শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

শ্রী মৃন্ময় নন্দী কর্ত্তৃক সকল ভক্ত👣চরণে👣অসংখ্যকোটি 🙇প্রণাম🙇 ক্লিক করুন 👇

২৮. সেবার আদর্শ 🍀 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori28.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(২৮)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
         *🙏সেবার আদর্শ🙏*
         ++++++++++++++++
*🪷আপনারা সকলেই জানেন যে,নীলাচলে মহাপ্রভুর সেবক ছিলেন শ্রীগোবিন্দ।এই গোবিন্দ আবার এক হিসাবে মহাপ্রভুর শ্রেয়।কারণ তিনি ছিলেন মহাপ্রভুর দীক্ষাগুরু শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীর সেবক। সুতরাং শ্রীগুরুদেবের যিনি সেবা বা পরিচর্য‍্যা করতেন তিনি সর্বপ্রকারে গুরুজন। কিন্তু শ্রীপাদ ঈশ্বরপুরীর আদেশে তিনি গৌরহরির সেবার কার্য‍্যে নিজেকে নিযুক্ত করেন।মহাপ্রভু প্রথমে এই সেবা নিতে অমত করেন কিন্তু বৈষ্ণব জগতে আজ্ঞা বলবান।সেইজন‍্য গোবিন্দ যখন সমস্ত কথা খুলে বললেন তখন গৌরহরির পক্ষে আর অমত করা সম্ভব ছিল না।এই গোবিন্দ আজীবন গম্ভীরা মন্দিরে থেকে শ্রীকৃষ্ণচৈতন‍্য মহাপ্রভুর সেবা কার্য‍্য করে গিয়েছেন।অন‍্যান‍্য সেবা ছাড়া তাঁর নিত‍্য নৈমিত্তিক সেবার এক বৈশিষ্ট্য এই ছিল যে,মহাপ্রভু মধ‍্যাহ্নে যখন প্রসাদ পাবার পর অল্প সময়ের জন্য বিশ্রাম করতেন তখন গোবিন্দ তাঁর পাদ-সম্বাহন (শ্রীচরণসেবা) ও সর্বঅঙ্গ সেবা করতেন,মহাপ্রভুর বিশ্রামসুখ যেন পরিপূর্ণ হয়।তাঁর এই সেবার আরও একটি ফিশেষত্ব ছিল এই যে,তিনি মহাপ্রভুর অঙ্গসেবা না করা পর্যন্ত নিজে প্রসাদ পেতেন না।*
*🍀একদিন মহাপ্রভু গোবিন্দকে পরীক্ষা করবার মানসে গম্ভীরা মন্দিরের দ্বারদেশে (দরজার সামনে )এমনভাবে শয়ন করলেন যেন না ডিঙ্গিয়ে ভেতরে যাওয়া সম্ভব নয়, সম্পূর্ণ কপট নিদ্রার অভিনয় করে তিনি এমনভাবে শয়ন করে রইলেন যে গোবিন্দের পক্ষে ভেতরে গিয়ে অঙ্গসেবা করা সম্ভবপর ছিল না।গৌরহরি যে আসলে নিদ্রামগ্ন ছিলেন না গোবিন্দ তা বেশ বুঝতে পেরেছিলেন। সেইজন‍্য অতিশয় বিনয়,নম্রতার সঙ্গে হাতজোড় করে তাঁর শ্রীচরণে নিবেদন করলেন যে =*
*"এক পাশ হও মোরে,দেহ ভিতর যাইতে।"*
*মহাপ্রভু তখন উত্তর দিলেন="শক্তি নাহি অঙ্গ চালাইতে।।"*
*গোবিন্দ তখন বললেন="করিতে চাহি পাদ সম্বাহন।"*
*মহাপ্রভু আবার কহিলেন="কর বা না করো যেই তোমার মন।"*
*☘গোবিন্দ তখন বেশ বুঝতে পারলেন যে মহাপ্রভু তাঁকে পরীক্ষা করছেন, যে তাঁর সেবার আন্তরিকতা কতখানি তা পরীক্ষা করবার জন্য ইত‍্যাদি।ভক্ত ভগবানের এইরকম লীলা প্রায়ইশ দেখা যায় এবং শেষে ভক্তের জয় হয় তখন ভগবান তাঁর ভক্তকে কোলে তুলে নিয়ে আলিঙ্গন করে মহানন্দ লাভ করেন।এই হচ্ছে ভক্ত ভগবানের মহিমা কীর্তন।গোবিন্দ যখন কোন কারণে মহা সমস‍্যায় পড়ে গেলেন এবং আপন মনে চিন্তা করতে লাগলেন যে কিভাবে প্রভুর অঙ্গ সেবা করা যায়।*

*মহাপ্রভুর যদি নিদ্রাসুখ না হয় তাহলে গোবিন্দেরও তো আহারে কোন সুখ হবে না,নানারকম চিন্তা করে কি করলেন শ্রবণ করুন।শায়িত মহাপ্রভুর শ্রীঅঙ্গের উপর একটি বর্হিবাস আচ্ছাদন দিয়ে তিনি এক লাফে মহাপ্রভুর উপর দিয়ে ডিঙ্গিয়ে গম্ভীরা মন্দিরে প্রবেশ করলেন এবং গৌরহরির পদ সেবা করতে লাগলেন।শ্রীগৌরাঙ্গ যেন কিছুই বুঝতে পারলেন না এবং নিদ্রাচ্ছন্ন ভাবে পড়ে রইলেন।ভাগ‍্যবান গোবিন্দ তাঁর সর্ব অঙ্গ মৃদুভাবে মর্দন করে মহাপ্রভুর ক্লান্তি দূর করতে লাগলেন।🙏হে গোবিন্দ!তোমার ভাগ‍্য "শিব বিরিঞ্চি বাঞ্জিত" তোমার চরণে কোটি কোটি নমস্কার কারণ তুমি আমাদের মহাপ্রভুর নিত‍্য অঙ্গ সেবার অধিকারী ছিলে।যে সৌভাগ্য কোটির মধ্যে একজনেরও ভাগ‍্যে হয়নি। এই প্রসঙ্গে চরিতামৃতে লেখা আছে যে=*
*তবে গোবিন্দ বর্হিবাস তাঁর উপর দিয়া।*
*ভিতর ঘরেতে গেলা প্রভুকে লঙ্ঘিয়া।।*
*পাদ সম্বাহন করিল,কটি পৃষ্ঠ চাপিল।*
*মধুর মর্দনে প্রভুর পরিশ্রম গেল।।*
*সুখে নিদ্রা হোলো প্রভুর গোবিন্দ চাপে অঙ্গ।*
*দুই দন্ড বাদে প্রভুর হইল নিদ্রা ভঙ্গ।।*
*💧কপট নিদ্রাভঙ্গের পর মহাপ্রভু হঠাৎ গোবিন্দকে সেবারত দেখে বলে উঠলেন=*
*"আদিবস‍্যা কেন এতক্ষণ আছিস বসিয়া।*
*নিদ্রা হৈলে কেন নাহি গেলা প্রসাদ পাইতে।।"*
*🍀অর্থ‍্যাৎ কিনা অঙ্গসেবা হয়ে গেল, আমি নিদ্রা হতে উঠে পড়লাম তবুও তুমি এখনও বসে আছ প্রসাদ পেতে যাওনি কেন?কারণ গৌরহরি ইহা জানতের যে তাঁর প্রসাদ পাবার পর তাঁর অঙ্গসেবা না করে গোবিন্দ কখনও প্রসাদান্ন গ্রহণ করতেন না। তখন গোবিন্দ স্নিগ্ধ মধুর কন্ঠে বলিলেন=*
*"দ্বারে শুইলা যাইতে নাহি পথে।"*
*🌷অর্থ‍্যাৎ আপনি বা নিজে দরজার ধারে এমন ভাবে শয়ন করে আছেন যে আমার পক্ষে বাহিরে যাওয়া সম্ভব নয়।তখন গৌরহরি কহিলেন, ভিতরে তবে আইলা কেমনে?এইবার শ্রবণ করুন গোবিন্দ মহিমা।উপযুক্ত আধার না হলে কি আর তাঁর শ্রীগুরুদেব এই সেবার দায়িত্ব তাঁর উপর ন‍্যস্ত(সমর্পিত) করেছিলেন। গোবিন্দ খানিকক্ষণ নীরব থেকে বললেন=*
*"গোবিন্দ কহিলেন মোর সেবা সে নিয়ম।*
*অপরাধ হউক বা নরকে গমন।।*
*সেবা লাগি কোটি অপরাধ নাহি গণি।*
*স্ব নিমিত্ত অপরাধভাসে ভয় মানি।।*
