্চল‍্য নেই।তিনি আন্তরিক আনন্দরসে ভরপুর।তাঁর এই সকল ভাবধারা দেখে মহাপ্রভুও আনন্দে ভরে উঠলেন। ব্রাহ্মণকে জিজ্ঞেস করলেন,কোন্ শ্লোকের কোন্ অর্থ জেনে তোমার এত সুখ?ব্রাহ্মণ মুগ্ধের মতো তাকালেন মহাপ্রভুর দিকে।বললেন,আমি মূর্খ,আমি শব্দার্থও জানিনা।আমার পাঠ শুদ্ধ হচ্ছে না অশুদ্ধ হচ্ছে সে বিচারেও আমার ক্ষমতা নেই।আমার গুরুদেব আমাকে গীতা পাঠ করতে বলেছেন তাই পাঠ করে যাচ্ছি।* *যতক্ষণ অধ‍্যয়ন করি,দেখছি অর্জুনের রথে শ‍্যামলসুন্দর শ্রীকৃষ্ণ একহাতে চাবুক আরেক হাতে রজ্জু নিয়ে বসে অর্জুনকে হিতোপদেশ শোনাচ্ছেন।অধ‍্যয়ন করলেই শ্রীকৃষ্ণকে দেখতে পায় বলে পড়া ছাড়তে পারি না।* *মহাপ্রভু বললেন,গীতা পাঠে তোমারই সত‍্যিকারের অধিকার।তুমিই গীতার সার অর্থ বুঝতে পেরেছ। এইকথা বলে মহাপ্রভু তাঁকে আলিঙ্গন করলেন।মহাপ্রভুর চরণ ধরে ব্রাহ্মণ বললেন,অর্জুনের রথে শ্রীকৃষ্ণকে দেখে আমার যে কি সুখ, কিন্তু তোমাকে দেখে তার দ্বিগুণ সুখ হচ্ছে, আমার মনের কথা বললাম। আমার মনে হচ্ছে তুমিই সেই রথের শ্রীকৃষ্ণ।মহাপ্রভু বললেন,এমন কথা ভুলেও মুখেও এনো না।কিন্তু তার মনের কথা বাইরে কারো কাছে প্রকাশ না করলেও ব্রাহ্মণ মহাপ্রভুর সঙ্গ ছাড়লেন না,ছায়ার মতো মহাপ্রভুর সঙ্গে ফিরতে লাগলেন।🌻🌻ভট্টের গৃহে অন্তরঙ্গ অতিথি হয়ে নিরন্তর (সব সময়)থাকার দরুণ মহাপ্রভুর সঙ্গে ভট্টের সখ‍্যভাব জন্মাল।* *আর সখ‍্যভাবের লক্ষণই হাস‍্য-পরিহাস।ভট্টের মতে নারায়ণই স্বয়ং ভগবান আর লক্ষ্মী পতিব্রতা শিরোমণি।তাই লক্ষ্মী-নারায়ণই তার একমাত্র উপাস‍্য।* *কিন্তু এই লক্ষ্মীই বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণসঙ্গ পাবার জন্যে বৈকুন্ঠের সুখৈশ্বর্য‍্য ত‍্যাগ করে কঠোর তপস‍্যা করেছিলেন।সেই প্রসঙ্গের ইঙ্গিত করে মহাপ্রভু একদিন ভট্টকে প্রশ্ন করলেন,তোমার লক্ষ্মীনারায়ণের বক্ষ-বিলাসিনী,সাধ্বী-শিরোমণি আর আমার কৃষ্ণ গোয়ালা,গরু চরায়। তাহলে তোমার লক্ষ্মী সেই কৃষ্ণের সঙ্গলাভের জন্য বা ইচ্ছায় বৈকুন্ঠের সুখভোগ ছেড়ে কেন ব্রতনিয়ম ধারণ করে তপস‍্যা করতে বসলেন?* *ভট্ট বললেন,কৃষ্ণ আর নারায়ণ স্বরূপে অভিন্ন।কৃষ্ণে রূপলীলা বৈদগ্ধমাধুর্য‍্য বেশী।লক্ষ্মী যদি কৌতুকচ্ছলে সেই কৃষ্ণের সঙ্গ-সান্নিধ‍্য অভিলাষ করে,তাহলে তাঁর পাতিব্রতা ক্ষুণ্ণ হয় না।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 *মহাপ্রভু বললেন,ক্ষুণ্ণ যে হয় নাতা আমি মানি।কিন্তু শাস্ত্রে বলে লক্ষ্মী তপস‍্যা করেও রাসলীলায় শ্রীকৃষ্ণসঙ্গ পেলেন না।কেন পেলেন না?তপস‍্যা করে দেবতারা পর্যন্ত পেল কিন্তু তোমার লক্ষ্মী পেল না কেন?* *বলো কারণ কি?আমি ক্ষুদ্র জীব,আমি তার কি জানি।তুমিই বলতে পারো কেন তুমি লক্ষ্মীকে সঙ্গ দাওনি।তোমার লীলামর্ম বুঝি আমার এমন সাধ‍্য কী?মহাপ্রভু মৃদু হেসে বললেন,শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান।নারায়ণ তাঁর বিলাসমূর্তি।শ্রীকৃষ্ণের এই এক অদ্ভুত স্বভাব সে নিজের মাধুর্য‍্যে সকলকে সব সময়েই আকর্ষণ করে থাকেন,মানুষ থেকে স্থাবর-জঙ্গম পযর্ন্ত,এমন কি নিজেকেও। এই বৈশিষ্ট্য কিন্তু নারায়ণের নেই।কৃষ্ণকে ব্রজজনেরা ঈশ্বর মনে করেন না,আপনজন মনে করেন।গোপীভাব ভজন করে গোপীদেহ প্রাপ্ত না হ'লে শ্রীকৃষ্ণের প্রেয়সী হওয়া যায় না।শ্রীকৃষ্ণের মাধুর্য‍্য লক্ষ্মীকেও আকৃষ্ট করেছে,নারায়ণের সাধ‍্য নেইসেই আকর্ষণ থেকে লক্ষ্মীকে বিরত করেন। কিন্তু লক্ষ্মীগোপী-দেহে না চেয়ে দেবী-দেহেই কৃষ্ণসঙ্গ চেয়েছিলেন।তাই তাঁর সে আকাঙ্খা নিষ্ফল হ'ল।* *ভট্টের গর্ব পরিহাসচ্ছলে খর্ব করলেন মহাপ্রভু।দেখালেন বা বোঝালেন লক্ষ্মী নারায়ণের ভজন নয়,শ্রীকৃষ্ণভজনই সর্বশ্রেষ্ঠ ভজন।এই সব কথা শোনার পর ভট্টের মুখখানি ম্লান হয়ে গিয়েছিল।তখন মহাপ্রভু তাঁর সিদ্ধান্তের গূঢ়ার্থ উন্মোচন করলেন।* *বললেন,তুমি দুঃখিত হইও না,শাস্ত্র সিদ্ধান্ত শোন।কৃষ্ণ আর নারায়ণ যেমন এক,গোপী আর লক্ষ্মীও তেমনি এক।লক্ষ্মী দেবী-দেহে কৃষ্ণসঙ্গ পায় নি বটে কিন্তু  গোপীদেহে পেয়েছে।গোপী দেহে লক্ষ্মীই তো রাধিকা।* *নারায়ণ যেমন কৃষ্ণের  বিলাস,লক্ষ্মীও তেমনি রাধিকার বিলাস।তাই রাধা যখন কৃষ্ণসঙ্গ পাই,তখন লক্ষ্মীও কৃষ্ণসঙ্গই পাই।* *ঈশ্বরত্বে কোন ভেদ নেই।একই ঈশ্বর ভক্তের ধ‍্যান-অনুরূপ একই বিগ্রহে নানা রূপ ধারণ করেন।ভক্তের ধ‍্যান-ভেদে বিগ্রহের রূপভেদ হলেও অচ‍্যুত অচ‍্যুতই থাকেন,নিজেকে ন‍্যূন করেন না।* *মহাপ্রভুর কথা শুনে ভট্ট প্রসন্ন হলেন।বললেন,ঈশ্বরের তো অগাধ লীলা, সে বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই বললেই চলে।তোমার কথাই বুঝতে পারলাম,তুমিই সাক্ষাৎ ঈশ্বর। তুমি যা বলছ আমি তাই সত‍্য বলে মানছি।বুঝতে পারছি লক্ষ্মী নারায়ণ আমাকে পূর্ণ কৃপা করেছেন, তাই তোমার চরণ-দর্শন পেলাম।এখন আমি বুঝতে পারলাম শ্রীকৃষ্ণভক্তিই সর্বশ্রেষ্ঠ ভজন।চাতুর্মাস‍্য পূর্ণ হ'লে মহাপ্রভু শ্রীরঙ্গম ত‍্যাগ করে চললেন দক্ষিণে।সঙ্গে সঙ্গে চললেন বেঙ্কটভট্ট আর তার পুত্র কিশোর গোপাল ভট্ট।মহাপ্রভু অনেক বুঝিয়ে বেঙ্কটভট্টকে ফিরিয়ে দিলেন, কিন্তু গোপাল ভট্ট ফিরতে চাইছেন না,সে কাঁদে লাগল,আমি আপনার সঙ্গে যাব, আপনার মতো সন্ন‍্যাসী হব।* *এতদিন মহাপ্রভুর অন্তরঙ্গ সেবা করেছে গোপাল। মহাপ্রভুর কৃপায় তার মধ্যে জেগেছে প্রেমভক্তি।পিতৃব‍্য প্রবোধানন্দের কাছে বিদ‍্যাশিক্ষা করেছে।প্রবোধানন্দকেই মহাপ্রভু বলে দিয়েছিলেন যথাকালে গোপালকে বৃন্দাবনে পাঠিয়ে দিও।কিন্তু তা এখন কি!মহাপ্রভু তাকে বুঝিয়ে বললেন,যতদিন পিতা মাতা বেঁচে আছেন ঘরে থেকে তাঁদের সেবা করো। পরে কোরো সংসার ত‍্যাগ।এই গোপালই ষড় গোস্বামীর এক গোস্বামী, গোপালভট্ট গোস্বামী।*
*🙏বানান ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়🙏*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
       
