✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
২৮. সেবার আদর্শ 🍀 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori28.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖꧂❀•*
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(২৮)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*🙏সেবার আদর্শ🙏*
++++++++++++++++
*🪷আপনারা সকলেই জানেন যে,নীলাচলে মহাপ্রভুর সেবক ছিলেন শ্রীগোবিন্দ।এই গোবিন্দ আবার এক হিসাবে মহাপ্রভুর শ্রেয়।কারণ তিনি ছিলেন মহাপ্রভুর দীক্ষাগুরু শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীর সেবক। সুতরাং শ্রীগুরুদেবের যিনি সেবা বা পরিচর্য্যা করতেন তিনি সর্বপ্রকারে গুরুজন। কিন্তু শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীর আদেশে তিনি গৌরহরির সেবার কার্য্যে নিজেকে নিযুক্ত করেন।মহাপ্রভু প্রথমে এই সেবা নিতে অমত করেন কিন্তু বৈষ্ণব জগতে আজ্ঞা বলবান।সেইজন্য গোবিন্দ যখন সমস্ত কথা খুলে বললেন তখন গৌরহরির পক্ষে আর অমত করা সম্ভব ছিল না।এই গোবিন্দ আজীবন গম্ভীরা মন্দিরে থেকে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর সেবা কার্য্য করে গিয়েছেন।অন্যান্য সেবা ছাড়া তাঁর নিত্য নৈমিত্তিক সেবার এক বৈশিষ্ট্য এই ছিল যে,মহাপ্রভু মধ্যাহ্নে যখন প্রসাদ পাবার পর অল্প সময়ের জন্য বিশ্রাম করতেন তখন গোবিন্দ তাঁর পাদ-সম্বাহন (শ্রীচরণসেবা) ও সর্বঅঙ্গ সেবা করতেন,মহাপ্রভুর বিশ্রামসুখ যেন পরিপূর্ণ হয়।তাঁর এই সেবার আরও একটি ফিশেষত্ব ছিল এই যে,তিনি মহাপ্রভুর অঙ্গসেবা না করা পর্যন্ত নিজে প্রসাদ পেতেন না।*
*🍀একদিন মহাপ্রভু গোবিন্দকে পরীক্ষা করবার মানসে গম্ভীরা মন্দিরের দ্বারদেশে (দরজার সামনে )এমনভাবে শয়ন করলেন যেন না ডিঙ্গিয়ে ভেতরে যাওয়া সম্ভব নয়, সম্পূর্ণ কপট নিদ্রার অভিনয় করে তিনি এমনভাবে শয়ন করে রইলেন যে গোবিন্দের পক্ষে ভেতরে গিয়ে অঙ্গসেবা করা সম্ভবপর ছিল না।গৌরহরি যে আসলে নিদ্রামগ্ন ছিলেন না গোবিন্দ তা বেশ বুঝতে পেরেছিলেন। সেইজন্য অতিশয় বিনয়,নম্রতার সঙ্গে হাতজোড় করে তাঁর শ্রীচরণে নিবেদন করলেন যে =*
*"এক পাশ হও মোরে,দেহ ভিতর যাইতে।"*
*মহাপ্রভু তখন উত্তর দিলেন="শক্তি নাহি অঙ্গ চালাইতে।।"*
*গোবিন্দ তখন বললেন="করিতে চাহি পাদ সম্বাহন।"*
*মহাপ্রভু আবার কহিলেন="কর বা না করো যেই তোমার মন।"*
*☘গোবিন্দ তখন বেশ বুঝতে পারলেন যে মহাপ্রভু তাঁকে পরীক্ষা করছেন, যে তাঁর সেবার আন্তরিকতা কতখানি তা পরীক্ষা করবার জন্য ইত্যাদি।ভক্ত ভগবানের এইরকম লীলা প্রায়ইশ দেখা যায় এবং শেষে ভক্তের জয় হয় তখন ভগবান তাঁর ভক্তকে কোলে তুলে নিয়ে আলিঙ্গন করে মহানন্দ লাভ করেন।এই হচ্ছে ভক্ত ভগবানের মহিমা কীর্তন।গোবিন্দ যখন কোন কারণে মহা সমস্যায় পড়ে গেলেন এবং আপন মনে চিন্তা করতে লাগলেন যে কিভাবে প্রভুর অঙ্গ সেবা করা যায়।*
