শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/bishnupriya4.html

✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
         ꧁ শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ JoydebDaw.blogspot.com 🙏 সূচীপত্র 🙏 ꧂
         ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
     এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 সূচীপত্র 🙏 প্রথম ভাগ ꧂
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
         ꧁ শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 দ্বিতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
         ꧁ শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 তৃতীয় ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৫১. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫১)🙏শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙏*
*মহাপ্রভুর নবদ্বীপে আগমন*
∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆∆
*🍀শ্রীগৌরহরি স্থির চিত্তে উৎকর্ণ হয়ে জননীর বাৎসল‍্য-ভাব পূর্ণ তত্ত্ব কথাগুলি মনোযোগের সঙ্গে শুনলেন।মহাপ্রভু সে সময় যেন কিছু অন‍্যমনস্ক হলেন।তা কেউ হয়ত বুঝতে পারলেন না।মায়ের এইসব কথার উত্তর গৌরহরি কিছুই দিলেন না, বা দিতে পারলেন না।অপত‍্য স্নেহের বন্ধনের কাছে ঐশ্বর্য‍্য পরাজিত হল।তখন জননীর প্রতি প্রভুর দয়ার উদ্রেক হল। তিনি জননীকে বললেন, মা! তোমার যাতে সুখ হয় তাইই কর। এক রাত্র আমি তোমার কাছে আছি।আমাকে তোমার যা বলবার আছে সবই বল। তোমার নিজের সুখের জন্য যা ইচ্ছা করতে পার।*
*🍀মায়ের বচনে প্রভু অস্তব‍্যস্ত হঞা।*
*🍀মায়ায়ে জিনিতে নারে উভারয়ে দয়া।।*
*🍀যে তোর আছয়ে ইচ্ছা কর নিজ সুখে।*
*🍀এক রাত্র-শেষ আমি নিবেদিব তোকে।।চৈঃমঃ।।*
*🌻শচীমায়ের মনে বড় দুঃখ হল।নিমাইয়ের প্রতি অভিমান হল। তিনি একরাত্রি থেকেই চলে যাবেন!জননীর কাতর ক্রন্দন তিনি শুনলেন না।শচীমা ভাবলেন তিনি আর বিষ্ণুপ্রিয়া তাঁর পুত্রের চির-শত্রু। আমাদের জন‍্যই নিমাই গৃহত‍্যাগী হয়েছেন।*
*🍀শচী বোলে নবদ্বীপ ছাড়ি যাহ তুমি।*
*🍀নবদ্বীপে দুষ্ট বিষ্ণুপ্রিয়া আর আমি।।চৈঃমঃ।।*
*🍁জননীর কথা শুনে মহাপ্রভুর মনে বড় কষ্ট হল, হৃদয়ে ব‍্যথা পেলেন।শ্রীমতীর মধুর নামটি তাঁর কর্ণে যাইবা মাত্র তিনি যেন শিহরিয়া উঠলেন।শচীমা দেখলেন,তাঁর পুত্রের বদনমন্ডল যেন রক্তাভ হল ; আর নিমাইয়ের সে শান্ত ভাব নাই। মহাপ্রভু কিন্তু তাঁর মনের উদ্বেগপূর্ণ ভাব চেপে গেলেন।মাকে অতি স্নেহপূর্ণ মধুর প্রীতিবচনে সম্বোধন করে বললেন,মা! আমি তোমাকে দর্শন করে কৃতার্থ হলাম।আমি জন্মস্থান দর্শন না করে যাব না।মা তোমার গৃহদ্বারে আগামীকাল প্রভাতে তোমার পুত্রকে পুনরায় দেখতে পাবে। শচীমায়ের মনস্ককামনা পূর্ণ  বা সিদ্ধ হল।শচীমা এমনই চেয়েছিলেন।এই জন‍্যই তো শ্রীমতীর নাম নিয়েছিলেন। পুত্র যদি গৃহদ্বারে না যায় তাহলে তো শ্রীমতীর ভাগ‍্যে স্বামী-সন্দর্শন-লাভ ঘটে না।পুত্রের আশ্বাস বাণীর উপর নির্ভর করে তৎকালের মত পুত্রের কাছ হতে বিদায় নিয়ে শচীমা কাঁদতে কাঁদতে গৃহে ফিরে এলেন।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৫২. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫২)🙌শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙌*
*মহাপ্রভুর নবদ্বীপে আগমন*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌻শচীমা কাঁদতে কাঁদতে গৃহে ফিরলেন,তাঁর সঙ্গে পুরাতন ভৃত‍্য ঈশান।ঈশান শচীমায়ের সঙ্গ ছাড়েন না। আসবার সময় শচীমা পুনরায় পুত্রকে বললেন, "বাপ নিমাই! আজ আমি সমস্ত রাত্রি তোর জন্য দুয়ারে বসে থাকব। তুই যেন আমাকে ফাঁকি দিয়ে চলে যাসনে।গৌরহরি সসম্ভ্রমে মায়ের উদ্দেশ্যে প্রণাম করে উত্তর করলেন মা! তোমার পুত্র তোমাকে কখনও প্রবঞ্চনা করে নাই। যখন যা করেছি, তোমাকে বলেই করেছি।গৃহে এসে কাঁদতে কাঁদতে পুত্রবধূকে সব কথা বললেন।বিষ্ণুপ্রিয়া প্রাণবল্লভের গৃহে আগমন-বার্তা শুনে প্রথমে চরম অবাক হলেন। মনে মনে ভাবলেন তাঁর তো সন্ন‍্যাসীর ধর্ম পালন হয়েছে।জননী ও জন্মভূমি তিনি দর্শন করেছেন।তবে নিজ গৃহদ্বারে তাঁর আগমনের অর্থ কি?এক একবার মনে করছেন,তাঁর বুঝি জন্মভিটাটি দর্শন করতে বাসনা হয়েছে? আবার মনে করছেন না,তা নয় ; অন‍্য কোন কারণ আছে।সে কারণটি কি?তা বিষ্ণুপ্রিয়া মনে মনে বুঝবার চেষ্টা করছেন, কিন্তু সাহস করে বিশ্বাস করতে পারছেন না।তবে কি এ হতভাগিনী চিরদুঃখিনী দাসীকে প্রাণবল্লভের মনে পড়েছে?তবে কি তিনি এ পাপিনীকে দর্শন দিতে আসছেন?এই সুখদায়ক ভাবটি মনে আসতে না আসতেই অন‍্য একটি চিন্তা এসে শ্রীমতীর দগ্ধ হৃদয়কে আরও দগ্ধ করতে লাগল।সে চিন্তাটি এই, তাঁর প্রাণনাথ সন্ন‍্যাসী,তাঁর জন্যই তিনি গৃহত‍্যাগী।স্ত্রীর মুখদর্শন সন্ন‍্যাসীর ধর্মবিরুদ্ধ।সকলেই প্রভুর দর্শন লাভের অধিকারী,কেবল মাত্র দুঃখিনী বিষ্ণুপ্রিয়া তাতে বঞ্চিতা।হয়ত এ দুঃখ আর শ্রীমতীর জীবন থেকে যাবে না। তবে পরম কৃপাময় শ্রীগৌরহরি কৃপা করে যদি একবার দর্শন দিতে আসতেন,সেটি শ্রীমতীর পরম সৌভাগ্য হত।তাঁর প্রাণবল্লভ যে তাঁকে দেখতে আসছেন, এ কথা তিনি সাহস করে মনে স্থান দিতে পারছেন না।অভাগিনী দাসীর প্রতি মহাপ্রভুর অযাচিত দয়ার কথা মনে করে তিনি আনন্দ সাগরে ভাসছেন। কিন্তু শ্রীগৌর ভগবানের মনের ভাব অন‍্যরকম।তিনি প্রিয়াজীকে না দেখে নবদ্বীপ ছাড়তে পারছেন না।তাই জননীর কাছে বলেছেন গৃহদ্বারে তাঁকে দেখতে পাবেন।শ্রীগৌর ভগবান ভক্তবৎসল শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী তাঁর শ্রেষ্ঠা ভক্ত ; প্রীতি-ভজনে শ্রীগৌর ভগবানকে প্রেম-সূত্রের চির বন্ধনে বেঁধে রেখেছেন।সে বন্ধন অটুট। ভগবান কি তা ছিন্ন করতে পারেন? ভগবানের সে ক্ষমতা নাই। তিনি নিজমুখে বলেছেন,(ভক্ত আমার পিতা মাতা ভক্ত আমার গুরু, ভক্ত আমার নাম রেখেছে বাঞ্জা কল্পতরু।।) ভগবান ভক্তের জন্য সবকিছুই করতে পারেন।এই কাজটি তিনি করতে পারেন না।কারণ তিনি ভক্তের সম্পূর্ণ অধীন।তাঁর স্বমুখ-নিঃসৃত বাণীতে তিনি বলেছেন "অহং ভক্ত পরাধীনঃ"।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীকে গৌরহরি দেখতে  এসেছেন এ কথ কি ঠিক।শুধু দেখা দিতে আসছেন না।*
*🙏জয় নিতাই গৌর হরিবোল🙏*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৫৩. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৩)💧শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী💧*
*🙏🙏শচী গৃহদ্বারে মহাপ্রভু🙏🙏*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*🌻এবারে শ্রীমতী মনের কথাগুলি সখি কাঞ্চনাকে না বলে থাকতে পারলেন না।কাঞ্চনা হাসিমুখে উত্তর করলেন সখি!আমি তো পূর্বে বলেছিলাম, তোমার প্রাণবল্লভ তোমাকে না দেখে যেতে পারবেন না। দেখ,আমার কথা সত‍্য হল কি না? শাশুড়ী ও পুত্রবধূতে সে রাত্রি নিদ্রা গেলেন না। উৎকণ্ঠায় ও হর্ষ বিষাদে উভয়ের কারও নয়নে নিদ্রা আসিল না।হর্ষের কারণ মহাপ্রভুর দর্শন পাবেন,বিষাদের কারণ মহাপ্রভু হয়ত চিরবিদায় নিয়ে চলে যাবেন,আর কোনদিন দর্শন পাব না। সমস্ত রাত্রি দুইজনে বসে নানাকথা বলতে বলতে ভোর হবার পূর্বে শয‍্যা থেকে উঠলেন এবং বাহির দরজায় গিয়ে একবার দেখে আসিলেন, কেউ দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন কি না।কাউকে দেখতে না পেয়ে নারাশ মনে পুনরায় গৃহে এসে বসলেন।ঘরে বসে পথে কলরব শুনতে পেয়ে পুনরায় ঘরের বাইরে গেলেন। এক্ষণে মাঘ মাসের শেষ।কুলিয়াতে মহাপ্রভু সাতদিন বাস করে দশমী তিথিতে নবদ্বীপে এসেছেন।একাদশীর দিন তিনি জননী জন্মভূমি দর্শন করে পুনরায় নবদ্বীপ ছেড়ে চলে যাবেন।মাঘ মাসে প্রাতঃস্নান করতে দলে দলে নদীয়াবাসী ভক্তবৃন্দ শচীদেবীর গৃহদ্বার দিয়ে চলেছেন।সেই জন্য এত কলরব।আরও কারণ সকলেই শুনেছেন শ্রীগৌরহরি অদ‍্য প্রাতে জন্মভূমি দর্শন করে চলে যাবেন।তাই দলে দলে ভক্তগণ ও নদীয়াবাসী নরনারী সকলে মহাপ্রভুর বাসগৃহ ঘিরে ফেলেছেন।শচীমা দুয়ারে বসে আছেন।শ্রীমতী গৌরপ্রিয়া অন্তরালে দাঁড়িয়ে আছেন।একদিনের জন্য ঘরের নিমাইচাঁদকে পেয়ে সকলে দুঃখ-জ্বালা ভুলে গিয়েছেন।শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারীর বাড়ীর কাছেও অনেক লোক একত্রিত হয়েছে। "শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভু" দন্ড-কমন্ডলু হাতে নিয়ে নদীয়ার পথে দাঁড়িয়ে আছেন।তাঁর প্রশান্ত বদনমন্ডলে দিব‍্য জ‍্যোতিঃ বিকীর্ণ হচ্ছে। তিনি স্থির ও গম্ভীর।চারিদিকে সকলে মিলে ঘিরে দলে দলে কীর্তন করছেন।আজ আবার অনেক দিনের পরে কীর্তন-তরঙ্গে নদীয়া টলমল।হয়ত মহাপ্রভুর ইচ্ছে ছিল একান্তভাবে গোপনে গিয়ে জন্মস্থান দর্শন করবেন।তা আর হল না।সকল ভক্তগণ পরিবেষ্টিত হয়ে জনস্রোতের মধ‍্য দিয়ে দীঘল অঙ্গখানি অনাবৃত করে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য প্রভু আমার দন্ড কমন্ডলু হাতে নিয়ে কৌপীন পরিধার করে নিজ গৃহদ্বারে এসে দাঁড়াইলেন। আর সকল ভক্ত মিলে হরি হরি ধ্বনি করতে লাগলেন।মহাপ্রভু স্থিরভাবে গৃহদ্বারের সম্মুখে পথের উপর দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর জ‍্যোতিপূর্ণ বিশাল নেত্রদ্বয় জন্মভূমির প্রত‍্যেক বস্তুর উপর পতিত হচ্ছে।অন্তরঙ্গ ভক্তগণের আদেশে মহা সংকীর্তন-যজ্ঞ কিছুক্ষণের জন্য স্থগিত রাখা হল।শচীমা অতি ব‍্যস্ত হয়ে এসে পুত্রের হাত ধরে দাঁড়ালেন।একবার পুত্রের গম্ভীর বদনের প্রতি তাকিয়েই হাত ছেড়ে দিয়ে বদন অবনত করে উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করতে লাগলেন।শচীমায়ের ইচ্ছা ছিল পুত্রের হাত ধরে ঘরের ভিতরে নিয়ে আসি।প্রভুর গম্ভীর বদনের প্রতি তাকানো মাত্রই তাঁর সে ইচ্ছা হৃদয় থেকে দূর হয়ে গেল।মা দেখছেন পুত্রের বদনমন্ডল থেকে অপূর্ব দিব‍্য জ‍্যোতি প্রকাশ পাচ্ছে।বিশাল নেত্রদ্বয় স্বর্গীয় তেজঃপুঞ্জে পরিপূর্ণ।সুন্দর প্রশান্ত মুখমন্ডল দৃঢ়তাব‍্যঞ্জক।যেন তাঁর সে নিমাই নয়।শচীমা ভয়ে ভয়ে চকিত নেত্রে পুত্রের মুখপানে দেখলেন।একবারের বেশী তাকিয়ে থাকতে পারলেন না। তিনি মনে মনে ভাবলেন এ বস্তুটি তো গৃহে রাখবার নহে।শচীমা দিব‍্যচক্ষে দেখছেন, তাঁর পুত্রটি জগতের নাথ,নিখিল ব্রহ্মান্ড স্বামী।তাই শঙ্কিতা হয়ে পুত্রের হাত ছেড়ে অধোবদনে দাঁড়িয়ে রোদন করতে লাগলেন।এ রোদন দুঃখের রোদন নয়।পুত্রের বিশ্ববিমোহন রূপ-জ‍্যোতিঃ দর্শন করে শচীমায়ের নয়নে দরদর পুলকাশ্রু পড়ে যাচ্ছে। মধ্যে মধ্যে তাঁর মনে হচ্ছিল পুত্রটি বুঝি একেবারেই পর হয়ে গেল। ভগবানের লীলা-রহস‍্য বুঝবার কার সাধ‍্য আছে?শচীদেবী মনে ভাবছেন আমার পুত্র কখনোই মানুষ নয়, মানুষের এত রূপ হয় না,এমন দিব‍্যজ‍্যোতিময় কান্তিপূর্ণ  সুন্দর মুখছবি তো পৃথিবী খুঁজে কোথাও পাওয়া যাবে না।এই পরম রতন সমস্ত জগজ্জীবের সাধনার ধনটি তিনি কি গৃহে রাখতে পারেন? দর্শন পেয়েছেন সেই তাঁর পরম সৌভাগ্য।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৫৪. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৪)🙏শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙏*
*মহাপ্রভুর নিজ গৃহদ্বারে আগমন।*
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
*শচীমা পুত্রকে দর্শন করে তাঁর নয়নদ্বয় দিয়ে অবিরল প্রেমাশ্রুধারা পড়ে বক্ষ ভেসে যাচ্ছে।হয়ত লোকে দেখে শচীমা পুত্রশোকে কাঁদছেন।তাই  সকল নরনারীগণ শচীমার দুঃখে নয়নজল ফেলছেন।মহাপ্রভুর গৃহদ্বারে সকল নদীয়াবাসী একত্রিত হয়ে শচীমায়ের দুঃখে রোদন করছেন।সকলের নয়নেই জলধারা, মুখে হা-হুতাশ!শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভু কিন্তু অবিচলিত ভাবে স্থির ও গম্ভীরভাবে দাঁড়িয়ে আছেন।🌻(গ্রন্থখানি এই পর্য‍্যন্ত লিখিত হলে শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া পত্রিকার সুযোগ‍্য কার্য‍্যাধ‍্যক্ষ আমার প্রাণের দাদা শ্রীযুক্ত মৃণালকান্তি ঘোষকে উহা জব্বলপুরে পাঠ করতে দেওয়া হয়েছিল।গ্রন্থখানি তাঁর কাছে কয়েক দিন ছিল।প্রভুকে এই কয়দিন কাজে কাজেই গৃহদ্বারে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল।সম্মুখে রোরুদ‍্যমানা বৃদ্ধা জননী,অন্তরালে বিষাদময়ী প্রেমপ্রতিমা ঘরণী।চতুর্দিকে ব‍্যাকুলিত ভক্তবৃন্দ।কি করে মহাপ্রভু চলে যাবেন?কাজেই তিনি অবিচলিতভাবে নিজ গৃহদ্বারে দাঁড়িয়ে আছেন।এতে মহাপ্রভুর বড় কষ্ট হল বটে,কিন্তু শচীমা ও শ্রীমতী কয়েকদিন ধরে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভুকে দেখতে পেলেন।এতে আমাদের মনে বড় সুখ হল।মৃণাল দাদা এই সুখের কারণ হলেন।🌻)*
*🍀জননীর সেই চির বিষাদময়ী পাগলিনী মূর্তি দেখে ন‍্যাসীবর শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেবের মন বিচলিত হল না। তিনি একবার স্নেহময়ী ধূলোয় লুন্ঠিত জননীর প্রতি তাকাচ্ছেন, আর এক একবার  গৃহদ্বারের  প্রতি তাকাচ্ছেন।মহাপ্রভুর দৃষ্টি জননী হতে জন্মভূমিতে পতিত হচ্ছে।লোকে বুজঝে, তিনি জন্মস্থানটি জনমের মত ভাল করে দর্শন করছেন।জননী ও জন্মভূমির নিকট চিরবিদায় নিচ্ছেন।মহাপ্রভুর মনের ভাব কৃপাময় রসজ্ঞ পাঠক পাঠিকাগণের বুঝতে বাকী নেই।একটি মলিন-বসনা,নিরাভরণা,রুক্ষকেশী, রোরুদ‍্যমানা জ‍্যোতিময়ী সুন্দরী দুঃখিনী অষ্টাদশবর্ষীয়া রমণীদ্বারের অন্তরালে দাঁড়িয়ে জনমের মত একটিবার মহাপ্রভুর শ্রীচরণ দর্শন লালসায় উদগ্রীব হয়ে আছেন।প্রভুর বদনচন্দ্রের প্রতি তাঁর দৃষ্টি নেই, প্রভুর দীঘল অবয়বের কোন অংশের প্রতি সে সৌন্দর্যময়ী রমণীর লক্ষ্য নাই, কেবল সেই ভবারাধ‍্য শিব-বিরিঞ্চি বন্দিত শ্রীচরণ দুইখানির উপর তাঁর অনিমেষ দৃষ্টি।বিরহিনী প্রাণপ্রিয়াকে শ্রীগৌরাঙ্গ দর্শন করতে এসেছেন, জন্মভূমি দর্শন একটা অছিলা মাত্র।তবে মহাপ্রভু নিজ গৃহদ্বারে দাঁড়িয়ে কেন?তাঁর সন্ন‍্যাসধর্ম তো পালন হয়েছে।*
*👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৫৫. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৫)🙌শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙌*
*শচীমায়ের দ্বারে দাঁড়িয়ে শ্রীমন্মহাপ্রভু*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🙏তবে কি জন্য শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেব দ্বারদেশে দাঁড়িয়ে আছেন?কিসের এবং কার প্রতীক্ষা করছেন? সন্ন‍্যাসধর্মের উপর আরও একটি উচ্চ ধর্ম আছে।তার নাম প্রেম-ধর্ম।শ্রীগৌর ভগবান নরাকার ধারণ করে সেই প্রেম-ধর্মের অবতাররূপে ভুবনে অবতীর্ণ হয়েছেন।সে ধর্ম তিনি কি করে উলঙ্ঘন করবেন?প্রেমাবতার শ্রীগৌরাঙ্গ তাই কৌশলে প্রেমজাল বিস্তার করে তাঁর প্রেমময়ী প্রাণপ্রিয়া দেবীপ্রতিমা নবদ্বীপময়ীকে দর্শন করতে এসেছেন গো।প্রেমময় পতিতপাবন,চিরসুন্দর,জগৎসুন্দর, দীনদয়াল,জগতের হৃদয়েশ্বর শ্রীগৌরসুন্দর আন্তরিক বাসনা প্রেমময়ী প্রিয়াজীকে একবার চিরজনমের মত দেখে যান।(এখানে ভক্ত-ভগবানের লীলার কথা বলা হচ্ছে),( শ্রীকৃষ্ণ যেমন নিজের সবটুকু শ্রীপ্রেমময়ী মহাভাবস্বরূপিনী শ্রীমতী রাধারাণীর শ্রীচরণে অর্পণ করেছিলেন),আজ  লাজময়ী,বিষাদময়ী,প্রেমময়ী,শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী প্রাণবল্লভের মনোগত ভাব বুঝতে পেরেছেন।তাই আজ লজ্জার বন্ধন ছিন্ন করে,সকল শরম ত‍্যাগ করে,কুলের কুলবধূ সর্বসমক্ষে সর্বাঙ্গ বস্ত্রে আবৃত করে বহু জনাকীর্ণ রাজপথে গিয়ে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেবকে স্বয়ং দর্শন করলেন। ভক্ত ও শ্রীভগবানের ইচ্ছে পূরণ হল, বা ভক্ত শ্রীভগবানের ইচ্ছা পূরণ করলেন। ভগবান যেমন ভক্তের ইচ্ছা পূরণ করে থাকেন, ভক্তও তেমনি শ্রীভগবানের ইচ্ছা পূরণ করে তাঁকে প্রীত করেন, সত‍্যই যদি "ভক্ত"হন। ভক্ত ও ভগবানের সম্বন্ধই এইরকম।ভক্ত ও ভগবান একই বস্তু।উভয়ের জন্য উভয়ের প্রাণ কাঁদে।ভক্ত যেমন ভগবানের চরণ-ভিখারী,শ্রীভগবানও তেমনি ভক্তসঙ্গ-ভিখারী।যেখানে  ভক্ত সেই স্থানেই ভগবানের স্থিতি। তিনি ভক্তসঙ্গ ছাড়া কোথাও থাকতে পারেন না।ভক্তের ডাকে তাঁকে বৈকুন্ঠ ছেড়ে ভক্তের কাছে আসতে হয় গো।*
*🙏ভগবান নিজ মুখে বলেছেন ঃ--*
*নাহং তিষ্ঠামি বৈকুন্ঠে যোগীনাং হৃদয়ে ন চ।*
*মদ্ভক্তা যত্র গায়ন্তি তত্র তিষ্ঠামি নারদঃ।।*
*🙏এই কথাগুলি তিনি নিজেই বলেছেন।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর করুণ রোদন শুনে শ্রীগৌর ভগবান আর স্থির থাকতে না পেরে নীলাচল হতে তাঁকে দেখতে আসিলেন। দেখা দিতে এসেছেন।এইটি তাঁর মুখ‍্য উদ্দেশ্য নহে, গৌণ উদ্দেশ্য। শ্রীগৌরাঙ্গ স্বয়ং ধর্ম আচরণ করে লোকশিক্ষা দেবার জন‍্য সন্ন‍্যাস গ্রহণ করেছেন।কাজেই তাঁকে মনের ভাব গোপন করতে হচ্ছে।প্রচ্ছন্ন অবতার শ্রীগৌরাঙ্গের শ্রীচরণে পরমভক্তিময়ী শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী পড়লেন। ভক্ত ও ভগবানের মধুর মিলন হ'ল।মহাপ্রভু স্ত্রী-মূর্তি দেখে বদন ফিরিয়ে কিছু পেছনে হলেন।ইহা কেবল লোকশিক্ষার জন্য মহাপ্রভুর বাহ‍্যিক ভাবমাত্র। নদীয়াবাসী নরনারী এ উপস্থিত ভক্তবৃন্দ শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়ার দুঃসাহসের কার্য‍্য দেখে স্তম্ভিত ও বিস্মিত হলেন।(সকলে বাহির দেখলেন ভিতর নহে)।শচীমা জড়বৎ দাঁড়িয়ে আছেন। সকলের দৃষ্টি শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেবের বদনচন্দ্রের প্রতি।অগণিত লোক-সমুদ্র নীরব, নিস্তব্ধ। মধ্যে মধ্যে কেবল দীর্ঘ নিঃশ্বাসের অস্ফূট শব্দ এবং নীরব ক্রন্দনের কাতরধ্বনি শ্রবণ গোচর হচ্ছে।শ্রীগৌরহরি স্বয়ং সেই গভীর নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করে শ্রীমতীর দিকে তাকিয়ে বললেন, "তুমি কে?" তিনি যেন কিছুই জানেন না।মহাচক্রীর চক্র কে বুঝবে? চিরদিনই তিনি ভক্তের সঙ্গে এইরকম ব‍্যবহার করে  আসছেন।এইটি কী মহাকৌশলীর কৌশল মাত্র।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়ার কর্ণে অনেক দিন পরে আজ তাঁর প্রাণবল্লভের মধুর কন্ঠধ্বনি প্রবেশ করে যেন সুধা ঢেলে দিল।তাঁর হৃদয়, মন,প্রাণ সকলি যেন প্রাণনাথের বচন সুধারসে গলে গেল। তিনি মহাপ্রভুর পাদমূলে ছিন্ন লতিকার মত পড়ে আছেন।নয়ন দুটি মহাপ্রভুর শ্রীচরণ-সরোজে যেন লেগে রয়েছে।প্রভুর সুমধুর কথা শুনে বিষ্ণুপ্রিয়া উঠে তাঁর প্রাণবল্লভের পাদমূলে অবগুন্ঠন দিয়ে বসলেন।বসে শত অপরাধিনীর ন‍্যায় করজোড় করে বিনত মস্তকে অবগুন্ঠনের মধ‍্য হতে ধীরে ধীরে কাঁদতে কাঁদতে উত্তর করলেন "এ হতভাগিনী তোমার শ্রীচরণের ত‍্যজ‍্যা দাসী বিষ্ণুপ্রিয়া। নামটি শুনেই মহাপ্রভু যেন শিহরিয়া উঠলেন।তাঁর প্রশান্ত বদনমন্ডল ঘোর বিষাদের ছায়া লক্ষিত হল।ল্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেবের প্রফুল্ল বদন-চন্দ্র খানি যেন মলিন হয়ে গেল।অনেকে তা দেখতে পেয়েছিলেন কি না জানি না।পরে মহাপ্রভু মনের ভাব লুকায়িত  করে দুটি কথায় উত্তর দিলেন।কে শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী? শ্রীমতী তখন রুদ্ধকন্ঠে কাঁদতে কাঁদতে উত্তর দিলেন ঃ---*
*প্রথম চার লাইন লেখা একেবারেই বুঝা যাচ্ছে না,পরের লিখাগুলি তুলে ধরলাম🙏।*
*🍀তুমি প্রভু কৃপাময় সন্ন‍্যাসী হইয়া,*
           *এ জগত জুড়াইয়া দিলে,*
*দুঃখীরে তাপীরে কোলে নিলে,*
        *শুধু নাথ জুড়াইলে না তুমি,*
    *শীতল চরণ-ছায়া দিয়া,*
    *ত্রিজগতে একা বিষ্ণুপ্রিয়া।*
*শান্তিপুরে সবে দিলে দেখা,*
*বঞ্চিতা সে বিষ্ণুপ্রিয়া একা,*
*সবা হ'তে আপন তোমার,*
*তাই তারে এত অত‍্যাচার?*
*ওহে নাথ কোন অপরাধে,*
*সবে অধিকারী যেই পদে,*
        *শুধু আছে বঞ্চিতা হইয়া,*
        *তোমার দুঃখিনী বিষ্ণুপ্রিয়া?*
                    *(পুঃ বিঃ পঃ)*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৫৬. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৬)🙏শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙏*