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






শ্রীপাদ গোপাল ভট্ট গোস্বামীর পিতা শ্রীপাদ বেঙ্কট ভট্ট ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/09/blog-post_92.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
              ꧁🌻🌼🌻বেঙ্কট ভট্ট  🌻🌼🌻
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*দাক্ষিণ‍্যাত‍্যে শ্রীরঙ্গম-নিবাসী বৈষ্ণব, লক্ষ্মী-নারায়ণের উপাসক।মহাপ্রভু শ্রীরঙ্গক্ষেত্রে পৌঁছলে বেঙ্কটভট্ট মহাপ্রভুকে বহু সমাদর করে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেলেন।সকলে তাঁর পদ ধৌত করলেন এবং পাদোদক পান করলেন।অতঃপর ভিক্ষা গ্রহণ করে মহাপ্রভু কিছুটা সুস্থ হ'লে ভট্ট বললেন,চাতুর্মাস‍্য সামনে এসে পড়েছে,কৃপা পূর্বক এই চার মাস এই অধমের গৃহে থাকুন।কৃষ্ণকথা শুনিয়ে আমাদের নিস্তার করুন।মহাপ্রভু সম্মতি প্রদান করলেন।ভট্টগৃহে শুরু হ'ল শ্রীকৃষ্ণনামগান, শ্রীকৃষ্ণকথাপ্রসঙ্গ। মহাপ্রভু প্রত‍্যহ কাবেরী নদীতে স্নান করে শ্রীরঙ্গম দর্শন করেন, এবং নৃত‍্য করেন প্রেমাবেশে।সেই সময় হাজার হাজার লোক এসে সমবেত হয় মহাপ্রভুকে দর্শন করতে,শ্রীকৃষ্ণের নাম,কথায় লুব্ধ(মুগ্ধ)হয়ে।মহাপ্রভুর সৌন্দর্য্য আর প্রেমাবেশ দেখে সমস্ত শোক-দুঃখ ভুলে যায়।কৃষ্ণনাম ছাড়া আর আন কথা তাদের মুখে আসে না।(সাধু সঙ্গ সাধু সঙ্গ সর্ব শাস্ত্রে কয়।লবমাত্র সাধুসঙ্গ কৃষ্ণ প্রাপ্তি হয়।)* *শ্রীরঙ্গমে সেই অবস্থায় হল।🌻🌻একদিন শ্রীরঙ্গের মন্দিরে গিয়েছেন মহাপ্রভু,দেখলেন এক বৈষ্ণব ব্রাহ্মণ তন্ময়(বিভোর) হয়ে গীতা অধ‍্যয়ন করছেন।অর্থ বা ব‍্যাকরণের ধার ধারেন না,উচ্চারণও অশুদ্ধ।যারা শুনছেন প্রত‍্যেকেই উপহাস করছেন, কিন্তু ব্রাহ্মণের কোন চাঞ্চল‍্য নেই।তিনি আন্তরিক আনন্দরসে ভরপুর।তাঁর এই সকল ভাবধারা দেখে মহাপ্রভুও আনন্দে ভরে উঠলেন। ব্রাহ্মণকে জিজ্ঞেস করলেন,কোন্ শ্লোকের কোন্ অর্থ জেনে তোমার এত সুখ?ব্রাহ্মণ মুগ্ধের মতো তাকালেন মহাপ্রভুর দিকে।বললেন,আমি মূর্খ,আমি শব্দার্থও জানিনা।আমার পাঠ শুদ্ধ হচ্ছে না অশুদ্ধ হচ্ছে সে বিচারেও আমার ক্ষমতা নেই।আমার গুরুদেব আমাকে গীতা পাঠ করতে বলেছেন তাই পাঠ করে যাচ্ছি।* *যতক্ষণ অধ‍্যয়ন করি,দেখছি অর্জুনের রথে শ‍্যামলসুন্দর শ্রীকৃষ্ণ একহাতে চাবুক আরেক হাতে রজ্জু নিয়ে বসে অর্জুনকে হিতোপদেশ শোনাচ্ছেন।অধ‍্যয়ন করলেই শ্রীকৃষ্ণকে দেখতে পায় বলে পড়া ছাড়তে পারি না।* *মহাপ্রভু বললেন,গীতা পাঠে তোমারই সত‍্যিকারের অধিকার।তুমিই গীতার সার অর্থ বুঝতে পেরেছ। এইকথা বলে মহাপ্রভু তাঁকে আলিঙ্গন করলেন।মহাপ্রভুর চরণ ধরে ব্রাহ্মণ বললেন,অর্জুনের রথে শ্রীকৃষ্ণকে দেখে আমার যে কি সুখ, কিন্তু তোমাকে দেখে তার দ্বিগুণ সুখ হচ্ছে, আমার মনের কথা বললাম। আমার মনে হচ্ছে তুমিই সেই রথের শ্রীকৃষ্ণ।মহাপ্রভু বললেন,এমন কথা ভুলেও মুখেও এনো না।কিন্তু তার মনের কথা বাইরে কারো কাছে প্রকাশ না করলেও ব্রাহ্মণ মহাপ্রভুর সঙ্গ ছাড়লেন না,ছায়ার মতো মহাপ্রভুর সঙ্গে ফিরতে লাগলেন।🌻🌻ভট্টের গৃহে অন্তরঙ্গ অতিথি হয়ে নিরন্তর (সব সময়)থাকার দরুণ মহাপ্রভুর সঙ্গে ভট্টের সখ‍্যভাব জন্মাল।* *আর সখ‍্যভাবের লক্ষণই হাস‍্য-পরিহাস।ভট্টের মতে নারায়ণই স্বয়ং ভগবান আর লক্ষ্মী পতিব্রতা শিরোমণি।তাই লক্ষ্মী-নারায়ণই তার একমাত্র উপাস‍্য।* *কিন্তু এই লক্ষ্মীই বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণসঙ্গ পাবার জন্যে বৈকুন্ঠের সুখৈশ্বর্য‍্য ত‍্যাগ করে কঠোর তপস‍্যা করেছিলেন।সেই প্রসঙ্গের ইঙ্গিত করে মহাপ্রভু একদিন ভট্টকে প্রশ্ন করলেন,তোমার লক্ষ্মীনারায়ণের বক্ষ-বিলাসিনী,সাধ্বী-শিরোমণি আর আমার কৃষ্ণ গোয়ালা,গরু চরায়। তাহলে তোমার লক্ষ্মী সেই কৃষ্ণের সঙ্গলাভের জন্য বা ইচ্ছায় বৈকুন্ঠের সুখভোগ ছেড়ে কেন ব্রতনিয়ম ধারণ করে তপস‍্যা করতে বসলেন?* *ভট্ট বললেন,কৃষ্ণ আর নারায়ণ স্বরূপে অভিন্ন।কৃষ্ণে রূপলীলা বৈদগ্ধমাধুর্য‍্য বেশী।লক্ষ্মী যদি কৌতুকচ্ছলে সেই কৃষ্ণের সঙ্গ-সান্নিধ‍্য অভিলাষ করে,তাহলে তাঁর পাতিব্রতা ক্ষুণ্ণ হয় না।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 *মহাপ্রভু বললেন,ক্ষুণ্ণ যে হয় নাতা আমি মানি।কিন্তু শাস্ত্রে বলে লক্ষ্মী তপস‍্যা করেও রাসলীলায় শ্রীকৃষ্ণসঙ্গ পেলেন না।কেন পেলেন না?তপস‍্যা করে দেবতারা পর্যন্ত পেল কিন্তু তোমার লক্ষ্মী পেল না কেন?* *বলো কারণ কি?আমি ক্ষুদ্র জীব,আমি তার কি জানি।তুমিই বলতে পারো কেন তুমি লক্ষ্মীকে সঙ্গ দাওনি।তোমার লীলামর্ম বুঝি আমার এমন সাধ‍্য কী?মহাপ্রভু মৃদু হেসে বললেন,শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান।নারায়ণ তাঁর বিলাসমূর্তি।শ্রীকৃষ্ণের এই এক অদ্ভুত স্বভাব সে নিজের মাধুর্য‍্যে সকলকে সব সময়েই আকর্ষণ করে থাকেন,মানুষ থেকে স্থাবর-জঙ্গম পযর্ন্ত,এমন কি নিজেকেও। এই বৈশিষ্ট্য কিন্তু নারায়ণের নেই।কৃষ্ণকে ব্রজজনেরা ঈশ্বর মনে করেন না,আপনজন মনে করেন।গোপীভাব ভজন করে গোপীদেহ প্রাপ্ত না হ'লে শ্রীকৃষ্ণের প্রেয়সী হওয়া যায় না।শ্রীকৃষ্ণের মাধুর্য‍্য লক্ষ্মীকেও আকৃষ্ট করেছে,নারায়ণের সাধ‍্য নেইসেই আকর্ষণ থেকে লক্ষ্মীকে বিরত করেন। কিন্তু লক্ষ্মীগোপী-দেহে না চেয়ে দেবী-দেহেই কৃষ্ণসঙ্গ চেয়েছিলেন।তাই তাঁর সে আকাঙ্খা নিষ্ফল হ'ল।* *ভট্টের গর্ব পরিহাসচ্ছলে খর্ব করলেন মহাপ্রভু।দেখালেন বা বোঝালেন লক্ষ্মী নারায়ণের ভজন নয়,শ্রীকৃষ্ণভজনই সর্বশ্রেষ্ঠ ভজন।এই সব কথা শোনার পর ভট্টের মুখখানি ম্লান হয়ে গিয়েছিল।তখন মহাপ্রভু তাঁর সিদ্ধান্তের গূঢ়ার্থ উন্মোচন করলেন।* *বললেন,তুমি দুঃখিত হইও না,শাস্ত্র সিদ্ধান্ত শোন।কৃষ্ণ আর নারায়ণ যেমন এক,গোপী আর লক্ষ্মীও তেমনি এক।লক্ষ্মী দেবী-দেহে কৃষ্ণসঙ্গ পায় নি বটে কিন্তু  গোপীদেহে পেয়েছে।গোপী দেহে লক্ষ্মীই তো রাধিকা।* *নারায়ণ যেমন কৃষ্ণের  বিলাস,লক্ষ্মীও তেমনি রাধিকার বিলাস।তাই রাধা যখন কৃষ্ণসঙ্গ পাই,তখন লক্ষ্মীও কৃষ্ণসঙ্গই পাই।* *ঈশ্বরত্বে কোন ভেদ নেই।একই ঈশ্বর ভক্তের ধ‍্যান-অনুরূপ একই বিগ্রহে নানা রূপ ধারণ করেন।ভক্তের ধ‍্যান-ভেদে বিগ্রহের রূপভেদ হলেও অচ‍্যুত অচ‍্যুতই থাকেন,নিজেকে ন‍্যূন করেন না।* *মহাপ্রভুর কথা শুনে ভট্ট প্রসন্ন হলেন।বললেন,ঈশ্বরের তো অগাধ লীলা, সে বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই বললেই চলে।তোমার কথাই বুঝতে পারলাম,তুমিই সাক্ষাৎ ঈশ্বর। তুমি যা বলছ আমি তাই সত‍্য বলে মানছি।বুঝতে পারছি লক্ষ্মী নারায়ণ আমাকে পূর্ণ কৃপা করেছেন, তাই তোমার চরণ-দর্শন পেলাম।এখন আমি বুঝতে পারলাম শ্রীকৃষ্ণভক্তিই সর্বশ্রেষ্ঠ ভজন।চাতুর্মাস‍্য পূর্ণ হ'লে মহাপ্রভু শ্রীরঙ্গম ত‍্যাগ করে চললেন দক্ষিণে।সঙ্গে সঙ্গে চললেন বেঙ্কটভট্ট আর তার পুত্র কিশোর গোপাল ভট্ট।মহাপ্রভু অনেক বুঝিয়ে বেঙ্কটভট্টকে ফিরিয়ে দিলেন, কিন্তু গোপাল ভট্ট ফিরতে চাইছেন না,সে কাঁদে লাগল,আমি আপনার সঙ্গে যাব, আপনার মতো সন্ন‍্যাসী হব।* *এতদিন মহাপ্রভুর অন্তরঙ্গ সেবা করেছে গোপাল। মহাপ্রভুর কৃপায় তার মধ্যে জেগেছে প্রেমভক্তি।পিতৃব‍্য প্রবোধানন্দের কাছে বিদ‍্যাশিক্ষা করেছে।প্রবোধানন্দকেই মহাপ্রভু বলে দিয়েছিলেন যথাকালে গোপালকে বৃন্দাবনে পাঠিয়ে দিও।কিন্তু তা এখন কি!মহাপ্রভু তাকে বুঝিয়ে বললেন,যতদিন পিতা মাতা বেঁচে আছেন ঘরে থেকে তাঁদের সেবা করো। পরে কোরো সংসার ত‍্যাগ।এই গোপালই ষড় গোস্বামীর এক গোস্বামী, গোপালভট্ট গোস্বামী।*
*🙏বানান ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়🙏*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
       