*🍁অর্থ‍্যাৎ হে প্রভো! তোমার সেবার জন্য আমার যত অপরাধই হোক না কেন তাকে আমি ভয় করি না।তার জন্য আমাকে যদি নরকে যেতে হলেও আমি তার জন্য রাজী আছি। কারণ তোমার সেবাই আমার জীবনের একমাত্র ব্রত,জীবনের ধ‍্যান-জ্ঞান, আমার নিজের প্রয়োজনে অপরাধের আভাস মাত্রকে আমি বড় ভয় করি। অর্থ‍্যাৎ তোমার শ্রীঅঙ্গ সেবার জন্য তোমাকে লঙ্ঘন করে যে পাপ করেছি তাতে যদি আমাকে নরকে পর্য‍্যন্ত যেতে হয় তার জন্য আমি ভয় করি না। কিন্তু সেবা অন্তে তোমাকে ডিঙ্গিয়ে বাইরে যাবার অর্থ নিজ প্রয়োজন সিদ্ধ করা অর্থ‍্যাৎ এই যাবার অর্থ আর কিছু না, শুধু নিজের ক্ষুধার জ্বালা নিবারণ করা, এতে যদি মহা মহা অপরাধ হয় হোক।দুনিয়ার লোক জানবে যে গোবিন্দ তাঁর নিজ প্রয়োজনে স্বয়ং ভগবানের শ্রীঅঙ্গের উপর দিয়ে লঙ্ঘন করে খেতে গেছে। কিন্তু মহাপ্রভু সে তো আমার দ্বারা সম্ভব নয়।তুমি যতক্ষণ পর্যন্ত এইভাবে শুয়ে থাকবে ততক্ষণ আমি এইভাবেই ভিতরে বসে থাকব।চতুর চূড়ামণি গৌরহরি গোবিন্দের এই কথা শুনে একেবারেই মুগ্ধ হয়ে গেলেন এবং গোবিন্দের প্রশস্তি (প্রশংসা)করতে লাগলেন। ভগবানের এই পরীক্ষায় ভক্তের জয় হল কিন্তু ভক্ত মনে করেন এ জয় আমার নহে তাঁরই জয়।সেবার এইরকম জ্বলন্ত আদর্শ বৈষ্ণব শাস্ত্রের এক অমূল্য সম্পদ।ভক্তি জগতের এটি একটি রত্নহার।প্রেমভক্তি কি বস্তু তা একমাত্র বৈষ্ণব শাস্ত্রের নিগূঢ় তত্ত্বের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে যা পাঠ করে ভক্ত ভ্রমরগণ তা আহরণ করে মনে তৃপ্তিলাভ করতে পারেন।*
*🌹আহা!হায়! আজ আমাদের মহাপ্রভুও নেই,গোবিন্দও নেই, কিন্তু আছে সেই শাস্ত্র, আছে সেইসব আদর্শ যা আমাদের পালন করা কর্তব‍্য।শ্রীগুরুদেব হচ্ছেন শ্রীনিত‍্যানন্দ শক্তি।আজ আমরা গুরুরূপে যাঁকে পেয়েছি তাঁকেই নন্দসুত জ্জানে সেবা করা শিষ্যদের কর্তব‍্য। তাহলে গুরুকৃপা আমরা লাভ করতে পারব।শ্রীগুরুদেবের উপর নিষ্কপট ভক্তি,পরমকরুণ শ্রীগুরুদেবের শ্রীচরণে নির্ভেজাল নিষ্ঠাই শিষ‍্যকে তাঁর নিজ সিদ্ধির পথে নিয়ে যাবেন।মহাপ্রভুর নিজের এই আচরণ শুধু জীব শিক্ষার জন্য তাঁর নিজ সুখের জন্য নহে আশাকরি ইহা সুধী পাঠকগণ তা অনুধাবন করতে পেরেছেন।🙏ধন‍্য গোবিন্দ!তোমার শ্রীচরণে ভক্তি দাও ও আশীর্বাদ করো যেন শ্রীগুরুচরণে আমাদের মতি থাকে*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*রাসলীলা ইচ্ছি মনে,ডাকি হরি গোপীগণে,*
    *একত্রে আসিয়া তবে সমবেত হন।*
*গোপীদের নারায়ণ,কন্ঠে হস্ত দিয়া রণ,*
   *সবে ভাবে মোর কাছে আছে জনার্দন।।*
*করিলেন ইচ্ছা হরি,গোপীগণে সঙ্গে করি,*
 *করিবেন রাসলীলা রহি বৃন্দাবন।*
*কেলির মানস করি,পূর্ণিমা রাতেতে হরি,*
  *সুমধুরে মুরলী তবে করেন বাদন।।*
*সে সুর শ্রবণ করি,গৃহে যারা গোপনারী,*
  *ব‍্যাকুল হইল সেথা করিতে গমন*।
*মুরলী-ধ্বনি করি হরি,ডাকিছেন নাম ধরি,*
  *ধ্বনি শুনি পরস্পরে করে আলাপন।।*
🦚🪷🙏🪔🦚🪷🙏🪔🙏🦚🪷🪔🦚
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



২৭. চেতোদর্পণ মার্জনং শ্লোকের ব‍্যাখ‍্যা 🍀 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori27.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(২৭)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*💧চেতো দর্পণ পরের অংশ💧*
========================
*🌷যেমন ধরুন সাংসারিক জীবনে গৃহস্থের বাড়ীতে বিভিন্ন ঘর থাকলেও যেটি ড্রয়ংরুম ফা বৈঠকখানা ঘরটি কিন্তু সব সময় সাজানো গোছানো থাকে, কারণ সেটি হচ্ছে বিশিষ্ট লোকেদের বসবার জায়গা।সেই গৃহস্থের অন‍্য ঘরগুলি কিন্তু সেরকম সাজানো গোছানো থাকে না কারণ সেখানে বিশিষ্ট অভ‍্যাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।সেইরকম হৃদয়াসনে যদি ভগবানকে বসাতে চান তাহলে জায়গাটিকেও সর্বপ্রকারে শুচিশুদ্ধ করতে হবে। কারণ তা না হলে ভগবান আসিবেন না। এর প্রকৃত প্রমাণ পাওয়া যায় ভক্তপ্রবর লালাবাবুর জীবনে। লালাবাবু যখন লাখ লাখ টাকা ব‍্যয় করে শ্রীধাম বৃন্দাবনে মঠ মন্দির করিয়ে দিয়ে নিষ্কিঞ্চন ভাবে মাধুকরী অবলম্বনে ভজন করতেন। একদিন তাঁর আরাধ‍্য দেবতা তাঁকে স্বপ্নাদেশ করে বলেন যে লালা তোর কাছে আমার একটি প্রার্থনা আছে।লালাবাবু দৈন‍্য বিনয় সহকারে বললেন, হে প্রভো!এ অধমের কাছে কৃপা করে প্রকাশ করুন।আমি যথাসাধ‍্য তা পূরণ করবার চেষ্টা করব।তখন কৃপাময় কৃষ্ণচন্দ্র কহিলেন যে লালা তুই আমার জন্য আর একটি মন্দির নির্মাণ কর ; আমি সেখানে থাকতে চাই।তখন লালাবাবু দৈন‍্য বিনয় সহকারে বললেন, প্রভো! আমি যে সম্পূর্ণ রিক্তহস্ত (খালিহাত), সেহেতু পুনরায় মন্দির নির্মাণ করবার মত অর্থ আমার নাই।তখন কৃপাময় কৃষ্ণচন্দ্র লালাবাবুকে বলেছিলেন, যে লালা আমি যে মন্দিরের কথা বলছি তাতে তোর কোন অর্থ ব‍্যয় হবে না অর্থ‍্যাৎ আমি তোর হৃদয় মন্দিরে থাকতে চাই, সেখানে একটু জায়গা আমায় করে দে।অর্থ‍্যাৎ ভগবান ভক্তের হৃদয়াসনে থাকবার জন্য একটুখানি জায়গা ভিক্ষা চাইছেন কারণ সেই লালাবাবুর হৃদয়টি ছিল ময়লা বর্জিত।এই শ্লোকাংশের এ অপেক্ষা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আর কি হতে পারে।*