*👣শচী গৃহদ্বারে মহাপ্রভু👣*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*😭শ্রীমতীবিষ্ণুপ্রিয়ার মর্মভেদী বিলাপ-ধ্বনি শুনে ভক্তগণের মধ্যে ঘোর ক্রন্দনের রোল উঠিল।সকলের মুখে হাহাকার,সকলের নয়নে বারিধারা।শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্যদেব কিন্তু গম্ভীর, নয়নে বিন্দুমাত্রও জল নেই।দৃষ্টি পূর্ণ-দৃঢ়তা ব‍্যঞ্জক।মুখমন্ডল প্রশান্ত।দীঘল অঙ্গ স্থির।বদনচন্দ্র খানি একটু বিনত।শ্রীমতীকে লক্ষ্য করে বললেন ঃ--*
*তোর নাম বিষ্ণুপ্রিয়া,সার্থক করিহ ইহা,*
      *মিছা শোক না করিহ চিতে।*
*এ তোরে কহিনু কথা,দূর কর আন চিন্তা,*
       *মন দেহ কৃষ্ণের চরিতে।।*
                      *(শ্রীচৈঃ মঃ)*
*🙏শ্রীমতী করজোড়ে ধীরে ধীরে বললেন ঃ-- আমি শ্রীকৃষ্ণকে দেখি নাই। তোমাকে দেখেছি।শ্রীকৃষ্ণকে ধ‍্যান করতে বসিলে তোমাকে দেখতে পাই।তুমিই আমার শ্রীকৃষ্ণ।হে মহাপ্রভু! আমাকে ছলনা করে পায়ে ঠেলিও না।*
*অবলা আমি,চক্রী তুমি,চরণে নমি, ঠেলনা পায়।*
*(নাহি)জ্ঞান-গরিষ্ঠ,না বুঝি কৃষ্ণ,তোমা ভিন্ন,না দেখি তাঁর।।*
*তুমি ভব-ধব,আমি দাসী তব,এই জানি শুধু,জীবন ধ'রে।*
*করিয়ে করুণা,চরণে ঠেলনা,কি হবে ধর্ম,অবলা মেরে।।*
   *(গ্রন্থকার শ্রী হরিদাস গোস্বামী)* 
*🌻শ্রীগৌরহরি স্থির হয়ে শ্রীমতীর কাতর-কন্ঠ-বিনিঃসৃত বিলাপ-ধ্বনি শুনলেন।কোন উত্তর দিলেন না।বোধ হল একবার যেন তাঁর নয়নদ্বয়,ধূলায় লুন্ঠিতা, অবগুন্ঠিতা, চরণে নিপতিতা, বিষাদময়ী সুবর্ণ-প্রতিমাখানির উপর পতিত হল।তখনই আবার নিমেষের মধ্যে নয়ন ফিরিয়ে নিলেন।সেই সকরুণ দৃষ্টি হয়ত কারও নয়নগোচর হল না।মহাপ্রভু নয়ন ফিরিয়ে সর্বজন সমক্ষে অতি সুস্পষ্ট সুমধুর-স্বরে বিষ্ণুপ্রিয়াক লক্ষ্য করে কহিলেন "সাধ্বী!তুমি মানবী নহ,তুমি দেবী। আমি পথের ভিখারী সন্ন‍্যাসী। করঙ্গ কৌপীন আমার সম্ভল।তোমাকে দেবার মত আমার কিছুই নেই।তুমি আমার চরণ ভিখারী, 👣তাই তোমাকে আমার চরণের কাষ্ঠ-পাদুকা দিলাম।👣আমার প্রতি তোমার অচলা-ভক্তির নিদর্শন-স্বরূপ এই কাষ্ট্র-পাদুকা দ্বারা তুমি আমার অদর্শন জনিত দুঃখ দূর করিও।*
*☆মৎপাদুকে গৃহীত্বাথ গৃহিণি যাহি তে গৃহং।*
*☆স্বর্ণাত্মিকে ইমে পূজ‍্যে সদা শুদ্ধে শুচিস্মিতে।।*
              *(শ্রীচৈতন‍্য-তত্ত্ব-দীপিকা)*
*👣শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী প্রভু-দত্ত কাষ্ঠ-পাদুকাদ্বয় অতি আদরের সহিত পরম ভক্তিভরে প্রথমে মস্তকে ধারণ করলেন।মস্তক হতে নামিয়ে নিজ বক্ষে ধারণ করলেন।অবশেষে শত শত চুম্বন দান করে কৃত-কৃতার্থ হলেন।প্রাণবল্লভের পদরজ-স্পর্শে শ্রীমতীর সর্ব অঙ্গ পুলকে ভরে উঠিল, নয়নের প্রেমাশ্রুতে বক্ষ ভেসে গেল।লক্ষ লক্ষ নরনারী এই অপূর্ব দৃশ্য দেখে "হরিধ্বনি" করতে লাগলেন।জয়ধ্বনিতে নদীয়া নগরী যেন প্রকম্পিত হল।সে অপূর্ব দৃশ্য যাঁরা দর্শন করলেন,তাঁদের মত ভাগ‍্যবান জগতে আর কি আছে?শেষদিন পর্যন্ত তাঁরা এ দৃশ্য কখনও ভুলতে পারবেন না।শ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়ার শেষ বিদায়, নবদ্বীপে শেষদিনে ভক্তগণের সহিত পুনর্মিলন,মহাপ্রভুর এই জন্মভূমি ও জননী দর্শন,তাঁর সন্ন‍্যাস জীবনের প্রধান ঘটনা।এই ঘটনাটি উপলক্ষ‍্য করে দীন গ্রন্থকার শ্রীহরিদাস গোস্বামী একটি পদ রচনা করেছিলেন,তা এ স্থলে উদ্ধৃত হল।*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৫৭. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৭)👣শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী👣*
*শচীদ্বার হতে মহাপ্রভুর বিদায়*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌻দীন গ্রন্থকার শ্রীহরিদাস গোস্বামী রচিত একটি পদ আস্বাদন করুন।*
=========================
*দুয়ারের পাশে,     মলিন বদনে।*
*আর কারে দেখি,বিষাদিত মনে।।*
*দাঁড়ায়ে নীরবে, কি দেখিছে সতি*
*অনিমিষ আঁখি, দৃষ্টি কার প্রতি।।*
*কি ভাবিছ মনে, সদা বিষাদিনী।*
*নয়নের নীরে , তিতিছে মেদিনী।।*
*যাই যাই করে,  না পারে চলিতে।*
*বলি বলি করে,না পারে বলিতে।।*
*কি কথা কহিবে, মরমের ব‍্যথা।*
*সরমে জড়িত,   অবলা অনাথা।।*
*লক্ষ লোক ঘেরি, প্রাণনাথে তাঁর।*
*নিজ জন সব,    দাঁড়ায়ে দুয়ার।।*
*কেমনে যাইবে,লোকে কি কহিবে*
*নিরজনে তাই, মনে মনে ভাবে।।*
*ভাঙ্গিয়া লাজের, কঠিন বন্ধন।*
*ছুটিলা রমণী,   নাথের সদন।।*
*পড়িলা চরণে,  গলায় বসন।*
*বাহ‍্য-জ্ঞান-হীন, আবৃত বদন।।*
*চমকি গৌরাঙ্গ, চকিতে চাহিলা।*
*কে তুমি বলিয়া, দুই পা হটিলা।।*
*নীরব ক্রন্দন ,    অবলা নারীর।*
*শুনিয়া সকলে,   অবশ শরীর।।*
*কেহ না কহিলা, একটিও কথা।*
*রমণী তখন ,   প্রকাশিলা ব‍্যথা।।*
*বলে বিষ্ণুপ্রিয়া ,আমি তব দাসী।*
*তোমার বিরহ,আঁখি নীরে ভাসি।।*
*জগৎ তারিলে, বাকি হতভাগী।*
*উপায় কি হবে,বল ওহে যোগী।।*
*নীরব জগত ,   নীরব আকাশ।*
*স্তব্ধ  জীবগণ,নাহি বহে শ্বাস।।*
*ধীরে ধীরে তবে,কহিলেন যতি।*
*থাকে যেন তব,কৃষ্ণ রতি মতি।।*
*কহে বিষ্ণুপ্রিয়া,কৃষ্ণ নাহি জানি।*
*তোমা ছাড়া কৃষ্ণ,আমি নাহি চিনি।।*
*তুমি মোর গতি,তোমা বিনে আর।*
*ত্রিজগতে প্রভু,  কে আছে আমার।।*
*শুনি প্রভু কহে, সম্বোধি সতিরে।*
*আমি যে সন্ন‍্যাসী,কি দিব তোমারে।।*
*কাষ্ঠ-পাদুকা,      দিনু উপহার।*
*চির-শান্তি ইথে, হইবে তোমার।।*
*হৃদয় নাথের,    পদরজ মাথা।*
*বক্ষে ধরি সতি, চরণ পাদুকা।।*
*করিয়া চুম্বন, ধরিলা মস্তকে।*
*হরি হরি ধ্বনি,উঠিলা চৌদিকে।।*
*জয় জয় রবে, নদীয়া কাঁপিল।*
*গৌরাঙ্গ মহিমা, ভুবন ভরিল।।*
*নদীয়া নগরে , এল হারা-ধন।*
*গায় হরিদাস, পুনর্মিলন।।*
*লিখিতে লিখিতে,প্রাণ উঠে কেঁদে*
*যা কিছু  কহিনু, চরণ-প্রসাদে।।*
*🌻জননী ও জন্মভূমির উদ্দেশ্যে শেষ প্রণাম করে, অলক্ষিতভাবে প্রাণ প্রীয়তমা বিষ্ণুপ্রিয়ার প্রতি শেষ কটাক্ষপাত করে,ভক্তগণের কাছে শেষ বিদায় নিয়ে নবদ্বীপচন্দ্র পুনরায় নবদ্বীপ ছেড়ে চললেন।যাবার সময় জননীকে মহাপ্রভু বারম্বার বললেন,*
*🍀মায়ে নমস্করি প্রভু বোলে বারম্বার।*
*🍀না ছাড়িহ কৃষ্ণ না ভজিহ এ সংসার।চৈঃমঃ।।*
*🌻শচীমা পথপাশে বসে সবকিছুই দেখলেন।পুত্রের সঙ্গে আর কথা বলবার অবসর পেলেন না।তবুও একটি কথা না বলে তিনি থাকতে পারলেন না।তিনি বললেন "বাপ নিমাই!তুই আমাকে শীকৃষ্ণভজন করতে উপদেশ দিচ্ছিস সত‍্য, কিন্তু হাতে মালা নিয়ে কৃষ্ণনাম করতে বসলেই আগে যে বাপ্!তোর নাম মুখে এসে পড়ে।তোর নামে যে মধু কৃষ্ণনামে যে সে মধু পাই না! মহাপ্রভু আর কোন কথা না বলে জননীকে প্রদক্ষিণ করে যাবার উদ‍্যোগ করছেন দেখে শচীমা করুণস্বরে কেঁদে বললেন,বাপ নিমাই! কথাটির উত্তর দিয়ে যাও।মহাপ্রভু তখনও সেই কথা বললেন।*
*🍀যে ভজিবে কৃষ্ণ তার কোলে আছি আমি।*
*😭নবদ্বপচন্দ্র নবদ্বীপ আঁধার করে চললেন।এই নবদ্বীপের শেষ দিন।এই গৌরহরির শেষ বিদায়।নবদ্বীপচন্দ্র নবদ্বীপ অন্ধকার করে শেষ অস্তমিত হলেন।নবদ্বীপ গগনে দিবাভাগে মহাঅমাবস‍্যা নিশির উদয় হল।একাদশী তিথিতে অমাবস‍্যা লাগিল। অসম্ভব সম্ভব হল।আর নবদ্বীপ আকাশে শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর উদয় হবেন না বলেই বুঝি এইরকম হল।সকল ভক্তগণ প্রভুর সঙ্গে সঙ্গে চললেন। শচীমাও যেতে উদ‍্যত হলেন, কিন্তু মালিনী প্রভৃতি প্রতিবেশিনীগণ হাত ধরে নিষেধ করলেন।শচীমা ও শ্রীমতী গৃহদ্বারে বসে যতক্ষণ মহাপ্রভুকে দেখতে পাওয়া গেল ততক্ষণ অনিমিষ নয়নে দেখতে লাগলেন।যখন মহাপ্রভুর সেই দীঘল অঙ্গখানি তাঁদের দৃষ্টির বাহির হল, তখন উভয়ে হাহাকার করে উচ্চৈঃস্বরে রোদন করতে করতে আঙ্গিনায় এসে আছাড়ে পড়লেন।*
*🍀শচীর কান্দনা দেখি পৃথিবী বিদরে।চৈঃমঃ*
*🌻অসংখ‍্য লোক মহাপ্রভুর সঙ্গে চলেছে।*
*🍀চলিলা ঠাকুর পাছে ধায় ভক্তসব।*
*🌼সকলেরই নয়নে অবিরল জলধারা,বদনে ঘোর বিষাদ ছায়া,হৃদয়ে দারুণ দুঃখ। শান্তিনগর পর্যন্ত সকলেই মহাপ্রভুর সঙ্গে সঙ্গে চললেন।অনেকে মহাপ্রভুর সঙ্গে একেবারে নীলাচল পর্যন্ত চললেন।শচীমা ও শ্রীমতীর কাছে শ্রীবাস প্রভৃতি কয়েকজন মহাপ্রভুর অন্তরঙ্গ ভক্ত দাঁড়িয়ে ক্রন্দন করছেন।দামোদর পন্ডিতও আছেন।ইঁহারা মহাপ্রভুর সঙ্গে যাননি।শচীমা ও শ্রীমতীর তত্ত্বাবধান করছেন।পুরাতন ভৃত‍্য ঈশান শচীমা ও বিষ্ণুপ্রিয়ার এক পাশে বসে অধোবদনে কাঁদছেন।অনেকক্ষণের পর সকলে মিলে ধরাধরি করে কান্নারত শচীমা ও শ্রীমতীকে গৃহে তুললেন।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী প্রভুদত্ত কাষ্ঠ-পাদুকা দুইখানি বক্ষে ধারণ করে কাঁদতে কাঁদতে ঘরে গেলেন এবং বক্ষ হতে তা আর নামালেন না।মহাপ্রভুর শ্রীচরণ পাদুকা তিনি নিত‍্য পূজা করতে লাগলেন।*
👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣👣
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৫৮. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৮)👣শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী👣*
*🍀বংশীবদন ও শ্রীমতী, কাঞ্চনার নীলাচলে গমন🍀*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*প্রসাদ মাগিলা বংশী জাহ্নবীর ঠাঁই।*
*বিষ্ণুপ্রিয়া-দাস ভাবি না দিলা গোসাঞি।।*
                       *(বংশী শিক্ষা গ্রন্থ )*
*শ্রীগৌরহরিকে বিদায় দিয়ে শচীমায়ের দুঃখ ও শোক দ্বিগুণ বেড়ে গেল। তিনি তাঁর হারাধন হাতে পেয়ে পুনরায় হারালেন।এ দুঃখ তাঁর বড়ই দুঃসহ হয়ে উঠিল।আত্মীয়-স্বজনে এবার শচী দেবীর জীবনের আশা ত‍্যাগ করলেন।শচীমাকে আর প্রবোধ দিবার উপায় নাই। দিনরাত্রি কেঁদে কেঁদে বৃদ্ধার নয়নদুটি অন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে।দুঃখে ও শোকে শচীমায়ের ভগ্ন-শরীর আরও ভেঙ্গে যাচ্ছে।একরকম খাওয়া ত‍্যাগ করেছেন বললেই চলে। তিনি উত্থানশক্তিরহিতা হয়ে গৃহের ভিতরে শয‍্যায় শয়ন করে থাকেন।অতি কষ্টে এক একবার কোনরকমে বাহিরের দুয়ারে এসে বসেন।যার সঙ্গেই দেখা হয়, তিনি যশোদার ভাবে নিমাই-চাঁদের সম্বন্ধে দুই একটি কথা বলেন।বেশী কথা বলার আর শক্তিও নাই।উচ্চৈঃস্বরে রোদন করবার ক্ষমতা নাই।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া শাশুড়ির অবস্থা দেখে শঙ্কিতা হলেন। তিনি সর্বান্তঃকরণে অত‍্যন্ত যত্নের সঙ্গে বৃদ্ধা শাশুড়ির সেবা করছেন।পাছে তিনি মনে কষ্ট পান এই জন্য শ্রীমতী মনের ব‍্যথা মনে চেপে রেখে এখন আর কাঁদেন না।মহাপ্রভুর পুরাতন ভৃত‍্য ঈশান তাঁর তো বয়েস হয়েছে তবুও তিনি শ্রীমতী ও শচীমার বিশেষভাবে সেবা করে আসছেন।তার উপর মহাপ্রভুর বিরহ বাণে তাঁর হৃদয় জর্জরিত, শোকে শরীর ভেঙ্গে গেছে বললেই চলে।ঈশান বৃদ্ধ হয়েছেন, যেভাবে দেবীদ্বয়ের পূর্ণভাবে তত্ত্বাবধান ও সেবাকার্য‍্য করা উচিত তা পরিপূর্ণ ভাবে পেরে উঠছেন না। যতটুকু দেহে সম্ভব হচ্ছে তিনি করে যাচ্ছেন। ঈশানের মত মহাভাগ‍্যবান কে আছে গো?*
*🍀সেবিলেন সর্বকাল আইরে ঈশান।*
*🍀চতুর্দশ লোক মধ্যে মহাভাগ‍্যবান।।*
*🍀শচী দেবী ঈশানে যতেক স্নেহ কৈল।*
*🍀কহিতে কি জান তাহা সাক্ষাতে দেখিল।।*
                 *(শ্রীচৈতন‍্য ভাগবত)*
*🌻এই সময়ে মহাপ্রভুর আর একটি অতি প্রিয়ভক্ত ঈশানের সঙ্গে দেবীদ্বয়ের সেবাকার্য‍্যে যোগ দিলেন।এই মহাভাগ‍্যবান মহাপুরুষ হলেন নাম শ্রীবংশীবদন।ইনি মহাপ্রভুর আদেশে তাঁর জননী ও ঘরণীর সেবা ও পরিচর্য‍্যার ভার নিতে এসেছেন। ঈশানের সঙ্গে সর্বপ্রথম বংশীবদনের পরিচয় হল।মহাপ্রভুর আদেশ কথা সব শুনলেন তাঁর মুখ হতে।শচীমা ও শ্রীমতীর সেবাকার্য‍্যে ঈশানের একচেটিয়া ছিল।এক্ষণে তার অংশ দিতে হবে।বোধহয় এতে ঈশান সুখী নহেন।কি করবেন মহাপ্রভুর আদেশ শিরোধার্য‍্য।বংশীবদনকে ঈশান বললেন=*
*🍀মহাপ্রভু এই আজ্ঞা করিলা আমায়।*
*🍀সেবিতে মাতায় আর শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়ায়।।*
                  *(বংশী শিক্ষা গ্রন্থ )*
*🍁ঈশান বললেন মহাপ্রভুর আদেশ সর্বথা পালনীয়।*
*🍀আজ্ঞা বলবান এই বেদের বিধান।*
*🌻ঈশান বংশীবদনকে সঙ্গে নিয়ে গৃহের ভিতরে গেলেন।শচীমা ও শ্রীমতীর নিকট সকল কথা নিবেদন করে তাঁর পরিচয় দিলেন এবং মহাপ্রভুর আদেশ জ্ঞাপন করলেন।শচীমা শয‍্যায় শয়ন করেছিলেন।নিমাইয়ের নিকট হতে লোক এসেছে শুনে তিনি অতি কষ্টে উঠে বসলেন এবং বংশীবদনকে দেখে তাঁর হাত দুইখানি ধরে কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞাসা করলেন=*
*🍀তবে শ্রীবংশীর কর ধরি কন আই।*
*🍀তোরে কি বলিয়া গেছে আমার নিমাই।।*
                           *(বংশী শিক্ষা )*
*🌻আই মানে এখানে শচীমাকে বলা হয়েছে।বংশীবদন শচীমাতার চরণ বন্দনা করে কাঁদতে কাঁদতে মহাপ্রভুর সকল সংবাদ দিলেন।নানারকম প্রবোধ বাক‍্যে শচীমাকে সান্ত্বনা করলেন,শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীকে বংশীবদন দূর হতে গললগ্নীকৃতবাসে কোটি কোটি প্রণিপাত করলেন।ঈশান ও বংশীবদন উভয়ে মিলে এক্ষণে শচীমা ও শ্রীমতীর সেবাকার্য‍্যে নিয়োজিত হলেন।*
*🍀প্রভু আজ্ঞা অনুসারে ঈশান বদন।*
*🍀করিতে লাগিলা উভয়ের সুসেবন।।(ঐ)*
*🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৫৯. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৫৯)👣শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী👣*
*বংশীবদন ও শ্রীমতী, কাঞ্চনার নীলাচলে গমন।*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*🌻মহাপ্রভুর অতি অন্তরঙ্গ ভক্ত শ্রীবংশীবদনের সংক্ষেপে কয়েকটি কথা বলি।ইনি পরম কুলীন ব্রাহ্মণ সন্তান।পিতার নাম ছকড়ি চট্টরাজ।আদি নিবাস নবদ্বীপের নিকট পাটুলী গ্রাম।শ্রীমন্মহাপ্রভুর আদেশে ইনি শ্রীধাম নবদ্বীপেএসে মহাপ্রভুর গৃহের নিকটে বাস করেন।এই মহাপুরুষ বিল্বগ্রামে শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ মূর্তি এবং দেবীর আদেশে শ্রীধাম নবদ্বীপে শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর দারুমূর্তি প্রতিষ্ঠা, দেবমূর্তির নিত‍্য পূজা ও ষেবার ব‍্যবস্থা করেন।*
*🍀ঈশান ও বংশীবদন উভয়েই মহাপ্রভুর গৃহে থেকে শচীমা ও শ্রীমতীর রক্ষণাবেক্ষণ ও সেবা-পরিচর্য‍্যা করতে লাগলেন। কাঞ্চনা এক তিলার্ধের জন্যও শ্রীমতীর সঙ্গ ছাড়া হতেন না।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর আদেশে শচীমায়ের অনুমতি নিয়ে কাঞ্চনা একবার নীলাচলে মহাপ্রভুকে দর্শন করতে গিয়েছিলেন।প্রতি বৎসরই নবদ্বীপ হতে অনেক নরনারী মহাপ্রভুকে দর্শন করতে যেতেন।সেই সঙ্গে কাঞ্চনাও গিয়েছিলেন,দামোদর পন্ডিত সঙ্গে ছিলেন।সখীর প্রতি শ্রীমতীর আদেশ ছিল, তিনি তাঁর প্রাণবল্লভের সঙ্গে অন্তত একবার সাক্ষাৎ করে আসবেন। আবার শুধু সাক্ষাৎ করলে হবে না,শ্রীমতীর পক্ষ হতে মহাপ্রভুকে দুই একটি দুঃখের কথা বলে আসতে হবে। বিষ্ণুপ্রিয়ার এই আদেশটি বড় কঠিন।কারণ সকলেই জানেন মহাপ্রভু স্ত্রীলোকের মুখদর্শন করেন না,তাঁর কাছে স্ত্রীলোক যাবার আদেশ নেই।তবে মহাপ্রভুর মাসী,চন্দ্রশেখর আচার্য‍্যরত্নের পত্নী এবং শ্রীবাস পন্ডিতের স্ত্রী,মালিনীদেবী প্রভৃতি আরও কয়েকজন বর্ষীয়সী স্ত্রীলোকের মহাপ্রভুর নিকটে যেতে নিষেধ ছিল না।এঁদের সঙ্গে কাঞ্চনাও গিয়েছিলেন।দামোদর পন্ডিত কাঞ্চনার নীলাচল গমন-বৃত্তান্ত জানতেন।শ্রীগৌহরির সঙ্গে তাঁর প্রিয়াজীর প্রিয়-সখি কাঞ্চনার কোন কথা হয়েছিল কি না,তা অন্তর্য‍্যামী গৌরহরিই জানেন।🍀গোলোকগত মহাত্মা শ্রীশিশির কুকার ঘোষের গৌর-গতপ্রাণা পরমা-বৈষ্ণবী কনিষ্ঠা ভগ্নীর রচিত একটি পদে সখি কাঞ্চনার প্রতি শ্রীমতীর এই আদেশ বাণীটি অতি সুন্দর ও সুললিত ভাষায় বর্ণিত হয়েছে।সেই পদটি কৃপাময় পাঠক-পাঠিকাগণের জন্য এস্থলে উদ্ধৃত হল।*
     *শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়ার উক্তি*
*সখি! দিন গণি গণি,দিন ফুরাইল,*
         *আর কত কাল জীব।*
*থাকিতে জীবন, শ্রীগৌরাঙ্গ ধন,*
        *আর কি দেখতে পাব।।*
*পথ চাহি চাহি, আঁখি আঁধা হ'ল,*
        *জীয়ন্তে হইনু মরা।*
*শোন মোর বাণী, পরাণ সজনি!,*
        *নীলাচলে যাও ত্বরা।।*
*করিয়ে যতন , ধরিয়ে চরণ,*
       *কহিও সজনি! তাঁরে।*
*তোমার লাগিয়া, মরে বিষ্ণুপ্রিয়া,*
       *চল ত্বরা নদেপুরে।।*
*🙏মহাপ্রভুর প্রতি কাঞ্চনার উক্তি*
*করুণা করিয়া, এই অবতারে,*
          *তারিলে জগতবাসী।*
*তব চরণামৃতে, কেবল বঞ্চিতা,*
         *একা বিষ্ণুপ্রিয়াদাসী।।*
*🍀এইকথা শুনে মহাপ্রভু কি করলেন*
*কাঞ্চনার বাণী , শুনি গুণমণি,*
          *ছল ছল আঁখে চায়।*
*করুণা-নিধির, করুণা বাড়িল,*
         *ত্বরা নদেপুরে ধায়।।*
*ত‍্যজিলা কৌপীন,ত‍্যজি ছেঁড়া কাঁথা,*
        *ত‍্যজিল কাঙাল বেশ।*
*নব নটবর , গৌরাঙ্গ সুন্দর,*
         *আইল আপন দেশ।।*
*আবার নদের , ফুটিল কুসুম,*
         *ভ্রমর ধরিল তান।*
*আবার ভকত , আনন্দে মাতিল,*
         *কোকিল ধরিল গান।।*
*আবার ন'দেয় , বহুদিন পরে,*
        *উদিল ন'দের চাঁদ।*
*আঁধার নদীয়া , হলো আলোময়,*
        *পূরিল বলাইর সাধ।।*
*🌻অধম গ্রন্থকার-রচিত এই সম্বন্ধের একটি সখি-সম্বাদের পদও এখানে সন্নিবেশিত হল। শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলা-রস-লোলুপ কৃপাময় রসজ্ঞ পাঠক পাঠিকাবৃন্দ ইহা আস্বাদন করুন।*
         *🙏কাঞ্চনার উক্তি🙏*
*কতই সাধিনু, কতই কাঁদিনু,*
         *গোরার চরণ ধরে।*
*একবার এসে, নদীয়া নগরে,*
       *দেখা দিয়ে যাও তারে।।*
*নাম না লইনু, পাছে নাহি শুনে,*
        *কথাগুলি অবলার।*
*ঠারে ঠোরে তারে,কত না বলিনু,*
        *নদীয়ার সমাচার।।*
*সকলি শুনিল, পুছিল কত না,*
         *ছাড়া শুধু এক ধনি।*
*মুখের ভাবেতে , বুঝিলাম তাঁরে,*
        *চতুরের শিরোমণি।।*
*নির্জনে পাইয়া,ভয়ে ভয়ে আমি,*
         *বিরলে পুছিনু তারে।*
*নারীর চাতুরী , খেলিনু তখন,*
          *সখীর প্রবোধ তারে।।*
*পুছিলাম আমি , ওহে উদাসীন্,*
         *বিষ্ণুভক্ত বড় তুমি।*
*বাঞ্জা বড় মোর, বিষ্ণুনাম-সুধা,*
         *তবমুখে শুনি আমি।।*
*নদীয়ার আছে , অভাগিনী এক,*
         *নাম তার বিষ্ণুপ্রিয়া।*
*সখী তার আমি, পাঠিয়েছে মোরে,*
        *মাথার দিব‍্য দিয়া।।*
*শুনিতে নামের , আখর চারিটি,*
       *তোমার বদন-চন্দ্রে।*
*বল দেখি যতি! সেই সে নামটি,*
       *ললিত মধুর ছন্দে।।*
*আর কিছু নাই, বলিতে আমার,*
       *নাম কর একবার।*
*পুরাও বাসনা, ওহে ন‍্যাসীবর,*
           *মন-সাধ অবলার।।*
☆ ☆ ☆
*চমকি উঠিল, সখীর নামেতে,*
          *বিনত হইল আঁখি।*
*আর না চাহিল, কথা না কহিল,*
          *মরমে হইল দুখী।।*
*(আমি)চলে আইনু, সেখান হইতে,*
        *কিছু নাহি বলিলাম।*
*সখীর নামের, মোহিনী শকতি,*
       *ভাল করি বুঝিলাম।।*
*হরিদাস ভণে , নদীয়া নাগরী,*
       *সখীরে যাইয়া কহ।*
*গৌর-হৃদয়ে , সে রূপের খনি,*
           *জাগিতেছে অহরহ।।*
*🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৬০. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৬০)👣শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী👣*
*😭শচীমা ও মহাপ্রভুর অপ্রকট কথন😭*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*গৌরাঙ্গ বিচ্ছেদে বিষ্ণুপ্রিয়া কাতরা অতি।*
*দ্বিগুণ হইল শোক হইলা বিস্মৃতি*।।
                            *(প্রেম বিলাস)*
*🌻বৃদ্ধা শচী মায়ের অতি জীর্ণ ও ক্ষীণ শরীর শ্রীনিমাইচাঁদের বিরহে দিন দিন ক্ষয় প্রাপ্ত হতে লাগিল।শ্রীনিমাইচাঁদের মুখখানি দিনরাত্রি তিনি ধ‍্যান করতেন।বৃদ্ধার জপ,তপ সকলি পুত্রের সেই সুন্দর চাঁদমুখ খানি।রাত্রে নিদ্রিত অবস্থায় সেই চাঁদবদন খানি স্বপ্নে দেখে কেঁদে উঠিলেন।*
*🍀নিরন্তর দিবানিশি আন নাহি জানি।*
*🍀স্বপনেহ দেখোঁ তোর চাঁদ মুখ খানি।।চৈঃমঃ।।*