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






শ্রীভগবানের আবির্ভাব কালীন গ্রহাদির স্থিতির পরিচয় ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/09/blog-post_31.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীভগবানের আবির্ভাব কালীন গ্রহাদির স্থিতির পরিচয় ꧂
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ 🌐 MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 *🙏""খমাণিক‍্য""নামক জ‍্যোতিষ গ্রন্থে শ্রীভগবানের আবির্ভাব কালীন গ্রহাদির স্থিতির পরিচয় পাওয়া যায় =শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব সময়ে চন্দ্র,মঙ্গল,বুধ ও শনি উচ্চস্থানে অবস্থিত হয়েছিলেন।সে সময়ে বৃষলগ্ন এবং বৃহস্পতি বৃষরাশিতে ও সূর্য‍্য সিংহরাশিতে,শুক্র তুলা রাশিতে ও রাহু বৃশ্চিক রাশিতে অবস্থিত হয়ে ছিলেন।* *সেদিন অষ্টমী তিথি,বুধবার ও রোহিণী নক্ষত্র।এই সমস্ত শুভযোগে নিশীথ কালে ঘনীভূত পরব্রহ্মস্বরূপ শ্রীকৃষ্ণ এই মরজগতে আবির্ভূত হয়েছিলেন।* *"খমাণিক‍্য" নামক জ‍্যোতিষ গ্রন্থের পূর্বোক্ত মতানুসারে রাশিচক্র অঙ্কিত করলে দেখা যায় =শ্রীকৃষ্ণের জন্ম সময়ে চন্দ্র বৃষে,মঙ্গল মকরে,বুধ কন‍্যায়,এবং শনি তুলায় উচ্চস্থ হয়ে অবস্থিত।রবি,বৃহস্পতি এবং শুক্র স্বক্ষেত্রগত, সুতরাং বলবান্।নবম পতি শনি,লগ্নপতি শুক্রের সহিত সম্বন্ধ করে উভয়েই স্থানগত বলবান্ হয়েছেন।ইহা পরম রাজযোগ।* *জীবের জন্ম সময়ে গ্রহ নক্ষত্র আদির যেরকম সন্নিবেশ থাকে তদনুসারে জীবের ভবিষ্যৎ জীবনের কর্মাদি গণনা হয়ে থাকে।জীবমাত্রই কর্মাধীন ; সুতরাং যে জীব যাদৃশ কর্মফল ভোগের জন্য জন্মগ্রহণ করে,* *নক্ষত্রাদির তাদৃশ সন্নিবেশকালেই সেই জীবের জন্ম হয়ে থাকে।(জ‍্যোতিষ শাস্ত্রে দেখা যায় =কর্মস্থানে স্থিতঃ সৌরী,রিপু স্থানে চ চন্দ্রমাঃ। কুজে চ সপ্তমস্থানে ম্রিয়তে পিতৃসংজ্ঞকঃ। জাত ব‍্যক্তির জন্ম লগ্নের দশমে শনি,ষষ্ঠে চন্দ্র এবং সপ্তমে মঙ্গল থাকলে পিতৃবিয়োগ হয়। পূর্ব জন্মের কর্মফলানুসারে পিতৃবিয়োগ দুঃখ যার অবশ‍্য ভোগ‍্য,তার শনি, চন্দ্র প্রভৃতি গ্রহের এতাদৃশ সংস্থানকালেই জন্ম হয়ে থাকে।* *শ্রীকৃষ্ণের রাশিচক্র সমালোচনা করলে তাঁর অনেক লীলার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।* *শ্রীকৃষ্ণের জন্ম সময়ে ভাগ‍্যপতি শনি, রিপু স্থানে মাতুল ও রিপুপতি শুক্রের সহিত অবস্থিত হওয়ায় এবং মাতুলকারক বুধ,নিধনপতি ও আয়পতি বৃহস্পতির সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত থাকায় মাতুলের মৃত‍্যুর পর রাজসৌভাগ‍্য যোগ সূচনা করছে।* *পিতৃকারক রবি মঙ্গল কর্তৃক হওয়ায় পিতার বন্ধনাদি দুর্য‍্যোগ সূচিত হচ্ছে।ভ্রাতৃপতি চন্দ্র রাহুদৃষ্ট হওয়ায় ও ভ্রাতৃস্থানে শনির দৃষ্টি থাকায়,সহোদরাদি বিনাশযোগ সূচিত হচ্ছে।শ্রীকৃষ্ণ কংসবধান্তে রাজ‍্যলাভ করেছিলেন ও তাঁর পিতা বসুদেব কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন  এবং কংস-হস্তে তাঁর ছয়টি সহোদর বিনষ্ট হয়েছিল।* *উচ্চগৃহে(বৃষে)অবস্থিত বলবান তৃতীয়পতি চন্দ্রলগ্নে অবস্থিত থাকায় ভ্রাতা কীর্তিমান (জাতক পারিজাত) হয়  ও স্বাভাবিক আত্মকারক গ্রহ রবির চতুর্থে (হৃদয় স্থানে) অবস্থিতির জন্য আত্মনিষ্ঠ স্বাভাবিক বুদ্ধি হয়।* *বাক‍্যকারক বুধ বুদ্ধিস্থানে উচ্চে পঞ্চমে অবস্থিত বলিয়া অসাধারণ বুদ্ধিমান ও বাককৌশলী হয়। "দ‍্যূনেশে নবমে বিত্তে নানাস্ত্রীভিঃ সমাগমঃ।(বৃহৎপরাশর হোরা)কেন্দ্রে ত্রিকোণ দারেশে স্বোচ্চমিতস্ববর্গগে।কর্মাধিপেন বা যুক্তে বহুস্ত্রীসহিতো ভবেৎ। ইত‍্যাদি জ‍্যোতিষ শাস্ত্র বচনে=শ্রীকৃষ্ণের রাসাদি লীলা এবং দ্বারকায় ষোড়শ সহস্র মহিষীর সহিত লীলার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। শ্রীভগবানের লীলা অনন্ত।* *তাঁর রাশিচক্র সমালোচনা করিলে অনেক লীলারই তত্ত্ব পাওয়া যায়,তবে দিগদর্শনের জন্য এখানে কিঞ্চিমাত্র আলোচনা করিলাম।*
*ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


শ্রীভগবানের আবির্ভাব কালীন গ্রহাদির স্থিতির পরিচয় ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন ➡️ http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/09/blog-post_31.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীভগবানের আবির্ভাব কালীন গ্রহাদির স্থিতির পরিচয় ꧂
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ 🌐 MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 *🙏""খমাণিক‍্য""নামক জ‍্যোতিষ গ্রন্থে শ্রীভগবানের আবির্ভাব কালীন গ্রহাদির স্থিতির পরিচয় পাওয়া যায় =শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব সময়ে চন্দ্র,মঙ্গল,বুধ ও শনি উচ্চস্থানে অবস্থিত হয়েছিলেন।সে সময়ে বৃষলগ্ন এবং বৃহস্পতি বৃষরাশিতে ও সূর্য‍্য সিংহরাশিতে,শুক্র তুলা রাশিতে ও রাহু বৃশ্চিক রাশিতে অবস্থিত হয়ে ছিলেন।* *সেদিন অষ্টমী তিথি,বুধবার ও রোহিণী নক্ষত্র।এই সমস্ত শুভযোগে নিশীথ কালে ঘনীভূত পরব্রহ্মস্বরূপ শ্রীকৃষ্ণ এই মরজগতে আবির্ভূত হয়েছিলেন।* *"খমাণিক‍্য" নামক জ‍্যোতিষ গ্রন্থের পূর্বোক্ত মতানুসারে রাশিচক্র অঙ্কিত করলে দেখা যায় =শ্রীকৃষ্ণের জন্ম সময়ে চন্দ্র বৃষে,মঙ্গল মকরে,বুধ কন‍্যায়,এবং শনি তুলায় উচ্চস্থ হয়ে অবস্থিত।রবি,বৃহস্পতি এবং শুক্র স্বক্ষেত্রগত, সুতরাং বলবান্।নবম পতি শনি,লগ্নপতি শুক্রের সহিত সম্বন্ধ করে উভয়েই স্থানগত বলবান্ হয়েছেন।ইহা পরম রাজযোগ।* *জীবের জন্ম সময়ে গ্রহ নক্ষত্র আদির যেরকম সন্নিবেশ থাকে তদনুসারে জীবের ভবিষ্যৎ জীবনের কর্মাদি গণনা হয়ে থাকে।জীবমাত্রই কর্মাধীন ; সুতরাং যে জীব যাদৃশ কর্মফল ভোগের জন্য জন্মগ্রহণ করে,* *নক্ষত্রাদির তাদৃশ সন্নিবেশকালেই সেই জীবের জন্ম হয়ে থাকে।(জ‍্যোতিষ শাস্ত্রে দেখা যায় =কর্মস্থানে স্থিতঃ সৌরী,রিপু স্থানে চ চন্দ্রমাঃ। কুজে চ সপ্তমস্থানে ম্রিয়তে পিতৃসংজ্ঞকঃ। জাত ব‍্যক্তির জন্ম লগ্নের দশমে শনি,ষষ্ঠে চন্দ্র এবং সপ্তমে মঙ্গল থাকলে পিতৃবিয়োগ হয়। পূর্ব জন্মের কর্মফলানুসারে পিতৃবিয়োগ দুঃখ যার অবশ‍্য ভোগ‍্য,তার শনি, চন্দ্র প্রভৃতি গ্রহের এতাদৃশ সংস্থানকালেই জন্ম হয়ে থাকে।* *শ্রীকৃষ্ণের রাশিচক্র সমালোচনা করলে তাঁর অনেক লীলার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।* *শ্রীকৃষ্ণের জন্ম সময়ে ভাগ‍্যপতি শনি, রিপু স্থানে মাতুল ও রিপুপতি শুক্রের সহিত অবস্থিত হওয়ায় এবং মাতুলকারক বুধ,নিধনপতি ও আয়পতি বৃহস্পতির সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত থাকায় মাতুলের মৃত‍্যুর পর রাজসৌভাগ‍্য যোগ সূচনা করছে।* *পিতৃকারক রবি মঙ্গল কর্তৃক হওয়ায় পিতার বন্ধনাদি দুর্য‍্যোগ সূচিত হচ্ছে।ভ্রাতৃপতি চন্দ্র রাহুদৃষ্ট হওয়ায় ও ভ্রাতৃস্থানে শনির দৃষ্টি থাকায়,সহোদরাদি বিনাশযোগ সূচিত হচ্ছে।শ্রীকৃষ্ণ কংসবধান্তে রাজ‍্যলাভ করেছিলেন ও তাঁর পিতা বসুদেব কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন  এবং কংস-হস্তে তাঁর ছয়টি সহোদর বিনষ্ট হয়েছিল।* *উচ্চগৃহে(বৃষে)অবস্থিত বলবান তৃতীয়পতি চন্দ্রলগ্নে অবস্থিত থাকায় ভ্রাতা কীর্তিমান (জাতক পারিজাত) হয়  ও স্বাভাবিক আত্মকারক গ্রহ রবির চতুর্থে (হৃদয় স্থানে) অবস্থিতির জন্য আত্মনিষ্ঠ স্বাভাবিক বুদ্ধি হয়।* *বাক‍্যকারক বুধ বুদ্ধিস্থানে উচ্চে পঞ্চমে অবস্থিত বলিয়া অসাধারণ বুদ্ধিমান ও বাককৌশলী হয়। "দ‍্যূনেশে নবমে বিত্তে নানাস্ত্রীভিঃ সমাগমঃ।(বৃহৎপরাশর হোরা)কেন্দ্রে ত্রিকোণ দারেশে স্বোচ্চমিতস্ববর্গগে।কর্মাধিপেন বা যুক্তে বহুস্ত্রীসহিতো ভবেৎ। ইত‍্যাদি জ‍্যোতিষ শাস্ত্র বচনে=শ্রীকৃষ্ণের রাসাদি লীলা এবং দ্বারকায় ষোড়শ সহস্র মহিষীর সহিত লীলার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। শ্রীভগবানের লীলা অনন্ত।* *তাঁর রাশিচক্র সমালোচনা করিলে অনেক লীলারই তত্ত্ব পাওয়া যায়,তবে দিগদর্শনের জন্য এখানে কিঞ্চিমাত্র আলোচনা করিলাম।*
*ভুল ভ্রান্তি মার্জনীয়*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