*🔥অরণ‍্যের মধ্যে যে অনল বা আগুন প্রজ্বলিত হয় তাকে দাবানল বলে। সেই আগুনের প্রবলতা এত বেশী যে তার প্রকোপে বৃহৎ বনানীসমূহ বনানী=অরণ‍্য,পুড়ে ছারখার হয়ে যায়।তাকে নিভানো প্রায় একরকম অসম্ভব হয়ে উঠে, কিন্তু মহাপ্রভু এখানে বলছেন যে ত্রিতাপ জ্জ্বালায় জর্জরিত কামনা বাসনার দ্বারা পীড়িত জীবসকল মায়াময় এই সংসারে সদাসর্বদা এই পৃথিবীতে জ্বলে পুড়ে মরছে, একমাত্র ভাল ও সুস্থ থাকবার পথ নাম সংকীর্তন প্রভাবে মানুষ এই ভবদাবাগ্নির হাত হতে উদ্ধার হতে পারে।এই উদাহরণটির অতীব চমৎকার প্রকাশভঙ্গি পাওয়া যায় প্রকাশানন্দ সরস্বতীর আত্মনিবেদন বা অনুশোচনার মাধ‍্যমে যেখানে তিনি বলছেন যে =*
*"সংসার দুঃখজলধৌ পতিতস‍্য কাম,*
*ক্রোধাদি নক্র মকরৈঃ কবলীকৃতস‍্য।*
*দুর্বাসনা নিগড়িতস‍্য নিরাশ্রয়স‍্য,*
*চৈতন‍্যচন্দ্র,মম দেহি পদাবলম্বনম্।।"*
*🍁অর্থ‍্যাৎ প্রকাশানন্দ সরস্বতী আক্ষেপ করে বলছেন যে আমি সংসাররূপ দুঃখসমুদ্রে পড়ে রয়েছি এবং কাম-ক্রোধরূপ নক্র(কুমীর) মকরগণ অর্থ‍্যাৎ কুমীরগণ আমাকে সবসময় দংশন করছে।তার উপরে দুর্বাসনারূপ নিগড়ে (লোহার শিকলে) বন্ধনে আমি যেন আবদ্ধ হয়ে পড়েছি, তার ফলে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিরাশ্রয় এবং অসহায় বোধ করছি। এই বন্ধন বা জ্বালা হতে নিজেকে উদ্ধার করবার কোন উপায় দেখছি না। সেজন‍্য হে করুণাময়! মহাপ্রভু! তুমি কৃপা করে তোমার শ্রীচরণে স্থান দিয়ে আমাকে উদ্ধার করো।অর্থ‍্যাৎ এই শ্লোকের মাধ‍্যমে সংসারী জীব যে কিভাবে ত্রিতাপ জ্বালায় যন্ত্রণা ভোগ করে তা সহজেই বুঝা যাচ্ছে।*
*🌷অতঃপর মহাপ্রভু বলছেন, যে রাত্রিকালে চাঁদের কিরণ স্পর্শে কুমুদফুল প্রস্ফুটিত হয়ে ধরণীমাতাকে যেরকম স্নিগ্ধ মধুর গন্ধদ্বারা আনন্দদান করে, সেইরকম নাম-কীর্তন প্রভাবে সাধকের দেহ-মন স্নিগ্ধ ও সুশীতল করে।*
*🌹পুনরায় গৌরহরি শ্রীনাম কীর্তনের মহিমা প্রকাশ করে বলছেন যে, আমাদের হৃদয়ের মধ্যে যে বিদ‍্যারূপা বধূ আছেন, তিনি কাম ক্রোধ লোভ মোহ ইত‍্যাদি সব প্রবল রিপুর প্রভাবে যোগমায়া দেবী তার জীবাত্মাকে এই রিপু প্রভাব হতে মুক্ত করে নবজীবন দান করেন এবং এককথায় এই সঙ্কুচিত জীবাত্মা শ্রীনামকীর্তন প্রভাবে নতূনজীবন পাই।*
*☘এর ফলে জীবের হৃদয়ে আনন্দ সাগরে বিলীন হয়ে যায় এবং হৃদয়কে আনন্দসাগরে উদ্বেলিত করে প্রতিপদে প্রতিক্ষণে আনন্দ দান করেন।সাধক তখন নামরূপ অমৃত আস্বাদন করেন যাকে বলা হয় নামামৃত ভোজনং।একবার নামে রুচি হলে আর রক্ষা নাই, কারণ একমাত্র মহানামই মানুষকে ভগবদ্ সান্নিধ‍্যে পৌঁছে দিতে নারেন।এই নাম মহিমা যে কি বস্তু তা ব‍্যক্ত হয়েছে শ্রীপাদ রূপ গোস্বামীর ভাষায় যেখানে তিনি বলেছেন যে =*
*"তুন্ডে তান্ডবিনী রতিং বিতনতু তুন্ডবলী লব্ধয়ে।*
*কর্ণ ক্রোড় ক্রোড়ম্বনী ঘটয়তে কর্ণার্বুদেভ‍্য স্পৃহাং।।*
*চেতঃ প্রাঙ্গণসঙ্গিনী বিজয়তে সর্বেন্দ্রিয়ানাং কৃতিং।*
*ন জানে জনিতু কিয়দ্ভিঃ অমৃতৈঃ কৃষ্ণেতি বর্ণদ্বয়ী।।"*
*🍀অর্থ‍্যাৎ নাম-আনন্দে বিভোর শ্রীপাদ রূপগোস্বামী বলছেন,যে কৃষ্ণনাম বা হরিনামের মধ্যে যে কি অমৃত মাখানো শক্তি আছে তা তিনি কিছুতেই বুঝাতে পারবেন না।কারণ এই মহানাম যখন তিনি তাঁর জিহ্বা দ্বারা উচ্চারণ করেন তখন তাঁর মনে এই আক্ষেপ জাগে যে ভগবান কেন তাকে অসংখ্য জিহ্বা প্রদান করলেন না।একটি জিহ্বা দ্বারা নাম সংকীর্তন করে বা মহানাম জপ করে যেন শ্রীপাদ রূপের মনের ক্ষুধা মিটছে না।*
*🌺সেইরকম এই মহানাম যখন তাঁর শ্রুতিগোচর হয় (কানে শোনেন) তখন শ্রীরূপের মনে এই খেদ হয় যে ভগবান কেন তাঁর দেহে অসংখ্য অসংখ্য কান দিলেন না, কারণ তাহলে বিভিন্ন দ্বার দিয়ে এই মহানাম ধ্বনি তাঁর দেহমন্দিরে প্রবেশ করত।*
*🌷সর্বশেষ শ্রীপাদ রূপগোস্বামী বলছেন যে "কৃষ্ণ" এই কথাটি যখন প্রকৃত ভক্তের হৃদয় মন বা চিত্ত গুহার মধ্যে প্রবেশ করে তখন সেই সাধক যেন কৃষ্ণপ্রেমে একেবারে পাগল হয়ে যান এবং তিনি কৃষ্ণ প্রেমরস সিন্ধুতে ভাসতে থাকেন। এর ফলে সমস্ত ইন্দ্রিয়গণ তাদের প্রভাব বিস্তারে অক্ষম হয়।সুতরাং মহাপ্রভু যে বলেছেন যে নাম প্রভাবে ভক্তের মনে যে "আনন্দাম্বুধি বর্ধনং প্রতিপদং পূর্ণামৃতং আস্বাদনং" হয় তার জাজ্বল‍্যময় প্রমাণ শ্রীপাদ রূপগোস্বামী বিরচিত এই নাম মহিমা শ্লোক।*
*🍁এইরকম চরম পরিস্থিতি যখন সাধকের সামনে উপস্থিত হয় তখন এই নাম প্রভাবে তাঁর দেহ মন আত্মা সব যেন স্নাত হয়ে আনন্দধারায় বিলীন হয়ে যায়, অনেকটা স্নান করলে যেমন দেহমন পরিতৃপ্ত হয় সেইরকম। ঠাকুর হরিদাসের দ্বারাই মহাপ্রভু এই কলিযুগে নাম মহিমা প্রকাশ করিয়েছিলেন। নির্যাণকালে মহাপ্রভু কিভাবে তাঁকে মর্য‍্যাদা দান করেছিলেন সে প্রসঙ্গ গৌরভক্তগণ সকলেই জানেন।স্বয়ং মহাপ্রভুর নামে কি নিষ্ঠা ছিল তা গোপালগুরু প্রসঙ্গে এই গ্রন্থের মধ্যে দেওয়া হয়েছে।সেজন‍্যই মহাপ্রভু সর্বশেষ এই শ্লোকের ব‍্যাখ‍্যা প্রসঙ্গে বলেছেন, এমন যে নাম সংকীর্তন,তাঁর বিজয় বা জয় হোক।*
▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪▪
*যমল অর্জুন যথা,উদুখল সহ তথা,*
    *প্রবেশি সে বৃক্ষ মাঝে ঘটান পতন।*
*সর্পের কালীয় নাম,কালিন্দীতে রহে ধাম,*
    *সমুচিত শিক্ষা দেন সে সর্পে ভীষণ।।*
*নন্দরাজ তবে কন,শোন ব্রজবাসীগণ,*