*🌼শ্রীমতীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী সর্ব কর্ম পরিত‍্যাগ করে শাশুড়ির সেবাকার্য‍্যে নিযুক্ত আছেন।ভক্তগণ সর্বদা সমাচার নিচ্ছেন।ঈশান ও বংশীবদন প্রাণপণে শচীমাতার সেবা করছেন।সকলে দেখলেন শচীমাতার আর জীবনের আশা নেই।নবদ্বীপ শুদ্ধ লোক মহাপ্রভুর গৃহদ্বারে একত্রিত হলেন।দলে দলে নরনারীগণ মহাপ্রভুর বাড়ীতে এলেন।চতুর্দিকে হরিসংকীর্তন উচ্চ-রোল উঠিল।মহাপ্রভুর ভক্তবৃন্দ দল বেঁধে মহা সংকীর্তন-যজ্ঞে শ্রীমন্ গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুকে আহ্বান করলেন।হরিনাম সংকীর্তনের তরঙ্গে নদীয়া ডুবু ডুবু হল। "জয় শচীমাতার জয়" "জয় শ্রীগৌরাঙ্গের জয়" ধ্বনিতে নদীয়া কম্পিত হল।মহাপ্রভুর জননীকে দিব‍্য-যানে ফুল-সজ্জায় সজ্জিত করে ভক্তবৃন্দ শ্রীধাম পরিক্রমা করে পতিত-পাবনী সুরধূনীর তীরে নিয়ে গেলেন।বিরহিনী বিষ্ণুপ্রিয়া কাঁদতে কাঁদতে বস্ত্রাবৃত দোলায় আরোহণ করে শাশুড়ির সঙ্গে গঙ্গাতীরে গেলেন। সঙ্গে কাঞ্চনা আছেন। গঙ্গাতীরে গিয়ে শচীমাতা পুত্রবধূকে কাছে ডাকলেন। কানে কানে কি বললেন, তা কেউ শুনতে পেলেন না।বিষ্ণুপ্রিয়ার গলা জড়িয়ে ধরে বৃদ্ধা কাঁদতে কাঁদতে প্রায় শেষ বিদায় নিলেন।শ্রীমতীর নীরব রোদনে উপস্থিত ভক্তবৃন্দের হৃদয় মথিত হল।শ্রীনিমাই চাঁদের নাম করতে করতে শচীমা সজ্ঞানে নশ্বরদেহ ত‍্যাগ করে নিত‍্যধামে গমন করলেন।ভক্তবৃন্দ উচ্চৈঃস্বরে কান্দিতে কান্দিতে হরিনাম সংকীর্তন করতে লাগলেন। সংকীর্তন-যজ্ঞেশ্বর শ্রীগৌরাঙ্গ অলক্ষ‍্যে এসে রসরাজ-মূর্তিতে জননীকে শেষদর্শন দিয়ে গেলেন।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী প্রাণবল্লভের রসরাজমূর্তি দেখে গঙ্গাতীরেই মূর্ছিত হয়ে পড়লেন।কাঞ্চনা শ্রীমতীকে কোলে করে গৃহে আনিলেন।শচীমায়ের শোকে ভক্তগণ বিহ্বল হয়ে কাঁদতে কাঁদতে গঙ্গাতীর হতে গৃহে ফিরলেন।আঁধার নদীয়া পুনরায় গভীর আঁধারে পূর্ণ হল। শ্রীমতী এক্ষণে একেবারেই একাকিনী হলেন।তাঁর প্রাণবল্লভের গৃহ শূন‍্য হল। শ্রীগৌরাঙ্গ বিহনে নদীয়ার লোক শচীমায়ের মুখ দেখে এতদিন গৌর বিরহ দুঃখ সহ‍্য করেছিলেন,এক্ষণে সেই মা বিহনে সেই দুঃখ দ্বিগুণ জ্বলে উঠিল।বিষ্ণুপ্রিয়ার যেন দুঃখ ততোধিক হল।শচীমায়ের বিরহে ও শোকে বিষ্ণুপ্রিয়া অত‍্যন্ত কাতরা হয়েছেন।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৬১. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৬১)👣শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী👣*
*😭শচীমা ও মহাপ্রভুর অপ্রকট কথন😭*
☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆
*🌼শচীমায়ের বিরহে ও শোকে মহাদুঃখিনী বিষ্ণুপ্রিয়া অত‍্যন্ত কাতরা হয়েছেন। শাশুড়ী বতর্মান থাকতে তিনি ঘরের বধূই ছিলেন। গৃহলক্ষ্মীর মতো গৃহ আলোকিত করে থাকতেন।শাশুড়ীর মনে দুঃখ হবে বলে শ্রীমতী অনিচ্ছাসত্ত্বেও বসন ভূষণ সবই পরতেন।শচীমা বধূকে সর্বদা সাজিয়ে রাখতে ভালবাসতেন।শ্রীমতীর মলিন চন্দ্রবদনখানি দেখে শচীমায়ের পুত্র-মুখ-অদর্শনজনিত বিষম দুঃখের কিছুটা হলেও লাঘব হত।এক্ষণে শাশুড়ির অবর্তমানে দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া বসন-ভূষণ প্রভৃতি একেবারেই পরিত‍্যাগ করলেন।কঠোর নিয়মে ব্রহ্মচর্য‍্যব্রত গ্রহণ করে শ্রীগৌরাঙ্গ-ভজন করতে লাগলেন।*
*🌻এইভাবে কিছুকাল শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী একাকিনী সখিগণ পরিবৃতা হয়ে প্রাণ-বল্লভ-দত্ত কাষ্ঠ পাদুকার যথারীতি পূজো ও সেবা করে জীবন সার্থক করলেন।ভক্তগণ শ্রীগৌরপ্রিয়ার কঠিন ভজনের কথা শুনে ব‍্যথিত হৃদয়ে হাহাকার করতে লাগলেন।তবে কি আমরা শ্রীগৌরপ্রিয়াকেও হারাতে বসেছি! এই সংবাদ নীলাচলে শ্রীগৌরাঙ্গের কর্ণে দেবীর কঠোর ভজনের কথা পৌঁছল।দামোদর পন্ডিত নদীয়ার সকল সমাচার মহাপ্রভুকে দিতেন।এই সংবাদটিও তিনি দিয়েছেন।মহাপ্রভু শুনলেন,তাঁর প্রাণপ্রিয়া বিষ্ণুপ্রিয়া সন্ন‍্যাসিনী সেজেছেন।মনে দারুণ ব‍্যথা পেলেন। নিদারুণ মনঃকষ্টে মহাপ্রভু নীলাচলে বসে এই সময় কঠোরতম শ্রীকৃষ্ণ-ভজন আরম্ভ করলেন।মহাপ্রভু মনে মনে ভাবলেন, এতদিনে তাঁর নদীয়া লীলা সাঙ্গ হল।এত আদরের প্রেমময়ী প্রাণপ্রিয়া বিষ্ণুপ্রিয়াকে সন্ন‍্যাসিনী সাজালেন।তাঁর নরলীলা পূর্ণ হল। স্বয়ং সন্ন‍্যাসী সেজে মনের সাধ মেটেনি।কলিজীবের কলুষিত মন দ্রব হতে যা বাকী ছিল তা প্রিয়ার দ্বারা হবে।রাজা-রাণীকে ভিখারাণী বেশে দেখলে,জগন্মাতাকে দুঃখিনীর সাজে দেখলে,কলির জীব হরিনাম নিবে।তাহলেই তাঁর কার্য‍্য শেষ হবে। শ্রীগৌরাঙ্গ এইরকম ভেবে মনে মনে স্থির করলেন, এক্ষণে স্ব-ধামে গমন করাই শ্রেয়ঃ।*
*😭মহাপ্রভুর অপ্রকট কাহিনী গৌর-ভক্তবৃন্দের অবিদিত নাই।প্রিয়ার দুঃখেই মহাপ্রভু আমার এত শীঘ্রই অপ্রকট হলেন।কলি-হত-জীবের মঙ্গলের জন্য তাঁর সন্ন‍্যাস-গ্রহণ, জীবশিক্ষার জন‍্যই তাঁর দীন-হীন-বেশে এই কঠোর সাধনা।লোকশিক্ষার জন‍্যই তাঁর ভক্তবেশ।ভক্তবেশী মহাপ্রভু আমার সর্বচিত্ত আকর্ষক ছিলেন।তাঁর সাধ্বী ঘরণী লোকশিক্ষার জন্য প্রাণবল্লভের পথানুসরণ করলেন দেখে পতিতপাবন দয়াল মহাপ্রভু আমার নিশ্চিন্ত হয়ে অপ্রকট হলেন।শ্রীগৌরাঙ্গলীলা এতদিনে পূর্ণ হল।*
*😭মহাপ্রভুর অপ্রকট সংবাদ দাবানলের মত চারিদিকে ব‍্যাপ্ত হয়ে পড়ল।সকলেই এই হৃদয়বিদারক নিদারুণ সংবাদে জীবন্মৃত হলেন।কেউ কেউ মহাপ্রভুর শোকে প্রাণপাত করতেও কুন্ঠিত হলেন না।ইঁহাদের মধ্যে একজন স্বরূপ গোস্বামী।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়াও এই সংবাদ পেলেন।এ সংবাদ শ্রীমতীকে কে দিল জানা গেল না।তিনি যিনিই হন না কেন,তাঁর হৃদয় নাই।এ বিষম সংবাদ শুনে বিষ্ণুপ্রিয়ার অবস্থা যে কি হল তা আর লিখতে চাই না। বংশী শিক্ষা গ্রন্থে দেখতে পাই।*
*🍀বিষ্ণুপ্রিয়া আর বংশী গৌরাঙ্গ বিহনে।*
*🍀উন্মত্তের ন‍্যায় কান্দে সদা সর্বক্ষণে।।*
*🍀দুই জনে অন্ন-পান করিয়া বর্জন।*
*🍀হা নাথ গৌরাঙ্গ বলি ডাকে সর্বক্ষণ।।*
*😭শুনতে পাই,এই বংশীবদন শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর মন্ত্রশিষ‍্য ছিলেন।শচীমাতার আদেশে শ্রীমতী এই ভাগ‍্যবান মহাপুরুষকে মন্ত্রশিষ‍্য করেছিলেন।*
*🌼মহাপ্রভুর অপ্রকট সংবাদে তাঁর অনুগত ভক্তবৃন্দ কেঁদে আকুল হলেন।কেঁদে কেঁদে অনেকের নয়ন অন্ধ হল।*
*🍀শ্রীগৌরাঙ্গ বিরহে যত ভক্তের মন্ডলী।*
*🍀কান্দিতে লাগিলা হঞা আকুলি বিকুলি।।*
                           *(বংশী শিক্ষা )*
*🌻সোনার নদীয়া হাহাকারে পূর্ণ হল।শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী মহাযোগিনী সেজে রুদ্ধদ্বার গৃহে (ঘরের দরজা বন্ধ করে)কঠোর ভজন করতে লাগলেন।কলির জীবের মঙ্গল কামনায় দেবী বিষ্ণুপ্রিয়া জীবন উৎসর্গ করলেন।এই জন‍্যই কলির জীবকে ভাগ‍্যবান করে। শ্রীশ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়া যুগল হয়ে কলিহত জীবের মঙ্গলের জন্য সবসময় কেঁদে গিয়েছেন।ত্রিভুবনের ঈশ্বর শ্রীগৌরাঙ্গ, এবং কৈবল‍্যদায়িনী তাঁর হ্লাদিনী-শক্তি শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী,কলিহত জীবের সর্বাবস্থায় পরম আরাধ‍্য বস্তু,সাধনের ধন। শ্রীশ্রীগৌর-বিষ্ণুপ্রিয়ার কৃপা ভিন্ন কলির জীবের আর গতি নাই।তাই মহাজনগণ বলেছেন=*
*এগোও হে এগোও হে আমার বৈষ্ণব গোসাঞি।*
*কলিযুগে তরাইতে আর কেহ নাই*।
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৬২. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৬২)👣শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী👣*
*👌শ্রীনিবাসের প্রতি বিষ্ণুপ্রিয়ার কৃপা।*
 °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*এত কহি বস্ত্রে বেষ্টিত চরণ-অঙ্গুলি।*
*শ্রীনিবাসে ডাকি চরণ দিলা মাথে তুলি।।*
                             *(প্রেম বিলাস)*
*🌻মহাপ্রভুর অপ্রকটের কিছুদিন পরে শ্রীনিবাস ঠাকুর নীলাচল হতে এই নিদারুণ সংবাদ পেয়ে শোকে ও দুঃখে উন্মত্ত প্রায় হয়ে নবদ্বীপে আসিলেন।শ্রীনিবাসঠাকুর, পন্ডিত গোস্বামী গদাধরের নিকট নীলাচলে শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করতে গিয়েছিলেন। যখন তিনি গৌড়ে ফিরে আসেন,পন্ডিত গোস্বামী গদাধর তাঁর দ্বারা দাস গদাধরকে একটি কথা বলে পাঠিয়েছিলেন।শ্রীনিবাস মহাপ্রভুর অপ্রকট সংবাদে শোকে ও দুঃখে অধীর হয়ে নবদ্বীপে এসে উপস্থিত হন। পন্ডিত গোস্বামীর কথাটি তিনি একেবারে ভুলে যান।দাস গদাধর ইহা কোন ভাবে জানতে পারেন, এবং এই অপরাধে শ্রীনিবাসকে বর্জন করেন।শ্রীনিবাস তখন তরুণবয়স্ক যুবক।বয়স উনিশ বা কুড়ি বৎসর মাত্র।পরম সুন্দর আকৃতি।গৌরপ্রেমে তাঁর সুবলিত সর্বাঙ্গসুন্দর তনুখানি যেন ডগমগ।গাত্রবর্ণ কাঁচা সোনার মত। এমন সর্বাঙ্গসুন্দর ব্রাহ্মণ বালক হয়ত কেউ কখন দেখে নাই। এইজন‍্যই ভক্তবৃন্দ শ্রীনিবাসকে মহাপ্রভুর দ্বিতীয় কলেবর ও প্রকাশমূর্তি আখ‍্যা দিয়েছিলেন।*
*নিত‍্যানন্দ ছিলা যেই,নরোত্তম হৈলা সেই,*
     *শ্রীচৈতন‍্য হৈলা শ্রীনিবাস।।ঐ*
*😭একে তো মহাপ্রভুর অপ্রকট-সংবাদে তরুণ-যুবক শ্রীনিবাস মৃতপ্রায় হয়েছেন, তার উপর শ্রীগৌরাঙ্গের সর্বশ্রেষ্ঠ ভক্ত দাস গদাধর কর্তৃক এইরকম ভাবে বর্জিত হয়ে তিনি প্রাণত‍্যাগ করবেন বলে মনে মনে সঙ্কল্প করলেন। তিনি অন্ন-জল ত‍্যাগ করে মহাপ্রভুর গৃহদ্বারে অর্থ‍্যাৎ মহাপ্রভুর বাড়ীর দরজার সামনে পড়ে রইলেন।*
*🍀প্রভাতে ল্রীখন্ড ছাড়ি আইলা নবদ্বীপে।*
*🍀বৈরাগ‍্য করি রহিলা প্রভুর বাড়ীর সমীপে।।*
*🍀পন্ডিত গোসাঞি বলি কান্দে উচ্চৈঃস্বরে।*
*🍀দুই চারি দিবসে অন্ন না দিল উদরে।।ঐ।।*
*😭অষ্টাহকাল শ্রীনিবাস এই রকমভাবে নবদ্বীপে মহাপ্রভুর বাড়ীর দরজার সামনে পড়ে রইলেন।বংশীবদনের সঙ্গে গঙ্গাঘাটে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ হয়।বংশীবদনের সঙ্গে পরিচয় হলে শ্রীনিবাস তাঁর দুঃখের কথা তাঁকে সমস্ত বললেন।এই সময়ে মহাপ্রভুর পুরাতন ভৃত‍্য বৃদ্ধ ঈশান সেখানে এসে উপস্থিত হলেন।ঈশান তরুণযুবক শ্রীনিবাসকে দেখেই চমকে উঠলেন এবং মহাপ্রভুর দ্বিতীয় কলেবর বলে চিনতে পারলেন, এবং শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর নিকট এই বালকের পরিচয় দেবার জন্য উৎসুক হলেন।*
*🍀বুঝিল চৈতন‍্য-শক্তি বালকের হয়।*
*🍀ঈশ্বরী নিকটে মোর কহিতে উচিৎ হয়।।*
*🍀ফিরিয়া আইলা ঘরে ঈশ্বরী নিকটে।*
*🍀এক অপূর্ব বালক দেখিল গঙ্গাঘাটে।।*
*🍀গদাধর পন্ডিত নামে সদাই রোদন।*
*🍀দ্বিতীয় নাহিক সঙ্গ সজল নয়ন।।*
*🍀তাহারে দেখিতে দয়া হইল আমার।*
*🍀অন্ন বিনা অতি ক্ষীণ শরীর তাহার।।*
*🍀আজ্ঞা হয় কিছু অন্ন দিই তারে আমি।*
*🍀পশ্চাতে আনিয়া তারে দয়া কর তুমি।।*
*🍀দেহ যাই তন্ডুলে তারে যে উচিত হয়।*
*🍀চৈতন‍্য অপ্রকটে বিরক্ত মনের সংশয়।।ঐ।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৬৩. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৬৩)👣শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী👣*
*👣শ্রীনিবাসের প্রতি ঈশ্বরীর কৃপা👣*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌻ঈশানের মুখে বালক শ্রীনিবাসের সমস্তকথা শুনে দয়াময়ী শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া মাতার কোমল প্রাণে দয়ার উদ্রেক হল। তিনি তৎক্ষণাৎ ঈশানকে আজ্ঞা দিলেন সেই ব্রাহ্মণ বালকটিকে ভোজনোপযোগী তন্ডুলাদি দিয়ে এসো।ঈশান একজনের যতটুকু প্রয়োজন তন্ডুল সিদ্ধ অর্থ‍্যাৎ অন্ন-ব‍্যঞ্জন নিয়ে গিয়ে শ্রীনিবাসের হাতে দিলেন।ঈশ্বরী মাতা বুঝতে পারলেন,এই বালকটি সামান্য বালক নহে।তিনি শ্রীনিবাসকে পরীক্ষা করে দেখবেন মনস্থ করে দশজন বৈষ্ণবকে শ্রীনিবাসের কাছে সেই দিন অতিথিরূপে পাঠালেন এবং ঈশানকে আজ্ঞা দিলেন ব্রাহ্মণ বালক কিরকম ভাবে অতিথি-সৎকার করে তার সমস্ত সমাচার আনবে এবং আমাকে বলবে।*
*🍀তন্ডুল দিয়া ঈশ্বরীর আনন্দ হৃদয়।*
*🍀প্রেমরূপে জন্ম বুঝি বালকের হয়।।*
*🍀তন্ডুল লইয়া বিপ্র রান্ধিল যখন।*
*🍀সেইকালে পাঠাইলা বৈরাগী দশজন।।*
*🍀অন্ন প্রস্তুত কালে বৈরাগী আকার।*
*🍀ভক্ষণের কালে যাই হৈলা সাক্ষাৎকার।।*
*🍀বৈষ্ণব দেখিয়া বড় আনন্দ হইল।*
*🍀পাইয়া সবারে বহু সম্মান করিল।।*
*🍀তাঁরা কহে আমরা বড় আছয়ে দুঃখিত।*
*🍀অন্ন দেহ মহাশয় তবে পাই প্রীত।।*
*🍀বড় দয়া করি আসি দিলা দরশন।*
*🍀প্রসাদ প্রস্তুত আসি করহ ভক্ষণ।।*
*🍀অল্প অন্ন রন্ধন কৈলা আমরা অনেক।*
*🍀না হইবে ক্ষুধা-তৃপ্তি দেখি পরতেক।।*
*🍀ক্ষুধা তৃপ্তি হবে আছে প্রসাদ লক্ষণ।*
*🍀মন্ডলী বন্ধনে বসিলা বৈষ্ণব দশজন।।*
*🍀এই মত সবারে করেন পরিবেশন।*
*🍀পাত্রে পাত্রে দেন অতি আনন্দিত মন।।*
*🍀অর্ধসের তন্ডুলের অন্ন প্রসাদ করিয়া।*
*🍀এগার বৈষ্ণবে পাইলেন আনন্দিত হৈয়া।।*
                              *(প্রেম বিলাস)*
*🌻শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী ঈশানের নিকট সব সমাচার পেয়ে ব্রাহ্মণ* *বালকটিকে দেখবার জন্য ব‍্যাকুল হলেন।বালকটি এক্ষণে গঙ্গাতীরে বাস করছেন,কি করে ঈশ্বরী তাকে দেখবেন? কৃপাময়ীর* *কৃপা অপার। এমন কৃপা কখন কারও অদৃষ্টে ঘটে না।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী রাত্রিকালে*
*দাসী সঙ্গে গঙ্গাস্নানে গিয়ে সাক্ষাৎ প্রেমময়-মূর্তি সুন্দর ব্রাহ্মণ* *বালকটিকে দেখে মনে বড় আনন্দ পেলেন।এত দুঃখের মধ্যেও দেবীর মনে একবিন্দু সুখ হল।*
*🍀সে বার্তা ঈশ্বরী শুনি ঈশানের দ্বারে।*
*🍀প্রেমরূপে জন্ম হৈলা বুঝিলা অন্তরে।।*
*🍀এমন বালক গুণ শুনিতে বড় সুখ।*
*🍀অবশ‍্য দেখিব আমি বালকের মুখ।।*
*🍀নিশাভাগে গঙ্গাস্নানে দাসী সঙ্গে করি।*
*🍀দেখিলেন বালক অতি প্রেমের মাধুরী।।*
*🍀স্নান করি নিশা থাকতে গেলা অন্তঃপুরে।*
*🍀বালক দেখিয়া হৈল আনন্দ অন্তরে।।প্রেঃবিঃ।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৬৪. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৬৪)👣শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী👣*
*👌শ্রীনিবাসের প্রতি ঈশ্বরীর কৃপা*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🌻ঈশ্বরী গৃহে এসে ভাবতে লাগলেন বালকটির সঙ্গে কিভাবে কথা বলব। তিনি পরপুরুষের মুখ তাকিয়ে কথা বলেন না।লজ্জাশীলা বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী বিষম সমস‍্যায় পড়লেন=*
*🍀কিরূপে আনিয়া তারে কথা জিজ্ঞাসিব।*
*🍀অন‍্য পুরুষের মুখ চাহি কেমনে পুছিব।।*
*🍀প্রভুর শক্তি যদি হয় লজ্জা যাবে দূরে।*
*🍀তবে সে জানিব আছে করুণা প্রচুরে।।প্রেঃবিঃ।।*
*🌻শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়ার আদেশে ঈশান শ্রীনিবাসকে মহাপ্রভু যে ঘরে থাকিতেন সেই ঘরে আনিলেন।ঈশানের মুখে ঈশ্বরীর কৃপাদেশ শুনে শ্রীনিবাস প্রেমানন্দে মত্ত হয়ে দুইটি বাহু তুলে নৃত্য করতে লাগলেন।*
*🙌উর্ধবাহু করি অনেক নৃত্য আরম্ভিল।*
*🙏শ্রীনিবাসের মনোবাঞ্জা পূর্ণ হ'ল। শ্রীগৌরাঙ্গ বিহনে তাঁর প্রাণে যে অগ্নি জ্বলছিল,সুশীতল শ্রীদেবীর শ্রীচরণ দর্শন পাবার আশায় তা কথঞ্চিত নির্বাপিত হল।শ্রীনিবাস মনে মনে ভাবছেন,এমন সৌভাগ্য কি আমার হবে যে,সাক্ষাৎ ঈশ্বরীর শ্রীচরণ দর্শন করে জীবন সফল করব। আমত দুর্ভাগা ত্রিজগতে আর একটি নাই।মহাপ্রভুর শ্রীচরণ দর্শনে বঞ্চিত হয়ে প্রাণে মরে আছি।বিষম সাহসে ভর করে অসাধ‍্য-সাধন-আশায় মহাপ্রভুর স্ব-ধামে এসেছি।ঈশ্বরীর শ্রীচরণ দর্শন সত‍্যই অসাধ‍্য-সাধন।মহাপ্রভুর কৃপায় অসম্ভবও সম্ভব হয়,অসাধ‍্য বস্তু সাধ‍্য হয়।এই মাত্র ভরসা। "জয় শ্রীগৌরাঙ্গ" বলে শ্রীনিবাস অতি সঙ্কোচের সঙ্গে কাঁদতে কাঁদতে ঈশানের পেছন পেছন মহাপ্রভুর গৃহাভ‍্যন্তরে গমন করলেন।মহাপ্রভুর অন্তঃপুরে প্রবেশ করতেই তাঁর সর্বাঙ্গ থর থর কাঁপতে লাগিল।মহাপ্রভুর আঙ্গিনায় একপাশে দূরে দাঁড়িয়ে রইলেন।*
*🍀কান্দিতে কান্দিতে চলিলেন ঈশানের পাছে।*
*🍀ভিতর প্রকোষ্ঠে যাই হইল সঙ্কোচে।।*
*🍀কাঁপিতে কাঁপিতে প্রবিষ্ট সৈলা অন্তঃপুরে।*
*🍀নিকটে না গেলেন রহিলেন কিছু দূরে।।প্রেঃবিঃ।।*
*🙏শ্রীনিবাস মহাপ্রভুর আঙ্গিনায় আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলেন না।হা গৌরাঙ্গ বলে দন্ডবৎ ভূমিতলে পড়ে উচ্চৈঃস্বরে রোদন করতে লাগলেন। ঈশ্বরী বিষ্ণুপ্রিয়া অন্তঃপট উত্তোলন করে শ্রীনিবাসকে দেখলেন।দেখেই শ্রীনিবাসের অন্তরে যে মহাপ্রভুর শক্তি নিহিত রয়েছে তা স্পষ্টই বুঝতে পারলেন।শ্রীগৌরাঙ্গ-ঘরণী পরম লজ্জাশীলা, লজ্জা ত‍্যাগ করে শ্রীনিবাসকে নিকটে আসিতে আদেশ দিলেন।*
*🍀অন্তঃপট দূর করি করিলা নিরীক্ষণ।*
*🍀আমার প্রভুর শক্তি বুঝিলা কারণ।।*
*🍀লজ্জা উপেক্ষিয়া তাঁরে আপনে ডাকিলা।*
*🍀কি নিমিত্তে রোদন কর ভ্রমহ একলা।।প্রেঃবিঃ।।*
*🌻শ্রীনিবাস ঈশ্বরীর অযাচিত কৃপা দেখে কিংকর্তব‍্যবিমূঢ়(কি করতে হবে সে বিষয়ে মূঢ়)হয়ে জড়বৎ ঈশ্বরীর শ্রীচরণ-তলে পড়ে গেলেন।মুখে কথা নেই।দুটি নয়ন দিয়ে অজস্র-বারিধারা পড়তে লাগল।অবনত বদনে ঈশ্বরীকে নিজ দুঃখকথা একে একে সকল নিবেদন করলেন।পন্ডিত গদাধর গোস্বামীর কথা,ভাগবত-পঠন-কাহিনী, মহাপ্রভুর আজ্ঞায় শ্রীধাম বৃন্দারণ‍্যে গমনেচ্ছা,মহাপ্রভুর অদর্শন জনিত শোক একে একে সব কথায় শ্রীনিবাস দেবীর নিকট কাঁদতে কাঁদতে নিবেদন করলেন।কথা শুনে শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়ার দুঃখ-সাগর উথলে উঠিল,বালক শ্রীনিবাসের দুঃখে দয়াময়ীর কোমল প্রাণে বড় ব‍্যথা লাগল। তিনি শ্রীনিবাসকে অনেক বুঝালেন।তাঁর বয়েস অল্প, কিন্তু বৈরাগ‍্য অতি কঠিন বস্তু, এই সু-কুমার দেহে দেশে দেশে কি করে ভ্রমণ করবে ইত‍্যাদি প্রবোধ বাক‍্যে ঈশ্বরী শ্রীনিবাসকে স্নেহের সঙ্গে সান্ত্বনা করলেন।*
*🍀অল্প বয়স দেখি অতি সুকুমার*।
*🍀বৈরাগ‍্য কৈলে ঘর যাহ ব্রাহ্মণ কুমার।।*
*🍀বৈরাগ‍্য কঠিন তাহা অতি বড় শক্তি।*
*🍀যোড় হাত করি অনেক করিল মিনতি।।*
*🍀আজ্ঞা হয় থাকি আমি চরণ নিকটে।*
*🍀পরাণ জুড়ায় মোর এড়াই শঙ্কটে।।প্রেঃবিঃ।।*
*🙏শ্রীনিবাস যোড়হস্তে বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর শ্রীচরণে নিবেদন করলেন, "মা জগদীশ্বরী!সংসারে এই হতভাগ‍্যের একমাত্র মা আছেন।মহাপ্রভু আমার বৃদ্ধা জননীকে ছেড়ে সন্ন‍্যাস গ্রহণ করেছিলেন,এ অধম মহাপ্রভুর আদেশে শ্রীধাম বৃন্দাবনে যাবে,অনুমতি দিয়ে কৃতার্থ করুন। শ্রীনিবাসের কথা শুনে জগদীশ্বরীর মায়ের হৃদয়-কন্দর মথিত হল। শ্রীগৌরাঙ্গ-বিরহ-দুঃখ-সমুদ্র উথলি উঠিল।শ্রীমতীর আর বাক‍্য-স্ফুরণ হল না।জড়বৎ হয়ে বসে রইলেন।*
*🍀গৌরাঙ্গ-বিচ্ছেদে বিষ্ণুপ্রিয়া কাতর অতি।*
*🍀দ্বিগুণ হইল শোক হইলা বিস্মৃতি।।প্রেঃবিঃ।।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৬৫. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৬৫)👣শ্রীশ্রীঈশ্বরী বিষ্ণুপ্রিয়া👣*
*👌শ্রীনিবাসকে কৃপা ঈশ্বরীর*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*🌻ঈশ্বরী বিষ্ণুপ্রিয়া কিছুক্ষণ পরে প্রকৃতিস্থ হয়ে বালক শ্রীনিবাসকে সস্নেহে কহিলেন "বাপু!প্রবীণ হলে তুমি বৃন্দাবনে যেও।এক্ষণে প্রসাদ পেয়ে চিত্তস্থির কর।*
*🍀চৈতন‍্যের শক্তি বিনা এমন দশা নহে।*
*🍀প্রবীণ হইলে যাবে এবে উপযুক্ত নহে।।*
*🍀এই আজ্ঞা পাইয়া সাবধানে হইলা বাহির।*
*🍀প্রসাদ ভক্ষণ কর চিত্ত হউক স্থির।।প্রেঃবিঃ।।*
*🌼ঈশান কাছে বসে শ্রীমতীর আদেশ ও শ্রীনিবাসের কাতরোক্তি নিবেদন সবই শুনলেন।শ্রীনিবাসের প্রতি বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর অপার কৃপা দেখে বিস্মিত হলেন।এইরকম কৃপা, বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী ইতিপূর্বে কখন কারও প্রতি,প্রদর্শন করেন নাই।সকল ভক্তবৃন্দ শ্রীনিবাসকে ধন‍্য ধন‍্য করতে লাগলেন।বালক শ্রীনিবাস দেবীর আদেশ পেয়ে আঙ্গিনা হতে উঠে এসে গৃহদ্বারে বসে রইলেন।*
*🌺শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী ঈশানের কাছে শ্রীনিবাসের সমাচার নিলেন।সে দিন আর দেবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হল না।শ্রীনিবাস মহাপ্রভুর গৃহদ্বারে বসে সমস্ত রাত্রি রোদন করে কাটালেন। হা গৌরাঙ্গ!হা পন্ডিত গোসাঞি! বলে কাঁদতে কাঁদতে দারুণ উৎকণ্ঠাতে নিশিযাপন করলেন।ঈশান এই সব কথা বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর কাছে নিবেদন করলেন।সব কথা শুনে শ্রীনিবাসের প্রতি ঈশ্বরীর অধিকতর কৃপা ও করুণার উদ্রেক হল।কি করে বালক শ্রীনিবাসকে শান্ত করবেন,কিভাবে তার মন সুস্থির হবে,ঈশ্বরী সেদিন রাত্রিতে শয়ন করেও ভাবতে লাগলেন।শ্রীগৌরাঙ্গ স্মরণ করে এই সকল ভাবতে ভাবতে বিষ্ণুপ্রিয়ার তন্দ্রা এলো।তখন রাত্রি প্রায় তৃতীয় প্রহর,চতুর্দিক নিস্তব্ধ, জনপ্রাণীর সাড়া-শব্দ নেই।এই সময়ে শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী স্বপ্ন দেখলেন=*
*🍀রাত্রি শেষে সংকীর্তনে একত্রেদুই ভাই।*
*🍀নাচিতে নাচিতে কহে কোথা মোর আই।।*
*🍀তোমার বধূ মোর শ্রীনিবাসে বহির্দারে।*
*🍀রাখিয়া আনন্দে আছেন আপনার ঘরে।।*
*🍀আমার যতেক কার্য‍্য শ্রীনিবাস লৈয়া।*
*🍀অভিরাম স্থানে পাঠাও ঈশান সঙ্গে দিয়া।।ঐ।।*