শ্রীগোবিন্দ কবিরাজ বা গোবিন্দ দাস পদকর্তা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📝 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/09/blog-post_43.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীগোবিন্দ কবিরাজ বা গোবিন্দ দাস পদকর্তা 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীগোবিন্দ কবিরাজ বা গোবিন্দ দাস পদকর্তা।
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
শ্রীগোবিন্দ কবিরাজ -- ইনি মাতামহ শ্রীদামোদর কবিরাজের আলয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। গোবিন্দ কবিরাজ মাতৃগর্ভে অতিরিক্ত মাস অবস্থান করার ফলে জননী সুনন্দার অতিশয় কষ্ট হচ্ছিল।দাসী দামোদর কবিরাজকে এসে এই কথা বললেন।তখন দামোদর কবিরাজ দেবীর পূজো করছেন।তজ্জন‍্য দাসীর সঙ্গে কোন কথা না বলে নয়নে ইঙ্গিত করে বললেন,দেবী যন্ত্রটি সুনন্দাকে দেখাও এখনই পুত্র প্রসব হবে।দাসী ইঙ্গিত না বুঝে দেবী-যন্ত্র ধৌত করে সেই জল সুনন্দাকে পান করাল, তাহাতে তিনি সুখে পুত্র প্রসব করলেন।
(শীঘ্র যন্ত্র-ধৌত করি জল পিয়াইল)
               (ভক্তিরত্নাকর=৯|১৪৯)
শ্রীগোবিন্দ কবিরাজের জন্মের পর পিতা চিরঞ্জীব সেন অপ্রকট হন। তখন থেকে শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজ ও গোবিন্দ কবিরাজ মাতামহ দামোদরের আলয়ে প্রতিপালিত হন।
দামোদর শাক্ত ছিলেন।মাতামহের সঙ্গ ফলে শ্রীরামচন্দ্র ও গোবিন্দ শাক্ত ভাবাপন্ন হন। শ্রীরামচন্দ্র পরবর্তীকালে শ্রীনিবাস আচার্য‍্যের অনুগ্রহে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হন। অপরদিকে গোবিন্দ ঘোরতর শাক্ত হয়ে পড়েন।তিনি ভগবতী ছাড়া অন‍্য কোন কথা বলতেন না, অন‍্য কোন পূজাও করতেন না। সকলকে ভগবতী উপাসনার কথাই বলতেন।তখন গীত পদ‍্যাদি যাহা লিখতেন সমস্তই ভগবতী সম্বন্ধে।
*শ্রীরামচন্দ্র শ্রীআচার্য‍্য স্থানে শিষ্য হৈতে।
গোবিন্দ একান্তে বসি বিচারয়ে চিতে।।
ভগবতী পাদপদ্ম কৈলে আরাধন।
না হৈত কি এ ভব বন্ধাদি বিমোচন।।
            (ভক্তিরত্নাকর=৯|১৫৭-১৫৮)
শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজ শ্রীনিবাস আচার্য‍্যের অনুগ্রহ পাবার পর গোবিন্দ কবিরাজের মতি বৈষ্ণব ধর্মে  এসেছিল।সেই সম্বন্ধে বলছেনশ্রীগোবিন্দ কবিরাজ মনে মনে চিন্তা করতে লাগলেন,শক্তি উপাসনা মার্গে ভববন্ধন থেকে কি মুক্তি পাওয়া যায় না? ঠিক এই সময় তিনি দৈববাণী শুনলেন---------------
হেন কালে অলক্ষ‍্যে কহয়ে ভগবতী।
কৃষ্ণ না ভজিলে কারু না ঘুচে দুর্গতি।
                     (ভঃরঃ= ৯|১৫৯)
অলক্ষ‍্যে দেবী যেন বলছেন, শ্রীকৃষ্ণ ভজন ছাড়া কারও ভববন্ধন মোচন হয় না।গোবিন্দ কবিরাজ এই দৈববাণী শুনে বুঝতে পারলেন শ্রীকৃষ্ণ ভজন ছাড়া অন‍্য কোন মার্গে বা কোন উপাসনার দ্বারা ভববন্ধন থেকে মুক্তি হয় না- ইহা দেবীর উপদেশ। তখন তিনি শ্রীকৃষ্ণ ভজন করবার জন্য দৃঢ় সংকল্প করলেন। গোবিন্দ কবিরাজ শ্রীকৃষ্ণ ভজনের জন্য বড়ই ব‍্যাকুল হয়ে পড়লেন। বড় ভাই রামচন্দ্র শ্রীনিবাস আচার্য‍্যের অনুগ্রহে ধন‍্য হয়েছেন, তিনিও তাই শ্রীআচার্য‍্যের শ্রীচরণ আশ্রয় করতে উৎসুক হলেন।
(শ্রীআচার্য‍্য প্রভুর শিষ্য হইব সর্বথা।
তবে সে ঘুচিবে মোর অন্তরের ব‍্যথা।।)
*আমি নিশ্চয় শ্রীআচার্য‍্য ঠাকুরের চরণ আশ্রয়ে ধন‍্য হব।গোবিন্দ এইরূপ বিচার করে যাজিগ্রামে যাবার উদ‍্যোগ করলেন, এমন সময় শুনলেন শ্রীআচার্য‍্য বৃন্দাবনে চলে গেছেন। গোবিন্দের মনে বড় খেদ উপস্থিত হল। তখন তিনি মনে মনে বিচার করতে লাগলেন-------------
*বৈষ্ণবগণেও মোর হিত চিন্তা কৈল।
কহিল পিতার বার্তা তাহা না শুনিল।।
মোর পিতা চিরঞ্জীব সেন বিদ‍্যামান।
চৈতন‍্যচন্দ্রের ভক্ত, গুণের নিধান।।
এ হেন সন্তান হৈয়া গেলু ছারে খারে
এ কেবল কর্মদোষ,কি বলিব কারে।।
** শ্রীগোবিন্দ কবিরাজ স্বগত ভাবে কৃপাময় বৈষ্ণবগণ পূর্বে আমার হিত চিন্তা করে শ্রীকৃষ্ণ ভজনের কথা বলে ছিলেন।ভাগ‍্যদোষে তখন তাঁদের কথায় কর্ণপাত করি নাই। 
আমার পিতা চিরঞ্জীব সেন শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভুর পরম অনুগ্রহ পাত্র ছিলেন। তিনি ছিলেন পরম ভাগবত ও সমস্ত গুণের নিধান। হায়! আমি এহেন মানুষের সন্তান হয়ে বৃথা জীবন কাটালাম।এ জগতে দেখছি আমার সমান দুর্ভাগা আর কে আছে?
       
শ্রীগোবিন্দ কবিরাজ শেষ অংশ -------
*********************************
পুনঃ যদিও দেবী স্বয়ং অহৈতুকী কৃপা করে কৃষ্ণভজন করতে বললেন, তাতে শ্রীকৃষ্ণ ভজনে কিছুটা মতি হল কিন্তু সদ্ গুরু কোথায় পাব? আমি মনে করলাম শ্রীনিবাস আচার্য‍্যের শ্রীচরণ আশ্রয় করিব, তিনি তো শ্রীবৃন্দাবনে বাস করছেন।
*মোর জ‍্যেষ্ঠ আচার্য‍্য প্রভুর দরশনে।
ফিরিল সে মন -- নিষ্ঠা হৈল সে চরণে।।
শ্রীগোবিন্দ কবিরাজ এই সমস্ত কথা বলিয়া যখন খেদ করতে ছিলেন, তখন দৈববাণী শুনলেন-------------
"হেনকালে দৈববাণী হইল আকাশে।
অভিলাষ পূর্ণ হবে অলপ দিবসে।।
** তোমার শীঘ্র অভিলাষ পূর্ণ হবে তুমি ধৈর্য্য ধর।এবার গোবিন্দ কবিরাজ খানিকটা আশ্বস্ত হ'লেন। শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজ ছোট ভায়ের সেই সমস্ত চেষ্টা শুনে বড়ই সুখী হলেন। এদিকে শ্রীনিবাস আচার্য‍্যের জন্য গৌড় দেশবাসী ভক্তগণ বড়ই চঞ্চল হয়ে উঠলেন।আচার্য‍্যকে বৃন্দাবন হতে আনবার জন্য কাকে পাঠানো হবে ; সকলে মনোনীত করলেন শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজকে। রামচন্দ্র বৈষ্ণবগণের আজ্ঞা নিয়ে শুভদিনে বৃন্দাবন যাত্রা করে, তিনি কুমারহট্ট নগরে ছোট ভাই গোবিন্দ কবিরাজের কাছে এলেন।গোবিন্দের কৃষ্ণ ভজন উৎকণ্ঠা দেখে তিনি খুবই সুখী হলেন এবং আচার্য‍্যপাদ এলেই তাঁর সব বাসনা সিদ্ধ হবে জানালেন। এ সময় তিনি শ্রীগোবিন্দ কবিরাজকে 
কুমার নগর থেকে তেলিয়া বুধরি গ্রামে গিয়ে বাস করতে বললেন। শ্রী রামচন্দ্র কবিরাজ বৃন্দাবনে যাবার পর শ্রী গোবিন্দ কবিরাজ তেলিয়া বুড়ি গ্রামে এসে বসতবাটি নির্মাণ করেন। ভক্তগনের ইচ্ছাই শ্রীনিবাস আচার্য গৌড় দেশে এলেন এবং বিভিন্ন স্থানে ভক্তসঙ্গে সুখে হরিকথা কীর্তন পূর্বক ভ্রমণ করতে লাগলেন। তার শুভাগমনে গৌড় দেশে শ্রী হরি সংকীর্তন বন্যা আরম্ভ হল। শ্রী নরোত্তম দাস ঠাকুর ও শ্রী শ্যামানন্দ প্রভু তাঁর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন।
 অতঃপর ভক্তগণ সঙ্গে শ্রী আচার্য তেলিয়া বুধরিতে এলেন। গোবিন্দ কবিরাজ অতিশয় ভক্তিপূত হৃদয়ে দৈন ভরে শ্রী আচার্যকে আমন্ত্রণ করিয়া স্বগৃহে আনলেন। অতি ভক্তি ভরে তার সেবাদি করতে লাগলেন। বুধ হরি গ্রামবাসী শ্রীনিবাস আচার্য দর্শনে পরমানন্দিত হলেন। এই সময়
গোবিন্দ কবিরাজ শ্রীনিবাস আচার্য শ্রীচরনে পরিয়া কৃপা প্রার্থনা করলেন। করুণাময় শ্রী আচার্য ঠাকুর তাকে শ্রীশ্রী রাধা কৃষ্ণ যুগল মন্ত্রে দীক্ষিত করিলেন। 
** রাধাকৃষ্ণ মন্ত্রদীক্ষা দিলেন গোবিন্দে**
 গোবিন্দ কবিরাজ শ্রীনিবাস আচার্য চরণে আত্মসমর্পণ করলেন। তার ভক্তি দর্শনে বৈষ্ণবদের আনন্দের সীমা রইল না। এইসময় গৌড় দেশে কোন প্রেমভক্তি বন্যা প্রবাহিত হলো। গৌড় দেশে গোবিন্দ কবিরাজ মহাকবি বলিয়া বিখ্যাত হলেন। তার বিদ্যা প্রতিভা অত‍্যদ্ভূত ছিল।
তিনি সংগীত মাধব নামে একখানি মহা নাটক রচনা করেন। তার আরো কয়েক খানি রচিত গ্রন্থ বঙ্গসাহিত্যে সুপ্রসিদ্ধ আছে। যেমন ছিল তার সঙ্গীত রচনা শক্তি,তেমনি ছিলেন তিনি সুকণ্ঠ গায়ক। শ্রীপাদ জীব গোস্বামী শ্রীনিবাস আচার্য শ্রীজাহ্নবা মাতা গোস্বামিনী প্রভৃতি তাঁর ভক্তিময়ী সঙ্গীত শ্রবণে পরম সুখী হয়ে তাঁকে কবিরাজ উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি শ্রীবিদ‍্যাপতির মৈথিল ভাষাযুক্ত পদাবলীর অনুসরণে গীত রচনা করেন।তিনি শ্রীপাদ রূপ গোস্বামীর ভক্তিরসামৃত সিন্ধু  ও উজ্জ্বল নীলমণির শান্ত,দাস‍্য,সখ‍্য, বাৎসল‍্য ও মধুর ভাব সম্বলিত গীত রচনা করেন। তাঁর গীতে এত অনুপ্রাস,এত সরল সহজ ভাষা গম্ভীর ভাব যুক্ত, যে শ্রোতার হৃদয় সহজেই জয় করে তোলে। গৌড়ীয় বৈষ্ণব রস সাহিত্য হিসাবে গোবিন্দ কবিরাজের সমস্ত গীতি অনুপম। স্বয়ং শ্রীপাদ জীব গোস্বামী গোবিন্দ কবিরাজের পদ সমূহ শ্রবণে সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে "কবিরাজ" আখ‍্যা প্রদান করেছিলেন। গোবিন্দ কবিরাজের পদাবলী গীত সংখ‍্যা পদকল্পতরুতে ৪৬০ টি আছে। গোবিন্দ কবিরাজের জন্ম ১৪৫৯ শকে,অপ্রকট ১৫৩৫ শকে,আশ্বিন মাসের শুক্ল প্রতিপদে।তাঁর পত্নীর নাম মহামায়া। পুত্রের নাম শ্রীদিব‍্যসিংহ। দিব‍্যসিংহের পুত্রের নাম কবি ঘনশ‍্যাম। 
            