    *সবার সন্দেহ এবে করিব ভঞ্জন।*
*গর্গমুনি কন যাহা,মন দিয়ে শোন তাহা,*
 *যুগে যুগে ভগবান অবতীর্ণ হন।।*
*শুনি নন্দের বচন,সেথা ব্রজবাসীগণ,*
   *আনন্দে অধীর হয় তিরপিত মন।*
*ভক্তিভরে যুক্ত করে,স্তুতি করি কহে তাঁরে,*
   *হে কৃষ্ণ,হে নারায়ণ,পতিতপাবন।।*
*ওহে গোবর্ধনধারী,এস হে কৃষ্ণ মুরারী,*
  *ভক্ত বাঞ্জা কল্পতরু ইন্দ্র দর্পহারী।।*
*কতমত করি স্তুতি,বার বার করে নতি,*
   *কহে শেষে কৃপা করি পার কর হরি।।*
*শুকদেব মুনি প্রতি,কহিলেন নরপতি,*
    *কি লীলা করেন হরি রহি বৃন্দাবন।*
*জনগণ সেথা কয়,রাসলীলা শ্রেষ্ঠ হয়,*
    *কহ তুমি সেই কথা বিস্তারি এখন।।*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌👣🙌🙌🙌🙌🙌🙌
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



২৬. চেতোদর্পণ মার্জনং শ্লোকের ব‍্যাখ‍্যা 🍀 বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী 🏵️ শ্রীরবীন্দ্রনাথ রাহা ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/madhukori26.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(২৬)বৈষ্ণব জগতের মাধুকরী*
*চেতোদর্পণ মার্জনং শ্লোকের ব‍্যাখ‍্যা*
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*"চেতোদর্পণ মার্জনং ভবমহাদাবাগ্নি নির্বাপনম্।*
*শ্রেয় কৈরব চন্দ্রিকা বিতরণং বিদ‍্যাবধূ জীবনম্।।*
*আনন্দাম্বুধি বর্ধনং প্রতিপদং পূর্ণামৃতাস্বাদানম্।*
*সর্বাত্মস্নপনং পরং বিজয়তে শ্রীকৃষ্ণ সঙ্কীর্তনম্।।"*
*🙏এই শ্লোকটি শ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীমুখ নিঃসৃত এবং এখানে তিনি হরিনাম বা কৃষ্ণনামের মহিমা ব‍্যক্ত করেছেন।*
*🌷(১)চেতো দর্পণ মার্জনং=চেতো অর্থে চিত্ত বা মানুষের হৃদয় বা মন।দর্পণ অর্থে আয়না।চেতোদর্পণ শব্দের অর্থ হচ্ছে চিত্তরূপ যে দর্পণ বা আয়না। "মার্জনং" অর্থে মার্জন করা বা পরিস্কার করা।এক্ষেত্রে মানুষের চিত্তকে বা হৃদয়কে আয়না সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।আয়নার কাঁচের উপর যদি ময়লা জমে থাকে তাহলে তো আর নিজের প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট দেখা যায় না এবং তা স্বচ্ছভাবে বা পরিস্কার ভাবে দেখতে গেলে সর্বপ্রথম কাঁচের উপরকার ময়লা পরিস্কার করা দরকার। আয়না বা দর্পণ একটি বাস্তব পদার্থ সেজন‍্য তার ময়লাকে ঝেড়ে মুছে পরিস্কার করা যায় কিন্তু মানুষের মনকে তো আর সেইরকম ঝেড়ে মুছে পরিস্কার বারো টাকা বাদ 18 টাকা। করা যায় না।অতএব তাকে কিভাবে পরিস্কার করা যাবে? বিভিন্ন মঠ মন্দিরে বিগ্রহ স্বরূপে ভগবান বিদ‍্যমান এবং সেজন‍্য সে জায়গাগুলি সদাসর্বদা শুদ্ধভাবে বা পবিত্র ভাবে রাখা হয় কারণ সেটি ভগবানের আসন।সেইরকম নিজের হৃদয়াসনে যদি ভগবানকে বসাতে চান সে জায়গাটিও ততোধিক শুদ্ধ বা পবিত্র হওয়া চাই। কিন্তু মনের কাঁচ যদি কামনা-বাসনারূপ ময়লা দ্বারা আবৃত (ঢাকা) থাকে তাহলে তা কখনও ভগবদ্ আসনের উপযোগী হতে পারে না।সেজন‍্য আগ্রহী ভক্তকে তার চিত্তরূপ দর্পণকে ময়লা বর্জিত করতে হবে এবং এই প্রসঙ্গে শ্রীমন্মহাপ্রভু বলেছেন যে ক্রমাগত নাম সংকীর্তনের দ্বারা বা শ্রীহরির নামকীর্তন অভ‍্যাসের দ্বারা ময়লাপূর্ণ এই চিত্ত ধীরে ধীরে মার্জিত বা পরিস্কার হয়। এই প্রসঙ্গে পরমভক্ত লালাবাবুর জীবন কৃপা করে পাঠ করবেন যদিও এই প্রসঙ্গে কিছু আভাস পাবেন।*
*(২)ভবমহাদাবাগ্নি নির্বাপনম্=দাবাগ্নি শব্দের অর্থ হচ্ছে বনের বা অরণ‍্যের মধ্যে যে আগুন জ্বলে তাকে দাবানল বা দাবাগ্নি বলে।এই দাবানল প্রভাবে বিশাল অরণ‍্য সব পুড়ে ছাই বা ছারখার হয়ে যায়।তাকে প্রশমিত করবার কোন উপায় নাই বললেই চলে। "নির্বাপনম্" শব্দের অর্থ হচ্ছে নিভান।কিন্তু মহাপ্রভু এখানে বলেছেন ভব-মহাদাবাগ্নি অর্থ‍্যাৎ ত্রিতাপ জ্বালায় জর্জরিত কামনা-বাসনার প্রভাবে মায়াময় এ সংসারে মানুষ যে জ্বালায় দিনরাত্রি জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে সেই ভবমহাদাবাগ্নি হতে কিরকমে মানুষ নিষ্কৃতি বা মুক্তি পেতে পারে? তার উত্তরে মহাপ্রভু সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন যে ক্রমাগত নাম সংকীর্তন প্রভাবে এই ভবদাবাগ্নিকে প্রশমিত (শান্ত)করা যায়।
*(৩)শ্রেয়ঃ কৈরব চন্দ্রিকা বিতরণং= কৈরব শব্দের অর্থ হচ্ছে কুমুদ ফুল।এই কুমুদ ফুলের বিশেষত্ব এই যে এর গন্ধ অতি স্নিগ্ধ এবং মিষ্ট।এর অপর বিশেষত্ব হচ্ছে যে চন্দ্রালোকের স্পর্শ ছাড়া প্রস্ফুটিত হয় না, যেমনটি দেখা যায় সূর্য‍্যমুখী ফুলের বেলাতেও যা সূর্য‍্যালোক ছাড়া প্রস্ফুটিত হয় না। কুমুদ শব্দটির ব‍্যাকরণগত ব‍্যাখ‍্যা হচ্ছে কু+মুদ্। "কু" অর্থে পৃথিবী আর "মুদ" অর্থে হৃষ্ট করা অর্থ‍্যাৎ যে ফুল ফুটলে ধরণীমাতা হৃষ্ট(আনন্দিত)হন। সেই হিসাবে "শ্রেয়ঃ কৈরব চন্দ্রিকা বিতরণং" শ্লোকের মোটামুটি ভাবার্থ হচ্ছে যে রাত্রিকালে চাঁদের কিরণ স্পর্শে কুমুদ ফুল প্রস্ফুটিত হয়ে ধরণীমাতাকে যেরকম স্নিগ্ধমধুর গন্ধ দ্বারা আনন্দদান করে, সেইরকম সংকীর্তন প্রভাবে দেহ মন স্নিগ্ধ ও সুশীতল হয়।*