*মহাপ্রভুর যদি নিদ্রাসুখ না হয় তাহলে গোবিন্দেরও তো আহারে কোন সুখ হবে না,নানারকম চিন্তা করে কি করলেন শ্রবণ করুন।শায়িত মহাপ্রভুর শ্রীঅঙ্গের উপর একটি বর্হিবাস আচ্ছাদন দিয়ে তিনি এক লাফে মহাপ্রভুর উপর দিয়ে ডিঙ্গিয়ে গম্ভীরা মন্দিরে প্রবেশ করলেন এবং গৌরহরির পদ সেবা করতে লাগলেন।শ্রীগৌরাঙ্গ যেন কিছুই বুঝতে পারলেন না এবং নিদ্রাচ্ছন্ন ভাবে পড়ে রইলেন।ভাগ্যবান গোবিন্দ তাঁর সর্ব অঙ্গ মৃদুভাবে মর্দন করে মহাপ্রভুর ক্লান্তি দূর করতে লাগলেন।🙏হে গোবিন্দ!তোমার ভাগ্য "শিব বিরিঞ্চি বাঞ্জিত" তোমার চরণে কোটি কোটি নমস্কার কারণ তুমি আমাদের মহাপ্রভুর নিত্য অঙ্গ সেবার অধিকারী ছিলে।যে সৌভাগ্য কোটির মধ্যে একজনেরও ভাগ্যে হয়নি। এই প্রসঙ্গে চরিতামৃতে লেখা আছে যে=*
*তবে গোবিন্দ বর্হিবাস তাঁর উপর দিয়া।*
*ভিতর ঘরেতে গেলা প্রভুকে লঙ্ঘিয়া।।*
*পাদ সম্বাহন করিল,কটি পৃষ্ঠ চাপিল।*
*মধুর মর্দনে প্রভুর পরিশ্রম গেল।।*
*সুখে নিদ্রা হোলো প্রভুর গোবিন্দ চাপে অঙ্গ।*
*দুই দন্ড বাদে প্রভুর হইল নিদ্রা ভঙ্গ।।*
*💧কপট নিদ্রাভঙ্গের পর মহাপ্রভু হঠাৎ গোবিন্দকে সেবারত দেখে বলে উঠলেন=*
*"আদিবস্যা কেন এতক্ষণ আছিস বসিয়া।*
*নিদ্রা হৈলে কেন নাহি গেলা প্রসাদ পাইতে।।"*
*🍀অর্থ্যাৎ কিনা অঙ্গসেবা হয়ে গেল, আমি নিদ্রা হতে উঠে পড়লাম তবুও তুমি এখনও বসে আছ প্রসাদ পেতে যাওনি কেন?কারণ গৌরহরি ইহা জানতের যে তাঁর প্রসাদ পাবার পর তাঁর অঙ্গসেবা না করে গোবিন্দ কখনও প্রসাদান্ন গ্রহণ করতেন না। তখন গোবিন্দ স্নিগ্ধ মধুর কন্ঠে বলিলেন=*
*"দ্বারে শুইলা যাইতে নাহি পথে।"*
*🌷অর্থ্যাৎ আপনি বা নিজে দরজার ধারে এমন ভাবে শয়ন করে আছেন যে আমার পক্ষে বাহিরে যাওয়া সম্ভব নয়।তখন গৌরহরি কহিলেন, ভিতরে তবে আইলা কেমনে?এইবার শ্রবণ করুন গোবিন্দ মহিমা।উপযুক্ত আধার না হলে কি আর তাঁর শ্রীগুরুদেব এই সেবার দায়িত্ব তাঁর উপর ন্যস্ত(সমর্পিত) করেছিলেন। গোবিন্দ খানিকক্ষণ নীরব থেকে বললেন=*
*"গোবিন্দ কহিলেন মোর সেবা সে নিয়ম।*
*অপরাধ হউক বা নরকে গমন।।*
*সেবা লাগি কোটি অপরাধ নাহি গণি।*
*স্ব নিমিত্ত অপরাধভাসে ভয় মানি।।*
*🍁অর্থ্যাৎ হে প্রভো! তোমার সেবার জন্য আমার যত অপরাধই হোক না কেন তাকে আমি ভয় করি না।তার জন্য আমাকে যদি নরকে যেতে হলেও আমি তার জন্য রাজী আছি। কারণ তোমার সেবাই আমার জীবনের একমাত্র ব্রত,জীবনের ধ্যান-জ্ঞান, আমার নিজের প্রয়োজনে অপরাধের আভাস মাত্রকে আমি বড় ভয় করি। অর্থ্যাৎ তোমার শ্রীঅঙ্গ সেবার জন্য তোমাকে লঙ্ঘন করে যে পাপ করেছি তাতে যদি আমাকে নরকে পর্য্যন্ত যেতে হয় তার জন্য আমি ভয় করি না। কিন্তু সেবা অন্তে তোমাকে ডিঙ্গিয়ে বাইরে যাবার অর্থ নিজ প্রয়োজন সিদ্ধ করা অর্থ্যাৎ এই যাবার অর্থ আর কিছু না, শুধু নিজের ক্ষুধার জ্বালা নিবারণ করা, এতে যদি মহা মহা অপরাধ হয় হোক।