দাক্ষিণাত‍্য পর্যটনের সময় দক্ষিণ-
মথুরাতে এক রামভক্ত ব্রাহ্মণের সহিত দেখা হল গৌরহরির। সেই ব্রাহ্মণ মহাপ্রভুকে নিমন্ত্রণ করলেন মধ‍্যাহ্ন ভোজনের জন্য। মহাপ্রভু কৃতমালায় স্নানাদি সম্পন্ন করিয়া সেই বিপ্রের ঘরে এসে উপস্থিত হলেন মধ‍্যাহ্নকাল,তবু বিপ্রের ঘরে রন্ধনের কোন আয়োজন নেই। এ কেমনতরো
নিমন্ত্রণ? এবারে মহাপ্রভু জিজ্ঞাসা করলেন দুপুর হয়ে গেল, রন্ধনাদির দ্রব‍্য কোথায়? রামদাস বিপ্র বললেন, আমি বনবাসে আছি, বনে রান্নার সামগ্রী সম্প্রতি দুর্লভ। লক্ষ্মণ বন‍্য অন্ন-শাক-ফল আনতে গেছে।সে ফিরে এলে সীতাদেবী রন্ধনের যোগাড় করবেন।বিপ্রের উপাসনার ভাবটি মহাপ্রভুর বুঝে নিলেন,আর আনন্দে ভরে উঠলেন।এমন লীলাস্মরণের ভক্তও এই জগতে দেখা যায়? প্রায় তৃতীয় প্রহরে বিপ্রের আবেশ তিরোহিত হল।তখন অতি যত্ন
সহকারে মহাপ্রভুকে ভিক্ষা দিলেন। কিন্তু নিজে কিছুই সেবা নিলেন না। বিষন্ন মনে বসে আছেন, মহাপ্রভু বললেন,একি! তুমি সেবা নেবে না? তোমার কি হয়েছে? তখন রামদাস বললেন,আমার আর প্রয়োজন নেই,আমি দেহত‍্যাগ করব। মহাপ্রভু বললেন,কেন? তোমার কিসের দুঃখ? তখন রামদাস বললেন, রাক্ষস জগন্মাতা সীতা ঠাকুরাণীকে ধরেছে, এই বলিয়া কাঁদতে লাগলেন। আর বললেন এই দুঃখে আমার দেহ জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে, এই দেহকে আর খাদ‍্য দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে ইচ্ছে হচ্ছে না। মহাপ্রভু বললেন,তুমি অমন চিন্তা মনেও স্থান দিও না। সীতা ঈশ্বরপ্রেয়সী, চিদানন্দ-মূর্তি।প্রাকৃতর হাত তাঁকে ছুঁইতে পারে না, এবং এই প্রাকৃত চোখ দেখতেও পাই না।রাবণের কি সাধ‍্য তাঁকে দেখে,তাঁকে ছোঁয়! রাবণকে কুটিরদ্বারে আসতে দেখেই মায়া-সীতাকে রেখে সীতাদেবী অন্তর্হিত হলেন। তুমি দুর্ভাবনা করো না, আমাকে বিশ্বাস করো সত‍্যি বলছি।"অপ্রাকৃতবস্তু নহে প্রাকৃত গোচর। মহাপ্রভুর বাক‍্যে রামদাসের বিশ্বাস হল। এবং আহার গ্রহণ করলেন।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






শ্রীগোবিন্দ কবিরাজ বা গোবিন্দ দাস পদকর্তা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ -> http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/09/blog-post_43.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীগোবিন্দ কবিরাজ বা গোবিন্দ দাস পদকর্তা 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীগোবিন্দ কবিরাজ বা গোবিন্দ দাস পদকর্তা।
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
শ্রীগোবিন্দ কবিরাজ -- ইনি মাতামহ শ্রীদামোদর কবিরাজের আলয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। গোবিন্দ কবিরাজ মাতৃগর্ভে অতিরিক্ত মাস অবস্থান করার ফলে জননী সুনন্দার অতিশয় কষ্ট হচ্ছিল।দাসী দামোদর কবিরাজকে এসে এই কথা বললেন।তখন দামোদর কবিরাজ দেবীর পূজো করছেন।তজ্জন‍্য দাসীর সঙ্গে কোন কথা না বলে নয়নে ইঙ্গিত করে বললেন,দেবী যন্ত্রটি সুনন্দাকে দেখাও এখনই পুত্র প্রসব হবে।দাসী ইঙ্গিত না বুঝে দেবী-যন্ত্র ধৌত করে সেই জল সুনন্দাকে পান করাল, তাহাতে তিনি সুখে পুত্র প্রসব করলেন।
(শীঘ্র যন্ত্র-ধৌত করি জল পিয়াইল)
               (ভক্তিরত্নাকর=৯|১৪৯)
শ্রীগোবিন্দ কবিরাজের জন্মের পর পিতা চিরঞ্জীব সেন অপ্রকট হন। তখন থেকে শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজ ও গোবিন্দ কবিরাজ মাতামহ দামোদরের আলয়ে প্রতিপালিত হন।
দামোদর শাক্ত ছিলেন।মাতামহের সঙ্গ ফলে শ্রীরামচন্দ্র ও গোবিন্দ শাক্ত ভাবাপন্ন হন। শ্রীরামচন্দ্র পরবর্তীকালে শ্রীনিবাস আচার্য‍্যের অনুগ্রহে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হন। অপরদিকে গোবিন্দ ঘোরতর শাক্ত হয়ে পড়েন।তিনি ভগবতী ছাড়া অন‍্য কোন কথা বলতেন না, অন‍্য কোন পূজাও করতেন না। সকলকে ভগবতী উপাসনার কথাই বলতেন।তখন গীত পদ‍্যাদি যাহা লিখতেন সমস্তই ভগবতী সম্বন্ধে।
*শ্রীরামচন্দ্র শ্রীআচার্য‍্য স্থানে শিষ্য হৈতে।
গোবিন্দ একান্তে বসি বিচারয়ে চিতে।।
ভগবতী পাদপদ্ম কৈলে আরাধন।
না হৈত কি এ ভব বন্ধাদি বিমোচন।।
            (ভক্তিরত্নাকর=৯|১৫৭-১৫৮)
শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজ শ্রীনিবাস আচার্য‍্যের অনুগ্রহ পাবার পর গোবিন্দ কবিরাজের মতি বৈষ্ণব ধর্মে  এসেছিল।সেই সম্বন্ধে বলছেনশ্রীগোবিন্দ কবিরাজ মনে মনে চিন্তা করতে লাগলেন,শক্তি উপাসনা মার্গে ভববন্ধন থেকে কি মুক্তি পাওয়া যায় না? ঠিক এই সময় তিনি দৈববাণী শুনলেন---------------
হেন কালে অলক্ষ‍্যে কহয়ে ভগবতী।
কৃষ্ণ না ভজিলে কারু না ঘুচে দুর্গতি।
                     (ভঃরঃ= ৯|১৫৯)
অলক্ষ‍্যে দেবী যেন বলছেন, শ্রীকৃষ্ণ ভজন ছাড়া কারও ভববন্ধন মোচন হয় না।গোবিন্দ কবিরাজ এই দৈববাণী শুনে বুঝতে পারলেন শ্রীকৃষ্ণ ভজন ছাড়া অন‍্য কোন মার্গে বা কোন উপাসনার দ্বারা ভববন্ধন থেকে মুক্তি হয় না- ইহা দেবীর উপদেশ। তখন তিনি শ্রীকৃষ্ণ ভজন করবার জন্য দৃঢ় সংকল্প করলেন। গোবিন্দ কবিরাজ শ্রীকৃষ্ণ ভজনের জন্য বড়ই ব‍্যাকুল হয়ে পড়লেন। বড় ভাই রামচন্দ্র শ্রীনিবাস আচার্য‍্যের অনুগ্রহে ধন‍্য হয়েছেন, তিনিও তাই শ্রীআচার্য‍্যের শ্রীচরণ আশ্রয় করতে উৎসুক হলেন।
(শ্রীআচার্য‍্য প্রভুর শিষ্য হইব সর্বথা।
তবে সে ঘুচিবে মোর অন্তরের ব‍্যথা।।)
*আমি নিশ্চয় শ্রীআচার্য‍্য ঠাকুরের চরণ আশ্রয়ে ধন‍্য হব।গোবিন্দ এইরূপ বিচার করে যাজিগ্রামে যাবার উদ‍্যোগ করলেন, এমন সময় শুনলেন শ্রীআচার্য‍্য বৃন্দাবনে চলে গেছেন। গোবিন্দের মনে বড় খেদ উপস্থিত হল। তখন তিনি মনে মনে বিচার করতে লাগলেন-------------
*বৈষ্ণবগণেও মোর হিত চিন্তা কৈল।
কহিল পিতার বার্তা তাহা না শুনিল।।
মোর পিতা চিরঞ্জীব সেন বিদ‍্যামান।
চৈতন‍্যচন্দ্রের ভক্ত, গুণের নিধান।।
এ হেন সন্তান হৈয়া গেলু ছারে খারে
এ কেবল কর্মদোষ,কি বলিব কারে।।
** শ্রীগোবিন্দ কবিরাজ স্বগত ভাবে কৃপাময় বৈষ্ণবগণ পূর্বে আমার হিত চিন্তা করে শ্রীকৃষ্ণ ভজনের কথা বলে ছিলেন।ভাগ‍্যদোষে তখন তাঁদের কথায় কর্ণপাত করি নাই। 
আমার পিতা চিরঞ্জীব সেন শ্রীচৈতন‍্য মহাপ্রভুর পরম অনুগ্রহ পাত্র ছিলেন। তিনি ছিলেন পরম ভাগবত ও সমস্ত গুণের নিধান। হায়! আমি এহেন মানুষের সন্তান হয়ে বৃথা জীবন কাটালাম।এ জগতে দেখছি আমার সমান দুর্ভাগা আর কে আছে?
       