*(৪)বিদ‍্যাবধূ জীবনং=বিদ‍্যা অর্থে জ্ঞান।বিদ‍্যাবধূ অর্থে জ্ঞানরূপ বধূ। জীবনং শব্দের ভাবার্থ হচ্ছে যে এই জ্ঞানরূপা বধূ যেন নবজীবন প্রাপ্ত হন। বধূ মাত্রেই ঘোমটা দ্বারা মুখ আচ্ছাদন করে রাখেন যাতে তাঁর স্বরূপ কেউ দেখতে না পায়।সেইজন‍্য প্রত‍্যেক মানুষের অন্তরাত্মার ভিতর এই চিৎশক্তি বা জীবাত্মা প্রচ্ছন্নভাবে বিরাজিত থাকায় এখানে বধূর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।অর্থ‍্যাৎ এই বিদ‍্যারূপা বধূ বা জীবাত্মা বা পরমাত্মা পঞ্চেন্দ্রিয়ের প্রভাবে সঙ্কুচিত হয়ে যেন ঘোমটা দিয়ে প্রচ্ছন্ন(আবরণ)ভাবে রয়েছেন এবং নাম সংকীর্তন প্রভাবে এই জীবাত্মা যেন নবজীবন প্রাপ্ত হন।যেকথা আমরা সকলেই জানি যে দেহের পুষ্টি হয় খাদ‍্যের দ্বারা  কিন্তু এই সঙ্কুচিত জীবাত্মা যা প্রত‍্যেক মানবদেহের মধ্যে বিরাজিত। যার শক্তিতে আমরা বেঁচে আছি তার পুষ্টি সাধিত হয় একমাত্র নামামৃত ভোজনের দ্বারা।*
*(৫)আনন্দাম্বুধি বর্ধনম্=অম্বুধি অর্থে সমুদ্র।সমুদ্রের বিশাল জলরাশি যেরকম তরঙ্গাঘাতে আনন্দে নৃত্য করছে সেইরকম নাম সংকীর্তন প্রভাবে সারা দেহ মন যেন আনন্দ সাগরে বিলীন হয়ে যায়।*
*(৬)প্রতিপদং পূর্ণামৃতাস্বাদনং= এবং তার ফলে প্রতিপদে প্রতিক্ষণে অর্থ‍্যাৎ সদাসর্বদা যেন অমৃতের আস্বাদ প্রাপ্ত হওয়া যায়।জিহ্বা দ্বারা যেরকম খাদ‍্য দ্রব‍্য আস্বাদন করা যায় সেইরকম জিহ্বা দ্বারা উচ্চারিত এই নামসঙ্কীর্তন প্রভাবে ভক্ত যেন অমৃত আস্বাদন করেন।যাকে বলা হয় নামামৃত ভোজনম্।*
*(৭)সর্বাত্মস্নপনং=স্নপনং অর্থে স্নান করা।স্নান বা অবগাহন করলে যেরকম সারা দেহমন পরিতৃপ্ত হয় সেইরকম শ্রীহরির নামকীর্তন প্রভাবে সর্ব আত্মা যেন নাম কীর্তন দ্বারা স্নাত হয়ে পরিতৃপ্ত লাভ করে*
*(৮)পরং বিজয়তে শ্রীকৃষ্ণ সঙ্কীর্তনম্= সেইজন‍্য মহাপ্রভু বলেছেন যে এমন যে নাম সংকীর্তন তার বিজয় হোক বা জয় হোক।*
*🌻এতক্ষণ আপনাদের এই শ্লোকটির বিভিন্ন অংশের ভাবার্থ ব‍্যাখ‍্যা করা হয়েছে,আশাকরি ভাবার্থ বুঝতে পেরেছেন।*
*🌺ত্রিতাপ জ্বালায় জর্জরিত মানুষের চিত্তদর্পণ স্বভাবতই মালিন‍্যপূর্ণ (ময়লায় ভরা)।বাইরের ময়লাকে যেভাবে মেজে ঘষে পরিস্কার করা যায় চিত্তের ময়লাকে তু আর সেভাবে পরিস্কার করা যায় না।সেজন‍্য মহাপ্রভু বলেছেন যে কলির জীবের সমস্ত পাপ অপরাধ যা কিছু আছে ক্রমাগত নাম সঙ্কীর্তন প্রভাবে এবং নাম অভ‍্যাসের ফলে চিত্তের সমস্ত ময়লা পরিস্কার হয়ে যাবে।যাকে আমরা বলি চিত্তদর্পণ ময়লা শূন‍্য।কারণ হৃদয়াসনে ভগবানকে বসাতে চাইলে সর্বপ্রথম সেই জায়গাটি শুদ্ধ বা পবিত্র বা নির্মল হতে হবে।*
       *পরের অংশ আগামী পর্বে।*
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️ 
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৯৩. রাগাত্মিকা ও রাগানুগাভক্তি 👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/ramananda93.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৯৩. রাগাত্মিকা ও রাগানুগাভক্তি 👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/ramananda93.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 পূর্ব লীলা 👉 ৯২. রাগাত্মিকা ও রাগানুগাভক্তি 👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/ramananda92.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯৩)শ্রীরায় রামানন্দ, কাষ্ঠ পুত্তলীকা*
      *রাগাত্মিকা ও রাগানুগাভক্তি*
      ~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*☘সখীরাই সচ্চিদানন্দময় শ্রীকৃষ্ণের স্বরূপশক্তিরূপিনী, আনন্দলীলাময়ী শ্রীমূর্তি।সখীরাই লীলার সহায়,সখীরাই পুষ্টিকারিনী, তাঁরাই আস্বাদিকা।  শ্রীউজ্জ্বল বলেন=*
*প্রেমলীলাবিহারাণাং সম‍্যক্ বিস্তারিকা সখী।*
*বিশ্রম্ভরত্নপেটী চ ততঃ সুষ্ঠু  বিবিচ‍্যতে।।"*
*🌺যাঁরা প্রেমলীলা-বিহারের সম‍্যক্ বিস্তার করেন তাঁরাই সখী।কেবল দৌত‍্যই(দূতের কাজ করা)সখীগণের কাজ নয়।সখীগণ রসলীলার পুষ্টিকারিণী(পালন পোষণ কারিণী)।এঁরা উভয়ের প্রেমলীলা-বিস্তারের সহায়।*
*🌷আমাদের এই প্রাপঞ্চিক (মায়ামোহর)রক্তমাংসের বিকারশীল দেহের মতো শ্রীভগবদ্ধামের দেহাদি বিকারাধীন নয়।শ্রীভগবদ্দেহ বা তাঁর স্বরূপশক্তিগণের দেহ রক্তমাংসের নয়।তাঁদের শ্রীমূর্তি সচ্চিদানন্দময়ী।এই ইন্দ্রিয়পরায়ণতাময় কামাচারের মধ্যে বাস করে,এই প্রাকৃত দেহের ধর্মে অভিভূত(বিহ্বল)থেকে, প্রাকৃতভাবে আত্মাকে নিমজ্জিত (ডুবিয়ে) রেখে অপ্রাকৃত অকৈতব কৃষ্ণ-প্রেমের সন্ধান করা একেবারেই অসম্ভব।আমরা জগতের অতি স্থূলতম(জড়তা) কয়েকটি গুণের খবর রাখি।আমাদের ইন্দ্রিয়জ্ঞান অতি স্থূল (মোটা), মনের ধরণাও অতি স্থূল।আমরা নিচুশ্রেণীর জীবের প্রকৃতি নিয়ে আহার নিদ্রা মৈথুনাদিতে নিরত(নিযুক্ত)হয়ে থাকি।উচু জগতের উচু তত্ত্ব কঠোর সাধনা বিনা আমাদের প্রফেশ অধিকার জন্মে না,কদাচার কামাচার বা স্বার্থ ছাড়া কি রকমে যে প্রেম থাকতে পারে,তা আমাদের ধারণায় আসতে পারে না। গোপীগণের প্রেম অতি নির্মল ও বিশুদ্ধ।প্রেমই তাঁদের কাম। সে জগতের সঙ্গে এ জগতের পার্থক্য অনন্ত। এই জগৎ মায়ার প্রহেলিকা।মায়ার কোটি দোষে আমরা কলুষিত ও কুসংস্কারগ্রস্ত।আমরা আত্মেন্দ্রিয়প্রীতির জন্য সর্বদা পাগল। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের প্রীতি-উৎপাদনের জন্য গোপীকাকুল আকুল ও উন্মাদিনী।কৃষ্ণের রাজ‍্য বিশুদ্ধ প্রেমময়।গোপীগণ তাঁরই আহ্লাদিনীর শক্তির শ্রীমূর্তি। সুতরাং কৃষ্ণসুখই গোপী-প্রেমের তাৎপর্য‍্য।সিদ্ধ ভক্তগণের আত্মা ধ‍্যানযোগে অনন্ত জগৎ পার হয়ে শ্রীধামের নির্মল প্রেমমাধুরী অনুভব করেন,গোপীগণের আনন্দলীলা ও আনন্দ মূর্তি প্রত‍্যক্ষ করেন। তদ্ যথা=*