*🌻এই পরম অদ্ভুত স্বপ্ন দেখে বিষ্ণুপ্রিয়ার নিদ্রাভঙ্গ হল।বিষ্ণুপ্রিয়া কাঁদতে কাঁদতে শয‍্যা হতে উঠে দাসীগণের দ্বারা তৎক্ষণাৎ ঈশানকে ডেকে পাঠালেন।সেই সময় ঈশান নিদ্রিত ছিল।অনেক ডাকাডাকির পর তাঁর নিদ্রাভঙ্গ হল।তিনি করজোড়ে অপরাধীর মতো বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর কাছে এসে দাঁড়ালেন।*
*🍀ঈশান ঈশান ব'লে ডাকে দাসীগণ।*
*🍀নিদ্রাগত অতি ঈশান নাহিক চেতন।।*
*🍀বহুক্ষণে ঈশানের চেতন হইল*
*🍀ভয়ে অতি আপনাকে অধন‍্য মানিল।।*
*🍀যোড়হস্তে ঈশ্বরীর নিকট আইলা।*
*🍀মোর কাছে শ্রীনিবাস আনি আজ্ঞা দিলা।।ঐ।।*
*🌻শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী ঈশানকে আজ্ঞা দিলেন শ্রীনিবাসকে আঙ্গিনায় নিয়ে এসো।ঈশান তক্ষুনিই দেবীর আজ্ঞা প্রতিপালন করলেন।শ্রীনিবাস এসে পুনরায় মহাপ্রভুর আঙ্গিনায় ঈশ্বরীর সামনে দাঁড়িয়ে কোটি কোটি দন্ডবৎ প্রণাম নিবেদন করলেন।তখন ঈশ্বরী কিভাবে বালক শ্রীনিবাসকে কৃপা করলেন শুনুন।শ্রীনিবাসকে ঈশ্বরী কাছে ডাকলেন। ঈশ্বরীর শশিকলা-বিনিন্দিত চম্পকপুষ্প-সদৃশ শ্রীচরণ-অঙ্গুলি বস্ত্রাবৃত করে,শ্রীনিবাসের মস্তকে স্পর্শ করালেন।বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর শ্রীপদরজস্পর্শে শ্রীনিবাসের প্রেমাবেশ হল। তিনি প্রেমানন্দে কাঁদতে কাঁদতে ঈশ্বরীর পদতলে লুটিয়ে পড়লেন।*
*🙏বানান ভুল ক্ষমা করবেন🙏*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৬৬. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 *(১৬৬)👣ঈশ্বরী বিষ্ণুপ্রিয়া👣*
*🍀শ্রীনিবাসকে কৃপা ঈশ্বরীর🍀*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🌻তিনি প্রেমানন্দ কাঁদতে কাঁদতে ঈশ্বরীর পদতলে লুটিয়ে পড়লেন।*
*🍀এত কহি বস্ত্রে বেষ্টিত চরণ-অঙ্গুলি।*
*🍀শ্রীনিবাসে ডাকি চরণ দিলা মাথে তুলি।।*
*🍀চরণ পরশে অতি প্রেমাবেশ হৈলা।*
*🍀লোটাঞা ধরণীতলে কান্দিতে লাগিলা।।ঐ।।*
*🌼ধন‍্য তুমি শ্রীনিবাস! তোমার তুল‍্য সৌভাগ্যশালী পুরুষ জগতে কেউ জন্মিয়েছে কিনা সন্দেহ।ঈশ্বরী আজ তোমাকে যে কৃপা দেখালেন,শিব-বিরিঞ্চি তা পাবার আশায় যুগযুগান্তর তপস‍্যা করছেন। অজ-ভব-বাঞ্জিত শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ-ঘরণীর পদরজ পেয়ে তুমি আজ ধন‍্য হলে,দেবতা অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ হলে! তুমি শ্রীগৌরহরির দ্বিতীয় কলেবর, শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর বরপুত্র।তাই তোমার এত সৌভাগ্য।তোমার কৃপাপ্রার্থী হয়ে তোমার চরণতলে পতিত হলাম।আচার্য‍্য ঠাকুর!দয়া নিধে!শ্রীগৌরাঙ্গের প্রকাশ মূর্তি! অধম বলে চরণে ঠেলিও না।শ্রীচরণের রেণু করে রাখিও।বৈষ্ণব গোসাঞি!এ অধমকে শ্রীচরণের ধূলি করে রাখতে কৃপণতা করিও না।জীবাধমের এই ভিক্ষাটি রাখবে কি? শ্রীচরণ-ধূলি দিয়ে শ্রীনিবাসকে কৃপা করে বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী তাঁকে বললেন,*
*🍀শুন শুন ওহে বাপু তুমি ভাগ‍্যবান।*
*🍀তোমাতে চৈতন‍্য শক্তি ইথে নাহি আন।।*
*🍀তবে শান্তিপুর যাই খড়দহে যাবে।*
*🍀আচার্য‍্য গোসাঞি দেখি পরিচয় পাবে।।*
*🍀খড়দহ যাইয়া দেখিবে নিত‍্যানন্দ।*
*🍀তোমা পাইয়া জাহ্নবীর হইবে আনন্দ।।*
*🍀বিলম্ব না কর বড় যাও শীঘ্র করি।*
*🍀অনেক শুনিবে দেখিবে রূপের মাধুরী।।*
*🍀সর্বত্র মিলন করি যাও বৃন্দাবন।*
*🍀সর্ব সিদ্ধি হবে পথে করিবে স্মরণ।।ঐ।*
*🌻 পূর্বে বলা হয়েছে দাস গদাধর কর্তৃক শ্রীনিবাস বর্জিত হন।(প্রেম বিলাস গ্রন্থে একথা নাই)।এই কাহিনীটি শ্রীনিবাস ঠাকুরের শিষ্য মনোহর দাস রচিত অনুরাগবল্লী গ্রন্থে বিস্তারিত ভাবে বর্ণিত আছে।পন্ডিত গোসাঞি গদাধর শ্রীনিবাসের দ্বারা দাস গদাধরকে তরজা-প্রহেলী দ্বারা বলে পাঠিয়েছিলেন।*
*🍀মিতাকে কহিও মিতা যাবেন ও বাড়ী।*
*🌻শ্রীনিবাস ঠাকুরের দ্বারা এই সংবাদটি পাঠিয়েছিলেন।*
*🍀পন্ডিত গোসাঞি যেই সন্দেশ কহিল।*
*🍀দাস গদাধর প্রতি তাহা পাসরিল।।*
*🍀সর্বত্র ফিরিয়া নবদ্বীপ আগমন।*
*🍀দাস গদাধর হেরি হইলা স্মরণ।।অঃবঃ।।*
*🌺বালক শ্রীনিবাস কথাটি একেবারে বিস্মৃত হয়ে গিয়েছিলেন।দাস গদাধরকে দেখিবা মাত্র মনে হল।তাই তখন তাঁকে অতি সঙ্কুচিত হয়ে নিবেদন করলেন।এতে হিতে বিপরীত হল।দাস গদাধর শ্রীনিবাসের মুখে এই তরজা-প্রহেলী শুনেই রোদন করতে করতে ভূমিতে পড়ে গেলেন। নানাবিধ বিলাপ করে কাঁদতে কাঁদতে বাহ‍্যজ্ঞানহারা হয়ে জড়বৎ হয়ে রইলেন।কতক্ষণ পরে বাহ‍্যজ্ঞান হলে শ্রীনিবাসকে বললেন=*
*🍀বহুত বিলাপ করি রোদন করিলা।*
*🍀 কতক্ষণে বাহ‍্যদশা কহিতে লাগিলা।।*
*🍀আরে বিপ্র-বালক তোঁ করিলি অকার্য‍্য।*
*🍀 প্রভুর বিরহ আর এ কথা অসহ‍্য।।*.
*🍀পন্ডিত গোসাঞি অপ্রকট সমাচার।*
*🍀আসিয়াছে দিনা চারি কি করিব আর।।*
*🍀আগে যদি জানি তোঁ ধাই তো শীঘ্র তরে।*
*🍀শুনি তো কি মর্ম-কথা কহিতা আমারে।।*
*🍀তাহার আমার এই সু-সত‍্য বচন।*
*🍀শেষকালে অবশ‍্য পাঠাব বিবরণ।।*
*🍀যথা তথা থাক আমি হইবা বিদিত।*
*🍀কতদিন অপেক্ষা করিব সুনিশ্চিত।।*
*🍀সে কথা নহিলে মোর হৈল বড় দুঃখ।*
*🍀চলি যাহ পুন মোরে না দেখাইহ মুখ।।*
                     *(অনুরাগ বল্লী গ্রন্থ )*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৬৭. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 *(১৬৭)👣ঈশ্বরী বিষ্ণুপ্রিয়া👣*
*👌শ্রীনিবাসকে কৃপা ঈশ্বরীর।*
========================
*🌺 দাস গদাধর শ্রীনিবাসকে এই কারণে বর্জন করলেন।এতে শ্রীনিবাসের অপরাধ বিশেষ কিছু নাই।পন্ডিত গোস্বামীর কথাটি দাস গদাধরকে জানাতে কিছু বিলম্ব হয়েছিল।ইতিমধ‍্যে তিনি পন্ডিত গোস্বামীর অপ্রকট সংবাদ পেয়েছেন।তাই তাঁর বিশেষ দুঃখ যে তিনি পূর্ব প্রতিজ্ঞা রক্ষা করতে পারলেন না।এই কারণে দাস গদাধর বালক শ্রীনিবাসের উপর ক্রোধ হল এবং তাঁকে বর্জন করলেন।ব্রাহ্মণ বালক বৈষ্ণফের কোপে পড়লেন।শত অপরাধীর ন‍্যায় নদীয়ার দ্বারে দ্বারে কেঁদে বেড়ালেন।কিছুতেই দাস গদাধরের ক্রোধের শান্তি হল না দেখে গঙ্গায় প্রাণ বিসর্জন করবেন বলে মনে মনে স্থির করলেন।*
*🍀অপরাধী দেহ রাখিবারে না যুয়ায়।*
*🍀আত্মঘাত মহাদোষ কি করি উপায়।।অঃবঃ।।*
*🌷এই মনে করে গঙ্গার ঘাটে নিশ্চেষ্টবৎ পড়ে রইলেন।অন্নজল ত‍্যাগ করে প্রাণপাত করবেন এই স্থির করলেন।ঈশানের মুখে শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী এই কথাটিও শুনলেন। শুনে দাস গদাধরকে ডেকে পাঠালেন।শ্রীনিবাসকেও ডেকে পাঠালেন।ভক্তবৃন্দের সঙ্গে উভয়েই প্রসাদ-বন্টনের সময় মহাপ্রভুর আঙ্গিনায় দাঁড়ালেন।তখন দেবী দাস গদাধরকে বললেন=*
*🍀গদাধরে কহে একি অপূর্ব কাহিনী।*
*🍀ব্রাহ্মণ বালক প্রাণ ছাড়ে ইহা শুনি।।*
*🍀জানিয়া না কহে যদি অপরাধ ভাল।*
*🍀বিস্মৃতি হইল তাহে কি করু ছাওয়াল।।*
*🍀যদি বা আমারে চাহ মোর বোল ধর।*
*🍀সাক্ষাতে আনিয়া অপরাধ ক্ষমা কর।।*
*🍀আমার অগ্রেতে তুমি অপ্রকট হৈয়া।*
*🍀করহ প্রসাদ অপরাধ ঘুচাইয়া।।অঃবঃ।।*
*🌻দাস গদাধর বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর আদেশ শিরোধার্য‍্য করে বালক শ্রীনিবাসের সকল অপরাধ মার্জনা করলেন।মহাপ্রভুর আঙ্গিনায় দেবীর সম্মুখে শ্রীনিবাস ঠাকুরের অপরাধ ভঞ্জন হ'ল।ব্রাহ্মণ-কুমার শ্রীনিবাস দাস গদাধরের চরণ ধরে ধূলায় লুটিয়ে পড়লেন।দাস গদাধর শ্রীনিবাসকে হাত ধরে উঠিয়ে প্রেমালিঙ্গন দান করে প্রসন্ন করলেন।*
*🍀গদাই চরণ ধরি ঠাকুর পড়িলা*।
*🍀উঠাইয়া আলিঙ্গন প্রসাদ করিলা।।অঃবঃ।।*
*🌻শ্রীনিবাস ঈশ্বরীর কৃপায় দাস গদাধরের আলিঙ্গন প্রসাদ পেয়ে কৃতার্থ হলেন। তিনি উপস্থিত ভক্তগণের চরণ-ধূলি নিলেন।তার পর প্রসাদান্ন নিয়ে নিজ জায়গায় আসিলেন।এসে সকলকে বিতরণ করলেন।*
*🍀সর্ব পার্ষদের পায় দন্ডবৎ করি*।
*🍀উঠিয়া সভার লইল চরণের ধূলি।।*
*🍀তবে প্রসাদান্ন লইয়া আইলা সেখানে।*
*🍀এক এক করি বাঁটি দিলা সর্বজনে।।ঐ।।*
*🌻শ্রীনিবাসের অপরাধ-ভঞ্জন কাহিনী যিনি শ্রদ্ধার সহিত শ্রবণ ও পঠন করেন,তাঁর বৈষ্ণব-অপরাধ খন্ডন হয়।*
*🍀শ্রদ্ধা করি এই লীলা শুনে যেই জন।*
*🍀বৈষ্ণবাপরাধ তার হয় বিমোচন।।ঐ।।*
*🌺শ্রীনিবাস ঠাকুরের পরিচয় শুনুন। ইঁহার পিতার নাম শ্রীচৈতন‍্য দাস।ইনি রাঢ়ীয়শ্রেণীর কুলীন ব্রাহ্মণ সন্তান।নদীয়া জেলার অন্তর্গত উত্তর-চাকন্দী গ্রামে শ্রীনিবাস ঠাকুরের আবির্ভাব হয়।শ্রীচৈতন‍্য দাসের পূর্ব নাম গঙ্গাধর ভট্টাচার্য্য। শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গসুন্দরের কৃপাপাত্র হলে বৈষ্ণব মতে ইঁহার নাম হয় শ্রীচৈতন‍্য দাস।শ্রীনিবাসের মাতার নাম লক্ষ্মীপ্রিয়া।শ্রীচৈতন‍্য দাস অপুত্রক ছিলেন।নীলাচলে মহাপ্রভুকে দর্শন করতে গিয়ে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের কাছে একটি পুত্র কামনা করেন। শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর কৃপায় এই পুত্ররত্নটি লাভ হয়।অতি শৈশবকালেই শ্রীনিবাসের পিতৃ বিয়োগ হয়।তাঁর মাতুলাশ্রয় কাটোয়ার কাছে যাজিগ্রামে কিছুদিন বাস করে সেখানে বিদ‍্যাশিক্ষা করেন।শৈশবকাল হতেই বালক শ্রীনিবাসের মনে তীব্র বৈরাগ‍্যের উদয় হয়। সংসারাশ্রমে থাকতে তাঁর এক দন্ডও মন লাগত না।মাতুলাশ্রয় ত‍্যাগ করে তিনি মহাপ্রভুর শ্রীচরণ দর্শন লালসায় নীলাচলে গমন করেন।নীলাচলে গিয়ে মহাপ্রভুর অপ্রকট সংবাদে জীবন্মৃত হয়ে পড়েছিলেন।পন্ডিত গোস্বামী গদাধরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হল।পন্ডিত গোস্বামীর প্রতি মহাপ্রভুর আদেশ ছিল শ্রীনিবাস নীলাচলে আসিলে তাকে ভাগবতের শ্রীকৃষ্ণলীলা শুনাবেন।পন্ডিত গোস্বামী ভাগবত খানি নেত্রজলসিক্ত হয়ে একেবারে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তিনি শ্রীনিবাসকে বললেন।*
*🍀শ্রীভাগবত পড়াইতে প্রভুর আজ্ঞা আছে।*
*🍀অশ্রুজলে অক্ষর সব লুপ্ত হইয়াছে।।*
*🍀আমার লিখন দিহ নরহরি হাতে।*
*🍀নবীন পুস্তক এক দেন তোমার সাথে।।*
*🍀তোমার নিমিত্ত প্রভুর আজ্ঞা বলবান।*
*🍀বিলম্ব না কর সব কর সমাধান।।*
*🍀রাধা-কৃষ্ণ-লীলাকালে শ্রীগুণমঞ্জরী।*
*🍀সেই সে গোপাল ভট্ট সমান মাধুরী।।*
*🍀শিষ‍্য হব প্রভু বড় সাধ আছে মনে।*
*🍀গুণমঞ্জরী নাম শুনি উল্লাস শ্রবণে।।*
*🍀মঞ্জরীকে প্রভুর আজ্ঞা হইয়াছে দেখি।*
*🍀নবদ্বীপে ঈশ্বরী জিউ স্থানে পাবে সাক্ষী।।*
*🍀গোপীনাথের অধর-শেষ করিয়া ভক্ষণ।*
*🍀আজি শুভদিন গৌড়ে করহ গমন।।প্রেঃবিঃ।।*
*🌻পন্ডিত গোস্বামীর অতি বৃদ্ধ হয়েছেন।পূর্ণ জরাগ্রস্ত। তাঁর তখন নিত‍্যধাম গমনের সময় এসেছে দেখে শ্রীনিবাস ভাবলেন, গৌড়দেশ হতে ফিরে এসে আর হয়ত ইঁহার দর্শনলাভের সম্ভাবনা নাই।কি করবেন,আজ্ঞা বলবান। তিনি গৌড়দেশে ফিরে এলেন।পথের মধ্যে পন্ডিত গোস্বামীর অপ্রকট সংবাদ পেয়ে হাহাকার করতে করতে দুঃসংবাদ নিয়ে নবদ্বীপে এসে পড়লেন।নবদ্বীপে এসে কিভাবে ঈশ্বরীর কৃপা লাভ করলেন তা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।*
*🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৬৮. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৬৮)👣শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী👣*
*🙌শ্রীধাম-নবদ্বীপে শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর শ্রীমূর্তি-প্রতিষ্ঠা🙌*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*আমার আদেশ এই করহ শ্রবণ।*
*যে নিম্ব-তলায় মাতা দিলা মোরে স্তন।।*
*সেই নিম্ব-বৃক্ষে মোর মূর্তি নির্মাইয়া।*
*সেবন করহ তাতে আনন্দিত হৈয়া।।*
*সেই দারু-মূর্তি মধ্যে মোর হবে স্থিতি।*
*এ লাগি সেবাতে তার পাইবে পীরিতি।।*
                        *(বংশী শিক্ষা গ্রন্থ)*
*🙏শ্রীগৌরাঙ্গের অপ্রকট সংবাদে ভক্তবৃন্দ শোকে আকুল হয়ে দিবানিশি কাঁদতে লাগলেন। নদীয়াবাসী শোকের সাগরে ভাসছে। বংশীবদনের দুঃখের সীমা নেই।ঈশান নিত‍্যধামে গমন করেছেন।তিনি ভাগ‍্যবান ছিলেন।বংশীবদন ঈশানের ভাগ‍্য স্মরণ করে নিজ মন্দ-ভাগ‍্যকে শতবার ধিক্কার দিচ্ছেন, আর নিশিদিন রোদন করছেন। কেঁদে কেঁদে তাঁর চক্ষু দুটি অন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে।বংশীবদনের দুঃখে বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীও কাতরা।তিনি গৃহের বাহির হন না।রুদ্ধ-দ্বার -গৃহে বসে কঠোর ভজনে দিন রাত্রি অতিবাহিত করছেন।বংশীবদন ঈশ্বরীর কঠোর ভজন-প্রথা দেখে মনে বড় কষ্ট পাচ্ছেন।কিন্তু সাহস করে কিছু বলতে পারছেন না।এইভাবে কিছুকাল কেটে গেল।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী ও বংশীবদন উভয়েই একদিন রাত্রে স্বপ্ন দেখলেন,যেন শ্রীমন্মহাপ্রভু বলছেন, আমার জন্য তোমরা মিছে ক্রন্দন করিও না।আমার এই আদেশ শ্রবণ কর।যে নিম্ব-বৃক্ষতলে আমার জন্ম, আর নিম্ব-বৃক্ষ-মূলে বসে জননী আমাকে স্তনপান করাতেন,সেই নিম্ববৃক্ষ দ্বারা আমার দারুমূর্তি নির্মাণ করিয়ে এই নবদ্বীপ-ধামে প্রতিষ্ঠা কর,এবং তার সেবা কর।সেই দারুমূর্তির মধ্যে আমার স্থিতি হবে। শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া অন্দর মহলে নিজ ঘরে শয়ন করেছিলেন।বংশীবদন বহির্বাটিতে নিদ্রিত ছিলেন।উভয়েই নিশি-শেষে একই সময়ে মহাপ্রভুর এই স্বপ্নাদেশ প্রাপ্ত হয়ে দুই ঘরে দুই জন চিৎকার করে কেঁদে উঠলেন।*
*🍀প্রভুর একথা স্বপ্নে শ্রবণ করিয়া।*
*🍀দুই ঘরে দুই জন উঠেন কান্দিয়া।।বঃশিঃ।।*
*🌻উভয়ে উভয়ের স্বপ্ন-বৃত্তান্ত শ্রবণ করে বিস্মিত হলেন।মনে মনে মহাপ্রভুর আদেশ পালনে দৃঢ় সঙ্কল্প হয়ে বংশীবদন সেই দিনই কর্মকার ডেকে মহাপ্রভুর গৃহে থাকা পুরাতন নিমগাছটি কাটালেন।*
*🍀রজনী প্রভাত হইলে ডাকিয়া কামার।*
*🍀সেই নিম্ব-বৃক্ষ কাটে চট্টের কুমার।।ঐ।।*
*🌻অতঃপর একজন সুদক্ষ ভাস্করকে ডেকে শ্রীগৌরাঙ্গ সুন্দরের দারুমূর্তি নির্মাণ করতে আদেশ দিলেন।ভাস্কর এসে কেঁদে করযোড়ে বংশীবদনের কাছে নিবেদন করল,তার দ্বারা এই গুরুতর কাজ সুসম্পন্ন হবার আশা নাই।বংশীবদন তাকে আশ্বাস বাক‍্যে বললেন, মহাপ্রভু শক্তি দান করবেন।তুমি এই শুভ কাজে হস্তক্ষেপ কর।*
*🍀তবে ডাক দিয়া বংশী কহেন ভাস্করে।*
*🍀গৌরাঙ্গের মূর্তি এই কাষ্ঠে দাও ক'রে।।*
*🍀ভাস্কর কান্দিয়া কহে মোর শক্তি নাই।*
*🍀বংশী কন দিবে শক্তি ঠাকুর নিমাই।।বঃশিঃ।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৬৯. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৬৯)👣শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী👣*
*শ্রীধাম-নবদ্বীপে শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর শ্রীমূর্তি-প্রতিষ্ঠা।*
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🌻ভাস্কর তখন অগত‍্যা শ্রীগৌরাঙ্গ স্মরণ করে এই শুভকার্য‍্যে ব্রতী হল।এক পক্ষের মধ্যে শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর দারুমূর্তি প্রস্তুত হয়ে আসিল।বংশীবদন মহাপ্রভুর শ্রীমূর্তি দর্শন করে আনন্দে বিহ্বল হলেন।তিনি শ্রীমূর্তির পদ্মাসনের নিম্নভাগে লৌহ অস্ত্র দ্বারা নিজ নাম খোদিত করলেন।শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর শ্রীমূর্তিকে ভাস্কর যখন বস্ত্রালঙ্কারে ও মাল‍্য চন্দনে ভূষিত করল, বংশীবদন ও শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী উভয়েই শ্রীমন্মহাপ্রভুর মূরতি দর্শন করে কেঁদে আকুল হলেন।শ্রীমন্মহাপ্রভুর অবিকল প্রতিকৃতি নয়নের সামনে দেখে শ্রীমতী ভাবলেন, এই তো প্রাণনাথের দর্শন পেলাম।এই ভেবে অঝোর-নয়নে প্রেমাশ্রু বিসর্জন করতে লাগলেন।*
*🍀তবে ত ভাস্কর করি প্রভুরে প্রণাম।*
*🍀নির্জনে বসিয়া করে শ্রীমূর্তি নির্মাণ।।*
*🍀এক পক্ষ মধ্যে মূর্তি নির্মাণ করিয়া।*
*🍀ঠাকুরে সংবাদ দিল ভাস্কর যাইয়া।।*
*🍀ঠাকুর আসিয়া শ্রীমূতির পদ্মাসনে।*
*🍀লৌহ অস্ত্রে নিজ নাম করিলা লিখনে।।*
*🍀তবে বস্ত্র-সেবা আদি সারিয়া ভাস্কর।*
*🍀প্রভুরে দেখায় ডাকি গৌরাঙ্গ-সুন্দর।।*
*🍀গৌরাঙ্গ দেখিয়া বংশী ভাবে মনে মনে।*
*🍀সেই ত পরাণনাথে পানু দরশনে।।*
*🍀তবে বিষ্ণুপ্রিয়া যাঞা গৌরাঙ্গ সুন্দরে।*
*🍀দরশন করি দেবী ভাবেন অন্তরে।।*
*🍀সেই ত পরাণনাথে দেখিতে পাইনু।*
*🍀যাঁর লাগি মনাগুনে দহিয়া মরিনু।।বঃশিঃ।।*
*🙏বংশীবদন তখন একটি শুভদিন স্থির করে ভক্তমন্ডলীর নিকট পত্রিকা পাঠালেন।নির্ধারিত দিনে সকল ভক্তগণ শ্রীধাম নবদ্বীপে এসে এই শুভকার্য‍্যে যোগদান করে কৃতার্থ হলেন।বংশীবদন এই শুভকার্য‍্য উপলক্ষ্যে একটি মহা-মহোৎসবের আয়োজন করলেন।ভারে ভারে খাদ‍্যদ্রব‍্যাদি কোথা হতে কে এনে দিল,তা কেউ বুঝতে পারলেন না। শ্রীশ্রীমহালক্ষ্মী-রূপা শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর কৃপায় বংশীবদনের ভান্ডার অক্ষয় হ'ল।দীন দুঃখীকে দান,বৈষ্ণব সেবন প্রভৃতি কার্য‍্য সুসম্পন্ন হয়ে গেল।শ্রীশ্রীঈশ্বরীর তত্ত্বাবধারণে এই মহাযজ্ঞ সুসম্পন্ন হ'ল।প্রচ্ছন্নভাবে (অলক্ষিতে)দেবগণ এসে অন্তরীক্ষ হতে শ্রীশ্রীগৌর-ভগবানকে দর্শন করে মহানন্দে নৃত্য করতে লাগলেন।স্বর্গীয় সৌরভে যজ্ঞ-স্থান পরিপূর্ণ হল।*
*🍀দিন স্থির করি তবে মূর্তি-প্রতিষ্ঠার।*
*🍀সর্ব ঠাঁই পত্র দিলা চট্টের কুমার।।*
*🍀নিরূপিত দিনে সবে কৈলা আগমন।*
*🍀শ্রীমূর্তি প্রতিষ্ঠা তবে করেন বদন।।*
*🍀মূর্তি প্রতিষ্ঠার কৈল আয়োজন যত।*
*🍀শ্রীঅনন্তদেব নারে বর্ণিবারে তত।।*
*🍀প্রচ্ছন্ন-ভাবেতে আসি যত দেবগণ।*
*🍀প্রতিষ্ঠার কালে গোরা করেন দর্শন।।*
*🍀প্রতিষ্ঠা করিয়া প্রভু শ্রীবংশীবদন।*
*🍀সকলে করান মহাপ্রসাদ ভোজন।।বঃশিঃ।।*
*🙏মহাপ্রভুর শ্রীমূর্তি প্রতিষ্ঠা-কার্য‍্য সমাপন হলে তাঁর নিত‍্যপূজা ও ভোগের জন্য শ্রীশ্রীঈশ্বরী তাঁর ভাই শ্রীপাদ যাদব মিশ্রের পুত্রকে নিয়োজিত করলেন।বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর ভ্রাতা ও ভ্রাতৃষ্পুত্র শ্রীযাদবনন্দন মহাপ্রভুর সেবার ভার প্রাপ্ত হয়ে কৃতার্থ হলেন।সর্বকর্ম পরিত‍্যাগ করে তাঁরা পিতা-পুত্রে শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর সেবাকার্য‍্যে মনোনিবেশ করলেন।অদ‍্যাবধি শ্রীপাদ যাদব মিশ্রের বংশাবলী শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর দারুমূর্তির নিত‍্য পূজা করে আসছেন।শ্রীধাম নবদ্বীপের গোস্বামীগণ এই যাদব মিশ্রের বংশসম্ভূত।ইঁহারা শক্তিমন্ত্রে দীক্ষিত হলেও মহাপ্রভুর শ‍্যালক বংশ বলে বৈষ্ণবোচিত সকল কর্মই করে আসছেন।শ্রীমন্মহাপ্রভুর কৃপায় এখনও তাঁরা পরিপূর্ণ রয়েছেন।শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর তাঁর শ‍্যালকবংশের উপর বড়ই কৃপাবান।মহাপ্রভু তাঁর শ্বশুর শ্রীপাদ সনাতন মিশ্রের অনুরোধে তাঁর পুত্র যাদবের প্রতিপালনের ভার নিয়েছিলেন, অদ‍্যাবধি মহাপ্রভু সেই অনুরোধ রক্ষা করে আসছেন।মহাপ্রভুর শ‍্যালক বংশের শ্রীবৃদ্ধি লক্ষিত হয়।এ কার্য‍্যেও মহাপ্রভুর লীলার রহস‍্য অনুভূত হয়।মহাপ্রভু ঐশ্বর্য‍্য দানে শ‍্যালকবংশকে ভুলিয়ে রেখেছেন।*
🙌🙌🙌🙌জয় মহাপ্রভুর জয়🙌🙌🙌🙌
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৭০. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 *(১৭০)🙏শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী🙏*
*শ্রীধাম নবদ্বীপে শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর শ্রীমূতি প্রতিষ্ঠা।*
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🍀তবে দেবী শ্রীযাদব মিশ্রের নন্দনে।*
*🍀নিয়োজিত করিলেন প্রভুর সেবনে।।*
*🍀ভাগ‍্যবান্ যাদব নন্দন মহাশয়*
*🍀প্রভুর সেবার লাগি সকল ছাড়য়।।বঃশিঃ।।*
*🌻শ্রীবংশীবদন প্রতিদিন শ্রীশ্রীমহাপ্রভুর শ্রীচরণে তুলসী ও গঙ্গাজল অর্পণ করেন, এবং শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর সেবা করেন।*
*🍀প্রতিদিন পূজা কালে শ্রীবংশীবদন।*
*🍀প্রভুর চরণে করে তুলসী অর্পণ।।বঃশিঃ।।*
*🙏এইভাবে কিছুকাল শ্রীগৌরাঙ্গ ভজন করে নবদ্বীপধামে শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর শ্রীচরণ-তলে নশ্বর দেহ ত‍্যাগ নিত‍্যধামে গমন করলেন।মহাপ্রভুর দারুমূর্তি প্রতিষ্ঠাতা গৌরভক্তপ্রবর শ্রীবংশীবদন ঠাকুরকে নবদ্বীপের সমস্ত লোক বিশেষ ভক্তি ও শ্রদ্ধা করতেন।সকলেই জানতেন বংশীবদন শ্রীগৌরাঙ্গের একান্ত অন্তরঙ্গ দাস।অন্তরঙ্গ দাস না হলে কি শ্রীঈশ্বরীর সেবাকার্য‍্যে নিযুক্ত হতে পারতেন? সকলেই তাঁর দেহত‍্যাগ সংবাদে মর্মাহত হলেন।শ্রীগৌরহরির অদর্শন জনিত শোক নবদ্বীপবাসীর মনে পুনরুদ্দীপিত হল।*
*🍀গৌরাঙ্গ-বিরহে যৈছে সন্তাপ সবার।*
*🍀বংশীর বিরহে তৈছে এই যে প্রকার।।বঃশিঃ।।*