দুনিয়ার লোক জানবে যে গোবিন্দ তাঁর নিজ প্রয়োজনে স্বয়ং ভগবানের শ্রীঅঙ্গের উপর দিয়ে লঙ্ঘন করে খেতে গেছে। কিন্তু মহাপ্রভু সে তো আমার দ্বারা সম্ভব নয়।তুমি যতক্ষণ পর্যন্ত এইভাবে শুয়ে থাকবে ততক্ষণ আমি এইভাবেই ভিতরে বসে থাকব।চতুর চূড়ামণি গৌরহরি গোবিন্দের এই কথা শুনে একেবারেই মুগ্ধ হয়ে গেলেন এবং গোবিন্দের প্রশস্তি (প্রশংসা)করতে লাগলেন। ভগবানের এই পরীক্ষায় ভক্তের জয় হল কিন্তু ভক্ত মনে করেন এ জয় আমার নহে তাঁরই জয়।সেবার এইরকম জ্বলন্ত আদর্শ বৈষ্ণব শাস্ত্রের এক অমূল্য সম্পদ।ভক্তি জগতের এটি একটি রত্নহার।প্রেমভক্তি কি বস্তু তা একমাত্র বৈষ্ণব শাস্ত্রের নিগূঢ় তত্ত্বের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে যা পাঠ করে ভক্ত ভ্রমরগণ তা আহরণ করে মনে তৃপ্তিলাভ করতে পারেন।*
*🌹আহা!হায়! আজ আমাদের মহাপ্রভুও নেই,গোবিন্দও নেই, কিন্তু আছে সেই শাস্ত্র, আছে সেইসব আদর্শ যা আমাদের পালন করা কর্তব্য।শ্রীগুরুদেব হচ্ছেন শ্রীনিত্যানন্দ শক্তি।আজ আমরা গুরুরূপে যাঁকে পেয়েছি তাঁকেই নন্দসুত জ্জানে সেবা করা শিষ্যদের কর্তব্য। তাহলে গুরুকৃপা আমরা লাভ করতে পারব।শ্রীগুরুদেবের উপর নিষ্কপট ভক্তি,পরমকরুণ শ্রীগুরুদেবের শ্রীচরণে নির্ভেজাল নিষ্ঠাই শিষ্যকে তাঁর নিজ সিদ্ধির পথে নিয়ে যাবেন।মহাপ্রভুর নিজের এই আচরণ শুধু জীব শিক্ষার জন্য তাঁর নিজ সুখের জন্য নহে আশাকরি ইহা সুধী পাঠকগণ তা অনুধাবন করতে পেরেছেন।🙏ধন্য গোবিন্দ!তোমার শ্রীচরণে ভক্তি দাও ও আশীর্বাদ করো যেন শ্রীগুরুচরণে আমাদের মতি থাকে*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*রাসলীলা ইচ্ছি মনে,ডাকি হরি গোপীগণে,*
*একত্রে আসিয়া তবে সমবেত হন।*
*গোপীদের নারায়ণ,কন্ঠে হস্ত দিয়া রণ,*
*সবে ভাবে মোর কাছে আছে জনার্দন।।*
*করিলেন ইচ্ছা হরি,গোপীগণে সঙ্গে করি,*
*করিবেন রাসলীলা রহি বৃন্দাবন।*
*কেলির মানস করি,পূর্ণিমা রাতেতে হরি,*
*সুমধুরে মুরলী তবে করেন বাদন।।*
*সে সুর শ্রবণ করি,গৃহে যারা গোপনারী,*
*ব্যাকুল হইল সেথা করিতে গমন*।
*মুরলী-ধ্বনি করি হরি,ডাকিছেন নাম ধরি,*
*ধ্বনি শুনি পরস্পরে করে আলাপন।।*
🦚🪷🙏🪔🦚🪷🙏🪔🙏🦚🪷🪔🦚
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
*••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••*
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
*••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