*"সহায়া গুরবঃ শিষ‍্যা ভুজিষ‍্যা বান্ধবাঃ স্ত্রিয়ঃ।*
*সত‍্যং বদামি তে পার্থ গোপ‍্যঃ কিং মে ভবন্তি ন।।*
*মন্মাহাত্ম‍্যং মৎস‍পর্য‍্যাং মৎ শ্রদ্ধাং মন্মনোগতম্।*
*জানন্তি গোপিকাঃ পার্থ নান‍্যে জানন্তি তত্ত্বতঃ"।।*
*🌹অর্থ‍্যাৎ গোপীগণ আমার রাসক্রীড়ায় সহায়,প্রেম শিক্ষায় গুরু, হিতোপদেশ প্রদান ও শাসনাদিতে শিষ‍্যা,রসনির্য‍্যাস-আস্বাদনে ভুজিষ‍্যা (ভোগাস্ত্রী), উপকৃত‍্যাদিতে বান্ধব, পত‍্যেকনিষ্ঠাদিতে শক্তিমদ্ভাবে আমার ধর্মপত্নী তুল‍্যা।গোপীরা যে আমার কি নয় তা বলতে পারি না।এঁরা আমার সেবা শ্রদ্ধা এবং আমার মনোগত ভাব ও তত্তত্ত্বঃ যেরকম জানেন আর কেউ সরকম জানে না।*
*🌻শ্রীপাদ কবিরাজ গোস্বামী শ্রীগোবিন্দলীলামৃত গ্রন্থে লিখেছেন=*
*"বিভুরতি সুখরূপঃ স্বপ্রকাশোহপি ভাবঃ।*
*ক্ষণমপি নহি রাধাকৃষ্ণয়ো র্যা ঋতে স্বাঃ।।*
*প্রবহতি রসপুষ্টিং চিদ্বিভূতীরিবেশঃ।*
*শ্রয়তি ন পদমাসাং কঃ সখীনাং রসজ্ঞঃ।।"*
*🌳চিদ্বিভূতিসমূহ ছাড়া যেমন ঈশ্বরের পুষ্টি হয় না,সেইরকম শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের ভাব ব‍্যাপক,অতি মহান,অতি সুখস্বরূপ ও স্বয়ং প্রকাশমান হলেও সখীদের সাহায্য বিনা নানারসের সপুষ্টি হয় না।অতএব এঁদের পদ কোন রসজ্ঞ ভক্ত আশ্রয় না করেন?*
*🌺শ্রীউদ্ধব মহাশয় বলেন=*
*"আসামহোচরণরেণুজুবামহং স‍্যাং,*
*বৃন্দাবনে কিমপি গুল্মলতৌষধীনাম্।*
*যা দুস্ত‍্যজং স্বজনযার্য‍্যপথঞ্চহিত্বা,*
*ভেজু র্মুকুন্দ পদবীং শ্রুতিভির্বিমৃগ‍্যাম্।।"*
*☘সুতরাং গোপীগণের চরণরেণুলাভ ছাড়া অকৈতব কৃষ্ণ প্রেমরাজ‍্যে প্রবেশ অধিকার অসম্ভব। গোপীগণই অকৈতব কৃষ্ণপ্রেম পাওয়ার একমাত্র সহায়।*
👣👣👣👣👣👣🙏👣👣👣👣👣👣
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  🚩 ক্রমাগত 👉 ৯৪. রাগাত্মিকা ও রাগানুগাভক্তি 👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/ramananda94.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧



৯২. রাগাত্মিকা ও রাগানুগাভক্তি 👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/ramananda92.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৯২. রাগাত্মিকা ও রাগানুগাভক্তি 👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/ramananda92.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 পূর্ব লীলা 👉 ৯১. রাগাত্মিকা ও রাগানুগাভক্তি 👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/ramananda91.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯২) শ্রীরামানন্দ রায়,কাষ্ঠ পুত্তলিকা*
     *রাগাত্মিকা ও রাগানুগাভক্তি*
     """"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*🍀সেই রসিকশেখর রসরাজ আনন্দরসবিগ্রহকে কান্তভাবে ভজনা করলে যে সুখোদয় হয়,তা তোমার আমার বুদ্ধির গোচর হওয়ার সম্ভাবনা নাই।এই বিশাল বিশ্বব্রহ্মান্ডের অধীশ্বরকে নিয়ে ব্রজগোপীরা যে রসসাগরে নিমজ্জিত হন,তাঁর ধারণাও মর্ত‍্যবাসী লোকের পক্ষে অসম্ভব ; আর কেনই যে তিনি নারীরূপিণী আনন্দমূর্তিগণের সঙ্গে প্রেমরসে নিমজ্জিত রহেন,পরম যোগীগণের পরমার্থ বুদ্ধিও সে রহস‍্য-ভেদ করতে অসমর্থ। কিন্তু এ কথা নিঃশঙ্ক চিত্তে বলা যেতে পারে যে,রমণীহৃদয়ই প্রেমের প্রকৃত আধার, রমণী হৃদয়ই প্রেমরসের সুনির্মল একনিষ্ঠ অক্ষয় উৎস।অবিকৃত রমণীহৃদয় ও প্রেম তত্ত্বত বুঝি আধার ও আধেয় ভাবে সম্বন্ধ।প্রেম দিয়ে ভগবানের ভজন, শ্রেষ্ঠতম ভজন।অবিকৃত রমণীহৃদয় সেই প্রেমের আধার। নিউম‍্যান প্রভৃতি পাশ্চাত‍্য পন্ডিতগণের অভিমত এই যে মানবের আত্মা যে পরিমাণে রমণী হৃদয়ের প্রেমরস নিয়ে কান্তভাবে ভগবানের উপাসনার জন্য উপস্থিত হন,ভজন-রহস‍্য ততই তাঁর পক্ষে সুবিদিত হয়ে উঠে।*
*🍁আনন্দময় সূক্ষ্মতম ধামের কিঞ্চিৎ কিঞ্চিৎ ভাবলেশা ভাস এই স্থূলতম জগতেও প্রকটিত হয়ে থাকে।এই জগৎ সেই নিত‍্যধামের ছায়াভাস। এ জগতেও অবিকৃত রমণীহৃদয়ে নিষ্কাম ভাব ও অকৈতব প্রেমের ছায়াভাস যেরকম পরিলক্ষিত হয়,পুরুষ-হৃদয়ে সেইরকম দেখতে পাওয়া যায় না।*
*🌺মানব আত্মার প্রধানতম লক্ষ্য শ্রীকৃষ্ণভজন।শ্রীকৃষ্ণভজনের প্রধানতম সাধন, রাগানুগা ভক্তিতে সখীর অনুগা হয়ে শ্রীকৃষ্ণসেবা। তাহলেই প্রতিপন্ন (প্রমাণ সিদ্ধ) হচ্ছে যে মানব আত্মার পূর্ণ পরিণতি,নারীভাব---সখীভাব।বৈষ্ণবসিদ্ধ পুরুষগণ এই মহাসত‍্যই জগতে প্রকটন করেছেন।*
*🌻🌻সখী ও ভজন শিক্ষা🌻🌻*
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