*😭শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী প্রিয় শিষ‍্যের দেহত‍্যাগ সংবাদে মনে দারুণ সন্তাপ পেলেন।তাঁর প্রিয়সখি কাঞ্চনা সদাসর্বদা বিষ্ণুপ্রিয়ার সেবা-শুশ্রূষা করেন।সঙ্গে দামোদর পন্ডিতও এখনও বর্তমান।অতি বৃদ্ধ হয়েছেন,তিনি দেবীর তত্ত্বাবধারণ সমভাবেই করে আসছেন।ঈশান ও বংশীবদন থাকতে তাঁর কোন চিন্তাই ছিল না।এক্ষণে বৃদ্ধ দামোদর পন্ডিতকে বিশেষ করে বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর দেখা শুনা করতে হয়।কারণ তিনি একাকিনী।সখি কাঞ্চনার সঙ্গেও শ্রীমতী মাঝে মধ্যে খুব সকালে গঙ্গাস্নান করে মহাপ্রভুর শ্রীমূর্তি দর্শন করেন।যখনই শ্রীমূর্তি দর্শন করেন বিষ্ণুপ্রিয়া কেঁদে আকুল হন।বেশীক্ষণ সেখানে থাকতে পারেন না। বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর আদেশে শ্রীবংশীবদন ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত মহাপ্রভুর শ্রীমূর্তি অদ‍্যাবধি শ্রীধাম নবদ্বীপে পরম ভক্তিভরে ও সমাদরে সমগ্র গৌড়ীয় বৈষ্ণবমন্ডলীর দ্বারা পূজিত হয়ে আসছেন।শ্রীবংশীবদন ঠাকুরের বংশাবলী শ্রীপাঠ বাঘনাপাড়ার শ্রীপাদ গোস্বামীগণের অচলা-গৌরভক্তি প্রভাবে কলি-হত জীবের মহোপকার সংসাধিত হচ্ছে।তাঁরা তাঁদের পিতৃপুরুষের গৌরব রক্ষা করে কলি ক্লিষ্ট জীব সকলকে অকাতরে প্রেমভক্তি দান করুন,তাঁদের শ্রীচরণে জীবাধম গ্রন্থকারের এই নিবেদন।শ্রীবংশীবদন ঠাকুরের বংশধরগণের এ শক্তি আছে,কলির জীব উদ্ধার কল্পে এই শক্তি নিয়োজিত করে ঠাকুর বংশীবদনের বংশের সম্মান রক্ষা করুন। ঠাকুর বংশীবদন!তুমি কৃপাময়। এ নরাধমের প্রতি একবার কৃপাদৃষ্টি করবে না কি? কৃপা করে কেশে ধরে সংসার নরক-কুন্ড হতে উত্তোলন কর।পূতিগন্ধময় নরক-কীটে দংশন করে পাপদেহ জর্জরিত করে তুলেছে।ঠাকুর! তোমার কৃপা না হলে শ্রীগৌরাঙ্গ সুন্দরের কৃপা লাভ খুবই কঠিন। তোমার শ্রীচরণে কোটি কোটি প্রণিপাত।কৃপা করে শ্রীগৌরপ্রেম ভিক্ষাদানে এ নরাধম সংসার-কীটকে কৃতার্থ কর।শ্রীগৌরাঙ্গ-দাস নামের প্রকৃর পরিচয় দাও।এই ভিক্ষা ছাড়া এ অধমের অন‍্য কোন প্রার্থনা নাই। ঠাকুর! তুমি শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর সাক্ষাৎ কৃপাপাত্র।তুমি ইচ্ছে করলে সব করতে পারো। তোমার কৃপা কটাক্ষে সর্বসিদ্ধি লাভ হতে পারে। কৃপা করে এ জীবাধমের শিরে শত সহস্রবার পদাঘাত করে কৃত-কৃতার্থ কর।এই কৃপা প্রদর্শন করলেই যথেষ্ট হবে।হে ঠাকুর!এতে যেন কৃপণতা করিও না।মস্তক পেতে বসে আছি🙏*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৭১. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 *(১৭১)👣শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী👣*
*😭শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর কঠোর ভজন-বৃত্তান্ত শ্রবণে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের দুঃখ।শ্রীজাহ্নবা ও সীতাদেবীর সহিত প্রিয়াজীর মিলন।*
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
*যে কষ্ট সহেন মাতা কি কহিমু আর।*
*অলৌকিক শক্তি বিনা ঐছে শক্তি কার।।*
                    *(অদ্বৈত প্রকাশ)*
*🙏শ্রীশ্রীনিত‍্যানন্দ প্রভু স্বধামে গমন করেছেন।শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্য তাঁর আনা ধন শ্রীগৌরাঙ্গ বিহনে জীবন্মৃত হয়ে শান্তিপুরে বাস করছেন।তিনি এক্ষণে অতি বৃদ্ধ হয়েছেন।তাঁর বাল‍্য সহচর,ঈশান নাগরকে একদিন ডেকে বললেন, ঈশান!একবার নবদ্বীপের সমাচার নিয়ে এসো।তখন শচীমা দেহত‍্যাগ করেছেন।বিষ্ণুপ্রিয়া মাতা কেমন আছেন, কি ভাবে জীবন অতিবাহিত করছেন,একবার তুমি তত্ত্ব নিয়ে এসো।*
*🍀একদিন মুঞি কীট প্রভু আজ্ঞা দ্বারে।*
*🍀নবদ্বীপের তত্ত্ব জানি আইনু শান্তিপুরে।।অঃপ্রঃ।।*
*🌻ঈশান নাগর অদ্বৈতাচার্য‍্যের আদেশে নবদ্বীপে এসে শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়ার কঠোর শ্রীগৌরাঙ্গ ভজন প্রথা স্বচক্ষে দেখে এসে অদ্বৈতাচার্য‍্যকে সবকথা বিস্তারিত বললেন।নবদ্বীপে গিয়ে দামোদর পন্ডিতের অনুগ্রহে ঈশান নাগর বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর শ্রীচরণ দর্শন লাভে কৃত কৃতার্থ হয়েছিলেন।গদাধর দাস,শ্রীরাম পন্ডিত প্রভৃতি ভক্তগণ প্রসাদ নিতে দেবীর মন্দিরে নিত‍্য আসিতেন।ঈশান নাগর স্বপ্রণীত শ্রীশ্রীঅদ্বৈত-প্রকাশ গ্রন্থে শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর কঠোর ভজন সম্বন্ধে যা লিখেছেন, তা পাঠ করলে পাষন্ডেরও পাষাণ-হৃদয় বিগলিত হয়।যে সকল অতি গুহ‍্য-ভজন-কথা ঈশান নাগর দামোদর পন্ডিতের মুখে শুনেছিলেন, তিনি শান্তিপুর গিয়ে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের নিকটে সে সব কথা ব‍্যক্ত করেন।কৃপাময় ভক্তগণ, শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর কঠোর ভজনের কথা শ্রবণ করে প্রাণভরে আস্বাদন করুন ও ক্রন্দন করুন।দেবীর দুঃখে দুই ফোঁটা নয়নজল পড়লে আপনাদের চিত্ত শুদ্ধি হবে,সর্বপাপ ধৌত হবে।শ্রীমতীর কঠোর ভজনের কথা ভক্তিপূর্বক শ্রবণ করুন।শ্রীঈশান নাগর বলছেন=*
*🍀বিষ্ণুপ্রিয়া মাতা শচীদেবীর অন্তর্ধ‍ানে।*
*🍀ভক্ত-দ্বারে দ্বাররুদ্ধ কৈলা স্বেচ্ছাক্রমে।।*
*🍀তাঁর আজ্ঞা বিনা তানে নিষেধ দর্শনে।*
*🍀অত‍্যন্ত কঠোর ব্রত করিলা ধারণে।।*
*🍀প্রত‍্যূষেতে স্নান করি কৃতাহ্নিক হঞা।*
*🍀হরিনাম করি কিছু তন্ডুল লইয়া।।*
*🍀নাম প্রতি এক তন্ডুল মৃৎ-পাত্রে রাখয়।*
*🍀হেন মতে তৃতীয় প্রহর নাম লয়।।*
*🍀জপান্তে সেই সংখ‍্যার তন্ডুল মাত্র লইয়া।*
*🍀যত্নে পাক করে মুখ বস্ত্রেতে বান্ধিয়া।।*
*🍀অলবণ অনুপকরণ অন্ন লইয়া।*
*🍀মহাপ্রভুর ভোগ লাগায় কাকুতি করিয়া।।*
*🍀বিবিধ বিলাপ করি দিয়া আচমনী।*
*🍀মুষ্টিক-প্রসাদ মাত্র ভুঞ্জেন আপনি।।*
*🍀অবশেষে প্রসাদান্ন বিলায় ভক্তেরে।*
*🍀ঐছন কঠোর ব্রত কে করিতে পারে।।অঃপ্রঃ।।*
😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৭২. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৭২)👣শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়াদেবী👣*
*😭বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর কঠোর ভজন-বৃত্তান্ত শ্রবণে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের দুঃখ,শ্রীজাহ্নবা ও সীতাদেবীর সহিত প্রিয়াজীর মিলন।😭*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🌻শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর এই অতি কঠোর ভজন-বৃত্তান্ত শুনে ঈশান নাগর মর্মান্তিক কষ্ট পেলেন ; তাঁর হৃদয়ে যেন এইসব কঠোর ভজনের কথাগুলিতে বজ্রসম আঘাত লাগল।তিনি কেঁদে আকুল হয়ে ভাবতে লাগলেন কি উপায়ে একটিবার মাত্র শ্রীঈশ্বরীর শ্রীচরণ-কমল দর্শন করে জীবন সার্থক করবেন এবং কৃত-কৃতার্থ হবেন।দয়াময়ী মায়ের কর্ণে ভক্তের কাতর ক্রন্দন প্রবেশ করল।তাঁর আদেশে গদাধর দাস,শ্রীরাম পন্ডিত, দামোদর পন্ডিত প্রভৃতি ভক্তগণের সঙ্গে শ্রীঈশ্বরীর অন্তঃপুরে যেতে অনুমতি পেলেন।*
*🍀বজ্রঘাত-সম বাক‍্য করিয়া শ্রবণ।*
*🍀ভাবিনু মাতারে কৈছে পাইমু দর্শন।।*
*🍀হেনকালে আইলা তথা দাস গদাধর।*
*🍀শ্রীরাম পন্ডিত আদি ভকত প্রবর।।*
*🍀প্রসাদ লইতে সভে দামোদর সনে।*
*🍀অন্তঃপুরে প্রবেশিলা সজল নয়নে।।*
*🍀তবে বিষ্ণুপ্রিয়া মাতার আজ্ঞা অনুসারে।*
*🍀মো অধমে লঞা পন্ডিত গেলা অন্তঃপুরে।।অঃপ্রঃ।।*
*🌻ঈশান নাগর সেখানে গিয়ে যা দেখলেন,তাতে তাঁর সর্বাঙ্গ শিহরিয়া উঠিল। তিনি দেখলেন,শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর সর্ব-অঙ্গ-মলিন,জীর্ণ বস্ত্রাচ্ছাদিত।বস্ত্রে ঢাকা বিষাদময়ী দেবী প্রতিমার কেবল শ্রীচরণ-কমলদ্বয় দেখা যাচ্ছে।ঈশান নাগরের কোটি জন্মের ভাগ‍্যফলে দেবীর শ্রীচরণ দর্শন লাভ হল। তিনি কৃত-কৃতার্থ হলেন।*
*🍀যাঞা দেখি কান্ডা পটে মায়ের অঙ্গ ঢাকা।*
*🍀কোটি ভাগ‍্যে শ্রীচরণ মাত্র পাইনু দেখা।।অঃপ্রঃ।।*
*🙏ঈশান নাগর মহাভাগ‍্যবান।শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ-বক্ষ-বিলাসিনী শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর শ্রীচরণ দর্শন পেলেন এবং তাঁর প্রদত্ত মহাপ্রসাদ লাভে জীবন সার্থক করলেন।ঈশান নাগরের মনের বিষাদ ঘুচিল, তিনি কৃতার্থ হলেন।*
*🍀ভক্ত কৃপা বলে কিঞ্চিৎ পাইনু প্রসাদ।*
*🍀কৃতার্থ হইনু মনের ঘুচিল বিষাদ।।অঃপ্রঃ।।*
*🌻প্রেম বিলাস গ্রন্থে শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর কঠোর ভজন বৃত্তান্ত এইরকম বর্ণিত আছে =*
*🍀ঈশ্বরীর নাম গ্রহণ শুন ভাই সব।*
*🍀যে কথা শ্রবণে লীলার হয় অনুভব।।*
*🍀নবীন মৃৎ-ভাজন আনে দুই পাশে ধরি।*
*🍀এক শূন‍্যপাত্র আর পাত্র তন্ডুল ভরি।।*
*🍀একবার জপে ষোল নাম বত্রিশ অক্ষর।*
*🍀এক তন্ডুল রাখেন পাত্রে আনন্দ অন্তর।।*
*🍀তৃতীয় প্রহর পর্য‍্যন্ত লয়েন হরিনাম।*
*🍀তাতে যে তন্ডুল হয় লৈয়া পাকে যান।।*
*🍀সেই সে তন্ডুল মাত্র রন্ধন করিয়া।*
*🍀ভক্ষণ করান প্রভুকে অশ্রুযুক্ত হৈয়া।।*
*🍀রাত্রি দিন হরিনাম প্রভুর সংখ্যা যত।*
*🍀সে চেষ্টা বুঝিতে নারি বুদ্ধি অতিহত।।*
*🍀প্রভুর প্রেয়সী যেঁহো তাঁহার কি কথা।*
*🍀দিবা নিশি হরিনাম লয়েন সর্বথা।।*
*🍀তাঁহার অসাধ‍্য কিবা নামে এত আর্তি।*
*🍀নাম লয়েন তাহে রোপণ করেন প্রভুর শক্তি।।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৭৩. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৭৩)👣শ্রীশ্রীঈশ্বরী বিষ্ণুপ্রিয়া👣*
*😭বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর কঠোর ভজন-বৃত্তান্ত শ্রবণে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের দুঃখ,শ্রীজাহ্নবা ও সীতাদেবীর সহিত প্রিয়াজীর মিলন😭*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
*🌻পরম কৃপাময়ী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর আহারের অল্পতার পরিমাণ বুঝে নিন। ষোল নাম বত্রিশ অক্ষর জপ করে মৃৎ-ভান্ডে (একটি মাটির ছোট পাত্রে)একটি করে তন্ডুল রাখতেন।তৃতীয় প্রহরের সময় সেই তন্ডুলের(চালের) সংখ্যা কত হ'ত, তা অনুমান করুন।সেই জপ সঞ্চিত চাল পাক করে প্রসাদ বিতরণ করে অবশিষ্ট যৎকিঞ্চিৎ যা থাকত,তাইই প্রসাদ পেতেন।শ্রীঈশ্বরীর আহার ছিল না বললেই হয়।ঈশান নাগর নবদ্বীপ হতে শান্তিপুরে ফিরে এসে অদ্বৈতাচার্য‍্যের নিকটে দেবীর কঠোর ভজন-বৃত্তান্ত যথাযথ বর্ণনা করে কাঁদতে কাঁদতে বললেন=*
*🍀যে কষ্ট সহেন মাতা কি কহিমু আর।*
*🍀অলৌকিক শক্তি বিনা ঐছে সাধ‍্য কার।।অঃপ্রঃ।।*
*🌻অদ্বৈতাচার্য‍্য বিষ্ণুপ্রিয়া মাতার কঠোর ভজনের কথা শুনে বালকের মতো কাঁদতে লাগলেন। "সকলি কৃষ্ণের ইচ্ছা" এই বলে বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ কেঁদে ফেললেন এবং অনেক কষ্টে মনের খেদ সম্বরণ করলেন।*
*🍀তাহা শুনি মোর প্রভু করয়ে ক্রন্দন।*
*🍀কৃষ্ণ ইচ্ছা মানি করে খেদ সম্বরণ।।ঐ।।*
*🌻শ্রীশ্রীবিষ্ণপ্রিয়ার ভজন বৃত্তান্ত মহাপ্রভুর ভক্তবৃন্দ সকলেই শুনলেন।শচীমা নেই,আর কে বিষ্ণুপ্রিয়াকে এই কাজ হতে বিরত করবে?দেবীর আহার নেই বললেই চলে,শরীর জীর্ণ ও শীর্ণ হয়েছে, কিন্তু সর্বাঙ্গ দিব‍্য জ‍্যোতিপূর্ণ।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী এক্ষণে মনের সাধ মহাযোগিনী সেজেছেন।সে যোগিনী মূর্তি শ্রীগৌর ভক্তগণের চক্ষে ভাল লাগছে না।শ্রীগৌরহরির সন্ন‍্যাস মূর্তি তাঁদের নয়নে ভাল লাগেনি, দেবীর যোগিনী মূর্তিও তদ্রূপ তাঁদের চক্ষে ভাল লাগেনি।যখনই বিষ্ণুপ্রিয়ার যোগিনী মূর্তি ভক্তগণের মনে পড়ে কেঁদে আকুল হয়ে যান।কি করবেন,উপায় নাই। দেবীকে কারও কিছু বলবার অধিকার বা সাধ‍্য নেই।বিষ্ণুপ্রিয়া মাতা ইচ্ছাময়ী। তিনি ভক্তের কষ্ট বুঝতে পেরেই ইচ্ছা করেই তাঁর কাছে কাউকেও আসতে নিষেধ করেছেন।*
*🍀ভক্তদ্বারে দ্বার রুদ্ধ কৈলা স্বেচ্ছাক্রমে।*
*🌻দামোদর ও গদাধর পন্ডিত প্রভৃতি একান্ত অনুরক্ত ভক্ত ভিন্ন বিষ্ণুপ্রিয়ার কাছে ভজন মন্দিরে যাবার কারও অনুমতি নাই।ঈশান নাগর অতি সাধ‍্য-সাধনায় বিষ্ণুপ্রিয়ার শ্রীমন্দিরে যাবার অনুমতি পেয়েছিলেন। শ্রীগৌরাঙ্গ জীব শিক্ষার জন্য নিজে আচরণ করে কঠোর ভজনের চরম আদর্শ দেখিয়ে গিয়েছেন।মহাপ্রভুর কঠোর ভজনের সব কথায় দেবীর শ্রুতিগোচর হয়েছে।তিনিও তাঁর প্রাণবল্লভের প্রদর্শিত পথ অবলম্বন করতে বহুদিন হতে প্রয়াসী ছিলেন, কিন্তু বৃদ্ধা শাশুড়ির মনে নিদারুণ কষ্ট হবে জেনে বিষ্ণুপ্রিয়া একাজে বিরতা ছিলেন।শ্রীমতী তাঁর প্রাণবল্লভের নিকট একদিন প্রার্থনা করেছিলেন=*
*🍀আপনি যে সব তুমি নিয়ম পালিবে।*
*🍀তা হ'তে কঠোর নিয়ম এ দাসীরে দিবে।।*
*🌺এক্ষণে সময় পেয়ে বিষ্ণুপ্রিয়া নিজ মনের মত অভিলাষ পূর্ণ করছেন।শ্রীগৌরাঙ্গ-ঘরণী তাঁর প্রাণবল্লভের পথানুসরণ করেছেন।এতে কার কি বলবার আছে? কিন্তু ঈশ্বরীর এই কাজে ভক্তগণের হৃদয় ফেটে যাচ্ছে।ত্রৈলোক‍্যের অধীশ্বরী, রাজরাজেশ্বরী শ্রীগৌরাঙ্গঘরণীকে দীনা,ভিখারিণী যোগিনীর সাজে সজ্জিতা দেখে আজ তাঁদের হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে যাচ্ছে।এই হৃদয় বিদারক দৃশ‍্যে তাঁদের মর্মের অন্তস্থলে আঘাত লাগছে।অদ্বৈতাচার্য‍্যের মত "সকলি কৃষ্ণের ইচ্ছা" এই মনে করে তাঁরা হৃদয়ের আবেগ ও মনের খেদ সম্বরণ করছেন।*
*🙏শ্রীনিত‍্যানন্দ ঘরণী শ্রীজাহ্নবা দেবীর কর্ণে বিষ্ণুপ্রিয়ার কঠোর ভজনের কথা পৌঁছেছে।জাহ্নবার কোমল হৃদয়ে বড় ব‍্যথা লাগল।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়ার সহিত শ্রীমতী জাহ্নবা দেবীর কখনও সাক্ষাৎ হয়নি।* *শ্রীনিতাইচাঁদের মুখে এবং পরম্পরায় তিনি শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়ার সব কথায় শুনে ছিলেন।*
*🍀পূর্বে লেখা হয়েছে,বংশীবদন মহাপ্রভুর গৃহের কাছে নবদ্বীপে বাস করতেন।মহাপ্রভুর গৃহ ও বংশীবদনের কুটির অতি নিকটবর্তী ছিল।শ্রীমতী জাহ্নবাদেবী বংশীবদনের পুত্র চৈতন‍্যের গৃহে নবদ্বীপে আসিলেন।আসিবার প্রথম উদ্দেশ্য শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবীকে দর্শন, দ্বিতীয় উদ্দেশ্য চৈতন‍্যের পুত্র রামচন্দ্র (রামাই পন্ডিত) কে দীক্ষা দান করবেন।এই রামাই পন্ডিত শ্রীবংশীবদন ঠাকুরের প্রকাশ-মূর্তি।বংশীবদন ঠাকুরের তিরোভাবের সময় তাঁর পুণ‍্যবতী জ‍্যেষ্ঠা পুত্রবধূ চৈতন‍্যের পত্নী যখন বংশীবদনে শ্রীচরণ ধরে কাঁদতে লাগলেন, তখন তিনি সস্নেহে বললেন=*
*🍀সেই কালে গোসাঞির পুত্র বধূগণ।*
*🍀প্রভুর চরণে পড়ি করেন রোদন।।*
*🍀জ‍্যেষ্ঠ-পুত্র চৈতন‍্যের পত্নী সাধ্বী-সতী।*
*🍀কান্দিতে লাগিলা বহু করিয়া মিনতি।।*
*🍀গোসাঞি কহেন মাগো কেন কান্দ তুমি।*
*🍀তোমার গর্ভেতে জন্ম লভিব সে আমি।।*
*🍀তুয়া প্রেমে বশ হঞা কৈনু অঙ্গীকার।*
*🍀মোর এই কথা কাঁহা না কর প্রচার।।বঃশিঃ।।*
*🌻বংশীবদন শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর প্রিয়-শিষ‍্য ছিলেন।তাঁর উপর দেবীর বিশেষ কৃপাদৃষ্টি ছিল।বংশীবদন নিজ পুত্রবধূর গর্ভে পৌত্ররূপে জন্মগ্রহণ করে শ্রীগৌরাঙ্গ-লীলা প্রচার করবেন, বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী তা অবিদিত ছিল না।বংশীবদনের দুই পুত্র।চৈতন‍্য ও নিতাই।চৈতন‍্য-পত্নীগর্ভে রামচন্দ্ররূপী বংশীবদনের পুনর্জন্ম হ'ল। এতে সকলেরই বিশেষ আনন্দ হ'ল।শ্রীমতী জাহ্নবা দেবী,বসুধা দেবী,অচ‍্যুত-জননী শ্রীসীতাদেবী, শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী সকলেই চৈতন‍্য-নন্দন রামচন্দ্ররূপী বংশীবদনকে দেখতে এসেছিলেন।*
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ꧁ ১৭৪. শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 চতুর্থ ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(১৭৪)👣শ্রীশ্রীঈশ্বরী বিষ্ণুপ্রিয়া👣*
*😭বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর কঠোর ভজন-বৃত্তান্ত শ্রবণে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য‍্যের দুঃখ,শ্রীজাহ্নবা ও সকতাদেবীর সহিত প্রিয়াজীর মিলন।*
*▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*🌻চৈতন‍্য-নন্দন রামচন্দ্ররূপী বংশীবদনকে দেখতে এসেছেন।*
*🍀বীরচন্দ্রে কোলে লঞা,বসুধা আইল ধাঞা,*
      *বিষ্ণুপ্রিয়া অচ‍্যুত-জননী।*
*বস্ত্র-গুপ্ত-যানে চড়ি,দাসীগণ সঙ্গে করি,*
      *আইলেন সব ঠাকুরাণী।।*
*দেখিয়া বালক ঠাম,সবে করে অনুমান,*
      *সেই বংশীবদন প্রকাশ।*
*করিতে বিবিধ লীলা,পুনঃ প্রভু প্রকটিলা,*
      *এ রাজবল্লভ করে আশ।।*
                          *(বংশী শিক্ষা )*
*🌻শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী নিজ ভজন মন্দির হতে কোথাও যেতেন না।দেবীর প্রিয়ভক্ত ও শিষ্য বংশীবদনের পুনরাবির্ভাব শুনে তাঁকে একবার দেখতে শ্রীমতীর মনে বড় সাধ হল। বিশেষতঃ চৈতন‍্য তাঁর শিষ‍্যপুত্র।বংশীবদনের কুটির দেবীর ভজন-মন্দিরের অতি কাছে।দূরদেশ হতে অদ্বৈত-ঘরণী,ও নিত‍্যানন্দ-ঘরণী দ্বয় এসেছেন।তাঁদের বিশেষ আগ্রহে ও চৈতন্যের বিশেষ অনুরোধে শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী চৈতন‍্যের ভবনে পদার্পণ করে তাঁর কুটির পবিত্র করেছিলেন।*
*🍀সেই কালে বিষ্ণুপ্রিয়া চৈতন‍্যের ঘরে।*
*🍀আগমন করিলেন আনন্দ-অন্তরে।।*
*🍀বসিতে আসন দিয়া কহেন চৈতন‍্য।*
*🍀তুয়া আগমনে মোর গৃহ হৈল ধন‍্য।।বঃশিঃ।।*
*🌻শ্রীগৌর-বক্ষ-বিলাসিনী শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবীতে ও নিত‍্যানন্দ-বক্ষ-বিলাসিনী শ্রীজাহ্নবা দেবীতে এই সর্বপ্রথম শুভ সম্মিলন।ইতি পূর্বে কেউ কাউকেও দেখেন নাই।বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী শুনে ছিলেন, তাঁর প্রাণবল্লভের আদেশে অবধূত নিত‍্যানন্দ দারপরিগ্রহ (বিবাহ) করে সংসারী হয়েছিলেন।এত দিনের পর দুই ভগ্নীতে চাক্ষুষ-পরিচয় হল।উভয়ে উভয়ের গলা জড়িয়ে ধরে কেঁদে আকুল হলেন।শ্রীমতী জাহ্নবা দেবী বিষ্ণুপ্রিয়ার হাত ধরে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে বসলেন।উভয়ে উভয়ের কাছে মনের দুঃখ কষ্ট বলে স্বামী-বিরহ -যন্ত্রণার উপশম করলেন।উভয়ের নয়নদ্বয় হতে অবিরল জলধারা পড়তে লাগল।উভয়েই উন্মাদিনীর ন‍্যায় শোক বিহ্বল নেত্রে উভয়ের প্রতি তাকিয়ে আছেন।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী শ্রীমতী জাহ্নবা দেবীর অপেক্ষা বয়সে কিছু বড় হলেও তিনি তাঁকে দিদি বলেই সম্বোধন করলেন।দুই ভগ্নীতে চৈতন‍্য গৃহে যে সব কথোপকথন হল তার বিস্তারিত বিবরণ গ্রন্থে পাওয়া যায় না।শ্রীমতী জাহ্নবা দেবী শীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর কঠোর ভজনের কথা শুনে স্বেচ্ছায় তাঁর সহিত সাক্ষাৎ করতেষএসেছিলেন। উদ্দেশ্য দেবীকে কিছু বুঝাবেন।কারণ দেবীকে এ সম্বন্ধে অন‍্য কেউ কিছু বলতে সাহস করেন না।শ্রীমতী জাহ্নবা দেবী শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর হাত দুইখানি ধরে সস্নেহে সজলনেত্রে বললেন, ভগিনি!অতিরিক্ত কঠোরতা করে শরীরপাত করিও না। শরীর নাশ হলে ভছন-সাধন কি করে হবে? তোমার প্রাণবল্লভের আদেশে আমার অবধূত স্বামী সংসারী হয়েছিলেন। তিনি আমাকে উপদেশ দিয়ে গিয়েছেন, কঠোর ভজন শ্রীগৌরাঙ্গের অভিপ্রেত নয়।শ্রীমতী বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী একথা শুনে একটু হাসলেন।ক্ষণকাল পরেই দেবীর ম্লান হাসিটুকু বিষাদমাখা বদনপ্রান্তে লুকিয়ে গেল।দেবী নতমুখী হয়ে অতিশয় সম্ভ্রমের সহিত উত্তর করলেন,দিদি!তোমার স্বামীর উপদেশ তুমি সর্বথা পালন করবে। আমার প্রাণবল্লভের কঠোর ভজনের কথা তোমার কিছুই অবিদিত নাই। সে কঠোরতার তুলনায় আমার সামান্য কঠোরতা কিছুই নয়।লোকশিক্ষার জন্য ন্রভু আমার স্বয়ং আচরিয়া কলি-হত জীবকে শ্রীকৃষ্ণ ভজন শিক্ষা দিয়ে গেছেন।আমি প্রভুর পদানুসরণ করছি মাত্র।আমিও নিজে আচরিয়া কলির জীবকে শ্রীগৌরাঙ্গ ভজন শিক্ষা দিতে কৃতসঙ্কল্প হয়েছি।এইকথা বলতে গিয়ে দেবী কেঁদে ফেললেন।*
*😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭😭
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                                   *ক্রমশ*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
         ꧁ শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া দেবী 🙏 পঞ্চম ভাগ 
          ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ ꧂
        এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧


সাধন অঙ্গ চৌষট্টি প্রকার 🙏 চৌষট্টি সেবা কি কি ❓❓❓ তাহাদের মধ্যে প্রধান পাঁচ সেবা কি কি ❓❓❓🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/64-seva.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ সাধন অঙ্গ চৌষট্টি প্রকার 🙏 চৌষট্টি সেবা ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সাধন অঙ্গ চৌষট্টি প্রকার। নিম্নে তা উল্লেখ করা হল-
(১) গুরু-পদাশ্রয়
(২) দীক্ষা 
(৩) গুরুসেবা 
(8) সধর্ম শিক্ষা 
(৫) সধর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা 
(৬) স্বজাতীয় সাধু বৈষ্ণবগণের অনুসরণ 
(৭) কৃষ্ণের প্রীতিলাভের জন্য লালসার ভোগ্যবস্তু যথাসম্ভব ত্যাগ 
(৮) কৃষ্ণতীর্থে বাস 
(৯) যতটুকু দ্রব্যে জীবিকা নির্বাহ হয়। তৎপরিমিত দ্রব্যাদি দেহধারণ জন্য গ্রহণ করা 
(১০) একাদশী ব্রত পালন 
(১১) চাতুর্মাস্য ব্রতাদি পালন
(১২) আমলকী বৃক্ষ, অশ্বত্থ বৃক্ষ, গো, বিপ্র এবং বৈষ্ণব পূজা
(১৩) সেবা অপরাধ না করা 
(১৪) নামাপরাধ না করা
(১৫) বৈষ্ণবাপরাধ না করা। 
(১৬) অবৈষ্ণবদের সঙ্গ ত্যাগ করা 
(১৭) বহু শিষ্য না করা 
(১৮) ভক্তিবিরোধ। বহু গ্রন্থ এবং চতুঃষষ্টি কলাসমূহ, যাতে ভগবদ সম্বন্ধ নাই–এরূপ বলা অভ্যাস ত্যাগ করা, কিন্তু ভগবদ্ সম্বন্ধযুক্ত কলাদি অভ্যাস করা 
(১৯) ক্ষতিতে বা হানিতে শোকগ্রস্ত না হওয়া 
(২০) লোভের বশবর্তী না হওয়া 
(২১) অন্য দেবতা বা অন্য শাস্ত্রের নিন্দা না করা 
(২২) বিষ্ণু এবং বৈষ্ণব নিন্দা না করা 
(২৩) গ্রাম্য বার্তা অর্থাৎ বৈষ্ণব পরিচর্চা পরনিন্দায় লিপ্ত‌ না হওয়া 
(২৪) কোনও প্রাণীর মনে আঘাত না দেওয়া 
(২৫) শ্রবণ
(২৬) নামকীর্তন 
(২৭) স্মরণ 
(২৮) পূজন 
(২৯) বন্দন 
(৩০) পরিচর্যা
(৩১) দাস্য 
(৩২) সখ্য 
(৩৩) আত্মনিবেদন 
(৩৪) শ্রীমূর্তির অগ্রে নৃত্য 
(৩৫) শ্রীমূর্তির অগ্রে গীত 
(৩৬) নিজ অবস্থা ভগবানকে নিবেদন করা 
(৩৭) দণ্ডবৎ
(৩৮) প্রণাম 
(৩৯) ভগবদ্দর্শনে গাত্রোত্থান পূর্বক মর্যাদা দান 
(৪০) যাত্রা-উৎসবে ভগবদ্-মূর্তি বের হলে তাঁর পশ্চাদ্‌গমন (৪১) শ্রীভগবদ্-মূর্তি চারবার প্রদক্ষিণ করা 
(৪২) প্রদীপ দান 
(৪৩) ধূপাদি প্রদান 
(৪৪) তীর্থবাস 
(৪৫) তীর্থ পরিক্রমা
(৪৬) মাল্য দান 
(৪৭) গন্ধচন্দনাদি প্রদান 
(৪৮) মহাপ্রসাদ ভোজন 
(৪৯) আরাত্রিক মহোৎসব করা 
(৫০) শ্রীমূর্তিদর্শন 
(৫১) আপন প্রিয়বস্তু শ্রীভগবানকে দান
(৫২) ভগবৎ ধ্যান 
(৫৩) ভগবৎ সেবা 
(৫৪) তুলসী সেবা 
(৫৫) বৈষ্ণব সেবা
(৫৬) মথুরাতীর্থ 
(৫৭) বৃন্দাবন পরিক্রমা 
(৫৮) ভাগবৎ সেবা 
(৫৯) শ্রীকৃষ্ণের প্রীতিজনক কার্য করা 
(৬০) ভক্তগণ সহ নামকীর্তন 
(৬১) ভক্তগণ সহ জন্মোৎসবাদি পালন 
(৬২) কার্তিকাদি ব্রতপালন 
(৬৩) বিলাসদ্রব্য ত্যাগ 
(৬৪) সর্বদা শরণাগত থাকা 