শ্রীগোবিন্দ কবিরাজ শেষ অংশ -------
*********************************
পুনঃ যদিও দেবী স্বয়ং অহৈতুকী কৃপা করে কৃষ্ণভজন করতে বললেন, তাতে শ্রীকৃষ্ণ ভজনে কিছুটা মতি হল কিন্তু সদ্ গুরু কোথায় পাব? আমি মনে করলাম শ্রীনিবাস আচার্য‍্যের শ্রীচরণ আশ্রয় করিব, তিনি তো শ্রীবৃন্দাবনে বাস করছেন।
*মোর জ‍্যেষ্ঠ আচার্য‍্য প্রভুর দরশনে।
ফিরিল সে মন -- নিষ্ঠা হৈল সে চরণে।।
শ্রীগোবিন্দ কবিরাজ এই সমস্ত কথা বলিয়া যখন খেদ করতে ছিলেন, তখন দৈববাণী শুনলেন-------------
"হেনকালে দৈববাণী হইল আকাশে।
অভিলাষ পূর্ণ হবে অলপ দিবসে।।
** তোমার শীঘ্র অভিলাষ পূর্ণ হবে তুমি ধৈর্য্য ধর।এবার গোবিন্দ কবিরাজ খানিকটা আশ্বস্ত হ'লেন। শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজ ছোট ভায়ের সেই সমস্ত চেষ্টা শুনে বড়ই সুখী হলেন। এদিকে শ্রীনিবাস আচার্য‍্যের জন্য গৌড় দেশবাসী ভক্তগণ বড়ই চঞ্চল হয়ে উঠলেন।আচার্য‍্যকে বৃন্দাবন হতে আনবার জন্য কাকে পাঠানো হবে ; সকলে মনোনীত করলেন শ্রীরামচন্দ্র কবিরাজকে। রামচন্দ্র বৈষ্ণবগণের আজ্ঞা নিয়ে শুভদিনে বৃন্দাবন যাত্রা করে, তিনি কুমারহট্ট নগরে ছোট ভাই গোবিন্দ কবিরাজের কাছে এলেন।গোবিন্দের কৃষ্ণ ভজন উৎকণ্ঠা দেখে তিনি খুবই সুখী হলেন এবং আচার্য‍্যপাদ এলেই তাঁর সব বাসনা সিদ্ধ হবে জানালেন। এ সময় তিনি শ্রীগোবিন্দ কবিরাজকে 
কুমার নগর থেকে তেলিয়া বুধরি গ্রামে গিয়ে বাস করতে বললেন। শ্রী রামচন্দ্র কবিরাজ বৃন্দাবনে যাবার পর শ্রী গোবিন্দ কবিরাজ তেলিয়া বুড়ি গ্রামে এসে বসতবাটি নির্মাণ করেন। ভক্তগনের ইচ্ছাই শ্রীনিবাস আচার্য গৌড় দেশে এলেন এবং বিভিন্ন স্থানে ভক্তসঙ্গে সুখে হরিকথা কীর্তন পূর্বক ভ্রমণ করতে লাগলেন। তার শুভাগমনে গৌড় দেশে শ্রী হরি সংকীর্তন বন্যা আরম্ভ হল। শ্রী নরোত্তম দাস ঠাকুর ও শ্রী শ্যামানন্দ প্রভু তাঁর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন।
 অতঃপর ভক্তগণ সঙ্গে শ্রী আচার্য তেলিয়া বুধরিতে এলেন। গোবিন্দ কবিরাজ অতিশয় ভক্তিপূত হৃদয়ে দৈন ভরে শ্রী আচার্যকে আমন্ত্রণ করিয়া স্বগৃহে আনলেন। অতি ভক্তি ভরে তার সেবাদি করতে লাগলেন। বুধ হরি গ্রামবাসী শ্রীনিবাস আচার্য দর্শনে পরমানন্দিত হলেন। এই সময়
গোবিন্দ কবিরাজ শ্রীনিবাস আচার্য শ্রীচরনে পরিয়া কৃপা প্রার্থনা করলেন। করুণাময় শ্রী আচার্য ঠাকুর তাকে শ্রীশ্রী রাধা কৃষ্ণ যুগল মন্ত্রে দীক্ষিত করিলেন। 
** রাধাকৃষ্ণ মন্ত্রদীক্ষা দিলেন গোবিন্দে**
 গোবিন্দ কবিরাজ শ্রীনিবাস আচার্য চরণে আত্মসমর্পণ করলেন। তার ভক্তি দর্শনে বৈষ্ণবদের আনন্দের সীমা রইল না। এইসময় গৌড় দেশে কোন প্রেমভক্তি বন্যা প্রবাহিত হলো। গৌড় দেশে গোবিন্দ কবিরাজ মহাকবি বলিয়া বিখ্যাত হলেন। তার বিদ্যা প্রতিভা অত‍্যদ্ভূত ছিল।
তিনি সংগীত মাধব নামে একখানি মহা নাটক রচনা করেন। তার আরো কয়েক খানি রচিত গ্রন্থ বঙ্গসাহিত্যে সুপ্রসিদ্ধ আছে। যেমন ছিল তার সঙ্গীত রচনা শক্তি,তেমনি ছিলেন তিনি সুকণ্ঠ গায়ক। শ্রীপাদ জীব গোস্বামী শ্রীনিবাস আচার্য শ্রীজাহ্নবা মাতা গোস্বামিনী প্রভৃতি তাঁর ভক্তিময়ী সঙ্গীত শ্রবণে পরম সুখী হয়ে তাঁকে কবিরাজ উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি শ্রীবিদ‍্যাপতির মৈথিল ভাষাযুক্ত পদাবলীর অনুসরণে গীত রচনা করেন।তিনি শ্রীপাদ রূপ গোস্বামীর ভক্তিরসামৃত সিন্ধু  ও উজ্জ্বল নীলমণির শান্ত,দাস‍্য,সখ‍্য, বাৎসল‍্য ও মধুর ভাব সম্বলিত গীত রচনা করেন। তাঁর গীতে এত অনুপ্রাস,এত সরল সহজ ভাষা গম্ভীর ভাব যুক্ত, যে শ্রোতার হৃদয় সহজেই জয় করে তোলে। গৌড়ীয় বৈষ্ণব রস সাহিত্য হিসাবে গোবিন্দ কবিরাজের সমস্ত গীতি অনুপম। স্বয়ং শ্রীপাদ জীব গোস্বামী গোবিন্দ কবিরাজের পদ সমূহ শ্রবণে সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে "কবিরাজ" আখ‍্যা প্রদান করেছিলেন। গোবিন্দ কবিরাজের পদাবলী গীত সংখ‍্যা পদকল্পতরুতে ৪৬০ টি আছে। গোবিন্দ কবিরাজের জন্ম ১৪৫৯ শকে,অপ্রকট ১৫৩৫ শকে,আশ্বিন মাসের শুক্ল প্রতিপদে।তাঁর পত্নীর নাম মহামায়া। পুত্রের নাম শ্রীদিব‍্যসিংহ। দিব‍্যসিংহের পুত্রের নাম কবি ঘনশ‍্যাম। 
            

দাক্ষিণাত‍্য পর্যটনের সময় দক্ষিণ-
মথুরাতে এক রামভক্ত ব্রাহ্মণের সহিত দেখা হল গৌরহরির। সেই ব্রাহ্মণ মহাপ্রভুকে নিমন্ত্রণ করলেন মধ‍্যাহ্ন ভোজনের জন্য। মহাপ্রভু কৃতমালায় স্নানাদি সম্পন্ন করিয়া সেই বিপ্রের ঘরে এসে উপস্থিত হলেন মধ‍্যাহ্নকাল,তবু বিপ্রের ঘরে রন্ধনের কোন আয়োজন নেই। এ কেমনতরো
নিমন্ত্রণ? এবারে মহাপ্রভু জিজ্ঞাসা করলেন দুপুর হয়ে গেল, রন্ধনাদির দ্রব‍্য কোথায়? রামদাস বিপ্র বললেন, আমি বনবাসে আছি, বনে রান্নার সামগ্রী সম্প্রতি দুর্লভ। লক্ষ্মণ বন‍্য অন্ন-শাক-ফল আনতে গেছে।সে ফিরে এলে সীতাদেবী রন্ধনের যোগাড় করবেন।বিপ্রের উপাসনার ভাবটি মহাপ্রভুর বুঝে নিলেন,আর আনন্দে ভরে উঠলেন।এমন লীলাস্মরণের ভক্তও এই জগতে দেখা যায়? প্রায় তৃতীয় প্রহরে বিপ্রের আবেশ তিরোহিত হল।তখন অতি যত্ন
সহকারে মহাপ্রভুকে ভিক্ষা দিলেন। কিন্তু নিজে কিছুই সেবা নিলেন না। বিষন্ন মনে বসে আছেন, মহাপ্রভু বললেন,একি! তুমি সেবা নেবে না? তোমার কি হয়েছে? তখন রামদাস বললেন,আমার আর প্রয়োজন নেই,আমি দেহত‍্যাগ করব। মহাপ্রভু বললেন,কেন? তোমার কিসের দুঃখ? তখন রামদাস বললেন, রাক্ষস জগন্মাতা সীতা ঠাকুরাণীকে ধরেছে, এই বলিয়া কাঁদতে লাগলেন। আর বললেন এই দুঃখে আমার দেহ জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে, এই দেহকে আর খাদ‍্য দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে ইচ্ছে হচ্ছে না। মহাপ্রভু বললেন,তুমি অমন চিন্তা মনেও স্থান দিও না। সীতা ঈশ্বরপ্রেয়সী, চিদানন্দ-মূর্তি।প্রাকৃতর হাত তাঁকে ছুঁইতে পারে না, এবং এই প্রাকৃত চোখ দেখতেও পাই না।রাবণের কি সাধ‍্য তাঁকে দেখে,তাঁকে ছোঁয়! রাবণকে কুটিরদ্বারে আসতে দেখেই মায়া-সীতাকে রেখে সীতাদেবী অন্তর্হিত হলেন। তুমি দুর্ভাবনা করো না, আমাকে বিশ্বাস করো সত‍্যি বলছি।"অপ্রাকৃতবস্তু নহে প্রাকৃত গোচর। মহাপ্রভুর বাক‍্যে রামদাসের বিশ্বাস হল। এবং আহার গ্রহণ করলেন।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






সৎসঙ্গ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/09/blog-post_91.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                             ꧁ সৎসঙ্গ 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  সৎসঙ্গের কথন ঃ--------------------
ততো দুঃসঙ্গমুৎসৃজ‍্য সৎসু সজ্জেত বুদ্ধিমান।
সন্ত এতস‍্য ছিন্দন্তি মনোব‍্যাসঙ্গমুক্তিভিঃ।।
** ভগবান শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধবকে বলছেন--
ততঃ=সেইহেতু, বুদ্ধিমান=বুদ্ধিমান ব‍্যক্তি, দুঃসঙ্গং= অসৎসঙ্গ, উৎসৃজ‍্যগ পরিত‍্যাগ করিয়া, সৎসু= সৎসঙ্গে, সজ্জেত= আসক্ত হবেন, সন্তঃ= সৎ ব‍্যক্তিগণ, এতস‍্য= ইহারাই, মনোব‍্যাসঙ্গং= মনের বিশেষ আসক্তি, উক্তিভিঃ= ভক্তি বিষয়ক উপদেশ বাক‍্য দ্বারা, ছিন্দন্তি= ছেদন করেন।
********************************
অর্থ‍্যাৎ== সেই হেতু বুদ্ধিমান ব‍্যক্তি অসৎসঙ্গ ত‍্যাগ করিয়া সৎসঙ্গে আসক্ত হবেন। সৎব‍্যক্তিগণই উপদেশ বাক‍্য দ্বারা ওই ব‍্যক্তির মনের বিশেষ আসক্তি (সংসারাসক্তি)ছেদন করেন।
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
অসৎসঙ্গই জীবকে ভগবদবিমুখ করে। অসৎ-প্রাকৃত বস্তুর সঙ্গে অনাদি কাল হতে জীবের সম্বন্ধ হেতু জীবের পক্ষে কৃষ্ণ-উন্মুখতা বড়ই কঠিন। নাম সংকীর্তনাঙ্গ কি ভাবে করলে প্রেমের উদয় হয়,বা প্রেমের সাধক হয়,তাহা শ্রীমন্মহাপ্রভু শিক্ষাষ্টকে ব‍্যক্ত বা প্রকাশ করেছেন।
যেরূপে লইলে নাম প্রেম উপজয়।
তাহার লক্ষণ শুন স্বরূপ রামরায়।।
তৃণাদপি সুনীচেন তরোরিব সহিষ্ণুনা।
অমানিনা মান দেন কীর্তনীয়ঃ সদা হরিঃ।।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/09/blog-post_91.html
       ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
মহাপ্রভু এই শ্লোকের স্বয়ংই অর্থ করেছেন------
উত্তম হঞা আপনাকে মানে তৃণাধম।
দুইপ্রকারে সহিষ্ণুতা করে বৃক্ষসম।।
বৃক্ষ যেন কাটিলেহ কিছু না বোলয়।
শুখাইয়া মৈলে কারে পানি না মাগয়।।
যেই যে মাগয়ে তারে দেয় আপন ধন।
ঘর্ম-বৃষ্টি সহে,আনের করয়ে রক্ষণ।।
উত্তম হঞা বৈষ্ণব হবে নিরভিমান।
জীবে সম্মান দিবে জানি কৃষ্ণ- অধিষ্ঠান।।
এইমত হঞা যেই কৃষ্ণনাম লয়।
কৃষ্ণের চরণে তার প্রেম উপজয়।।

** শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী উক্ত শ্লোক বিষয়ে মন্তব্য প্রকাশ করতে গিয়ে লিখেছেন-----
ঊর্ধবাহু করি কহি শুন সর্বলোক।
নামসূত্রে গাঁথি পর কন্ঠে এই শ্লোক।।
প্রভুর আজ্ঞায় কর এই শ্লোক আচরণ
অবশ‍্য পাইবে তবে শ্রীকৃষ্ণচরণ।।
** এই কথা তাৎপর্য‍্য এই যে,নাম করবার সময় নিরন্তর এই শ্লোক স্মরণ করতে হবে এবং যাহাতে এই অবস্থা লাভ হয়, তার জন‍্য শ্রীনামের নিকট সকাতরে প্রার্থনা ও হৃদয়ের ব‍্যাকুলতা জ্ঞাপন করতে হবে। কেননা উক্ত অবস্থা লাভ না হওয়া পর্যন্ত নাম গ্রহণের মুখ‍্যফল প্রেমলাভ হবে না। যেহেতু এই শ্লোকের যথাযথ যাজনই নিরপরাধে নামকীর্তনের অমোঘ (অব‍্যর্থ বা সফল) উপায়।কেননা নামাপরাধই মহাশক্তিশালী নামসাধনায় প্রেম প্রাপ্তির প্রবলতম অন্তরায়(বাধা বা বিঘ্ন)। সাপরাধ (অপরাধ যার বা অপরাধী) ব‍্যক্তির প্রতি শ্রীনাম প্রসন্ন হন না এবং অপরাধী ব্যক্তি বহুকাল কীর্তন করলেও তিনি তাহাকে েপ্রমদানের 
ইচ্ছা করেন না।যেহেতু কলি যুগধর্ম এই হরিনাম সংকীর্তন সুসেবন(সুদ্ধাচার সেবা)করিয়া যাঁরা অচিরায় প্রেমলাভের ইচ্ছে করেন,তাঁদেরকে দশবিধ নামাপরাধ বর্জন করিয়াই নামকীর্তন করতে হবে। ""রাধ""শব্দে সন্তোষ  বুঝায়।
অপরাধ হলে নামের সন্তোষ অপগত (পলায়ন) হয় বলিয়া শ্রীনাম স্বপ্রভাব সংগোপন (সম্পন্ন ভাবে গোপন) করেন, ফলতঃ নামাপরাধী নাম সেবনে অসমর্থ হন। নাম সেবা দূরে থাকুক,অশ্রদ্ধা,কৌটিল‍্য(কুটিলতা) কৃষ্ণেতর বস্তুতে অভিনিবেশ(অভ‍্যন্তরে প্রবেশ করা) লাভ,পূজা,প্রতিষ্ঠাশা এবং নামভজনে শৈথিল‍্য (অমনোযোগ) প্রভৃতি এই নাম অপরাধেরই বিষময় ফল। আবার ""রাধ""শব্দের অর্থ সিদ্ধি (রাধ্+ঘঞ) অপরাধে নামের ফল-সিদ্ধি অপগত হয়।(দশটি নাম অপরাধ---
১,সাধুনিন্দা,২,শ্রীবিষ্ণু ও শ্রীশিবের নামাদির ভেদকরণ, ৩,শ্রীগুরুদেবের অবজ্ঞা বা শ্রীগুরুতে মর্ত‍্যবুদ্ধি,(মানবজ্ঞান)৪,শ্রুতি ও তদনুগত শাস্ত্রের নিন্দা, ৫,শ্রীহরিনামের মহিমায় অর্থবাদ মনন, ৬,শ্রীহরিনামে অর্থান্তর কল্টনা,৭,নামবলে পাপাচরণে প্রবৃত্তি, ৮,অন‍্য শুভক্রিয়াদির সঙ্গে শ্রীহরিনামের সমতা মনন, ৯,শ্রদ্ধাহীনজনকে নামোপদেশ, ১০, নামমাহাত্ম‍্য শ্রবণ করিয়াও নামে অপ্রীতি।
কাম,ক্রোধ,লোভ,মোহ,মদ,ওমাৎসর্য‍্য এই ষড় বা ছয় রিপু মানবদেহে সতত (সবসময়) বাস করে থাকে।সংসার সিন্ধুতে অর্থ‍্যাৎ এই সংসাররূপ সাগরে নিপতিত(পড়ে থেকে )মানব এই ছয়রিপু রূপ মহাশক্তিশালী নক্র (যে এক স্থানে থাকতে ভালবাসে, এবং স্বস্থানে থেকে শিকার আকর্ষণ করে, বা কুমীর)মকরাদি কবলগ্রস্ত হয়ে অবিরত ইহাদের দ্বারা চর্বিত (চিবিয়ে খাচ্ছে এমন)হচ্ছে। অর্থ‍্যাৎ 
ছয় রিপুর দ্বারা সুখ শান্তি বিহীন কষ্টভোগ করছে। এই ছয়রিপু মহাশক্তিশালী ও অতি উদ্দাম, (স্বেচ্ছাচারী ও বন্ধনমুক্ত)প্রতি মানুষের ইন্দ্রিয়কুলকে যখন এরা আকর্ষণ করে,তখন বিদ্বানের বিদ‍্যা, বুদ্ধিমানের সব বুদ্ধিস্তিমিত(নিশ্চল বা স্থির) (কত যোগীন্দ্র ঋষি মুনিগন না জানি কি ধ‍্যানে।
মগন স্তিমিতলোচন কি অমৃত রস পানে।।) ""অপর অর্থ ডুবে যাওয়া ""
হয় যায়। নিজ শক্তিতে মানবকুল কখনই ছয়রিপুর কবল হতে রক্ষা পেতে পারে না। অর্জুন শ্রীকৃষ্ণের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন--------
"অথ কেন প্রযুক্তোহয়ং পাপং চরতি পুরুষঃ। 
অনিচ্ছন্নপি বাষ্ণেরয় বলাদিব নিয়ুজিতঃ।।(গীতা ৩|৩৬)
 হে কৃষ্ণ!লোকে কার দ্বারা যুক্ত হয়ে অনিচ্ছাসত্ত্বেও যেন বলপূর্বক নিয়োজিত হয়ে পাপ আচরণে প্রবৃত্ত হয়? তদুত্তরে শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন-----
কাম এষ ক্রোধ এষ রজোগুণসমুদ্ভবঃ।
মহাশনো মহাপাপমা বিদ্ধ‍্যেনমিহ বৈরিণম্।।
হে অর্জুন! ইহা কাম,ইহাই ক্রোধ।ইহা রজোগুণোৎপন্ন,ইহা অতি দুষ্পূরণীয় (পূরণ করা দুঃসাধ‍্য) এবং অতি উগ্র।
ইহাকে সংসারে শত্রু বলিয়ায় জানবে। কাম শব্দে কেহ কেহ স্ত্রী-পুরুষের পারস্পরিক মিলনেচ্ছাকেই বুঝে থাকেন এইরকম সংকীর্ণ অর্থেও কাম শব্দ ব‍্যবহার হয় বটে, কিন্তু কাম শব্দের ব‍্যাপক অর্থ কামনা বা বিষয়বাসনা।এই কাম বা কামনা প্রতিহত (আঘাত) হলেই উহা ক্রোধে পরিণত হয়, সুতরাং কামও ক্রোধ একই ; কেবল ক্রোধই নহে, অপর চারটি রিপু লোভ মোহ মদ ও মাৎসর্য‍্য এরাও কামেরই রূপান্তর। এই কামনা উত্তম ভোগ‍্য দ্রব‍্যাদ বা ধন ঐশ্বর্যাদির প্রতি অতিমাত্রায় আকৃষ্ট হলে তাকে ""লোভ""বলে।আবার এই কামনা বা বিষয়বাসনাই যখন মানুষকে অনিত‍্য বা নশ্বর বস্তুতে আসক্ত করে রাখে,স্বরূপের উপলব্ধি করতে দেয় না, বা আত্মজ্ঞানকে আচ্ছন্ন করে দেয়,তখন তার নাম হয় ""মোহ""।আবার এই মোহ বা অজ্ঞানই যখন "আমি ধনি" "আমি মানী"এই রকম অহমিকার আকার ধারণ করে,তখন তারই নাম "মদ"। আবার ঐ অহমিকা যখন অন‍্যের নিজাপেক্ষা অধিক ধন প্রতিপত্তি দর্শনে স্বীয়(নিজ) ধন, মানাদির গর্বকে খর্ব করে তখন চিত্তে (মনে) যে এক প্রকার ক্ষোভ ব অসহনশীল জাত (জন্ম)হয়,তার নাম মাৎসর্য‍্য বা পরশ্রীকাতরতা।এরা হৃদয়ের অতি জঘন‍্য বা কদর্য‍্য বৃত্তি এবং ভক্তি ভজনের সর্বাধিক অন্তরায়।

শ্রীকৃষ্ণ গোপীকাদের প্রেমঋণ শোধিতে পারলেন না।বললেন, তোমরা যেভাবে আমার সেবা করেছ সেই সেবাই চিরঋণে আবদ্ধ হয়েছি।
আমার তোমাদের দেবার মত কিছুই নেই, তবুও যদি কিছু দিই তোমরা নেবে না, নিলেও আমার এমন কিছু নেই যে যাহাতে তোমাদের ঋণ শোধ হতে পারে।এই কথা শুনিয়া রাধারাণী বললেন,সে ঋণ শোধ করা বড় বেশী কিছু নহে, তুমি তাহা অনায়াসে শোধিত পার।তুমি যদি জীবকে হরি নাম দাও,তবে আমি তোমাকে ঋণ হতে মুক্ত করিব। শ্রীমতী যদিও কতক রহস্য ভাবে এই কথাগুলি বললেন, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ অমনি বললেন "তথাস্তু" তাই শ্রীকৃষ্ণ একখানি "দাসখত"লিখে দিলেন।তাহাতে লেখা ছিল যে, তিনি কলিযুগে সন্ন‍্যাসী হয়ে দ্বারে দ্বারে হরিনাম বিতরণ করবেন।শ্রীকৃষ্ণ এই কার্য‍্য করিয়া শ্রীমতীর ঋণ হতে পরিত্রাণ পাবেন, তাই তিনি গৌর অবতার হলেন।এই গেল স্বপ্ন বিলাসের কথা।কৃষ্ণকীর্তন -যাত্রা,যা বাংলাদেশে গান হয়ে থাকে, তাহাতে সে "দাস-খত" খানি গীত হয়ে থাকে।
সে দাসখত এইভাবে লিখিত-------
ইয়াদি কৃত‍্য,গুণ সমুদ্র,সৎ সাধু শ্রীরাধা।
সচ্চরিত্র চরিতেষু পুরাহ মনের সাধা।।
তস‍্য খাতক হরি নায়ক বসতি ব্রজপুরী।
অস‍্য কর্জ,পত্র মিদং,লিখিতং সুকুমারী।।
তারিখস‍্য দ্বাপরস‍্য পরিশোধ কলিযুগে।
এই কথায়ে,খত লিখিনু,ইসাদি মঞ্জুরি ভাগে।।
*উপরের উক্ত কাহিনী অবলম্বন করিয়া মহাজনগণ যে পদ লিখিয়াছেন শ্রবণ করুন।
কেন্দে আকুল হলো গৌরহরি।
(বলে)কোথা রাই  কিশোরী।।ধ্রু
প্রেম-নয়নে দীনের পানে,
চাও বারেক কৃপা করি।
ছেঁড়া কাঁথা করোয়া হাতে,
কেন্দে বেড়ায় পথে পথে,
তোমারি নাম নিতে নিতে এসেছি আশা করি।।
       (খালাশ হইব বলে)
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






সৎসঙ্গ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/09/blog-post_91.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                             ꧁ সৎসঙ্গ 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
            ꧁ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র 
       এই লিংকে 👇👇👇🙏👇👇👇 ক্লিক করুন 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  সৎসঙ্গের কথন ঃ--------------------
ততো দুঃসঙ্গমুৎসৃজ‍্য সৎসু সজ্জেত বুদ্ধিমান।
সন্ত এতস‍্য ছিন্দন্তি মনোব‍্যাসঙ্গমুক্তিভিঃ।।
** ভগবান শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধবকে বলছেন--
ততঃ=সেইহেতু, বুদ্ধিমান=বুদ্ধিমান ব‍্যক্তি, দুঃসঙ্গং= অসৎসঙ্গ, উৎসৃজ‍্যগ পরিত‍্যাগ করিয়া, সৎসু= সৎসঙ্গে, সজ্জেত= আসক্ত হবেন, সন্তঃ= সৎ ব‍্যক্তিগণ, এতস‍্য= ইহারাই, মনোব‍্যাসঙ্গং= মনের বিশেষ আসক্তি, উক্তিভিঃ= ভক্তি বিষয়ক উপদেশ বাক‍্য দ্বারা, ছিন্দন্তি= ছেদন করেন।
********************************
অর্থ‍্যাৎ== সেই হেতু বুদ্ধিমান ব‍্যক্তি অসৎসঙ্গ ত‍্যাগ করিয়া সৎসঙ্গে আসক্ত হবেন। সৎব‍্যক্তিগণই উপদেশ বাক‍্য দ্বারা ওই ব‍্যক্তির মনের বিশেষ আসক্তি (সংসারাসক্তি)ছেদন করেন।
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
অসৎসঙ্গই জীবকে ভগবদবিমুখ করে। অসৎ-প্রাকৃত বস্তুর সঙ্গে অনাদি কাল হতে জীবের সম্বন্ধ হেতু জীবের পক্ষে কৃষ্ণ-উন্মুখতা বড়ই কঠিন। নাম সংকীর্তনাঙ্গ কি ভাবে করলে প্রেমের উদয় হয়,বা প্রেমের সাধক হয়,তাহা শ্রীমন্মহাপ্রভু শিক্ষাষ্টকে ব‍্যক্ত বা প্রকাশ করেছেন।
যেরূপে লইলে নাম প্রেম উপজয়।
তাহার লক্ষণ শুন স্বরূপ রামরায়।।
তৃণাদপি সুনীচেন তরোরিব সহিষ্ণুনা।
অমানিনা মান দেন কীর্তনীয়ঃ সদা হরিঃ।।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
http://mrinmoynandy.blogspot.com/2022/09/blog-post_91.html
       ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
মহাপ্রভু এই শ্লোকের স্বয়ংই অর্থ করেছেন------
উত্তম হঞা আপনাকে মানে তৃণাধম।
দুইপ্রকারে সহিষ্ণুতা করে বৃক্ষসম।।
বৃক্ষ যেন কাটিলেহ কিছু না বোলয়।
শুখাইয়া মৈলে কারে পানি না মাগয়।।
যেই যে মাগয়ে তারে দেয় আপন ধন।
ঘর্ম-বৃষ্টি সহে,আনের করয়ে রক্ষণ।।
উত্তম হঞা বৈষ্ণব হবে নিরভিমান।
জীবে সম্মান দিবে জানি কৃষ্ণ- অধিষ্ঠান।।
এইমত হঞা যেই কৃষ্ণনাম লয়।
কৃষ্ণের চরণে তার প্রেম উপজয়।।

** শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী উক্ত শ্লোক বিষয়ে মন্তব্য প্রকাশ করতে গিয়ে লিখেছেন-----
ঊর্ধবাহু করি কহি শুন সর্বলোক।
নামসূত্রে গাঁথি পর কন্ঠে এই শ্লোক।।
প্রভুর আজ্ঞায় কর এই শ্লোক আচরণ
অবশ‍্য পাইবে তবে শ্রীকৃষ্ণচরণ।।
** এই কথা তাৎপর্য‍্য এই যে,নাম করবার সময় নিরন্তর এই শ্লোক স্মরণ করতে হবে এবং যাহাতে এই অবস্থা লাভ হয়, তার জন‍্য শ্রীনামের নিকট সকাতরে প্রার্থনা ও হৃদয়ের ব‍্যাকুলতা জ্ঞাপন করতে হবে। কেননা উক্ত অবস্থা লাভ না হওয়া পর্যন্ত নাম গ্রহণের মুখ‍্যফল প্রেমলাভ হবে না। যেহেতু এই শ্লোকের যথাযথ যাজনই নিরপরাধে নামকীর্তনের অমোঘ (অব‍্যর্থ বা সফল) উপায়।কেননা নামাপরাধই মহাশক্তিশালী নামসাধনায় প্রেম প্রাপ্তির প্রবলতম অন্তরায়(বাধা বা বিঘ্ন)। সাপরাধ (অপরাধ যার বা অপরাধী) ব‍্যক্তির প্রতি শ্রীনাম প্রসন্ন হন না এবং অপরাধী ব্যক্তি বহুকাল কীর্তন করলেও তিনি তাহাকে েপ্রমদানের 
ইচ্ছা করেন না।যেহেতু কলি যুগধর্ম এই হরিনাম সংকীর্তন সুসেবন(সুদ্ধাচার সেবা)করিয়া যাঁরা অচিরায় প্রেমলাভের ইচ্ছে করেন,তাঁদেরকে দশবিধ নামাপরাধ বর্জন করিয়াই নামকীর্তন করতে হবে। ""রাধ""শব্দে সন্তোষ  বুঝায়।
অপরাধ হলে নামের সন্তোষ অপগত (পলায়ন) হয় বলিয়া শ্রীনাম স্বপ্রভাব সংগোপন (সম্পন্ন ভাবে গোপন) করেন, ফলতঃ নামাপরাধী নাম সেবনে অসমর্থ হন। নাম সেবা দূরে থাকুক,অশ্রদ্ধা,কৌটিল‍্য(কুটিলতা) কৃষ্ণেতর বস্তুতে অভিনিবেশ(অভ‍্যন্তরে প্রবেশ করা) লাভ,পূজা,প্রতিষ্ঠাশা এবং নামভজনে শৈথিল‍্য (অমনোযোগ) প্রভৃতি এই নাম অপরাধেরই বিষময় ফল। আবার ""রাধ""শব্দের অর্থ সিদ্ধি (রাধ্+ঘঞ) অপরাধে নামের ফল-সিদ্ধি অপগত হয়।(দশটি নাম অপরাধ---
১,সাধুনিন্দা,২,শ্রীবিষ্ণু ও শ্রীশিবের নামাদির ভেদকরণ, ৩,শ্রীগুরুদেবের অবজ্ঞা বা শ্রীগুরুতে মর্ত‍্যবুদ্ধি,(মানবজ্ঞান)৪,শ্রুতি ও তদনুগত শাস্ত্রের নিন্দা, ৫,শ্রীহরিনামের মহিমায় অর্থবাদ মনন, ৬,শ্রীহরিনামে অর্থান্তর কল্টনা,৭,নামবলে পাপাচরণে প্রবৃত্তি, ৮,অন‍্য শুভক্রিয়াদির সঙ্গে শ্রীহরিনামের সমতা মনন, ৯,শ্রদ্ধাহীনজনকে নামোপদেশ, ১০, নামমাহাত্ম‍্য শ্রবণ করিয়াও নামে অপ্রীতি।
কাম,ক্রোধ,লোভ,মোহ,মদ,ওমাৎসর্য‍্য এই ষড় বা ছয় রিপু মানবদেহে সতত (সবসময়) বাস করে থাকে।সংসার সিন্ধুতে অর্থ‍্যাৎ এই সংসাররূপ সাগরে নিপতিত(পড়ে থেকে )মানব এই ছয়রিপু রূপ মহাশক্তিশালী নক্র (যে এক স্থানে থাকতে ভালবাসে, এবং স্বস্থানে থেকে শিকার আকর্ষণ করে, বা কুমীর)মকরাদি কবলগ্রস্ত হয়ে অবিরত ইহাদের দ্বারা চর্বিত (চিবিয়ে খাচ্ছে এমন)হচ্ছে। অর্থ‍্যাৎ 
ছয় রিপুর দ্বারা সুখ শান্তি বিহীন কষ্টভোগ করছে। এই ছয়রিপু মহাশক্তিশালী ও অতি উদ্দাম, (স্বেচ্ছাচারী ও বন্ধনমুক্ত)প্রতি মানুষের ইন্দ্রিয়কুলকে যখন এরা আকর্ষণ করে,তখন বিদ্বানের বিদ‍্যা, বুদ্ধিমানের সব বুদ্ধিস্তিমিত(নিশ্চল বা স্থির) (কত যোগীন্দ্র ঋষি মুনিগন না জানি কি ধ‍্যানে।
মগন স্তিমিতলোচন কি অমৃত রস পানে।।) ""অপর অর্থ ডুবে যাওয়া ""
হয় যায়। নিজ শক্তিতে মানবকুল কখনই ছয়রিপুর কবল হতে রক্ষা পেতে পারে না। অর্জুন শ্রীকৃষ্ণের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন--------
"অথ কেন প্রযুক্তোহয়ং পাপং চরতি পুরুষঃ। 
অনিচ্ছন্নপি বাষ্ণেরয় বলাদিব নিয়ুজিতঃ।।(গীতা ৩|৩৬)
 হে কৃষ্ণ!লোকে কার দ্বারা যুক্ত হয়ে অনিচ্ছাসত্ত্বেও যেন বলপূর্বক নিয়োজিত হয়ে পাপ আচরণে প্রবৃত্ত হয়? তদুত্তরে শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন-----
কাম এষ ক্রোধ এষ রজোগুণসমুদ্ভবঃ।
মহাশনো মহাপাপমা বিদ্ধ‍্যেনমিহ বৈরিণম্।।
হে অর্জুন! ইহা কাম,ইহাই ক্রোধ।ইহা রজোগুণোৎপন্ন,ইহা অতি দুষ্পূরণীয় (পূরণ করা দুঃসাধ‍্য) এবং অতি উগ্র।
ইহাকে সংসারে শত্রু বলিয়ায় জানবে। কাম শব্দে কেহ কেহ স্ত্রী-পুরুষের পারস্পরিক মিলনেচ্ছাকেই বুঝে থাকেন এইরকম সংকীর্ণ অর্থেও কাম শব্দ ব‍্যবহার হয় বটে, কিন্তু কাম শব্দের ব‍্যাপক অর্থ কামনা বা বিষয়বাসনা।এই কাম বা কামনা প্রতিহত (আঘাত) হলেই উহা ক্রোধে পরিণত হয়, সুতরাং কামও ক্রোধ একই ; কেবল ক্রোধই নহে, অপর চারটি রিপু লোভ মোহ মদ ও মাৎসর্য‍্য এরাও কামেরই রূপান্তর। এই কামনা উত্তম ভোগ‍্য দ্রব‍্যাদ বা ধন ঐশ্বর্যাদির প্রতি অতিমাত্রায় আকৃষ্ট হলে তাকে ""লোভ""বলে।আবার এই কামনা বা বিষয়বাসনাই যখন মানুষকে অনিত‍্য বা নশ্বর বস্তুতে আসক্ত করে রাখে,স্বরূপের উপলব্ধি করতে দেয় না, বা আত্মজ্ঞানকে আচ্ছন্ন করে দেয়,তখন তার নাম হয় ""মোহ""।আবার এই মোহ বা অজ্ঞানই যখন "আমি ধনি" "আমি মানী"এই রকম অহমিকার আকার ধারণ করে,তখন তারই নাম "মদ"। আবার ঐ অহমিকা যখন অন‍্যের নিজাপেক্ষা অধিক ধন প্রতিপত্তি দর্শনে স্বীয়(নিজ) ধন, মানাদির গর্বকে খর্ব করে তখন চিত্তে (মনে) যে এক প্রকার ক্ষোভ ব অসহনশীল জাত (জন্ম)হয়,তার নাম মাৎসর্য‍্য বা পরশ্রীকাতরতা।এরা হৃদয়ের অতি জঘন‍্য বা কদর্য‍্য বৃত্তি এবং ভক্তি ভজনের সর্বাধিক অন্তরায়।

শ্রীকৃষ্ণ গোপীকাদের প্রেমঋণ শোধিতে পারলেন না।বললেন, তোমরা যেভাবে আমার সেবা করেছ সেই সেবাই চিরঋণে আবদ্ধ হয়েছি।
আমার তোমাদের দেবার মত কিছুই নেই, তবুও যদি কিছু দিই তোমরা নেবে না, নিলেও আমার এমন কিছু নেই যে যাহাতে তোমাদের ঋণ শোধ হতে পারে।এই কথা শুনিয়া রাধারাণী বললেন,সে ঋণ শোধ করা বড় বেশী কিছু নহে, তুমি তাহা অনায়াসে শোধিত পার।তুমি যদি জীবকে হরি নাম দাও,তবে আমি তোমাকে ঋণ হতে মুক্ত করিব। শ্রীমতী যদিও কতক রহস্য ভাবে এই কথাগুলি বললেন, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ অমনি বললেন "তথাস্তু" তাই শ্রীকৃষ্ণ একখানি "দাসখত"লিখে দিলেন।তাহাতে লেখা ছিল যে, তিনি কলিযুগে সন্ন‍্যাসী হয়ে দ্বারে দ্বারে হরিনাম বিতরণ করবেন।শ্রীকৃষ্ণ এই কার্য‍্য করিয়া শ্রীমতীর ঋণ হতে পরিত্রাণ পাবেন, তাই তিনি গৌর অবতার হলেন।এই গেল স্বপ্ন বিলাসের কথা।কৃষ্ণকীর্তন -যাত্রা,যা বাংলাদেশে গান হয়ে থাকে, তাহাতে সে "দাস-খত" খানি গীত হয়ে থাকে।
সে দাসখত এইভাবে লিখিত-------
ইয়াদি কৃত‍্য,গুণ সমুদ্র,সৎ সাধু শ্রীরাধা।
সচ্চরিত্র চরিতেষু পুরাহ মনের সাধা।।
তস‍্য খাতক হরি নায়ক বসতি ব্রজপুরী।
অস‍্য কর্জ,পত্র মিদং,লিখিতং সুকুমারী।।
তারিখস‍্য দ্বাপরস‍্য পরিশোধ কলিযুগে।
এই কথায়ে,খত লিখিনু,ইসাদি মঞ্জুরি ভাগে।।
*উপরের উক্ত কাহিনী অবলম্বন করিয়া মহাজনগণ যে পদ লিখিয়াছেন শ্রবণ করুন।
কেন্দে আকুল হলো গৌরহরি।
(বলে)কোথা রাই  কিশোরী।।ধ্রু
প্রেম-নয়নে দীনের পানে,
চাও বারেক কৃপা করি।
ছেঁড়া কাঁথা করোয়া হাতে,
কেন্দে বেড়ায় পথে পথে,
তোমারি নাম নিতে নিতে এসেছি আশা করি।।
       (খালাশ হইব বলে)
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
👇👇👇এই লিখনী 📚 PDF 📚 ক্লিক করুন 👇👇👇
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧               
 ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
আমায় দেওয়া ওনার এই অমূল্য লিখনী সেবা, তা সকলের মধ্যে প্রকাশ করলাম। ওনার এই অমূল্য দান সমগ্র বৈষ্ণব সমাজ অনন্তকাল মনে রাখিবে।
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧






adds