*🍀কোথায় অকৈতব কৃষ্ণ-প্রেম, আর কোথায় এই নীচ নীচাচার হীনমতি ক্ষীণশক্তি ক্ষুদ্রাধম লেখক। আমি মায়ার ক্রীতদাস।আমার সমস্ত জ্ঞান (Consciouness)বিষয়ে অভিভূত, দিবানিশি জাগতিক পদার্থ-জ্ঞানের তরঙ্গাভিঘাতে আমার মাথা বিভোর ও প্রমত্ত।এই প্রকৃত রাজ‍্যের অন্ধকারময় কারাগৃহে আমার মন দিনরাত অবরুদ্ধ।আমি পূর্ণরূপে মায়াবদ্ধ।আমার জ্ঞান সম্পূর্ণরূপে প্রাপঞ্চিক ও মায়াহত। কিন্তু "যাহা কৃষ্ণ তাহা নাহি মায়ার অধিকার ", শ্রীসচ্চিদানন্দবিগ্রহ আমার ধারণার অতীত, আনন্দচিন্ময়রসপ্রতিভাবিতা সখীগণের প্রেম প্রোজ্জ্বলমূর্তি এবং আনন্দচিন্ময়রস মাদৃশ (আমার মত) মহাপাপীর পক্ষে একবারেই অনধিগম‍্য (অজ্ঞেয় বা অবোধ‍্য), সুতরাং কুঞ্জসেবার সাধন বুঝবার অধিকার আমার নাই।এই অবস্থায় সিদ্ধগণের সেব‍্য বিষয়ে কোন কথা বলতে প্রবৃত্ত হওয়া প্রকৃতই অতিবড় ধৃষ্টতার কাজ।যা নিজে বুঝতে পারি না,তা অপরকে বুঝাতে রত হব, কৃপাময় পাঠকগণ যেন এ অধম লেখককে এরকম দুঃসাহসী বলে মনে না করেন।সপার্ষদ শ্রীগৌরচরণ-চিন্তা করে শ্রীরামরায়ের কৃপা উপদেশের আমি যে অর্থ করতে চেষ্টা করছি এখানে কেবল তাইই প্রকাশ করা হচ্ছে। শ্রীরায় রামানন্দ মহাশয় বলছেন=*
*"রাধাকৃষ্ণ লীলা এই অতি গূঢ়তর*।
*দাস‍্য বাৎসল‍্য ভাবের না হয় গোচর।।*
*সবে এক সখীগনের ইহ অধিকার*।
*সখী হৈতে হয় এই লীলার বিস্তার।।*
*সখী বিনা এই লীলা পুষ্ট নাহি হয়*।
*সখী লীলা বিস্তারিয়া সখী আস্বাদয়।।*
*সখী বিনা এই লীলায় অন‍্যের নাহি গতি।*
*সখী ভাবে যেই তারে করে অনুগতি।।*
*রাধাকৃষ্ণের কুঞ্জসেবা সাধ‍্য সেই পায়।*
*সেই সাধ‍্য পাইতে আর নাহিক উপায়।।*
*🌷রাধাকৃষ্ণের লীলাবিলাস মহত্ত্ব সম্বন্ধে ইতিপূর্বে যে আলোচনা করা হয়েছে তারদ্বারা প্রতিপন্ন হয়েছে যে এই লীলা অতি গূঢ়তর।এমন কি ভাববিশেষের প্রবল আতিশর্য‍্যে যখন উভয়ের ভেদভাব তিরোহিতবৎ প্রতীয়মান হয়,তখন সেই অবস্থায় রাধাকৃষ্ণ-প্রেমলীলা এমনই রহস‍্যপূর্ণ যে তা কারও জ্ঞানগম‍্য হয় না।না জানলেও জ্ঞেয় হতেই যেমন অজ্ঞেয়ের ধারণা হয়,দ্বৈত হতেই যেমন অদ্বৈত তত্ত্বের ভাবোদয় হয়,ইদম্বৃত্তি হতে যেমন অহম্বৃত্তির অনুভূতি হয়,শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের এই গূঢ়তম লীলারহস‍্য অপরের উপলব্ধির বিষয় না হলেও এই উচ্চতম সাধনতত্ত্বের উপলব্ধি কেবল সখীগণেরই গ্রাহ‍্য।সখীগণ কুঞ্জসেবার সহায়।শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের কুঞ্জসেবায় কেবল সখীগণেরই একমাত্র প্রবেশাধিকার রয়েছে।এই লীলায় দাস‍্যবাৎসল‍্যাদির প্রবেশ অধিকার নাই।* *(🌹সখী ও লীলাবিলাস🌹)*
  *ক্রমাগত*
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

  🚩 ক্রমাগত 👉 ৯৩. রাগাত্মিকা ও রাগানুগাভক্তি 👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/ramananda93.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




৯১. রাগাত্মিকা ও রাগানুগাভক্তি 👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/ramananda91.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
৯১. রাগাত্মিকা ও রাগানুগাভক্তি 👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/ramananda91.html
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *••••┉❀꧁👇🏠Home Page🏠👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••━❀꧁👇 📖 সূচীপত্র 📖 👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
     *••••━❀꧁👇📚 PDF গ্রন্থ 📚👇꧂❀┅••••* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
  *•❀꧁ 📖সূচীপত্র 🙏 শ্রী জয়দেব দাঁ 📖꧂❀•* 
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
🚩 পূর্ব লীলা 👉 ৯০. রাগাত্মিকা ও রাগানুগাভক্তি 👏 শ্রীরামানন্দ রায়  🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️  শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/ramananda90.html
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
*(৯১)শ্রীরায় রামানন্দ,কাষ্ঠ পুত্তলিকা*
      *রাগাত্মিকা ও রাগানুগাভক্তি*
      """"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
*"ব্রজলোকের ভাবে যেই করয়ে ভজন।*
*সেই জন পায় ব্রজে ব্রজেন্দ্রনন্দন।।*
*🍁শ্রুতিগণ এই ব্রজগোপীগণের অনুগত হয়ে গোপীভাব সহকারে যশোদা-নন্দনের ভজন করেন।ভজন-ফলে গোপীদেহ লাভ করে এঁরা শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে রাসলীলা করেন।শ্রীকৃষ্ণ গোপজাতি,গোপীগণ তাঁর প্রেয়সী। শ্রীকৃষ্ণ অন‍্য স্ত্রীকে অঙ্গীকার  করেন না।এমন কি দেবীরাও তাঁর প্রসাদ-লাভে সমর্থ হন না।লক্ষ্মী নিজ দেহে রাসবিলাস পেতে আকাঙ্ক্ষা করেন, কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষা সফল হবে কেন?গোপীদেহ ছাড়া অন‍্য দেহে রাসবিলাসে অধিকার জন্মে না।গোপীর অনুগতি সহকারে গোপীভাবে সাধনার ফলে গোপীদেহ লাভ হয়।গোপীর ভজনই যে ভজনের শ্রেষ্ঠতম আদর্শ,কামানুগা ভক্তিই যে অকৈতব কৃষ্ণপ্রেমলাভের একমাত্র উপায়,ভজন শাস্ত্রের এটিই চরম সিদ্ধান্ত। সুতরাং নিখিলরসমাধুর্য‍্য করুণাময় রসরাজ রসিকশেখরকে লাভ করতে হলে সখীর অনুগা হয়ে কামানুগাভাবে তাঁর সেবাই একমাত্র সাধন।সখীর অনুগতিই ব্রজরসলাভের একমাত্র উপায় এবং অকৈতব শ্রীকৃষ্ণ-প্রেম-প্রাপ্তির একমাত্র সহায়।*