প্রধান পঞ্চ সাধনাঙ্গ
সাধুসঙ্গ, নামকীর্তন, ভগবত শ্রবণ।
মথুরাবাস, শ্রীমূর্তির শ্রদ্ধায় সেবন।।
সকল সাধন শ্রেষ্ঠ এই পঞ্চ অঙ্গ।
কৃষ্ণপ্রেম জন্মায় এই পাঁচের অল্প সঙ্গ।।

বঙ্গানুবাদ—সাধুসঙ্গ, নামকীর্তন, ভাগবত পাঠ ও শ্রবণ, মথুরাধামে বাস, শ্রদ্ধা-সহকারে শ্রীমূর্তির সেবা করা। এই পাঁচটি সাধনার শ্রেষ্ঠ অঙ্গ। এর সাহায্যে কৃষ্ণপ্রেম লাভ হয়।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





সাধন অঙ্গ চৌষট্টি প্রকার 🙏 চৌষট্টি সেবা কি কি ❓❓❓ তাহাদের মধ্যে প্রধান পাঁচ সেবা কি কি ❓❓❓🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/64-seva.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ꧁ সাধন অঙ্গ চৌষট্টি প্রকার 🙏 চৌষট্টি সেবা ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সাধন অঙ্গ চৌষট্টি প্রকার। নিম্নে তা উল্লেখ করা হল-
(১) গুরু-পদাশ্রয়
(২) দীক্ষা 
(৩) গুরুসেবা 
(8) সধর্ম শিক্ষা 
(৫) সধর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা 
(৬) স্বজাতীয় সাধু বৈষ্ণবগণের অনুসরণ 
(৭) কৃষ্ণের প্রীতিলাভের জন্য লালসার ভোগ্যবস্তু যথাসম্ভব ত্যাগ 
(৮) কৃষ্ণতীর্থে বাস 
(৯) যতটুকু দ্রব্যে জীবিকা নির্বাহ হয়। তৎপরিমিত দ্রব্যাদি দেহধারণ জন্য গ্রহণ করা 
(১০) একাদশী ব্রত পালন 
(১১) চাতুর্মাস্য ব্রতাদি পালন
(১২) আমলকী বৃক্ষ, অশ্বত্থ বৃক্ষ, গো, বিপ্র এবং বৈষ্ণব পূজা
(১৩) সেবা অপরাধ না করা 
(১৪) নামাপরাধ না করা
(১৫) বৈষ্ণবাপরাধ না করা। 
(১৬) অবৈষ্ণবদের সঙ্গ ত্যাগ করা 
(১৭) বহু শিষ্য না করা 
(১৮) ভক্তিবিরোধ। বহু গ্রন্থ এবং চতুঃষষ্টি কলাসমূহ, যাতে ভগবদ সম্বন্ধ নাই–এরূপ বলা অভ্যাস ত্যাগ করা, কিন্তু ভগবদ্ সম্বন্ধযুক্ত কলাদি অভ্যাস করা 
(১৯) ক্ষতিতে বা হানিতে শোকগ্রস্ত না হওয়া 
(২০) লোভের বশবর্তী না হওয়া 
(২১) অন্য দেবতা বা অন্য শাস্ত্রের নিন্দা না করা 
(২২) বিষ্ণু এবং বৈষ্ণব নিন্দা না করা 
(২৩) গ্রাম্য বার্তা অর্থাৎ বৈষ্ণব পরিচর্চা পরনিন্দায় লিপ্ত‌ না হওয়া 
(২৪) কোনও প্রাণীর মনে আঘাত না দেওয়া 
(২৫) শ্রবণ
(২৬) নামকীর্তন 
(২৭) স্মরণ 
(২৮) পূজন 
(২৯) বন্দন 
(৩০) পরিচর্যা
(৩১) দাস্য 
(৩২) সখ্য 
(৩৩) আত্মনিবেদন 
(৩৪) শ্রীমূর্তির অগ্রে নৃত্য 
(৩৫) শ্রীমূর্তির অগ্রে গীত 
(৩৬) নিজ অবস্থা ভগবানকে নিবেদন করা 
(৩৭) দণ্ডবৎ
(৩৮) প্রণাম 
(৩৯) ভগবদ্দর্শনে গাত্রোত্থান পূর্বক মর্যাদা দান 
(৪০) যাত্রা-উৎসবে ভগবদ্-মূর্তি বের হলে তাঁর পশ্চাদ্‌গমন (৪১) শ্রীভগবদ্-মূর্তি চারবার প্রদক্ষিণ করা 
(৪২) প্রদীপ দান 
(৪৩) ধূপাদি প্রদান 
(৪৪) তীর্থবাস 
(৪৫) তীর্থ পরিক্রমা
(৪৬) মাল্য দান 
(৪৭) গন্ধচন্দনাদি প্রদান 
(৪৮) মহাপ্রসাদ ভোজন 
(৪৯) আরাত্রিক মহোৎসব করা 
(৫০) শ্রীমূর্তিদর্শন 
(৫১) আপন প্রিয়বস্তু শ্রীভগবানকে দান
(৫২) ভগবৎ ধ্যান 
(৫৩) ভগবৎ সেবা 
(৫৪) তুলসী সেবা 
(৫৫) বৈষ্ণব সেবা
(৫৬) মথুরাতীর্থ 
(৫৭) বৃন্দাবন পরিক্রমা 
(৫৮) ভাগবৎ সেবা 
(৫৯) শ্রীকৃষ্ণের প্রীতিজনক কার্য করা 
(৬০) ভক্তগণ সহ নামকীর্তন 
(৬১) ভক্তগণ সহ জন্মোৎসবাদি পালন 
(৬২) কার্তিকাদি ব্রতপালন 
(৬৩) বিলাসদ্রব্য ত্যাগ 
(৬৪) সর্বদা শরণাগত থাকা 

প্রধান পঞ্চ সাধনাঙ্গ
সাধুসঙ্গ, নামকীর্তন, ভগবত শ্রবণ।
মথুরাবাস, শ্রীমূর্তির শ্রদ্ধায় সেবন।।
সকল সাধন শ্রেষ্ঠ এই পঞ্চ অঙ্গ।
কৃষ্ণপ্রেম জন্মায় এই পাঁচের অল্প সঙ্গ।।

বঙ্গানুবাদ—সাধুসঙ্গ, নামকীর্তন, ভাগবত পাঠ ও শ্রবণ, মথুরাধামে বাস, শ্রদ্ধা-সহকারে শ্রীমূর্তির সেবা করা। এই পাঁচটি সাধনার শ্রেষ্ঠ অঙ্গ। এর সাহায্যে কৃষ্ণপ্রেম লাভ হয়।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





২. সূচনা 💮 শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 🙏 শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/bokreshwar2.html


   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                 ꧁ ২. শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                 ꧁ ১. শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীপাদ বৈষ্ণবাচর্য্যগণ হিন্দুশাস্ত্রসমূহ মথিত করিয়া এই সারতত্ব প্রাপ্ত হইয়াছেন যে, শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু পূর্ণব্রহ্ম স্বয়ং ভগবান্। আর তিনি লীলার সহায় স্ব-পার্ষদগণ সহিত কলিযুগে নবদ্বীপ ধামে অবতীর্ণ হইয়াছেন।
হিন্দু ধর্ম্মের শাক্ত , শৈব, সৌর ও গাণপত্য সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যাক্তিগত অবতারবাদ মানেন না। কেবল বৈষ্ণব সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যাক্তিগত অবতারবাদ স্বীকার করেন। এবং অবতার তত্ব বৈষ্ণব ধর্ম্মের মূলভিত্তি স্বরুপ। তাঁহাদের মতে শ্রীভগবান্ কখন কখন এই মার্ত্ত্যভূমে মনুষ্য গণের মধ্যে মনুষ্যদেহ ধারণ করিয়া আসিয়া থাকেন এবং মনুষ্যের মত আচরণাদি করিয়া থাকেন। ইহাই শ্রীভগবানের অবতার লীলা। ভগবান্ প্রপঞ্চাতীত এবং মায়াতীত; বৈকুণ্ঠাদি ধাম তাঁহার নিত্য বিলাস-স্থল। তবে তিনি এই মায়াময় জগতে যে মধ্যে মধ্যে দেহ ধারণ করিয়া লীলা প্রকাশ করেন, তাহা কেবল নিথিল প্রাণীর নিশ্রেয়স- বিধানের জন্য। তিনি স্বয়ং শ্রীমদ্ভাগবদগীতায় নিজ সখা অর্জুনকে বলিয়াছেন যে, "" যখনই ধর্ম্মের গ্লানি উপস্থিত হয়, তখনই সাধুদিগের পরিত্রাণ জন্য ও দুষ্কৃতকারিগণের বিনাশ্বার্থ এবং ধর্ম্মসংস্থাপন নিমিত্তে আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।""
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                              🙏 ক্রমাগত 🙏
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                 ꧁ ৩. শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 
শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏
শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





২. সূচনা 💮 শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 🙏 শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/bokreshwar2.html

   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                 ꧁ ২. শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                 ꧁ ১. শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 
শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর নিবাসস্থলী 🙏 শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মঠ 🙏 শ্রীগম্ভীরা 🙏 শ্রীধাম পুরী 🙏
        ꧁ রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
শ্রীপাদ বৈষ্ণবাচর্য্যগণ হিন্দুশাস্ত্রসমূহ মথিত করিয়া এই সারতত্ব প্রাপ্ত হইয়াছেন যে, শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু পূর্ণব্রহ্ম স্বয়ং ভগবান্। আর তিনি লীলার সহায় স্ব-পার্ষদগণ সহিত কলিযুগে নবদ্বীপ ধামে অবতীর্ণ হইয়াছেন।
হিন্দু ধর্ম্মের শাক্ত , শৈব, সৌর ও গাণপত্য সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যাক্তিগত অবতারবাদ মানেন না। কেবল বৈষ্ণব সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যাক্তিগত অবতারবাদ স্বীকার করেন। এবং অবতার তত্ব বৈষ্ণব ধর্ম্মের মূলভিত্তি স্বরুপ। তাঁহাদের মতে শ্রীভগবান্ কখন কখন এই মার্ত্ত্যভূমে মনুষ্য গণের মধ্যে মনুষ্যদেহ ধারণ করিয়া আসিয়া থাকেন এবং মনুষ্যের মত আচরণাদি করিয়া থাকেন। ইহাই শ্রীভগবানের অবতার লীলা। ভগবান্ প্রপঞ্চাতীত এবং মায়াতীত; বৈকুণ্ঠাদি ধাম তাঁহার নিত্য বিলাস-স্থল। তবে তিনি এই মায়াময় জগতে যে মধ্যে মধ্যে দেহ ধারণ করিয়া লীলা প্রকাশ করেন, তাহা কেবল নিথিল প্রাণীর নিশ্রেয়স- বিধানের জন্য। তিনি স্বয়ং শ্রীমদ্ভাগবদগীতায় নিজ সখা অর্জুনকে বলিয়াছেন যে, "" যখনই ধর্ম্মের গ্লানি উপস্থিত হয়, তখনই সাধুদিগের পরিত্রাণ জন্য ও দুষ্কৃতকারিগণের বিনাশ্বার্থ এবং ধর্ম্মসংস্থাপন নিমিত্তে আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।""
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                              🙏 ক্রমাগত 🙏
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                 ꧁ ৩. শ্রীশ্রীবক্রেশ্বর-চরিত 
শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ পার্ষদ-প্রবর  শ্রীমৎ বক্রেশ্বর প্রভুর জীবন চরিত 🙏 রচয়িতা 🙏 শ্রীঅমৃতলাল পাল দাস 🙏
শ্রীমৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





সেবাপরাধ ❇️ এখানে বত্রিশ প্রকার সেবাপরাধের বিষয় বলা হল, সেই সকল সেবা অপরাধ গুলি কি কি ❓❓❓ 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/seba-aporadh.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                          ꧁ সেবাপরাধ 
   এখানে বত্রিশ প্রকার সেবাপরাধের বিষয় বলা হল
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সেবাপরাধ বত্রিশ প্রকার। বরাহপুরাণে চল্লিশ প্রকার সেবাপরাধের বিষয় উল্লিখিত হয়েছে। এখানে বত্রিশ প্রকার সেবাপরাধের বিষয় বলা হল-

(১) বনারোহণ এবং পাদুকা পরিহিত অবস্থায় শ্রীভগবানের মন্দিরে প্রবেশ করা।

(২) শ্রীভগবৎ যাত্রা-উৎসবাদি পালন না করা বা অনুগমন না করা।

(৩) শ্রীকৃষ্ণমূর্তির অগ্রে প্রণাম না করা।

(৪) উচ্ছিষ্টযুক্ত দেহে বা অশৌচ অবস্থায় ভগবৎ প্রণাম।

(৫) এক হস্তে ভগবৎ প্রণাম।

(৬) বিষ্ণুর অগ্রে অন্য দেবতা বা সূর্যাদিকে প্রদক্ষিণ।

(৭) বিগ্রহের সম্মুখে পদ প্রসারিত করিয়া বসা ও বিগ্রহের দিকে পা রাখিয়া বসা।

(৮) বিগ্রহের অগ্রে বাহুদ্বারা জানু বেষ্টন করিয়া বসা।

(৯) বিগ্রহের অগ্রে শয়ন করা।

(১০) বিগ্রহের অগ্রে ভোজন করা।

(১১) বিগ্রহের সম্মুখে মিথ্যাভাষণ।

(১২) বিগ্রহের অগ্রে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা।

(১৩) বিগ্রহের অগ্রে দূরস্পর আলাপ করা।

(১৪) বিগ্রহের সম্মুখে স্বার্থসিদ্ধি না হওয়ায় রোদন করা।

(১৫) বিগ্রহের সম্মুখে কলহ করা।

(১৬) বিগ্রহের সম্মুখে কারও উপর অত্যাচার বা নিগ্রহ করা।

(১৭) বিগ্রহের সম্মুখে কাহাকেও অনুগ্রহ করা।

(১৮), সাধারণ লোকের প্রতি নিষ্ঠুর হওয়া বা নিষ্ঠুর বাক্য বলা।

(১৯) ভগবৎ সেবাকালীন কম্বলাদি ধারণ।

(২০) বিগ্রহের সম্মুখে পরনিন্দা করা।

(২১) বিগ্রহের সম্মুখে অপরের প্রশংসা করা।

(২২) বিগ্রহের সম্মুখে অশ্লীল কথা বলা।

(২৩) বিগ্রহের সম্মুখে অধোবায়ু ত্যাগ করা।

(২৪) সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও গৌণ উপচারাদি দিয়া ভগবৎ উৎসবাদি নির্বাহ।

(২৫) অনিবেদিত খাদ্য ভোজন করা।

(২৬) যে সময়ে যে শস্য বা ফলাদি উৎপন্ন হয়, তাহা শ্রীভগবানকে অর্পণ না করা।

(২৭) ভগবৎ উদ্দেশ্যে আনিত দ্রব্য অগ্রে অপরকে প্রদান করে অবশিষ্ট ভগবদর্থে প্রদান করা।

(২৮) শ্রীমূর্তিকে পশ্চাৎ করিয়া উপবেশন করা।

(২৯) শ্রীমূর্তিকে প্রণাম না করিয়া অন্যকে প্রণাম করা।

(৩০) গুরুর সম্মুখে স্তবাদি না করিয়া মৌন থাকা।

(৩১) নিজের প্রশংসা করা।

(৩২) দেবতার নিন্দা করা।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





সেবাপরাধ ❇️ এখানে বত্রিশ প্রকার সেবাপরাধের বিষয় বলা হল, সেই সকল সেবা অপরাধ গুলি কি কি ❓❓❓ 🙏 শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত চরণে অসংখ্যকোটি প্রণাম 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/seba-aporadh.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
                          ꧁ সেবাপরাধ 
   এখানে বত্রিশ প্রকার সেবাপরাধের বিষয় বলা হল
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧   
  ꧁ টিকা বা অন্যান্য ধর্মীয় লিখনী 🙏 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
   ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
সেবাপরাধ বত্রিশ প্রকার। বরাহপুরাণে চল্লিশ প্রকার সেবাপরাধের বিষয় উল্লিখিত হয়েছে। এখানে বত্রিশ প্রকার সেবাপরাধের বিষয় বলা হল-

(১) বনারোহণ এবং পাদুকা পরিহিত অবস্থায় শ্রীভগবানের মন্দিরে প্রবেশ করা।

(২) শ্রীভগবৎ যাত্রা-উৎসবাদি পালন না করা বা অনুগমন না করা।

(৩) শ্রীকৃষ্ণমূর্তির অগ্রে প্রণাম না করা।

(৪) উচ্ছিষ্টযুক্ত দেহে বা অশৌচ অবস্থায় ভগবৎ প্রণাম।

(৫) এক হস্তে ভগবৎ প্রণাম।

(৬) বিষ্ণুর অগ্রে অন্য দেবতা বা সূর্যাদিকে প্রদক্ষিণ।

(৭) বিগ্রহের সম্মুখে পদ প্রসারিত করিয়া বসা ও বিগ্রহের দিকে পা রাখিয়া বসা।

(৮) বিগ্রহের অগ্রে বাহুদ্বারা জানু বেষ্টন করিয়া বসা।

(৯) বিগ্রহের অগ্রে শয়ন করা।

(১০) বিগ্রহের অগ্রে ভোজন করা।

(১১) বিগ্রহের সম্মুখে মিথ্যাভাষণ।

(১২) বিগ্রহের অগ্রে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা।

(১৩) বিগ্রহের অগ্রে দূরস্পর আলাপ করা।

(১৪) বিগ্রহের সম্মুখে স্বার্থসিদ্ধি না হওয়ায় রোদন করা।

(১৫) বিগ্রহের সম্মুখে কলহ করা।

(১৬) বিগ্রহের সম্মুখে কারও উপর অত্যাচার বা নিগ্রহ করা।

(১৭) বিগ্রহের সম্মুখে কাহাকেও অনুগ্রহ করা।

(১৮), সাধারণ লোকের প্রতি নিষ্ঠুর হওয়া বা নিষ্ঠুর বাক্য বলা।

(১৯) ভগবৎ সেবাকালীন কম্বলাদি ধারণ।

(২০) বিগ্রহের সম্মুখে পরনিন্দা করা।

(২১) বিগ্রহের সম্মুখে অপরের প্রশংসা করা।

(২২) বিগ্রহের সম্মুখে অশ্লীল কথা বলা।

(২৩) বিগ্রহের সম্মুখে অধোবায়ু ত্যাগ করা।

(২৪) সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও গৌণ উপচারাদি দিয়া ভগবৎ উৎসবাদি নির্বাহ।

(২৫) অনিবেদিত খাদ্য ভোজন করা।

(২৬) যে সময়ে যে শস্য বা ফলাদি উৎপন্ন হয়, তাহা শ্রীভগবানকে অর্পণ না করা।

(২৭) ভগবৎ উদ্দেশ্যে আনিত দ্রব্য অগ্রে অপরকে প্রদান করে অবশিষ্ট ভগবদর্থে প্রদান করা।

(২৮) শ্রীমূর্তিকে পশ্চাৎ করিয়া উপবেশন করা।

(২৯) শ্রীমূর্তিকে প্রণাম না করিয়া অন্যকে প্রণাম করা।

(৩০) গুরুর সম্মুখে স্তবাদি না করিয়া মৌন থাকা।

(৩১) নিজের প্রশংসা করা।

(৩২) দেবতার নিন্দা করা।
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧





*🙏🙏🌹শ্রীশ্রীগৌরগোবিন্দ দাস বাবাজি মহাশয়ের চরিত মাধুরী।।🌹🙏🙏✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/gour-gobinda-das.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
       ꧁ গৌরাঙ্গপুরের গৌরগোবিন্দদাস বাবা 
       ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ https://Gopisharan.blogspot.com 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
গৌরাঙ্গপুরের গৌরগোবিন্দদাস বাবা
—গোপীশরণ দাস, নিতাইবাড়ি।


কলিযুগ পাবনাবতার শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পদ পরশে ধন্য হয়েছিল যে সমস্ত স্থান, তারই মাঝে এক অজ্ঞাতপল্লী, অধুনা বাংলাদেশের ‘গৌরাঙ্গপুর’ গ্রাম। সম্ভবত মহাপ্রভুর আগমনেই এই নাম পড়েছিল। শুধু এই গ্রামই নয়, আশপাশের গ্রামগুলিও ছিল গোকুল পুর, বলরামপুর, শ্রীরামপাড়া, কেশবপুর, নারায়ণপুর ইত্যাদি। গ্রামগুলি আজও মহাপ্রভুর আগমনের সাক্ষ্যবহন করে চলেছে। ‘বঙ্গদেশে মহাপ্রভু হইলা প্রবেশ। অদ্যাপিহ সেই ভাগ্যে ধন্য বঙ্গদেশ।। পদ্মাবতী তীরে রহিলেন গৌরচন্দ্র। শুনি সর্বলোক বড় হইল আনন্দ।। ভাগ্যবতী পদ্মাবতী সেই দিন হইতে। যোগ্য হইলা সর্বলোক পবিত্র করিতে।।’ পদ্মাবতী নদীর তীরে এই গৌরাঙ্গপুর গ্রামেই বাস করতেন শ্রীরমেশচন্দ্র সরকার ও শ্রীমতী শোভারাণীদেবী। অনেক প্রতীক্ষার পর ১৩৫২ সালের আশ্বিন মাসে শুভক্ষনে শোভারাণীদেবী এক পুত্ররত্ন প্রসব করলেন। নাম রাখা হল, ‘গৌরগোপাল'। বয়স বাড়ার সাথে সাথে গৌরগোপালের সরলতা বিনয়াদি গুনের বিকাস হতে থাকে। আপনভোলা সরল-ব্যবহারে শিক্ষকাদি সকলের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠল গৌরগোপাল। পাশে এক ঘর নরসুন্দর (নাপিত) ছাড়া চারিদিকেই মুসলমানের বাস ছিল। তাই সকলের সাথে অবাধ মেলামেশার সুযোগও ছিল না। পাশেই বিশাল আমের বাগান। সেই বাগানেই তার অবসর সময় কাটত। এসময়েই কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষা গ্রহন করেন স্থানীয় এক ব্রাহ্মনের কাছ থেকে। মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার পর আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে একটি দোকানের কাজে যোগদান করেন। দোকানের মালিক বললেন- যে দামে কেনা তার থেকে দুই টাকা বেশি করে বলবে তাহলে তিন টাকা লাভ থাকবে। কিন্তু গৌরগোপাল গ্রাহকদের সত্য কথা বলে দিত, ফলে মাত্র এক টাকা লাভ হত। এতে দোকানের মালিক রুষ্ট হয়ে দোকান থেকে বহিষ্কার করে দিলেন। তাঁর সরল ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে গ্রাহকগণ নিজ দোকানে নিয়ে রাখলেন। ইতিমধ্যে ভগবদিচ্ছায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে চাকুরী মিলে গেল। ৩৪ টাকা বেতনে শিক্ষকতা শুরু হল। কিছুদিন পরে বিবাহ করলেন। ক্রমে ক্রমে তিন পুত্র ও দুই কন্যার জন্ম হল। সংসার প্রতিপালনের পাশাপাশি অতিথি সৎকার, যথাসাধ্য গরীব দুঃখীদের সহায়তাও করতেন। এ ছাড়াও ঘরে উৎসবাদি লেগেই থাকত। মাসের শেষে ধার করতেন, বেতন পেলে ধার শোধ করে পুনরায় মাসের শেষে ধার করতেন।

এভাবেই চলছিল গৌরগোপালের সংসার। আশেপাশের মুসলীমরাও তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিল। সকলে গৌরমাহান্ত বলেই ডাকতেন। দূরদূরান্তে গৌরাঙ্গপুরের ‘গৌরমাষ্টার’ নামে খ্যাত হয়েছিলেন তিনি। চারটি ছেলে-মেয়ে পর পর হলেও ছোট ছেলেটি হয়েছিল সাত বৎসর পরে। অন্যান্য ছেলেদের থেকে এ ছেলেটি একটু ভিন্ন প্রকৃতির ছিল। তাই তার প্রতি একটু বাড়তি স্নেহ পোষন করতেন গৌরগোপাল সরকার। দৈনিক রাত তিনটেয় উঠে স্নান করে ঠাকুরের মঙ্গলারতি করতেন। তারপর ছেলেটিকে বিছানা থেকে তুলে এনে কোলে বসিয়ে হাতে করতাল দিয়ে হাত ধরে বাজাতেন। প্রায় দু'ঘন্টা ধরে চলত প্রভাতী কীৰ্ত্তন। ছেলেটি একটু বড় হলে একটি মৃদঙ্গ কিনে আনলেন। কিছুদিন অভ্যাস করতেই সুন্দর বাজাতে লাগল ছেলেটি। তখন পিতা-পুত্রে মিলে মহানন্দে কীর্ত্তন করতে লাগলেন। স্কুলের পাঠ পড়ার সময় ছেলেকে বলতেন- পড়া শুরু করার আগে এক অধ্যায় গীতা ও মাহাত্ম্য পাঠ করে স্কুলের পড়া শুরু করবে, তাহলে পড়া ভাল মনে থাকবে।

বাড়ি থেকে স্কুল দুই মাইল দূরে ছিল। তৃতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হবার পর ছোট ছেলেটিকেও ঐ স্কুলেই নিয়ে যেতে লাগলেন। বাড়ি থেকে স্কুল অবধি একটিও হিন্দু বাড়ি ছিল না। স্কুলে একজনই হিন্দু শিক্ষক ও একটিই মাত্র হিন্দু ছাত্র ছিল। তথাপি সকলেই তাঁকে ভালবাসত তাঁর অমায়িক ব্যবহারে। প্রতিদিন ছেলেটিকে সাথে নিয়ে হাঁটাপথে দুই মাইল পথ অতিক্রম করে স্কুলে যেতেন। যাবার সময় ও আসার সময় ভগবানের লীলাকথা শোনাতেন। আরও বলতেন— দেখ! আমার যখন সময় ছিল, তখন কেউ আমাকে বলে নাই, আমি ভুল করেছি। তুমি যেন ভুল কোরো না। এই মনুষ্য জন্ম পাওয়া গিয়েছে একমাত্র হরিভজনের জন্য। আহার, নিদ্রা, ভয়, মৈথুন পশু-পাখিরাও করে, মানুষও যদি সেই প্রকার আচরণ করে, তবে পশু আর মানুষে পার্থক্য কি থাকল? এই সুদূর্লভ মনুষ্য জন্ম কেবল মাত্র হরিভজনের জন্যই পাওয়া গিয়েছে। এ জন্ম একবার বৃথা চলে গেলে আর পাওয়া যাবে না। পুনরায় চুরাশী লক্ষ যোনি ভ্রমন করতে হবে। ভগবদ্ভজন করতে হলে শিশুকাল থেকেই শুরু করতে হবে। এখনই সঠিক সময়। সময় বৃথা নষ্ট কোরো না। এই ভাবে উপদেশ দিতেন এবং ধ্রুব চরিত্র প্রহলাদ চরিত্র বলতে বলতে স্কুলে নিয়ে যেতেন, আবার ফেরার সময় বলতে বলতে বাড়ি নিয়ে আসতেন। স্কুলে পড়া না পারলে অন্য ছেলেদের থেকে নিজের ছেলেকেই বেশী মারতেন। এভাবেই শাসনে সোহাগে পরমার্থ পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন ছেলেটিকে। শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণিত হয়েছে ঋষভদেব যেমন তাঁর শত পুত্রকে পরমার্থ পথের উপদেশ দিয়ে আত্মকল্যানের পথ প্রশস্ত করেছিলেন, তদ্রূপ গৌরগোপাল সরকারও নিজ পুত্রকে পরমার্থ পথে এগিয়ে দিয়ে এক আদর্শ পিতার ভূমিকা পালন করেছিলেন। এক বাস্তবিক পিতা এই প্রকারই হওয়া উচিৎ।