*🍀কামরূপা সখীদের ভজনই ভজনের আদর্শ।মানবহৃদয়ে পুরুষোচিত প্রবৃত্তির বিদ‍্যমানতায় মধুর রসের ভজন অসম্ভব।মধুর রসের ভজন সাধনে প্রবৃত্ত বা রত হতে হলে কামানুগা ভক্তিরসই একমাত্র সাধন।এই ভজনের মধুরতায় প্রলুব্ধ(অত‍্যন্ত লালসাযুক্ত) হয়ে কঠোর তপস‍্যা পরায়ণ ঋষিগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম সাধকগণও সখীদেহ লাভের জন্য তপস‍্যা করতেন। শ্রীপাদ শ্রীরূপগোস্বামী মহোদয় লিখেছেন=*
*পুরাণে শ্রূয়তে পাদ্মে পুংসামপি ভবেদিয়ম্।"*
*🌷অর্থ‍্যাৎ পদ্মপুরাণে লিখিত আছে প্রেয়সীগণের মতো সেবা করার জন্য পুরুষগণেরও আকাঙ্ক্ষা জন্মে। যথা=*
*"পুরা মহর্ষয়ঃ সর্বে দন্ডকারণ‍্যবাসিনঃ।*
*দৃষ্টা রামং হরিঃ তত্র ভোক্তু মৈচ্ছন্ সুবিগ্রহম্।।*
*তে সর্বে স্ত্রীত্বমাপন্নাঃ সমুদ্ভুতাশ্চ গোকুলে।*
*হরিং সংপ্রাপ‍্য কামেন ততো মুক্তা ভবার্ণবাৎ।।"*
*💧অর্থ‍্যাৎ পুরাকালে দন্ডকারণ‍্যবাসী মহর্ষিগণ শ্রীরামচন্দ্রের দূর্বাদলশ‍্যামল মনোহর মূর্তি দেখে বিহ্বল হন।ভাবী অবতার সৌন্দর্য‍্যসারবিগ্রহ শ্রীশ্রীমদনমোহনরূপ তখন তাঁদের মানসনেত্র-সমক্ষে বিরাজমান হন।সেই কোটি মদনমোহনাশেষ চিত্তাকর্ষক সহজমধুর তরললাবণ‍্যামৃত পারাবার শ্রীমন্মদনগোপালের রূপমাধুরী-দর্শনে সেই রূপমাধুর্য‍্য আস্বাদন করার জন্য তাঁদের চিত্ত ধ‍্যানমজ্জিত হয়। প্রগাঢ় সমাধির ফলে তাঁরা প্রাকৃত দেহ পরিত‍্যাগ করে কুঞ্জসেবার উপযোগী ব্রজবধূদেহ প্রাপ্ত হন।ধ‍্যানফলে দেহান্তর প্রাপ্তি--,স্থূলবিজ্ঞানের সুবিদিত না হলেও সূক্ষ্মবিজ্ঞানের সিদ্ধান্ত সত‍্য।শাস্ত্রকারগণ এ বিষয়ে প্রত‍্যক্ষ দেখা কীটবিশেষের দেহান্তর প্রাপ্তির দৃষ্টান্তের উল্লেখ করেছেন। ভাবনানুরূপ দেহপ্রাপ্তি, দর্শন-বিজ্ঞানসম্মত। শ্রীবাসপঞ্চাধ‍্যায়েও লিখিত হয়েছে =*
*"অন্তর্গৃহগতাঃকাশ্চিদ্ গোপ‍্যোহলব্ধবিনির্গমাঃ।*
*কৃষ্ণং তদ্ভাবনাযুক্তা দধ‍্যুর্মিলিতলোচনাঃ।।*
*দুঃসহ প্রেষ্ঠবিরহতীব্রতাপাধুতাশুভাঃ।*
*ধ‍্যানপ্রাপ্তাচ‍্যুতাশ্লেষনিবৃত‍্যা ক্ষীণমঙ্গলাঃ।।*
*তমেব পরমাত্মনাংজারবুদ্ধ‍্যাপি সঙ্গতাঃ।*
*জহুর্গুণময়ং দেহং সদ‍্যঃ প্রক্ষীণবন্ধনাঃ।।"*
*🌻প্রগাঢ় ধ‍্যানফলে এক শ্রেণীর গোপী গুণময় দেহ ত‍্যাগ করে আনন্দময় দেহ লাভ করলেন এবং তদ্দেহে শ্রীকৃষ্ণসঙ্গ প্রাপ্ত হলেন,এইকথাগুলি তারই প্রমাণ। মহাকূর্ম পুরাণেও লিখিত আছে=*
*"অগ্নিপুত্রা মহাত্মান স্তপসা স্ত্রত্বমাপিরে।*
*ভর্তারঞ্চ জগদ্ যোনিং বাসুদেবমজং বিভূম্।।"*
*🌹অর্থ‍্যাৎ মহানুভব অগ্নিপুত্রগণ তপস‍্যা প্রভাবে স্ত্রীত্ব লাভ করে অজ, বিভূ এবং জগৎযোনি বাসুদেবকে ভর্তৃভাবে(স্বামীভাবে)প্রাপ্ত হয়েছিলেন।ফলে সিদ্ধদেহ প্রাপ্তি ছাড়া শ্রীকৃষ্ণের মধুরসেবায় অধিকার জন্মে না।কুঞ্জসেবার অধিকার লাভ করতে হলে কামানুগা ভক্তিই এর একমাত্র সাধন।সাধকদেহ বা যথাবস্থিত দেহের বিদ‍্যমানতাতেও বাসনাময় সিদ্ধদেহ দ্বারা ভগবানের মধুর লীলা-ক্ষেত্রে প্রবেশপথ পাওয়া যেতে পারে। আবার দন্ডকারণ‍্যবাসী মহর্ষিদের মতো সাধকদেহ একবারে, পরিত‍্যাগ করে নিত‍্যসিদ্ধ দেহও লাভ করা যেতে পারে।যাঁর যেরকম সাধনের ফল,তিনি সেইরকম ফললাভ করেন।*
*🍁সাধকদেহবিশিষ্ট ভক্তগণ ধ‍্যান-বল-লব্ধ বাসনাময়ী মূর্তিতে ভগবানের সেবাকুঞ্জের প্রবেশপথ লাভ করেন।এই সাধনার পরিপাকে গুণময় দেহ গুণময় জগতে পড়ে থাকে।সিদ্ধ ভক্ত তাঁর নিত‍্যসিদ্ধ সেবা উপযোগী দেহ নিয়ে চিরদিনের তরে শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের সেবাকুঞ্জে প্রবেশ করেন।সেখান থেকে আর তাঁর পুনরাগমন হয় না।এই দেহ সেবা উপযোগী নারীদেহ।তাঁকে কান্তভাবে লাভ করাই মধুর ভাবের সাধকগণের কামনা, সুতরাং নারীদেহ লাভ ভিন্ন সে কামনার পূরণ হয় না।*
*🦚অসাধারণ একটি তত্ত্ব🦚*
🙌🙌🙌🙌🙌🙌👣🙌🙌🙌🙌🙌🙌
  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧

  🚩 ক্রমাগত 👉 ৯২. রাগাত্মিকা ও রাগানুগাভক্তি 👏 শ্রীরামানন্দ রায় 🦚🦚 কাষ্ঠ পুত্তুলিকা 🏵️ শ্রীরসিকমোহন বিদ‍্যাভূষণ ✍️ লিখনী সেবা- শ্রী জয়দেব দাঁ 📚 এই লিংকে ক্লিক করুন 👉 http://mrinmoynandy.blogspot.com/2023/07/ramananda92.html

  ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
   ✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️
নিবাস- বাঁশবাড়ী, কীর্তন মন্দিরের পাশে, পোঃ- বাঁশবাড়ী, থানা- ইংরেজ বাজার, জেলা- মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, পিন কোড- ৭৩২১০১।
 ✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧
    *••••┉━❀꧁ 🙏 রাধে রাধে 🙏 ꧂❀━┅••••* 
                   শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
              হরে কৃষ্ণ হরে রাম শ্রীরাধেগোবিন্দ।।
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় জগন্নাথ 🙏 ꧂❀━┅••••*
              হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
              হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥
  *••••┉━❀꧁ 🙏 জয় রাধাকান্ত 🙏 ꧂ ❀━┅••••*
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
   💮❀❈❀🙏🏻🙏🏻🙏🏻🙇🙇🙇🙏🏻🙏🏻🙏🏻❀❈❀💮
✧═══════════•❁❀❁•═══════════✧




adds