শাস্ত্র বলছেন- ‘গুরুর্ন স স্যাৎ স্বজনো ন স স্যাৎ পিতা ন স্যাজ্জননী ন সা স্যাৎ।
দৈবং ন তৎস্যান্নপতিশ্চ স স্যান্নমোচয়েদ যঃ সমুপেতমৃত্যুম্।।' ভা.৫/৫/১৮

যিনি তাঁর আশ্রিত জনকে সমুপস্থিত মৃত্যুরূপ সংসার সাগর থেকে উদ্ধার করতে না পারেন, তিনি গুরু, পিতা, পতি, জননী অথবা দেবতা পদবাচ্য নন। মৃত্যু থেকে উদ্ধার করতে না পারলে, পিতা পিতা নয় ‘যমের মিতা’। তাই পিতার মত পিতা অর্থাৎ যোগ্য পিতা ছিলেন গৌরগোপাল সরকার। এরপরে দীক্ষাগুরুর অনুমতি নিয়ে শ্রীপাদরামদাস বাবাজি মহাশয়ের শিষ্য-সন্তান শ্রীলব্রজরাখালদাসজীর নিকট গৌর-নিত্যানন্দ মন্ত্রাদি গ্রহন করেন। সম্পূর্ণ মুসলমান অধ্যুষিত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও ধুতি পাঞ্জাবী পরে, গলায় মালা, কপালে তিলক, মাথায় মোটা শিখা রেখে স্কুলে যেতেন। প্রথম প্রথম অনেকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করলেও পরে তাঁকে আদর্শ ধার্মিক এবং সজ্জন জেনে সকলেই শ্রদ্ধা করতেন। নিশান্তে ঘুম থেকে উঠে স্নান, মঙ্গলারতি, প্রভাতী কীর্ত্তন সেরে, ঠাকুরের বাসন-পত্ৰ পরিষ্কার করে, ফুল তুলসী চয়ন করে, শীতল ভোগ লাগিয়ে পুনরায় অন্নভোগ সমর্পন করে প্রসাদ পেয়ে ন'টার মধ্যে বেরিয়ে পড়তেন স্কুলে। দুই মাইল পথ অতিক্রম করে দশটায় গিয়ে স্কুলে পৌঁছাতেন। বৈকালে স্কুল থেকে ফিরে ঠাকুর উত্থাপন করে ভোগ দিতেন। কিছু সময় ঠাকুরের ফল-মূল, শাক-শব্জীর বাগান পরিচর্যা করে পুনরায় সন্ধ্যায় মদনগোপালের আরতি করতেন ঘড়ি-ঘন্টা বাজিয়ে। তারপর ভক্তবৃন্দকে প্রসাদ বিতরণ করতেন। সন্ধ্যার পর পুনরায় সন্ধ্যারতি, প্রথমে রাধারাণীর আরতি, অভিসার, যুগলকিশোরের আরতি, অভিসার, গৌরের আরতি, রাধারমণদেবের আরতি। তারপর বৃন্দেরাণীর কীর্ত্তন, গুরুবন্দনা ইত্যাদি। এরপর রাত্রিকালীন ভোগ, এভাবে সমাজবাড়ির নিয়মানুসারে ছয়বার ভোগ হত, মঙ্গলা ও সন্ধ্যারতির সময় ঘড়ি-ঘন্টা বাজিয়ে আরতি হত। এ দুই সময়েই মুসলমানদের আজান দেওয়ার সময়, তাদের কানে ঘড়ি-ঘন্টার শব্দ যেত, তারা মিটিং করে ঘড়ি ঘন্টা বন্ধ করার প্রস্তাব দিল, তখন অধিকাংশ স্থানীয় মুসলমানরা বলল- তোমরা মাইকে আজান দাও, সে শব্দও ওদের কানে যায়, ওরা কিছু বলে না, তাহলে তোমরা নিষেধ করবে কেন? ওদের ধর্ম ওরা পালন করুক, তোমাদের ধর্ম তোমরা পালন কর, ধর্ম পালনে বাধা সৃষ্টি করবে কেন? এরপর থেকে আর কেহ কিছু বলে নাই। নিয়ম মতই সেবা-পূজা, দান-ধ্যান, আরতি- কীৰ্ত্তন চলতে থাকে। ইতিমধ্যে ছোটছেলে ১৯৯০ সালে গৃহত্যাগ করে বৃন্দাবনে চলে গেলে তিনিও ছয় বছর পরে চাকরী সমাপ্ত হলে বৃন্দাবনে গমন করেন। বৃন্দাবনে রমনরেতী গৌরাঙ্গ বাবার আশ্রমে থেকে ভজন-সাধন করতে থাকেন। সেখানেই গৌরাঙ্গ বাবার আশ্রিত শ্রীমনোহরদাস বাবার নিকট বেশাশ্রয় গ্রহন করেন। কিছুদিন পরে রাধাকুণ্ডে গমন করে সেখানে কিছুকাল নিয়ম পূৰ্ব্বক সাধন-ভজন, পাঠ-শ্রবন, কীৰ্ত্তন, শ্রীবিগ্রহ-দর্শনাদি ভক্তি-অঙ্গ যাজনে আনন্দে অতিবাহিত করেন। এরপর কিছুদিন মুখরাই গ্রামে থেকে ভজনে সংলগ্ন হন। মাধুকরী বৃত্তি অবলম্বন করে পাঠ-কীর্ত্তন, লীলা স্মরণে আবিষ্ট থাকতেন। মুখরাই গ্রামে কিছুকাল ভজনানন্দে অতিবাহিত করে পুনরায় রাধাকুণ্ডে চলে আসেন। ইতিমধ্যে নিতাইচাঁদের ডাক আসে একচক্রা থেকে। নিতাইচাঁদের আহ্বান উপেক্ষা করতে না পেরে চলে আসেন শ্রীমন্নিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান আশ্রম একচক্রা ধামে। সেখানে যথাসাধ্য সেবাদি করে অবকাশ মত জপ-ধ্যানাদি করতে থাকেন। বয়সের ভারে অবনত হয়েও পুষ্পচয়ন, তুলসী-মঞ্জরী আমানিয়া, অঙ্গন-মার্জনাদি সেবা করতেন। কখনও মাল্য গ্রন্থন সেবাও করতেন। রাত্রি দু'টোর সময় গাত্রোত্থান করে জপে বসতেন। তারপর কুঞ্জভঙ্গ কীর্ত্তন থেকে শুরু করে মঙ্গলারতি কীৰ্ত্তন, প্রভাতী কীর্ত্তনাদি সমাপন করে বৈষ্ণব বন্দনা, সপার্ষদ গৌরাঙ্গ বন্দনা, নানাবিধ স্তব-স্তোত্র, অষ্টক, অষ্টোত্তর শতনামাদি পাঠ করতেন। আবার দুপুরে মধ্যাহ্নকীর্ত্তন, শ্রীকুণ্ডমিলন কীর্ত্তনাদি করতেন। দুপুরে প্রসাদ পেয়ে আবার জপে বসতেন। এর মধ্যে কেহ এসে পাশে বসলে প্রসঙ্গ করতেন, হরিকথা শোনাতেন। যিনিই পাশে বসতেন তিনিই অনুভব করতে পারতেন, তাঁর কতখানি অনুভূতি ও জ্ঞানের গভীরতা। ধারা প্রবাহ বলেই যেতেন, কথার বিরাম হত না। কদাচিৎ শোনার লোক না পেলে ঠাকুরকেই শোনাতেন। কে আসছে, কে যাচ্ছে, কে কেমন আছে সব খবর নিতেন। সন্ধ্যাবেলায় সন্ধ্যারতি কীর্ত্তন থেকে শুরু করে সব কীর্ত্তন আখর সহযোগে গাইতেন। এমনি সুদৃঢ় নিয়মানুবর্তিতায় তের বৎসর যাবৎ শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ জন্মস্থান আশ্রমে ভজনরস আস্বাদন করলেন। অবশেষে উপর থেকে ডাক আসল, ১৪২৭ বঙ্গাব্দের ফাল্গুনী কৃষ্ণাচতুর্দশী মধ্য রাতে ইহলীলা সম্বরণ করে নিতাই-গৌরাঙ্গের নিত্যলীলায় প্রবিষ্ট হলেন। আজ আমরা একজন মহাত্মার সঙ্গহারা হলাম ও সেবা-সুখে বঞ্চিত হলাম।‘কৃষ্ণভক্ত বিরহ বিনা দুঃখ নাহি আর’। তাঁর লোকোত্তর প্রয়ানে শ্রীশ্রীনিত্যনন্দ জন্মস্থান আশ্রমের সেবকবৃন্দ সকলেই মন্মহিত।।
—ঃঃ–
https://gopisharan.blogspot.com
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

*🙏🙏🌹শ্রীশ্রীগৌরগোবিন্দ দাস বাবাজি মহাশয়ের চরিত মাধুরী।।🌹🙏🙏✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/03/gour-gobinda-das.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
       ꧁ গৌরাঙ্গপুরের গৌরগোবিন্দদাস বাবা 
       ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     🏠Home Page🏠⬇️⬇️🙏⬇️⬇️📚PDF গ্রন্থ📚
꧁ MrinmoyNandy.blogspot.com 👉 সূচীপত্র ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
꧁ https://Gopisharan.blogspot.com 🙏 সূচীপত্র ꧂
      ꧁ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী গোপীশরণ দাস ꧂
       এই লিংকে ⬇️⬇️⬇️🙏⬇️⬇️⬇️ ক্লিক করুন 
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
গৌরাঙ্গপুরের গৌরগোবিন্দদাস বাবা
—গোপীশরণ দাস, নিতাইবাড়ি।


কলিযুগ পাবনাবতার শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পদ পরশে ধন্য হয়েছিল যে সমস্ত স্থান, তারই মাঝে এক অজ্ঞাতপল্লী, অধুনা বাংলাদেশের ‘গৌরাঙ্গপুর’ গ্রাম। সম্ভবত মহাপ্রভুর আগমনেই এই নাম পড়েছিল। শুধু এই গ্রামই নয়, আশপাশের গ্রামগুলিও ছিল গোকুল পুর, বলরামপুর, শ্রীরামপাড়া, কেশবপুর, নারায়ণপুর ইত্যাদি। গ্রামগুলি আজও মহাপ্রভুর আগমনের সাক্ষ্যবহন করে চলেছে। ‘বঙ্গদেশে মহাপ্রভু হইলা প্রবেশ। অদ্যাপিহ সেই ভাগ্যে ধন্য বঙ্গদেশ।। পদ্মাবতী তীরে রহিলেন গৌরচন্দ্র। শুনি সর্বলোক বড় হইল আনন্দ।। ভাগ্যবতী পদ্মাবতী সেই দিন হইতে। যোগ্য হইলা সর্বলোক পবিত্র করিতে।।’ পদ্মাবতী নদীর তীরে এই গৌরাঙ্গপুর গ্রামেই বাস করতেন শ্রীরমেশচন্দ্র সরকার ও শ্রীমতী শোভারাণীদেবী। অনেক প্রতীক্ষার পর ১৩৫২ সালের আশ্বিন মাসে শুভক্ষনে শোভারাণীদেবী এক পুত্ররত্ন প্রসব করলেন। নাম রাখা হল, ‘গৌরগোপাল'। বয়স বাড়ার সাথে সাথে গৌরগোপালের সরলতা বিনয়াদি গুনের বিকাস হতে থাকে। আপনভোলা সরল-ব্যবহারে শিক্ষকাদি সকলের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠল গৌরগোপাল। পাশে এক ঘর নরসুন্দর (নাপিত) ছাড়া চারিদিকেই মুসলমানের বাস ছিল। তাই সকলের সাথে অবাধ মেলামেশার সুযোগও ছিল না। পাশেই বিশাল আমের বাগান। সেই বাগানেই তার অবসর সময় কাটত। এসময়েই কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষা গ্রহন করেন স্থানীয় এক ব্রাহ্মনের কাছ থেকে। মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার পর আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে একটি দোকানের কাজে যোগদান করেন। দোকানের মালিক বললেন- যে দামে কেনা তার থেকে দুই টাকা বেশি করে বলবে তাহলে তিন টাকা লাভ থাকবে। কিন্তু গৌরগোপাল গ্রাহকদের সত্য কথা বলে দিত, ফলে মাত্র এক টাকা লাভ হত। এতে দোকানের মালিক রুষ্ট হয়ে দোকান থেকে বহিষ্কার করে দিলেন। তাঁর সরল ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে গ্রাহকগণ নিজ দোকানে নিয়ে রাখলেন। ইতিমধ্যে ভগবদিচ্ছায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে চাকুরী মিলে গেল। ৩৪ টাকা বেতনে শিক্ষকতা শুরু হল। কিছুদিন পরে বিবাহ করলেন। ক্রমে ক্রমে তিন পুত্র ও দুই কন্যার জন্ম হল। সংসার প্রতিপালনের পাশাপাশি অতিথি সৎকার, যথাসাধ্য গরীব দুঃখীদের সহায়তাও করতেন। এ ছাড়াও ঘরে উৎসবাদি লেগেই থাকত। মাসের শেষে ধার করতেন, বেতন পেলে ধার শোধ করে পুনরায় মাসের শেষে ধার করতেন।

এভাবেই চলছিল গৌরগোপালের সংসার। আশেপাশের মুসলীমরাও তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিল। সকলে গৌরমাহান্ত বলেই ডাকতেন। দূরদূরান্তে গৌরাঙ্গপুরের ‘গৌরমাষ্টার’ নামে খ্যাত হয়েছিলেন তিনি। চারটি ছেলে-মেয়ে পর পর হলেও ছোট ছেলেটি হয়েছিল সাত বৎসর পরে। অন্যান্য ছেলেদের থেকে এ ছেলেটি একটু ভিন্ন প্রকৃতির ছিল। তাই তার প্রতি একটু বাড়তি স্নেহ পোষন করতেন গৌরগোপাল সরকার। দৈনিক রাত তিনটেয় উঠে স্নান করে ঠাকুরের মঙ্গলারতি করতেন। তারপর ছেলেটিকে বিছানা থেকে তুলে এনে কোলে বসিয়ে হাতে করতাল দিয়ে হাত ধরে বাজাতেন। প্রায় দু'ঘন্টা ধরে চলত প্রভাতী কীৰ্ত্তন। ছেলেটি একটু বড় হলে একটি মৃদঙ্গ কিনে আনলেন। কিছুদিন অভ্যাস করতেই সুন্দর বাজাতে লাগল ছেলেটি। তখন পিতা-পুত্রে মিলে মহানন্দে কীর্ত্তন করতে লাগলেন। স্কুলের পাঠ পড়ার সময় ছেলেকে বলতেন- পড়া শুরু করার আগে এক অধ্যায় গীতা ও মাহাত্ম্য পাঠ করে স্কুলের পড়া শুরু করবে, তাহলে পড়া ভাল মনে থাকবে।

বাড়ি থেকে স্কুল দুই মাইল দূরে ছিল। তৃতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হবার পর ছোট ছেলেটিকেও ঐ স্কুলেই নিয়ে যেতে লাগলেন। বাড়ি থেকে স্কুল অবধি একটিও হিন্দু বাড়ি ছিল না। স্কুলে একজনই হিন্দু শিক্ষক ও একটিই মাত্র হিন্দু ছাত্র ছিল। তথাপি সকলেই তাঁকে ভালবাসত তাঁর অমায়িক ব্যবহারে। প্রতিদিন ছেলেটিকে সাথে নিয়ে হাঁটাপথে দুই মাইল পথ অতিক্রম করে স্কুলে যেতেন। যাবার সময় ও আসার সময় ভগবানের লীলাকথা শোনাতেন। আরও বলতেন— দেখ! আমার যখন সময় ছিল, তখন কেউ আমাকে বলে নাই, আমি ভুল করেছি। তুমি যেন ভুল কোরো না। এই মনুষ্য জন্ম পাওয়া গিয়েছে একমাত্র হরিভজনের জন্য। আহার, নিদ্রা, ভয়, মৈথুন পশু-পাখিরাও করে, মানুষও যদি সেই প্রকার আচরণ করে, তবে পশু আর মানুষে পার্থক্য কি থাকল? এই সুদূর্লভ মনুষ্য জন্ম কেবল মাত্র হরিভজনের জন্যই পাওয়া গিয়েছে। এ জন্ম একবার বৃথা চলে গেলে আর পাওয়া যাবে না। পুনরায় চুরাশী লক্ষ যোনি ভ্রমন করতে হবে। ভগবদ্ভজন করতে হলে শিশুকাল থেকেই শুরু করতে হবে। এখনই সঠিক সময়। সময় বৃথা নষ্ট কোরো না। এই ভাবে উপদেশ দিতেন এবং ধ্রুব চরিত্র প্রহলাদ চরিত্র বলতে বলতে স্কুলে নিয়ে যেতেন, আবার ফেরার সময় বলতে বলতে বাড়ি নিয়ে আসতেন। স্কুলে পড়া না পারলে অন্য ছেলেদের থেকে নিজের ছেলেকেই বেশী মারতেন। এভাবেই শাসনে সোহাগে পরমার্থ পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন ছেলেটিকে। শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণিত হয়েছে ঋষভদেব যেমন তাঁর শত পুত্রকে পরমার্থ পথের উপদেশ দিয়ে আত্মকল্যানের পথ প্রশস্ত করেছিলেন, তদ্রূপ গৌরগোপাল সরকারও নিজ পুত্রকে পরমার্থ পথে এগিয়ে দিয়ে এক আদর্শ পিতার ভূমিকা পালন করেছিলেন। এক বাস্তবিক পিতা এই প্রকারই হওয়া উচিৎ।

শাস্ত্র বলছেন- ‘গুরুর্ন স স্যাৎ স্বজনো ন স স্যাৎ পিতা ন স্যাজ্জননী ন সা স্যাৎ।
দৈবং ন তৎস্যান্নপতিশ্চ স স্যান্নমোচয়েদ যঃ সমুপেতমৃত্যুম্।।' ভা.৫/৫/১৮

যিনি তাঁর আশ্রিত জনকে সমুপস্থিত মৃত্যুরূপ সংসার সাগর থেকে উদ্ধার করতে না পারেন, তিনি গুরু, পিতা, পতি, জননী অথবা দেবতা পদবাচ্য নন। মৃত্যু থেকে উদ্ধার করতে না পারলে, পিতা পিতা নয় ‘যমের মিতা’। তাই পিতার মত পিতা অর্থাৎ যোগ্য পিতা ছিলেন গৌরগোপাল সরকার। এরপরে দীক্ষাগুরুর অনুমতি নিয়ে শ্রীপাদরামদাস বাবাজি মহাশয়ের শিষ্য-সন্তান শ্রীলব্রজরাখালদাসজীর নিকট গৌর-নিত্যানন্দ মন্ত্রাদি গ্রহন করেন। সম্পূর্ণ মুসলমান অধ্যুষিত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও ধুতি পাঞ্জাবী পরে, গলায় মালা, কপালে তিলক, মাথায় মোটা শিখা রেখে স্কুলে যেতেন। প্রথম প্রথম অনেকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করলেও পরে তাঁকে আদর্শ ধার্মিক এবং সজ্জন জেনে সকলেই শ্রদ্ধা করতেন। নিশান্তে ঘুম থেকে উঠে স্নান, মঙ্গলারতি, প্রভাতী কীর্ত্তন সেরে, ঠাকুরের বাসন-পত্ৰ পরিষ্কার করে, ফুল তুলসী চয়ন করে, শীতল ভোগ লাগিয়ে পুনরায় অন্নভোগ সমর্পন করে প্রসাদ পেয়ে ন'টার মধ্যে বেরিয়ে পড়তেন স্কুলে। দুই মাইল পথ অতিক্রম করে দশটায় গিয়ে স্কুলে পৌঁছাতেন। বৈকালে স্কুল থেকে ফিরে ঠাকুর উত্থাপন করে ভোগ দিতেন। কিছু সময় ঠাকুরের ফল-মূল, শাক-শব্জীর বাগান পরিচর্যা করে পুনরায় সন্ধ্যায় মদনগোপালের আরতি করতেন ঘড়ি-ঘন্টা বাজিয়ে। তারপর ভক্তবৃন্দকে প্রসাদ বিতরণ করতেন। সন্ধ্যার পর পুনরায় সন্ধ্যারতি, প্রথমে রাধারাণীর আরতি, অভিসার, যুগলকিশোরের আরতি, অভিসার, গৌরের আরতি, রাধারমণদেবের আরতি। তারপর বৃন্দেরাণীর কীর্ত্তন, গুরুবন্দনা ইত্যাদি। এরপর রাত্রিকালীন ভোগ, এভাবে সমাজবাড়ির নিয়মানুসারে ছয়বার ভোগ হত, মঙ্গলা ও সন্ধ্যারতির সময় ঘড়ি-ঘন্টা বাজিয়ে আরতি হত। এ দুই সময়েই মুসলমানদের আজান দেওয়ার সময়, তাদের কানে ঘড়ি-ঘন্টার শব্দ যেত, তারা মিটিং করে ঘড়ি ঘন্টা বন্ধ করার প্রস্তাব দিল, তখন অধিকাংশ স্থানীয় মুসলমানরা বলল- তোমরা মাইকে আজান দাও, সে শব্দও ওদের কানে যায়, ওরা কিছু বলে না, তাহলে তোমরা নিষেধ করবে কেন? ওদের ধর্ম ওরা পালন করুক, তোমাদের ধর্ম তোমরা পালন কর, ধর্ম পালনে বাধা সৃষ্টি করবে কেন? এরপর থেকে আর কেহ কিছু বলে নাই। নিয়ম মতই সেবা-পূজা, দান-ধ্যান, আরতি- কীৰ্ত্তন চলতে থাকে। ইতিমধ্যে ছোটছেলে ১৯৯০ সালে গৃহত্যাগ করে বৃন্দাবনে চলে গেলে তিনিও ছয় বছর পরে চাকরী সমাপ্ত হলে বৃন্দাবনে গমন করেন। বৃন্দাবনে রমনরেতী গৌরাঙ্গ বাবার আশ্রমে থেকে ভজন-সাধন করতে থাকেন। সেখানেই গৌরাঙ্গ বাবার আশ্রিত শ্রীমনোহরদাস বাবার নিকট বেশাশ্রয় গ্রহন করেন। কিছুদিন পরে রাধাকুণ্ডে গমন করে সেখানে কিছুকাল নিয়ম পূৰ্ব্বক সাধন-ভজন, পাঠ-শ্রবন, কীৰ্ত্তন, শ্রীবিগ্রহ-দর্শনাদি ভক্তি-অঙ্গ যাজনে আনন্দে অতিবাহিত করেন। এরপর কিছুদিন মুখরাই গ্রামে থেকে ভজনে সংলগ্ন হন। মাধুকরী বৃত্তি অবলম্বন করে পাঠ-কীর্ত্তন, লীলা স্মরণে আবিষ্ট থাকতেন। মুখরাই গ্রামে কিছুকাল ভজনানন্দে অতিবাহিত করে পুনরায় রাধাকুণ্ডে চলে আসেন। ইতিমধ্যে নিতাইচাঁদের ডাক আসে একচক্রা থেকে। নিতাইচাঁদের আহ্বান উপেক্ষা করতে না পেরে চলে আসেন শ্রীমন্নিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান আশ্রম একচক্রা ধামে। সেখানে যথাসাধ্য সেবাদি করে অবকাশ মত জপ-ধ্যানাদি করতে থাকেন। বয়সের ভারে অবনত হয়েও পুষ্পচয়ন, তুলসী-মঞ্জরী আমানিয়া, অঙ্গন-মার্জনাদি সেবা করতেন। কখনও মাল্য গ্রন্থন সেবাও করতেন। রাত্রি দু'টোর সময় গাত্রোত্থান করে জপে বসতেন। তারপর কুঞ্জভঙ্গ কীর্ত্তন থেকে শুরু করে মঙ্গলারতি কীৰ্ত্তন, প্রভাতী কীর্ত্তনাদি সমাপন করে বৈষ্ণব বন্দনা, সপার্ষদ গৌরাঙ্গ বন্দনা, নানাবিধ স্তব-স্তোত্র, অষ্টক, অষ্টোত্তর শতনামাদি পাঠ করতেন। আবার দুপুরে মধ্যাহ্নকীর্ত্তন, শ্রীকুণ্ডমিলন কীর্ত্তনাদি করতেন। দুপুরে প্রসাদ পেয়ে আবার জপে বসতেন। এর মধ্যে কেহ এসে পাশে বসলে প্রসঙ্গ করতেন, হরিকথা শোনাতেন। যিনিই পাশে বসতেন তিনিই অনুভব করতে পারতেন, তাঁর কতখানি অনুভূতি ও জ্ঞানের গভীরতা। ধারা প্রবাহ বলেই যেতেন, কথার বিরাম হত না। কদাচিৎ শোনার লোক না পেলে ঠাকুরকেই শোনাতেন। কে আসছে, কে যাচ্ছে, কে কেমন আছে সব খবর নিতেন। সন্ধ্যাবেলায় সন্ধ্যারতি কীর্ত্তন থেকে শুরু করে সব কীর্ত্তন আখর সহযোগে গাইতেন। এমনি সুদৃঢ় নিয়মানুবর্তিতায় তের বৎসর যাবৎ শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ জন্মস্থান আশ্রমে ভজনরস আস্বাদন করলেন। অবশেষে উপর থেকে ডাক আসল, ১৪২৭ বঙ্গাব্দের ফাল্গুনী কৃষ্ণাচতুর্দশী মধ্য রাতে ইহলীলা সম্বরণ করে নিতাই-গৌরাঙ্গের নিত্যলীলায় প্রবিষ্ট হলেন। আজ আমরা একজন মহাত্মার সঙ্গহারা হলাম ও সেবা-সুখে বঞ্চিত হলাম।‘কৃষ্ণভক্ত বিরহ বিনা দুঃখ নাহি আর’। তাঁর লোকোত্তর প্রয়ানে শ্রীশ্রীনিত্যনন্দ জন্মস্থান আশ্রমের সেবকবৃন্দ সকলেই মন্মহিত।।
—ঃঃ–
https://gopisharan.blogspot.com
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
      ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস-শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর জন্মস্থান, একচক্রা, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ। 
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

adds